লিয়ানা বুকস

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৪০২১) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ২০১৯। ৭৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

ইংরেজি

  1. ১. কোনটি সঠিক?
    • ক. Paper is made with wood.
    • খ. Paper is made by wood
    • গ. Paper is made of wood.
    • ঘ. Paper is made from wood.
    উত্তর: ঘ. Paper is made from wood.
    কোনো জিনিস তৈরির সময় কাঁচামাল যদি রাসায়নিকভাবে বদলে গিয়ে চেনার বাইরে চলে যায়, তখন made from বসে। কাঠকে প্রক্রিয়াজাত করে মণ্ড বানিয়ে কাগজ তৈরি হয়, তাই কাগজে কাঠকে আর চেনা যায় না। এ কারণে Paper is made from wood সঠিক। অন্য দিকে কাঁচামাল বদলে না গিয়ে চেনা গেলে made of বসে।
    উদাহরণ:
    This table is made of wood. (কাঠ চেনা যায়)
    Curd is made from milk. (দুধ বদলে গেছে)
    মনে রাখুন: কোনো জিনিস তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার বোঝালে made with বসে, যেমন The cake is made with eggs।
  2. ১২. কোনটি শুদ্ধ?
    • ক. He is a lecturer in English.
    • খ. He is a lecturer on English.
    • গ. He is a lecturer for English.
    • ঘ. He is a lecturer of English.
    উত্তর: ক. He is a lecturer in English.
    কোনো বিষয়ের শিক্ষক বা প্রভাষক বোঝাতে ইংরেজিতে lecturer in ব্যবহার করা হয়, যেমন a lecturer in physics। তাই He is a lecturer in English বাক্যটি শুদ্ধ, এর অর্থ তিনি ইংরেজির প্রভাষক। অন্য দিকে কোনো বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়া বোঝাতে lecture on বসে, যেমন He gave a lecture on climate change।
    মনে রাখুন:
    lecturer in + বিষয় (পদ বোঝাতে)
    lecture on + বিষয় (বক্তৃতা বোঝাতে)
    professor of + বিষয় (যেমন professor of English)
  3. ১৩. Which sentence is with correct punctuation?
    • ক. Maria, my student, is on leave today.
    • খ. Maria my student, is on leave today.
    • গ. Maria my student is on leave today.
    • ঘ. Maria my student is, on leave today.
    উত্তর: ক. Maria, my student, is on leave today.
    Maria my student হলো একটি appositive, অর্থাৎ ‘my student’ অংশটি Maria কে চেনাচ্ছে। অতিরিক্ত পরিচয় দেওয়া এ ধরনের অংশকে দুই পাশে কমা দিয়ে আলাদা করতে হয়। তাই সঠিক বাক্য: Maria, my student, is on leave to-day। অন্য বিকল্পগুলোয় কমা হয় একটিও নেই, নয়তো ভুল জায়গায় আছে।
    উদাহরণ: My brother, a doctor, lives in Dhaka.
  4. ২১. ‘Two heads are better than one’ এ প্রবাদ বাক্যটির ভাবার্থ কোনটি?
    • ক. Comprehension
    • খ. Correction
    • গ. Compromise
    • ঘ. Consultation
    উত্তর: ঘ. Consultation
    Two heads are better than one প্রবাদের অর্থ, একা ভাবার চেয়ে দুজন মিলে ভাবলে ভালো সিদ্ধান্ত বা সমাধান আসে। অর্থাৎ কোনো কাজে অন্যের সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ করা উপকারী। এই পরামর্শ করার ধারণাটিকে ইংরেজিতে consultation বলে। Comprehension মানে বোধগম্যতা, correction মানে সংশোধন আর compromise মানে আপস, এগুলো প্রবাদের মূল ভাব প্রকাশ করে না।
    মনে রাখুন: বাংলায় এর কাছাকাছি প্রবাদ ‘দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’।
  5. ২২. The adjective form of ‘decision’ is-
    • ক. decisive
    • খ. deceived
    • গ. decide
    • ঘ. decisiveness
    উত্তর: ক. decisive
    Decision একটি noun, যার মানে সিদ্ধান্ত। এর adjective রূপ decisive, অর্থাৎ চূড়ান্ত বা দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন, যেমন a decisive victory মানে চূড়ান্ত বিজয়। একই মূল থেকে decide হলো verb আর decisiveness হলো noun, যা দৃঢ়তা বোঝায়। Deceived এসেছে সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ deceive (প্রতারণা করা) থেকে।
    মনে রাখুন:
    decide (verb) – decision (noun) – decisive (adjective) – decisively (adverb)
  6. ২৭. What is the meaning of ‘of late’?
    • ক. recently
    • খ. lateness
    • গ. too late
    • ঘ. delayed
    উত্তর: ক. recently
    Of late একটি phrase, যার অর্থ সম্প্রতি বা ইদানীং, তাই এর সমার্থক recently। এখানে late শব্দের ‘দেরি’ অর্থের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তাই lateness বা too late বিকল্পগুলো ফাঁদ।
    উদাহরণ: I have not seen him of late.
    মনে রাখুন: একই অর্থের আরও শব্দ: lately, in recent times।
  7. ২৮. ‘নিঃশেষিত’-এর সঠিক ইংরেজি রূপায়ণ-
    • ক. out of sorts
    • খ. out of doors
    • গ. out of order
    • ঘ. out of print
    উত্তর: ঘ. out of print
    কোনো বইয়ের সব কপি বিক্রি হয়ে গেছে এবং নতুন করে ছাপা হয়নি, এমন অবস্থাকে বাংলায় নিঃশেষিত বলা হয়। ইংরেজিতে এই অবস্থা বোঝাতে out of print বাগধারাটি ব্যবহার হয়, যেমন The book is out of print। বাকি বাগধারাগুলোর অর্থ আলাদা: out of sorts মানে অসুস্থ বা মনমরা, out of doors মানে ঘরের বাইরে আর out of order মানে বিকল।
    মনে রাখুন:
    out of date = সেকেলে
    out of question = অসম্ভব
    out of stock = মজুত শেষ
  8. ২৯. ‘Look forward’ means
    • ক. examine
    • খ. find out
    • গ. take care of
    • ঘ. expect with pleasure
    উত্তর: ঘ. expect with pleasure
    Look forward to একটি phrasal verb, যার মানে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কোনো ভালো কিছুর জন্য আনন্দ ও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করা। তাই এর অর্থ expect with pleasure। যেমন I am looking forward to meeting you মানে আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছি। চিঠি বা ইমেইলের শেষে এই কথাটি খুব বেশি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন: look forward to-এর পরে verb এলে তা সব সময় -ing রূপে বসে, কারণ এখানে to একটি preposition।
    উদাহরণ: We look forward to hearing from you.
  9. ৩০. কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. Occation
    • খ. Ocasion
    • গ. Occassion
    • ঘ. Occasion
    উত্তর: ঘ. Occasion
    সঠিক বানান occasion, যেখানে c দুটি আর s একটি। শব্দটি লাতিন occasio থেকে এসেছে, যার মূল অংশে cc আছে। শেষের অংশটি -sion, যা -tion নয়। শব্দটির অর্থ উপলক্ষ বা বিশেষ ঘটনা, আর এর adjective রূপ occasional মানে মাঝে মাঝে ঘটে এমন।
    মনে রাখুন: একই রকম দ্বিত্ব অক্ষরের কঠিন বানান: accommodation (cc ও mm), embarrass (rr ও ss), necessary (একটি c, দুটি s)।
  10. ৩৩. Kamal said to me, “What is your name?”
    • ক. Kamal asked what was my name.
    • খ. Kamal asked you your name.
    • গ. What my name is, Kamal asked.
    • ঘ. Kamal asked me what my name was.
    উত্তর: ঘ. Kamal asked me what my name was.
    প্রশ্নবোধক (Interrogative) বাক্যকে indirect speech-এ নিতে said to-এর বদলে asked বসে, আর প্রশ্নবোধক অংশটি সাধারণ বিবৃতির মতো কর্তা আগে ও verb পরে এই ক্রমে বসে। What is your name থেকে তাই হয় what my name was। এখানে your বদলে my হয়, কারণ প্রশ্নটি করা হয়েছিল বক্তাকে, আর reporting verb অতীত কালে বলে is বদলে was হয়। ফলে সঠিক রূপ Kamal asked me what my name was।
    মনে রাখুন: Wh-প্রশ্নে wh-শব্দটিই সংযোজকের কাজ করে, তাই that বসে না। Yes/No প্রশ্নে if বা whether বসে।
  11. ৩৫. I suggest that he __.
    • ক. there
    • খ. gone
    • গ. go
    • ঘ. went
    উত্তর: গ. go
    Suggest, propose, recommend, insist ইত্যাদি ক্রিয়ার পরে that clause থাকলে সেখানে verb-এর মূল রূপ বসে, কর্তা third person singular হলেও s যোগ হয় না। এই রূপকে subjunctive mood বলে। তাই I suggest that he go বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক। ব্রিটিশ ইংরেজিতে প্রায়ই should যোগ করে বলা হয় I suggest that he should go, যার অর্থ একই।
    মনে রাখুন:
    The doctor recommended that she take rest.
    It is necessary that he be present.
  12. ৩৮. কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. Grievance
    • খ. Greviance
    • গ. Grivence
    • ঘ. Greivance
    উত্তর: ক. Grievance
    Grievance শব্দটি এসেছে grieve (দুঃখ পাওয়া) থেকে, তাই এর বানানে grie অংশটি থাকে, অর্থাৎ i আগে, e পরে। শেষের অংশটি -ance। শব্দটির অর্থ অভিযোগ বা ক্ষোভের কারণ, যেমন The workers submitted their grievances to the manager। ইংরেজি বানানে পরিচিত নিয়ম হলো, c-এর পরে না থাকলে সাধারণত i আগে e পরে বসে।
    মনে রাখুন: একই নিয়মের শব্দ believe, relief, achieve, brief। আর c-এর পরে e আগে বসে, যেমন receive, ceiling।
  13. ৪১. A rolling stone gathers no moss. What is ‘rolling’?
    • ক. Verbal Noun
    • খ. Gerund
    • গ. Participle
    • ঘ. Adjective
    উত্তর: গ. Participle
    ‘A rolling stone gathers no moss’ বাক্যে rolling শব্দটি stone-এর আগে বসে পাথরটি কেমন, তা বলছে, অর্থাৎ বিশেষণের কাজ করছে। আবার শব্দটি এসেছে roll ক্রিয়া থেকে। যে শব্দ ক্রিয়া থেকে তৈরি হয়ে বিশেষণের কাজ করে, তাকে Participle বলে। তাই এখানে ‘গড়িয়ে চলা পাথর’ বোঝাতে rolling একটি Participle।
    Gerund ও Participle আলাদা: Gerund বাক্যে noun-এর কাজ করে, যেমন Swimming is good exercise। আর Participle বিশেষণের কাজ করে, যেমন a running horse।
    মনে রাখুন: Gerund-কে Verbal noun-ও বলা হয়, তাই এই দুটি একই জিনিস।
  14. ৫১. You must work hard for success.
    • ক. Work hard for the success.
    • খ. Work hard to success.
    • গ. Work hard and you will succeed.
    • ঘ. Work hard for success.
    উত্তর: গ. Work hard and you will succeed.
    You must work hard for success একটি simple sentence, যেখানে for success অংশ দিয়ে কাজের ফল বোঝানো হয়েছে। এটিকে compound sentence করলে আদেশটি imperative রূপে আসে, আর ফলটি and দিয়ে যুক্ত একটি আলাদা স্বাধীন বাক্য হয়। তাই রূপান্তরিত বাক্য Work hard and you will succeed, অর্থাৎ পরিশ্রম করো, তাহলে সফল হবে।
    মনে রাখুন: একই বাক্যকে complex রূপে লেখা যায় If you work hard, you will succeed।
  15. ৫৬. ‘He was taken to task’ অর্থ
    • ক. সে কাজ নিয়েছিল।
    • খ. তাকে তিরস্কার করা হয়েছিল।
    • গ. তাকে কাজ দেওয়া হয়েছিল।
    • ঘ. তাকে কাজের জন্য বলা হয়েছিল।
    উত্তর: খ. তাকে তিরস্কার করা হয়েছিল।
    Take someone to task একটি বাগধারা, যার মানে কাউকে কোনো ভুলের জন্য কড়াভাবে তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করা। বাক্যটি passive voice-এ আছে, তাই He was taken to task মানে তাকে তিরস্কার করা হয়েছিল। এখানে task শব্দটি কাজ অর্থে নেওয়া যাবে না, কারণ বাগধারায় শব্দের আক্ষরিক অর্থ খাটে না।
    মনে রাখুন:
    take to heart = মনে কষ্ট পাওয়া
    take to one's heels = পালিয়ে যাওয়া
    take after = কারও মতো দেখতে হওয়া
  16. ৫৭. Anis had a talent __ making people laugh.
    • ক. on
    • খ. for
    • গ. of
    • ঘ. in
    উত্তর: খ. for
    কোনো বিষয়ে স্বাভাবিক দক্ষতা বা প্রতিভা বোঝাতে talent শব্দের পরে preposition for বসে, যেমন a talent for music বা a talent for painting। এখানে আনিসের মানুষকে হাসানোর দক্ষতার কথা বলা হচ্ছে, তাই বাক্যটি হবে Anis had a talent for making people laugh। for একটি preposition, তাই এর পরে verb এলে -ing রূপ (making) বসে।
    মনে রাখুন: একই অর্থে have a gift for এবং have a flair for বসে, আর be good at-ও একই ভাব প্রকাশ করে।
  17. ৫৯. Trees have _ off their leaves.
    • ক. thrown
    • খ. fallen
    • গ. cast
    • ঘ. put
    উত্তর: গ. cast
    গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ার কথা বোঝাতে cast off ব্যবহার করা হয়, যার অর্থ ঝেড়ে ফেলা বা ত্যাগ করা। তাই বাক্যটি হবে: Trees have cast off their leaves. Past ও past participle রূপে cast একই থাকে (cast–cast–cast)। এ কারণে have-এর পরে cast বসে, thrown বা fallen নয়।
    মনে রাখুন:
    Cast off: ত্যাগ করা, ফেলে দেওয়া।
    Cast away: ফেলে দেওয়া, সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া।
    Cast about: খোঁজাখুঁজি করা।
  18. ৬৭. The Principal had an inquiry __ the case.
    • ক. to
    • খ. into
    • গ. at
    • ঘ. in
    উত্তর: খ. into
    কোনো বিষয় বা ঘটনার তদন্ত বোঝাতে inquiry-এর পরে preposition into বসে, কারণ তদন্ত মানে বিষয়ের ভেতরে ঢুকে খুঁজে দেখা। তাই সঠিক বাক্য: The Principal had an inquiry into the case.
    মনে রাখুন:
    inquire into: তদন্ত করা।
    inquire after: কারও কুশল জিজ্ঞেস করা।
    inquire of: কারও কাছে জানতে চাওয়া।
  19. ৭১. What is the meaning of ‘White elephant’?
    • ক. A very costly or troublesome possession
    • খ. An elephant of white colour
    • গ. A hoarder
    • ঘ. A black marketer
    উত্তর: ক. A very costly or troublesome possession
    White elephant একটি idiom, যার অর্থ এমন সম্পদ যা রাখতে অনেক খরচ ও ঝামেলা হয় অথচ কাজে লাগে খুব কম, অর্থাৎ a very costly or troublesome possession। প্রচলিত গল্প আছে, প্রাচীন শ্যামদেশের (থাইল্যান্ড) রাজারা অপছন্দের সভাসদকে পবিত্র সাদা হাতি উপহার দিতেন, যার যত্নের খরচ জোগাতে গিয়ে সে সর্বস্বান্ত হয়ে যেত।
    উদাহরণ: The huge stadium has become a white elephant for the city.

বাংলা

  1. ২. শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
    • ক. সেমিকোলন
    • খ. বিন্দু
    • গ. কমা
    • ঘ. কোলন
    উত্তর: খ. বিন্দু
    কোনো শব্দকে সংক্ষেপে লিখতে বাংলায় বিন্দু (.) ব্যবহার করা হয়। আগে এ জন্য কোলন বা বিসর্গের মতো চিহ্ন ব্যবহার হতো, কিন্তু বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী এখন বিন্দুই বসানো হয়। যেমন ডাক্তার শব্দের সংক্ষেপ ডা., মোহাম্মদ শব্দের সংক্ষেপ মো.।
    উদাহরণ:
    ডা. (ডাক্তার), মো. (মোহাম্মদ), বি.এ. (ব্যাচেলর অব আর্টস), খ্রি. (খ্রিষ্টাব্দ)
    মনে রাখুন: বাক্যের শেষে পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়ি (।) বসে, বিন্দু নয়।
  2. ৩. কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
    • ক. আমার কথাই প্রামান্য হলো
    • খ. আমার কথাই প্রমানীত হলো
    • গ. আমার কথাই প্রমান হলো
    • ঘ. আমার কথাই প্রমাণিত হলো
    উত্তর: ঘ. আমার কথাই প্রমাণিত হলো
    প্রমাণ শব্দের সঙ্গে ইত প্রত্যয় যোগ করে প্রমাণিত বিশেষণটি গঠিত হয়, যার অর্থ যা প্রমাণ করা হয়েছে। বানানে ণত্ব বিধান অনুযায়ী র-এর পরে মূর্ধন্য ণ বসে, আর ইত প্রত্যয়ের জন্য ণি-তে হ্রস্ব ই-কার হয়। ‘আমার কথাই প্রমাণ হলো’ বাক্যে বিশেষ্য প্রমাণকে ক্রিয়ার সঙ্গে বসিয়ে ভুল গঠন হয়েছে, তাই শুদ্ধ বাক্য ‘আমার কথাই প্রমাণিত হলো’।
    মনে রাখুন: প্রামাণ্য মানে প্রমাণযোগ্য বা নির্ভরযোগ্য, যেমন প্রামাণ্য দলিল। আর এ ধরনের বাক্যে প্রমাণ করা হলো লিখলেও শুদ্ধ হয়।
  3. ৪. ‘পাঠক’ শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু দ্বারা গঠিত?
    • ক. বিদেশি
    • খ. সংস্কৃত
    • গ. খাঁটি বাংলা
    • ঘ. দেশি
    উত্তর: খ. সংস্কৃত
    পাঠক শব্দটি গঠিত হয়েছে √পঠ্ ধাতুর সঙ্গে ণক (অক) প্রত্যয় যোগ করে। পঠ্ ধাতুর অর্থ পড়া, আর এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে। বাংলা ব্যাকরণে ধাতুকে মৌলিক ও সাধিত ভাগ ছাড়াও উৎস অনুযায়ী সংস্কৃত, খাঁটি বাংলা ও বিদেশি এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পঠ্ সংস্কৃত উৎসের, তাই পাঠক সংস্কৃত ধাতু থেকে গঠিত।
    মনে রাখুন: একই ণক প্রত্যয়ে গঠিত শব্দ গায়ক (√গৈ + ণক), নায়ক (√নী + ণক), লেখক (√লিখ্ + ণক)।
  4. ৬. ‘আজকে নগদ কালকে ধার’-এখানে ‘আজকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
    • ক. কর্তায় দ্বিতীয়া
    • খ. করণে দ্বিতীয়া
    • গ. অধিকরণে দ্বিতীয়া
    • ঘ. কর্মে দ্বিতীয়া
    উত্তর: গ. অধিকরণে দ্বিতীয়া
    এই প্রবাদে আজকে শব্দটি সময় বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ কখন নগদ দেওয়া হবে। ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা স্থান বোঝালে তাকে অধিকরণ কারক বলে, আর সময় বোঝালে তা বিশেষভাবে কালাধিকরণ। এখানে শব্দের সঙ্গে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে, যা দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন। তাই আজকে হলো অধিকরণে দ্বিতীয়া।
    মনে রাখুন: অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) বসে, তবে কালবাচক শব্দে কে বিভক্তিও বসে, যেমন আজকে, কালকে।
  5. ৭. ‘অনুচিত’ শব্দটি কোন সমাস?
    • ক. তৎপুরুষ
    • খ. কর্মধারয়
    • গ. দ্বন্দ্ব
    • ঘ. বহুব্রীহি
    উত্তর: ক. তৎপুরুষ
    অনুচিত শব্দের অর্থ উচিত নয়। না-বোধক অব্যয়ের (নঞ্) সঙ্গে পরের পদ মিলে যে তৎপুরুষ সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান থাকে, তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে। এখানে উচিত শব্দটি স্বরধ্বনি দিয়ে শুরু হয়েছে, তাই নঞ্ বদলে অন হয়ে অনুচিত শব্দটি তৈরি হয়েছে। সুতরাং এটি তৎপুরুষ সমাস।
    মনে রাখুন: পরপদ ব্যঞ্জন দিয়ে শুরু হলে নঞ্ বদলে অ হয়, যেমন ন সত্য = অসত্য। আর স্বর দিয়ে শুরু হলে অন হয়, যেমন ন আচার = অনাচার, ন উচিত = অনুচিত।
  6. ৮. ‘ওষ্ঠ্য বর্ণ’ কোনগুলো?
    • ক. ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
    • খ. প, ফ, ব, ভ, ম
    • গ. ক, খ, গ, ঘ, ঙ
    • ঘ. চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
    উত্তর: খ. প, ফ, ব, ভ, ম
    যে বর্ণগুলো উচ্চারণের সময় দুই ঠোঁট মিলিত হয়, তাদের ওষ্ঠ্য বর্ণ বলে। প, ফ, ব, ভ, ম উচ্চারণে ঠোঁট দুটি পরস্পর স্পর্শ করে, তাই এগুলো ওষ্ঠ্য বর্ণ।
    মনে রাখুন:
    ট, ঠ, ড, ঢ, ণ: মূর্ধন্য বর্ণ, উচ্চারণে জিভের ডগা মূর্ধায় লাগে।
    ক, খ, গ, ঘ, ঙ: কণ্ঠ্য বর্ণ।
    চ, ছ, জ, ঝ, ঞ: তালব্য বর্ণ।
  7. ১৫. যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে মুখ দিয়ে অধিক বাতাস বের হয় ও নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে বেশি চাপ পড়ে সে ব্যঞ্জনগুলোকে বলে-
    • ক. অল্পপ্রাণ
    • খ. অধিকপ্রাণ
    • গ. স্বল্পপ্রাণ
    • ঘ. মহাপ্রাণ
    উত্তর: ঘ. মহাপ্রাণ
    বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিকে উচ্চারণে কতটা বাতাস বের হয় তার ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যে ধ্বনি উচ্চারণে মুখ দিয়ে বেশি বাতাস বের হয় এবং চোয়ালের পেশিতে বেশি চাপ পড়ে, তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। প্রতিটি বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণ, যেমন খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ। আর কম বাতাস বের হলে তা অল্পপ্রাণ, যেমন ক, গ, চ, জ।
    মনে রাখুন: প্রতিটি বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘোষ, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণ ঘোষ, আর পঞ্চম বর্ণ নাসিক্য।
  8. ২৫. ‘কর্মভোগ এড়ানো যায় না’- এখানে ‘কর্ম’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?
    • ক. কর্তব্য
    • খ. কৃতকর্ম
    • গ. কপাল
    • ঘ. অনুষ্ঠিত
    উত্তর: খ. কৃতকর্ম
    ‘কর্মভোগ’ মানে নিজের করা কাজের ফল ভোগ করা। ‘কর্মভোগ এড়ানো যায় না’ বাক্যে বলা হচ্ছে, মানুষ যা করে তার ফল তাকে ভোগ করতেই হয়। তাই এখানে ‘কর্ম’ শব্দটি কৃতকর্ম বা আগে করা কাজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
    মনে রাখুন: ‘কর্ম’ শব্দটি বাক্যভেদে নানা অর্থ দেয়:
    কর্তব্য: নিজের কর্ম মন দিয়ে করো।
    চাকরি: তিনি সরকারি কর্মে নিযুক্ত।
    অনুষ্ঠান: আজ বাড়িতে বিয়ের কর্ম।
  9. ৩১. ‘বিচ্ছিন্ন’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
    • ক. বি + ছিন্ন
    • খ. বিৎ + চ্ছিন্ন
    • গ. বিৎ + ছিন্ন
    • ঘ. বিচ্ + ছিন্ন
    উত্তর: ক. বি + ছিন্ন
    স্বরধ্বনির পরে ছ এলে সন্ধির নিয়মে ছ-এর আগে একটি চ যুক্ত হয়ে চ্ছ হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন শব্দে বি একটি উপসর্গ, যা স্বরধ্বনি ই দিয়ে শেষ হয়েছে, আর পরে এসেছে ছিন্ন। তাই বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন, যার অর্থ আলাদা করা বা ছিন্ন হওয়া।
    মনে রাখুন: একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ:
    পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ
    অনু + ছেদ = অনুচ্ছেদ
    এক + ছত্র = একচ্ছত্র
  10. ৪৪. ‘দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ’-কে কোন বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করা হয়?
    • ক. রাবণের চিতা
    • খ. বসন্তের কোকিল
    • গ. রাহুর দশা
    • ঘ. অহিনকুল সম্বন্ধ
    উত্তর: ক. রাবণের চিতা
    রামায়ণের কাহিনিতে বলা হয়, রাবণের চিতার আগুন কখনো নেভে না। তাই যে দুঃখ বা অশান্তি কখনো শেষ হয় না, চিরকাল জ্বলতে থাকে, তাকে বোঝাতে রাবণের চিতা বাগধারাটি ব্যবহার হয়। অন্য দিকে বসন্তের কোকিল মানে সুসময়ের বন্ধু, রাহুর দশা মানে দুর্ভোগের সময় আর অহিনকুল সম্বন্ধ মানে সাপে-নেউলে শত্রুতা।
    মনে রাখুন:
    কুম্ভকর্ণের ঘুম = গভীর ঘুম
    লঙ্কাকাণ্ড = তুমুল কাণ্ড
    বিভীষণ = ঘরের শত্রু
  11. ৪৮. ‘একটু আগে যিনি এখানে এসেছিলেন তিনি আমার আত্মীয় নন’- কোন ধরনের বাক্য?
    • ক. যৌগিক
    • খ. সরল
    • গ. খণ্ড
    • ঘ. জটিল
    উত্তর: ঘ. জটিল
    এই বাক্যে দুটি খণ্ডবাক্য আছে। ‘একটু আগে যিনি এখানে এসেছিলেন’ অংশটি একা পূর্ণ অর্থ দেয় না, তাই এটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য। আর ‘তিনি আমার আত্মীয় নন’ হলো প্রধান খণ্ডবাক্য। যিনি ও তিনি এই সাপেক্ষ সর্বনাম জোড়া দুটি অংশকে যুক্ত করেছে। একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য যুক্ত হলে তাকে জটিল বাক্য বলে।
    মনে রাখুন: বাক্যটিকে সরল বাক্যে রূপান্তর করলে হয় ‘একটু আগে এখানে আসা ভদ্রলোকটি আমার আত্মীয় নন’।
  12. ৫০. কোনটি সঠিক বানান?
    • ক. উজ্জ্বল্য
    • খ. ঔজ্জ্বল্য
    • গ. উজ্জ্বল্য
    • ঘ. ওজ্জ্বল্য
    উত্তর: খ. ঔজ্জ্বল্য
    উজ্জ্বল শব্দটি একটি বিশেষণ। এর সঙ্গে ষ্ণ্য প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য গঠনের সময় শব্দের প্রথম স্বর উ বৃদ্ধি পেয়ে ঔ হয়ে যায়। তাই উজ্জ্বল থেকে বিশেষ্য হয় ঔজ্জ্বল্য, যার অর্থ উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি। একই নিয়মে বিশেষ্য তৈরির সময় অনেক শব্দের প্রথম স্বর বদলে যায়।
    মনে রাখুন:
    সুন্দর থেকে সৌন্দর্য
    উদার থেকে ঔদার্য
    চতুর থেকে চাতুর্য
    দীন থেকে দৈন্য
  13. ৫৪. ‘নামাজ, রোজা’ কোন দেশি শব্দ?
    • ক. ফারসি
    • খ. উর্দু
    • গ. তুর্কি
    • ঘ. আরবি
    উত্তর: ক. ফারসি
    নামাজ ও রোজা শব্দ দুটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। মুসলিম শাসনের সময় পারস্য থেকে আসা প্রশাসন ও ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে এমন অনেক ধর্মীয় শব্দ বাংলায় ঢুকেছে। মজার ব্যাপার হলো, শব্দ দুটির আরবি প্রতিশব্দ আলাদা, নামাজকে আরবিতে সালাত আর রোজাকে সাওম বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ফারসি ধর্মীয় শব্দ: নামাজ, রোজা, খোদা, ফেরেশতা, বেহেশত, দোজখ।
    আরবি ধর্মীয় শব্দ: আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, হজ, জাকাত, কোরবানি।
  14. ৫৫. কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. দূরিভূত
    • খ. দূরীভূত
    • গ. দূরিভূত
    • ঘ. দূরিভূত
    উত্তর: খ. দূরীভূত
    দূরীভূত শব্দটি গঠিত হয়েছে দূর ও ভূত মিলে, অর্থাৎ যা আগে দূরে ছিল না তা দূর হয়ে গেছে। সংস্কৃত নিয়মে এভাবে কোনো কিছুতে পরিণত হওয়া বোঝাতে আগের শব্দের শেষ স্বরটি দীর্ঘ ঈ-কারে বদলে যায়। তাই দূর থেকে দূরী, আর দূরী + ভূত = দূরীভূত। বানানে দূ-তে দীর্ঘ ঊ-কার এবং রী-তে দীর্ঘ ঈ-কার বসে, যার অর্থ দূর করা হয়েছে এমন।
    মনে রাখুন: একই নিয়মে গঠিত আরও শব্দ একীভূত, বশীভূত, স্তূপীকৃত, সমীকরণ, শীতলীকরণ।
  15. ৬০. ‘শুদ্ধ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
    • ক. শান্ত
    • খ. ভদ্র
    • গ. সুশীল
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ঘ. কোনোটিই নয়
    শুদ্ধ শব্দের অর্থ নির্ভুল, খাঁটি বা পবিত্র। যেমন শুদ্ধ বানান মানে নির্ভুল বানান, আর শুদ্ধ চিত্ত মানে পবিত্র মন। প্রদত্ত বিকল্পের শান্ত, ভদ্র ও সুশীল শব্দগুলো মানুষের আচরণ বা স্বভাবের গুণ বোঝায়, নির্ভুলতা বা পবিত্রতা বোঝায় না। তাই এদের কোনোটিই শুদ্ধ শব্দের সমার্থক নয়।
    মনে রাখুন:
    শুদ্ধ শব্দের সমার্থক: বিশুদ্ধ, নির্ভুল, পবিত্র, নির্মল, খাঁটি।
    বিপরীত শব্দ: অশুদ্ধ।
  16. ৬৪. ‘গরু ঘাস খায়’-এখানে ‘খায়’ কোন কালের উদাহরণ?
    • ক. অতীত
    • খ. সাধারণ বর্তমান
    • গ. ঘটমান বর্তমান
    • ঘ. পুরাঘটিত বর্তমান
    উত্তর: খ. সাধারণ বর্তমান
    গরু ঘাস খায়, এ কথাটি একটি চিরন্তন বা স্বাভাবিক সত্য, যা সব সময়ই ঘটে। যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, অভ্যাসগত কিংবা চিরসত্য বোঝায়, তার কালকে সাধারণ বা নিত্য বর্তমান কাল বলে। তাই খায় ক্রিয়াটি সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ।
    উদাহরণ:
    সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে। (চিরসত্য)
    সে রোজ সকালে হাঁটে। (অভ্যাস)
    মনে রাখুন: ‘গরু ঘাস খাচ্ছে’ বললে হতো ঘটমান বর্তমান, আর ‘গরু ঘাস খেয়েছে’ বললে পুরাঘটিত বর্তমান।
  17. ৬৯. ‘যা আঘাত পায়নি’-এর বাক্য সংকোচন কী?
    • ক. অনিরুদ্ধ
    • খ. নির্ঘাত
    • গ. অনাঘাত
    • ঘ. অনাহত
    উত্তর: ঘ. অনাহত
    আহত মানে আঘাত পেয়েছে এমন। এর আগে না-বোধক অন উপসর্গ যোগ করলে হয় অনাহত, অর্থাৎ যা আঘাত পায়নি। তাই ‘যা আঘাত পায়নি’-এর এক কথায় প্রকাশ অনাহত। অনেকে এটিকে অনাঘ্রাত শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। অনাঘ্রাত মানে যার ঘ্রাণ নেওয়া হয়নি, যেমন অনাঘ্রাত ফুল। আর নির্ঘাত মানে নিশ্চিত।
    মনে রাখুন:
    যা কেউ রোধ করতে পারে না = অনিরুদ্ধ
    যা আগে ঘটেনি = অভূতপূর্ব
    যা বলা হয়নি = অনুক্ত

সাধারণ জ্ঞান

  1. ৫. এশিয়ার দীর্ঘতম নদীর নাম কী?
    • ক. ইয়াংসিকিয়াং
    • খ. ইউফ্রেটিস
    • গ. হোয়াংহো
    • ঘ. গঙ্গা
    উত্তর: ক. ইয়াংসিকিয়াং
    ইয়াংসিকিয়াং বা ইয়াংজি (Yangtze) চীনের নদী এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী, এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৩০০ কিলোমিটার। তিব্বতের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি পূর্ব চীন সাগরে পড়েছে, আর এর ওপর তৈরি হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থ্রি গর্জেস ড্যাম।
    মনে রাখুন:
    হোয়াংহোকে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হয়।
    বিশ্বের দীর্ঘতম নদী আফ্রিকার নীলনদ।
    ইউফ্রেটিস নদী মূলত ইরাক ও সিরিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
  2. ৬৫. পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে কী হয়?
    • ক. সূর্য পৃথিবীর নিকটতম হয়
    • খ. দিন ও রাত হয়
    • গ. চাঁদের তাপ বৃদ্ধি
    • ঘ. রাত্রি দীর্ঘ হয়
    উত্তর: খ. দিন ও রাত হয়
    পৃথিবী নিজের মেরুরেখা বা অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘোরে, একে আহ্নিক গতি (Rotation) বলে। ঘোরার সময় পৃথিবীর যে অর্ধেক সূর্যের দিকে থাকে সেখানে আলো পড়ে দিন হয়, আর অন্য অর্ধেকে অন্ধকার থাকায় রাত হয়। এই কারণে পৃথিবীতে পালাক্রমে দিন ও রাত হয়।
    মনে রাখুন:
    সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘোরাকে বার্ষিক গতি (Revolution) বলে, যার ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়।
    বার্ষিক গতিতে সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা।

বাংলাদেশ

  1. ৯. কত সালে নীল কমিশন গঠন করা হয়?
    • ক. ১৮৬১
    • খ. ১৮৫৭
    • গ. ১৮৬০
    • ঘ. ১৮৮২
    উত্তর: গ. ১৮৬০
    নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৮৫৯ সালে বাংলার কৃষকেরা নীলচাষ বন্ধ করে বিদ্রোহ শুরু করেন, যা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহের চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালে নীলচাষ ও নীলকরদের আচরণ তদন্তের জন্য নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠন করে। কমিশনের প্রতিবেদনে নীলকরদের অত্যাচারের প্রমাণ মেলে, ফলে জোর করে নীলচাষ করানো বন্ধ হয়।
    মনে রাখুন:
    দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে, যাতে নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র আছে।
    নীল বিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস।
  2. ১০. উয়ারি-বটেশ্বর গ্রামে কোন সময়ে নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
    • ক. পাঁচ কোটি বছর আগে
    • খ. তিন কোটি বছর আগে
    • গ. দুই শত বছর আগে
    • ঘ. আড়াই হাজার বছর আগে
    উত্তর: ঘ. আড়াই হাজার বছর আগে
    নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার উয়ারী ও বটেশ্বর নামের দুটি পাশাপাশি গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের একটি দুর্গনগরের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখানে পাওয়া গেছে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, নানা রকম পুঁতি, পাকা রাস্তা ও দুর্গপ্রাচীরের চিহ্ন। এসব প্রমাণ বলে, এখানে সে সময় একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল।
    মনে রাখুন:
    উয়ারী-বটেশ্বরের নিদর্শন প্রথম সংগ্রহ করেন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ পাঠান।
    কোনো কোনো গবেষক একে গ্রিক ভূগোলবিদ টলেমির বর্ণিত সৌনাগড়া বলে মনে করেন।
  3. ১৬. ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের কোন পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন?
    • ক. নিরাপত্তা পরিষদে
    • খ. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে
    • গ. অছি পরিষদে
    • ঘ. সাধারণ পরিষদে
    উত্তর: ঘ. সাধারণ পরিষদে
    ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ করে। এর পরে ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (General Assembly) ২৯তম অধিবেশনে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। জাতিসংঘে এটিই ছিল প্রথম বাংলা ভাষণ, যা বিশ্বসভায় বাংলা ভাষাকে নতুন মর্যাদা দেয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের একমাত্র অঙ্গ, যেখানে সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব থাকে।
    বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদে প্রথমবার চীন ভেটো দিয়েছিল ১৯৭২ সালে।
  4. ২৪. ‘বারোভূঁইয়া’ কাদের বলা হতো?
    • ক. মুঘল আমলের ১২ জন সেনাপতিকে
    • খ. ব্রিটিশ যুগের শক্তিশালী যোদ্ধাদের
    • গ. উপরের উল্লিখিত সকলকে
    • ঘ. বড় বড় স্বাধীন জমিদার
    উত্তর: ঘ. বড় বড় স্বাধীন জমিদার
    মুঘল আমলে, বিশেষ করে সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের সময়ে বাংলার কিছু শক্তিশালী জমিদার ও স্থানীয় শাসক মুঘলদের আধিপত্য মেনে নেননি। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীনভাবে শাসন চালাতেন এবং মুঘল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এই বড় বড় স্বাধীন জমিদারদের একসঙ্গে বারো ভূঁইয়া বলা হয়। এখানে বারো সংখ্যাটি নির্দিষ্ট নয়, অনেকজনকে বোঝাতে কথাটি প্রচলিত।
    মনে রাখুন:
    বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান, যাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
    সুবাদার ইসলাম খান জাহাঙ্গীরের সময়ে মুসা খানকে পরাজিত করে বারো ভূঁইয়াদের দমন করেন।
  5. ৩৪. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম কী?
    • ক. আমার জীবনী
    • খ. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
    • গ. আমার বাংলাদেশ
    • ঘ. ব্যাখ্যা
    উত্তর: খ. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। ১৯৬৭ সালের দিকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় তিনি এটি লিখতে শুরু করেন, আর এতে তাঁর জন্ম থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত জীবনের কথা আছে। খাতাগুলো দীর্ঘদিন হারিয়ে থাকার পর পাওয়া যায়, আর ২০১২ সালে বইটি প্রকাশিত হয়।
    মনে রাখুন:
    বঙ্গবন্ধুর আরও দুটি বই ‘কারাগারের রোজনামচা’ (২০১৭) ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (২০২০)।
    অসমাপ্ত আত্মজীবনী ইংরেজিসহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
  6. ৩৯. বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য?
    • ক. ১৩১তম
    • খ. ১৩৩তম
    • গ. ১৩৬তম
    • ঘ. ১৩৮তম
    উত্তর: গ. ১৩৬তম
    ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে। এর আগে ১৯৭২ সালে চীনের ভেটোর কারণে সদস্যপদ পেতে দেরি হয়েছিল। সদস্যপদ পাওয়ার কয়েক দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন।
    মনে রাখুন:
    জাতিসংঘের সর্বশেষ (১৯৩তম) সদস্য দক্ষিণ সুদান (২০১১)।
    বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্য হয় ১৯৭২ সালে।
  7. ৪২. ‘মহারাজাধিরাজ’ পদবি কারা গ্রহণ করেন?
    • ক. আকবর, হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
    • খ. ইলিয়াস শাহ, তুঘলক ও জালালউদ্দিন
    • গ. ধর্মপাল, গোপাল
    • ঘ. গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
    উত্তর: ঘ. গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
    গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর ষষ্ঠ শতকে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গ নামে একটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে ওঠে। এই রাজ্যের রাজা গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম শাসক হিসেবে মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন। তাঁদের সময়ের তাম্রশাসন বা তাম্রলিপি থেকে এই তথ্য জানা যায়। মুঘল বা সুলতানি শাসকেরা এই হিন্দু রাজকীয় উপাধি ব্যবহার করেননি।
    মনে রাখুন:
    গৌড়ের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক, যাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
    এই তিন রাজার কথা জানা যায় ফরিদপুরের কোটালিপাড়া ও আশপাশে পাওয়া তাম্রশাসন থেকে।
  8. ৪৯. বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর কোনটি?
    • ক. বরেন্দ্র জাদুঘর
    • খ. বাংলাদেশ নৃ-তাত্ত্বিক জাদুঘর
    • গ. সোনারগাঁ জাদুঘর
    • ঘ. বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
    উত্তর: ক. বরেন্দ্র জাদুঘর
    ১৯১০ সালে রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। দিঘাপতিয়ার জমিদার শরৎকুমার রায়, ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও রমাপ্রসাদ চন্দের উদ্যোগে এটি গড়ে ওঠে, আর বর্তমানে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় জাদুঘরের পূর্বসূরি ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৩ সালে।
    জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামে অবস্থিত।
    সোনারগাঁয়ে আছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর।
  9. ৫৮. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
    • ক. ১৯৯২ সালের ১৭ মার্চ
    • খ. ১৯৯০ সালের ২৫ মার্চ
    • গ. ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ
    • ঘ. ১৯৯৫ সালের ৭ মার্চ
    উত্তর: গ. ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ
    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি পুরোনো ভাড়া বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। আটজন ট্রাস্টির উদ্যোগে গড়া এই জাদুঘর ২০১৭ সালে আগারগাঁওয়ে নিজস্ব স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরিত হয়।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় জাদুঘর ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত।
    বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে।
  10. ৬২. ‘বঙ্গভঙ্গ’ কী ধরনের সংস্কার ছিল?
    • ক. প্রশাসনিক সংস্কার
    • খ. সামাজিক সংস্কার
    • গ. আর্থিক সংস্কার
    • ঘ. কাঠামোগত সংস্কার
    উত্তর: ক. প্রশাসনিক সংস্কার
    ১৯০৫ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন বিশাল বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করেন, যার রাজধানী হয় ঢাকা। ব্রিটিশ সরকারের যুক্তি ছিল, এত বড় প্রদেশ একজন শাসকের পক্ষে ঠিকভাবে শাসন করা কঠিন, তাই শাসনকাজের সুবিধার জন্য ভাগ করা দরকার। এ কারণে বঙ্গভঙ্গকে একটি প্রশাসনিক সংস্কার বলা হয়। তবে এর বিরুদ্ধে প্রবল স্বদেশি আন্দোলন গড়ে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর।
    ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করা হয়।
  11. ৭০. ‘Stop Genocide’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
    • ক. চাষী নজরুল ইসলাম
    • খ. হুমায়ূন আহমেদ
    • গ. জহির রায়হান
    • ঘ. তারেক মাসুদ
    উত্তর: গ. জহির রায়হান
    ‘Stop Genocide’ মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র, যা পরিচালনা করেন জহির রায়হান। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও শরণার্থীদের দুর্দশা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে প্রামাণ্যচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়তে বড় ভূমিকা রাখে। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে জহির রায়হান নিখোঁজ হন।
    মনে রাখুন:
    জহির রায়হানের আরেকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’।
    মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
  12. ৭৩. দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার প্রত্যয়ে কোন সালে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়?
    • ক. ২০১২ সালে
    • খ. ২০০৯ সালে
    • গ. ২০১০ সালে
    • ঘ. ২০১১ সালে
    উত্তর: খ. ২০০৯ সালে
    ২০০৯ সালে সরকার দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বছরের প্রথম দিনে সারা দেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন শুরু হয়। এর ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিশুরা নতুন বই হাতে পায়।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এই বই তৈরি ও ছাপার দায়িত্বে থাকে।
    জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহীত হয় ২০১০ সালে।

গণিত

  1. ১১. যদি a + b = 2 এবং ab = 1 হয়, তবে a ও b এর মান যথাক্রমে-
    • ক. -1,3
    • খ. -3,-4
    • গ. 0,2
    • ঘ. 1,1
    উত্তর: ঘ. 1,1
    a + b = 2 এবং ab = 1 হলে a ও b হলো t² - 2t + 1 = 0 সমীকরণের মূল। এই সমীকরণকে লেখা যায় (t - 1)² = 0, তাই t = 1। অতএব a = 1 এবং b = 1।
    যাচাই: 1 + 1 = 2 এবং 1 × 1 = 1।
    মনে রাখুন: কোনো দ্বিঘাত সমীকরণের মূল দুটির যোগফল ও গুণফল জানা থাকলে সমীকরণটি হয় t² - (যোগফল)t + (গুণফল) = 0।
  2. ১৮. কোনো শ্রেণিতে ১০০ জন পরীক্ষার্থী ছিল। বার্ষিক পরীক্ষায় ৯৪ জন বাংলায় এবং ৮০ জন গণিতে পাশ করেছে। ৭৫ জন উভয় বিষয়ে পাশ করলে কতজন উভয় বিষয়ে ফেল করেছে?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৫১২৪) ২০১৯
    • ক. ১
    • খ. ২
    • গ. ৩
    • ঘ. ৫
    উত্তর: ক. ১
    এ ধরনের অঙ্কে সেট তত্ত্বের সূত্র কাজে লাগে। যারা দুই বিষয়েই পাস করেছে, তাদের বাংলা ও গণিত দুই দলেই দুবার গোনা হয়েছে, তাই একবার বাদ দিতে হবে।
    অন্তত এক বিষয়ে পাস = 94 + 80 − 75 = 99 জন
    উভয় বিষয়ে ফেল = 100 − 99 = 1 জন
    মনে রাখুন: n(A ∪ B) = n(A) + n(B) − n(A ∩ B)। আর কোনো বিষয়েই পাস না করা = মোট − n(A ∪ B)।
  3. ১৯. একটি সরলরেখার উপর লম্ব অঙ্কন করলে কয়টি সমকোণ পাওয়া যায়?
    • ক. ১টি
    • খ. ২টি
    • গ. ৩টি
    • ঘ. ৪টি
    উত্তর: খ. ২টি
    একটি সরলরেখার ওপর অন্য একটি রেখাংশ লম্বভাবে দাঁড়ালে দুই পাশে দুটি সন্নিহিত কোণ তৈরি হয়। এই দুটি কোণের যোগফল সব সময় ১৮০°, আর লম্ব হওয়ায় কোণ দুটি পরস্পর সমান। তাই প্রতিটি কোণ ৯০°, অর্থাৎ দুটি সমকোণ পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: লম্বটিকে যদি সরলরেখার অপর পাশেও বাড়ানো হয়, তখন দুটি রেখা পরস্পরকে ছেদ করে মোট ৪টি সমকোণ তৈরি করে।
  4. ২৩. চিনির মূল্য ২৫% বৃদ্ধি পাওয়াতে কোন এক পরিবার চিনির ব্যবহার কেমন কমালে চিনি বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে না?
    • ক. ২০%
    • খ. ১৫%
    • গ. ২৫%
    • ঘ. ৩০%
    উত্তর: ক. ২০%
    দাম বেড়ে গেলে খরচ আগের মতো রাখতে চাইলে ব্যবহার কমাতে হয়। দাম ১০০ ধরে হিসাব করলে বিষয়টি সহজ হয়।
    আগে 100 টাকায় যতটুকু চিনি পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে লাগে 125 টাকা।
    125 টাকার চিনিতে কমাতে হবে 25 টাকার
    100 টাকার চিনিতে কমাতে হবে = 25 × 100/125 = 20%
    মনে রাখুন: দাম x% বাড়লে খরচ ঠিক রাখতে ব্যবহার কমাতে হয় x × 100/(100 + x) শতাংশ। আর দাম x% কমলে ব্যবহার বাড়ানো যায় x × 100/(100 − x) শতাংশ।
  5. ২৬. p-এর মান কত হলে, 4x² – px + 9 একটি পূর্ণবর্গ হবে?
    • ক. 12
    • খ. 16
    • গ. 10
    • ঘ. 9
    উত্তর: ক. 12
    পূর্ণবর্গের সূত্র (a − b)² = a² − 2ab + b² অনুযায়ী 4x² = (2x)² এবং 9 = 3²।
    তাহলে (2x − 3)² = 4x² − 2·2x·3 + 9 = 4x² − 12x + 9
    প্রদত্ত রাশির সঙ্গে মেলালে px = 12x, অর্থাৎ p = 12।
    মনে রাখুন: ax² + bx + c পূর্ণবর্গ হওয়ার শর্ত b² = 4ac, এখানে p² = 4 × 4 × 9 = 144, তাই p = 12।
  6. ৩২. ৯২২০ জন সৈন্য হতে কমপক্ষে কতজন সৈন্য সরিয়ে রাখলে সৈন্যদলকে বর্গাকারে সাজানো যাবে?
    • ক. ৪
    • খ. ৬
    • গ. ৩
    • ঘ. ৪৫
    উত্তর: ক. ৪
    সৈন্যদের বর্গাকারে সাজাতে হলে মোট সৈন্যসংখ্যা একটি পূর্ণবর্গ সংখ্যা হতে হবে। তাই ৯২২০-এর ঠিক নিচের পূর্ণবর্গ সংখ্যাটি বের করতে হবে।
    96² = 9216 এবং 97² = 9409
    9220 সংখ্যাটি এ দুইয়ের মাঝে, তাই নিচের পূর্ণবর্গ 9216।
    সরিয়ে রাখতে হবে = 9220 − 9216 = 4 জন
    তখন প্রতি সারিতে 96 জন করে 96টি সারিতে সৈন্যদের সাজানো যাবে।
    মনে রাখুন: ভাগ পদ্ধতিতে বর্গমূল বের করলে যে ভাগশেষ থাকে, সেটিই কমপক্ষে বাদ দেওয়ার সংখ্যা।
  7. ৩৬. লঞ্চ ও স্রোতের গতিবেগ যথাক্রমে ১৮ কিমি ও ৬ কিমি। নদীপথে ৪৮ কিমি অতিক্রম করে পুনরায় ফিরে আসতে সময় লাগবে-
    • ক. ৫ ঘণ্টা
    • খ. ৬ ঘণ্টা
    • গ. ৮ ঘণ্টা
    • ঘ. ১০ ঘণ্টা
    উত্তর: খ. ৬ ঘণ্টা
    স্রোতের অনুকূলে চললে স্রোতের বেগ লঞ্চের বেগের সঙ্গে যোগ হয়, আর প্রতিকূলে চললে বিয়োগ হয়।
    অনুকূলে বেগ = 18 + 6 = 24 কিমি/ঘণ্টা, সময় = 48 ÷ 24 = 2 ঘণ্টা
    প্রতিকূলে বেগ = 18 − 6 = 12 কিমি/ঘণ্টা, সময় = 48 ÷ 12 = 4 ঘণ্টা
    মোট সময় = 2 + 4 = 6 ঘণ্টা
    মনে রাখুন: যাওয়া-আসার গড় বেগ এখানে 96 ÷ 6 = 16 কিমি/ঘণ্টা, যা লঞ্চের নিজস্ব বেগের চেয়ে কম।
  8. ৩৭. (০.০১)² এর মান কোন ভগ্নাংশটির সমান?
    • ক. ১/১০
    • খ. ১/১০,০০০
    • গ. ১/১০০০
    • ঘ. ১/১০০
    উত্তর: খ. ১/১০,০০০
    দশমিক সংখ্যাকে প্রথমে সাধারণ ভগ্নাংশে লিখে নিলে বর্গ করা সহজ হয়।
    0.01 = 1/100
    (0.01)² = 1/100 × 1/100 = 1/10000
    দশমিকেও মেলে: 0.01 × 0.01 = 0.0001 = 1/10000
    মনে রাখুন: কোনো দশমিক সংখ্যার বর্গ করলে দশমিকের পরের অঙ্কসংখ্যা দ্বিগুণ হয়, এখানে ২টি থেকে ৪টি।
  9. ৪০. x + y = 6 হলে, xy-এর বৃহত্তম মান কত?
    • ক. 12
    • খ. 7
    • গ. 10
    • ঘ. 9
    উত্তর: ঘ. 9
    দুটি সংখ্যার যোগফল নির্দিষ্ট থাকলে সংখ্যা দুটি পরস্পর সমান হলে তাদের গুণফল সবচেয়ে বড় হয়।
    x + y = 6 হলে x = y = 3 নিলে xy = 9
    যাচাই: 2 × 4 = 8, 1 × 5 = 5, 2.5 × 3.5 = 8.75, সবই 9-এর চেয়ে ছোট।
    বীজগণিতে: xy = [(x + y)² − (x − y)²]/4 = [36 − (x − y)²]/4, যা সর্বোচ্চ হয় x − y = 0 হলে, তখন xy = 36/4 = 9।
    মনে রাখুন: একই কারণে একই পরিসীমার আয়তক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল সবচেয়ে বেশি।
  10. ৪৩. পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৫০ বছর। যখন পুত্রের বয়স পিতার বর্তমান বয়সের সমান হবে তখন তাদের বয়সের সমষ্টি হবে ১০২ বছর। পুত্রের বর্তমান বয়স কত?
    • ক. ১৮
    • খ. ১২
    • গ. ১৬
    • ঘ. ১৪
    উত্তর: খ. ১২
    পুত্রের বয়স যখন পিতার বর্তমান বয়সের সমান হবে, ততদিনে পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের পার্থক্যের সমান বছর পার হবে।
    ধরি, পিতার বয়স F এবং পুত্রের বয়স S।
    F + S = 50 …(১)
    পার হবে (F − S) বছর, তখন পুত্রের বয়স F এবং পিতার বয়স F + (F − S) = 2F − S
    F + 2F − S = 102, অর্থাৎ 3F − S = 102 …(২)
    (১) ও (২) যোগ করে 4F = 152, F = 38
    S = 50 − 38 = 12 বছর
    যাচাই: ২৬ বছর পরে পুত্রের বয়স ৩৮ আর পিতার ৬৪, যোগফল ১০২।
  11. ৪৫. দুটি পরস্পর পূরক কোণের মধ্যে একটির মান ৩৫ ডিগ্রি হলে, অপরটির মান কত?
    • ক. ৫৫
    • খ. ১২০
    • গ. ১৮০
    • ঘ. ১৫৫
    উত্তর: ক. ৫৫
    দুটি কোণের যোগফল ৯০° হলে তারা পরস্পরের পূরক কোণ (Complementary Angle)। তাই একটি কোণ ৩৫° হলে অপর কোণটি হবে 90° − 35° = 55°।
    মনে রাখুন:
    ৩৫° কোণের সম্পূরক কোণ (Supplementary Angle) হবে 180° − 35° = 145°।
    দুটি সম্পূরক কোণ পাশাপাশি থাকলে তারা একটি সরলকোণ গঠন করে।
  12. ৪৬. অপু, দীপু, নিপু একটি কাজ যথাক্রমে ৬, ১০, ১৫ দিনে করতে পারে। একত্রে তারা কাজটি কতদিনে করতে পারবে?
    • ক. ৩ দিন
    • খ. ১২ দিন
    • গ. ৯ দিন
    • ঘ. ৬ দিন
    উত্তর: ক. ৩ দিন
    তিনজনের এক দিনের কাজ যোগ করলে মিলিত গতি পাওয়া যায়, কারণ যে একটি কাজ ৬ দিনে করে সে এক দিনে কাজের 1/6 অংশ করে। তাই 1/6 + 1/10 + 1/15 = (5 + 3 + 2)/30 = 10/30 = 1/3।
    অর্থাৎ একত্রে তারা এক দিনে কাজের 1/3 অংশ করে, তাই পুরো কাজ করতে লাগবে 3 দিন।
    মনে রাখুন: একজন একটি কাজ n দিনে করলে এক দিনে সে 1/n অংশ করে।
  13. ৫২. একটি দ্রব্য ২৫% লাভে বিক্রয় করা হলে, বিক্রয়মূল্য ও ক্রয়ের মূল্যের অনুপাত নিচের কোনটি?
    • ক. ৫:৪
    • খ. ৬:৪
    • গ. ৪:৫
    • ঘ. ৫:৬
    উত্তর: ক. ৫:৪
    লাভ সব সময় ক্রয়মূল্যের ওপর হিসাব হয়, তাই ক্রয়মূল্য ১০০ ধরে নিলে কাজ সহজ হয়।
    ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
    25% লাভে বিক্রয়মূল্য = 125 টাকা
    বিক্রয়মূল্য : ক্রয়মূল্য = 125 : 100 = 5 : 4
    মনে রাখুন: প্রশ্নে অনুপাতের ক্রম খেয়াল রাখতে হয়। ক্রয়মূল্য : বিক্রয়মূল্য চাইলে উত্তর হতো 4 : 5।
  14. ৫৩. যদি (x – 5)(a + x) = x² – 25 হয়, তবে a-এর মান-
    • ক. 5
    • খ. 25
    • গ. -25
    • ঘ. 5
    উত্তর: ঘ. 5
    x² − 25 কে উৎপাদকে ভাঙলে পাই x² − 5² = (x − 5)(x + 5)। প্রশ্নে বলা আছে (x − 5)(a + x) = x² − 25, তাই (x − 5)(a + x) = (x − 5)(x + 5)। দুই পাশের (x − 5) সমান, তাই বাকি অংশও সমান হতে হবে, অর্থাৎ a + x = x + 5। এ থেকে a = 5।
    মনে রাখুন: দুই বর্গের অন্তর সূত্র: a² − b² = (a + b)(a − b)।
  15. ৬৬. কোনটি ক্ষুদ্রতম সংখ্যা?
    • ক. ৪/২৭
    • খ. ৪/১৪
    • গ. ৪/১৮
    • ঘ. ৪/৬
    উত্তর: ক. ৪/২৭
    যেসব ভগ্নাংশের লব সমান, তাদের মধ্যে যার হর সবচেয়ে বড়, সেটিই সবচেয়ে ছোট। কারণ একই জিনিসকে যত বেশি ভাগে ভাগ করা হয়, প্রতিটি ভাগ তত ছোট হয়। এখানে সবগুলোর লব 4, আর হরগুলোর মধ্যে 27 সবচেয়ে বড়, তাই 4/27 ক্ষুদ্রতম।
    ক্রম: 4/27 < 4/18 < 4/14 < 4/6
    মনে রাখুন: হর সমান হলে উল্টো নিয়ম খাটে, অর্থাৎ যার লব বড় সেই ভগ্নাংশ বড়।
  16. ৬৮. একটি ক্লাবে ৮ জন পুরুষ ও ৮ জন মহিলা সদস্য আছেন। ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে হবে যেখানে পুরুষ ও মহিলা সদস্য ৩ জন করে থাকবেন। কতভাবে এই কমিটি গঠন করা যায়?
    • ক. ৩১৩৫
    • খ. ৩১৩৪
    • গ. ৩১৩৯
    • ঘ. ৩১৩৬
    উত্তর: ঘ. ৩১৩৬
    কমিটিতে পুরুষ ও মহিলা আলাদাভাবে বাছাই করতে হবে, তারপর দুই বাছাইয়ের উপায় গুণ করতে হবে। কে আগে বা পরে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাই এখানে সমাবেশ (Combination) ব্যবহার হবে।
    8 জন পুরুষ থেকে 3 জন: ⁸C₃ = (8 × 7 × 6)/(3 × 2 × 1) = 56
    8 জন মহিলা থেকে 3 জন: ⁸C₃ = 56
    মোট উপায় = 56 × 56 = 3136
    মনে রাখুন: ⁿCᵣ = n!/[r!(n − r)!], আর ⁿCᵣ = ⁿCₙ₋ᵣ, তাই ⁸C₃ = ⁸C₅।
  17. ৭২. কোন ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ৪, ৫ ও ৬ দ্বারা ভাগ করলে প্রত্যেকবার ৩ অবশিষ্ট থাকে?
    • ক. ৬৩
    • খ. ৩৩
    • গ. ৪৩
    • ঘ. ৫৪
    উত্তর: ক. ৬৩
    যে সংখ্যাকে ৪, ৫ ও ৬ দিয়ে ভাগ করলে প্রতিবার ৩ অবশিষ্ট থাকে, সেটি থেকে ৩ বাদ দিলে সংখ্যাটি তিনটি দিয়েই নিঃশেষে বিভাজ্য হবে। এমন সবচেয়ে ছোট সংখ্যা হলো এদের ল.সা.গু.।
    4 = 2², 5 = 5, 6 = 2 × 3
    ল.সা.গু. = 2² × 3 × 5 = 60
    নির্ণেয় সংখ্যা = 60 + 3 = 63
    যাচাই: 63 ÷ 4 = 15, ভাগশেষ 3; 63 ÷ 5 = 12, ভাগশেষ 3; 63 ÷ 6 = 10, ভাগশেষ 3।

আন্তর্জাতিক

  1. ১৪. জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর উদ্দেশ্য হলো-
    • ক. বিশ্বের পরিবেশ উন্নয়ন
    • খ. বিশ্বের ক্রীড়াজগতের উন্নয়ন
    • গ. বিশ্বের সর্বত্র সার্বিক ও সার্বজনীন কল্যাণ
    • ঘ. বিশ্বের আবহাওয়ার উন্নয়ন
    উত্তর: গ. বিশ্বের সর্বত্র সার্বিক ও সার্বজনীন কল্যাণ
    জাতিসংঘ ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG) গ্রহণ করে, যার মূলমন্ত্র হলো ‘কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না’ (Leave no one behind)। এর ১৭টি অভীষ্টে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করা, মানসম্মত শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, নারী-পুরুষের সমতা, জলবায়ু রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো সব দিক একসঙ্গে ধরা হয়েছে। তাই এর উদ্দেশ্য কেবল পরিবেশ বা আবহাওয়ার উন্নয়ন নয়, বরং বিশ্বের সর্বত্র সার্বিক ও সর্বজনীন কল্যাণ।
    মনে রাখুন: এসডিজির মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল, এতে ১৭টি অভীষ্ট ও ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা আছে।
  2. ১৭. ‘NASA’ কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
    • ক. মহাকাশ গবেষণা
    • খ. বিশ্ব পরিবেশ
    • গ. বিজ্ঞান গবেষণা
    • ঘ. গোয়েন্দাকাত
    উত্তর: ক. মহাকাশ গবেষণা
    নাসা (NASA)-এর পূর্ণরূপ National Aeronautics and Space Administration। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, যা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মহাকাশযান পাঠানো, গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা আর মহাকাশে মানুষ পাঠানো এর প্রধান কাজ। ১৯৬৯ সালে নাসার অ্যাপোলো-১১ অভিযানে নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখেন।
    মনে রাখুন:
    নাসার সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে।
    ভারতের মহাকাশ সংস্থা ইসরো (ISRO), আর ইউরোপের সংস্থা ইসা (ESA)।
  3. ৪৭. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্টের নাম কী?
    • ক. থিওডোর রুজভেল্ট
    • খ. জর্জ ওয়াশিংটন
    • গ. জর্জ বুশ
    • ঘ. আব্রাহাম লিংকন
    উত্তর: খ. জর্জ ওয়াশিংটন
    জর্জ ওয়াশিংটন ১৭৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন এবং দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন, তাই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতির পিতা বলা হয়। দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির নামও তাঁর নামে রাখা হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    আব্রাহাম লিংকন ছিলেন ১৬তম প্রেসিডেন্ট, তিনি দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন।
    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই।
  4. ৬১. ‘মহেঞ্জোদারো’ কথার অর্থ কী?
    • ক. মরা মানুষের ঢিবি
    • খ. মানুষের ঢিবি
    • গ. সিন্ধু-মানুষের ঢিবি
    • ঘ. হরপ্পা সভ্যতা
    উত্তর: ক. মরা মানুষের ঢিবি
    মহেঞ্জোদারো শব্দটি সিন্ধি ভাষার, যার অর্থ মৃতের স্তূপ বা মরা মানুষের ঢিবি। স্থানীয় মানুষ বহুকাল ধরে এই উঁচু ঢিবিকে এ নামে ডাকত। ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে খনন করে সিন্ধু সভ্যতার একটি বিশাল নগরীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন। জায়গাটি বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায়।
    মনে রাখুন:
    হরপ্পা আবিষ্কার করেন দয়ারাম সাহানি (১৯২১)।
    মহেঞ্জোদারোর বিখ্যাত স্থাপনা বৃহৎ স্নানাগার (Great Bath)।
  5. ৬৩. মিসরীয় সভ্যতার চিত্রলিপিকে কী বলা হয়?
    • ক. ওডিসি
    • খ. হায়ারোগ্লিফিক
    • গ. প্যাপিরাস
    • ঘ. ক্যালিওগ্রাফি
    উত্তর: খ. হায়ারোগ্লিফিক
    প্রাচীন মিসরীয়রা ছবি ও চিহ্ন দিয়ে লেখার যে পদ্ধতি তৈরি করেছিল, তাকে হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) বলে। গ্রিক শব্দ hieros (পবিত্র) ও glyphe (খোদাই) থেকে নামটি এসেছে, কারণ মন্দির ও সমাধির দেয়ালে এগুলো খোদাই করা হতো। প্যাপিরাস ছিল নলখাগড়া জাতীয় গাছ থেকে তৈরি কাগজ, যার ওপর তারা লিখত, লিপির নাম নয়।
    মনে রাখুন:
    রোজেটা পাথরের (Rosetta Stone) সাহায্যে ফরাসি পণ্ডিত শাঁপোলিয়ঁ হায়ারোগ্লিফিকের পাঠোদ্ধার করেন।
    সুমেরীয়দের লিপির নাম কিউনিফর্ম।

বিজ্ঞান

  1. ২০. গাছের প্রাণ আছে- কে প্রমাণ করেন?
    • ক. আলবার্ট আইনস্টাইন
    • খ. জগদীশ চন্দ্র বসু
    • গ. আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    • ঘ. চার্লস ডারউইন
    উত্তর: খ. জগদীশ চন্দ্র বসু
    বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা উদ্ভিদের খুব সামান্য বৃদ্ধি ও নড়াচড়াও কয়েক হাজার গুণ বড় করে দেখাতে পারত। এই যন্ত্র দিয়ে তিনি দেখান যে গাছও তাপ, আঘাত, বিষ ও আলোর মতো উদ্দীপনায় প্রাণীর মতোই সাড়া দেয়। এভাবে তিনি প্রমাণ করেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।
    মনে রাখুন:
    জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালে, ময়মনসিংহে, আর তাঁর পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রাঢ়িখালে।
    বেতার তরঙ্গ নিয়ে তাঁর গবেষণা রেডিও আবিষ্কারের পথ সহজ করেছিল, আর তিনি লিখেছিলেন ‘অব্যক্ত’ নামের বই।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর: অন্যান্য পরীক্ষা

আরও শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন