স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফার্মাসিস্ট নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২। ৬৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। শুধু সাধারণ অংশ। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →ইংরেজি
- ১. To introduce a list of objects we use :
- ক. comma
- খ. hyphen
- গ. semicolon
- ঘ. colon
উত্তর: ঘ. colon
ইংরেজিতে কোনো তালিকা বা উদাহরণের সূচনা করতে colon (:) ব্যবহার করা হয়। বাক্যের মূল অংশ শেষ করে colon দিয়ে তালিকা শুরু করা যায়, যেমন: You need three things: a pen, paper and a ruler। Comma তালিকার ভেতরের আলাদা আইটেমকে আলাদা করে, কিন্তু তালিকা শুরু করে না। Semicolon দুটি সম্পর্কযুক্ত স্বাধীন clause যুক্ত করে, আর hyphen দুটি শব্দকে জুড়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
উদাহরণ:
She bought three fruits: mango, banana and apple.
মনে রাখুন: Colon ব্যাখ্যা, উদ্ধৃতি বা সময় (10:30) লেখার সময়ও ব্যবহৃত হয়। - ২. 'The Tempest' is a drama by :
- ক. William Wordsworth
- খ. G.B. Shaw
- গ. William Shakespeare
- ঘ. Harold Pinter
উত্তর: গ. William Shakespeare
‘The Tempest’ (আনুমানিক ১৬১১) উইলিয়াম শেক্সপিয়রের লেখা নাটক। এতে মিলানের নির্বাসিত ডিউক প্রস্পেরো এক দ্বীপে তাঁর কন্যা মিরান্ডার সঙ্গে বাস করছেন, আর জাদুবিদ্যার সাহায্যে শত্রুদের জাহাজডুবি ঘটান। এটিকে শেক্সপিয়রের শেষ দিকের রোমান্স নাটকের মধ্যে ধরা হয়। অন্য অপশনের লেখকরা আলাদা: ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবি, জি. বি. শ নাট্যকার (‘Pygmalion’), আর হ্যারল্ড পিন্টার (‘The Birthday Party’) আধুনিক নাট্যকার। নাটকটির শেষে প্রস্পেরো জাদুর বই ত্যাগ করেন এবং শত্রুদের ক্ষমা করে দেন।
মনে রাখুন:
‘The Tempest’-এর চরিত্র: Prospero, Miranda, Ariel ও Caliban।
শেক্সপিয়র ১৫৬৪ সালে স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-এভনে জন্মান এবং ১৬১৬ সালে মারা যান। - ৫. Which is the right word to complete the sentence: The club was set — by a businessman.
- ক. down
- খ. up
- গ. for
- ঘ. of
উত্তর: খ. up
Set up একটি phrasal verb, যার মানে প্রতিষ্ঠা করা, গড়ে তোলা। তাই ব্যবসায়ী কর্তৃক ক্লাব প্রতিষ্ঠা বোঝাতে The club was set up by a businessman। Passive voice-এ was set up। Set down মানে নামিয়ে রাখা বা লিখে রাখা, set for-এর কোনো স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই, আর set of মানে একটি সেট বা সংগ্রহ।
উদাহরণ:
They set up a new school in the village.
মনে রাখুন: Set off = যাত্রা শুরু করা, set out = রওনা হওয়া, set aside = আলাদা করে রাখা। - ১২. The word 'ocular' is related to :
- ক. sound
- খ. sight
- গ. hearing
- ঘ. smell
উত্তর: খ. sight
Ocular শব্দটি এসেছে ল্যাটিন oculus (চোখ) থেকে, আর এর অর্থ চোখ বা দৃষ্টিসংক্রান্ত। তাই এটি sight (দৃষ্টি)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। Sound ও hearing কানের কাজ, আর smell নাকের কাজ, এ কারণে বাকি অপশনগুলো ভুল। যেমন ocular examination মানে চোখের পরীক্ষা, আর oculist মানে চক্ষু চিকিৎসক। Binocular শব্দটিও একই মূল থেকে এসেছে, এর অর্থ দুই চোখে দেখার যন্ত্র।
মনে রাখুন: ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে যুক্ত বিশেষণ:
Aural = শ্রবণ (hearing) সংক্রান্ত।
Olfactory = ঘ্রাণ (smell) সংক্রান্ত।
Gustatory = স্বাদ (taste) সংক্রান্ত।
Tactile = স্পর্শ (touch) সংক্রান্ত। - ১৯. The opposite word of 'profane' is :
- ক. unfriendly
- খ. sacred
- গ. helpful
- ঘ. sinful
উত্তর: খ. sacred
Profane মানে অপবিত্র বা ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাপূর্ণ। এর বিপরীত অর্থ হলো পবিত্র, আর সেটিই Sacred। বাকি অপশনগুলো বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে না: Unfriendly মানে বন্ধুত্বহীন, Helpful মানে উপকারী, আর Sinful মানে পাপপূর্ণ, যা বরং profane-এর কাছাকাছি। এই কারণে অপশনে sinful দেখে ধোঁকা খাওয়া ঠিক নয়।
উদাহরণ: The priest said that profane language was not allowed in the temple.
মনে রাখুন: Sacred-এর সমার্থক Holy, Divine, Blessed; Profane-এর সমার্থক Irreverent, Blasphemous (ধর্মনিন্দাকর)।
Profanity (noun) = ধর্মনিন্দা বা অশ্লীল ভাষা। - ২০. Who is known as a novelist?
- ক. Thomas Hardy
- খ. John Milton
- গ. Alexander Pope
- ঘ. P.B. Shelley
উত্তর: ক. Thomas Hardy
Thomas Hardy ইংরেজ ঔপন্যাসিক (Novelist)। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘Tess of the d’Urbervilles’, ‘Far from the Madding Crowd’, ‘The Mayor of Casterbridge’ ও ‘Jude the Obscure’। শেষ জীবনে তিনি কবিতাও লিখেছেন, কিন্তু উপন্যাসের জন্যই তিনি বেশি পরিচিত। বাকি তিনজন প্রধানত কবি: John Milton লিখেছেন ‘Paradise Lost’, Alexander Pope লিখেছেন ‘The Rape of the Lock’, আর P. B. Shelley লিখেছেন ‘Ode to the West Wind’।
মনে রাখুন:
Hardy-র উপন্যাসের পটভূমি ইংল্যান্ডের কাল্পনিক অঞ্চল Wessex।
তাঁর কাব্যনাট্য ‘The Dynasts’।
Hardy-র জন্ম ১৮৪০ ও মৃত্যু ১৯২৮ সালে। - ৩৮. It is — horrible incident. The right word for the gap is :
- ক. a
- খ. an
- গ. the
- ঘ. no article
উত্তর: ক. a
আমরা a বসাই এমন শব্দের আগে, যার প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জনধ্বনি; আর an বসাই স্বরধ্বনির আগে। এখানে লক্ষ করার বিষয় হলো, নিয়মটি বানানের ওপর নয়, উচ্চারণের ওপর নির্ভর করে। ‘Horrible’ শব্দের শুরুতে h আছে, কিন্তু উচ্চারণে h-এর ধ্বনি স্পষ্ট শোনা যায় (হরিবল), তাই এটি ব্যঞ্জনধ্বনি। অতএব ঠিক বাক্য ‘It is a horrible incident.’ আবার ‘incident’ একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নয়, যেকোনো একটি ঘটনা বোঝাচ্ছে, তাই এখানে the বসে না।
উদাহরণ:
an hour, an honest man (এখানে h নীরব)
a hotel, a horse
মনে রাখুন: an umbrella, an MBA (এম-এর উচ্চারণ স্বরধ্বনি দিয়ে শুরু), a university (ইউ-এর উচ্চারণ ব্যঞ্জনধ্বনির মতো)। - ৩৯. Which is in plural form?
- ক. radius
- খ. analysis
- গ. media
- ঘ. datum
উত্তর: গ. media
Media শব্দটি Medium-এর বহুবচন (Plural)। বাকি শব্দগুলো একবচন (Singular): radius-এর বহুবচন radii, analysis-এর বহুবচন analyses, আর datum-এর বহুবচন data। ল্যাটিন বা গ্রিক থেকে আসা এমন অনেক শব্দের বহুবচন নিয়মমাফিক s যোগ করে হয় না, বরং মূল ভাষার নিয়মে শেষের অংশ বদলে যায়। যেমন -um শেষ হলে সাধারণত -a হয় এবং -us শেষ হলে -i হয়। তাই দেখতে একবচনের মতো মনে হলেও media আসলে বহুবচন।
উদাহরণ:
Phenomenon – phenomena, criterion – criteria, crisis – crises, bacterium – bacteria
মনে রাখুন: Cactus – cacti, syllabus – syllabi, stimulus – stimuli। - ৪১. A person just appointed to a post is called a/an :
- ক. appointer
- খ. appointee
- গ. novice
- ঘ. apprentice
উত্তর: খ. appointee
যাকে সদ্য কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাকে Appointee বলে। Appointer মানে যিনি নিয়োগ দেন। Novice মানে নতুন ও অনভিজ্ঞ লোক, আর Apprentice মানে যে কাজ শেখার জন্য কারও অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে থাকে। এই শব্দগুলোর মধ্যে Appointee ছাড়া আর কোনোটিতেই নিয়োগ পাওয়ার ভাব নেই, তাই এটিই ঠিক। Appoint ক্রিয়ার পর -ee যোগ করে এই শব্দটি তৈরি হয়েছে, যার মানে যাঁকে নিয়োগ করা হয়।
মনে রাখুন: ee দিয়ে শেষ হওয়া শব্দে সাধারণত যিনি কাজটি পান তাঁকে বোঝায়, আর er বা or দিয়ে শেষ হলে যিনি কাজটি করেন।
উদাহরণ: employer – employee, examiner – examinee, payer – payee - ৪৪. Identify the feminine gender :
- ক. peer
- খ. parent
- গ. boar
- ঘ. spinster
উত্তর: ঘ. spinster
Spinster মানে অবিবাহিতা নারী, তাই এটি স্ত্রীলিঙ্গ (Feminine Gender)। বাকি শব্দগুলো স্ত্রীলিঙ্গ নয়। Peer মানে সমবয়সী বা সহকর্মী, যা স্ত্রী বা পুরুষ উভয়ের জন্য ব্যবহার হয়, তাই এটি উভয়লিঙ্গ। Parent মানে পিতা অথবা মাতা, সুতরাং এটিও উভয়লিঙ্গ। আর Boar হলো পুরুষ শূকর, যা পুংলিঙ্গ। ইংরেজিতে নারী বা পুরুষ বোঝানোর জন্য অনেক সময় একেবারে আলাদা শব্দ থাকে, তাই এগুলো আলাদা করে মুখস্থ রাখতে হয়। স্ত্রীলিঙ্গ চেনার আরেকটি উপায় হলো শব্দের অর্থটি নারী কি না তা দেখা, কারণ এই শব্দগুলোর রূপ দেখে লিঙ্গ বোঝা যায় না।
মনে রাখুন: Spinster-এর পুংলিঙ্গ Bachelor।
অন্যান্য স্ত্রীলিঙ্গ: sow (স্ত্রী শূকর), widow, bride, duchess। - ৪৫. Which is the right synonym of 'skilled'?
- ক. adopt
- খ. adept
- গ. adupt
- ঘ. adapt
উত্তর: খ. adept
Skilled মানে দক্ষ। একই অর্থের শব্দ Adept। বাকি শব্দগুলো দেখতে প্রায় একই রকম, তাই ভুল হতে পারে: Adopt মানে দত্তক নেওয়া বা গ্রহণ করা, আর Adapt মানে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। ‘Adupt’ বলে ইংরেজিতে কোনো শব্দ নেই। দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় পরীক্ষায় এই তিনটি শব্দ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে, তাই বানান ও অর্থ আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন: Skilled-এর আরও সমার্থক শব্দ expert, proficient, competent; বিপরীত unskilled বা clumsy।
উদাহরণ: She is adept at solving puzzles. (সে ধাঁধা সমাধানে দক্ষ।) - ৫৩. The past tense of the verb 'string' is—
- ক. strang
- খ. stringed
- গ. strung
- ঘ. strunged
উত্তর: গ. strung
String ক্রিয়াটির রূপ অনিয়মিত (Irregular Verb): string – strung – strung। অর্থাৎ Past Tense ও Past Participle দুটোই strung। তাই ‘stringed’ বা ‘strang’ ঠিক নয়। ইংরেজিতে যে ক্রিয়ার Past Tense শুধু -ed যোগ করে হয় না, তাকে Irregular Verb বলে। এমন ক্রিয়ার তিনটি রূপ আলাদা করে শিখে রাখতে হয়। String মানে সুতোয় গাঁথা বা তার দিয়ে বাঁধা।
উদাহরণ:
He strung the beads on a thread.
একই ধরনের ক্রিয়া: sing – sang – sung, swing – swung – swung, cling – clung – clung
মনে রাখুন: ring – rang – rung এবং sting – stung – stung। - ৫৬. To complete the sentence 'Hardly had I reached the station — the train left' we need :
- ক. then
- খ. than
- গ. but
- ঘ. before
উত্তর: ঘ. before
Hardly, Scarcely ও Barely দিয়ে শুরু বাক্যে দুটি ঘটনা প্রায় একসঙ্গে ঘটে। এই বাক্যে প্রথমে সহায়ক ক্রিয়া (had) আসে এবং ঠিক পরে subject। দ্বিতীয় অংশের আগে when বা before বসে, তবে অপশনে when নেই, তাই before ঠিক। ‘than’ বসে No sooner-এর সঙ্গে, ‘then’ ও ‘but’ এখানে খাটে না। অর্থাৎ ‘Hardly had I reached the station before the train left’ বাক্যের অর্থ হলো আমি স্টেশনে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল।
উদাহরণ:
Hardly had he come when it rained.
No sooner had he come than it rained.
মনে রাখুন: Hardly ও Scarcely-এর বাক্যে বলা হয় when বা before, আর No sooner-এর সঙ্গে সবসময় than বসে। - ৬১. The man was absolved — the charge. The right for the gap is :
- ক. of
- খ. for
- গ. out
- ঘ. off
উত্তর: ক. of
Absolve শব্দের অর্থ দায় বা অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া। এর পরে of বা from বসে, যেমন absolve someone of a charge। অপশনের মধ্যে of আছে, তাই এটি সঠিক উত্তর। ইংরেজিতে কিছু ক্রিয়ার সঙ্গে নির্দিষ্ট preposition বসে, এটি মুখস্থ রাখতে হয়, কারণ অন্য preposition বসালে অর্থ বদলে যায় বা বাক্য ভুল হয়। এখানে for, out ও off কোনোটিই absolve-এর সঙ্গে বসে না।
উদাহরণ:
The court absolved him of all charges.
একই ধরনের গঠন: acquit of, accuse of, rob of
মনে রাখুন: Convict of (দোষী সাব্যস্ত করা), suspect of (সন্দেহ করা), cure of (রোগমুক্ত করা)-এর সঙ্গেও of বসে। - ৬২. Choose the word with correct spelling :
- ক. videoes
- খ. videos
- গ. vidioes
- ঘ. vidios
উত্তর: খ. videos
Video শব্দটি o দিয়ে শেষ হয়েছে এবং তার আগে আছে স্বর i। যে o-শেষ শব্দের আগে স্বরবর্ণ থাকে, তার বহুবচনে সাধারণত শুধু s বসে। তাই বহুবচন videos, ‘videoes’ ঠিক নয়। বাকি বানান ভুল। বহুবচনের এই নিয়ম একটু আলাদা, কারণ কিছু o-শেষ শব্দে es বসে, আবার কিছুতে শুধু s। আগের অক্ষরটি স্বরবর্ণ নাকি ব্যঞ্জনবর্ণ, সেটা দেখলে প্রায়ই নিয়মটি ধরা যায়।
উদাহরণ:
radio – radios, studio – studios, zoo – zoos
ব্যতিক্রম: hero – heroes, potato – potatoes, tomato – tomatoes
মনে রাখুন: Piano – pianos এবং photo – photos, কারণ এগুলো সংক্ষিপ্ত রূপ বা বিদেশি শব্দ থেকে এসেছে। - ৬৫. — going to office, I met an accident.
- ক. When
- খ. On
- গ. While
- ঘ. Behind
উত্তর: গ. While
While-এর পরে সাধারণত subject ও verb বসে, কিন্তু একই subject হলে subject বাদ দিয়ে শুধু V+ing বসানো যায়, যেমন While going to office। এখানে ‘যাওয়ার সময়’ বোঝাতে while সবচেয়ে ভালো মানায়, কারণ একটি কাজ চলাকালে আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। When-ও আসতে পারে, কিন্তু When-এর পরে সাধারণত subject বা past participle আসে। On-এর পরে V+ing বসলে অর্থ হয় ‘করামাত্র’, আর Behind এখানে একেবারেই খাটে না।
উদাহরণ:
While walking in the park, I saw a snake.
On reaching home, he took a bath. (On + V-ing)
মনে রাখুন: While চলতে থাকা কাজ বোঝায়, আর On + V-ing কাজ শেষ হওয়ামাত্র আরেক কাজ বোঝায়।
বাংলাদেশ
- ৩. উয়ারি-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
- ক. দিনাজপুর
- খ. ঢাকা
- গ. নরসিংদী
- ঘ. কুমিল্লা
উত্তর: গ. নরসিংদী
উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন নগর-সভ্যতার প্রত্নস্থল। এখানে মাটি খুঁড়ে পাওয়া ছাপাঙ্কিত রুপার মুদ্রা, পুঁতি ও পাথরের হাতিয়ার দেখে মনে করা হয় এখানে আড়াই হাজার বছর আগেও জনবসতি ও বাণিজ্য ছিল। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান এই এলাকার প্রত্নবস্তু সংগ্রহ করে এর গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরেন।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের অন্য প্রত্নস্থান: মহাস্থানগড় (বগুড়া), ময়নামতি (কুমিল্লা), পাহাড়পুর (নওগাঁ)।
পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।
একই বছর বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদও এই তালিকায় স্থান পায়। - ৬. 'ওয়ানগালা' কাদের ধর্মীয় উৎসব?
- ক. মারমা
- খ. গারো
- গ. সাঁওতাল
- ঘ. চাকমা
উত্তর: খ. গারো
ওয়ানগালা গারো জনগোষ্ঠীর একটি প্রধান উৎসব। ফসল ঘরে তোলার পর গারোরা তাদের দেবতা সালজংকে (সূর্যদেবতা) ধন্যবাদ জানিয়ে এ উৎসব উদ্যাপন করে। উৎসবে অনেক ঢাক বাজে বলে একে ‘একশো ঢাকের উৎসব’ও বলা হয়। বাংলাদেশে গারোরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ আশপাশের এলাকায় বাস করে এবং নিজেদের ‘মান্দি’ বা ‘আচিক’ বলে পরিচয় দেয়। গারোরা প্রধানত কৃষিজীবী এবং জুম ও সমতলের চাষের ওপর নির্ভর করে জীবন চালায়।
মনে রাখুন:
চাকমাদের উৎসব বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই।
সাঁওতালদের উৎসব সহরায় ও বাহা।
গারো সমাজ মাতৃসূত্রীয়, অর্থাৎ বংশ মায়ের পরিচয়ে চলে। - ৭. প্রথম জাতীয় Essential Drug List (EDL) কত সালে ঘোষণা করা হয়েছিল?
- ক. ১৯৮২
- খ. ২০০৫
- গ. ২০১০
- ঘ. ২০১৬
উত্তর: ক. ১৯৮২
বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে জাতীয় ঔষধনীতির অংশ হিসেবে প্রথম অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা (Essential Drug List, EDL) চালু হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি ওষুধগুলো সহজলভ্য রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর ওষুধ বাজার থেকে সরানো। এই উদ্যোগের ফলে হাজারেরও বেশি অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নিষিদ্ধ হয়।
মনে রাখুন:
১৯৮২ সালের ঔষধনীতি ও ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রণীত হয়।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধের নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ করে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (API) পার্ক গড়ে উঠেছে। - ১১. বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ওষুধ নীতি ঘোষিত হয় কত সালে?
- ক. ১৯৯৪
- খ. ১৯৮২
- গ. ২০০৫
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. ১৯৮২
১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম জাতীয় ঔষধনীতি ঘোষণা করে। তখন বাজারে অনেক অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রি হতো, আর নতুন নীতির মাধ্যমে সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা হয়। এই নীতিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরি এবং দেশে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। নীতিটি তৈরির পেছনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বড় ভূমিকা ছিল। পরে ২০০৫ সালে নতুন করে জাতীয় ঔষধনীতি প্রণীত হয়।
মনে রাখুন:
ওষুধ আমদানি, উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের।
এই অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন। - ১৪. বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল কবে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৪, এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৫, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৮৪৩৩) ২০১৯
- ক. ১ মার্চ ১৯৭১
- খ. ২৬ মার্চ ১৯৭১
- গ. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
- ঘ. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর: গ. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল আমরা প্রথম অস্থায়ী সরকার (Provisional Government) গঠনের ঘোষণা পাই। ওই দিন গণপরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা বৈঠক করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন এবং সরকারের কাঠামো ঠিক করেন। তবে সরকারের শপথ হয় কিছুদিন পরে, ১৭ এপ্রিল, কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে। সেই কারণে ১৭ এপ্রিল শপথের দিন, আর ১০ এপ্রিল গঠনের দিন।
মনে রাখুন:
সরকারের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
বৈদ্যনাথতলার নতুন নাম মুজিবনগর। - ২২. প্রথম জাতীয় ওষুধ নীতিতে কতগুলো ওষুধ বাতিল করা হয়েছিল?
- ক. ১৪৪২
- খ. ১৭০৭
- গ. ১৮০২
- ঘ. ২০১৯
উত্তর: খ. ১৭০৭
১৯৮২ সালে বাংলাদেশ প্রথম জাতীয় ওষুধ নীতি (National Drug Policy) গ্রহণ করে। এই নীতির আওতায় অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর ও অকার্যকর ১৭০৭টি ওষুধ বাজার থেকে বাতিল করা হয় এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরি করা হয়। নীতিটি তৈরির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ পরে এই নীতিকে আদর্শ হিসেবে দেখেছে।
মনে রাখুন:
প্রথম জাতীয় ওষুধ নীতি ১৯৮২, সর্বশেষ জাতীয় ওষুধ নীতি ২০১৬।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ইংরেজি নাম DGDA। - ২৪. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
- ক. ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
- খ. ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
- গ. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
- ঘ. ২৩ এপ্রিল ১৯৬৬
উত্তর: গ. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
ছয় দফা বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম এটি উত্থাপন করেন। তারপর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও কার্যনির্বাহী কমিটি এটি অনুমোদন করলে ২৩ মার্চ ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়, আর প্রশ্নে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ শব্দটি এই তারিখকেই বোঝায়। ছয় দফাকে বাঙালির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’ বলা হয়।
মনে রাখুন:
৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ – লাহোরে উত্থাপন।
পুস্তিকার নাম ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’।
৭ জুন ১৯৬৬ – ছয় দফার সমর্থনে হরতাল। - ২৯. পাটের জিনোম সিকোয়েন্স (জন্মরহস্য) কে উদ্ভাবন করেন?
- ক. ফরিদুল আলম
- খ. শহীদুল আলম
- গ. মাকসুদুল আলম
- ঘ. মিজানুর রহমান
উত্তর: গ. মাকসুদুল আলম
পাট আমাদের প্রধান অর্থকরী ফসল, তাই একে ‘সোনালি আঁশ’ বলা হয়। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম ২০১০ সালে পাটের জিনোম সিকোয়েন্স (Genome Sequence) উদ্ঘাটন করেন। জিনোম হলো কোনো জীবের সব জিনের সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার। এই তথ্য জানলে কোন জিন কী কাজ করে তা বোঝা যায়, ফলে পাটের রোগ-প্রতিরোধী ও উন্নত জাত তৈরি করা সহজ হয়। প্রশ্নে ‘জন্মরহস্য’ বলতে এই জিনোম সিকোয়েন্সকেই বোঝানো হয়েছে।
মনে রাখুন:
মাকসুদুল আলম আরও পেঁপে, রাবার ও একটি ছত্রাকের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্ঘাটন করেছেন।
পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতেন। - ৩২. 'শিশু স্বর্গ' নামে চিত্র অঙ্কন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন–
- ক. এস.এম সুলতান
- খ. জয়নুল আবেদীন
- গ. মুস্তফা মনোয়ার
- ঘ. কামরুল হাসান
উত্তর: ক. এস.এম সুলতান
নড়াইলের শিল্পী এস. এম. সুলতান (শেখ মুহম্মদ সুলতান) শিশুদের ছবি আঁকা শেখানোর জন্য ‘শিশুস্বর্গ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এটি নড়াইলে অবস্থিত। তাঁর ছবিতে বাংলার কৃষকের শক্তিশালী পেশিবহুল শরীর দেখা যায়, যা অন্য শিল্পীদের থেকে আলাদা। লোকে তাঁকে আদর করে ‘লাল মিয়া’ বলে ডাকত। তিনি শহরের কোলাহল ছেড়ে গ্রামে থাকতে ভালোবাসতেন এবং গ্রামের মানুষের শ্রমকেই নিজের ছবির বিষয় করেছিলেন। অপশনের অন্য শিল্পীরাও বাংলাদেশের চিত্রকলায় বিখ্যাত, তবে ‘শিশুস্বর্গ’-এর সঙ্গে সুলতানের নামই জড়িয়ে আছে।
মনে রাখুন:
সুলতানের বিখ্যাত ছবি: চর দখল, ধান কাটা, হত্যাযজ্ঞ।
জয়নুল আবেদীন ‘দুর্ভিক্ষের ছবি’র জন্য পরিচিত।
কামরুল হাসান ‘গ্রাম বাংলার নববধূ’ ছবির জন্য এবং ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ পোস্টারের জন্য বিখ্যাত। - ৩৪. বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল গঠিত হয় কত সালে?
- ক. ১৯৭২
- খ. ১৯৭৪
- গ. ১৯৭৬
- ঘ. ১৯৭৮
উত্তর: গ. ১৯৭৬
ফার্মেসি পেশার মান ঠিক রাখতে ও ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন দিতে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল গঠন করা হয়। ১৯৭৬ সালের ফার্মেসি অধ্যাদেশের (Pharmacy Ordinance) অধীনে এটি গঠিত হয়, তাই এর সাল ১৯৭৬। কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া কেউ ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারে না। ওষুধ ও ফার্মেসি পেশার নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি আলাদা প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তাই কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ কী, সেটা আলাদা করে মনে রাখা ভালো। সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নে অধ্যাদেশের সাল আর কাউন্সিলের গঠনের সাল প্রায়ই একসঙ্গে আসে।
মনে রাখুন:
ওষুধ নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
ফার্মাসিস্টের নিবন্ধন ও পেশাগত মান দেখে ফার্মেসি কাউন্সিল।
বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় ওষুধ নীতি ঘোষিত হয় ১৯৮২ সালে। - ৩৫. বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
- ক. হামিদুর রহমান
- খ. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
- গ. হাসেম খান
- ঘ. মইনুল হোসেন
উত্তর: ক. হামিদুর রহমান
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা করেন শিল্পী হামিদুর রহমান। শিল্পী নভেরা আহমেদ তাঁর সঙ্গে ভাস্কর্যের কাজ করেন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা প্রথম একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার বানান, যার নকশা করেছিলেন বদরুল আলম। সেই অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ পরে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এরপর স্থায়ী শহীদ মিনারের পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং হামিদুর রহমানের নকশাই সেখানে গৃহীত হয়।
মনে রাখুন:
বর্তমান শহীদ মিনারের নির্মাণ ১৯৫৭ সালে শুরু হয়।
স্বাধীনতার পর শহীদ মিনার নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদ একসঙ্গে শহীদ মিনারের নকশা ও ভাস্কর্যে যুক্ত ছিলেন। - ৪৭. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে সমগ্র যুদ্ধক্ষেত্রকে কয়টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়?
- ক. ৬০টি
- খ. ৬৪টি
- গ. ৪৪টি
- ঘ. ৫৪টি
উত্তর: খ. ৬৪টি
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং এই সেক্টরগুলোকে আবার ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়, যাদের নাম সাব-সেক্টর। এতে প্রতিটি সেক্টরে যুদ্ধের পরিচালনা সহজ হয়। মোট সাব-সেক্টর ছিল ৬৪টি। এই সংখ্যা মনে রাখতে হয়, কারণ সেক্টরের সংখ্যা (১১) নিয়েও প্রশ্ন আসে।
মনে রাখুন:
১০ নম্বর সেক্টর ছিল নৌ-সেক্টর, যার আলাদা সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
সেক্টর বৈঠক হয় ১৯৭১ সালের ১১–১৭ জুলাই কলকাতায়।
মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এবং শপথ নেয় ১৭ এপ্রিল। - ৪৮. দেশের সর্বশেষ জাতীয় ওষুধ নীতি কোন সালে ঘোষিত হয়?
- ক. ১৯৮২
- খ. ১৯৮৭
- গ. ২০০৫
- ঘ. ২০১৬
উত্তর: ঘ. ২০১৬
বাংলাদেশে ওষুধের উৎপাদন, মূল্য ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের নির্দেশিকা হলো জাতীয় ওষুধ নীতি (National Drug Policy)। ১৯৮২ সালে প্রথম নীতি এবং এরপর ২০০৫ সালে নীতিটি হালনাগাদ করা হয়। তবে প্রশ্ন করার সময় যে নীতি সবচেয়ে নতুন ছিল, সেটি ২০১৬ সালে ঘোষিত জাতীয় ওষুধ নীতি, তাই উত্তর ২০১৬। অপশনে ১৯৮২ ও ২০০৫ সালও আছে, তাই সাল গুলিয়ে না ফেলে ‘সর্বশেষ’ শব্দটির দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
মনে রাখুন: ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতি সামরিক সরকারের আমলে (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়) ঘোষিত হয়।
ওষুধ নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। - ৪৯. বিশ্ব শান্তি পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন পদকে ভূষিত করে?
- ক. নোবেল পদক
- খ. জুলিও কুরি পদক
- গ. মাদাম কুরি পদক
- ঘ. র্যামন ম্যাগসেসে পদক
উত্তর: খ. জুলিও কুরি পদক
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর বিশ্ব শান্তি পরিষদ (World Peace Council) শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদক (Joliot-Curie Peace Medal) প্রদান করে। ১৯৭৩ সালের ২৩ মে পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্র ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটি তাঁকে পরিয়ে দেন। ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জুলিও-কুরির নামে এই পদকের নাম, যিনি বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রথম সভাপতি ছিলেন। নোবেল পদক বা ম্যাগসেসে পদক এই সংস্থা দেয় না, আর মাদাম কুরির নামে শান্তি পদকের কথা এখানে ওঠে না।
মনে রাখুন: রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে ‘বিশ্ববন্ধু’ উপাধি দেন। এটি মাদাম কুরি পদক নয়। - ৫১. 'মুক্তির গান'-এর নির্মাতা কে?
- ক. মোরশেদুল ইসলাম
- খ. তারেক মাসুদ
- গ. নাসিরউদ্দিন ইউসুফ
- ঘ. তানভীর মোকাম্মেল
উত্তর: খ. তারেক মাসুদ
‘মুক্তির গান’ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র, যার নির্মাতা তারেক মাসুদ। তাঁর সহযোগী ছিলেন স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। ছবিতে একাত্তরে শরণার্থী শিবিরে গান গেয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া একটি শিল্পী দলের কাহিনী আছে। এটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়। প্রামাণ্যচিত্র হলো বাস্তব ঘটনা ও মানুষের কথা নিয়ে তোলা ছবি, যেখানে গল্প বানানো হয় না। তারেক মাসুদের পরের কাজগুলো মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজ নিয়ে আরও পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির পথ দেখিয়েছে।
মনে রাখুন: তারেক মাসুদের আরও ছবি: মাটির ময়না (২০০২), অন্তর্যাত্রা, রানওয়ে।
মাটির ময়না ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের পুরস্কার পায়। - ৬৩. ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়–
- ক. ১৯৯০ সালে
- খ. ১৯৯১ সালে
- গ. ১৯৯২ সালে
- ঘ. ১৯৯৩ সালে
উত্তর: গ. ১৯৯২ সালে
স্বাধীনতার পরে যারা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্য করেছিল, তাদের বিচারের দাবিতে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হয়। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এই কমিটির নেতৃত্ব দেন। তাঁর ছেলে রুমী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। এরপর ওই বছরের ২৬ মার্চ গণআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার হয়। এই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিকে জনগণের দাবিতে পরিণত করে। কমিটির এই আন্দোলনের ফলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
মনে রাখুন:
জাহানারা ইমামের বিখ্যাত বই ‘একাত্তরের দিনগুলি’।
তিনি ‘শহীদ জননী’ নামে পরিচিত।
গণআদালত হয়েছিল ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ। - ৬৪. 'কারাগারের রোজনামচা' কে রচনা করেন?
- ক. শেখ হাসিনা
- খ. শেখ মুজিবুর রহমান
- গ. সুফিয়া কামাল
- ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর: খ. শেখ মুজিবুর রহমান
‘কারাগারের রোজনামচা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা, যেখানে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে কারাগারে থাকাকালীন দিনলিপি আছে। বইটি তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়। রোজনামচা শব্দের অর্থ দৈনন্দিন ঘটনার লেখা বা দিনলিপি। এতে ছয় দফা আন্দোলনের পরের সময়ে কারাবন্দি জীবনে তাঁর দেখা মানুষ ও ঘটনার কথা আছে। বঙ্গবন্ধুর এই তিনটি বই তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশ পেয়েছে, আর বইগুলোর প্রকাশের ক্রম প্রায়ই প্রশ্নে আসে। ‘রোজনামচা’ মানে দিনলিপি, অর্থাৎ প্রতিদিনের ঘটনা লিখে রাখা খাতা। কারাগারে বসে তিনি রাজনীতি ও জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাও লিখে রেখেছিলেন। অপশনের অন্য তিনজনের কেউ এই বইয়ের লেখক নন, কারণ শেখ হাসিনা, সুফিয়া কামাল ও সৈয়দ শামসুল হক আলাদা পরিচয়ে খ্যাত।
মনে রাখুন:
তাঁর তিনটি বই: ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১২), ‘কারাগারের রোজনামচা’ (২০১৭), ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (২০২০)। - ৬৮. বাকল্যান্ড বাঁধ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
- ক. বুড়িগঙ্গা
- খ. হোয়াংহো
- গ. শীতলক্ষ্যা
- ঘ. সিন্ধু
উত্তর: ক. বুড়িগঙ্গা
বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। ১৮৬৪ সালে তৎকালীন ঢাকার কমিশনার চার্লস থমাস বাকল্যান্ড নদীর ভাঙন থেকে শহর বাঁচাতে এটি নির্মাণ করেন, তাই বাঁধটির নাম তাঁর নামে। আজ এখানে নদীতীরের সড়ক ও নৌঘাট আছে। বুড়িগঙ্গা ঢাকা শহরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। ঢাকার সদরঘাটও এই নদীর তীরেই। বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে শহরের ক্ষতি করত, তাই ভাঙন ঠেকানোর জন্য এমন বাঁধের দরকার হয়েছিল। এই বাঁধ ঢাকার নদীতীরের একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থান।
মনে রাখুন: ঢাকার পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়ণগঞ্জ।
ঢাকার চারপাশের চারটি নদী: বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা।
বাংলা
- ৪. বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন?
- ক. নবদ্বীপের
- খ. মিথিলার
- গ. বৃন্দাবনের
- ঘ. বর্ধমানের
উত্তর: খ. মিথিলার
বিদ্যাপতি মিথিলার কবি। মিথিলা এখন ভারতের বিহার ও নেপালের কিছু অংশজুড়ে অবস্থিত। তিনি মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে পদ লেখেন, তাই বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। তিনি বাঙালি নন, তবু বাংলার বৈষ্ণব কবি ও পাঠকদের ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। সেজন্য তাঁকে ‘মৈথিলি কোকিল’ এবং ‘অভিনব জয়দেব’ বলা হয়।
মনে রাখুন:
বিদ্যাপতির গ্রন্থ: ‘কীর্তিলতা’, ‘কীর্তিপতাকা’, ‘পুরুষ পরীক্ষা’।
তাঁর পদাবলির প্রভাবে বাংলায় চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস পদ রচনা করেন।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্যাপতির ভক্তি ও প্রেমের মিলন এক বিশেষ জায়গা পেয়েছে। - ১৬. 'বীরবল' কার ছদ্মনাম?
- ক. বিহারীলাল চক্রবর্তী
- খ. কাজী নজরুল ইসলাম
- গ. প্রমথ চৌধুরী
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: গ. প্রমথ চৌধুরী
বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি ১৯১৪ সালে ‘সবুজপত্র’ নামে একটি পত্রিকা বের করেন এবং এই পত্রিকাতেই চলিত ভাষার চর্চা শুরু হয়। চলিত রীতি হলো আমাদের মুখের ভাষার কাছাকাছি লেখার ভাষা, আর সাধু রীতি তার তুলনায় গম্ভীর। অন্য অপশনগুলোর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়, কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিশোর বয়সে ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ নামে পদাবলি লিখেছিলেন।
মনে রাখুন:
প্রমথ চৌধুরীর গ্রন্থ: ‘চার-ইয়ারি কথা’, ‘তেল-নুন-লকড়ি’, ‘নীল-লোহিত’।
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে রবীন্দ্রনাথ ‘ভোরের পাখি’ বলেছেন। - ১৭. 'ঐরাবত' কার সমার্থক?
- ক. ঘোড়া
- খ. হাতি
- গ. সাপ
- ঘ. হরিণ
উত্তর: খ. হাতি
‘ঐরাবত’ হলো দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন, একটি পৌরাণিক সাদা হাতি। তাই শব্দটির সমার্থক শব্দ হাতি। বাংলায় হাতির আরও অনেক প্রতিশব্দ আছে, আর পরীক্ষায় সেগুলো প্রায়ই আসে। ঘোড়া, সাপ বা হরিণের জন্য অন্য প্রতিশব্দ চলে, কিন্তু ঐরাবতকে সেসবের সঙ্গে মেলানো যায় না। প্রতিশব্দের প্রশ্নে পৌরাণিক নামগুলো আগে থেকে জানা থাকলে সুবিধা হয়।
মনে রাখুন:
হাতির প্রতিশব্দ: গজ, করী, কুঞ্জর, মাতঙ্গ, দ্বিপ, বারণ, দন্তী, হস্তী।
ঘোড়ার প্রতিশব্দ: অশ্ব, তুরগ, হয়, বাজি।
সাপের প্রতিশব্দ: অহি, ভুজঙ্গ, উরগ।
হরিণের প্রতিশব্দ: মৃগ, কুরঙ্গ। - ২১. কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা?
- ক. পথের পাঁচালী
- খ. হাঙর নদী গ্রেনেড
- গ. কবর
- ঘ. আরেক ফাল্গুন
উত্তর: খ. হাঙর নদী গ্রেনেড
সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (১৯৭৬) মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস। এতে গ্রামের মানুষের প্রতিরোধ ও যুদ্ধের কথা আছে। বাকি অপশনগুলো অন্য প্রসঙ্গের: মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ ভাষা আন্দোলনের নাটক, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমির উপন্যাস, আর বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ গ্রামবাংলার জীবন নিয়ে লেখা। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে উপন্যাসের সালের দিকেও খেয়াল রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
শওকত ওসমানের ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ উপন্যাসও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা।
জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা।
নীলিমা ইব্রাহিমের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ও এই ধারার বই। - ২৩. 'মেঘনাদবধ' মহাকাব্যটি প্রকাশিত হয়–
- ক. ১৮৬১ সালে
- খ. ১৮৬৫ সালে
- গ. ১৯৫২ সালে
- ঘ. ১৯৭০ সালে
উত্তর: ক. ১৮৬১ সালে
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য (Epic)। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। কাব্যটি নয় সর্গে লেখা এবং এর ছন্দ অমিত্রাক্ষর। রামায়ণের কাহিনী নিয়ে লেখা হলেও কবি এতে রাবণ-পুত্র মেঘনাদকে বীর নায়ক হিসেবে এঁকেছেন, তাই কাব্যের সুর করুণ। কাব্যের প্রথম সর্গের নাম ‘অভিষেক’। অন্য অপশনের ১৯৫২ বা ১৯৭০ সাল বাংলা সাহিত্যের অনেক পরের সময়। মধুসূদন ১৮২৪ সালে যশোরের সাগরদাঁড়িতে জন্মেছিলেন।
মনে রাখুন:
মধুসূদনের অন্যান্য রচনা: তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০), ব্রজাঙ্গনা, বীরাঙ্গনা, চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৬)। - ২৬. অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. কাজী নজরুল ইসলাম
- গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
অমিত্রাক্ষর ছন্দে প্রতি পঙ্ক্তির শেষে মিল থাকে না এবং ভাব এক পঙ্ক্তি থেকে পরের পঙ্ক্তিতে গড়িয়ে যায়। বাংলা কবিতায় এই ছন্দ প্রবর্তন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি ‘পদ্মাবতী’ নাটকে এর আভাস দেন, আর ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ (১৮৬০) এবং ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১)-এ এটি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন। ইংরেজিতে একে blank verse বলে।
মনে রাখুন:
মধুসূদনের আরেক অবদান বাংলায় প্রথম সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা লেখা।
রবীন্দ্রনাথ ‘বলাকা’ কাব্যে মুক্তক ছন্দ ব্যবহার করেন।
বাংলা ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার: অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত। - ২৭. 'কবর' নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত?
- ক. মুক্তিযুদ্ধ
- খ. ভাষা আন্দোলন
- গ. দেশবিভাগ
- ঘ. তেভাগা আন্দোলন
উত্তর: খ. ভাষা আন্দোলন
‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর একাঙ্ক নাটক, যা তিনি ১৯৫৩ সালে কারাগারে থাকার সময় লেখেন। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের কবর ও তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে সমাজের বাস্তবতা নাটকটিতে ফুটে উঠেছে। এটিকে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক বলা হয়, আর ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়। একাঙ্ক নাটক হলো এমন নাটক, যা একটিমাত্র অঙ্কে শেষ হয়।
মনে রাখুন:
মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দণ্ডকারণ্য, মানুষ, রূপার কৌটা।
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন। - ৩০. 'চক্রবাক' কাব্যের রচয়িতা–
- ক. ফররুখ আহমদ
- খ. কাজী নজরুল ইসলাম
- গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘ. শামসুর রাহমান
উত্তর: খ. কাজী নজরুল ইসলাম
‘চক্রবাক’ কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। এতে প্রেমের কবিতা বেশি। চক্রবাক হলো এমন এক পাখি, যার জোড়া রাতে একে অপরের কাছ থেকে আলাদা থাকে, তাই নামটি বিরহের ব্যঞ্জনা বহন করে। অপশনের অন্য কবিদের পরিচয়ও আমাদের জানা দরকার। ফররুখ আহমদ মুসলিম নবজাগরণের কবি হিসেবে পরিচিত, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, আর শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলাদেশের প্রধান কবিদের একজন।
মনে রাখুন:
নজরুলের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা (১৯২২), বিষের বাঁশী, সাম্যবাদী, সর্বহারা, ছায়ানট, প্রলয়শিখা।
ফররুখ আহমদের কাব্য ‘সাত সাগরের মাঝি’। - ৩৬. 'প্রত্যয়'-কে প্রধানত কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
- ক. চার ভাগে
- খ. দুই ভাগে
- গ. তিন ভাগে
- ঘ. পাঁচ ভাগে
উত্তর: খ. দুই ভাগে
যে শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পরে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে, তাকে প্রত্যয় (Suffix) বলে। প্রত্যয় প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: কৃৎ প্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয়। ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তা কৃৎ প্রত্যয়। আর শব্দের সঙ্গে যে প্রত্যয় বসে, তা তদ্ধিত প্রত্যয়। প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে প্রত্যয়ান্ত শব্দ বলে। ধাতু আর শব্দের এই পার্থক্যটা ধরতে পারলে কৃৎ আর তদ্ধিত আলাদা করা সহজ হয়।
উদাহরণ:
কৃৎ প্রত্যয়: √রাঁধ + উনি = রাঁধুনি।
তদ্ধিত প্রত্যয়: বর্ষ + ইক = বার্ষিক।
মনে রাখুন: বাংলা প্রত্যয় কৃৎ ও তদ্ধিত, আর উপসর্গ তিন প্রকার। - ৩৭. বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা—
- ক. ১৮০১ সালে
- খ. ১৮০২ সালে
- গ. ১৮০৩ সালে
- ঘ. ১৮৬১ সালে
উত্তর: ক. ১৮০১ সালে
১৮০১ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয়। উইলিয়াম কেরি ছিলেন এর প্রধান। এই কলেজের সূত্রে বাংলা গদ্যের প্রথম বইগুলো ছাপা হয়, তাই ১৮০১ সালকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা ধরা হয়। এর আগের যুগকে মধ্যযুগ বলা হয়, যার সমাপ্তি ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুতে। এই দুই যুগের মাঝের সময়টাকে অনেকে যুগসন্ধিকাল বলেন। অপশনের ১৮৬১ সালটি আধুনিক যুগের সূচনা নয়, সেটি মেঘনাদবধ কাব্য প্রকাশের বছর।
মনে রাখুন:
কেরির ‘কথোপকথন’ (১৮০১) এবং রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বই।
১৮৬১ সালে মেঘনাদবধ কাব্য প্রকাশিত হয়। - ৪২. চর্যাপদের ভাষা—
- ক. সান্ধ্য ভাষা
- খ. ব্রজবুলি ভাষা
- গ. বাংলা ভাষা
- ঘ. মৈথিলি ভাষা
উত্তর: ক. সান্ধ্য ভাষা
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। পদগুলো বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাধনসংগীত। এর ভাষায় ধর্মীয় সাধনার গূঢ় তত্ত্ব ইশারায় বলা হয়েছে, যা সহজে বোঝা যায় না। এই আলো-আঁধারি ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বা সান্ধ্য ভাষা বলে। ভাষা হিসেবে এটি প্রাচীন বাংলা, কিন্তু প্রশ্নের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উত্তর সান্ধ্য ভাষা।
মনে রাখুন:
চর্যাপদ আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে)।
প্রকাশিত নাম ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’।
ব্রজবুলি কৃত্রিম সাহিত্যের ভাষা, বৈষ্ণব পদাবলিতে ব্যবহৃত। - ৪৬. 'যা কষ্টে লাভ করা যায়'– এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ–
- ক. দুর্লভ
- খ. অলভ্য
- গ. কষ্টসাধ্য
- ঘ. দুর্জয়
উত্তর: ক. দুর্লভ
‘যা কষ্টে লাভ করা যায়’ বাক্যাংশের এক শব্দ দুর্লভ। দুঃ (কঠিন বা কষ্টকর) + লভ (পাওয়া) = দুর্লভ। এভাবে ‘দুঃ’ উপসর্গ বসে কষ্টে বা কঠিনভাবে বোঝানো হয়েছে। অন্য অপশনগুলো অন্য অর্থের জন্য: যা পাওয়া যায় না তা অলভ্য, যা কষ্টে করা যায় তা কষ্টসাধ্য, আর যা কষ্টে জয় করা যায় তা দুর্জয়। চারটি শব্দই কাছাকাছি শোনায়, তাই বাক্যাংশের প্রতিটি শব্দ খেয়াল করে মেলাতে হয়।
মনে রাখুন: যা সহজে পাওয়া যায় তাকে সুলভ বলে, এটি দুর্লভের বিপরীত।
উদাহরণ: দুঃ + গম = দুর্গম (যেখানে যাওয়া কষ্টকর)। - ৫০. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়–
- ক. ১৮০০ সালে
- খ. ১৮০১ সালে
- গ. ১৮০২ সালে
- ঘ. ১৮০৩ সালে
উত্তর: খ. ১৮০১ সালে
১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা শেখানোর জন্য। এর এক বছর পর, ১৮০১ সালে, কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয় এবং এর প্রধান নিযুক্ত হন উইলিয়াম কেরি। এই বিভাগকে ঘিরেই গদ্যচর্চা বাড়ে, কারণ ইংরেজদের শেখানোর জন্য বাংলা পাঠ্যবই লেখার দরকার পড়েছিল। কলেজের প্রতিষ্ঠার সাল আর বাংলা বিভাগ খোলার সাল আলাদা, তাই ১৮০০ ও ১৮০১ গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
মনে রাখুন:
কলেজের বাংলা বিভাগের পণ্ডিতদের মধ্যে ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ও রামরাম বসু।
মৃত্যুঞ্জয়ের গ্রন্থ ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ (রচনা ১৮১৩)। - ৫৫. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' একটি–
- ক. উপন্যাস
- খ. কাব্যগ্রন্থ
- গ. নাটক
- ঘ. প্রবন্ধসংগ্রহ
উত্তর: খ. কাব্যগ্রন্থ
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থ। এতে জাতির শিকড়, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা আছে। অন্য অপশনগুলোর কোনোটি এর সঙ্গে মেলে না, কারণ বইটি উপন্যাস, নাটক বা প্রবন্ধ নয়। বইয়ের নাম শুনে অনেকে গদ্য ভাবতে পারেন, কিন্তু নামটি আসলে একটি কবিতা-সংকলনের। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাংলাদেশের পঞ্চাশের দশকের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের একজন। কবিতার বইয়ের নাম অনেক সময় গদ্যের মতো শোনায়, তাই নাম দেখে নয়, বইয়ের ধরন জেনে উত্তর ঠিক করা দরকার।
মনে রাখুন: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর আরও কাব্য: ‘সাত নরী হার’, ‘কখনো রং কখনো সুর’, ‘কমলের চোখ’, ‘বৃষ্টি ও সবুজ’। - ৫৮. বাংলা ভাষায় উপসর্গ কত প্রকার?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৪০২১) ২০১৯
- ক. তিন প্রকার
- খ. চার প্রকার
- গ. পাঁচ প্রকার
- ঘ. সাত প্রকার
উত্তর: ক. তিন প্রকার
বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার: বাংলা (খাঁটি বাংলা), সংস্কৃত বা তৎসম এবং বিদেশি। উপসর্গ হলো এমন অব্যয়, যা শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন অর্থ তৈরি করে। ‘অপ’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে ‘অপমান’ হয়, যার অর্থ সম্মানের উল্টো। উপসর্গ নিজে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না, কেবল অন্য শব্দের আগে বসে তার অর্থ বদলে দেয়। উৎস ধরে তিনটি ভাগ জানা থাকলে বাংলা, সংস্কৃত ও বিদেশি উপসর্গ আলাদা করা সহজ হয়।
মনে রাখুন:
বাংলা উপসর্গ ২১টি, সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি ও হিন্দি।
উদাহরণ: অজ + পাড়াগাঁ = অজপাড়াগাঁ। - ৬০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নয় কোনটি?
- ক. চিত্রা
- খ. অগ্নিবীণা
- গ. সোনার তরী
- ঘ. সেঁজুতি
উত্তর: খ. অগ্নিবীণা
‘অগ্নিবীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আছে। বাকি তিনটি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ: ‘সোনার তরী’ (১৮৯৪), ‘চিত্রা’ (১৮৯৬) ও ‘সেঁজুতি’ (১৯৩৮)। প্রশ্নে ‘নয়’ শব্দটি থাকায় যে অপশন রবীন্দ্রনাথের নয়, সেটিই উত্তর। এ ধরনের প্রশ্নে প্রথমে সহজে চেনা তিনটি বই বাদ দিলেই বাকি একটি পাওয়া যায়। কাব্যগ্রন্থের নাম আর কবির নাম মিলিয়ে শেখার অভ্যাস এই ধরনের প্রশ্নে খুব কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রথম ছাপা হয় ‘বিজলী’ পত্রিকায় (১৯২২)।
নজরুল ‘অগ্নিবীণা’র পর লেখেন ‘দোলনচাঁপা’ ও ‘বিষের বাঁশী’।
সোনার তরীর বিখ্যাত কবিতা ‘সোনার তরী’ ও ‘বসুন্ধরা’। - ৬৬. 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার সম্পাদক কে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
- ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খ. বিহারীলাল চক্রবর্তী
- গ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার একটি বিখ্যাত পত্রিকা, যা সম্পাদনা করতেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। পত্রিকাটি ১৮৩১ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে বের হয়, পরে ১৮৩৯ সালে দৈনিক হয়। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত নিজেও কবি ছিলেন এবং বঙ্কিমচন্দ্র, দীনবন্ধু মিত্র ও দ্বারকানাথ অধিকারী তাঁর শিষ্য ছিলেন। তাই বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির কবি হিসেবে তাঁর নাম করা হয়। অপশনের বাকি তিনজনও বিখ্যাত, তবে ‘সংবাদ প্রভাকর’-এর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই। সাপ্তাহিক পত্রিকা থেকে দৈনিক হওয়া এই পত্রিকাটি বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে বড় জায়গা দখল করে আছে।
মনে রাখুন: বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদনা করেছেন ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২), আর বিহারীলাল সম্পাদনা করেছেন ‘অবোধবন্ধু’।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়। - ৬৭. বাংলা উপসর্গ কয়টি?
- ক. উনিশটি
- খ. বিশটি
- গ. একুশটি
- ঘ. বাইশটি
উত্তর: গ. একুশটি
বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। এগুলো হলো অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। এগুলো সংস্কৃত থেকে আসেনি, বাংলার নিজস্ব। তাই বাংলা উপসর্গের সংখ্যা একুশ। উপসর্গ হলো শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করা অব্যয়, আর উৎস অনুযায়ী এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়। সংখ্যাগুলো পাশাপাশি মনে রাখলে প্রশ্নে আর ভুল হয় না।
মনে রাখুন:
সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি, যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু।
বিদেশি উপসর্গ: আরবি-ফারসি, যেমন হর, দর, বে, বদ।
উদাহরণ: অ + কাজ = অকাজ, কু + কথা = কুকথা।
আন্তর্জাতিক
- ৮. সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষিত হয়েছে জাতিসংঘের–
- ক. সাধারণ পরিষদে
- খ. নিরাপত্তা পরিষদে
- গ. আন্তর্জাতিক আদালতে
- ঘ. অছি পরিষদে
উত্তর: ক. সাধারণ পরিষদে
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights, UDHR) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে এটি অনুমোদিত হয়, এবং সেই দিনটিকে আমরা বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালন করি। ঘোষণায় ৩০টি অনুচ্ছেদ আছে। মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি হিসেবে এলিনর রুজভেল্ট ঘোষণাটির খসড়া তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ঘোষণাটি আইনের মতো বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু পরবর্তী মানবাধিকার চুক্তির ভিত্তি হয়েছে।
মনে রাখুন:
জাতিসংঘের ছয়টি প্রধান অঙ্গ: সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচারালয় ও সচিবালয়।
আন্তর্জাতিক বিচারালয় নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত। - ১৮. কোন সালে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
- ক. ১৯৭০ সালে
- খ. ১৯৭১ সালে
- গ. ১৯৭২ সালে
- ঘ. ১৯৭৩ সালে
উত্তর: গ. ১৯৭২ সালে
১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়। ১৯৭২ সালের ২ জুলাই ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিমলায় ইন্দিরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভুট্টো এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তাই এর নাম সিমলা চুক্তি (Simla Agreement)। এই চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীরের যুদ্ধবিরতি রেখা নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Control) হিসেবে মেনে নেওয়া হয় এবং দুই দেশ বিরোধ দ্বিপাক্ষিকভাবে মেটাতে রাজি হয়।
মনে রাখুন:
পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, ওআইসি সম্মেলনের সময়। - ২৫. আরব বসন্তের সূচনা কোন দেশে হয়?
- ক. মিসর
- খ. তিউনিসিয়া
- গ. ইরান
- ঘ. সিরিয়া
উত্তর: খ. তিউনিসিয়া
আরব বসন্ত (Arab Spring) হলো আরব দেশগুলোতে স্বৈরশাসন, দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের ঢেউ। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ বোয়াজিজি পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে নিজের গায়ে আগুন দেন। এরপর সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০১১ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জাইনুল আবেদীন বেন আলী দেশ ছাড়েন। তিউনিসিয়ার এই ঘটনা মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়াতেও বিক্ষোভের অনুপ্রেরণা হয়। ইরান আরব দেশ নয়, তাই সেখানকার ঘটনাকে আরব বসন্ত বলা হয় না।
মনে রাখুন:
তিউনিসিয়ার আন্দোলনের নাম ‘জেসমিন বিপ্লব’।
মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ২০১১ সালে পদত্যাগ করেন।
লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০১১ সালে নিহত হন। - ২৮. আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. ঢাকা
- খ. নয়াদিল্লি
- গ. ম্যানিলা
- ঘ. ব্যাংকক
উত্তর: গ. ম্যানিলা
ধান পৃথিবীর অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য, তাই এর গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (International Rice Research Institute, IRRI) গড়ে তোলা হয়েছে। ১৯৬০ সালে ফোর্ড ও রকফেলার ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এর যাত্রা শুরু হয়। এটি ফিলিপাইনে অবস্থিত, রাজধানী ম্যানিলার কাছে লস বানোসে এর মূল কার্যালয়, তাই অপশনে ম্যানিলাই উত্তর। এই ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত আইআর-৮ এশিয়ার সবুজ বিপ্লবে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশে ধান নিয়ে গবেষণা করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), যার অবস্থান গাজীপুরের জয়দেবপুরে।
মনে রাখুন:
IRRI-এর সদর দপ্তর ফিলিপাইনের লস বানোসে।
ব্রি-এর সদর দপ্তর গাজীপুরের জয়দেবপুরে। - ৩১. কোন বিতর্কিত এলাকাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে?
- ক. বেলাগান
- খ. বারদা
- গ. নাগার্নো-কারাবাখ
- ঘ. টার্টা
উত্তর: গ. নাগার্নো-কারাবাখ
নাগোর্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভেতরের একটি পার্বত্য অঞ্চল, কিন্তু সেখানে বেশিরভাগ মানুষ আর্মেনীয় জাতির। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলের দখল নিয়ে দুই দেশের বিরোধ চলছিল। অবশেষে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় ছয় সপ্তাহ পরে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং আজারবাইজান অঞ্চলের বড় একটি অংশ ফিরে পায়। অপশনের বাকি নামগুলো এই বিরোধের মূল এলাকা নয়।
মনে রাখুন: আজারবাইজানের রাজধানী বাকু, আর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান।
হালনাগাদ: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আজারবাইজান অভিযান চালিয়ে পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শান্তিচুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে। - ৪০. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর কোথায়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
- ক. কোপেনহেগেন
- খ. লন্ডন
- গ. রোম
- ঘ. ব্রাসেলস
উত্তর: ঘ. ব্রাসেলস
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) ইউরোপের কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট। এর মূল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ইউরোপীয় কমিশন ও কাউন্সিল, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত। তাই সাধারণভাবে ব্রাসেলসকে ইইউর সদর দপ্তর বলা হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৈঠক হয় ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে, আর বিচার আদালত লুক্সেমবার্গে। অর্থাৎ ইইউর কাজ একটি শহরে সীমাবদ্ধ নয়, তবে প্রশ্নে সদর দপ্তর জানতে চাইলে উত্তর ব্রাসেলস।
মনে রাখুন:
১৯৯৩ সালে মাস্ট্রিখট চুক্তির মাধ্যমে ইইউ নামে যাত্রা শুরু।
ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্য ২০২০ সালে ইইউ ছাড়ে, তখন সদস্য ২৭টি।
ইইউর সাধারণ মুদ্রার নাম ইউরো। - ৫৯. বিখ্যাত 'ওয়াল স্ট্রিট' কোথায় অবস্থিত?
- ক. লন্ডনে
- খ. টোকিওতে
- গ. প্যারিসে
- ঘ. নিউইয়র্কে
উত্তর: ঘ. নিউইয়র্কে
ওয়াল স্ট্রিট (Wall Street) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটন দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের একটি সড়ক। এখানে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ অবস্থিত, তাই বিশ্বের অর্থনীতিতে শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারের প্রতীক হয়ে গেছে। রাস্তাটির নামের উৎস এখানে একসময় নির্মিত ডাচ বসতির একটি দেয়াল। কোনো দেশের শেয়ারবাজার কোথায়, এ প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বেশ আসে, তাই বড় শহরগুলোর আর্থিক এলাকার নাম মনে রাখা ভালো। ওয়াল স্ট্রিটে বড় ব্যাংক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও রয়েছে।
মনে রাখুন:
লন্ডনের আর্থিক এলাকার নাম ‘দ্য সিটি’।
ভারতের শেয়ারবাজার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ মুম্বাইয়ে।
জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ টোকিওতে। - ৬৯. কোন সংস্থা ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
- ক. ইউনেস্কো
- খ. ইউনিসেফ
- গ. ইউনিফেম
- ঘ. আইএলও
উত্তর: ক. ইউনেস্কো
ভাষা আন্দোলনে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে বাঙালিরা প্রাণ দেয়। সেই ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসের সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। প্রস্তাবটি এসেছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এতে বাঙালির ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার ইতিহাস সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পায়। এই ঘোষণার পরেই বাংলাদেশের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ বিশ্বে পরিচিতি পায়।
মনে রাখুন:
UNICEF শিশু, ILO শ্রম এবং ইউনেস্কো শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে।
ইউনেস্কোর সদর দপ্তর ফ্রান্সের প্যারিসে।
ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক, জব্বার, বরকত, সালামসহ আরও অনেকে।
বিজ্ঞান
- ৯. কোনটি মনোস্যাকারাইড নয়?
- ক. Fructose
- খ. Galactose
- গ. Starch
- ঘ. সবগুলোই মনোস্যাকারাইড
উত্তর: গ. Starch
মনোস্যাকারাইড (Monosaccharide) হলো সরলতম শর্করা, যাকে আর ভেঙে ছোট শর্করা বানানো যায় না। ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ এর উদাহরণ। স্টার্চ (Starch) বা শ্বেতসার কিন্তু অনেকগুলো গ্লুকোজ অণু জুড়ে তৈরি বড় শর্করা, তাই এটি পলিস্যাকারাইড (Polysaccharide)। স্টার্চ আসলে অ্যামাইলোজ ও অ্যামাইলোপেকটিন নামের দুটি পলিস্যাকারাইডের মিশ্রণ। উদ্ভিদ নিজের খাদ্য হিসেবে এটি ভাত, আলু ও গমের মতো অংশে জমা রাখে। মনোস্যাকারাইড সাধারণত মিষ্টি স্বাদের হয় এবং পানিতে সহজে গলে যায়। অন্যদিকে স্টার্চ মিষ্টি নয়, আর আয়োডিন দ্রবণে এটি নীল-কালো রঙ দেয়, যা স্টার্চ চেনার পরীক্ষা।
মনে রাখুন:
মনোস্যাকারাইড: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ।
ডাইস্যাকারাইড: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ, মল্টোজ।
পলিস্যাকারাইড: স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন। - ১০. নিচের কোনটি এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড নয়?
- ক. পিটুইটারি গ্রন্থি
- খ. সেকাম
- গ. এড্রিনাল মেডুলা
- ঘ. প্যানক্রিয়াস
উত্তর: খ. সেকাম
এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এমন গ্রন্থি, যার কোনো নালী নেই। এরা হরমোন সরাসরি রক্তে ছেড়ে দেয়। পিটুইটারি, অ্যাড্রিনাল মেডুলা ও অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) হরমোন তৈরি করে, তাই এগুলো এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি। সিকাম (Caecum) আসলে কোনো গ্রন্থিই নয়। এটি বৃহদন্ত্রের প্রথম অংশ, যেখানে ক্ষুদ্রান্ত্র এসে মিশেছে। বৃহদন্ত্রের তিন অংশ হলো সিকাম, কোলন ও মলাশয়।
মনে রাখুন:
পিটুইটারিকে বলা হয় 'মাস্টার গ্ল্যান্ড'।
অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে এন্ডোক্রাইন ও এক্সোক্রাইন গ্রন্থি, কারণ এটি ইনসুলিন ছাড়াও পরিপাক রস তৈরি করে।
অ্যাড্রিনাল মেডুলা অ্যাড্রিনালিন নিঃসরণ করে। - ১৩. পাকস্থলীতে খাবারের কোন উপাদান হজম হয় না?
- ক. শর্করা
- খ. আমিষ
- গ. চর্বি
- ঘ. ক ও গ
উত্তর: ঘ. ক ও গ
আমাদের খাদ্য পরিপাক হয় এনজাইমের কাজে। পাকস্থলীতে পেপসিন নামের এনজাইম আমিষকে ভাঙে। কিন্তু শর্করা ভাঙার এনজাইম পাকস্থলীতে নেই। লালার অ্যামাইলেজ কিছুটা কাজ করলেও পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে তা অচল হয়ে যায়। তাই শর্করার পরিপাক পাকস্থলীতে হয় না। স্নেহ বা চর্বির পরিপাকও মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে হয়, কারণ সেখানে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়ের লাইপেজ থাকে। কাজেই শর্করা ও চর্বি দুটিই পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না।
মনে রাখুন:
পাকস্থলীতে আমিষ পরিপাক হয় পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাহায্যে।
খাদ্য পরিপাকের প্রধান স্থান ক্ষুদ্রান্ত্র।
পাকস্থলীর HCl খাদ্যের সঙ্গে আসা জীবাণু মারে। - ১৫. কোন হরমোনের জন্য প্রসব বেদনা হয়?
- ক. Estrogen
- খ. Thyroxin
- গ. Oxytocin
- ঘ. Progesterone
উত্তর: গ. Oxytocin
অক্সিটোসিন (Oxytocin) পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ খণ্ড থেকে নির্গত হয়। এই হরমোনের প্রভাবে জরায়ুর পেশি ছন্দে ছন্দে সংকুচিত হয়, আর এই সংকোচনই প্রসবের বেদনা তৈরি করে ও শিশুকে বাইরে আসতে সাহায্য করে। প্রসবের পরে এটি স্তন থেকে দুধ নির্গমনেও সাহায্য করে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন প্রজননতন্ত্রের অন্য কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, আর থাইরক্সিন বিপাক হার ঠিক রাখে। গর্ভবতী নারীর জরায়ু এই হরমোনের প্রতি প্রসবের শেষ দিকে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, ফলে ব্যথা ক্রমে বাড়ে ও প্রসব ত্বরান্বিত হয়।
মনে রাখুন:
অক্সিটোসিনকে 'প্রেমের হরমোন'ও বলা হয়।
থাইরক্সিন তৈরি হয় থাইরয়েড গ্রন্থিতে।
প্রোল্যাকটিন হরমোন দুধ তৈরি করে। - ৩৩. ব্ল্যাকবক্স ব্যবহৃত হয়–
- ক. মোটরগাড়িতে
- খ. জাহাজে
- গ. রকেটে
- ঘ. উড়োজাহাজে
উত্তর: ঘ. উড়োজাহাজে
ব্ল্যাকবক্স (Black box) হলো উড়োজাহাজের ফ্লাইট রেকর্ডার। এতে দুটি অংশ থাকে: ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার, যা গতি, উচ্চতা ও ইঞ্জিনের অবস্থা সংরক্ষণ করে, এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, যা পাইলটদের কথোপকথন রেকর্ড করে। বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই তথ্য বিশ্লেষণ করে কারণ খুঁজে বের করা যায়। এটি বিমানের লেজের দিকে বসানো থাকে, কারণ সেখানে আঘাত ও আগুনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম। মজার ব্যাপার হলো, নাম ব্ল্যাকবক্স হলেও এটি উজ্জ্বল কমলা রঙের, যাতে ধ্বংসস্তূপে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
ব্ল্যাকবক্স মোটরগাড়ি, জাহাজ বা রকেটের নির্দিষ্ট যন্ত্র নয়, মূলত বিমানের সঙ্গেই জড়িত।
এটি পানিতে ডুবলেও সংকেত দেয়। - ৪৩. দুধ একটি–
- ক. Solution
- খ. Emulsion
- গ. Suspension
- ঘ. ক, খ ও গ
উত্তর: খ. Emulsion
দুই বা ততোধিক পরস্পর অমিশ্রণীয় তরল মিশিয়ে একটি তরলের ক্ষুদ্র ফোঁটা অন্য তরলে ছড়িয়ে দিলে যা পাওয়া যায়, তাকে ইমালশন (Emulsion) বলে। দুধে পানির ভেতর অতি ক্ষুদ্র চর্বির ফোঁটা ছড়িয়ে থাকে, তাই দুধ প্রাকৃতিক ইমালশন। এজন্য দুধ ফেলে রাখলে ওপরে ননী জমে। দ্রবণে দ্রাব সম্পূর্ণ মিশে যায়, আর সাসপেনশনে কণা বড় হয়ে নিচে থিতিয়ে পড়ে। দুধ এ দুটির কোনোটি নয়।
মনে রাখুন:
পানিতে তেলের ইমালশন (O/W): দুধ। তেলে পানির ইমালশন (W/O): মাখন।
ইমালশন স্থিতিশীল রাখতে ইমালসিফায়ার লাগে, যেমন ডিমের কুসুমের লেসিথিন। - ৫২. মরফিন কে আবিষ্কার করেন?
- ক. ফ্রেডরিখ সার্টার্নার
- খ. লুই পাস্তুর
- গ. উইলিয়াম মার্ডিনডেল
- ঘ. গ্যারেন
উত্তর: ক. ফ্রেডরিখ সার্টার্নার
মরফিন (Morphine) আফিম (Opium) থেকে পাওয়া একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক। আফিম আসে পপি গাছের কাঁচা ফলের আঠালো রস থেকে। জার্মান ফার্মাসিস্ট ফ্রেডরিখ সার্টার্নার (Friedrich Sertürner) প্রথম আফিম থেকে এই সক্রিয় পদার্থ আলাদা করেন। কাজটি ১৮০৪-০৫ সালের দিকে করা হয়। তিনি গ্রিক স্বপ্নের দেবতা মরফিয়াসের নামে এর নাম রাখেন। লুই পাস্তুর জীবাণুতত্ত্ব ও টিকার জন্য বিখ্যাত, এই কাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন:
মরফিন থেকে হিরোইন তৈরি হয়।
মরফিন আসক্তি সৃষ্টি করে, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এর ব্যবহার বেআইনি।
মরফিন আফিমের প্রধান ক্ষারীয় উপাদান (অ্যালকালয়েড)। - ৫৪. হুপিং কফ-এর জন্য দায়ী অণুজীব কোনটি?
- ক. Clostridium botulinum
- খ. Escherichia coli
- গ. Salmonella typhi
- ঘ. Bordetella pertussis
উত্তর: ঘ. Bordetella pertussis
হুপিং কাশি বা কাশির সঙ্গে 'হুপ' শব্দ করা ঘনঘন কাশির রোগটির জীবাণু বর্ডেটেলা পারটুসিস (Bordetella pertussis) নামের ব্যাকটেরিয়া। এ রোগে শিশুর একটানা কাশির পর শ্বাস টানার সময় বাঁশির মতো 'হুপ' শব্দ হয়। রোগটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, একে পারটুসিসও বলে। বাকি জীবাণুগুলো অন্য রোগের জন্য দায়ী: Clostridium botulinum বটুলিজম, E. coli ডায়রিয়া, আর Salmonella typhi টাইফয়েডের কারণ।
মনে রাখুন:
ডিপিটি (DPT) টিকা ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কার থেকে রক্ষা করে।
পেন্টাভ্যালেন্ট টিকায় এই তিনটির সঙ্গে আরও দুটি রোগের প্রতিরোধ থাকে। - ৫৭. মানুষের ত্বকে গঠনগতভাবে কয়টি স্তর রয়েছে?
- ক. তিনটি
- খ. চারটি
- গ. পাঁচটি
- ঘ. ছয়টি
উত্তর: ক. তিনটি
মানুষের ত্বক গঠনগতভাবে তিনটি স্তরে বিভক্ত। সবচেয়ে বাইরের স্তর এপিডার্মিস (Epidermis), যা পাতলা ও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রথম বাধা। এর নিচে ডার্মিস (Dermis), যেখানে ঘর্মগ্রন্থি, তৈলগ্রন্থি, রক্তনালী ও স্নায়ুপ্রান্ত থাকে। সবচেয়ে ভেতরের স্তর হাইপোডার্মিস (Hypodermis) বা চর্বিযুক্ত স্তর, যা তাপ ধরে রাখে ও আঘাত থেকে দেহকে বাঁচায়। ত্বকের নিচের এই স্তরগুলো মিলেই আমাদের শরীরকে সংক্রমণ, আঘাত ও পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। কেউ কেউ হাইপোডার্মিসকে আলাদা স্তর না ধরে ডার্মিসের নিচের কলা বলেন, তবে প্রচলিত পাঠ্যে তিনটি স্তরই ধরা হয়।
মনে রাখুন:
ত্বক মানুষের দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ।
ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে মেলানিন নামের রঞ্জক, যা এপিডার্মিসে তৈরি হয়।
ঘাম বের হয়ে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: অন্যান্য পরীক্ষা
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী (তড়িৎ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ডাক অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহকারী সাইফার কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার, কম্পিউটার) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ) ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- গণপূর্ত অধিদপ্তর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটসম্যান (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপসহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- নার্সিং সেবা অধিদপ্তর মিডওয়াইফ নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্টেশন অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ (সাধারণ পুল) প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) প্রশাসনিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন