লিয়ানা বুকস

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ৩১ অক্টোবর ২০২২। ৯৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

বাংলা

  1. ১. 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা কে?
    • ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • খ. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • গ. আবু জাফর শামসুদ্দীন
    • ঘ. শওকত ওসমান
    উত্তর: ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    ‘প্রাগৈতিহাসিক’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প। এতে ভিখু ও পাঁচী নামের দুই চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের আদিম প্রবৃত্তি ও বেঁচে থাকার লড়াই ফুটে উঠেছে। গল্পের নামেই ইঙ্গিত আছে যে সভ্যতার অনেক আগের জীবনের মতো এক নগ্ন বাস্তবতা এখানে দেখানো হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কল্লোল যুগের লেখক এবং বাংলা কথাসাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তবতাধর্মী ধারার এক বড় নাম। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য, শ্রেণিসংগ্রাম ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা বারবার ফিরে আসে। পরে তিনি মার্কসবাদী চিন্তার দিকে ঝোঁকেন।
    মনে রাখুন:
    তাঁর উপন্যাস: পদ্মা নদীর মাঝি, পুতুল নাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য।
    গল্পগ্রন্থ: অতসীমামী, সরীসৃপ, ছোট বকুলপুরের যাত্রী।
    তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
  2. ৪. ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত নাটক কোনটি?
    • ক. রক্তপদ্ম
    • খ. মাকড়সা
    • গ. ফেরি আসছে
    • ঘ. কবর
    উত্তর: ঘ. কবর
    ‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর লেখা একাঙ্ক নাটক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে এটি লেখা হয়। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে মুনীর চৌধুরী কারাগারে ছিলেন। সেখানে বসেই তিনি ‘কবর’ রচনা করেন। ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কারাগারেই নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়। নাটকে ভাষাশহীদদের কবর ঘিরে সমাজ ও রাজনীতির কঠিন সত্য ফুটে উঠেছে। একাঙ্ক নাটক মানে যে নাটক মাত্র একটি অঙ্কে শেষ হয়, তাই এর দৈর্ঘ্য কম এবং ঘটনা একটি কেন্দ্রীয় সংকটকে ঘিরে ঘোরে। সেখানে মঞ্চের সাজসজ্জাও সাধারণত কম লাগে।
    মনে রাখুন:
    মুনীর চৌধুরীর আরও নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দণ্ডকারণ্য।
    তিনি ‘মীর মানস’ গ্রন্থেরও রচয়িতা।
    ভাষা আন্দোলনভিত্তিক আরেকটি পরিচিত রচনা ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ (সংকলন)।
  3. ১২. প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র কোনটি?
    • ক. বেঙ্গল গেজেট
    • খ. দিগ্দর্শন
    • গ. বঙ্গদূত
    • ঘ. সমাচার দর্পণ
    উত্তর: খ. দিগ্দর্শন
    বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র ‘দিগ্দর্শন’। এটি শ্রীরামপুর মিশন থেকে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে বের হয়। এর সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। সাময়িকপত্র আর সংবাদপত্রের পার্থক্য এখানে খেয়াল করা জরুরি। ‘সমাচার দর্পণ’ ছিল একই বছরের মে মাসে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র, তাই এটিকে প্রথম সাময়িকপত্র বলা হয় না। ‘সাময়িকপত্র’ বলতে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রকাশিত পত্রিকা বোঝায়, যেমন মাসিক বা পাক্ষিক পত্রিকা। আর সংবাদ ছাপাই যার প্রধান কাজ, তাকে সংবাদপত্র বলা হয়। পরীক্ষায় এ দুটিকে আলাদা রাখতে হয়, কারণ প্রশ্নে ‘প্রথম সাময়িকপত্র’ আর ‘প্রথম সংবাদপত্র’ দুই রকমই আসে।
    মনে রাখুন:
    ‘বঙ্গদূত’ প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালে, রামমোহন রায়ের সহযোগিতায়।
    উইলিয়াম কেরি ছিলেন শ্রীরামপুর মিশনের প্রধান ব্যক্তিত্ব।
  4. ১৬. 'অচলা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
    • ক. দত্তা
    • খ. দেনাপাওনা
    • গ. গৃহদাহ
    • ঘ. চরিত্রহীন
    উত্তর: গ. গৃহদাহ
    ‘গৃহদাহ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। এতে অচলা, মহিম ও সুরেশের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের জটিল সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। অচলা এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র। তিনি একদিকে মহিমকে বিয়ে করেন, আবার সুরেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সংকটে পড়েন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ বলা হয়। তাঁর উপন্যাসে সমাজের নিয়ম আর মানুষের মনের টানাপোড়েন বারবার ফুটে ওঠে, বিশেষ করে নারীর অবস্থান নিয়ে।
    বাকি অপশনের উপন্যাসগুলোও শরৎচন্দ্রের, তবে সেখানে অচলা নামে চরিত্র নেই।
    মনে রাখুন:
    দেনাপাওনার চরিত্র: জীবানন্দ, ষোড়শী।
    চরিত্রহীনের চরিত্র: সাবিত্রী, সতীশ, কিরণময়ী।
    দত্তার চরিত্র: বিজয়া, নরেন।
  5. ১৭. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি হচ্ছে—
    • ক. দৌলত উজির বাহরাম খান
    • খ. আলাওল
    • গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
    • ঘ. দৌলত কাজী
    উত্তর: গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
    বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আযম শাহের সময়ের কবি, অর্থাৎ চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকের। তাঁর কাব্য ‘ইউসুফ-জোলেখা’ বাংলা ভাষায় প্রথম রোমান্টিক প্রণয়কাব্য হিসেবে গণ্য। এর কাহিনীর উৎস কুরআন ও বাইবেলে বর্ণিত নবী ইউসুফের ঘটনা। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যটি রোমান্টিক ধারার প্রণয়কাব্য, কারণ এতে প্রেমকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে। মধ্যযুগের প্রথম দিকের মুসলমান কবিদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে প্রাচীন হিসেবে স্বীকৃত।
    অন্য কবিদের পরিচয় তুলনা করলে ভুল এড়ানো যায়। দৌলত উজির বাহরাম খান এবং দৌলত কাজী তাঁর অনেক পরের সময়ের কবি।
    মনে রাখুন:
    দৌলত উজির বাহরাম খান: লায়লী-মজনু।
    আলাওল: পদ্মাবতী।
    দৌলত কাজী: সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী।
  6. ২৮. কাজী নজরুল ইসলামের জন্মতারিখ কোনটি?
    • ক. ১১ জ্যৈষ্ঠ
    • খ. ২২ শ্রাবণ
    • গ. ১২ ভাদ্র
    • ঘ. ২৫ বৈশাখ
    উত্তর: ক. ১১ জ্যৈষ্ঠ
    কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (ইংরেজি ২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র (২৯ আগস্ট ১৯৭৬) ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। জন্মতারিখ ১১ জ্যৈষ্ঠ আর মৃত্যুতারিখ ১২ ভাদ্র, এই দুটি পাশাপাশি মনে রাখলে ভুল হবে না। নজরুল জীবনের শেষ দিকে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন, আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসে।
    মনে রাখুন:
    নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’, আর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২)।
    তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
  7. ২৯. 'স্বাগত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
    • ক. সু + আগত
    • খ. স্ব + আগত
    • গ. সা + আগত
    • ঘ. সু + আগত
    উত্তর: ক. সু + আগত
    ‘স্বাগত’ শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। এখানে সু + আগত = স্বাগত। সন্ধির নিয়মে ‘উ’ বা ‘ঊ’-এর পরে অন্য কোনো স্বরধ্বনি এলে উ-কার সাধারণত ‘ব’-ফলায় বদলে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। ‘সু’-এর ‘উ’ ব-ফলা হয়ে ‘আ’-এর সঙ্গে মিলে ‘স্বা’ হয়েছে। ‘সু’ মানে ভালো বা সুন্দর, তাই স্বাগত মানে ভালোভাবে আগমন।
    উদাহরণ:
    সু + অল্প = স্বল্প, অনু + এষণ = অন্বেষণ, তনু + ঈ = তন্বী।
    মনে রাখুন: ‘স্ব’ মানে নিজ, তাই স্ব + আগত অর্থের দিক থেকে ঠিক নয়।
  8. ৩৭. বাংলা ভাষায় কয় প্রকারের উপসর্গ আছে?
    • ক. দুই প্রকার
    • খ. চার প্রকার
    • গ. পাঁচ প্রকার
    • ঘ. তিন প্রকার
    উত্তর: ঘ. তিন প্রকার
    উপসর্গ হলো এমন অব্যয়, যা শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বদলে দেয়। উপসর্গ স্বাধীনভাবে বাক্যে বসে না, সবসময় অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। উৎস অনুযায়ী বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার: খাঁটি বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) ও বিদেশি।
    উদাহরণ:
    খাঁটি বাংলা: অ (অকাজ), কু (কুকাজ), অনা (অনাসৃষ্টি)।
    তৎসম: প্র (প্রগতি), অপ (অপমান), পরা (পরাজয়)।
    বিদেশি: বে (বেআইনি), গর (গরমিল), হর (হররোজ)।
    মনে রাখুন: সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি, আর উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো উপসর্গ শব্দের আগে বসে, প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
  9. ৪০. 'কলম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
    • ক. আরবি
    • খ. ফারসি
    • গ. ফরাসি
    • ঘ. তুর্কি
    উত্তর: ক. আরবি
    ‘কলম’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। আরবিতে শব্দটির রূপ ‘কালাম’ বা ‘কলম’, যার অর্থ লেখার যন্ত্র। মুসলিম শাসনের সময় ধর্ম, আইন, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের অনেক আরবি শব্দ আমাদের ভাষায় ঢুকে পড়ে। তবে ফারসি ও তুর্কি শব্দের সঙ্গে আরবি শব্দ আলাদা করে চেনা জরুরি। কোনো শব্দ কোন ভাষার, তা চিনতে হলে শব্দের উৎস মনে রাখা দরকার। অনেক সময় একই অর্থের শব্দ আরবি, ফারসি বা তুর্কি তিন ভাষা থেকেই এসেছে, আর প্রশ্নে সেটি আলাদা করে ধরতে বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    আরবি শব্দ: আল্লাহ, কিতাব, কলম, কানুন, আদালত, ইনসান।
    ফারসি শব্দ: কাগজ, কারখানা, দোকান।
    তুর্কি শব্দ: চাকর, বেগম।
    কলম, কাগজ ও দোয়াত পাশাপাশি ব্যবহৃত হলেও এদের উৎস আলাদা: কলম আরবি, কাগজ ফারসি।
  10. ৪৪. 'পহেলা' কোন ধরনের শব্দ?
    • ক. সংখ্যাবাচক
    • খ. গণনাবাচক
    • গ. পূরণবাচক
    • ঘ. তারিখবাচক
    উত্তর: ঘ. তারিখবাচক
    ‘পহেলা’ শব্দটি মাসের নির্দিষ্ট তারিখ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি। তাই একে তারিখবাচক শব্দ বলা হয়। অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা। সংখ্যাবাচক শব্দ সংখ্যা বোঝায় (যেমন ১, ২), গণনাবাচক শব্দ গোনার কাজে বসে (যেমন এক, দুই), আর পূরণবাচক শব্দ ক্রম বোঝায় (প্রথম, দ্বিতীয়)। পহেলা ছাড়া অন্য তারিখবাচক শব্দগুলোও এ ধরনের। এগুলো মাসের প্রথম কয়েকটি তারিখ বোঝাতে লেখা ও কথায় চলে। ‘পহেলা বৈশাখ’ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, তাই এই শব্দটি আমাদের সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    পহেলার মতো আরও তারিখবাচক শব্দ: দোসরা (২ তারিখ), তেসরা (৩ তারিখ), চৌঠা (৪ তারিখ)।
    পহেলা শব্দটি আরবি-ফারসি উৎসের শব্দ।
  11. ৫১. ভাষার মূল উপাদান কী?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৯
    • ক. বর্ণ
    • খ. ধ্বনি
    • গ. শব্দ
    • ঘ. বাক্য
    উত্তর: খ. ধ্বনি
    ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি। আমরা মুখ দিয়ে যে আওয়াজ করি, তাই ধ্বনি। ধ্বনি যুক্ত হয়ে শব্দ গঠিত হয়, শব্দ মিলে বাক্য হয়, আর বাক্যের মাধ্যমে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি। অর্থাৎ ধ্বনি না থাকলে ভাষা গড়ে ওঠে না। বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ, তাই বর্ণকে মূল উপাদান বলা ঠিক নয়। ধ্বনি মুখের বাগযন্ত্র থেকে উৎপন্ন হয়, তাই এটি মানুষের সব ভাষার ভিত্তি। এমনকি যে ভাষার লিখিত রূপ নেই, তারও ধ্বনি আছে।
    মনে রাখুন:
    বাংলা স্বরধ্বনি ১১টি।
    বর্ণ ও ধ্বনির পার্থক্য: ধ্বনি শোনা যায়, বর্ণ দেখা যায়।
  12. ৬৫. 'তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
    • ক. সরল বাক্য
    • খ. মিশ্র বাক্য
    • গ. যৌগিক বাক্য
    • ঘ. বৈপরীত্যমূলক বাক্য
    উত্তর: গ. যৌগিক বাক্য
    যে বাক্যে দুই বা তার বেশি স্বাধীন বাক্য সংযোজক অব্যয় দিয়ে জোড়া লাগে এবং কোনোটি অন্যটির ওপর নির্ভর করে না, সেটি যৌগিক বাক্য (Compound Sentence)। এখানে ‘বয়স বেড়েছে’ ও ‘বুদ্ধি বাড়েনি’ দুটি আলাদা স্বাধীন বাক্য, যা ‘কিন্তু’ দিয়ে যুক্ত। দুটি বাক্য একা পড়লেও অর্থ সম্পূর্ণ হয়।
    মনে রাখুন:
    কিন্তু, ও, এবং, অথবা এ জাতীয় অব্যয় যৌগিক বাক্য চেনার সহজ উপায়।
    একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্যটি সরল, আর আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকলে জটিল বা মিশ্র।
  13. ৬৭. 'সবুজপত্র' পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে কোন ভাষারীতির প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে?
    • ক. সাধু ভাষা
    • খ. চলিত ভাষা
    • গ. উপভাষা
    • ঘ. আঞ্চলিক ভাষা
    উত্তর: খ. চলিত ভাষা
    ‘সবুজপত্র’ প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা, যা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকায় তিনি সাধু ভাষার বদলে মুখের ভাষার কাছাকাছি চলিত ভাষা ব্যবহার করে লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এখানে চলিত ভাষায় লিখেছেন। তাই সবুজপত্র চলিত ভাষারীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সাধু ভাষায় ‘করিতেছি’, ‘যাইতেছি’ লেখা হতো, আর চলিত ভাষায় ‘করছি’, ‘যাচ্ছি’ লেখা হয়। সাধু ও চলিত ভাষার ক্রিয়াপদ আর সর্বনামের রূপ আলাদা হয়, যেমন সাধুতে ‘তাহার’, ‘তাহাকে’ এবং চলিতে ‘তার’, ‘তাকে’। এই পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
    মনে রাখুন:
    প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম ‘বীরবল’।
    তাঁর ‘বীরবলের হালখাতা’ চলিত রীতির প্রথম সংকলন হিসেবে পরিচিত।
    সবুজপত্র প্রকাশের সালটি ভাষারীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
  14. ৬৮. 'কাদম্বিনী' শব্দের অর্থ কী?
    • ক. নদী
    • খ. মেঘমালা
    • গ. হিত কামনা
    • ঘ. বলহীনা
    উত্তর: খ. মেঘমালা
    ‘কাদম্বিনী’ শব্দের অর্থ মেঘমালা, অর্থাৎ মেঘের সারি। শব্দটি কবিতায় প্রায়ই ব্যবহার হয়। কাদম্বিনী নামটি নারীর নাম হিসেবেও পাওয়া যায়। বাকি অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: নদী মানে তটিনী বা স্রোতস্বিনী, আর বলহীনা মানে দুর্বল নারী। এই ধরনের কাব্যিক শব্দ বিসিএস ও অন্যান্য পরীক্ষায় বাগধারা বা প্রতিশব্দের প্রশ্নে এসে থাকে। শব্দের অর্থ গোছানোভাবে শেখা থাকলে ভুল অপশন বাদ দেওয়া সহজ হয়। কাদম্বিনীর পাশাপাশি আরও কিছু শব্দ জেনে রাখা ভালো, যেমন অম্বুদ বা ঘন মানেও মেঘ, আর বৃষ্টি বোঝাতে আসে বর্ষণ বা বারি।
    মনে রাখুন:
    মেঘের সমার্থক শব্দ: জলদ, নীরদ, পয়োদ, জীমূত, বারিদ।
    নদীর সমার্থক শব্দ: তটিনী, স্রোতস্বিনী।
  15. ৭০. কোন উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক?
    • ক. ক্রীতদাসের হাসি
    • খ. হাঙর নদী গ্রেনেড
    • গ. আবদুল্লাহ
    • ঘ. লালসালু
    উত্তর: খ. হাঙর নদী গ্রেনেড
    ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সেলিনা হোসেনের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এতে মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের সাধারণ মানুষের লড়াই ও আত্মত্যাগের কথা এসেছে। অন্য উপন্যাসগুলো মুক্তিযুদ্ধের নয়। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত ওসমানের প্রতীকধর্মী উপন্যাস। ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর, আর ‘আবদুল্লাহ’ কাজী ইমদাদুল হকের লেখা। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের প্রশ্নে লেখক, বই আর বিষয় একসঙ্গে মনে রাখা জরুরি। সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের আধুনিক সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক, আর তিনি নারী চরিত্রের শক্তিশালী উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত ওসমানের কালজয়ী প্রতীকী উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
    মনে রাখুন:
    সেলিনা হোসেনের আরও উপন্যাস: যাপিত জীবন, নীল ময়ূরের যৌবন, গায়ত্রী সন্ধ্যা।
    ‘লালসালু’ মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় ব্যবসার কাহিনি।
  16. ৭৫. 'বইপড়া' প্রবন্ধটি কার লেখা?
    • ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • খ. প্রমথ চৌধুরী
    • গ. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    • ঘ. হায়াৎ মামুদ
    উত্তর: খ. প্রমথ চৌধুরী
    ‘বইপড়া’ প্রমথ চৌধুরীর লেখা প্রবন্ধ। এতে তিনি বই পড়ার গুরুত্ব এবং পড়ার সঠিক অভ্যাসের কথা বলেছেন। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে লিখতেন এবং ‘সবুজপত্র’ সম্পাদনা করেন। তাঁর লেখা সহজ, ঝরঝরে ও ব্যঙ্গরসে ভরা। বাকি অপশনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মোতাহের হোসেন চৌধুরীও প্রবন্ধ লিখেছেন, তবে এই প্রবন্ধটি তাঁদের নয়। প্রবন্ধটি তাঁর চলিত ভাষায় লেখা সহজ-সরল গদ্যের একটি ভালো উদাহরণ, যেখানে কঠিন বিষয়ও ঘরোয়া ভঙ্গিতে বলা হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ: তেল-নুন-লকড়ি, আমাদের শিক্ষা।
    তিনি চলিত ভাষার অন্যতম প্রবর্তক।
    তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’।
  17. ৮০. 'চন্দ্র' কোন শব্দের উদাহরণ?
    • ক. তৎসম
    • খ. তদ্ভব
    • গ. দেশি
    • ঘ. বিদেশি
    উত্তর: ক. তৎসম
    যে শব্দ সংস্কৃত থেকে বাংলায় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে, তাকে তৎসম শব্দ বলে। ‘চন্দ্র’ সংস্কৃত থেকে একই রূপে এসেছে, তাই এটি তৎসম। এই শব্দেরই বদলে যাওয়া রূপ হলো ‘চাঁদ’, যা তদ্ভব শব্দ। অর্থাৎ একই মূল থেকে দুটি আলাদা শ্রেণির শব্দ তৈরি হতে পারে।
    উদাহরণ:
    তৎসম: সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, পাত্র, সন্ধ্যা।
    তদ্ভব: চাঁদ (চন্দ্র), হাত (হস্ত), মাছ (মৎস্য)।
    মনে রাখুন: দেশি শব্দ হলো এ দেশের আদিবাসী ভাষা থেকে আসা শব্দ, যেমন ঢোল, কুলা। বিদেশি শব্দ আসে আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা থেকে।
  18. ৮৯. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করেছেন?
    • ক. অভয়ামঙ্গল
    • খ. শিবমঙ্গল
    • গ. অন্নদামঙ্গল
    • ঘ. শ্রীমঙ্গল
    উত্তর: গ. অন্নদামঙ্গল
    ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মধ্যযুগের শেষ বড় কবি। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘অন্নদামঙ্গল’, যা নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে রচিত। এতে দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এই কাব্যে ঈশ্বরী পাটনীর বিখ্যাত উক্তি ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ আছে। ‘রায়গুণাকর’ উপাধিও রাজা কৃষ্ণচন্দ্রই তাঁকে দিয়েছিলেন। মধ্যযুগের শেষ কবি বলার কারণ হলো, তাঁর পরে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা হতে শুরু করে। অন্নদামঙ্গলের ভাষা ছিল অত্যন্ত মার্জিত ও ছন্দময়, আর এর নানা পঙ্ক্তি এখনও প্রবাদের মতো ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    অন্নদামঙ্গলের তিন খণ্ড: অন্নদামঙ্গল, বিদ্যাসুন্দর, মানসিংহ।
    অন্যান্য রচনা: সত্যপীরের পাঁচালি, রসমঞ্জরী।
    তাঁর পর থেকে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের পথ তৈরি হতে থাকে।
  19. ৯৪. কোন গ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নয়?আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ২০১৬
    • ক. আরেক ফাল্গুন
    • খ. ব্যথার দান
    • গ. রিক্তের বেদন
    • ঘ. মৃত্যুক্ষুধা
    উত্তর: ক. আরেক ফাল্গুন
    প্রশ্নে খুঁজতে হবে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নয়, এমন গ্রন্থ। ‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনের পটভূমির উপন্যাস (১৯৬৯)। তাই এটি নজরুলের নয়। নজরুলের ‘ব্যথার দান’ ও ‘রিক্তের বেদন’ গল্প, ‘মৃত্যুক্ষুধা’ ও ‘কুহেলিকা’ উপন্যাস, আর ‘অগ্নিবীণা’ ও ‘বিষের বাঁশি’ কাব্য। জহির রায়হান একাধারে ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার ছিলেন। এ ধরনের প্রশ্নে লেখকের রচনাবলি আলাদা করে জানা থাকলে সহজেই উত্তর পাওয়া যায়।
    অন্য তিনটি নজরুলের রচনা। ‘ব্যথার দান’ (১৯২২) তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ, ‘রিক্তের বেদন’ (১৯২৫) গল্পসংকলন এবং ‘মৃত্যুক্ষুধা’ (১৯৩০) উপন্যাস।
    মনে রাখুন:
    নজরুলের আরও উপন্যাস: বাঁধনহারা, কুহেলিকা।
    জহির রায়হানের আরও রচনা: হাজার বছর ধরে, বরফ গলা নদী।
  20. ৯৫. উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
    • ক. মুখচন্দ্র
    • খ. কাঁচামিঠা
    • গ. চন্দ্রমুখ
    • ঘ. মনমাঝি
    উত্তর: ক. মুখচন্দ্র
    উপমিত কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের (যার তুলনা করা হয়) সঙ্গে উপমান পদের (যার সঙ্গে তুলনা করা হয়) সমাস হয়, কিন্তু দুটির সাধারণ গুণের কোনো উল্লেখ থাকে না। ‘মুখচন্দ্র’ শব্দের ব্যাসবাক্য ‘মুখ চন্দ্রের ন্যায়’। এখানে মুখ উপমেয়, চন্দ্র উপমান, আর সুন্দর বা উজ্জ্বল জাতীয় কোনো গুণের নাম নেই। বাকি শব্দগুলো আলাদা সমাসের। ‘কাঁচামিঠা’ হলো কর্মধারয়, কারণ এর অর্থ ‘যা কাঁচা অথচ মিঠা’। আর ‘মনমাঝি’ রূপক কর্মধারয়, কারণ মনকে মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    উপমিত কর্মধারয়: মুখচন্দ্র, করকমল, পুরুষসিংহ, নরব্যাঘ্র।
    উপমান কর্মধারয়ে সাধারণ গুণ থাকে: তুষারশুভ্র, কুসুমকোমল।

ইংরেজি

  1. ২. He said to me, "What a nice man you are, sir!" The correct indirect speech of this sentence is :
    • ক. He asked me what a nice man I was.
    • খ. Respectfully he exclaimed with joy that I was a very nice man.
    • গ. Addressing me as sir, he respectfully exclaimed with joy that I was a very nice man.
    • ঘ. He asked me what a nice man I was.
    উত্তর: গ. Addressing me as sir, he respectfully exclaimed with joy that I was a very nice man.
    Exclamatory বাক্যকে indirect speech-এ বদলাতে reporting verb হিসেবে exclaimed with joy বা exclaimed with sorrow ব্যবহার করা হয়। সম্বোধনে ‘sir’ থাকলে তা Addressing me as sir আকারে লিখে সম্মান বোঝাতে respectfully যোগ করা হয়। ‘What a nice man you are’-এর ‘What a’ ফেলে very বসিয়ে বলা হয় ‘I was a very nice man’। এজন্য তৃতীয় অপশনটিই পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক।
    প্রথম ও চতুর্থ অপশনে ‘asked’ ব্যবহার হয়েছে, যা প্রশ্নবোধক বাক্যের জন্য। এটি উচ্ছ্বাস বোঝায় না।
    মনে রাখুন: Exclamatory sentence-এর indirect রূপে what/how বাদ যায় এবং very বা great বসে।
  2. ৫. The passive form of the sentence 'He wrote a letter to me' is—
    • ক. A letter was written to me by him.
    • খ. A letter is written to my by him.
    • গ. A letter had written to me by him.
    • ঘ. A letter was written by me to him.
    উত্তর: ক. A letter was written to me by him.
    ‘He wrote a letter to me’ Past Indefinite Tense-এর active বাক্য। Passive করতে object ‘a letter’ কর্তা হয়ে যায়, verb হয় was + v3 (written), আর কর্তা he হয়ে যায় ‘by him’। ‘to me’ অংশ বাক্যের শেষে থাকে। তাই সঠিক রূপ: A letter was written to me by him।
    দ্বিতীয় অপশনে my ভুল এবং is ভুল, তৃতীয়টিতে had written ভুল। চতুর্থ অপশনে অর্থ উল্টে গেছে (me ও him বদলে গেছে)।
    মনে রাখুন: Past Indefinite-এর passive: was/were + v3।
  3. ২২. The full form of a.m. is —
    • ক. Anno meridiem
    • খ. After morning
    • গ. Ante meridiem
    • ঘ. Anti-meriden
    উত্তর: গ. Ante meridiem
    A.M. হলো ল্যাটিন Ante Meridiem-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘Ante’ মানে আগে আর ‘Meridiem’ মানে মধ্যাহ্ন, তাই এর অর্থ মধ্যাহ্নের আগে। অর্থাৎ মধ্যরাত থেকে দুপুর ১২টার আগ পর্যন্ত সময়কে a.m. বলে। আর P.M. হলো Post Meridiem, যার অর্থ মধ্যাহ্নের পরে। বাকি অপশনগুলো ভুল রূপ, কারণ সংক্ষেপটি ইংরেজি থেকে নয়, ল্যাটিন থেকে এসেছে।
    মনে রাখুন: আরও কিছু ল্যাটিন সংক্ষেপ: e.g. (exempli gratia, উদাহরণস্বরূপ), i.e. (id est, অর্থাৎ), etc. (et cetera, ইত্যাদি), a.d. (anno domini, খ্রিষ্টাব্দ)।
    উদাহরণ:
    The meeting is at 10 a.m. and ends at 2 p.m.
  4. ২৫. Choose the correct form of verb : I (watch) an English movie last night.
    • ক. have watched
    • খ. had watched
    • গ. watched
    • ঘ. have been watching
    উত্তর: গ. watched
    বাক্যে ‘last night’ আছে। যখন কোনো কাজ অতীতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে এবং ওই সময়ের উল্লেখ থাকে, তখন Past Indefinite ব্যবহার করতে হয়। Watch-এর past form হলো watched। তাই ‘I watched an English movie last night’ সঠিক।
    বাকি অপশনগুলো কেন চলে না তা দেখি। ‘Have watched’ বর্তমানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই নির্দিষ্ট অতীত সময়ের সঙ্গে বসে না। ‘Had watched’ আরেকটি অতীত ঘটনার আগের কাজ বোঝায়। আর ‘have been watching’ চলমান কাজ বোঝায়।
    উদাহরণ:
    I met him yesterday.
    She went there last year.
    মনে রাখুন: yesterday, last week, ago, in 2010-এর মতো শব্দ সাধারণত Past Indefinite নির্দেশ করে।
  5. ৪৬. Choose the appropriate preposition : Average price of food decreased— 13%.
    • ক. by
    • খ. at
    • গ. to
    • ঘ. upto
    উত্তর: ক. by
    পরিমাণ বা হার কমার ক্ষেত্রে কতটুকু কমল তা বোঝাতে ইংরেজিতে ‘decrease by’ বা ‘fall by’ ব্যবহার হয়। Average price of food decreased by 13% বাক্যে by বসে, যা বোঝায় দাম ১৩ শতাংশ কমেছে। To বসালে বোঝায় শেষ অবস্থা, যেমন ‘decreased to 50’। At সাধারণত নির্দিষ্ট দামে বসে, যেমন ‘sells at 50 taka’।
    মনে রাখুন: increase by, rise by, reduce by একই নিয়মে চলে। ‘By’ পার্থক্য বোঝায় আর ‘to’ চূড়ান্ত মান বোঝায়।
  6. ৫০. I know you — the correct passive form is—
    • ক. You are known by me.
    • খ. You are known to me.
    • গ. You are knowing to me.
    • ঘ. You are known at me.
    উত্তর: খ. You are known to me.
    ‘I know you’ বাক্যের কর্তা হলো I, আর কর্ম হলো you। Passive করলে ‘You are known to me’ হয়। Know verb-এর passive-এ সাধারণ নিয়মে by না বসে to বসে, যার অর্থ ‘আমার কাছে পরিচিত’। ‘Known by’ সাধারণত কারণ বা পরিচয়ের মাধ্যম বোঝাতে বসে, যেমন ‘A man is known by the company he keeps’।
    কিছু verb-এর পর passive-এ by-এর জায়গায় অন্য preposition বসে, এগুলো আলাদা করে মুখস্থ রাখতে হয়।
    উদাহরণ:
    He is satisfied with the result.
    I am pleased with her.
    She was surprised at the news.
    They are interested in music.
    মনে রাখুন: ‘You are knowing’ ভুল, কারণ know সাধারণত continuous tense-এ বসে না।
  7. ৫৩. I could not read the words because they were too blurry. Here 'blurry' means :
    • ক. small
    • খ. unclear
    • গ. unknown
    • ঘ. difficult
    উত্তর: খ. unclear
    Blurry মানে ঝাপসা, যা পরিষ্কার দেখা যায় না। বাক্যটিতে বলা হয়েছে ‘I could not read the words because they were too blurry’, অর্থাৎ লেখা এতটাই ঝাপসা ছিল যে পড়া যায়নি। তাই এর কাছাকাছি অর্থ unclear। অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: small মানে ছোট, unknown মানে অজানা, আর difficult মানে কঠিন। এই ধরনের প্রশ্নে বাক্যের অর্থ দেখে শব্দের কাছাকাছি অর্থ বেছে নিতে হয়। বাক্যে ‘could not read’ থাকার কারণে বোঝা যায় লেখাটি স্পষ্ট ছিল না। শব্দের আসল অর্থ জানা থাকলে অপশনগুলো কেটে বাদ দেওয়া সহজ হয়।
    মনে রাখুন: Blurry-এর সমার্থক শব্দ hazy, fuzzy, indistinct। বিপরীত শব্দ clear, sharp।
    উদাহরণ:
    The photo was blurry because the camera moved.
    Blur শব্দটি noun ও verb দুই রূপেই ব্যবহৃত হয়।
  8. ৫৫. What is the meaning of the word 'lately'?
    • ক. in the past
    • খ. at this moment
    • গ. in the recent time
    • ঘ. one more time
    উত্তর: গ. in the recent time
    Lately মানে সম্প্রতি বা অল্প কিছুদিন আগে থেকে। যেমন ‘I have not seen him lately’ মানে ‘আমি তাকে সম্প্রতি দেখিনি’। তাই সঠিক অর্থ in the recent time। প্রথম অপশন in the past ভুল, কারণ সেটি দূর অতীত বোঝায়। at this moment মানে এই মুহূর্তে এবং one more time মানে আরেকবার।
    মনে রাখুন:
    Lately সাধারণত Present Perfect Tense-এর সঙ্গে বসে।
    সমার্থক শব্দ: recently, of late।
    Late আর lately এক নয়, late মানে দেরিতে বা বিলম্বিত।
    উদাহরণ:
    He came late. (সে দেরিতে এসেছে)
    I have been feeling tired lately. (আমি সম্প্রতি ক্লান্ত বোধ করছি)
  9. ৫৬. The verb form of the word 'deep' is—
    • ক. depth
    • খ. endeep
    • গ. deepen
    • ঘ. in depth
    উত্তর: গ. deepen
    Deep একটি adjective, যার অর্থ গভীর। এর verb রূপ deepen, যার অর্থ গভীর করা বা গভীর হওয়া। Adjective-এর সঙ্গে ‘-en’ যোগ করে অনেক verb গঠিত হয়। Depth শব্দটি এসেছে deep থেকেই, তবে এটি noun, অর্থ গভীরতা। ‘Endeep’ নামে কোনো শব্দ ইংরেজিতে নেই, আর ‘in depth’ একটি phrase।
    উদাহরণ:
    wide → widen, weak → weaken, short → shorten, dark → darken।
    মনে রাখুন:
    Noun থেকে verb করতেও ‘-en’ বসে, যেমন length → lengthen, strength → strengthen।
    Deep-এর adverb deeply, যার অর্থ গভীরভাবে।
  10. ৫৮. Which is the correct synonym of the word INDISPENSABLE?
    • ক. Trivial
    • খ. Essential
    • গ. Negligible
    • ঘ. Worthy
    উত্তর: খ. Essential
    Indispensable মানে অপরিহার্য, অর্থাৎ যা ছাড়া চলে না। Essential-এর অর্থও একই, অর্থাৎ অত্যাবশ্যক বা একান্ত প্রয়োজনীয়। তাই সঠিক সমার্থক শব্দ essential। বাকি অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: trivial মানে তুচ্ছ, negligible মানে নগণ্য এবং worthy মানে যোগ্য। Indispensable শব্দের মূলে আছে dispense, যার অর্থ ছাড়া চালানো বা বাদ দেওয়া। উপসর্গ ‘in-’ যুক্ত হয়ে অর্থ উল্টে দিয়েছে। তাই indispensable মানে যাকে বাদ দেওয়া যায় না।
    মনে রাখুন:
    Indispensable-এর অন্য সমার্থক শব্দ vital, necessary, crucial।
    বিপরীত শব্দ dispensable বা unnecessary।
    উদাহরণ:
    Water is indispensable for life.
    Indispensable শব্দের ‘in-’ এখানে নেতিবাচক উপসর্গ, তাই মূল শব্দ dispensable মানে যা বাদ দেওয়া চলে।
  11. ৬০. 'পাখি আকাশে উড়ে'- Correct translation of this sentence is :
    • ক. Bird fly in the sky.
    • খ. The bird flies in the sky.
    • গ. A bird fly in the sky.
    • ঘ. A bird fly in sky.
    উত্তর: খ. The bird flies in the sky.
    ‘পাখি আকাশে উড়ে’ বাংলা বাক্যটি সাধারণ বর্তমান কালের। ইংরেজিতে এ কালে Subject তৃতীয় পুরুষ একবচন হলে verb-এর সঙ্গে s/es যুক্ত হয়, তাই fly হয় flies। Bird নির্দিষ্ট পাখির ক্ষেত্রে সাধারণত the বসে। ‘in the sky’ সঠিক প্রয়োগ, আকাশ বোঝাতে sky-এর আগে the বসে। তাই সঠিক বাক্য The bird flies in the sky।
    মনে রাখুন: Consonant-এর পরে y থাকলে y বদলে i হয়ে es যুক্ত হয়, যেমন fly → flies, cry → cries।
  12. ৬২. The author of the story 'The Luncheon' is—
    • ক. William Shakespeare
    • খ. William Wordsworth
    • গ. W.S. Maugham
    • ঘ. T.S. Eliot
    উত্তর: গ. W.S. Maugham
    ‘The Luncheon’ ছোটগল্পের লেখক ডব্লিউ. সমারসেট মম (W. Somerset Maugham)। এই গল্পে এক ভোজনপ্রিয় নারী তরুণ লেখককে দিয়ে ব্যয়বহুল মধ্যাহ্নভোজ করান। শেষে লেখকের পকেটের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, আর গল্পে হালকা কৌতুকের সঙ্গে মানুষের স্বভাব ফুটে ওঠে। বাকি লেখকদের পরিচয় আলাদা: শেক্সপিয়র নাটকের জন্য, ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবিতার জন্য এবং টি. এস. এলিয়ট কবিতা ও প্রবন্ধের জন্য পরিচিত। সমারসেট মমের গল্পে ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বভাব ও সামাজিক জীবনের একটি তীক্ষ্ণ ছবি ফুটে ওঠে। ‘The Luncheon’ তারই একটি পরিচিত উদাহরণ।
    মনে রাখুন:
    মমের উপন্যাস: Of Human Bondage, The Moon and Sixpence, The Razor’s Edge।
    তিনি ইংরেজ লেখক ছিলেন।
  13. ৬৩. It makes me nostalgic. Here 'nostalgic' is a/an—
    • ক. verb
    • খ. noun
    • গ. adjective
    • ঘ. adverb
    উত্তর: গ. adjective
    Nostalgic মানে অতীতের স্মৃতির জন্য কাতর বা স্মৃতিকাতর। ‘It makes me nostalgic’ বাক্যে ‘makes me’-এর পরে nostalgic বসে আমার অবস্থা বা অনুভূতি বোঝাচ্ছে, তাই এটি adjective। ‘Make + object + adjective’ গঠনে adjective বসে। এর noun রূপ nostalgia, যার অর্থ অতীতের জন্য আকুলতা। Nostalgic কোনো কাজ বোঝায় না, তাই এটি verb নয়। শব্দটির মূলে আছে গ্রিক ভাষা, যেখানে nostos মানে ঘরে ফেরা আর algos মানে ব্যথা। তাই nostalgia মানে ঘরে ফেরার ব্যথা, আর বাংলায় একে স্মৃতিকাতরতা বলা চলে।
    মনে রাখুন:
    ‘Make + object + adjective’ গঠনের উদাহরণ: It makes me happy, The news made her sad।
    Nostalgic-এর adverb রূপ nostalgically।
  14. ৬৪. Fill in the blank. His brother is — he looks.
    • ক. younger than
    • খ. as young
    • গ. younger by
    • ঘ. very young
    উত্তর: ক. younger than
    বাক্যে ‘he looks’ অংশ থেকে বোঝা যায়, দেখতে তাকে যেমন লাগে, ভাইটি আসলে তার চেয়ে কম বয়সী। দুইয়ের মধ্যে তুলনায় comparative degree লাগে, আর than দিয়ে তুলনার অংশ জোড়া লাগে। তাই ‘His brother is younger than he looks’ সঠিক। ‘As young’ বসলে পরে আরেকটি ‘as’ লাগত। ‘Younger by’-এর পরে বয়সের পার্থক্য আসে, যেমন younger by two years।
    উদাহরণ:
    She is older than she looks.
    He is as tall as his father.
    মনে রাখুন: Comparative degree-এর সঙ্গে সাধারণত than বসে, আর as…as সমতুল্য বোঝায়।
  15. ৭১. What is the opposite word of 'facilitate'?
    • ক. encourage
    • খ. impede
    • গ. increase
    • ঘ. promote
    উত্তর: খ. impede
    Facilitate মানে সহজ করা। আমরা যখন কোনো কাজকে সহজ বা এগিয়ে নিতে সাহায্য করি, তখন facilitate শব্দটি বসে। এর বিপরীত অর্থ impede, যার মানে বাধা দেওয়া বা প্রতিবন্ধক হওয়া। বাকি তিনটি encourage, increase ও promote সহজ করা বা এগিয়ে নেওয়ার কাছাকাছি, তাই এগুলো বিপরীত নয়। Facilitate শব্দের মূলে আছে ল্যাটিন facilis, যার অর্থ সহজ। তাই facilitate মানে কোনো কাজকে সহজ করে দেওয়া। Facilitator বলতে বোঝায় যিনি কাজ সহজ করে দেন, যেমন কর্মশালা পরিচালক।
    মনে রাখুন:
    Facilitate-এর সমার্থক শব্দ ease, assist, simplify।
    Impede-এর সমার্থক শব্দ hinder, obstruct।
    উদাহরণ:
    Good roads facilitate trade.
    Heavy rain impeded our journey.
  16. ৭৬. IELTS stands for—
    • ক. International English Language Teaching System.
    • খ. International English Language Testing Skill.
    • গ. International English Language Testing System.
    • ঘ. International English Language Teaching Skill.
    উত্তর: গ. International English Language Testing System.
    IELTS-এর পূর্ণরূপ International English Language Testing System। এটি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি আন্তর্জাতিক পরীক্ষা। উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা অভিবাসনের জন্য বিদেশে যেতে অনেক সময় এর ফল জমা দিতে হয়। এতে Listening, Reading, Writing ও Speaking এই চারটি অংশ থাকে। শব্দের মধ্যে ‘Testing’ আছে, কারণ এটি শেখানোর নয়, যাচাইয়ের পরীক্ষা। তাই Teaching System বা Skill শব্দ দুটি এখানে ভুল। IELTS-এর স্কোর ব্যান্ড আকারে দেওয়া হয়, যা ০ থেকে ৯ পর্যন্ত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি-সহ কয়েকটি সংস্থা যৌথভাবে এই পরীক্ষা পরিচালনা করে।
    মনে রাখুন:
    ইংরেজি দক্ষতার আরেকটি পরীক্ষা TOEFL, যার পূর্ণরূপ Test of English as a Foreign Language।
  17. ৮৩. Choose the correct word to fill up the gap : I could not recognise him—he said we had met before.
    • ক. unless
    • খ. however
    • গ. despite
    • ঘ. though
    উত্তর: ঘ. though
    বাক্যে দুটি অংশের মধ্যে বৈপরীত্য আছে: লোকটিকে চিনতে পারিনি, যদিও সে বলেছে আগে দেখা হয়েছে। এই অর্থ বোঝাতে ‘though’ (যদিও) সঠিক। অন্য অপশনগুলো কেন চলে না তা দেখি। Unless মানে যদি না, however মানে তবুও (এটি সাধারণত আলাদা বাক্য শুরু করে) এবং despite মানে সত্ত্বেও। Despite-এর পরে সাধারণত noun বা gerund বসে, পুরো clause বসে না। তাই এখানে though-ই বসবে।
    উদাহরণ:
    Though he was tired, he went on working.
    Despite his tiredness, he went on working.
    মনে রাখুন: Though, although ও even though-এর পরে clause বসে।
  18. ৮৪. The correct spelling is—
    • ক. Attendence
    • খ. Atendance
    • গ. Attendnce
    • ঘ. Attendance
    উত্তর: ঘ. Attendance
    সঠিক বানান Attendance, যার অর্থ উপস্থিতি। এর verb রূপ attend। শব্দটির শেষে ‘-ance’ আছে, ‘-ence’ নয়। অন্য অপশনগুলোতে হয় ‘t’ বাদ পড়েছে, নয়তো শেষের অংশ ভুল হয়েছে। দুটি ‘t’ এবং ‘-ance’ মিলিয়ে মনে রাখলে বানান ভুল হবে না। ইংরেজি বানানে দুটি অক্ষর পরপর বসার ঘটনা মনে রাখা জরুরি। শব্দটি ভাঙলে at-tend-ance পাওয়া যায়, অর্থাৎ দুই জায়গায় ‘t’ আর শেষে ‘-ance’। এভাবে ভেঙে শেখা বানান মনে রাখার একটি ভালো উপায়।
    মনে রাখুন: ‘-ance’ ও ‘-ence’ গুলিয়ে ফেলা একটি সাধারণ সমস্যা।
    উদাহরণ:
    -ance: importance, appearance, performance।
    -ence: absence, presence, difference।
    Attendant (পরিচারক) ও attendance (উপস্থিতি) দুটি আলাদা শব্দ।
  19. ৯১. Choose the right preposition : Rice sells — 50 TK a kg.
    • ক. over
    • খ. in
    • গ. at
    • ঘ. to
    উত্তর: গ. at
    কোনো জিনিস কত দামে বিক্রি হয় তা বোঝাতে ইংরেজিতে ‘at’ ব্যবহার হয়। ‘Rice sells at 50 taka a kg’ বাক্যে ‘at’ দামের হার বোঝাচ্ছে। বাকি অপশন এখানে বসে না। Over মানে উপরে, in মানে মধ্যে এবং to মানে দিকে, তাই দামের হারের ক্ষেত্রে এগুলো মানায় না।
    উদাহরণ:
    The shirt sells at 500 taka.
    He bought it at a high price.
    মনে রাখুন: হার, দাম বা গতি বোঝাতে at বসে, যেমন at 60 km per hour।
    একইভাবে ‘at a loss’ মানে লোকসানে, আর ‘at a profit’ মানে লাভে।
  20. ৯৩. Choose the correct sentence :
    • ক. I am tired as I was working since 7 o'clock in the morning.
    • খ. I am tired as I have been working since 7 o'clock in the morning.
    • গ. I am tired as I am working since 7 o'clock in the morning.
    • ঘ. I am tired as I had been working since 7 o'clock in the morning.
    উত্তর: খ. I am tired as I have been working since 7 o'clock in the morning.
    Since দিয়ে অতীতের কোনো নির্দিষ্ট সময় থেকে শুরু হওয়া কাজ এখনও চলছে বোঝালে Present Perfect Continuous Tense (have/has been + verb-ing) বসে। ‘I am tired as I have been working since 7 o’clock in the morning’ বাক্যে ক্লান্তি এখন, আর কাজ সকাল সাতটা থেকে চলছে। তাই খ সঠিক।
    Past Continuous (was working) বা Present Continuous (am working) since-এর সঙ্গে বসে না, আর had been working আগের অতীত বোঝায়।
    মনে রাখুন: since + নির্দিষ্ট সময় (7 o’clock), for + সময়ের পরিমাণ (for two hours)।

বিজ্ঞান

  1. ৩. মহাবিশ্বের মৌলিক বল কয়টি?
    • ক. ৩টি
    • খ. ৪টি
    • গ. ৫টি
    • ঘ. ৬টি
    উত্তর: খ. ৪টি
    মহাবিশ্বে পদার্থগুলোর মধ্যে যত রকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে, সবই মূলত চারটি মৌলিক বলের (Fundamental force) ফল। এগুলো হলো মহাকর্ষ বল, তড়িৎচুম্বকীয় বল, সবল নিউক্লীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লীয় বল। মহাকর্ষ বল গ্রহ-নক্ষত্রকে কক্ষপথে ধরে রাখে। তড়িৎচুম্বকীয় বল পরমাণু ও অণুর গঠন এবং আলোর আচরণ ব্যাখ্যা করে। সবল নিউক্লীয় বল পরমাণুর কেন্দ্রকে নিউট্রন-প্রোটনকে একসঙ্গে ধরে রাখে। আর দুর্বল নিউক্লীয় বল তেজস্ক্রিয় বিটা ক্ষয়ের জন্য দায়ী।
    মনে রাখুন:
    শক্তির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল বল মহাকর্ষ, সবচেয়ে শক্তিশালী সবল নিউক্লীয় বল।
    মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম।
  2. ৬. কোন রশ্মির ভেদন ক্ষমতা বেশি?
    • ক. আলফা
    • খ. বিটা
    • গ. গামা
    • ঘ. সবগুলোর সমান
    উত্তর: গ. গামা
    তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি বের হয়, আলফা, বিটা ও গামা। রশ্মিগুলো কোনো বস্তুর ভেতর দিয়ে কতটা যেতে পারে, তাকে ভেদন ক্ষমতা বলে। আলফা কণা ভারী ও বেশি আধানযুক্ত, তাই বাতাসে অল্প দূরত্ব গেলেই শক্তি হারায় এবং একটি কাগজ দিয়েই আটকে যায়। বিটা কণা অনেক হালকা, তাই কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়ামের পাত ভেদ করে যেতে পারে। গামা রশ্মি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, এর কোনো আধান বা ভর নেই। ফলে এটি সবচেয়ে বেশি ভেদ করে, এমনকি পুরু সীসা বা কংক্রিটের দেয়ালও দরকার হয় একে থামাতে।
    মনে রাখুন:
    ভেদন ক্ষমতা: গামা > বিটা > আলফা।
    আয়নায়ন ক্ষমতা: আলফা > বিটা > গামা।
  3. ৭. পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
    • ক. শূন্য
    • খ. 9.8m/s²
    • গ. 4.9m/s²
    • ঘ. অসীম
    উত্তর: ক. শূন্য
    কোনো বস্তুকে ছেড়ে দিলে সেটি পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে যে ত্বরণ নিয়ে পড়ে, তাকে অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) বলে। পৃথিবীর পৃষ্ঠে এর মান প্রায় 9.8 m/s²। উপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে g কমে। পৃথিবীর ভেতরের দিকে নামলেও এর মান কমতে থাকে, কারণ তখন বস্তুর নিচে পৃথিবীর ভর কম থাকে এবং ওপরের স্তরগুলোর টান পরস্পরকে কাটাকাটি করে দেয়। কেন্দ্রে পৌঁছালে বস্তুটিকে সবদিক থেকে সমান আকর্ষণ করা হয়, তাই লব্ধি বল শূন্য। ফলে সেখানে g-এর মান শূন্য।
    মনে রাখুন:
    পৃথিবীর পৃষ্ঠে মেরুতে g-এর মান বেশি, নিরক্ষরেখায় কম।
    মেরু অঞ্চলে g প্রায় 9.83 m/s², নিরক্ষে প্রায় 9.78 m/s²।
  4. ৮. কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?
    • ক. O₂
    • খ. O₃
    • গ. CO₂
    • ঘ. Water Vapor
    উত্তর: ক. O₂
    গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas) এমন গ্যাস, যা পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া তাপ শুষে নিয়ে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), পানির বাষ্প এবং ওজোন (O₃) এই ধরনের গ্যাস। কিন্তু অক্সিজেন (O₂) গ্রিনহাউস গ্যাস নয়, কারণ দুই পরমাণুর এই অণুটি অবলোহিত রশ্মি বা তাপ তেমন শোষণ করতে পারে না। নাইট্রোজেনও ঠিক একই কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
    মনে রাখুন:
    গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর ভূমিকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের।
    গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যেত।
    ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।
  5. ১০. লেন্সের ক্ষমতার একক কী?
    • ক. ডায়াপটার
    • খ. ডেসিবেল
    • গ. ওয়াট
    • ঘ. মিটার
    উত্তর: ক. ডায়াপটার
    লেন্সের ক্ষমতা বলতে বোঝায় আলোকরশ্মিকে লেন্স কতটা বাঁকাতে পারে। লেন্সের ফোকাস দূরত্ব যত কম, তার ক্ষমতা তত বেশি। ফোকাস দূরত্বকে মিটারে মেপে তার অনুবন্ধী (উল্টো মান) নিলে ক্ষমতা পাওয়া যায়। এর একক ডায়াপটার (Diopter), সংক্ষেপে D। যেমন 0.5 m ফোকাস দূরত্বের লেন্সের ক্ষমতা P = 1/0.5 = 2 D। ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা, ওয়াট ক্ষমতা বা পাওয়ার এবং মিটার দৈর্ঘ্যের একক। কেউ ফোকাস দূরত্ব সেন্টিমিটারে দিলে আগে তাকে মিটারে রূপান্তর করে নিতে হয়, নইলে উত্তর ভুল আসে। যেমন 25 cm = 0.25 m, তাই ক্ষমতা 1/0.25 = 4 D।
    মনে রাখুন:
    উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক, অবতল লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক।
    চশমার পাওয়ার ডায়াপটারেই লেখা হয়।
  6. ১১. কোনো বস্তুকে ভূ-পৃষ্ঠ হতে ১৯.৬m উপর থেকে ছেড়ে দিলে ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছাতে বস্তুটির কত সময় লাগবে?
    • ক. 2 sec
    • খ. 1 sec
    • গ. 1/2 sec
    • ঘ. 9 sec
    উত্তর: ক. 2 sec
    বস্তুকে ছেড়ে দিলে এর প্রাথমিক বেগ শূন্য থাকে, তাই মুক্তভাবে পড়ার সূত্র h = ½gt² ব্যবহার করা যায়।
    এখানে h = 19.6 m এবং g = 9.8 m/s²।
    19.6 = ½ × 9.8 × t²
    t² = (2 × 19.6)/9.8 = 4
    t = 2 sec।
    অর্থাৎ বস্তুটি মাটিতে পৌঁছাতে ২ সেকেন্ড সময় নেয়। খেয়াল রাখতে হবে, এখানে পতনের সময় বের করা হচ্ছে, ফলে সূত্রে t²-এর ওপর বর্গমূল নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    শেষ বেগ v = gt = 9.8 × 2 = 19.6 m/s।
    মুক্তভাবে পড়ার সময় t = √(2h/g)।
    পড়ার সময় বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে না।
  7. ১৩. কোনটি মুদ্রা ধাতু নয়?
    • ক. কপার
    • খ. সিলভার
    • গ. গোল্ড
    • ঘ. রন্টজেনিয়াম
    উত্তর: ঘ. রন্টজেনিয়াম
    পুরনো কালে সোনা, রুপা ও তামা দিয়ে মুদ্রা তৈরি হতো। এসব ধাতু নরম, সহজে ছাঁচে ঢালা যায় এবং সহজে ক্ষয় হয় না। রন্টজেনিয়াম (Roentgenium, প্রতীক Rg) কিন্তু প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। এটি ১১১ পরমাণু ক্রমাঙ্কের একটি কৃত্রিম বা সিনথেটিক মৌল, যা পরীক্ষাগারে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করতে হয়। তেজস্ক্রিয় এই মৌল অত্যন্ত অস্থায়ী, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে যায়। তাই এ দিয়ে মুদ্রা বানানো সম্ভব নয়। মৌলটির নাম রাখা হয়েছে এক্স-রে আবিষ্কারক উইলহেলম রন্টজেনের সম্মানে।
    মনে রাখুন:
    প্রথম এক্স-রে আবিষ্কারক রন্টজেন, ১৮৯৫ সাল।
    রন্টজেন পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পান ১৯০১ সালে।
  8. ১৮. CNG-এর মূল উপাদান কী?
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. মিথেন
    • গ. ইথেন
    • ঘ. অকটেন
    উত্তর: খ. মিথেন
    সিএনজি (CNG) পুরো কথাটি Compressed Natural Gas, অর্থাৎ সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), আর সিএনজির প্রায় পুরোটাই এই মিথেন। উচ্চচাপে সংকুচিত করা হলে গ্যাসের আয়তন স্বাভাবিক আয়তনের ১ শতাংশেরও কম হয়ে যায়, ফলে এটি সিলিন্ডারে ভরে গাড়িতে ব্যবহার করা যায়। পেট্রল-ডিজেলের তুলনায় এটি কম ধোঁয়া ছাড়ে, তাই পরিবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো। ইথেন প্রাকৃতিক গ্যাসে অল্প থাকে, অকটেন পেট্রলের উপাদান, আর অক্সিজেন তো জ্বালানি নয়।
    মনে রাখুন:
    এলপিজি (LPG) প্রধানত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ।
    আমাদের দেশে বেশির ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি সিলেট অঞ্চলে।
  9. ১৯. তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহীর রোধ—
    • ক. বাড়ে
    • খ. কমে
    • গ. অপরিবর্তিত থাকে
    • ঘ. শূন্য হয়
    উত্তর: ক. বাড়ে
    ধাতব পরিবাহীতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যেগুলো তড়িৎপ্রবাহ বহন করে। তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর পরমাণুগুলো আরও জোরে কাঁপতে থাকে। এতে চলমান ইলেকট্রনের সঙ্গে পরমাণুর সংঘর্ষ বাড়ে, ফলে ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা বা রোধ বেড়ে যায়। সম্পর্কটি লেখা যায় R_t = R₀(1 + αt) সূত্রে, যেখানে α হলো রোধের তাপমাত্রা সহগ। অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে ঘটনা উল্টো। তাপমাত্রা বাড়লে বেশি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তাই রোধ কমে।
    মনে রাখুন:
    ধাতুর রোধ তাপমাত্রার সঙ্গে বাড়ে।
    অর্ধপরিবাহী ও অন্তরকের রোধ তাপমাত্রা বাড়লে কমে।
    খুব নিম্ন তাপমাত্রায় কিছু পদার্থ অতিপরিবাহী হয়ে যায়।
  10. ২১. কোন ধাতু কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে?
    • ক. রেডিয়াম
    • খ. জিংক
    • গ. প্রোটোঅ্যাক্টিনিয়াম
    • ঘ. মার্কারি
    উত্তর: ঘ. মার্কারি
    ধাতু সাধারণত কঠিন, কিন্তু পারদ বা মার্কারি (Mercury, প্রতীক Hg) এর ব্যতিক্রম। এটিই একমাত্র ধাতু, যা সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে। পারদের গলনাঙ্ক প্রায় −৩৯°C, তাই ঘরের তাপমাত্রায় এটি তরল। থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার ও কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রে এর ব্যবহার আছে। তবে পারদের বাষ্প বিষাক্ত। রেডিয়াম তেজস্ক্রিয় কঠিন ধাতু, দস্তা বা জিংকও কঠিন, আর প্রোটোঅ্যাক্টিনিয়াম তেজস্ক্রিয় কঠিন ধাতু। অধাতুর মধ্যে একমাত্র ব্রোমিন কক্ষ তাপমাত্রায় তরল।
    মনে রাখুন:
    তরল ধাতু: পারদ।
    তরল অধাতু: ব্রোমিন।
    গ্যালিয়াম ও সিজিয়াম প্রায় কক্ষ তাপমাত্রায় গলে যায়, তবু কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন।
  11. ২৪. পাকস্থলীতে কোন এসিড উৎপন্ন হয়?
    • ক. HClO
    • খ. HClO₄
    • গ. HCl
    • ঘ. HNO₃
    উত্তর: গ. HCl
    আমাদের পাকস্থলীর দেয়ালে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নামে অনেক ছোট গ্রন্থি আছে। এর মধ্যে প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (Hydrochloric acid, HCl) নিঃসৃত হয়। এই এসিড খাদ্যের সঙ্গে আসা বহু জীবাণু মেরে ফেলে। এটি পেপসিন নামের এনজাইমকে সক্রিয় করে তোলে, যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। পাকস্থলীর ভেতরের পরিবেশ তাই বেশ অম্লীয়, pH মান প্রায় ১.৫ থেকে ৩.৫। দেয়ালকে এসিড থেকে বাঁচাতে একই সঙ্গে শ্লেষ্মা নিঃসৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীতে মূলত প্রোটিন হজমের শুরু হয়।
    মুখের লালায় টায়ালিন বা অ্যামাইলেজ থাকে, যা শর্করা হজম শুরু করে।
    বেশি এসিড তৈরি হলে অম্লতা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।
  12. ২৭. 1 cm³ কত m³-এর সমান?
    • ক. 10⁻⁶m³
    • খ. 10⁻³m³
    • গ. 10⁻²m³
    • ঘ. 0.1m³
    উত্তর: ক. 10⁻⁶m³
    দৈর্ঘ্যের একককে ঘনফলে রূপান্তর করতে হলে প্রথমে রৈখিক মান বের করে তাকে তিনবার গুণ করতে হয়।
    1 cm = 10⁻² m
    1 cm³ = (10⁻² m)³ = 10⁻⁶ m³
    অর্থাৎ ঘন সেন্টিমিটারকে ঘনমিটারে নিতে হলে ১০ লক্ষ দিয়ে ভাগ করতে হয়। এক ঘনমিটারে ১০ লক্ষ ঘন সেন্টিমিটার আছে, তাই উত্তর 10⁻⁶ m³। একই নিয়মে 1 mm³ = 10⁻⁹ m³ হয়। ঘনফলের একককে রূপান্তরের সময় রৈখিক মানকে তিন ঘাত দিতে ভুলে গেলে উত্তর ভুল হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    1 m³ = 10⁶ cm³ = 1000 লিটার।
    1 cm³ = 1 mL।
    1 লিটার = 1000 cm³ = 10⁻³ m³।
  13. ৩০. কোন পদার্থে আন্তঃকণা আকর্ষণ বেশি?
    • ক. চিনি
    • খ. পানি
    • গ. তেল
    • ঘ. অক্সিজেন
    উত্তর: ক. চিনি
    যে বলের কারণে একই পদার্থের কণাগুলো পরস্পরকে টেনে ধরে থাকে, তাকে আন্তঃকণা আকর্ষণ বলে। কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি ঘনভাবে বসানো থাকে, তাই এদের মধ্যে আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। এই কারণেই কঠিন বস্তুর নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। তরলে আকর্ষণ তার চেয়ে কম, ফলে তরল প্রবাহিত হয়। গ্যাসের কণা অনেক দূরে দূরে থাকে বলে আকর্ষণ সবচেয়ে কম। চিনি কঠিন, পানি ও তেল তরল এবং অক্সিজেন গ্যাস। তাই চিনির আন্তঃকণা আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    আন্তঃকণা আকর্ষণ: কঠিন > তরল > গ্যাস।
    একই পদার্থের কণার মধ্যকার আকর্ষণকে সংসক্তি বলে।
    ভিন্ন পদার্থের কণার মধ্যকার আকর্ষণকে আসক্তি বলে।
  14. ৩২. কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি?
    • ক. লাল আলো
    • খ. নীল আলো
    • গ. মাইক্রোওয়েভ
    • ঘ. রেডিও ওয়েভ
    উত্তর: ঘ. রেডিও ওয়েভ
    তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির সব তরঙ্গের গতি একই, আলোর গতির সমান। তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ, কম্পাঙ্ক f এবং বেগ c-এর সম্পর্ক c = fλ। এখানে c ধ্রুবক, তাই কম্পাঙ্ক যত কম হয়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য তত বাড়ে। প্রশ্নের চারটি তরঙ্গের মধ্যে কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম রেডিও তরঙ্গের, তাই এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫০ ন্যানোমিটার, লাল আলোর প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার, আর মাইক্রোওয়েভের কয়েক সেন্টিমিটার, রেডিও তরঙ্গের কয়েক মিটার থেকে কিলোমিটারও হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়ার ক্রম: গামা, এক্স-রে, অতিবেগুনি, দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত, মাইক্রোওয়েভ, রেডিও।
    দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
  15. ৩৪. শুষ্ক বাতাসের তুলনায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের ঘনত্ব—
    • ক. বেশি
    • খ. কম
    • গ. সমান
    • ঘ. কোনো সম্পর্ক নেই
    উত্তর: খ. কম
    বাতাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন (N₂, আণবিক ভর 28) ও অক্সিজেন (O₂, আণবিক ভর 32), তাই শুষ্ক বাতাসের গড় আণবিক ভর প্রায় 29। জলীয় বাষ্পের অণু (H₂O) আরও হালকা, এর আণবিক ভর মাত্র 18। বাতাসে জলীয় বাষ্প মিশলে কিছু ভারী অণুর জায়গায় হালকা অণু এসে বসে, কারণ একই তাপমাত্রা ও চাপে একই আয়তনে অণুর সংখ্যা সমান থাকে। ফলে মিশ্রণের গড় ভর কমে যায়। তাই আর্দ্র বাতাসের ঘনত্ব শুষ্ক বাতাসের চেয়ে কম।
    মনে রাখুন:
    আর্দ্র বাতাস হালকা বলে ঊর্ধ্বে ওঠে।
    ঝড়-বৃষ্টির আগে বায়ুর চাপ কমে যায়, ব্যারোমিটারের পারদ নামে।
  16. ৩৫. নিচের কোনটি মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য?
    • ক. NaCl
    • খ. H₂O
    • গ. CuSO₄
    • ঘ. H₂SO₄
    উত্তর: খ. H₂O
    যেসব পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নে ভেঙে তড়িৎ পরিবহণ করে, তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte) বলে। যে পদার্থ প্রায় সম্পূর্ণ আয়নিত হয়, সেটি তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য, আর যার অল্প অংশ আয়নিত হয়, তাকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO₄) এবং সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) পানিতে প্রায় পুরোপুরি আয়নিত হয়, তাই এরা তীব্র। কিন্তু বিশুদ্ধ পানি (H₂O) খুব সামান্যই H⁺ ও OH⁻ আয়নে ভাঙে, ফলে এটি মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য।
    মনে রাখুন:
    অন্যান্য মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: ইথানয়িক এসিড (CH₃COOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড (NH₄OH)।
    চিনির দ্রবণ তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়।
  17. ৩৬. ২২ ক্যারেট স্বর্ণে কতভাগ স্বর্ণ থাকে?
    • ক. 100%
    • খ. 95.37%
    • গ. 91.67%
    • ঘ. 75%
    উত্তর: গ. 91.67%
    খাঁটি সোনা বা ২৪ ক্যারেট সোনা খুব নরম, তাই গয়না বানাতে এতে তামা বা রুপার মতো অন্য ধাতু মেশানো হয়। ক্যারেট (Carat) হলো সোনার বিশুদ্ধতার মাপ। ২৪ ক্যারেটকে পুরো, অর্থাৎ ১০০ ভাগ ধরা হয়। ২২ ক্যারেট সোনায় ২৪ ভাগের মধ্যে ২২ ভাগ খাঁটি সোনা থাকে।
    শতকরা হার = (22/24) × 100 = 91.67%
    বাকি প্রায় 8.33% থাকে অন্য ধাতু। বাকি ধাতু মেশানোর ফলে গয়না শক্ত হয়, কিন্তু রং কিছুটা বদলে যায়। বিশুদ্ধতার হিসাব তাই ক্যারেট ধরে করা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮ ক্যারেট: 75%।
    ২১ ক্যারেট: 87.5%।
    ১৪ ক্যারেট: প্রায় 58.3%।
    গয়নায় বেশি ব্যবহৃত হয় ২২ ক্যারেট।
  18. ৩৯. H₂SO₄-এ সালফারের জারণ সংখ্যা কত?
    • ক. +2
    • খ. +4
    • গ. +6
    • ঘ. 0
    উত্তর: গ. +6
    কোনো যৌগে একটি পরমাণুর জারণ সংখ্যা বের করতে হলে মনে রাখতে হয় যে, যৌগ নিরপেক্ষ, তাই সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল শূন্য হয়। H₂SO₄-এ হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1 এবং অক্সিজেনের −2। ধরা যাক সালফারের জারণ সংখ্যা x।
    2(+1) + x + 4(−2) = 0
    2 + x − 8 = 0
    x = +6
    অতএব সালফারের জারণ সংখ্যা +6।
    মনে রাখুন:
    সাধারণত অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা −2, হাইড্রোজেনের +1।
    পারঅক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা −1।
    মৌলিক অবস্থায় যেকোনো পরমাণুর জারণ সংখ্যা 0।
  19. ৪১. কোন রেখার উপর সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
    • ক. মেরুরেখা
    • খ. নিরক্ষরেখা
    • গ. অক্ষরেখা
    • ঘ. দ্রাঘিমারেখা
    উত্তর: খ. নিরক্ষরেখা
    নিরক্ষরেখা (Equator) হলো দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্ত, যার অক্ষাংশ ০°। পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর হেলে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে বলে সূর্যের উল্লম্ব কিরণ বছরজুড়ে নিরক্ষরেখার আশপাশেই বেশি পড়ে। ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। বছরের বাকি সময় সূর্য ২৩.৫° উত্তর (কর্কটক্রান্তি) থেকে ২৩.৫° দক্ষিণ (মকরক্রান্তি) রেখার মধ্যে সরে যায়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চল সারা বছর গরম থাকে। মেরুতে কিরণ সবসময় তির্যকভাবে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    নিরক্ষরেখা 0° অক্ষাংশ।
    কর্কটক্রান্তি 23.5° উত্তরে, মকরক্রান্তি 23.5° দক্ষিণে।
    সূর্য ২১ জুন কর্কটক্রান্তির ওপর এবং ২২ ডিসেম্বর মকরক্রান্তির ওপর লম্ব কিরণ দেয়।
  20. ৪২. 'Green House' কথাটি প্রথম ব্যবহৃত হয় কোন সালে?
    • ক. ১৯৯৬
    • খ. ১৮৯৬
    • গ. ১৮৯০
    • ঘ. ১৯৫০
    উত্তর: খ. ১৮৯৬
    পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস সূর্যের তাপকে ধরে রেখে ভূপৃষ্ঠকে উষ্ণ রাখে, কাচের ঘর বা গ্রিনহাউস যেমন ভেতরে তাপ আটকে রাখে। এই ধারণাটি গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse effect) নামে পরিচিত। ফরাসি বিজ্ঞানী জোসেফ ফুরিয়ে ১৮২৪ সালে প্রথম ধারণা দেন। তবে সুইডিশ বিজ্ঞানী সভান্তে আরহেনিয়াস ১৮৯৬ সালে হিসাব করে দেখান, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়লে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়বে। এ কারণে প্রশ্নে ১৮৯৬ সালকেই সঠিক ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় −18°C হতো।
    বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় 15°C।
  21. ৪৩. কোনটি শব্দের তীব্রতা লেভেল পরিমাপের একক?
    • ক. হার্টজ
    • খ. ডেসিবেল
    • গ. প্যাসকেল
    • ঘ. টেসলা
    উত্তর: খ. ডেসিবেল
    শব্দের তীব্রতা (Intensity) মাপার জন্য আমরা ডেসিবেল (Decibel, dB) একক ব্যবহার করি। এটি আসলে লগারিদমিক মাপ, যেখানে একটি আদর্শ ক্ষীণতম শব্দের তুলনায় কোনো শব্দ কতগুণ জোরালো তা প্রকাশ করা হয়। স্বাভাবিক কথাবার্তা প্রায় 60 dB, আর 120 dB-এর বেশি শব্দ কানের জন্য ব্যথাদায়ক। হার্জ (Hz) কম্পাঙ্কের একক। প্যাসকেল (Pa) চাপের একক। টেসলা (T) চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক।
    মনে রাখুন:
    শব্দের তীব্রতা লেভেলের একক: ডেসিবেল (এর নাম টেলিফোনের আবিষ্কারক গ্রাহাম বেলের নামে)।
    মানুষ প্রায় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়।
  22. ৪৫. ক্রোমোসোমের গঠন কী?
    • ক. DNA
    • খ. প্রোটিন
    • গ. RNA
    • ঘ. DNA এবং প্রোটিন
    উত্তর: ঘ. DNA এবং প্রোটিন
    আমাদের কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতার মতো ক্রোমোসোম (Chromosome) থাকে। এগুলো বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে। ক্রোমোসোমের মূল কাঠামো তৈরি হয় ডিএনএ (DNA) ও হিস্টোন নামের প্রোটিন দিয়ে। ডিএনএর লম্বা সুতা হিস্টোনের গায়ে প্যাঁচানো থাকে, ফলে এত লম্বা অণু সামান্য জায়গায় ধরে। শুধু ডিএনএ বা শুধু প্রোটিন দিয়ে ক্রোমোসোম গঠিত নয়, দুটোই লাগে। আরএনএও খুব অল্প পরিমাণে থাকে। ক্রোমোসোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান তাই ডিএনএ ও প্রোটিনের মিলিত রূপ।
    মনে রাখুন:
    মানুষের কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা ৪৬টি বা ২৩ জোড়া।
    ডিএনএ–প্রোটিনের এই জটিল পদার্থকে ক্রোমাটিন বলে।
    নিউক্লিওসোম হলো ডিএনএ ও হিস্টোনের মৌলিক একক।
  23. ৪৭. Knot কীসের একক?
    • ক. গতিবেগ
    • খ. দূরত্ব
    • গ. গভীরতা
    • ঘ. ত্বরণ
    উত্তর: ক. গতিবেগ
    নট (Knot) হলো জাহাজ ও উড়োজাহাজের গতিবেগ মাপার একক। এক নট মানে ঘণ্টায় এক নটিক্যাল মাইল, এই বেগ প্রায় 1.15 মাইল প্রতি ঘণ্টা বা 1.852 কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার সমান। সমুদ্রে দূরত্ব মাপার একক নটিক্যাল মাইল (1 নটিক্যাল মাইল = 1852 মিটার)। অনেকে নটকে দূরত্বের একক মনে করেন। আসলে নটিক্যাল মাইল দূরত্বের একক, আর নট হলো সেই দূরত্ব প্রতি ঘণ্টায় অতিক্রম করার হার, অর্থাৎ বেগ।
    মনে রাখুন:
    গভীরতা মাপার একক ফ্যাদম (1 ফ্যাদম = 6 ফুট)।
    আলোকবর্ষ দূরত্বের একক, সময়ের নয়।
  24. ৪৮. পরম শূন্য তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী কীসের মতো আচরণ করে?
    • ক. পরিবাহী
    • খ. অপরিবাহী
    • গ. অর্ধপরিবাহী
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. অপরিবাহী
    পরম শূন্য তাপমাত্রায় (০ কেলভিন, প্রায় −২৭৩°C) কোনো পদার্থের পরমাণুর তাপীয় গতি প্রায় থেমে যায়। অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে তখন সব ইলেকট্রন যোজন ব্যান্ডে আটকে থাকে এবং পরিবহণ ব্যান্ড পুরো খালি থাকে। তড়িৎ চালনা করার মতো মুক্ত ইলেকট্রন তখন থাকে না, ফলে অর্ধপরিবাহী অপরিবাহী বা অন্তরকের মতো আচরণ করে। তাপমাত্রা বাড়ালে কিছু ইলেকট্রন শক্তি পেয়ে নিষিদ্ধ ব্যান্ড পেরিয়ে পরিবহণ ব্যান্ডে চলে যায়, তখন অর্ধপরিবাহীতে তড়িৎ চলতে পারে। তাই পরম শূন্য তাপমাত্রায় সিলিকনের মতো অর্ধপরিবাহীকে আদর্শ অন্তরক ধরা হয়। এ কারণে পরীক্ষার প্রশ্নে এখানে অপরিবাহীই সঠিক উত্তর।
    মনে রাখুন:
    সিলিকন ও জার্মেনিয়াম পরিচিত অর্ধপরিবাহী।
    তাপমাত্রা বাড়লে অর্ধপরিবাহীর রোধ কমে।
  25. ৪৯. রক্ত কোষের ক্যান্সারকে কী বলে?
    • ক. লিওকেমিয়া
    • খ. এ্যানিমিয়া
    • গ. Blood Clotting
    • ঘ. অ্যানজিনা
    উত্তর: ক. লিওকেমিয়া
    আমাদের রক্তের তিন প্রকার কোষ আছে, লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা। অস্থিমজ্জায় এসব কোষ তৈরি হয়। যখন অস্থিমজ্জায় শ্বেত কণিকা অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তখন তাকে রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া (Leukaemia) বলে। এসব অস্বাভাবিক কোষ সুস্থ কোষকে জায়গা দেয় না, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। অ্যানিমিয়া মানে রক্তস্বল্পতা, যাতে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন কমে যায়। রক্ত জমাট বাঁধা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অ্যানজিনা হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনের ঘাটতিতে বুকের ব্যথা।
    মনে রাখুন:
    লিউকেমিয়া শব্দের অর্থ ‘সাদা রক্ত’।
    রক্তে অণুচক্রিকা (প্লেটলেট) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  26. ৫২. কোন কারণে শব্দের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হয়?
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিসরণ
    • গ. উপরিপাতন
    • ঘ. সমপাতন
    উত্তর: ক. প্রতিফলন
    শব্দ কোনো উৎস থেকে বেরিয়ে চারদিকে ছড়ায়। পথে যদি দালান, পাহাড় বা বড় দেয়ালের মতো মসৃণ ও শক্ত তল পায়, তাহলে শব্দ সেই তল থেকে ফিরে আসে। একে শব্দের প্রতিফলন বলে। মূল শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরে ফিরে আসা সেই শব্দ আলাদাভাবে শুনতে পেলে তাকে প্রতিধ্বনি (Echo) বলে। এ জন্য উৎস থেকে প্রতিফলক তলের দূরত্ব অন্তত ১৭ মিটার হতে হয়, যাতে মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকে।
    মনে রাখুন:
    বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় 340 m/s।
    সোনার (Sonar) প্রতিধ্বনি কাজে লাগিয়ে সমুদ্রের গভীরতা মাপে।
    বাদুড় প্রতিধ্বনির সাহায্যে অন্ধকারে চলাফেরা করে।
  27. ৫৭. সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয় কোন যন্ত্র তৈরিতে?
    • ক. পেরিস্কোপ
    • খ. টেলিস্কোপ
    • গ. ক্যামেরা
    • ঘ. মাইক্রোস্কোপ
    উত্তর: ক. পেরিস্কোপ
    সমতল দর্পণে আলো প্রতিফলিত হয়ে নিয়ম মেনে ফিরে আসে, আর প্রতিবিম্ব হয় সোজা ও বস্তুর সমান আকারের। পেরিস্কোপ (Periscope) যন্ত্রে ঠিক এই গুণ কাজে লাগানো হয়। একটি লম্বা নলের উপরের ও নিচের প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ পরস্পর সমান্তরালে, নলের সঙ্গে ৪৫° কোণে বসানো থাকে। উপরের আয়না আলোকে নিচের আয়নায় পাঠায়, আর নিচের আয়না তা চোখে ফেলে। ফলে ডুবোজাহাজের ভেতরে বসে পানির ওপরের দৃশ্য দেখা যায়। টেলিস্কোপ ও মাইক্রোস্কোপে মূলত লেন্স ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব সরল, অসদ ও বস্তুর সমান আকারের হয়।
    প্রতিফলনের সূত্র: আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
    সমতল দর্পণ ডান-বাম উল্টো করে দেখায়, একে পার্শ্ব পরিবর্তন বলে।
  28. ৫৯. 'ব্রোঞ্জ' কোন দুটি ধাতুর সংকর?
    • ক. অ্যালুমিনিয়াম ও টিন
    • খ. কপার ও টিন
    • গ. কপার ও গোল্ড
    • ঘ. কপার ও সিলভার
    উত্তর: খ. কপার ও টিন
    দুই বা তার বেশি ধাতু মিশিয়ে যে নতুন ধাতব পদার্থ তৈরি করা হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। ব্রোঞ্জ (Bronze) তামা (কপার) ও টিনের সংকর। সাধারণ ব্রোঞ্জে প্রায় ৮৮ শতাংশ তামা আর ১২ শতাংশ টিন থাকে। এটি তামার চেয়ে শক্ত এবং সহজে ক্ষয় হয় না, তাই মূর্তি, ঘণ্টা ও মুদ্রা বানাতে ব্যবহার করা হয়। মানব সভ্যতার একটি যুগের নামই ব্রোঞ্জ যুগ। অ্যালুমিনিয়াম ও টিন, কপার ও সোনা বা কপার ও রুপার মিশ্রণ ব্রোঞ্জ নয়।
    মনে রাখুন:
    পিতল (ব্রাস): তামা ও দস্তা।
    স্টিল: লোহা ও কার্বন।
    ডুরালুমিন: অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।
  29. ৬১. কোনটি পদার্থের জড়তার পরিমাপক?
    • ক. ভর
    • খ. গতিবেগ
    • গ. তাপমাত্রা
    • ঘ. কৌণিক বেগ
    উত্তর: ক. ভর
    জড়তা বস্তুর এমন একটি ধর্ম, যার কারণে বস্তু নিজের বর্তমান গতি বা স্থিরাবস্থা নিজে থেকে বদলাতে চায় না। কোনো বস্তুর জড়তা কতটা, তা মাপা হয় তার ভর দিয়ে। যে বস্তুর ভর বেশি, তার জড়তাও বেশি, তাই তাকে নড়াতে বা থামাতে বেশি বল লাগে। ভারী ট্রাককে ঠেলে চালু করা কঠিন, আবার চললে থামানোও কঠিন, কারণ এর জড়তা বেশি। এ কারণে ভরকে জড়তার পরিমাপ বলা হয়। ভরের একক কিলোগ্রাম (kg)।
    মনে রাখুন:
    নিউটনের প্রথম সূত্রকে জড়তার সূত্র বলে।
    জড়তা তিন প্রকার: স্থিতি জড়তা, গতি জড়তা ও দিক জড়তা।
  30. ৬৯. ১ লিটার বিশুদ্ধ পানিতে H⁺-এর পরিমাণ কত?
    • ক. 10⁻⁷ মোল
    • খ. 10⁷ মোল
    • গ. 10⁻⁶ মোল
    • ঘ. 10⁻⁵ মোল
    উত্তর: ক. 10⁻⁷ মোল
    পানি খুব সামান্য পরিমাণে ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) এবং হাইড্রক্সিল আয়ন (OH⁻) তৈরি করে। 25°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানিতে এই দুই আয়নের পরিমাণ সমান থাকে। পানির আয়নিক গুণফল Kw = [H⁺][OH⁻] = 10⁻¹⁴। যেহেতু [H⁺] = [OH⁻], তাই [H⁺]² = 10⁻¹⁴ এবং [H⁺] = 10⁻⁷ mol/L। অতএব এক লিটার বিশুদ্ধ পানিতে 10⁻⁷ মোল H⁺ থাকে। এ থেকে pH = −log(10⁻⁷) = 7, যা নিরপেক্ষ দ্রবণ নির্দেশ করে।
    মনে রাখুন:
    pH < 7 হলে দ্রবণ অম্লীয়, pH > 7 হলে ক্ষারীয়।
    pH + pOH = 14।
    তাপমাত্রা বাড়লে Kw-এর মান বাড়ে।
  31. ৭২. অপটিক্যাল ফাইবার আলোর কোন নীতিতে কাজ করে?
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিসরণ
    • গ. অপবর্তন
    • ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
    উত্তর: ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
    অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fiber) চুলের মতো সরু, স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তার। এর ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরাঙ্ক বাইরের আবরণের (ক্ল্যাডিং) চেয়ে বেশি। আলো ফাইবারের এক প্রান্তে ঢুকে ভেতরের দেয়ালে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় কোণে পড়লে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection) ঘটে। ফলে আলো বাইরে না বেরিয়ে বারবার প্রতিফলিত হয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছায়। ফাইবার বেঁকে থাকলেও আলো এভাবে চলতে পারে। এ কারণে দ্রুত গতির ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগে এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত: আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবে এবং আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হবে।
    হীরার চকচকে ভাবের কারণও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।
  32. ৭৭. কোনটি ক্ষার?
    • ক. NH₃
    • খ. Na₂SO₄
    • গ. NaCl
    • ঘ. HNO₂
    উত্তর: ক. NH₃
    যে পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রক্সিল আয়ন (OH⁻) দেয়, সেটি ক্ষার (Base)। অ্যামোনিয়া (NH₃) পানিতে মিশলে কিছুটা বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH₄⁺) ও হাইড্রক্সিল আয়ন তৈরি করে, তাই এটি দুর্বল ক্ষার। NaCl (খাবার লবণ) ও Na₂SO₄ লবণ, আর নিরপেক্ষ দ্রবণ দেয়। HNO₂ (নাইট্রাস এসিড) হাইড্রোজেন আয়ন ছাড়ে, তাই এটি একটি এসিড। ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে এবং স্বাদে তেতো, পিচ্ছিল অনুভূতি দেয়। কিছু ক্ষার পানিতে দ্রবীভূত হয় না, যেমন ফেরিক হাইড্রক্সাইড। এগুলোও ক্ষার, তবে তখন তাদের অ্যালকালি বলা হয় না।
    মনে রাখুন:
    পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকে অ্যালকালি বলে, যেমন NaOH ও KOH।
    ক্ষারের pH মান ৭-এর বেশি।
  33. ৭৯. কোন গ্যাসের ব্যাপন হার বেশি?
    • ক. N₂
    • খ. O₂
    • গ. CO₂
    • ঘ. H₂
    উত্তর: ঘ. H₂
    গ্যাসের অণুগুলো নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়ে মিশে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যাপন (Diffusion) বলে। গ্রাহামের সূত্র অনুযায়ী একই তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের ব্যাপনের হার তার আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ যে গ্যাসের অণু যত হালকা, সে তত দ্রুত ছড়ায়। এখানে আণবিক ভর N₂ = 28, O₂ = 32, CO₂ = 44 এবং H₂ = 2। যেহেতু হাইড্রোজেনের আণবিক ভর সবচেয়ে কম, তাই তার ব্যাপনের হার সবচেয়ে বেশি। হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস।
    মনে রাখুন:
    গ্রাহামের সূত্র: r ∝ 1/√M।
    হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম খুব দ্রুত ব্যাপিত হয়।
  34. ৮২. প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি?
    • ক. ২টি
    • খ. ৩টি
    • গ. ৪টি
    • ঘ. ৫টি
    উত্তর: খ. ৩টি
    যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলে। হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। প্রোটিয়ামে (¹H) একটি প্রোটন আছে, নিউট্রন নেই। ডিউটেরিয়ামে (²H) একটি নিউট্রন বেশি থাকে, আর ট্রিটিয়ামে (³H) দুটি নিউট্রন থাকে। ট্রিটিয়াম তেজস্ক্রিয়। ডিউটেরিয়াম দিয়ে তৈরি ভারী পানি পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমাতে ব্যবহার হয়। হাইড্রোজেনই একমাত্র মৌল, যার আইসোটোপগুলোর আলাদা নাম আছে। পরমাণুর ভর সংখ্যা আলাদা হলেও তিনটির রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই থাকে, কারণ এদের ইলেকট্রন সংখ্যা সমান।
    মনে রাখুন:
    প্রোটিয়াম: ১টি প্রোটন, ০টি নিউট্রন।
    ডিউটেরিয়াম: ১টি প্রোটন, ১টি নিউট্রন।
    ট্রিটিয়াম: ১টি প্রোটন, ২টি নিউট্রন।
  35. ৮৬. কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব বেশি?
    • ক. ১০°C
    • খ. ৪°C
    • গ. ৪৫°C
    • ঘ. ১০০°C
    উত্তর: খ. ৪°C
    অন্য অধিকাংশ তরলের মতো পানি ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয় এবং ঘনত্ব বাড়ে। কিন্তু পানির আচরণে একটি ব্যতিক্রম আছে। ০°C-এর কাছাকাছি গেলে পানির সংকোচন থেমে যায়। ৪°C তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয় এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়, প্রায় ১০০০ kg/m³। এর পরে আরও ঠান্ডা করলে পানি বরং প্রসারিত হতে থাকে, তাই বরফ পানির চেয়ে হালকা। এ কারণেই বরফ পানিতে ভেসে থাকে। শীতের দেশে হ্রদের উপরিভাগ বরফ হয়ে গেলেও নিচের ৪°C-এর পানিতে মাছ বেঁচে থাকে।
    মনে রাখুন:
    পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ ৪°C-এ।
    পানির এই আচরণকে পানির অস্বাভাবিক প্রসারণ বলে।
  36. ৮৭. কোন পদার্থের আপেক্ষিক তাপ সর্বাধিক?
    • ক. বায়ু
    • খ. পানি
    • গ. লোহা
    • ঘ. তামা
    উত্তর: খ. পানি
    আপেক্ষিক তাপ হলো ১ কিলোগ্রাম পদার্থের তাপমাত্রা ১ কেলভিন বাড়াতে যে তাপ লাগে। কোনো পদার্থের আপেক্ষিক তাপ বেশি হলে তাকে গরম করতে বেশি তাপ লাগে, আবার ঠান্ডা হতেও সময় নেয়। এই চারটির মধ্যে পানির আপেক্ষিক তাপ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪২০০ J/kg·K। বাতাসের আপেক্ষিক তাপ প্রায় ১০০০, তামার প্রায় ৩৮৫ এবং লোহার প্রায় ৪৫০। পানির এই বড় আপেক্ষিক তাপের কারণে সমুদ্র দিনের বেলা ধীরে গরম হয়, আবার রাতে ধীরে ঠান্ডা হয়। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া মৃদু থাকে।
    মনে রাখুন:
    পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় 1 cal/g·°C।
    সমুদ্র থেকে দূরের মহাদেশীয় অঞ্চলে দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি হয়, কারণ স্থলভাগ দ্রুত গরম ও ঠান্ডা হয়।
  37. ৮৮. ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
    • ক. Ca(OCl)Cl
    • খ. C₆H₆O
    • গ. CaCO₃
    • ঘ. HCl
    উত্তর: ক. Ca(OCl)Cl
    ব্লিচিং পাউডার (Bleaching powder) সাদা রঙের একটি গুঁড়ো, যার রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম অক্সিক্লোরাইড। কলিচুনের ওপর ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে এটি তৈরি হয়। এর সংকেত Ca(OCl)Cl, অর্থাৎ CaOCl₂। এটি রং নষ্ট করে বা কাপড়কে সাদা করে বলে বিরঞ্জক। পানিতে মিশে এটি ক্লোরিন ছাড়ে, তাই পানি জীবাণুমুক্ত করতেও লাগে। ফেনলের সংকেত C₆H₆O, ক্যালসিয়াম কার্বনেটের CaCO₃ এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিডের HCl, কাজেই এগুলো ব্লিচিং পাউডার নয়। ব্লিচিং পাউডারের ক্লোরিন কয়েক দিন খোলা রাখলে ধীরে ধীরে বাতাসে উড়ে যায়, তাই এটি বন্ধ পাত্রে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    কলিচুন: Ca(OH)₂।
    পানি বিশুদ্ধ করতে ব্লিচিং পাউডার ও ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়।
  38. ৯৭. কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না?
    • ক. লাল
    • খ. নীল
    • গ. কমলা
    • ঘ. হলুদ
    উত্তর: ঘ. হলুদ
    গাছপালা সালোকসংশ্লেষণের সময় সূর্যের আলো থেকে শক্তি নেয়। পাতার ক্লোরোফিল আলোর সব রঙ সমান শোষণ করে না। ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে, তাই এই দুই আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। কমলা ও বেগুনি আলোও কিছুটা কাজে লাগে। কিন্তু সবুজ ও হলুদ আলো ক্লোরোফিল খুব কম শোষণ করে, বরং বেশির ভাগই প্রতিফলিত করে দেয়। গাছের পাতা সবুজ দেখায় এই কারণেই। তাই হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম হয়।
    মনে রাখুন:
    সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ + 6H₂O।
    সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম হয়।

গণিত

  1. ৯. ত্রিভুজের তিন বাহুর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে a, b এবং c হলে, নিচের কোনটি সঠিক?
    • ক. a + b > c
    • খ. a + b = c
    • গ. a + b < c
    • ঘ. a + b ≠ c
    উত্তর: ক. a + b > c
    ত্রিভুজের যেকোনো দুই বাহুর দৈর্ঘ্যের যোগফল তৃতীয় বাহুর দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয়। তাই a + b > c সঠিক।
    কেন তা সম্ভব নয় যে a + b = c হবে? তখন ছোট দুটি বাহু বড় বাহুর ওপর শুয়ে পড়ত, অর্থাৎ তিনটি বিন্দু একই সরলরেখায় থাকত এবং ত্রিভুজ তৈরি হতো না। আর a + b < c হলে ছোট দুই বাহু মিলেও বড় বাহুটির দুই প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, ফলে বাহু তিনটি মিলিত হয় না।
    উদাহরণ: বাহু 3, 4, 8 দিয়ে ত্রিভুজ হয় না, কারণ 3 + 4 = 7 < 8।
    মনে রাখুন:
    ত্রিভুজের যেকোনো দুই বাহুর অন্তর তৃতীয় বাহুর চেয়ে ছোট।
    ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি 180°।
  2. ১৪. একটি কোণের পরিমাণ ১৮১° হলে, তাকে কী কোণ বলে?
    • ক. স্থূলকোণ
    • খ. সমকোণ
    • গ. সূক্ষ্মকোণ
    • ঘ. প্রবৃদ্ধ কোণ
    উত্তর: ঘ. প্রবৃদ্ধ কোণ
    কোণের নাম তার মাপের ওপর নির্ভর করে। ০° থেকে ৯০°-এর মাঝে হলে সূক্ষ্মকোণ, ঠিক ৯০° হলে সমকোণ, ৯০°-এর বেশি কিন্তু ১৮০°-এর কম হলে স্থূলকোণ, ঠিক ১৮০° হলে সরলকোণ এবং ১৮০°-এর বেশি কিন্তু ৩৬০°-এর কম হলে প্রবৃদ্ধ কোণ। এখানে ১৮১° হলো ১৮০°-এর চেয়ে বড়, আবার ৩৬০°-এর চেয়ে ছোট। তাই এটি প্রবৃদ্ধ কোণ।
    স্থূলকোণ বলা ঠিক হতো না, কারণ স্থূলকোণ কখনো ১৮০° ছাড়ায় না।
    মনে রাখুন:
    ৩৬০° হলে পূর্ণকোণ।
    দুই কোণের সমষ্টি ৯০° হলে তারা পরস্পর পূরক কোণ, আর ১৮০° হলে সম্পূরক কোণ।
  3. ২৬. কোনটি ত্রিমাত্রিক বস্তু?
    • ক. তল
    • খ. ঘনক
    • গ. রেখা
    • ঘ. বিন্দু
    উত্তর: খ. ঘনক
    যে বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা তিনটিই আছে, তাকে ত্রিমাত্রিক বস্তু বলে। ঘনক এমন একটি বস্তু, কারণ এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান। বাকি অপশনের মাত্রা কম। বিন্দুর কোনো মাত্রা নেই, রেখার শুধু দৈর্ঘ্য আছে, আর তলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আছে, তাই তল দ্বিমাত্রিক।
    এভাবে মাত্রা বাড়ে: বিন্দু (০ মাত্রা), রেখা (১ মাত্রা), তল (২ মাত্রা), ঘন বস্তু (৩ মাত্রা)।
    উদাহরণ:
    ত্রিমাত্রিক: ঘনক, গোলক, চোঙ, শঙ্কু।
    দ্বিমাত্রিক: আয়তক্ষেত্র, বৃত্ত।
    মনে রাখুন: ঘনকের ৬টি তল, ১২টি ধার ও ৮টি শীর্ষবিন্দু আছে।
  4. ৩৮. বৃত্তস্থ সামান্তরিক কোনটি?
    • ক. রম্বস
    • খ. আয়ত
    • গ. বর্গ
    • ঘ. ট্রাপিজিয়াম
    উত্তর: খ. আয়ত
    বৃত্তস্থ চতুর্ভুজের বিপরীত কোণ দুটির সমষ্টি ১৮০°। অন্যদিকে সামান্তরিকের বিপরীত কোণ দুটি সমান হয়। দুটি শর্ত একসঙ্গে খাটলে প্রতিটি কোণ x হলে x + x = ১৮০°, তাই x = ৯০°। যে সামান্তরিকের সব কোণ সমকোণ, তা আয়ত। অতএব বৃত্তস্থ সামান্তরিক হলো আয়ত। বৃত্তস্থ চতুর্ভুজ মানে এমন চতুর্ভুজ, যার চারটি কৌণিক বিন্দু একই বৃত্তের ওপর থাকে। এই ধরনের চতুর্ভুজের বিপরীত কোণের সমষ্টি সবসময় ১৮০° হয়।
    রম্বসের বিপরীত কোণ সমান হলেও কোণগুলো সমকোণ হওয়া জরুরি নয়, তাই সাধারণ রম্বস বৃত্তে আঁকা যায় না। ট্রাপিজিয়ামও সামান্তরিক নয়।
    মনে রাখুন: বর্গ আসলে একটি বিশেষ আয়ত, তবে সাধারণ ক্ষেত্রে বৃত্তস্থ সামান্তরিককে আয়ত বলা হয়।

বাংলাদেশ

  1. ১৫. সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন—
    • ক. শহীদুল ইসলাম লালু
    • খ. হামিদুর রহমান
    • গ. নূর মোহাম্মদ শেখ
    • ঘ. মোস্তফা কামাল
    উত্তর: ক. শহীদুল ইসলাম লালু
    মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য যাঁরা খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধা হিসেবে শহীদুল ইসলাম লালুকে চিহ্নিত করা হয়। তিনি বীর প্রতীক খেতাব পান এবং কিশোর বয়সেই যুদ্ধে অংশ নেন। হামিদুর রহমান, নূর মোহাম্মদ শেখ ও মোস্তফা কামাল তিনজনই বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু প্রশ্নে সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধার কথা বলা হয়েছে। খেতাব মানে বীরত্বের জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া সম্মান। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য এ ধরনের খেতাব দেওয়া হয়েছিল, তাই কে সবচেয়ে কম বয়সী, তা প্রশ্নে বারবার ঘুরে আসে।
    মনে রাখুন:
    বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন সাতজন।
    খেতাবের ক্রম: বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক।
    বীর প্রতীক খেতাব সবচেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধাকে দেওয়া হয়েছে।
  2. ২০. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি কবে সম্পাদিত হয়?
    • ক. ১২ নভেম্বর ১৯৯৭
    • খ. ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
    • গ. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৮
    • ঘ. ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯৭
    উত্তর: খ. ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষে স্বাক্ষর করেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, যিনি সন্তু লারমা নামে পরিচিত। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। চুক্তির লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ করে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা। চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও পরিষদ গড়ে ওঠে। সন্তু লারমা পরে আঞ্চলিক পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হন।
    মনে রাখুন:
    চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়।
    পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা তিনটি: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
  3. ২৩. কোন আরব দেশ বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
    • ক. সেনেগাল
    • খ. সৌদি আরব
    • গ. ইরাক
    • ঘ. মিসর
    উত্তর: গ. ইরাক
    স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১), এরপর ভারত। আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ইরাক, ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই। তাই প্রশ্নে ‘আরব দেশ’ বলা থাকায় উত্তর ইরাক। সেনেগাল স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। সৌদি আরব স্বীকৃতি দেয় আরও পরে, ১৯৭৫ সালে। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর ক্রম মনে রাখতে হলে তালিকা তৈরি করে শেখা ভালো। ভুটান ও ভারতের পরে সাধারণত অন্য দেশগুলোর নাম আসে, আর প্রশ্নের শর্ত, যেমন ‘আরব দেশ’ বা ‘মুসলিম দেশ’, দেখে সঠিক উত্তর বেছে নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রথম স্বীকৃতিদাতা দেশ: ভুটান।
    প্রথম আরব দেশ: ইরাক।
    প্রথম আফ্রিকান মুসলিম দেশ: সেনেগাল।
  4. ৬৬. বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি অনুচ্ছেদ আছে?
    • ক. ১৫০
    • খ. ১৪০
    • গ. ১৫৩
    • ঘ. ১৫১
    উত্তর: গ. ১৫৩
    বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এতে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে, যেগুলো ১১টি ভাগে সাজানো। সংবিধান লিখিত ও সুপরিবর্তনীয়। সংবিধানের শুরুতে একটি প্রস্তাবনাও আছে, যা অনুচ্ছেদের হিসাবের বাইরে। সংবিধানকে সুপরিবর্তনীয় বলা হয়, কারণ সংসদ নির্দিষ্ট নিয়মে এতে সংশোধন আনতে পারে। এর বিপরীত দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান, যেখানে পরিবর্তন করা কঠিন। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগে।
    মনে রাখুন:
    প্রথম ভাগে (অনুচ্ছেদ ১-৭) প্রজাতন্ত্র নিয়ে বলা হয়েছে।
    ষষ্ঠ ভাগে (অনুচ্ছেদ ৯৪-১১৭) বিচার বিভাগের কথা আছে।
    সংবিধানে তফসিল আছে ৭টি।
  5. ৭৪. মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি যুদ্ধ করেছেন কোন সেক্টরে?
    • ক. ৯ নং
    • খ. ৪ নং
    • গ. ৮ নং
    • ঘ. ১১ নং
    উত্তর: ঘ. ১১ নং
    তারামন বিবি বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারী এলাকায় ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের সময় তিনি অস্ত্র হাতে লড়াই করেছেন এবং গোয়েন্দা কাজেও যুক্ত ছিলেন। রৌমারীকে একসময় ‘মুক্তাঞ্চল’ বলা হতো, কারণ এ এলাকা মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা দেশ ১১টি সেক্টরে ভাগ করা ছিল, আর প্রতিটি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার থাকতেন। কোন যোদ্ধা কোন সেক্টরে লড়েছেন, সেটি পরীক্ষায় বারবার আসে।
    মনে রাখুন:
    বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা দুজন: তারামন বিবি ও ডা. সিতারা বেগম।
    সিতারা বেগম বীর প্রতীক পান চিকিৎসক হিসেবে।
    ১১ নম্বর সেক্টরের অবস্থান ছিল ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে।
  6. ৭৮. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন কে আহ্বান করেন?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৭, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ) ২০১৯
    • ক. স্পীকার
    • খ. প্রধানমন্ত্রী
    • গ. রাষ্ট্রপতি
    • ঘ. প্রধান বিচারপতি
    উত্তর: গ. রাষ্ট্রপতি
    সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত (প্রোরোগ) ও ভঙ্গ করেন। এসব ক্ষমতা তিনি সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রয়োগ করেন। স্পীকার অধিবেশনের কাজ পরিচালনা করেন, কিন্তু অধিবেশন আহ্বান করেন না। প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান হলেও অধিবেশন আহ্বানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করা মানে রাষ্ট্রপতি সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানত আনুষ্ঠানিক প্রধান, আর সরকার পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা মন্ত্রিসভার হাতে। তবে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাঁর নামেই থাকে।
    মনে রাখুন:
    সংসদ ভাঙার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হয়।
    দুই অধিবেশনের মধ্যে ব্যবধান ৬০ দিনের বেশি হতে পারে না।
    জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসন ৩০০টি।
  7. ৮৫. দহগ্রাম ছিটমহল কোন জেলার অবস্থিত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৭
    • ক. নীলফামারী
    • খ. কুড়িগ্রাম
    • গ. লালমনিরহাট
    • ঘ. দিনাজপুর
    উত্তর: গ. লালমনিরহাট
    দহগ্রাম বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত। এটি আগে ভারতের মধ্যে ঘেরা বাংলাদেশের ছিটমহল ছিল। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট (৩১ জুলাই মধ্যরাতে) ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হয়। এরপর দুই দেশের কোনো ছিটমহল আর থাকেনি। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এখন বাংলাদেশের একটি ইউনিয়ন। ছিটমহল বিনিময়ের আগে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি এবং ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ছিল। এই বিনিময় ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।
    মনে রাখুন:
    তিনবিঘা করিডোর দিয়ে দহগ্রামের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রয়েছে।
    ছিটমহল মানে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঘেরা কোনো দেশের অংশ।

আন্তর্জাতিক

  1. ৩১. NATO কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?
    • ক. ১৯৪৯
    • খ. ১৯৪৮
    • গ. ১৯৫৫
    • ঘ. ১৯৫৬
    উত্তর: ক. ১৯৪৯
    নর্থ অ্যাটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (North Atlantic Treaty Organization – NATO) ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলো এই সামরিক জোট করে। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। জোটের মূল নীতি হলো, কোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে। ন্যাটো প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য ছিল ১২টি দেশ, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স ছিল। পরে নানা সময়ে আরও অনেক দেশ যোগ দিয়েছে।
    মনে রাখুন:
    ন্যাটোর প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ওয়ারশ চুক্তি (১৯৫৫), যা ১৯৯১ সালে ভেঙে যায়।
    ফিনল্যান্ড ২০২৩ সালে এবং সুইডেন ২০২৪ সালে ন্যাটোতে যোগ দেয়।
  2. ৩৩. এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
    • ক. হোয়াংহো
    • খ. ইয়াংসিকিয়াং
    • গ. গঙ্গা
    • ঘ. সিন্ধু
    উত্তর: খ. ইয়াংসিকিয়াং
    এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং (ইয়াংসি, Yangtze), যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৩৮০ কিলোমিটার। এটি চীনের তিব্বত মালভূমি থেকে শুরু হয়ে পূর্ব চীন সাগরে পড়েছে। শুধু এশিয়া নয়, পুরো পৃথিবীতেও এটি নীল নদ ও আমাজনের পর তৃতীয় দীর্ঘতম নদী। অন্য অপশনগুলো এশিয়ার বিখ্যাত নদী হলেও দৈর্ঘ্যে ইয়াংসির সমান নয়।
    মনে রাখুন:
    হোয়াংহো এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। বন্যায় বারবার ক্ষয়ক্ষতি করত বলে একে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হতো।
    বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
  3. ৭৩. কোন দেশটির ভেটো ক্ষমতা নেই?
    • ক. যুক্তরাষ্ট্র
    • খ. যুক্তরাজ্য
    • গ. রাশিয়া
    • ঘ. জার্মানি
    উত্তর: ঘ. জার্মানি
    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের ভেটো (Veto) ক্ষমতা আছে। এরা হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। এদের একজনও কোনো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দিলে সেই প্রস্তাব পাস হয় না, যদিও বাকি সবাই রাজি থাকে। জার্মানি স্থায়ী সদস্য নয়, তাই তার ভেটো ক্ষমতা নেই। ভেটো ক্ষমতা মানে নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব আটকে দেওয়ার ক্ষমতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী পাঁচ শক্তিধর রাষ্ট্র এই বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত নিতে হলে পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কেউ বিরোধিতা না করাই জরুরি।
    মনে রাখুন:
    নিরাপত্তা পরিষদে মোট সদস্য ১৫টি: ৫ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী।
    অস্থায়ী সদস্যদের মেয়াদ ২ বছর।
    ভেটো মানে ‘আমি নিষেধ করছি’ (ল্যাটিন)।
  4. ৯০. কোন দেশটি Group of Seven (G-7)-এর সদস্য নয়?
    • ক. কানাডা
    • খ. ইতালি
    • গ. সুইডেন
    • ঘ. জাপান
    উত্তর: গ. সুইডেন
    G-7 বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির দেশের জোট। সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপান। সুইডেন ইউরোপের একটি উন্নত দেশ হলেও এই তালিকায় নেই। প্রশ্নে অপশনগুলোর মধ্যে সুইডেনই একমাত্র যেটি সদস্য নয়। জি-সেভেন প্রতিবছর শীর্ষ সম্মেলন করে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করে। এর সদস্যরা কেউ উন্নয়নশীল দেশ নয়, সবাই শিল্পোন্নত অর্থনীতি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠায়, তবে পূর্ণ সদস্য নয়।
    মনে রাখুন:
    রাশিয়া একসময় এই দলে যুক্ত হয়ে G-8 হয়েছিল, তবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর বহিষ্কৃত হয়।
    G-7-এর ইউরোপীয় সদস্য চারটি: যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি।
    G-20 তুলনায় বড় গোষ্ঠী, যেখানে ভারত ও চীনও আছে।
  5. ৯২. জনসংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ কোনটি?
    • ক. বাংলাদেশ
    • খ. ইন্দোনেশিয়া
    • গ. মালয়েশিয়া
    • ঘ. সৌদি আরব
    উত্তর: খ. ইন্দোনেশিয়া
    জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। এখানকার প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম। এরপর মুসলিম জনসংখ্যায় পাকিস্তান ও ভারতের নাম আসে। বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ। মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব এ ক্ষেত্রে তুলনায় অনেক ছোট। মুসলিম জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ আর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এক জিনিস নয়, তাই প্রশ্নে কোন শর্ত আছে, সেটি দেখে নিতে হয়। যেমন সৌদি আরব মুসলিমদের পবিত্র ভূমি হলেও জনসংখ্যায় ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে অনেক ছোট।
    মনে রাখুন:
    ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, তবে নতুন রাজধানী নুসানতারা গড়ে তোলা হচ্ছে।
    ইন্দোনেশিয়া হাজারো দ্বীপের দেশ।
    মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আর ইসলামি রাষ্ট্র এক নয়।
  6. ৯৬. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর সদর দপ্তর কোথায়?
    • ক. হংকং
    • খ. সিঙ্গাপুর
    • গ. ম্যানিলা
    • ঘ. ব্যাংকক
    উত্তর: গ. ম্যানিলা
    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (Asian Development Bank, সংক্ষেপে ADB) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। এর সদর দপ্তর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত। ব্যাংকটি ১৯৬৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এই ব্যাংকের একটি সদস্য দেশ এবং এখান থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ঋণ পায়। হংকং বা সিঙ্গাপুর বড় আর্থিক কেন্দ্র হলেও এডিবির সদর দপ্তর সেখানে নয়। ADB-এর প্রেসিডেন্ট এ পর্যন্ত সাধারণত জাপানের নাগরিক হয়েছেন।
    মনে রাখুন:
    বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডি.সি.।
    এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (AIIB) সদর দপ্তর বেইজিংয়ে।

কম্পিউটার ও আইসিটি

  1. ৫৪. এন্টি-ভাইরাস কী?
    • ক. সফটওয়্যার
    • খ. ম্যালওয়্যার
    • গ. হার্ডওয়্যার
    • ঘ. সিস্টেম সফটওয়্যার
    উত্তর: ক. সফটওয়্যার
    কম্পিউটারে ভাইরাস হলো ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা ফাইল নষ্ট করে বা তথ্য চুরি করে। এই ভাইরাস খুঁজে বের করে মুছে ফেলার জন্য যে প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়, তার নাম অ্যান্টি-ভাইরাস (Antivirus)। এটি নিজেও একটি সফটওয়্যার, যা কম্পিউটারে চালু থাকলে নতুন ফাইলে ভাইরাস আছে কি না তা পরীক্ষা করে এবং শনাক্ত হলে তা সরিয়ে ফেলে বা আলাদা করে রাখে। অ্যান্টি-ভাইরাস ম্যালওয়্যার নয়, বরং ম্যালওয়্যারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। আর এটি হার্ডওয়্যার নয়, কারণ হাতে ধরা যায় না।
    মনে রাখুন:
    ম্যালওয়্যার (Malware) হলো ক্ষতিকর সফটওয়্যারের সাধারণ নাম, যার মধ্যে ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান আছে।
    অ্যান্টি-ভাইরাসের নতুন ভাইরাস চিনতে নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।
  2. ৮১. কোনটি আউটপুট ডিভাইস?
    • ক. মাউস
    • খ. প্রিন্টার
    • গ. কী-বোর্ড
    • ঘ. স্ক্যানার
    উত্তর: খ. প্রিন্টার
    কম্পিউটারের যেসব যন্ত্র দিয়ে ব্যবহারকারী তথ্য ঢোকায়, সেগুলো ইনপুট ডিভাইস। আর কম্পিউটার প্রক্রিয়া করার পর যে যন্ত্রে ফলাফল দেখায় বা ছাপায়, সেগুলো আউটপুট ডিভাইস (Output device)। প্রিন্টার কাগজে ফলাফল ছাপে, তাই এটি আউটপুট ডিভাইস। মাউস ও কী-বোর্ড দিয়ে আমরা কম্পিউটারকে নির্দেশ দিই। স্ক্যানার কাগজের ছবি বা লেখা কম্পিউটারে তুলে আনে। তাই এরা সবাই ইনপুট ডিভাইস। আউটপুট ডিভাইস দুই ধরনের: হার্ডকপি, যেমন প্রিন্টারের ছাপা কাগজ, এবং সফটকপি, যেমন মনিটরের পর্দায় ভেসে ওঠা লেখা বা ছবি।
    মনে রাখুন:
    আউটপুট ডিভাইস: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্লটার।
    ইনপুট ডিভাইস: কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন।
    টাচস্ক্রিন একই সঙ্গে ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি): অন্যান্য পরীক্ষা

আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন