জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ১৪ অক্টোবর ২০২১। ৯৫টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →বাংলা
- ১. বাংলা ভাষার প্রথম মুসলিম কবি কে?
- ক. আলাওল
- খ. শাহ মুহম্মদ সগীর
- গ. শেখ ফয়জুল্লাহ
- ঘ. কায়কোবাদ
উত্তর: খ. শাহ মুহম্মদ সগীর
শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের আদি মুসলমান কবি। তাঁর ‘ইউসুফ জোলেখা’ বাংলা ভাষার প্রথম রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। আলাওল ও শেখ ফয়জুল্লাহ মধ্যযুগের পরবর্তী সময়ের কবি, আর কায়কোবাদ আধুনিক যুগের কবি। সময়ের দিক থেকে সগীরই সবচেয়ে আগের, তাই প্রথম মুসলিম কবির প্রশ্নে তাঁর নামই আসে। তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সময়ের কবি, অর্থাৎ চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকের।
মনে রাখুন:
আলাওলের বিখ্যাত কাব্য ‘পদ্মাবতী’।
কায়কোবাদের মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’।
শেখ ফয়জুল্লাহর বিখ্যাত কাব্য ‘গোরক্ষবিজয়’।
কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কাজেম আলী কোরেশী। - ৭. দুটি বস্তুর তুলনার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয়—
- ক. উপমা
- খ. উপমেয়
- গ. উপমান
- ঘ. উপমিত
উত্তর: খ. উপমেয়
কোনো কিছুকে অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা করলে দুটি বস্তুর দরকার হয়। যে বস্তুকে তুলনা করা হয় এবং যেটি আমাদের সামনে প্রত্যক্ষভাবে আছে, তাকে উপমেয় (Subject of comparison) বলে। আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, অর্থাৎ যে বস্তুটি তুলনার আদর্শ হিসেবে আসে, সেটি উপমান (Object of comparison)। ‘উপমা’ শব্দের অর্থ তুলনা, তাই উপমা নিজে কোনো বস্তুর নাম নয়, এটি একটি অলংকারের নাম। উপমিত হলো এক ধরনের সমাসের নামের অংশ।
উদাহরণ: ‘মুখ চাঁদের মতো সুন্দর’ বাক্যে মুখ উপমেয়, চাঁদ উপমান, ‘মতো’ উপমাবাচক শব্দ আর ‘সুন্দর’ সাধারণ ধর্ম।
মনে রাখুন:
উপমা অলংকারের চারটি অংশ: উপমেয়, উপমান, সাধারণ ধর্ম, উপমাবাচক শব্দ।
উপমেয়ের সঙ্গে উপমানের যে সমাস হয় এবং সাধারণ ধর্ম উহ্য থাকে, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে, যেমন মুখচন্দ্র (চন্দ্রের ন্যায় মুখ)। - ১৩. বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষণের কবি—
- ক. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- খ. কাজী নজরুল ইসলাম
- গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘ. বিষ্ণু দে
উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২–১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও আধুনিক যুগের মাঝামাঝি সময়ে লিখেছিলেন। তাঁর কবিতায় পুরোনো বিষয় ও রীতির পাশাপাশি আধুনিক চেতনার ছোঁয়াও ছিল, তাই তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন, আর এই পত্রিকার মাধ্যমে অনেক নতুন লেখককে সাহিত্যের জগতে নিয়ে আসেন। বাকি তিনজন কবির পরিচয় আলাদা।
মনে রাখুন:
নজরুল বিদ্রোহী কবি, মধুসূদন আধুনিক বাংলা কবিতার জনক, বিষ্ণু দে মার্কসবাদী কবি।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ‘খাঁটি বাংলার কবি’ নামেও পরিচিত। - ১৯. 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' এ প্রার্থনাটি করেছেন—
- ক. ভাড়ুদত্ত
- খ. চাঁদ সওদাগর
- গ. ঈশ্বরী পাটনী
- ঘ. নলকুবের
উত্তর: গ. ঈশ্বরী পাটনী
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ পঙ্ক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের অংশ। গঙ্গা পার হওয়ার সময় ছদ্মবেশী দেবী অন্নপূর্ণা নৌকার মাঝি ঈশ্বরী পাটনীর কাছে তার ইচ্ছা জানতে চাইলে সে খুব সাধারণ একটি বর চায়, যেন তার সন্তান দুধ আর ভাত পেয়ে সুখে থাকে। বাংলার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়াটাই এই লাইনে ফুটে উঠেছে। তাই এটি এত বিখ্যাত।
মনে রাখুন:
ভারতচন্দ্র মধ্যযুগের শেষ বড় কবি, তাঁর উপাধি ‘রায়গুণাকর’।
‘অন্নদামঙ্গল’-এর তিনটি খণ্ড: অন্নদামঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও অন্নপূর্ণামঙ্গল।
ভাড়ুদত্ত চণ্ডীমঙ্গলের, চাঁদ সওদাগর মনসামঙ্গলের চরিত্র। - ২১. ফটিক চরিত্রটি আমরা রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পে পাই?
- ক. অতিথি
- খ. পোস্টমাস্টার
- গ. মেঘ ও রৌদ্র
- ঘ. ছুটি
উত্তর: ঘ. ছুটি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ফটিক চক্রবর্তী। গ্রামের দুরন্ত এই কিশোরকে মামার বাড়ি কলকাতায় নিয়ে এসে স্কুলে ভর্তি করা হয়। শহরের বন্ধ পরিবেশ আর মামির অবহেলায় সে হাঁপিয়ে ওঠে এবং শেষে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। মৃত্যুর আগে সে ‘মা, আমার ছুটি হয়েছে’ বলে। এই কারণেই গল্পের নাম ‘ছুটি’। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’-এর অন্তর্গত। গ্রামের মুক্ত প্রকৃতিতে বড় হওয়া শিশুর মন যে শহরের চার দেয়ালের ভেতরে টিকতে পারে না, গল্পটি আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
মনে রাখুন:
‘অতিথি’ গল্পের চরিত্র তারাপদ।
‘পোস্টমাস্টার’ গল্পে আছে রতন।
‘মেঘ ও রৌদ্র’ গল্পের চরিত্র শশিভূষণ ও গিরিবালা।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের চরিত্র রহমত ও মিনি। - ২৩. চর্যাপদের আদিকবি কে?
- ক. কাহ্নপা
- খ. ঢেণ্ঢণপা
- গ. লুইপা
- ঘ. শবরপা
উত্তর: গ. লুইপা
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। এতে বিভিন্ন সিদ্ধাচার্যের লেখা পদ আছে, যাঁদের মধ্যে লুইপা সবচেয়ে প্রাচীন বলে তাঁকে আদিকবি ধরা হয়। তাঁর রচিত পদ দুটি। অন্যদিকে কাহ্নপা সবচেয়ে বেশি, মোট ১৩টি পদ লিখেছেন। ফলে কেউ কেউ কাহ্নপাকে আদিকবি ভাবেন, কিন্তু সবচেয়ে বেশি পদ লেখা আর সবচেয়ে প্রাচীন হওয়া এক কথা নয়।
মনে রাখুন:
১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে এটি প্রকাশিত হয়।
চর্যাপদের কবিদের মধ্যে শবরপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপাও পরিচিত। - ২৪. বাংলা বর্ণমালায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
- ক. ৬টি
- খ. ৮টি
- গ. ৭টি
- ঘ. ৯টি
উত্তর: গ. ৭টি
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি (Vowel Sound) সাতটি। এগুলো হলো অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা। এদের উচ্চারণের সময় জিভ ও ঠোঁটের অবস্থান একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে এবং মাঝখানে বদলায় না, তাই এদের মৌলিক বলা হয়। ঈ, ঊ, ঋ এগুলো আলাদা ধ্বনি নয়, কেবল লেখার জন্য আলাদা বর্ণ। ঈ-র উচ্চারণ ই-র মতো আর ঊ-র উচ্চারণ উ-র মতো, আর ঋ-এর উচ্চারণ প্রায় ‘রি’। জিভের উচ্চতা অনুসারে ই ও উ উচ্চ স্বর এবং আ নিম্ন স্বর।
মনে রাখুন:
ঐ ও ঔ দুটি যৌগিক স্বর, কারণ এদের উচ্চারণে দুটি স্বর মিলে যায়।
বর্ণমালার হিসেবে স্বরবর্ণ ১১টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
অর্থাৎ বর্ণ ১১টি হলেও মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। - ৩৯. মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম কবি কে?
- ক. বিজয়গুপ্ত
- খ. দ্বিজ বংশীদাস
- গ. বিপ্রদাস
- ঘ. কানাহরি দত্ত
উত্তর: ঘ. কানাহরি দত্ত
মনসামঙ্গল মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের সবচেয়ে প্রাচীন ধারা। সাপের দেবী মনসার পূজা প্রচারের কাহিনি এতে বর্ণিত। এই কাব্যের আদি বা প্রথম কবি হিসেবে কানাহরি দত্তকে ধরা হয়। পরবর্তী কবিদের মধ্যে বিজয়গুপ্ত ও বিপ্রদাস পিপিলাই বেশি পরিচিত। বিজয়গুপ্তের ‘পদ্মাপুরাণ’ খুব জনপ্রিয় ছিল। মনসামঙ্গলের আরেক নাম পদ্মাপুরাণ। মঙ্গলকাব্যের অন্য ধারাগুলোরও আলাদা আদি কবি আছে, তাই কাব্যের নাম আর কবির নাম একসঙ্গে মনে রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
মনসামঙ্গলের অন্য কবি: নারায়ণ দেব, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।
কাহিনির প্রধান চরিত্র: চাঁদ সওদাগর, বেহুলা ও লখিন্দর।
ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট, চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি মানিক দত্ত।
অন্নদামঙ্গলের কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। - ৪৯. 'কুড়ি' শব্দটির উৎস—
- ক. দেশি শব্দ
- খ. তদ্ভব শব্দ
- গ. তৎসম শব্দ
- ঘ. ফারসি শব্দ
উত্তর: ক. দেশি শব্দ
যেসব শব্দ বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা থেকে সরাসরি এসেছে এবং সংস্কৃত বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষার সঙ্গে সম্পর্ক নেই, সেগুলোকে দেশি শব্দ বলে। ‘কুড়ি’ তেমনই একটি শব্দ। অন্য বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা। তৎসম হলো সংস্কৃত থেকে অবিকৃত আসা শব্দ, যেমন চন্দ্র ও সূর্য। তদ্ভব হলো সংস্কৃত থেকে বদলে আসা শব্দ, যেমন চাঁদ ও হাত। ফারসি শব্দ এসেছে ফারসি ভাষা থেকে, যেমন দোকান ও চশমা। শব্দের উৎস অনুসারে বাংলা শব্দকে এভাবে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়।
উদাহরণ:
দেশি শব্দ: ডাব, ঢোল, ঝাঁটা, কুলা, চুলা, পেট, ঢেঁকি, টোপর, ডিঙ্গি।
মনে রাখুন: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি এই চার ভাগে বাংলা শব্দভান্ডার বিভক্ত। - ৬০. ছন্দের জাদুকর—
- ক. আব্দুল কাদির
- খ. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- গ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- ঘ. কায়কোবাদ
উত্তর: গ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায় শব্দ আর ছন্দের এমন সুন্দর খেলা দেখা যায় যে, পাঠক মুগ্ধ হয়ে পড়েন। তাই তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘পাল্কির গান’ ও ‘দূরের পাল্লা’। অন্য কবিদের পরিচয় আলাদা। আব্দুল কাদির ছান্দসিক কবি নামে পরিচিত, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ক্লাসিক কবি এবং কায়কোবাদ ‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্যের কবি। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালে এবং মৃত্যু ১৯২২ সালে।
মনে রাখুন:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ: সবিতা, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবীর।
অন্য কবির উপাধি: নজরুল ‘বিদ্রোহী কবি’, জসীমউদদীন ‘পল্লীকবি’, বিহারীলাল ‘ভোরের পাখি’, জীবনানন্দ ‘রূপসী বাংলার কবি’। - ৭১. শুদ্ধ বানান কোনটি?
- ক. বুদ্ধিজিবি
- খ. শ্রমজীবী
- গ. আইনজীবি
- ঘ. পেশাজিবি
উত্তর: খ. শ্রমজীবী
‘জীবী’ শব্দের অর্থ যে জীবিকা অর্জন করে। শব্দটি ঈকারান্ত, তাই বানানে দীর্ঘ ঈ হবে। সেই হিসেবে শুদ্ধ বানান শ্রমজীবী। অন্যগুলো ভুল, কারণ বুদ্ধিজিবি, আইনজীবি ও পেশাজিবির শেষে হ্রস্ব ই আছে। শুদ্ধ রূপ হবে বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও পেশাজীবী। এখানে একটি কথা মনে রাখলে ভুল কমে। ‘জীবী’ যখন শব্দের শেষে বসে ব্যক্তি বোঝায়, তখন তা দীর্ঘ ঈ হয়। কিন্তু জীবিকা ও জীবিত শব্দের মাঝে হ্রস্ব ই আছে।
মনে রাখুন: ‘জীবী’ দিয়ে শেষ হওয়া আরও শব্দ:
মৎস্যজীবী, কৃষিজীবী, চাকরিজীবী, সংগ্রামজীবী
শব্দের মাঝে হ্রস্ব ই-যুক্ত শব্দ: জীবিকা, জীবিত। - ৭২. 'কবর' নাটকটির রচয়িতা কে?
- ক. জসীমউদদীন
- খ. মুনীর চৌধুরী
- গ. আবুল ফজল
- ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর: খ. মুনীর চৌধুরী
‘কবর’ নাটকটির রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি নাটকটি লেখেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে এটি রচিত হয়। মুনীর চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রাণ দেন। জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ নামে একটি বিখ্যাত কবিতা আছে, তাই নামের মিল দেখে ভুল করা সহজ। কিন্তু নাটক ‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর।
মনে রাখুন:
মুনীর চৌধুরীর অন্য নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দণ্ডকারণ্য, কেউ কিছু বলতে পারে না।
তিনি ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নামে একটি অনুবাদ নাটকও লিখেছেন। - ৭৪. উপকারীর অপকার করে যে—তাকে এককথায় কী বলে?
- ক. কৃতঘ্ন
- খ. অকৃতজ্ঞ
- গ. কৃতজ্ঞ
- ঘ. অকৃতঘ্ন
উত্তর: ক. কৃতঘ্ন
যে মানুষ উপকারীর উপকার ভুলে গিয়ে উলটো তার ক্ষতি করে, তাকে এক কথায় বলে কৃতঘ্ন। শব্দটি এসেছে কৃত (যা করা হয়েছে) আর ঘ্ন (নাশ করে যে) থেকে, অর্থাৎ যে উপকারকে নষ্ট করে দেয়। অকৃতজ্ঞ শব্দের অর্থ আলাদা, কারণ যে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না, সে অকৃতজ্ঞ। আর কৃতজ্ঞ হলো উপকারীর উপকার স্বীকারকারী। সুতরাং ক্ষতি করার অর্থটি কেবল কৃতঘ্ন শব্দে আছে।
উদাহরণ:
যে উপকার স্বীকার করে = কৃতজ্ঞ
যে উপকার স্বীকার করে না = অকৃতজ্ঞ
যে উপকারীর অপকার করে = কৃতঘ্ন
মনে রাখুন: যে অন্যের উপকার করে তাকে বলে পরোপকারী। - ৭৬. 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথের একটি—
- ক. উপন্যাস
- খ. কাব্যগ্রন্থ
- গ. গল্পগ্রন্থ
- ঘ. প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর: ক. উপন্যাস
‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস। এটি ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে (১৯২৮ সাল) ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়, পরে ১৯২৯ সালে বই আকারে বের হয়। কবিতার মতো ভাষায় লেখা এই কাহিনির প্রধান চরিত্র অমিত রায় ও লাবণ্য। উপন্যাসের ভাষা এত কাব্যিক যে নামটি দেখে কাব্যগ্রন্থ ভাবা সহজ, কিন্তু আসলে এটি গদ্যে লেখা উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ যেমন ‘সোনার তরী’ বা ‘বলাকা’ আর উপন্যাস এই দুইয়ের নাম আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন:
রবীন্দ্রনাথের অন্য উপন্যাস: গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ, যোগাযোগ, চোখের বালি।
তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘বউ ঠাকুরানীর হাট’।
‘শেষের কবিতা’র অন্য চরিত্র: কেতকী, শোভনলাল। - ৮১. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় কোনটি?
- ক. শনশন
- খ. মরিমরি
- গ. ছিছি
- ঘ. বেশ বেশ
উত্তর: ক. শনশন
যেসব অব্যয় শব্দ প্রকৃতির নানা ধ্বনির অনুকরণে তৈরি হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। বাতাসের শোঁ শোঁ বা সোঁ সোঁ ধ্বনির মতো ‘শনশন’ তেমনই একটি। অন্য বিকল্পগুলো ধ্বনির অনুকরণ নয়, এগুলো মনের ভাব প্রকাশ করে। যেমন ‘মরি মরি’ প্রশংসা বা আবেগ, ‘ছিছি’ ঘৃণা এবং ‘বেশ বেশ’ অনুমোদন বোঝায়। আবেগ প্রকাশ করা এমন অব্যয়কে অনন্বয়ী অব্যয়ও বলে।
উদাহরণ:
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়: কলকল, ঝমঝম, গুড়গুড়, কড়কড়, ঝিরঝির।
মনে রাখুন: ধ্বনির অনুকরণ হলে অনুকার অব্যয়, আর শুধু মনের ভাব প্রকাশ হলে সেটি অন্য ধরনের অব্যয়। - ৮৩. আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতিকবি কে?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. মধুসূদন দত্ত
- গ. বিহারীলাল চক্রবর্তী
- ঘ. বুদ্ধদেব বসু
উত্তর: গ. বিহারীলাল চক্রবর্তী
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতিকবিতার ধারা শুরু করেন বিহারীলাল চক্রবর্তী, তাই তাঁকে বাংলার প্রথম আধুনিক গীতিকবি বলা হয়। গীতিকবিতায় কবি নিজের মনের অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলালকে নিজের কাব্যগুরু মানতেন এবং ‘ভোরের পাখি’ বলে সম্মান জানিয়েছেন। মধুসূদন দত্ত মহাকাব্য ও সনেট লিখেছেন, আর বুদ্ধদেব বসু পরবর্তী আধুনিক কবি। বিহারীলালের আগে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বলা হয় যুগসন্ধির কবি। আধুনিক যুগ শুরু হয়েছিল উনিশ শতকে, আর সেই যুগের প্রথম গীতিকবি হিসেবে বিহারীলালের নামই পরীক্ষায় বারবার আসে।
মনে রাখুন:
বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
তাঁর অন্য কাব্য: বঙ্গসুন্দরী, নিসর্গসন্দর্শন, বন্ধুবিয়োগ, প্রেমপ্রবাহিনী, সাধের আসন। - ৮৫. 'সবুজপত্র' নামক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
- ক. প্রমথ চৌধুরী
- খ. বুদ্ধদেব বসু
- গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘ. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ক. প্রমথ চৌধুরী
‘সবুজপত্র’ বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা। প্রমথ চৌধুরী এটি ১৯১৪ সালে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি চলিত ভাষায় সাহিত্য রচনার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল। বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদনা করেছেন ‘বঙ্গদর্শন’, আর বুদ্ধদেব বসু সম্পাদনা করেছেন ‘কবিতা’। সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে সম্পাদকের নাম মিলিয়ে মনে রাখা পরীক্ষায় কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
সবুজপত্রের কারণে সাধু ভাষার বদলে চলিত ভাষার ব্যবহার বেড়ে যায়।
রবীন্দ্রনাথ ‘সবুজপত্র’-এ নিয়মিত লিখতেন, যেমন ‘ঘরে বাইরে’ ও ‘চতুরঙ্গ’ এখানেই ছাপা হয়।
‘বঙ্গদর্শন’ বের হয় ১৮৭২ সালে।
‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। - ৯০. 'একাত্তরের দিনগুলি' কী জাতীয় রচনা?
- ক. প্রবন্ধ
- খ. নাটক
- গ. ভ্রমণকাহিনি
- ঘ. দিনলিপি
উত্তর: ঘ. দিনলিপি
‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের লেখা বই। এতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর ঘটনা তিনি প্রতিদিনের হিসাবে লিখে রেখেছিলেন। প্রতিদিনের এমন ব্যক্তিগত বিবরণকে দিনলিপি বা ডায়েরি বলে। এটি প্রবন্ধ, নাটক বা ভ্রমণকাহিনি নয়। বইটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। এতে তাঁর ছেলে রুমি শহিদ হওয়ার করুণ ঘটনাও আছে। নিজের চোখে দেখা যুদ্ধের দিনগুলোর কথা সহজ ভাষায় বলা হয়েছে বলে বইটি এত পরিচিত।
মনে রাখুন:
জাহানারা ইমামকে ‘শহিদ জননী’ বলা হয়।
তাঁর আরও বই: ‘অন্যজীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠদের কথা’, ‘ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস’।
১৯৯২ সালে তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
বিজ্ঞান
- ২. 0.025 M KOH-এর pH কত?
- ক. 10.40
- খ. 11.40
- গ. 12.40
- ঘ. 13.40
উত্তর: গ. 12.40
KOH একটি প্রবল ক্ষার, যা দ্রবণে সম্পূর্ণ আয়নিত হয়। তাই 0.025 M KOH থেকে [OH⁻] = 0.025 M। এখন pOH = −log[OH⁻] = −log(0.025) = −log(2.5 × 10⁻²) = 2 − 0.398 = 1.602। 25°C তাপমাত্রায় pH + pOH = 14, তাই pH = 14 − 1.602 = 12.398 ≈ 12.40। ক্ষারীয় দ্রবণের pH ৭-এর চেয়ে বেশি হয়, উত্তরও সেই হিসাবের সঙ্গে মিলছে।
মনে রাখুন:
pH = −log[H⁺] এবং pOH = −log[OH⁻]।
প্রবল এসিড/ক্ষারে আয়ন-ঘনমাত্রা মোলারিটির সমান ধরা হয়।
দ্বিক্ষারীয় ক্ষারে, যেমন Ca(OH)₂, [OH⁻] দ্বিগুণ হয়। - ৩. কার্বনিল মূলে কার্বন পরমাণুর সংকরণ কোনটি?
- ক. SP
- খ. SP²
- গ. SP³
- ঘ. SP³d
উত্তর: খ. SP²
কার্বনিল মূলে (C=O) কার্বন পরমাণু অক্সিজেনের সঙ্গে দ্বিবন্ধন এবং অন্য দুটি পরমাণুর সঙ্গে একক বন্ধনে যুক্ত থাকে। এভাবে কার্বনের তিনটি সিগমা (σ) বন্ধন তৈরি হয় এবং একটি পাই (π) বন্ধন থাকে। তিনটি σ বন্ধনের জন্য তিনটি সংকরিত অরবিটাল লাগে, তাই কার্বন sp² সংকরিত। এই তিনটি বন্ধন একই সমতলে থাকে ও পরস্পরের মধ্যে প্রায় 120° কোণ তৈরি করে, অর্থাৎ আকৃতি সমতলীয় ত্রিকোণ।
মনে রাখুন:
sp সংকরণে (যেমন অ্যাসিটিলিন) কোণ 180°, sp³ সংকরণে (যেমন মিথেন) কোণ 109.5°।
ইথিলিনের কার্বনও sp² সংকরিত।
অ্যালডিহাইড ও কিটোনে কার্বনিল মূল থাকে। - ৫. CFC-12 এর সংকেত কোনটি?
- ক. CFCl₃
- খ. CF₂Cl₂
- গ. CF₃Cl
- ঘ. CF₂ClCFCl₂
উত্তর: খ. CF₂Cl₂
ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) যৌগের নামকরণে একটি সহজ নিয়ম আছে। সংখ্যার সঙ্গে 90 যোগ করলে তিন অঙ্ক পাওয়া যায়, যা যথাক্রমে কার্বন, হাইড্রোজেন ও ফ্লোরিন পরমাণুর সংখ্যা। CFC-12-এর ক্ষেত্রে 12 + 90 = 102, অর্থাৎ কার্বন ১টি, হাইড্রোজেন ০টি, ফ্লোরিন ২টি। মিথেনের মতো কার্বনে মোট ৪টি বন্ধন থাকে, তাই বাকি ২টি জায়গায় ক্লোরিন বসে এবং সংকেত হয় CF₂Cl₂। একই নিয়মে CFC-11 হলো CFCl₃ এবং CFC-13 হলো CF₃Cl।
মনে রাখুন:
CFC-12 (ডাইক্লোরোডাইফ্লোরোমিথেন) রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
CFC ওজোন স্তর ক্ষয় করে।
CFC-কে ফ্রেয়নও বলা হয়। - ৯. ফেনলে কয়টি π ইলেকট্রন আছে?
- ক. 4টি
- খ. 6টি
- গ. 8টি
- ঘ. 10টি
উত্তর: খ. 6টি
ফেনল (C₆H₅OH) একটি বেনজিন বলয়ে হাইড্রক্সিল (−OH) গ্রুপ যুক্ত যৌগ। বেনজিন বলয়ে তিনটি পাই (π) বন্ধন থাকে, অর্থাৎ ৩টি দ্বিবন্ধনের পাই অংশ। প্রতিটি পাই বন্ধনে ২টি ইলেকট্রন থাকে। তাই মোট π ইলেকট্রন হলো 3 × 2 = 6টি। এই ছয়টি ইলেকট্রন বলয়ের ওপর ও নিচে ছড়িয়ে থাকে (বিস্থানিক হয়), যার ফলে ফেনল স্থিতিশীল হয়। −OH গ্রুপের অক্সিজেনের নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড়া π ইলেকট্রনের সংখ্যায় গণনা করা হয় না।
মনে রাখুন:
বেনজিনেও 6টি π ইলেকট্রন আছে (হুকেলের (4n + 2) নিয়মে n = 1)।
ফেনল সামান্য অম্লীয়, তাই একে কার্বলিক এসিডও বলে। - ১২. আকাশ নীল দেখায় কেন?আরও এসেছে: গণপূর্ত অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০১৭
- ক. নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে
- খ. নীল সমুদ্রের প্রতিফলনের ফলে
- গ. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
- ঘ. নীল আলোর প্রতিফলন বেশি বলে
উত্তর: গ. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
সূর্যের আলো সাদা, তবে এতে সব রঙ মিশে থাকে। এই আলো বায়ুমণ্ডলে ঢুকলে বাতাসের অণু ও ক্ষুদ্র কণায় বিক্ষিপ্ত (Scattering) হয়। রেলের বিক্ষেপণ সূত্র অনুযায়ী, বিক্ষেপণের পরিমাণ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক (1/λ⁴)। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল আলোর চেয়ে কম, তাই নীল আলো সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে এবং সবদিক থেকে আমাদের চোখে আসে। ফলে আকাশ নীল দেখায়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি নয়, কম।
মনে রাখুন:
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আলো বেশি বায়ুস্তর পার হয়, তাই নীল আলো আগেই ছড়িয়ে যায় এবং আকাশ লাল দেখায়।
এই বিক্ষেপণ আবিষ্কার করেন লর্ড রেলে। - ১৪. রাসায়নিক সাম্যাবস্থার উপর কোনটির প্রভাব কার্যকর নয়?
- ক. তাপমাত্রা
- খ. চাপ
- গ. ঘনমাত্রা
- ঘ. প্রভাবক
উত্তর: ঘ. প্রভাবক
রাসায়নিক সাম্যাবস্থা (Chemical equilibrium) হলো সেই অবস্থা, যখন সম্মুখ ও বিপরীত বিক্রিয়ার হার সমান হয়ে যায়। লা-শাতেলিয়ের নীতি অনুযায়ী তাপমাত্রা, চাপ ও ঘনমাত্রা বদলালে সাম্যাবস্থা সরে যায়। কিন্তু প্রভাবক (Catalyst) সম্মুখ ও বিপরীত দুই বিক্রিয়ার হারকে একই অনুপাতে বাড়ায়। ফলে সাম্যাবস্থার অবস্থান বদলায় না, শুধু সাম্যাবস্থায় পৌঁছাতে সময় কম লাগে। প্রভাবক ছাড়া কোনো বিক্রিয়া ধীরে সাম্যে পৌঁছালেও শেষ সাম্যাবস্থা একই থাকে, কারণ প্রভাবক বিক্রিয়ার ফল বদলায় না, শুধু পথ সহজ করে। এ জন্য শিল্পে প্রভাবক ব্যবহার করে সময় ও খরচ কমানো হয়।
মনে রাখুন:
প্রভাবক বিক্রিয়ার সক্রিয়ন শক্তি কমায়।
তাপ বাড়ালে তাপগ্রাহী বিক্রিয়ার দিকে সাম্য সরে।
হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনে লোহা প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - ১৫. একটি অপবর্তন ঝাঁঝরিতে প্রতি মিলিমিটারে ৫০০টি দাগ কাটা আছে। এটির স্লিট-এর প্রস্থ কত?
- ক. 500 মিলিমিটার
- খ. 5×10⁻⁵ মিলিমিটার
- গ. 2×10⁻⁵ মিলিমিটার
- ঘ. 2×10⁻³ মিলিমিটার
উত্তর: ঘ. 2×10⁻³ মিলিমিটার
অপবর্তন গ্রেটিংয়ে (Diffraction grating) প্রতি একক দৈর্ঘ্যে যত দাগ বা রেখা কাটা থাকে, তাকে N বলে। পাশাপাশি দুটি দাগের মধ্যবর্তী দূরত্বকে গ্রেটিং ধ্রুবক d বলে, যা d = 1/N। এখানে N = 500 টি/মিমি, তাই d = 1/500 মিমি = 0.002 মিমি = 2 × 10⁻³ মিমি। প্রশ্নে এটিকেই স্লিটের প্রস্থ ধরা হয়েছে। এটি 500 মিমি বা 5 × 10⁻⁵ মিমি হতে পারে না, কারণ প্রতি মিলিমিটারে ৫০০টি দাগ মানে প্রতিটির দূরত্ব মিলিমিটারের অনেক ছোট অংশ।
মনে রাখুন:
গ্রেটিং সমীকরণ: d sinθ = nλ।
গ্রেটিং সাদা আলোকে বিভিন্ন রঙে ভাগ করে বর্ণালি তৈরি করে।
1 mm = 10⁻³ m। - ২২. সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে—
- ক. ট্রান্সফর্মার
- খ. জেনারেটর
- গ. স্টোরেজ ব্যাটারি
- ঘ. ক্যাপাসিটর
উত্তর: গ. স্টোরেজ ব্যাটারি
সৌরকোষ (Solar cell) সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে, তাই রাতে সূর্য না থাকলে বিদ্যুৎ তৈরি হয় না। দিনের বেলা উৎপন্ন বাড়তি বিদ্যুৎ যদি স্টোরেজ ব্যাটারিতে জমা রাখা যায়, তবে রাতে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব। ব্যাটারি বিদ্যুৎশক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে জমিয়ে রাখে এবং প্রয়োজনে আবার বিদ্যুৎ দেয়। ট্রান্সফর্মার শুধু ভোল্টেজ বদলায়, জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, আর ক্যাপাসিটর খুব সামান্য আধান জমা রাখে।
মনে রাখুন:
সৌরকোষ সিলিকনের তৈরি অর্ধপরিবাহী দিয়ে গঠিত।
সৌর প্যানেল ডিসি (DC) বিদ্যুৎ দেয়, ইনভার্টার দিয়ে এসি (AC) করা যায়।
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে সালফিউরিক এসিড থাকে। - ২৯. পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যাওয়ার কারণ আলোর—
- ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. বিচ্ছুরণ
- ঘ. পোলারায়ন
উত্তর: খ. প্রতিসরণ
পানিতে একটি লাঠি বা নৌকার বৈঠা আংশিক ডুবিয়ে রাখলে সেটি পানির নিচে এসে বাঁকা দেখায়। এর কারণ আলোর প্রতিসরণ (Refraction)। বৈঠার ডুবে থাকা অংশ থেকে আসা আলো ঘন মাধ্যম পানি থেকে হালকা মাধ্যম বাতাসে আসার সময় দিক বদলায়। ফলে আমাদের চোখে অংশটি আসল জায়গা থেকে একটু ওপরে উঠে আছে বলে মনে হয়, আর পুরো বৈঠাটিকে বাঁকা লাগে। পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তখনই হয়, যখন আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয়। এখানে সেরকম কিছু ঘটছে না।
মনে রাখুন:
প্রতিসরণের উদাহরণ: পুকুরের তলদেশ কাছে দেখা, পানিতে রাখা মুদ্রা ওপরে উঠে আসা মনে হওয়া।
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ: মরীচিকা, হীরার ঝলকানি, আলোক তন্তু (Optical Fibre)। - ৩০. রেকটিফাইড স্পিরিটে কী পরিমাণ পানি থাকে?
- ক. 4.4%
- খ. 8.4%
- গ. 20%
- ঘ. 95.6%
উত্তর: ক. 4.4%
ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহল পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। তবে পাতন করে একে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করা যায় না। পাতনের ফলে সর্বোচ্চ প্রায় ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির একটি মিশ্রণ পাওয়া যায়, যার স্ফুটনাঙ্ক স্থির থাকে। এই মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (Rectified Spirit) বলে। অর্থাৎ এতে পানির পরিমাণ ৪.৪%, ৯৫.৬% নয়। ৯৫.৬% হলো ইথানলের পরিমাণ, আর এই ভুলটিই পরীক্ষায় বেশি করা হয়।
মনে রাখুন:
১০০% বিশুদ্ধ ইথানলকে অ্যাবসলিউট অ্যালকোহল (Absolute Alcohol) বলে।
মিথাইল অ্যালকোহল মেশানো এবং বিষাক্ত রঙিন ইথানলকে বলে মিথিলেটেড স্পিরিট (Methylated Spirit)।
চিনি বা গুড়ের গাঁজন থেকে ইথানল তৈরি হয়। - ৩১. 2.5×10⁻³ টেসলা একটি চৌম্বকক্ষেত্রে যদি চৌম্বক বল প্রোটনের ওজনের সমান হয়, তাহলে প্রোটনটির গতিবেগ কত হবে?
- ক. 3.09×10⁻⁵ ms⁻¹
- খ. 4.09×10⁻⁵ ms⁻¹
- গ. 2.09×10⁻⁵ ms⁻¹
- ঘ. 0.09×10⁻⁵ ms⁻¹
উত্তর: খ. 4.09×10⁻⁵ ms⁻¹
চৌম্বকক্ষেত্রে চার্জিত কণার ওপর যে বল কাজ করে, তা হলো F = qvB (বেগ ও ক্ষেত্র পরস্পর লম্ব হলে)। প্রশ্নে এই বলকে প্রোটনের ওজন mg-এর সমান ধরা হয়েছে। তাই qvB = mg, অর্থাৎ v = mg/(qB)।
এখানে m = 1.672×10⁻²⁷ kg, g = 9.8 ms⁻², q = 1.6×10⁻¹⁹ C, B = 2.5×10⁻³ T।
mg = 1.672×10⁻²⁷ × 9.8 = 1.639×10⁻²⁶ N
qB = 1.6×10⁻¹⁹ × 2.5×10⁻³ = 4×10⁻²²
v = 1.639×10⁻²⁶ / 4×10⁻²² = 4.09×10⁻⁵ ms⁻¹
মনে রাখুন: চৌম্বক বল সবসময় বেগের দিকের সঙ্গে লম্ব, তাই এই বল কণার বেগের মান না বদলে শুধু দিক বদলায় এবং কোনো কাজ করে না। প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় ১৮৩৬ গুণ। - ৩২. কোনটি মৌলিক রং নয়?
- ক. আসমানি
- খ. লাল
- গ. সবুজ
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ঘ. হলুদ
আলোর তিনটি মৌলিক রং (Primary Colours) হলো লাল, সবুজ ও নীলাভ (এখানে আসমানি নামে দেওয়া)। এই তিনটি রং অন্য কোনো রং মিশিয়ে তৈরি করা যায় না। কিন্তু এদেরই মিশিয়ে অন্য রং পাওয়া যায়। হলুদ রং মৌলিক নয়, কারণ লাল ও সবুজ আলো সমান মাত্রায় মেশালে হলুদ আলো তৈরি হয়। এ কারণে হলুদকে বলা হয় গৌণ বা মিশ্র রং (Secondary Colour)।
মনে রাখুন:
লাল + সবুজ = হলুদ।
সবুজ + নীল = সায়ান (আসমানি)।
লাল + নীল = ম্যাজেন্টা।
তিনটি মৌলিক রং একসঙ্গে সমান মাত্রায় মিশলে সাদা আলো পাওয়া যায়। - ৩৩. কোন বিক্রিয়ার হার বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে না?
- ক. শূন্য ক্রম
- খ. প্রথম ক্রম
- গ. দ্বিতীয় ক্রম
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. শূন্য ক্রম
রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার (Rate of Reaction) সাধারণত বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু শূন্য ক্রমের (Zero Order) বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বাড়ালে বা কমালেও হারের কোনো পরিবর্তন হয় না। এখানে হার সমীকরণ হলো হার = k, অর্থাৎ হার শুধু ধ্রুবকের সমান। প্রথম ক্রমের বিক্রিয়ায় হার ঘনমাত্রার প্রথম ঘাতের সমানুপাতিক, আর দ্বিতীয় ক্রমে দ্বিতীয় ঘাতের সমানুপাতিক। এজন্য শূন্য ক্রমের বিক্রিয়ার লেখচিত্রে বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা সময়ের সঙ্গে সরলরেখায় কমে। এ ধরনের বিক্রিয়ায় অর্ধায়ুও প্রাথমিক ঘনমাত্রার ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখুন:
প্রথম ক্রমের হার = k[A]।
দ্বিতীয় ক্রমের হার = k[A]²।
শূন্য ক্রমের উদাহরণ: প্ল্যাটিনাম পৃষ্ঠে অ্যামোনিয়ার বিয়োজন, কিছু এনজাইম-নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া। - ৩৮. নিচের কোনটি মৌলিক বল নয়?
- ক. মহাকর্ষ
- খ. ঘর্ষণ
- গ. সবল নিউক্লিয় বল
- ঘ. তড়িৎ চৌম্বক
উত্তর: খ. ঘর্ষণ
প্রকৃতির মৌলিক বল চারটি। এগুলো হলো মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বল, সবল নিউক্লিয় বল ও দুর্বল নিউক্লিয় বল। এদের বাইরে আর যত বল আমরা দৈনন্দিন জীবনে দেখি, সেগুলো এই চারটি থেকেই উৎপন্ন হয়। ঘর্ষণ বল তেমনই একটি। দুটি পৃষ্ঠ পরস্পরের সংস্পর্শে এলে তাদের পরমাণুর মধ্যে তড়িৎ চৌম্বক আকর্ষণের ফলে এই বল সৃষ্টি হয়। তাই ঘর্ষণকে মৌলিক বল বলা যায় না।
মনে রাখুন:
শক্তির ক্রম (বেশি থেকে কম): সবল নিউক্লিয় > তড়িৎ চৌম্বক > দুর্বল নিউক্লিয় > মহাকর্ষ।
মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল, কিন্তু এর পাল্লা অসীম। - ৪০. যদি একটি গ্লাসে ৩৬ গ্রাম পানি থাকে তাহলে ঐ গ্লাসে কয়টি পানির অণু আছে?
- ক. 1×6.023×10²³
- খ. 2×6.023×10²³
- গ. 3×6.023×10²³
- ঘ. 4×6.023×10²³
উত্তর: খ. 2×6.023×10²³
মোল (Mole) ধারণা অনুযায়ী যেকোনো পদার্থের এক মোলে ৬.০২৩×10²³টি কণা থাকে। একে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা বলে। পানির (H₂O) আণবিক ভর = ২×১ + ১৬ = ১৮। তাই ১৮ গ্রাম পানি হলো এক মোল।
এখন ৩৬ গ্রাম পানির মোল সংখ্যা = 36/18 = 2 মোল।
অণুর সংখ্যা = 2 × 6.023×10²³
শর্টকাট: প্রদত্ত ভরকে আণবিক ভর দিয়ে ভাগ করলেই মোল সংখ্যা পাওয়া যায়। সেই সংখ্যাকে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে অণুর সংখ্যা মেলে।
মনে রাখুন: STP-তে যেকোনো গ্যাসের এক মোলের আয়তন ২২.৪ লিটার। - ৪২. নিচের কোনটিতে নাইট্রোজেনের জারণ ঘটে?
- ক. N₂→2NH₃
- খ. N₂O₄→2NO₂
- গ. 2NO₃⁻→N₂O₅
- ঘ. NO₂⁻→NO₃⁻
উত্তর: ঘ. NO₂⁻→NO₃⁻
জারণ (Oxidation) বলতে ইলেকট্রন ত্যাগ বোঝায়, ফলে জারণ সংখ্যা বাড়ে। NO₂⁻ আয়নে নাইট্রোজেনের জারণ সংখ্যা +3, আর NO₃⁻ আয়নে +5। অর্থাৎ বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেন দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করেছে, তাই এখানে নাইট্রোজেনের জারণ ঘটেছে। অন্য বিক্রিয়াগুলো দেখা যাক। N₂→2NH₃-এ জারণ সংখ্যা 0 থেকে −3 হয়েছে, এটি বিজারণ। N₂O₄→2NO₂-এ +4 থেকে +4 থাকে, কোনো পরিবর্তন নেই। NO₃⁻ থেকে N₂O₅-তেও +5 অপরিবর্তিত থাকে। মনে রাখার সহজ উপায় হলো, জারণ সংখ্যা যেদিকে বাড়ে সেটিই জারণ, আর যেদিকে কমে সেটিই বিজারণ। এই নিয়ম দিয়ে যেকোনো রেডক্স বিক্রিয়া সহজে বোঝা যায়।
মনে রাখুন:
জারণ: ইলেকট্রন ত্যাগ, জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি।
বিজারণ: ইলেকট্রন গ্রহণ, জারণ সংখ্যা হ্রাস। - ৪৩. ব্রাউন হিমাটাইট কোন ধাতুর আকরিক?
- ক. Fe
- খ. Ca
- গ. Mg
- ঘ. Mn
উত্তর: ক. Fe
যে খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে ওই ধাতুর আকরিক (Ore) বলে। ব্রাউন হিমাটাইট বা লিমোনাইট (2Fe₂O₃·3H₂O) আয়রন বা লোহার একটি আকরিক। এতে আর্দ্র আয়রন অক্সাইড থাকে, তাই এর রং বাদামি হয়। লোহার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আকরিক আছে। লোহা নিষ্কাশনের জন্য আকরিক ব্লাস্ট ফার্নেসে কোক ও চুনাপাথরের সঙ্গে গলানো হয়। সেখানে কার্বন মনোক্সাইড আয়রন অক্সাইডকে বিজারিত করে লোহা তৈরি করে।
মনে রাখুন:
লোহার আকরিক: হিমাটাইট (Fe₂O₃), ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄), সিডেরাইট (FeCO₃), আয়রন পাইরাইটিস (FeS₂)।
ম্যাগনেটাইটে লোহার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭২%।
ক্যালসিয়ামের আকরিক চুনাপাথর, আর ম্যাগনেসিয়ামের আকরিক ম্যাগনেসাইট। - ৪৪. এনজাইম হচ্ছে—
- ক. কার্বোহাইড্রেট
- খ. লিপিড
- গ. নিউক্লিক এসিড
- ঘ. প্রোটিন
উত্তর: ঘ. প্রোটিন
এনজাইম (Enzyme) বা উৎসেচক জীবদেহে তৈরি হওয়া জৈব অনুঘটক। একে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করেই দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বহুগুণ বাড়ানো যায়, আর বিক্রিয়া শেষে এনজাইম নিজে অপরিবর্তিত থাকে। প্রায় সব এনজাইমই প্রোটিন দিয়ে গঠিত, তাই ঠিক উত্তর প্রোটিন। প্রতিটি এনজাইম সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার জন্য কাজ করে। এটি বেশি তাপমাত্রায় বা অতি অম্ল ও ক্ষারীয় পরিবেশে নষ্ট হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
পেপসিন প্রোটিন ভাঙে, অ্যামাইলেজ শর্করা ভাঙে, লাইপেজ চর্বি ভাঙে।
এনজাইম যার ওপর কাজ করে তাকে সাবস্ট্রেট (Substrate) বলে।
ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু RNA অণু (রাইবোজাইম) অনুঘটকের কাজ করে। - ৪৬. বল এবং সরণের দিক যখন একই হয় তখন একটি বস্তুর গতিশক্তি—
- ক. বৃদ্ধি পায়
- খ. হ্রাস পায়
- গ. একই থাকে
- ঘ. শূন্য হয়ে যায়
উত্তর: ক. বৃদ্ধি পায়
বল ও সরণ একই দিকে হলে বল ধনাত্মক কাজ করে। কাজ-শক্তি উপপাদ্য অনুসারে বস্তুর ওপর মোট কাজ গতিশক্তির পরিবর্তনের সমান, অর্থাৎ W = ΔKE। এখানে W ধনাত্মক হওয়ায় ΔKE-ও ধনাত্মক হয়, তাই গতিশক্তি বাড়ে। উল্টো দিকে বল ও সরণ বিপরীতমুখী হলে কাজ ঋণাত্মক হয় এবং বস্তুর গতিশক্তি কমে যায়। একই কারণে গাড়ি ব্রেক চাপলে থামতে থাকে।
মনে রাখুন:
কাজ W = F·s·cosθ।
θ = 0° হলে কাজ সর্বোচ্চ ধনাত্মক, θ = 90° হলে কাজ শূন্য, θ = 180° হলে ঋণাত্মক।
গতিশক্তি KE = ½mv²। - ৪৭. কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
- ক. ৯ গুণ বাড়বে
- খ. ৯ গুণ কমবে
- গ. ৩ গুণ বাড়বে
- ঘ. ৩ গুণ কমবে
উত্তর: ঘ. ৩ গুণ কমবে
সরল দোলকের দোলনকাল T = 2π√(l/g)। এখানে দোলকের দৈর্ঘ্য l ধ্রুব থাকলে T শুধু √g-এর ব্যস্তানুপাতিক। g-এর মান ৯ গুণ হলে নতুন দোলনকাল T₂ = 2π√(l/9g) = (1/3) × 2π√(l/g) = T₁/3। অর্থাৎ দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। এর মানে মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ বেশি হলে দোলক দ্রুত দোলে। তাই কোনো ঘড়ি বা দোলক পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেলে g-এর সামান্য পার্থক্যের কারণে তার সময় সামান্য বদলে যায়। এভাবে দোলক দিয়ে g-এর মান মাপাও সম্ভব।
মনে রাখুন:
দোলনকাল দোলকের ভরের ওপর নির্ভর করে না।
চাঁদে g কম (পৃথিবীর প্রায় ১/৬), তাই সেখানে একই দোলকের দোলনকাল বেশি হয়।
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল ২ সেকেন্ড। - ৫১. একটি অ্যামিটারের রেঞ্জ বৃদ্ধির জন্য শান্ট রেজিস্ট্যান্স-এর মান—
- ক. বাড়াতে হয়
- খ. কমাতে হয়
- গ. বাড়িয়ে কমাতে হয়
- ঘ. কিছুই করতে হয় না
উত্তর: খ. কমাতে হয়
অ্যামিটার বা তড়িৎ প্রবাহ মাপার যন্ত্র তৈরি হয় গ্যালভানোমিটারের সঙ্গে সমান্তরালে একটি কম রোধ যুক্ত করে। এই রোধকে শান্ট (Shunt) রেজিস্ট্যান্স বলে। অ্যামিটারের রেঞ্জ বাড়াতে হলে বেশি প্রবাহের বেশিরভাগ অংশ শান্টের মধ্য দিয়ে যেতে দিতে হবে, যাতে যন্ত্রের মূল কুণ্ডলী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তার জন্য শান্টের রোধ কমাতে হয়। গ্যালভানোমিটারের রোধ r হলে n গুণ বেশি প্রবাহ মাপতে হলে শান্টের রোধ হবে r/(n−1)।
মনে রাখুন:
অ্যামিটার বর্তনীর শ্রেণিতে যুক্ত করতে হয় এবং এর রোধ খুব কম হওয়া উচিত।
ভোল্টমিটার সমান্তরালে লাগানো হয় এবং এর রোধ অনেক বেশি।
ভোল্টমিটারের রেঞ্জ বাড়াতে শ্রেণিতে উচ্চ রোধ যুক্ত করা হয়। - ৫৩. নিচের কোনটির প্রথম আয়নিকরণ শক্তি কম?
- ক. B
- খ. C
- গ. Al
- ঘ. Si
উত্তর: গ. Al
কোনো গ্যাসীয় পরমাণু থেকে সবচেয়ে দুর্বলভাবে আটকে থাকা ইলেকট্রনটি বের করতে যে শক্তি লাগে, তাকে প্রথম আয়নিকরণ শক্তি (Ionization Energy) বলে। পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে সাধারণত এটি বাড়ে, আর একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচে নামলে এটি কমে। B ও C দ্বিতীয় পর্যায়ের, তাই এদের আয়নিকরণ শক্তি বেশি। Al ও Si তৃতীয় পর্যায়ের এবং বড় আকারের। এদের মধ্যে Al-এর পারমাণবিক সংখ্যা কম, ফলে এর ইলেকট্রন সবচেয়ে সহজে বের হয়। তাই Al-এর আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন: আয়নিকরণ শক্তির মান (kJ/mol) B প্রায় ৮০১, C প্রায় ১০৮৬, Al প্রায় ৫৭৮ এবং Si প্রায় ৭৮৬। - ৫৬. ফেনফ্যালিন নির্দেশকের অম্লীয় মাধ্যমে বর্ণ—
- ক. হলুদ
- খ. লাল
- গ. কমলা
- ঘ. বর্ণহীন
উত্তর: ঘ. বর্ণহীন
ফেনফ্যালিন (Phenolphthalein) একটি জৈব নির্দেশক, যার রং পরিবেশের pH অনুসারে বদলায়। অম্লীয় ও প্রশম মাধ্যমে এটি বর্ণহীন থাকে। তীব্র ক্ষারীয় মাধ্যমে এটি গোলাপি-লালচে বেগুনি রং ধারণ করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষার দিয়ে অম্লের অনুমাপনে (Titration) শেষ বিন্দু বোঝার জন্য ফেনফ্যালিন ব্যবহার হয়। ফেনফ্যালিন একটি দুর্বল অম্ল। অম্লীয় মাধ্যমে এর আয়নন কমে যায় বলে রং দেখা যায় না, আর ক্ষারে আয়নিত হলে গোলাপি রং আসে।
মনে রাখুন:
লিটমাস: অম্লে লাল, ক্ষারে নীল।
মিথাইল অরেঞ্জ: অম্লে লাল, ক্ষারে হলুদ।
ফেনফ্যালিনের রং পরিবর্তনের pH পরিসর প্রায় ৮.২ থেকে ১০।
দুর্বল অম্ল ও তীব্র ক্ষারের অনুমাপনে ফেনফ্যালিন উপযোগী। - ৫৭. কোন বস্তুর গতি যদি আলোর গতির সমান হয় তাহলে এটির দৈর্ঘ্য পরিমার্জিত হয়ে কত হবে?
- ক. অসীম
- খ. দ্বিগুণ
- গ. অর্ধেক
- ঘ. শূন্য
উত্তর: ঘ. শূন্য
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে খুব উচ্চ বেগে চলমান বস্তুর দৈর্ঘ্য গতির দিকে ছোট হয়ে যায়। একে দৈর্ঘ্য সংকোচন (Length Contraction) বলে। সূত্রটি L = L₀√(1 − v²/c²), যেখানে L₀ হলো স্থির অবস্থায় দৈর্ঘ্য। বস্তুর বেগ v আলোর বেগ c-এর সমান হলে √(1 − 1) = 0, ফলে L = 0। অর্থাৎ দৈর্ঘ্য শূন্য হয়ে যায়। বাস্তবে ভরযুক্ত কোনো বস্তুর বেগ আলোর বেগে পৌঁছাতে পারে না।
মনে রাখুন:
চলমান বস্তুর সময় ধীর হয়, একে সময় দীর্ঘায়ন বলে।
বেগ বাড়লে বস্তুর ভর বাড়ে।
আলোর বেগ প্রায় ৩×10⁸ ms⁻¹। - ৫৯. একটি সোডিয়াম পরমাণুর ভর কত?
- ক. 3.82×10⁻²³g
- খ. 4.82×10⁻²³g
- গ. 5.82×10⁻²³g
- ঘ. 6.82×10⁻²³g
উত্তর: ক. 3.82×10⁻²³g
এক মোল সোডিয়ামের ভর ২৩ গ্রাম, এবং এতে ৬.০২৩×10²³টি পরমাণু থাকে। তাই একটি পরমাণুর ভর হলো মোলার ভরকে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া মান। অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান জানা থাকলে এভাবে যেকোনো মৌলের একটি পরমাণুর ভর সহজেই বের করা যায়। এই ভর এত ক্ষুদ্র যে কোনো সাধারণ নিক্তিতে মাপা সম্ভব নয়।
ভর = 23/(6.023×10²³) g
= 3.82×10⁻²³ g
শর্টকাট: একটি পরমাণুর ভর = পারমাণবিক ভর (গ্রামে) ÷ 6.023×10²³। এই সূত্র যেকোনো মৌলের একটি পরমাণুর ভরের জন্য খাটে।
মনে রাখুন: সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১, ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 1। এটি একটি ক্ষার ধাতু এবং কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখা হয়। - ৬২. চৌম্বক ভ্রামক একটি—
- ক. মেরুশক্তি
- খ. বিশ্বজনীন ধ্রুবক
- গ. অদিক রাশি
- ঘ. সদিক রাশি
উত্তর: ঘ. সদিক রাশি
কোনো চুম্বকের একটি মেরুর শক্তি ও দুই মেরুর মধ্যবর্তী কার্যকর দূরত্বের গুণফলকে চৌম্বক ভ্রামক (Magnetic Moment) বলে, M = m × 2l। এর দিক আছে, দক্ষিণ মেরু থেকে উত্তর মেরুর দিকে। যেসব রাশির মান ও দিক দুটোই আছে, সেগুলোকে সদিক বা ভেক্টর রাশি বলে। তাই চৌম্বক ভ্রামক সদিক রাশি। আর অদিক রাশির কেবল মান থাকে, যেমন ভর বা সময়। চৌম্বক ভ্রামক যত বেশি হয়, চুম্বক তত শক্তিশালী হয়। কোনো চুম্বক চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে তার ওপর যে টর্ক কাজ করে, তা এই রাশির ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখুন:
চৌম্বক ভ্রামকের SI একক অ্যাম্পিয়ার-বর্গমিটার (A·m²)।
বল, বেগ, ত্বরণ, ভরবেগ সদিক রাশি।
দূরত্ব, দ্রুতি, কাজ, শক্তি অদিক রাশি। - ৬৩. একটি গ্যাসীয় সিস্টেমে 110J শক্তি প্রয়োগ করা হলো এবং এটির আভ্যন্তরীণ শক্তি 40J পরিমাণ বৃদ্ধি পেল। বাহ্যিক কাজের পরিমাণ—
- ক. 150J
- খ. 70J
- গ. 110J
- ঘ. 40J
উত্তর: খ. 70J
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র আসলে শক্তির সংরক্ষণ নীতিরই একটি রূপ। এ অনুসারে সিস্টেমে যে তাপ সরবরাহ করা হয়, তা দুটি কাজে লাগে। একটি অংশ অভ্যন্তরীণ শক্তি বাড়ায়, বাকি অংশ বাইরে কাজ করে। সূত্রটি হলো ΔQ = ΔU + ΔW।
এখানে ΔQ = 110 J, ΔU = 40 J
ΔW = ΔQ − ΔU = 110 − 40 = 70 J
অর্থাৎ সিস্টেম বাইরে ৭০ জুল কাজ করেছে।
মনে রাখুন: রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় ΔQ = 0, তাই ΔW = −ΔU। সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা স্থির বলে ΔU = 0। - ৬৬. তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় কোন ক্যাটায়নটি প্রথমে চার্জমুক্ত হবে?
- ক. Ag⁺
- খ. Fe²⁺
- গ. Na⁺
- ঘ. Ca²⁺
উত্তর: ক. Ag⁺
তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় একাধিক ক্যাটায়ন (ধনাত্মক আয়ন) থাকলে যে আয়ন ইলেকট্রন সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে, সেটিই প্রথমে ক্যাথোডে চার্জমুক্ত হয়। তড়িৎ রাসায়নিক সারিতে ধাতুগুলো সক্রিয়তার ক্রমে সাজানো থাকে। যে ধাতু কম সক্রিয়, তার আয়ন সারিতে নিচের দিকে থাকে এবং ইলেকট্রন গ্রহণ করে ধাতুতে পরিণত হতে বেশি আগ্রহী। প্রদত্ত ক্যাটায়নগুলোর মধ্যে সিলভার সবচেয়ে কম সক্রিয়, তাই Ag⁺ আগে চার্জমুক্ত হবে।
মনে রাখুন: সক্রিয়তা সারি (বেশি থেকে কম): Ca > Na > Fe > Ag। তাই আগে Ag⁺, তারপর Fe²⁺ চার্জমুক্ত হয়। Na⁺ ও Ca²⁺ জলীয় দ্রবণে সাধারণত চার্জমুক্ত হয় না, সেখানে H⁺ আগে ডিসচার্জ হয়। - ৬৭. তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ বহন করে—
- ক. ধনাত্মক চার্জ
- খ. ঋণাত্মক চার্জ
- গ. কোনো চার্জ বহন করে না
- ঘ. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় চার্জই বহন করে
উত্তর: গ. কোনো চার্জ বহন করে না
তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave) তৈরি হয় পরস্পর লম্বভাবে দোলায়মান তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে। এই তরঙ্গ নিজে আধানবিহীন, অর্থাৎ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক কোনো চার্জ বহন করে না। এ কারণেই বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে একে বাঁকানো যায় না। তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ শুধু শক্তি বহন করে। এর জন্য কোনো জড় মাধ্যমের দরকার হয় না, তাই শূন্যস্থানেও এটি চলতে পারে। মজার ব্যাপার হলো, সূর্যের আলো এভাবেই শূন্যস্থান পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে।
মনে রাখুন:
শূন্যস্থানে সব তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গের বেগ ৩×10⁸ ms⁻¹।
এ তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
উদাহরণ: রেডিও তরঙ্গ, অবলোহিত রশ্মি, দৃশ্যমান আলো, X-ray, গামা রশ্মি। - ৬৮. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কোন বৈশিষ্ট্যটি প্রদর্শন করে না?
- ক. প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. অপবর্তন
- ঘ. পোলারায়ন
উত্তর: ঘ. পোলারায়ন
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ চলার দিকেই কাঁপে। ফলে এতে সংকোচন ও প্রসারণ তৈরি হয়। প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও অপবর্তন সব ধরনের তরঙ্গেই ঘটে, তাই এগুলো অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গেও দেখা যায়। কিন্তু পোলারায়ন বা সমবর্তন শুধু অনুপ্রস্থ তরঙ্গে সম্ভব। কারণ সমবর্তনে কম্পনকে একটি নির্দিষ্ট তলে সীমাবদ্ধ করা হয়, আর অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের কম্পন একটিমাত্র রেখা বরাবর হয় বলে সেখানে আলাদা তল বেছে নেওয়ার সুযোগই থাকে না। এ কারণেই শব্দ তরঙ্গের পোলারায়ন হয় না, কিন্তু আলোর হয়। এই পার্থক্য থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝেছিলেন যে আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
মনে রাখুন:
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের উদাহরণ: শব্দ তরঙ্গ।
অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ: আলো, পানির ঢেউ, দড়িতে সৃষ্ট তরঙ্গ। - ৬৯. C₅H₁₂-এর মোট সমাণুর সংখ্যা কত?
- ক. 1
- খ. 2
- গ. 3
- ঘ. 4
উত্তর: গ. 3
C₅H₁₂ হলো পেন্টেন, অর্থাৎ অ্যালকেন শ্রেণির পাঁচ কার্বনের যৌগ। এর কার্বন শৃঙ্খলের বিন্যাস তিন রকমের হতে পারে। প্রথমটি সরল শৃঙ্খল, যার নাম n-পেন্টেন। দ্বিতীয়টি একটি শাখা যুক্ত শৃঙ্খল, যার নাম আইসোপেন্টেন (২-মিথাইলবিউটেন)। তৃতীয়টির মাঝের কার্বনে দুটি শাখা থাকে, একে নিওপেন্টেন (২,২-ডাইমিথাইলপ্রোপেন) বলে। এই তিনটি যৌগের আণবিক সংকেত এক হলেও গঠন আলাদা। তাই এরা পরস্পরের সমাণু। নামকরণের জন্য আইইউপিএসি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যেখানে দীর্ঘতম কার্বন শৃঙ্খলের নামের আগে শাখার নাম ও অবস্থান বসে। সমাণুর সংখ্যা এভাবে গুনে বের করা যায়।
মনে রাখুন:
বিউটেনের (C₄H₁₀) সমাণু ২টি, হেক্সেনের (C₆H₁₄) সমাণু ৫টি।
এই সমাণুতাকে শৃঙ্খল সমাণুতা বা গাঠনিক সমাণুতা বলে। - ৭০. সঠিক সম্পর্ক কোনটি?
- ক. pH = pKa + Log [HA]/[A⁻]
- খ. pKa = pH + Log [A⁻]/[HA]
- গ. Kp = Kc(RT)^Δn
- ঘ. Kc = Kp(RT)^Δn
উত্তর: গ. Kp = Kc(RT)^Δn
গ্যাসীয় বিক্রিয়ায় সাম্যাবস্থায় আংশিক চাপের ভিত্তিতে সাম্যধ্রুবক Kp এবং ঘনমাত্রার ভিত্তিতে সাম্যধ্রুবক Kc পাওয়া যায়। আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT থেকে দেখা যায়, গ্যাসের ঘনমাত্রা ও চাপ সমানুপাতিক। এই ধারণা থেকে দুটি ধ্রুবকের সম্পর্ক দাঁড়ায় Kp = Kc(RT)^Δn। এখানে Δn = উৎপাদের মোট মোল সংখ্যা − বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা। Δn = 0 হলে Kp = Kc হয়। হেন্ডারসন-হ্যাসেলবাখ সমীকরণের সঠিক রূপ pH = pKa + log [A⁻]/[HA], তাই প্রথম দুটি সমীকরণ ভুল।
মনে রাখুন: R-এর মান 0.0821 L·atm/(mol·K), আর T-কে কেলভিনে লিখতে হয়। - ৭৫. দুর্বলতম বল কোনটি?
- ক. দুর্বল নিউক্লিয়ার বল
- খ. সবল নিউক্লিয়ার বল
- গ. মহাকর্ষ বল
- ঘ. তড়িৎ চৌম্বক বল
উত্তর: গ. মহাকর্ষ বল
প্রকৃতিতে চারটি মৌলিক বল আছে। এদের মধ্যে মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল। দুটি প্রোটনের মধ্যে মহাকর্ষ বল আর তড়িৎ চৌম্বক বলের তুলনা করলে দেখা যায়, মহাকর্ষ বল তড়িৎ চৌম্বক বলের তুলনায় প্রায় 10³⁶ গুণ কম। এই কারণে ছোট বস্তুর মধ্যে মহাকর্ষ বল আমরা টের পাই না। পৃথিবী বা সূর্যের মতো বিশাল ভরের কারণেই এটি স্পষ্ট হয়।
মনে রাখুন:
শক্তির ক্রম: সবল নিউক্লিয় > তড়িৎ চৌম্বক > দুর্বল নিউক্লিয় > মহাকর্ষ।
সবল নিউক্লিয় বল নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন-নিউট্রনকে ধরে রাখে।
দুর্বল নিউক্লিয় বলের জন্য বিটা ক্ষয় ঘটে। - ৭৭. SF₆-এর আকৃতি কেমন?
- ক. চতুস্তলকীয়
- খ. পিরামিডাল
- গ. দ্বি-পিরামিডাল
- ঘ. অষ্টতলকীয়
উত্তর: ঘ. অষ্টতলকীয়
SF₆ অণুতে কেন্দ্রীয় পরমাণু সালফারের একটি s, তিনটি p ও দুটি d অরবিটাল মিশে ছয়টি সমতুল্য sp³d² সংকর অরবিটাল গঠন করে। এই ছয়টি অরবিটাল ছয়টি ফ্লুরিন পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন গড়ে। ইলেকট্রন জোড়াগুলো পরস্পরকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে চায়, তাই অণুর আকৃতি হয় অষ্টতলকীয় (Octahedral)। এতে সব বন্ধন কোণ ৯০° এবং সালফারে কোনো মুক্তজোড় ইলেকট্রন নেই। সালফারের যোজ্যতা স্তরে d অরবিটাল থাকে বলে এটি আটটির বেশি ইলেকট্রন ধারণ করে বন্ধন গড়তে পারে। এ কারণেই SF₆ সম্ভব হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলের ক্ষেত্রে হয় না।
মনে রাখুন:
CH₄-এর আকৃতি চতুস্তলকীয় (sp³)।
NH₃-এর আকৃতি পিরামিডাল (sp³)।
PCl₅-এর আকৃতি ত্রিকোণীয় দ্বি-পিরামিডাল (sp³d)। - ৭৮. কোন প্রকার তরঙ্গ পোলারায়িত হয় না?
- ক. রেডিও তরঙ্গ
- খ. অতিবেগুনি রশ্মি
- গ. শব্দতরঙ্গ
- ঘ. X-ray
উত্তর: গ. শব্দতরঙ্গ
পোলারায়ন বা সমবর্তন শুধু অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ধর্ম। এতে কম্পনকে তরঙ্গ চলার দিকের লম্ব একটি নির্দিষ্ট তলে সীমিত করা যায়। রেডিও তরঙ্গ, অতিবেগুনি রশ্মি ও X-ray তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ, আর তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ অনুপ্রস্থ। তাই এদের পোলারায়ন সম্ভব। শব্দ তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য, যার কম্পন তরঙ্গের গতির দিকেই হয়। ফলে সেখানে কম্পনকে আলাদা তলে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ থাকে না। এ কারণে শব্দ তরঙ্গ পোলারায়িত হয় না।
মনে রাখুন:
পোলারয়েড বা পোলারাইজারের সাহায্যে আলোর সমবর্তন ঘটানো হয়।
সমবর্তন প্রমাণ করে যে আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। - ৭৯. পানির ১টি ছোট ফোঁটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতি হয়—
- ক. সান্দ্রতা
- খ. স্থিতিস্থাপকতা
- গ. প্লবতা
- ঘ. পৃষ্ঠটান
উত্তর: ঘ. পৃষ্ঠটান
তরলের মুক্ত তল সবসময় ছোট হতে চায়, যেন একটি টানটান পর্দার মতো আচরণ করে। তরল পৃষ্ঠের এই ধর্মকে পৃষ্ঠটান (Surface Tension) বলে। কারণ হলো তরলের ভেতরের অণুগুলো চারদিক থেকে আকর্ষণ পায়, কিন্তু পৃষ্ঠের অণুগুলো কেবল ভেতর ও পাশের দিকের অণুর আকর্ষণ পায়। তাই তারা ভেতরের দিকে টানা পড়ে। সমান আয়তনের সব আকারের মধ্যে গোলকের ক্ষেত্রফল সবচেয়ে কম, ফলে অল্প পানির ফোঁটা গোলাকার হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
বৃষ্টির ফোঁটা, শিশিরবিন্দু ও পারদের ছোট ফোঁটা গোলাকার, এ কারণেই।
পৃষ্ঠটান তাপমাত্রা বাড়লে কমে, আর সাবান বা ডিটারজেন্ট মেশালেও কমে।
পৃষ্ঠটানের জন্যই কিছু পোকা পানির ওপর হাঁটতে পারে। - ৮৪. অ্যালডিহাইড নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা কোনটি?
- ক. Na পরীক্ষা
- খ. 2:4 DNP টেস্ট
- গ. টলেন বিকারক
- ঘ. নেসলার দ্রবণ
উত্তর: গ. টলেন বিকারক
অ্যালডিহাইড (–CHO) ও কিটোন (>C=O) দুটিতেই কার্বনিল মূলক থাকে। কিন্তু অ্যালডিহাইড সহজেই জারিত হয়, কিটোন হয় না। এই পার্থক্য ধরেই অ্যালডিহাইড নিশ্চিত করা হয়। টলেন বিকারক (অ্যামোনিয়াযুক্ত সিলভার নাইট্রেট দ্রবণ) অ্যালডিহাইডকে জারিত করে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের লবণে পরিণত করে এবং নিজে বিজারিত হয়ে ধাতব সিলভার তৈরি করে। এটি পরীক্ষানলের গায়ে উজ্জ্বল রুপালি আস্তরণ হিসেবে দেখা যায়, একে সিলভার দর্পণ বলে। 2,4-DNP পরীক্ষা অ্যালডিহাইড ও কিটোন দুটিতেই ফল দেয়।
মনে রাখুন:
ফেহলিং দ্রবণ অ্যালডিহাইডের সঙ্গে লাল অধঃক্ষেপ দেয়।
নেসলার দ্রবণ দিয়ে অ্যামোনিয়া শনাক্ত করা হয়। - ৯১. একটি বস্তুর গতি যখন আলোর গতির কাছাকাছি হয় তখন এর ভর হয়—
- ক. অসীম
- খ. দ্বিগুণ
- গ. একই থাকে
- ঘ. শূন্য
উত্তর: ক. অসীম
আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব অনুসারে বস্তুর ভর তার গতির সঙ্গে বদলায়। সূত্রটি m = m₀/√(1 − v²/c²), যেখানে m₀ হলো স্থির অবস্থায় বস্তুর ভর, v বস্তুর বেগ, আর c আলোর বেগ। বেগ v আলোর বেগ c-এর কাছাকাছি গেলে হরের মান শূন্যের দিকে যায়, ফলে ভর m অসীমের দিকে যেতে থাকে। অসীম ভর বাড়ানোর জন্য অসীম শক্তি লাগে, আর তা কখনো সম্ভব নয়। এ কারণে কোনো ভরযুক্ত বস্তু আলোর বেগে পৌঁছাতে পারে না।
মনে রাখুন:
আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc²।
আলোর কণা ফোটনের স্থির ভর শূন্য, তাই ফোটন আলোর বেগে চলতে পারে।
এর সঙ্গে দৈর্ঘ্য সংকোচন ও সময় দীর্ঘায়নও ঘটে। - ৯৩. একটি কার্নট ইঞ্জিনের সিংকের তাপমাত্রা 27°C। এটির দক্ষতা 25% হলে উৎসের তাপমাত্রা কত?
- ক. 227°c
- খ. 327°c
- গ. 127°c
- ঘ. 27°c
উত্তর: গ. 127°c
কার্নো ইঞ্জিনের দক্ষতা নির্ভর করে উৎস ও সিংকের পরম তাপমাত্রার ওপর। সূত্রটি η = 1 − T₂/T₁, যেখানে T₁ উৎসের এবং T₂ সিংকের তাপমাত্রা (কেলভিনে)।
T₂ = 27 + 273 = 300 K, η = 25% = 0.25
0.25 = 1 − 300/T₁
300/T₁ = 0.75
T₁ = 400 K = 400 − 273 = 127°C
শর্টকাট: দক্ষতা ও সিংক তাপমাত্রা দেওয়া থাকলে T₁ = T₂/(1 − η) বের করে নিলেই চলে।
মনে রাখুন: গণনায় তাপমাত্রা সবসময় কেলভিনে ধরতে হয়। কার্নো ইঞ্জিনের দক্ষতা কখনো ১০০% হয় না, কারণ সিংকের তাপমাত্রা কখনো শূন্য কেলভিন হতে পারে না। - ৯৪. তাপহারী বিক্রিয়ার জন্য নিচের কোনটি প্রযোজ্য?
- ক. ΔH<0
- খ. ΔH>0
- গ. ΔE<0
- ঘ. ΔG>0
উত্তর: খ. ΔH>0
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পারিপার্শ্বিক থেকে তাপ শোষিত হয়, তাকে তাপহারী (Endothermic) বিক্রিয়া বলে। এতে উৎপাদের মোট এনথালপি বিক্রিয়কের মোট এনথালপির চেয়ে বেশি থাকে। তাই এনথালপির পরিবর্তন ΔH = H(উৎপাদ) − H(বিক্রিয়ক) ধনাত্মক হয়, অর্থাৎ ΔH > 0। এ ধরনের বিক্রিয়ায় পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। অপরদিকে তাপউৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক হয়। তাপহারী বিক্রিয়া চালাতে বাইরে থেকে তাপ দিতে হয়। বরফ গলা ও পানির বাষ্পীভবনও এ ধরনের পরিবর্তন, যেখানে পদার্থ চারপাশ থেকে তাপ টেনে নেয়।
মনে রাখুন:
তাপহারী: ΔH > 0, উদাহরণ: পানির বাষ্পীভবন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের দ্রবণ।
তাপউৎপাদী: ΔH < 0, উদাহরণ: দহন, প্রশমন বিক্রিয়া।
স্বতঃস্ফূর্ত বিক্রিয়ায় সাধারণত ΔG < 0 হয়।
বাংলাদেশ
- ৪. অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থটির লেখক কে?
- ক. মওলানা ভাসানী
- খ. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- গ. শেখ মুজিবুর রহমান
- ঘ. তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর: গ. শেখ মুজিবুর রহমান
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা। তিনি কারাগারে থাকাকালে খাতায় লিখে রেখেছিলেন, আর বই আকারে এটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে তাঁর শৈশব থেকে রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকের কথা আছে। মওলানা ভাসানী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধের পরিচিত নেতা, কিন্তু এই বইয়ের লেখক তাঁরা নন। তিনি ১৯৬৯ সালে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান।
মনে রাখুন:
তাঁর আরও দুটি গ্রন্থ: ‘কারাগারের রোজনামচা’ (২০১৭) ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (২০২০)।
তিনি ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মান। - ৮. বাংলাদেশের জাতীয় পাখি কোনটি?
- ক. কোকিল
- খ. দোয়েল
- গ. মাছরাঙা
- ঘ. কাক
উত্তর: খ. দোয়েল
দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। এটি আকারে ছোট একটি পাখি, গায়ের রং কালো আর সাদায় মেশানো, লেজটি প্রায়ই খাড়া করে রাখে। এর গান খুব মধুর, আর গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই সহজে চোখে পড়ে। কোকিল ও মাছরাঙা আমাদের পরিচিত পাখি হলেও জাতীয় পাখি নয়। দোয়েলের ইংরেজি নাম Oriental Magpie-Robin। ছোট ছোট পোকামাকড় এর প্রধান খাবার, আর বাংলাদেশ ছাড়া ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশেও এই পাখি দেখা যায়।
মনে রাখুন:
জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ।
জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ। - ২৬. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়—
- ক. ১৮০০ সালে
- খ. ১৮০১ সালে
- গ. ১৮৩৫ সালে
- ঘ. ১৮২১ সালে
উত্তর: ক. ১৮০০ সালে
ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি ১৮০০ সালের ৪ মে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা ও রীতিনীতি শেখানোই ছিল এর উদ্দেশ্য। কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় পরের বছর, ১৮০১ সালে। তবে প্রশ্নে প্রতিষ্ঠার কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তাই উত্তর ১৮০০ সাল।
মনে রাখুন:
বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন উইলিয়াম কেরি।
এই কলেজের পণ্ডিতরা বাংলা গদ্যের বই লেখেন, যেমন রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’।
কলেজটি ১৮৫৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়। - ২৮. বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন—
- ক. আসাদ
- খ. বরকত
- গ. নূর হোসেন
- ঘ. মোস্তফা কামাল
উত্তর: খ. বরকত
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আবুল বরকত শহিদ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বাকিরা অন্য আন্দোলনের শহিদ। আসাদ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে, নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এবং মোস্তফা কামাল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেন। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে এবং ২০০০ সাল থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
মনে রাখুন:
ভাষা আন্দোলনের অন্য শহিদ: রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, আবদুস সালাম ও শফিউর রহমান।
মোস্তফা কামাল বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন। - ৩৭. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
- ক. ৯ মার্চ
- খ. ২৬ মার্চ
- গ. ২৭ মার্চ
- ঘ. ১০ এপ্রিল
উত্তর: খ. ২৬ মার্চ
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়, তাই এই দিনই স্বাধীনতা দিবস। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা গণহত্যা শুরু করার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠান। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, ২৭ মার্চও তিনি আবার তা পাঠ করেন।
মনে রাখুন:
১০ এপ্রিল ১৯৭১: মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১: মুজিবনগরে (মেহেরপুর) সরকারের শপথ গ্রহণ।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: বিজয় দিবস। - ৫০. Who composed our national song?
- ক. Rabindranath Tagore
- খ. Shamsur Rahman
- গ. Kazi Nazrul Islam
- ঘ. Munir Chowdhury
উত্তর: ক. Rabindranath Tagore
‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় রচনা করেন। বাংলার বাউল গগন হরকরার গানের সুরে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এর সুর দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়। তাই জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ। তিনি ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন-অধিনায়ক’-এরও রচয়িতা। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। এশীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার লাভ করেন।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের রণসংগীত ‘চল চল চল’ কাজী নজরুল ইসলামের লেখা।
জাতীয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ শামসুর রাহমানের লেখা। - ৫৫. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার কে?
- ক. ডা. দীপু মনি
- খ. ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
- গ. জনাব ফজলে রাব্বী
- ঘ. বেগম সাজেদা চৌধুরী
উত্তর: খ. ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
পরীক্ষার সময় (২০২১) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করেন। স্পিকার সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করতে পারেন। অন্য বিকল্পের মধ্যে ডা. দীপু মনি ও সাজেদা চৌধুরী মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।
হালনাগাদ: ২০২৪ সালের আগস্টে সংসদ ভেঙে যায় এবং ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১২ মার্চ ২০২৬ হাফিজ উদ্দিন আহমদ নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন।
মনে রাখুন: জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি, এর মধ্যে ৩০০টি নির্বাচিত এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। - ৫৮. ইবনে বতুতা কোন শতকে বাংলাদেশে আসেন?
- ক. চতুর্দশ
- খ. ত্রয়োদশ
- গ. পঞ্চদশ
- ঘ. অষ্টাদশ
উত্তর: ক. চতুর্দশ
মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতকে, ১৩৪৬ সালের কাছাকাছি সময়ে বাংলায় আসেন। তখন সোনারগাঁওয়ের সুলতান ছিলেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ। ইবনে বতুতা সিলেটে শাহজালালের সঙ্গে দেখা করেন এবং সোনারগাঁও হয়ে চীনের পথে রওনা দেন। তাঁর ভ্রমণ কাহিনির নাম ‘রিহলা’। এই বই থেকে আমরা সে সময়ের বাংলার জীবনযাত্রা আর শাসকদের কথা জানতে পারি। বাংলা সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা আজও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
মনে রাখুন:
ইবনে বতুতার জন্ম মরক্কোর তাঞ্জিয়ারে।
চতুর্দশ শতক মানে ১৩০১ থেকে ১৪০০ সাল।
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সপ্তম শতকে বাংলায় এসেছিলেন। - ৭৩. বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দর কয়টি?
- ক. ১টি
- খ. ২টি
- গ. ৩টি
- ঘ. ৪টি
উত্তর: গ. ৩টি
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর তিনটি: চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এবং এটিই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। মোংলা বন্দর বাগেরহাট জেলায় পশুর নদীর তীরে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে গড়ে ওঠা পায়রা বন্দর সবচেয়ে নতুন। এটি ২০১৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে। সমুদ্রবন্দর আর স্থলবন্দর আলাদা জিনিস। সাগরের তীরের বন্দর সমুদ্রবন্দর, আর সীমান্তের বন্দর স্থলবন্দর। দেশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের বড় অংশ এই তিনটি বন্দরের ওপরই নির্ভর করে, তাই বন্দরগুলোর নাম ও অবস্থান একসঙ্গে মনে রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়।
বেনাপোল দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর।
মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে। - ৮৬. বাংলাদেশে জেল হত্যা দিবস কোনটি?
- ক. ১০ জানুয়ারি
- খ. ৩ নভেম্বর
- গ. ৭ নভেম্বর
- ঘ. ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর: খ. ৩ নভেম্বর
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হলে ক্ষমতা নেয় খন্দকার মোশতাক। এর কিছুদিন পর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়। তাই ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। এই চার নেতা হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামান। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারে তাঁরা ছিলেন প্রধান দায়িত্বে: সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মনে রাখুন:
৭ নভেম্বর: সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস।
১৪ ডিসেম্বর: শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
১০ জানুয়ারি: বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস (১৯৭২)। - ৯২. বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয় কোন তারিখে?
- ক. ২১ ফেব্রুয়ারি
- খ. ১৫ আগস্ট
- গ. ৩ নভেম্বর
- ঘ. ১৮ ডিসেম্বর
উত্তর: খ. ১৫ আগস্ট
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। এই দিনটি স্মরণে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতো। ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস, ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়।
হালনাগাদ: ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে।
মনে রাখুন: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস।
ইংরেজি
- ৬. A mobile phone is an important medium of—
- ক. denial
- খ. cover
- গ. communication
- ঘ. withholding
উত্তর: গ. communication
বাক্যে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মাধ্যম’। এমন মাধ্যম হিসেবে অর্থপূর্ণ শব্দ হলো communication, অর্থাৎ যোগাযোগ। Denial মানে অস্বীকার, cover মানে ঢাকনা বা আবরণ, আর withholding মানে আটকে রাখা, এগুলো মোবাইল ফোনের কাজের সঙ্গে মেলে না। মোবাইল ফোনে আমরা কথা বলি, বার্তা পাঠাই, আর এভাবেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি।
উদাহরণ: The internet is a medium of communication.
মনে রাখুন:
Communication-এর verb ‘communicate’।
Communicative হলো এর adjective, অর্থ কথা বলতে ইচ্ছুক বা কথা প্রকাশ করতে পটু। - ১০. 'In black and white' means —
- ক. In writing
- খ. Orally
- গ. Directly
- ঘ. Painted
উত্তর: ক. In writing
‘In black and white’ একটি ইংরেজি বাগধারা (Idiom), যার অর্থ লিখিতভাবে বা ছাপার অক্ষরে। কোনো কথা মুখে বলা থাকলে তা নিয়ে পরে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু কালো কালিতে সাদা কাগজে লেখা থাকলে সেটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাগধারাটির উৎপত্তি এখান থেকেই। বাকি অর্থগুলো আলাদা: Orally মানে মৌখিকভাবে, Directly মানে সরাসরি, আর Painted মানে রং করা।
উদাহরণ: I want the agreement in black and white.
মনে রাখুন: Black and white-এর আরেক অর্থ রংহীন বা সাদাকালো ছবি। - ১১. Which one is the appropriate preposition? A boy stood — the door.
- ক. on
- খ. by
- গ. with
- ঘ. at
উত্তর: ঘ. at
দরজার কাছে নির্দিষ্ট একটি স্থান বা বিন্দুতে অবস্থান বোঝাতে ‘at the door’ বলা হয়। ‘A boy stood at the door’ বাক্যে ছেলেটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, এমন অর্থ প্রকাশ পায়। ‘On’ ও ‘with’ এখানে অর্থপূর্ণ নয়। ‘By’ বসালে দরজার পাশে দাঁড়ানো বোঝাতে পারে, তবে নির্দিষ্ট অবস্থান হিসেবে at-ই প্রচলিত। ইংরেজিতে ‘knock at the door’ বাক্যাংশটিও এভাবেই চালু আছে।
উদাহরণ: She is waiting at the gate.
মনে রাখুন:
At বসে নির্দিষ্ট স্থান বা বিন্দু বোঝাতে, যেমন at the bus stop।
In বসে বড় স্থান বা ঘেরা জায়গায়, যেমন in the room, in Dhaka। - ১৬. Which one is correct?
- ক. This is a fine poetry.
- খ. This is an fine poetry.
- গ. This is the fine poetry.
- ঘ. This is a fine poem.
উত্তর: ঘ. This is a fine poem.
‘Poetry’ একটি uncountable noun, অর্থাৎ এমন শব্দ, যাকে এক-দুই করে গোনা যায় না। তাই এর আগে ‘a’ বা ‘an’ বসে না। আবার ‘an’ বসে স্বরধ্বনি দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের আগে, অথচ ‘fine’ শব্দটি ব্যঞ্জনধ্বনি দিয়ে শুরু, তাই ‘an fine’ও ভুল। ‘Poem’ একটি countable noun, তাই ‘This is a fine poem’ সঠিক বাক্য। কোনো নির্দিষ্ট কবিতার কথা না বললে ‘the’ বসানোও এখানে যুক্তিসংগত নয়।
উদাহরণ:
This is a fine piece of poetry.
মনে রাখুন:
Poetry-কে গণনা করতে হলে ‘a piece of poetry’ বলতে হয়।
Furniture, information ও advice-ও uncountable noun, এদের আগেও a বা an বসে না। - ১৭. Fill in the gap with right word. A mango — to fall.
- ক. had seen
- খ. was seen
- গ. saw
- ঘ. have been seen
উত্তর: খ. was seen
বাক্যটির অর্থ হলো আমের পড়ে যাওয়া দেখা গিয়েছিল। এখানে আম নিজে কাউকে দেখছে না, বরং আমকে অন্য কেউ দেখেছে। তাই কর্মবাচ্য (Passive Voice) দরকার, আর অতীতের ঘটনা বলে verb হবে was seen। Subject a mango একবচন, তাই have been seen বসে না। had seen বা saw কর্তৃবাচ্যের রূপ, ফলে সেগুলো এখানে মানায় না।
পুরো বাক্য: A mango was seen to fall.
মনে রাখুন:
Passive Voice-এর গঠন: Subject + be-verb + past participle।
see, hear, watch, notice জাতীয় verb-এর passive-এ পরে সাধারণত to + verb বসে, যেমন: He was seen to enter the house. - ১৮. What kind of noun is Dhaka?
- ক. collective
- খ. proper
- গ. common
- ঘ. material
উত্তর: খ. proper
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা বস্তুর বিশেষ নামকে নামবাচক বিশেষ্য (Proper Noun) বলে। Dhaka আমাদের রাজধানী শহরের একটি নির্দিষ্ট নাম, তাই এটি proper noun। বাকি তিনটি আলাদা ধরনের noun। Collective noun দলবাচক, যেমন class বা team। Common noun একই শ্রেণির সবার সাধারণ নাম, যেমন city বা river। আর material noun এমন বস্তুর নাম, যা দিয়ে অন্য জিনিস তৈরি হয়, যেমন gold বা iron। Dhaka-র জায়গায় যদি শুধু city লেখা হতো, তাহলে সেটি common noun হয়ে যেত, কারণ city যে কোনো শহরকেই বোঝায়।
মনে রাখুন:
Proper noun-এর প্রথম অক্ষর সব সময় বড় হাতের (capital) হয়।
Noun মোট পাঁচ প্রকার: proper, common, collective, material ও abstract।
উদাহরণ: Bangladesh, Padma, Rabindranath, Monday। - ২৫. The word 'hungry' means—
- ক. Empty
- খ. Take
- গ. Eat
- ঘ. Starving
উত্তর: ঘ. Starving
Hungry মানে ক্ষুধার্ত। Starving শব্দটিও প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে, তবে এর জোর আরও বেশি, অর্থাৎ না খেতে পেয়ে কষ্টে থাকা বা অনাহারী। অন্য বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা: Empty মানে খালি, Take মানে নেওয়া এবং Eat মানে খাওয়া। এদের কোনোটিই ক্ষুধার্ত অবস্থা বোঝায় না। এই শব্দগুলো বাক্যে ব্যবহার করলে পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়। যেমন The child is hungry (শিশুটি ক্ষুধার্ত) এবং The starving people need food (অনাহারী মানুষদের খাবার দরকার)।
মনে রাখুন:
Hungry-এর বিপরীত শব্দ Full বা Satisfied (পরিতৃপ্ত)।
Hunger হলো noun, অর্থ ক্ষুধা। Famine মানে দুর্ভিক্ষ।
Famished ও ravenous শব্দ দুটিও অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থা বোঝায়।
Hungry for power বললে ক্ষমতার জন্য আকাঙ্ক্ষী বোঝায়। - ৩৪. Fill in the blanks. It being a hot day, I — not like to go out of the room.
- ক. shall
- খ. will
- গ. did
- ঘ. do
উত্তর: ঘ. do
বাক্যে ‘a hot day’ বলায় একটি সাধারণ অবস্থা বোঝাচ্ছে। অর্থাৎ গরমের দিনে আমি ঘর থেকে বের হতে চাই না, এটি সাধারণভাবে সত্য কথা। এই ধরনের নিয়মিত বা সাধারণ ঘটনা বোঝাতে Present Indefinite Tense হয়। I-এর সঙ্গে নেতিবাচক রূপে do not বসে। তাই সঠিক উত্তর do। Shall ও will ভবিষ্যৎ কালের কথা বলে, আর did অতীত কালের কথা বলে। এই বাক্যে এগুলো ব্যবহার করলে অর্থ আর কাঠামো মেলে না।
মনে রাখুন:
Present Indefinite-এ negative-এর গঠন: Subject + do/does + not + verb।
I, we, you, they-এর সঙ্গে do এবং he, she, it-এর সঙ্গে does বসে।
উদাহরণ: I do not like tea. He does not like tea. - ৩৫. Translate— তুমি যদি আরো আগে আসতে—
- ক. I wish you would come ago.
- খ. I wish you will come earlier.
- গ. I wish you came earlier.
- ঘ. I wish you come earlier.
উত্তর: গ. I wish you came earlier.
‘তুমি যদি আরো আগে আসতে’ বাক্যটিতে অতীতের একটি অপূর্ণ ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে। এমন ইচ্ছা বোঝাতে I wish-এর পরে বাক্যের subject-এর সঙ্গে verb-এর past form বসে। তাই I wish you came earlier সঠিক। এখানে will বা present form বসানো যায় না। প্রথম বিকল্পে ‘come ago’ ভুল প্রয়োগ।
মনে রাখুন:
I wish I were a bird. (অসম্ভব ইচ্ছায় সব subject-এর সঙ্গে were)
It is time you went home. (it is time-এর পরেও past form)
He talks as if he knew everything. - ৩৬. Fill in the blank with appropriate phrase. — grapes is lying on the table.
- ক. A series of
- খ. A set of
- গ. A bunch of
- ঘ. A chain of
উত্তর: গ. A bunch of
আঙুর থোকায় থোকায় ফলে। ইংরেজিতে এমন থোকা বা গুচ্ছ বোঝাতে a bunch of ব্যবহার করা হয়, তাই A bunch of grapes সঠিক। Series মানে পরপর সাজানো ধারা, যেমন a series of events। Set মানে একই ধরনের জিনিসের সংগ্রহ, যেমন a set of tools। আর chain মানে শিকল বা সারি, যেমন a chain of mountains। এগুলো আঙুরের থোকা বোঝাতে মানায় না। A bunch of শব্দটি শুধু আঙুরের জন্য নয়, চাবি বা কলার মতো গুচ্ছ আকারের জিনিসের জন্যও চলে।
মনে রাখুন: ইংরেজিতে সমষ্টি বোঝানোর কিছু শব্দ:
a bunch of flowers (ফুলের তোড়া)
a flock of sheep (ভেড়ার পাল)
a fleet of ships (জাহাজের বহর)
a swarm of bees (মৌমাছির ঝাঁক)
a bouquet of roses (গোলাপের গুচ্ছ) - ৪৫. — is a good exercise.
- ক. Swim
- খ. Swimming
- গ. Swims
- ঘ. Swam
উত্তর: খ. Swimming
বাক্যের শুরুতে খালি জায়গায় এমন শব্দ বসবে, যা বাক্যের কর্তা (subject) হতে পারে। Swim একটি verb, তাই এটি সরাসরি কর্তা হয় না। Verb-এর সঙ্গে ing যোগ করলে সেটি Gerund হয়, অর্থাৎ verb হয়েও noun-এর কাজ করে। তাই Swimming is a good exercise সঠিক, যার অর্থ সাঁতার কাটা ভালো ব্যায়াম। Swims ও Swam verb-এর অন্য রূপ, তাই এখানে বসে না।
মনে রাখুন:
Gerund = Verb + ing, কাজ করে noun-এর মতো।
উদাহরণ: Reading is a good habit.
Seeing is believing. - ৪৮. The sun is getting hotter. Here 'getting' means—
- ক. Having
- খ. Taking
- গ. Receiving
- ঘ. Becoming
উত্তর: ঘ. Becoming
‘The sun is getting hotter’ বাক্যে getting-এর অর্থ হতে চলা বা পরিণত হওয়া। সূর্য ক্রমে বেশি গরম হয়ে উঠছে, এটাই বাক্যের ভাব। এই অর্থের জন্য সঠিক শব্দ becoming। Get যখন কোনো adjective-এর আগে বসে, তখন তা প্রায়ই become-এর মতো কাজ করে। যেমন It is getting dark মানে অন্ধকার হয়ে আসছে। Having মানে থাকা, Receiving মানে গ্রহণ করা এবং Taking মানে নেওয়া। এগুলো এখানে মানায় না।
মনে রাখুন: Get-এর কয়েকটি সাধারণ অর্থ:
get up = ঘুম থেকে ওঠা
get along = মিলেমিশে চলা
get well = সুস্থ হওয়া
get a prize = পুরস্কার পাওয়া
get to school = স্কুলে পৌঁছানো - ৫৪. Which one is a negative sentence?
- ক. They know me.
- খ. Have I not help him?
- গ. Put out the lamp.
- ঘ. I have not any good friend.
উত্তর: ঘ. I have not any good friend.
যে বাক্যে not, no বা never জাতীয় শব্দ থাকে এবং কোনো কাজ না হওয়ার কথা বোঝায়, সেটি নেতিবাচক বাক্য (Negative Sentence)। I have not any good friend বাক্যে not আছে, তাই এটি negative। They know me হলো সাধারণ হ্যাঁ-বোধক বাক্য আর Put out the lamp আদেশ। Have I not help him? প্রশ্নবোধক, তা ছাড়া এর গঠনও ভুল, কারণ Have-এর পরে help নয়, helped বসত।
মনে রাখুন:
Affirmative: I have a friend.
Negative: I have no friend.
Interrogative: Have I a friend? - ৬১. What is the antonym of the word 'guilty'?
- ক. proud
- খ. innocent
- গ. gentle
- ঘ. cruel
উত্তর: খ. innocent
Guilty মানে দোষী, অর্থাৎ যে অপরাধ করেছে। এর বিপরীত শব্দ Innocent, অর্থ নির্দোষ বা নিরপরাধ। আদালতের ভাষায় দুটি রায় আছে। আসামি দোষী প্রমাণিত হলে বলা হয় guilty, আর প্রমাণ না হলে বলা হয় not guilty। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা অর্থ বহন করে: Proud মানে গর্বিত, Gentle মানে ভদ্র ও কোমল, আর Cruel মানে নিষ্ঠুর। এদের কোনোটিই দোষী-নির্দোষের বিপরীত সম্পর্ক বোঝায় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: The court found him guilty।
মনে রাখুন:
Guilty-এর noun রূপ guilt (অপরাধবোধ)।
Innocent-এর noun innocence (নির্দোষিতা)।
Guilty-এর সমার্থক শব্দ culpable।
Innocent-এর সমার্থক শব্দ guiltless। - ৬৪. Find out the principal verb :
- ক. read
- খ. can
- গ. would
- ঘ. be
উত্তর: ক. read
Principal verb বা মূল ক্রিয়া হলো এমন verb, যা বাক্যে প্রধান কাজ বোঝায়। Read মানে পড়া, তাই এটি principal verb। Can ও would হলো Modal Auxiliary, যেগুলো অন্য verb-কে সাহায্য করে। আর be সাধারণত সাহায্যকারী verb (Auxiliary) হিসেবে কাজ করে, যদিও কখনো কখনো একাই মূল verb হতে পারে।
মনে রাখুন:
Modal verb: can, could, may, might, shall, should, will, would, must, ought to।
উদাহরণ: He can read. এখানে can modal, read principal verb। - ৬৫. Which one is correct?
- ক. How much late was he?
- খ. How much late he was?
- গ. How late was he?
- ঘ. How much later he was?
উত্তর: গ. How late was he?
ইংরেজিতে ‘কত দেরি’ বোঝাতে How late ব্যবহার করা হয়, এবং How-এর পরে adjective বসলে much আলাদাভাবে আর লাগে না। প্রশ্নবাচক বাক্যে এরপর auxiliary verb আর তারপর subject বসে। তাই How late was he? সঠিক। How much late was he? এবং How much later he was? উভয়ই ভুল, কারণ much এখানে বাড়তি। আর How late he was? প্রশ্নের গঠনে ভুল।
মনে রাখুন:
How old are you?
How far is the station?
How long did it take? - ৮৮. How — coffee do you want?
- ক. many
- খ. more
- গ. most
- ঘ. much
উত্তর: ঘ. much
Coffee এমন জিনিস, যা গুনে গুনে গণনা করা যায় না, তাই এটি অগণনীয় বিশেষ্য (Uncountable Noun)। পরিমাণ জিজ্ঞাসা করতে অগণনীয় বিশেষ্যের আগে How much বসে। গণনীয় বিশেষ্যের আগে How many বসে। কাজেই How much coffee do you want? সঠিক। More ও most তুলনা বোঝায়, তাই প্রশ্নের এই জায়গায় মানায় না। একই নিয়ম a few ও a little, few ও little, many ও much জোড়ায়ও দেখা যায়। প্রথম শব্দটি গণনীয় এবং দ্বিতীয়টি অগণনীয় শব্দের সঙ্গে বসে।
মনে রাখুন:
How many books? (গণনীয়)
How much water? (অগণনীয়)
অগণনীয় শব্দ: milk, rice, water, sugar, information।
How many cups of coffee do you want? বাক্যে cups গণনীয় বলে many বসেছে।
আন্তর্জাতিক
- ২০. যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ভাইস-প্রেসিডেন্টের নাম কী?
- ক. হিলারি ক্লিনটন
- খ. কন্ডোলিসা রাইস
- গ. কমলা হ্যারিস
- ঘ. ন্যান্সি পেলোসি
উত্তর: গ. কমলা হ্যারিস
প্রশ্নটির পরীক্ষার সময় (২০২১) যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন কমলা হ্যারিস। তিনি আগে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ছিলেন। ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের সঙ্গে নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেন। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট। বাকি তিনজনের নামও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিচিত, কিন্তু তাঁরা এই পদে আসেননি। হিলারি ক্লিনটন একসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, কন্ডোলিসা রাইসও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন, আর ন্যান্সি পেলোসি প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ছিলেন।
হালনাগাদ: ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং জেডি ভ্যান্স দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হন।
মনে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে সিনেটের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। জো বাইডেন ছিলেন দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট। - ২৭. সৌদি আরবের মুদ্রার নাম কী?
- ক. দিনার
- খ. দিরহাম
- গ. লিরা
- ঘ. রিয়াল
উত্তর: ঘ. রিয়াল
সৌদি আরবের মুদ্রার নাম রিয়াল (Riyal)। আরব বিশ্বের অনেক দেশেই মুদ্রার নামে দিনার, দিরহাম বা রিয়াল শব্দ পাওয়া যায়, তাই এগুলো গুলিয়ে ফেলা সহজ। দিনার চলে কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান ও আলজেরিয়ায়। দিরহাম চলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোতে। লিরা তুরস্ক ও লেবাননের মুদ্রা। প্রশ্নে চারটি বিকল্পের তিনটিই অন্য দেশের মুদ্রার নাম, তাই দেশের নামের সঙ্গে মুদ্রার নাম মিলিয়ে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন:
রিয়াল চলে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও ইয়েমেনে।
ইরানের মুদ্রার নামও রিয়াল (Rial), তবে বানান আলাদা।
কুয়েতি দিনার বিশ্বের অন্যতম দামি মুদ্রা। - ৪১. কোন দেশকে 'ধীবরের দেশ' বলা হয়?
- ক. নরওয়ে
- খ. থাইল্যান্ড
- গ. মালয়েশিয়া
- ঘ. ফিলিপাইন
উত্তর: ক. নরওয়ে
নরওয়ে ইউরোপের উত্তরের একটি দেশ। এর উপকূল অনেক লম্বা এবং সাগরের পানিতে মাছ প্রচুর পাওয়া যায়, তাই অনেক নরওয়েজীয় মানুষের জীবিকা মাছ ধরা ও মাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে দেশটিকে ‘ধীবরের দেশ’ বা জেলের দেশ বলা হয়। ধীবর মানে জেলে বা মৎস্যজীবী। নরওয়ের উপকূলে সাগর ঢুকে পড়া সরু, গভীর খাঁড়ি আছে, যেগুলোকে ফিয়র্ড (Fjord) বলে। দেশগুলোর এমন ডাকনাম পরীক্ষায় প্রায়ই আসে, তাই কয়েকটি একসঙ্গে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন:
নরওয়েকে ‘মধ্যরাতের সূর্যের দেশ’ বা ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ও বলা হয়।
নরওয়ের রাজধানী অসলো।
নরওয়ে সালমন মাছের রপ্তানির জন্য বিখ্যাত।
থাইল্যান্ডকে বলা হয় ‘শ্বেত হাতির দেশ’, জাপানকে ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’। - ৫২. কোভিড-১৯ চীনের কোন শহর/প্রদেশে সর্বপ্রথম শুরু হয়?
- ক. বেইজিং
- খ. উইঘুর
- গ. উহান
- ঘ. গুয়ানজো
উত্তর: গ. উহান
কোভিড-১৯ রোগের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেখানে অজানা নিউমোনিয়ার মতো রোগী পাওয়া যায়। পরে রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। উহান হুবেই প্রদেশের রাজধানী। বেইজিং চীনের রাজধানী, আর উইঘুর একটি জাতিগোষ্ঠীর নাম। কিন্তু রোগের শুরু এই দুই জায়গায় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রোগটির নাম রাখে COVID-19।
মনে রাখুন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ মার্চ কোভিড-১৯কে অতিমারি (Pandemic) ঘোষণা করে।
বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ।
এই রোগের কারণ SARS-CoV-2 নামের একটি ভাইরাস। - ৮০. যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কে?
- ক. মার্গারেট থেচার
- খ. এঞ্জেলা মার্কেল
- গ. বরিস জনসন
- ঘ. তেরেসা মে
উত্তর: গ. বরিস জনসন
প্রশ্নটি ২০২১ সালের পরীক্ষার। তখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বরিস জনসন, তিনি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তেরেসা মের পরে প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি লন্ডনের মেয়র ছিলেন। মার্গারেট থ্যাচার ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অ্যাঙ্গেলা মার্কেল জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন, যুক্তরাজ্যের নন।
হালনাগাদ: ২০২৪ সালের জুলাইতে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন, এবং ২০২৬ সালের জুলাইতে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
মনে রাখুন:
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।
সেখানে সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধান রাজা বা রানি। - ৮২. জাতিসংঘের সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. ওয়াশিংটন
- খ. ব্রাসেলস
- গ. জেনেভা
- ঘ. নিউইয়র্ক
উত্তর: ঘ. নিউইয়র্ক
জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে শান্তি রক্ষার জন্য ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে, সেই দিনটিই জাতিসংঘ দিবস। ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী, ব্রাসেলস ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেন্দ্র, আর জেনেভায় জাতিসংঘের একটি বড় অফিস আছে, তবে সদর দপ্তর নয়। জাতিসংঘের আগে জাতিপুঞ্জ (League of Nations) নামে একটি সংস্থা ছিল, যার কেন্দ্র ছিল জেনেভায়।
মনে রাখুন:
জাতিসংঘের মোট সদস্যরাষ্ট্র ১৯৩টি, সর্বশেষ সদস্য দক্ষিণ সুদান (২০১১)।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্য হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ৫টি। - ৮৭. ক্রেমলিন কোথায় অবস্থিত?
- ক. বেইজিং
- খ. লন্ডন
- গ. এথেন্স
- ঘ. মস্কো
উত্তর: ঘ. মস্কো
ক্রেমলিন হলো রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কেন্দ্রে অবস্থিত একটি প্রাচীন দুর্গ ও প্রাসাদ চত্বর। ‘ক্রেমলিন’ শব্দের অর্থই দুর্গ। সেখানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির দপ্তর রয়েছে, তাই ক্রেমলিন শব্দটি রাশিয়ার সরকারকেও বোঝায়। ক্রেমলিনের পাশেই বিখ্যাত রেড স্কোয়ার। বেইজিং চীনের, লন্ডন যুক্তরাজ্যের আর এথেন্স গ্রিসের রাজধানী। এসব বিকল্পের কোনোটিতেই ক্রেমলিন নেই। বিভিন্ন দেশের সরকারি দপ্তরের নাম আলাদা করে মনে রাখা পরীক্ষায় কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দপ্তর হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পেন্টাগন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এলিসি প্রাসাদ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। - ৮৯. বিশ্বকাপ ক্রিকেট কত বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়?
- ক. ২ বছর
- খ. ৩ বছর
- গ. ৪ বছর
- ঘ. ৫ বছর
উত্তর: গ. ৪ বছর
ক্রিকেট বিশ্বকাপ (ওয়ানডে) প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আসর বসে ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে, তাতে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ (১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩) ইংল্যান্ডে হয়। ১৯৮৭ সালে প্রথম ইংল্যান্ডের বাইরে ভারত ও পাকিস্তানে আয়োজিত হয়। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় এবং ২০৩১ সালেরটি ভারত ও বাংলাদেশে হওয়ার কথা।
মনে রাখুন:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয় সাধারণত দুই বছর পরপর।
বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলে।
১৯৮৩ সালে চ্যাম্পিয়ন ভারত, ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কা। - ৯৫. অর্থনীতিতে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পান—
- ক. Irma Adelman
- খ. Joan Robinson
- গ. Elinor Ostrom
- ঘ. Paul Milgrom
উত্তর: ঘ. Paul Milgrom
২০২০ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ পল মিলগ্রম (Paul Milgrom) ও রবার্ট উইলসন। নিলাম ডাকার নতুন পদ্ধতি তৈরি করা এবং নিলাম তত্ত্বের উন্নতির জন্য তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হয়। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে এলিনর অস্ট্রম ২০০৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান। ইর্মা অ্যাডেলম্যান ও জোয়ান রবিনসন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ হলেও নোবেল পাননি।
মনে রাখুন:
এলিনর অস্ট্রম অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া প্রথম নারী।
২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডুফলো ও মাইকেল ক্রেমার।
বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পান।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি): অন্যান্য পরীক্ষা
- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) অফিস সহায়ক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
- জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ডাক অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহকারী সাইফার কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার, কম্পিউটার) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ) ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- গণপূর্ত অধিদপ্তর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটসম্যান (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপসহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- নার্সিং সেবা অধিদপ্তর মিডওয়াইফ নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্টেশন অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ (সাধারণ পুল) প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) প্রশাসনিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন