কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ১৮ মার্চ ২০২৩। ১৯৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। শুধু সাধারণ অংশ। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →বাংলা
- ১. বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় কয়টি?
- ক. ০২টি
- খ. ০৪টি
- গ. ০৬টি
- ঘ. ০৮টি
উত্তর: খ. ০৪টি
ব্যাকরণ ভাষার নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করে। বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি। ধ্বনিতত্ত্বে ধ্বনি, বর্ণ ও উচ্চারণ নিয়ে কথা হয়। শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্বে শব্দের গঠন, পদ, প্রত্যয় ও সমাস পড়া হয়। বাক্যতত্ত্বে বাক্যের গঠন ও পদক্রম আলোচিত হয়। অর্থতত্ত্বে শব্দ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। কাজেই দুটি, ছয়টি বা আটটি বলা ঠিক নয়। এই চারটি ভাগ একসঙ্গে মিলে একটি ভাষার সম্পূর্ণ কাঠামো ব্যাখ্যা করে।
মনে রাখুন:
ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব (রূপতত্ত্ব), বাক্যতত্ত্ব (পদক্রম), অর্থতত্ত্ব।
ব্যাকরণের ইংরেজি Grammar।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ লেখেন ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড, ১৭৭৮ সালে ইংরেজিতে। - ২. 'নিমরাজি' 'নিম' উপসর্গটি কোন ভাষার?
- ক. আরবি
- খ. বাংলা
- গ. ইংরেজি
- ঘ. ফারসি
উত্তর: ঘ. ফারসি
‘নিম’ উপসর্গটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে এবং এর অর্থ আধা বা অর্ধেক। যেমন নিমরাজি মানে আধা রাজি। উপসর্গ হলো এমন শব্দাংশ, যা অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। বাংলা ভাষায় বাংলা, তৎসম ও বিদেশি, তিন রকম উপসর্গই আছে। তৎসম উপসর্গ ২০টি। আরবি ‘আম’, ‘খাস’ এবং ফারসি ‘নিম’, ‘কার’, ‘বে’ ইত্যাদি বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ। নিমখুন শব্দেও একই উপসর্গ আছে, আর সেখানেও ‘নিম’ আধা বা প্রায় অর্থ দেয়।
মনে রাখুন:
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, ফি, বদ, বে, নিম, কম, হর, বর।
উদাহরণ:
নিমখুন, বেআইনি, বদরাগী, নাবালক, হররোজ। - ৩. 'উপশহর' কোন সমাসের উদাহরণ?
- ক. দ্বন্দ্ব
- খ. অব্যয়ীভাব
- গ. তৎপুরুষ
- ঘ. বহুব্রীহি
উত্তর: খ. অব্যয়ীভাব
যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। ‘উপশহর’ শব্দটির পূর্বপদ ‘উপ’ একটি অব্যয়, যার অর্থ কাছে বা সমীপে। এর ব্যাসবাক্য হলো শহরের সমীপে। তাই সমাসটি অব্যয়ীভাব। শহরের কাছাকাছি স্থানই এর অর্থ, শহরের মতো কিছু নয়। এখানে সমস্ত পদটি বিশেষ্যের মতো না হয়ে অব্যয়ের মতো আচরণ করে, আর এটাই অব্যয়ীভাবের আলাদা বৈশিষ্ট্য। উপশহর মানে শহরের কাছাকাছি এলাকা, যেমন বড় শহর ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন আবাসিক এলাকা।
উদাহরণ:
উপকূল = কূলের সমীপে।
প্রতিদিন = দিন দিন।
আজীবন = জীবন পর্যন্ত। - ৪. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
- ক. বন্দ্যোপাধ্যায়
- খ. পক্ব
- গ. চট্রোপাধ্যায়
- ঘ. সংশয়
উত্তর: গ. চট্রোপাধ্যায়
বানানে ‘ট্ট’ এবং ‘ত্র’ আলাদা যুক্তবর্ণ ও আলাদা ধ্বনি। ‘চট্টোপাধ্যায়’ শব্দের শুদ্ধ রূপে ট-এর সঙ্গে ট যুক্ত হয়ে ‘ট্ট’ হয়েছে। তাই ‘চট্রোপাধ্যায়’ বানানটি শুদ্ধ নয়। বাকি তিনটি শুদ্ধ: বন্দ্যোপাধ্যায়, পক্ব ও সংশয়। এই পদবিগুলো আসলে ‘উপাধ্যায়’ শব্দের সঙ্গে গ্রামের নাম জুড়ে তৈরি হয়েছিল। যেমন বন্দ্যঘটি গ্রামের উপাধ্যায় থেকে বন্দ্যোপাধ্যায়। পদবির বানানে ‘ট্ট’ এবং ‘ধ্য’ যুক্তবর্ণ ঠিকভাবে বসিয়ে অক্ষরগুলো ভেঙে ভেঙে দেখে নিলে ভুল ধরা সহজ হয়। এখানে ‘চট্টো-পাধ্যায়’ ভাগে দেখলেই ‘ট্ট’ চোখে পড়ে।
মনে রাখুন: পদবির শুদ্ধ বানান: চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায়।
অশুদ্ধ বানান: চট্রোপাধ্যায়। - ৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ :
- ক. হাইকু
- খ. সনেট
- গ. ব্ল্যাংকভার্স
- ঘ. লিমেরিক
উত্তর: গ. ব্ল্যাংকভার্স
অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ ব্ল্যাংক ভার্স (Blank verse), যেখানে পঙ্ক্তির শেষে মিল থাকে না। বাংলায় এর প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত, যিনি এই ছন্দে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য ও মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। অপশনের সনেট, লিমেরিক ও এপিক ভিন্ন ধরনের রচনার নাম।
মনে রাখুন:
সনেট ১৪ লাইনের কবিতা, লিমেরিক ৫ লাইনের মজার ছড়া, আর এপিক হলো মহাকাব্য। - ৬. 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের নিদর্শন?
- ক. প্রাচীন যুগ
- খ. আধুনিক যুগ
- গ. মধ্যযুগ
- ঘ. অন্ধকার যুগ
উত্তর: খ. আধুনিক যুগ
‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিশোর বয়সের রচনা। তিনি বৈষ্ণব পদাবলীর ধাঁচে ব্রজবুলি ভাষায় ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে এই পদগুলো লিখেছিলেন। বইটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ আধুনিক যুগের কবি, তাই বইটিকে আধুনিক যুগের নিদর্শন ধরা হয়, যদিও ভাষা ও ভঙ্গি মধ্যযুগের মতো। তাই যুগ ঠিক করতে লেখকের কাল দেখতে হয়, ভাষার ধরন দেখে নয়। অনেকে মধ্যযুগ বেছে নেওয়ার ভুল করে, কারণ ব্রজবুলি ভাষা মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবিরা ব্যবহার করতেন।
মনে রাখুন:
ব্রজবুলি মূলত মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রণে তৈরি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা।
রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য ‘কবিকাহিনী’ (১৮৭৮)। - ৭. রবীন্দ্রনাথের 'বলাকা' কাব্যে ব্যবহৃত ছন্দের নাম :
- ক. মুক্তক ছন্দ
- খ. স্বরবৃত্ত ছন্দ
- গ. গদ্যছন্দ
- ঘ. মন্দাক্রান্তা ছন্দ
উত্তর: ক. মুক্তক ছন্দ
রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’ (১৯১৬) কাব্যে পুরোনো মিলের বাঁধন ভেঙে চরণ স্বাধীনভাবে ছোট-বড় হয়েছে। ভাবের গতির সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্যও বদলেছে। এই ছন্দকে মুক্তক ছন্দ বলে। কাব্যটির মূল সুর গতির আনন্দ ও চলমানতা। ‘বলাকা’ নামটির অর্থ বক পাখির সারি। অন্য বিকল্পগুলো এই কাব্যের ছন্দ নয়। স্বরবৃত্ত ছন্দ বাংলার লোকছড়ার ছন্দ, আর মন্দাক্রান্তা সংস্কৃত কাব্যের ছন্দ।
মনে রাখুন:
বলাকা কাব্যে ৪৫টি কবিতা আছে।
মুক্তক ছন্দের আরেক নাম মুক্তবন্ধ।
বাংলা ছন্দ তিন প্রকার: অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন। - ৮. 'অগ্নিবীণা' কাব্য উৎসর্গ করা হয় :
- ক. শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে
- খ. শ্রী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে
- গ. শ্রীকৃষ্ণ মজুমদারকে
- ঘ. শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
উত্তর: খ. শ্রী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে ‘প্রলয়োল্লাস’ ও ‘বিদ্রোহী’র মতো কবিতা আছে। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে তিনি এই কাব্য উৎসর্গ করেন। কারণ বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ছিলেন স্বদেশি আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেতা। আর ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ‘বিজলী’ পত্রিকায় ছাপা হয়ে সে সময়েই নজরুলকে সারা দেশে পরিচিত করে তোলে। রবীন্দ্রনাথকে নজরুল অন্য একটি গ্রন্থ ‘সঞ্চিতা’ উৎসর্গ করেন, তাই অগ্নিবীণার উৎসর্গের সঙ্গে তাঁর নাম গুলিয়ে ফেলা চলবে না।
মনে রাখুন:
অগ্নিবীণা নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর অন্য কাব্য: দোলনচাঁপা, বিষের বাঁশী, ভাঙার গান, সর্বহারা, ছায়ানট, সিন্ধু হিন্দোল। - ৯. 'কামিজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?আরও এসেছে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ২০১৬
- ক. ইংরেজি
- খ. হিন্দি
- গ. পর্তুগিজ
- ঘ. ওলন্দাজ
উত্তর: গ. পর্তুগিজ
‘কামিজ’ শব্দটি এসেছে পর্তুগিজ ভাষার camisa থেকে। পর্তুগিজরা বাংলায় ব্যবসা করতে এসে এ ধরনের অনেক জিনিসের নাম সঙ্গে এনেছিল, আর সেসব নাম আমাদের ভাষায় মিশে গেছে। এই কারণে ঘরোয়া জিনিসপত্র ও পোশাকের অনেক শব্দ পর্তুগিজ। সংস্কৃত শব্দ বলে একে বর্ণনা করা ঠিক নয়, আবার ইংরেজি বা হিন্দি ভাষা থেকেও এটি আসেনি। বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ষোড়শ শতকে, তাই এই শব্দগুলো তখন থেকেই আমাদের ভাষায় ঢুকতে শুরু করে।
মনে রাখুন:
পর্তুগিজ শব্দ: আলমারি, আলপিন, আনারস, কামরা, গির্জা, চাবি, জানালা, বালতি, বোতাম, সাবান, পেয়ারা, পাউরুটি, পাদ্রি, তোয়ালে। - ১০. নিচের কোন শব্দ বিশেষ্য'র উদাহরণ?
- ক. পতিত
- খ. জান্তব
- গ. আগ্নেয়
- ঘ. উন্নয়ন
উত্তর: ঘ. উন্নয়ন
যে পদ কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, ভাব বা কাজের নাম প্রকাশ করে, তাকে বিশেষ্য বলে। ‘উন্নয়ন’ একটি কাজ বা ভাবের নাম, তাই এটি বিশেষ্য। ‘পতিত’ (যা পড়ে গেছে), ‘জান্তব’ (প্রাণীসংক্রান্ত) ও ‘আগ্নেয়’ (আগুনসংক্রান্ত) এই তিনটি শব্দ অন্য কোনো বিশেষ্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তাই এগুলো বিশেষণ। যেমন পতিত জমি, জান্তব প্রবৃত্তি, আগ্নেয়গিরি। বিশেষ্য চেনার একটি উপায় হলো শব্দটির আগে ‘একটি’ বসিয়ে দেখা, যেমন ‘একটি উন্নয়ন’ বলা যায়, কিন্তু ‘একটি পতিত’ বলা যায় না।
মনে রাখুন:
বিশেষ্য ছয় প্রকার: সংজ্ঞা, শ্রেণি, বস্তু, গুণ, ক্রিয়া ও ভাববাচক।
বিশেষ্যকে বিশেষিত করে যে পদ, সেটি বিশেষণ। - ১১. 'মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে' – এটি কোন ধরনের বাক্য?
- ক. সরল
- খ. জটিল
- গ. যৌগিক
- ঘ. মিশ্রবাক্য
উত্তর: ক. সরল
যে বাক্যে একটিমাত্র উদ্দেশ্য ও একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। এই বাক্যে ‘করলে’ হলো অসমাপিকা ক্রিয়া, কারণ এটি কাজ অসম্পূর্ণ রাখে। একমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া ‘করে’। তাই সম্পূর্ণ বাক্যটি সরল। একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও বাক্য সরল থাকতে পারে, কারণ সমাপিকা ক্রিয়া তখনও একটিই থাকে।
মনে রাখুন:
জটিল বাক্যে একটি প্রধান ও এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে।
যৌগিক বাক্যে একাধিক স্বাধীন বাক্য সংযোজক অব্যয় দিয়ে জোড়া থাকে।
উদাহরণ:
সরল: সূর্য উঠলে অন্ধকার কাটে।
যৌগিক: সে এল এবং চলে গেল। - ১২. 'সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা'-কে এককথায় বলে–আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. আবাহন
- খ. স্বাগতম
- গ. প্রত্যুদ্গমন
- ঘ. সম্ভাষণ
উত্তর: গ. প্রত্যুদ্গমন
যাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে মানুষ কিছুটা এগিয়ে যায়, সেই কাজকে এককথায় বলে প্রত্যুদ্গমন। সম্মান দেখিয়ে সামনে গিয়ে স্বাগত জানানোই এর মূল ভাব। অন্য বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা। আবাহন মানে আমন্ত্রণ করে আনা, স্বাগতম মানে আপনার আগমন শুভ হোক, আর সম্ভাষণ মানে সম্বোধন করে কথা বলা। এজন্য শুধু অভ্যর্থনা শব্দ দেখেই উত্তর বেছে নেওয়া চলে না, বরং এগিয়ে যাওয়ার ভাবটি খুঁজতে হয়। প্রত্যুদ্গমন শব্দটি প্রতি + উদ্গমন দিয়ে তৈরি, তাই এতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভাবটি স্পষ্ট ধরা পড়ে।
মনে রাখুন:
প্রত্যুদ্গমন = অভ্যর্থনার জন্য এগিয়ে যাওয়া।
আবাহনের বিপরীত শব্দ বিসর্জন। - ১৩. 'ওদিকে আর যাব না'-এ বাক্যে 'আর' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে–
- ক. নির্দেশ অর্থে
- খ. পুনরাবৃত্তি অর্থে
- গ. স্বীকৃতিজ্ঞাপন অর্থে
- ঘ. বিস্ময় প্রকাশে
উত্তর: খ. পুনরাবৃত্তি অর্থে
‘ওদিকে আর যাব না’ বাক্যে ‘আর’ শব্দটি আগে একবার যাওয়ার পর পুনরায় না যাওয়ার কথা বলছে। এখানে ‘আর’ বোঝাচ্ছে ওই কাজের পুনরাবৃত্তি হবে না। ‘আর’ একটি অব্যয় পদ, যা বাক্যভেদে নানা অর্থ দেয়। যেমন: ‘এ আর এমন কী’ (তুচ্ছতা), ‘রাম আর শ্যাম’ (সংযোজন) এবং ‘আর না’ (নিষেধ বা বিরতি)। তাই অব্যয়ের অর্থ বুঝতে সবসময় পুরো বাক্যটি দেখতে হয়।
মনে রাখুন: অব্যয় পদ কখনো রূপ বদলায় না, কিন্তু বাক্যে ব্যবহারের ভিন্নতায় এর অর্থ বদলে যেতে পারে।
অব্যয়ের উদাহরণ: এবং, কিন্তু, আর, অথবা, আহা। - ১৪. উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ হলো :
- ক. নবান্ন
- খ. আকাল
- গ. পঞ্চনদ
- ঘ. ঢাকাই
উত্তর: খ. আকাল
যে শব্দাংশ স্বাধীন শব্দ হয় না, অথচ অন্য শব্দের আগে বসে তার অর্থ বদলায় বা নতুন অর্থ যোগ করে, তাকে উপসর্গ বলে। 'আকাল' শব্দে 'আ' উপসর্গ 'কাল'-এর আগে বসে মন্দ বা দুঃসময় অর্থ বোঝায়। বাকি শব্দগুলো অন্যভাবে গঠিত। নবান্ন হলো নতুন যে অন্ন, এই অর্থে কর্মধারয় সমাস। পঞ্চনদ হলো দ্বিগু সমাস। ঢাকাই হলো ঢাকা শব্দের সঙ্গে 'আই' তদ্ধিত প্রত্যয়ের যোগ।
মনে রাখুন: উপসর্গ শব্দের আগে বসে, প্রত্যয় শব্দের পরে বসে।
উদাহরণ:
আ + কাল = আকাল; আ + ছোলা = আছোলা। - ১৫. নিচের কোন শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
- ক. দাপট
- খ. পেঁটরা
- গ. মিতালি
- ঘ. যাচাই
উত্তর: গ. মিতালি
তদ্ধিত প্রত্যয় বসে নাম শব্দের সঙ্গে: মিতা + আলি = মিতালি। দাপট (দাপ্ + অট) ও যাচাই (যাচ্ + আই) ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগে গঠিত বলে কৃৎ প্রত্যয়। - ১৬. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের নায়ক–
- ক. মুহাম্মদ মুস্তফা
- খ. আরেফ আলী
- গ. মজিদ
- ঘ. কাদের
উত্তর: খ. আরেফ আলী
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) উপন্যাসের নায়ক আরেফ আলী নামের একজন স্কুলশিক্ষক। তিনি এক অন্ধকার রাতে গ্রামের একটি অচেনা পরিবেশে এসে মৃত্যু, অপরাধবোধ ও আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি হন। উপন্যাসটিকে গভীর দর্শননির্ভর রচনা হিসেবে চেনা হয়। এর অন্য প্রধান চরিত্র কাদের মিয়া ও দাদাসাহেব। বিকল্পের মজিদ নামটি অন্য উপন্যাসের চরিত্রের। নামের মধ্যেই একটি বিরোধাভাস আছে, কারণ অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না, আর এই অন্ধকার পরিবেশই গল্পের ভাব তৈরি করেছে।
মনে রাখুন:
ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস: লালসালু (১৯৪৮), চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪), কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)।
মজিদ চরিত্রটি ‘লালসালু’র।
তাঁর নাটক: বহিপীর, সুড়ঙ্গ। - ১৭. 'হেম' শব্দের অর্থ–
- ক. সুধাকর
- খ. মুক্তা
- গ. রত্ন
- ঘ. স্বর্ণ
উত্তর: ঘ. স্বর্ণ
‘হেম’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং এর অর্থ সোনা বা স্বর্ণ। তাই দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে স্বর্ণই শুদ্ধ উত্তর। ‘সুধাকর’ মানে চাঁদ, কারণ সুধা (অমৃত) যার কিরণে আছে, সেই সুধাকর। ‘মুক্তা’ ও ‘রত্ন’ ভিন্ন জিনিস, যদিও তারাও মূল্যবান। প্রতিশব্দের প্রশ্নে এভাবে মূল অর্থ আগে ধরলে ভুল বিকল্প সহজে বাদ যায়। সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দ হওয়ায় ‘হেম’ বাংলা কবিতায় সোনা বা স্বর্ণ অর্থে বহুল ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
সোনার প্রতিশব্দ: হেম, কাঞ্চন, কনক, সুবর্ণ, স্বর্ণ, হিরণ্য।
চাঁদের প্রতিশব্দ: চন্দ্র, শশী, সুধাকর, বিধু, নিশাকর। - ১৮. কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
- ক. ঝরাপালক
- খ. মহাপৃথিবী
- গ. সাতটি তারার তিমির
- ঘ. নিজ বাসভূমে
উত্তর: ঘ. নিজ বাসভূমে
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ (১৯২৮), ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬), ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২), ‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪) এবং ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮)। অন্যদিকে ‘নিজ বাসভূমে’ (১৯৭০) শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ, তাই এটি জীবনানন্দের নয়। কোন কাব্যটি কার, তা মনে রাখলে এ ধরনের ‘নয়’ প্রশ্নের উত্তর সহজে মেলে। জীবনানন্দ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মেছিলেন। জীবনানন্দ দাশকে ‘রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয়, আর তাঁর কবিতার প্রকৃতিপ্রেম বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
মনে রাখুন:
জীবনানন্দ দাশ ‘রূপসী বাংলা’র কবি, তবে কাব্যটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্য ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ (১৯৬০)। - ১৯. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
- ক. মৃত্যুক্ষুধা
- খ. লালসালু
- গ. আরেক ফাল্গুন
- ঘ. ঘর মন জানালা
উত্তর: গ. আরেক ফাল্গুন
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’। এখানে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা, সেই সময়ের তরুণদের ভাবনা ও আন্দোলন উঠে এসেছে। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা বিষয় নিয়ে লেখা। ‘মৃত্যুক্ষুধা’ কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস, ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস এবং ‘ঘর মন জানালা’ দিলারা হাশেমের উপন্যাস। অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস বলতে আগে ‘আরেক ফাল্গুন’ মনে রাখতে হয়।
মনে রাখুন:
লালসালু ধর্মের নামে ব্যবসা ও কুসংস্কারের ওপর লেখা।
জহির রায়হানের অন্য রচনা: হাজার বছর ধরে, বরফ গলা নদী, আর কত দিন।
তিনি ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রও তৈরি করেন। - ২০. কোনটি শুদ্ধ বানান?
- ক. ব্যকুল
- খ. ব্যাকুল
- গ. ব্যাকূল
- ঘ. ব্যকূল
উত্তর: খ. ব্যাকুল
সংস্কৃত ‘ব্যাকুল’ শব্দটির শুদ্ধ বানান ‘ব্যাকুল’। এর অর্থ অস্থির বা উৎকণ্ঠিত। শব্দটিতে ব্য-এর পরে আ-কার এবং কু-তে হ্রস্ব উ-কার থাকে। বাকি বানানগুলোতে হয় আ-কার বাদ গেছে, নয়তো দীর্ঘ ঊ-কার বসেছে, তাই সেগুলো ভুল। সাধারণ নিয়ম হলো, সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দের বানান যেমন আছে তেমনই রাখতে হয়, আর ব্যাকুলের মতো শব্দে ‘কুল’ অংশে হ্রস্ব উ-কারই থাকে। ব্যাকুল শব্দের মতো ব্যাপক ও ব্যাকরণ শব্দেও ‘ব্যা’ আছে, আর ব্যক্তি ও ব্যবহার শব্দে আছে ‘ব্য’। এই পার্থক্যটি আলাদা করে মনে রাখা ভালো।
মনে রাখুন: শুদ্ধ বানান: ব্যাকুল, ঊর্ধ্ব, আকাঙ্ক্ষা, ধূলিসাৎ, আনুষঙ্গিক।
অশুদ্ধ বানান: ব্যকুল, ব্যাকূল, ব্যকূল। - ২১. 'স্বাগত'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
- ক. সু + আগত
- খ. স্বা-গত
- গ. সু + গত
- ঘ. স্বাগত
উত্তর: ক. সু + আগত
‘স্বাগত’ শব্দটি সু + আগত দিয়ে তৈরি। এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। নিয়মটি হলো ই বা ঈ-এর পরে ভিন্ন স্বর থাকলে ই-ঈ বদলে য-ফলা হয়, আর উ বা ঊ-এর পরে ভিন্ন স্বর থাকলে উ-ঊ বদলে ব-ফলা হয়। এখানে ‘সু’-এর উ-কার ব-ফলা হয়ে ‘স্ব’ হয়েছে, তাই সু + আগত = স্বাগত। ‘স্বা-গত’ কিংবা ‘সু + গত’ ধরলে শব্দের অর্থ মেলে না, কারণ ‘আগত’ মানে এসেছে, আর ‘স্বাগত’ মানে শুভ আগমন।
উদাহরণ:
সু + অল্প = স্বল্প।
অনু + ইত = অন্বিত।
ইতি + আদি = ইত্যাদি।
প্রতি + এক = প্রত্যেক। - ২২. 'বিষাদসিন্ধু' কোন সমাস?
- ক. দ্বিগু
- খ. রূপক কর্মধারয়
- গ. দ্বন্দ্ব
- ঘ. তৎপুরুষ
উত্তর: খ. রূপক কর্মধারয়
‘বিষাদসিন্ধু’ শব্দের ব্যাসবাক্য হলো বিষাদ রূপ সিন্ধু। উপমান ও উপমেয় অভিন্ন বোঝাতে ‘রূপ’ শব্দটি বসিয়ে এই সমাস করা হয়। বিষাদকে সমুদ্রের সঙ্গে অভিন্ন ভাবা হয়েছে, তাই এটি রূপক কর্মধারয় সমাস। এখানে বিষাদ হলো উপমেয় আর সিন্ধু হলো উপমান। অর্থাৎ দুঃখের গভীরতা বোঝাতে তাকে বিশাল সমুদ্র বলা হয়েছে। বিষাদ ও সিন্ধু দুটি আলাদা শব্দ হলেও এখানে এক হয়ে গেছে, আর এটাই রূপক কর্মধারয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ:
ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল।
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
মনে রাখুন: ‘বিষাদসিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস, যা ১৮৮৫ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়। - ২৪. 'অভিরাম' শব্দের অর্থ কী?
- ক. বিরামহীন
- খ. চলমানতা
- গ. বালিশ
- ঘ. সুন্দর
উত্তর: ঘ. সুন্দর
‘অভিরাম’ সংস্কৃত শব্দ, অর্থ সুন্দর বা মনোহর। এর সঙ্গে ‘অবিরাম’ শব্দটির মিল থাকায় ভুল হয়, কারণ অবিরাম মানে বিরামহীন বা যার শেষ নেই। অভিরাম বিশেষণ পদ এবং কোনো কিছুকে আনন্দদায়ক বা সুন্দর বোঝাতে লেখা হয়। সংস্কৃত ‘রাম’ শব্দের একটি অর্থ মনোরম, আর তার আগে ‘অভি’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে শব্দটি গড়ে উঠেছে। ‘চলমানতা’ একটি ভিন্ন শব্দ, তার সঙ্গে অভিরামের অর্থের সম্পর্ক নেই। অভিরাম শব্দ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন অভিরাম দৃশ্য মানে মনোরম দৃশ্য।
মনে রাখুন:
অভিরাম = সুন্দর, মনোরম।
অবিরাম = বিরামহীন।
সুন্দরের প্রতিশব্দ: মনোহর, রম্য, চারু, কমনীয়। - ২৫. 'নীড় সন্ধানী' কার রচিত উপন্যাস?
- ক. রাজিয়া খান
- খ. আনোয়ার পাশা
- গ. শওকত আলী
- ঘ. হাসান আজিজুল হক
উত্তর: খ. আনোয়ার পাশা
‘নীড় সন্ধানী’ উপন্যাসের লেখক আনোয়ার পাশা। তিনি কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালোচক ও শিক্ষক ছিলেন এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপটে ঘরছাড়া মানুষের জীবনসংকট এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরা তাঁকে হত্যা করে। অন্য লেখকদের ভিন্ন রচনা আছে, তাই নামের সঙ্গে বই মিলিয়ে মনে রাখা দরকার। দেশভাগের পরের বছরগুলোতে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নতুন ঠিকানা খুঁজতে বাধ্য হয়েছিল। উপন্যাসের নাম ‘নীড় সন্ধানী’ সেই আশ্রয়ের খোঁজকেই প্রকাশ করে, কারণ নীড় মানে পাখির বাসা বা আশ্রয়।
মনে রাখুন: আনোয়ার পাশার উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা।
তিনি ১৯৭১ সালে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের একজন। - ২৬. রশীদ হায়দারের 'খাঁচায়' উপন্যাসের পটভূমি হলো :
- ক. ভাষা আন্দোলন
- খ. মুক্তিযুদ্ধ
- গ. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
- ঘ. ছাত্র আন্দোলন
উত্তর: খ. মুক্তিযুদ্ধ
রশীদ হায়দারের ‘খাঁচায়’ উপন্যাসের পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ। এতে ১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের ভয়, যন্ত্রণা ও টিকে থাকার সংগ্রাম ধরা পড়েছে। তাঁর আরও রচনা ‘অন্ধ কথামালা’। রশীদ হায়দার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে ছোটগল্প ও উপন্যাস রচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ভাষা আন্দোলন বা ছাত্র আন্দোলনের পটভূমি এই উপন্যাসের নয়। ‘খাঁচায়’ নামটি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থার আভাস পাওয়া যায়, কারণ খাঁচায় আটকে থাকা প্রাণী মুক্ত হতে পারে না। তাই বইটির নাম দেখে মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য উপন্যাস: শওকত ওসমানের ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ এবং সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’। - ২৭. 'প্রচ্ছদ' শব্দের প্রকৃত সন্ধিবিচ্ছেদ হলো :
- ক. প্র + ছদ
- খ. প্রৎ + ছদ
- গ. প্রচ্ছ + দ
- ঘ. প্রচ্ছদ + অ
উত্তর: ক. প্র + ছদ
‘প্রচ্ছদ’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ প্র + ছদ। স্বরসন্ধির একটি নিয়ম আছে, যেখানে স্বরবর্ণের পরে ‘ছ’ থাকলে ছ-এর আগে ‘চ’ যুক্ত হয়ে ‘চ্ছ’ গঠিত হয়। ‘প্র’ শব্দের শেষে স্বরধ্বনি থাকায় এই নিয়ম এখানে খাটে। ‘ছদ’ শব্দের অর্থ আবরণ, তাই প্রচ্ছদ মানে আচ্ছাদন বা বইয়ের মলাট। প্রৎ বা প্রচ্ছ-এর মতো ভাগে শব্দ ভাঙলে আলাদা কোনো অর্থপূর্ণ অংশ মেলে না। প্রচ্ছদ ছাড়াও আচ্ছাদন ও পরিচ্ছদ শব্দে এই ধরনের চ্ছ দেখা যায়।
উদাহরণ:
এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া।
মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি। - ২৮. 'তদ্ভব' শব্দের অর্থ হলো :
- ক. সংস্কৃতের সমান
- খ. সংস্কৃত নয়
- গ. সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
- ঘ. বিদেশি শব্দ
উত্তর: গ. সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত
‘তদ্ভব’ শব্দটির অর্থ তা থেকে উৎপন্ন। ভাষাবিজ্ঞানে যেসব বাংলা শব্দ সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত হয়ে ধীরে ধীরে রূপ বদলে প্রাকৃত হয়ে বাংলায় এসেছে, তাদের তদ্ভব শব্দ বলে। তাই ‘সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত’ সঠিক অর্থ। তদ্ভব শব্দ সংস্কৃতের সমান নয়, কারণ রূপ বদলে গেছে, আবার এটি বিদেশি শব্দও নয়।
উদাহরণ:
চন্দ্র → চাঁদ, হস্ত → হাত, মৎস্য → মাছ, ধান্য → ধান।
মনে রাখুন:
তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে অবিকৃত অবস্থায় বাংলায় আসে, যেমন চন্দ্র, সূর্য।
অর্ধ-তৎসম শব্দ কিছুটা বিকৃত তৎসম, যেমন কৃষ্ণ → কেষ্ট। - ২৯. নিচের কোন শব্দটি আরবি শব্দ নয়?
- ক. ইনসান
- খ. ইবাদত
- গ. মর্জি
- ঘ. আশরফি
উত্তর: ঘ. আশরফি
‘ইনসান’ (মানুষ), ‘ইবাদত’ (উপাসনা) ও ‘মর্জি’ (ইচ্ছা) তিনটিই আরবি শব্দ। ‘আশরফি’ শব্দটি ফারসি ভাষার মাধ্যমে বাংলায় এসেছে। এটি এক সময়ের সোনার মুদ্রার নাম। সেই কারণে প্রশ্নের উত্তর আশরফি। বাংলা ভাষায় আরবি ও ফারসি শব্দ প্রচুর, কারণ মুসলিম শাসনের সময় প্রশাসন ও ধর্মের মাধ্যমে এগুলো আমাদের ভাষায় ঢুকে পড়ে। ফারসি ও আরবি শব্দ আলাদা করার সহজ উপায় হলো আগে পরিচিত শব্দগুলো ধরে ধরে মুখস্থ করা, কারণ নিয়ম দিয়ে এদের চেনা কঠিন।
মনে রাখুন:
আরবি শব্দ: আল্লাহ, ইসলাম, কলম, কবর, মালিক, মুনাফা।
ফারসি শব্দ: কারখানা, চশমা, দোকান, বাগান। - ৩০. 'ক্ষ' যুক্তবর্ণে যে দুটো বর্ণ মেলে, তারা হলো :
- ক. ক্ + স
- খ. খ্ + এঃ
- গ. ক্ + ষ
- ঘ. খ্ + খ
উত্তর: গ. ক্ + ষ
‘ক্ষ’ একটি যুক্তবর্ণ। এটি ক্ + ষ দিয়ে তৈরি, যদিও উচ্চারণে খ-এর মতো শোনায়। দুটি আলাদা বর্ণ মিলে একটি নতুন আকার তৈরি হলে তাকে যুক্তবর্ণ বলে। অন্য যুক্তবর্ণও এভাবে ভেঙে দেখা যায়। জ্ঞ হলো জ্ + ঞ, হ্ন হলো হ্ + ন এবং হ্ম হলো হ্ + ম। ক্ + স বা খ্ + খ ধরলে সঠিক আকার মেলে না।
মনে রাখুন:
ক্ষ = ক্ + ষ।
জ্ঞ = জ্ + ঞ।
হ্ন = হ্ + ন।
স্কুল শব্দে স্ + ক মিলে ‘স্ক’ যুক্তবর্ণ তৈরি হয়েছে। - ৩১. 'মুক্ত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হলো:
- ক. মুক্ + ত
- খ. মুচ্ + ত
- গ. মুচ + ক্ত
- ঘ. মচ্ত + ক
উত্তর: খ. মুচ্ + ত
'চ্' ধ্বনির পরে 'ত' এলে চ্ বদলে ক্ হয়: মুচ্ + ত = মুক্ত। একইভাবে সিচ্ + ত = সিক্ত। - ৩২. নিচের কোনটি নাটক?
- ক. গড্ডলিকা
- খ. রক্তকরবী
- গ. সিন্ধু হিন্দোল
- ঘ. কালান্তর
উত্তর: খ. রক্তকরবী
‘রক্তকরবী’ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের সাংকেতিক নাটক। এতে যক্ষপুরীর রাজা যন্ত্রের সাহায্যে সোনা তোলার লোভে মানুষকে শোষণ করে, আর নন্দিনী ভালোবাসা দিয়ে তার প্রতিবাদ করে। অন্য বিকল্পগুলো নাটক নয়। ‘গড্ডলিকা’ রাজশেখর বসুর গল্পগ্রন্থ, ‘সিন্ধু হিন্দোল’ নজরুলের কাব্যগ্রন্থ এবং ‘কালান্তর’ রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগ্রন্থ। রক্তকরবীর কাহিনি ঘটে যক্ষপুরী নামে এক কাল্পনিক নগরে, যেখানে শ্রমিকদের নামের বদলে নম্বর দিয়ে ডাকা হয়। এখানকার রাজা নিজেকে জালের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন। নাটকটি যন্ত্রসভ্যতা ও মানুষের স্বাধীনতার দ্বন্দ্ব নিয়ে লেখা।
মনে রাখুন:
রবীন্দ্রনাথের অন্য নাটক: ডাকঘর, বিসর্জন, মুক্তধারা, রাজা।
সাংকেতিক নাটকে প্রতীকের মাধ্যমে গভীর ভাব প্রকাশ করা হয়। - ৩৩. 'বীরাঙ্গনা-কাব্য' কোন জাতীয় কাব্য?
- ক. মহাকাব্য
- খ. গীতিকাব্য
- গ. পত্রকাব্য
- ঘ. মঙ্গলকাব্য
উত্তর: গ. পত্রকাব্য
‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা। এতে একাদশটি পত্র আছে। পৌরাণিক নারীরা তাঁদের স্বামী বা প্রেমিকদের কাছে চিঠি লিখছেন, তাই এটি পত্রকাব্য। রোমান কবি ওভিদের ‘হেরোইদেস’ দ্বারা এই কাব্য অনুপ্রাণিত। বাংলা সাহিত্যে এটি প্রথম পত্রকাব্য। মহাকাব্য হলে এতে একটি বিশাল কাহিনি থাকত, কিন্তু এখানে স্বতন্ত্র চিঠিগুলোই কাব্যের রূপ নিয়েছে। অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা এই কাব্যে পত্রের মাধ্যমে নারীদের মনের কথা ফুটে উঠেছে, আর এটাই একে অন্য কাব্য থেকে আলাদা করেছে।
মনে রাখুন:
মধুসূদনের মহাকাব্য: মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)।
তাঁর অন্য কাব্য: তিলোত্তমাসম্ভব, ব্রজাঙ্গনা, চতুর্দশপদী কবিতাবলী। - ৩৪. 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো :আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ২০১৬
- ক. দেশভাগ
- খ. মুক্তিযুদ্ধ
- গ. ভাষা আন্দোলন
- ঘ. গণ-অভ্যুত্থান
উত্তর: গ. ভাষা আন্দোলন
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটকের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। তিনি ১৯৫৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নাটকটি লেখেন। ভাষা আন্দোলনে শহিদদের কবর ঘিরে মৃত ব্যক্তিদের কল্পিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে নাটকটি এগিয়েছে। এটি একটি একাঙ্ক নাটক। মুনীর চৌধুরী ১৯৭১ সালে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের একজন। বন্দি অবস্থায় লেখা এই নাটকটি ভাষা আন্দোলনের পরের বছরই রচিত হয়। এতে ফুটে উঠেছে আন্দোলনের স্মৃতি ও বেদনা। নাটকটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।
মনে রাখুন:
মুনীর চৌধুরীর অন্য নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি।
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’। - ৩৫. 'জনবিরল' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো :
- ক. জনাকীর্ণ
- খ. জনহীন
- গ. নির্জন
- ঘ. জনশূন্য
উত্তর: ক. জনাকীর্ণ
‘জনবিরল’ শব্দের অর্থ যেখানে মানুষ কম। এর বিপরীত শব্দ ‘জনাকীর্ণ’, যার অর্থ মানুষে ভরা বা ভিড়ে পূর্ণ। ‘জনহীন’, ‘নির্জন’ ও ‘জনশূন্য’ শব্দ তিনটি ‘জনবিরল’-এর কাছাকাছি অর্থ বোঝায়, তাই এগুলো সমার্থক, বিপরীত নয়। বিপরীত শব্দের প্রশ্নে তাই আগে মূল শব্দের অর্থ ধরতে হয়, তারপর উল্টো ভাবের শব্দটি খুঁজতে হয়। ‘জনবিরল’ শব্দে ‘বিরল’ অংশের অর্থ কম বা দুর্লভ, তাই জন-বিরল মানে মানুষ কম। অন্যদিকে জনাকীর্ণ শব্দে ‘আকীর্ণ’ অংশের অর্থ পরিপূর্ণ।
মনে রাখুন:
জনাকীর্ণ ↔ জনবিরল।
আরও কিছু বিপরীত জোড়া: নির্জন ↔ জনাকীর্ণ, শূন্য ↔ পূর্ণ। - ৩৬. নিচের কোন বাগধারা 'পটল তোলা' বাগধারার সমার্থক?
- ক. ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ
- খ. ভবভূতির পথে
- গ. ভবলীলা সাঙ্গ
- ঘ. পরের ধনে পোদ্দারি
উত্তর: গ. ভবলীলা সাঙ্গ
‘পটল তোলা’ বাগধারার অর্থ মারা যাওয়া। এর সমার্থক বাগধারা ‘ভবলীলা সাঙ্গ’, কারণ সংসারের লীলা বা জীবন শেষ হওয়ার কথাই এখানে বলা হয়েছে। অন্য দুটি বাগধারার অর্থ আলাদা। ‘ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ’ মানে অকারণ বা অতিরিক্ত ব্যয়, আর ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ মানে অন্যের জিনিস নিয়ে বাহাদুরি। বাগধারার প্রশ্নে বাক্যের আক্ষরিক অর্থ ছেড়ে এর প্রচলিত অর্থ মনে রাখতে হয়। বাগধারা অর্থের দিক থেকে পরিচিত বাক্যাংশ হলেও এর শব্দগুলো আলাদা করে অর্থ দেয় না।
মনে রাখুন: মৃত্যু বোঝায় এমন বাগধারা: পটল তোলা, ভবলীলা সাঙ্গ, দেহ রাখা। - ৩৭. নিচের কোনটি 'বায়ু' শব্দের প্রতিশব্দ?
- ক. চঞ্চলা
- খ. মরুৎ
- গ. ক্ষণপ্রভা
- ঘ. চটুল
উত্তর: খ. মরুৎ
‘বায়ু’ শব্দের প্রতিশব্দ ‘মরুৎ’। বায়ুর আরও কয়েকটি প্রতিশব্দ আছে। যেমন: অনিল, বাত, সমীরণ, পবন, প্রভঞ্জন, হাওয়া। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা অর্থ দেয়। ‘ক্ষণপ্রভা’ ও ‘চঞ্চলা’ বিদ্যুৎ বা বিজলি বোঝায়, আর ‘চটুল’ মানে চঞ্চল বা ছটফটে। চঞ্চল ভাবটির কারণে ‘চঞ্চলা’কে বায়ুর কাছাকাছি মনে হতে পারে, কিন্তু অভিধানে সেটি বিদ্যুতের নাম। সংস্কৃত থেকে আসা এই প্রতিশব্দগুলো প্রধানত কবিতা ও সাহিত্যে বেশি দেখা যায়, আর সাধারণ কথায় আমরা হাওয়া বা বাতাস বলি।
মনে রাখুন: বায়ুর প্রতিশব্দ: অনিল, মরুৎ, সমীরণ, পবন, বাত।
বিদ্যুতের প্রতিশব্দ: ক্ষণপ্রভা, চঞ্চলা, বিজলি, তড়িৎ। - ৩৮. বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক অভিধানে'র সম্পাদক হলেন :
- ক. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
- খ. নরেন বিশ্বাস
- গ. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- ঘ. ড. আহমদ শরীফ
উত্তর: গ. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ সম্পাদনা করেছেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। এই অভিধানে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের নানা শব্দ ও উচ্চারণ সংগ্রহ করা হয়েছে। আঞ্চলিক ভাষা বলতে একই ভাষার ভিন্ন ভিন্ন এলাকার রূপকে বোঝায়। বাংলা ভাষা ও ধ্বনিবিজ্ঞানে তাঁর বড় অবদান আছে। আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা একই ভাষার ভেতরে নানা এলাকার আলাদা শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্যগঠনের রূপ। যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট বা নোয়াখালীর কথ্য ভাষা মান বাংলা থেকে আলাদা শোনায়।
মনে রাখুন:
শহীদুল্লাহর অন্যান্য কাজ: ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলা ব্যাকরণ’।
তিনি ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন। - ৩৯. সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ রচয়িতা চর্যাকার হলেন :
- ক. লুইপা
- খ. কাহ্নপা
- গ. কুক্কুরীপা
- ঘ. ভুসুকুপা
উত্তর: খ. কাহ্নপা
চর্যাপদ বাংলা ভাষার সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন। এতে সিদ্ধাচার্য কবিরা পদ লিখেছেন। এঁদের মধ্যে কাহ্নপা সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন, মোট ১৩টি। ভুসুকুপা লিখেছেন ৮টি, কুক্কুরীপা ৩টি, আর লুইপা ও শবরপা ২টি করে। লুইপাকে আদি কবি ধরা হয়, কারণ চর্যার প্রথম পদটি তাঁর লেখা। তাই লুইপা আদি কবি হলেও সংখ্যায় কাহ্নপাকেই সবার ওপরে ধরা হয়। সংখ্যার ক্রমটি তাই এভাবে মনে রাখা যায়: কাহ্নপা ১৩, ভুসুকুপা ৮, কুক্কুরীপা ৩।
মনে রাখুন:
চর্যাপদ আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে।
মূল পুথির নাম ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’। - ৪০. নিচের কোনটি মৌলিক শব্দের উদাহরণ?
- ক. মানব
- খ. ধাতব
- গ. একাঙ্ক
- ঘ. গোলাপ
উত্তর: ঘ. গোলাপ
যে শব্দকে ভেঙে ছোট অর্থবোধক অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। 'গোলাপ' শব্দটি ভেঙে অর্থ পাওয়া যায় না, তাই এটি মৌলিক। বাকি শব্দগুলো ভেঙে বিশ্লেষণ করা যায়। মানব তৈরি হয়েছে মনু শব্দের সঙ্গে 'অ' প্রত্যয় যোগে, ধাতব হয়েছে ধাতু শব্দের সঙ্গে 'অ' প্রত্যয় যোগে, আর একাঙ্ক হলো এক আর অঙ্ক দুটি শব্দের মিলন।
উদাহরণ:
মৌলিক শব্দ: মা, লাল, নাক, তিন, পা।
মনে রাখুন: সাধিত শব্দ প্রত্যয়, উপসর্গ বা সমাস দ্বারা গঠিত হয়। - ৮৩. 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম-এর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
- ক. সাম্যবাদী
- খ. বিষের বাঁশি
- গ. সিন্ধু-হিন্দোল
- ঘ. অগ্নিবীণা
উত্তর: গ. সিন্ধু-হিন্দোল
কাজী নজরুল ইসলামের ‘দারিদ্র্য’ কবিতাটি ‘সিন্ধু-হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রকাশকাল ১৯২৭ সাল। কবিতাটিতে কবি দারিদ্র্যকে এক মহান শক্তি হিসেবে দেখেছেন। নজরুলের অন্য গ্রন্থগুলোর কবিতা আলাদা। যেমন ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) কাব্যে আছে বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, আর ‘সাম্যবাদী’ ও ‘বিষের বাঁশি’ আলাদা কাব্যগ্রন্থ, তাই এই কবিতা সেগুলোর কোনোটিতে নেই। ‘সিন্ধু-হিন্দোল’ নামের অর্থ সাগরের দোলা বা ঢেউ। নজরুল ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান।
মনে রাখুন:
অগ্নিবীণা ১৯২২, বিষের বাঁশি ১৯২৪, সাম্যবাদী ১৯২৫, সিন্ধু-হিন্দোল ১৯২৭।
‘সাম্যবাদী’ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘নারী’ ও ‘কুলি-মজুর’।
নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
ইংরেজি
- ২৩. 'কিন্ডারগার্টেন' শব্দটি কোন ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে?
- ক. জাপানি
- খ. স্প্যানিশ
- গ. জার্মান
- ঘ. আইরিশ
উত্তর: গ. জার্মান
‘কিন্ডারগার্টেন’ (Kindergarten) জার্মান শব্দ। এর অর্থ শিশুদের বাগান। জার্মান শিক্ষাবিদ ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবেল খেলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের পড়ানোর জন্য এই নাম দেন। তিনি ১৮৩৭ সালে প্রথম এমন একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। পরে শব্দটি ইংরেজি ভাষায় সরাসরি ঢুকে পড়ে। বাগানে যেমন চারা গাছ যত্নে বড় হয়, তেমনি শিশুরাও এখানে স্নেহের পরিবেশে বেড়ে ওঠে, এটাই নামটির ভাবনা। জার্মান ভাষায় Kinder মানে শিশু এবং Garten মানে বাগান, এই দুই শব্দ জুড়ে কিন্ডারগার্টেন হয়েছে।
মনে রাখুন:
ইংরেজিতে আসা কয়েকটি জার্মান শব্দ: Rucksack, Hamburger, Angst, Wanderlust। - ৪১. Identify the feminine gender :
- ক. buck
- খ. sow
- গ. hunter
- ঘ. baron
উত্তর: খ. sow
পুংলিঙ্গ শব্দের বিপরীতে যে শব্দ স্ত্রী বোঝায়, তাকে স্ত্রীলিঙ্গ (feminine) বলে। ‘Sow’ শব্দের অর্থ মাদী শূকর, তাই এটি feminine। বাকি তিনটি শব্দ masculine, আর তাদের feminine রূপ আলাদা আছে: buck (পুরুষ হরিণ) → doe, hunter (শিকারি) → huntress, baron (জমিদার) → baroness। কাজেই এক জোড়ার ভেতর কোনটি পুরুষ আর কোনটি স্ত্রী, তা আলাদা করে মনে রাখতে হয়। তাই প্রশ্নে ‘Identify the feminine gender’ থাকলে শব্দের পরিচিত জোড়া মনে করে বাছাই করতে হয়।
মনে রাখুন: Sow-এর masculine রূপ boar।
আরও কিছু জোড়া:
bull–cow, drake–duck, nephew–niece, ram–ewe, stag–hind।
host–hostess, wizard–witch, monk–nun, bachelor–spinster। - ৪২. Fill in the gap : 'Would you mind — the window'?
- ক. close
- খ. closing
- গ. closed
- ঘ. to close
উত্তর: খ. closing
‘Would you mind’ কাঠামোর পরে সাধারণত verb-এর ing রূপ (gerund) বসে। কোনো কাজ করে দেওয়ার ভদ্র অনুরোধ জানাতে ‘Would you mind closing the window?’ বলা হয়। তাই ‘closing’ শুদ্ধ। Base form (close) বা infinitive (to close) mind-এর পরে বসে না। Closed বসালে অর্থ ও গঠন দুটোই বিগড়ে যায়।
মনে রাখুন: Verb + ing নেয় এমন কিছু verb: mind, enjoy, avoid, finish, stop, suggest, practise, consider।
‘Do you mind’ কাঠামোতেও একই নিয়ম খাটে।
উদাহরণ:
He enjoys swimming.
She avoided answering.
Would you mind opening the door? - ৪৩. Select the correct passive voice of "He did for me the unnecessary things."-
- ক. The unnecessary things were done for me by him.
- খ. The unnecessary things was done by him for me.
- গ. The unnecessary things had been done for me by him.
- ঘ. The unnecessary things had to be done for me by him.
উত্তর: ক. The unnecessary things were done for me by him.
Past indefinite-এর passive: object + was/were + past participle + by + subject। 'Things' plural, তাই were: The unnecessary things were done for me by him. - ৪৪. Choose the correct singular number :
- ক. fungi
- খ. foci
- গ. bacterium
- ঘ. errata
উত্তর: গ. bacterium
Latin ও Greek থেকে আসা কিছু noun-এর plural তৈরির নিয়ম আলাদা। ‘Bacterium’ singular, আর এর plural হলো bacteria। অন্য বিকল্পগুলো plural রূপ। fungi-এর singular fungus, foci-এর singular focus এবং errata-র singular erratum। শেষ অক্ষর দেখে চেনা যায় কোনটি এক আর কোনটি বহু, তাই এই নিয়মগুলো মুখস্থ রাখলে প্রশ্নের উত্তর সহজ হয়।
মনে রাখুন:
-um → -a: medium → media, datum → data, curriculum → curricula।
-us → -i: cactus → cacti, syllabus → syllabi, radius → radii।
-is → -es: crisis → crises, analysis → analyses, thesis → theses।
-on → -a: phenomenon → phenomena, criterion → criteria। - ৪৫. What is the correct translation of 'যার জ্বালা সেই বোঝে'?
- ক. The player best knows where he is defeated
- খ. The wearer best knows where the shoe pinches
- গ. The king best knows when the subject suffers
- ঘ. The salesman best knows where he loses
উত্তর: খ. The wearer best knows where the shoe pinches
‘যার জ্বালা সেই বোঝে’ বাংলা প্রবাদের ইংরেজি সমার্থক প্রবাদ হলো ‘The wearer best knows where the shoe pinches.’ অর্থাৎ জুতো কোথায় কামড়াচ্ছে, তা যে পরেছে সে-ই ভালো জানে। এর ভাব হলো, নিজে কষ্ট ভোগ না করলে অন্যের কষ্ট পুরোপুরি বোঝা যায় না। বাকি বিকল্পগুলো ইংরেজিতে প্রচলিত প্রবাদ নয়, তাই সেগুলো প্রবাদের অর্থ প্রকাশ করে না।
মনে রাখুন: আরও কিছু প্রবাদ:
Honesty is the best policy (সততাই সর্বোত্তম পন্থা)।
Time and tide wait for none (সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না)।
A stitch in time saves nine (সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়)।
Where there is a will, there is a way (ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়)। - ৪৬. Who wrote 'Julius Caesar'?
- ক. Francis Bacon
- খ. William Shakespeare
- গ. P.B Shelley
- ঘ. Bernard Shaw
উত্তর: খ. William Shakespeare
‘Julius Caesar’ নাটকের লেখক উইলিয়াম শেকসপিয়র (William Shakespeare, ১৫৬৪–১৬১৬)। নাটকটি আনুমানিক ১৫৯৯ সালে লেখা। এটি রোমান ইতিহাসভিত্তিক একটি ট্র্যাজেডি। এতে জুলিয়াস সিজারের হত্যা এবং তারপর রোমে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখানো হয়েছে। নাটকের একটি বিখ্যাত উক্তি ‘Et tu, Brute?’, যা সিজার বন্ধু ব্রুটাসকে দেখে বলেন। অন্য তিনজন ভিন্ন ধরনের লেখক: ফ্রান্সিস বেকন প্রাবন্ধিক, শেলি কবি এবং বার্নার্ড শ নাট্যকার। শেকসপিয়রের জন্ম ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে।
মনে রাখুন:
শেকসপিয়রের ট্র্যাজেডি: Hamlet, Macbeth, Othello, King Lear।
কমেডি: A Midsummer Night's Dream, The Merchant of Venice। - ৪৭. The word 'Oncology' is related with—
- ক. law
- খ. medicine
- গ. ecology
- ঘ. environment
উত্তর: খ. medicine
Oncology শব্দটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে ক্যান্সার ও টিউমারের কারণ, নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা হয়। গ্রিক ‘onkos’ মানে ফোলা বা গুটি। এর সঙ্গে আইন, বাস্তুসংস্থান বা পরিবেশের সম্পর্ক নেই। চিকিৎসার এসব শাখার নাম প্রায়ই -ology দিয়ে শেষ হয়, আর শব্দের প্রথম অংশ থেকে বোঝা যায় কোন অঙ্গ বা রোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। -logy অংশের অর্থ বিদ্যা বা শাস্ত্র, তাই oncology মানে টিউমারবিদ্যা।
মনে রাখুন:
Ecology = বাস্তুবিদ্যা।
Cardiology = হৃদরোগবিদ্যা।
Neurology = স্নায়ুবিদ্যা।
Dermatology = ত্বকবিদ্যা।
Oncologist = ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। - ৪৮. Identify the correct sentence.
- ক. If you had come, I would have helped you.
- খ. If you have come, I would have helped you.
- গ. If you have had come, I will help you.
- ঘ. If you had come, I would help you.
উত্তর: ক. If you had come, I would have helped you.
অতীতের অবাস্তব শর্ত বোঝাতে third conditional হয়: If + past perfect, subject + would have + past participle। তাই If you had come, I would have helped you. - ৪৯. Choose the correct one :
- ক. Lifebuoy
- খ. Lifeboy
- গ. Liveboy
- ঘ. Liveboyee
উত্তর: ক. Lifebuoy
সঠিক বানান Lifebuoy। এটি এমন একটি ভাসমান বস্তু, যা সাধারণত গোল চাকার মতো হয়, আর পানিতে পড়ে যাওয়া মানুষকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এটি জাহাজ বা নৌকায় রাখা হয়। শব্দটি দুটি অংশে তৈরি: life (জীবন) ও buoy (ভাসমান বয়া)। উচ্চারণে boy-এর মতো শোনায় বলে অনেকে ভুল করে Lifeboy লেখে, কিন্তু ‘buoy’ অংশের বানানে u থাকে। জাহাজ ও নদীর ঘাটে এই জিনিসটি বিপদের সময় কাজে লাগে।
মনে রাখুন: Buoy শব্দের বানানে ‘uo’ থাকে।
অন্য শব্দ: Lifeboat (উদ্ধার নৌকা), Lifeguard (উদ্ধারকারী)।
Lifebuoy-এর বানানে প্রথম অংশে f ও শেষ অংশে b বসে। - ৫০. Choose the correct option: "No sooner had we reached the station ___ the train left."
- ক. after
- খ. than
- গ. before
- ঘ. then
উত্তর: খ. than
'No sooner' সবসময় 'than'-এর সঙ্গে জোড়ায় বসে: No sooner had we reached the station than the train left. - ৫১. In which century was the Victorian period?
- ক. 17th Century
- খ. 18th Century
- গ. 19th Century
- ঘ. 20th Century
উত্তর: গ. 19th Century
Victorian period ইংরেজ রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনকাল। তিনি ১৮৩৭ সালে সিংহাসনে বসেন এবং ১৯০১ সালে মারা যান। এই সময়ের অধিকাংশ ঊনবিংশ শতাব্দীর (19th century) মধ্যে পড়ে, আর শতাব্দীর শেষ অংশে এসে তাঁর শাসন শেষ হয়। সাহিত্যের ইতিহাসে এই যুগে চার্লস ডিকেন্স, টেনিসন, ব্রাউনিং প্রমুখ লেখক ও কবি বিখ্যাত ছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দী মানে ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত সময়।
মনে রাখুন:
ইংরেজি সাহিত্যে এলিজাবেথীয় যুগ ১৬শ শতকের শেষ ও ১৭শ শতকের শুরুর দিকে।
ভিক্টোরীয় যুগের পরের সময়কে এডওয়ার্ডীয় যুগ বলা হয়।
ভিক্টোরীয় যুগে ঔপন্যাসিক টমাস হার্ডি ও থ্যাকারিও সুপরিচিত। - ৫২. Which one is correct?
- ক. The captain commanded the soldiers to fire on.
- খ. The captain told the soldiers to fire on.
- গ. The captain proposed the soldiers to fire on.
- ঘ. The captain requested the soldiers to fire on.
উত্তর: ক. The captain commanded the soldiers to fire on.
ইংরেজিতে সেনাপতি সৈন্যদের আদেশ দিলে command বা order ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়, কারণ এই শব্দ দুটি কর্তৃত্বের সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া বোঝায়। তাই এই প্রসঙ্গে commanded সবচেয়ে মানানসই। Propose মানে প্রস্তাব দেওয়া, আর request মানে বিনীতভাবে অনুরোধ করা, তাই সামরিক আদেশের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। শুদ্ধ বাক্য: ‘The captain commanded the soldiers to fire on.’ ইংরেজির শুদ্ধ বাক্যে verb-এর অর্থ ও পরিস্থিতি মেলানো জরুরি।
মনে রাখুন: Command/order + object + to + verb।
উদাহরণ:
The officer ordered the men to march.
The teacher told the boys to sit down. - ৫৩. The bird flew high. Here the word 'high' is a/an—
- ক. noun
- খ. adjective
- গ. adverb
- ঘ. verb
উত্তর: গ. adverb
যে শব্দ verb, adjective বা অন্য adverb-কে modify করে, সেটি adverb। ‘The bird flew high’ বাক্যে ‘high’ শব্দটি flew ক্রিয়াকে modify করে এবং পাখি কত উঁচুতে উড়ল তা বলছে। তাই এখানে high একটি adverb। ‘The high mountain’ বললে high হতো adjective, কারণ তখন সেটি noun-এর গুণ বোঝায়। High এর সঙ্গে ly যোগ করে highly হলে অর্থ বদলে ‘খুব’ বা ‘অত্যন্ত’ হয়ে যায়।
মনে রাখুন: কিছু শব্দ adjective ও adverb উভয়ই হয়: fast, hard, late, early, high।
উদাহরণ:
He is a fast runner. (adjective)
He runs fast. (adverb) - ৫৪. 'I myself went there'. Here 'myself' is—
- ক. reciprocal pronoun
- খ. emphatic pronoun
- গ. reflexive pronoun
- ঘ. distributive pronoun
উত্তর: খ. emphatic pronoun
‘I myself went there’ বাক্যে myself শব্দটি কাজের কর্তা I-কে আরও জোর দিয়েছে, অর্থাৎ আমি নিজেই গিয়েছিলাম। বাদ দিলেও বাক্য অর্থ হারায় না। যে pronoun কর্তা বা কর্মকে জোর দেওয়ার জন্য বসে, তাকে emphatic pronoun বলে। Reflexive pronoun তখন হয় যখন কর্তার কাজ কর্তার ওপরই ফিরে আসে, যেমন ‘I hurt myself’। এই বাক্যে নিজের ওপর কোনো কাজ ফিরছে না, তাই এটি reflexive নয়।
মনে রাখুন:
Emphatic: She herself did it.
Reflexive: He cut himself.
Reciprocal pronoun: each other, one another।
Distributive pronoun: each, either, neither। - ৫৫. What is the plural of 'photo'?
- ক. Photos
- খ. Photo
- গ. Photoes
- ঘ. Phottos
উত্তর: ক. Photos
Photo শব্দটি আসলে Photograph-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, আর এর বহুবচন হলো Photos। সাধারণ নিয়মে o-তে শেষ হওয়া অনেক শব্দের বহুবচনে es যুক্ত হয়, কিন্তু সব শব্দে নয়। যেসব শব্দের শেষে স্বরবর্ণের পর o থাকে, অথবা যেগুলো সংক্ষেপিত রূপ বা সংগীতের শব্দ, সেগুলোতে শুধু s বসে। তাই Photoes বা Phottos বানান ভুল। কথ্য ইংরেজিতে photo-র পূর্ণ রূপ photograph, যার বহুবচন photographs। তবে অন্য শব্দের মতো এখানেও বানান বদলায় না, শুধু শেষে s যুক্ত হয়।
মনে রাখুন:
শুধু s নেয়: photo–photos, piano–pianos, radio–radios, video–videos, zoo–zoos, solo–solos।
es নেয়: mango–mangoes, hero–heroes, potato–potatoes, tomato–tomatoes, echo–echoes। - ৫৬. What kind of noun is 'Cavalry'?
- ক. Proper
- খ. Common
- গ. Collective
- ঘ. Abstract
উত্তর: গ. Collective
Cavalry শব্দের অর্থ অশ্বারোহী সেনাদল। একজন সৈনিক নয়, বহু ঘোড়সওয়ার সৈনিককে একসঙ্গে একটি দল হিসেবে বোঝায় বলে এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun)। যে বিশেষ্য একই জাতীয় ব্যক্তি বা বস্তুর সমষ্টিকে একটি একক হিসেবে প্রকাশ করে, তাকেই Collective Noun বলে। একই রকমের আরেকটি শব্দ infantry, যার অর্থ পদাতিক সেনাদল।
মনে রাখুন:
Army (সেনাবাহিনী), Committee (কমিটি), Team (দল), Jury (জুরি), Crowd (ভিড়), Fleet (নৌবহর)।
Proper noun হলো নির্দিষ্ট নাম, যেমন Dhaka; Abstract noun হলো গুণ বা ভাব, যেমন honesty।
উদাহরণ:
a herd of cattle, a swarm of bees, a bunch of keys। - ৫৭. The phrase 'Keep an eye on' means—
- ক. to keep under careful observation
- খ. to remain awake
- গ. to continue doing something
- ঘ. to look at someone
উত্তর: ক. to keep under careful observation
Keep an eye on কথাটির অর্থ কাউকে বা কোনো কিছুকে সতর্কভাবে নজরে রাখা, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। যেমন মা ছোট শিশুটির ওপর সবসময় নজর রাখেন। এখানে eye মানে চোখ ঠিকই, কিন্তু বাক্যাংশটির অর্থ কেবল তাকিয়ে থাকা নয়, বরং যত্নের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা। এজন্য to look at someone ঠিক উত্তর নয়।
উদাহরণ:
Please keep an eye on my bag.
মনে রাখুন: Keep an eye out for মানে কিছুর জন্য সজাগ থাকা বা খুঁজে দেখা। - ৫৮. Choose the correct spelling :
- ক. auxialary
- খ. auxiliary
- গ. auxilary
- ঘ. auxilliary
উত্তর: খ. auxiliary
সঠিক বানান হলো auxiliary, যার অর্থ সহায়ক। শব্দটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো এর মধ্যে auxili-ary অংশটি আলাদা করে দেখা, যেখানে l একটি এবং i দুইবার আছে। বাকি তিনটিতে হয় i বাদ গেছে, নয়তো l দুইবার বসেছে, তাই সেগুলো ভুল। Auxiliary verb হলো সেই ক্রিয়া, যা মূল ক্রিয়াকে সাহায্য করে কাল বা ভাব প্রকাশ করে।
উদাহরণ:
She is reading a book. (এখানে is হলো auxiliary verb)
মনে রাখুন:
Primary auxiliary: be, have, do।
Modal auxiliary: shall, will, can, may, must, should, would, could, might। - ৫৯. 'Always speak the truth!' is a/an — sentence.
- ক. assertive
- খ. interrogative
- গ. optative
- ঘ. imperative
উত্তর: ঘ. imperative
‘Always speak the truth!’ বাক্যে বক্তা শ্রোতাকে সত্য বলার আদেশ বা উপদেশ দিচ্ছেন। যে বাক্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ বা নিষেধ প্রকাশ করে, তাকে Imperative sentence বলে। এ ধরনের বাক্যে সাধারণত কর্তা (You) উহ্য থাকে এবং ক্রিয়ার মূল রূপ দিয়ে বাক্য শুরু হয়। বাক্যটিতে কোনো ঘটনার বিবরণ, প্রশ্ন বা ইচ্ছা নেই, তাই এটি assertive, interrogative বা optative নয়।
মনে রাখুন:
Assertive: কোনো ঘটনা জানায় (He is honest)।
Interrogative: প্রশ্ন করে (Is he honest?)।
Optative: ইচ্ছা বা প্রার্থনা বোঝায় (May you be happy)।
উদাহরণ:
Please help me. (অনুরোধ)
Do not touch it. (নিষেধ) - ৬০. 'Proclaim' means—
- ক. claim loudly
- খ. short
- গ. make known publicly through cry
- ঘ. make known publicly
উত্তর: ঘ. make known publicly
Proclaim শব্দের অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে ও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা, অর্থাৎ কোনো বিষয় সবাইকে জানিয়ে দেওয়া। তাই make known publicly সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা। Claim loudly বললে জোর গলায় দাবি করা বোঝায়, যা Proclaim-এর অর্থ নয়। আর through cry অংশটি অর্থকে অযথা সীমিত করে ফেলে, কারণ ঘোষণা সবসময় চিৎকার করে হয় না, লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও হতে পারে। কোনো সরকার বা শাসক যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা দেন, তখনও proclaim ব্যবহার হয়।
উদাহরণ:
The king proclaimed a national holiday.
মনে রাখুন:
Proclamation মানে ঘোষণা বা ঘোষণাপত্র।
সমার্থক শব্দ: declare, announce, herald। - ৬১. Choose the correct word : The man is trying hard to — weight.
- ক. loose
- খ. lose
- গ. loss
- ঘ. lost
উত্তর: খ. lose
ওজন কমানো বোঝাতে ইংরেজিতে lose weight বলা হয়। বাক্যটিতে trying hard to-এর পর ক্রিয়ার মূল রূপ বসতে হয়, তাই lose সঠিক। Lose (v) মানে হারানো বা কমানো। এর সঙ্গে loose-এর গোলমাল হয়, কারণ loose হলো বিশেষণ, যার অর্থ ঢিলা। Loss হলো বিশেষ্য, আর lost হলো lose-এর অতীত রূপ। উচ্চারণ ও বানান কাছাকাছি হওয়ায় এই শব্দগুলো প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। এই কারণে lose ও loose-এর বানান আলাদা করে মনে রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
Lose–lost–lost (ক্রিয়া)।
Loose–looser–loosest (বিশেষণ, ঢিলা)।
Lose heart = হতাশ হওয়া।
Lose one's temper = রেগে যাওয়া। - ৬২. The invigilator made us — our identity cards at the test center.
- ক. show
- খ. to show
- গ. showing
- ঘ. have shown
উত্তর: ক. show
Make কারও দ্বারা কোনো কাজ করানো বোঝায়। তখন make-এর পর কর্মবাচক ব্যক্তি এবং তার পর to ছাড়া ক্রিয়ার মূল রূপ (Base form) বসে। তাই made us show সঠিক। To show, showing বা have shown বসালে গঠন ভুল হয়। Invigilator মানে পরীক্ষার হলের তত্ত্বাবধায়ক, আর তিনি পরীক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য করেছেন, এটাই বাক্যের ভাব।
উদাহরণ:
The teacher made him stand up.
মনে রাখুন:
Make, let ও have-এর পর object এবং তার পর to ছাড়া verb বসে।
Make-এর পর to বসে না, কিন্তু বাক্য passive হলে to আসে। যেমন: He was made to stand up। - ৬৩. Antonym of the word 'Soothe' is—
- ক. conceal
- খ. charm
- গ. irritate
- ঘ. tolerate
উত্তর: গ. irritate
Soothe মানে শান্ত করা বা প্রশমিত করা, যেমন কান্নারত শিশুকে শান্ত করা। এর বিপরীত কাজ হলো বিরক্ত বা উত্তেজিত করা, আর সেই অর্থ দেয় irritate। অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: Conceal মানে লুকানো, Charm মানে মুগ্ধ করা, Tolerate মানে সহ্য করা। এদের কোনোটিই soothe-এর বিপরীত ভাব প্রকাশ করে না। Soothe শব্দের বিপরীত ভাব বুঝতে হলে আগে শব্দের মূল অর্থ ধরতে হয়, তারপর বিকল্পগুলো মিলিয়ে দেখতে হয়।
মনে রাখুন:
Soothe-এর সমার্থক শব্দ: calm, comfort, pacify, ease।
Irritate-এর সমার্থক শব্দ: annoy, provoke, vex।
Soothe-এর বিপরীত শব্দ হিসেবে agitate-ও পাওয়া যায়। - ৬৪. Slang in a language is usually ephemeral in nature. Here the underlined word 'ephemeral' means—
- ক. transient
- খ. necessary
- গ. obvious
- ঘ. custom
উত্তর: ক. transient
Ephemeral শব্দের অর্থ ক্ষণস্থায়ী, অর্থাৎ যা খুব অল্প সময় টিকে থাকে। শব্দটি গ্রিক ephemeros থেকে এসেছে, যার অর্থ এক দিনের জন্য টিকে থাকা। Slang বা অপভাষা সাধারণত অল্প সময় চলে, তারপর হারিয়ে যায়, তাই বাক্যে ephemeral শব্দটি যথার্থ। এর সমার্থক শব্দ হলো Transient। বাকি তিনটির অর্থ আলাদা: Necessary মানে প্রয়োজনীয়, Obvious মানে স্পষ্ট, Custom মানে রীতি। বাক্যে slang সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে ক্ষণস্থায়ী অর্থই মেলে।
মনে রাখুন:
Ephemeral-এর সমার্থক: transient, fleeting, momentary, short-lived।
বিপরীত শব্দ: permanent, eternal, lasting। - ৬৫. Select the appropriate preposition : The candles have been blown — by the wind.
- ক. out
- খ. away
- গ. up
- ঘ. of
উত্তর: ক. out
বাতাসে মোমবাতি নিভে যাওয়া বোঝাতে blow out ব্যবহার হয়, তাই blown out সঠিক। Phrasal verb-এর অর্থ আলাদাভাবে মনে রাখতে হয়, কারণ verb-এর সঙ্গে preposition বা adverb যুক্ত হলে অর্থ পুরো বদলে যায়। Blow away মানে উড়িয়ে নেওয়া, আর blow up মানে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া বা ফুঁ দিয়ে ফোলানো। Of বসালে অর্থই হয় না।
উদাহরণ:
She blew out the candles on her birthday cake.
মনে রাখুন:
Blow over মানে ধীরে ধীরে থেমে যাওয়া, যেমন ঝড় থেমে যাওয়া।
Put out মানে নিভিয়ে ফেলা, যেমন আগুন নেভানো। - ৬৬. I could barely make out the traffic sign through the rain. Here the phrasal verb 'make out' means—
- ক. discern
- খ. violet
- গ. obey
- ঘ. await
উত্তর: ক. discern
Make out এখানে কষ্ট করে কিছু দেখে বুঝতে পারা বা শনাক্ত করা অর্থে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যে ট্রাফিক সংকেত সবেমাত্র বোঝা গেল, এটাই বাক্যের ভাব। Discern শব্দের অর্থও কষ্টে হলেও দেখে বা বুঝে নেওয়া, তাই এটি সঠিক। Obey মানে মান্য করা, আর await মানে অপেক্ষা করা। এদের কোনোটিই বাক্যের ভাবের সঙ্গে খাপ খায় না।
উদাহরণ:
I can't make out what he is saying.
মনে রাখুন:
Make out-এর আরেক অর্থ ভান করা। যেমন: He made out that he was ill।
Make out a cheque মানে চেক লিখে দেওয়া। - ৬৭. The idiom 'To sit on the fence' means—
- ক. to keep away
- খ. to remain neutral
- গ. to be in danger
- ঘ. to guard someone
উত্তর: খ. to remain neutral
To sit on the fence বাগ্ধারাটির আক্ষরিক অর্থ বেড়ার ওপর বসে থাকা। বেড়ার ওপর বসলে কেউ কোনো পাশেই নামে না, ঠিক তেমনই কোনো বিতর্কে কারও পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষ থাকাকে এভাবে বলা হয়। তাই উত্তর to remain neutral। বাকি অপশনগুলোর সঙ্গে বাগ্ধারার সম্পর্ক নেই।
উদাহরণ:
He is sitting on the fence in this dispute.
মনে রাখুন:
Neutral শব্দের বাংলা নিরপেক্ষ, আর সিদ্ধান্ত নিতে না পারা মানুষকে অনেক সময় fence-sitter বলা হয়।
আরও বাগ্ধারা: break the ice (আড়ষ্টতা ভাঙা), beat about the bush (ঘুরিয়ে বলা), a blessing in disguise (ছদ্মবেশী আশীর্বাদ)। - ৬৮. 'Ordinary' means-
- ক. best and cleanest
- খ. normal and usual
- গ. oldest and dirtiest
- ঘ. normal or usual
উত্তর: ঘ. normal or usual
Ordinary মানে সাধারণ বা স্বাভাবিক, অর্থাৎ বিশেষ কিছু নয়। খ ও ঘ প্রায় একই অর্থ দেয়; উত্তরমালা অভিধানের সংজ্ঞা অনুযায়ী 'normal or usual' ধরেছে। - ৬৯. We asked him why he— telephoned earlier.
- ক. did not
- খ. had not
- গ. has not
- ঘ. was not
উত্তর: খ. had not
বাক্যে ‘We asked’ ঘটেছে অতীতে, আর ফোন না করার ঘটনাটি তারও আগের। দুটি অতীত ঘটনার মধ্যে যেটি আগে ঘটেছে, সেটি past perfect (had + V3) দিয়ে লিখতে হয়। তাই সঠিক রূপ ‘why he had not telephoned earlier’। এখানে did not বা was not বসালে ঘটনার আগে-পরের সম্পর্কটি পরিষ্কার হয় না, আর has not বসালে বাক্যের অতীত সুরের সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখুন:
Past perfect-এর গঠন had + past participle, আর পরে ঘটা ঘটনাটি simple past-এ থাকে।
উদাহরণ: The train had left before we reached the station. - ৭০. Select the correct tag question : My sister doesn't like fish, —?
- ক. does she
- খ. did she
- গ. doesn't she
- ঘ. won't she
উত্তর: ক. does she
Tag question-এ মূল বাক্য না-বাচক হলে tag হয় হ্যাঁ-বাচক, আর হ্যাঁ-বাচক হলে tag হয় না-বাচক। বাক্যটি doesn't like দিয়ে না-বাচক, তাই tag হবে হ্যাঁ-বাচক। Auxiliary হিসেবে does নিতে হবে এবং কর্তা My sister-এর জন্য pronoun she বসবে। ফলে সঠিক রূপ does she। Did she বসালে কাল মেলে না, আর doesn't she বা won't she বসালে না-বাচকের পরে আবার না-বাচক tag হয়ে যায়।
উদাহরণ:
She likes tea, doesn't she?
মনে রাখুন:
Let's-এর tag হয় shall we।
Imperative বাক্যের tag হয় will you।
I am-এর tag হয় aren't I। - ৭১. Choose the correct option : My father doesn't tell a lie, and—
- ক. neither I do
- খ. neither do I
- গ. either do I
- ঘ. I do either
উত্তর: খ. neither do I
মূল বাক্য My father doesn't tell a lie না-বাচক। এর সঙ্গে 'আমিও না' বোঝাতে and-এর পর neither + auxiliary + subject বসে, তাই neither do I সঠিক। Neither নিজেই না-বাচক অর্থ বহন করে, তাই এর সঙ্গে আবার not বা negative auxiliary বসানো যায় না। Either do I এবং I do either ব্যাকরণসম্মত নয়।
উদাহরণ:
She doesn't smoke, and neither do I.
মনে রাখুন: হ্যাঁ-বাচক বাক্যে একই কাজ বোঝাতে so do I ব্যবহার হয়। - ৭২. What is the adjective form of the word 'obligate'?
- ক. Obligatory
- খ. Obligation
- গ. Obligative
- ঘ. Obligatoriness
উত্তর: ক. Obligatory
Obligate ক্রিয়ার অর্থ বাধ্য বা দায়বদ্ধ করা। এর বিশেষণ রূপ হলো obligatory, যার অর্থ বাধ্যতামূলক। Obligation হলো বিশেষ্য, যার অর্থ দায় বা বাধ্যবাধকতা। আর Obligatoriness শব্দটি obligatory-র গুণবাচক বিশেষ্য রূপ, যা খুব কম ব্যবহৃত হয়। Obligative শব্দটি সাধারণ ব্যবহারে প্রচলিত নয়। শব্দ থেকে শব্দ গঠন করা শিখলে এ ধরনের প্রশ্নে সুবিধা হয়। প্রশ্নে adjective form চাওয়া হয়েছে বলে noun রূপ obligation বা obligatoriness উত্তর হতে পারে না।
মনে রাখুন:
Obligate (ক্রিয়া), Obligation (বিশেষ্য), Obligatory (বিশেষণ), Obligatorily (ক্রিয়াবিশেষণ)।
উদাহরণ:
Attendance is obligatory for all students. - ৭৩. Change the form of narration : The teacher said, "Honesty is the best policy."
- ক. The teacher said that honesty is the best policy.
- খ. The teacher said that honesty was the best policy.
- গ. The teacher said that honesty had been the best policy.
- ঘ. The teacher said that honesty should be the best policy.
উত্তর: ক. The teacher said that honesty is the best policy.
Reporting verb অতীত কালের হলে সাধারণত reported speech-এর verb-এর কাল এক ধাপ পেছনে যায়। কিন্তু উক্তিটি যদি চিরন্তন সত্য, প্রবাদ বা সাধারণ সত্য হয়, তবে কাল অপরিবর্তিত থাকে। Honesty is the best policy একটি চিরন্তন সত্য, তাই indirect speech-এ is-ই থাকবে। অর্থাৎ The teacher said that honesty is the best policy।
উদাহরণ:
He said, "The sun rises in the east." → He said that the sun rises in the east.
মনে রাখুন: ঐতিহাসিক সত্য ও প্রবাদবাক্যেও tense বদলায় না। - ৭৪. Choose the appropriate article : Can you speak — Spanish?
- ক. at
- খ. a
- গ. the
- ঘ. no article
উত্তর: ঘ. no article
ভাষার নামের আগে সাধারণত কোনো article বসে না। তাই Can you speak Spanish? বাক্যটি সঠিক এবং শূন্যস্থানে কিছুই বসবে না। তবে ভাষা শব্দের পর language শব্দটি যুক্ত হলে article বসতে পারে, যেমন the Spanish language। আবার the Spanish বললে স্পেনের মানুষদের বোঝায়, ভাষা নয়। At বা a বসালে বাক্যের গঠন ভুল হয়।
উদাহরণ:
She speaks Bangla and English fluently.
মনে রাখুন: দেশের নাম, ভাষা, খেলা ও খাবারের নামের আগে সাধারণত article বসে না।
যেমন: He plays cricket. I like rice. - ৭৫. I think it — rain today.
- ক. Shall
- খ. may
- গ. might
- ঘ. must
উত্তর: খ. may
‘I think it may rain today’ বাক্যটিতে আজ বৃষ্টি হতে পারে, এই সম্ভাবনা বোঝানো হয়েছে। Possibility বা সম্ভাবনা প্রকাশে may ব্যবহার হয়। Shall ভবিষ্যৎ ও প্রস্তাবের জন্য, আর must অবশ্যকরণীয়তা বা দৃঢ় অনুমানের জন্য বসে, তাই এখানে মানায় না। Might-ও সম্ভাবনা বোঝায়, তবে সেটি তুলনামূলক দুর্বল সম্ভাবনা, আর বাক্যে present tense থাকায় may-ই উপযুক্ত।
মনে রাখুন: May ও might দুটিই সম্ভাবনা বোঝায়, তবে might-এ নিশ্চয়তা আরও কম।
May অনুমতি চাইতেও বসে: May I come in?
May দিয়ে শুভকামনা বোঝায়: May you live long. - ৭৬. The plural form of personal pronoun 'my' is—
- ক. we
- খ. me
- গ. our
- ঘ. us
উত্তর: গ. our
Personal pronoun-এর possessive রূপ my (আমার)-এর বহুবচন হলো our (আমাদের)। একবচন থেকে বহুবচনে যাওয়ার সময় I–we, me–us, my–our, mine–ours পরিবর্তন হয়। We এবং us কর্তা বা কর্ম কারক, আর our অধিকারবাচক, তাই এখানে our সঠিক। প্রশ্নে possessive রূপ চাওয়া হয়েছে বলে we বা us বসানো যাবে না। প্রশ্নটি possessive adjective-এর বহুবচন চাইছে, তাই কর্তা কারকের we কিংবা কর্ম কারকের us নেওয়া চলে না। I যেমন একবচন কর্তা, তেমনি my একবচন অধিকারবাচক। আর we ও our বহুবচনে একই সম্পর্ক বহন করে।
মনে রাখুন:
my–our, your–your, his/her/its–their।
mine–ours, yours–yours, his/hers–theirs।
I–we (কর্তা কারক), me–us (কর্ম কারক)। - ৭৭. Choose the appropriate linker : I'll visit you — I have finished my homework.
- ক. whereas
- খ. so
- গ. but
- ঘ. as soon as
উত্তর: ঘ. as soon as
বাক্যের অর্থ হলো, গৃহকাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই আমি তোমার সঙ্গে দেখা করব। দুটি কাজের মধ্যে সময়গত সম্পর্ক বোঝানোর জন্য as soon as সবচেয়ে উপযুক্ত। Whereas মানে অথচ, so মানে তাই, আর but মানে কিন্তু। এগুলো বসালে বাক্যের অর্থ ঠিক থাকে না, কারণ এখানে তুলনা, ফল বা বৈপরীত্য নেই, আছে সময়ের পরম্পরা।
উদাহরণ:
I will call you as soon as I reach home.
মনে রাখুন:
As soon as-এর সমার্থক হলো the moment এবং once।
No sooner had I… than… এবং Hardly had I… when… কাঠামোও একই ভাব প্রকাশ করে। - ৭৮. Put the right form of verb : My uncle — (be) a source of inspiration for me since I was a young boy.
- ক. was being
- খ. will be
- গ. is being
- ঘ. has been
উত্তর: ঘ. has been
Since দিয়ে অতীতের কোনো নির্দিষ্ট সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত চলমান অবস্থা বোঝানো হলে মূল clause-এ Present Perfect Tense হয়। এখানে ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত চাচা অনুপ্রেরণার উৎস, তাই has been সঠিক। Was being এবং is being এই অর্থ দেয় না, আর will be ভবিষ্যৎ বোঝায়। Since-এর পরের অংশে সাধারণত Past Indefinite থাকে, যেমন ‘since I was a young boy’।
উদাহরণ:
He has lived here since 2010.
মনে রাখুন:
Since-এর পর নির্দিষ্ট সময়বিন্দু বসে, আর for-এর পর সময়ের পরিমাণ বসে।
যেমন: for five years, since 2015। - ৭৯. A person whose 'head' is in the clouds is—আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৭, এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. proud
- খ. a day dreamer
- গ. an aviator
- ঘ. extraordinary
উত্তর: খ. a day dreamer
A person whose head is in the clouds বলতে বোঝায় এমন মানুষ, যে বাস্তব থেকে দূরে কল্পনার জগতে ডুবে থাকে। এমন মানুষকে বলে day dreamer, অর্থাৎ দিবাস্বপ্নদ্রষ্টা। Aviator মানে বৈমানিক, আর proud মানে গর্বিত, এগুলো বাগ্ধারার অর্থ নয়। মেঘ আকাশের অনেক উঁচুতে থাকে, তাই মাথা মেঘে থাকা মানে মাটির বাস্তবতা থেকে বহু দূরে চলে যাওয়া।
মনে রাখুন:
Head in the clouds = কল্পনায় বিভোর, অব্যবহারিক।
Have one's feet on the ground = বাস্তববাদী হওয়া।
Castle in the air = অলীক কল্পনা। - ৮০. Choose the right word : They have — their support for our case.
- ক. pledged
- খ. discovered
- গ. provided
- ঘ. deferred
উত্তর: ক. pledged
Pledge মানে অঙ্গীকার করা বা কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। তাই বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়, তারা আমাদের মামলার প্রতি সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। Discovered মানে আবিষ্কার করা এবং deferred মানে স্থগিত করা, আর provided সমর্থন দেওয়ার অর্থে এখানে স্বাভাবিক নয়, কারণ তখন বাক্যটি অন্য কাঠামোতে বসত। Pledge শব্দটি বিশেষ্য হিসেবেও চলে এবং তখন এর অর্থ প্রতিশ্রুতি। সাধারণত support, loyalty বা promise-এর সঙ্গে pledge ক্রিয়া বসে।
উদাহরণ:
The donors pledged support for the school.
মনে রাখুন:
Pledge-এর সমার্থক হলো promise, vow, swear।
Defer মানে স্থগিত রাখা, postpone শব্দটির সমার্থক।
বাংলাদেশ
- ৮১. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৫, এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৬, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ২০১৬
- ক. শামীম শিকদার
- খ. হামিদুর রহমান
- গ. মৃণাল হক
- ঘ. কামরুল হাসান
উত্তর: খ. হামিদুর রহমান
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা করেছিলেন হামিদুর রহমান। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে এটি প্রথমে ১৯৫২ সালে ছাত্রদের তৈরি করা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। ছাত্ররা ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সেটি বানায়, আর ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তা ভেঙে দেয়। পরে ১৯৫৭ সালে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশায় স্থায়ী নির্মাণ শুরু হয়। স্বাধীনতার পর বর্তমান রূপে এটি আবার তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
শহীদ মিনারের নকশায় নভেরা আহমেদের নামও যুক্ত, তিনি ভাস্কর হিসেবে কাজ করেছিলেন।
শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারি ফুল দেওয়া হয়।
শামীম সিকদার ভাস্কর এবং কামরুল হাসান চিত্রশিল্পী ছিলেন, শহীদ মিনারের নকশা তাঁদের নয়। - ৮২. মাতারবাড়ি কোন জেলায় অবস্থিত?
- ক. কক্সবাজার
- খ. কুমিল্লা
- গ. নোয়াখালী
- ঘ. ভোলা
উত্তর: ক. কক্সবাজার
মাতারবাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত। এটি বঙ্গোপসাগরের তীরের একটি জনপদ, যেখানে সাগরের গভীরতা তুলনামূলক বেশি। এ কারণে সেখানে বড় জাহাজ সহজে ভিড়তে পারে। তাই জাপানের সহায়তায় এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পে অর্থ জুগিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA)। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে আমদানি করা কয়লা সরাসরি জাহাজে এনে এখানেই ব্যবহার করা যায়, ফলে পরিবহণ খরচ কমে।
মনে রাখুন:
মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ উপজেলা।
কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপেও গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিকল্পনা হয়েছিল।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হলো চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা। - ৮৪. বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০২২
- ক. গৌড়
- খ. পুণ্ড্র
- গ. সমতট
- ঘ. হরিকেল
উত্তর: খ. পুণ্ড্র
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ পুণ্ড্র। এর কেন্দ্র ছিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়। বর্তমান বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এটি গড়ে উঠেছিল। গৌড়, সমতট ও হরিকেলও প্রাচীন জনপদ ছিল, তবে এগুলো অন্য অঞ্চলে অবস্থিত। মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপি বাংলায় প্রাপ্ত প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শনগুলোর একটি। জনপদ বলতে প্রাচীনকালে ছোট ছোট স্বাধীন অঞ্চল বা রাজ্যকে বোঝাত। কালক্রমে এমন বহু জনপদ মিলেই বাংলার সীমানা গড়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
গৌড় ছিল বাংলার উত্তর-পশ্চিম অংশ, সমতট দক্ষিণ-পূর্ব অংশ, আর হরিকেল ছিল সিলেট-চট্টগ্রাম অঞ্চলের কাছাকাছি।
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নস্থলগুলোর একটি। - ৮৬. বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র কোথায়?
- ক. বাখরাবাদ
- খ. হরিপুর
- গ. তিতাস
- ঘ. হবিগঞ্জ
উত্তর: গ. তিতাস
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে তিতাস অন্যতম। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত, আর ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি এটি আবিষ্কার করে। আবিষ্কারের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বড় অংশের গ্যাস এই ক্ষেত্র থেকেই সরবরাহ হয়েছে, তাই এটিকে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ধরা হয়। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, যা মাটির নিচের স্তরে জমে থাকে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ গ্যাসক্ষেত্র পূর্বাঞ্চলের সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও হবিগঞ্জ এলাকায়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হরিপুর (সিলেট, ১৯৫৫)।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদন হয় হবিগঞ্জের বিবিয়ানা ক্ষেত্র থেকে।
বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র কুমিল্লা জেলায়। - ৮৭. শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলেন?
- ক. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
- খ. সমাজবিজ্ঞান
- গ. আইন
- ঘ. অর্থনীতি
উত্তর: গ. আইন
শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করে। এরপর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান বা অর্থনীতি তাঁর পড়ার বিষয় ছিল না। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে তিনি ১৯৪৭ সালে স্নাতক পাস করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন সংগঠক, আর দেশভাগের পর ঢাকায় এসে আইন পড়তে ভর্তি হন।
মনে রাখুন:
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জন্ম।
১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক হন। - ৮৮. মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
- ক. ১ নম্বর
- খ. ৫ নম্বর
- গ. ৮ নম্বর
- ঘ. ১০ নম্বর
উত্তর: গ. ৮ নম্বর
মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। মুজিবনগর, অর্থাৎ বর্তমান মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা, ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে। এই সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন প্রথমে মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর। প্রতিটি সেক্টরের অধীনে আবার কয়েকটি সাব-সেক্টর ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলো ঠিক করা হয় ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে।
মনে রাখুন:
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আম্রকাননে এই সরকারের শপথ হয়, আর তখন থেকেই জায়গাটির নাম মুজিবনগর।
সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। - ৮৯. 'জয় বাংলা, বাংলার জয়' গানটির সুরকার কে?
- ক. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
- খ. আলতাফ মাহমুদ
- গ. আনোয়ার পারভেজ
- ঘ. সমর দাস
উত্তর: গ. আনোয়ার পারভেজ
‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ গানটির কথা লিখেছিলেন গাজী মাযহারুল আনোয়ার এবং সুর করেছিলেন আনোয়ার পারভেজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এ গান প্রচারিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াত। সুরকার আলতাফ মাহমুদ আলাদা গানের জন্য পরিচিত। যেমন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির সুর তাঁর, যার কথা লিখেছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। জয় বাংলা স্লোগানটি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান রণধ্বনি ছিল, আর এই গান সেই স্লোগানকেই সুরে বেঁধে মানুষের মুখে মুখে পৌঁছে দেয়।
মনে রাখুন: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাটে চালু হয়, পরে মুজিবনগর থেকে প্রচার হতো। - ৯০. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাব্য উৎপাদন কত?
- ক. ২০০০ মেগাওয়াট
- খ. ২২০০ মেগাওয়াট
- গ. ২৪০০ মেগাওয়াট
- ঘ. ২৮০০ মেগাওয়াট
উত্তর: গ. ২৪০০ মেগাওয়াট
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। দুটি ইউনিট মিলিয়ে এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট, কারণ প্রতিটি ইউনিট ১২০০ মেগাওয়াটের। নির্মাণের দায়িত্বে রাশিয়ার রোসাটম (Rosatom) নামের প্রতিষ্ঠান। পারমাণবিক বিদ্যুতে ইউরেনিয়ামের বিভাজন থেকে তাপ তৈরি হয়, আর সেই তাপে বাষ্প করে টারবাইন ঘোরানো হয়। প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে।
মনে রাখুন:
রূপপুর কেন্দ্রে VVER-1200 ধরনের চুল্লি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পুরোনো বড় কেন্দ্র কর্ণফুলী নদীর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা ১৯৬২ সালে চালু হয়। - ৯১. পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত?
- ক. ৬.১০ কি. মি.
- খ. ৬.১৫ কি. মি.
- গ. ৬.৫ কি. মি.
- ঘ. ৬.৮০ কি. মি.
উত্তর: খ. ৬.১৫ কি. মি.
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। সেতুটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এবং শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করেছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করেন। সেতুতে ৪১টি স্প্যান আছে, প্রতিটি ১৫০ মিটার লম্বা, আর ৪১ × ১৫০ মিটার হিসাব করলেই ৬১৫০ মিটার বা ৬.১৫ কিলোমিটার পাওয়া যায়। সেতুটি চালু হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে।
মনে রাখুন:
পদ্মা সেতু দ্বিতল, ওপরে সড়ক আর নিচে রেলপথ।
বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮০ কিলোমিটার, যা ১৯৯৮ সালে চালু হয়। - ৯২. মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কোন জেলায় অবস্থিত?
- ক. চট্টগ্রাম
- খ. সিলেট
- গ. সুনামগঞ্জ
- ঘ. মৌলভীবাজার
উত্তর: ঘ. মৌলভীবাজার
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় জলপ্রপাত এবং পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। পাহাড়ি ছড়ার পানি সেখানে উঁচু থেকে নিচে ঝরে পড়ে। মৌলভীবাজারের অন্যান্য প্রাকৃতিক আকর্ষণের মধ্যে আছে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। চা-শিল্পের জন্য শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী। জলপ্রপাত বলতে বোঝায় ঝরনা বা নদীর পানি উঁচু পাহাড় বা পাথরের ধাপ থেকে নিচে আছড়ে পড়া। বর্ষাকালে মাধবকুণ্ডে পানির প্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই তখন দৃশ্যটি দেখার মতো হয়। মৌলভীবাজার জেলায় শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জসহ অনেক জায়গায় চা-বাগান আছে।
মনে রাখুন:
জাফলং ও রাতারগুল সিলেট জেলায় অবস্থিত।
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত। - ৯৩. বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে?
- ক. আইন মন্ত্রী
- খ. আইন সচিব
- গ. অ্যাটর্নি জেনারেল
- ঘ. প্রধান বিচারপতি
উত্তর: গ. অ্যাটর্নি জেনারেল
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়োগ দেন। তিনি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা থাকলেই কেউ এ পদে নিযুক্ত হতে পারেন। সরকারের আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করা তাঁর কাজ। তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী দায়িত্বে থাকেন এবং বাংলাদেশের যেকোনো আদালতে উপস্থিত হওয়ার অধিকার রাখেন। সংবিধানের নির্বাহী বিভাগ অংশে মন্ত্রিসভার সঙ্গে এই পদের কথাও বলা আছে।
মনে রাখুন: আইনমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্য এবং আইন সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান, আর প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের প্রধান। - ৯৪. ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল কোনটি?
- ক. ২০১৯-২০২৪
- খ. ২০২০-২০২৫
- গ. ২০২১-২০২৫
- ঘ. ২০২১-২০২৬
উত্তর: গ. ২০২১-২০২৫
বাংলাদেশের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। পাঁচ বছর মেয়াদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বলে। এটি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির পর প্রথম পরিকল্পনা। এতে ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮.৫১ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব পরিকল্পনা কমিশনের। সরকার প্রতিটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে কোন খাতে কত বিনিয়োগ হবে এবং অর্থনীতি কতটা বাড়বে, তার লক্ষ্য ঠিক করে। তাই এই পরিকল্পনাগুলোর মেয়াদ জানা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন:
প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ১৯৭৩–৭৮।
দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ১৯৮০–৮৫।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১১–১৫।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬–২০২০। - ৯৯. বাংলাদেশ কত সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে যাবে?
- ক. ২০২৬
- খ. ২০৩০
- গ. ২০৩৬
- ঘ. ২০৪১
উত্তর: ক. ২০২৬
জাতিসংঘের নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণ করার কথা ছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (CDP) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করে, আর একই বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তা অনুমোদন করে। উত্তরণের পর কিছু বাণিজ্য-সুবিধা ধাপে ধাপে কমে যায়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশ ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের হিসাবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়।
উত্তরণের মানদণ্ড তিনটি: মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের পর্যালোচনায় তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে। - ১২২. বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কয়টি?
- ক. ১টি
- খ. ২টি
- গ. ৩টি
- ঘ. ৪টি
উত্তর: গ. ৩টি
পরীক্ষার সময় দেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল তিনটি: ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলায় সংখ্যাটি বদলাতে পারে। - ১৮৪. আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে—
- ক. পার্বত্য চট্টগ্রাম
- খ. ঢাকা
- গ. ময়মনসিংহ
- ঘ. সিলেট
উত্তর: ঘ. সিলেট
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প-ঝুঁকি বিশ্লেষণে সিলেট অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়। এর কারণ ডাউকি চ্যুতি ও ইন্দো-বার্মা পাতের কাছাকাছি অবস্থান। বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি, তাই এখানে ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকে। অন্যান্য অঞ্চলও কিছুটা ঝুঁকিতে আছে, তবে সিলেটের ঝুঁকি বেশি। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ভবন তৈরিতে জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধি (BNBC) মেনে চলা জরুরি।
মনে রাখুন:
ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে মাপা হয়, আর যে যন্ত্রে তা ধরা পড়ে তার নাম সিসমোগ্রাফ।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূগর্ভে থাকলে তাকে কেন্দ্র (Focus) বলে, আর তার ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুটি উপকেন্দ্র (Epicentre)।
আন্তর্জাতিক
- ৮৫. ইউনেস্কো কত তারিখে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
- ক. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯
- খ. ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
- গ. ১৯ নভেম্বর ২০০০
- ঘ. ২০ নভেম্বর ২০০০
উত্তর: খ. ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে তাদের সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়েই এই স্বীকৃতি আসে। প্রস্তাবটি এনেছিল বাংলাদেশ, কানাডায় বসবাসরত কয়েকজন বাঙালির উদ্যোগে। পরে ২০০২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদও দিবসটিকে স্বাগত জানায়। মাতৃভাষা দিবসের উদ্দেশ্য বিশ্বের সব ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা।
মনে রাখুন:
ঘোষণার তারিখ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর, আর প্রথম পালন ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি।
ভাষা আন্দোলনে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর। - ৯৫. নিম্নের কোন দেশটি সার্কের সদস্য রাষ্ট্র নয়?
- ক. আফগানিস্তান
- খ. ভুটান
- গ. মালদ্বীপ
- ঘ. মিয়ানমার
উত্তর: ঘ. মিয়ানমার
সার্ক (SAARC) গঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায়। এর প্রস্তাবক ছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রথমে সদস্য ছিল সাতটি রাষ্ট্র, আর ২০০৭ সালে আফগানিস্তান যুক্ত হয়ে সদস্য হয় আটটি। মিয়ানমার সার্কের সদস্য নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্থা আসিয়ানের (ASEAN) সদস্য। সার্কের সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে। দক্ষিণ এশিয়ার জোট সার্ক আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ান আলাদা, তাই এদের সদস্য তালিকাও আলাদা। মিয়ানমার ১৯৯৭ সালে আসিয়ানে যোগ দেয়।
মনে রাখুন:
সার্কের সদস্য: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান।
প্রতি বছর ৮ ডিসেম্বর সার্ক সনদ দিবস। - ৯৬. নাগাসাকি কোন দেশের শহর?
- ক. কম্বোডিয়া
- খ. জাপান
- গ. ফিলিপাইন
- ঘ. ভিয়েতনাম
উত্তর: খ. জাপান
নাগাসাকি জাপানের একটি শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র এখানে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের পারমাণবিক বোমা ফেলে। এর তিন দিন আগে, ৬ আগস্ট, হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’ নামের বোমা ফেলা হয়েছিল। এর কিছু দিন পরই জাপান আত্মসমর্পণ করে। জাপান আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয় ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট। বোমা বিস্ফোরণে দুটি শহরেই বিপুল প্রাণহানি ঘটে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব বহু বছর ধরে মানুষকে ভুগিয়েছে। আজও দুই শহর শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখুন: হিরোশিমায় ইউরেনিয়াম বোমা ব্যবহার হয়, আর নাগাসাকিতে প্লুটোনিয়াম বোমা।
কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ, জাপান পূর্ব এশিয়ার। - ৯৭. IMF-এর পূর্ণ অভিব্যক্তি কী?
- ক. International Mandatory Fund
- খ. International Monetary Fund
- গ. International Matching Fund
- ঘ. International Mutual Fund
উত্তর: খ. International Monetary Fund
IMF-এর পূর্ণরূপ International Monetary Fund, বাংলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনে এর পরিকল্পনা হয়। এটি ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১ মার্চ কাজ শুরু করে। সদস্যদের মুদ্রা-সংকটে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আইএমএফের সদস্য হয়। কোনো দেশের বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি দেখা দিলে সেই দেশ আইএমএফের কাছে ঋণ চাইতে পারে। বিনিময়ে আইএমএফ সাধারণত অর্থনৈতিক সংস্কারের কিছু শর্ত দেয়।
মনে রাখুন:
ব্রেটন উডস সম্মেলন থেকেই বিশ্বব্যাংকেরও জন্ম।
আইএমএফের নিজস্ব হিসাবের একক বিশেষ ড্রয়িং রাইটস (SDR)। - ৯৮. 'ভেটো' ক্ষমতার অধিকারী কোন কোন রাষ্ট্র?
- ক. জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র
- খ. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য রাষ্ট্র
- গ. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ
- ঘ. জাতিসংঘের মহাসচিব
উত্তর: গ. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ভেটো (Veto) ক্ষমতার অধিকারী। ভেটো একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ আমি নিষেধ করি। তারা হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। এদের যেকোনো একটি ভেটো দিলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হতে পারে না। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যদের এবং সাধারণ পরিষদের কোনো সদস্যের ভেটো ক্ষমতা নেই। ভেটো ক্ষমতা ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ তৈরির সময়ই পাঁচ বিজয়ী শক্তিকে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পাস হতে হলে মোট ৯টি সদস্যের সমর্থন লাগে, তবে স্থায়ী সদস্যদের কেউ ভেটো দিলে তা আটকে যায়।
মনে রাখুন:
নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য ১৫টি, ৫টি স্থায়ী এবং ১০টি অস্থায়ী।
অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। - ১০০. FAO-এর সদর দপ্তর কোথায়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৫
- ক. ওয়াশিংটন
- খ. মস্কো
- গ. রোম
- ঘ. টোকিও
উত্তর: গ. রোম
FAO-এর পূর্ণরূপ Food and Agriculture Organization, বাংলায় খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। এর সদর দপ্তর ইতালির রোমে। সংস্থাটি ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর কানাডার কুইবেকে প্রতিষ্ঠিত হয়, আর ১৬ অক্টোবরই বিশ্ব খাদ্য দিবস। ওয়াশিংটন ডিসিতে আছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দপ্তর, আর টোকিও বা মস্কোতে এই সংস্থার সদর দপ্তর নেই। FAO-এর কাজ হলো বিশ্বে ক্ষুধা ও অপুষ্টি কমানো, কৃষির উন্নয়ন ঘটানো এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান বাড়ানো।
মনে রাখুন:
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এবং IFAD-এর সদর দপ্তরও রোমে। - ১০১. নিম্নের সংস্থাসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ কোনটির সদস্য নয়?
- ক. BIMSTEC
- খ. OIC
- গ. D-8
- ঘ. ASEAN
উত্তর: ঘ. ASEAN
BIMSTEC, OIC এবং D-8 সংস্থার সদস্য বাংলাদেশ। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্থা ASEAN-এর সদস্য বাংলাদেশ নয়। ASEAN ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়, এর সদর দপ্তর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড। BIMSTEC-এর পূর্ণরূপ Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের তীরের দেশ বলে এর সদস্য। আবার মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় OIC ও D-8-এর সদস্য। কিন্তু আসিয়ানের সদস্য হতে হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ হতে হয়।
মনে রাখুন:
BIMSTEC-এর সচিবালয় ঢাকায়।
D-8 গঠিত হয় ১৯৯৭ সালে।
OIC-এর সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায়।
হালনাগাদ: ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিমুর-লেস্তে ASEAN-এর ১১তম সদস্য হয়েছে। - ১০২. হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর কোথায় অবস্থিত?
- ক. জিবুতি
- খ. মাদাগাস্কার
- গ. শ্রীলংকা
- ঘ. ভারত
উত্তর: গ. শ্রীলংকা
হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত। চীনের ঋণে বন্দরটি তৈরি হয়েছিল। ঋণ পরিশোধে সমস্যা হওয়ায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কা বন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য চীনের একটি কোম্পানিকে ইজারা দেয়। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। জিবুতি আফ্রিকার দেশ, মাদাগাস্কার ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র, আর বন্দরটি ভারতেও নয়। শ্রীলঙ্কা ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথের পাশে অবস্থিত, তাই এর বন্দরগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক।
মনে রাখুন: ঋণের কারণে বন্দর হাতছাড়া হওয়ার এই ঘটনাকে অনেকে ‘ঋণ-ফাঁদ কূটনীতি’ নামে ব্যাখ্যা করেন।
শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বো। - ১০৩. এসডিজি (SDG) বাস্তবায়নের প্রান্তিক বছর কোন সাল?
- ক. ২০২৫
- খ. ২০৩০
- গ. ২০৩৫
- ঘ. ২০৩৬
উত্তর: খ. ২০৩০
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে গৃহীত হয়। এর মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত, তাই ২০৩০-ই লক্ষ্য অর্জনের শেষ বছর। এতে মোট ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯টি উপলক্ষ্য আছে। এর আগে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDG) ছিল ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। সংক্ষেপে বললে, এসডিজি হলো দারিদ্র্য দূর করা, ক্ষুধা মেটানো, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, জলবায়ু রক্ষা এবং লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার একটি সাধারণ বৈশ্বিক পরিকল্পনা। প্রান্তিক বছর মানে যে বছরের মধ্যে লক্ষ্যগুলো অর্জন করার কথা।
মনে রাখুন:
MDG-তে লক্ষ্য ছিল ৮টি।
SDG-র দলিলের নাম ‘২০৩০ এজেন্ডা’। - ১০৪. কোনটি জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন নয়?
- ক. EU
- খ. ILO
- গ. UNDP
- ঘ. WFP
উত্তর: ক. EU
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট, তাই এটি জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন নয়। অন্যদিকে ILO জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা, আর UNDP ও WFP জাতিসংঘের কর্মসূচি। ইইউর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এবং ব্রেক্সিটের পর এর সদস্য ২৭টি। জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি অঙ্গ হলো সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচারালয় ও সচিবালয়। ইইউ এর কোনোটিই নয়।
মনে রাখুন:
ইইউর পতাকায় ১২টি তারকা আছে।
ILO-এর সদর দপ্তর জেনেভা, UNDP-এর নিউ ইয়র্ক, আর WFP-এর রোমে।
ইইউর সাধারণ মুদ্রা ইউরো। - ১০৫. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী?
- ক. বান কি মুন
- খ. কফি আনান
- গ. আন্তেনিও গুতেরেস
- ঘ. বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি
উত্তর: গ. আন্তেনিও গুতেরেস
আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের নবম মহাসচিব, পর্তুগালের নাগরিক। তিনি ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন। আগের মহাসচিবরা ছিলেন বান কি মুন (দক্ষিণ কোরিয়া), কফি আনান (ঘানা) এবং বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি (মিশর)। প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ট্রিগভে লি। মহাসচিব জাতিসংঘের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে সাধারণ পরিষদ তাঁকে নির্বাচিত করে। গুতেরেস এর আগে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন এবং পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন।
মনে রাখুন: মহাসচিবের মেয়াদ পাঁচ বছর।
হালনাগাদ: গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষে শেষ হচ্ছে। - ১০৬. নিম্নের কোন সংস্থা ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
- ক. ECOSOC
- খ. UNESCO
- গ. UNCTAD
- ঘ. UNICEF
উত্তর: খ. UNESCO
UNESCO (United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিই এ সংস্থার কাজের ক্ষেত্র, তাই ভাষা ও সংস্কৃতির বিষয়ে এই ঘোষণা তারাই দেয়। UNICEF শিশুদের কল্যাণে কাজ করে, ECOSOC জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, আর UNCTAD বাণিজ্য ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য বড় সম্মান। এখন প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের নানা দেশে ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষার দিন হিসেবে পালিত হয়।
মনে রাখুন:
ইউনেস্কোর সদর দপ্তর প্যারিসে।
UNICEF-এর সদর দপ্তর নিউ ইয়র্কে, UNCTAD-এর জেনেভায়। - ১০৭. ইউরোপীয় ইউনিয়ান কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে প্রদত্ত EBA সুবিধা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
- ক. বাণিজ্যের ক্ষেত্রে
- খ. যুদ্ধের ক্ষেত্রে
- গ. শিক্ষার ক্ষেত্রে
- ঘ. পরিবহণের ক্ষেত্রে
উত্তর: ক. বাণিজ্যের ক্ষেত্রে
EBA-র পূর্ণরূপ Everything But Arms, যার অর্থ অস্ত্র ছাড়া সবকিছু। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়া বাকি সব পণ্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানির সুবিধা দেয়। তাই এটি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যুদ্ধ, শিক্ষা বা পরিবহণের ক্ষেত্রে নয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অন্যতম বড় ভরসা এই সুবিধা। EBA-তে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশি পণ্য ইউরোপের বাজারে অন্যদের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা যায়।
মনে রাখুন:
কর্মসূচিটি ২০০১ সালে শুরু হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পোশাকের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার।
স্বল্পোন্নত দেশ তালিকা থেকে উত্তরণের পর এই সুবিধা কিছুদিন বহাল থেকে ধাপে ধাপে বন্ধ হয়। - ১০৯. ইউরোপীয় 'রুটির ঝুড়ি' কোনটি?
- ক. রাশিয়া
- খ. ইউক্রেন
- গ. ফ্রান্স
- ঘ. স্পেন
উত্তর: খ. ইউক্রেন
ইউক্রেনকে ইউরোপের ‘রুটির ঝুড়ি’ বলা হয়, কারণ দেশটির উর্বর কালো মাটিতে প্রচুর গম ও শস্য উৎপন্ন হয় এবং তা বিশ্বের বড় অংশে রপ্তানি হয়। এই কারণে দেশটির শস্য রপ্তানি ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পাঠানো নিয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তিও হয়েছিল। ইউক্রেনের পতাকার নীল রঙ আকাশের এবং হলুদ রঙ গমখেতের প্রতীক বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
মনে রাখুন:
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এটি আয়তনে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
দেশটি ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হয়। - ১১৫. NASA-এর সদর দপ্তর কোথায়?
- ক. ফ্লোরিডা
- খ. হিউস্টন
- গ. কেপ কেনেডি
- ঘ. ওয়াশিংটন ডিসি
উত্তর: ঘ. ওয়াশিংটন ডিসি
NASA-এর পূর্ণরূপ National Aeronautics and Space Administration। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মহাকাশ ও বিমান গবেষণা সংস্থা, যা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডিসিতে। ফ্লোরিডার কেপ কেনেডিতে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং টেক্সাসের হিউস্টনে মিশন কন্ট্রোল রয়েছে। তাই অন্য তিনটি জায়গা নাসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও সদর দপ্তর নয়। নাসা গঠনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান গবেষণার দায়িত্বে ছিল NACA নামের একটি কমিটি। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণ করলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত নাসা গঠন করে।
মনে রাখুন: NASA-এর প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য চাঁদে অবতরণ, অ্যাপোলো ১১ (১৯৬৯)।
চাঁদে প্রথম পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং।
গণিত
- ১০৮. (২৫/৪)% মুনাফা হারে কত সময়ে ৯৬ টাকার মুনাফা ১৮ টাকা হবে?
- ক. দুই বছরে
- খ. (৪/৫) বছরে
- গ. তিন বছরে
- ঘ. চার বছরে
উত্তর: গ. তিন বছরে
এক বছরের মুনাফা = ৯৬ × (২৫/৪)/১০০ = ৬ টাকা। তাই ১৮ টাকা মুনাফা হতে সময় = ১৮ ÷ ৬ = ৩ বছর। - ১২০. a = √3 এবং b = √12 হলে নিচের কোনটি অমূলদ সংখ্যা?
- ক. a + b
- খ. ab
- গ. a/b
- ঘ. b/a
উত্তর: ক. a + b
a = √3 এবং b = √12 = 2√3 ধরলে প্রতিটির মান আলাদা করে বের করে দেখতে হবে কোনটি মূলদ আর কোনটি অমূলদ।
a + b = √3 + 2√3 = 3√3 (অমূলদ)
ab = √3 × 2√3 = 6 (মূলদ)
a/b = √3/(2√3) = 1/2 (মূলদ)
b/a = 2√3/√3 = 2 (মূলদ)
তাই অমূলদ সংখ্যা হলো a + b।
মনে রাখুন: একই মূলের (surd) যোগফল অমূলদ থাকে, কিন্তু গুণ বা ভাগে মূল কেটে গেলে মূলদ হতে পারে।
তেমনি দুটি অমূলদ সংখ্যার গুণফল মূলদ হতে পারে, যেমন √2 × √2 = 2।
শর্টকাট: √12 কে আগেই 2√3 লিখে ফেললে সব হিসাব সহজ হয়। - ১২১. একটি কলম ২০% ক্ষতিতে বিক্রি করা হলো। বিক্রয়মূল্য ৪৫ টাকা বেশি হলে ৫% লাভ হতো। কলমটির ক্রয়মূল্য কত?
- ক. ২০০ টাকা
- খ. ১৮০ টাকা
- গ. ১৬০ টাকা
- ঘ. ১৪০ টাকা
উত্তর: খ. ১৮০ টাকা
ক্রয়মূল্য 100 টাকা ধরলে 20% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য 80 টাকা। 5% লাভে বিক্রয়মূল্য হতো 105 টাকা। অর্থাৎ 25 টাকা বেশি পেলে ক্রয়মূল্য 100 টাকা। তাই 45 টাকা বেশি পেলে ক্রয়মূল্য হবে (100 × 45)/25 = 180 টাকা।
যাচাই: ক্রয় 180 হলে ক্ষতিতে বিক্রয় 144, আর লাভে 189; পার্থক্য 45।
মনে রাখুন: দুই বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য সবসময় ক্রয়মূল্যের (লাভ% + ক্ষতি%) ভাগ, এখানে 25%।
শর্টকাট: ক্রয়মূল্য = 45 × 100/(20 + 5) = 180।
সূত্র: লাভে বিক্রয়মূল্য = ক্রয়মূল্য × (100 + লাভ%)/100, ক্ষতিতে ক্রয়মূল্য × (100 − ক্ষতি%)/100। - ১২৩. ৪/৫ কে শতকরায় প্রকাশ করলে কত হবে?
- ক. ৮০%
- খ. ৭৫%
- গ. ৭২%
- ঘ. ৬০%
উত্তর: ক. ৮০%
কোনো ভগ্নাংশকে শতকরায় প্রকাশ করতে তাকে ১০০ দিয়ে গুণ করে % চিহ্ন বসাতে হয়, কারণ শতকরা মানে প্রতি শতকে। তাই ৪/৫ × ১০০ = ৮০, অর্থাৎ ৪/৫ = ৮০%। বিকল্প উপায়ে হর ১০০ বানালেও একই উত্তর আসে: ৪/৫ = ৮০/১০০ = ৮০%। উল্টো দিকেও কাজটি সহজ। ৮০% মানে ৮০/১০০, আর সংক্ষেপ করলে ৪/৫। তাই কোনো রাশির ৮০% মানে সেই রাশির ৪/৫ অংশ।
মনে রাখুন:
১/২ = ৫০%, ১/৪ = ২৫%, ১/৫ = ২০%, ৩/৪ = ৭৫%।
১/৩ = ৩৩⅓%, ২/৩ = ৬৬⅔%, ১/৮ = ১২.৫%। - ১২৪. ৫ টাকায় ৮ টা করে কলা বিক্রয় করলে ২৫% ক্ষতি হয়। প্রতি ১২টি কলার ক্রয়মূল্য কত?
- ক. ১০ টাকা
- খ. ৮ টাকা
- গ. ১২ টাকা
- ঘ. ৯ টাকা
উত্তর: ক. ১০ টাকা
৮টি কলার বিক্রয়মূল্য ৫ টাকা, আর এতে ২৫% ক্ষতি হয়। ক্ষতি হলে বিক্রয়মূল্য ক্রয়মূল্যের ৭৫%। তাই ৮টি কলার ক্রয়মূল্য = ৫ × ১০০/৭৫ = 20/3 টাকা। ১টি কলার ক্রয়মূল্য = 20/(3 × 8) = 5/6 টাকা। অতএব ১২টির ক্রয়মূল্য = 12 × 5/6 = 10 টাকা।
বিকল্প উপায়: ১২টির বিক্রয়মূল্য = 5 × 12/8 = 7.5 টাকা। এখন ক্রয়মূল্য = 7.5 × 100/75 = 10 টাকা।
মনে রাখুন: ক্ষতি হলে ক্রয়মূল্য = বিক্রয়মূল্য × 100/(100 − ক্ষতি%)।
লাভ হলে ক্রয়মূল্য = বিক্রয়মূল্য × 100/(100 + লাভ%)। - ১২৫. নিচের ভগ্নাংশগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বড়?
- ক. ২/৩
- খ. ১৩/১৫
- গ. ৪/৫
- ঘ. ২৩/৩০
উত্তর: খ. ১৩/১৫
ভগ্নাংশগুলো তুলনা করতে দশমিকে প্রকাশ করা সহজ। 2/3 ≈ 0.67, 13/15 ≈ 0.87, 4/5 = 0.80, 23/30 ≈ 0.77। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় 0.87, অর্থাৎ 13/15।
বিকল্প উপায়: হরগুলোর ল.সা.গু. 30 ধরলে ভগ্নাংশগুলো হয় 20/30, 26/30, 24/30 ও 23/30। তখন লবই তুলনার জন্য যথেষ্ট, আর 26 সবচেয়ে বড়।
শর্টকাট: প্রতিটি ভগ্নাংশ 1 থেকে কত কম দেখা যায়। 2/3 = 1 − 10/30, 13/15 = 1 − 4/30, 4/5 = 1 − 6/30, 23/30 = 1 − 7/30। যার ঘাটতি সবচেয়ে কম, সেটিই সবচেয়ে বড়। - ১২৬. নিচের কোনটি সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা?
- ক. ০
- খ. ১
- গ. ২
- ঘ. ৩
উত্তর: গ. ২
মৌলিক সংখ্যা হলো ১-এর চেয়ে বড় এমন সংখ্যা, যা ১ ও নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো সংখ্যা দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য নয়। ০ ও ১ মৌলিক নয়। ২-কে ১ ও ২ ছাড়া আর কিছুতে ভাগ করা যায় না, তাই ২ সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা। ৩-ও মৌলিক, কিন্তু ২ তার চেয়ে ছোট বলে উত্তর ২।
মনে রাখুন:
২ একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা।
প্রথম কয়েকটি মৌলিক সংখ্যা ২, ৩, ৫, ৭, ১১, ১৩, ১৭, ১৯।
১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা ২৫টি।
১ মৌলিকও নয়, যৌগিকও নয়। - ১২৭. নিচের কোনটি বাস্তব সংখ্যা নয়?
- ক. √(−৩)
- খ. ০
- গ. √৩
- ঘ. √(২/৩)
উত্তর: ক. √(−৩)
যে সংখ্যা সংখ্যারেখার ওপর বসানো যায়, সেটি বাস্তব সংখ্যা (Real number)। ০, √3 ও √(2/3) সংখ্যারেখায় বসে, তাই এগুলো বাস্তব। কিন্তু √(−3)-এ ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূল আছে, যার মান কোনো বাস্তব সংখ্যা নয়, কারণ কোনো বাস্তব সংখ্যার বর্গ ঋণাত্মক হতে পারে না। এটি √3·i আকারের কাল্পনিক সংখ্যা। বাস্তব সংখ্যার সেটকে R দিয়ে এবং জটিল সংখ্যার সেটকে C দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তাই √(−3) জটিল সংখ্যা হলেও বাস্তব নয়।
মনে রাখুন:
i = √(−1) এবং i² = −1।
বাস্তব সংখ্যার মধ্যে মূলদ ও অমূলদ দুই ধরনই আছে।
√3 অমূলদ, আর ০ মূলদ সংখ্যা। - ১২৮. নিচের কোনটি মিথ্যা?
- ক. −২ একটি জোড় সংখ্যা
- খ. ০ একটি বাস্তব সংখ্যা
- গ. ২ একটি মৌলিক সংখ্যা
- ঘ. ২ জটিল সংখ্যা নয়
উত্তর: ঘ. ২ জটিল সংখ্যা নয়
চারটি বক্তব্যের মধ্যে −২ জোড় সংখ্যা, ০ বাস্তব সংখ্যা এবং ২ মৌলিক সংখ্যা, এ তিনটি সত্য। −২-কে ২ দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায়, তাই ঋণাত্মক হলেও এটি জোড়। কিন্তু ২-কে (২ + 0·i) আকারে লেখা যায়, তাই ২ একটি জটিল সংখ্যাও। কারণ প্রতিটি বাস্তব সংখ্যা জটিল সংখ্যার বিশেষ রূপ। তাই '২ জটিল সংখ্যা নয়' বক্তব্যটিই মিথ্যা।
মনে রাখুন:
জটিল সংখ্যা z = x + iy, যেখানে x, y বাস্তব। y = 0 হলে z বাস্তব।
সংখ্যা ২ একই সঙ্গে মৌলিক, পূর্ণ, মূলদ, বাস্তব ও জটিল। - ১২৯. A = {a, b, c} এর প্রকৃত উপসেট কয়টি?
- ক. ৮টি
- খ. ৭টি
- গ. ৬টি
- ঘ. ৫টি
উত্তর: খ. ৭টি
n সংখ্যক উপাদান থাকলে সেটের মোট উপসেট থাকে 2ⁿ টি। A = {a, b, c}-এ n = 3, তাই মোট উপসেট 2³ = 8। প্রকৃত উপসেট বলতে সেট নিজে বাদ দিতে হয়, তাই প্রকৃত উপসেট 8 − 1 = 7টি। প্রকৃত উপসেট আর উপসেট এক জিনিস নয়, তাই প্রশ্নে কোনটি চাওয়া হয়েছে তা খেয়াল করতে হয়।
এগুলো হলো ∅, {a}, {b}, {c}, {a, b}, {a, c}, {b, c}।
মনে রাখুন:
প্রকৃত উপসেটের সংখ্যা 2ⁿ − 1। ফাঁকা সেট ∅ গণনায় ধরা হয়।
উপাদান 4টি হলে মোট উপসেট 2⁴ = 16, প্রকৃত উপসেট 15। - ১৩০. {১ − (১/৬ + ১/২)} − ১/৩ = কত?
- ক. ০
- খ. ১
- গ. ২
- ঘ. ৩
উত্তর: ক. ০
সরল করার সময় আগে ভেতরের বন্ধনী, পরে বাইরের বন্ধনী খুলতে হয়। প্রথমে 1/6 + 1/2 = 1/6 + 3/6 = 4/6 = 2/3। এরপর 1 − 2/3 = 1/3। শেষে 1/3 − 1/3 = 0।
মনে রাখুন: ক্রমে প্রথম বন্ধনী ( ), তারপর দ্বিতীয় বন্ধনী { }, এরপর তৃতীয় বন্ধনী [ ] নিয়ে সরল করতে হয়।
ভগ্নাংশ যোগ করতে হর সমান করে নিতে হয়। এখানে 6 ও 2-এর ল.সা.গু. 6।
যাচাই: প্রতিটি ধাপে ভগ্নাংশ সংক্ষেপ করে লিখলে ভুলের সম্ভাবনা কমে। - ১৩১. log_{2√2} 64 এর মান কত?
- ক. 4
- খ. −4
- গ. 2
- ঘ. 8
উত্তর: ক. 4
লগের মান বের করতে প্রথমে ভিত্তি ও সংখ্যাকে 2-এর ঘাতে লিখি। ভিত্তি 2√2 = 2 × 2^(1/2) = 2^(3/2)। সংখ্যা 64 = 2⁶। তাহলে log_{2^(3/2)} 2⁶ = 6 / (3/2) = 4। লগের ভিত্তি বদলের সূত্রও এখানে কাজ করে: log_a b = log_c b / log_c a।
বিকল্প: (2√2)⁴ = 16 × 4 = 64, তাই log_{2√2} 64 = 4।
মনে রাখুন: log_{aᵐ} bⁿ = (n/m) log_a b।
লগের সংজ্ঞা: log_a N = x মানে aˣ = N।
আরেকটি পথ: 2√2 = 8^(1/2) এবং 64 = 8², তাই মান 2 ÷ (1/2) = 4। - ১৩২. 4^(x+1) = 2^(x−2) হলে, x = কত?
- ক. 4
- খ. −4
- গ. 2
- ঘ. 8
উত্তর: খ. −4
উভয় পক্ষকে 2-এর ঘাতে লিখি। 4 = 2², তাই 4^(x+1) = 2^(2x+2)। সুতরাং 2^(2x+2) = 2^(x−2)। ভিত্তি সমান হওয়ায় ঘাত সমান হবে: 2x + 2 = x − 2, অর্থাৎ x = −4। সূচকীয় সমীকরণে প্রথম কাজ হলো উভয় পক্ষে একই ভিত্তি আনা, কারণ তখনই ঘাত দুটি তুলনা করা যায়।
যাচাই: x = −4 হলে বামে 4^(−3) = 2^(−6) এবং ডানে 2^(−6)। দুই পক্ষ মিলে যায়।
মনে রাখুন: aˣ = aʸ হলে x = y (a ≠ 0, 1)।
সূচকের নিয়ম: (aᵐ)ⁿ = aᵐⁿ এবং aᵐ × aⁿ = aᵐ⁺ⁿ। - ১৩৩. x² − (a + b)x + ab = 0 এর সমাধান সেট নিচের কোনটি?
- ক. {−a, −b}
- খ. {a, −b}
- গ. {a, b}
- ঘ. {−a, b}
উত্তর: গ. {a, b}
x² − (a + b)x + ab কে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করি। x² − ax − bx + ab = x(x − a) − b(x − a) = (x − a)(x − b)। সমীকরণ (x − a)(x − b) = 0 হলে x − a = 0 অথবা x − b = 0, অর্থাৎ x = a অথবা x = b। তাই সমাধান সেট {a, b}।
মনে রাখুন: x² − (মূলদ্বয়ের যোগফল)x + (মূলদ্বয়ের গুণফল) = 0 আকারে দ্বিঘাত সমীকরণ লেখা যায়।
এখানে মূলদ্বয়ের যোগফল a + b এবং গুণফল ab।
যাচাই: x = a বসালে a² − a² − ab + ab = 0, মিলে যায়। - ১৩৪. a, b, c ক্রমিক সমানুপাতিক হলে নিচের কোনটি সঠিক?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
- ক. a² = bc
- খ. b² = ac
- গ. ab = bc
- ঘ. a = b = c
উত্তর: খ. b² = ac
তিনটি রাশি a, b, c ক্রমিক সমানুপাতিক হওয়া মানে a : b = b : c। অর্থাৎ a/b = b/c। আড়গুণন করলে b × b = a × c, তাই b² = ac। এখানে b হলো a ও c-এর মধ্যসমানুপাতী।
উদাহরণ: 2, 4, 8 ক্রমিক সমানুপাতিক, কারণ 4² = 2 × 8।
মনে রাখুন:
মধ্যসমানুপাতী b = √(ac)।
a : b = c : d হলে ad = bc।
সাধারণ অনুপাত r হলে b = ar এবং c = ar², তাই ac = a²r² = b²। - ১৩৫. 1/x + 1/y = 3 এবং 1/x² − 1/y² = 9 হলে, 1/x − 1/y = কত?
- ক. 1
- খ. 1/3
- গ. 3
- ঘ. 9
উত্তর: গ. 3
1/x² − 1/y² রাশিটিকে a² − b² = (a + b)(a − b) সূত্রে ভাঙা যায়, যেখানে a = 1/x এবং b = 1/y। তাই 1/x² − 1/y² = (1/x + 1/y)(1/x − 1/y)। দেওয়া আছে 1/x + 1/y = 3 এবং 1/x² − 1/y² = 9। অতএব 3 × (1/x − 1/y) = 9, ফলে 1/x − 1/y = 3।
মনে রাখুন: a² − b² = (a + b)(a − b)।
এই ধরনের অঙ্কে x ও y আলাদা করে বের করার দরকার হয় না।
এখানে সূত্রটি কাজে লাগানোর ফলে অজানা দুটির মান আলাদা করে বের করতে হয়নি। - ১৩৬. ln e-এর মান কত?
- ক. 0
- খ. 1
- গ. 2.27
- ঘ. 2
উত্তর: খ. 1
স্বাভাবিক লগারিদম ln-এর ভিত্তি e। তাই ln e = log_e e = 1, কারণ যেকোনো সংখ্যার নিজের ভিত্তিতে লগ 1। e একটি অমূলদ ধ্রুবক, মান প্রায় 2.718। 2.27 বা 2 নয়, কারণ ভিত্তিই যখন e, তখন e-এর ঘাত 1 হলেই e পাওয়া যায়। e সংখ্যাটিকে অয়লারের সংখ্যাও বলা হয়।
মনে রাখুন:
ln 1 = 0 এবং ln eⁿ = n।
e^(ln x) = x।
ln(ab) = ln a + ln b।
ln-এর ভিত্তি e, আর সাধারণ লগ log-এর ভিত্তি 10। - ১৩৭. একটি আয়তাকার ঘরের দৈর্ঘ্য বিস্তারের দ্বিগুণ। এর ক্ষেত্রফল 128 বর্গমিটার হলে, পরিসীমা কত?
- ক. 32 মিটার
- খ. 48 মিটার
- গ. 36 মিটার
- ঘ. 64 মিটার
উত্তর: খ. 48 মিটার
বিস্তার x মিটার হলে দৈর্ঘ্য 2x মিটার। ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × বিস্তার = 2x · x = 2x² = 128, তাই x² = 64 এবং x = 8। দৈর্ঘ্য তাহলে 16 মিটার। পরিসীমা = 2(16 + 8) = 48 মিটার। ঘরের দৈর্ঘ্য ও বিস্তারের অনুপাত 2 : 1 বলে ক্ষেত্রফল দুটি 8 × 8-এর বর্গের সমান, অর্থাৎ 64 + 64 = 128। এভাবেও উত্তর মিলিয়ে দেখা যায়।
যাচাই: 16 × 8 = 128 বর্গমিটার, যা প্রশ্নের সঙ্গে মেলে।
মনে রাখুন:
আয়তক্ষেত্রের পরিসীমা = 2(দৈর্ঘ্য + প্রস্থ)।
ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ।
কর্ণ = √(দৈর্ঘ্য² + প্রস্থ²)। - ১৩৮. সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর অনুপাত কোনটি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৫
- ক. 6:4:3
- খ. 6:5:4
- গ. 12:8:4
- ঘ. 13:12:5
উত্তর: ঘ. 13:12:5
সমকোণী ত্রিভুজে পিথাগোরাসের সূত্র খাটে: অতিভুজ² = অন্য দুই বাহুর বর্গের সমষ্টি। বড় বাহুটিকে অতিভুজ ধরে মিলিয়ে দেখি। 13² = 169 এবং 12² + 5² = 144 + 25 = 169, মিলে যায়। অন্য অনুপাতে মেলে না। যেমন 6:4:3 হলে 6² = 36 কিন্তু 4² + 3² = 25। 6:5:4 হলে 36 ≠ 25 + 16 = 41। আর 12:8:4 হলে 144 ≠ 64 + 16 = 80।
মনে রাখুন: পিথাগোরীয় ত্রয়ী: 3,4,5; 5,12,13; 8,15,17; 7,24,25।
কোনো ত্রয়ীকে একই সংখ্যায় গুণ করলেও ত্রয়ী থাকে, যেমন 6,8,10। - ১৩৯. একটি সমকোণী ত্রিভুজের উচ্চতা ভূমির এক-তৃতীয়াংশ এবং ক্ষেত্রফল 6 বর্গএকক। ভূমির দৈর্ঘ্য কত?
- ক. 6 একক
- খ. 8 একক
- গ. 10 একক
- ঘ. 12 একক
উত্তর: ক. 6 একক
ভূমি x একক হলে উচ্চতা x/3 একক। সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = (1/2) × ভূমি × উচ্চতা = (1/2) × x × x/3 = x²/6। দেওয়া আছে x²/6 = 6, তাই x² = 36 এবং x = 6। ভূমির দৈর্ঘ্য 6 একক।
যাচাই: উচ্চতা 6/3 = 2, ক্ষেত্রফল (1/2) × 6 × 2 = 6।
মনে রাখুন:
সমকোণী ত্রিভুজে ভূমি ও উচ্চতাই সমকোণ তৈরি করে।
অতিভুজ = √(6² + 2²) = √40 একক।
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = (1/2) × ভূমি × উচ্চতা। - ১৪০. 5 + 11 + 17 + ... + 65 ধারাটির পদসংখ্যা কয়টি?
- ক. 7
- খ. 9
- গ. 10
- ঘ. 11
উত্তর: ঘ. 11
ধারাটি সমান্তর ধারা, কারণ পরপর পদের অন্তর সমান: 11 − 5 = 6 এবং 17 − 11 = 6। তাই প্রথম পদ a = 5 এবং সাধারণ অন্তর d = 6। n-তম পদ = a + (n − 1)d = 65 ধরলে 5 + 6(n − 1) = 65, তাই 6(n − 1) = 60 এবং n − 1 = 10। সুতরাং n = 11।
মনে রাখুন:
পদসংখ্যা = (শেষ পদ − প্রথম পদ)/d + 1।
এখানে (65 − 5)/6 + 1 = 10 + 1 = 11।
যাচাই: 5, 11, 17, 23, 29, 35, 41, 47, 53, 59, 65 গুনলে 11টি পদ পাওয়া যায়। - ১৪১. যদি x/y = 2/3 হয়, তবে (6x + y)/(3x + 2y) এর মান কত?
- ক. 5/4
- খ. 4/5
- গ. 14/15
- ঘ. 20/13
উত্তর: ক. 5/4
x/y = 2/3 হলে x = 2k এবং y = 3k ধরা যায়। 6x + y = 12k + 3k = 15k এবং 3x + 2y = 6k + 6k = 12k। অতএব মান = 15k/12k = 5/4।
বিকল্প উপায়: লব ও হরকে y দিয়ে ভাগ করলে (6 × x/y + 1)/(3 × x/y + 2) = (6 × 2/3 + 1)/(3 × 2/3 + 2) = (4 + 1)/(2 + 2) = 5/4।
মনে রাখুন: অনুপাত দেওয়া থাকলে সংখ্যাগুলোকে সাধারণ গুণিতক k দিয়ে প্রকাশ করলে হিসাব সহজ হয়।
k-এর মান কেটে যায়, তাই k জানার দরকার নেই। - ১৪২. ৮৪ টাকা কত টাকার ৮.৭৫%?
- ক. ৮৮০ টাকা
- খ. ৯৪০ টাকা
- গ. ৯৬০ টাকা
- ঘ. ৯৮০ টাকা
উত্তর: গ. ৯৬০ টাকা
ধরি সংখ্যাটি x। শর্তানুযায়ী x-এর 8.75% = 84, অর্থাৎ x × 8.75/100 = 84। তাই x = 84 × 100/8.75 = 8400/8.75 = 960। এ ধরনের অঙ্কে দেওয়া মানটি সংখ্যার কত শতাংশ, সেটি আগে ঠিক করে নেওয়া জরুরি। এখানে ৮৪ টাকা হলো অজানা সংখ্যার ৮.৭৫% অংশ, সম্পূর্ণ সংখ্যা নয়।
যাচাই: 960 × 8.75/100 = 84।
মনে রাখুন:
কোনো সংখ্যার r% = M হলে সংখ্যাটি M × 100/r।
8.75% = 35/400 = 7/80। তাই x-এর 7/80 অংশ 84 হলে x = 84 × 80/7 = 960।
শতকরা সূত্র: r% এর মান = সংখ্যা × r/100। - ১৪৩. ২/৫ এবং ৫/৯ এর গ.সা.গু. কত?
- ক. ১/৪৫
- খ. ২/৪৫
- গ. ৯/৪৫
- ঘ. ০.৪৫
উত্তর: ক. ১/৪৫
ভগ্নাংশের গ.সা.গু. = (লবগুলোর গ.সা.গু.) / (হরগুলোর ল.সা.গু.)। লব 2 ও 5-এর গ.সা.গু. 1। হর 5 ও 9-এর ল.সা.গু. 45। তাই গ.সা.গু. = 1/45। ভগ্নাংশের গ.সা.গু. মানে এমন বৃহত্তম ভগ্নাংশ, যা দিয়ে দেওয়া ভগ্নাংশগুলো নিঃশেষে ভাগ করা যায়। তাই উত্তর ভগ্নাংশ দুটির চেয়ে ছোট হয়।
যাচাই: (2/5) ÷ (1/45) = 18 এবং (5/9) ÷ (1/45) = 25, দুটিই পূর্ণসংখ্যা। আর 18 ও 25-এর আর কোনো সাধারণ গুণনীয়ক নেই, তাই 1/45 সবচেয়ে বড়।
মনে রাখুন:
ভগ্নাংশের ল.সা.গু. = (লবগুলোর ল.সা.গু.) / (হরগুলোর গ.সা.গু.)।
এখানে ল.সা.গু. = 10/1 = 10। - ১৪৪. দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর ১৭ হলে সংখ্যাদ্বয়ের যোগফল কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. ৮
- খ. ১০
- গ. ১১
- ঘ. ১৭
উত্তর: ঘ. ১৭
ক্রমিক সংখ্যা দুটি n ও n+1 ধরলে (n+1)² − n² = n² + 2n + 1 − n² = 2n + 1 = 17। তাই n = 8 এবং সংখ্যা দুটি 8 ও 9। যোগফল 8 + 9 = 17।
যাচাই: 9² − 8² = 81 − 64 = 17।
মনে রাখুন: দুটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর তাদের যোগফলের সমান, কারণ (a + b)(a − b) = (a + b) × 1।
শর্টকাট: প্রশ্নে বর্গের অন্তর 17 থাকায় যোগফল সরাসরি 17।
এই নিয়ম শুধু ক্রমিক পূর্ণসংখ্যার জন্য খাটে। - ১৪৫. কোন সংখ্যার বর্গমূলের সাথে ৩ যোগ করলে ৩ এর বর্গ হবে?
- ক. ৩২
- খ. ৩৬
- গ. ৩৭
- ঘ. ৩৮
উত্তর: খ. ৩৬
ধরি সংখ্যাটি x। শর্তানুযায়ী √x + 3 = 3² = 9, অতএব √x = 9 − 3 = 6। দুই পক্ষ বর্গ করে x = 36। ধাপে ধাপে উল্টো দিক থেকে ভাবলেও উত্তর মেলে: 3² = 9 থেকে 3 বিয়োগ করলে 6, আর 6-এর বর্গ 36।
যাচাই: √36 + 3 = 6 + 3 = 9 = 3²।
মনে রাখুন:
বর্গমূলযুক্ত সমীকরণে দুই পক্ষকে বর্গ করে মূল বের করা হয়।
অন্য অপশন 32, 37, 38 বসালে বর্গমূল পূর্ণসংখ্যা হয় না, তাই হিসাব মেলে না।
প্রশ্নে ‘বর্গ’ আর ‘বর্গমূল’ শব্দ দুটি আলাদা করে বুঝতে হবে। - ১৪৬. তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফল ১২০ হলে তাদের যোগফল কত হবে?
- ক. ১২
- খ. ১৪
- গ. ১৫
- ঘ. ৯
উত্তর: গ. ১৫
তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফল 120। 120 = 4 × 5 × 6 লিখলে দেখা যায় সংখ্যা তিনটি 4, 5 ও 6। যোগফল 4 + 5 + 6 = 15। তিনটি ক্রমিক সংখ্যাকে n − 1, n, n + 1 ধরলেও চলে। তখন (n − 1)n(n + 1) = 120 থেকে n = 5 পাওয়া যায়, কারণ 4 × 5 × 6 = 120।
মনে রাখুন: তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফলের ঘনমূলের কাছাকাছি সংখ্যাটিই মাঝের সংখ্যা। এখানে ∛120 ≈ 4.9, তাই মাঝের সংখ্যা 5।
তিনটি ক্রমিক সংখ্যার যোগফল = মাঝের সংখ্যা × 3 = 5 × 3 = 15।
যাচাই: 5³ = 125, যা 120-এর কাছাকাছি। - ১৪৭. 6 + 12 + 18 + 24 ... ধারাটির প্রথম 10টি পদের যোগফল কত?
- ক. 320
- খ. 325
- গ. 340
- ঘ. 330
উত্তর: ঘ. 330
ধারাটি সমান্তর ধারা, কারণ পদগুলোর অন্তর সবসময় 6। তাই a = 6 এবং d = 6। প্রথম n পদের সমষ্টি Sₙ = (n/2){2a + (n − 1)d}। S₁₀ = 5{12 + 9 × 6} = 5 × 66 = 330।
বিকল্প: ধারাটি 6 × (1 + 2 + ... + 10) = 6 × 55 = 330।
মনে রাখুন:
1 থেকে n পর্যন্ত যোগফল n(n+1)/2।
Sₙ = (n/2)(প্রথম পদ + শেষ পদ)।
এখানে দশম পদ 60, তাই S₁₀ = 5 × (6 + 60) = 330। - ১৪৮. x² − 4x + 1 = 0 হলে, x/(x² − 3x + 1) এর মান কত?
- ক. 0
- খ. 1
- গ. 2
- ঘ. 4
উত্তর: খ. 1
x² − 4x + 1 = 0 থেকে x² − 3x + 1 = (x² − 4x + 1) + x = 0 + x = x পাওয়া যায়। তাই x/(x² − 3x + 1) = x/x = 1।
মনে রাখুন:
প্রদত্ত সমীকরণ থেকে রাশির অংশ সরল করে নিলে দীর্ঘ হিসাব এড়ানো যায়।
x² − 4x + 1 = 0 কে x দিয়ে ভাগ করলে x + 1/x = 4 হয়।
তখন x² + 1/x² = (x + 1/x)² − 2 = 16 − 2 = 14।
x ≠ 0, কারণ x = 0 বসালে সমীকরণ মেলে না। - ১৪৯. ৬ ১/৪% মুনাফা হারে কত সময়ে ৯৬ টাকার মুনাফা ১৮ টাকা হবে?
- ক. ২ বছরে
- খ. ২ ১/২ বছরে
- গ. ৩ বছরে
- ঘ. ৪ বছরে
উত্তর: গ. ৩ বছরে
সরল মুনাফা I = P·n·r। এখানে P = 96 টাকা, I = 18 টাকা এবং r = 6¼% = 25/4%। তাই n = I/(P·r) = 18/(96 × 25/400) = 18/6 = 3 বছর।
যাচাই: বছরে মুনাফা 96 × 6.25/100 = 6 টাকা, 3 বছরে 18 টাকা।
মনে রাখুন:
সময় n = I/(P × r), r দশমিকে বা ভগ্নাংশে ধরতে হয়।
চক্রবৃদ্ধি মুনাফা না হলে প্রতি বছরের মুনাফা সমান থাকে।
আসল = I/(n × r) এবং হার = I/(P × n)। - ১৫০. A = {a, b, c} এর P(A)-তে কতটি উপাদান থাকবে?
- ক. ৫টি
- খ. ৬টি
- গ. ৯টি
- ঘ. ৮টি
উত্তর: ঘ. ৮টি
কোনো সেটের উপাদান n টি হলে তার ঘাতসেট P(A)-তে উপাদান থাকে 2ⁿ টি। A = {a, b, c}-এ n = 3, তাই P(A)-এর উপাদান সংখ্যা 2³ = 8। ঘাতসেট শব্দটি ইংরেজিতে Power set, আর P(A) দিয়ে লেখা হয়। মূল সেটের উপাদান বাড়লে ঘাতসেটের উপাদান খুব দ্রুত বাড়ে।
উদাহরণ: P(A) = {∅, {a}, {b}, {c}, {a,b}, {a,c}, {b,c}, {a,b,c}}।
মনে রাখুন:
ঘাতসেটের উপাদান হলো মূল সেটের সব উপসেট।
ঘাতসেটে ফাঁকা সেট ∅ এবং সেট A নিজেও থাকে।
প্রকৃত উপসেট 2ⁿ − 1 টি, এখানে 7টি।
বিজ্ঞান
- ১১০. নিচের কোন উপাদানটি বায়ুতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে?
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. অক্সিজেন
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
আমাদের চারপাশের বায়ু বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। এর মধ্যে নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৮ শতাংশ। এরপর আছে অক্সিজেন, প্রায় ২১ শতাংশ। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ খুবই সামান্য, মাত্র ০.০৩ থেকে ০.০৪ শতাংশের মতো। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও আবহাওয়াভেদে বদলায়। আমরা অক্সিজেনের কথা বেশি শুনি বলে অনেকে ভাবে অক্সিজেনই সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আসলে নাইট্রোজেনই প্রায় তিন-চতুর্থাংশের বেশি জায়গা দখল করে আছে।
মনে রাখুন:
শুষ্ক বায়ুতে প্রায় ০.৯ শতাংশ আর্গন থাকে। বায়ুতে সবচেয়ে বেশি থাকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গন।
উদ্ভিদ নাইট্রোজেন সরাসরি বায়ু থেকে নিতে পারে না, ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে যৌগরূপে নেয়। - ১১২. প্রাকৃতিক কোন উৎস থেকে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?
- ক. সাগর
- খ. হ্রদ
- গ. বৃষ্টি
- ঘ. নদী
উত্তর: গ. বৃষ্টি
পানি যত বিশুদ্ধ, তাতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণ তত কম। যে পানিতে এই লবণ কম থাকে, তাকে মৃদু পানি (Soft Water) বলে। সূর্যের তাপে নদী, সাগর, পুকুরের পানি বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে, তখন লবণ নিচেই থেকে যায়। সেই বাষ্প ঠান্ডা হয়ে মেঘ হয় এবং বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। তাই বৃষ্টির পানি প্রায় বিশুদ্ধ এবং সবচেয়ে মৃদু। অন্যদিকে নদী, হ্রদ ও সাগরের পানিতে নানা খনিজ ও লবণ মিশে থাকে।
মনে রাখুন:
খর পানিতে সাবান সহজে ফেনা হয় না, মৃদু পানিতে সহজে ফেনা হয়।
পাতিত পানি সবচেয়ে বিশুদ্ধ। - ১১৩. মোটরগাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারীতে কোন এসিড থাকে?
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
- গ. সালফিউরিক এসিড
- ঘ. এসিটিক এসিড
উত্তর: গ. সালফিউরিক এসিড
গাড়ির ব্যাটারি একটি লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি। এতে সীসার পাত এবং লেড ডাই-অক্সাইডের পাত সালফিউরিক এসিডের (H₂SO₄) জলীয় দ্রবণে ডোবানো থাকে। এই দ্রবণ হলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য বা ইলেক্ট্রোলাইট, যার মধ্য দিয়ে আয়ন চলাচল করে বিদ্যুৎ তৈরি করে। চার্জ ও ডিসচার্জ হওয়ার সময় সালফিউরিক এসিড বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে লেড সালফেট তৈরি করে এবং আবার ফিরেও আসে। সাধারণত এতে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ সালফিউরিক এসিড থাকে।
মনে রাখুন:
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি রিচার্জযোগ্য, অর্থাৎ গৌণ কোষ।
প্রতিটি কোষ প্রায় ২ ভোল্ট দেয়, ছয়টি কোষ জুড়ে ১২ ভোল্টের গাড়ির ব্যাটারি হয়। - ১১৬. নিচের কোন পদার্থ প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়?
- ক. পারদ
- খ. কর্পূর
- গ. পানি
- ঘ. লবণ
উত্তর: গ. পানি
প্রকৃতিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে পানি কঠিন (বরফ), তরল (পানি) ও বায়বীয় (জলীয় বাষ্প) এই তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়। যেমন মেরু অঞ্চলে বরফ, সাগরের তরল পানি ও বাতাসে জলীয় বাষ্প একসঙ্গে দেখা যায়। পারদ কক্ষ তাপমাত্রায় তরল, কর্পূর সহজেই কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প হয়ে যায় (ঊর্ধ্বপাতন) এবং লবণ সাধারণ অবস্থায় কেবল কঠিন, বলা যায় প্রকৃতিতে এদের কোনোটি তিন অবস্থায় পাওয়া যায় না।
মনে রাখুন:
বরফ গলে পানি হয়, পানি ফুটে বাষ্প হয়।
পানির ঘনত্ব 4°C তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি, তাই বরফ পানির উপর ভাসে। - ১১৭. ডেঙ্গুর নিচের কোন ধরনের 'মশার' মাধ্যমে ছড়ায়?
- ক. পুরুষ এডিস মশা
- খ. স্ত্রী এডিস মশা
- গ. স্ত্রী কিউলেক্স মশা
- ঘ. পুরুষ অ্যানোফিলিস মশা
উত্তর: খ. স্ত্রী এডিস মশা
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী স্ত্রী এডিস (Aedes) মশা মানুষকে কামড়ালে রোগটি ছড়ায়। মশার জীবনে একটি বিশেষ ঘটনা আছে: ডিম পাড়ার জন্য রক্তের প্রোটিন দরকার হয় বলে শুধু স্ত্রী মশাই রক্ত খায়। পুরুষ মশা ফুলের রস খেয়ে বাঁচে। এডিস মশা মূলত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে ও বিকেলে কামড়ায়, আর এর শরীরে ডোরাকাটা সাদা দাগ থাকে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় এড়ানো জরুরি, কারণ রাতে নয়, দিনেই এডিস মশা বেশি সক্রিয় থাকে।
মনে রাখুন:
ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে।
ফাইলেরিয়া (গোদ) ছড়ায় কিউলেক্স মশার মাধ্যমে। - ১১৮. নিচের কোন জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
- ক. ডিজেল
- খ. প্রাকৃতিক গ্যাস
- গ. বায়োগ্যাস
- ঘ. কয়লা
উত্তর: গ. বায়োগ্যাস
কোটি কোটি বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী মাটির নিচে চাপা পড়ে, বাতাসের অভাবে এবং প্রচণ্ড চাপ ও তাপে ধীরে ধীরে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়েছে। এদের জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) বলে। ডিজেল পেট্রোলিয়াম শোধন করে পাওয়া যায়, তাই এটিও জীবাশ্ম জ্বালানি। কিন্তু বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, জৈব বর্জ্য বা উদ্ভিজ্জ আবর্জনা পচিয়ে, এতে কোটি বছর লাগে না। তাই এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। একবার ফুরিয়ে গেলে এগুলো সহজে ফিরে পাওয়া যায় না, তাই এদের অনবায়নযোগ্য সম্পদ বলা হয়।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদানও মিথেন। - ১১৯. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহৃত হবে?
- ক. প্লুটোনিয়াম
- খ. ইউরেনিয়াম
- গ. ডিউটোরিয়াম
- ঘ. পলোনিয়াম
উত্তর: খ. ইউরেনিয়াম
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিশন (Fission) বিক্রিয়ায় শক্তি তৈরি হয়। এই বিক্রিয়ার জন্য সাধারণত ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, কারণ এর ভারী নিউক্লিয়াস নিউট্রনের আঘাতে ভেঙে প্রচুর তাপ ছাড়ে। পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত রূপপুর কেন্দ্রেও জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহার হবে। প্লুটোনিয়াম মূলত চুল্লির উপজাত হিসেবে তৈরি হয়, আর ডিউটোরিয়াম হাইড্রোজেনের আইসোটোপ, যা ফিউশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরেনিয়াম প্রকৃতিতে আকরিক হিসেবে পাওয়া যায় এবং একে শোধন করে চুল্লির জ্বালানি দণ্ডে ভরা হয়। কেন্দ্রের ব্যবহৃত জ্বালানি পরবর্তীতে নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য সরবরাহকারী দেশে ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
মনে রাখুন:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রোসাটম (Rosatom)।
এখানে VVER-1200 ধরনের দুটি ইউনিট নির্মিত হচ্ছে, প্রতিটির ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। - ১৫১. কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে 8kmh⁻¹ বেগে কোথাও গিয়ে যদি আবার 7kmh⁻¹ বেগে আগের জায়গায় ফিরে আসেন তবে তার গড়বেগ হবে—
- ক. 7.5 kmh⁻¹
- খ. 7kmh⁻¹
- গ. 7.47 kmh⁻¹
- ঘ. 15 kmh⁻¹
উত্তর: গ. 7.47 kmh⁻¹
গড়বেগ মানে মোট দূরত্বকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করা, বেগগুলোর সাধারণ গড় নয়। ধরা যাক, একদিকের দূরত্ব d km।
যাওয়ার সময় t₁ = d/8 ঘণ্টা এবং ফেরার সময় t₂ = d/7 ঘণ্টা।
মোট সময় = d/8 + d/7 = 15d/56 ঘণ্টা।
মোট দূরত্ব = 2d।
গড়বেগ = 2d ÷ (15d/56) = 112/15 = 7.47 kmh⁻¹।
আমরা দেখলাম d কেটে গেছে, তাই দূরত্ব যা-ই হোক উত্তর একই।
সংক্ষিপ্ত সূত্র: একই পথে যেতে ও ফিরতে বেগ v₁ ও v₂ হলে গড়বেগ = 2v₁v₂/(v₁ + v₂) = 2 × 8 × 7/15 = 7.47। এটি সব সময় সাধারণ গড় (7.5) থেকে সামান্য কম হয়। - ১৫২. নিচের কোন স্কেলটি সূক্ষ্মতম?
- ক. স্লাইড ক্যালিপার্স
- খ. স্ক্রুগজ
- গ. মিটার স্কেল
- ঘ. স্ফেরোমিটার
উত্তর: খ. স্ক্রুগজ
স্ক্রু গজ দিয়ে সাধারণত ০.০১ মিলিমিটার পর্যন্ত মাপা যায়, যেখানে স্লাইড ক্যালিপার্সে ০.১ মিমি এবং মিটার স্কেলে ১ মিমি। তাই প্রদত্তগুলোর মধ্যে স্ক্রু গজ সূক্ষ্মতম। - ১৫৩. $|\vec{a} + \vec{b}| = |\vec{a} - \vec{b}|$ হলে নিচের কোনটি সঠিক?
- ক. $\vec{a} = \vec{b}$
- খ. $\vec{a} \perp \vec{b}$
- গ. $\vec{a} \parallel \vec{b}$
- ঘ. $\vec{a} > \vec{b}$
উত্তর: খ. $\vec{a} \perp \vec{b}$
দুই পাশ বর্গ করলে $a^2 + b^2 + 2\vec{a}\cdot\vec{b} = a^2 + b^2 - 2\vec{a}\cdot\vec{b}$, অর্থাৎ $\vec{a}\cdot\vec{b} = 0$। ডট গুণফল শূন্য মানে ভেক্টর দুটি পরস্পর লম্ব। - ১৫৪. |a⃗ + b⃗| = |a⃗ − b⃗| হলে নিচের কোনটি সঠিক?
- ক. a⃗ = b⃗
- খ. a⃗ ⊥ b⃗
- গ. a⃗ ∥ b⃗
- ঘ. a⃗ > b⃗
উত্তর: খ. a⃗ ⊥ b⃗
দুটি ভেক্টর a⃗ ও b⃗-এর যোগফল ও বিয়োগফলের মান সমান বলা হয়েছে। দুই পক্ষকে বর্গ করলে পাই:
|a⃗ + b⃗|² = a² + b² + 2a⃗·b⃗
|a⃗ − b⃗|² = a² + b² − 2a⃗·b⃗
এ দুটি সমান হলে 2a⃗·b⃗ = −2a⃗·b⃗, অর্থাৎ a⃗·b⃗ = 0 হয়। দুটি অশূন্য ভেক্টরের ডট গুণফল শূন্য হলে তাদের মধ্যবর্তী কোণের cosθ = 0, তাই θ = 90°। অর্থাৎ ভেক্টর দুটি পরস্পর লম্ব।
জ্যামিতিক ব্যাখ্যা: যে সামান্তরিকের কর্ণ দুটি সমান, সেটি আয়তক্ষেত্র।
মনে রাখুন: a⃗ ∥ b⃗ হলে a⃗ × b⃗ = 0 হয়, আর a⃗ ⊥ b⃗ হলে a⃗·b⃗ = 0 হয়। - ১৫৫. 60kg ভরের এক ব্যক্তি 940kg ভরের লিফটে চড়ে উপরে উঠতে থাকলে লিফটের ঝুলন রশিতে টান হবে ($g = 10\,ms^{-2}$)
- ক. 1000 N
- খ. 880 N
- গ. 9680 N
- ঘ. 11000 N
উত্তর: ঘ. 11000 N
মোট ভর 1000 kg; লিফট সমবেগে উঠলে টান হতো mg = 10000 N, আর a ত্বরণে উঠলে T = m(g + a)। উত্তরমালার 11000 N পেতে ত্বরণ 1 m/s² ধরতে হয়, কিন্তু প্রশ্নে ত্বরণের মান দেওয়া নেই, তাই উত্তরটি নিয়ে সংশয় আছে। - ১৫৬. কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল একই পাঠ দেখায়?
- ক. 160°C
- খ. −40°C
- গ. 40°C
- ঘ. −160°C
উত্তর: খ. −40°C
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো C/5 = (F − 32)/9। দুই স্কেলে পাঠ সমান হলে F = C ধরি। তখন C/5 = (C − 32)/9।
আড়াআড়ি গুণ করে পাই 9C = 5C − 160।
4C = −160, তাই C = −40।
অর্থাৎ −40°C = −40°F, এই একটি তাপমাত্রাতেই দুই স্কেলের পাঠ মেলে।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক 0°C = 32°F এবং স্ফুটনাঙ্ক 100°C = 212°F।
কেলভিনে রূপান্তর: K = °C + 273।
সেলসিয়াস স্কেলে মৌলিক ব্যবধান ১০০ ভাগ, আর ফারেনহাইটে ১৮০ ভাগ। - ১৫৭. আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি ধ্রুব?
- ক. দৈর্ঘ্য
- খ. ভর
- গ. সময়
- ঘ. আলোর দ্রুতি
উত্তর: ঘ. আলোর দ্রুতি
নিউটনীয় ধারণায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে সবার জন্য একই ধরা হতো। কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দেখাল যে পর্যবেক্ষকের বেগের সঙ্গে দৈর্ঘ্য সংকুচিত হয়, সময় ধীর হয় এবং ভরও বাড়ে। এই তত্ত্বের মূল স্বীকার্য হলো, শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি সব পর্যবেক্ষকের কাছেই একই, যার মান প্রায় 3 × 10⁸ ms⁻¹। অর্থাৎ আপেক্ষিক তত্ত্বে ধ্রুব হলো আলোর দ্রুতি।
মনে রাখুন:
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc²।
১৯২১ সালে আইনস্টাইন আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে। - ১৫৮. সৌর শক্তির উৎস হলো—
- ক. ফিউশন বিক্রিয়া
- খ. চেইন বিক্রিয়া
- গ. ফিশন বিক্রিয়া
- ঘ. রাসায়নিক বিক্রিয়া
উত্তর: ক. ফিউশন বিক্রিয়া
সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং চাপ অত্যন্ত বেশি। এই পরিবেশে হাইড্রোজেনের হালকা নিউক্লিয়াসগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার ফিউশন (Fusion) বলে। বিক্রিয়ার সময় যে সামান্য ভর কমে যায়, তা E = mc² সূত্র অনুযায়ী প্রচুর শক্তিতে পরিণত হয়, এটাই আমরা সূর্যের আলো ও তাপ হিসেবে পাই। ফিশনে ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, সেটি পারমাণবিক বোমা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঘটে, সূর্যে নয়।
মনে রাখুন:
সূর্যের প্রধান উপাদান হাইড্রোজেন, তারপর হিলিয়াম।
হাইড্রোজেন বোমা ফিউশনের নীতিতে কাজ করে। - ১৫৯. AC প্রবাহ কে DC প্রবাহে রূপান্তর করতে কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়?
- ক. ডায়োড
- খ. জেনারেটর
- গ. ট্রানজিস্টার
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: ক. ডায়োড
পরিবর্তী প্রবাহ (AC) নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক বদলায়, কিন্তু ডিসি (DC) সব সময় একই দিকে চলে। যে যন্ত্র এসিকে ডিসিতে বদলায়, তাকে রেকটিফায়ার (Rectifier) বলে। এই কাজের মূল উপাদান ডায়োড, যা একটি p-টাইপ ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহী জুড়ে তৈরি হয় এবং প্রবাহকে কেবল এক দিকে চলতে দেয়। ডায়োড উল্টো দিকের প্রবাহ আটকে দেয়, ফলে এসির অর্ধেক অংশ কেটে ডিসি পাওয়া যায়। জেনারেটর বরং যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুতে রূপ দেয়, আর ট্রানজিস্টার ও অ্যামপ্লিফায়ার সংকেত বিবর্ধনের কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফর্মার এসি ভোল্টেজ বাড়ায় বা কমায়, ডিসি-তে কাজ করে না।
অর্ধ-তরঙ্গ ও পূর্ণ-তরঙ্গ, দুই ধরনের রেকটিফায়ার আছে। - ১৬০. ক্যান্সার চিকিৎসায় কোন আইসোটোপটি ব্যবহার করা হয়?
- ক. ⁶⁰Co
- খ. ³²P
- গ. ⁶⁵Zn
- ঘ. ¹³¹I
উত্তর: ক. ⁶⁰Co
ক্যান্সারের কোষ দ্রুত বাড়ে, আর গামা রশ্মি সেই কোষকে ধ্বংস করতে পারে। কোবাল্ট-৬০ (⁶⁰Co) একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, যা থেকে শক্তিশালী গামা রশ্মি বের হয়। চিকিৎসকেরা সেই রশ্মি নিয়ন্ত্রিতভাবে আক্রান্ত স্থানে ফেলে টিউমার নষ্ট করেন, এই চিকিৎসাকে রেডিওথেরাপি বলে। তাই ক্যান্সার চিকিৎসায় কোবাল্ট-৬০ বহুল ব্যবহৃত। কোবাল্ট-৬০-এর অর্ধায়ু প্রায় ৫.২৭ বছর, তাই দীর্ঘদিন এটি দিয়ে চিকিৎসা চলে। গামা রশ্মি সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করতে পারে, তাই রশ্মির মাত্রা খুব সাবধানে ঠিক করতে হয়।
মনে রাখুন:
আয়োডিন-১৩১ (¹³¹I) প্রধানত থাইরয়েডের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় লাগে।
ফসফরাস-৩২ (³²P) কিছু রক্তের রোগ ও গবেষণায় ব্যবহার হয়।
ইউরেনিয়াম-২৩৫ পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি। - ১৬১. কক্ষ তাপমাত্রায় নিম্নের কোনটি তরল?
- ক. Fe
- খ. Cl₂
- গ. Br₂
- ঘ. I₂
উত্তর: গ. Br₂
হ্যালোজেন গোষ্ঠীর মৌলগুলো (ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন) ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে। কক্ষ তাপমাত্রায় ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন (Br₂) তরল আর আয়োডিন (I₂) কঠিন। ব্রোমিন গাঢ় লালচে-বাদামি তরল, যার বাষ্প ঝাঁঝালো ও বিষাক্ত। অপশনের Fe অর্থাৎ লোহা কঠিন পদার্থ। মজার ব্যাপার হলো, ধাতুর মধ্যে একমাত্র পারদ এবং অধাতুর মধ্যে একমাত্র ব্রোমিন কক্ষ তাপমাত্রায় তরল। ব্রোমিনের বাষ্প থেকে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয় বলেই এর নাম গ্রিক শব্দ 'ব্রোমোস' (দুর্গন্ধ) থেকে এসেছে।
মনে রাখুন:
আয়োডিন উত্তপ্ত করলে সরাসরি বেগুনি বাষ্পে পরিণত হয় (ঊর্ধ্বপাতন)।
সাধারণ অবস্থায় কক্ষ তাপমাত্রায় তরল মৌল মাত্র দুটি: পারদ ও ব্রোমিন। - ১৬২. নিম্নের কোনটির মান সর্বদা ঋণাত্মক?
- ক. দহন তাপ
- খ. বিক্রিয়া তাপ
- গ. সংঘটন তাপ
- ঘ. দ্রবণ তাপ
উত্তর: ক. দহন তাপ
দহন সবসময় তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া, অর্থাৎ তাপ বের হয়; তাই দহন তাপের (ΔH) মান সর্বদা ঋণাত্মক। অন্যগুলো তাপ উৎপাদী বা তাপ শোষী দুরকমই হতে পারে। - ১৬৩. খাদ্যের কোন উপাদানটি মূলত পচনের জন্য দায়ী?
- ক. ভিটামিন
- খ. পানি
- গ. লিপিড
- ঘ. প্রোটিন
উত্তর: খ. পানি
খাদ্য পচার মূল কারণ অণুজীবের বৃদ্ধি, আর অণুজীব বাঁচতে ও বাড়তে পানি চায়। খাদ্যে পানি বেশি থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং খাদ্যকে নষ্ট করে দেয়। এজন্যই কাঁচা মাছ, দুধ বা রান্না করা তরকারি দ্রুত পচে যায়, আর শুঁটকি, চাল বা ডাল দীর্ঘদিন ভালো থাকে। খাদ্য সংরক্ষণের বহু পদ্ধতি তাই আসলে খাদ্য থেকে পানি সরানোর কৌশল। পানির পরিমাণ যত কম, জীবাণুর বংশবৃদ্ধি তত ধীর হয়। ফলে শুকনো খাদ্য অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়, এই নীতি কাজে লাগিয়েই গুঁড়ো দুধ ও শুকনো ফল তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
রোদে শুকানো, লবণ বা চিনি মাখানো এবং ডিহাইড্রেশন, এগুলো পানির পরিমাণ কমায়।
ফ্রিজের ঠান্ডা অণুজীবের বৃদ্ধি ধীর করে। - ১৬৪. দুধ হচ্ছে—
- ক. জেল
- খ. ইমালশন
- গ. দ্রবণ
- ঘ. সাসপেনশন
উত্তর: খ. ইমালশন
দুটি অমিশ্রণীয় তরলের একটি অন্যটির ভেতর অতি ক্ষুদ্র ফোঁটার আকারে ছড়িয়ে থাকলে তাকে ইমালশন (Emulsion) বলে, যেমন তেল ও পানি। দুধে পানির মধ্যে অতি ক্ষুদ্র ফ্যাটের বিন্দু ছড়ানো থাকে, তাই দুধ একটি প্রাকৃতিক ইমালশন। ফ্যাট যে সহজে আলাদা হয় না, তার কারণ দুধের প্রোটিন কেইসিন ফ্যাটকে ঘিরে ধরে স্থায়ী রাখে। অর্থাৎ দুধ প্রকৃত দ্রবণ নয়, কারণ এর কণাগুলো দ্রবণের কণার চেয়ে বড়।
মনে রাখুন:
দুধ একটি কলয়েড।
দুধ থেকে মাখন তৈরি করার সময় ফ্যাট আলাদা হয়।
দুধের প্রধান শর্করা ল্যাকটোজ। - ১৬৫. নিচের কোনটি ভিনেগার?
- ক. 6 – 10% HCOOH
- খ. 6 – 10% CH₃COOH
- গ. 6 – 10% C₂H₅COOH
- ঘ. 6 – 10% C₆H₅COOH
উত্তর: খ. 6 – 10% CH₃COOH
ভিনেগার বা সির্কা রান্নায় আর আচার সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এর টক স্বাদের কারণ এতে থাকা এসিটিক এসিড (Acetic Acid), যার রাসায়নিক সংকেত CH₃COOH এবং IUPAC নাম ইথানয়িক এসিড। বাজারের ভিনেগারে এই এসিডের ৬ থেকে ১০ শতাংশ জলীয় দ্রবণ থাকে। HCOOH ফরমিক এসিড, যা পিঁপড়ার কামড়ে থাকে। C₂H₅COOH প্রোপানয়িক এসিড, আর C₆H₅COOH বেনজোয়িক এসিড, যা খাদ্য সংরক্ষণে প্রিজারভেটিভ হিসেবে লাগে।
মনে রাখুন:
এসিটিক এসিড বিশুদ্ধ অবস্থায় বরফের মতো জমে যায় বলে একে হিমবাহ এসিটিক এসিড (Glacial Acetic Acid) বলা হয়।
ফল পচিয়ে অ্যালকোহল তৈরির পর জারণ করেও ভিনেগার পাওয়া যায়। - ১৬৬. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো—
- ক. Uranium-235
- খ. Uranium-238
- গ. Uranium-233
- ঘ. Plutonium-239
উত্তর: ক. Uranium-235
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের যে আইসোটোপটি সহজে ভেঙে শক্তি দেয়, সেটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235)। প্রকৃতির ইউরেনিয়ামে এর পরিমাণ মাত্র প্রায় ০.৭ শতাংশ, তাই চুল্লির জন্য একে প্রক্রিয়াজাত করে (সমৃদ্ধ করে) বাড়াতে হয়। ধীরগতির নিউট্রন U-235-এর নিউক্লিয়াসে আঘাত করলে সেটি ভেঙে যায় এবং আরও নিউট্রন ও প্রচুর তাপ ছাড়ে, ফলে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চলতে থাকে। রূপপুর কেন্দ্রে এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
ইউরেনিয়াম-২৩৮ নিজে সহজে ফিশন করে না, চুল্লিতে নিউট্রন শুষে এটি প্লুটোনিয়াম-২৩৯ হতে পারে।
রূপপুর কেন্দ্রটি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এবং রাশিয়ার রোসাটম এটি নির্মাণ করছে। - ১৬৭. ইনসুলিন মানবদেহের কোন অংশ হতে নিঃসৃত হয়?
- ক. যকৃত
- খ. অগ্ন্যাশয়
- গ. পাকস্থলি
- ঘ. ক্ষুদ্রান্ত্র
উত্তর: খ. অগ্ন্যাশয়
আমাদের পাকস্থলীর পেছনে অগ্ন্যাশয় (Pancreas) নামে একটি গ্রন্থি আছে। এর ভেতরে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামে একদল বিশেষ কোষ থাকে, যেখানে ইনসুলিন হরমোন তৈরি হয়। এর বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন ও আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলাইটাস হয়। এজন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থিও বলা হয়, কারণ এটি হরমোনের পাশাপাশি পরিপাকরসও ক্ষরণ করে।
মনে রাখুন:
ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট (১৯২১ সাল)।
গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, ইনসুলিনের কাজের উল্টো। - ১৬৮. চেহারা দেখার জন্য যে দর্পণটি ব্যবহৃত হয় সেটি হলো একটি—
- ক. উত্তল দর্পণ
- খ. অবতল দর্পণ
- গ. সমতল দর্পণ
- ঘ. উভোত্তল দর্পণ
উত্তর: গ. সমতল দর্পণ
যে দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে এবং প্রতিবিম্ব বস্তুর সমান আকারের হয়, সেটি সমতল দর্পণ। মুখ দেখার সময় আমরা যেমন আমাদের মতো একই আকারের প্রতিবিম্ব দেখতে চাই, সমতল দর্পণ ঠিক সেটাই দেয়। এতে প্রতিবিম্ব সব সময় অসদ্ হয় এবং দর্পণের পেছনে বস্তু সামনে যতটা দূরে থাকে, ঠিক ততটা দূরে দেখা যায়। উত্তল দর্পণে প্রতিবিম্ব ছোট ও সোজা দেখায়, তাই গাড়ির সাইড মিররে এটি লাগে। অবতল দর্পণ ছোট বস্তু কাছে ধরলে বড় সোজা প্রতিবিম্ব দেয়, তাই দাড়ি কামানো বা ডাক্তারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব পার্শ্বীয়ভাবে উল্টে যায়।
সমতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব অসীম। - ১৬৯. দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি?
- ক. অ্যান্টিজেন
- খ. এ্যান্টিবডি
- গ. প্রোটিন
- ঘ. রক্ত
উত্তর: খ. এ্যান্টিবডি
আমাদের শরীরে রোগজীবাণু ঢুকলে অনাক্রম্যতা ব্যবস্থা তাদের ঠেকাতে সক্রিয় হয়। জীবাণুর গায়ে থাকা বিজাতীয় প্রোটিনকে অ্যান্টিজেন (Antigen) বলে। এর বিরুদ্ধে শ্বেত রক্তকণিকার একটি অংশ (বি লিম্ফোসাইট) বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে, যার নাম অ্যান্টিবডি (Antibody)। অ্যান্টিবডি রক্তরসে থাকে এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবাণুকে অকেজো করে দেয়। এজন্য একে দেহের প্রধান সৈনিক বলা হয়। অ্যান্টিবডির আকার অনেকটা ইংরেজি Y অক্ষরের মতো, আর প্রতিটি অ্যান্টিবডি কেবল নির্দিষ্ট একটি অ্যান্টিজেনের সঙ্গেই খাপ খায়। পরে একই জীবাণু আবার এলে শরীর তাড়াতাড়ি অ্যান্টিবডি বানিয়ে ফেলে।
মনে রাখুন:
ভ্যাকসিনে দুর্বল বা মৃত জীবাণু থাকে, যা শরীরকে আগে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শেখায়।
অ্যান্টিবডি আসলে ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামেও পরিচিত। - ১৭০. পৃথিবীর মুক্তি বেগ V হলে, যে গ্রহের ব্যাসার্ধ ও ভর পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও ভরের দ্বিগুণ সে গ্রহের মুক্তি বেগ কত হবে?
- ক. 4V
- খ. 2V
- গ. V
- ঘ. ½V
উত্তর: গ. V
কোনো গ্রহের মুক্তিবেগ (Escape Velocity) হলো সেই ন্যূনতম বেগ, যাতে কোনো বস্তু ছুড়লে তা গ্রহের মহাকর্ষ ছাড়িয়ে চলে যেতে পারে। এর সূত্র v = √(2GM/R)। পৃথিবীর জন্য V = √(2GM/R)। আরেকটি প্রশ্নে ভর অপরিবর্তিত রেখে শুধু ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ করলে মুক্তিবেগ কমে V/√2 হয়, তাই সূত্রটি ভালোভাবে বুঝে রাখা দরকার।
নতুন গ্রহের ভর 2M ও ব্যাসার্ধ 2R হলে
V' = √(2G × 2M/2R) = √(2GM/R) = V।
ভর ও ব্যাসার্ধ দুটিই দ্বিগুণ হওয়ায় অনুপাত M/R অপরিবর্তিত থাকে, তাই মুক্তিবেগও একই থাকে।
মনে রাখুন:
পৃথিবীর মুক্তিবেগ প্রায় 11.2 kms⁻¹।
মুক্তিবেগ প্রক্ষিপ্ত বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না। - ১৭১. অ্যান্টিবায়োটিক কাদের উপর কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না?
- ক. ব্যাকটেরিয়া
- খ. ছত্রাক
- গ. শৈবাল
- ঘ. ভাইরাস
উত্তর: ঘ. ভাইরাস
অ্যান্টিবায়োটিক এমন ওষুধ, যা ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর, প্রোটিন সংশ্লেষণ বা অন্য জৈব প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়ে তাদের মেরে ফেলে বা বাড়তে দেয় না। ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন বা বিপাক নেই। ভাইরাস সুস্থ কোষের ভেতরে ঢুকে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের উপর কাজ করে না। সর্দি, ফ্লু বা ডেঙ্গুর মতো ভাইরাসজনিত রোগে তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া অর্থহীন। অপ্রয়োজনে খেলে ব্যাকটেরিয়া ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহৃত হয়।
১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। - ১৭২. নিচের কোনটি আয়নিক যৌগ?
- ক. CH₄
- খ. CH₃Cl
- গ. NaCl
- ঘ. PCl₃
উত্তর: গ. NaCl
ধাতু ও অধাতুর মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের ফলে যে বন্ধন তৈরি হয়, তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। সোডিয়াম (Na) তার একটি ইলেকট্রন ছেড়ে দিয়ে Na⁺ আয়ন এবং ক্লোরিন (Cl) সেই ইলেকট্রন নিয়ে Cl⁻ আয়ন হয়। বিপরীত আধানের এই আয়ন দুটি তড়িৎ আকর্ষণে যুক্ত হয়ে NaCl, অর্থাৎ খাবার লবণ গঠন করে। বাকি যৌগগুলো, CH₄, CH₃Cl ও PCl₃, সবই অধাতু দিয়ে গঠিত, তাই এদের বন্ধন ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে হওয়া সমযোজী বন্ধন।
মনে রাখুন:
আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি।
গলিত বা জলীয় দ্রবণে আয়নিক যৌগ বিদ্যুৎ পরিবহন করে। - ১৭৩. কোনটি মানবদেহের জন্য ভাল কোলেস্টেরল?
- ক. HDL
- খ. VLDL
- গ. LDL
- ঘ. TG
উত্তর: ক. HDL
কোলেস্টেরল চর্বিজাতীয় পদার্থ, যা রক্তে লাইপোপ্রোটিন নামের বাহকের সঙ্গে চলাচল করে। এর মধ্যে HDL (High Density Lipoprotein) রক্ত ও ধমনির দেয়াল থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যেখানে তা পিত্তরসের মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয়। তাই এর মাত্রা বেশি থাকা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং একে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। অন্যদিকে LDL ও VLDL ধমনির গায়ে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে ও রক্তনালি সরু করে দেয়, তাই এদের খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়।
মনে রাখুন:
TG-এর পূর্ণরূপ ট্রাইগ্লিসারাইড, রক্তের আরেক ধরনের চর্বি।
ডিম, মাংস ও ঘিয়ের মতো প্রাণিজ খাবারে কোলেস্টেরল থাকে, উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকে না। - ১৭৪. এক গ্রাম ফ্যাট হতে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়–
- ক. ৯.০ kcal
- খ. ৯.৮ kcal
- গ. ৯.৩ kcal
- ঘ. ৯.৬ kcal
উত্তর: ক. ৯.০ kcal
খাদ্যের তিনটি প্রধান শক্তিদায়ক উপাদানের মধ্যে ফ্যাট (স্নেহ পদার্থ) সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়। এক গ্রাম ফ্যাট দেহে সম্পূর্ণ জারিত হলে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এজন্য শরীর অতিরিক্ত শক্তি ফ্যাট হিসেবে জমিয়ে রাখে। শক্তি মাপার প্রচলিত একক ক্যালরি, আর ১ কিলোক্যালরি (kcal) হলো ১০০০ ক্যালরি।
মনে রাখুন:
১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রায় ৪ kcal শক্তি পাওয়া যায়।
১ গ্রাম প্রোটিন থেকেও প্রায় ৪ kcal পাওয়া যায়।
ভিটামিন ও খনিজ সরাসরি শক্তি জোগায় না। - ১৭৫. কোনটি কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি করে?
- ক. ব্যাকটেরিয়া
- খ. ভাইরাস
- গ. সিজেলা
- ঘ. জিয়ারডিয়া
উত্তর: ক. ব্যাকটেরিয়া
কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা তিনটিই ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। কলেরা সৃষ্টি করে ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae), টাইফয়েড সৃষ্টি করে সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) এবং যক্ষ্মা সৃষ্টি করে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস। ব্যাকটেরিয়া এককোষী অণুজীব, যারা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দমন করা যায়। পক্ষান্তরে ভাইরাস একেবারে আলাদা গঠনের জীব। সিজেলা ব্যাকটেরিয়া, জিয়ারডিয়া প্রোটোজোয়া, তাই এদের এখানে তিন রোগের কারণ হিসেবে ধরা যায় না। মানুষের রোগজীবাণুর মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, আর অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে চিকিৎসক উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেন।
মনে রাখুন:
ভাইরাসজনিত রোগ: হাম, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু, এইডস, ইনফ্লুয়েঞ্জা।
ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্যান্য রোগ: ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি। - ১৭৬. স্পিরুলিনা কী?
- ক. ছত্রাক
- খ. শৈবাল
- গ. ব্যাকটেরিয়া
- ঘ. ভাইরাস
উত্তর: খ. শৈবাল
স্পিরুলিনা (Spirulina) এক ধরনের নীলাভ-সবুজ শৈবাল (Blue-green Algae), যা ক্লোরোফিল ছাড়াও ফাইকোসায়ানিন নামের নীল রঞ্জক ধারণ করে। বিজ্ঞানের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে একে সায়ানোব্যাকটেরিয়া বলা হয়। এটি সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। এতে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকে, তাই একে পুষ্টিকর খাদ্য-সম্পূরক হিসেবে খাওয়া হয়। বিশ্বের নানা দেশে এর চাষ হয় এবং এর চাহিদাও প্রচুর। আমাদের দেশে ও বিদেশে স্পিরুলিনার ট্যাবলেট ও গুঁড়া পুষ্টি-সম্পূরক হিসেবে বিক্রি হয়, এবং অপুষ্টি দূর করতে এর ব্যবহার নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে।
মনে রাখুন:
স্পিরুলিনার শুকনো ওজনের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রোটিন।
পানিতে ভাসমান শৈবালকে সাধারণভাবে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বলা হয়, যারা জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপ। - ১৭৭. কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না?
- ক. লাল
- খ. নীল
- গ. বেগুনী
- ঘ. সবুজ
উত্তর: ঘ. সবুজ
ক্লোরোফিল লাল ও নীল আলো সবচেয়ে বেশি শোষণ করে, আর সবুজ আলো প্রায় পুরোটা প্রতিফলিত করে। সবুজ আলো শোষিত হয় না বলে এতে সালোকসংশ্লেষণ প্রায় হয় না, আর এ কারণেই পাতা সবুজ দেখায়। - ১৭৮. কোনটি বলের একক নয়?
- ক. ডাইন
- খ. নিউটন
- গ. পাউন্ডাল
- ঘ. জুল
উত্তর: ঘ. জুল
বল মাপার একক এবং কাজ বা শক্তি মাপার একক আলাদা। SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন (N)। CGS পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন, আর FPS পদ্ধতিতে পাউন্ডাল। অন্যদিকে জুল (Joule) হলো কাজ ও শক্তির একক। কোনো বস্তুর উপর ১ নিউটন বল প্রয়োগে বস্তুটি বলের দিকে ১ মিটার সরে গেলে ১ জুল কাজ হয়, অর্থাৎ 1 J = 1 N·m। তাই জুল বলের একক নয়।
মনে রাখুন:
১ নিউটন = 10⁵ ডাইন।
ক্ষমতার SI একক ওয়াট, চাপের SI একক প্যাসকেল।
১ কিলোগ্রাম ভর ১ ms⁻² ত্বরণ পেলে যে বল লাগে, তা-ই ১ নিউটন। - ১৭৯. আমরা যখন কথা বলি তখন শব্দশক্তি রূপান্তরিত হয়–
- ক. তড়িৎ শক্তিতে
- খ. যান্ত্রিক শক্তিতে
- গ. আলোক শক্তিতে
- ঘ. গতি শক্তিতে
উত্তর: খ. যান্ত্রিক শক্তিতে
আমরা যখন কথা বলি, তখন কণ্ঠের স্বরতন্ত্রী কেঁপে ওঠে এবং সেই কম্পন বাতাসের কণাগুলোকে নাড়ায়। অর্থাৎ বাতাসের কণার যান্ত্রিক কম্পনের মধ্য দিয়েই শব্দ তৈরি হয় ও ছড়ায়। শব্দ আসলে এক ধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই বলা যায় শব্দশক্তি যান্ত্রিক শক্তির রূপেই কাজ করে। একই কারণে শব্দোত্তর (আল্ট্রাসনিক) তরঙ্গের কম্পন সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কারে ও জীবাণু ধ্বংসে কাজে লাগে। অন্যদিকে মাইক্রোফোন বা টেলিফোনের প্রেরক যন্ত্রে এই শব্দশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপ দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
মাইক্রোফোন শব্দশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে বদলায়।
লাউডস্পিকার তড়িৎ শক্তিকে আবার শব্দশক্তিতে বদলায়।
শব্দ চলার জন্য মাধ্যম লাগে, শূন্যস্থানে শব্দ চলে না। - ১৮০. কোনটিকে মিশ্র পদার্থ বলা হয়?
- ক. লবণ
- খ. পানি
- গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- ঘ. বায়ু
উত্তর: ঘ. বায়ু
যে পদার্থ দুই বা ততোধিক উপাদান নিয়ে গঠিত এবং উপাদানগুলো নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে যেকোনো অনুপাতে মেশানো যায়, তাকে মিশ্র পদার্থ (Mixture) বলে। বায়ু এমনই একটি মিশ্রণ, যাতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস পাশাপাশি আছে। এদের প্রত্যেককে ভৌত উপায়ে আলাদা করা যায়। লবণ একটি যৌগ, পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইডও যৌগ, কারণ এদের উপাদানগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত থাকে। পদার্থের শ্রেণিবিন্যাসে মিশ্র পদার্থ দুই রকমের হয়: সমসত্ত্ব (যেমন বায়ু, লবণের দ্রবণ) এবং অসমসত্ত্ব (যেমন বালু ও পানির মিশ্রণ)।
মনে রাখুন:
মিশ্রণের উদাহরণ: বায়ু, দুধ, সমুদ্রের পানি, মাটি।
বিশুদ্ধ পদার্থ দুই ধরনের: মৌল ও যৌগ। - ১৮১. কোনটি নোবেল গ্যাস নয়?
- ক. আর্গন
- খ. হিলিয়াম
- গ. ওজোন
- ঘ. নিয়ন
উত্তর: গ. ওজোন
পর্যায় সারণির শেষ গোষ্ঠীর মৌলগুলোর বাইরের কক্ষপথ ইলেকট্রনে পূর্ণ থাকে, তাই এরা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রায় অংশ নেয় না। এদের নিষ্ক্রিয় বা নোবেল গ্যাস (Noble Gas) বলে। এই গোষ্ঠীর মৌল ছয়টি: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। ওজোন (O₃) হলো অক্সিজেনের একটি রূপভেদ, যা খুবই সক্রিয় গ্যাস। তাই এটি নোবেল গ্যাস নয়। নোবেল গ্যাসকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয় এই কারণে যে, এদের রাসায়নিক বন্ধন গঠনের প্রবণতা প্রায় নেই। এদের পরমাণু একক পরমাণু হিসেবেই থাকে।
মনে রাখুন:
হিলিয়াম বেলুন ও গভীর সমুদ্রে ডুবুরির শ্বাসগ্যাসে ব্যবহৃত হয়।
নিয়ন সাইনবোর্ডের লাল-কমলা আলো দেয়।
রেডন তেজস্ক্রিয়। - ১৮২. ক্লোরোফিলে কোন মৌলটির উপস্থিতি বিদ্যমান?
- ক. K
- খ. Ca
- গ. Mg
- ঘ. Na
উত্তর: গ. Mg
উদ্ভিদের সবুজ রঙের রঞ্জক ক্লোরোফিলের (Chlorophyll) অণুর কেন্দ্রে একটি ম্যাগনেসিয়াম (Mg) পরমাণু থাকে। এই রঞ্জক সূর্যের আলো শুষে নিয়ে সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে ক্লোরোফিল তৈরি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলদে হয়ে যায়। ক্লোরোফিলে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনও থাকে। পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca) ও সোডিয়াম (Na) এর অংশ নয়। ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু ক্লোরোফিলের পোরফাইরিন বলয়ের ঠিক মাঝখানে বসে থাকে। মাটিতে ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে গাছ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
রক্তের হিমোগ্লোবিনের কেন্দ্রে থাকে আয়রন (Fe)।
ক্লোরোফিল মূলত নীল-বেগুনি ও লাল আলো শোষণ করে, সবুজ আলো প্রতিফলিত করে বলে পাতা সবুজ দেখায়। - ১৮৩. দুবার নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী বিজ্ঞানী হলেন—
- ক. পিয়ারে কুরি
- খ. মাদাম কুরি
- গ. লুইপাস্তুর
- ঘ. রোনাল্ড রস
উত্তর: খ. মাদাম কুরি
মাদাম মারি কুরি (Marie Curie) বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন একজন, যিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য স্বামী পিয়ের কুরি ও হেনরি বেকেরেলের সঙ্গে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এরপর পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কারের জন্য ১৯১১ সালে একা রসায়নে নোবেল লাভ করেন। তিনি প্রথম নারী নোবেল বিজয়ী। পিয়ের কুরি এই পুরস্কার একবারই পেয়েছেন, আর রোনাল্ড রসও পেয়েছেন একবার। লুই পাস্তুর নোবেল পুরস্কার পাননি, কারণ পুরস্কারটি চালু হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
মনে রাখুন:
দুবার নোবেল পাওয়া আরও দুজন: লাইনাস পলিং (রসায়ন ও শান্তি) এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার (দুবারই রসায়ন)।
রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহক আবিষ্কার করে ১৯০২ সালে চিকিৎসায় নোবেল পান। - ১৮৫. একটি গতিশীল বস্তুর বেগ 2ms⁻¹ এবং গতিশক্তি 1J হলে বস্তুটির ভর হবে—
- ক. 0.5 kg
- খ. 1 kg
- গ. 1.5 kg
- ঘ. 2 kg
উত্তর: ক. 0.5 kg
গতিশক্তি (Kinetic Energy) হলো কোনো গতিশীল বস্তুর গতির কারণে সঞ্চিত শক্তি। এর সূত্র K = ½mv²। প্রশ্নে K = 1 J এবং v = 2 ms⁻¹ দেওয়া আছে।
1 = ½ × m × 2²
1 = ½ × m × 4 = 2m
তাই m = 1/2 = 0.5 kg।
যাচাই: ½ × 0.5 × 4 = 1 J, মিলে গেছে।
মনে রাখুন:
বেগ দ্বিগুণ হলে গতিশক্তি চার গুণ হয়, কারণ গতিশক্তি বেগের বর্গের সমানুপাতিক।
গতিশক্তি ও ভরবেগের সম্পর্ক K = p²/2m।
শক্তির SI একক জুল। - ১৮৬. নিচের কোন গ্যাসটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়?
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. নাইট্রাস অক্সাইড
- গ. কার্বন ডাই-সালফাইড
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: গ. কার্বন ডাই-সালফাইড
যে গ্যাস অবলোহিত তাপীয় বিকিরণ শুষে পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে, সেটিই গ্রিনহাউস গ্যাস। জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজোন এবং ক্লোরোফ্লোরো কার্বন এই গ্যাসগুলোর মধ্যে পড়ে। কার্বন ডাই-সালফাইড (CS₂) একটি উদ্বায়ী তরল যৌগ। এর মূল ব্যবহার শিল্পে দ্রাবক হিসেবে, বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখার জন্য এটি পরিচিত নয়। তাই অপশনের বাকি তিনটি গ্রিনহাউস গ্যাস হলেও এটি নয়।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা খুব কম হতো, প্রাণের জন্য অনুপযুক্ত।
বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ মানুষের কাজে বাড়তে থাকা CO₂ ও মিথেন। - ১৮৭. কোন রস শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করে?
- ক. টায়লিন
- খ. পেপসিন
- গ. গ্যাস্ট্রিক রস
- ঘ. অগ্ন্যাশয় রস
উত্তর: ঘ. অগ্ন্যাশয় রস
আমাদের খাদ্যের তিনটি প্রধান উপাদান শর্করা, আমিষ ও স্নেহ। অগ্ন্যাশয় রসে এই তিনটির জন্যই এনজাইম আছে: অ্যামাইলেজ শর্করাকে, ট্রিপসিন আমিষকে এবং লাইপেজ স্নেহকে ভেঙে ছোট অণুতে পরিণত করে। তাই অগ্ন্যাশয় রস একাই শর্করা ও আমিষ, দুটোই পরিপাক করে। টায়ালিন লালারসের এনজাইম, যা শুধু শ্বেতসার ভাঙে। পেপসিন ও গ্যাস্ট্রিক রস পাকস্থলীতে মূলত আমিষ পরিপাক করে। অগ্ন্যাশয় রস ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ গ্রহণী (Duodenum)তে এসে পড়ে এবং সেখানে খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাকের কাজ শুরু করে দেয়।
মনে রাখুন:
অগ্ন্যাশয় রস ক্ষারীয়, পাকস্থলীর রস অম্লীয়।
পিত্তরস স্নেহকে ক্ষুদ্র কণায় ভাঙতে সাহায্য করে, কিন্তু নিজে এনজাইম নয়। - ১৮৮. কোন যৌগটিতে কেবলমাত্র সিগমা বন্ধন রয়েছে?
- ক. $CH_4$
- খ. $C_2H_4$
- গ. $C_2H_2$
- ঘ. $C_6H_6$
উত্তর: ক. $CH_4$
মিথেনে কার্বন চারটি হাইড্রোজেনের সঙ্গে চারটি একক বন্ধনে যুক্ত, আর প্রতিটি একক বন্ধনই সিগমা বন্ধন। ইথিন, ইথাইন ও বেনজিনে দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন থাকায় পাই বন্ধনও আছে। - ১৮৯. কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়ক?
- ক. Vit-C
- খ. Vit-D
- গ. Vit-B
- ঘ. Vit-K
উত্তর: ঘ. Vit-K
ক্ষত হলে রক্ত জমাট বেঁধে ক্ষতস্থান বন্ধ করে দেয়, একে রক্ত তঞ্চন (Coagulation) বলে। এই প্রক্রিয়ার জন্য যকৃতে প্রোথ্রম্বিন নামের উপাদান তৈরি হয় এবং এর জন্য ভিটামিন K দরকার। ভিটামিন K-এর অভাব হলে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়, ফলে সামান্য কাটলেও বেশি রক্ত ঝরতে পারে। শাকসবজি, বিশেষ করে সবুজ পাতাযুক্ত সবজি এই ভিটামিনের ভালো উৎস। আর অন্ত্রের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়াও এটি তৈরি করে।
মনে রাখুন:
ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি এবং ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেটস হয়।
ভিটামিন K চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
রক্ত তঞ্চনে ক্যালসিয়াম আয়নও ভূমিকা রাখে। - ১৯০. জীবকোষে কোন স্থানে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়?
- ক. রাইবোজোম
- খ. নিউক্লিয়াস
- গ. মাইট্রোক্রিয়া
- ঘ. ক্রোমোজোম
উত্তর: ক. রাইবোজোম
কোষের ভেতরে প্রোটিন তৈরির কাজ চলে রাইবোজোমে (Ribosome)। নিউক্লিয়াসের ডিএনএ থেকে বার্তা বহনকারী আরএনএ (mRNA) রাইবোজোমে এসে পৌঁছায়। সেখানে সেই বার্তা পড়ে অ্যামাইনো এসিডগুলোকে সঠিক ক্রমে জুড়ে প্রোটিন গড়া হয়। এ কারণে রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বা প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। অন্যদিকে মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদন করে বলে কোষের শক্তিঘর, নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র আর ক্রোমোজোম বংশগতির বাহক। এ কারণে প্রোটিনের চাহিদা বেশি এমন কোষে, যেমন যকৃত ও গ্রন্থিকোষে, রাইবোজোমের সংখ্যাও বেশি থাকে। এরা কোষের সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে ভাসে।
মনে রাখুন:
রাইবোজোম আবিষ্কার করেন জর্জ পেলেড।
রাইবোজোম কিছু অংশে অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে লেগে থাকে। - ১৯১. রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে—
- ক. CO
- খ. CO₂
- গ. CH₄
- ঘ. Cl₂
উত্তর: ক. CO
আমাদের রক্তের লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে সারা শরীরে অক্সিজেন বয়ে নেয়। কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি শক্তভাবে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। ফলে রক্ত অক্সিজেন বহন করতে পারে না এবং শরীরের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে অচল হয়ে পড়ে। এই কারণেই বদ্ধ ঘরে কয়লার চুলা জ্বালিয়ে ঘুমালে মানুষ মারা যেতে পারে। এজন্য কয়লা, কাঠ বা গ্যাস জ্বালানোর সময় ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল রাখা খুব জরুরি।
মনে রাখুন:
CO বর্ণহীন ও গন্ধহীন এবং খুব বিষাক্ত গ্যাস।
অসম্পূর্ণ দহনের ফলে CO তৈরি হয়। - ১৯২. কোনটি অম্লীয় যৌগ?
- ক. $FeCl_3$
- খ. KCl
- গ. $CH_3Cl$
- ঘ. $C_6H_5Cl$
উত্তর: ক. $FeCl_3$
$FeCl_3$ দুর্বল ক্ষার $Fe(OH)_3$ ও তীব্র এসিড HCl থেকে তৈরি লবণ; পানিতে আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়ে দ্রবণকে অম্লীয় করে। KCl নিরপেক্ষ লবণ। - ১৯৩. 1 মোলের 1 লিটার NaOH দ্রবণ তৈরীতে 40 গ্রাম দ্রব প্রয়োজন। একই দ্রবের একই পরিমাণ 0.01 মোলার দ্রবণ তৈরীতে কত গ্রাম দ্রব প্রয়োজন?
- ক. 0.4 g
- খ. 4 g
- গ. 0.8 g
- ঘ. 10 g
উত্তর: ক. 0.4 g
প্রয়োজনীয় ভর = মোলারিটি × আণবিক ভর × আয়তন = 0.01 × 40 × 1 = 0.4 গ্রাম। - ১৯৪. ক্লোরাইড আয়ন শনাক্ত করতে যে দ্রবণ ব্যবহৃত হয়-
- ক. জলীয় $AgNO_3$
- খ. অ্যালকোহলীয় KOH
- গ. জলীয় $BaCl_2$
- ঘ. জলীয় NaCl
উত্তর: ক. জলীয় $AgNO_3$
ক্লোরাইড আয়নযুক্ত দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট দিলে AgCl-এর সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে, যা দেখে ক্লোরাইড শনাক্ত করা হয়। $BaCl_2$ ব্যবহৃত হয় সালফেট শনাক্তে। - ১৯৫. স্টার্চের মূল উপাদান কোনটি?
- ক. সেলুলোজ
- খ. গ্লুকোজ
- গ. ফ্রুক্টোজ
- ঘ. ল্যাকটোজ
উত্তর: খ. গ্লুকোজ
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে যে গ্লুকোজ তৈরি করে, তার বাড়তি অংশ স্টার্চ (শ্বেতসার) হিসেবে জমিয়ে রাখে। স্টার্চ একটি পলিস্যাকারাইড, যার অণু হাজার হাজার গ্লুকোজ অণু পরপর জুড়ে গঠিত। তাই গ্লুকোজকে স্টার্চের একক বা মূল উপাদান বলা হয়। ধান, গম, আলু ও ভুট্টা স্টার্চের প্রধান উৎস। সেলুলোজও গ্লুকোজ দিয়েই গঠিত, তবে তা উদ্ভিদকোষের প্রাচীর তৈরি করে, স্টার্চের মতো সঞ্চিত খাদ্য নয়। ফ্রুক্টোজ ও ল্যাকটোজ ভিন্ন শর্করা।
মনে রাখুন:
স্টার্চের সঙ্গে আয়োডিন দ্রবণ মেশালে গাঢ় নীল রং দেখা যায়।
প্রাণীর দেহে অনুরূপ সঞ্চিত শর্করার নাম গ্লাইকোজেন। - ১৯৬. দুগ্ধ চিনি কোনটি?
- ক. গ্লুকোজ
- খ. সুক্রোজ
- গ. ল্যাকটোজ
- ঘ. ম্যালটোজ
উত্তর: গ. ল্যাকটোজ
দুধে যে প্রধান শর্করা থাকে, তার নাম ল্যাকটোজ (Lactose)। এটি একটি ডাইস্যাকারাইড, অর্থাৎ দুটি সরল শর্করা, গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ, জুড়ে এর অণু তৈরি। দুধে থাকে বলে একে দুগ্ধ শর্করা বা দুধ চিনিও বলে। মানুষের শরীরে ল্যাকটেজ নামের এনজাইম একে ভাঙে। অনেকের শরীরে সেই এনজাইম কম থাকলে দুধ খেলে পেটের সমস্যা হয়, একে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বলা হয়।
মনে রাখুন:
সুক্রোজ = গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ (আখ ও বিট থেকে পাওয়া সাধারণ চিনি)।
ম্যালটোজ = গ্লুকোজ + গ্লুকোজ (মল্ট চিনি)।
গ্লুকোজ একটি মনোস্যাকারাইড। - ১৯৭. PET-বোতল তৈরির একটি উপাদান হলো-
- ক. থ্যালিক এসিড
- খ. টেরিথ্যালিক এসিড
- গ. বেনজোয়িক এসিড
- ঘ. অ্যাসেটিক এসিড
উত্তর: খ. টেরিথ্যালিক এসিড
PET (পলিইথিলিন টেরেথ্যালেট) তৈরি হয় টেরেথ্যালিক এসিড ও ইথিলিন গ্লাইকলের পলিমারকরণে। - ১৯৮. নিম্নের কোন যৌগটি ক্ষারধর্ম প্রদর্শন করে?
- ক. Ba(OH)₂
- খ. Al(OH)₃
- গ. C₂H₅OH
- ঘ. C₆H₅OH
উত্তর: ক. Ba(OH)₂
যে যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রক্সিল আয়ন (OH⁻) ছাড়ে, সে ক্ষারধর্ম দেখায়। ব্যারিয়াম হাইড্রক্সাইড Ba(OH)₂ পানিতে মোটামুটি দ্রবণীয় এবং সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়ে OH⁻ আয়ন দেয়, তাই এটি একটি তীব্র ক্ষার। Al(OH)₃ পানিতে প্রায় অদ্রবণীয় এবং উভধর্মী, অর্থাৎ এসিড ও ক্ষার, উভয়ের সঙ্গেই বিক্রিয়া করে। C₂H₅OH ইথানল একটি অ্যালকোহল আর C₆H₅OH ফেনল দুর্বল অম্লধর্মী। অ্যালকোহল ও ফেনলে OH মূলক থাকলেও তা আয়নরূপে বেরিয়ে আসে না।
মনে রাখুন:
ক্ষার হলো পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক।
লিটমাস কাগজ ক্ষারে নীল হয়।
পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড ও সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড তীব্র ক্ষারের উদাহরণ। - ১৯৯. কোন মৌলটির আয়নীকরণ শক্তি বেশি?
- ক. Li
- খ. B
- গ. C
- ঘ. Ne
উত্তর: ঘ. Ne
আয়নীকরণ শক্তি (Ionisation Energy) হলো কোনো গ্যাসীয় পরমাণু থেকে সবচেয়ে ঢিলেঢালা একটি ইলেকট্রন বের করে আনতে যে শক্তি লাগে। পর্যায় সারণির একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণুর নিউক্লিয় আধান বাড়ে, কিন্তু কক্ষপথের সংখ্যা একই থাকে। ফলে নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনকে আরও শক্তভাবে টানে, আর ইলেকট্রন বের করা কঠিন হয়। Li, B, C ও Ne সবই দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌল, এর মধ্যে Ne সবচেয়ে ডানে এবং নিষ্ক্রিয় গ্যাস, তাই এর আয়নীকরণ শক্তি সর্বোচ্চ।
মনে রাখুন:
একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে আয়নীকরণ শক্তি কমে।
সব মৌলের মধ্যে হিলিয়ামের আয়নীকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।
কম্পিউটার ও আইসিটি
- ১১১. মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত SIM-এর পূর্ণ অভিব্যক্তি কী?
- ক. Subscriber Identity Module
- খ. Subscriber Identity Method
- গ. Subscriber Identification Mechanism
- ঘ. Subscriber Identification Management
উত্তর: ক. Subscriber Identity Module
মোবাইল ফোনের সিম (SIM) কার্ডের পূর্ণরূপ Subscriber Identity Module, অর্থাৎ গ্রাহক পরিচয় মডিউল। এটি একটি ছোট চিপ, যাতে গ্রাহকের ফোন নম্বর, নেটওয়ার্কে প্রবেশের পরিচয় এবং কিছু তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এই চিপের মাধ্যমেই ফোনটি মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি পায়। ফোন বদলালেও সিম খুলে নতুন ফোনে লাগালে একই নম্বর ও সেবা পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
ফোনের ডিভাইস শনাক্ত করার আলাদা নম্বর IMEI (International Mobile Equipment Identity)।
আধুনিক ফোনে ই-সিম (eSIM) থাকে, যেখানে আলাদা প্লাস্টিকের কার্ড লাগে না। - ১১৪. কোনটি অপারেটিং সিস্টেম নয়?
- ক. DOS
- খ. Linux
- গ. MS Office
- ঘ. Ubuntu
উত্তর: গ. MS Office
অপারেটিং সিস্টেম (Operating System) হলো এমন সফটওয়্যার, যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও অন্য প্রোগ্রামগুলোকে পরিচালনা করে এবং ব্যবহারকারীকে কাজ করার পরিবেশ দেয়। DOS, Linux ও Ubuntu সবই অপারেটিং সিস্টেম, এর মধ্যে Ubuntu আসলে লিনাক্সের একটি জনপ্রিয় সংস্করণ। কিন্তু MS Office হলো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, যার মধ্যে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টের মতো প্রোগ্রাম থাকে। এগুলো চলে অপারেটিং সিস্টেমের উপর ভর করে, নিজে সিস্টেম চালায় না। অপারেটিং সিস্টেম না থাকলে কম্পিউটার চালু হলেও কোনো কাজে লাগানো যায় না, কারণ এটিই মেমোরি, প্রসেসর ও ইনপুট-আউটপুট যন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।
মনে রাখুন:
অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ: Windows, macOS, Linux, Android, iOS।
Linux একটি মুক্ত উৎস (Open Source) সফটওয়্যার।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর: অন্যান্য পরীক্ষা
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার, কম্পিউটার) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ক্যাশ সরকার ও অফিস সহায়ক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর অফিস সহকারী ও অন্যান্য পদ নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর অফিস সহায়ক ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রধান সহকারী হিসাবরক্ষক ও বিভিন্ন পদ নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ডাক অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহকারী সাইফার কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ) ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- গণপূর্ত অধিদপ্তর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটসম্যান (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপসহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- নার্সিং সেবা অধিদপ্তর মিডওয়াইফ নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্টেশন অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ (সাধারণ পুল) প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) প্রশাসনিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন