লিয়ানা বুকস

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ১৩ মে ২০২৩। ১৯৮টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। শুধু সাধারণ অংশ। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

বাংলা

  1. ১. 'চর্যাপদ' হচ্ছে-
    • ক. পদ্য
    • খ. গান
    • গ. শ্লোক
    • ঘ. মন্ত্র
    উত্তর: খ. গান
    চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন, আর এটি আসলে গানের সংকলন। বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকেরা সাধনার গূঢ় তত্ত্ব রূপক ভাষায় গানে লিখে গেছেন, তাই একে সাধনসংগীত বলা যায়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে ছাপা হয়। পুঁথির কিছু পাতা নষ্ট হওয়ায় মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
    মনে রাখুন:
    চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়, কারণ এর অর্থ আলো-আঁধারির মতো।
    এর আবিষ্কারের সময় ১৯০৭।
    চর্যাপদের আদি কবি লুইপা।
  2. ২. নিচের কোনটি নাট্যগুণসম্পন্ন আখ্যানকাব্য?
    • ক. প্রাকৃত পৈঙ্গল
    • খ. মনসামঙ্গল
    • গ. সেক শুভোদয়া
    • ঘ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
    উত্তর: ঘ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
    শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ু চণ্ডীদাসের লেখা আখ্যানকাব্য, যাতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি বর্ণিত। এর সংলাপ ও পাত্রপাত্রীর কথাবার্তায় নাটকের গুণ রয়েছে, তাই একে নাট্যগুণসম্পন্ন কাব্য বলা হয়। কাব্যটির আবিষ্কর্তা বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার একটি গ্রামের গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে এর পুঁথি উদ্ধার করেন। ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ ও ‘সেক শুভোদয়া’ অন্য ধরনের রচনা, আর মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের একটি ধারা।
    মনে রাখুন:
    শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন বলে ধরা হয়। কাব্যটি তেরোটি খণ্ডে ভাগ করা।
    এর তিনটি প্রধান চরিত্র কৃষ্ণ, রাধা ও বড়ায়ি।
    ‘সেক শুভোদয়া’ মূলত সংস্কৃত ভাষার রচনা।
  3. ৩. বাংলায় মহাভারত অনুবাদ করেছেন-
    • ক. কাশীরাম দাস
    • খ. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
    • গ. কৃত্তিবাস ওঝা
    • ঘ. রামানন্দ ঘোষ
    উত্তর: ক. কাশীরাম দাস
    বাংলা ভাষায় মহাভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুবাদ কাশীরাম দাসের। তিনি সতেরো শতকের প্রথম দিকে পয়ার ছন্দে ব্যাসদেবের মহাভারতের কাহিনি বাংলায় লিখেছেন। এর বিখ্যাত ভণিতা: ‘মহাভারতের কথা অমৃতসমান, কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান’। কৃত্তিবাস ওঝা অনুবাদ করেছিলেন রামায়ণ, আর ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর লিখেছেন ‘অন্নদামঙ্গল’। তাই মহাভারত বললে কাশীরাম দাস, রামায়ণ বললে কৃত্তিবাসের নামটি মনে আসা চাই। পঞ্চদশ শতকের শেষ ও ষোড়শ শতকে বাংলায় মহাভারত অনুবাদের চেষ্টা শুরু হয়, কিন্তু কাশীরামের অনুবাদই সবচেয়ে প্রচলিত।
    মনে রাখুন:
    বাংলায় মহাভারতের প্রথম অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর, তাঁকে পরাগলী মহাভারতের জন্য স্মরণ করা হয়।
    কাশীরাম দাসের বাড়ি বর্ধমান জেলায়।
  4. ৪. মঙ্গলকাব্যের ব্যক্তিত্বময়ী নারীচরিত্র-
    • ক. ফুল্লরা
    • খ. সনকা
    • গ. বেহুলা
    • ঘ. লহনা
    উত্তর: গ. বেহুলা
    বেহুলা মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান নারীচরিত্র। সাপের কামড়ে বাসর রাতে স্বামী লখিন্দরের মৃত্যু হলে বেহুলা ভেলায় স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে ভেসে যায়। স্বর্গে গিয়ে সে নৃত্যগীতে দেবতাদের তুষ্ট করে এবং স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনে। তার সাহস, ভালোবাসা ও দৃঢ়তা তাকে ব্যক্তিত্বময়ী চরিত্র করেছে। ফুল্লরা চণ্ডীমঙ্গলের, সনকা মনসামঙ্গলের এবং লহনা চণ্ডীমঙ্গলের চরিত্র, কিন্তু তাদের কেউ বেহুলার মতো সংগ্রামী নয়। মঙ্গলকাব্য বলতে মধ্যযুগে দেবদেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে লেখা আখ্যানকাব্যকে বোঝায়। মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল এই ধারার প্রধান তিনটি কাব্য।
    মনে রাখুন:
    মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগর, যিনি মনসার পূজা করতে চান না।
    মনসামঙ্গলের কবি বিজয়গুপ্ত, নারায়ণদেব, বিপ্রদাস পিপিলাই।
  5. ৫. রোসাঙ্গ রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত হয়েছে-
    • ক. পদ্মাবতী
    • খ. চন্দ্রাবতী
    • গ. কাজলরেখা
    • ঘ. কঙ্ক ও লীলা
    উত্তর: ক. পদ্মাবতী
    ‘পদ্মাবতী’ মহাকবি আলাওলের অনুবাদ কাব্য। এটি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি ভাষার ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ। আলাওল আরাকানের (রোসাঙ্গ) রাজসভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি এই কাব্য রচনা করেন। বাকি তিনটি নাম পল্লিগীতিকা ও লোককাহিনির সঙ্গে জড়িত, যেমন ‘কঙ্ক ও লীলা’ ময়মনসিংহ গীতিকার পালা। এদের সঙ্গে রোসাঙ্গ রাজসভার কোনো সম্পর্ক নেই। আরাকানের রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের চর্চা সপ্তদশ শতকে খুব সমৃদ্ধ হয়েছিল। মুসলমান কবিরা এখানে বাংলায় রোমান্টিক কাব্য রচনা করেন।
    মনে রাখুন:
    আলাওলের অন্য কাব্য: সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সপ্তপয়কর, তোহফা।
    আরাকান রাজসভায় আরও কবি ছিলেন দৌলত কাজী।
  6. ৬. নিচের কোনটি খনার বচন?
    • ক. যম-জামাই-ভাগনা, তিন নয় আপনা।
    • খ. অতি চোর পাতি চোর, হতে হতে সিঁদল চোর।
    • গ. সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর।
    • ঘ. আছে গরু, না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল।
    উত্তর: ঘ. আছে গরু, না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল।
    খনার বচন কৃষি ও আবহাওয়া সম্পর্কে প্রচলিত ছড়ার মতো ছোট বাক্যের সংগ্রহ। চাষবাসের সময় কোন কাজ করলে ভালো ফল হয়, সেই অভিজ্ঞতা সহজ ভাষায় এতে ধরা আছে। ‘আছে গরু, না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল’ খনার বচনের একটি উদাহরণ। এর অর্থ, গরু থাকা সত্ত্বেও যে চাষ করে না, তার দুঃখ কখনো ঘোচে না। বাকি তিনটি বিকল্প সাধারণ প্রবাদ।
    মনে রাখুন:
    খনা প্রাচীন বাংলার একজন বিদুষী নারী বলে পরিচিত। তিনি জ্যোতির্বিদ্যা ও কৃষিবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।
    খনার বচন সাধারণত মুখে মুখে প্রচলিত।
  7. ৭. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
    • ক. প্রভাবতী সম্ভাষণ
    • খ. বাঙ্গালার ইতিহাস
    • গ. সীতার বনবাস
    • ঘ. বেতাল পঞ্চবিংশতি
    উত্তর: ক. প্রভাবতী সম্ভাষণ
    ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা, যা কারও লেখার অনুবাদ নয়। এটি তাঁর বন্ধুকন্যা প্রভাবতীর অকালমৃত্যুতে লেখা এক শোকগাথা। বাকি তিনটি বইয়ের মূল অন্য ভাষায় বা অন্য উৎসে আছে। ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ হিন্দি ‘বৈতাল পচ্চীসী’র অনুবাদ, ‘সীতার বনবাস’ রামায়ণ অবলম্বনে লেখা, আর ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’ মার্শম্যানের ইংরেজি বইয়ের ভাবানুবাদ। মৌলিক রচনা আর অনুবাদের পার্থক্য বুঝলে এই ধরনের প্রশ্নে ভুল হয় না। বিদ্যাসাগরের বেশির ভাগ বই অন্য ভাষা থেকে নেওয়া, তাই মৌলিক বইগুলো আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ: আত্মচরিত, রত্নপরীক্ষা, বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব।
    তাঁর বর্ণপরিচয় (১৮৫৫) শিশুদের জন্য বাংলা বর্ণমালার বই।
  8. ৮. মীর মশাররফ হোসেন নিচের কোন নাটকটির রচয়িতা?
    • ক. পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত
    • খ. জমিদার দর্পণ
    • গ. নবীন তপস্বিনী
    • ঘ. সিরাজউদ্দৌলা
    উত্তর: খ. জমিদার দর্পণ
    ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের লেখা নাটক। জমিদারদের অত্যাচার ও প্রজাদের দুর্দশা এতে ধরা আছে। অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন লেখকদের। ‘পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত’ ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের, ‘নবীন তপস্বিনী’ দীনবন্ধু মিত্রের এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ সিকান্দার আবু জাফরের নাটক। মীর মশাররফ হোসেন উনিশ শতকের মুসলমান বাঙালি লেখকদের মধ্যে অগ্রণী, তাই তাঁর সব রচনা আলাদা করে মনে রাখা দরকার। মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে।
    মনে রাখুন:
    মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত বই ‘বিষাদ সিন্ধু’ (গদ্যে কারবালার কাহিনি)।
    তাঁর অন্য রচনা: রত্নবতী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
  9. ৯. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি কোনটি?
    • ক. পুরুবিক্রম
    • খ. নীলদর্পণ
    • গ. কৃষ্ণকুমারী
    • ঘ. বেণীসংহার
    উত্তর: গ. কৃষ্ণকুমারী
    ‘কৃষ্ণকুমারী’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক। এতে রাজস্থানের কাহিনি অবলম্বনে রাজকন্যা কৃষ্ণার ত্যাগ ও মৃত্যু দেখানো হয়েছে। নাটকটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর কাহিনি জেমস টডের ‘অ্যানালস অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ অব রাজস্থান’ থেকে নেওয়া। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডির মর্যাদা এই নাটকের। ট্র্যাজেডি হলো দুঃখের পরিণতির নাটক, যেখানে নায়ক বা নায়িকার করুণ পরিণাম দর্শককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
    মনে রাখুন:
    মধুসূদনের অন্য নাটক: শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, একেই কি বলে সভ্যতা।
    ‘নীলদর্পণ’ দীনবন্ধু মিত্রের নাটক, যা অত্যাচারী নীলকরদের বিরুদ্ধে লেখা।
    মধুসূদনের ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ (১৮৬০) বাংলার প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের কাব্য।
  10. ১০. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রোমান্সধর্মী উপন্যাস-
    • ক. যুগলাঙ্গুরীয়
    • খ. কপালকুণ্ডলা
    • গ. কৃষ্ণকান্তের উইল
    • ঘ. আনন্দমঠ
    উত্তর: খ. কপালকুণ্ডলা
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) রোমান্সধর্মী উপন্যাস। এতে সমুদ্রতীরের জঙ্গলে কাপালিকের হাতে বড় হওয়া এক তরুণী কপালকুণ্ডলার জীবন, নবকুমারের সঙ্গে তার বিয়ে এবং করুণ পরিণতি আছে। কাহিনিতে রহস্য, প্রকৃতি ও আবেগ মিলেছে। ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ সামাজিক উপন্যাস, ‘আনন্দমঠ’ সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে লেখা, আর ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ ছোট আকারের প্রেমকাহিনি। বঙ্কিমচন্দ্রকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়, আর তাঁর উপন্যাসগুলোকে ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রোমান্সধর্মী প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। এই শ্রেণিবিভাগ মনে রাখা দরকার।
    মনে রাখুন:
    বঙ্কিমের প্রথম উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫)।
    ‘আনন্দমঠ’-এ আছে ‘বন্দে মাতরম’ গান।
    ‘কপালকুণ্ডলা’-র প্রচলিত উক্তি: ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’
  11. ১১. দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন কোনটি?
    • ক. কিঞ্চিৎ জলযোগ
    • খ. ম্যাও ধরবে কে
    • গ. কুলীনকুলসর্বস্ব
    • ঘ. সধবার একাদশী
    উত্তর: ঘ. সধবার একাদশী
    ‘সধবার একাদশী’ দীনবন্ধু মিত্রের লেখা প্রহসন। প্রহসন হলো হালকা, হাস্যরসাত্মক নাটক, যেখানে সমাজের দোষ-ত্রুটি ব্যঙ্গ করা হয়। এই নাটকে উনিশ শতকের কলকাতার নব্য শিক্ষিত যুবকদের মদ্যপান ও উচ্ছৃঙ্খল জীবন ব্যঙ্গ করা হয়েছে, আর নিমচাঁদ চরিত্রটি বিখ্যাত। ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ রামনারায়ণ তর্করত্নের নাটক। তাই লেখকের নামের সঙ্গে নাটকের নাম মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। নিমচাঁদ নামের এই চরিত্রটি মদ্যপ হলেও শিক্ষিত এবং অন্তরে বেদনাবোধ আছে, তাই চরিত্রটি দর্শকের মনে ছাপ ফেলে।
    মনে রাখুন:
    দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০)।
    তাঁর অন্য রচনা: নবীন তপস্বিনী, লীলাবতী, জামাই বারিক, কমলে কামিনী।
  12. ১২. 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
    • ক. রমেশচন্দ্র দত্ত
    • খ. অক্ষয়কুমার দত্ত
    • গ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • ঘ. রাজনারায়ণ বসু
    উত্তর: খ. অক্ষয়কুমার দত্ত
    ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ ১৮৪৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিল এটি, যেখানে ব্রাহ্মধর্মের প্রচারের সঙ্গে বিজ্ঞান, সমাজ ও দর্শনের লেখাও ছাপা হতো। অক্ষয়কুমার দত্ত বাংলায় বিজ্ঞানের বিষয়ে লেখা শুরু করেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা পক্ষের মানুষ হলেও সম্পাদক ছিলেন না, তাই বিকল্পে তাঁর নাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়া চলে না।
    মনে রাখুন:
    অক্ষয়কুমার দত্তের বিখ্যাত বই ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’ ও ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’।
    এই পত্রিকায় বিদ্যাসাগর, রাজেন্দ্রলাল মিত্র ও রবীন্দ্রনাথও লিখেছেন।
  13. ১৩. নিচের কোনটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ?
    • ক. পদ্মগোখরো
    • খ. রক্তপদ্ম
    • গ. পদ্মরাগ
    • ঘ. পদ্মাবতী
    উত্তর: গ. পদ্মরাগ
    ‘পদ্মরাগ’ (১৯২৪) বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উপন্যাস। এতে নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আদর্শ ও সামাজিক বন্ধন থেকে মুক্তির কথা আছে। এই বইয়ের পটভূমি ‘তারিণী ভবন’ নামের একটি নারীপ্রতিষ্ঠান। ‘পদ্মগোখরো’ নজরুলের গল্প, ‘রক্তপদ্ম’ আসকার ইবনে শাইখের নাটক এবং ‘পদ্মাবতী’ আলাওলের অনুবাদ কাব্য। নামে মিল থাকলেও এঁদের লেখক আলাদা। রোকেয়ার জন্ম রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে।
    মনে রাখুন:
    রোকেয়ার অন্য বই: মতিচূর (প্রবন্ধ), সুলতানার স্বপ্ন (বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি, ইংরেজিতে ‘Sultana’s Dream’), অবরোধবাসিনী।
    ১৯১১ সালে তিনি কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
    প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালিত হয়।
  14. ১৪. 'গতিবাদে'র প্রভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থটি রচিত হয়েছিল?
    • ক. পূরবী
    • খ. খেয়া
    • গ. বলাকা
    • ঘ. সোনার তরী
    উত্তর: গ. বলাকা
    রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’ (১৯১৬) কাব্যগ্রন্থে গতিবাদ বা চলার দর্শন ফুটে উঠেছে। এর মূল কথা হলো, জগৎ ও জীবন চিরচঞ্চল, থেমে থাকা মানেই মৃত্যু, আর গতিই জীবন। বইয়ের নামকবিতা ‘বলাকা’ উড়ন্ত বুনো হাঁসের সারির ছবি দিয়ে এই গতির কথা বলে। বইয়ের আরও কবিতা: ‘শাজাহান’, ‘সবুজের অভিযান’, ‘ছবি’। অন্য বিকল্পগুলোতে এই গতির দর্শন প্রধান নয়, যেমন ‘সোনার তরী’তে প্রকৃতি ও জীবনের ভাবনা বেশি।
    মনে রাখুন:
    রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ (১৮৯৪), ‘খেয়া’ (১৯০৬) ও ‘পূরবী’ (১৯২৫)।
    তিনি ১৯১৩ সালে ‘Song Offerings’ (গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ) এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
  15. ১৫. কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
    • ক. সওগাত
    • খ. শিখা
    • গ. ধূমকেতু
    • ঘ. কল্লোল
    উত্তর: গ. ধূমকেতু
    ‘ধূমকেতু’ কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা, যেটি ১৯২২ সালে অর্ধ-সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশ শুরু করে। এতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র লেখা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ প্রথম সংখ্যার জন্য আশীর্বাণী পাঠান। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা সম্পাদকদের পত্রিকা। ‘সওগাত’ মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের, ‘শিখা’ আবুল হুসেনের এবং ‘কল্লোল’ দীনেশরঞ্জন দাশের। নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি, আর তাঁর সাংবাদিকতার সবচেয়ে বিখ্যাত নাম ধূমকেতু। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা বেরোয় ১৯২২ সালের আগস্ট মাসে।
    মনে রাখুন:
    নজরুলের অন্য সম্পাদিত পত্রিকা: লাঙ্গল, নবযুগ।
    নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২), যাতে বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আছে।
  16. ১৬. জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
    • ক. অর্কেস্ট্রা
    • খ. প্রথম পার্থ
    • গ. উর্বশী ও আর্টেমিস
    • ঘ. মহাপৃথিবী
    উত্তর: ঘ. মহাপৃথিবী
    ‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪) জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ। তাঁর অন্য কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, রূপসী বাংলা। ‘অর্কেস্ট্রা’ সুধীন্দ্রনাথ দত্তের, ‘প্রথম পার্থ’ বুদ্ধদেব বসুর এবং ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ বিষ্ণু দে-র কাব্যগ্রন্থ। এঁরা সবাই জীবনানন্দের সমসাময়িক আধুনিক কবি, তাই নাম গুলিয়ে যায়। ‘রূপসী বাংলা’ জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও কবিতাগুলো তিনি অনেক আগে লিখেছিলেন। তাই লেখকের পাশে বইয়ের নাম মুখস্থ রাখা প্রয়োজন।
    মনে রাখুন:
    জীবনানন্দ দাশকে ‘রূপসী বাংলার কবি’ ও ‘নির্জনতার কবি’ বলা হয়।
    ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতাটি ‘মহাপৃথিবী’তে আছে।
    ‘ঝরা পালক’ (১৯২৭) তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
  17. ১৭. নিচের কোন চরণটি হাসন রাজার গানের পঙক্তি?
    • ক. ও যার আপন খবর আপনার হয় না।
    • খ. কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।
    • গ. ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতাম তাহার পায়।
    • ঘ. চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি।
    উত্তর: খ. কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।
    ‘কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার’ হাসন রাজার গানের পঙক্তি। হাসন রাজা সিলেট অঞ্চলের একজন জমিদার, যিনি মরমি গান রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত গান ‘লোকে বলে বলে রে ঘরবাড়ি ভালা না আমার’, যার পরের চরণেই এই কথা আছে। বাকি পঙক্তিগুলো লালন ফকিরের গানের সঙ্গে মেলে। দুজনেই মরমি সাধক হওয়ায় পরীক্ষায় তাঁদের গানের পঙক্তি একসঙ্গে দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। হাসন রাজার গানে আল্লাহ ও মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতি ও জীবনের অনিত্যতার কথা ফুটে উঠেছে।
    মনে রাখুন:
    হাসন রাজার বইয়ের নাম ‘হাছন উদাস’।
    তাঁর জন্মস্থান সিলেটের সুনামগঞ্জ।
    লালনের বিখ্যাত গান: খাঁচার ভিতর অচিন পাখি।
  18. ১৮. 'ধ্বনি'র লিখিত রূপকে বলা হয়-
    • ক. অক্ষর
    • খ. শব্দ
    • গ. বর্ণ
    • ঘ. পদ
    উত্তর: গ. বর্ণ
    ধ্বনি হলো আমরা মুখে যা উচ্চারণ করি। যখন সেই ধ্বনিকে লিখে প্রকাশ করি, তাকে বর্ণ বলে। অর্থাৎ ধ্বনির লিখিত রূপ বা প্রতীকই বর্ণ। অক্ষর বা syllable হলো শব্দের যতটুকু অংশ একটি শ্বাসে উচ্চারণ করা যায়। শব্দ হলো অর্থযুক্ত ধ্বনির সমষ্টি। আর পদ হলো বিভক্তিযুক্ত শব্দ। সহজ করে বললে, ধ্বনি কানে শোনা যায় আর বর্ণ চোখে দেখা যায়। বর্ণমালা বা বর্ণের শৃঙ্খলাকেই ভাষার লিখিত কাঠামো বলা যায়।
    মনে রাখুন:
    বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি, মোট ৫০টি বর্ণ।
    বাংলা ধ্বনি স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
  19. ১৯. 'পায়রা'র সমার্থক শব্দ কোনটি?
    • ক. কুড়া
    • খ. কপোত
    • গ. কদলী
    • ঘ. কোকিল
    উত্তর: খ. কপোত
    ‘পায়রা’ শব্দের সমার্থক শব্দ ‘কপোত’। এর আরও কিছু প্রতিশব্দ হলো পারাবত ও কবুতর। বাকি বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা। ‘কুড়া’ পায়রার প্রতিশব্দ নয়, ‘কদলী’ মানে কলা এবং ‘কোকিল’ একটি আলাদা পাখি, যার প্রতিশব্দ পিক বা কুহুরব। পাখির নাম এভাবে একসঙ্গে দিলে ভুল করা সহজ, তাই কোন শব্দ কোন পাখির জন্য, তা আলাদা করে মনে রাখা দরকার। মনে রাখা দরকার, এমন প্রশ্নে কেবল সঠিক অর্থের শব্দটিই বেছে নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    কপোত-কপোতী হলো পায়রার জোড়া। শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা কবুতরকে ধরা হয়।
    পাখির অন্য প্রতিশব্দ: বিহগ, বিহঙ্গ, খগ, পক্ষী।
  20. ২০. 'অনিষ্ট' শব্দের বিপরীত অর্থবোধক শব্দ-
    • ক. ধৃষ্ট
    • খ. তিষ্ঠ
    • গ. ইষ্ট
    • ঘ. শিষ্ট
    উত্তর: গ. ইষ্ট
    ‘অনিষ্ট’ শব্দের অর্থ ক্ষতি বা অমঙ্গল। এর বিপরীত শব্দ ‘ইষ্ট’, যার মানে মঙ্গল বা হিত। শব্দটি গঠনের দিক থেকেও পরিষ্কার, কারণ ‘ইষ্ট’-এর আগে ‘অন্’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে ‘অনিষ্ট’ হয়েছে। বিকল্পের মধ্যে ‘ধৃষ্ট’ ও ‘শিষ্ট’ আলাদা অর্থের শব্দ। ধৃষ্ট মানে নির্লজ্জ বা বেয়াদব, আর শিষ্ট মানে ভদ্র। ‘তিষ্ঠ’ মানে থামো, দাঁড়াও। বাংলা অভিধানে এমন বিপরীত জোড়া বেশি আসে, যেখানে একটি শব্দের আগে নঞর্থক উপসর্গ বসে।
    উদাহরণ: তার ইষ্ট দেবতা কালী।
    মনে রাখুন:
    ইষ্ট শব্দের আরেক অর্থ অভীষ্ট বা ঈপ্সিত।
    বিপরীত শব্দ: ধৃষ্ট – বিনীত, শিষ্ট – দুষ্ট।
  21. ২১. Census-এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
    • ক. অজ্ঞান
    • খ. রেয়াত
    • গ. আদমশুমারি
    • ঘ. সচেতন
    উত্তর: গ. আদমশুমারি
    ‘Census’ বলতে সমগ্র দেশের জনগণনা বোঝায়, যেখানে প্রতিটি মানুষ ও পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়। এর বাংলা পরিভাষা আদমশুমারি বা জনশুমারি। ‘আদম’ মানে মানুষ, আর ‘শুমারি’ মানে গণনা। বাকি বিকল্পের মধ্যে ‘অজ্ঞান’ মানে জ্ঞান নেই এমন, ‘রেয়াত’ মানে ছাড় এবং ‘সচেতন’ মানে সজাগ। পরিভাষা বলতে ইংরেজি বা অন্য ভাষার পারিভাষিক শব্দের বাংলা প্রতিশব্দকে বোঝায়।
    মনে রাখুন:
    পরিভাষা: Dialect – উপভাষা, Autonomous – স্বায়ত্তশাসিত, Excise duty – আবগারি শুল্ক।
    বাংলাদেশে আদমশুমারি প্রতি দশ বছর পরপর হওয়ার কথা, তবে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
  22. ২২. নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত?
    • ক. শোকানল
    • খ. রাঙামাটি
    • গ. তেপান্তর
    • ঘ. ছায়াতরু
    উত্তর: ঘ. ছায়াতরু
    মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, ফলে সমস্ত পদ ছোট হয়। ‘ছায়াতরু’-র ব্যাসবাক্য ‘ছায়াপ্রধান তরু’, মাঝের ‘প্রধান’ লোপ পেয়ে ‘ছায়াতরু’ হয়েছে। এ কারণে এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়। ‘শোকানল’ রূপক কর্মধারয় (শোকরূপ অনল), ‘রাঙামাটি’ সাধারণ কর্মধারয় (রাঙা যে মাটি) এবং ‘তেপান্তর’ দ্বিগু সমাস। দ্বিগু সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক থাকে, যেমন ‘তে’ মানে তিন। সমাস নির্ণয়ে আগে ব্যাসবাক্য লিখে নিয়ে দেখতে হয় কোনো পদ লোপ পেয়েছে কি না।
    উদাহরণ: মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: সিংহাসন (সিংহচিহ্নিত আসন)।
    মনে রাখুন: কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ ও বিশেষ্য মিলে একটি পদ হয়।
  23. ২৩. বিসর্গ (ঃ) সন্ধিঘটিত শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
    • ক. দূরন্ত
    • খ. দুর্গতি
    • গ. দূর্বার
    • ঘ. দুর্মতী
    উত্তর: খ. দুর্গতি
    দুঃ + গতি = দুর্গতি; এখানে বিসর্গ র-এ পরিণত হয়েছে এবং 'দু'-তে হ্রস্ব উ থাকে। শুদ্ধ বানানগুলো হলো দুরন্ত, দুর্বার ও দুর্মতি।
  24. ২৪. পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
    • ক. দ্বাদশ
    • খ. পনেরো
    • গ. উনিশে
    • ঘ. এগারো
    উত্তর: ক. দ্বাদশ
    কোনো সারি বা ক্রমের মধ্যে একটি জিনিসের অবস্থান বোঝাতে যে সংখ্যা বসে, তাকে পূরণবাচক সংখ্যা (Ordinal Number) বলে। ‘দ্বাদশ’ মানে বারো নম্বর স্থানে থাকা, তাই এটি পূরণবাচক। ‘পনেরো’ ও ‘এগারো’ শুধু কতগুলো তা গুনে বলে, তাই এগুলো গণনাবাচক। আর ‘উনিশে’ বলতে মাসের উনিশ তারিখ বোঝায়, সেজন্য এটি তারিখবাচক।
    উদাহরণ:
    পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, দশম, বিংশ।
    গণনাবাচক: এক, দুই, তিন, দশ, বিশ।
    মনে রাখুন: ১ থেকে ৪ পর্যন্ত (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ) এবং ৬ (ষষ্ঠ) পূরণবাচক রূপে নিয়মের বাইরে আলাদা শব্দ হয়।
  25. ২৫. কোন বাক্যে ক্রিয়া-বিশেষণ রয়েছে?
    • ক. তিনি প্রতিদিন ধীরে ধীরে হাঁটেন।
    • খ. তিনি প্রতিদিন বাগানে হাঁটেন।
    • গ. তিনি প্রতিদিন একা একা হাঁটেন।
    • ঘ. তিনি প্রতিদিন লাঠি হাতে হাঁটেন।
    উত্তর: ক. তিনি প্রতিদিন ধীরে ধীরে হাঁটেন।
    যে পদ ক্রিয়া কীভাবে, কখন বা কোথায় ঘটছে তা জানিয়ে দেয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ (Adverb) বলে। ‘ধীরে ধীরে হাঁটেন’ বললে আমরা বুঝতে পারি হাঁটার ধরনটা কেমন। তাই এখানে ‘ধীরে ধীরে’ ক্রিয়াকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ ক্রিয়ার ধরন বোঝাচ্ছে। এই কারণে এটিই ক্রিয়া-বিশেষণের স্পষ্ট উদাহরণ। ‘বাগানে’ শব্দটি হাঁটার স্থান বোঝায়, তাই সেটি অধিকরণ কারকের একটি পদ, আর ‘লাঠি হাতে’ একটি বাক্যাংশ।
    ক্রিয়া-বিশেষণকে মোটামুটি ধরন, কাল ও স্থান অনুযায়ী ভাগ করা যায়। ধরন বোঝালে তাকে রীতিবাচক, সময় বোঝালে কালবাচক আর জায়গা বোঝালে স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ বলে।
    উদাহরণ:
    ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
    পরে একবার এসো।
    মনে রাখুন:
    ক্রিয়া-বিশেষণ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে।
    বিশেষণ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে।
  26. ২৬. 'যেসব পশু মাংস খায়, তারা খুব বলবান হয়।'- বাক্যটির সরল রূপ হবে-
    • ক. মাংসাশী পশুরা মাংস খায়, তাই বলবান হয়।
    • খ. সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
    • গ. মাংসাশী পশুমাত্রই কি বলবান হয় না।
    • ঘ. সকল মাংসাশী পশুই বলবান হয় বৈকি?
    উত্তর: খ. সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
    মিশ্র বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও একটি অধীন খণ্ডবাক্য থাকে। একে সরল বাক্যে বদলাতে হলে অধীন খণ্ডবাক্যটিকে একটি পদ বা বাক্যাংশে ছোট করে আনতে হয়। ‘যেসব পশু মাংস খায়’ অংশটিকে এক শব্দে ‘মাংসাশী পশু’ লেখা যায়, তখন বাক্যে একটিই ক্রিয়া থাকে এবং ‘সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়’ একটি সরল বাক্য হয়। অন্য বিকল্পগুলোতে একাধিক ক্রিয়া আছে কিংবা প্রশ্নবোধক রূপ এসেছে, তাই সেগুলো মূল বাক্যের সরল রূপ নয়।
    মনে রাখুন:
    সরল বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
    যৌগিক বাক্যে একাধিক স্বাধীন বাক্য সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত থাকে।
    মিশ্র বাক্যে এক বা একাধিক অধীন খণ্ডবাক্য থাকে।
  27. ২৭. ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনটি কে সম্পাদনা করেছিলেন?
    • ক. সিকান্দার আবু জাফর
    • খ. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
    • গ. হাসান হাফিজুর রহমান
    • ঘ. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
    উত্তর: গ. হাসান হাফিজুর রহমান
    ভাষা-আন্দোলনের স্মৃতি নিয়ে প্রকাশিত প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ বের হয় ১৯৫৩ সালে। এর সম্পাদক ছিলেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান। তখনকার তরুণ লেখকেরা এই সংকলনে একুশের চেতনা নিয়ে কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, এই বইয়ের নামেই তখনকার সময়ের আবেগটা ধরা আছে। পরে এই কাজের পথ ধরেই একুশ নিয়ে আরও অনেক সংকলন প্রকাশিত হয়। সিকান্দার আবু জাফর, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল নামগুলোও সাহিত্যে পরিচিত, কিন্তু এই সংকলনের সম্পাদনা তাঁদের নয়।
    মনে রাখুন:
    হাসান হাফিজুর রহমান একজন কবি ও সম্পাদক।
    ‘বিমুখ প্রান্তর’ তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
    তিনি ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র’ প্রকল্পের সম্পাদক ছিলেন।
  28. ২৮. শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস হচ্ছে-
    • ক. জননী
    • খ. উড়কু
    • গ. খাঁচায়
    • ঘ. আগুনপাখি
    উত্তর: ক. জননী
    শওকত ওসমান বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক। তাঁর ‘জননী’ উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি তাঁর সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাসগুলোর একটি। এই উপন্যাসে একজন মায়ের সংগ্রাম ও জীবনের কঠিন বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। প্রশ্নের বাকি তিনটি নাম, অর্থাৎ ‘উড়কু’, ‘খাঁচায়’ ও ‘আগুনপাখি’, শওকত ওসমানের বিখ্যাত উপন্যাস হিসেবে পরিচিত নয়। তাই পরীক্ষায় লেখকের নামের সঙ্গে তাঁর প্রধান উপন্যাসগুলো মিলিয়ে মনে রাখা দরকার।
    মনে রাখুন:
    শওকত ওসমানের উপন্যাস: ক্রীতদাসের হাসি, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলাঙ্গী।
    ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ মুক্তিযুদ্ধের আগের সময়ের পটভূমিতে লেখা।
  29. ২৯. ইলা মিত্রকে নিয়ে সেলিনা হোসেনের উপন্যাসের নাম-
    • ক. অরণ্য বহ্নি
    • খ. কাঁটাতারে প্রজাপতি
    • গ. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
    • ঘ. ওঙ্কার
    উত্তর: খ. কাঁটাতারে প্রজাপতি
    তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের সংগ্রামী জীবন অবলম্বনে সেলিনা হোসেন লিখেছেন ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’। উপন্যাসটি ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়। ইলা মিত্র নাচোলের কৃষক বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পুলিশের অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর এই লড়াইয়ের কাহিনিই উপন্যাসের মূল বিষয়। বাকি তিনটি বইয়ের বিষয় আলাদা, তাই সেগুলো এই প্রশ্নের উত্তর নয়। বিশেষ করে ‘ওঙ্কার’ নামটি দেখে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়, কারণ এটি আলাদা একজন লেখকের বই।
    মনে রাখুন:
    সেলিনা হোসেনের অন্যান্য উপন্যাস: হাঙর নদী গ্রেনেড, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, যমুনা নদীর তীরে।
    ‘ওঙ্কার’ আহমদ ছফার উপন্যাস।
  30. ৩০. কাব্যধর্মী নাটক কোনটি?
    • ক. স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা
    • খ. জডিস ও বিবিধ বেলুন
    • গ. চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি
    • ঘ. নূরলদীনের সারাজীবন
    উত্তর: ঘ. নূরলদীনের সারাজীবন
    সৈয়দ শামসুল হক পদ্যে লেখা নাটকের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ নাটকটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর সংলাপ কবিতার ছন্দে গাঁথা। যে নাটকের সংলাপ পদ্যে লেখা হয়, তাকে কাব্যনাট্য (Poetic Drama) বলে। নাটকের নায়ক নূরলদীন ১৭৮৩ সালে রংপুর অঞ্চলে ইজারাদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের নিয়ে বিদ্রোহ করেছিলেন, যা ‘ঢিং’ বিদ্রোহ নামে পরিচিত। তাই কাব্যধর্মী নাটক হিসেবে এটিই সঠিক। বাংলা সাহিত্যে এভাবে পদ্যে নাটক লেখার ধারাকে কাব্যনাট্য বলা হয়, আর সৈয়দ শামসুল হক এ ধারার বাংলাদেশি প্রধান লেখক। অন্য তিনটি নাম গদ্যনাটকের।
    মনে রাখুন:
    সৈয়দ শামসুল হকের অন্য নাটক: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, ঈর্ষা।
    নূরলদীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা।
  31. ৩১. 'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
    • ক. গ্রাম্য গীতিকা
    • খ. রূপকথা
    • গ. ছোটগল্প
    • ঘ. উপকথা
    উত্তর: খ. রূপকথা
    ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ রূপকথার সংকলন। রাজা-রানি, রাজপুত্র, পাতালপুরী আর দৈত্য-দানবের কল্পনার গল্প যে সংকলনে থাকে, সেটি রূপকথা। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার বাংলার গ্রামে ঘরে ঘরে ঠাকুমা-দিদিমার মুখে শোনা এই গল্পগুলো সংগ্রহ করে লিখে রাখেন। বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপকথা ও রূপকথার মধ্যে পার্থক্য আছে। উপকথায় সাধারণত পশুপাখি গল্পের চরিত্র হয়, আর রূপকথায় রাজা-রানি ও অলৌকিক জগৎ থাকে। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে। লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা গল্প সংগ্রহ করে লেখার ফলে বাংলা শিশুসাহিত্য নতুন সমৃদ্ধি পায়, আর গল্পগুলো পড়ে আজও ছোটরা মুগ্ধ হয়।
    মনে রাখুন:
    দক্ষিণারঞ্জনের অন্য সংকলন: ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামশায়ের থলে।
  32. ৩২. 'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল'— পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
    • ক. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
    • খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • গ. বিহারীলাল চক্রবর্তী
    • ঘ. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
    উত্তর: ক. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
    ‘পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল’ পঙক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘প্রভাত বর্ণন’ নামের কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাটি তাঁর লেখা শিশুপাঠ্য বই ‘শিশুশিক্ষা’-র অংশ। এই বইয়ের আরেকটি পরিচিত কবিতা ‘আমার পণ’, যার শুরু ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি’ দিয়ে। এভাবে তিনি শিশুদের জন্য সহজ ভাষায় পদ্য লেখার ধারা তৈরি করেন। বিদ্যাসাগরের নাম শুনে অনেকে ভুল করে তাঁকে এর রচয়িতা ভাবেন। কিন্তু মদনমোহন বিদ্যাসাগরের বন্ধু ছিলেন, তিনি নন। ছোটবেলায় আমরা সবাই এই পঙক্তি পড়েছি, তাই নামটি মনে রাখা সহজ। পরীক্ষায় প্রায়ই ‘কার পঙক্তি’ ধরনের প্রশ্ন আসে।
    মনে রাখুন:
    মদনমোহন তর্কালঙ্কার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বন্ধু ছিলেন।
    তাঁর অন্য রচনা: রসতরঙ্গিণী, বাসবদত্তা।
  33. ৩৩. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' ইংরেজি কোন গ্রন্থের গদ্য-অনুবাদ?
    • ক. মার্চেন্ট অব ভেনিস
    • খ. কমেডি অফ এররস
    • গ. এ মিডসামার নাইট'স ড্রিম
    • ঘ. টেমিং অব দি শ্রু
    উত্তর: খ. কমেডি অফ এররস
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শেকসপিয়রের ‘কমেডি অব এররস’ নাটকের কাহিনি অবলম্বনে ১৮৬৯ সালে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ লেখেন। নাটকে যমজ দুই ভাইয়ের চেহারার মিলের কারণে নানা ভুল বোঝাবুঝি ঘটে। বাংলা নামের ‘ভ্রান্তি’ কথাটি সেই ভুলকেই বোঝায়। বিদ্যাসাগর সংস্কৃত ও ইংরেজি থেকে অনেক বই বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাঁর সহজ ও সুন্দর গদ্যভাষা বাংলা গদ্যকে একটি পরিণত রূপ দিয়েছে, তাই তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    বিদ্যাসাগরের অন্য অনুবাদ: শকুন্তলা, সীতার বনবাস, বেতাল পঞ্চবিংশতি।
    ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ ও ‘টেমিং অব দি শ্রু’-ও শেকসপিয়রের নাটক, কিন্তু ভ্রান্তিবিলাসের উৎস নয়।
  34. ৩৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন?
    • ক. সঞ্চয়িতা
    • খ. বলাকা
    • গ. বসন্ত
    • ঘ. সেঁজুতি
    উত্তর: গ. বসন্ত
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৩ সালে তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। দুই কবির সম্পর্কের এটি একটি বিশেষ স্মারক, কারণ রবীন্দ্রনাথ নবীন কবি নজরুলকে এভাবে সম্মান জানিয়েছিলেন। বাকি তিনটি, অর্থাৎ ‘সঞ্চয়িতা’, ‘বলাকা’ ও ‘সেঁজুতি’ রবীন্দ্রনাথেরই রচনা, কিন্তু এগুলো নজরুলকে উৎসর্গ করা হয়নি। গীতিনাট্য হলো গানের মাধ্যমে বলা নাটক। রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্যের তালিকায় ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ ও ‘কালমৃগয়া’ও আছে। উৎসর্গের প্রশ্নে বইয়ের নামের সঙ্গে কাকে উৎসর্গ করা হয়েছে, তা মনে রাখা দরকার।
    মনে রাখুন:
    ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
    ‘বলাকা’ প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
    নজরুল তাঁর ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন।
  35. ৩৫. "হিন্দু না ওরা মুসলিম?- ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন?" পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
    • ক. বিদ্রোহী
    • খ. সৃষ্টিসুখের উল্লাসে
    • গ. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
    • ঘ. আনন্দময়ীর আগমনে
    উত্তর: গ. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
    ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন? কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র’ পঙক্তিটি নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতার অংশ। কবিতাটি ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে আছে। এখানে কবি দেশের মানুষকে ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে সংকটের নদী পার হতে আহ্বান জানিয়েছেন। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় আছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মশক্তির ঘোষণা, তাই সেটি এই পঙক্তির সঙ্গে মেলে না। কবিতাটিতে কবি এমন এক সময়ের কথা বলেছেন, যখন দেশ সংকটে আর মানুষ ধর্মের নামে বিভক্ত। সেই সংকটের মুহূর্তে মাঝিকে সজাগ থাকতে বলার ভঙ্গিই এই কবিতার মূল সুর।
    মনে রাখুন:
    ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা লেখার জন্য নজরুলকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।
    ‘বিদ্রোহী’ ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে আছে।
  36. ৩৬. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
    • ক. সংশপ্তক
    • খ. চিলেকোঠার সেপাই
    • গ. আরেক ফাল্গুন
    • ঘ. জাহান্নম হইতে বিদায়
    উত্তর: খ. চিলেকোঠার সেপাই
    ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসটি লেখেন। এটি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। এর আগে তাঁর ছোটগল্প ও প্রবন্ধ বের হয়েছিল, তবে উপন্যাস হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম। বাকি তিনটি উপন্যাসের বিষয় আলাদা। ‘সংশপ্তক’ লিখেছেন শহীদুল্লা কায়সার, ‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের এবং ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমানের লেখা। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বড় গণআন্দোলন। এর ফলেই পরে ১৯৭০-এর নির্বাচনের পথ তৈরি হয়। উপন্যাসে সেই সময়ের শহর ও মানুষের ছবি আছে।
    মনে রাখুন:
    ইলিয়াসের আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬)।
    ‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা।
  37. ৩৭. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. উপরউক্ত
    • খ. উপরোক্ত
    • গ. উপরুক্ত
    • ঘ. উপর্যুক্ত
    উত্তর: ঘ. উপর্যুক্ত
    শুদ্ধ বানান হলো ‘উপর্যুক্ত’। শব্দটি উপরি + উক্ত থেকে এসেছে। এখানে ‘ই’ বর্ণটি ‘য’ হয়ে পরের ‘উ’-এর সঙ্গে মিলে ‘র্যু’ গঠিত হয়েছে। স্বরবর্ণ ই, ঈ-এর পরে অসম স্বরবর্ণ থাকলে ই, ঈ স্থানে ‘য’ হয়, একে যণ্-সন্ধি বলে। এই নিয়মেই ‘উপর্যুক্ত’ লিখতে হয়। তাই ‘উপরউক্ত’, ‘উপরুক্ত’ বা ‘উপরোক্ত’ লেখা শুদ্ধ বানান নয়। প্রতিটি শব্দ আলাদা করে ভেঙে দেখলে বানান ভুল সহজে ধরা পড়ে। সন্ধির নিয়ম জানা থাকলে শুদ্ধ বানান মনে রাখা সহজ হয়।
    মনে রাখুন: শুদ্ধ বানানের কিছু উদাহরণ:
    প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অপরাহ্ণ, মুমূর্ষু, মুহুর্মুহু, গীতাঞ্জলি, শিরশ্ছেদ।
  38. ৩৮. 'উষ্ণীষ' শব্দের অর্থ-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
    • ক. অত্যন্ত উষ্ণ
    • খ. শীতের আমেজ
    • গ. কুসুম কুসুম উষ্ণ
    • ঘ. পাগড়ি
    উত্তর: ঘ. পাগড়ি
    ‘উষ্ণীষ’ শব্দের অর্থ পাগড়ি, অর্থাৎ মাথায় জড়িয়ে পরার কাপড়। এর আরেকটি অর্থ শিরোভূষণ বা মুকুট। শব্দটির সঙ্গে ‘উষ্ণ’ বা তাপের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু দেখতে ‘উষ্ণ’ শব্দের মতো বলে পরীক্ষার্থীরা অনেক সময় প্রথম তিনটি বিকল্পে ভুল করে। তাই এমন সমরূপ শব্দের অর্থ আলাদা করে মনে রাখা ভালো। বাংলা শব্দার্থ প্রশ্নে সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দ প্রায়ই আসে। বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে আসা এমন অনেক শব্দ আছে, যেগুলো দেখতে কাছাকাছি হলেও অর্থ একেবারে আলাদা। এসব শব্দ পড়ার সময় অর্থ মিলিয়ে নিলে ভুল কমে।
    মনে রাখুন: কিছু শব্দার্থ:
    অর্ঘ্য: পূজার উপকরণ।
    আপণ: দোকান।
    প্রসূন: ফুল।
    আহব: যুদ্ধ।
    খদ্যোত: জোনাকি পোকা।
    কবোষ্ণ: ঈষৎ গরম।
  39. ৩৯. 'সংশয়'-এর বিপরীত শব্দ কোনটি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৭
    • ক. বিস্ময়
    • খ. নির্ভয়
    • গ. দ্বিধা
    • ঘ. প্রত্যয়
    উত্তর: ঘ. প্রত্যয়
    ‘সংশয়’ মানে সন্দেহ, অর্থাৎ কোনো কিছু নিয়ে মনের অনিশ্চয়তা। এর বিপরীত অবস্থা হলো দৃঢ় বিশ্বাস, যাকে বলা হয় ‘প্রত্যয়’। যে মানুষের মনে প্রত্যয় থাকে, সে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত থাকে। ‘বিস্ময়’ মানে আশ্চর্য হওয়া, আর ‘দ্বিধা’ প্রায় সংশয়েরই কাছাকাছি, তাই এগুলো বিপরীত নয়। ‘নির্ভয়’ ভয়ের অভাব বোঝায়, তা সংশয়ের বিপরীত নয়। বিপরীত শব্দের প্রশ্নে আগে মূল শব্দের অর্থ বুঝে নিতে হয়, তারপর বিকল্পগুলো একে একে যাচাই করতে হয়। তাহলে সঠিক উত্তর পেতে দেরি হয় না।
    মনে রাখুন: আরও কিছু বিপরীত শব্দ:
    ঐহিক – পারত্রিক।
    অধিত্যকা – উপত্যকা।
    জঙ্গম – স্থাবর।
    খাতক – মহাজন।
  40. ৪০. 'আলপিন' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
    • ক. পর্তুগিজ
    • খ. ওলন্দাজ
    • গ. গুজরাটি
    • ঘ. তুর্কি
    উত্তর: ক. পর্তুগিজ
    ‘আলপিন’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। ভারতীয় উপকূলে বাণিজ্য করতে এসে পর্তুগিজরা আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক শব্দ রেখে গেছে। এই শব্দগুলো এখন এত স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে যে বিদেশি বলে চেনাই কঠিন। বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দ যে ভাষা থেকে এসেছে, পরীক্ষায় সেই ভাষা চেনার প্রশ্ন বারবার আসে। তাই কোন ভাষার কোন শব্দ, তা একসঙ্গে মনে রাখলে সুবিধা হয়।
    মনে রাখুন:
    পর্তুগিজ শব্দ: আনারস, জানালা, চাবি, গির্জা, পেয়ারা, বালতি, আলমারি, সাবান।
    ওলন্দাজ শব্দ: ইস্কাপন, হরতন, রুইতন, তুরুপ।
    গুজরাটি শব্দ: হরতাল।
    তুর্কি শব্দ: বাবা, কুলি, চাকর, বেগম।
  41. ৮৭. কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
    • ক. জীবন আমার বোন
    • খ. বন্দী শিবির থেকে
    • গ. বাংলার মাটি বাংলার জল
    • ঘ. বনলতা সেন
    উত্তর: ক. জীবন আমার বোন
    ‘জীবন আমার বোন’ কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি মাহমুদুল হকের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস। বাকি তিনটি কবিতার বই। ‘বন্দী শিবির থেকে’ শামসুর রাহমানের, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ নির্মলেন্দু গুণের এবং ‘বনলতা সেন’ জীবনানন্দ দাশের। প্রশ্নে ‘নয়’ থাকলে আমাদের এমন বিকল্প খুঁজতে হয়, যা বিষয়ের সঙ্গে মেলে না। এখানে তিনটি বই কবিতার, আর একটি উপন্যাস, তাই উপন্যাসটিই উত্তর। নামের মধ্যে ‘বোন’ বা ‘জীবন’ থাকলেও বইটির ধরন গদ্য কাহিনি।
    মনে রাখুন:
    মাহমুদুল হকের অন্য উপন্যাস: কালো বরফ, খেলাঘর, অনুভূতির সাত-সতেরো।
    ‘বনলতা সেন’ বের হয় ১৯৪২ সালে।
  42. ৮৮. জনশ্রুতি অনুযায়ী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার প্রথম কবি কে?
    • ক. দ্বিজবংশী দাস
    • খ. মুকুন্দরাম সেন
    • গ. মানিক দত্ত
    • ঘ. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
    উত্তর: গ. মানিক দত্ত
    চণ্ডীমঙ্গল হলো দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য নিয়ে লেখা মঙ্গলকাব্য। জনশ্রুতি অনুযায়ী এই ধারার প্রথম বা আদি কবি মানিক দত্ত। তাঁর পরে এসেছেন দ্বিজ মাধব এবং ষোড়শ শতকে মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। মুকুন্দরাম এ ধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তিনি প্রথম নন। এই ভুলটিই পরীক্ষার ফাঁদ। তাঁকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মঙ্গলকাব্য একটি প্রধান ধারা। এখানে বিভিন্ন লৌকিক দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার করা হতো, আর চণ্ডীমঙ্গল তার অন্যতম।
    মনে রাখুন:
    চণ্ডীমঙ্গলের কাহিনি দুটি: কালকেতু-ফুল্লরা এবং ধনপতি-শ্রীমন্ত।
    মুকুন্দরামের কাব্যের নাম ‘অভয়ামঙ্গল’।
    মঙ্গলকাব্যের অন্য প্রধান ধারা মনসামঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
  43. ৮৯. 'বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী'র রচয়িতা কে?
    • ক. প্রমথ চৌধুরী
    • খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • গ. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • ঘ. যামিনী রায়
    উত্তর: গ. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    ‘বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী’ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। তিনি ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাগেশ্বরী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সেখানে চিত্রকলা ও শিল্প নিয়ে যে বক্তৃতাগুলো দেন, সেগুলো পরে বই আকারে প্রকাশিত হয়। অবনীন্দ্রনাথ একজন নামকরা চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং ভারতীয় শিল্পের নতুন ধারা ‘বেঙ্গল স্কুল’ গড়ে তোলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো। প্রমথ চৌধুরী সবুজপত্রের সম্পাদক ছিলেন, আর যামিনী রায় লোকশিল্পভিত্তিক ছবির শিল্পী। ‘বাগেশ্বরী’ নামটি একটি অধ্যাপক পদের নাম, যা ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছিল। অবনীন্দ্রনাথ ছিলেন সেই পদের প্রথম অধ্যাপক।
    মনে রাখুন:
    তাঁর শিশুসাহিত্য: শকুন্তলা, ক্ষীরের পুতুল, বুড়ো আংলা, রাজকাহিনী।
    তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘ভারতমাতা’।
  44. ৯০. 'যাযাবর' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
    • ক. বিমল কর
    • খ. বিমল মিত্র
    • গ. বুদ্ধদেব বসু
    • ঘ. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
    উত্তর: ঘ. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
    ‘যাযাবর’ ছদ্মনামে লিখতেন বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়। এই নামে তিনি ভ্রমণ ও স্মৃতিমূলক রচনা লিখে পাঠকের কাছে পরিচিত হন, যেমন ‘দৃষ্টিপাত’ ও ‘তিমিরতীর্থ’। বিমল কর, বিমল মিত্র ও বুদ্ধদেব বসু এঁরা সবাই আলাদা লেখক, তাঁদের কেউ ‘যাযাবর’ নামে লেখেননি। ছদ্মনামের প্রশ্নে লেখকের আসল নাম ও ছদ্মনাম একসঙ্গে মুখস্থ রাখা সবচেয়ে কার্যকর। বাংলা সাহিত্যে এমন ছদ্মনামের একটি বেশ দীর্ঘ তালিকা আছে। ‘যাযাবর’ শব্দের অর্থ যে এক জায়গায় স্থির থাকে না, যে ঘুরে বেড়ায়। ভ্রমণকাহিনি লেখকের জন্য এই ছদ্মনামটি তাই বেশ মানানসই।
    মনে রাখুন: লেখকদের ছদ্মনাম:
    পরশুরাম: রাজশেখর বসু।
    বনফুল: বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
    কালকূট: সমরেশ বসু।

ইংরেজি

  1. ৪১. Choose the indirect speech of the sentence: She said to him, "Thank you".
    • ক. She told him to thank you.
    • খ. She thanked him.
    • গ. She thanked you.
    • ঘ. She said to him to thank you.
    উত্তর: খ. She thanked him.
    প্রত্যক্ষ উক্তিতে ‘Thank you’ কথাটি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ‘said to’-এর জায়গায় thanked বসে এবং ‘Thank you’ বাদ যায়। শ্রোতা তখন object হিসেবে ‘him’ হয়। তাই বাক্যটি দাঁড়ায় She thanked him. ‘you’ রাখা ভুল, কারণ পরোক্ষ উক্তিতে বক্তা ছাড়া অন্য কেউ ‘you’ হয় না। আর ‘told him to thank you’ এবং ‘said to him to thank you’ আদেশ বা অনুরোধের কাঠামো, যা এখানকার অর্থের সঙ্গে মেলে না।
    মনে রাখুন:
    Good morning বা Good night থাকলে wished বসে: She wished him good morning.
    Congratulations থাকলে congratulated বসে।
  2. ৪২. 'The Daffodils' is a poem written by —.
    • ক. William Wordsworth
    • খ. Robert Browning
    • গ. P.B. Shelley
    • ঘ. Alfred Tennyson
    উত্তর: ক. William Wordsworth
    ‘The Daffodils’ নামে পরিচিত কবিতাটির আসল নাম ‘I Wandered Lonely as a Cloud’। এটি ইংরেজ রোমান্টিক কবি William Wordsworth-এর লেখা। কবিতায় কবি হ্রদের ধারে সোনালি ড্যাফোডিল ফুলের সারি দেখে আনন্দে ভরে ওঠেন, এবং পরে একা বসে সেই দৃশ্য মনে পড়লে আবার সুখ পান। Robert Herrick-এর একটি আলাদা কবিতা ‘To Daffodils’ আছে, তাই নাম দেখে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন: Wordsworth-কে ‘Poet of Nature’ বলা হয়। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা ‘Tintern Abbey’।
  3. ৪৩. The singular form of 'Phenomena' is —
    • ক. Phenoma
    • খ. Phenama
    • গ. Phenomenon
    • ঘ. Phenomenone
    উত্তর: গ. Phenomenon
    Phenomena হলো Phenomenon-এর plural, অর্থাৎ বহুবচন। Greek ও Latin থেকে আসা কিছু শব্দে -on বা -um শেষ হলে বহুবচনে -a হয়, তাই Phenomena-র singular হবে Phenomenon। Phenomenon মানে ঘটনা বা প্রপঞ্চ, বিশেষ করে এমন কোনো ঘটনা যা চোখে দেখা বা অনুভব করা যায়। বাকি তিনটি বানান ইংরেজিতে নেই। Phenomenon-এর plural হিসেবে Phenomenas লেখা ভুল, কারণ গ্রিক শব্দ হওয়ায় এর নিজস্ব বহুবচনের নিয়ম আছে। পরীক্ষায় Singular–Plural প্রশ্নে এমন অনিয়মিত শব্দ প্রায়ই আসে।
    উদাহরণ:
    Rainbow is a natural phenomenon.
    Many strange phenomena were observed.
    মনে রাখুন: এ ধরনের শব্দ:
    Criterion – Criteria।
    Bacterium – Bacteria।
    Medium – Media।
    Datum – Data।
  4. ৪৪. Walking in the morning is good for health. Here 'walking' is a/an —.
    • ক. Present participle
    • খ. Adjective
    • গ. Gerund
    • ঘ. Pronoun
    উত্তর: গ. Gerund
    Verb-এর সঙ্গে -ing যুক্ত হয়ে যখন noun-এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে। ‘Walking in the morning is good for health’ বাক্যে ‘Walking’ বাক্যের subject, অর্থাৎ হাঁটা কাজটাই এখানে কর্তা। তাই এটি Gerund। Present participle হলে -ing শব্দটি verb-এর অংশ হিসেবে চলমান কাজ বোঝাত, যেমন ‘He is walking’।
    উদাহরণ:
    Gerund: Swimming is a good exercise.
    Participle: The boy is swimming.
    মনে রাখুন: ‘ing’ দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়, বাক্যে শব্দটির কাজ দেখে ঠিক করতে হয়। যে -ing শব্দ noun-এর মতো বসে, সেটি Gerund।
  5. ৪৫. Identify the correct sentence :
    • ক. Why he went to Dhaka?
    • খ. Why did he go to Dhaka?
    • গ. Why he went to Dhaka yesterday?
    • ঘ. He has gone to Dhaka yesterday.
    উত্তর: খ. Why did he go to Dhaka?
    Wh-question-এর সাধারণ গঠন হলো Wh-word + auxiliary verb + subject + main verb-এর base form। তাই ‘Why did he go to Dhaka?’ শুদ্ধ। ‘Why he went…’ ভুল, কারণ প্রশ্নে auxiliary verb আগে বসে এবং main verb-এর base form থাকে। শেষ বিকল্পে ‘has gone’ (Present Perfect) ‘yesterday’-এর মতো নির্দিষ্ট অতীত সময়ের সঙ্গে ব্যবহার করা যায় না, কারণ Present Perfect নির্দিষ্ট অতীত সময় প্রকাশ করে না।
    মনে রাখুন: ‘yesterday’, ‘last year’, ‘ago’ থাকলে Past Indefinite Tense হয়।
  6. ৪৬. What is the single word for 'A hater of mankind'?
    • ক. Enemy
    • খ. Wrath
    • গ. Hatred
    • ঘ. Misanthrope
    উত্তর: ঘ. Misanthrope
    ‘A hater of mankind’ মানে যে মানুষ সব মানুষকে ঘৃণা করে। এর এক কথায় প্রকাশ হলো Misanthrope (মনুষ্যবিদ্বেষী)। শব্দটি Greek ‘misos’ (ঘৃণা) আর ‘anthropos’ (মানুষ) থেকে এসেছে। বাকিগুলোর অর্থ আলাদা: Enemy মানে শত্রু, Wrath মানে তীব্র রাগ আর Hatred মানে ঘৃণা, যা একটি ভাব, কোনো ব্যক্তি নয়। এই ধরনের এক কথায় প্রকাশের প্রশ্নে শব্দের মূল অংশ জানলে অর্থ অনুমান করা সহজ হয়। যেমন ‘anthropos’ মানে মানুষ, আর ‘misos’ মানে ঘৃণা।
    মনে রাখুন:
    Misanthrope-এর বিপরীত Philanthropist (মানবহিতৈষী)।
    Misogynist: যে নারীদের ঘৃণা করে।
    Misogamist: যে বিয়ে পছন্দ করে না।
  7. ৪৭. Which one of the following is correct?
    • ক. It is a fact
    • খ. It is a true fact
    • গ. It is a true
    • ঘ. It is must true
    উত্তর: ক. It is a fact
    ‘Fact’ শব্দের অর্থই হলো যা সত্য, তাই এর আগে ‘true’ বসালে একই কথা দুবার বলা হয়। এই দোষকে বাহুল্য বা Redundancy বলে। সুতরাং ‘It is a fact’ শুদ্ধ। ‘It is a true’ ভুল, কারণ ‘true’ একটি adjective, তার পরে noun দরকার। আর ‘It is must true’ ভুল, কারণ ‘must’ একটি modal verb এবং এর আগে ‘is’ বসে না।
    মনে রাখুন: এমন বাহুল্যের উদাহরণ: ‘return back’, ‘repeat again’, ‘reverse back’। এসব জায়গায় একটি শব্দই যথেষ্ট।
    উদাহরণ:
    He returned home. (He returned back home নয়)
  8. ৪৮. Identify the masculine gender :
    • ক. huntress
    • খ. hen
    • গ. baron
    • ঘ. duck
    উত্তর: গ. baron
    Baron হলো ইংল্যান্ডের একটি সম্ভ্রান্ত পুরুষ উপাধি, তাই এটি পুংলিঙ্গ (Masculine Gender)। এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো Baroness। বাকি তিনটি শব্দের মধ্যে Huntress মানে শিকারি নারী, Hen মানে স্ত্রী মুরগি। Duck শব্দটি সাধারণভাবে হাঁস বোঝায় এবং এর পুরুষ রূপ Drake। তাই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পুরুষবাচক শব্দ Baron। Gender-এর প্রশ্নে মনে রাখতে হয়, কিছু শব্দ শুধু পুরুষ বা শুধু নারীর জন্য ব্যবহার হয়, আবার কিছু শব্দ উভয় লিঙ্গেই চলে। Baron স্পষ্টভাবে পুরুষের উপাধি, তাই সন্দেহের জায়গা নেই।
    মনে রাখুন: লিঙ্গ জোড়া:
    Lion – Lioness।
    Host – Hostess।
    Cock – Hen।
    Bull – Cow।
  9. ৪৯. The phrasal verb 'write off' means—.
    • ক. reducing rates
    • খ. ending of writing
    • গ. ending a report
    • ঘ. cancelling a debt
    উত্তর: ঘ. cancelling a debt
    ‘Write off’ phrasal verb-এর একটি অর্থ কোনো ঋণ বা পাওনা আর আদায় হবে না ধরে খাতা থেকে বাদ দেওয়া। ব্যবসা-বাণিজ্যে এই অর্থেই শব্দটি বেশি ব্যবহার হয়। ব্যাংক যখন কোনো ঋণ আদায়ের আশা ছেড়ে দিয়ে হিসাব থেকে সরিয়ে ফেলে, তখন আমরা বলি সে ঋণটি write off করেছে। তাই ‘cancelling a debt’ সঠিক। অন্য তিনটি বিকল্প শব্দের অর্থের সঙ্গে মেলে না।
    উদাহরণ:
    The bank wrote off the loan.
    মনে রাখুন: ‘Write off’ দিয়ে কোনো বস্তুকে নষ্ট বা অকেজো হিসেবে বাতিল করাও বোঝানো যায়।
  10. ৫০. His building is adjacent — mine.
    • ক. on
    • খ. for
    • গ. with
    • ঘ. to
    উত্তর: ঘ. to
    ‘Adjacent’ শব্দের অর্থ পাশের বা সংলগ্ন। এর পরে সবসময় preposition ‘to’ বসে। তাই বাক্যটি হবে ‘His building is adjacent to mine’। এখানে ‘mine’ মানে ‘my building’, আর ‘adjacent’ অন্য কোনো preposition নেয় না। এ ধরনের কিছু adjective-এর সঙ্গে নির্দিষ্ট preposition বসে, সেগুলো মুখস্থ রাখলে Appropriate Preposition-এর প্রশ্নে সুবিধা হয়। ‘Adjacent’ শব্দটির একটি noun রূপ আছে, Adjacency। আর একই অর্থে ‘next to’ ও ‘neighbouring’ শব্দও ব্যবহার করা যায়।
    মনে রাখুন: কিছু adjective ও তাদের সঙ্গে সঠিক preposition:
    Similar to।
    Superior to।
    Junior to।
    Equal to।
  11. ৫১. Telling lies — a great sin.
    • ক. is
    • খ. are
    • গ. have
    • ঘ. were
    উত্তর: ক. is
    বাক্যের subject যদি gerund phrase হয়, তাহলে verb singular হয়। ‘Telling lies’ হলো মিথ্যা বলার কাজ, যা একটিই বিষয় হিসেবে ধরা হয়, যদিও ‘lies’ শব্দটি দেখতে plural। তাই এর পরে ‘is’ বসে। ‘Are’ ও ‘were’ plural verb, তাই এখানে বসে না। ‘Have’ বসালেও বাক্যে অর্থ পূর্ণ হয় না। ‘Telling lies’ ছাড়াও ‘Reading books’ বা ‘Playing football’-এর মতো অংশ subject হলে verb singular হয়। অর্থের দিকে তাকিয়ে সংখ্যা ঠিক করাই এখানে নিয়ম।
    মনে রাখুন: Infinitive, gerund বা clause subject হলে verb সাধারণত singular হয়।
    উদাহরণ:
    Walking is a good exercise.
    To err is human.
  12. ৫২. We are not used to — fast.
    • ক. walking
    • খ. walk
    • গ. walked
    • ঘ. walks
    উত্তর: ক. walking
    ‘Be used to’ এবং ‘get used to’ দুটোর মানেই অভ্যস্ত হওয়া, আর এর পরে verb-এর -ing রূপ বসে। এখানে ‘used to’-এর ‘to’ একটি preposition, আর preposition-এর পরে verb এলে সেটি সবসময় V+ing হয়। তাই সঠিক বাক্য ‘We are not used to walking fast’, অর্থাৎ আমরা দ্রুত হাঁটতে অভ্যস্ত নই। শুধু ‘used to’ লিখলে অতীতের অভ্যাস বোঝায়, তখন তার পরে verb-এর base form বসে। এই দুটি গঠনের পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
    উদাহরণ:
    He used to play cricket. (সে আগে খেলত)
    He is used to playing cricket. (সে খেলায় অভ্যস্ত)
  13. ৫৩. Rubber is notable for its —.
    • ক. elasticity
    • খ. heaviness
    • গ. lightness
    • ঘ. brightness
    উত্তর: ক. elasticity
    রাবারকে টেনে লম্বা করা যায় এবং ছেড়ে দিলে তা আগের আকারে ফিরে আসে। বাইরের বল সরিয়ে নিলে বস্তুর আগের আকার ফিরে পাওয়ার এই গুণকে Elasticity (স্থিতিস্থাপকতা) বলে। রাবারের বিশেষত্ব এটাই, তাই এখানে সঠিক শব্দ Elasticity। Heaviness মানে ভারী হওয়া, Lightness মানে হালকা হওয়া আর Brightness মানে উজ্জ্বলতা। এই তিনটি রাবারের পরিচিত বিশেষ গুণ নয়। পদার্থবিজ্ঞানে Elasticity হলো এমন ধর্ম, যার ফলে বস্তু বাইরের বল সরিয়ে নিলে আগের আকার ফিরে পায়। রাবারের এই গুণ খুব বেশি, তাই রাবার ব্যান্ড টানলেও ছিঁড়ে না গেলে আবার ছোট হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    Elastic শব্দের বিশেষ্য Elasticity, আর বিশেষণ Elastic।
    রাবার ছাড়াও স্প্রিং ও ইস্পাতে স্থিতিস্থাপকতা দেখা যায়।
    উদাহরণ:
    Rubber is notable for its elasticity.
  14. ৫৪. The antonym for 'Utopia' is —.
    • ক. bliss
    • খ. eden
    • গ. dystopia
    • ঘ. joy
    উত্তর: গ. dystopia
    Utopia হলো এমন একটি কল্পিত নিখুঁত সমাজ, যেখানে সবকিছু ভালো। এর বিপরীত শব্দ Dystopia, অর্থাৎ এমন কল্পিত সমাজ যেখানে অন্যায়, কষ্ট ও দুর্দশা চরমে। Bliss মানে পরম সুখ, Eden মানে স্বর্গোদ্যান আর Joy মানে আনন্দ। এই তিনটিই সুখ বা শান্তি বোঝায়, তাই সেগুলো Utopia-র কাছাকাছি, বিপরীত নয়। বিপরীত শব্দের প্রশ্নে এভাবে সমার্থক শব্দ বাদ দিয়ে এগোলে ভুল কমে। Utopia শব্দটি Greek ‘ou’ (না) আর ‘topos’ (স্থান) থেকে তৈরি, অর্থাৎ ‘যে জায়গা কোথাও নেই’। এ কারণে শব্দটি আদর্শ কিন্তু বাস্তবে অসম্ভব সমাজ বোঝায়।
    মনে রাখুন:
    ‘Utopia’ বইটি লিখেছেন Sir Thomas More, ১৫১৬ সালে।
    Dystopian উপন্যাসের উদাহরণ: George Orwell-এর ‘Nineteen Eighty-Four’।
  15. ৫৫. 'Animal Farm' was written by —.
    • ক. Jonathan Swift
    • খ. Charles Dickens
    • গ. Ben Jonson
    • ঘ. George Orwell
    উত্তর: ঘ. George Orwell
    ‘Animal Farm’ ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত George Orwell-এর রূপক উপন্যাস। এখানে খামারের পশুরা মালিককে তাড়িয়ে নিজেদের শাসন চালু করে, কিন্তু ধীরে ধীরে শূকররা ক্ষমতা দখল করে অত্যাচারী হয়ে ওঠে। ক্ষমতার অপব্যবহারের এই কাহিনি রূপকের মাধ্যমে বলা হয়েছে। George Orwell-এর আসল নাম Eric Arthur Blair। তিনি ভারতের বিহারের মতিহারিতে জন্মেছিলেন। Orwell-এর এই বইটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা হিসেবেও পরিচিত। এখানে পশুর চরিত্র দিয়ে মানুষের সমাজ ও শাসনের দোষ দেখানো হয়েছে। পরীক্ষায় লেখকের সঙ্গে তাঁর বইয়ের নাম মিলিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
    মনে রাখুন:
    তাঁর আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘Nineteen Eighty-Four’ (১৯৪৯)।
    Jonathan Swift লিখেছেন ‘Gulliver’s Travels’।
    Charles Dickens লিখেছেন ‘Oliver Twist’।
  16. ৫৬. Look before you —.
    • ক. play
    • খ. run
    • গ. leap
    • ঘ. sleep
    উত্তর: গ. leap
    ‘Look before you leap’ একটি পরিচিত ইংরেজি প্রবাদ। এর অর্থ কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে ভালো করে ভেবে নেওয়া। বাংলায় এর কাছাকাছি কথা হলো ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। এখানে leap মানে লাফ দেওয়া, অর্থাৎ বিপদের দিকে না দেখে লাফিয়ে পড়া উচিত নয়। তাই ‘play’, ‘run’ বা ‘sleep’ বসালে প্রবাদটি মেলে না। ইংরেজি প্রবাদ পূরণের প্রশ্নে পুরো প্রবাদটি মুখস্থ থাকলে উত্তর সহজে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: আরও কিছু প্রবাদ:
    A stitch in time saves nine.
    Slow and steady wins the race.
    Honesty is the best policy.
  17. ৫৭. 'Let us do the work' what kind of sentence is this?
    • ক. Imperative
    • খ. Assertive
    • গ. Interrogative
    • ঘ. Exclamatory
    উত্তর: ক. Imperative
    যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা প্রস্তাব বোঝায়, তাকে Imperative Sentence বলে। ‘Let us do the work’ বাক্যে বক্তা নিজেকে এবং অন্যদের নিয়ে কাজটি করার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তাই এটি Imperative। কোনো ঘটনার সরল বিবৃতি হলে সেটি Assertive হতো, প্রশ্ন হলে Interrogative আর আবেগ প্রকাশ করলে Exclamatory হতো। এখানে এর কোনোটিই নেই। Let দিয়ে শুরু হওয়া বাক্যে let-এর পরে সবসময় objective form বসে, যেমন me, us, him, her, them।
    উদাহরণ:
    Let him go.
    Let us play.
    মনে রাখুন: আদেশ বা অনুরোধের বাক্যে সাধারণত subject (you) লুকানো থাকে, যেমন ‘Open the door’।
  18. ৫৮. What is the antonym for 'lonely'?
    • ক. Crowded
    • খ. Deserted
    • গ. Bare
    • ঘ. Desolate
    উত্তর: ক. Crowded
    ‘Lonely’ মানে একাকী বা নির্জন। এর বিপরীত হলো এমন অবস্থা, যেখানে অনেক মানুষ আছে, অর্থাৎ Crowded (ভিড়ে ঠাসা)। Deserted ও Desolate মানে জনশূন্য বা পরিত্যক্ত, আর Bare মানে খালি বা নগ্ন। এই তিনটি শব্দ Lonely-র কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে, তাই এগুলো বিপরীত নয়। বিপরীত শব্দের প্রশ্নে এমন তিনটি সমার্থক বিকল্প আর একটি আলাদা বিকল্প থাকলে আলাদাটিই প্রায় সবসময় উত্তর হয়। Antonym প্রশ্নে বিকল্পের মধ্যে একই অর্থের কয়েকটি শব্দ থাকলে সেগুলো সবসময় বাদ দেওয়া ভালো। এতে বিপরীত অর্থের শব্দটি আলাদা হয়ে চোখে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    Lonely-র সমার্থক শব্দ: Solitary, Isolated, Forlorn।
    Crowded-এর সমার্থক শব্দ: Packed, Congested।
  19. ৫৯. The correctly spelt word is —
    • ক. definition
    • খ. complition
    • গ. desicion
    • ঘ. migrasion
    উত্তর: ক. definition
    ‘Definition’ (সংজ্ঞা) শুদ্ধ বানান। অন্য বিকল্পগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো completion (সম্পূর্ণ হওয়া), decision (সিদ্ধান্ত) এবং migration (দেশান্তর, পরিযান)। Latin থেকে আসা এই ধরনের শব্দে শেষে সাধারণত -tion থাকে, আর ‘decision’-এর মতো কিছু শব্দে -sion থাকে। ‘-sion’ এবং ‘-tion’ গুলিয়ে ফেলা বানান ভুলের একটি বড় কারণ, তাই শব্দগুলো আলাদা করে মনে রাখা ভালো। Spelling-এর প্রশ্নে শব্দের শেষ অংশ, যেমন -tion বা -sion, বেশি বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই প্রতিটি শব্দ লিখে লিখে অভ্যাস করা ভালো।
    মনে রাখুন:
    Decision-এ ‘-sion’, কিন্তু Definition, Completion, Migration-এ ‘-tion’।
    আরও কয়েকটি শুদ্ধ বানান: Occasion, Education, Pronunciation।
  20. ৬০. The synonym of 'energetic' is —
    • ক. sprightly
    • খ. hasty
    • গ. humble
    • ঘ. extreme
    উত্তর: ক. sprightly
    Energetic মানে কর্মঠ বা প্রাণবন্ত। Sprightly শব্দের অর্থও চটপটে ও প্রাণবন্ত, তাই এটি সমার্থক। Hasty মানে তাড়াহুড়ো করা, Humble মানে নম্র আর Extreme মানে চরম বা তীব্র। এগুলোর অর্থ Energetic থেকে আলাদা, তাই সঠিক উত্তর হতে পারে না। Synonym প্রশ্নে বিকল্পের শব্দগুলোর অর্থ আলাদা করে ভেবে নিলে সঠিকটি সহজে ধরা যায়। Sprightly শব্দের noun রূপ Sprightliness, যার অর্থ চটপটে ভাব। এ ধরনের শব্দগুলো লেখায় প্রাণবন্ত কিছুর বর্ণনায় ব্যবহার হয়।
    মনে রাখুন:
    Energetic-এর আরও সমার্থক শব্দ: Active, Vigorous, Dynamic।
    বিপরীত শব্দ: Lethargic (অলস)।
    উদাহরণ:
    The sprightly old man walked every morning.
  21. ৬১. A writer who steals ideas from others —
    • ক. editor
    • খ. copier
    • গ. plagiarist
    • ঘ. translator
    উত্তর: গ. plagiarist
    যে লেখক অন্যের লেখা বা ভাবনা চুরি করে নিজের নামে চালায়, তাকে Plagiarist বলে। এই কাজটিকে Plagiarism বলা হয়। Editor হলেন সম্পাদক, Translator হলেন অনুবাদক আর Copier শব্দের অর্থ যে নকল করে। কিন্তু লেখালেখির ক্ষেত্রে অন্যের ভাব বা লেখা চুরি করার জন্য নির্দিষ্টভাবে Plagiarist শব্দটিই ব্যবহৃত হয়। Plagiarism এখন একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায়। অন্যের লেখা ব্যবহার করতে হলে উৎস উল্লেখ করা জরুরি।
    মনে রাখুন: এক কথায় প্রকাশ:
    যে অন্যের লেখা প্রকাশ করে: Publisher।
    যে বই সংগ্রহ করে: Bibliophile।
    যে বই পড়তে ভালোবাসে: Bookworm।
    উদাহরণ:
    The writer was called a plagiarist for copying the essay.
  22. ৬২. What is the antonym of 'shabby'?
    • ক. honesty
    • খ. harmful
    • গ. sober
    • ঘ. hostile
    উত্তর: গ. sober
    Shabby মানে জীর্ণ, মলিন বা অশোভন। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে sober (সংযত, পরিপাটি, শালীন) অর্থের দিক থেকে এর বিপরীতের সবচেয়ে কাছাকাছি।
  23. ৬৩. 'Apple of discord' means—.
    • ক. alternative object
    • খ. object of dispute
    • গ. disagreement
    • ঘ. valuable object
    উত্তর: খ. object of dispute
    ‘Apple of discord’ ইডিয়মের অর্থ বিবাদের মূল কারণ বা ঝগড়ার বিষয় (Object of dispute)। গ্রিক পুরাণে দেবী Eris একটি সোনার আপেল ফেলে রেখেছিলেন, যার গায়ে লেখা ছিল ‘সবচেয়ে সুন্দরীর জন্য’। এ নিয়ে তিন দেবী ঝগড়া করেন, আর শেষ পর্যন্ত এর ফল হিসেবে ট্রয়ের যুদ্ধ বাঁধে। এই কারণেই কোনো ঝগড়ার কেন্দ্রে থাকা জিনিসকে এই ইডিয়ম দিয়ে বোঝানো হয়।
    উদাহরণ:
    The disputed land became the apple of discord between the two brothers.
    মনে রাখুন: ‘Apple of one’s eye’ ইডিয়মের অর্থ অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি, যাকে বাংলায় চোখের মণি বলা হয়।
  24. ৬৪. Choose the passive structure : 'His comment surprised me'.
    • ক. I was surprised at his comment.
    • খ. I was surprised by his comment.
    • গ. I was surprised for his comment.
    • ঘ. I am surprised to his comment.
    উত্তর: ক. I was surprised at his comment.
    ‘His comment surprised me’ বাক্যের কর্তা comment আর কর্ম me। Passive করলে কর্ম কর্তার জায়গায় আসে, তাই ‘I was surprised’ হয়। তবে surprised, pleased, annoyed-এর মতো কিছু শব্দের পরে সাধারণত ‘by’-এর বদলে অন্য preposition বসে, আর surprised-এর পরে বসে ‘at’। তাই প্রচলিত রূপ ‘I was surprised at his comment’। ‘For’ এবং ‘to’ এখানে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। Active থেকে Passive করার সাধারণ নিয়ম হলো কর্মকে কর্তার জায়গায় বসানো এবং verb-এর past participle ব্যবহার করা। তবে কিছু verb-এর ক্ষেত্রে preposition বদলে যায়, সেগুলো আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন: Passive-এ by-এর বদলে অন্য preposition নেয় এমন শব্দ:
    Surprised at।
    Pleased with।
    Interested in।
    Known to।
  25. ৬৫. The adjective of the 'people' is—.
    • ক. popularity
    • খ. popularly
    • গ. pupil
    • ঘ. populous
    উত্তর: ঘ. populous
    ‘People’ মানে জনগণ, আর এর সঙ্গে সম্পর্কিত adjective হলো Populous, যার অর্থ জনবহুল। যেমন Bangladesh is a populous country। Popularity (জনপ্রিয়তা) হলো noun এবং Popularly (জনপ্রিয়ভাবে) হলো adverb, তাই এগুলো adjective নয়। Pupil মানে ছাত্র বা চোখের মণি, এর সঙ্গে People-এর শব্দগত সম্পর্ক নেই। Word form-এর প্রশ্নে আমরা শব্দের অর্থ ও ব্যাকরণগত শ্রেণি দুটোই দেখি।
    মনে রাখুন: Popular (জনপ্রিয়) আলাদা adjective, তাই Populous এবং Popular গুলিয়ে ফেলা চলবে না।
    উদাহরণ:
    Dhaka is a populous city.
    He is a popular singer.
  26. ৬৬. Fill in the blank with the most suitable word: I visit the Taj Mahal — I go to Agra.
    • ক. once
    • খ. whenever
    • গ. wherever
    • ঘ. when
    উত্তর: খ. whenever
    Whenever মানে ‘যখনই’। ‘আমি যখনই আগ্রা যাই, তখনই তাজমহল দেখি’, এই অভ্যাস বা পুনরাবৃত্ত কাজ বোঝাতে Present Indefinite Tense-এ whenever বসে। Once মানে একবার, wherever মানে যেখানেই এবং when মানে যখন। এগুলো বসালে বাক্যের অর্থ ঠিকমতো পূর্ণ হয় না, কারণ বাক্যে প্রতিবার আগ্রা যাওয়ার সঙ্গে প্রতিবার তাজমহল দেখার যোগ বোঝাতে হবে। বাক্যে ‘whenever’ থাকলে সাধারণত একই ঘটনা বারবার ঘটছে বোঝায়, আর তাই এখানে Present Indefinite Tense ব্যবহার করা স্বাভাবিক। ‘When’ একবারের ঘটনার ক্ষেত্রেও চলে।
    মনে রাখুন: Whenever, wherever, whatever-এর মতো শব্দ বোঝায় ‘যেকোনো’ অর্থ।
    উদাহরণ:
    Whenever he comes, he brings sweets.
    Wherever you go, I will follow you.
  27. ৬৭. The science of teaching is called —.
    • ক. phonetics
    • খ. pedagogy
    • গ. ethics
    • ঘ. biology
    উত্তর: খ. pedagogy
    শিক্ষাদানের পদ্ধতি ও নীতি নিয়ে যে বিজ্ঞান, তাকে Pedagogy বলে। এই শব্দ শিক্ষাবিজ্ঞান বা শিক্ষণবিদ্যা বোঝায়। শব্দটি Greek শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ শিশুকে পথ দেখানো। Phonetics মানে ধ্বনিবিজ্ঞান, Ethics মানে নীতিবিদ্যা আর Biology মানে জীববিজ্ঞান। এই তিনটি শিক্ষাদানের বিজ্ঞান নয়। Pedagogue শব্দের অর্থ শিক্ষক, আর Pedagogical হলো এর adjective। শিক্ষা নিয়ে আলোচনায় এই শব্দগুলো প্রায়ই ব্যবহার হয়। বিজ্ঞানের নাম ও তার বিষয় একসঙ্গে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্নে সুবিধা হয়।
    মনে রাখুন: কয়েকটি ‘-ology’ ও বিজ্ঞানের নাম:
    Zoology: প্রাণিবিদ্যা।
    Botany: উদ্ভিদবিদ্যা।
    Astronomy: জ্যোতির্বিদ্যা।
    Geology: ভূতত্ত্ব।
  28. ৬৮. What is the adjective of the word 'variance'?
    • ক. vary
    • খ. variably
    • গ. variable
    • ঘ. varity
    উত্তর: গ. variable
    ‘Variance’ হলো noun, যার অর্থ ভিন্নতা বা পার্থক্য। এর সঙ্গে সম্পর্কিত adjective ‘Variable’ (পরিবর্তনশীল)। ‘Vary’ হলো verb, আর ‘Variably’ হলো adverb। ‘Varity’ নামে ইংরেজিতে কোনো শব্দ নেই, শুদ্ধ রূপ Variety (বৈচিত্র্য)। শব্দের রূপান্তরের প্রশ্নে আমরা দেখে নিই, কোন শব্দটি কোন শ্রেণির। Variance শব্দটি পরিসংখ্যানেও ব্যবহার হয়, সেখানে এর অর্থ তথ্যের ছড়িয়ে থাকার মাপ। তবে ব্যাকরণের প্রশ্নে এর সাধারণ অর্থ ভিন্নতা হিসেবেই ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    Vary → Variation → Various।
    বিজ্ঞানে Variable মানে চলক বা পরিবর্তনশীল রাশি।
    উদাহরণ:
    The weather here is variable.
  29. ৬৯. 'Hamlet' written by William Shakespeare is a/an —.
    • ক. tragedy
    • খ. epic
    • গ. satire
    • ঘ. ballad
    উত্তর: ক. tragedy
    ‘Hamlet’ William Shakespeare-এর লেখা বিখ্যাত ট্র্যাজেডি (Tragedy), অর্থাৎ বিয়োগান্ত নাটক, যেখানে প্রধান চরিত্র শেষে মৃত্যু বা ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। Epic দীর্ঘ বীরত্বের কাহিনি, Satire ব্যঙ্গরচনা আর Ballad গীতিকাব্য, তাই এগুলো ‘Hamlet’-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নাটকটির কাহিনি ডেনমার্কের যুবরাজ হ্যামলেটের প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে। Tragedy নাটকের শেষ সাধারণত দুঃখজনক হয়, আর Comedy নাটকের শেষ সুখের। Shakespeare-এর ‘A Midsummer Night’s Dream’ ও ‘The Merchant of Venice’ কমেডির উদাহরণ।
    মনে রাখুন:
    Shakespeare-এর চারটি বড় ট্র্যাজেডি: Hamlet, Othello, King Lear, Macbeth।
    ‘Romeo and Juliet’ তাঁর আরেকটি প্রসিদ্ধ ট্র্যাজেডি।
  30. ৭০. 'Phenomenology' is —.
    • ক. theology
    • খ. experience
    • গ. philosophy
    • ঘ. drama
    উত্তর: গ. philosophy
    Phenomenology হলো দর্শনের একটি শাখা। এখানে মানুষ কীভাবে কোনো জিনিস বা ঘটনাকে নিজের অভিজ্ঞতা ও চেতনার মধ্য দিয়ে অনুভব করে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মূল প্রবক্তা জার্মান দার্শনিক Edmund Husserl। ‘Experience’ বিকল্পটি বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু শাখাটির নাম নয়। Theology হলো ধর্মতত্ত্ব, আর Drama মানে নাটক। এগুলোর সঙ্গে Phenomenology-র সরাসরি সম্পর্ক নেই। যদি প্রশ্নে কোনো ‘-ology’ বা ‘-ism’ শব্দ থাকে, তাহলে সাধারণত সেটি কোনো বিজ্ঞান বা মতবাদ বোঝায়। Phenomenology তেমনই একটি দর্শনের ধারা।
    মনে রাখুন:
    Philosophy শব্দের অর্থ দর্শন, আর Philosopher মানে দার্শনিক।
    -ology দিয়ে শেষ হওয়া শব্দ সাধারণত কোনো বিষয়ের পাঠ বা বিজ্ঞান বোঝায়।
  31. ৭১. 'Yellow dog' means—.
    • ক. pet dog
    • খ. a yellow colour dog
    • গ. smart dog
    • ঘ. mean fellow
    উত্তর: ঘ. mean fellow
    ‘Yellow dog’ ইডিয়মের অর্থ নীচ বা অপদার্থ ব্যক্তি, কখনও কাপুরুষও বোঝায়। তাই ‘mean fellow’ সঠিক। এর আক্ষরিক অর্থ ধরে ‘হলুদ রঙের কুকুর’ বা ‘পোষা কুকুর’ বললে ভুল হবে। ইডিয়মের অর্থ প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে ধরে বোঝা যায় না, কারণ কয়েকটি শব্দ মিলে একটি আলাদা অর্থ তৈরি করে। তাই ইডিয়ম আলাদা করে শিখে রাখতে হয়। এ ধরনের ইডিয়মের অর্থ মুখস্থ করার সময় একটি বাক্যে ব্যবহার করে দেখলে মনে রাখা সহজ হয়।
    মনে রাখুন: কুকুর নিয়ে আরও কিছু ইডিয়ম:
    Dog in the manger: যে নিজেও ভোগ করে না, অন্যকেও করতে দেয় না।
    Dog’s life: দুর্দশার জীবন।
  32. ৭২. Fill in the blank with appropriate preposition : We protested — his tyranny.
    • ক. on
    • খ. over
    • গ. against
    • ঘ. at
    উত্তর: গ. against
    ‘Protest’ verb-এর পরে ‘against’ preposition বসে, যার অর্থ কোনো কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। তাই ‘We protested against his tyranny’ শুদ্ধ, অর্থাৎ আমরা তার অত্যাচারের প্রতিবাদ করলাম। এখানে ‘on’, ‘over’ বা ‘at’ বসালে ‘বিরুদ্ধে’ অর্থটি আর থাকে না। এ ধরনের verb-এর সঙ্গে সঠিক preposition মুখস্থ করা Appropriate Preposition প্রশ্নের জন্য জরুরি। Protest শব্দটি noun হিসেবে ‘protest against’ এবং verb হিসেবেও ‘protest against’ ব্যবহার হয়। আমেরিকান ইংরেজিতে অনেক সময় ‘protest something’ লেখা হয়, কিন্তু পরীক্ষায় ‘against’ই সঠিক।
    মনে রাখুন: Appropriate preposition-এর কয়েকটি উদাহরণ:
    Fight against।
    Rely on।
    Sympathise with।
    Object to।
  33. ৭৩. Fill in the blank with appropriate word : It — a hot day, we remained in the tent.
    • ক. is
    • খ. being
    • গ. was
    • ঘ. having
    উত্তর: গ. was
    বাক্যটি অতীত ঘটনা বোঝায়, কারণ পরের অংশে ‘we remained’ আছে, যা Past Indefinite Tense। তাই প্রথম অংশেও past tense-এর verb ‘was’ বসবে। ‘It was a hot day’ বললে আমরা বুঝি, সেদিন গরম ছিল। ‘Being’ ও ‘having’ একা কোনো সম্পূর্ণ verb নয়, আর ‘is’ present tense, যা অতীতের সঙ্গে মেলে না। ‘It was a hot day’ বাক্যে ‘it’ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, আবহাওয়া বা সময় বোঝাতে এটি ব্যবহার হয়। একে impersonal ‘it’ বলে।
    মনে রাখুন: একটি বাক্যে দুটি clause-এর tense সাধারণত একই সময়ের হয়।
    উদাহরণ:
    It was raining, so we stayed home.
    It was a cold night, so we lit a fire.
  34. ৭৪. I. e. in Latin means — in English.
    • ক. for you
    • খ. for example
    • গ. that is
    • ঘ. namely
    উত্তর: গ. that is
    ‘i.e.’ হলো Latin ‘id est’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ, যার ইংরেজি অর্থ ‘that is’, অর্থাৎ ‘অর্থাৎ’। এটি কোনো কথা আরও পরিষ্কার করে বোঝাতে বসে। এর সঙ্গে ‘for example’ গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়, সেটির সংক্ষিপ্ত রূপ ‘e.g.’ (Latin exempli gratia)। ‘Namely’ অর্থের জন্য ‘viz.’ ব্যবহার হয়। তাই i.e. দিয়ে অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়, আর e.g. দিয়ে উদাহরণ দেওয়া হয়। দুটি সংক্ষেপ খুব কাছাকাছি, তাই ‘i.e.’ এবং ‘e.g.’ প্রায়ই গুলিয়ে যায়। মনে রাখার সহজ উপায়: i.e. = অর্থাৎ, e.g. = যেমন।
    মনে রাখুন: কিছু Latin সংক্ষেপ:
    etc. = et cetera (এবং অন্যান্য)।
    viz. = videlicet (namely)।
    a.m. = ante meridiem।
  35. ৭৫. John Keats is known as a—
    • ক. poet of nature
    • খ. bard
    • গ. dramatist
    • ঘ. poet of beauty
    উত্তর: ঘ. poet of beauty
    John Keats ইংরেজ রোমান্টিক যুগের একজন কবি, যিনি সৌন্দর্য ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির কবিতা লিখেছেন। তাই তাঁকে Poet of Beauty বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত পঙক্তি ‘A thing of beauty is a joy for ever’। Poet of Nature বলা হয় William Wordsworth-কে। Bard of Avon হলেন Shakespeare, আর Bard শব্দের অর্থ চারণকবি।
    মনে রাখুন:
    Keats-এর বিখ্যাত কবিতা: Ode to a Nightingale, Ode on a Grecian Urn, To Autumn।
    তিনি মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান।
    Keats ছিলেন Percy Bysshe Shelley ও Lord Byron-এর সমসাময়িক।
  36. ৭৬. What is meaning of 'at one's fingertips'?
    • ক. to take revenge
    • খ. matter of shame
    • গ. complete knowledge
    • ঘ. full sleeve shirt
    উত্তর: গ. complete knowledge
    ‘At one’s fingertips’ ইডিয়মের অর্থ কোনো বিষয়ে এমন ভালো জানা, যেন তথ্য হাতের কাছেই আছে। বাংলায় একে ‘নখদর্পণে’ বলা হয়। তাই ‘complete knowledge’ সঠিক। এর আক্ষরিক অর্থ ধরে ‘আঙুলের ডগায়’ ভাবলে ভুল হবে। বাকি বিকল্পগুলো, যেমন প্রতিশোধ নেওয়া বা লজ্জার বিষয়, ইডিয়মের অর্থের সঙ্গে মেলে না। ইডিয়মের ক্ষেত্রে বাংলা প্রবাদ বা বাগধারার সঙ্গে মিলিয়ে শিখলে মনে রাখা সহজ হয়। ইডিয়ম বাক্যে এমনভাবে বসে যে পুরো অংশটি মিলে একটি অর্থ তৈরি করে। এখানে ‘fingertips’ মানে আঙুলের ডগা, কিন্তু ইডিয়মের অর্থ জ্ঞানের সহজ নাগাল।
    উদাহরণ:
    She has all the facts at her fingertips.
  37. ৭৭. 'Knocking out' means—
    • ক. destroying
    • খ. beating
    • গ. defeating
    • ঘ. cutting
    উত্তর: গ. defeating
    ‘Knock out’ phrasal verb-এর অর্থ কোনো প্রতিযোগিতায় কাউকে হারিয়ে বাদ দেওয়া। বক্সিংয়ে একে বলা হয় প্রতিপক্ষকে এমন আঘাত করা যে সে আর উঠে লড়তে পারে না। ফুটবল বা ক্রিকেটের নকআউট পর্বেও হেরে গেলে দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। তাই অর্থ ‘defeating’। ‘Destroying’ ধ্বংস করা, ‘beating’ মারধর করা আর ‘cutting’ কাটা বোঝায়, যা এখানকার ব্যবহারের সঙ্গে মেলে না। Phrasal verb-এর অর্থ অনেক সময় verb ও preposition আলাদা করে ধরে বোঝা যায় না। ‘Knock out’ ছাড়াও ‘knock down’ মানে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া, আর ‘knock off’ মানে কাজ শেষ করা।
    উদাহরণ:
    Brazil knocked out Germany in the semi-final.
    মনে রাখুন: Knockout শব্দটি noun হিসেবেও ব্যবহার হয়, যেমন ‘knockout round’।
  38. ৭৮. What is the passive form of the sentence 'You have wasted much time'—
    • ক. Much time was wasted by us.
    • খ. Much time has been wasted by you.
    • গ. Long time has wasted.
    • ঘ. Much time have been wasted.
    উত্তর: খ. Much time has been wasted by you.
    Active voice থেকে passive করার সময় object হয়ে যায় subject এবং subject হয়ে যায় object। ‘You have wasted much time’ বাক্যটি Present Perfect Tense, তাই passive-এ ‘has/have been + past participle’ বসে। ‘Much time’ singular হিসেবে ধরা হয়, সুতরাং ‘has been wasted’ আসে। পরে ‘by you’ বসে। তাই সঠিক রূপ ‘Much time has been wasted by you’।
    মনে রাখুন: Present Perfect Passive-এর সূত্র: Object + has/have been + V3 + by + subject।
  39. ৭৯. Fill in the blank with the right form of verb : Slow and steady — the race.
    • ক. win
    • খ. has won
    • গ. won
    • ঘ. wins
    উত্তর: ঘ. wins
    ‘Slow and steady wins the race’ একটি প্রবাদ। ‘Slow and steady’ দুটি আলাদা শব্দ হলেও এখানে একই ধারণা প্রকাশ করছে, অর্থাৎ ধীরে কিন্তু নিয়মিত চলা। দুটি শব্দ মিলে একটি ধারণা প্রকাশ করলে verb singular হয়। তাই সঠিক ক্রিয়া ‘wins’। ‘Win’ বসলে plural subject লাগত, আর ‘has won’ বা ‘won’ বসালে প্রবাদের মূল ছন্দ নষ্ট হয়। প্রবাদ বা বহুল প্রচলিত কথায় verb-এর রূপ প্রায়ই নির্দিষ্ট থাকে। তাই ‘Slow and steady wins the race’ পুরোটা মনে রাখলে এ প্রশ্নে সহজে উত্তর দেওয়া যায়।
    মনে রাখুন: একই ধারণার উদাহরণ:
    Bread and butter is his breakfast.
    Rice and curry is my favourite dish.

বাংলাদেশ

  1. ৮০. ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা-
    • ক. ১৭,০৪,৮৮,৬১৬
    • খ. ১৬,৪১,৫৭,৬১৬
    • গ. ১৬,৫১,৫৮,৬১৬
    • ঘ. ১৭,৭৫,৬০,৬১৬
    উত্তর: গ. ১৬,৫১,৫৮,৬১৬
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) পরিচালিত ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক ফল অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন। পরে শুমারিতে বাদ পড়া মানুষদের হিসাব যোগ করে সমন্বয় করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ। প্রশ্নে ‘প্রাথমিক ফল’ থাকায় এই সংখ্যাটিই বিকল্পগুলোর মধ্যে মেলে। জনশুমারির সংখ্যা বছরে বছরে বদলায়, তাই কোন বছরের শুমারি, তা দেখে নিতে হয়। ২০২২ সালের শুমারিতে মোট জনসংখ্যা ছাড়াও জনসংখ্যার ঘনত্ব, নারী-পুরুষের অনুপাত ও শিক্ষার হারের মতো তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    পঞ্চম জনশুমারি হয়েছিল ২০১১ সালে।
    শুমারিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা বিভাগে।
    জনশুমারি সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর হয়।
  2. ৮১. শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলা ভাষায় ভাষণদান করেন কোন তারিখে?
    • ক. ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
    • খ. ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
    • গ. ২৬ অক্টোবর ১৯৭৪
    • ঘ. ১৭ অক্টোবর ১৯৭৪
    উত্তর: খ. ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
    ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এর কয়েক দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। এটি ছিল জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলা ভাষায় প্রথম ভাষণ। তাই ১৭ সেপ্টেম্বর সদস্যপদের তারিখ, আর বাংলা ভাষণের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর, দুটোকে আলাদা করে মনে রাখা দরকার। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলা ভাষণকে বাংলা ভাষার একটি বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়, কারণ এর মাধ্যমে বাংলা ভাষা বিশ্বের মূল কূটনৈতিক মঞ্চে পৌঁছায়।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হয় ১৯৭৪ সালে।
    সদস্য হিসেবে ক্রম ছিল ১৩৬তম।
  3. ৮২. কার অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু আইন বিভাগে ভর্তি হন?
    • ক. তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান
    • খ. এ. কে. ফজলুল হক
    • গ. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
    • ঘ. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
    উত্তর: ক. তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান ছেলের পড়াশোনার ব্যাপারে ছিলেন উৎসাহী এবং এই সিদ্ধান্তে তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন। পরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ১৯৪৯ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন। বাকি বিকল্পের তিনজন, ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানী, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় নেতা ছিলেন, কিন্তু আইন পড়ার অনুপ্রেরণা পিতার কাছ থেকে এসেছিল। একজন মানুষের জীবনের বড় সিদ্ধান্তে পরিবারের ভূমিকা প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেও পিতার উৎসাহ পড়াশোনার পথে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
    মনে রাখুন:
    শেখ মুজিবের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।
    তাঁর রচিত বই: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা।
  4. ৯১. সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চা-বাগান বাংলাদেশের কোন জেলায়?
    • ক. মৌলভীবাজার
    • খ. সিলেট
    • গ. হবিগঞ্জ
    • ঘ. পঞ্চগড়
    উত্তর: ক. মৌলভীবাজার
    বাংলাদেশের চা-শিল্পের বড় অংশ সিলেট বিভাগে, আর এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি চা-বাগান আছে, যা দেশের মোট বাগানের অর্ধেকের বেশি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা এই জেলাতেই, একে দেশের চায়ের রাজধানী বলা হয়। দ্বিতীয় স্থানে হবিগঞ্জ। সিলেট জেলাতেও বাগান আছে, তবে সংখ্যায় মৌলভীবাজারের চেয়ে কম। সমতলের জেলা পঞ্চগড়েও চা চাষ হচ্ছে, তবে বাগানের সংখ্যায় এটি অনেক পেছনে। বাংলাদেশের চা-বাগান মূলত সিলেট বিভাগে, তারপর চট্টগ্রাম ও উত্তরের পঞ্চগড়ে। চা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কৃষিপণ্য।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত।
    দেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগান সিলেটের মালনীছড়া, ১৮৫৪ সালে স্থাপিত।
  5. ৯২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর তারিখ—
    • ক. ১ জুলাই ১৯২১
    • খ. ১ জানুয়ারি ১৯২১
    • গ. ১ জানুয়ারি ১৯২২
    • ঘ. ১ জুলাই ১৯২০
    উত্তর: ক. ১ জুলাই ১৯২১
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম দিকে এর তিনটি অনুষদ ছিল: কলা, বিজ্ঞান ও আইন। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয় ১৯২০ সালে, কিন্তু ক্লাস শুরু হয় ১৯২১ সালে, তাই ১৯২০ ও ১৯২১ সালকে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। এর প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার পি. জে. হার্টগ। ১ জানুয়ারি ও ১ জুলাই এই দুটি তারিখও পরীক্ষায় গুলিয়ে ফেলার মতো বিকল্প হিসেবে আসে।
    মনে রাখুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিকে তিনটি আবাসিক হল ছিল: সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল।
  6. ৯৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি কোন তারিখে স্বাক্ষরিত হয়?
    • ক. ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৭
    • খ. ১ ডিসেম্বর ১৯৯৬
    • গ. ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৮
    • ঘ. ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
    উত্তর: ঘ. ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। তখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে। তারিখের প্রশ্নে ২ ও ৩ ডিসেম্বর, আবার ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সাল গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পরে ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়। এর প্রধান কাজ তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন তদারকি করা।
    মনে রাখুন: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
  7. ৯৪. রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন—
    • ক. প্রধানমন্ত্রী
    • খ. জাতীয় সংসদের স্পিকার
    • গ. জাতীয় সংসদের হুইপ
    • ঘ. প্রধান বিচারপতি
    উত্তর: খ. জাতীয় সংসদের স্পিকার
    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি অনুপস্থিত বা অসুস্থ থাকলে জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বা আগের রাষ্ট্রপতি আবার কাজে ফিরে না আসা পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব সামলান। প্রধানমন্ত্রী, সংসদের হুইপ বা প্রধান বিচারপতি এই দায়িত্ব পান না। এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের শীর্ষ পদ কখনও ফাঁকা না থাকা।
    মনে রাখুন:
    রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর।
    রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
  8. ৯৫. বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রয়েছেন কোন বিভাগে?
    • ক. রাজশাহী
    • খ. রংপুর
    • গ. সিলেট
    • ঘ. ঢাকা
    উত্তর: ঘ. ঢাকা
    বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস ও সেবা খাতের কাজের সুযোগও বেশি। এর ফলে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারীও ঢাকা বিভাগে। বাকি তিন বিকল্প রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট জনসংখ্যায় ঢাকার চেয়ে ছোট, ফলে কর্মজীবী নারীর সংখ্যাতেও পেছনে। কর্মসংস্থানের সুযোগ যেখানে বেশি, সেখানে নারীদের কাজে যোগ দেওয়ার হারও সাধারণত বেশি হয়। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ঢাকা বিভাগে বাস করে। রাজধানী ঢাকা এই বিভাগেই অবস্থিত, তাই এখানে চাকরির সুযোগও সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    শ্রমশক্তি জরিপ পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।
    বাংলাদেশে বর্তমানে মোট আটটি প্রশাসনিক বিভাগ আছে।
  9. ৯৬. দেশের কোন নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করা হয়েছে?
    • ক. সাঙ্গু
    • খ. হালদা
    • গ. ইছামতী
    • ঘ. মধুমতী
    উত্তর: খ. হালদা
    চট্টগ্রামের হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র নদী, যেখানে কার্প জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল) প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে। প্রতি বছর বর্ষার শুরুতে মা-মাছেরা এখানে ডিম ছাড়ে এবং এই ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে রেণু ফোটানো হয়। এর গুরুত্ব বোঝাতে সরকার ২০২০ সালে হালদাকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। সাঙ্গু, ইছামতী ও মধুমতী এই ঘোষণার অংশ নয়। মা-মাছেরা এক ধরনের নির্দিষ্ট জোয়ারের সময় ডিম ছাড়ে, আর স্থানীয় মানুষ নৌকা নিয়ে সেই ডিম সংগ্রহ করে। এই দৃশ্য হালদাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
    মনে রাখুন:
    হালদা নদী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশেছে।
    নদীটি মূলত চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাহিত।
  10. ১০৫. বাংলাদেশের কোন জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
    • ক. মেহেরপুর
    • খ. লক্ষ্মীপুর
    • গ. রাঙামাটি
    • ঘ. ঝালকাঠি
    উত্তর: গ. রাঙামাটি
    বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের মোট ৩০০টি নির্বাচনী আসন আছে। পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের প্রতিটিতে একটি করে আসন, কারণ এসব জেলায় জনসংখ্যা তুলনামূলক কম। মেহেরপুর ও ঝালকাঠিতে আসন দুটি করে এবং লক্ষ্মীপুরে চারটি। সেজন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রাঙামাটিই সঠিক। আসন বণ্টন সাধারণত জনসংখ্যার ভিত্তিতে হয়, তাই ছোট জেলায় আসনও কম থাকে। বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষবিশিষ্ট, এর মোট আসন ৩৫০টি। এর মধ্যে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচনের আসন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন।
    মনে রাখুন:
    পার্বত্য তিন জেলার প্রতিটিতে একটি করে আসন, নামগুলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
    সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন আলাদা, মোট ৫০টি।
  11. ১০৬. বাংলাদেশের প্রধান বীজ-উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনটি?
    • ক. BARI
    • খ. BRRI
    • গ. BADC
    • ঘ. BINA
    উত্তর: গ. BADC
    বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) সরকারের প্রধান বীজ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কৃষকের কাছে ভালো বীজ, সার ও সেচের সুবিধা পৌঁছে দেয়। অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান মূলত গবেষণা করে। BARI হলো কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, BRRI ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং BINA পারমাণবিক কৃষি ইনস্টিটিউট। গবেষণা ও বীজ সরবরাহ আলাদা কাজ, এটা আলাদা করে বোঝা দরকার। কৃষি প্রশ্নে সংস্থার পূর্ণ নামের সঙ্গে তার কাজ মনে রাখা জরুরি। বীজ, সার ও সেচ সরবরাহের কাজ BADC করে, আর নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো।
    মনে রাখুন:
    BRRI-এর কার্যালয় গাজীপুরে।
    BINA-এর কার্যালয় ময়মনসিংহে।
  12. ১০৭. নিচের কোনটি আলুর একটি উন্নত জাতের নাম?
    • ক. ডায়মন্ড
    • খ. রূপালি
    • গ. ড্রামহেড
    • ঘ. ব্রিশাইল
    উত্তর: ক. ডায়মন্ড
    ডায়মন্ড আলুর একটি উন্নত জাত, যা বাংলাদেশে বহুল চাষ হয়। আরেকটি পরিচিত জাত কার্ডিনাল। রূপালি হলো তুলার উন্নত জাত, আর ড্রামহেড বাঁধাকপির জাত। তাই আলুর জাত হিসেবে সঠিক বিকল্প ডায়মন্ড। কৃষি প্রশ্নে ফসলের নামের সঙ্গে তার জাতের নাম একসঙ্গে মনে রাখা সুবিধাজনক, কারণ এক ফসলের জাতের নাম অন্য ফসলের বিকল্প হিসেবে বসিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। আলু একটি শীতকালীন ফসল। মুন্সীগঞ্জ ও বগুড়া অঞ্চলে আলুর চাষ বেশি।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) আলুর নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করে।
    আলু বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সবজি ফসল।
  13. ১০৮. 'ধীরে বহে মেঘনা' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের নাম। এটির নির্মাতা কে?
    • ক. আলমগীর কবির
    • খ. খান আতাউর রহমান
    • গ. হুমায়ুন আহমেদ
    • ঘ. সুভাষ দত্ত
    উত্তর: ক. আলমগীর কবির
    ‘ধীরে বহে মেঘনা’ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র, যার নির্মাতা আলমগীর কবির। ছবিটি ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায়। আলমগীর কবিরের আরেকটি পরিচিত ছবি ‘সূর্যকন্যা’। অন্যদের ছবিগুলো আলাদা। খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ এবং হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘শ্যামল ছায়া’। চলচ্চিত্র নিয়ে প্রশ্নে নির্মাতা, ছবির নাম ও প্রকাশের বছর একসঙ্গে মনে রাখা সুবিধাজনক। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও বহু ছবি বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
    নির্মাতার নামের সঙ্গে চলচ্চিত্র মিলিয়ে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্নে সুবিধা হয়।
  14. ১০৯. বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'তিনকন্যা'র চিত্রকর কে?
    • ক. জয়নুল আবেদিন
    • খ. কামরুল হাসান
    • গ. এস এম সুলতান
    • ঘ. কাইয়ুম চৌধুরী
    উত্তর: খ. কামরুল হাসান
    ‘তিনকন্যা’ চিত্রকর্মের শিল্পী কামরুল হাসান, যিনি ‘পটুয়া’ নামে পরিচিত। তিনি ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে আঁকা পোস্টার ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ করেছিলেন, যা মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তিনি জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জয়নুল আবেদিনের পরিচিত ছবি ‘ম্যাডোনা-৪৩’ ও ‘সংগ্রাম’, আর এস. এম. সুলতানের ‘চরদখল’। কাইয়ুম চৌধুরীও বিখ্যাত শিল্পী, কিন্তু এই ছবিটি তাঁর নয়। কামরুল হাসান চারুকলা ও পোস্টারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। ‘পটুয়া’ কথাটির অর্থ যাঁরা পট বা ছবি আঁকেন, আর কামরুল হাসান এই নামেই বেশি পরিচিত।
    মনে রাখুন: জয়নুল আবেদিন ঢাকা আর্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, ১৯৪৮ সালে।
  15. ১৬০. বাংলাদেশ স্যাটেলাইট তার কক্ষপথে ঘুরার দ্রুতি হলো—
    • ক. 4 km s⁻¹
    • খ. 3.07 km s⁻¹
    • গ. 4.07 km s⁻¹
    • ঘ. 5.07 km s⁻¹
    উত্তর: খ. 3.07 km s⁻¹
    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ একটি ভূস্থির (Geostationary) উপগ্রহ। ভূস্থির উপগ্রহ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর নিজের ঘূর্ণনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। এই উচ্চতার কক্ষপথের ব্যাসার্ধ ধরে হিসাব করলে উপগ্রহের কক্ষীয় দ্রুতি দাঁড়ায় প্রায় 3.07 km/s।
    বাংলাদেশের এই স্যাটেলাইট ২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ১১৯.১° পূর্ব দ্রাঘিমায় স্থাপিত।
    মনে রাখুন: ভূস্থির উপগ্রহের কক্ষীয় দ্রুতি প্রায় 3.07 km/s এবং পর্যায়কাল ২৪ ঘণ্টা।

আন্তর্জাতিক

  1. ৮৩. ভারতের পঞ্চদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২৫ জুলাই ২০২২ তারিখে শপথ গ্রহণ করেন—
    • ক. দ্রৌপদী শর্মা
    • খ. দ্রৌপদী চাকমা
    • গ. দ্রৌপদী মার্মা
    • ঘ. দ্রৌপদী মুর্মু
    উত্তর: ঘ. দ্রৌপদী মুর্মু
    দ্রৌপদী মুর্মু ২০২২ সালের ২৫ জুলাই ভারতের পঞ্চদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি ওড়িশার মায়ূরভঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ এবং ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি। তাঁর আগে প্রতিভা পাতিল ২০০৭ সালে ভারতের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, তাই মুর্মু দ্বিতীয় নারী রাষ্ট্রপতি। তিনি স্বাধীনতার পরে জন্ম নেওয়া প্রথম রাষ্ট্রপতিও। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভারতীয় সংবিধানের অধীন সাংবিধানিক প্রধান, আর প্রকৃত শাসনক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।
    মনে রাখুন: ‘শর্মা’, ‘চাকমা’ ও ‘মার্মা’ পদবিগুলো দিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য বিকল্প দেওয়া হয়েছে, আসল নাম মুর্মু।
    ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পরোক্ষ ভোটে।
  2. ৮৪. ইউক্রেনের মুদ্রার নাম-
    • ক. রিঙ্গিত
    • খ. রুবল
    • গ. পেসো
    • ঘ. রিভনিয়া
    উত্তর: ঘ. রিভনিয়া
    ইউক্রেনের মুদ্রার নাম রিভনিয়া (Hryvnia)। ১ রিভনিয়া ১০০ কোপিয়াকার সমান। রুবল (Rouble) রাশিয়ার মুদ্রা, রিঙ্গিত (Ringgit) মালয়েশিয়ার এবং পেসো (Peso) ফিলিপাইন, মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশে চলে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর রিভনিয়ার মান নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তাই চলতি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার নাম পরীক্ষায় আসতে পারে। মুদ্রার নামের প্রশ্নে দেশ ও মুদ্রা একসঙ্গে মুখস্থ রাখা দরকার। উদাহরণ: জাপানে ইয়েন, ভারতে রুপি, যুক্তরাজ্যে পাউন্ড স্টার্লিং। ইউক্রেনের মুদ্রার নামটি ইংরেজিতে লেখা হয় Hryvnia, আর উচ্চারণে বাংলায় সাধারণত রিভনিয়া বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ইউক্রেনের রাজধানী কিইভ।
    ইউক্রেনের পার্লামেন্টের নাম ভেরখোভনা রাডা।
  3. ৮৫. বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে শীর্ষ রয়েছে—
    • ক. জাপান
    • খ. চীন
    • গ. কোরিয়া
    • ঘ. যুক্তরাষ্ট্র
    উত্তর: খ. চীন
    বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নিঃসরণে শীর্ষে আছে চীন। দেশটির বিশাল শিল্পখাত ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনই এর বড় কারণ। দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, আর তৃতীয় স্থানে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র আগে শীর্ষে ছিল, কিন্তু এখন তারা চীনের পেছনে। তবে মাথাপিছু হিসাব করলে চিত্র আলাদা হয়, সেখানে কাতারের মতো ছোট তেলসমৃদ্ধ দেশ এগিয়ে থাকে। বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের একটি বড় অংশ আসে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে। জলবায়ু সম্মেলনে তাই এই দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়।
    মনে রাখুন:
    জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি হয়।
    সবুজ ঘর প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রধান গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন।
  4. ৮৬. প্রবাসী আয়ে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ দেশ—
    • ক. বাংলাদেশ
    • খ. ভিয়েতনাম
    • গ. কম্বোডিয়া
    • ঘ. ভারত
    উত্তর: ঘ. ভারত
    বিশ্বে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স (Remittance) পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশ ভারত। কয়েক বছর ধরেই দেশটি এ তালিকায় সবার ওপরে এবং বার্ষিক রেমিট্যান্স ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশও বিশ্বের শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রাপক দেশগুলোর মধ্যে আছে, তবে শীর্ষে নয়। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া এই তালিকার শীর্ষে নেই। রেমিট্যান্স পাওয়া অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের পরে মেক্সিকো, চীন ও ফিলিপাইনও শীর্ষ প্রাপকদের মধ্যে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    রেমিট্যান্স মূলত প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো অর্থ।
    এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস।
    বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর রেমিট্যান্স নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
  5. ৯৭. সুইডেনের নির্বাচিত প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর নাম—
    • ক. ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন
    • খ. এমিলিন পাঙ্কহার্স্ট
    • গ. উইলহেলমিনা ড্রুকার
    • ঘ. বেল হুক্স
    উত্তর: ক. ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন
    ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন (Magdalena Andersson) সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেত্রী হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেন এবং ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ছিলেন। এরপর উলফ ক্রিস্টারসন প্রধানমন্ত্রী হন। বাকি তিনটি নামের কেউ প্রধানমন্ত্রী নন। এমিলিন পাঙ্কহার্স্ট ব্রিটিশ নারী ভোটাধিকার আন্দোলনের নেত্রী, উইলহেলমিনা ড্রুকার ডাচ নারীবাদী নেত্রী আর বেল হুক্স মার্কিন লেখক। অনেক দেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন, সেটি পরীক্ষার প্রিয় প্রশ্ন। বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার সিরিমাভো বন্দরনায়েক (১৯৬০)।
    মনে রাখুন:
    সুইডেনের পার্লামেন্টের নাম রিক্সডাগ।
    সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম।
  6. ৯৮. কোন পরিষদের সুপারিশক্রমে জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগপ্রাপ্ত হন?
    • ক. সাধারণ পরিষদ
    • খ. নিরাপত্তা পরিষদ
    • গ. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ
    • ঘ. অছি পরিষদ
    উত্তর: খ. নিরাপত্তা পরিষদ
    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council) একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করে, তারপর সাধারণ পরিষদ (General Assembly) ভোটের মাধ্যমে তাঁকে নিয়োগ দেয়। মহাসচিবের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পুনর্নিয়োগ সম্ভব। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা কাজ করে, তাই কোনো স্থায়ী সদস্য আপত্তি করলে প্রার্থী নিয়োগ পান না। জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। সংস্থাটির ছয়টি প্রধান অঙ্গ আছে, যার মধ্যে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ।
    মনে রাখুন:
    জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব নরওয়ের ট্রিগভে লি।
    অ্যান্তোনিও গুতেরেস ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিব।
  7. ৯৯. আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (IOM) সদরদপ্তর কোথায়?
    • ক. রোম
    • খ. বার্ন
    • গ. জেনেভা
    • ঘ. লন্ডন
    উত্তর: গ. জেনেভা
    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (International Organization for Migration, IOM) অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করে। এর প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। সংস্থাটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার মর্যাদা পায়। নামের মিল থাকায় আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা (IMO)-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়, কারণ IMO-এর সদর দপ্তর লন্ডনে। রোম ও বার্নের নামও বিকল্পে আছে, কিন্তু সেগুলো IOM-এর সদর দপ্তর নয়। IOM-এর কাজের মধ্যে আছে অভিবাসীদের সহায়তা, নিরাপদ অভিবাসনে সহযোগিতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশেও সংস্থাটির কার্যালয় আছে।
    মনে রাখুন: জেনেভায় আরও আছে WHO, ILO ও WTO-র সদর দপ্তর।
  8. ১০০. বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর কোনটি?
    • ক. লন্ডন
    • খ. দুবাই
    • গ. তেল আবিব
    • ঘ. নিউইয়র্ক
    উত্তর: ঘ. নিউইয়র্ক
    ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২২ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সূচকে নিউইয়র্ক ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হয়; আগের বছর শীর্ষে ছিল তেল আবিব। এই তালিকা প্রতিবছর বদলায়।
  9. ১০১. কোনটি একটি বৈশ্বিক জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক নির্দলীয় আন্দোলনের নাম?
    • ক. Extinction Rebellion
    • খ. Nature Compact
    • গ. Eco Friends
    • ঘ. Build Better World
    উত্তর: ক. Extinction Rebellion
    Extinction Rebellion ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া একটি অহিংস পরিবেশ আন্দোলন, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
  10. ১০২. ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্যের স্বীকৃতি দেয়—
    • ক. IFAD
    • খ. WIPO
    • গ. WTO
    • ঘ. IDA
    উত্তর: খ. WIPO
    ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical Indication, GI) হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের পণ্যের স্বীকৃতি, যেমন জামদানি বা ইলিশ, যাদের গুণ ও খ্যাতি সেই অঞ্চলের পরিবেশ বা ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। বৌদ্ধিক সম্পদ রক্ষা নিয়ে কাজ করে বিশ্ব বৌদ্ধিক সম্পদ সংস্থা (WIPO), তাই GI-এর আন্তর্জাতিক কাঠামো এখানেই আলোচনা হয়। বাংলাদেশে GI নিবন্ধন করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। GI পণ্যের স্বীকৃতি কেবল নামের মর্যাদা দেয় না, সেই পণ্যের জাল সংস্করণ ঠেকাতেও সাহায্য করে। বাংলাদেশের জন্য জামদানি, ইলিশ ও ক্ষীরশাপাতি আমের মতো পণ্য এই তালিকায় এসেছে।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশের প্রথম GI পণ্য জামদানি (২০১৬)।
    ইলিশ GI স্বীকৃতি পায় ২০১৭ সালে।
    WIPO-এর সদর দপ্তর জেনেভায়।
  11. ১০৩. চীনের উইঘুর সম্প্রদায় কোন বংশ থেকে উদ্ভূত জাতিগোষ্ঠী?
    • ক. হুন
    • খ. মরো
    • গ. জিনজিং
    • ঘ. তুর্কি
    উত্তর: ঘ. তুর্কি
    উইঘুর (Uyghur) একটি তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম জনগোষ্ঠী। তাঁদের বেশিরভাগ চীনের উত্তর-পশ্চিমের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বাস করেন, যার রাজধানী উরুমকি। তাঁদের ভাষা তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক আছে। ‘জিনজিং’ নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী নেই, এটি ভুল বিকল্প। ‘হুন’ ও ‘মরো’ নামও উইঘুরদের উৎস হিসেবে প্রচলিত নয়। উইঘুররা মূলত মুসলমান, আর তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা মধ্য এশিয়ার তুর্কি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেলে। এই কারণে তাদের তুর্কি বংশোদ্ভূত বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী হান।
    চীনের রাজধানী বেইজিং।
  12. ১০৪. মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব হারায় কোন সালে?
    • ক. ১৯৭৮
    • খ. ১৯৮২
    • গ. ১৯৯২
    • ঘ. ১৯৯১
    উত্তর: খ. ১৯৮২
    মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইন ১৯৮২ সালে প্রণীত হয়। এই আইনে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে তারা কার্যত নাগরিকত্ব হারায় এবং রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত হয়। এর আগেও ১৯৭৮ সালে সেনা অভিযানে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। ২০১৭ সালের আগস্টে সবচেয়ে বড় ঢল নামে। তাই ১৯৭৮ হলো শরণার্থী আসার একটি বছর, আর নাগরিকত্ব হারানোর বছর ১৯৮২। ১৯৮২ সালের এই আইন অনুযায়ী মিয়ানমারে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠী স্বীকৃত, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা নেই। তাই রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে থেকেও কার্যত নাগরিকত্বহীন হয়ে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী।
    বাংলাদেশে তাদের বড় আশ্রয়কেন্দ্র কক্সবাজারের কুতুপালং।
  13. ১১০. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে 'বেলফোর ঘোষণা'র মূল প্রতিপাদ্য ছিল—
    • ক. জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠা
    • খ. অটোমানদের রাজ্য অধিকার
    • গ. ইহুদিদের জন্য একটি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
    • ঘ. জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রশক্তির নতুন কৌশল অবলম্বন
    উত্তর: গ. ইহুদিদের জন্য একটি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
    ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর ইহুদি নেতা লর্ড রথসচাইল্ডকে একটি চিঠি লিখে ঘোষণা দেন যে, ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি গড়ার পক্ষে। এটিই বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration)। পরে এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের একটি বড় ভিত্তি হয়ে ওঠে। জাতিপুঞ্জ (League of Nations) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। বেলফোর ঘোষণার ফলে ইহুদিদের ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনের পথ প্রশস্ত হয়। পরে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    বেলফোর ঘোষণার তারিখ ২ নভেম্বর ১৯১৭।
    ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হয় ১৯৪৮ সালে।
  14. ১১১. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কার্যালয় কোন শহরে অবস্থিত?
    • ক. নিউ ইয়র্ক
    • খ. জেনেভা
    • গ. দ্য হেগ
    • ঘ. রোম
    উত্তর: গ. দ্য হেগ
    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court, ICC) গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে। ১৯৯৮ সালে রোমে স্বাক্ষরিত রোম সংবিধির ভিত্তিতে এটি গঠিত হলেও আদালত রোমে বসে না, তাই রোম বিকল্পটি ভুল। আদালতের কার্যক্রম ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর, আর জেনেভায় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে, কিন্তু ICC সেখানে নয়।
    মনে রাখুন:
    ICC-তে ১৮ জন বিচারক আছেন, তাঁদের মেয়াদ ৯ বছর।
    জাতিসংঘের প্রধান বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-ও দ্য হেগে অবস্থিত।
  15. ১১২. পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
    • ক. কাস্পিয়ান
    • খ. বৈকাল
    • গ. মানস সরোবর
    • ঘ. ডেড সি
    উত্তর: খ. বৈকাল
    বৈকাল হ্রদ রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত এবং পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ, যার সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১,৬৪২ মিটার। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন হ্রদগুলোর একটি এবং এখানে বিশ্বের মোট মিঠা পানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জমা আছে। কাস্পিয়ান সাগর আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ, কিন্তু গভীরতায় বৈকালের পেছনে। তাই ‘বৃহত্তম’ ও ‘গভীরতম’ প্রশ্নের উত্তর আলাদা। পৃথিবীর বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ হলো সুপিরিয়র হ্রদ, যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত। তবে আয়তনে বৃহত্তম হলেও গভীরতায় বৈকালই এগিয়ে।
    মনে রাখুন:
    বৈকাল হ্রদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় আছে।
    মৃত সাগর (Dead Sea) পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদগুলোর একটি এবং সবচেয়ে নিম্নভূমিতে অবস্থিত।
  16. ১১৩. আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোনটি?
    • ক. সুয়েজ খাল
    • খ. ভলগা নদী
    • গ. মিসিসিপি নদী
    • ঘ. পানামা খাল
    উত্তর: ঘ. পানামা খাল
    পানামা খাল মধ্য আমেরিকার পানামা যোজকের মধ্য দিয়ে কেটে তৈরি করা এবং এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। এর ফলে জাহাজকে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে যেতে হয় না, সময় ও খরচ বহু গুণ বাঁচে। খালটি ১৯১৪ সালে চালু হয়। সুয়েজ খাল আলাদা, এটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে। ভলগা ও মিসিসিপি নদী, খাল নয়। পানামা খাল তৈরির আগে আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে যেতে জাহাজকে দক্ষিণ আমেরিকার হর্ন অন্তরীপ ঘুরে যেতে হতো। এই খাল সেই পথ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
    মনে রাখুন:
    সুয়েজ খাল মিসরে, চালু হয় ১৮৬৯ সালে।
    কিয়েল খাল উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরকে যুক্ত করেছে।
  17. ১১৪. জাপানের পার্লামেন্টের নাম–
    • ক. রাইখস্ট্যাগ
    • খ. ফোকেটিং
    • গ. নেসেট
    • ঘ. ডায়েট
    উত্তর: ঘ. ডায়েট
    জাপানের পার্লামেন্টের নাম ডায়েট (Diet)। এটি দুটি কক্ষে বিভক্ত: প্রতিনিধি পরিষদ ও কাউন্সিলরস পরিষদ। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা দেশের পার্লামেন্ট। রাইখস্ট্যাগ জার্মানির (পুরোনো নাম), ফোকেটিং ডেনমার্কের এবং নেসেট ইসরায়েলের। পার্লামেন্টের নাম দেশভেদে ভিন্ন, তাই দেশ ও পার্লামেন্টের নাম একসঙ্গে মুখস্থ রাখা জরুরি। জাপানের সম্রাট রাষ্ট্রের প্রতীকী প্রধান, আর শাসনক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। দেশটির রাজধানী টোকিও। জাপানের ডায়েটে দুটি কক্ষ থাকায় এটিকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলা হয়। এই কারণে পরীক্ষায় একই দেশের পার্লামেন্টের নাম ও গঠন দুটোই জানা ভালো।
    মনে রাখুন: অন্যান্য দেশের পার্লামেন্ট:
    রাশিয়া: ডুমা।
    ইরান: মজলিস।
    নরওয়ে: স্টর্টিং।
    ভারত: লোকসভা ও রাজ্যসভা।
  18. ১৭৩. গ্রিনিচ মান মন্দির অবস্থিত—
    • ক. যুক্তরাজ্যে
    • খ. যুক্তরাষ্ট্রে
    • গ. ফ্রান্সে
    • ঘ. ইতালিতে
    উত্তর: ক. যুক্তরাজ্যে
    গ্রিনিচ মান মন্দির (Royal Observatory, Greenwich) যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের গ্রিনিচ এলাকায় অবস্থিত। এর ওপর দিয়েই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ০° দ্রাঘিমারেখা বা মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian) গেছে। এই রেখার সময়কে গ্রিনিচ মান সময় (GMT) বলা হয়।
    পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° ঘোরে, তাই প্রতি ১৫° দ্রাঘিমায় সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা। বাংলাদেশ গ্রিনিচের পূর্বে অবস্থিত বলে এর সময় GMT + ৬ ঘণ্টা।
    মনে রাখুন: বর্তমানে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সময়মান হলো সমন্বিত বিশ্বসময় (UTC), তবে সাধারণ ব্যবহারে GMT ও UTC প্রায় একই।

বিজ্ঞান

  1. ১১৫. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কী কী থাকে?
    • ক. প্রোটন ও নিউট্রন
    • খ. ইলেকট্রন ও নিউট্রন
    • গ. নিউট্রন ও পজিট্রন
    • ঘ. ইলেকট্রন ও পজিট্রন
    উত্তর: ক. প্রোটন ও নিউট্রন
    পরমাণু অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা, আর এর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস (Nucleus)। নিউক্লিয়াস গঠিত হয় প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে। প্রোটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, আর নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই, অর্থাৎ এটি চার্জনিরপেক্ষ। ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে না, বরং এর চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে। পজিট্রন ইলেকট্রনের প্রতিকণা, এটি স্বাভাবিক পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না। তাই ইলেকট্রন বা পজিট্রন আছে এমন বিকল্পগুলো ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
    ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
    পারমাণবিক সংখ্যা বলতে বোঝায় নিউক্লিয়াসের প্রোটনের সংখ্যা।
  2. ১১৬. যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন পৃথিবীতে আমরা দেখতে পাই–
    • ক. চন্দ্রগ্রহণ
    • খ. সূর্যগ্রহণ
    • গ. অমাবস্যা
    • ঘ. পূর্ণিমা
    উত্তর: খ. সূর্যগ্রহণ
    চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, আর পৃথিবী ঘোরে সূর্যের চারদিকে। কোনো সময় চাঁদ ঠিক সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে একই সরলরেখায় পড়ে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর একটি অংশে পড়ে। সেই অংশের মানুষেরা সূর্যকে আংশিক বা পুরোপুরি ঢাকা দেখে, এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে। সূর্যগ্রহণ কেবল অমাবস্যা তিথিতে ঘটতে পারে, কিন্তু প্রতি অমাবস্যায় ঘটে না, কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের তুলনায় সামান্য হেলানো। এ কারণে প্রশ্নে যে ঘটনাটি আমরা দেখি, তার নাম সূর্যগ্রহণ। চন্দ্রগ্রহণ ঘটে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী এলে।
    মনে রাখুন:
    চন্দ্রগ্রহণ হয় পূর্ণিমায়, যখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে।
    সূর্যগ্রহণ কখনো খালি চোখে দেখা উচিত নয়, এতে চোখের ক্ষতি হয়।
  3. ১১৭. মানবদেহে রক্তচাপ-নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম–
    • ক. ফিগমোম্যানোমিটার
    • খ. স্টেথোস্কোপ
    • গ. ইকোকার্ডিওগ্রাফ
    • ঘ. কার্ডিওগ্রাম
    উত্তর: ক. ফিগমোম্যানোমিটার
    হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করার সময় ধমনির দেয়ালে যে চাপ পড়ে, তাকে রক্তচাপ (Blood Pressure) বলে। এই চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)। এতে হাতের বাহুতে একটি রবারের ফিতে জড়ানো হয় এবং বাতাস পাম্প করে চাপ দেওয়া হয়। তারপর ধীরে ধীরে চাপ ছেড়ে দিয়ে রক্তচাপ পড়া হয়। অন্য যন্ত্রগুলোর কাজ আলাদা। স্টেথোস্কোপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ শোনা হয়, ইকোকার্ডিওগ্রাফি দিয়ে হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ দেখা হয়, আর কার্ডিওগ্রাম হৃৎপিণ্ডের বিদ্যুৎ-সংকেতের রেকর্ড।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg, প্রথমটি সিস্টোলিক ও দ্বিতীয়টি ডায়াস্টোলিক চাপ।
    ই.সি.জি. (ECG) হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কাজ রেকর্ড করে।
  4. ১৫০. নিচের কোন জোড় রাশির মাত্রা একই?
    • ক. বল ও কাজ
    • খ. কাজ ও শক্তি
    • গ. বল ও টর্ক
    • ঘ. কাজ ও ক্ষমতা
    উত্তর: খ. কাজ ও শক্তি
    কোনো ভৌত রাশির মাত্রা বলতে বোঝায় ভর (M), দৈর্ঘ্য (L) ও সময় (T) এই তিনটির কোন ঘাত দিয়ে রাশিটি প্রকাশ পায়। কাজ = বল × সরণ, বলের মাত্রা MLT⁻² আর সরণের মাত্রা L। তাই কাজের মাত্রা ML²T⁻²। শক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য, তাই শক্তি ও কাজের মাত্রা একই, অর্থাৎ ML²T⁻²। বল ও কাজের মাত্রা এক নয়, কারণ বলের মাত্রা MLT⁻²। ক্ষমতা হলো কাজের হার, তাই ক্ষমতার মাত্রা ML²T⁻³, কাজের সঙ্গে এর মিল নেই। টর্কের মাত্রাও ML²T⁻², তবে প্রশ্নের বিকল্পে বলের সঙ্গে টর্ক জোড়া আছে, যা মেলে না।
    মনে রাখুন:
    কাজ, শক্তি ও টর্কের মাত্রা একই: ML²T⁻²।
    ভরবেগের মাত্রা MLT⁻¹।
  5. ১৫১. সরলরেখায় গতিশীল একটি গাড়ির আদিবেগ u এবং সুষম ত্বরণ ar²। সময় r পর বেগ v হলে নিচের কোন সমীকরণটি সঠিক?
    • ক. v = u + ar
    • খ. v = u + ar³
    • গ. v = u + ar³/2
    • ঘ. v = u + ar⁴/2
    উত্তর: খ. v = u + ar³
    সুষম ত্বরণে গতির মূল সমীকরণ v = u + at, যেখানে u আদিবেগ, a ত্বরণ ও t সময়। প্রশ্নে ত্বরণ দেওয়া আছে ar², আর সময় r। তাই সমীকরণে a-এর জায়গায় ar² এবং t-এর জায়গায় r বসাই। তাহলে v = u + (ar²) × r = u + ar³। সুতরাং u + ar³ সঠিক সমীকরণ। প্রথম বিকল্প u + ar হলো সমীকরণে ত্বরণ শুধু a ধরলে। বাকি দুই বিকল্পের হর 2 বা ঘাত ৪ বসানো আছে, তারা সুষম ত্বরণের v = u + at সূত্রের সঙ্গে মেলে না।
    মনে রাখুন:
    সুষম ত্বরণের তিনটি সমীকরণ: v = u + at, s = ut + ½at², v² = u² + 2as।
  6. ১৫২. 4 kg ভরবিশিষ্ট একটি বস্তুর উপর 40N বল 10 sec ক্রিয়া করে। বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হলো—
    • ক. 40kg ms⁻¹
    • খ. 100kg ms⁻¹
    • গ. 4kg ms⁻¹
    • ঘ. 400kg ms⁻¹
    উত্তর: ঘ. 400kg ms⁻¹
    কোনো বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ (Momentum) বলে, অর্থাৎ p = mv। নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী বলের ক্রিয়ায় ভরবেগের যে পরিবর্তন হয়, তা বল ও সময়ের গুণফলের সমান: Δp = F × t। এখানে F = 40 N এবং t = 10 s। তাহলে ভরবেগের পরিবর্তন = 40 × 10 = 400 kg m/s। আরেকভাবে যাচাই করা যায়: F = ma থেকে 40 = 4 × a, তাই a = 10 m/s²। বস্তুটি স্থির থেকে শুরু করলে 10 সেকেন্ড পর v = 10 × 10 = 100 m/s। ভরবেগের পরিবর্তন = mv − 0 = 4 × 100 = 400 kg m/s।
    মনে রাখুন:
    বল × সময় = ঘাত (Impulse), যার মান ভরবেগের পরিবর্তনের সমান।
    ভরবেগের একক kg m/s, যা N·s-এর সমান।
  7. ১৫৩. একটি কক্ষের তাপমাত্রা 30°C। ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা কত হবে?
    • ক. 86°F
    • খ. 80°F
    • গ. 68°F
    • ঘ. 62°F
    উত্তর: ক. 86°F
    সেলসিয়াস (C) থেকে ফারেনহাইট (F) স্কেলে রূপান্তরের সূত্র: C/5 = (F − 32)/9। এখানে C = 30। তাহলে 30/5 = (F − 32)/9, অর্থাৎ 6 = (F − 32)/9। দুই দিকে 9 দিয়ে গুণ করলে F − 32 = 54। এখান থেকে F = 54 + 32 = 86। সুতরাং কক্ষের তাপমাত্রা 86°F।
    শর্টকাট: F = (9/5) × C + 32 = (9/5) × 30 + 32 = 54 + 32 = 86।
    মনে রাখুন:
    উল্টো দিকে F থেকে C বের করতে C = (5/9) × (F − 32)।
    −40° এমন একমাত্র তাপমাত্রা, যেখানে সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান।
  8. ১৫৪. নিচের কোনটি ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে?
    • ক. লৌহ
    • খ. নিকেল
    • গ. সোনা
    • ঘ. কোবাল্ট
    উত্তর: গ. সোনা
    চৌম্বকক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের আচরণ তিন রকম হতে পারে। যেসব পদার্থ ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে এবং চুম্বক থেকে সামান্য দূরে সরে যায়, তাদের ডায়াচৌম্বক (Diamagnetic) পদার্থ বলে। সোনা এ ধরনের পদার্থ। রুপা, তামা, দস্তা, সীসা, বিসমাথ ও পানিও ডায়াচৌম্বক। অন্য দিকে লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট চুম্বকের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয় এবং নিজেরাও শক্তিশালী চুম্বক হতে পারে। এদের বলে ফেরোচৌম্বক পদার্থ।
    মনে রাখুন:
    প্যারাচৌম্বক পদার্থ চুম্বকক্ষেত্রের দিকে সামান্য আকৃষ্ট হয়, যেমন অ্যালুমিনিয়াম ও প্ল্যাটিনাম।
    ডায়াচৌম্বক পদার্থের আপেক্ষিক ভেদ্যতা ১-এর সামান্য কম।
  9. ১৫৫. কম্পটন ক্রিয়ার আলোর কোন ধর্ম প্রকাশ পায়?
    • ক. তরঙ্গ ধর্ম
    • খ. কণা ধর্ম
    • গ. তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. কণা ধর্ম
    আলো কখনো তরঙ্গের মতো এবং কখনো কণার মতো আচরণ করে। ব্যতিচার ও অপবর্তনের মতো ঘটনায় আলোর তরঙ্গ ধর্ম প্রকাশ পায়। কিন্তু কম্পটন ক্রিয়ায় (Compton Effect) আলোর কণা ধর্ম প্রকাশ পায়। এই ঘটনায় উচ্চশক্তির এক্স-রে ফোটন কোনো মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিক্ষিপ্ত হয়। তখন ফোটনের শক্তি ও ভরবেগ কিছুটা ইলেকট্রনে চলে যায়, ফলে বিক্ষিপ্ত রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। দুটি বলের সংঘর্ষের মতো এই আচরণ ব্যাখ্যা করতে আলোকে ভরবেগযুক্ত কণা হিসেবে ধরতে হয়। আলোর কণা ধর্মের অন্য প্রমাণ আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া।
    মনে রাখুন:
    ১৯২৩ সালে আর্থার কম্পটন এই ক্রিয়া আবিষ্কার করেন এবং ১৯২৭ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
    আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন আইনস্টাইন।
  10. ১৫৬. AC প্রবাহকে DC প্রবাহে রূপান্তর করতে কোন ডিভাইসকে ব্যবহার করবেন?
    • ক. ডায়োড
    • খ. জেনারেটর
    • গ. ট্রানজিস্টর
    • ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
    উত্তর: ক. ডায়োড
    পরিবর্তী প্রবাহ বা AC নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক বদলায়, কিন্তু একমুখী প্রবাহ বা DC সব সময় একই দিকে চলে। AC-কে DC-তে রূপান্তরের কাজকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। ডায়োড (Diode) এমন একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র, যা তড়িৎ প্রবাহকে শুধু এক দিকে যেতে দেয়, উল্টো দিকে আটকে দেয়। তাই এটি রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, ট্রানজিস্টর সংকেত বিবর্ধন বা সুইচের কাজ করে, আর অ্যামপ্লিফায়ার সংকেতকে বড় করে। এগুলোর কোনোটি সরাসরি AC-কে DC করার জন্য ব্যবহৃত হয় না।
    মনে রাখুন:
    ট্রান্সফরমার AC-এর ভোল্টেজ কমায় বা বাড়ায়, DC-তে কাজ করে না।
    বাড়ির বিদ্যুতের লাইন AC, আর মোবাইল চার্জার তাকে DC করে।
  11. ১৫৭. ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখায় কোন মৌলিক?
    • ক. Zn
    • খ. Cr
    • গ. Fe
    • ঘ. Ca
    উত্তর: খ. Cr
    পরমাণুর ইলেকট্রন সাধারণত কম শক্তির উপস্তরে আগে বসে। এই নিয়মে স্ক্যান্ডিয়াম থেকে দস্তা পর্যন্ত ৪s উপস্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকার কথা। কিন্তু ক্রোমিয়াম (Cr, পারমাণবিক সংখ্যা ২৪) এর ব্যতিক্রম। নিয়ম মানলে এর বিন্যাস 3d⁴ 4s² হতো, কিন্তু আসলে পাওয়া যায় 3d⁵ 4s¹। এর কারণ হলো d উপস্তর অর্ধপূর্ণ (d⁵) বা পূর্ণ (d¹⁰) হলে পরমাণু বেশি স্থিতিশীল হয়। তাই একটি ইলেকট্রন 4s থেকে 3d-তে চলে যায়। Zn (3d¹⁰ 4s²), Fe (3d⁶ 4s²) ও Ca (4s²) নিয়ম মেনে চলে।
    মনে রাখুন:
    তামা (Cu, ২৯)-ও ব্যতিক্রম: 3d¹⁰ 4s¹।
    d উপস্তরে সর্বোচ্চ ১০টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।
  12. ১৫৮. নিচের কোনটি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক?
    • ক. ফরমালিন
    • খ. সালফার ডাইঅক্সাইড
    • গ. সোডিয়াম নাইট্রেট
    • ঘ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    উত্তর: ঘ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    খাদ্য সংরক্ষক হলো এমন পদার্থ, যা খাবারে মিশিয়ে বা মাখিয়ে রাখলে জীবাণুর বৃদ্ধি আটকে যায় আর খাবার সহজে নষ্ট হয় না। যেসব সংরক্ষক প্রকৃতি থেকে সরাসরি পাওয়া যায়, তাদের প্রাকৃতিক সংরক্ষক বলে। খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এর উদাহরণ। লবণ খাবারের পানি শুষে নেয়, ফলে জীবাণু বাঁচতে পারে না। এ কারণে আমরা মাছ বা আচার সংরক্ষণে লবণ ব্যবহার করি। সালফার ডাইঅক্সাইড ও সোডিয়াম নাইট্রেট কৃত্রিম বা রাসায়নিক সংরক্ষক। আর ফরমালিন বিষাক্ত রাসায়নিক, খাবারে এর ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।
    মনে রাখুন:
    প্রাকৃতিক সংরক্ষক: লবণ, চিনি, মধু, হলুদ, রসুন, সরিষার তেল।
    বাংলাদেশে ফরমালিনে ভেজাল মাছ-ফল বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  13. ১৫৯. টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান কোনটি?
    • ক. Na₂CO₃
    • খ. NaOH
    • গ. NH₄OH
    • ঘ. (NH₄)₂CO₃
    উত্তর: খ. NaOH
    টয়লেট ক্লিনারের কাজ হলো পাকা মেঝে ও পাত্রের জমে থাকা ময়লা, চর্বি ও দাগ ধুয়ে ফেলা। এ কাজে তীব্র ক্ষারীয় পদার্থ খুব কার্যকর। কস্টিক সোডা বা সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) একটি শক্তিশালী ক্ষার, যা চর্বি ও তেলজাতীয় ময়লাকে সাবানের মতো পদার্থে ভেঙে পানিতে ধুয়ে যেতে দেয়। তাই ক্লিনারের প্রধান উপাদান হিসেবে NaOH কে ধরা হয়। এর সঙ্গে সাধারণত ডিটারজেন্ট, রং ও সুগন্ধি মেশানো থাকে। বাকি তিনটি যৌগ NaOH-এর মতো তীব্র ক্ষারীয় নয়। কাপড় কাচার সোডা Na₂CO₃ মৃদু ক্ষার, আর NH₄OH ও (NH₄)₂CO₃ আরও মৃদু।
    মনে রাখুন:
    NaOH এর অপর নাম কস্টিক সোডা, আর KOH কে কস্টিক পটাশ বলে।
    তীব্র ক্ষার চামড়ায় লাগলে পুড়ে যায়, তাই ক্লিনার ব্যবহারে হাতে গ্লাভস পরা উচিত।
  14. ১৬১. নিচের কোনটিতে লিপিড দ্রবীভূত হয় না?
    • ক. পানি
    • খ. ক্লোরোফরম
    • গ. বেনজিন
    • ঘ. অ্যাসিটোন
    উত্তর: ক. পানি
    লিপিড (Lipid) হলো চর্বি, তেল ও মোমজাতীয় পদার্থ, যা জীবদেহে শক্তি সঞ্চয়ের প্রধান উপাদান। লিপিডের অণু অধ্রুবীয় প্রকৃতির, আর পানির অণু ধ্রুবীয়। সাধারণ নিয়ম হলো, ধ্রুবীয় দ্রাবক ধ্রুবীয় পদার্থ গলায়, আর অধ্রুবীয় দ্রাবক অধ্রুবীয় পদার্থ গলায়। তাই লিপিড পানিতে গলে না, পানিতে তেল ফেলে দিলে তা আলাদা হয়ে ভেসে থাকে। এটাই সঠিক উত্তর। ক্লোরোফর্ম, বেনজিন, ইথার, অ্যালকোহল ও অ্যাসিটোন জৈব দ্রাবক, এগুলোতে লিপিড দ্রবীভূত হয়।
    মনে রাখুন:
    লিপিডের উদাহরণ: তেল, ঘি, মাখন, কোলেস্টেরল।
    ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে চর্বি তৈরি হয়।
    ১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  15. ১৬২. নিচের কোন গ্যাস গ্রিন হাউস গ্যাস নয়?
    • ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • খ. নাইট্রাস অক্সাইড
    • গ. সালফার ডাই-অক্সাইড
    • ঘ. জলীয় বাষ্প
    উত্তর: গ. সালফার ডাই-অক্সাইড
    সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ শুষে নেয়, আর ভূপৃষ্ঠ থেকে ফিরে যাওয়া তাপের একটি অংশকে কিছু গ্যাস আটকে রাখে। এই গ্যাসের কারণে পৃথিবী উষ্ণ থাকে, তাই এদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বন এই গ্রুপের গ্যাস। সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এ গ্রুপে পড়ে না। কয়লা ও খনিজ তেল পোড়ালে এটি বাতাসে মেশে, আর বৃষ্টির পানিতে গলে অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করে। এ কারণে প্রশ্নের উত্তর সালফার ডাই-অক্সাইড।
    মনে রাখুন:
    অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য প্রধানত SO₂ ও নাইট্রোজেন অক্সাইড দায়ী।
    বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় কারণ কার্বন ডাই-অক্সাইড।
  16. ১৬৩. হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হলো—
    • ক. He
    • খ. He²⁺
    • গ. He₂
    • ঘ. He⁺
    উত্তর: ক. He
    যেসব মৌলের পরমাণু একা থেকেই স্থিতিশীল, তাদের অণুও একটিমাত্র পরমাণু দিয়ে গঠিত হয়, একে এক-পরমাণুক অণু (Monoatomic) বলে। হিলিয়াম (He) এ ধরনের মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ২, আর এর সর্বশেষ কক্ষপথ ইলেকট্রনে পূর্ণ থাকায় এটি অন্য কোনো পরমাণুর সঙ্গে সহজে যুক্ত হয় না। হিলিয়াম বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। তাই এর অণুর সংকেত He। He₂ লিখলে দুই পরমাণুর অণু বোঝায়, যা হিলিয়ামের ক্ষেত্রে ঘটে না। আর He⁺ ও He²⁺ আয়নের সংকেত, অণুর নয়।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোজেনের পর হিলিয়াম মহাবিশ্বে দ্বিতীয় প্রচুর মৌল।
    হিলিয়াম বেলুন ও গভীর সমুদ্রে ডুবুরিদের শ্বাস-গ্যাসে ব্যবহৃত হয়।
  17. ১৬৫. কোন আলোর প্রতিসরাঙ্ক বেশি?
    • ক. লাল
    • খ. বেগুনি
    • গ. নীল
    • ঘ. সবুজ
    উত্তর: খ. বেগুনি
    আলো যখন এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে যায়, তখন তার দিক কিছুটা বেঁকে যায়, একে প্রতিসরণ বলে। বাঁকের পরিমাণ মাপা হয় প্রতিসরাঙ্ক দিয়ে। একই মাধ্যমে বিভিন্ন রঙের আলোর প্রতিসরাঙ্ক আলাদা হয়, আর তা নির্ভর করে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, প্রতিসরাঙ্ক তত বেশি। দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি এবং কাচের প্রিজমে এটি সবচেয়ে বেশি বেঁকে যায়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম। প্রশ্নের বিকল্পের মধ্যে নীল ও সবুজের মান এই দুইয়ের মাঝামাঝি।
    মনে রাখুন:
    রামধনুর রং: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (বেনীআসহকলা)।
    সাদা আলোকে রঙে ভাগ হয়ে যাওয়াকে বিচ্ছুরণ বলে।
  18. ১৬৬. মাইক্রোওয়েভ কোথায় ব্যবহৃত হয়?
    • ক. রেডিও
    • খ. রাডার
    • গ. গোয়েন্দা কাজে
    • ঘ. ক্যান্সার নির্ণয়ে
    উত্তর: খ. রাডার
    মাইক্রোওয়েভ বিদ্যুৎ-চৌম্বক তরঙ্গের একটি অংশ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য মোটামুটি এক মিলিমিটার থেকে এক মিটারের মধ্যে, আর এটি রেডিও তরঙ্গের চেয়ে ছোট। তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হওয়ায় একে নির্দিষ্ট দিকে সরু রশ্মির মতো পাঠানো যায়। এই ধর্ম কাজে লাগিয়ে রাডার (Radar) তৈরি করা হয়, যা মাইক্রোওয়েভ পাঠিয়ে ফিরে আসা তরঙ্গ থেকে বিমান, জাহাজ বা মেঘের অবস্থান নির্ণয় করে। এর বাইরে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, উপগ্রহ যোগাযোগ ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কেও এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণ রেডিও সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয় রেডিও তরঙ্গ, আর ক্যান্সার নির্ণয়ে এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পদ্ধতি।
    মনে রাখুন:
    Radar এর পূর্ণরূপ Radio Detection and Ranging।
    বিদ্যুৎ-চৌম্বক তরঙ্গ শূন্যস্থানে আলোর বেগে (৩ × 10⁸ m/s) চলে।
  19. ১৬৭. বায়ুর মাধ্যমে সংক্রমিত হয় কোন রোগটি?
    • ক. আমাশয়
    • খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    • গ. ডেঙ্গু
    • ঘ. কলেরা
    উত্তর: খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    যেসব রোগের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে পৌঁছায়, তাদের বায়ুবাহিত রোগ বলে। ইনফ্লুয়েঞ্জা এমন একটি রোগ। এর জীবাণু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, যা আক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশির সঙ্গে ক্ষুদ্র জলকণায় মিশে বাতাসে ছড়ায় এবং সুস্থ মানুষের শ্বাসের সঙ্গে নাকে-গলায় ঢোকে। অন্য রোগগুলো ভিন্নভাবে ছড়ায়। আমাশয় ও কলেরা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, আর ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে।
    মনে রাখুন:
    বায়ুবাহিত রোগের আরও উদাহরণ: যক্ষ্মা, হাম, চিকেন পক্স।
    পানিবাহিত রোগ: কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়।
    মশাবাহিত রোগ: ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া।
  20. ১৬৮. যে মানুষের রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে না তাকে কী বলে?
    • ক. গ্রুপ A
    • খ. গ্রুপ B
    • গ. গ্রুপ AB
    • ঘ. গ্রুপ O
    উত্তর: ঘ. গ্রুপ O
    লোহিত রক্তকণিকার গায়ের ওপর A ও B নামের দুই ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। এই অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি অনুযায়ী মানুষের রক্তকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যার রক্তে শুধু A অ্যান্টিজেন থাকে তাঁর রক্তগ্রুপ A, শুধু B থাকলে গ্রুপ B, আর দুটিই থাকলে গ্রুপ AB। যাঁর কণিকায় এর কোনোটিই থাকে না, তাঁর রক্তগ্রুপ O। O গ্রুপের রক্তের কণিকায় অ্যান্টিজেন না থাকায় এটি অন্য গ্রুপের রোগীকে দিলে সাধারণত সমস্যা হয় না। এ কারণে O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal donor) বলে।
    মনে রাখুন:
    ১৯০১ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের ABO গ্রুপ আবিষ্কার করেন।
    AB গ্রুপের রক্তে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই একে সর্বজনীন গ্রহীতা বলে।
    রক্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো আরএইচ (Rh)।
  21. ১৬৯. Normal Saline এ কী আছে?
    • ক. 0.9% NaCl
    • খ. 0.5% NaCl
    • গ. 0.75% NaCl
    • ঘ. 0.3% NaCl
    উত্তর: ক. 0.9% NaCl
    নরমাল স্যালাইন হলো পানিতে 0.9% সোডিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণ, যার ঘনত্ব রক্তরসের সমান (আইসোটনিক)। তাই এটি শিরায় দেওয়া নিরাপদ।
  22. ১৭০. কার্বোহাইড্রেট এ C : H : O হলো—
    • ক. 1:1:2
    • খ. 1:2:1
    • গ. 2:1:1
    • ঘ. 1:3:1
    উত্তর: খ. 1:2:1
    কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) শব্দটির অর্থ কার্বনের হাইড্রেট, অর্থাৎ পানিযুক্ত কার্বন। এর অণুতে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) এই তিনটি মৌল থাকে। সাধারণ সংকেত Cₙ(H₂O)ₘ, যেখানে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানির মতোই ২ : ১ অনুপাতে থাকে। যেমন গ্লুকোজের সংকেত C₆H₁₂O₆, এতে C : H : O = 6 : 12 : 6 = 1 : 2 : 1। তাই কার্বোহাইড্রেটে C : H : O এর অনুপাত 1 : 2 : 1। কার্বোহাইড্রেট জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    কার্বোহাইড্রেটের উদাহরণ: গ্লুকোজ, সুক্রোজ (চিনি), স্টার্চ, সেলুলোজ।
  23. ১৭১. কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
    • ক. পুকুরে
    • খ. বিলে
    • গ. নদীতে
    • ঘ. সাগরে
    উত্তর: ঘ. সাগরে
    কোনো বস্তু পানিতে ডুববে কি ভাসবে, তা নির্ভর করে পানির প্লবতার ওপর। বস্তু যত পানি সরিয়ে দেয়, ততটুকু পানির ওজনের সমান ঊর্ধ্বমুখী বল পায়, একে প্লবতা বলে। পানির ঘনত্ব বেশি হলে একই আয়তনের পানি ভারী হয়, তাই প্লবতাও বেশি হয়। সমুদ্রের পানিতে সাধারণত শতকরা ২.৫ থেকে ৩.৫ ভাগ লবণ গলে থাকে, ফলে এর ঘনত্ব পুকুর, বিল বা নদীর মিষ্টি পানির চেয়ে বেশি। এ কারণে সাগরে মানুষের শরীর বেশি ভাসে, আর সাঁতার কাটা সহজ হয়। মৃত সাগরে লবণের পরিমাণ এত বেশি যে মানুষ প্রায় ডোবেই না।
    মনে রাখুন:
    আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী প্লবতা সমান সরানো তরলের ওজন।
    বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের চেয়ে কম হলে বস্তুটি ভাসে।
  24. ১৭২. খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে—
    • ক. O₂
    • খ. H₂
    • গ. CO₂
    • ঘ. H₂O
    উত্তর: গ. CO₂
    সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে, এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)। এ কাজের জন্য তিনটি জিনিস দরকার: সূর্যের আলো, পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইড। উদ্ভিদ মাটি থেকে শিকড়ের মাধ্যমে পানি শোষণ করে। অন্য দিকে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নেয় পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শুষে নিলে এই দুই কাঁচামাল থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয় এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বাতাসে মুক্ত হয়। তাই খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বাতাস থেকে নেয় CO₂, অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন নয়।
    মনে রাখুন:
    সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।
    শ্বসনের সময় উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে।
  25. ১৭৪. অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর কোন ঘটনাটি ঘটে?
    • ক. প্রতিসরণ
    • খ. বিচ্ছুরণ
    • গ. অপবর্তন
    • ঘ. অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
    উত্তর: ঘ. অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
    অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fibre) হলো কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত সরু ও নমনীয় তন্তু। এর একপ্রান্তে আলো ঢোকালে তা তন্তুর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে আসে। আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যাওয়ার সময় আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হলে সম্পূর্ণ আলো ভেতরেই ফিরে আসে, বাইরে বের হয় না। এ কারণে তন্তু বাঁকানো থাকলেও আলো বের হয়ে যায় না। সাধারণ প্রতিসরণ বা বিচ্ছুরণ অপটিক্যাল ফাইবারের মূল নীতি নয়।
    মনে রাখুন:
    অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগে এবং এন্ডোস্কোপি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
    চার্লস কাও অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগের জনক, তিনি ২০০৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
    মরীচিকা ও হীরার ঝলকানিও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল।
  26. ১৭৫. কার্বন ব্যতীত আর কোন মৌলে ক্যাটেনেশন দেখা যায়?
    • ক. Si
    • খ. Ga
    • গ. In
    • ঘ. Al
    উত্তর: ক. Si
    কার্বনের একটি বিশেষ ধর্ম আছে, তার পরমাণুগুলো একে অপরের সঙ্গে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত হয়ে লম্বা শিকল বা বলয় তৈরি করতে পারে। একই মৌলের পরমাণুর এভাবে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে ক্যাটেনেশন (Catenation) বলে। এই ধর্মের কারণেই কার্বন থেকে লক্ষ লক্ষ জৈব যৌগ তৈরি হয়েছে। কার্বন ছাড়া সিলিকনের (Si) মধ্যেও ক্যাটেনেশনের ক্ষমতা দেখা যায়, যদিও তা কার্বনের মতো প্রবল নয়। কারণ Si–Si বন্ধন C–C বন্ধনের চেয়ে দুর্বল। গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম ধাতু, তাদের মধ্যে প্রায় ক্যাটেনেশন হয় না।
    মনে রাখুন:
    সালফারের মধ্যেও কিছুটা ক্যাটেনেশন দেখা যায়, যেমন S₈ অণুতে।
    ক্যাটেনেশনের ক্ষমতা কার্বনের সবচেয়ে বেশি।
  27. ১৭৬. কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
    • ক. সাদামাটি
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. জিপসাম
    • ঘ. বালি
    উত্তর: ঘ. বালি
    কাচ হলো সোডিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো ধাতুর সিলিকেটের তৈরি শক্ত ও স্বচ্ছ পদার্থ। এর প্রধান কাঁচামাল বালি, কারণ বালির মূল উপাদান সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂) বা সিলিকা। বালির সঙ্গে সোডা অ্যাশ (সোডিয়াম কার্বনেট) ও চুনাপাথর মিশিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় গলালে কাচ পাওয়া যায়। সোডা অ্যাশ গলনাঙ্ক কমায়, আর চুনাপাথর কাচকে শক্ত ও পানিতে অদ্রবণীয় করে। তাই চুনাপাথর সহায়ক উপাদান হলেও প্রধান কাঁচামাল নয়। সাদামাটি তৈরি করে চীনামাটির বাসনপত্র, আর জিপসাম সিমেন্টের কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    কাচ কেলাসিত নয়, অনিয়তাকার (Amorphous) কঠিন পদার্থ।
    রং করার জন্য কাচে বিভিন্ন ধাতব অক্সাইড মেশানো হয়।
  28. ১৭৭. হীরক কোন মৌলের বিশেষ রূপ?
    • ক. সিলিকন
    • খ. কার্বন
    • গ. স্বর্ণ
    • ঘ. প্ল্যাটিনাম
    উত্তর: খ. কার্বন
    একই মৌল যখন ভিন্ন ভিন্ন গঠনে পাওয়া যায় এবং তাদের ভৌত ধর্ম আলাদা হয়, তখন এই বৈশিষ্ট্যকে রূপভেদ (Allotropy) বলে। হীরক বা হীরা কার্বনের রূপভেদ। হীরকে প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি অন্য কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত থাকে। এই ত্রিমাত্রিক কাঠামোর কারণে এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে কঠিন পদার্থ এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। কার্বনের আরেকটি রূপভেদ গ্রাফাইট, যা নরম এবং বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। সিলিকন, স্বর্ণ ও প্ল্যাটিনাম হীরকের গঠনে কোনো ভূমিকা রাখে না।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের রূপভেদ: হীরক, গ্রাফাইট, ফুলারিন।
    পেনসিলের শিস গ্রাফাইটের তৈরি, সীসার নয়।
  29. ১৭৮. সিমেন্টে জিপসাম যোগ করা হয় কেন?
    • ক. ওজন বাড়ানোর জন্য
    • খ. দ্রুত জমাট রোধ করার জন্য
    • গ. ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য
    • ঘ. দ্রুত জমাট বৃদ্ধি করার জন্য
    উত্তর: খ. দ্রুত জমাট রোধ করার জন্য
    সিমেন্ট তৈরির শেষ ধাপে গুঁড়ো ক্লিঙ্কারের সঙ্গে সামান্য, প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ জিপসাম (CaSO₄·2H₂O) মেশানো হয়। জিপসাম না থাকলে সিমেন্টে পানি মেশানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা জমাট বেঁধে যেত, ফলে মিস্ত্রি কাজ করার সময় পেত না। জিপসাম এই দ্রুত জমাট বাঁধাকে ধীর করে এবং সিমেন্টের শক্ত হওয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে ব্যবহারযোগ্য সময় পাওয়া যায়, আর পরে সিমেন্ট ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। জিপসাম ওজন বা ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য দেওয়া হয় না, আবার জমাট বাঁধা বাড়ানোও এর কাজ নয়।
    মনে রাখুন:
    সিমেন্টের কাঁচামাল: চুনাপাথর, কাদামাটি বা সাদামাটি।
    ১৮২৪ সালে জোসেফ অ্যাসপডিন পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের পেটেন্ট নেন।
  30. ১৭৯. কোন গ্যাস এসিডধর্মী?
    • ক. CO₂
    • খ. CO
    • গ. N₂O
    • ঘ. NO
    উত্তর: ক. CO₂
    যে অক্সাইড পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে, তাকে অ্যাসিডীয় অক্সাইড বলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) পানিতে গলে কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) তৈরি করে, তাই এটি অ্যাসিডধর্মী গ্যাস। সোডা ওয়াটারের টক স্বাদের কারণও এই অ্যাসিড। অন্য তিনটি অক্সাইড অ্যাসিডীয় নয়। কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) ও নাইট্রিক অক্সাইড (NO) প্রশমিত অক্সাইড, অর্থাৎ এরা অ্যাসিড বা ক্ষার কোনোটির ধর্মই দেখায় না। এ কারণে এদের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ।
    মনে রাখুন:
    অন্য অ্যাসিডধর্মী গ্যাস: SO₂, H₂S, HCl, HF।
    অ্যামোনিয়া (NH₃) ক্ষারধর্মী গ্যাস।
    নীল লিটমাস কাগজকে অ্যাসিডীয় গ্যাস লাল করে।
  31. ১৮০. Dry ice বলা হয়—
    • ক. হিমায়িত অক্সিজেনকে
    • খ. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
    • গ. হিমায়িত কার্বন মনোঅক্সাইডকে
    • ঘ. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
    উত্তর: ঘ. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
    কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসকে চাপ দিয়ে ঠান্ডা করে নেওয়া হলে সেটি জমাট বেঁধে সাদা কঠিন পদার্থে পরিণত হয়। এই কঠিন CO₂-কে শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস (Dry Ice) বলে। সাধারণ বরফ গলে পানি হয় এবং জিনিসকে ভিজিয়ে দেয়, কিন্তু ড্রাই আইস তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাস হয়ে উড়ে যায়, এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। এর তাপমাত্রা প্রায় −78.5°C, তাই ড্রাই আইস হিমায়ক হিসেবে আইসক্রিম ও খাদ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হয়। মঞ্চে ধোঁয়ার প্রভাব তৈরিতেও এটি কাজে লাগে। অক্সিজেন বা কার্বন মনোক্সাইড জমালে ড্রাই আইস হয় না।
    মনে রাখুন:
    ঊর্ধ্বপাতী পদার্থের উদাহরণ: ড্রাই আইস, নেফথালিন, কর্পূর, আয়োডিন।
    CO₂ আগুন নেভাতে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি দহনে সাহায্য করে না।
  32. ১৮২. টাইফয়েড রোগের কারণ—
    • ক. ছত্রাক
    • খ. ভাইরাস
    • গ. ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. নেমাটোড
    উত্তর: গ. ব্যাকটেরিয়া
    টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর। এর জীবাণু সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) নামের ব্যাকটেরিয়া। আক্রান্ত মানুষের মলের মাধ্যমে জীবাণু বাইরে এসে মাছি, দূষিত পানি ও খোলা খাবারে মেশে, আর সেখান থেকে সুস্থ মানুষের শরীরে ঢোকে। সংক্রমণের পর একটানা জ্বর, মাথাব্যথা ও পেটব্যথা হয়, আর চিকিৎসা না করলে জটিলতা বাড়ে। এ রোগ ছত্রাক, ভাইরাস বা নেমাটোড কৃমির কারণে হয় না। এই কারণেই ব্যাকটেরিয়া সঠিক উত্তর।
    মনে রাখুন:
    উইডাল টেস্ট (Widal Test) দিয়ে টাইফয়েড শনাক্ত করা হয়।
    টাইফয়েডের টিকা আছে, আর বিশুদ্ধ পানি পান ও হাত ধোয়া এই রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে।
  33. ১৮৩. একটি গ্রহের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ কিন্তু ভর অর্ধেক। ঐ গ্রহের অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলো—
    • ক. g
    • খ. (1/8)g
    • গ. (1/6)g
    • ঘ. (1/4)g
    উত্তর: খ. (1/8)g
    পৃথিবীপৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ g = GM/R², যেখানে M গ্রহের ভর, R ব্যাসার্ধ এবং G মহাকর্ষ ধ্রুবক। প্রশ্নের গ্রহটির ভর পৃথিবীর অর্ধেক, অর্থাৎ M' = M/2, আর ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ, অর্থাৎ R' = 2R। তাহলে ওই গ্রহে g' = G(M/2)/(2R)² = GM/(2 × 4R²) = GM/(8R²)। পৃথিবীর g = GM/R² এর সঙ্গে তুলনা করলে g' = g/8, অর্থাৎ (1/8)g।
    শর্টকাট: g ∝ M/R²। ভর ½ গুণ আর ব্যাসার্ধ ২ গুণ হলে g হয় ½ × (1/2²) = ½ × ¼ = 1/8 গুণ।
    মনে রাখুন:
    অভিকর্ষজ ত্বরণ গ্রহের ভরের সঙ্গে সমানুপাতিক এবং ব্যাসার্ধের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
    পৃথিবীতে g ≈ 9.8 m/s²।
  34. ১৮৪. গতিশীল চার্জের ওপর যে বল ক্রিয়া করে তাকে বলে—
    • ক. চৌম্বক বল
    • খ. তড়িৎ বল
    • গ. কুলম্ব বল
    • ঘ. তড়িৎ-চুম্বকীয় বল
    উত্তর: ক. চৌম্বক বল
    স্থির আধান চারপাশে শুধু তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করে। কিন্তু আধান গতিশীল হলে সে চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্রও তৈরি করে। এই চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে ক্রিয়া করেই আধান বল অনুভব করে, তাই গতিশীল আধানের ওপর যে বল ক্রিয়া করে তা চৌম্বক বল (Magnetic Force)। এর মান F = qvB sinθ। এই বল আধানের বেগের সঙ্গে লম্বভাবে ক্রিয়া করে, তাই বেগের মান না বদলে কেবল দিক বদলায়। স্থির আধানের মধ্যকার বল কুলম্ব বল, আর কেবল তড়িৎক্ষেত্রের কারণে সৃষ্ট বলকে তড়িৎ বল বলে।
    মনে রাখুন:
    চার্জ স্থির থাকলে তার ওপর কোনো চৌম্বক বল ক্রিয়া করে না।
    তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্র দুটি একসঙ্গে ক্রিয়া করলে মোট বলকে লরেন্টজ বল বলে।
  35. ১৮৫. ডিমে কোন ভিটামিন নেই?
    • ক. ভিটামিন-A
    • খ. ভিটামিন-B
    • গ. ভিটামিন-C
    • ঘ. ভিটামিন-D
    উত্তর: গ. ভিটামিন-C
    ডিম প্রোটিন ও ভিটামিনের ভালো উৎস। ডিমের কুসুমে ভিটামিন-এ, বি কমপ্লেক্স, ডি ও ই পাওয়া যায়। কিন্তু ডিমে ভিটামিন-সি থাকে না। ভিটামিন-সি পাওয়া যায় টাটকা ফল ও সবজিতে, যেমন কমলা, লেবু, আমলকি, পেয়ারা ও টমেটো। ভিটামিন-সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, এতে মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে এবং ক্ষত দেরিতে শুকায়। ডিমে ভিটামিন-সি না থাকলেও তা অন্য পুষ্টি জোগায়, তাই সুষম খাদ্যে ডিমের সঙ্গে ফল ও সবজি রাখা ভালো।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন-সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
    ভিটামিন-ডি-এর অভাবে রিকেটস এবং ভিটামিন-এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
  36. ১৮৬. কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ১৪৯১) ২০১৯
    • ক. লিথিয়াম
    • খ. পারদ
    • গ. ইউরেনিয়াম
    • ঘ. পটাশিয়াম
    উত্তর: খ. পারদ
    সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় প্রায় সব ধাতুই কঠিন অবস্থায় থাকে। পারদ (Mercury, Hg) এর ব্যতিক্রম, কারণ এর গলনাঙ্ক অত্যন্ত কম, প্রায় −৩৯°C। তাই স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এটি রুপালি তরল হিসেবে থাকে। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ধাতুগুলোর মধ্যে পারদই একমাত্র তরল ধাতু। লিথিয়াম ও পটাশিয়াম নরম কঠিন ধাতু, আর ইউরেনিয়াম বেশ ভারী কঠিন ধাতু। এই তরল অবস্থা ও সমান প্রসারণের কারণে থার্মোমিটার ও ব্যারোমিটারে পারদ ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পারদের সংকেত Hg এসেছে ল্যাটিন নাম Hydrargyrum থেকে।
    অধাতুর মধ্যে ব্রোমিন ঘরের তাপমাত্রায় তরল।
    পারদ বিষাক্ত, তাই ভাঙা থার্মোমিটার সাবধানে সরাতে হয়।
  37. ১৮৭. কোনটি প্রাকৃতিক তন্তু নয়?
    • ক. কটন
    • খ. রেয়ন
    • গ. সিল্ক
    • ঘ. উল
    উত্তর: খ. রেয়ন
    তন্তু বা ফাইবার দুই ধরনের: প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম। যে তন্তু সরাসরি উদ্ভিদ বা প্রাণী থেকে পাওয়া যায়, তাকে প্রাকৃতিক তন্তু বলে। কটন বা তুলা উদ্ভিদের ফল থেকে আসে, সিল্ক রেশমপোকার কোকুন থেকে এবং উল ভেড়ার লোম থেকে পাওয়া যায়। রেয়ন (Rayon) প্রাকৃতিক নয়। গাছের সেলুলোজকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গলিয়ে সরু সুতার আকারে বের করে রেয়ন তৈরি হয়, তাই একে কৃত্রিম বা আধা-কৃত্রিম তন্তু বলা হয়। রেয়ন তৈরির কাঁচামাল প্রকৃতি থেকে এলেও প্রক্রিয়াটি কারখানার, তাই এটি কৃত্রিম তন্তুর তালিকায় ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    কৃত্রিম তন্তুর উদাহরণ: নাইলন, পলিয়েস্টার, রেয়ন, অ্যাক্রিলিক।
    পাট বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক তন্তু, একে সোনালি আঁশ বলা হয়।
  38. ১৮৮. জারণ প্রক্রিয়ায় যা ঘটে—
    • ক. মৌল ইলেকট্রন গ্রহণ করে
    • খ. মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে
    • গ. মৌল প্রোটন গ্রহণ করে
    • ঘ. মৌল নিউট্রন দান করে
    উত্তর: খ. মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে
    রসায়নে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) সব সময় একসঙ্গে ঘটে। জারণ প্রক্রিয়ায় কোনো পরমাণু, মৌল বা আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে, ফলে তার জারণ সংখ্যা বাড়ে। যেমন Na → Na⁺ + e⁻ বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। বিপরীত প্রক্রিয়ায়, অর্থাৎ ইলেকট্রন গ্রহণ করলে সেটি বিজারণ, যেমন Cl + e⁻ → Cl⁻। প্রোটন বা নিউট্রন দান-গ্রহণ জারণ-বিজারণের সংজ্ঞায় আসে না, কারণ বিক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস অপরিবর্তিত থাকে।
    মনে রাখুন:
    মনে রাখার সহজ উপায়: OIL RIG, অর্থাৎ Oxidation Is Loss, Reduction Is Gain।
    লোহায় মরিচা পড়া জারণের একটি পরিচিত উদাহরণ।
  39. ১৮৯. নিম্নের কোনটি এসিডিক?
    • ক. ইথার
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. ইথানল
    • ঘ. ফেনল
    উত্তর: ঘ. ফেনল
    অ্যাসিড বলতে এমন পদার্থ বোঝায়, যা দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন ছাড়তে পারে। ফেনল বেনজিন বলয়ের একটি হাইড্রোজেনকে –OH গ্রুপ দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে পাওয়া যায়। এর আরেক নাম কার্বলিক অ্যাসিড, যা থেকেই বোঝা যায় এটি অ্যাসিডধর্মী। ফেনল মৃদু অম্লীয়, কারণ –OH গ্রুপের হাইড্রোজেন সহজে আয়নে রূপ নেয়। এতে বেনজিন বলয়ের ইলেকট্রন সংযোগ সাহায্য করে। অন্য দিকে ইথার, গ্লুকোজ ও ইথানল প্রায় নিরপেক্ষ। ফেনল জীবাণুনাশক ও পচনরোধক হিসেবে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    ফেনলের সংকেত C₆H₅OH।
    ফেনল সোডিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ গঠন করে, ইথানল তা করে না।
    এটি প্লাস্টিক বেকেলাইট তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।
  40. ১৯০. অ্যালকাইল হ্যালাইড হতে অ্যালকোহল প্রস্তুতি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
    • ক. অপসারণ
    • খ. প্রতিস্থাপন
    • গ. যুত
    • ঘ. আইসোমারীকরণ
    উত্তর: খ. প্রতিস্থাপন
    জলীয় ক্ষারের সঙ্গে বিক্রিয়ায় অ্যালকাইল হ্যালাইডের হ্যালোজেন পরমাণুর জায়গায় -OH মূলক বসে, যেমন $CH_3Cl + NaOH → CH_3OH + NaCl$। একটি মূলকের জায়গায় আরেকটি বসে বলে এটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।
  41. ১৯১. নিচের কোনটি ক্লোরিন এর জারণ সংখ্যা বেশি?
    • ক. KCl
    • খ. KClO
    • গ. KClO₂
    • ঘ. KClO₃
    উত্তর: ঘ. KClO₃
    জারণ সংখ্যা হলো কোনো যৌগে একটি পরমাণুর আপাত চার্জ। যৌগে ধাতুর জারণ সংখ্যা জানা থাকলে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা ধরে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা বের করা যায়। পটাশিয়ামের জারণ সংখ্যা +1 এবং অক্সিজেনের −2। KCl-এ: +1 + x = 0, তাই Cl = −1। KClO-তে: +1 + x − 2 = 0, তাই Cl = +1। KClO₂-তে: +1 + x − 4 = 0, তাই Cl = +3। KClO₃-তে: +1 + x − 6 = 0, তাই Cl = +5। সুতরাং KClO₃-তে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    KClO₄-তে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা +7, যা ক্লোরিনের সর্বোচ্চ।
    যৌগে সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল শূন্য।
  42. ১৯২. ক্রাফট প্রসেস (Kraft Process) কোন শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
    • ক. সিমেন্ট
    • খ. সাবান
    • গ. কাগজ
    • ঘ. বস্ত্র
    উত্তর: গ. কাগজ
    ক্রাফট প্রক্রিয়া (Kraft Process) কাগজ শিল্পের প্রধান পদ্ধতি। কাগজ তৈরি হয় কাঠ, বাঁশ বা বাগাস থেকে পাওয়া সেলুলোজ তন্তু দিয়ে। কাঠের ভেতরে সেলুলোজের সঙ্গে লিগনিন নামের একটি আঠালো পদার্থ থাকে, যা কাগজ তৈরির জন্য অসুবিধাজনক। এই পদ্ধতিতে কাঠের টুকরোকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের গরম দ্রবণে সেদ্ধ করা হয়, ফলে লিগনিন গলে বেরিয়ে যায় এবং খাঁটি সেলুলোজের মণ্ড পাওয়া যায়। সেই মণ্ড ধুয়ে, ব্লিচ করে কাগজ বানানো হয়। সিমেন্ট, সাবান বা বস্ত্র শিল্পে এই প্রক্রিয়ার ব্যবহার নেই।
    মনে রাখুন:
    ক্রাফট জার্মান শব্দ, যার অর্থ শক্তি, কারণ এই প্রক্রিয়ায় তৈরি কাগজ শক্ত হয়।
    বাংলাদেশের কর্ণফুলী পেপার মিল চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত।
  43. ১৯৩. কোন যৌগটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করে?
    • ক. ইথানল
    • খ. ইথার
    • গ. পানি
    • ঘ. বিউটেন
    উত্তর: গ. পানি
    হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond) গঠিত হয় তখন, যখন হাইড্রোজেন পরমাণু ফ্লোরিন, অক্সিজেন বা নাইট্রোজেনের মতো তীব্র তড়িৎ-ঋণাত্মক পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং পাশের অণুর এমন একটি পরমাণুকে আকর্ষণ করে। পানির অণুতে দুটি হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের দুটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় আছে। তাই প্রতিটি পানির অণু চারদিকের অণুর সঙ্গে হাইড্রোজেন বন্ধন গড়ে ঘন জালের মতো কাঠামো তৈরি করতে পারে। এ কারণে পানির বন্ধন সবচেয়ে শক্তিশালী। ইথানলেও হাইড্রোজেন বন্ধন আছে, তবে মাত্র একটি –OH থাকায় তা কম। ইথার ও বিউটেনে এমন বন্ধন গড়ে ওঠে না।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোজেন বন্ধনের কারণে ছোট অণু হয়েও পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
    হাইড্রোজেন বন্ধনের শক্তির ক্রম: H···F > H···O > H···N।
  44. ১৯৪. প্রোটিনের উপাদান হলো—
    • ক. ফ্যাটি এসিড
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. অ্যামিনো এসিড
    • ঘ. সাইট্রিক এসিড
    উত্তর: গ. অ্যামিনো এসিড
    প্রোটিন (Protein) জীবদেহের একটি মূল উপাদান, যা দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও এনজাইম তৈরির কাজে লাগে। এটি একটি বৃহদাকার জৈব যৌগ, যা অসংখ্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acid) পরস্পর যুক্ত হয়ে তৈরি হয়। এক অ্যামিনো অ্যাসিডের –COOH গ্রুপ আরেকটির –NH₂ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে বন্ধন গঠন করে, তার নাম পেপটাইড বন্ধন। এভাবে লম্বা পলিপেপটাইড শিকল তৈরি হয়। ফ্যাটি অ্যাসিড চর্বির উপাদান, গ্লুকোজ কার্বোহাইড্রেটের, আর সাইট্রিক অ্যাসিড লেবুজাতীয় ফলে থাকে, প্রোটিনের উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    প্রাকৃতিক প্রোটিন গঠনে প্রায় ২০ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড অংশ নেয়।
    প্রোটিন জাতীয় খাবার: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ।
  45. ১৯৫. কোন সাবান শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়?
    • ক. ফ্যাট
    • খ. NaOH
    • গ. Ca(OH)₂
    • ঘ. গ্লিসারিন
    উত্তর: গ. Ca(OH)₂
    সাবান তৈরির মূল কাঁচামাল তেল বা চর্বি, অর্থাৎ ফ্যাট। এই চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) বা পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) এর মতো ক্ষারের সঙ্গে গরম করলে সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি হয়। এই বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে। গ্লিসারিন এই বিক্রিয়ার উপজাত, যা আলাদা করে প্রসাধনী ও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে ফ্যাট, NaOH ও গ্লিসারিন, তিনটিই সাবান শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিপরীতে Ca(OH)₂ বা চুনের পানি সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না।
    মনে রাখুন:
    NaOH দিয়ে শক্ত সাবান এবং KOH দিয়ে নরম সাবান হয়।
    পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম লবণ থাকলে তাকে খর পানি বলে। খর পানিতে সাবান ভালো ফেনা দেয় না।
  46. ১৯৬. পানির উপস্থিতি শনাক্তের জন্য পরীক্ষাগারে যে যৌগটি ব্যবহৃত হয়—
    • ক. CuSO₄.5H₂O
    • খ. CuSO₄ (অনার্দ্র)
    • গ. CaSO₄
    • ঘ. Na₂SO₄
    উত্তর: খ. CuSO₄ (অনার্দ্র)
    অনার্দ্র (Anhydrous) কপার সালফেট, অর্থাৎ যার ভেতরে কোনো কেলাস-পানি নেই, একটি সাদা রঙের গুঁড়া। এর উপর পানি পড়লে সেটি পানি শুষে নিয়ে কেলাস-পানিযুক্ত নীল কপার সালফেটে (CuSO₄.5H₂O) পরিণত হয়। সাদা থেকে নীল হওয়া এই রং পরিবর্তন দেখেই আমরা বুঝে যাই যে নমুনায় পানি আছে। তাই পরীক্ষাগারে পানির উপস্থিতি শনাক্ত করতে অনার্দ্র কপার সালফেট ব্যবহার করা হয়। আর কেলাস-পানিযুক্ত CuSO₄.5H₂O আগে থেকেই নীল, তাই তাকে দিয়ে নতুন কোনো রং পরিবর্তন দেখা যায় না।
    মনে রাখুন:
    CuSO₄.5H₂O-এর প্রচলিত নাম নীল তুঁতে বা নীল ভিট্রিওল।
    এটিকে গরম করলে কেলাস-পানি বেরিয়ে যায় এবং আবার সাদা অনার্দ্র লবণ পাওয়া যায়।
    CaSO₄ ও Na₂SO₄ পানির সংস্পর্শে কোনো লক্ষণীয় রং পরিবর্তন দেখায় না।
  47. ১৯৭. মহাজাগতিক রশ্মির গবেষণা নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে পাওয়া যায় —
    • ক. নিউট্রিনো
    • খ. বোসন
    • গ. প্রোটন
    • ঘ. মেসন
    উত্তর: ঘ. মেসন
    নিউক্লিয়াসের প্রোটন-নিউট্রনকে একসঙ্গে ধরে রাখার বলের বাহক হিসেবে ইউকাওয়া মেসনের ধারণা দেন, আর মহাজাগতিক রশ্মির গবেষণায় পাই-মেসন আবিষ্কৃত হয়।
  48. ১৯৮. x-এর বরাবর গতিশীল একটি কণার অবস্থান (x) সময় (t) এর সাপেক্ষে x = 2 − 5t + 6t² সমীকরণ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। কণাটির আদিবেগ হলো—
    • ক. 6ms⁻¹
    • খ. 3ms⁻¹
    • গ. −5ms⁻¹
    • ঘ. −3ms⁻¹
    উত্তর: গ. −5ms⁻¹
    কোনো কণার অবস্থান সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলায়, তা জানা থাকলে অবস্থানকে সময়ের সাপেক্ষে অন্তরীকরণ (Differentiation) করে বেগ পাওয়া যায়। এখানে x = 2 − 5t + 6t², তাই v = dx/dt = −5 + 12t। আদিবেগ মানে যাত্রার শুরুর মুহূর্তের বেগ, অর্থাৎ t = 0 সময়ের বেগ। t = 0 বসালে v = −5 + 12 × 0 = −5 ms⁻¹ পাওয়া যায়। ঋণাত্মক চিহ্ন বোঝায় যে কণাটি শুরুতে x-অক্ষের ঋণাত্মক দিকে চলছিল।
    মনে রাখুন:
    ত্বরণ a = dv/dt = 12 ms⁻² (ধ্রুব)।
    x = x₀ + v₀t + ½at² সূত্রের সঙ্গে তুলনা করলে এখানে x₀ = 2, v₀ = −5 এবং ½a = 6 পাওয়া যায়।

কম্পিউটার ও আইসিটি

  1. ১১৮. কম্পিউটারের পরিভাষায় তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
    • ক. bit
    • খ. byte
    • গ. pixel
    • ঘ. data
    উত্তর: ক. bit
    Binary digit-এর সংক্ষেপ bit, যার মান ০ বা ১; এটিই তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক। ৮টি bit মিলে এক byte হয়।
  2. ১১৯. কম্পিউটারের Hard Disk Drive-এ কীসের সাহায্যে ডেটা সঞ্চিত থাকে?
    • ক. আইসি
    • খ. লেজার রশ্মি
    • গ. চৌম্বকত্ব
    • ঘ. শব্দতরঙ্গ
    উত্তর: গ. চৌম্বকত্ব
    হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (Hard Disk Drive) কম্পিউটারের একটি স্থায়ী সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এর ভেতরে এক বা একাধিক গোলাকার ধাতব পাত থাকে, আর পাতের দুই পৃষ্ঠে ফেরিক অক্সাইডের মতো চুম্বকীয় পদার্থের পাতলা প্রলেপ দেওয়া থাকে। এই প্রলেপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে এক বা অন্য দিকে চুম্বকিত করে ০ ও ১ হিসেবে ডেটা সংরক্ষণ করা হয়। পাতের গায়ে এককেন্দ্রিক বৃত্তাকার ট্র্যাকে ডেটা রাখা হয়, এবং একটি রিড-রাইট হেড তা পড়ে বা লেখে। তাই হার্ড ডিস্কে ডেটা সঞ্চিত থাকার মূল কারণ চৌম্বকত্ব।
    মনে রাখুন:
    সিডি ও ডিভিডি-তে ডেটা পড়া ও লেখা হয় লেজার রশ্মির সাহায্যে।
    পেনড্রাইভ ও এসএসডি-তে ডেটা থাকে ফ্ল্যাশ মেমোরি আইসিতে।
  3. ১৬৪. নিচের কোন ডিভাইস ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে পরিবর্তন করে?
    • ক. RAM
    • খ. HUB
    • গ. ROUTER
    • ঘ. MODEM
    উত্তর: ঘ. MODEM
    কম্পিউটার ০ ও ১ দিয়ে গঠিত ডিজিটাল সংকেত ব্যবহার করে, কিন্তু টেলিফোনের তারে সংকেত যায় তরঙ্গের আকারে, যাকে অ্যানালগ সংকেত বলে। এই দুই ধরনের সংকেতের মধ্যে অনুবাদ করে মডেম (Modem)। কম্পিউটার থেকে পাঠানোর সময় ডিজিটাল সংকেতকে সে অ্যানালগে রূপান্তর করে, একে মডুলেশন বলে। আবার গ্রহণের সময় অ্যানালগ থেকে ডিজিটালে ফিরিয়ে আনে, একে ডিমডুলেশন বলে। এই দুটি শব্দ মিলে নাম হয়েছে Modulator-Demodulator। RAM হলো অস্থায়ী মেমোরি, হাব ও রাউটার নেটওয়ার্ক যুক্ত করার যন্ত্র। তারা সংকেতের ধরন বদলায় না।
    মনে রাখুন:
    হাব একই তথ্য সব কম্পিউটারে পাঠায়, রাউটার নির্দিষ্ট পথে তথ্য পাঠায়।
    ব্রডব্যান্ডেও মডেম ব্যবহার করা হয়।

গণিত

  1. ১২০. নিচের কোনটি মূলদ সংখ্যা?
    • ক. √৫×√১৮
    • খ. √৩×√১৬
    • গ. √৬×√২৪
    • ঘ. √৮×√২০
    উত্তর: গ. √৬×√২৪
    যে সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার ভগ্নাংশ আকারে লেখা যায়, সেটি মূলদ সংখ্যা (Rational Number)। আর যে সংখ্যা এভাবে লেখা যায় না, সেটি অমূলদ। বর্গমূলের গুণফল বের করে দেখি।
    √6 × √24 = √(6 × 24) = √144 = 12, যা পূর্ণসংখ্যা, তাই মূলদ।
    অন্যগুলো: √5 × √18 = √90 = 3√10, √3 × √16 = √48 = 4√3 এবং √8 × √20 = √160 = 4√10। এই তিনটিতেই বর্গমূল থেকে যায়, তাই তিনটিই অমূলদ।
    মনে রাখুন:
    √a × √b = √ab, তারপর গুণফলটি পূর্ণবর্গ কি না দেখতে হয়।
    শর্টকাট: 6 × 24 = 144 = 12², এটি পূর্ণবর্গ হওয়ায় ফল মূলদ।
    ১১ থেকে ১৫ পর্যন্ত বর্গ: 121, 144, 169, 196, 225।
  2. ১২১. এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর চেয়ে ৭ বছরের বড় এবং স্ত্রীর বয়স তার ছেলের বয়সের ৫ গুণ। ৪ বছর পর ছেলের বয়স ১২ হলে, ঐ ব্যক্তির বর্তমান বয়স কত?
    • ক. ৩৫ বছর
    • খ. ৩৭ বছর
    • গ. ৪৩ বছর
    • ঘ. ৪৭ বছর
    উত্তর: ঘ. ৪৭ বছর
    ধরি ছেলের বর্তমান বয়স x বছর। ৪ বছর পর ছেলের বয়স হবে x + 4, যা ১২ বছর বলা আছে। তাহলে x + 4 = 12, সুতরাং x = 8।
    স্ত্রীর বয়স ছেলের বয়সের ৫ গুণ, সুতরাং স্ত্রীর বয়স 8 × 5 = 40 বছর।
    ব্যক্তি স্ত্রীর চেয়ে ৭ বছরের বড়, সুতরাং ব্যক্তির বয়স 40 + 7 = 47 বছর।
    যাচাই: ৪ বছর পর ছেলের বয়স 8 + 4 = 12, প্রশ্নের শর্তের সঙ্গে মিলে যায়।
    মনে রাখুন:
    বয়সের অঙ্কে আগে যার তথ্য সরাসরি পাওয়া যায় তাকে ধরে একে একে বাকিদের বয়স বের করা সহজ।
    পরের বা আগের বয়সের তথ্য থাকলে প্রথমে বর্তমান বয়স বের করে নিতে হয়।
  3. ১২২. দুটি সংখ্যার যোগফল ১৫, অনুপাত ৩ : ২, সংখ্যা দুটির গুণফল কত?
    • ক. ৫৪
    • খ. ৫৬
    • গ. ৪৪
    • ঘ. ৫০
    উত্তর: ক. ৫৪
    সংখ্যা দুটির অনুপাত ৩ : ২ হওয়ায় সংখ্যা দুটি ধরি 3x ও 2x।
    যোগফল 3x + 2x = 5x = 15, সুতরাং x = 15 ÷ 5 = 3।
    তাহলে সংখ্যা দুটি 3 × 3 = 9 এবং 2 × 3 = 6।
    গুণফল 9 × 6 = 54।
    যাচাই: 9 + 6 = 15 এবং 9 : 6 = 3 : 2, দুটি শর্তই মেলে।
    মনে রাখুন:
    অনুপাতের অঙ্কে একটি সাধারণ গুণক (x) ধরে এগোলে সহজে সমাধান হয়।
    শর্টকাট: যোগফলকে অনুপাতের যোগফল দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ভাগের মান পাওয়া যায়, এখানে 15 ÷ 5 = 3।
    সংখ্যা দুটির ভেদ হতো 3x − 2x = x = 3।
  4. ১২৩. যদি N = b^x (b > 0, b ≠ 1) হয়, তবে x এর মান কত?
    • ক. x = log_b N
    • খ. x = log_N b
    • গ. x = Nb
    • ঘ. x = N^b
    উত্তর: ক. x = log_b N
    লগারিদমের সংজ্ঞা অনুযায়ী b^x = N হলে x হলো N-এর b ভিত্তিক লগ, অর্থাৎ x = log_b N। এখানে ভিত্তি b ধনাত্মক এবং b ≠ 1 শর্ত থাকে। কারণ b = 1 হলে 1 এর যেকোনো ঘাত 1 হয়, ফলে x এর মান একক হয় না। বাকি বিকল্পগুলো এই সংজ্ঞার সঙ্গে মেলে না।
    উদাহরণ:
    2^3 = 8 হলে log_2 8 = 3
    10^2 = 100 হলে log_10 100 = 2
    মনে রাখুন:
    log_b 1 = 0।
    log_b b = 1।
    log_b (MN) = log_b M + log_b N।
    log_b (M/N) = log_b M − log_b N।
  5. ১২৪. log_{0.1} 0.01 = x হলে, x এর মান কত?
    • ক. 0
    • খ. 1
    • গ. 2
    • ঘ. 3
    উত্তর: গ. 2
    দেওয়া আছে log_{0.1} 0.01 = x। লগারিদমের সংজ্ঞা অনুযায়ী এর অর্থ (0.1)^x = 0.01। লগের এই অঙ্কে ভিত্তি 1-এর চেয়ে ছোট হলেও (0.1 < 1) নিয়ম একই থাকে, যদি ভিত্তি ধনাত্মক এবং 1 না হয়।
    0.1 × 0.1 = 0.01, অর্থাৎ 0.01 = (0.1)^2।
    তাহলে (0.1)^x = (0.1)^2। ভিত্তি সমান হলে ঘাত সমান হয়, সুতরাং x = 2।
    যাচাই করি: 0.1 × 0.1 = 0.01, ঠিক আছে।
    মনে রাখুন:
    ভিত্তি ও সংখ্যা একই ধরনের ঘাত হলে ঘাতগুলো তুলনা করেই উত্তর পাওয়া যায়।
    অন্য উপায়ে: 0.1 = 10^(−1) এবং 0.01 = 10^(−2), তাই log_{0.1} 0.01 = (−2)/(−1) = 2।
    log_b b^n = n।
  6. ১২৫. ১ : ২০০০ স্কেলে একটি শহরের ম্যাপ আঁকা আছে। ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তার দৈর্ঘ্য ম্যাপে কত হবে?
    • ক. ২৪ সে.মি.
    • খ. ৬০ সে.মি.
    • গ. ৬০ মিটার
    • ঘ. ৬ সে.মি.
    উত্তর: খ. ৬০ সে.মি.
    স্কেল ১ : ২০০০ মানে ম্যাপের ১ সেমি বাস্তবে ২০০০ সেমি। তাই বাস্তব দূরত্বকে ২০০০ দিয়ে ভাগ করলে ম্যাপের দৈর্ঘ্য পাওয়া যায়।
    প্রথমে একক এক করি। 1 কিমি = 1000 মিটার, তাই 1.2 কিমি = 1200 মিটার।
    1 মিটার = 100 সেমি, সুতরাং 1200 মিটার = 1,20,000 সেমি।
    ম্যাপে দৈর্ঘ্য = 1,20,000 ÷ 2000 = 60 সেমি।
    মনে রাখুন:
    স্কেল ১ : ২০০০ মানে ম্যাপের ১ সেমি = বাস্তবে ২০০০ সেমি।
    দূরত্বকে একই এককে এনে স্কেল দিয়ে ভাগ করতে হয়।
    ৬০ মিটার ও ৬০ সেমি সংখ্যায় এক, কিন্তু একক আলাদা, তাই এককে সতর্ক থাকতে হয়।
  7. ১২৬. ক এর আয় খ-এর আয় অপেক্ষা ২৫% বেশি। খ এর আয় ক এর আয় অপেক্ষা শতকরা কত কম?
    • ক. ১০%
    • খ. ১৫%
    • গ. ২০%
    • ঘ. ২৫%
    উত্তর: গ. ২০%
    ধরি খ-এর আয় 100 টাকা। ক-এর আয় ২৫% বেশি, সুতরাং ক-এর আয় 100 + 25 = 125 টাকা।
    ক-এর তুলনায় খ-এর আয় কম = 125 − 100 = 25 টাকা।
    এখন শতকরা কম বের করতে হবে ক-এর আয়ের সাপেক্ষে, কারণ প্রশ্নে ‘ক এর আয় অপেক্ষা’ বলা আছে।
    শতকরা কম = (25 / 125) × 100 = 20%।
    মনে রাখুন:
    কোনো কিছু x% বেশি হলে তার বিপরীত কমার হার হয় x/(100 + x) × 100%।
    এখানে 25/(100 + 25) × 100 = 20%।
    কোনো কিছু x% কম হলে বিপরীত বাড়ার হার হয় x/(100 − x) × 100%।
  8. ১২৭. ৬¼% হার সুদে কত সময়ে ৯৬ টাকার সুদ ১৮ টাকা হবে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৭
    • ক. ২ বছর
    • খ. ২½ বছর
    • গ. ৩ বছর
    • ঘ. ৩½ বছর
    উত্তর: গ. ৩ বছর
    সরল সুদের (Simple Interest) সূত্র হলো I = P × r × n, অর্থাৎ সুদ = আসল × হার × সময়। এখানে আসল P = 96 টাকা, সুদ I = 18 টাকা এবং হার r = 6¼% = 25/400 = 1/16।
    তাহলে n = I ÷ (P × r) = 18 ÷ (96 × 1/16) = 18 ÷ 6 = 3 বছর।
    অর্থাৎ ৯৬ টাকার ১ বছরের সুদ হয় ঠিক ৬ টাকা, আর ১৮ টাকা সুদ হতে সেই ৬ টাকার তিনগুণ সময় লাগে।
    মনে রাখুন:
    সময় n = I/(P × r)
    আসল P = I/(r × n)
    হার r = I/(P × n)
  9. ১২৮. নিচের কোনটি সবচেয়ে ছোট মৌলিক সংখ্যা?
    • ক. ০
    • খ. ১
    • গ. ২
    • ঘ. ৩
    উত্তর: গ. ২
    যে সংখ্যার ঠিক দুটি ভাজক থাকে, অর্থাৎ ১ এবং সংখ্যাটি নিজে, তাকে মৌলিক সংখ্যা (Prime Number) বলে। ০ কে যেকোনো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায়, তাই এর অসংখ্য ভাজক আছে। ১-এর ভাজক মাত্র একটি, তাই ১ মৌলিকও নয়, যৌগিকও নয়। সবচেয়ে ছোট সংখ্যা যার ভাজক ঠিক দুটি (১ ও ২), সেটি হলো ২। আবার ৩ও মৌলিক, কিন্তু ২ ছোট।
    মনে রাখুন:
    ২ হলো একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা।
    প্রথম কয়েকটি মৌলিক সংখ্যা: ২, ৩, ৫, ৭, ১১, ১৩।
    ১ থেকে ১০০-র মধ্যে মোট ২৫টি মৌলিক সংখ্যা আছে।
  10. ১২৯. ১, ২ এবং ৩ অঙ্ক তিনটি প্রত্যেকটি একবার করে ব্যবহার করে তিন অঙ্কের যতগুলো সংখ্যা লেখা যায়, তাদের সমষ্টি কত?
    • ক. ১২২৩
    • খ. ১২৩৩
    • গ. ১৩২৩
    • ঘ. ১৩৩২
    উত্তর: ঘ. ১৩৩২
    তিনটি অঙ্ক ১, ২, ৩ প্রতিবার একবার করে ব্যবহার করলে মোট 3! = 6টি তিন অঙ্কের সংখ্যা তৈরি হয়। সংখ্যাগুলো হলো ১২৩, ১৩২, ২১৩, ২৩১, ৩১২ ও ৩২১।
    এদের যোগ করলে পাই 123 + 132 + 213 + 231 + 312 + 321 = 1332।
    দ্রুত করার উপায়: প্রতিটি অঙ্ক এককের স্থানে ২ বার, দশকের স্থানে ২ বার ও শতকের স্থানে ২ বার বসে। তাই যোগফল = 2 × (1+2+3) × 111 = 2 × 6 × 111 = 1332।
    মনে রাখুন: অঙ্কগুলো আলাদা হলে যোগফল = (অঙ্কের যোগফল) × (প্রতি স্থানে বসার সংখ্যা) × 111।
  11. ১৩০. 2 logx − log(2x−1) = 0 হলে, x = কত?
    • ক. −1
    • খ. 1
    • গ. 0
    • ঘ. ½
    উত্তর: খ. 1
    লগারিদমের নিয়মে 2 log x = log x² এবং শর্ত অনুযায়ী log x² − log(2x−1) = 0, অর্থাৎ log x² = log(2x−1)।
    দুই পাশের লগ সমান হলে রাশি দুটিও সমান, তাই x² = 2x − 1। এখান থেকে x² − 2x + 1 = 0, অর্থাৎ (x − 1)² = 0। সুতরাং x = 1।
    যাচাই: x = 1 বসালে 2 log 1 − log 1 = 0 − 0 = 0, শর্ত মিলে যায়। আবার x = −1 বা x = 0 হলে log অসংজ্ঞায়িত, কারণ ঋণাত্মক বা শূন্যের লগ হয় না।
    মনে রাখুন: log a = log b হলে a = b; আর লগের ভেতরের রাশি সবসময় ধনাত্মক হতে হবে।
  12. ১৩১. p³ + 1/p³ = 0 হলে, p² + 1/p² এর মান কত?
    • ক. 1
    • খ. −1
    • গ. 0
    • ঘ. 2
    উত্তর: ক. 1
    দেওয়া আছে p³ + 1/p³ = 0। ঘনের সূত্রে p³ + 1/p³ = (p + 1/p)³ − 3(p + 1/p)। ধরি p + 1/p = m, তাহলে m³ − 3m = 0, অর্থাৎ m(m² − 3) = 0।
    তাহলে m² = 3 অথবা m = 0। m² = 3 হলে p² + 1/p² = (p + 1/p)² − 2 = 3 − 2 = 1। আর m = 0 হলে মান হতো −2, যা কোনো বিকল্পে নেই, তাই প্রশ্নের অভিপ্রেত মান 1।
    মনে রাখুন:
    p² + 1/p² = (p + 1/p)² − 2
    p³ + 1/p³ = (p + 1/p)³ − 3(p + 1/p)
  13. ১৩২. দুই ব্যক্তি একত্রে একটি কাজ ৮ দিনে করতে পারে। ১ম ব্যক্তি একাকী কাজটি ১২ দিনে করে। ২য় ব্যক্তি একাকী কাজটি কত দিনে করতে পারে?
    • ক. ২০ দিনে
    • খ. ২২ দিনে
    • গ. ২৪ দিনে
    • ঘ. ২৬ দিনে
    উত্তর: গ. ২৪ দিনে
    কাজের হিসাবে সাধারণত পুরো কাজকে ১ ধরা হয়। দুজন একসঙ্গে ১ দিনে করেন কাজের 1/8 অংশ। প্রথম ব্যক্তি একা ১ দিনে করেন 1/12 অংশ।
    তাহলে দ্বিতীয় ব্যক্তি একা ১ দিনে করেন 1/8 − 1/12 = (3 − 2)/24 = 1/24 অংশ।
    ১ দিনে 1/24 অংশ হলে পুরো কাজ করতে লাগে 24 দিন।
    মনে রাখুন: দুজনের সময় a ও b হলে একসঙ্গে লাগে ab/(a + b) দিন। এখানে 12 × 24/(12 + 24) = 8, উত্তর মেলে।
  14. ১৩৩. x − y = 2 এবং xy = 24 হলে, x এর ধনাত্মক মান কত?
    • ক. 3
    • খ. 4
    • গ. 5
    • ঘ. 6
    উত্তর: ঘ. 6
    (x + y)² = (x − y)² + 4xy সূত্র ব্যবহার করি। এখানে (x + y)² = 2² + 4 × 24 = 4 + 96 = 100, তাই x + y = ±10।
    x + y = 10 এবং x − y = 2 যোগ করলে 2x = 12, অর্থাৎ x = 6 (তখন y = 4, আর xy = 24 মেলে)।
    x + y = −10 নিলে 2x = −8, x = −4 (y = −6), এটি ঋণাত্মক। প্রশ্নে ধনাত্মক মান চাওয়া হয়েছে, তাই x = 6।
    মনে রাখুন: (x + y)² − (x − y)² = 4xy, আর দুই সংখ্যার যোগ ও বিয়োগ জানা থাকলে সংখ্যা দুটি সহজে পাওয়া যায়।
  15. ১৩৪. x + y = √7 এবং x − y = √5 হলে, 8xy(x² + y²) এর মান কত?
    • ক. 24
    • খ. 25
    • গ. 26
    • ঘ. 27
    উত্তর: ক. 24
    যোগ ও বিয়োগফল দেওয়া থাকলে সূত্র ব্যবহার করা সুবিধাজনক। (x + y)² = 7 এবং (x − y)² = 5।
    (x + y)² − (x − y)² = 4xy হওয়ায় 4xy = 7 − 5 = 2, তাই 8xy = 4। আবার (x + y)² + (x − y)² = 2(x² + y²) হওয়ায় x² + y² = (7 + 5)/2 = 6।
    অতএব 8xy(x² + y²) = 4 × 6 = 24।
    মনে রাখুন:
    (x + y)² + (x − y)² = 2(x² + y²)
    (x + y)² − (x − y)² = 4xy
  16. ১৩৫. x^a = y, y^b = z, z^c = x হলে, abc এর মান কত?
    • ক. 0
    • খ. 1
    • গ. 2
    • ঘ. 3
    উত্তর: খ. 1
    x^a = y, y^b = z, z^c = x। প্রথম সমীকরণের y এর মান দ্বিতীয়টিতে বসাই। z = y^b = (x^a)^b = x^(ab)।
    এবার এটি তৃতীয় সমীকরণে বসাই: x = z^c = (x^(ab))^c = x^(abc)।
    এখানে x = x^(abc), অর্থাৎ x^1 = x^(abc)। x কে সাধারণত 1 ও 0 থেকে আলাদা ধরা হয়, তাই ঘাতও সমান হতে হবে: abc = 1।
    মনে রাখুন:
    ভিত্তি সমান হলে ঘাত সমান হয়।
    (a^m)^n = a^(mn)।
    চক্রাকার ঘাতের সমীকরণে সব ঘাত গুণ করলে সাধারণত 1 পাওয়া যায়।
  17. ১৩৬. x + 1/x = 2 হলে, x − 1/x এর মান কত?
    • ক. 1
    • খ. −1
    • গ. 0
    • ঘ. 2
    উত্তর: গ. 0
    x + 1/x = 2 থেকে সরাসরি x² + 1 = 2x, অর্থাৎ x² − 2x + 1 = 0, বা (x − 1)² = 0। সুতরাং x = 1।
    তাহলে x − 1/x = 1 − 1/1 = 0।
    সূত্র দিয়েও করা যায়: (x − 1/x)² = (x + 1/x)² − 4 = 4 − 4 = 0, তাই x − 1/x = 0।
    মনে রাখুন: (x + 1/x)² − (x − 1/x)² = 4, এটি একটি কাজের সূত্র।
  18. ১৩৭. f(x) = x³ − x² − x − 1/8 হলে, f(−1/2) এর মান কত?
    • ক. ½
    • খ. 1
    • গ. 0
    • ঘ. −½
    উত্তর: গ. 0
    f(x) বহুপদীতে x-এর জায়গায় −1/2 বসাতে হবে। প্রতিটি পদ আলাদা করে বের করি।
    x³ = (−1/2)³ = −1/8
    −x² = −(1/4) = −1/4
    −x = +1/2
    শেষ পদ = −1/8
    এবার সব যোগ করি: −1/8 − 2/8 + 4/8 − 1/8 = 0/8 = 0।
    তাই f(−1/2) = 0, অর্থাৎ (2x + 1) রাশিটি f(x)-এর একটি উৎপাদক।
    মনে রাখুন:
    উৎপাদক-উপপাদ্য অনুযায়ী f(a) = 0 হলে (x − a) রাশিটি f(x)-কে নিঃশেষে ভাগ করে।
    ঋণাত্মক ভগ্নাংশ বসানোর সময় ঘাত অনুযায়ী চিহ্ন বদলায়, বিজোড় ঘাতে ঋণাত্মক থাকে।
  19. ১৩৮. x⁴ − x² + 1 = 0 হলে (x + 1/x)² এর মান কত?
    • ক. 0
    • খ. 2
    • গ. −1
    • ঘ. 3
    উত্তর: ঘ. 3
    দেওয়া আছে x⁴ − x² + 1 = 0। x ≠ 0 হওয়ায় x² দিয়ে ভাগ করা যায়: x² − 1 + 1/x² = 0, অর্থাৎ x² + 1/x² = 1।
    এখন (x + 1/x)² = x² + 1/x² + 2 = 1 + 2 = 3।
    মনে রাখুন:
    (x + 1/x)² = x² + 1/x² + 2
    (x − 1/x)² = x² + 1/x² − 2
    এই দুই সূত্র প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় আসে।
  20. ১৩৯. a + b = 5 এবং a² − b² = 15 হলে, ab এর মান কত?
    • ক. 4
    • খ. 3
    • গ. 2
    • ঘ. 1
    উত্তর: ক. 4
    a² − b² = (a + b)(a − b) সূত্র ব্যবহার করি। দেওয়া আছে a + b = 5, তাই 15 = 5 × (a − b) এবং a − b = 3।
    a + b = 5 ও a − b = 3 যোগ করলে 2a = 8, a = 4। তাহলে b = 5 − 4 = 1।
    অতএব ab = 4 × 1 = 4।
    যাচাই: a² − b² = 16 − 1 = 15, যা শর্তের সঙ্গে মেলে।
    মনে রাখুন: যোগ ও বিয়োগফল পেলে দুটি সংখ্যা সরাসরি পাওয়া যায়: বড় সংখ্যা = (যোগ + বিয়োগ)/2।
  21. ১৪০. 4∛4 এর 16 ভিত্তিক লগ কত?
    • ক. 2/3
    • খ. 1
    • গ. 3/2
    • ঘ. 4/3
    উত্তর: ক. 2/3
    লগারিদমের ভিত্তি 16 = 4² হওয়ায় সংখ্যাটিকে 4-এর ঘাতে লিখি। 4∛4 = 4 × 4^(1/3) = 4^(1 + 1/3) = 4^(4/3)।
    16 = 4², তাই 4 = 16^(1/2)। তাহলে 4^(4/3) = (16^(1/2))^(4/3) = 16^((1/2) × (4/3)) = 16^(2/3)।
    সুতরাং log₁₆(4∛4) = log₁₆ 16^(2/3) = 2/3।
    অন্য উপায়: 4∛4 = 2² × 2^(2/3) = 2^(8/3) এবং 16 = 2⁴, তাই লগ = (8/3) ÷ 4 = 2/3।
    মনে রাখুন:
    log_a a^n = n এবং a^m × a^n = a^(m+n)।
    ভিত্তি ও সংখ্যা একই সংখ্যার ঘাতে লিখতে পারলে লগ সহজে পাওয়া যায়।
  22. ১৪১. x⁻⁴ − 0.0001 = 0 হলে, x এর মান কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
    • ক. 100
    • খ. 10
    • গ. 1/100
    • ঘ. 1/1000
    উত্তর: খ. 10
    ঋণাত্মক ঘাতের নিয়মে x⁻⁴ = 1/x⁴। শর্তটি তাই 1/x⁴ − 0.0001 = 0, অর্থাৎ 1/x⁴ = 0.0001 = 1/10000।
    এ থেকে x⁴ = 10000 = 10⁴, অতএব x = 10 (ধনাত্মক বাস্তব মান)।
    যাচাই: 10⁻⁴ = 1/10000 = 0.0001, মিলে যায়।
    (x = −10-ও সমীকরণ সিদ্ধ করে, কারণ জোড় ঘাতে ঋণাত্মক চিহ্ন চলে যায়, কিন্তু বিকল্পে −10 নেই।)
    মনে রাখুন:
    a⁻ⁿ = 1/aⁿ, আর 0.0001 = 10⁻⁴।
    শর্টকাট: 0.0001-এ ৪টি দশমিক ঘর, তাই এটি 10⁻⁴।
    x⁴ = k হলে x = ⁴√k (ধনাত্মক মান)।
  23. ১৪২. 2^x + 2^(1−x) = 3 হলে, x = কত?
    • ক. 1,2
    • খ. 0,2
    • গ. 1,3
    • ঘ. 0,1
    উত্তর: ঘ. 0,1
    2^(1−x) = 2/2^x। ধরি 2^x = a, তাহলে সমীকরণটি হয় a + 2/a = 3।
    উভয় পক্ষকে a দিয়ে গুণ করে a² + 2 = 3a, বা a² − 3a + 2 = 0। উৎপাদকে ভাঙলে (a − 1)(a − 2) = 0, তাই a = 1 অথবা a = 2।
    a = 2^x = 1 হলে x = 0 এবং a = 2^x = 2 হলে x = 1। অতএব x = 0, 1।
    মনে রাখুন: ঘাতসূচক সমীকরণে 2^x কে একটি অক্ষর ধরে দ্বিঘাত সমীকরণে রূপ দেওয়া যায়।
  24. ১৪৩. একটি বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা এর কর্ণের দৈর্ঘ্যের কত গুণ?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
    • ক. 1/√2
    • খ. √2
    • গ. 2√2
    • ঘ. 2
    উত্তর: গ. 2√2
    বর্গক্ষেত্রের এক বাহু a হলে পরিসীমা = 4a। কর্ণ বর্গক্ষেত্রকে দুটি সমকোণী সমদ্বিবাহু ত্রিভুজে ভাগ করে, তাই পিথাগোরাসের সূত্রে কর্ণ = √(a² + a²) = √2·a।
    পরিসীমা ÷ কর্ণ = 4a/(√2·a) = 4/√2 = (4√2)/2 = 2√2।
    অর্থাৎ পরিসীমা কর্ণের 2√2 গুণ।
    যাচাই: a = 1 ধরলে পরিসীমা 4, কর্ণ √2 ≈ 1.414 এবং 4/1.414 ≈ 2.83, যা 2√2 ≈ 2.83 এর সমান।
    মনে রাখুন:
    বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল = a² = কর্ণ²/2
    কর্ণ = √2 × বাহু
    আয়তক্ষেত্রের কর্ণ = √(দৈর্ঘ্য² + প্রস্থ²)
  25. ১৪৪. দুইটি বৃত্তের ব্যাসার্ধের অনুপাত ৩ : ২ হলে বৃত্ত দুইটির ক্ষেত্রফলের অনুপাত কত হবে?
    • ক. ২ : ৩
    • খ. ১৩ : ৪
    • গ. ৯ : ৪
    • ঘ. ১৪ : ৯
    উত্তর: গ. ৯ : ৪
    বৃত্তের ক্ষেত্রফল πr², অর্থাৎ ব্যাসার্ধের বর্গের সমানুপাতিক। তাই অনুপাত = ৩² : ২² = ৯ : ৪।
  26. ১৪৫. একটি সমবাহু ত্রিভুজের একটি বাহুর দৈর্ঘ্য 2a একক হলে, ত্রিভুজটির ক্ষেত্রফল কত বর্গএকক?
    • ক. (√3/2)a²
    • খ. (√3/4)a²
    • গ. (3/2)a²
    • ঘ. √3a²
    উত্তর: ঘ. √3a²
    সমবাহু ত্রিভুজের বাহু s হলে ক্ষেত্রফল = (√3/4)s²। এখানে বাহু s = 2a। উচ্চতা বের করে ক্ষেত্রফল যাচাই করা যায়। বাহু 2a হলে উচ্চতা h = (√3/2) × 2a = √3·a এবং ক্ষেত্রফল = ½ × 2a × √3·a = √3·a², একই ফল আসে।
    ক্ষেত্রফল = (√3/4) × (2a)² = (√3/4) × 4a² = √3·a² বর্গএকক।
    লক্ষ করি, বাহু 2a ধরায় 4 কেটে যায়, তাই উত্তর সরল হয়। a বাহু হলে অবশ্য উত্তর হতো (√3/4)a², যা দ্বিতীয় বিকল্পের মতো, সেখানে ফাঁদ আছে।
    মনে রাখুন:
    উচ্চতা = (√3/2) × বাহু
    পরিসীমা = 3 × বাহু
    সূত্র যাচাই: উচ্চতা h = √(s² − (s/2)²) = (√3/2)s এবং ক্ষেত্রফল = ½ × s × h।
  27. ১৪৬. a/b + b/a = 6 হলে, a²/b² + b²/a² এর মান কত?
    • ক. 32
    • খ. 36
    • গ. 34
    • ঘ. 30
    উত্তর: গ. 34
    a/b + b/a = 6 হলে বর্গ করি: (a/b + b/a)² = a²/b² + 2·(a/b)(b/a) + b²/a²। এখানে (a/b)(b/a) = 1, তাই মাঝের পদ 2 হয় এবং বর্গের ফল a²/b² + 2 + b²/a²।
    বামপক্ষ 6² = 36, তাই a²/b² + 2 + b²/a² = 36।
    এ থেকে a²/b² + b²/a² = 36 − 2 = 34।
    মনে রাখুন:
    x + 1/x = k হলে x² + 1/x² = k² − 2। এখানে x = a/b ধরলেই 1/x = b/a হয়।
    x − 1/x = k হলে x² + 1/x² = k² + 2।
    একই নিয়মে x³ + 1/x³ = k³ − 3k।
  28. ১৪৭. (x−2)/(x−1) + 1/(x−1) = 2 এর সমাধান সেট নিচের কোনটি?
    • ক. {1}
    • খ. {0}
    • গ. {2}
    • ঘ. { }
    উত্তর: ঘ. { }
    বামপক্ষে দুটি ভগ্নাংশের হর সমান, তাই যোগ করি: (x − 2 + 1)/(x − 1) = (x − 1)/(x − 1)।
    x ≠ 1 হলে এটি 1 হয়, তাই সমীকরণটি দাঁড়ায় 1 = 2, যা কখনও সত্য নয়। আর x = 1 হলে হর শূন্য হয়ে যায়, তাই x = 1 গ্রহণযোগ্য নয়।
    অতএব কোনো মানই সমীকরণ সিদ্ধ করে না এবং সমাধান সেট ফাঁকা সেট { } বা φ।
    মনে রাখুন: ভগ্নাংশযুক্ত সমীকরণে সমাধান পাওয়ার পর দেখতে হবে হর শূন্য হচ্ছে কি না।
  29. ১৪৮. ১৪৪ কোন সংখ্যার ৪০%?
    • ক. ২৬০
    • খ. ২৯০
    • গ. ৩৬০
    • ঘ. ৩৮০
    উত্তর: গ. ৩৬০
    ধরি সংখ্যাটি x। প্রশ্ন অনুযায়ী x-এর ৪০% = ১৪৪, অর্থাৎ x × 40/100 = 144।
    এখান থেকে x = 144 × 100/40 = 144 × 5/2 = 360।
    যাচাই: ৩৬০-এর ৪০% = 360 × 0.4 = 144, মিলে যায়।
    মনে রাখুন:
    কোনো সংখ্যার p% জানা থাকলে পুরো সংখ্যা = (জানা মান × 100) ÷ p।
    শর্টকাট: ৪০% = ২/৫, তাই 144 = x-এর ২/৫ এবং x = 144 × 5/2 = 360।
    ১০% জানা থাকলে ১০ দিয়ে গুণ করলে পুরো সংখ্যা পাওয়া যায়।
  30. ১৪৯. কোন সংখ্যার বর্গমূলের সাথে ৪ যোগ করলে ৫ এর বর্গ হবে?
    • ক. ৪৪১
    • খ. ৪৪২
    • গ. ৪৪৩
    • ঘ. ৪৩৫
    উত্তর: ক. ৪৪১
    ধরি সংখ্যাটি x। প্রশ্ন অনুযায়ী √x + 4 = 5², অর্থাৎ √x + 4 = 25।
    তাহলে √x = 25 − 4 = 21। উভয় পক্ষকে বর্গ করলে x = 21² = 441।
    যাচাই: √441 = 21, 21 + 4 = 25 = 5², মিলে যায়।
    মনে রাখুন:
    ২১ থেকে ২৫ পর্যন্ত বর্গ: ২১² = ৪৪১, ২২² = ৪৮৪, ২৩² = ৫২৯, ২৪² = ৫৭৬, ২৫² = ৬২৫।
    বর্গমূল জানা থাকলে সংখ্যাটি পেতে বর্গ করতে হয়।
    (a + b)² = a² + 2ab + b² দিয়ে 21² = 400 + 40 + 1 = 441 বের করা যায়।
  31. ১৮১. ১ কিলোমিটার সমান কত ইঞ্চি?
    • ক. ৩৯৭০ ইঞ্চি
    • খ. ৩৯৩৭০ ইঞ্চি
    • গ. ৩৯৩৭ ইঞ্চি
    • ঘ. ৩৯৩৭০০ ইঞ্চি
    উত্তর: খ. ৩৯৩৭০ ইঞ্চি
    মেট্রিক ও ইংরেজি এককের সম্পর্ক জানা থাকলে অঙ্কটি সহজ। ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি (প্রায়)। এক কিলোমিটারে ১০০০ মিটার, তাই ১ কিমি = ১০০০ × ৩৯.৩৭ = ৩৯৩৭০ ইঞ্চি।
    অন্য উপায়ে ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেমি। ১ কিমি = ১,০০,০০০ সেমি, তাই ইঞ্চি = 100000 ÷ 2.54 ≈ 39370।
    মনে রাখুন:
    ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি = ৩.২৮ ফুট
    ১ মাইল = ১.৬০৯ কিমি
    ১ ফুট = ১২ ইঞ্চি, ১ গজ = ৩ ফুট
    ১ কিমি = ১০০০ মিটার = ১,০০,০০০ সেমি

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর: অন্যান্য পরীক্ষা

আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন