লিয়ানা বুকস

৪৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ১০ অক্টোবর ২০২৫। এখানে ৯৮টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

  1. ১. 'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
    • ক. উপসর্গ
    • খ. প্রত্যয়
    • গ. ধাতু
    • ঘ. বলক
    উত্তর: ঘ. বলক
    'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু' বাক্যে 'থেকে' একটি অনুসর্গ, আর তার সঙ্গে যুক্ত 'ই' কোনো নতুন অর্থ তৈরি করে না, শুধু বক্তব্যে জোর দেয় (পরিবার থেকে অন্য কোথাও নয়, পরিবার থেকেই)। এমন জোরদানকারী অব্যয়কে নিপাত বা বলক বলে। এই ধরনের শব্দ হলো ই, ও, তো, কি, না।
    উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গড়ে, যেমন অ + সুখ। প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের শেষে বসে শব্দ তৈরি করে, যেমন গাড়ি + ওয়ালা। ধাতু ক্রিয়ার মূল অংশ। এ তিনটির কোনোটিই এখানে 'ই'-এর কাজ নয়।
    মনে রাখুন:
    জোরদানকারী অব্যয়: ই, ও, তো (নিপাত/বলক)
    উদাহরণ: আমিই করব, তুমিও এসো।
  2. ২. আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৫
    উত্তর: খ. ৩
    মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'চণ্ডীদাস' ভণিতাযুক্ত বহু পদ পাওয়া যায়, যা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে একে 'চণ্ডীদাস সমস্যা' বলা হয়। প্রশ্ন, এই নামে একজন কবি ছিলেন, না একাধিক। বিশিষ্ট গবেষক আহমদ শরীফের মতে এই নামে তিনজন কবি ছিলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস এবং দীন চণ্ডীদাস।
    বড়ু চণ্ডীদাস 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা, যা ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার এক গ্রাম থেকে আবিষ্কার করেন। দ্বিজ ও দীন চণ্ডীদাস বৈষ্ণব পদাবলির পদকর্তা।
    মনে রাখুন:
    শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বড়ু চণ্ডীদাস
    চণ্ডীদাস: তিনজন (আহমদ শরীফ)
  3. ৩. মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
    • ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • খ. কায়কোবাদ
    • গ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
    • ঘ. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
    উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
    বাংলা সাহিত্যের কালবিভাগে আধুনিক যুগের সূচনা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের (১৮১২-১৮৫৯) সময় থেকে ধরা হয়। তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-১৮৭৩) ঠিক আগের প্রজন্মের কবি। তাঁর কবিতায় মধ্যযুগের রীতি, যেমন ছড়ার ঢং ও ভক্তি-ঐতিহ্য, এবং নতুন যুগের সমাজ ও সমকালীন বিষয় দুটোই পাওয়া যায়। তাই তাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’। বাকি তিনজন মধুসূদনের পরের যুগের: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (জন্ম ১৮৬১), কায়কোবাদ (‘মহাশ্মশান’ কাব্যের কবি) ও ইসমাইল হোসেন সিরাজী (‘অনল প্রবাহ’ কাব্যের কবি)।
    মনে রাখুন:
    মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
    ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে ‘ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের কবি’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
  4. ৪. 'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী? [মূল প্রশ্নে 'পরিবার' লেখা ছিল]
    • ক. শ্বাস
    • খ. প্রতিজ্ঞা
    • গ. কোমর
    • ঘ. প্রতিশ্রুত
    উত্তর: গ. কোমর
    ‘পরিকর’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কোমর বা কোমরবন্ধ। আগের দিনে কঠিন কাজে নামার আগে কোমরে কাপড় বা বন্ধনী শক্ত করে বাঁধা হতো। সেই ছবি থেকেই ‘কোমর বেঁধে লাগা’ বাগধারা এবং ‘বদ্ধপরিকর’ কথাটি এসেছে। ‘বদ্ধপরিকর’ মানে দৃঢ়সংকল্প বা কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাই ‘পরিকর’ শব্দটির অর্থ কোমর।
    মনে রাখুন:
    ‘পরিকর’ শব্দের আরেক অর্থ দলবল বা পরিজন, কিন্তু এই বাক্যে অর্থ কোমরবন্ধ থেকেই বিকশিত।
    উদাহরণ: তিনি সমাজের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।
  5. ৫. 'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
    • ক. একবচন বোঝাতে
    • খ. বহুবচন বোঝাতে
    • গ. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
    • ঘ. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
    উত্তর: গ. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
    ‘শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়’ বাক্যে কোনো একজন বিশেষ শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর কথা বলা হয়নি, সব শিক্ষক ও সব শিক্ষার্থীর কথা বোঝানো হয়েছে। এখানে ‘শিক্ষক’ ও ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি জাতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। জাতিবাচক অর্থে একবচন শব্দ পুরো শ্রেণিকে বোঝায়, তাই একই শব্দ একবচন ও বহুবচন দুই অর্থই প্রকাশ করে। এ কারণে প্রয়োগ হয়েছে একবচন ও বহুবচন উভয় বোঝাতে।
    মনে রাখুন:
    জাতিবাচক অর্থে একবচন ব্যবহারের আরও উদাহরণ: ‘মানুষ মরণশীল’, ‘গরু গৃহপালিত পশু’।
    বাংলায় বহুবচন বোঝাতে রা, এরা, গুলো, গুলি, সব, সকল, বৃন্দ, গণ ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।
  6. ৬. 'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
    • ক. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না
    • খ. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
    • গ. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
    • ঘ. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
    উত্তর: ঘ. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
    যে বাক্যে না-বোধক শব্দ থাকে না, অথচ নেতিবাচক ভাব না রেখে একই অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বলে। ‘তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না’ বাক্যটি নেতিবাচক, এর অর্থ ঘুমাতে পারেননি, অর্থাৎ জেগে ছিলেন। তাই অস্তিবাচক রূপ ‘তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন’, যেখানে কোনো না নেই, আর অর্থও অক্ষুণ্ণ আছে। অন্য বিকল্পগুলোতে ‘কথা না শুনে’ বসিয়ে ঘটনাটিই বদলে ফেলা হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক করতে বিপরীতার্থক শব্দ বসানো হয়, যেমন ‘সে সত্য বলেনি’ থেকে ‘সে মিথ্যা বলেছে’।
    উদাহরণ: ‘এ কাজ আমার অসাধ্য’ থেকে ‘এ কাজ আমি পারব না’।
  7. ৭. কোন্ ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়?
    • ক. ক্রন্দন > কাঁদা
    • খ. অঞ্চল > আঁচল
    • গ. সংগীত > গীতিকা
    • ঘ. দন্ত > দাঁত
    উত্তর: গ. সংগীত > গীতিকা
    ধ্বনি পরিবর্তনে তৎসম শব্দ কালক্রমে মুখে মুখে ক্ষয়ে ও বদলে তদ্ভব রূপ নেয়। ক্রন্দন > কাঁদা, অঞ্চল > আঁচল ও দন্ত > দাঁত প্রতিটিতেই যুক্তব্যঞ্জন সরল হয়ে স্বর অনুনাসিক হয়েছে। এটি স্বরের অনুনাসিকীভবন। কিন্তু ‘সংগীত > গীতিকা’ ধ্বনি পরিবর্তন নয়, ‘গীতিকা’ আলাদা একটি তৎসম শব্দ যা ‘গীত’ ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগ করে গঠিত। দুটি শব্দের গঠন ও অর্থ আলাদা। তাই এই পরিবর্তনটি যথাযথ নয়।
    মনে রাখুন:
    আরও উদাহরণ: চন্দ্র > চাঁদ, বন্ধ > বাঁধ, পক্ষী > পাখি, শৃঙ্খল > শিকল।
  8. ৮. কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর-
    • ক. বাঁধন-হারা
    • খ. মৃত্যুক্ষুধা
    • গ. কুহেলিকা
    • ঘ. শিউলিমালা
    উত্তর: গ. কুহেলিকা
    কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি উপন্যাস ‘বাঁধনহারা’ (১৯২৭), ‘মৃত্যুক্ষুধা’ (১৯৩০) ও ‘কুহেলিকা’ (১৯৩১)। ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর, এক বিপ্লবী তরুণ। ‘বাঁধনহারা’ পত্রোপন্যাস, অর্থাৎ চিঠির আকারে লেখা উপন্যাস। ‘মৃত্যুক্ষুধা’ দারিদ্র্য ও ক্ষুধার চিত্র নিয়ে লেখা। ‘শিউলিমালা’ উপন্যাস নয়, এটি নজরুলের গল্পগ্রন্থ।
    মনে রাখুন:
    নজরুলের গল্পগ্রন্থ: ‘ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’, ‘শিউলিমালা’।
    নজরুলের প্রথম কাব্য ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২), আর বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’।
  9. ৯. 'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে?
    • ক. জোর
    • খ. ঊর্ধ্ব
    • গ. আড়াল
    • ঘ. গতি
    উত্তর: খ. ঊর্ধ্ব
    বাংলা উপসর্গ বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। সংস্কৃত ‘উৎ’ উপসর্গ সাধারণত ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে ভাব বোঝায়। উৎ + ক্ষেপণ = উৎক্ষেপণ, অর্থাৎ ওপরের দিকে নিক্ষেপ, যেমন রকেট উৎক্ষেপণ। একইভাবে উৎ + থান = উত্থান (ওপরে ওঠা), উৎ + গম = উদ্গম (ওপরে ওঠা বা জন্ম)। তাই এখানে ‘উৎ’-এর অর্থ ঊর্ধ্ব।
    মনে রাখুন:
    ‘উৎ’ উপসর্গের অন্য অর্থ: প্রাবল্য, যেমন উৎকণ্ঠা; অভাব, যেমন উচ্ছৃঙ্খল।
    সংস্কৃত উপসর্গ মোট বিশটি, যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
  10. ১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন?
    • ক. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
    • খ. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে
    • গ. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
    • ঘ. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
    উত্তর: ঘ. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
    বাংলায় ‘এ’ স্বরধ্বনির দুটি উচ্চারণ আছে। একটি সংবৃত ‘এ’ (যেমন ‘একা’, ‘দেশ’), অন্যটি বিবৃত ‘অ্যা’ (যেমন ‘এক’ উচ্চারিত হয় ‘অ্যাক’, ‘দেখা’ উচ্চারিত হয় ‘দ্যাখা’)। লেখায় দুটির জন্য একই ‘এ’ বর্ণ ব্যবহৃত হয় বলে পাঠকের বিভ্রান্তি হতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পার্থক্য বোঝাতে চেয়েছিলেন। শব্দের শুরুতে যেখানে ‘অ্যা’ উচ্চারণ হয়, সেখানে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করে তিনি ‘অ্যা’ উচ্চারণ বোঝাতেন। তাই উত্তর ‘অ্যা’ উচ্চারণ বোঝাতে।
    মনে রাখুন:
    বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়নে রবীন্দ্রনাথের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাঁর ‘বাংলাভাষা পরিচয়’ গ্রন্থে বাংলা ভাষা ও ধ্বনি নিয়ে আলোচনা আছে।
    ধ্বনির দুই উচ্চারণ থাকার আরও উদাহরণ: ‘ব্যাঙ’ (ব্যাং), ‘ব্যবহার’ (ব্যাবহার)।
  11. ১১. কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
    • ক. ডাক্তারখানা
    • খ. হাসপাতাল
    • গ. আকাশছোঁয়া
    • ঘ. গুণমান
    উত্তর: ক. ডাক্তারখানা
    প্রত্যয় হলো শব্দ বা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠনকারী অংশ। ‘ডাক্তারখানা’ শব্দে ‘ডাক্তার’ ইংরেজি আর ‘খানা’ ফারসি প্রত্যয়। ‘-খানা’ স্থান বোঝায়, তাই অর্থ ডাক্তার যেখানে রোগী দেখেন। এটি বিদেশি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি ‘hospital’ শব্দের রূপান্তর। ‘আকাশছোঁয়া’ ও ‘গুণমান’ দুটি পদ মিলে সমাসে গঠিত।
    মনে রাখুন:
    ‘খানা’ প্রত্যয়যোগে আরও শব্দ: কারখানা, ছাপাখানা, দাওয়াইখানা, গোসলখানা।
    অন্যান্য বিদেশি প্রত্যয়: -দার (দোকানদার), -গিরি (বাবুগিরি), -বাজ (ধোঁকাবাজ)।
  12. ১২. 'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।'- এখানে ভুল ঘটেছে-
    • ক. বানান ও প্রত্যয়ের
    • খ. অর্থ ও বচনের
    • গ. অর্থ ও প্রত্যয়ের
    • ঘ. বানান ও বচনের
    উত্তর: ঘ. বানান ও বচনের
    এই বাক্যে দুটি ভুল আছে। প্রথমত, ‘অনেক’ শব্দ নিজেই বহুত্ব বোঝায়, তাই তার সঙ্গে আবার ‘ব্যক্তিরা’ বহুবচন যোগ করলে বহুবচনের দ্বিরুক্তি ঘটে। এটি বচনের ভুল। শুদ্ধ রূপ ‘অনেক ব্যক্তি’। দ্বিতীয়ত, ‘না’ নঞর্থক অব্যয়, একে ক্রিয়ার সঙ্গে আলাদা বসাতে হয়, তাই ‘চায়না’ ভুল, ঠিক ‘চায় না’। এটি বানানের ভুল। অতএব ভুল ঘটেছে বানান ও বচনের। শুদ্ধ বাক্য: ‘সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।’
    মনে রাখুন:
    সংখ্যাবাচক বা পরিমাণবাচক শব্দের পরে আবার বহুবচনের চিহ্ন বসে না। যেমন ‘অনেক লোক’ শুদ্ধ, ‘অনেক লোকেরা’ অশুদ্ধ।
    অনুরূপ ভুল: ‘সকল ছাত্ররা’ ভুল, ঠিক ‘সকল ছাত্র’।
  13. ১৩. পরিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়-
    • ক. ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর
    • খ. বিদেশি শব্দের অনুবাদ
    • গ. বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
    • ঘ. ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ
    উত্তর: গ. বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
    পারিভাষিক শব্দ (technical term) হলো কোনো বিশেষ জ্ঞানশাখা বা বিষয়ে নির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত শব্দ। সাধারণ ব্যবহারে শব্দটির যে অর্থই থাকুক, সেই বিষয়ে এর একটি স্থির অর্থ থাকে। যেমন রসায়নে ‘অম্ল’, প্রশাসনে ‘সচিব’, ব্যাকরণে ‘সমাস’। অনেক পারিভাষিক শব্দ ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপ হিসেবে তৈরি হয়েছে, কিন্তু সংজ্ঞার মূল কথা বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থ। তাই উত্তর তৃতীয় বিকল্পটি।
    মনে রাখুন:
    পরিভাষা (terminology) হলো পারিভাষিক শব্দের সমষ্টি। পরিভাষা তৈরি করে বাংলা একাডেমি।
    পারিভাষিক শব্দ বা পরিভাষার উদাহরণ: Secretary = সচিব, Acid = অম্ল।
  14. ১৪. 'মৃগয়া' শব্দের মৃগ বলতে কি বোঝানো হয়?
    • ক. বানর
    • খ. সিংহ
    • গ. পশু
    • ঘ. বন
    উত্তর: গ. পশু
    ‘মৃগয়া’ মানে শিকার। শব্দটি সংস্কৃত ‘মৃগ’ থেকে এসেছে। সংস্কৃতে ‘মৃগ’ শব্দের আদি অর্থ বনের যেকোনো পশু। পরে অর্থ সংকুচিত হয়ে বিশেষভাবে হরিণ বোঝাতে শুরু করে। কিন্তু ‘মৃগয়া’ শব্দে ‘মৃগ’ বলতে সাধারণ অর্থে পশুই বোঝায়, তাই মৃগয়া মানে পশু শিকার। এই আদি অর্থের চিহ্ন রয়ে গেছে ‘মৃগেন্দ্র’ শব্দে, যার অর্থ পশুদের রাজা, অর্থাৎ সিংহ।
    মনে রাখুন:
    অর্থ সংকোচন মানে শব্দের ব্যাপক অর্থ ক্রমে সীমিত হয়ে যাওয়া।
    মৃগনাভি হরিণের নাভি থেকে পাওয়া সুগন্ধি পদার্থ।
  15. ১৫. কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?
    • ক. নীরব
    • খ. উজ্জ্বল
    • গ. মানোত্তীর্ণ
    • ঘ. সংগ্রাম
    উত্তর: ক. নীরব
    যে সন্ধিতে বিসর্গ (ঃ) সন্ধির অংশ হয়, তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। ‘নীরব’ শব্দটি নিঃ + রব থেকে গঠিত। এখানে বিসর্গ লোপ পেয়েছে এবং আগের ই-কার দীর্ঘ ঈ-কার হয়ে গেছে। এ নিয়মে র-এর আগে বিসর্গ থাকলে বিসর্গ লোপ পায় ও আগের স্বর দীর্ঘ হয়। তাই নীরব বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। অন্য শব্দগুলো: উজ্জ্বল = উৎ + জ্বল (ব্যঞ্জন সন্ধি), সংগ্রাম = সম্ + গ্রাম (ব্যঞ্জন সন্ধি), মানোত্তীর্ণ = মান + উত্তীর্ণ (স্বরসন্ধি)।
    মনে রাখুন:
    বিসর্গ সন্ধির আরও উদাহরণ: নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ, দুঃ + কর্ম = দুষ্কর্ম, মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট।
    সন্ধি তিন ধরনের: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গ সন্ধি।
  16. ১৬. ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
    • ক. অক্ষর
    • খ. রূপমূল
    • গ. শব্দ
    • ঘ. বর্গ
    উত্তর: খ. রূপমূল
    ভাষার সবচেয়ে ছোট অর্থবোধক একক রূপমূল (Morpheme)। এর নিজস্ব অর্থ বা ব্যাকরণিক কাজ থাকে এবং একে আর ছোট অর্থবোধক অংশে ভাঙা যায় না। যেমন ‘ছেলেরা’ শব্দে ‘ছেলে’ ও ‘-রা’ দুটি রূপমূল। ‘ছেলে’ একটি অর্থ বহন করে আর ‘-রা’ বহুবচনের ধারণা দেয়। অক্ষর বা বর্ণ ধ্বনির প্রতীক, তাদের নিজস্ব অর্থ নেই। শব্দ একাধিক রূপমূল দিয়ে গঠিত হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভাষার সবচেয়ে ছোট ধ্বনিগত একক ধ্বনিমূল (Phoneme), যা অর্থ বদলাতে পারে, যেমন ‘কাল’ ও ‘খাল’ শব্দে ক ও খ আলাদা ধ্বনিমূল।
    রূপমূল দুই ধরনের: মুক্ত রূপমূল (যেমন ছেলে) ও বদ্ধ রূপমূল (যেমন -রা)।
  17. ১৭. ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
    • ক. লেখার ধরনে
    • খ. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
    • গ. সংখ্যাগত পরিমানে
    • ঘ. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
    উত্তর: ঘ. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
    ধ্বনি ও বর্ণের মূল পার্থক্য কোন ইন্দ্রিয় দিয়ে আমরা এদের গ্রহণ করি তার মধ্যে। ধ্বনি মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয় এবং আমরা তা কানে শুনি। আর বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক বা চিহ্ন, যা আমরা চোখে দেখি। তাই ধ্বনি শ্রবণেন্দ্রিয়গ্রাহ্য, বর্ণ দৃশ্যেন্দ্রিয়গ্রাহ্য। এভাবে ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতায়।
    মনে রাখুন:
    বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি, মোট ৫০টি বর্ণ।
    বর্ণ হলো ধ্বনি প্রকাশের লিখিত রূপ।
  18. ১৮. চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন-
    • ক. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
    • খ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
    • গ. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
    • ঘ. সুকুমার সেন
    উত্তর: ঘ. সুকুমার সেন
    হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন। এই পুঁথির কিছু পদ খণ্ডিত বা অনুপস্থিত ছিল। চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদও পাওয়া যায়। সেই অনুবাদের সাহায্যে সুকুমার সেন খণ্ডিত পদগুলোর পাঠ প্রাচীন বাংলায় রূপান্তরিত করেন। এ বিষয়ে প্রবোধচন্দ্র বাগচীর কাজও গুরুত্বপূর্ণ।
    মনে রাখুন:
    চর্যাপদ ‘হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
    চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন, এর পদকর্তাদের মধ্যে লুইপা ও কাহ্নপা বিখ্যাত।
  19. ১৯. 'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
    • ক. স্বীয়-এর অধীন
    • খ. সত্ত্বার অধীন
    • গ. স্ব-এর অধীন
    • ঘ. স্বত্তের-অধীন
    উত্তর: গ. স্ব-এর অধীন
    ব্যাসবাক্য হলো সমাসবদ্ধ পদের বিশ্লেষিত রূপ। ‘স্ব’ মানে নিজ বা নিজের। ‘স্বাধীন’ শব্দের অর্থ নিজের অধীন, তাই ব্যাসবাক্য ‘স্ব-এর অধীন’। এখানে প্রথম পদের সঙ্গে দ্বিতীয় পদের সম্বন্ধ (‘-এর’) বোঝায়, তাই এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। ‘স্বীয়’ মানে নিজের, কিন্তু ‘স্বীয়-এর অধীন’ বললে ‘নিজের-এর’ জাতীয় দ্বিরুক্তি হয়। তাই ‘স্ব-এর অধীন’ সঠিক।
    মনে রাখুন:
    ষষ্ঠী তৎপুরুষের আরও উদাহরণ: রাজপুত্র (রাজার পুত্র), দেশসেবা (দেশের সেবা)।
    তৎপুরুষ সমাসে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
  20. ২০. ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি?
    • ক. হরফের ছড়া
    • খ. বর্ণশিক্ষা
    • গ. বর্ণপরিচয়
    • ঘ. সহজ ছড়া
    উত্তর: ক. হরফের ছড়া
    ‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের শিশুতোষ ছড়ার বই। এতে বর্ণমালার প্রতিটি হরফ নিয়ে ছড়া আছে। ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪) মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪) এবং আরেক বিখ্যাত কাব্য ‘হাতেম তা’য়ী’। ‘বর্ণপরিচয়’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা বাংলা বর্ণশিক্ষার বই। ‘বর্ণশিক্ষা’ ও ‘সহজ ছড়া’ ফররুখ আহমদের গ্রন্থ নয়।
    মনে রাখুন:
    ফররুখ আহমদকে ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ বলা হয়।
    তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা ‘সিরাজাম মুনীরা’।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য

  1. ২১. Pick the correctly spelt word:
    • ক. Conscintious
    • খ. Consientious
    • গ. Concientious
    • ঘ. Conscientious
    উত্তর: ঘ. Conscientious
    সঠিক বানান ‘Conscientious’, অর্থ বিবেকবান বা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা। শব্দটি ‘conscience’ (বিবেক) থেকে এসেছে, তাই এর বানানে ‘sc’ এবং ‘ie’ দুটোই থাকে। বানানটি ভাঙলে দাঁড়ায় con-sci-en-tious। বিকল্পের অন্য বানানগুলোতে হয় ‘sc’ বা ‘ie’-র মধ্যে একটি বাদ পড়েছে, নয়তো ‘i’ ও ‘e’-র ক্রম বদলে গেছে।
    মনে রাখুন:
    Conscientious-এর সমার্থক: diligent, careful, meticulous।
    Conscious (সচেতন) ও conscientious (বিবেকবান) এক নয়।
  2. ২২. They talked about going on a vacation'. Here 'going' is a/an-
    • ক. participle
    • খ. infinitive
    • গ. verbal noun
    • ঘ. gerund
    উত্তর: ঘ. gerund
    ‘They talked about going on a vacation’ বাক্যে ‘going’ শব্দটি preposition ‘about’-এর object, তাই এটি noun-এর কাজ করছে। কিন্তু এর ভেতরে verb-এর ভাবও আছে, কারণ ‘on a vacation’ অংশটি ‘going’-এর সঙ্গে যুক্ত। Verb-এর সঙ্গে ing যোগ করে যে শব্দ noun-এর কাজ করে এবং object বা adverbial নিতে পারে, তাকে gerund বলে। তাই ‘going’ এখানে gerund।
    মনে রাখুন:
    Preposition-এর পরে verb বসলে সাধারণত gerund (verb + ing) বসে, যেমন ‘He is fond of reading’।
    Present participle adjective-এর কাজ করে, যেমন ‘the running water’।
  3. ২৩. The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the penname-
    • ক. Ellise Bellet
    • খ. Ellis Belle
    • গ. Ellis Bell
    • ঘ. Una Elis
    উত্তর: গ. Ellis Bell
    ব্রন্টি তিন বোন ছদ্মনামে প্রথম বই প্রকাশ করেন, কারণ তখন নারীর লেখা নিয়ে সমাজে পক্ষপাত ছিল। Emily Brontë ‘Wuthering Heights’ (১৮৪৭) প্রকাশ করেন Ellis Bell ছদ্মনামে। তাঁর বোন Charlotte Brontë ‘Jane Eyre’ প্রকাশ করেন Currer Bell নামে, আর Anne Brontë ‘Agnes Grey’ প্রকাশ করেন Acton Bell নামে। তিনজনের ছদ্মনামের আদ্যক্ষর বোনেদের আসল নামের আদ্যক্ষরের সঙ্গে মেলে (E. B., C. B., A. B.)।
    মনে রাখুন:
    ‘Wuthering Heights’-এর প্রধান চরিত্র হিথক্লিফ (Heathcliff) ও ক্যাথরিন।
    Anne Brontë-র আরেকটি উপন্যাস ‘The Tenant of Wildfell Hall’।
  4. ২৪. Which gender is the noun 'neighbour'?
    • ক. Masculine
    • খ. Feminine
    • গ. Neuter
    • ঘ. Common
    উত্তর: ঘ. Common
    Noun-এর লিঙ্গ চার ধরনের: masculine (পুংলিঙ্গ), feminine (স্ত্রীলিঙ্গ), neuter (ক্লীবলিঙ্গ) ও common (উভয়লিঙ্গ)। ‘Neighbour’ শব্দটি দিয়ে পুরুষ বা নারী যে কাউকে বোঝানো যায়, শব্দটি দেখে লিঙ্গ বোঝা যায় না। এ ধরনের noun-কে common gender বলে। তাই neighbour common gender।
    মনে রাখুন:
    Common gender-এর আরও উদাহরণ: teacher, friend, parent, cousin, student।
    Neuter gender প্রাণহীন বস্তুর নাম, যেমন table, book।
  5. ২৫. 'Someone sneezed loudly at the back of the hall'. In this sentence the verb 'sneezed' is-
    • ক. causative
    • খ. intransitive
    • গ. transitive
    • ঘ. factitive
    উত্তর: খ. intransitive
    যে verb-এর অর্থ পূর্ণ করতে object লাগে না, তাকে intransitive verb বলে। ‘Someone sneezed loudly at the back of the hall’ বাক্যে ‘sneezed’ (হাঁচি দেওয়া) ক্রিয়ার কোনো object নেই। ‘Loudly’ ক্রিয়াবিশেষণ এবং ‘at the back of the hall’ স্থান বোঝানো adverbial phrase, দুটোই কেবল ক্রিয়াকে বর্ণনা করছে। ‘কী হাঁচি দিল’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর মেলে না, তাই এটি intransitive। বিপরীতে transitive verb-এর ‘কী’ বা ‘কাকে’ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    উদাহরণ: He kicked the ball (transitive), He laughed (intransitive)।
    Causative verb অন্যকে দিয়ে কাজ করানো বোঝায়, যেমন ‘I had him paint the wall’।
  6. ২৬. A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called a/an-
    • ক. immigrant
    • খ. expatriate
    • গ. emigrant
    • ঘ. migrant
    উত্তর: গ. emigrant
    ‘Emigrant’ সেই ব্যক্তি, যে নিজের দেশ ছেড়ে স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসবাস করতে যায়। ‘Emigrate’-এর e মানে বের হয়ে যাওয়া (from), তাই মূল দেশের দৃষ্টিতে তার নাম emigrant। একই ব্যক্তিকে নতুন দেশের দৃষ্টিতে বলা হয় immigrant, কারণ ‘im-’ মানে ভেতরে আসা (into)। Expatriate হলেন সাধারণত কাজ বা অন্য কারণে বিদেশে থাকা ব্যক্তি, আর migrant বলতে বোঝায় কাজ বা সুযোগের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া ব্যক্তিকে।
    মনে রাখুন:
    Emigrant ও immigrant-এর পার্থক্য: ‘ex’ বা ‘e’ মানে বাইরে, আর ‘im’ মানে ভেতরে।
    উদাহরণ: A Bangladeshi who moves to Canada is an emigrant from Bangladesh and an immigrant in Canada।
  7. ২৭. Identify the word that can be used as both singular and plural:
    • ক. light
    • খ. shot
    • গ. criterion
    • ঘ. cannon
    উত্তর: ঘ. cannon
    কিছু noun-এর singular ও plural রূপ একই থাকে। ‘Cannon’ তার মধ্যে একটি, কামান বোঝায়, যেমন ‘ten cannon’ বা ‘a cannon’। অবশ্য ‘cannons’ রূপটিও চলে। বিকল্পের অন্য শব্দগুলোর plural আলাদা: criterion-এর plural criteria, আর light ও shot-এর plural যথাক্রমে lights ও shots।
    মনে রাখুন:
    Singular ও plural একই রকম noun-এর আরও উদাহরণ: sheep, deer, fish, series, species, aircraft।
    উদাহরণ: There are five sheep in the field।
  8. ২৮. 'After lunch we went for a leisurely stroll'. Here 'leisurely' is a /an-
    • ক. adverb
    • খ. adjective
    • গ. noun
    • ঘ. conjunction
    উত্তর: খ. adjective
    Word-এর শেষে -ly থাকলেই তা adverb হয় না। শব্দটি বাক্যে কী কাজ করছে, তা দেখেই parts of speech ঠিক করতে হয়। ‘After lunch we went for a leisurely stroll’ বাক্যে ‘leisurely’ শব্দটি noun ‘stroll’ (হাঁটাহাঁটি)-এর আগে বসে তার ধরন বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ ধীরেসুস্থে হাঁটা। যে শব্দ noun-এর গুণ বা অবস্থা বোঝায়, সেটি adjective। তাই এখানে leisurely adjective।
    মনে রাখুন:
    -ly যুক্ত আরও কয়েকটি adjective: friendly, lovely, lonely, costly, timely, elderly, early।
    Leisurely কখনো adverb-ও হয়, যেমন ‘He walked leisurely’, যেখানে শব্দটি verb-কে বিশেষিত করে।
  9. ২৯. The play "Englishmen for My Money" was written by-
    • ক. Christopher Marlowe
    • খ. Thomas Kyd
    • গ. William Haughton
    • ঘ. Ben Jonson
    উত্তর: গ. William Haughton
    ‘Englishmen for My Money’ নাটকটি উইলিয়াম হটনের (William Haughton) লেখা, রচনাকাল ১৫৯৮ সাল। এটি এলিজাবেথীয় যুগের একটি কমেডি। নাটকের কাহিনিতে লন্ডনের এক পর্তুগিজ বণিকের তিন মেয়ের বিয়ে নিয়ে মজার ঘটনা ঘটে। নাট্যকার হিসেবে হটন কম পরিচিত। বিকল্পের Christopher Marlowe, Thomas Kyd ও Ben Jonson এলিজাবেথীয় যুগের সুপরিচিত নাট্যকার, কিন্তু এই নাটক তাঁদের নয়।
    মনে রাখুন:
    Marlowe-র বিখ্যাত নাটক ‘Doctor Faustus’, Kyd-এর ‘The Spanish Tragedy’, Ben Jonson-এর ‘Volpone’।
    এলিজাবেথীয় যুগ মোটামুটি ১৫৫৮ থেকে ১৬০৩ সাল পর্যন্ত।
  10. ৩০. "... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". the statement occurs in
    • ক. Robinson Crusoe
    • খ. A Doll's House
    • গ. Vanity Fair
    • ঘ. Gulliver's Travels
    উত্তর: ঘ. Gulliver's Travels
    উদ্ধৃত অংশটি জোনাথন সুইফটের (Jonathan Swift) ব্যঙ্গ-উপন্যাস ‘Gulliver’s Travels’ (১৭২৬)-এর দ্বিতীয় খণ্ড থেকে নেওয়া। দ্বিতীয় খণ্ডে গালিভার দানবাকার মানুষের দেশ ব্রবডিংন্যাগে (Brobdingnag) পৌঁছান। সেখানকার রাজা গালিভারের মুখে ইংল্যান্ডের সমাজ ও শাসনব্যবস্থার বর্ণনা শুনে বলেন, ইংল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়ানো সবচেয়ে ক্ষতিকর ছোট কীটের জাত। এই কথায় সুইফট মানুষের লোভ ও নীচতাকে ব্যঙ্গ করেছেন।
    মনে রাখুন:
    ‘Gulliver’s Travels’-এর চার খণ্ডের দেশ: লিলিপুট, ব্রবডিংন্যাগ, লাপুটা ও হুইহ্‌নহ্‌ম।
    অন্য বিকল্পগুলোর লেখক: ‘Robinson Crusoe’-র Daniel Defoe, ‘A Doll’s House’-এর Henrik Ibsen, ‘Vanity Fair’-এর W. M. Thackeray।
  11. ৩১. 'We know that the earth is a planet'. The underlined part is a/an-
    • ক. noun clause
    • খ. adverbial clause
    • গ. adjective clause
    • ঘ. principal clause.
    উত্তর: ক. noun clause
    যে clause বাক্যে noun-এর মতো কাজ করে, অর্থাৎ verb-এর subject বা object হয়, তাকে noun clause বলে। ‘We know that the earth is a planet’ বাক্যে ‘We know’ হলো principal clause। বাকি অংশ ‘that the earth is a planet’ ‘know’ ক্রিয়ার object হিসেবে ‘কী জানি’ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। তাই এটি noun clause। Noun clause সাধারণত that, what, why, how, whether দিয়ে শুরু হয়।
    মনে রাখুন:
    Subordinate clause তিন ধরনের: noun clause, adjective clause ও adverbial clause।
    উদাহরণ: What he said was true (noun clause, subject হিসেবে)।
  12. ৩২. Select the sentence in which 'better' is an adverb.
    • ক. We're helping for better weather tomorrow.
    • খ. Sound travels better in water than in air.
    • গ. It's hard to decide which one is better.
    • ঘ. He joined the gym to better his health.
    উত্তর: খ. Sound travels better in water than in air.
    ‘Better’ শব্দটি ‘good’ ও ‘well’ দুটির comparative রূপ। Good-এর comparative হলে এটি adjective, আর well-এর comparative হলে adverb। ‘Sound travels better in water than in air’ বাক্যে ‘better’ ‘travels’ verb-কে বিশেষিত করে, অর্থাৎ কতটা ভালোভাবে শব্দ চলে। তাই এটি adverb। অন্য বাক্যগুলোতে: প্রথমটিতে ‘better weather’-এ weather noun-কে বিশেষিত করছে, তাই adjective; তৃতীয়টিতে ‘which one is better’-এ adjective; চতুর্থটিতে ‘to better his health’-এ verb, অর্থ উন্নত করা।
    মনে রাখুন:
    Good-well-এর রূপ: good → better → best, well → better → best।
    উদাহরণ: She sings better than me।
  13. ৩৩. Fill in the blanks with appropriate words. 'Selina knocked it _______ the park with her performance in culinary art.
    • ক. outside
    • খ. out of
    • গ. inside
    • ঘ. off
    উত্তর: খ. out of
    ‘Knock it out of the park’ একটি idiom, যার অর্থ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা। বেসবলে ব্যাটসম্যান এমন জোরে বল মারেন যে তা মাঠের বাইরে চলে যায়, আর এটি হোম রান। সেই ছবি থেকে idiom-টি এসেছে। তাই ফাঁকা স্থানে বসবে ‘out of’, পুরো বাক্য ‘Selina knocked it out of the park with her performance in culinary art’। বাকি preposition বসালে idiom-টি তৈরি হয় না।
    মনে রাখুন:
    খেলাধুলা থেকে আসা আরও কিছু idiom: ‘hit the ground running’, ‘ballpark figure’, ‘the ball is in your court’।
  14. ৩৪. The idiom 'icing on the cake' means -
    • ক. a slice of the cake
    • খ. an attractive but unnecessary addition
    • গ. an attractive service
    • ঘ. an attractive and essential enhancement
    উত্তর: খ. an attractive but unnecessary addition
    ‘Icing on the cake’ idiom-এর অর্থ এমন কিছু, যা ভালো জিনিসকে আরও আকর্ষণীয় করে, কিন্তু তা জরুরি নয়। কেকের ওপরের আইসিং কেকের স্বাদ বা সৌন্দর্য বাড়ায়, তবে কেক এমনিতেই খাওয়ার যোগ্য। তাই এর অর্থ ‘an attractive but unnecessary addition’। এই বাড়তি অংশ ছাড়াও জিনিসটি ভালো থাকে, এটাই মূল কথা।
    মনে রাখুন:
    উদাহরণ: He won the match, and a trophy was the icing on the cake।
    ইংরেজিতে ‘cherry on top’ প্রায় একই অর্থে বলা হয়।
  15. ৩৫. Choose the synonym for 'fright':
    • ক. placidity
    • খ. composure
    • গ. apprehension
    • ঘ. equanimity
    উত্তর: গ. apprehension
    ‘Fright’ মানে হঠাৎ ভয় বা আতঙ্ক। ‘Apprehension’-এর অর্থ আশঙ্কা, দুশ্চিন্তা বা ভয়ের অনুভূতি, তাই এটি fright-এর কাছাকাছি। বাকি তিনটি শব্দ, placidity (প্রশান্তি), composure (ধীরস্থির ভাব) ও equanimity (মানসিক ভারসাম্য), সবগুলো শান্ত থাকা বোঝায়। এগুলো ভয়ের বিপরীত ভাব প্রকাশ করে। তাই সমার্থক শব্দ apprehension।
    মনে রাখুন:
    Fright-এর অন্য সমার্থক শব্দ: terror, dread, panic, alarm।
    Apprehension-এর আরেক অর্থ বোধ বা উপলব্ধি, আর আরেক অর্থ গ্রেপ্তার।
  16. ৩৬. "Rubiyat of Khayyam" is attributed to
    • ক. Edward FitzGerald
    • খ. Scott Fitzgerald
    • গ. Thomas Fitzgerald
    • ঘ. William Fitzgerald
    উত্তর: ক. Edward FitzGerald
    পারস্যের কবি ওমর খৈয়ামের (Omar Khayyam) ‘রুবাইয়াত’ ইংরেজিতে ‘The Rubaiyat of Omar Khayyam’ নামে অনুবাদ করেন Edward FitzGerald, ১৮৫৯ সালে। এই অনুবাদের মাধ্যমেই রুবাইয়াত ইংরেজি ভাষাভাষী পাঠকের কাছে বিখ্যাত হয়। ‘রুবাই’ মানে চার পঙ্ক্তির কবিতা। F. Scott Fitzgerald মার্কিন ঔপন্যাসিক, ‘The Great Gatsby’-র লেখক। বিকল্পের Thomas ও William Fitzgerald-এর সঙ্গে রুবাইয়াতের সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    বাংলায় রুবাইয়াতের অনুবাদ করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম ও কান্তিচন্দ্র ঘোষ।
  17. ৩৭. 'We work every day except Friday'. In this sentence 'except' is a/an
    • ক. adjective
    • খ. noun
    • গ. preposition
    • ঘ. pronoun
    উত্তর: গ. preposition
    ‘We work every day except Friday’ বাক্যে ‘except’ শব্দটি noun ‘Friday’-এর আগে বসে ‘work every day’-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক দেখাচ্ছে, অর্থাৎ শুক্রবার বাদে। যে শব্দ noun বা pronoun-এর আগে বসে তার সঙ্গে বাক্যের অন্য অংশের সম্পর্ক দেখায়, তাকে preposition বলে। তাই ‘except’ এখানে preposition। Except শব্দটি verb হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এই বাক্যে নয়।
    মনে রাখুন:
    Except-এর মতো preposition: besides, but (বাদে অর্থে), apart from।
    উদাহরণ: Everyone came except him।
  18. ৩৮. Who wrote "A Vindication of the Rights of Women"?
    • ক. Claire Clairmont
    • খ. Marry Wollstonecraft
    • গ. Mary Wollstonecraft Godwin
    • ঘ. Mary Shelley
    উত্তর: গ. Mary Wollstonecraft Godwin
    ‘A Vindication of the Rights of Woman’ (১৭৯২) বইটির লেখিকা মেরি ওলস্টোনক্রাফট (Mary Wollstonecraft)। নারীর শিক্ষা ও সমান অধিকারের পক্ষে লেখা এ বইকে নারীবাদী চিন্তার প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ গণ্য করা হয়। ১৭৯৭ সালে তিনি দার্শনিক উইলিয়াম গডউইনকে (William Godwin) বিয়ে করেন, তাই তাঁর পূর্ণ নাম Mary Wollstonecraft Godwin-ও লেখা হয়। বিকল্পে ‘Marry’ বানান ভুল। Claire Clairmont ও Mary Shelley এ বইয়ের লেখিকা নন।
    মনে রাখুন:
    উইলিয়াম গডউইনের বিখ্যাত বই ‘Enquiry Concerning Political Justice’।
    Mary Shelley তাঁর মেয়ে, যিনি ‘Frankenstein’ লিখেছেন।
  19. ৩৯. Which sentence is correct?
    • ক. The picture was hanged on the wall.
    • খ. The picture was hung on the wall.
    • গ. The picture was hunged on the wall.
    • ঘ. The picture had hanged on the wall.
    উত্তর: খ. The picture was hung on the wall.
    ‘Hang’ ক্রিয়ার দুটি past form আছে। জিনিস ঝোলানোর অর্থে past ও past participle হলো hung, আর ফাঁসি দেওয়ার অর্থে hanged। ছবি দেয়ালে ঝোলানো মানে জিনিস ঝোলানো, তাই ‘The picture was hung on the wall’ শুদ্ধ। ‘Hanged’ হলে বাক্যে ছবিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে বোঝাত, যা অর্থহীন। ‘Hunged’ বলে কোনো রূপ নেই।
    মনে রাখুন:
    উদাহরণ: The criminal was hanged at dawn।
    ঝোলানো অর্থে: hang → hung → hung। ফাঁসি দেওয়া অর্থে: hang → hanged → hanged।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

  1. ৪০. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভুমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমুদ্দুন মজলিস'। তমুদ্দুন মজলিস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
    • ক. রসায়ন
    • খ. পদার্থ বিজ্ঞান
    • গ. অর্থনীতি
    • ঘ. ইসলামী শিক্ষা
    উত্তর: খ. পদার্থ বিজ্ঞান
    অধ্যাপক আবুল কাশেম ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এ প্রশ্নে এই সংগঠন প্রথম সংগঠিতভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলে। প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরই তারা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ করে।
    মনে রাখুন:
    তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
    আবুল কাশেমকে ‘ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠক’ বলা হয়।
  2. ৪১. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
    • ক. ২৬ মার্চ
    • খ. ২১ ফেব্রুয়ারী
    • গ. ১৬ ডিসেম্বর
    • ঘ. ৫ আগস্ট
    উত্তর: ক. ২৬ মার্চ
    ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়, তাই এ দিনটি স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তাই ওই দিন বিজয় দিবস। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মরণীয় দিন, কিন্তু স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২৬ মার্চই।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশের অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস: বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) এবং শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি)।
  3. ৪২. নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?
    • ক. নাগাল্যান্ড
    • খ. মিজোরাম
    • গ. মেঘালয়
    • ঘ. আসাম
    উত্তর: ক. নাগাল্যান্ড
    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের স্থল সীমান্ত আছে: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। তাই আসাম, মেঘালয় ও মিজোরামের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমানা আছে। কিন্তু নাগাল্যান্ড এ তালিকায় নেই, তাই তার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো স্থলসীমা নেই। নাগাল্যান্ডের সীমানা আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও মিয়ানমারের সঙ্গে।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মোট স্থল সীমান্ত প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার।
    বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত বান্দরবান ও কক্সবাজারে।
  4. ৪৩. আয়নাঘর কী?
    • ক. স্বচ্ছ কামরা
    • খ. পরিবেশ বান্ধব কৃষিকাজ
    • গ. গোপন কারাগার
    • ঘ. একটি হলিউড মুভি
    উত্তর: গ. গোপন কারাগার
    ‘আয়নাঘর’ হলো গোপন বন্দিশালা বা গোপন কারাগার। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক বিরোধী ও ভিন্নমতাবলম্বী মানুষকে গুম করে এসব স্থানে বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে বন্দিদের যোগাযোগ থাকত না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আয়নাঘর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
    মনে রাখুন:
    আয়নাঘরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘গুম’ শব্দটি, অর্থাৎ কাউকে জোর করে অদৃশ্য করে দেওয়া।
    গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার একটি কমিশন গঠন করেছিল।
  5. ৪৪. বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিম্নের কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?
    • ক. বাক-স্বাধীনতার অধিকার
    • খ. শিক্ষার অধিকার
    • গ. সভা সমাবেশের অধিকার
    • ঘ. ধর্মচর্চার অধিকার
    উত্তর: খ. শিক্ষার অধিকার
    বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭ক) মৌলিক অধিকারগুলো আছে। এগুলোর মধ্যে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্‌স্বাধীনতা (৩৯), সমাবেশের স্বাধীনতা (৩৭) এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা (৪১) রয়েছে। শিক্ষার বিষয়টি আছে দ্বিতীয় ভাগে, অনুচ্ছেদ ১৭তে। দ্বিতীয় ভাগের নাম রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি। এগুলো আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করানো যায় না। তাই শিক্ষা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়।
    মনে রাখুন:
    অনুচ্ছেদ ১৭: রাষ্ট্র সব বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নেবে।
    মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করা যায়, অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে।
  6. ৪৫. 'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'-বইটির লেখক কে?
    • ক. আবুল কালাম শামসূদ্দীন
    • খ. আবুল মনসুর আহমদ
    • গ. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
    • ঘ. এস ওয়াজেদ আলী
    উত্তর: খ. আবুল মনসুর আহমদ
    ‘কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা’ গ্রন্থটি আবুল মনসুর আহমদের (১৮৯৮-১৯৭৯) লেখা। তিনি সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। ব্যঙ্গরচনায় তিনি দক্ষ ছিলেন। তাঁর ব্যঙ্গরচনার বই ‘আয়না’ (১৯৩৫) ও ‘ফুড কনফারেন্স’। আত্মজৈবনিক রাজনৈতিক গ্রন্থ ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’। বিকল্পের শামসুদ্দিন আবুল কালাম ঔপন্যাসিক, ‘কাশবনের কন্যা’ তাঁর উপন্যাস। এস. ওয়াজেদ আলী ছোটগল্প ও প্রবন্ধের লেখক।
    মনে রাখুন:
  7. ৪৬. ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে কোন নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
    • ক. হাকিম আজমল খান
    • খ. শেরে বাংলা এ, কে. ফজলুল হক
    • গ. স্যার সলিমুল্লাহ
    • ঘ. স্যার আব্দুর রহিম
    উত্তর: গ. স্যার সলিমুল্লাহ
    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়, ঢাকা হয় তার রাজধানী। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা হতাশ হন। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯১২ সালে ভাইসরয় হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এলে এ দাবি ওঠে এবং পরে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।
    মনে রাখুন:
    নবাব সলিমুল্লাহ ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সভায় উদ্যোক্তা ছিলেন।
    নবাব সলিমুল্লাহর বাসভবন আহসান মঞ্জিল ঢাকায় অবস্থিত।
  8. ৪৭. সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
    • ক. Parliament
    • খ. National Parliament
    • গ. Legislature
    • ঘ. The House of the Nation
    উত্তর: ঘ. The House of the Nation
    বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে, যা ‘জাতীয় সংসদ’ নামে অভিহিত হবে। এর ইংরেজি নাম ‘House of the Nation’। সাধারণভাবে ইংরেজিতে ‘Parliament’ বলা হলেও সংবিধানে ব্যবহৃত সাংবিধানিক ইংরেজি নাম ‘House of the Nation’। তাই সঠিক উত্তর The House of the Nation।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় সংসদে নির্বাচিত আসন ৩০০টি এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি, মোট ৩৫০টি (২০২৪ সালের আগের কাঠামো)।
    সংসদের মেয়াদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে পাঁচ বছর।
  9. ৪৮. জিএসপি (GSP) এর পূর্ণ রূপ কী?
    • ক. Generalized System of Preference
    • খ. Global System of Positioning
    • গ. Global Strategic Partnership
    • ঘ. Government Support Program
    উত্তর: ক. Generalized System of Preference
    GSP-এর পূর্ণরূপ Generalized System of Preferences। এটি একটি বাণিজ্য ব্যবস্থা, যার আওতায় উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের কিছু পণ্যে কম বা শূন্য শুল্কে আমদানির সুবিধা দেয়। এতে দরিদ্র দেশের রপ্তানি বাড়ে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘Everything But Arms’ উদ্যোগের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। তাই উত্তর প্রথম বিকল্পটি।
    মনে রাখুন:
    স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ এ ধরনের কিছু সুবিধা হারাবে।
    Global System of Positioning নামে কিছু নেই, GPS-এর পূর্ণরূপ Global Positioning System।
  10. ৪৯. চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব কি?
    • ক. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
    • খ. সংসদের আসন বৃদ্ধি
    • গ. সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল
    • ঘ. পি আর (PR) চালু করা
    উত্তর: ক. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
    ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়। সংসদ সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অন্যতম ঐকমত্যের প্রস্তাব ছিল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, অর্থাৎ নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ)-এর পাশাপাশি একটি উচ্চকক্ষ গঠন। বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষবিশিষ্ট (unicameral)। প্রস্তাবিত কাঠামোতে দুই কক্ষ থাকে, যাতে আইন প্রণয়নে ভারসাম্য আসে। তাই উত্তর দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদ। অন্য বিষয়গুলোতে, যেমন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) নিয়ে, দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।
    মনে রাখুন:
    দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের দেশ: ভারত (লোকসভা ও রাজ্যসভা), যুক্তরাষ্ট্র (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট), যুক্তরাজ্য (কমন্স সভা ও লর্ড সভা)।
  11. ৫০. বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী সর্ব প্রথম কে অবস্থান করেন?
    • ক. প্রধানমন্ত্রী
    • খ. রাষ্ট্রপতি
    • গ. প্রধান উপদেষ্টা
    • ঘ. প্রধান বিচারপতি
    উত্তর: খ. রাষ্ট্রপতি
    ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স (Warrant of Precedence) হলো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি পদাধিকারীর পদমর্যাদাগত ক্রম। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান, তাই এই ক্রমের শীর্ষে তাঁর অবস্থান। এরপর আসেন প্রধানমন্ত্রী, তারপর জাতীয় সংসদের স্পিকার, এরপর প্রধান বিচারপতি। বিকল্পের মধ্যে রাষ্ট্রপতিই সবার ওপরে।
    মনে রাখুন:
    সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান, আর শাসনবিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
    ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আসনের ক্রম নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
  12. ৫১. পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ) ২০১৯
    • ক. বিচারপতি সাত্তার
    • খ. বিচারপতি সায়েম
    • গ. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
    • ঘ. বিচারপতি হামদুর রহমান
    উত্তর: ক. বিচারপতি সাত্তার
    পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। তিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (১৯৮১-১৯৮২) হন। নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬২টি ছিল পূর্ব পাকিস্তানে, যার ১৬০টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ফলে আওয়ামী লীগ পুরো পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
    মনে রাখুন:
    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
    প্রাদেশিক পরিষদেও আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়।
  13. ৫২. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়?
    • ক. সিলেট
    • খ. চট্টগ্রাম
    • গ. মৌলভীবাজার
    • ঘ. পঞ্চগড়
    উত্তর: গ. মৌলভীবাজার
    বাংলাদেশের চা বাগানের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। সিলেট বিভাগের এই জেলার উঁচু-নিচু টিলাভূমি, পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়া চা চাষের জন্য অনুকূল। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের ‘চায়ের রাজধানী’ বলা হয়। সিলেট ও চট্টগ্রামেও চা বাগান আছে, আর পঞ্চগড়ে সমতল ভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে চা চাষ বেড়েছে।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ চা বোর্ড (Bangladesh Tea Board) ঢাকায় অবস্থিত।
    বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান সিলেটের মালনীছড়ায়, যা ১৮৫৪ সালে স্থাপিত হয়।
  14. ৫৪. বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
    • ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
    • খ. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
    • গ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
    • ঘ. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
    উত্তর: ঘ. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
    আবু সাঈদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। বুক পেতে দাঁড়ানো তাঁর ছবি ও ভিডিও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। এ কারণে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকে পরিণত হন।
    মনে রাখুন:
    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।
    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
  15. ৫৫. বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
    • ক. তথ্য মন্ত্রণালয়
    • খ. প্রেস কাউন্সিল
    • গ. বিটিআরসি
    • ঘ. বাংলাদেশ টেলিভিশন
    উত্তর: খ. প্রেস কাউন্সিল
    বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার নিয়ন্ত্রক ও মান রক্ষাকারী সংস্থা। ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইনের অধীনে এটি গঠিত হয়। এর প্রধান কাজ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রাখা এবং সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা। এটি একটি আধা-বিচারিক (quasi-judicial) সংস্থা, যা প্রয়োজনে সংবাদপত্রকে সতর্ক বা তিরস্কার করতে পারে। তাই গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রেস কাউন্সিলকে চিহ্নিত করা হয়।
    মনে রাখুন:
    বিটিআরসি (BTRC) টেলিযোগাযোগ ও বেতার তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
    বাংলাদেশ টেলিভিশন একটি সরকারি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়।
  16. ৫৬. Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?
    • ক. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
    • খ. জন্মহার শূনের কোটায় আনা
    • গ. জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার
    • ঘ. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
    উত্তর: ঘ. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
    জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) হলো জনসংখ্যার বয়স কাঠামো পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। যখন কোনো দেশের মোট জনসংখ্যায় কর্মক্ষম বয়সের (১৫ থেকে ৬৪ বছর) মানুষের অনুপাত বেড়ে যায়, আর শিশু ও বয়স্ক নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত কমে, তখন দেশ এই সুযোগ পায়। বেশি মানুষ উপার্জন ও সঞ্চয় করে, ফলে অর্থনীতি দ্রুত বাড়তে পারে। তবে এর জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা প্রয়োজন, নইলে সুযোগটি সমস্যায় পরিণত হয়। তাই সঠিক উত্তর কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি।
    মনে রাখুন:
    নির্ভরশীলতার অনুপাত (Dependency ratio) = (০-১৪ ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী) ÷ (১৫-৬৪ বছর বয়সী) × ১০০।
  17. ৫৭. ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
    • ক. ইন্দো-আর্য
    • খ. দ্রাবিড়
    • গ. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
    • ঘ. তিব্বত-বর্মী
    উত্তর: গ. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
    বাংলাদেশের ভাষাগোষ্ঠী মূলত চারটি ভাষাপরিবারের: ইন্দো-আর্য, তিব্বতি-বর্মী, অস্ট্রো-এশিয়াটিক ও দ্রাবিড়। সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের মুন্ডা শাখার ভাষা। এই পরিবারকে অস্ট্রিক বলা হয়। মুন্ডা ও হো ভাষাও একই শাখার, আর খাসি ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের মোন-খেমার শাখার। তাই সাঁওতাল জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক-অস্ট্রো এশিয়াটিক (মুন্ডা) পরিবারভুক্ত।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশের ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলা ও চাকমা অন্যতম।
    তিব্বতি-বর্মী ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে মারমা ও গারো উল্লেখযোগ্য। দ্রাবিড় পরিবারের উদাহরণ ওরাওঁ।
  18. ৬৩. বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম কি?
    • ক. এন্থনি মাসকারেনহাস
    • খ. লরেঞ্চ জিরিং
    • গ. লরেঞ্চ লিফশূলজ্
    • ঘ. হেনরি কিসিঞ্জার
    উত্তর: খ. লরেঞ্চ জিরিং
    মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ লরেন্স জিরিং (Lawrence Ziring) দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে ব্যাপক লিখেছেন। তাঁর ‘Bangladesh: From Mujib to Ershad: An Interpretive Study’ (১৯৯২) গ্রন্থে বাংলাদেশের রাজনীতির ধারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাঁর মূল পর্যবেক্ষণ হলো, এদেশের রাজনীতি আদর্শ বা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তিত্বকে ঘিরে বেশি আবর্তিত হয়। বিকল্পের মধ্যে এন্থনি মাসকারেনহাস পাকিস্তানি সাংবাদিক, যিনি ‘Bangladesh: A Legacy of Blood’ লিখেছেন, আর হেনরি কিসিঞ্জার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
    মনে রাখুন:
    এন্থনি মাসকারেনহাস ১৯৭১ সালে ‘The Sunday Times’-এ প্রকাশিত ‘Genocide’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাকিস্তানি বর্বরতা বিশ্বকে জানান।

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

  1. ৫৩. চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, চীন বা তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
    • ক. ইয়াংসি
    • খ. লিজিয়াং
    • গ. হয়াইলি
    • ঘ. ইয়ারলাং সাংপো
    উত্তর: ঘ. ইয়ারলাং সাংপো
    ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের মানস সরোবরের কাছাকাছি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। তিব্বতে এর নাম ইয়ারলুং সাংপো (Yarlung Tsangpo)। এরপর নদটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে সিয়াং বা দিহাং নামে পরিচিত হয়, আসামে ব্রহ্মপুত্র নামে বয়ে যায়, এবং বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে সাগরের দিকে এগোয়। তাই চীন বা তিব্বতে নামটি ইয়ারলাং সাংপো।
    মনে রাখুন:
    ইয়াংসি চীনের দীর্ঘতম নদী, যার উৎস তিব্বত মালভূমিতে।
    ব্রহ্মপুত্রকে বাংলাদেশে প্রথমে ব্রহ্মপুত্র, এরপর যমুনা বলা হয়।
  2. ৬২. গ্রিনল্যান্ড নিচের কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?
    • ক. সুইডেন
    • খ. ডেনমার্ক
    • গ. নরওয়ে
    • ঘ. ফিনল্যান্ড
    উত্তর: খ. ডেনমার্ক
    গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ, ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ। রাজনৈতিকভাবে এটি ডেনমার্ক রাজ্যের (Kingdom of Denmark) অন্তর্ভুক্ত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর নিজস্ব সরকার ও সংসদ আছে, তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতির দায়িত্ব মূলত ডেনমার্কের। দ্বীপের বেশির ভাগ অংশ বরফে ঢাকা, আর রাজধানী নুক (Nuuk)।
    মনে রাখুন:
    ফারো দ্বীপপুঞ্জও ডেনমার্ক রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
    গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা খুব কম, সংখ্যায় প্রায় ছাপ্পান্ন হাজার।
  3. ৬৭. ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
    • ক. কিয়োটো প্রটোকল
    • খ. মন্ট্রিল প্রটোকল
    • গ. প্যারিস চুক্তি
    • ঘ. রামসার কনভেনশন
    উত্তর: খ. মন্ট্রিল প্রটোকল
    ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (Ozone Depleting Substances, ODS), যেমন CFC ও হ্যালন, ধাপে ধাপে বন্ধ করার জন্য ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এটি ১৯৮৯ সালে কার্যকর হয়। এই চুক্তির ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ধীরে ধীরে কমছে বলে মনে করা হয়। কিয়োটো প্রটোকল (১৯৯৭) ও প্যারিস চুক্তি (২০১৫) গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর চুক্তি, আর রামসার কনভেনশন (১৯৭১) জলাভূমি সংরক্ষণের চুক্তি।
    মনে রাখুন:
    ভিয়েনা কনভেনশন (১৯৮৫) ওজোন স্তর রক্ষার কাঠামো তৈরি করে, আর মন্ট্রিল প্রটোকল তার বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট নিয়ম দেয়।
    প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস পালিত হয়।
  4. ৬৯. কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোথায় অবস্থিত?
    • ক. গালফ অফ গিনি
    • খ. ফ্রেঞ্ছ পলিনেশিয়া
    • গ. দক্ষিন আফ্রিকা
    • ঘ. পশ্চিম আফ্রিকা
    উত্তর: ঘ. পশ্চিম আফ্রিকা
    কেপ ভার্দে (Cape Verde) আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র, যা পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। এর কাছের মূল ভূখণ্ড সেনেগাল। দেশটি ভৌগোলিকভাবে ও আঞ্চলিক সংগঠনের বিবেচনায় পশ্চিম আফ্রিকার অংশ। রাজধানী প্রাইয়া। ১৯৭৫ সালে পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
    মনে রাখুন:
    দেশটির আনুষ্ঠানিক নাম এখন ‘কাবো ভের্দে’ (Cabo Verde)।
    অন্য আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র: মাদাগাস্কার, মরিশাস, সিসিলি, কমোরোস।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

  1. ৫৮. লর্ড কর্ণওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন্ ভূমিকায় ছিলেন?
    • ক. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী
    • খ. ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত
    • গ. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
    • ঘ. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
    উত্তর: গ. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
    লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ার আগে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর জেনারেল ছিলেন এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে (১৭৭৫-১৭৮৩) ব্রিটিশ বাহিনীর অন্যতম প্রধান সেনাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ১৭৮১ সালে ইয়র্কটাউনে তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন আমেরিকান ও ফরাসি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৭৮৬ সালে তিনি ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন এবং ১৭৯৩ সালে বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।
    মনে রাখুন:
    চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হন এবং নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব দিতে বাধ্য হন।
    কর্নওয়ালিস কোড (১৭৯৩) প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার করে।
  2. ৫৯. আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
    • ক. মুসলিম লীগ
    • খ. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
    • গ. আর.এস.এস.
    • ঘ. জমিয়তে-ই-হিন্দ
    উত্তর: গ. আর.এস.এস.
    প্রচলিত ধারণায় দ্বিজাতি তত্ত্ব মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত, যারা ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র দাবি করে। কিন্তু প্রশ্নে বিশেষভাবে আশিস নন্দী ও শশী থারুরের মতো লেখকদের মত উল্লেখ আছে। তাঁদের মতে, হিন্দু ও মুসলমান আলাদা ‘জাতি’, এ ধারণা প্রথম এসেছিল হিন্দু জাতীয়তাবাদী ধারা থেকে। বিনায়ক দামোদর সাভারকর ১৯২৩ সালে ‘Hindutva’ বইয়ে এবং ১৯৩৭ সালে হিন্দু মহাসভার অধিবেশনে এই ধারণা প্রকাশ করেন। আর.এস.এস.-এর গোলওয়ালকর ১৯৩৯ সালে ‘We, or Our Nationhood Defined’ বইয়ে একই ধারণাকে আরও শক্তভাবে তুলে ধরেন। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন একমাত্র আর.এস.এস., তাই ওই লেখকদের মতে উত্তর আর.এস.এস.।
    মনে রাখুন:
    লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ গৃহীত হয়, পেশ করেন এ. কে. ফজলুল হক।
    জমিয়তে-ই-হিন্দ ও কংগ্রেস দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরোধিতা করেছিল।
  3. ৬০. নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট কত সালে সাক্ষরিত হয়?
    • ক. ১৯৩৯
    • খ. ১৯৪৩
    • গ. ১৯৪৯
    • ঘ. ১৯৬০
    উত্তর: গ. ১৯৪৯
    নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (NATO) ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে গঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ এই সামরিক জোট গড়ে। প্রতিষ্ঠার সময় সদস্য ছিল ১২টি দেশ। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পাল্টা জোট ওয়ারশ চুক্তি গঠিত হয়।
    মনে রাখুন:
    ন্যাটোর সনদের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর আক্রমণ সব সদস্যের ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হয়।
  4. ৬১. বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ কী?
    • ক. International Conference on Civil and Political Rights
    • খ. International Conference of Civil and Political Rights
    • গ. International Covenant on Civil and Political Rights
    • ঘ. International Covenant of Civil and Political Rights
    উত্তর: গ. International Covenant on Civil and Political Rights
    ICCPR-এর পূর্ণরূপ International Covenant on Civil and Political Rights, অর্থাৎ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৬৬ সালে এটি গ্রহণ করে এবং ১৯৭৬ সালে তা কার্যকর হয়। এতে জীবনের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ বিচার ও চিন্তা-বিবেকের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। Covenant মানে বাধ্যতামূলক আনুষ্ঠানিক চুক্তি, আর ‘on’ দিয়ে বিষয় বোঝানো হয়, তাই ‘Covenant on’ রূপটিই শুদ্ধ। বাংলাদেশ ২০০০ সালে এ চুক্তিতে যোগ দেয়।
    মনে রাখুন:
    অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য আলাদা চুক্তি ICESCR আছে।
    মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা (UDHR) ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর গৃহীত হয়।
  5. ৬৪. বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনটি?
    • ক. UNOSOM
    • খ. UNMOGIP
    • গ. UNTSO
    • ঘ. UNEF
    উত্তর: গ. UNTSO
    জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন UNTSO (United Nations Truce Supervision Organization), যা ১৯৪৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য গঠিত হয়। এর পর এসেছে UNMOGIP (১৯৪৯, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লাইন তদারকি) এবং UNEF (১৯৫৬, সুয়েজ সংকটের পর)। UNOSOM সোমালিয়ায় ১৯৯২ সালে গঠিত মিশন। তাই প্রথমটি UNTSO।
    মনে রাখুন:
    জাতিসংঘ গঠিত হয় ১৯৪৫ সালে, আর শান্তিরক্ষীরা নীল শিরস্ত্রাণ (blue helmet) পরেন।
    বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষী পাঠায় ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর (UNIIMOG)।
  6. ৬৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কোন চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়?
    • ক. প্যারিস চুক্তি
    • খ. ভারসাই চুক্তি
    • গ. জেনেভা চুক্তি
    • ঘ. রোম চুক্তি
    উত্তর: খ. ভারসাই চুক্তি
    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থামে। এরপর ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles) স্বাক্ষরিত হয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়। এই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করা হয়, সামরিক বাহিনী সীমিত করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। চুক্তির কঠোরতা পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধের পটভূমির একটি কারণ হিসেবে ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভার্সাই চুক্তির ফলেই লীগ অব নেশনস গঠিত হয়।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯৩৯ সালে শুরু হয়ে ১৯৪৫ সালে শেষ হয়।
  7. ৬৬. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?
    • ক. হাঁরি এস. ট্রুম্যান
    • খ. ফ্রাঙ্কলিন ডি, বুজভেল্ট
    • গ. রিচার্ড নিক্সন
    • ঘ. জর্জ ডারিও বুশ
    উত্তর: ক. হাঁরি এস. ট্রুম্যান
    জাপানে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান। ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মৃত্যুর পর ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর অনুমোদনে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় ‘লিটল বয়’ এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমা ফেলা হয়। এর কিছুদিন পর জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।
    মনে রাখুন:
    রুজভেল্টের আমলে পারমাণবিক বোমা তৈরির ‘ম্যানহাটন প্রকল্প’ শুরু হয়েছিল।
    প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও বুশ পরবর্তী সময়ের প্রেসিডেন্ট।
  8. ৬৮. আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
    • ক. চীন ও আফগানিস্তান
    • খ. চীন ও ইংল্যান্ড
    • গ. চীন ও রাশিয়া
    • ঘ. ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
    উত্তর: খ. চীন ও ইংল্যান্ড
    আফিম যুদ্ধ চীন ও ব্রিটেনের (ইংল্যান্ড) মধ্যে সংঘটিত হয়। ব্রিটিশ বণিকরা ভারতে উৎপন্ন আফিম চীনে বিক্রি করত। এতে চীনে আফিমের আসক্তি ও রৌপ্য বেরিয়ে যাওয়া বেড়ে গেলে চীন আফিম আমদানি বন্ধ করতে চায়, আর তা থেকে যুদ্ধ বাধে। প্রথম আফিম যুদ্ধ হয় ১৮৩৯ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত, আর দ্বিতীয় যুদ্ধ ১৮৫৬ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত। প্রথম যুদ্ধের পর ১৮৪২ সালের নানকিং চুক্তিতে চীন হংকং ব্রিটেনকে ছেড়ে দেয়।
    মনে রাখুন:
    হংকং ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
  9. ৭০. নিম্নোক্ত কোন দেশ বা অঞ্চল জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়?
    • ক. তিমুর লিস্টি
    • খ. দক্ষিন সুদান
    • গ. ওয়েস্টার্ন সাহারা
    • ঘ. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
    উত্তর: গ. ওয়েস্টার্ন সাহারা
    ওয়েস্টার্ন সাহারা (পশ্চিম সাহারা) একটি বিতর্কিত অঞ্চল। স্পেন ১৯৭৫ সালে এখান থেকে সরে গেলে অঞ্চলটির বড় অংশ মরক্কো নিয়ন্ত্রণে নেয়, আর পোলিসারিও ফ্রন্ট স্বাধীনতার দাবি করে। জাতিসংঘ একে ‘স্বায়ত্তশাসনহীন অঞ্চল’ হিসেবে তালিকাভুক্ত রেখেছে, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সদস্য করেনি। তাই এটি সদস্য নয়। বাকি তিনটি সদস্য: তিমুর-লেস্তে ২০০২ সালে, দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র আগে থেকেই সদস্য।
    মনে রাখুন:
    দক্ষিণ সুদান জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্য।
    জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা এখন ১৯৩।
  10. ৭১. নিম্নোক্ত কোন দেশটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়?
    • ক. বুলগেরিয়া
    • খ. হাঙ্গেরি
    • গ. পোল্যান্ড
    • ঘ. সুইজারল্যান্ড
    উত্তর: ঘ. সুইজারল্যান্ড
    সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়। দেশটি দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে এবং গণভোটের মাধ্যমে বারবার ইইউতে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সুইজারল্যান্ড শেনজেন এলাকার অংশ এবং ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (EFTA)-এর সদস্য। বুলগেরিয়া (২০০৭ সালে), হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড (দুটিই ২০০৪ সালে) ইইউ-এর সদস্য।
    মনে রাখুন:
    সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দপ্তর জেনেভায়।
    যুক্তরাজ্য ২০২০ সালে ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ইইউ ত্যাগ করে।
  11. ৭২. নিম্নোক্ত কোন দেশটি 'Five Eyes' ভুক্ত নয়?
    • ক. অস্ট্রেলিয়া
    • খ. ফ্রান্স
    • গ. নিউজিল্যান্ড
    • ঘ. কানাডা
    উত্তর: খ. ফ্রান্স
    ‘Five Eyes’ হলো পাঁচটি ইংরেজিভাষী দেশের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জোট। সদস্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সংকেত-গোয়েন্দা (signals intelligence) বিনিময় এই জোটের মূল কাজ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর UKUSA চুক্তি থেকে বিকশিত হয়। ফ্রান্স এর সদস্য নয়। তাই বিকল্পের মধ্যে ফ্রান্স ‘Five Eyes’-ভুক্ত নয়।
    মনে রাখুন:
    UKUSA চুক্তি হয় ১৯৪৬ সালে।
    আরও কিছু জোট: AUKUS (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া) এবং কোয়াড (যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া)।
  12. ৭৩. "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"-অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কোন গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন?
    • ক. Development as Freedom
    • খ. Women and Human Development
    • গ. Development through Disposition
    • ঘ. Development, Environment and Power
    উত্তর: ক. Development as Freedom
    অমর্ত্য সেন তাঁর ‘Development as Freedom’ (১৯৯৯) গ্রন্থে সামর্থ্য দৃষ্টিভঙ্গি (capability approach) ব্যাখ্যা করেন। তাঁর যুক্তি হলো, দারিদ্র্য কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং মৌলিক সামর্থ্য ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হওয়া। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে তিনি উন্নয়নের মূল উপাদান বলে মনে করেন। এ কারণে উন্নয়ন মানে কেবল জাতীয় আয় বাড়ানো নয়, মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা বাড়ানো। অমর্ত্য সেন ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান।
    মনে রাখুন:
    অমর্ত্য সেনের আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Poverty and Famines’ (১৯৮১), যেখানে তিনি ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ বিশ্লেষণ করেন।
  13. ৭৪. নিম্নোক্ত কোন রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়?
    • ক. আজারবাইজান
    • খ. ভারত
    • গ. পাকিস্তান
    • ঘ. ইরান
    উত্তর: ক. আজারবাইজান
    সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) ২০০১ সালে গঠিত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সংগঠন। এর পূর্ণ সদস্য চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও বেলারুস (২০২৪)। ইরান ২০২৩ সালে পূর্ণ সদস্য হয়। আজারবাইজান পূর্ণ সদস্য নয়, তার মর্যাদা সংলাপ অংশীদারের। তাই বিকল্পের মধ্যে আজারবাইজান SCO-এর সদস্য নয়।
    মনে রাখুন:
    SCO-র সদর দপ্তর চীনের বেইজিংয়ে।
    ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে SCO-র পূর্ণ সদস্য হয়।
  14. ৭৫. হালিমা ইয়াকুব কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
    • ক. ব্রুনেই
    • খ. মালয়েশিয়া
    • গ. সিংগাপুর
    • ঘ. তানজানিয়া
    উত্তর: গ. সিংগাপুর
    হালিমা ইয়াকুব ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি সিঙ্গাপুরের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি। এর আগে তিনি দেশটির সংসদের স্পিকার ছিলেন। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান, আর সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরে রাষ্ট্রপতি হন থারম্যান সন্মুগারত্নম।
    মনে রাখুন:
    সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সাল থেকে লরেন্স ওং।
    সিঙ্গাপুর ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন হয়।
  15. ৭৬. সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন্ রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত?
    • ক. পাকিস্তান পিপলস পাটি (PPP)
    • খ. পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (PTI)
    • গ. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
    • ঘ. জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান
    উত্তর: গ. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
    ইসহাক দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ), সংক্ষেপে পিএমএল-এন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। এই দলের প্রধান নেতা নওয়াজ শরিফ, যিনি তিনবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ইসহাক দার আগেও একাধিকবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশ্নে উল্লেখিত বাংলাদেশ সফর হয় ২০২৫ সালের আগস্টে।
    মনে রাখুন:
    পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) নেতৃত্বে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।
    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) প্রতিষ্ঠা করেন ইমরান খান।
  16. ৭৭. তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
    • ক. জালাল তালাবানী
    • খ. মাসুদ বারজানী
    • গ. মাজলুম আবদি
    • ঘ. আবদুল্লাহ ওচালান
    উত্তর: ঘ. আবদুল্লাহ ওচালান
    কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (PKK) ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল্লাহ ওজালান (Abdullah Öcalan)। এটি তুরস্কের কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৮৪ সাল থেকে সশস্ত্র সংগ্রাম চালায়। ১৯৯৯ সালে ওজালান গ্রেপ্তার হন এবং তুরস্কে কারাবন্দি আছেন। জালাল তালাবানি ও মাসুদ বারজানি ইরাকের কুর্দি নেতা। মাজলুম আবদি সিরিয়ার কুর্দি নেতা, যিনি সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (SDF) প্রধান।
    মনে রাখুন:
    তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ PKK-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
    হালনাগাদ: ২০২৫ সালের মে মাসে PKK নিজেকে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
  17. ৭৮. প্রাচীনকালে কোন দেশে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত হয়?
    • ক. মিশর
    • খ. গ্রীস
    • গ. চীন
    • ঘ. রোম
    উত্তর: গ. চীন
    সিভিল সার্ভিস অর্থাৎ পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাযাচাই করে সরকারি কর্মচারী নিয়োগের ধারণা প্রথম এসেছে প্রাচীন চীনে। হান রাজবংশের (খ্রিস্টপূর্ব ২০৬ থেকে ২২০ খ্রিস্টাব্দ) সময় থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মকর্তা বাছাইয়ের রীতি চালু হয়। পরে সুই ও তাং আমলে এই ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয় এবং ‘ইম্পেরিয়াল পরীক্ষা’ নামে পরিচিতি পায়। কনফুসিয়ান শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে এই পরীক্ষা নেওয়া হতো। এ কারণে সিভিল সার্ভিসের জন্মস্থান চীন।
    মনে রাখুন:
    আধুনিক ইউরোপে ব্রিটেন ১৮৫৪ সালের নর্থকোট-ট্রেভেলিয়ান প্রতিবেদনের পর মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস চালু করে।
    ভারতে ব্রিটিশরা লর্ড কর্নওয়ালিসের সময় সিভিল সার্ভিসের ভিত্তি গড়ে, তাই তাঁকে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের জনক বলা হয়।

গাণিতিক যুক্তি

  1. ৭৯. একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
    • ক. 2√2 মিটার
    • খ. 2√3 মিটার
    • গ. 2 মিটার
    • ঘ. 2√6 মিটার
    উত্তর: ঘ. 2√6 মিটার
    ঘনকের (cube) প্রতিটি ধার a হলে তার ছয়টি তল, প্রতিটির ক্ষেত্রফল a², তাই সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 6a²। শর্ত অনুযায়ী 6a² = 48, অর্থাৎ a² = 8, তাই a = √8 = 2√2 মিটার। ঘনকের কর্ণ বিপরীত শীর্ষবিন্দু দুটিকে যোগ করে, যার দৈর্ঘ্য a√3। অতএব কর্ণ = 2√2 × √3 = 2√6 মিটার।
    মনে রাখুন:
    ঘনকের আয়তন = a³, তল-কর্ণ = a√2, আর ঘন-কর্ণ = a√3।
    যাচাই: a = 2√2 হলে 6a² = 6 × 8 = 48।
  2. ৮০. একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?
    • ক. ৪
    • খ. ৮
    • গ. ১৬
    • ঘ. ২
    উত্তর: খ. ৮
    গোলকের আয়তন V = (4/3)πr³, অর্থাৎ আয়তন ব্যাসার্ধের ঘনের সমানুপাতিক। বড় গোলকের ব্যাসার্ধ R হলে ছোট গোলকের ব্যাসার্ধ R/2। তাই ছোট গোলকের আয়তন = (4/3)π(R/2)³ = (1/8) × (4/3)πR³, অর্থাৎ বড় গোলকের আয়তনের 1/8 অংশ। লোহা গলালে আয়তন একই থাকে, তাই বড় গোলকটি থেকে 8টি ছোট গোলক তৈরি করা যাবে।
    মনে রাখুন:
    গোলকের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল 4πr²। ব্যাসার্ধ অর্ধেক হলে প্রতিটি ছোট গোলকের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 1/4 গুণ হয়।
  3. ৮১. logx4 = - 2 হলে x = কত?
    • ক. 1/2
    • খ. - 1/2
    • গ. 2
    • ঘ. - 2
    উত্তর: ক. 1/2
    লগারিদমের সংজ্ঞা অনুযায়ী log_x 4 = −2 মানে x^(−2) = 4। অর্থাৎ 1/x² = 4, তাই x² = 1/4। এ থেকে x = ±1/2। কিন্তু লগারিদমের ভিত্তি (base) সবসময় ধনাত্মক এবং 1 নয়, তাই x = −1/2 গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব x = 1/2। যাচাই: (1/2)^(−2) = 2² = 4।
    মনে রাখুন:
    log_a b = c হলে a^c = b, যেখানে a > 0 এবং a ≠ 1।
    কোনো ঋণাত্মক বা শূন্য সংখ্যার লগারিদম বাস্তব সংখ্যায় সংজ্ঞায়িত নয়।
  4. ৮২. একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?
    • ক. ৩০
    • খ. ৬০
    • গ. ৯০
    • ঘ. ৪৫
    উত্তর: খ. ৬০
    দ্বিতীয় কোণটি x ডিগ্রি ধরি। প্রথম কোণ দ্বিতীয়ের অর্ধেক, তাই প্রথম কোণ x/2। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। অপর দুই কোণ x এবং x/2, তাদের বিয়োগফল x − x/2 = x/2, তাই তৃতীয় কোণ = 3 × x/2 = 3x/2। ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি 180°, তাই x/2 + x + 3x/2 = 180°, অর্থাৎ 3x = 180°, x = 60°। যাচাই: কোণ তিনটি 30°, 60°, 90°, যোগফল 180°।
    মনে রাখুন:
    ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি সবসময় 180°।
    তৃতীয় কোণ 90° হওয়ায় ত্রিভুজটি সমকোণী।
  5. ৮৩. একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?
    • ক. 100
    • খ. 150
    • গ. 200
    • ঘ. 300
    উত্তর: খ. 150
    সমান্তর ধারায় প্রথম পদ a এবং সাধারণ অন্তর d হলে n-তম পদ = a + (n − 1)d। চতুর্থ পদ a + 3d এবং দ্বাদশ পদ a + 11d। তাদের যোগফল 20, তাই 2a + 14d = 20। প্রথম n পদের সমষ্টি S_n = (n/2){2a + (n − 1)d}। n = 15 হলে S_15 = (15/2)(2a + 14d) = (15/2) × 20 = 150। তাই প্রথম 15 পদের যোগফল 150।
    মনে রাখুন:
    2a + 14d = 2(a + 7d), তাই a + 7d = 10, অর্থাৎ অষ্টম পদ 10। সমান্তর ধারায় মাঝের পদ × পদসংখ্যা = সমষ্টি, তাই 15 × 10 = 150।
    সমান্তর ধারায় কোনো দুই পদের গড় তাদের মাঝের পদের সমান।
  6. ৮৪. $x^2+6x-27<0$ অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?
    • ক. [-9, 3]
    • খ. [3, ∞)
    • গ. (-9, 3)
    • ঘ. (∞, -9)
    উত্তর: গ. (-9, 3)
    x² + 6x − 27 কে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করি: −27 = 9 × (−3) এবং 9 + (−3) = 6, তাই x² + 6x − 27 = (x + 9)(x − 3)। অসমতা (x + 9)(x − 3) < 0 হলে গুণফল ঋণাত্মক, অর্থাৎ একটি উৎপাদক ধনাত্মক ও অন্যটি ঋণাত্মক। এটি ঘটে x দুই মূল −9 ও 3-এর মাঝে থাকলে, অর্থাৎ −9 < x < 3। অসমতায় সমান চিহ্ন (=) নেই, তাই মূল দুটি সমাধানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই সমাধান সেট খোলা ব্যবধান (−9, 3)।
    মনে রাখুন:
    [−9, 3] হতো যদি অসমতা ≤ 0 হতো, কারণ বদ্ধ ব্যবধানে প্রান্তবিন্দু থাকে।
  7. ৮৬. যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?
    • ক. { }
    • খ. {a, b}
    • গ. { 0 }
    • ঘ. {- a, - b}
    উত্তর: ক. { }
    দুটি সেট A ও B-এর ক্ষেত্রে B − A বা B \ A হলো B-এর সেই উপাদানগুলোর সেট, যা A-তে নেই। এখানে N − M মানে N-এর সেই উপাদান, যা M-এ নেই। N = {1, 2} এর দুটি উপাদান 1 ও 2, আর দুটিই M = {a, b, 1, 2}-এ আছে। তাই N-এর এমন কোনো উপাদান নেই যা M-এ নেই। অতএব N − M = { }, অর্থাৎ ফাঁকা সেট (empty set)।
    মনে রাখুন:
    M − N = {a, b}, কারণ M-এর a ও b উপাদান N-এ নেই। সেট বিয়োগ বিনিময় নিয়ম মানে না।
    ফাঁকা সেটকে ∅ বা { } লেখা যায়। {0} ফাঁকা সেট নয়, কারণ এতে একটি উপাদান 0 আছে।
  8. ৮৭. $ax+by=a^2;\ bx-ay=ab$ এই সহসমীকরণের $(x,y)$ এর সমাধান কোনটি?
    • ক. (a2, b2)
    • খ. (a, b)
    • গ. (0, a)
    • ঘ. (a, 0)
    উত্তর: ঘ. (a, 0)
    সমীকরণ দুটি ax + by = a² ... (১) এবং bx − ay = ab ... (২)। (১)-কে a দিয়ে এবং (২)-কে b দিয়ে গুণ করি: a²x + aby = a³ এবং b²x − aby = ab²। যোগ করলে (a² + b²)x = a³ + ab² = a(a² + b²), তাই x = a। (১)-এ x = a বসালে a² + by = a², তাই by = 0, অর্থাৎ y = 0 (b ≠ 0 হলে)। সুতরাং সমাধান (a, 0)। যাচাই: (২)-এ b·a − a·0 = ab ঠিক আছে।
    মনে রাখুন:
    অপশন থেকে সরাসরি x ও y-এর মান বসিয়ে যাচাই করলে সময় বাঁচে।
    দুই চলকের সহসমীকরণের সমাধানে দুই সমীকরণকে এমনভাবে গুণ করা হয়, যাতে একটি চলকের সহগ সমান হয়।
  9. ৮৮. একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?
    • ক. ৮
    • খ. ১৬
    • গ. ২
    • ঘ. ১/২
    উত্তর: গ. ২
    গুণোত্তর ধারার প্রথম পদ a ও সাধারণ অনুপাত r হলে n-তম পদ ar^(n − 1)। পঞ্চম পদ ar⁴ = 32 এবং অষ্টম পদ ar⁷ = 256। দ্বিতীয় সমীকরণকে প্রথমটি দিয়ে ভাগ করলে ar⁷ ÷ ar⁴ = r³ = 256 ÷ 32 = 8। তাই r = ∛8 = 2। যাচাই: ar⁴ = 32 থেকে a = 32/16 = 2, তাই ধারাটি 2, 4, 8, 16, 32, 64, 128, 256। পঞ্চম পদ 32 ও অষ্টম পদ 256।
    মনে রাখুন:
    গুণোত্তর ধারার যেকোনো দুই পদের মধ্যে ব্যবধান k হলে পদ দুটির অনুপাত r^k।
  10. ৯০. দুইটি সংখ্যার ল.সা.গু $4x^3+12x^2-16x-48$, গ.সা.গু $2x+4$। একটি সংখ্যা $4x^2+20x+24$ হলে অপরটি-
    • ক. x2 – 4
    • খ. 2(x2 - 4)
    • গ. 4(x2 - 4)
    • ঘ. x + 2
    উত্তর: খ. 2(x2 - 4)
    লসাগু ও গসাগুর সম্পর্ক হলো দুই সংখ্যার গুণফল = ল.সা.গু. × গ.সা.গু.। প্রথমে প্রতিটিকে উৎপাদকে ভেঙে নিই। ল.সা.গু. = 4x³ + 12x² − 16x − 48 = 4(x³ + 3x² − 4x − 12) = 4{x²(x + 3) − 4(x + 3)} = 4(x + 3)(x² − 4) = 4(x + 3)(x + 2)(x − 2)। গ.সা.গু. = 2x + 4 = 2(x + 2)। প্রথম সংখ্যা 4x² + 20x + 24 = 4(x² + 5x + 6) = 4(x + 2)(x + 3)। অপর সংখ্যা = ল.সা.গু. × গ.সা.গু. ÷ প্রথম সংখ্যা = {4(x + 3)(x + 2)(x − 2) × 2(x + 2)} ÷ {4(x + 2)(x + 3)} = 2(x + 2)(x − 2) = 2(x² − 4)।
    মনে রাখুন:
    গ.সা.গু. সব সংখ্যার সাধারণ উৎপাদক, তাই অপর সংখ্যাতেও (x + 2) থাকতে হয়।
  11. ৯৪. একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?
    • ক. 200
    • খ. 300
    • গ. 400
    • ঘ. 500
    উত্তর: গ. 400
    শতকরা হিসাবের প্রশ্নে ক্রয়মূল্য ধরি x টাকা। ১০% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য x এর ৯০%, অর্থাৎ 0.9x। ৫% লাভে বিক্রয়মূল্য x এর ১০৫%, অর্থাৎ 1.05x। প্রশ্ন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিক্রয়মূল্য প্রথমটির চেয়ে ৬০ টাকা বেশি, তাই 1.05x − 0.9x = 60, অর্থাৎ 0.15x = 60। এ থেকে x = 60 ÷ 0.15 = 400। তাই বইটির ক্রয়মূল্য ৪০০ টাকা। যাচাই: ১০% ক্ষতিতে 360 টাকা, ৫% লাভে 420 টাকা, পার্থক্য 60 টাকা।
    মনে রাখুন:
    ক্ষতি হলে বিক্রয়মূল্য = ক্রয়মূল্য × (১ − ক্ষতির হার), লাভ হলে ক্রয়মূল্য × (১ + লাভের হার)।
  12. ৯৭. একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
    • ক. 5/7
    • খ. 2/7
    • গ. 5/12
    • ঘ. 1/4
    উত্তর: ক. 5/7
    ‘অন্তত একটি সবুজ’ বের করতে পরিপূরক নিয়ম সহজ: P(অন্তত একটি সবুজ) = 1 − P(কোনোটিই সবুজ নয়)। প্রথম থলিতে মোট 3 + 2 = 5টি বল, লাল 2টি, তাই লাল পাওয়ার সম্ভাবনা 2/5। দ্বিতীয় থলিতে মোট 2 + 5 = 7টি বল, লাল 5টি, তাই লাল পাওয়ার সম্ভাবনা 5/7। দুই থলি থেকে বল তোলা স্বাধীন ঘটনা, তাই দুটিই লাল হওয়ার সম্ভাবনা 2/5 × 5/7 = 2/7। অতএব অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাবনা 1 − 2/7 = 5/7।
    মনে রাখুন:
    স্বাধীন ঘটনার সম্ভাবনা গুণ করে পাওয়া যায়।
    ‘অন্তত একটি’ শব্দ দেখলে পরিপূরক নিয়মে 1 থেকে ‘একটিও নয়’ বিয়োগ করা যায়।
  13. ৯৮. PQR ত্রিভুজের $\angle Q=90°$ এবং $\angle P=2\angle R$ হলে নিচের কোনটি সঠিক?
    • ক. PR = 2QR
    • খ. PQ = 2PR
    • গ. PR = 2PQ
    • ঘ. QR = 2PQ
    উত্তর: গ. PR = 2PQ
    PQR ত্রিভুজে ∠Q = 90°। সমকোণী ত্রিভুজের বাকি দুই কোণের সমষ্টি 90°, তাই ∠P + ∠R = 90°। ∠P = 2∠R হলে 2∠R + ∠R = 90°, অর্থাৎ ∠R = 30° এবং ∠P = 60°। সমকোণ ∠Q-এর বিপরীত বাহু PR অতিভুজ। 30° কোণ ∠R-এর বিপরীত বাহু PQ। 30°-60°-90° ত্রিভুজের ধর্ম হলো 30° কোণের বিপরীত বাহু অতিভুজের অর্ধেক। তাই PQ = PR/2, অর্থাৎ PR = 2PQ।
    মনে রাখুন:
    30°-60°-90° ত্রিভুজে বাহুগুলোর অনুপাত 1 : √3 : 2।
    60° কোণের বিপরীত বাহু QR = PQ√3।

মানসিক দক্ষতা

  1. ৮৫. একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?
    • ক. ৫
    • খ. ৬
    • গ. ৭
    • ঘ. ৮
    উত্তর: গ. ৭
    এ ধরনের প্রশ্নে ‘সবচেয়ে খারাপ অবস্থা’ (worst case) ধরতে হয়। বাক্সে মোট বল 4 + 3 + 2 + 1 = 10টি, লাল 4টি। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের ক্ষেত্রে প্রথম যতগুলো বল তোলা হবে, সব লাল ছাড়া অন্য রঙের। লাল ছাড়া বল আছে 3 + 2 + 1 = 6টি, অর্থাৎ ৬টি বল তুলেও একটি লাল না আসতে পারে। এর পরের, অর্থাৎ ৭ম বলটি অবশ্যই লাল হবে। তাই কমপক্ষে ৭টি বল তুলতে হবে।
    মনে রাখুন:
    পিজিয়নহোল নীতি (Pigeonhole principle): সবচেয়ে খারাপ অবস্থার সংখ্যার সঙ্গে ১ যোগ করলেই নিশ্চিত ফল পাওয়া যায়।
  2. ৮৯. একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?
    • ক. ৩
    • খ. ১.৫
    • গ. ১
    • ঘ. ০.৫
    উত্তর: গ. ১
    ট্রেনে থাকা লোকটি গুলি করলে গুলি ট্রেনের গতিও পায়। তাই মাটির সাপেক্ষে গুলির গতি = গুলির নিজস্ব বেগ + ট্রেনের বেগ = 200 + 100 = 300 ফুট/সেকেন্ড। স্তম্ভটি লোকটির ৩০০ ফুট সামনে। সময় = দূরত্ব ÷ বেগ = 300 ÷ 300 = 1 সেকেন্ড। তাই স্তম্ভকে আঘাত করবে ১ সেকেন্ড পর।
    মনে রাখুন:
    আপেক্ষিক গতি: একই দিকে গেলে বেগ যোগ হয়, বিপরীত দিকে গেলে বিয়োগ হয়।
    সময় = দূরত্ব ÷ বেগ।
  3. ৯১. যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?
    • ক. শুক্রবার
    • খ. বুধবার
    • গ. সোমবার
    • ঘ. রবিবার
    উত্তর: খ. বুধবার
    গতকাল শুক্রবার হলে আজ শনিবার। সপ্তাহে দিন ৭টি, তাই প্রতি ৭ দিন পর একই বার ফিরে আসে। ৮১কে ৭ দিয়ে ভাগ করলে 81 = 7 × 11 + 4, অর্থাৎ ভাগশেষ ৪। তাই আজ থেকে ৮১ দিন পরের বার আজকের বার থেকে ৪ দিন এগিয়ে। শনিবারের পরে ৪ দিন: রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ। তাই বার বুধবার।
    মনে রাখুন:
    বারের হিসাবে ভাগশেষই নির্ধারণ করে কত দিন এগোতে হবে। ভাগশেষ শূন্য হলে একই বার হয়।
  4. ৯২. নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......
    • ক. ৮
    • খ. ৯
    • গ. ১০
    • ঘ. ১২
    উত্তর: খ. ৯
    ধারাটি লক্ষ করুন: ১, √৯, ৫, √৪৯। √৯ = ৩ এবং √৪৯ = ৭। তাই ধারাটি আসলে ১, ৩, ৫, ৭, যা পরপর বিজোড় সংখ্যা, প্রতিটি পদ আগের চেয়ে ২ বেশি। পরের পদ ৭ + ২ = ৯।
    মনে রাখুন:
    বর্গমূল, ঘনমূল ইত্যাদি ঢুকিয়ে দেওয়া ধারার প্রশ্নে আগে মূলগুলোর মান বের করে নিতে হয়। এরপর সাধারণ নিয়ম খোঁজা সহজ।
    পরপর জোড় সংখ্যার ধারা: ২, ৪, ৬, ৮, ...।
  5. ৯৩. ১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?
    • ক. ৫
    • খ. ২৫
    • গ. ১
    • ঘ. ১০
    উত্তর: গ. ১
    এক জন লোক ১টি কলা ১ মিনিটে খায়। ৫ জন লোক একসঙ্গে খেলে প্রত্যেকে নিজের একটি করে কলা ১ মিনিটে শেষ করে। তাই ৫ জনের ৫টি কলা খেতে ১ মিনিটই লাগবে। অনুপাতের হিসাবেও তা মেলে: জনসংখ্যা ৫ গুণ হলে একই সময়ে ৫ গুণ কলা খাওয়া যায়, আর কলাও ৫ গুণ, তাই সময় বদলায় না।
    মনে রাখুন:
    কাজ, লোক ও সময়ের প্রশ্নে লোক ও কাজ একই হারে বাড়লে সময় অপরিবর্তিত থাকে।
  6. ৯৫. কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?
    • ক. আস্তে
    • খ. জোরে
    • গ. একইভাবে
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: খ. জোরে
    দুটি গিয়ার পরস্পরের সঙ্গে আটকানো থাকলে একটির দাঁত অন্যটির দাঁতে ঢুকে একই হারে ঘোরে। একই সময়ে দুটি চাকার পরিধি বরাবর সমান দূরত্ব পার হয়। ছোট চাকার পরিধি ছোট, তাই একই দূরত্ব পার হতে তাকে বেশি পাক ঘুরতে হয়। অর্থাৎ ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে বেশি দ্রুত, জোরে ঘোরে। দাঁতের সংখ্যা ও ঘূর্ণন গতি বিপরীত অনুপাতে থাকে।
    মনে রাখুন:
    গিয়ারে ছোট চাকার দাঁত কম থাকে, তাই কম দাঁতের চাকা বেশি ঘোরে।
    উদাহরণ: ২০ দাঁতের চাকার সঙ্গে ৪০ দাঁতের চাকা লাগানো থাকলে বড়টি একবার ঘুরলে ছোটটি দুবার ঘোরে।
  7. ৯৬. ১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?
    • ক. ৪৫
    • খ. ৩০
    • গ. ১৫
    • ঘ. ৫
    উত্তর: গ. ১৫
    এটি লিভারের (দণ্ড) ভারসাম্যের প্রশ্ন। ভারসাম্যের শর্ত: ভার × ভারের বাহু (ভ্রামক) দুই দিকে সমান হতে হবে। স্কেলটি ১৫ মিটার লম্বা, আর পেরেকটি ওজন বাঁধা প্রান্ত থেকে ৩ : ২ অনুপাতে স্কেলকে ভাগ করেছে। তাই ওজনের প্রান্ত থেকে পেরেকের দূরত্ব = 15 × 3/5 = 9 মিটার, আর অপর প্রান্ত থেকে 15 × 2/5 = 6 মিটার। ভারসাম্যে 10 × 9 = W × 6। তাই W = 90 ÷ 6 = 15 কেজি। (স্কেলের নিজের ওজন ধরা হয়নি।)
    মনে রাখুন:
    আর্কিমিডিসের লিভার সূত্র: ভার × ভারের বাহু = প্রযুক্ত বল × বলের বাহু।
    পেরেকের কাছাকাছি প্রান্তে কম দূরত্ব বলে সেখানে বেশি ওজন লাগে।

অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান

১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন