৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ৩০ জুলাই ২০১০। এখানে ৯৬টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (১৯)
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (১৯)
- গাণিতিক যুক্তি (১৯)
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (৯)
- ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (৫)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১০)
- সাধারণ বিজ্ঞান (১৪)
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
- ১. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
- ক. ২০০৭
- খ. ১৯০৭
- গ. ১৯০৯
- ঘ. ১৯১৬
উত্তর: খ. ১৯০৭
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী ধরা হয়।
মনে রাখুন: আদি কবি লুইপা আর সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপা। - ২. নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম?
- ক. বীরবল
- খ. ভিমরুল
- গ. অনিলা দেবী
- ঘ. দেবদাস
উত্তর: গ. অনিলা দেবী
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘অনিলা দেবী’ ছদ্মনামে লিখেছেন, যেমন ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধটি। ‘বীরবল’ প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম। ‘দেবদাস’ শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের নাম, কারও ছদ্মনাম নয়। ‘ভিমরুল’-এর কোনো সম্পর্ক এখানে নেই।
মনে রাখুন:
কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম ‘হুতোম প্যাঁচা’।
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’।
রবীন্দ্রনাথ ‘ভানুসিংহ’ নামেও লিখেছেন। - ৩. ‘আধ্যাত্মিকা’ উপন্যাসের লেখক কে?
- ক. প্যারীচাঁদ মিত্র
- খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গ. দামোদর বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ক. প্যারীচাঁদ মিত্র
‘আধ্যাত্মিকা’ (১৮৮০) প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা উপন্যাস। প্যারীচাঁদ ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) লিখে পরিচিত হন, যাকে বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ধরা হয়। তিনি কথ্য রীতির ভাষায় লিখতেন, যা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
মনে রাখুন: বঙ্কিমচন্দ্র ‘দুর্গেশনন্দিনী’র, আর দামোদর মুখোপাধ্যায় ‘মৃন্ময়ী’র লেখক। - ৪. ‘অনীক’ শব্দের অর্থ –
- ক. সূর্য
- খ. সমুদ্র
- গ. যুদ্ধক্ষেত্র
- ঘ. সৈনিক
উত্তর: ঘ. সৈনিক
‘অনীক’ শব্দের অর্থ সৈন্য বা সেনাদল। তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে ‘সৈনিক’ অর্থের সবচেয়ে কাছে। ‘সূর্য’ বোঝাতে ভানু বা অর্ক, ‘সমুদ্র’ বোঝাতে সাগর বা জলধি, আর ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ বোঝাতে রণাঙ্গন বলা হয়।
মনে রাখুন: ‘অনীকিনী’ মানে বিশাল সেনাবাহিনী, যা মহাভারতের ‘অক্ষৌহিণী’র মতো ব্যবহৃত হয়। - ৫. জ্যোৎস্নারাত কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
- ক. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
- খ. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
- গ. পঞ্চমী তৎপুরুষ
- ঘ. উপমান কর্মধারয়
উত্তর: ক. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
‘জ্যোৎস্নারাত’ মানে জ্যোৎস্না-শোভিত রাত। এর ব্যাসবাক্যে ‘শোভিত’ পদটি মাঝখানে ছিল, কিন্তু সমাসে তা লোপ পেয়েছে। যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। তাই এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
উদাহরণ: সিংহ-চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, ঘি-মিশ্রিত ভাত = ঘিভাত। - ৬. Anatomy শব্দের অর্থ-
- ক. সাদৃশ্য
- খ. স্নায়ুতন্ত্র
- গ. শারীরবিদ্যা
- ঘ. অঙ্গ-সঞ্চালন
উত্তর: গ. শারীরবিদ্যা
Anatomy শব্দের অর্থ দেহের গঠন বা অঙ্গসংস্থানের বিদ্যা, যাকে শারীরস্থানবিদ্যা বা শারীরবিদ্যা বলে। শব্দটি গ্রিক ana (ওপরে) ও tome (কাটা) থেকে এসেছে, কারণ আগে এ বিষয় দেহ কেটে পড়া হতো। বিকল্পগুলোর মধ্যে ‘শারীরবিদ্যা’ই সবচেয়ে কাছের।
মনে রাখুন: Physiology মানে শারীরবৃত্ত, অর্থাৎ অঙ্গগুলো কীভাবে কাজ করে তার বিদ্যা। - ৭. কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
- ক. গোবিন্দ দাস
- খ. কায়কোবাদ
- গ. কাহ্ন পা
- ঘ. ভুসুকু পা
উত্তর: ঘ. ভুসুকু পা
চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা তাঁর এক পদে লিখেছেন ‘আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী’, অর্থাৎ আজ ভুসুকু বাঙালি হলো। এই পঙ্ক্তিতে তিনি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাই বিকল্পের মধ্যে ভুসুকুপাই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন: কাহ্নপা চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদের রচয়িতা, আর কায়কোবাদ আধুনিক যুগের মহাকবি। - ৮. ‘আফতাব’ শব্দের সমার্থক কোনটি?
- ক. অর্ণব
- খ. রাতুল
- গ. অর্ক
- ঘ. জলধি
উত্তর: গ. অর্ক
‘আফতাব’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ সূর্য। বাংলায় সূর্যের আরও কয়েকটি নাম আছে, যেমন অর্ক, ভানু, রবি, দিবাকর। তাই ‘আফতাব’-এর সমার্থক শব্দ অর্ক। বিকল্পের মধ্যে অর্ণব ও জলধি মানে সমুদ্র বা সাগর, আর রাতুল মানে লাল বা রক্তিম, তাই এগুলো সূর্যের নাম নয়।
মনে রাখুন: সমুদ্রের প্রতিশব্দ সাগর, অর্ণব, জলধি, পারাবার ও সিন্ধু। - ৯. বাগাড়ম্বর শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ ____।
- ক. বাগ + অম্বর
- খ. বাগ + আড়ম্বর
- গ. বাক্ + অম্বর
- ঘ. বাক্ + আড়ম্বর
উত্তর: ঘ. বাক্ + আড়ম্বর
‘বাগাড়ম্বর’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ বাক্ + আড়ম্বর। এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। এখানে প্রথম শব্দের শেষে ক্ ধ্বনি আছে এবং পরের শব্দের শুরুতে স্বরধ্বনি আছে। এমন ক্ষেত্রে ক্ বদলে গ্ হয়ে যায়, আর তখন গ্ + আ মিলে গা হয়। তাই বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর। শব্দটির অর্থ কথার আড়ম্বর বা কেবল বড় বড় কথা বলা।
উদাহরণ: দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, বাক্ + দান = বাগদান। - ১০. ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’ এই চরণদ্বয়ের লেখক _____।
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. কুসুমকুমারী দাস
- গ. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
- ঘ. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর: গ. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’ চরণ দুটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের। কবিতাটি শিশুদের নৈতিক শিক্ষার জন্য লেখা, যেখানে ছোট একটি ছেলে প্রতিদিন সকালে ভালো কাজ করার সংকল্প করে। এটি তাঁর শিশুশিক্ষা গ্রন্থের অংশ, যার আরেকটি বিখ্যাত কবিতা ‘পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল’।
মনে রাখুন: মদনমোহন তর্কালঙ্কার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহপাঠী ও বন্ধু ছিলেন। - ১১. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কী জাতীয় রচনার সংকলন?
- ক. রূপকথা
- খ. ছোটগল্প
- গ. গ্রাম্যগীতিকা
- ঘ. রূপকথা-উপকথা
উত্তর: ক. রূপকথা
‘ঠাকুরমার ঝুলি’ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংকলিত রূপকথার বই, যা ১৯০৭ সালে প্রকাশিত হয়। রাজা, রানি, রাজপুত্র ও রাক্ষস-খোক্কসের এমন কাহিনিকে রূপকথা বলে। এই বইয়ে ‘কলাবতী রাজকন্যা’, ‘শিয়াল পণ্ডিত’ ও ‘ডালিমকুমার’-এর মতো গল্প আছে। এর ভূমিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
মনে রাখুন: দক্ষিণারঞ্জনের অন্য সংকলন ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ ও ‘ঠানদিদির থলে’। - ১২. বাংলা ভাষায় ছন্দ প্রধানত কত প্রকার?
- ক. ২
- খ. ৪
- গ. ৩
- ঘ. ৫
উত্তর: গ. ৩
বাংলা ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার: অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত। অক্ষরবৃত্ত ছন্দে অক্ষর বা দলের সংখ্যা ধরে পঙ্ক্তি গণনা করা হয়। মাত্রাবৃত্তে প্রতিটি দলের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা ধরা হয়, আর স্বরবৃত্ত ছড়ার ছন্দ, যাতে বলার সময় জোর দিয়ে পড়া হয় এবং প্রতিটি দলকে এক মাত্রা ধরা হয়।
মনে রাখুন:
অক্ষরবৃত্তের অপর নাম মিশ্রবৃত্ত বা তানপ্রধান ছন্দ।
মাত্রাবৃত্তের অপর নাম ধ্বনিপ্রধান ছন্দ।
স্বরবৃত্তের অপর নাম দলবৃত্ত বা শ্বাসাঘাতপ্রধান ছন্দ। - ১৩. ‘কাঁঠালপাড়া’য় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
- ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খ. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
- গ. কাজী ইমদাদুল হক
- ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছে কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা উপন্যাসের প্রধান স্থপতি। তাঁর সম্পাদিত মাসিক পত্রিকার নাম ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২), আর ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) উপন্যাসে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি আছে।
মনে রাখুন: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলির দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। - ১৪. নিচের কোনটি অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
- ক. ভ
- খ. ঠ
- গ. ফ
- ঘ. চ
উত্তর: ঘ. চ
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কাঁপলে তা ঘোষ, না কাঁপলে অঘোষ হয়। আবার উচ্চারণে কম বাতাস বের হলে অল্পপ্রাণ, বেশি বাতাস বের হলে মহাপ্রাণ হয়। ‘চ’ অঘোষ ও অল্পপ্রাণ। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা: ‘ঠ’ ও ‘ফ’ অঘোষ কিন্তু মহাপ্রাণ, আর ‘ভ’ ঘোষ ও মহাপ্রাণ।
মনে রাখুন:
অঘোষ অল্পপ্রাণ: ক, চ, ট, ত, প।
অঘোষ মহাপ্রাণ: খ, ছ, ঠ, থ, ফ।
ঘোষ অল্পপ্রাণ: গ, জ, ড, দ, ব।
ঘোষ মহাপ্রাণ: ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ। - ১৫. ‘অপ’ কী ধরনের উপসর্গ?
- ক. সংস্কৃত
- খ. বাংলা
- গ. বিদেশি
- ঘ. মিশ্র
উত্তর: ক. সংস্কৃত
‘অপ’ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ। এটি শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। ‘অপ’ সাধারণত বিপরীত, মন্দ বা নিন্দিত অর্থ বোঝায়। যেমন মান থেকে অপমান, কার থেকে অপকার, যশ থেকে অপযশ।
মনে রাখুন:
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম্, নি, অব, অনু, নির্, দুর্, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। - ১৬. নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম-মৃত্যু সাল?
- ক. ১৮৪৭-১৯১১
- খ. ১৮৫২-১৯১২
- গ. ১৮৫৭-১৯১১
- ঘ. ১৮৪৭-১৯১২
উত্তর: ক. ১৮৪৭-১৯১১
মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১১ সালে মারা যান। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান সাহিত্যিকদের একজন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা ‘বিষাদ-সিন্ধু’, যা কারবালার কাহিনি নিয়ে লেখা গদ্যকাব্য।
মনে রাখুন: তাঁর নাটক ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) জমিদারদের অত্যাচার নিয়ে লেখা। - ১৭. রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
- ক. স্বরবৃত্ত
- খ. অক্ষরবৃত্ত
- গ. মন্দাক্রান্তা
- ঘ. মাত্রাবৃত্ত
উত্তর: ঘ. মাত্রাবৃত্ত
রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে প্রতিটি দলের মাত্রা নির্দিষ্ট, আর এতে ধ্বনির ওপর জোর পড়ে। কবিতাটি ১৮৯২ সালে লেখা এবং এর নামেই কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সোনার তরী’ (১৮৯৪)।
মনে রাখুন: কবিতাটির বিখ্যাত পঙ্ক্তি ‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা, কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা’। - ১৮. ‘সাহচর্য’ শব্দের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
- ক. সহ + চর + র্য
- খ. সহচর + ৎ ফলা
- গ. সহচর + য
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. সহচর + য
‘সাহচর্য’ শব্দ গঠিত হয়েছে সহচর + য (ষ্ণ্য) প্রত্যয় যোগে। প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পেয়ে সহচরের ‘স’ বদলে ‘সা’ হয়, আর শেষের ‘র’ থেকে ‘র্য’ হয়। এভাবে সহচর + য = সাহচর্য।
উদাহরণ: সুন্দর + য = সৌন্দর্য, মধুর + য = মাধুর্য, এক + য = ঐক্য। - ১৯. ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন –
- ক. মুন্সী মেহেরুল্লাহ
- খ. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
- গ. কামিনী রায়
- ঘ. মোজাম্মেল হক
উত্তর: খ. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
‘পূর্বাশা’ বিশ শতকের ত্রিশের দশকে প্রকাশিত একটি সাহিত্য-সাময়িকপত্র, যার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য। আধুনিক বাংলা কবিতার বিকাশে এই পত্রিকার ভূমিকা আছে। বিকল্পের অন্য নামগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই: মুন্সী মেহেরুল্লাহ ইসলাম প্রচারক, কামিনী রায় কবি আর মোজাম্মেল হক সাহিত্যিক ও সম্পাদক।
মনে রাখুন: সঞ্জয় ভট্টাচার্য নিজেও কবি ছিলেন।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
- ২০. AMICABLE (Synonym)
- ক. Interesting
- খ. Loving
- গ. Affectionate
- ঘ. Friendly
উত্তর: ঘ. Friendly
Amicable মানে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঝগড়াবিহীন, বিশেষ করে সম্পর্ক বা মীমাংসা বোঝাতে এ শব্দ বসে। যেমন an amicable settlement মানে শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ মীমাংসা। তাই এর কাছাকাছি অর্থ Friendly। Loving ও affectionate মানে স্নেহশীল, আর interesting মানে আকর্ষণীয়, সেগুলো এখানে মেলে না।
মনে রাখুন: Amiable মানে মিশুক ও মধুর স্বভাবের মানুষ, আর amicable মানে দুই পক্ষের সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ। - ২১. Opposite word for LIABILITY:
- ক. Treasure
- খ. Debt
- গ. Assets
- ঘ. Property
উত্তর: গ. Assets
হিসাবশাস্ত্রে liability মানে দায় বা দেনা, অর্থাৎ যা কেউ অন্যকে দিতে বাধ্য। আর asset মানে সম্পদ, অর্থাৎ যা কারও মালিকানায় আছে। তাই Liability-র বিপরীত শব্দ Assets। Debt আসলে liability-র সমার্থক, আর treasure ও property সম্পদের কাছাকাছি হলেও accounting-এর পরিভাষা হিসেবে asset-ই বিপরীত।
মনে রাখুন: ব্যালান্স শিটে এক দিকে assets আর অন্য দিকে liabilities দেখানো হয়। - ২২. Opposite word for HATE:
- ক. Admire
- খ. Abhor
- গ. Concern
- ঘ. Loathe
উত্তর: ক. Admire
Hate মানে তীব্র অপছন্দ বা ঘৃণা করা। এর বিপরীত অর্থ হলো শ্রদ্ধা বা পছন্দের সঙ্গে দেখা, আর সেই অর্থ Admire শব্দে আছে। Abhor ও loathe দুটিই hate-এর সমার্থক, তাই বিপরীত নয়। Concern মানে চিন্তা বা সম্পর্ক।
মনে রাখুন: Hate-এর আরও কিছু বিপরীত শব্দ love ও adore। - ২৩. In each of the following questions, out of the four alternatives, choose the one which can be substituted for the given words/sentence:- A song embodying religious and sacred emotions _____ .
- ক. Lyric
- খ. Ode
- গ. Hymn
- ঘ. Ballad
উত্তর: গ. Hymn
Hymn হলো ধর্মীয় বা পবিত্র ভাবের গান, যাতে ঈশ্বরের প্রশংসা করা হয়। তাই ‘a song embodying religious and sacred emotions’ বোঝাতে hymn বসে। Lyric মানে ব্যক্তিগত অনুভূতির কবিতা, ode মানে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রশংসায় লেখা আনুষ্ঠানিক কবিতা, আর ballad মানে গল্প বলার ধরনের গান।
মনে রাখুন: Elegy হলো মৃত ব্যক্তির জন্য শোকগাথা। - ২৪. Time after twilight and before night –
- ক. Evening
- খ. Dawn
- গ. Dusk
- ঘ. Eclipse
উত্তর: গ. Dusk
Dusk হলো সূর্যাস্তের পর আলো মিলিয়ে যাওয়ার সময়, যখন আকাশ অন্ধকার হয়ে রাত নামার ঠিক আগে। অর্থাৎ twilight-এর শেষ ধাপ। Evening মানে সন্ধ্যা বা বিকেলের পরের সময়, Dawn মানে ভোরের আলো ফোটার সময়, আর Eclipse মানে গ্রহণ।
মনে রাখুন: Dusk-এর উল্টো সময় dawn, যখন রাত শেষ হয়ে আলো ফোটে। - ২৫. Fill in the blanks in the following sentence by selecting the most appropriate alternative from among the four choices given:- Parliamentary democracy demands discipline and _____ to the rules.
- ক. adherence
- খ. respectful
- গ. knowledge
- ঘ. awareness
উত্তর: ক. adherence
‘Adherence to the rules’ মানে নিয়ম মেনে চলা। Adherence একটি noun এবং এর পরে preposition ‘to’ বসে। তাই বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়, সংসদীয় গণতন্ত্রে শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলা জরুরি। Respectful একটি adjective, তাই ‘and’-এর পরে এই noun-এর জায়গায় বসে না। Knowledge ও awareness-এর পরে সাধারণত ‘of’ বসে।
মনে রাখুন: Adhere to মানে কোনো নিয়ম, বিশ্বাস বা পরিকল্পনা আঁকড়ে থাকা। - ২৬. Reason is the highest faculty ______ on human by their creator.
- ক. entrusted
- খ. endowed
- গ. bestowed
- ঘ. conferred
উত্তর: গ. bestowed
‘Bestow on’ মানে কাউকে উপহার বা সম্মান হিসেবে কিছু দান করা। তাই ‘Reason is the highest faculty bestowed on human by their creator’ মানে বিবেক বা যুক্তিবোধই সবচেয়ে বড় ক্ষমতা, যা স্রষ্টা মানুষকে দান করেছেন। ‘Entrusted’ বসে to বা with-এর সঙ্গে, ‘endowed’ বসে with-এর সঙ্গে, আর ‘conferred’ সাধারণত উপাধি বা ডিগ্রি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: He was endowed with great talent. The university conferred a degree on him. - ২৭. Rishan walks as if he ____ lame.
- ক. is
- খ. had been
- গ. has
- ঘ. were
উত্তর: ঘ. were
বাস্তবে সত্য নয় এমন কোনো অবস্থা বা কল্পনা বোঝাতে ‘as if’ বা ‘as though’-এর পরে past subjunctive ব্যবহার করা হয়, আর to be ক্রিয়ার জন্য সব কর্তার সঙ্গে ‘were’ বসে। এখানে রিশান আসলে খোঁড়া নয়, শুধু খোঁড়ার মতো হাঁটে। তাই সঠিক রূপ ‘Rishan walks as if he were lame’।
উদাহরণ: He talks as if he were the boss. - ২৮. One of the four sentences given in each question is grammatically wrong. That alternative is your answer:
- ক. Neither you nor I am in a sound position.
- খ. Laziness is detrimental for success.
- গ. He begged the favour of my granting him leave.
- ঘ. Your action is not in conformity with the law
উত্তর: খ. Laziness is detrimental for success.
‘Detrimental’ শব্দের পরে preposition হিসেবে ‘to’ বসে, ‘for’ নয়। তাই সঠিক বাক্য ‘Laziness is detrimental to success’। বাকি বাক্যগুলো ঠিক আছে: ‘Neither you nor I am’ বাক্যে কাছের কর্তা ‘I’-এর সঙ্গে ‘am’ বসেছে, ‘begged the favour of my granting him leave’ ও ‘in conformity with the law’ শুদ্ধ গঠন।
মনে রাখুন: Harmful to, injurious to, detrimental to, বাক্যে ক্ষতিকর অর্থের শব্দের পরে সাধারণত to বসে। - ২৯. One of the four sentences given in each question is grammatically wrong. That alternative is your answer:
- ক. He has no desire for fame.
- খ. I intend going to Rajshahi.
- গ. He is too miserly to part with his money.
- ঘ. He has invited me for dinner.
উত্তর: খ. I intend going to Rajshahi.
‘Intend’-এর পরে প্রমিত রূপ to-infinitive, তাই শুদ্ধ বাক্য ‘I intend to go to Rajshahi’। ‘Intend going’ ব্যবহার সাধারণত এড়ানো হয়, তাই এই বাক্যটিই ভুল। বাকি বাক্যগুলো ঠিক: ‘desire for fame’, ‘too miserly to part with his money’ ও ‘invited me for dinner’।
উদাহরণ: He intends to study law.
মনে রাখুন: Plan, hope, decide, want, wish-এর পরেও to-infinitive বসে। - ৩০. Each of the following idioms is followed by some alternativeChoose the one which best expresses its meaning :- To keep one’s head-
- ক. to save oneself
- খ. to be self respectful
- গ. to keep calm
- ঘ. none of these
উত্তর: গ. to keep calm
‘To keep one’s head’ বাগধারার অর্থ বিপদের সময়ও শান্ত থাকা, মাথা ঠান্ডা রাখা। তাই এর অর্থ to keep calm। এর বিপরীত বাগধারা ‘to lose one’s head’, যার অর্থ ঘাবড়ে যাওয়া বা মাথা গরম করা।
উদাহরণ: She kept her head during the fire and led everyone out. - ৩১. To put the cart before the horse –
- ক. to offer a person what he cannot eat
- খ. to force a person to do something
- গ. to raise obstacle
- ঘ. to reverse the natural order of things
উত্তর: ঘ. to reverse the natural order of things
‘To put the cart before the horse’ বাগধারার অর্থ কাজের স্বাভাবিক ক্রম উল্টে দেওয়া। স্বাভাবিকভাবে ঘোড়া গাড়ি টানে, তাই ঘোড়ার আগে গাড়ি রাখলে কাজ চলে না। অর্থাৎ যা আগে করা দরকার তা পরে করা বা উল্টোটা করা বোঝায়।
উদাহরণ: Buying furniture before building the house is putting the cart before the horse. - ৩২. To read between the lines –
- ক. to concentrate
- খ. to suspect
- গ. to read carefully
- ঘ. to grasp the hidden meaning
উত্তর: ঘ. to grasp the hidden meaning
‘To read between the lines’ মানে লেখার ভেতরের লুকানো বা অনুক্ত অর্থ বুঝে নেওয়া। অর্থাৎ যা সোজা লেখা নেই, তা বক্তব্যের ইঙ্গিত থেকে বুঝে ফেলা। এর শাব্দিক অর্থ দুই লাইনের মাঝখানে পড়া।
উদাহরণ: If you read between the lines of his letter, you can see he is unhappy. - ৩৩. In each of the following questions, a sentence has been given in Active (or Passive) voice. Out of the four alternatives suggested, select the one which best expresses the same sentence in Passive (or Active) voice : I know him.
- ক. He is known by me.
- খ. He was known to me.
- গ. He has been known by me.
- ঘ. He is known to me.
উত্তর: ঘ. He is known to me.
‘Know’ ক্রিয়ার passive voice-এ by-এর বদলে preposition হিসেবে ‘to’ বসে। তাই ‘I know him’ passive হলে হয় ‘He is known to me’। বাক্যটি present indefinite tense-এ, তাই passive-এ ‘is known’ বসেছে, ‘was’ বা ‘has been’ নয়।
মনে রাখুন: কিছু ক্রিয়ার passive-এ by ছাড়া অন্য preposition বসে, যেমন be surprised at, be pleased with, be interested in, be married to। - ৩৪. A lion may be helped even by a little mouse.
- ক. A little mouse may even help a lion.
- খ. Even a little mouse may help a lion.
- গ. A little mouse can even help a lion.
- ঘ. Even a little mouse ought to help a lion.
উত্তর: খ. Even a little mouse may help a lion.
Passive voice-এ ‘by’-এর পরের অংশ active voice-এ কর্তা হয়। এখানে কর্তা ‘a little mouse’, আর ‘even’ শব্দটি তার সঙ্গেই থাকে, কারণ ছোট্ট ইঁদুর যে সিংহকে সাহায্য করতে পারে, সেটাই বিস্ময়ের। তাই active হয় ‘Even a little mouse may help a lion’। ‘May’ সহায়ক ক্রিয়া একই থাকে। ‘Even’ ক্রিয়ার সামনে বসালে অর্থের জোর বদলে যায়, আর ‘can’ বা ‘ought to’ বসালে modal-এর অর্থ বদলে যায়। - ৩৫. Choose the correctly spelt word:-
- ক. Liesure
- খ. Leisure
- গ. Leasure
- ঘ. Lesiure
উত্তর: খ. Leisure
‘Leisure’ শব্দের অর্থ অবসর বা ফাঁকা সময়। বানানে ei বসে, ie নয়, তাই ‘Leisure’ শুদ্ধ। ‘i before e except after c’ নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম আছে, এর মধ্যে leisure, seize, weird ও either উল্লেখযোগ্য।
উদাহরণ: He reads in his leisure time. - ৩৬. Choose the correctly spelt word:-
- ক. Superceed
- খ. Superseed
- গ. Supercede
- ঘ. Supersede
উত্তর: ঘ. Supersede
‘Supersede’ শব্দের অর্থ প্রতিস্থাপন করা, অর্থাৎ পুরোনোর জায়গায় নতুন কিছু বসানো। ইংরেজিতে ‘-sede’ দিয়ে শেষ হওয়া একমাত্র শব্দ supersede। exceed, proceed ও succeed শেষ হয় ‘-ceed’ দিয়ে, আর precede, recede ও concede শেষ হয় ‘-cede’ দিয়ে।
উদাহরণ: New rules supersede the old ones. - ৩৭. Of the four alternatives given under each sentence, find the one that best fits into the blank space :- The horror movie scared them out of their ______.
- ক. wits
- খ. seats
- গ. lives
- ঘ. funds
উত্তর: ক. wits
‘Scared out of one’s wits’ বাগধারার অর্থ ভয়ে বুদ্ধিশুদ্ধি হারিয়ে ফেলা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ভয় পাওয়া। এখানে ‘wits’ মানে বুদ্ধি বা মানসিক ক্ষমতা। তাই বাক্যটির অর্থ হরর সিনেমা তাদের এত ভয় দেখাল যে তারা ভয়ে বিমূঢ় হয়ে গেল।
উদাহরণ: The loud noise frightened me out of my wits. - ৩৮. The people who carry a coffin at a funeral are called ________.
- ক. undertakers
- খ. supporters
- গ. pallbearers
- ঘ. Mourners
উত্তর: গ. pallbearers
Pallbearer হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কফিন বহন করেন বা কফিনের পাশে হেঁটে যান। সাধারণত পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা বন্ধুরা এই দায়িত্ব নেন। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা: Undertaker হলেন যিনি দাফন বা সৎকারের আয়োজন করেন, আর Mourner হলেন যিনি মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। Supporter মানে সমর্থক।
মনে রাখুন: Funeral মানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা জানাজা, আর coffin মানে শবাধার।
গাণিতিক যুক্তি
- ৩৯. কোন লঘিষ্ঠ সংখ্যার সাথে ২ যোগ করলে যোগফল ১২, ১৮ এবং ২৪ দ্বারা বিভাজ্য হবে?
- ক. ৮৯
- খ. ৭০
- গ. ১৭০
- ঘ. ১৪২
উত্তর: খ. ৭০
সংখ্যাটির সঙ্গে ২ যোগ করলে যোগফল ১২, ১৮ ও ২৪, তিনটি দিয়েই বিভাজ্য হতে হবে। অর্থাৎ যোগফল এই তিন সংখ্যার সাধারণ গুণিতক। সবচেয়ে ছোট গুণিতক নিতে হলে ল.সা.গু. বের করতে হয়। 12 = 2² × 3, 18 = 2 × 3², 24 = 2³ × 3, তাই ল.সা.গু. = 2³ × 3² = 72। সংখ্যাটির সঙ্গে 2 যোগ করে 72 পেতে হলে সংখ্যাটি 72 – 2 = 70।
যাচাই: 70 + 2 = 72, যা 12, 18 ও 24 দিয়ে নিঃশেষে ভাগ যায়। - ৪০. নিচের কোনটি মৌলিক সংখ্যা?
- ক. ৯১
- খ. ৮৭
- গ. ৬৩
- ঘ. ৫৯
উত্তর: ঘ. ৫৯
যে ১-এর চেয়ে বড় সংখ্যার গুণনীয়ক শুধু ১ ও সেই সংখ্যা নিজে, তাকে মৌলিক সংখ্যা বলে। ৫৯ সংখ্যাটিকে ২, ৩, ৫ ও ৭ কোনোটি দিয়েই ভাগ করা যায় না, আর √59 প্রায় ৭.৭, তাই ৭-এর পরে ভাগ করে দেখার দরকার নেই। অতএব ৫৯ মৌলিক। বাকিগুলো যৌগিক: 91 = 7 × 13, 87 = 3 × 29, 63 = 7 × 9।
মনে রাখুন: ২ একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা। - ৪১. একটি সংখ্যা ৩০১ হতে যত বড় ৩৮১ হতে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
- ক. ৩৪০
- খ. ৩৪১
- গ. ৩৪২
- ঘ. ৩৪৪
উত্তর: খ. ৩৪১
সংখ্যাটি ৩০১ থেকে যত বড়, ৩৮১ থেকে তত ছোট। তার মানে সংখ্যাটি ৩০১ ও ৩৮১ এর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত, অর্থাৎ এটি তাদের গাণিতিক গড়। সংখ্যাটি = (301 + 381) ÷ 2 = 682 ÷ 2 = 341।
যাচাই: 341 – 301 = 40 এবং 381 – 341 = 40, দুটি ব্যবধান সমান। - ৪২. ক ও খ একত্রে একটি কাজ ১২ দিনে করতে পারে। ক একা কাজটি ২০ দিনে করতে পারে। খ একা কাজটি কতদিনে করতে পারবে?
- ক. ২৫ দিনে
- খ. ৩০ দিনে
- গ. ৩৫ দিনে
- ঘ. ৪০ দিনে
উত্তর: খ. ৩০ দিনে
কাজের প্রশ্নে এক দিনে কত অংশ কাজ হয়, তা দিয়ে হিসাব করা সহজ। ক ও খ একসঙ্গে ১২ দিনে কাজটি শেষ করে, তাই তারা ১ দিনে 1/12 অংশ করে। ক একা ২০ দিনে করে, তাই সে ১ দিনে 1/20 অংশ করে। খ ১ দিনে করে 1/12 – 1/20 = 5/60 – 3/60 = 2/60 = 1/30 অংশ। সুতরাং খ একা কাজটি ৩০ দিনে করতে পারবে।
যাচাই: 1/20 + 1/30 = 3/60 + 2/60 = 5/60 = 1/12। - ৪৩. একটি আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য প্রস্থের দ্বিগুণ । আয়তক্ষেত্রটির ক্ষেত্রফল 1250 বর্গমিটার হলে এর দৈর্ঘ্য কত?
- ক. 30 মিটার
- খ. 40 মিটার
- গ. 50 মিটার
- ঘ. 60 মিটার
উত্তর: গ. 50 মিটার
আয়তক্ষেত্রের প্রস্থ x মিটার হলে দৈর্ঘ্য 2x মিটার। ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ, তাই 2x × x = 1250, অর্থাৎ 2x² = 1250 এবং x² = 625। সুতরাং x = 25। তাহলে দৈর্ঘ্য 2 × 25 = 50 মিটার।
যাচাই: 50 × 25 = 1250 বর্গমিটার। - ৪৪. দুটি সন্নিহিত কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ হলে একটিকে অপরটির কি বলে?
- ক. সন্নিহিত কোণ
- খ. সরলকোণ
- গ. পূরককোণ
- ঘ. সম্পূরক কোণ
উত্তর: ঘ. সম্পূরক কোণ
দুটি কোণের যোগফল দুই সমকোণ, অর্থাৎ 180° হলে তাদের একটিকে অপরটির সম্পূরক কোণ (Supplementary angle) বলে। দুটি সন্নিহিত কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ হলে তারা একটি সরলরেখা তৈরি করে। যোগফল এক সমকোণ বা 90° হলে কোণ দুটিকে পরস্পরের পূরক কোণ (Complementary angle) বলে।
মনে রাখুন: পূরক কোণ মানে মিলে 90° এবং সম্পূরক কোণ মানে মিলে 180°। - ৪৫. বৃত্তের কেন্দ্র ছেদকারী জ্যাকে কি বলা হয়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৬
- ক. ব্যাস
- খ. ব্যাসার্ধ
- গ. বৃত্তচাপ
- ঘ. পরিধি
উত্তর: ক. ব্যাস
যে জ্যা (Chord) বৃত্তের কেন্দ্র দিয়ে যায়, তাকে ব্যাস (Diameter) বলে। ব্যাস বৃত্তের সবচেয়ে বড় জ্যা এবং এর দৈর্ঘ্য ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ। ব্যাসার্ধ হলো কেন্দ্র থেকে বৃত্তের ওপরের কোনো বিন্দুর দূরত্ব, বৃত্তচাপ বৃত্তের একটি অংশ, আর পরিধি বৃত্তের সম্পূর্ণ সীমারেখার দৈর্ঘ্য।
মনে রাখুন: ব্যাস = 2r, পরিধি = 2πr, ক্ষেত্রফল = πr²। - ৪৬. দুটি ত্রিভুজ পরস্পর সর্বসম হওয়ার জন্য নিচের কোন শর্তটি যথেষ্ট নয়?
- ক. একটির তিন বাহু অপরটির তিন বাহুর সমান
- খ. একটির তিন কোণ অপরটির তিন কোণের সমান
- গ. একটির দুই কোণ ও এক বাহু অপরটির দুই বাহু ও অনুরূপ বাহুর সমান
- ঘ. একটির দুই বাহু ও অন্তর্ভুক্ত কোণ অপরটির দুই বাহু ও অন্তর্ভুক্ত কোণের সমান
উত্তর: খ. একটির তিন কোণ অপরটির তিন কোণের সমান
দুটি ত্রিভুজের তিনটি কোণ সমান হলে ত্রিভুজ দুটির আকৃতি একই হয়, কিন্তু আকার আলাদা হতে পারে। যেমন ছোট ও বড় সমবাহু ত্রিভুজের তিনটি কোণই 60°, অথচ তারা সর্বসম নয়। তাই তিন কোণ সমান হওয়া সর্বসমতার জন্য যথেষ্ট নয়, এতে ত্রিভুজ দুটি সদৃশ হয়।
মনে রাখুন:
সর্বসমতার শর্ত: তিন বাহু (SSS), দুই বাহু ও অন্তর্ভুক্ত কোণ (SAS), দুই কোণ ও এক বাহু (AAS বা ASA) এবং সমকোণী ত্রিভুজে অতিভুজ ও এক বাহু (RHS)। - ৪৭. কোন ত্রিভুজের বাহুগুলোর অনুপাত নিচের কোনটি হলে একটি সমকোণী ত্রিভুজ অঙ্কন সম্ভব হবে?
- ক. ৬ : ৫ : ৪
- খ. ৩ : ৪ : ৫
- গ. ১২ : ৮ : ৪
- ঘ. ৬ : ৪ : ৩
উত্তর: খ. ৩ : ৪ : ৫
সমকোণী ত্রিভুজে সবচেয়ে বড় বাহু অতিভুজ এবং পীথাগোরাসের সূত্র অনুযায়ী অতিভুজের বর্গ বাকি দুই বাহুর বর্গের সমষ্টির সমান। অনুপাত ৩ : ৪ : ৫ হলে 3² + 4² = 9 + 16 = 25 = 5², তাই এটি সমকোণী ত্রিভুজ। অন্যগুলোয় এ শর্ত মেলে না: 4² + 5² = 41 ≠ 6² (36), আর ৬ : ৪ : ৩-এ 4² + 3² = 25 ≠ 6² (36)। ১২ : ৮ : ৪-এ 8 + 4 = 12, তাই এই তিন বাহু দিয়ে ত্রিভুজ হয়ই না।
মনে রাখুন: ত্রিভুজের যেকোনো দুই বাহুর যোগফল তৃতীয় বাহুর চেয়ে বড় হতে হয়। - ৪৮. ৩, ৯, ও ৪ এর চতুর্থ সমানুপাতিক কত?
- ক. ৪
- খ. ১৪
- গ. ১৬
- ঘ. ১২
উত্তর: ঘ. ১২
চারটি সংখ্যা a, b, c, d সমানুপাতে থাকলে a : b = c : d হয়, আর d-কে বলে a, b, c-এর চতুর্থ সমানুপাতিক। তাই 3 : 9 = 4 : x। আড়গুণন করলে 3x = 9 × 4 = 36, অর্থাৎ x = 12।
যাচাই: 3/9 = 1/3 এবং 4/12 = 1/3, অনুপাত দুটি সমান। - ৪৯. f(x) = x3 + kx2 – 6x – 9; k এর মান কত হলে f(3) = 0 হবে?
- ক. 1
- খ. -1
- গ. 2
- ঘ. 0
উত্তর: ঘ. 0
x = 3 বসালে f(3) = 3³ + k × 3² – 6 × 3 – 9 = 27 + 9k – 18 – 9 = 9k। f(3) = 0 হতে হলে 9k = 0, তাই k = 0।
যাচাই: তখন f(x) = x³ – 6x – 9, আর f(3) = 27 – 18 – 9 = 0।
মনে রাখুন: x = a বসালে f(a) = 0 হলে (x – a) রাশিটি f(x)-এর একটি উৎপাদক, এটিই উৎপাদক উপপাদ্য। - ৫০. x > y এবং z < 0 হলে নিচের কোনটি সঠিক?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৬
- ক. xz > yz
- খ. x/z > y/z
- গ. z/x < z/y
- ঘ. xz < yz
উত্তর: ঘ. xz < yz
কোনো অসমতার দুই পক্ষকে ধনাত্মক সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে অসমতার চিহ্ন একই থাকে, কিন্তু ঋণাত্মক সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে চিহ্ন উল্টে যায়। এখানে x > y এবং z < 0, তাই দুই পক্ষকে z দিয়ে গুণ করলে xz < yz হয়।
উদাহরণ: 5 > 3 এবং z = –2 হলে 5 × (–2) = –10 আর 3 × (–2) = –6, আর –10 < –6। - ৫১. loga(m/n) = ?
- ক. loga m × logan
- খ. loga m – logan
- গ. logam+ logan
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. loga m – logan
লগারিদমের ভাগের নিয়ম অনুযায়ী ভাগফলের লগারিদম লবের লগারিদম থেকে হরের লগারিদম বিয়োগ করার সমান। তাই log_a(m/n) = log_a m – log_a n।
মনে রাখুন:
log_a(mn) = log_a m + log_a n।
log_a(mⁿ) = n log_a m। - ৫২. নিচের কোনটি ক্ষুদ্রতম সংখ্যা?
- ক. ০.৩
- খ. √০.৩
- গ. ১/৩
- ঘ. ২/৫
উত্তর: ক. ০.৩
সংখ্যাগুলোকে দশমিকে লিখে তুলনা করা সহজ: ০.৩ = 0.300, √0.3 ≈ 0.548, 1/3 ≈ 0.333, আর 2/5 = 0.400। এদের মধ্যে ছোট ০.৩। আরও লক্ষ করার বিষয়, ০ ও ১-এর মধ্যে কোনো সংখ্যার বর্গমূল সেই সংখ্যার চেয়ে বড় হয়, তাই √0.3 > 0.3।
মনে রাখুন: ০ ও ১-এর মধ্যের সংখ্যার বর্গ আসল সংখ্যার চেয়ে ছোট এবং বর্গমূল বড় হয়। - ৫৩. নিচের কোনটি বৃত্তের সমীকরণ?
- ক. ax2+bx +c = 0
- খ. y2 = ax
- গ. x2+y2 = 16
- ঘ. y2 = 2x +7
উত্তর: গ. x2+y2 = 16
কেন্দ্র মূলবিন্দুতে এবং ব্যাসার্ধ r হলে বৃত্তের সমীকরণ x² + y² = r²। তাই x² + y² = 16 একটি বৃত্তের সমীকরণ, যার ব্যাসার্ধ √16 = 4। y² = ax ও y² = 2x + 7 এক ধরনের সমীকরণ, যা পরাবৃত্তের সমীকরণ। ax² + bx + c = 0 একটি দ্বিঘাত সমীকরণ।
মনে রাখুন: কেন্দ্র (h, k) হলে বৃত্তের সমীকরণ (x – h)² + (y – k)² = r²। - ৫৪. a + b = 7 & a2+b2 = 25 হলে নিচের কোনটি ab এর মান হবে?
- ক. 12
- খ. 10
- গ. 6
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. 12
a + b = 7 ও a² + b² = 25 দেওয়া আছে। সূত্র অনুযায়ী (a + b)² = a² + b² + 2ab। মান বসালে 7² = 25 + 2ab, অর্থাৎ 49 = 25 + 2ab। তাই 2ab = 24, এবং ab = 12।
যাচাই: a ও b যথাক্রমে 3 ও 4 হলে a + b = 7, a² + b² = 9 + 16 = 25 এবং ab = 12। - ৫৫. একটি মিনারের পাদদেশ হতে ২০ মিটার দূরের একটি স্থান হতে মিনারটির শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোণ 30° হলে মিনারটির উচ্চতা কত?
- ক. 20√7 মিটার
- খ. 20/√3 মিটার
- গ. 20 মিটার
- ঘ. 10√3 মিটার
উত্তর: খ. 20/√3 মিটার
মিনারের উচ্চতা h মিটার। পাদদেশ থেকে 20 মিটার দূরে দাঁড়িয়ে শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোণ 30°। সমকোণী ত্রিভুজে tan 30° = লম্ব/ভূমি = h/20। tan 30° = 1/√3, তাই h = 20/√3 মিটার।
মনে রাখুন: tan 30° = 1/√3, tan 45° = 1, tan 60° = √3। - ৫৬. ১৩(৩/৪)% এর সমান-
- ক. ১১/৮০
- খ. ১১/২০
- গ. ১/৯
- ঘ. ১/৮
উত্তর: ক. ১১/৮০
শতকরা মানে ১০০ ভাগের কত ভাগ। 13(3/4)% = (13 × 4 + 3)/4 % = 55/4 %। শতকরাকে ভগ্নাংশ করতে ১০০ দিয়ে ভাগ করতে হয়, তাই 55/4 ÷ 100 = 55/400। লব ও হরকে ৫ দিয়ে ভাগ করলে 11/80।
যাচাই: 11 ÷ 80 = 0.1375, আর 13.75% = 0.1375। - ৫৭. 3x3 + 2 x2 – 21x – 20 রাশিটির একটি উৎপাদক হচ্ছে-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪, এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৬
- ক. x + 2
- খ. x – 2
- গ. x + 1
- ঘ. x – 1
উত্তর: গ. x + 1
উৎপাদক উপপাদ্য অনুযায়ী x = a বসিয়ে রাশির মান শূন্য হলে (x – a) একটি উৎপাদক। x = –1 বসালে 3(–1)³ + 2(–1)² – 21(–1) – 20 = –3 + 2 + 21 – 20 = 0। তাই (x + 1) উৎপাদক। অন্যগুলো মেলে না, যেমন x = –2 বসালে –24 + 8 + 42 – 20 = 6 ≠ 0।
যাচাই: (x + 1)(3x² – x – 20) = 3x³ + 2x² – 21x – 20।
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
- ৫৮. কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদানের প্রযুক্তিকে বলা হয়-আরও এসেছে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ২০১৫
- ক. ই-মেইল
- খ. ইন্টারকম
- গ. ইন্টারনেট
- ঘ. টেলিগ্রাম
উত্তর: গ. ইন্টারনেট
ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে ছড়ানো অসংখ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সংযোগ, যার মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। ইমেইল ইন্টারনেটের একটি সেবা বা ব্যবহার, নিজে কোনো প্রযুক্তি নয়। ইন্টারকম ও টেলিগ্রাম কম্পিউটার-নির্ভর নয়।
মনে রাখুন:
ইন্টারনেটের পূর্বসূরি ১৯৬৯ সালের আরপানেট।
টিম বার্নার্স-লি ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) তৈরি করেন।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- ৫৯. বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কোন সালে?
- ক. ১২১২
- খ. ১২০০
- গ. ১২০৪
- ঘ. ১২১১
উত্তর: গ. ১২০৪
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে নদীয়া আক্রমণ করেন। তখন সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন সেখানে ছিলেন, এবং তিনি অল্প সৈন্য নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ হওয়ায় পালিয়ে যান। এভাবে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়, আর বখতিয়ার লখনৌতিকে রাজধানী করেন।
মনে রাখুন:
বখতিয়ার তিব্বত অভিযানে ব্যর্থ হন এবং ১২০৬ সালে দেবকোটে নিহত হন।
সেন বংশের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজা ছিলেন বল্লাল সেন ও লক্ষ্মণ সেন। - ৬০. প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪, এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৯
- ক. মালদ্বীপ
- খ. সন্দ্বীপ
- গ. হাতিয়া
- ঘ. বরিশাল
উত্তর: ঘ. বরিশাল
প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ নামের জনপদটি বর্তমান বরিশাল অঞ্চল। মধ্যযুগে এই এলাকা বাকলা নামেও পরিচিত ছিল, আর অনেক সময় এ অঞ্চলকে ‘বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ’ বলা হতো। নামে ‘দ্বীপ’ থাকলেও এটি আসলে নদীবেষ্টিত নিম্নভূমির একটি বড় এলাকা। মালদ্বীপ একটি আলাদা দেশ, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া দুটি দ্বীপ, কিন্তু প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ এগুলোর কোনোটি নয়।
মনে রাখুন: প্রাচীন বাংলার অন্য জনপদের নাম পুণ্ড্র, বঙ্গ, গৌড়, সমতট ও হরিকেল। - ৬১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মনোগ্রামে কতটি তারকা চিহ্ন রয়েছে?
- ক. ৪ টি
- খ. ৫ টি
- গ. ৬ টি
- ঘ. ২ টি
উত্তর: ক. ৪ টি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে মোট ৪টি তারকা আছে। প্রতীকের মাঝখানে আছে শাপলা ফুল, তার দুই পাশে ধানের শীষ, ওপরে পাটপাতা এবং দুই দিকে তারকা। বাংলাদেশের মূল সংবিধানে চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ছিল: গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ। এই চারটি মূলনীতির প্রতীক হিসেবেই চারটি তারকা বসানো হয়েছে।
মনে রাখুন: শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল, আর ধান ও পাট দেশের কৃষির প্রতীক। - ৬২. বাংলাদেশের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায়?
- ক. ফরিদপুর
- খ. চাঁদপুর
- গ. চট্টগ্রাম
- ঘ. নারায়ণগঞ্জ
উত্তর: ক. ফরিদপুর
বাংলাদেশের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (River Research Institute) ফরিদপুরে অবস্থিত। আমাদের দেশ নদীমাতৃক, আর এখানে নদী ভাঙন, বন্যা ও পলি জমার সমস্যা প্রতি বছরই দেখা দেয়। তাই নদীশাসন, বাঁধ নির্মাণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করাই এই প্রতিষ্ঠানের কাজ। এটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।
মনে রাখুন: নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডও (BWDB) নদী ও বন্যা নিয়ে কাজ করে। - ৬৪. বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ কবে পৃথক করা হয়?
- ক. ৩১-১০-০৭
- খ. ১-১১-০৭
- গ. ৩-১১-০৭
- ঘ. ১-১০-০৭
উত্তর: খ. ১-১১-০৭
বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা হয় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর। এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারকরা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকতেন, ফলে বিচারের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার নির্দেশনা আছে, আর মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর এই আলাদা করার কাজ বাস্তবায়িত হয়। তাই ১ নভেম্বর ২০০৭ থেকে নিম্ন আদালতের বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন।
মনে রাখুন: তখন দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। - ৬৫. ৬-দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়?
- ক. ঢাকা
- খ. লাহোর
- গ. দিল্লি
- ঘ. চট্টগ্রাম
উত্তর: খ. লাহোর
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক জাতীয় সম্মেলনে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের দাবিগুলো ছয় দফায় ছিল বলে একে বাঙালির ‘মুক্তির সনদ’ বলা হয়। সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে এই দাবি তোলার সুযোগ না পাওয়ায় পরে তিনি তা ঢাকায় জনসমক্ষে প্রচার করেন।
মনে রাখুন:
ছয় দফার ভিত্তিতেই ১৯৬৬ সালের পরের আন্দোলন গড়ে ওঠে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয় ১৯৬৮ সালে।
গণ-অভ্যুত্থান হয় ১৯৬৯ সালে। - ৬৬. দেশের প্রথম ঔষধ পার্ক কোথায় স্থাপিত হচ্ছে?
- ক. গজারিয়া
- খ. গাজীপুর
- গ. সাভার
- ঘ. ভালুকা
উত্তর: ক. গজারিয়া
দেশের প্রথম ওষুধ শিল্প পার্ক, অর্থাৎ অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই (API) পার্ক, মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় স্থাপিত হয়েছে। ওষুধ তৈরির প্রধান কাঁচামালকে বলা হয় এপিআই, আর আমরা এতদিন এর বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতাম। এই পার্কের উদ্দেশ্য হলো ওষুধের কাঁচামাল দেশেই তৈরি করে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো।
মনে রাখুন: বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদনে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কিছু ওষুধ বিদেশেও রপ্তানি করে। - ৬৭. ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোন সালে টেস্ট মর্যাদা পায়?
- ক. ১৯৯৮
- খ. ১৯৯৯
- গ. ২০০০
- ঘ. ২০০১
উত্তর: গ. ২০০০
বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেস্ট মর্যাদা (Test Status) পায় ২০০০ সালে, আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে জুন মাসে। এর আগে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বাংলাদেশ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা লাভ করে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর একই বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ তার প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
মনে রাখুন: টেস্ট ক্রিকেট মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ ছিল দশম দেশ। - ৬৮. বাংলাদেশের জাতীয় ফল কোনটি?
- ক. আম
- খ. কাঁঠাল
- গ. কলা
- ঘ. পেঁপে
উত্তর: খ. কাঁঠাল
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এটি আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে জন্মে এবং গ্রামবাংলার অতি পরিচিত ফল। আম, কলা ও পেঁপেও আমাদের দেশের জনপ্রিয় ফল, কিন্তু এগুলো জাতীয় ফলের মর্যাদা পায়নি।
মনে রাখুন:
জাতীয় ফুল: শাপলা।
জাতীয় গাছ: আমগাছ।
জাতীয় পাখি: দোয়েল।
জাতীয় মাছ: ইলিশ।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- ৬৩. সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
- ক. টেকনাফ
- খ. কক্সবাজার
- গ. পটুয়াখালী
- ঘ. খুলনা
উত্তর: গ. পটুয়াখালী
পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে বলা হয় সাগরকন্যা। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের এই সৈকত একটি বিশেষ কারণে বিখ্যাত। এখান থেকে একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়, যা আমাদের দেশে আর কোথাও সম্ভব নয়। কক্সবাজার পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত, আর টেকনাফ আমাদের দেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত।
মনে রাখুন:
কুয়াকাটায় রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস আছে এবং সেখানে একটি বৌদ্ধ মন্দিরও আছে।
কক্সবাজারের সৈকত প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। - ৮০. গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
- ক. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
- খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
- গ. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
- ঘ. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
উত্তর: খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
গ্রিনহাউস প্রভাবে (Greenhouse Effect) বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের মতো গ্যাস জমে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায়। তাপমাত্রা বাড়লে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে এবং সমুদ্রের পানি প্রসারিত হয়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার বড় অংশ নিচু, তাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো নিম্নভূমি তলিয়ে যাওয়া। এতে অনেক মানুষ বাস্তুহারা হবে এবং জমি ও পানিতে লবণাক্ততা বাড়বে।
মনে রাখুন: তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বাড়াও গ্রিনহাউস প্রভাবের ফল, কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠ উঁচু হওয়ার ক্ষতিই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুতর। - ৮৮. সুনামির (Tsunami) কারণ হলো-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
- ক. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
- খ. ঘূর্ণিঝড়
- গ. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
- ঘ. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
উত্তর: ঘ. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ, যার অর্থ ‘বন্দরের ঢেউ’। সমুদ্রের তলদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সমুদ্রতল হঠাৎ ওপরে বা নিচে সরে যায়, তখন ওপরের বিপুল পরিমাণ পানি স্থানচ্যুত হয়ে বিশাল ঢেউ তৈরি করে। তাই সুনামির প্রধান কারণ সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প। এই ঢেউ গভীর সমুদ্রে খুব দ্রুত ছুটে চলে এবং তীরের কাছে এসে অনেক উঁচু হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার কাছে ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরে ভয়াবহ সুনামি হয়।
২০১১ সালে জাপানে আরেকটি বড় সুনামি হয়। - ৯০. জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
- ক. কৃত্রিম সার প্রয়োগ
- খ. পানি সেচ
- গ. জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
- ঘ. প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ
উত্তর: খ. পানি সেচ
জমিতে লবণ জমে গেলে ফসল ভালো হয় না, আর এই সমস্যা আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায়ই দেখা যায়। মাটির ওপরের স্তরের লবণ পানি সেচ দিলে ধুয়ে নিচের স্তরে নেমে যায় কিংবা নিষ্কাশন নালা দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই নিয়মিত মিষ্টি পানি দিয়ে সেচ জমির লবণাক্ততা কমাতে সাহায্য করে। কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক সার ফসলের পুষ্টি জোগায়, কিন্তু লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে না।
মনে রাখুন: লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য লবণসহিষ্ণু ধানের জাতও উদ্ভাবিত হয়েছে। - ৯২. বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোনটি?
- ক. ৫ মে
- খ. ১৫ মে
- গ. ৫ জুন
- ঘ. ১৫ জুন
উত্তর: গ. ৫ জুন
প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে জাতিসংঘের মানব পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন শুরু হয়েছিল এই দিনে, আর সেই সম্মেলনের স্মরণে দিনটি বেছে নেওয়া হয়। সম্মেলনের ফলেই জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) গঠিত হয়।
মনে রাখুন:
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস ২২ এপ্রিল।
বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণীত হয় ১৯৯৫ সালে।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- ৬৯. (তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন) ষোড়শ সার্ক সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
- ক. ঢাকা
- খ. কাঠমাণ্ডু
- গ. থিম্পু
- ঘ. মালে
উত্তর: গ. থিম্পু
ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে। সার্ক প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির সময় এই সম্মেলন হয়েছিল, আর এর মূল আলোচ্য বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তন। সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল ঢাকায়, আর অন্য সম্মেলনগুলো সদস্য দেশগুলোর রাজধানীতে পালা করে হয়।
মনে রাখুন:
সপ্তদশ সম্মেলন ২০১১ সালে মালদ্বীপের আড্ডুতে হয়।
অষ্টাদশ সম্মেলন ২০১৪ সালে কাঠমান্ডুতে হয়। - ৭০. বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট কোনটি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৬, এনটিআরসিএ ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০২২
- ক. EU
- খ. WTO
- গ. NATO
- ঘ. FIFA
উত্তর: খ. WTO
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা WTO (World Trade Organization) বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংগঠন। এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬০-এরও বেশি, আর বিশ্ববাণিজ্যের প্রায় সবটুকুই এই সদস্যদের মধ্যে ঘটে। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি সংস্থাটি কাজ শুরু করে এবং এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। অন্য অপশনগুলো আলাদা ধরনের সংস্থা। ন্যাটো একটি সামরিক জোট, আর ফিফা ফুটবলের আন্তর্জাতিক সংস্থা।
মনে রাখুন:
WTO প্রতিষ্ঠার আগে এর স্থানে ছিল GATT (General Agreement on Tariffs and Trade)।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট। - ৭১. আলফ্রেড নোবেল কি আবিষ্কার করেন?
- ক. ডিনামাইট
- খ. বিদ্যুৎ
- গ. পোলিও টিকা
- ঘ. কয়লা
উত্তর: ক. ডিনামাইট
সুইডিশ রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল ১৮৬৭ সালে ডিনামাইট (Dynamite) আবিষ্কার করেন। এটি নাইট্রোগ্লিসারিন নামের বিস্ফোরক পদার্থকে একটি স্থিতিশীল আকারে এনে তৈরি। এই আবিষ্কার থেকে নোবেল প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। তিনি উইলে লিখে যান, তাঁর সম্পত্তির সুদ থেকে প্রতি বছর বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তির মতো ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। - ৭২. নিম্নের কোন দেশটি G-7 এর সদস্য নয়?
- ক. জাপান
- খ. যুক্তরাজ্য
- গ. ফ্রান্স
- ঘ. সুইডেন
উত্তর: ঘ. সুইডেন
জি-সেভেন (G-7) হলো বিশ্বের সাতটি উন্নত শিল্পোন্নত দেশের একটি গোষ্ঠী। এর সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপান। অপশনের মধ্যে জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এর সদস্য, কিন্তু সুইডেন সদস্য নয়, তাই সুইডেনই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন: রাশিয়া ১৯৯৭ সালে যোগ দিলে গোষ্ঠীটির নাম হয় জি-এইট, কিন্তু ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়া বাদ পড়ে এবং আবার জি-সেভেন নামে ফিরে আসে। - ৭৩. হাজার হ্রদের দেশ কোনটি?
- ক. নরওয়ে
- খ. ফিনল্যান্ড
- গ. ইন্দোনেশিয়া
- ঘ. জাপান
উত্তর: খ. ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ডকে ‘হাজার হ্রদের দেশ’ (Land of a Thousand Lakes) বলা হয়, কারণ দেশটিতে হাজার হাজার হ্রদ আছে, প্রকৃতপক্ষে এর সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি। অন্য দেশগুলোর পরিচিত নামও আলাদা।
মনে রাখুন:
নরওয়ে: মধ্যরাতের সূর্যের দেশ।
জাপান: উদীয়মান সূর্যের দেশ।
ইন্দোনেশিয়া: হাজার দ্বীপের দেশ। - ৭৪. কোথায় সেনাবাহিনী নেই?
- ক. সুদান
- খ. সাইপ্রাস
- গ. মালদ্বীপ
- ঘ. ভুটান
উত্তর: গ. মালদ্বীপ
প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে মালদ্বীপে সুদান, সাইপ্রাস বা ভুটানের মতো আলাদা সেনাবাহিনী নেই। দেশটির প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে একটি ছোট সমন্বিত জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (Maldives National Defence Force), যাতে উপকূলরক্ষী ও মেরিন একসঙ্গে কাজ করে। সুদান, সাইপ্রাস ও ভুটানের নিজস্ব সেনাবাহিনী আছে।
মনে রাখুন: কোস্টারিকা ও আইসল্যান্ডেও নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই। - ৭৫. কবে রেডক্রস প্রতিষ্ঠিত হয়?
- ক. ১৮৬৩ সালে
- খ. ১৮৬৮ সালে
- গ. ১৮৬৬ সালে
- ঘ. ১৮৬১ সালে
উত্তর: ক. ১৮৬৩ সালে
রেডক্রস (Red Cross) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৩ সালে। সুইজারল্যান্ডের নাগরিক জ্যাঁ অঁরি দুনাঁ (Henry Dunant) ইতালির সলফেরিনো যুদ্ধে আহত সৈনিকদের দুর্দশা দেখে যুদ্ধাহতদের সেবার জন্য জেনেভায় এই সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁর এই কাজের জন্য তিনি ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
মনে রাখুন:
মুসলিম দেশগুলোতে সংগঠনটি রেড ক্রিসেন্ট নামে কাজ করে, যেমন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
প্রতি বছর ৮ মে বিশ্ব রেডক্রস দিবস পালিত হয়। - ৭৬. বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে পালিত হয়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪, এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. ২৬ জুন
- খ. ১ আগস্ট
- গ. ১ মে
- ঘ. ১০ ডিসেম্বর
উত্তর: ঘ. ১০ ডিসেম্বর
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্যারিসে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) গ্রহণ করে। এই ঘোষণাপত্রে ৩০টি ধারা আছে, যেখানে সব মানুষের মৌলিক অধিকার তুলে ধরা হয়েছে। তাই প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।
মনে রাখুন:
১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।
২৬ জুন মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। - ৭৭. FIFA প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
- ক. ১৯০৪
- খ. ১৯২৪
- গ. ১৯১৪
- ঘ. ১৯০৫
উত্তর: ক. ১৯০৪
আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা (FIFA, Fédération Internationale de Football Association) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। প্রথমে সাতটি ইউরোপীয় দেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল। বর্তমানে ফিফার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে। ফিফা প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করে।
মনে রাখুন: প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। - ৭৮. কিরগিজস্তানের রাজধানী কোথায়?
- ক. বিশকেক
- খ. আলমাআতা
- গ. আশখাবাদ
- ঘ. উলানবাটো
উত্তর: ক. বিশকেক
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক (Bishkek)। মধ্য এশিয়ার এই দেশটি একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। বাকি শহরগুলো অন্য দেশের। আলমাআতা কাজাখস্তানের সাবেক রাজধানী, যদিও এখন কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা। আশখাবাদ তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী, আর উলানবাটোর মঙ্গোলিয়ার রাজধানী।
মনে রাখুন: তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে এবং উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ।
সাধারণ বিজ্ঞান
- ৭৯. রাসায়নিক অগ্নি নির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে –
- ক. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
- খ. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
- গ. অক্সিজেন সরবরাহ করে
- ঘ. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
উত্তর: ঘ. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
আগুন জ্বলতে তিনটি জিনিস লাগে: দাহ্য পদার্থ, তাপ এবং অক্সিজেন। এর যেকোনো একটি সরিয়ে নিলে আগুন নিভে যায়। রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড কিংবা ফেনা তৈরি হয়, আর সেটি আগুনের ওপর একটি আস্তরণের মতো পড়ে। তখন বাতাসের অক্সিজেন আগুন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, অর্থাৎ অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং আগুন নিভে যায়।
মনে রাখুন: বৈদ্যুতিক বা তেলের আগুনে পানি ব্যবহার করা উচিত নয়, সেখানে রাসায়নিক নির্বাপক বা কার্বন ডাই-অক্সাইড কাজে লাগে। - ৮১. সংকর ধাতু পিতলের উপাদান –
- ক. তামা ও টিন
- খ. তামা ও দস্তা
- গ. তামা ও নিকেল
- ঘ. তামা ও সিসা
উত্তর: খ. তামা ও দস্তা
পিতল (Brass) হলো তামা ও দস্তার সংকর ধাতু। দুই বা তার বেশি ধাতু মিশিয়ে তৈরি করা ধাতুকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। তামার সঙ্গে টিন মিশিয়ে তৈরি হয় ব্রোঞ্জ বা কাঁসা, আর এর সঙ্গে নিকেল ও দস্তা মেশালে জার্মান সিলভার পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
পিতল: তামা + দস্তা।
ব্রোঞ্জ: তামা + টিন।
সোল্ডার: টিন + সিসা।
স্টেইনলেস স্টিল: লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল। - ৮২. বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ –
- ক. কম হয়
- খ. খুব কম হয়
- গ. একই হয়
- ঘ. বেশি হয়
উত্তর: গ. একই হয়
সাধারণ পাখার গতি কমানো হয় রেগুলেটরের সাহায্যে, আর এই রেগুলেটর আসলে একটি পরিবর্তনশীল রোধ। এটি বর্তনীতে রোধ বাড়িয়ে পাখার মোটরে বিদ্যুতের পরিমাণ কমায়, ফলে পাখা ধীরে ঘোরে। কিন্তু পাখা যে বিদ্যুৎশক্তি কম নেয়, রেগুলেটর রোধ বেড়ে যাওয়ায় সেই শক্তি তাপ হয়ে রেগুলেটরেই খরচ হয়ে যায়। তাই মোট বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই থাকে।
মনে রাখুন: আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটর রোধের বদলে সার্কিট ব্যবহার করে, তাই তাতে অপচয় তুলনায় কম। - ৮৩. রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়?
- ক. গামা রশ্মি
- খ. বিটা রশ্মি
- গ. কসমিক রশ্মি
- ঘ. রঞ্জন রশ্মি
উত্তর: ঘ. রঞ্জন রশ্মি
পুরোনো রঙিন টেলিভিশনে ক্যাথোড রশ্মি নল (Cathode Ray Tube) থাকত। এর ভেতরে দ্রুতগতির ইলেকট্রন পর্দার ফসফরে আঘাত করে ছবি তৈরি করে। এ সময় ইলেকট্রনের গতিশক্তির কিছু অংশ রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) হিসেবে বেরিয়ে আসে। এর পরিমাণ সামান্য হলেও বেশি মাত্রায় এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। গামা, বিটা বা মহাজাগতিক রশ্মি টেলিভিশন থেকে তৈরি হয় না।
মনে রাখুন: এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলহেলম কনরাড রন্টজেন ১৮৯৫ সালে। - ৮৪. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় তা হলো-
- ক. এ রোগ মানবদেহের কিডনী নষ্ট করে।
- খ. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়।
- গ. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- ঘ. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়।
উত্তর: খ. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়।
ডায়াবেটিস হয় ইনসুলিন হরমোনের অভাবে অথবা শরীর ইনসুলিনকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে না পারলে, তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন থাকলে কিডনি, চোখ ও স্নায়ু নষ্ট হতে পারে। কিন্তু চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়, এই কথাটি সত্য নয়। বেশি চিনি খেলেই সরাসরি ডায়াবেটিস হয় না, তবে অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম ও বংশগতি ঝুঁকি বাড়ায়।
মনে রাখুন: ডায়াবেটিস মূলত দুই ধরনের: টাইপ-১ ও টাইপ-২। - ৮৫. এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে-
- ক. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
- খ. হৃৎপিণ্ডে নতুন শিরা সংযোজন
- গ. হৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া
- ঘ. হৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে নতুন টিস্যু সংযোজন
উত্তর: ক. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
এনজিওপ্লাস্টি (Angioplasty) হলো হৃৎপিণ্ডের সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালি বেলুনের সাহায্যে ফুলিয়ে খুলে দেওয়ার চিকিৎসা। একটি সরু নলের মাথায় বেলুন লাগিয়ে তা রক্তনালির বাধাপ্রাপ্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর বেলুন ফুলিয়ে নালিটি প্রশস্ত করা হয়। অনেক সময় নালিটি খোলা রাখার জন্য সেখানে স্টেন্ট (Stent) নামের একটি ছোট জালিকার মতো নল বসানো হয়। অন্য অপশনগুলো আলাদা চিকিৎসা, যেমন নতুন রক্তনালি সংযোজনকে বলে বাইপাস সার্জারি।
মনে রাখুন: হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনির নাম করোনারি ধমনি। - ৮৬. অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?
- ক. ফিটকিরি
- খ. চুন
- গ. সেভিং সোপ
- ঘ. কস্টিক সোডা
উত্তর: ক. ফিটকিরি
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা নাম ফিটকিরি (Alum)। এটি এক ধরনের স্বচ্ছ কেলাস, আর আমাদের গ্রামে এটি ঘোলা পানি পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়। ফিটকিরি পানিতে মেশালে পানির ভাসমান কাদা ও ময়লা জমাট বেঁধে তলায় বসে যায়, ফলে পানি স্বচ্ছ হয়। অন্য অপশনগুলো ভিন্ন পদার্থ। চুন হলো ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড, আর কস্টিক সোডা হলো সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড।
মনে রাখুন: ফিটকিরির আরেকটি ব্যবহার হলো ক্ষত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করা। - ৮৭. ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?
- ক. কিউলেক্স
- খ. এডিস
- গ. অ্যানোফিলিস
- ঘ. সব ধরনের মশা
উত্তর: খ. এডিস
ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ, আর এর ভাইরাস ছড়ায় এডিস (Aedes) মশা। বিশেষ করে এডিস ইজিপ্টাই মশা এ রোগ বহন করে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। অন্য মশাগুলো ভিন্ন রোগ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস ছড়ায় ম্যালেরিয়া, আর কিউলেক্স ছড়ায় গোদ বা ফাইলেরিয়া রোগ।
মনে রাখুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। - ৮৯. কত বছর পর পর হ্যালির ধূমকেতু দেখা যায়?
- ক. ৭০ বছর
- খ. ৬৫ বছর
- গ. ৭৬ বছর
- ঘ. ৮০ বছর
উত্তর: গ. ৭৬ বছর
হ্যালির ধূমকেতু (Halley's Comet) প্রায় ৭৬ বছর পরপর পৃথিবী থেকে দেখা যায়। ধূমকেতু সূর্যকে কেন্দ্র করে লম্বাটে কক্ষপথে ঘোরে, আর হ্যালির ধূমকেতু একবার ঘুরে আসতে এই সময় নেয়। ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি হিসাব করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ধূমকেতুটি আবার ফিরে আসবে, সেজন্য এর নাম তাঁর নামে। সর্বশেষ এটি দেখা গেছে ১৯৮৬ সালে।
মনে রাখুন: এরপর ধূমকেতুটির আবার দেখা মিলবে ২০৬১ সালে। - ৯১. কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?
- ক. দস্তা
- খ. সালফার
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. পটাশিয়াম
উত্তর: খ. সালফার
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান হলো সালফার (গন্ধক)। সালফার আমিষ বা প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই এর অভাব হলে উদ্ভিদের আমিষ তৈরি ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা দেরিতে হয়। সালফারের অভাবে কচি পাতাও হলদে হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেনের অভাবে পুরোনো পাতা হলদে হয়।
দস্তার অভাবে ধানে খৈরা রোগ হয়।
পটাশিয়ামের অভাবে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। - ৯৩. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম?
- ক. শূন্যতায়
- খ. কঠিন পদার্থে
- গ. তরল পদার্থে
- ঘ. বায়বীয় পদার্থে
উত্তর: ঘ. বায়বীয় পদার্থে
শব্দ চলার জন্য একটি মাধ্যম লাগে। কঠিন, তরল ও বায়বীয়, এই তিন ধরনের পদার্থের মধ্য দিয়েই শব্দ চলতে পারে, কিন্তু শূন্যস্থানে শব্দ চলে না। মাধ্যমগুলোর মধ্যে বায়বীয় পদার্থে কণাগুলো দূরে দূরে থাকে, তাই কম্পন এক কণা থেকে আরেক কণায় পৌঁছাতে সময় বেশি লাগে এবং শব্দের বেগ সবচেয়ে কম হয়। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি থাকে বলে সেখানে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি।
মনে রাখুন:
বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার প্রতি সেকেন্ড (০°C তাপমাত্রায়)।
পানিতে প্রায় ১৪৫০ মিটার প্রতি সেকেন্ড।
ইস্পাতে প্রায় ৫০০০ মিটার প্রতি সেকেন্ডের বেশি। - ৯৪. কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
- ক. পেপসিন
- খ. এমাইলেজ
- গ. রেনিন
- ঘ. ট্রিপসিন
উত্তর: গ. রেনিন
দুধ পাকস্থলীতে পৌঁছালে রেনিন (Rennin) নামের এনজাইম দুধের আমিষ কেসিনকে জমাট বাঁধিয়ে দেয়। জমাট বাঁধার ফলে দুধ কিছু সময় পাকস্থলীতে আটকে থাকে, আর সেই সুযোগে পেপসিন ভালোভাবে হজম ঘটায়। রেনিন বিশেষ করে শিশুদের পাকস্থলীতে বেশি পাওয়া যায়। অন্য এনজাইমগুলোর কাজ আলাদা। অ্যামাইলেজ শর্করা ভাঙে, আর ট্রিপসিন ক্ষুদ্রান্ত্রে আমিষ হজমে সাহায্য করে।
মনে রাখুন: পেপসিন পাকস্থলীতে প্রোটিন ভাঙে, আর তা কাজ করে অম্লীয় পরিবেশে। - ৯৫. স্টিফেন হকিন্স বিশ্বের একজন অতিশয় বিখ্যাত-
- ক. দার্শনিক
- খ. পদার্থবিদ
- গ. কবি
- ঘ. রসায়নবিদ
উত্তর: খ. পদার্থবিদ
স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। তিনি কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর শরীর মোটর নিউরন রোগে প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল, তবু তিনি বিজ্ঞানচর্চা চালিয়ে যান। সাধারণ মানুষকে মহাবিশ্বের রহস্য বোঝানোর জন্য তিনি ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ (A Brief History of Time) নামের বিখ্যাত বইটি লেখেন।
মনে রাখুন: তিনি ২০১৮ সালে মারা যান, আর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লুকাসিয়ান অধ্যাপক ছিলেন। - ৯৬. ফল পাকানোর জন্য দায়ী কী?
- ক. ইথিলিন
- খ. প্রপিন
- গ. লাইকোপেন
- ঘ. মিথিলিন
উত্তর: ক. ইথিলিন
ফল পাকার জন্য দায়ী ইথিলিন (Ethylene) নামের একটি গ্যাস। এটি উদ্ভিদের একটি প্রাকৃতিক হরমোন, যা ফল নিজেই তৈরি করে এবং এর প্রভাবে ফল নরম হয়, মিষ্টি হয় আর রং বদলায়। কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর সময়ও কখনো কখনো ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে লাইকোপেন হলো টমেটোর লাল রঞ্জক পদার্থ, ফল পাকানোর গ্যাস নয়।
মনে রাখুন: অনেক সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে কৃত্রিমভাবে ফল পাকানো হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান
১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৬)
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৮তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২৫)
- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৪)
- ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৩)
- ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২২)
- ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২১)
- ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৯)
- ৩৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০১৮)
- ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৭)
- ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৫)
- ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৩)
- ৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১১)
- ৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১০)
- ২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৯)
- ২৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৮)
- ২৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৫)
- ২৬তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৩)
- ২৩তম বিশেষ বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা) প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৯)
- ২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৬)
- ১৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৫)
- ১৬তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি (১৯৯৪)
- ১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৩)
- ১৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯০)
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন