৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ১ জুন ২০১২। এখানে ৯৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- সাধারণ বিজ্ঞান (১৮)
- ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (৩)
- গাণিতিক যুক্তি (২০)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (১২)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (৪)
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১)
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (২০)
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (১৯)
সাধারণ বিজ্ঞান
- ১. কোনটি এন্টিবায়োটিক?
- ক. ইনসুলিন
- খ. পেপসিন
- গ. পেনিসিলিন
- ঘ. ইথিলিন
উত্তর: গ. পেনিসিলিন
এন্টিবায়োটিক (Antibiotic) হলো এমন ওষুধ, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়। পেনিসিলিন একটি এন্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দিয়ে তাদের ধ্বংস করে। ১৯২৮ সালে বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম নামের এক ধরনের ছত্রাক থেকে এটি আবিষ্কার করেন। বাকি তিনটি আলাদা জিনিস। ইনসুলিন একটি হরমোন, পেপসিন পাকস্থলীর একটি এনজাইম এবং ইথিলিন ফল পাকাতে সাহায্যকারী উদ্ভিদ হরমোন।
মনে রাখুন: ১৯৪৫ সালে ফ্লেমিং, হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইন যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান। এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। - ২. জন্ডিসে আক্রান্ত হয়-
- ক. যকৃত
- খ. কিডনি
- গ. পাকস্থলী
- ঘ. হৃৎপিণ্ড
উত্তর: ক. যকৃত
জন্ডিস (Jaundice) রোগে যকৃৎ বা লিভার আক্রান্ত হয়। লাল রক্তকণিকা ভাঙলে বিলিরুবিন নামে হলুদ রঙের একটি পদার্থ তৈরি হয়। সুস্থ অবস্থায় যকৃৎ এটি পিত্তরসের সঙ্গে বের করে দেয়। যকৃৎ আক্রান্ত হলে বিলিরুবিন ঠিকমতো বের হতে পারে না এবং রক্তে জমে যায়। এর ফলে চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ দেখায়।
মনে রাখুন:
যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
ভাইরাসঘটিত যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস বলে, যা জন্ডিসের একটি কারণ। - ৩. কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়?
- ক. তামা
- খ. লোহা
- গ. রূপা
- ঘ. রাবার
উত্তর: ঘ. রাবার
কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলতে পারে কি না, তা নির্ভর করে পদার্থটিতে মুক্ত ইলেকট্রন আছে কি না তার ওপর। তামা, লোহা ও রুপা ধাতু, এদের ভেতরে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন আছে, তাই বিদ্যুৎ সহজে চলে। রাবারে মুক্ত ইলেকট্রন নেই। তাই এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, বরং অপরিবাহী। এ কারণেই বৈদ্যুতিক তারের বাইরে রাবার বা প্লাস্টিকের আবরণ দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু রুপা, তারপর তামা।
কিছু অধাতুও বিদ্যুৎ পরিবহন করে, যেমন গ্রাফাইট। - ৪. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?
- ক. সূর্যরশ্মি
- খ. পীট কয়লা
- গ. পেট্রোল
- ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর: ক. সূর্যরশ্মি
যে শক্তির উৎস ব্যবহার করলেও শেষ হয় না, বরং প্রকৃতিতে নতুন করে ফিরে আসে, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) বলে। সূর্যরশ্মি এমন একটি উৎস, কারণ সূর্য প্রতিদিন আলো ও তাপ দেয়। পীট কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel)। এগুলো সৃষ্টি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে, তাই একবার ফুরিয়ে গেলে সহজে আর ফিরে আসে না। এ ধরনের শক্তিকে অনবায়নযোগ্য বলা হয়।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয় শক্তি, জৈবগ্যাস।
অনবায়নযোগ্য শক্তি: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস। - ৫. MKS পদ্ধতিতে ভরের একক-
- ক. কিলোগ্রাম
- খ. পাউন্ড
- গ. গ্রাম
- ঘ. আউন্স
উত্তর: ক. কিলোগ্রাম
একক পদ্ধতি হলো পরিমাপের জন্য নির্ধারিত এককের একটি সেট। MKS পদ্ধতির নাম এসেছে তিনটি একক থেকে: Metre (দৈর্ঘ্য), Kilogram (ভর) ও Second (সময়)। তাই এই পদ্ধতিতে ভরের একক কিলোগ্রাম। গ্রাম CGS পদ্ধতির ভরের একক, আর পাউন্ড ও আউন্স FPS পদ্ধতির এককের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মনে রাখুন:
CGS পদ্ধতি: সেন্টিমিটার, গ্রাম, সেকেন্ড।
FPS পদ্ধতি: ফুট, পাউন্ড, সেকেন্ড।
আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি SI আসলে MKS পদ্ধতিরই সম্প্রসারিত রূপ। - ৬. কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
- ক. তামা
- খ. ইস্পাত
- গ. পিতল
- ঘ. স্বর্ণ
উত্তর: খ. ইস্পাত
যেসব পদার্থ চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় এবং নিজেরাও চুম্বকে পরিণত হতে পারে, তাদের চৌম্বক পদার্থ বলে। ইস্পাত লোহার সংকর ধাতু, তাই এটি চৌম্বক। ইস্পাতকে একবার চুম্বকে পরিণত করলে সে অনেক দিন চুম্বকত্ব ধরে রাখে, তাই স্থায়ী চুম্বক বানাতে ইস্পাত ব্যবহার হয়। তামা, পিতল ও সোনা চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না, তাই এগুলোকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না।
মনে রাখুন:
লোহা, কোবাল্ট ও নিকেল প্রধান চৌম্বক ধাতু।
নরম লোহা সহজে চুম্বক হয়, কিন্তু সহজেই চুম্বকত্ব হারায়। - ৭. অ্যালটিমিটার (Altimeter) কি?
- ক. তাপ পরিমাপক যন্ত্র
- খ. উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র
- গ. গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
- ঘ. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
উত্তর: ঘ. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
অল্টিমিটার (Altimeter) এমন যন্ত্র, যা দিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো স্থানের উচ্চতা মাপা হয়। যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর চাপ তত কমে। অল্টিমিটার এই চাপের পরিবর্তন দেখে উচ্চতা বলে দেয়। তাই বিমান ও পর্বতারোহণে এটি ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন: কয়েকটি পরিমাপক যন্ত্র:
ব্যারোমিটার: বায়ুর চাপ মাপে।
থার্মোমিটার: তাপমাত্রা মাপে।
হাইগ্রোমিটার: বায়ুর আর্দ্রতা মাপে। - ৮. কোনটি মৌলিক পদার্থ?
- ক. লোহা
- খ. ব্রোঞ্জ
- গ. পানি
- ঘ. ইস্পাত
উত্তর: ক. লোহা
যে পদার্থকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে ভেঙে আরও সরল কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না এবং যা একই ধরনের পরমাণু দিয়ে তৈরি, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল (Element) বলে। লোহা (Fe) একটি মৌল। বাকি পদার্থগুলো মৌল নয়। পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের যৌগ। ব্রোঞ্জ ও ইস্পাত সংকর ধাতু, অর্থাৎ ব্রোঞ্জ তামা ও টিনের এবং ইস্পাত লোহা ও কার্বনের মিশ্রণ।
মনে রাখুন: পানির সংকেত H₂O। মৌলের সংখ্যা বর্তমানে ১১৮টি। - ৯. কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে?
- ক. পারদ
- খ. লিথিয়াম
- গ. জার্মেনিয়াম
- ঘ. ইউরেনিয়াম
উত্তর: ক. পারদ
পারদ (Mercury, Hg) একমাত্র ধাতু, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে। এর গলনাঙ্ক প্রায় −39°C, তাই ঘরের তাপমাত্রায় এটি গলিত অবস্থাতেই থাকে। এ কারণে থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়। লিথিয়াম, জার্মেনিয়াম ও ইউরেনিয়াম সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন ধাতু।
মনে রাখুন:
অধাতুর মধ্যে একমাত্র ব্রোমিন সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।
গ্যালিয়াম ও সিজিয়াম ধাতু সামান্য গরমেই গলে যায়।
পারদ বিষাক্ত, তাই বর্তমানে অনেক জায়গায় থার্মোমিটারে এর ব্যবহার কমে আসছে। - ১০. স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান-
- ক. তামা
- খ. দস্তা
- গ. ক্রোমিয়াম
- ঘ. এলুমিনিয়াম
উত্তর: গ. ক্রোমিয়াম
স্টেইনলেস স্টিল লোহা, কার্বন ও ক্রোমিয়ামের একটি সংকর ধাতু, যাতে সাধারণত নিকেলও থাকে। এর প্রধান গুণ হলো, সহজে মরিচা ধরে না। এর কারণ ক্রোমিয়াম। বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে ক্রোমিয়াম লোহার ওপর অক্সাইডের একটি পাতলা, অদৃশ্য স্তর তৈরি করে। এই স্তর ভেতরের লোহাকে বাতাস ও পানি থেকে রক্ষা করে। তামা, দস্তা বা অ্যালুমিনিয়াম এর উপাদান নয়।
মনে রাখুন: স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে রান্নার বাসন, চামচ ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্র তৈরি হয়। - ১১. সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস-
- ক. অক্সিজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. র্যাডন
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: খ. হাইড্রোজেন
গ্যাসের হালকা বা ভারী হওয়া নির্ভর করে তার অণুর ভরের ওপর। হাইড্রোজেন (H) সবচেয়ে হালকা মৌল, কারণ এর পরমাণুতে একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন থাকে এবং সাধারণ হাইড্রোজেনে নিউট্রন থাকে না। তাই হাইড্রোজেন গ্যাস সবচেয়ে হালকা। র্যাডন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, আর এটি অনেক ভারী। অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনও হাইড্রোজেনের চেয়ে অনেক ভারী।
মনে রাখুন:
হিলিয়াম দ্বিতীয় হালকা গ্যাস, আর নিরাপদ বলে বেলুনে এর ব্যবহার বেশি।
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে র্যাডন সবচেয়ে ভারী। - ১২. ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত-
- ক. 2H2O2
- খ. H2O
- গ. D2O
- ঘ. HD2O2
উত্তর: গ. D2O
হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ আছে: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। সাধারণ পানির অণুতে প্রোটিয়াম থাকে, আর সংকেত H₂O। কিন্তু ডিউটেরিয়াম (D) আইসোটোপ দিয়ে গঠিত পানিকে ভারী পানি (Heavy Water) বলে। এর সংকেত D₂O। ডিউটেরিয়ামের ভর বেশি, তাই এই পানি সাধারণ পানির চেয়ে ভারী। পারমাণবিক চুল্লিতে এটি মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ নিউট্রনের গতি কমিয়ে দেয়।
মনে রাখুন: ভারী পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। - ১৩. লোহাকে গ্যালভানাইজিং করতে ব্যবহৃত হয়-
- ক. তামা
- খ. দস্তা
- গ. রূপা
- ঘ. এলুমিনিয়াম
উত্তর: খ. দস্তা
লোহার ওপর পাতলা করে দস্তার (Zinc) প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকে গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলে। লোহা পানি ও বাতাসের সংস্পর্শে মরিচা ধরে নষ্ট হয়। দস্তা লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই প্রলেপ ক্ষয়ে গেলেও আগে দস্তা ক্ষয় হয় এবং লোহাকে রক্ষা করে। আমরা যে টিনের চালের ঢেউটিন দেখি, তা আসলে দস্তা-প্রলিপ্ত লোহার পাত।
মনে রাখুন: সক্রিয়তার ক্রমে দস্তা লোহার ওপরে এবং তামা ও রুপা লোহার নিচে থাকে। তাই তামা বা রুপার প্রলেপ লোহাকে একই ভাবে রক্ষা করে না। - ১৪. সংকর ধাতু পিতলের(Brass) উপাদান-
- ক. তামা ও টিন
- খ. তামা ও দস্তা
- গ. তামা ও সীসা
- ঘ. তামা ও নিকেল
উত্তর: খ. তামা ও দস্তা
পিতল (Brass) তামা ও দস্তা মিশিয়ে তৈরি সংকর ধাতু। সংকর ধাতুতে দুই বা তার বেশি ধাতু মেশানো থাকে। এর ফলে ধাতুটির শক্তি বা রং মূল ধাতু থেকে আলাদা হয়। পিতল সোনালি রঙের এবং এটি দিয়ে বাসনপত্র, তার ও যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। তামা ও টিন মিলে তৈরি হয় ব্রোঞ্জ বা কাঁসা, আর তামা ও নিকেল মিলিয়ে কিউপ্রোনিকেল তৈরি হয়।
মনে রাখুন: পিতলে তামার পরিমাণ সাধারণত দস্তার চেয়ে বেশি থাকে। - ১৫. কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
- ক. জিপসাম
- খ. সালফার
- গ. সোডিয়াম
- ঘ. খনিজ লবণ
উত্তর: ক. জিপসাম
সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথর ও কাদামাটি। এগুলো গুঁড়ো করে মিশিয়ে প্রচণ্ড তাপে পোড়ালে ক্লিংকার (Clinker) নামের শক্ত দানা তৈরি হয়। এই ক্লিংকার গুঁড়ো করার সময় তার সঙ্গে সামান্য জিপসাম (Gypsum) মেশানো হয়। জিপসাম সিমেন্টের জমাট বাঁধার সময় নিয়ন্ত্রণ করে। এটি না মেশালে সিমেন্ট পানির সঙ্গে মিশে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে শক্ত হয়ে যেত।
মনে রাখুন: জিপসামের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO₄·2H₂O)। এই সিমেন্টকে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বলা হয়। - ১৬. বিগব্যাঙ তত্ত্বের প্রবক্তা-
- ক. আইনস্টাইন
- খ. জি. ল্যামেটার
- গ. স্টিফেন হকিং
- ঘ. গ্যালিলিও
উত্তর: খ. জি. ল্যামেটার
মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) বলে, বহু আগে এক অতি ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থা থেকে মহাবিশ্ব প্রসারিত হতে শুরু করে, আর এখনো তা প্রসারিত হচ্ছে। এই ধারণা প্রথম দেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী জর্জ লেমেটার (Georges Lemaître), ১৯২৭ সালে। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন, গ্যালিলিও বা হকিংকে এই তত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয় না।
মনে রাখুন:
১৯২৯ সালে এডউইন হাবল প্রমাণ করেন, দূরের ছায়াপথগুলো আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
‘বিগ ব্যাং’ নামটি দেন ফ্রেড হয়েল, ১৯৪৯ সালে। - ১৭. মহাজাগতিক রশ্মির আবিস্কারক-
- ক. হেস
- খ. আইনস্টাইন
- গ. টলেমি
- ঘ. হাবল
উত্তর: ক. হেস
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Ray) হলো মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা অতি শক্তিশালী কণার স্রোত। অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস (Victor Hess) ১৯১২ সালে বেলুনে চড়ে অনেক ওপরে উঠে বিকিরণ মাপেন। তিনি দেখেন, ওপরে যত যাওয়া যায় বিকিরণ তত বাড়ে। এ থেকে প্রমাণ হয়, বিকিরণ মহাশূন্য থেকে আসছে। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
মনে রাখুন: ‘Cosmic ray’ নামটি দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী রবার্ট মিলিকান। - ১৮. ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্যে যান-
- ক. ১৯৫৬ সালে
- খ. ১৯৬১ সালে
- গ. ১৯৬৪ সালে
- ঘ. ১৯৬৯ সালে
উত্তর: খ. ১৯৬১ সালে
ইউরি গ্যাগারিন সোভিয়েত ইউনিয়নের নভোচারী। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ভস্টক-১ মহাকাশযানে চড়ে তিনি প্রথম মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে যান। তিনি পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসেন। তাই তাঁর মহাশূন্য যাত্রার বছর ১৯৬১।
মনে রাখুন:
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১ ছিল ১৯৫৭ সালে, তাও সোভিয়েত ইউনিয়নের।
প্রথম নারী নভোচারী ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা (১৯৬৩) এবং চাঁদে প্রথম মানুষ নিল আর্মস্ট্রং (১৯৬৯)।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- ১৯. গ্রীনিচ মানমন্দির অবস্থিত-
- ক. যুক্তরাজ্য
- খ. যুক্তরাষ্ট্রে
- গ. ফ্রান্সে
- ঘ. জার্মানিতে
উত্তর: ক. যুক্তরাজ্য
গ্রিনিচ মানমন্দির (Royal Observatory, Greenwich) যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের গ্রিনিচ নামক স্থানে অবস্থিত। এর ওপর দিয়ে যে দ্রাঘিমারেখা গেছে, তাকে মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian) বা ০° দ্রাঘিমা ধরা হয়। এই রেখা ধরেই পৃথিবীর দ্রাঘিমা পূর্ব ও পশ্চিমে ভাগ করা হয়। এখান থেকেই গ্রিনিচ মান সময় (Greenwich Mean Time, GMT) গণনা করা হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের সময় GMT থেকে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে, অর্থাৎ GMT + 6।
১৮৮৪ সালে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গ্রিনিচকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। - ৫৩. পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোন মহাসাগরে?
- ক. ভারত মহাসাগরে
- খ. আটলান্টিক মহাসাগরে
- গ. প্রশান্ত মহাসাগরে
- ঘ. উত্তর মহাসাগরে
উত্তর: গ. প্রশান্ত মহাসাগরে
পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতে (Mariana Trench) অবস্থিত। এই খাতের সবচেয়ে গভীর অংশের নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ (Challenger Deep)। এর গভীরতা প্রায় ১১ কিলোমিটার, অর্থাৎ এখানে এভারেস্ট পর্বত ডুবিয়ে দিলেও তার ওপরে পানি থাকত। আর প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে গভীর মহাসাগর।
মনে রাখুন: মারিয়ানা খাত গুয়াম দ্বীপের কাছে অবস্থিত। আটলান্টিকের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো খাত। - ৫৪. পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
- ক. কাস্পিয়ান
- খ. বৈকাল
- গ. মানস সরোবর
- ঘ. ডেড সী (Dead Sea)
উত্তর: খ. বৈকাল
বৈকাল হ্রদ (Lake Baikal) রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত। এর গভীরতা ১,৬০০ মিটারের বেশি, তাই এটি পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন হ্রদও, আর পৃথিবীর মোট মিষ্টি পানির অনেকটা অংশ এখানে জমা আছে। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা বৈশিষ্ট্যের। কাস্পিয়ান সাগর আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ, আর ডেড সি-র পানি অত্যন্ত লবণাক্ত এবং এটি পৃথিবীর স্থলভাগের সবচেয়ে নিচু স্থান।
মনে রাখুন: আয়তনে মিষ্টি পানির বৃহত্তম হ্রদ সুপিরিয়র হ্রদ।
গাণিতিক যুক্তি
- ২০. তিন সদস্যের একটি বিতর্ক দলের সদস্যদের গড় বয়স ২৪ বছর। যদি কোনো সদস্যের বয়সই ২১ বছরের নিচে না হয় তবে তাদের কোনো একজনের সর্বোচ্চ বয়স কত হতে পারে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
- ক. ২৫ বছর
- খ. ৩০ বছর
- গ. ২৮ বছর
- ঘ. ৩২ বছর
উত্তর: খ. ৩০ বছর
তিন সদস্যের গড় বয়স ২৪ বছর, তাই তিনজনের মোট বয়স 3 × 24 = 72 বছর। কোনো সদস্যের বয়স ২১ বছরের নিচে নয়। একজনের বয়স সর্বোচ্চ হবে তখন, যখন বাকি দুজনের বয়স যতটা সম্ভব কম হবে। অর্থাৎ বাকি দুজনের বয়স ২১ বছর করে ধরতে হবে। তাহলে সর্বোচ্চ বয়স
72 − 21 − 21 = 30 বছর।
মনে রাখুন: গড় × সংখ্যা = মোট। কোনো একটির সর্বোচ্চ মান জানতে চাইলে বাকিগুলোকে সর্বনিম্ন ধরতে হয়। - ২১. একটি সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব ভূমি অপেক্ষা ২ সে. মি. ছোট; কিন্তু অতিভুজ ভূমি অপক্ষে ২সে. মি. বড়। অতিভুজের দৈর্ঘ্য কত?
- ক. ১০ সে. মি.
- খ. ৮ সে. মি.
- গ. ৪ সে. মি.
- ঘ. ৬ সে. মি.
উত্তর: ক. ১০ সে. মি.
সমকোণী ত্রিভুজের ভূমি x সেমি ধরি। লম্ব ভূমির চেয়ে ২ সেমি ছোট, তাই লম্ব x − 2। অতিভুজ ভূমির চেয়ে ২ সেমি বড়, তাই অতিভুজ x + 2। পিথাগোরাসের সূত্র অনুযায়ী
x² + (x − 2)² = (x + 2)²
x² + x² − 4x + 4 = x² + 4x + 4
x² = 8x, তাই x = 8।
অতিভুজ = 8 + 2 = 10 সেমি।
যাচাই: ভূমি ৮, লম্ব ৬ ও অতিভুজ ১০ হলে 8² + 6² = 100 = 10²। - ২২. একটি সাবানের আকার ৫ সে. মি. x ৪ সে. মি. x ১.৫সে. মি. হলে ৫৫ সে. মি. দৈর্ঘ্য, ৪৮ সে. মি. প্রস্থ এবং ৩০ সে. মি. উচ্চতাবিশিষ্ট একটি বাক্সের মধ্যে কতটি সাবান রাখা যাবে?
- ক. ২৬৪০ টি
- খ. ১৩২০ টি
- গ. ৩৬০০ টি
- ঘ. ৫২৪০ টি
উত্তর: ক. ২৬৪০ টি
একটি বাক্সে কতটি সাবান ধরবে, তা জানতে বাক্সের প্রতিটি দিক বরাবর কতটি সাবান বসে তা বের করতে হয়। দৈর্ঘ্য বরাবর 55 ÷ 5 = 11টি, প্রস্থ বরাবর 48 ÷ 4 = 12টি এবং উচ্চতা বরাবর 30 ÷ 1.5 = 20টি সাবান বসে। তিন দিকের সংখ্যা গুণ করলে
মোট সাবান = 11 × 12 × 20 = 2640টি।
যাচাই: বাক্সের আয়তন 55 × 48 × 30 = 79200 ঘন সেমি এবং একটি সাবানের আয়তন 5 × 4 × 1.5 = 30 ঘন সেমি। 79200 ÷ 30 = 2640। - ২৩. যদি সেট A = {5, 15, 20, 30} এবং B = {3, 5, 15, 18, 20} হয় তবে নিচের কোনটি A ∩ B নির্দেশ করবে?
- ক. {3, 18, 30}
- খ. {3, 5, 15, 18, 20, 30}
- গ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. কোনোটিই নয়
দুটি সেটের ছেদ (A ∩ B) বলতে সেই উপাদানগুলো বোঝায়, যেগুলো দুই সেটেই আছে। A = {5, 15, 20, 30} এবং B = {3, 5, 15, 18, 20}। এখানে ৫, ১৫ ও ২০ দুটি সেটেই আছে। ৩০ শুধু A-তে এবং ৩ ও ১৮ শুধু B-তে আছে। তাই A ∩ B = {5, 15, 20}। এই সেট প্রশ্নের প্রথম দুটি বিকল্পের কোনোটির সঙ্গে মেলে না, তাই সঠিক উত্তর ‘কোনোটিই নয়’।
মনে রাখুন: A ∪ B মানে দুই সেটের সব উপাদান, অর্থাৎ {3, 5, 15, 18, 20, 30}। - ২৪. ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১ - - – ধারার ১০ম পদটি কত?
- ক. ৩৪
- খ. ৫৫
- গ. ৪৮
- ঘ. ৬৪
উত্তর: খ. ৫৫
১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১ ধারাটির প্রতিটি পদ আগের দুটি পদের যোগফল, যেমন 1 + 1 = 2, 1 + 2 = 3, 2 + 3 = 5, 3 + 5 = 8। এই ধারাকে ফিবোনাচি ধারা (Fibonacci Sequence) বলে। ৮ম পদ ২১, তাই ৯ম পদ 13 + 21 = 34 এবং ১০ম পদ 21 + 34 = 55।
মনে রাখুন: ফিবোনাচি সংখ্যা প্রকৃতিতেও দেখা যায়, যেমন ফুলের পাপড়ির সংখ্যা বা সূর্যমুখীর বীজের সজ্জায়। - ২৫. একটি ত্রিভুজের দুটি কোণের পরিমাণ ৩৫° ও ৫৫°। ত্রিভুজটি কোন ধরনের?
- ক. সমকোণী
- খ. সমবাহু
- গ. সমদ্বিবাহু
- ঘ. স্থুলকোণী
উত্তর: ক. সমকোণী
ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি সবসময় 180°। দুটি কোণ 35° ও 55° হলে তৃতীয় কোণ
180° − (35° + 55°) = 180° − 90° = 90°।
একটি কোণ ৯০° হলে ত্রিভুজকে সমকোণী ত্রিভুজ বলে। এখানে তিনটি কোণ ৩৫°, ৫৫° ও ৯০° আলাদা, তাই এটি সমদ্বিবাহু বা সমবাহু নয়। স্থুলকোণী ত্রিভুজে একটি কোণ ৯০°-এর বেশি থাকে, যা এখানে নেই।
মনে রাখুন: যে দুটি কোণের সমষ্টি ৯০°, তাদের পরস্পরের পূরক কোণ বলে। - ২৬. ৩ সে. মি., ৪ সে. মি., ৫ সে. মি. বাহুবিশিষ্ট তিনটি ঘনক গলিয়ে নতুন একটি ঘনক তৈরি করা হল। নতুন ঘনকের বাহুর দৈর্ঘ্য কত হবে?
- ক. ৭.৫ সে. মি.
- খ. ৬.৫ সে. মি.
- গ. ৬ সে. মি.
- ঘ. ৭ সে. মি.
উত্তর: গ. ৬ সে. মি.
ঘনক গলিয়ে নতুন ঘনক তৈরি করলে মোট আয়তন একই থাকে। তিনটি ঘনকের আয়তন যথাক্রমে 3³ = 27, 4³ = 64 ও 5³ = 125 ঘন সেমি। তাই মোট আয়তন 27 + 64 + 125 = 216 ঘন সেমি। নতুন ঘনকের বাহু a হলে a³ = 216। তাই
a = ∛216 = 6 সেমি।
মনে রাখুন: ঘনকের আয়তন = বাহু³, আর 3³ + 4³ + 5³ = 6³ একটি মজার মিল। - ২৭. একটি রম্বসের কর্ণদ্বয়ের দৈর্ঘ্য ৮ সে. মি. ও ৯ সে. মি.। এই রম্বসের ক্ষেত্রফলের সমান ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত?
- ক. ২৪ সে. মি.
- খ. ১৮ সে. মি.
- গ. ৩৬ সে. মি.
- ঘ. ১২ সে. মি.
উত্তর: ক. ২৪ সে. মি.
রম্বসের ক্ষেত্রফল কর্ণ দুটির গুণফলের অর্ধেক। তাই রম্বসের ক্ষেত্রফল (8 × 9)/2 = 36 বর্গ সেমি। সমান ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট বর্গের বাহু a হলে a² = 36, তাই a = 6 সেমি। বর্গের পরিসীমা
4 × 6 = 24 সেমি।
মনে রাখুন:
রম্বসের ক্ষেত্রফল = (১ম কর্ণ × ২য় কর্ণ)/2।
বর্গের পরিসীমা = 4 × বাহু। - ২৮. যদি (a/b)x-3 = (b/a)x-5 হয় তবে x এর মান কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০২২
- ক. 8
- খ. 3
- গ. 5
- ঘ. 4
উত্তর: ঘ. 4
প্রদত্ত সমীকরণ (a/b)^(x − 3) = (b/a)^(x − 5)। ডান পাশের ভগ্নাংশ b/a হলো a/b-এর বিপরীত, তাই (b/a)^(x − 5) = (a/b)^(−(x − 5)) = (a/b)^(5 − x)। এখন দুই পাশেই ভিত্তি (a/b) একই। ভিত্তি সমান হলে সূচক সমান হয়:
x − 3 = 5 − x
2x = 8, তাই x = 4।
যাচাই: x = 4 হলে বাম পাশ (a/b)¹ এবং ডান পাশ (b/a)⁻¹ = a/b। দুটি সমান। - ২৯. ∛∛a3 = কত?
- ক. a
- খ. 1
- গ. a1/3
- ঘ. a3
উত্তর: গ. a1/3
প্রথমে ভেতরের ঘনমূলটি দেখি: ∛(a³) = a। এখন বাইরের ঘনমূল নিলে ∛a, যা সূচকে a^(1/3)। তাই
∛(∛(a³)) = ∛a = a^(1/3)।
মনে রাখুন:
n-তম মূল বোঝাতে সূচক 1/n লেখা হয়, যেমন ∛a = a^(1/3)।
উদাহরণ: ∛8 = 8^(1/3) = 2। - ৩০. নিচের কোনটি (√5 – √3) এর সমান?
- ক. 2/(√3+√5)
- খ. 1/(2√5+√3)
- গ. (1/√5)+(1/√3)
- ঘ. √2
উত্তর: ক. 2/(√3+√5)
(√5 − √3)-এর মান কোন বিকল্পের সঙ্গে সমান তা দেখতে অনুবন্ধী রাশি (√5 + √3) দিয়ে গুণ ও ভাগ করি। এতে লবে (a − b)(a + b) = a² − b² সূত্র কাজে লাগে:
(√5 − √3) = (√5 − √3)(√5 + √3)/(√5 + √3) = (5 − 3)/(√5 + √3) = 2/(√3 + √5)।
তাই প্রথম বিকল্পটিই সঠিক।
মনে রাখুন: √a − √b এবং √a + √b পরস্পরের অনুবন্ধী রাশি। এদের গুণফল সবসময় মূলহীন, a − b। - ৩১. 36.23x-8 = 3² হলে x এর মান কত?
- ক. 7/3
- খ. 3
- গ. 8/3
- ঘ. 2
উত্তর: ঘ. 2
প্রশ্নটি হলো 36 × 2^(3x − 8) = 3²। ডান পাশে 3² = 9, তাই
2^(3x − 8) = 9/36 = 1/4
আমরা জানি 1/4 = 2^(−2)। দুই পাশের ভিত্তি (২) একই, তাই সূচকও সমান হবে:
3x − 8 = −2
3x = 6, তাই x = 2।
যাচাই: x = 2 হলে 2^(3 × 2 − 8) = 2^(−2) = 1/4 এবং 36 × 1/4 = 9।
মনে রাখুন: ভিত্তি সমান হলে সূচক সমান করে সমীকরণ গড়তে হয়। আর a^(−n) = 1/aⁿ। - ৩২. x/y এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল y/x?
- ক. (x³-2y²)/xy
- খ. (y²-x²)/xy
- গ. (x²-y)/xy
- ঘ. (2x²-y²)/xy
উত্তর: খ. (y²-x²)/xy
x/y-এর সঙ্গে কত যোগ করলে যোগফল y/x হবে, তা বের করতে y/x থেকে x/y বিয়োগ করতে হয়। বিয়োগ করার জন্য হর সমান করি। দুটি হর y ও x-এর লসাগু xy। তাই
y/x − x/y = (y² − x²)/xy।
যাচাই: x/y + (y² − x²)/xy = x²/xy + (y² − x²)/xy = y²/xy = y/x।
মনে রাখুন: কোনো সংখ্যার সঙ্গে কত যোগ করলে অন্য একটি সংখ্যা হবে জানতে চাইলে বড় সংখ্যা থেকে ছোট সংখ্যা বিয়োগ করা হয়। - ৩৩. (∛3×∛4)6=?
- ক. 12
- খ. 48
- গ. 36
- ঘ. 144
উত্তর: ঘ. 144
প্রথমে ঘনমূল দুটি গুণ করি। ∛3 × ∛4 = ∛(3 × 4) = ∛12, অর্থাৎ 12^(1/3)। এর ষষ্ঠ ঘাত
(12^(1/3))⁶ = 12^(6/3) = 12² = 144।
মনে রাখুন:
(aᵐ)ⁿ = a^(mn)।
∛a × ∛b = ∛(ab)।
এখানে ঘনমূলের সূচক ৩ এবং ঘাত ৬, তাই ৬ কে ৩ দিয়ে ভাগ করে ২ পাওয়া যায়। - ৩৪. m সংখ্যক সংখ্যার গড় x এবং n সংখ্যক সংখ্যার গড় y হলে সব সংখ্যার গড় কত?
- ক. (x+y)/mn
- খ. (x+y)/(m+n)
- গ. (mx+ny)/(m+n)
- ঘ. (mx+ny)mn
উত্তর: গ. (mx+ny)/(m+n)
গড় বের করার সূত্র হলো গড় = মোট যোগফল ÷ সংখ্যার সংখ্যা। তাই m টি সংখ্যার গড় x হলে তাদের যোগফল mx। আবার n টি সংখ্যার গড় y হলে যোগফল ny। সবগুলো সংখ্যা মিলে মোট (m + n) টি, আর তাদের যোগফল mx + ny। তাই সব সংখ্যার গড়
(mx + ny)/(m + n)।
উদাহরণ: ২টি সংখ্যার গড় ৪ এবং ৩টি সংখ্যার গড় ৬ হলে মোট গড় (2 × 4 + 3 × 6)/(2 + 3) = 26/5 = 5.2। - ৩৫. 4x+4x+4x+4x এর মান নিচের কোনটি?
- ক. 16x
- খ. 44x
- গ. 22x+2
- ঘ. 28x
উত্তর: গ. 22x+2
চারটি রাশিই একই, 4^x। চারবার যোগ করা মানে ৪ দিয়ে গুণ করা। তাই
4^x + 4^x + 4^x + 4^x = 4 × 4^x = 4^(x + 1)।
এখন 4 = 2², তাই 4^(x + 1) = (2²)^(x + 1) = 2^(2x + 2)।
তাই সঠিক বিকল্প হলো 2^(2x + 2)।
মনে রাখুন:
aᵐ × aⁿ = a^(m + n)।
(aᵐ)ⁿ = a^(mn)।
যোগ আর গুণ গুলিয়ে ফেললে ভুল হয়, কারণ 4^x + 4^x = 2 × 4^x, আর 4^x × 4^x = 4^(2x)। - ৩৬. রকীব সাহেব ৩,৭৩,৮৩৩ টাকা ব্যাংকে রাখলেন। ৭(১/২) বছর পর তিনি আসল টাকার ১(১/৪) অংশ সুদ পেলেন। ব্যাংকের সুদের হার কত?
- ক. ১২(১/২)%
- খ. ১৬(২/৩)%
- গ. ৮(১/৩)%
- ঘ. ১১(১/৯)%
উত্তর: খ. ১৬(২/৩)%
সরল সুদের সূত্র: সুদ = আসল × হার × সময়। এখানে সুদ আসলের 1¼ অংশ, অর্থাৎ আসলের 5/4 গুণ। সময় 7½ বছর = 7.5 বছর। সুদের হার r হলে
(5/4) × আসল = আসল × (r/100) × 7.5
আসল দুই পাশে কেটে যায়, তাই r = (5/4) × 100 ÷ 7.5 = 125/7.5 = 16⅔%।
মনে রাখুন: এই ধরনের অঙ্কে আসলের পরিমাণ জানার দরকার নেই, কারণ হিসাব আসল-এর অনুপাতে হয়। - ৩৭. ৫ জন তাঁত-শ্রমিক ৫ দিনে ৫টি কাপড় বুনতে পারে। একই ধরনের ৭টি কাপড় বুনতে ৭ জন শ্রমিকের কত দিন লাগবে?
- ক. ৫ দিন
- খ. ২৫/৪৯ দিন
- গ. ৪৯/২৫ দিন
- ঘ. ৭ দিন
উত্তর: ক. ৫ দিন
প্রশ্নে ৫ জন শ্রমিক ৫ দিনে ৫টি কাপড় বোনে। এ থেকে বোঝা যায়, ১ জন শ্রমিক ৫ দিনে ১টি কাপড় বোনে। তাই ৭ জন শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করলে ৫ দিনেই প্রত্যেকে একটি করে কাপড় বুনবে, অর্থাৎ ৭টি কাপড় বুনতে ৫ দিনই লাগবে।
হিসাব: ১ জন ১ দিনে কাজ করে 1/5 কাপড়। ৭ জন ১ দিনে করে 7/5 কাপড়। ৭টি কাপড়ের জন্য সময় = 7 ÷ (7/5) = 5 দিন।
মনে রাখুন: শ্রমিক ও কাজ একই অনুপাতে বাড়লে সময় বদলায় না। - ৩৮. (x – y, 3) = (0, x + 2y) হলে (x,y) = কত?
- ক. (1,1)
- খ. (1,3)
- গ. (-1,-1)
- ঘ. (-3,1)
উত্তর: ক. (1,1)
দুটি ক্রমজোড় (a, b) ও (c, d) সমান হবে তখনই, যখন a = c এবং b = d। এখানে (x − y, 3) = (0, x + 2y)। তাই দুটি সমীকরণ পাওয়া যায়:
x − y = 0 এবং x + 2y = 3।
প্রথম সমীকরণ থেকে x = y। দ্বিতীয়টিতে বসালে y + 2y = 3, তাই y = 1 এবং x = 1।
যাচাই: (1 − 1, 3) = (0, 3) এবং (0, 1 + 2 × 1) = (0, 3)। দুটি সমান।
মনে রাখুন: ক্রমজোড়ে ক্রম গুরুত্বপূর্ণ, তাই (a, b) ও (b, a) সাধারণত আলাদা। - ৩৯. একটি আয়তাকার ঘরের প্রস্থ তার দৈর্ঘ্যের ২/৩ অংশ। ঘরটির পরিসীমা ৪০ মিটার হলে তার ক্ষেত্রফল কত?
- ক. ৬০ বর্গমিটার
- খ. ৯৬ বর্গমিটার
- গ. ৭২ বর্গমিটার
- ঘ. ৬৪ বর্গমিটার
উত্তর: খ. ৯৬ বর্গমিটার
দৈর্ঘ্য l মিটার ধরলে প্রস্থ 2l/3 মিটার। আয়তক্ষেত্রের পরিসীমা = 2(দৈর্ঘ্য + প্রস্থ), তাই
2(l + 2l/3) = 40
5l/3 = 20, তাই l = 12।
প্রস্থ = 2 × 12/3 = 8 মিটার। ক্ষেত্রফল
12 × 8 = 96 বর্গমিটার।
যাচাই: পরিসীমা 2(12 + 8) = 40।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- ৪০. পূর্বাশা দ্বীপের অপর নাম কি?
- ক. নিঝুম দ্বীপ
- খ. সন্দ্বীপ
- গ. দক্ষিণ তালপট্টি
- ঘ. কুতুবদিয়া
উত্তর: গ. দক্ষিণ তালপট্টি
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের আরেক নাম পূর্বাশা। ভারত একে নিউ মুর (New Moore Island) বলত। এটি বঙ্গোপসাগরে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা একটি ছোট চর। ১৯৭০-এর দশকের শেষে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং এর মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধ হয়। পরে দ্বীপটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলায়, সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলায়, আর কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। - ৪১. মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
- ক. যশোর
- খ. কুষ্টিয়া
- গ. মেহেরপুর
- ঘ. চুয়াডাঙ্গা
উত্তর: গ. মেহেরপুর
মুজিবনগর মেহেরপুর জেলার একটি স্থান। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তখনকার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। সেই উপলক্ষে জায়গাটির নাম রাখা হয় মুজিবনগর। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
মনে রাখুন:
এই সরকারকে মুজিবনগর সরকার বলা হয়।
১৭ এপ্রিল প্রতিবছর মুজিবনগর দিবস হিসেবে পালিত হয়। - ৪২. বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোন জেলায়?
- ক. ভোলা
- খ. নোয়াখালী
- গ. চট্টগ্রাম
- ঘ. কক্সবাজার
উত্তর: ঘ. কক্সবাজার
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এবং প্রশাসনিকভাবে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত। দ্বীপটিকে স্থানীয় ভাষায় নারিকেল জিঞ্জিরা বলা হয়। দ্বীপের প্রবাল, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও নীল জলের জন্য এটি পর্যটকদের কাছে খুব পরিচিত।
মনে রাখুন: টেকনাফ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা। সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাওয়ার জন্য টেকনাফ থেকে জাহাজে যেতে হয়। - ৪৩. বাংলাদেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী বিষয় কি?
- ক. প্রবাসী শ্রমিক
- খ. পাট
- গ. রেডিমেড গার্মেন্টস
- ঘ. চামড়া
উত্তর: গ. রেডিমেড গার্মেন্টস
তৈরি পোশাক (Readymade Garments) বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বেশির ভাগ এ খাত থেকে আসে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার আরেকটি বড় উৎস, কিন্তু এটি রপ্তানি আয় নয় এবং আয়ের পরিমাণেও তৈরি পোশাকের পরে। পাট ও চামড়া আগের তুলনায় এখন কম অবদান রাখে।
মনে রাখুন: পাটকে বলা হয় সোনালি আঁশ, আর এক সময় পাটই ছিল দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। - ৪৪. শালবন বিহার কোথায়?
- ক. গাজীপুর
- খ. মধুপুর
- গ. রাজবাড়ী
- ঘ. কুমিল্লার ময়ানমতি পাহাড়ের পাশে
উত্তর: ঘ. কুমিল্লার ময়ানমতি পাহাড়ের পাশে
শালবন বিহার কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে, লালমাই পাহাড়ের কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। দেব বংশের রাজা ভবদেব অষ্টম শতকে এটি নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়। বিহারটির প্রায় ১৬৭টি কক্ষ আছে এবং মাঝখানে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির আছে। ময়নামতি অঞ্চলে আরও কয়েকটি বৌদ্ধ নিদর্শন রয়েছে।
মনে রাখুন:
ময়নামতির অন্য নিদর্শন: কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া।
নওগাঁর পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে। - ৪৫. সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৫
- ক. টিএসসি মোড়ে
- খ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
- গ. রেসকোর্স ময়দানে
- ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর: ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালির সংগ্রামের স্মারক। এর নির্মাতা ভাস্কর নিতুন কুণ্ডু। টিএসসি মোড়ে বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্য ভাস্কর্য আছে, যেমন অপরাজেয় বাংলা, কিন্তু ‘সাবাস বাংলাদেশ’ রাজশাহীতে।
মনে রাখুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যের শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। - ৪৬. (তৎকালীন সাম্প্রতিক তথ্যের প্রশ্ন। সঠিক উত্তর নেই, সঠিক তথ্যের জন্য ব্যাখ্যা দেখুন) এশিয়া কাপ ক্রিকেট, ২০১২ কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়?
- ক. বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম
- খ. শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম
- গ. বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম
- ঘ. রাজশাহী স্টেডিয়াম
উত্তর: খ. শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম
২০১২ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর সব ম্যাচ ঢাকার মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা হয়। সেই আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে পাকিস্তান মাত্র ২ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।
মনে রাখুন: মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশের প্রধান ক্রিকেট মাঠ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম মতিঝিলে অবস্থিত। - ৪৭. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কবে?
- ক. ১৬ ডিসেম্বর
- খ. ৭ মার্চ
- গ. ২৬ মার্চ
- ঘ. ১৭ এপ্রিল
উত্তর: গ. ২৬ মার্চ
২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনের প্রথম প্রহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। তাই এই দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাকি তারিখগুলো অন্য দিবস।
মনে রাখুন:
১৬ ডিসেম্বর: বিজয় দিবস।
৭ মার্চ: ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ।
১৭ এপ্রিল: মুজিবনগর দিবস।
২১ ফেব্রুয়ারি: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। - ৫০. বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
- ক. মে. জে. জিয়াউর রহমান
- খ. মে. জে. সফিউল্লা
- গ. লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
- ঘ. জে. আতাউল গণি ওসমানি
উত্তর: ঘ. জে. আতাউল গণি ওসমানি
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি (Commander-in-Chief) নিয়োগ করে। তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তাই বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি তিনিই। অন্য বিকল্পের জিয়াউর রহমান ও সফিউল্লাহ যুদ্ধের সময় বিভিন্ন সেক্টর বা ব্রিগেড (জেড ফোর্স ও এস ফোর্স) পরিচালনা করেছিলেন।
মনে রাখুন: স্বাধীনতার পর প্রথম সেনাপ্রধান (Chief of Army Staff) ছিলেন মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। - ৫১. বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়?
- ক. ঢাকা উত্তর
- খ. ঢাকা দক্ষিণ
- গ. ঢাকা
- ঘ. শেরে বাংলা নগর
উত্তর: গ. ঢাকা
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ২০১১ সালে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু এর ফলে রাজধানী দুটি হয়নি। এ দুটি শুধু শহরের দুটি নগর শাসন এলাকা, আর পুরো শহরের নামই ঢাকা। শেরেবাংলা নগর ঢাকার একটি এলাকা, যেখানে জাতীয় সংসদ ভবন আছে।
মনে রাখুন: ঢাকা ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খানের সময়ে প্রথম বাংলার রাজধানী হয়। - ৫৬. শিল্পী জয়নুল আবেদিনের সংগ্রহশালাটি কোথায়?
- ক. ঢাকায়
- খ. ময়মনসিংহে
- গ. চট্টগ্রামে
- ঘ. নড়াইলে
উত্তর: খ. ময়মনসিংহে
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। এখানে শিল্পীর আঁকা বহু ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত আছে। ১৯৭৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের ওপর যে স্কেচ এঁকেছিলেন, সেগুলো বিশ্বে বিখ্যাত।
মনে রাখুন:
তিনি কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁকে শিল্পাচার্য উপাধিতে ভূষিত করা হয়। - ৫৭. বাংলাদেশের আপীল বিভাগের মোট বিচারক কতজন?
- ক. ১১
- খ. ২১
- গ. ৯
- ঘ. ১৫
উত্তর: ক. ১১
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ আছে: হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ। সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত সংখ্যক অন্য বিচারপতিকে নিয়ে। তাই আপিল বিভাগে বিচারকের সংখ্যা সংবিধানে স্থির করা নেই, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করেন। পরীক্ষার সময়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে বিচারকের অনুমোদিত সংখ্যা ছিল ১১ জন।
মনে রাখুন:
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট বিভাগসহ সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- ৪৮. শ্রীলঙ্কার মুদ্রার নাম কি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. ডলার
- খ. পাউন্ড
- গ. টাকা
- ঘ. রুপী
উত্তর: ঘ. রুপী
শ্রীলঙ্কার মুদ্রার নাম শ্রীলঙ্কান রুপি (Rupee)। রুপি নামটি দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে ব্যবহৃত হয়, তাই এ নিয়ে ভুল হয়। ডলার যুক্তরাষ্ট্রের এবং পাউন্ড যুক্তরাজ্যের মুদ্রা। আর টাকা বাংলাদেশের মুদ্রার নাম।
মনে রাখুন: দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের মুদ্রা:
বাংলাদেশ: টাকা।
ভারত, পাকিস্তান, নেপাল: রুপি।
মালদ্বীপ: রুফিয়া।
ভুটান: নুলট্রাম।
আফগানিস্তান: আফগানি। - ৪৯. সার্ক-এর সদস্য দেশ কয়টি?
- ক. ৬
- খ. ৭
- গ. ৮
- ঘ. ৯
উত্তর: গ. ৮
সার্ক (SAARC) পুরো নাম South Asian Association for Regional Cooperation, বাংলায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। এটি ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। তখন সদস্য ছিল ৭টি দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান যোগ দিলে সদস্য সংখ্যা হয় ৮টি।
মনে রাখুন:
সার্কের সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে।
সার্ক গঠনের প্রস্তাব প্রথম দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ১৯৮০ সালে। - ৫২. পৃথিবীর বৃহত্তম বিমান বন্দরটি কোথায় অবস্থিত?
- ক. নিউইয়র্ক
- খ. লন্ডন
- গ. বার্লিন
- ঘ. দাম্মামে
উত্তর: ঘ. দাম্মামে
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর জমির পরিমাণ প্রায় ৭৭৬ বর্গকিলোমিটার। এত বিশাল আকারের কারণে এটি অন্য বিমানবন্দরের তুলনায় অনেক বড়। নিউইয়র্ক, লন্ডন বা বার্লিনের বিমানবন্দর এর তুলনায় ছোট।
মনে রাখুন: যাত্রীসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা। বড় হওয়া আর ব্যস্ত হওয়া এক কথা নয়। - ৫৫. ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
- ক. লন্ডন
- খ. বার্লিন
- গ. ব্রাজিল
- ঘ. আর্জেন্টিনা
উত্তর: গ. ব্রাজিল
২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল (FIFA World Cup) ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনাল হয় রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। আর্জেন্টিনা ছিল রানার্স-আপ।
মনে রাখুন: বিশ্বকাপ প্রতি চার বছর পরপর হয়।
২০১৮ সালে আয়োজক ছিল রাশিয়া এবং বিজয়ী ফ্রান্স।
২০২২ সালে আয়োজক ছিল কাতার এবং বিজয়ী আর্জেন্টিনা।
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
- ৫৮. ইন্টারনেট চালুর বছর-
- ক. ১৯৫৯
- খ. ১৯৬৫
- গ. ১৯৬৯
- ঘ. ১৯৮১
উত্তর: গ. ১৯৬৯
ইন্টারনেটের সূচনা হয় ১৯৬৯ সালে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আরপানেট (ARPANET) নামে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক চালু হয়। প্রথমে এতে মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার যুক্ত ছিল। এই আরপানেটই পরে বড় হয়ে আজকের ইন্টারনেটে পরিণত হয়েছে।
মনে রাখুন:
১৯৮৩ সালে নেটওয়ার্কে TCP/IP চালু হয়, যা ইন্টারনেটের ভাষা হিসেবে কাজ করে।
১৯৮৯-৯১ সালে টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) তৈরি করেন।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
- ৫৯. Pick appropriate preposition for the following sentence: Noureen will discuss the issue with Nasir ____ phone.
- ক. in
- খ. over
- গ. by
- ঘ. On
উত্তর: গ. by
ইংরেজিতে যোগাযোগের মাধ্যম বোঝাতে সাধারণত by বসে, যেমন by post, by email, by phone। তাই ‘Noureen will discuss the issue with Nasir by phone.’ সঠিক। ‘Over the phone’ ও ‘on the phone’ বলাও চলে, কিন্তু তখন phone-এর আগে the বসাতে হয়। শুধু ‘over phone’ বা ‘on phone’ লেখা ঠিক নয়।
মনে রাখুন: Means of communication বা যাতায়াত বোঝাতে by ব্যবহার হয়: by train, by air, by letter, by telephone। - ৬০. Put the appropriate preposition for the sentence below : Some writers sink ____ oblivion in course of time.
- ক. on
- খ. from
- গ. under
- ঘ. into
উত্তর: ঘ. into
‘Sink into’ মানে ধীরে ধীরে কোনো অবস্থার মধ্যে চলে যাওয়া। Oblivion শব্দের অর্থ বিস্মৃতি, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া। তাই ‘Some writers sink into oblivion in course of time’ বাক্যের অর্থ কিছু লেখক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যান, অর্থাৎ তাঁদের লোকে ভুলে যায়।
মনে রাখুন: Sink into-র আরও ব্যবহার: sink into poverty, sink into despair, sink into silence। - ৬১. ‘Call to mind’ means-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
- ক. fantasize
- খ. attend
- গ. remember
- ঘ. Request
উত্তর: গ. remember
‘Call to mind’ বাগ্ধারার অর্থ স্মরণ করা বা মনে করা, অর্থাৎ Remember বা Recall। যেমন ‘I cannot call his name to mind’ মানে আমি তাঁর নাম মনে করতে পারছি না। Fantasize মানে কল্পনা করা, attend মানে হাজির থাকা এবং request মানে অনুরোধ করা।
মনে রাখুন: Call to mind-এর সমার্থক recollect, remember, recall। - ৬২. ‘Pass away’ means-
- ক. disappear
- খ. die
- গ. erase
- ঘ. Fall
উত্তর: খ. die
‘Pass away’ কথার সোজাসুজি অর্থ মারা যাওয়া। তবে সরাসরি ‘die’ বলার চেয়ে এটি অনেক ভদ্র ও নম্র ভাষা, তাই কারও মৃত্যুর খবর দিতে এই কথা ব্যবহার করা হয়। Disappear মানে অদৃশ্য হওয়া, erase মানে মুছে ফেলা আর fall মানে পড়ে যাওয়া। এগুলোর কোনোটি এর অর্থ নয়।
মনে রাখুন: Pass away-এর কাছাকাছি অর্থের আরও প্রকাশ: expire, depart, breathe one’s last।
উদাহরণ: His grandfather passed away last year. - ৬৩. Pick the word that is synonymous with ‘authoritarian’.
- ক. autocratic
- খ. senior
- গ. elderly
- ঘ. Potential
উত্তর: ক. autocratic
Authoritarian মানে এমন ব্যক্তি বা শাসনব্যবস্থা, যেখানে কঠোরভাবে আনুগত্য দাবি করা হয় এবং মানুষকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা দেওয়া হয় না। Autocratic অর্থও একই ধরনের: যে একজন সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে শাসন করে। তাই এটিই সমার্থক। Senior মানে জ্যেষ্ঠ, elderly মানে বয়স্ক, আর potential মানে সম্ভাবনাময়।
মনে রাখুন: Authoritarian-এর বিপরীত শব্দ democratic এবং liberal। - ৬৪. The word ‘permissive’ implies-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
- ক. humble
- খ. law-abiding
- গ. liberal
- ঘ. Submissive
উত্তর: গ. liberal
Permissive মানে এমন, যা অনেক স্বাধীনতা বা অনুমতি দেয়, প্রায়ই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। যেমন permissive parents হলেন সেই মা-বাবা, যাঁরা সন্তানকে খুব বেশি স্বাধীনতা দেন। তাই এর কাছাকাছি অর্থ liberal বা উদার। Submissive মানে অনুগত বা বশ্য, যা আলাদা ধারণা। Humble মানে বিনীত, আর law-abiding মানে আইন মেনে চলে এমন।
মনে রাখুন: Permissive-এর বিপরীত শব্দ strict ও rigid। - ৬৫. Pick the correct part to fill in the gap of the following sentence : Each of the sons followed- father’s trade.
- ক. their
- খ. her
- গ. whose
- ঘ. his
উত্তর: ঘ. his
‘Each of’ দিয়ে শুরু হওয়া অংশ কর্তা হিসেবে বসলে সেটি একবচন ধরা হয়, তাই এর সঙ্গে একবচন সর্বনাম ও ক্রিয়া বসে। এখানে ‘the sons’ বহুবচন হলেও ‘each’ একজন একজন করে বোঝায়। আর ছেলেরা পুরুষ, তাই সর্বনাম হবে ‘his’। ঠিক বাক্য ‘Each of the sons followed his father’s trade.’
মনে রাখুন: Each, every, either, neither, one of এবং none of-এর পরে সাধারণত একবচন ক্রিয়া বসে। - ৬৬. ‘Subject-Verb Agreement’ refers to-
- ক. person only
- খ. number, person and gender
- গ. number and person
- ঘ. number only
উত্তর: গ. number and person
Subject-Verb Agreement মানে বাক্যের কর্তা ও ক্রিয়ার মধ্যে মিল। ইংরেজিতে ক্রিয়াকে কর্তার সঙ্গে সংখ্যা (number: একবচন বা বহুবচন) ও পুরুষ (person: প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়) অনুযায়ী মেলাতে হয়। যেমন ‘He goes’ ও ‘They go’। ক্রিয়ার রূপ লিঙ্গ (gender) অনুযায়ী বদলায় না, তাই লিঙ্গ এই নিয়মের অংশ নয়।
মনে রাখুন: সর্বনাম লিঙ্গ অনুযায়ী বদলায় (he, she), কিন্তু ক্রিয়া বদলায় না। - ৬৭. The only error in the sentence ” One of the recommendation made by the committee was accepted by the authorities” is-
- ক. recommendation
- খ. was
- গ. accepted by
- ঘ. Committee
উত্তর: ক. recommendation
‘One of’ গঠনের পরে সবসময় বহুবচন noun বসে। কারণ কথাটির অর্থ বহুজনের মধ্যে একজন বা একটি। তাই ‘One of the recommendation’-এর জায়গায় হবে ‘One of the recommendations’। তবে ক্রিয়া কর্তা ‘one’-এর সঙ্গে মিলে একবচন থাকে, তাই was সঠিক। ঠিক বাক্য ‘One of the recommendations made by the committee was accepted by the authorities.’
মনে রাখুন:
One of the + বহুবচন noun + একবচন verb।
উদাহরণ: One of my friends is a doctor. - ৬৮. ‘The French’ refers to-
- ক. the French people
- খ. the French language
- গ. the French manners
- ঘ. the French society
উত্তর: ক. the French people
ইংরেজিতে ‘the’-র সঙ্গে জাতীয়তা বোঝানো adjective বসলে সেটি ওই দেশের জনগণকে একসঙ্গে বোঝায়। তাই ‘the French’ মানে ফরাসি জাতির মানুষেরা, অর্থাৎ the French people। এটি বহুবচন, তাই ক্রিয়া হয় বহুবচনের, যেমন ‘The French are famous for their food.’ ভাষা বোঝাতে the বসে না, শুধু French বলা হয়।
মনে রাখুন: একই নিয়মে the English, the Dutch, the British, the Chinese। - ৬৯. If a person cannot stop taking drugs, he or she is-
- ক. attached to them
- খ. committed to them
- গ. addicted to them
- ঘ. devoted to them
উত্তর: গ. addicted to them
Addicted to মানে কোনো অভ্যাস বা পদার্থের প্রতি এমন আসক্ত, যা থেকে ফেরা যায় না। যে মানুষ নেশার দ্রব্য ছাড়তে পারে না, তাকে বলা হয় addicted to drugs। অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: attached মানে মায়া বা টান আছে, committed মানে অঙ্গীকারবদ্ধ, আর devoted মানে একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত।
মনে রাখুন: Addicted-এর পরে preposition to বসে, আর পরে noun বা gerund আসে, যেমন addicted to smoking। - ৭০. The word ‘officialese’ means-
- ক. plural number of official
- খ. language used in offices
- গ. plural number of office
- ঘ. vague expressions
উত্তর: খ. language used in offices
Officialese এমন ভাষা, যা সরকারি দপ্তর ও দাপ্তরিক নথিতে ব্যবহৃত হয়। এ ভাষা বেশ আনুষ্ঠানিক, ভারী শব্দে ভরা এবং প্রায়ই সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য। শব্দের শেষে থাকা ‘-ese’ কোনো ভাষা বা ভাষারীতি বোঝায়, যেমন journalese মানে সংবাদপত্রের ভাষা এবং legalese মানে আইনের জটিল ভাষা।
মনে রাখুন: ‘-ese’ জাতীয় ভাষাও আছে, যেমন Chinese, Japanese। - ৭১. The verb ‘succumb’ means-
- ক. achieve
- খ. submit
- গ. win
- ঘ. Conquer
উত্তর: খ. submit
Succumb ক্রিয়ার অর্থ কোনো শক্তি, চাপ বা প্রলোভনের কাছে হার মানা, অর্থাৎ নতি স্বীকার করা। যেমন ‘He succumbed to his injuries’ মানে সে আঘাতের কাছে হার মেনে মারা গেল। তাই এর কাছাকাছি অর্থ submit। Achieve, win ও conquer এর উল্টো ভাব দেয়, কারণ এগুলো জয় বা সাফল্য বোঝায়।
মনে রাখুন: Succumb-এর সমার্থক yield ও surrender, আর বিপরীত শব্দ resist। - ৭২. Fill in the blank with the appropriate part: We look forward ____ a response from you.
- ক. to receiving
- খ. to receive
- গ. in receiving
- ঘ. for receiving
উত্তর: ক. to receiving
‘Look forward to’ বাগ্ধারায় ‘to’ একটি preposition, infinitive-এর ‘to’ নয়। আর preposition-এর পরে ক্রিয়া বসলে সেটি gerund বা verb-ing রূপে হয়। তাই ‘We look forward to receiving a response from you’ সঠিক, কিন্তু ‘to receive’ ভুল।
মনে রাখুন: এই ধরনের আরও কিছু বাগ্ধারা যেখানে to পরে gerund আসে: be used to doing, object to doing, in addition to doing। - ৭৩. If a part of a speech or speech or writing breaks the theme, it is called-
- ক. pomposity
- খ. digression
- গ. exaggeration
- ঘ. Anti-climax
উত্তর: খ. digression
Digression মানে মূল বিষয় থেকে সরে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাওয়া, অর্থাৎ বক্তৃতা বা লেখায় মূল সুর থেকে বিচ্যুত হওয়া। Pomposity মানে অকারণ জাঁকজমকপূর্ণ ও ভারী ভাষা ব্যবহার, exaggeration মানে অতিরঞ্জন আর anti-climax মানে বড় প্রত্যাশার পর হতাশাজনক সমাপ্তি।
মনে রাখুন: ‘Digress’ ক্রিয়া, ‘digression’ বিশেষ্য এবং ‘digressive’ বিশেষণ।
উদাহরণ: To avoid digression, let me return to my main point. - ৭৪. The expression ‘take into account’ means-
- ক. count numbers
- খ. consider
- গ. think seriously
- ঘ. Asses
উত্তর: খ. consider
‘Take into account’ বাগ্ধারার অর্থ কোনো সিদ্ধান্ত বা বিচারের সময় কিছু বিবেচনায় রাখা, অর্থাৎ consider। যেমন ‘The judge took his age into account’ মানে বিচারক রায়ের সময় তাঁর বয়স বিবেচনা করলেন। Count numbers মানে সংখ্যা গোনা আর assess মানে মূল্যায়ন করা।
মনে রাখুন: Take into account-এর সমার্থক take into consideration। - ৭৫. Choose the best translation of ‘কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো’ from the alternatives below-
- ক. The authorities criticised him.
- খ. The authorities took him to book.
- গ. The authorities gavereins to him.
- ঘ. The authorities took him to task.
উত্তর: ঘ. The authorities took him to task.
‘Take someone to task’ বাগ্ধারার অর্থ কাউকে ভুলের জন্য কঠোরভাবে তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করা। তাই ‘কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো’-র সঠিক অনুবাদ ‘The authorities took him to task.’ ‘Criticised’ সাধারণ সমালোচনা বোঝায়, তিরস্কার নয়। ‘Take to book’ প্রচলিত বাগ্ধারা নয়, প্রচলিত রূপ ‘bring to book’ যার অর্থ কাউকে শাস্তির আওতায় আনা। আর ‘give rein to’ মানে স্বাধীনতা দেওয়া।
মনে রাখুন: তিরস্কার বোঝাতে আরও কিছু শব্দ: rebuke, reprimand, scold। - ৭৬. ”Such claim needs to be tested empirically” suggest that-
- ক. The test should be based on assumption.
- খ. The test should be based on idea.
- গ. The test should be based on experience.
- ঘ. The test should be based on calculation.
উত্তর: গ. The test should be based on experience.
Empirical শব্দের অর্থ পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল, অর্থাৎ তত্ত্ব বা অনুমানের বদলে বাস্তব প্রমাণে ভিত্তি করা। তাই ‘Such claim needs to be tested empirically’ কথার অর্থ দাবিটিকে অভিজ্ঞতা বা পরীক্ষার ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। Assumption মানে অনুমান আর idea মানে ধারণা, দুটিই বাস্তব প্রমাণ নয়।
মনে রাখুন: ‘Empirical evidence’ মানে পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ, আর ‘empiricism’ হলো এমন দর্শন, যেখানে অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের উৎস ধরা হয়। - ৭৭. The idiom ”put up with” means-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
- ক. stay together
- খ. tolerate
- গ. keep trust
- ঘ. Protect
উত্তর: খ. tolerate
‘Put up with’ বাগ্ধারার অর্থ অপ্রিয় বা কষ্টকর কিছু সহ্য করা, অর্থাৎ tolerate বা bear। যেমন ‘I cannot put up with his rudeness’ মানে আমি তার অভদ্রতা সহ্য করতে পারি না। অন্য অপশনগুলোর অর্থ: stay together মানে একসঙ্গে থাকা, keep trust মানে আস্থা রাখা আর protect মানে রক্ষা করা।
মনে রাখুন: Put up with-এর সমার্থক endure ও stand। - ৭৮. In many ways, riding a bicycle is similar to-
- ক. driving a car
- খ. when one drives a car
- গ. the driving of a car
- ঘ. when we drive a চার
উত্তর: ক. driving a car
ইংরেজিতে সমান ধরনের বিষয়কে তুলনা করতে হলে বাক্যে একই গঠনের শব্দ বা বাক্যাংশ বসাতে হয়, একে parallelism বলে। এখানে বাক্যের প্রথম অংশ ‘riding a bicycle’ একটি gerund phrase। তাই তুলনার অন্য অংশেও gerund phrase লাগবে, অর্থাৎ ‘driving a car’। ঠিক বাক্য ‘In many ways, riding a bicycle is similar to driving a car.’
মনে রাখুন: Parallel structure-এর উদাহরণ: She likes reading, writing and swimming।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
- ৭৯. চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা ?আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ২০১৬
- ক. অক্ষরবৃত্ত
- খ. মাত্রাবৃত্ত
- গ. স্বরবৃত্ত
- ঘ. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর: খ. মাত্রাবৃত্ত
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। এর পদগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা, আর ছন্দের মূল একক মাত্রা। পদগুলো বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাধনসংগীত। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারই বাংলা ভাষার প্রাচীনতম যুগের প্রমাণ দেয়।
মনে রাখুন:
চর্যাপদের কবিদের মধ্যে প্রধান লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা ও সরহপা।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯১৬ সালে এটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন। - ৮০. কবিওয়ালা ও শায়েরের উদ্ভব ঘটে কখন?
- ক. আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
- খ. ষোড়শ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে
- গ. সপ্তদশ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে
- ঘ. উনিশ শতকের শেষার্ধে ও বিংশ শতকের প্রথমার্ধে
উত্তর: ক. আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
কবিগান বাংলা সাহিত্যের একটি ধারা, যেখানে দুই দল কবিয়াল তাৎক্ষণিকভাবে গান বেঁধে পাল্লা দিয়ে গান করতেন। কবিওয়ালা ও শায়েরদের উদ্ভব ঘটে আঠারো শতকের শেষার্ধ থেকে উনিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু (১৭৬০) থেকে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব পর্যন্ত এই সময়কে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়।
মনে রাখুন: বিখ্যাত কবিয়াল: গোঁজলা গুঁই, রাম বসু, হরু ঠাকুর, ভোলা ময়রা, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি। - ৮১. কবি গানের প্রথম কবি কে?
- ক. গোঁজলা পুট [গুই]
- খ. হরু ঠাকুর
- গ. ভবানী ঘোষ
- ঘ. নিতাই বৈরাগী
উত্তর: ক. গোঁজলা পুট [গুই]
কবিগান উনিশ শতকের শুরুর দিকের একটি জনপ্রিয় লোকসাংস্কৃতিক ধারা। প্রাচীন সূত্রে কবিগানের প্রথম কবি হিসেবে গোঁজলা গুঁইয়ের নাম পাওয়া যায়। তাঁর পর রঘুনাথ দাস, হরু ঠাকুর, রাম বসু, ভোলা ময়রা, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখ কবিয়াল খ্যাতি অর্জন করেন।
মনে রাখুন: কবিগানে দুটি দল পাল্লা দিয়ে প্রশ্ন ও উত্তরের ধরনে গান বাঁধত। - ৮২. ‘কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?’ কার লেখা?
- ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- খ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- গ. কামিনী রায়
- ঘ. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
উত্তর: ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
‘কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ’ চরণটি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের লেখা। এটি তাঁর ‘সদ্ভাবশতক’ কাব্যের একটি কবিতা। কবিতায় পথিককে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, পথ দীর্ঘ হলেও থেমে যেয়ো না, উদ্যম ও পরিশ্রম করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ কারণে কবিতাটি স্কুলপাঠ্য বইয়ে বহুদিন ধরে ছিল।
মনে রাখুন: কামিনী রায়ের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’, আর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। - ৮৩. কোন চরণটি সঠিক?
- ক. ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
- খ. ধন্য ধান্যে পুষ্পে ভরা
- গ. ধণ্যে ধান্যে পুষ্প ভরা
- ঘ. ধন্যে ধান্য পুষ্পে ভরা
উত্তর: ক. ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা
‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানের প্রথম চরণ। ‘ধন’ মানে সম্পদ, ‘ধান্য’ মানে ধান বা শস্য, আর ‘পুষ্প’ মানে ফুল। অন্য অপশনগুলোতে বানান বা শব্দের ক্রম ভুল, যেমন ‘ধন্য’ বা ‘ধণ্যে’ বসানো হয়েছে।
মনে রাখুন:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের আরেকটি বিখ্যাত গান ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ (এটি স্বদেশপ্রেমের গান)।
তাঁর নাটক: সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, মেবার পতন। - ৮৪. কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
- ক. দরিদ্রতা
- খ. উপযোগিতা
- গ. শ্রদ্ধাঞ্জলি
- ঘ. উর্দ্ধ
উত্তর: ঘ. উর্দ্ধ
‘ঊর্ধ্ব’ শব্দের শুদ্ধ রূপে দীর্ঘ ঊ-কার থাকে, আর যুক্তবর্ণটি রেফ (র্) এবং ধ-এ ব-ফলা (ধ্ব) দিয়ে লেখা হয়। তাই ‘উর্দ্ধ’ বানানটি শুদ্ধ নয়। শব্দটির অর্থ ওপর বা উঁচু, যেমন ঊর্ধ্বমুখী, ঊর্ধ্বগতি।
মনে রাখুন: ঊ-কার দিয়ে শুরু আরও কিছু শব্দ: ঊষা, ঊনিশ, ঊহ্য, ঊর্মি। - ৮৫. ‘গৃহী’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ-
- ক. সংসারী
- খ. সঞ্চয়ী
- গ. সংস্থিতি
- ঘ. সন্ন্যাসী
উত্তর: ঘ. সন্ন্যাসী
‘গৃহী’ শব্দের অর্থ যিনি সংসারে থাকেন বা গৃহস্থ। এর বিপরীত শব্দ ‘সন্ন্যাসী’, অর্থাৎ যিনি সংসার ত্যাগ করে বৈরাগ্য গ্রহণ করেছেন। ‘সংসারী’ শব্দের অর্থ প্রায় গৃহীর মতোই, তাই সেটি সমার্থক, বিপরীত নয়।
মনে রাখুন: এ রকম আরও কিছু বিপরীত জোড়া: গৃহস্থ–বিবাগী, ভোগী–ত্যাগী। - ৮৬. Excise duty -র পরিভাষা কোনটি?
- ক. অতিরিক্ত কর
- খ. আবগারি শুল্ক
- গ. অর্পিত দায়িত্ব
- ঘ. অতিরিক্ত কর্তব্য
উত্তর: খ. আবগারি শুল্ক
Excise duty শব্দের বাংলা পরিভাষা আবগারি শুল্ক। দেশের ভেতরে উৎপাদিত বা বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যের ওপর, যেমন মদ, সিগারেট ও অন্যান্য কিছু দ্রব্যের ওপর এই কর আরোপ করা হয়। আমদানি করা পণ্যের ওপর যে শুল্ক বসে, তার নাম আমদানি শুল্ক (Import duty)।
মনে রাখুন: Customs duty-এর বাংলা ‘সীমা শুল্ক’ বা ‘রপ্তানি–আমদানি শুল্ক’। - ৮৭. ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ এটি কোন বাক্য?
- ক. সরল
- খ. মিশ্র বা জটিল
- গ. যৌগিক
- ঘ. সংযুক্ত
উত্তর: খ. মিশ্র বা জটিল
বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য যুক্ত থাকলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। এখানে ‘তুমি আসবে বলে’ আশ্রিত খণ্ডবাক্য, কারণ সেটি আলাদাভাবে অর্থ দিতে পারে না এবং কারণ প্রকাশ করছে। আর ‘সখিনা বিবির কপাল ভাঙল’ প্রধান খণ্ডবাক্য। তাই বাক্যটি জটিল বা মিশ্র। পঙ্ক্তিটি শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার।
মনে রাখুন:
সরল বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যৌগিক বাক্যে একাধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্য সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত থাকে। - ৮৮. কোনটি ‘অগ্নি’-র সমার্থক শব্দ নয়?
- ক. পাবক
- খ. বৈশ্বানর
- গ. সর্বশুচি
- ঘ. প্রজ্বলিত
উত্তর: ঘ. প্রজ্বলিত
আগুনের অনেকগুলো সমার্থক শব্দ আছে, যেমন পাবক, বৈশ্বানর, সর্বশুচি, বহ্নি, অনল, হুতাশন, কৃশানু ও দহন। কিন্তু ‘প্রজ্বলিত’ মানে যা জ্বলছে বা আগুন ধরেছে। এটি বিশেষণ, যা আগুনের অবস্থা বোঝায়, আগুন নিজে নয়। তাই এটি সমার্থক নয়।
মনে রাখুন: বিশেষ্য ও বিশেষণের এ ভেদ প্রতিশব্দ বাছাইয়ের সময় খেয়াল রাখা দরকার। - ৮৯. কোনটি সঠিক বানান?
- ক. নিশিথিনী
- খ. নীশিথিনী
- গ. নিশীথিনী
- ঘ. নিশিথিনি
উত্তর: গ. নিশীথিনী
নিশীথ শব্দের অর্থ মধ্যরাত, আর এর স্ত্রীবাচক বা সম্বন্ধসূচক রূপ নিশীথিনী, যার অর্থ রাত্রি। শব্দটির শুদ্ধ বানানে ‘শী’-তে দীর্ঘ ঈ-কার থাকে এবং শেষ বর্ণ হয় ‘নী’। তাই শুদ্ধ বানান ‘নিশীথিনী’, আর অন্য অপশনের বানানগুলোতে ই-কার ও ঈ-কারের ব্যবহার ঠিক নয়।
মনে রাখুন: রাত্রির আরও প্রতিশব্দ: রজনী, যামিনী, শর্বরী, নিশা, বিভাবরী। - ৯০. কোনটি ‘কোলন’?
- ক. ;
- খ. :
- গ. =
- ঘ. ” ”
উত্তর: খ. :
কোলন হলো এই চিহ্নটি ( : )। বাক্যে কোনো উদাহরণ, তালিকা বা ব্যাখ্যা শুরুর আগে কোলন বসে। অন্য অপশনগুলোর নাম আলাদা: ( ; ) হলো সেমিকোলন, ( = ) হলো সমান চিহ্ন আর ( “ ” ) হলো উদ্ধরণ চিহ্ন বা উদ্ধৃতি চিহ্ন।
মনে রাখুন:
কমা ( , ) বাক্যে সামান্য বিরতি বোঝায়।
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ( । ) বাক্য শেষ বোঝায়। - ৯১. বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট পত্রিকা ‘কল্লোল’ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ?
- ক. ১৯২৩ সালে
- খ. ১৯২৪ সালে
- গ. ১৯২৫ সালে
- ঘ. ১৯২৭ সালে
উত্তর: ক. ১৯২৩ সালে
‘কল্লোল’ পত্রিকা ১৯২৩ সালে, বাংলা ১৩৩০ সনে, প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ। এই পত্রিকাকে ঘিরেই রবীন্দ্র-প্রভাব থেকে মুক্ত নতুন ধারার আধুনিক সাহিত্যিকেরা জড়ো হন। তাই এ যুগকে কল্লোল যুগ বলা হয়।
মনে রাখুন: কল্লোল যুগের লেখকদের মধ্যে ছিলেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও জীবনানন্দ দাশ। - ৯২. কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত?
- ক. হরতাল
- খ. পালাবদল
- গ. উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
- ঘ. অন্বিষ্ট স্বদেশ
উত্তর: ক. হরতাল
‘হরতাল’ সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি রচনা। তিনি অল্প বয়সে মারা যাওয়া একজন কিশোর কবি, যিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে মারা যান। তাঁর সবচেয়ে পরিচিত কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’। তাঁর অন্য বই ‘ঘুম নেই’ ও ‘পূর্বাভাস’।
মনে রাখুন: সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘কিশোর কবি’ নামে পরিচিত এবং তাঁর কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের কথা এসেছে। - ৯৩. ‘ঢাকের কাঠি’ বাগধারার অর্থ কি?
- ক. কপট ব্যক্তি
- খ. ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
- গ. হতভাগ্য
- ঘ. মোসাহেব
উত্তর: ঘ. মোসাহেব
‘ঢাকের কাঠি’ বাগ্ধারার অর্থ মোসাহেব বা তোষামোদকারী। ঢাকের কাঠি যেমন সবসময় ঢাকের সঙ্গে সঙ্গে বাজতে থাকে, তেমনই মোসাহেব ধনী বা ক্ষমতাবান লোকের পেছনে লেগে থাকে এবং তাঁর সব কথায় সায় দেয়।
মনে রাখুন: কাছাকাছি অর্থের আরও বাগ্ধারা: তেলমাখানো, পা চাটা। - ৯৪. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
- ক. কুন্দনন্দিনী
- খ. শ্যামাসুন্দরী
- গ. বিমলা
- ঘ. রোহিনী
উত্তর: ক. কুন্দনন্দিনী
‘বিষবৃক্ষ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি সামাজিক উপন্যাস, যার প্রধান নারী চরিত্র কুন্দনন্দিনী। এই উপন্যাসে নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমুখী ও হীরা চরিত্রও আছে। রোহিণী ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের চরিত্র, আর বিমলা ‘দুর্গেশনন্দিনী’র চরিত্র।
মনে রাখুন: ‘বিষবৃক্ষ’ ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। - ৯৫. কোন বানানটি শুদ্ধ?
- ক. পিপিলিকা
- খ. পিপীলিকা
- গ. পীপিলিকা
- ঘ. পিপিলীকা
উত্তর: খ. পিপীলিকা
‘পিপীলিকা’ শব্দের অর্থ পিঁপড়া। এর শুদ্ধ বানান পিপীলিকা, যেখানে প্রথম ‘পি’-তে হ্রস্ব ই-কার এবং দ্বিতীয় ‘পী’-তে দীর্ঘ ঈ-কার বসে। বাকি অপশনগুলোতে ই-কার ও ঈ-কারের স্থান উল্টে গেছে বা দুটিই এক ধরনের হয়ে গেছে, তাই সেগুলো ভুল।
মনে রাখুন: একই ধরনের আরও কিছু বানান: ঝিঁঝিঁ পোকা, কুমীর নয় ‘কুমির’, ‘বীভৎস’। - ৯৬. গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন-
- ক. এজরা পাউন্ড
- খ. টি.এস.এলিয়ট
- গ. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
- ঘ. কীটস
উত্তর: গ. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’র কিছু কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস (W. B. Yeats) এই অনুবাদের সম্পাদনা করেন এবং ভূমিকা লেখেন। বইটি ‘Gitanjali: Song Offerings’ নামে ১৯১২ সালে লন্ডনে প্রকাশিত হয়। এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান এবং তিনিই এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী।
মনে রাখুন: এজরা পাউন্ড ও টি এস এলিয়ট বিখ্যাত ইংরেজি কবি, আর কীটস রোম্যান্টিক যুগের কবি। - ৯৭. ‘The Origin and Development of Bengali Language’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন-
- ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
- খ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- ঘ. স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
উত্তর: খ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
‘The Origin and Development of the Bengali Language’ গ্রন্থটির লেখক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। বইটি তিন খণ্ডে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এতে তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সংক্ষেপে বইটি ODBL নামে পরিচিত।
মনে রাখুন:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বই ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
জর্জ গ্রিয়ারসনের কাজ ‘Linguistic Survey of India’।
অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান
১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৬)
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৮তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২৫)
- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৪)
- ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৩)
- ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২২)
- ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২১)
- ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৯)
- ৩৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০১৮)
- ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৭)
- ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৫)
- ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৩)
- ৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১১)
- ৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১০)
- ২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৯)
- ২৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৮)
- ২৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৫)
- ২৬তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৩)
- ২৩তম বিশেষ বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা) প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৯)
- ২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৬)
- ১৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৫)
- ১৬তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি (১৯৯৪)
- ১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৩)
- ১৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯০)
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন