৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ২৪ মে ২০১৩। এখানে ৯৬টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- গাণিতিক যুক্তি (১৪)
- মানসিক দক্ষতা (৪)
- সাধারণ বিজ্ঞান (১৮)
- ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (৪)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১৮)
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১)
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (৬)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (১০)
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (২১)
গাণিতিক যুক্তি
- ১. কোন সংখ্যার ০.১˙ ভাগ এবং ০.১ ভাগের মধ্যে পার্থক্য ১.০ হলে, সংখ্যাটি কত?
- ক. ১০
- খ. ৯
- গ. ৯০
- ঘ. ১০০
উত্তর: গ. ৯০
0.1̇ হলো আবৃত্ত দশমিক, যার মান 1/9। ধরি সংখ্যাটি x। x-এর 1/9 অংশ ও 0.1 বা 1/10 অংশের পার্থক্য x/9 − x/10 = (10x − 9x)/90 = x/90। শর্ত অনুযায়ী এই পার্থক্য 1, তাই x/90 = 1 এবং x = 90।
মনে রাখুন: 0.1̇ = 1/9, 0.2̇ = 2/9, আর 0.9̇ = 9/9 = 1। - ২. একটি আয়তাকার কক্ষের ক্ষেত্রফল ১৯২ বর্গমিটার। এর দৈর্ঘ্য ৪ মিটার কমালে এবং প্রস্থ ৪ মিটার বাড়ালে ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। আয়তাকার কক্ষের সমান পরিসীমাবিশিষ্ট বর্গাকার কক্ষের ক্ষেত্রফল কত হবে?
- ক. ২২৫ বর্গমিটার
- খ. ১৪৪ বর্গমিটার
- গ. ১৬৯ বর্গমিটার
- ঘ. ১৯৬ বর্গমিটার
উত্তর: ঘ. ১৯৬ বর্গমিটার
কক্ষের দৈর্ঘ্য l এবং প্রস্থ w ধরি। শর্ত অনুযায়ী lw = 192 এবং (l − 4)(w + 4) = 192। দ্বিতীয় সমীকরণ খুলে পাই lw + 4l − 4w − 16 = 192, তাই 4l − 4w − 16 = 0, অর্থাৎ l = w + 4। তাহলে w(w + 4) = 192, বা w² + 4w − 192 = 0, আর (w + 16)(w − 12) = 0। তাই w = 12 এবং l = 16।
আয়তক্ষেত্রের পরিসীমা = 2(16 + 12) = 56 মিটার। সমান পরিসীমার বর্গের বাহু 56 ÷ 4 = 14 মিটার, ক্ষেত্রফল 14² = 196 বর্গমিটার। - ৩. তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গুণফল তাদের যোগফলের ৫ গুণ; সংখ্যা তিনটির গড় কত?
- ক. ৬
- খ. ৩
- গ. ৫
- ঘ. ৪
উত্তর: ঘ. ৪
তিনটি ক্রমিক সংখ্যা n − 1, n ও n + 1 ধরি। এদের যোগফল 3n এবং গুণফল (n − 1)n(n + 1)। শর্ত অনুযায়ী (n − 1)n(n + 1) = 5 × 3n। দুই পাশ থেকে n বাদ দিলে n² − 1 = 15, তাই n² = 16 এবং n = 4। সংখ্যা তিনটি ৩, ৪ ও ৫। তিনটি ক্রমিক সংখ্যার গড় মাঝের সংখ্যার সমান, তাই গড় ৪।
যাচাই: 3 × 4 × 5 = 60 এবং যোগফল 12, আর 12 × 5 = 60। - ৪. একটি বৃত্তের পরিধি ও ক্ষেত্রফল যথাক্রমে ১৩২ সেন্টিমিটার ও ১৩৮৬ বর্গসেন্টিমিটার। বৃত্তটির বৃহত্তম জ্যা-এর দৈর্ঘ্য কত?
- ক. ৬৬ সেন্টিমিটার
- খ. ৪২ সেন্টিমিটার
- গ. ২১ সেন্টিমিটার
- ঘ. ২২ সেন্টিমিটার
উত্তর: খ. ৪২ সেন্টিমিটার
বৃত্তের সবচেয়ে বড় জ্যা হলো তার ব্যাস। পরিধি 2πr = 132 এবং π = 22/7 ধরলে 2 × (22/7) × r = 132। তাই r = 132 × 7/44 = 21 সেমি। যাচাই করি: ক্ষেত্রফল πr² = (22/7) × 21 × 21 = 1386 বর্গসেমি, যা প্রশ্নের তথ্যের সঙ্গে মেলে।
সুতরাং বৃহত্তম জ্যা বা ব্যাস = 2 × 21 = 42 সেমি। - ৫. একটি শ্রেণিতে যতজন ছাত্র-ছাত্রী আছে প্রত্যেকে তত পয়সার চেয়ে আরও ২৫ পয়সা বেশি করে চাঁদা দেওয়ায় মোট ৭৫ টাকা উঠল। ঐ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কত?
- ক. ৭০
- খ. ৮৫
- গ. ৭৫
- ঘ. ১০০
উত্তর: গ. ৭৫
শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা n জন ধরি। প্রত্যেকে n পয়সার চেয়ে ২৫ পয়সা বেশি দেয়, অর্থাৎ (n + 25) পয়সা। মোট চাঁদা n(n + 25) পয়সা। ৭৫ টাকা = 7500 পয়সা, তাই n² + 25n − 7500 = 0।
উৎপাদকে ভেঙে (n + 100)(n − 75) = 0, তাই n = 75 (ঋণাত্মক মান গ্রহণযোগ্য নয়)। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৭৫ জন।
যাচাই: 75 × 100 = 7500 পয়সা। - ৬. মামুন 240 টাকায় একই রকম কতগুলি কলম কিনে দেখল যে, যদি সে একটি কলম বেশি পেত তাহলে প্রতিটি কলমের মূল্য 1 টাকা কম পড়ত। সে কতগুলো কলম কিনেছিল?
- ক. 13টি
- খ. 14টি
- গ. 15টি
- ঘ. 16টি
উত্তর: গ. 15টি
কলমের সংখ্যা n ধরি। ২৪০ টাকায় n টি কলম কিনলে প্রতিটির দাম 240/n টাকা। একটি কলম বেশি পেলে (n + 1) টি কলমে প্রতিটির দাম 240/(n + 1) টাকা। শর্ত অনুযায়ী 240/n − 240/(n + 1) = 1। এটি সাজিয়ে পাই 240 = n(n + 1)। যেহেতু 15 × 16 = 240, তাই n = 15।
মামুন ১৫টি কলম কিনেছিল। - ৭. একটি পঞ্চভুজের সমষ্টি-
- ক. ৪ সমকোণ
- খ. ৬ সমকোণ
- গ. ৮ সমকোণ
- ঘ. ১০ সমকোণ
উত্তর: খ. ৬ সমকোণ
n বাহুবিশিষ্ট যেকোনো বহুভুজের অন্তঃস্থ কোণগুলোর সমষ্টি (2n − 4) সমকোণ। পঞ্চভুজের বাহু ৫টি, তাই n = 5 বসিয়ে পাই (2 × 5 − 4) = 6 সমকোণ। অর্থাৎ পঞ্চভুজের পাঁচ কোণের সমষ্টি 6 × 90° = 540°।
এই সূত্র আসে বহুভুজকে ত্রিভুজে ভাগ করে: পঞ্চভুজকে একটি শীর্ষ থেকে ৩টি ত্রিভুজে ভাগ করা যায়, আর ত্রিভুজের কোণসমষ্টি 180°, তাই 3 × 180° = 540°।
মনে রাখুন: চতুর্ভুজের কোণসমষ্টি ৪ সমকোণ (360°) এবং ষড়ভুজের ৮ সমকোণ (720°)। - ৯. ০.০৩, ০.১২, ০.৪৮, ____ শূন্যস্থানে সংখ্যাটি কত হবে?
- ক. ০.৯৬
- খ. ১.৪৮
- গ. ১.৯২
- ঘ. ১.৫০
উত্তর: গ. ১.৯২
ধারাটির নিয়ম খুঁজতে দেখি পরপর পদের অনুপাত: 0.12 ÷ 0.03 = 4 এবং 0.48 ÷ 0.12 = 4। অর্থাৎ প্রতিটি পদ আগের পদের ৪ গুণ, এটি গুণোত্তর ধারা। তাই পরের পদ 0.48 × 4 = 1.92।
মনে রাখুন: যোগ করে করে বাড়লে সমান্তর ধারা, আর গুণ করে করে বাড়লে গুণোত্তর ধারা হয়। - ১০. ২০ ফুট লম্বা একটি বাঁশ এমনভাবে কেটে দু’ভাগ করা হলো যেন ছোট অংশ বড় অংশের দুই তৃতীয়াংশ হয়, ছোট অংশের দৈর্ঘ্য কত ফুট?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ) ২০২২
- ক. ৬
- খ. ৭
- গ. ৮
- ঘ. ১০
উত্তর: গ. ৮
বাঁশটির বড় অংশের দৈর্ঘ্য L ফুট ধরি। ছোট অংশ বড় অংশের দুই তৃতীয়াংশ, তাই ছোট অংশ 2L/3। দুই অংশ মিলে 20 ফুট, তাই L + 2L/3 = 20, অর্থাৎ 5L/3 = 20 এবং L = 12। সুতরাং ছোট অংশ = 20 − 12 = 8 ফুট।
যাচাই: 12-এর 2/3 অংশ = 8, আর 12 + 8 = 20। - ১৪. (5n+2+35×5n-1)/4×5n=?
- ক. 4
- খ. 8
- গ. 5
- ঘ. 7
উত্তর: খ. 8
লব ও হরে 5 এর ঘাতের সাধারণ উৎপাদক বের করে সরল করি। লবে 5^(n+2) = 5³ × 5^(n−1) = 125 × 5^(n−1)। তাই লব = 5^(n−1)(125 + 35) = 160 × 5^(n−1)। হরে 4 × 5^n = 4 × 5 × 5^(n−1) = 20 × 5^(n−1)।
তাহলে মান = 160/20 = 8।
মনে রাখুন: ঘাতের নিয়ম a^m × a^n = a^(m+n) এবং a^m ÷ a^n = a^(m−n)। - ১৫. বিষমবাহু △ABC এর বাহুগুলির মান এমনভাবে নির্ধারিত যে, AD মধ্যমা দ্বারা গঠিত △ABD এর ক্ষেত্রফল x বর্গমিটার। △ABC এর ক্ষেত্রফল কত?
- ক. x² বর্গমিটার
- খ. 2x বর্গমিটার
- গ. (x²)² বর্গমিটার
- ঘ. (x³)³ বর্গমিটার
উত্তর: খ. 2x বর্গমিটার
ত্রিভুজের মধ্যমা বিপরীত বাহুকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে। △ABC-এর শীর্ষ A থেকে BC-এর ওপর যে লম্ব, সেটিই △ABD ও △ADC দুটিরই উচ্চতা। ভূমি BD = DC এবং উচ্চতা সমান, তাই ক্ষেত্রফলও সমান। △ABD = x বর্গমিটার হলে △ADC-ও x বর্গমিটার। সুতরাং △ABC = x + x = 2x বর্গমিটার।
মনে রাখুন: তিনটি মধ্যমা একটি ত্রিভুজকে ছয়টি সমান ক্ষেত্রফলের ত্রিভুজে ভাগ করে। - ১৬. x+y=2, x²+y²=4 হলে x³+y³=?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৬
- ক. 8
- খ. 9
- গ. 16
- ঘ. 25
উত্তর: ক. 8
x + y = 2 এবং x² + y² = 4। আমরা জানি (x + y)² = x² + y² + 2xy, তাই 4 = 4 + 2xy, অর্থাৎ xy = 0। এখন x³ + y³ = (x + y)³ − 3xy(x + y) = 8 − 3 × 0 × 2 = 8।
যাচাই: xy = 0 হলে x = 2, y = 0 হয় (বা উল্টো), তখন x³ + y³ = 8। - ১৭. ঘড়িতে এখন ৮টা বাজে। ঘন্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যকার কোণটি হলো-
- ক. ১৫০°
- খ. ৬০°
- গ. ৯০°
- ঘ. ১২০°
উত্তর: ঘ. ১২০°
ঘড়ির ডায়ালে ১২টি ঘর, আর পূর্ণ বৃত্তে 360°, তাই প্রতি ঘণ্টার ঘরের মধ্যে কোণ 360° ÷ 12 = 30°। ঠিক ৮টায় মিনিটের কাঁটা ১২-তে এবং ঘণ্টার কাঁটা ৮-এ থাকে। এই দুটির মাঝে ছোট দিক দিয়ে ৪টি ঘর আছে। তাই কোণ = 4 × 30° = 120°।
মনে রাখুন: ৩টায় কোণ 90°, ৬টায় কোণ 180°, ৪টায় কোণ 120°। - ৪৫. √169 is equal to-
- ক. 11
- খ. 13
- গ. 15
- ঘ. 17
উত্তর: খ. 13
কোনো সংখ্যার বর্গমূল মানে এমন সংখ্যা, যাকে নিজের সঙ্গে গুণ করলে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যায়। যেহেতু 13 × 13 = 169, তাই √169 = 13। অন্য অপশনের বর্গ: 11² = 121, 15² = 225 এবং 17² = 289, কোনোটিই 169 নয়।
মনে রাখুন: কিছু পরিচিত বর্গ: 12² = 144, 13² = 169, 14² = 196, 15² = 225।
মানসিক দক্ষতা
- ৮. ১৭ দিন আগে আবদুর রহিম বলেছিল যে তার জন্মদিন ‘আগামীকাল’। আজ ২৩ তারিখ হলে তার জন্মদিন কোন তারিখে?
- ক. ৭
- খ. ৮
- গ. ৯
- ঘ. ১০
উত্তর: ক. ৭
সময়ের হিসাবের প্রশ্নে আগে ‘আজ’ থেকে পেছনের দিন বের করতে হয়। আজ ২৩ তারিখ, তাই ১৭ দিন আগে ছিল 23 − 17 = 6 তারিখ। সেদিন রহিম বলেছিল তার জন্মদিন ‘আগামীকাল’, অর্থাৎ 6-এর পরের দিন, ৭ তারিখ। সুতরাং জন্মদিন ৭ তারিখে। - ১১. ইদানীং আপনার মনে হচ্ছে সংসার আপনার গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে। আপনি এমন অবস্থায়-
- ক. খুবই হতাশাবোধ করবেন
- খ. বন্ধুদের সাথে বিষয়টি আলাপ করবেন
- গ. সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগ দেবেন
- ঘ. ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মন খারাপ করবেন
উত্তর: গ. সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগ দেবেন
এ ধরনের প্রশ্নে এমন উত্তর বাছতে হয়, যা সমস্যার সমাধানের দিকে নিয়ে যায়। সংসারে নিজের গুরুত্ব কমছে মনে হলে হতাশ হওয়া, ক্ষোভ দেখানো বা মন খারাপ করে বসে থাকা সম্পর্ককে আরও খারাপ করে। বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করা কিছুটা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে পরিবারের ভেতরে। তাই পরিবারের প্রতি বেশি মনোযোগ ও দায়িত্ব দেখালে সম্পর্ক ভালো হয় এবং নিজের গুরুত্বও ফিরে আসে। এটিই ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ।
মনে রাখুন: মানসিক দক্ষতার প্রশ্নে সাধারণত ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক পদক্ষেপই সবচেয়ে ভালো উত্তর। - ১২. আমার কক্ষে এক বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের সাথে দুই দম্পতি প্রত্যেক দুইজন করে সন্তানসহ আমার কক্ষে প্রবেশ করলেন। আমার কক্ষে মোট কতজন লোক হলো?
- ক. ৯
- খ. ১০
- গ. ১১
- ঘ. ১২
উত্তর: গ. ১১
কক্ষে কতজন লোক হলো, তা বের করতে সবাইকে গুনতে হয়, এমনকি যিনি কথা বলছেন তাঁকেও। এক বৃদ্ধ দম্পতি মানে ২ জন। তাঁদের সঙ্গে আরও দুই দম্পতি আছে, মানে 2 × 2 = 4 জন। প্রত্যেক দম্পতির ২টি করে সন্তান, তাই 2 × 2 = 4 জন শিশু। প্রবেশকারী মোট 2 + 4 + 4 = 10 জন। আর বক্তা নিজে ‘আমার কক্ষে’ আগে থেকেই আছেন, তাই তাঁকে যোগ করে মোট 10 + 1 = 11 জন। - ১৩. ক খ-এর পুত্র। খ এবং গ পরস্পর বোন। ঘ হচ্ছে গ এর মা, চ, ঘ-এর পুত্র। চ এর সংগে ক-এর সম্পর্ক কি?
- ক. ক এর মামা চ
- খ. ক এর খালু চ
- গ. চ এর নান ক
- ঘ. ক এর চাচা চ
উত্তর: ক. ক এর মামা চ
সম্পর্কের ধাঁধায় ধাপে ধাপে সম্পর্ক বের করতে হয়। খ ও গ পরস্পর বোন, আর ঘ হলেন গ-এর মা। তাই ঘ খ-এরও মা। চ হলেন ঘ-এর পুত্র, অর্থাৎ চ হলেন খ-এর ভাই। ক হলো খ-এর পুত্র, তাই খ ক-এর মা। মায়ের ভাইকে বাংলায় মামা বলে, তাই চ হলেন ক-এর মামা।
মনে রাখুন: মায়ের ভাই মামা, মায়ের বোন খালা, আর বাবার ভাই চাচা বা কাকা।
সাধারণ বিজ্ঞান
- ১৮. ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ কি খাদ্য উপাদান গ্রহন করে?
- ক. ফসফরাস
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. পটাশিয়াম
- ঘ. সালফার
উত্তর: খ. নাইট্রোজেন
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম এই তিনটি প্রধান উপাদান দরকার। ইউরিয়া সারের রাসায়নিক সংকেত CO(NH₂)₂, এবং এতে প্রায় ৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। তাই উদ্ভিদ ইউরিয়া থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে, যা পাতা সবুজ রাখে এবং গাছের বৃদ্ধি বাড়ায়।
মনে রাখুন:
ফসফরাসের সার: টিএসপি, আর পটাশিয়ামের সার: এমওপি।
জিপসাম সার সালফারের উৎস। - ১৯. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কি কি থাকে?
- ক. নিউট্রন ও প্রোটন
- খ. ইলেকট্রন ও প্রোটন
- গ. নিউট্রন ও পজিট্রন
- ঘ. ইলেকট্রন ও পজিট্রন
উত্তর: ক. নিউট্রন ও প্রোটন
পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস নামে একটি ছোট ও ভারী অংশ আছে। সেখানে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, আর এরা একসঙ্গে নিউক্লিওন নামে পরিচিত। ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে। পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতিকণা, সাধারণ পরমাণুর অংশ নয়।
মনে রাখুন: প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত, নিউট্রন আধানহীন আর ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত। - ২০. রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ কি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
- ক. অক্সিজেন পরিবহন করা
- খ. রোগ প্রতিরোধ করা
- গ. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
- ঘ. উপরে উল্লিখিত সব কয়টিই
উত্তর: ক. অক্সিজেন পরিবহন করা
হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) লোহিত রক্তকণিকার একটি লৌহযুক্ত প্রোটিন, যার কাজ অক্সিজেন বহন করা। ফুসফুসে এটি অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সারা দেহের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। রক্তের এই কাজ অন্য উপাদান করে না: রোগ প্রতিরোধ করে শ্বেত রক্তকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে অণুচক্রিকা।
মনে রাখুন: হিমোগ্লোবিনের কমতিতে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়। আর এই লাল রঙের জন্য হিমোগ্লোবিনের আয়রন দায়ী। - ২১. সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?
- ক. ৪ টি
- খ. ৬ টি
- গ. ৫ টি
- ঘ. ৮ টি
উত্তর: খ. ৬ টি
সুষম খাদ্য (Balanced Diet) হলো এমন খাদ্য, যাতে দেহের প্রয়োজনীয় সব উপাদান ঠিক অনুপাতে থাকে। এর উপাদান ছয়টি: শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এই ছয়টির মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ শক্তি দেয়, আর ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহকে রোগ থেকে রক্ষা করে।
মনে রাখুন: কোনো কোনো বইয়ে আঁশ বা ফাইবারকেও আলাদা উপাদান ধরা হয়, তবে প্রচলিত গণনায় ছয়টি উপাদান বলা হয়। - ২২. পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
- ক. পটকা মাছ
- খ. হাঙ্গর
- গ. শুশুক
- ঘ. জেলী ফিস
উত্তর: গ. শুশুক
শুশুক বা ডলফিন পানিতে বাস করলেও এটি মাছ নয়, একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর ফুলকা নেই, আছে ফুসফুস। তাই বাতাস থেকে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এটিকে বারবার পানির ওপরে মাথা তুলতে হয়। হাঙর ও পটকা মাছ ফুলকা দিয়ে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন নেয়। জেলিফিশ ত্বক দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
মনে রাখুন: শুশুক বাংলাদেশের জাতীয় জলজ প্রাণী। আর তিমিও স্তন্যপায়ী প্রাণী, যে ফুসফুসে শ্বাস নেয়। - ২৩. অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হল-
- ক. গ্লাইকোজেন
- খ. গ্লুকোজ
- গ. ফ্রুক্টোজ (Fructose)
- ঘ. সুক্রোজ
উত্তর: ক. গ্লাইকোজেন
আমরা খাবার থেকে যে গ্লুকোজ পাই, তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হলে দেহ সেটি গ্লাইকোজেন (Glycogen) রূপে জমা রাখে। এই সঞ্চয় হয় প্রধানত যকৃতে ও পেশিতে। দেহে শক্তির দরকার হলে গ্লাইকোজেন ভেঙে আবার গ্লুকোজ তৈরি হয়। এ কারণে গ্লাইকোজেনকে প্রাণীদেহের সঞ্চিত শর্করা বা ‘প্রাণীজ শ্বেতসার’ বলা হয়।
মনে রাখুন: উদ্ভিদের সঞ্চিত শর্করা শ্বেতসার বা স্টার্চ। - ২৪. প্রাণী জগতের উৎপত্তি ও বংশ সম্বন্ধীয় বিদ্যাকে বলে-
- ক. জুওলজী
- খ. বায়োলজী
- গ. ইভোলিউশন
- ঘ. জেনেটিক্স
উত্তর: ঘ. জেনেটিক্স
জেনেটিক্স (Genetics) বা বংশগতিবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে আলোচনা করা হয় জীবের বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যায় এবং জীবের বংশধারা কেমন। প্রশ্নে প্রাণীর বংশ সম্পর্কে আলোচনা বোঝানো হয়েছে, তাই উত্তর জেনেটিক্স। জুওলজি হলো প্রাণীবিদ্যা এবং বায়োলজি হলো জীবনের সাধারণ বিজ্ঞান।
মনে রাখুন: বংশগতির জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল, যিনি মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণা করেন। - ২৫. কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?
- ক. ভাত
- খ. গরুর মাংস
- গ. মসুর ডাল
- ঘ. ময়দা
উত্তর: গ. মসুর ডাল
প্রোটিন বা আমিষ আমাদের দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। শুকনো মসুর ডালে প্রায় ২৫ ভাগ প্রোটিন থাকে, তাই এটি উদ্ভিজ্জ আমিষের ভালো উৎস। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে ভাত ও ময়দা প্রধানত শর্করা সরবরাহ করে এবং এদের আমিষের পরিমাণ কম। গরুর মাংসেও আমিষ আছে, কিন্তু মসুর ডালের তুলনায় ওজনের হিসাবে কম।
মনে রাখুন: ডাল, দুধ, মাছ, মাংস ও ডিম আমিষের ভালো উৎস। - ২৬. হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৫
- ক. আয়োডিন
- খ. আয়রন
- গ. ম্যাগনেসিয়াম
- ঘ. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
উত্তর: ঘ. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
হাড় ও দাঁত প্রধানত ক্যালসিয়াম ফসফেট দিয়ে গঠিত, তাই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে শক্ত ও মজবুত করে। দুধ, ডিম ও ছোট মাছে এই উপাদান থাকে। আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড হয়, আর আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, এগুলো হাড় ও দাঁতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
মনে রাখুন: ভিটামিন ডি দেহকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, আর এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। - ২৮. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যাটি সঠিক নয় তা হল-
- ক. এ রোগে মানবদেহের কিডনি নষ্ট করে
- খ. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এ রোগ হয়
- গ. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
- ঘ. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়
উত্তর: খ. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এ রোগ হয়
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যেখানে দেহে ইনসুলিন কম তৈরি হয় বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হওয়া এবং রক্তে গ্লুকোজ বাড়া, দুটিই সঠিক তথ্য। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনির ক্ষতিও হয়। কিন্তু শুধু চিনিজাতীয় খাবার খেলেই রোগ হয়, এই তথ্যটি সঠিক নয়, কারণ রোগটির পেছনে বংশগতি, স্থূলতা ও জীবনযাপনের নানা কারণ আছে।
মনে রাখুন: ইনসুলিন তৈরি করে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ। - ৩১. নিচের কোনটির বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি?
- ক. তামা
- খ. রূপা
- গ. সোনা
- ঘ. কার্বন
উত্তর: খ. রূপা
সব ধাতুর মধ্যে রুপার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। এর পরের স্থান তামার, তারপর সোনার। কার্বনের একটি রূপ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে, কিন্তু ধাতুর তুলনায় তার পরিবাহিতা অনেক কম। রুপা দামি বলে বৈদ্যুতিক তারে সাধারণত তামা ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
বৈদ্যুতিক তার তৈরিতে তামার পরে অ্যালুমিনিয়ামও ব্যবহার হয়।
ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে, কারণ এদের ভেতরে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। - ৩২. কোন ডালের সংগে ল্যাথারাইজম রোগের সম্পর্ক আছে?
- ক. অড়হর
- খ. ছোলা
- গ. খেসারী
- ঘ. মটর
উত্তর: গ. খেসারী
ল্যাথারিজম (Lathyrism) এমন একটি রোগ, যাতে পায়ের পেশি দুর্বল ও অসাড় হয়ে যায়। দীর্ঘদিন প্রতিদিন বেশি পরিমাণে খেসারি ডাল খেলে এ রোগ হয়, কারণ খেসারি ডালে ODAP নামে একটি বিষাক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। অন্য ডালগুলো, যেমন অড়হর, ছোলা ও মটর, ল্যাথারিজমের কারণ নয়।
মনে রাখুন: খেসারি ডালের বৈজ্ঞানিক নাম Lathyrus sativus। এই নাম থেকেই রোগটির নাম এসেছে। - ৩৩. মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস-
- ক. পরিপাক
- খ. খাদ্য গ্রহণ
- গ. শ্বসন
- ঘ. রক্ত সংবহন
উত্তর: গ. শ্বসন
আমাদের দেহের শক্তি আসে শ্বসন (Respiration) প্রক্রিয়া থেকে। কোষের ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্লুকোজ অক্সিজেনের সাহায্যে ভেঙে যায়, আর তখন শক্তি মুক্ত হয়ে ATP নামে অণুতে জমা থাকে। খাদ্য গ্রহণে আমরা কাঁচামাল পাই, পরিপাক সেই খাদ্যকে সরল করে, আর রক্ত সংবহন সেই সরল খাদ্য ও অক্সিজেন কোষে পৌঁছে দেয়। কিন্তু শক্তি উৎপন্ন করে শ্বসনই।
মনে রাখুন: মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের ‘শক্তিঘর’ বলা হয়। - ৩৪. বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-
- ক. ঘনত্ব কম
- খ. ঘনত্ব বেশি
- গ. তাপমাত্রা বেশি
- ঘ. দ্রবণীয়তা বেশি
উত্তর: খ. ঘনত্ব বেশি
পানি জমে বরফ হলে তার অণুগুলো এমনভাবে সাজায় যে আয়তন বেড়ে যায়, ফলে একই ওজনের বরফ বেশি জায়গা নেয়। তাই বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম। প্রশ্নের ভাষায়, বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি। যে বস্তুর ঘনত্ব তরলের চেয়ে কম, সেটি ওই তরলে ভাসে, তাই বরফ পানিতে ভাসে।
মনে রাখুন: ঘনত্ব = ভর ÷ আয়তন। পানি ৪° সেলসিয়াসে সবচেয়ে ঘন হয়, আর এ জন্যই শীতের দেশে হ্রদের ওপরে বরফ জমলেও নিচে মাছেরা বেঁচে থাকে। - ৩৫. গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়?
- ক. নাইট্রিক
- খ. সালফিউরিক
- গ. হাইড্রোক্লোরিক
- ঘ. পারক্লোরিক
উত্তর: খ. সালফিউরিক
গাড়ির ব্যাটারি সাধারণত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি। এতে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কাজ করে, আর এর ভেতরে সীসার পাত ও সীসার ডাইঅক্সাইডের পাত তড়িৎদ্বার হিসেবে থাকে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই ব্যাটারি বিদ্যুৎ তৈরি করে এবং চার্জ করে আবার ব্যবহারযোগ্য করা যায়।
মনে রাখুন: গাড়ির সাধারণ ব্যাটারি ১২ ভোল্টের, যাতে ৬টি কোষ থাকে এবং প্রতিটি কোষ ২ ভোল্ট দেয়। - ৩৮. Lunar eclipse occurs on-
- ক. A new moon day
- খ. A full moon day
- গ. A half moon day
- ঘ. A moonless day
উত্তর: খ. A full moon day
চন্দ্রগ্রহণ তখনই হয়, যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ প্রায় একই সরলরেখায় আসে এবং পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে। তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। চাঁদ পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে বলে এই অবস্থা কেবল পূর্ণিমার দিনে হয়। তাই চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণিমায় ঘটে।
মনে রাখুন: সূর্যগ্রহণ হয় অমাবস্যায়, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে আসে। - ৪৩. Dengue fever is spread by-
- ক. Aedes aegypti mosquito
- খ. Common House flies
- গ. Anopheles mosquito
- ঘ. Rats and squirrels
উত্তর: ক. Aedes aegypti mosquito
ডেঙ্গু (Dengue) জ্বর ভাইরাসজনিত একটি রোগ। এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশা এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষকে কামড়ালে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়, আর মাছি ও ইঁদুর-কাঠবিড়ালি ডেঙ্গুর বাহক নয়।
মনে রাখুন: মশার বংশ নিয়ন্ত্রণে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। - ৪৮. Photosynthesis takes place in-
- ক. Roots of the plants
- খ. Stems of the plants
- গ. Green parts of the plants
- ঘ. All parts of the plants
উত্তর: গ. Green parts of the plants
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে গাছ সূর্যের আলোর সাহায্যে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড থেকে খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। এ কাজে ক্লোরোফিল নামের সবুজ রঞ্জক লাগে, আর ক্লোরোফিল থাকে উদ্ভিদের সবুজ অংশে, যেমন পাতা ও কচি কাণ্ডে। তাই সালোকসংশ্লেষণ হয় উদ্ভিদের সবুজ অংশে। মূলে বা অন্য অসবুজ অংশে ক্লোরোফিল থাকে না।
মনে রাখুন: সূত্র: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ (আলো ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে)।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- ২৭. সুনামীর কারণ হল-
- ক. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
- খ. ঘূর্ণীঝড়
- গ. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
- ঘ. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
উত্তর: ঘ. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
সুনামি জাপানি শব্দ, যার অর্থ ‘বন্দরের ঢেউ’। সমুদ্রের তলদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সমুদ্রের মেঝে হঠাৎ ওপরে বা নিচে সরে যায়, আর তার ওপরের বিশাল জলরাশিও নড়ে ওঠে। তাতে সৃষ্ট বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে। তাই সুনামির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প। ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাস হয়, আর চাঁদ-সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়, কিন্তু এগুলো সুনামি নয়।
মনে রাখুন: ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ভয়াবহ সুনামি হয়েছিল। - ২৯. প্রাকৃতিক কোন উৎস হতে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?
- ক. নদী
- খ. সাগর
- গ. হ্রদ
- ঘ. বৃষ্টিপাত
উত্তর: ঘ. বৃষ্টিপাত
পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ কম থাকলে পানি মৃদু (Soft Water) হয়, আর বেশি থাকলে খর (Hard Water) হয়। বৃষ্টির পানি জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তৈরি হয়, তাই এতে এই লবণ প্রায় থাকে না। নদী ও হ্রদের পানি মাটি ও পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে আসে বলে লবণ গ্রহণ করে খর হয়। আর সাগরের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে। তাই প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে বৃষ্টির পানিই সবচেয়ে মৃদু।
মনে রাখুন: খর পানি ফুটিয়ে অস্থায়ী খরতা দূর করা যায়। সাবান খর পানিতে ভালো ফেনা করে না। - ৩০. জমির লবণাক্ততা নিয়িন্ত্রণ করে কোনটি?
- ক. কৃত্রিম সার প্রয়োগ
- খ. পানি সেচ
- গ. মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
- ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ
উত্তর: খ. পানি সেচ
জমিতে লবণ জমে গেলে ফসল ভালো হয় না। মিঠা পানি সেচ দিলে মাটিতে জমে থাকা লবণ গলে ধুয়ে নিচে বা নালা দিয়ে বেরিয়ে যায়, ফলে লবণাক্ততা কমে। তাই পানি সেচ মাটির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে। কৃত্রিম সার বা নাইট্রোজেন ধরে রাখলে লবণ কমে না, আবার প্রাকৃতিক গ্যাসেরও এখানে কোনো ভূমিকা নেই।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা, আর সেখানে লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, যেমন ব্রি ধান ৪৭ চাষ করা হয়। - ৪০. Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth’s surface ?আরও এসেছে: বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (এডি) ২০২২
- ক. Desert Ecosystem
- খ. Mountain Ecosystem
- গ. Freshwater Ecosystem
- ঘ. Marine Ecosystem
উত্তর: ঘ. Marine Ecosystem
পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১ ভাগ সমুদ্র ও মহাসাগরে ঢাকা। তাই বাস্তুতন্ত্রগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র (Marine Ecosystem) সবচেয়ে বড় এলাকা জুড়ে আছে। মরুভূমি, পাহাড় ও মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র তুলনায় অনেক ছোট।
মনে রাখুন: পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ ভাগই সাগর-মহাসাগরের লবণাক্ত পানি।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- ৩৬. Who is known as the ‘Lady of the Lamp’?
- ক. Sorojini Naidu
- খ. Hellen Killer
- গ. Florence Nightingale
- ঘ. Madame Teresa
উত্তর: গ. Florence Nightingale
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল (Florence Nightingale) আধুনিক নার্সিং পেশার প্রতিষ্ঠাতা। ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় তিনি রাতে প্রদীপ হাতে আহত সৈনিকদের সেবা করতেন। এই কারণেই তাঁকে ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ (Lady with the Lamp) বলা হয়। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে সরোজিনী নাইডু ভারতের একজন কবি ও রাজনীতিবিদ, আর হেলেন কেলার বধির ও অন্ধ হয়েও বিখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী।
মনে রাখুন: ১২ মে নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন, যা আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে পালিত হয়। - ৩৭. For which of the following disciplines Nobel Prize is awarded ?
- ক. Physics and Chemistry
- খ. Physiology or Medicine
- গ. Literature, Peace and Economics
- ঘ. All of the above
উত্তর: ঘ. All of the above
নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ছয়টি ক্ষেত্রে: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান বা শারীরবিদ্যা, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরস্কার আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিতে পুরস্কার চালু হয়েছে ১৯৬৯ সালে। যেহেতু এখানে প্রতিটি অপশনের ক্ষেত্র নোবেল পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত, তাই ‘All of the above’ সঠিক।
মনে রাখুন: শান্তি পুরস্কার নরওয়ের অসলোতে দেওয়া হয়, আর অন্যগুলো সুইডেনের স্টকহোমে। - ৩৯. World ‘ No-Tobacco Day’ is observed on-
- ক. May 25
- খ. May 28
- গ. May 30
- ঘ. May 31
উত্তর: ঘ. May 31
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস (World No Tobacco Day) পালন করে। তামাক থেকে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের নানা রোগ হয়।
মনে রাখুন: তামাকের মূল ক্ষতিকর উপাদান নিকোটিন। - ৪১. In Cricket game the length of pitch between the two wickets is-
- ক. 14 yards
- খ. 23 yards
- গ. 22 yards
- ঘ. 21 yards
উত্তর: গ. 22 yards
ক্রিকেট মাঠের মাঝখানে যে সমতল জায়গায় ব্যাটসম্যান ও বোলার খেলে, তাকে পিচ বলে। দুই প্রান্তের উইকেটের মাঝখানের দূরত্ব ২২ গজ, যা প্রায় ২০.১২ মিটার। ক্রিকেট আইনে এই মাপই নির্ধারিত।
মনে রাখুন: একটি উইকেটে তিনটি স্টাম্প ও দুটি বেল থাকে, আর একটি ওভারে ছয়টি বৈধ বল করতে হয়। - ৪২. IMF (International Monetary Fund) is the result of-
- ক. Hawana Conference
- খ. Geneva Conference
- গ. Rome Conference
- ঘ. Brettonwood Conference
উত্তর: ঘ. Brettonwood Conference
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেটন উডস সম্মেলনের সিদ্ধান্তে গঠিত হয়। ওই সম্মেলনেই বিশ্বব্যাংক গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠান বলা হয়। আইএমএফের সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে।
মনে রাখুন: আইএমএফ সদস্য দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সংকটে ঋণ দিয়ে সাহায্য করে। - ৪৪. The International Court of Justice is located in-
- ক. New York
- খ. London
- গ. Geneva
- ঘ. Hague
উত্তর: ঘ. Hague
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (International Court of Justice, ICJ) জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা। এর অবস্থান নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে, শান্তি প্রাসাদে। এটি দুই বা তার বেশি রাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে। জাতিসংঘের অন্য প্রধান অঙ্গগুলো নিউইয়র্কে অবস্থিত।
মনে রাখুন: ICJ-এর বিচারক ১৫ জন এবং তাঁদের মেয়াদ ৯ বছর। - ৪৬. Badminton is the national sport of-
- ক. Malaysia
- খ. Scotland
- গ. China
- ঘ. Nepal
উত্তর: ক. Malaysia
ব্যাডমিন্টন মালয়েশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং একে দেশটির জাতীয় খেলা বলে ধরা হয়। মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে বহুবার সাফল্য পেয়েছে এবং এই খেলায় দেশটির খেলোয়াড় লি চং ওয়েই বিশ্বখ্যাত। অন্য দেশগুলোর জাতীয় খেলা আলাদা: স্কটল্যান্ডের গলফ, চীনের টেবিল টেনিস এবং নেপালের ভলিবল।
মনে রাখুন: ব্যাডমিন্টনের আন্তর্জাতিক দলীয় প্রতিযোগিতার নাম থমাস কাপ (পুরুষ) ও উবার কাপ (নারী)। - ৪৭. EURO is the currency of-
- ক. Asia
- খ. Europe
- গ. America
- ঘ. Africa
উত্তর: খ. Europe
ইউরো (Euro) ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশের অভিন্ন মুদ্রা, তাই এটি ইউরোপের মুদ্রা। ১৯৯৯ সালে ইউরো হিসাবের মুদ্রা হিসেবে চালু হয় এবং ২০০২ সাল থেকে এর নোট ও কয়েন ব্যবহার শুরু হয়। ইউরো ব্যবহারকারী দেশগুলোকে একসঙ্গে ইউরোজোন বলা হয়।
মনে রাখুন: ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তর জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্টে। - ৬৬. নিচের কোন সংস্থাটি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
- ক. UNDP
- খ. UNESCO
- গ. UNICEF
- ঘ. UNCTAD
উত্তর: খ. UNESCO
বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। এর প্রস্তাব আনে বাংলাদেশ। অন্য সংস্থাগুলোর কাজ আলাদা: UNDP উন্নয়ন, UNICEF শিশুকল্যাণ এবং UNCTAD বাণিজ্য ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।
মনে রাখুন: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। - ৬৭. ‘তাহরির স্কয়ার’ কোথায় অবস্থিত?
- ক. সিউল
- খ. আম্মান
- গ. কায়রো
- ঘ. তেহরান
উত্তর: গ. কায়রো
তাহরির স্কয়ার (Tahrir Square) মিসরের রাজধানী কায়রোর কেন্দ্রস্থলের একটি বিশাল চত্বর। আরবি ‘তাহরির’ শব্দের অর্থ মুক্তি। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে যে গণআন্দোলন শুরু হয়, তার কেন্দ্র ছিল এই চত্বর। আন্দোলনের মুখে ফেব্রুয়ারি মাসে মোবারক পদত্যাগ করেন।
মনে রাখুন: মিসরের এই আন্দোলন আরব বসন্তের একটি অংশ। - ৬৮. কোনটি D-৮ ভুক্ত দেশ নয়?
- ক. নাইজেরিয়া
- খ. ভারত
- গ. মালয়েশিয়া
- ঘ. তুরস্ক
উত্তর: খ. ভারত
ডি-৮ (D-8) হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সংগঠন, যা ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আটটি মুসলিম প্রধান উন্নয়নশীল দেশ: বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক। ভারত মুসলিম প্রধান দেশ নয় এবং এই জোটের সদস্যও নয়, তাই উত্তর ভারত।
হালনাগাদ: পরে আজারবাইজান ডি-৮-এর সদস্য হয়েছে। - ৬৯. অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. লন্ডন
- খ. নিউইয়র্ক
- গ. প্যারিস
- ঘ. ভিয়েনা
উত্তর: ক. লন্ডন
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International) একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, যার সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। ১৯৬১ সালে ব্রিটিশ আইনজীবী পিটার বেনেনসন এটি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রচারণা এর প্রধান কাজ। ১৯৭৭ সালে সংগঠনটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়।
মনে রাখুন: আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। - ৭০. ‘আরব বসন্ত’ বলতে কি বুঝায়?
- ক. আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ
- খ. আরব অঞ্চলে বসন্তকাল
- গ. আরব রাজতন্ত্র
- ঘ. আরবীয় মহিলাদের ক্ষমতায়ন
উত্তর: ক. আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ
‘আরব বসন্ত’ (Arab Spring) বলতে ২০১০ সালের শেষ দিক থেকে আরব দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া স্বৈরশাসনবিরোধী গণজাগরণ বোঝায়। এই আন্দোলন প্রথম শুরু হয় তিউনিসিয়ায়, যখন একজন তরুণ সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বুআজিজি নিজের গায়ে আগুন দেন। এর পর আন্দোলন মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ‘বসন্ত’ শব্দটি এখানে নতুন জাগরণের প্রতীক, ঋতু নয়।
মনে রাখুন: তিউনিসিয়া ও মিসরে আন্দোলনের ফলে শাসকেরা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। - ৭১. আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ?
- ক. ফিজি
- খ. ভ্যাটিকান
- গ. কুয়েত
- ঘ. মালদ্বীপ
উত্তর: খ. ভ্যাটিকান
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি। এর আয়তন এক বর্গকিলোমিটারেরও কম, প্রায় ০.৪৪ বর্গকিলোমিটার। দেশটি ইতালির রাজধানী রোম শহরের ভেতরে অবস্থিত। এটি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপের বাসস্থান ও প্রধান কেন্দ্র।
মনে রাখুন: আয়তনে ছোট দেশগুলোর ক্রম: ভ্যাটিকান সিটি, মোনাকো, নাউরু। - ৭২. এশিয়ার হিন্দু রাষ্ট্র কোনটি?
- ক. নেপাল
- খ. ভারত
- গ. ভূটান
- ঘ. মালদ্বীপ
উত্তর: ক. নেপাল
নেপাল দীর্ঘদিন পৃথিবীর একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। অপশনগুলোর মধ্যে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, ভুটান বৌদ্ধ প্রধান রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র আর মালদ্বীপ মুসলিম প্রধান দেশ। তাই উত্তর নেপাল।
হালনাগাদ: ২০০৬ সালে নেপাল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষিত হয় এবং ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে দেশটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। - ৭৩. ‘লয়াজিরগা’ কোন দেশের আইন সভা?
- ক. ফিজি
- খ. সিরিয়া
- গ. লেবানন
- ঘ. আফগানিস্তান
উত্তর: ঘ. আফগানিস্তান
লয়া জিরগা (Loya Jirga) আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী মহাসভা। পশতু ভাষায় ‘লয়া’ মানে বড় এবং ‘জিরগা’ মানে পরিষদ বা সভা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে, যেমন সংবিধান গ্রহণ বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে, বিভিন্ন গোত্র ও অঞ্চলের নেতারা এই সভায় একত্র হন।
মনে রাখুন: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। - ৭৪. কোপেন হেগেন কোন দেশের রাজধানী?
- ক. ডেনমার্ক
- খ. বেলজিয়াম
- গ. ভিয়েতনাম
- ঘ. আর্মেনিয়া
উত্তর: ক. ডেনমার্ক
কোপেনহেগেন ডেনমার্কের রাজধানী। অন্য অপশনের রাজধানীগুলো আলাদা: বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, ভিয়েতনামের হ্যানয় এবং আর্মেনিয়ার ইয়েরেভান। কোপেনহেগেন বাল্টিক সাগরের ধারে অবস্থিত একটি বন্দর শহর।
মনে রাখুন: ২০০৯ সালে এই শহরে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP15) অনুষ্ঠিত হয়। - ৭৫. শ্যামদেশ কোন দেশের পুরাতন নাম?
- ক. মিসর
- খ. ইরাক
- গ. ইরান
- ঘ. থাইল্যান্ড
উত্তর: ঘ. থাইল্যান্ড
শ্যামদেশ বা সায়াম (Siam) থাইল্যান্ডের পুরোনো নাম। ১৯৩৯ সালে দেশটির নাম বদলে থাইল্যান্ড রাখা হয়, যার অর্থ ‘স্বাধীন জনগণের দেশ’। এর মাঝে সামান্য সময়ের জন্য আবার সায়াম নাম ফিরে এসেছিল, তবে ১৯৪৯ সালে থাইল্যান্ড নামটি স্থায়ী হয়। মিসর, ইরাক ও ইরানের পুরোনো নাম আলাদা।
মনে রাখুন: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। আর ইরানের পুরোনো নাম পারস্য।
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
- ৪৯. The term PC means-
- ক. Private Computer
- খ. Prime Computer
- গ. Personal Computer
- ঘ. Professional Computer
উত্তর: গ. Personal Computer
PC-এর পূর্ণরূপ Personal Computer, অর্থাৎ ব্যক্তিগত কম্পিউটার। এটি এমন কম্পিউটার, যা এক সময়ে একজন মানুষ ব্যবহার করে। ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটার PC-এর উদাহরণ। ১৯৮১ সালে আইবিএম (IBM) তাদের প্রথম পিসি বাজারে আনে, যার ফলে এই ধরনের কম্পিউটার সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়।
মনে রাখুন: PC-এর ঠিক আগের প্রজন্মের বড় কম্পিউটারগুলোকে মেইনফ্রেম বলা হতো।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
- ৫০. Fill in the blank of the following sentence with the right form of verb. If I ____ a king!
- ক. am
- খ. was
- গ. were
- ঘ. shall be
উত্তর: গ. were
ইংরেজিতে যে কল্পনা বাস্তবে নেই বা ঘটার সম্ভাবনা কম, তা প্রকাশ করতে Subjunctive mood ব্যবহৃত হয়। তখন If-এর পরে সব কর্তার সঙ্গে ‘were’ বসে, এমনকি ‘I’-এর সঙ্গেও। তাই ঠিক বাক্য ‘If I were a king!’ অর্থাৎ আমি যদি রাজা হতাম। ‘Was’ বসানো কথ্য ইংরেজিতে শোনা গেলেও আনুষ্ঠানিক ব্যাকরণে ভুল।
উদাহরণ:
I wish I were a bird.
If he were here, he would help us. - ৫১. Tiger : Zoology : : Mars : ____.
- ক. Astrology
- খ. Cryptology
- গ. Astronomy
- ঘ. Telescope
উত্তর: গ. Astronomy
এই প্রশ্নটি সাদৃশ্য বা Analogy-র। প্রথম জোড়ায় বলা হচ্ছে Tiger একটি প্রাণী, যাকে Zoology বা প্রাণিবিজ্ঞানে পড়া হয়। একই সম্পর্ক ধরে দ্বিতীয় জোড়ায় Mars একটি গ্রহ, যাকে Astronomy বা জ্যোতির্বিজ্ঞানে পড়া হয়। Astrology মানে জ্যোতিষশাস্ত্র, যা বিজ্ঞান নয়। Cryptology মানে গোপন সংকেত ও কোডের বিদ্যা আর Telescope একটি যন্ত্র।
মনে রাখুন: Astronomy মহাকাশের বস্তুর বিজ্ঞান, আর Astrology গ্রহনক্ষত্রের প্রভাবে মানুষের ভাগ্য বিচার করার বিশ্বাস। - ৫২. Maiden speech means-
- ক. First speech
- খ. Middle speech
- গ. Maid servant’s speech
- ঘ. Final speech
উত্তর: ক. First speech
Maiden speech মানে কারও প্রথম বক্তৃতা, বিশেষ করে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংসদে দেওয়া প্রথম ভাষণ। এখানে maiden শব্দের অর্থ ‘প্রথম’। এর সঙ্গে maid servant বা পরিচারিকার কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: Maiden voyage মানে জাহাজ বা বিমানের প্রথম যাত্রা, আর maiden over ক্রিকেটে এমন ওভার, যাতে কোনো রান হয় না। - ৫৩. N.B. stands for-
- ক. Note before
- খ. No bar
- গ. Non bearing
- ঘ. Nota bene
উত্তর: ঘ. Nota bene
N.B. হলো লাতিন বাক্যাংশ Nota bene-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ ‘ভালো করে লক্ষ করুন’ (note well)। লেখার ভেতরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
P.S. = Post scriptum (পুনশ্চ)।
i.e. = id est (অর্থাৎ)।
e.g. = exempli gratia (উদাহরণস্বরূপ)। - ৫৪. What is the masculine gender of ”mare”?
- ক. Mermaid
- খ. Bear
- গ. Stallion
- ঘ. Dog
উত্তর: গ. Stallion
Mare মানে স্ত্রী ঘোড়া বা ঘোটকী। এর পুরুষবাচক শব্দ Stallion বা পুরুষ ঘোড়া। বাকি অপশনগুলো মেলে না: Mermaid জলকন্যা, Bear ভালুক আর Dog কুকুর।
মনে রাখুন:
কিছু লিঙ্গান্তর: bull–cow, ram–ewe, cock–hen, drake–duck, lion–lioness।
Horse সাধারণ শব্দ, আর colt হলো ঘোড়ার পুরুষ বাচ্চা। - ৫৫. Botany is to plants as Zoology is to-
- ক. Flowers
- খ. Rivers
- গ. Mountains
- ঘ. Animals
উত্তর: ঘ. Animals
এখানে সম্পর্কটি হলো বিষয় ও তার বিজ্ঞান। Botany (উদ্ভিদবিজ্ঞান) পড়ায় উদ্ভিদ বা plants, ঠিক তেমনি Zoology (প্রাণিবিজ্ঞান) পড়ায় প্রাণী বা animals। অন্য অপশনগুলো, যেমন flowers, rivers, mountains, Zoology-র আলোচ্য নয়।
মনে রাখুন: Geology পাথর ও ভূমির বিজ্ঞান, আর Ecology জীব ও পরিবেশের সম্পর্কের বিজ্ঞান।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- ৫৬. ১৯৭১ সনের কত তারিখে মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়?
- ক. ৭ মার্চ ১৯৭১ খৃঃ
- খ. ২৬ মার্চ ১৯৭১ খৃঃ
- গ. ১০ এপ্রিল ১৯৭১ খৃঃ
- ঘ. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ খৃঃ
উত্তর: গ. ১০ এপ্রিল ১৯৭১ খৃঃ
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়। সরকারটি শপথ নেয় ১৭ এপ্রিল, মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়, যার নাম পরে হয় মুজিবনগর। ১০ এপ্রিল নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
মনে রাখুন:
রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। - ৫৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১ মার্চ ১৯১৯ খৃঃ
- খ. ১৭ মার্চ ১৯২০ খৃঃ
- গ. ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ খৃঃ
- ঘ. ২১ জুন ১৯৪১ খৃঃ
উত্তর: খ. ১৭ মার্চ ১৯২০ খৃঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। অন্য অপশনের তারিখগুলো আলাদা ঘটনার: ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ হলো পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের তারিখ।
মনে রাখুন:
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের সভায় তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি নিহত হন। - ৫৮. বহুল আলোচিত মুহুরীর চর কোন জেলায় অবস্থিত?
- ক. নোয়াখালী
- খ. ফেনী
- গ. লালমনিরহাট
- ঘ. সাতক্ষীরা
উত্তর: খ. ফেনী
মুহুরীর চর ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী নদীর ধারে অবস্থিত একটি চর। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে নদীটি আসায় চরের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল, তাই এটি বহুল আলোচিত। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য মুহুরী নদীর ওপারে অবস্থিত।
মনে রাখুন: মুহুরী নদীর ওপর ফেনী জেলায় মুহুরী সেচ প্রকল্প আছে, যা কৃষিতে সেচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। - ৫৯. বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় কত সনে?
- ক. ১৯৪৭ খৃঃ
- খ. ১৯৫৮ খৃঃ
- গ. ১৯৬৪ খৃঃ
- ঘ. ১৯৬৫ খৃঃ
উত্তর: গ. ১৯৬৪ খৃঃ
বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তখন এর নাম ছিল পাকিস্তান টেলিভিশন, ঢাকা কেন্দ্র, আর ঢাকার ডিআইটি ভবন থেকে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু হয়। স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি।
মনে রাখুন: বিটিভিতে রঙিন সম্প্রচার চালু হয় ১৯৮০ সালে। - ৬০. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
- ক. ৭ মার্চ ১৯৭৩ খৃঃ
- খ. ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ খৃঃ
- গ. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ খৃঃ
- ঘ. ৭ ডিসেম্বর ১৯৭২ খৃঃ
উত্তর: ক. ৭ মার্চ ১৯৭৩ খৃঃ
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ৩০০ আসনের এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। নির্বাচনের এক মাস পর, ৭ এপ্রিল ১৯৭৩, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে, তাই তারিখ দুটি গুলিয়ে ফেলা চলবে না।
মনে রাখুন: ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী প্রথম সংসদ গঠিত হয়, আর তখন সংসদীয় সরকারব্যবস্থা ছিল। - ৬১. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সনে?
- ক. ১৭৫৭ খৃঃ
- খ. ১৭৭০ খৃঃ
- গ. ১৮৫৭ খৃঃ
- ঘ. ১৭৯৩ খৃঃ
উত্তর: ঘ. ১৭৯৩ খৃঃ
ব্রিটিশ শাসনের সময় ১৭৯৩ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) চালু করেন। এই ব্যবস্থায় জমিদারেরা সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা দিলে জমির স্থায়ী মালিক হতেন, আর সেই খাজনা কখনো বাড়ানো হতো না। অন্য অপশনের সালগুলো আলাদা ঘটনার: ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ হয় এবং ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ ঘটে।
মনে রাখুন: ১৯৫০ সালে পূর্ব বাংলায় জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়। - ৬২. বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়কারী কোন সংস্থা?
- ক. এ, ডি, বি
- খ. বিশ্বব্যাংক
- গ. জাইকা
- ঘ. আই, এম, এফ
উত্তর: খ. বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর আলোচনার মঞ্চ, যেখানে দেশের উন্নয়নের জন্য বিদেশি সাহায্য ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়। শুরুতে এটি ‘প্যারিস কনসোর্টিয়াম’ বা এইড গ্রুপ নামে পরিচিত ছিল এবং বিশ্বব্যাংক এর সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করত। তাই সমন্বয়কারী সংস্থা বিশ্বব্যাংক।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে। - ৬৩. বাংলাদেশ ও বার্মার সীমান্তবর্তী নদী কোনটি?
- ক. গোমতী
- খ. জিঞ্জিরাম
- গ. নাফ
- ঘ. কর্ণফুলী
উত্তর: গ. নাফ
নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের (পুরোনো নাম বার্মা) মধ্যে সীমান্ত রচনা করে প্রবাহিত হয়েছে এবং শেষে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ এই নদীর তীরে অবস্থিত। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে গোমতী কুমিল্লা অঞ্চলের নদী এবং কর্ণফুলী চট্টগ্রামের নদী। জিঞ্জিরাম গারো পাহাড় অঞ্চলের কাছে বয়ে চলা একটি নদী।
মনে রাখুন: মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারে। - ৬৪. বাংলাদেশে শেয়ারবাজার কার্যক্রম কোন সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে?
- ক. অর্থ মন্ত্রণালয়
- খ. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
- গ. বাংলাদেশ ব্যাংক
- ঘ. সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন
উত্তর: ঘ. সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) দেশের শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে আছে। কমিশনটি ১৯৯৩ সালে গঠিত হয়। এর কাজ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত মুদ্রা ও ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণ করে।
মনে রাখুন: বাংলাদেশে শেয়ার কেনাবেচার দুটি বাজার আছে: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)। - ৬৫. জামাল নজরুল ইসলাম কে?
- ক. ফুটবল খেলোয়াড়
- খ. অর্থনীতিবিদ
- গ. কবি
- ঘ. বৈজ্ঞানিক
উত্তর: ঘ. বৈজ্ঞানিক
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী। বিশেষ করে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে (জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান ও বিশ্বতত্ত্ব) তাঁর গবেষণা ছিল। তাঁর লেখা ‘The Ultimate Fate of the Universe’ বইটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তাই তিনি একজন বিজ্ঞানী।
মনে রাখুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি গণিত বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
- ৭৬. ‘চর্যাপদ’ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
- ক. ১৮০০
- খ. ১৮৫৭
- গ. ১৯০৭
- ঘ. ১৯০৯
উত্তর: গ. ১৯০৭
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।
মনে রাখুন: চর্যাপদের কবিরা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ছিলেন, যাঁদের মধ্যে লুইপা সবচেয়ে প্রাচীন বলে ধরা হয়। - ৭৭. বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে, ____ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ।
- ক. ৪৫০-৬৫০
- খ. ৬৫০-৮৫০
- গ. ৬৫০-১২০০
- ঘ. ৬৫০-১২৫০
উত্তর: গ. ৬৫০-১২০০
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সাধারণত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়: প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ সাল), মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ সাল) এবং আধুনিক যুগ (১৮০১ সাল থেকে বর্তমান)। প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। অন্য অপশনের সময়সীমাগুলো যুগবিভাগের এই প্রচলিত হিসাবে মেলে না।
মনে রাখুন: মধ্যযুগের শুরুতে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয়। - ৭৮. মধ্যযুগের কবি নন কে?
- ক. জয়নন্দী
- খ. বড়ু চণ্ডীদাস
- গ. গোবিন্দ দাস
- ঘ. জ্ঞান দাস
উত্তর: ক. জয়নন্দী
‘জয়নন্দী’ চর্যাপদের একজন কবি, তাই তিনি প্রাচীন যুগের, মধ্যযুগের নন। বাকি তিনজন মধ্যযুগের কবি: বড়ু চণ্ডীদাস ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা, আর গোবিন্দ দাস ও জ্ঞান দাস বৈষ্ণব পদাবলির বিখ্যাত কবি।
মনে রাখুন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গ্রাম থেকে আবিষ্কার করেন। - ৭৯. বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বলতে-
- ক. ১১৯৯-১২৫০ পর্যন্ত
- খ. ১২০১-১৩৫০ পর্যন্ত
- গ. ১২৫০-১৩৫০ পর্যন্ত
- ঘ. ১২৫০-১৪৫০ পর্যন্ত
উত্তর: খ. ১২০১-১৩৫০ পর্যন্ত
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয়। তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজির বাংলা অধিকারের পর এই সময়ে দেশে অস্থিরতা ছিল, আর এ সময়ের কোনো সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই এ সময়কে সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।
মনে রাখুন: এর পরের সময় ১৩৫১ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত মধ্যযুগের অন্য পর্বগুলো বিস্তৃত। - ৮০. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
- ক. উইলিয়াম কেরি
- খ. লর্ড ওয়েলেসলি
- গ. মৃত্যুঞ্জল বিদ্যালঙ্কার
- ঘ. রামরাম বসু
উত্তর: ক. উইলিয়াম কেরি
১৮০০ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ব্রিটিশ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা শেখানো হতো। ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হন। তাঁর অধীনে রামরাম বসু ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার পণ্ডিত হিসেবে কাজ করেন এবং বাংলা গদ্যের বই লেখেন।
মনে রাখুন:
রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের বই ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’।
কেরির ‘কথোপকথন’ (১৮০১) বইয়ে সে সময়ের মুখের ভাষা ধরা আছে। - ৮১. বাংলা সাহিত্যের জনক হিসেবে কার নাম চির স্মরণীয়?
- ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- খ. রাজা রামমোহন রায়
- গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাংলা গদ্যের শুরুর দিকে ভাষা ছিল অমসৃণ এবং এতে যতিচিহ্নের ব্যবহার ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন ব্যবহার করে বাক্যকে সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও ছন্দময় করে তোলেন। এ কারণে তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক এবং এই অর্থে বাংলা সাহিত্যের ভিত্তি স্থাপনকারী বলা হয়। অন্য অপশনের মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক এবং বঙ্কিমচন্দ্র ‘সাহিত্য সম্রাট’।
মনে রাখুন: বিদ্যাসাগরের বিখ্যাত বই: বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, বর্ণপরিচয়। - ৮২. মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা নয় কোনটি?
- ক. তিলোত্তমা কাব্য
- খ. মেঘনাদ বধ কাব্য
- গ. বেতাল পঞ্চবিংশতি
- ঘ. বীরাঙ্গনা
উত্তর: গ. বেতাল পঞ্চবিংশতি
‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচনা, যা ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি সংস্কৃত কাহিনির বাংলা রূপ। বাকি তিনটি বই মাইকেল মধুসূদন দত্তের: ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ (১৮৬০), ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) ও ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ (১৮৬২)।
মনে রাখুন: মধুসূদনের প্রথম নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯), আর সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা তিনিই প্রথম বাংলায় লেখেন। - ৮৩. কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা?
- ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- খ. দীনবন্ধু মিত্র
- গ. রামনারায়ণ তর্করত্ন
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: গ. রামনারায়ণ তর্করত্ন
‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন। নাটকটি ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক সামাজিক নাটক হিসেবে পরিচিত। এতে কুলীন ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথার কুফল ব্যঙ্গ করে দেখানো হয়েছে।
মনে রাখুন:
দীনবন্ধু মিত্র লিখেছেন ‘নীলদর্পণ’।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯)। - ৮৪. ‘নীল দর্পণ’ নাটকটির বিষবস্তু কি?
- ক. নীলকরদের অত্যাচার
- খ. ভাষা আন্দোলন
- গ. অসহযোগ আন্দোলন
- ঘ. তে-ভাগা আন্দোলন
উত্তর: ক. নীলকরদের অত্যাচার
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি দীনবন্ধু মিত্রের লেখা, প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালে। নাটকের বিষয় নীলকর সাহেবদের অত্যাচার। ব্রিটিশ নীলকরেরা বাংলার কৃষকদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করত এবং অমানুষিক নির্যাতন চালাত। নাটকটি এই অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে এবং নীল বিদ্রোহে প্রেরণা জোগায়।
মনে রাখুন: মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এবং রেভারেন্ড জেমস লং এটি প্রকাশ করলে তাঁর শাস্তি হয়। - ৮৫. ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসটি কার লেখা?
- ক. আলাওল
- খ. কাজী দীন মহম্মদ
- গ. কাজী মোতাহের হোসেন
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘ঘরে বাইরে’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস, ১৯১৬ সালে প্রকাশিত। এর পটভূমি স্বদেশি আন্দোলন। উপন্যাসের প্রধান তিন চরিত্র নিখিলেশ, তাঁর স্ত্রী বিমলা এবং নিখিলেশের বন্ধু সন্দীপ, যিনি আন্দোলনের উগ্র নেতা। অন্য অপশনের আলাওল মধ্যযুগের কবি এবং কাজী মোতাহের হোসেন একজন প্রাবন্ধিক।
মনে রাখুন: সত্যজিৎ রায় ১৯৮৪ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। - ৮৬. সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি?
- ক. পঞ্চতন্ত্র
- খ. কালান্তর
- গ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
- ঘ. শাশ্বত বঙ্গ
উত্তর: ক. পঞ্চতন্ত্র
‘পঞ্চতন্ত্র’ সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি রম্যরচনার সংকলন, যেখানে তিনি নানা প্রসঙ্গ হালকা, রসময় ভাষায় লিখেছেন। ‘কালান্তর’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ। অন্য দুটি অপশন আলাদা রচনা: ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’ নামে সাধারণ সংকলন, আর ‘শাশ্বত বঙ্গ’ নামের বইটি মুজতবা আলীর নয়।
মনে রাখুন: মুজতবা আলীর অন্য বিখ্যাত বই: দেশে বিদেশে, চাচা কাহিনী, ময়ূরকণ্ঠী, জলে ডাঙ্গায়। - ৮৭. ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
- ক. অক্ষয়কুমার দত্ত
- খ. প্যারীচাঁদ মিত্র
- গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঘ. সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর: ক. অক্ষয়কুমার দত্ত
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা ১৮৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত, যিনি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বাংলা গদ্যের লেখক। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই পত্রিকা ছিল সেই সভার মুখপত্র। প্যারীচাঁদ মিত্র ‘মাসিক পত্রিকা’ সম্পাদনা করেন।
মনে রাখুন: অক্ষয়কুমার দত্তের একটি বিখ্যাত বই ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’। - ৮৮. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?
- ক. কবর
- খ. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- গ. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
- ঘ. ওরা কদম আলী
উত্তর: ক. কবর
‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর লেখা একাঙ্ক নাটক, যার পটভূমি ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় মুনীর চৌধুরী কারাবন্দি হন। ১৯৫৩ সালে কারাগারে বসে তিনি এই নাটক লেখেন, আর নাটকটি ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
মনে রাখুন: ‘কবর’ নাটকে লাশ কবর দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের কথোপকথন আছে, যার মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ প্রকাশ পায়। - ৮৯. ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ কার ছদ্মনাম?
- ক. দীনবন্ধু মিত্র
- খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ. প্রমথ চৌধুরী
- ঘ. জীবনানন্দ দাসল
উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম। কিশোর বয়সে তিনি এই নামে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির অনুকরণে পদ রচনা করেন। এই পদগুলো ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর অন্য ছদ্মনামগুলো আরও অনেক পরে ব্যবহার হয়েছে।
মনে রাখুন: প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম ‘বীরবল’। - ৯০. কোন কাব্যটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত?
- ক. চৈতালী
- খ. রাখালী
- গ. ফনিমনসা
- ঘ. আলো পৃথিবী
উত্তর: খ. রাখালী
‘রাখালী’ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। অন্য কাব্যগুলো অন্য কবিদের: ‘চৈতালী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ, আর ‘ফণিমনসা’ কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
মনে রাখুন: জসীমউদ্দীনের অন্য বিখ্যাত কাব্য: নক্শী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর। - ৯১. ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ কার কবিতা?
- ক. শওকত ওসমান
- খ. সিকান্দার আবু জাফর
- গ. সুফিয়া কামাল
- ঘ. শামসুর রাহমান
উত্তর: ঘ. শামসুর রাহমান
‘তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা’ পঙ্ক্তিটি শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’ কবিতার। কবিতাটিতে স্বাধীনতা পেতে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ছবি আছে। এটি তাঁর ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
মনে রাখুন: শামসুর রাহমানের আরও কাব্য: প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে। - ৯২. ‘দেয়াল’ রচনাটি কার?
- ক. হুমায়ূন আহমেদ
- খ. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- গ. বুদ্ধদেব বসু
- ঘ. সেলিনা হোসেন
উত্তর: ক. হুমায়ূন আহমেদ
‘দেয়াল’ হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস, যা তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালে মারা যান, তাই এটি তাঁর শেষ উপন্যাস। এর পটভূমি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী রাজনৈতিক সময়।
মনে রাখুন: হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উপন্যাস: নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, বাদশা নামদার। - ৯৩. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
- ক. ক্রীতদাসের হাসি
- খ. মাটি আর অশ্রু
- গ. হাঙর নদী গ্রেনেড
- ঘ. সারেং বউ
উত্তর: গ. হাঙর নদী গ্রেনেড
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস, যার পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ। এতে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কাহিনি আছে। অন্য অপশনের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত ওসমানের উপন্যাস, যা রূপকের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের সমালোচনা করে। আর ‘সারেং বৌ’ শহীদুল্লা কায়সারের উপন্যাস।
মনে রাখুন: সেলিনা হোসেনের আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’। - ৯৪. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’ এ গানের প্রথম সুরকার কে?
- ক. আবদুল গাফফার চৌধুরী
- খ. আসাদ চৌধুরী
- গ. আলতাফ মাহমুদ
- ঘ. আবদুল লতিফ
উত্তর: ঘ. আবদুল লতিফ
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির গীতিকার আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। গানটির প্রথম সুর করেছিলেন আবদুল লতিফ। পরে আলতাফ মাহমুদ নতুন সুর দেন, এবং সেই সুরেই এটি একুশের প্রভাতফেরির জনপ্রিয় গান হয়ে ওঠে। তাই প্রথম সুরকারের নাম আবদুল লতিফ।
মনে রাখুন: আলতাফ মাহমুদ ১৯৭১ সালে শহীদ হন। - ৯৫. ১৯৮৫ সালে নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক কে পান?
- ক. সৈয়দ আলী আহসান
- খ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- গ. সৈয়দ শামসুল হক
- ঘ. সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর: ক. সৈয়দ আলী আহসান
নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক সাহিত্যে অবদানের জন্য দেওয়া একটি পুরস্কার। ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের নামে এই পদক প্রবর্তিত হয়। ১৯৮৫ সালে এই পদক পান কবি, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক সৈয়দ আলী আহসান। তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকও ছিলেন।
মনে রাখুন: সৈয়দ আলী আহসানের কাব্যগ্রন্থ ‘অনেক আকাশ’ ও ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’। - ৯৬. প্রাণদ : জল : : মহীজ : ?
- ক. সম্বর
- খ. গ্রহ
- গ. নিঃসর্গ
- ঘ. অশ্ব
উত্তর: খ. গ্রহ
এই প্রশ্নে একটি শব্দ ও তার অর্থের সম্পর্ক ধরে উত্তর খুঁজতে হয়। ‘প্রাণদ’ মানে যা প্রাণ দেয়, আর তার অর্থ জল। একইভাবে ‘মহীজ’ মানে মহী বা পৃথিবী থেকে জন্মেছে এমন, যার একটি অর্থ মঙ্গল। মঙ্গল একটি গ্রহ, তাই সম্পর্ক মেলালে অপশনগুলোর মধ্যে উত্তর ‘গ্রহ’। সম্বর মানে হরিণ, নিঃসর্গ মানে প্রকৃতি এবং অশ্ব মানে ঘোড়া, এগুলো এই সম্পর্কের সঙ্গে মেলে না।
মনে রাখুন: ‘মহী’ শব্দের অর্থ পৃথিবী, আর ‘মহীরুহ’ মানে বড় গাছ।
অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান
১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৬)
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৮তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২৫)
- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৪)
- ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৩)
- ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২২)
- ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২১)
- ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৯)
- ৩৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০১৮)
- ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৭)
- ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৫)
- ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৩)
- ৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১১)
- ৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১০)
- ২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৯)
- ২৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৮)
- ২৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৫)
- ২৬তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৩)
- ২৩তম বিশেষ বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা) প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৯)
- ২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৬)
- ১৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৫)
- ১৬তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি (১৯৯৪)
- ১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৩)
- ১৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯০)
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন