লিয়ানা বুকস

১০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ১৯৯০। এখানে ৯৬টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য

  1. ১. Choose the appropriate alternative to complete the sentence. ‘He had a - of fever.’
    • ক. strong attack
    • খ. severe attack
    • গ. serious kind
    • ঘ. bad attack
    উত্তর: খ. severe attack
    জ্বর বা অসুখের তীব্র আক্রমণ বোঝাতে ইংরেজিতে সাধারণত attack of ... কাঠামোটি ব্যবহার করা হয়, আর তীব্রতা বোঝাতে তার আগে বসে severe। তাই বাক্যটি হবে ‘He had a severe attack of fever.’ অন্য অপশনগুলো ইংরেজিতে স্বাভাবিক শোনায় না। strong শব্দটি সাধারণত চা, আলো বা মনোভাবের ক্ষেত্রে বসে, আর ‘serious kind’ বললে বাক্যের গঠনই মেলে না।
    মনে রাখুন:
    a severe attack of malaria, a heart attack, an attack of asthma।
    severe মানে কঠিন বা তীব্র, যেমন severe pain, severe cold।
  2. ২. Choose the correct sentence.
    • ক. I asked Javed had he passed
    • খ. I asked Javed if he had passed
    • গ. I asked Javed if you had passed
    • ঘ. I asked Javed that had he passed
    উত্তর: খ. I asked Javed if he had passed
    Yes/No প্রশ্নকে Indirect speech-এ রূপান্তর করতে হলে reporting verb-এর পরে if বা whether বসাতে হয়। তখন প্রশ্নের ক্রম বদলে বাক্যটি সাধারণ বিবৃতির ক্রমে আসে এবং Past tense অনুযায়ী Present Perfect বদলে Past Perfect হয়। তাই ঠিক বাক্যটি ‘I asked Javed if he had passed.’ ‘had he passed’ হলো প্রশ্নের ক্রম, যা Indirect speech-এ চলে না। আবার ‘you’ বসালে বাক্যের অর্থই বদলে যায়, কারণ এখানে যার কথা হচ্ছে সে Javed, তাই সর্বনাম হবে he।
    উদাহরণ:
    Direct: I said to Javed, “Have you passed?”
    Indirect: I asked Javed if he had passed.
    মনে রাখুন: Wh-প্রশ্নে if বা whether বসে না, সেখানে প্রশ্নবোধক শব্দটিই থাকে, যেমন: He asked me where I lived।
  3. ৩. Choose the correct sentence.আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ২৫৯৪) ২০১৯
    • ক. A few of the three boys got a prize
    • খ. Each of the three boys got a prize
    • গ. Every of the three boys got a prize
    • ঘ. All of the three boys got a prize
    উত্তর: খ. Each of the three boys got a prize
    তিনজনের একটি নির্দিষ্ট দলের প্রত্যেককে আলাদা করে ধরে বোঝাতে Each of ব্যবহার করা হয়। তাই ‘Each of the three boys got a prize.’ সঠিক বাক্য। এখানে Each of-এর পরে বহুবচন বিশেষ্য (the three boys) থাকলেও ক্রিয়াটি একবচনের মতো ধরে বসে। অন্য অপশনে ভুল আছে: Every-এর পরে সরাসরি of বসে না, তাই Every of ভুল। A few অল্প কয়েকজন বোঝায়, তিনজনের ছোট দলে সেটি মানায় না। আর All of বললে সবাইকে একসঙ্গে ধরা হয়, প্রত্যেককে আলাদা করে নয়।
    মনে রাখুন:
    Each of, either of, neither of এবং one of-এর পরে বহুবচন বিশেষ্য থাকে, কিন্তু ক্রিয়া একবচন হয়।
    Every শব্দের পরে সরাসরি বিশেষ্য বসে, যেমন every boy; of বসাতে চাইলে Every one of the boys বলতে হয়।
  4. ৪. Choose the correct answer. How long did you wait?
    • ক. Till lunch time.
    • খ. Till he came.
    • গ. Until six o’clock.
    • ঘ. Since this morning.
    উত্তর: খ. Till he came.
    ‘How long did you wait?’ প্রশ্নে অপেক্ষার সময়কাল জানতে চাওয়া হয়েছে। তাই উত্তরে অপেক্ষা কোথায় গিয়ে শেষ হলো তা বলা যায়, আর ‘Till he came.’ ঠিক সেটাই বোঝায়: সে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়েছিল। প্রশ্নটি Past Simple-এ, তাই উত্তরেও অতীতের একটি ঘটনা (came) আসা স্বাভাবিক। ‘Since this morning’ বসে Present Perfect-এর সঙ্গে, যেমন ‘I have been waiting since this morning.’ অতীতে শেষ হয়ে যাওয়া অপেক্ষার প্রশ্নে এটি মানায় না।
    মনে রাখুন:
    Till বা until মানে ‘পর্যন্ত’, আর since মানে ‘থেকে’ এবং সেটি কাজ শুরুর সময় বোঝায়।
    for ব্যবহার হয় সময়ের দৈর্ঘ্য বোঝাতে, যেমন for two hours।
  5. ৫. What will be the correct preposition to complete the sentence? ‘I am not bad-tennis’.
    • ক. in
    • খ. at
    • গ. about
    • ঘ. with
    উত্তর: খ. at
    কোনো কাজে দক্ষ বা অদক্ষ বোঝাতে ইংরেজিতে good at এবং bad at বলা হয়, এখানে preposition হিসেবে at-ই বসে। তাই বাক্যটি হবে ‘I am not bad at tennis.’ অর্থাৎ আমি টেনিসে খারাপ নই।
    মনে রাখুন:
    good at, bad at, clever at, weak at, quick at: এগুলোর সবই at নেয়।
    উদাহরণ: She is good at mathematics. He is weak at English.
  6. ৬. What is the antonym of ‘Gentle’?
    • ক. Harsh
    • খ. Modest
    • গ. Clever
    • ঘ. Rude
    উত্তর: ক. Harsh
    Gentle মানে কোমল, নম্র বা মৃদু, যেমন a gentle touch (আলতো ছোঁয়া) বা a gentle voice (নরম গলা)। এর সরাসরি বিপরীত অর্থ হলো কর্কশ, রূঢ় বা কঠোর, আর সেই অর্থ বহন করে Harsh, যেমন a harsh voice, harsh words। অন্য অপশনগুলো ঠিক বিপরীত নয়। Rude মানে অভদ্র, যার বিপরীত polite, আর Modest মানে বিনয়ী, যার বিপরীত proud বা arrogant। Clever মানে চতুর, যার সঙ্গে gentle-এর কোনো সম্পর্কই নেই।
    মনে রাখুন: Gentle-এর সমার্থক শব্দ mild, soft, tender, kind।
  7. ৭. What is the synonym of ‘Jovial’?
    • ক. Jolly
    • খ. Gay
    • গ. Jealous
    • ঘ. Happy
    উত্তর: ক. Jolly
    Jovial মানে হাসিখুশি, আমুদে ও প্রফুল্ল স্বভাবের, যে সবার সঙ্গে আনন্দে মিশতে পারে। এই অর্থের সবচেয়ে কাছের শব্দ Jolly। অন্য অপশনের Jealous মানে ঈর্ষাপরায়ণ, যার সঙ্গে অর্থের কোনো মিল নেই।
    মনে রাখুন:
    Jovial-এর সমার্থক: cheerful, merry, genial, cheery।
    Jovial-এর বিপরীত: gloomy বা morose (বিষণ্ণ)।
  8. ৮. What is the synonym of ‘Competent’?
    • ক. Circumspect
    • খ. Discrete
    • গ. Capable
    • ঘ. Prudent
    উত্তর: গ. Capable
    Competent মানে কোনো কাজ ঠিকমতো করার যোগ্যতা বা দক্ষতা আছে এমন, তাই এর সবচেয়ে কাছের সমার্থক শব্দ Capable। বাকিগুলো আলাদা অর্থ দেয়: Prudent মানে বিবেচক, Circumspect মানে চারদিক ভেবে সতর্ক, আর Discrete মানে আলাদা বা পৃথক (বানানে discreet-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা চলবে না)।
    মনে রাখুন:
    Competent-এর সমার্থক: able, skilled, proficient, efficient।
    Competent-এর বিপরীত: incompetent (অযোগ্য, অদক্ষ)।
  9. ৯. Who is the author of ‘A Farewell to Arms’?
    • ক. H. G. Wells
    • খ. George Orwel
    • গ. Thomas Hardy
    • ঘ. Ernest Hemingway
    উত্তর: ঘ. Ernest Hemingway
    ‘A Farewell to Arms’ উপন্যাসটির লেখক মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (Ernest Hemingway)। বইটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে এক মার্কিন সেনা ও এক ইংরেজ নার্সের প্রেমকাহিনি এতে বলা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, হেমিংওয়ে নিজেও যুদ্ধের সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে ইতালির রণাঙ্গনে ছিলেন।
    মনে রাখুন:
    হেমিংওয়ের আরও বিখ্যাত রচনা: The Old Man and the Sea (১৯৫২), For Whom the Bell Tolls, The Sun Also Rises।
    তিনি ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
  10. ১০. Who is the author of ‘Animal Farm’?
    • ক. Thomas More
    • খ. George Orwel
    • গ. Boris Pasternak
    • ঘ. Charles Dickens
    উত্তর: খ. George Orwel
    ‘Animal Farm’ জর্জ অরওয়েলের (George Orwell) লেখা বিখ্যাত রূপক উপন্যাস, যা ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়। একটি খামারের পশুরা মালিককে তাড়িয়ে নিজেরা খামার চালাতে শুরু করে, কিন্তু ধীরে ধীরে শূকরেরা ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক রাশিয়ার বিপ্লব ও সোভিয়েত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য উক্তি: ‘All animals are equal, but some animals are more equal than others.’
    মনে রাখুন: অরওয়েলের আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস Nineteen Eighty-Four (১৯৪৯)। তাঁর আসল নাম এরিক আর্থার ব্লেয়ার।
  11. ১১. Who is the author of ‘India Wins Freedom’?
    • ক. Mahatma Gandhi
    • খ. J. L. Nehru
    • গ. Abul Kalam Azad
    • ঘ. Moulana Akram Khan
    উত্তর: গ. Abul Kalam Azad
    ‘India Wins Freedom’ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন প্রধান নেতা ছিলেন এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হন। এই বইয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশভাগের সময়কার রাজনীতি নিয়ে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন লেখা আছে। গান্ধী ও নেহরুর নামও এই বইয়ে অনেক বার এসেছে, তবে বইটির লেখক তাঁরা নন।
    মনে রাখুন: আজাদের সম্পাদিত পত্রিকা ‘আল-হিলাল’।
  12. ১২. What kind of noun is ‘Cattle’?
    • ক. Proper
    • খ. Common
    • গ. Collective
    • ঘ. Material
    উত্তর: গ. Collective
    Noun বা বিশেষ্য নানা ধরনের হয়। যে শব্দ একই জাতীয় অনেক প্রাণী বা বস্তুর দলকে একসঙ্গে বোঝায়, তাকে Collective Noun বলে। Cattle বললে একটি গরুকে নয়, গবাদি পশুর পুরো দলকে বোঝায়, তাই এটি Collective Noun। শব্দটি দেখতে একবচন মনে হলেও এটি বহুবচনের ক্রিয়া নেয়, যেমন: The cattle are grazing।
    মনে রাখুন:
    Collective Noun-এর উদাহরণ: class, team, committee, family, jury, army, flock।
    Proper Noun নির্দিষ্ট নাম বোঝায় (Dhaka), Material Noun উপাদান বোঝায় (gold, iron)।
  13. ১৩. What kind of noun is ‘Girl’?
    • ক. Proper
    • খ. Common
    • গ. Collective
    • ঘ. Material
    উত্তর: খ. Common
    যে বিশেষ্য কোনো একটি নির্দিষ্ট নামে না বুঝিয়ে একই জাতের সবাইকে বা যেকোনো একজনকে বোঝায়, তাকে Common Noun বলে। Girl বললে কোনো নির্দিষ্ট মেয়ের নাম বোঝায় না, যেকোনো মেয়েকেই বোঝায়। তাই এটি Common Noun। যদি নির্দিষ্ট নাম হতো, যেমন Rina, তাহলে সেটি Proper Noun হতো।
    মনে রাখুন:
    Common Noun-এর উদাহরণ: boy, city, river, teacher।
    Proper Noun-এর প্রথম অক্ষর সবসময় বড় হাতের হয়, যেমন Padma, Bangladesh।
  14. ১৪. What is the meaning of ‘White Elephant’?
    • ক. An elephant of white colour
    • খ. A very coslty or troublesome possession
    • গ. A black marketer
    • ঘ. A hoarder
    উত্তর: খ. A very coslty or troublesome possession
    White elephant বাগ্ধারার আক্ষরিক অর্থ সাদা হাতি হলেও এর প্রকৃত অর্থ এমন সম্পদ বা জিনিস, যা রাখতে অনেক খরচ ও ঝামেলা পোহাতে হয় কিন্তু কাজে তেমন লাগে না। বলা হয়, প্রাচীন থাইল্যান্ডে সাদা হাতি পবিত্র ধরা হতো এবং রাজা কাউকে অপছন্দ করলে তাঁকে একটি সাদা হাতি উপহার দিতেন, যার খরচ চালাতে গিয়ে সেই মানুষ নিঃস্ব হয়ে যেতেন। এই কারণেই ব্যয়বহুল অথচ অকেজো সম্পদকে white elephant বলা হয়।
    মনে রাখুন: Black marketer মানে যে বেআইনিভাবে বেশি দামে পণ্য বেচে, আর hoarder মানে যে পণ্য মজুত করে রাখে। এই দুটি অর্থ white elephant-এর নয়।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

  1. ১৫. ‘আনারস’ এবং ‘চাবি’ শব্দ দুটি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে -
    • ক. পর্তুগিজ ভাষা থেকে
    • খ. আরবি ভাষা থেকে
    • গ. দেশী ভাষা থেকে
    • ঘ. ওলন্দাজ ভাষা থেকে
    উত্তর: ক. পর্তুগিজ ভাষা থেকে
    ষোড়শ শতকে পর্তুগিজ বণিকেরা বাংলায় ব্যবসা করতে আসে এবং তাদের সঙ্গে নানা জিনিসের নামও আমাদের ভাষায় ঢুকে পড়ে। আনারস ও চাবি এমনই দুটি শব্দ, যা বাংলা ভাষা পর্তুগিজ থেকে গ্রহণ করেছে। আনারস পর্তুগিজ ananás থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়, আর চাবি এসেছে chave থেকে।
    মনে রাখুন:
    পর্তুগিজ শব্দ: আলমারি, গির্জা, বালতি, পেরেক, সাবান, বোতাম, জানালা, কামরা, আলপিন, পাউরুটি, মিস্ত্রি।
    আরবি শব্দ: কলম, কিতাব, আদালত; ওলন্দাজ (ডাচ) শব্দ: তুরুপ, ইস্কাবন, হরতন, রুইতন।
  2. ১৬. শুদ্ধ বানান কোনটি?
    • ক. মূমুর্ষু
    • খ. মুমূর্ষু
    • গ. মূমুর্ষ
    • ঘ. মুমূর্ষ
    উত্তর: খ. মুমূর্ষু
    শব্দটির শুদ্ধ রূপ ‘মুমূর্ষু’, যার অর্থ মৃত্যুপথযাত্রী বা যে মরতে চলেছে। এটি এসেছে সংস্কৃত ‘মৃ’ ধাতু থেকে। বানানে প্রথম ‘মু’-তে হ্রস্ব উ-কার, দ্বিতীয় ‘মূ’-তে দীর্ঘ ঊ-কার এবং শেষের ‘ষু’-তে আবার হ্রস্ব উ-কার বসে। অন্য অপশনগুলোতে এই উ-কারের ক্রম উল্টে গেছে অথবা শেষের উ-কার বাদ পড়েছে।
    মনে রাখুন: শব্দটি বিশেষণ, তাই এর সঙ্গে সাধারণত ‘রোগী’ বা ‘ব্যক্তি’ জাতীয় বিশেষ্য বসে, যেমন মুমূর্ষু রোগী।
  3. ১৭. গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
    • ক. শবপোড়া
    • খ. মড়াদাহ
    • গ. শবদাহ
    • ঘ. শবমড়া
    উত্তর: গ. শবদাহ
    এক ভাষার শব্দের সঙ্গে সাধু ও চলিত বা তৎসম ও দেশি-তদ্ভব শব্দ অসংগতভাবে মিশিয়ে ফেললে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। ‘শবদাহ’ শব্দে ‘শব’ (মৃতদেহ) ও ‘দাহ’ (পোড়ানো) দুটিই তৎসম, তাই এটি দোষমুক্ত। কিন্তু ‘শবপোড়া’-তে তৎসম ‘শব’-এর সঙ্গে তদ্ভব ‘পোড়া’ এবং ‘মড়াদাহ’-তে তদ্ভব ‘মড়া’-র সঙ্গে তৎসম ‘দাহ’ মিশে গেছে। ‘শবমড়া’-তেও একই ত্রুটি আছে।
    মনে রাখুন: ‘গুরু’ মানে তৎসম বা সাধু শব্দ আর ‘চণ্ডাল’ মানে নিম্নশ্রেণির বা গ্রাম্য শব্দ। এই দুয়ের অসংগত মিলনই গুরুচণ্ডালী দোষ।
    উদাহরণ: ‘গো-শকট’ দোষমুক্ত, কারণ দুটি শব্দই তৎসম। ‘গরুর গাড়ি’-ও দোষমুক্ত, কারণ দুটি শব্দই দেশি। কিন্তু ‘গো-গাড়ি’ বললে তৎসম ও দেশি শব্দ মিশে দোষ হয়।
  4. ১৮. ‘কবর’ নাটকটির লেখক-
    • ক. জসীমউদ্‌দীন
    • খ. নজরুল ইসলাম
    • গ. মুনীর চৌধুরী
    • ঘ. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
    উত্তর: গ. মুনীর চৌধুরী
    ‘কবর’ একাঙ্ক নাটকটির রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন এবং ১৯৫৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে এটি লেখেন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের নিয়ে লেখা এই নাটক ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ওই কারাগারেই প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
    মনে রাখুন:
    মুনীর চৌধুরীর আরও নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দণ্ডকারণ্য, মানুষ।
    তাঁর অনূদিত নাটকের মধ্যে ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ ও ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ উল্লেখযোগ্য।
    জসীমউদ্‌দীনের বিখ্যাত কবিতা ‘কবর’ আলাদা একটি রচনা, তাই নামের মিল দেখে বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না।
  5. ১৯. ‘উভয়কূল রক্ষা’ অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি?
    • ক. কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ
    • খ. চাল না চুলো, ঢেঁকী না কুলো
    • গ. সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
    • ঘ. বোঝার উপর, শাকের আঁটি
    উত্তর: গ. সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
    উভয়কূল রক্ষা মানে দুই দিকই বজায় রাখা, অর্থাৎ কাজ উদ্ধার হলো আবার কারও ক্ষতিও হলো না। ‘সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে’ প্রবাদটি ঠিক এই ভাব প্রকাশ করে: সাপ মারা গেল, অথচ লাঠিও অক্ষত রইল। অন্য প্রবাদগুলোর অর্থ আলাদা। ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’ মানে একজনের সুখ আরেকজনের দুঃখের কারণ হওয়া। ‘বোঝার উপর শাকের আঁটি’ মানে বিপদের ওপর সামান্য বাড়তি চাপ, আর ‘চাল নেই চুলো নেই’ জাতীয় প্রবাদ চরম দারিদ্র্য বোঝায়।
    মনে রাখুন: ইংরেজিতে প্রায় সমার্থক কথা হলো ‘to kill two birds with one stone’।
  6. ২০. শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
    • ক. দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল
    • খ. দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল
    • গ. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
    • ঘ. দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল
    উত্তর: গ. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
    বাক্যটির ঠিক রূপ ‘দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল’। প্রথম কারণ হলো ‘দুর্বল’ একটি বিশেষণ, আর ‘বশত’ কারণ বোঝানোর সময় বিশেষ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বিশেষ্য রূপ ‘দুর্বলতা’ নিয়ে ‘দুর্বলতাবশত’ হয়। দ্বিতীয় কারণ হলো ‘অনাথ’ পুরুষ বা সাধারণ রূপ, আর স্ত্রীবাচক রূপ ‘অনাথা’। ‘অনাথিনী’ রূপটি বাংলা ব্যাকরণে অশুদ্ধ। তৃতীয়ত, আধুনিক বানানরীতিতে ‘বশত’-এর শেষে বিসর্গ বসে না।
    মনে রাখুন: আধুনিক বানানে প্রধানত, মূলত, সম্ভবত, বস্তুত, কার্যত: এসব শব্দের শেষে বিসর্গ বসে না।
  7. ২১. ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয়-
    • ক. বিভক্তি
    • খ. ধাতু
    • গ. প্রত্যয়
    • ঘ. কৃৎ
    উত্তর: খ. ধাতু
    ক্রিয়াপদকে ভাঙলে যে মূল অংশটুকু থাকে এবং যার সঙ্গে নানা বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়, তাকে ধাতু (Root) বলে। যেমন ‘করে’, ‘করছি’, ‘করবে’: এই সব রূপেরই মূল অংশ ‘কর্’। ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী বিভক্তি যুক্ত হয়, আর ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গড়ে ওঠে।
    মনে রাখুন: ধাতু দুই প্রকার: মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু (যেমন: কর্, যা, খা) এবং সাধিত ধাতু (যেমন: করা, খাওয়া, দেখা)।
  8. ২২. ‘রত্নাকর’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
    • ক. রত্না + কর
    • খ. রত্ন + কর
    • গ. রত্না + আকার
    • ঘ. রত্ন + আকর
    উত্তর: ঘ. রত্ন + আকর
    ‘রত্নাকর’ শব্দটি সন্ধি করে গঠিত। রত্ন + আকর = রত্নাকর। এখানে প্রথম শব্দের শেষে অ-কার আর পরের শব্দের শুরুতে আ-কার আছে। অ-কারের পরে আ-কার এলে দুটি মিলে আ-কার হয় এবং সেটি আগের বর্ণে যুক্ত হয়, তাই ‘ত্ন’ আর ‘আ’ মিলে ‘ত্না’ হয়েছে। ‘আকর’ মানে খনি বা উৎপত্তিস্থল, তাই রত্নাকর মানে রত্নের খনি, আর সমুদ্রকেও রত্নাকর বলা হয়, কারণ তার গর্ভে রত্ন থাকে।
    মনে রাখুন: একই নিয়মে হিম + আলয় = হিমালয়, বিদ্যা + অর্থী = বিদ্যার্থী।
  9. ২৩. কোন দ্বিরুক্ত শব্দদুটি বহুবচন সংকেত করে?
    • ক. পাকা পাকা আম
    • খ. ছি ছি কি করছ
    • গ. নরম নরম হাত
    • ঘ. উড়ু উড়ু মন
    উত্তর: ক. পাকা পাকা আম
    বাংলা ভাষায় একই শব্দ দুবার বসিয়ে নানা অর্থ প্রকাশ করা যায়, একে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। বিশেষণ দুবার বসালে অনেক সময় বহুত্ব বোঝায়। ‘পাকা পাকা আম’ মানে বেশ কয়েকটি পাকা আম, তাই এখানে বহুবচন প্রকাশ পেয়েছে। ‘ছি ছি’ ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশ করে, ‘নরম নরম হাত’ কোমলতার ভাবকে জোরালো করে, আর ‘উড়ু উড়ু মন’ মনের অস্থির ভাব বোঝায়।
    মনে রাখুন:
    বহুবচন বোঝাতে: ঘরে ঘরে, হাতে হাতে, বড় বড় গাছ।
    আধিক্য বা ভাব প্রকাশে: ধীরে ধীরে, গরম গরম ভাত।
  10. ২৪. কোন প্রবচন বাক্য ব্যবহারিক দিক হতে সঠিক?
    • ক. যত গর্জে তত বৃষ্টি হয় না
    • খ. অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
    • গ. নাচতে না জানলে উঠোন ভাঙ্গা
    • ঘ. যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বিপদ হয়
    উত্তর: খ. অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
    প্রবাদটির প্রচলিত ও শুদ্ধ রূপ ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’। গাজন একটি লোকউৎসব, যেখানে একজন নেতা না থাকলে কাজ গুছিয়ে ওঠে না। তাই বেশি লোক মিলে কর্তৃত্ব করতে গেলে কাজ নষ্ট হয়, এটাই প্রবাদটির অর্থ। অন্য অপশনগুলোতে প্রবাদের শব্দ বদলে গেছে: সঠিক রূপ ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’, ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’ এবং ‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়’।
    মনে রাখুন: ইংরেজিতে প্রায় সমার্থক প্রবাদ ‘Too many cooks spoil the broth’।
  11. ২৫. বাংলায় টিএস এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক-
    • ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • খ. বিষ্ণু দে
    • গ. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
    • ঘ. বুদ্ধদেব বসু
    উত্তর: ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    বাংলা ভাষায় টি এস এলিয়টের (T. S. Eliot) কবিতার প্রথম অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি এলিয়টের ‘Journey of the Magi’ কবিতাটি ‘তীর্থযাত্রী’ নামে বাংলায় রূপান্তর করেন এবং সেটি তাঁর ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়। পরবর্তীকালে বিষ্ণু দে এবং বুদ্ধদেব বসুও এলিয়টের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন, কিন্তু প্রথম অনুবাদের কৃতিত্ব রবীন্দ্রনাথেরই।
    মনে রাখুন:
    এলিয়টের বিখ্যাত কবিতা: The Waste Land (১৯২২), The Love Song of J. Alfred Prufrock।
    তিনি ১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
  12. ২৬. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত প্রথম কবিতা-
    • ক. অগ্রপথিক
    • খ. বিদ্রোহী
    • গ. প্রলয়োল্লাস
    • ঘ. ধূমকেতু
    উত্তর: গ. প্রলয়োল্লাস
    কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’, যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’। এর পরের কবিতাটিই বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’, যে কারণে অনেকে ভুল করে বিদ্রোহীকেই প্রথম কবিতা মনে করেন।
    মনে রাখুন:
    ‘অগ্নিবীণা’র আরও কবিতা: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, কামাল পাশা, শাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, আগমনী।
    ‘ধূমকেতু’ নজরুলের সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম।
  13. ২৭. ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ রচিত-
    • ক. কবিতার নাম
    • খ. গল্প সংকলনের নাম
    • গ. উপন্যাসের নাম
    • ঘ. কাব্য সংকলনের নাম
    উত্তর: গ. উপন্যাসের নাম
    ‘শেষের কবিতা’ নামটি শুনলে কবিতা মনে হলেও এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস, যা ১৯২৯ সালে গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে অমিত রায় ও লাবণ্যের প্রেমের কাহিনি। অমিত ছিলেন আধুনিক ও বুদ্ধিদীপ্ত যুবক, আর লাবণ্য ছিলেন শান্ত স্বভাবের শিক্ষিত নারী। এই উপন্যাসের ভাষা কাব্যিক এবং এতে কবিতার ছড়াছড়ি আছে, তাই নামের সঙ্গে বিষয়বস্তুর একটি মিলও পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের অন্য উপন্যাস: গোরা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, নৌকাডুবি, যোগাযোগ।
  14. ২৮. কোন বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?
    • ক. তিনিই সমাজের মাথা
    • খ. মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
    • গ. লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
    • ঘ. মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
    উত্তর: খ. মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
    একটি শব্দ অনেক সময় বাক্যভেদে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। ‘মাথা খাটিয়ে কাজ করবে’ বাক্যে মাথা খাটানো মানে বুদ্ধি বা চিন্তাশক্তি কাজে লাগানো, তাই এখানে ‘মাথা’ শব্দের অর্থ বুদ্ধি। অন্য বাক্যগুলোতে একই শব্দ আলাদা অর্থ দেয়: ‘সমাজের মাথা’ মানে সমাজের প্রধান ব্যক্তি, ‘মাথা কাটা যাওয়া’ মানে অপমানিত বা লজ্জিত হওয়া, আর ‘মাথা নেই তার মাথা ব্যথা’ বাগ্ধারায় অপ্রয়োজনে অন্যের দুশ্চিন্তায় জড়ানো বোঝায়।
    মনে রাখুন: ‘মাথা’ নিয়ে আরও কিছু বাগ্ধারা: মাথা ঘামানো (চিন্তা করা), মাথা তোলা (প্রতিষ্ঠিত হওয়া), মাথায় হাত দেওয়া (হতাশ হওয়া)।
  15. ২৯. কোন শব্দে বিদেশী উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
    • ক. নিখুঁত
    • খ. আনমনা
    • গ. অবহেলা
    • ঘ. নিমরাজী
    উত্তর: ঘ. নিমরাজী
    উপসর্গ (Prefix) হলো এমন অব্যয়, যা শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। বাংলায় তিন ধরনের উপসর্গ আছে: সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি। ‘নিমরাজি’ শব্দের ‘নিম’ ফারসি উপসর্গ, যার অর্থ আধা বা অর্ধেক। তাই নিমরাজি মানে আধা রাজি। বাকি তিন শব্দে বিদেশি উপসর্গ নেই। নিখুঁত শব্দের ‘নি’ এবং অবহেলা শব্দের ‘অব’ সংস্কৃত উপসর্গ, আর আনমনা শব্দের ‘আন’ বাংলা উপসর্গ।
    মনে রাখুন:
    ফারসি উপসর্গ: কম, বে, বদ, না, দর, বি, ফি, হর। যেমন: কমজোর, বেহিসাব, বদনাম, নাখোশ, দরপত্তনি, হররোজ।
    আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর। যেমন: আমদরবার, খাসমহল, লাখেরাজ, গরহাজির।
  16. ৩০. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা কে?
    • ক. শামসুর রাহমান
    • খ. আলতাফ মাহমুদ
    • গ. হাসান হাফিজুর রহমান
    • ঘ. আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
    উত্তর: ঘ. আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
    ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে লেখা এই গান একুশের সবচেয়ে প্রিয় গান হয়ে উঠেছে। আলতাফ মাহমুদ এই গানে সুর দিয়েছিলেন বলে অনেকে তাঁকে গীতিকার ভেবে ভুল করেন, কিন্তু তিনি ছিলেন সুরকার। আলতাফ মাহমুদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।
    মনে রাখুন: গাফ্‌ফার চৌধুরীর আরেকটি পরিচিত রচনা উপন্যাস ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’।
  17. ৩১. কোনটি তদ্ভব শব্দ?
    • ক. চাঁদ
    • খ. সূর্য
    • গ. নক্ষত্র
    • ঘ. গগন
    উত্তর: ক. চাঁদ
    সংস্কৃত শব্দ ভেঙে বা বদলে গিয়ে প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বাংলায় যে রূপ নিয়েছে, তাকে তদ্ভব শব্দ বলে। ‘চাঁদ’ এসেছে সংস্কৃত ‘চন্দ্র’ থেকে, তাই এটি তদ্ভব। অন্যদিকে সূর্য, নক্ষত্র ও গগন সংস্কৃত থেকে একই রূপে বাংলায় এসেছে, কাজেই এগুলো তৎসম শব্দ।
    মনে রাখুন:
    তদ্ভব শব্দ: চাঁদ (চন্দ্র), মাথা (মস্তক), হাত (হস্ত), কান (কর্ণ), আগুন (অগ্নি), দুধ (দুগ্ধ)।
    তৎসম শব্দ: চন্দ্র, সূর্য, জল, মৎস্য, পুষ্প।
  18. ৩২. বাংলায় কোরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক কে?
    • ক. কেশব চন্দ্র সেন
    • খ. গিরিশচন্দ্র সেন
    • গ. মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
    • ঘ. মওলানা আকরাম খাঁ
    উত্তর: খ. গিরিশচন্দ্র সেন
    বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন। তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রচারক ছিলেন এবং আরবি-ফারসি ভাষা শিখে ১৮৮১ থেকে ১৮৮৬ সালের মধ্যে অনুবাদটি সম্পন্ন করেন। তাই তাঁকেই বাংলায় কোরআনের প্রথম অনুবাদক বলা হয়। কেশবচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁর ধর্মীয় নেতা, কিন্তু তিনি অনুবাদক নন।
    মনে রাখুন: গিরিশচন্দ্র সেনের আরও কাজ: হাদিসের অনুবাদ এবং ফারসি গ্রন্থ ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’র অনুবাদ।

গাণিতিক যুক্তি

  1. ৩৩. নিচের কোন সংখ্যাটি মৌলিক?
    • ক. ৯১
    • খ. ১৪৩
    • গ. ৪৭
    • ঘ. ৮৭
    উত্তর: গ. ৪৭
    মৌলিক সংখ্যা হলো এমন সংখ্যা, যা ১ এবং নিজেকে ছাড়া আর কোনো সংখ্যা দিয়ে নিঃশেষে ভাগ যায় না। প্রতিটি অপশন যাচাই করলে দেখা যায়: 91 = 7 × 13, 143 = 11 × 13 এবং 87 = 3 × 29, তাই এগুলো যৌগিক সংখ্যা। কিন্তু 47-কে 2, 3, 5 কিংবা 7 কোনোটি দিয়েই নিঃশেষে ভাগ করা যায় না, তাই 47 মৌলিক।
    মনে রাখুন: কোনো সংখ্যা মৌলিক কি না যাচাই করতে সংখ্যাটির বর্গমূলের সমান বা ছোট মৌলিক সংখ্যাগুলো দিয়ে ভাগ করে দেখাই যথেষ্ট। আর ২ হলো একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা।
  2. ৩৪. কোনো একটি জিনিস নির্মাতা ২০% লাভে ও খুচরা বিক্রেতা ২০% লাভে বিক্রয় করে। যদি ঐ জিনিসের নির্মাণ খরচ ১০০ টাকা হয় তবে খুচরা মূল্য কত?
    • ক. ১৪০ টাকা
    • খ. ১২০ টাকা
    • গ. ১৪৪ টাকা
    • ঘ. ১২৪ টাকা
    উত্তর: গ. ১৪৪ টাকা
    এখানে প্রতিবার লাভ ধরা হয় আগের বিক্রয়মূল্যের ওপর। প্রথমে নির্মাতা ১০০ টাকার জিনিস ২০% লাভে বিক্রি করে। তাই তার বিক্রয়মূল্য হয় 100 × 120/100 = 120 টাকা। সেই 120 টাকা হয় খুচরা বিক্রেতার ক্রয়মূল্য, এবং সে ২০% লাভে বিক্রি করে। তাই খুচরা মূল্য = 120 × 120/100 = 144 টাকা।
    মনে রাখুন: ধাপে ধাপে লাভ হলে দুটি শতকরা হার যোগ করা যায় না। যোগ করলে ৪০% লাভ ধরে ১৪০ টাকা পাওয়া যেত, যা ভুল উত্তর।
  3. ৩৫. ১ থেকে ৪৯ পর্যন্ত সংখ্যার গড় কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৬
    • ক. ২৩
    • খ. ২৪.৫
    • গ. ২৫
    • ঘ. ২৬.৫
    উত্তর: গ. ২৫
    ১ থেকে ৪৯ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো এক সমান ব্যবধানে বাড়ছে, অর্থাৎ এগুলো একটি ধারা (সমান্তর ধারা)। এমন ধারার গড় সবসময় প্রথম ও শেষ সংখ্যার গড়ের সমান হয়। তাই গড় = (1 + 49) ÷ 2 = 25। সংখ্যাগুলোর যোগফল বের করেও যাচাই করা যায়: যোগফল = 49 × 50 ÷ 2 = 1225, আর 1225 ÷ 49 = 25।
    মনে রাখুন: ১ থেকে n পর্যন্ত সংখ্যার যোগফল n(n + 1)/2 এবং গড় (n + 1)/2।
  4. ৩৬. টাকায় তিনটি করে আম ক্রয় করে টাকায় ২টি করে বিক্রয় করলে শতকরা কত লাভ হবে?
    • ক. ৫০%
    • খ. ৩৩%
    • গ. ৩০%
    • ঘ. ৩১%
    উত্তর: ক. ৫০%
    শতকরা লাভ বের করতে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য তুলনা করতে হয়। ক্রয়ে টাকায় ৩টি আম আর বিক্রয়ে টাকায় ২টি আম, তাই ৩ ও ২-এর ল.সা.গু ৬ ধরে হিসাব করি। ৬টি আম কিনতে লাগে 6 ÷ 3 = 2 টাকা, আর ৬টি আম বেচে পাওয়া যায় 6 ÷ 2 = 3 টাকা। সুতরাং লাভ 1 টাকা এবং শতকরা লাভ = (1 ÷ 2) × 100 = 50%।
    মনে রাখুন: শতকরা লাভ সবসময় ক্রয়মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়, বিক্রয়মূল্যের ওপর নয়।
  5. ৩৭. ত্রিভুজ ABC এর BE=FE=CF। AEC এর ক্ষেত্রফল ৪৮ বর্গফুট হলে, ত্রিভুজ ABC এর ক্ষেত্রফল কত বর্গফুট?
    • ক. ৭২
    • খ. ৬০
    • গ. ৪৮
    • ঘ. ৬৪
    উত্তর: ক. ৭২
    ABC ত্রিভুজের শীর্ষ A থেকে ভূমি BC-এর ওপর যে লম্ব আঁকা যায়, ABC ও AEC দুটি ত্রিভুজেরই উচ্চতা সেটিই। উচ্চতা সমান হলে ক্ষেত্রফল ভূমির সঙ্গে সমানুপাতিক হয়। BE = EF = FC হলে BC তিন সমান অংশে ভাগ হয় এবং EC হয় তার দুই অংশ, অর্থাৎ EC = (2/3) BC। তাই AEC-এর ক্ষেত্রফল = (2/3) × ABC-এর ক্ষেত্রফল।
    এখান থেকে ABC-এর ক্ষেত্রফল = 48 × 3/2 = 72 বর্গফুট।
    মনে রাখুন: একই উচ্চতার দুই ত্রিভুজের ক্ষেত্রফলের অনুপাত তাদের ভূমির অনুপাতের সমান।
  6. ৩৮. a + b = 5 এবং a – b = 3 হলে ab এর মান কত?
    • ক. 2
    • খ. 3
    • গ. 4
    • ঘ. 5
    উত্তর: গ. 4
    দুটি সমীকরণ যোগ করলে (a + b) + (a − b) = 5 + 3 হয়, অর্থাৎ 2a = 8 এবং a = 4। তখন a + b = 5 থেকে b = 1 পাওয়া যায়। সুতরাং ab = 4 × 1 = 4।
    সূত্র দিয়েও একই ফল পাওয়া যায়: 4ab = (a + b)² − (a − b)² = 25 − 9 = 16, তাই ab = 4।
    মনে রাখুন: (a + b)² − (a − b)² = 4ab এবং (a + b)² + (a − b)² = 2(a² + b²)।
  7. ৩৯. ৬০ লিটার কেরোসিন ও পেট্রোলের মিশ্রণের অনুপাত ৭ : ৩। ঐ মিশ্রণে আর কত লিটার পেট্রোল মিশালে অনুপাত ৩ : ৭ হবে?
    • ক. ৭০
    • খ. ৮০
    • গ. ৯০
    • ঘ. ৯৮
    উত্তর: খ. ৮০
    প্রথমে মিশ্রণের দুই উপাদানের পরিমাণ বের করি। কেরোসিন = 60 × 7/10 = 42 লিটার এবং পেট্রোল = 60 × 3/10 = 18 লিটার। এবার x লিটার পেট্রোল মেশালে কেরোসিন একই থাকে, কিন্তু পেট্রোল হয় (18 + x) লিটার। তখন শর্ত অনুযায়ী 42 : (18 + x) = 3 : 7, তাই 3(18 + x) = 42 × 7 = 294। এখান থেকে 18 + x = 98, অর্থাৎ x = 80 লিটার।
    মনে রাখুন: যে উপাদান মেশানো হচ্ছে না তার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে, তাই সেটিকে ভিত্তি ধরে অনুপাত মেলাতে হয়।
  8. ৪০. ১ হতে ৩০ পর্যন্ত কয়টি মৌলিক সংখ্যা আছে?
    • ক. ১১টি
    • খ. ৮টি
    • গ. ১০টি
    • ঘ. ৯টি
    উত্তর: গ. ১০টি
    মৌলিক সংখ্যা হলো যে সংখ্যার কেবল দুটি গুণনীয়ক থাকে, ১ এবং সেই সংখ্যা নিজে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ১ মৌলিক নয়। ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যাগুলো হলো 2, 3, 5, 7, 11, 13, 17, 19, 23 ও 29। এগুলোর সংখ্যা ১০টি।
    মনে রাখুন: ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা ২৫টি। আর ২ ছাড়া সব মৌলিক সংখ্যা বিজোড়।
  9. ৪১. দুটি সংখ্যার গুণফল ১৫৩৬। সংখ্যা দুটোর ল.সা.গু ৯৬ হলে গ.সা.গু কত?
    • ক. ১৬
    • খ. ২৪
    • গ. ৩২
    • ঘ. ১২
    উত্তর: ক. ১৬
    দুটি সংখ্যার গুণফল সবসময় তাদের ল.সা.গু ও গ.সা.গু-র গুণফলের সমান হয়। অর্থাৎ প্রথম সংখ্যা × দ্বিতীয় সংখ্যা = ল.সা.গু × গ.সা.গু। এখানে 1536 = 96 × গ.সা.গু, তাই গ.সা.গু = 1536 ÷ 96 = 16।
    মনে রাখুন: এই সূত্র শুধু দুটি সংখ্যার ক্ষেত্রে খাটে, তিন বা তার বেশি সংখ্যার ক্ষেত্রে নয়।
  10. ৪২. সরল সুদের হার শতকরা কত টাকা হলে যে কোনো মূলধন ৮ বছরে সুদে-আসলে তিনগুণ হবে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ২০১৬
    • ক. ১২.৫০ টাকা
    • খ. ২০ টাকা
    • গ. ২৫ টাকা
    • ঘ. ১৫ টাকা
    উত্তর: গ. ২৫ টাকা
    সরল সুদে সুদ = আসল × হার × সময় ÷ 100। আসল P ধরি। ৮ বছরে সুদে-আসলে তিনগুণ হলে মোট হয় 3P, তাই সুদ = 3P − P = 2P। সূত্রে বসিয়ে পাই 2P = P × r × 8 ÷ 100, তাই r = 200 ÷ 8 = 25। অর্থাৎ সুদের হার শতকরা ২৫ টাকা। আসল যা-ই হোক, উত্তর একই থাকে, কারণ হিসাবে P কেটে যায়।
    মনে রাখুন: সুদে-আসল = আসল + সুদ।
  11. ৪৩. চিনির মূল্য ২৫% বৃদ্ধি পাওয়াতে একটি পরিবার চিনি খাওয়া এমনিভাবে কমালো যে চিনি বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পেল না। ঐ পরিবারে চিনি খাওয়ার খরচ শতকরা কত কমিয়েছিল।
    • ক. ২২%
    • খ. ২৫%
    • গ. ২০%
    • ঘ. ৩০%
    উত্তর: গ. ২০%
    আগের দামে ১ একক চিনির দাম ১০০ টাকা ধরি। দাম ২৫% বাড়লে একই চিনির দাম হয় ১২৫ টাকা। পরিবারের খরচ আগের ১০০ টাকাই রাখতে হলে এখন ১২৫ টাকার চিনির বদলে ১০০ টাকার চিনি কিনতে হবে। তাতে ব্যবহার কমে 25 টাকার সমান, অর্থাৎ শতকরা (25 ÷ 125) × 100 = 20%।
    মনে রাখুন: দাম a% বাড়লে খরচ অপরিবর্তিত রাখতে ব্যবহার কমাতে হয় a/(100 + a) × 100 শতাংশ।
  12. ৪৪. ত্রিভুজের একটি কোণ এর অপর দুটি কোণের সমষ্টির সমান হলে ত্রিভুজটি-
    • ক. সমকোণী
    • খ. স্থুলকোণী
    • গ. সমবাহু
    • ঘ. সূক্ষ্মকোণী
    উত্তর: ক. সমকোণী
    ত্রিভুজের তিন কোণের যোগফল সবসময় 180°। ধরি একটি কোণ x এবং অন্য দুটি কোণের যোগফলও x। তাহলে x + x = 180°, অর্থাৎ x = 90°। তাই ওই কোণটি সমকোণ এবং ত্রিভুজটি সমকোণী।
    মনে রাখুন:
    সূক্ষ্মকোণী ত্রিভুজের তিন কোণই 90°-এর চেয়ে ছোট।
    স্থূলকোণী ত্রিভুজের একটি কোণ 90°-এর চেয়ে বড়।
    সমবাহু ত্রিভুজের প্রতিটি কোণ 60°।
  13. ৪৫. সমবাহু ত্রিভুজের বাহুর দৈর্ঘ্য যদি ‘a’ হয় তবে ক্ষেত্রফল হবে –আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৫
    • ক. √3a2/4
    • খ. √(3/2a2)
    • গ. √(3/4a2)
    • ঘ. √(1/2a)2
    উত্তর: ক. √3a2/4
    সমবাহু ত্রিভুজের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য a হলে শীর্ষ থেকে ভূমির ওপর লম্ব ভূমিকে সমান দুই ভাগ করে। পীথাগোরাসের উপপাদ্য থেকে উচ্চতা h = √(a² − a²/4) = (√3/2)a। তাই ক্ষেত্রফল = (1/2) × a × (√3/2)a = (√3/4)a²।
    মনে রাখুন:
    সমবাহু ত্রিভুজের পরিসীমা 3a এবং উচ্চতা (√3/2)a।
    সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল (1/2) × ভূমি × উচ্চতা।
  14. ৪৬. (.1×.01×.001)/(.2×.02×.002)- এর মান কত?
    • ক. 180
    • খ. 1800
    • গ. 18000
    • ঘ. 1/8
    উত্তর: ঘ. 1/8
    লব ও হরের সংখ্যাগুলো পাশাপাশি মেলালে দেখা যায় প্রতিটি লবের সংখ্যা হরের অনুরূপ সংখ্যার অর্ধেক। অর্থাৎ .1/.2 = 1/2, .01/.02 = 1/2 এবং .001/.002 = 1/2। তিনটি ভগ্নাংশের গুণফল (1/2) × (1/2) × (1/2) = 1/8।
    যাচাই করি: লব = .1 × .01 × .001 = .000001 এবং হর = .2 × .02 × .002 = .000008, তাই মান = 1/8।
    মনে রাখুন: গুণের হিসাবে সংখ্যাগুলো আলাদা আলাদা জোড়া করে মেলালে বড় দশমিকের গুণ এড়ানো যায়।
  15. ৪৭. যদি (x – 5)(a + x) = x2 – 25 হয় তবে a এর মান কত?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৪০২১) ২০১৯
    • ক. – 5
    • খ. 5
    • গ. 25
    • ঘ. – 25
    উত্তর: খ. 5
    x² − 25 কে উৎপাদকে ভাঙলে পাই x² − 5² = (x − 5)(x + 5)। প্রশ্নে বলা আছে (x − 5)(a + x) = x² − 25, তাই (x − 5)(a + x) = (x − 5)(x + 5)। দুই পাশের (x − 5) সমান, তাই বাকি অংশও সমান হতে হবে, অর্থাৎ a + x = x + 5। এ থেকে a = 5।
    মনে রাখুন: দুই বর্গের অন্তর সূত্র: a² − b² = (a + b)(a − b)।
  16. ৪৮. a + b + c = 0 হলে a3+b3+c3 এর মান কত?
    • ক. abc
    • খ. 3abc
    • গ. 6abc
    • ঘ. 9abc
    উত্তর: খ. 3abc
    a³ + b³ + c³ − 3abc = (a + b + c)(a² + b² + c² − ab − bc − ca) সূত্রটি আমরা জানি। প্রশ্নে a + b + c = 0, তাই ডান পাশের প্রথম উৎপাদকটিই শূন্য এবং গুণফল শূন্য হয়ে যায়। তাহলে a³ + b³ + c³ − 3abc = 0, অর্থাৎ a³ + b³ + c³ = 3abc।
    উদাহরণ: a = 1, b = 2, c = −3 নিলে a + b + c = 0 এবং 1 + 8 − 27 = −18, যা 3 × (1 × 2 × (−3)) = −18-এর সমান।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

  1. ৪৯. বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়-
    • ক. ১০এপ্রিল ১৯৭১
    • খ. ২৬ মার্চ ১৯৭১
    • গ. ১১ এপ্রিল ১৯৭১
    • ঘ. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
    উত্তর: ক. ১০এপ্রিল ১৯৭১
    ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। এরপর ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ জারি করে, যেখানে বাংলাদেশকে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাই গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণার তারিখ ১০ এপ্রিল ১৯৭১।
    মনে রাখুন:
    ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (পরে নাম হয় মুজিবনগর) মন্ত্রিসভা শপথ নেয়।
    ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
  2. ৫০. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয় –
    • ক. ১৭ এপ্রিল ১৯৯১
    • খ. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
    • গ. ৭ মার্চ ১৯৭১
    • ঘ. ২৬ মার্চ ১৯৭৩
    উত্তর: খ. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
    বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের কাজ করে গণপরিষদ। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়, কিন্তু তখনই এটি কার্যকর হয়নি। এক মাস পরে, বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয়। তাই প্রবর্তনের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
    মনে রাখুন:
    সংবিধান গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর (সংবিধান দিবস), আর কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর।
    মূল সংবিধানের চার মূলনীতি ছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
  3. ৫১. বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায়?
    • ক. মহাস্থানগড়ে
    • খ. শাহজাদপুরে
    • গ. নেত্রকোনায়
    • ঘ. রামপালে
    উত্তর: ক. মহাস্থানগড়ে
    শাহ সুলতান মাহিসাওয়ার বলখী ছিলেন একজন বিখ্যাত সুফি সাধক। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়ে এসে ইসলাম প্রচার করেছিলেন এবং সেখানকার রাজা পরশুরামকে পরাজিত করেন। তাঁর মাজার মহাস্থানগড়েই অবস্থিত। মহাস্থানগড় আসলে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ।
    মনে রাখুন: বগুড়ার মহাস্থানগড় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগর-প্রত্নস্থল, যা করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
  4. ৫২. বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
    • ক. চট্টগ্রামে
    • খ. বগুড়ায়
    • গ. সোনারগাঁওয়ে
    • ঘ. রামপালে
    উত্তর: গ. সোনারগাঁওয়ে
    বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে এই জাদুঘরের ভাবনা তৈরি হয় এবং ১৯৭৫ সালে সেখানে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। সোনারগাঁও মধ্যযুগে বাংলার একটি প্রাচীন রাজধানী ছিল, আর এখন সেখানে বাংলার লোকজ জীবন ও শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
    মনে রাখুন: জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রমালা ‘দুর্ভিক্ষ’ (১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের ওপর)। তাঁকে শিল্পাচার্য উপাধি দেওয়া হয়।
  5. ৫৩. বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে প্রথম এসেছিল-
    • ক. ইংরেজরা
    • খ. ওলন্দাজরা
    • গ. ফরাসিরা
    • ঘ. পর্তুগিজরা
    উত্তর: ঘ. পর্তুগিজরা
    ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজরা সবার আগে সমুদ্রপথে ভারতে আসে। ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এরপর ষোড়শ শতকের শুরুতে পর্তুগিজরা বাংলায় ব্যবসা শুরু করে এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে নিজেদের ঘাঁটি গড়ে তোলে। ইংরেজ, ওলন্দাজ (ডাচ) ও ফরাসিরা এসেছে তাদের পরে।
    মনে রাখুন:
    ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের ক্রম: পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজ, দিনেমার, ফরাসি।
    পর্তুগিজদের সঙ্গে বাংলায় যে শব্দ এসেছে: আনারস, চাবি, আলমারি, বালতি।
  6. ৫৪. বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন-
    • ক. লক্ষ্মণ সেন
    • খ. ইলিয়াস শাহ
    • গ. আকবর
    • ঘ. বিজয় সেন
    উত্তর: গ. আকবর
    পহেলা বৈশাখ বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রথম দিন। মুঘল সম্রাট আকবর প্রচলিত চান্দ্র হিজরি সনের বদলে সৌর বছরের সঙ্গে মেলানো একটি সন চালু করান, কারণ চান্দ্র সন ঋতুর সঙ্গে মেলে না এবং ফসল ওঠার সময়ে খাজনা আদায়ে অসুবিধা হতো। রাজ-জ্যোতিষী আমির ফতেহউল্লাহ শিরাজী এর হিসাব তৈরি করেন। এই সনই পরে বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়েছে। এ কারণে একে ‘ফসলি সন’ও বলা হয়।
    মনে রাখুন: বাংলা সনের মাসগুলো বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র। পরে বাংলা একাডেমি এই সনের সংস্কার করে বর্তমান রূপ দেয়।
  7. ৫৫. পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারটি কি নামে পরিচিত ছিল?
    • ক. সোমপুর বিহার
    • খ. ধর্মপাল বিহার
    • গ. জগদ্দল বিহার
    • ঘ. শ্রী বিহার
    উত্তর: ক. সোমপুর বিহার
    নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরের বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহারটি প্রাচীনকালে ‘সোমপুর মহাবিহার’ নামে পরিচিত ছিল। অষ্টম শতকের শেষ দিকে পাল বংশের রাজা ধর্মপাল এটি নির্মাণ করেন। এ কারণে ধর্মপালের নামটি অপশনে থাকলেও বিহারের প্রাচীন নাম ধর্মপাল বিহার নয়, সোমপুরই। বিহারটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহারগুলোর একটি। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়।
    মনে রাখুন: জগদ্দল বিহারও পাল আমলের একটি বিহার, তবে সেটি নওগাঁর ধামইরহাট এলাকায় অবস্থিত ছিল বলে মনে করা হয়।
  8. ৫৬. বাংলাদেশে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
    • ক. বিজয়পুরে
    • খ. রানীগঞ্জে
    • গ. টেকেরহাটে
    • ঘ. বিয়ানী বাজারে
    উত্তর: ক. বিজয়পুরে
    বাংলাদেশে চীনামাটির (Kaolin) সবচেয়ে পরিচিত খনি নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুরে। সেখানকার সাদা মাটি অর্থাৎ চীনামাটি দিয়ে চীনামাটির বাসন, টাইলস ও সিরামিক সামগ্রী তৈরি করা যায়। এই মাটি রঙে সাদা এবং আগুনে পোড়ালে শক্ত হয় বলে শিল্পে এর বিশেষ গুরুত্ব আছে।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান খনিজ সম্পদ: প্রাকৃতিক গ্যাস (সিলেট ও অন্যান্য অঞ্চলে), কয়লা (জামালগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী), চুনাপাথর (জয়পুরহাট, সুনামগঞ্জ), কঠিন শিলা (মধ্যপাড়া, দিনাজপুর)।
  9. ৫৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-
    • ক. ১৮৯৭ সালে
    • খ. ১৯০২ সালে
    • গ. ১৯২১ সালে
    • ঘ. ১৯০৫ সালে
    উত্তর: গ. ১৯২১ সালে
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হয়েছিল। কিন্তু ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে ঢাকার মানুষ ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানায়। সেই দাবির ফলেই ১৯২০ সালে আইন পাস হয় এবং পরের বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে।
    মনে রাখুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন পি জে হার্টগ। এর প্রথম আবাসিক হল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল।
  10. ৫৮. ঢাকার বিখ্যাত তারা মসজিদ তৈরি করেন-
    • ক. শায়েস্তা খান
    • খ. নওয়াব সলিমুল্লাহ
    • গ. মির্জা আহমেদ খান
    • ঘ. খান সাহেব আবুল হাসনাত
    উত্তর: গ. মির্জা আহমেদ খান
    ঢাকার আরমানিটোলার তারা মসজিদ আঠারো শতকে নির্মিত হয়। নির্মাতা হিসেবে মির্জা গোলাম পীরের (মির্জা আহমদ জান নামেও পরিচিত) নাম বলা হয়। পরবর্তীকালে, বিশ শতকের শুরুর দিকে, আলী জান বেপারী মসজিদটির দেয়ালে ও গম্বুজে চীনামাটির টুকরো দিয়ে তারার নকশা করান। ওই তারার নকশা থেকেই এর নাম হয় তারা মসজিদ।
    মনে রাখুন: শায়েস্তা খান মুঘল আমলের সুবাদার, তাঁর আমলে ঢাকায় অনেক স্থাপত্য গড়ে ওঠে। নওয়াব সলিমুল্লাহ ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্য, যিনি মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
  11. ৫৯. পাখি ছাড়া ‘বলাকা’ ও ‘দোয়েল’ নামে পরিচিত হচ্ছে-
    • ক. দু’টি উন্নত জাতের গমশস্য
    • খ. দু’টি উন্নত জাতের ধানশস্য
    • গ. দু’টি উন্নত জাতের ভুট্টাশস্য
    • ঘ. দু’টি উন্নত জাতের ইক্ষু
    উত্তর: ক. দু’টি উন্নত জাতের গমশস্য
    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন করে। গম ফসলের উন্নত জাতগুলোর মধ্যে বলাকা ও দোয়েল রয়েছে। পাখির নামে নাম হওয়ায় অনেকেই এগুলোকে পাখি মনে করে ধাঁধায় পড়তে পারেন। এ ছাড়া গমের আরও কিছু জাত হলো সোনালিকা, কাঞ্চন, আকবর, প্রতিভা, গৌরব ও শতাব্দী।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে ধানের গবেষণা করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI), আর পাটের গবেষণা করে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI)।
  12. ৬০. অগ্নিশ্বর’, ‘কানাইবাঁসি’, ‘মোহনবাঁশী’ ও ‘বীটজবা’ কি জাতীয় ফলের নাম?
    • ক. পেয়ারা
    • খ. কলা
    • গ. পেঁপে
    • ঘ. জামরুল
    উত্তর: খ. কলা
    অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশি, মোহনবাঁশি ও বীটজবা এই চারটি নাম কলার জাতের। বাংলাদেশে নানা অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের কলা চাষ হয়, আর স্থানীয়ভাবে জাতগুলোর এমন বিচিত্র নাম প্রচলিত। যেমন সাগর কলা, সবরি কলা, চাঁপা কলা ও অমৃতসাগর কলা।
    মনে রাখুন: কলা বাংলাদেশের একটি প্রধান ফল। পেয়ারা ও জামরুলও দেশি ফল, কিন্তু প্রশ্নে দেওয়া নামগুলো সেগুলোর নয়।
  13. ৬১. বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রবর্তন করা হয় কোন সালে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
    • ক. ১৭০০ সালে
    • খ. ১৭৭২ সালে
    • গ. ১৭৬৫ সালে
    • ঘ. ১৭৯৩ সালে
    উত্তর: ঘ. ১৭৯৩ সালে
    বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) চালু করেন গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস, ১৭৯৩ সালে। এই ব্যবস্থায় জমিদারেরা সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা দিলে জমির স্থায়ী মালিকানা পেতেন, আর সেই খাজনা আর কখনো বাড়ানো হতো না। ফলে ব্রিটিশ সরকারের আয় নিশ্চিত হলো, কিন্তু প্রকৃত চাষিরা জমিদারের অধীনে চলে গেল।
    মনে রাখুন:
    ১৭৬৫ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে।
    ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ইজারা প্রথা (পাঁচশালা বন্দোবস্ত) চালু করেন।
    ১৯৫০ সালে পূর্ব বাংলায় জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়।
  14. ৬২. কোন মুঘল সম্রাট বাংলার নাম দেন ‘জান্নাতাবাদ’?
    • ক. বাবর
    • খ. হুমায়ুন
    • গ. আকবর
    • ঘ. জাহাঙ্গীর
    উত্তর: খ. হুমায়ুন
    মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ সালে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড় জয় করেন। সেখানকার সবুজ প্রকৃতি ও সুন্দর পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করে, আর তিনি শহরটির নাম দেন ‘জান্নাতাবাদ’, যার অর্থ স্বর্গের নগরী। এ কারণে অনেক সময় এই নামকে সমগ্র বাংলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা হিসেবে ধরা হয়।
    মনে রাখুন: হুমায়ুন ছিলেন বাবরের পুত্র, তাঁকে পরাজিত করেছিলেন শের শাহ, যিনি পরে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড সংস্কার করেন।
  15. ৬৩. উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর-
    • ক. ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
    • খ. ড. মাহমুদ হাসান
    • গ. ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
    • ঘ. স্যার এ. এফ. রহমান
    উত্তর: ঘ. স্যার এ. এফ. রহমান
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) ছিলেন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ ফিলিপ জোসেফ হার্টগ। কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে প্রথম উপাচার্য কে। এই বিশেষ শর্তে উত্তর স্যার এ এফ রহমান (আবদুর রহমান), যিনি ১৯৩৪ সালে এই পদে যোগ দেন। অপশনের অন্যরাও পরে উপাচার্য হয়েছেন, তবে প্রথম নন।
    মনে রাখুন: প্রথম উপাচার্য হার্টগ ১৯২০ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
  16. ৬৪. ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকে বাংলাদেশের কোন ভাস্করের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়?
    • ক. শামীম সিকদার
    • খ. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
    • গ. হামিদুজ্জামান খান
    • ঘ. আবদুস সুলতান
    উত্তর: গ. হামিদুজ্জামান খান
    ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অলিম্পিক ভাস্কর্য উদ্যানে বিভিন্ন দেশের ভাস্করদের কাজ প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের ভাস্কর হামিদুজ্জামান খানের ভাস্কর্য ‘স্টেপস’ (Steps) সেই প্রদর্শনীতে স্থান পায়। তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ভাস্কর।
    মনে রাখুন: সৈয়দ আবদুল্লাহ খালেদ ও আবদুস সুলতান বাংলাদেশের অন্য শিল্পী, আর শামীম সিকদার একজন ভাস্কর, যিনি ‘স্বাধীনতার ভাস্কর্য’ ও ‘শপথ’ নির্মাণ করেন।
  17. ৬৫. ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
    • ক. ১২০৬ খ্রিঃ
    • খ. ১৩১০ খ্রিঃ
    • গ. ১৫২৬ খ্রিঃ
    • ঘ. ১৬১০ খ্রিঃ
    উত্তর: ঘ. ১৬১০ খ্রিঃ
    মুঘল আমলে বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে শহরটির নাম রাখেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’। এটিই ছিল বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার প্রথম যাত্রা। ঢাকা ছিল নদীপথে সুরক্ষিত এবং আরাকানি ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের ঠেকানোর জন্য কৌশলগতভাবে উপযুক্ত।
    মনে রাখুন: ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান।
  18. ৬৬. ‘পূর্বাশা’ দ্বীপের অপর নাম-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
    • ক. নিঝুম দ্বীপ
    • খ. সেন্টমার্টিন দ্বীপ
    • গ. দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ
    • ঘ. কুতুবদিয়া দ্বীপ
    উত্তর: গ. দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ
    বঙ্গোপসাগরে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা একটি ছোট চর হলো দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ। বাংলাদেশ একে ‘পূর্বাশা’ নামে ডাকে, আর ভারত এর নাম দিয়েছিল ‘নিউ মুর’। দুই দেশই দ্বীপটির মালিকানা দাবি করত, পরে চরটি সাগরে তলিয়ে যায়। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়।
    মনে রাখুন: নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়, সেন্টমার্টিন কক্সবাজারের টেকনাফে এবং কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলায়।
  19. ৬৮. আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনটি বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
    • ক. ইরাক
    • খ. আলজেরিয়া
    • গ. সৌদি আরব
    • ঘ. জর্ডান
    উত্তর: ক. ইরাক
    আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইরাক সবার আগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় অনেক মুসলিম প্রধান দেশই পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, তাই এই স্বীকৃতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় অনেক পরে, ১৯৭৫ সালে।
    মনে রাখুন: বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান ও ভারত, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর।
  20. ৭১. নিরাপত্তা পরিষদের এশীয় আসনে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল-
    • ক. ফিলিপাইন
    • খ. জাপান
    • গ. ইন্দোনেশিয়া
    • ঘ. থাইল্যান্ড
    উত্তর: খ. জাপান
    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১০টি অস্থায়ী সদস্য থাকে, যারা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে এশীয় আসনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জাপান। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাপানকে হারিয়ে ১৯৭৯-৮০ মেয়াদের জন্য সদস্য নির্বাচিত হয়, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়।
    মনে রাখুন: নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ৫টি: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা আছে।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

  1. ৬৭. সার্ক-এর প্রথম শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়-
    • ক. ১৯৮৪ সালে
    • খ. ১৯৮৭ সালে
    • গ. ১৯৮৫ সালে
    • ঘ. ১৯৮৬ সালে
    উত্তর: গ. ১৯৮৫ সালে
    দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক (SAARC)। ১৯৮৫ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সাতটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা সার্ক সনদে স্বাক্ষর করেন, ফলে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সার্ক গঠনের প্রস্তাব প্রথম দিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
    মনে রাখুন:
    সার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৭টি: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ।
    সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে, আর ২০০৭ সালে আফগানিস্তান অষ্টম সদস্য হয়।
  2. ৬৯. পিএলও-এর সদর দপ্তর-
    • ক. তিউনিস
    • খ. ফিলিস্তিন
    • গ. বেনগাজি
    • ঘ. মরক্কো
    উত্তর: ক. তিউনিস
    ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলও (Palestine Liberation Organization) ১৯৬৪ সালে গঠিত হয়। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবানন আক্রমণ করলে পিএলও লেবানন ছেড়ে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে সদর দপ্তর স্থাপন করে। পরীক্ষার সময়ে (১৯৮৯ সালের কাছাকাছি) সংস্থাটির সদর দপ্তর তিউনিসেই ছিল।
    হালনাগাদ: ১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিনে ফিরে এলে কার্যক্রম পশ্চিম তীর ও গাজায় সরে যায়, আর বর্তমানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও-র কেন্দ্র রামাল্লাহ।
    মনে রাখুন: পিএলও-র দীর্ঘদিনের নেতা ছিলেন ইয়াসির আরাফাত। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি ইসরায়েল ও পিএলও-র মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
  3. ৭০. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন-
    • ক. উ থান্ট
    • খ. ট্রিগভেলি
    • গ. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
    • ঘ. কুট ওয়াল্ডহেইম
    উত্তর: খ. ট্রিগভেলি
    জাতিসংঘের মহাসচিব সংস্থার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নরওয়ের নাগরিক ট্রিগভে লি ১৯৪৬ সালে সংস্থার প্রথম মহাসচিব হন। এর পরে ক্রমান্বয়ে মহাসচিব হয়েছেন দ্যাগ হ্যামারশোল্ড (দ্বিতীয়), উ থান্ট (তৃতীয়) ও কুর্ট ওয়াল্ডহেইম (চতুর্থ)।
    মনে রাখুন:
    জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর, সদর দপ্তর নিউইয়র্কে।
    মহাসচিব নির্বাচিত হন নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে সাধারণ পরিষদের ভোটে। পদের মেয়াদ ৫ বছর।
  4. ৭২. সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অধিবেশন শুরু হয়-
    • ক. সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার
    • খ. সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার
    • গ. সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় বুধবার
    • ঘ. সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার
    উত্তর: ক. সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার
    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বছরে একবার নিয়মিত অধিবেশনে বসে, আর সেই অধিবেশন শুরুর দিন সেপ্টেম্বর মাসের মঙ্গলবার। পরীক্ষার সময়ে নিয়ম ছিল সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবারে অধিবেশন শুরু হবে। পরে এই নিয়ম কিছুটা বদলে এখন বলা হয়, সেপ্টেম্বরের যে সপ্তাহে প্রথম কর্মদিবস পড়ে সেটিকে প্রথম সপ্তাহ ধরে তৃতীয় সপ্তাহের মঙ্গলবার অধিবেশন শুরু হয়।
    মনে রাখুন: সাধারণ পরিষদে সব সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে ভোট থাকে। আর পরিষদের সভাপতি প্রতি বছর নতুন নির্বাচিত হন।
  5. ৭৩. বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা-
    • ক. ১৫৬
    • খ. ১৫৭
    • গ. ১৫৮
    • ঘ. ১৯৩
    উত্তর: ঘ. ১৯৩
    জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় ১৯৪৫ সালে সদস্য ছিল ৫১টি দেশ। এরপর উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ যোগ দেওয়ায় সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান ১৯৩তম সদস্য হিসেবে যোগ দেয়, তারপর থেকে সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি। প্রশ্নে বলা বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই বর্তমান সংখ্যা। পরীক্ষার সময়ে (১৯৮৯ সালের কাছাকাছি) সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫৯টি।
    মনে রাখুন: ভ্যাটিকান সিটি ও ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, পূর্ণ সদস্য নয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ পায় ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
  6. ৭৪. ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সচিবালয় অবস্থিত-
    • ক. রিয়াদ
    • খ. জেদ্দা
    • গ. দামেস্ক
    • ঘ. মক্কা
    উত্তর: খ. জেদ্দা
    ইসলামী সম্মেলন সংস্থা, যা এখন ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (Organisation of Islamic Cooperation, OIC) নামে পরিচিত, ১৯৬৯ সালে মরক্কোর রাবাতে গঠিত হয়। এর স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে অবস্থিত। জেদ্দা লোহিত সাগরের তীরের বন্দর ও বাণিজ্যিক নগরী, তাই অনেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ বা পবিত্র নগরী মক্কাকে সচিবালয়ের স্থান ভেবে ভুল করেন।
    মনে রাখুন: সংস্থাটির নাম ২০১১ সালে পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে এর সদস্য হয়।
  7. ৭৫. যে দেশ এসডিআই প্রতিরক্ষা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে-
    • ক. ব্রিটেন
    • খ. ফ্রান্স
    • গ. যুক্তরাষ্ট্র
    • ঘ. রাশিয়া
    উত্তর: গ. যুক্তরাষ্ট্র
    স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ (Strategic Defense Initiative, সংক্ষেপে SDI) ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা কর্মসূচি। ১৯৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এটি ঘোষণা করেন। এর লক্ষ্য ছিল মহাকাশে স্থাপিত যন্ত্রের সাহায্যে শত্রুর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা। কর্মসূচিটি জনপ্রিয় নাম পায় ‘স্টার ওয়ার’ বা ‘তারকা যুদ্ধ’।
    মনে রাখুন: কর্মসূচিটি ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্র প্রতিযোগিতার অংশ ছিল।
  8. ৭৬. ব্রিটেনের প্রশাসনিক সদর দপ্তরকে বলা হয়-
    • ক. ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবে
    • খ. হোয়াইট হল
    • গ. মার্বেল চার্চ
    • ঘ. বুশ হাউজ
    উত্তর: খ. হোয়াইট হল
    লন্ডনের হোয়াইট হল নামের একটি সড়কের দুই পাশে ব্রিটিশ সরকারের অনেক মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অবস্থিত। এ কারণে ‘হোয়াইট হল’ কথাটি ব্রিটিশ প্রশাসন বা সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে একটি ঐতিহাসিক গির্জা, যেখানে রাজ্যাভিষেক হয়। আর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বসে ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদে।
    মনে রাখুন: ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়।
  9. ৭৭. কঙ্গোকে বিদেশী শাসন থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চিরস্থায়ী নাম-
    • ক. কাশাভুবু
    • খ. প্যাট্রিক লুমুম্বা
    • গ. শোম্বে
    • ঘ. মবুতু
    উত্তর: খ. প্যাট্রিক লুমুম্বা
    কঙ্গো দীর্ঘদিন বেলজিয়ামের উপনিবেশ ছিল। ১৯৬০ সালের ৩০ জুন দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। এই স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন প্যাট্রিস লুমুম্বা, যিনি স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬১ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়, কিন্তু উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তাঁর নাম আজও অমর।
    মনে রাখুন: কাশাভুবু ছিলেন স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম রাষ্ট্রপতি। শোম্বে কাতাঙ্গা প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, আর মবুতু ১৯৬৫ সালে ক্ষমতা দখল করেন।
  10. ৭৮. হিরোশিমায় এটম বোমা ফেলা হয়েছিল-
    • ক. ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে
    • খ. ১৯৪৫ সালের মে মাসে
    • গ. ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
    • ঘ. ১৯৪৪ সালের আগস্ট মাসে
    উত্তর: ক. ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা শহরে প্রথম পারমাণবিক বোমা ফেলে। এর তিন দিন পরে, ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় বোমাটি ফেলা হয়। এই বোমা হামলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ হতাহত হয়, আর জাপান আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
    মনে রাখুন: হিরোশিমার বোমার নাম ‘লিটল বয়’ এবং নাগাসাকির বোমার নাম ‘ফ্যাট ম্যান’। জাপান ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয়।
  11. ৭৯. আইএমএফ-এর সদর দপ্তর কোথায়?
    • ক. ওয়াশিংটন
    • খ. মস্কো
    • গ. লন্ডন
    • ঘ. নিউইয়র্ক
    উত্তর: ক. ওয়াশিংটন
    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (International Monetary Fund, IMF) সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এবং প্রয়োজনে ঋণ দিয়ে সাহায্য করতে কাজ করে। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে। বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরও একই শহরে। দুটি প্রতিষ্ঠানই ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনের সিদ্ধান্তে গঠিত হয়।
    মনে রাখুন: জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে, আর আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগে।
  12. ৮০. নিকারাগুয়ায় যে বিদ্রোহীদের যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে তার নাম-
    • ক. ইউনিটা
    • খ. সান্ডিনিস্টা
    • গ. কন্ট্রা
    • ঘ. সোয়াপো
    উত্তর: গ. কন্ট্রা
    ১৯৭৯ সালে নিকারাগুয়ায় সান্দিনিস্তা নামে একটি বামপন্থী দল ক্ষমতায় আসে। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সশস্ত্র দলগুলোকে ‘কন্ট্রা’ (Contras) বলা হতো। আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্র এই কন্ট্রা বিদ্রোহীদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। অন্য অপশনগুলোও বিদ্রোহী সংগঠন, তবে অন্য দেশের: ইউনিটা অ্যাঙ্গোলার এবং সোয়াপো নামিবিয়ার।
    মনে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্র গোপনে অস্ত্র বিক্রির টাকা কন্ট্রাদের দিয়েছিল বলে প্রকাশ পেলে তা ‘ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত হয়।
  13. ৮১. ‘ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান’ কোন দেশে অবস্থিত?
    • ক. ইরান
    • খ. ইরাক
    • গ. মিশর
    • ঘ. সিরিয়া
    উত্তর: খ. ইরাক
    প্রাচীন বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের একটি ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। বলা হয়, রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার তাঁর স্ত্রীর জন্য এটি তৈরি করান। প্রাচীন ব্যাবিলন নগরী ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, আর সেই এলাকা এখন ইরাকের মধ্যে পড়ে। তাই এই উদ্যানের স্থান ইরাক।
    মনে রাখুন: প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র মিশরের গিজার বড় পিরামিড এখনো টিকে আছে।
  14. ৮২. ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোথায়?
    • ক. ইতালী
    • খ. স্পেন
    • গ. তুরস্ক
    • ঘ. গ্রিস
    উত্তর: গ. তুরস্ক
    ট্রয় ছিল প্রাচীন একটি নগরী। গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’-এ ট্রয়ের যুদ্ধের কাহিনি আছে, যেখানে কাঠের ঘোড়ার কৌশলে গ্রিকরা ট্রয় দখল করেছিল। উনিশ শতকে প্রত্নতাত্ত্বিক হাইনরিখ শ্লিমান যে ধ্বংসাবশেষ খুঁড়ে বের করেন, তা বর্তমান তুরস্কের হিসারলিক নামের স্থানে অবস্থিত। তাই ট্রয় নগরী তুরস্কে।
    মনে রাখুন: হোমারের দ্বিতীয় মহাকাব্য ‘ওডিসি’, যেখানে ট্রয় যুদ্ধের পর বীর ওডিসিউসের ঘরে ফেরার গল্প আছে।

সাধারণ বিজ্ঞান

  1. ৮৩. নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসের একটি উদাহরণ হলো-
    • ক. পারমাণবিক জ্বালানি
    • খ. পীট কয়লা
    • গ. ফুয়েল সেল
    • ঘ. সূর্য
    উত্তর: ঘ. সূর্য
    নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) এমন শক্তি, যার উৎস ব্যবহারের ফলে ফুরিয়ে যায় না, প্রকৃতিতে নিজে থেকে বারবার ফিরে আসে। সূর্যের আলো এ ধরনের উৎস। কিন্তু পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) ও পীট কয়লা সীমিত ভাণ্ডার থেকে আসে এবং ব্যবহারে শেষ হয়ে যায়, তাই সেগুলো অনবায়নযোগ্য। ফুয়েল সেল আবার নিজে কোনো শক্তির উৎস নয়, এটি হাইড্রোজেনের মতো জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির একটি যন্ত্র।
    মনে রাখুন: নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জোয়ার-ভাটার শক্তি।
  2. ৮৪. প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ-
    • ক. রান্নার জন্য তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
    • খ. বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
    • গ. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
    • ঘ. সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নায় সহায়ক
    উত্তর: গ. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
    কোনো তরল তখনই ফোটে, যখন তার বাষ্পচাপ বাইরের চাপের সমান হয়। বাইরের চাপ বাড়লে তরলকে ফোটাতে আরও বেশি তাপমাত্রা লাগে, অর্থাৎ স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) বেড়ে যায়। প্রেসার কুকারের ঢাকনা শক্ত করে আটকানো থাকে বলে ভেতরের বাষ্প বের হতে পারে না এবং চাপ বাড়ে। ফলে পানি ১০০° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ফোটে। এই বেশি তাপে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।
    মনে রাখুন: উঁচু পাহাড়ে বাতাসের চাপ কম, তাই সেখানে পানি ১০০° সেলসিয়াসের কম তাপে ফুটে যায় এবং রান্না দেরিতে হয়।
  3. ৮৫. যে তিনটি মুখ্য বর্ণের সমন্বয়ে অন্যান্য বর্ণ সৃষ্টি করা যায় সেগুলো হলো-
    • ক. লাল, হলুদ, নীল
    • খ. লাল, কমলা, বেগুনী
    • গ. হলুদ, সবুজ, নীল
    • ঘ. লাল, নীল, সবুজ
    উত্তর: ঘ. লাল, নীল, সবুজ
    আলোর তিনটি মুখ্য বর্ণ (Primary Colours) হলো লাল, সবুজ ও নীল। এই তিন রঙের আলো বিভিন্ন অনুপাতে মেশালে প্রায় সব রঙ তৈরি করা যায়, আর তিনটিকে সমান মাত্রায় মেশালে সাদা আলো পাওয়া যায়। টিভি ও কম্পিউটারের পর্দায় এই নীতিতেই রঙিন ছবি দেখানো হয়।
    মনে রাখুন:
    রঙের পদার্থ বা রঞ্জকের ক্ষেত্রে প্রচলিত মুখ্য বর্ণ লাল, হলুদ ও নীল।
    আলোর দুটি মুখ্য রঙ মিশলে গৌণ বর্ণ হয়, যেমন লাল ও সবুজে হলুদ।
  4. ৮৭. মাছ অক্সিজেন নেয়-
    • ক. মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
    • খ. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
    • গ. পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
    • ঘ. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
    উত্তর: ঘ. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
    মাছ পানিতে বাস করলেও শ্বাস নেওয়ার জন্য তার অক্সিজেন লাগে। পানিতে বাতাস কিছুটা দ্রবীভূত থাকে, আর মাছ মুখ দিয়ে পানি টেনে ফুলকার (Gills) ওপর দিয়ে বের করে দেয়। এই সময় ফুলকার পাতলা পর্দা ভেদ করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন রক্তে যায়, আর রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড পানিতে চলে আসে। মাছ পানিকে ভেঙে অক্সিজেন বের করতে পারে না, কারণ পানির অণুর বন্ধন ভাঙা এমন প্রাণীর পক্ষে সম্ভব নয়।
    মনে রাখুন: মাছের পটকা (Air Bladder) শ্বাসের কাজ করে না, এটি মাছকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
  5. ৮৮. সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে থাকে-
    • ক. তামার দন্ড ও দস্তার দন্ড
    • খ. তামার পাত ও দস্তার পাত
    • গ. কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
    • ঘ. তামার দন্ড ও দস্তার কৌটা
    উত্তর: গ. কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
    সাধারণ ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষে বিদ্যুৎ তৈরির জন্য দুটি তড়িৎদ্বার (Electrode) থাকে। মাঝখানে থাকে একটি কার্বন দণ্ড, যা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার। আর বাইরের কৌটোটি দস্তা (জিঙ্ক) দিয়ে তৈরি এবং সেটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার। এ দুইয়ের মাঝখানে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পেস্ট থাকে, আর কার্বন দণ্ডের চারপাশে ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড দেওয়া হয়। একটি ড্রাইসেলে প্রায় 1.5 ভোল্ট বিভব পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: এই কোষটি লেকলাঁশে কোষের পরিবর্তিত রূপ। ড্রাইসেল প্রাথমিক কোষ, অর্থাৎ ফুরিয়ে গেলে আর চার্জ করা যায় না।
  6. ৮৯. দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ-
    • ক. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
    • খ. এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
    • গ. অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
    • ঘ. প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
    উত্তর: ক. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
    বিদ্যুৎ তার দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় তারের রোধের কারণে কিছুটা শক্তি তাপ হিসেবে নষ্ট হয়, যাকে লাইন লস বলে। এই অপচয়ের হিসাব হলো P = I²R, অর্থাৎ বিদ্যুৎপ্রবাহ (I) বেশি হলে অপচয় অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বিদ্যুতের মোট ক্ষমতা P = V × I। তাই একই ক্ষমতা উচ্চ ভোল্টেজে পাঠালে প্রবাহ কম লাগে, ফলে দূরে পাঠাতে অপচয়ও অনেক কমে। ব্যবহারের জায়গায় এসে ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ কমিয়ে নেওয়া হয়।
    মনে রাখুন: ট্রান্সফরমার শুধু পরিবর্তী প্রবাহে (AC) কাজ করে। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে ভোল্টেজ বাড়াতে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার হয়।
  7. ৯০. সংকর ধাতু পিতলের উপাদান হলো-
    • ক. তামা ও টিন
    • খ. তামা ও দস্তা
    • গ. তামা ও নিকেল
    • ঘ. তামা ও সীসা
    উত্তর: খ. তামা ও দস্তা
    দুই বা তার বেশি ধাতু (বা ধাতু ও অধাতু) মিশিয়ে যে নতুন ধাতব পদার্থ তৈরি হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। পিতল (Brass) তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর। তামা ও টিন মিলে কাঁসা ও ব্রোঞ্জ তৈরি হয়, তাই এই বিকল্পটি ভুল। আর তামা, দস্তা ও নিকেল মিশিয়ে জার্মান সিলভার হয়।
    মনে রাখুন: ইস্পাত লোহা ও কার্বনের সংকর, আর সোল্ডার বা ঝালাই সীসা ও টিনের সংকর।
  8. ৯১. আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে-
    • ক. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
    • খ. অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
    • গ. ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
    • ঘ. এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
    উত্তর: ক. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
    আমাদের দেহের প্রতিটি কোষ শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে, আর এর জন্য কোষের অক্সিজেন ও গ্লুকোজ লাগে। রক্ত এই দুটি পদার্থ সারা দেহে পৌঁছে দেয়, কোষ সেখান থেকে তা গ্রহণ করে। শ্বসনের ফলে তৈরি কার্বন ডাইঅক্সাইড কোষ আবার রক্তে ছেড়ে দেয়, যা ফুসফুসের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। ইউরিয়া একটি বর্জ্য পদার্থ, কোষ তা রক্তে ছেড়ে দেয়, গ্রহণ করে না।
    মনে রাখুন: রক্তের লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে।
  9. ৯২. পৃথিবীর ঘৃর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না-
    • ক. মহাকর্ষ বলের জন্য
    • খ. মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
    • গ. আমরা স্থির থাকার জন্য
    • ঘ. পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আবর্তনের জন্য
    উত্তর: খ. মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
    পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘোরে, আর বিষুবরেখার কাছে এই গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬৭০ কিলোমিটার। ঘূর্ণনের কারণে বস্তুগুলো বাইরের দিকে ছিটকে যেতে চায়, কিন্তু পৃথিবী সবকিছুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে। এই টানকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ (Gravity) বলে। এই বল ছিটকে যাওয়ার প্রবণতার চেয়ে বহু গুণ বেশি, তাই আমরা পৃথিবীতে আটকে থাকি।
    মনে রাখুন: অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান পৃথিবীর পৃষ্ঠে প্রায় 9.8 m/s²।
  10. ৯৩. নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
    • ক. পেট্রোলিয়াম
    • খ. কয়লা
    • গ. প্রাকৃতিক গ্যাস
    • ঘ. বায়োগ্যাস
    উত্তর: ঘ. বায়োগ্যাস
    জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) তৈরি হয় লক্ষ লক্ষ বছর আগে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে, প্রচণ্ড চাপ ও তাপে। পেট্রোলিয়াম, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই ধরনের জ্বালানি। বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, কৃষিবর্জ্য ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য পচিয়ে, যা এখনকার জীবের দেহ থেকে পাওয়া যায়। তাই বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, এটি নবায়নযোগ্য।
    মনে রাখুন: বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
  11. ৯৪. বৈদ্যুতিক মটর এমন একটি যন্ত্রকৌশল, যা-
    • ক. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
    • খ. তাপ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরিত করে
    • গ. যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরিত করে
    • ঘ. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
    উত্তর: ঘ. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
    বৈদ্যুতিক মোটর এমন একটি যন্ত্র, যা তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এর কাজের নীতি হলো, চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখা কোনো তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে তার ওপর একটি বল কাজ করে এবং তারটি ঘুরতে থাকে। বৈদ্যুতিক পাখা, মিক্সার ও পানির পাম্প এই নীতিতে চলে। জেনারেটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে বদলে দেয়।
    মনে রাখুন: মোটরের দিক বের করতে ফ্লেমিংয়ের বামহস্ত নিয়ম এবং জেনারেটরের ক্ষেত্রে ডানহস্ত নিয়ম ব্যবহার করা হয়।
  12. ৯৬. জলজ উদ্ভিদ সহজে ভাসতে পারে, কারণ-
    • ক. এরা অনেক ছোট হয়
    • খ. এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
    • গ. এরা পানিতে জন্মে
    • ঘ. এদের পাতা অনেক কম থাকে
    উত্তর: খ. এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
    জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরিপানা, শাপলা ও টোপাপানা পানির ওপর ভেসে থাকে। এদের কাণ্ড ও পাতায় বাতাসে ভরা অনেক ছোট ছোট ফাঁকা কুঠুরি বা বায়ুকুঠুরি (Air Chamber) থাকে। এই বাতাস উদ্ভিদের দেহকে হালকা করে দেয়, ফলে এরা সহজে পানিতে ভেসে থাকে। শুধু ভাসতেই নয়, এই বায়ুকুঠুরি শ্বসনেও সাহায্য করে, কারণ পানির নিচে ডুবে থাকা অংশে বাতাস পৌঁছে দেয়।
    মনে রাখুন: জলজ উদ্ভিদের যে কলায় এই ফাঁকা জায়গা থাকে তাকে এরেনকাইমা বলে।

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

  1. ৮৬. ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে কাল্পনিক রেখাটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে তা হলো-
    • ক. মূল মধ্যরেখা
    • খ. কর্কটক্রান্তি রেখা
    • গ. মকরক্রান্তি রেখা
    • ঘ. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
    উত্তর: খ. কর্কটক্রান্তি রেখা
    কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) পৃথিবীর বিষুবরেখার ২৩.৫° উত্তরে অবস্থিত একটি কাল্পনিক অক্ষরেখা। এই রেখা বাংলাদেশের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে চলে গেছে। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে মকরক্রান্তি রেখা ২৩.৫° দক্ষিণে, তাই বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায় না। আর মূল মধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমা, গ্রিনউইচ) এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (১৮০° দ্রাঘিমা) দ্রাঘিমারেখা, যেগুলো বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে।
  2. ৯৫. যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয়-
    • ক. অয়ন বায়ু
    • খ. প্রত্যয়ন বায়ু
    • গ. মৌসুমী বায়ু
    • ঘ. নিয়ত বায়ু
    উত্তর: ঘ. নিয়ত বায়ু
    পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে সারা বছর বায়ুর চাপ বেশি থাকে, আর কিছু অঞ্চলে কম। যে বায়ু সারা বছর একই দিকে, একটি নির্দিষ্ট নিয়মে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বয়ে যায়, তাকে নিয়ত বায়ু (Planetary Wind) বলে। অয়ন বায়ু ও প্রত্যয়ন বায়ু নিয়ত বায়ুরই দুটি রূপ। আর মৌসুমী বায়ু সারা বছর একদিকে বয় না, ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে এর দিক পাল্টে যায়, তাই সেটি নিয়ত বায়ু নয়।
    মনে রাখুন:
    নিয়ত বায়ু তিন ধরনের: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বা প্রত্যয়ন বায়ু এবং মেরু বায়ু।
    অয়ন বায়ু উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে বয়।

অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান

১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন