লিয়ানা বুকস

১৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ১৯৯৮। এখানে ৪৮টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

  1. ১. ওজোন স্তরের ফাটলের জন্য মূখ্যত দায়ী কোন গ্যাস?
    • ক. ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
    • খ. কার্বন মনোক্সাইড
    • গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ঘ. মিথেন
    উত্তর: ক. ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
    ওজোন স্তর ভাঙার প্রধান কারণ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (Chlorofluorocarbon, সংক্ষেপে CFC)। রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও স্প্রেতে এই গ্যাস ব্যবহৃত হতো। এটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু ছাড়ে। একটি ক্লোরিন পরমাণু বারবার বিক্রিয়া করে অসংখ্য ওজোন অণু ভাঙতে পারে। কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন গ্রিনহাউস গ্যাস, কিন্তু ওজোন স্তরের ক্ষতির প্রধান কারণ নয়।
    মনে রাখুন:
    ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকে এবং সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি আটকে দেয়।
    ১৯৮৭ সালের মন্ট্রিল প্রটোকল CFC-র ব্যবহার কমানোর আন্তর্জাতিক চুক্তি।
    বিশ্ব ওজোন দিবস ১৬ সেপ্টেম্বর।
  2. ২. কোন দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনাঞ্চল প্রয়োজন মোট ভূমির‒
    • ক. ১৬ শতাংশ
    • খ. ২০ শতাংশ
    • গ. ২৫ শতাংশ
    • ঘ. ৩০ শতাংশ
    উত্তর: গ. ২৫ শতাংশ
    একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা দরকার। বন বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে অক্সিজেন ছাড়ে, মাটির ক্ষয় ঠেকায়, বৃষ্টিপাত বাড়াতে সাহায্য করে এবং বন্যপ্রাণীর আশ্রয় দেয়। তাই এই অনুপাতটি বনভূমির ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিমাণ বলে ধরা হয়।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে এই প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ কম।
  3. ১৬. রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত‒
    • ক. পলল গঠিত সমভূমি
    • খ. বরেন্দ্রভূমি
    • গ. উত্তরবঙ্গ
    • ঘ. মহাস্থানগড়
    উত্তর: খ. বরেন্দ্রভূমি
    রাজশাহীর উত্তর অংশ, বগুড়ার পশ্চিম অংশ এবং রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু এলাকা নিয়ে যে উঁচু ভূমি গড়ে উঠেছে, তার নাম বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract)। এটি প্লাইস্টোসিন যুগে গঠিত প্রাচীন সঞ্চিত মাটির উঁচু চত্বরভূমি, তাই আশপাশের নতুন পলিগঠিত সমভূমির চেয়ে উঁচু। এর মাটি লালচে-বাদামি ও ধূসর রঙের। বরেন্দ্রভূমির নাম ‘বরেন্দ্র’ থেকেই এসেছে, যা প্রাচীন বাংলার একটি জনপদের নাম।
    মনে রাখুন:
    ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন উঁচু ভূমির নাম মধুপুর গড়।
    কুমিল্লা অঞ্চলের প্রাচীন উঁচু ভূমি লালমাই পাহাড়।
  4. ১৭. বাংলাদেশের বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট ভূমির কত শতাংশ?
    • ক. ১৯ শতাংশ
    • খ. ১২ শতাংশ
    • গ. ১৬ শতাংশ
    • ঘ. ১৩ শতাংশ
    উত্তর: ঘ. ১৩ শতাংশ
    পরীক্ষার সময়ে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বনভূমি মোট ভূমির প্রায় ১৩ শতাংশ। আমাদের দেশে বনভূমি মূলত তিন ধরনের: পাহাড়ি বন, সমতলের শালবন এবং উপকূলের ম্যানগ্রোভ বন। বনের আয়তন সবসময় এক রকম থাকে না, কারণ বন কাটা পড়ে আবার নতুন বনও সৃষ্টি হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানে একটি দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা ভালো ধরা হয়, সেই তুলনায় আমাদের বন অনেক কম।
    মনে রাখুন:
    সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
    পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে আছে পাহাড়ি বন।
    হালনাগাদ: বন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক হিসাবে বনভূমির পরিমাণ মোট ভূমির প্রায় ১৭ শতাংশ।
  5. ৪৮. গ্রীন হাউজ এফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
    • ক. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
    • খ. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
    • গ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
    • ঘ. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
    উত্তর: গ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
    গ্রিনহাউস প্রভাবে (Greenhouse Effect) বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের মতো গ্যাস জমে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায়। তাপমাত্রা বাড়লে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় এবং সমুদ্রের পানি প্রসারিত হয়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল খুব নিচু, তাই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি হলো নিম্নভূমি তলিয়ে যাওয়া। এতে অনেক মানুষ বাস্তুহারা হবে, আর মাটি ও পানিতে লবণাক্ততাও বাড়বে।
    মনে রাখুন: উষ্ণতা বাড়া ও ঘূর্ণিঝড় বেশি হওয়াও গ্রিনহাউস প্রভাবের ফল, কিন্তু আমাদের নিচু দেশের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষতিই সবচেয়ে বড়।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

  1. ৩. বাংলাদেশে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’‒
    • ক. ১৪ ডিসেম্বর
    • খ. ১৬ ডিসেম্বর
    • গ. ২১ ডিসেম্বর
    • ঘ. ২৩ ডিসেম্বর
    উত্তর: ক. ১৪ ডিসেম্বর
    ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, বিজয় অর্জনের মাত্র দুদিন আগে, পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর বাহিনী ঢাকায় বহু বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। উদ্দেশ্য ছিল নতুন দেশকে মেধাশূন্য করে দেওয়া। তাঁদের স্মরণে প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।
    মনে রাখুন:
    শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লা কায়সার ও ডা. ফজলে রাব্বি ছিলেন।
    ঢাকার রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ আছে।
  2. ৫. উত্তরা গণভবন কোথায় অবস্থিত?
    • ক. রাজশাহী
    • খ. নওগাঁ
    • গ. বগুড়া
    • ঘ. নাটোর
    উত্তর: ঘ. নাটোর
    উত্তরা গণভবন নাটোর জেলায় অবস্থিত। এটি আগে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি নামে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পর এর নাম হয় উত্তরা গণভবন, এখন এটি উত্তরবঙ্গে সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়। নাটোর বাংলার ইতিহাসে রানী ভবানীর নামের সঙ্গেও জড়িত।
    মনে রাখুন:
    নাটোরের আরেকটি বিখ্যাত স্থাপনা নাটোর রাজবাড়ি।
    রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে নাটোর, নওগাঁ ও বগুড়া পড়ে, তাই এগুলো ভিন্ন জেলা।
  3. ১২. ‘দ্য লিবারেশন অফ বাংলাদেশ’ গ্রন্থের রচয়িতা‒
    • ক. রফিকুল ইসলাম
    • খ. রশীদ করিম
    • গ. মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং
    • ঘ. কর্নেল সিদ্দিক মালিক
    উত্তর: গ. মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং
    ‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ (The Liberation of Bangladesh) বইটির লেখক ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় তিনি ভারতীয় বাহিনীর অভিযান নিয়ে কাজ করেছিলেন, তাই বইটিতে সেই যুদ্ধের সামরিক বিবরণ পাওয়া যায়। কর্নেল সিদ্দিক সালিক ছিলেন পাকিস্তান বাহিনীর কর্মকর্তা, তিনি লিখেছেন ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ (Witness to Surrender)।
    মনে রাখুন: রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম লিখেছেন ‘এ টেল অব মিলিয়নস’ (A Tale of Millions)।
  4. ১৩. বাগেরহাট খানজাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি কত গম্বুজবিশিষ্ট?
    • ক. আশি
    • খ. সাতাশি
    • গ. ষাট
    • ঘ. একাশি
    উত্তর: ঘ. একাশি
    বাগেরহাটে খান জাহান আলীর তৈরি বিখ্যাত মসজিদটি ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নামে পরিচিত। নামে ষাট থাকলেও গুনে দেখা যায় এতে মোট ৮১টি গম্বুজ আছে। মসজিদের ছাদে আছে ৭৭টি গম্বুজ, আর চার কোণের চারটি মিনারের মাথায় আরও ৪টি গম্বুজ। তাই মোট হয় ৭৭ + ৪ = ৮১টি। মসজিদের ভেতরে ষাটটি স্তম্ভ আছে, আর নামের ‘ষাট’ এসেছে সেই স্তম্ভের সংখ্যা থেকে।
    মনে রাখুন:
    খান জাহান আলী পঞ্চদশ শতকের সুফি সাধক ও শাসক।
    ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটের এই মসজিদ-নগরী ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।
  5. ১৪. স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কতগুলো সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
    • ক. ১৯ টি
    • খ. ৯ টি
    • গ. ৮ টি
    • ঘ. ১১ টি
    উত্তর: ঘ. ১১ টি
    মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। ১০ নম্বর সেক্টরের কোনো আলাদা ভৌগোলিক এলাকা ছিল না, এটি ছিল নৌ কমান্ডোদের সেক্টর।
    মনে রাখুন: নিয়মিত বাহিনীর তিনটি ব্রিগেড গঠিত হয়েছিল জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্স নামে।
  6. ১৫. বাংলাদেশের জাতীয় পাখি‒
    • ক. ময়না
    • খ. কাক
    • গ. শালিক
    • ঘ. দোয়েল
    উত্তর: ঘ. দোয়েল
    দোয়েল (Oriental Magpie-Robin) বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। সাদা-কালো রঙের এই ছোট পাখিটি আমাদের গ্রাম ও শহরে সহজেই চোখে পড়ে, আর এর মিষ্টি গান সবার পরিচিত। ময়না, কাক ও শালিকও আমাদের চেনা পাখি, কিন্তু এগুলোর কোনোটিই জাতীয় পাখির মর্যাদা পায়নি।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় ফুল: শাপলা।
    জাতীয় ফল: কাঁঠাল।
    জাতীয় মাছ: ইলিশ।
    জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
  7. ১৮. বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য‒
    • ক. ৫.৫ কিলোমিটার
    • খ. ৪.৮ কিলোমিটার
    • গ. ৬ কিলোমিটার
    • ঘ. ৬.২ কিলোমিটার
    উত্তর: খ. ৪.৮ কিলোমিটার
    যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই সেতু দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সড়ক ও রেলপথে যুক্ত করেছে, ফলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। আমরা অনেক সময় এর সঙ্গে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য গুলিয়ে ফেলি। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, তাই ৬ বা ৬.২ কিলোমিটার বঙ্গবন্ধু সেতুর মাপ নয়।
    মনে রাখুন:
    বঙ্গবন্ধু সেতু যমুনা নদীর ওপর, পদ্মা সেতু পদ্মা নদীর ওপর।
    পদ্মা সেতু ২০২২ সালে চালু হয়।
  8. ১৯. বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রতীক কী?
    • ক. বলাকা
    • খ. শাপলা
    • গ. কাছিবেষ্টিত নোঙর
    • ঘ. রণতরী
    উত্তর: গ. কাছিবেষ্টিত নোঙর
    বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতীক কাছিবেষ্টিত নোঙর। নোঙর জাহাজকে সমুদ্রে স্থির রাখে, আর কাছি অর্থাৎ মোটা দড়ি দিয়ে সেটি জাহাজের সঙ্গে বাঁধা থাকে। এই দুটি জিনিস জাহাজ ও সাগরের সঙ্গে নৌবাহিনীর নিবিড় সম্পর্ক বোঝায়। বলাকা, শাপলা বা রণতরী কোনোটিই এই বাহিনীর প্রতীক নয়।
    মনে রাখুন: নৌবাহিনীর মতো বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী তিনটি, সেনা, নৌ ও বিমান।
  9. ২০. বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায়?
    • ক. ময়মনসিংহে
    • খ. বগুড়ায়
    • গ. সোনারগাঁয়ে
    • ঘ. রাঙামাটিতে
    উত্তর: গ. সোনারগাঁয়ে
    বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে অবস্থিত। সোনারগাঁ একসময় বাংলার রাজধানী ছিল, আর এখনো সেখানে পুরোনো স্থাপত্য ও লোকজ ঐতিহ্যের অনেক নিদর্শন আছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৭৫ সালে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। জাদুঘরে আমাদের লোকশিল্প, কারুশিল্প ও গ্রামীণ জীবনের নানা সামগ্রী সংরক্ষিত আছে।
    মনে রাখুন: জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের চিত্র এঁকে বিখ্যাত হন এবং তিনি ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা।
  10. ৩১. অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে পশুসম্পদের অবদান কত ছিল?
    • ক. ১.২%
    • খ. ১.৪৬%
    • গ. ১.৬%
    • ঘ. ১.৫৩%
    উত্তর: খ. ১.৪৬%
    অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) পশুসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৪৬ শতাংশ। কৃষি খাত বলতে আমরা শুধু ফসল বুঝি না। ফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও বনজ সম্পদ মিলিয়েই কৃষি খাত গঠিত, আর গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে গড়া প্রাণিসম্পদ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাত আমাদের মাংস, দুধ ও ডিমের চাহিদা মেটায়, আবার গ্রামের অনেক মানুষের আয়ের উৎসও।
    মনে রাখুন: জিডিপির অংশ হিসেবে এ ধরনের সংখ্যা প্রতি অর্থবছরে কিছুটা বদলায়, তাই প্রশ্নে যে বছর আর যে সমীক্ষার কথা বলা থাকে, সেই হিসাবই ধরতে হয়।
  11. ৩২. বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামার কোথায় অবস্থিত?
    • ক. রাজশাহী
    • খ. চট্টগ্রাম
    • গ. সিলেট
    • ঘ. সাভার
    উত্তর: ঘ. সাভার
    বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার ঢাকার সাভারে অবস্থিত। এখানে উন্নত জাতের ষাঁড়ের বীর্য (Semen) সংগ্রহ করে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। এরপর সেই বীর্য কৃত্রিম প্রজননের (Artificial Insemination) মাধ্যমে দেশের নানা জায়গার গাভীতে প্রয়োগ করা হয়। এতে গবাদিপশুর জাত উন্নত হয় এবং দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ে।
    মনে রাখুন: সাভারেই আছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI)।
  12. ৩৩. বাংলাদেশের জাতীয় পশু কোনটি?আরও এসেছে: গণপূর্ত অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০১৭
    • ক. গরু
    • খ. ছাগল
    • গ. গয়াল
    • ঘ. রয়েল বেঙ্গল টাইগার
    উত্তর: ঘ. রয়েল বেঙ্গল টাইগার
    রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger) বাংলাদেশের জাতীয় পশু। সুন্দরবন এই বাঘের প্রধান আবাসস্থল, আর বিশ্বের অন্যতম বড় বাঘের সংখ্যা আমাদের সুন্দরবনেই আছে। গরু ও ছাগল আমাদের গৃহপালিত পশু, আর গয়াল পার্বত্য চট্টগ্রামে পাওয়া যায় এমন এক ধরনের পোষা গবাদিপশু। কোনোটিই জাতীয় পশুর মর্যাদা পায়নি।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় পাখি: দোয়েল।
    জাতীয় ফুল: শাপলা।
    জাতীয় মাছ: ইলিশ।
  13. ৩৪. অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয়ের মধ্যে চামড়ার অবস্থান কত?
    • ক. চতুর্থ
    • খ. নবম
    • গ. অষ্টম
    • ঘ. পঞ্চম
    উত্তর: ঘ. পঞ্চম
    ২০১৯-২০ অর্থবছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের তালিকায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ছিল পঞ্চম স্থানে। আমাদের রপ্তানির সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে, যার অংশ মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি। তাই চামড়ার মতো বাকি খাতগুলোর অংশ তুলনায় অনেক কম হলেও চামড়া একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত।
    মনে রাখুন: ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়েছে।
  14. ৩৭. কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
    • ক. ড. এস ডি চৌধুরী
    • খ. ড. কাজী ফজলুর রহিম
    • গ. ড. ওসমান গণি
    • ঘ. অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
    উত্তর: গ. ড. ওসমান গণি
    ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bangladesh Agricultural University) প্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. ওসমান গণি। দেশের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভূমিকা আছে।
    মনে রাখুন:
    ঢাকায় আছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
    গাজীপুরের সালনায় আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
  15. ৩৯. গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে পাক ভারত উপমহাদেশে কোন ব্রিটিশ প্রথম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
    • ক. মি. জে এইচ বি হেলেন
    • খ. লর্ড লিনলিথগো
    • গ. লর্ড ক্লাইভ
    • ঘ. ওয়ারেন হেস্টিংস
    উত্তর: খ. লর্ড লিনলিথগো
    গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের উদ্যোগে ব্রিটিশ আমলে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন লর্ড লিনলিথগো। তিনি ভারতের কৃষি বিষয়ক রয়্যাল কমিশনের সভাপতি ছিলেন এবং পরে ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় হন। কমিশনের সুপারিশে উপমহাদেশে উন্নত জাতের গবাদিপশু প্রজননের ওপর জোর দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন: লর্ড ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধের (১৭৫৭) সঙ্গে জড়িত, আর ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল।
  16. ৪০. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে গোচারণের জন্য বাথান আছে?
    • ক. সিরাজগঞ্জ
    • খ. দিনাজপুর
    • গ. বরিশাল
    • ঘ. ফরিদপুর
    উত্তর: ক. সিরাজগঞ্জ
    গবাদিপশু চরানোর জন্য নির্দিষ্ট বিস্তীর্ণ চারণভূমিকে বাথান বলে। সিরাজগঞ্জের যমুনার চর এলাকায়, বিশেষ করে শাহজাদপুর ও বাঘাবাড়ি অঞ্চলে অনেক বাথান আছে। সেখানে বিস্তৃত ঘাসজমি আছে বলে অনেক পশুপালক বছরের নানা সময়ে গরু-মহিষ নিয়ে আসেন, আর এ কারণে ওই অঞ্চলে দুধের উৎপাদনও বেশি।
    মনে রাখুন: বাঘাবাড়ি অঞ্চল দেশের দুগ্ধ উৎপাদনের একটি বড় কেন্দ্র, এখান থেকে মিল্ক ভিটা দুধ সংগ্রহ করে।
  17. ৪১. ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী মাথাপিছু আয় (প্রক্ষেপন) ____ মার্কিন ডলার।
    • ক. ২৪৬২
    • খ. ২,১৫৩
    • গ. ২,১৭৩
    • ঘ. ২,২২৭
    উত্তর: ক. ২৪৬২
    ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মাথাপিছু আয় প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল ২,৪৬২ মার্কিন ডলার। প্রক্ষেপণ মানে আগে থেকে ধরে নেওয়া অনুমান, আর বাজেটে প্রতি বছর সরকার এভাবেই পরের বছরের জন্য মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্য ঠিক করে। অন্য অপশনের ২,২২৭ ডলার ছিল তার আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) মাথাপিছু আয়।
    মনে রাখুন: মাথাপিছু আয় হিসাব করা হয় একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে তার মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে।
  18. ৪২. বাংলাদেশে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়‒
    • ক. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
    • খ. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
    • গ. ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
    • ঘ. ৩ জানুয়ারি, ১৯৯৮
    উত্তর: ক. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষে সই করেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে।
    মনে রাখুন: চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
  19. ৪৪. বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ কোনটি?
    • ক. কয়লা
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. সাদামাটি
    • ঘ. গ্যাস
    উত্তর: ঘ. গ্যাস
    প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ, সার কারখানার কাঁচামাল, শিল্প-কারখানার জ্বালানি এবং ঘরের রান্না, এসবের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। কয়লা, চুনাপাথর বা সাদামাটিও আমাদের দেশে পাওয়া যায়, কিন্তু অর্থনীতিতে গ্যাসের মতো ব্যাপক ভূমিকা এগুলোর নেই।
    মনে রাখুন:
    দেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুরে আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে।
    কয়লা পাওয়া যায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায়।
    চুনাপাথর পাওয়া যায় জয়পুরহাটে।
  20. ৪৭. বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স কত?
    • ক. ১৬ বছর
    • খ. ১৮ বছর
    • গ. ২০ বছর
    • ঘ. ২১ বছর
    উত্তর: খ. ১৮ বছর
    বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিক ভোটার হতে পারেন, কারণ ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরি করে, আর জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটারের তথ্য নথিবদ্ধ থাকে। তবে ভোট দেওয়ার যে বয়স, সংসদ সদস্য হওয়ার বয়স তার সমান নয়।
    মনে রাখুন: সংসদ সদস্য হতে হলে বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হয়।

সাধারণ বিজ্ঞান

  1. ৪. মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?
    • ক. ২০ জোড়া
    • খ. ২২ জোড়া
    • গ. ২৩ জোড়া
    • ঘ. ২৫ জোড়া
    উত্তর: গ. ২৩ জোড়া
    মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ২৩ জোড়া, অর্থাৎ ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোজোম (Autosome), যা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, আর ১ জোড়া লিঙ্গ-ক্রোমোজোম, যা শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করে। নারীর লিঙ্গ-ক্রোমোজোম XX এবং পুরুষের XY।
    মনে রাখুন:
    শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি।
    শিম্পাঞ্জির ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৮।
    ডাউন সিনড্রোমে ২১ নম্বর ক্রোমোজোম তিনটি থাকে।
  2. ৭. কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
    • ক. পেপসিন
    • খ. এমাইলেজ
    • গ. রেনিন
    • ঘ. ট্রিপসিন
    উত্তর: গ. রেনিন
    দুধ পাকস্থলীতে পৌঁছালে সেখানে থাকা রেনিন (Rennin) নামের এনজাইম দুধের প্রোটিন কেসিনকে জমাট বাঁধিয়ে দেয়। দুধ তরল অবস্থায় থাকলে খুব দ্রুত পাকস্থলী পেরিয়ে চলে যেত। জমাট বাঁধে বলে দুধ কিছুক্ষণ পাকস্থলীতে থাকে, আর সেই সময়ে পেপসিন এনজাইম প্রোটিনকে ভালোভাবে ভেঙে ফেলতে পারে। রেনিন শিশু ও বাছুরের পাকস্থলীতে বেশি পাওয়া যায়, কারণ দুধই তাদের প্রধান খাদ্য।
    মনে রাখুন:
    পেপসিন: পাকস্থলীতে প্রোটিন হজম করে।
    অ্যামাইলেজ: লালা ও অগ্ন্যাশয়ের রসে থাকে, শর্করা ভাঙে।
    ট্রিপসিন: অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইম, ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন ভাঙে।
  3. ২৭. ভায়াগ্রা কী?
    • ক. একটি জলপ্রপাত
    • খ. নতুন একটি ওষুধ
    • গ. সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রের নাম
    • ঘ. নতুন জাহাজের নাম
    উত্তর: খ. নতুন একটি ওষুধ
    ভায়াগ্রা (Viagra) একটি ওষুধ। এটি সিলডেনাফিল (Sildenafil) নামের রাসায়নিক পদার্থের বাণিজ্যিক নাম, যা তৈরি করে ফাইজার কোম্পানি। প্রথমে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য গবেষণা হলেও পরে পুরুষের যৌন দুর্বলতার চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা ধরা পড়ে। ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি অনুমোদন পেয়ে বাজারে আসে এবং সারা বিশ্বে আলোচনার বিষয় হয়।
    মনে রাখুন: কোনো ওষুধের রাসায়নিক নাম আর বাণিজ্যিক নাম আলাদা হয়, যেমন সিলডেনাফিল আর ভায়াগ্রা।
  4. ৩৫. ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কী?
    • ক. নেনী
    • খ. টর্মি
    • গ. শেলী
    • ঘ. ডলি
    উত্তর: ঘ. ডলি
    ক্লোনিং (Cloning) পদ্ধতিতে জন্মানো বিখ্যাত ভেড়ার নাম ডলি (Dolly)। ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার রোজলিন ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানীরা একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভেড়ার স্তনগ্রন্থির কোষ থেকে নিউক্লিয়াস নিয়ে অন্য একটি ভেড়ার নিষিক্ত ডিম্বাণুতে বসান, যার নিজের নিউক্লিয়াস সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এভাবেই জন্ম নেয় ডলি। এটি প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর দেহকোষ থেকে তৈরি প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী। ডলি তার মূল ভেড়ার হুবহু জিনগত প্রতিলিপি ছিল।
    মনে রাখুন: ডলির জন্মের খবর প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে, আর ২০০৩ সালে সে মারা যায়।
  5. ৩৬. প্রাণীর মলমূত্র থেকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়‒
    • ক. ইথেন
    • খ. এমোনিয়া
    • গ. মিথেন
    • ঘ. বিউটেন
    উত্তর: গ. মিথেন
    গোবর ও প্রাণীর মলমূত্রের মতো জৈব পদার্থ অক্সিজেনের অভাবে কিছু ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়। তখন যে বায়োগ্যাস তৈরি হয়, তার প্রধান উপাদান মিথেন (Methane, CH4)। এর সঙ্গে কিছু কার্বন ডাই-অক্সাইডও থাকে। এই গ্যাস জ্বালানি হিসেবে রান্না ও আলো জ্বালাতে ব্যবহার করা যায়, আর গ্যাস তৈরির পর যে অবশিষ্ট থাকে তা ভালো জৈব সার হিসেবে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন: মিথেন একটি গ্রিনহাউস গ্যাসও, তাই বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে একে ধরে রেখে ব্যবহার করলে পরিবেশেরও উপকার হয়।
  6. ৩৮. ১৯৯৯ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কোন কৃষি বিজ্ঞানী বাংলাদেশ সফর করেন?
    • ক. প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম
    • খ. প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
    • গ. ড. আব্দুল কাদের
    • ঘ. ড. স্বামীনাথন
    উত্তর: খ. প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
    ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সফর করা নোবেলজয়ী কৃষিবিজ্ঞানী হলেন মার্কিন বিজ্ঞানী নরম্যান বোরলগ (Norman Borlaug)। তিনি মেক্সিকোতে গবেষণা করে উচ্চফলনশীল ও খর্বাকৃতির গমের জাত উদ্ভাবন করেন, যার ফলে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় খাদ্য উৎপাদন বহু গুণ বেড়ে যায়। এই অবদানের জন্য তাঁকে ‘সবুজ বিপ্লবের জনক’ বলা হয়। ১৯৭০ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
    মনে রাখুন: আব্দুস সালাম পাকিস্তানি বিজ্ঞানী, তিনি ১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। কৃষির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না।
  7. ৪৬. বহুমূত্র রোগে কোন হরমোনের দরকার?
    • ক. ইনসুলিন
    • খ. থাইরক্সিন
    • গ. এনড্রোজেন
    • ঘ. এস্ট্রোজেন
    উত্তর: ক. ইনসুলিন
    ইনসুলিন (Insulin) হরমোনটি অগ্ন্যাশয়ের ‘আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স’ নামের কোষগুচ্ছ থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে এই হরমোন সাহায্য করে। যখন ইনসুলিন কম তৈরি হয়, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে না, তখন রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং প্রস্রাবের সঙ্গেও শর্করা বেরোয়। এই রোগকেই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus) বলে। তাই এর চিকিৎসায় ইনসুলিনের দরকার হয়।
    মনে রাখুন:
    থাইরক্সিন: থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন।
    এন্ড্রোজেন: পুরুষ হরমোন, যেমন টেস্টোস্টেরন।
    ঈস্ট্রোজেন: নারী হরমোন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

  1. ৬. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
    • ক. অগ্নিবীণা
    • খ. বিষের বাঁশি
    • গ. দোলনচাঁপা
    • ঘ. বাঁধনহারা
    উত্তর: ক. অগ্নিবীণা
    ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা-র অন্তর্গত। কবিতাটি প্রথমে ‘বিজলী’ পত্রিকায় ছাপা হয়ে বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন তোলে, আর কিছুদিন পরে অগ্নিবীণা গ্রন্থে স্থান পায়। গ্রন্থটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। এই কবিতার জন্যই তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
    অন্য তিনটি বইও নজরুলেরই, কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ সেগুলোতে নেই।
    মনে রাখুন:
    অগ্নিবীণা (১৯২২): প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
    দোলনচাঁপা (১৯২৩) ও বিষের বাঁশি (১৯২৪): কাব্যগ্রন্থ, বিষের বাঁশি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
    বাঁধনহারা: কাব্য নয়, এটি পত্রোপন্যাস।
  2. ১০. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা কে?
    • ক. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
    • খ. আলতাফ মাহমুদ
    • গ. আব্দুল লতিফ
    • ঘ. আব্দুল আলীম
    উত্তর: ক. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
    ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে লেখা এই গান একুশের সবচেয়ে পরিচিত গান। গানটির প্রথম সুর করেছিলেন আবদুল লতিফ, আর বর্তমানে যে সুরে গানটি আমরা শুনি তা দিয়েছেন শহীদ আলতাফ মাহমুদ। তাই লেখক আর সুরকারকে আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
    মনে রাখুন: আলতাফ মাহমুদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হন।
  3. ১১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম হল‒
    • ক. পরশুরাম
    • খ. নীললোহিত
    • গ. ভানুসিংহ ঠাকুর
    • ঘ. গাজী মিয়া
    উত্তর: গ. ভানুসিংহ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিশোর বয়সে ভানুসিংহ ঠাকুর ছদ্মনামে বৈষ্ণব পদাবলীর ঢঙে কবিতা লিখেছিলেন, যা ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে পরিচিত। বাকি তিনটি নাম অন্য লেখকদের ছদ্মনাম। পরশুরাম হলেন রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম, নীললোহিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের, আর গাজী মিয়া নামটি মীর মশাররফ হোসেনের, যিনি ‘গাজী মিয়ার বস্তানী’ বইটি লিখেছেন।
    মনে রাখুন:
    পরশুরাম: ‘গড্ডলিকা’ ও ‘কজ্জলী’ গল্পগ্রন্থের লেখক রাজশেখর বসু।
    নীললোহিত: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পে ফিরে ফিরে আসা চরিত্রের নামও এটি।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

  1. ৮. 2018 ফুটবল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট কে পান?
    • ক. রোনাল্ডো
    • খ. মেসি
    • গ. সুয়ারেজ
    • ঘ. হ্যারি কেন
    উত্তর: ঘ. হ্যারি কেন
    বিশ্বকাপ ফুটবলে যিনি সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তাঁকে গোল্ডেন বুট (Golden Boot) পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন ৬টি গোল করে এই পুরস্কার জেতেন। রোনাল্ডো, মেসি বা সুয়ারেজ কেউই তাঁর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি।
    মনে রাখুন:
    ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
    গোল্ডেন বল পেয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, গোল্ডেন গ্লাভস পান বেলজিয়ামের থিবো কুর্তোয়া।
  2. ৯. বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
    • ক. জেনেভা
    • খ. প্যারিস
    • গ. লন্ডন
    • ঘ. রোম
    উত্তর: ঘ. রোম
    জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (Food and Agriculture Organization, FAO) সদর দপ্তর ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার প্রধান কাজ হলো বিশ্বের ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা এবং কৃষি, মৎস্য ও বনের উন্নয়নে সহায়তা করা। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠা দিবস ১৬ অক্টোবরকে আমরা বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসেবে পালন করি।
    মনে রাখুন:
    জেনেভায় আছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
    প্যারিসে আছে ইউনেস্কো (UNESCO)।
  3. ২১. কসোভো কোথায় অবস্থিত?
    • ক. আলবেনিয়ায়
    • খ. সার্বিয়ায়
    • গ. রুমানিয়ায়
    • ঘ. গ্রিসে
    উত্তর: খ. সার্বিয়ায়
    পরীক্ষার সময়ে কসোভো ছিল সার্বিয়ার একটি প্রদেশ, যা তখন যুগোস্লাভিয়া নামের যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল। কসোভোর বেশির ভাগ মানুষ আলবেনীয় বংশোদ্ভূত মুসলমান, তাই সার্বিয়ার সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সংঘাত চলেছিল। আলবেনিয়া প্রতিবেশী আলাদা একটি দেশ, কসোভো সেখানে অবস্থিত নয়।
    মনে রাখুন: ১৯৯৯ সালে ন্যাটোর বিমান অভিযানের পর কসোভো জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে যায়।
    হালনাগাদ: ২০০৮ সালে কসোভো সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
  4. ২২. ‘গিল্ডার’ কোন দেশের মুদ্রার নাম ছিল?
    • ক. নরওয়ে
    • খ. নেদারল্যান্ড
    • গ. পোল্যান্ড
    • ঘ. প্যারাগুয়ে
    উত্তর: খ. নেদারল্যান্ড
    গিল্ডার (Guilder) ছিল নেদারল্যান্ডসের মুদ্রার নাম। ২০০২ সালে ইউরোপের অনেক দেশের মতো নেদারল্যান্ডসেও ইউরো (Euro) নগদ মুদ্রা হিসেবে চালু হলে গিল্ডারের ব্যবহার উঠে যায়। নরওয়ের মুদ্রা ক্রোন, পোল্যান্ডের জ্লটি, আর প্যারাগুয়ের মুদ্রা গুয়ারানি।
    মনে রাখুন: ইউরো ১৯৯৯ সালে হিসাবের মুদ্রা হিসেবে চালু হয়েছিল, আর ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নোট ও কয়েন বাজারে আসে।
  5. ২৩. নেপালের পার্লামেন্টের নাম কী?
    • ক. সিনেট
    • খ. পঞ্চায়েত
    • গ. কংগ্রেস
    • ঘ. পার্লামেন্ট
    উত্তর: ঘ. পার্লামেন্ট
    নেপালের আইনসভা পার্লামেন্ট বা সংসদ নামে পরিচিত। সেনেট বা কংগ্রেস নেপালের আইনসভার নাম নয়, ওগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার অংশ। নেপালে একসময় রাজতন্ত্রের অধীনে ‘পঞ্চায়েত’ নামে দলহীন শাসনব্যবস্থা ছিল, কিন্তু ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পর তা বিলুপ্ত হয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়।
    হালনাগাদ: ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান হয়। ২০১৫ সালের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির আইনসভার নাম ফেডারেল পার্লামেন্ট, যার দুটি কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও জাতীয় সভা।
  6. ২৪. ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোথায়?
    • ক. গ্রিসে
    • খ. ইতালিতে
    • গ. তুরস্কে
    • ঘ. স্পেনে
    উত্তর: গ. তুরস্কে
    গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’-এ বর্ণিত বিখ্যাত ট্রয় নগরীর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিম অংশে, হিসারলিক নামের জায়গায়। কাঠের ঘোড়ার কৌশলে গ্রিকদের হাতে ট্রয়ের পতনের গল্পটি সবাই জানে। যদিও এর কাহিনি গ্রিক পুরাণের, তবু শহরটি গ্রিসে নয়, আজকের তুরস্কেই ছিল। ১৯৯৮ সালে ট্রয় ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়।
    মনে রাখুন: হোমারের দুটি মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’।
  7. ২৫. ‘নাসা’ কোন দেশের সংস্থা?
    • ক. জার্মানি
    • খ. রাশিয়া
    • গ. ফ্রান্স
    • ঘ. যুক্তরাষ্ট্র
    উত্তর: ঘ. যুক্তরাষ্ট্র
    নাসা (NASA, National Aeronautics and Space Administration) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ১৯৫৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে। নাসার অ্যাপোলো-১১ অভিযানের মাধ্যমে ১৯৬৯ সালে মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে। রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার নাম রসকসমস।
    মনে রাখুন: ইউরোপের মহাকাশ সংস্থা ESA, ভারতের ইসরো (ISRO)।
  8. ২৬. জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ কোনটি?
    • ক. বাংলাদেশ
    • খ. পাকিস্তান
    • গ. সৌদি আরব
    • ঘ. ইন্দোনেশিয়া
    উত্তর: ঘ. ইন্দোনেশিয়া
    জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলমান, আর দেশটির মোট জনসংখ্যাও অনেক বেশি। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যায় ইন্দোনেশিয়ার পরেই সাধারণত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাম আসে। সৌদি আরব ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর দেশ হলেও জনসংখ্যায় ছোট।
    মনে রাখুন: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা এবং এটি হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
  9. ২৮. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় কোথায়?
    • ক. ব্যাংকক
    • খ. সিঙ্গাপুর
    • গ. টোকিও
    • ঘ. ম্যানিলা
    উত্তর: ঘ. ম্যানিলা
    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (Asian Development Bank, ADB) প্রধান কার্যালয় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর বা টোকিও এশিয়ার বড় শহর হলেও এই ব্যাংকের সদর দপ্তর সেখানে নয়।
    মনে রাখুন: জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শেয়ারধারী দেশ।
  10. ৩০. যুক্তরাষ্ট্র চায় ইসরাইল কত শতাংশ জায়গা ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তর করবে?
    • ক. ১২ শতাংশ
    • খ. ১০ শতাংশ
    • গ. ১৩ শতাংশ
    • ঘ. ১১ শতাংশ
    উত্তর: গ. ১৩ শতাংশ
    ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনায় প্রস্তাব ওঠে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরের আরও ১৩ শতাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের হাতে ছেড়ে দেবে। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সে বছর অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াই রিভার (Wye River) নামের স্থানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আর ফিলিস্তিনি নেতা ছিলেন ইয়াসির আরাফাত।
    মনে রাখুন: ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি ছিল ফিলিস্তিনিদের সীমিত স্বায়ত্তশাসনের প্রথম বড় ধাপ।
  11. ৪৩. জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৫১২৪) ২০১৯
    • ক. জেনেভা
    • খ. নিউইয়র্ক
    • গ. হেগ
    • ঘ. প্যারিস
    উত্তর: খ. নিউইয়র্ক
    জাতিসংঘের (United Nations) সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে, আর সেদিনটিকে আমরা জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালন করি। জেনেভা, হেগ ও প্যারিসেও জাতিসংঘ সম্পর্কিত কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু মূল সদর দপ্তর নিউইয়র্কেই।
    মনে রাখুন:
    আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) নেদারল্যান্ডসের হেগে।
    জেনেভায় আছে জাতিসংঘের ইউরোপীয় কার্যালয়।
  12. ৪৫. যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীতদাস প্রথা বিলোপকারী প্রেসিডেন্টের নাম কী?
    • ক. জর্জ ওয়াশিংটন
    • খ. আব্রাহাম লিংকন
    • গ. রুজভেল্ট
    • ঘ. কেনেডী
    উত্তর: খ. আব্রাহাম লিংকন
    যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলোপের সঙ্গে যে প্রেসিডেন্টের নাম জড়িয়ে আছে, তিনি আব্রাহাম লিংকন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি দাসমুক্তির ঘোষণা (Emancipation Proclamation) দেন। পরে ১৮৬৫ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুরো দেশে দাসপ্রথা আইনত বিলুপ্ত হয়। তাঁর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ হয়েছিল।
    মনে রাখুন: জর্জ ওয়াশিংটন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

  1. ২৯. কম্পিউটার সফটওয়্যার জগতে নামকরা প্রতিষ্ঠান কোনটি?
    • ক. গিগাবাইট
    • খ. ইনটেল
    • গ. এ্যাপল ম্যাকিনটশ
    • ঘ. মাইক্রোসফট
    উত্তর: ঘ. মাইক্রোসফট
    মাইক্রোসফট (Microsoft) বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও পল অ্যালেন এটি প্রতিষ্ঠা করেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম আর মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ এই প্রতিষ্ঠানেরই তৈরি। ইনটেল মূলত কম্পিউটারের প্রসেসর বা চিপ বানায়, আর গিগাবাইট মাদারবোর্ডের মতো হার্ডওয়্যার তৈরি করে। অ্যাপলের ম্যাকিনটশ আসলে একটি কম্পিউটারের নাম, যা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দুটোরই সমন্বয়।
    মনে রাখুন: সফটওয়্যার হলো প্রোগ্রাম ও নির্দেশের সমষ্টি, আর হার্ডওয়্যার হলো ছোঁয়া যায় এমন যন্ত্রাংশ।

অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান

১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন