লিয়ানা বুকস

২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৮। এখানে ১০০টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

  1. ১. ‘পদ’ বলতে কি বোঝায়?
    • ক. কবিতা
    • খ. যে কোনো শব্দ
    • গ. প্রত্যয়ান্ত শব্দ বা ধাতু
    • ঘ. বিভক্তিযুক্ত শব্দ
    উত্তর: ঘ. বিভক্তিযুক্ত শব্দ
    যখন কোনো শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী হয়, তখন তাকে পদ (Parts of Speech) বলে। শব্দ নিজে বাক্যের বাইরে থাকে, আর বাক্যে বসার সময় তাতে বিভক্তি বা অনুসর্গ যুক্ত হলে সেটি পদ হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে ‘ছেলে’ একটি শব্দ, কিন্তু ‘ছেলেটি বই পড়ে’ বাক্যে ‘ছেলেটি’ একটি পদ। প্রত্যয়ান্ত শব্দ বা ধাতু নিজে পদ নয়, তাতে বিভক্তি যুক্ত হলে তবেই পদ হয়।
    মনে রাখুন: বাংলা ব্যাকরণে পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া ও অব্যয়।
  2. ২. কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. শুশ্রুষা
    • খ. সুশ্রুষা
    • গ. শুশ্রূষা
    • ঘ. সুশ্রুসা
    উত্তর: গ. শুশ্রূষা
    শুদ্ধ বানান শুশ্রূষা, যার অর্থ সেবা বা পরিচর্যা। শব্দটির প্রথমে তালব্য শ, তার পরে হ্রস্ব উ-কার, এরপর রেফ ছাড়া র-ফলা, আর শেষ দিকে দীর্ঘ ঊ-কার ও মূর্ধন্য ষ বসে। শব্দটি সংস্কৃত ‘শ্রু’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ শোনা, আর তার সঙ্গে ইচ্ছার অর্থ যুক্ত হয়ে শব্দটি তৈরি হয়েছে। বানান ভুল হওয়ার একটি বড় কারণ হলো এই হ্রস্ব উ-কার আর দীর্ঘ ঊ-কারের পরপর বসা।
    মনে রাখুন: ‘সুশ্রূষা’ বা ‘সুশ্রুসা’ লিখলে বানান ভুল হয়।
  3. ৩. ঠোঁট-কাটা বলতে কি বুঝায়?
    • ক. অহংকারী
    • খ. স্পষ্টভাষী
    • গ. মিথ্যাবাদী
    • ঘ. পক্ষপাতদুষ্ট
    উত্তর: খ. স্পষ্টভাষী
    ‘ঠোঁটকাটা’ বাগ্‌ধারার অর্থ স্পষ্টভাষী। যে মানুষ কারও মুখের ওপর কোনো রকম সংকোচ বা লজ্জা না করে সোজাসুজি কথা বলে দেয়, তাকে ঠোঁটকাটা বলা হয়। এমন মানুষ অপ্রিয় সত্য কথাও বলতে দ্বিধা করে না। অহংকারী বা মিথ্যাবাদী হওয়ার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    সমার্থক বাগ্‌ধারা: মুখফোঁড়।
    বিপরীত অর্থের বাগ্‌ধারা: মুখচোরা, অর্থাৎ লাজুক।
  4. ৪. ‘বিষাদ-সিন্ধু’ কার রচনা?
    • ক. কায়কোবাদ
    • খ. মীর মশাররফ হোসেন
    • গ. মোজাম্মেল হক
    • ঘ. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
    উত্তর: খ. মীর মশাররফ হোসেন
    ‘বিষাদ-সিন্ধু’ রচনা করেছেন মীর মশাররফ হোসেন। কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে লেখা এই গদ্যগ্রন্থ তিন খণ্ডে বিভক্ত: মহরম পর্ব, উদ্ধার পর্ব ও এজিদ বধ পর্ব। বইটি উনিশ শতকের শেষ দিকে প্রকাশিত হয়, আর বাংলা গদ্যসাহিত্যে এর বিশেষ স্থান আছে।
    মনে রাখুন:
    মীর মশাররফ হোসেনের অন্য রচনা: জমীদার দর্পণ (নাটক), গাজী মিয়ার বস্তানী।
    কায়কোবাদের বিখ্যাত কাব্য ‘মহাশ্মশান’।
    ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কাব্য ‘অনল প্রবাহ’।
  5. ৫. কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
    • ক. শেষ প্রশ্ন
    • খ. শেষ লেখা
    • গ. শেষের কবিতা
    • ঘ. শেষের পরিচয়
    উত্তর: খ. শেষ লেখা
    ‘শেষ লেখা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ, যা কবির মৃত্যুর পর ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়। তাই এটিকে তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ বলা হয়। বাকি তিনটি বই কাব্য নয়, উপন্যাস। ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, আর ‘শেষ প্রশ্ন’ ও ‘শেষের পরিচয়’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
    মনে রাখুন: ‘শেষের পরিচয়’ শরৎচন্দ্রের অসমাপ্ত উপন্যাস, পরে অন্যজন তা শেষ করেন।
  6. ৬. নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
    • ক. রাজবন্দীর জবানবন্দী
    • খ. ব্যথার দান
    • গ. অগ্নিবীণা
    • ঘ. নবযুগ
    উত্তর: খ. ব্যথার দান
    কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ গল্পগ্রন্থ ব্যথার দান, যা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। একই বছরের শেষ দিকে বের হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’। তাই প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ আর প্রথম কাব্যগ্রন্থকে আলাদা করে মনে রাখা দরকার। ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ আদালতে দেওয়া তাঁর বিবৃতি, আর ‘নবযুগ’ নজরুলের সম্পাদিত দৈনিক পত্রিকার নাম।
    মনে রাখুন: প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ব্যথার দান, আর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা।
  7. ৭. কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
    • ক. চিলেকোঠার সেপাই
    • খ. আগুনের পরশমণি
    • গ. একাত্তরের দিনগুলি
    • ঘ. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
    উত্তর: খ. আগুনের পরশমণি
    হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এতে ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে গেরিলা যোদ্ধাদের জীবন ও তাদের লড়াইয়ের কাহিনি বলা হয়েছে। বাকি তিনটি বইয়ের পটভূমি আলাদা। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘চিলেকোঠার সেপাই’ লেখা হয়েছে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে। জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ উপন্যাস নয়, এটি দিনলিপি বা স্মৃতিকথা। আর সৈয়দ শামসুল হকের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ একটি কাব্যনাট্য।
    মনে রাখুন: হুমায়ূন আহমেদের আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস ‘জোছনা ও জননীর গল্প’।
  8. ৮. কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
    • ক. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
    • খ. নির্জন স্বাক্ষর
    • গ. নিরালোকে দিব্যরথ
    • ঘ. নির্বাণ
    উত্তর: গ. নিরালোকে দিব্যরথ
    ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ কবি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি, আর স্বাধীনতাকে নিয়ে লেখা তাঁর কবিতাগুলো আমাদের কাছে খুব পরিচিত। ‘নির্জন স্বাক্ষর’ বইটি তাঁর নয়, ওটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ।
    মনে রাখুন:
    শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’।
    তাঁর অন্য কাব্যগ্রন্থ: রৌদ্র করোটিতে, বন্দী শিবির থেকে।
  9. ৯. ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান’ – এখানে ‘টাপুর টুপুর’ কোন ধরনের শব্দ?
    • ক. অবস্থাবাচক শব্দ
    • খ. বাক্যালঙ্কার শব্দ
    • গ. ধ্বন্যাত্মক শব্দ
    • ঘ. দ্বিরুক্ত শব্দ
    উত্তর: গ. ধ্বন্যাত্মক শব্দ
    কোনো শব্দ যখন প্রাণী, বস্তু বা প্রকৃতির ধ্বনির অনুকরণে তৈরি হয়, তখন তাকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ (Onomatopoeic Word) বলে। ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ ছড়ার ‘টাপুর টুপুর’ বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার শব্দের অনুকরণ, তাই এটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। একই ধরনের ধ্বনি পরপর এসেছে বলে আমরা একে দ্বিরুক্ত শব্দ ভাবতে পারি, কিন্তু এখানে শব্দ দুটির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, ধ্বনির অনুকরণই মূল কথা।
    উদাহরণ:
    নদীর শব্দ: কলকল, ছলছল।
    বৃষ্টির শব্দ: ঝমঝম, ঝিরঝির।
    মেঘের শব্দ: গুড়গুড়।
  10. ১০. কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ ?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ২৫৯৪) ২০১৯
    • ক. সিংহাসন
    • খ. ভাই-বোন
    • গ. কানাকানি
    • ঘ. গাছপাকা
    উত্তর: খ. ভাই-বোন
    যে সমাসে সংযোজক অব্যয় (যেমন ও, এবং) লোপ পেয়ে সমান গুরুত্বের দুটি পদ পাশাপাশি বসে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস (Copulative Compound) বলে। ‘ভাই-বোন’ মানে ভাই ও বোন, এখানে দুটি পদেরই গুরুত্ব সমান। বাকি অপশনগুলো অন্য সমাস। সিংহাসন হলো সিংহচিহ্নিত আসন, তাই এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়। ‘কানাকানি’ ব্যতিহার বহুব্রীহি, আর ‘গাছপাকা’ তৎপুরুষ সমাস।
    উদাহরণ:
    মা-বাবা, দিন-রাত, আয়-ব্যয়, স্বামী-স্ত্রী।
  11. ১১. ‘যা সহজে অতিক্রম করা যায় না’ – এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ কি?
    • ক. অনতিক্রম্য
    • খ. অলঙ্ঘ্য
    • গ. দুরতিক্রম্য
    • ঘ. দুর্গম
    উত্তর: গ. দুরতিক্রম্য
    ‘যা সহজে অতিক্রম করা যায় না’ এই বাক্যাংশের এক কথায় প্রকাশ দুরতিক্রম্য। এখানে ‘দুর্’ উপসর্গটি কঠিন বা কষ্টকর অর্থ প্রকাশ করছে, আর ‘অতিক্রম্য’ মানে যা অতিক্রম করা যায়। তাই কঠিনভাবে অতিক্রম করা যায় এমন কিছু বোঝাতে দুরতিক্রম্য শব্দ ব্যবহার করা হয়। ‘অনতিক্রম্য’ মানে যা একেবারেই অতিক্রম করা যায় না, আর ‘দুর্গম’ বলতে বোঝায় যেখানে যাওয়া কঠিন।
    মনে রাখুন: যা সহজে পার হওয়া যায় না, তাকে ‘দুস্তর’ও বলে, যেমন দুস্তর সাগর।
  12. ১২. ‘ব্যাঙের সর্দি’ – অর্থ কি?
    • ক. রোগ বিশেষ
    • খ. সম্ভাব্য ঘটনা
    • গ. অসম্ভব ঘটনা
    • ঘ. প্রতারণা
    উত্তর: গ. অসম্ভব ঘটনা
    ‘ব্যাঙের সর্দি’ বাগ্‌ধারার অর্থ অসম্ভব ঘটনা। ব্যাঙ সারাক্ষণ ভেজা জায়গায় থাকে, তাই পানি লেগে তার সর্দি হওয়ার কথা ভাবাই অবান্তর। এই ধারণা থেকেই যা কিছু ঘটা অসম্ভব, সেটি বোঝাতে কথাটি ব্যবহার করা হয়। রোগ বিশেষ, সম্ভাব্য ঘটনা বা প্রতারণা কোনোটিই এর অর্থ নয়।
    মনে রাখুন: ‘ব্যাঙের আধুলি’ বাগ্‌ধারার অর্থ সামান্য সঞ্চয়।
  13. ১৩. ‘সংশপ্তক’ কার রচনা?
    • ক. মুনীর চৌধুরী
    • খ. শহীদুল্লাহ কায়সার
    • গ. জহির রায়হান
    • ঘ. শওকত ওসমান
    উত্তর: খ. শহীদুল্লাহ কায়সার
    ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের লেখক শহীদুল্লা কায়সার। উপন্যাসটিতে দেশভাগের আগের ও পরের বাংলার গ্রামীণ সমাজ ও রাজনীতির ছবি আছে। তিনি সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক ছিলেন, আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে শহিদ হন। বাকিদের পরিচয়ও আলাদা। মুনীর চৌধুরী ‘কবর’ নাটকের জন্য বিখ্যাত, জহির রায়হান লিখেছেন ‘হাজার বছর ধরে’, আর শওকত ওসমান লিখেছেন ‘জননী’।
    মনে রাখুন: শহীদুল্লা কায়সারের আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘সারেং বৌ’।
  14. ১৪. ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
    • ক. শওকত ওসমান
    • খ. জহির রায়হান
    • গ. আব্দুল গণি হাজারী
    • ঘ. হাসান হাফিজুর রহমান
    উত্তর: ঘ. হাসান হাফিজুর রহমান
    ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়, আর এর সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। সংকলনে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে লেখা কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ ছিল। সে সময় ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে লেখা প্রকাশ করা সহজ ছিল না, তাই এই সংকলনের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।
    মনে রাখুন: হাসান হাফিজুর রহমান ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র’ নামের বহু খণ্ডের সংকলনেরও সম্পাদক ছিলেন।
  15. ১৫. ‘নদী ও নারী’ কার রচনা?
    • ক. কাজী আব্দুল ওদুদ
    • খ. আবুল ফজল
    • গ. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
    • ঘ. হুমায়ুন কবির
    উত্তর: ঘ. হুমায়ুন কবির
    ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসের লেখক হুমায়ুন কবির। পদ্মা নদীর চর অঞ্চলের মানুষের জীবন নিয়ে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। হুমায়ুন কবির একই সঙ্গে শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। বাকিরাও সাহিত্যিক, তবে তাঁদের রচনা আলাদা।
    মনে রাখুন:
    কাজী আবদুল ওদুদের গ্রন্থ ‘শাশ্বত বঙ্গ’।
    আবুল ফজলের উপন্যাস ‘চৌচির’।
  16. ১৬. কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ কোনটি?
    • ক. অগ্নিকোণ
    • খ. মরুশিখা
    • গ. মরুসূর্য
    • ঘ. রাঙাজবা
    উত্তর: ঘ. রাঙাজবা
    ‘রাঙাজবা’ কাজী নজরুল ইসলামের শ্যামাসংগীতের সংকলন। এতে মা কালীকে নিয়ে লেখা ভক্তিমূলক গান আছে, আর এসব গান থেকে বোঝা যায় নজরুল ধর্মের সীমানা পেরিয়ে সব ধর্মের ভক্তিগীতিই রচনা করেছেন। তিনি একদিকে যেমন শ্যামাসংগীত লিখেছেন, অন্যদিকে ইসলামি গান ও গজলও রচনা করেছেন। অন্য অপশনের নামগুলো তাঁর কোনো গ্রন্থের নাম নয়।
    মনে রাখুন: নজরুলের ইসলামি কবিতার একটি বিখ্যাত বই ‘মরুভাস্কর’।
  17. ১৭. ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ কার রচিত গ্রন্থ?
    • ক. অশোক মিত্র
    • খ. দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • গ. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
    • ঘ. অতুল সুর
    উত্তর: গ. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
    ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ গ্রন্থের লেখক নীরদচন্দ্র চৌধুরী। এটি তাঁর বাংলায় লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ, যেখানে তিনি বাঙালি সমাজের নানা দিক নিয়ে নিজের মত তুলে ধরেছেন। কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই লেখক শেষ জীবনে ইংল্যান্ডে বাস করতেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই ইংরেজিতে লেখা আত্মজীবনী ‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান’ (The Autobiography of an Unknown Indian)।
    মনে রাখুন: তাঁর আরেকটি ইংরেজি বই ‘Thy Hand, Great Anarch!’।
  18. ১৮. ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
    • ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    • খ. বিনয় ঘোষ
    • গ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • ঘ. রাধারমণ মিত্র
    উত্তর: গ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিখ্যাত, তবে প্রবন্ধও লিখেছেন, আর ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ তারই একটি সংকলন। তাঁর সবচেয়ে পরিচিত দুটি উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’ ও ‘খোয়াবনামা’।
    মনে রাখুন: ইলিয়াসের গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ ও ‘দুধে ভাতে উৎপাত’।
  19. ১৯. কাক ভূষণ্ডির অর্থ কি?
    • ক. ষড়যন্ত্রকারী
    • খ. বাকসর্বস্ব
    • গ. দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ
    • ঘ. দীর্ঘায়ু ব্যক্তি
    উত্তর: ঘ. দীর্ঘায়ু ব্যক্তি
    ‘কাকভূষণ্ডি’ বাগ্‌ধারার অর্থ দীর্ঘায়ু ব্যক্তি। রামায়ণের কাহিনিতে কাকভূষণ্ডি নামে এক কাকের কথা আছে, যে অনেক যুগ ধরে বেঁচে ছিল। সেখান থেকেই বহুদিন ধরে বেঁচে থাকা মানুষকে বোঝাতে কথাটি চালু হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারী, বাকসর্বস্ব বা দীর্ঘ প্রতীক্ষমাণ কোনোটিই এর অর্থ নয়।
    মনে রাখুন: ‘কাকভূষণ্ডি’ শব্দটি কখনো কখনো ‘কাকভুশুণ্ডী’ বানানেও লেখা হয়, তবে অর্থ একই।
  20. ২০. নিত্য মূর্ধণ্য-ষ কোন শব্দে বর্তমান?
    • ক. কষ্ট
    • খ. উপনিষৎ
    • গ. কল্যাণীয়েষু
    • ঘ. আষাঢ়
    উত্তর: ঘ. আষাঢ়
    কিছু তৎসম শব্দে কোনো নিয়মের কারণ ছাড়াই মূর্ধন্য ষ বসে, একে নিত্য মূর্ধন্য ষ বলে। ‘আষাঢ়’ তেমনই একটি শব্দ, এতে ষ বসার কোনো আলাদা নিয়ম খাটে না। বাকি অপশনগুলোতে ষ বসেছে নির্দিষ্ট নিয়মে। ‘কষ্ট’ শব্দে ট-বর্গের ধ্বনি ‘ট’-এর আগে ষ এসেছে, ‘কল্যাণীয়েষু’-তে এ-কারের পরে বিভক্তির কারণে ষ এসেছে, আর ‘উপনিষৎ’ শব্দে ই-কারের পরে ষ বসেছে।
    উদাহরণ:
    নিত্য মূর্ধন্য ষ: ভাষা, ষোল, পাষাণ, আষাঢ়, ঊষা।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য

  1. ২১. EXCITE : CALM –
    • ক. restrain : compose
    • খ. agitate : trouble
    • গ. upset : perturd
    • ঘ. stimulate : cool down
    উত্তর: ঘ. stimulate : cool down
    ‘Excite’ মানে উত্তেজিত করা আর ‘Calm’ মানে শান্ত করা বা শান্ত, তাই শব্দ দুটি বিপরীতার্থক। একই সম্পর্ক পাওয়া যায় stimulate : cool down জোড়ায়, কারণ stimulate মানে উদ্দীপ্ত করা আর cool down মানে ঠান্ডা বা শান্ত হওয়া। অন্য জোড়াগুলোর শব্দ কাছাকাছি অর্থের। যেমন agitate ও trouble দুটিই মানে বিচলিত করা।
    মনে রাখুন: Analogy প্রশ্নে আগে দেখতে হয় প্রথম জোড়ার সম্পর্ক সমার্থক না বিপরীতার্থক, তারপর উত্তরের জোড়ায় সেই সম্পর্কই খুঁজতে হয়।
  2. ২২. DELAY : EXPEDITE –
    • ক. related : halt
    • খ. block : obstruct
    • গ. drag : procrastinate
    • ঘ. detain : dispatch
    উত্তর: ঘ. detain : dispatch
    ‘Delay’ মানে দেরি করা বা ধীর করা, আর ‘expedite’ মানে কাজকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। এই দুটি শব্দ বিপরীতার্থক। একই সম্পর্ক আছে detain : dispatch জোড়ায়, কারণ detain মানে আটকে রাখা আর dispatch মানে দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া। বাকি জোড়াগুলোয় শব্দ দুটি সাধারণত সমার্থক। যেমন block ও obstruct দুটিই মানে বাধা দেওয়া, আর drag ও procrastinate দুটিই মানে টেনে দেরি করা।
    মনে রাখুন: Expedite-এর সমার্থক শব্দ hasten ও accelerate।
  3. ২৩. ANARCHY : GOVERNMENT –
    • ক. penury : wealth
    • খ. chaos : disorder
    • গ. monarchy : republic
    • ঘ. verbosity : words
    উত্তর: ক. penury : wealth
    ‘Anarchy’ মানে অরাজকতা, অর্থাৎ সরকার বা শাসনের অনুপস্থিতি। ঠিক সেভাবে ‘penury’ মানে চরম দারিদ্র্য, অর্থাৎ সম্পদের অনুপস্থিতি। তাই penury : wealth জোড়াটি সঠিক। ‘Chaos’ ও ‘disorder’ প্রায় একই অর্থের, আর monarchy ও republic দুটোই আলাদা শাসনব্যবস্থার নাম। এদের কোনোটিই কোনো কিছুর অনুপস্থিতি বোঝায় না।
    মনে রাখুন: Penury-এর সমার্থক শব্দ poverty ও destitution।
  4. ২৪. VACCINE : PREVENT –
    • ক. wound : heal
    • খ. victim : attend
    • গ. antidote : counteract
    • ঘ. diagnosis : cure
    উত্তর: গ. antidote : counteract
    ‘Vaccine’ ব্যবহার করা হয় রোগ প্রতিরোধ বা prevent করার জন্য, অর্থাৎ বস্তু ও তার কাজের সম্পর্ক এখানে প্রশ্নের মূল কথা। একইভাবে ‘antidote’ বা প্রতিষেধক ব্যবহার করা হয় বিষের প্রভাব কাটাতে, অর্থাৎ counteract করতে। তাই antidote : counteract জোড়াটি মেলে। ‘Wound : heal’ ও ‘diagnosis : cure’ জোড়ায় এমন বস্তু আর তার কাজের সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন: Antidote মানে বিষনাশক ওষুধ বা প্রতিষেধক।
  5. ২৫. ____ glass is, for all practical, a solid, its molecular structure is that of a liquid.
    • ক. Because
    • খ. Since
    • গ. Although
    • ঘ. If
    উত্তর: গ. Although
    বাক্যটির প্রথম অংশে বলা হয়েছে কাচকে বাস্তবে কঠিন পদার্থই ধরা হয়, আর দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে এর অণুর গঠন তরলের মতো। দুটি কথা পরস্পরের বিপরীত, তাই মাঝে বিরোধ বোঝানোর শব্দ Although বসে। ‘Because’ ও ‘Since’ কারণ বোঝায়, আর ‘If’ শর্ত বোঝায়, এগুলো এখানে অর্থ মেলায় না।
    সঠিক বাক্য: Although glass is, for all practical purposes, a solid, its molecular structure is that of a liquid.
    মনে রাখুন: Although, though ও even though একই ধরনের বিরোধ প্রকাশ করে।
  6. ২৬. An intensive search was conducted by the detective to locate those criminals, who ______.
    • ক. have had escaped
    • খ. had escaped
    • গ. are escaping
    • ঘ. have been escaping
    উত্তর: খ. had escaped
    গোয়েন্দা যখন অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি চালিয়েছিল, তার আগেই অপরাধীরা পালিয়ে গিয়েছিল। অতীতের দুটি ঘটনার মধ্যে যেটি আগে ঘটেছে, সেটিকে বোঝাতে Past Perfect Tense ব্যবহার করতে হয়। এখানে তাই had escaped বসবে। ‘Have had escaped’ ব্যাকরণগতভাবেই ভুল গঠন, আর ‘are escaping’ ও ‘have been escaping’ অতীতের এই ঘটনার সঙ্গে খাপ খায় না।
    উদাহরণ:
    The train had left before we reached the station.
    মনে রাখুন: Past Perfect-এর গঠন had + past participle।
  7. ২৭. The intellectual can no longer be said to live ____ the margins of society.
    • ক. against
    • খ. beyond
    • গ. inside
    • ঘ. Before
    উত্তর: খ. beyond
    বাক্যটির অর্থ হলো, বুদ্ধিজীবীকে আর সমাজের প্রান্তের বাইরে বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ বলা যায় না। এ অর্থ প্রকাশ করতে সঠিক শব্দ beyond, যার মানে সীমার বাইরে। ‘Against’ মানে বিরুদ্ধে, ‘inside’ মানে ভেতরে, আর ‘before’ মানে আগে বা সামনে, এগুলো বসালে বাক্যের অর্থ ঠিক থাকে না।
    মনে রাখুন: Beyond শব্দের আরেকটি পরিচিত ব্যবহার হলো beyond doubt বা beyond reach।
  8. ২৮. According to the conditions of my scholarship, after finishing my degree ____.
    • ক. my education will be employed by the University.
    • খ. employment will be given to me by the University.
    • গ. the University will employ me.
    • ঘ. I will be employed of the University.
    উত্তর: গ. the University will employ me.
    বাক্যটিতে বলা হচ্ছে, বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী ডিগ্রি শেষ করার পর কী ঘটবে। এখানে the University will employ me বাক্যটি সহজ, স্পষ্ট ও ব্যাকরণসম্মত, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তা হিসেবে আমাকে নিয়োগ দিচ্ছে। প্রথম অপশনে ‘my education will be employed’ বলা হয়েছে, যার অর্থ হয় না, কারণ নিয়োগ পান মানুষ, শিক্ষা নয়। দ্বিতীয় অপশন অনাবশ্যক জটিল, আর চতুর্থ অপশনে ‘employed of the University’ ভুল, কারণ কর্তা বোঝাতে এখানে by বসে।
    মনে রাখুন: Passive voice-এ কর্তার আগে সাধারণত by বসে।
  9. ২৯. If a substance is cohesive, it tends to ____.আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ) ২০২২
    • ক. retain heat
    • খ. bend without much difficulty
    • গ. stick together
    • ঘ. break easily
    উত্তর: গ. stick together
    ‘Cohesive’ বিশেষণটির অর্থ একত্রে জুড়ে থাকার গুণসম্পন্ন। পদার্থবিজ্ঞানে একই পদার্থের অণুগুলো পরস্পরকে যে আকর্ষণে ধরে রাখে, তাকে সংশক্তি বা cohesion বলে। তাই কোনো পদার্থ cohesive হলে তার অণুগুলো একসঙ্গে আটকে থাকে, অর্থাৎ stick together। এর সঙ্গে তাপ ধরে রাখা, বাঁকানো বা সহজে ভেঙে যাওয়ার সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন: ভিন্ন পদার্থের অণুর মধ্যে যে আকর্ষণ, তাকে বলে আসঞ্জন (adhesion)।
  10. ৩০. He stopped his car ____ when the light turned red.
    • ক. abruptly
    • খ. equitably
    • গ. ambiguously
    • ঘ. Incisively
    উত্তর: ক. abruptly
    বাতি লাল হলে চালক হঠাৎ করে গাড়ি থামিয়ে দেয়, এই অর্থটি প্রকাশ করে abruptly, যার মানে হঠাৎ বা আকস্মিকভাবে। বাকি শব্দগুলো এখানে মানায় না। ‘Equitably’ মানে ন্যায্যভাবে, ‘ambiguously’ মানে দ্ব্যর্থকভাবে বা অস্পষ্টভাবে, আর ‘incisively’ মানে তীক্ষ্ণ ও স্পষ্টভাবে।
    উদাহরণ:
    The speaker stopped abruptly when the power went out.
    মনে রাখুন: Abruptly-এর সমার্থক শব্দ suddenly।
  11. ৩১. The influence of the technological revolution in ____ and ____ the concentration of wealth and power in the hands of the few should worry us all.
    • ক. proliferating - diminishing
    • খ. undermining - neutralizing
    • গ. accelerating - intensifying
    • ঘ. aggravating - demolishing
    উত্তর: গ. accelerating - intensifying
    বাক্যের শেষে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি বিপ্লবের প্রভাব আমাদের সবাইকে চিন্তিত করা উচিত। তার মানে প্রযুক্তি বিপ্লব মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়াচ্ছে। এ অর্থ প্রকাশ করে accelerating (ত্বরান্বিত করা) ও intensifying (তীব্র করা), দুটিই মানে বাড়ানো। বাকি জোড়ার শব্দ বাক্যের অর্থ মেলায় না, যেমন ‘diminishing’ মানে কমানো, ‘neutralizing’ মানে নিষ্ক্রিয় করা আর ‘demolishing’ মানে ধ্বংস করা।
    মনে রাখুন: Concentration of wealth মানে সম্পদের কেন্দ্রীভবন বা অল্প কয়েকজনের হাতে জমা হওয়া।
  12. ৩২. Few people would care to take the negative side of the proposition that the women of the world are ____ and ____.
    • ক. admired - provoked
    • খ. oppressed - scorned
    • গ. rebuked - regaled
    • ঘ. slighted - celebrated
    উত্তর: খ. oppressed - scorned
    বাক্যটির অর্থ হলো, বিশ্বের নারীরা ____ ও ____, এ কথার বিপক্ষে খুব কম মানুষই দাঁড়াবে। কোনো বক্তব্যের বিরুদ্ধে কেউ তখনই দাঁড়াতে চায় না, যখন সেই বক্তব্য সবার কাছে সত্য বলে স্বীকৃত। নারীরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও অবজ্ঞাত, এটি সবাই মানে, তাই oppressed (নির্যাতিত) ও scorned (অবজ্ঞাত) জোড়াটি মেলে। ‘Regaled’ মানে আপ্যায়িত বা আনন্দিত করা, ‘celebrated’ মানে সম্মানিত, এগুলো সবার সম্মতির মতো সত্য নয়।
    মনে রাখুন: Slighted মানে অবহেলিত, আর rebuked মানে তিরস্কৃত।
  13. ৩৩. Anger, even when it is - has one virtue, it overcomes ____.
    • ক. sinful - sloth
    • খ. inevitable - desire
    • গ. unnecessary - malice
    • ঘ. intense - hate
    উত্তর: ক. sinful - sloth
    বাক্যটির প্রথম অংশ ‘Anger, even when it is ____’ বলছে, রাগ কোনো কোনো সময় খারাপ বা অন্যায়। তার পরে বলা হয়েছে, রাগের একটি গুণও আছে, আর তা হলো সে ____ জয় করে। সবচেয়ে সংগত জোড়া হলো sinful – sloth, অর্থাৎ রাগ পাপ হলেও সে আলস্যকে (sloth) জয় করে। রাগ এলে মানুষ কাজে নেমে পড়ে, তাই আলস্য কাটে। বাকি জোড়াগুলোয় প্রথম বা দ্বিতীয় শব্দটি অর্থ মেলায় না, যেমন ‘desire’ বা ‘hate’ রাগের দ্বারা জয় করার মতো কিছু নয়।
    মনে রাখুন: Sloth মানে আলস্য বা কুঁড়েমি, আর এটি সাতটি মারাত্মক পাপের একটি হিসেবেও পরিচিত।
  14. ৩৪. The word ‘dilly dally’ means –
    • ক. to dilute
    • খ. wait impatiently
    • গ. repeat
    • ঘ. waste time
    উত্তর: ঘ. waste time
    ‘Dilly-dally’ একটি ইডিয়ম, এর অর্থ দ্বিধা বা দেরি করে সময় নষ্ট করা (waste time)। যে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে বারবার সময় নষ্ট করে, তাকে এভাবে বোঝানো যায়। ‘Dilute’ মানে পাতলা করা, ‘wait impatiently’ মানে অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করা, আর ‘repeat’ মানে পুনরাবৃত্তি করা, এগুলোর কোনোটিই এর অর্থ নয়।
    উদাহরণ:
    Don't dilly-dally, we will miss the bus.
    মনে রাখুন: Dilly-dally-এর কাছাকাছি অর্থের শব্দ loiter, linger ও procrastinate।
  15. ৩৫. The word ‘Euphemism’ means –
    • ক. stating one thing like another
    • খ. description of a disagreeable thing by an agreeable name
    • গ. contrast of words is made in the same sentence
    • ঘ. a statement is made emphatic by overstatement
    উত্তর: খ. description of a disagreeable thing by an agreeable name
    ‘Euphemism’ হলো এমন একটি অলংকার, যেখানে কোনো অপ্রিয়, কঠোর বা অপ্রীতিকর বিষয়কে মোলায়েম ও ভদ্র ভাষায় প্রকাশ করা হয়। তাই এর সঠিক অর্থ description of a disagreeable thing by an agreeable name।
    উদাহরণ:
    ‘Passed away’ বলা হয় ‘died’-এর বদলে।
    ‘Senior citizen’ বলা হয় ‘old man’-এর বদলে।
    বাকি অপশনগুলো অন্য অলংকারের সংজ্ঞা। ‘stating one thing like another’ হলো রূপক বা উপমার কথা, ‘contrast of words in the same sentence’ হলো antithesis, আর ‘overstatement’ হলো অতিশয়োক্তি বা hyperbole।
  16. ৩৬. The passive form of the sentence ‘some children were helping the wounded man’-
    • ক. The wounded man was helped by some children
    • খ. The wounded man was helping some children
    • গ. The wounded man was being helped by some children
    • ঘ. The wounded man was to be helped by some children
    উত্তর: গ. The wounded man was being helped by some children
    মূল বাক্যটি ‘some children were helping the wounded man’ Past Continuous Tense-এ লেখা। এই কালের বাক্যকে Passive Voice-এ রূপান্তর করার সময় কর্মকে কর্তার জায়গায় বসাতে হয় এবং ‘was/were being + past participle’ ব্যবহার করতে হয়। তাই সঠিক বাক্য The wounded man was being helped by some children। বাকি অপশনগুলোতে কাল বা অর্থ ঠিক থাকে না। যেমন ‘was helping’ Active Voice-এর গঠন, আর ‘was to be helped’ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
    মনে রাখুন:
    Past Continuous Active: was/were + verb-ing।
    Past Continuous Passive: was/were + being + past participle।
  17. ৩৭. ‘Rumor is the most primitive way of spreading stories-by passing them on from mouth to mouth. But civilized countries in normal times have better Sources of news than rumor. They have radio, television, and newspapers. In times of stress and confusion, however, rumor emerges and becomes rife. At such times different kinds of news are in competition: the press, television, and radio versus the grape vine. Especially do rumors spread when war requires censorship on many important matters. The customary news Sources no longer give out enough information. Since the people cannot learn through legitimate channels all that they are anxious to learn, they pick up ‘news’ whenever they can and when this happens, rumor thrives. Rumors are often repeated even by those who do not believe the tales. There is a fascination about them. The reason is that the cleverly designed rumor gives expression to something deep in the hearts of the victims-the fears, suspicions, forbidden hopes, or daydreams which they hesitate to voice directly. Pessimistic rumors about defeat and disasters show that the people who repeat them are worried and anxious. Optimistic rumors about record production or peace soon coming paint to complacency or confidence-and often to overconfidence.’
    • ক. the nature of rumor
    • খ. the fascination of rumors
    • গ. rumor as primitive man’s newspaper
    • ঘ. the breeding places of rumor
    উত্তর: ক. the nature of rumor
    অনুচ্ছেদটির মূল আলোচ্য বিষয় হলো গুজব কী, কখন ও কেন ছড়ায়, আর তা মানুষের মনের ভয় ও আশার কী প্রকাশ করে। সাধারণ সময়ে রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্র থাকায় গুজবের দরকার পড়ে না, কিন্তু চাপ ও অনিশ্চয়তার সময়ে, বিশেষ করে যুদ্ধে সেন্সরশিপ থাকলে, গুজব ছড়ায়। তারপর লেখক ব্যাখ্যা করেছেন গুজবের প্রতি মানুষের আকর্ষণের কারণ এবং গুজব দেখে মানুষের মনোভাব কীভাবে বোঝা যায়। এভাবে পুরো অনুচ্ছেদে গুজবের স্বরূপই আলোচিত হয়েছে, তাই সবচেয়ে উপযুক্ত শিরোনাম the nature of rumor। অন্য অপশনগুলো অনুচ্ছেদের কেবল একটি অংশ বা সংকীর্ণ দিক ধরে।
    মনে রাখুন: Passage-এর শিরোনামের প্রশ্নে পুরো লেখার মূল ভাবটি ধরতে হয়, কোনো একটি অংশ নয়।
  18. ৩৮. The author suggests that rumors usually-
    • ক. alarm their hearers
    • খ. are hardy in their growth
    • গ. are disheartening
    • ঘ. can be suppressed by censorship
    উত্তর: খ. are hardy in their growth
    লেখক বলেছেন, চাপ ও অনিশ্চয়তার সময়ে গুজব দেখা দেয় এবং তা ‘rife’ হয়ে ওঠে, আর বৈধ সংবাদের অভাব হলে তা ‘thrives’ করে। অর্থাৎ গুজব সহজে জন্মায়, দ্রুত বাড়ে এবং কিছুতেই থামতে চায় না। তাই লেখকের মতে গুজব hardy in its growth, অর্থাৎ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী। অন্য অপশনের কথা লেখক বলেননি। বরং তিনি বলেছেন সেন্সরশিপই গুজবকে আরও বাড়িয়ে তোলে, তাই censorship দিয়ে গুজব দমন করা যায়, এ কথা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন: Rife মানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া, আর thrive মানে বেড়ে ওঠা বা সমৃদ্ধ হওয়া।
  19. ৩৯. The author states that during wartime the regular sources of news present only –
    • ক. optimistic reports
    • খ. pessimistic reports
    • গ. limited information
    • ঘ. government propaganda
    উত্তর: গ. limited information
    লেখক বলেছেন, যুদ্ধের সময় সেন্সরশিপ থাকে, তাই ‘the customary news sources no longer give out enough information’। অর্থাৎ নিয়মিত সংবাদমাধ্যম তখন সব তথ্য জানাতে পারে না, কেবল সীমিত তথ্যই দেয়। তাই সঠিক উত্তর limited information। আশাব্যঞ্জক বা হতাশাব্যঞ্জক সংবাদ কিংবা সরকারি প্রচারণার কথা অনুচ্ছেদে বলা হয়নি। আশাবাদী ও হতাশাবাদী গুজবের কথা অবশ্য এসেছে, কিন্তু সেগুলো সংবাদমাধ্যমের নয়, মুখে মুখে ছড়ানো গুজবের কথা।
    মনে রাখুন: Censorship মানে সংবাদ বা তথ্য প্রকাশের আগে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা কাটছাঁট।
  20. ৪০. Which of the following best describes the author’s personal attitude toward rumor?
    • ক. Excited enthusiasm
    • খ. Morbid curiosity
    • গ. Acute indignation
    • ঘ. Philosophical interest
    উত্তর: ঘ. Philosophical interest
    লেখক গুজব নিয়ে কোনো রাগ বা উত্তেজনা প্রকাশ করেননি। তিনি শান্তভাবে বিশ্লেষণ করেছেন গুজব কেন ছড়ায় এবং তা মানুষের ভয়, সন্দেহ ও আশার কী পরিচয় দেয়। এমন চিন্তাশীল ও নিরাসক্ত দৃষ্টিভঙ্গির নাম philosophical interest, অর্থাৎ বিষয়টি সম্পর্কে দার্শনিক ঔৎসুক্য। ‘Excited enthusiasm’ বা ‘acute indignation’ হলে লেখায় আবেগ বা ক্ষোভ ফুটে উঠত, আর ‘morbid curiosity’ মানে অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর কৌতূহল, যা এখানে নেই।
    মনে রাখুন: Attitude বা tone-এর প্রশ্নে লেখার ভাষা আবেগী না নিরপেক্ষ, তা লক্ষ করতে হয়।

গাণিতিক যুক্তি

  1. ৪১. পিতার বর্তমান বয়স পুত্রের বয়সের চারগুণ। ৬ বছর পূর্বে পিতার বয়স পুত্রের বয়সের দশগুণ ছিল। পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়স কত?
    • ক. ৫৬ এবং ১৪ বছর
    • খ. ৩২ এবং ৭ বছর
    • গ. ৩৬ এবং ৯ বছর
    • ঘ. ৪০ এবং ১০ বছর
    উত্তর: গ. ৩৬ এবং ৯ বছর
    পুত্রের বর্তমান বয়স x বছর ধরলে পিতার বয়স 4x বছর। ৬ বছর আগে পিতার বয়স ছিল 4x - 6 এবং পুত্রের বয়স x - 6। প্রশ্ন অনুযায়ী পিতার তখনকার বয়স পুত্রের দশগুণ, তাই:
    4x - 6 = 10(x - 6)
    4x - 6 = 10x - 60
    6x = 54, x = 9
    অতএব পুত্রের বয়স ৯ বছর আর পিতার বয়স 4 × 9 = ৩৬ বছর।
    যাচাই: ৬ বছর আগে পিতা ছিলেন ৩০ ও পুত্র ৩ বছরের, আর ৩০ = ৩ × ১০।
  2. ৪২. দুটি নল দ্বারা একটি চৌবাচ্চা ৮ মিনিটে পূর্ণ হয়। নল দুটি খুলে দেয়ার ৪ মিনিট পর প্রথম নলটি বন্ধ করে দেয়াতে চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হতে আরো ৬ মিনিট লাগল। প্রত্যেক নল দ্বারা পৃথকভাবে চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হতে কত সময় লাগবে?
    • ক. ১৮ এবং ১২ মিনিট
    • খ. ২৪ এবং ১২ মিনিট
    • গ. ১৫এবং ১২ মিনিট
    • ঘ. ১০ এবং ১৫ মিনিট
    উত্তর: খ. ২৪ এবং ১২ মিনিট
    দুটি নল একসঙ্গে পুরো চৌবাচ্চা ভরে ৮ মিনিটে, তাই ৪ মিনিটে ভরে 4/8 = 1/2 অংশ। বাকি 1/2 অংশ দ্বিতীয় নল একা ৬ মিনিটে ভরেছে, তাই দ্বিতীয় নল একা পুরোটা ভরতে সময় নেয় 6 × 2 = 12 মিনিট। এখন দুটি নল একসঙ্গে মিনিটে ভরে 1/8 অংশ, আর দ্বিতীয় নল ভরে 1/12 অংশ। তাই প্রথম নল মিনিটে ভরে 1/8 - 1/12 = 1/24 অংশ। অতএব প্রথম নলের পুরোটা ভরতে লাগে ২৪ মিনিট।
    উত্তর: প্রথম নলে ২৪ মিনিট, দ্বিতীয় নলে ১২ মিনিট।
  3. ৪৩. ঢাকা ও চট্টগ্রামের দূরত্ব ৩০০ কিমি। ঢাকা হতে একটি ট্রেন সকাল ৭টায় ছেড়ে গিয়ে বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম পৌঁছে। ট্রেনটির গড় গতিবেগ ঘণ্টায় কত ছিল?
    • ক. ২৪.৫ কিমি
    • খ. ৩৭.৫ কিমি
    • গ. ৪২.০ কিমি
    • ঘ. ৪৫.০ কিমি
    উত্তর: খ. ৩৭.৫ কিমি
    ট্রেনটি ঢাকা থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায় বিকেল ৩টায়। বিকেল ৩টা মানে ১৫টা, তাই সময় লেগেছে 15 - 7 = 8 ঘণ্টা। গড় গতিবেগ বের করতে মোট দূরত্বকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করতে হয়:
    গড় গতিবেগ = 300 ÷ 8 = 37.5 কিমি/ঘণ্টা।
    মনে রাখুন: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়, আর দূরত্ব = গতিবেগ × সময়।
  4. ৪৪. একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ভূমি ১৬ মি. এবং অপর দুটি বাহুর প্রতিটি ১০ মি. হলে ত্রিভুজটির ক্ষেত্রফল কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৪
    • ক. ৩৬ ব. মি.
    • খ. ৪২ ব. মি.
    • গ. ৪৮ ব. মি.
    • ঘ. ৫০ ব. মি.
    উত্তর: গ. ৪৮ ব. মি.
    সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের শীর্ষ থেকে ভূমির ওপর লম্ব আঁকলে লম্বটি ভূমিকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে। ভূমি ১৬ মিটার হলে প্রতি ভাগ ৮ মিটার। তখন একটি সমকোণী ত্রিভুজ পাওয়া যায়, যার অতিভুজ ১০ মিটার আর এক বাহু ৮ মিটার। পিথাগোরাসের সূত্রে লম্ব বা উচ্চতা:
    h = √(10² - 8²) = √(100 - 64) = √36 = 6 মিটার
    ক্ষেত্রফল = 1/2 × 16 × 6 = 48 বর্গমিটার।
    মনে রাখুন: ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = 1/2 × ভূমি × উচ্চতা।
  5. ৪৫. দুটি সংখ্যার অনুপাত ৫ঃ ৮। উভয়ের সাথে ২ যোগ করলে অনুপাতটি ২ঃ ৩ হয়। সংখ্যা দুটি কি কি?
    • ক. ৭ ও ১১
    • খ. ১২ ও ১৮
    • গ. ১০ ও ২৪
    • ঘ. ১০ ও ১৬
    উত্তর: ঘ. ১০ ও ১৬
    সংখ্যা দুটির অনুপাত ৫ : ৮, তাই সংখ্যা দুটিকে 5x ও 8x ধরা যায়। উভয়ের সঙ্গে ২ যোগ করলে অনুপাত হয় ২ : ৩, অর্থাৎ
    (5x + 2) / (8x + 2) = 2/3
    আড়গুণন করে 15x + 6 = 16x + 4, তাই x = 2।
    অতএব সংখ্যা দুটি 5 × 2 = ১০ এবং 8 × 2 = ১৬।
    যাচাই: (10 + 2) : (16 + 2) = 12 : 18 = 2 : 3।
  6. ৪৬. একটি সরল রেখার ওপর অঙ্কিত বর্গ ঐ সরল রেখার অর্ধেকের ওপর অঙ্কিত বর্গের কত গুণ?
    • ক. দ্বিগুণ
    • খ. তিনগুণ
    • গ. চারগুণ
    • ঘ. পাঁচগুণ
    উত্তর: গ. চারগুণ
    একটি সরলরেখার দৈর্ঘ্য a হলে তার ওপর অঙ্কিত বর্গের ক্ষেত্রফল a²। ওই রেখার অর্ধেকের দৈর্ঘ্য a/2, আর তার ওপর আঁকা বর্গের ক্ষেত্রফল:
    (a/2)² = a²/4
    তাই প্রথম বর্গের ক্ষেত্রফল ÷ দ্বিতীয় বর্গের ক্ষেত্রফল = a² ÷ (a²/4) = 4।
    অতএব বর্গটি অর্ধেকের ওপর অঙ্কিত বর্গের চারগুণ।
    মনে রাখুন: বাহু দ্বিগুণ হলে বর্গের ক্ষেত্রফল চারগুণ হয়, কারণ ক্ষেত্রফল বাহুর বর্গের সমানুপাতিক।
  7. ৪৭. x ও y-এর মানের গড় ৯ এবং z = ১২ হলে, x, y এবং z এর মানের গড় কত হবে?
    • ক. ৬
    • খ. ৯
    • গ. ১০
    • ঘ. ১২
    উত্তর: গ. ১০
    x ও y-এর গড় ৯, অর্থাৎ (x + y)/2 = 9। তাই x + y = 18। z-এর মান ১২ হলে x, y ও z-এর যোগফল 18 + 12 = 30। গড় বের করতে যোগফলকে রাশির সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হয়:
    গড় = 30 ÷ 3 = 10।
    মনে রাখুন: গড় = রাশিগুলোর যোগফল ÷ রাশির সংখ্যা।
  8. ৪৮. x/y এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল 2y/x হবে?
    • ক. (2y²-x²)/xy
    • খ. (x²-2y²)/xy
    • গ. (x²-2y)/xy
    • ঘ. (x²-y²)/xy
    উত্তর: ক. (2y²-x²)/xy
    যোগফল 2y/x এবং একটি রাশি x/y দেওয়া থাকলে অপর রাশি পেতে যোগফল থেকে দেওয়া রাশিটি বিয়োগ করতে হয়। তাই নির্ণেয় রাশি:
    2y/x - x/y
    হর সমান করতে xy দিয়ে ভাগ করে লিখলে
    = (2y × y - x × x) / xy
    = (2y² - x²) / xy।
    অর্থাৎ x/y-এর সঙ্গে (2y² - x²)/xy যোগ করলে যোগফল 2y/x হয়।
  9. ৪৯. বার্ষিক ৪.৫ % সরল সুদে কত টাকা বিনিয়োগ করলে ৪ বছরে তা ৮২৬ টাকা হবে?
    • ক. ৪৫৮ টাকা
    • খ. ৬৫০ টাকা
    • গ. ৭০০ টাকা
    • ঘ. ৭২৫ টাকা
    উত্তর: গ. ৭০০ টাকা
    বার্ষিক ৪.৫% সরল সুদে ৪ বছরে সুদ হয় আসলের 4.5 × 4 = 18%। তাই সুদে-আসল মিলিয়ে হয় আসলের 100 + 18 = 118%। প্রশ্ন অনুযায়ী এই মোট ৮২৬ টাকা, তাই:
    আসল = 826 × 100 / 118 = ৭০০ টাকা।
    যাচাই: ৭০০ টাকার ১৮% সুদ = ১২৬ টাকা, আর 700 + 126 = 826।
    মনে রাখুন: সুদ = আসল × হার × সময়, আর সুদাসল = আসল + সুদ।
  10. ৫০. x2+y2 = 8 & xy = 7 হলে (x+y)2 এর মান কত?
    • ক. ১৪
    • খ. ‌১৬
    • গ. ২২
    • ঘ. ৩০
    উত্তর: গ. ২২
    দুটি রাশির যোগফলের বর্গের একটি পরিচিত সূত্র আছে:
    (x + y)² = x² + y² + 2xy
    প্রশ্নে x² + y² = 8 আর xy = 7 দেওয়া আছে। তাই
    (x + y)² = 8 + 2 × 7 = 8 + 14 = 22।
    মনে রাখুন: (x - y)² = x² + y² - 2xy, এই সূত্রটিও প্রায়ই কাজে লাগে।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

  1. ৫১. কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন?
    • ক. ইউলিয়াম অটরেড
    • খ. ব্লেইসি প্যাসকেল
    • গ. হাওয়ার্ড এইকিন
    • ঘ. আবাকাস
    উত্তর: গ. হাওয়ার্ড এইকিন
    এই প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হাওয়ার্ড আইকেন (Howard Aiken)। তিনি ১৯৪৪ সালে আইবিএমের সহায়তায় ‘হার্ভার্ড মার্ক-১’ নামের প্রথম স্বয়ংক্রিয় ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি করেন। অন্য অপশনের লোকদের কাজ ছিল আলাদা। উইলিয়াম অটরেড স্লাইড রুল উদ্ভাবন করেন, ব্লেইজ প্যাসকেল ১৬৪২ সালে যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর বানান, আর অ্যাবাকাস একজন ব্যক্তি নন, এটি একটি প্রাচীন গণনা-যন্ত্র।
    মনে রাখুন: চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়, কারণ তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের নকশা করেছিলেন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

  1. ৫২. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কোন তারিখ থেকে?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ২৮১৫) ২০১৯
    • ক. জানুয়ারি ১০, ১৯৭৩
    • খ. ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২
    • গ. নভেম্বর ৪, ১৯৭২
    • ঘ. অক্টোবর ১১, ১৯৭২
    উত্তর: খ. ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭২
    বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত হয়, আর ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি খসড়া কমিটি এটি তৈরি করেছিল। তবে সংবিধান তখনই কার্যকর হয়নি। বিজয় দিবসের স্মরণে এটি কার্যকর করা হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে। তাই গৃহীত হওয়ার দিন আর কার্যকর হওয়ার দিন আলাদা।
    মনে রাখুন:
    সংবিধান গৃহীত হওয়ার দিন ৪ নভেম্বর, আর আমরা এই দিনটিকে সংবিধান দিবস হিসেবে জানি।
    সংবিধানের ভাগ ১১টি এবং অনুচ্ছেদ ১৫৩টি।
  2. ৫৩. বাংলাদেশে জেলার সংখ্যা কত?
    • ক. ৩৬টি
    • খ. ৫৪টি
    • গ. ৬৪টি
    • ঘ. ৪৪টি
    উত্তর: গ. ৬৪টি
    বাংলাদেশে মোট জেলার সংখ্যা ৬৪টি। ১৯৮০-এর দশকে মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার পর জেলার সংখ্যা ৬৪-তে দাঁড়ায়। প্রশাসনিক কাঠামোর ক্রম হলো বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন। বিভাগের সংখ্যা এখন ৮টি, যার সর্বশেষটি ময়মনসিংহ বিভাগ, ২০১৫ সালে গঠিত হয়।
    মনে রাখুন: ৩৬টি, ৪৪টি বা ৫৪টি বাংলাদেশের জেলার সংখ্যা নয়।
  3. ৫৪. বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রবর্তিত হয়?
    • ক. অষ্টম
    • খ. নবম
    • গ. একাদশ
    • ঘ. দ্বাদশ
    উত্তর: ঘ. দ্বাদশ
    ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আবার সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীতে সংসদীয় ব্যবস্থার বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু হয়েছিল। দ্বাদশ সংশোধনীর ফলে রাষ্ট্রপতি হলেন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, আর প্রকৃত ক্ষমতা পেলেন প্রধানমন্ত্রী।
    মনে রাখুন:
    চতুর্থ সংশোধনী (১৯৭৫): রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও একদলীয় ব্যবস্থা।
    ত্রয়োদশ সংশোধনী (১৯৯৬): তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।
    পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১): তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ।
  4. ৫৫. বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলনের সূচনাকারী কে?
    • ক. তিতুমীর
    • খ. হাজী মোহাম্মদ মহসীন
    • গ. হাজী শরীয়তউল্লাহ
    • ঘ. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
    উত্তর: গ. হাজী শরীয়তউল্লাহ
    বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন হাজী শরীয়তউল্লাহ। তিনি ফরিদপুরের মানুষ ছিলেন এবং মক্কায় কয়েক বছর থেকে ফিরে উনিশ শতকের শুরুর দিকে মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কারের এই আন্দোলন শুরু করেন। ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যকে আরবিতে ‘ফরজ’ বলা হয়, সেই ফরজ পালনের ওপর জোর দেওয়া থেকেই আন্দোলনের নাম হয় ফরায়েজী। পরে তাঁর ছেলে দুদু মিয়া আন্দোলনটিকে জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকের সংগ্রামে রূপ দেন।
    মনে রাখুন:
    তিতুমীর ওহাবি আন্দোলনের নেতা ছিলেন, তাঁর বাঁশের কেল্লা বিখ্যাত।
    হাজী মোহাম্মদ মহসীন দানবীর হিসেবে পরিচিত, তাঁর স্মৃতিতে মহসীন ফান্ড গঠিত হয়েছিল।
  5. ৫৬. বাংলার প্রাচীনতম জায়গা কোনটি?
    • ক. সোনারগাঁও
    • খ. বিক্রমপুর
    • গ. পুণ্ড্র
    • ঘ. গোপালগঞ্জ
    উত্তর: গ. পুণ্ড্র
    পুণ্ড্র বা পুণ্ড্রবর্ধন প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে পুরোনো জনপদ। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে। মহাস্থানগড়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। সোনারগাঁও, বিক্রমপুর ও গোপালগঞ্জ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পরবর্তী সময়ের নাম, পুণ্ড্রের মতো এত পুরোনো নয়।
    মনে রাখুন:
    মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নস্থানগুলোর একটি।
    বিক্রমপুর সেন ও চন্দ্র বংশের শাসনকালে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
    সোনারগাঁও মধ্যযুগে বাংলার রাজধানী ছিল।
  6. ৫৭. মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?
    • ক. সাতক্ষীরায়
    • খ. মেহেরপুরে
    • গ. চুয়াডাঙ্গায়
    • ঘ. নবাবগঞ্জে
    উত্তর: খ. মেহেরপুরে
    মুজিবনগর বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল সেখানকার আমবাগানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়, আর জায়গাটির নাম রাখা হয় মুজিবনগর। সেই সরকারকে আমরা মুজিবনগর সরকার বলি। এর রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম আর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
    মনে রাখুন: সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
  7. ৫৮. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার কোথায় আত্মসমর্পণ করে?
    • ক. রমনা পার্কে
    • খ. পল্টন ময়দানে
    • গ. তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
    • ঘ. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
    উত্তর: গ. তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
    ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে এই স্থানের নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। পাকিস্তানের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণের দলিলে সই করেন। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের পক্ষে সই করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেয়।
    মনে রাখুন:
    আত্মসমর্পণ করে প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য।
    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই স্বাধীনতা স্তম্ভ অবস্থিত।
  8. ৫৯. বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির ন্যূনতম বয়স কত?
    • ক. ১৬ বছর
    • খ. ১৮ বছর
    • গ. ২০ বছর
    • ঘ. ২১ বছর
    উত্তর: খ. ১৮ বছর
    বাংলাদেশের সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স হলে একজন নাগরিক ভোটার হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেন, তাই ভোটাধিকারের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। ভোটার হওয়ার জন্য আরও কিছু শর্ত আছে, যেমন নাগরিক হতে হয়, মানসিকভাবে সুস্থ হতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা হতে হয়।
    মনে রাখুন:
    সংসদ সদস্য হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।
    ভোটার তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন।
  9. ৬০. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা কত?
    • ক. ৫০
    • খ. ২৫
    • গ. ৩০
    • ঘ. ৪০
    উত্তর: গ. ৩০
    পরীক্ষার সময়ে (১৯৯৮ সাল) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি। এই আসন সংবিধানের দশম সংশোধনীর (১৯৯০) মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রাখা হয়েছিল। এই আসনে নারী সদস্যরা সরাসরি ভোটে নয়, সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। পরে আসনসংখ্যা বেড়েছে, চতুর্দশ সংশোধনীতে (২০০৪) হয়েছে ৪৫টি, আর পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) হয়েছে ৫০টি।
    মনে রাখুন: সংসদের সাধারণ আসন ৩০০টি।
  10. ৬১. বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য কত?
    • ক. ৪.৫ কিমি
    • খ. ৪.৮ কিমি
    • গ. ৫.২ কিমি
    • ঘ. ৬.২ কিমি
    উত্তর: খ. ৪.৮ কিমি
    যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার। সেতুটি টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ও সিরাজগঞ্জকে যুক্ত করেছে এবং ১৯৯৮ সালের জুন মাসে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ তৈরি হয়। এই সেতুর ওপর দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও গেছে।
    মনে রাখুন: পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, তাই ৬.২ কিলোমিটার বঙ্গবন্ধু সেতুর মাপ নয়।
  11. ৬২. বাংলাদেশের প্রথম ‘ইপিজেড’ কোথায় স্থাপিত হয়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
    • ক. সাভারে
    • খ. চট্টগ্রামে
    • গ. মংলায়
    • ঘ. ঈশ্বরদীতে
    উত্তর: খ. চট্টগ্রামে
    বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড (Export Processing Zone) চট্টগ্রামে স্থাপিত হয় ১৯৮৩ সালে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, রপ্তানি বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এই অঞ্চলগুলোর উদ্দেশ্য। ইপিজেডগুলো পরিচালনা করে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEPZA)।
    মনে রাখুন: চট্টগ্রামের পর ঢাকা ইপিজেড স্থাপিত হয় সাভারে, আর মংলা ও ঈশ্বরদীতেও ইপিজেড আছে।
  12. ৬৩. বাংলায় ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ওপর ছবি এঁকে বিখ্যাত হন কোন শিল্পী?
    • ক. এস এম সুলতান
    • খ. জয়নুল আবেদিন
    • গ. কামরুল আলম
    • ঘ. শফিউল আলম
    উত্তর: খ. জয়নুল আবেদিন
    ১৯৪৩ সালে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (মন্বন্তর) হয়, তার দৃশ্য কালি ও তুলিতে এঁকে বিখ্যাত হন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। ক্ষুধার্ত মানুষ, কঙ্কালসার শিশু আর মৃতদেহের ওপর কাকের ভিড়, এসব ছবি মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। এই স্কেচগুলো ‘দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা’ নামে পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    তাঁর আরেকটি বিখ্যাত চিত্রমালা ‘মনপুরা-৭০’, যা ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ওপর আঁকা।
    তিনি ১৯৪৮ সালে ঢাকায় আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
    এস এম সুলতান ‘লাল মিয়া’ নামে পরিচিত, আর কামরুল হাসান পটুয়া নামে খ্যাত।
  13. ৬৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কবে সম্পাদিত হয়?
    • ক. নভেম্বর ১২, ১৯৯৭
    • খ. ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭
    • গ. ডিসেম্বর ১৬, ১৯৯৭
    • ঘ. ডিসেম্বর ২৫, ১৯৯৭
    উত্তর: খ. ডিসেম্বর ২, ১৯৯৭
    ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষে স্বাক্ষর করেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। চুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান হয়। পরে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হন।
    মনে রাখুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি, প্রতিটিতেই আছে স্থানীয় সরকার পরিষদ।
  14. ৬৫. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সামরিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
    • ক. ৯ টি
    • খ. ১১ টি
    • গ. ১৫ টি
    • ঘ. ১৭ টি
    উত্তর: খ. ১১ টি
    মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালে ১১টি সামরিক সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। নিয়মিত যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সেক্টরগুলোকে আবার কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। ১০ নম্বর সেক্টরের নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক এলাকা ছিল না, এটি ছিল নৌ-কমান্ডোদের সেক্টর।
    মনে রাখুন:
    দুই নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ।
    চার নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর সি আর দত্ত।
  15. ৬৭. বাংলাদেশ কোন সালে কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে?
    • ক. ১৯৭২ সালে
    • খ. ১৯৭৩ সালে
    • গ. ১৯৭৪ সালে
    • ঘ. ১৯৭৫ সালে
    উত্তর: ক. ১৯৭২ সালে
    বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের (Commonwealth of Nations) সদস্যপদ লাভ করে। স্বাধীনতার পর এটি ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রথম দিকের সদস্যপদের একটি। কমনওয়েলথ মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাবেক উপনিবেশগুলোর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
    মনে রাখুন:
    জাতিসংঘের সদস্যপদ পায় ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
    জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে যোগ দেয় ১৯৭৩ সালে।
  16. ৬৯. মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়?
    • ক. ৪১ জন
    • খ. ৫৮ জন
    • গ. ৬৮ জন
    • ঘ. ৬২ জন
    উত্তর: গ. ৬৮ জন
    মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬৮ জনকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। এটি বীরশ্রেষ্ঠের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব।
    মনে রাখুন:
    বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন ৭ জন।
    বীর উত্তম ৬৮ জন।
    বীর বিক্রম ১৭৫ জন।
    বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
  17. ৭০. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এক ব্যক্তি দম্ভোক্তি করে, যা বলেছিল নিম্নরূপঃ ‘লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শক্র, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না।’ এ দম্ভোক্তিকারী ব্যাক্তি কে ছিল?
    • ক. জেনারেল নিয়াজী
    • খ. জেনারেল টিক্কা খান
    • গ. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
    • ঘ. জেনারেল হামিদ খান
    উত্তর: গ. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
    ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রেডিওতে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেন যে লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শত্রু, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না। আগের রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। অন্য তিনজন জেনারেলও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কিন্তু এই উক্তি প্রেসিডেন্টের।
    মনে রাখুন: টিক্কা খান ছিলেন সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক শাসক, আর নিয়াজী পরে সেখানকার সেনাপ্রধান হন।

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

  1. ৬৬. বাংলাদেশের অন্তর্গত সুন্দরবনের আয়তন কত?
    • ক. ২৪০০ বর্গমাইল
    • খ. ১৯৫০ বর্গমাইল
    • গ. ৯২৫ বর্গমাইল
    • ঘ. ২০০ বর্গমাইল
    উত্তর: ক. ২৪০০ বর্গমাইল
    বাংলাদেশের অংশে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার, যা প্রায় ২,৩০০ বর্গমাইল। অপশনের মধ্যে ২৪০০ বর্গমাইল এই মানের সবচেয়ে কাছে, কারণ ১৯৫০ বা ৯২৫ বর্গমাইল অনেক কম। সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, আর এর বড় অংশ বাংলাদেশে পড়েছে। বনটির নাম এসেছে সুন্দরী গাছ থেকে। এটি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে বিস্তৃত, আর রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাস।
    মনে রাখুন:
    ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।
    ১৯৯২ সালে এটি রামসার এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
  2. ৬৮. নিম্নলিখিত কোনটির ওপর বাংলাদেশ অবস্থিত?
    • ক. ট্রপিক অব ক্যপ্রিকন
    • খ. ট্রপিক অব ক্যানসার
    • গ. ইকুয়েটর
    • ঘ. আর্কটিক সার্কেল
    উত্তর: খ. ট্রপিক অব ক্যানসার
    কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) বাংলাদেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেছে। এটি ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর কল্পিত রেখা, আর বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে। তাই রেখাটি দেশকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করেছে। এ কারণেই বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। মকরক্রান্তি রেখা দক্ষিণ গোলার্ধে, নিরক্ষরেখা শূন্য ডিগ্রিতে, আর সুমেরু বৃত্ত অনেক উত্তরে, তাই এসবের ওপর বাংলাদেশ অবস্থিত নয়।
    মনে রাখুন: কর্কটক্রান্তি উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তরে, আর মকরক্রান্তি দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণে।
  3. ৭২. এশিয়ার দীর্ঘতম নদ কোনটি?
    • ক. হোয়াংহো
    • খ. ইয়াংসিকিয়াং
    • গ. গঙ্গা
    • ঘ. সিন্ধু
    উত্তর: খ. ইয়াংসিকিয়াং
    এশিয়ার দীর্ঘতম নদী চীনের ইয়াংসিকিয়াং (Yangtze), যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৩০০ কিলোমিটার। নদীটি তিব্বতের মালভূমি থেকে শুরু হয়ে চীনের ভেতর দিয়ে বয়ে পূর্ব চীন সাগরে পড়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম নদীগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়, নীল ও আমাজনের পরে। হোয়াংহো (পীত নদী) চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। গঙ্গা ও সিন্ধুও দীর্ঘ নদী, কিন্তু ইয়াংসির চেয়ে ছোট।
    মনে রাখুন: বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীল, আর বৃহত্তম নদী আমাজন, পানির পরিমাণের বিচারে।
  4. ৮৩. উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমারেখার বৈশিষ্ট্য কি?
    • ক. জ্যামিতিক সীমারেখা
    • খ. ঔপনিবেশিক সীমারেখা
    • গ. উপজাতিভিত্তিক সীমারেখা
    • ঘ. অচিহ্নিত সীমারেখা
    উত্তর: ক. জ্যামিতিক সীমারেখা
    উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সীমানা জ্যামিতিক ধরনের, অর্থাৎ বড় অংশই সোজা রেখায় টানা। এখানে সাহারা মরুভূমি এত বিশাল যে প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় নেই। ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো, যেমন ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ইতালি, এখানকার ভূমি ভাগ করার সময় স্থানীয় মানুষ বা প্রকৃতির দিকে না তাকিয়ে ম্যাপে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ধরে সোজা দাগ টেনেছিল। এই সীমানা পরে স্বাধীন দেশগুলোর সীমানা হয়ে যায়।
    মনে রাখুন: উপনিবেশকারীরা সীমানা টানলেও এই সীমারেখার ধরনটিকে বলা হয় জ্যামিতিক সীমারেখা।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

  1. ৭১. ‘যুদ্ধই জীবন, যুদ্ধই সর্বজনীন’ – এটি কার উক্তি?
    • ক. সালজার
    • খ. ফ্রাঙ্কো
    • গ. হিটলার
    • ঘ. মুসোলিনী
    উত্তর: গ. হিটলার
    ‘যুদ্ধই জীবন, যুদ্ধই সর্বজনীন’ উক্তিটি জার্মানির নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের বলে পরিচিত। তিনি মনে করতেন, সংঘাত আর যুদ্ধই জাতিগুলোর স্বাভাবিক নিয়ম এবং শক্তিশালী জাতি টিকে থাকে। এই চিন্তা থেকেই তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে নিয়ে যান। সালাজার, ফ্রাঙ্কো ও মুসোলিনীও একনায়ক ছিলেন, তবে এই উক্তি তাঁদের সঙ্গে জড়িত নয়।
    মনে রাখুন:
    হিটলার ছিলেন নাৎসি দলের নেতা, আর তাঁর আত্মজীবনীমূলক বইয়ের নাম ‘মাইন কাম্ফ’ (Mein Kampf)।
    মুসোলিনী ইতালির ফ্যাসিবাদী নেতা, আর ফ্রাঙ্কো স্পেনের।
  2. ৭৩. ঢাকাতে সমাপ্ত উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কয়টি দল অংশ নেয়?
    • ক. ৭ টি
    • খ. ৯ টি
    • গ. ১১ টি
    • ঘ. ১২ টি
    উত্তর: খ. ৯ টি
    ১৯৯৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দল অংশ নেয়। এটি ছিল আইসিসির প্রথম নক-আউট টুর্নামেন্ট, যার নাম পরে হয় আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশ তখনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ ছিল না, তাই আয়োজক হলেও দলটি এই টুর্নামেন্টে খেলেনি।
  3. ৭৪. আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা কে?
    • ক. এফ. এম. মার্কস
    • খ. ম্যাক্সওয়েবার
    • গ. রবার্ট প্রেসথাস
    • ঘ. কার্ল মার্কস
    উত্তর: খ. ম্যাক্সওয়েবার
    আমলাতন্ত্রের (Bureaucracy) প্রধান তাত্ত্বিক জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)। তিনি আমলাতন্ত্রের একটি আদর্শ রূপ বা মডেল তুলে ধরেন, যেখানে প্রশাসন চলে নিয়মনীতি, পদসোপান, শ্রমবিভাজন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের ওপর ভিত্তি করে। তাঁর মতে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বদলে নিয়ম মেনে চলাই এ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। কার্ল মার্কস ছিলেন সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ, আর এফ এম মার্কস ও রবার্ট প্রেসথাসও প্রশাসন নিয়ে লিখেছেন, কিন্তু আমলাতন্ত্রের আদর্শ মডেলের জন্য ওয়েবারই বিখ্যাত।
    মনে রাখুন: ওয়েবারের আমলাতন্ত্র তিন ধরনের কর্তৃত্বের একটি, আর তা হলো আইনগত-যুক্তিসংগত কর্তৃত্ব।
  4. ৭৫. সাহিত্যে ১৯৯৮ -এর নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছেন?
    • ক. অরুন্ধতি রায়
    • খ. সালমান রুশদী
    • গ. ভি এস নাইপল
    • ঘ. হোসে সারামাগো
    উত্তর: ঘ. হোসে সারামাগো
    ১৯৯৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান পর্তুগালের লেখক হোসে সারামাগো (José Saramago)। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘ব্লাইন্ডনেস’ (Blindness)। অন্য অপশনগুলোর পুরস্কারও আলাদা। ভি এস নাইপল ২০০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পান, অরুন্ধতী রায় ১৯৯৭ সালে ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কার পান, আর সালমান রুশদি বুকার পান ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’-এর জন্য।
    মনে রাখুন: সারামাগো পর্তুগিজ ভাষার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক।
  5. ৭৬. কোন দেশটি অতীতে কখনো অন্য কোনো দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়নি?
    • ক. থাইল্যান্ড
    • খ. মিয়ানমার
    • গ. ইন্দোনেশিয়া
    • ঘ. মালয়েশিয়া
    উত্তর: ক. থাইল্যান্ড
    থাইল্যান্ড (আগের নাম শ্যাম) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ, যা কখনো কোনো ইউরোপীয় শক্তির উপনিবেশ হয়নি। পূর্ব দিকের ফরাসি ইন্দোচীন আর পশ্চিমের ব্রিটিশ বার্মা, এই দুই শক্তির মাঝখানে শ্যাম একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল হিসেবে টিকে ছিল। বাকি তিন দেশই উপনিবেশ ছিল। মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া ব্রিটিশদের অধীনে ছিল, আর ইন্দোনেশিয়া ছিল ওলন্দাজদের উপনিবেশ।
    মনে রাখুন: ১৯৩৯ সালে শ্যামের নাম বদলে থাইল্যান্ড রাখা হয়।
  6. ৭৭. ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) -এর একক মুদ্রা কবে চালু হচ্ছে?
    • ক. ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯
    • খ. ১ জুলাই, ১৯৯৯
    • গ. ১ মার্চ, ২০০০
    • ঘ. ১ জুলাই, ২০০০
    উত্তর: ক. ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯
    ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো (Euro) চালু হয় ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি। তখন এটি শুধু হিসাব ও ব্যাংক লেনদেনের মুদ্রা ছিল। কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রা বাজারে আসে ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি। ১৯৯২ সালের মাস্ট্রিখ্ট চুক্তির মাধ্যমে একক মুদ্রার পথ তৈরি হয়েছিল, আর মুদ্রাটি নিয়ন্ত্রণ করে ফ্রাঙ্কফুর্টে অবস্থিত ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
    মনে রাখুন:
    ১৯৯৯ সালে ১১টি দেশ ইউরো গ্রহণ করে।
    যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও সুইডেন শুরুতে ইউরো গ্রহণ করেনি।
  7. ৭৮. চীনের ‘দ্বৈত অর্থনীতির’ ধারণা প্রধানত কোন বাস্তবতার নিরীখে গৃহীত?
    • ক. বাজার অর্থনীতিকে গ্রহণযোগ্য করা
    • খ. মতাদর্শগত ধারণার সমন্বয় সাধন
    • গ. হংকং-এর অর্থনীতিকে সচল রাখা
    • ঘ. তাইওয়ানকে চীনের অন্তর্ভুক্তকরণ
    উত্তর: গ. হংকং-এর অর্থনীতিকে সচল রাখা
    ১৯৯৭ সালে হংকং ব্রিটেনের কাছ থেকে চীনের হাতে ফিরে আসে। হংকংয়ের অর্থনীতি পুঁজিবাদী ও মুক্তবাজারভিত্তিক, আর চীনের মূল ভূখণ্ডে ছিল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। হংকংয়ের অর্থনীতিকে সচল রাখতে চীন ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ (One Country, Two Systems) নীতি গ্রহণ করে, যাতে একই দেশের মধ্যে দুই ধরনের অর্থনীতি পাশাপাশি চলতে পারে। তাই চীনের দ্বৈত অর্থনীতির ধারণার মূল কারণ ছিল হংকংয়ের অর্থনীতিকে সচল রাখা।
    মনে রাখুন:
    নীতিটির প্রস্তাবক ছিলেন চীনের নেতা দেং শিয়াওপিং।
    মাকাও পর্তুগালের হাত থেকে চীনে ফেরে ১৯৯৯ সালে।
  8. ৭৯. রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শহর কোনটি?
    • ক. সাইবেরিয়া
    • খ. ভ্লাদিভস্টক
    • গ. খায়বারভস্ক
    • ঘ. বোখারা
    উত্তর: খ. ভ্লাদিভস্টক
    রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বা দূরপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শহর ভ্লাদিভস্তক (Vladivostok)। প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এই শহর রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ঘাঁটি এবং ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথের শেষ স্টেশন। সাইবেরিয়া কোনো শহর নয়, এটি রাশিয়ার একটি বিশাল অঞ্চল। বোখারা আছে উজবেকিস্তানে, আর খাবারভস্ক রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের আরেকটি শহর হলেও ভ্লাদিভস্তকের চেয়ে ছোট।
    মনে রাখুন: ‘ভ্লাদিভস্তক’ নামের অর্থ ‘পূর্বের শাসক’।
  9. ৮০. কানাডার ফরাসি ভাষী জনগোষ্ঠী কোন অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক বাস করে?
    • ক. আলবার্টা
    • খ. কুইবেক
    • গ. মেনিটোবা
    • ঘ. নোভাস্কোশিয়া
    উত্তর: খ. কুইবেক
    কানাডার ফরাসিভাষী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কুইবেক প্রদেশে। কানাডার শুরুর দিকে ফরাসিরা এখানে বসতি গড়েছিল, আর ব্রিটিশদের অধীনে যাওয়ার পরও এরা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখে। কুইবেকে ফরাসি ভাষাই সরকারি ভাষা। কুইবেককে কানাডা থেকে আলাদা করার জন্য ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে গণভোটও হয়েছিল, কিন্তু দুবারই আলাদা হওয়ার প্রস্তাব হেরে যায়। আলবার্টা, মেনিটোবা বা নোভা স্কশিয়ায় ইংরেজিভাষীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
    মনে রাখুন: কুইবেকের রাজধানী কুইবেক সিটি, আর বৃহত্তম শহর মন্ট্রিয়ল।
  10. ৮১. কসোভো নগরীর সাথে সার্বীয়দের স্পর্শকাতর সম্পর্কের কারণ কি?
    • ক. এর রণকৌশলগতা গুরুত্ব
    • খ. এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি
    • গ. মুসলিম বিদ্বেষের প্রবণতা
    • ঘ. আলেবেনীয়দের ঔদ্ধত্য
    উত্তর: খ. এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি
    সার্বদের কাছে কসোভো শুধু একটি অঞ্চল নয়, তাদের জাতির ইতিহাস ও ধর্মের সঙ্গে জড়িত স্থান। এখানে মধ্যযুগের অনেক সার্ব অর্থোডক্স গির্জা ও মঠ আছে, আর ১৩৮৯ সালের কসোভো যুদ্ধের স্মৃতি তাদের জাতীয় ইতিহাসের কেন্দ্রে। সেই যুদ্ধে সার্বরা অটোমান তুর্কিদের সঙ্গে লড়েছিল। এসব কারণে কসোভোকে সার্বরা নিজেদের জাতির জন্মভূমি মনে করে। তাই কসোভোর সঙ্গে সার্বদের সম্পর্ক স্পর্শকাতর হওয়ার কারণ এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি।
    মনে রাখুন: কসোভোর বেশির ভাগ মানুষ আলবেনীয় বংশোদ্ভূত মুসলমান।
  11. ৮২. আফগানিস্তানের কোন শহরে তালিবানরা ইরানের কূটনীতিবিদদের হত্যা করেছে?
    • ক. মাজার-ই-শরীফ
    • খ. হেরাত
    • গ. জালালাবাদ
    • ঘ. কান্দাহার
    উত্তর: ক. মাজার-ই-শরীফ
    ১৯৯৮ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের উত্তরের শহর মাজার-ই-শরিফ দখল করে। সেই সময়ে শহরে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেটে কয়েকজন ইরানি কূটনীতিক নিহত হন। এতে ইরান ও তালেবানের মধ্যে যুদ্ধের মতো উত্তেজনা তৈরি হয়, আর ইরান আফগান সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে। হেরাত, জালালাবাদ ও কান্দাহার আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর হলেও কূটনীতিক হত্যার ঘটনা সেসব জায়গায় ঘটেনি।
    মনে রাখুন: তালেবান ১৯৯৬ সালে কাবুল দখল করে, আর তাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল কান্দাহার।
  12. ৮৪. কোন দেশে প্রথম আণবিক বোমা ফেলা হয়?
    • ক. ইতালি
    • খ. জার্মানি
    • গ. জাপান
    • ঘ. চীন
    উত্তর: গ. জাপান
    বিশ্বে প্রথম আণবিক বোমা ফেলা হয় জাপানের হিরোশিমা শহরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ‘লিটল বয়’ নামের ইউরেনিয়াম বোমাটি ফেলে। এর তিন দিন পরে, ৯ আগস্ট, নাগাসাকিতে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের প্লুটোনিয়াম বোমা ফেলা হয়। এর কিছুদিন পরেই জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে।
    মনে রাখুন: বোমা তৈরির মার্কিন গোপন প্রকল্পের নাম ছিল ম্যানহাটান প্রজেক্ট।
  13. ৮৫. নিম্নলিখিত কোন আঞ্চলিক/আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত?
    • ক. SAARC
    • খ. APEC
    • গ. ADB
    • ঘ. CIRDAP
    উত্তর: ঘ. CIRDAP
    এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্র (Centre on Integrated Rural Development for Asia and the Pacific, CIRDAP) একটি আন্তঃসরকার সংগঠন, যার সদর দপ্তর ঢাকায়। গ্রামীণ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করাই এর কাজ। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সদর দপ্তর অন্যত্র। সার্কের সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে, এডিবি ফিলিপাইনের ম্যানিলায়, আর এপেক-এর সচিবালয় সিঙ্গাপুরে।
    মনে রাখুন: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেকের (BIMSTEC) সচিবালয়ও ঢাকায় অবস্থিত।
  14. ৮৬. সার্ক কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
    • ক. ১৯৭৫ সালে
    • খ. ১৯৮৫ সালে
    • গ. ১৯৮৭ সালে
    • ঘ. ১৯৯০ সালে
    উত্তর: খ. ১৯৮৫ সালে
    সার্ক (SAARC, South Asian Association for Regional Cooperation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে। সার্ক গঠনের প্রস্তাব প্রথম দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আর প্রতিষ্ঠাকালে সদস্য ছিল সাতটি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।
    মনে রাখুন:
    প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
    আফগানিস্তান ২০০৭ সালে অষ্টম সদস্য হয়।
    সার্কের সচিবালয় কাঠমান্ডুতে।
  15. ৮৭. কোন দেশের একজন উপ-প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বরখাস্ত হয়েছেন?
    • ক. সিঙ্গাপুর
    • খ. থাইল্যান্ড
    • গ. ইন্দোনেশিয়া
    • ঘ. মালয়েশিয়া
    উত্তর: ঘ. মালয়েশিয়া
    ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ তাঁর উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্ত করেন। এশিয়ার তখনকার অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে নীতি নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল। বরখাস্তের কিছুদিন পরেই আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়, আর ঘটনাটি দেশটিতে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে। তাই সঠিক উত্তর মালয়েশিয়া।
    হালনাগাদ: আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২২ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন।
  16. ৮৮. ১৯৯০ এর দশকে ইউরোপের কোন দেশে জাতিসত্ত্বা সংঘাতের সমস্যাটির সমাপ্তি করেছে একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে?
    • ক. স্কটল্যান্ড
    • খ. আয়ারল্যান্ড
    • গ. নেদারল্যান্ড
    • ঘ. সুইজারল্যান্ড
    উত্তর: খ. আয়ারল্যান্ড
    উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন সংঘাত চলছিল। একদল চাইত উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকুক, আর আরেকদল চাইত আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মিশে যেতে। ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত গুড ফ্রাইডে চুক্তি (বেলফাস্ট চুক্তি) এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুলে দেয়। তাই আয়ারল্যান্ডই প্রশ্নের উত্তর। স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ড বা সুইজারল্যান্ডে এমন কোনো চুক্তি হয়নি।
    মনে রাখুন: গুড ফ্রাইডে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৮ সালের ১০ এপ্রিল।
  17. ৮৯. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব কোন মহাদেশের?
    • ক. এশিয়া
    • খ. আফ্রিকা
    • গ. ইউরোপ
    • ঘ. দক্ষিণ আমেরিকা
    উত্তর: খ. আফ্রিকা
    পরীক্ষার সময়ে (১৯৯৮ সাল) জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন ঘানার কফি আনান। ঘানা আফ্রিকা মহাদেশের দেশ, তাই উত্তর আফ্রিকা। কফি আনান ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০১ সালে জাতিসংঘের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
    হালনাগাদ: বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যিনি ইউরোপের দেশ পর্তুগালের নাগরিক এবং ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন।
  18. ৯০. ‘ম্যাকাও’ চীন সাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ যা কিনা একটি ইউরোপীয় দেশের কলোনি। ঐ ইউরোপীয় দেশটির নাম কি?
    • ক. নেদারল্যান্ড
    • খ. স্পেন
    • গ. পর্তুগাল
    • ঘ. ইউকে
    উত্তর: গ. পর্তুগাল
    ম্যাকাও চীনের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত, আর এটি দীর্ঘদিন পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল। ষোড়শ শতক থেকে পর্তুগিজরা সেখানে বাণিজ্য ও শাসন চালিয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্তুগাল ম্যাকাও চীনের কাছে হস্তান্তর করে। এর আগে ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন হংকং চীনকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। এখন ম্যাকাও চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল।
    মনে রাখুন: হংকং ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ, আর ম্যাকাও ছিল পর্তুগিজ উপনিবেশ।
  19. ৯১. কোন চুক্তি অনুসারে বসনিয়া সংকট সমাধানের পথ সুগম হয়েছিল?
    • ক. জেনেভা চুক্তি
    • খ. মাদ্রিদ চুক্তি
    • গ. ডেটন চুক্তি
    • ঘ. প্যারিস চুক্তি
    উত্তর: গ. ডেটন চুক্তি
    ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরে আলোচনার পর স্বাক্ষরিত ডেটন চুক্তির (Dayton Agreement) মাধ্যমে বসনিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটে। এই চুক্তি অনুযায়ী বসনিয়া-হার্জেগোভিনা একটি রাষ্ট্র থাকে, তবে এর ভেতরে দুটি অংশ তৈরি হয়: বসনিয়াক-ক্রোয়াট ফেডারেশন এবং সার্ব প্রজাতন্ত্র। চুক্তির আলোচনায় ছিলেন সার্বিয়ার স্লোবোদান মিলোশেভিচ, বসনিয়ার আলিয়া ইজেতবেগোভিচ ও ক্রোয়েশিয়ার ফ্রাঞ্জো তুজমান। অন্য চুক্তিগুলো আলাদা বিষয়ের।
    মনে রাখুন: চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে।

সাধারণ বিজ্ঞান

  1. ৯২. কোনটি তেজস্ক্রীয় পদার্থ নয়?
    • ক. লৌহ
    • খ. ইউরেনিয়াম
    • গ. প্লটোনিয়াম
    • ঘ. নেপচুনিয়াম
    উত্তর: ক. লৌহ
    যে মৌলের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল, সে নিজে থেকে ভেঙে তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছড়ায়, আর এই ধর্মকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে। ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম ও নেপচুনিয়াম এমন ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল। কিন্তু লোহার নিউক্লিয়াস খুবই স্থিতিশীল, তাই লোহা তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮৯৬ সালে হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
    মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।
  2. ৯৩. কোন বস্তুটির স্থিতিস্থাপকতা বেশি?
    • ক. রবার
    • খ. এলুমিনিয়াম
    • গ. লৌহ
    • ঘ. তামা
    উত্তর: গ. লৌহ
    কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে তার আকার বদলে যায়, আর বল সরিয়ে নিলে বস্তুটি যতটা জোরের সঙ্গে আগের আকারে ফিরে আসতে চায়, তার স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) ততটা বেশি। বিজ্ঞানীরা এটি মাপেন ইয়ং গুণাঙ্ক (Young's Modulus) দিয়ে। লোহা বা ইস্পাতের ইয়ং গুণাঙ্ক রাবার, তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি, তাই লোহার স্থিতিস্থাপকতা বেশি। রাবার সহজে লম্বা হয় বলে বেশি স্থিতিস্থাপক মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর স্থিতিস্থাপকতা কম।
    মনে রাখুন: ছোট বিকৃতিতে প্রযুক্ত পীড়ন ও বিকৃতির অনুপাতই ইয়ং গুণাঙ্ক।
  3. ৯৪. কোন পদার্থটি চৌম্বক পদার্থ নয়?
    • ক. কাঁচা লৌহ
    • খ. ইস্পাত
    • গ. এলুমিনিয়াম
    • ঘ. কোবাল্ট
    উত্তর: গ. এলুমিনিয়াম
    লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট চুম্বক দিয়ে জোরালোভাবে আকৃষ্ট হয়, তাই এদের চৌম্বক (ফেরোম্যাগনেটিক) পদার্থ বলে। ইস্পাত লোহা থেকে তৈরি, তাই সেও চৌম্বক পদার্থ। কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম চুম্বকের প্রতি এত সামান্য সাড়া দেয় যে একে চৌম্বক পদার্থ বলা হয় না, এটি আসলে দুর্বল প্যারাচৌম্বক পদার্থ।
    মনে রাখুন: কাঁচা লোহা সহজে চুম্বকিত হয় আবার সহজে চৌম্বকত্ব হারায়, আর ইস্পাত দেরিতে চুম্বকিত হয় কিন্তু চৌম্বকত্ব দীর্ঘদিন ধরে রাখে।
  4. ৯৫. যে মসৃণতলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে কি বলে?
    • ক. দর্পণ
    • খ. লেন্স
    • গ. প্রিজম
    • ঘ. বিম্ব
    উত্তর: ক. দর্পণ
    যে মসৃণ তলে আলো নিয়মিতভাবে প্রতিফলিত হয়, তাকে দর্পণ (Mirror) বলে। এমন তলে সমান্তরাল আলোকরশ্মি প্রতিফলনের পরও সমান্তরাল থাকে, আর তাই আমরা স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। অমসৃণ তলে আলো নানা দিকে ছড়িয়ে প্রতিফলিত হয়, তাকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে, সেখানে প্রতিবিম্ব তৈরি হয় না। লেন্স ও প্রিজমে আলো প্রতিফলিত নয়, প্রধানত প্রতিসরিত হয়।
    মনে রাখুন: প্রতিফলনের সূত্র অনুযায়ী আপতন কোণ সবসময় প্রতিফলন কোণের সমান।
  5. ৯৬. রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কি?
    • ক. গামা রশ্মি
    • খ. মাইক্রোওয়েভ
    • গ. অবলোহিত বিকিরণ
    • ঘ. আলোক তরঙ্গ
    উত্তর: খ. মাইক্রোওয়েভ
    রাডারে (RADAR, Radio Detection And Ranging) ব্যবহৃত তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ হলো মাইক্রোওয়েভ। রাডার মাইক্রোওয়েভ পাঠায়, আর কোনো বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে সেই তরঙ্গ ফিরে এলে তা ধরে বস্তুটির অবস্থান, দিক ও দূরত্ব নির্ণয় করা হয়। মাইক্রোওয়েভ মেঘ ও কুয়াশা ভেদ করে যেতে পারে, তাই আকাশ খারাপ থাকলেও উড়োজাহাজ ও জাহাজ শনাক্ত করা যায়।
    মনে রাখুন: ঘরের মাইক্রোওয়েভ ওভেনেও একই ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার হয়।
  6. ৯৭. মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কার করে কোন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পান?
    • ক. হেস
    • খ. গোল্ডস্টাইন
    • গ. রাদারফোর্ড
    • ঘ. আইনস্টাইন
    উত্তর: ক. হেস
    মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Ray) আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস (Victor Hess)। তিনি ১৯১২ সালে বেলুনে চড়ে অনেক উঁচুতে উঠে দেখান যে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকিরণের মাত্রা বাড়ে, অর্থাৎ রশ্মিটি মহাশূন্য থেকে আসছে। বাকি তিনজনও বিখ্যাত বিজ্ঞানী, কিন্তু তাঁদের আবিষ্কার আলাদা। গোল্ডস্টাইন ক্যানাল রশ্মি আবিষ্কার করেন, রাদারফোর্ড পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন, আর আইনস্টাইন আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য ১৯২১ সালে নোবেল পান।
    মনে রাখুন: ১৯৩৬ সালেই কার্ল অ্যান্ডারসন পজিট্রন আবিষ্কারের জন্য হেসের সঙ্গে নোবেল ভাগ করে নেন।
  7. ৯৮. তড়িৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে?
    • ক. এমপ্লিফায়ার
    • খ. জেনারেটর
    • গ. লাউড স্পিকার
    • ঘ. মাইক্রোফোন
    উত্তর: গ. লাউড স্পিকার
    লাউডস্পিকার (Loudspeaker) তড়িৎশক্তিকে শব্দশক্তিতে রূপান্তর করে। এর ভেতরে চুম্বকের কাছে একটি তারের কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে সেটি কাঁপতে থাকে, আর কুণ্ডলীর সঙ্গে যুক্ত পর্দা বা কোণ সেই কম্পনে বাতাসকে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে। অন্য যন্ত্রগুলোর কাজ আলাদা। মাইক্রোফোন উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ শব্দকে বিদ্যুৎ সংকেতে বদলায়, এমপ্লিফায়ার সংকেতের শক্তি বাড়ায়, আর জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে।
    মনে রাখুন: লাউডস্পিকার: তড়িৎ থেকে শব্দ। মাইক্রোফোন: শব্দ থেকে তড়িৎ।
  8. ৯৯. সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয় কোন যন্ত্র দিয়ে?
    • ক. ফ্যাদোমিটার
    • খ. জাইরো কম্পাস
    • গ. সাবমেরিন
    • ঘ. এনিওমিটার
    উত্তর: ক. ফ্যাদোমিটার
    সমুদ্রের গভীরতা মাপার যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার (Fathometer)। এটি পানির নিচে শব্দতরঙ্গ পাঠায় এবং সমুদ্রতলে ধাক্কা খেয়ে প্রতিধ্বনি ফিরে আসতে কত সময় লাগে, তা মাপে। শব্দ পানিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫০০ মিটার বেগে চলে, তাই গভীরতা = (শব্দের বেগ × সময়) ÷ 2। ভাগ দুই দিয়ে হয়, কারণ শব্দ যাওয়া ও ফিরে আসা, দুইবার পথ পাড়ি দিয়েছে। জাইরো কম্পাস দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়, আর সাবমেরিন একটি ডুবোজাহাজ, মাপার যন্ত্র নয়।
    মনে রাখুন: একই নীতিতে কাজ করে সোনার (SONAR), যা পানির নিচের বস্তু শনাক্ত করে।
  9. ১০০. কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়?
    • ক. থাইবোসিন
    • খ. গ্লুকাগন
    • গ. এড্রিনালিন
    • ঘ. ইনসুলিন
    উত্তর: ঘ. ইনসুলিন
    ইনসুলিন (Insulin) অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে নিঃসৃত হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের অভাব হলে বা এটি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, একেই ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus) বলে। গ্লুকাগন হরমোন উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়, আর অ্যাড্রিনালিনও রক্তে শর্করা বাড়াতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: ১৯২১ সালে ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।

অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান

১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন