২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ১৪ আগস্ট ২০০৯। এখানে ৯৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- গাণিতিক যুক্তি (১০)
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (১৯)
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (১০)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১০)
- ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (৩)
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (২০)
- সাধারণ বিজ্ঞান (২০)
গাণিতিক যুক্তি
- ১. ১০ থেকে ৬০ পর্যন্ত যে সকল মৌলিক সংখ্যার একক স্থানীয় অংক ৯ তাদের সমষ্টি কত?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ) ২০১৯
- ক. ১৪৬
- খ. ৯৯
- গ. ১০৫
- ঘ. ১০৭
উত্তর: ঘ. ১০৭
১০ থেকে ৬০-এর মধ্যে ৯ দিয়ে শেষ হওয়া সংখ্যা: ১৯, ২৯, ৩৯, ৪৯ ও ৫৯।
এদের মধ্যে 39 = 3 × 13 এবং 49 = 7 × 7, তাই এ দুটি মৌলিক নয়।
মৌলিক সংখ্যা ১৯, ২৯ ও ৫৯। তাদের যোগফল 19 + 29 + 59 = 107।
মনে রাখুন: মৌলিক সংখ্যার ঠিক দুটি গুণনীয়ক থাকে, ১ ও সংখ্যাটি নিজে। ২ একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা। - ২. ৪০ সংখ্যাটি a হতে ১১ কম। গাণিতিক আকারে প্রকাশ করলে কি হবে?
- ক. a + ১১ = ৪০
- খ. a + ৪০ = ১১
- গ. a = ৪০ + ১১
- ঘ. a = ৪০ + ১
উত্তর: গ. a = ৪০ + ১১
‘৪০ সংখ্যাটি a থেকে ১১ কম’ কথার অর্থ হলো a-এর চেয়ে ১১ কমালে ৪০ পাওয়া যায়, অর্থাৎ a - 11 = 40। দুই পক্ষে ১১ যোগ করলে a = 40 + 11। তাই সঠিক গাণিতিক রূপ a = 40 + 11।
মনে রাখুন: ‘x থেকে y কম’ মানে x - y, আর ‘x-এর চেয়ে y বেশি’ মানে x + y। - ৩. পাঁচ অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ও চার অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যার অন্তর কত?
- ক. ৯
- খ. ১০
- গ. ১
- ঘ. -১
উত্তর: গ. ১
পাঁচ অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ১০০০০, আর চার অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যা ৯৯৯৯। এদের অন্তর 10000 - 9999 = 1।
মনে রাখুন:
এক অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ০ বা ১ (ধরনের ওপর নির্ভর করে), আর বৃহত্তম ৯।
n অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যা 10ⁿ - 1 এবং ক্ষুদ্রতম সংখ্যা 10ⁿ⁻¹। - ৪. ১.১, .০১, ও .০০১১ -এর সমষ্টি কত?
- ক. ০.০১১১১
- খ. ১.১১১১
- গ. ১১.১১০১
- ঘ. ১.১০১১১
উত্তর: খ. ১.১১১১
দশমিক সংখ্যা যোগ করার সময় দশমিক বিন্দুগুলো এক সারিতে রাখতে হয়।
1.1000
0.0100
0.0011
যোগফল = 1.1111। - ৫. পরপর তিনটি সংখ্যার গুণফল ১২০ হলে তাদের যোগফল হবে-
- ক. ৯
- খ. ১২
- গ. ১৪
- ঘ. ১৫
উত্তর: ঘ. ১৫
পরপর তিনটি সংখ্যার গুণফল 120। 120-কে উৎপাদকে ভাঙলে 120 = 4 × 5 × 6, অর্থাৎ সংখ্যা তিনটি ৪, ৫ ও ৬। তাদের যোগফল 4 + 5 + 6 = 15।
মনে রাখুন: পরপর তিনটি সংখ্যার মাঝেরটির ঘন 120-এর কাছাকাছি হবে, এখানে 5³ = 125। - ৬. Which of the following integers has the most divisors?
- ক. 88
- খ. 91
- গ. 95
- ঘ. 99
উত্তর: ক. 88
কোনো সংখ্যাকে মৌলিক উৎপাদকে ভাঙলে গুণনীয়কের সংখ্যা বের করা যায়। N = pᵃ × qᵇ হলে গুণনীয়কের সংখ্যা (a + 1)(b + 1)।
88 = 2³ × 11, গুণনীয়ক (3 + 1)(1 + 1) = 8।
91 = 7 × 13, গুণনীয়ক 4।
95 = 5 × 19, গুণনীয়ক 4।
99 = 3² × 11, গুণনীয়ক (2 + 1)(1 + 1) = 6।
তাই 88-এর গুণনীয়ক সবচেয়ে বেশি। - ৭. Successive discount of 20% and 15% are equal to a single discount of-
- ক. 30%
- খ. 32%
- গ. 34%
- ঘ. 35%
উত্তর: খ. 32%
পরপর দুটি ছাড়কে একটি ছাড়ে পরিণত করতে হলে দামের হিসাব করতে হয়। ধরি আসল দাম 100 টাকা।
২০% ছাড়ের পর দাম = 100 × 0.80 = 80।
আরও ১৫% ছাড়ের পর দাম = 80 × 0.85 = 68।
মোট ছাড় = 100 - 68 = 32%।
মনে রাখুন: সূত্র a + b - ab/100 = 20 + 15 - 3 = 32%। - ৮. City B is 5 miles east of city A. City C is 10 miles southeast of city B. Which of the following is the closest to the distance from city A to City C?
- ক. 11 miles
- খ. 12 miles
- গ. 13 miles
- ঘ. 14 miles
উত্তর: ঘ. 14 miles
A শহরকে মূলবিন্দু ধরি। B শহর A-এর ৫ মাইল পূর্বে, তাই B = (5, 0)। C শহর B-এর ১০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে, অর্থাৎ পূর্বে ও দক্ষিণে ৪৫° কোণে। তাই পূর্ব ও দক্ষিণে প্রতি দিকে 10/√2 ≈ 7.07 মাইল যায়। C = (12.07, -7.07)।
A থেকে C-র দূরত্ব = √(12.07² + 7.07²) = √(145.7 + 50) = √195.7 ≈ 14 মাইল। - ৯. ৪ টি ১ টাকার নোট ও ৮ টি ২ টাকার নোট একত্রে ৮টি ৫ টাকার নোটের কত অংশ?
- ক. ১/৪
- খ. ১/২
- গ. ১/৮
- ঘ. ১/১৬
উত্তর: খ. ১/২
প্রথমে সব নোটের মোট টাকা বের করে নিতে হবে। ৪টি ১ টাকার নোটে হয় 4 × 1 = 4 টাকা, আর ৮টি ২ টাকার নোটে হয় 8 × 2 = 16 টাকা। তাই মোট 4 + 16 = 20 টাকা। এখন ৮টি ৫ টাকার নোটে আছে 8 × 5 = 40 টাকা। সুতরাং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশের 20/40 = 1/2 ভাগ।
মনে রাখুন: ‘কত অংশ’ জানতে চাইলে যেটির অংশ জানতে চাই, তাকে ভাজক করে অন্যটিকে ভাজ্য ধরতে হয়, অর্থাৎ ভগ্নাংশের হর হবে যার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। - ১০. 1.16 এর সাধারণ ভগ্নাংশ কোনটি?
- ক. 1(1/6)
- খ. 1(8/45)
- গ. 1(16/99)
- ঘ. 1(4/25)
উত্তর: ঘ. 1(4/25)
দশমিক সংখ্যাকে সাধারণ ভগ্নাংশে লিখতে দশমিকের পরের অঙ্ক যতটি, হর হয় ১-এর পর ততটি শূন্য। এখানে দশমিকের পরে ২টি অঙ্ক, তাই 1.16 = 116/100। লব ও হরকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে 116/100 = 29/25। এখন 29 ÷ 25 = 1 ভাগশেষ 4, তাই 29/25 = 1(4/25)।
যাচাই: 4/25 = 0.16, তাই 1 + 0.16 = 1.16।
মনে রাখুন: আবৃত্ত দশমিকে (যেমন 1.1666…) উত্তর আলাদা হতো। এখানে সংখ্যাটি সসীম দশমিক, তাই এই নিয়ম খাটে।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
- ১১. Honey is ____ sweet.
- ক. very
- খ. too much
- গ. much too
- ঘ. Excessive
উত্তর: ক. very
‘Very’ একটি intensifier, যা adjective-এর আগে বসে তার মাত্রা বাড়ায়, কিন্তু কোনো নেতিবাচক ভাব আনে না। তাই ‘Honey is very sweet’ বাক্যটি ঠিক। ‘Too’ বা ‘much too’ বোঝায় যে মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি এবং তা অবাঞ্ছিত। মধু মিষ্টি হওয়া সাধারণ ব্যাপার, এখানে অতিরিক্ত বোঝানোর কিছু নেই। ‘Too much’ বসে noun বা verb-এর সঙ্গে, adjective-এর সঙ্গে নয়, আর ‘Excessive’ নিজেই একটি adjective, যা এখানে বসে না।
মনে রাখুন: Too + adjective বোঝায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি, যেমন ‘The tea is too hot to drink.’ - ১২. Your conduct admits ____ no excuse.
- ক. to
- খ. for
- গ. of
- ঘ. At
উত্তর: গ. of
‘Admit of’ একটি বাগধারা, যার মানে সুযোগ বা অবকাশ রাখা। তাই ‘Your conduct admits of no excuse’ মানে তোমার আচরণের পক্ষে কোনো অজুহাত দেখানোর সুযোগ নেই। এখানে অন্য preposition বসালে অর্থ বদলে যেত: ‘admit to’ মানে স্বীকার করা, আর ‘admit into’ মানে প্রবেশ করতে দেওয়া।
উদাহরণ: The problem admits of only one solution. - ১৩. I shall not ____ the examination this year.
- ক. give
- খ. appear at
- গ. sit
- ঘ. go for
উত্তর: খ. appear at
Examination-এর সঙ্গে সাধারণ চলতি রূপ ‘appear at’ বা ‘appear in’, আর ‘sit for’ও বলা হয়। তাই ‘I shall not appear at the examination this year’ ঠিক। অন্য বিকল্পগুলো কেন ঠিক নয়: ‘give’ বসালে অর্থ হতো পরীক্ষা নেওয়া, দেওয়া নয়। ‘Sit’-এর পরে for না থাকায় বাক্য অসম্পূর্ণ হয়। ‘Go for’ অর্থ কিছু বেছে নেওয়া বা চেষ্টা করা।
মনে রাখুন: ‘Take an examination’ বা ‘sit for an examination’ বলা যায়, আবার ‘appear at/in an examination’ও। - ১৪. They travelled to Savar-
- ক. on foot
- খ. by walking
- গ. on their feet
- ঘ. by foot
উত্তর: ক. on foot
‘On foot’ একটি স্থির বাক্যাংশ, যার মানে পায়ে হেঁটে। তাই ‘They travelled to Savar on foot’ ঠিক। যানবাহনের ক্ষেত্রে আমরা বলি ‘by bus’, ‘by car’, ‘by train’, কিন্তু হাঁটার বেলায় ‘by foot’ বা ‘by walking’ বলা যায় না, বলতে হয় ‘on foot’।
মনে রাখুন:
Travel বোঝাতে by + যানবাহন, যেমন by air, by sea।
কিন্তু ‘on horseback’, ‘on foot’-এ on বসে। - ১৫. He said that he ____ be unable to come.আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (শিক্ষাবিজ্ঞানসহ) ২০১৯
- ক. will
- খ. shall
- গ. should
- ঘ. would
উত্তর: ঘ. would
বক্তার কথা পরোক্ষ উক্তিতে (Indirect speech) প্রকাশ করার সময় reporting verb অতীত কালের হলে ভেতরের verb-ও অতীতমুখী হয়। এখানে ‘He said’ অতীত, তাই সরাসরি উক্তির ‘will’ পরোক্ষ উক্তিতে ‘would’ হয়। তাই ‘He said that he would be unable to come’ ঠিক।
মনে রাখুন: পরোক্ষ উক্তিতে will-এর জায়গায় would, can-এর জায়গায় could, may-এর জায়গায় might হয়।
উদাহরণ: She said, “I will go.” → She said that she would go. - ১৬. Neither Rini nor Simi ____ qualified for the job.
- ক. are
- খ. is
- গ. were
- ঘ. Had
উত্তর: খ. is
‘Neither … nor’ গঠনে ক্রিয়া কাছের কর্তার সঙ্গে সংগতি রাখে। এখানে কাছের কর্তা ‘Simi’, যা একবচন, তাই ক্রিয়া হবে ‘is’। বাক্যটির পূর্ণ রূপ ‘Neither Rini nor Simi is qualified for the job’। ‘Are’ বা ‘were’ বহুবচন কর্তার সঙ্গে বসে, আর ‘had’ বসালে বাক্য অসম্পূর্ণ হয়।
মনে রাখুন: Either … or এবং neither … nor-এর বেলায়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
উদাহরণ: Neither the teachers nor the principal was present. - ১৭. He said that he ____ the previous day.
- ক. has come
- খ. had come
- গ. came
- ঘ. Arrived
উত্তর: খ. had come
‘The previous day’ বা ‘the day before’ বোঝায় যে ঘটনাটি ছিল বক্তা যে সময়ে কথা বলছেন, তার আগে। পরোক্ষ উক্তিতে এমন ক্ষেত্রে সরল অতীত পরিবর্তিত হয়ে past perfect হয়। তাই ‘He said that he had come the previous day’ ঠিক। এখানে ‘has come’ present perfect, যা অতীতের সময়ের সঙ্গে মেলে না, আর ‘came’ বা ‘arrived’ কালের পরিবর্তনের নিয়ম মানে না।
মনে রাখুন: পরোক্ষ উক্তিতে yesterday হয় the previous day, tomorrow হয় the next day, now হয় then। - ১৮. He watched the boat ____ down the river.
- ক. to float
- খ. floating
- গ. was floating
- ঘ. had floated
উত্তর: খ. floating
‘Watch’, ‘see’, ‘hear’-এর মতো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বোঝার ক্রিয়ার পরে object-এর সঙ্গে verb-ing বা present participle বসে, যদি কাজটি চলমান অবস্থায় দেখা বা শোনা হয়। তাই ‘He watched the boat floating down the river’ ঠিক। ‘Floating’ নৌকার ভাসার চলমান অবস্থাটি বোঝায়। ‘To float’ বসলে গঠন ভুল হয়, আর ‘was floating’ বা ‘had floated’ বসলে বাক্যে দুটি আলাদা ক্রিয়া দাঁড়ায়, যা এখানে চলে না।
মনে রাখুন: কাজটি সম্পূর্ণ দেখা বোঝাতে base verb ব্যবহার করা যায়, যেমন ‘I saw him cross the road.’ - ১৯. ‘Sky’ is to ‘bird’ as ‘water’ is to-
- ক. feather
- খ. fish
- গ. boat
- ঘ. Lotus
উত্তর: খ. fish
এই জোড়ায় সম্পর্কটি হলো কোনো প্রাণী যে পরিবেশে চলাফেরা বা বাস করে। পাখি আকাশে ওড়ে, আর মাছ পানিতে সাঁতরায়। তাই ‘Sky’ is to ‘bird’ as ‘water’ is to ‘fish’। ‘Feather’ পাখির অংশ, ‘boat’ জড় বস্তু, আর ‘lotus’ পানিতে জন্মায় কিন্তু চলে না।
মনে রাখুন: এই ধরনের analogy প্রশ্নে আগে প্রথম জোড়ার সম্পর্ক ঠিক করে নিতে হয়, তারপর সেটি অন্য জোড়ায় বসিয়ে দেখতে হয়। - ২০. ‘Good’ is to ‘bad’ as ‘white’ is to-
- ক. dark
- খ. black
- গ. grey
- ঘ. Ebony
উত্তর: খ. black
‘Good’ ও ‘bad’ বিপরীতার্থক শব্দ। তাই একই সম্পর্ক ধরে ‘white’-এর বিপরীত শব্দ ‘black’। ‘Dark’ মানে অন্ধকার বা গাঢ়, ‘grey’ ধূসর রং, আর ‘ebony’ কালো রঙের একধরনের শক্ত কাঠ। এগুলো সরাসরি বিপরীত নয়।
মনে রাখুন: Antonym বা বিপরীত শব্দ খুঁজতে হলে একেবারে সরাসরি বিপরীত অর্থের শব্দ বেছে নিতে হয়। - ২১. ‘Botany’ is to ‘plants’ as ‘Zoology’ is to-
- ক. flowers
- খ. trees
- গ. dear
- ঘ. animals
উত্তর: ঘ. animals
Botany হলো উদ্ভিদ নিয়ে পড়াশোনার বিজ্ঞান, আর Zoology হলো প্রাণী নিয়ে পড়াশোনার বিজ্ঞান। তাই সম্পর্কটি ‘বিজ্ঞানের শাখা ও তার আলোচ্য বিষয়’। এই সম্পর্কে ‘Zoology’-র পাশে বসবে ‘animals’। ‘Flowers’ ও ‘trees’ উদ্ভিদের উদাহরণ, প্রাণীর নয়, আর ‘deer’ একটি নির্দিষ্ট প্রাণী, সব প্রাণী নয়।
মনে রাখুন:
Botany উদ্ভিদবিদ্যা, Zoology প্রাণিবিদ্যা, Ecology বাস্তুবিদ্যা। - ২২. The bad news struck him like a bolt from the-আরও এসেছে: গণপূর্ত অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০১৭
- ক. sky
- খ. heavens
- গ. firmament
- ঘ. blue
উত্তর: ঘ. blue
‘A bolt from the blue’ একটি idiom, যার অর্থ আকস্মিক, অপ্রত্যাশিত ঘটনা। মেঘহীন নীল আকাশ থেকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মানুষ যেমন চমকে যায়, তেমনি কোনো হঠাৎ আসা দুঃসংবাদকে এভাবে বলা হয়। তাই ‘The bad news struck him like a bolt from the blue’ ঠিক।
উদাহরণ: His resignation came as a bolt from the blue. - ২৩. When one is ‘pragmatic’ he is being-
- ক. wasteful
- খ. productive
- গ. practical
- ঘ. Fussy
উত্তর: গ. practical
Pragmatic শব্দের অর্থ বাস্তববাদী, অর্থাৎ যে মানুষ কল্পনা বা আদর্শ নিয়ে বসে না থেকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কাজ করে। তাই বাক্যে ‘practical’ বসে। Wasteful মানে অপচয়ী, productive মানে ফলপ্রসূ, আর fussy মানে খুঁতখুঁতে।
মনে রাখুন:
Pragmatic-এর বিপরীত শব্দ idealistic বা impractical।
Pragmatism মানে বাস্তববাদ। - ২৪. Into the ____ of death rode the six hundred.
- ক. city
- খ. tunnel
- গ. road
- ঘ. valley
উত্তর: ঘ. valley
এই বাক্যটি ব্রিটিশ কবি আলফ্রেড টেনিসনের বিখ্যাত কবিতা ‘The Charge of the Light Brigade’ থেকে নেওয়া: ‘Into the valley of Death rode the six hundred.’ কবিতাটি ১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে বালাক্লাভার যুদ্ধে ব্রিটিশ লাইট ব্রিগেডের বীরত্বপূর্ণ কিন্তু আত্মঘাতী আক্রমণ নিয়ে লেখা। তাই ফাঁকা স্থানে বসে ‘valley’।
মনে রাখুন: টেনিসন ভিক্টোরীয় যুগের প্রধান কবি, তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা ‘In Memoriam’। - ২৫. To be or not to be, that is the ____.
- ক. meaning
- খ. question
- গ. answer
- ঘ. Issue
উত্তর: খ. question
‘To be, or not to be, that is the question’ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক ‘Hamlet’-এর বিখ্যাত স্বগতোক্তি। এখানে যুবরাজ হ্যামলেট বেঁচে থাকা ও মৃত্যুর মধ্যে কোনটি শ্রেয়, সেই দ্বিধা নিয়ে ভাবছেন। তাই ফাঁকা স্থানে বসে ‘question’।
মনে রাখুন:
শেক্সপিয়রের চার বিখ্যাত ট্র্যাজেডি Hamlet, Othello, King Lear ও Macbeth।
‘Hamlet’ নাটকটি আনুমানিক ১৬০০ সালের দিকে রচিত। - ২৬. I have a ____ that one day this nation will live out the true meaning of its creed that all men are created equal.
- ক. desire
- খ. hope
- গ. dream
- ঘ. Wish
উত্তর: গ. dream
‘I have a dream that one day this nation will rise up and live out the true meaning of its creed: we hold these truths to be self-evident, that all men are created equal’ কথাটি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত ভাষণ ‘I Have a Dream’ থেকে নেওয়া। তিনি ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সামনে এই ভাষণ দেন। তাই ফাঁকা স্থানে বসে ‘dream’।
মনে রাখুন: মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। - ২৭. Who wrote the two famous novels, ‘David Copperfield’ and ‘The Tale of two Cities’?
- ক. Thomas Hardy
- খ. Jane Austen
- গ. George Eliot
- ঘ. Charles Dickens
উত্তর: ঘ. Charles Dickens
‘David Copperfield’ (১৮৫০) ও ‘A Tale of Two Cities’ (১৮৫৯) দুটিই ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের রচনা। ভিক্টোরীয় যুগের সমাজ, দারিদ্র্য ও অবিচার ছিল তাঁর লেখার বিষয়। ‘A Tale of Two Cities’-এর পটভূমি ফরাসি বিপ্লব।
মনে রাখুন:
ডিকেন্সের অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস Oliver Twist, Great Expectations ও Hard Times।
টমাস হার্ডির ‘Tess of the d’Urbervilles’, জেন অস্টেনের ‘Pride and Prejudice’ ও জর্জ এলিয়টের ‘Middlemarch’ অন্য লেখকের রচনা। - ২৮. Who wrote the plays, ‘The Tempest’ and ‘The Mid Summer Night’s Dream’?
- ক. Ben Johnson
- খ. Christopher Marlowe
- গ. John Dryden
- ঘ. William Shakespeare
উত্তর: ঘ. William Shakespeare
‘The Tempest’ ও ‘A Midsummer Night’s Dream’ দুটিই উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক। ‘A Midsummer Night’s Dream’ তাঁর প্রথম দিকের কমেডি আর ‘The Tempest’ তাঁর শেষ দিকের রচনা, যাকে রোমান্স ধরনের নাটক বলা হয়। অন্য বিকল্পের লেখকদের পরিচিত রচনা আলাদা: বেন জনসনের ‘Volpone’, ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘Doctor Faustus’ ও জন ড্রাইডেনের ‘All for Love’।
মনে রাখুন: শেক্সপিয়রের জন্ম ১৫৬৪ সালে ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-এভনে। - ৩০. He had a _____ headache.
- ক. strong
- খ. acute
- গ. serious
- ঘ. bad
উত্তর: ঘ. bad
ইংরেজিতে কিছু শব্দ স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে বসে, যাকে collocation বলে। মাথাব্যথা বোঝাতে স্বাভাবিক বাক্যাংশ ‘a bad headache’ বা ‘a severe headache’। ‘Strong headache’ বা ‘serious headache’ সাধারণত বলা হয় না। ‘Acute’ চিকিৎসাশাস্ত্রের শব্দ, সাধারণ কথাবার্তায় তা এখানে স্বাভাবিক শোনায় না।
মনে রাখুন:
Strong tea, heavy rain, bad cold, high temperature হলো স্বাভাবিক collocation।
উদাহরণ: He stayed home because he had a bad headache.
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
- ২৯. কম্পিউটারের স্থায়ী স্মৃতিশক্তিকে কি বলে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৭, এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. RAM
- খ. ROM
- গ. হার্ডওয়্যার
- ঘ. সফ্টওয়্যার
উত্তর: খ. ROM
ROM-এর পুরো নাম Read Only Memory। এর ভেতরের তথ্য কারখানাতেই লেখা থাকে এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেও তা মুছে যায় না, তাই একে কম্পিউটারের স্থায়ী স্মৃতি বলে। অন্যদিকে RAM (Random Access Memory) হলো অস্থায়ী স্মৃতি। কম্পিউটার চলার সময় এখানে চলমান কাজের তথ্য থাকে, আর বিদ্যুৎ বন্ধ হলে তা মুছে যায়। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার স্মৃতির ধরন নয়।
মনে রাখুন:
ROM-এর রকমভেদ PROM, EPROM ও EEPROM।
কম্পিউটার চালু করার প্রাথমিক নির্দেশনা ROM-এ থাকে।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- ৩১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
- ক. ১৯১১ সালে
- খ. ১৯২১ সালে
- গ. ১৯৩১ সালে
- ঘ. ১৯৪১ সালে
উত্তর: খ. ১৯২১ সালে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ববঙ্গের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। তাদের ক্ষোভ কমাতে ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ১৯২০ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এটি চালু হয়।
মনে রাখুন:
এর প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার পি জে হার্টগ।
এটি ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে পরিচিত ছিল। - ৩২. বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
- ক. লর্ড কার্জন
- খ. লর্ড ওয়েলেসলি
- গ. লর্ড ডালহৌসি
- ঘ. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর: ক. লর্ড কার্জন
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন (১৮৯৯-১৯০৫)। তিনি প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে বিশাল বাংলা প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করেন। পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। এর বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন গড়ে ওঠে, এবং ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
মনে রাখুন:
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর।
লর্ড ওয়েলেসলি সহায়ক মিত্রতা নীতির জন্য আর লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতির জন্য বিখ্যাত।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন। - ৩৩. অপশনগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন পরিষদ কোনটি?
- ক. সেন্টমার্টিন
- খ. সাতগ্রাম
- গ. মুজিবনগর
- ঘ. চৌদ্দগ্রাম
উত্তর: ক. সেন্টমার্টিন
প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন আয়তনে সবচেয়ে ছোট। সেন্ট মার্টিন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। পুরো দ্বীপটি নিয়েই একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত। অন্য বিকল্পগুলো আয়তনে অনেক বড় বা ভিন্ন ধরনের স্থান।
মনে রাখুন:
সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিনজিরাও বলা হয়। - ৩৭. বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ কোনটি?
- ক. ভারত
- খ. শ্রীলংকা
- গ. মায়ানমার
- ঘ. রাশিয়া
উত্তর: ক. ভারত
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটান ও ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ভুটান কিছু আগে দিয়েছিল। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে ভুটান নেই, তাই ভারতই সঠিক উত্তর। শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও রাশিয়া তখনই স্বীকৃতি দেয়নি, বরং কিছুদিন পরে দিয়েছিল।
মনে রাখুন: স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দুটি দেশ ভুটান ও ভারত। - ৩৮. বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম কি?
- ক. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- খ. তাজউদ্দিন আহমেদ
- গ. শেখ মুজিবুর রহমান
- ঘ. ক্যাপটেন মনসুর আলী
উত্তর: গ. শেখ মুজিবুর রহমান
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তখন তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর তাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
মনে রাখুন:
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হন এবং আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি হন।
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। - ৩৯. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
- ক. শেখ মুজিবুর রহমান
- খ. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
- গ. তাজউদ্দিন আহমেদ
- ঘ. ক্যাপটেন মনসুর আলী
উত্তর: খ. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (পরে জেনারেল) এম এ জি ওসমানী ছিলেন মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি। তিনি মুজিবনগর সরকারের অধীনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। যুদ্ধ চলার সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটির দায়িত্বে একজন করে সেক্টর কমান্ডার দেওয়া হয়েছিল।
মনে রাখুন:
উপ-প্রধান সেনাপতি ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। - ৪০. পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি জেলা আছে?
- ক. ৩ টি
- খ. ৫ টি
- গ. ৭ টি
- ঘ. ৯ টি
উত্তর: ক. ৩ টি
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা আছে: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়, বন ও ঝরনায় ভরা এই অঞ্চল দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-দশমাংশ জুড়ে আছে। এখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও আরও অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে।
মনে রাখুন:
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রতিটি জেলায় আলাদা পার্বত্য জেলা পরিষদ আছে। - ৪২. ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
- ক. লর্ড কার্জন
- খ. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
- গ. লর্ড বেন্টিঙ্ক
- ঘ. লর্ড ওয়াভেল
উত্তর: খ. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় (১৯৪৭)। তিনি ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারত বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা নামে পরিচিত। সেই অনুযায়ী ১৪ ও ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পরে তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন।
মনে রাখুন:
লর্ড ওয়াভেল তাঁর ঠিক আগের ভাইসরয়।
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বন্ধ করেন।
লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন (১৯০৫)। - ৪৩. মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
- ক. ৪ টি
- খ. ৭ টি
- গ. ১১ টি
- ঘ. ১৪ টি
উত্তর: গ. ১১ টি
মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে মুজিবনগরে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে এই বিন্যাস চূড়ান্ত হয়। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, আর সেক্টরগুলো আবার কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা ছিল।
মনে রাখুন:
এছাড়া তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠিত হয়েছিল: জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান), কে ফোর্স (খালেদ মোশাররফ) ও এস ফোর্স (কে এম শফিউল্লাহ)। - ৫৩. গৌড়ের সোনা মসজিদ কার আমলে নির্মিত হয়?
- ক. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
- খ. হোসেন শাহ্
- গ. শায়েস্তা খাঁ
- ঘ. ঈশা খাঁ
উত্তর: খ. হোসেন শাহ্
গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত হয়। হোসেন শাহী বংশের এই সুলতান ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। মসজিদটির গম্বুজগুলোতে এক সময় সোনালি আস্তর ছিল, তাই এর এমন নাম। এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত। সুলতানি স্থাপত্যের একটি সুন্দর নমুনা হিসেবে একে ধরা হয়।
মনে রাখুন:
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ সোনারগাঁয়ের প্রথম স্বাধীন সুলতান।
শায়েস্তা খাঁ মোগল সুবাদার ছিলেন এবং ঈশা খাঁ বারো ভূঁইয়ার নেতা।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- ৩৪. আইএলও-র সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. লন্ডন
- খ. জেনেভা
- গ. নিউইয়র্ক
- ঘ. দিল্লী
উত্তর: খ. জেনেভা
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (International Labour Organization, ILO) সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। সংস্থাটি ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়, আর ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা হয়। এর কাজ শ্রমিকের অধিকার, কাজের পরিবেশ ও ন্যায্য মজুরির মান উন্নত করা।
মনে রাখুন:
আইএলও ১৯৬৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়।
বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আইএলওর সদস্য হয়। - ৩৫. এসকাপের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. ব্যাংকক
- খ. সিঙ্গাপুর
- গ. দিল্লী
- ঘ. কলম্বো
উত্তর: ক. ব্যাংকক
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (Economic and Social Commission for Asia and the Pacific, সংক্ষেপে ESCAP) সদর দপ্তর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সংস্থাটি ১৯৪৭ সালে ECAFE নামে গঠিত হয়, আর ১৯৭৪ সালে এর নাম বদলে ESCAP করা হয়। এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা এর মূল কাজ।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের অন্য আঞ্চলিক কমিশনগুলোর মধ্যে ECE-র সদর দপ্তর জেনেভায় আর ECA-র সদর দপ্তর আদ্দিস আবাবায়। - ৩৬. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. লন্ডন
- খ. ব্রাসেলস
- গ. বন
- ঘ. প্যারিস
উত্তর: খ. ব্রাসেলস
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) প্রধান প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন ইউরোপীয় কমিশন ও মন্ত্রিপরিষদ, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত। তাই ব্রাসেলসকে ইইউর সদর দপ্তর বলা হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৈঠক হয় ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে, আর ইউরোপীয় বিচার আদালত লুক্সেমবার্গে।
মনে রাখুন:
মাস্ট্রিখট চুক্তির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফ্র্যাঙ্কফুর্টে। - ৪১. East London কোথায় অবস্থিত?
- ক. ইংল্যান্ডে
- খ. জার্মানিতে
- গ. আমেরিকায়
- ঘ. দক্ষিণ আফ্রিকায়
উত্তর: ঘ. দক্ষিণ আফ্রিকায়
ইস্ট লন্ডন (East London) দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের একটি বন্দরনগরী। এটি ভারত মহাসাগরের তীরে বাফেলো নদীর মোহনায় অবস্থিত এবং দেশটির একমাত্র নদীবন্দর বলে পরিচিত। নাম লন্ডন হলেও এর সঙ্গে ইংল্যান্ডের রাজধানীর সম্পর্ক নেই। ইংল্যান্ডের লন্ডনের পূর্ব অংশের জন্যও ‘ইস্ট লন্ডন’ বলা হয়, কিন্তু এখানে প্রশ্নের নির্দিষ্ট স্থান দক্ষিণ আফ্রিকার শহর।
মনে রাখুন: দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি রাজধানী প্রিটোরিয়া, কেপটাউন ও ব্লুমফন্টেইন। - ৪৪. (তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন। অপশনে সঠিক উত্তর নেই। বর্তমান তথ্য জানতে ব্যাখ্যা দেখুন।) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম কি?
- ক. রেক্স টিলারসন
- খ. হিলারী ক্লিনটন
- গ. রবার্ট গেইট
- ঘ. কন্ডালিসা রাইস
উত্তর: খ. হিলারী ক্লিনটন
২০০৯ সালে পরীক্ষার সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হিলারি ক্লিনটন, যিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সদস্য হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন। এই পদে তাঁর আগে ছিলেন কন্ডোলিজা রাইস। এটি সময়-নির্ভর প্রশ্ন, তাই উত্তর বদলে গেছে।
হালনাগাদ: ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। - ৪৫. ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কি?আরও এসেছে: গণপূর্ত অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০১৭
- ক. নরেন্দ্র মোদি
- খ. ড. মনমোহন সিং
- গ. মমতা ব্যানার্জী
- ঘ. রাহুল গান্ধী
উত্তর: খ. ড. মনমোহন সিং
২০০৯ সালে পরীক্ষার সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ড. মনমোহন সিং। তিনি ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। তিনি একজন অর্থনীতিবিদ, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী হিসেবে ভারতে অর্থনৈতিক সংস্কার আনেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আর রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের নেতা, দুজনের কেউই প্রধানমন্ত্রী হননি।
হালনাগাদ: নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ২০২৪ সালের জুনে তিনি তৃতীয়বারের মতো শপথ নেন। - ৪৬. জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৮৪৩৩) ২০১৯
- ক. লন্ডন
- খ. নিউইয়র্ক
- গ. প্যারিস
- ঘ. মস্কো
উত্তর: খ. নিউইয়র্ক
জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে ইস্ট রিভারের তীরে অবস্থিত। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর, আর সদর দপ্তরের ভবনের কাজ ১৯৫২ সালে শেষ হয়। এর জমি রকফেলার পরিবার দান করেছিল।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের অন্যান্য প্রধান কার্যালয় জেনেভা, ভিয়েনা ও নাইরোবিতে। - ৪৭. সার্কের সচিবালয় কোথায় অবস্থিত?
- ক. দিল্লী
- খ. ইসলামাবাদ
- গ. কাঠমান্ডু
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: গ. কাঠমান্ডু
সার্কের (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) স্থায়ী সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে। এটি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সার্ক নিজেই গঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায়, এবং এই সংস্থার ধারণার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
মনে রাখুন: ঢাকা সার্কের প্রতিষ্ঠার স্থান হলেও সচিবালয় কাঠমান্ডুতে। - ৫২. খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (শিক্ষাবিজ্ঞানসহ) ২০১৯
- ক. নিউইয়র্কে
- খ. রোমে
- গ. জেনেভায়
- ঘ. অটোয়ায়
উত্তর: খ. রোমে
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (Food and Agriculture Organization, FAO) প্রধান কার্যালয় ইতালির রোমে। সংস্থাটি ১৯৪৫ সালে গঠিত হয় এবং ১৯৫১ সালে এর সদর দপ্তর রোমে সরিয়ে আনা হয়। বিশ্বের ক্ষুধা দূর করা, কৃষি ও পুষ্টির মান উন্নত করা এর কাজ।
মনে রাখুন: প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়, যা এফএওর প্রতিষ্ঠা দিবসের স্মরণে। - ৫৪. ডেভিস কাপ কোন খেলায় দেয়া হয়?
- ক. ব্যাডমিন্টন
- খ. লন টেনিস
- গ. টেবিল টেনিস
- ঘ. ক্রিকেট
উত্তর: খ. লন টেনিস
ডেভিস কাপ পুরুষদের আন্তর্জাতিক দলগত লন টেনিস প্রতিযোগিতা। এটি ১৯০০ সালে শুরু হয়। আমেরিকান খেলোয়াড় ডুয়াইট ডেভিস এই প্রতিযোগিতার জন্য একটি রৌপ্য কাপ দান করেন, তাই এর এমন নাম। প্রথম প্রতিযোগিতা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে।
মনে রাখুন: নারীদের অনুরূপ আন্তর্জাতিক দলগত টেনিস প্রতিযোগিতা আগে ফেডারেশন কাপ নামে পরিচিত ছিল।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- ৪৮. টেকনাফ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
- ক. পদ্মা
- খ. যমুনা
- গ. নাফ
- ঘ. কর্ণফুলী
উত্তর: গ. নাফ
কক্সবাজারের টেকনাফ নাফ নদীর তীরে অবস্থিত। নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমানা তৈরি করেছে এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। টেকনাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের স্থলবন্দর ও পর্যটন অঞ্চল। পদ্মা, যমুনা ও কর্ণফুলী অন্য এলাকার নদী।
মনে রাখুন: টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নৌপথে যাওয়া যায়। - ৫১. দক্ষিণ তালপট্টি কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
- ক. নাফ
- খ. তেতুলিয়া
- গ. আড়িয়াল খাঁ
- ঘ. হাড়িয়াভাঙ্গা
উত্তর: ঘ. হাড়িয়াভাঙ্গা
দক্ষিণ তালপট্টি হলো সাতক্ষীরা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা একটি ক্ষুদ্র চর। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর এটি দেখা যায়। বাংলাদেশ এর নাম দেয় দক্ষিণ তালপট্টি, আর ভারত একে ‘পূর্বাশা’ বা ‘নিউ মুর’ দ্বীপ বলত। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক ছিল। পরে দ্বীপটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: হাড়িয়াভাঙ্গা নদী সুন্দরবন অঞ্চলে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা রেখার কাছে। - ৬৮. জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?
- ক. ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
- খ. ৮ ঘণ্টা
- গ. ১২ ঘণ্টা
- ঘ. ১৩ ঘণ্টা ১৫ মি.
উত্তর: ক. ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
পৃথিবীর কোনো স্থানে প্রতিদিন দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা হয়। পরপর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট, কারণ পৃথিবী নিজ অক্ষে একবার ঘোরার সময় চাঁদও কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। তাই একটি স্থান আবার চাঁদের মুখোমুখি হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট লাগে। এ ব্যবধান দুই ভাগ করলে জোয়ার থেকে ভাটা আসতে সময় লাগে প্রায় (12 ঘণ্টা 26 মিনিট) ÷ 2 = 6 ঘণ্টা 13 মিনিট।
মনে রাখুন: অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় তেজকটাল আর অষ্টমীর কাছাকাছি সময়ে মরা কটাল হয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
- ৪৯. ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
- ক. মোহাম্মদ নজীবর রহমান
- খ. কাজী ইমদাদুল হক
- গ. শেখ ফজলুল করিম
- ঘ. মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ
উত্তর: খ. কাজী ইমদাদুল হক
‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসের রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক। উপন্যাসটিতে বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের জীবন এবং সেই সমাজের কুসংস্কার ও পীরপ্রথার সমালোচনা আছে। বইটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
মনে রাখুন: কাজী ইমদাদুল হক শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক হিসেবেও পরিচিত। - ৫০. বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাসের নাম-
- ক. দুর্গেশনন্দিনী
- খ. কপালকুণ্ডলা
- গ. কৃষ্ণকান্তের উইল
- ঘ. রজনী
উত্তর: ক. দুর্গেশনন্দিনী
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’, যা ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। একে প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস বলা হয়। এর আগে তিনি ইংরেজিতে ‘রাজমোহনস ওয়াইফ’ লিখেছিলেন। ‘কপালকুণ্ডলা’ ১৮৬৬ সালে, ‘রজনী’ ১৮৭৭ সালে ও ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত।
মনে রাখুন: বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮)। - ৭৬. বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি?
- ক. ১৩ টি
- খ. ১০ টি
- গ. ১২ টি
- ঘ. ১১ টি
উত্তর: ঘ. ১১ টি
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। এর মধ্যে ঐ ও ঔ যৌগিক স্বর, কারণ ঐ উচ্চারণে ‘ওই’ আর ঔ উচ্চারণে ‘ওউ’-এর মতো শোনায়।
মনে রাখুন:
বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
হ্রস্ব স্বর অ, ই, উ, ঋ আর দীর্ঘ স্বর আ, ঈ, ঊ। - ৭৭. বাংলা সাহিত্যের আদি কবি কে?
- ক. কাহ্নপা
- খ. চেণ্ডনপা
- গ. লুইপা
- ঘ. ভূসুকুপা
উত্তর: গ. লুইপা
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন, আর এর প্রথম পদটি লুইপার লেখা। এ কারণে লুইপাকে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। চর্যাপদের কবিরা বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক ছিলেন এবং এর রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী ধরা হয়।
মনে রাখুন:
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপা।
চর্যাপদের মূল পুঁথির নাম ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’। - ৭৮. ‘তৎসম’ শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?
- ক. চলিত রীতি
- খ. সাধু রীতি
- গ. মিশ্র রীতি
- ঘ. আঞ্চলিক রীতি
উত্তর: খ. সাধু রীতি
তৎসম শব্দ মানে সংস্কৃত থেকে অবিকৃত অবস্থায় বাংলায় আসা শব্দ, যেমন সূর্য, চন্দ্র, ধর্ম, মাতা। সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও লেখ্য ভাষা, তাই এতে তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি। চলিত রীতিতে মুখের কথার কাছাকাছি তদ্ভব ও দেশি শব্দ বেশি ব্যবহার করা হয়, যেমন মাতার বদলে ‘মা’।
মনে রাখুন:
তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে বদলে এসেছে, যেমন সূর্য থেকে সূয্যি।
দেশি শব্দের উদাহরণ ঢোল, কুলা, ঢেঁকি। - ৭৯. ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম কি?
- ক. সাত সাগরের মাঝি
- খ. পাখির বাসা
- গ. হাতেমতাই
- ঘ. নৌফেল ও হাতেম
উত্তর: ক. সাত সাগরের মাঝি
ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪)। এতে মুসলিম জাগরণের স্বপ্ন ও ঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণ ফুটে উঠেছে। ‘পাখির বাসা’ তাঁর শিশুতোষ রচনা। ‘হাতেমতাই’ ও ‘নৌফেল ও হাতেম’ তাঁর দুটি কাহিনিকাব্য।
মনে রাখুন: ফররুখ আহমদ মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে পরিচিত। - ৮০. প্রাচীনতম বাঙ্গালী মুসলমান কবি কে?
- ক. আলাওল
- খ. সৈয়দ সুলতান
- গ. মুহম্মদ খান
- ঘ. শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর: ঘ. শাহ মুহম্মদ সগীর
শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলমান কবি। তিনি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সময়ে, অর্থাৎ চৌদ্দ-পনেরো শতকে ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্য রচনা করেন। এটি ফারসি কাহিনির ওপর বাংলায় লেখা প্রথম রোমান্টিক কাব্য বলে গণ্য। আলাওল, সৈয়দ সুলতান ও মুহম্মদ খান পরবর্তী সময়ের কবি।
মনে রাখুন:
আলাওলের বিখ্যাত কাব্য ‘পদ্মাবতী’ (১৬৪৮)।
মুহম্মদ খান ‘মক্তুল হোসেন’ কাব্য লেখেন। - ৮১. ‘চাচা কাহিনী’র লেখক কে?আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ২০১৬
- ক. সৈয়দ শামসুল হক
- খ. শওকত ওসমান
- গ. সৈয়দ মুজতবা আলী
- ঘ. ফররুখ আহমদ
উত্তর: গ. সৈয়দ মুজতবা আলী
‘চাচা কাহিনী’ সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য রচনা। এতে চাচা নামের এক রসিক মানুষের মজাদার সব গল্প আছে, যা মূলত প্রবাসী বাঙালিদের জীবনের স্মৃতি থেকে এসেছে। আলী তাঁর রসবোধ ও বহুভাষা জ্ঞানের জন্য পরিচিত।
মনে রাখুন: মুজতবা আলীর অন্য বিখ্যাত রচনা ‘দেশে বিদেশে’, ‘পঞ্চতন্ত্র’ ও ‘ময়ূরকণ্ঠী’। - ৮২. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ এর রচয়িতা কে?
- ক. জ্ঞানদাস
- খ. দীন চণ্ডীদাস
- গ. বড়ু চণ্ডীদাস
- ঘ. দীনহীন চণ্ডীদাস
উত্তর: গ. বড়ু চণ্ডীদাস
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন। কাব্যে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি আছে। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার এক গ্রামের গোয়ালঘর থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন। বইটি ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ছাপা হয়।
মনে রাখুন: বাংলা সাহিত্যে চণ্ডীদাস নামে বড়ু, দ্বিজ ও দীন, এই তিনজন কবির নাম পাওয়া যায়। - ৮৩. বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?
- ক. প্রভু যিশুর বাণী
- খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
- গ. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
- ঘ. মিশনারি জীবন
উত্তর: খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ (১৭৪৩) পর্তুগিজ ধর্মযাজক মনোএল দা আসসুম্পসাঁওয়ের লেখা। এটি বাংলা কথ্য ভাষায় লেখা প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ। বইটি লিসবনে রোমান হরফে ছাপা হয়েছিল। এতে ধর্মীয় বিষয় সহজ কথ্য বাংলায় প্রচারের চেষ্টা আছে।
মনে রাখুন:
বাংলা হরফে ছাপা প্রথম বাংলা বই হ্যালহেডের ‘এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ (১৭৭৮)।
‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ হলো হানা ক্যাথেরিন মুলেন্সের লেখা বাংলা উপন্যাস। - ৮৪. কবি আলাওলের জন্মস্থান কোনটি?
- ক. ফরিদপুরের সুরেশ্বর
- খ. চট্টগ্রামের জোব্রা
- গ. বার্মার আরাকান
- ঘ. চট্টগ্রামের পটিয়া
উত্তর: খ. চট্টগ্রামের জোব্রা
কবি আলাওলের জন্ম চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে। তিনি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি আরাকানের রাজসভায় কবি হিসেবে জীবন কাটান। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’ (১৬৪৮), যা মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি কাব্য ‘পদুমাবত’ অবলম্বনে লেখা। আরাকান বার্মায় (এখনকার মিয়ানমার) অবস্থিত।
মনে রাখুন: আলাওলের অন্যান্য রচনা ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ ও ‘সিকান্দারনামা’। - ৮৫. ‘অনল-প্রবাহ’ রচনা করেন-
- ক. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি
- খ. মোজাম্মেল হক
- গ. এয়াকুব আলী চৌধুরী
- ঘ. মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
উত্তর: ক. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি
‘অনল-প্রবাহ’ সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। এতে মুসলমানদের জাগরণ ও স্বদেশপ্রেমের আহ্বান আছে। তাঁর স্বদেশপ্রেমমূলক রচনা ও কাজের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে অপছন্দ করত এবং তিনি কারাবরণ করেন। অন্য বিকল্পের লেখকদের বইয়ের নাম আলাদা।
মনে রাখুন: সিরাজী ‘তুর্কি ভ্রমণ’ ও ‘স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা’ রচনা করেন। - ৮৬. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি?
- ক. ধূমকেতু
- খ. বিদ্রোহী
- গ. প্রলয়োল্লাস
- ঘ. অগ্রপথিক
উত্তর: গ. প্রলয়োল্লাস
‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এর প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি এই বইয়ের দ্বিতীয় কবিতা, যা নজরুলকে বিপুল খ্যাতি এনে দেয়। ‘ধূমকেতু’ ও ‘কামাল পাশা’ কবিতাও এই বইয়ে আছে।
মনে রাখুন:
‘ধূমকেতু’ নজরুল সম্পাদিত পত্রিকার নামও।
নজরুলের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ ‘বিষের বাঁশি’, ‘সর্বহারা’ ও ‘দোলন-চাঁপা’। - ৮৭. বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?
- ক. কল্লোল
- খ. সবুজপত্র
- গ. বঙ্গদর্শন
- ঘ. কালিকলম
উত্তর: খ. সবুজপত্র
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) বাংলা সাহিত্যে কথ্য বা চলিত রীতি প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে লিখতেন এবং মুখের ভাষায় সাহিত্য লেখার পক্ষে প্রচার চালান। রবীন্দ্রনাথও এই পত্রিকায় চলিত ভাষায় লিখেছেন।
মনে রাখুন:
‘বঙ্গদর্শন’ ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদনা করেন।
‘কল্লোল’ (১৯২৩) ও ‘কালিকলম’ (১৯২৬) আধুনিক সাহিত্যের পত্রিকা। - ৮৮. ‘জনৈক’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
- ক. জন + ইক
- খ. জন + এক
- গ. জনৈ + এক
- ঘ. জন + ঈক
উত্তর: খ. জন + এক
‘জনৈক’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ জন + এক। এখানে প্রথম শব্দের শেষে অ-কার এবং পরের শব্দের শুরুতে এ-কার আছে। অ-কারের পর এ-কার এলে দুটি মিলে ঐ-কার হয়, তাই জন + এক = জনৈক। এটি স্বরসন্ধির অন্তর্গত বৃদ্ধি সন্ধি।
উদাহরণ: এক + এক = একৈক, সদা + এব = সদৈব। - ৮৯. বাক্যের তিনটি গুণ কি কি?
- ক. আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও বিধেয়
- খ. আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
- গ. যোগ্যতা, উদ্দেশ্য ও বিধেয়
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা। আকাঙ্ক্ষা বলতে বাক্য শুনে বক্তার বক্তব্য পুরো বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় পদগুলো থাকার ব্যাপারটি বোঝায়। আসত্তি মানে পদগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে ও কাছাকাছি বসা, আর যোগ্যতা মানে শব্দগুলোর অর্থের মধ্যে সংগতি থাকা।
উদাহরণ: ‘আমি ভাত খাই’ বাক্যে যোগ্যতা আছে, কিন্তু ‘আমি ভাত পান করি’ বাক্যে অর্থের সংগতি নেই। - ৯০. ‘একাত্তরের চিঠি’ কোন জাতীয় রচনা?
- ক. মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ
- খ. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- গ. মুক্তিযোদ্ধাদের পত্র সংকলন
- ঘ. ভিন্নধর্মী ডায়েরি
উত্তর: গ. মুক্তিযোদ্ধাদের পত্র সংকলন
‘একাত্তরের চিঠি’ মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা চিঠির সংকলন। যুদ্ধের দিনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনের লেখা চিঠিগুলোতে সে সময়ের ভয়, আশা ও সংগ্রামের অনুভূতি সরাসরি ধরা পড়েছে। তাই এটি চিঠির সংকলন, উপন্যাস বা ডায়েরি নয়।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অন্য বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের স্মৃতিকথা। - ৯১. বাংলা একাডেমী কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?
- ক. ১৯৫৫ খ্রিঃ
- খ. ১৩৫৫ বঙ্গাব্দ
- গ. ১৯৫২ খ্রিঃ
- ঘ. ১৩৫২ বঙ্গাব্দ
উত্তর: ক. ১৯৫৫ খ্রিঃ
বাংলা একাডেমি ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার বর্ধমান হাউসে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বর্ধমান হাউস আগে বর্ধমানের মহারাজার বাড়ি ছিল।
মনে রাখুন:
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমি অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে।
১৯৫৫ সালের এই তারিখটি বাংলা সন নয়, খ্রিস্টাব্দ। - ৯২. সনেট কবিতার প্রবর্তক কে?
- ক. দ্বিজেন্দ্র লাল রায়
- খ. রজনীকান্ত সেন
- গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- ঘ. অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর: গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তক। তিনি এর নাম দেন ‘চতুর্দশপদী কবিতা’, কারণ এতে চৌদ্দ পঙ্ক্তি থাকে। তাঁর সনেট সংকলন ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬)। তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
মনে রাখুন:
মধুসূদনের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১)।
সনেট শব্দটি ইতালীয় সনেত্তো থেকে এসেছে। - ৯৩. সমাস ভাষাকে কি করে?
- ক. সংক্ষেপ করে
- খ. বিস্তৃত করে
- গ. অর্থপূর্ণ করে
- ঘ. অর্থের রূপান্তর ঘটায়
উত্তর: ক. সংক্ষেপ করে
সমাস (Compound) মানে একাধিক পদ মিলে একটি পদ তৈরি হওয়া। এতে কথা কম শব্দে বলা যায়, তাই সমাস ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করে। যেমন ‘সিংহ চিহ্নিত আসন’ না বলে আমরা এক শব্দে ‘সিংহাসন’ বলতে পারি, আবার ‘রাজার পুত্র’ না বলে বলি ‘রাজপুত্র’।
মনে রাখুন: সমাসবদ্ধ শব্দকে ভেঙে বিস্তৃত করে লেখাকে ব্যাসবাক্য বলে।
সাধারণ বিজ্ঞান
- ৫৫. ফটোইলেকট্রিক কোষের উপর আলো পড়লে কি উৎপন্ন হয়?
- ক. বিদ্যুৎ
- খ. তাপ
- গ. চুম্বক
- ঘ. কিছুই হয় না
উত্তর: ক. বিদ্যুৎ
আলোক-তড়িৎ কোষে (Photoelectric cell) আলো পড়লে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। আলো যথেষ্ট শক্তিশালী হলে তা ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে ইলেকট্রন বের করে আনে। এই বেরিয়ে আসা ইলেকট্রনের প্রবাহই বিদ্যুৎ প্রবাহ। এ ঘটনাকে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া (Photoelectric effect) বলে।
মনে রাখুন:
আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে এই ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন, আর এ জন্য ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
স্বয়ংক্রিয় দরজা ও আলো নিয়ন্ত্রণে এই কোষ ব্যবহৃত হয়। - ৫৬. যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয়, তাদের কি বলা হয়?
- ক. আইসোটোপ
- খ. আইসোটোন
- গ. আইসোমার
- ঘ. আইসোবার
উত্তর: খ. আইসোটোন
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোন (Isotone) বলে। উদাহরণ হিসেবে কার্বন-১৪ (৬টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন) ও নাইট্রোজেন-১৫ (৭টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন) আইসোটোন।
মনে রাখুন:
প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হলে আইসোটোপ।
ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন হলে আইসোবার। - ৫৭. চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
- ক. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
- খ. আলোর বিচ্ছুরণে
- গ. অপাবর্তনে
- ঘ. দৃষ্টিভ্রমে
উত্তর: ঘ. দৃষ্টিভ্রমে
দিগন্তের কাছে চাঁদ আসলে বড় হয় না। ছবি তুলে বা আঙুলের ফাঁকে মেপে দেখলে চাঁদের আকার আকাশের উঁচুতে থাকার সময়ের সমানই পাওয়া যায়। দিগন্তে গাছপালা, বাড়িঘর ও দূরের জিনিস থাকায় আমাদের মস্তিষ্ক সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করে চাঁদকে বড় ভাবে। এটি একটি দৃষ্টিভ্রম, ইংরেজিতে একে মুন ইলিউশন (Moon illusion) বলে। বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ চাঁদের আলোকে একটু বাঁকিয়ে তাকে চ্যাপ্টা দেখায়, বড় করে না।
মনে রাখুন: সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখানোর কারণ আলোর বিচ্ছুরণ। - ৫৮. লাল আলোতে নীল রঙের বস্তু কেমন দেখায়?
- ক. বেগুনী
- খ. সবুজ
- গ. হলুদ
- ঘ. কালো
উত্তর: ঘ. কালো
কোনো বস্তুর রং নির্ভর করে সে কোন রঙের আলো প্রতিফলিত করে তার ওপর। নীল বস্তু শুধু নীল আলো প্রতিফলিত করে, বাকি রঙের আলো শোষণ করে নেয়। লাল আলোতে নীল আলোর কোনো উপাদান নেই, তাই বস্তুটি কোনো আলোই প্রতিফলিত করতে পারে না এবং কালো দেখায়।
মনে রাখুন:
সাদা বস্তু সব রঙের আলো প্রতিফলিত করে।
কালো বস্তু সব রঙের আলো শোষণ করে। - ৫৯. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট কি ধাতু দিয়ে তৈরি?
- ক. সংকর ধাতু
- খ. সীসা
- গ. টাংস্টেন
- ঘ. তামা
উত্তর: গ. টাংস্টেন
বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন (Tungsten) ধাতু দিয়ে তৈরি। এর গলনাঙ্ক প্রায় ৩৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সব ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ। বাল্ব জ্বললে ফিলামেন্ট খুব উত্তপ্ত হয়ে আলো ছড়ায়, কিন্তু টাংস্টেন গলে যায় না। সীসা ও তামার গলনাঙ্ক অনেক কম, তাই এগুলো ফিলামেন্টের জন্য উপযুক্ত নয়।
মনে রাখুন:
ফিউজ তারে কম গলনাঙ্কের সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয়, যাতে বেশি বিদ্যুৎ চললে তা গলে সংযোগ কেটে দেয়।
বাল্বের ভেতরে সাধারণত নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যেমন আর্গন থাকে। - ৬০. জারণ বিক্রিয়ায় কি ঘটে?
- ক. ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- খ. ইলেক্ট্রন আদান-প্রদান
- গ. ইলেক্ট্রন বর্জন
- ঘ. শুধু তাপ উৎপন্ন হয়
উত্তর: গ. ইলেক্ট্রন বর্জন
ইলেকট্রন হারানোর প্রক্রিয়াকে জারণ (Oxidation) বলে। যেমন ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু দুটি ইলেকট্রন হারিয়ে Mg²⁺ আয়নে পরিণত হয়। আর ইলেকট্রন গ্রহণ করাকে বলে বিজারণ (Reduction)। এই দুটি প্রক্রিয়া সব সময় একসঙ্গে ঘটে, তাই এমন বিক্রিয়াকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।
মনে রাখুন: কোনো পদার্থের সঙ্গে অক্সিজেন যুক্ত হওয়া বা হাইড্রোজেন বিয়োজিত হওয়াও জারণ। - ৬১. নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
- ক. P4O10
- খ. MgO
- গ. CO
- ঘ. ZnO
উত্তর: খ. MgO
ধাতুর অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয় হয়। ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) একটি ধাতব অক্সাইড, যা পানির সঙ্গে ক্ষার তৈরি করে এবং এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি দেয়। তাই এটি ক্ষারকীয় অক্সাইড। অন্যগুলোর ধর্ম আলাদা: P4O10 অম্লীয়, CO নিরপেক্ষ, আর ZnO উভধর্মী।
মনে রাখুন:
উভধর্মী অক্সাইড এসিড ও ক্ষার, দুটির সঙ্গেই বিক্রিয়া করে। এর উদাহরণ ZnO ও Al2O3।
অধাতুর অক্সাইড সাধারণত অম্লীয়। - ৬২. পারমাণবিক চুল্লীতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
- ক. সোডিয়াম
- খ. পটাসিয়াম
- গ. ম্যাগনেসিয়াম
- ঘ. জিংক
উত্তর: ক. সোডিয়াম
কিছু পারমাণবিক চুল্লিতে, বিশেষ করে ফাস্ট ব্রিডার চুল্লিতে, তাপ পরিবাহক বা কুল্যান্ট হিসেবে তরল সোডিয়াম ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম তাপ খুব ভালোভাবে পরিবহন করে এবং প্রায় ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গলে, ফুটে প্রায় ৮৮৩ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ বিশাল তাপমাত্রা পরিসরে এটি তরল থাকে। এই তাপ পরে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরায়।
মনে রাখুন: সাধারণ পারমাণবিক চুল্লিতে পানি বা ভারী পানি মডারেটর ও কুল্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - ৬৩. কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?
- ক. ডারউইন
- খ. লুইপাস্তুর
- গ. প্রিস্টলী
- ঘ. ল্যাভয়সিয়ে
উত্তর: খ. লুইপাস্তুর
রোগজীবাণু তত্ত্ব (Germ theory) অনুযায়ী অনেক রোগের কারণ অণুজীব, যেমন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর পরীক্ষার মাধ্যমে এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেখান যে গাঁজন ও পচন অণুজীবের কাজ, আবার অণুজীব থেকে রোগও হয়।
মনে রাখুন:
পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা তৈরি করেন (১৮৮৫) এবং দুধ জীবাণুমুক্ত করার পাস্তুরায়ন পদ্ধতি চালু করেন।
রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনের, প্রিস্টলি অক্সিজেনের এবং ল্যাভয়সিয়ে দহনের তত্ত্বের সঙ্গে জড়িত। - ৬৪. সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?
- ক. ৪ টি
- খ. ৫ টি
- গ. ৬ টি
- ঘ. ৮ টি
উত্তর: গ. ৬ টি
সুষম খাদ্যের (Balanced diet) উপাদান ছয়টি: শর্করা, আমিষ, স্নেহপদার্থ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এগুলো শরীরের শক্তি জোগায়, বৃদ্ধি ঘটায় এবং রোগ থেকে রক্ষা করে। কোনো উপাদানের অভাব বা আধিক্য হলে খাদ্য সুষম থাকে না।
মনে রাখুন:
১ গ্রাম শর্করা ও আমিষ থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি এবং ১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
শর্করা ও চর্বি প্রধানত শক্তি দেয়, আমিষ দেহ গঠন করে। - ৬৫. গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?
- ক. উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
- খ. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
- গ. আলো থেকে রক্ষার জন্য
- ঘ. ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
উত্তর: খ. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
গ্রিন হাউসের কাচ সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকতে দেয়। ভেতরের মাটি ও গাছ সেই আলো শোষণ করে গরম হয় এবং অবলোহিত তাপ ছাড়ে, কিন্তু কাচ সেই তাপ বাইরে বেরোতে দেয় না। ফলে ভেতরটা উষ্ণ থাকে। এ কারণে শীতপ্রধান দেশে প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে গাছ বাঁচাতে গ্রিন হাউসে চাষ করা হয়।
মনে রাখুন: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্যাস গ্রিন হাউসের কাচের মতো তাপ আটকে রাখে, একেই গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। - ৬৬. পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
- ক. আর্লিবার্ড
- খ. এস্ট্রোলার
- গ. ওবেরী হল
- ঘ. কসমস
উত্তর: ক. আর্লিবার্ড
১৯৬৫ সালের ৬ এপ্রিল উৎক্ষেপিত ‘আর্লি বার্ড’ (Early Bird), যার আরেক নাম ইন্টেলস্যাট-১, পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ। এটি ভূস্থির কক্ষপথে স্থাপিত হয় এবং আটলান্টিকের দুই পারের মধ্যে টেলিফোন ও টিভি সংযোগ দেয়।
মনে রাখুন:
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক-১ (১৯৫৭)।
বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ ২০১৮ সালের ১২ মে উৎক্ষেপিত হয়। - ৬৭. সূর্য পৃষ্ঠের উত্তাপ কত?
- ক. ৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- খ. ৮০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- গ. ১০০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ১২০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
উত্তর: ক. ৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (সঠিকভাবে প্রায় ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। সূর্যের যে স্তর থেকে আলো বেরিয়ে আসে, তাকে আলোকমণ্ডল বা ফটোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরের তাপমাত্রা ওই পরিমাণ। কেন্দ্রের তাপমাত্রা এর চেয়ে বহুগুণ বেশি, প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস। কেন্দ্রে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়ার সংযোজন বিক্রিয়ায় হিলিয়াম হয় এবং এই শক্তিই সূর্যের আলো ও তাপের উৎস।
মনে রাখুন: সূর্যের বাইরের স্তর করোনার তাপমাত্রা বিস্ময়করভাবে আরও বেশি, কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি। - ৬৯. কোনটি বায়ুর উপাদান নহে?
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ঘ. ফসফরাস
বায়ু কয়েকটি গ্যাসের মিশ্রণ। এর প্রায় ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন ও ২১ ভাগ অক্সিজেন, আর বাকিটা আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অল্প হাইড্রোজেন ও জলীয় বাষ্প। কার্বন মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডের অংশ হিসেবে বায়ুতে থাকে। কিন্তু ফসফরাস গ্যাস হিসেবে বায়ুতে থাকে না, কারণ এটি খুব সক্রিয় এবং সহজে অন্য পদার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। তাই ফসফরাস বায়ুর উপাদান নয়।
মনে রাখুন:
বায়ুতে সবচেয়ে বেশি আছে নাইট্রোজেন, তারপর অক্সিজেন।
বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ০.০৪ শতাংশ। - ৭০. অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কি বলে?
- ক. চুন
- খ. সেভিং সোপ
- গ. ফিটকিরি
- ঘ. কস্টিক সোডা
উত্তর: গ. ফিটকিরি
চলতি ভাষায় ফিটকিরি (Alum) বলতে আমরা যা বুঝি, তাতে অ্যালুমিনিয়াম সালফেট থাকে। তাই অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে সাধারণ কথায় ফিটকিরি বলা হয়। ঘোলা পানিতে ফিটকিরি দিলে সূক্ষ্ম কাদার কণাগুলো জমাট বেঁধে তলায় বসে যায়, ফলে পানি পরিষ্কার হয়। অন্য বিকল্পগুলোর রাসায়নিক গঠন আলাদা: চুন হলো ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড, আর কস্টিক সোডা হলো সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH)।
মনে রাখুন: ফিটকিরি রক্ত পড়া থামাতে এবং দাড়ি কামানোর পর ব্যবহার করা হয়। - ৭১. কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
- ক. পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
- খ. গোসলখানায়
- গ. পুকুরে
- ঘ. নালায়
উত্তর: ক. পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
সলিড ফিনাইল একটি শক্ত জীবাণুনাশক ও দুর্গন্ধনাশক পদার্থ। পায়খানা ও প্রস্রাবখানার মতো জায়গায় জীবাণু ও দুর্গন্ধ বেশি, তাই সেখানে এটি রাখা হয়। এটি ধীরে ধীরে গ্যাসে পরিণত হয়ে দুর্গন্ধ ঢেকে দেয় এবং জীবাণু কমায়। গোসলখানা, পুকুর বা নালার ক্ষেত্রে এই ব্যবহার সাধারণ নয়।
মনে রাখুন: জীবাণুনাশক পদার্থ রোগ ছড়ানো জীবাণু ধ্বংস করে, তাই পরিচ্ছন্নতার কাজে এগুলো ব্যবহৃত হয়। - ৭২. পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধাতু কোনটি?
- ক. লোহা
- খ. সিলিকন
- গ. পারদ
- ঘ. তামা
উত্তর: ক. লোহা
গোটা পৃথিবী ধরলে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ধাতু লোহা। কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রের বড় অংশ গলিত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত। শুধু ভূত্বকের হিসাব নিলে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় অ্যালুমিনিয়াম। সিলিকন একটি অর্ধধাতু (Metalloid), ধাতু নয়।
মনে রাখুন:
ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি মৌল অক্সিজেন, তারপর সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম।
পারদ একমাত্র ধাতু, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল। - ৭৩. অন্ধদের জন্য লিখনরীতির উদ্ভাবন করেন-
- ক. ব্রেইল
- খ. কপার্নিকাস
- গ. ডেভিটবোর
- ঘ. টমাস আলভা এডিসন
উত্তর: ক. ব্রেইল
দৃষ্টিহীনদের জন্য লেখা ও পড়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন ফরাসি শিক্ষক লুই ব্রেইল (Louis Braille)। তিনি নিজেও ছোটবেলায় অন্ধ হয়ে যান। ১৮২৪ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ছয়টি উঁচু বিন্দুর সমন্বয়ে এই পদ্ধতি তৈরি করেন। আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে এই বিন্দুগুলো পড়া যায়, আর তাঁর নামেই এর নাম ব্রেইল।
মনে রাখুন: কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের জন্য আর এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির জন্য বিখ্যাত। - ৭৪. পারমাণবিক চুল্লিতে কোন মৌল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
- ক. পেট্রোলিয়াম
- খ. ইউরেনিয়াম-২৩৫
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: খ. ইউরেনিয়াম-২৩৫
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে সাধারণত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) ব্যবহৃত হয়। একটি ধীরগতির নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসকে আঘাত করলে নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি ছোট নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল শক্তি ও আরও কয়েকটি নিউট্রন ছাড়ে। এই প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় ফিশন (Nuclear fission) বলে। নতুন নিউট্রনগুলো আরও নিউক্লিয়াস ভাঙে, ফলে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চলতে থাকে। পেট্রোলিয়াম, অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন ফিশন ঘটায় না।
মনে রাখুন:
চুল্লির শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে বোরন বা ক্যাডমিয়ামের দণ্ড ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মিত হচ্ছে। - ৭৫. বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে কোন ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়?
- ক. তামা
- খ. নাইক্রোম
- গ. স্টেনিয়াম
- ঘ. প্লাটিনাম
উত্তর: খ. নাইক্রোম
বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তারটি লাল হয়ে ওঠে। এ কাজের জন্য এমন তার দরকার, যার রোধ বেশি এবং যা উচ্চ তাপমাত্রায় গলে না বা সহজে মরিচা ধরে না। নাইক্রোম (Nichrome) নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু, যার রোধ বেশি এবং গলনাঙ্ক উচ্চ, তাই এটি হিটার ও ইস্ত্রির তারে ব্যবহৃত হয়। তামার রোধ কম, তাই এটি বৈদ্যুতিক তারে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন: তাপ সৃষ্টির সূত্র H = I²Rt, অর্থাৎ রোধ R বেশি হলে একই বিদ্যুৎ প্রবাহে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়।
অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান
১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৬)
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৮তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২৫)
- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৪)
- ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৩)
- ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২২)
- ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২১)
- ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৯)
- ৩৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০১৮)
- ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৭)
- ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৫)
- ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৩)
- ৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১১)
- ৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১০)
- ২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৯)
- ২৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৮)
- ২৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৫)
- ২৬তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৩)
- ২৩তম বিশেষ বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা) প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৯)
- ২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৬)
- ১৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৫)
- ১৬তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি (১৯৯৪)
- ১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৩)
- ১৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯০)
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন