১২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ১৯৯১। এখানে ৯৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ৬০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (২১)
- ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (১৬)
- গাণিতিক যুক্তি (১৬)
- বাংলাদেশ বিষয়াবলি (১২)
- ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (৮)
- সাধারণ বিজ্ঞান (১৩)
- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (১১)
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
- ১. ক্রিয়া পদের মূল অংশকে বলা হয়-
- ক. বিভক্তি
- খ. ধাতু
- গ. প্রত্যয়
- ঘ. কৃৎ
উত্তর: খ. ধাতু
ক্রিয়াপদের যে মূল অংশের আর ভাঙা যায় না এবং যার সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়, তাকে ধাতু (Verb root) বলে। যেমন ‘পড়ে’ ক্রিয়াপদ থেকে বিভক্তি ‘এ’ সরিয়ে দিলে থাকে ‘পড়্’, আর ‘খায়’ থেকে থাকে ‘খা’। এই ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী বিভক্তি যুক্ত হয়ে নানা রূপ হয়।
মনে রাখুন:
ধাতু দুই প্রকার: মৌলিক (সিদ্ধ) ধাতু ও সাধিত ধাতু।
মৌলিক ধাতুকে আর ভাঙা যায় না, যেমন কর্, চল্, খা।
সাধিত ধাতু প্রত্যয় বা অন্য উপায়ে তৈরি হয়, যেমন করা, শেখা। - ২. ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়’ চরণটি কার রচনা?
- ক. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- খ. মধুসূদন দত্ত
- গ. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘ. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ঘ. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
‘স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়’ চরণটি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ কাব্যের। ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত এই কাব্যে রাজপুত রানি পদ্মিনী ও আলাউদ্দিন খলজির কাহিনি বলা হয়েছে, আর রাজপুতদের স্বাধীনতাপ্রীতির মধ্য দিয়ে কবি সমকালের দেশপ্রেমকে জাগাতে চেয়েছেন। কাহিনিটি তিনি নিয়েছিলেন কর্নেল জেমস টডের রাজস্থানের ইতিহাস থেকে।
মনে রাখুন:
রঙ্গলালের অন্য কাব্য: কর্মদেবী (১৮৬২), শূরসুন্দরী (১৮৬৮)।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
মধুসূদন দত্ত ও হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী যুগের কবি। - ৩. শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন-
- ক. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রের শিকার হন
- খ. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দারিদ্রতার শিকার হন
- গ. বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন
- ঘ. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রতার শিকার হন
উত্তর: গ. বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন
যাঁর বিদ্যা আছে, তিনি বিদ্বান। ‘বিদ্যান’ বানানটি ভুল, এখানে ‘বিদ্বান’ হবে। আবার ‘দরিদ্র’ শব্দটি বিশেষণ, আর এর বিশেষ্য রূপ হলো ‘দারিদ্র্য’। দারিদ্র্য শব্দেই ভাবটি পূর্ণ, তাই এর সঙ্গে আবার ‘তা’ যোগ করে ‘দারিদ্র্যতা’ বা ‘দরিদ্রতা’ লেখা অশুদ্ধ। এ কারণে ‘বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন’ বাক্যটি শুদ্ধ।
মনে রাখুন:
এ ধরনের ভুল দ্বিরুক্ত প্রত্যয় বা দ্বিত্ব দোষ, যেমন ‘সৌন্দর্যতা’ ভুল, সঠিক ‘সৌন্দর্য’।
আরও কয়েকটি শুদ্ধ রূপ: ঐক্য (ঐক্যতা নয়), দৈন্য (দৈন্যতা নয়), শ্রদ্ধেয়। - ৪. কোন শব্দে বিদেশী উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. নিখুঁত
- খ. আনমনা
- গ. অবহেলা
- ঘ. নিমরাজী
উত্তর: ঘ. নিমরাজী
উপসর্গ হলো যে শব্দাংশ অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে। ‘নিমরাজী’ শব্দের ‘নিম’ একটি ফারসি উপসর্গ, যার অর্থ আধা, তাই নিমরাজী মানে আধা রাজি। বাকি তিনটি শব্দে বাংলা বা সংস্কৃত উপসর্গ আছে: ‘নিখুঁত’-এ ‘নি’, ‘আনমনা’-য় ‘আন’ আর ‘অবহেলা’-য় ‘অব’।
মনে রাখুন:
ফারসি উপসর্গ: গর (গরমিল), বে (বেআইনি), বদ (বদনাম), নিম (নিমরাজী), দর (দরখাস্ত)।
আরবি উপসর্গ: আম (আমদরবার), খাস (খাসমহল), লা (লাপাত্তা)। - ৫. কোন বানানটি শুদ্ধ?
- ক. পাষাণ
- খ. পাষান
- গ. পাসান
- ঘ. পাশান
উত্তর: ক. পাষাণ
‘পাষাণ’ একটি তৎসম শব্দ, অর্থ পাথর। এর বানান নির্ধারণে ণত্ব বিধানের একটি নিয়ম কাজ করে: তৎসম শব্দে ষ-এর পরে ‘ন’ থাকলে তা মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়ে যায়। সেই কারণে ‘পাষান’ নয়, ‘পাষাণ’ শুদ্ধ। ‘পাসান’ ও ‘পাশান’ কোনোটিই এই শব্দের শুদ্ধ রূপ নয়।
মনে রাখুন:
ঋ, র, ষ-এর পরে তৎসম শব্দে সাধারণত ণ হয়, যেমন কৃষ্ণ, তৃষ্ণা, ঘোষণা, ভূষণ।
অতৎসম বা বিদেশি শব্দে ণ হয় না, যেমন কোরান, গভর্নর। - ৬. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি-
- ক. শাহ মুহম্মদ সগীর
- খ. সাবিরিদ খান
- গ. শেখ ফয়জুল্লাহ
- ঘ. মুহাম্মদ কবীর
উত্তর: ক. শাহ মুহম্মদ সগীর
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বা প্রাচীনতম মুসলমান কবি হিসেবে শাহ মুহম্মদ সগীরকে ধরা হয়। তিনি চৌদ্দ-পনেরো শতকে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্য রচনা করেন। এর কাহিনি কোরআনে বর্ণিত নবী ইউসুফ ও জোলেখার প্রেমকাহিনি অবলম্বনে লেখা। সাবিরিদ খান, শেখ ফয়জুল্লাহ ও মুহাম্মদ কবীর তাঁর পরবর্তী কালের কবি।
মনে রাখুন:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ১৩৮৯ থেকে ১৪১০ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন।
সাবিরিদ খানের কাব্য ‘বিদ্যাসুন্দর’। - ৭. ‘মোদের গরব, মোদের আশা/আ-মরি বাংলা ভাষা’ রচিয়তা-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
- ক. রামনিধি গুপ্ত
- খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ. অতুল প্রসাদ সেন
- ঘ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: গ. অতুল প্রসাদ সেন
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’ গানটি অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা। এখানে কবি বাংলা ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) পেশায় আইনজীবী ছিলেন, আর গান রচনা ও সুর দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। বাংলা ভাষাপ্রেমীদের মুখে মুখে গানটি আজও ফেরে।
মনে রাখুন:
অতুলপ্রসাদের আরেকটি বিখ্যাত গান ‘উঠ গো ভারত লক্ষ্মী’।
তাঁর গানের সংকলন ‘কয়েকটি গান’ ও ‘গীতিগুঞ্জ’ নামে পরিচিত।
রামনিধি গুপ্ত নিধুবাবু নামে বিখ্যাত টপ্পা গানের রচয়িতা। - ৮. মধুসূদন দত্ত রচিত ‘বীরাঙ্গনা’-
- ক. মহাকাব্য
- খ. পত্রকাব্য
- গ. গীতিকাব্য
- ঘ. আখ্যানকাব্য
উত্তর: খ. পত্রকাব্য
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ (১৮৬২) কাব্যে পুরাণের একাধিক নারী চরিত্র নিজেদের স্বামী বা প্রেমিককে চিঠি লিখেছেন। কাব্যটি চিঠির আকারে লেখা বলে এটি পত্রকাব্য। রোমান কবি ওভিদের ‘হেরোইডস’ অনুসরণে এটি রচিত হয়েছিল, আর বাংলা সাহিত্যে এ ধরনের প্রথম কাব্য এটিই।
মনে রাখুন:
মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) মহাকাব্য।
‘ব্রজাঙ্গনা’ (১৮৬১) গীতিকাব্য, আর ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ (১৮৬০) আখ্যানকাব্য।
তিলোত্তমাসম্ভবে তিনি প্রথম বাংলায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। - ৯. রোহিনী কোন উপন্যাসের নায়িকা?
- ক. কৃষ্ণকান্তের উইল
- খ. চোখের বালি
- গ. গৃহদাহ
- ঘ. পথের পাঁচালী
উত্তর: ক. কৃষ্ণকান্তের উইল
রোহিণী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ (১৮৭৮) উপন্যাসের একটি প্রধান নারী চরিত্র। এই উপন্যাসে গোবিন্দলাল ও রোহিণীর সম্পর্ক কাহিনির কেন্দ্রে আছে, আর এর ফলেই গোবিন্দলাল ও তাঁর স্ত্রী ভ্রমরের জীবনে ট্র্যাজেডি নেমে আসে। অন্য অপশনের উপন্যাসগুলো আলাদা লেখকের: ‘চোখের বালি’ রবীন্দ্রনাথের, ‘গৃহদাহ’ শরৎচন্দ্রের, আর ‘পথের পাঁচালী’ বিভূতিভূষণের।
মনে রাখুন:
বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র কুন্দনন্দিনী ও সূর্যমুখী।
‘চোখের বালি’র নায়িকা বিনোদিনী। - ১০. নিম্নরেখ কোন শব্দে করণ কারকে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. ঘোড়াকে ‘চাবুক’ মার
- খ. ‘ডাক্তার’ ডাক
- গ. গাড়ি ‘স্টেশন’ ছেড়েছে
- ঘ. ‘মাষুলধারে’ বৃষ্টি পড়ছে।
উত্তর: ক. ঘোড়াকে ‘চাবুক’ মার
কর্তা যে উপকরণ বা যন্ত্রের সাহায্যে কাজ করে, সেটি করণ কারক। ‘ঘোড়াকে চাবুক মার’ বাক্যে চাবুক দিয়ে মারা হচ্ছে, তাই ‘চাবুক’ করণ কারক, অথচ শব্দটিতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি, অর্থাৎ এখানে শূন্য বিভক্তি। অন্য অপশনগুলো আলাদা: ‘ডাক্তার ডাক’-এ ডাক্তার কর্ম কারক, ‘গাড়ি স্টেশন ছেড়েছে’-তে স্টেশন অপাদান কারক, আর ‘মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে’-তে মুষলধারে ক্রিয়ার ধরন বোঝায় এবং ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত।
মনে রাখুন: কারক ছয় প্রকার: কর্তৃ, কর্ম, করণ, অপাদান, সম্প্রদান ও অধিকরণ। - ১১. রূপসী বাংলার কবি-
- ক. জসীমউদ্দীন
- খ. জীবনানন্দ দাশ
- গ. কালিদাস রায়
- ঘ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: খ. জীবনানন্দ দাশ
জীবনানন্দ দাশ বাংলার নদী, মাঠ, ধানক্ষেত ও পাখিকে গভীর মমতায় কবিতায় এঁকেছেন। তাঁর সনেট-সংকলনের নামই ‘রূপসী বাংলা’। এই কাব্যগ্রন্থ তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়, যদিও কবিতাগুলো লেখা হয়েছিল আরও আগে। এ জন্য তাঁকে রূপসী বাংলার কবি বলা হয়। জসীমউদ্দীন পল্লিকবি নামে পরিচিত।
মনে রাখুন:
জীবনানন্দের প্রথম কাব্য ‘ঝরা পালক’ (১৯২৭)।
অন্য কাব্য: ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী।
তাঁকে নির্জনতম কবিও বলা হয়। - ১২. বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়-
- ক. মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি
- খ. বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য
- গ. দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
- ঘ. অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য
উত্তর: গ. দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি ও বাংলা শব্দ মিশিয়ে লেখা সাহিত্যকে দোভাষী পুঁথি সাহিত্য বলে। উনিশ শতকে কলকাতার বটতলা এলাকার ছাপাখানা থেকে এসব পুঁথি সস্তা দামে ছাপা হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাত। সেই কারণে এ ধারার সাহিত্যকেই বটতলার পুঁথি বলা হয়। বটতলা কোনো কাব্যের রচনাস্থান বা শুধু পাণ্ডুলিপির নাম নয়।
মনে রাখুন:
দোভাষী পুঁথির পরিচিত কবি: ফকির গরীবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা।
এই ধারায় ইসলামি কাহিনি ও আরব-ফারসি বীরদের গল্প বেশি লেখা হয়েছে। - ১৩. এক কথায় প্রকাশ করুন – ‘যা বলা হয়নি’
- ক. অউক্ত
- খ. অব্যক্ত
- গ. অনুক্ত
- ঘ. অব্যাক্ত
উত্তর: গ. অনুক্ত
‘উক্ত’ শব্দের অর্থ যা বলা হয়েছে। এর আগে না-বাচক ‘ন’ যুক্ত হয়ে (ন উক্ত) ‘অনুক্ত’ গঠিত হয়, অর্থাৎ যা বলা হয়নি। এখানে ‘অন্’ রূপে না-বাচক অংশ স্বরধ্বনির আগে বসেছে। ‘অব্যক্ত’ শব্দের অর্থ যা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়নি, অর্থের এই সূক্ষ্ম তফাতের জন্যই অব্যক্ত এখানে বসে না।
মনে রাখুন:
আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ: যা বলা যায় না, অকথ্য; যা কখনো দেখা যায়নি, অদৃষ্টপূর্ব।
‘অউক্ত’ ও ‘অব্যাক্ত’ শুদ্ধ শব্দ নয়। - ১৪. কবিগান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত –
- ক. রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
- খ. এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
- গ. সাবিরিদ খান এবং দাশরথী রায়
- ঘ. আলাওল এবং ভারতচন্দ্র
উত্তর: ক. রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
কবিগান আঠারো ও উনিশ শতকে বাংলায় জনপ্রিয় ছিল। এতে কবিয়ালেরা আসরে মুখে মুখে গান বেঁধে ও গেয়ে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেন। রাম বসু ও ভোলা ময়রা, দুজনেই কবিগানের রচয়িতা ও গায়ক হিসেবে বিখ্যাত। অন্য অপশনে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি কবিয়াল হলেও রামপ্রসাদ রায় শাক্তপদাবলির কবি, আর সাবিরিদ খান, আলাওল ও ভারতচন্দ্র আলাদা ধারার কবি।
মনে রাখুন:
অন্য বিখ্যাত কবিয়াল: হরু ঠাকুর, নিতাই বৈরাগী, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি।
রামপ্রসাদের গান রামপ্রসাদি সংগীত নামে পরিচিত। - ১৫. কোন শব্দে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
- ক. ঠগী
- খ. পানাস
- গ. পাঠক
- ঘ. সেলামী
উত্তর: গ. পাঠক
ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। ‘পাঠক’ শব্দটি √পঠ্ ধাতুর সঙ্গে ‘অক’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে তৈরি হয়েছে, তাই এখানে ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় আছে। ‘ঠগী’ শব্দ ঠগ নামের শব্দের সঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় আর ‘সেলামী’ শব্দ সেলাম শব্দের সঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় যোগে হয়েছে, এ দুটি তদ্ধিত প্রত্যয়।
মনে রাখুন:
শব্দের সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
কৃৎ প্রত্যয়ের আরও উদাহরণ: লেখক, পাঠিকা, করণীয়। - ১৬. বাগধারা যুগলদের মধ্যে কোন জোড়া সর্বাধিক সমার্থবাচক?
- ক. অমাবস্যার চাঁদ; আকাশ কুসুম
- খ. বক ধার্মিক; বিড়াল তপস্বী
- গ. রুই-কাতলা; কেউ কেটা
- ঘ. বক ধার্মিক; ভিজে বেড়াল
উত্তর: খ. বক ধার্মিক; বিড়াল তপস্বী
বাগধারার কোন জোড়ার অর্থ সবচেয়ে কাছাকাছি, তা বুঝতে অর্থ মিলিয়ে দেখতে হয়। ‘বক ধার্মিক’ ও ‘বিড়াল তপস্বী’ দুটিরই অর্থ ভণ্ড, অর্থাৎ যে বাইরে ধার্মিক বা সাধু সেজে থাকে কিন্তু ভেতরে স্বার্থপর। তাই এই জোড়াটি সবচেয়ে মেলে। ‘ভিজে বেড়াল’ মানে বাইরে নিরীহ কিন্তু ভেতরে ধূর্ত, এটি কাছাকাছি হলেও এক নয়। ‘অমাবস্যার চাঁদ’ মানে দুর্লভ বস্তু, আর ‘আকাশকুসুম’ মানে অসম্ভব কল্পনা।
মনে রাখুন: ‘রুই-কাতলা’ মানে প্রভাবশালী বড় মানুষ, আর ‘কেউ-কেটা’ মানেও প্রভাবশালী ব্যক্তি। - ১৭. বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা-
- ক. নাটক
- খ. ছোট গল্প
- গ. প্রবন্ধ
- ঘ. গীতি কবিতা
উত্তর: ঘ. গীতি কবিতা
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা গীতিকবিতা। চর্যাপদ ও বৈষ্ণব পদাবলি থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও জীবনানন্দ পর্যন্ত এই ধারা অবিচ্ছিন্ন ও দীর্ঘ। কবির নিজের মনের ভাব ও অনুভূতি এখানে সুরে ও ছন্দে ফুটে ওঠে, আর এই কারণে বাংলা ভাষায় গীতিকবিতার ঐতিহ্য এত শক্তিশালী।
মনে রাখুন:
নাটক, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যে তুলনামূলকভাবে আধুনিক ধারা।
বাংলা ভাষায় ছোটগল্পের জনক হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে ধরা হয়। - ১৮. মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য-
- ক. ইউসুফ জুলেখা
- খ. রসুল বিজয়
- গ. নূরনামা
- ঘ. শবে মেরাজ
উত্তর: ক. ইউসুফ জুলেখা
মুসলমান কবির লেখা প্রাচীনতম বাংলা কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ-জোলেখা’। এটি চৌদ্দ-পনেরো শতকে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে রচিত। বাকি কাব্যগুলো পরবর্তী কালের: ‘রসুল বিজয়’ জৈনুদ্দিনের রচনা, আর ‘নূরনামা’ সতেরো শতকের কবি আবদুল হাকিমের।
মনে রাখুন:
আবদুল হাকিমের বিখ্যাত পঙ্ক্তি: ‘যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’
শাহ মুহম্মদ সগীর ও জৈনুদ্দিন দুজনেই মধ্যযুগের প্রথম দিকের কবি। - ১৯. বাংলা ভাষা কোন দুটি শব্দ চীনা ভাষা হতে গ্রহণ করেছে?
- ক. চাকু, চাকর
- খ. খদ্দর, হরতাল
- গ. চা, চিনি
- ঘ. রিকশা, রেস্তোঁরা
উত্তর: গ. চা, চিনি
চা ও চিনি শব্দ দুটি চীনা ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। চা-পান ও চিনির ব্যবহার চীন থেকেই অন্য দেশে ছড়িয়েছে, আর সঙ্গে শব্দগুলোও এসেছে। বাকি অপশনের শব্দগুলো অন্য ভাষার: চাকু ও চাকর মূলত তুর্কি-ফারসি, খদ্দর ও হরতাল ভারতীয় ভাষা থেকে আসা, আর রিকশা জাপানি এবং রেস্তোরাঁ ফরাসি শব্দ।
মনে রাখুন:
চীনা ভাষা থেকে আসা আরও শব্দ: লিচু।
জাপানি শব্দ: রিকশা, হারিকিরি।
ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, রেস্তোরাঁ। - ২০. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত-
- ক. ভাষাতত্ত্ববিদ
- খ. সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা
- গ. ইসলাম প্রচারক
- ঘ. সমাজ সংস্কারক
উত্তর: ক. ভাষাতত্ত্ববিদ
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯) বহু ভাষা জানতেন। প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ভাষাতত্ত্বে ডক্টরেট করেন। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও চর্যাপদ নিয়ে তাঁর মৌলিক গবেষণা আছে, তাই তাঁকে প্রধানত ভাষাতত্ত্ববিদ (Linguist) বলা হয়। অধ্যাপক হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মনে রাখুন:
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’।
চর্যাপদ আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপাল থেকে, ১৯০৭ সালে। - ৬৪. ‘এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধবমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি’ এর রচয়িতা-
- ক. জহির রায়হান
- খ. গাফ্ফার চৌধুরী
- গ. শামসুর রাহমান
- ঘ. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর: ঘ. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরীর লেখা। এখানকার পঙ্ক্তি ‘এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নিচে, সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি’ ভাষাশহীদদের স্মরণে লেখা। কবিতাটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা প্রথম দিকের কবিতা হিসেবে পরিচিত এবং কবি এটি লেখেন চট্টগ্রামে বসে।
মনে রাখুন:
শামসুর রাহমানের কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।
জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
- ২১. What is the verb form of the word ‘Shortly’?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ১৪৯১) ২০১৯
- ক. Short
- খ. Shorter
- গ. Shorten
- ঘ. Shortness
উত্তর: গ. Shorten
Shortly একটি ক্রিয়াবিশেষণ (Adverb), যার মূল শব্দ বিশেষণ Short। কোনো বিশেষণের সঙ্গে -en যোগ করে অনেক সময় ক্রিয়া তৈরি হয়। তাই Short থেকে Shorten (ছোট করা) ক্রিয়াটি পাওয়া যায়। Shorter হলো Short-এর তুলনামূলক রূপ, আর Shortness বিশেষ্য।
মনে রাখুন:
বিশেষণ থেকে ক্রিয়া: wide → widen, strong → strengthen, bright → brighten। - ২২. Choose the correct sentence-
- ক. Let he and you be witnesses
- খ. Let you and him be witnesses
- গ. Let you and he be witnesses
- ঘ. Let you and he be witnesses
উত্তর: খ. Let you and him be witnesses
Let-এর পরে যে pronoun বসে, তা let-এর object হিসেবে কাজ করে, তাই সেখানে objective form লাগে: me, him, her, us, them। এ কারণে ‘Let you and him be witnesses’ শুদ্ধ, কারণ him হলো he-এর objective রূপ। ‘Let he and you’ ও ‘Let you and he’ ভুল, কারণ he কর্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয় (subjective form)।
মনে রাখুন:
প্রস্তাব দিতে Let us, অনুমতি চাইতে Let me ব্যবহার হয়।
একই নিয়ম preposition-এর পরেও খাটে: between you and me, not between you and I। - ২৩. Choose the correct sentence-
- ক. The matter was informed to the police.
- খ. The matter has been informed of the police.
- গ. The police was informed of the matter.
- ঘ. The police were informed of the matter.
উত্তর: ঘ. The police were informed of the matter.
কাউকে কোনো বিষয়ে জানানো বোঝাতে ‘inform someone of something’ গঠনটি ব্যবহার হয়। অর্থাৎ যাকে জানানো হয়, সে হবে inform-এর কর্ম আর বিষয়ের আগে of বসবে। তাই ‘The police were informed of the matter’ সঠিক। এছাড়া Police শব্দটি সব সময় বহুবচন হিসেবে ব্যবহার হয়, তাই verb হবে were, was নয়।
মনে রাখুন:
একই ধরনের বহুবচনরূপে ব্যবহৃত শব্দ: cattle, people, police।
Inform-এর পরে to নয়, বিষয় এলে of বা about বসে। - ২৪. Who, Which, What are-
- ক. Demonstrative pronoun
- খ. Relative pronoun
- গ. Reflexive pronoun
- ঘ. Indefinite pronoun
উত্তর: খ. Relative pronoun
Who, which ও what দুটি বাক্যাংশ বা clause জুড়ে দেয় এবং আগের কোনো noun-এর কথা বোঝায়, তখন এগুলোকে Relative pronoun বলে। যেমন ‘The man who came was my uncle.’ এখানে who আগের noun ‘man’-এর কথা বলছে। প্রশ্ন করার সময় এগুলো Interrogative pronoun হিসেবে কাজ করে, যেমন ‘Who are you?’, তবে অপশনে সেটি নেই।
মনে রাখুন:
আরও Relative pronoun: whom, whose, that।
Demonstrative pronoun: this, that, these, those।
Reflexive pronoun: myself, himself, themselves। - ২৫. Choose the correct one-
- ক. Mispel
- খ. Misspell
- গ. Mispell
- ঘ. Misspel
উত্তর: খ. Misspell
Spell শব্দের আগে mis- উপসর্গ যুক্ত হয়ে Misspell শব্দ গঠিত হয়, যার অর্থ ভুল বানান করা। mis- উপসর্গের শেষে s আছে আর spell শব্দের শুরুতেও s আছে, তাই দুটি s পাশাপাশি বসে, আর শেষে দুটি l থাকে। এই কারণেই বানান হবে m-i-s-s-p-e-l-l।
মনে রাখুন:
mis- উপসর্গ ভুল অর্থ বোঝায়, যেমন misunderstand, misuse, misread।
একই নিয়মের আরেকটি উদাহরণ: dissatisfied (dis + satisfied)। - ২৬. Fill in the blank: ‘What is the time ___ your watch?’
- ক. by
- খ. in
- গ. at
- ঘ. With
উত্তর: ক. by
ঘড়ি দেখে সময় জানতে চাইলে preposition ‘by’ ব্যবহার হয়, কারণ ঘড়ি এখানে সময় মাপার উপায় বা মাধ্যম। তাই বাক্যটি হবে ‘What is the time by your watch?’ ঘড়ির সময় নিয়ে প্রশ্নের এই গঠনটিই প্রচলিত ইডিয়ম।
মনে রাখুন:
‘By my watch it is ten o’clock’ বলা যায়।
নির্দিষ্ট সময় বোঝাতে at ব্যবহার হয়, যেমন at five o’clock। - ২৭. Fill in the blank: ‘Give my _____ to him.’
- ক. Warm compliment
- খ. Compliments
- গ. Best compliment
- ঘ. Heartiest compliment
উত্তর: খ. Compliments
শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন পাঠানোর প্রচলিত কথা হলো ‘Give my compliments to him.’ এই অর্থে compliment শব্দটি সব সময় বহুবচনে compliments হিসেবে বসে। একবচন compliment মানে প্রশংসা, যেমন ‘He paid me a compliment.’ আর বাকি অপশনগুলো একবচন বা বিশেষণযুক্ত, তাই এখানে বসে না।
মনে রাখুন:
আরও যেসব শব্দ বহুবচনে বিশেষ অর্থ দেয়: regards, thanks, congratulations।
‘With the compliments of the author’ বইয়ের উপহার পাতায় লেখা হয়। - ২৮. ‘Caesar and Cleopatra’ is-
- ক. a tragedy by Shakespeare
- খ. a play by G. B. Shaw
- গ. a poem by Lord Byron
- ঘ. a novel by S. T. Coleridge
উত্তর: খ. a play by G. B. Shaw
‘Caesar and Cleopatra’ (১৮৯৮) আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ’-র নাটক। এতে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজার ও মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার কাহিনি বলা হয়েছে। শেক্সপিয়রের লেখা একই ধরনের নামের ট্র্যাজেডিটি হলো ‘Antony and Cleopatra’, তাই শেক্সপিয়রকে বেছে নিলে ভুল হবে।
মনে রাখুন:
শ’-র অন্যান্য নাটক: Pygmalion, Man and Superman, Arms and the Man, Saint Joan।
জর্জ বার্নার্ড শ ১৯২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। - ২৯. Who is the greatest modern English dramatist?
- ক. Verginia Woolf
- খ. George Bernard Shaw
- গ. P. B. Shelley
- ঘ. S. T. Coleridge
উত্তর: খ. George Bernard Shaw
জর্জ বার্নার্ড শ’ শেক্সপিয়রের পরে ইংরেজি ভাষার সবচেয়ে বড় নাট্যকারদের একজন বলে স্বীকৃত। তিনি সমাজের নানা সমস্যা ও ভণ্ডামি নিয়ে ব্যঙ্গ ও যুক্তির মিশেলে নাটক লেখেন, আর ১৯২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। বাকি তিন জনের পরিচয় আলাদা: ভার্জিনিয়া উলফ ঔপন্যাসিক, আর শেলি ও কোলরিজ কবি।
মনে রাখুন:
শ’-র বিখ্যাত নাটক: Pygmalion, Man and Superman, Saint Joan, Arms and the Man।
ভার্জিনিয়া উলফের বিখ্যাত উপন্যাস Mrs Dalloway ও To the Lighthouse। - ৩০. Who is the modern philosopher who was awarded the Nobel Prize for literature?
- ক. James Baker
- খ. Dr. Kissinger
- গ. Bertrand Russel
- ঘ. Lenin
উত্তর: গ. Bertrand Russel
ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল কমিটি তাঁর বহুমুখী লেখাকে সম্মান জানায়, যেখানে তিনি মানবতাবাদ ও চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন। অন্য অপশনের কেউই আধুনিক দার্শনিক হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পাননি: জেমস বেকার ও কিসিঞ্জার রাজনীতিবিদ, আর লেনিন রুশ বিপ্লবী নেতা।
মনে রাখুন:
রাসেলের বিখ্যাত বই: ‘A History of Western Philosophy’, ‘Principia Mathematica’ (হোয়াইটহেডের সঙ্গে)।
হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। - ৩১. Who is the author of ‘A Farewell to Arms’?
- ক. T. S. Eliot
- খ. John Milton
- গ. Plato
- ঘ. Ernest Hemingway
উত্তর: ঘ. Ernest Hemingway
‘A Farewell to Arms’ (১৯২৯) মার্কিন ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের উপন্যাস। এর পটভূমি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, আর কাহিনিতে ইতালির রণাঙ্গনে এক মার্কিন অ্যাম্বুলেন্স চালক ও একজন নার্সের প্রেম ও বিচ্ছেদ আছে। অপশনের অন্যরা আলাদা ধারার লেখক: টি এস এলিয়ট ও মিল্টন কবি, আর প্লেটো গ্রিক দার্শনিক।
মনে রাখুন:
হেমিংওয়ের অন্য বিখ্যাত উপন্যাস: ‘The Old Man and the Sea’, ‘For Whom the Bell Tolls’।
তিনি ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। - ৩২. Who is the most famous satirist in English literature?
- ক. Alexander Pope
- খ. Jonathan Swift
- গ. William Wordsworth
- ঘ. Bulter
উত্তর: খ. Jonathan Swift
ব্যঙ্গ বা বিদ্রূপের মাধ্যমে সমাজের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরেন যিনি, তাঁকে সাটায়ারিস্ট (Satirist) বলে। জোনাথন সুইফট ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত সাটায়ারিস্ট। তাঁর ‘Gulliver’s Travels’ (১৭২৬) উপন্যাসে লিলিপুট ও অন্যান্য কল্পিত দেশের গল্পের আড়ালে সমকালীন রাজনীতি ও মানবসমাজের তীব্র সমালোচনা আছে। আলেকজান্ডার পোপ পদ্যে ব্যঙ্গ লিখেছেন, তবে গদ্য ব্যঙ্গে সুইফটই শীর্ষে।
মনে রাখুন:
সুইফটের আরেকটি বিখ্যাত ব্যঙ্গরচনা ‘A Modest Proposal’।
পোপের বিখ্যাত রচনা ‘The Rape of the Lock’। - ৩৩. What is the synonym of ‘Delude’?
- ক. Demand
- খ. Permit
- গ. Aggravate
- ঘ. Deceive
উত্তর: ঘ. Deceive
Delude মানে মিথ্যা বিশ্বাস জন্মিয়ে কাউকে ঠকানো বা বিভ্রান্ত করা। তাই এর সমার্থক শব্দ Deceive (প্রতারণা করা)। অন্য অপশনগুলোর অর্থ আলাদা: Demand মানে দাবি করা, Permit মানে অনুমতি দেওয়া, আর Aggravate মানে পরিস্থিতি আরও খারাপ করা।
মনে রাখুন:
Delude-এর বিশেষ্য Delusion (ভ্রান্ত ধারণা)।
একই অর্থের কাছাকাছি শব্দ: Mislead, Cheat, Fool।
Elude (এড়িয়ে যাওয়া) ও Allude (ইঙ্গিত করা) শব্দ দুটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। - ৩৪. What is the noun form of the word ‘Waste’?
- ক. Waste
- খ. Wasting
- গ. Wastage
- ঘ. Wasteful
উত্তর: গ. Wastage
Waste শব্দটি নিজেও বিশেষ্য ও ক্রিয়া, কিন্তু প্রশ্নে ক্রিয়া Waste থেকে গঠিত বিশেষ্য রূপ চাওয়া হয়েছে। ক্রিয়ার সঙ্গে -age প্রত্যয় যোগ করে এই রূপ তৈরি হয়, তাই এখানে Wastage, যার অর্থ অপচয় বা অপচয়ের পরিমাণ। Wasting ক্রিয়ার ing-রূপ, আর Wasteful বিশেষণ, যার অর্থ অপচয়কারী।
মনে রাখুন:
-age যোগে গঠিত বিশেষ্য: Marry → Marriage, Break → Breakage, Pass → Passage, Leak → Leakage। - ৩৫. What is the antonym of ‘Queer’?
- ক. Integrated
- খ. Orderly
- গ. Abnormal
- ঘ. Odd
উত্তর: খ. Orderly
Queer মানে অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক। অপশনে Abnormal ও Odd দুটিই Queer-এর সমার্থক, তাই এগুলো বিপরীত অর্থের শব্দ হতে পারে না। Orderly মানে সুশৃঙ্খল ও নিয়মমাফিক, যা অস্বাভাবিকতার উল্টো ধারণা, তাই বিপরীত অর্থে সবচেয়ে কাছের শব্দ Orderly।
মনে রাখুন:
Queer-এর সমার্থক: Strange, Odd, Peculiar, Weird।
Queer-এর বিপরীত: Normal, Ordinary, Usual। - ৩৬. What is the adjective of the word ‘Heart’?
- ক. Heart
- খ. Hearten
- গ. Heartening
- ঘ. Heartful
উত্তর: গ. Heartening
Heart একটি বিশেষ্য, যার অর্থ হৃদয়। এর বিশেষণ রূপ হিসেবে অপশনে Heartening আছে, যার অর্থ উৎসাহব্যঞ্জক বা মনে সাহস জাগায় এমন। Hearten নিজে একটি ক্রিয়া, যার অর্থ উৎসাহ দেওয়া। Heart ও Heartful এই অপশনের মধ্যে সঠিক বিশেষণ রূপ নয়।
মনে রাখুন:
Heart থেকে আরও বিশেষণ: Hearty (আন্তরিক), Heartless (নির্দয়), Heartfelt (আন্তরিক)।
Hearten-এর বিপরীত ক্রিয়া Dishearten (নিরুৎসাহ করা)।
গাণিতিক যুক্তি
- ৩৭. বৃত্তে AB এবং CD দুটি সমান জ্যা পরস্পর P বিন্দুতে ছেদ করলে কোনটি সত্য?
- ক. PC=PD
- খ. PA=PB
- গ. PB=PA
- ঘ. PB=PD
উত্তর: ঘ. PB=PD
বৃত্তের ভেতরে দুটি জ্যা ছেদ করলে তাদের খণ্ডগুলোর গুণফল সমান হয়, অর্থাৎ PA × PB = PC × PD। আবার জ্যা দুটি সমান বলে PA + PB = PC + PD। দুটি সংখ্যার যোগফল ও গুণফল সমান হলে সংখ্যাদুটি একই জোড়া হয়, তাই PA = PC এবং PB = PD (সাধারণ চিত্র অনুযায়ী)। এখানে PB = PD সত্য। বাকি অপশনের PC = PD বা PA = PB সাধারণভাবে সত্য নয়।
মনে রাখুন:
বৃত্তে সমান জ্যা কেন্দ্র থেকে সমান দূরে থাকে।
দুটি জ্যা ছেদ করলে PA × PB = PC × PD, একে ছেদক-জ্যা উপপাদ্য বলা হয়। - ৩৮. চারটি সমান বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ একটি ক্ষেত্র যার একটি কোণও সমকোণ নয়, এরূপ চিত্রকে বলা হয়-
- ক. বর্গক্ষেত্র
- খ. চতুর্ভুজ
- গ. রম্বস
- ঘ. সামান্তরিক
উত্তর: গ. রম্বস
চারটি বাহু সমান এমন চতুর্ভুজ দুই ধরনের হতে পারে: যার কোণগুলো সমকোণ, সেটি বর্গক্ষেত্র, আর যার কোনো কোণ সমকোণ নয়, সেটি রম্বস। প্রশ্নে বলা হয়েছে কোনো কোণই সমকোণ নয়, তাই ক্ষেত্রটি রম্বস। সামান্তরিকে বিপরীত বাহুগুলো সমান হয়, চারটি বাহু নয়।
মনে রাখুন:
রম্বসের কর্ণদুটি পরস্পরকে সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে।
রম্বসের ক্ষেত্রফল = ½ × কর্ণ দুটির গুণফল। - ৩৯. চিনির মূল্য ২৫% বৃদ্ধি পাওয়াতে একটি পরিবার চিনি খাওয়া এমনিভাবে কমালো যে চিনি বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পেল না। ঐ পরিবার চিনি খাওয়া বাবদ শতকরা কত কমালো?
- ক. ২২%
- খ. ২৫%
- গ. ২০%
- ঘ. ৩০%
উত্তর: গ. ২০%
ধরা যাক আগে পরিবারটি চিনির জন্য ১০০ টাকা খরচ করত এবং তাতে ১০০ একক চিনি পেত। দাম ২৫ শতাংশ বাড়ায় এখন ১ একক চিনির দাম 1.25 টাকা, তাই একই ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে 100 ÷ 1.25 = 80 একক চিনি। খরচ না বাড়াতে হলে চিনি কমাতে হবে 100 − 80 = 20 একক, অর্থাৎ 20 শতাংশ।
মনে রাখুন: দাম a% বাড়লে খরচ অপরিবর্তিত রাখতে ব্যবহার কমাতে হবে a ÷ (100 + a) × 100 শতাংশ, এখানে 25 ÷ 125 × 100 = 20। - ৪০. বার্ষিক পরীক্ষায় একটি ছাত্র ক সংখ্যক প্রশ্নের প্রথম ২০ টির মধ্যে ১৫টি নির্ভুল উত্তর দিল। বাকি যা প্রশ্ন রইল তার ১/৩ অংশ সে নির্ভুল উত্তর দিল। সমস্ত প্রশ্নের মান সমান। যদি ছাত্রটি শতকরা ৭৫ ভাগ নম্বর পায় তবে প্রশ্নের সংখ্যা কত ছিল?
- ক. ১৫ টি
- খ. ২০ টি
- গ. ২৫ টি
- ঘ. ১৮ টি
উত্তর: খ. ২০ টি
ধরা যাক মোট প্রশ্ন n টি। প্রথম ২০টির মধ্যে ১৫টি সঠিক, আর বাকি (n − 20)টির এক-তৃতীয়াংশ সঠিক। মোট সঠিক উত্তর হবে 15 + (n − 20)/3, যা মোট প্রশ্নের ৭৫%, অর্থাৎ 0.75n-এর সমান।
15 + (n − 20)/3 = 0.75n, তাই 45 + n − 20 = 2.25n, বা 1.25n = 25, ফলে n = 20।
যাচাই: ২০টি প্রশ্নের ১৫টি সঠিক হলে 15/20 = ৭৫%। - ৪১. নৌকা ও স্রোতের বেগ ঘণ্টায় যথাক্রমে ১০ ও ৫ কিমি। নদী পথে ৪৫ কিমি দীর্ঘ পথ একবার অতিক্রম করে ফিরে আসতে কত ঘণ্টা সময় লাগবে?
- ক. ৯ ঘণ্টা
- খ. ১২ ঘণ্টা
- গ. ১০ ঘণ্টা
- ঘ. ১৮ ঘণ্টা
উত্তর: খ. ১২ ঘণ্টা
নৌকার বেগ ঘণ্টায় 10 কিমি ও স্রোতের বেগ 5 কিমি হলে স্রোতের অনুকূলে নৌকার বেগ 10 + 5 = 15 কিমি/ঘণ্টা, আর প্রতিকূলে 10 − 5 = 5 কিমি/ঘণ্টা। একবার যেতে ও ফিরে আসতে সময় লাগবে 45/15 + 45/5 = 3 + 9 = 12 ঘণ্টা।
মনে রাখুন: স্রোতের অনুকূলে বেগ = নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ, প্রতিকূলে বেগ = নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ। - ৪২. ১১, ১৭, ২৯, ৫৩, ____। পরবর্তী সংখ্যাটি কত?
- ক. ১০১
- খ. ১০২
- গ. ৭৫
- ঘ. ৫৯
উত্তর: ক. ১০১
ধারাটির পরপর সংখ্যার পার্থক্য দেখি: 17 − 11 = 6, 29 − 17 = 12, 53 − 29 = 24। পার্থক্যগুলো প্রতিবার দ্বিগুণ হচ্ছে, তাই পরের পার্থক্য 48 হবে। অতএব পরের সংখ্যা 53 + 48 = 101।
মনে রাখুন: ধারা মেলাতে প্রথমে পরপর সংখ্যার পার্থক্য বা অনুপাত দেখা ভালো। - ৪৩. ২০৫৭৩.৪ মিলিগ্রামে কত কিলোগ্রাম?
- ক. ২.০৫৭৩৪
- খ. ০.২০৫৭৩৪
- গ. ০.০২০৫৭৩৪
- ঘ. ২০.৫৭৩৪০
উত্তর: গ. ০.০২০৫৭৩৪
মেট্রিক পদ্ধতিতে 1 কিলোগ্রাম = 1000 গ্রাম এবং 1 গ্রাম = 1000 মিলিগ্রাম, তাই 1 কিলোগ্রাম = 10,00,000 মিলিগ্রাম। সুতরাং 20573.4 মিলিগ্রাম = 20573.4 ÷ 1000000 = 0.0205734 কিলোগ্রাম।
মনে রাখুন: মিলিগ্রাম থেকে কিলোগ্রামে নিতে দশমিক বিন্দু ছয় ঘর বাঁয়ে সরাতে হয়। - ৪৪. একটি স্কুলে ছাত্রদের ড্রিল করার সময় ৮, ১০ এবং ১২ সারিতে সাজানো যায়। আবার বর্গাকারেও সাজানো যায়। ঐ স্কুলে কমপক্ষে কতজন ছাত্র আছে?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ) ২০২২
- ক. ৩৬০০
- খ. ২৪০০
- গ. ১২০০
- ঘ. ৩০০০
উত্তর: ক. ৩৬০০
সংখ্যাটি ৮, ১০ ও ১২ দিয়ে ভাগ করা গেলে এটি এই তিন সংখ্যার সাধারণ গুণিতক, আর ন্যূনতম হলে লসাগু। 8, 10 ও 12-এর লসাগু 120 = 2³ × 3 × 5। আবার ছাত্রদের বর্গাকারে সাজানো যায় বলে সংখ্যাটি পূর্ণবর্গ হতে হবে, আর পূর্ণবর্গে প্রতিটি মৌলিক উৎপাদকের ঘাত জোড় হয়। তাই 120-কে 2 × 3 × 5 = 30 দিয়ে গুণ করতে হবে, ফলে 120 × 30 = 3600 = 60²।
মনে রাখুন: তিনটি সংখ্যার লসাগু পূর্ণবর্গ না হলে প্রয়োজনীয় উৎপাদক দিয়ে গুণ করে পূর্ণবর্গ বানাতে হয়। - ৪৫. ৫ : ১৮, ৭ : ২ এবং ৩ : ৬ এর মিশ্র অনুপাত কত?
- ক. ৭২ : ১০৫
- খ. ৭২ : ৩৫
- গ. ৩৫ : ৭২
- ঘ. ১০৫ : ৭২
উত্তর: গ. ৩৫ : ৭২
একাধিক অনুপাতের পূর্ব রাশিগুলোর গুণফল ও উত্তর রাশিগুলোর গুণফল নিয়ে যে অনুপাত পাওয়া যায়, তাকে মিশ্র অনুপাত বলে। এখানে (5 × 7 × 3) : (18 × 2 × 6) = 105 : 216। উভয় রাশিকে 3 দিয়ে ভাগ করলে পাই 35 : 72।
মনে রাখুন: মিশ্র অনুপাত বের করে সংখ্যা দুটির সাধারণ উৎপাদক থাকলে সরল রূপে লিখতে হয়। - ৪৬. সুষম বহুভুজের একটি অন্তঃকোণের পরিমাণ ১৩৫ ডিগ্রি হলে এর বাহুর সংখ্যা কত?
- ক. ৮
- খ. ৭
- গ. ৯
- ঘ. ৬
উত্তর: ক. ৮
সুষম বহুভুজের প্রতিটি অন্তঃকোণ 135° হলে তার সংলগ্ন বহিঃকোণ 180° − 135° = 45°। যেকোনো বহুভুজের বহিঃকোণগুলোর যোগফল 360°, আর সুষম বহুভুজে সব বহিঃকোণ সমান, তাই বাহুর সংখ্যা = 360 ÷ 45 = 8। এটি অষ্টভুজ।
মনে রাখুন:
n বাহুবিশিষ্ট বহুভুজের অন্তঃকোণগুলোর যোগফল (n − 2) × 180°।
সুষম বহুভুজের প্রতিটি বহিঃকোণ 360°/n। - ৪৭. p-এর মান কত হলে 4x2 – px + 9 একটি পূর্ণ বর্গ হবে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৪
- ক. 10
- খ. 9
- গ. 16
- ঘ. 12
উত্তর: ঘ. 12
4x² = (2x)² এবং 9 = 3², তাই রাশিটি পূর্ণবর্গ হতে হলে (2x − 3)²-এর আকারে হতে হবে। (2x − 3)² = 4x² − 12x + 9, অর্থাৎ মাঝের পদ 2 × 2x × 3 = 12x। এর সঙ্গে 4x² − px + 9 মিলিয়ে পাই p = 12।
মনে রাখুন: ax² + bx + c পূর্ণবর্গ হওয়ার শর্ত b² = 4ac, এখানে p² = 4 × 4 × 9 = 144। - ৪৮. নিচের কোন সংখ্যাটি √2 এবং √3 এর মধ্যবর্তী মূলদ সংখ্যা?
- ক. (√2+√3)/2
- খ. (√2.√3) X 2
- গ. 1.5
- ঘ. 1.8
উত্তর: গ. 1.5
√2 ≈ 1.414 এবং √3 ≈ 1.732, তাই এদের মাঝের কোনো সংখ্যা 1.414-এর বড় ও 1.732-এর ছোট হতে হবে। 1.5 = 3/2 একটি মূলদ সংখ্যা এবং এই দুই মানের মাঝে আছে। (√2 + √3)/2 ≈ 1.573 মাঝে থাকলেও এটি অমূলদ। 1.8 সংখ্যাটি √3-এর চেয়ে বড়, আর 2√6 প্রায় 4.9, তাই এই দুটিও মাঝে নেই।
মনে রাখুন: যে সংখ্যাকে p/q আকারে (q ≠ 0, p, q পূর্ণসংখ্যা) লেখা যায়, সেটি মূলদ সংখ্যা। - ৪৯. x2 – 8x – 8y + 16 + y2 -এর সঙ্গে কত যোগ করলে যোগফল একটি পূর্ণবর্গ হবে?
- ক. -2xy
- খ. 8xy
- গ. 6xy
- ঘ. 2xy
উত্তর: ঘ. 2xy
রাশিটি সাজালে হয় x² + y² − 8(x + y) + 16। এর সঙ্গে 2xy যোগ করলে পাই (x² + 2xy + y²) − 8(x + y) + 16 = (x + y)² − 2 × (x + y) × 4 + 4² = (x + y − 4)², যা একটি পূর্ণবর্গ।
মনে রাখুন: (a − b)² = a² − 2ab + b² সূত্র ধরে এখানে a = x + y এবং b = 4। - ৫০. 2x2 – x – 3 এর উৎপাদক হবে-
- ক. (2x + 3)(x + 1)
- খ. (2x – 3)(x – 1)
- গ. (2x + 3)(x – 1)
- ঘ. (2x – 3)(x + 1)
উত্তর: ঘ. (2x – 3)(x + 1)
2x² − x − 3 উৎপাদকে ভাঙতে মধ্যপদ বিভাজন করতে হয়। 2 × (−3) = −6 এবং −6 = 2 × (−3), যোগফল −1, তাই −x = 2x − 3x।
2x² − x − 3 = 2x² + 2x − 3x − 3 = 2x(x + 1) − 3(x + 1) = (2x − 3)(x + 1)।
যাচাই: (2x − 3)(x + 1) = 2x² + 2x − 3x − 3 = 2x² − x − 3। - ৫১. a4 + 4এর উৎপাদক কি কি?
- ক. (a2 + 2a + 2)(a2 – 2a – 2)
- খ. (a2 + 2a + 2)(a2 – 2a + 2)
- গ. (a2 – 2a + 2)(a2 + 2a – 2)
- ঘ. (a2 – 2a – 2)(a2 – 2a + 2)
উত্তর: খ. (a2 + 2a + 2)(a2 – 2a + 2)
a⁴ + 4 সরাসরি উৎপাদকে ভাঙা যায় না, তাই এর সঙ্গে 4a² যোগ করে আবার বিয়োগ করতে হয়। তখন a⁴ + 4 = a⁴ + 4a² + 4 − 4a² = (a² + 2)² − (2a)²। বর্গের অন্তরের সূত্র a² − b² = (a + b)(a − b) প্রয়োগ করে পাই (a² + 2a + 2)(a² − 2a + 2)।
মনে রাখুন: x⁴ + 4y⁴ রাশিকে এই কৌশলে ভাঙা যায়। - ৫২. একটি সমবাহু ত্রিভুজের একটি বাহু ১৬ মিটার। ত্রিভুজটির ক্ষেত্রফল কত?
- ক. ৬৪√৩ বর্গমিটার
- খ. ১৯২ বর্গমিটার
- গ. ৬৪ বর্গমিটার
- ঘ. ৩২√৩ বর্গমিটার
উত্তর: ক. ৬৪√৩ বর্গমিটার
সমবাহু ত্রিভুজের প্রতিটি বাহু a হলে ক্ষেত্রফল = (√3/4) × a²। এখানে a = 16 মিটার, তাই ক্ষেত্রফল = (√3/4) × 16² = (√3/4) × 256 = 64√3 বর্গমিটার।
মনে রাখুন:
সমবাহু ত্রিভুজের উচ্চতা = (√3/2) × a।
পরিসীমা = 3a।
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- ৫৩. ঢাকা থেকে সরাসরি নোয়াখালী যাওয়ার আন্তঃমহানগরীয় ট্রেনটির নাম-
- ক. এগার সিন্দুর এক্সপ্রেস
- খ. পারাবত এক্সেপ্রেস
- গ. উপকূল এক্সপ্রেস
- ঘ. সৈকত এক্সপ্রেস
উত্তর: গ. উপকূল এক্সপ্রেস
ঢাকা থেকে সরাসরি নোয়াখালীতে (চৌমুহনী স্টেশন পর্যন্ত) চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের নাম উপকূল এক্সপ্রেস। অন্য ট্রেনগুলো আলাদা রুটে চলে: পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা-সিলেট রুটে এবং এগারসিন্দুর প্রভাতী ও গোধূলি ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করে।
মনে রাখুন:
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে আছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী ও গোধূলি।
ঢাকা-সিলেট রুটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসও আছে। - ৫৬. [তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন; তাই প্রশ্নের ভাষা কিছুটা মডিফাই করা হয়েছে] বাংলাদেশে বর্তমানে বার্ষিক চা উৎপাদনের পরিমাণ হচ্ছে প্রায়-
- ক. ৯ কোটি ৭৫ লাখ কেজি
- খ. ৯ কোটি ৩৫ লাখ কেজি
- গ. ৯ কোটি ৫০ লাখ কেজি
- ঘ. ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি
উত্তর: ঘ. ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি
বাংলাদেশ চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত, আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরে প্রায় ৯ কোটির বেশি কেজি, অর্থাৎ ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজির আশপাশে চা উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের বেশির ভাগ চা সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় জন্মে, কারণ সেখানকার পাহাড়ি টিলা ও আর্দ্র জলবায়ু চা চাষের উপযোগী। উত্তরের পঞ্চগড়েও এখন চা চাষ হয়।
মনে রাখুন:
শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা হয়।
শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) আছে।
সিলেটের মালনীছড়া বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান। - ৫৭. [প্রশ্নের অপশনের ভাষা কিছুটা মডিফাই করা হয়েছে] ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আয়তন প্রায়-
- ক. ১৬০০ বর্গ কিমি
- খ. ৯০ বর্গমাইল
- গ. ১৬০ বর্গমাইল
- ঘ. ৮০ বর্গমাইল
উত্তর: ক. ১৬০০ বর্গ কিমি
পরীক্ষার সময়ের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আয়তন প্রায় ১৬০০ বর্গকিলোমিটার ধরা হতো। বর্গমাইলে দেওয়া অপশনগুলো এই মানের সঙ্গে মেলে না, কারণ 1 বর্গমাইল ≈ 2.59 বর্গকিলোমিটার, আর 1600 বর্গকিলোমিটার প্রায় 618 বর্গমাইলের সমান। শহরের প্রশাসনিক সীমানা ও সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই সংখ্যাটি পরীক্ষার সময়ের পরিসংখ্যান।
মনে রাখুন: ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ২০১১ সালে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, এই দুই ভাগে ভাগ হয়। - ৫৮. গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব-
- ক. নেপালে জলাধার নির্মাণ
- খ. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে সংযোগ খাল খনন
- গ. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ
- ঘ. গঙ্গার শাখা নদীসমূহের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি
উত্তর: ক. নেপালে জলাধার নির্মাণ
গঙ্গার পানি শুষ্ক মৌসুমে কমে গেলে বাংলাদেশ কষ্টে পড়ে। এই পানি বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল নেপালে জলাধার নির্মাণ করে বর্ষার অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, যাতে শুষ্ক মৌসুমে তা ছেড়ে গঙ্গার প্রবাহ বাড়ানো যায়। ভারতের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন, তারা ব্রহ্মপুত্র থেকে গঙ্গায় সংযোগ খাল খননের কথা বলেছিল।
মনে রাখুন:
ভারত ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালু করে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সই করে। - ৫৯. স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের-
- ক. ২ মার্চ
- খ. ২৩ মার্চ
- গ. ১০ মার্চ
- ঘ. ২৫ মার্চ
উত্তর: ক. ২ মার্চ
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন। তখন সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছিল, আর পতাকার মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজ স্বাধীনতার দাবি প্রকাশ্যে তুলে ধরে। ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস, সেদিন অনেক জায়গায় এই পতাকা উড়ানো হয়েছিল।
মনে রাখুন:
পতাকার প্রথম নকশা তৈরি করেন শিব নারায়ণ দাস, সেই পতাকায় সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের ভেতরে হলুদ রঙে মানচিত্র ছিল।
আ স ম আবদুর রব তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি ছিলেন। - ৬০. ‘গম্ভীরা’ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত?
- ক. পার্বত্য চট্টগ্রাম
- খ. সিলেট
- গ. রাজশাহী
- ঘ. রংপুর
উত্তর: গ. রাজশাহী
গম্ভীরা রাজশাহী অঞ্চলের, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি লোকসংগীত। এর বৈশিষ্ট্য হলো নানা ও নাতির সংলাপ, যার মধ্য দিয়ে সমাজের নানা সমস্যা ও অন্যায়ের কথা হাস্যরসের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। শিবের পূজা উপলক্ষে এই গানের চল শুরু হয়েছিল বলে প্রচলিত আছে।
মনে রাখুন:
ভাওয়াইয়া রংপুর ও উত্তরবঙ্গের লোকসংগীত।
ভাটিয়ালি নদীমাতৃক পূর্ব ও মধ্যবঙ্গের গান।
ধামাইল সিলেট অঞ্চলের গান।
জারি ও সারি গানও বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকগান। - ৬১. কোন শাসকের সময় থেকে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল পরিচিত হয়ে ওঠে বাঙ্গালাহ নামে?
- ক. ফখরুউদ্দিন মোবারক শাহ
- খ. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ্
- গ. জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর
- ঘ. ঈসা খান
উত্তর: খ. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ্
চৌদ্দ শতকের মাঝামাঝি সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁওয়ের মতো আলাদা আলাদা অঞ্চলকে এক শাসনের অধীনে আনেন। এর ফলে প্রথমবার সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল একটি রাজনৈতিক একক হয়ে ওঠে এবং ‘বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিতি পায়। তিনি ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন। ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ সোনারগাঁওয়ের স্বাধীন সুলতান ছিলেন, আর ঈসা খান বারো ভূঁইয়ার নেতা, এঁরা সমগ্র বাংলার সংযুক্তির কৃতিত্ব পাননি।
মনে রাখুন: ইলিয়াস শাহ ইলিয়াসশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা। - ৬২. বাংলাদেশের উন্নতমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে-
- ক. জামালগঞ্জে
- খ. জকিগঞ্জে
- গ. বিজয়পুরে
- ঘ. রানীগঞ্জে
উত্তর: ক. জামালগঞ্জে
জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে উন্নতমানের কয়লার বড় মজুদ আছে, তবে তা মাটির অনেক গভীরে থাকায় উত্তোলন কঠিন। বাংলাদেশের কয়লা মূলত উত্তরবঙ্গে পাওয়া যায়। বিজয়পুরে কয়লা নয়, চীনামাটি পাওয়া গেছে, আর রানীগঞ্জ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কয়লা অঞ্চল।
মনে রাখুন:
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় দেশের একমাত্র চালু কয়লাখনি আছে, যা আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
আরও কয়লাক্ষেত্র: খালাসপীর (রংপুর), দীঘিপাড়া ও ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)। - ৬৩. বাংলাদেশের চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
- ক. রানীগঞ্জে
- খ. বিজয়পুরে
- গ. টেকেরহাটে
- ঘ. বাগালীবাজারে
উত্তর: খ. বিজয়পুরে
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরে চীনামাটি বা কেওলিন (Kaolin) পাওয়া গেছে। এটি সাদা রঙের এক ধরনের মাটি, যা দিয়ে সিরামিকের বাসনপত্র, টাইলস ও স্যানিটারি সামগ্রী তৈরি হয়। রানীগঞ্জ কয়লার জন্য পরিচিত অঞ্চল, তাই চীনামাটির সন্ধান এখানে নয়।
মনে রাখুন:
দেশের আরও কিছু খনিজ সম্পদ: কঠিন শিলা (মধ্যপাড়া, দিনাজপুর), সিলিকা বালি (সিলেটের শাহজীবাজার ও ছাতক), চুনাপাথর (সুনামগঞ্জের টেকেরঘাট, জয়পুরহাট)। - ৬৫. মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল, তখন তার নাম ছিল-
- ক. মহাস্থান
- খ. কর্ণসুবর্ণ
- গ. পুণ্ড্রনগর
- ঘ. রামাবতী
উত্তর: গ. পুণ্ড্রনগর
বগুড়ার মহাস্থানগড় একসময় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলের রাজধানী ছিল, আর তখন এর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। মহাস্থান নামটি পরে চালু হয়েছে। অন্য দুটি নাম আলাদা রাজধানীর: কর্ণসুবর্ণ ছিল রাজা শশাঙ্কের রাজধানী, আর রামাবতী পাল রাজা রামপালের গড়া নগর।
মনে রাখুন:
মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপির শিলালিপিটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম লিপি। - ৬৭. বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান বলখির মাজার অবস্থিত-
- ক. মহাস্থানে
- খ. শাহজাদপুরে
- গ. নেত্রকোণায়
- ঘ. রামপালে
উত্তর: ক. মহাস্থানে
শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার একজন বিখ্যাত সুফি সাধক, যিনি বগুড়ার মহাস্থানগড় অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। তাঁর মাজার সেখানেই অবস্থিত, আর মহাস্থানগড়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। শাহজাদপুরে যে সাধকের মাজার আছে, তিনি মখদুম শাহ দৌলা।
মনে রাখুন:
মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে, বগুড়া জেলায় অবস্থিত।
শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ জেলায়। - ৭১. জাতিসংঘে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুযায়ী বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা হয়েছে প্রতি হাজারে-
- ক. ১৩৭
- খ. ১২১
- গ. ১১৭
- ঘ. ১১০
উত্তর: ক. ১৩৭
পরীক্ষার সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ভাষণে বলা হয়েছিল যে দেশে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে প্রতি হাজারে ১৩৭-এ আনা হয়েছে। এটি ছিল ওই সময়ের সরকারি তথ্য। শিশুস্বাস্থ্যে টিকাদান কর্মসূচি, খাবার স্যালাইনের প্রচার ও মায়েদের সচেতনতা বাড়ানোর ফলে মৃত্যুহার ধাপে ধাপে কমতে থাকে।
হালনাগাদ: পরবর্তী কয়েক দশকে বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার আরও অনেক কমেছে, আর শিশুমৃত্যু কমানোয় সাফল্যের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের এমডিজি পুরস্কার পায়।
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- ৫৪. বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর-
- ক. পাথরচাওলি
- খ. হাইল
- গ. চলনবিল
- ঘ. হাকালুকি
উত্তর: ঘ. হাকালুকি
হাওর হলো বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া বিশাল নিচু জলাভূমি, যা সিলেট অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় বিস্তৃত হাকালুকি হাওর আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওর। চলনবিল নামটি অনেকে শোনে, কিন্তু এটি হাওর নয়, নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের একটি বিল।
মনে রাখুন:
হাওর অঞ্চলের আরেকটি পরিচিত হাওর টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জে, যা রামসার সাইট।
হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের একটি বড় মৎস্য ও পরিযায়ী পাখির আবাস। - ৫৫. কিওক্রাডাং -এর উচ্চতা প্রায়-
- ক. ১০১০ মিটার
- খ. ১৫৩০ মিটার
- গ. ১২৩০ মিটার
- ঘ. ১৩৬৪ মিটার
উত্তর: গ. ১২৩০ মিটার
বান্দরবানের কেওক্রাডং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বিখ্যাত পাহাড়শৃঙ্গ। দীর্ঘদিন একে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বলে ধরা হতো, আর পরীক্ষার সময়ে এর উচ্চতা ধরা হতো প্রায় ১২৩০ মিটার। পরে নতুন জরিপে কেওক্রাডংয়ের উচ্চতা তুলনামূলক কম পাওয়া যায়, আর তাজিংডং (বিজয়) ও সাকা হাফং আরও উঁচু বলে জানা যায়।
মনে রাখুন:
কেওক্রাডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত।
তাজিংডং বিজয় নামেও পরিচিত এবং এটিও বান্দরবানে অবস্থিত। - ৭৫. হাজার হ্রদের দেশ কোনটি?
- ক. নরওয়ে
- খ. ফিনল্যান্ড
- গ. ইন্দোনেশিয়া
- ঘ. জাপান
উত্তর: খ. ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ড ইউরোপের একটি উত্তরের দেশ, যেখানে ছোট-বড় প্রায় ১ লক্ষ ৮৮ হাজার হ্রদ আছে। দেশের বড় একটি অংশই হ্রদ ও জলাভূমিতে ঢাকা। এ কারণে ফিনল্যান্ডকে হাজার হ্রদের দেশ (Land of Thousand Lakes) বলা হয়।
মনে রাখুন:
ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি।
নরওয়েকে মধ্যরাতের সূর্যের দেশ বলা হয়।
জাপানকে বলা হয় উদীয়মান সূর্যের দেশ। - ৮৮. গ্রিন-হাউজ ইফেক্ট বলতে বুঝায়-
- ক. সূর্যালোকের অভাবে সালোক সংশ্লেষণে ঘাটতি
- খ. তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
- গ. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা
- ঘ. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
উত্তর: খ. তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ভূপৃষ্ঠ সূর্যের আলোতে গরম হয়ে তাপ বিকিরণ করে। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও জলীয় বাষ্পের মতো গ্যাস এই তাপের একটি অংশ মহাশূন্যে চলে যেতে বাধা দেয়। তাপ আটকে থাকায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। কাচের ঘরের ভেতর যেমন তাপ আটকে থাকে, এটিও ঠিক তেমন, তাই একে গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect) বলে।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় −18°C হতো, এখন তা প্রায় 15°C।
মানুষের কর্মকাণ্ডে এই গ্যাস বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটছে। - ৮৯. রিমোট সেন্সিং বা দূর অনুধাবন বলতে বিশেষভাবে বুঝায়-
- ক. রেডিও ট্রান্সমিটার সহযোগে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ
- খ. রাডারের সাহায্যে চারদিকের পরিবেশের অবলোকন
- গ. কোয়াসার প্রভূতি মহাজাতিক উৎস থেকে সংকেত অনুধাবন
- ঘ. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
উত্তর: ঘ. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
কোনো বস্তুকে না ছুঁয়ে দূর থেকে তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাকে দূর অনুধাবন বা রিমোট সেন্সিং (Remote Sensing) বলে। এতে উপগ্রহ বা বিমানে বসানো বিশেষ সেন্সর ভূপৃষ্ঠ থেকে আসা আলো বা বিকিরণ ধরে নেয়। এই ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া, বন, ফসল, বন্যা ও ভূমি ব্যবহারের খবর জানা যায়। তাই উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডল পর্যবেক্ষণই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে এ কাজ করে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো, SPARRSO)।
রাডার ও রেডিও ট্রান্সমিটারও কিছু ক্ষেত্রে দূর থেকে তথ্য পাঠালেও রিমোট সেন্সিং বলতে বিশেষভাবে উপগ্রহভিত্তিক পর্যবেক্ষণ বোঝায়। - ৯৪. প্রবল জোয়ারের কারণ, এ সময়-
- ক. সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণ করে থাকে
- খ. চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে
- গ. পৃথিবীর সূর্যর সবচেয়ে কাছে থাকে
- ঘ. সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে
উত্তর: ঘ. সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরল রেখায় থাকে
অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় থাকে। তখন সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণ একই দিকে একসঙ্গে কাজ করে, ফলে সমুদ্রের পানি সবচেয়ে বেশি ফুলে ওঠে, আর এই প্রবল জোয়ারকে ভরা কটাল বলে। অন্য অপশনগুলোর কোনোটি প্রবল জোয়ারের কারণ নয়।
মনে রাখুন:
অষ্টমী তিথিতে (শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমীতে) সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে থাকে, তখন জোয়ার সবচেয়ে দুর্বল হয়, একে মরা কটাল বলে।
জোয়ারের প্রধান কারণ চাঁদের আকর্ষণ। - ৯৬. ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাল্পনিক রেখা বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে, সেটি হচ্ছে-
- ক. মূল মধ্যরেখা
- খ. কর্কট ক্রান্তি রেখা
- গ. মকর ক্রান্তি রেখা
- ঘ. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
উত্তর: খ. কর্কট ক্রান্তি রেখা
কর্কটক্রান্তি রেখা বা ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ রেখা বাংলাদেশের মাঝামাঝি দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে গেছে। বাংলাদেশ প্রায় ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত, তাই এই রেখা দেশের ভেতর পড়ে। মূল মধ্যরেখা ও আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা দ্রাঘিমারেখা, আর এগুলো বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায়নি। মকরক্রান্তি রেখা দক্ষিণ গোলার্ধে।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের দ্রাঘিমাংশ প্রায় ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব।
কর্কটক্রান্তিতে ২১ জুন সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে। - ৯৭. যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয়-
- ক. আয়ন বায়ু
- খ. প্রত্যয়ন বায়ু
- গ. মৌসুমী বায়ু
- ঘ. নিয়ত বায়ু
উত্তর: ঘ. নিয়ত বায়ু
পৃথিবীর কিছু বায়ু সারা বছর একটি নির্দিষ্ট দিকে, উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়, এদের নিয়ত বা স্থায়ী বায়ু (Planetary Wind) বলে। মৌসুমী বায়ু ঋতুর সঙ্গে দিক বদলায়, তাই এটি নিয়ত বায়ু নয়। আয়ন বায়ু ও প্রত্যয়ন বায়ু নিয়ত বায়ুরই দুটি রূপ, কিন্তু প্রশ্নে সব ধরনের নিয়ত প্রবাহের কথাই জানতে চাওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন:
নিয়ত বায়ুর তিন ধরন: আয়ন বায়ু, প্রত্যয়ন (পশ্চিমা) বায়ু ও মেরু বায়ু।
আয়ন বায়ু ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপের দিকে বয়।
সাধারণ বিজ্ঞান
- ৬৬. শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো-
- ক. লাল-সবুজ-হলুদ-লাল-সবুজ
- খ. লাল-হলুদ-সবুজ-লাল-হলুদ
- গ. লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ -লাল
- ঘ. লাল-হলুদ-লাল-সবুজ-হলুদ
উত্তর: গ. লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ -লাল
রাস্তার ট্রাফিক বাতি লাল থেকে হলুদ হয়ে সবুজ জ্বলে, আবার সবুজের পরে হলুদ হয়ে লালে ফিরে আসে। লাল বাতি মানে থামো, সবুজ মানে চলো, আর মাঝের হলুদ বাতি চালককে সতর্ক করে যে এখন থামার বা চলার জন্য তৈরি হতে হবে। এ কারণে ক্রম হলো লাল-হলুদ-সবুজ-হলুদ-লাল।
মনে রাখুন: লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এটি বায়ুতে সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে। এ কারণে বিপদ সংকেতে লাল ব্যবহার করা হয়। - ৮১. শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে কারণ-
- ক. সরকারি নির্দেশ
- খ. দূর থেকে চোখে পড়বে বলে
- গ. তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
- ঘ. দেখতে সুন্দর লাগে
উত্তর: গ. তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
রোদে দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় সূর্যের তাপ শরীরকে গরম করে। সাদা রং সূর্যের আলো ও তাপের বেশির ভাগ প্রতিফলিত করে এবং খুব কম শোষণ করে। কালো বা গাঢ় রঙের জামা বেশি তাপ শোষণ করে শরীর গরম করে তোলে। তাই ট্রাফিক পুলিশ তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচতে সাদা ছাতা ও জামা ব্যবহার করে। সাদা রং দূর থেকে চোখে পড়ে, এটি বাড়তি সুবিধা হলেও মূল কারণ নয়।
মনে রাখুন:
যে বস্তু ভালো তাপ শোষণ করে, সেটি ভালো তাপ বিকিরণও করে, কালো বস্তু যার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।
গ্রীষ্মকালে সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরা আরামদায়ক। - ৮২. অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-
- ক. অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
- খ. পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
- গ. ডিজিট্যাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
- ঘ. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
উত্তর: ঘ. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন স্থির বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক (Electrostatic) নীতিতে কাজ করে, এই পদ্ধতির নাম জেরোগ্রাফি। যন্ত্রের ভেতরের একটি ড্রাম আলোর সংস্পর্শে এলে পরিবাহী হয়ে যায়। তাই মূল কাগজের সাদা অংশের আলো ফিরে ড্রামের ওপর পড়লে সেই অংশের চার্জ সরে যায়, আর লেখা বা ছবির কালো অংশে চার্জ থেকে যায়। চার্জযুক্ত অংশে টোনার নামের কালো গুঁড়া আটকে যায় এবং তাপ দিয়ে কাগজে ছাপ বসানো হয়।
মনে রাখুন: জেরোগ্রাফি পদ্ধতির উদ্ভাবক চেস্টার কার্লসন। - ৮৩. কোনো বস্তুকে পানিতে সম্পূর্ণভাবে ডুবালে পানিতে যেখানে এটা রাখা যায় সেখানেই এটা থাকে কারণ-
- ক. বস্তুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে বেশি
- খ. বস্তুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে কম
- গ. বস্তুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের সমান
- ঘ. বস্তু ও পানির ঘনত্বের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান
উত্তর: গ. বস্তুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের সমান
কোনো বস্তু পানিতে ডোবালে তার ওপর নিচের দিকে ওজন কাজ করে, আর ওপরের দিকে প্লবতা বল কাজ করে। প্লবতা বল বস্তুর সমান আয়তনের পানির ওজনের সমান। বস্তুর ঘনত্ব পানির ঘনত্বের সমান হলে বস্তুর ওজন ও প্লবতা বল সমান হয়, তাই বস্তুটি ডোবে না, ভাসেও না, পানির ভেতরে যেখানে রাখা হয় সেখানেই থাকে।
মনে রাখুন:
ঘনত্ব পানির চেয়ে কম হলে বস্তু ভাসে, আর বেশি হলে ডুবে যায়।
এই নীতির আবিষ্কারক আর্কিমিডিস, এটি আর্কিমিডিসের সূত্র নামে পরিচিত। - ৮৪. আকাশে বিজলী চমকায়-
- ক. দুই খন্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষে এলে
- খ. মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
- গ. মেঘে বিদ্যুৎ পরিবাহী কোষ তৈরি হলে
- ঘ. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
উত্তর: খ. মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
মেঘের ভেতরে পানির কণা ও বরফকণা বাতাসের সঙ্গে ঘষা খেয়ে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জে আলাদা হয়ে যায়, আর এই চার্জ মেঘের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে। চার্জ খুব বেশি জমলে বাতাস আর বাধা দিতে পারে না এবং হঠাৎ মেঘের এক অংশ থেকে অন্য অংশে বা মাটিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এই ঘটনাই বিজলি চমকানো। তীব্র আলোর পরে শব্দ আসে, যাকে মেঘের গর্জন বলি।
মনে রাখুন:
আলো শব্দের চেয়ে অনেক দ্রুত চলে, তাই আগে বিজলি দেখা যায়, পরে বজ্রের শব্দ শোনা যায়।
বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন ঘুড়ি উড়িয়ে প্রমাণ করেন যে বজ্র একটি বিদ্যুৎ প্রবাহ। - ৮৫. যে সর্বোচ্চ শ্রুতি সীমার উপরে মানুষ বধির হতে পারে তা হচ্ছে-
- ক. ৭৫ ডিবি
- খ. ৯০ ডিবি
- গ. ১০৫ ডিবি
- ঘ. ১২০ ডিবি
উত্তর: গ. ১০৫ ডিবি
শব্দের তীব্রতা ডেসিবেল (Decibel, dB) এককে মাপা হয়। স্বাভাবিক কথাবার্তার তীব্রতা প্রায় ৬০ ডেসিবেল, আর ১০৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ দীর্ঘ সময় শুনলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। শব্দের তীব্রতা যত বাড়ে, কানের পর্দা ও ভেতরের সূক্ষ্ম অংশের ক্ষতির আশঙ্কাও তত বাড়ে। এ কারণে কলকারখানা বা বিমানবন্দরের কাছে কানের সুরক্ষা ব্যবহার করা ভালো।
মনে রাখুন:
৮৫ ডেসিবেলের ওপরে শব্দে দীর্ঘ সময় থাকলেও শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে।
১২০ ডেসিবেলের কাছাকাছি শব্দ কানে ব্যথা দেয়।
শব্দের তীব্রতার একক বেল-এর দশ ভাগের এক ভাগ ডেসিবেল। - ৮৬. পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যাওয়ার কারণ, আলোর-
- ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. বিচ্ছুরণ
- ঘ. পোলারায়ন
উত্তর: খ. প্রতিসরণ
নৌকার বৈঠার ডোবানো অংশ থেকে আসা আলো পানি থেকে বাতাসে ঢোকার সময় সীমানা তলে বেঁকে যায়। আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে দিক বদলানোর এই ঘটনাকে প্রতিসরণ (Refraction) বলে। বেঁকে যাওয়া আলো আমাদের চোখে পৌঁছালে বৈঠার ডোবা অংশ ওপরে উঠে এসেছে মনে হয়, তাই বৈঠা ভাঙা বা বাঁকা দেখায়। এ কারণে পুকুরের তলাকেও আসল গভীরতার চেয়ে কম গভীর মনে হয়।
মনে রাখুন:
আলো ঘন মাধ্যমে ধীরে চলে, বিরল মাধ্যমে দ্রুত।
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও বিচ্ছুরণ আলাদা ঘটনা, যেমন মরীচিকা ও রংধনু। - ৮৭. রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ-
- ক. এটি হালকা ও দামে সস্তা
- খ. এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
- গ. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
- ঘ. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
উত্তর: গ. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
রান্নার হাঁড়ি-পাতিল সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়, কারণ অ্যালুমিনিয়াম তাপের ভালো পরিবাহী। চুলার তাপ পাত্রের তলা থেকে খুব দ্রুত সারা পাত্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং খাবারে পৌঁছায়, ফলে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। অ্যালুমিনিয়াম হালকা ও তুলনামূলক সস্তা, এগুলো বাড়তি সুবিধা, তবে প্রধান কারণ তাপ পরিবহনের ক্ষমতা।
মনে রাখুন:
তাপ ও বিদ্যুতের ভালো পরিবাহী ধাতুগুলোর মধ্যে রুপা সেরা, তারপর তামা।
অ্যালুমিনিয়াম বক্সাইট আকরিক থেকে পাওয়া যায়। - ৯০. পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
- ক. ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
- খ. সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
- গ. পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
- ঘ. পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
উত্তর: খ. সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
বাতাস পালে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে দুটি উপাংশে ভাগ করা যায়। পালকে কৌশলে বাঁকা করে রাখলে এই বলের একটি উপাংশ নৌকার সামনের দিকে কাজ করে, আর অন্য উপাংশ পাশের দিকে কাজ করে, যেটিকে নৌকার তলার কাঠামো বা হাল আটকে রাখে। তাই সম্মুখ অভিমুখের উপাংশটিই নৌকাকে এগিয়ে নেয়, এমনকি বাতাস উল্টো দিক থেকে বইলেও।
মনে রাখুন:
যে বলকে দুটি অংশে ভাগ করা যায়, তাদের উপাংশ বলে।
একাধিক বলের মিলিত ফলকে লব্ধি বল বলে। - ৯১. সাধারণ স্ট্রোরেজ ব্যাটারিতে সিসার ইলেকট্রোডের সঙ্গে যে তরলটি ব্যবহৃত হয় তা হলো-
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. সালফিউরিক এসিড
- গ. এমোনিয়াম ক্লোরাইড
- ঘ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর: খ. সালফিউরিক এসিড
সাধারণ স্টোরেজ ব্যাটারি, অর্থাৎ লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে একটি তড়িৎদ্বার সিসা (Pb) এবং অন্যটি লেড ডাইঅক্সাইড (PbO2)। এদের লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডে ডুবিয়ে রাখা হয়। এই অ্যাসিড তড়িৎবিশ্লেষ্য (Electrolyte) হিসেবে কাজ করে, আর তড়িৎদ্বারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ তৈরি করে। চার্জ করলে বিক্রিয়াটি উল্টো দিকে ঘটে।
মনে রাখুন:
গাড়ির ১২ ভোল্টের ব্যাটারিতে প্রতিটি কোষ ২ ভোল্টের, এমন ছয়টি কোষ থাকে।
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড টর্চলাইটের শুষ্ক কোষে ব্যবহৃত হয়। - ৯২. ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। কোন ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে?
- ক. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
- খ. অন্তর্দহন ইঞ্জিন
- গ. স্টারলিং ইঞ্জিন
- ঘ. রকেট ইঞ্জিন
উত্তর: ঘ. রকেট ইঞ্জিন
ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে ভেতরের বাতাস পেছন দিকে প্রবল বেগে বেরিয়ে যায়। নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে, তাই বাতাস পেছনে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বেলুন সামনে ছুটে যায়। রকেট ইঞ্জিনও একই নীতিতে কাজ করে: জ্বালানি পুড়িয়ে প্রবল বেগে গ্যাস পেছনে ছুড়ে দেয়, আর তার প্রতিক্রিয়ায় রকেট সামনে এগোয়।
মনে রাখুন:
নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
বন্দুক ছুড়লে পেছনে ধাক্কা অনুভূত হওয়াও একই সূত্রের উদাহরণ। - ৯৩. ফিউশন প্রক্রিয়ায়-
- ক. একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করে
- খ. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
- গ. ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
- ঘ. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
উত্তর: খ. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
দুটি হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াস মিলে যখন একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ফিউশন (Nuclear Fusion) বলে। এ সময় প্রচুর শক্তি নির্গত হয়, কিন্তু ফিউশন ঘটাতে কয়েক কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা লাগে। সূর্যে হাইড্রোজেন মিলে হিলিয়াম তৈরি হয়ে যে শক্তি বের হয়, সেটি এর বড় উদাহরণ। ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা অংশে ভাগ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ফিশন (Fission), তাই অপশনের বাকিগুলো ফিশনের বর্ণনা।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেন বোমা ফিউশনের নীতিতে কাজ করে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পরমাণু বোমা ফিশনের নীতিতে কাজ করে। - ৯৫. নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
- ক. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
- খ. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
- গ. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
- ঘ. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনকেই বুঝায়
উত্তর: গ. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
যে পদার্থে একাধিক উপাদান কোনো নির্দিষ্ট অনুপাত ছাড়াই মিশে থাকে এবং প্রতিটি উপাদান নিজের ধর্ম বজায় রাখে, তাকে মিশ্র পদার্থ বলে। বায়ুতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্প মিশে আছে, আর স্থান ও সময়ভেদে এদের অনুপাত কিছুটা বদলায়। তাই বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, যৌগিক বা মৌলিক পদার্থ নয়।
মনে রাখুন:
বায়ুতে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং অক্সিজেন প্রায় ২১ শতাংশ।
যৌগিক পদার্থে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত থাকে, যেমন পানি।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- ৬৮. জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করে-আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
- ক. ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১
- খ. ২৩ জুন ১৪৪২
- গ. ৩ নভেম্বর ১৯৪২
- ঘ. ২৬ জুলাই ১৯৪৩
উত্তর: ক. ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১
১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানি নৌ ও বিমানবাহিনী হাওয়াইয়ের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আকস্মিক আক্রমণ চালায়। এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র আর নিরপেক্ষ থাকতে পারেনি। পরদিন ৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয়।
মনে রাখুন:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালে, শেষ হয় ১৯৪৫ সালে।
জাপানের ওপর ১৯৪৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলে। - ৬৯. সৌদি আরবে আমেরিকান সৈন্য মোতায়েনের উদ্দেশ্য-
- ক. ইরাকের আক্রমণ হতে সৌদি আরবকে রক্ষা করা
- খ. ইরাকের কুয়েত দখল অবসান করা
- গ. স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা
- ঘ. উপরের সবকটি
উত্তর: ঘ. উপরের সবকটি
১৯৯০ সালের আগস্টে ইরাক কুয়েত দখল করলে সৌদি আরবের ওপরও আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে সৈন্য পাঠায়। এর একাধিক উদ্দেশ্য ছিল: সৌদি আরবকে ইরাকের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা করা, কুয়েতকে ইরাকের দখলমুক্ত করা এবং উপসাগর অঞ্চল থেকে পশ্চিমা বিশ্বে তেল সরবরাহ নিরাপদ রাখা। তিনটি উদ্দেশ্যই সত্য, তাই সবগুলো মিলিয়েই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন:
১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ শুরু হয় এবং কুয়েত মুক্ত হয়।
সৈন্য মোতায়েনের প্রথম পর্বের নাম ছিল ‘অপারেশন ডেজার্ট শিল্ড’। - ৭০. ১১তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান যে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় তার নাম-
- ক. পিকিং স্টোর্টস স্টেডিয়াম
- খ. বেইজিং স্টোর্টস স্টেডিয়াম
- গ. ওয়ার্কার্স স্টেডিয়াম, বেইজিং
- ঘ. চায়না স্টোর্টস স্টেডিয়াম
উত্তর: গ. ওয়ার্কার্স স্টেডিয়াম, বেইজিং
১৯৯০ সালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ১১তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছিল বেইজিংয়ের ওয়ার্কার্স স্টেডিয়ামে। অপশনের বাকি নামগুলো এই স্টেডিয়ামের নামের বিকৃত বা ভুল রূপ।
মনে রাখুন:
এশিয়ান গেমসের প্রথম আসর বসে ১৯৫১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে।
এশিয়ান গেমস প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়।
চীনে সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমস হয় ২০২৩ সালে হ্যাংজুতে। - ৭২. শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নাম-
- ক. দামেস্ক চুক্তি
- খ. আলজিয়ার্স চুক্তি
- গ. কায়রো চুক্তি
- ঘ. বৈরুত চুক্তি
উত্তর: খ. আলজিয়ার্স চুক্তি
ইরাক ও ইরানের মধ্যে শাত-ইল-আরব নদীপথের সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। শাত-ইল-আরব হলো দজলা ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত স্রোত, যা পারস্য উপসাগরে পড়ে। ১৯৭৫ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দুই দেশ এই বিরোধ মেটাতে আলজিয়ার্স চুক্তি সই করে। ১৯৮০ সালে ইরাক এই চুক্তি বাতিল করলে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়, যা ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলে।
মনে রাখুন:
আলজিয়ার্স চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন আলজেরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধ আট বছর স্থায়ী হয়েছিল। - ৭৩. ‘৫০০ দিনের প্ল্যান’ বলতে বোঝায় যে এ সময়ের মধ্যে-
- ক. ‘ওয়ারশ’ জোট ভেঙ্গে দেয়ার প্রকল্প সম্পন্ন করা
- খ. রুমানিয়াতে গণতান্ত্রিক প্রথা প্রচলন সম্পন্ন করা
- গ. সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রস্তাবিত বাজার অর্থনীতি প্রচলন সম্পন্ন করা
- ঘ. পৃর্ব জার্মানি হতে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন করা
উত্তর: গ. সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রস্তাবিত বাজার অর্থনীতি প্রচলন সম্পন্ন করা
১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে অর্থনীতিবিদ স্তানিস্লাভ শাতালিনের নেতৃত্বে একটি অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি হয়, যার নাম ‘৫০০ দিনের পরিকল্পনা’। এর লক্ষ্য ছিল ৫০০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে রূপান্তর সম্পন্ন করা। পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এর সঙ্গে ওয়ারশ জোট, রুমানিয়া বা পূর্ব জার্মানি থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন:
মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নে পেরেস্ত্রোইকা (পুনর্গঠন) ও গ্লাসনস্ত (খোলা আলোচনা) নীতি চালু করেন।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায় ১৯৯১ সালে। - ৭৪. জেমস গ্রান্টের মতে প্রতিরোধযোগ্য পীড়ায় বিশ্বে প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর সংখ্যা-
- ক. ৪,০০,০০০
- খ. ৪০,০০০
- গ. ৪৪,০০০
- ঘ. ৫৪,০০০
উত্তর: খ. ৪০,০০০
ইউনিসেফের (UNICEF) তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক জেমস গ্রান্ট বলতেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৪০,০০০ শিশু মারা যায়। এসব মৃত্যু টিকা, খাবার স্যালাইন ও পুষ্টির মতো সাধারণ ব্যবস্থায় ঠেকানো সম্ভব ছিল। তিনি শিশুর বেঁচে থাকার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন, যাকে ‘শিশু বাঁচাও বিপ্লব’ বলা হয়।
মনে রাখুন:
জেমস গ্রান্ট ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইউনিসেফের প্রধান ছিলেন।
ইউনিসেফ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে, সদর দপ্তর নিউইয়র্কে। - ৭৬. পারস্য উপসাগরের আঞ্চলিক জোটের নাম-
- ক. ওএইউ
- খ. আরব লীগ
- গ. জিসিসি
- ঘ. ওএএস
উত্তর: গ. জিসিসি
পারস্য উপসাগরের তীরের ছয়টি আরব দেশ ১৯৮১ সালে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (Gulf Cooperation Council, GCC) গঠন করে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান। ওএইউ আফ্রিকার দেশগুলোর সংগঠন, আর ওএএস আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর সংগঠন।
মনে রাখুন:
জিসিসির সদর দপ্তর সৌদি আরবের রিয়াদে।
আরব লীগ গঠিত হয় ১৯৪৫ সালে, সদর দপ্তর কায়রোতে।
ওএইউ-এর বর্তমান রূপ আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU)। - ৭৭. বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটেছিল-
- ক. ১৪ জুলাই ১৭৮৯
- খ. ৭ জুন ১৭৮৮
- গ. ৫ অক্টোবর ১৭৮৮
- ঘ. ২৬ আগস্ট ১৭৮৮
উত্তর: ক. ১৪ জুলাই ১৭৮৯
১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের বিক্ষুব্ধ জনতা বাস্তিল দুর্গ দখল করে নেয়। বাস্তিল ছিল রাজতন্ত্রের নিপীড়নের প্রতীক, একটি কারাগার, তাই এর পতনকেই ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। দিনটি এখন ফ্রান্সের জাতীয় দিবস, যা বাস্তিল দিবস নামে পরিচিত।
মনে রাখুন:
ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান: স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
১৭৮৯ সালের ২৬ আগস্ট ‘মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণা’ গৃহীত হয়। - ৭৮. কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্ব নাম-
- ক. লিওপোন্ডভিল
- খ. জিম্বাবুয়ে
- গ. জিবুতি
- ঘ. জায়ারে
উত্তর: ঘ. জায়ারে
আফ্রিকার বড় দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর নাম ১৯৭১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ছিল জায়ার (Zaire)। পরীক্ষার সময়ে দেশটি জায়ার নামেই পরিচিত ছিল। ১৯৯৭ সালে লরঁ কাবিলা ক্ষমতায় এলে নাম আবার কঙ্গো করা হয়। লিওপোল্ডভিল দেশের নাম নয়, এটি রাজধানী কিনশাসার পুরোনো নাম।
মনে রাখুন:
জায়ার নাম রেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট মোবুতু সেসে সেকো।
কঙ্গো নামে আরও একটি দেশ আছে, যার রাজধানী ব্রাজাভিল।
জিবুতি পূর্ব আফ্রিকার ছোট একটি দেশ, আর জিম্বাবুয়ের পুরোনো নাম রোডেসিয়া। - ৭৯. ‘ট্রাফালগার স্কোয়ার’ কোন শহরে অবস্থিত?
- ক. ওয়াশিংটন
- খ. প্যারিস
- গ. মস্কো
- ঘ. লন্ডন
উত্তর: ঘ. লন্ডন
ট্রাফালগার স্কয়ার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি বিখ্যাত চত্বর। ১৮০৫ সালের ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবাহিনী নেপোলিয়নের ফরাসি ও স্পেনীয় নৌবাহিনীকে হারিয়েছিল, সেই জয়ের স্মরণে এর নামকরণ হয়। চত্বরের মাঝে নৌসেনাপতি অ্যাডমিরাল নেলসনের স্মৃতিস্তম্ভ নেলসন্স কলাম আছে।
মনে রাখুন:
ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের, প্যারিস ফ্রান্সের এবং মস্কো রাশিয়ার রাজধানী।
লন্ডনের আরও বিখ্যাত স্থান: বাকিংহাম প্রাসাদ, বিগ বেন, টাওয়ার ব্রিজ। - ৮০. মিশর সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেছিল-
- ক. ১৯৫৬ সালে
- খ. ১৯৫৫ সালে
- গ. ১৯৫৪ সালে
- ঘ. ১৯৫৩ সালে
উত্তর: ক. ১৯৫৬ সালে
মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। এতদিন খালটি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মালিকানাধীন একটি কোম্পানি চালাত। জাতীয়করণের পর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল একযোগে মিশর আক্রমণ করে, যা সুয়েজ সংকট নামে পরিচিত। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপে তারা সরে আসে।
মনে রাখুন:
সুয়েজ খাল ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে।
খালটি ১৮৬৯ সালে খোলা হয়।
অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান
১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন
- ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৬)
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৮তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২৫)
- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৫)
- ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৪)
- ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২৩)
- ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২২)
- ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০২১)
- ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০২১)
- ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৯)
- ৩৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (স্বাস্থ্য) (২০১৮)
- ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৭)
- ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৬)
- ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৫)
- ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১৩)
- ৩৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১২)
- ৩১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১১)
- ৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০১০)
- ২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৯)
- ২৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৮)
- ২৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৫)
- ২৬তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৪)
- ২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০৩)
- ২৩তম বিশেষ বিসিএস (মুক্তিযোদ্ধা) প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (২০০১)
- ২১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৯)
- ২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৯তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৮)
- ১৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৬)
- ১৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৫)
- ১৬তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি (১৯৯৪)
- ১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯৩)
- ১৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯২)
- ১২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯১)
- ১০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি (১৯৯০)
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন