লিয়ানা বুকস

৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ৩ মে ২০১৯। এখানে ১৮৫টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা আছে। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন: সময় ১২০ মিনিট, প্রতিটি ভুলে −০.৫।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

  1. ১. নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?
    • ক. করচ
    • খ. হিজল
    • গ. ডুমুর
    • ঘ. গজারী
    উত্তর: ঘ. গজারী
    জলজ উদ্ভিদ (Aquatic Plant) হলো যে উদ্ভিদ পানিতে বা অত্যন্ত জলাভূমিতে জন্মে। করচ ও হিজল হাওর-বিলের জলাবদ্ধ বনে জন্মায়, বর্ষায় এদের গোড়া পানিতে ডুবে থাকে। ডুমুরও আর্দ্র নদীতীর ও ঝরনার ধারে ভালো জন্মে। কিন্তু গজারী বা শাল শুকনো ও উঁচু লালমাটির (বরেন্দ্র, মধুপুর ও ভাওয়ালের) বনের গাছ, জলাবদ্ধতা এর সহ্য হয় না। তাই এটি জলজ উদ্ভিদ নয়।
    মনে রাখুন: জলাবদ্ধ বা বন্যাপ্লাবিত এলাকার গাছ হিসেবে হিজল, করচ ও বরুণ পরিচিত।
  2. ২. বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) কোন সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়?
    • ক. ১৯৭৪
    • খ. ১৯৮৮
    • গ. ১৯৯৮
    • ঘ. ২০০৭
    উত্তর: গ. ১৯৯৮
    ১৯৭১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বন্যাগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ সালের বন্যা সবচেয়ে বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল। সে বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬৫ দিন বন্যা স্থায়ী হয় এবং দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা (প্রায় ৬৮ শতাংশ) প্লাবিত হয়। একসঙ্গে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পানি বেড়ে যাওয়া এর কারণ।
    মনে রাখুন: ১৯৮৮ সালের বন্যায় ঢাকা শহর ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়, আর ১৯৭৪ সালের বন্যার পর দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
  3. ৩. সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত ?
    • ক. নয়াদিল্লি
    • খ. কলম্বো
    • গ. ঢাকা
    • ঘ. কাঠমাণ্ডু
    উত্তর: ক. নয়াদিল্লি
    সার্ক (SAARC, South Asian Association for Regional Cooperation) দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা। এর কয়েকটি বিশেষায়িত কেন্দ্র সদস্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে আছে, যাতে সব দেশ কাজে অংশ নিতে পারে। সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (SDMC) ২০০৬ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রটি সদস্য দেশগুলোকে দুর্যোগের পূর্বাভাস, প্রস্তুতি ও মোকাবিলার তথ্য ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে।
    মনে রাখুন: সার্কের সচিবালয় নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত। সার্ক গঠনের প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হয় ১৯৮৫ সালে ঢাকায়।
  4. ৫. বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরণের বন্যা কবলিত হয় তার নাম-
    • ক. নদীজ বন্যা
    • খ. আকস্মিক বন্যা
    • গ. বৃষ্টিজনিত বন্যা
    • ঘ. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
    উত্তর: ঘ. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
    বন্যা সৃষ্টির কারণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়: নদীর পানি বাড়লে নদীজ বন্যা, পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টিতে বৃষ্টিজনিত বন্যা এবং সমুদ্রের পানি স্থলে ঢুকলে জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা হয়। বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমি নিচু এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিম্নচাপের টানে এবং প্রবল বাতাসে সাগরের পানি ফুলে উঠে স্থলে ঢুকে পড়ে, একে জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) বলে। তাই উপকূলের মানুষ জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যার শিকার হয়।
    উদাহরণ: ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন ও ১৯৯১ সালের চট্টগ্রামের ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাসেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে।
  5. ৬. নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা ?
    • ক. মার্বেল
    • খ. কয়লা
    • গ. গ্রানাইট
    • ঘ. নিস
    উত্তর: খ. কয়লা
    শিলা তৈরির প্রক্রিয়া অনুযায়ী তিন ধরনের: আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত। পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) গঠিত হয় নদী, বাতাস বা হিমবাহের বয়ে আনা পলি ও জৈব দেহাবশেষ স্তরে স্তরে জমে চাপে ও সংযুক্তিতে শক্ত হয়ে। কয়লা লক্ষ লক্ষ বছর আগে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ থেকে তৈরি, তাই এটি জৈব পাললিক শিলা। গ্রানাইট ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে তৈরি আগ্নেয় শিলা, আর মার্বেল ও নিস তাপ ও চাপে রূপ বদলানো রূপান্তরিত শিলা।
    মনে রাখুন: চুনাপাথর ও বেলেপাথর পাললিক শিলা এবং এগুলো থেকেই যথাক্রমে মার্বেল ও কোয়ার্টজাইট তৈরি হয়। জীবাশ্ম প্রধানত পাললিক শিলার স্তরেই পাওয়া যায়।
  6. ৭. নিম্নের কোনটি বৃহৎ স্কেল মানচিত্র ?
    • ক. ১ : ১০,০০০
    • খ. ১ : ১০০,০০০
    • গ. ১ : ১০০০,০০০
    • ঘ. ১ : ২৫,০০০
    উত্তর: ক. ১ : ১০,০০০
    মানচিত্রের স্কেল হলো মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমির প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত। অনুপাতটিকে ভগ্নাংশ ধরলে হর যত ছোট, ভগ্নাংশ তত বড়, তাই স্কেলও তত বৃহৎ। 1 : 10,000 মানে মানচিত্রে ১ সেমি ভূমির ১০,০০০ সেমি বা ১০০ মিটার বোঝায়। এত বড় স্কেলে ছোট এলাকা খুঁটিনাটিসহ দেখানো যায়। তাই চারটির মধ্যে ১ : ১০,০০০-ই বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র।
    মনে রাখুন: বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র শহর বা মৌজার নকশায় এবং ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র দেশ, মহাদেশ বা পৃথিবীর মানচিত্রে ব্যবহার হয়।
  7. ৮. সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা হয়-
    • ক. আইসোথার্ম
    • খ. আইসোবার
    • গ. আইসোহাইট
    • ঘ. আইসোহেলাইন
    উত্তর: গ. আইসোহাইট
    মানচিত্রে একই মানের স্থানগুলোকে যোগ করে যে রেখা আঁকা হয়, তাকে সমমান রেখা বলে। রেখাগুলোর নাম এসেছে গ্রিক 'আইসো' (iso, সমান) শব্দ থেকে। সমবৃষ্টিপাতের স্থানগুলো যোগকারী রেখার নাম আইসোহাইট (Isohyet), কারণ গ্রিক 'হাইটোস' মানে বৃষ্টি।
    মনে রাখুন: আইসোথার্ম (Isotherm) সমতাপ রেখা, আইসোবার (Isobar) সমচাপ রেখা, আইসোহেলাইন (Isohaline) সমলবণতা রেখা এবং আইসোহাইপস (Isohypse) বা কন্টুর রেখা সমউচ্চতার রেখা।
  8. ৯. নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়?
    • ক. বায়ু দূষণ
    • খ. দুর্ভিক্ষ
    • গ. মহামারী
    • ঘ. কালবৈশাখী
    উত্তর: ঘ. কালবৈশাখী
    আপদ (Hazard) দুই ধরনের: প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট। যে আপদের পেছনে প্রকৃতির নিজস্ব প্রক্রিয়া কাজ করে, সেটি প্রাকৃতিক আপদ। মানুষের কাজের ফলে যা ঘটে, সেটি মানবসৃষ্ট আপদ। কালবৈশাখী চৈত্র-বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা প্রবল বজ্রঝড়, যার কারণ বায়ুমণ্ডলের তাপ ও চাপের পরিবর্তন। তাই এটি প্রাকৃতিক আপদ। বায়ুদূষণ মানুষের শিল্প ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে হয়, দুর্ভিক্ষে খাদ্য বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা থাকে এবং অনেক মহামারী ছড়িয়ে পড়ে মানুষের চলাচল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে।
    মনে রাখুন: প্রাকৃতিক আপদের উদাহরণ ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা ও খরা।
  9. ১০. বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কী ধরণের বনভূমি?
    • ক. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
    • খ. ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়
    • গ. পত্র পতনশীল জাতীয়
    • ঘ. ম্যানগ্রোভ জাতীয়
    উত্তর: ক. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা – চিরহরিৎ জাতীয়
    বাংলাদেশের বনভূমির ধরন জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। উত্তর-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলে বছরে প্রচুর বৃষ্টি হয় বলে গাছ সারা বছর সবুজ থাকে। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ (Tropical Evergreen and Semi-evergreen) ধরনের। এখানে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক (Hoolock Gibbon) ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: পাতাঝরা বনের উদাহরণ ভাওয়াল ও মধুপুরের শালবন এবং ম্যানগ্রোভ বনের উদাহরণ সুন্দরবন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

  1. ৪. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কোন খাতে বেশি কর্মসংস্থান হয়?
    • ক. নির্মাণ খাত
    • খ. কৃষি খাত
    • গ. সেবা খাত
    • ঘ. শিল্প কারখানা খাত
    উত্তর: খ. কৃষি খাত
    জিডিপিতে অবদান আর কর্মসংস্থান এক বিষয় নয়। বাংলাদেশে কৃষির অংশ জিডিপিতে কম হলেও দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ এখনো এই খাতে কাজ করে। কারণ গ্রামীণ জনসংখ্যা বেশি এবং ফসল, গবাদিপশু ও মাছ চাষে বিপুল শ্রমশক্তি জড়িত। শ্রমশক্তি জরিপে (Labour Force Survey) পরীক্ষার সময়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ কৃষি খাতে নিযুক্ত ছিলেন, যা সেবা ও শিল্প খাতের চেয়ে বেশি।
    হালনাগাদ: ২০২২ সালের জরিপে কৃষিতে কর্মসংস্থান প্রায় ৪৫ শতাংশ, যা এখনো সবচেয়ে বেশি।
  2. ১১. আইন ও সালিশ কেন্দ্র কি ধরণের সংস্থা?
    • ক. অর্থনৈতিক
    • খ. মানবাধিকার
    • গ. ধর্মীয়
    • ঘ. খেলাধুলা
    উত্তর: খ. মানবাধিকার
    আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK, Ain o Salish Kendra) ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের একটি বেসরকারি মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা। সংস্থাটি দরিদ্র, নির্যাতিত ও প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করে এবং নীতিনির্ধারণে প্রচারণা চালায়।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশের আরেকটি পরিচিত মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা ব্লাস্ট (BLAST, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট)।
  3. ১২. Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে বিভক্ত করেছেন-
    • ক. ৩ ভাগে
    • খ. ৪ ভাগে
    • গ. ৫ ভাগে
    • ঘ. ৬ ভাগে
    উত্তর: খ. ৪ ভাগে
    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড ও বিংহাম পাওয়েল (Gabriel Almond ও Bingham Powell) চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। সেগুলো হলো
    ১. প্রাতিষ্ঠানিক গোষ্ঠী (Institutional): আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী ইত্যাদি
    ২. সংঘভিত্তিক গোষ্ঠী (Associational): শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি ইত্যাদি
    ৩. অসংঘভিত্তিক গোষ্ঠী (Non-associational): জাতিগত, আঞ্চলিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়
    ৪. অসংগঠিত বা বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী (Anomic): হঠাৎ গড়ে ওঠা দাঙ্গা বা বিক্ষোভের দল
    মনে রাখুন: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে চায়, কিন্তু নিজে ক্ষমতা গ্রহণ করে না; এটাই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এর পার্থক্য।
  4. ১৪. বাংলাদেশ প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয় –
    • ক. ৭ ফেব্রুয়ারি , ১৯৭৩
    • খ. ৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩
    • গ. ৭ মার্চ, ১৯৭৩
    • ঘ. ৭ এপ্রিল , ১৯৭৩
    উত্তর: গ. ৭ মার্চ, ১৯৭৩
    ১৯৭২ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয়ী হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হন।
    মনে রাখুন: স্বাধীনতার আগে সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে, যাতে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
  5. ১৫. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ‘ভেটো’ প্রদান করেছিল?
    • ক. যুক্তরাজ্য
    • খ. ফ্রান্স
    • গ. যুক্তরাষ্ট্র
    • ঘ. সোভিয়েত ইউনিয়ন
    উত্তর: ঘ. সোভিয়েত ইউনিয়ন
    ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব আনে, যাতে পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে টিকে থাকার সুযোগ পায়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য সোভিয়েত ইউনিয়ন একাধিকবার ভেটো (Veto) দিয়ে এই প্রস্তাব আটকে দেয়। ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পথ খোলা থাকে এবং ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে।
    মনে রাখুন: ১৯৭১ সালের আগস্টে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মৈত্রী চুক্তি সই হয়।
  6. ১৬. বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে?
    • ক. চতুর্থ তফসিলে
    • খ. পঞ্চম তফসিলে
    • গ. ষষ্ঠ তফসিলে
    • ঘ. সপ্তম তফসিলে
    উত্তর: খ. পঞ্চম তফসিলে
    ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানে তিনটি নতুন তফসিল যুক্ত হয়, যেগুলো মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ রয়েছে পঞ্চম তফসিলে। ষষ্ঠ তফসিলে আছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা (২৬ মার্চ ১৯৭১) এবং সপ্তম তফসিলে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। চতুর্থ তফসিলে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি রয়েছে।
    মনে রাখুন: ২০১৭ সালে ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
  7. ১৭. ‘বঙ্গভঙ্গ’ কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
    • ক. লর্ড কার্জন
    • খ. লর্ড ওয়াভেল
    • গ. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
    • ঘ. লর্ড লিনলিথগো
    উত্তর: ক. লর্ড কার্জন
    ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন। তিনি প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সি বিভক্ত করেন। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, যাতে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হয় এবং ঢাকা তার রাজধানী হয়। তাই বঙ্গভঙ্গের সময়ের ভাইসরয় লর্ড কার্জন।
    মনে রাখুন: ওয়াভেল ১৯৪৩-৪৭, মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ ও লিনলিথগো ১৯৩৬-৪৩ সালে ভাইসরয় ছিলেন।
  8. ১৮. বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত ?
    • ক. সিলেটের বনভূমি
    • খ. পার্বত্য চট্রগ্রামের বনভূমি
    • গ. ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
    • ঘ. খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি
    উত্তর: গ. ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
    শাল (Shorea robusta) এক ধরনের পত্রঝরা বৃক্ষ, যা বাংলাদেশে গজারী নামেও পরিচিত। এটি শুকনো ও উঁচু লালমাটিতে জন্মায়। গাজীপুর ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে বিস্তৃত ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি শালবনের জন্য বিখ্যাত। শীতকালে এই বনের গাছ পাতা ঝরিয়ে ফেলে বলে একে পত্রঝরা বন বলে।
    মনে রাখুন: খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি ম্যানগ্রোভ বন, আর সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বন।
  9. ১৯. বাংলাদেশ প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
    • ক. ১৯৭২ সালে
    • খ. ১৯৭৩ সালে
    • গ. ১৯৭৪ সালে
    • ঘ. ১৯৭৫ সালে
    উত্তর: গ. ১৯৭৪ সালে
    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারি। ওই শুমারিতে দেশের জনসংখ্যা পাওয়া যায় প্রায় ৭ কোটি ১৫ লাখ। এরপর ১০ বছর পরপর, অর্থাৎ ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে শুমারি হয়।
    হালনাগাদ: সর্বশেষ ২০২২ সালের শুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ।
    মনে রাখুন: ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলের প্রথম আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে।
  10. ২০. Inclusive Development Index ( IDI) – এর ভিত্তিতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্থান কত?
    • ক. প্রথম স্থান
    • খ. দ্বিতীয় স্থান
    • গ. তৃতীয় স্থান
    • ঘ. চতুর্থ স্থান
    উত্তর: খ. দ্বিতীয় স্থান
    বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (World Economic Forum) অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচক (Inclusive Development Index, IDI) তৈরি করে। এ সূচকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা হয় না। সবার জন্য সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়নও ধরা হয়। ২০১৮ সালের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ছিল নেপাল। বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয়। এরপর ছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারত।
    মনে রাখুন: বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়, আর এর বার্ষিক সম্মেলন দাভোসে হয়।
  11. ২২. বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাট (VAT) চালু হয়-
    • ক. ১৯৯১ সালে
    • খ. ১৯৭৩ সালে
    • গ. ১৯৮৬ সালে
    • ঘ. ১৯৯৬ সালে
    উত্তর: ক. ১৯৯১ সালে
    মূল্য সংযোজন কর (Value Added Tax), সংক্ষেপে ভ্যাট, পণ্য বা সেবার প্রতিটি হাতবদলে যে নতুন মূল্য যোগ হয়, তার ওপর বসানো কর। বাংলাদেশে এটি চালু হয় ১৯৯১ সালের ১ জুলাই। এর আগে বিক্রয় কর চালু ছিল, ভ্যাট এসে তার জায়গা নেয়। বর্তমানে ভ্যাটের সাধারণ হার ১৫ শতাংশ।
    মনে রাখুন:
    দেশে কর আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)।
    ২০১২ সালের নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়।
  12. ২৩. সংবিধানের কোন সংশোধনকে ‘first distortion of constitution’ বলে আখ্যায়িত করা হয়?
    • ক. ৫ম সংশোধনকে
    • খ. ৪ র্থ সংশোধনকে
    • গ. ৩ য় সংশোধনকে
    • ঘ. ২ য় সংশোধনকে
    উত্তর: ক. ৫ম সংশোধনকে
    ১৯৭৯ সালে জারি হওয়া সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে সংবিধানের প্রথম বিকৃতি বলা হয়। এই সংশোধনীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসনের সব ফরমান ও আদেশকে বৈধতা (ইনডেমনিটি) দেওয়া হয়। আবার সংবিধানের মূল নীতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাদ গিয়ে তার জায়গায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার কথা বসানো হয় এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যোগ করা হয়।
    মনে রাখুন: ২০১০ সালে হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে আসে।
  13. ২৪. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের কততম তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে?
    • ক. চতুর্থ
    • খ. পঞ্চম
    • গ. ষষ্ঠ
    • ঘ. সপ্তম
    উত্তর: ঘ. সপ্তম
    সংবিধানের তফসিল (Schedule) হলো এমন অংশ, যেখানে মূল ধারার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা তালিকা রাখা হয়। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ঐতিহাসিক কয়েকটি দলিল সংবিধানের তফসিলে যুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র যুক্ত হয়েছে সপ্তম তফসিলে।
    মনে রাখুন: সংবিধানের তফসিলে আছে:
    পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ।
    ষষ্ঠ তফসিল: ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা।
    সপ্তম তফসিল: ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
  14. ২৫. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয়-
    • ক. ১৭ এপ্রিল , ১৯৭১
    • খ. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
    • গ. ৭ মার্চ , ১৯৭২
    • ঘ. ২৬ মার্চ, ১৯৭৩
    উত্তর: খ. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর। কিন্তু গৃহীত হওয়ার দিনেই এটি চালু হয়নি। এক মাস পর, ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকীতে সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয়। তাই প্রবর্তনের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
    মনে রাখুন:
    সংবিধান প্রণয়নের জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি গঠিত হয়েছিল।
    প্রতিবছর ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে পালিত হয়।
  15. ২৬. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘সরকারি কর্ম কমিশন’ (PSC) গঠনের উল্লেখ আছে?
    • ক. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
    • খ. ১৩৫ নং অনুচ্ছেদে
    • গ. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে
    • ঘ. ১৩৪ নং অনুচ্ছেদে
    উত্তর: ক. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে
    সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন (Public Service Commission, PSC) প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এই কমিশন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। ১৩৮ থেকে ১৪১ অনুচ্ছেদে কমিশনের সদস্য নিয়োগ, কার্যাবলি ও প্রতিবেদনের নিয়ম আছে। তাই কর্ম কমিশনের গঠনের মূল অনুচ্ছেদ ১৩৭।
    মনে রাখুন:
    সংবিধানের নবম ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে (১৩৭–১৪১ অনুচ্ছেদ) কর্ম কমিশনের কথা আছে।
    নির্বাচন কমিশনের কথা আছে ১১৮ অনুচ্ছেদে।
  16. ২৭. আওয়ামী লীগের ৬-দফা পেশ করা হয়েছিলো –
    • ক. ১৯৬৬ সালে
    • খ. ১৯৬৭ সালে
    • গ. ১৯৬৮ সালে
    • ঘ. ১৯৬৯ সালে
    উত্তর: ক. ১৯৬৬ সালে
    ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির কর্মসূচি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে এটি প্রথম পেশ করেন। পরে আওয়ামী লীগ কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। বাঙালি এটিকে ‘মুক্তির সনদ’ বলে অভিহিত করে।
    মনে রাখুন:
    ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফার সমর্থনে সারা দেশে হরতাল হয় এবং ঢাকায় কয়েকজন শহীদ হন।
    ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়, আর ১৯৬৯ সালে ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন গড়ে ওঠে।
  17. ২৮. বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামী সংখ্যা ছিল –
    • ক. ৩৪ জন
    • খ. ৩৫ জন
    • গ. ৩৬ জন
    • ঘ. ৩২ জন
    উত্তর: খ. ৩৫ জন
    ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার একটি মামলা করে, যার নাম আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। এতে বলা হয়, কয়েকজন বাঙালি ভারতের সাহায্যে পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র করেছে। এই মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চাপে সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান।
    মনে রাখুন:
    ১৯৬৯ সালে সার্জেন্ট জহুরুল হক কারাগারে নিহত হন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা নিহত হন।
    মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়।
  18. ২৯. তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়-
    • ক. ১৩ হাজার ১২৫ টি
    • খ. ১৩ হাজার ১৩০ টি
    • গ. ১৩ হাজার ১৩৬ টি
    • ঘ. ১৩ হাজার ‌১৪৬ টি
    উত্তর: গ. ১৩ হাজার ১৩৬ টি
    কমিউনিটি ক্লিনিক হলো গ্রামের মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রতিটি ক্লিনিক সাধারণত প্রায় ছয় হাজার মানুষকে সেবা দেয় এবং সেখানে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) কাজ করেন। পরীক্ষার সময়ে চালু থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ১৩৬টি।
    মনে রাখুন: ১৯৯৮ সালে এই কর্মসূচি শুরু হয়, মাঝে কিছুকাল বন্ধ থাকে এবং ২০০৯ সাল থেকে আবার চালু হয়।
  19. ৩০. ‘Let There Be light ‘ – বিখ্যাত ছবিটি পরিচালনা করেন-
    • ক. আমজাদ হোসেন
    • খ. জহির রায়হান
    • গ. খান আতাউর রহমান
    • ঘ. শেখ নিয়ামত আলী
    উত্তর: খ. জহির রায়হান
    ‘Let There Be Light’ ছবিটির পরিচালক জহির রায়হান। এটি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর শুরু করা চলচ্চিত্র, তবে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ হন। এরপর ছবির কাজ আর শেষ হয়নি।
    মনে রাখুন: জহির রায়হানের কয়েকটি ছবি:
    কাচের দেয়াল (১৯৬৩)।
    বেহুলা (১৯৬৬)।
    জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০)।
    স্টপ জেনোসাইড (১৯৭১)। এটি মুক্তিযুদ্ধের সময় তৈরি তথ্যচিত্র।
  20. ৩১. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ কখন বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন?
    • ক. ১৪৯৮ – ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
    • খ. ১৪৯৮ -১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে
    • গ. ১৪৯৮ – ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে
    • ঘ. ১৪৯৮ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
    উত্তর: ঘ. ১৪৯৮ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
    আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে সবচেয়ে সফল শাসকদের একজন। তিনি হুসেন শাহি বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শাসনের সমাপ্তি ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে, আর প্রশ্নের চারটি বিকল্পের মধ্যে শুধু শেষটিই এই সালে শেষ হয়েছে। তাঁর সময়ে বাংলায় শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল এবং বাংলা সাহিত্যের বড় বিকাশ ঘটে।
    মনে রাখুন:
    মালাধর বসু তাঁর সময়ে ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ রচনা করে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি পান।
    রূপ ও সনাতন নামে দুই ভাই তাঁর দরবারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।
    শ্রীচৈতন্য তাঁর সমসাময়িক ছিলেন।
  21. ৩২. প্রাচীন বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
    • ক. অশোক মৌর্য
    • খ. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
    • গ. সমুদ্রগুপ্ত
    • ঘ. এর কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
    মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩২১ অব্দের দিকে নন্দ বংশকে সরিয়ে মগধে এই সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তাঁর সময়েই উত্তরবঙ্গ মৌর্য শাসনের আওতায় আসে বলে ধরা হয়। বগুড়ার মহাস্থানগড়ে (প্রাচীন পুণ্ড্রনগর) ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে, যা বাংলায় মৌর্য শাসনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। চন্দ্রগুপ্তের নাতি সম্রাট অশোকের সময়ে এই শাসন আরও বিস্তৃত হয়। সমুদ্রগুপ্ত মৌর্য নন, তিনি গুপ্ত বংশের সম্রাট।
    মনে রাখুন: বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক, আর পাল বংশের প্রথম রাজা গোপাল।
  22. ৩৩. ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসছিলেন –
    • ক. পর্তুগীজরা
    • খ. ইংরেজরা
    • গ. ওলন্দাজরা
    • ঘ. ফরাসিরা
    উত্তর: ক. পর্তুগীজরা
    ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে প্রথমে বাংলায় আসে পর্তুগিজরা। ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এরপর পর্তুগিজরা পূর্ব ভারতের দিকে এগোয় এবং ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে, প্রায় ১৫১৭ সালে, চট্টগ্রামে বাণিজ্য শুরু করে। এরপর আসে ওলন্দাজ (ডাচ), ইংরেজ ও ফরাসিরা।
    মনে রাখুন:
    ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
    ফরাসিরা বাংলায় চন্দননগরে ঘাঁটি গড়ে।
  23. ৩৪. বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয় কোন জেলায়?
    • ক. ফরিদপুর
    • খ. রংপুর
    • গ. জামালপুর
    • ঘ. শেরপুর
    উত্তর: ক. ফরিদপুর
    বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয় ফরিদপুর জেলায়। নিচু ও উর্বর পলিমাটি, বর্ষার প্রচুর পানি এবং আর্দ্র আবহাওয়া এখানে পাট চাষের জন্য উপযোগী। পাটগাছ কেটে পানিতে ডুবিয়ে রেখে পচানো হয়, আর পানির প্রাচুর্যও তাই দরকার। পাট এক সময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল, তাই একে সোনালি আঁশ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও রংপুরেও পাট ভালো হয়।
    ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস।
    ২০১০ সালে বিজ্ঞানী ড. মকসুদুল আলম পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন।
  24. ৩৫. ‘গারো উপজাতি’ কোন জেলায় বাস করে ?
    • ক. পার্বত্য চট্রগ্রাম
    • খ. সিলেট
    • গ. ময়মনসিংহ
    • ঘ. টাঙ্গাইল
    উত্তর: গ. ময়মনসিংহ
    গারো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তারা প্রধানত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বাস করে, বিশেষ করে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলায়। টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলেও গারোদের বসতি আছে। গারো সমাজ মাতৃসূত্রীয়, অর্থাৎ সন্তানেরা মায়ের বংশপরিচয়ে পরিচিত হয় এবং মেয়েরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
    মনে রাখুন:
    গারোদের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা।
    গারোরা নিজেদের ‘আচিক’ বলে এবং তাদের ভাষার নামও আচিক।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

  1. ১৩. বাংলাদেশ জাতিসংঘের –
    • ক. ১৪৬ তম সদস্য
    • খ. ১৩৬ তম সদস্য
    • গ. ১২৬ তম সদস্য
    • ঘ. ১১৬ তম সদস্য
    উত্তর: খ. ১৩৬ তম সদস্য
    স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ও চীনের বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ পেতে বিলম্ব হয়। এরপর পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হয়। ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।
    মনে রাখুন: ১৯৭২ সালে চীনের ভেটোর কারণে বাংলাদেশের সদস্যপদের প্রথম আবেদন আটকে যায়।
  2. ২১. Alliance যে দেশে ভিত্তিক গার্মেন্টস ব্রান্ডগুলোর সংগঠন-
    • ক. যুক্তরাজ্যের
    • খ. যুক্তরাষ্ট্রের
    • গ. কানাডার
    • ঘ. ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের
    উত্তর: খ. যুক্তরাষ্ট্রের
    ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে এবং এতে এগারোশর বেশি পোশাকশ্রমিক মারা যান। এরপর পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি ক্রেতারা দুটি আলাদা জোট গঠন করেন। উত্তর আমেরিকার, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর জোটের নাম অ্যালায়েন্স (Alliance for Bangladesh Worker Safety)। আর ইউরোপের ক্রেতাদের জোটের নাম অ্যাকর্ড (Accord on Fire and Building Safety in Bangladesh)।
    মনে রাখুন: ২০২০ সাল থেকে দেশীয় সংস্থা আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (RSC) কারখানা পরিদর্শনের দায়িত্ব নিয়েছে।
  3. ৮০. জাতিসংঘ কোন সালে মানবাধিকার সংক্রান্ত বৈশ্বিক ঘোষণার ঐতিহাসিক নথিটি গ্রহণ করে?
    • ক. ১৯৪৮
    • খ. ১৯৫৬
    • গ. ১৯৪৫
    • ঘ. ২০০০
    উত্তর: ক. ১৯৪৮
    ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) গ্রহণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর সব মানুষের জন্য মৌলিক অধিকারের একটি সার্বজনীন তালিকা তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই এই ঘোষণা তৈরি হয়। এর স্মরণে প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
    মনে রাখুন:
    ঘোষণাপত্রে ৩০টি অনুচ্ছেদ আছে।
    জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৫ সালে, তাই ১৯৪৫ সাল এর সঠিক উত্তর নয়।
  4. ৮১. OIC – এর কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
    • ক. ২য় শীর্ষ সম্মেলনে
    • খ. ৫ম শীর্ষ সম্মেলনে
    • গ. ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনে
    • ঘ. ৭ম শীর্ষ সম্মেলনে
    উত্তর: ক. ২য় শীর্ষ সম্মেলনে
    ওআইসি (OIC) বা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা মুসলিম দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে যোগ দেন। সেই বছরই বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ পায়।
    মনে রাখুন:
    ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে এবং এর সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায়।
    ২০১১ সালে সংস্থাটির নাম হয় Organisation of Islamic Cooperation।
  5. ৮২. পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কোন অংশে ভারত সম্প্রতি (ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ) সামরিক বিমান হামলা পরিচালনা করে?
    • ক. এবোটাবাদ
    • খ. কোয়েটা
    • গ. বালাকোট
    • ঘ. গিলগিট
    উত্তর: গ. বালাকোট
    ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি হামলায় ভারতের অনেক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায়। ভারতের দাবি ছিল, সেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। বালাকোট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে, কাশ্মীর সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের পর এটি ছিল পাকিস্তানের ভেতরে ভারতের প্রথম বিমান হামলা।
    মনে রাখুন: এবোটাবাদে ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত হন।
  6. ৮৩. নিচের কোন দেশে ২০২২ সালে G-20 বাৎসরিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে?
    • ক. ইতালী
    • খ. যুক্তরাষ্ট্র
    • গ. ভারত
    • ঘ. ব্রাজিল
    উত্তর: গ. ভারত
    পরীক্ষার সময়ে (২০১৯ সাল) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২২ সালের জি-২০ (G20) শীর্ষ সম্মেলন ভারতে হওয়ার কথা ছিল। জি-২০ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির কুড়িটি দেশ ও জোটের সংগঠন, আর প্রতিবছর একটি সদস্য দেশ পালাক্রমে সম্মেলন আয়োজন করে। পরে সূচি বদলে যায়।
    হালনাগাদ: ২০২২ সালের সম্মেলন হয় ইন্দোনেশিয়ার বালিতে। ভারত আয়োজন করে ২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে। এরপর ২০২৪ সালে ব্রাজিল এবং ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সম্মেলনের আয়োজক ছিল।
  7. ৮৪. ‘দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
    • ক. মার্থা ন্যুসবাম
    • খ. জোসেফ স্টিগলিটজ
    • গ. অমর্ত্য সেন
    • ঘ. জন রাউলস
    উত্তর: গ. অমর্ত্য সেন
    ‘দ্য আইডিয়া অব জাস্টিস’ (The Idea of Justice) নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেনের বই, ২০০৯ সালে প্রকাশিত। এতে তিনি বলেছেন, ন্যায়বিচার বোঝার জন্য একটি নিখুঁত আদর্শ সমাজের নকশা তৈরির চেয়ে বাস্তব জীবনের অন্যায় ও অসঙ্গতি তুলনা করে কমানোর চেষ্টা বেশি দরকার। অন্য বিকল্পের জন রলস ‘এ থিওরি অব জাস্টিস’ (১৯৭১) লিখেছেন।
    মনে রাখুন: অমর্ত্য সেন ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। জোসেফ স্টিগলিটজ ও মার্থা ন্যুসবাম আলাদা ক্ষেত্রের বিখ্যাত লেখক।
  8. ৮৫. শ্রীলংকার কোন সমুদ্রবন্দর চীনের নিকট ৯৯ বছরের জন্য লীজ দেয়া হয়েছে?
    • ক. ত্রিঙ্কোমালী
    • খ. হাম্বানটোটা
    • গ. গল বন্দর
    • ঘ. পোর্ট অব কলম্বো
    উত্তর: খ. হাম্বানটোটা
    শ্রীলঙ্কা বিশাল বিদেশি ঋণের চাপে ২০১৭ সালে তার দক্ষিণের হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দর চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মার্চেন্টস পোর্ট’-এর কাছে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেয়। বন্দরটি নির্মাণে চীনের কাছ থেকে প্রচুর ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে অনেকে ‘ঋণের ফাঁদ কূটনীতি’-র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। হাম্বানটোটা ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথের পাশে অবস্থিত।
    মনে রাখুন: ত্রিঙ্কোমালী শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক গভীর বন্দর, আর কলম্বো দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর।
  9. ৮৬. যুক্তরাষ্ট্রের Guantanamo Bay Detention Camp কোথায় অবস্থিত?
    • ক. ফ্লোরিডা
    • খ. হাইতি
    • গ. কিউবা
    • ঘ. জ্যামাইকা
    উত্তর: গ. কিউবা
    গুয়ানতানামো বে (Guantanamo Bay) কিউবা দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি আছে, যা তারা ১৯০৩ সাল থেকে ইজারা নিয়ে ব্যবহার করছে। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে এই ঘাঁটির ভেতর বন্দিশিবির চালু হয়, যেখানে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর সময় আটক সন্দেহভাজনদের রাখা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই শিবিরের কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
    মনে রাখুন: কিউবার রাজধানী হাভানা, আর দ্বীপটি ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত।
  10. ৮৭. টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত ২০৩০ এজেন্ডা (The 2030 Agenda for Sustainable Development) -তে কয়টি লক্ষ্য ( goals) রয়েছে ?
    • ক. ১৫
    • খ. ১৭
    • গ. ২১
    • ঘ. ২৭
    উত্তর: খ. ১৭
    ২০১৫ সালে জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলো ‘এজেন্ডা ২০৩০’ গ্রহণ করে। এতে টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্য (Sustainable Development Goals, SDG) নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই লক্ষ্যগুলোর অধীনে ১৬৯টি টার্গেট আছে। লক্ষ্যগুলোতে দারিদ্র্য দূর করা, ক্ষুধা মেটানো, সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা, জলবায়ু রক্ষাসহ নানা বিষয় রয়েছে।
    মনে রাখুন:
    SDG-র আগে ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDG) ছিল, যাতে ৮টি লক্ষ্য ছিল।
    SDG অর্জনের সময়সীমা ২০৩০ সাল।
  11. ৮৮. ‘V-20’ গ্রুপ কিসের সাথে সম্পর্কিত?
    • ক. কৃষি উন্নয়ন
    • খ. দারিদ্র বিমোচন
    • গ. জলবায়ু পরিবর্তন
    • ঘ. বিনিয়োগ সম্পর্কিত
    উত্তর: গ. জলবায়ু পরিবর্তন
    ভি-২০ (V20) হলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের একটি জোট (Vulnerable Twenty Group)। ২০১৫ সালে এটি গঠিত হয়। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে এসব দেশের অর্থনীতি যে ক্ষতির মুখে পড়ে, তা নিয়ে একসঙ্গে কথা বলা এবং জলবায়ু অর্থায়ন আদায় করা এর লক্ষ্য। বাংলাদেশ এর সদস্য।
    মনে রাখুন: ভি-২০ জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ ফোরাম (Climate Vulnerable Forum) নামের বৃহত্তর জোটের অর্থমন্ত্রীদের শাখা।
  12. ৮৯. জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
    • ক. ১৯৭৯ সালে
    • খ. ১৯৮২ সালে
    • গ. ১৯৮৩ সালে
    • ঘ. ১৯৯৮ সালে
    উত্তর: খ. ১৯৮২ সালে
    জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদ (United Nations Convention on the Law of the Sea, UNCLOS) ১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর জ্যামাইকার মন্টেগো বে-তে স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৯৪ সালে কার্যকর হয়। এই সনদে সমুদ্রে কোন দেশের কতটুকু এলাকায় অধিকার থাকবে, তা ঠিক করা হয়েছে।
    মনে রাখুন: সমুদ্রসীমা:
    আঞ্চলিক সমুদ্র: উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল।
    অর্থনৈতিক এলাকা (EEZ): ২০০ নটিক্যাল মাইল।
    সনদ অনুযায়ী ২০১২ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।
  13. ৯০. বিশ্বের সর্বশেষ জলবায়ু সম্মেলন (ডিসেম্বর, ২০১৮ ) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
    • ক. কাটোউইস, পোল্যান্ড
    • খ. প্যারিস, ফ্রান্স
    • গ. রোম, ইতালি
    • ঘ. বেইজিং ,চীন
    উত্তর: ক. কাটোউইস, পোল্যান্ড
    ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন, অর্থাৎ ২৪তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP24), পোল্যান্ডের কাতোভিৎস শহরে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার নিয়মকানুন ঠিক করা হয়।
    মনে রাখুন: কয়েকটি জলবায়ু সম্মেলন:
    COP21: ২০১৫ সালে প্যারিস।
    COP26: ২০২১ সালে গ্লাসগো।
    COP28: ২০২৩ সালে দুবাই।
    COP29: ২০২৪ সালে বাকু।
    COP30: ২০২৫ সালে ব্রাজিলের বেলেম।
  14. ৯১. Sunshine Policy- এর সাথে কোন দুটি দেশ জড়িত ?
    • ক. চীন, রাশিয়া
    • খ. উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
    • গ. জাপান, থাইল্যান্ড
    • ঘ. তাইওয়ান, হংকং
    উত্তর: খ. উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া
    সানশাইন পলিসি (Sunshine Policy) হলো দক্ষিণ কোরিয়ার একটি নীতি, যার লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাত না করে সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ভালো করা। ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম দায়ে জুং এ নীতি চালু করেন। এর ফলে ২০০০ সালে দুই কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথম শীর্ষ বৈঠক হয়। এই প্রচেষ্টার জন্য কিম দায়ে জুং ২০০০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
    মনে রাখুন: কোরিয়া উপদ্বীপ ১৯৪৫ সালের পর উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ হয়ে যায়।
  15. ৯২. BRICS কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের নাম হচ্ছে-আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ) ২০১৯
    • ক. New Development Bank ( NDB)
    • খ. BRICS Development Bank (BDB)
    • গ. Economic Development Bank (EDB)
    • ঘ. International Commercial Bank (ICB)
    উত্তর: ক. New Development Bank ( NDB)
    ব্রিকস (BRICS) নামটি ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর থেকে তৈরি। এই পাঁচ দেশ ২০১৪ সালে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (New Development Bank, NDB) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ঋণ দেয়। এর সদর দপ্তর চীনের সাংহাইয়ে। বাংলাদেশ ২০২১ সালে এর সদস্য হয়।
    মনে রাখুন: ২০২৪ সাল থেকে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্রিকসে যোগ দেয়, আর ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়।
  16. ৯৩. চীন নিচের কোন আফ্রিকান দেশটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছে?
    • ক. ইথিওপিয়া
    • খ. জাম্বিয়া
    • গ. লাইবেরিয়া
    • ঘ. জিবুতি
    উত্তর: ঘ. জিবুতি
    চীন ২০১৭ সালে পূর্ব আফ্রিকার জিবুতিতে বিদেশের মাটিতে তার প্রথম সামরিক ঘাঁটি চালু করে। জিবুতি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল বাব-এল-মান্দেবের কাছে অবস্থিত। এই পথ দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে জাহাজ চলাচল করে, তাই জায়গাটি কৌশলগতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। জিবুতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশের ঘাঁটিও আছে।
    মনে রাখুন: জিবুতির রাজধানীর নামও জিবুতি। ইথিওপিয়া, জাম্বিয়া ও লাইবেরিয়ায় চীনের এমন কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই।
  17. ৯৪. নিচের কোন সংস্থাটির সচিবালয় বাংলাদেশে অবস্থিত ?
    • ক. BIMSTEC
    • খ. CICA
    • গ. IORA
    • ঘ. SAARC
    উত্তর: ক. BIMSTEC
    বিমসটেক (BIMSTEC) বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সাতটি দেশের আঞ্চলিক সংগঠন। এর সদস্য বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। সংস্থাটির স্থায়ী সচিবালয় ঢাকায়, যা ২০১৪ সালে চালু হয়। অন্য বিকল্পগুলোর সচিবালয় ভিন্ন জায়গায়। সার্কের সচিবালয় কাঠমান্ডুতে, আইওআরএর সচিবালয় মরিশাসে এবং সিআইসিএর সচিবালয় কাজাখস্তানের আস্তানায়।
    মনে রাখুন: বিমসটেক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে, ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে।
  18. ৯৫. নিচের কোন সংস্থাটির স্থায়ী সদর দপ্তর নেই?
    • ক. NATO
    • খ. NAM
    • গ. EU
    • ঘ. ASEAN
    উত্তর: খ. NAM
    জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (Non-Aligned Movement, NAM) কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর বা আনুষ্ঠানিক সচিবালয় নেই। যে দেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সভাপতির দায়িত্ব পায়, সেই দেশের মাধ্যমে আন্দোলনের কাজ চলে। বাকি সংস্থাগুলোর স্থায়ী কেন্দ্র আছে। ন্যাটোর সদর দপ্তর ব্রাসেলসে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্রাসেলসে এবং আসিয়ানের সচিবালয় জাকার্তায়।
    মনে রাখুন: ১৯৬১ সালে বেলগ্রেডে এই আন্দোলনের প্রথম সম্মেলন হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের মধ্যে ছিলেন নেহরু, নাসের, টিটো ও সুকর্ণ।
  19. ৯৬. জাতিসংঘ বিষয়ক আলোচনায় পি৫ (P5) বলতে কি বুঝায়?
    • ক. নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র
    • খ. পাঁচটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র
    • গ. পাঁচটি জাতিসংঘ সংস্থা
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র
    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে সংক্ষেপে পি৫ (P5) বলা হয়। এই পাঁচ দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। প্রত্যেকের ভেটো (Veto) ক্ষমতা আছে, অর্থাৎ যেকোনো একজন আপত্তি জানালে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত পাস হয় না। নিরাপত্তা পরিষদের মোট ১৫ সদস্যের বাকি ১০টি অস্থায়ী, যারা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।
    মনে রাখুন: পাঁচটি পরমাণু অস্ত্র রাষ্ট্রও একই দেশগুলো, তবে জাতিসংঘের আলোচনায় ‘P5’ বলতে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের বোঝায়।
  20. ৯৭. মিনস্ক নিচের কোন দেশের রাজধানী?
    • ক. তাজাকিস্তান
    • খ. আজারবাইজান
    • গ. পর্তুগাল
    • ঘ. বেলারুশ
    উত্তর: ঘ. বেলারুশ
    মিনস্ক (Minsk) পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশের রাজধানী। বাকি দেশগুলোর রাজধানী আলাদা। তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে, আজারবাইজানের বাকু এবং পর্তুগালের লিসবন। মিনস্ক শহরের নামে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ইউক্রেন সংকট নিয়ে মিনস্ক চুক্তি নামে দুটি চুক্তি সই হয়।
    মনে রাখুন: বেলারুশ আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এবং ১৯৯১ সালে স্বাধীন হয়।
  21. ৯৮. কোন দেশটি ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলে অবস্থিত নয়?
    • ক. ফিনল্যান্ড
    • খ. পোল্যান্ড
    • গ. অস্ট্রিয়া
    • ঘ. সুইডেন
    উত্তর: গ. অস্ট্রিয়া
    বাল্টিক সাগরের তীরে যেসব দেশ আছে, সেগুলোকেই বাল্টিক অঞ্চলের দেশ ধরা হয়। এর মধ্যে ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড ও সুইডেন আছে। কিন্তু অস্ট্রিয়া মধ্য ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যার কোনো সমুদ্রতীর নেই। তাই অস্ট্রিয়া বাল্টিক অঞ্চলের দেশ নয়।
    মনে রাখুন:
    বাল্টিক সাগরের তীরের আরও কয়েকটি দেশ: ডেনমার্ক, জার্মানি, রাশিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া।
    অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

  1. ৩৬. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?
    • ক. তৃতীয়া বিভক্তি
    • খ. প্রথমা বিভক্তি
    • গ. দ্বিতীয়া বিভক্তি
    • ঘ. শূন্য বিভক্তি
    উত্তর: ক. তৃতীয়া বিভক্তি
    কারক হলো বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক, আর বিভক্তি হলো সেই সম্পর্ক প্রকাশের চিহ্ন। বাংলা ব্যাকরণে ‘দ্বারা’, ‘দিয়া’ ও ‘কর্তৃক’-কে তৃতীয়া বিভক্তির চিহ্ন ধরা হয়। এগুলো দিয়ে সাধারণত কাজের মাধ্যম বা যন্ত্র বোঝানো হয়, যেমন ‘ছুরি দিয়া ফল কাটা’ বা ‘সরকার কর্তৃক গৃহীত’।
    মনে রাখুন: বিভক্তির কয়েকটি চিহ্ন:
    দ্বিতীয়া: কে, রে।
    তৃতীয়া: দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক।
    পঞ্চমী: হইতে, থেকে।
    ষষ্ঠী: র, এর।
    সপ্তমী: এ, য়, তে।
  2. ৩৭. ‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ কী?
    • ক. বিরামহীন
    • খ. বালিশ
    • গ. চলন
    • ঘ. সুন্দর
    উত্তর: ঘ. সুন্দর
    ‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ সুন্দর বা মনোহর। ‘অভি’ উপসর্গ এবং ‘রাম’ থেকে শব্দটি গঠিত, যেখানে রাম মানে আনন্দদায়ক। তাই অভিরাম মানে যা দেখে বা শুনে আনন্দ হয়। বিরামহীন বা বিরাম নেই এমন বোঝাতে আমরা ‘অবিরাম’ বলি, ‘অভিরাম’ বলি না।
    উদাহরণ: নয়নাভিরাম দৃশ্য মানে চোখের পক্ষে আনন্দদায়ক সুন্দর দৃশ্য।
    মনে রাখুন: ‘নয়নাভিরাম’ শব্দের অর্থ নয়নের অভিরাম, অর্থাৎ যা চোখকে আনন্দ দেয়।
  3. ৩৮. বাংলা কৃৎ -প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
    • ক. কারক
    • খ. লিখিত
    • গ. বেদনা
    • ঘ. খেলনা
    উত্তর: ঘ. খেলনা
    প্রত্যয় হলো এমন অংশ, যা ধাতু বা শব্দের পরে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে। ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। ‘খেলনা’ শব্দটি বাংলা ধাতু ‘খেল্’ আর ‘না’ প্রত্যয় দিয়ে তৈরি, তাই এটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ে সাধিত। অন্য তিনটি শব্দের প্রত্যয় সংস্কৃত। ‘কারক’-এ ‘কৃ + অক’, ‘লিখিত’-এ ‘লিখ্ + ত’ এবং ‘বেদনা’-য় ‘বিদ্ + অনা’ প্রত্যয় আছে।
    মনে রাখুন: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ:
    আ: পড়া (পড় + আ)।
    না: বাজনা (বাজ + না)।
    তি: চলতি (চল + তি)।
    অন্ত: ডুবন্ত (ডুব + অন্ত)।
  4. ৩৯. ‘গির্জা’ কোন ভাষার শব্দ ?
    • ক. ফারসী
    • খ. পর্তুগিজ
    • গ. ওলন্দাজ
    • ঘ. পাঞ্জাবী
    উত্তর: খ. পর্তুগিজ
    ‘গির্জা’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষার ‘igreja’ থেকে এসেছে। ষোড়শ শতকে পর্তুগিজ বণিক ও খ্রিষ্টান মিশনারিরা বাংলায় আসেন, আর তাঁদের সঙ্গে বহু শব্দ আমাদের ভাষায় ঢুকে পড়ে। গির্জা সেই শব্দগুলোর একটি।
    মনে রাখুন: পর্তুগিজ থেকে আসা কয়েকটি শব্দ:
    আলমারি, বালতি, চাবি, আনারস, পেঁপে।
    জানালা, সাবান, বোতাম, পাউরুটি, তোয়ালে।
  5. ৪০. ‘Attested’ -এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
    • ক. সত্যায়িত
    • খ. প্রত্যয়িত
    • গ. সত্যায়ন
    • ঘ. সংলগ্ন/সংলাগ
    উত্তর: ক. সত্যায়িত
    ‘Attested’ শব্দের অর্থ কোনো কাগজ বা অনুলিপি সত্য বলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষর বা সিলমোহর দিয়ে প্রমাণ করা। এর বাংলা পরিভাষা ‘সত্যায়িত’। ‘Attestation’-এর পরিভাষা ‘সত্যায়ন’। অন্য একটি কাছাকাছি শব্দ ‘Certified’, যার পরিভাষা ‘প্রত্যয়িত’। ‘সংলগ্ন’ মানে যুক্ত বা সংযুক্ত, আর সেটি ইংরেজি ‘attached’-এর অর্থ।
    উদাহরণ: সত্যায়িত ফটোকপি মানে এমন অনুলিপি, যা কোনো কর্মকর্তা মূল কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে সত্য বলে স্বাক্ষর করেছেন।
  6. ৪১. কোনটি শুদ্ধ বানান ?
    • ক. প্রজ্বল
    • খ. প্রোজ্জল
    • গ. প্রোজ্বল
    • ঘ. প্রোজ্জ্বল
    উত্তর: ঘ. প্রোজ্জ্বল
    শুদ্ধ বানান ‘প্রোজ্জ্বল’। শব্দটি ‘প্র’ উপসর্গ এবং ‘উজ্জ্বল’ শব্দের সন্ধিতে তৈরি। অ-কারান্ত ‘প্র’ ও ‘উ’ মিলে ‘প্রো’ হয়, এর নাম গুণ সন্ধি। আর ‘উজ্জ্বল’ বানানে দুটি জ ও ব-ফলা মিলে ‘জ্জ্ব’ যুক্তবর্ণ থাকে। তাই প্রোজ্জ্বল বানানে এই যুক্তবর্ণ বাদ গেলে তা ভুল হবে।
    মনে রাখুন: ‘উজ্জ্বল’, ‘সমুজ্জ্বল’ ও ‘প্রোজ্জ্বল’ সব বানানেই ‘জ্জ্ব’ থাকে।
  7. ৪২. ‘জোছনা’ কোন শ্রেণীর শব্দ ?
    • ক. যৌগিক
    • খ. তৎসম
    • গ. দেশী
    • ঘ. অর্ধ-তৎসম
    উত্তর: ঘ. অর্ধ-তৎসম
    সংস্কৃত থেকে বাংলায় আসা শব্দকে চার ভাগে ভাগ করা যায়: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি। যে সংস্কৃত শব্দ কিছুটা বদলে বাংলায় এসেছে, তাকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। সংস্কৃত ‘জ্যোৎস্না’ বদলে হয়েছে ‘জোছনা’, তাই এটি অর্ধ-তৎসম। এটি সরাসরি সংস্কৃত নয়, আবার পুরোপুরি বদলে যাওয়া তদ্ভবও নয়।
    মনে রাখুন: অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ:
    গিন্নি (গৃহিণী), নেমন্তন্ন (নিমন্ত্রণ), কুচ্ছিত (কুৎসিত)।
    তদ্ভব শব্দের উদাহরণ: চাঁদ (চন্দ্র), হাত (হস্ত)।
  8. ৪৩. ‘জিজীবিষা’ শব্দটি দিয়ে বোঝায়-
    • ক. জয়ের ইচ্ছা
    • খ. হত্যার ইচ্ছা
    • গ. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
    • ঘ. শোনার ইচ্ছা
    উত্তর: গ. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
    কোনো কিছুর ইচ্ছা বোঝাতে সংস্কৃতে ধাতুর সঙ্গে সন্ প্রত্যয় যুক্ত হয়। ‘জিজীবিষা’ এসেছে ‘জীব্’ ধাতু থেকে, যার অর্থ বেঁচে থাকার ইচ্ছা। বাকি বিকল্পের শব্দগুলো আলাদা ইচ্ছা বোঝায়। জয় করার ইচ্ছা ‘জিগীষা’, হত্যা করার ইচ্ছা ‘জিঘাংসা’ এবং শোনার ইচ্ছা ‘শুশ্রূষা’।
    মনে রাখুন: ইচ্ছা-বোধক আরও কয়েকটি শব্দ:
    বুভুক্ষা: খাওয়ার ইচ্ছা।
    পিপাসা: পান করার ইচ্ছা।
    জিজ্ঞাসা: জানার ইচ্ছা।
    মুমুক্ষা: মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা।
  9. ৪৪. ‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয়-
    • ক. সর্বঙ্গ + ঈন
    • খ. সর্ব + অঙ্গীন
    • গ. সর্ব + ঙ্গীন
    • ঘ. সর্বাঙ্গ + ঈন
    উত্তর: ঘ. সর্বাঙ্গ + ঈন
    ‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দটির অর্থ সব অঙ্গ বা সব দিক জুড়ে। এখানে মূল শব্দ ‘সর্বাঙ্গ’ এবং তার সঙ্গে ‘ঈন’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি তৈরি হয়েছে। ‘সর্বাঙ্গ’ ও ‘ঈন’ মিলে ‘সর্বাঙ্গীণ’, আর এই প্রত্যয় যুক্ত হলে ‘ঈন’-এর জায়গায় ‘ণ’ বসে। তাই ‘সর্বাঙ্গ + ঈন’ ঠিক।
    মনে রাখুন: ‘ঈন’ প্রত্যয়যোগে তৈরি আরও শব্দ:
    সর্বজনীন (সর্বজন + ঈন)।
    প্রাচীন (প্রাচী + ঈন)।
    কুলীন (কুল + ঈন)।
  10. ৪৫. অন্যের রচনা থেকে চুরি করাকে বলা হয়-
    • ক. বেতসবৃত্তি
    • খ. পতঙ্গবৃত্তি
    • গ. জলৌকাবৃত্তি
    • ঘ. কুম্ভিলকবৃত্তি
    উত্তর: ঘ. কুম্ভিলকবৃত্তি
    অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালানোকে কুম্ভিলকবৃত্তি বলে। ইংরেজিতে একে প্ল্যাজিয়ারিজম (Plagiarism) বলা হয়। বাকি বিকল্পগুলোও বিশেষ বৃত্তি বা আচরণের নাম। বেতসবৃত্তি মানে বেতগাছের মতো পরিস্থিতি বুঝে নত হওয়া, পতঙ্গবৃত্তি মানে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া পতঙ্গের মতো না বুঝে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া এবং জলৌকাবৃত্তি মানে জোঁকের মতো শোষণ করা।
    মনে রাখুন: ‘কুম্ভিলক’ মানে চোর বা অন্যের রচনা চুরি করা লেখক।
  11. ৪৬. ‘ঊর্ণনাভ’ শব্দটি দিয়ে বোঝায়-
    • ক. টিকটিকি
    • খ. তেলেপোকা
    • গ. উইপোকা
    • ঘ. মাকড়সা
    উত্তর: ঘ. মাকড়সা
    ‘ঊর্ণনাভ’ শব্দের অর্থ মাকড়সা। ‘ঊর্ণা’ মানে সুতা এবং ‘নাভ’ মানে নাভি বা মধ্যস্থল। তাই ঊর্ণনাভ হলো যার নাভি থেকে সুতা বের হয়, অর্থাৎ মাকড়সা। মাকড়সা নিজের শরীর থেকে সুতা বের করে জাল বোনে।
    মনে রাখুন: কয়েকটি প্রাণীর সংস্কৃত নাম:
    ভুজঙ্গ: সাপ।
    মরাল: হাঁস।
    শলভ: পতঙ্গ।
    কলাপী: ময়ূর।
  12. ৪৭. বাংলা আধুনিক উপন্যাস-এর প্রবর্তক ছিলেন-
    • ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • খ. প্যারীচাঁদ মিত্র
    • গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • ঘ. বঙ্কিম চট্রোপাধ্যায়
    উত্তর: ঘ. বঙ্কিম চট্রোপাধ্যায়
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা আধুনিক উপন্যাসের প্রবর্তক বলা হয়। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘দুর্গেশনন্দিনী’ বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক উপন্যাস। এর আগে প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে ‘আলালের ঘরের দুলাল’ লিখেছিলেন (১৮৫৮)। সেটি কাহিনিমূলক রচনা হলেও উপন্যাসের পূর্ণ গঠন পায়নি।
    মনে রাখুন:
    বঙ্কিমের আরও কয়েকটি উপন্যাস: কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ।
    রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’ (১৯০৩) বাংলা সাহিত্যের আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে বিখ্যাত।
  13. ৪৮. কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো – বাক্যদ্বয় কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত?
    • ক. নৌকাডুবি
    • খ. চোখের বালি
    • গ. যোগাযোগ
    • ঘ. শেষের কবিতা
    উত্তর: গ. যোগাযোগ
    ‘কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে’ লাইনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসের। এ বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এ ধরনের একটি ভাবনামূলক লাইন দিয়ে শুরু হয়েছে। উপন্যাসটি কুমুদিনী ও মধুসূদনের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে লেখা। এটি প্রথমে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় ‘তিন পুরুষ’ নামে ছাপা হয় এবং পরে নাম বদলে ‘যোগাযোগ’ হয়।
    মনে রাখুন: ‘যোগাযোগ’-এর মূল চরিত্র কুমুদিনী, মধুসূদন ঘোষাল ও বিপ্রদাস।
  14. ৪৯. মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
    • ক. একটি কালো মেয়ের কথা
    • খ. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
    • গ. আয়নামতির পালা
    • ঘ. ইছামতী
    উত্তর: ক. একটি কালো মেয়ের কথা
    ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস। বাকি তিনটি বইয়ের বিষয় মুক্তিযুদ্ধ নয়। ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ আলাউদ্দিন আল আজাদের উপন্যাস, ‘ইছামতী’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস। এগুলো মুক্তিযুদ্ধের আগের কালের কাহিনি।
    মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি উপন্যাস:
    নিষিদ্ধ লোবান ও নীল দংশন: সৈয়দ শামসুল হক।
    জাহান্নাম হইতে বিদায়: শওকত ওসমান।
    শঙ্খনীল কারাগার: হুমায়ূন আহমেদ।
  15. ৫০. ‘কালো বরফ’ উপন্যাস বিষয়:
    • ক. তেভাগা আন্দোলন
    • খ. ভাষা আন্দোলন
    • গ. মুক্তিযুদ্ধ
    • ঘ. দেশভাগ
    উত্তর: ঘ. দেশভাগ
    ‘কালো বরফ’ মাহমুদুল হকের উপন্যাস, যার মূল বিষয় ১৯৪৭ সালের দেশভাগ। এতে দেশভাগের ফলে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের কষ্ট, শিকড় হারানোর বেদনা এবং বদলে যাওয়া সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। তাই এটির বিষয় তেভাগা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ নয়।
    মনে রাখুন: বাংলা সাহিত্যের কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস ও তাদের পটভূমি:
    আগুনপাখি (হাসান আজিজুল হক): দেশভাগ।
    খোয়াবনামা (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস): উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক পটভূমি।
    চিলেকোঠার সেপাই (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস): ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান।
  16. ৫১. ‘ঢাকা প্রকাশ’ সাপ্তাহিক পত্রিকাটির সম্পাদক কে?
    • ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
    • খ. রামানন্দ চট্রোপাধ্যায়
    • গ. শামসুর রাহমান
    • ঘ. সিকান্দার আবু জাফর
    উত্তর: ক. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
    ‘ঢাকা প্রকাশ’ ১৮৬১ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি ঢাকার সাংবাদিকতার ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর সম্পাদক ছিলেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, যাঁর বিখ্যাত বই ‘সদ্ভাবশতক’। অন্য বিকল্পের মধ্যে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। শামসুর রাহমান ও সিকান্দার আবু জাফর বিংশ শতকের কবি ও সম্পাদক।
    মনে রাখুন: সিকান্দার আবু জাফর ‘সমকাল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
  17. ৫২. ‘জীবনস্মৃতি’ কার রচনা?
    • ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • গ. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ঘ. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    উত্তর: খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    ‘জীবনস্মৃতি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, ১৯১২ সালে প্রকাশিত। এতে কবির শৈশব ও যৌবনের স্মৃতি ও তাঁর সাহিত্যিক বিকাশের গল্প আছে। কবি আরেকটি বইয়ে নিজের শৈশবের কথা লিখেছেন, বইটি ‘ছেলেবেলা’।
    মনে রাখুন:
    ‘ছেলেবেলা’ প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
    ‘ছিন্নপত্র’ রবীন্দ্রনাথের চিঠির সংকলন।
    বেগম রোকেয়ার বিখ্যাত বই ‘অবরোধবাসিনী’ ও ‘সুলতানার স্বপ্ন’।
  18. ৫৩. দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
    • ক. প্যারীচাঁদ মিত্র
    • খ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    • গ. প্রমথ চৌধুরী
    • ঘ. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
    উত্তর: খ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়। এতে ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচার, কৃষকের দুর্দশা ও নীলচাষের জুলুমের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত নিজের নাম গোপন রেখে নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। পাদ্রি জেমস লং অনুবাদটি প্রকাশ করেন, আর এ কারণে তাঁর কারাদণ্ড ও জরিমানা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮৭২ সালে কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটারে প্রথম সাধারণ রঙ্গমঞ্চে নীলদর্পণ মঞ্চস্থ হয়।
    দীনবন্ধু মিত্রের আরও কয়েকটি রচনা: সধবার একাদশী, জামাই বারিক।
  19. ৫৪. সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি -চরণ দুটির রচয়িতা কে?
    • ক. চণ্ডীচরণ মুনশী
    • খ. কাজী নজরুল ইসলাম
    • গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • ঘ. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
    উত্তর: ঘ. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
    ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’ পঙ্‌ক্তি দুটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের লেখা। এটি শিশুদের জন্য লেখা একটি নীতিমূলক কবিতা, যেখানে ভালো হয়ে চলার শিক্ষা আছে। তিনি শিশুদের পড়ার জন্য ‘শিশুশিক্ষা’ বই লিখেছিলেন, যার একটি অতি পরিচিত কবিতা ‘পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল’।
    মনে রাখুন: মদনমোহন তর্কালঙ্কার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর অন্য কাব্য ‘বাসবদত্তা’।
  20. ৫৫. চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে?
    • ক. খ্রিস্টধর্ম
    • খ. প্যাগনিজম
    • গ. জৈনধর্ম
    • ঘ. বৌদ্ধধর্ম
    উত্তর: ঘ. বৌদ্ধধর্ম
    চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। এর পদগুলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের লেখা। তাঁরা তাঁদের ধর্মসাধনার গূঢ় কথা সরাসরি না বলে রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যেমন নৌকা বা বাঘিনী দিয়ে ইঙ্গিত করা। তাই চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা আছে।
    মনে রাখুন:
    ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
    চর্যাপদের আদি কবি লুইপাদ, আর সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন কাহ্নপাদ।
  21. ৫৬. শরতের শিশির বাগধারার অর্থ কী?
    • ক. সুসময়ের বন্ধু
    • খ. সুসময়ের সঞ্চয়
    • গ. শরতের শোভা
    • ঘ. শরতের শিউলি ফুল
    উত্তর: ক. সুসময়ের বন্ধু
    ‘শরতের শিশির’ একটি বাগধারা, যার অর্থ সুসময়ের বন্ধু। শরতের সকালে ঘাসে শিশির দেখা যায়, কিন্তু রোদ উঠলে তা মিলিয়ে যায়। তেমনি যে বন্ধু আমাদের সুখের সময়ে পাশে থাকে আর বিপদের সময়ে সরে পড়ে, তাকে ‘শরতের শিশির’ বলা হয়।
    উদাহরণ: আমার টাকা থাকতে অনেকে এসেছিল, এখন সবাই শরতের শিশিরের মতো উধাও।
    মনে রাখুন: ‘সুসময়ের কবুতর’ বা ‘সুসময়ের বন্ধু’ কথাটিও প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে।
  22. ৫৭. শিব রাত্রির সলতে – বাগধারটির অর্থ কী?
    • ক. শিবরাত্রির আলো
    • খ. একমাত্র সঞ্চয়
    • গ. একমাত্র সন্তান
    • ঘ. শিবরাত্রির গুরুত্ব
    উত্তর: গ. একমাত্র সন্তান
    ‘শিবরাত্রির সলতে’ একটি বাগধারা, যার অর্থ বংশের একমাত্র সন্তান বা একমাত্র ভরসা। শিবরাত্রি ব্রতের রাতে সারা রাত একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হয়, আর সেই সলতেটি নিভে গেলে ব্রত নষ্ট হয়। তাই সলতেটিকেই একমাত্র ভরসা ধরা হয়। এভাবে বাগধারাটি বংশের একমাত্র সন্তানকে বোঝায়, যাকে ঘিরে পরিবারের সব আশা।
    উদাহরণ: বৃদ্ধ দম্পতির শিবরাত্রির সলতে ছেলেটি বিদেশে গেছে।
    মনে রাখুন: ‘অন্ধের নড়ি’ বা ‘অন্ধের যষ্টি’ মানে একমাত্র অবলম্বন।
  23. ৫৮. ‘প্রোষিতভ র্তৃকা’- শব্দটির অর্থ কী?
    • ক. র্ভৎসনাপ্রাপ্ত তরুণী
    • খ. যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
    • গ. ভূমিতে প্রোথিত তরুমূল
    • ঘ. যে বিবাহিতা নারী পিত্রালয়ে অবস্থান করে
    উত্তর: খ. যে নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করে
    ‘প্রোষিতভর্তৃকা’ শব্দের অর্থ যে নারীর স্বামী বিদেশে বা প্রবাসে থাকেন। ‘প্রোষিত’ মানে প্রবাসী এবং ‘ভর্তৃ’ মানে স্বামী। সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রে নায়িকাদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, আর প্রোষিতভর্তৃকা তারই একটি।
    মনে রাখুন: কয়েক ধরনের নায়িকা:
    খণ্ডিতা, কলহান্তরিতা।
    বাসকসজ্জা, উৎকণ্ঠিতা।
    অভিসারিকা, বিপ্রলব্ধা।
    স্বাধীনভর্তৃকা।
  24. ৫৯. উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন?
    • ক. কাহুপাদ
    • খ. লুইপাদ
    • গ. শান্তিপাদ
    • ঘ. রমনীপাদ
    উত্তর: ঘ. রমনীপাদ
    চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন, আর এর কবিদের নাম ‘পাদ’ শব্দ দিয়ে শেষ হয়। কাহ্নপাদ, লুইপাদ ও শান্তিপাদ চর্যাপদের কবি। কিন্তু ‘রমণীপাদ’ নামে চর্যাপদের কোনো কবি নেই। তাই এই নামটিই প্রাচীন যুগের কবি নয়।
    মনে রাখুন: চর্যাপদের আরও কয়েকজন কবি:
    ভুসুকুপাদ, সরহপাদ।
    শবরপাদ, কুক্কুরীপাদ।
    গুণ্ডরীপাদ, ডোম্বীপাদ।
  25. ৬০. জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত :
    • ক. ফকির গরীবুল্লাহ
    • খ. নরহরি চক্রবর্তী
    • গ. বিপ্রদাস পিপিলাই
    • ঘ. বৃন্দাবন দাস
    উত্তর: ঘ. বৃন্দাবন দাস
    মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যের জীবন ও কাজ নিয়ে যে কাব্য লেখা হয়েছে, তাকে জীবনীকাব্য বলে। বৃন্দাবন দাস এ ধারার বিখ্যাত কবি। তাঁর ‘চৈতন্যভাগবত’ বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম চৈতন্য-জীবনীকাব্য। বাকি বিকল্পের কবিরা অন্য কাজের জন্য বিখ্যাত। ফকির গরীবুল্লাহ দোভাষী পুঁথির কবি, বিপ্রদাস পিপিলাই মনসামঙ্গলের কবি এবং নরহরি চক্রবর্তী বৈষ্ণব ভক্তিগ্রন্থ ‘ভক্তিরত্নাকর’-এর রচয়িতা।
    মনে রাখুন: চৈতন্যজীবনীকাব্য:
    চৈতন্যচরিতামৃত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
    চৈতন্যমঙ্গল: লোচন দাস ও জয়ানন্দ।
  26. ৬১. বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত?
    • ক. সন্ধ্যাভাষা
    • খ. অধিভাষা
    • গ. ব্রজবুলি
    • ঘ. সংস্কৃত ভাষা
    উত্তর: গ. ব্রজবুলি
    বৈষ্ণব পদাবলী রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে লেখা পদের সংকলন। এর অনেক পদ ব্রজবুলি ভাষায় লেখা। ব্রজবুলি মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে তৈরি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা, যা সাধারণ মানুষ মুখে বলত না। বিদ্যাপতির পদের প্রভাবে বাংলার কবিরাও এ ভাষায় পদ লেখেন, যেমন গোবিন্দদাস। অন্য বিকল্পগুলো মেলে না। সন্ধ্যাভাষা চর্যাপদের আলো-আঁধারি রূপক ভাষা।
    মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ ব্রজবুলিতে লেখা।
  27. ৬২. জসীম উদ্দীনের রচনা কোনটি?
    • ক. যাদের দেখেছি
    • খ. পথে-প্রবাসে
    • গ. কাল নিরবধি
    • ঘ. ভবিষ্যতের বাঙালি
    উত্তর: ক. যাদের দেখেছি
    ‘যাদের দেখেছি’ পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের স্মৃতিকথা, যেখানে তিনি জীবনে দেখা কয়েকজন বিখ্যাত মানুষের কথা বলেছেন। বাকি বইগুলোর লেখক আলাদা। ‘পথে প্রবাসে’ অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনি, ‘কাল নিরবধি’ আনিসুজ্জামানের স্মৃতিকথা এবং ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ এস ওয়াজেদ আলির প্রবন্ধ।
    মনে রাখুন: জসীমউদ্‌দীনের বিখ্যাত কাব্য:
    নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)।
    সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৩)।
    রাখালী।
  28. ৬৩. ‘কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না- উক্তিটি কোন উপন্যাসের ?
    • ক. রবীন্দ্রনাথের ‘ চোখের বালি’
    • খ. শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’
    • গ. শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি ‘
    • ঘ. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’
    উত্তর: ঘ. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাজসিংহ’
    ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’ উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘রাজসিংহ’ থেকে নেওয়া। উপন্যাসটি মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব ও রাজপুত রাজা রাজসিংহের সংঘাত নিয়ে লেখা। বাকি তিনটি বিকল্পের বইয়ের বিষয় আলাদা। ‘চোখের বালি’ ও ‘পথের দাবী’ সামাজিক ও রাজনৈতিক উপন্যাস, আর ‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত ওসমানের রূপক উপন্যাস।
    মনে রাখুন: ‘রাজসিংহ’ বঙ্কিমের একমাত্র পুরোপুরি ইতিহাসাশ্রিত উপন্যাস বলে পরিচিত।
  29. ৬৪. ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন কে?
    • ক. অক্ষয় কুমার দত্ত
    • খ. এন্টনি ফিরিঙ্গি
    • গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    • ঘ. কালীপ্রসন্ন সিংহ ঠাকুর
    উত্তর: গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    ইয়ং বেঙ্গল (Young Bengal) নামে পরিচিত একদল তরুণ হিন্দু কলেজের শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর অনুসারী ছিলেন। তাঁরা যুক্তি, মুক্তচিন্তা ও কুসংস্কারবিরোধী ভাবনায় বিশ্বাস করতেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত হিন্দু কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং এই ভাবধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন, তাই তাঁকে ইয়ং বেঙ্গলের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ডিরোজিও কলেরায় মারা যান মাত্র ২২ বছর বয়সে।
    মাইকেল ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) লিখে বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন।
  30. ৬৫. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন সনে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে?
    • ক. ১৯২৩ সন
    • খ. ১৯২১ সন
    • গ. ১৯১৯ সন
    • ঘ. ১৯১৮ সন
    উত্তর: খ. ১৯২১ সন
    ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কাজী নজরুল ইসলামের সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা। এটি ১৩২৮ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯২১ সালের শেষ দিকে রচিত হয়। কবিতাটি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় ছাপা হয় ১৩২৮ সালের পৌষ মাসের শেষ সংখ্যায়, যা ১৯২২ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে। রচনার এবং বঙ্গাব্দ হিসেবে প্রকাশের সাল ১৯২১।
    মনে রাখুন:
    নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২)।
    তাঁর ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা ১৯২২ সালে বের হয়।
  31. ৬৬. ‘আগুনপাখি ‘ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
    • ক. রাহাত খান
    • খ. হাসান আজিজুল হক
    • গ. সেলিনা হোসেন
    • ঘ. ইমদাদুল হক মিলন
    উত্তর: খ. হাসান আজিজুল হক
    ‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের লেখা উপন্যাস, যা ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। এতে একজন গ্রাম্য নারীর চোখ দিয়ে দেখা তাঁর জীবন, বিশেষ করে দেশভাগের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। বাকি বিকল্পের লেখকদের কাজ আলাদা। সেলিনা হোসেন ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ ও ‘যমুনা নদীর দুই তীর’ লিখেছেন।
    মনে রাখুন: হাসান আজিজুল হকের আরও কয়েকটি রচনা:
    সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (গল্প)।
    আত্মজা ও একটি করবী গাছ (গল্প)।
  32. ৬৭. ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ বিখ্যাত গানটির সুরকার কে?
    • ক. সুবীর সাহা
    • খ. সুধীর দাস
    • গ. আলতাফ মাহমুদ
    • ঘ. আলতাফ মামুন
    উত্তর: গ. আলতাফ মাহমুদ
    ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির কথা লিখেছেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। এর প্রথম সুর করেছিলেন আবদুল লতিফ, কিন্তু আজ যে সুরে গানটি সবাই গায়, সেটি শহীদ আলতাফ মাহমুদের করা। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হন।
    মনে রাখুন:
    ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানটির রচয়িতা ও সুরকার আবদুল লতিফ।
    আলতাফ মাহমুদ শহীদ হন ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট।
  33. ৬৮. বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে?
    • ক. বিভক্তি
    • খ. কারক
    • গ. প্রত্যয়
    • ঘ. অনুসর্গ
    উত্তর: খ. কারক
    বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। যেমন ‘ছেলেটি বই পড়ে’ বাক্যে ‘কে পড়ে?’ প্রশ্নের উত্তর ‘ছেলেটি’ এবং ‘কী পড়ে?’ প্রশ্নের উত্তর ‘বই’। এই সম্পর্কগুলোই কারক। আর বিভক্তি হলো সেই সম্পর্ক প্রকাশের চিহ্ন, আর প্রত্যয় নতুন শব্দ গড়ে।
    মনে রাখুন: বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় প্রকার:
    কর্তৃকারক, কর্মকারক।
    করণকারক, সম্প্রদান কারক।
    অপাদান কারক, অধিকরণ কারক।
  34. ৬৯. কোন শব্দযুগল বিপরীতার্থক নয়?
    • ক. ঐচ্চিক – অনাবশ্যিক
    • খ. কুটিল – সরল
    • গ. কম – বেশি
    • ঘ. কদাচার – সদাচার
    উত্তর: ক. ঐচ্চিক – অনাবশ্যিক
    বিপরীতার্থক শব্দ হলো যাদের অর্থ পরস্পরের উল্টো। ‘ঐচ্ছিক’ মানে যা নিজের ইচ্ছামতো বেছে নেওয়া যায়, আর ‘অনাবশ্যিক’ বা অনাবশ্যক মানে যা দরকারি নয়। দুটোর অর্থই কাছাকাছি, তাই এ জোড়া বিপরীতার্থক নয়। বাকি জোড়াগুলো বিপরীত, যেমন কুটিল ও সরল, কম ও বেশি, কদাচার ও সদাচার।
    মনে রাখুন: ঐচ্ছিক-এর বিপরীত শব্দ আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক। অনাবশ্যকের বিপরীত আবশ্যক।
  35. ১৭৮. শুদ্ধ বানান কোনটি?
    • ক. অধোগতি
    • খ. অধঃগতি
    • গ. অধগতি
    • ঘ. অধোঃগতি
    উত্তর: ক. অধোগতি
    শুদ্ধ বানান 'অধোগতি'। অধঃ + গতি মিলে সন্ধি হয়। বিসর্গের (ঃ) পরে ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি (এখানে 'গ') থাকলে বিসর্গ বদলে 'ও' (ো-কার) হয়ে যায়। এই কারণে সন্ধির ফলে 'অধঃগতি' নয়, 'অধোগতি' হয়।

    মনে রাখুন:
    এই নিয়মে আরও হয়: মনঃ + রথ = মনোরথ, তপঃ + বন = তপোবন, যশঃ + দা = যশোদা।
  36. ১৮০. বাংলা ‘ব্যঞ্জনবর্ণ’-মালায় ‘ম’ অক্ষরটির পূর্বের পঞ্চম অক্ষরটি কী?
    • ক. ‘ধ’
    • খ. ন’
    • গ. ‘প’
    • ঘ. ‘ল’
    উত্তর: খ. ন’
    বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণমালার পঞ্চম সারি হলো প, ফ, ব, ভ, ম। 'ম' এর আগে পিছিয়ে গুনলে পাই ভ (১ম), ব (২য়), ফ (৩য়), প (৪র্থ) এবং এরপর আগের সারির শেষ বর্ণ ন (৫ম)। তাই 'ম' এর পূর্বের পঞ্চম বর্ণ 'ন'।

    মনে রাখুন:
    ত-বর্গ হলো ত, থ, দ, ধ, ন, আর প-বর্গ হলো প, ফ, ব, ভ, ম।
  37. ১৮৪. কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ?
    • ক. আয়ত্তাধীন, অহেরাত্রি, অদ্যপি
    • খ. গড্ডালিকা , চিণ্ময়,কল্যাণ
    • গ. গৃহন্ত, গণনা, ইদানিং
    • ঘ. আবশ্যক , মিথস্ক্রিয়া গীতালি
    উত্তর: ঘ. আবশ্যক , মিথস্ক্রিয়া গীতালি
    আবশ্যক, মিথস্ক্রিয়া ও গীতালি তিনটি বানানই শুদ্ধ, তাই এই গুচ্ছটি শুদ্ধ। অন্য গুচ্ছগুলোতে অন্তত একটি অশুদ্ধ বানান আছে। যেমন শুদ্ধ রূপ হলো অহোরাত্র (অহঃ + রাত্র), অদ্যাপি, চিন্ময়, গৃহান্ত (গৃহ + অন্ত) ও ইদানীং।

    মনে রাখুন:
    মিথস্ক্রিয়া = মিথঃ + ক্রিয়া; বিসর্গ 'স' হয়ে সন্ধি হয়েছে।

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

  1. ৭০. তথ্য পাওয়া মানুষের কী ধরনের অধিকার ?
    • ক. রাজনৈতিক অধিকার
    • খ. অর্থনৈতিক অধিকার
    • গ. মৌলিক অধিকার
    • ঘ. সামাজিক অধিকার
    উত্তর: গ. মৌলিক অধিকার
    তথ্য পাওয়ার অধিকার মানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নাগরিকের জানার অধিকার। এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার অংশ, তাই একে মৌলিক অধিকার ধরা হয়। এই অধিকারকে কার্যকর করতে বাংলাদেশে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হয় এবং তথ্য কমিশন গঠিত হয়।
    মনে রাখুন:
    সুইডেনে ১৭৬৬ সালে বিশ্বের প্রথম তথ্য অধিকার আইন হয়।
    ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস পালিত হয়।
  2. ৭১. বাংলাদেশে ‘নব-নৈতিকতা’র প্রবর্তক হলেন-
    • ক. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
    • খ. জি.সি দেব
    • গ. আরজ আলী মাতুব্বর
    • ঘ. আবদুল মতীন
    উত্তর: গ. আরজ আলী মাতুব্বর
    আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন যুক্তিবাদী দার্শনিক ও লেখক। তিনি প্রথাগত বিশ্বাস চোখ বন্ধ করে না মেনে যুক্তি ও বিজ্ঞানের আলোকে সব কিছু যাচাই করার কথা বলতেন। যুক্তি ও মানবিকতার ভিত্তিতে নৈতিকতা গড়ার এই চিন্তার জন্য তাঁকে বাংলাদেশে নব-নৈতিকতার প্রবর্তক বলা হয়।
    মনে রাখুন: আরজ আলী মাতুব্বরের কয়েকটি বই:
    সত্যের সন্ধান।
    সৃষ্টি রহস্য।
    অনুমান।
    তিনি বরিশালের লামচরি গ্রামের মানুষ ছিলেন।
  3. ৭২. আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি। এটি –
    • ক. নৈতিক অনুশাসন
    • খ. রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
    • গ. আইনের শাসন
    • ঘ. আইনের অধ্যাদেশ
    উত্তর: খ. রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
    সমাজে বাস করতে হলে মানুষকে সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে সামাজিক রীতিনীতি এবং রাষ্ট্রীয় আইন ও ব্যবস্থা দুটোই আছে। আমরা যে সমাজেই থাকি না কেন, সবাই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি। এই প্রত্যাশা রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসনের ফল, কারণ ভালো নাগরিকের ধারণা সমাজ ও রাষ্ট্র দুই জায়গা থেকেই আসে।
    মনে রাখুন: অনুশাসন মানে নিয়ম বা নির্দেশ। নৈতিক অনুশাসন আসে বিবেক ও মূল্যবোধ থেকে, আর আইনের অনুশাসন আসে রাষ্ট্র থেকে।
  4. ৭৩. সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো –
    • ক. গণতন্ত্র
    • খ. বিচার ব্যবস্থা
    • গ. সংবিধান
    • ঘ. আইনের শাসন
    উত্তর: ঘ. আইনের শাসন
    আইনের শাসন (Rule of Law) মানে আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীও নন। যে সমাজে এই নীতি মানা হয়, সেখানে মানুষ ন্যায়বিচার পায় ও নিরাপদ বোধ করে। তাই আইনের শাসনকে সভ্য সমাজের মানদণ্ড বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    আইনের শাসনের ধারণা দিয়েছেন এ ভি ডাইসি।
    বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
  5. ৭৪. ‘বিপরীত বৈষম্য’ এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়-
    • ক. নারীদের ক্ষেত্রে
    • খ. সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
    • গ. প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে
    • ঘ. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
    উত্তর: ঘ. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
    বিপরীত বৈষম্য (Reverse Discrimination) বা ইতিবাচক বৈষম্যে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়, যাতে তারা অন্যদের সঙ্গে সমান সুযোগ পায়। যেমন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা। নারী, সংখ্যালঘু বা প্রতিবন্ধী মানুষ এর আওতায় আসতে পারেন, কিন্তু নীতিটির সাধারণ লক্ষ্য সব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তাই সবচেয়ে ব্যাপক উত্তর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।
    মনে রাখুন: সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদ নারী, শিশু ও অনগ্রসর নাগরিকদের জন্য বিশেষ বিধান করার ক্ষমতা দিয়েছে।
  6. ৭৫. মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো-
    • ক. উন্নয়ন
    • খ. গণতন্ত্র
    • গ. সংস্কৃতি
    • ঘ. সুশাসন
    উত্তর: গ. সংস্কৃতি
    মূল্যবোধ (Values) বলতে বোঝায় কোন কাজ ভালো ও কোন কাজ মন্দ তার সমাজস্বীকৃত বিচার। মানুষ এই বিচার শেখে নিজের সমাজ ও পরিবারের পরিবেশ থেকে, অর্থাৎ সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে। এই কারণে সংস্কৃতি মানুষের মূল্যবোধ তৈরি ও চালনা করে, আর তাই সংস্কৃতিকে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি বলা হয়।
    মনে রাখুন: ভিন্ন ভিন্ন সমাজের সংস্কৃতি ভিন্ন, তাই মূল্যবোধেও অনেক সময় পার্থক্য দেখা যায়।
  7. ৭৬. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
    • ক. দুর্নীতি দূর হয়
    • খ. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
    • গ. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
    সুশাসন (Good Governance) মানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে শাসন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন থাকলে নিয়মকানুন পরিষ্কার হয় এবং দুর্নীতি কমে। তখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পুঁজি নিরাপদ মনে করেন। ফলে বিনিয়োগ বাড়ে, যা কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে। দুর্নীতি দূর হওয়া বা আইনের শাসন সুশাসনের উপাদান, কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর সরাসরি ফল হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
    মনে রাখুন: বিনিয়োগ মানে মুনাফার আশায় পুঁজি খাটানো।
  8. ৭৭. মূল্যবোধ হলো –
    • ক. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
    • খ. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
    • গ. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
    • ঘ. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
    উত্তর: খ. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
    মূল্যবোধ (Values) হলো সেই নীতি ও মানদণ্ড, যা দিয়ে মানুষ ঠিক-বেঠিক বা ভালো-মন্দ বিচার করে এবং নিজের আচরণ ঠিক করে। অর্থাৎ এটি আমাদের আচরণ পরিচালনা করে। বাকি বিকল্পগুলো মূল্যবোধের কোনো একটি দিক বা ফল, কিন্তু পুরো সংজ্ঞা নয়।
    মনে রাখুন: মূল্যবোধের উদাহরণ:
    সততা, ন্যায়বোধ।
    শ্রদ্ধা, সহনশীলতা।
    দায়িত্ববোধ।
  9. ৭৮. জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো –
    • ক. দারিদ্র বিমোচন
    • খ. মৌলিক অধিকার রক্ষা
    • গ. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
    • ঘ. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
    উত্তর: গ. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
    জাতিসংঘের মতে সুশাসনের মূল লক্ষ্য মানুষের মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ও সুরক্ষা। সুশাসন এমন ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের কাজে মানুষ অংশ নিতে পারে, সিদ্ধান্তের জন্য কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে হয় এবং সবার জন্য ন্যায্য সুযোগ থাকে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষা সুশাসনের ফল হলেও সবকিছুর পেছনের বড় লক্ষ্য মানুষের স্বাধীনতার বিকাশ।
    মনে রাখুন: সুশাসনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:
    অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা।
    জবাবদিহি।
    আইনের শাসন।
    সমতা ও অন্তর্ভুক্তি।
  10. ৭৯. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো –
    • ক. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
    • খ. নিজের অধিকার ভোগ করা
    • গ. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
    • ঘ. নিয়মিত কর প্রদান করা
    উত্তর: ঘ. নিয়মিত কর প্রদান করা
    রাষ্ট্র নাগরিকের কাছ থেকে কর আদায় করে এবং সেই অর্থ দিয়ে রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবা চালায়। তাই নিয়মিত কর দেওয়া নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। করদাতারা সৎভাবে কর দিলে সরকারের সেবা দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা আসে। নিজের অধিকার ভোগ করা নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য নয়।
    মনে রাখুন: নাগরিকের অন্য কর্তব্য:
    আইন মেনে চলা।
    ভোট দেওয়া।
    রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা।

সাধারণ বিজ্ঞান

  1. ৯৯. AC কে DC করার যন্ত্র-
    • ক. রেকটিফায়ার
    • খ. অ্যামপ্লিফায়ার
    • গ. ট্রানজিস্টর
    • ঘ. ডায়োড
    উত্তর: ক. রেকটিফায়ার
    আমাদের ঘরে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সাধারণত পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current, AC), যার দিক বারবার বদলায়। কিন্তু মোবাইল চার্জার, ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একমুখী প্রবাহ (Direct Current, DC) লাগে। AC-কে DC-তে রূপান্তর করার যন্ত্রকে রেকটিফায়ার (Rectifier) বলে। এতে ডায়োড ব্যবহৃত হয়, কারণ ডায়োড প্রবাহকে এক দিকে চলতে দেয়। তাই ডায়োড রেকটিফায়ারের একটি অংশ, পুরো যন্ত্রের নাম রেকটিফায়ার।
    মনে রাখুন: DC-কে AC-তে রূপান্তর করার যন্ত্রকে ইনভার্টার বলে।
  2. ১০০. বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে –
    • ক. লাউড স্পিকার
    • খ. অ্যামপ্লিফায়ার
    • গ. জেনারেটর
    • ঘ. মাল্টিমিটার
    উত্তর: ক. লাউড স্পিকার
    লাউডস্পিকার (Loudspeaker) বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। এর ভেতরে একটি চুম্বকের মধ্যে কয়েল থাকে। কয়েলে বিদ্যুৎ চললে সেটি কাঁপে এবং সঙ্গে লাগানো পাতলা পর্দাকেও কাঁপায়। এই কাঁপুনি বাতাসে শব্দতরঙ্গ তৈরি করে। অ্যামপ্লিফায়ার শুধু বৈদ্যুতিক সংকেতকে জোরালো করে, নিজে শব্দ তৈরি করে না।
    মনে রাখুন: কয়েকটি যন্ত্রের শক্তি রূপান্তর:
    মাইক্রোফোন: শব্দ থেকে বিদ্যুৎ।
    জেনারেটর: যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ।
    মোটর: বিদ্যুৎ থেকে যান্ত্রিক শক্তি।
  3. ১০১. বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কি?
    • ক. মাইকোমিটার
    • খ. হাইগ্রোমিটার
    • গ. ব্যারোমিটার
    • ঘ. গ্রাভিমিটার
    উত্তর: খ. হাইগ্রোমিটার
    বাতাসে কতটা জলীয় বাষ্প আছে, তার পরিমাণকে আর্দ্রতা (Humidity) বলে। এটি মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার (Hygrometer)। বাকি যন্ত্রগুলো অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্যারোমিটার বায়ুর চাপ মাপে, মাইক্রোমিটার খুব ছোট দৈর্ঘ্য মাপে এবং গ্র্যাভিমিটার অভিকর্ষ বলের মান মাপে।
    মনে রাখুন:
    আবহাওয়া বিজ্ঞানে বায়ুর গতিবেগ মাপে অ্যানিমোমিটার।
    বৃষ্টিপাত মাপে রেইন গজ।
  4. ১০২. একটি বাল্বে ”60 W- 220 V” লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম ( Ohm) ?
    • ক. 16.36
    • খ. 160
    • গ. 280
    • ঘ. 806.67
    উত্তর: ঘ. 806.67
    বাল্বে ‘60 W – 220 V’ লেখার অর্থ হলো, ২২০ ভোল্টে চললে এটি ৬০ ওয়াট ক্ষমতায় কাজ করবে। ক্ষমতার সূত্র P = V²/R, তাই রোধ
    R = V²/P = 220² / 60 = 48400 / 60 ≈ 806.67 ওহম।
    মনে রাখুন: ক্ষমতার সূত্রগুলো:
    P = VI
    P = I²R
    P = V²/R
    একই ভোল্টেজে বেশি ওয়াটের বাল্বের রোধ কম হয়।
  5. ১০৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎস-
    • ক. তেল
    • খ. গ্যাস
    • গ. কয়লা
    • ঘ. বায়োগ্যাস
    উত্তর: ঘ. বায়োগ্যাস
    যে শক্তির উৎস ব্যবহারের পরও আবার তৈরি হয়, তাকে নবায়নযোগ্য (Renewable) বলে। বায়োগ্যাস এমন একটি উৎস। গোবর, লতাপাতা বা জৈব বর্জ্য বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচলে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়, আর এই কাঁচামাল বারবার পাওয়া যায়। তেল, গ্যাস ও কয়লা সৃষ্টি হতে লাখ লাখ বছর লাগে, তাই একবার ফুরিয়ে গেলে আর ফেরে না।
    মনে রাখুন:
    বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)।
    বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট চালানো হয়।
  6. ১০৪. কার্বোহাইড্রেট C, H এবং O- এর অনুপাত কত?
    • ক. ১: ১ : ২
    • খ. ১ : ২ : ১
    • গ. ১ : ৩ : ২
    • ঘ. ১ : ৩ : ১
    উত্তর: খ. ১ : ২ : ১
    কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) এমন জৈব যৌগ, যাতে শুধু কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) থাকে। এতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত পানির মতো, অর্থাৎ ২ : ১। সাধারণ সংকেত Cn(H₂O)n। উদাহরণ হিসেবে গ্লুকোজের সংকেত C₆H₁₂O₆, তাই C : H : O = 6 : 12 : 6 = 1 : 2 : 1।
    মনে রাখুন: কার্বোহাইড্রেট তিন ধরনের:
    মনোস্যাকারাইড: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ।
    ডাইস্যাকারাইড: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ।
    পলিস্যাকারাইড: স্টার্চ, সেলুলোজ।
  7. ১০৫. সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত –
    • ক. CH2COONa
    • খ. (CH3COO)2Ca
    • গ. CH3COONa
    • ঘ. CHCOONa
    উত্তর: গ. CH3COONa
    অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সংকেত CH₃COOH। এর কার্বক্সিল গ্রুপের হাইড্রোজেনের জায়গায় সোডিয়াম (Na) বসালে সোডিয়াম অ্যাসিটেট তৈরি হয়, তাই এর সংকেত CH₃COONa। অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন যৌগ। (CH₃COO)₂Ca ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেটের সংকেত, কারণ ক্যালসিয়ামের যোজনী ২, তাই দুটি অ্যাসিটেট মূলক লাগে।
    মনে রাখুন: ভিনেগারে প্রায় ৪–৮ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে।
  8. ১০৬. ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি ?
    • ক. আইসোটোন
    • খ. আইসোটোপ
    • গ. আইসোবার
    • ঘ. আইসোমার
    উত্তর: খ. আইসোটোপ
    একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলে। অনেক আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় এবং তারা গামা রশ্মি ছাড়ে। কোবাল্ট-৬০ এ রকম একটি আইসোটোপ। এর গামা রশ্মি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়, এই চিকিৎসাকে রেডিওথেরাপি বলে।
    মনে রাখুন: আইসোটোপের আরও কয়েকটি ব্যবহার:
    আয়োডিন-১৩১: থাইরয়েড চিকিৎসা।
    কার্বন-১৪: প্রাচীন জীবাশ্মের বয়স নির্ণয়।
  9. ১০৭. খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে –
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. জলীয় বাষ্প
    উত্তর: খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে, এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলে। এ সময় পাতার ক্লোরোফিল সূর্যের আলোর শক্তি ব্যবহার করে বাতাস থেকে নেওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে নেওয়া পানি দিয়ে গ্লুকোজ তৈরি করে। উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বের হয়। তাই খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে।
    সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।
    মনে রাখুন: উদ্ভিদ পাতার স্টোমাটা নামের ছোট ছিদ্র দিয়ে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয়।
  10. ১০৮. ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
    • ক. 17
    • খ. 18
    • গ. 35
    • ঘ. 70
    উত্তর: খ. 18
    পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে। প্রোটন সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা এবং প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টিকে ভরসংখ্যা বলে। তাই
    নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা − পারমাণবিক সংখ্যা।
    ক্লোরিনের (Cl) ভরসংখ্যা ৩৫ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১৭, তাই নিউট্রন = 35 − 17 = 18।
    মনে রাখুন: ক্লোরিনের আরেকটি আইসোটোপ Cl-37, যাতে নিউট্রন 37 − 17 = 20। এ কারণে ক্লোরিনের গড় পারমাণবিক ভর প্রায় 35.5।
  11. ১০৯. কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?
    • ক. ঘনীভবন
    • খ. বাষ্পীভবন
    • গ. গলনাংক
    • ঘ. স্ফুটনাংক
    উত্তর: গ. গলনাংক
    বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে ও দ্রুত গলে যায়। এই তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক (Melting Point) বলে। পদার্থে ভেজাল মিশলে গলনাঙ্ক কমে যায় এবং পদার্থটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার বদলে বিস্তৃত পরিসরে ধীরে ধীরে গলে। তাই গলনাঙ্ক দেখে কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা বোঝা যায়।
    মনে রাখুন: তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে স্ফুটনাঙ্ক ব্যবহার করা হয়। সাধারণ চাপে বিশুদ্ধ পানির গলনাঙ্ক 0°C এবং স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
  12. ১১০. অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
    • ক. জারণ
    • খ. বিজারণ
    • গ. প্রশমন
    • ঘ. পানি যোজন
    উত্তর: ক. জারণ
    যেকোনো তড়িৎ রাসায়নিক কোষে অ্যানোড (Anode) সেই তড়িৎদ্বার, যেখানে জারণ (Oxidation) বিক্রিয়া ঘটে। জারণ মানে ইলেকট্রন ছেড়ে দেওয়া। তড়িৎ বিশ্লেষণে অ্যানোড ধনাত্মক দ্বার, তাই ঋণাত্মক আয়নগুলো এখানে এসে ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়। আর ক্যাথোডে ইলেকট্রন গ্রহণ হয়, একে বিজারণ (Reduction) বলে।
    মনে রাখুন: সহজ সূত্র হলো ‘অ্যানোডে জারণ, ক্যাথোডে বিজারণ’। ইংরেজিতে: An Ox, Red Cat।
  13. ১১১. কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
    • ক. পুকুরে
    • খ. খালে
    • গ. নদীতে
    • ঘ. সাগরে
    উত্তর: ঘ. সাগরে
    সাগরের পানিতে প্রচুর লবণ মেশানো থাকে, তাই এর ঘনত্ব পুকুর, খাল বা নদীর মিঠা পানির চেয়ে বেশি। ঘনত্ব বেশি হলে পানি কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে বেশি জোরে ঠেলে, এই বলকে প্লবতা (Buoyancy) বা ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা বলে। এ কারণে সাগরে সহজে ভেসে থাকা যায়, আর তাই সাঁতার কাটাও সহজ।
    মনে রাখুন: মৃত সাগরের পানি আরও বেশি লবণাক্ত, সেখানে মানুষ প্রায় ডোবেই না।
  14. ১১২. ডিমে কোন ভিটামিন নেই?
    • ক. ভিটামিন -এ
    • খ. ভিটামিন-বি
    • গ. ভিটামিন-সি
    • ঘ. ভিটামিন-ডি
    উত্তর: গ. ভিটামিন-সি
    ডিমে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং বি কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভিটামিন থাকে। কিন্তু ভিটামিন সি ডিমে প্রায় থাকে না। এই ভিটামিন প্রধানত পাওয়া যায় লেবু, আমলকী, পেয়ারা ও তাজা শাকসবজিতে। ভিটামিন সির অভাবে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়, যাতে মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন ডি-র অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়।
  15. ১১৩. কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?
    • ক. ক্রোমোপ্লাস্ট
    • খ. ক্লোরোপ্লাস্ট
    • গ. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
    • ঘ. লিউকোপ্লাস্ট
    উত্তর: ক. ক্রোমোপ্লাস্ট
    উদ্ভিদকোষে প্লাস্টিড নামে এক ধরনের অঙ্গাণু থাকে, যাদের রং অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast) রঙিন প্লাস্টিড, যাতে লাল, হলুদ ও কমলা রঞ্জক থাকে। এই রঞ্জকের কারণে অনেক ফুল ও পাকা ফল রঙিন ও সুন্দর দেখায়। ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল থাকে, তাই এটি পাতাকে সবুজ রং দেয়।
    মনে রাখুন:
    লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন প্লাস্টিড এবং এতে খাদ্য, যেমন শ্বেতসার, সঞ্চিত থাকে।
    অ্যান্থোসায়ানিন নামের রঞ্জকও অনেক ফুলের লাল ও বেগুনি রং তৈরি করে।
  16. ১৬৪. ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় দিনের সময়কালকে অপেক্ষাকৃত ছোট মনে হয়, কেন?
    • ক. পৃথিবী পশ্চিম দিকে ঘুরছে বলে
    • খ. পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে বলে
    • গ. এক্ষেত্রে এসব ঘূর্ণনের কোন প্রভাব নেই
    • ঘ. অন্য কোন কারণ আছে
    উত্তর: ঘ. অন্য কোন কারণ আছে
    পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, তাই পৃথিবী পশ্চিম দিকে ঘোরে বলা ঠিক নয়। আবার সূর্যকে প্রদক্ষিণের (Revolution) কারণে দিনের দৈর্ঘ্য এক ফ্লাইটে বদলে যায় না। ঢাকা থেকে পূর্ব দিকে উড়লে বিমান সূর্যোদয়ের দিকে এগিয়ে যায়, ফলে স্থানীয় সময় দ্রুত এগোয় এবং দিন ছোট মনে হয়। এই কারণটি দেওয়া দুটি বিকল্পের কোনোটিই নয়, তাই উত্তর হলো অন্য কোনো কারণ।

    মনে রাখুন:
    পূর্ব দিকে গেলে স্থানীয় সময় এগিয়ে যায় এবং দিন ছোট মনে হয়।
    পশ্চিম দিকে গেলে স্থানীয় সময় পিছিয়ে পড়ে এবং দিন লম্বা মনে হয়।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য

  1. ১১৪. Which one of the following words is masculine?
    • ক. mare
    • খ. lad
    • গ. pillow
    • ঘ. pony
    উত্তর: খ. lad
    ইংরেজি ব্যাকরণে বিশেষ্যের লিঙ্গ চার প্রকার: পুংলিঙ্গ (Masculine), স্ত্রীলিঙ্গ (Feminine), উভয় লিঙ্গ (Common) ও ক্লীবলিঙ্গ (Neuter)। ‘Lad’ মানে বালক বা তরুণ ছেলে, তাই এটি পুংলিঙ্গ। বাকি তিনটি আলাদা: ‘mare’ মানে স্ত্রী ঘোড়া, ‘pillow’ জড় বস্তু বলে ক্লীবলিঙ্গ, আর ‘pony’ ছোট ঘোড়া, যা পুরুষ বা স্ত্রী দুটোই হতে পারে, তাই এটি উভয় লিঙ্গ।
    মনে রাখুন: কয়েকটি লিঙ্গজোড়া:
    boy – girl।
    lad – lass।
    stallion – mare।
  2. ১১৫. A man whose wife has died is called a –
    • ক. widow
    • খ. widower
    • গ. spinster
    • ঘ. bachelor
    উত্তর: খ. widower
    যে পুরুষের স্ত্রী মারা গেছেন এবং যিনি আবার বিয়ে করেননি, তাঁকে ইংরেজিতে widower বলে। আর যে নারীর স্বামী মারা গেছেন তাঁকে widow বলে। বাকি দুটি শব্দের অর্থ ভিন্ন। Spinster মানে অবিবাহিত নারী এবং bachelor মানে অবিবাহিত পুরুষ।
    মনে রাখুন: শব্দগুলোর বিবাহ-সংক্রান্ত অর্থ:
    widow: বিধবা।
    widower: বিপত্নীক।
    bachelor: অবিবাহিত পুরুষ।
    spinster: অবিবাহিত নারী।
  3. ১১৬. Which word is similar to ‘appal’?
    • ক. deceive
    • খ. confuse
    • গ. dismay
    • ঘ. solicit
    উত্তর: গ. dismay
    ‘Appal’ ক্রিয়ার অর্থ কাউকে ভীষণ ধাক্কা দেওয়া বা আতঙ্কিত করা। এর কাছাকাছি অর্থের শব্দ ‘dismay’, যার মানে হতাশা ও আতঙ্ক মেশানো ধাক্কা অনুভব করানো। বাকি শব্দের অর্থ ভিন্ন। Deceive মানে ঠকানো, confuse মানে বিভ্রান্ত করা এবং solicit মানে অনুরোধ জানানো বা চাওয়া।
    মনে রাখুন:
    Appal-এর বিশেষণ appalling মানে ভয়াবহ।
    একই অর্থের কয়েকটি শব্দ shock, horrify ও dismay।
  4. ১১৭. Which word means the opposite of ‘dearth ‘ ?
    • ক. lack
    • খ. abundance
    • গ. poverty
    • ঘ. shortage
    উত্তর: খ. abundance
    ‘Dearth’ শব্দের অর্থ অভাব বা ঘাটতি। এর বিপরীত শব্দ ‘abundance’, অর্থাৎ প্রাচুর্য বা প্রচুর পরিমাণ। বাকি তিনটি শব্দ, lack, poverty ও shortage, সবই dearth-এর সমার্থক, তাই এগুলো বিপরীত শব্দ নয়।
    উদাহরণ: There is a dearth of clean water in the village। এর বিপরীত: There is an abundance of clean water in the village।
    মনে রাখুন: Dearth-এর সমার্থক scarcity, shortage ও lack। বিপরীত শব্দ abundance, plenty ও surplus।
  5. ১১৮. Tennyson’s ‘In Memoriam’ is an elegy on the death of –
    • ক. John Milton
    • খ. John Keats
    • গ. Arthur Henry Hallam
    • ঘ. Sydney Smith
    উত্তর: গ. Arthur Henry Hallam
    টেনিসনের ‘In Memoriam A.H.H.’ একটি শোককাব্য বা এলিজি (Elegy)। কবি তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু আর্থার হেনরি হ্যালামের মৃত্যুতে এটি লেখেন। হ্যালাম ১৮৩৩ সালে হঠাৎ মারা যান। টেনিসন প্রায় সতেরো বছর ধরে কবিতাগুলো লিখে ১৮৫০ সালে প্রকাশ করেন। একই বছর তিনি ইংল্যান্ডের রাজকবি (Poet Laureate) হন।
    মনে রাখুন: বিখ্যাত কয়েকটি এলিজি:
    Lycidas: মিল্টন, এডওয়ার্ড কিংয়ের স্মরণে।
    Adonais: শেলি, কিটসের স্মরণে।
  6. ১১৯. Identify the word which is spelt incorrectly :
    • ক. consciencious
    • খ. perseverance
    • গ. convalescence
    • ঘ. maintenance
    উত্তর: ক. consciencious
    শুদ্ধ বানান ‘conscientious’। এর অর্থ বিবেকবান ও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনকারী। শব্দটি ‘conscience’ থেকে তৈরি, কিন্তু বানানে ‘-scien-’ অংশের পরে ‘t’ বসে ‘-tious’ হয়। তাই ‘consciencious’ বানান ভুল। বাকি তিনটি শব্দ, perseverance, convalescence ও maintenance, সঠিক বানানে লেখা।
    মনে রাখুন: Convalescence মানে রোগমুক্তির পর সেরে ওঠার সময়। Perseverance মানে অধ্যবসায়।
  7. ১২০. ‘You look terrific in that dress! ‘ The word ‘terrific’ in the above sentence means –
    • ক. excellent
    • খ. funny
    • গ. very ugly
    • ঘ. horrible
    উত্তর: ক. excellent
    ‘Terrific’ শব্দটি এসেছে ‘terror’ (আতঙ্ক) থেকে, তাই আগে এর অর্থ ভয়ংকর ছিল। কিন্তু আজকের কথ্য ইংরেজিতে এর অর্থ চমৎকার বা অসাধারণ। ‘You look terrific in that dress!’ বাক্যে এটি প্রশংসা হিসেবে ব্যবহৃত, অর্থাৎ ‘excellent’। তাই funny, very ugly ও horrible এখানে মানায় না।
    মনে রাখুন: ‘Terrifying’ শব্দের অর্থ আজও ভয়ংকর। কথ্য ইংরেজিতে শব্দের অর্থ সময়ের সঙ্গে বদলে যায়।
  8. ১২১. Someone who is capricious is –
    • ক. easily irritated
    • খ. wise and willing to cooperate
    • গ. exceedingly conceited and arrogant
    • ঘ. known for sudden changes in attitude or behavior
    উত্তর: ঘ. known for sudden changes in attitude or behavior
    Capricious বিশেষণ। যে ব্যক্তি হঠাৎ মত, মেজাজ বা আচরণ বদলে ফেলে এবং এর কোনো স্পষ্ট কারণ থাকে না, তাকে capricious বলে। এর বিশেষ্য caprice, যার অর্থ আকস্মিক খেয়াল। তাই সঠিক বিকল্প হলো আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। বাকি তিনটি বিকল্প অন্য ধরনের মানুষের বর্ণনা।
    মনে রাখুন:
    Capricious-এর সমার্থক শব্দ fickle ও unpredictable।
    বিপরীত শব্দ steady ও consistent।
  9. ১২২. Identify the word which remains the same in its plural form :
    • ক. aircraft
    • খ. intention
    • গ. mouse
    • ঘ. thesis
    উত্তর: ক. aircraft
    ইংরেজিতে কিছু বিশেষ্যের একবচন ও বহুবচনের রূপ একই থাকে। ‘Aircraft’ এ রকম একটি শব্দ: one aircraft, two aircraft। বাকি তিনটি শব্দের বহুবচন আলাদা। ‘Intention’-এর বহুবচন intentions, ‘mouse’-এর mice এবং ‘thesis’-এর theses।
    মনে রাখুন: একবচন-বহুবচন সমান এমন শব্দ:
    sheep, deer, fish।
    species, series।
    আরও: hovercraft, spacecraft।
  10. ১২৩. Identify the determiner in the following sentence : ‘I have no news for you.”
    • ক. have
    • খ. news
    • গ. no
    • ঘ. for
    উত্তর: গ. no
    Determiner হলো এমন শব্দ, যা বিশেষ্যের আগে বসে তার পরিমাণ বা নির্দিষ্টতা বোঝায়, যেমন a, the, some, my, no। ‘I have no news for you’ বাক্যে ‘no’ শব্দটি বিশেষ্য ‘news’-এর আগে বসে এবং বোঝাচ্ছে, কোনো খবর নেই। তাই ‘no’ এখানে determiner। ‘have’ ক্রিয়া, ‘news’ বিশেষ্য এবং ‘for’ অব্যয়।
    মনে রাখুন: Determiner-এর কয়েকটি রকম:
    Article: a, an, the।
    Quantifier: some, many, no।
    Possessive: my, your।
    Demonstrative: this, that।
  11. ১২৪. A lost opportunity never returns. Here ‘lost’ is a –
    • ক. gerund
    • খ. verbal noun
    • গ. gerundial infinitive
    • ঘ. participle
    উত্তর: ঘ. participle
    ‘A lost opportunity never returns’ বাক্যে ‘lost’ শব্দটি ক্রিয়া ‘lose’-এর past participle রূপ। এটি এখানে বিশেষ্য ‘opportunity’-এর আগে বসে তাকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ হারিয়ে যাওয়া সুযোগ। এভাবে বিশেষণের কাজ করা participle-কে participial adjective বলে। গেরান্ড (gerund) ‘-ing’ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যের কাজ করে, তাই এখানে সেটি নয়।
    মনে রাখুন:
    Present participle: -ing, যেমন a running horse।
    Past participle: যেমন a broken window, a lost opportunity।
  12. ১২৫. The saying ‘enough is enough’ is used when you want-
    • ক. something to continue
    • খ. something to stop
    • গ. something to continue until it’s enough
    • ঘ. to tell instructions are clear
    উত্তর: খ. something to stop
    ‘Enough is enough’ একটি প্রচলিত বাক্য, যা তখন বলা হয়, যখন কেউ মনে করে কোনো কিছু অনেক সময় ধরে চলছে এবং আর সহ্য করা যায় না। এর মানে ‘এবার থামো’। তাই এটি কিছু বন্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
    উদাহরণ: You have been shouting all day. Enough is enough!
    মনে রাখুন: এ ধরনের আরও কয়েকটি বাক্যাংশ:
    The last straw: যে ঘটনা ধৈর্যের শেষ সীমা ভেঙে দেয়।
    Breaking point: সহ্যের শেষ সীমা।
  13. ১২৬. He ran with great speed. The underlined part of the sentence is a –
    • ক. noun phrase
    • খ. adverb phrase
    • গ. adjective phrase
    • ঘ. participle phrase
    উত্তর: খ. adverb phrase
    ‘He ran with great speed’ বাক্যে ‘with great speed’ শব্দগুচ্ছ বলছে সে কীভাবে দৌড়ালো। অর্থাৎ এটি ক্রিয়া ‘ran’-কে বিশেষিত করছে। যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়া, বিশেষণ বা অন্য ক্রিয়াবিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে adverb phrase বলে। বিশেষ্যের মতো কাজ করলে সেটি noun phrase এবং বিশেষ্যকে বিশেষিত করলে adjective phrase হয়।
    মনে রাখুন: Adverb phrase সাধারণত কীভাবে, কখন বা কোথায় প্রশ্নের উত্তর দেয়।
    উদাহরণ: She came in the morning। এখানে ‘in the morning’ কখন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।
  14. ১২৭. ‘We must not be late, else we will miss the train’ This is a –
    • ক. compound sentence
    • খ. complex sentence
    • গ. simple sentence
    • ঘ. interrogative sentence
    উত্তর: ক. compound sentence
    বাক্য তিন ধরনের: Simple, Compound ও Complex। যেখানে স্বাধীন দুটি বা তার বেশি clause কোনো সংযোজক শব্দ দিয়ে যুক্ত থাকে, তাকে compound sentence বলে। ‘We must not be late, else we will miss the train’ বাক্যের দুটি অংশই নিজে পূর্ণ অর্থ দেয়: ‘We must not be late’ এবং ‘we will miss the train’। ‘Else’ (অর্থাৎ otherwise) এ দুটিকে যুক্ত করেছে। তাই এটি compound sentence।
    মনে রাখুন: Coordinating শব্দের উদাহরণ: and, but, or, else, otherwise।
  15. ১২৮. Change the voice : ‘Who is calling me?”
    • ক. By whom am I called?
    • খ. By whom I am called?
    • গ. By whom am I being called?
    • ঘ. Whom am I called by?
    উত্তর: গ. By whom am I being called?
    Active থেকে passive করার সময় tense ঠিক রাখতে হয়। ‘Who is calling me?’ বাক্যটি present continuous tense-এ, তাই passive-এ ‘am being + past participle’ বসবে। ‘Who’ প্রশ্নবোধক শব্দ কর্তা হিসেবে থাকলে passive-এ তা ‘By whom’ হয়ে বাক্যের শুরুতে আসে। আর কর্ম ‘me’ কর্তা হয়ে ‘I’ হয়। তাই ঠিক বাক্য ‘By whom am I being called?’
    মনে রাখুন: Continuous tense-এর passive গঠন:
    Present: am/is/are + being + past participle।
    Past: was/were + being + past participle।
  16. ১২৯. An extra message added at the end of a letter after it is signed is called _____ .
    • ক. corrigendum
    • খ. postscript
    • গ. NB
    • ঘ. RSVP
    উত্তর: খ. postscript
    চিঠিতে নিজের নাম সই করার পর যদি মনে পড়ে যে কিছু কথা বলা হয়নি, তখন নিচে আরেকটি ছোট বার্তা যোগ করা হয়। এই অতিরিক্ত বার্তাকে postscript বলে, সংক্ষেপে P.S.। বাকি শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন। RSVP হলো আমন্ত্রণের উত্তর জানাতে অনুরোধ, NB (Nota Bene) মানে ‘ভালো করে লক্ষ করুন’ এবং corrigendum মানে প্রকাশিত লেখার ভুল সংশোধনী।
    মনে রাখুন: RSVP এসেছে ফরাসি Répondez s'il vous plaît থেকে। এর মানে ‘দয়া করে উত্তর দিন’।
  17. ১৩০. Sweet Helen ‘make me immortal with a kiss’ The sentence has been taken from the play –
    • ক. Romeo and Juliet
    • খ. Caesar and Cleopatra
    • গ. Doctor Faustus
    • ঘ. Antony and Cleopatra
    উত্তর: গ. Doctor Faustus
    ‘Sweet Helen, make me immortal with a kiss’ উক্তিটি ক্রিস্টোফার মার্লোর নাটক ‘Doctor Faustus’-এ ডক্টর ফস্টাস বলেন। মেফিস্টোফিলিস ট্রয়ের হেলেনের আত্মাকে তাঁর সামনে আনলে ফস্টাস মুগ্ধ হয়ে এ কথা বলেন। ফস্টাস জ্ঞান ও ক্ষমতার লোভে শয়তানের কাছে আত্মা বিক্রি করেছিলেন।
    মনে রাখুন:
    মার্লো শেক্সপিয়রের সমসাময়িক নাট্যকার।
    তাঁর অন্য নাটক: Tamburlaine, The Jew of Malta, Edward II।
  18. ১৩১. ‘What’s in a name? That which we call a rose By any other name would smell as sweet’ – who said this?
    • ক. Juliet
    • খ. Romeo
    • গ. Portia
    • ঘ. Rosalind
    উত্তর: ক. Juliet
    ‘What’s in a name? That which we call a rose by any other name would smell as sweet’ লাইনগুলো বলেন জুলিয়েট। শেক্সপিয়রের ‘Romeo and Juliet’ নাটকের বারান্দার দৃশ্যে (Balcony Scene) তিনি বলেন, নামে কী আসে যায়। রোমিও মন্টেগু পরিবারের সন্তান, আর জুলিয়েট ক্যাপুলেট পরিবারের। দুই পরিবারে শত্রুতা ছিল। জুলিয়েট বোঝাতে চান, গোলাপকে অন্য নামে ডাকলেও তার সুবাস একই থাকে, তেমনি রোমিওর পরিবারের নাম তার আসল পরিচয় বদলায় না।
    মনে রাখুন: ‘Romeo and Juliet’-এর শহর ইতালির ভেরোনা।
  19. ১৩২. ‘Man’s love is of man’s life a thing apart, Tis woman’s whole existence.’ This is taken from the poem of –
    • ক. P.BShelley
    • খ. Lord Byron
    • গ. John Keats
    • ঘ. Edmund Spenser
    উত্তর: খ. Lord Byron
    ‘Man’s love is of man’s life a thing apart, ’Tis woman’s whole existence’ লাইন দুটি লর্ড বায়রনের দীর্ঘ ব্যঙ্গাত্মক কাব্য ‘Don Juan’ থেকে নেওয়া। এখানে বলা হয়েছে, পুরুষের জীবনে ভালোবাসা তার জীবনের একটি আলাদা অংশ মাত্র, কিন্তু নারীর জন্য প্রেমই তার সমগ্র অস্তিত্ব। লাইনগুলো কাব্যের প্রথম সর্গে আছে।
    মনে রাখুন:
    বায়রন রোমান্টিক যুগের কবি। ১৮২৪ সালে গ্রিসে তাঁর মৃত্যু হয়।
    তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা ‘Childe Harold’s Pilgrimage’।
  20. ১৩৩. Who translated the ‘Rubaiyat of Omar Khayyam’ into English?
    • ক. Thomas Carlyle
    • খ. Edward Fitzgerald
    • গ. D.GRossetti
    • ঘ. William Thackeray
    উত্তর: খ. Edward Fitzgerald
    ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম’ ফারসি ভাষায় লেখা চার লাইনের কবিতার সংকলন, যার রচয়িতা কবি ও গণিতবিদ ওমর খৈয়াম। ১৮৫৯ সালে ইংরেজ কবি এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তাঁর মুক্ত ও কাব্যিক অনুবাদ ইংরেজি পাঠকের কাছে ওমর খৈয়ামকে বিখ্যাত করে তোলে।
    মনে রাখুন:
    রুবাই মানে চার লাইনের কবিতা। বহুবচন রুবাইয়াত।
    বাংলায় এর অনুবাদ করেছেন কান্তিচন্দ্র ঘোষ ও কাজী নজরুল ইসলাম।
  21. ১৩৪. ‘Ulysses’ is a novel written by –
    • ক. Joseph Conrad
    • খ. Thomas Hardy
    • গ. Charles Dickens
    • ঘ. James Joyce
    উত্তর: ঘ. James Joyce
    ‘Ulysses’ (১৯২২) আইরিশ লেখক জেমস জয়েসের লেখা আধুনিকতাবাদী উপন্যাস। এতে ডাবলিন শহরে একটি দিনে, ১৯০৪ সালের ১৬ জুন, লিওপোল্ড ব্লুমের জীবন বর্ণিত হয়েছে। বইটি ‘চেতনাপ্রবাহ’ (Stream of Consciousness) রীতির জন্য বিখ্যাত। এ রীতিতে চরিত্রের মনের ভেতরের চিন্তার স্রোত যেমন আসে তেমন লেখা হয়।
    মনে রাখুন: জয়েসের অন্য রচনা:
    Dubliners (গল্প)।
    A Portrait of the Artist as a Young Man।
    Finnegans Wake।
  22. ১৩৫. The short story ‘The Diamond Necklace’ was written by –
    • ক. Guy de Maupassant
    • খ. O Henry
    • গ. Somerset Maugham
    • ঘ. George Orwell
    উত্তর: ক. Guy de Maupassant
    ‘The Diamond Necklace’ বা ‘The Necklace’ ফরাসি লেখক গী দ্য মোপাসাঁর ছোটগল্প। গল্পে মাতিল্দ লোইজেল এক বান্ধবীর কাছ থেকে একটি হিরার হার ধার করে পার্টিতে যায়, কিন্তু হারটি হারিয়ে ফেলে। সে একটি দামি হার কিনে ফেরত দেয় এবং ঋণ শোধ করতে দশ বছর কষ্টে কাটায়। শেষে জানা যায়, হারটি আসলে নকল ছিল।
    মনে রাখুন: ও হেনরি ‘The Gift of the Magi’ গল্পের জন্য বিখ্যাত। মোপাসাঁকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
  23. ১৩৬. ‘All the perfumes of Arabia will not sweeten this little hand’ – Who said this?
    • ক. Macbeth
    • খ. Lady Macbeth
    • গ. Lady Macduff
    • ঘ. Macduff
    উত্তর: খ. Lady Macbeth
    ‘All the perfumes of Arabia will not sweeten this little hand’ কথাটি লেডি ম্যাকবেথ বলেন। শেক্সপিয়রের ‘Macbeth’ নাটকে ঘুমের ঘোরে হাঁটার দৃশ্যে তিনি কল্পনা করেন, তাঁর হাতে এখনো রাজা ডানকানের রক্তের গন্ধ লেগে আছে। আরবের সব সুগন্ধি দিয়েও সেই গন্ধ মোছা যাবে না, এ কথার মধ্য দিয়ে তাঁর গভীর অপরাধবোধ প্রকাশ পায়।
    মনে রাখুন: এই দৃশ্যেই তিনি বলেন ‘Out, damned spot!’ (দূর হও, অভিশপ্ত দাগ)।
  24. ১৩৭. ‘Where are the songs of Spring? Aye, where are they? Think not of them, thou hast thy music too.’ -Who wrote this?
    • ক. William Wordsworth
    • খ. Robert Browning
    • গ. John Keats
    • ঘ. Samuel Coleridge
    উত্তর: গ. John Keats
    ‘Where are the songs of Spring? Ay, where are they? Think not of them, thou hast thy music too’ লাইনগুলো ইংরেজ রোমান্টিক কবি জন কিটসের ‘To Autumn’ কবিতা থেকে নেওয়া। এখানে কবি শরৎকালকে বলছেন, বসন্তের গানের কথা ভাবার দরকার নেই, কারণ শরতেরও নিজস্ব সুর আছে। কবিতাটি ১৮১৯ সালে লেখা হয়।
    মনে রাখুন: কিটসের অন্য বিখ্যাত রচনা:
    Ode to a Nightingale।
    Ode on a Grecian Urn।
    উক্তি: ‘A thing of beauty is a joy for ever’।
  25. ১৩৮. Who is the central character of ‘Wuthering Heights’ by Emily Bronte?
    • ক. MrEarnshaw
    • খ. Catherine
    • গ. Heathcliff
    • ঘ. Hindley Earnshaw
    উত্তর: গ. Heathcliff
    এমিলি ব্রন্টের ‘Wuthering Heights’ (১৮৪৭) উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিথক্লিফ। অনাথ হিথক্লিফকে আর্নশ পরিবার বড় করে। ক্যাথরিনের প্রতি তাঁর গভীর ও অসম্পূর্ণ ভালোবাসা এবং পরে প্রতিশোধের চেষ্টাই গল্পের মূল চালিকা। বাকি তিনটি চরিত্র গল্পে আছে, কিন্তু মূল চরিত্র নয়।
    মনে রাখুন:
    এমিলি ব্রন্ট প্রথমে ‘এলিস বেল’ ছদ্মনামে বইটি প্রকাশ করেন।
    তাঁর বোন শার্লট ব্রন্টে ‘Jane Eyre’ লিখেছেন।
  26. ১৩৯. ‘The old order changeth, yielding place to new’ This line is extracted from Tennyson’s poem –
    • ক. The Lotos- Eaters
    • খ. Tighouns
    • গ. Locksley Hall
    • ঘ. Morte d’ Arthur
    উত্তর: ঘ. Morte d’ Arthur
    ‘The old order changeth, yielding place to new’ লাইনটি টেনিসনের ‘Morte d’Arthur’ কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতায় মৃত্যুশয্যায় রাজা আর্থার তাঁর বিশ্বস্ত নাইট স্যার বেডিভিয়ারকে বলেন, পুরোনো ব্যবস্থা বদলে নতুনের জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়। কবিতাটি ১৮৪২ সালে প্রকাশিত হয় এবং পরে সামান্য বদলে ‘The Passing of Arthur’ নামে ‘Idylls of the King’-এ যুক্ত হয়।
    মনে রাখুন: ‘The Lotos-Eaters’ ও ‘Locksley Hall’ টেনিসনের অন্য বিখ্যাত কবিতা।
  27. ১৪০. Who has written the poem “The Good Morrow”?
    • ক. George Herbert
    • খ. Andrew Marvell
    • গ. John Donne
    • ঘ. Henry Vaughan
    উত্তর: গ. John Donne
    “The Good-Morrow” একটি প্রেমের কবিতা। এটি লিখেছেন জন ডান (John Donne)। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের মেটাফিজিক্যাল কবিদের (Metaphysical Poets) প্রধান কবি। কবিতাটি শুরু হয়েছে এই লাইন দিয়ে: “I wonder, by my troth, what thou and I did, till we loved?”

    মনে রাখুন:
    জর্জ হার্বার্ট, অ্যান্ড্রু মারভেল ও হেনরি ভন, এঁরাও মেটাফিজিক্যাল ধারার কবি।
    ডানের আরও পরিচিত কবিতা: “The Sun Rising”, “Death, Be Not Proud”।
  28. ১৪১. ‘Please write to me at the above address’ The word ‘above’ in this sentence is a/an –
    • ক. noun
    • খ. adjective
    • গ. pronoun
    • ঘ. adverb
    উত্তর: খ. adjective
    বাক্যটিতে above শব্দটি address (ঠিকানা) নামের noun-এর ঠিক আগে বসেছে এবং সেই ঠিকানা কোনটি তা বলে দিচ্ছে। যে শব্দ noun-এর গুণ বা পরিচয় বোঝায়, তাকে বিশেষণ (adjective) বলে। তাই এখানে above একটি adjective, অর্থ “উপরে উল্লিখিত”।

    উদাহরণ:
    Please write to me at the above address. (adjective)
    The bird flew above. (adverb)
    The bird flew above the tree. (preposition)
  29. ১৪২. In which sentence is the word ‘past’ used as a preposition?
    • ক. Writing letters is a thing of the past .
    • খ. I look back on the past without regret .
    • গ. I called out to him as he ran past .
    • ঘ. Tania was a wonderful singer, but she’s past her prime.
    উত্তর: ঘ. Tania was a wonderful singer, but she’s past her prime.
    Preposition বসে noun বা pronoun-এর আগে এবং সেই noun-এর সঙ্গে বাক্যের অন্য অংশের সম্পর্ক দেখায়। “she’s past her prime” বাক্যে past শব্দটি her prime-এর আগে বসে “পেরিয়ে গেছে” অর্থে সম্পর্ক দেখাচ্ছে। তাই এটি preposition।

    মনে রাখুন:
    “a thing of the past” ও “look back on the past” বাক্যে past হলো noun।
    “he ran past” বাক্যে past হলো adverb, কারণ এর পরে কোনো noun নেই।
  30. ১৪৩. The word ‘sibling’ means-
    • ক. a brother
    • খ. a sister
    • গ. a brother or sister
    • ঘ. an infant
    উত্তর: গ. a brother or sister
    Sibling শব্দের অর্থ ভাই অথবা বোন, অর্থাৎ যার সঙ্গে আমাদের অন্তত একজন বাবা বা মা এক। শব্দটি ছেলে ও মেয়ে দুজনের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। তাই শুধু brother বা শুধু sister নয়, সঠিক অর্থ হলো “ভাই বা বোন”।

    উদাহরণ:
    I have two siblings, a brother and a sister.
  31. ১৪৪. Fill in the blank: As she was talking, he suddenly broke__, saying, ‘That’s a lie!’
    • ক. off
    • খ. in
    • গ. down
    • ঘ. into
    উত্তর: খ. in
    Phrasal verb “break in” মানে কারও কথার মাঝখানে কথা বলে ফেলা, অর্থাৎ বাধা দেওয়া। বাক্যে সে কথা বলতে বলতে হঠাৎ বলে উঠল, “এটা মিথ্যা!”, তাই এখানে in বসে।

    মনে রাখুন:
    break off: হঠাৎ থামিয়ে দেওয়া
    break down: ভেঙে পড়া বা অচল হওয়া
    break into: জোর করে ঢুকে পড়া

    উদাহরণ:
    He broke in while I was speaking.
  32. ১৪৫. Fill in the blank : You may go for a walk if you feel _____ it .
    • ক. about
    • খ. on
    • গ. like
    • ঘ. for
    উত্তর: গ. like
    “Feel like” একটি idiom, যার অর্থ কিছু করতে ইচ্ছা হওয়া বা সেই মেজাজে থাকা। তাই “if you feel like it” মানে “যদি তোমার ইচ্ছা হয়”। এর পরে noun অথবা verb-এর ing রূপ বসে।

    উদাহরণ:
    I feel like a cup of tea.
    She doesn’t feel like going out today.
  33. ১৪৬. ‘The Rape of the Lock’ by Alexander Pope is a/an –
    • ক. epic
    • খ. ballad
    • গ. mock-heroic poem
    • ঘ. elegy
    উত্তর: গ. mock-heroic poem
    “The Rape of the Lock” অ্যালেক্সান্ডার পোপ (Alexander Pope) রচিত একটি mock-heroic কবিতা। এতে একটি কেটে নেওয়া চুলের গোছা নিয়ে দুই পরিবারের সামান্য ঝগড়াকে মহাকাব্যের গম্ভীর ভঙ্গিতে বলা হয়েছে। এভাবে অভিজাত সমাজের অসার আভিজাত্য নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

    মনে রাখুন:
    Mock-heroic মানে মহাকাব্যের ঢং নিয়ে তুচ্ছ বিষয়ের বর্ণনা, যার উদ্দেশ্য ব্যঙ্গ।
    পোপ ইংরেজি সাহিত্যের নিও-ক্লাসিক্যাল (Neo-classical) যুগের কবি।
  34. ১৪৭. Which of the following is not an American poet?
    • ক. Robert Frost
    • খ. W.B Yeats
    • গ. Emily Dickinson
    • ঘ. Langston Hughes
    উত্তর: খ. W.B Yeats
    ডব্লিউ. বি. ইয়েটস (W. B. Yeats) আইরিশ কবি, আমেরিকান নন। তিনি ১৯২৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। বাকি তিনজন, রবার্ট ফ্রস্ট, এমিলি ডিকিনসন ও ল্যাংস্টন হিউজেস, আমেরিকান কবি।

    মনে রাখুন:
    ইয়েটসের পরিচিত কবিতা: “The Second Coming”, “Sailing to Byzantium”।
    ল্যাংস্টন হিউজেস আমেরিকার হার্লেম রেনেসাঁর (Harlem Renaissance) কবি।
  35. ১৪৮. William Shakespeare was born in-
    • ক. 1616
    • খ. 1664
    • গ. 1564
    • ঘ. 1496
    উত্তর: গ. 1564
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র (William Shakespeare) ১৫৬৪ সালে ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে (Stratford-upon-Avon) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মারা যান ১৬১৬ সালে। তাই জন্মসাল ১৫৬৪।

    মনে রাখুন:
    তাঁর জীবনকাল ছিল প্রায় ৫২ বছর।
    তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে লন্ডনে, গ্লোব থিয়েটারের (Globe Theatre) সঙ্গে।
  36. ১৭৯. সঠিক বানান কোনটি ?
    • ক. Indwelling
    • খ. Indwling
    • গ. Indweling
    • ঘ. Indulling
    উত্তর: ক. Indwelling
    শুদ্ধ বানান Indwelling (অর্থ অন্তরে বা ভেতরে বাসকারী)। শব্দটি in ও dwelling মিলে গঠিত, তাই dwelling এর পুরো বানান বজায় থাকে এবং শেষে -ing যুক্ত হয়।

    মনে রাখুন:
    dwell এর অর্থ বাস করা, আর dwelling অর্থ বাসস্থান।
    Dwell এর past form হলো dwelt।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

  1. ১৪৯. H 323 Protocol সাধারণত কি কাজে ব্যবহৃত হয়?
    • ক. File transfer
    • খ. VolP
    • গ. Data Security
    • ঘ. File download
    উত্তর: খ. VolP
    H.323 হলো ইন্টারনেট বা আইপি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কণ্ঠ, ভিডিও ও ডেটা আদান-প্রদানের একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (Protocol)। তাই এটি মূলত VoIP (Voice over IP), অর্থাৎ ইন্টারনেটে ফোনালাপ ও ভিডিও কনফারেন্সে ব্যবহার হয়।

    মনে রাখুন:
    VoIP-এ ব্যবহৃত আরেকটি পরিচিত protocol হলো SIP।
    ফাইল ট্রান্সফারের জন্য FTP ব্যবহৃত হয়।
  2. ১৫০. মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নেয়ার জন্য নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
    • ক. OMR
    • খ. OCR
    • গ. MICR
    • ঘ. Scanner
    উত্তর: খ. OCR
    ছাপানো লেখার ছবি কম্পিউটারে তুলে সেই অক্ষরগুলোকে লেখা হিসেবে চিনে নেওয়ার প্রযুক্তির নাম OCR (Optical Character Recognition)। এতে লেখাটি সম্পাদনযোগ্য টেক্সটে পরিণত হয়। তাই মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নিতে OCR ব্যবহার করা হয়।

    মনে রাখুন:
    OMR (Optical Mark Recognition) দাগ দেওয়া বৃত্ত পড়ে, যেমন পরীক্ষার উত্তরপত্রে।
    MICR (Magnetic Ink Character Recognition) চেকের কালিতে ছাপা অক্ষর পড়ে।
    স্ক্যানার শুধু ছবির মতো করে তোলে, অক্ষর চেনে না।
  3. ১৫১. একটি রিলেশনাল ডাটাবেস মডেলে নিচের কোনটি দ্বারা Relation প্রকাশ করা হয়?
    • ক. Tuples
    • খ. Attributes
    • গ. Tables
    • ঘ. Rows
    উত্তর: গ. Tables
    রিলেশনাল ডেটাবেস মডেলে তথ্য সারি ও কলামে সাজানো টেবিল আকারে রাখা হয়। এই টেবিলটিই হলো রিলেশন (Relation)। টেবিলের প্রতিটি সারি হলো টাপল (Tuple), আর প্রতিটি কলাম হলো অ্যাট্রিবিউট (Attribute)।

    মনে রাখুন:
    রিলেশনাল মডেলের জনক এডগার ফ্র্যাঙ্ক কড (E. F. Codd)।
    টাপল = সারি (Row), অ্যাট্রিবিউট = কলাম (Column)।
  4. ১৫২. Bluetooth কিসের উদাহরণ ?
    • ক. Personal Area Network
    • খ. Local Area Network
    • গ. Virtual Private Network
    • ঘ. কোনটি নয়
    উত্তর: ক. Personal Area Network
    একজন মানুষের খুব কাছাকাছি, সাধারণত কয়েক মিটারের মধ্যে থাকা যন্ত্রগুলোকে যুক্ত করার নেটওয়ার্ককে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network বা PAN) বলে। ব্লুটুথ দিয়ে মোবাইল, হেডফোন বা কিবোর্ড এভাবেই যুক্ত হয়। তাই ব্লুটুথ PAN-এর উদাহরণ।

    মনে রাখুন:
    LAN একটি ভবন বা ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
    VPN পাবলিক নেটওয়ার্কে নিরাপদ ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি করে।
  5. ১৫৩. মোবাইল ফোনে কোন Mode এর যোগাযোগ হয়?
    • ক. Simplex
    • খ. Half-duplex
    • গ. Full-duplex
    • ঘ. কোনটি নয়
    উত্তর: গ. Full-duplex
    মোবাইল ফোনে দুজন একই সময়ে কথা বলতে ও শুনতে পারে। যে যোগাযোগে দুই দিকে একসঙ্গে তথ্য চলাচল করে, তাকে ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-duplex) বলে। তাই মোবাইল ফোন ফুল-ডুপ্লেক্স।

    মনে রাখুন:
    সিমপ্লেক্স (Simplex): কেবল একদিকে যোগাযোগ, যেমন রেডিও বা টিভি সম্প্রচার।
    হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-duplex): দুই দিকে, তবে একসঙ্গে নয়, যেমন ওয়াকিটকি।
  6. ১৫৪. Firewall কি protection দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়?
    • ক. Fire attacks
    • খ. Unauthorized access
    • গ. Virus attacks
    • ঘ. Data – driven attack
    উত্তর: খ. Unauthorized access
    ফায়ারওয়াল (Firewall) নেটওয়ার্কে ঢোকা ও বের হওয়া তথ্যকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করে। এটি সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার, দুই রকমই হতে পারে। এর মূল কাজ অননুমোদিত প্রবেশ (Unauthorized access) ঠেকানো।

    মনে রাখুন:
    নাম থাকলেও এর সঙ্গে আগুনের কোনো সম্পর্ক নেই।
    ভাইরাস ঠেকানোর মূল কাজ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের।
  7. ১৫৫. TV Remote এর Carrier Frequency-র Range কত?
    • ক. < 100 MHZ
    • খ. < 1 GHZ
    • গ. < 2 GHZ
    • ঘ. Infrared range এর
    উত্তর: ঘ. Infrared range এর
    টিভির রিমোট কন্ট্রোল সংকেত পাঠাতে ইনফ্রারেড (Infrared) আলো ব্যবহার করে। এই আলো চোখে দেখা যায় না। রেডিও তরঙ্গ ও মাইক্রোওয়েভের চেয়ে এর কম্পাঙ্ক অনেক বেশি। তাই এর ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সির পাল্লা ইনফ্রারেড রেঞ্জের।

    মনে রাখুন:
    ইনফ্রারেড সংকেত দেয়াল ভেদ করতে পারে না, তাই রিমোটকে টিভির দিকে তাক করতে হয়।
  8. ১৫৬. নিচের কোনটি Octal number নয়?
    • ক. 19
    • খ. 77
    • গ. 15
    • ঘ. 101
    উত্তর: ক. 19
    অক্টাল (Octal) সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি 8। তাই এতে শুধু 0 থেকে 7 পর্যন্ত অঙ্ক ব্যবহার করা যায়। 19 সংখ্যায় 9 অঙ্কটি আছে, যা অক্টালে হয় না। তাই 19 অক্টাল সংখ্যা নয়। 77, 15 ও 101-এ কেবল 0 থেকে 7 পর্যন্ত অঙ্ক আছে।

    মনে রাখুন:
    বাইনারি: ভিত্তি 2 (অঙ্ক 0, 1)
    ডেসিমেল: ভিত্তি 10
    হেক্সাডেসিমেল: ভিত্তি 16 (অঙ্ক 0-9 ও A-F)
  9. ১৫৭. Time-shared OS- এর জন্য কোন sheduling policy সবচেয়ে ভাল?
    • ক. First come first serve
    • খ. Round-robin
    • গ. Shortest job first
    • ঘ. Last come first serve
    উত্তর: খ. Round-robin
    টাইম-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেমে অনেক ব্যবহারকারী একই সঙ্গে কম্পিউটার চালান। তাই সিপিইউ প্রতিটি প্রোগ্রামকে পালাক্রমে অল্প সময় করে দেয়। এই সময়ের টুকরোকে টাইম কোয়ান্টাম (Time quantum) বলে। এভাবে চক্রাকারে সময় ভাগ করে দেওয়ার পদ্ধতির নাম রাউন্ড-রবিন (Round-robin) শিডিউলিং। তাই এটিই সবচেয়ে উপযোগী।

    মনে রাখুন:
    FCFS-এ যে আগে আসে সে আগে সময় পায়, তাই ছোট কাজকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হতে পারে।
    সংক্ষিপ্ততম কাজ আগে (SJF) পদ্ধতিতে বড় কাজ দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।
  10. ১৫৮. নিচের কোনটি 52(16) এর বাইনারী রূপ?
    • ক. 01010010(2)
    • খ. 0111 0011(2)
    • গ. 0000 1100(2)
    • ঘ. 1111 0000(2)
    উত্তর: ক. 01010010(2)
    হেক্সাডেসিমেলের প্রতিটি অঙ্ককে ৪ বিটের বাইনারি দিয়ে লেখা যায়। তাই অঙ্কগুলো আলাদা করে বদলে পাশাপাশি বসালেই উত্তর পাওয়া যায়।
    5 = 0101
    2 = 0010
    তাই 52(16) = 0101 0010(2) = 01010010(2)।

    মনে রাখুন:
    অক্টালের প্রতিটি অঙ্ক ৩ বিটের বাইনারি দিয়ে লেখা হয়।
  11. ১৫৯. প্রথম Web browser কোনটি?
    • ক. Netscape Navigator
    • খ. WorldWideWeb
    • গ. Internet Explorer
    • ঘ. Safari
    উত্তর: খ. WorldWideWeb
    টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) ১৯৯০ সালে প্রথম ওয়েব ব্রাউজার তৈরি করেন, যার নাম ছিল WorldWideWeb। পরে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামের সঙ্গে গোলমাল এড়াতে এর নাম বদলে Nexus রাখা হয়।

    মনে রাখুন:
    ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (WWW) উদ্ভাবকও টিম বার্নার্স-লি।
    Netscape Navigator ও Internet Explorer এসেছে এর পরে।
  12. ১৬০. Social Networking Site – এ যোগাযোগে কোন media ব্যবহৃত হয়?
    • ক. image /video
    • খ. Audio
    • গ. Text
    • ঘ. উপরের সবগুলো
    উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
    সামাজিক যোগাযোগের সাইটে মানুষ লেখা, ছবি, ভিডিও ও অডিও, সব মাধ্যমেই যোগাযোগ করে। যেমন ফেসবুকে লেখা পোস্ট, ছবি, ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ সবই চলে। তাই চারটি মাধ্যমই ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ উপরের সবগুলোই সঠিক।

    মনে রাখুন:
    ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (পূর্বের টুইটার) সামাজিক যোগাযোগ সাইটের উদাহরণ।
  13. ১৬১. CPU কোন address generate করে?
    • ক. Physical address
    • খ. Logical Address
    • গ. Both physical and logical addresses
    • ঘ. উপরের কোনটি নয়
    উত্তর: খ. Logical Address
    প্রোগ্রাম চলার সময় সিপিইউ (CPU) যে ঠিকানা তৈরি করে, তাকে লজিক্যাল অ্যাড্রেস (Logical address) বা ভার্চুয়াল অ্যাড্রেস বলে। মেমরির আসল ঠিকানাকে ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস (Physical address) বলে। মেমরি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (MMU) লজিক্যাল অ্যাড্রেসকে ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসে রূপান্তর করে।

    মনে রাখুন:
    CPU লজিক্যাল অ্যাড্রেস দেয়, MMU তাকে ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসে বদলায়।
  14. ১৬২. নিচের কোন প্রােগ্রামটি একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার প্রোগ্রামকে একবারে অনুবাদ ও সম্পাদন করে?
    • ক. Interpreter
    • খ. Emulator
    • গ. Compiler
    • ঘ. Simulator
    উত্তর: গ. Compiler
    কম্পাইলার (Compiler) পুরো প্রোগ্রামটিকে একবারে মেশিন ভাষায় অনুবাদ করে, তারপর সেই অনুবাদ করা প্রোগ্রাম চলে। ইন্টারপ্রেটার (Interpreter) একটি একটি লাইন অনুবাদ করে সঙ্গে সঙ্গে চালায়।

    মনে রাখুন:
    C ও C++ সাধারণত কম্পাইলার ব্যবহার করে।
    Python সাধারণত ইন্টারপ্রেটারের মাধ্যমে চলে।
    কম্পাইলারে ভুল থাকলে পুরো প্রোগ্রাম অনুবাদের পরে ভুলগুলো একসঙ্গে দেখানো হয়।
  15. ১৬৩. নিচের কোনটি একই সাথে ইনপুট ও আউটপুট হিসেবে কাজ করে?
    • ক. Mouse
    • খ. Microphone
    • গ. Touch Screen
    • ঘ. Printer
    উত্তর: গ. Touch Screen
    টাচস্ক্রিনে আঙুল ছুঁইয়ে কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া যায়, তাই এটি ইনপুট যন্ত্র। আবার একই পর্দায় ফলাফল দেখা যায়, তাই এটি আউটপুট যন্ত্রও। একই যন্ত্র দুই কাজই করে বলে এটি উত্তর।

    মনে রাখুন:
    মাউস শুধু ইনপুট যন্ত্র।
    মাইক্রোফোন শুধু ইনপুট যন্ত্র।
    প্রিন্টার শুধু আউটপুট যন্ত্র।

গাণিতিক যুক্তি

  1. ১৬৫. নিচের কোন পূর্ণ সংখ্যাটি ৩, ৪, ৫ এবং ৬ দ্বারা ভাগ করলে যথাক্রমে ১, ২, ৩ ও ৪ অবশিষ্ট থাকে?
    • ক. ৪৮
    • খ. ৫৪
    • গ. ৫৮
    • ঘ. ৬০
    উত্তর: গ. ৫৮
    প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাজক থেকে ভাগশেষ ঠিক 2 কম:
    3 − 1 = 2, 4 − 2 = 2, 5 − 3 = 2, 6 − 4 = 2
    তাই সংখ্যাটি 3, 4, 5 ও 6 দ্বারা ভাগ করলে প্রতিবার 2 কম পড়ে। অর্থাৎ সংখ্যাটি এই চার সংখ্যার ল.সা.গু. থেকে 2 কম। ল.সা.গু. = 60। তাই সংখ্যাটি 60 − 2 = 58।

    যাচাই: 58 ÷ 3 = 19, ভাগশেষ 1। 58 ÷ 4 = 14, ভাগশেষ 2। 58 ÷ 5 = 11, ভাগশেষ 3। 58 ÷ 6 = 9, ভাগশেষ 4।
  2. ১৬৬. পনির ও তপনের আয়ের অনুপাত ৪: ৩। তপন ও রবিনের আয়ের অনুপাত ৫ : ৪। পনিরের আয় ১২০ টাকা হলে, রবিনের আয় কত?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৮৪৩৩) ২০১৯
    • ক. ৩৬ টাকা
    • খ. ১২ টাকা
    • গ. ৭২ টাকা
    • ঘ. ৮৪ টাকা
    উত্তর: গ. ৭২ টাকা
    দুটি অনুপাতে তপন সাধারণ, তাই তপনের অংশ সমান করে নিতে হবে।
    পনির : তপন = 4 : 3 = 20 : 15
    তপন : রবিন = 5 : 4 = 15 : 12
    তাই পনির : তপন : রবিন = 20 : 15 : 12।
    20 অংশ = 120 টাকা হলে 1 অংশ = 6 টাকা।
    রবিনের আয় = 12 × 6 = 72 টাকা।
  3. ১৬৭. ৪৫০ টাকা বার্ষিক ৬% সুদে কত বছরে সুদে- আসলে ৫৫৮ টাকা হবে?
    • ক. ৩ বছরে
    • খ. ৪ বছরে
    • গ. ৫ বছরে
    • ঘ. ৬ বছরে
    উত্তর: খ. ৪ বছরে
    সরল সুদের প্রশ্নে প্রথমে সুদ বের করতে হয়। সুদ-আসল 558 টাকা আর আসল 450 টাকা, তাই মোট সুদ 558 − 450 = 108 টাকা। এক বছরের সুদ = 450 × 6 ÷ 100 = 27 টাকা। কাজেই সময় = 108 ÷ 27 = 4 বছর।

    মনে রাখুন:
    সুদ = আসল × হার × সময় ÷ 100।
    সুদ-আসল = আসল + সুদ।
  4. ১৬৮. একটি মোটর সাইকেল ১২% ক্ষতিতে বিক্রি করা হল। যদি বিক্রয় মূল্য ১২০০ টাকা বেশি হতো, তাহলে ৮% লাভ হত। মোটর সাইকেলের ক্রয় মূল্য –
    • ক. ৬০০০ টাকা
    • খ. ৫০০০ টাকা
    • গ. ৪০০০ টাকা
    • ঘ. ৮০০০ টাকা
    উত্তর: ক. ৬০০০ টাকা
    আমরা ক্রয়মূল্যকে 100% ধরে হিসাব করব। 12% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য 88%, আর 8% লাভে বিক্রয়মূল্য 108%। দুই বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য 108 − 88 = 20%, আর এটিই 1200 টাকা। ক্রয়মূল্যের 20% = 1200 টাকা হলে ক্রয়মূল্য = 1200 × 100 ÷ 20 = 6000 টাকা।

    মনে রাখুন:
    লাভ-ক্ষতির হিসাব সবসময় ক্রয়মূল্যের শতাংশে হয়।
    বিক্রয়মূল্য = ক্রয়মূল্য ± লাভ বা ক্ষতি।
  5. ১৬৯. ((0.9)3+(0.4)3)/(0.9+0.4) এর মান কত?
    • ক. 0.36
    • খ. 0.51
    • গ. 0.81
    • ঘ. 0.61
    উত্তর: ঘ. 0.61
    এখানে a = 0.9 ও b = 0.4 ধরলে রাশিটি (a³ + b³) ÷ (a + b)। ঘন-যোগের সূত্র a³ + b³ = (a + b)(a² − ab + b²) বলে (a + b) কাটা যায়, ফলে মান হয় a² − ab + b²। মান বসিয়ে পাই 0.81 − 0.36 + 0.16 = 0.61।

    মনে রাখুন:
    a³ + b³ = (a + b)(a² − ab + b²)।
    a³ − b³ = (a − b)(a² + ab + b²)।
  6. ১৭০. 3x – 2 > 2x – 1 এর সমাধান সেট কোনটি ?
    • ক. [1,∞)
    • খ. (1,∞)
    • গ. (12,∞)
    • ঘ. (-1,∞)
    উত্তর: খ. (1,∞)
    অসমতা (inequality) সমাধানে সমীকরণের মতোই পদ স্থানান্তর করা যায়। 3x − 2 > 2x − 1 থেকে 3x − 2x > −1 + 2, অর্থাৎ x > 1। অসমতায় সমান চিহ্ন নেই, তাই 1 নিজে সমাধানের অংশ নয়। ফলে সমাধান সেট (1, ∞), যেখানে খোলা বন্ধনী 1 বাদ যাওয়া বোঝায়।

    মনে রাখুন:
    বন্ধ বন্ধনী [ ] মানে প্রান্তবিন্দু অন্তর্ভুক্ত, খোলা বন্ধনী ( ) মানে বাদ।
    ঋণাত্মক সংখ্যা দিয়ে গুণ বা ভাগ করলে অসমতার দিক উল্টে যায়।
  7. ১৭১. 6x² – 7x – 4 = 0 সমীকরণে মূলদ্বয়ে প্রকৃতি কোনটি?
    • ক. বাস্তব ও সমান
    • খ. বাস্তব ও অসমান
    • গ. অবাস্তব
    • ঘ. পূর্ণ বর্গ সংখ্যা
    উত্তর: খ. বাস্তব ও অসমান
    দ্বিঘাত সমীকরণের (quadratic equation) মূলের প্রকৃতি নিশ্চায়ক (discriminant) b² − 4ac দিয়ে বোঝা যায়। এখানে a = 6, b = −7, c = −4, তাই নিশ্চায়ক = 49 + 96 = 145। এটি ধনাত্মক, তাই মূল দুটি বাস্তব ও অসমান। 145 পূর্ণবর্গ নয় বলে মূল দুটি অমূলদও হবে।

    মনে রাখুন:
    নিশ্চায়ক > 0 হলে মূল বাস্তব ও অসমান।
    নিশ্চায়ক = 0 হলে মূল বাস্তব ও সমান।
    নিশ্চায়ক < 0 হলে মূল অবাস্তব (জটিল)।
    নিশ্চায়ক পূর্ণবর্গ হলে মূল মূলদ।
  8. ১৭২. যদি x4 – x2 + 1 = 0 হয়, তবে, x3 + 1/x3 = কত?
    • ক. ৩
    • খ. ২
    • গ. ১
    • ঘ. ০
    উত্তর: ঘ. ০
    প্রদত্ত সমীকরণ x⁴ − x² + 1 = 0 কে x² দিয়ে ভাগ করলে x² − 1 + 1/x² = 0, অর্থাৎ x² + 1/x² = 1। এখন ঘনের সূত্রে x³ + 1/x³ = (x + 1/x)(x² − 1 + 1/x²)। দ্বিতীয় বন্ধনীর মান 1 − 1 = 0, তাই গুণফলও 0।

    মনে রাখুন:
    x³ + 1/x³ = (x + 1/x)(x² − 1 + 1/x²)।
    এই ধরনের অঙ্কে x² দিয়ে ভাগ করে x² + 1/x² বের করাই চাবিকাঠি।
  9. ১৭৩. xx√x = (x√x)x হয়, তবে x এর মান কত?
    • ক. 3/2
    • খ. 4/9
    • গ. 9/4
    • ঘ. 2/3
    উত্তর: গ. 9/4
    সমীকরণটি x^(x√x) = (x√x)^x। ডান পক্ষে x√x = x^(3/2), তাই (x^(3/2))^x = x^(3x/2)। দুই পক্ষের ভিত্তি x সমান, তাই ঘাত সমান ধরলে x√x = 3x/2। দুই পাশে x কেটে পাই √x = 3/2, ফলে x = 9/4।

    মনে রাখুন:
    (a^m)^n = a^(mn)।
    ভিত্তি সমান হলে ঘাত সমান হতে হবে (ভিত্তি 0 বা 1 নয়)।
  10. ১৭৪. কোন শর্তে loga¹ = 0 ?
    • ক. a > 0, a ≠ 1
    • খ. a ≠ 0 , a > 1
    • গ. a > 0 , a = 1
    • ঘ. a ≠ 1, a < 0
    উত্তর: ক. a > 0, a ≠ 1
    লগারিদমের (logarithm) সংজ্ঞা অনুযায়ী a^0 = 1 হলে log_a 1 = 0। এটি যেকোনো বৈধ ভিত্তির জন্য সত্য। আর লগারিদমের ভিত্তি হতে হলে a > 0 এবং a ≠ 1 হওয়া জরুরি, কারণ ভিত্তি 1 হলে 1 এর সব ঘাতই 1 হয়ে যায় এবং ঋণাত্মক ভিত্তিতে ভগ্নাংশ ঘাত বাস্তব সংখ্যা থাকে না।

    মনে রাখুন:
    log_a a = 1।
    log_a(mn) = log_a m + log_a n।
  11. ১৭৫. P = {x:x, 12 এর গুণনীয়কসমূহ} এবং Q = {x:x, 3 এর গুণিতক এবং x≤12 } হলে, P-Q কত?
    • ক. {1, 2, 4}
    • খ. {1,3,4}
    • গ. {1,3,6}
    • ঘ. {1,2,6}
    উত্তর: ক. {1, 2, 4}
    P হলো 12 এর গুণনীয়কের সেট, তাই P = {1, 2, 3, 4, 6, 12}। Q হলো 12 পর্যন্ত 3 এর গুণিতকের সেট, তাই Q = {3, 6, 9, 12}। P − Q মানে P এর সেই উপাদান যা Q তে নেই। P থেকে 3, 6 ও 12 বাদ দিলে থাকে {1, 2, 4}।

    মনে রাখুন:
    P − Q আর Q − P এক নয়; এখানে Q − P = {9}।
  12. ১৭৬. cos(nπ/2) অনুক্রমটির চতুর্থ পদ কোনটি?
    • ক. -1
    • খ. 1
    • গ. 1/2
    • ঘ. 0
    উত্তর: খ. 1
    অনুক্রমের (sequence) সাধারণ পদ cos(nπ/2)। চতুর্থ পদের জন্য n = 4 বসালে cos(4π/2) = cos 2π = 1।

    মনে রাখুন:
    n = 1, 2, 3, 4 এর জন্য পদগুলো যথাক্রমে 0, −1, 0, 1।
    cos 2π = cos 0 = 1।
  13. ১৭৭. ৬ জন খেলোয়ারকে সমান সংখ্যক দুইটি দলে কত ভাবে বিভক্ত করা যায়?
    • ক. ১০
    • খ. ২০
    • গ. ৬০
    • ঘ. ১২০
    উত্তর: ক. ১০
    ৬ জনকে ৩ জন করে দুই দলে ভাগ করতে প্রথমে একটি দলের ৩ জন বাছতে হয়, যার উপায় 6C3 = 20। একটি দল বাছা হয়ে গেলে বাকি ৩ জন আপনা-আপনি অন্য দল হয়ে যায়। দল দুটির নাম বা ক্রম না থাকায় একই বিভাজন দুবার গোনা হয়েছে, তাই 20 ÷ 2 = 10 উপায়।

    মনে রাখুন:
    দল যদি আলাদা নামে চিহ্নিত থাকত (যেমন ক-দল, খ-দল), তবে উত্তর হতো 20।
  14. ১৮৩. .১×.০১×.০০১ = ?
    • ক. ১.০০০১
    • খ. .১০০০১
    • গ. .০০০০১
    • ঘ. ০.০০০০০১
    উত্তর: ঘ. ০.০০০০০১
    দশমিক গুণে প্রথমে দশমিক চিহ্ন ছাড়া গুণ করি: 1 × 1 × 1 = 1। এরপর দেখি তিনটি সংখ্যার দশমিকের পরে অঙ্ক যথাক্রমে 1, 2 ও 3টি, মোট 6টি। ফলাফলে দশমিকের পরে 6টি অঙ্ক বসাতে হবে, ফলে 0.000001।

    মনে রাখুন:
    গুণফলে দশমিকের পরের অঙ্ক সংখ্যা = উৎপাদকগুলোর দশমিকের পরের অঙ্কের মোট সংখ্যা।

মানসিক দক্ষতা

  1. ১৮১. যদি ABC = ZYX হয়, তবে GIVV = ?
    • ক. TERE
    • খ. TEER
    • গ. TREE
    • ঘ. FREE
    উত্তর: গ. TREE
    এখানে সাংকেতিক পদ্ধতি হলো বর্ণমালার উল্টো দিক থেকে অক্ষর নেওয়া: A এর বদলে Z, B এর বদলে Y, C এর বদলে X। একই নিয়মে G এর বদলে T, I এর বদলে R, V এর বদলে E বসে। তাই GIVV = TREE।

    মনে রাখুন:
    উল্টো ক্রমে দুই অক্ষরের ক্রমিক সংখ্যার যোগফল সবসময় 27। যেমন A(1) + Z(26) = 27।
  2. ১৮২. রাস্তা সমান করার রোলার সরাবার জন্য সহজ হবে , যদি রোলারকে –
    • ক. ঠেলে নিয়ে যাওয়া যায়
    • খ. টেনে নিয়ে যাওয়া যায়
    • গ. তুলে নিয়ে যাওয়া যায়
    • ঘ. সমান সহজ হয়
    উত্তর: খ. টেনে নিয়ে যাওয়া যায়
    রোলার টানার সময় বল হাতলের দিকে একটু ওপর দিকে কাজ করে, ফলে এর একটি অংশ রোলারের ওজনের কিছুটা ভার তুলে নেয়। এতে মাটির ওপর চাপ ও ঘর্ষণ কমে। ঠেলার সময় বলের একটি অংশ নিচের দিকে কাজ করে, ফলে চাপ ও ঘর্ষণ বাড়ে। তাই টেনে নেওয়াই সহজ।

    মনে রাখুন:
    ঘর্ষণ বল (friction) পৃষ্ঠের ওপর লম্ব চাপের সমানুপাতিক।
  3. ১৮৫. একজন ব্যক্তি ভ্রমণে ৪ মাইল উত্তরে, ১২ মাইল পূর্বে , তারপর আবার ১২ মাইল উত্তরে যায় । সে শুরুর স্থান থেকে কত মাইল দূরে?
    • ক. ১৭
    • খ. ২৮
    • গ. ২১
    • ঘ. ২০
    উত্তর: ঘ. ২০
    চলার পথটি দিক পরিবর্তন করে সরল হিসাবে আনা যায়। উত্তরে গেছে 4 + 12 = 16 মাইল এবং পূর্বে 12 মাইল। উত্তর ও পূর্ব পরস্পর লম্ব, তাই শুরুর স্থান থেকে দূরত্ব হবে এই দুই বাহুর অতিভুজ। পিথাগোরাসের সূত্রে √(16² + 12²) = √(256 + 144) = √400 = 20 মাইল।

    মনে রাখুন:
    16, 12, 20 হলো 4, 3, 5 ত্রয়ীর চার গুণ, অর্থাৎ পিথাগোরীয় ত্রয়ী।

অন্যান্য বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন ও সমাধান

১০ম থেকে ৫০তম: সব বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন