বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ২৭ আগস্ট ২০১৭। ৯৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →আন্তর্জাতিক
- ১. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী কোন শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন?
- ক. একাদশ
- খ. দ্বাদশ
- গ. ত্রয়োদশ
- ঘ. পঞ্চদশ
উত্তর: গ. ত্রয়োদশ
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী ছিলেন একজন তুর্কি সেনানায়ক। তিনি আফগানিস্তানের গরমশির অঞ্চল থেকে ভারতে আসেন এবং ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে, আনুমানিক ১২০৪ সালে, সেন রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া জয় করেন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়েই বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। তাই একাদশ বা দ্বাদশ শতক নয়, ত্রয়োদশ শতকই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন:
বখতিয়ার খলজী ছিলেন দিল্লির সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবকের অধীন সেনাপতি।
তিনি বাংলার রাজধানী করেছিলেন লক্ষ্মণাবতী (গৌড়)-কে।
নদীয়া জয়ের সময় সেন বংশের রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
বাংলা জয়ের পর তিনি তিববত অভিযানে বের হন, কিন্তু সেই অভিযান ব্যর্থ হয় এবং এরপরই তাঁর মৃত্যু ঘটে। - ৩. 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' খ্যাত বাদক দলের নাম-
- ক. পিঙ্ক ফ্লয়েড
- খ. বি-গিস
- গ. বিটলস
- ঘ. ডিপরাপল
উত্তর: গ. বিটলস
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের সাহায্যে অর্থ তোলার জন্য ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' নামে একটি সংগীতানুষ্ঠান হয়। সেতারশিল্পী রবিশঙ্করের অনুরোধে এর আয়োজন করেন বিটলস দলের জর্জ হ্যারিসন। এই কারণেই অনুষ্ঠানটির সঙ্গে বিটলসের নাম জড়িয়ে আছে। অন্য তিনটি বিকল্প আসলে ভিন্ন ভিন্ন বিখ্যাত ব্যান্ডের নাম, এই আয়োজনের সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন:
এই অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন বব ডিলান, যিনি ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
অনুষ্ঠানে রবিশঙ্করের সঙ্গে সরোদ বাজিয়েছিলেন আলী আকবর খান।
পৃথিবীতে এটিই ছিল প্রথম বড় আকারের দাতব্য সংগীতানুষ্ঠানগুলোর একটি। - ১৪. স্থায়ী সালিশি আদালত কোথায় অবস্থিত?
- ক. জেনেভায়
- খ. দ্য হেগে
- গ. প্যারিসে
- ঘ. লন্ডনে
উত্তর: খ. দ্য হেগে
স্থায়ী সালিশি আদালত (Permanent Court of Arbitration) আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য গঠিত। ১৮৯৯ সালের হেগ সম্মেলনের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে। দুটি দেশ চাইলে তাদের বিরোধ এই আদালতে সালিশির জন্য পাঠাতে পারে।
মনে রাখুন:
দ্য হেগেই আছে আন্তর্জাতিক বিচারালয় (ICJ) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)।
দ্য হেগকে তাই আন্তর্জাতিক আইনের রাজধানী বলা হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধের রায় এই স্থায়ী সালিশি আদালত থেকেই এসেছিল, ২০১৪ সালের ৭ জুলাই। - ১৫. এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- ক. ম্যানিলা
- খ. জাকার্তা
- গ. জেনেভা
- ঘ. ভিয়েনা
উত্তর: ক. ম্যানিলা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (Asian Development Bank) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঋণ ও অনুদান দেয়। ১৯৬৬ সালের ২২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকের সদর দপ্তর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায়। জাকার্তা, জেনেভা ও ভিয়েনা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার শহর, এডিবির নয়।
মনে রাখুন:
বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে এবং আইএমএফেরও সদর দপ্তর সেখানেই।
এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (AIIB) সদর দপ্তর বেইজিংয়ে।
ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায়। - ১৬. কোন সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়?
- ক. ১৮৯৬
- খ. ১৮৯৯
- গ. ১৯০০
- ঘ. ১৯০১
উত্তর: ঘ. ১৯০১
সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সালে। ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর, নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে, প্রথমবার পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি ডিনামাইটের আবিষ্কারক, আর সেই আবিষ্কার থেকে পাওয়া সম্পদ দিয়েই এই পুরস্কারের তহবিল গড়া হয়েছিল।
মনে রাখুন:
প্রথম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান রন্টজেন।
প্রথম শান্তিতে নোবেল পান হেনরি ডুনান্ট ও ফ্রেডেরিক পাসি।
অর্থনীতিতে নোবেল শুরু হয় অনেক পরে, ১৯৬৯ সালে।
শান্তি পুরস্কার ছাড়া বাকি পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোমে দেওয়া হয়, আর শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের অসলোতে। - ১৭. কোন দেশকে 'সমুদ্রের বধূ' বলা হয়?
- ক. মিসর
- খ. মালয়েশিয়া
- গ. গ্রেট ব্রিটেন
- ঘ. জাপান
উত্তর: গ. গ্রেট ব্রিটেন
ব্রিটেন বা গ্রেট ব্রিটেন চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র এবং এক সময় নৌশক্তিতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। এ জন্যই একে 'সমুদ্রের বধূ' বলা হয়। বাকি তিনটি দেশেরও নিজস্ব পরিচিতি আছে, কিন্তু সেগুলো অন্য নামে বিখ্যাত। ব্রিটেনের সাম্রাজ্য এত বড় ছিল যে বলা হতো, সেখানে কখনো সূর্য অস্ত যায় না। সমুদ্রপথে বাণিজ্য আর নৌবহরের জোরেই দেশটি তখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠেছিল।
মনে রাখুন:
মিসরকে বলা হয় নীল নদের দান বা পিরামিডের দেশ।
জাপানকে বলা হয় উদীয়মান সূর্যের দেশ।
নরওয়েকে বলা হয় মধ্যরাতের সূর্যের দেশ। - ১৮. কোন দেশে প্রথম মার্স ভাইরাস দেখা দেয়?
- ক. জর্ডান
- খ. সৌদি আরব
- গ. কুয়েত
- ঘ. ইরাক
উত্তর: খ. সৌদি আরব
মার্স (MERS) এর পূর্ণরূপ Middle East Respiratory Syndrome। এটি করোনাভাইরাস পরিবারের একটি ভাইরাস, যা শ্বাসতন্ত্রে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথম এই রোগ শনাক্ত হয়েছিল, আর সেই কারণেই নামে 'Middle East' শব্দটি আছে। এই ভাইরাস উটের সংস্পর্শ থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
মনে রাখুন:
মার্স-এর আগে ২০০২-০৩ সালে চীনে সার্স (SARS) দেখা দিয়েছিল, সেটিও করোনাভাইরাস থেকেই।
কোভিড-১৯ রোগের সূচনা হয় ২০১৯ সালে চীনের উহান শহরে, এর ভাইরাসটিও করোনাভাইরাস পরিবারের। - ১৯. মহাশূন্যে প্রথম নভোচারী–
- ক. ইউরি গ্যাগারিন
- খ. লাইকা
- গ. ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা
- ঘ. নীল আর্মস্ট্রং
উত্তর: ক. ইউরি গ্যাগারিন
সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ভস্টক-১ মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। তিনিই মহাশূন্যে যাওয়া প্রথম মানুষ। লাইকা ছিল একটি কুকুর, মানুষ নয়, আর নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে নেমেছিলেন, মহাশূন্যে প্রথম নয়।
মনে রাখুন:
প্রথম নারী নভোচারী: ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা (সোভিয়েত, ১৯৬৩)।
চাঁদে প্রথম পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং (১৯৬৯, অ্যাপোলো-১১)।
লাইকা নামের কুকুরটি ছিল পৃথিবীর কক্ষপথে যাওয়া প্রথম প্রাণী (১৯৫৭, স্পুটনিক-২)।
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১ ছেড়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৫৭ সালে। - ২০. সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষিতের হার সর্বাধিক কোন দেশে?
- ক. বাংলাদেশ
- খ. ভারত
- গ. পাকিস্তান
- ঘ. মালদ্বীপ
উত্তর: ঘ. মালদ্বীপ
সার্কভুক্ত আটটি দেশের মধ্যে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি মালদ্বীপে, প্রায় ৯৮ শতাংশ। এরপর শ্রীলঙ্কার হারও বেশ ভালো। অন্যদিকে আফগানিস্তানে সাক্ষরতার হার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের হার এই দুটি দেশের তুলনায় অনেক কম।
মনে রাখুন:
সাক্ষরতার হারে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার পেছনে।
সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে ঢাকায়, এর সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে।
আফগানিস্তান সার্কে যোগ দেয় ২০০৭ সালে, তাই সদস্য মোট আটটি। - ২১. হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কোন দেশভিত্তিক সংগঠন?
- ক. যুক্তরাষ্ট্র
- খ. যুক্তরাজ্য
- গ. ইতালি
- ঘ. ফ্রান্স
উত্তর: ক. যুক্তরাষ্ট্র
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং এর সদর দপ্তর নিউইয়র্কে। এটি কোনো রাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা নয়, বেসরকারি সংগঠন। এই সংস্থা কোনো দেশে মানুষের ওপর নির্যাতন, বিনা বিচারে আটক বা বাকস্বাধীনতা হরণের মতো ঘটনা ঘটলে তার তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন লেখে। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সরকারগুলোর ওপর চাপ তৈরি করাই তাদের প্রধান কৌশল।
মনে রাখুন:
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে, এর সদর দপ্তর লন্ডনে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর বার্লিনে, এটি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। - ২২. ২০১৬ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার কে লাভ করেন?
- ক. অ্যাঙ্গাস ডিটন
- খ. মারলন জেমস
- গ. অ্যান্ড্রু উইলস
- ঘ. হান কাং
উত্তর: ঘ. হান কাং
২০১৬ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার পান দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং, তাঁর উপন্যাস 'দ্য ভেজিটারিয়ান' (The Vegetarian)-এর জন্য। এই পুরস্কার ইংরেজিতে অনূদিত সেরা উপন্যাসকে দেওয়া হয়, তাই মূল লেখক ও অনুবাদক দুজনেই সম্মানের ভাগীদার হন। এই উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদক ছিলেন ডেবোরা স্মিথ। বাকি তিনটি নাম আসলে অন্য ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তির: অ্যাঙ্গাস ডিটন অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী, আর মারলন জেমস মূল ম্যান বুকার পুরস্কারের একজন বিজয়ী।
মনে রাখুন: হান কাং ২০২৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন।
হালনাগাদ: ২০২৫ সালে ভারতীয় লেখক বানু মুশতাক তাঁর 'হার্ট ল্যাম্প' গ্রন্থের জন্য আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেয়েছেন। - ২৩. সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে দ্বীপ কী নামে পরিচিত?
- ক. ওশেনিয়া
- খ. ইউরেশিয়া
- গ. বলশেভিয়া
- ঘ. পলিনেশিয়া
উত্তর: ক. ওশেনিয়া
প্রশান্ত মহাসাগরে ছোট-বড় প্রায় পঁচিশ হাজার দ্বীপ আছে। সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোকে বলা হয় ওশেনিয়া (Oceania)। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও আশপাশের অনেক দ্বীপরাষ্ট্র এই অঞ্চলের অংশ। পলিনেশিয়া ওশেনিয়ারই একটি অংশমাত্র, পুরো অঞ্চলের নাম নয়। ওশেনিয়ার অন্তর্গত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বড় এবং এটি একই সঙ্গে একটি মহাদেশও। বাকি অঞ্চলে ফিজি, সামোয়া, টোঙ্গা ও পাপুয়া নিউগিনির মতো ছোট বড় অনেক দ্বীপরাষ্ট্র আছে।
মনে রাখুন:
ওশেনিয়ার তিনটি উপ-অঞ্চল: পলিনেশিয়া, মেলানেশিয়া ও মাইক্রোনেশিয়া।
ইউরেশিয়া হলো ইউরোপ ও এশিয়ার সম্মিলিত ভূখণ্ড।
প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও গভীর মহাসাগর। - ২৪. 'ফ্যাসিজম'-এর প্রবর্তক কে?
- ক. গর্বাচেভ
- খ. মুসোলিনি
- গ. হিটলার
- ঘ. মাও সেতুং
উত্তর: খ. মুসোলিনি
ফ্যাসিবাদ (Fascism) এমন একটি মতবাদ, যেখানে চরম জাতীয়তাবাদ এবং একজন একনায়কের হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে বেনিটো মুসোলিনি এই মতবাদ চালু করেন, তাই তাঁকে ফ্যাসিবাদের প্রবর্তক বলা হয়। পরে জার্মানিতে হিটলার একই ধরনের নাৎসিবাদ গড়ে তোলেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদের জনক বলতে মুসোলিনিকেই বোঝানো হয়।
মনে রাখুন:
মুসোলিনি ১৯২২ সালে ইতালির ক্ষমতা নেন।
হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর হন ১৯৩৩ সালে।
গর্বাচেভ ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা, আর মাও সেতুং চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা। - ২৫. মদিনা শরীফের পূর্ব নাম কী?
- ক. আল হারামাইন
- খ. আল মদিনা
- গ. ইয়াসরিব
- ঘ. মদিনাতুর রহমান
উত্তর: গ. ইয়াসরিব
ইসলামের নবী মুহাম্মদ (স.) মক্কা থেকে হিজরত করার আগে মদিনার নাম ছিল ইয়াসরিব। তিনি সেখানে আসার পর শহরটি 'মদিনাতুন নবী' বা নবীর শহর নামে পরিচিত হয়, যা সংক্ষেপে মদিনা। এই শহরেই রয়েছে মসজিদে নববি।
মনে রাখুন:
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় এই হিজরত ঘটে, এবং এখান থেকেই হিজরি সনের গণনা ধরা হয়।
মদিনায় গিয়ে নবী (স.) প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়েন, এবং সেখানে মদিনা সনদ নামের একটি লিখিত চুক্তি হয়।
বাংলাদেশ
- ২. মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে 'মুজিবনগর' কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
- ক. ৭
- খ. ৮
- গ. ৯
- ঘ. ১০
উত্তর: খ. ৮
মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল, যাতে প্রতিটি অঞ্চলে মুক্তিবাহিনী আলাদা আলাদা সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে যুদ্ধ চালাতে পারে। এই সেক্টরগুলোর মধ্যে মুজিবনগর পড়েছিল ৮ নম্বর সেক্টরে, যার সদর দপ্তর ছিল বেনাপোলে। ৮ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের কয়েকটি জেলা।
মনে রাখুন:
মুজিবনগর এখন মেহেরপুর জেলার একটি এলাকা, আগে এর নাম ছিল বৈদ্যনাথতলা।
১ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
১০ নম্বর সেক্টর ছিল নৌ সেক্টর, এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল না।
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম এ জি ওসমানী। - ৪. বঙ্গবন্ধু কোন সালের কত তারিখে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান?আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ২০১৬
- ক. ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি
- খ. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
- গ. ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
- ঘ. ১৯৭৩ সালের ৮ জানুয়ারি
উত্তর: ক. ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি
পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি পান। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ইয়াহিয়া খানের হাত থেকে ক্ষমতা নেন জুলফিকার আলী ভুট্টো, আর তাঁর সময়েই এই মুক্তি ঘটে। মুক্তির পর বঙ্গবন্ধু প্রথমে লন্ডনে যান, তারপর দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে আসেন। তাই মুক্তির তারিখ ও দেশে ফেরার তারিখ আমরা আলাদা করে মনে রাখব।
মনে রাখুন:
মুক্তি: ৮ জানুয়ারি ১৯৭২।
দেশে ফেরা: ১০ জানুয়ারি ১৯৭২, এই দিনটি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নামে পরিচিত।
এর পরে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। - ৫. ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি প্রথম কোথায় উত্থাপন করা হয়?
- ক. ঢাকায়
- খ. আগরতলায়
- গ. লাহোরে
- ঘ. করাচিতে
উত্তর: গ. লাহোরে
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর একটি জাতীয় সম্মেলন বসে। ওই সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে তা না থাকায় সেখানে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে এই ৬ দফা বাঙালির মুক্তি সনদ হিসেবে পরিচিত হয়।
মনে রাখুন:
৬ দফার পটভূমি ছিল ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পরের তাসখন্দ চুক্তি।
এর পরের ঘটনাগুলো হলো ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়। - ৬. বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়-
- ক. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
- খ. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
- গ. ১৭ মে ১৯৭১
- ঘ. ২৭ মে ১৯৭১
উত্তর: খ. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি হয় এবং এর ভিত্তিতে ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার (বর্তমানে মেহেরপুর) আম্রকাননে অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়। জায়গাটির আগের নাম ছিল বৈদ্যনাথতলা, পরে এর নাম রাখা হয় মুজিবনগর। সেই কারণে এই সরকারকে মুজিবনগর সরকারও বলা হয়। ১০ এপ্রিল ছিল ঘোষণাপত্র জারির দিন, শপথ গ্রহণের দিন নয়, এটুকু পার্থক্য আমরা মনে রাখব।
মনে রাখুন:
রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম)।
প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি: কর্নেল এম এ জি ওসমানী। - ৭. ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম-
- ক. বিজয় কেতন
- খ. রক্তসোপান
- গ. স্বাধীনতা সোপান
- ঘ. বিজয় স্তম্ভ
উত্তর: ক. বিজয় কেতন
ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আছে, যার নাম বিজয় কেতন। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের নানা নিদর্শন, ছবি ও অস্ত্র সংরক্ষণ করা আছে। জাদুঘরের সামনে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য এবং 'সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা' নামের একটি দেয়ালচিত্রও আছে। এটি বেসামরিক উদ্যোগে গড়া মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে আলাদা, যেটি ১৯৯৬ সালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় চালু হয়েছিল।
মনে রাখুন:
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ, এই খেতাব পেয়েছেন মোট সাতজন।
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন মোস্তফা কামাল, রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হামিদুর রহমান, নূর মোহাম্মদ শেখ, মুন্সী আব্দুর রউফ ও মতিউর রহমান। - ৮. বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের কয়টি বিভাগ?
- ক. ৫টি
- খ. ৪টি
- গ. ৩টি
- ঘ. ২টি
উত্তর: ঘ. ২টি
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত হলো সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সংবিধান অনুযায়ী এর দুটি বিভাগ আছে, একটি আপিল বিভাগ এবং অন্যটি হাইকোর্ট বিভাগ। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সাধারণত আপিল বিভাগে আবেদন করা যায়, আর আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
মনে রাখুন:
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান হলেন প্রধান বিচারপতি।
সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগ সম্পর্কে বলা আছে।
সুপ্রিম কোর্ট ঢাকার রমনা এলাকায় অবস্থিত। - ৯. বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থার নাম কী?
- ক. এয়ার বাংলা
- খ. জিএমজি
- গ. অ্যারোবেঙ্গল এয়ারলাইন্স
- ঘ. বাংলাদেশ বিমান
উত্তর: গ. অ্যারোবেঙ্গল এয়ারলাইন্স
অ্যারোবেঙ্গল এয়ারলাইনস বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা। ১৯৯০-এর দশকে দেশে বেসরকারি খাতে বিমান চালুর সুযোগ তৈরি হলে এটি যাত্রা শুরু করে। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমান আগে থেকেই ছিল, তাই এটিকে বেসরকারি বলা যায় না। আর জিএমজি এয়ারলাইন্স পরে বেসরকারি খাতে এসেছে।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশ বিমান ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তী সময়ের বেসরকারি এয়ারলাইনসের মধ্যে নভোএয়ার চালু হয় ২০১৩ সালে এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০১৪ সালে। - ১০. খাসিয়া উপজাতিরা কোন জেলায় অধিক সংখ্যায় বাস করে?
- ক. ময়মনসিংহ
- খ. রাঙামাটি
- গ. পটুয়াখালী
- ঘ. সিলেট
উত্তর: ঘ. সিলেট
খাসিয়া একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, যাদের বেশিরভাগ বাস করে সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেটে। অন্য বিকল্পগুলোতে আছে ভিন্ন জনগোষ্ঠী: ময়মনসিংহে গারো ও হাজং, রাঙামাটিতে চাকমা, আর পটুয়াখালীতে রাখাইন ও মারমা। তাই কোন জেলায় কোন জনগোষ্ঠী থাকে, সেটা জোড়া মিলিয়ে মনে রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
খাসিয়াদের গ্রামকে বলা হয় পুঞ্জি।
খাসিয়ারা পান চাষের জন্য পরিচিত।
খাসিয়া ও গারো দুই সমাজেই মাতৃসূত্রীয় পরিবার দেখা যায়।
মণিপুরিরাও সিলেট অঞ্চলে বাস করে, আর সাঁওতালরা বাস করে উত্তরবঙ্গে। - ১১. বাংলাদেশের সর্বশেষ বিভাগের নাম–
- ক. রংপুর
- খ. ময়মনসিংহ
- গ. সিলেট
- ঘ. জামালপুর
উত্তর: খ. ময়মনসিংহ
বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাগ এখন আটটি। সবচেয়ে নতুন বিভাগ ময়মনসিংহ, যা ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঘোষিত হয় এবং এটি অষ্টম বিভাগ। এর আগে রংপুর বিভাগ হয়েছিল ২০১০ সালে আর সিলেট বিভাগ ১৯৯৫ সালে। জামালপুর একটি জেলা, বিভাগ নয়, ফলে সেটি উত্তর হতে পারে না।
মনে রাখুন:
ময়মনসিংহ বিভাগে জেলা চারটি: ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা।
সপ্তম বিভাগ রংপুর, ষষ্ঠ বিভাগ সিলেট।
বরিশাল বিভাগ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। - ১২. সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত কততম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ?
- ক. ৫২২তম
- খ. ৬২০তম
- গ. ৭৯৮তম
- ঘ. ৮৯৮তম
উত্তর: গ. ৭৯৮তম
সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) একে ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage) স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। বনটির মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার, যার প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে পড়েছে, বাকিটা ভারতে।
মনে রাখুন:
সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট (১৯৯২ সালে, তালিকা নম্বর ৫৬০)।
সুন্দরী গাছ থেকে বনের নাম এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখানকার বিখ্যাত প্রাণী।
বাংলাদেশের বাকি দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হলো বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও নওগাঁর পাহাড়পুর বিহার, দুটিই ১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত হয়। - ১৩. জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয় কোন তারিখে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৪
- ক. ১৭ মার্চ
- খ. ১৭ এপ্রিল
- গ. ১৭ জুন
- ঘ. ১০ এপ্রিল
উত্তর: ক. ১৭ মার্চ
২০১৭ সালে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হতো ১৭ মার্চ, কারণ ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। তাই এই প্রশ্নের সঠিক বিকল্প ১৭ মার্চ। এই দিনটিকে ঘিরেই সরকারি ছুটি ও নানা অনুষ্ঠান হতো, এবং শিশুদের জন্য আলাদা আয়োজন থাকত।
মনে রাখুন: ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ দিবস, আর ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারির দিন। তিনটি তারিখ আমরা গুলিয়ে ফেলব না।
হালনাগাদ: ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। - ৬০. 'আয়নাবাজি' চলচ্চিত্রের পরিচালকের নাম কী?
- ক. অমিতাভ রেজা
- খ. গাজী রাফায়াত
- গ. আবু সাইয়ীদ
- ঘ. তৌকীর আহমেদ
উত্তর: ক. অমিতাভ রেজা
'আয়নাবাজি' ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। এর পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। অন্য বিকল্পগুলোও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত নাম, কিন্তু এই ছবির পরিচালক তাঁরা নন। তাই পরিচালকের সঙ্গে ছবির নাম মিলিয়ে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন:
অমিতাভ রেজা চৌধুরী 'আয়নাবাজি'র আগে 'মাইক্রোফোন' (২০১০) নির্মাণ করেন।
মুক্তির পর 'আয়নাবাজি' দর্শক ও সমালোচকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
গণিত
- ২৬. স্বাভাবিক সংখ্যা সেটের ক্ষুদ্রতম সদস্য কোনটি?
- ক. 0
- খ. 1
- গ. 2
- ঘ. ক
উত্তর: খ. 1
স্বাভাবিক সংখ্যা (Natural Number) বলতে গণনার কাজে ব্যবহৃত সংখ্যাগুলোকে বোঝায়। আমরা কোনো জিনিস গুনতে গেলে 1, 2, 3, ... এভাবেই শুরু করি, তাই N = {1, 2, 3, 4, ...}। এই সেটে শূন্য নেই, ফলে এর ক্ষুদ্রতম সদস্য 1।
মনে রাখুন:
শূন্যসহ সংখ্যাগুলো (0, 1, 2, ...) নিয়ে গঠিত সেটকে অঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যার সেট বা Whole Number বলে।
স্বাভাবিক সংখ্যার সেটের বৃহত্তম সদস্য নেই, কারণ সংখ্যা অসীম পর্যন্ত বাড়তেই থাকে।
পূর্ণসংখ্যার সেটে ঋণাত্মক সংখ্যাও থাকে: Z = {..., −2, −1, 0, 1, 2, ...}। - ২৭. m ও n বিজোড় সংখ্যা হলে নিচের কোনটি জোড়?
- ক. mn
- খ. mn + 1
- গ. mn + 2
- ঘ. mn + 4
উত্তর: খ. mn + 1
বিজোড় সংখ্যাকে বিজোড় সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে গুণফল বিজোড় হয়। তাই m ও n দুটিই বিজোড় হলে mn বিজোড়। বিজোড় সংখ্যার সাথে 1 যোগ করলে যোগফল জোড় হয়, কাজেই mn + 1 জোড়। অন্যদিকে mn + 2 এবং mn + 4 বিজোড় থাকে, কারণ বিজোড়ের সাথে জোড় যোগ করলে বিজোড়ই হয়।
উদাহরণ: m = 3, n = 5 ধরলে mn = 15, আর mn + 1 = 16, যা জোড়।
মনে রাখুন:
জোড় + জোড় = জোড়, বিজোড় + বিজোড় = জোড়, জোড় + বিজোড় = বিজোড়।
বিজোড় × বিজোড় = বিজোড়।
জোড় × যেকোনো পূর্ণসংখ্যা = জোড়। - ২৮. x + y = 12 এবং x − y = 2 হলে, xy এর মান কত?আরও এসেছে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ২০১৬, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ) ২০২২
- ক. 30
- খ. 49
- গ. 35
- ঘ. 45
উত্তর: গ. 35
দুটি সমীকরণ x + y = 12 এবং x − y = 2 পাশাপাশি লিখে যোগ করলে y কেটে যায় এবং 2x = 14 পাওয়া যায়, তাই x = 7। এরপর প্রথম সমীকরণে বসালে y = 12 − 7 = 5। অতএব xy = 7 × 5 = 35।
শর্টকাট: 4xy = (x + y)² − (x − y)² = 144 − 4 = 140, তাই xy = 35।
যাচাই: 7 + 5 = 12 এবং 7 − 5 = 2, দুটি শর্তই মেলে।
মনে রাখুন: (x + y)² − (x − y)² = 4xy এবং (x + y)² + (x − y)² = 2(x² + y²)। - ২৯. ০.০১ × ০.০০১ = কত?
- ক. ০.০০০০১
- খ. ০.০০১
- গ. ০.০০০০০১
- ঘ. ০.০০০১
উত্তর: ক. ০.০০০০১
দশমিক ভগ্নাংশকে সাধারণ ভগ্নাংশে লিখে নিলে হিসাব সহজ হয়। ০.০১ = 1/100 এবং ০.০০১ = 1/1000। গুণ করলে 1/100 × 1/1000 = 1/100000 = ০.০০০০১।
শর্টকাট: দশমিক গুণের সময় আগে দশমিক ছাড়াই গুণ করি (1 × 1 = 1), তারপর দুই সংখ্যার দশমিকের পরের অঙ্কসংখ্যা (2 + 3 = 5) যোগ করে ডানদিক থেকে ৫ ঘর গুনে দশমিক বসাই।
মনে রাখুন:
০.১ × ০.১ = ০.০১।
দশমিক গুণের উত্তরে দশমিকের পরের অঙ্কসংখ্যা সবসময় দুই সংখ্যার অঙ্কসংখ্যার যোগফলের সমান হয়। - ৩০. কোন ভগ্নাংশটি ২/৩ থেকে বড়?
- ক. ৩৩/৫০
- খ. ৮/১১
- গ. ৩/৫
- ঘ. ১৩/২৯
উত্তর: খ. ৮/১১
দুটি ভগ্নাংশের মধ্যে কোনটি বড়, তা সবচেয়ে সহজে বোঝা যায় দশমিকে লিখে। 2/3 প্রায় 0.667। এবার অপশনগুলো দেখি: 33/50 = 0.66, 8/11 ≈ 0.727, 3/5 = 0.6 এবং 13/29 ≈ 0.448। এদের মধ্যে কেবল 8/11-ই 0.667-এর চেয়ে বড়।
শর্টকাট: আড়াআড়ি গুণ করে তুলনা করা যায়। 8/11 ও 2/3 এর জন্য 8 × 3 = 24 আর 11 × 2 = 22, ২৪ বড়, তাই 8/11 বড়।
মনে রাখুন: 33/50-এর ক্ষেত্রে আড়াআড়ি গুণ করলে 33 × 3 = 99 আর 50 × 2 = 100 হয়, তাই এটি 2/3 থেকে সামান্য ছোট, ফলে একে বড় ভেবে ভুল করা সহজ। - ৩১. ১ থেকে ৪৯ পর্যন্ত স্বাভাবিক (পূর্ণ) সংখ্যাগুলোর গড় কত?
- ক. ২৩
- খ. ২৫
- গ. ২৪.৫
- ঘ. ২৫.৫
উত্তর: খ. ২৫
১ থেকে n পর্যন্ত স্বাভাবিক সংখ্যার যোগফল n(n + 1)/2। এখানে n = 49, তাই যোগফল 49 × 50/2 = 1225। সংখ্যা আছে 49টি, সুতরাং গড় = 1225/49 = 25।
শর্টকাট: ক্রমিক সংখ্যার গড় = (প্রথম সংখ্যা + শেষ সংখ্যা)/2 = (1 + 49)/2 = 25।
মনে রাখুন:
ক্রমিক সংখ্যা বা সমান ব্যবধানের সংখ্যার গড় সবসময় মাঝের সংখ্যা।
১ থেকে 49 এর মাঝের সংখ্যা 25, তাই গড়ও 25।
১ থেকে n পর্যন্ত গড় = (n + 1)/2। - ৩২. ৩⅜ + ১⅝ + ৫⅛ = কত?
- ক. ১০⅛
- খ. ৯⅛
- গ. ১০⅞
- ঘ. ৯⅝
উত্তর: ক. ১০⅛
মিশ্র ভগ্নাংশের যোগে পূর্ণসংখ্যা অংশ আলাদা করে যোগ করি: 3 + 1 + 5 = 9। এরপর ভগ্নাংশ অংশ যোগ করি। হর সবার 8, তাই 3/8 + 5/8 + 1/8 = 9/8 = 1 1/8। সুতরাং মোট = 9 + 1 1/8 = 10 1/8।
শর্টকাট: মিশ্র ভগ্নাংশে হর একই থাকলে পূর্ণসংখ্যা ও ভগ্নাংশ আলাদা যোগ করা সবচেয়ে সহজ।
মনে রাখুন: ভগ্নাংশের যোগফল 1-এর বেশি হলে তার পূর্ণ অংশ পূর্ণসংখ্যার সাথে যোগ করতে ভুলব না। এখানে 9/8 থেকে 1 পূর্ণ আর 1/8 বাকি থাকে। - ৩৩. ৪ এর ৭৫% = কত?
- ক. ৪
- খ. ৩
- গ. ৫
- ঘ. ৫০
উত্তর: খ. ৩
শতকরা বা Percent শব্দের অর্থ প্রতি একশতে। তাই 75% মানে 75/100 = 3/4। এখন ৪ এর 75% = 4 × 3/4 = 3।
শর্টকাট: 75% মানে 3/4 অংশ, এটি মনে রাখলে অনেক হিসাব মুখে মুখে করা যায়।
মনে রাখুন:
50% = 1/2, 25% = 1/4, 75% = 3/4।
20% = 1/5 এবং 10% = 1/10।
12.5% = 1/8। - ৩৪. x² − x − 20 এর উৎপাদকে বিশ্লেষণ কোনটি?
- ক. (x − 5)(x − 4)
- খ. (x + 5)(x − 4)
- গ. (x − 5)(x + 4)
- ঘ. (x + 5)(x + 4)
উত্তর: গ. (x − 5)(x + 4)
x² − x − 20-কে উৎপাদকে ভাঙতে হলে এমন দুটি সংখ্যা খুঁজি, যাদের গুণফল −20 এবং যোগফল −1 (x-এর সহগ)। সংখ্যা দুটি −5 ও 4, কারণ (−5) × 4 = −20 এবং (−5) + 4 = −1। তাই মধ্যপদ ভেঙে লিখি: x² − 5x + 4x − 20 = x(x − 5) + 4(x − 5) = (x − 5)(x + 4)।
যাচাই: (x − 5)(x + 4) = x² + 4x − 5x − 20 = x² − x − 20।
মনে রাখুন: x² + px + q আকারের রাশিতে দুটি উৎপাদকের যোগফল p এবং গুণফল q হয়। - ৩৫. একটি বৃত্তের ক্ষেত্রফল ১৬π বর্গমিটার এবং পরিধি ৮π মিটার হলে ব্যাসার্ধ কত?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ) ২০১৯
- ক. ২ মিটার
- খ. ৪ মিটার
- গ. ৫ মিটার
- ঘ. ৩ মিটার
উত্তর: খ. ৪ মিটার
বৃত্তের ক্ষেত্রফল πr² এবং পরিধি 2πr। ক্ষেত্রফলকে পরিধি দিয়ে ভাগ করলে πr²/2πr = r/2 পাওয়া যায়। প্রশ্নের মান অনুযায়ী 16π/8π = 2, তাই r/2 = 2 এবং r = 4 মিটার।
যাচাই: r = 4 হলে ক্ষেত্রফল π × 16 = 16π এবং পরিধি 2 × π × 4 = 8π, দুটিই মেলে।
শর্টকাট: r = 2 × ক্ষেত্রফল ÷ পরিধি = 2 × 16 ÷ 8 = 4।
মনে রাখুন: ব্যাস = 2r এবং পরিধি = π × ব্যাস। - ৩৬. x⁰ + y⁰ = কত?
- ক. ০
- খ. ১
- গ. ২
- ঘ. x + y
উত্তর: গ. ২
যেকোনো অশূন্য সংখ্যার শূন্য ঘাত (Zero Power) সবসময় 1। অর্থাৎ a⁰ = 1, যেখানে a ≠ 0। কারণ ঘাতের নিয়মে a³ ÷ a³ = a³⁻³ = a⁰, আবার একই সংখ্যাকে নিজ দিয়ে ভাগ করলে 1 আসে। তাই x⁰ = 1 এবং y⁰ = 1, ফলে x⁰ + y⁰ = 1 + 1 = 2।
মনে রাখুন:
0⁰ এর মান নির্দিষ্ট করা হয় না, তাই শর্ত হিসেবে a ≠ 0 বলা হয়।
a⁻ⁿ = 1/aⁿ এবং a¹ = a।
যেমন 5⁰ = 1 এবং 100⁰ = 1। - ৩৭. x⁴ − x² − 1 = 0 হলে, x² − 1/x² = কত?
- ক. ০
- খ. ১
- গ. ২
- ঘ. ৪
উত্তর: খ. ১
সমীকরণটি x⁴ − x² − 1 = 0। এখান থেকে 1 ডানে সরিয়ে লিখলে x⁴ − 1 = x² পাই। এবার দুই পাশকে x² দিয়ে ভাগ করি: (x⁴ − 1)/x² = x²/x² = 1। বামপক্ষ ভাঙলে x⁴/x² − 1/x² = x² − 1/x², সুতরাং x² − 1/x² = 1।
অতএব নির্ণেয় মান 1।
মনে রাখুন: এ ধরনের অঙ্কে প্রদত্ত সমীকরণকে x² বা x দিয়ে ভাগ করে x ও 1/x-এর রাশি তৈরি করা একটি পরিচিত কৌশল। - ৩৮. একটি সমকোণী ত্রিভুজের ভূমি ৫ মিটার ও অতিভুজ ১৩ মিটার হলে ত্রিভুজের পরিসীমা হবে–
- ক. ২৫ মিটার
- খ. ৩৫ মিটার
- গ. ৩০ মিটার
- ঘ. ৩৬ মিটার
উত্তর: গ. ৩০ মিটার
সমকোণী ত্রিভুজে পিথাগোরাসের সূত্র অনুযায়ী অতিভুজ² = ভূমি² + লম্ব²। এখানে লম্ব = √(13² − 5²) = √(169 − 25) = √144 = 12 মিটার। সুতরাং পরিসীমা = 5 + 12 + 13 = 30 মিটার।
মনে রাখুন:
(5, 12, 13) একটি পিথাগোরীয় ত্রয়ী, যেমন (3, 4, 5), (8, 15, 17) এবং (7, 24, 25)।
ত্রিভুজের পরিসীমা মানে তিন বাহুর দৈর্ঘ্যের যোগফল।
সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = ½ × ভূমি × লম্ব = ½ × 5 × 12 = 30 বর্গমিটার। - ৩৯. বার্ষিক ৮% হার সুদে কত বছরে সুদ আসলের সমান হবে?
- ক. ৮ বছর
- খ. ১২½ বছর
- গ. ১০ বছর
- ঘ. ১৪½ বছর
উত্তর: খ. ১২½ বছর
ধরি আসল = P এবং n বছরে সুদ আসলের সমান হয়। সরল সুদের সূত্রে I = Pnr, যেখানে I = P এবং r = 8/100। তাই P = P × n × 8/100, অর্থাৎ n = 100/8 = 12½ বছর।
শর্টকাট: সুদ আসলের সমান হতে সময় = 100 ÷ সুদের হার।
যাচাই: প্রতি বছরে সুদ আসলের 8%, তাই 12½ বছরে সুদ হয় 12.5 × 8% = 100%, অর্থাৎ আসলের সমান।
মনে রাখুন: সুদ আসলের দ্বিগুণ বা তিনগুণ হতে সময় এই মানকে 2 বা 3 দিয়ে গুণ করলে পাওয়া যায়। - ৪০. a + b = 4 এবং a − b = 2 হলে, a² + b² এর মান কত?
- ক. 5
- খ. 15
- গ. 10
- ঘ. 20
উত্তর: গ. 10
a + b = 4 ও a − b = 2 যোগ করলে 2a = 6, তাই a = 3। তখন b = 4 − 3 = 1। অতএব a² + b² = 9 + 1 = 10।
শর্টকাট: a² + b² = {(a + b)² + (a − b)²}/2 = (16 + 4)/2 = 10।
মনে রাখুন:
(a + b)² + (a − b)² = 2(a² + b²)।
(a + b)² − (a − b)² = 4ab।
এখানে ab = 3 × 1 = 3, আর 4ab = 12 হয়, যা 16 − 4 এর সমান। - ৪১. ৭২ সংখ্যাটির মোট ভাজক আছে কতটি?
- ক. ৯টি
- খ. ১০টি
- গ. ১১টি
- ঘ. ১২টি
উত্তর: ঘ. ১২টি
কোনো সংখ্যার মোট ভাজক কতগুলো, তা বের করতে হলে আগে সংখ্যাটিকে মৌলিক উৎপাদকে ভাঙি। ৭২-কে ভাঙলে 72 = 2³ × 3² হয়। এরপর প্রতিটি ঘাতের সাথে 1 যোগ করে গুণ করি: (3 + 1)(2 + 1) = 4 × 3 = 12টি।
যাচাই: 1, 2, 3, 4, 6, 8, 9, 12, 18, 24, 36, 72 গুনলে ঠিক ১২টি ভাজক পাওয়া যায়।
মনে রাখুন: যে সংখ্যার ভাজক সংখ্যা বিজোড়, সেটি পূর্ণবর্গ সংখ্যা। যেমন 36-এর ভাজক ৯টি। - ৪২. ABC ত্রিভুজের AB = AC, ∠A = 40° হলে, ∠B = কত?
- ক. 40°
- খ. 70°
- গ. 60°
- ঘ. 100°
উত্তর: খ. 70°
ত্রিভুজ ABC-তে AB = AC, তাই এটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ। সমদ্বিবাহু ত্রিভুজে সমান বাহুর বিপরীত কোণ দুটি সমান, অর্থাৎ ∠B = ∠C। ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি 180°, তাই ∠B + ∠C = 180° − 40° = 140°। অতএব ∠B = 140°/2 = 70°।
শর্টকাট: সমদ্বিবাহু ত্রিভুজে ভূমিকোণ = (180° − শীর্ষকোণ)/2।
মনে রাখুন:
সমবাহু ত্রিভুজের প্রতিটি কোণ 60°।
ত্রিভুজের বহিঃকোণ তার অন্তঃস্থ বিপরীত কোণ দুটির সমষ্টির সমান। - ৪৩. ২৫ থেকে কোন সংখ্যাকে বিয়োগ করলে বিয়োগফল সংখ্যা অপেক্ষা ৫ বেশি হবে?
- ক. ৭
- খ. ৯
- গ. ১০
- ঘ. ১২
উত্তর: গ. ১০
ধরি সংখ্যাটি x। শর্ত অনুযায়ী 25 থেকে x বিয়োগ করলে যা থাকে, তা x থেকে 5 বেশি। তাই 25 − x = x + 5, অর্থাৎ 2x = 20 এবং x = 10।
যাচাই: 25 − 10 = 15 এবং 10 + 5 = 15, দুটি মিলে যায়।
মনে রাখুন: এ ধরনের অঙ্কে অজানা সংখ্যাকে x ধরে কথার শর্তটাকে সমীকরণে লিখে নিলে সমাধান সহজ হয়। - ৪৪. নিচের কোন ভগ্নাংশটি সবচেয়ে বড়?
- ক. ২/৩
- খ. ৪/৫
- গ. ১৩/১৫
- ঘ. ২৩/৩০
উত্তর: গ. ১৩/১৫
ভগ্নাংশগুলোর হর 3, 5, 15 ও 30, এদের ল.সা.গু. 30। সবগুলোকে 30 হর করে লিখলে 2/3 = 20/30, 4/5 = 24/30, 13/15 = 26/30 এবং 23/30। এদের মধ্যে 26/30 সবচেয়ে বড়, অর্থাৎ 13/15 সবচেয়ে বড়।
মনে রাখুন:
একাধিক ভগ্নাংশ তুলনা করতে হরগুলোর ল.সা.গু. দিয়ে সমহর করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
সমহর হলে যার লব বড়, সেই ভগ্নাংশই বড়।
এখানে ক্রম হলো 23/30 < 2/3 < 4/5 < 13/15। - ৪৫. ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা কয়টি?
- ক. ১২টি
- খ. ১০টি
- গ. ৯টি
- ঘ. ৮টি
উত্তর: খ. ১০টি
মৌলিক সংখ্যা হলো এমন সংখ্যা, যার ঠিক দুটি ভাজক আছে, 1 এবং ওই সংখ্যাটি নিজে। 1 থেকে 30 পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যাগুলো 2, 3, 5, 7, 11, 13, 17, 19, 23, 29। এদের সংখ্যা 10টি।
মনে রাখুন:
2 একমাত্র জোড় মৌলিক সংখ্যা এবং 1 মৌলিকও নয়, যৌগিকও নয়।
1 থেকে 100 পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা মোট 25টি।
যে সংখ্যার দুইয়ের বেশি ভাজক আছে, তাকে যৌগিক সংখ্যা বলে। - ৪৬. ৫, ৯, ২৪ এর গাণিতিক গড়, ৯, ৯ এবং কোন সংখ্যার গাণিতিক গড়ের সমান?
- ক. ২০
- খ. ১৬
- গ. ১৪
- ঘ. ২৮
উত্তর: ক. ২০
প্রথমে ৫, ৯ ও ২৪-এর গাণিতিক গড় বের করি: (5 + 9 + 24)/3 = 38/3। ধরি ৯, ৯ ও x-এর গড়ও এর সমান, তাই (9 + 9 + x)/3 = 38/3। এ থেকে 18 + x = 38 এবং x = 20।
শর্টকাট: গড় সমান হলে তিন সংখ্যার যোগফলও সমান হয়। তাই 38 − 18 = 20।
মনে রাখুন: গাণিতিক গড় = সংখ্যাগুলোর যোগফল ÷ সংখ্যার সংখ্যা। কাজেই গড় আর সংখ্যার সংখ্যা জানা থাকলে যোগফল সরাসরি বের করা যায়। - ৪৭. log₂16 এর মান কোনটি?
- ক. 5
- খ. 3
- গ. 4
- ঘ. 1/4
উত্তর: গ. 4
লগারিদমের সংজ্ঞা অনুযায়ী log_a(a^n) = n। এখানে 16 = 2⁴, তাই log₂16 = log₂2⁴ = 4 × log₂2 = 4 × 1 = 4।
অন্যভাবে বললে প্রশ্নটি হলো 2-কে কত ঘাতে তুললে 16 হয়, আর উত্তর 4, কারণ 2⁴ = 16।
মনে রাখুন:
log_a a = 1 এবং log_a 1 = 0।
log₂8 = 3 এবং log₂32 = 5।
log(mn) = log m + log n এবং log(m/n) = log m − log n। - ৪৮. দুইটি সংখ্যার সমষ্টি 70 এবং অন্তরফল 10 হলে বড় সংখ্যাটি কত?
- ক. 35
- খ. 40
- গ. 50
- ঘ. 60
উত্তর: খ. 40
ধরি সংখ্যা দুটি x ও y এবং x > y। প্রশ্ন অনুযায়ী x + y = 70 আর x − y = 10। দুটি সমীকরণ যোগ করলে 2x = 80, তাই x = 40। তখন y = 70 − 40 = 30।
শর্টকাট: বড় সংখ্যা = (সমষ্টি + অন্তর)/2 = 80/2 = 40, আর ছোট সংখ্যা = (সমষ্টি − অন্তর)/2 = 30।
যাচাই: 40 + 30 = 70 এবং 40 − 30 = 10, দুটি শর্তই ঠিক। - ৪৯. x + 1/x = a হলে x³ + 1/x³ = কত?
- ক. a²−3a
- খ. a⁴+3a
- গ. a³−3a
- ঘ. 2a³−3a
উত্তর: গ. a³−3a
x + 1/x = a। এর ঘন নিলে (x + 1/x)³ = x³ + 1/x³ + 3·x·(1/x)·(x + 1/x)। এখানে x·(1/x) = 1, তাই a³ = x³ + 1/x³ + 3a। সুতরাং x³ + 1/x³ = a³ − 3a।
উদাহরণ: x + 1/x = 2 হলে x = 1, তাই x³ + 1/x³ = 2। সূত্রে a = 2 বসালে 8 − 6 = 2, মিলে যায়।
মনে রাখুন:
x³ + 1/x³ = (x + 1/x)³ − 3(x + 1/x)।
x² + 1/x² = (x + 1/x)² − 2। - ৫০. ABCD রম্বসের ∠B = 80° হলে ∠C = কত?
- ক. 120°
- খ. 70°
- গ. 80°
- ঘ. 100°
উত্তর: ঘ. 100°
রম্বসের বিপরীত কোণ সমান এবং সন্নিহিত কোণ দুটির সমষ্টি 180°। এখানে ∠B-এর সন্নিহিত কোণ ∠C, তাই ∠C = 180° − 80° = 100°। অর্থাৎ ∠B ও ∠C-র সমষ্টি 180° হয়, আর ∠B-এর বিপরীত কোণ ∠D হলো 80°।
মনে রাখুন:
রম্বসের চার বাহু সমান, কর্ণ দুটি পরস্পরকে সমকোণে সমদ্বিখণ্ডিত করে।
রম্বসের চার কোণের সমষ্টি 360°।
রম্বসের ক্ষেত্রফল = ½ × কর্ণ দুটির গুণফল।
বাংলা
- ৫১. 'ভ্রান্তিবিলাস' কার লেখা?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ঘ. প্রমথ চৌধুরী
উত্তর: খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস (The Comedy of Errors) নাটকের কাহিনি নিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ভ্রান্তিবিলাস' রচনা করেন। এটি তাঁর অনুবাদমূলক গদ্যগ্রন্থ, যা ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। দুই জোড়া যমজ ভাইয়ের চেহারা এক রকম হওয়ায় নাটকে নানা ভুল বোঝাবুঝি ঘটে, বাংলা নামের 'ভ্রান্তি' শব্দটি সেদিকেই ইঙ্গিত করে।
মনে রাখুন:
বিদ্যাসাগরের অন্যান্য অনুবাদ: বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস।
তাঁর মৌলিক গ্রন্থ: বিধবাবিবাহ বিষয়ক প্রস্তাব, প্রভাবতী সম্ভাষণ।
তাঁর লেখা বর্ণপরিচয় বাংলা শিক্ষার প্রাথমিক বই হিসেবে বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়েছে। - ৫২. কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস?
- ক. স্বর্ণলতা
- খ. কপালকুণ্ডলা
- গ. আলালের ঘরের দুলাল
- ঘ. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
উত্তর: খ. কপালকুণ্ডলা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস বলা হয়। অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন লেখকদের: 'আলালের ঘরের দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের, 'স্বর্ণলতা' তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের এবং 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' হানা ক্যাথরিন ম্যালেন্সের। এই উপন্যাসে নবকুমার সমুদ্রতীরে কাপালিকের আশ্রমে কপালকুণ্ডলাকে খুঁজে পান এবং তাঁকে বিয়ে করে ঘরে ফেরেন। অরণ্যে বেড়ে ওঠা মেয়েটি সংসারের বাঁধনে মানিয়ে নিতে পারে না, আর এই টানাপোড়েনেই কাহিনি করুণ পরিণতির দিকে যায়।
মনে রাখুন:
বঙ্কিমের প্রথম উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস: বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, আনন্দমঠ।
'বন্দে মাতরম' গানটি 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের অংশ। - ৫৩. 'বীরাঙ্গনা কাব্য' কার রচনা?
- ক. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
- খ. ঈশ্বরগুপ্ত
- গ. অক্ষয় কুমার দত্ত
- ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর: ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। এতে পৌরাণিক নারীরা নিজেদের প্রিয়জনকে চিঠি লিখে মনের কথা জানায়, মোট এগারোটি পত্র আছে। তিনি এতে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেছেন, যে ছন্দের প্রথম প্রয়োগ হয়েছিল তাঁর 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে'।
মনে রাখুন:
মধুসূদনের অন্যান্য কাব্য: তিলোত্তমাসম্ভব, মেঘনাদবধ কাব্য, ব্রজাঙ্গনা।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য।
তাঁর লেখা চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন। - ৫৪. 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গ. কাজী নজরুল ইসলাম
- ঘ. রামমোহন রায়
উত্তর: গ. কাজী নজরুল ইসলাম
'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা, যা ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন এবং অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমি ফুটে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে এই উপন্যাস পরিচিত নয়।
মনে রাখুন:
নজরুলের উপন্যাস: বাঁধনহারা (১৯২৭), মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০), কুহেলিকা (১৯৩১)।
'বাঁধনহারা' পত্রোপন্যাস, অর্থাৎ চিঠির আকারে লেখা।
নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (১৯২২), যেখানে 'বিদ্রোহী' কবিতা আছে। - ৫৫. কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক?
- ক. কৃষ্ণকুমারী
- খ. রক্তকরবী
- গ. বসন্তকুমারী
- ঘ. সধবার একাদশী
উত্তর: খ. রক্তকরবী
'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত রূপক-সাংকেতিক নাটক (১৯২৬)। এতে যক্ষপুরীর রাজার লোভ ও যন্ত্রসভ্যতার নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে মানুষের প্রাণের জয় দেখানো হয়েছে। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে 'কৃষ্ণকুমারী' মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক এবং 'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন। এই নাটকে নন্দিনী নামের এক মেয়ে সোনার খনির শ্রমিকদের প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলে এবং রাজার অন্ধকার জগতে আলো আনে। রক্তকরবী ফুল এখানে ভালোবাসা ও প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে এসেছে।
মনে রাখুন:
রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য নাটক: ডাকঘর, মুক্তধারা, রাজা, অচলায়তন, তাসের দেশ।
মধুসূদনের প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯)।
দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত নাটক 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। - ৫৬. 'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে/কে বাঁচিতে চায়?'– উক্তিটি কার?
- ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- খ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- গ. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘ. বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর: গ. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে, কে বাঁচিতে চায়?' চরণটি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' কাব্যের (১৮৫৮) অংশ। কাব্যে রাজপুত রাজা যুদ্ধে সৈন্যদের উৎসাহ দিতে এই কথা বলেন। তাই এটি বাংলা সাহিত্যে স্বদেশপ্রেমের এক বিখ্যাত উক্তি। মধুসূদন, ঈশ্বরগুপ্ত বা বিহারীলালের নামে এই চরণ পরিচিত নয়।
মনে রাখুন:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য কাব্য: কর্মদেবী ও শূরসুন্দরী।
'পদ্মিনী উপাখ্যান'-এর কাহিনি নেওয়া হয়েছে কর্নেল টডের রাজস্থান নামের ইতিহাসগ্রন্থ থেকে।
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি বলা হয়। - ৫৭. 'নয়নচারা' গল্পের লেখক কে?
- ক. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- খ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- গ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: ক. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
'নয়নচারা' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা গল্পগ্রন্থ, যা ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর আরেকটি গল্পগ্রন্থ 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫)। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বিখ্যাত গল্পকার হলেও এই বইটির লেখক তাঁরা নন।
মনে রাখুন:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস: লালসালু (১৯৪৮), চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো।
'লালসালু' তাঁর প্রথম উপন্যাস, যা ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে Tree Without Roots নামে।
তাঁর জন্ম চট্টগ্রামে (১৯২২), আর মৃত্যু প্যারিসে (১৯৭১)। - ৫৮. বাংলা গদ্যের জনক কাকে বলা হয়?
- ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- গ. প্যারীচাঁদ মিত্র
- ঘ. কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর: খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে প্রথম সুশৃঙ্খল ও সুন্দর রূপ এনেছিলেন। তিনি বাক্যে যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার চালু করেন এবং ভাষায় ছন্দ ও সংহতি আনেন। এ কারণেই তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। বঙ্কিমচন্দ্র গদ্যকে আরও সাবলীল ও শক্তিশালী করেছেন ঠিকই, কিন্তু গদ্যের ভিত্তি গড়ার কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
মনে রাখুন:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালী ভাষা' এবং কালীপ্রসন্ন সিংহের 'হুতোমি ভাষা' কথ্য ভাষার গদ্যরীতির উদাহরণ। - ৫৯. 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকটির রচয়িতা কে?
- ক. সৈয়দ শামসুল হক
- খ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- গ. সৈয়দ মুজতবা আলী
- ঘ. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম
উত্তর: খ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত নাটক। তিনি একই সঙ্গে ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার ছিলেন। তাই সৈয়দ নামের অন্য বিখ্যাত লেখকদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। সৈয়দ শামসুল হক কবি, কাব্যনাট্যকার ও ঔপন্যাসিক, আর সৈয়দ মুজতবা আলী ভ্রমণকাহিনি ও রম্যরচনার জন্য পরিচিত।
মনে রাখুন:
ওয়ালীউল্লাহর অন্যান্য নাটক: বহিপীর (১৯৬০), সুড়ঙ্গ (১৯৬৪), উজানে মৃত্যু।
সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' ও 'নূরলদীনের সারাজীবন'।
সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত বই 'দেশে বিদেশে' ও 'পঞ্চতন্ত্র'। - ৬১. শাহ আবদুল করিমের জন্ম কোন জেলায়?
- ক. মানিকগঞ্জ
- খ. মুন্সিগঞ্জ
- গ. নারায়ণগঞ্জ
- ঘ. সুনামগঞ্জ
উত্তর: ঘ. সুনামগঞ্জ
শাহ আবদুল করিম ছিলেন একজন বিখ্যাত বাউল ও লোকগানের রচয়িতা। তিনি ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গানে ভাটি অঞ্চলের নদী, হাওর আর সাধারণ মানুষের জীবন ধরা পড়েছে। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'আফতাব সংগীত' (১৯৪৮)।
মনে রাখুন:
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ: গণসংগীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি।
তিনি ভাটি অঞ্চলের বাউল হিসেবে পরিচিত।
সুনামগঞ্জ জেলা সিলেট বিভাগের অন্তর্গত। - ৬২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. ১৯০৩
- খ. ১৯১৩
- গ. ১৯২৩
- ঘ. ১৯৩৩
উত্তর: খ. ১৯১৩
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি রূপ 'Song Offerings'-এর জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী। ইংরেজি বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস। এই পুরস্কারের সুবাদে বাংলা সাহিত্য প্রথমবার বিশ্ব পরিমণ্ডলে পরিচিতি পায়। কবির জন্ম ১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয়, এবং ১৯০১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে বিশ্বভারতী নামে বড় হয়।
মনে রাখুন:
'গীতাঞ্জলি'র বাংলা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে।
'Song Offerings' প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেন। - ৬৩. 'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকের পটভূমি কী?
- ক. ভাষা আন্দোলন
- খ. মুক্তিযুদ্ধ
- গ. অসহযোগ আন্দোলন
- ঘ. কৃষক বিদ্রোহ
উত্তর: ঘ. কৃষক বিদ্রোহ
'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক। এর কাহিনি আঠারো শতকের শেষ দিকের রংপুর অঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নূরলদীন ছিলেন সেই বিদ্রোহের নেতা, যিনি জমিদার ও ইংরেজ শাসকদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন। ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ নয়, কৃষক বিদ্রোহই এই নাটকের পটভূমি।
মনে রাখুন:
১৭৮৩ সালের এই বিদ্রোহের নাম রংপুর কৃষক বিদ্রোহ, এবং এটি দেবী সিংহের অত্যাচারের বিরুদ্ধে হয়েছিল।
নাটকের একটি বিখ্যাত আহ্বান হলো 'জাগো বাহে, কোনঠে সবায়'। - ৬৪. 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যটি কার লেখা?
- ক. শামসুর রাহমান
- খ. নির্মলেন্দু গুণ
- গ. সৈয়দ শামসুল হক
- ঘ. জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: ক. শামসুর রাহমান
'বন্দী শিবির থেকে' (১৯৭২) কবি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তানি দমননীতির অভিজ্ঞতা কবিতার ভাষায় এসেছে। শামসুর রাহমান স্বাধীনতার আগে-পরে দুই সময়েই দেশের মানুষের দুঃখ-আনন্দ নিয়ে লিখেছেন, তাই তাঁকে এ দেশের আধুনিক কবিতার প্রধান কবিদের একজন ধরা হয়।
মনে রাখুন:
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' (১৯৬০)।
তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কবিতা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা'।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহিদ আসাদকে নিয়ে তিনি লিখেছেন 'আসাদের শার্ট' কবিতাটি। - ৬৫. শহিদ জননী জাহানারা ইমামের রচনা কোনটি?
- ক. হৃদয়ে একাত্তর
- খ. মূলধারা একাত্তর
- গ. একাত্তরের দিনগুলি
- ঘ. স্বাধীনতা ১৯৭১
উত্তর: গ. একাত্তরের দিনগুলি
জাহানারা ইমাম 'শহিদ জননী' নামে পরিচিত, কারণ তাঁর ছেলে রুমি মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা তিনি লিখেছেন 'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থে (১৯৮৬)। এটি তাঁর ডায়েরির আদলে লেখা স্মৃতিকথা। অন্য বিকল্পের নামগুলো মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে লেখা আলাদা বইয়ের নাম, কিন্তু সেগুলো তাঁর রচনা নয়।
মনে রাখুন:
তিনি ১৯৯২ সালে 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
'মূলধারা একাত্তর' গ্রন্থটি মইদুল হাসানের লেখা। - ৬৬. 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
- ক. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- খ. হাসান আজিজুল হক
- গ. সৈয়দ শামসুল হক
- ঘ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর: ক. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
'চিলেকোঠার সেপাই' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস (১৯৮৬)। এর পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চেতনার ছবি ফুটে উঠেছে। চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকা এক চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক তখনকার ঢাকা শহরের টানাপোড়েন তুলে ধরেছেন। চিলেকোঠার সেপাই-এর নায়ক ওসমান গনি ঘরের ভেতরে আড়াল নিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক উত্তাল সময় তাকে ঠিকই ছুঁয়ে যায়। উপন্যাসটিকে বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে ধরা হয়।
মনে রাখুন:
ইলিয়াসের আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস 'খোয়াবনামা' (১৯৯৬)।
হাসান আজিজুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'আগুনপাখি'।
সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'খেলারাম খেলে যা'। - ৬৭. ক্রিয়ার মূলকে কী বলে?
- ক. ধ্বনি
- খ. বর্ণ
- গ. ধাতু
- ঘ. রূপমূল
উত্তর: গ. ধাতু
ক্রিয়াপদের মূল অংশকে ধাতু বা ক্রিয়া প্রকৃতি (Root) বলে। যেমন 'করিব' শব্দে মূল অংশ √কর, যার সঙ্গে ইব যুক্ত হয়েছে। ধাতু বোঝাতে আমরা √ চিহ্ন ব্যবহার করি। ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গড়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
ধাতু দুই প্রকার: মৌলিক ধাতু ও সাধিত ধাতু।
মৌলিক ধাতুকে ভাঙা যায় না, যেমন √কর, √চল।
যে ধাতু অন্য ধাতু বা শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেটি সাধিত ধাতু।
রূপমূল হলো শব্দের অর্থবহ ক্ষুদ্রতম অংশ, আর ধাতু ক্রিয়ার মূল। - ৬৮. ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
- ক. রূপমূল
- খ. ধ্বনি
- গ. শব্দ
- ঘ. বাক্য
উত্তর: খ. ধ্বনি
ভাষার সবচেয়ে ছোট একক হলো ধ্বনি (Sound)। আমরা বাগযন্ত্রের সাহায্যে মুখ দিয়ে যে আলাদা আলাদা আওয়াজ করি, সেগুলোই ধ্বনি। কয়েকটি ধ্বনি মিলে শব্দ তৈরি হয়, আর কয়েকটি শব্দ মিলে বাক্য। বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ, ধ্বনি আমরা শুনি আর বর্ণ আমরা দেখি। রূপমূল আবার ধ্বনির চেয়ে বড়, কারণ এটি অর্থ বহন করে।
মনে রাখুন:
ভাষার একক ছোট থেকে বড় ক্রমে: ধ্বনি, শব্দ, বাক্য।
ধ্বনি নিয়ে আলোচনা হয় ধ্বনিতত্ত্বে।
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। - ৬৯. 'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে'– এই বাক্যে 'বুলবুলিতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- ক. কর্মে সপ্তমী
- খ. করণে সপ্তমী
- গ. অধিকরণে সপ্তমী
- ঘ. কর্তায় সপ্তমী
উত্তর: ঘ. কর্তায় সপ্তমী
'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে' বাক্যে ধান খাওয়ার কাজটি করেছে বুলবুলি, তাই সে কর্তা। কর্তা হিসেবে এখানে 'বুলবুলি'-র সঙ্গে 'তে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে, যা সপ্তমী বিভক্তি। অতএব এটি কর্তায় সপ্তমী। অধিকরণ কারক সাধারণত স্থান বা সময় বোঝায়, কিন্তু এখানে কোনো স্থান বোঝানো হয়নি, কাজ কে করল সেটাই বলা হয়েছে।
মনে রাখুন:
সপ্তমী বিভক্তির চিহ্ন এ, য়, তে।
কারক ছয় প্রকার: কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।
উদাহরণ:
পাখিতে ধান খেয়েছে। (কর্তায় সপ্তমী)
বাক্সে বই আছে। (অধিকরণে সপ্তমী) - ৭০. 'জঙ্গম' শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্থবির
- খ. জঙ্গলময়
- গ. দ্রুত ধাবমান
- ঘ. চলন্ত
উত্তর: ঘ. চলন্ত
'জঙ্গম' শব্দের অর্থ চলন্ত বা গতিশীল, যা নিজে নিজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে। মানুষ, পশু, পাখি জঙ্গম। এর বিপরীত শব্দ 'স্থাবর', অর্থাৎ যা এক জায়গায় স্থির থাকে। 'জঙ্গম'-কে জঙ্গলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়, কারণ দুটি শব্দের উৎস ও অর্থ আলাদা।
মনে রাখুন:
জঙ্গম ও স্থাবর শব্দ দুটি সম্পত্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন স্থাবর সম্পত্তি মানে জমি-বাড়ি।
জঙ্গম সম্পত্তি মানে সরিয়ে নেওয়া যায় এমন সম্পদ, যেমন টাকা-গহনা।
পাহাড়-গাছ স্থাবর, আর মানুষ-প্রাণী জঙ্গম। - ৭১. 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ কী?
- ক. ভূমিকা
- খ. ব্যাখ্যা
- গ. উপসংহার
- ঘ. মন্তব্য
উত্তর: ক. ভূমিকা
'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারার অর্থ ভূমিকা। বৈষ্ণব পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের লীলা গাওয়ার আগে গৌরাঙ্গ বা শ্রীচৈতন্যের বন্দনা-সংক্রান্ত যে পদ গাওয়া হতো, তাকে গৌরচন্দ্রিকা বলে। সেখান থেকেই যেকোনো কাজের আগের ভূমিকা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
অরণ্যে রোদন মানে নিষ্ফল আবেদন।
অকাল কুষ্মাণ্ড মানে অপদার্থ।
বাগধারা বা বাগ্ধারা এমন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ শব্দগুলোর সাধারণ অর্থ থেকে আলাদা হয়ে যায়।
উদাহরণ:
আসল কথাটা বলার আগে এত গৌরচন্দ্রিকা কেন? - ৭২. 'নেতা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
- ক. √নি + তৃ
- খ. √নী + তা
- গ. √নে + তাই
- ঘ. √নৃ + তা
উত্তর: খ. √নী + তা
'নেতা' শব্দটি এসেছে নী (নিয়ে যাওয়া) ধাতু থেকে। ধাতুর সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে এই শব্দ গঠিত, তাই শব্দটির মূলে আছে ধাতু নী। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে নী ধাতু ও 'তা' প্রত্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে এখানে √নী + তা রূপটিই নেওয়া হয়েছে। নি, নে বা নৃ ধাতুর সঙ্গে এই শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন:
সংস্কৃত নিয়মে মূল রূপ নী + তৃ = নেতৃ (প্রথমা একবচনে নেতা)।
একই রকম শব্দ: কর্তা (√কৃ + তৃ), দাতা (√দা + তৃ)।
কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় ধাতুর সঙ্গে, আর তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয় শব্দের সঙ্গে। - ৭৩. 'Annex' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
- ক. গ্রন্থপঞ্জি
- খ. নির্ঘণ্ট
- গ. কোড়পত্র
- ঘ. পরিশিষ্ট
উত্তর: ঘ. পরিশিষ্ট
ইংরেজি 'Annex' শব্দের বাংলা পরিভাষা পরিশিষ্ট, অর্থাৎ কোনো মূল লেখার শেষে যুক্ত করা অতিরিক্ত অংশ। বইয়ের শেষে এই অংশে বাড়তি তথ্য দেওয়া হয়। গ্রন্থপঞ্জি ও নির্ঘণ্টও বইয়ের শেষ দিকে থাকে, কিন্তু সেগুলোর কাজ আলাদা। মূল লেখার সঙ্গে যে অংশ পরে যোগ করা হয় এবং যাতে বাড়তি তথ্য, তালিকা বা সারণি থাকে, সেটিই পরিশিষ্ট। সরকারি নথিপত্র বা গবেষণাপত্রের শেষে আমরা প্রায়ই এমন অংশ দেখতে পাই। নির্ঘণ্ট শব্দ ও বিষয়ের তালিকা সাজিয়ে পৃষ্ঠা-নম্বর দেখায়, আর গ্রন্থপঞ্জি দেখায় কোন কোন বই থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন:
নির্ঘণ্ট = Index।
গ্রন্থপঞ্জি = Bibliography।
ভূমিকা = Preface, পাদটীকা = Footnote। - ৭৪. 'চিতল' শব্দটিতে কয়টি অক্ষর আছে?
- ক. একটি
- খ. দুটি
- গ. তিনটি
- ঘ. চারটি
উত্তর: খ. দুটি
একবারের শ্বাসপ্রয়াসে বা ঝোঁকে যতটুকু ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর (Syllable) বলে। 'চিতল' শব্দটিকে উচ্চারণের সময় আমরা চি-তল এভাবে দুই ঝোঁকে বলি, তাই এতে অক্ষর দুটি। ধ্বনি আর অক্ষর এক নয়। 'চিতল' শব্দের ধ্বনি পাঁচটি: চ্ + ই + ত্ + অ + ল্, কারণ ত-এর সঙ্গে একটি অ-ধ্বনি উচ্চারিত হয়। বর্ণ আবার চারটি: চ, ি, ত, ল-র হিসাবে।
মনে রাখুন:
অক্ষরে অন্তত একটি স্বরধ্বনি থাকে।
একটি অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ হলো একাক্ষর, দুটি হলে দ্বি-অক্ষর।
ইংরেজি
- ৭৫. Select the choice which gives the correct spelling :
- ক. Commemmorate
- খ. Comemorite
- গ. Commemorate
- ঘ. Commemmorate
উত্তর: গ. Commemorate
Commemorate মানে স্মরণ করা বা স্মরণীয় করে রাখা। বানানটি মনে রাখার উপায় হলো com + mem + orate, অর্থাৎ শুরুতে দুটি m পাশাপাশি (mm), তারপর e, আর তারপর আরও একটি m। বাকি বিকল্পে m-এর সংখ্যা বা স্বরবর্ণ ভুল। শব্দটি এসেছে memory (স্মৃতি) থেকে, তাই 'mem' অংশটা মনে রাখলে বানান আর ভুল হয় না।
মনে রাখুন:
Commemoration মানে স্মরণসভা বা স্মরণোৎসব।
Memorial মানে স্মারক বা স্মৃতিসৌধ।
ভুল হওয়ার মতো আরও কিছু বানান: Accommodate (দুটি c ও দুটি m), Recommend (একটি c ও দুটি m)।
উদাহরণ:
We commemorate Language Martyrs' Day on 21 February. - ৭৬. Choose the correct plural form :
- ক. wifes
- খ. roofs
- গ. wolfs
- ঘ. shelfs
উত্তর: খ. roofs
সাধারণ নিয়ম হলো f বা fe দিয়ে শেষ হওয়া শব্দের বহুবচনে f বদলে ves হয়, যেমন wife থেকে wives, wolf থেকে wolves এবং shelf থেকে shelves। কিন্তু roof এই নিয়ম মানে না, এর বহুবচন সরাসরি roofs। তাই প্রশ্নে wifes, wolfs ও shelfs ভুল, কারণ এ তিনটি শব্দে নিয়মমতো ves হওয়ার কথা।
মনে রাখুন:
Roof-এর মতো আরও কিছু শব্দ শুধু s নেয়: chief, belief, cliff, handkerchief।
আরও কিছু ves-যুক্ত বহুবচন: knife থেকে knives, leaf থেকে leaves, thief থেকে thieves।
উদাহরণ:
The roofs of the houses were wet. - ৭৭. 'He came to office late'. Here 'late' is—
- ক. a preposition
- খ. a noun
- গ. an adverb
- ঘ. an adjective
উত্তর: গ. an adverb
'He came to office late' বাক্যে late শব্দটি came ক্রিয়াটি কখন ঘটেছে তা জানাচ্ছে, তাই এটি adverb। ক্রিয়াকে যে শব্দ বিশেষিত করে, তাকে adverb বলে। এখানে late কোনো noun-এর আগে বসে তার গুণ বলছে না, আবার কোনো noun-এর সঙ্গে সম্পর্কও দেখাচ্ছে না, তাই এটি adjective বা preposition নয়।
মনে রাখুন: Late দিয়ে 'দেরিতে' বোঝায়, কিন্তু lately মানে 'সম্প্রতি'। দুটি শব্দের অর্থ আলাদা।
আরও কিছু শব্দ যেগুলো adjective ও adverb দুই কাজেই আসে: fast, hard, early।
উদাহরণ:
He came late. (adverb)
He is a late riser. (adjective) - ৭৮. The antonym of 'belittle' is—
- ক. despise
- খ. glorify
- গ. pacify
- ঘ. undermine
উত্তর: খ. glorify
Belittle মানে ছোট করে দেখা বা তুচ্ছ করা। এর বিপরীত অর্থ হলো কাউকে বড় করে দেখানো বা প্রশংসা করা। Glorify (মহিমান্বিত করা) শব্দটির অর্থ ঠিক তা-ই। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা: despise মানে ঘৃণা করা, pacify মানে শান্ত করা আর undermine মানে ভিত দুর্বল করা। এদের মধ্যে despise ও undermine বরং belittle-এর কাছাকাছি অর্থ বহন করে।
মনে রাখুন:
Belittle-এর আরেকটি বিপরীত শব্দ praise বা extol।
Belittle-এর সমার্থক শব্দ disparage ও demean।
Pacify-এর বিপরীত শব্দ agitate বা provoke। - ৭৯. The synonym of 'incredible' is—আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০২২
- ক. unthinkable
- খ. unlikely
- গ. unbelievable
- ঘ. inconsistent
উত্তর: গ. unbelievable
Incredible মানে অবিশ্বাস্য, অর্থাৎ যা বিশ্বাস করা কঠিন। একই অর্থ দেয় unbelievable। বাকি বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা: unthinkable মানে কল্পনার অতীত, unlikely মানে অসম্ভাব্য আর inconsistent মানে অসংগত। এই শব্দগুলো দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও incredible-এর সঙ্গে হুবহু মেলে শুধু unbelievable।
মনে রাখুন:
Incredible-এর বিপরীত শব্দ credible (বিশ্বাসযোগ্য)।
Incredible ও incredulous এক নয়। Incredulous মানে যে সহজে বিশ্বাস করে না।
আরেকটি জোড়া: credulous মানে সহজে বিশ্বাস করে এমন। - ৮০. The girl with long hair is my cousin. The underlined phrase 'with long hair' functions as—
- ক. a noun
- খ. an adverb
- গ. an adjective
- ঘ. a preposition
উত্তর: গ. an adjective
'The girl with long hair is my cousin' বাক্যে 'with long hair' অংশটি 'the girl' বিশেষ্যটির বর্ণনা দিচ্ছে, অর্থাৎ মেয়েটি কেমন বা কোন মেয়েটি, তা বলছে। যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ noun-কে বিশেষিত করে, সেটি adjective-এর কাজ করে। তাই এটি adjective phrase। এটি ক্রিয়ার সময়, স্থান বা পদ্ধতি বোঝাচ্ছে না, তাই adverb phrase নয়। আবার এটি নিজে নাম বা বস্তুকে নির্দেশ করছে না, তাই noun-ও নয়।
মনে রাখুন: Adjective phrase noun-এর গুণ বা অবস্থা বোঝায়, adverb phrase বোঝায় ক্রিয়ার সময়, স্থান বা পদ্ধতি।
উদাহরণ:
He lives in Dhaka. (adverb phrase, কোথায় থাকে তা বলছে) - ৮১. Which one is the correct sentence?
- ক. He is boast of his wealth.
- খ. He is proud on his wealth.
- গ. He boasts of his wealth.
- ঘ. He is boastful in his wealth.
উত্তর: গ. He boasts of his wealth.
Boast of/about something মানে কোনো কিছু নিয়ে গর্ব করা বা বড়াই করা। এখানে boast ক্রিয়া, তাই 'He boasts of his wealth' শুদ্ধ। বাকি বাক্যগুলোর ভুল: 'is boast' ক্রিয়ার রূপ ভুল, 'proud on' ভুল কারণ সঠিক হলো proud of, আর 'boastful in' ভুল কারণ সঠিক হলো boastful of।
মনে রাখুন:
Proud of, fond of, afraid of: এরা সবাই of নেয়।
Boast of বা boast about, দুটোই চলে।
উদাহরণ:
He is proud of his son.
She is fond of music. - ৮২. The synonym of 'eccentric' is—
- ক. talkative
- খ. reticent
- গ. coherent
- ঘ. peculiar
উত্তর: ঘ. peculiar
Eccentric মানে অদ্ভুত বা খামখেয়ালি, যে সাধারণ নিয়মের বাইরে চলে। একই অর্থ দেয় peculiar (অদ্ভুত)। বাকিগুলোর অর্থ আলাদা: talkative মানে বাচাল, reticent মানে স্বল্পভাষী আর coherent মানে সংগতিপূর্ণ। শব্দগুলো দেখতে কঠিন লাগলেও অর্থ ধরে ধরে মিলিয়ে নিলে পার্থক্য সহজেই ধরা যায়। Eccentric ব্যক্তি সমাজের চালু আচরণের সঙ্গে মেলে না, তবে তাকে খারাপ মানুষ বোঝায় না। বিজ্ঞানী ও শিল্পীদের অনেক সময় এই শব্দে বর্ণনা করা হয়।
মনে রাখুন:
Eccentric-এর আরেক সমার্থক শব্দ odd বা weird।
Eccentric-এর বিপরীত শব্দ normal বা conventional।
Talkative ও reticent পরস্পরের বিপরীত। - ৮৩. Mother prohibited me — going out. The appropriate preposition to the gap is—
- ক. from
- খ. on
- গ. in
- ঘ. at
উত্তর: ক. from
Prohibit শব্দের পরে from বসে, অর্থ কাউকে কিছু করা থেকে বিরত রাখা বা নিষেধ করা। তাই বাক্যটি দাঁড়ায় 'Mother prohibited me from going out'। from-এর পরে ক্রিয়া এলে তাতে -ing যোগ হয়, এখানে going।
মনে রাখুন:
Prohibit/ban/stop/prevent/forbid + somebody + from + verb-ing। শুধু forbid-এ কখনো to-infinitive-ও আসে, যেমন 'forbid someone to go'।
উদাহরণ:
The law prohibits people from smoking here.
The rain prevented us from going out. - ৮৪. You had better leave the place. This sentence suggests—
- ক. a request
- খ. an order
- গ. a command
- ঘ. an advice
উত্তর: ঘ. an advice
'You had better...' গঠনটি দিয়ে সাধারণত পরামর্শ বা সতর্কতামূলক উপদেশ দেওয়া হয়। এতে বলার ভঙ্গি আদেশের মতো কড়া নয়, আবার অনুরোধের মতো নরমও নয়। বলার ধরনে ইঙ্গিত থাকে যে কথাটা না মানলে ফল খারাপ হতে পারে। তাই বাক্যটি advice বোঝায়।
মনে রাখুন:
Had better-এর পরে verb-এর base form বসে।
নেতিবাচক রূপ হলো had better not।
উদাহরণ:
You had better see a doctor.
You had better not go out in the rain. - ৮৫. The door — automatically. The right form of the verb to fill in the gap is—
- ক. opened
- খ. was opened
- গ. has been opened
- ঘ. had been opened
উত্তর: ক. opened
Open এমন একটি ক্রিয়া, যা কখনো কখনো কর্মহীন (intransitive) ভাবে ব্যবহৃত হয়ে কাজটি নিজে নিজে ঘটার অর্থ দেয়। 'The door opened automatically' মানে দরজা নিজে নিজেই খুলে গেল। কেউ দরজা খুলে দিলে সেখানে কর্তা থাকত এবং passive হতো, কিন্তু automatically শব্দটি বোঝায় কোনো মানুষ সেটি খোলেনি। তাই এখানে সাধারণ past tense opened বসে।
মনে রাখুন: কেউ খুললে বোঝাতে passive 'The door was opened by him' হয়, কিন্তু automatically শব্দটি থাকলে নিজে নিজে খোলার অর্থ আসে।
উদাহরণ:
The shop opens at nine. (এখানেও open কর্মহীন) - ৮৬. He died — his country. The appropriate preposition to fill in the gap is—
- ক. of
- খ. from
- গ. at
- ঘ. for
উত্তর: ঘ. for
Die for মানে কোনো আদর্শ বা কারো জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা, তাই 'He died for his country' মানে সে দেশের জন্য প্রাণ দিল। অন্যদিকে die of ব্যবহার হয় রোগ বা কারণের ক্ষেত্রে, যেমন 'died of cancer'। এ কারণে of ও from এখানে খাটে না, কারণ দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ায় কোনো রোগ বা আঘাতের কারণ বোঝানো হয়নি।
মনে রাখুন:
Die of: রোগ বা ক্ষুধা।
Die from: আঘাত বা দুর্ঘটনা।
Die for: আদর্শ বা দেশ।
উদাহরণ:
He died of malaria.
The martyrs died for the language. - ৮৭. Fill in the gap : 'It is you who — to blame'.
- ক. was
- খ. has
- গ. have
- ঘ. were
উত্তর: ঘ. were
'It is you who ...' গঠনে who একটি relative pronoun, আর তার পরের ক্রিয়াটি পূর্বের pronoun you-এর person ও number অনুযায়ী বসে। You হলো দ্বিতীয় পুরুষ, তাই এর সঙ্গে was বা has চলে না, কারণ ওগুলো একবচন তৃতীয় পুরুষের রূপ। 'Have to blame'-এ অর্থ ঠিক থাকে না। তাই were বসিয়ে 'It is you who were to blame' হলে অর্থ দাঁড়ায় দোষী তুমিই ছিলে।
মনে রাখুন: Relative pronoun who নিজের পূর্বের pronoun-এর person ও number অনুযায়ী verb নেয়।
উদাহরণ:
It is I who am responsible.
It is he who is responsible. - ৮৮. You have no right to do it. The underlined word is—
- ক. an adjective
- খ. a noun
- গ. an adverb
- ঘ. a verb
উত্তর: খ. a noun
'You have no right to do it' বাক্যে right মানে অধিকার, যা একটি বিশেষ্য (noun)। এটি no দ্বারা বিশেষিত হয়েছে এবং have ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে বসেছে। Right শব্দটি অন্য বাক্যে adjective বা adverb-ও হতে পারে, তাই বাক্যের মধ্যে শব্দটির কাজ দেখেই পদ চিনতে হয়।
মনে রাখুন: Right শব্দটি অবস্থানভেদে বিভিন্ন পদ হতে পারে।
উদাহরণ:
This is the right answer. (adjective)
He has a right to vote. (noun)
Go right ahead. (adverb) - ৮৯. The noun of the word 'please' is—
- ক. pleasure
- খ. please
- গ. pleasance
- ঘ. pleasant
উত্তর: ক. pleasure
Please একটি ক্রিয়া, যার অর্থ সন্তুষ্ট করা বা খুশি করা। এর noun রূপ pleasure, অর্থাৎ আনন্দ বা সুখ। Pleasant হলো adjective (সুখকর), আর pleasing হলো V-ing রূপ। Pleasance শব্দটি আছে, কিন্তু সেটি সাধারণ ব্যবহারে প্রায় আসে না এবং প্রচলিত অর্থে please-এর noun হলো pleasure।
মনে রাখুন: Please (verb) → pleasure (noun) → pleasant (adjective) → pleasantly (adverb)।
আরও কিছু জোড়া: please → displeasure (অসন্তোষ), pleasure → pleasurable। - ৯০. Which one is the correct sentence?
- ক. He prefers write to read.
- খ. He prefers writing than reading.
- গ. He prefers more writing than reading.
- ঘ. He prefers writing to reading.
উত্তর: ঘ. He prefers writing to reading.
Prefer ক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করতে than নয়, to ব্যবহৃত হয়। আর দুটি কাজ তুলনা করলে দুটিতেই -ing যোগ করতে হয়: prefer + V-ing + to + V-ing। তাই 'He prefers writing to reading' শুদ্ধ। 'Prefers write to read' আর 'prefers more writing than' ভুল, কারণ প্রথমটিতে -ing নেই এবং দ্বিতীয়টিতে ভুল গঠন।
মনে রাখুন:
Prefer + noun + to + noun।
Superior, inferior, senior, junior শব্দের পরেও to বসে।
উদাহরণ:
I prefer tea to coffee.
She is senior to me. - ৯১. 'He helped me do it'. The passive voice of the sentence is—
- ক. It was done by him to help me.
- খ. I was helped by him to do it.
- গ. It was helped me by him to do it.
- ঘ. I was helped by him do it.
উত্তর: খ. I was helped by him to do it.
Active বাক্য 'He helped me do it'-এ help-এর পর object me এবং তারপর base verb do আছে। Passive করতে object me হয় subject I, আর help-এর পরের base verb passive-এ to-সহ আসে। তাই 'I was helped by him to do it' হয়। প্রথম বিকল্পে অর্থ বদলে গেছে, আর তৃতীয় ও চতুর্থ বিকল্পে গঠন ভুল।
মনে রাখুন: Active-এ help + object + base verb থাকলে passive-এ was/were helped + to + base verb।
উদাহরণ:
She helped me carry the box. → I was helped by her to carry the box. - ৯২. 'Iron is the most useful metal'. The positive form of the sentence is—
- ক. Very few metals are as useful as iron.
- খ. Iron is as useful as many other metals.
- গ. No metal is as useful as iron.
- ঘ. Iron is more useful than many other metals.
উত্তর: গ. No metal is as useful as iron.
Superlative degree-কে positive degree-তে বদলাতে 'No other + singular noun + verb + as + positive + as + subject' গঠন ব্যবহার করা হয়। 'Iron is the most useful metal' বাক্যে iron সবচেয়ে বেশি কাজের, তাই positive-এ বলা যায় 'No metal is as useful as iron'। অর্থাৎ অন্য কোনো ধাতুই লোহার মতো উপকারী নয়। 'Very few metals' বা 'many other metals' বললে অর্থ বদলে যায়, তাই সেগুলো সঠিক বিকল্প নয়।
মনে রাখুন:
Comparative রূপ: Iron is more useful than any other metal।
উদাহরণ:
He is the tallest boy in the class. → No other boy in the class is as tall as he. - ৯৩. Which of the following is the correct sentence?আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ) ২০২২
- ক. He has said that what is right.
- খ. He has said which is right.
- গ. What has he said is right.
- ঘ. What he has said is right.
উত্তর: ঘ. What he has said is right.
এখানে What দিয়ে শুরু হওয়া clause বাক্যের subject-এর কাজ করেছে। এটি প্রশ্ন নয়, তাই subject (he) আগে এবং auxiliary verb (has) পরে বসে: What he has said। এরপর is right বসে, অর্থ 'সে যা বলেছে তা সঠিক'। 'What has he said is right' ভুল, কারণ এখানে প্রশ্নের ক্রম ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য দুটি বিকল্পে that বা which বাড়তি এসে বাক্য নষ্ট করেছে।
মনে রাখুন: প্রশ্নবাচক বাক্যে auxiliary verb subject-এর আগে যায়, কিন্তু noun clause-এ যায় না।
উদাহরণ:
What did he say? (প্রশ্ন)
I know what he said. (noun clause) - ৯৪. Neither the moon nor the stars — visible last night. The verb to fill in the gap should be—
- ক. was
- খ. were
- গ. are
- ঘ. had been
উত্তর: খ. were
Neither...nor দিয়ে দুটি subject যুক্ত হলে verb হয় নিকটতম subject অনুযায়ী। এখানে nor-এর পরে বসেছে the stars, যা বহুবচন, তাই verb হবে বহুবচন। আর last night অতীত বোঝায়, তাই past form were বসে। Was একবচনের জন্য, আর are বর্তমান কাল বোঝায়।
মনে রাখুন:
Neither...nor এবং either...or-এর verb সবসময় কাছের subject-কে অনুসরণ করে।
Both...and দিয়ে দুটি subject যুক্ত হলে verb সব সময় বহুবচন হয়।
উদাহরণ:
Neither he nor I am guilty.
Either the teacher or the students were absent. - ৯৫. I know someone who wrote a book about— life of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman.
- ক. a
- খ. the
- গ. an
- ঘ. no article
উত্তর: খ. the
Life শব্দটির পরে of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman বসে নির্দিষ্ট একজনের জীবন বোঝাচ্ছে, তাই আগে definite article the বসে: the life of Bangabandhu। কোনো শব্দের পরে of-সংযুক্ত অংশ থাকলে সাধারণত তার আগে the বসে। এখানে a বা an বসলে যেকোনো একটি জীবন বোঝাত, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঠিক হয় না।
মনে রাখুন: কোনো noun-কে of-যুক্ত অংশ দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলে সেই noun-এর আগে the বসে।
উদাহরণ:
The history of Bangladesh is rich.
The capital of France is Paris. - ৯৬. What time —? Complete the sentence.
- ক. the train leaves
- খ. leaves the train
- গ. is the train leaving
- ঘ. does the train leave
উত্তর: ঘ. does the train leave
প্রশ্নবাচক বাক্যে question word (What time) বসার পর auxiliary verb আসে, তারপর subject এবং শেষে main verb-এর base form। তাই সঠিক রূপ 'What time does the train leave?'। এখানে train একবচন, তাই does বসেছে এবং leave-এ s নেই। অন্য বিকল্পগুলোতে প্রশ্নের ক্রম নেই, তাই সেগুলো প্রশ্ন হিসেবে ভুল।
মনে রাখুন:
Question word + do/does + subject + base verb।
Did বসলে main verb-এর base form থাকে, past form হয় না।
উদাহরণ:
Where do you live?
What time did the train leave? - ৯৭. The price of all commodities in the market is 'exorbitant'. Which is the correct word to replace the underlined word?
- ক. exaggerated
- খ. preposterous
- গ. sumptuous
- ঘ. excessive
উত্তর: ঘ. excessive
Exorbitant মানে অত্যধিক, বিশেষ করে দামের ক্ষেত্রে যা ন্যায্য সীমার অনেক ওপরে। একই অর্থ দেয় excessive। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা: exaggerated মানে অতিরঞ্জিত, preposterous মানে উদ্ভট বা অযৌক্তিক আর sumptuous মানে জমকালো বা বিলাসবহুল। এদের কোনোটিই দামের অতিরিক্ত বেশি হওয়া বোঝায় না। অত্যধিক দামের কথা বললে আমরা সাধারণত exorbitant ও excessive শব্দ দুটিই ব্যবহার করি। তাই বাজারের জিনিসপত্রের দাম ন্যায্য সীমা ছাড়িয়ে গেলে এই শব্দ দুটি একই ভাবে বসে।
মনে রাখুন:
Exorbitant-এর বিপরীত শব্দ reasonable বা moderate।
Exorbitant price বলতে এমন দাম বোঝায়, যা ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে। - ৯৮. I know that he will come. The underlined part 'I know' is—
- ক. an adverbial clause
- খ. an adjective clause
- গ. a noun clause
- ঘ. a principal clause
উত্তর: ঘ. a principal clause
'I know that he will come' বাক্যে দুটি clause আছে। 'I know' অংশটি নিজে থেকে অর্থ প্রকাশ করে এবং বাক্যের মূল ক্রিয়া ধরে রাখে, তাই এটি principal clause। 'that he will come' অংশটি এর ওপর নির্ভরশীল, তাই সেটি subordinate clause (এখানে know-এর কর্ম হিসেবে বসেছে বলে noun clause)।
মনে রাখুন:
Principal clause নিজে থেকে পূর্ণ অর্থ দেয়, subordinate clause পারে না।
Subordinate clause তিন প্রকার: noun clause, adjective clause ও adverbial clause।
উদাহরণ:
I know the boy who won. (who won একটি adjective clause) - ৯৯. Fill in the gap with the correct form of word : My mother always dresses — (beautiful).
- ক. beauty
- খ. beautify
- গ. beautiful
- ঘ. beautifully
উত্তর: ঘ. beautifully
Dresses একটি ক্রিয়া, আর ক্রিয়াকে বিশেষিত করে adverb। Beautiful একটি adjective, তার adverb রূপ হলো beautifully। তাই 'My mother always dresses beautifully' শুদ্ধ, অর্থ আমার মা সবসময় সুন্দর করে পোশাক পরেন। Beauty হলো noun এবং beautify হলো ক্রিয়া, এ দুটি এখানে বসে না।
মনে রাখুন:
Adjective-এর শেষে -ly যোগ করে বেশিরভাগ adverb তৈরি হয়।
Beauty (noun) → beautiful (adjective) → beautifully (adverb) → beautify (verb)।
উদাহরণ:
She sings sweetly.
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি): অন্যান্য পরীক্ষা
- বাংলাদেশ টেলিভিশন উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৪
- বাংলাদেশ টেলিভিশন উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ডাক অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহকারী সাইফার কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার, কম্পিউটার) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ) ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- গণপূর্ত অধিদপ্তর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটসম্যান (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপসহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- নার্সিং সেবা অধিদপ্তর মিডওয়াইফ নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এস্টিমেটর নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্টেশন অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ (সাধারণ পুল) প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) প্রশাসনিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন