লিয়ানা বুকস

ভূমি মন্ত্রণালয় (হিসাব নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, রাজস্ব) নিরীক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ১৩ মে ২০২৩। ৪৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

বাংলা

  1. ১. কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
    • ক. পাল
    • খ. সেন
    • গ. মোগল
    • ঘ. তুর্কি
    উত্তর: ক. পাল
    চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। এর পদগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যগণ। পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক, তাই তাঁদের রাজত্বকালে বৌদ্ধ সাধকদের সাধনসংগীত বা পদ রচনার সুযোগ তৈরি হয়। আর সেন রাজারা ছিলেন ব্রাহ্মণ্যধর্মের অনুসারী, তাই চর্যাপদকে পাল আমলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
    মনে রাখুন:
    চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে পুথিটি উদ্ধার করেন।
    ১৯১৬ সালে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে এটি প্রকাশিত হয়।
    চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা লুইপা।
  2. ২. 'স্বাধীন' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?আরও এসেছে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ২০১৬
    • ক. স + অধিন
    • খ. শ + অধিন
    • গ. স্ব + অধিন
    • ঘ. স্ব + অধীন
    উত্তর: ঘ. স্ব + অধীন
    ‘স্বাধীন’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ হলো স্ব + অধীন। প্রথম অংশের শেষে ‘অ’ ধ্বনি এবং দ্বিতীয় অংশের শুরুতে ‘অ’ ধ্বনি আছে। অ + অ মিলে হয় ‘আ’, আর সেটি ‘অধীন’-এর ‘অ’-এর জায়গায় বসে ‘স্বাধীন’ হয়েছে। স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি (Vowel Sandhi) বলে। ‘অধিন’ বানানটি ভুল, শুদ্ধ শব্দ ‘অধীন’। তাই ‘স্ব + অধিন’ হতে পারে না। ‘স’ বা ‘শ’ দিয়ে শুরু করা বিকল্পগুলোও ভুল, কারণ শব্দের প্রথম অংশ ‘স্ব’।
    উদাহরণ:
    সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়
    হিম + আলয় = হিমালয়
    বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
  3. ৩. 'সিরাজাম মুনীরা' কাব্যের রচয়িতা কে?
    • ক. তালিম হোসেন
    • খ. ফররুখ আহমদ
    • গ. গোলাম মোস্তফা
    • ঘ. আবুল হোসেন
    উত্তর: খ. ফররুখ আহমদ
    ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কবি ফররুখ আহমদ। এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়। ইসলামি ঐতিহ্য ও আদর্শ তাঁর কাব্যে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে, তাই তাঁকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি বলা হয়। কাব্যের নামটির অর্থ ‘উজ্জ্বল প্রদীপ’। ফররুখ আহমদের সবচেয়ে পরিচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’, যা ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। ‘সিরাজাম মুনীরা’ শব্দ দুটি আরবি, যার ভাব হলো আলো দানকারী প্রদীপ। এই নামেই কাব্যটির বিষয়বস্তুর আভাস পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    ফররুখ আহমদের অন্যান্য কাব্য: সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪), নৌফেল ও হাতেম, হাতেমতায়ী, মুহূর্তের কবিতা।
    তাঁর শিশুতোষ কাব্য ‘পাখির বাসা’।
    অন্য বিকল্পের গোলাম মোস্তফার বিখ্যাত রচনা ‘বিশ্বনবী’ ও ‘রক্তরাগ’।
  4. ৪. বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?আরও এসেছে: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (শিক্ষাবিজ্ঞানসহ) ২০১৯
    • ক. কথোপকথন
    • খ. চর্যাপদ
    • গ. মঙ্গলকাব্য
    • ঘ. আলালের ঘরের দুলাল
    উত্তর: ক. কথোপকথন
    উইলিয়াম কেরি রচিত 'কথোপকথন' ১৮০১ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে ছাপা হয়। এতে বাঙালি সমাজের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তা আছে। বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হিসেবে পরীক্ষায় ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও শ্রীরামপুর মিশনকে ঘিরে বাংলা গদ্যের প্রথম চর্চা শুরু হয়।
    চর্যাপদ ও মঙ্গলকাব্য হাতে লেখা পুথি থেকে পাওয়া। 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) প্যারীচাঁদ মিত্রের (টেকচাঁদ ঠাকুর) রচনা।
    বাংলা হরফে ছাপা প্রথম বই হ্যালহেডের ব্যাকরণ (১৭৭৮), যা ইংরেজিতে লেখা।
  5. ৫. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কবে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়?
    • ক. ১৮৫১
    • খ. ১৮৪৭
    • গ. ১৮৩৯
    • ঘ. ১৮৪১
    উত্তর: গ. ১৮৩৯
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আসল নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজে পড়াশোনা করতেন। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। এর অর্থ বিদ্যার সাগর, অর্থাৎ যাঁর জ্ঞানের কোনো শেষ নেই। তখন থেকেই তিনি এই নামে পরিচিত হন, আর আসল নামটি অনেকেই ভুলে যান।
    মনে রাখুন:
    তাঁর জন্ম ১৮২০ সালে, মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে।
    ১৮৫৬ সালে তাঁর উদ্যোগে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
    বিখ্যাত বই: বর্ণপরিচয়, বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস।
    তাঁকে বাংলা গদ্যের প্রথম যথার্থ শিল্পী বলা হয়।
  6. ৬. কাজী নজরুল ইসলামের প্রেমের কাব্য কোনটি?
    • ক. ফণিমনসা
    • খ. বনগীতি
    • গ. দোলনচাঁপা
    • ঘ. গানের মালা
    উত্তর: গ. দোলনচাঁপা
    কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলনচাঁপা' (১৯২৩) প্রেমের কবিতার সংকলন। এই বইয়ে প্রেমের আবেগ, বিরহ ও আকুলতা ধরা পড়েছে। 'পূজারিণী', 'অভিশাপ', 'অবেলার ডাক' প্রভৃতি কবিতা এখানে আছে। তাই নজরুলের প্রেমের কাব্য বলতে দোলনচাঁপাকেই বোঝানো হয়। কবিতার বইয়ের নাম শুনেই বিষয় আন্দাজ করা যায়। দোলনচাঁপা একটি ফুলের নাম, আর ফুল যেমন কোমল, বইটির কবিতাগুলোও তেমন কোমল অনুভূতির।
    অন্য বিকল্পগুলো আলাদা ধরনের বই। 'ফণিমনসা' (১৯২৭) বিদ্রোহ ও সমাজচেতনামূলক কবিতার সংকলন। 'বনগীতি' (১৯৩২) ও 'গানের মালা' (১৯৩৪) গানের সংকলন।
    মনে রাখুন:
    অগ্নিবীণা (১৯২২) নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
    প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান' (১৯২২), প্রথম উপন্যাস 'বাঁধনহারা' (১৯২৭)।
  7. ৭. তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মেছিলেন কোন কবি?
    • ক. জসীমউদদীন
    • খ. ফররুখ আহমদ
    • গ. আবুল হাসান
    • ঘ. শহীদ কাদরী
    উত্তর: ক. জসীমউদদীন
    পল্লীকবি জসীমউদদীনের জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে। গ্রামবাংলার জীবন, মানুষ ও প্রকৃতি তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়, আর এ কারণেই তাঁকে 'পল্লীকবি' বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত দুটি আখ্যানকাব্য হলো 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) ও 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' (১৯৩৩)। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭), আর বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই বইয়ের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দেশের পল্লীজীবনের ছবি এত সুন্দরভাবে আঁকার জন্যই তিনি এই উপাধি পেয়েছেন। তাঁর কবিতায় গ্রামের নদী, মাঠ ও মানুষের সরল ভাষা বারবার ফিরে আসে।
    মনে রাখুন:
    তাঁর আত্মজীবনী 'জীবনকথা', স্মৃতিকথা 'যাদের দেখেছি'।
    অন্য বিকল্পের ফররুখ আহমদ, আবুল হাসান ও শহীদ কাদরী আলাদা কবি।
  8. ৮. 'উনকোটি চৌষট্টি' এই বাগধারার অর্থ কী?
    • ক. অপদার্থ
    • খ. পাগলামি
    • গ. অপব্যয়ী
    • ঘ. প্রায় সম্পূর্ণ
    উত্তর: ঘ. প্রায় সম্পূর্ণ
    'উনকোটি চৌষট্টি' বাগধারাটির অর্থ প্রায় সম্পূর্ণ, অর্থাৎ কোনো কিছুই বাদ না দেওয়া। কোনো কাজ বা আয়োজনে প্রায় সবকিছুই হয়েছে বোঝাতে আমরা এ কথা বলি। যেমন বিয়েবাড়িতে ভরপুর আয়োজন দেখে বলা হয়, 'একেবারে উনকোটি চৌষট্টি!' বাগধারার অর্থ শব্দের আক্ষরিক অর্থ থেকে আলাদা হয়, তাই এখানে সংখ্যা দেখে হিসাব কষার কিছু নেই। বাগধারা আর সাধারণ বাক্যের তফাত এখানেই। 'উনকোটি' মানে এক কোটির চেয়ে এক কম, আর 'চৌষট্টি' একটি সংখ্যা, কিন্তু দুটি মিলে বাগধারার অর্থ কোনো সংখ্যা বোঝায় না।
    অন্য বিকল্পগুলোর জন্য আলাদা বাগধারা আছে।
    মনে রাখুন:
    অকালকুষ্মাণ্ড – অপদার্থ
    অমিতব্যয়ী বা হাতখোলা – অপব্যয়ী
    বাগধারা অর্থসহ মুখস্থ রাখা ভালো।
  9. ৯. 'তপোবন' কোন সমাস?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৯
    • ক. দ্বন্দ্ব
    • খ. চতুর্থী তৎপুরুষ
    • গ. প্রাদি
    • ঘ. বহুব্রীহি
    উত্তর: খ. চতুর্থী তৎপুরুষ
    ‘তপোবন’-এর ব্যাসবাক্য তপের নিমিত্ত বন, অর্থাৎ তপস্যার জন্য নির্দিষ্ট বন। এখানে পূর্বপদের শেষে ‘নিমিত্ত’ বা ‘জন্য’ অর্থের চতুর্থী বিভক্তি লোপ পেয়েছে, তাই এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। এটি রূপক কর্মধারয় নয়, কারণ রূপক কর্মধারয়ে উপমান ও উপমেয় অভিন্ন বলে ধরা হয়। এটি দ্বিগু ও বহুব্রীহিও নয়, কারণ সংখ্যা বোঝায় না এবং অন্য কোনো পদের অর্থও প্রধান নয়।
    উদাহরণ:
    পাঠশালা (পাঠের জন্য শালা)
    রান্নাঘর (রান্নার জন্য ঘর)
    হাতকড়ি (হাতের জন্য কড়ি)
    মনে রাখুন: যে বিভক্তি লোপ পায়, সেই বিভক্তির নামে তৎপুরুষ সমাসের নাম হয়।
  10. ১০. ধাতুর পরে কোন প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য বুঝায়?
    • ক. আই
    • খ. আল
    • গ. আন
    • ঘ. আও
    উত্তর: ক. আই
    যে প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। ধাতুর পরে 'আই' যুক্ত হলে ভাববাচক বিশেষ্য তৈরি হয়। যেমন লড় + আই = লড়াই (লড়া কাজ বা ভাব), বাছ + আই = বাছাই, ধোল + আই = ধোলাই।
    উদাহরণ:
    পড় + আই = পড়াই
    সেল + আই = সেলাই
    মনে রাখুন: কৃৎ প্রত্যয় ধাতুর পরে বসে, আর তদ্ধিত প্রত্যয় শব্দের (নামপদের) পরে বসে। 'আও' প্রত্যয়েও (ঘেরাও) ভাববাচক শব্দ হয়, তবে পরীক্ষায় 'আই' প্রধান উত্তর।
  11. ১১. নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
    • ক. সুকেশী
    • খ. সুকেশা
    • গ. সুকেশীনী
    • ঘ. সুকেশিনী
    উত্তর: গ. সুকেশীনী
    'সুকেশীনী' বানানটি অশুদ্ধ। 'কেশী' শব্দের অর্থ সুন্দর কেশ আছে যার। এই শব্দে ইতিমধ্যে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন 'ঈ' আছে, তাই আবার 'নী' যুক্ত করার দরকার নেই। এভাবে স্ত্রীপ্রত্যয় দুবার বসালে বানান ভুল হয়ে যায়। সঠিক রূপ তিনটি: সুকেশী, সুকেশা এবং সুকেশিনী। সমস্যাটা হলো দ্বিরুক্ত স্ত্রীপ্রত্যয়। শব্দের মধ্যেই লিঙ্গ বোঝানোর চিহ্ন থাকলে আবার একই চিহ্ন যুক্ত করলে শব্দটি ভুল হয়ে যায়। পরীক্ষায় এমন বানান প্রায়ই বিকল্পের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
    এই ধরনের আরও উদাহরণ: 'শ্রীমতিনী' ভুল, শুদ্ধ রূপ 'শ্রীমতী'।
    মনে রাখুন: বাংলায় তৎসম শব্দের বানান মূল সংস্কৃত অনুযায়ী হয়। তাই 'ই-ঈ' ও 'উ-ঊ'-এর ব্যবহার শব্দ ধরে ধরে শিখতে হয়।
  12. ১২. বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ কয়টি?
    • ক. ২২
    • খ. ২১
    • গ. ২০
    • ঘ. ১৯
    উত্তর: খ. ২১
    বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার: তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ, খাঁটি বাংলা উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ। খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা ২১টি। উপসর্গ হলো এমন শব্দাংশ, যা অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে, কিন্তু নিজে আলাদা অর্থ দেয় না। খাঁটি বাংলা উপসর্গগুলো হলো অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
    মনে রাখুন:
    সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি (প্র, পরা, অপ, সম্ ইত্যাদি)।
    উদাহরণ:
    অজ – অজপাড়াগাঁ
    পাতি – পাতিহাঁস
    হা – হাভাতে
    ভর – ভরপেট
  13. ১৩. 'যা পান করার যোগ্য' – এককথায় কী হবে?
    • ক. পানীয়
    • খ. পিপাসা
    • গ. তৃষ্ণা
    • ঘ. পেয়
    উত্তর: ঘ. পেয়
    'যা পান করার যোগ্য' বোঝাতে এককথায় বলা হয় 'পেয়'। 'পেয়' শব্দের মূল ধাতু 'পা' (পান করা), আর তার সঙ্গে যোগ্য অর্থের প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা। 'পানীয়' মানে যা পান করা হয়, অর্থাৎ পানের জিনিস। 'পিপাসা' ও 'তৃষ্ণা' মানে পান করার ইচ্ছা। এখানে 'যোগ্য' কথাটিই আসল সূত্র। এককথায় প্রকাশের প্রশ্নে সবসময় লক্ষ করতে হয় প্রশ্নে 'যোগ্য' না 'ইচ্ছা' শব্দটি আছে। যোগ্য বললে সাধারণত 'য' বা 'ব্য' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ হয়, আর ইচ্ছা বললে 'সন্' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ হয়, যেমন পিপাসা।
    মনে রাখুন:
    যা খাওয়ার যোগ্য – খাদ্য বা ভোজ্য
    যা দেখার যোগ্য – দর্শনীয়
    যা পূজার যোগ্য – পূজ্য
    যা লেখার যোগ্য – লেখ্য
    যা শোনার যোগ্য – শ্রোতব্য
  14. ১৪. 'বাবাকে বড্ড ভয় পাই'- এখানে 'বাবাকে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
    • ক. কর্মে দ্বিতীয়া
    • খ. অপাদানে দ্বিতীয়া
    • গ. কর্মে চতুর্থী
    • ঘ. অপাদানে পঞ্চমী
    উত্তর: খ. অপাদানে দ্বিতীয়া
    'বাবাকে বড্ড ভয় পাই' বাক্যে 'ভয় পাই' ক্রিয়ার ভয়ের উৎস বাবা। যার থেকে ভয় বা ভীতি জন্মে, সে অপাদান কারকে পড়ে (ভীত অর্থে অপাদান)। 'কে' বিভক্তিকে দ্বিতীয়া বিভক্তি বলা হয়, তাই 'বাবাকে' অপাদানে দ্বিতীয়া।
    অপাদান কারক চেনার উপায়: ক্রিয়াকে 'কোথা থেকে' বা 'কার থেকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে।
    উদাহরণ:
    সাপকে ভয় করি (অপাদানে দ্বিতীয়া)
    মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে (অপাদানে পঞ্চমী)
    মনে রাখুন: কর্মকারকে দ্বিতীয়া 'কে' বিভক্তি বসে, তাই পার্থক্য করতে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক দেখতে হবে।

ইংরেজি

  1. ১৫. What is the synonym of the word 'pauper'?
    • ক. destitution
    • খ. fortune
    • গ. affluence
    • ঘ. opulence
    উত্তর: ক. destitution
    Pauper শব্দের অর্থ নিঃস্ব বা অতি গরিব মানুষ। বিকল্পগুলোর মধ্যে destitution মানে চরম দারিদ্র্য বা অভাব, তাই অর্থের দিক থেকে এটিই সবচেয়ে কাছের। Pauper হলো যে মানুষ গরিব, আর destitution হলো সেই গরিব অবস্থা, তবু প্রশ্নের বিকল্পের মধ্যে এটিই মিলে যায়। শব্দের অর্থ মুখস্থ করার সময় প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে না শিখে একটি ভাবের শব্দগুলো একসঙ্গে শেখা সহজ।
    বাকি শব্দের অর্থ: fortune মানে সৌভাগ্য বা সম্পদ, affluence মানে প্রাচুর্য আর opulence মানে বিলাসী সমৃদ্ধি। শেষ তিনটি শব্দ গরিবের উল্টো দিকের অর্থ বোঝায়।
    মনে রাখুন: Pauper-এর সমার্থক indigent, needy; বিপরীত শব্দ rich, affluent।
  2. ১৬. "I water the plants." The word 'water' is used as—আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ) ২০২২
    • ক. noun
    • খ. pronoun
    • গ. verb
    • ঘ. adverb
    উত্তর: গ. verb
    'I water the plants.' বাক্যে I হলো কর্তা (subject) আর the plants কর্ম (object)। এই দুইয়ের মাঝে বসা word 'water' কাজ বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ গাছে পানি দেওয়া। যে শব্দ কাজ বা ক্রিয়া বোঝায়, সে verb।
    একই শব্দ বাক্যে কীভাবে বসে তার ওপর নির্ভর করে তার শ্রেণি। যেমন:
    Water is precious. (noun)
    I water the plants. (verb)
    মনে রাখুন: বহু শব্দ noun ও verb দুই কাজই করে, যেমন book, walk, answer, cook। বাক্যে অবস্থান দেখে শ্রেণি ঠিক করতে হয়।
  3. ১৭. We need as — people as possible.
    • ক. many
    • খ. much
    • গ. most
    • ঘ. enough
    উত্তর: ক. many
    'We need as — people as possible' বাক্যটিতে 'as … as' কাঠামো আছে। এই কাঠামোর মাঝখানে বিশেষণ বা determiner বসে। People হলো গণনাযোগ্য (countable) বহুবচন noun, তাই তার আগে many বসে। Much বসে অগণনীয় (uncountable) noun-এর আগে, যেমন much water। Most বা enough এখানে বসালে 'as … as' কাঠামোর অর্থ মেলে না, তাই শুদ্ধ বাক্য হলো: We need as many people as possible।
    উদাহরণ:
    as many books as possible
    as much money as possible
    মনে রাখুন: Countable noun-এর সঙ্গে many/few, uncountable noun-এর সঙ্গে much/little।
  4. ১৮. You had better — the offer.
    • ক. than
    • খ. welcomed
    • গ. accept
    • ঘ. accepted
    উত্তর: গ. accept
    'had better' একটি modal-সদৃশ বাক্যাংশ, যার অর্থ ভালো হবে যদি বা করাই উচিত। এর পরে সবসময় verb-এর base form বসে, কোনো to বা past form বসে না। তাই 'You had better accept the offer' শুদ্ধ। Welcomed ও accepted হলো past form, আর than এখানে অর্থবহ নয়। বাক্যটির অর্থ: প্রস্তাবটি গ্রহণ করাই আমাদের জন্য ভালো।
    উদাহরণ:
    You had better go now.
    She had better not wait.
    মনে রাখুন: had better-এর নেতিবাচক রূপ had better not + base verb। এখানে had অতীত অর্থ দেয় না, বরং পরামর্শ বা সতর্কতা বোঝায়।
  5. ১৯. This could have worked if I— been more far sighted.
    • ক. had
    • খ. might
    • গ. have
    • ঘ. has
    উত্তর: ক. had
    বাক্যটি তৃতীয় প্রকার শর্তবাচক (Third Conditional), যেখানে অতীতে ঘটেনি এমন কিছুর কল্পনা করা হয়। এর কাঠামো: If + past perfect, … would/could/might have + past participle। এখানে মূল clause 'could have worked', তাই if-clause-এ past perfect লাগবে। বাক্যটি দাঁড়ায়: This could have worked if I had been more far-sighted। Have বা has বসালে tense মেলে না, আর might এখানে অর্থহীন।
    উদাহরণ:
    If he had studied, he would have passed.
    মনে রাখুন:
    প্রথম প্রকার: If + present, will + verb
    দ্বিতীয় প্রকার: If + past, would + verb
    তৃতীয় প্রকার: If + past perfect, would have + past participle
  6. ২০. What would be right synonym for 'initiative'?
    • ক. Apathy
    • খ. Enterprise
    • গ. Indolence
    • ঘ. Try
    উত্তর: খ. Enterprise
    Initiative মানে উদ্যোগ, অর্থাৎ নিজে থেকে কিছু শুরু করার সাহস। বিকল্পের মধ্যে Enterprise মানে নতুন কাজে হাত দেওয়ার সাহসী উদ্যোগ, তাই এটি সমার্থক। ব্যবসার কাজে এই শব্দটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, যেমন free enterprise। Initiative শব্দটি বিশেষ্য, এবং take the initiative বলতে অন্যের নির্দেশের অপেক্ষা না করে কাজটি আগে শুরু করা বোঝায়।
    অন্য শব্দগুলো উল্টো বা আলাদা অর্থের: Apathy মানে উদাসীনতা বা অনীহা, Indolence মানে আলস্য, আর Try মানে চেষ্টা, যা সরাসরি 'উদ্যোগ' নয়।
    উদাহরণ: She showed great initiative in solving the problem.
    মনে রাখুন: Initiative-এর সমার্থক drive, ambition, enterprise; বিপরীত laziness, inertia।
  7. ২১. "Let us begin by looking at the minutes of the meeting."– Here 'minutes' means :
    • ক. time record
    • খ. written record
    • গ. time frame
    • ঘ. ending time
    উত্তর: খ. written record
    সভার কার্যবিবরণী বা সংক্ষিপ্ত লিখিত বিবরণকে 'minutes' বলে, যেমন minutes of the meeting। এখানে শব্দটি সময়ের একক মিনিট নয়, বরং written record, যার অর্থ লিখিত নথি। সভায় কী আলোচনা হলো আর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা এই নথিতে লেখা থাকে। তাই 'written record' সঠিক। বাকি বিকল্পগুলো সময়ের সঙ্গে জড়িত, কিন্তু বাক্যের ভাবের সঙ্গে মেলে না।
    উদাহরণ:
    The secretary keeps the minutes. (সচিব কার্যবিবরণী লেখেন।)
    মনে রাখুন: একই বানানের শব্দ আলাদা উচ্চারণে আলাদা অর্থ দেয়: 'minute' (/ˈmɪnɪt/) মানে মিনিট, আর 'minute' (/maɪˈnjuːt/) মানে অতি ক্ষুদ্র।
  8. ২২. Which of the following word can be used as a verb?
    • ক. Mister
    • খ. Mistress
    • গ. Master
    • ঘ. Mrs
    উত্তর: গ. Master
    Master শব্দটি noun হিসেবে মনিব বা ওস্তাদ বোঝায়, আবার verb হিসেবে অর্থ হয় কোনো কিছু ভালোভাবে শেখা বা আয়ত্ত করা। যেমন: He mastered the language. বাকি শব্দ Mister, Mistress ও Mrs শুধু নামের আগে বসা সম্বোধন বা noun। এগুলো verb হিসেবে বসে না।
    উদাহরণ:
    She mastered the art of painting. (সে চিত্রকলায় দক্ষতা অর্জন করল।)
    মনে রাখুন: অনেক noun ক্রিয়ার কাজও করে, যেমন book (টিকিট কাটা), water (পানি দেওয়া), mother (মায়ের মতো যত্ন করা)। ইংরেজিতে এ ধরনের শব্দ চেনার অভ্যাস করলে পরীক্ষায় সুবিধা হয়।
  9. ২৩. Which one is in feminine form?
    • ক. Deer
    • খ. Bee
    • গ. Bull
    • ঘ. Horse
    উত্তর: খ. Bee
    পরীক্ষার ব্যাকরণ-তালিকায় bee শব্দটিকে স্ত্রীলিঙ্গ ধরা হয় এবং তার পুংলিঙ্গ হলো drone। বিকল্পের অন্য শব্দগুলো এই তালিকায় পুংলিঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। যেমন bull পুংলিঙ্গ, তার স্ত্রীলিঙ্গ cow। Deer-এর পুংলিঙ্গ stag ও স্ত্রীলিঙ্গ doe। Horse-এর পুংলিঙ্গ stallion ও স্ত্রীলিঙ্গ mare। তাই শুধু bee-ই এখানে স্ত্রীলিঙ্গ। ইংরেজিতে প্রাণীর লিঙ্গ-জোড়া এভাবে আলাদা শব্দে থাকে বলে একে স্বতন্ত্র শব্দের মাধ্যমে লিঙ্গ প্রকাশ বলা যায়। বাংলায় এমন ঘটনা কম, তাই ইংরেজি শেখার সময় এগুলো আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    drone – bee
    cock – hen
    ram – ewe
    lion – lioness
    লিঙ্গ-জোড়া মুখস্থ রাখলে এ ধরনের প্রশ্নে ভুল হয় না।

গণিত

  1. ২৪. কোনো পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর ৮০% গণিত এবং ৭০% বাংলায় পাস করল। যদি উভয় বিষয়ে ৬০% পাস করে থাকে তবে উভয় বিষয়ে শতকরা কতজন ফেল করল?
    • ক. ৮%
    • খ. ১০%
    • গ. ১৫%
    • ঘ. ১২%
    উত্তর: খ. ১০%
    মনে করি মোট পরীক্ষার্থী ১০০ জন। গণিতে পাস ৮০, বাংলায় পাস ৭০ এবং উভয়ে পাস ৬০ জন।
    কমপক্ষে একটিতে পাস করেছে 80 + 70 − 60 = 90 জন (সংযোগ সূত্র: n(A∪B) = n(A) + n(B) − n(A∩B))।
    তাহলে উভয় বিষয়ে ফেল 100 − 90 = 10 জন, অর্থাৎ ১০%।
    যাচাই: শুধু গণিতে পাস 20, শুধু বাংলায় পাস 10, উভয়ে পাস 60, মোট 90।
    মনে রাখুন: কমপক্ষে একটিতে পাস = A + B − (A∩B); দুটিতেই ফেল = ১০০% − এই মান।
  2. ২৫. একটি শ্রেণিতে যতজন ছাত্রছাত্রী আছে, তাদের প্রত্যেকে তত পয়সার চেয়ে আরও ২৫ পয়সা বেশি করে চাঁদা দেওয়ায় মোট ৭৫ টাকা উঠল। ঐ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কত?
    • ক. ১০
    • খ. ৮৫
    • গ. ৭৫
    • ঘ. ১০০
    উত্তর: গ. ৭৫
    ধরি শ্রেণির ছাত্রছাত্রী x জন। প্রত্যেকে x পয়সার চেয়ে ২৫ পয়সা বেশি, অর্থাৎ (x + 25) পয়সা চাঁদা দিয়েছে। মোট ৭৫ টাকা = 7500 পয়সা।
    তাহলে x(x + 25) = 7500, বা x² + 25x − 7500 = 0।
    উৎপাদকে ভেঙে (x + 100)(x − 75) = 0, তাই x = 75 (ঋণাত্মক মান x = −100 সংখ্যা হিসেবে অগ্রহণযোগ্য)।
    যাচাই: 75 × (75 + 25) = 75 × 100 = 7500 পয়সা।
    মনে রাখুন: টাকার সঙ্গে পয়সার একক মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না, ১ টাকা = ১০০ পয়সা।
  3. ২৬. দুটি সংখ্যার অনুপাত ৫ : ৬ এবং তাদের গ.সা.গু. ৪ হলে ছোট সংখ্যাটি কত?
    • ক. ১০
    • খ. ১৫
    • গ. ২৫
    • ঘ. ২০
    উত্তর: ঘ. ২০
    অনুপাত ৫ : ৬ হলে সংখ্যা দুটি ৫x ও ৬x ধরা যায়। ৫ ও ৬ পরস্পর সহমৌলিক, অর্থাৎ এদের সাধারণ গুণনীয়ক শুধু ১। তাই সংখ্যা দুটির গ.সা.গু. হয় x।
    দেওয়া আছে গ.সা.গু. ৪, তাই x = 4।
    সংখ্যা দুটি 5 × 4 = 20 এবং 6 × 4 = 24। এদের মধ্যে ছোট সংখ্যা 20।
    যাচাই: 20 ও 24-এর গ.সা.গু. 4 এবং অনুপাত 20 : 24 = 5 : 6।
    মনে রাখুন: অনুপাতের সংখ্যা সহমৌলিক হলে অনুপাতের সাধারণ গুণনীয়কই গ.সা.গু. হয়। আর ল.সা.গু. = 5 × 6 × 4 = 120।
  4. ২৭. কোনো ভগ্নাংশের লবের সাথে ৭ যোগ করলে ভগ্নাংশটির মান ২ হয় এবং হর থেকে ২ বাদ দিলে ভগ্নাংশটির মান ১ হয়। ভগ্নাংশটি নির্ণয় কর।
    • ক. ৩/৫
    • খ. ৮/৫
    • গ. ২/৫
    • ঘ. ১/৫
    উত্তর: ক. ৩/৫
    ভগ্নাংশটি লব/হর = x/y ধরি। প্রথম শর্তে লবের সঙ্গে ৭ যোগ করলে মান ২ হয়: (x + 7)/y = 2, তাই x + 7 = 2y ... (১)।
    দ্বিতীয় শর্তে হর থেকে ২ বাদ দিলে মান ১ হয়: x/(y − 2) = 1, তাই x = y − 2 ... (২)।
    (২) থেকে x-এর মান (১)-এ বসালে y − 2 + 7 = 2y, বা y = 5। তাহলে x = 5 − 2 = 3।
    ভগ্নাংশ 3/5। যাচাই: (3 + 7)/5 = 2 এবং 3/(5 − 2) = 1।
  5. ২৮. P = {X : X, 12 এর গুণনীয়কসমূহ} এবং Q = {X : X, 3 এর গুণিতক এবং x ≤ 12} হলে (P − Q) কত?
    • ক. {1, 2, 4}
    • খ. {1, 3, 4}
    • গ. {1, 3, 6}
    • ঘ. {1, 2, 6}
    উত্তর: ক. {1, 2, 4}
    প্রথমে সেট দুটি লিখে নিই। P হলো ১২-এর গুণনীয়কগুলোর সেট: P = {1, 2, 3, 4, 6, 12}। Q হলো ৩-এর গুণিতকগুলোর সেট, যারা ১২-এর বেশি নয়: Q = {3, 6, 9, 12}।
    P − Q মানে P-এর সেই উপাদানগুলো, যারা Q-তে নেই। P থেকে Q-এর সাধারণ উপাদান 3, 6 ও 12 বাদ দিলে থাকে {1, 2, 4}।
    যাচাই: 1, 2 ও 4 কোনোটিই ৩-এর গুণিতক নয়, তাই এরা Q-তে পড়ে না।
    মনে রাখুন: A − B-তে শুধু A-এর উপাদান থাকে যা B-তে নেই, আর A − B এবং B − A সাধারণত আলাদা। এখানে Q − P = {9}।
  6. ২৯. x − 2y = 3 হলে, x³ − 8y³ − 18xy এর মান কোনটি?
    • ক. 27
    • খ. 36
    • গ. 18
    • ঘ. 42
    উত্তর: ক. 27
    x³ − 8y³ = x³ − (2y)³। ঘন বিয়োগের সূত্রটি হলো a³ − b³ = (a − b)³ + 3ab(a − b)। এখানে a = x, b = 2y।
    তাহলে x³ − 8y³ = (x − 2y)³ + 3 × x × 2y × (x − 2y) = 27 + 6xy × 3 = 27 + 18xy।
    সুতরাং x³ − 8y³ − 18xy = 27 + 18xy − 18xy = 27।
    মনে রাখুন: a − b = k হলে a³ − b³ − 3abk = k³।
  7. ৩০. ১০০ থেকে ২০০ এর মধ্যে ৩ দ্বারা বিভাজ্য সংখ্যা কয়টি?
    • ক. ৩১
    • খ. ৩২
    • গ. ৩৩
    • ঘ. ৩৪
    উত্তর: গ. ৩৩
    ১০০ থেকে ২০০ এর মধ্যে বলায় ১০০ ও ২০০ ধরা হয় না। ৩ দ্বারা বিভাজ্য সবচেয়ে ছোট সংখ্যা ১০২ (১০০-এর পরে) এবং সবচেয়ে বড় ১৯৮।
    এটি একটি সমান্তর ধারা, যার প্রথম পদ ১০২, শেষ পদ ১৯৮ এবং সাধারণ অন্তর ৩।
    পদসংখ্যা = (198 − 102)/3 + 1 = 96/3 + 1 = 32 + 1 = 33।
    মনে রাখুন: পদসংখ্যা = (শেষ পদ − প্রথম পদ) ÷ অন্তর + ১। এখানে ১০০ ও ২০০ কোনোটাই ৩-এর গুণিতক নয়, তাই ধরা-না-ধরায় ফল বদলায় না।
  8. ৩১. ৫০ মিনিট আগে সময় ছিল ৪ টা ৪৫ মিনিট, ৬ টা বাজতে আর কতক্ষণ সময় বাকি আছে?
    • ক. ১৫ মিনিট
    • খ. ২০ মিনিট
    • গ. ৩০ মিনিট
    • ঘ. ২৫ মিনিট
    উত্তর: ঘ. ২৫ মিনিট
    ৫০ মিনিট আগে সময় ছিল ৪টা ৪৫ মিনিট, তাই এখনকার সময় = ৪টা ৪৫ মিনিট + ৫০ মিনিট = ৪টা ৯৫ মিনিট = ৫টা ৩৫ মিনিট।
    ৬টা বাজতে বাকি 6:00 − 5:35 = ২৫ মিনিট।
    উল্টো পথেও দেখা যায়: ৪টা ৪৫ থেকে ৬টা হতে লাগে ৭৫ মিনিট। এর মধ্যে ৫০ মিনিট পার হয়ে গেছে, তাই বাকি 75 − 50 = ২৫ মিনিট।
    মনে রাখুন: ঘড়ির হিসাবে ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা। মিনিট ৬০ ছাড়ালে ঘণ্টা বাড়াতে হয়, যেমন ৯৫ মিনিট = ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।
  9. ৩২. 125(√5)^(2x) = 1 হলে x-এর মান কত?
    • ক. 3
    • খ. −3
    • গ. 7
    • ঘ. 9
    উত্তর: খ. −3
    125 = 5³ = (√5)⁶, কারণ (√5)² = 5 এবং (√5)⁶ = 5³। তাহলে সমীকরণ 125 × (√5)^(2x) = 1 হয় (√5)⁶ × (√5)^(2x) = 1।
    ঘাতের যোগের নিয়মে (√5)^(6 + 2x) = 1 = (√5)⁰।
    ভিত্তি সমান, তাই ঘাত সমান হবে: 6 + 2x = 0, অর্থাৎ 2x = −6 এবং x = −3।
    যাচাই: 125 × (√5)⁻⁶ = 125 × 1/125 = 1।
    মনে রাখুন: aᵐ × aⁿ = aᵐ⁺ⁿ এবং a⁰ = 1। ভিত্তি একই করতে পারলে সূচকের সমীকরণ সহজ হয়ে যায়।
  10. ৩৩. বার্ষিক সুদের হার ৫% থেকে হ্রাস পেয়ে ৪½% হওয়ায় এক ব্যক্তির ৮০ টাকা আয় কমে গেল। তাঁর মূলধন কত?
    • ক. ১,৬০০ টাকা
    • খ. ১৬,০০০ টাকা
    • গ. ১,৬০,০০০ টাকা
    • ঘ. ১৬,০০,০০০ টাকা
    উত্তর: খ. ১৬,০০০ টাকা
    সুদের হার ৫% থেকে 4½% হলে হার কমেছে 5 − 4½ = ½%। ফলে বছরে আয় কমেছে মূলধনের ½% বা 1/200 অংশ। এখানে বার্ষিক সুদের হারের কথা বলা হয়েছে, তাই আয় বলতে এক বছরে পাওয়া সুদ ধরতে হবে।
    তাহলে মূলধন × 1/200 = 80, অর্থাৎ মূলধন = 80 × 200 = 16000 টাকা।
    যাচাই: ১৬,০০০ টাকার ৫% = ৮০০ এবং 4½% = ৭২০, পার্থক্য ৮০ টাকা।
    মনে রাখুন: আয়ের কমতি = মূলধন × (হারের কমতি)/১০০। আর সরল সুদে সুদ = মূলধন × হার × সময়/১০০, তাই এক বছরের হিসাবে সময় ১ ধরা হয়।

বাংলাদেশ

  1. ৩৪. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদের উল্লেখ আছে?
    • ক. ৯ম ভাগে
    • খ. ৭ম ভাগে
    • গ. ৮ম ভাগে
    • ঘ. ১০ম ভাগে
    উত্তর: গ. ৮ম ভাগে
    বাংলাদেশের সংবিধান ১১টি ভাগে বিভক্ত। এর অষ্টম ভাগে (অনুচ্ছেদ ১২৭ থেকে ১৩২) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (Comptroller and Auditor General) পদের কথা আছে। সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা করার দায়িত্ব এ পদের।
    মনে রাখুন:
    প্রথম ভাগ – প্রজাতন্ত্র
    দ্বিতীয় ভাগ – রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
    তৃতীয় ভাগ – মৌলিক অধিকার
    চতুর্থ ভাগ – নির্বাহী বিভাগ
    পঞ্চম ভাগ – আইনসভা
    ষষ্ঠ ভাগ – বিচার বিভাগ
    সপ্তম ভাগ – নির্বাচন
    অষ্টম ভাগ – মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
    নবম ভাগ – বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
    দশম ভাগ – সংবিধান সংশোধন
    একাদশ ভাগ – বিবিধ
  2. ৩৫. বাংলাদেশে কোথায় প্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়?
    • ক. কৈলাসটিলা
    • খ. ফেঞ্চুগঞ্জ
    • গ. হরিপুর
    • ঘ. বাখরাবাদ
    উত্তর: গ. হরিপুর
    বাংলাদেশে প্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় সিলেটের হরিপুরে, ১৯৮৬ সালে। এখানে খনন করা কূপে খনিজ তেলের সন্ধান মেলে, আর ১৯৮৭ সাল থেকে তেল উত্তোলন শুরু হয়। বাকি তিনটি বিকল্প তেলক্ষেত্র নয়, এগুলো গ্যাসক্ষেত্র। কৈলাসটিলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ সিলেটে এবং বাখরাবাদ কুমিল্লায় অবস্থিত। এর ফলে দেশের জ্বালানি সম্ভাবনায় নতুন দিক খুলেছিল। তবে বাংলাদেশে তেলের তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত অনেক বেশি, আর গ্যাসই আমাদের প্রধান প্রাথমিক জ্বালানি।
    মনে রাখুন:
    হরিপুর বাংলাদেশের প্রথম ও স্থলভাগের তেলক্ষেত্র।
    তিতাস গ্যাসক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত।
    তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্বে আছে পেট্রোবাংলা (বাংলাদেশ অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল কর্পোরেশন)।
  3. ৩৬. 'নয়কুড়ি কান্দা ছয় কুড়ি বিল' নামে পরিচিত কোনটি?
    • ক. হাকালুকি হাওড়
    • খ. টাঙ্গুয়ার হাওড়
    • গ. চলন বিল
    • ঘ. শনির হাওড়
    উত্তর: খ. টাঙ্গুয়ার হাওড়
    টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত। এলাকার মানুষের কাছে এটি 'নয়কুড়ি কান্দা ছয়কুড়ি বিল' নামে পরিচিত, অর্থাৎ ১৮০টি ছোট ডোবা ও ১২০টি বিলের সমষ্টি। বর্ষায় পুরো এলাকা অথৈ জলে ঢেকে যায়। শুকনো মৌসুমে ছোট বিলগুলো আলাদা হয়ে পড়ে। হাওর হলো বর্ষায় জলে ডুবে যাওয়া নিচু বেসিন। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় হাওর বেশি দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    ২০০০ সালে টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট ঘোষিত হয়, এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার এলাকা।
    হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেটে, বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর।
    চলন বিল পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে অবস্থিত।
  4. ৩৭. 'স্বাধীনতা সংগ্রাম' ভাস্কর্যটি কার অমর কীর্তি?
    • ক. হামিদুজ্জামান খান
    • খ. নভেরা আহমেদ
    • গ. শামীম শিকদার
    • ঘ. মৃণাল হক
    উত্তর: গ. শামীম শিকদার
    'স্বাধীনতা সংগ্রাম' ভাস্কর্যটি শামীম শিকদারের সৃষ্টি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী ভাস্কর হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর কাজের প্রধান বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাঁর 'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা' ভাস্কর্যও আছে। তিনি একুশে পদক পেয়েছেন। অন্য বিকল্পের নামগুলোও শিল্পীর, তবে এই ভাস্কর্যের স্রষ্টা তাঁরা নন। ভাস্কর্যের নাম আর তার স্রষ্টার নাম একসঙ্গে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্নে ভুল হয় না, কারণ বিকল্পে প্রায়ই পরিচিত অন্য শিল্পীদের নাম দেওয়া থাকে।
    মনে রাখুন:
    'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্য – সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
    'রাজু ভাস্কর্য' – সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
    এই দুটির স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
  5. ৩৮. ঢাকা শহরের প্রধান মুঘল স্থাপত্য কোনটি?
    • ক. বর্ধমান হাউস
    • খ. লালবাগ
    • গ. আহসান মঞ্জিল
    • ঘ. বড় কাটরা
    উত্তর: খ. লালবাগ
    ঢাকা শহরের প্রধান মুঘল স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত লালবাগ কেল্লা, যা পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৬৭৮ সালে মুঘল সুবাদার শাহজাদা মুহম্মদ আজম শাহ এর নির্মাণ শুরু করেন। পরে সুবাদার শায়েস্তা খাঁ কাজ চালিয়ে যান। ১৬৮৪ সালে তাঁর কন্যা পরী বিবির মৃত্যু হলে তিনি দুর্গটি অসমাপ্ত রেখেই চলে যান। দুর্গের ভেতরে পরী বিবির সমাধি, লালবাগ মসজিদ ও দেওয়ান-ই-আম আছে।
    মনে রাখুন: আহসান মঞ্জিল ঢাকার নবাব পরিবারের প্রাসাদ (ঊনবিংশ শতক), আর বড় কাটরা মুঘল আমলের (১৬৪৪) ইমারত হলেও সাধারণত লালবাগকেই প্রধান মুঘল স্থাপত্য ধরা হয়।
  6. ৩৯. কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ছায়াছবি কোনটি?
    • ক. লালসালু
    • খ. সূর্যদীঘল বাড়ি
    • গ. মুক্তির গান
    • ঘ. মাটির ময়না
    উত্তর: ঘ. মাটির ময়না
    তারেক মাসুদ পরিচালিত 'মাটির ময়না' (২০০২) ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেসি (FIPRESCI) আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কার জেতে। ছবিটি ষাটের দশকের শেষ দিকের পটভূমিতে একটি পরিবার ও মাদ্রাসা-শিক্ষার দ্বন্দ্ব দেখিয়ে সেই সময়ের বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা তারেক মাসুদের, আর ক্যাথরিন মাসুদ প্রযোজনায় ছিলেন। কান চলচ্চিত্র উৎসব ফ্রান্সের কান শহরে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়, আর এটি বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক চলচ্চিত্র উৎসব।
    মনে রাখুন:
    'মাটির ময়না' অস্কারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে পাঠানো প্রথম ছবি।
    অন্য ছবিগুলো 'লালসালু', 'সূর্যদীঘল বাড়ি' ও 'মুক্তির গান' কান উৎসবে এ পুরস্কার পায়নি।
  7. ৪০. বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে কোন সালে?
    • ক. ২০০০
    • খ. ২০১১
    • গ. ২০১৮
    • ঘ. ২০২১
    উত্তর: ঘ. ২০২১
    আইসিসি (ICC) ২০২১ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে ২০০০ সালে বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্য হয় এবং একই বছর পুরুষ দল টেস্ট মর্যাদা পায়। তাই ২০০০ সাল পুরুষ দলের টেস্ট স্বীকৃতির সাল, নারী দলের নয়। এটাই এই প্রশ্নের সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাট হলো টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, আর টেস্ট সবচেয়ে দীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাট।
    মনে রাখুন:
    পুরুষ দল ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় প্রথম টেস্ট খেলে।
    টেস্ট মর্যাদা পাওয়া মানে দীর্ঘ ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার স্বীকৃতি পাওয়া।
  8. ৪৪. বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী কত শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে?
    • ক. ৬৮.৩৪%
    • খ. ৩১.৬৬%
    • গ. ৩৬.৩৪%
    • ঘ. ৫০.৩৬%
    উত্তর: ক. ৬৮.৩৪%
    ২০২২ সালে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়। এর ফলাফল অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬৮.৩৪ শতাংশ মানুষ গ্রামে এবং ৩১.৬৬ শতাংশ শহরে বাস করে। দুটি সংখ্যা যোগ করলে ১০০ হয়, তাই গ্রাম ও শহরের হিসাব মিলে যায়। অর্থাৎ প্রতি তিনজনের দুজনের বেশি গ্রামবাসী। আগের জনশুমারিগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় শহরে বাস করা মানুষের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, কিন্তু এখনও গ্রামেই বেশির ভাগ মানুষ বাস করে।
    মনে রাখুন:
    জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
    বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২ শতাংশ।
    এটি বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতির জনশুমারি।
  9. ৪৫. শেখ মুজিবুর রহমান কোন পত্রিকায় কাজ করেছিলেন?
    • ক. মিল্লাত
    • খ. ইত্তেহাদ
    • গ. দৈনিক আজাদ
    • ঘ. ইত্তেফাক
    উত্তর: খ. ইত্তেহাদ
    শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে 'ইত্তেহাদ' পত্রিকার সঙ্গে কাজ করার কথা লিখেছেন। পত্রিকাটি তখনকার মুসলিম লীগপন্থী সংবাদপত্র ছিল। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা। 'দৈনিক আজাদ' মওলানা আকরম খাঁর পত্রিকা, আর 'ইত্তেফাক' তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক। এই পত্রিকাগুলোর নাম কাছাকাছি শোনায় বলে প্রশ্নে ভুল হতে পারে। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি তরুণ বয়সে সংবাদপত্রের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। প্রশ্নে 'কাজ করেছিলেন' কথাটি দেখে শুধু পত্রিকার নাম নয়, কোন সময়ে কোন পত্রিকা ছিল তাও মনে রাখা ভালো।
    মনে রাখুন:
    'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
    বইটিতে তাঁর কৈশোর, রাজনীতি ও কারাজীবনের কথা আছে।
  10. ৪৭. প্রথম জাতীয় ভূমি সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
    • ক. ২৯-৩১ মার্চ ২০২২
    • খ. ২৯-৩১ মার্চ ২০২৩
    • গ. ১১-১৪ মার্চ ২০২৩
    • ঘ. ২৯-৩১ জানুয়ারি ২০২৩
    উত্তর: খ. ২৯-৩১ মার্চ ২০২৩
    ভূমি মন্ত্রণালয় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভূমিসেবা ডিজিটাল করার চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করতে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে (২৯-৩১ মার্চ) প্রথমবারের মতো তিন দিনের জাতীয় ভূমি সম্মেলন আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজ করার নির্দেশ দেন। সম্মেলনের সাল ২০২৩, ২০২২ নয়, এটাই প্রশ্নের মূল কথা। ভূমি মন্ত্রণালয় নামজারি, খাজনা, ভূমি উন্নয়ন কর ও মানচিত্রের মতো কাজ দেখাশোনা করে। এই সেবাগুলো অনলাইনে পাওয়ার ব্যবস্থাই ডিজিটাল ভূমিসেবা।
    মনে রাখুন:
    ভূমির নামজারি ও খতিয়ান-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ডিজিটাল ভূমিসেবার অংশ।
    প্রতি বছর ভূমিসেবা সপ্তাহ পালিত হয়।

বিজ্ঞান

  1. ৪১. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ
    • ক. ৭.৬ সে.মি.
    • খ. ৭৬ সে.মি.
    • গ. ৭৬০ সে.মি.
    • ঘ. ৭২ সে.মি.
    উত্তর: খ. ৭৬ সে.মি.
    আমাদের মাথার উপরে বায়ুর যে বিশাল স্তর আছে, তা ভূপৃষ্ঠে চাপ দেয়, একেই বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric Pressure) বলে। ইতালীয় বিজ্ঞানী টরিসেলি পারদ ভরা কাচনল দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে সমুদ্রপৃষ্ঠে স্বাভাবিক অবস্থায় এই চাপ ৭৬ সেমি (৭৬০ মিমি) উঁচু পারদস্তম্ভের চাপের সমান। অপশনের ৭৬০ সে.মি. হলো মিলিমিটারের মান, সেন্টিমিটারের নয়, তাই সেটি ভুল।
    মনে রাখুন:
    ১ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (1 atm) = ৭৬ সেমি পারদচাপ = 101325 Pa (প্রায় 1.013 × 10⁵ Pa)।
    বায়ুচাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার।
    উপরে উঠলে বায়ুচাপ কমে যায়।

আন্তর্জাতিক

  1. ৪২. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন–
    • ক. কফি আনান
    • খ. কুর্ট ওয়াল্ডহেইম
    • গ. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
    • ঘ. উথান্ট
    উত্তর: ঘ. উথান্ট
    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন বার্মার (মিয়ানমার) কূটনীতিবিদ উ থান্ট (U Thant)। তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব। তাঁর আগের মহাসচিব দ্যাগ হ্যামারশোল্ড ১৯৬১ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তাই হ্যামারশোল্ড ও আনান কেউই ১৯৭১ সালে দায়িত্বে ছিলেন না। জাতিসংঘের মহাসচিবের পদে কে কখন ছিলেন, তা বছর ধরে মিলিয়ে রাখলে এ ধরনের প্রশ্নে ভুল হয় না।
    মনে রাখুন:
    কুর্ট ওয়াল্ডহেইম (১৯৭২–১৯৮১) – তাঁর সময় ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হয়।
    কফি আনান (১৯৯৭–২০০৬)
    প্রথম মহাসচিব ট্রিগভে লি।
  2. ৪৩. জাপানের পার্লামেন্টের নাম কী?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৫, এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২) ২০১৫, এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
    • ক. হাউজ অব লর্ডস
    • খ. কংগ্রেস
    • গ. ডায়েট
    • ঘ. হাউজ অব সিনেট
    উত্তর: গ. ডায়েট
    জাপানের পার্লামেন্টের নাম ন্যাশনাল ডায়েট (National Diet)। এটি দুই কক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের নাম প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives) এবং উচ্চকক্ষ হলো কাউন্সিলরদের পরিষদ (House of Councillors)। হাউজ অব লর্ডস যুক্তরাজ্যের আর কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার সঙ্গে জড়িত, তাই এগুলো জাপানের পার্লামেন্টের নাম নয়। ডায়েট শব্দের সাধারণ অর্থ আইনসভা বা পরিষদ, আর জাপানি সংবিধান অনুযায়ী এটিই দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী প্রতিষ্ঠান।
    মনে রাখুন:
    বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টের নাম:
    যুক্তরাষ্ট্র – কংগ্রেস
    যুক্তরাজ্য – পার্লামেন্ট (হাউস অব কমন্স ও হাউস অব লর্ডস)
    ভারত – লোকসভা ও রাজ্যসভা
    বাংলাদেশ – জাতীয় সংসদ
    ইরান – মজলিস
    চীন – ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস
  3. ৪৬. জাতিসংঘ বিষয়ক আলোচনায় 'P5' বলতে কী বোঝায়?
    • ক. নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী রাষ্ট্র
    • খ. পাঁচটি পরমাণু শক্তির রাষ্ট্র
    • গ. জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থা
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী রাষ্ট্র
    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে P5 বলা হয়। P5 মানে Permanent Five। এগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া। এদের প্রত্যেকের ভেটো (Veto) ক্ষমতা আছে, অর্থাৎ যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে প্রস্তাব পাস হয় না। পাঁচটি পরমাণু শক্তির রাষ্ট্র আর P5 এক জিনিস নয়, কারণ পরমাণু শক্তিধর দেশ আরও আছে।
    মনে রাখুন:
    জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়, তাই এ তারিখ জাতিসংঘ দিবস।
    নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য: ৫ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী (দুই বছরের মেয়াদে)।
    সদর দপ্তর নিউইয়র্কে।

আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন