লিয়ানা বুকস

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ৬ মে ২০২৩। ৭৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। শুধু সাধারণ অংশ। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

বাংলা

  1. ১. ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার নাম–
    • ক. রসতত্ত্ব
    • খ. রূপতত্ত্ব
    • গ. বাক্যতত্ত্ব
    • ঘ. ধ্বনিতত্ত্ব
    উত্তর: গ. বাক্যতত্ত্ব
    ভাষার ব্যাকরণ সাধারণত চারটি অংশে ভাগ করা হয়: ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব (শব্দতত্ত্ব), বাক্যতত্ত্ব এবং অর্থতত্ত্ব। ধ্বনিতত্ত্বে ভাষার ধ্বনি, আর রূপতত্ত্বে শব্দের গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। এই দুইয়ের ফল দিয়ে যখন সঠিক বাক্য গঠন করা হয়, সেই আলোচনাকে বাক্যতত্ত্ব (Syntax) বলে। এখানে বাক্যে শব্দ বসানোর নিয়ম, পদক্রম ও বাক্যের গঠন শেখানো হয়। রসতত্ত্ব ব্যাকরণের অংশ নয়, এটি সাহিত্যের আলোচনার বিষয়। তাই ব্যাকরণের কোন অংশে কী পড়ানো হয়, তা জানা থাকলে এই ধরনের প্রশ্নে ভুল হয় না।
    মনে রাখুন:
    ধ্বনিতত্ত্ব – ধ্বনি ও উচ্চারণ
    রূপতত্ত্ব – শব্দ ও পদের গঠন
    বাক্যতত্ত্ব – বাক্যগঠনের নিয়ম
    অর্থতত্ত্ব – শব্দের অর্থ
  2. ২. 'প্রোষিতভর্তৃকা'– শব্দটির অর্থ কী?
    • ক. বিধবা নারী
    • খ. তালাকপ্রাপ্ত নারী
    • গ. যে নারীর স্বামী বিদেশে থাকে
    • ঘ. যে নারী পিত্রালয়ে থাকে
    উত্তর: গ. যে নারীর স্বামী বিদেশে থাকে
    'প্রোষিতভর্তৃকা' শব্দের অর্থ যে নারীর স্বামী বিদেশে বা প্রবাসে থাকেন। 'প্রোষিত' মানে প্রবাসে গেছে এমন, আর 'ভর্তা' মানে স্বামী। এটি বহুব্রীহি সমাসে গঠিত, অর্থাৎ শব্দটি পদ দুটির অর্থের বাইরে তৃতীয় একটি অর্থ বোঝায়। বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত নারীর সঙ্গে এর অর্থ মেলে না, কারণ এখানে স্বামী জীবিত আছেন, শুধু দূরে আছেন।
    মনে রাখুন:
    যে নারীর স্বামী মারা গেছেন – বিধবা
    যে নারীর স্বামী ও সন্তান আছে – বীরা
    যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী ছিলেন – অন্যপূর্বা
    যে বিধবার পুনরায় বিয়ে হয়েছে – পুনর্ভূ
  3. ৩. 'ধরি মাছ না ছুঁই পানি' বাগধারাটির অর্থ হলো–
    • ক. মাছ ধরার কৌশল
    • খ. চালাকি
    • গ. মাছ ধরতে কৌশলী
    • ঘ. কৌশলে কার্যোদ্ধার
    উত্তর: ঘ. কৌশলে কার্যোদ্ধার
    'ধরি মাছ না ছুঁই পানি' বাগধারার অর্থ কৌশলে কার্যোদ্ধার, অর্থাৎ এমনভাবে কাজ হাসিল করা, যেন নিজের গায়ে আঁচ না লাগে। মাছ ধরতে গেলে পানি ছুঁতেই হয়, কিন্তু এখানে ভাবটি এমন যে কাজটি হয়ে গেল অথচ নিজে বিপদে জড়ালাম না। তাই বাগধারাটিকে মাছ ধরার কৌশলের কথা ভাবলে ভুল হবে, কারণ বাগধারার অর্থ আক্ষরিক হয় না। এই বাগধারার ভাব দিয়ে বোঝানো হয় যে কেউ কাজে এগিয়ে এসেও দায় এড়িয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    সবেধন নীলমণি – একমাত্র সম্বল
    সপ্তকাণ্ড রামায়ণ – বিরাট ব্যাপার
    ডিমে তেতালা – ধীরগতি বা অলস
  4. ৪. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
    • ক. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
    • খ. আয়নামতির পালা
    • গ. ইছামতি
    • ঘ. একটি কালো মেয়ের কথা
    উত্তর: ঘ. একটি কালো মেয়ের কথা
    'একটি কালো মেয়ের কথা' মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা বাংলাদেশের উপন্যাস। অন্য বিকল্পগুলো ভিন্ন পটভূমির। আলাউদ্দিন আল আজাদের 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' ১৯৬০ সালের লেখা। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ইছামতি' গ্রামজীবনের উপন্যাস। আর 'আয়নামতির পালা' নামের রচনা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কয়েকটি বিখ্যাত বইয়ের নাম মনে রাখা। তাই উপন্যাসের পটভূমি জানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    মুক্তিযুদ্ধের আরও উপন্যাস: জীবন থেকে নেয়া (জহির রায়হান), নিষিদ্ধ লোবান (সৈয়দ শামসুল হক)।
    'একাত্তরের দিনগুলি' (জাহানারা ইমাম) উপন্যাস নয়, এটি স্মৃতিকথা।
  5. ৫. 'Quarterly' শব্দের অর্থ কী?
    • ক. ত্রৈমাসিক
    • খ. সাপ্তাহিক
    • গ. পাক্ষিক
    • ঘ. ষান্মাসিক
    উত্তর: ক. ত্রৈমাসিক
    Quarterly মানে ত্রৈমাসিক, অর্থাৎ বছরে চারবার, প্রতি তিন মাস অন্তর। Quarter শব্দের অর্থ এক-চতুর্থাংশ। বছরে ১২ মাস, তার চার ভাগের এক ভাগ হলো তিন মাস। তাই কোনো পত্রিকা বা প্রতিবেদন তিন মাস পরপর বের হলে তাকে quarterly বলা হয়। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা সময় বোঝায়: সাপ্তাহিক সাত দিন, পাক্ষিক পনেরো দিন আর ষান্মাসিক ছয় মাস অন্তর। 'Quarter' শব্দটি আমরা অন্যত্রও দেখি, যেমন quarter-final মানে চূড়ান্ত খেলার আগের চার দলের লড়াই, আর quarter মানে সিকি বা চারভাগের এক ভাগ।
    মনে রাখুন:
    Daily – দৈনিক
    Weekly – সাপ্তাহিক
    Fortnightly – পাক্ষিক
    Monthly – মাসিক
    Half-yearly – ষান্মাসিক
    Yearly – বার্ষিক
  6. ৬. 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারার অর্থ কী?
    • ক. বেশি কথা বলা
    • খ. পূর্ণচন্দ্র
    • গ. অর্ধচন্দ্র
    • ঘ. ভূমিকা
    উত্তর: ঘ. ভূমিকা
    'গৌরচন্দ্রিকা' শব্দের অর্থ ভূমিকা বা মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে প্রস্তাবনা। বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধাকৃষ্ণের লীলা গাওয়ার আগে শ্রীচৈতন্য বা গৌরাঙ্গের বন্দনা গাওয়া হতো, তাকে গৌরচন্দ্রিকা বলে। সেখান থেকেই শব্দটি ভূমিকা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আমরা আজও কোনো কথার আগে লম্বা প্রস্তাবনা দিলে বলি, 'এত গৌরচন্দ্রিকা কেন?' গৌরচন্দ্রিকা এখন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নয়, সাধারণ কথাবার্তাতেও চালু। যিনি আসল কথার আগে অনেকক্ষণ ভূমিকা করেন, তাঁকে নিয়ে মজা করে এ কথাটি বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    অর্ধচন্দ্র – গলাধাক্কা
    কেঁচে গণ্ডূষ – গোড়া থেকে শুরু
    উনকোটি চৌষট্টি – প্রায় সম্পূর্ণ
  7. ৭. কোনটি লিঙ্গান্তর হয় না–
    • ক. কবিরাজ
    • খ. বেয়াই
    • গ. সাহেব
    • ঘ. সঙ্গী
    উত্তর: ক. কবিরাজ
    লিঙ্গান্তর হলো পুরুষবাচক শব্দ থেকে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করা, বা এর উল্টোটা। কিন্তু সব শব্দের জন্য উল্টো রূপ হয় না। ‘কবিরাজ’ এমন একটি শব্দ, যার কোনো আলাদা স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই। অন্য শব্দগুলোর রূপ আছে, যেমন বেয়াই-বেয়ান, সাহেব-মেমসাহেব এবং সঙ্গী-সঙ্গিনী।
    মনে রাখুন:
    নিত্য পুংলিঙ্গ শব্দ, অর্থাৎ যেগুলোর স্ত্রীলিঙ্গ হয় না: কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার।
    নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ, অর্থাৎ যেগুলোর পুংলিঙ্গ হয় না: সতীন, সৎমা, সধবা, বিধবা।
  8. ৮. 'আগুন'-এর সমার্থক শব্দ কোনটি?আরও এসেছে: বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) ২০২২, এনটিআরসিএ ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৪
    • ক. অনল
    • খ. অংশু
    • গ. জ্যোতি
    • ঘ. ভাতি
    উত্তর: ক. অনল
    আগুনের সমার্থক শব্দ অনল। এর আরও প্রতিশব্দ অগ্নি, বহ্নি, পাবক, দহন, হুতাশন, কৃশানু। এগুলো সবই আগুনকে বোঝায়, তাই বাংলা সাহিত্যে নানা জায়গায় এদের দেখা মেলে। অন্য বিকল্পগুলো আলো বা কিরণের কাছাকাছি: অংশু মানে রশ্মি, জ্যোতি মানে আলো, ভাতি মানে দীপ্তি। তাই এগুলো আগুনের প্রতিশব্দ নয়। সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দ বলে এগুলোর বেশির ভাগই কবিতায় বেশি পাওয়া যায়, যেমন 'অনল' বা 'বহ্নি'।
    মনে রাখুন: বৈশ্বানর, সর্বভুক ও শিখা শব্দগুলোও আগুনের কাছাকাছি অর্থ বহন করে। একটি শব্দের অনেক প্রতিশব্দ মুখস্থ রাখলে সমার্থক শব্দের প্রশ্নে সুবিধা হয়।
  9. ৯. 'কিন্ডারগার্টেন' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
    • ক. তুর্কি
    • খ. পর্তুগিজ
    • গ. জার্মান
    • ঘ. ফরাসি
    উত্তর: গ. জার্মান
    'কিন্ডারগার্টেন' শব্দটি জার্মান ভাষা থেকে এসেছে। Kinder মানে শিশু আর Garten মানে বাগান, অর্থাৎ 'শিশুদের বাগান'। শিশুরা যেন ফুলের মতো খেলাধুলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে, এই ভাবনা থেকে জার্মান শিক্ষাবিদ ফ্রেডরিক ফ্রোয়েবল ১৮৩৭ সালে এ শিক্ষা পদ্ধতির সূচনা করেন। আজ প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য শব্দটি সারা বিশ্বে চলে। শব্দটি এখন প্রায় প্রতিটি দেশের ভাষায় বিদেশি শব্দ হিসেবে ঢুকে গেছে। আমাদের দেশেও অনেক বিদ্যালয়ের নামের আগে 'কিন্ডারগার্টেন' শব্দটি দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    জার্মান ভাষার আরও শব্দ: গেস্টাপো, ব্লিৎসক্রিগ।
    তুর্কি শব্দ: বাবুর্চি, চাকর।
    ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, রেস্তোরাঁ।
    পর্তুগিজ শব্দ: আলমারি, বালতি।
  10. ১০. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. মনীষী
    • খ. মনিষি
    • গ. মনীষি
    • ঘ. মনিষী
    উত্তর: ক. মনীষী
    'মনীষী' বানানটি শুদ্ধ। এর অর্থ জ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। শব্দটি এসেছে 'মনীষা' (প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি) থেকে। সংস্কৃত নিয়মে এতে দুটি দীর্ঘ ঈ-কার বসে: মনীষী। তাই 'মনিষি', 'মনীষি' ও 'মনিষী' বানানগুলো ভুল। যে শব্দ তৎসম, তার বানান মূল সংস্কৃত শব্দের মতো রাখতে হয়, নিজের ইচ্ছেমতো পাল্টানো যায় না। আরও একটি মজার কথা: 'মনীষা' ও 'মনীষী' শব্দ দুটির দুটিতেই দীর্ঘ ঈ-কার আছে, তাই একটি মনে রাখলে অন্যটির বানানও ঠিক হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    শুদ্ধ: মনীষা, মনীষী, পণ্ডিত, কৃতী, ভূমিকা
    অশুদ্ধ: মনিষী, কৃতি (ব্যক্তি অর্থে)
    ঈ-ঊ যুক্ত তৎসম শব্দের বানান মুখস্থ করাই সহজ উপায়।
  11. ১১. 'সমভিব্যাহারে' শব্দটির অর্থ কী?
    • ক. একাগ্রতায়
    • খ. সমান ব্যবহারে
    • গ. সমভাবনায়
    • ঘ. একযোগে
    উত্তর: ঘ. একযোগে
    'সমভিব্যাহারে' শব্দের অর্থ একসঙ্গে, একযোগে। শব্দটিতে 'সম্' ও 'অভি' উপসর্গ আর 'ব্যাহার' শব্দ আছে, যার সম্মিলিত অর্থ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। বাক্যে বলি, 'তিনি পরিবারের সমভিব্যাহারে এসেছেন', অর্থাৎ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। এটি সাধুভাষার ধাঁচের একটি গম্ভীর শব্দ, যা আজকাল কম ব্যবহৃত হয়, কিন্তু পরীক্ষায় আসে। শব্দটি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে, তাই এটি তৎসম শব্দ। সাহিত্য ও চিঠিপত্রে আগে এ ধরনের গম্ভীর শব্দ বেশি লেখা হতো, আর আজকের দিনে এর বদলে 'সঙ্গে' বা 'সহ' বলাই সহজ। পরীক্ষায় এ ধরনের কঠিন শব্দের অর্থ প্রায়ই প্রশ্ন হিসেবে আসে।
    মনে রাখুন: একই অর্থের কাছাকাছি শব্দ: সহিত, সঙ্গে, সমেত, একত্রে।
  12. ১২. 'সংস্কার'-এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
    • ক. সং + কার
    • খ. সম + কার
    • গ. সন + কার
    • ঘ. সমো + কার
    উত্তর: খ. সম + কার
    'সংস্কার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ সম্ + কার। এখানে সম্ উপসর্গের পরে 'ক' আছে। সন্ধির নিয়মে এখানে ম্ হয়ে যায় ং এবং মাঝখানে স-আগম হয়: সম্ + কার = সংস্কার। অন্য বিকল্পগুলোয় সন বা সমো উপসর্গ নেই, তাই ভুল। এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ, কারণ একটি ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে আরেকটি ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে পরিবর্তন হয়েছে। সন্ধি মানে মিলন। দুটি ধ্বনি পাশাপাশি এলে উচ্চারণ সহজ করতে যে পরিবর্তন হয়, তাকেই সন্ধি বলা হয়, আর সন্ধি তিন ধরনের: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।
    উদাহরণ:
    সম্ + কৃতি = সংস্কৃতি
    পরি + কার = পরিষ্কার
    উৎ + স্থান = উত্থান
    মনে রাখুন: সম্ + কৃত = সংস্কৃত শব্দটিও একই নিয়মে হয়।
  13. ১৩. 'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে, অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে'– কোন কবিতার অংশ?
    • ক. নিমন্ত্রণ
    • খ. পল্লীবর্ষা
    • গ. কবর
    • ঘ. রাখালী
    উত্তর: গ. কবর
    'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে, অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে' লাইন দুটি জসীমউদদীনের 'কবর' কবিতার। এতে এক বৃদ্ধ দাদা তাঁর নাতির কাছে মৃত স্ত্রীর কবরের স্মৃতি তুলে ধরেন। কবিতাটি জসীমউদদীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭)-এর অন্তর্ভুক্ত। তাই 'রাখালী' কবিতার নাম নয়, এটি বইয়ের নাম, আর কবিতাটি তার ভেতরে আছে।
    অন্য বিকল্পগুলোও জসীমউদদীনের রচনার নাম হতে পারে, কিন্তু উদ্ধৃত লাইন দুটি 'কবর' কবিতা ছাড়া অন্য কোথাও নেই।
    মনে রাখুন:
    জসীমউদদীনের বিখ্যাত কাব্য: নক্সী কাঁথার মাঠ (১৯২৯), সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৩)।
    তাঁকে পল্লীকবি বলা হয়।
  14. ১৪. অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?
    • ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • খ. অন্নদাশংকর রায়
    • গ. সুকান্ত ভট্টাচার্য
    • ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    উত্তর: ঘ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 'অমিত্র' মানে মিল নেই এমন, আর 'অক্ষর' মানে চরণের শেষের অক্ষর। এ ছন্দে চরণের শেষে মিল থাকে না। বাক্যের ভাব এক চরণ থেকে পরের চরণে গড়িয়ে যায়, তাই একে প্রবহমান ছন্দও বলা হয়। প্রতি চরণে ১৪ মাত্রা থাকে, সাধারণত ৮ ও ৬ মাত্রার দুই পর্বে। মধুসূদনের আগে বাংলা কবিতায় অন্ত্যমিল প্রায় অপরিহার্য ছিল, তাই এটি ছিল এক বিপ্লব।
    মনে রাখুন:
    মধুসূদন প্রথম এ ছন্দে লেখেন 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০)।
    তাঁর বিখ্যাত মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১), এটিও অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা।
    তাঁর প্রবর্তিত আরেকটি রূপ চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট।
  15. ১৫. 'জজসাহেব' কোন সমাসের উদাহরণ?
    • ক. দ্বিগু
    • খ. কর্মধারয়
    • গ. দ্বন্দ্ব
    • ঘ. বহুব্রীহি
    উত্তর: খ. কর্মধারয়
    'জজসাহেব' শব্দটির বিশ্লেষণ হলো: যিনি জজ, তিনিই সাহেব। এখানে দুটি পদই বিশেষ্য এবং তাদের মধ্যে অভেদ সম্পর্ক বোঝায়। দুই পদের একই ব্যক্তিকে বোঝানোর কারণে পরপদের অর্থই প্রধান হয়। এমন সমাসকে কর্মধারয় সমাস বলে। বহুব্রীহিতে দুই পদ মিলে তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায়, তাই এখানে বহুব্রীহি হবে না। বাংলায় 'সাহেব' শব্দটি ফারসি থেকে এসেছে, আর এর অর্থ প্রভু বা ভদ্রলোক। তাই 'জজ' ইংরেজি আর 'সাহেব' ফারসি, দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ মিলে এখানে সমাস হয়েছে।
    উদাহরণ:
    মন্ত্রীসাহেব = মন্ত্রী যিনি তিনিই সাহেব
    নীলপদ্ম = নীল যে পদ্ম
    মনে রাখুন: কর্মধারয়ে ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি' বা 'যা' বসানো হয়।
  16. ১৬. কাজী নজরুল ইসলাম তার কোন কবিতার জন্য কারাবরণ করেন?
    • ক. বিদ্রোহী
    • খ. আনন্দময়ীর আগমনে
    • গ. সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
    • ঘ. মুক্তি
    উত্তর: খ. আনন্দময়ীর আগমনে
    কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২২ সালে তাঁর সম্পাদিত 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটি প্রকাশ করেন। কবিতায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ছিল, তাই রাজদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারে তাঁর এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্য তাঁকে কারাবরণ করতে হয়নি। নজরুলের এই কারাবাসের সময় তিনি হুগলি জেলে বন্দি ছিলেন। সেখানে জেল কর্তৃপক্ষের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি অনশনও করেন।
    মনে রাখুন:
    কারাগারে অনশনের সময় রবীন্দ্রনাথ তাঁকে উৎসর্গ করে 'বসন্ত' গীতিনাট্য লেখেন।
    'বিদ্রোহী' কবিতা ১৯২২ সালে বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত।
  17. ১৭. রবীন্দ্রনাথ রচিত 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালার নিজ দেশ কোনটি?
    • ক. কাশ্মীর
    • খ. তিব্বত
    • গ. আফগানিস্তান
    • ঘ. উজবেকিস্তান
    উত্তর: গ. আফগানিস্তান
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্পে রহমত নামে এক ফলবিক্রেতা কাবুল থেকে কলকাতায় আসে। কাবুল আফগানিস্তানের রাজধানী, তাই সে আফগানিস্তানের মানুষ এবং তার নিজ দেশ আফগানিস্তান। গল্পের কথক মিনি নামের ছোট মেয়ের বাবা। নিজের মেয়ের কথা মনে করে রহমত মিনিকে স্নেহ করে। কাবুলিওয়ালা শব্দের মানে কাবুল থেকে আসা মানুষ। বাংলা ভাষায় 'ওয়ালা' প্রত্যয়ের অর্থ যে কাজ বা জিনিসের সঙ্গে জড়িত, যেমন দুধওয়ালা বা ঠেলাওয়ালা। রহমতের মেয়েও মিনির বয়সী, তাই সে মিনির মধ্যে নিজের মেয়ের ছায়া দেখে।
    মনে রাখুন:
    গল্পটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত।
    রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য ছোটগল্প: পোস্টমাস্টার, ছুটি, কঙ্কাল, ক্ষুধিত পাষাণ।
  18. ১৮. কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত এর উদাহরণ?
    • ক. প্রদীপ নিভে গেল
    • খ. তাকে সুস্থই দেখাচ্ছিল
    • গ. প্রতিদিন ফুল ফুটত
    • ঘ. শিকারী পাখিটিকে গুলি করল
    উত্তর: গ. প্রতিদিন ফুল ফুটত
    যে ক্রিয়ায় অতীতে প্রায়ই বা অভ্যাসবশত ঘটত এমন কাজ বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত (Habitual Past) বলে। 'প্রতিদিন ফুল ফুটত' বাক্যে 'প্রতিদিন' শব্দ থেকেই বোঝা যায় অতীতে কাজটি নিয়মিত হতো। অতীত কাল চার ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত অতীত ও নিত্যবৃত্ত অতীত। এদের পার্থক্য ধরতে হলে বাক্যে সময়ের শব্দ ও ক্রিয়ার রূপ দেখতে হয়।
    অন্য বিকল্পে: 'প্রদীপ নিভে গেল' সাধারণ অতীত, 'সুস্থই দেখাচ্ছিল' ঘটমান অতীত, 'গুলি করল' সাধারণ অতীত।
    উদাহরণ:
    সকালে উঠে নদীর ধারে বেড়াতাম।
    মনে রাখুন: ঘটমান অতীতে কাজ চলছিল বোঝায়, আর নিত্যবৃত্তে কাজ বারবার ঘটত বোঝায়।

ইংরেজি

  1. ১৯. The antonym of 'recession'—
    • ক. Inflation
    • খ. deflation
    • গ. jubilant
    • ঘ. boom
    উত্তর: ঘ. boom
    Recession মানে অর্থনৈতিক মন্দা। এর বিপরীত boom, যার অর্থ বাজারের তেজি ভাব বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা। Inflation মানে মুদ্রাস্ফীতি, অর্থাৎ দাম বাড়ার প্রবণতা। Deflation মানে দামের পতন, এটি recession-এর বিপরীত নয় বরং এর সঙ্গে প্রায়ই ঘটে। Jubilant মানে উল্লসিত। Recession শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পিছিয়ে যাওয়া। অর্থনীতি যখন পিছিয়ে যায় এবং উৎপাদন ও কাজের সুযোগ কমে, তখন তাকে মন্দা বলা হয়।
    উদাহরণ: The economy is in a boom after a long recession.
    মনে রাখুন: Recession-এর synonym depression, slump, downturn; antonym boom, prosperity।
  2. ২০. Find correct passive voice : Do the sum.
    • ক. Let be sum done.
    • খ. Let the sum be done.
    • গ. The sum is done.
    • ঘ. Let the sum doen.
    উত্তর: খ. Let the sum be done.
    Active voice-এ আদেশ (imperative) বাক্য verb দিয়ে শুরু হয়, যেমন 'Do the sum.' এর passive করতে নিয়ম Let + object + be + past participle। তাই 'Let the sum be done.'
    বিকল্পে 'The sum is done' simple present passive, তাই আদেশ বোঝায় না। 'Let be sum done' ও 'doen' বানানের ভুল।
    মনে রাখুন:
    Open the door. → Let the door be opened.
    Do not touch it. → Let it not be touched.
    অনুরোধ বা উপদেশ বোঝাতে Passive: You are requested to + verb।
  3. ২১. William Shakespeare was born in—
    • ক. USA
    • খ. Britain
    • গ. Germany
    • ঘ. Greece
    উত্তর: খ. Britain
    William Shakespeare ১৫৬৪ সালে ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে জন্মগ্রহণ করেন। ইংল্যান্ড যুক্তরাজ্য (Britain)-এর অংশ, তাই এখানে Britain সঠিক উত্তর। বাকি তিনটি দেশ, USA, Germany ও Greece, তাঁর জন্মস্থান নয়। তাঁকে 'Bard of Avon' বলা হয়। শেক্সপিয়র লন্ডনের গ্লোব থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর রচিত সনেটের সংখ্যা ১৫৪টি। তাঁর স্ত্রীর নাম অ্যান হ্যাথাওয়ে। জীবনের বড় অংশ তিনি লন্ডনে অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে কাটিয়েছেন, কিন্তু জন্ম ও মৃত্যু দুটিই স্ট্র্যাটফোর্ডে।
    মনে রাখুন:
    তাঁর বিখ্যাত নাটক: Hamlet, Othello, Macbeth, King Lear (চারটি মহাট্র্যাজেডি)।
    তিনি ১৬১৬ সালে মারা যান।
  4. ২২. What is the synonym of 'competent'?
    • ক. capable
    • খ. prudent
    • গ. discreet
    • ঘ. circumspect
    উত্তর: ক. capable
    Competent মানে দক্ষ বা যোগ্য, অর্থাৎ যে কোনো কাজ ঠিকভাবে করতে পারে। Capable শব্দের অর্থও সক্ষম, তাই এটি সমার্থক। অন্য শব্দগুলোর অর্থ একটু আলাদা: prudent মানে বিচক্ষণ, discreet মানে বুঝেশুনে চলা বা গোপনীয়তা রক্ষাকারী, আর circumspect মানে সতর্ক। এগুলো সবই ভালো গুণ, কিন্তু কাজের দক্ষতা বোঝায় না। Competent শব্দটির noun রূপ competence, যার অর্থ যোগ্যতা বা দক্ষতা, আর বিপরীত শব্দ incompetence অর্থাৎ অযোগ্যতা। Competent-এর বিশেষ্য রূপ competence।
    উদাহরণ: She is a competent teacher.
    মনে রাখুন: Competent-এর synonym able, skilled; antonym incompetent, unfit।
  5. ২৩. Fill up : Cricket is a kind of play. It is also a kind of—
    • ক. flower
    • খ. insect
    • গ. food
    • ঘ. bird
    উত্তর: খ. insect
    Cricket শব্দটির দুটি অর্থ আছে। একটি জনপ্রিয় খেলা, আরেকটি ঝিঁঝিঁ পোকা (Insect)। তাই 'Cricket is a kind of play. It is also a kind of —' বাক্যের শূন্যস্থানে insect বসে। Flower, food বা bird কোনোটিই cricket নয়। ঝিঁঝিঁ পোকা রাতে ডাকে, আর এই ডাকের জন্য আমাদের কাছে পরিচিত। ইংরেজি পরীক্ষায় এ ধরনের শব্দকে বলে homonym, অর্থাৎ বানান একই কিন্তু আলাদা অর্থ।
    মনে রাখুন: একই বানানের শব্দের একাধিক অর্থ থাকে, যেমন bat (ব্যাট ও বাদুড়), bank (ব্যাংক ও নদীর তীর)। বাক্যের প্রসঙ্গ দেখে সঠিক অর্থ ঠিক করতে হয়।
  6. ২৪. I shall join the army. – এখানে 'army' শব্দটি কোন ধরনের noun?
    • ক. adverb
    • খ. adjective
    • গ. collective noun
    • ঘ. abstract noun
    উত্তর: গ. collective noun
    Army শব্দটি collective noun, কারণ এটি একই জাতীয় অনেক ব্যক্তিকে একটি সমষ্টি হিসেবে বোঝায়, অর্থাৎ সৈন্যদল। 'I shall join the army' বাক্যে army বলতে সৈন্যদের পুরো দলকে বোঝানো হয়েছে। Abstract noun গুণ বা ভাব বোঝায়, যেমন honesty। Adverb ক্রিয়াকে বিশেষিত করে আর adjective noun-কে বিশেষিত করে, তাই এ দুটি noun-ই নয়। সৈন্যদল ছাড়াও আরও অনেক শব্দ এ ধরনের, যেমন committee, crowd, family, audience ও jury।
    উদাহরণ:
    a team of players, a flock of birds, a class of students
    মনে রাখুন: Collective noun একবচন রূপে ব্যবহার হলে singular verb নেয়।
  7. ২৫. Run fast or you will miss the train. Here 'or' is—
    • ক. adverb
    • খ. preposition
    • গ. interjection
    • ঘ. conjunction
    উত্তর: ঘ. conjunction
    Conjunction হলো সেই শব্দ, যা দুটি শব্দ, বাক্যাংশ বা বাক্যকে জুড়ে দেয়। 'Run fast or you will miss the train' বাক্যে 'or' দুটি আলাদা বাক্যাংশ (Run fast এবং you will miss the train)-কে যুক্ত করেছে এবং একটি বিকল্প বা পরিণতি বোঝাচ্ছে, তাই এটি conjunction। এখানে 'or' কোনো ক্রিয়ার ধরন বোঝাচ্ছে না বলে adverb নয়, কোনো noun-এর সঙ্গে সম্পর্কও গড়ছে না বলে preposition নয়।
    মনে রাখুন:
    Coordinating conjunction: and, but, or, so, for, nor, yet।
    এই ধরনের 'or' দিয়ে শর্তের মতো অর্থও বোঝানো যায়: Hurry up, or you will be late. (অর্থাৎ না হলে)।
  8. ২৬. Fill up : He has been ill — Friday last.
    • ক. since
    • খ. from
    • গ. for
    • ঘ. of
    উত্তর: ক. since
    কাজটি অতীতের কোনো নির্দিষ্ট সময় থেকে শুরু হয়ে এখনো চলছে বোঝাতে present perfect tense ব্যবহার হয়। সময়টি যদি নির্দিষ্ট একটি বিন্দু হয়, যেমন এখানে Friday last, তাহলে তার আগে since বসে। তাই বাক্যটি হবে 'He has been ill since Friday last.' From বা of এই অর্থে বসে না।
    মনে রাখুন:
    Point of time-এর আগে since: since 2010, since morning, since Monday।
    Period of time-এর আগে for: for two hours, for ten years।
    Be, have, know, see জাতীয় verb সাধারণত continuous tense-এ ব্যবহার হয় না।
  9. ২৭. The phrase 'sine die' means—
    • ক. half-heartedly
    • খ. uncertain
    • গ. doubtfully
    • ঘ. fixed
    উত্তর: খ. uncertain
    'Sine die' ল্যাটিন বাক্যাংশ, যার আক্ষরিক অর্থ 'দিন ছাড়া'। আইনসভা বা সভা এমনভাবে মুলতবি করা হলে, যেখানে আবার কবে বসবে তার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা থাকে না, তখন তাকে sine die বলে। অর্থাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে uncertain এর সবচেয়ে কাছের। 'Fixed' ঠিক উল্টো অর্থ দেয়, আর half-heartedly মানে আধা মন নিয়ে, doubtfully মানে সন্দেহের সঙ্গে।
    মনে রাখুন:
    Sine die = অনির্দিষ্টকালের জন্য। যেমন: The meeting was adjourned sine die.
    অন্য ল্যাটিন বাক্যাংশ: bona fide (সরল বিশ্বাসে), ad hoc (বিশেষ উদ্দেশ্যে), status quo (বর্তমান অবস্থা)।
  10. ২৮. Fill up with correct from of verb : 'I wish I — a child again.'
    • ক. were
    • খ. be
    • গ. am
    • ঘ. was
    উত্তর: ক. were
    'I wish' দিয়ে এমন ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়, যা বর্তমানে বাস্তব নয়। তখন wish-এর পরের অংশে verb-এর past form বসে, আর to be verb থাকলে সব person-এর সঙ্গেই were ব্যবহার করা হয়। আমি এখন শিশু নই, তবু শিশু হতে চাইছি, তাই বাক্যটি হবে 'I wish I were a child again.' Was এখানে চলে না, কারণ এটি unreal condition।
    উদাহরণ:
    I wish I were a bird.
    She wishes she were rich.
    মনে রাখুন: If I were you...-এর মতো অবাস্তব শর্তেও 'were' বসে।
  11. ২৯. Fil up with appropriate article : Mr. Raihan is — FCPS.
    • ক. the
    • খ. an
    • গ. a
    • ঘ. a/an
    উত্তর: খ. an
    Article বসবে শব্দের বানানের ওপর নয়, প্রথম ধ্বনির উচ্চারণের ওপর ভিত্তি করে। FCPS-এর প্রথম অক্ষর F-এর উচ্চারণ 'এফ' (ef), যা স্বরধ্বনি দিয়ে শুরু হয়। তাই এর আগে an বসে এবং বাক্যটি হয় 'Mr. Raihan is an FCPS.' 'The' এখানে অর্থ দেয় না, কারণ কোনো নির্দিষ্ট একজনকে বোঝানো হয়নি।
    মনে রাখুন:
    An M.A., an M.P., an L.L.B., an S.O.S., an X-ray (স্বরধ্বনির মতো উচ্চারণ)।
    A B.A., a Ph.D., a U.N. official (ব্যঞ্জনধ্বনির মতো উচ্চারণ)।
  12. ৩০. Find correct interrogative : None can do this.
    • ক. Can none do this?
    • খ. Do this can be don?
    • গ. Who can do this?
    • ঘ. Can this be done none?
    উত্তর: গ. Who can do this?
    কোনো বাক্যকে assertive থেকে interrogative-এ বদলানোর সময় তার অর্থ একই রাখতে হয়। None, Nobody বা No one দিয়ে গড়া বাক্যে নেতিবাচক ভাব থাকে। প্রশ্নবোধক রূপে এই শব্দগুলোর জায়গায় Who বসে এবং ক্রিয়াটি হ্যাঁ-বাচক রূপে থাকে। তাই ‘None can do this’ বদলে হয় ‘Who can do this?’। এর ভাবার্থ দাঁড়ায়, এই কাজ কেউ করতে পারে না। প্রথম ও চতুর্থ বিকল্পে none শব্দটি রয়ে গেছে, ফলে নেতিবাচক শব্দ প্রশ্নের ভেতরেই থেকে গেছে। দ্বিতীয় বিকল্পের শব্দক্রম আর ক্রিয়ার রূপ, দুটোই ভুল।
    মনে রাখুন:
    None, Nobody, No one → Who।
    Nothing → What।
    উদাহরণ:
    Nobody likes pain. → Who likes pain?
    No one can stop him. → Who can stop him?
    Nothing is impossible. → What is impossible?
  13. ৩১. Identify the word that remains same in plural form :
    • ক. Fox
    • খ. Calf
    • গ. Hero
    • ঘ. Cannon
    উত্তর: ঘ. Cannon
    English-এর কিছু noun-এর singular ও plural রূপ একই থাকে, আর এমন শব্দ আলাদা করে মনে রাখতে হয়। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে Cannon-এর বহুবচনে cannon রূপটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যেমন ‘ten cannon’, যদিও cannons লেখাও চলে। বাকি তিনটির বহুবচন নিয়ম মেনে বদলায়: fox → foxes, calf → calves এবং hero → heroes। s, x, ch, sh বা o-তে শেষ হওয়া অনেক শব্দে es যুক্ত হয়। আবার f বা fe-তে শেষ হলে অনেক সময় f বদলে v হয় এবং তার পরে es বসে।
    মনে রাখুন:
    Singular ও plural একই: sheep, deer, swine, fish, aircraft, series, species, salmon।
    f/fe বদলে v + es: calf → calves, wife → wives, knife → knives।
  14. ৩২. Fill up with correct preposition : I prefer milk — tea.
    • ক. than
    • খ. for
    • গ. to
    • ঘ. with
    উত্তর: গ. to
    Prefer ক্রিয়াটি 'to' preposition নিয়ে ব্যবহার হয়, 'than' বা 'for' নিয়ে নয়। তাই 'I prefer milk to tea' বাক্যটি শুদ্ধ। Prefer-এর সঙ্গে 'than' ব্যবহার করা একটি পরিচিত ভুল। একই অর্থে আমরা বলতে পারি 'I like milk more than tea', সেখানে than আসে, কারণ তখন comparative রূপ more ব্যবহার হচ্ছে।
    মনে রাখুন: Prefer + noun/gerund + to + noun/gerund। যেমন: I prefer walking to driving.
    অন্যান্য 'to' নেওয়া শব্দ: superior to, inferior to, senior to, junior to, preferable to।
  15. ৩৩. John Keats was a poet of—.
    • ক. nature
    • খ. romantic
    • গ. modern
    • ঘ. beauty
    উত্তর: ঘ. beauty
    John Keats ইংরেজ রোমান্টিক যুগের কবি। তাঁর কবিতার প্রধান সুর সৌন্দর্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা, তাই তাঁকে 'poet of beauty' বা সৌন্দর্যের কবি বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি 'A thing of beauty is a joy for ever' এই পরিচয়কেই তুলে ধরে। কবি জন্মেছিলেন ১৭৯৫ সালে এবং যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে খুব অল্প বয়সে, ১৮২১ সালে ইতালির রোমে মারা যান।
    মনে রাখুন:
    Keats-এর রচনা: Endymion, Ode to a Nightingale, Ode on a Grecian Urn, To Autumn।
    Wordsworth হলেন 'poet of nature', Shelley হলেন 'poet of revolution/ideal'।
  16. ৩৪. He — me in my difficulty.
    • ক. stand at
    • খ. stand for
    • গ. stand by
    • ঘ. stand upon
    উত্তর: গ. stand by
    'Stand by' phrasal verb-এর অর্থ কাউকে সমর্থন করা বা বিপদে পাশে দাঁড়ানো। বাক্যটি হলো 'He stood by me in my difficulty.' অর্থাৎ আমার বিপদে সে আমার পাশে ছিল। অন্য বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা: stand for মানে প্রতিনিধিত্ব করা বা প্রতীক হওয়া, আর stand upon মানে জোর দেওয়া।
    মনে রাখুন:
    Stand by = সমর্থন করা; Stand for = প্রতিনিধিত্ব করা, সহ্য করা; Stand up for = পক্ষ নিয়ে দাঁড়ানো; Stand out = বিশিষ্ট হওয়া।
  17. ৩৫. Which gender is the word 'spouse'?
    • ক. neuter
    • খ. feminine
    • গ. masculine
    • ঘ. common
    উত্তর: ঘ. common
    Spouse মানে স্বামী বা স্ত্রী, তাই এটি পুরুষ ও নারী উভয়কেই বোঝাতে পারে। যে শব্দ পুরুষ ও নারী দুই ধরনের মানুষকেই বোঝায়, তাকে common gender বলে। শব্দটি নির্দিষ্টভাবে পুরুষ বা নারী বোঝায় না, আবার জড় বস্তুও বোঝায় না, তাই masculine, feminine বা neuter কোনোটিই হতে পারে না।
    উদাহরণ:
    student, friend, baby, doctor, cousin।
    মনে রাখুন:
    Gender চার প্রকার: masculine, feminine, common ও neuter।
    Neuter gender হলো জড় বস্তু, যেমন book, table।
  18. ৩৬. 'Maiden speech' means—
    • ক. early speech
    • খ. last speech
    • গ. final speech
    • ঘ. first speech
    উত্তর: ঘ. first speech
    Maiden শব্দের একটি অর্থ প্রথম। কেউ প্রথমবার কোনো কাজ করলে সেই কাজের আগে maiden শব্দটি বসে। তাই ‘maiden speech’ মানে প্রথম বক্তৃতা, বিশেষ করে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবার সংসদে দেওয়া ভাষণ। Early speech বলতে শুধু আগের দিকে দেওয়া বক্তৃতা বোঝায়, আর last speech ও final speech বোঝায় শেষ বক্তৃতা। কোনোটিই এই বাগধারার অর্থ নয়। Maiden শব্দটির মূল অর্থ কুমারী, সেখান থেকেই অনুভূতিটা এসেছে যে এর আগে কাজটি কখনো করা হয়নি।
    মনে রাখুন:
    Maiden voyage = প্রথম সমুদ্রযাত্রা।
    Maiden flight = প্রথম উড্ডয়ন।
    Maiden name = বিয়ের আগের নাম।
    Maiden over = ক্রিকেটে যে ওভারে কোনো রান হয়নি।
  19. ৩৭. Identify the correct spelling—
    • ক. Tubareulisis
    • খ. Tubarculasis
    • গ. Tuberculisis
    • ঘ. Tuberculosis
    উত্তর: ঘ. Tuberculosis
    যক্ষ্মা রোগের ইংরেজি নাম Tuberculosis, যা সংক্ষেপে TB নামে বহুল পরিচিত। শব্দটির মূল Latin tuberculum, অর্থ ছোট গুটি বা ফুলে ওঠা অংশ। রোগে ফুসফুসে ক্ষুদ্র গুটির মতো ক্ষত তৈরি হয় বলেই এই নাম। এটি Mycobacterium tuberculosis নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়, আর এই জীবাণু আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ (Robert Koch) ১৮৮২ সালে। বানান মনে রাখতে ভাগ করে নিন: Tuber-cul-o-sis। বাকি তিনটি বানানে অক্ষর উল্টেপাল্টে গেছে বা ভুল স্বর বসেছে।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মা প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার নাম BCG।
    বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস প্রতি বছর ২৪ মার্চ।

গণিত

  1. ৩৮. একটি গাড়ি ঘণ্টায় ৪৫ মাইল বেগে ২০ মিনিট, ৬০ মাইল বেগে ৪০ মিনিট চলে। সম্পূর্ণ পথে গাড়িটির গতির গড় কত?
    • ক. ৫৫
    • খ. ৫৬
    • গ. ৫৭
    • ঘ. ৫৮
    উত্তর: ক. ৫৫
    গাড়িটি দুই ভাগে চলেছে। প্রথম ভাগে ২০ মিনিট বা 1/3 ঘণ্টা ধরে 45 মাইল/ঘণ্টা বেগে, তাই দূরত্ব = 45 × 1/3 = 15 মাইল। দ্বিতীয় ভাগে 40 মিনিট বা 2/3 ঘণ্টা ধরে 60 মাইল/ঘণ্টা বেগে, তাই দূরত্ব = 60 × 2/3 = 40 মাইল। মোট দূরত্ব = 15 + 40 = 55 মাইল এবং মোট সময় = 20 + 40 = 60 মিনিট = 1 ঘণ্টা। অতএব গড় বেগ = 55/1 = 55 মাইল/ঘণ্টা।
    মনে রাখুন: গড় বেগ = মোট দূরত্ব ÷ মোট সময়। বেগের সাধারণ গড় নেওয়া ভুল।
  2. ৩৯. (x + 5)(x − 9) − 15 এর উৎপাদক হবে–
    • ক. (x − 10)(x + 6)
    • খ. (x + 6)(x + 10)
    • গ. (x + 10)(x + 6)
    • ঘ. (x − 10)(x − 6)
    উত্তর: ক. (x − 10)(x + 6)
    প্রথমে গুণ করে রাশিটি সাজাই: (x + 5)(x − 9) − 15 = x² − 4x − 45 − 15 = x² − 4x − 60। এখন এমন দুটি সংখ্যা খুঁজতে হবে, যাদের গুণফল −60 এবং যোগফল −4। সংখ্যা দুটি −10 ও +6। তাই x² − 4x − 60 = x² − 10x + 6x − 60 = x(x − 10) + 6(x − 10) = (x − 10)(x + 6)।
    মনে রাখুন: x² + (a + b)x + ab = (x + a)(x + b)। যাচাই করতে উৎপাদক দুটি গুণ করে মূল রাশির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।
  3. ৪০. দুই সমকোণ থেকে বড় কিন্তু চার সমকোণ থেকে ছোট পরিমাণের কোণকে বলা হয়–
    • ক. সম্পূরক কোণ
    • খ. পূরক কোণ
    • গ. প্রবৃদ্ধ কোণ
    • ঘ. স্থূল কোণ
    উত্তর: গ. প্রবৃদ্ধ কোণ
    কোণকে তার পরিমাপ অনুযায়ী ভাগ করা হয়। দুই সমকোণ বা 180° এর চেয়ে বড় এবং চার সমকোণ বা 360° এর চেয়ে ছোট কোণকে প্রবৃদ্ধ কোণ (Reflex angle) বলে। যেমন 200° বা 270° কোণ প্রবৃদ্ধ কোণ। সম্পূরক কোণ হলো যে দুটি কোণের যোগফল 180°, আর পূরক কোণ হলো যে দুটি কোণের যোগফল 90°।
    মনে রাখুন:
    সূক্ষ্মকোণ: 0° থেকে বড়, 90° থেকে ছোট।
    সমকোণ: 90°।
    স্থূলকোণ: 90° থেকে বড়, 180° থেকে ছোট।
    সরলকোণ: 180°।
    প্রবৃদ্ধ কোণ: 180° থেকে বড়, 360° থেকে ছোট।
  4. ৪১. x + y = 7, xy = 10 হলে, (x − y)² এর মান কত?
    • ক. 3
    • খ. 12
    • গ. 6
    • ঘ. 9
    উত্তর: ঘ. 9
    দুটি সংখ্যার যোগফল ও গুণফল জানা থাকলে তাদের বিয়োগফলের বর্গ খুব সহজে বের করা যায়। এর সূত্র হলো (x − y)² = (x + y)² − 4xy। এখানে x + y = 7 এবং xy = 10, তাই (x − y)² = 7² − 4 × 10 = 49 − 40 = 9। কাজেই x − y = ±3, আর বর্গ করলে চিহ্ন বদলে কোনো ফল পরিবর্তন হয় না।
    মনে রাখুন:
    (x + y)² − (x − y)² = 4xy।
    x² + y² = (x + y)² − 2xy। এখানে সেটি 49 − 20 = 29।
    (x + y)² = (x − y)² + 4xy। এই দুই সূত্র মিলিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দ্রুত বের হয়।
  5. ৪২. x − 1/x = 7 হলে, x³ − (1/x)³ এর মান কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৫
    • ক. 364
    • খ. 334
    • গ. 154
    • ঘ. 512
    উত্তর: ক. 364
    x − 1/x = 7 দেওয়া আছে। ঘনের সূত্র অনুযায়ী (x − 1/x)³ = x³ − 1/x³ − 3(x − 1/x)। এখান থেকে x³ − 1/x³ = (x − 1/x)³ + 3(x − 1/x)। মান বসালে 7³ + 3 × 7 = 343 + 21 = 364।
    মনে রাখুন: a − b = k হলে a³ − b³ = k³ + 3abk। এখানে ab = x × 1/x = 1, তাই একই ফল আসে।
  6. ৪৩. পাঁচ অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা ও চার অংকের বৃহত্তম সংখ্যার অন্তর কত?
    • ক. ১১
    • খ. ৯
    • গ. ১
    • ঘ. −১
    উত্তর: গ. ১
    পাঁচ অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা বের করতে প্রথম অঙ্কে 1 বসিয়ে বাকি সব ঘরে 0 বসাই। তাই সংখ্যাটি 10000। চার অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যা বের করতে সব ঘরে সবচেয়ে বড় অঙ্ক 9 বসাই, ফলে সংখ্যাটি 9999। দুটির অন্তর = 10000 − 9999 = 1। মজার ব্যাপার হলো, এই দুটি সংখ্যা সবসময়ই পরপর থাকে।
    মনে রাখুন:
    এক অঙ্কের বৃহত্তম 9, ক্ষুদ্রতম 1।
    দুই অঙ্কের বৃহত্তম 99, ক্ষুদ্রতম 10।
    তিন অঙ্কের বৃহত্তম 999, ক্ষুদ্রতম 100।
    যেকোনো n অঙ্কের বৃহত্তম সংখ্যার সঙ্গে 1 যোগ করলে (n + 1) অঙ্কের ক্ষুদ্রতম সংখ্যা পাওয়া যায়।
  7. ৪৪. ১ কিলোমিটার = কত মাইল?
    • ক. ০.৯১ মাইল
    • খ. ১.৫০ মাইল
    • গ. ০.৬২১ মাইল
    • ঘ. ০.৬৫ মাইল
    উত্তর: গ. ০.৬২১ মাইল
    কিলোমিটার ও মাইল দুটিই দূরত্ব মাপার একক, তবে এদের পদ্ধতি আলাদা। কিলোমিটার মেট্রিক পদ্ধতির একক, আর মাইল ব্রিটিশ পদ্ধতির। 1 মাইল প্রায় 1.609 কিলোমিটার, তাই উল্টো করে হিসাব করলে 1 কিলোমিটার = 1/1.609 ≈ 0.621 মাইল। অর্থাৎ কিলোমিটারের মান মাইলের চেয়ে ছোট, তাই ফলও 1-এর চেয়ে কম আসে।
    মনে রাখুন:
    1 মাইল ≈ 1.609 কিমি।
    1 ইঞ্চি = 2.54 সেমি।
    1 ফুট = 30.48 সেমি।
    1 মিটার ≈ 39.37 ইঞ্চি।
    শর্টকাট: কিমি-কে 0.621 দিয়ে গুণ করলে মাইল পাওয়া যায়। যেমন 10 কিমি ≈ 6.21 মাইল।
  8. ৪৫. If 2ⁿ = 32, then what is n²?
    • ক. 16
    • খ. 25
    • গ. 64
    • ঘ. 56
    উত্তর: খ. 25
    ঘাতের সমীকরণ সমাধানে দুই পাশের ভিত্তি (Base) এক করতে হয়। এখানে ডান পাশে 32 আছে, যাকে 2 এর ঘাত হিসেবে লেখা যায়: 32 = 2 × 2 × 2 × 2 × 2 = 2⁵। তাহলে 2ⁿ = 2⁵ হয়। ভিত্তি সমান হলে ঘাতও সমান হয়, তাই n = 5। প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে n²-এর মান, অতএব n² = 5² = 25। 16 হতো যদি n = 4 হতো, আর 64 হতো যদি n = 8 হতো।
    মনে রাখুন: aᵐ = aⁿ হলে m = n হয়, যখন a ≠ 0, 1, −1।
    2-এর কয়েকটি ঘাত: 2⁴ = 16, 2⁵ = 32, 2⁶ = 64, 2⁷ = 128।
  9. ৪৬. ৮০ এর ৭৫% এর ২৫% = কত?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০১৯
    • ক. ১০
    • খ. ১৫
    • গ. ২০
    • ঘ. ২৫
    উত্তর: খ. ১৫
    প্রথমে ধাপে ধাপে হিসাব করি। ৮০-এর ৭৫% = 80 × 75/100 = 60। এরপর এই 60-এর ২৫% = 60 × 25/100 = 15। তাই ৮০-এর ৭৫%-এর ২৫% = 15।
    শর্টকাট: 75% = 3/4 এবং 25% = 1/4। তাই 80 × 3/4 × 1/4 = 80 × 3/16 = 15।
    আরও সহজ উপায়: 75% × 25% = 18.75%, আর 80-এর 18.75% = 15।
    মনে রাখুন:
    25% = 1/4, 50% = 1/2, 75% = 3/4।
    20% = 1/5, 40% = 2/5, 60% = 3/5।
    পরপর শতকরা নিলে ভগ্নাংশগুলো একসঙ্গে গুণ করে নেওয়া যায়।
  10. ৪৭. একটি সরলরেখার সাথে অন্য একটি রেখাংশ মিলে যে দুটি সন্নিহিত কোণ উৎপন্ন হয় তার সমষ্টি–আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ১৪৯১) ২০১৯
    • ক. ১৮০°
    • খ. ১২০°
    • গ. ৩৬০°
    • ঘ. ৯০°
    উত্তর: ক. ১৮০°
    একটি সরলরেখার ওপর অন্য একটি রশ্মি এসে মিললে রশ্মির দুই পাশে দুটি সন্নিহিত কোণ তৈরি হয়। সরলরেখাটি নিজেই 180° এর একটি সরলকোণ। এই কোণ দুটি মিলে সম্পূর্ণ সরলকোণটি পূর্ণ করে, তাই তাদের যোগফল সবসময় দুই সমকোণ বা 180°। 360° হলো কোনো বিন্দুর চারপাশের সব কোণের যোগফল, আর 90° একটি সমকোণ।
    মনে রাখুন:
    এই দুটি কোণকে রৈখিক যুগল কোণ (Linear pair) বলে, এরা পরস্পর সম্পূরক।
    দুটি কোণের যোগফল 90° হলে তারা পরস্পর পূরক কোণ।
    দুটি সরলরেখা পরস্পরকে ছেদ করলে বিপ্রতীপ কোণ দুটি সমান হয়।
  11. ৪৮. ৬০ জন ছাত্রের মধ্যে ৪২ জন ফেল করলে পাশের হার কত?
    • ক. ২৫%
    • খ. ২৮%
    • গ. ৩০%
    • ঘ. ৩২%
    উত্তর: গ. ৩০%
    ৬০ জনের মধ্যে ৪২ জন ফেল করলে পাস করেছে 60 − 42 = 18 জন। পাশের হার বের করতে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাকে মোট শিক্ষার্থী দিয়ে ভাগ করে 100 দিয়ে গুণ করি। অর্থাৎ পাশের হার = 18/60 × 100 = 30%। যাচাই করা যায় এভাবে: ফেলের হার 42/60 × 100 = 70%, আর 70% + 30% = 100%, তাই হিসাব ঠিক আছে।
    মনে রাখুন:
    পাশের হার + ফেলের হার = 100%।
    শতকরা হার = (অংশ ÷ সম্পূর্ণ) × 100।
    শর্টকাট: 18/60 ভগ্নাংশকে সহজ করলে 3/10 হয়, আর 3/10 = 30%।
  12. ৪৯. ২, ৩, ৪, ৭, ১১, ১৩, ১৫ ও ১৯ এ সংখ্যাগুলোর median কত?
    • ক. ৭
    • খ. ১১
    • গ. ৯
    • ঘ. ১৩
    উত্তর: গ. ৯
    সংখ্যাগুলো ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজানো আছে: 2, 3, 4, 7, 11, 13, 15, 19। মোট সংখ্যা 8টি, যা জোড়। জোড় সংখ্যক পদ হলে মধ্যমা (Median) হয় মাঝের দুটি পদের গড়। মাঝের পদ দুটি 4র্থ ও 5ম, অর্থাৎ 7 ও 11। তাই মধ্যমা = (7 + 11)/2 = 9।
    মনে রাখুন:
    পদসংখ্যা বিজোড় হলে মধ্যমা = (n + 1)/2 তম পদ।
    পদসংখ্যা জোড় হলে মধ্যমা = n/2 তম ও (n/2 + 1) তম পদের গড়।
  13. ৫০. আলমের বয়স কমলের বয়সের ৮০% হলে কমলের বয়স আলমের বয়সের–
    • ক. ১২৫%
    • খ. ১১৫%
    • গ. ৮০%
    • ঘ. ২০%
    উত্তর: ক. ১২৫%
    আলমের বয়স কমলের বয়সের ৮০% হলে সুবিধার জন্য ধরি কমলের বয়স 100 বছর। তাহলে আলমের বয়স 80 বছর। কমলের বয়স আলমের বয়সের কত শতাংশ তা বের করতে আলমের বয়সকে ভিত্তি ধরতে হয়। তাই কমল ÷ আলম × 100 = 100/80 × 100 = 125%। অর্থাৎ কমল আলমের চেয়ে 25% বড়, আর আলম কমলের চেয়ে 20% ছোট। দুটি শতাংশ আলাদা, কারণ ভিত্তি আলাদা।
    মনে রাখুন: A যদি B এর p% হয়, তাহলে B হবে A এর (100 × 100/p)%। এখানে p = 80।
    উদাহরণ: A যদি B এর 50% হয়, তাহলে B হবে A এর 200%।
  14. ৫১. ঘড়িতে যখন ৮টা বাজে, ঘণ্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটার মধ্যবর্তী কোণটি হলো–
    • ক. ১৫০°
    • খ. ১৬০°
    • গ. ৯০°
    • ঘ. ১২০°
    উত্তর: ঘ. ১২০°
    ঘড়ির পুরো বৃত্ত 360° এবং এতে 12টি ঘণ্টার ঘর, তাই প্রতি ঘণ্টার ব্যবধানে কোণ 360/12 = 30°। ৮টা বাজলে মিনিটের কাঁটা 12-তে এবং ঘণ্টার কাঁটা 8-এ থাকে। 12 থেকে 8 পর্যন্ত ৮টি ঘর হলে কোণ 8 × 30 = 240°। কিন্তু দুই কাঁটার মধ্যবর্তী কোণ ধরা হয় ছোট দিক থেকে, তাই কোণ = 360° − 240° = 120°।
    মনে রাখুন: সূত্র: কোণ = |30H − 5.5M|, এখানে H ঘণ্টা ও M মিনিট। বড় হলে 360° থেকে বিয়োগ করুন।
  15. ৫২. রেখার প্রান্তবিন্দু কয়টি?
    • ক. ১টি
    • খ. ২টি
    • গ. ৩টি
    • ঘ. প্রান্তবিন্দু নেই
    উত্তর: ঘ. প্রান্তবিন্দু নেই
    জ্যামিতিতে রেখা (Line) বলতে সোজা পথে দুই দিকেই অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত বিন্দুর সমষ্টি বোঝায়। এটি কোনো দিকেই শেষ হয় না, তাই রেখার কোনো প্রান্তবিন্দু থাকে না। বইয়ের পাতায় আমরা যে সোজা দাগ আঁকি, সেটি আসলে রেখার একটি অংশ মাত্র। অসীম দৈর্ঘ্যের রেখাকে আমরা কাগজে পুরোটা আঁকতে পারি না, তাই দুই মাথায় তীর চিহ্ন দিয়ে তা বোঝানো হয়।
    মনে রাখুন:
    রেখাংশ (Line segment): দুটি প্রান্তবিন্দু আছে এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য আছে।
    রশ্মি (Ray): একটি প্রান্তবিন্দু আছে, অন্যদিকে অসীম।
    রেখা (Line): কোনো প্রান্তবিন্দু নেই।
    বিন্দুর কোনো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা নেই, শুধু অবস্থান আছে।
  16. ৫৩. x = 15 ও y = 5 হলে x³ − 3x²y + 3xy² − y³ = কত?
    • ক. 800
    • খ. 1200
    • গ. 1400
    • ঘ. 1000
    উত্তর: ঘ. 1000
    x³ − 3x²y + 3xy² − y³ রাশিটি দেখলেই চেনা যায় এটি (x − y)³ এর বিস্তৃত রূপ। তাই মান বসাতে আলাদা করে বড় সংখ্যার ঘন বের না করে সরাসরি (x − y)³ লিখে নেওয়াই ভালো। এখানে x = 15 ও y = 5, তাই (15 − 5)³ = 10³ = 1000। এতে হিসাব অনেক ছোট হয়ে যায় এবং ভুলের সুযোগ কমে।
    মনে রাখুন:
    (a − b)³ = a³ − 3a²b + 3ab² − b³।
    (a + b)³ = a³ + 3a²b + 3ab² + b³।
    a³ − b³ = (a − b)(a² + ab + b²)।
    a³ + b³ = (a + b)(a² − ab + b²)।
  17. ৫৪. এক ব্যক্তি সপ্তাহে ২২০০ টাকা আয় করেন এবং ১৬৫০ টাকা ব্যয় করেন। তার সঞ্চয়ের সাথে আয়ের অনুপাত কত?
    • ক. ২ : ৩
    • খ. ৩ : ৪
    • গ. ৪ : ৫
    • ঘ. ১ : ৪
    উত্তর: ঘ. ১ : ৪
    প্রথমে সঞ্চয় বের করি। সপ্তাহে আয় 2200 টাকা ও ব্যয় 1650 টাকা, তাই সঞ্চয় = 2200 − 1650 = 550 টাকা। সঞ্চয় ও আয়ের অনুপাত = 550 : 2200। দুই রাশিকে 550 দিয়ে ভাগ করলে পাই 1 : 4। অর্থাৎ ব্যক্তিটি আয়ের চার ভাগের এক ভাগ সঞ্চয় করেন। ব্যয় ও আয়ের অনুপাত হতো 1650 : 2200 = 3 : 4, তবে প্রশ্নে সঞ্চয় ও আয়ের অনুপাত চাওয়া হয়েছে, ব্যয় ও আয়ের নয়।
    মনে রাখুন:
    সঞ্চয় = আয় − ব্যয়।
    অনুপাত সহজ করতে দুই রাশিকে তাদের গ.সা.গু. দিয়ে ভাগ করতে হয়।
    অনুপাতে প্রশ্নের ক্রম খেয়াল রাখা জরুরি, কারণ 1 : 4 আর 4 : 1 এক নয়।
  18. ৫৫. একটি বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা ৪০০ মিটার। এর ক্ষেত্রফল কত বর্গ কিলোমিটার?
    • ক. ০.২০
    • খ. ১.০০
    • গ. ০.১০
    • ঘ. ০.০১
    উত্তর: ঘ. ০.০১
    বর্গক্ষেত্রের চার বাহু সমান, তাই পরিসীমা = 4a। এখানে 4a = 400 হলে বাহু a = 100 মিটার। ক্ষেত্রফল = a² = 100 × 100 = 10000 বর্গমিটার। প্রশ্নে বর্গকিলোমিটার চাওয়া হয়েছে, তাই একক বদলাতে হবে। 1 কিমি = 1000 মিটার, অতএব 1 বর্গকিমি = 1000 × 1000 = 1000000 বর্গমিটার। সুতরাং ক্ষেত্রফল = 10000/1000000 = 0.01 বর্গকিমি। চাইলে আগেই বাহুকে কিলোমিটারে নিয়ে নেওয়া যায়: a = 0.1 কিমি, তাই ক্ষেত্রফল = 0.1 × 0.1 = 0.01।
    মনে রাখুন:
    ক্ষেত্রফলে একক বদলানোর সময় রূপান্তর গুণকের বর্গ নিতে হয়।
    10000 বর্গমিটার = 1 হেক্টর।
  19. ৫৬. ১৭ দিন আগে রুবেল বলেছিল তার জন্মদিন আগামীকাল। আজ ২৩ তারিখ হলে তার জন্মদিন–
    • ক. ৭ তারিখ
    • খ. ৮ তারিখ
    • গ. ৯ তারিখ
    • ঘ. ১০ তারিখ
    উত্তর: ক. ৭ তারিখ
    আজ ২৩ তারিখ, আর ঘটনাটি ১৭ দিন আগের। তাই রুবেল যেদিন কথাটি বলেছিল সেদিন ছিল 23 − 17 = 6 তারিখ। সেদিন সে বলেছিল তার জন্মদিন আগামীকাল। আগামীকাল মানে ওই দিনের পরের দিন, অর্থাৎ 6 + 1 = 7 তারিখ। তাই তার জন্মদিন ৭ তারিখ। এই ধরনের প্রশ্নে অনেকে শেষ ধাপে 1 যোগ করতে ভুলে 6 তারিখ ধরে ফেলে, অথবা ভুল করে 8 বা 9 বেছে নেয়।
    মনে রাখুন:
    ‘আগামীকাল’ মানে পরের দিন, তাই 1 যোগ করুন।
    ‘গতকাল’ মানে আগের দিন, তাই 1 বিয়োগ করুন।
    তারিখের হিসাবে প্রথমে ঘটনার দিন বের করুন, তারপর তার সাপেক্ষে অন্য দিন ধরুন।

আন্তর্জাতিক

  1. ৫৭. বসফরাস প্রণালী কোন দুটি সাগরকে সংযুক্ত করেছে?
    • ক. প্রশান্ত-ভূমধ্যসাগর
    • খ. আটলান্টিক-ভূমধ্যসাগর
    • গ. ওমান-পারস্য উপসাগর
    • ঘ. কৃষ্ণ-মর্মর সাগর
    উত্তর: ঘ. কৃষ্ণ-মর্মর সাগর
    বসফরাস (Bosphorus) প্রণালী তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের মধ্য দিয়ে গেছে। এটি উত্তরের কৃষ্ণ সাগর (Black Sea) ও দক্ষিণের মর্মর সাগর (Sea of Marmara)-কে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই প্রণালী এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশকে আলাদা করেছে, তাই ইস্তাম্বুল শহর দুই মহাদেশেই বিস্তৃত। প্রণালী মানে দুটি বড় জলরাশির মাঝখানের সরু জলপথ।
    মনে রাখুন:
    মর্মর সাগরকে এজিয়ান সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে দার্দানেলিস প্রণালী। এজিয়ান সাগর ভূমধ্যসাগরের অংশ।
    বসফরাস ও দার্দানেলিস দুটোই তুরস্কে অবস্থিত।
    এই দুই প্রণালী একসঙ্গে কৃষ্ণ সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার জলপথ তৈরি করেছে।
  2. ৬০. দুই বা ততোধিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিসমূহের মাঝখানে অবস্থিত রাষ্ট্রকে বলা হয়–
    • ক. করদ রাষ্ট্র
    • খ. স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র
    • গ. স্যাটেলাইট রাষ্ট্র
    • ঘ. বাফার রাষ্ট্র
    উত্তর: ঘ. বাফার রাষ্ট্র
    দুই বা তার বেশি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের মাঝখানে অবস্থিত এবং তাদের সরাসরি সংঘর্ষ ঠেকিয়ে রাখে এমন রাষ্ট্রকে বাফার রাষ্ট্র (Buffer State) বলে। Buffer শব্দের অর্থ ধাক্কা সামলানো বা মাঝখানে থেকে আঘাত কমানো। যেমন, ভারত ও চীনের মাঝখানে নেপাল ও ভুটানকে প্রায়ই বাফার রাষ্ট্র বলা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বেলজিয়ামও এই ভূমিকায় ছিল।
    মনে রাখুন:
    করদ রাষ্ট্র: যে রাষ্ট্র অন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রকে কর দেয়।
    স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র: যার কোনো সমুদ্রতীর নেই, যেমন নেপাল, ভুটান।
    স্যাটেলাইট রাষ্ট্র: আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন, কিন্তু বাস্তবে অন্য বড় শক্তির প্রভাবাধীন।
  3. ৬৫. রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের সময়ে কোন দেশটি প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়ার পক্ষ নেয়?
    • ক. রুমানিয়া
    • খ. হাঙ্গেরি
    • গ. বেলারুশ
    • ঘ. তুরস্ক
    উত্তর: গ. বেলারুশ
    ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রতিবেশী দেশ বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র, আর বেলারুশের ভূখণ্ড থেকেও ইউক্রেনের দিকে রুশ সেনারা অগ্রসর হয়েছিল। এই কারণে বেলারুশকে প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়ার পক্ষে থাকা দেশ বলা হয়। রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং তারা রাশিয়ার পক্ষ নেয়নি। অর্থাৎ ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক সমর্থন, দুই দিক থেকেই বেলারুশ রাশিয়ার সঙ্গে ছিল।
    মনে রাখুন:
    বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক।
    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং রাশিয়ার রাজধানী মস্কো।
    ন্যাটো (NATO) হলো উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা, একটি সামরিক জোট।
  4. ৬৭. রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে কোন দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করেছে?
    • ক. ঘানা
    • খ. কানাডা
    • গ. গাম্বিয়া
    • ঘ. সৌদি আরব
    উত্তর: গ. গাম্বিয়া
    রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আফ্রিকার ছোট দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রতিরোধ কনভেনশন ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দেয়। এই মামলা করতে কোনো দেশকে ভুক্তভোগী হতে হয় না, কারণ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রমাত্রই এমন অভিযোগ আনতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত দুই রাষ্ট্রের বিরোধ নিয়ে রায় দেয়, তাই এখানে মামলার পক্ষ ছিল গাম্বিয়া ও মিয়ানমার, দুটি রাষ্ট্র।
    মনে রাখুন:
    আইসিজের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে।
    এটি জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ।
  5. ৬৮. 'ব্লু-ইকোনমি' কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
    • ক. নীল চাষের অর্থনীতি
    • খ. সমুদ্র অর্থনীতি
    • গ. বনজ অর্থনীতি
    • ঘ. খনিজ অর্থনীতি
    উত্তর: খ. সমুদ্র অর্থনীতি
    ব্লু ইকোনমি (Blue Economy) বা নীল অর্থনীতি বলতে সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বোঝায়। এর মধ্যে মাছ ধরা, সমুদ্রবন্দর, জাহাজ চলাচল, সমুদ্রের তলদেশের খনিজ ও জ্বালানি এবং সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন পড়ে। ‘নীল’ শব্দটি এখানে সাগরের রঙ বোঝায়, নীল চাষের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ধারণাটি দেন অর্থনীতিবিদ গুন্টার পাউলি। সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়াই ধারণাটির মূল লক্ষ্য।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে (ITLOS-এ) এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে (PCA-তে) সমুদ্রসীমা বিরোধে জয়ী হয়।
    এর ফলে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকা অনেক বেড়েছে।
  6. ৬৯. জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ কোনটি?
    • ক. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
    • খ. শিকোকু দ্বীপপুঞ্জ
    • গ. ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জ
    • ঘ. ক্যুশু দ্বীপপুঞ্জ
    উত্তর: ক. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
    জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলো হলো কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ, যা জাপানের উত্তরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো দখল করে। জাপান এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপ নিজেদের বলে দাবি করে। এই বিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে আজও কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। বিকল্পের বাকি তিনটি দ্বীপ জাপানেরই, সেগুলো নিয়ে কারও আপত্তি নেই। অর্থাৎ কুড়িল ছাড়া বিকল্পের অন্য নামগুলো ভূগোলের প্রশ্নে জাপানের অভ্যন্তরীণ দ্বীপ হিসেবেই চিনতে হয়।
    মনে রাখুন:
    শিকোকু, ক্যুশু ও ওকিনাওয়া জাপানেরই দ্বীপ, এগুলো নিয়ে কোনো বিরোধ নেই।
    জাপান চারটি প্রধান দ্বীপ নিয়ে গঠিত: হোক্কাইডো, হনশু, শিকোকু ও ক্যুশু।

বাংলাদেশ

  1. ৫৮. ভাষা শহীদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন–
    • ক. সালাম
    • খ. বরকত
    • গ. রফিক
    • ঘ. শফিউর
    উত্তর: খ. বরকত
    ভাষা শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি শহিদ হন। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায়। অন্য শহিদদের মধ্যে আবদুস সালাম ছিলেন সরকারি কর্মচারী এবং শফিউর রহমান ছিলেন হাইকোর্টের কর্মচারী, তাই তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলা যায় না।
    মনে রাখুন:
    ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার; পরদিন শফিউর রহমান।
    বরকতের ডাকনাম ছিল ‘আবাই’।
    ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
  2. ৫৯. বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
    • ক. ৬টি
    • খ. ৮টি
    • গ. ১০টি
    • ঘ. ৪টি
    উত্তর: ঘ. ৪টি
    বাংলাদেশের সংবিধানের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি চারটি বলা হয়েছে। এগুলো হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার এই মূলনীতিগুলোর কথা আছে। মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার আলাদা বিষয়। মূলনীতি রাষ্ট্রকে পথ দেখায়, তবে আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করানো যায় না। রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, সেই দিকনির্দেশ এখান থেকেই পাওয়া যায়, তাই এগুলোকে সংবিধানের মূল আদর্শ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
    সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ ও ১১টি ভাগ আছে।
    মূলনীতি ভাগ ২-এ, মৌলিক অধিকার ভাগ ৩-এ।
  3. ৬১. প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্র জনপদ অন্তর্ভুক্ত এলাকা–
    • ক. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
    • খ. নওগাঁ
    • গ. দিনাজপুর
    • ঘ. বগুড়া
    উত্তর: ঘ. বগুড়া
    প্রাচীন বাংলার একটি বড় জনপদ ছিল পুণ্ড্র। এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন, যার বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। এটি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এই কারণেই বগুড়াকে পুণ্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে ধরা হয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৭ম শতকে এই অঞ্চলে এসেছিলেন এবং এর বর্ণনা রেখে গেছেন। বগুড়া শহরের উত্তরে অবস্থিত মহাস্থানগড় আজও দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান, যেখানে প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    মহাস্থানগড় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগর-দুর্গের নিদর্শন।
    অন্য প্রাচীন জনপদ: বঙ্গ, গৌড়, সমতট, হরিকেল, বরেন্দ্র।
  4. ৬২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় 'ডক্টর অব লজ' ডিগ্রি প্রদান করে–
    • ক. অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়
    • খ. বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়
    • গ. দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়
    • ঘ. টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়
    উত্তর: ক. অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়
    অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ANU) শেখ হাসিনাকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দিয়েছিল। এ ধরনের ডিগ্রিকে সম্মানসূচক ডিগ্রি (Honoris Causa) বলে। এটি কোনো পরীক্ষা দিয়ে পাওয়া যায় না, কেবল সমাজ বা মানবতার জন্য বিশেষ অবদান থাকলে দেওয়া হয়। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম প্রশ্নের বিকল্পে থাকলেও এই ডিগ্রি তাদের দেওয়া নয়।
    মনে রাখুন: দেশ-বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছে, তবে এই প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ই সঠিক।
    হালনাগাদ: ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান।
  5. ৬৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কত তারিখে বাংলায় ভাষণ দেন?
    • ক. ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
    • খ. ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩
    • গ. ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭২
    • ঘ. ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩
    উত্তর: ক. ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় দেওয়া এটিই প্রথম ভাষণ। এর আগে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ পায়, অর্থাৎ সদস্য হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই ভাষণ দেন। অন্য তারিখগুলো এই ঘটনার সঙ্গে মেলে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বসভায় বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ভাষণকে একটি বড় মাইলফলক ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য।
    ১৯৭২ সালে চীনের ভেটোর কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ পায়নি।
  6. ৬৪. মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
    • ক. ১ নং সেক্টর
    • খ. ৩ নং সেক্টর
    • গ. ৮ নং সেক্টর
    • ঘ. ১১ নং সেক্টর
    উত্তর: ঘ. ১১ নং সেক্টর
    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল এলাকা। সেক্টরটির কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। তিনি যুদ্ধে আহত হওয়ার পর স্কোয়াড্রন লিডার এম. হামিদুল্লাহ দায়িত্ব পালন করেন। বাকি সেক্টরগুলো অন্য অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ভাগ মনে রাখতে প্রতিটি সেক্টরের অঞ্চল ও কমান্ডারের নাম একসঙ্গে পড়া ভালো।
    মনে রাখুন:
    ১ নম্বর সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম।
    ৩ নম্বর সেক্টর: সিলেট ও কুমিল্লার অংশ।
    ৮ নম্বর সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চল।
    ১১ নম্বর সেক্টর: ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল।
  7. ৬৬. শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ 'জুলিও কুরি' পদক প্রদান করেন–
    • ক. ১০ মে, ১৯৭২
    • খ. ২৩ মে, ১৯৭৩
    • গ. ২০ মে, ১৯৭২
    • ঘ. ১৩ মে, ১৯৭৩
    উত্তর: খ. ২৩ মে, ১৯৭৩
    বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রদান করে। বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণে অবদানের জন্য এই পদক দেওয়া হয়। পদকটির নামকরণ হয়েছে ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির নামে, যিনি বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রথম সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ইরেন ছিলেন মেরি কুরির কন্যা, আর দুজনই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই পদক পাওয়াকে বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি বড় উদাহরণ ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে এই পদক দিচ্ছে।
    বঙ্গবন্ধুকে পদক দেওয়ার সময় তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
  8. ৭০. কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
    • ক. ত্রিপুরা
    • খ. আসাম
    • গ. মণিপুর
    • ঘ. মিজোরাম
    উত্তর: ঘ. মিজোরাম
    কর্ণফুলী নদী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম জেলার ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এই নদীর মোহনায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অবস্থিত। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। ত্রিপুরা, আসাম বা মণিপুর থেকে এই নদীর উৎপত্তি নয়। কর্ণফুলী চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান নদী, আর এর দুই তীর ধরে শহর ও শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে।
    মনে রাখুন:
    কাপ্তাই বাঁধের ফলে সৃষ্টি হয়েছে কাপ্তাই হ্রদ, যা বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ।
    কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
  9. ৭১. বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন কোন বাহিনীতে চাকরি করতেন?
    • ক. বিমানবাহিনী
    • খ. নৌবাহিনী
    • গ. সেনাবাহিনী
    • ঘ. পুলিশবাহিনী
    উত্তর: খ. নৌবাহিনী
    বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার (ERA) পদে চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার মুখে যুদ্ধ করতে করতে তিনি শহিদ হন। তাঁর বীরত্বের স্বীকৃতিতে মরণোত্তর তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দেওয়া হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব। তিনি নৌবাহিনীর একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ, তাই এই বাহিনীর কথা মনে থাকলেই উত্তর সহজে মেলে।
    মনে রাখুন: বীরশ্রেষ্ঠ মোট সাতজন।
    সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রাইফেলসের মধ্যে: মোস্তফা কামাল, নূর মোহাম্মদ শেখ, মুন্সী আবদুর রউফ, হামিদুর রহমান, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
    বিমানবাহিনী: মতিউর রহমান।
    নৌবাহিনী: রুহুল আমিন।

বিজ্ঞান

  1. ৭২. কোভিড-১৯ শব্দটি সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
    • ক. Co-Carbon monoxide
    • খ. VI-Very Important
    • গ. D-Disease
    • ঘ. ১৯-এই সিরিজে ১৯ নং virus
    উত্তর: গ. D-Disease
    COVID-19 নামটি একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। এখানে CO মানে করোনা (Corona), VI মানে ভাইরাস (Virus) এবং D মানে রোগ (Disease)। আর ১৯ সংখ্যাটি রোগটি প্রথম শনাক্ত হওয়ার বছর ২০১৯-এর শেষ দুই অঙ্ক। অপশনের বাকি ব্যাখ্যাগুলো তাই ভুল। ২০১৯ সালের শেষে চীনের উহান শহরে এই রোগ প্রথম ধরা পড়ে এবং ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি (Pandemic) ঘোষণা করে। রোগটির প্রধান লক্ষণ জ্বর, শুকনো কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। এটি বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কণা ও হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়।
    মনে রাখুন:
    রোগের নাম COVID-19, আর রোগসৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম SARS-CoV-2।
    এটি একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাস।
  2. ৭৩. নিচের কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস?
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
    • ঘ. হাইড্রোজেন
    উত্তর: গ. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
    সূর্য থেকে আসা আলো পৃথিবীকে গরম করে। পৃথিবী সেই তাপ আবার অবলোহিত (Infrared) বিকিরণ হিসেবে মহাশূন্যে ফেরত পাঠাতে চায়। বায়ুমণ্ডলের যে গ্যাসগুলো এই বিকিরণ শুষে নিয়ে পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) বলে। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) এমনই একটি গ্যাস, এমনকি তাপ ধরে রাখার ক্ষমতায় এটি কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন অবলোহিত বিকিরণ উল্লেখযোগ্যভাবে শোষণ করে না, তাই এগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
    মনে রাখুন:
    প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), ওজোন (O₃), জলীয় বাষ্প ও CFC।
    CFC ওজোন স্তরেরও ক্ষতি করে।
  3. ৭৫. রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের নাম–
    • ক. হাইড্রোমিটার
    • খ. ওডোমিটার
    • গ. পালস ম্যানোমিটার
    • ঘ. পালস অক্সিমিটার
    উত্তর: ঘ. পালস অক্সিমিটার
    আঙুলের ডগায় লাগিয়ে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্রটির নাম পালস অক্সিমিটার (Pulse Oximeter)। এটি আঙুলের ভেতর দিয়ে আলো পাঠিয়ে বোঝে যে রক্তের হিমোগ্লোবিন কতটা অক্সিজেন বহন করছে, সেই হিসাবকে অক্সিজেন সম্পৃক্ততা (SpO₂) বলে। সুস্থ মানুষের এই মান সাধারণত ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই যন্ত্র ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠে। ছোট এই যন্ত্র একই সঙ্গে নাড়ির স্পন্দনও দেখায়। অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোমিটার তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব মাপে।
    ওডোমিটার যানবাহনের অতিক্রান্ত দূরত্ব মাপে।
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগমোম্যানোমিটার।
  4. ৭৮. তেজস্ক্রিয়তার একক কী?
    • ক. বেকেরেল
    • খ. ব্যারেল
    • গ. ওহম
    • ঘ. প্যাসকেল
    উত্তর: ক. বেকেরেল
    তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিউক্লিয়াস নিজে থেকেই ভেঙে যায় এবং রশ্মি বা কণা ছেড়ে দেয়। প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো নিউক্লিয়াস ভাঙছে, সেই হারকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে। SI পদ্ধতিতে এর একক বেকেরেল (Becquerel, প্রতীক Bq), যেখানে ১ Bq মানে প্রতি সেকেন্ডে একটি বিভাজন। ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন, তাঁর নামেই এককটির নাম। ওহম রোধের একক, প্যাসকেল চাপের একক, আর ব্যারেল তেলের পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    তেজস্ক্রিয়তার পুরোনো একক কুরি (Ci), ১ Ci = 3.7 × 10¹⁰ Bq।
    শোষিত মাত্রার SI একক গ্রে (Gy)।

কম্পিউটার ও আইসিটি

  1. ৭৪. কম্পিউটার কে হ্যাকিং হতে রক্ষা করে–
    • ক. ম্যাক-জাল
    • খ. ডি-ড্রাইভ
    • গ. ফায়ারওয়াল
    • ঘ. কম্পাইলার
    উত্তর: গ. ফায়ারওয়াল
    ফায়ারওয়াল (Firewall) হলো একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা কতগুলো নিয়মের (Rules) ভিত্তিতে কাজ করে। এটি কম্পিউটারে ঢুকতে চাওয়া (Incoming) এবং বেরিয়ে যেতে চাওয়া (Outgoing) তথ্যের প্রবাহ পরীক্ষা করে এবং সন্দেহজনক সংযোগ আটকে দেয়। ফলে অনুমতি ছাড়া কেউ ইন্টারনেট দিয়ে আমাদের কম্পিউটারে ঢুকতে পারে না, আর হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমে যায়। অন্যদিকে কম্পাইলার হলো এমন প্রোগ্রাম, যা উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা কোডকে যন্ত্রের ভাষায় অনুবাদ করে। ডি-ড্রাইভ হলো সংরক্ষণের একটি অংশ মাত্র।
    মনে রাখুন:
    ফায়ারওয়াল হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার, দুই রকমই হতে পারে।
    অ্যান্টিভাইরাস ভাইরাস শনাক্ত ও অপসারণ করে, আর ফায়ারওয়াল নেটওয়ার্কের প্রবেশপথ পাহারা দেয়।
  2. ৭৬. কোনটি অনলাইন ভিডিও মিটিং প্ল্যাটফর্ম নয়?
    • ক. ওয়াইম্যাক্স (WiMAX)
    • খ. জুম
    • গ. হোয়াটসঅ্যাপ
    • ঘ. গুগলমিট
    উত্তর: ক. ওয়াইম্যাক্স (WiMAX)
    জুম (Zoom), গুগল মিট (Google Meet), মাইক্রোসফট টিমস (Microsoft Teams) এবং হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ভিডিও কল ও অনলাইন মিটিংয়ের সুবিধা দেয়। কিন্তু ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) কোনো মিটিং-অ্যাপ নয়, এটি বেতার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার প্রযুক্তি এবং এই ধরনের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) বলা হয়। অর্থাৎ ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া এক কাজ, আর সেই সংযোগ ব্যবহার করে ভিডিও মিটিং করানো আরেক কাজ।
    মনে রাখুন:
    ভিডিও মিটিংয়ের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম: Zoom, Google Meet, Microsoft Teams, Webex।
    ISP-এর কাজ হলো গ্রাহককে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করা।
  3. ৭৭. ই-মেইলের ক্ষেত্রে সিসি (CC)-এর অর্থ কী?
    • ক. close circuit
    • খ. carbon copy
    • গ. close contact
    • ঘ. close copy
    উত্তর: খ. carbon copy
    ই-মেইলে CC-এর পূর্ণরূপ কার্বন কপি (Carbon Copy)। আগে যখন টাইপরাইটারে কার্বন কাগজ দিয়ে একই লেখার একাধিক কপি তৈরি করা হতো, সেই ধারণা থেকেই নামটি এসেছে। মূল প্রাপক ছাড়া আরও কাউকে বার্তাটি জানাতে চাইলে তাঁর ঠিকানা CC ঘরে দেওয়া হয়। CC-তে যাঁদের নাম থাকে, বার্তার সব প্রাপক সেই তালিকা দেখতে পান। কাজেই CC ঘরে দেওয়া ব্যক্তিরা মূল প্রাপক না হলেও বার্তার একটি অনুলিপি পান এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকেন। অফিসের চিঠিপত্রে এটি খুব বেশি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    BCC-এর পূর্ণরূপ ব্লাইন্ড কার্বন কপি (Blind Carbon Copy)। BCC-তে দেওয়া ঠিকানা অন্য প্রাপকদের কাছে গোপন থাকে।
    ই-মেইলের মূল প্রাপকের ঘরের নাম To।
  4. ৭৯. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করার জন্য কোন প্রোগ্রামিং ব্যবহার করা হয়?
    • ক. LOTUS
    • খ. Python
    • গ. LISP
    • ঘ. Both খ ও গ
    উত্তর: ঘ. Both খ ও গ
    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) প্রোগ্রাম লিখতে একাধিক ভাষা ব্যবহার হয়। এর মধ্যে LISP ভাষাটি ১৯৫৮ সালে তৈরি হয়েছিল এবং প্রতীকী যুক্তির কাজে এটি আদি ও গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। আর Python এখন তার সহজ গঠন ও মেশিন লার্নিংয়ের বিপুল লাইব্রেরির কারণে এআই-তে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই Python ও LISP দুটিই এআই প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা। অন্যদিকে LOTUS কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা নয়, এটি একটি পুরোনো অফিস সফটওয়্যারের নাম। সঠিক উত্তর তাই দুটি ভাষাকে একসঙ্গে ধরা অপশনটি।
    মনে রাখুন:
    এআই-তে ব্যবহৃত অন্যান্য ভাষা: Prolog, Java, C++।
    সাধারণ ব্যবহারের ভাষার মধ্যে Python সবচেয়ে জনপ্রিয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: অন্যান্য পরীক্ষা

আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন