লিয়ানা বুকস

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ২০ নভেম্বর ২০২৩। ৯৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

ইংরেজি

  1. ১. The team is — eleven players.
    • ক. made of
    • খ. made up of
    • গ. made up
    • ঘ. made
    উত্তর: খ. made up of
    ‘Be made up of’ idiom-এর অর্থ কোনো কিছু নিয়ে গঠিত হওয়া। তাই ‘The team is made up of eleven players’ মানে দলটি এগারোজন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত। ‘Made of’ সাধারণত কাঁচামাল বোঝায় (made of wood), যেখানে মূল জিনিসটি বদলে যায় না।
    মনে রাখুন:
    Made of = উপাদান দিয়ে তৈরি, যেমন The table is made of wood.
    Made from = রূপান্তর হয়ে তৈরি, যেমন Paper is made from wood.
    Made up = উদ্ভাবিত বা বানানো।
  2. ২. I am very busy. Here 'very' is —
    • ক. adjective
    • খ. noun
    • গ. adverb
    • ঘ. interjection
    উত্তর: গ. adverb
    ‘I am very busy’ বাক্যে busy একটি adjective, যা আমার অবস্থা বলছে। Very এখানে সেই adjective-কে মাত্রা দিচ্ছে, অর্থাৎ কতটা ব্যস্ত তা জানাচ্ছে। যে শব্দ adjective, verb বা অন্য adverb-কে modify করে, সে adverb। তাই very এখানে adverb।
    মনে রাখুন:
    Adverb of degree: very, too, quite, rather, almost।
    উদাহরণ: She runs very fast. (adverb-কে modify)
  3. ৬. The correct spelling is :
    • ক. playwrite
    • খ. playwright
    • গ. playwrighte
    • ঘ. playwritee
    উত্তর: খ. playwright
    নাট্যকার বোঝাতে সঠিক বানান playwright। এখানে wright শব্দের অর্থ নির্মাতা (right বা write নয়)। তাই playwright মানে নাটক-নির্মাতা। ‘Playwrite’ বা ‘playwrighte’-তে বানান ভুল।
    মনে রাখুন:
    Wright = নির্মাতা। এরকম আরও: shipwright (জাহাজ নির্মাতা), wheelwright।
    Playwright-এর একজন বিখ্যাত উদাহরণ শেক্সপিয়র।
  4. ৭. Sounding the same but spelt differently —
    • ক. Symphonious
    • খ. Homophonous
    • গ. Synonyms
    • ঘ. Saminynous
    উত্তর: খ. Homophonous
    যে শব্দগুলোর উচ্চারণ একই কিন্তু বানান ও অর্থ আলাদা, তাদের ইংরেজিতে homophone বলে। বিশেষণ রূপ homophonous, তাই ‘sounding the same but spelt differently’ বোঝাতে Homophonous সঠিক। Synonyms মানে সমার্থক শব্দ। Symphonious বা Saminynous এখানে প্রচলিত অর্থে বসে না।
    উদাহরণ:
    sea – see
    right – write
    meet – meat
    মনে রাখুন: Homograph = বানান একই কিন্তু অর্থ আলাদা (যেমন lead)।
  5. ১৫. I would rather starve — beg.
    • ক. than
    • খ. to
    • গ. and
    • ঘ. on
    উত্তর: ক. than
    'ভিক্ষা করার চেয়ে না খেয়ে থাকা ভালো' এই ভাব বোঝাতে would rather ... than কাঠামো ব্যবহার করা হয়। তাই বাক্যটি হবে: I would rather starve than beg.
    এই কাঠামোয় would rather-এর পরে এবং than-এর পরে verb-এর base form বসে। অন্য অপশনগুলো (to, and, on) এখানে তুলনার ভাব প্রকাশ করতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    Would rather + verb + than + verb: I would rather walk than take a rickshaw.
    Would rather-এর পরে to বসে না, কেবল base verb বসে।
  6. ২১. Identify the correct sentence :
    • ক. Bread is usually made of wheat.
    • খ. Bread is usually made with wheat.
    • গ. Bread is usually made by wheat.
    • ঘ. Bread is usually made from wheat.
    উত্তর: ঘ. Bread is usually made from wheat.
    যে জিনিস তৈরির সময় মূল উপাদানটি রূপ পাল্টে একেবারে নতুন কিছুতে পরিণত হয়, সেখানে made from ব্যবহার করা হয়। গম ভেঙে আটা ও ময়দা হয়, তারপর রুটি তৈরি হয়, তাই এখানে made from বসে। তাই বাক্যটি হবে: Bread is usually made from wheat.
    আর made of বসে যখন উপাদানটি তৈরি জিনিসে অপরিবর্তিত থাকে এবং চেনা যায়।
    মনে রাখুন:
    The table is made of wood. (কাঠ দেখেই চেনা যায়)
    Wine is made from grapes. (রূপ বদলে যায়)
    Made by বসে কর্তার ক্ষেত্রে: The cake was made by my mother.
  7. ২২. The correct sentence is :
    • ক. I wish I were a king
    • খ. I wish I was a king
    • গ. I wish I will be a king
    • ঘ. I wish I am a king
    উত্তর: ক. I wish I were a king
    I wish দিয়ে এমন ইচ্ছা প্রকাশ করা হয় যা বাস্তবে সত্য নয় বা পূরণ হওয়ার নয়। এই ধরনের বাক্যে be verb-এর জায়গায় সব পুরুষের সঙ্গেই were বসে। তাই সঠিক বাক্য: I wish I were a king. 'I was' বা 'I will be' এখানে চলে না।
    মনে রাখুন:
    I wish I were rich. (আমি ধনী নই)
    He talks as if he were a doctor.
    অতীতের অপূর্ণ ইচ্ছায় had + past participle বসে: I wish I had studied harder.
  8. ২৪. The antonym of 'gentle' is :
    • ক. modest
    • খ. clever
    • গ. rude
    • ঘ. narrow
    উত্তর: গ. rude
    Gentle মানে ভদ্র, নম্র বা কোমল স্বভাবের। এর বিপরীত অর্থ হলো Rude, অর্থাৎ অভদ্র বা রূঢ়। বাকি অপশনগুলোর অর্থ: Modest মানে বিনয়ী (এটি বরং কাছাকাছি অর্থের শব্দ), Clever মানে চতুর, Narrow মানে সংকীর্ণ।
    মনে রাখুন:
    Gentle-এর সমার্থক শব্দ: mild, soft, tender।
    Gentle-এর বিপরীত শব্দ: harsh, rough, rude।
  9. ৩৮. What kind of noun is 'man'?
    • ক. Proper
    • খ. Common
    • গ. Collective
    • ঘ. Material
    উত্তর: খ. Common
    Noun প্রধানত পাঁচ রকম: Proper, Common, Collective, Material ও Abstract। ‘Man’ দিয়ে একই শ্রেণির যেকোনো একজন পুরুষ মানুষকে বোঝানো যায়, তার কোনো নির্দিষ্ট নাম নেই। এমন নামকে Common noun বলে।
    মনে রাখুন:
    Proper noun: Dhaka, Rahim।
    Collective noun: class, team, army।
    Material noun: gold, water, iron।
    Abstract noun: honesty, beauty।
  10. ৫০. Which one is the correct spelling?
    • ক. Seudonim
    • খ. Pseudonim
    • গ. Pseudonym
    • ঘ. Sedudony
    উত্তর: গ. Pseudonym
    Pseudonym মানে ছদ্মনাম, অর্থাৎ লেখক বা শিল্পী নিজের আসল নাম গোপন রেখে যে নাম ব্যবহার করেন। শব্দটি গ্রিক pseudes (মিথ্যা) ও onyma (নাম) থেকে এসেছে। শুরুর Ps অক্ষর দুটি উচ্চারণে শুধু ‘স’ হয়, কিন্তু বানানে লিখতে হয়। এই কারণেই Seudonim বা Sedudony ধরনের ভুল বানান হয়।
    মনে রাখুন:
    Pseudonym-এর সমার্থক: pen name, alias।
    সাহিত্যে ছদ্মনামের উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে পদাবলী লিখেছিলেন।
  11. ৫২. Trees have — off their leaves.আরও এসেছে: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৪০২১) ২০১৯
    • ক. cast
    • খ. thrown
    • গ. fallen
    • ঘ. put
    উত্তর: ক. cast
    গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ার কথা বোঝাতে cast off ব্যবহার করা হয়, যার অর্থ ঝেড়ে ফেলা বা ত্যাগ করা। তাই বাক্যটি হবে: Trees have cast off their leaves. Past ও past participle রূপে cast একই থাকে (cast–cast–cast)। এ কারণে have-এর পরে cast বসে, thrown বা fallen নয়।
    মনে রাখুন:
    Cast off: ত্যাগ করা, ফেলে দেওয়া।
    Cast away: ফেলে দেওয়া, সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া।
    Cast about: খোঁজাখুঁজি করা।
  12. ৫৪. 'Paradise Lost' is written by—
    • ক. John Keats
    • খ. William Shakespeare
    • গ. John Milton
    • ঘ. John Donne
    উত্তর: গ. John Milton
    ‘Paradise Lost’ ইংরেজি সাহিত্যের বিখ্যাত মহাকাব্য, যা লিখেছেন কবি জন মিল্টন। এটি ১৬৬৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এতে শয়তানের পতন এবং আদম ও হাওয়ার স্বর্গ থেকে বিতাড়নের কাহিনি বলা হয়েছে। মিল্টন অন্ধ অবস্থায় এই মহাকাব্য রচনা করেন।
    মনে রাখুন:
    মিল্টনের অন্য রচনা: Paradise Regained, Samson Agonistes, Areopagitica।
    শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক Hamlet, Macbeth, Othello।
  13. ৫৯. 'Break a leg' means—
    • ক. good luck
    • খ. bad luck
    • গ. to be failed
    • ঘ. to hurt
    উত্তর: ক. good luck
    Break a leg একটি প্রচলিত idiom, যা বিশেষ করে মঞ্চে নামার আগে অভিনেতাদের শুভকামনা জানাতে বলা হয়। এর অর্থ good luck। শব্দগুলোর আক্ষরিক অর্থ ‘পা ভেঙে ফেলো’ হলেও এখানে সেই অর্থ নেই। তাই bad luck বা hurt ধরনের অর্থ ভুল।
    মনে রাখুন:
    Break the ice: আড়ষ্টতা কাটানো।
    Break the bank: সব টাকা খরচ করে ফেলা।
    Break a promise: প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা।
  14. ৬০. 'A man of straw' means —
    • ক. doll
    • খ. a man of no substance
    • গ. a man of substance
    • ঘ. a man lack of money
    উত্তর: খ. a man of no substance
    A man of straw মানে এমন লোক যার কোনো সামর্থ্য, গুরুত্ব বা আর্থিক ভিত্তি নেই, অর্থাৎ a man of no substance। খড়ের তৈরি পুতুল যেমন দেখতে মানুষের মতো হলেও ভেতরে ফাঁপা, তেমনই এই লোক। এর বিপরীতে a man of substance মানে সম্পদশালী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি।
    মনে রাখুন:
    A man of letters: সাহিত্যিক।
    A man of word: প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী।
  15. ৭২. Put the right form of verb : Many flowers (bloom) every day.
    • ক. bloom
    • খ. has bloomed
    • গ. have bloomed
    • ঘ. blooms
    উত্তর: ক. bloom
    Many flowers বহুবচন কর্তা, আর ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়েছে প্রতিদিন ঘটে এমন নিয়মিত ঘটনা। তাই Present Indefinite Tense হবে এবং বহুবচন কর্তার সঙ্গে verb-এর base form bloom বসবে: Many flowers bloom every day. 'Has' একবচনের ক্রিয়া, আর 'have bloomed' পূর্ণ হয়ে যাওয়া কাজ বোঝায়।
    মনে রাখুন:
    Present Indefinite-এ third person singular কর্তার সঙ্গে verb-এর সঙ্গে s/es যুক্ত হয়: The flower blooms.
    Everyday বিশেষণ (daily), Every day ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  16. ৭৫. 'বৃক্ষ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় উপকার হলো অক্সিজেন'– ইংরেজি কোন বাক্যটি সঠিক?
    • ক. The important benefit that we get from trees is oxygen.
    • খ. The benefit that we get from trees is oxygen.
    • গ. The important benefits that we get from trees is oxygen.
    • ঘ. The most important benefit that we get from trees is oxygen.
    উত্তর: ঘ. The most important benefit that we get from trees is oxygen.
    বাংলা বাক্যে ‘সবচেয়ে বড় উপকার’ বোঝানো হয়েছে, তাই ইংরেজিতে superlative degree, অর্থাৎ most important benefit বসবে। এখানে benefit একবচন এবং is ক্রিয়াও একবচন। সঠিক বাক্য: The most important benefit that we get from trees is oxygen. অন্য অপশনে ‘most’ বা ক্রিয়ার সঙ্গতি নেই।
    মনে রাখুন:
    Superlative-এর আগে the বসে: the best, the most beautiful।
    benefits (বহুবচন) হলে verb হবে are।
  17. ৮৪. Which one is the correct sentence?
    • ক. Neither of the two women are to be trusted.
    • খ. The accident happened at night.
    • গ. What for is Jashore famous?
    • ঘ. He prevented us going.
    উত্তর: খ. The accident happened at night.
    অপশন B সঠিক: The accident happened at night. রাত বোঝাতে at night ব্যবহার হয়। বাকি বাক্যগুলোর ভুল:
    A: Neither of the two women are... হবে is, কারণ neither একবচন।
    C: What for is Jashore famous? হবে What is Jashore famous for?
    D: He prevented us going হবে He prevented us from going।
    মনে রাখুন:
    At night, in the morning, on Sunday।
    Prevent + object + from + verb-ing।
  18. ৮৬. The phrase 'Die in harness' means —
    • ক. die in business
    • খ. die in peace
    • গ. die in honour
    • ঘ. die in bed
    উত্তর: ক. die in business
    Die in harness মানে কাজে নিযুক্ত অবস্থায় মারা যাওয়া, অবসর নেওয়ার আগে। Harness ঘোড়ার সাজ, যা পরে ঘোড়া কাজ করে। তাই die in harness মানে die in business বা কাজের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করা। এর সঙ্গে শান্তি, সম্মান বা বিছানায় মৃত্যুর সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    In harness: কাজে নিযুক্ত অবস্থায়।
    Back in harness: আবার কাজে ফেরা।
  19. ৮৭. Open the window. Identify the correct passive form :
    • ক. The window should be opened.
    • খ. Let the window be opened.
    • গ. Let the window be opened by you.
    • ঘ. The window must be opened.
    উত্তর: খ. Let the window be opened.
    Imperative sentence-কে passive করার একটি নিয়ম হলো Let + object + be + past participle। তাই Open the window-এর passive: Let the window be opened. A ও D-তে should/must বসালে বাক্যের অর্থ আদেশ থেকে বাধ্যবাধকতায় বদলে যায়, আর C-তে 'by you' অপ্রয়োজনীয়।
    মনে রাখুন:
    Shut the door → Let the door be shut.
    Do it → Let it be done.
    নিষেধ বাক্যে: Do not open the door → Let the door not be opened.
  20. ৯০. Mr. Rajib had his car — with only BDT 500.
    • ক. wash
    • খ. washing
    • গ. to wash
    • ঘ. washed
    উত্তর: ঘ. washed
    বাক্যটি causative structure: have + object + past participle। যখন কেউ নিজে কাজ না করে অন্য কাউকে দিয়ে করায়, তখন এই কাঠামো ব্যবহার হয়। তাই বাক্যটি হবে: Mr. Rajib had his car washed with only BDT 500. গাড়ি নিজে ধোয় না, তাই washed বসে।
    মনে রাখুন:
    Have + object + v₃: I had my hair cut.
    Get + object + v₃: She got her phone repaired.

বিজ্ঞান

  1. ৩. গাছ থেকে আমটি মাটিতে পড়ল। এটি কোন ধরনের বলের উদাহরণ?
    • ক. চৌম্বক বল
    • খ. তড়িৎ চৌম্বক বল
    • গ. নিউক্লীয় বল
    • ঘ. মহাকর্ষ বল
    উত্তর: ঘ. মহাকর্ষ বল
    গাছ থেকে আম খসে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী আমটিকে নিজের দিকে টানে। দুটি বস্তুর মধ্যকার এই পারস্পরিক টানকে মহাকর্ষ বল (Gravitational Force) বলে। এটি সবসময় আকর্ষণধর্মী। চৌম্বক ও তড়িৎচৌম্বক বল চার্জ বা চুম্বকের কারণে হয়, আর নিউক্লীয় বল পরমাণুর কেন্দ্রের ভেতরে কাজ করে।
    মনে রাখুন:
    প্রকৃতির মৌলিক বল চারটি: মহাকর্ষ, তড়িৎচৌম্বক, সবল নিউক্লীয় ও দুর্বল নিউক্লীয় বল।
    চারটির মধ্যে মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল আর সবল নিউক্লীয় বল সবচেয়ে শক্তিশালী।
  2. ৯. ঘড়ির কাঁটার গতি কী ধরনের গতি?
    • ক. রৈখিক গতি
    • খ. পর্যাবৃত্ত গতি
    • গ. স্পন্দন গতি
    • ঘ. উপবৃত্তাকার গতি
    উত্তর: খ. পর্যাবৃত্ত গতি
    কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর একই পথে একই দিকে নিজের অবস্থানে ফিরে আসে, তবে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি (Periodic Motion) বলে। ঘড়ির কাঁটা বৃত্তাকার পথে চলে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর একই বিন্দুতে ফিরে আসে, তাই এটি পর্যাবৃত্ত গতি। কাঁটা মধ্যবিন্দুর দুই পাশে আসা-যাওয়া করে না, তাই এটি স্পন্দন গতি নয়।
    উদাহরণ: ফ্যানের পাখা, পৃথিবীর আবর্তন।
    মনে রাখুন: ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো আসা-যাওয়ার গতিকে স্পন্দন গতি বলে, যা পর্যাবৃত্ত গতির বিশেষ রূপ।
  3. ১২. কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
    • ক. শূন্য মাধ্যম
    • খ. কঠিন মাধ্যম
    • গ. তরল মাধ্যম
    • ঘ. বায়বীয় মাধ্যম
    উত্তর: খ. কঠিন মাধ্যম
    শব্দ কম্পনের মাধ্যমে চলে, তাই একে চলার জন্য কণা-ঘটিত মাধ্যম লাগে। কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি ও শক্তভাবে যুক্ত থাকে, ফলে কম্পন দ্রুত এক কণা থেকে অন্য কণায় যায়। তাই কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। তরলে বেগ তার চেয়ে কম, আর বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই শব্দ সেখানে চলতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    বায়ুর তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে।
    বাতাসে জলীয়বাষ্প বাড়লেও বেগ কিছুটা বাড়ে।
  4. ১৪. ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়–
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. হাইড্রোজেন
    • ঘ. কার্বন
    উত্তর: ক. অক্সিজেন
    ভূপৃষ্ঠ বা ভূত্বকের শিলা ও খনিজে সবচেয়ে বেশি আছে অক্সিজেন, প্রায় ৪৬ শতাংশ। কারণ ভূত্বকের বেশিরভাগ খনিজ সিলিকা ও অন্যান্য অক্সাইড জাতীয়। তার পরের স্থানে আছে সিলিকন, তারপর অ্যালুমিনিয়াম ও লোহা। নাইট্রোজেন বাতাসে সবচেয়ে বেশি, ভূত্বকে নয়।
    মনে রাখুন:
    ধাতুর মধ্যে ভূত্বকে প্রাচুর্যে প্রথম অ্যালুমিনিয়াম, দ্বিতীয় লোহা।
    বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ।
  5. ১৭. রক্তনালিতে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য দায়ী কোনটি?
    • ক. হেপারিন
    • খ. হিস্টামিন
    • গ. হিমোগ্লোবিন
    • ঘ. লিম্ফোসাইট
    উত্তর: ক. হেপারিন
    রক্তনালিতে রক্ত জমাট না বাঁধার কারণ হেপারিন (Heparin), যা একটি তন্তুনিরোধক বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট পদার্থ। এটি প্রোথ্রম্বিন থেকে থ্রম্বিন তৈরিতে বাধা দেয়। থ্রম্বিন না হলে ফাইব্রিনোজেন ফাইব্রিনে বদলায় না, আর ফাইব্রিনের জাল ছাড়া রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। হিস্টামিন প্রদাহ ঘটায় এবং হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে।
    মনে রাখুন:
    ক্ষত হলে তন্তুনিরোধক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রক্ত জমাট বাঁধে।
    হেপারিন বেসোফিল ও মাস্ট কোষে তৈরি হয়।
  6. ২৩. স্ট্রিট ভাইরাস কোন রোগের জীবাণুর নাম?
    • ক. টিটেনাস
    • খ. র‍্যাবিস
    • গ. হাম
    • ঘ. যক্ষ্মা
    উত্তর: খ. র‍্যাবিস
    স্ট্রিট ভাইরাস (Street Virus) হলো প্রকৃতিতে পাওয়া বন্য র‍্যাবিস ভাইরাস, যা জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ ঘটায়। কুকুর, শেয়াল, বাদুড় প্রভৃতি প্রাণীর কামড়ে এই ভাইরাস মানুষের লালার মাধ্যমে দেহে ঢোকে এবং স্নায়ুতন্ত্র আক্রমণ করে। টিটেনাস ব্যাকটেরিয়াজনিত, আর হাম ও যক্ষ্মার জীবাণু আলাদা।
    মনে রাখুন:
    গবেষণাগারে পরিবর্তিত ভাইরাসকে ফিক্সড ভাইরাস বলে।
    জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর।
  7. ২৬. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?
    • ক. তেল
    • খ. গ্যাস
    • গ. কয়লা
    • ঘ. সমুদ্রের ঢেউ
    উত্তর: ঘ. সমুদ্রের ঢেউ
    যে শক্তির উৎস ব্যবহারে শেষ হয় না বা প্রকৃতিতে বারবার তৈরি হয়, সেটি নবায়নযোগ্য। সমুদ্রের ঢেউ বাতাসের কারণে সবসময় সৃষ্টি হচ্ছে, তাই এর শক্তি নবায়নযোগ্য। তেল, গ্যাস ও কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি, একবার ফুরোলে আর ফিরে আসে না, তাই অনবায়নযোগ্য।
    মনে রাখুন:
    পারমাণবিক শক্তি অনবায়নযোগ্য, কারণ ইউরেনিয়ামের মজুদ সীমিত।
    সূর্য, বায়ু, পানি ও সমুদ্রের ঢেউ নবায়নযোগ্য।
  8. ৩০. দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য কোন মিনারেল অত্যন্ত জরুরী?
    • ক. জিংক
    • খ. আয়োডিন
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. আয়রন
    উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম
    মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর হাড় গঠনের জন্য প্রচুর ক্যালসিয়াম যায়। তাই দুগ্ধদানকারী মায়ের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়।
  9. ৪৩. ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
    • ক. পিত্তথলি
    • খ. লিভার
    • গ. অগ্ন্যাশয়
    • ঘ. পিটুইটারি গ্রন্থি
    উত্তর: গ. অগ্ন্যাশয়
    ইনসুলিন (Insulin) একটি হরমোন, যা অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। এটি রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। ইনসুলিনের অভাব বা কাজ না করলে ডায়াবেটিস মেলাইটাস হয়। পিত্তথলি, লিভার বা পিটুইটারি গ্রন্থি ইনসুলিন তৈরি করে না।
    মনে রাখুন:
    আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়, যা রক্তে শর্করা বাড়ায়।
    ব্যান্টিং ও বেস্ট ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।
  10. ৪৯. যে বিজ্ঞান জীবাশ্ম সম্বন্ধে আলোচনা করতে পারে–
    • ক. ফসিওলজি
    • খ. মরফোলজি
    • গ. প্যালিয়েন্টোলজি
    • ঘ. ফাইটোজেনি
    উত্তর: গ. প্যালিয়েন্টোলজি
    জীবাশ্ম মানে অতীতের জীবের পাথর হয়ে যাওয়া দেহাবশেষ বা ছাপ। এসব নিয়ে যে বিজ্ঞানের শাখায় আলোচনা হয়, তার নাম প্যালিয়েন্টোলজি (Paleontology)। মরফোলজি (Morphology) জীবের বাহ্যিক গঠন নিয়ে আলোচনা করে। ফসিওলজি ও ফাইটোজেনি এই অর্থে প্রচলিত বিষয়ের নাম নয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যানাটমি জীবের অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে আলোচনা করে।
    জীবাশ্ম পড়ে পৃথিবীর অতীত জীবজগৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
  11. ৫১. শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩০ মিটার হলে, ২৭৫ মিটার গভীর কোনো কুয়ার কাছে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে কত সেকেন্ড পর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?
    • ক. ৫/৩ সেকেন্ড
    • খ. ৬/৫ সেকেন্ড
    • গ. ২/৩ সেকেন্ড
    • ঘ. ১/২ সেকেন্ড
    উত্তর: ক. ৫/৩ সেকেন্ড
    হাততালি দিলে শব্দ কুয়ার তলায় গিয়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। এতে শব্দকে মোট 2h দূরত্ব যেতে হয়, কারণ নামতে h আর ফিরে উঠতে আবার h। সুতরাং সময় t = 2h / v। এখানে h = 275 m, v = 330 m/s। তাই t = (2 × 275) / 330 = 550 / 330 = 5/3 সেকেন্ড (প্রায় 1.67 s)।
    মনে রাখুন: প্রতিধ্বনি আলাদাভাবে শুনতে হলে প্রতিফলকের দূরত্ব কমপক্ষে প্রায় 17 m হতে হয়।
  12. ৫৬. বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?
    • ক. ৯৯.৯৭%
    • খ. ৯৮%
    • গ. ৯৪%
    • ঘ. ৯০%
    উত্তর: ক. ৯৯.৯৭%
    পৃথিবীতে যত শক্তি আছে, তার প্রায় পুরোটাই আসে সূর্য থেকে, হিসাবে ৯৯.৯৭ শতাংশ। সূর্যের ভেতরে হাইড্রোজেন মিলে হিলিয়াম হওয়ার সময় (নিউক্লীয় ফিউশন) প্রচুর শক্তি মুক্ত হয়, আর সেই শক্তি বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌঁছায়। পৃথিবীর নিজস্ব তাপ ও অন্যান্য উৎস মিলে মাত্র সামান্য অংশ দেয়।
    মনে রাখুন:
    জীবাশ্ম জ্বালানি ও বায়ুপ্রবাহ মূলত সৌরশক্তিরই রূপান্তর।
    সূর্যালোক থেকে গাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
  13. ৬১. মানবদেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে কোনটি?
    • ক. ভিটামিন
    • খ. পানি
    • গ. স্নেহ পদার্থ
    • ঘ. খনিজ লবণ
    উত্তর: গ. স্নেহ পদার্থ
    আমাদের দেহে তাপ ও শক্তির প্রধান জোগানদাতা স্নেহ পদার্থ বা চর্বি। ১ গ্রাম স্নেহ পুড়ে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি তাপ দেয়, যেখানে শর্করা ও আমিষ দেয় প্রায় ৪ কিলোক্যালরি। ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহ সচল রাখে, কিন্তু শক্তি দেয় না। পানি দেহের বিভিন্ন কাজে লাগে, কিন্তু সেও শক্তি দেয় না।
    মনে রাখুন:
    স্নেহ পদার্থ কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
    অতিরিক্ত স্নেহ দেহে চর্বি হয়ে জমা থাকে।
  14. ৬৪. করোনা কোন ধরনের ভাইরাস?
    • ক. DNA
    • খ. RNA
    • গ. MRNA
    • ঘ. RNA+DNA
    উত্তর: খ. RNA
    করোনাভাইরাস একটি RNA ভাইরাস, অর্থাৎ এর জিনগত উপাদান ডিএনএ নয়, আরএনএ। SARS-CoV-2 নামের এই ভাইরাস থেকে যে রোগ হয়, তার নাম কোভিড-১৯ (COVID-19)। MRNA একটি অণু যা প্রোটিন তৈরির নির্দেশ বহন করে, ভাইরাসের ধরন নয়।
    মনে রাখুন:
    কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে।
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ মার্চ একে অতিমারি ঘোষণা করে।
    ৫ মে ২০২৩ সংস্থাটি জরুরি অবস্থার ঘোষণা তুলে নেয়।
  15. ৬৭. নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
    • ক. গলন
    • খ. বাষ্পীভবন
    • গ. প্রস্বেদন
    • ঘ. সালোকসংশ্লেষণ
    উত্তর: ঘ. সালোকসংশ্লেষণ
    রাসায়নিক পরিবর্তনে নতুন পদার্থ তৈরি হয়। সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন তৈরি করে, অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থ জন্মায়। গলন, বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনে শুধু অবস্থা বা স্থান বদলায়, পদার্থ একই থাকে, তাই এগুলো ভৌত পরিবর্তন।
    বিক্রিয়া: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।
    মনে রাখুন: সালোকসংশ্লেষণ সবুজ কোষের ক্লোরোফিলে ঘটে।
  16. ৭৬. পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
    • ক. সোডিয়াম
    • খ. পটাশিয়াম
    • গ. ম্যাগনেসিয়াম
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. সোডিয়াম
    পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ তৈরি হয়, সেই তাপ বাইরে নিয়ে যেতে শীতলকারী পদার্থ (Coolant) লাগে। তরল সোডিয়ামের গলনাঙ্ক কম এবং তাপ পরিবহনের ক্ষমতা খুব বেশি, তাই বিশেষ ধরনের চুল্লিতে এটি ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম একটি ক্ষার ধাতু। ম্যাগনেসিয়াম এ কাজে ব্যবহার করা হয় না।
    মনে রাখুন:
    নিউট্রনের গতি কমাতে গ্রাফাইট বা ভারী পানি ব্যবহার হয়, যাকে মডারেটর বলে।
    বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে বোরন বা ক্যাডমিয়ামের দণ্ড ব্যবহৃত হয়।
  17. ৮২. গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
    • ক. বেকেরেল রশ্মি
    • খ. এক্স রশ্মি
    • গ. বিটা রশ্মি
    • ঘ. গামা রশ্মি
    উত্তর: খ. এক্স রশ্মি
    এক্স রশ্মি (X-ray) ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা কাঠ, কাপড় বা চামড়ার মতো হালকা পদার্থ ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু ধাতু ও হাড়ে আটকে যায়। তাই নিরাপত্তা তল্লাশি ও গোয়েন্দা কাজে লুকানো অস্ত্র, বিস্ফোরক বা চোরাচালানের জিনিস এই রশ্মি দিয়ে খুঁজে বের করা হয়। ১৮৯৫ সালে উইলহেলম রন্টগেন এটি আবিষ্কার করেন।
    মনে রাখুন:
    চিকিৎসায় হাড় ভাঙা দেখতে এক্স-রে ব্যবহৃত হয়।
    ক্যানসার চিকিৎসায় গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
  18. ৮৫. কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
    • ক. তামা
    • খ. ইস্পাত
    • গ. পিতল
    • ঘ. সোনা
    উত্তর: খ. ইস্পাত
    লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং তাদের সংকর ধাতু ইস্পাত চৌম্বক পদার্থ, কারণ এদের ভেতরের ক্ষুদ্র চৌম্বক অংশগুলোকে একই দিকে সাজানো যায়। ইস্পাতকে চুম্বকে ঘষলে বা কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে চুম্বক হয়ে যায়। তামা, পিতল ও সোনা অচৌম্বক, তাই এদের চুম্বকে পরিণত করা যায় না।
    মনে রাখুন:
    ইস্পাতে চৌম্বকত্ব দীর্ঘদিন থাকে, তাই স্থায়ী চুম্বক ইস্পাতের হয়।
    নরম লোহার চুম্বকত্ব অস্থায়ী।
  19. ৮৮. সর্বোচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট ধাতু হলো–
    • ক. টাংস্টেন
    • খ. প্ল্যাটিনাম
    • গ. জারকোনিয়াম
    • ঘ. টাইটানিয়াম
    উত্তর: ক. টাংস্টেন
    ধাতুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গলনাঙ্ক টাংস্টেনের (Tungsten), প্রায় 3422°C। প্ল্যাটিনাম, জারকোনিয়াম ও টাইটেনিয়ামের গলনাঙ্ক এর চেয়ে অনেক কম। এই কারণে বাল্বের ফিলামেন্টে টাংস্টেন ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে কম গলনাঙ্ক ধাতু পারদ (Hg), প্রায় −39°C, তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল।
    হিলিয়াম ধাতু নয়, এটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
  20. ৯২. টেলিফোন লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়–
    • ক. তড়িৎশক্তি
    • খ. শব্দশক্তি
    • গ. চৌম্বকশক্তি
    • ঘ. আলোকশক্তি
    উত্তর: ক. তড়িৎশক্তি
    টেলিফোনে আমরা কথা বললে মাউথপিসের মাইক্রোফোন শব্দশক্তিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তর করে। এই তড়িৎ সংকেত তার বেয়ে অপর প্রান্তে যায়, সেখানে রিসিভার আবার তাকে শব্দে ফিরিয়ে আনে। অর্থাৎ লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তড়িৎশক্তি, শব্দ নয়। শব্দ তার বেয়ে এত দূর যেতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
    অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর সংকেত চলে, কিন্তু সাধারণ টেলিফোন লাইনে বিদ্যুৎ।

বাংলাদেশ

  1. ৪. বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক ইপিজেড কোথায় অবস্থিত?
    • ক. ঢাকা
    • খ. চট্টগ্রাম
    • গ. বরিশাল
    • ঘ. নীলফামারী
    উত্তর: ঘ. নীলফামারী
    বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) হলো উত্তরা ইপিজেড, যা নীলফামারী জেলায় অবস্থিত। কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ এর বিশেষত্ব। ইপিজেডগুলো পরিচালনা করে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEPZA)।
    মনে রাখুন:
    দেশের প্রথম ইপিজেড চট্টগ্রাম ইপিজেড, যার কাজ শুরু হয় ১৯৮৩ সালে।
    ঢাকা ইপিজেড সাভারে।
  2. ৮. ঢাকা সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী হয় কোন সালে?
    • ক. ১৬০৮
    • খ. ১৬১০
    • গ. ১৬০৯
    • ঘ. ১৬১২
    উত্তর: খ. ১৬১০
    মোগল সুবাদার ইসলাম খান চিশতী ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে শহরের নাম রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর। পরে ১৬৬০ সালে সুবাদার মীর জুমলাও কিছুদিনের জন্য ঢাকাকে রাজধানী করেন। এরপর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ঢাকা পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী হয়। ১৬০৮, ১৬০৯ বা ১৬১২ সাল এই ঘটনার সঙ্গে মেলে না।
    মনে রাখুন:
    ঢাকা ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হয়।
  3. ১৬. বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত কতটি সংশোধনী আনা হয়েছে?
    • ক. ১৪
    • খ. ১৫
    • গ. ১৬
    • ঘ. ১৭
    উত্তর: ঘ. ১৭
    ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। পরীক্ষার সময় (২০২৩ সাল) সর্বশেষ সংশোধনী ছিল সপ্তদশ সংশোধনী, যা ২০১৮ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের বিধান আরও ২৫ বছর বহাল রাখা হয়।
    মনে রাখুন:
    পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১): তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয় এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা হয়।
    ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪): সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে দেওয়া হয়েছিল।
  4. ৩১. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কত তারিখে শুরু হয়?
    • ক. ৭ এপ্রিল, ১৯৭২
    • খ. ১০ এপ্রিল, ১৯৭২
    • গ. ৭ এপ্রিল, ১৯৭৩
    • ঘ. ১০ এপ্রিল, ১৯৭৩
    উত্তর: গ. ৭ এপ্রিল, ১৯৭৩
    স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সেই নির্বাচনে জয়ী সদস্যদের নিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল। এর আগে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসেছিল, কিন্তু সেটি জাতীয় সংসদ ছিল না। সেজন্য ১০ এপ্রিল ১৯৭২ তারিখটি এখানে বিভ্রান্তিকর অপশন।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কান।
    ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিলের গণপরিষদই সংবিধান প্রণয়ন করেছিল।
  5. ৩৭. 'উয়ারী বটেশ্বর' কী কারণে আলোচিত?
    • ক. বাণিজ্যকেন্দ্র
    • খ. প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কেন্দ্র
    • গ. বাণিজ্য সম্পদ প্রাপ্তি
    • ঘ. সাহিত্যচর্চা কেন্দ্র
    উত্তর: খ. প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কেন্দ্র
    উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। সেখানে খননে প্রাচীন নগর-বসতির নিদর্শন, ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, পুঁতি ও মূল্যবান পাথরের জিনিস পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে এটি আড়াই হাজার বছরের পুরোনো একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। তাই এটি আলোচিত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কেন্দ্র হিসেবে।
    মনে রাখুন:
    স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান ১৯৩০-এর দশকে এই স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সবার সামনে আনেন।
    বাংলাদেশের অন্য প্রত্নস্থান: পাহাড়পুর (নওগাঁ), মহাস্থানগড় (বগুড়া), ময়নামতি (কুমিল্লা)।
  6. ৪২. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
    • ক. ভয়েস অব লিবার্টি
    • খ. ওরা ১১ জন
    • গ. দ্য স্পিচ
    • ঘ. স্টপ জেনোসাইড
    উত্তর: গ. দ্য স্পিচ
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র 'দ্য স্পিচ'। বাকি তিনটির বিষয় আলাদা: 'ওরা ১১ জন' মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিচিত্র, 'স্টপ জেনোসাইড' ১৯৭১ সালে গণহত্যার দলিল হিসেবে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র, আর 'ভয়েস অব লিবার্টি' এই বিষয়ের কোনো নির্মিত চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত নয়।
    মনে রাখুন:
    ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকো ২০১৭ সালে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের (Memory of the World) তালিকায় স্থান দেয়।
    ভাষণটি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া হয়।
  7. ৫৫. ট্রমা সেন্টার কী?
    • ক. দুর্ঘটনা জনিত কারণে আহতদের চিকিৎসার্থে মহাসড়কের পার্শ্বে নির্মিত চিকিৎসাকেন্দ্র
    • খ. খেলাধুলার উন্নয়নকল্পে নির্মিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
    • গ. শিশুদের জন্য নির্মিত আনন্দ ভ্রমণ কেন্দ্র
    • ঘ. বৃদ্ধনারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র
    উত্তর: ক. দুর্ঘটনা জনিত কারণে আহতদের চিকিৎসার্থে মহাসড়কের পার্শ্বে নির্মিত চিকিৎসাকেন্দ্র
    সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দিতে মহাসড়কের পাশে যে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি করা হয়, তাকে ট্রমা সেন্টার বলে।
  8. ৬৩. 'বাংলার মুক্তিসনদ' নামে পরিচিত কোনটি?
    • ক. ৬ দফা
    • খ. ৭ মার্চের ভাষণ
    • গ. লাহোর প্রস্তাব
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. ৬ দফা
    শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির দাবিগুলো ছয় দফা আকারে তুলে ধরেন। এই দাবিতে স্বায়ত্তশাসনের কথা ছিল, তাই বাঙালি জাতি একে নিজেদের মুক্তির সনদ বলে গ্রহণ করে। সে কারণেই ছয় দফাকে 'বাংলার মুক্তিসনদ' বা 'বাঁচার দাবি' বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ছয় দফা ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে উত্থাপিত হয়।
    আওয়ামী লীগ ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ঘোষণা করে।
    ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন গড়ে ওঠে।
  9. ৬৫. বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
    • ক. ৩ নং
    • খ. ৪ নং
    • গ. ৫ নং
    • ঘ. ৬ নং
    উত্তর: খ. ৪ নং
    বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগে ‘প্রজাতন্ত্র’ নিয়ে কয়েকটি অনুচ্ছেদ আছে। এর ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীকের কথা বলা হয়েছে। জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রথম ১০ চরণ।
    মনে রাখুন:
    অনুচ্ছেদ ১: বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র।
    অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ড।
    অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম।
    অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
    অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী ঢাকা।
    অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।
  10. ৯৬. পারমাণবিক ক্লাবের তালিকায় বিশ্বের কততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্ত হলো?
    • ক. ৩১তম
    • খ. ৩৩তম
    • গ. ৩৪তম
    • ঘ. ৩৫তম
    উত্তর: খ. ৩৩তম
    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে গণ্য হয়। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে এই কেন্দ্রটি তৈরি হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটম প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণ করছে।
    মনে রাখুন:
    রূপপুর কেন্দ্রে দুটি ইউনিট আছে, প্রতিটির সক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট, মোট ২৪০০ মেগাওয়াট।
    বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়।

বাংলা

  1. ৫. গত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. অপরাহ্ন
    • খ. অপরান্ন
    • গ. অপরাহ্ণ
    • ঘ. অপরাণ্ণ
    উত্তর: গ. অপরাহ্ণ
    গত্ব বিধান অনুযায়ী ঋ, র বা ষ-এর পরে ন-এর জায়গায় ণ হয়। ‘অপরাহ্ণ’ শব্দটি অপর + অহ্ন থেকে গঠিত, আর র-এর পরে ন-এর জায়গায় ণ বসে। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানে তাই শুদ্ধ রূপ অপরাহ্ণ। অন্য বানানে ণ-ত্ব সূত্র মানা হয়নি বা বর্ণবিন্যাস ভুল।
    মনে রাখুন:
    অনুরূপ শব্দ: পূর্বাহ্ণ।
    অন্য ণ-ত্বযুক্ত শব্দ: কারণ, রামায়ণ, নারায়ণ।
  2. ১৮. পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়াকে কী বলে?
    • ক. হীরকজয়ন্তী
    • খ. রজতজয়ন্তী
    • গ. সুবর্ণজয়ন্তী
    • ঘ. শতাব্দী
    উত্তর: গ. সুবর্ণজয়ন্তী
    কোনো প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার নির্দিষ্ট বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসবকে জয়ন্তী বলা হয়। পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হলে তাকে বলে সুবর্ণজয়ন্তী। ‘সুবর্ণ’ মানে সোনা, তাই সোনার মতো পঞ্চাশ বছর। শতাব্দী মানে একশ বছরের কাল, তাই এটি এখানে খাটে না।
    মনে রাখুন:
    ২৫ বছর: রজতজয়ন্তী (রজত = রুপা)।
    ৫০ বছর: সুবর্ণজয়ন্তী।
    ৬০ বছর: হীরকজয়ন্তী।
    ৭৫ বছর: প্লাটিনামজয়ন্তী।
    ১০০ বছর: শতবর্ষ বা শতবার্ষিকী।
  3. ১৯. 'মৈমনসিংহ গীতিকা' সংগ্রহ করেন–
    • ক. আশুতোষ ভট্টাচার্য
    • খ. আশরাফ সিদ্দিকী
    • গ. দীনেশচন্দ্র সেন
    • ঘ. অমর্ত্য সেন
    উত্তর: গ. দীনেশচন্দ্র সেন
    'মৈমনসিংহ গীতিকা' ময়মনসিংহ অঞ্চলের পালাগানের সংকলন, যা ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। এই পালাগুলো গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে। আর সেগুলো সম্পাদনা ও প্রকাশের দায়িত্ব নেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন। প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে চন্দ্রকুমার দে নেই। তাই গীতিকার সংকলক ও সম্পাদক হিসেবে পরিচিত দীনেশচন্দ্র সেনকেই উত্তর ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা।
    দীনেশচন্দ্র সেনের বিখ্যাত গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'।
  4. ২৫. 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি লিখেছেন–
    • ক. সেলিনা হোসেন
    • খ. হুমায়ূন আহমেদ
    • গ. হায়দার আলী
    • ঘ. মাহমুদুল হক
    উত্তর: ঘ. মাহমুদুল হক
    ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসটি লিখেছেন কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক। এটি তাঁর প্রথম দিকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এর পটভূমি ও চরিত্রগুলো তরুণ প্রজন্মের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। হুমায়ূন আহমেদ, সেলিনা হোসেন ও হায়দার আলী ভিন্ন লেখক।
    মনে রাখুন:
    মাহমুদুল হকের অন্য উপন্যাস: খেলাঘর, অনুর পাঠশালা, নিরাপদ তন্দ্রা, মাটির জাহাজ, কালো বরফ।
    হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উপন্যাস: নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, কোথাও কেউ নেই।
  5. ২৯. মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন–
    • ক. চিত্র
    • খ. ভাষা
    • গ. আচরণ
    • ঘ. ইঙ্গিত
    উত্তর: খ. ভাষা
    মানুষ নিজের মনের ভাব অন্যকে জানানোর জন্য নানা উপায় ব্যবহার করে। তার মধ্যে সবচেয়ে সম্পূর্ণ ও কার্যকর উপায় হলো ভাষা। মানুষের বাগ্‌যন্ত্র দিয়ে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টিকে ভাষা বলে। হাত-পা বা চোখের ইঙ্গিত, আচরণ বা ছবিতেও ভাব প্রকাশ পায়, কিন্তু এগুলো সীমিত, তাই প্রধান বাহন নয়।
    মনে রাখুন:
    ভাষার দুটি রূপ: মৌখিক ও লিখিত।
    মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ অঙ্গগুলো হলো ঠোঁট, দাঁত, জিভ, তালু ইত্যাদি।
  6. ৩৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাসের নাম–
    • ক. পথের দাবী
    • খ. পল্লী সমাজ
    • গ. শ্রীকান্ত
    • ঘ. গোরা
    উত্তর: ঘ. গোরা
    ‘গোরা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে বড় উপন্যাস। এতে হিন্দু সমাজ, ব্রাহ্ম সমাজ, জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম নিয়ে সেই সময়ের তীব্র বিতর্ক ফুটে উঠেছে, তাই একে রাজনৈতিক-সামাজিক উপন্যাস বলা হয়। ‘পথের দাবী’ ও ‘শ্রীকান্ত’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এবং ‘পল্লীসমাজ’ও শরৎচন্দ্রের রচনা।
    মনে রাখুন:
    রবীন্দ্রনাথের অন্য উপন্যাস: ঘরে-বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, চার অধ্যায়।
    শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
  7. ৩৫. যুগসন্ধিক্ষণের কবি কে?
    • ক. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
    • খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • গ. মধুসূদন দত্ত
    • ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
    বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ শেষ হয়ে আধুনিক যুগ শুরু হওয়ার মাঝখানের সময়টিকে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়। এই সময়ের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২–১৮৫৯)। তাঁর কবিতায় পুরোনো ধারা ও নতুন যুগের ছাপ দুটোই ছিল। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
    মনে রাখুন:
    ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে পরিচিত, তিনি কবি নন।
  8. ৪০. 'নেজারত' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
    • ক. আরবি
    • খ. ফারসি
    • গ. চীনা
    • ঘ. ইংরেজি
    উত্তর: ক. আরবি
    ‘নেজারত’ শব্দটি আরবি ‘নাযারাত’ থেকে এসেছে, যার অর্থ তত্ত্বাবধান বা আদালতের পেয়াদা-বিভাগ। বাংলা ভাষায় আরবি থেকে বহু শব্দ এসেছে, বিশেষ করে ধর্ম, আইন ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে। ফারসি, চীনা ও ইংরেজি ভাষার শব্দের সঙ্গে এর গঠন মেলে না।
    মনে রাখুন:
    আরবি শব্দ: আল্লাহ, হজ, যাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, আদালত, হালাল, হারাম।
    আরবি ‘নেজামত’ মানে শাসনকর্তার দপ্তর আর ‘তেজারত’ মানে ব্যবসা-বাণিজ্য।
  9. ৪৭. 'নীরোগ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
    • ক. নি + রোগ
    • খ. নিঃ + রোগ
    • গ. নী + রোগ
    • ঘ. নীঃ + রোগ
    উত্তর: খ. নিঃ + রোগ
    ‘নীরোগ’ শব্দটি ‘নিঃ + রোগ’ যোগে গঠিত। বিসর্গ-সন্ধির নিয়মে, ই বা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের পরে র থাকলে বিসর্গ লোপ পায় এবং আগের হ্রস্বস্বর দীর্ঘ হয়। এখানে নিঃ-এর বিসর্গ লোপ পেয়েছে এবং ‘ই’ দীর্ঘ ‘ঈ’ হয়েছে। তাই ‘নি + রোগ’ বা ‘নী + রোগ’ ধরলে সন্ধির নিয়ম মানা হয় না।
    মনে রাখুন:
    নিঃ + রস = নীরস
    নিঃ + রব = নীরব
  10. ৪৮. 'হালে পানি পাওয়া'-এর অর্থ কী?
    • ক. বিপদে পড়া
    • খ. বিপদমুক্ত হওয়া
    • গ. বিপদাপন্ন
    • ঘ. বিপদে ধৈর্য ধরা
    উত্তর: খ. বিপদমুক্ত হওয়া
    ‘হালে পানি পাওয়া’ বাগধারার অর্থ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় পাওয়া, বা বিপদমুক্ত হওয়া। নৌকার হাল ঠিক থাকলে যেমন নৌকা সামলানো যায়, তেমনি কোনো সংকটে অবলম্বন পেলে এই কথাটি বলা হয়। বিপদে পড়া বোঝাতে এই বাগধারা ব্যবহার করা হয় না, বরং এর উল্টো অর্থে।
    মনে রাখুন:
    হাল ছাড়া: হতাশ হয়ে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া।
    হাল ধরা: নেতৃত্ব বা দায়িত্ব নেওয়া।
  11. ৫৮. অপরাজেয় কথাশিল্পী হলেন–
    • ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • খ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • গ. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ঘ. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    উত্তর: ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ নামে পরিচিত। সাধারণ মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীর দুঃখ ও সমাজের অবিচার তাঁর লেখায় গভীর দরদ নিয়ে ফুটে উঠেছে। তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল বিপুল। মানিক, তারাশঙ্কর ও বিভূতিভূষণও বড় কথাসাহিত্যিক, কিন্তু এই উপাধি শরৎচন্দ্রের।
    মনে রাখুন:
    শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস: দেবদাস, শ্রীকান্ত, পথের দাবী, চরিত্রহীন, গৃহদাহ।
    তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘অনিলা দেবী’।
  12. ৬২. 'আকাদেমি' কোন ভাষার শব্দ?
    • ক. ফারসি
    • খ. ফরাসি
    • গ. ইংরেজি
    • ঘ. গ্রিক
    উত্তর: ঘ. গ্রিক
    ‘আকাদেমি’ শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে। প্রাচীন গ্রিসে দার্শনিক প্লেটোর শিক্ষালয়ের নাম ছিল Akademeia, সেখান থেকেই ইংরেজি Academy ও বাংলা ‘আকাদেমি’ এসেছে। বাংলায় বিদেশি শব্দের উৎস মনে রাখা পরীক্ষার জন্য জরুরি।
    মনে রাখুন:
    ফারসি শব্দ: খোদা, নামাজ, রোজা, চশমা।
    ফরাসি শব্দ: কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, কার্তুজ।
    ইংরেজি শব্দ: চেয়ার, টেবিল, কলেজ, ফুটবল, হাসপাতাল।
  13. ৬৬. 'বনলতা সেন' কবিতাটি রচনা করেন–
    • ক. কাজী নজরুল ইসলাম
    • খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • গ. জীবনানন্দ দাশ
    • ঘ. জসীমউদ্দীন
    উত্তর: গ. জীবনানন্দ দাশ
    ‘বনলতা সেন’ কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ। তিনি রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের একজন প্রধান আধুনিক কবি, যাঁকে ‘রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয়। কবিতাটি তাঁর ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
    মনে রাখুন:
    জীবনানন্দ দাশের অন্য কবিতা: আবার আসিব ফিরে, আকাশলীনা, হায় চিল, বোধ, ক্যাম্পে।
    তাঁর কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, রূপসী বাংলা, মহাপৃথিবী।
  14. ৬৮. কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. বুদ্ধিজীবী
    • খ. বুদ্ধিজিবী
    • গ. বুদ্ধিজিবি
    • ঘ. বুদ্ধীজীবী
    উত্তর: ক. বুদ্ধিজীবী
    শুদ্ধ বানান ‘বুদ্ধিজীবী’। শব্দটি ‘বুদ্ধি’ ও ‘জীবী’ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে বুদ্ধি শব্দের ই-কার হ্রস্ব এবং ‘জীবী’ শব্দের উভয় ঈ-কার দীর্ঘ। যে ব্যক্তি বুদ্ধি বা মেধা কাজে লাগিয়ে জীবিকা অর্জন করে, সে বুদ্ধিজীবী।
    মনে রাখুন:
    ‘ইন’ প্রত্যয়ান্ত শব্দে ঈ-কার হয়: জীবী, মন্ত্রী, প্রাণী, কর্মী।
    আরও শুদ্ধ বানান: উদীচী, তিতিক্ষা, দধীচি, বিভীষিকা, নিরীক্ষণ।
  15. ৭৪. 'ঝিনুক' শব্দের অর্থ–
    • ক. উপল
    • খ. সলিল
    • গ. শৈল
    • ঘ. শুক্তি
    উত্তর: ঘ. শুক্তি
    ‘ঝিনুক’ শব্দের সমার্থক শব্দ শুক্তি। ঝিনুকের ভেতর থেকে মুক্তা জন্মায়, তাই মুক্তার আরেক নাম শুক্তিজ। অন্য অপশনগুলোর অর্থ: উপল মানে নুড়ি বা পাথর, সলিল মানে পানি, শৈল মানে পাহাড়।
    মনে রাখুন:
    পানির সমার্থক শব্দ: জল, সলিল, বারি, নীর।
    পাহাড়ের সমার্থক শব্দ: শৈল, গিরি, অচল, ভূধর।
  16. ৭৯. 'ঔ' বর্ণের উচ্চারণ কোনটি?
    • ক. ওই
    • খ. অই
    • গ. আউ
    • ঘ. ওউ
    উত্তর: ঘ. ওউ
    ‘ঔ’ বাংলা বর্ণমালার একটি স্বরবর্ণ এবং এটি যৌগিক স্বর। এর উচ্চারণ ও-উ মিলিয়ে ‘ওউ’-এর মতো। বাংলা বর্ণমালায় ‘ঐ’ ও ‘ঔ’, এই দুটি যৌগিক স্বর। দুটি স্বরধ্বনি পরপর মিলে একটি ধ্বনি গড়ে ওঠে বলে এদের যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ‘ঐ’-এর উচ্চারণ ‘ওই’।
    বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
    ‘অই’ ও ‘আউ’ আলাদা ধ্বনিমালা, ‘ঔ’-এর উচ্চারণ নয়।
  17. ৮১. বাংলা সাতটি স্বরধ্বনির মধ্যে কোন তিনটি বিবৃত?
    • ক. অ, ই, উ
    • খ. আ, ঈ, ঊ
    • গ. অ, এ, অ্যা
    • ঘ. অ্যা, আ, অ
    উত্তর: ঘ. অ্যা, আ, অ
    মুখ খোলার পরিমাণ অনুসারে স্বরধ্বনি চার ভাগে ভাগ হয়: সংবৃত (ই, উ), অর্ধ-সংবৃত (এ, ও), অর্ধ-বিবৃত (অ্যা, অ) ও বিবৃত (আ)। প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে মুখ বেশি খোলা থাকে এমন ধ্বনি অ্যা, আ ও অ, তাই এই তিনটি একসঙ্গে বিবৃত শ্রেণির কাছাকাছি ধরা হয়। অ, ই, উ বা আ, ঈ, ঊ-এর মধ্যে সংবৃত স্বর রয়েছে।
    মনে রাখুন:
    জিভের উচ্চতা অনুসারে স্বরধ্বনির শ্রেণি: উচ্চ, উচ্চ-মধ্য, নিম্ন-মধ্য ও নিম্ন।
    বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
  18. ৮৯. 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থটির কবি–
    • ক. হাসান হাফিজুর রহমান
    • খ. শামসুর রাহমান
    • গ. আব্দুল গনি হাজারী
    • ঘ. আবদুল গাফফার চৌধুরী
    উত্তর: খ. শামসুর রাহমান
    ‘বন্দী শিবির থেকে’ শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ও বাঙালির সংগ্রাম এতে ফুটে উঠেছে। বইয়ের কবিতাগুলো স্বাধীনতার পটভূমিতে লেখা। হাসান হাফিজুর রহমান, আবদুল গনি হাজারী ও আবদুল গাফফার চৌধুরী ভিন্ন লেখক।
    মনে রাখুন:
    শামসুর রাহমানের অন্য কাব্য: প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ।
    তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’।
  19. ৯১. 'মর্সিয়া' শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
    • ক. আরবি
    • খ. ফারসি
    • গ. তুর্কি
    • ঘ. হিন্দি
    উত্তর: ক. আরবি
    ‘মর্সিয়া’ আরবি শব্দ। এর অর্থ শোকগাথা বা মৃত ব্যক্তির স্মরণে রচিত শোকসংগীত। বিশেষ করে কারবালার ঘটনা নিয়ে লেখা শোকের কবিতা মর্সিয়া নামে পরিচিত। মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’ এই ঘটনার ওপর রচিত।
    মনে রাখুন:
    আরবি শব্দ: মর্সিয়া, আদালত, কলম, কিতাব, ইনসান।
    শোকগাথার ইংরেজি Elegy।
  20. ৯৫. 'তুমি এতক্ষণ কী করেছ'—এ বাক্যে 'কী' কোন পদ?
    • ক. বিশেষণ
    • খ. সর্বনাম
    • গ. অব্যয়
    • ঘ. ক্রিয়া
    উত্তর: খ. সর্বনাম
    ‘তুমি এতক্ষণ কী করেছ’ বাক্যে ‘কী’ দিয়ে অজানা কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং এটি ‘করেছ’ ক্রিয়ার কর্মের জায়গায় বসেছে। যে শব্দ বিশেষ্যের বদলে বসে, তাকে সর্বনাম বলে। প্রশ্ন জানতে চাওয়া হলে একে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কী, কাকে, কার, কোন।
    ‘কী’ বিশেষণ হিসেবে বসলে বিশেষ্যের আগে বসে: কী কাজ করছ?

আন্তর্জাতিক

  1. ১০. বিশ্বের সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ কোনটি?
    • ক. যুক্তরাষ্ট্র
    • খ. চীন
    • গ. ভারত
    • ঘ. জাপান
    উত্তর: খ. চীন
    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে চীন, যা বিশ্বের মোট নিঃসরণের প্রায় ত্রিশ শতাংশ। দেশটির বিশাল শিল্প ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ এর বড় কারণ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত।
    মনে রাখুন:
    অতীতের মোট নিঃসরণ ধরলে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে।
    মাথাপিছু নিঃসরণে অবশ্য ছোট ছোট তেল সমৃদ্ধ দেশ, যেমন কাতার, এগিয়ে।
  2. ২০. BIMSTEC-এর সর্বশেষ সদস্য দেশ কোন দুটি?
    • ক. নেপাল ও শ্রীলংকা
    • খ. নেপাল ও ভুটান
    • গ. নেপাল ও থাইল্যান্ড
    • ঘ. নেপাল ও পাকিস্তান
    উত্তর: খ. নেপাল ও ভুটান
    BIMSTEC-এর পূর্ণরূপ Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation। সংগঠনটি ১৯৯৭ সালে চালু হয় এবং ২০০৪ সালে নেপাল ও ভুটান যোগ দেয়। তাই সর্বশেষ সদস্য দুটি দেশ হলো নেপাল ও ভুটান। এর ফলে সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ৭। শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার আগেই যুক্ত হয়েছিল, আর পাকিস্তান কখনো সদস্য নয়।
    মনে রাখুন:
    সদস্য দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান।
    BIMSTEC-এর সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত।
  3. ৩৩. আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর সদর দপ্তর কোথায়?
    • ক. বাসেল, সুইজারল্যান্ড
    • খ. ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
    • গ. ব্রাসিলিয়া, ব্রাজিল
    • ঘ. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
    উত্তর: ঘ. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (International Organization for Migration, IOM) অভিবাসী ও শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটির সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে। এটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়েছিল। বাসেল, ব্রাসেলস বা ব্রাসিলিয়া নামের শহরগুলোর সঙ্গে নামের সাদৃশ্য থাকলেও সদর দপ্তর সেখানে নয়।
    মনে রাখুন:
    জেনেভায় সদর দপ্তর আছে এমন আরও সংস্থা: WHO, ILO, UNHCR, WTO।
    ব্রাসেলস বেলজিয়ামের রাজধানী, যেখানে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
  4. ৪১. ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন 'COP-30' অনুষ্ঠিত হবে কোন দেশে?
    • ক. স্পেন
    • খ. ব্রাজিল
    • গ. ইতালি
    • ঘ. ইংল্যান্ড
    উত্তর: খ. ব্রাজিল
    জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলনকে COP (Conference of the Parties) বলা হয়। ২০২৫ সালের COP-30 অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলের বেলেম শহরে। বেলেম আমাজন বনের কাছাকাছি, তাই জায়গাটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।
    মনে রাখুন:
    COP-28 ছিল দুবাইয়ে (২০২৩) এবং COP-29 আজারবাইজানের বাকুতে (২০২৪)।
    হালনাগাদ: ২০২৬ সালের COP-31 তুরস্কের আন্তালিয়ায় হওয়ার কথা।
  5. ৪৬. ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম কী?
    • ক. খামা আমিনি
    • খ. ইয়েন ফসে
    • গ. নার্গিস মোহাম্মদী
    • ঘ. শিরিন এবাদি
    উত্তর: গ. নার্গিস মোহাম্মদী
    ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ইরানের মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী। তিনি ইরানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং সবার মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে সংগ্রামের জন্য এই সম্মান পান। শিরিন এবাদিও ইরানের, তিনি ২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন। ইয়েন ফসে নরওয়ের লেখক, তিনি ২০২৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পান।
    মনে রাখুন:
    হালনাগাদ: ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পান ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
  6. ৮০. ইসরাইল ও প্যালেস্টাইন মুক্তিসংস্থা পারস্পরিক স্বীকৃতি দলিলে স্বাক্ষর করে কবে?
    • ক. ১০ সেপ্টেম্বর, ৯৩
    • খ. ১১ সেপ্টেম্বর, ৯৪
    • গ. ১২ সেপ্টেম্বর, ৯৫
    • ঘ. ১৩ সেপ্টেম্বর, ৯৩
    উত্তর: ঘ. ১৩ সেপ্টেম্বর, ৯৩
    ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (PLO) ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে পারস্পরিক স্বীকৃতিতে সম্মত হয়। এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয় ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে, যার নাম অসলো চুক্তি-১। ইসরায়েলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক রবিন এবং পিএলও-এর পক্ষে ইয়াসির আরাফাত সেখানে ছিলেন।
    মনে রাখুন:
    অসলো চুক্তির গোপন আলোচনা নরওয়ের রাজধানী অসলোতে হয়েছিল।
    চুক্তিতে গাজা ও জেরিকোতে সীমিত ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসনের পথ খোলা হয়।
  7. ৯৭. গ্রিনপিস কী?
    • ক. পরিবেশ আন্দোলন গ্রুপ
    • খ. বন রক্ষাকারী স্লোগান
    • গ. পরিবেশ রক্ষাকারী প্রযুক্তি
    • ঘ. সবুজ বিপ্লব
    উত্তর: ক. পরিবেশ আন্দোলন গ্রুপ
    গ্রিনপিস একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনকারী সংগঠন। ১৯৭১ সালে কানাডার ভ্যানকুভারে পারমাণবিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে কয়েকজন কর্মী এটি শুরু করেন। এখন এর আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে। জলবায়ু পরিবর্তন, বন ও সমুদ্র রক্ষা ও পরমাণু অস্ত্রের বিরোধিতা এর কাজের মূল ক্ষেত্র।
    মনে রাখুন:
    জলবায়ু আন্দোলনের অন্য সংগঠন: WWF (বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিল), IUCN।
    সবুজ বিপ্লব কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাতের প্রবর্তন, যা এই সংগঠনের কাজ নয়।

গণিত

  1. ১১. একটি মুদ্রা ২ বার নিক্ষেপ করলে অন্তত ১ বার Head পড়ার সম্ভাবনা কত?
    • ক. ১/২
    • খ. ২/৩
    • গ. ৩/৪
    • ঘ. ১ বার
    উত্তর: গ. ৩/৪
    একটি মুদ্রা ২ বার ছুড়লে মোট চারটি ফলাফল হতে পারে: HH, HT, TH ও TT। এদের মধ্যে অন্তত একবার Head পড়ে HH, HT ও TH, অর্থাৎ ৩টি ক্ষেত্রে। তাই সম্ভাবনা = ৩/৪।
    একটি সহজ উপায়ও আছে। একবারও Head না পড়ার একটিমাত্র ফল TT, যার সম্ভাবনা ১/৪। সুতরাং অন্তত একবার Head পড়ার সম্ভাবনা = ১ − ১/৪ = ৩/৪।
    মনে রাখুন:
    n বার মুদ্রা ছুড়লে মোট ফলাফল ২ⁿ টি।
    'অন্তত একটি' ধরনের প্রশ্নে সম্পূরক ঘটনার হিসাব (১ − কোনোটিই নয়) সময় বাঁচায়।
  2. ১৩. একজন ব্যাটসম্যান ২১টি বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির মাধ্যমে ৯৬ রান করে। তার বাউন্ডারির সংখ্যা কত?
    • ক. ১৫
    • খ. ১৬
    • গ. ১৪
    • ঘ. ১৩
    উত্তর: ক. ১৫
    ধরি বাউন্ডারির সংখ্যা x টি। মোট ২১টি হিট হওয়ায় ওভার বাউন্ডারি (২১ − x) টি। বাউন্ডারিতে ৪ রান ও ওভার বাউন্ডারিতে ৬ রান পাওয়া যায়, তাই
    4x + 6(21 − x) = 96
    ⇒ 4x + 126 − 6x = 96
    ⇒ 2x = 30 ⇒ x = 15।
    যাচাই: ১৫টি বাউন্ডারিতে ৬০ রান, ৬টি ওভার বাউন্ডারিতে ৩৬ রান, মোট ৯৬ রান।
    মনে রাখুন:ক্রিকেটে মাটি ছুঁয়ে সীমানা পার হলে ৪ রান (বাউন্ডারি) আর সরাসরি সীমানা পার হলে ৬ রান (ওভার বাউন্ডারি) পাওয়া যায়।
  3. ২৭. log₁₀ x = −1 হলে, x-এর মান কত?
    • ক. 0.1
    • খ. 0.01
    • গ. 1/10000
    • ঘ. 0.001
    উত্তর: ক. 0.1
    log₁₀ x = −1 মানে 10-এর কত ঘাত x হয়, তা বের করা। সংজ্ঞা অনুযায়ী x = 10⁻¹ = 1/10 = 0.1।
    যাচাই: log₁₀(0.1) = log₁₀(10⁻¹) = −1।
    মনে রাখুন:
    log_a x = n হলে x = aⁿ।
    log 1 = 0 এবং log_a a = 1।
    10⁻² = 0.01, 10⁻³ = 0.001।
  4. ২৮. O কেন্দ্রবিশিষ্ট বৃত্তের A বিন্দুতে স্পর্শক AB এবং ∠AOB = 60° হলে, ∠ABO = কত?
    [চিত্র: O কেন্দ্রের বৃত্ত, A বিন্দুতে স্পর্শক AB, OA ও OB যুক্ত, ∠AOB = 60°]
    • ক. 30°
    • খ. 45°
    • গ. 35°
    • ঘ. 65°
    উত্তর: ক. 30°
    বৃত্তের কোনো বিন্দুতে অঙ্কিত স্পর্শক ওই বিন্দুগামী ব্যাসার্ধের উপর লম্ব হয়। তাই OA ⊥ AB, অর্থাৎ ∠OAB = 90°।
    ΔOAB-এর তিন কোণের সমষ্টি 180°। সুতরাং ∠ABO = 180° − 90° − 60° = 30°।
    মনে রাখুন:
    স্পর্শক ও স্পর্শবিন্দুগামী ব্যাসার্ধের মধ্যবর্তী কোণ সর্বদা 90°।
    বৃত্তের বাইরের একটি বিন্দু থেকে অঙ্কিত দুটি স্পর্শকের দৈর্ঘ্য সমান।
  5. ৩২. একটি ভগ্নাংশের লব ও হর উভয় থেকে 1 বিয়োগ করলে ভগ্নাংশটি 2/3 হয়। কিন্তু লব ও হর উভয়ের সঙ্গে 1 যোগ করলে ভগ্নাংশটি 3/4 হয়। ভগ্নাংশটি কত?
    • ক. 5/7
    • খ. 7/9
    • গ. 3/4
    • ঘ. 4/5
    উত্তর: ক. 5/7
    ধরি ভগ্নাংশটি x/y। প্রথম শর্ত অনুযায়ী (x − 1)/(y − 1) = 2/3, অর্থাৎ 3x − 3 = 2y − 2, যা থেকে 3x − 2y = 1। দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী (x + 1)/(y + 1) = 3/4, অর্থাৎ 4x + 4 = 3y + 3, যা থেকে 4x − 3y = −1।
    এই দুটি সমীকরণ সমাধান করলে x = 5 ও y = 7 পাওয়া যায়।
    যাচাই: 4/6 = 2/3 এবং 6/8 = 3/4। ভগ্নাংশটি 5/7।
    মনে রাখুন:অপশন থেকে সরাসরি শর্ত বসিয়ে যাচাই করাও দ্রুত উপায়।
  6. ৩৬. একটি বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা 400 মিটার। এর ক্ষেত্রফল কত বর্গ কি.মি.?
    • ক. 100
    • খ. 0.01
    • গ. 1.00
    • ঘ. 120
    উত্তর: খ. 0.01
    বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4 × বাহু। তাই বাহু = 400 ÷ 4 = 100 মিটার। ক্ষেত্রফল = 100 × 100 = 10000 বর্গমিটার।
    1 কিমি = 1000 মিটার, তাই 1 বর্গকিমি = 1000000 বর্গমিটার। সুতরাং 10000 বর্গমিটার = 10000/1000000 = 0.01 বর্গকিমি।
    মনে রাখুন:
    1 হেক্টর = 10000 বর্গমিটার।
    বর্গক্ষেত্রের কর্ণ = বাহু × √2।
  7. ৩৯. ৬, ১৭, ৪৯, ১৪৪, ... পরবর্তী সংখ্যাটি কত?
    • ক. ২৯
    • খ. ৩৫৫
    • গ. ৪০৮
    • ঘ. ৪২৮
    উত্তর: ঘ. ৪২৮
    সংখ্যাগুলোর মধ্যে একটি নিয়ম আছে। প্রতিবার আগের সংখ্যাকে ৩ দিয়ে গুণ করে ১, ২, ৩ ... বিয়োগ করা হয়েছে:
    ৬ × ৩ − ১ = ১৭
    ১৭ × ৩ − ২ = ৪৯
    ৪৯ × ৩ − ৩ = ১৪৪
    তাই পরের সংখ্যা ১৪৪ × ৩ − ৪ = ৪৩২ − ৪ = ৪২৮।
    মনে রাখুন:ধারার নিয়ম বের করতে আগে পদগুলোর অনুপাত ও পার্থক্য দেখে নিতে হয়। সবসময় নিয়মটি সব পদের জন্য যাচাই করতে হয়।
  8. ৪৫. 5 + 8 + 11 + 14 + … ধারাটির কততম পদ 302?
    • ক. 60তম
    • খ. 70তম
    • গ. 90তম
    • ঘ. 100তম
    উত্তর: ঘ. 100তম
    ধারাটি সমান্তর ধারা, যার প্রথম পদ a = 5 এবং সাধারণ অন্তর d = 8 − 5 = 3।
    n-তম পদ = a + (n − 1)d
    302 = 5 + (n − 1) × 3
    297 = 3(n − 1)
    n − 1 = 99 ⇒ n = 100।
    তাই 302 হলো 100তম পদ।
    মনে রাখুন:সমান্তর ধারার n-তম পদ = a + (n − 1)d এবং প্রথম n পদের সমষ্টি = n/2 × {2a + (n − 1)d}।
  9. ৫৭. দুটি সংখ্যার গ.সা.গু. ১১ ও ল.সা.গু. ৭৭০০। একটি সংখ্যা ২৭৫ হলে অপর সংখ্যাটি কত?
    • ক. ২১৮
    • খ. ৩০৮
    • গ. ২৮৩
    • ঘ. ২৭৯
    উত্তর: খ. ৩০৮
    দুটি সংখ্যার গুণফল = তাদের গ.সা.গু. × ল.সা.গু.
    ধরি অপর সংখ্যা x। তাহলে 275 × x = 11 × 7700
    x = (11 × 7700)/275 = 84700/275 = 308।
    যাচাই: 275 = 11 × 25 এবং 308 = 11 × 28। 25 ও 28 সহমৌলিক, গ.সা.গু. = 11, আর ল.সা.গু. = 11 × 25 × 28 = 7700।
    মনে রাখুন:দুটি সংখ্যার গুণফল = গ.সা.গু. × ল.সা.গু. এই সূত্র দুটি সংখ্যার ক্ষেত্রেই খাটে, তিনটির ক্ষেত্রে নয়।
  10. ৬৯. একটি কোণের দ্বিগুণ 60° হলে তার পূরক কোণ কত?
    • ক. 15°
    • খ. 20°
    • গ. 60°
    • ঘ. 30°
    উত্তর: গ. 60°
    ধরি কোণটি x। দ্বিগুণ হলে 2x = 60°, তাই x = 30°। দুটি কোণের সমষ্টি 90° হলে একটিকে অপরটির পূরক কোণ বলে। সুতরাং পূরক কোণ = 90° − 30° = 60°।
    মনে রাখুন:
    পূরক কোণ: দুই কোণের যোগফল 90°।
    সম্পূরক কোণ: দুই কোণের যোগফল 180°।
    x কোণের পূরক কোণ 90° − x এবং সম্পূরক কোণ 180° − x।
  11. ৭০. (x² + 1)² = 3x² হলে, x³ + 1/x³ এর মান কত?
    • ক. √3
    • খ. 3√3
    • গ. 0
    • ঘ. 1
    উত্তর: গ. 0
    (x² + 1)² = 3x² থেকে দুই পক্ষের বর্গমূল নিলে x² + 1 = ±√3 x। x দিয়ে ভাগ করলে x + 1/x = ±√3।
    সূত্র: x³ + 1/x³ = (x + 1/x)³ − 3(x + 1/x)।
    x + 1/x = √3 হলে মান = (√3)³ − 3√3 = 3√3 − 3√3 = 0।
    x + 1/x = −√3 হলেও একই ফল 0 পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    x³ + 1/x³ = (x + 1/x)³ − 3(x + 1/x)
    x³ − 1/x³ = (x − 1/x)³ + 3(x − 1/x)
  12. ৭১. নিম্নের কোনটি বৃত্তের সমীকরণ?
    • ক. ax² + bx + c = 0
    • খ. y² = a(x−2)
    • গ. x² + (y−2)² = 7
    • ঘ. y² = 2x + 7
    উত্তর: গ. x² + (y−2)² = 7
    বৃত্তের সমীকরণে x² ও y² উভয়ের সহগ সমান ও ধনাত্মক হয়, আর xy পদ থাকে না। x² + (y − 2)² = 7 সমীকরণটি (x − 0)² + (y − 2)² = (√7)² আকারে লেখা যায়, যা কেন্দ্র (0, 2) ও ব্যাসার্ধ √7 বিশিষ্ট বৃত্ত। অন্য অপশনগুলো দ্বিঘাত সমীকরণ বা পরাবৃত্তের সমীকরণ।
    মনে রাখুন:
    কেন্দ্র (h, k) ও ব্যাসার্ধ r হলে বৃত্তের সমীকরণ (x − h)² + (y − k)² = r²।
    মূলবিন্দু কেন্দ্র হলে x² + y² = r²।
  13. ৭৩. একটি ছাতা ৩৭৮ টাকা বিক্রয়ে যত ক্ষতি হয় ৪৫০ টাকা বিক্রয়ে তার তিন গুণ লাভ হয়। ক্রয়মূল্য কত?
    • ক. ৩৬৯ টাকা
    • খ. ৩৯৮ টাকা
    • গ. ৩৯৬ টাকা
    • ঘ. ৬৩৯ টাকা
    উত্তর: গ. ৩৯৬ টাকা
    ধরি ক্রয়মূল্য x টাকা। 378 টাকায় বিক্রি করলে ক্ষতি = (x − 378) টাকা। 450 টাকায় বিক্রি করলে লাভ = (450 − x) টাকা।
    শর্ত অনুযায়ী 450 − x = 3(x − 378)
    ⇒ 450 − x = 3x − 1134
    ⇒ 4x = 1584
    ⇒ x = 396।
    যাচাই: ক্ষতি = 18, লাভ = 54 = 3 × 18।
    মনে রাখুন: ক্রয়মূল্য এভাবে বের না করে সরাসরি বলা যায়, লাভ ও ক্ষতির অনুপাত 3 : 1 হলে ক্রয়মূল্য দুই বিক্রয়মূল্যের ওজনযুক্ত গড়ের কাছাকাছি, তবে সমীকরণ করাই নির্ভরযোগ্য।
  14. ৭৭. সুদের হার কত হলে ১০০ টাকা সরল সুদে ৮ বছরে দ্বিগুণ হবে?
    • ক. ১২.৫%
    • খ. ১০%
    • গ. ১৬%
    • ঘ. ১০.৫%
    উত্তর: ক. ১২.৫%
    ধরি আসল 100 টাকা। দ্বিগুণ হলে মোট 200 টাকা, তাই 8 বছরে সুদ = 100 টাকা।
    সরল সুদ = আসল × হার × সময়
    100 = 100 × r × 8 ⇒ r = 1/8 = 12.5%।
    মনে রাখুন: যেকোনো আসল সরল সুদে n বছরে দ্বিগুণ হলে সুদের হার = 100/n %। এখানে 100/8 = 12.5%।
  15. ৭৮. ৮ জন লোক একটি কাজ ১২ দিনে করতে পারে। দুইজন লোক কমিয়ে দিলে কাজটি শেষ করতে শতকরা কত দিন বেশি লাগবে?আরও এসেছে: এনটিআরসিএ ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ২০২২
    • ক. ২৫%
    • খ. ৩৩⅓%
    • গ. ৫০%
    • ঘ. ৬৬%
    উত্তর: খ. ৩৩⅓%
    মোট কাজ = 8 জন × 12 দিন = 96 জন-দিন। 2 জন কমে গেলে 6 জন থাকে, তাই কাজটি শেষ করতে লাগে 96 ÷ 6 = 16 দিন।
    দিন বেড়েছে 16 − 12 = 4 দিন।
    শতকরা বৃদ্ধি = (4/12) × 100 = 33⅓%।
    মনে রাখুন: লোক ও দিনের গুণফল সব সময় সমান থাকে (লোক × দিন = ধ্রুবক)।
  16. ৮৩. ত্রিভুজের যে-কোনো দুটি মধ্যমা পরস্পর সমান হলে ত্রিভুজটি হবে–
    • ক. সমকোণী ত্রিভুজ
    • খ. সমবাহু ত্রিভুজ
    • গ. সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ
    • ঘ. বিষমবাহু ত্রিভুজ
    উত্তর: গ. সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ
    ত্রিভুজের দুটি মধ্যমা সমান হলে ত্রিভুজটি সমদ্বিবাহু হয়। যেমন, B ও C শীর্ষ থেকে আঁকা মধ্যমা দুটি সমান হলে AB = AC হয়, অর্থাৎ ত্রিভুজের দুটি বাহু সমান। তিনটি মধ্যমাই সমান হলে ত্রিভুজ সমবাহু হয়।
    মনে রাখুন:
    মধ্যমা ত্রিভুজের শীর্ষ থেকে বিপরীত বাহুর মধ্যবিন্দু পর্যন্ত রেখাংশ।
    ত্রিভুজের তিনটি মধ্যমা একটি বিন্দুতে ছেদ করে, যাকে ভরকেন্দ্র বলে।
    সমকোণী বা বিষমবাহু ত্রিভুজে দুটি মধ্যমা সাধারণত সমান হয় না।
  17. ৯৩. একটি বৃত্তের পরিধি ও ক্ষেত্রফল যথাক্রমে 132 cm ও 1386 sq. cm। বৃত্তটির বৃহত্তম জ্যা-এর দৈর্ঘ্য কত?
    • ক. 66 cm
    • খ. 42 cm
    • গ. 21 cm
    • ঘ. 24 cm
    উত্তর: খ. 42 cm
    পরিধি 2πr = 132 এবং ক্ষেত্রফল πr² = 1386। ক্ষেত্রফলকে পরিধি দিয়ে ভাগ করলে πr²/2πr = r/2 = 1386/132 = 10.5, তাই r = 21 সেমি।
    বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা তার ব্যাস, যার দৈর্ঘ্য 2r = 42 সেমি।
    মনে রাখুন: বৃত্তের পরিধি = 2πr এবং ক্ষেত্রফল = πr²।
    ব্যাস বৃত্তের সবচেয়ে বড় জ্যা।
  18. ৯৪. 2x² + 350 = 12x + 340 হলে, x = কত?
    • ক. 5
    • খ. 4
    • গ. 8
    • ঘ. 2
    উত্তর: ক. 5
    2x² + 350 = 12x + 340 থেকে
    2x² − 12x + 10 = 0
    ⇒ x² − 6x + 5 = 0
    ⇒ (x − 5)(x − 1) = 0।
    তাই x = 5 অথবা x = 1। অপশনগুলোর মধ্যে 5 আছে, 1 নেই। সুতরাং উত্তর 5।
    মনে রাখুন: ax² + bx + c = 0 সমীকরণের মূলদ্বয়ের যোগফল −b/a এবং গুণফল c/a। এখানে যোগফল 6 ও গুণফল 5।

কম্পিউটার ও আইসিটি

  1. ৪৪. নিচের কোনটি একটি স্প্রেডশিট সফটওয়্যার?
    • ক. MS Word
    • খ. MS PowerPoint
    • গ. MS Outlook
    • ঘ. MS Excel
    উত্তর: ঘ. MS Excel
    স্প্রেডশিট সফটওয়্যারে সংখ্যা সারি ও কলামের ঘরে সাজিয়ে হিসাব-নিকাশ করা যায়। মাইক্রোসফট এক্সেল (MS Excel) সেই কাজের সফটওয়্যার, এতে সূত্র (Formula) দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ, গড় ইত্যাদি করা যায় এবং চার্টও আঁকা যায়। MS Word লেখালেখির, MS PowerPoint প্রেজেন্টেশনের, আর MS Outlook ই-মেইল ও সময়সূচি দেখার সফটওয়্যার।
    মনে রাখুন:
    এক্সেল ফাইলের এক্সটেনশন সাধারণত .xlsx।
    এক্সেলের ঘরকে সেল (Cell) বলে।
  2. ৫৩. বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান IBM-কে বলা হয়–
    • ক. ব্লু উইন্ডো
    • খ. ব্লু হান্টার
    • গ. গ্রে ব্লু
    • ঘ. বিগ ব্লু
    উত্তর: ঘ. বিগ ব্লু
    IBM-এর পূর্ণরূপ International Business Machines Corporation। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কম্পিউটার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যাকে ডাকনামে বিগ ব্লু (Big Blue) বলা হয়। এর নীল রঙের লোগোই এই নামের কারণ বলে ধরা হয়। অন্য নামগুলো প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় নয়।
    মনে রাখুন:
    IBM-এর ডিপ ব্লু (Deep Blue) কম্পিউটার ১৯৯৭ সালে দাবায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে হারিয়েছিল।

আরও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন