পানি: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১১। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৭০টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (১৫)
- ১. নিচের কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?৪১তম ও ২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
- খ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
- গ. চিনি
- ঘ. সালফিউরিক এসিড
উত্তর: ক. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়। এটি চুনাপাথর ও মার্বেলের প্রধান উপাদান, আর এই পাথর পানিতে সহজে গলে না। তাই এই পদার্থটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে ধরা হয়।
অন্যদিকে NaCl ও চিনি পানিতে খুব ভালোভাবে দ্রবীভূত হয়, আর সালফিউরিক এসিড পানির সঙ্গে সব অনুপাতে মেশে। চুনাপাথর, মার্বেল ও ঝিনুকের খোলস প্রধানত CaCO₃ দিয়ে তৈরি। এসিডের সংস্পর্শে এলে এটি CO₂ ছেড়ে ক্ষয় হয়, এ কারণেই অম্লবৃষ্টিতে মার্বেলের ভাস্কর্য নষ্ট হয়।
মনে রাখুন: পানি কার্বন-ডাইঅক্সাইড মিশে থাকলে CaCO₃ দ্রবণীয় Ca(HCO₃)₂ হয়ে যায়, আর এভাবেই পানিতে অস্থায়ী খরতা সৃষ্টি হয়। - ২. প্রাকৃতিক কোন উৎস থেকে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?৩৪তম ও ২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. সাগর
- খ. হ্রদ
- গ. নদী
- ঘ. বৃষ্টিপাত
উত্তর: ঘ. বৃষ্টিপাত
বৃষ্টির পানি জলীয় বাষ্প থেকে আসে, আর বাষ্পীভবনের সময় লবণ পেছনে পড়ে থাকে। তাই বৃষ্টির পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের লবণ প্রায় থাকে না এবং এটি প্রাকৃতিক মৃদু পানির সবচেয়ে ভালো উৎস। নদী, হ্রদ বা সাগরের পানি মাটি ও শিলার সংস্পর্শে আসে, সেখান থেকে লবণ দ্রবীভূত হয় বলে এগুলো তুলনায় খর। বৃষ্টির পানি পড়ার সময় বাতাসের CO₂ কিছুটা মিশিয়ে নেয়, তাই এটি সামান্য অম্লীয় হয়। তবু এতে খরতা সৃষ্টিকারী লবণ না থাকায় সাবান দিয়ে ধোয়ার জন্য এটি চমৎকার।
মনে রাখুন:
পাতিত পানি (Distilled Water) কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সম্পূর্ণ মৃদু পানি।
সাগরের পানিতে লবণ অনেক বেশি, তাই এটি পানের অযোগ্য। - ৩. প্রাকৃতিক কোন উৎস থেকে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির কাঠিন্য
- ক. সাগর
- খ. হ্রদ
- গ. বৃষ্টি
- ঘ. নদী
উত্তর: গ. বৃষ্টি
পানি যত বিশুদ্ধ, তাতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণ তত কম। যে পানিতে এই লবণ কম থাকে, তাকে মৃদু পানি (Soft Water) বলে। সূর্যের তাপে নদী, সাগর, পুকুরের পানি বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে, তখন লবণ নিচেই থেকে যায়। সেই বাষ্প ঠান্ডা হয়ে মেঘ হয় এবং বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। তাই বৃষ্টির পানি প্রায় বিশুদ্ধ এবং সবচেয়ে মৃদু। অন্যদিকে নদী, হ্রদ ও সাগরের পানিতে নানা খনিজ ও লবণ মিশে থাকে।
মনে রাখুন:
খর পানিতে সাবান সহজে ফেনা হয় না, মৃদু পানিতে সহজে ফেনা হয়।
পাতিত পানি সবচেয়ে বিশুদ্ধ। - ৪. ভারী পানির রাসায়নিক সংকেত-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভারী পানি
- ক. 2H2O2
- খ. H2O
- গ. D2O
- ঘ. HD2O2
উত্তর: গ. D2O
হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ আছে: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। সাধারণ পানির অণুতে প্রোটিয়াম থাকে, আর এর সংকেত H₂O। কিন্তু ডিউটেরিয়াম (D) আইসোটোপ দিয়ে গঠিত পানিকে ভারী পানি (Heavy Water) বলে। এর সংকেত D₂O। ডিউটেরিয়ামের ভর বেশি, তাই এই পানি সাধারণ পানির চেয়ে ভারী। পারমাণবিক চুল্লিতে এটি মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ নিউট্রনের গতি কমিয়ে দেয়। ডিউটেরিয়ামের নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন থাকে, আর ট্রিটিয়ামের নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন থাকে। ভারী পানির হিমাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কও সাধারণ পানির চেয়ে সামান্য বেশি।
মনে রাখুন: ভারী পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। - ৫. ভারী পানি (Heavy water) এর সংকেত হচ্ছে –৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভারী পানি
- ক. 2H2O2
- খ. H2O
- গ. D2O
- ঘ. HD2O2
উত্তর: গ. D2O
সাধারণ পানির হাইড্রোজেনের জায়গায় যদি হাইড্রোজেনের ভারী আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম (D) থাকে, তাহলে তাকে ভারী পানি (Heavy Water) বলে। এর সংকেত D₂O। ডিউটেরিয়ামের ভর হাইড্রোজেনের প্রায় দ্বিগুণ, তাই এই পানি সাধারণ পানির চেয়ে ভারী। পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য এটি মডারেটর হিসেবে কাজে লাগে। অর্থাৎ ভারী পানি দেখতে সাধারণ পানির মতো হলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ভূমিকা আলাদা। কানাডার পারমাণবিক চুল্লিগুলো ভারী পানি ব্যবহার করে চলে। এ কারণে একে চুল্লির মডারেটর বলা হয়।
মনে রাখুন:
হ্যারল্ড ইউরে ১৯৩১ সালে ডিউটেরিয়াম আবিষ্কার করেন।
ভারী পানি জীবের পানের জন্য উপযুক্ত নয়। - ৬. কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?২৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. ০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- খ. ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- গ. ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
উত্তর: গ. ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
বেশিরভাগ তরল ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয় এবং তাদের ঘনত্ব বাড়ে। কিন্তু পানি ব্যতিক্রম। পানি ঠান্ডা করতে করতে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে এর আয়তন সবচেয়ে কম হয়, ফলে ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। এর চেয়ে আরও ঠান্ডা করলে পানি আবার প্রসারিত হতে থাকে, তাই ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বরফ হলে ঘনত্ব কমে যায়। এই ধর্মকে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous expansion) বলে।
মনে রাখুন: এ কারণেই শীতের দেশে হ্রদের উপরের অংশ জমে বরফ হলেও নিচের অংশের পানি তরল থাকে, ফলে জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে। - ৭. বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. ঘনত্ব কম
- খ. ঘনত্ব বেশি
- গ. তাপমাত্রা বেশি
- ঘ. দ্রবণীয়তা বেশি
উত্তর: খ. ঘনত্ব বেশি
পানি জমে বরফ হলে তার অণুগুলো এমনভাবে সাজায় যে আয়তন বেড়ে যায়, ফলে একই ওজনের বরফ বেশি জায়গা নেয়। তাই বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম। প্রশ্নের ভাষায়, বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি। যে বস্তুর ঘনত্ব তরলের চেয়ে কম, সেটি ওই তরলে ভাসে, তাই বরফ পানিতে ভাসে।
মনে রাখুন: ঘনত্ব = ভর ÷ আয়তন। পানি ৪° সেলসিয়াসে সবচেয়ে ঘন হয়, আর এ জন্যই শীতের দেশে হ্রদের ওপরে বরফ জমলেও নিচে মাছেরা বেঁচে থাকে। - ৮. স্বাভাবিক আদর্শ পরিবেশে পানির ঘনত্ব যে তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ মান পরিগ্রহ করে তা হলো—২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. ০° সেন্টিগ্রেড
- খ. ১০০° সেন্টিগ্রেড
- গ. ৪° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ২৬৩° কেলভিন
উত্তর: গ. ৪° সেন্টিগ্রেড
পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় ৪° সেলসিয়াসে, তখন তা প্রায় ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। সাধারণ পদার্থ ঠান্ডা করলে সংকুচিত হয়। কিন্তু পানিকে ৪° সেলসিয়াস থেকে আরও ঠান্ডা করলে তা প্রসারিত হতে থাকে। একে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous Expansion) বলে। এ কারণেই বরফ পানির চেয়ে হালকা হয়ে ভেসে থাকে, আর শীতের দেশে পুকুরের ওপরে বরফ জমলেও নিচে ৪° সেলসিয়াসের পানিতে মাছ বেঁচে থাকে।
মনে রাখুন: ২৬৩ কেলভিন মানে −১০° সেলসিয়াস, কারণ 273 − 263 = 10। কেলভিন থেকে সেলসিয়াস পেতে ২৭৩ বিয়োগ করতে হয়। - ৯. পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল ভূ-গর্ভ ধারন করে?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বারিমণ্ডল
- ক. ২.০৫%
- খ. ০.৬৮%
- গ. ০.০১%
- ঘ. ০.০০১%
উত্তর: খ. ০.৬৮%
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের মোট পানির বেশিরভাগই আছে সাগর ও মহাসাগরে। সেখানে প্রায় ৯৭.২৫ শতাংশ পানি রয়েছে। এরপর বরফ ও হিমবাহে প্রায় ২.০৫ শতাংশ, আর ভূগর্ভে প্রায় ০.৬৮ শতাংশ পানি জমা আছে। বাকি পানি হ্রদ, নদী, মাটির আর্দ্রতা ও বায়ুমণ্ডলে খুব সামান্য পরিমাণে থাকে। ভূগর্ভের এই পানি আমরা নলকূপ ও গভীর নলকূপ দিয়ে তুলে ব্যবহার করি। বাংলাদেশে পানীয় জলের বড় অংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আসে।
মনে রাখুন:
হ্রদে পানি প্রায় ০.০১ শতাংশ।
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প প্রায় ০.০০১ শতাংশ।
স্বাদু পানির সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার মেরু অঞ্চলের বরফ। - ১০. জাতিসংঘ সমুদ্র আইন (UN Convention on the Law of the sea) কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?৪০তম বিসিএস ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্র আইন
- ক. ১৯৭৯ সালে
- খ. ১৯৮২ সালে
- গ. ১৯৮৩ সালে
- ঘ. এর কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. ১৯৮২ সালে
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন (UN Convention on the Law of the Sea, UNCLOS) স্বাক্ষরিত হয় ১৯৮২ সালে, জ্যামাইকার মন্টেগো বে-তে। এতে সমুদ্র ব্যবহারের নিয়ম, রাষ্ট্রের সমুদ্রসীমা, মৎস্য ও খনিজ সম্পদের অধিকার ঠিক করা হয়। কনভেনশনটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালে। বাংলাদেশ কনভেনশনটি ১৯৮২ সালে স্বাক্ষর করে এবং ২০০১ সালে অনুমোদন করে। এই আইনের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
মনে রাখুন:
আইনটিতে আঞ্চলিক সমুদ্র ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (EEZ) ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের রায় পায়। - ১১. 'Law of the sea convention' অনুযায়ী উপকূল থেকে কত দূরত্ব পর্যন্ত 'Exclusive Economic Zone' হিসেবে গণ্য?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্র আইন
- ক. ২২ নটিক্যাল মাইল
- খ. ৪৪ নটিক্যাল মাইল
- গ. ২০০ নটিক্যাল মাইল
- ঘ. ৩৭০ নট
উত্তর: গ. ২০০ নটিক্যাল মাইল
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের ভিত্তিরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্র এলাকা তার বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (Exclusive Economic Zone, EEZ)। এই এলাকার মাছ, তেল, গ্যাস ও অন্যান্য সম্পদের ওপর ওই রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিকার থাকে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিষয়ে ২০১২ সালে জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় দেয়। সেখানে বাংলাদেশ ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকা পায়।
মনে রাখুন:
আঞ্চলিক সমুদ্র: ভিত্তিরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল।
সংলগ্ন এলাকা: ২৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত।
১ নটিক্যাল মাইল প্রায় ১.৮৫২ কিলোমিটার। - ১২. উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো-১৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. প্রায় ১২ ঘণ্টা
- খ. চাঁদের তিথি অনুসারে ভিন্ন
- গ. প্রায় ৬ ঘণ্টা
- ঘ. প্রায় ২৪ ঘণ্টা
উত্তর: ক. প্রায় ১২ ঘণ্টা
পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরছে, তাই কোনো একটি স্থান দিনে দুবার চাঁদের সামনে পড়ে এবং দুবার সাগরের পানি ফুলে ওঠে। এজন্য একটি স্থানে পরপর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ১২ ঘণ্টা (সঠিকভাবে ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট)। চাঁদও পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, তাই এই ব্যবধানটি পুরো ১২ ঘণ্টা না হয়ে একটু বেশি হয়। এ কারণে প্রতিদিন জোয়ার আসার সময় আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৫০ মিনিট দেরিতে হয়। চাঁদ প্রতিদিন পৃথিবীকে একটু একটু প্রদক্ষিণ করে এগিয়ে যায়, তাই একই স্থানে আবার চাঁদের নিচে আসতে বাড়তি সময় লাগে।
মনে রাখুন:
দিনে সাধারণত দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা হয়।
প্রতিদিন জোয়ার প্রায় ৫০ মিনিট দেরিতে আসে। - ১৩. জোয়ার ভাটার তেজকটাল কখন হয়?১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. অমাবস্যায়
- খ. একাদশীতে
- গ. অষ্টমীতে
- ঘ. পঞ্চমীতে
উত্তর: ক. অমাবস্যায়
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা, দুই তিথিতেই সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় থাকে। তখন চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ একই দিকে কাজ করে এবং জোয়ার সবচেয়ে প্রবল হয়। একে তেজকটাল বা ভরা কটাল (Spring tide) বলে। শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে থাকে, তখন আকর্ষণ আংশিক কাটাকাটি হয় বলে জোয়ার হয় সবচেয়ে দুর্বল। চান্দ্রমাসে তাই দুবার ভরা কটাল ও দুবার মরা কটাল হয়। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভরা কটালের সময় জলোচ্ছ্বাস ও নদীর বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা বেশি থাকে।
মনে রাখুন: দুর্বল জোয়ারকে মরা কটাল (Neap tide) বলে, যা অষ্টমী তিথিতে হয়। - ১৪. প্রবল জোয়ারের কারণ, এ সময়-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে
- খ. সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণ করে থাকে
- গ. পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে
- ঘ. সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকে
উত্তর: ঘ. সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকে
সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় থাকে, তখন চাঁদ ও সূর্য দুজনেই পানিকে একই দিকে টানে। দুই আকর্ষণ মিলে পানি অনেক বেশি ফুলে ওঠে, তাই প্রবল জোয়ার বা ভরা কটাল (Spring tide) হয়। এমনটা ঘটে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই ঘটনাকে অমাবস্যার কটাল বা পূর্ণিমার কটাল নামে চেনে। তখন নদী-নালার পানি অনেক উঁচুতে ওঠে।
মনে রাখুন:
চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে থাকলে মরা কটাল (Neap tide) হয়, তখন জোয়ার দুর্বল থাকে।
প্রতি মাসে দুবার ভরা কটাল ও দুবার মরা কটাল হয়। - ১৫. নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ BOD ও COD
- ক. COD > BOD
- খ. COD < BOD
- গ. COD = BOD
- ঘ. উপরের কোনটিই নয়
উত্তর: ক. COD > BOD
BOD (Biochemical Oxygen Demand) মানে অণুজীব জৈব বর্জ্য পচাতে যে অক্সিজেন ব্যবহার করে, তার পরিমাণ। COD (Chemical Oxygen Demand) মানে রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে সব ধরনের বর্জ্য, জৈব ও অজৈব, জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন। COD সবকিছু ধরে বলে এর মান সাধারণত BOD এর চেয়ে বেশি হয়। তাই নদীর পানির ক্ষেত্রে COD > BOD। একটি নদীর পানি যত বেশি দূষিত হয়, তার BOD ও COD দুটোই তত বাড়ে। COD মাপা তুলনামূলক দ্রুত হয়, কিন্তু BOD মাপতে সাধারণত ৫ দিন সময় লাগে।
মনে রাখুন:
BOD ও COD দুটোই বেশি হলে পানি বেশি দূষিত।
পানির গুণমান বোঝার সূচক DO, BOD, COD ও TDS।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৫৫)
- ১৬. খর পানি বলতে কি বুঝায়?আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. যে পানি বিষাদ
- খ. যে পানি ঘোলা ও লবণাক্ত
- গ. যে পানিতে চিনির শরবত তৈরি করা যায় না
- ঘ. যে পানিতে সাবানের ফেনা হয় না
উত্তর: ঘ. যে পানিতে সাবানের ফেনা হয় না
যে পানিতে সাবান দিলে সহজে ফেনা হয় না, তাকে খর পানি (Hard Water) বলে। এই পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের দ্রবীভূত লবণ থাকে। সাবানের সঙ্গে এই লবণের বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সাবান তৈরি হয়, যা ফেনার বদলে সাদা গাদের মতো জমা হয়। যতক্ষণ এই লবণ শেষ না হয়, ততক্ষণ ফেনা তৈরি হয় না।
যে পানিতে সহজে ফেনা হয়, তার নাম মৃদু পানি (Soft Water)। খর পানি ব্যবহারে আরও সমস্যা আছে। এতে সাবান বেশি লাগে, কাপড়ে দাগ পড়ে এবং কেটলি বা বয়লারে স্কেল জমে। পানির খরতা সাধারণত ppm বা mg/L এককে মাপা হয়।
মনে রাখুন: বৃষ্টির পানি মৃদু পানির ভালো উদাহরণ। - ১৭. পানিতে কোনটির উপস্থিতি স্থায়ী খরতার কারণ?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. পটাশিয়াম ক্লোরেট
- খ. সোডিয়াম বাই-কার্বনেট
- গ. ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
- ঘ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
পানির স্থায়ী খরতা (Permanent Hardness) সৃষ্টি করে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ। তাই CaCl₂ স্থায়ী খরতার কারণ। এই লবণগুলো ফুটালেও পানি থেকে সরে যায় না বলে খরতাকে স্থায়ী বলা হয়।
অন্যদিকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের বাইকার্বনেট লবণ অস্থায়ী খরতা ঘটায়। ফুটালে এরা ভেঙে অদ্রবণীয় কার্বনেট তৈরি করে এবং খরতা দূর হয়। স্থায়ী খরতা দূর করার জন্য সোডিয়াম কার্বনেট (কাপড় ধোয়ার সোডা) ব্যবহার করা হয়। এটি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নকে কার্বনেট হিসেবে থিতিয়ে ফেলে।
মনে রাখুন:
স্থায়ী খরতা: CaCl₂, MgCl₂, CaSO₄, MgSO₄।
অস্থায়ী খরতা: Ca(HCO₃)₂, Mg(HCO₃)₂। - ১৮. কোনটি খর পানিতে উত্তম ফেনা দেয়?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (কচুয়া, দাজলা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. টয়লেট সাবান
- খ. ডিটারজেন্ট
- গ. লন্ড্রি সাবান
- ঘ. তরল সাবান
উত্তর: খ. ডিটারজেন্ট
সাবান খর পানির ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় লবণ তৈরি করে, তাই সাবানে ফেনা হয় না। কিন্তু ডিটারজেন্ট (Detergent) অন্যভাবে কাজ করে। এর সালফোনেট বা সালফেট ধরনের লবণ ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে অদ্রবণীয় গাদ তৈরি করে না। তাই খর পানিতেও ডিটারজেন্ট ভালো ফেনা দেয় এবং কাপড় পরিষ্কার করে। ডিটারজেন্ট সাধারণত পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয়, তাই এটি কৃত্রিম পরিষ্কারক। সাবান তৈরি হয় চর্বি বা তেলের সঙ্গে NaOH-এর বিক্রিয়ায়। এই বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে।
মনে রাখুন: সাবান ও ডিটারজেন্ট দুটোই পৃষ্ঠটান কমিয়ে ময়লা তুলতে সাহায্য করে, কিন্তু সাবান খর পানিতে অকার্যকর। - ১৯. সাগরের পানির গড় লবণাক্ততা কত?সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. ১%
- খ. ২.৫%
- গ. ৩.৫%
- ঘ. ৫%
উত্তর: গ. ৩.৫%
সাগরের পানিতে মোট দ্রবীভূত লবণের পরিমাণকে লবণাক্ততা (Salinity) বলে। হিসাব করে দেখা গেছে, সাগরের পানিতে গড়ে প্রতি ১০০০ গ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে। তাই গড় লবণাক্ততা ৩.৫%। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। সমুদ্রের পানি পান করা যায় না, কারণ এর লবণ শরীরের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। তাই সমুদ্রের পানিকে পাতন বা বিপরীত অভিস্রবণ পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ করে পানের উপযোগী করা হয়।
মনে রাখুন:
স্থানভেদে লবণাক্ততা বদলায়। যেখানে নদী এসে মিশেছে, সেখানে লবণাক্ততা কম।
মৃত সাগরের লবণাক্ততা প্রায় ৩৪%, যা সাধারণ সাগরের চেয়ে অনেক বেশি। - ২০. হার্ড ওয়াটারকে সফট করতে লাগে-জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. কাপড় ধোয়ার সোডা
- খ. ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
- গ. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
- ঘ. সোডিয়াম বাই কার্বনেট
উত্তর: ক. কাপড় ধোয়ার সোডা
খর পানিকে মৃদু করার জন্য এর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সরাতে হয়। কাপড় ধোয়ার সোডা অর্থাৎ সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) এই কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় CaCO₃ ও MgCO₃ তৈরি করে, যা থিতিয়ে পড়ে। এই পদ্ধতিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী, দুই ধরনের খরতাই দূর হয়।
উদাহরণ:
CaCl₂ + Na₂CO₃ → CaCO₃↓ + 2NaCl
মনে রাখুন: ক্লার্কের পদ্ধতিতে চুন (Ca(OH)₂) মিশিয়ে শুধু অস্থায়ী খরতা দূর করা হয়। আয়ন বিনিময়কারী রেজিনও খরতা দূর করে। - ২১. Water hardness is mainly due to the presence of the following in water:ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ড্রিলিং প্রকৌশলী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. Iron
- খ. Calcium & Magnesium salt
- গ. Aluminium nitrates
- ঘ. Manganese
উত্তর: খ. Calcium & Magnesium salt
পানির খরতা (Hardness) প্রধানত পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণের কারণে হয়। বৃষ্টির পানি চুনাপাথর ও ডলোমাইটের মতো শিলার ওপর দিয়ে বয়ে গেলে এই লবণ পানিতে মিশে যায়। এই আয়নগুলো সাবানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় গাদ তৈরি করে, তাই সাবান ফেনা দেয় না।
আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজও পানিতে কিছুটা খরতা ঘটাতে পারে, কিন্তু এদের ভূমিকা অনেক কম। খরতার জন্য দায়ী ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নগুলো দ্বিযোজী ধনাত্মক আয়ন। এদের সরিয়ে দিলেই পানি মৃদু হয়ে যায়। পানির খরতা অস্থায়ী ও স্থায়ী, এই দুই ধরনের হয়।
মনে রাখুন: পানির খরতা mg/L (CaCO₃ হিসেবে) এককে মাপা হয়। - ২২. পানিতে কী দ্রবীভূত থাকলে খরতা (hardness) হয়?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. CaSO₄
- খ. Ca(HCO₃)₂
- গ. MgCl₂
- ঘ. সবগুলো
উত্তর: ঘ. সবগুলো
পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের যেকোনো দ্রবণীয় লবণ থাকলে পানি খর হয়। এখানে তিনটি যৌগেই এমন আয়ন আছে। Ca(HCO₃)₂ অস্থায়ী খরতা সৃষ্টি করে, আর CaSO₄ ও MgCl₂ স্থায়ী খরতা সৃষ্টি করে। তাই তিনটিই খরতার কারণ। পানি খর কি না, তা সহজে বোঝার উপায় হলো সাবানের ফেনা দেখা। কম ফেনা হলে পানি খর। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মোট পরিমাণ মেপে খরতা প্রকাশ করা হয়।
মনে রাখুন:
অস্থায়ী খরতা ফুটিয়ে দূর করা যায়।
স্থায়ী খরতা দূর করতে সোডিয়াম কার্বনেট বা আয়ন বিনিময়ের মতো রাসায়নিক পদ্ধতি লাগে। - ২৩. বয়লার অথবা কেটলির তলায় কিসের স্তর পড়ে?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. সোডিয়াম সালফেট
- খ. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
- গ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
- ঘ. সোডিয়াম কার্বনেট
উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
খর পানি ফুটালে অস্থায়ী খরতা সৃষ্টিকারী Ca(HCO₃)₂ ভেঙে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) তৈরি করে। বিক্রিয়াটি হলো Ca(HCO₃)₂ → CaCO₃ + H₂O + CO₂। এই CaCO₃ কেটলি বা বয়লারের তলায় ও দেয়ালে শক্ত স্তর হিসেবে জমে, যাকে স্কেল (Scale) বলে।
এই স্তর তাপ পরিবহনে বাধা দেয়, ফলে জ্বালানি বেশি খরচ হয় এবং বয়লার ফেটে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। স্কেল দূর করতে লঘু এসিড, যেমন লঘু HCl, ব্যবহার করা হয়, কারণ CaCO₃ এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ায় দ্রবণীয় লবণে পরিণত হয়। বয়লারে মৃদু পানি ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ।
মনে রাখুন: তাই বয়লারে সাধারণত মৃদু পানি ব্যবহার করা হয়। - ২৪. সমুদ্রের পানিতে সর্বাধিক পরিমাণে যে রাসায়নিক পদার্থ থাকে, তার নাম কী?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির খরতা
- ক. NaCl
- খ. MgCl₂
- গ. KCl
- ঘ. HCl
উত্তর: ক. NaCl
সাগরের পানিতে অনেক ধরনের লবণ দ্রবীভূত থাকে, আর এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), অর্থাৎ খাবার লবণ। সাগরের মোট দ্রবীভূত লবণের বেশির ভাগই NaCl। সাগরের পানির নোনা স্বাদ মূলত এই NaCl থেকেই আসে।
এর পরে বেশি থাকে ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড (MgCl₂), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও ক্যালসিয়াম সালফেট। এসব লবণের কারণেই সাগরের পানি খর। সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত করে লবণ সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলে এভাবে লবণ চাষ হয়। সমুদ্রের পানির ঘনত্ব স্বাদু পানির চেয়ে বেশি।
মনে রাখুন: সাগরের পানির গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩.৫%। - ২৫. পানির উপস্থিতি শনাক্তের জন্য পরীক্ষাগারে যে যৌগটি ব্যবহৃত হয়—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির শনাক্তকরণ
- ক. CuSO₄.5H₂O
- খ. CuSO₄ (অনার্দ্র)
- গ. CaSO₄
- ঘ. Na₂SO₄
উত্তর: খ. CuSO₄ (অনার্দ্র)
অনার্দ্র (Anhydrous) কপার সালফেট, অর্থাৎ যার ভেতরে কোনো কেলাস-পানি নেই, একটি সাদা রঙের গুঁড়া। এর উপর পানি পড়লে সেটি পানি শুষে নিয়ে কেলাস-পানিযুক্ত নীল কপার সালফেটে (CuSO₄.5H₂O) পরিণত হয়। সাদা থেকে নীল হওয়া এই রং পরিবর্তন দেখেই আমরা বুঝে যাই যে নমুনায় পানি আছে। তাই পরীক্ষাগারে পানির উপস্থিতি শনাক্ত করতে অনার্দ্র কপার সালফেট ব্যবহার করা হয়। আর কেলাস-পানিযুক্ত CuSO₄.5H₂O আগে থেকেই নীল, তাই তাকে দিয়ে নতুন কোনো রং পরিবর্তন দেখা যায় না।
মনে রাখুন:
CuSO₄.5H₂O-এর প্রচলিত নাম নীল তুঁতে বা নীল ভিট্রিওল।
এটিকে গরম করলে কেলাস-পানি বেরিয়ে যায় এবং আবার সাদা অনার্দ্র লবণ পাওয়া যায়।
CaSO₄ ও Na₂SO₄ পানির সংস্পর্শে কোনো লক্ষণীয় রং পরিবর্তন দেখায় না। - ২৬. কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব বেশি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. ১০°C
- খ. ৪°C
- গ. ৪৫°C
- ঘ. ১০০°C
উত্তর: খ. ৪°C
অন্য অধিকাংশ তরলের মতো পানি ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয় এবং ঘনত্ব বাড়ে। কিন্তু পানির আচরণে একটি ব্যতিক্রম আছে। ০°C-এর কাছাকাছি গেলে পানির সংকোচন থেমে যায়। ৪°C তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম হয় এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়, প্রায় ১০০০ kg/m³। এর পরে আরও ঠান্ডা করলে পানি বরং প্রসারিত হতে থাকে, তাই বরফ পানির চেয়ে হালকা। এ কারণেই বরফ পানিতে ভেসে থাকে। শীতের দেশে হ্রদের উপরিভাগ বরফ হয়ে গেলেও নিচের ৪°C-এর পানিতে মাছ বেঁচে থাকে।
মনে রাখুন:
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ ৪°C-এ।
পানির এই আচরণকে পানির অস্বাভাবিক প্রসারণ বলে। - ২৭. The presence of bacteria in water causes—স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিদূষণ
- ক. hardness
- খ. alkalinity
- গ. diseases
- ঘ. bad taste
উত্তর: গ. diseases
পানিতে রোগজীবাণু ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা পান করলে বা তা দিয়ে খাবার তৈরি করলে নানা রোগ হয়। কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও ডায়রিয়া এমনই কিছু রোগ। পানির কাঠিন্য (Hardness) আসে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ থেকে, ব্যাকটেরিয়া থেকে নয়। আবার ক্ষারত্বও দ্রবীভূত লবণের কারণে হয়। পানিবাহিত রোগের জীবাণু সাধারণত মল-মূত্রের মাধ্যমে পানিতে মিশে যায়, তাই পানির উৎস পায়খানা থেকে দূরে রাখা দরকার।
মনে রাখুন: পানি জীবাণুমুক্ত করতে ফোটানো, ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। সব ব্যাকটেরিয়া অবশ্য ক্ষতিকর নয়, অনেকগুলো আমাদের উপকারও করে।
কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি, আর টাইফয়েডের জীবাণু সালমোনেলা টাইফি। - ২৮. Disinfection of water results in —স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি বিশুদ্ধকরণ
- ক. Removal of turbidity
- খ. Removal of hardness
- গ. Killing of disease bacteria
- ঘ. Removal taste
উত্তর: গ. Killing of disease bacteria
পানি বিশুদ্ধকরণের (Water treatment) বিভিন্ন ধাপের কাজ আলাদা। জীবাণুনাশন (Disinfection) বলতে বোঝায় পানিতে থাকা রোগজীবাণু, যেমন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস, মেরে ফেলা বা নিষ্ক্রিয় করা। সাধারণত ক্লোরিন দিয়ে এই কাজ করা হয়, যাতে কলেরা, টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগ না ছড়ায়। জীবাণুমুক্ত করার আগে ঘোলাভাব দূর করা জরুরি, কারণ ময়লার কণার আড়ালে জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে।
মনে রাখুন:
ঘোলাটে ভাব (Turbidity) দূর করা হয় থিতানো, ফ্লকুলেশন ও পরিস্রাবণে।
পানির কাঠিন্য (Hardness) কমানো হয় সফটনিং প্রক্রিয়ায়।
গন্ধ ও স্বাদ দূর করতে বায়ুমিশ্রণ বা সক্রিয় কার্বন ব্যবহৃত হয়।
পানিতে ক্লোরিনের অবশিষ্ট মাত্রা সাধারণত লিটারে ০.২ থেকে ০.৫ মিলিগ্রামের মতো রাখা হয়। - ২৯. পানির PH = 6.5 হলে তা—স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী/নকশাকার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির pH
- ক. Acidic water
- খ. Alkaline water
- গ. Neutral Water
- ঘ. Industrial water
উত্তর: ক. Acidic water
পানির pH মান ০ থেকে ১৪ এর স্কেলে মাপা হয়। pH ঠিক ৭ হলে পানি নিরপেক্ষ, ৭-এর কম হলে অম্লীয় এবং ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। এখানে pH 6.5, যা ৭-এর চেয়ে সামান্য কম, তাই পানি সামান্য অম্লীয় (Acidic)। pH ৭-এর কম হলে দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন বেশি থাকে।
মনে রাখুন: সাধারণ বিশুদ্ধ পানির pH প্রায় ৭। পান করার পানির জন্য নিরাপদ pH সীমা প্রায় ৬.৫ থেকে ৮.৫।
pH 6.5 হলে [H⁺] = 10⁻⁶·⁵ mol/L।
বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবেই সামান্য অম্লীয়, প্রায় pH 5.6, কারণ এতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গলে থাকে। - ৩০. কোন পদার্থটি কোয়াগুলেন্ট (Coagulant) হিসেবে ব্যবহৃত হয় না?স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী/নকশাকার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি বিশুদ্ধকরণ
- ক. সোডিয়াম অ্যালুমিনেট
- খ. ব্লিচিং পাউডার
- গ. ফিটকিরি
- ঘ. ফেরিক সালফেট
উত্তর: খ. ব্লিচিং পাউডার
কোয়াগুলেন্ট (Coagulant) হলো এমন রাসায়নিক পদার্থ, যা পানিতে ভেসে থাকা কাদা, ময়লা ও কলয়েড কণাকে জমাট বাঁধিয়ে তলায় থিতিয়ে ফেলে। সোডিয়াম অ্যালুমিনেট, ফিটকিরি (পটাশিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এবং ফেরিক সালফেট এই কাজ করে। অন্যদিকে ব্লিচিং পাউডার পানির জীবাণু ধ্বংস করে বা জীবাণুমুক্ত (Disinfectant) করে, কিন্তু কলয়েড কণাকে জমাট বাঁধায় না। তাই এটি কোয়াগুলেন্ট নয়।
মনে রাখুন: পানি বিশুদ্ধ করার ধাপে আগে ফিটকিরি দিয়ে ময়লা থিতিয়ে নেওয়া হয়, তারপর ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন দিয়ে জীবাণু মারা হয়।
ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত K₂SO₄·Al₂(SO₄)₃·24H₂O।
জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচিং পাউডারে ক্লোরিন থাকে, যা পানিতে জীবাণু ধ্বংস করে। - ৩১. পানযোগ্য পানির সর্বাধিক As (আর্সেনিক) কত হতে পারে?স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী/নকশাকার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্সেনিক
- ক. 30 ppb
- খ. 40 ppb
- গ. 10 ppb
- ঘ. 50 ppb
উত্তর: ঘ. 50 ppb
বাংলাদেশের মান অনুযায়ী পানযোগ্য পানিতে আর্সেনিকের (As) সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০৫ মিলিগ্রাম, অর্থাৎ ৫০ ppb। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক আর্সেনিক সমস্যার কারণে এই মান ধরা হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিরাপদ মাত্রা ধরে ১০ ppb। জার্মানির মতো দেশ আরও কড়া মান মেনে চলে। বাংলাদেশের অনেক অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে, তাই পানির উৎস পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
মনে রাখুন:
১ ppb = প্রতি ১০০ কোটি ভাগে ১ ভাগ।
আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে চর্মরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।
আর্সেনিকজনিত রোগকে আর্সেনিকোসিস (Arsenicosis) বলে। - ৩২. পানযোগ্য পানির PH কত?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির pH
- ক. 7 to 8
- খ. 5 to 9
- গ. 6.5 to 8.5
- ঘ. 8 to 12
উত্তর: গ. 6.5 to 8.5
পানির pH হলো এর অম্লতা বা ক্ষারত্বের মাপ। বিশুদ্ধ পানির pH ৭, যা নিরপেক্ষ। তবে পানীয় জলের জন্য একটু ফাঁক রাখা হয়, কারণ প্রাকৃতিক পানিতে সামান্য দ্রবীভূত খনিজ থাকে। মার্কিন পরিবেশ সংস্থা EPA ও বাংলাদেশের মানেও পানযোগ্য পানির pH ৬.৫ থেকে ৮.৫ ধরা হয়। এর কম হলে পানি অম্লীয় হয়ে পাইপ ক্ষয় করে, আর বেশি হলে ক্ষারীয় হয়ে স্বাদ নষ্ট করে।
মনে রাখুন:
pH ৭-এর কম হলে অম্ল, বেশি হলে ক্ষার।
পরিসীমা ০ থেকে ১৪।
দ্রবণের pH মাপা হয় pH মিটার বা সার্বজনীন নির্দেশক (Universal indicator) দিয়ে। - ৩৩. পানিতে Calcium থাকলে কী হয়?স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির কাঠিন্য
- ক. turbidity
- খ. bad test
- গ. color
- ঘ. hardness
উত্তর: ঘ. hardness
পানিতে ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়ামের মতো লবণ বেশি দ্রবীভূত থাকলে সেই পানিকে কঠিন পানি (Hard water) বলা হয়। তাই পানির এই বৈশিষ্ট্যকে বলে hardness বা কাঠিন্য। এ পানিতে সাবান সহজে ফেনা হয় না এবং পাইপে সাদা স্তর জমে। Turbidity হলো ঘোলাভাব, যা অন্য কারণে হয়। সাবানের সঙ্গে ক্যালসিয়াম লবণের বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম স্টিয়ারেট তৈরি হয়, যা সাদা গাদ হয়ে ভাসে, তাই ফেনা হয় না।
মনে রাখুন:
ক্ষণস্থায়ী কাঠিন্য ফুটালে দূর হয়।
স্থায়ী কাঠিন্য দূর করতে সোডা বা আয়ন বিনিময় লাগে।
কঠিন পানি বয়লারে জমে পাথরের মতো স্তর (Scale) তৈরি করে। - ৩৪. কোনটি পানির surface water উৎস নয়?স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির উৎস
- ক. Tube-well
- খ. Pond
- গ. Lake
- ঘ. River
উত্তর: ক. Tube-well
ভূপৃষ্ঠের ওপরে যে পানি জমে বা বয়ে যায়, তাকে ভূপৃষ্ঠের পানি (Surface water) বলে, যেমন পুকুর, হ্রদ ও নদীর পানি। আর টিউবওয়েল মাটির নিচের স্তর থেকে পানি তোলে, তাই তার উৎস ভূগর্ভস্থ পানি (Ground water)। কাজেই Tube-well surface water-এর উৎস নয়।
মনে রাখুন:
Surface water: নদী, পুকুর, হ্রদ, খাল।
Ground water: নলকূপ ও কূপের পানি।
ভূগর্ভের পানি সাধারণত জীবাণু কম থাকায় সরাসরি পানের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়, তবে আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সমুদ্র ও ঝরনার পানিও ভূপৃষ্ঠের পানির অংশ।
ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক ও আয়রনের মতো দ্রবীভূত পদার্থ বেশি থাকতে পারে। - ৩৫. পানির Disinfection কী দিয়ে করা হয়?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি বিশুদ্ধকরণ
- ক. ক্লোরিন
- খ. অতিবেগুনী রশ্মি
- গ. ওজোন
- ঘ. উপরোক্ত সব
উত্তর: ঘ. উপরোক্ত সব
পানি থেকে রোগজীবাণু ধ্বংস করে পানিকে নিরাপদ করার প্রক্রিয়াকে জীবাণুমুক্তকরণ (Disinfection) বলে। এর জন্য ক্লোরিন, অতিবেগুনি রশ্মি ও ওজোন তিনটিই ব্যবহার করা হয়। ক্লোরিন সবচেয়ে প্রচলিত ও সস্তা পদ্ধতি, কারণ এটি পানিতে অবশিষ্ট জীবাণুনাশক ক্ষমতা রেখে যায়। অতিবেগুনি রশ্মি ও ওজোন কার্যকর হলেও পরে পানিতে কোনো অবশিষ্ট প্রভাব থাকে না। সব কয়টি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় বলে সবচেয়ে সম্পূর্ণ উত্তর হলো উপরের সবগুলো।
মনে রাখুন: ক্লোরিনের বদলে ব্লিচিং পাউডারও জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।
অতিবেগুনি রশ্মি পানিতে কোনো রাসায়নিক পদার্থ মেশায় না, তাই পানির স্বাদ বদলায় না। - ৩৬. Coagulant হিসেবে সর্বাধিক কী ব্যবহৃত হয়?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি বিশুদ্ধকরণ
- ক. Chlorine
- খ. Alum
- গ. Lime
- ঘ. Bleaching Powder
উত্তর: খ. Alum
পানি পরিশোধনের সময় ঘোলা পানির সূক্ষ্ম ভাসমান কণাকে জমাট বাঁধিয়ে তলানি হিসেবে বসিয়ে দিতে যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় তাকে কোয়াগুল্যান্ট (Coagulant) বলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফটকিরি বা অ্যালাম (Alum)। ক্লোরিন ও ব্লিচিং পাউডার জীবাণুনাশক, আর চুন সাধারণত পানির pH ঠিক রাখতে বা কঠিনতা কমাতে ব্যবহৃত হয়। ফিটকিরি ঘোলা পানিতে ফেলে নাড়লে ময়লা জমাট বেঁধে নিচে বসে যায়, গ্রামে এই পদ্ধতি বহুল প্রচলিত।
মনে রাখুন: পানি পরিশোধনের ধাপগুলো সাধারণত এভাবে চলে: জমাট বাঁধানো, থিতানো, ছাঁকা এবং শেষে জীবাণুমুক্ত করা। - ৩৭. পানি turbidity কীসের পরিমাপক?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘোলাত্ব
- ক. ভাসমান বস্তুর
- খ. দ্রবীভূত বস্তুর
- গ. পানির অম্লতা
- ঘ. পানির ক্ষারতা
উত্তর: ক. ভাসমান বস্তুর
পানির ঘোলাটে ভাব বা অস্বচ্ছতার পরিমাপকে টার্বিডিটি (Turbidity) বলে। পানিতে কাদা, বালি ও সূক্ষ্ম জৈব কণা ভাসমান থাকলে পানি ঘোলা দেখায় এবং আলো এর ভেতর দিয়ে সহজে যেতে পারে না। অর্থাৎ টার্বিডিটি আসলে ভাসমান বস্তুর পরিমাপক। পানির অম্লতা বা ক্ষারতা মাপা হয় pH দিয়ে। ঘোলা পানিতে জীবাণু ভাসমান কণার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে, তাই এই পানি জীবাণুমুক্ত করা কঠিন হয়।
মনে রাখুন: টার্বিডিটি মাপার একক NTU (Nephelometric Turbidity Unit)।
ঘোলা পানি পরিশোধনে ফিটকিরি দিয়ে ময়লা জমাট বাঁধিয়ে থিতিয়ে নিয়ে ছেঁকে নেওয়া হয়। - ৩৮. পানিতে কী দ্রবীভূত থাকলে hardness হয়?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির কাঠিন্য
- ক. CaSO₄
- খ. Ca(HCO₃)₂
- গ. MgCl₂
- ঘ. উপরোক্ত সব
উত্তর: ঘ. উপরোক্ত সব
পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকলে পানি খর বা কঠিন (Hard) হয়, ফলে সাবান সহজে ফেনা দেয় না। ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেটজাত কঠিনতা সাময়িক কঠিনতা, যা ফুটালে দূর হয়। আর ক্যালসিয়াম সালফেট বা ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডের কারণে স্থায়ী কঠিনতা হয়, যা ফুটিয়ে দূর হয় না। তিনটি লবণই কঠিনতা তৈরি করে, তাই সব কয়টিই সঠিক। চুন-সোডা পদ্ধতি বা আয়ন বিনিময় রেজিন ব্যবহার করে কঠিন পানিকে নরম করা যায়।
মনে রাখুন: পানির কঠিনতা মাপা হয় mg/L (CaCO₃ হিসেবে) এককে।
পানির কাঠিন্য দূর করার প্রক্রিয়াকে মৃদুকরণ (Softening) বলে। - ৩৯. কত তাপমাত্রায় ১ ঘন সেমি বিশুদ্ধ পানির ওজন ১ গ্রাম?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. 4°C
- খ. 4°F
- গ. 100°C
- ঘ. 100°F
উত্তর: ক. 4°C
পানির একটি বিশেষ ধর্ম হলো, ঠান্ডা করতে করতে 4°C-এ পৌঁছালে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। এই তাপমাত্রায় 1 ঘন সেমি বিশুদ্ধ পানির ভর ঠিক 1 গ্রাম, অর্থাৎ ঘনত্ব 1 g/cm³। আরও ঠান্ডা করলে পানি বিস্তৃত হতে থাকে এবং 0°C-এ বরফ হয়ে আয়তন আরও বাড়ে। তাই বরফ পানিতে ভাসে এবং শীতের দেশে হ্রদের নিচের পানি তরল থেকে যায়।
মনে রাখুন:
4°F হলো প্রায় −15.6°C, সেখানে পানি জমে বরফ হয়ে যায়।
100°C ও 100°F একেবারে আলাদা তাপমাত্রা।
1 লিটার পানির ভর 1 কেজি।
বিশুদ্ধ পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C এবং হিমাঙ্ক 0°C, যা সেলসিয়াস স্কেলের দুটি স্থিরবিন্দু। - ৪০. কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. 4K
- খ. 273K
- গ. 277K
- ঘ. 27K
উত্তর: গ. 277K
পানি ঠান্ডা করলে সাধারণত ঘনত্ব বাড়ে, কিন্তু 4°C-এর নিচে নামলে অণুগুলো এমনভাবে সাজাতে শুরু করে যে আয়তন আবার বাড়ে। তাই 4°C-এই পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। কেলভিন স্কেলে এর মান 273 + 4 = 277 K (সঠিকভাবে 277.15 K)। 273 K হলো 0°C, অর্থাৎ পানির হিমাঙ্ক।
মনে রাখুন:
T(K) = t(°C) + 273
পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C = 373 K
শীতের দেশে পুকুর উপর থেকে জমে, নিচের পানি 4°C-এ থেকে মাছেদের বাঁচিয়ে রাখে।
পানির এই অস্বাভাবিক আচরণকে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ বলা হয়।
এই কারণে পানি জমে বরফ হলে আয়তন প্রায় ৯ শতাংশ বাড়ে। - ৪১. পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, উপ-পরিদর্শক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. 0
- খ. −4
- গ. 4
- ঘ. −1
উত্তর: গ. 4
সাধারণত তাপমাত্রা কমলে পদার্থ সংকুচিত হয়, কিন্তু পানির আচরণ আলাদা। পানিকে ঠান্ডা করতে থাকলে ৪°C পর্যন্ত এর আয়তন কমে, ঘনত্ব বাড়ে। ৪°C-এর নিচে নামলে আবার আয়তন বাড়তে থাকে। তাই ৪°C-এ পানির আয়তন সবচেয়ে কম আর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। একে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous expansion) বলে।
মজার ব্যাপার হলো, এ কারণেই শীতের দেশে পুকুরের ওপরে বরফ জমলেও নিচের পানি ৪°C-এ থাকে এবং মাছ বেঁচে থাকে। বরফ পানির চেয়ে হালকা বলে ভেসে থাকে এবং নিচের পানিকে তাপ হারাতে বাধা দেয়।
মনে রাখুন:
৪°C-এ পানির ঘনত্ব প্রায় ১০০০ কেজি/ঘনমিটার, অর্থাৎ ১ গ্রাম/ঘনসেমি।
পানির হিমাঙ্ক ০°C এবং স্ফুটনাঙ্ক ১০০°C। - ৪২. নিচের কোনটি পানি দূষণের প্রাকৃতিক কারণ?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি দূষণ
- ক. কারখানার বর্জ্য
- খ. কীটনাশক ব্যবহার
- গ. ভূগর্ভস্থ আর্সেনিক
- ঘ. ময়লা ও আবর্জনা
উত্তর: গ. ভূগর্ভস্থ আর্সেনিক
পানি দূষণের কারণ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুই রকম। কারখানার বর্জ্য, কীটনাশক ও ময়লা-আবর্জনা মানুষের কাজ থেকে আসে, তাই এগুলো মানবসৃষ্ট। অন্যদিকে ভূগর্ভের পাথরের স্তর থেকে আর্সেনিক ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে যায়, এটি প্রকৃতিতেই ঘটে, তাই এটি প্রাকৃতিক কারণ। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলের নলকূপের পানিতে এভাবে আর্সেনিক পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে চামড়ায় দাগ ও ক্যান্সার হতে পারে।
পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা নিরাপদ সীমার বেশি হলে সেই পানি পান করা ঠিক নয়।
কীটনাশক জমির পানিতে মিশে নদী ও পুকুরের পানি দূষিত করে। - ৪৩. বিশুদ্ধ পানির pH কত?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির pH
- ক. ৫
- খ. ৬
- গ. ৭
- ঘ. ৮
উত্তর: গ. ৭
pH হলো দ্রবণের অম্লতা বা ক্ষারত্বের পরিমাপ। 25°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানিতে H⁺ ও OH⁻ আয়নের ঘনত্ব সমান, প্রতিটি 10⁻⁷ mol/L। তাই pH = -log(10⁻⁷) = 7, যা নিরপেক্ষ। pH 7-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় এবং 7-এর বেশি হলে ক্ষারীয়।
মনে রাখুন:
রক্তের pH প্রায় 7.4, লেবুর রসের pH প্রায় 2।
pH স্কেল সাধারণত 0 থেকে 14।
পানিতে অল্প পরিমাণ H⁺ ও OH⁻ আয়ন সবসময় থাকে, তাই বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ সামান্য সঞ্চালন করে।
বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবেই সামান্য অম্লীয়, কারণ বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড এতে মিশে কার্বনিক এসিড তৈরি করে। - ৪৪. ভারী পানি (Heavy Water)-এর সংকেত কোনটি?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভারী পানি
- ক. H₂O₂
- খ. H₂O
- গ. HDO₂
- ঘ. D₂O
উত্তর: ঘ. D₂O
সাধারণ হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসে শুধু একটি প্রোটন থাকে। কিন্তু এর আইসোটোপ ডিউটেরিয়ামে (Deuterium, D) একটি প্রোটনের সঙ্গে একটি নিউট্রনও থাকে, ফলে পরমাণুটি ভারী হয়। দুটি ডিউটেরিয়াম আর একটি অক্সিজেন মিলে যে পানি হয়, তার সংকেত D₂O। একে ভারী পানি (Heavy Water) বলে। H₂O₂ হলো হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, আর H₂O সাধারণ পানি।
মনে রাখুন:
ভারী পানির আণবিক ভর 20।
পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ডিউটেরিয়াম হাইড্রোজেনের ভারী আইসোটোপ, যার ভরসংখ্যা ২। সাধারণ পানির তুলনায় ভারী পানির ঘনত্ব, স্ফুটনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক সামান্য বেশি। প্রাকৃতিক পানিতে ভারী পানি খুবই সামান্য থাকে। - ৪৫. পানিতে কোন রাসায়নিক উপাদানের আধিক্যে শ্যাওলা জন্মে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলদূষণ
- ক. সালফেট ও নাইট্রেট
- খ. ফসফেট ও নাইট্রোজেন
- গ. পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম
- ঘ. ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস
উত্তর: খ. ফসফেট ও নাইট্রোজেন
কৃষিজমিতে দেওয়া রাসায়নিক সার আর বাসাবাড়ির ডিটারজেন্ট বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পুকুর, খাল ও নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে পানিতে ফসফেট ও নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বেড়ে যায়, আর এগুলো শৈবাল বা শ্যাওলার জন্য খাবারের মতো কাজ করে। ফলে শ্যাওলা খুব দ্রুত বেড়ে পানির ওপর সবুজ আস্তরণ তৈরি করে, এই প্রক্রিয়াকে সুপুষ্টিকরণ বা ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বলে।
মনে রাখুন: শ্যাওলা মরে পচতে শুরু করলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, তখন মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যেতে পারে।
এ কারণে অতিরিক্ত সার ব্যবহার জলাশয়ের জন্য ক্ষতিকর। - ৪৬. জলভাগের পরিমাণ বেশি -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থল ও জলভাগ
- ক. উত্তর গোলার্ধে
- খ. দক্ষিণ গোলার্ধে
- গ. পূর্ব গোলার্ধে
- ঘ. পশ্চিম গোলার্ধে
উত্তর: খ. দক্ষিণ গোলার্ধে
পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি, আর দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি। উত্তর গোলার্ধের প্রায় ৪০ শতাংশ স্থল, আর দক্ষিণ গোলার্ধে স্থল মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ। দক্ষিণ গোলার্ধের অধিকাংশ জায়গা জুড়ে প্রশান্ত, আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের বিশাল জলরাশি। এজন্য দক্ষিণ গোলার্ধকে জলগোলার্ধ এবং উত্তর গোলার্ধকে স্থলগোলার্ধ বলা হয়। স্থল ও জলের অনুপাত দুই গোলার্ধে আলাদা বলে তাপমাত্রা ও বায়ুচলাচলেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেমন দক্ষিণ গোলার্ধে প্রচুর জল থাকায় শীতকালে তাপমাত্রা কম নামে।
মনে রাখুন: পৃথিবীর মোট জলভাগ প্রায় ৭১ শতাংশ আর স্থলভাগ প্রায় ২৯ শতাংশ। - ৪৭. পৃথিবীর কত ভাগ স্থল?একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বারিমণ্ডল
- ক. ২৯.২%
- খ. ৩২.৯%
- গ. ২৯.৬%
- ঘ. ২৭.২%
উত্তর: ক. ২৯.২%
পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ২৯.২ শতাংশ স্থলভাগ, আর বাকি প্রায় ৭০.৮ শতাংশ জলভাগ। পৃথিবীর বেশিরভাগ জুড়ে সমুদ্র ও মহাসাগর আছে বলেই মহাকাশ থেকে একে নীল দেখায়। এজন্য পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয়। পৃথিবীর বেশির ভাগ স্থলভাগ মহাদেশগুলোতে ভাগ হয়ে আছে। এশিয়া সবচেয়ে বড় মহাদেশ, যা স্থলভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ।
মনে রাখুন:
জলভাগ ও স্থলভাগের অনুপাত প্রায় ৭১ : ২৯।
পৃথিবীর বিশাল জলরাশির আবরণকে বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলে।
উত্তর গোলার্ধে স্থল বেশি, দক্ষিণ গোলার্ধে জল বেশি।
স্থলভাগের বড় অংশ আছে উত্তর গোলার্ধে, আর জলভাগের পরিমাণ দক্ষিণ গোলার্ধে বেশি। - ৪৮. ভূপৃষ্ঠের শতকরা কতভাগ ভাগ পানি?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (কলা ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বারিমণ্ডল
- ক. ৬০%
- খ. ৬৫%
- গ. ৭০%
- ঘ. ৭৫%
উত্তর: গ. ৭০%
পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭০.৮ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে পানি, যাকে সংক্ষেপে প্রায় ৭০ শতাংশ ধরা হয়। এই পানির বেশিরভাগই সাগর ও মহাসাগরে লবণাক্ত অবস্থায় আছে। বাকি স্থলভাগ প্রায় ২৯ শতাংশ। মহাকাশ থেকে নীল ও সাদা মেঘে ঘেরা পৃথিবীর ছবি এজন্যই এত বিখ্যাত। পৃথিবীতেই একমাত্র তরল পানি আছে বলে আমরা জানি, তাই এখানে প্রাণ সম্ভব হয়েছে।
মনে রাখুন:
প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড় মহাসাগর, যা পৃথিবীর মোট জলভাগের প্রায় অর্ধেক।
পৃথিবীর মোট পানির মাত্র প্রায় ২.৫ শতাংশ স্বাদু পানি, যার বড় অংশ বরফ আকারে জমে আছে। - ৪৯. EEZ-এর পূর্ণরূপ কি?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (খুলনা), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্র আইন
- ক. Exclusive Economic Zone
- খ. Energy Economic Zone
- গ. Expensive Economic Zone
- ঘ. Experiment Economic Zone
উত্তর: ক. Exclusive Economic Zone
EEZ-এর পূর্ণরূপ Exclusive Economic Zone, বাংলায় বলা হয় একচ্ছত্র বা বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা। জাতিসংঘ সমুদ্র আইন অনুযায়ী উপকূলীয় রাষ্ট্র তার ভিত্তিরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এই এলাকার মাছ, তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আহরণের একচ্ছত্র অধিকার পায়। তবে অন্য দেশের জাহাজ এখান দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকার বাইরে সমুদ্রের বাকি অংশ উন্মুক্ত সমুদ্র, যেখানে সব দেশের অধিকার থাকে। উপকূলীয় রাষ্ট্র এই এলাকার পরিবেশ রক্ষারও দায়িত্ব পালন করে।
মনে রাখুন: বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। - ৫০. সমুদ্রের কোন এলাকাকে মৎস্যচারণক্ষেত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ
- ক. মহীসোপান
- খ. গভীর সমুদ্রের সমভূমি
- গ. মহীঢাল
- ঘ. সমুদ্রের গভীর খাদ
উত্তর: ক. মহীসোপান
মহীসোপান (Continental shelf) হলো মহাদেশের উপকূল থেকে সমুদ্রের ভেতরে ঢালু হয়ে নেমে যাওয়া অগভীর ও সমতল অংশ। এখানে পানি অগভীর, সূর্যের আলো তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং নদী বয়ে আনা খনিজ ও জৈব পদার্থ জমা হয়। এতে প্লাঙ্কটন প্রচুর জন্মায়, আর প্লাঙ্কটন খেয়ে মাছ বাঁচে। তাই মহীসোপানই পৃথিবীর প্রধান মৎস্যচারণক্ষেত্র। মহীসোপানের গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটারের কম। এখানে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারও পাওয়া যায়। বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশের মহীসোপান বেশ প্রশস্ত।
মনে রাখুন: মহীসোপানের পরের ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে। উত্তর আটলান্টিকের গ্র্যান্ড ব্যাংক বিশ্বের বিখ্যাত মৎস্যক্ষেত্র। - ৫১. 'ল্যাব্রাডার' কি?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ১৯৯৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্রস্রোত
- ক. পর্বতমালা
- খ. মালভূমি
- গ. অন্তরীপ
- ঘ. স্রোত
উত্তর: ঘ. স্রোত
ল্যাব্রাডার (Labrador) একটি সমুদ্রস্রোতের নাম। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের শীতল স্রোত, যা আর্কটিক অঞ্চল থেকে ক্যানাডার ল্যাব্রাডার উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। বরফের চাঁই ও হিমশৈল বয়ে আনে বলে এই স্রোত জাহাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আটলান্টিকের আরও কিছু স্রোত হলো গালফ স্ট্রিম (উষ্ণ), উত্তর আটলান্টিক প্রবাহ (উষ্ণ) এবং বেঙ্গুয়েলা (শীতল)। ল্যাব্রাডারের মতো শীতল স্রোত মেরুর দিক থেকে আসে।
মনে রাখুন:
ল্যাব্রাডার স্রোত দক্ষিণে এসে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের সঙ্গে মেশে।
এই মিলনস্থলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়, যা নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের কাছে দেখা যায়।
ল্যাব্রাডার নামটি কুকুরের একটি জাত বা উত্তর-পূর্ব ক্যানাডার ল্যাব্রাডার উপদ্বীপ দেখেও মনে রাখা যায়, তবে এখানে প্রশ্নের উত্তর সমুদ্রস্রোত। - ৫২. ল্যাব্রাডার স্রোত কোন মহাসাগরে দেখা যায়?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্রস্রোত
- ক. প্রশান্ত মহাসাগর
- খ. ভারত মহাসাগর
- গ. উত্তর মহাসাগর
- ঘ. আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর: ঘ. আটলান্টিক মহাসাগর
ল্যাব্রাডার স্রোত (Labrador current) আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত একটি শীতল স্রোত। এটি আর্কটিক মহাসাগর থেকে ক্যানাডার ল্যাব্রাডার উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে আসে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের সঙ্গে মিলিত হয়। এই দুটি পরস্পরবিরোধী তাপমাত্রার স্রোতের মিলনে ঘন কুয়াশা তৈরি হয়, আবার প্লাঙ্কটন জন্মায় বলে এটি বিশ্বসেরা মৎস্যক্ষেত্রও। প্রশান্ত মহাসাগরে পেরু স্রোত (শীতল) ও কুরোশিও স্রোত (উষ্ণ) আছে। ভারত মহাসাগরে ঋতু অনুযায়ী স্রোতের দিক বদলায়, কারণ সেখানে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আছে।
মনে রাখুন: গালফ স্ট্রিম আটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান উষ্ণ স্রোত।
ল্যাব্রাডার স্রোত গালফ স্ট্রিমের বিপরীত দিক থেকে দক্ষিণে আসে বলে এই অঞ্চলের আবহাওয়া খুব নাটকীয়ভাবে বদলায়। - ৫৩. নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্রস্রোত
- ক. উষ্ণ ও হালকা
- খ. উষ্ণ ও ভারী
- গ. শীতল ও হালকা
- ঘ. শীতল ও হালকা
উত্তর: ক. উষ্ণ ও হালকা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যের কিরণ প্রায় লম্বভাবে পড়ে, তাই সেখানকার সমুদ্রের পানি অনেক গরম থাকে। গরম হলে পানি প্রসারিত হয় এবং তার ঘনত্ব কমে যায়, অর্থাৎ পানি হালকা হয়। মেরু অঞ্চলের পানি এর বিপরীত, ঠান্ডা ও ঘন। ঘনত্বের এই পার্থক্য সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির একটি কারণ। গরম পানি হালকা বলে সে মেরুর দিকে প্রবাহিত হয়, আর ঠান্ডা ভারী পানি নিচ দিয়ে নিরক্ষরেখার দিকে ফিরে আসে। এভাবেই সমুদ্রে স্থায়ী স্রোত তৈরি হয়।
মনে রাখুন: লবণাক্ততা বেশি হলে পানি ভারী হয়। তাই তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা দুটোই পানির ঘনত্ব নির্ধারণ করে। - ৫৪. উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোতের মিলনে -রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৩-২৪ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্রস্রোত
- ক. কুয়াশা ও ঝড় হয়
- খ. পানি ঠান্ডা হয়
- গ. উপরের কোনটিই নয়
- ঘ. ক ও খ উভয়ই
উত্তর: ক. কুয়াশা ও ঝড় হয়
উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোত একই জায়গায় মিলিত হলে উষ্ণ স্রোতের ওপরের আর্দ্র বাতাস শীতল স্রোতের সংস্পর্শে ঠান্ডা হয়ে যায়। তখন বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ঘন কুয়াশা তৈরি করে, আর অশান্ত আবহাওয়া ও ঝড়ও হতে পারে। নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে উষ্ণ গালফ স্ট্রিম ও শীতল ল্যাব্রাডার স্রোতের মিলনে এমনটাই দেখা যায়। তাই এসব এলাকার আবহাওয়া প্রায়ই অশান্ত থাকে এবং জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে। কুয়াশা দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেয় বলে নাবিকদের সাবধান হতে হয়।
মনে রাখুন: এই এলাকায় প্ল্যাঙ্কটন বেশি জন্মায় বলে মাছও প্রচুর পাওয়া যায়। - ৫৫. 'High tide'-এর পরিভাষা-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (খ ইউনিট) ভর্তি, ২০০০-০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. জোয়ার
- খ. ভাটা
- গ. জলোচ্ছ্বাস
- ঘ. উঁচুস্রোত
উত্তর: ক. জোয়ার
সমুদ্র বা নদীর পানি নির্দিষ্ট সময় পরপর ফুলে উঠে ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার নেমে যায়। ফুলে ওঠা অবস্থাকে বলে জোয়ার (High tide), আর নেমে যাওয়াকে বলে ভাটা (Low tide)। চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণই এর কারণ। জোয়ারের সময় নদীর পানি উঁচু হয়ে ওঠে এবং নদীপথে জাহাজ ও নৌকা সহজে চলে। ভাটার সময় পানি নামলে নদীর মুখ ও চরের জমি জেগে ওঠে।
মনে রাখুন:
High tide = জোয়ার, Low tide = ভাটা।
জলোচ্ছ্বাস (Storm surge) ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পানি হঠাৎ ফুলে ওঠা, যা জোয়ার থেকে আলাদা।
বাংলাদেশের উপকূলে জোয়ার-ভাটার প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। - ৫৬. চন্দ্র ও সূর্য জল ও স্থলকে আকর্ষণ করে বলে পানি ফুলে ওঠে, পানির এ ফুলে উঠাকে বলে-প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. জোয়ার
- খ. ভাটা
- গ. স্রোত
- ঘ. বাণ
উত্তর: ক. জোয়ার
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সাগরের পানি ফুলে ওঠে। এই ফুলে ওঠাকে জোয়ার (High tide) বলে। পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের দিকে মুখ করে থাকে, সেখানকার পানি চাঁদের আকর্ষণে ফুলে ওঠে। একই সময়ে বিপরীত দিকেও অপকেন্দ্র বলের প্রভাবে পানি ফুলে যায়, তাই পৃথিবীতে একই সময়ে দুই জায়গায় জোয়ার হয়। কারণ পৃথিবীর কেন্দ্র আর সাগরের পানি চাঁদের আকর্ষণে সমান টান পায় না। তাছাড়া চাঁদ ও সূর্যের দূরত্ব আলাদা বলে আকর্ষণও আলাদা, আর এই পার্থক্যই জোয়ার সৃষ্টি করে।
মনে রাখুন: যেখানে জোয়ার হয়, তার সঙ্গে ৯০° দূরের স্থানগুলোয় তখন ভাটা হয়। - ৫৭. পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা হয়-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. সূর্য ও পৃথিবী
- খ. চাঁদ ও সূর্য
- গ. চাঁদ ও পৃথিবী
- ঘ. চাঁদ ও তারার আকর্ষণে
উত্তর: খ. চাঁদ ও সূর্য
পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা হয় চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণের কারণে। চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে বলে তার প্রভাব বেশি, আর সূর্যের প্রভাব কম হলেও বাদ দেওয়া যায় না। এই দুইয়ের মিলিত আকর্ষণ সাগরের পানিকে টেনে ফুলিয়ে তোলে। যে অংশ চাঁদ বা সূর্যের মুখোমুখি থাকে, সেখানে পানি ফুলে উঠে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণ চাঁদের চেয়ে কম হলেও জোয়ার-ভাটায় তার ভূমিকা আছে। তাই চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় এলে জোয়ার সবচেয়ে প্রবল হয়।
মনে রাখুন: পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব চাঁদের চেয়ে প্রায় ৩৯০ গুণ বেশি, তাই জোয়ারে সূর্যের ভূমিকা চাঁদের প্রায় অর্ধেক। - ৫৮. জোয়ারের কত সময় পর ভাটার সৃষ্টি হয়?ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. ৪ ঘণ্টা ১০ মিনিট
- খ. ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- গ. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
জোয়ারের পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে, আর সেটিই ভাটা। একটি জোয়ার থেকে পরের জোয়ার পর্যন্ত সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। এর অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর জোয়ারের পরেই ভাটা আসে। তাই দিনে মোটামুটি দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা হয়। এই কারণে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি জেনে মাছ ধরতে যাওয়া, নৌকা চালানো বা বন্দরে জাহাজ ঢোকানোর পরিকল্পনা করা যায়।
মনে রাখুন: নদীতে ভাটার সময় পানি সাগরের দিকে নেমে যায়, ফলে নদীর মুখ পরিষ্কার হয়।
তাই জোয়ার ও ভাটার সময়কাল প্রায় সমান, আর বিপরীতক্রমে ভাটা থেকে জোয়ার আসতেও প্রায় একই সময় লাগে। - ৫৯. জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ-Ansar VDP'র উপজেলা প্রশিক্ষক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. সূর্যের আকর্ষণ
- খ. পৃথিবীর আবর্তন
- গ. চাঁদের আকর্ষণ
- ঘ. বায়ুপ্রবাহ
উত্তর: গ. চাঁদের আকর্ষণ
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ চাঁদের আকর্ষণ। চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছাকাছি, তাই এর আকর্ষণে জোয়ার-ভাটার ওপর প্রভাব সূর্যের তুলনায় বেশি। সূর্যের আকর্ষণ ও বড়, কিন্তু সূর্য অনেক দূরে বলে জোয়ার-ভাটায় তার প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম। জোয়ার-ভাটার সময়ে পানির উচ্চতার সর্বোচ্চ পার্থক্য ঘটে কানাডার ফান্ডি উপসাগরে, যেখানে এটি ১৫ মিটারেরও বেশি হতে পারে। বাংলাদেশে এই ব্যবধান তুলনামূলক কম।
মনে রাখুন:
চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে।
জোয়ার-ভাটার শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যায়, একে জোয়ার-ভাটা বিদ্যুৎ বা টাইডাল পাওয়ার বলে।
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরতে প্রায় ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা সময় নেয়, আর এই ঘূর্ণনের সঙ্গে জোয়ারের সময় বদলাতে থাকে। - ৬০. কীসের স্রোতে নদীখাত গভীর হয়?বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জোয়ার-ভাটা
- ক. সমুদ্রস্রোত
- খ. নদীস্রোত
- গ. বানের স্রোত
- ঘ. জোয়ার-ভাটার স্রোত
উত্তর: ঘ. জোয়ার-ভাটার স্রোত
নদীর মোহনায় জোয়ারের সময় সাগরের পানি নদীর ভেতরে ঢোকে এবং ভাটার সময় আবার সাগরের দিকে নেমে যায়। জোয়ারে ঢোকা এই পানির গতি বাড়ে-কমে বলে এটি বারবার তলদেশের কাদা ও বালি ধুয়ে নিয়ে যায়। তাই জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীর খাত গভীর হয় এবং নদীপথ নাব্য থাকে। নদী বা সাগরের গতিপথ, গভীরতা এবং জাহাজ চলাচল জোয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জোয়ারের সময় পানি বাড়ে বলে বড় জাহাজ নিরাপদে বন্দরে ঢুকতে পারে।
মনে রাখুন:
জোয়ার-ভাটার প্রভাব বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোয় বেশি দেখা যায়।
এজন্যই চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে জাহাজ ঢুকতে পারে। - ৬১. পানি দূষণের জন্য দায়ী-বিটিভি এর বিজ্ঞাপন অধিকারিক (গ্রেড-২), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিদূষণ
- ক. শিল্প কারখানার বর্জ্য পদার্থ
- খ. জমি থেকে ভেসে আসা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক
- গ. শহর ও গ্রামের ময়লা আবর্জনা
- ঘ. উপরের সবকয়টিই
উত্তর: ঘ. উপরের সবকয়টিই
পানি দূষণের কারণ একটি নয়, অনেকগুলো। শিল্প কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পানিতে মেশে। জমি থেকে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদী-খালে যায়। শহর ও গ্রামের ময়লা-আবর্জনাও পানিতে ফেলা হয়। এই তিনটিই পানিকে দূষিত করে, তাই সবকটিই সঠিক উত্তর। পানি দূষণের ফলে কলেরা, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার মতো রোগ ছড়ায়। তাই পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করা উচিত।
মনে রাখুন:
অতিরিক্ত সার জলাশয়ে গেলে শ্যাওলা বেড়ে অক্সিজেন কমে, একে ইউট্রোফিকেশন বলে।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী শিল্পবর্জ্যে দূষিত।
এই কারণগুলোর প্রতিটি পানিকে আলাদাভাবে দূষিত করে, তাই পানি রক্ষায় কারখানার বর্জ্য শোধন, জৈব সারের ব্যবহার ও আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। - ৬২. What is the main agent that pollutes water-/ পানি দূষণের প্রধান কারণ-মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিদূষণ
- ক. Man (মানুষ)
- খ. Tree (গাছপালা)
- গ. Beast (পশু)
- ঘ. Bird (পাখি)
উত্তর: ক. Man (মানুষ)
পানি দূষণের প্রধান কারণ মানুষ। শিল্প-কারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালির নোংরা পানি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক, প্লাস্টিক ও আবর্জনা, এসবই মানুষের তৈরি। গাছপালা, পশু বা পাখির কারণে পানি দূষণ হলেও তা প্রকৃতি নিজে শোধন করে নিতে পারে। মানুষের কাজে তৈরি দূষণ এত বেশি ও এত বিষাক্ত যে প্রকৃতির পক্ষে তা সামলানো কঠিন। মানুষ নিজের সুবিধার জন্য বন কেটে, নদী ভরাট করে এবং বর্জ্য ফেলে জলাশয়কে দূষিত করছে। তাই পানি দূষণ রোধে সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ দুটোই দরকার।
মনে রাখুন: পানির গুণমান নির্ধারণে DO, BOD, COD ও TDS মাপা হয়। - ৬৩. ভূপৃষ্ঠ ও ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পর্কিত বিদ্যার নাম-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং) ভর্তি, ২০০৪-০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবিজ্ঞান
- ক. হাইড্রোলজি
- খ. মিনারলজি
- গ. মেটিওরোলজি
- ঘ. ইকোলজি
উত্তর: ক. হাইড্রোলজি
ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ পানি, তার গতি, বণ্টন ও গুণমান নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে, তার নাম হাইড্রোলজি (Hydrology) বা জলবিজ্ঞান। নদীর প্রবাহ, বৃষ্টি, বন্যা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বোঝার কাজে এই বিজ্ঞান লাগে। হাইড্রোলজির শাখা হিসেবে ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে পড়াশোনাকে হাইড্রোজিওলজি এবং নদী ও খাল নিয়ে পড়াশোনাকে পটামোলজি বলে। বন্যা পূর্বাভাসে এই শাস্ত্রের গুরুত্ব অনেক।
মনে রাখুন:
মিনারলজি: খনিজ পদার্থ নিয়ে পড়ে।
মেটিওরোলজি: আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডল নিয়ে পড়ে।
ইকোলজি: জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে পড়ে।
জলবিজ্ঞান নদীর নাব্যতা, বাঁধ ও সেচ পরিকল্পনা এবং খাবার পানির সরবরাহ ঠিক করার জন্য খুবই দরকারি একটি বিষয়। - ৬৪. WHO এর নির্দেশিকা অনুযায়ী পানযোগ্য পানির আদর্শ Pᴴ সীমা কত?জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির গুণমান
- ক. ৫.৫ - ৬.৫
- খ. ৬.৫- ৮.৫
- গ. ৭.০-৯.০
- ঘ. ৮.০-১০.০
উত্তর: খ. ৬.৫- ৮.৫
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী পানযোগ্য পানির আদর্শ pH মান ৬.৫ থেকে ৮.৫। এর চেয়ে কম হলে পানি অম্লীয় হয়ে পাইপ ও ধাতব পাত্র ক্ষয় করে, আর বেশি হলে পানি ক্ষারীয় হয়ে স্বাদ নষ্ট করে। বিশুদ্ধ পানির pH ৭ হলেও পানযোগ্য পানির ক্ষেত্রে এই সীমা মানা হয়। পানিতে আরও কিছু বিষয় দেখা হয়, যেমন তার স্বচ্ছতা, কঠিন দ্রবীভূত পদার্থ (TDS), আর্সেনিক ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এসব মানদণ্ড মিলিয়ে পানির গুণমান নির্ধারিত হয়।
মনে রাখুন:
pH ৭ এর নিচে অম্লীয় ও ওপরে ক্ষারীয়।
বাংলাদেশে পানীয় জলের pH সীমা ৬.৫ থেকে ৮.৫। - ৬৫. পানিতে কিসের পরিমাণ কমে গেলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরে যায়?শ্রম পরিদপ্তরের জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দ্রবীভূত অক্সিজেন
- ক. H₂
- খ. O₂
- গ. N₂
- ঘ. CO₂
উত্তর: খ. O₂
পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen, DO) মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী শ্বাস নিতে ব্যবহার করে। এরা পানিতে মেশানো এই অক্সিজেন ফুলকা দিয়ে শোষণ করে বাঁচে। পানিদূষণে জৈব বর্জ্য পচার সময় অণুজীব অক্সিজেন ব্যবহার করে ফেলে, ফলে DO কমে যায়। অক্সিজেন খুব কমে গেলে মাছ মারা যায়। পানির তাপমাত্রা বাড়লে অক্সিজেনের দ্রাব্যতা কমে, তাই গরমকালে পুকুরে মাছ ভেসে ওঠার ঘটনা বেশি ঘটে। এজন্য মাছ চাষে পুকুরে অক্সিজেন বাড়ানোর যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
সুস্থ জলজ প্রাণীর জন্য পানিতে DO সাধারণত ৫ mg/L এর বেশি থাকতে হয়।
পানি বেশি গরম হলে তাতে অক্সিজেন কম দ্রবীভূত থাকে। - ৬৬. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত কত?বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, নিরাপত্তা প্রহরী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির গঠন
- ক. ২:১
- খ. ১:২
- গ. ১:৫
- ঘ. ১:১
উত্তর: খ. ১:২
পানির রাসায়নিক সংকেত H₂O, অর্থাৎ প্রতিটি পানির অণুতে ২টি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং ১টি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। তাই পরমাণুর সংখ্যা হিসেবে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত ১ : ২। আয়তনের হিসাবেও গ্যাস অবস্থায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ২ : ১ অনুপাতে যুক্ত হয়। পানির গঠন যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের যৌগ, তা প্রথম প্রমাণ করেন ক্যাভেন্ডিশ ও ল্যাভয়সিয়ার। বিদ্যুৎ চালনা করে পানি ভেঙে গ্যাস দুটি আলাদা করলে হাইড্রোজেনের আয়তন অক্সিজেনের দ্বিগুণ হয়, একে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
মনে রাখুন: ভরের হিসাবে কিন্তু অনুপাত আলাদা, পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের ভরের অনুপাত 16 : 2 = 8 : 1। - ৬৭. পানিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা যায়-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (সিলেট বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি বিশুদ্ধকরণ
- ক. ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে
- খ. ফিটকিরি দ্বারা থিতিয়ে
- গ. অঙ্গার ও বালি স্তরের মধ্য দিয়ে
- ঘ. পানিকে পরিস্রুত করে প্রবাহিত করে, ক্লোরিন মিশিয়ে
উত্তর: ঘ. পানিকে পরিস্রুত করে প্রবাহিত করে, ক্লোরিন মিশিয়ে
পানি বিশুদ্ধ করার কাজ সাধারণত দুই ধাপে হয়। প্রথম ধাপে থিতানো ও পরিস্রাবণ (Filtration) করে পানির ভাসমান ময়লা ও কাদা দূর করা হয়। ফিটকিরি পানির ময়লাকে জমাট বাঁধিয়ে নিচে থিতিয়ে দেয়, আর বালি ও কাঠকয়লার স্তর ময়লা ছেঁকে রাখে। কিন্তু এসব পদ্ধতি পানির রোগজীবাণু পুরোপুরি মারতে পারে না। তাই দ্বিতীয় ধাপে পরিষ্কার পানিতে ক্লোরিন মেশানো হয়, যা জীবাণু ধ্বংস করে। এভাবে পরিস্রুত করে ক্লোরিন মেশালে ময়লা ও জীবাণু দুটোই দূর হয়, পানি পানের উপযোগী হয়। শহরের পানি শোধনাগারগুলো এই পদ্ধতি অনুসরণ করে।
মনে রাখুন:
পানি ফুটিয়ে পান করাও জীবাণুমুক্ত করার সহজ উপায়।
ব্লিচিং পাউডার থেকেও ক্লোরিন পাওয়া যায়। - ৬৮. প্রাকৃতিক উৎস হতে প্রাপ্ত সবচেয়ে মৃদু পানি কোনটি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (দানিয়ুব), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খর ও মৃদু পানি
- ক. সাগর
- খ. নদী
- গ. বৃষ্টি
- ঘ. হ্রদ
উত্তর: গ. বৃষ্টি
যে পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকে, সেই পানিতে সাবান সহজে ফেনা তৈরি করে না, একে খর পানি বলে। আর যে পানিতে এসব লবণ প্রায় থাকে না, তাকে মৃদু পানি (Soft water) বলে। সূর্যের তাপে সাগর, নদী ও হ্রদের পানি বাষ্প হয়ে ওপরে ওঠে, কিন্তু লবণ নিচে পড়ে থাকে। সেই বাষ্প মেঘ হয়ে বৃষ্টি হিসেবে নেমে আসে, তাই বৃষ্টির পানি প্রকৃতির এক রকম পাতিত পানি। এ কারণে প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে বৃষ্টির পানি সবচেয়ে মৃদু। অন্যদিকে নদী ও হ্রদের পানি মাটি ও পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে আসার সময় খনিজ লবণ দ্রবীভূত করে নেয়, আর সাগরের পানিতে লবণ সবচেয়ে বেশি।
মনে রাখুন: পানির অস্থায়ী খরতা ফুটিয়ে দূর করা যায়, আর স্থায়ী খরতা দূর করতে সোডা বা সোডিয়াম কার্বনেট ব্যবহার করা হয়। - ৬৯. কলের পানিতে সাধারণত কোন রাসায়নিক উপাদান থাকে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (গামা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি বিশুদ্ধকরণ
- ক. ব্রোমিন
- খ. আয়োডিন
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: ঘ. ক্লোরিন
পানি সরবরাহের আগে জীবাণু ধ্বংস করতে এতে অল্প পরিমাণ ক্লোরিন (Chlorine) মেশানো হয়, একে ক্লোরিনেশন বলে। ক্লোরিন পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস এসিড তৈরি করে, যা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য রোগজীবাণু মেরে ফেলে। পাইপ দিয়ে পানি অনেক দূর যাওয়ার পথেও যেন নতুন করে জীবাণু না জন্মায়, সেজন্য পানিতে সামান্য ক্লোরিন থেকে যায়। এ কারণেই কলের পানিতে মাঝে মাঝে ক্লোরিনের হালকা গন্ধ পাওয়া যায়। তবে পানিতে ক্লোরিনের মাত্রা বেশি হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মনে রাখুন:
ব্লিচিং পাউডার পানিতে ক্লোরিনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফটকিরি পানির ঘোলা ভাব দূর করে। - ৭০. The purest form of water can be obtained fromজনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিশুদ্ধ পানি
- ক. heavy shower of rain
- খ. deep tube well
- গ. hot water spring
- ঘ. running stream
উত্তর: ক. heavy shower of rain
সূর্যের তাপে সাগর, নদী ও পুকুরের পানি বাষ্প হয়ে ওপরে ওঠে। পানি বাষ্প হলে তার ভেতরের লবণ ও অন্যান্য দ্রবীভূত পদার্থ নিচেই থেকে যায়। পরে সেই বাষ্প ঠান্ডা হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি তৈরি করে। এভাবে বৃষ্টির পানি একটি প্রাকৃতিক পাতন (Distillation) প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, তাই এতে দ্রবীভূত লবণ খুব কম থাকে। ভারী বৃষ্টির শুরুতেই বাতাসের ধুলাবালি ও গ্যাস ধুয়ে যায়, ফলে পরের পানি আরও পরিষ্কার হয়। এজন্য প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে ভারী বৃষ্টির পানি সবচেয়ে বিশুদ্ধ। গভীর নলকূপ, উষ্ণ প্রস্রবণ ও নদীর পানিতে মাটি ও শিলা থেকে আসা খনিজ মিশে থাকে।
মনে রাখুন:
পরীক্ষাগারে সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি হলো পাতিত পানি।
বিশুদ্ধ পানির pH মান ৭।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন