লিয়ানা বুকস

শব্দ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ২। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ১৬৫টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।

এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →

বিসিএস (২৭)

  1. ১. শব্দের গতি কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি?১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শূন্য মাধ্যমে
    • খ. তরল মাধ্যমে
    • গ. কঠিন মাধ্যমে
    • ঘ. বায়বীয় মাধ্যমে
    উত্তর: গ. কঠিন মাধ্যমে
    শব্দ চলে মাধ্যমের কণার কম্পনের হাত ধরে, তাই কণাগুলো যত কাছাকাছি আর যত দৃঢ়ভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, কম্পন তত দ্রুত এক কণা থেকে আরেক কণায় পৌঁছায়। কঠিন পদার্থের কণা সবচেয়ে ঘেঁষাঘেঁষি আর দৃঢ়, তাই কঠিন মাধ্যমেই শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। এ কারণেই রেললাইনে কান পাতলে দূরের ট্রেনের শব্দ বাতাসের আগেই শোনা যায়। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দ একেবারেই চলে না।
  2. ২. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?২৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শূন্যতায়
    • খ. লোহা
    • গ. পানি
    • ঘ. বাতাস
    উত্তর: খ. লোহা
    শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি কঠিন মাধ্যমে, মাঝামাঝি তরলে আর সবচেয়ে কম বায়বীয় মাধ্যমে। লোহায় শব্দের বেগ প্রায় ৫১৩০ মিটার/সেকেন্ড, যা বাতাসের (প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড) প্রায় ১৫ গুণ। পানিতে বেগ প্রায় ১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড, অর্থাৎ বাতাসের প্রায় সাড়ে চার গুণ। শূন্যতায় শব্দ চলে না বলে সেখানে বেগ শূন্য।
  3. ৩. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম?১৪ ও ৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শূন্যতায়
    • খ. কঠিন পদার্থে
    • গ. তরল পদার্থে
    • ঘ. বায়বীয় পদার্থে
    উত্তর: ঘ. বায়বীয় পদার্থে
    শূন্যতায় শব্দ চলেই না, তাই "সবচেয়ে কম বেগ" প্রশ্নে শূন্যতা উত্তর হয় না, কারণ সেখানে বেগ বলে কিছু নেই। শব্দ চলে এমন মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বেগ বায়বীয় পদার্থে, কারণ গ্যাসের কণা অনেক দূরে দূরে থাকে। গ্যাসের মধ্যেও হালকা হাইড্রোজেনে শব্দ দ্রুত চলে, প্রায় ১২৮০ মিটার/সেকেন্ড বেগে, যা বাতাসের প্রায় চার গুণ।
  4. ৪. শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. ২৮০ m/s
    • খ. শূন্য
    • গ. ৩৩২ m/s
    • ঘ. ১১২০ m/s
    উত্তর: খ. শূন্য
    শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical wave), অর্থাৎ এর চলতে মাধ্যমের কণার কম্পন লাগে। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দের বেগ শূন্য। আলো আর বেতার তরঙ্গ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic wave), তাই এদের চলতে কোনো মাধ্যম লাগে না। এ কারণেই সূর্যের আলো মহাশূন্য পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে, অথচ সূর্যের কোনো শব্দ আমরা শুনি না।
  5. ৫. চাঁদে কোনো শব্দ করলে তা শোনা যাবে না কেন?১৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. চাঁদে কোনো জীব নেই তাই
    • খ. চাঁদের মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর চেয়ে কম তাই
    • গ. চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই তাই
    • ঘ. চাঁদে কোনো পানি নেই তাই
    উত্তর: গ. চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই তাই
    চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই সেখানে শব্দ বয়ে নেওয়ার মতো কোনো মাধ্যমও নেই। পাশাপাশি দাঁড়িয়েও দুজন নভোচারী তাই কারও কথা সরাসরি শুনতে পান না। তাঁরা কথা বলেন বেতার তরঙ্গে, কারণ বেতার তরঙ্গ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, যার চলতে মাধ্যম লাগে না। চাঁদের অভিকর্ষ কম বা সেখানে প্রাণী নেই, এসবের সঙ্গে শব্দ না শোনার কোনো সম্পর্ক নেই।
  6. ৬. একটি বন্দুকের গুলি প্রতি সেকেন্ডে ১৫৪০ ফুট বেগে লক্ষ্য ভেদ করে। বন্দুক ছোড়ার ৩ সেকেন্ড পরে লক্ষ্য ভেদের শব্দ শোনা যায়। শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ১১০০ ফুট হলে লক্ষ্যের দূরত্ব কত?১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ২০২৫ ফুট
    • খ. ১৯২৫ ফুট
    • গ. ১৯৭৫ ফুট
    • ঘ. ১৮৭৫ ফুট
    উত্তর: খ. ১৯২৫ ফুট
    গুলির যাত্রা আর শব্দের ফেরা, দুটো মিলেই মোট ৩ সেকেন্ড লাগে। লক্ষ্যের দূরত্ব d ফুট ধরলে গুলির লাগে d/1540 সেকেন্ড, আর লক্ষ্যভেদের শব্দ ফিরে আসতে লাগে d/1100 সেকেন্ড। তাই d/1540 + d/1100 = 3, যা থেকে d = 1925 ফুট। এ ধরনের অঙ্কে মনে রাখতে হবে যে দুটি অংশে বেগ আলাদা, তাই দুই অংশের সময় যোগ করেই সমীকরণ বসাতে হয়।
  7. ৭. সমটানসম্পন্ন একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পাঙ্কের কী পরিবর্তন হবে?১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৬
    • ক. অর্ধেক হবে
    • খ. দ্বিগুণ হবে
    • গ. তিনগুণ হবে
    • ঘ. চারগুণ হবে
    উত্তর: ক. অর্ধেক হবে
    টানা তারের কম্পাঙ্ক (Frequency) তারের দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক, এটাই মারসেনের সূত্রের একটি অংশ। তাই সমান টানে দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পাঙ্ক অর্ধেক হয়ে যায়। একই সূত্রে তারের টান বাড়ালে কম্পাঙ্ক বাড়ে, আর তার মোটা বা ভারী হলে কম্পাঙ্ক কমে। গিটারের তার টান করলে সুর চড়া হয় আর মোটা তারে সুর মোটা শোনায়, এর পেছনে এই নিয়মই কাজ করে।
  8. ৮. আমাদের মস্তিষ্কে শব্দের স্থায়িত্বকাল কত?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৭
    • ক. ১ সেকেন্ড
    • খ. ০.১ সেকেন্ড
    • গ. ০.০১ সেকেন্ড
    • ঘ. ০.০০১ সেকেন্ড
    উত্তর: খ. ০.১ সেকেন্ড
    কোনো শব্দ শোনার পর তার রেশ প্রায় ০.১ সেকেন্ড মস্তিষ্কে থেকে যায়, একে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of hearing) বলে। ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে আরেকটি শব্দ এলে মস্তিষ্ক দুটিকে আলাদা করতে পারে না। প্রতিধ্বনি শোনার জন্য এই সময়টুকু ব্যবধান দরকার, আর বাতাসে এই সময়ে শব্দ প্রায় ৩৩ মিটার পথ যায়। তাই প্রতিফলক অন্তত ১৬.৬ মিটার দূরে থাকতে হয়।
  9. ৯. কিসের সাহায্যে সমুদ্র ও কুয়ার গভীরতা নির্ণয় করা হয়?১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিধ্বনি
    • গ. প্রতিসরণ
    • ঘ. প্রতিসরাঙ্ক
    উত্তর: খ. প্রতিধ্বনি
    শব্দ দূরের বাধায় প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে সেটাই প্রতিধ্বনি (Echo)। শব্দ যাওয়া-আসায় যে সময় নেয়, তা মেপে গভীরতা বের করা যায়, কারণ শব্দ গভীরতার দ্বিগুণ পথ পাড়ি দেয়। সূত্রটি h = vt/2, যেখানে v শব্দের বেগ আর t ফিরে আসার সময়। কূপের গভীরতা এভাবে মাপা যায়, আর সমুদ্রের গভীরতা মাপতে জাহাজে সোনার (SONAR) ব্যবহার হয়, যেখানে শব্দোত্তর তরঙ্গ পাঠানো হয়।
  10. ১০. সমুদ্রের গভীরতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. অল্টিমিটার
    • খ. ফ্যাদোমিটার
    • গ. ব্যারোমিটার
    • ঘ. হাইগ্রোমিটার
    উত্তর: খ. ফ্যাদোমিটার
    জাহাজের তলা থেকে শব্দোত্তর তরঙ্গ পাঠিয়ে সমুদ্রতল থেকে প্রতিধ্বনি ফেরার সময় মাপে ফ্যাদোমিটার (Fathometer), আর সেই সময় থেকে সমুদ্রের গভীরতা বের হয়। ফ্যাদম (Fathom) গভীরতার একটি পুরোনো একক, ১ ফ্যাদম সমান ৬ ফুট। বাকি যন্ত্রগুলোর কাজ আলাদা: অল্টিমিটার উচ্চতা, ব্যারোমিটার বায়ুচাপ আর হাইগ্রোমিটার বাতাসের আর্দ্রতা মাপে।
  11. ১১. লোকভর্তি হলঘরে শূন্য ঘরের চেয়ে শব্দ ক্ষীণ হয়, কারণ২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৯
    • ক. শূন্য ঘর নীরব থাকে
    • খ. লোকভর্তি ঘরে মানুষের শোরগোল হয়
    • গ. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
    • ঘ. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ বেশি হয়
    উত্তর: গ. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
    খালি হলঘরের দেয়াল, মেঝে আর ছাদ শক্ত ও মসৃণ, তাই এগুলো শব্দ প্রায় শুষে না নিয়ে প্রতিফলিত করে এবং শব্দ জোরালো শোনায়। হল লোকভর্তি হলে মানুষের শরীর আর পোশাক শব্দের অনেকটা শুষে নেয়, তাই শব্দ ক্ষীণ হয়ে পড়ে। শব্দের শোষণ (Absorption) বলতে বোঝায়, শব্দশক্তির একটি অংশ পৃষ্ঠে পড়ে তাপে পরিণত হয়ে হারিয়ে যাওয়া। এ কারণে মিলনায়তনের নকশায় শ্রোতাভর্তি অবস্থার শোষণও হিসাবে ধরা হয়।
  12. ১২. বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কীভাবে?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
    • খ. ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
    • গ. অলৌকিকভাবে
    • ঘ. তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
    উত্তর: ক. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
    ঘন অন্ধকারে চোখ কাজে আসে না, তবু বাদুড় নির্ভুলভাবে ওড়ে। সে উড়তে উড়তে শব্দোত্তর তরঙ্গ ছাড়ে, আর সামনের বাধা থেকে ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনে বাধার দূরত্ব ও অবস্থান বুঝে নেয়। প্রতিধ্বনি শুনে এভাবে অবস্থান বোঝার কৌশলের নাম ইকোলোকেশন (Echolocation)। ডলফিনও পানির নিচে একই কৌশলে পথ চেনে।
  13. ১৩. আল্ট্রাসনোগ্রাফি কী?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. নতুন ধরনের এক্স-রে
    • খ. ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
    • গ. শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ বিশ্লেষণ
    • ঘ. শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
    উত্তর: খ. ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
    আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography) হলো ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দ, অর্থাৎ শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে শরীরের ভেতরের ছবি তোলার পদ্ধতি। শরীরের ভেতরের অঙ্গ থেকে প্রতিফলিত তরঙ্গ ধরে পর্দায় ছবি তৈরি হয়। এতে আয়নায়নকারী বিকিরণ নেই, তাই গর্ভের শিশুর পরীক্ষায় এটি এক্স-রের চেয়ে নিরাপদ। শক্তিশালী শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে কিডনি বা পিত্তথলির পাথর ভাঙা হয়, কিন্তু সেটি ছবি তোলা নয়, চিকিৎসা।
  14. ১৪. আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. ০.০১-১ মেগাহার্জ
    • খ. ১-১০ মেগাহার্জ
    • গ. ১০-২০ মেগাহার্জ
    • ঘ. ২০-৩০ মেগাহার্জ
    উত্তর: খ. ১-১০ মেগাহার্জ
    রোগনির্ণয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে সাধারণত ১ থেকে ১০ মেগাহার্জ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার হয়। কম্পাঙ্ক যত বেশি, তরঙ্গদৈর্ঘ্য তত ছোট, আর ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ ছোট বস্তু থেকেও স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়। মানুষের শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা মাত্র ২০ কিলোহার্জ, অর্থাৎ ২০,০০০ হার্জ, তাই এই তরঙ্গ আমরা শুনতে পাই না। গর্ভের শিশু, যকৃৎ, পিত্তথলি ও কিডনি পরীক্ষায় এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
  15. ১৫. রেলস্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিন বাঁশি বাজাতে থাকলে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পাঙ্ক১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১১
    • ক. আসলের সমান হবে
    • খ. আসলের চেয়ে বেশি হবে
    • গ. আসলের চেয়ে কম হবে
    • ঘ. আসল গতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
    উত্তর: খ. আসলের চেয়ে বেশি হবে
    এটি ডপলার প্রভাব (Doppler effect): শব্দের উৎস আর শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে শ্রোতার শোনা কম্পাঙ্ক বদলে যায়। ইঞ্জিন কাছে এগিয়ে আসতে থাকলে প্রতিটি নতুন তরঙ্গ আগেরটির চেয়ে শ্রোতার কাছ থেকে ছাড়ে, ফলে তরঙ্গগুলো ঘন হয়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে আর প্রতি সেকেন্ডে বেশি তরঙ্গ কানে পৌঁছায়। তাই বাঁশির কম্পাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি, অর্থাৎ চড়া শোনায়। ট্রেন চলে যাওয়ার সময় একই বাঁশি মোটা শোনায়, যদিও বাঁশির আসল কম্পাঙ্ক বদলায় না। অস্ট্রীয় বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান ডপলার ১৮৪২ সালে এই প্রভাব ব্যাখ্যা করেন।
  16. ১৬. শব্দের তীব্রতা মাপার যন্ত্র কোনটি?২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. অডিওমিটার
    • খ. ফ্যাদোমিটার
    • গ. সিসমোগ্রাফ
    • ঘ. ট্যাকোমিটার
    উত্তর: ক. অডিওমিটার
    শ্রবণশক্তি আর শব্দের তীব্রতা মাপার যন্ত্রের নাম অডিওমিটার (Audiometer)। অডিওমিটারে শ্রবণশক্তি পরীক্ষার ফলাফল লেখচিত্র আকারে আঁকলে তাকে অডিওগ্রাম বলে। বাকি যন্ত্রগুলোর কাজ আলাদা: ফ্যাদোমিটার সমুদ্রের গভীরতা, সিসমোগ্রাফ ভূকম্পনের মাত্রা আর ট্যাকোমিটার ঘূর্ণনের বেগ মাপে।
  17. ১৭. একটানা কত ডেসিবেল বা তার বেশি শব্দে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে?১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. ৩০ ডেসিবেল
    • খ. ৫০ ডেসিবেল
    • গ. ৭০ ডেসিবেল
    • ঘ. ১০৫ ডেসিবেল
    উত্তর: ঘ. ১০৫ ডেসিবেল
    একটানা ১০৫ ডেসিবেল বা তার বেশি তীব্রতার শব্দে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। তুলনার জন্য, সাধারণ কথোপকথন প্রায় ৬০ ডেসিবেল আর ভারী ট্রাকের শব্দ প্রায় ৯০ ডেসিবেল। প্রায় ১২০ ডেসিবেলে কানে ব্যথা শুরু হয়। এত জোরে না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
  18. ১৮. কোন যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে?২০ ও ৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৬
    • ক. মাইক্রোফোন
    • খ. লাউডস্পিকার
    • গ. অ্যামপ্লিফায়ার
    • ঘ. ট্রান্সফরমার
    উত্তর: খ. লাউডস্পিকার
    যে যন্ত্র তড়িৎ সংকেতকে শব্দে রূপান্তর করে, তার নাম লাউডস্পিকার (Loudspeaker)। এর গঠন চলকুণ্ডলী মাইক্রোফোনের মতোই, শুধু ডায়াফ্রামের জায়গায় থাকে বড় শঙ্কু আকৃতির পর্দা (Cone), আর কাজ উল্টো। মাইক্রোফোন শব্দকে তড়িতে বদলায়, লাউডস্পিকার আবার সেই তড়িৎকে শব্দে ফেরায়। ট্রান্সফরমার আর অ্যামপ্লিফায়ার শব্দ তৈরি করে না, এরা শুধু তড়িৎ সংকেতের মান বদলায়।
  19. ১৯. ফনোগ্রাফ কে আবিষ্কার করেন?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৬
    • ক. টমাস আলভা এডিসন
    • খ. গ্রাহাম বেল
    • গ. মার্কনি
    • ঘ. ফ্যারাডে
    উত্তর: ক. টমাস আলভা এডিসন
    শব্দ ধরে রাখার প্রথম যন্ত্র ফনোগ্রাফ, যা টমাস আলভা এডিসন ১৮৭৭ সালে আবিষ্কার করেন। তাঁর রেকর্ড করা প্রথম কথাগুলো ছিল একটি শিশুতোষ ছড়া, "Mary had a little lamb"। বাকি নামগুলো অন্য আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত: গ্রাহাম বেল টেলিফোনের উদ্ভাবক, মার্কনি বেতার যোগাযোগের পথিকৃৎ আর ফ্যারাডে তড়িৎচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক।
  20. ২০. ক্যাসেটের ফিতায় শব্দ কীভাবে রক্ষিত থাকে?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৬
    • ক. চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
    • খ. তড়িৎ ক্ষেত্র হিসেবে
    • গ. আলোক সংকেত হিসেবে
    • ঘ. যান্ত্রিক খাঁজ হিসেবে
    উত্তর: ক. চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
    ক্যাসেটের ফিতা প্লাস্টিকের তৈরি, আর এর গায়ে আয়রন অক্সাইডের মতো চৌম্বক পদার্থের সূক্ষ্ম কণার প্রলেপ থাকে। রেকর্ড করার সময় তড়িৎ থেকে চুম্বকত্ব তৈরি হয় এবং শব্দ ফিতায় চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে জমা থাকে। শোনার সময় চুম্বকত্ব থেকে আবার তড়িৎ তৈরি হয় এবং লাউডস্পিকার সেই তড়িৎকে আবার শব্দে বদলে দেয়।
  21. ২১. তরঙ্গের বেলায় কোন্‌টি সত্য?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তরঙ্গ
    • ক. তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
    • খ. শব্দতরঙ্গ একধরনের তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ
    • গ. সকল তরঙ্গেই প্রতিফলন-প্রতিসরণ হয় না
    • ঘ. তরঙ্গবেগ হলো এর কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অনুপাত
    উত্তর: ক. তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
    তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic wave), যেমন বেতার তরঙ্গ, আলো ও এক্স-রে, শূন্যস্থানে আলোর বেগে, অর্থাৎ প্রায় 3 × 10⁸ m/s বেগে চলে। শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার চলার জন্য মাধ্যম লাগে। তরঙ্গবেগ কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গুণফল (v = fλ), অনুপাত নয়। আর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ সব তরঙ্গেই ঘটে। এই কারণে মহাশূন্যে আলো ও বেতার তরঙ্গ চললেও শব্দ শোনা যায় না, কারণ সেখানে শব্দের বাহক কোনো মাধ্যম নেই। তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের বেগ আলোর বেগের সমান হয়, আর এই বেগ মাধ্যমভেদে কিছুটা বদলায়।
    মনে রাখুন:
    তরঙ্গ দুই প্রকার, যান্ত্রিক ও তড়িৎচৌম্বক।
    তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
  22. ২২. আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দ
    • ক. ০.০১-০১ মেগাহার্জ
    • খ. ০১-১০ মেগাহার্জ
    • গ. ১০-২০ মেগাহার্জ
    • ঘ. ২০-৩০ মেগাহার্জ
    উত্তর: খ. ০১-১০ মেগাহার্জ
    আলট্রাসনোগ্রাফিতে মানুষের শোনার সীমা (২০,০০০ হার্জ) ছাড়িয়ে যাওয়া শব্দোত্তর তরঙ্গ (Ultrasound) ব্যবহার হয়। চিকিৎসায় সাধারণত ১ থেকে ১০ মেগাহার্জের কাছাকাছি কম্পাঙ্ক ব্যবহার করা হয়। কম্পাঙ্ক যত বেশি, ছবি তত সূক্ষ্ম হয়, কিন্তু তরঙ্গ তত কম গভীরে পৌঁছায়। চিকিৎসক এই তরঙ্গের সাহায্যে গর্ভের শিশুর বয়স, অবস্থান ও বৃদ্ধি দেখতে পান। যকৃৎ, কিডনি ও পিত্তথলির নানা রোগ নির্ণয়ে একই পদ্ধতি কাজে লাগে। তাই এর জন্য আলাদা করে সাবধানতার দরকার হয় না।
    মনে রাখুন:
    মানুষ প্রায় ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ পর্যন্ত শব্দ শোনে।
    আল্ট্রাসাউন্ড আয়নিত বিকিরণ নয়, তাই গর্ভকালীন পরীক্ষায় নিরাপদ বলে গণ্য।
  23. ২৩. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম?৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. শূন্যতায়
    • খ. কঠিন পদার্থে
    • গ. তরল পদার্থে
    • ঘ. বায়বীয় পদার্থে
    উত্তর: ঘ. বায়বীয় পদার্থে
    শব্দ চলার জন্য একটি মাধ্যম লাগে। কঠিন, তরল ও বায়বীয়, এই তিন ধরনের পদার্থের মধ্য দিয়েই শব্দ চলতে পারে, কিন্তু শূন্যস্থানে শব্দ চলে না। মাধ্যমগুলোর মধ্যে বায়বীয় পদার্থে কণাগুলো দূরে দূরে থাকে, তাই কম্পন এক কণা থেকে আরেক কণায় পৌঁছাতে সময় বেশি লাগে এবং শব্দের বেগ সবচেয়ে কম হয়। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি থাকে বলে সেখানে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার প্রতি সেকেন্ড (০°C তাপমাত্রায়)।
    পানিতে প্রায় ১৪৫০ মিটার প্রতি সেকেন্ড।
    ইস্পাতে প্রায় ৫০০০ মিটার প্রতি সেকেন্ডের বেশি।
  24. ২৪. কোন শব্দ শোনার পরে কত সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দ
    • ক. ১ সেকেন্ড
    • খ. ০.১ সেকেন্ড
    • গ. ০.০১ সেকেন্ড
    • ঘ. ০.০০১ সেকেন্ড
    উত্তর: খ. ০.১ সেকেন্ড
    আমাদের মস্তিষ্কে কোনো শব্দ শোনার অনুভূতি শব্দ থেমে যাওয়ার পরও প্রায় ০.১ সেকেন্ড থেকে যায়। একে শব্দের স্থিতিকাল বলা যায়। তাই কোনো শব্দ ও তার প্রতিধ্বনি আলাদা করে শুনতে হলে দুটির মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান লাগে। এই ব্যবধানে শব্দ বাতাসে প্রায় 340 × 0.1 = 34 মিটার যায়, তাই প্রতিফলক কমপক্ষে প্রায় 17 মিটার দূরে থাকতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, কোনো ছোট ঘরে কথা বললে প্রতিধ্বনি আলাদা করে শোনা যায় না, কারণ দেয়াল কাছে থাকায় প্রতিফলিত শব্দ ০.১ সেকেন্ডের আগেই ফিরে আসে। আর খোলা মাঠে বা বড় হলে দূরের দেয়াল থেকে ফিরে আসা শব্দ আলাদা শোনা যায়। এর ফলে আমরা প্রতিধ্বনি টের পাই।
  25. ২৫. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. শূন্যতায়
    • খ. লোহায়
    • গ. পানিতে
    • ঘ. বাতাসে
    উত্তর: খ. লোহায়
    শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পন দরকার হয়। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি ও শক্তভাবে যুক্ত থাকে, তাই কম্পন দ্রুত এক কণা থেকে আরেক কণায় পৌঁছায়। এ কারণে লোহার মতো কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ (প্রায় ৫০০০ মিটার/সেকেন্ড) পানির (প্রায় ১৫০০ মিটার/সেকেন্ড) ও বাতাসের (প্রায় ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড) চেয়ে অনেক বেশি। শূন্যস্থানে কোনো কণা নেই বলে শব্দ সেখানে একেবারেই চলতে পারে না।
    মনে রাখুন: শব্দের বেগ কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং গ্যাসে সবচেয়ে কম।
  26. ২৬. যে সর্বোচ্চ শ্রুতি সীমার উপরে মানুষ বধির হতে পারে তা হচ্ছে-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দদূষণ
    • ক. ৭৫ ডিবি
    • খ. ৯০ ডিবি
    • গ. ১০৫ ডিবি
    • ঘ. ১২০ ডিবি
    উত্তর: গ. ১০৫ ডিবি
    শব্দের তীব্রতা ডেসিবেল (Decibel, dB) এককে মাপা হয়। স্বাভাবিক কথাবার্তার তীব্রতা প্রায় ৬০ ডেসিবেল, আর ১০৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ দীর্ঘ সময় শুনলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। শব্দের তীব্রতা যত বাড়ে, কানের পর্দা ও ভেতরের সূক্ষ্ম অংশের ক্ষতির আশঙ্কাও তত বাড়ে। এ কারণে কলকারখানা বা বিমানবন্দরের কাছে কানের সুরক্ষা ব্যবহার করা ভালো।
    মনে রাখুন:
    ৮৫ ডেসিবেলের ওপরে শব্দে দীর্ঘ সময় থাকলেও শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে।
    ১২০ ডেসিবেলের কাছাকাছি শব্দ কানে ব্যথা দেয়।
    শব্দের তীব্রতার একক বেল-এর দশ ভাগের এক ভাগ ডেসিবেল।
  27. ২৭. ফনোগ্রাফ কে আবিষ্কার করেন?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দ রেকর্ডিং
    • ক. রন্টজেন
    • খ. ফ্যারাডে
    • গ. মার্কনি
    • ঘ. এডিসন
    উত্তর: ঘ. এডিসন
    ফনোগ্রাফ এমন একটি যন্ত্র, যা শব্দ রেকর্ড করে আবার বাজিয়ে শোনাতে পারে। ১৮৭৭ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন এটি আবিষ্কার করেন। অন্য অপশনের বিজ্ঞানীরা অন্য আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। রন্টজেন আবিষ্কার করেন এক্স-রে, ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ এবং মার্কনি বেতার যোগাযোগ। এডিসনের প্রথম রেকর্ডে তিনি নিজেই একটি ছড়া আবৃত্তি করেছিলেন বলে জানা যায়। ফনোগ্রামোফোন বা গ্রামোফোন পরবর্তী কালে এই আবিষ্কার থেকেই উন্নত হয়ে ওঠে, আর তাতে চাকতি ঘুরিয়ে গান বাজিয়ে শোনা যেত। এখনকার সব রেকর্ডিং যন্ত্রের শুরুটা এভাবেই।
    মনে রাখুন: এডিসন ১৮৭৯ সালে ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক বাতিও তৈরি করেন।

অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৯০)

  1. ২৮. একটি তরঙ্গ এক সাইকেলে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে কী বলে?BREB উপ-সহকারী প্রকৌশলী ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. Frequency
    • খ. Cycle
    • গ. Wavelength
    • ঘ. None
    উত্তর: গ. Wavelength
    একটি পূর্ণ কম্পনের সময়ে তরঙ্গ যতটা পথ এগিয়ে যায়, তার নাম তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength), যার প্রতীক λ। সহজ কথায়, পাশাপাশি দুটি তরঙ্গশীর্ষ বা দুটি সংকোচনের মাঝের দূরত্বই তরঙ্গদৈর্ঘ্য, আর এর একক মিটার। কম্পাঙ্ক (Frequency) হলো এক সেকেন্ডে কণার পূর্ণ কম্পনের সংখ্যা, যার একক হার্জ। তরঙ্গবেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য জুড়ে আছে v = fλ সম্পর্কে।
  2. ২৯. তরঙ্গ দ্বারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কী সঞ্চালিত হয়?দুদক উপ-সহকারী পরিচালক ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. ক্ষমতা
    • খ. শক্তি
    • গ. গতি
    • ঘ. বেগ
    উত্তর: খ. শক্তি
    তরঙ্গ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় শক্তি বয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু মাধ্যমের কণাকে সঙ্গে নেয় না। কণাগুলো নিজের জায়গায় থেকেই কাঁপে। তাই পুকুরে ঢিল ছুড়লে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, অথচ পানিতে ভেসে থাকা একটি পাতা ঢেউয়ের সঙ্গে শুধু ওপরে-নিচে ওঠানামা করে, দূরে সরে যায় না। এক কথায় তরঙ্গ শক্তি সঞ্চালন করে, বস্তু নয়।
  3. ৩০. একটি আড় তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ হলে তরঙ্গটির বেগ V কত?শাবিপ্রবি ভর্তি ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. f/λ
    • খ. λf²
    • গ. λ/f
    • ঘ. λf
    উত্তর: ঘ. λf
    তরঙ্গবেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক v = fλ। একটি পূর্ণ কম্পনের সময় (T) তরঙ্গ এক তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ) পথ এগোয়, তাই এক সেকেন্ডে এগোয় λ/T পথ, আর 1/T = f বলে বেগ হয় fλ। সূত্রটি আড় ও লম্বিক সব ধরনের তরঙ্গে খাটে, এমনকি আলোর মতো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গেও। এর একটি ফল হলো, একই মাধ্যমে শব্দের বেগ ধ্রুব থাকায় কম্পাঙ্ক বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে যায়।
  4. ৩১. শব্দ উৎপত্তির কারণপ্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় উপসহকারী পরিচালক ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. বস্তুর কম্পন
    • খ. বস্তুর তাপমাত্রা
    • গ. প্রতিধ্বনি
    • ঘ. শব্দ তরঙ্গ
    উত্তর: ক. বস্তুর কম্পন
    বস্তু কাঁপলে তার চারপাশের বাতাসের কণাও কাঁপতে থাকে। এই কম্পন তরঙ্গ হয়ে চারদিকে ছড়ায় এবং কানে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনি। তাই শব্দ উৎপত্তির মূল কারণ বস্তুর কম্পন। কম্পন থামলে শব্দও থামে, যেমন বাজতে থাকা কাঁসার ঘণ্টা হাত দিয়ে চেপে ধরলে শব্দ থেমে যায়। প্রতিধ্বনি আর শব্দ তরঙ্গ শব্দের কারণ নয়, বরং শব্দ তরঙ্গের ফল।
  5. ৩২. শব্দ কোন ধরনের তরঙ্গ?BPSC সহকারী প্রটোকল অফিসার ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.২
    • ক. তির্যক তরঙ্গ
    • খ. তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ
    • গ. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
    • ঘ. বেতার তরঙ্গ
    উত্তর: গ. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
    কণাগুলো কোন দিকে কাঁপে, তা দেখে তরঙ্গ দুই ভাগ: আড় ও লম্বিক। বাতাসে শব্দের কণাগুলো তরঙ্গ চলার দিক বরাবর সামনে-পেছনে কাঁপে, তাই শব্দ অনুদৈর্ঘ্য বা লম্বিক তরঙ্গ (Longitudinal wave)। আড় তরঙ্গে তৈরি হয় শীর্ষ ও পাদ, আর লম্বিক তরঙ্গে তৈরি হয় সংকোচন (Compression) ও প্রসারণ (Rarefaction)। তড়িৎচৌম্বক আর বেতার তরঙ্গ ভিন্ন শ্রেণির, এগুলো আড় তরঙ্গ।
  6. ৩৩. মানবদেহে শব্দ উৎপন্ন করেপ্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. জিহ্বা
    • খ. ঠোঁট
    • গ. মুখ
    • ঘ. স্বরযন্ত্র
    উত্তর: ঘ. স্বরযন্ত্র
    মানবদেহে শব্দ তৈরি করে স্বরযন্ত্র (Larynx)। এর ভেতরে দুটি পাতলা পর্দা থাকে, যাদের নাম স্বররজ্জু (Vocal cord)। ফুসফুস থেকে আসা বাতাসে স্বররজ্জু কাঁপে, আর সেই কম্পনের ফলে আমরা কথা বলি। জিহ্বা, ঠোঁট ও মুখ শুধু শব্দকে আকার দেয়। পুরুষের স্বররজ্জু লম্বা ও মোটা বলে কম্পাঙ্ক কম হয়, তাই তাদের কণ্ঠ নারী ও শিশুদের চেয়ে মোটা শোনায়।
  7. ৩৪. SI এককে Hz কোন রাশির একক?ডেন্টাল ভর্তি ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. শক্তি
    • খ. তেজস্ক্রিয়তা
    • গ. কম্পাঙ্ক
    • ঘ. ধারকত্ব
    উত্তর: গ. কম্পাঙ্ক
    এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন মানে ১ হার্জ (Hz), তাই হার্জ কম্পাঙ্কের এসআই একক। জার্মান বিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের নামে এই এককের নাম রাখা হয়েছে। অন্য রাশির একক অন্য নামে: শক্তির একক জুল, তেজস্ক্রিয়তার বেকেরেল আর ধারকত্বের ফ্যারাড।
  8. ৩৫. শব্দের তীব্রতা মাপার একক কোনটি?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ইনস্ট্রাক্টর ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. ক্যালরি
    • খ. জুল
    • গ. অ্যাম্পিয়ার
    • ঘ. ডেসিবেল
    উত্তর: ঘ. ডেসিবেল
    শব্দের তীব্রতা লেভেল মাপা হয় ডেসিবেল (dB) এককে। টেলিফোনের উদ্ভাবক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের নাম অনুসারে মূল একক রাখা হয়েছে বেল (B)। বেল বেশ বড় একক, তাই কাজে এর দশ ভাগের এক ভাগ, ডেসিবেল ব্যবহার হয়। ক্যালরি তাপের, জুল শক্তির আর অ্যাম্পিয়ার তড়িৎপ্রবাহের একক।
  9. ৩৬. Decibel is a unit to measureসাধারণ বীমা কর্পোরেশন সহকারী ব্যবস্থাপক ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. Electricity
    • খ. Light
    • গ. Heat
    • ঘ. Sound
    উত্তর: ঘ. Sound
    ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা লেভেলের একক। সূত্রটি β = 10 log (I/I₀) dB। এর মানে, শব্দের তীব্রতা ১০ গুণ বাড়লে লেভেল বাড়ে ১০ ডেসিবেল, আর ১০০ গুণ বাড়লে বাড়ে ২০ ডেসিবেল। বিদ্যুৎ, আলো ও তাপ মাপার একক ভিন্ন, যেমন ভোল্ট, ক্যান্ডেলা আর জুল।
  10. ৩৭. ডেসিবেল ...... পরিমাপ নির্দেশ করে।তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টেলিভিশন প্রকৌশলী ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. পাওয়ার
    • খ. ভোল্টেজ
    • গ. কারেন্ট
    • ঘ. পাওয়ার লেভেল
    উত্তর: ঘ. পাওয়ার লেভেল
    ডেসিবেল সরাসরি শক্তি মাপে না। এটি কোনো প্রমাণ মানের তুলনায় শক্তি বা তীব্রতা কত গুণ, সেই অনুপাতের লগারিদম মাপে, তাই একে পাওয়ার লেভেল বলা হয়। এ কারণে শব্দ ছাড়াও তড়িৎ সংকেতের শক্তি মাপতে ডেসিবেল ব্যবহার হয়। সংখ্যা বড় হলেও ডেসিবেলের স্কেল ছোট থাকে, তাই এই পদ্ধতি সুবিধাজনক।
  11. ৩৮. নিঃশ্বাসের শব্দের তীব্রতার মাত্রা কত?১৫তম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. 5 dB
    • খ. 10 dB
    • গ. 20 dB
    • ঘ. 30 dB
    উত্তর: খ. 10 dB
    নিঃশ্বাসের শব্দের তীব্রতা প্রায় ১০ ডেসিবেল, ফিসফিস কথার ৩০ ডেসিবেল আর সাধারণ কথোপকথনের প্রায় ৬০ ডেসিবেল। শান্ত শ্রেণিকক্ষে শব্দ থাকে প্রায় ৫০ ডেসিবেল, ব্যস্ত সড়কে ৭০ ডেসিবেল আর ভারী ট্রাকে ৯০ ডেসিবেল। ০ ডেসিবেল মানে নীরবতা নয়, এটি মানুষের শোনার শুরুর সীমা।
  12. ৩৯. মানুষের কান সবচেয়ে মৃদু যে শব্দ শুনতে পায় তার তীব্রতা কত?মেডিকেল ভর্তি ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. 10⁻¹² W m⁻²
    • খ. 10⁻⁶ W m⁻²
    • গ. 10⁻¹⁰ W m⁻²
    • ঘ. 10⁻⁸ W m⁻²
    উত্তর: ক. 10⁻¹² W m⁻²
    মানুষের কান সবচেয়ে মৃদু যে শব্দ শুনতে পায়, তার তীব্রতা 10⁻¹² W m⁻² (ওয়াট/বর্গমিটার)। একে প্রমাণ তীব্রতা I₀ ধরা হয় এবং এর মান ০ ডেসিবেল। তীব্রতা এর ১০ গুণ হলে লেভেল ১০ ডেসিবেল, ১০০ গুণ হলে ২০ ডেসিবেল। এ ধরনের হিসাবে মনে রাখার সহজ নিয়ম হলো, প্রতি দশ ডেসিবেলে তীব্রতা দশ গুণ বাড়ে।
  13. ৪০. The loudness of sound depends onগণমাধ্যম ইনস্টিটিউট সহকারী পরিচালক ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৬
    • ক. Wave length
    • খ. Harmonic content
    • গ. Wave amplitude
    • ঘ. Frequency
    উত্তর: গ. Wave amplitude
    শব্দের প্রাবল্য বা জোর (Loudness) নির্ভর করে বিস্তারের (Amplitude) ওপর। কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে তীক্ষ্ণতা (Pitch), অর্থাৎ সুর কতটা চড়া বা মোটা। সুরযুক্ত শব্দের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য জাতি বা গুণ (Quality), যার জন্য একই সুর বেহালা আর বাঁশিতে আলাদা শোনায়। জাতি নির্ভর করে মূল সুরের সঙ্গে কতগুলো উপসুর (Overtone) মিশে আছে তার ওপর।
  14. ৪১. একটি শূন্য পাত্রকে আঘাত করলে ভরা পাত্রের চেয়ে বেশি শব্দ হয়, কারণজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ১৯৯৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৩
    • ক. শব্দ পাত্রের বাতাসের ভিতর দিয়ে দ্রুতবেগে প্রবাহিত হয় বলে
    • খ. শব্দ কম্পাঙ্ক ও পাত্রের কম্পাঙ্ক মিলে একত্রে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে বলে
    • গ. বাতাসে শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হয় বলে
    • ঘ. বাতাসে শব্দ তরঙ্গের বিস্তার কম হয় বলে
    উত্তর: গ. বাতাসে শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হয় বলে
    শূন্য পাত্রের বাতাস মুক্তভাবে কাঁপতে পারে, তাই সেখানে শব্দ তরঙ্গের বিস্তার (Amplitude) বেশি হয় এবং শব্দ জোরালো শোনায়। ভরা পাত্রে পানি কম্পনের অনেকটা শুষে নেয়, তাই শব্দ চাপা হয়ে যায়। প্রাবল্য বিস্তারের ওপর নির্ভর করে, এই নিয়মেই এর ব্যাখ্যা। "খালি কলস বাজে বেশি" প্রবাদের পেছনেও এই বিজ্ঞান কাজ করে।
  15. ৪২. বাদ্যযন্ত্রসমূহ ফাঁপা থাকে কেন?BPSC সহকারী পরিচালক ১৯৯৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৩
    • ক. ফাঁপা বাক্সের বায়ুতে অনুনাদ সৃষ্টি হয়ে শব্দের প্রাবল্য বৃদ্ধি পায়
    • খ. ফাঁপা বাক্স ছাড়া কম্পন সৃষ্টি হয় না
    • গ. বাদ্যের সুরকে মধুর করতে ফাঁপা বাক্স অত্যাবশ্যক
    • ঘ. ফাঁপা বাক্সে বাদ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়
    উত্তর: ক. ফাঁপা বাক্সের বায়ুতে অনুনাদ সৃষ্টি হয়ে শব্দের প্রাবল্য বৃদ্ধি পায়
    ফাঁপা বাক্সের ভেতরের বাতাস তারের কম্পনের সঙ্গে অনুনাদে (Resonance) কাঁপে। অনুনাদে বস্তুটি সবচেয়ে বেশি বিস্তারে কাঁপে, তাই শব্দ অনেক জোরালো হয়। গিটার, বেহালা বা তবলার খোলের ভেতরের বাতাস এভাবেই শব্দের প্রাবল্য বাড়ায়। ফাঁপা বাক্স ছাড়াও কম্পন তৈরি হয়, তবে শব্দ ক্ষীণ থাকে।
  16. ৪৩. নিচের কোন তরঙ্গের প্রসারণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. x-ray
    • খ. Radio wave
    • গ. Sound wave
    • ঘ. Ultra-Violet
    উত্তর: গ. Sound wave
    শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই এর প্রসারণে মাধ্যম লাগে। এক্স-রে, রেডিও তরঙ্গ আর অতিবেগুনি রশ্মি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, যাদের চলতে মাধ্যম লাগে না। এ কারণে মহাশূন্যে কোনো শব্দ শোনা যায় না, অথচ সূর্যের আলো ঠিকই পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
  17. ৪৪. শব্দ বিস্তারের জন্যপ্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না
    • খ. স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের প্রয়োজন হয়
    • গ. বায়বীয় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের প্রয়োজন হয়
    শব্দ বিস্তারের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যম লাগে, আর কঠিন, তরল বা বায়বীয় যেকোনো স্থিতিস্থাপক মাধ্যমেই শব্দ চলে, শুধু বায়বীয় নয়। মাধ্যম যত দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক, শব্দ তত দ্রুত চলে। তাই ইস্পাত বা লোহার মতো কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা না থাকায় শব্দ সেখানে চলতে পারে না।
  18. ৪৫. যদি চাঁদে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে তবে তা পৃথিবীতে কতক্ষণে শোনা যাবে?৫ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. তৎক্ষণাৎ
    • খ. ৬ সেকেন্ডে
    • গ. ৬০ মিনিটে
    • ঘ. কখনও শোনা যাবে না
    উত্তর: ঘ. কখনও শোনা যাবে না
    চাঁদ আর পৃথিবীর মাঝের মহাশূন্যে শব্দ বয়ে নেওয়ার মতো কোনো মাধ্যম নেই, তাই চাঁদে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটলেও পৃথিবী থেকে তার শব্দ কখনো শোনা যাবে না। অথচ বিস্ফোরণের আলো প্রায় ১.৩ সেকেন্ডেই পৃথিবীতে পৌঁছাবে, কারণ আলো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং তা শূন্যেও চলে। যান্ত্রিক তরঙ্গ আর তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের এই পার্থক্য প্রায়ই পরীক্ষায় আসে।
  19. ৪৬. বাতাসে শব্দের গতি কত?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. 330 m/s
    • খ. 230 m/s
    • গ. 0 m/s
    • ঘ. 3×10⁸ m/s
    উত্তর: ক. 330 m/s
    ০° সেলসিয়াসে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড, তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে ৩৩০ মিটার/সেকেন্ডই সবচেয়ে কাছের। 3 × 10⁸ m/s হলো আলোর বেগ। প্রতি ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বাড়ে, তাই ২০° সেলসিয়াসে বেগ প্রায় ৩৪৪ মিটার/সেকেন্ড। চাপ বাড়লেও তাপমাত্রা স্থির থাকলে এই বেগ বদলায় না।
  20. ৪৭. কোন মাধ্যমে শব্দ অধিক দ্রুত গতিতে চলে?বাংলাদেশ রোড অথরিটি সহকারী পরিচালক ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. পানিতে (Water)
    • খ. বায়ুশূন্য (Vacuum) মাধ্যমে
    • গ. বাতাসে (Air)
    • ঘ. ইস্পাতে (Steel)
    উত্তর: ঘ. ইস্পাতে (Steel)
    কঠিন মাধ্যম সবচেয়ে দৃঢ়, তাই ইস্পাতে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে, সেকেন্ডে ৫০০০ মিটারের বেশি বেগে। এই বেগ বাতাসের প্রায় ১৫ গুণ। পানিতে বেগ প্রায় ১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড। বায়ুশূন্য মাধ্যমে শব্দ একেবারেই চলে না, তাই সেটি উত্তর হতেই পারে না।
  21. ৪৮. লোহা মাধ্যমে শব্দ বাতাসের তুলনায় কতগুণ দ্রুত চলে?BPSC সহকারী পরিচালক ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ২০ গুণ
    • খ. ১৮ গুণ
    • গ. ১৫ গুণ
    • ঘ. ১২ গুণ
    উত্তর: গ. ১৫ গুণ
    লোহায় শব্দের বেগ প্রায় ৫১৩০ মিটার/সেকেন্ড, আর বাতাসে প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড। ভাগ করলে পাওয়া যায় প্রায় ১৫ গুণ। পানিতে বেগ প্রায় ১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড, অর্থাৎ বাতাসের প্রায় সাড়ে চার গুণ। সংখ্যাগুলো মনে রাখতে ক্রমটা ধরে রাখুন: বাতাস ১ গুণ, পানি সাড়ে ৪ গুণ, লোহা ১৫ গুণ।
  22. ৪৯. পানিতে শব্দের বেগ বায়ুর তুলনায় কত গুণ বেশি?কারা অধিদপ্তর কারা তত্ত্বাবধায়ক ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. প্রায় আড়াই গুণ
    • খ. প্রায় সাড়ে তিন গুণ
    • গ. প্রায় সাড়ে চার গুণ
    • ঘ. প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ
    উত্তর: গ. প্রায় সাড়ে চার গুণ
    পানিতে শব্দের বেগ প্রায় ১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড, আর বাতাসে প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড, অর্থাৎ পানিতে বেগ বাতাসের প্রায় সাড়ে চার গুণ। তরলের কণা কঠিনের মতো দৃঢ় নয়, কিন্তু গ্যাসের চেয়ে ঘন, তাই তরলে বেগ মাঝামাঝি। পানির নিচে শব্দ এত ভালো চলে যে তিমি ও ডলফিন অনেক দূর পর্যন্ত শব্দে যোগাযোগ করতে পারে।
  23. ৫০. বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের বেগ কেমন হয়?স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারা তত্ত্বাবধায়ক ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. বাড়ে
    • খ. সামান্য কমে
    • গ. কমে যায়
    • ঘ. অপরিবর্তিত থাকে
    উত্তর: ক. বাড়ে
    বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে। জলীয় বাষ্প শুষ্ক বাতাসের চেয়ে হালকা, তাই আর্দ্র বাতাসের ঘনত্ব কম। একই চাপ ও তাপমাত্রায় হালকা গ্যাসে শব্দ দ্রুত চলে। এর একটি চরম উদাহরণ হাইড্রোজেন, যাতে শব্দের বেগ বাতাসের প্রায় চার গুণ। এ কারণে বর্ষাকালে দূরের শব্দ বেশি স্পষ্ট শোনা যায়।
  24. ৫১. কোন ঋতুতে শব্দ বায়ু মাধ্যমে দ্রুততর চলে?রুরাল পাওয়ার কোম্পানি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শীতকালে
    • খ. গ্রীষ্মকালে
    • গ. বর্ষাকালে
    • ঘ. বসন্তকালে
    উত্তর: গ. বর্ষাকালে
    বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা সবচেয়ে বেশি, আর তাপমাত্রাও বেশ উঁচু থাকে। আর্দ্রতা আর তাপমাত্রা দুটোই বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে, তাই বর্ষাকালে শব্দ বায়ু মাধ্যমে সবচেয়ে দ্রুত চলে। এর আলাদা একটি ঘটনা হলো, রাতে ভূপৃষ্ঠের কাছের বায়ু ঠান্ডা থাকে বলে ওপরে ওঠা শব্দ বেঁকে আবার নিচে নামে। তাই রাতে দূরের শব্দ বেশি শোনা যায়।
  25. ৫২. সমুদ্রের তীরে একটা বিস্ফোরণ ঘটলে কে আগে শব্দ শুনতে পারে?পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. এক কিলোমিটার দূরে ভূমিতে অবস্থানকারী একজন ব্যক্তি
    • খ. এক কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে অবস্থানকারী একজন ব্যক্তি
    • গ. এক কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের পানির নিচে অবস্থানকারী একজন ব্যক্তি
    • ঘ. সকলেই একসঙ্গে শব্দটা শুনতে পারে
    উত্তর: গ. এক কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের পানির নিচে অবস্থানকারী একজন ব্যক্তি
    পানিতে শব্দ বাতাসের চেয়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ দ্রুত চলে, তাই এক কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের পানির নিচে থাকা ব্যক্তিই বিস্ফোরণের শব্দ আগে শুনবেন। ভূমিতে বা সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে থাকা ব্যক্তির কাছে শব্দ বাতাসের ভেতর দিয়ে আসে, তাই তাঁর পৌঁছাতে সময় লাগবে বেশি। পানিতে শব্দ এত ভালো চলে যে নীল তিমির ডাক কয়েকশো কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।
  26. ৫৩. পানিতে ডুব দিয়ে কেউ হাততালি দিলে, সেই তালির শব্দ জোরে শুনতে পাবে৭ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি
    • খ. ডুবন্ত অবস্থায় কেউ শব্দ শুনতেই পাবে না
    • গ. পানির তীরে দাঁড়ানো ব্যক্তি
    • ঘ. সকলেই জোরে শব্দ শুনতে পারবে
    উত্তর: ক. ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি
    শব্দ পানিতে ভালোভাবে চলে, তাই পানির নিচে ডুবে থাকা ব্যক্তিই হাততালির শব্দ সবচেয়ে জোরে শোনেন। অন্যদিকে শব্দ পানি থেকে বাতাসে বেরোনোর সময় বেশির ভাগ শক্তি প্রতিফলিত হয়ে পানিতেই ফিরে যায়। একই কারণে তীর থেকে ডাকলে পানির নিচে ডুবে থাকা মানুষ খুব কম শুনতে পান। শব্দের এই আচরণ বোঝাতে মাধ্যম বদলের সময় প্রতিফলনের ধারণাটা কাজে লাগে।
  27. ৫৪. বাতাসে শব্দের গতি ঘণ্টায়CAG কার্যালয়ের জুনিয়র অডিটর ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ৭৫৭ মাইল
    • খ. ১১৫৭ মাইল
    • গ. ২০৫৭ মাইল
    • ঘ. ৩৮৫৭ মাইল
    উত্তর: ক. ৭৫৭ মাইল
    বাতাসে শব্দের বেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২০০ কিলোমিটার, অর্থাৎ প্রায় ৭৫০ মাইলের কাছাকাছি, তাই ৭৫৭ মাইলই সবচেয়ে কাছের উত্তর। তুলনার জন্য, যাত্রীবাহী জেট বিমান চলে ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার বেগে, অর্থাৎ শব্দের চেয়ে একটু ধীরে। যে বিমান শব্দের চেয়ে বেশি বেগে চলে, তাকে সুপারসনিক বিমান বলে।
  28. ৫৫. বাতাসের উষ্ণতা বাড়লে শব্দের গতিপ্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. কমে
    • খ. বাড়ে
    • গ. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
    • ঘ. অপরিবর্তিত থাকে
    উত্তর: খ. বাড়ে
    বাতাসের উষ্ণতা বাড়লে শব্দের গতি বাড়ে, আর প্রতি ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে বেগ প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বাড়ে। বাতাসে শব্দের বেগ আসলে বায়ুর পরম তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক, অর্থাৎ v ∝ √T। এ কারণে গরমের দিনে শব্দ শীতের দিনের চেয়ে একটু দ্রুত চলে।
  29. ৫৬. কোনটির গতি সবচেয়ে বেশি?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শব্দ
    • খ. আলো
    • গ. বুলেট
    • ঘ. জেট বিমান
    উত্তর: খ. আলো
    আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড, অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার, যা শব্দ, বুলেট আর জেট বিমানের চেয়ে বহু গুণ বেশি। বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড, আর বুলেট ও জেট বিমান শব্দের কাছাকাছি বা সামান্য বেশি বেগে চলে। তাই বিদ্যুৎ চমকের আলো আমাদের চোখে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছায়, কিন্তু গর্জন আসতে সময় নেয়।
  30. ৫৭. আকাশে বিদ্যুৎ চমকাইবার কিছু পরে তার শব্দ শোনা যায় কেন?খাদ্য অধিদপ্তর খাদ্য পরিদর্শক ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শব্দের চাইতে আলোর গতি বেশি বলে
    • খ. আসার পথে শব্দের গতি আলোর গতির চেয়ে বেশি বাধা পায় বলে
    • গ. শব্দের উৎপত্তি কিছু পরে হয় বলে
    • ঘ. পৃথিবী হইতে আলোর উৎস অনেক নিকটে বলে
    উত্তর: ক. শব্দের চাইতে আলোর গতি বেশি বলে
    বিদ্যুৎ চমক আর মেঘের গর্জন তৈরি হয় একই সঙ্গে। দেরি হয় কারণ আলো প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চোখে পৌঁছায়, কিন্তু শব্দ সেই পথ পাড়ি দেয় অনেক ধীরে, শব্দের চাইতে আলোর গতি বেশি বলেই এমন হয়। চমক আর গর্জনের মাঝের সেকেন্ড গুনে ৩ দিয়ে ভাগ করলে বজ্রপাত কত কিলোমিটার দূরে হয়েছে তা মোটামুটি জানা যায়। বজ্রপাতের পর অনেকক্ষণ গুড়গুড় শব্দ শোনার কারণ মেঘ ও পাহাড় থেকে বহুবার প্রতিফলন।
  31. ৫৮. নিচের কোনটি যাত্রীবাহী সুপারসনিক বিমান?সমাজসেবা অধিদপ্তর উপসহকারী পরিচালক ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ডিসি ১০
    • খ. বোয়িং ৭০৭
    • গ. কনকর্ড
    • ঘ. বোয়িং ৭৪৭
    উত্তর: গ. কনকর্ড
    যাত্রীবাহী সুপারসনিক বিমান হলো ব্রিটিশ-ফরাসি কনকর্ড (Concorde), যা শব্দের প্রায় দ্বিগুণ বেগে যাত্রী নিয়ে উড়ত। ১৯৭৬ সালে যাত্রী পরিবহন শুরু করা এই বিমান ২০০৩ সালে চলাচল বন্ধ করে দেয়। বাকি তিনটি বিমান শব্দের চেয়ে ধীরে চলত, কারণ সাধারণ যাত্রীবাহী জেট বিমান শব্দের বেগের চেয়ে একটু কম বেগে উড়ে। সুপারসনিক বিমানের সামনে বাতাস চাপা খেয়ে শক তরঙ্গ (Shock wave) তৈরি হয়, যা মাটিতে সনিক বুম (Sonic boom) নামের বিকট শব্দ হয়ে শোনা যায়।
  32. ৫৯. শব্দের গতির চেয়ে কোন যন্ত্র বেশি গতিতে চললে তাকে কী বলা হয়?পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি টেকনিশিয়ান ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. সুপার স্পিড
    • খ. সুপারসনিক
    • গ. সুপার ভেলোসিটি
    • ঘ. আল্ট্রা সুপার স্পিড
    উত্তর: খ. সুপারসনিক
    শব্দের চেয়ে বেশি বেগে চলা যন্ত্র বা বিমানকে সুপারসনিক (Supersonic) বলে। বিমানের বেগ শব্দের বেগের কত গুণ, তা বোঝাতে ম্যাক সংখ্যা (Mach number) ব্যবহার হয়, যা কোনো বস্তুর বেগ আর ওই মাধ্যমে শব্দের বেগের অনুপাত। ম্যাক সংখ্যা ১-এর বেশি হলে বেগ সুপারসনিক, আর ৫-এর বেশি হলে হাইপারসনিক (Hypersonic)। সুপারসনিক বিমান মাটিতে সনিক বুম নামে বিকট শব্দ তৈরি করে।
  33. ৬০. আলোর চেয়ে শব্দের গতিবেগজাতীয় সংসদ সচিবালয় সহকারী সচিব ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. কম
    • খ. বেশি
    • গ. সমান
    • ঘ. বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম
    উত্তর: ক. কম
    বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড, আর আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড, তাই আলোর চেয়ে শব্দের গতিবেগ কম। দুটি বেগ ভাগ করলে দেখা যায়, বাতাসে আলো শব্দের চেয়ে প্রায় ৯ লক্ষ গুণ দ্রুত চলে। এ কারণেই বিদ্যুৎ চমকের আলো আমরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দেখি, কিন্তু মেঘের গর্জন শুনি কয়েক সেকেন্ড পরে। একই কারণে দূর থেকে বন্দুকের গুলির ধোঁয়া আগে দেখা যায় আর শব্দ আসে পরে।
  34. ৬১. কত তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেগের দ্বিগুণ হবে?মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রদর্শক ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ৪১৯° সে.
    • খ. ৪২৯° সে.
    • গ. ১১৯° সে.
    • ঘ. ৮১৯° সে.
    উত্তর: ঘ. ৮১৯° সে.
    বাতাসে শব্দের বেগ পরম তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক, অর্থাৎ v ∝ √T। বেগ দ্বিগুণ করতে হলে √T দ্বিগুণ হতে হবে, আর তার জন্য পরম তাপমাত্রা চার গুণ করতে হবে। ০° সেলসিয়াস মানে ২৭৩ কেলভিন, তাই চার গুণ হলে ১০৯২ কেলভিন, যা ৮১৯° সেলসিয়াসের সমান। কোনো কোনো বইয়ে ৫৫৩° সেলসিয়াস লেখা আছে, যা প্রতি ডিগ্রিতে ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বাড়ার সরল নিয়ম থেকে আসে, কিন্তু সেই নিয়ম শুধু অল্প তাপমাত্রার পার্থক্যে খাটে।
  35. ৬২. প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয়দুদক উপ-সহকারী পরিচালক ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. কোলাহল
    • খ. তীক্ষ্ণতা
    • গ. প্রতিধ্বনি
    • ঘ. বিস্তার
    উত্তর: গ. প্রতিধ্বনি
    কোনো শব্দ দূরের বাধায় আঘাত পেয়ে উৎসের কাছে ফিরে এলে সেই প্রতিফলিত শব্দকেই প্রতিধ্বনি (Echo) বলে। এ জন্য শব্দকে ফেরানোর মতো বড় ও শক্ত একটি প্রতিফলক দরকার, যেমন পাহাড় বা বড় দেয়াল। মূল শব্দের পরে অন্তত ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধানে ফিরলে তবেই আলাদা করে শোনা যায়, তাই প্রতিফলককে অন্তত ১৬.৬ মিটার দূরে থাকতে হয়। কোলাহল (Noise) হলো অনিয়মিত কম্পনের বিরক্তিকর শব্দ, আর বিস্তার মানে কম্পনের সর্বোচ্চ সরণ।
  36. ৬৩. শব্দের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ইনস্ট্রাক্টর ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিসরণ
    • গ. শোষণ
    • ঘ. অপবর্তন
    উত্তর: ক. প্রতিফলন
    প্রতিধ্বনি তৈরির কারণ শব্দের প্রতিফলন (Reflection)। শব্দ দূরের দেয়াল বা পাহাড়ে বাধা পেয়ে ফিরে এলে সেটাই প্রতিধ্বনি। পাহাড় বা উঁচু দেয়ালের মতো কঠিন ও বড় তল শব্দকে ভালোভাবে প্রতিফলিত করে, আর নরম পর্দা বা কার্পেট শব্দ শুষে নেয় বলে প্রতিফলন কম হয়। আলোর মতো শব্দেরও প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও শোষণ ঘটে, কিন্তু প্রতিধ্বনির জন্য দায়ী প্রতিফলন।
  37. ৬৪. শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব৮ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. ১৫.৬ মিটার
    • খ. ১৪.৬ মিটার
    • গ. ১৬.৬ মিটার
    • ঘ. ১৭.৬ মিটার
    উত্তর: গ. ১৬.৬ মিটার
    প্রতিধ্বনি শুনতে হলে মূল শব্দ আর প্রতিফলিত শব্দের মাঝে অন্তত ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধান লাগে, কারণ শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল ০.১ সেকেন্ড। বাতাসে ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড বেগে এই সময়ে শব্দ যায় ৩৩.২ মিটার, আর সেই পথের অর্ধেক হলো যাওয়া-আসার একপথ, অর্থাৎ ১৬.৬ মিটার। এর চেয়ে কম দূরত্বে প্রতিফলিত শব্দ মূল শব্দের সঙ্গে মিশে শব্দকে দীর্ঘায়িত করে, যাকে অনুরণন (Reverberation) বলে। সাধারণ ঘরে প্রতিধ্বনি না শোনার কারণ এটাই।
  38. ৬৫. শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড হলে, প্রতিফলকের ন্যূনতম কোন দূরত্বে প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইবার অফিসার ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. ১৬ মিটার
    • খ. ১৭.৫ মিটার
    • গ. ১৬.৫ মিটার
    • ঘ. ১৭ মিটার
    উত্তর: গ. ১৬.৫ মিটার
    প্রতিধ্বনি শোনার ন্যূনতম শর্ত হলো মূল শব্দ আর প্রতিফলিত শব্দের মাঝে অন্তত ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধান। এই সময়ে শব্দ প্রতিফলকে গিয়ে ফিরে আসে, তাই মোট পথ দূরত্বের দ্বিগুণ। অর্থাৎ 2d = 330 × 0.1 = 33 মিটার, আর d = 16.5 মিটার। সহজ নিয়ম হলো ০.১ সেকেন্ডকে শব্দের বেগ দিয়ে গুণ করে ২ দিয়ে ভাগ করা। বেগ ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড ধরলে এই দূরত্ব হয় ১৬.৬ মিটার, এই পার্থক্যের জন্য প্রশ্নে কোন বেগ দেওয়া আছে তা দেখে নিতে হবে।
  39. ৬৬. শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩০ মিটার হলে ২৭.৫ মিটার গভীর কোনো কুয়ার কাছে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে কত সেকেন্ড পর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?দুর্নীতি দমন ব্যুরো সহকারী উপ-পরিদর্শক ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. ১/৬ সেকেন্ড
    • খ. ১/৩ সেকেন্ড
    • গ. ৩ সেকেন্ড
    • ঘ. ৬ সেকেন্ড
    উত্তর: ক. ১/৬ সেকেন্ড
    কূপের মুখে হাততালি দিলে শব্দ নিচে নেমে পানির তলে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে, অর্থাৎ শব্দ গভীরতার দ্বিগুণ পথ পাড়ি দেয়। এখানে গভীরতা ২৭.৫ মিটার, তাই মোট পথ ২ × 27.5 = 55 মিটার। সময় t = 55/330 = 1/6 সেকেন্ড। কূপের গভীরতার সূত্র h = vt/2 থেকে সরাসরি t = 2h/v লেখা যায়। ১/৬ সেকেন্ড ০.১ সেকেন্ডের বেশি, তাই এই প্রতিধ্বনি আলাদা করে শোনা যাবে।
  40. ৬৭. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ কী?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. শ্রাব্য শব্দের তরঙ্গ থেকে কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
    • খ. শূন্য মাধ্যমে গঠিত তরঙ্গ
    • গ. শ্রাব্য শব্দের তরঙ্গ থেকে বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. শ্রাব্য শব্দের তরঙ্গ থেকে বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ
    ২০,০০০ হার্জের বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গকে শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসনিক (Ultrasonic) তরঙ্গ বলে, যা মানুষের শ্রাব্যতার সীমার ওপরে। আর ২০ হার্জের কম কম্পাঙ্কের শব্দ হলো শব্দেতর (Infrasonic) তরঙ্গ। শব্দোত্তর তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট, তাই চশমা ও গয়না পরিষ্কার, দুধ জীবাণুমুক্ত করা, ধাতুর ভেতরের ফাটল খোঁজা আর আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে এর ব্যবহার। এ তরঙ্গ তৈরি হয় কোয়ার্টজ কেলাসের কম্পন কাজে লাগিয়ে।
  41. ৬৮. আল্ট্রাসনিক শব্দ বলতে বোঝায়প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. যার গতি শব্দের গতি থেকে কম
    • খ. যার গতি শব্দের গতি থেকে বেশি
    • গ. যে শব্দ সাধারণভাবে মানুষ শুনতে পায়
    • ঘ. যে শব্দ কোনো কোনো জীবজন্তু শুনতে পায়
    উত্তর: ঘ. যে শব্দ কোনো কোনো জীবজন্তু শুনতে পায়
    আল্ট্রাসনিক শব্দ কম্পাঙ্কের বিষয়, বেগের নয়, কারণ ২০,০০০ হার্জের বেশি কম্পাঙ্কের যেকোনো শব্দই আল্ট্রাসনিক। মানুষ এটি শুনতে পায় না, কিন্তু বাদুড়, কুকুর ও ডলফিনের মতো কিছু প্রাণী শুনতে পায়। কুকুর প্রায় ৪৫ কিলোহার্জ পর্যন্ত শোনে, তাই মানুষের কাছে নিঃশব্দ কুকুরের বাঁশিও তারা শুনতে পায়। শব্দের বেগের চেয়ে বেশি বেগের বিষয়টির নাম সুপারসনিক, দুটিকে আলাদা রাখতে হবে।
  42. ৬৯. শব্দোত্তর তরঙ্গ উৎপত্তি হয় কার মাধ্যমে?থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. এক টুকরো কাচ
    • খ. কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল অসিলেটর
    • গ. রেডিওর লাউডস্পিকার
    • ঘ. গাড়ির হর্ন
    উত্তর: খ. কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল অসিলেটর
    কোয়ার্টজ কেলাসের মধ্য দিয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল তড়িৎ পাঠালে কেলাসটি খুব দ্রুত কাঁপে এবং এই কম্পন থেকে শব্দোত্তর তরঙ্গ তৈরি হয়। এটি পিজোইলেকট্রিক (Piezoelectric) প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সাধারণ কাচ, রেডিওর লাউডস্পিকার বা গাড়ির হর্ন এই তরঙ্গ তৈরি করে না, কারণ এদের কম্পাঙ্ক ২০,০০০ হার্জের নিচে। লাউডস্পিকার বা হর্ন সাধারণ শ্রাব্য শব্দ তৈরি করে।
  43. ৭০. রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীন জুনিয়র অডিটর ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. শব্দ তরঙ্গ
    • খ. আলোক তরঙ্গ
    • গ. শব্দোত্তর তরঙ্গ
    • ঘ. শব্দেতর তরঙ্গ
    উত্তর: গ. শব্দোত্তর তরঙ্গ
    রোগনির্ণয় আর চিকিৎসায় শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে এই তরঙ্গের প্রতিফলন দিয়ে শরীরের ভেতরের ছবি তোলা হয়। আবার শক্তিশালী শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে কিডনি ও পিত্তথলির পাথর ভাঙা হয়, এই পদ্ধতির নাম লিথোট্রিপসি (Lithotripsy)। গর্ভের শিশু, যকৃৎ, পিত্তথলি ও কিডনি পরীক্ষায় এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
  44. ৭১. আল্ট্রাসনোগ্রাম কী?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিনিয়র স্টাফ নার্স · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. এক্সরে
    • খ. অতি উচ্চ কম্পনসম্পন্ন শব্দ তরঙ্গ
    • গ. আলফা রে
    • ঘ. অতি বেগুনি রশ্মি
    উত্তর: খ. অতি উচ্চ কম্পনসম্পন্ন শব্দ তরঙ্গ
    আল্ট্রাসনোগ্রামে ব্যবহার হয় অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ, অর্থাৎ শব্দোত্তর তরঙ্গ। এটি এক্স-রে, আলফা রশ্মি বা অতিবেগুনি রশ্মি নয়, কারণ ওগুলো শব্দ নয়, আলাদা ধরনের বিকিরণ। ডপলার আল্ট্রাসাউন্ডে রক্তপ্রবাহের বেগ আর গর্ভের শিশুর হৃৎস্পন্দনও দেখা যায়। এক্স-রের মতো আয়নায়নকারী বিকিরণ নেই বলে এটি গর্ভাবস্থায় নিরাপদ।
  45. ৭২. মানুষের শ্রাব্যতার সীমা কত?৮ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. 20 MHz - 20000 MHz
    • খ. 20 Hz - 20000 Hz
    • গ. 10 MHz - 10000 MHz
    • ঘ. 20 Hz - 2000 Hz
    উত্তর: খ. 20 Hz - 20000 Hz
    মানুষ প্রায় ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়, এটাই মানুষের শ্রাব্যতার সীমা (Audible range)। এর নিচের শব্দ শব্দেতর আর ওপরের শব্দ শব্দোত্তর। বয়স বাড়লে ঊর্ধ্বসীমা ধীরে ধীরে কমে আসে। মেগাহার্জ হলো ১০ লক্ষ হার্জ, তাই ২০ মেগাহার্জ সীমার বিকল্পগুলো শ্রাব্যতার সীমা হতেই পারে না।
  46. ৭৩. বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা হলো৮ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. 45000 Hz
    • খ. 100000 Hz
    • গ. 35000 Hz
    • ঘ. 20000 Hz
    উত্তর: খ. 100000 Hz
    বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা প্রায় ১,০০,০০০ হার্জ, যা মানুষের ঊর্ধ্বসীমা ২০,০০০ হার্জের প্রায় পাঁচ গুণ। এই উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ দিয়েই বাদুড় ইকোলোকেশনে পথ চেনে। ডলফিন আরও বেশি, প্রায় ১,৫০,০০০ হার্জ পর্যন্ত শুনতে পারে। শব্দেতর দিকে হাতি ও তিমি ২০ হার্জের কম কম্পাঙ্কে যোগাযোগ করে।
  47. ৭৪. বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করার সময় দিক নির্ণয় করেবিটিভি অডিয়েন্স রিসার্চ অফিসার ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. চোখে দেখে
    • খ. আল্ট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
    • গ. ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে
    • ঘ. সবগুলোই ঠিক
    উত্তর: খ. আল্ট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
    বাদুড় অন্ধকারে দিক চেনে আল্ট্রাসনিক, অর্থাৎ শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে। সে উড়তে উড়তে এই তরঙ্গ ছাড়ে, আর সামনের বাধা থেকে ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনে বাধার দূরত্ব ও অবস্থান বুঝে নেয়। এই কৌশলের নাম ইকোলোকেশন (Echolocation), যা Echo (প্রতিধ্বনি) আর Location (অবস্থান) শব্দ দুটি থেকে এসেছে। বাদুড় ঘ্রাণ বা চোখের ওপর নির্ভর করে না, বরং কান ব্যবহার করে।
  48. ৭৫. For movement and finding proper direction, animals like dolphin and bat use which of the following?Jamuna Bank Probationary Officer 2009 · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. Auditory System
    • খ. Visual System
    • গ. Skin Sensory System
    • ঘ. Sonar System
    • ঙ. None of these
    উত্তর: ঘ. Sonar System
    বাদুড় ও ডলফিন শব্দ বা শব্দোত্তর তরঙ্গ ছড়িয়ে তার প্রতিধ্বনি শুনে পথ ও বাধা চেনে, একে প্রতিধ্বনি-নির্ণয় বা জৈব সোনার পদ্ধতি বলে। তাই প্রত্যাশিত উত্তর Sonar System; কান কেবল এর একটি অংশ।
  49. ৭৬. একটি বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার। এর কম্পাঙ্ক কত?বাংলাদেশ রেলওয়ে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. ৫ মেগাহার্জ
    • খ. ১ মেগাহার্জ
    • গ. ৪ মেগাহার্জ
    • ঘ. ২ মেগাহার্জ
    উত্তর: খ. ১ মেগাহার্জ
    বেতার তরঙ্গ আলোর বেগে চলে, তাই এখানে v = 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড। কম্পাঙ্ক বের করার সূত্র f = v/λ, তাই f = (3 × 10⁸)/300 = 10⁶ Hz, অর্থাৎ ১ মেগাহার্জ। মেগা মানে ১০ লক্ষ, তাই ১০⁶ হার্জ সমান ১ মেগাহার্জ। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বড় হয়, কম্পাঙ্ক তত কম হয়, কারণ বেগ ধ্রুব থাকলে f আর λ উল্টো অনুপাতে বদলায়।
  50. ৭৭. একটি বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। এর কম্পাঙ্ক কত?তথ্য মন্ত্রণালয় সহকারী পরিচালক ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. ৫ মেগাহার্জ
    • খ. ৩ মেগাহার্জ
    • গ. ৪ মেগাহার্জ
    • ঘ. ২ মেগাহার্জ
    উত্তর: ঘ. ২ মেগাহার্জ
    এখানেও বেতার তরঙ্গ আলোর বেগে, অর্থাৎ 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ডে চলে। f = v/λ থেকে f = (3 × 10⁸)/150 = 2 × 10⁶ Hz, অর্থাৎ ২ মেগাহার্জ। আগের প্রশ্নে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছিল ৩০০ মিটার আর কম্পাঙ্ক ১ মেগাহার্জ। এখানে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অর্ধেক হয়েছে, তাই কম্পাঙ্ক হয়েছে দ্বিগুণ। এ থেকে বোঝা যায়, কম্পাঙ্ক আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরস্পরের উল্টো অনুপাতে বদলায়।
  51. ৭৮. দুটি শব্দের কম্পাঙ্কের অনুপাত ৫ : ৬ হলে তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অনুপাত কত?মেডিকেল ভর্তি ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. ৬ : ৫
    • খ. ৫ : ৬
    • গ. ১১ : ৬
    • ঘ. ৬ : ১১
    উত্তর: ক. ৬ : ৫
    একই মাধ্যমে শব্দের বেগ নির্দিষ্ট থাকে। v = fλ সূত্রে v ধ্রুব হলে f আর λ উল্টো অনুপাতে বদলায়। তাই কম্পাঙ্কের অনুপাত ৫ : ৬ হলে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অনুপাত উল্টো, অর্থাৎ ৬ : ৫। যেমন বাতাসে ১০০ হার্জের শব্দের তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৩ মিটার, আর ১০০০ হার্জের শব্দের প্রায় ৩৩ সেন্টিমিটার। কম্পাঙ্ক ১০ গুণ বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ভাগের ১ ভাগ হয়েছে।
  52. ৭৯. Which type of environmental pollution can mainly cause high blood pressure?BSCIC Promotion Officer, 2026 (IBA) · বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৫
    • ক. Air pollution
    • খ. Water pollution
    • গ. Noise pollution
    • ঘ. Soil pollution
    • ঙ. None
    উত্তর: গ. Noise pollution
    দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে দেহে চাপের হরমোন (Stress hormone) বাড়ে আর ঘুম ব্যাহত হয়। এতে রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দনও বাড়ে। এভাবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শব্দদূষণ (Noise pollution) শুধু কানের ক্ষতিই করে না, পুরো দেহের ওপর প্রভাব ফেলে। মাথাব্যথা, অনিদ্রা ও মনোযোগ কমে যাওয়াও এর পরিচিত ক্ষতি।
  53. ৮০. আমরা যখন কথা বলি তখন শব্দশক্তি রূপান্তরিত হয়–কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দশক্তি
    • ক. তড়িৎ শক্তিতে
    • খ. যান্ত্রিক শক্তিতে
    • গ. আলোক শক্তিতে
    • ঘ. গতি শক্তিতে
    উত্তর: খ. যান্ত্রিক শক্তিতে
    আমরা যখন কথা বলি, তখন কণ্ঠের স্বরতন্ত্রী কেঁপে ওঠে এবং সেই কম্পন বাতাসের কণাগুলোকে নাড়ায়। অর্থাৎ বাতাসের কণার যান্ত্রিক কম্পনের মধ্য দিয়েই শব্দ তৈরি হয় ও ছড়ায়। শব্দ আসলে এক ধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই বলা যায় শব্দশক্তি যান্ত্রিক শক্তির রূপেই কাজ করে। একই কারণে শব্দোত্তর (আল্ট্রাসনিক) তরঙ্গের কম্পন সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কারে ও জীবাণু ধ্বংসে কাজে লাগে। অন্যদিকে মাইক্রোফোন বা টেলিফোনের প্রেরক যন্ত্রে এই শব্দশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপ দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    মাইক্রোফোন শব্দশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে বদলায়।
    লাউডস্পিকার তড়িৎ শক্তিকে আবার শব্দশক্তিতে বদলায়।
    শব্দ চলার জন্য মাধ্যম লাগে, শূন্যস্থানে শব্দ চলে না।
  54. ৮১. কোনটি শব্দের তীব্রতা লেভেল পরিমাপের একক?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেসিবেল
    • ক. হার্টজ
    • খ. ডেসিবেল
    • গ. প্যাসকেল
    • ঘ. টেসলা
    উত্তর: খ. ডেসিবেল
    শব্দের তীব্রতা (Intensity) মাপার জন্য আমরা ডেসিবেল (Decibel, dB) একক ব্যবহার করি। এটি আসলে লগারিদমিক মাপ, যেখানে একটি আদর্শ ক্ষীণতম শব্দের তুলনায় কোনো শব্দ কতগুণ জোরালো তা প্রকাশ করা হয়। স্বাভাবিক কথাবার্তা প্রায় 60 dB, আর 120 dB-এর বেশি শব্দ কানের জন্য ব্যথাদায়ক। হার্জ (Hz) কম্পাঙ্কের একক। প্যাসকেল (Pa) চাপের একক। টেসলা (T) চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক।
    মনে রাখুন:
    শব্দের তীব্রতা লেভেলের একক: ডেসিবেল (এর নাম টেলিফোনের আবিষ্কারক গ্রাহাম বেলের নামে)।
    মানুষ প্রায় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়।
  55. ৮২. কোন কারণে শব্দের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হয়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিধ্বনি
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিসরণ
    • গ. উপরিপাতন
    • ঘ. সমপাতন
    উত্তর: ক. প্রতিফলন
    শব্দ কোনো উৎস থেকে বেরিয়ে চারদিকে ছড়ায়। পথে যদি দালান, পাহাড় বা বড় দেয়ালের মতো মসৃণ ও শক্ত তল পায়, তাহলে শব্দ সেই তল থেকে ফিরে আসে। একে শব্দের প্রতিফলন বলে। মূল শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরে ফিরে আসা সেই শব্দ আলাদাভাবে শুনতে পেলে তাকে প্রতিধ্বনি (Echo) বলে। এ জন্য উৎস থেকে প্রতিফলক তলের দূরত্ব অন্তত ১৭ মিটার হতে হয়, যাতে মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকে।
    মনে রাখুন:
    বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় 340 m/s।
    সোনার (Sonar) প্রতিধ্বনি কাজে লাগিয়ে সমুদ্রের গভীরতা মাপে।
    বাদুড় প্রতিধ্বনির সাহায্যে অন্ধকারে চলাফেরা করে।
  56. ৮৩. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কোন বৈশিষ্ট্যটি প্রদর্শন করে না?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তরঙ্গের ধর্ম
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিসরণ
    • গ. অপবর্তন
    • ঘ. পোলারায়ন
    উত্তর: ঘ. পোলারায়ন
    অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গ চলার দিকেই কাঁপে। ফলে এতে সংকোচন ও প্রসারণ তৈরি হয়। প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও অপবর্তন সব ধরনের তরঙ্গেই ঘটে, তাই এগুলো অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গেও দেখা যায়। কিন্তু পোলারায়ন বা সমবর্তন শুধু অনুপ্রস্থ তরঙ্গে সম্ভব। কারণ সমবর্তনে কম্পনকে একটি নির্দিষ্ট তলে সীমাবদ্ধ করা হয়, আর অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের কম্পন একটিমাত্র রেখা বরাবর হয় বলে সেখানে আলাদা তল বেছে নেওয়ার সুযোগই থাকে না। এ কারণেই শব্দ তরঙ্গের পোলারায়ন হয় না, কিন্তু আলোর হয়। এই পার্থক্য থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝেছিলেন যে আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
    মনে রাখুন:
    অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের উদাহরণ: শব্দ তরঙ্গ।
    অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ: আলো, পানির ঢেউ, দড়িতে সৃষ্ট তরঙ্গ।
  57. ৮৪. কোন প্রকার তরঙ্গ পোলারায়িত হয় না?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তরঙ্গের ধর্ম
    • ক. রেডিও তরঙ্গ
    • খ. অতিবেগুনি রশ্মি
    • গ. শব্দতরঙ্গ
    • ঘ. X-ray
    উত্তর: গ. শব্দতরঙ্গ
    পোলারায়ন বা সমবর্তন শুধু অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ধর্ম। এতে কম্পনকে তরঙ্গ চলার দিকের লম্ব একটি নির্দিষ্ট তলে সীমিত করা যায়। রেডিও তরঙ্গ, অতিবেগুনি রশ্মি ও X-ray তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ, আর তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ অনুপ্রস্থ। তাই এদের পোলারায়ন সম্ভব। শব্দ তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য, যার কম্পন তরঙ্গের গতির দিকেই হয়। ফলে সেখানে কম্পনকে আলাদা তলে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ থাকে না। এ কারণে শব্দ তরঙ্গ পোলারায়িত হয় না।
    মনে রাখুন:
    পোলারয়েড বা পোলারাইজারের সাহায্যে আলোর সমবর্তন ঘটানো হয়।
    সমবর্তন প্রমাণ করে যে আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
  58. ৮৫. কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. শূন্য মাধ্যম
    • খ. বায়বীয় মাধ্যম
    • গ. তরল মাধ্যম
    • ঘ. কঠিন মাধ্যম
    উত্তর: ঘ. কঠিন মাধ্যম
    শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, চলতে হলে মাধ্যমের কণা দরকার। কণাগুলো যত কাছাকাছি ও যত দৃঢ়ভাবে যুক্ত, শব্দ তত দ্রুত যায়। কঠিন পদার্থে কণাগুলো সবচেয়ে ঘন ও দৃঢ়, তাই এতে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। তরলে কম এবং বায়বীয় মাধ্যমে আরও কম। শূন্য মাধ্যমে শব্দ একেবারেই চলে না। এ কারণেই মাটিতে কান পেতে আমরা দূরের ট্রেনের আওয়াজ বাতাসের চেয়ে আগে শুনতে পাই।
    মনে রাখুন: ২০°C তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৪৩ মি/সে, পানিতে প্রায় ১৪৮০ মি/সে এবং ইস্পাতে প্রায় ৫০০০ মি/সে।
    তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে, প্রতি ১°C বাড়লে বাতাসে প্রায় ০.৬ m/s।
  59. ৮৬. শূন্য মাধ্যমে শব্দের গতিবেগ কত?স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী/নকশাকার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. ৩৩২ m/s
    • খ. ৪৩২ m/s
    • গ. ২৮০ m/s
    • ঘ. ০
    উত্তর: ঘ. ০
    শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical wave)। এটি চলার জন্য বায়ু, পানি বা কঠিন বস্তুর মতো কোনো জড় মাধ্যম লাগে, কারণ মাধ্যমের কণাগুলো কেঁপে উঠে পাশের কণাকে ধাক্কা দিয়েই শব্দ এগিয়ে যায়। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দ একেবারেই চলতে পারে না। অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০। আলোর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আলাদা, কারণ আলো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ হওয়ায় শূন্যস্থানেও চলে।
    মনে রাখুন:
    বাতাসে (২০° সেলসিয়াসে) শব্দের বেগ প্রায় ৩৪৩ m/s, আর ০° সেলসিয়াসে প্রায় ৩৩২ m/s।
    শব্দ সাধারণত কঠিন পদার্থে সবচেয়ে দ্রুত এবং গ্যাসে সবচেয়ে ধীরে চলে।
  60. ৮৭. আলোর চেয়ে শব্দের বেগ—বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. কম
    • খ. বেশি
    • গ. সমান
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. কম
    শব্দ চলতে মাধ্যম লাগে, সাধারণ তাপমাত্রায় বাতাসে এর বেগ প্রায় ৩৪০ মি/সে। আলো শূন্য মাধ্যমেও চলতে পারে এবং এর বেগ প্রায় 3 × 10^8 মি/সে। দুটি বেগের তুলনা করলে দেখা যায় আলোর বেগ শব্দের বেগের চেয়ে বহু গুণ বেশি। তাই শব্দের বেগ আলোর চেয়ে কম। মেঘের বিদ্যুৎ চমক আমরা আগে দেখি আর গর্জন পরে শুনি, এটিই তার প্রমাণ।
    মনে রাখুন: শব্দের বেগ মাধ্যমভেদে বদলায়, কঠিনে সবচেয়ে বেশি, গ্যাসে সবচেয়ে কম।
    সূর্যের শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝের মহাশূন্যে শব্দ চলার মাধ্যম নেই।
  61. ৮৮. কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. বায়বীয়
    • খ. তরল
    • গ. শূন্য
    • ঘ. কঠিন
    উত্তর: ঘ. কঠিন
    শব্দ চলতে মাধ্যম লাগে। যে মাধ্যমে কণাগুলো যত কাছাকাছি থাকে, সেখানে কম্পন তত দ্রুত ছড়ায়। কঠিন পদার্থে কণা সবচেয়ে ঘন এবং কণাগুলোর মধ্যকার বন্ধন শক্ত, তাই শব্দ সেখানে সবচেয়ে দ্রুত চলে। বায়ুতে কণা অনেক দূরে দূরে থাকে, ফলে এই বেগ সবচেয়ে কম। এ কারণেই রেললাইনে কান পাতলে দূরের ট্রেনের শব্দ বাতাসের আগেই শোনা যায়।
    মনে রাখুন:
    শব্দের বেগের ক্রম কঠিন > তরল > গ্যাস।
    শূন্যস্থানে শব্দ একেবারেই চলে না।
    সাধারণ তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড, পানিতে প্রায় ১৫০০ মিটার/সেকেন্ড।
    তাই আলো ও শব্দের একটি বড় পার্থক্য হলো, আলোর জন্য মাধ্যম লাগে না কিন্তু শব্দের জন্য লাগে।
  62. ৮৯. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক কোনটি?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের তীব্রতা
    • ক. Hz
    • খ. dB
    • গ. Ωm⁻²
    • ঘ. Ωm⁻¹
    উত্তর: খ. dB
    শব্দের তীব্রতা বা জোর পরিমাপের একক ডেসিবেল (decibel), সংক্ষেপে dB। এর নামকরণ করা হয়েছে টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের নামে। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz), যা শব্দের তীক্ষ্ণতা বোঝায়। শব্দের জোর আর তীক্ষ্ণতা তাই এক জিনিস নয়, এ দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য। বেশি ডেসিবেলের শব্দ দীর্ঘদিন শুনলে কানের ক্ষতি হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ কথাবার্তার শব্দ প্রায় ৬০ ডেসিবেল।
    মানুষের কান সাধারণত ২০ হার্জ থেকে ২০০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। একে শ্রাব্য সীমা বলে।
    শব্দের তীব্রতার SI একক ওয়াট/মিটার² (W/m²)।
    ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ দীর্ঘক্ষণ শুনলে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।
  63. ৯০. কোনটি শব্দের (Sound) ক্ষেত্রে সত্য?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের মাধ্যম
    • ক. শব্দ তরল মাধ্যমে চলতে পারে না
    • খ. শব্দ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না
    • গ. শব্দ কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে না
    • ঘ. উপরের সবকয়টি
    উত্তর: খ. শব্দ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না
    শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই চলার জন্য বায়ু, পানি বা কঠিন পদার্থের মতো কোনো মাধ্যম লাগে। শূন্যস্থানে কোনো মাধ্যম নেই বলে শব্দ সেখানে চলতে পারে না। চাঁদে বা মহাশূন্যে তাই কিছু শোনা যায় না। আলো এর ঠিক উল্টো, কারণ আলো তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ হওয়ায় শূন্যস্থানের মধ্য দিয়েও চলতে পারে। সূর্য থেকে আলো আমাদের কাছে পৌঁছায়, কিন্তু সেখানকার বিস্ফোরণের শব্দ আমরা শুনতে পাই না।
    মনে রাখুন:
    শব্দের বেগ কঠিন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি, তারপর তরলে এবং গ্যাসে সবচেয়ে কম।
    বায়ুতে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড। তাপমাত্রা বাড়লে এই বেগ বাড়ে।
    পানিতে শব্দের বেগ ১৪০০ মিটার/সেকেন্ডের বেশি।
  64. ৯১. শব্দের উৎপত্তির কারণ—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উপসহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের উৎপত্তি
    • ক. শব্দ তরঙ্গ
    • খ. প্রতিধ্বনি
    • গ. বস্তুর কম্পন
    • ঘ. বস্তুর তাপমাত্রা
    উত্তর: গ. বস্তুর কম্পন
    কোনো বস্তুতে আঘাত করলে বা টান দিলে তা দ্রুত কাঁপতে থাকে। এই কম্পন চারপাশের বায়ুকে কাঁপিয়ে তরঙ্গ তৈরি করে, আর তরঙ্গ কানে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনি। তাই কম্পন ছাড়া শব্দ সৃষ্টি হয় না। শব্দ তরঙ্গ হলো কম্পনের ফল, কিন্তু উৎপত্তির মূল কারণ বস্তুর কম্পন।
    মনে রাখুন:
    শব্দ চলার জন্য মাধ্যম লাগে, তাই শূন্যস্থানে শব্দ চলতে পারে না।
    প্রতিধ্বনি হলো শব্দের প্রতিফলনের ফল, যা শুনতে অন্তত প্রায় ১৭ মিটার দূরে প্রতিফলক লাগে।
    শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
    আমরা ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই, একে শ্রাব্য শব্দ বলে।
  65. ৯২. তড়িৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয় যে যন্ত্রের মাধ্যমে তা হলো—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লাউডস্পিকার
    • ক. অ্যামপ্লিফায়ার
    • খ. জেনারেটর
    • গ. লাউড স্পিকার
    • ঘ. মাইক্রোফোন
    উত্তর: গ. লাউড স্পিকার
    লাউড স্পিকারে তড়িৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এর ভেতরে একটি কুণ্ডলী থাকে, যা একটি চুম্বকের কাছে বসানো। কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চুম্বকের প্রভাবে সেটি কাঁপে। কুণ্ডলীর সঙ্গে লাগানো পর্দাও (ডায়াফ্রাম) তখন কাঁপে, ফলে বাতাসে শব্দতরঙ্গ তৈরি হয়। সেই কম্পনই আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।
    মনে রাখুন:
    মাইক্রোফোনে ঠিক উল্টোটা ঘটে। এখানে শব্দশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
    জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তর করে।
    অ্যামপ্লিফায়ার দুর্বল সংকেতকে শক্তিশালী করে।
    মোটর তড়িৎশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং হিটার তড়িৎশক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর করে।
    লাউড স্পিকারের পর্দা কাগজ বা পাতলা প্লাস্টিকের তৈরি শঙ্কু আকারের হয়, যাতে বেশি বাতাস কাঁপে।
  66. ৯৩. চলার পথে প্রতিবন্ধকের উপস্থিতি কিংবা খাদ্যবস্তুর অবস্থান নির্ণয়ে বাদুড় কী ব্যবহার করে?স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অতিশব্দ
    • ক. শব্দের তরঙ্গ
    • খ. শ্রাব্যতার তরঙ্গ
    • গ. শব্দোত্তর তরঙ্গ
    • ঘ. উপরের সবগুলো
    উত্তর: গ. শব্দোত্তর তরঙ্গ
    বাদুড় রাতের অন্ধকারে চোখ দিয়ে ভালো দেখতে পায় না। তাই উড়ার সময় সে শব্দোত্তর তরঙ্গ (Ultrasound) ছাড়ে। এই তরঙ্গ কোনো বাধা বা খাবারের গায়ে লেগে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে। ফিরে আসা প্রতিধ্বনি থেকে বাদুড় বুঝে নেয় বাধা কত দূরে আছে এবং কোন দিকে। এই কৌশলকে প্রতিধ্বনি দিয়ে অবস্থান নির্ণয় (Echolocation) বলে।
    মনে রাখুন:
    মানুষ ২০ হার্টজ থেকে ২০,০০০ হার্টজ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়, একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। ২০,০০০ হার্টজের বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শব্দোত্তর বা আলট্রাসাউন্ড।
    ২০ হার্টজের কম কম্পাঙ্কের শব্দকে infrasound বা অবশব্দ বলে।
    একই নীতিতে সোনার (SONAR) যন্ত্র সাগরের গভীরতা মাপে। চিকিৎসায় আলট্রাসনোগ্রাফিও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
  67. ৯৪. মানুষের শ্রাব্যতার সীমা কত?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রাব্যতার সীমা
    • ক. 20 Hz থেকে 200 Hz
    • খ. 20 Hz থেকে 2000 Hz
    • গ. 20 Hz থেকে 20000 Hz
    • ঘ. 20 Hz থেকে 200000 Hz
    উত্তর: গ. 20 Hz থেকে 20000 Hz
    মানুষের কান সব কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায় না। সাধারণভাবে 20 Hz থেকে 20000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ আমরা শুনতে পাই, এই পরিসরকে শ্রাব্যতার সীমা বলে। 20 Hz-এর কম কম্পাঙ্কের শব্দকে অবশ্রুত শব্দ আর 20000 Hz-এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দকে শব্দোত্তর শব্দ (Ultrasound) বলা হয়। এই দুই ধরনের শব্দ আমরা শুনতে পাই না।
    মনে রাখুন:
    বাদুড় শব্দোত্তর শব্দ তৈরি করে ও শোনে।
    চিকিৎসায় আলট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
    শব্দের একক হার্টজ (Hz)।
    শ্রাব্যতার সীমা বয়সের সঙ্গে কমে যায়, তাই বয়স্ক মানুষ উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ কম শোনেন। কুকুর প্রায় 45000 Hz পর্যন্ত শব্দ শুনতে পায়।
  68. ৯৫. শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩০ মিটার হলে, ২৭৫ মিটার গভীর কোনো কুয়ার কাছে দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে কত সেকেন্ড পর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিধ্বনি
    • ক. ৫/৩ সেকেন্ড
    • খ. ৬/৫ সেকেন্ড
    • গ. ২/৩ সেকেন্ড
    • ঘ. ১/২ সেকেন্ড
    উত্তর: ক. ৫/৩ সেকেন্ড
    হাততালি দিলে শব্দ কুয়ার তলায় গিয়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। এতে শব্দকে মোট 2h দূরত্ব যেতে হয়, কারণ নামতে h আর ফিরে উঠতে আবার h। সুতরাং সময় t = 2h / v। এখানে h = 275 m, v = 330 m/s। তাই t = (2 × 275) / 330 = 550 / 330 = 5/3 সেকেন্ড (প্রায় 1.67 s)।
    মনে রাখুন: প্রতিধ্বনি আলাদাভাবে শুনতে হলে প্রতিফলকের দূরত্ব কমপক্ষে প্রায় 17 m হতে হয়।
    প্রতিধ্বনি তখনই আলাদাভাবে শোনা যায় যখন মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের ব্যবধান অন্তত 0.1 সেকেন্ড হয়। শব্দের বেগ 340 m/s ধরলে এর জন্য প্রতিফলক থেকে ন্যূনতম দূরত্ব হয় প্রায় 17 মিটার।
    সোনার ও গভীর সমুদ্রের গভীরতা মাপতে প্রতিধ্বনির এই নীতিই কাজে লাগে।
  69. ৯৬. আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রটি যে নীতিতে কাজ করে-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আল্ট্রাসাউন্ড
    • ক. আলোর প্রতিসরণ
    • খ. আলোর প্রতিফলন
    • গ. আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
    • ঘ. শব্দের প্রতিফলন
    উত্তর: ঘ. শব্দের প্রতিফলন
    আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography) যন্ত্রে মানুষের শোনার সীমার বাইরের উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ, অর্থাৎ শব্দোত্তর তরঙ্গ (Ultrasound) শরীরের ভেতরে পাঠানো হয়। এই তরঙ্গ বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে বাধা পেয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, আর সেই প্রতিধ্বনি থেকে কম্পিউটার পর্দায় অঙ্গটির ছবি তৈরি হয়। তাই যন্ত্রটি শব্দের প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
    মনে রাখুন:
    মানুষ সাধারণত 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়, 20,000 Hz-এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দকে শব্দোত্তর বলে।
    বাদুড় ও ডলফিন শব্দোত্তর তরঙ্গের প্রতিফলন কাজে লাগিয়ে পথ চলে।
    সমুদ্রের গভীরতা মাপার সোনার (SONAR) যন্ত্রও একই নীতিতে কাজ করে।
  70. ৯৭. কোন বস্তুর কম্পন কোন একক দিয়ে মাপা হয়?বাংলাদেশ রোড অথরিটির সহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কম্পাঙ্ক
    • ক. সেকেন্ড
    • খ. হার্টস
    • গ. মিটার
    • ঘ. মিটার/সে.
    উত্তর: খ. হার্টস
    কোনো বস্তু এক সেকেন্ডে যতবার পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে, তাকে তার কম্পাঙ্ক (Frequency) বলে। কম্পাঙ্কের একক হার্টজ (Hz), যার নামকরণ হয়েছে জার্মান পদার্থবিদ হাইনরিখ হার্টজের নামে। এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন হলে কম্পাঙ্ক হয় 1 Hz। সেকেন্ড সময়ের একক, মিটার দৈর্ঘ্যের একক এবং মিটার/সেকেন্ড বেগের একক, তাই কম্পনের হার মাপতে এগুলো ব্যবহার করা যায় না।
    মনে রাখুন:
    কম্পাঙ্কের বিপরীত রাশি হলো পর্যায়কাল, যার একক সেকেন্ড।
    f = 1/T।
    মানুষের কান সাধারণত 20 Hz থেকে 20000 Hz পর্যন্ত কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়।
  71. ৯৮. শব্দ সঞ্চালনের জন্য কোনটি দরকার?ডাক বিভাগ পোস্টাল অপারেটর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দ তরঙ্গ
    • ক. তাপ
    • খ. মাধ্যম
    • গ. চাপ
    • ঘ. আলো
    উত্তর: খ. মাধ্যম
    শব্দ উৎপন্ন হয় কম্পনের ফলে। সেই কম্পন একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ হিসেবে চারদিকে ছড়ায়, আর এর জন্য কণা দিয়ে গঠিত একটি মাধ্যম লাগে। মাধ্যমের কণাগুলো একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে কম্পনকে সামনের দিকে পৌঁছে দেয়। তাই শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য। এজন্য বায়ুশূন্য স্থানে শব্দ চলে না।
    মনে রাখুন:
    কোনো ঘণ্টাকে বায়ুশূন্য কাচের জারে রেখে বাজালে শব্দ শোনা যায় না, যদিও ঘণ্টাটিকে নড়তে দেখা যায়।
    আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, তাই এর চলার জন্য মাধ্যম লাগে না।
  72. ৯৯. শব্দ কোন মাধ্যমে গমন করে?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. কঠিন
    • খ. তরল
    • গ. গ্যাস
    • ঘ. উপরের সবগুলো
    উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
    শব্দ কঠিন, তরল ও গ্যাস, এই তিন অবস্থার মাধ্যমেই চলতে পারে, কারণ এসব মাধ্যমের কণাগুলো কম্পন বহন করে। তবে মাধ্যম ভেদে শব্দের বেগ আলাদা হয়। কণাগুলো যত কাছাকাছি এবং যত বেশি স্থিতিস্থাপক, শব্দ তত দ্রুত চলে। তাই বায়ুতে শব্দের বেগ প্রায় 332 m/s, পানিতে প্রায় 1500 m/s এবং ইস্পাতে প্রায় 5000 m/s।
    মনে রাখুন:
    সাধারণত শব্দের বেগ কঠিন > তরল > গ্যাস ক্রমে কমে।
    রেললাইনে কান পাতলে দূরের ট্রেনের শব্দ বাতাসের আগেই শোনা যায়, কারণ লোহায় শব্দ অনেক দ্রুত চলে।
  73. ১০০. প্রতিধ্বনি -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিধ্বনি
    • ক. সব সময়ই মূল শব্দের চেয়ে জোরালো হয়
    • খ. উৎস থেকে উৎপন্ন দ্বিতীয় পর্যায়ের অগ্রসরমান শব্দতরঙ্গ
    • গ. দ্বিতীয় কোন মাধ্যম দ্বারা শব্দতরঙ্গের প্রতিফলনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
    • ঘ. সবসময় মূল শব্দ যেদিকে ভ্রমণ করে সেদিকে সঞ্চারিত হয়
    উত্তর: গ. দ্বিতীয় কোন মাধ্যম দ্বারা শব্দতরঙ্গের প্রতিফলনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
    শব্দতরঙ্গ কোনো বাধার গায়ে পড়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে তাকে প্রতিধ্বনি (Echo) বলে। অর্থাৎ প্রতিধ্বনি হলো দ্বিতীয় কোনো মাধ্যম বা বাধা দ্বারা শব্দের প্রতিফলনের ফলে সৃষ্ট শব্দ। যেমন, পাহাড় বা বড় দালানের দিকে মুখ করে চিৎকার করলে একটু পরে সেই শব্দ ফিরে আসে। প্রতিফলনে কিছু শক্তি শোষিত হয়, তাই প্রতিধ্বনি মূল শব্দের চেয়ে ক্ষীণ হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের ব্যবধান থাকতে হয়।
    প্রতিধ্বনি মূল শব্দের উল্টো দিকে ফিরে আসে।
  74. ১০১. যদি চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে তবে তা পৃথিবীতে কত সময়ে শুনা যাবে?৫ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের দ্রুতি
    • ক. তৎক্ষণাৎ
    • খ. ৬ সেকেন্ডে
    • গ. ৬০ মিনিটে
    • ঘ. কখনও শুনা যাবে না
    উত্তর: ঘ. কখনও শুনা যাবে না
    শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই এটি চলতে কঠিন, তরল বা বায়বীয় কোনো জড় মাধ্যম লাগে। চাঁদ আর পৃথিবীর মাঝের প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার পথ প্রায় সম্পূর্ণ বায়ুশূন্য। তাই চাঁদে যত বড় বিস্ফোরণই ঘটুক, তার শব্দ এই শূন্যস্থান পেরিয়ে পৃথিবীতে কখনও পৌঁছাবে না। তবে বিস্ফোরণের আলো আমরা দেখতে পাব, কারণ আলো তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ এবং শূন্যস্থানেও চলতে পারে। চাঁদ থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে মাত্র ১.৩ সেকেন্ডের মতো সময় লাগে।
    মনে রাখুন:
    শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।
    শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ m/s।
  75. ১০২. বাঁদুড়ের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা হলো -৮ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দোত্তর তরঙ্গ
    • ক. ৪৫০০০ Hz
    • খ. ১০০০০০ Hz
    • গ. ৩৫০০০ Hz
    • ঘ. ২০০০০ Hz
    উত্তর: খ. ১০০০০০ Hz
    বাদুড় প্রায় ১,০০,০০০ হার্টজ বা ১০০ কিলোহার্টজ পর্যন্ত কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। মানুষের শ্রাব্যতার উপরের সীমা মাত্র ২০,০০০ হার্টজ, তাই বাদুড়ের তৈরি অনেক শব্দই আমাদের কাছে পৌঁছায় না। বাদুড় উড়ে চলার সময় নিজেই উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ সামনের বাধা বা পোকামাকড়ে লেগে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে। বাদুড় সেই প্রতিধ্বনি শুনে বুঝে নেয় সামনে কী আছে এবং কত দূরে আছে। এই পদ্ধতিকে প্রতিধ্বনির সাহায্যে অবস্থান নির্ণয় বা ইকোলোকেশন (Echolocation) বলে।
    মনে রাখুন:
    মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ থেকে ২০,০০০ হার্টজ।
    কুকুর প্রায় ৪৫,০০০ হার্টজ পর্যন্ত শুনতে পারে।
    ডলফিনও শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে শিকার খোঁজে।
  76. ১০৩. একটি বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার। এর কম্পাঙ্ক কত?বাংলাদেশ বেতারের ইঞ্জিনিয়ার · বইয়ের অনুচ্ছেদ তরঙ্গের বেগ ও কম্পাঙ্ক
    • ক. ৫ মেগাহার্টজ
    • খ. ১ মেগাহার্টজ
    • গ. ৪ মেগাহার্টজ
    • ঘ. ২ মেগাহার্টজ
    উত্তর: খ. ১ মেগাহার্টজ
    বেতার তরঙ্গ এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, তাই এটি আলোর বেগে, অর্থাৎ 3 × 10⁸ m/s বেগে চলে। যেকোনো তরঙ্গের বেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক হলো v = fλ। তাই কম্পাঙ্ক f = v/λ = (3 × 10⁸)/300 = 10⁶ Hz, যা ১ মেগাহার্টজের সমান। সম্পর্কটি থেকে বোঝা যায়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বড় হয়, কম্পাঙ্ক তত কম হয়। এজন্য মিডিয়াম ওয়েভ (AM) রেডিওর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কয়েকশো মিটার এবং কম্পাঙ্ক প্রায় ৫৩০ থেকে ১৭০০ কিলোহার্টজ। অন্যদিকে এফএম রেডিও প্রায় ১০০ মেগাহার্টজে চলে এবং এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য মাত্র ৩ মিটারের মতো।
    মনে রাখুন:
    ১ মেগাহার্টজ = 10⁶ Hz।
    বেতার তরঙ্গ চলতে কোনো মাধ্যম লাগে না।
  77. ১০৪. একটি বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। এর কম্পাঙ্ক কত?তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (গণযোগাযোগ) · বইয়ের অনুচ্ছেদ তরঙ্গের বেগ ও কম্পাঙ্ক
    • ক. ৫ মেগাহার্টজ
    • খ. ৩ মেগাহার্টজ
    • গ. ৪ মেগাহার্টজ
    • ঘ. ২ মেগাহার্টজ
    উত্তর: ঘ. ২ মেগাহার্টজ
    বেতার তরঙ্গ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, তাই এর বেগ আলোর বেগের সমান, অর্থাৎ 3 × 10⁸ m/s। বেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক v = fλ থেকে পাই f = v/λ। এখানে f = (3 × 10⁸)/150 = 2 × 10⁶ Hz, যা ২ মেগাহার্টজের সমান। লক্ষ করার মতো ব্যাপার হলো, ৩০০ মিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ১ মেগাহার্টজ। তরঙ্গদৈর্ঘ্য অর্ধেক করে ১৫০ মিটার করলে কম্পাঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে ২ মেগাহার্টজ হয়। কারণ বেগ স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরস্পরের ব্যস্তানুপাতিক।
    মনে রাখুন:
    কম্পাঙ্কের একক হার্টজ (Hz), যার নাম বিজ্ঞানী হাইনরিখ হার্টজের নামে।
    ১ কিলোহার্টজ = 10³ Hz এবং ১ মেগাহার্টজ = 10⁶ Hz।
  78. ১০৫. চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হলে ঐ বিস্ফোরণের শব্দ কতক্ষণ পর পৃথিবীতে শোনা যাবে?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৫ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের মাধ্যম
    • ক. ১.৩০ মিনিট
    • খ. ২.০০ মিনিট
    • গ. ২.৩০ মিনিট
    • ঘ. কোনটি নয়
    উত্তর: ঘ. কোনটি নয়
    শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave), যা চলার জন্য বাতাস, পানি বা কঠিন পদার্থের মতো কোনো জড় মাধ্যম লাগে। মাধ্যমের কণাগুলো কেঁপে উঠে পাশের কণাকে ধাক্কা দিলে তবেই শব্দ সামনে এগোয়। চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, আর চাঁদ ও পৃথিবীর মাঝের প্রায় পুরো পথটাই শূন্য মহাকাশ। তাই চাঁদে যত বড় বিস্ফোরণই হোক, তার শব্দ কখনো পৃথিবীতে পৌঁছাবে না। তবে বিস্ফোরণের আলো ঠিকই আসবে, কারণ আলো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং শূন্যেও চলতে পারে।
    মনে রাখুন:
    বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার প্রতি সেকেন্ড।
    শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে কঠিন মাধ্যমে।
    চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড লাগে।
  79. ১০৬. বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা হলো-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৮ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রাব্যতার সীমা
    • ক. ৪৫,০০০ Hz
    • খ. ১,০০,০০০ Hz
    • গ. ৩৫,০০০ Hz
    • ঘ. ২০,০০০ Hz
    উত্তর: খ. ১,০০,০০০ Hz
    মানুষ সাধারণত ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়, এই সীমাকে শ্রাব্যতার সীমা (Audible Range) বলে। বাদুড়ের কান এর চেয়ে অনেক উঁচু কম্পাঙ্কের শব্দ ধরতে পারে, এর শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা প্রায় ১,০০,০০০ Hz। ২০,০০০ Hz-এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে। বাদুড় ওড়ার সময় মুখ দিয়ে এমন তরঙ্গ ছাড়ে, আর সামনের বস্তু থেকে প্রতিধ্বনি ফিরে এলে সেটি শুনে দূরত্ব ও অবস্থান বুঝে নেয়। এভাবে অন্ধকারেও বাদুড় বাধা এড়িয়ে উড়তে এবং পোকা ধরতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ২০ Hz-এর কম কম্পাঙ্কের শব্দকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
    কুকুর প্রায় ৫০,০০০ Hz পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারে।
    শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে সমুদ্রের গভীরতা মাপার যন্ত্রকে সোনার বলে।
  80. ১০৭. 'আলট্রাসনোগ্রাফি' হচ্ছে-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৯ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দোত্তর তরঙ্গ
    • ক. শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
    • খ. শরীরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
    • গ. শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ বিশ্লেষণ
    • ঘ. নতুন ধরনের এক্সরে
    উত্তর: খ. শরীরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
    আলট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography) হলো শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে দেহের ভেতরের ছবি তোলার একটি পদ্ধতি। ২০,০০০ Hz-এর চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, আর কম্পাঙ্ক বেশি হওয়ায় এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ক্ষুদ্র। একটি যন্ত্র দেহের ওপর রেখে এই তরঙ্গ ভেতরে পাঠানো হয়, তরঙ্গ বিভিন্ন অঙ্গে বাধা পেয়ে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে। কম্পিউটার সেই প্রতিধ্বনি থেকে পর্দায় অঙ্গের ছবি তৈরি করে। এতে এক্স-রের মতো ক্ষতিকর বিকিরণ নেই, তাই গর্ভের শিশুর অবস্থা দেখতে এটি নিরাপদ।
    মনে রাখুন:
    পিত্তথলি বা কিডনির পাথর শনাক্ত করতেও আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
    শক্তিশালী শব্দ তরঙ্গ দিয়ে কিডনির পাথর ভাঙার পদ্ধতিকে লিথোট্রিপসি বলে।
  81. ১০৮. চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ধারণ ক্ষমতা কত ডেসিবেল?বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিসংখ্যান সহকারী, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেসিবেল
    • ক. ৪৫-৫৫ ডেসিবেল
    • খ. ৩৫-৪৫ ডেসিবেল
    • গ. ৫৫-৬৫ ডেসিবেল
    • ঘ. ২৫-৩৫ ডেসিবেল
    উত্তর: ক. ৪৫-৫৫ ডেসিবেল
    শব্দের তীব্রতা মাপার একক ডেসিবেল (Decibel)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে মানুষের কানের জন্য স্বস্তিদায়ক শব্দের মাত্রা প্রায় ৪৫ ডেসিবেল, আর সাধারণভাবে ৪৫ থেকে ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দকে মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ধারণ ক্ষমতা ধরা হয়। এর চেয়ে জোরালো শব্দ দীর্ঘক্ষণ শুনলে মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মনোযোগ নষ্ট হওয়া এবং ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এজন্যই শহরে শব্দদূষণকে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ কথাবার্তার শব্দ প্রায় ৬০ ডেসিবেল।
    প্রায় ১০৫ ডেসিবেলের বেশি তীব্র শব্দে মানুষ স্থায়ীভাবে বধির হতে পারে।
    ডেসিবেল এককটির নাম বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের নামানুসারে।
  82. ১০৯. যে সর্বোচ্চ শ্রুতিসীমার উপরে মানুষ বধির হতে পারে তা-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), লাইন ক্রু লেভেল-১, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দদূষণ
    • ক. ৭৫ ডেসিবেল
    • খ. ৯০ ডেসিবেল
    • গ. ১০৫ ডেসিবেল
    • ঘ. ১২০ ডেসিবেল
    উত্তর: গ. ১০৫ ডেসিবেল
    শব্দের তীব্রতা ডেসিবেল (Decibel) এককে মাপা হয়। আমাদের কান একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত শব্দ সহ্য করতে পারে। সাধারণভাবে বলা হয়, শব্দের তীব্রতা ১০৫ ডেসিবেলের বেশি হলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ স্থায়ীভাবে বধির হয়ে যেতে পারে। কলকারখানা, জোরালো হর্ন, মাইক বা আতশবাজির শব্দ অনেক সময় এই মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দের কাছে কাজ করতে হলে কানে সুরক্ষা ব্যবহার করা উচিত।
    মনে রাখুন:
    স্বস্তিদায়ক শব্দের মাত্রা প্রায় ৪৫ ডেসিবেল।
    প্রায় ১২০ ডেসিবেলের শব্দে কানে ব্যথা অনুভূত হয়।
  83. ১১০. বাতাসে শব্দের গতি ঘন্টায় কত মাইল?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জুনিয়র অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. ৭৫৭ মাইল
    • খ. ১১৫৭মাইল
    • গ. ৩৮৫৭মাইল
    • ঘ. ২০৫৭মাইল
    উত্তর: ক. ৭৫৭ মাইল
    স্বাভাবিক তাপমাত্রার বাতাসে শব্দের বেগ (Speed of Sound) প্রায় ৩৩২ থেকে ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড। এক ঘণ্টায় ৩৬০০ সেকেন্ড আর এক মাইলে প্রায় ১৬০৯ মিটার ধরে হিসাব করলে মান দাঁড়ায় ঘণ্টায় প্রায় ৭৫০ থেকে ৭৭০ মাইল: 340 × 3600 ÷ 1609 ≈ 761। তাই প্রদত্ত মানগুলোর মধ্যে ঘণ্টায় ৭৫৭ মাইলই সঠিক। তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসে শব্দের বেগও বাড়ে, প্রতি ১° সেলসিয়াসে প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড করে।
    মনে রাখুন:
    শব্দের বেগ কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম আর গ্যাসে সবচেয়ে কম।
    পানিতে শব্দের বেগ প্রায় ১৫০০ মিটার/সেকেন্ড।
    শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলতে পারে না।
  84. ১১১. লাউড স্পীকারে নিচের কোনটি ঘটে?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জুনিয়র শিক্ষক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের রূপান্তর
    • ক. তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
    • খ. যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
    • গ. বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে
    • ঘ. শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে
    উত্তর: ক. তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
    লাউড স্পিকারের (Loudspeaker) ভেতরে একটি স্থায়ী চুম্বক ও তার কাছে একটি কয়েল থাকে, আর কয়েলটি একটি কাগজ বা প্লাস্টিকের পর্দার সঙ্গে লাগানো থাকে। অ্যামপ্লিফায়ার থেকে আসা বৈদ্যুতিক সংকেত কয়েলের ভেতর দিয়ে গেলে চুম্বকের সঙ্গে আকর্ষণ-বিকর্ষণে পর্দাটি সামনে-পেছনে কাঁপতে থাকে। এই কম্পন চারপাশের বাতাসে শব্দ তরঙ্গ তৈরি করে। তাই সামগ্রিকভাবে লাউড স্পিকার তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। ঠিক উল্টো কাজটি করে মাইক্রোফোন (Microphone), যা শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
    মনে রাখুন:
    বৈদ্যুতিক মোটর: তড়িৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি।
    জেনারেটর: যান্ত্রিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তি।
  85. ১১২. বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করার সময় কীভাবে দিক নির্ণয় করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (১ম ধাপ; ১২ জেলা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রবণোত্তর শব্দ
    • ক. চোখে দেখে
    • খ. ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে
    • গ. আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
    • ঘ. সবগুলোই ঠিক
    উত্তর: গ. আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
    বাদুড় অন্ধকারে চোখের ওপর নির্ভর করে চলে না। এটি মুখ বা নাক দিয়ে খুব উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ ছোড়ে, যার কম্পাঙ্ক ২০,০০০ হার্জের বেশি। এমন শব্দ আমরা শুনতে পাই না, তাই একে শ্রবণোত্তর শব্দ বা আলট্রাসনিক শব্দ (Ultrasonic sound) বলে। শব্দটি সামনে কোনো বাধা বা পোকামাকড়ে লেগে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে। বাদুড় সেই প্রতিধ্বনি শুনে বুঝে নেয় বস্তুটি কত দূরে ও কোন দিকে আছে। প্রতিধ্বনি শুনে বস্তুর অবস্থান বোঝার এই কৌশলকে ইকোলোকেশন (Echolocation) বলে। ডলফিনও একই কৌশলে চলাফেরা ও শিকার করে।
    মনে রাখুন:
    মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ।
    সোনার যন্ত্রে শ্রবণোত্তর শব্দ দিয়ে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়।
  86. ১১৩. শব্দ রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হল-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (হেমন্ত; মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দ রেকর্ডিং
    • ক. Barometer
    • খ. Lactometer
    • গ. Phonograph
    • ঘ. Odometer
    উত্তর: গ. Phonograph
    শব্দকে ধরে রেখে পরে আবার শোনানোর জন্য প্রথম যে যন্ত্র তৈরি হয়, তার নাম ফনোগ্রাফ (Phonograph)। মার্কিন বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন ১৮৭৭ সালে এটি আবিষ্কার করেন। কথা বললে শব্দের কম্পনে একটি পাতলা পর্দা কাঁপত, আর পর্দার সঙ্গে লাগানো সুই ঘুরন্ত সিলিন্ডারের গায়ে খাঁজ কেটে সেই কম্পন ধরে রাখত। পরে সুইটি একই খাঁজের ওপর দিয়ে চালালে আবার সেই শব্দ শোনা যেত। এই ধারণা থেকেই পরে গ্রামোফোন রেকর্ড তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    ব্যারোমিটার দিয়ে বায়ুর চাপ মাপা হয়।
    ল্যাকটোমিটার দিয়ে দুধের বিশুদ্ধতা যাচাই করা হয়।
    ওডোমিটার দিয়ে গাড়ির অতিক্রান্ত দূরত্ব মাপা হয়।
  87. ১১৪. কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (হোয়াংহো), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. শূন্যতা
    • খ. কঠিন পদার্থে
    • গ. তরল পদার্থে
    • ঘ. বায়বীয় পদার্থে
    উত্তর: খ. কঠিন পদার্থে
    শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical wave), অর্থাৎ মাধ্যমের কণাগুলো একটির পর একটি কেঁপে কম্পনকে সামনে এগিয়ে নেয়। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি থাকে এবং দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে, তাই একটি কণার কম্পন দ্রুত পাশের কণায় পৌঁছায়। এ কারণে কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম আর বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দ চলতেই পারে না। এজন্য মহাশূন্যে নভোচারীরা রেডিওর সাহায্যে কথা বলেন।
    মনে রাখুন:
    ০° সেলসিয়াসে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড।
    পানিতে শব্দের বেগ প্রায় ১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড।
    ইস্পাতে শব্দের বেগ ৫০০০ মিটার/সেকেন্ডেরও বেশি।
  88. ১১৫. কোনো মাধ্যমের তাপমাত্রা বাড়ালে ঐ মাধ্যমে শব্দের গতি-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের বেগ
    • ক. কমে
    • খ. বাড়ে
    • গ. অপরিবর্তিত থাকে
    • ঘ. অনিয়মিত হয়
    উত্তর: খ. বাড়ে
    শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে এগিয়ে চলে। কোনো মাধ্যমের, বিশেষ করে বাতাসের তাপমাত্রা বাড়ালে এর অণুগুলো আরও দ্রুত ছোটাছুটি করে, ফলে একটি অণুর কম্পন তাড়াতাড়ি পাশের অণুতে পৌঁছে যায়। তাই তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগ (Speed of sound) বাড়ে। হিসাব করে দেখা গেছে, বাতাসে তাপমাত্রা প্রতি ১° সেলসিয়াস বাড়লে শব্দের বেগ প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বাড়ে। এ কারণে গরমকালে শব্দ শীতকালের চেয়ে সামান্য দ্রুত চলে। মজার ব্যাপার হলো, তাপমাত্রা একই থাকলে বাতাসের চাপ বদলালেও শব্দের বেগ বদলায় না।
    মনে রাখুন:
    ০° সেলসিয়াসে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড।
    আর্দ্র বাতাসে শব্দের বেগ শুষ্ক বাতাসের চেয়ে বেশি।
  89. ১১৬. শব্দ তরঙ্গ চলতে পারে না-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (রাইন), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের সঞ্চালন
    • ক. শূন্য মাধ্যমে
    • খ. কঠিন মাধ্যমে
    • গ. তরল মাধ্যমে
    • ঘ. বায়বীয় মাধ্যমে
    উত্তর: ক. শূন্য মাধ্যমে
    শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical wave), অর্থাৎ এটি চলার জন্য কোনো মাধ্যমের কণা দরকার। শব্দের উৎস কাঁপলে পাশের কণাগুলো কাঁপে, তারা আবার তাদের পাশের কণাকে কাঁপায়, আর এভাবেই শব্দ এগিয়ে যায়। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই সেখানে কম্পন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে না এবং শব্দও চলতে পারে না। এ কারণেই চাঁদে বা মহাশূন্যে নভোচারীরা সরাসরি কথা শুনতে পান না, তাঁরা বেতার যন্ত্রের সাহায্যে কথা বলেন।
    মনে রাখুন:
    শব্দের বেগ কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তরলে তার চেয়ে কম এবং বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম।
    আলো তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, তাই আলো শূন্য মাধ্যমেও চলতে পারে।
  90. ১১৭. শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন/ এইচআর), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শব্দের সঞ্চালন
    • ক. ২৮০ m/s
    • খ. ০ m/s
    • গ. ৩৩২ m/s
    • ঘ. ১১২০ m/s
    উত্তর: খ. ০ m/s
    শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই চলার জন্য এর কঠিন, তরল বা বায়বীয় কোনো মাধ্যম লাগে। মাধ্যমের কণাগুলো একে অপরকে কাঁপিয়েই শব্দকে সামনে এগিয়ে নেয়। শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো কণা নেই, তাই সেখানে শব্দ একটুও এগোতে পারে না এবং শব্দের বেগ ০ m/s। এজন্য সূর্যে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হলেও তার শব্দ মহাশূন্য পেরিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু আলো ঠিকই পৌঁছায়।
    মনে রাখুন:
    ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শুষ্ক বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় 332 m/s।
    পানিতে শব্দের বেগ প্রায় 1450 m/s আর ইস্পাতে প্রায় 5000 m/s।

সম্ভাব্য প্রশ্ন (৪৮)

  1. ১১৮. শব্দ বাতাস থেকে পানিতে ঢুকলে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. বেগ
    • খ. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
    • গ. কম্পাঙ্ক
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. কম্পাঙ্ক
    শব্দের কম্পাঙ্ক ঠিক করে শব্দের উৎস, মাধ্যম নয়। তাই শব্দ এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে ঢুকলে কম্পাঙ্ক অপরিবর্তিত থাকে, বদলায় শুধু বেগ আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য। বাতাস থেকে পানিতে ঢুকলে বেগ প্রায় সাড়ে চার গুণ বাড়ে, আর f ঠিক থাকায় v = fλ অনুযায়ী তরঙ্গদৈর্ঘ্যও সাড়ে চার গুণ বাড়ে। এটাই শব্দের প্রতিসরণ বোঝার মূল কথা।
  2. ১১৯. ডপলার প্রভাবে কোনটি বদলায়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১১
    • ক. উৎসের আসল কম্পাঙ্ক
    • খ. শ্রোতার কাছে পৌঁছানো কম্পাঙ্ক
    • গ. বাতাসে শব্দের বেগ
    • ঘ. উৎসের বিস্তার
    উত্তর: খ. শ্রোতার কাছে পৌঁছানো কম্পাঙ্ক
    ডপলার প্রভাবে উৎসের আসল কম্পাঙ্ক বদলায় না, বদলায় শ্রোতার কাছে পৌঁছানো কম্পাঙ্ক, অর্থাৎ শ্রোতা যে তীক্ষ্ণতা শোনেন তা। উৎস আর শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলেই এই প্রভাব ঘটে। উৎস স্থির রেখে শ্রোতা উৎসের দিকে এগোলেও একই ঘটনা ঘটে। শব্দের প্রাবল্য বা বিস্তার এতে বদলায় না, আর মাধ্যমের বেগও একই থাকে।
  3. ১২০. ২৫৬ হার্জ ও ২৬০ হার্জের দুটি সুরশলাকা একসঙ্গে বাজালে প্রতি সেকেন্ডে কয়টি বিট শোনা যাবে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১২
    • ক. ২টি
    • খ. ৪টি
    • গ. ২৫৮টি
    • ঘ. ৫১৬টি
    উত্তর: খ. ৪টি
    সুরশলাকা (Tuning fork) U আকৃতির ধাতব যন্ত্র, যা আঘাত করলে নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে বাজে। কাছাকাছি কম্পাঙ্কের দুটি শলাকা একসঙ্গে বাজালে শব্দ পর্যায়ক্রমে জোরে আর আস্তে শোনা যায়, একে স্বরকম্প বা বিট (Beat) বলে। প্রতি সেকেন্ডে বিটের সংখ্যা দুই উৎসের কম্পাঙ্কের পার্থক্যের সমান, অর্থাৎ N = f₁ ~ f₂। তাই এখানে 260 − 256 = 4টি বিট শোনা যাবে। এই নীতি কাজে লাগিয়ে বাদ্যযন্ত্রের সুর মেলানো হয়, আর বিট পুরোপুরি মিলিয়ে গেলে বোঝা যায় দুই কম্পাঙ্ক সমান হয়েছে।
  4. ১২১. শব্দের তীব্রতা ১০০ গুণ বাড়লে তীব্রতা লেভেল কত বাড়ে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. ২ ডেসিবেল
    • খ. ১০ ডেসিবেল
    • গ. ২০ ডেসিবেল
    • ঘ. ১০০ ডেসিবেল
    উত্তর: গ. ২০ ডেসিবেল
    শব্দের তীব্রতা লেভেলের সূত্র β = 10 log (I/I₀) dB। তীব্রতা ১০০ গুণ হলে I/I₀ বাড়ে ১০০ গুণ, আর log 100 = 2, তাই লেভেল বাড়ে 10 × 2 = 20 ডেসিবেল। মনে রাখার সহজ নিয়ম হলো, প্রতি ১০ গুণ তীব্রতায় ১০ ডেসিবেল যোগ হয়। তাই ১০ গুণে ১০, ১০০ গুণে ২০ আর ১০০০ গুণে ৩০ ডেসিবেল বাড়ে।
  5. ১২২. সৈন্যদের ব্রিজের ওপর দিয়ে তালে তালে মার্চ করতে নিষেধ করা হয় কোন ঘটনার কারণে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৩
    • ক. প্রতিধ্বনি
    • খ. অনুরণন
    • গ. অনুনাদ
    • ঘ. স্বরকম্প
    উত্তর: গ. অনুনাদ
    প্রতিটি বস্তুর একটি নিজস্ব কম্পাঙ্ক (Natural frequency) থাকে। বাইরে থেকে দেওয়া পর্যায়ক্রমিক বলের কম্পাঙ্ক সেই নিজস্ব কম্পাঙ্কের সমান হলে বস্তুটি সবচেয়ে বেশি বিস্তারে কাঁপে, একে অনুনাদ (Resonance) বলে। সৈন্যরা তালে তালে পা ফেললে ব্রিজে নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের ধাক্কা পড়ে, আর তা ব্রিজের নিজস্ব কম্পাঙ্কের সমান হলে ব্রিজ ক্রমশ বড় বিস্তারে দুলে ভেঙে পড়তে পারে। ১৮৩১ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউটন ঝুলন্ত সেতু এভাবেই ভেঙে পড়েছিল।
  6. ১২৩. চলকুণ্ডলী মাইক্রোফোন কোন নীতিতে কাজ করে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৬
    • ক. তড়িৎচৌম্বক আবেশ
    • খ. আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া
    • গ. তাপীয় প্রসারণ
    • ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
    উত্তর: ক. তড়িৎচৌম্বক আবেশ
    চলকুণ্ডলী মাইক্রোফোনে শব্দের চাপে একটি পাতলা পর্দা, ডায়াফ্রাম (Diaphragm), কাঁপে। ডায়াফ্রামের সঙ্গে লাগানো কুণ্ডলী তখন একটি চুম্বকের ক্ষেত্রে নড়ে। চৌম্বক ক্ষেত্রে কুণ্ডলী নড়লে তড়িৎচৌম্বক আবেশে (Electromagnetic induction) প্রবাহ তৈরি হয়, যা ফ্যারাডের সূত্রের কথা। আর এই প্রবাহের ওঠানামা শব্দের চাপের হুবহু অনুরূপ। লাউডস্পিকার একই চুম্বক-কুণ্ডলী নকশায় উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ তড়িৎকে শব্দে বদলায়।
  7. ১২৪. মানবদেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি কোনটি?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৭
    • ক. ম্যালিয়াস
    • খ. ইনকাস
    • গ. স্টেপিস
    • ঘ. ককলিয়া
    উত্তর: গ. স্টেপিস
    মধ্যকর্ণে পরপর তিনটি ছোট অস্থি থাকে: ম্যালিয়াস (Malleus), ইনকাস (Incus) ও স্টেপিস (Stapes)। এদের মধ্যে স্টেপিস মানবদেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি, প্রায় ৩ মিলিমিটার লম্বা। ককলিয়া (Cochlea) অস্থি নয়, এটি অন্তঃকর্ণের শামুকের খোলের মতো প্যাঁচানো অংশ। মনে রাখার সহজ কৌশল হলো "মাই-স", যা ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিসের ক্রম মনে করায়। দেহের সবচেয়ে বড় অস্থি হলো ঊরুর ফিমার।
  8. ১২৫. অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালির কাজ কী?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৭
    • ক. শব্দ সংগ্রহ
    • খ. কম্পন জোরালো করা
    • গ. দেহের ভারসাম্য রক্ষা
    • ঘ. শব্দকে স্নায়ু সংকেতে বদলানো
    উত্তর: গ. দেহের ভারসাম্য রক্ষা
    অন্তঃকর্ণে ককলিয়ার পাশে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি (Semicircular canals) থাকে। এরা শোনার কাজে নয়, দেহের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। শব্দকে স্নায়ু সংকেতে বদলানোর কাজ করে ককলিয়ার লোম কোষ। এই নালিতে সমস্যা হলে মাথা ঘোরে, যাকে ভার্টিগো (Vertigo) বলে। শব্দ সংগ্রহ করে কর্ণছত্র, আর কম্পন জোরালো করে মধ্যকর্ণের তিন অস্থি।
  9. ১২৬. স্থাপত্য শব্দবিজ্ঞানের (Architectural acoustics) জনক কাকে বলা হয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৯
    • ক. ক্রিশ্চিয়ান ডপলার
    • খ. ওয়ালেস সাবাইন
    • গ. গ্রাহাম বেল
    • ঘ. টমাস এডিসন
    উত্তর: খ. ওয়ালেস সাবাইন
    আমেরিকান বিজ্ঞানী ওয়ালেস সাবাইন (Wallace Sabine) মিলনায়তনের অনুরণন নিয়ে কাজ করেছিলেন, তাই তাঁকে স্থাপত্য শব্দবিজ্ঞানের (Architectural acoustics) জনক বলা হয়। তাঁর নামেই শব্দ শোষণের একক রাখা হয়েছে সাবাইন। অনুরণন যত বেশি হয়, কথা তত জড়িয়ে যায়, তাই সাবাইনের কাজ থেকেই মিলনায়তন নকশার নিয়ম গড়ে উঠেছে। বাকি তিনজন অন্য ক্ষেত্রে পরিচিত: ক্রিশ্চিয়ান ডপলার ডপলার প্রভাবে, গ্রাহাম বেল টেলিফোনে আর এডিসন ফনোগ্রাফে।
  10. ১২৭. শব্দ তরঙ্গে কোন ঘটনাটি ঘটে না?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.২
    • ক. প্রতিফলন
    • খ. প্রতিসরণ
    • গ. ব্যতিচার
    • ঘ. সমবর্তন
    উত্তর: ঘ. সমবর্তন
    সমবর্তন (Polarization) শুধু আড় তরঙ্গেই ঘটে, কারণ আড় তরঙ্গে কণা তরঙ্গের দিকের সঙ্গে লম্বভাবে কাঁপে আর সেই কম্পনের দিক নির্দিষ্ট করা যায়। বাতাসে শব্দ লম্বিক তরঙ্গ, তাই এর সমবর্তন হয় না। প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও ব্যতিচার সব ধরনের তরঙ্গেই ঘটে। আলোর সমবর্তন হয় বলেই প্রমাণিত যে আলো আড় তরঙ্গ।
  11. ১২৮. কোনটি যান্ত্রিক তরঙ্গ নয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. শব্দ তরঙ্গ
    • খ. পানির ঢেউ
    • গ. ভূমিকম্পের তরঙ্গ
    • ঘ. এক্স-রে
    উত্তর: ঘ. এক্স-রে
    যে তরঙ্গের চলতে মাধ্যমের কণার কম্পন লাগে, তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। শব্দ তরঙ্গ, পানির ঢেউ আর ভূমিকম্পের তরঙ্গ সবই যান্ত্রিক তরঙ্গ। এক্স-রে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, তাই মাধ্যম ছাড়াই শূন্যেও চলে। আলো, বেতার তরঙ্গ ও অতিবেগুনি রশ্মিও একই শ্রেণির, যাদের চলতে মাধ্যম লাগে না।
  12. ১২৯. বাতাসে শব্দের বেগ ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড হলে ১৭০ হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. ০.৫ মিটার
    • খ. ২ মিটার
    • গ. ৫ মিটার
    • ঘ. ৫৭,৮০০ মিটার
    উত্তর: খ. ২ মিটার
    তরঙ্গদৈর্ঘ্য বের করার সূত্র λ = v/f, তাই λ = 340/170 = 2 মিটার। কম্পাঙ্ক দ্বিগুণ হলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অর্ধেক হয়ে যেত, কারণ বেগ ধ্রুব থাকলে f আর λ উল্টো অনুপাতে বদলায়। মানুষ যে শব্দ শোনে, তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১.৭ সেন্টিমিটার থেকে ১৭ মিটার, ২ মিটার সেই সীমার মধ্যেই পড়ে।
  13. ১৩০. ১০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দের পর্যায়কাল কত?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৩
    • ক. ১ সেকেন্ড
    • খ. ০.১ সেকেন্ড
    • গ. ০.০১ সেকেন্ড
    • ঘ. ০.০০১ সেকেন্ড
    উত্তর: ঘ. ০.০০১ সেকেন্ড
    পর্যায়কাল (Time period) কম্পাঙ্কের উল্টো, অর্থাৎ T = 1/f। তাই ১০০০ হার্জে T = 1/1000 = 0.001 সেকেন্ড, অর্থাৎ ১ মিলিসেকেন্ড। কম্পাঙ্ক মানে এক সেকেন্ডে কতগুলো পূর্ণ কম্পন হয়, আর পর্যায়কাল মানে একটি পূর্ণ কম্পনে কত সময় লাগে। কম্পাঙ্ক যত বেশি, একটি কম্পনের সময় তত কম।
  14. ১৩১. বিদ্যুৎ চমকানোর ৩ সেকেন্ড পর বজ্রের শব্দ শোনা গেল। শব্দের বেগ ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড হলে বজ্রপাত প্রায় কত দূরে হয়েছে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ১১৩ মিটার
    • খ. ৩৪০ মিটার
    • গ. ১০২০ মিটার
    • ঘ. ৩৪০০ মিটার
    উত্তর: গ. ১০২০ মিটার
    বিদ্যুৎ চমকের আলো প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখে পৌঁছায়, তাই ৩ সেকেন্ডের পুরোটাই শব্দ ভ্রমণের সময়। দূরত্ব = বেগ × সময় = 340 × 3 = 1020 মিটার। চমক আর গর্জনের মাঝের সেকেন্ড গুনে ৩ দিয়ে ভাগ করলে বজ্রপাত কত কিলোমিটার দূরে হয়েছে তা মোটামুটি জানা যায়, কারণ প্রতি ৩ সেকেন্ডে শব্দ প্রায় ১ কিলোমিটার যায়। এখানে শব্দ যায় এক দিকেই, তাই আর ২ দিয়ে ভাগ করতে হয়নি।
  15. ১৩২. ০° সেলসিয়াসে বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড হলে ২০° সেলসিয়াসে বেগ প্রায় কত?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. ৩২০ মিটার/সেকেন্ড
    • খ. ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড
    • গ. ৩৪৪ মিটার/সেকেন্ড
    • ঘ. ৩৫২ মিটার/সেকেন্ড
    উত্তর: গ. ৩৪৪ মিটার/সেকেন্ড
    প্রতি ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বাড়ে। তাই ২০° সেলসিয়াসে বেগ = 332 + 0.6 × 20 = 344 মিটার/সেকেন্ড। এই সরল নিয়ম অল্প তাপমাত্রার পার্থক্যেই খাটে। আরও বড় পার্থক্যে v ∝ √T সূত্র ব্যবহার করতে হয়, যেখানে T পরম তাপমাত্রা।
  16. ১৩৩. তাপমাত্রা স্থির রেখে বাতাসের চাপ বাড়ালে শব্দের বেগের কী হয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. বাড়ে
    • খ. কমে
    • গ. অপরিবর্তিত থাকে
    • ঘ. দ্বিগুণ হয়
    উত্তর: গ. অপরিবর্তিত থাকে
    বাতাসের চাপ বাড়লে ঘনত্বও একই অনুপাতে বাড়ে, আর শব্দের বেগ নির্ভর করে চাপ ও ঘনত্বের অনুপাতের ওপর। দুটির প্রভাব কাটাকাটি হয়ে যায়, তাই তাপমাত্রা স্থির থাকলে চাপ বাড়লেও শব্দের বেগ অপরিবর্তিত থাকে। বেগ বদলায় তাপমাত্রা আর আর্দ্রতায়। তাপমাত্রা বাড়লে বেগ বাড়ে, আর বাতাস আর্দ্র হলেও বেগ বাড়ে।
  17. ১৩৪. কোনো বিমানের বেগ ম্যাক ২ বলতে কী বোঝায়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শব্দের বেগের অর্ধেক
    • খ. শব্দের বেগের দ্বিগুণ
    • গ. আলোর বেগের দ্বিগুণ
    • ঘ. ঘণ্টায় ২০০০ কিলোমিটার
    উত্তর: খ. শব্দের বেগের দ্বিগুণ
    ম্যাক সংখ্যা (Mach number) হলো কোনো বস্তুর বেগ আর ওই মাধ্যমে শব্দের বেগের অনুপাত। তাই ম্যাক ২ মানে বিমানটি শব্দের বেগের দ্বিগুণ বেগে চলছে। ম্যাক ১-এর বেশি হলে বেগকে সুপারসনিক বলে, আর ম্যাক ৫-এর বেশি হলে হাইপারসনিক। এটি আলোর বেগের সঙ্গে কোনো তুলনা নয়, কারণ ম্যাক সংখ্যা সবসময় শব্দের বেগের সঙ্গে তুলনা করে।
  18. ১৩৫. কোনটি সঠিক?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলে
    • খ. বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে
    • গ. শব্দের প্রাবল্য কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে
    • ঘ. ডপলার প্রভাবে উৎসের আসল কম্পাঙ্ক বদলায়
    উত্তর: খ. বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে
    আর্দ্র বাতাস শুষ্ক বাতাসের চেয়ে হালকা, কারণ জলীয় বাষ্পের অণু নাইট্রোজেন বা অক্সিজেনের অণুর চেয়ে হালকা। ঘনত্ব কম বলে আর্দ্র বাতাসে শব্দ দ্রুত চলে, তাই আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের বেগ বাড়ে। বাকি বিকল্প ভুল: শূন্যে শব্দ চলে না, প্রাবল্য নির্ভর করে বিস্তারের ওপর (কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে তীক্ষ্ণতা), আর ডপলার প্রভাবে উৎসের আসল কম্পাঙ্ক বদলায় না, বদলায় শ্রোতার শোনা কম্পাঙ্ক।
  19. ১৩৬. রাতের বেলা দূরের শব্দ দিনের চেয়ে বেশি স্পষ্ট শোনা যায় কেন?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৪
    • ক. রাতে শব্দের কম্পাঙ্ক বাড়ে
    • খ. ভূপৃষ্ঠের কাছের ঠান্ডা বায়ুর কারণে শব্দ বেঁকে নিচে নামে
    • গ. রাতে বাতাসে শব্দের বেগ বেশি
    • ঘ. রাতে শব্দ প্রতিফলিত হয় না
    উত্তর: খ. ভূপৃষ্ঠের কাছের ঠান্ডা বায়ুর কারণে শব্দ বেঁকে নিচে নামে
    রাতে মাটির কাছের বাতাস ঠান্ডা আর ওপরের বাতাস তুলনায় গরম থাকে। গরম বাতাসে শব্দের বেগ বেশি, তাই ওপরে ওঠা শব্দ প্রতিসরণে বেঁকে আবার নিচে নেমে আসে। এর ফলে দূরের শব্দ মাটির কাছে এসে পৌঁছায় আর রাতে বেশি স্পষ্ট শোনা যায়। দিনে ঘটে উল্টোটা: মাটির কাছে বাতাস গরম থাকে, তাই শব্দ ওপরের দিকে বেঁকে যায়। রাতে বাতাসে শব্দের বেগ বাড়ে না, বরং কিছুটা কমে।
  20. ১৩৭. চাঁদে দুজন নভোচারী হেলমেট ঠেকিয়ে কথা বললে একে অপরের কথা শুনতে পান কেন?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১
    • ক. চাঁদে কিছুটা বাতাস আছে
    • খ. হেলমেটের কঠিন দেয়াল শব্দ বয়ে নেয়
    • গ. চাঁদে শব্দের বেগ বেশি
    • ঘ. হেলমেট শব্দকে আলোতে বদলায়
    উত্তর: খ. হেলমেটের কঠিন দেয়াল শব্দ বয়ে নেয়
    চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই বাতাসের মধ্য দিয়ে শব্দ পৌঁছায় না। কিন্তু শব্দ কঠিন মাধ্যমের ভেতর দিয়ে খুব ভালো চলে। দুজন নভোচারী হেলমেট ঠেকালে দুটি হেলমেট মিলে একটি কঠিন পথ তৈরি হয়, আর কণ্ঠের কম্পন সেই পথ ধরে একজনের হেলমেট থেকে আরেকজনের হেলমেটে পৌঁছায়। এ কারণে বাতাস না থাকলেও এভাবে কথা পৌঁছে যায়। দূর থেকে কথা বলতে তাঁরা বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করেন।
  21. ১৩৮. কোন প্রাণী শব্দেতর তরঙ্গ ব্যবহার করে অনেক দূরের সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ করে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. বাদুড়
    • খ. হাতি
    • গ. ডলফিন
    • ঘ. মৌমাছি
    উত্তর: খ. হাতি
    হাতি ও তিমি ২০ হার্জের কম কম্পাঙ্কের শব্দেতর (Infrasonic) তরঙ্গ ব্যবহার করে কয়েক কিলোমিটার দূরের সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। কম কম্পাঙ্কের শব্দের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, তাই এই শব্দ বাধা পেরিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত যায়। বাদুড় ও ডলফিন ব্যবহার করে শব্দোত্তর তরঙ্গ, যা ইকোলোকেশনে কাজে লাগে। শব্দেতর তরঙ্গের প্রাকৃতিক উৎস হলো ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।
  22. ১৩৯. নিচের কোনটি শব্দোত্তর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. ১৫ হার্জ
    • খ. ২ কিলোহার্জ
    • গ. ১৫ কিলোহার্জ
    • ঘ. ৪০ কিলোহার্জ
    উত্তর: ঘ. ৪০ কিলোহার্জ
    ২০ কিলোহার্জ বা ২০,০০০ হার্জের বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ শব্দোত্তর, তাই ৪০ কিলোহার্জই শব্দোত্তর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক। ১৫ হার্জ ২০ হার্জের নিচে, অর্থাৎ শব্দেতর। ২ কিলোহার্জ ও ১৫ কিলোহার্জ মানুষের শ্রাব্য সীমার (২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ) ভেতরে পড়ে। ৪০ কিলোহার্জ মানুষ শুনতে পায় না, কিন্তু কুকুর ও বাদুড় সহজেই শোনে।
  23. ১৪০. বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের শ্রবণে কোন পরিবর্তনটি সাধারণত ঘটে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৫
    • ক. শ্রাব্যতার নিম্নসীমা কমে
    • খ. শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা কমে
    • গ. শব্দোত্তর তরঙ্গ শোনা যায়
    • ঘ. শব্দের বেগ বেশি মনে হয়
    উত্তর: খ. শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা কমে
    বয়স বাড়লে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার লোম কোষ ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়, বিশেষ করে যে কোষগুলো উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ ধরে। তাই শ্রাব্যতার ঊর্ধ্বসীমা কমে আসে, অর্থাৎ আগে চড়া সুর শোনার ক্ষমতা কমে। এ কারণে বয়স্ক মানুষ অনেক সময় পাখির ডাক বা উঁচু সুর কম শোনেন। শব্দোত্তর তরঙ্গ শোনার ক্ষমতা কখনো বাড়ে না।
  24. ১৪১. একই সুর বেহালা আর বাঁশিতে বাজালে আলাদা শোনায় শব্দের কোন বৈশিষ্ট্যের জন্য?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৬
    • ক. প্রাবল্য
    • খ. তীক্ষ্ণতা
    • গ. জাতি
    • ঘ. বেগ
    উত্তর: গ. জাতি
    সুরযুক্ত শব্দের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রাবল্য, তীক্ষ্ণতা ও জাতি। একই প্রাবল্য ও তীক্ষ্ণতার দুটি শব্দকে আলাদা করে চেনায় জাতি বা গুণ (Quality বা Timbre)। জাতি নির্ভর করে মূল সুরের সঙ্গে কতগুলো উপসুর (Overtone) মিশে আছে এবং তাদের ধরন কেমন, তার ওপর। এ কারণে বেহালা ও বাঁশির একই সুর আলাদা শোনায়, আর চোখ বন্ধ করেও চেনা মানুষের গলা চেনা যায়।
  25. ১৪২. নারী ও শিশুদের কণ্ঠস্বর পুরুষের চেয়ে চড়া শোনায় কেন?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৬
    • ক. তাদের কণ্ঠের বিস্তার বেশি
    • খ. তাদের কণ্ঠের কম্পাঙ্ক বেশি
    • গ. তাদের কণ্ঠের বেগ বেশি
    • ঘ. তাদের কণ্ঠের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি
    উত্তর: খ. তাদের কণ্ঠের কম্পাঙ্ক বেশি
    সুর চড়া বা মোটা হওয়া নির্ভর করে কম্পাঙ্কের ওপর, আর এই বৈশিষ্ট্যের নাম তীক্ষ্ণতা (Pitch)। নারী ও শিশুদের স্বররজ্জু ছোট ও পাতলা, তাই তা বেশি কম্পাঙ্কে কাঁপে এবং কণ্ঠ চড়া শোনায়। বিস্তার নির্ধারণ করে শব্দ কতটা জোরালো, তাই চড়া বা মোটা হওয়ার সঙ্গে বিস্তারের সম্পর্ক নেই। কম্পাঙ্ক বেশি হলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হয়, বেশি নয়।
  26. ১৪৩. কোনো সুরের কম্পাঙ্ক দ্বিগুণ করলে কী হয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৬
    • ক. সুরটি এক অষ্টক চড়ে যায়
    • খ. সুরের প্রাবল্য দ্বিগুণ হয়
    • গ. সুরের বেগ দ্বিগুণ হয়
    • ঘ. সুরের জাতি বদলে যায়
    উত্তর: ক. সুরটি এক অষ্টক চড়ে যায়
    কোনো সুরের কম্পাঙ্ক দ্বিগুণ করলে সুরটি এক অষ্টক (Octave) চড়ে যায়, যেমন সা থেকে পরের সপ্তকের সা। কম্পাঙ্ক বদলালে চড়া বা মোটা হয়, অর্থাৎ তীক্ষ্ণতা বদলায়, কিন্তু প্রাবল্য বদলায় না। একই মাধ্যমে শব্দের বেগও বদলায় না, বদলায় শুধু তরঙ্গদৈর্ঘ্য, যা অর্ধেক হয়ে যায়। জাতি নির্ভর করে উপসুরের ওপর, তাই কম্পাঙ্ক দ্বিগুণ করলে জাতি বদলে যায় না।
  27. ১৪৪. কানের কোন অংশ শব্দের কম্পনকে স্নায়ু সংকেতে রূপান্তর করে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৭
    • ক. কর্ণপটহ
    • খ. ককলিয়া
    • গ. ইউস্টেশিয়ান নালি
    • ঘ. অর্ধবৃত্তাকার নালি
    উত্তর: খ. ককলিয়া
    কর্ণপটহ শব্দ তরঙ্গের সমান কম্পাঙ্কে কাঁপে, আর মধ্যকর্ণের তিন অস্থি কম্পনকে জোরালো করে অন্তঃকর্ণে পাঠায়। অন্তঃকর্ণের শামুকের খোলের মতো প্যাঁচানো ককলিয়ার (Cochlea) তরলে ঢেউ ওঠে, আর তার লোম কোষ কম্পনকে স্নায়ু সংকেতে বদলে দেয়। শ্রবণ স্নায়ু (Auditory nerve) সেই সংকেত মস্তিষ্কে নিয়ে যায়। কর্ণপটহ শুধু কাঁপে, সংকেত তৈরি করে না, আর অর্ধবৃত্তাকার নালি ভারসাম্য রক্ষা করে।
  28. ১৪৫. বিমান ওঠা-নামার সময় কান বন্ধ লাগে; ঢোক গিললে স্বাভাবিক হয়। এতে কানের কোন অংশ কাজ করে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৭
    • ক. ককলিয়া
    • খ. ইউস্টেশিয়ান নালি
    • গ. কর্ণপটহ
    • ঘ. অর্ধবৃত্তাকার নালি
    উত্তর: খ. ইউস্টেশিয়ান নালি
    মধ্যকর্ণ গলার সঙ্গে ইউস্টেশিয়ান নালি (Eustachian tube) দিয়ে যুক্ত। এই নালি কর্ণপটহের দুপাশের বায়ুচাপ সমান রাখে। বিমান ওঠা-নামার সময় বাইরের চাপ হঠাৎ বদলায়, কিন্তু মধ্যকর্ণের চাপ তখনও আগের মতো থাকে, ফলে কান বন্ধ লাগে। ঢোক গিললে বা হাই তুললে নালিটি খুলে চাপ সমান হয় এবং কান স্বাভাবিক হয়। ককলিয়া শ্রবণের কাজ করে আর কর্ণপটহ কাঁপে, চাপ সমান করা তাদের কাজ নয়।
  29. ১৪৬. শব্দের বেগ ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড হলে প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলকের ন্যূনতম দূরত্ব কত?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. ৩.৪ মিটার
    • খ. ১৭ মিটার
    • গ. ৩৪ মিটার
    • ঘ. ৬৮ মিটার
    উত্তর: খ. ১৭ মিটার
    প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মাঝে অন্তত ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধান লাগে। এই সময়ে শব্দকে প্রতিফলক পর্যন্ত গিয়ে ফিরতে হয়, তাই 2d = 340 × 0.1 = 34 মিটার, আর d = 17 মিটার। শব্দের বেগ যত বেশি, এই ন্যূনতম দূরত্ব তত বেশি। বেগ ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড ধরলে হয় ১৬.৫ মিটার, আর ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড ধরলে ১৬.৬ মিটার।
  30. ১৪৭. এক ব্যক্তি পাহাড়ের দিকে মুখ করে চিৎকার করে ২ সেকেন্ড পর প্রতিধ্বনি শুনলেন। শব্দের বেগ ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড হলে পাহাড় কত দূরে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. ১৭০ মিটার
    • খ. ৩৪০ মিটার
    • গ. ৬৮০ মিটার
    • ঘ. ১৩৬০ মিটার
    উত্তর: খ. ৩৪০ মিটার
    প্রতিধ্বনি শোনা যায় শব্দ প্রতিফলকে গিয়ে ফিরে এলে। তাই শব্দ যাওয়া-আসায় যে সময় নেয়, তা পাহাড় পর্যন্ত দূরত্বের দ্বিগুণ পথের সময়। d = vt/2 = 340 × 2 / 2 = 340 মিটার। অর্ধেক না করে সরাসরি 340 × 2 = 680 মিটার লেখাই এ ধরনের অঙ্কে সবচেয়ে সাধারণ ভুল। কূপ ও সমুদ্রের গভীরতা মাপাতেও একই সূত্র খাটে।
  31. ১৪৮. জাহাজ থেকে পাঠানো শব্দোত্তর তরঙ্গ সমুদ্রতল থেকে ১ সেকেন্ড পর ফিরে এলো। পানিতে শব্দের বেগ ১৫০০ মিটার/সেকেন্ড হলে সমুদ্রের গভীরতা কত?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. ৩৭৫ মিটার
    • খ. ৭৫০ মিটার
    • গ. ১৫০০ মিটার
    • ঘ. ৩০০০ মিটার
    উত্তর: খ. ৭৫০ মিটার
    জাহাজ থেকে পাঠানো শব্দোত্তর তরঙ্গ সমুদ্রতলে গিয়ে ফিরে আসে, তাই ১ সেকেন্ড আসলে গভীরতার দ্বিগুণ পথের সময়। h = vt/2 = 1500 × 1 / 2 = 750 মিটার। সোনার (SONAR) আর ফ্যাদোমিটার এই নীতিতেই গভীরতা মাপে। পানিতে শব্দের বেগ বাতাসের চেয়ে অনেক বেশি, তাই এখানে v ধরা হয়েছে ১৫০০ মিটার/সেকেন্ড, বাতাসের ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড নয়।
  32. ১৪৯. SONAR-এর পূর্ণরূপ কী?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৮
    • ক. Sound Navigation and Ranging
    • খ. Sound Network and Radar
    • গ. Sonic Navigation and Radio
    • ঘ. Sound Noise and Range
    উত্তর: ক. Sound Navigation and Ranging
    SONAR-এর পূর্ণরূপ Sound Navigation and Ranging। সোনারে পানির নিচে শব্দোত্তর তরঙ্গ পাঠিয়ে প্রতিধ্বনি থেকে ডুবোজাহাজ, হিমশৈল, মাছের ঝাঁক বা সমুদ্রতলের অবস্থান জানা যায়। একই নীতিতে RADAR (Radio Detection and Ranging) কাজ করে, কিন্তু রাডার শব্দ নয়, বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে। শব্দ পানিতে ভালো চলে, তাই পানির নিচে সোনারই কার্যকর।
  33. ১৫০. বড় মিলনায়তনের দেয়ালে ভারী পর্দা আর নরম বোর্ড লাগানো হয় কেন?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.৯
    • ক. প্রতিধ্বনি বাড়াতে
    • খ. অনুরণন কমাতে
    • গ. শব্দের কম্পাঙ্ক বাড়াতে
    • ঘ. শব্দের বেগ বাড়াতে
    উত্তর: খ. অনুরণন কমাতে
    বড় মিলনায়তনে উৎস থামার পরও দেয়াল, ছাদ আর মেঝে থেকে বারবার প্রতিফলনের ফলে শব্দ কিছুক্ষণ শোনা যায়, একে অনুরণন (Reverberation) বলে। অনুরণন বেশি হলে আগের কথা মিলিয়ে যাওয়ার আগেই পরের কথা এসে পড়ে, তাই কথা জড়িয়ে যায়। ভারী পর্দা, কার্পেট আর নরম বোর্ড নরম ও ছিদ্রযুক্ত, তাই শব্দ শুষে নেয় এবং অনুরণন কমে। প্রতিধ্বনি বাড়ানো এদের উদ্দেশ্য নয়।
  34. ১৫১. নিচের কোনটি শব্দোত্তর তরঙ্গের ব্যবহার নয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
    • খ. চশমা ও গয়না পরিষ্কার করা
    • গ. ধাতুর ভেতরের ফাটল নির্ণয়
    • ঘ. ভাঙা হাড়ের ছবি তোলা
    উত্তর: ঘ. ভাঙা হাড়ের ছবি তোলা
    ভাঙা হাড়ের ছবি তোলা হয় এক্স-রে দিয়ে, কারণ এক্স-রে হাড়ে আটকায়, আর শব্দোত্তর তরঙ্গ সাধারণত নরম অঙ্গের ছবি তোলে। শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার হয় আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে, চশমা ও গয়না পরিষ্কারে, ধাতুর ভেতরের সূক্ষ্ম ফাটল খোঁজায় এবং দুধ ও পানির ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে। শক্তিশালী শব্দোত্তর তরঙ্গ কিডনি ও পিত্তথলির পাথর ভাঙতেও কাজে লাগে।
  35. ১৫২. গর্ভের শিশু পরীক্ষায় এক্স-রের বদলে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ব্যবহারের প্রধান কারণ কী?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১০
    • ক. এটি সস্তা
    • খ. এটি আয়নায়নকারী বিকিরণ নয়, তাই ভ্রূণের ক্ষতি করে না
    • গ. এটি আলোর বেগে চলে
    • ঘ. এতে হাড় ভালো দেখা যায়
    উত্তর: খ. এটি আয়নায়নকারী বিকিরণ নয়, তাই ভ্রূণের ক্ষতি করে না
    আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার হয়, যা যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই এটি পরমাণু থেকে ইলেকট্রন সরাতে পারে না। অর্থাৎ এতে আয়নায়নকারী বিকিরণ নেই। এক্স-রে আয়নায়নকারী বিকিরণ, যা বাড়ন্ত কোষের ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে। তাই গর্ভের শিশুর পরীক্ষায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি নিরাপদ। এক্স-রেতে হাড় ভালো দেখা যায়, আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে নরম অঙ্গ ও শিশুর ছবি ভালো আসে।
  36. ১৫৩. রাস্তায় পুলিশের স্পিড গান গাড়ির গতি মাপে কোন নীতিতে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১১
    • ক. প্রতিসরণ
    • খ. ডপলার প্রভাব
    • গ. অনুনাদ
    • ঘ. ব্যতিচার
    উত্তর: খ. ডপলার প্রভাব
    পুলিশের স্পিড গান ডপলার প্রভাবে (Doppler effect) চলে। স্পিড গান চলন্ত গাড়িতে বেতার তরঙ্গ পাঠায়, আর গাড়ি থেকে ফিরে আসা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কতটা বদলেছে তা থেকে গাড়ির বেগ বের করে। আবহাওয়া অফিসের ডপলার রাডার একই নীতিতে বৃষ্টির ফোঁটা আর মেঘের গতি মেপে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ জানায়। আর ডপলার আল্ট্রাসাউন্ডে রক্তপ্রবাহের বেগ ও গর্ভের শিশুর হৃৎস্পন্দন দেখা যায়।
  37. ১৫৪. দূরের গ্যালাক্সির আলোয় লোহিত সরণ (Red shift) দেখা যায়। এ থেকে কী বোঝা যায়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১১
    • ক. গ্যালাক্সিগুলো কাছে আসছে
    • খ. গ্যালাক্সিগুলো দূরে সরে যাচ্ছে
    • গ. গ্যালাক্সিগুলো স্থির
    • ঘ. গ্যালাক্সির তাপমাত্রা বাড়ছে
    উত্তর: খ. গ্যালাক্সিগুলো দূরে সরে যাচ্ছে
    দূরের গ্যালাক্সি থেকে আসা আলো বর্ণালির লাল দিকে সরে যায়, একে লোহিত সরণ (Red shift) বলে। ডপলার প্রভাব অনুযায়ী উৎস দূরে সরলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়ে, আর দৃশ্যমান আলোয় লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়, তাই বর্ণালি লালের দিকে সরে যায়। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই জানা গেছে যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। উল্টো দিকে নীল সরণে উৎস কাছে আসছে বোঝায়। ডপলার প্রভাব আলোসহ সব ধরনের তরঙ্গে ঘটে।
  38. ১৫৫. দুটি সুরশলাকা একসঙ্গে বাজালে প্রতি সেকেন্ডে ৫টি বিট শোনা যায়। একটির কম্পাঙ্ক ৫১২ হার্জ হলে অন্যটির কম্পাঙ্ক কত হতে পারে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১২
    • ক. ৫ হার্জ
    • খ. ২৫৬ হার্জ
    • গ. ৫০৭ বা ৫১৭ হার্জ
    • ঘ. ১০২৪ হার্জ
    উত্তর: গ. ৫০৭ বা ৫১৭ হার্জ
    বিট সংখ্যা সমান দুই কম্পাঙ্কের পার্থক্য, অর্থাৎ N = f₁ ~ f₂। তাই ৫টি বিট হলে অন্য শলাকার কম্পাঙ্ক ৫১২ থেকে ৫ কম বা ৫ বেশি, অর্থাৎ ৫০৭ বা ৫১৭ হার্জ। কোনটি ঠিক তা জানতে একটি শলাকায় একটু মোম লাগিয়ে কম্পাঙ্ক সামান্য কমানো হয়। তাতে বিট বাড়ে না কমে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নীতি কাজে লাগিয়ে অজানা কম্পাঙ্ক নির্ণয় করা হয়।
  39. ১৫৬. বিট সৃষ্টি হয় কোন ঘটনার ফলে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১২
    • ক. শব্দের প্রতিফলন
    • খ. প্রায় সমান কম্পাঙ্কের দুটি তরঙ্গের উপরিপাতন
    • গ. শব্দের প্রতিসরণ
    • ঘ. শব্দের শোষণ
    উত্তর: খ. প্রায় সমান কম্পাঙ্কের দুটি তরঙ্গের উপরিপাতন
    প্রায় সমান কম্পাঙ্কের দুটি শব্দ তরঙ্গ একসঙ্গে চললে উপরিপাতনের (Superposition) ফলে বিট তৈরি হয়। দুই তরঙ্গের শীর্ষ একসঙ্গে মিললে বিস্তার যোগ হয়ে শব্দ জোরালো হয়, আর একটির শীর্ষ অন্যটির পাদের সঙ্গে মিললে বিস্তার বিয়োগ হয়ে শব্দ ক্ষীণ হয়। এভাবে শব্দ পর্যায়ক্রমে জোরালো আর ক্ষীণ শোনায়। কম্পাঙ্কের পার্থক্য প্রায় ১০-এর বেশি হলে কান আলাদা বিট আর ধরতে পারে না, শব্দ একটানা মনে হয়।
  40. ১৫৭. নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন বাইরের শব্দ কমায় কীভাবে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১২
    • ক. শব্দ শুষে নেওয়া মোটা ফোম দিয়ে
    • খ. বিপরীত দশার শব্দ তৈরি করে বাইরের শব্দ কাটাকাটি করে
    • গ. শব্দের কম্পাঙ্ক বাড়িয়ে
    • ঘ. শব্দকে প্রতিফলিত করে
    উত্তর: খ. বিপরীত দশার শব্দ তৈরি করে বাইরের শব্দ কাটাকাটি করে
    নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোনের মাইক্রোফোন বাইরের শব্দ ধরে, আর স্পিকার ঠিক উল্টো দশার শব্দ বাজায়। একটির শীর্ষ অন্যটির পাদে মিললে বিস্তার বিয়োগ হয়ে যায়, একে ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার (Destructive interference) বলে। ফলে বাইরের শব্দ কাটাকাটি হয়ে ক্ষীণ হয়ে যায়। এর কাজ শব্দ শোষণ বা প্রতিফলন নয়, বরং শব্দ দিয়ে শব্দকে কাটা।
  41. ১৫৮. রেডিওর নব ঘুরিয়ে নির্দিষ্ট স্টেশন ধরা কোন ঘটনার উদাহরণ?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৩
    • ক. প্রতিধ্বনি
    • খ. ডপলার প্রভাব
    • গ. অনুনাদ
    • ঘ. বিট
    উত্তর: গ. অনুনাদ
    প্রতিটি বস্তু বা বর্তনীর একটি নিজস্ব কম্পাঙ্ক থাকে, আর বাইরের কম্পাঙ্ক তার সমান হলে অনুনাদ ঘটে। রেডিওর নব ঘুরিয়ে আমরা গ্রাহক যন্ত্রের কম্পাঙ্ককে কোনো স্টেশনের কম্পাঙ্কের সমান করি, ফলে অনুনাদে শুধু সেই স্টেশনের সংকেতই সবচেয়ে জোরালো হয়। এটি বৈদ্যুতিক অনুনাদ। ব্রিজ ভাঙা, কাচের গ্লাস ভাঙা ও বাদ্যযন্ত্রের ফাঁপা বাক্সের শব্দ জোরালো হওয়া একই নীতির উদাহরণ।
  42. ১৫৯. কোনো গায়কের তীক্ষ্ণ সুরে কাচের গ্লাস ভেঙে যেতে পারে কেন?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৩
    • ক. প্রতিধ্বনির কারণে
    • খ. অনুনাদের কারণে
    • গ. শব্দের প্রতিসরণের কারণে
    • ঘ. শব্দের শোষণের কারণে
    উত্তর: খ. অনুনাদের কারণে
    প্রতিটি কাচের গ্লাসেরও নিজস্ব কম্পাঙ্ক আছে। গায়কের সুরের কম্পাঙ্ক গ্লাসের নিজস্ব কম্পাঙ্কের সমান হলে অনুনাদ ঘটে, তখন গ্লাস ক্রমশ বড় বিস্তারে কাঁপে আর এক সময় ভেঙে যায়। এই কারণেই সৈন্যদের ব্রিজে তালে তালে পা ফেলে মার্চ করা নিষেধ। দুটি ঘটনার মূল কথা একই: বাইরের কম্পাঙ্ক বস্তুর নিজস্ব কম্পাঙ্কের সমান হলে বস্তুটি সবচেয়ে বেশি বিস্তারে কাঁপে।
  43. ১৬০. ৪০ ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা ২০ ডেসিবেল শব্দের কত গুণ?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. ২ গুণ
    • খ. ২০ গুণ
    • গ. ১০০ গুণ
    • ঘ. ১০০০ গুণ
    উত্তর: গ. ১০০ গুণ
    প্রতি ১০ ডেসিবেল বাড়লে শব্দের তীব্রতা ১০ গুণ হয়। ৪০ আর ২০ ডেসিবেলের পার্থক্য ২০ ডেসিবেল, অর্থাৎ দুইবার ১০ গুণ, যা 10 × 10 = 100 গুণ। সূত্র দিয়েও দেখা যায়: লেভেলের পার্থক্য 10 log (I₂/I₁) = 20, তাই I₂/I₁ = 10² = 100। ডেসিবেল লগারিদমিক বলে ২০ ডেসিবেল বাড়া মানে ২ গুণ নয়, ১০০ গুণ।
  44. ১৬১. কোনো শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব দ্বিগুণ হলে সেখানে শব্দের তীব্রতা কত হয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. দ্বিগুণ
    • খ. অর্ধেক
    • গ. এক-চতুর্থাংশ
    • ঘ. অপরিবর্তিত
    উত্তর: গ. এক-চতুর্থাংশ
    খোলা জায়গায় শব্দের তীব্রতা উৎস থেকে দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক, অর্থাৎ I ∝ 1/r²। তাই দূরত্ব দ্বিগুণ হলে তীব্রতা হয় (1/2)² = ¼ অংশ। তীব্রতা এক-চতুর্থাংশ হলে তীব্রতা লেভেল প্রায় ৬ ডেসিবেল কমে। এ কারণে সাধারণ ঘরে কথা বলার সময় একটু দূরে সরে গেলেই শব্দ অনেক ক্ষীণ হয়ে যায়।
  45. ১৬২. দুটি একই রকম লাউডস্পিকার একসঙ্গে বাজালে তীব্রতা লেভেল প্রায় কত বাড়ে?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৪
    • ক. ৩ ডেসিবেল
    • খ. ১০ ডেসিবেল
    • গ. ২০ ডেসিবেল
    • ঘ. দ্বিগুণ হয়
    উত্তর: ক. ৩ ডেসিবেল
    দুটি একই রকম লাউডস্পিকার একসঙ্গে বাজালে মোট তীব্রতা দ্বিগুণ হয়। তীব্রতা লেভেলের পরিবর্তন 10 log 2 ≈ 3 ডেসিবেল। ডেসিবেল লগারিদমিক বলে লেভেল দ্বিগুণ হয় না। যেমন দুটি ৬০ ডেসিবেলের শব্দ একসঙ্গে ১২০ ডেসিবেল হয় না, হয় প্রায় ৬৩ ডেসিবেল। ১০ গুণ তীব্রতা হলে তবেই ১০ ডেসিবেল বাড়ে।
  46. ১৬৩. বাংলাদেশের শব্দদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা শব্দের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা কত?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৫
    • ক. ৪৫ ডেসিবেল
    • খ. ৫০ ডেসিবেল
    • গ. ৫৫ ডেসিবেল
    • ঘ. ৭৫ ডেসিবেল
    উত্তর: গ. ৫৫ ডেসিবেল
    শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় দিনে অনুমোদিত শব্দমাত্রা ৫৫ ডেসিবেল আর রাতে ৪৫ ডেসিবেল। অন্য এলাকার মাত্রা: নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ও রাতে ৪০, মিশ্র এলাকায় ৬০ ও ৫০, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ও ৬০, আর শিল্প এলাকায় ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল। এখানে দিন মানে ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা, আর রাত মানে রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা। সব এলাকায় রাতের সীমা দিনের চেয়ে কম।
  47. ১৬৪. শব্দদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী নিচের কোনটি সাধারণত নীরব এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৫
    • ক. হাসপাতাল
    • খ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
    • গ. অফিস-আদালত
    • ঘ. কাঁচাবাজার
    উত্তর: ঘ. কাঁচাবাজার
    হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের মতো জায়গাকে কর্তৃপক্ষ নীরব এলাকা ঘোষণা করতে পারে। নীরব এলাকায় হর্ন, পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ, আর মাইক বা লাউডস্পিকারের অনুমতিও দেওয়া হয় না। কাঁচাবাজার স্বভাবতই কোলাহলপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা, তাই সেটি নীরব এলাকা নয়। আগের বিধিমালায় এসব প্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা ধরা হতো।
  48. ১৬৫. প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে কত ডেসিবেলের বেশি শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়?বইয়ের অনুচ্ছেদ ২.১৫
    • ক. ৩০ ডেসিবেল
    • খ. ৫০ ডেসিবেল
    • গ. ৮৫ ডেসিবেল
    • ঘ. ১০ ডেসিবেল
    উত্তর: গ. ৮৫ ডেসিবেল
    দীর্ঘ সময় ধরে ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে ৮ ঘণ্টা ৮৫ ডেসিবেল পর্যন্ত নিরাপদ ধরা হয়, আর শব্দ যত জোরালো হয়, নিরাপদ সময় তত কমে। একটানা ১০৫ ডেসিবেল বা তার বেশি শব্দে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। তুলনার জন্য, ভারী ট্রাকের শব্দ প্রায় ৯০ ডেসিবেল।

অন্যান্য অধ্যায়

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন