অম্ল, ক্ষারক ও লবণ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১০। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৭১টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (১৩)
- ১. নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্ষারকীয় অক্সাইড
- ক. P₄O₁₀
- খ. MgO
- গ. CO
- ঘ. ZnO
উত্তর: খ. MgO
ধাতুর অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয় হয়। MgO পানিতে মিশে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)₂ তৈরি করে, যা ক্ষার, আর এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শুধু লবণ ও পানি দেয়। তাই MgO একটি ক্ষারকীয় অক্সাইড (Basic Oxide)।
বাকিগুলোর ধর্ম আলাদা। P₄O₁₀ অধাতুর অক্সাইড, তাই এটি অম্লীয়। CO নিরপেক্ষ অক্সাইড, আর ZnO এসিড ও ক্ষার দুটোর সঙ্গেই বিক্রিয়া করে বলে একে উভধর্মী (Amphoteric) অক্সাইড বলা হয়। ক্ষারকীয় অক্সাইড পানিতে দ্রবীভূত হলে ক্ষার তৈরি করে, যেমন Na₂O পানির সঙ্গে মিশে NaOH দেয়। আবার অধাতুর অক্সাইড যেমন CO₂ ও SO₂ পানিতে মিশে এসিড তৈরি করে।
মনে রাখুন:
উভধর্মী অক্সাইড: ZnO, Al₂O₃, PbO।
নিরপেক্ষ অক্সাইড: CO, N₂O, H₂O। - ২. Pᴴ হলো-৩৫তম বিসিএস ও NESCO-এর সাব স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. এসিড নির্দেশক
- খ. এসিড, ক্ষারীয় ও নিরপেক্ষ নির্দেশক
- গ. এসিড ও ক্ষারীয় নির্দেশক
- ঘ. ক্ষারীয় নির্দেশক
উত্তর: খ. এসিড, ক্ষারীয় ও নিরপেক্ষ নির্দেশক
pH একটি মান, যা দিয়ে কোনো দ্রবণ অম্লীয়, ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা এক সঙ্গে বোঝা যায়। pH ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত একটি স্কেলে মাপা হয়। pH ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয়, ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয় আর ঠিক ৭ হলে নিরপেক্ষ। তাই pH-কে এসিড, ক্ষারীয় ও নিরপেক্ষ, তিন ধরনের দ্রবণেরই নির্দেশক মান বলা যায়। pH মাপার জন্য pH মিটার এবং ইউনিভার্সাল নির্দেশক ব্যবহার করা হয়। ইউনিভার্সাল নির্দেশক বিভিন্ন pH-এ বিভিন্ন রং দেখায়, তাই এর রং মিলিয়ে pH আন্দাজ করা যায়।
মনে রাখুন:
২৫°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH = ৭।
pH-এর মান ১ একক কমলে H⁺ আয়নের ঘনমাত্রা ১০ গুণ বাড়ে। - ৩. জলীয় দ্রবণে Pᴴ এর সর্বোচ্চ মান কোনটি?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৭
- খ. ১০
- গ. ১৪
- ঘ. ২০
উত্তর: গ. ১৪
সাধারণ জলীয় দ্রবণের pH স্কেলের সীমা ০ থেকে ১৪। এই স্কেলে সবচেয়ে বেশি মান ১৪, আর তখন দ্রবণটি সবচেয়ে তীব্র ক্ষারীয় হয়। ১ mol/L ঘনমাত্রার NaOH দ্রবণের pH ১৪-এর কাছাকাছি।
পানির আয়নীয় গুণফল (Kw) 10⁻¹⁴ বলেই স্কেলটি ১৪ পর্যন্ত যায়। সবচেয়ে কম মান ০ হলে দ্রবণ সবচেয়ে তীব্র অম্লীয় হয়।
মনে রাখুন: pH ৭ নিরপেক্ষ, ৭-এর কম অম্লীয়, ৭-এর বেশি ক্ষারীয়।
ক্ষারীয় দ্রবণে OH⁻ আয়নের ঘনমাত্রা বেশি থাকে। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মতো তীব্র ক্ষারের দ্রবণের pH সবচেয়ে বেশি হয়।
মনে রাখুন: দুর্বল ক্ষার, যেমন NH₄OH, এর pH ১১ এর কাছাকাছি হয়। - ৪. ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়-৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনেটের বিক্রিয়া
- ক. লবণ
- খ. পানি
- গ. কার্বন-ডাইঅক্সাইড
- ঘ. সবগুলো
উত্তর: ঘ. সবগুলো
ধাতব কার্বোনেট এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করলে একসঙ্গে তিনটি পদার্থ তৈরি হয়। কার্বোনেটের ধাতুর অংশ এসিডের অ্যানায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লবণ তৈরি করে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে পানি হয়। আর কার্বন বেরিয়ে যায় কার্বন-ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস হিসেবে। তাই লবণ, পানি ও CO₂, তিনটিই উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ:
CaCO₃ + 2HCl → CaCl₂ + H₂O + CO₂ কার্বোনেট ও বাইকার্বনেট দুটোই এসিডের সঙ্গে CO₂ দেয়। রান্নার সোডা অর্থাৎ NaHCO₃ এসিডের সঙ্গে CO₂ ছেড়ে কেক ফোলাতে সাহায্য করে।
মনে রাখুন: এই বিক্রিয়ায় বুদবুদ উঠতে দেখে CO₂ গ্যাস চেনা যায়, আর গ্যাসটি চুনের পানিকে ঘোলা করে। - ৫. PH হলো - -৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH স্কেল
- ক. এসিড নির্দেশক
- খ. এসিড ও ক্ষার নির্দেশক
- গ. ক্ষার নির্দেশক
- ঘ. এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
উত্তর: ঘ. এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
pH হলো কোনো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার একটি মাপ, যা ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত স্কেলে লেখা হয়। pH ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয়, ঠিক ৭ হলে নিরপেক্ষ, আর ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। অর্থাৎ একটি মানের মধ্যেই এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা, তিনটি অবস্থাই বোঝা যায়। তাই সবগুলো অবস্থা নির্দেশ করার অপশনটিই সঠিক। pH স্কেল চালু করেন ডেনিশ রসায়নবিদ সোরেনসেন। pH-এর মান এক একক কমলে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রা দশ গুণ বেড়ে যায়।
মনে রাখুন:
খাঁটি পানির pH ৭।
লেবুর রস অম্লীয়, আর সাবান ও চুনের পানি ক্ষারীয়।
সূত্রটি হলো pH = −log[H+]। - ৬. দুধে থাকে-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব অম্ল
- ক. সাইট্রিক এসিড
- খ. ল্যাকটিক এসিড
- গ. নাইট্রিক এসিড
- ঘ. এসিটিক এসিড
উত্তর: খ. ল্যাকটিক এসিড
দুধে ল্যাকটোজ (Lactose) নামে একটি শর্করা থাকে। ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের ব্যাকটেরিয়া এই ল্যাকটোজ ভেঙে ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে। এ কারণেই দুধ টক হয়ে যায় এবং দই জমে। সাইট্রিক এসিড থাকে লেবু ও কমলার মতো ফলে, আর অ্যাসিটিক এসিড থাকে ভিনেগারে। দইয়ের টক স্বাদও এই ল্যাকটিক এসিডের জন্য হয়। দুধ থেকে দই তৈরির সময় ব্যাকটেরিয়াই এই কাজ করে। অতিরিক্ত পরিশ্রমে আমাদের পেশিতেও ল্যাকটিক এসিড জমতে পারে। দুধের এই টক হওয়ার প্রক্রিয়াকে গাঁজন বলে।
মনে রাখুন:
দুধের প্রধান আমিষ কেসিন।
ল্যাকটোজ একটি দ্বিশর্করা, ভাঙলে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজ পাওয়া যায়। - ৭. কোনটি জৈব অম্ল?৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব অম্ল
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
- গ. এসিটিক এসিড
- ঘ. সালফিউরিক এসিড
উত্তর: গ. এসিটিক এসিড
যে এসিড জীবদেহ বা জৈব উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং যার অণুতে কার্বন থাকে, তাকে জৈব এসিড বলে। এসিটিক এসিড (CH₃COOH) একটি জৈব এসিড, আর ভিনেগারে এটি থাকে। নাইট্রিক, হাইড্রোক্লোরিক ও সালফিউরিক এসিড খনিজ থেকে তৈরি হয়, তাই এগুলোকে অজৈব বা খনিজ এসিড বলা হয়। জৈব এসিডগুলো সাধারণত দুর্বল এসিড, আর খনিজ এসিডগুলো তুলনায় অনেক তীব্র। পিঁপড়া ও লেবুর মতো জীবজ উৎস থেকে পাওয়া অ্যাসিডগুলো এর উদাহরণ।
মনে রাখুন:
পিঁপড়ার কামড়ের জ্বালার কারণ ফরমিক এসিড।
তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
আঙুর ও লেবুজাতীয় ফলে যথাক্রমে টারটারিক ও সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়। - ৮. কৃষি জমিতে প্রধানত চুন ব্যবহার করা হয়-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুন ও মাটির অম্লতা
- ক. মাটির ক্ষয় রোধের জন্য
- খ. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
- গ. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
- ঘ. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য
উত্তর: গ. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
চুন একটি ক্ষারীয় পদার্থ। অম্লীয় মাটিতে চুন দিলে সেটি মাটির অম্লকে প্রশমিত করে এবং মাটির অম্লতা কমিয়ে দেয়। অম্লীয় মাটিতে অনেক ফসল ভালো হয় না, আর গাছও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিতে পারে না। চুন দিয়ে অম্লতা কমালে মাটির পরিবেশ ফসল চাষের উপযোগী হয়। এছাড়া চুন মাটিতে ক্যালসিয়ামও জোগায়, যা গাছের জন্য দরকারি।
মনে রাখুন:
মাটির পিএইচ (pH) ৭-এর কম হলে মাটি অম্লীয়, আর ৭-এর বেশি হলে মাটি ক্ষারীয়।
বেশির ভাগ ফসলের জন্য প্রায় নিরপেক্ষ মাটি সবচেয়ে ভালো।
ক্ষারীয় মাটির ক্ষেত্রে অম্লতা বাড়াতে জিপসামের মতো পদার্থ ব্যবহার করা হয়। - ৯. ‘অ্যাকোয়া রেজিয়া’ বলতে বুঝায়-১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যাকোয়া রেজিয়া
- ক. কনসেনট্রেটেড সালফিউরিক এসিড
- খ. কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিড
- গ. কনসেনট্রেটেড সালফিউরিক এবং কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিডের মিশ্রণ
- ঘ. কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ
উত্তর: ঘ. কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ
গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ১ : ৩ অনুপাতে মেশালে অম্লরাজ বা অ্যাকোয়া রেজিয়া (Aqua Regia) তৈরি হয়। ল্যাটিন নামের অর্থ ‘রাজকীয় পানি’। সাধারণ কোনো এসিড সোনা বা প্লাটিনামকে গলাতে পারে না। কিন্তু এই মিশ্রণে নাইট্রিক এসিড সোনাকে জারিত করে, আর হাইড্রোক্লোরিক এসিড থেকে পাওয়া ক্লোরাইড আয়ন সেই সোনার আয়নকে দ্রবণে ধরে রাখে, ফলে ধাতুটি গলে যায়।
মনে রাখুন:
সোনা, প্লাটিনামের মতো রাজকীয় বা নোবেল ধাতু (Noble metal) অম্লরাজে গলে।
এই মিশ্রণ তাজা তৈরি করে ব্যবহার করতে হয়, কারণ সংরক্ষণ করলে এটি অস্থির হয়ে পড়ে। - ১০. ফিটকিরিতে কত অণু পানি থাকে?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ
- ক. ২৪
- খ. ১৫
- গ. ০৭
- ঘ. ০৫
উত্তর: ক. ২৪
ফিটকিরি (Alum) হলো পটাশিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের কেলাস, যার সংকেত K₂SO₄·Al₂(SO₄)₃·24H₂O। অর্থাৎ এর প্রতিটি অণুর সঙ্গে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। কেলাস পানি হলো সেই পানি, যা কেলাসের গঠনের ভেতরে নির্দিষ্ট অনুপাতে আবদ্ধ থাকে এবং কেলাসের আকার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখে। ফিটকিরি গরম করলে এই কেলাস পানি বেরিয়ে যায় এবং কেলাসের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়ে সাদা গুঁড়ো পড়ে থাকে। আমাদের দেশে ক্ষৌরকর্মের পর কাটা জায়গায় ফিটকিরি লাগানো হয়, কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে।
মনে রাখুন:
ফিটকিরি ঘোলা পানি পরিষ্কার করতে ব্যবহার হয়।
তুঁতের (CuSO₄·5H₂O) এক অণুতে ৫ অণু কেলাস পানি থাকে। - ১১. ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে –৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ
- ক. সিলভার ব্রোমাইডের
- খ. সিলভার ক্লোরাইডের
- গ. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের
- ঘ. সিলভার ফ্লোরাইডের
উত্তর: ক. সিলভার ব্রোমাইডের
ফটোগ্রাফিক প্লেট বা ফিল্মের ওপর সিলভার ব্রোমাইডের (AgBr) আবরণ থাকে। আলো পড়লে সিলভার ব্রোমাইড ভেঙে গিয়ে রুপার সূক্ষ্ম কণা তৈরি করে। এতে ছবির একটি অদৃশ্য ছাপ পড়ে, যাকে ডেভেলপারে ডুবিয়ে দৃশ্যমান করা হয়। আলোর প্রতি এই সংবেদনশীলতার কারণেই ছবি তোলায় এই যৌগ ব্যবহার করা হয়। ফিল্মে আলো যত বেশি পড়ে, ওই জায়গায় রুপার কণা তত বেশি জমে। সাদা-কালো ও রঙিন, দুই ধরনের ফিল্মেই এই নীতি কাজ করে।
মনে রাখুন:
ছবিকে স্থায়ী করার প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম থায়োসালফেট (হাইপো) ব্যবহার করা হয়।
আলোর প্রভাবে সিলভার ব্রোমাইডের এই পরিবর্তনকে আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। - ১২. সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত –৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ
- ক. CH2COONa
- খ. (CH3COO)2Ca
- গ. CH3COONa
- ঘ. CHCOONa
উত্তর: গ. CH3COONa
অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সংকেত CH₃COOH। এর কার্বক্সিল গ্রুপের হাইড্রোজেনের জায়গায় সোডিয়াম (Na) বসালে সোডিয়াম অ্যাসিটেট তৈরি হয়, তাই এর সংকেত CH₃COONa। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা যৌগ বা ভুল সংকেত। যেমন (CH₃COO)₂Ca হলো ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেটের সংকেত, কারণ ক্যালসিয়ামের যোজনী ২, তাই এতে দুটি অ্যাসিটেট মূলক লাগে। একইভাবে সোডিয়ামের যোজনী ১ বলে একটি অ্যাসিটেট মূলই সোডিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই লবণ পানিতে সহজে গলে যায়।
মনে রাখুন:
ভিনেগারে প্রায় ৪ থেকে ৮ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে।
বিশুদ্ধ অ্যাসিটিক অ্যাসিড শীতল অবস্থায় বরফের মতো জমে যায়, তাই একে হিমশীতল অ্যাসিটিক অ্যাসিড বলে। - ১৩. অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?২৯তম ও ৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ
- ক. ফিটকিরি
- খ. চুন
- গ. সেভিং সোপ
- ঘ. কস্টিক সোডা
উত্তর: ক. ফিটকিরি
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা নাম ফিটকিরি (Alum)। এটি এক ধরনের স্বচ্ছ কেলাস, আর আমাদের গ্রামে এটি ঘোলা পানি পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়। ফিটকিরি পানিতে মেশালে পানির ভাসমান কাদা ও ময়লা জমাট বেঁধে তলায় বসে যায়, ফলে পানি স্বচ্ছ হয়। অন্য অপশনগুলো ভিন্ন পদার্থ। চুন হলো ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড, আর কস্টিক সোডা হলো সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড। ফিটকিরি আসলে দুটি লবণের মিলিত কেলাস, যার একটি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, আর পানি পরিশোধনে এর অ্যালুমিনিয়াম আয়নই আসল কাজ করে।
মনে রাখুন:
ফিটকিরির আরেকটি ব্যবহার হলো ক্ষত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করা।
সাবান বা শেভিং সোপ আসলে ফ্যাটি অ্যাসিডের লবণ।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৫৮)
- ১৪. কোনটি অম্লীয় যৌগ?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. FeCl₃
- খ. KCl
- গ. CH₃Cl
- ঘ. C₆H₅Cl
উত্তর: ক. FeCl₃
FeCl₃ পানিতে দ্রবীভূত হলে আয়রন(III) আয়ন (Fe³⁺) পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রোক্সাইড তৈরি করে এবং দ্রবণে H⁺ আয়ন ছেড়ে দেয়। এই কারণে এর দ্রবণ অম্লীয় হয়। এ ছাড়া FeCl₃-এর কেন্দ্রীয় আয়নে ইলেকট্রন গ্রহণের ক্ষমতা আছে, তাই একে লুইস এসিডও (Lewis Acid) বলা হয়।
অন্যদিকে KCl তীব্র ক্ষার KOH ও তীব্র এসিড HCl থেকে তৈরি লবণ, তাই এর দ্রবণ প্রায় নিরপেক্ষ। CH₃Cl আর C₆H₅Cl জৈব যৌগ, এরা পানিতে H⁺ আয়ন দেয় না বলে অম্লীয় নয়।
মনে রাখুন:
দুর্বল ক্ষার ও তীব্র এসিড থেকে তৈরি লবণের দ্রবণ অম্লীয় হয়, যেমন FeCl₃, NH₄Cl।
তীব্র ক্ষার ও তীব্র এসিড থেকে তৈরি লবণের দ্রবণ নিরপেক্ষ হয়, যেমন NaCl, KCl। - ১৫. নিচের কোনটি লুইস এসিডের উদাহরণ?চবি ইউনিট-গার্হস্থ্য অর্থনীতি ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. HNO₃
- খ. H₂SO₄
- গ. AlCl₃
- ঘ. NH₃
উত্তর: গ. AlCl₃
লুইসের সংজ্ঞা অনুযায়ী যে পদার্থ এক জোড়া ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে, সেটি এসিড। AlCl₃-এর অ্যালুমিনিয়াম পরমাণুর বাইরের স্তরে ৬টি ইলেকট্রন থাকে, অর্থাৎ অষ্টক পূর্ণ হতে ২টি ইলেকট্রন কম। তাই এটি অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন জোড় নিতে পারে এবং লুইস এসিড (Lewis Acid) হিসেবে কাজ করে।
NH₃-এর নাইট্রোজেনে একজোড়া মুক্ত ইলেকট্রন আছে, যা সে দান করতে পারে, তাই NH₃ লুইস ক্ষারক। HNO₃ ও H₂SO₄ প্রোটন (H⁺) দান করে, তাই এরা ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড।
মনে রাখুন:
লুইস এসিড: ইলেকট্রন জোড় গ্রহণকারী, যেমন AlCl₃, BF₃, FeCl₃।
লুইস ক্ষারক: ইলেকট্রন জোড় দানকারী, যেমন NH₃, H₂O। - ১৬. H⁺ আয়ন দ্রবণের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে কী বলে?স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. pH
- খ. pF
- গ. Acid
- ঘ. Base
উত্তর: ক. pH
কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয়, তা বোঝার জন্য সেখানে H⁺ আয়নের ঘনমাত্রা জানা দরকার। এই ঘনমাত্রা অনেক ছোট সংখ্যা হয় বলে ডেনিশ বিজ্ঞানী সোরেনসেন তার ঋণাত্মক লগারিদম নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। এভাবে পাওয়া মানকেই pH বলে, অর্থাৎ pH = -log[H⁺]।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো দ্রবণে [H⁺] = 10⁻⁷ mol/L হলে তার pH = ৭। সোরেনসেন ১৯০৯ সালে এই ধারণা দেন। pH-এর কোনো একক নেই, কারণ এটি একটি অনুপাতের লগারিদম।
মনে রাখুন:
pH-এর p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz (ক্ষমতা) থেকে।
অম্লীয় দ্রবণের pH ৭-এর কম, ক্ষারীয় দ্রবণের pH ৭-এর বেশি। - ১৭. pH মান দ্বারা পানিতে কিসের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়?গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের থানা প্রকৌশলী (সিভিল), ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ম্যাগনেসিয়াম
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. ক্যালসিয়াম
- ঘ. কোনোটাই নয়
উত্তর: খ. হাইড্রোজেন
pH আসলে দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনমাত্রার একটি মাপ। পানিতে H⁺ আয়ন বেশি থাকলে pH কমে যায় এবং পানি অম্লীয় হয়। H⁺ আয়ন কমে গেলে pH বাড়ে এবং পানি ক্ষারীয় হয়। সুতরাং pH দিয়ে পানির ম্যাগনেসিয়াম বা ক্যালসিয়ামের পরিমাণ নয়, হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণই মাপা হয়। আমাদের শরীরের কোষের কাজ, মাটির উর্বরতা এবং মাছের চাষ, সবকিছুতেই pH-এর ভূমিকা আছে। যেমন বেশির ভাগ মাছ pH ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে ভালো থাকে।
মনে রাখুন:
পানির খরতা মাপা হয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণের পরিমাণ দিয়ে, pH দিয়ে নয়।
পানীয় জলের pH সাধারণত ৬.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে থাকা ভালো। - ১৮. কোন সমীকরণের সাহায্যে বাফারের Pᴴ এর মান গণনা করা হয়?বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাফার দ্রবণ
- ক. হেন্ডারসন সমীকরণের দ্বারা
- খ. এন্ডারসন সমীকরণের দ্বারা
- গ. অসওয়াল্ডের সমীকরণ দ্বারা
- ঘ. রাউল্টের সমীকরণের দ্বারা
উত্তর: ক. হেন্ডারসন সমীকরণের দ্বারা
বাফার দ্রবণের pH হিসাব করা হয় হেন্ডারসন সমীকরণ (Henderson Equation) দিয়ে, যেটিকে হেন্ডারসন-হাসেলবালখ সমীকরণও বলে। অম্ল ও তার লবণ নিয়ে তৈরি বাফারের জন্য সমীকরণটি হলো pH = pKa + log([লবণ]/[অম্ল])।
এখান থেকে বোঝা যায়, লবণ ও অম্লের ঘনমাত্রার অনুপাত বদলালে বাফারের pH বদলায়। অনুপাত ১ হলে log-এর মান শূন্য হয় এবং তখন pH = pKa হয়।
মনে রাখুন:
ক্ষারীয় বাফারের জন্য সমীকরণ: pOH = pKb + log([লবণ]/[ক্ষার])।
অসওয়াল্ড মূলত লঘুকরণ সূত্রের জন্য এবং রাউল্ট দ্রবণের বাষ্পচাপ সূত্রের জন্য পরিচিত। - ১৯. Pᴴ স্কেলের বিস্তৃতি কত?বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৭ - ১০০
- খ. ৬-১২
- গ. ০-৭
- ঘ. ০-১৪
উত্তর: ঘ. ০-১৪
pH স্কেল সাধারণভাবে ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিস্তৃত। স্কেলের মাঝের মান ৭ হলো নিরপেক্ষ অবস্থা। ৭-এর নিচের মানগুলো অম্লীয় দ্রবণ আর ৭-এর ওপরের মানগুলো ক্ষারীয় দ্রবণ বোঝায়।
এই সীমা আসে পানির আয়নীয় গুণফল থেকে। ২৫°C তাপমাত্রায় [H⁺][OH⁻] = 10⁻¹⁴, তাই লঘু জলীয় দ্রবণে pH ও pOH-এর যোগফল সব সময় ১৪ হয়। pH স্কেলটি লগারিদমিক, তাই pH ৩ এর দ্রবণ pH ৪ এর দ্রবণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি অম্লীয়। pH ২ আর pH ৫ এর মধ্যে H⁺ আয়নের পার্থক্য ১০০০ গুণ।
মনে রাখুন:
অম্লের উদাহরণ: লেবুর রস (pH প্রায় ২), ভিনেগার (প্রায় ৩)।
ক্ষারের উদাহরণ: সাবান (প্রায় ১০), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (প্রায় ১৪)। - ২০. পানির pH এর মান কত হলে পুরোপুরি ক্ষারকীয় বলা হয়?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৯
- খ. ১৪
- গ. ১
- ঘ. ৭
উত্তর: খ. ১৪
pH স্কেলে ৭ থেকে যত ওপরে যাওয়া যায়, দ্রবণ তত বেশি ক্ষারীয় হয়। স্কেলের সর্বোচ্চ মান ১৪, আর এই মানে দ্রবণটি সবচেয়ে বেশি ক্ষারীয় অবস্থায় থাকে। তাই পুরোপুরি ক্ষারীয় বোঝাতে ১৪-কেই ধরা হয়।
অন্যদিকে ১ হলো প্রায় পুরোপুরি অম্লীয় অবস্থা, ৭ নিরপেক্ষ আর ৯ মৃদু ক্ষারীয়। ক্ষারের তীব্রতা বাড়লে pH বাড়ে। তীব্র ক্ষার NaOH-এর ঘন দ্রবণের pH ১৪ এর কাছে পৌঁছায়, আর দুর্বল ক্ষার অ্যামোনিয়ার দ্রবণের pH ১১ এর আশপাশে থাকে। ক্ষার পানিতে OH⁻ আয়ন দেয় এবং স্বাদে তেতো ও স্পর্শে পিচ্ছিল হয়।
মনে রাখুন: লিটমাস কাগজ ও pH কাগজের মাধ্যমে সহজেই দ্রবণের pH আন্দাজ করা যায়। - ২১. pH এর কোন মানটি নিরপেক্ষ?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৩.৫
- খ. ৬
- গ. ৭
- ঘ. ৭.৫
উত্তর: গ. ৭
কোনো দ্রবণ অম্লীয়ও নয়, ক্ষারীয়ও নয়, এমন অবস্থায় তার pH হয় ৭। এই অবস্থায় দ্রবণে H⁺ আর OH⁻ আয়নের ঘনমাত্রা সমান থাকে, প্রতিটি 10⁻⁷ mol/L। বিশুদ্ধ পানি এর সবচেয়ে সহজ উদাহরণ।
pH ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয়, আর ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। তাই ৩.৫ ও ৬ অম্লীয় এবং ৭.৫ মৃদু ক্ষারীয় দ্রবণ বোঝায়। সাধারণ পানি, খাবার লবণের দ্রবণ ও চিনির দ্রবণ প্রায় নিরপেক্ষ। দুধের pH প্রায় ৬.৫, অর্থাৎ সামান্য অম্লীয়।
মনে রাখুন: তাপমাত্রা বদলালে পানির আয়নীয় গুণফল বদলায়, তাই নিরপেক্ষ pH-এর মান ৭ হয় ২৫°C তাপমাত্রায়। - ২২. মানুষের রক্তের pH কত?বিটিভির উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৬.৩৫
- খ. ৮.৩০
- গ. ৭.৩৫
- ঘ. ৭.১৫
উত্তর: গ. ৭.৩৫
সুস্থ মানুষের রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH প্রায় ৭.৩৫ থেকে ৭.৪৫ এর মধ্যে থাকে, তাই গড় মান ধরা হয় ৭.৩৫। রক্তে কার্বনিক এসিড ও বাইকার্বনেটের একটি বাফার ব্যবস্থা আছে, যা pH-কে এই সংকীর্ণ সীমার মধ্যে ধরে রাখে।
pH ৭.৩৫-এর নিচে নেমে গেলে অবস্থাটিকে অ্যাসিডোসিস (Acidosis) বলে, আর ৭.৪৫-এর ওপরে উঠলে অ্যালকালোসিস (Alkalosis) বলে। দুটোই শরীরের জন্য বিপজ্জনক। দেহের প্রতিটি অংশের pH এক নয়। পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের কারণে pH খুব কম, কিন্তু রক্তের pH প্রায় স্থির থাকে।
মনে রাখুন: মানুষের পাকস্থলীর রসের pH প্রায় ১.৫ থেকে ৩.৫, অর্থাৎ বেশ অম্লীয়। - ২৩. মানুষের রক্তের pH কত?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৭.০
- খ. ৭.২
- গ. ৭.৪
- ঘ. ৭.৬
উত্তর: গ. ৭.৪
মানুষের রক্তের pH প্রায় ৭.৪, অর্থাৎ রক্ত হালকা ক্ষারীয়। সুস্থ অবস্থায় এর সীমা ৭.৩৫ থেকে ৭.৪৫। রক্তের বাইকার্বনেট বাফার সহজে বাড়তি H⁺ বা OH⁻ আয়ন শুষে নিয়ে pH ঠিক রাখে।
এই মান ৭.০ এর নিচে বা ৭.৮ এর ওপরে চলে গেলে শরীরের কোষের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই pH-এর এই নিয়ন্ত্রণ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তের pH ঠিক রাখতে ফুসফুস শ্বাসের মাধ্যমে CO₂ বের করে দেয় এবং বৃক্ক বাড়তি এসিড বা ক্ষার প্রস্রাবের সঙ্গে ছেড়ে দেয়।
মনে রাখুন: মানুষের লালার pH প্রায় ৬.৫ থেকে ৭.৫, আর প্রস্রাবের pH সাধারণত ৪.৫ থেকে ৮। - ২৪. স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের পিএইচ (pH)-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ৭.২৫-৭.৫৩
- খ. ৭.৩৫-৭.৪৫
- গ. ৭.১-৭.৮
- ঘ. ৭.৪-৭.৮
উত্তর: খ. ৭.৩৫-৭.৪৫
সুস্থ মানুষের ধমনির রক্তের pH খুব সংকীর্ণ একটি সীমার মধ্যে থাকে, এটি ৭.৩৫ থেকে ৭.৪৫। রক্তের বাইকার্বনেট (HCO₃⁻) ও কার্বনিক এসিডের বাফার এবং ফুসফুস ও বৃক্কের নিয়ন্ত্রণ মিলে এই সীমা বজায় রাখে।
এই সীমার নিচে নামলে অ্যাসিডোসিস আর ওপরে উঠলে অ্যালকালোসিস হয়। তাই নার্সিং ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে রক্তের pH পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন: রক্তের গড় pH প্রায় ৭.৪, অর্থাৎ হালকা ক্ষারীয়।
চিকিৎসকেরা রক্তের গ্যাস পরীক্ষায় এই pH মাপেন। শ্বাসকষ্ট বা ডায়াবেটিসের জটিলতায় pH স্বাভাবিকের নিচে নামতে পারে।
মনে রাখুন: রক্তের pH ৭.৩৫-এর নিচে নামলে অ্যাসিডোসিস হয়। - ২৫. pH = 6.5পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. Acidic Water
- খ. Industrial Water
- গ. Alkaline Water
- ঘ. Neutral Water
উত্তর: ক. Acidic Water
pH ৭-এর কম হলে পানি অম্লীয় (Acidic) হয়। pH ৬.৫ সংখ্যাটি ৭-এর চেয়ে কম, তাই এই পানি সামান্য অম্লীয়। বৃষ্টির পানির pH সাধারণত ৫.৬ এর কাছাকাছি, কারণ বাতাসের CO₂ পানিতে মিশে দুর্বল কার্বনিক এসিড তৈরি করে।
নিরপেক্ষ পানির pH হয় ঠিক ৭, আর ক্ষারীয় পানির pH ৭-এর বেশি। পানীয় জলের জন্য pH ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে থাকা ভালো ধরা হয়। এর বাইরে গেলে পানি ধাতব পাইপকে ক্ষয় করতে পারে বা স্বাদ খারাপ হয়।
মনে রাখুন: pH ৫.৬-এর নিচে নামলে বৃষ্টিকে অম্লবৃষ্টি (Acid Rain) বলা হয়। - ২৬. দুর্বল ক্ষার এবং অম্লের বিক্রিয়ায় যে যৌগ Pᴴ পরিবর্তনে বাধা দিয়ে থাকে-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাফার দ্রবণ
- ক. এসিড বৃষ্টি
- খ. এলকালোসিস
- গ. Pᴴ মাত্রা
- ঘ. বাফার
উত্তর: ঘ. বাফার
যে দ্রবণে সামান্য এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও pH প্রায় বদলায় না, তাকে বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) বলে। দুর্বল ক্ষার ও তার লবণ অথবা দুর্বল এসিড ও তার লবণ মেশালে এমন দ্রবণ তৈরি হয়। বাড়তি H⁺ আসলে লবণের অ্যানায়ন সেটি শুষে নেয়, আর বাড়তি OH⁻ আসলে দুর্বল এসিড সেটিকে প্রশমিত করে। এভাবেই বাফার pH পরিবর্তনে বাধা দেয়।
উদাহরণ:
অম্লীয় বাফার: CH₃COOH ও CH₃COONa।
ক্ষারীয় বাফার: NH₄OH ও NH₄Cl।
মনে রাখুন: আমাদের রক্তে বাইকার্বনেট বাফার থাকায় রক্তের pH প্রায় স্থির থাকে। - ২৭. যদি কোনো যৌগের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে তাহলে সেটি-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক, ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ক্ষার
- খ. ক্ষারক
- গ. অম্ল
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. অম্ল
লিটমাস (Litmus) হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক নির্দেশক, যা লাইকেন নামের উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। অম্লীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে, আর ক্ষারীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। তাই যে জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে, সেটি অম্ল। এর কারণ, অম্ল পানিতে H⁺ আয়ন দেয় এবং এই আয়নই রঙের পরিবর্তন ঘটায়। লিটমাস কাগজ নীল ও লাল, দুই রঙেই পাওয়া যায়, আর এর সাহায্যে সহজে এসিড ও ক্ষার আলাদা করা যায়। তবে লিটমাস দিয়ে দ্রবণ কতটা অম্লীয়, তা সঠিকভাবে বলা যায় না, সেজন্য pH মিটার লাগে।
মনে রাখুন:
নিরপেক্ষ দ্রবণে লিটমাসের রং বদলায় না।
অম্লের স্বাদ টক, ক্ষারের স্বাদ তেতো এবং ক্ষার পিচ্ছিল অনুভূত হয়। - ২৮. এসিডের ধর্ম -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (চতুর্থ পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. এরা লাল লিটমাসকে হলুদ করে
- খ. এরা লাল লিটমাসকে নীল করে
- গ. এরা নীল লিটমাসকে লাল করে
- ঘ. এরা নীল লিটমাসকে সাদা করে
উত্তর: গ. এরা নীল লিটমাসকে লাল করে
এসিডের একটি পরিচিত ধর্ম হলো, এটি নীল লিটমাসকে লাল করে। পানিতে এসিড ভেঙে H⁺ আয়ন তৈরি করে, আর লিটমাসের রং এই H⁺ আয়নের উপস্থিতিতে বদলে যায়। লাল লিটমাসের ওপর এসিডের কোনো প্রভাব পড়ে না।
বিপরীতে ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে। এসিড ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস দেয় এবং কার্বোনেটের সঙ্গে বিক্রিয়ায় CO₂ গ্যাস ছাড়ে। এসিডের আরও ধর্ম আছে। এসিড ক্ষারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি দেয়। তীব্র এসিড ত্বকে পোড়া ঘা সৃষ্টি করে, তাই হাতে নিয়ে পরীক্ষা করা ঠিক নয়।
মনে রাখুন: এসিডের স্বাদ টক, যেমন লেবুতে সাইট্রিক এসিড আর ভিনেগারে অ্যাসিটিক এসিড থাকে। - ২৯. ব্রোমোফেনল নির্দেশকের অম্লীয় বর্ণ-বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. বর্ণহীন
- খ. লাল
- গ. হলুদ
- ঘ. নীল
উত্তর: গ. হলুদ
ব্রোমোফেনল ব্লু (Bromophenol Blue) একটি pH নির্দেশক, যা অম্লীয় মাধ্যমে হলুদ রঙ দেয়। pH প্রায় ৩.০ এর নিচে এর রং হলুদ থাকে, আর pH প্রায় ৪.৬ এর ওপরে গেলে এটি নীলচে বেগুনি হয়। মাঝখানের সীমায় রংটি ধীরে ধীরে বদলায়। নির্দেশক হলো এমন পদার্থ, যা দ্রবণের অম্লতা বা ক্ষারতা অনুযায়ী রং বদলায়। এ ধরনের নির্দেশককে pH নির্দেশক বলে। প্রতিটি নির্দেশকের রং বদলানোর একটি নির্দিষ্ট pH সীমা থাকে, তাই টাইট্রেশনে সঠিক নির্দেশক বেছে নেওয়া জরুরি।
মনে রাখুন:
মিথাইল অরেঞ্জ অম্লে লাল, ক্ষারে হলুদ।
ফেনলফথ্যালিন অম্লে বর্ণহীন, ক্ষারে গোলাপি। - ৩০. ক্ষারীয় মাধ্যমে pH-নির্দেশক ফেনলফথ্যালিনের বর্ণ হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. নীল
- খ. লালচে বেগুনি
- গ. হলুদ
- ঘ. লাল
উত্তর: খ. লালচে বেগুনি
ফেনলফথ্যালিন (Phenolphthalein) একটি pH নির্দেশক। অম্লীয় ও নিরপেক্ষ দ্রবণে এটি বর্ণহীন থাকে। কিন্তু pH প্রায় ৮.২ এর ওপরে, অর্থাৎ ক্ষারীয় মাধ্যমে, এর অণুর গঠন বদলে যায় এবং দ্রবণটি লালচে বেগুনি বা গোলাপি রং ধারণ করে।
এ কারণেই ক্ষারের সঙ্গে অম্লের টাইট্রেশনে এই নির্দেশক ব্যবহার করা হয়। রং হঠাৎ দেখা দিলে বা মিলিয়ে গেলে বোঝা যায়, প্রশমন সম্পূর্ণ হয়েছে। ফেনলফথ্যালিন দুর্বল এসিড, তাই ক্ষারের OH⁻ এর সঙ্গে বিক্রিয়ায় এর আয়ন তৈরি হয় এবং সেই আয়নের রং লালচে বেগুনি। দ্রবণে এসিড মেশালে আবার রং মিলিয়ে যায়।
মনে রাখুন:
মিথাইল অরেঞ্জ অম্লে লালচে, ক্ষারে হলুদ।
লিটমাস অম্লে লাল, ক্ষারে নীল। - ৩১. কোনটি ক্ষার?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. NH₃
- খ. Na₂SO₃
- গ. NaCl
- ঘ. HNO₃
উত্তর: ক. NH₃
অ্যামোনিয়া (NH₃) পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH₄OH) তৈরি করে, যার দ্রবণে OH⁻ আয়ন থাকে। এই OH⁻ আয়নের কারণে দ্রবণটি ক্ষারীয় হয়, তাই NH₃-কে ক্ষারক বা ক্ষার হিসেবে ধরা হয়।
বাকিগুলোর মধ্যে HNO₃ একটি তীব্র এসিড এবং NaCl একটি নিরপেক্ষ লবণ। Na₂SO₃-ও লবণ, যদিও এর জলীয় দ্রবণ সামান্য ক্ষারীয়। অ্যামোনিয়ার একটি বিশেষ গন্ধ আছে এবং এটি পানিতে খুব ভালো দ্রবীভূত হয়। অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে সার, যেমন ইউরিয়া, তৈরি করা হয়। হাবার পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন থেকে এটি শিল্পে তৈরি হয়।
মনে রাখুন: NH₃ ও ক্ষারীয় যৌগের দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। - ৩২. নিচের কোন যুগল বাফার দ্রবণ তৈরি করে?ঢাবি ইউনিট-গার্হস্থ্য অর্থনীতি ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাফার দ্রবণ
- ক. CH₃COOH and NaOH
- খ. HCl and NH₄OH
- গ. NH₄Cl and NH₄OH
- ঘ. CaCl₂ and K₂CO₃
উত্তর: গ. NH₄Cl and NH₄OH
বাফার দ্রবণ তৈরি হয় দুর্বল ক্ষার ও তার লবণ মিশিয়ে, অথবা দুর্বল এসিড ও তার লবণ মিশিয়ে। NH₄OH একটি দুর্বল ক্ষার আর NH₄Cl তার লবণ, তাই এই জোড়া ক্ষারীয় বাফার তৈরি করে। এখানে বাড়তি H⁺ এলে NH₄OH তাকে প্রশমিত করে, আর বাড়তি OH⁻ এলে NH₄⁺ আয়ন তাকে প্রশমিত করে।
CH₃COOH ও NaOH বিক্রিয়া করে CH₃COONa তৈরি করে, কিন্তু NaOH তীব্র ক্ষার হওয়ায় জোড়াটি বাফার নয়। একই কারণে HCl তীব্র এসিড ও CaCl₂ আর K₂CO₃ জোড়াও বাফার তৈরি করে না।
মনে রাখুন: ক্ষারীয় বাফারের pH ৭-এর বেশি এবং এর pH প্রায় ৯.২৫। - ৩৩. বাফার দ্রবণ হলো-কৃষি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাফার দ্রবণ
- ক. CH₃-COOH + CH₃-COONa
- খ. NaOH +Na₂CO₃
- গ. CH₃-COOH + CH₃-COONH₄
- ঘ. KOH + Na₂CO₃
উত্তর: ক. CH₃-COOH + CH₃-COONa
CH₃COOH একটি দুর্বল এসিড আর CH₃COONa তার লবণ। দুটো একসঙ্গে মেশালে অ্যাসিটেট আয়নের পরিমাণ বেশি থাকে। বাড়তি H⁺ এলে অ্যাসিটেট আয়ন তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে CH₃COOH তৈরি করে, আর বাড়তি OH⁻ এলে CH₃COOH তাকে প্রশমিত করে। এভাবে pH প্রায় স্থির থাকে, তাই এটি একটি বাফার দ্রবণ।
বাকি জোড়াগুলোতে এক পাশে তীব্র ক্ষার থাকায় অথবা দুর্বল এসিড ও তার সঠিক লবণ না থাকায় বাফার তৈরি হয় না। বাফারের ক্ষমতা সীমিত। অনেক বেশি এসিড বা ক্ষার যোগ করলে বাফারের উপাদানগুলো শেষ হয়ে যায় এবং তখন pH দ্রুত বদলায়। শরীরে, মাটিতে এবং ওষুধ তৈরিতে বাফার দ্রবণ ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন: এই বাফারের pH প্রায় ৪.৭৪। - ৩৪. নিচের কোনটি লবণ?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. ZnO
- খ. KNO₃
- গ. KOH
- ঘ. NaOH
উত্তর: খ. KNO₃
এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন ধাতু বা ধাতুর মতো ধনাত্মক আয়ন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হলে লবণ (Salt) তৈরি হয়। KNO₃ তৈরি হয় নাইট্রিক এসিড (HNO₃) আর পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) এর বিক্রিয়ায়, তাই এটি একটি লবণ। এর মধ্যে ধনাত্মক আয়ন K⁺ ও ঋণাত্মক আয়ন NO₃⁻ আছে।
KOH ও NaOH ক্ষার, আর ZnO একটি উভধর্মী অক্সাইড, এদের কোনোটিই লবণ নয়। লবণ তিন রকমের হতে পারে। নিরপেক্ষ লবণ, যেমন NaCl। অম্লীয় লবণ, যেমন NaHSO₄। ক্ষারীয় লবণ, যেমন Na₂CO₃। জলীয় দ্রবণে লবণ ভেঙে আয়ন তৈরি করে বলে এটি তড়িৎ পরিবহন করে।
মনে রাখুন: KNO₃-কে সোরা বা সল্টপিটার বলে, এটি বারুদ ও সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। - ৩৫. প্রশমন বিক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়?পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. এসিড ও পানি
- খ. ক্ষার ও পানি
- গ. লবণ, ক্ষার ও পানি
- ঘ. লবণ ও পানি
উত্তর: ঘ. লবণ ও পানি
এসিড ও ক্ষারের মধ্যে যে বিক্রিয়ায় একে অপরের ধর্ম নষ্ট করে দেয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization) বলে। এই বিক্রিয়ায় এসিডের H⁺ আয়ন ক্ষারের OH⁻ আয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পানি (H₂O) তৈরি করে, আর বাকি আয়নগুলো মিলে লবণ তৈরি করে। তাই প্রশমন বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ:
HCl + NaOH → NaCl + H₂O প্রশমন বিক্রিয়া তাপ ছাড়ে, অর্থাৎ এটি তাপউৎপাদী বিক্রিয়া। টাইট্রেশনে এই বিক্রিয়া ব্যবহার করে অজানা দ্রবণের ঘনমাত্রা বের করা হয়।
মনে রাখুন: পেটে এসিডিটি হলে অ্যান্টাসিড খাওয়া প্রশমন বিক্রিয়ার একটি দৈনন্দিন উদাহরণ। - ৩৬. এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় ........ উৎপন্ন হয়।গ্রামীণ ব্যাংকের শিক্ষানবিস অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. লবণ
- খ. পানি
- গ. লবণ ও পানি
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. লবণ ও পানি
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। এতে এসিডের H⁺ আর ক্ষারের OH⁻ মিলে পানি তৈরি করে এবং অবশিষ্ট ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন মিলে লবণ তৈরি করে। তাই এই বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি দুটোই উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ:
H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O মাটি বেশি অম্লীয় হয়ে গেলে কৃষক সেখানে চুন দেন। চুন ক্ষার, তাই এটি অম্লতা প্রশমিত করে মাটিকে ফসলের জন্য উপযোগী করে। বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের নাম এসিড ও ক্ষারের ধরন অনুযায়ী ঠিক হয়।
মনে রাখুন: তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় নিরপেক্ষ লবণ পাওয়া যায়, তখন দ্রবণের pH প্রায় ৭ হয়। - ৩৭. মেঘের মধ্যে কোনটি ছড়ালে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হয়?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. Silver iodide
- খ. Hydrogen ও Oxygen
- গ. Oxygen
- ঘ. Hydrogen ion
উত্তর: ক. Silver iodide
মেঘের মধ্যে সিলভার আয়োডাইড (AgI) ছড়ালে কৃত্রিম বৃষ্টি হয়। AgI-এর কেলাসের গঠন বরফের কেলাসের গঠনের সঙ্গে অনেকটা মেলে, তাই এটি মেঘের ছোট পানির কণাকে ঘিরে বরফের কেলাস তৈরি করতে সাহায্য করে। কেলাসগুলো বড় ও ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে এবং বৃষ্টি হিসেবে ঝরে পড়ে। এই পদ্ধতিকে মেঘবীজন (Cloud Seeding) বলে। মেঘবীজন সব সময় কাজ করে না, কারণ মেঘে যথেষ্ট জলীয় বাষ্প থাকতে হয়। শুকনো বরফ মেঘকে ঠান্ডা করে বরফের কণা তৈরি করে। এই পদ্ধতিতে খরাপীড়িত অঞ্চলে বৃষ্টি ঘটানোর চেষ্টা করা হয়।
মনে রাখুন: সিলভার আয়োডাইডের পাশাপাশি শুকনো বরফ (কঠিন CO₂) এবং সোডিয়াম ক্লোরাইডও মেঘবীজনে ব্যবহার করা হয়। - ৩৮. উভধর্মী যৌগ হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অম্ল-ক্ষার-লবণ
- ক. H₂O
- খ. NH₄⁺
- গ. H₃O⁺
- ঘ. NH₃
উত্তর: ক. H₂O
যে পদার্থ এসিডের মতো আবার ক্ষারের মতো, দুভাবেই আচরণ করতে পারে, তাকে উভধর্মী (Amphoteric) পদার্থ বলে। পানি (H₂O) এমন একটি পদার্থ। শক্তিশালী ক্ষারের কাছে সে H⁺ দান করে এসিডের মতো কাজ করে, আবার শক্তিশালী এসিডের কাছ থেকে H⁺ গ্রহণ করে ক্ষারের মতো কাজ করে এবং H₃O⁺ আয়ন তৈরি করে।
NH₄⁺ ও H₃O⁺ শুধু H⁺ দান করতে পারে, তাই এরা এসিড। NH₃ সাধারণত H⁺ গ্রহণ করে, তাই এটি ক্ষারক। পানির নিজের আয়নীকরণও এ কারণেই ঘটে: 2H₂O ⇌ H₃O⁺ + OH⁻। এই প্রক্রিয়ায় একটি অণু প্রোটন দেয় এবং আরেকটি অণু তা গ্রহণ করে।
মনে রাখুন: উভধর্মী অক্সাইড: ZnO, Al₂O₃। - ৩৯. পানির pH-এর মান কত হলে পুরোপুরি ক্ষারকীয় বলা হয়?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH
- ক. 9
- খ. 14
- গ. 1
- ঘ. 7
উত্তর: খ. 14
পানি অম্লীয় না ক্ষারীয়, তা মাপার জন্য pH স্কেল ব্যবহার করা হয়, যার পাল্লা 0 থেকে 14। বিশুদ্ধ পানির pH মান ঠিক 7, একে নিরপেক্ষ বলে। pH 7-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় আর 7-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। সংখ্যা যত বাড়তে থাকে, ক্ষারীয়তা তত বাড়ে। স্কেলের সর্বোচ্চ মান 14, তাই pH 14 হলে দ্রবণকে পুরোপুরি বা তীব্র ক্ষারীয় ধরা হয়। অন্য দিকে pH 1 মানে খুব তীব্র অম্লীয় দ্রবণ। pH 9 ক্ষারীয় বটে, কিন্তু সর্বোচ্চ নয়।
মনে রাখুন:
লেবুর রসের pH প্রায় 2, মানবরক্তের pH প্রায় 7.4।
লিটমাস কাগজ অম্লে লাল ও ক্ষারে নীল হয়। - ৪০. গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যাসিড
- ক. নাইট্রিক
- খ. সালফিউরিক
- গ. হাইড্রোক্লোরিক
- ঘ. পারক্লোরিক
উত্তর: খ. সালফিউরিক
গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি (Lead-acid battery) বলে। এতে সীসার পাত ও সীসার ডাই-অক্সাইডের পাত পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিডের দ্রবণে ডোবানো থাকে। রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই ব্যবস্থা থেকে তড়িৎ প্রবাহ পাওয়া যায়। ব্যাটারি চার্জ দিলে বিক্রিয়াটি উল্টো দিকে ঘটে এবং ব্যাটারি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়। এ কারণে একে রিচার্জেবল বা সঞ্চয়ী ব্যাটারি বলা হয়। অন্য অ্যাসিড, যেমন নাইট্রিক, হাইড্রোক্লোরিক বা পারক্লোরিক অ্যাসিড, এই কাজে ব্যবহৃত হয় না।
মনে রাখুন:
সালফিউরিক অ্যাসিডের সংকেত H₂SO₄। এর আরেক নাম অয়েল অব ভিট্রিওল, আর একে রাসায়নিক শিল্পের রাজা বলা হয়।
টর্চলাইটের ব্যাটারি শুষ্ক কোষ, এটি রিচার্জ করা যায় না। - ৪১. মোটরগাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারীতে কোন এসিড থাকে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যাসিড
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
- গ. সালফিউরিক এসিড
- ঘ. এসিটিক এসিড
উত্তর: গ. সালফিউরিক এসিড
গাড়ির ব্যাটারি একটি লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি। এতে সীসার পাত এবং লেড ডাই-অক্সাইডের পাত সালফিউরিক এসিডের (H₂SO₄) জলীয় দ্রবণে ডোবানো থাকে। এই দ্রবণ হলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য বা ইলেক্ট্রোলাইট, যার মধ্য দিয়ে আয়ন চলাচল করে বিদ্যুৎ তৈরি করে। চার্জ ও ডিসচার্জ হওয়ার সময় সালফিউরিক এসিড বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে লেড সালফেট তৈরি করে এবং আবার ফিরেও আসে। সাধারণত এতে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ সালফিউরিক এসিড থাকে।
মনে রাখুন:
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি রিচার্জযোগ্য, অর্থাৎ গৌণ কোষ।
প্রতিটি কোষ প্রায় ২ ভোল্ট দেয়, ছয়টি কোষ জুড়ে ১২ ভোল্টের গাড়ির ব্যাটারি হয়। - ৪২. ১ লিটার বিশুদ্ধ পানিতে H⁺-এর পরিমাণ কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH
- ক. 10⁻⁷ মোল
- খ. 10⁷ মোল
- গ. 10⁻⁶ মোল
- ঘ. 10⁻⁵ মোল
উত্তর: ক. 10⁻⁷ মোল
পানি খুব সামান্য পরিমাণে ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) এবং হাইড্রক্সিল আয়ন (OH⁻) তৈরি করে। 25°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানিতে এই দুই আয়নের পরিমাণ সমান থাকে। পানির আয়নিক গুণফল Kw = [H⁺][OH⁻] = 10⁻¹⁴। যেহেতু [H⁺] = [OH⁻], তাই [H⁺]² = 10⁻¹⁴ এবং [H⁺] = 10⁻⁷ mol/L। অতএব এক লিটার বিশুদ্ধ পানিতে 10⁻⁷ মোল H⁺ থাকে। এ থেকে pH = −log(10⁻⁷) = 7, যা নিরপেক্ষ দ্রবণ নির্দেশ করে।
মনে রাখুন:
pH < 7 হলে দ্রবণ অম্লীয়, pH > 7 হলে ক্ষারীয়।
pH + pOH = 14।
তাপমাত্রা বাড়লে Kw-এর মান বাড়ে। - ৪৩. তেঁতুলে কোন এসিড থাকে?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
- ক. এসিটিক এসিড
- খ. টারটারিক এসিড
- গ. সাইট্রিক এসিড
- ঘ. সালফিউরিক এসিড
উত্তর: খ. টারটারিক এসিড
তেঁতুলের টক স্বাদ আসে টারটারিক এসিড (Tartaric acid) থেকে। এটি একটি জৈব এসিড, যা আঙুর, তেঁতুল ও কিছু ফলে প্রাকৃতিকভাবে থাকে। বিভিন্ন খাবার ও ফলের টক স্বাদের কারণ আলাদা আলাদা এসিড। লেবু ও কমলায় সাইট্রিক এসিড থাকে, আর ভিনেগারে থাকে অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড। সালফিউরিক এসিড ফল বা খাবারে থাকে না, এটি একটি তীব্র খনিজ এসিড, যা গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহৃত হয়। টারটারিক এসিড বেকিং পাউডারেও ব্যবহৃত হয়, যেখানে এটি সোডিয়াম বাইকার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে।
মনে রাখুন:
আপেলে ম্যালিক এসিড।
টকদইয়ে ল্যাকটিক এসিড।
পিঁপড়ার কামড়ে ফর্মিক এসিড।
চা পাতায় ট্যানিক এসিড। - ৪৪. কোমল পানীয়তে কোনটি বিদ্যমান?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনিক এসিড
- ক. সাইট্রিক এসিড
- খ. কার্বনিক এসিড
- গ. ইথানয়িক এসিড
- ঘ. টারটারিক এসিড
উত্তর: খ. কার্বনিক এসিড
কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উচ্চচাপে পানিতে দ্রবীভূত করা হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড পানির সঙ্গে সামান্য বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড (H₂CO₃) তৈরি করে, যার জন্য পানীয়ের স্বাদে হালকা টক ভাব আসে। বোতলের ঢাকনা খুললে চাপ কমে যায়, তখন গ্যাস বুদবুদ হয়ে বেরিয়ে আসে। কার্বনিক এসিড একটি দুর্বল এসিড, কারণ এটি খুব সহজেই আবার পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভেঙে যায়।
মনে রাখুন:
সোডা ওয়াটারকে কার্বনেটেড ওয়াটার বলে।
CO₂ + H₂O ⇌ H₂CO₃।
সাইট্রিক এসিড লেবুতে, টারটারিক এসিড তেঁতুলে, ইথানয়িক এসিড ভিনেগারে থাকে। - ৪৫. স্বর্ণের গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকারগণ কোন এসিড ব্যবহার করেন?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা/সহকারী কনস্যুলার কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিডের ব্যবহার
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
- গ. সালফিউরিক এসিড
- ঘ. নাইট্রাস এসিড
উত্তর: ক. নাইট্রিক এসিড
স্বর্ণ থেকে খাদ বা অন্য ধাতুর মিশ্রণ আলাদা করতে স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড (HNO₃) ব্যবহার করেন। কারণ স্বর্ণ একটি নিষ্ক্রিয় ধাতু, তাই নাইট্রিক এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। কিন্তু তামা, রুপা বা অন্য খাদ ধাতু এই এসিডে গলে যায়। এতে খাঁটি স্বর্ণ পড়ে থাকে এবং গহনার ঝকঝকে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। হাইড্রোক্লোরিক বা সালফিউরিক এসিডের এভাবে খাদ বেছে ফেলার কাজে তেমন ব্যবহার নেই।
মনে রাখুন:
স্বর্ণকে গলাতে পারে একমাত্র অম্লরাজ (Aqua regia)।
অম্লরাজ হলো ১ ভাগ নাইট্রিক ও ৩ ভাগ হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ।
স্বর্ণের খাঁটিত্ব ক্যারেটে মাপা হয়, ২৪ ক্যারেট সবচেয়ে খাঁটি। - ৪৬. 'লবণ'-এর সংকেত কী?বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, উপসহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশল), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ
- ক. NaCl
- খ. NaOH
- গ. Na₂SO₄
- ঘ. H₂SO₄
উত্তর: ক. NaCl
আমরা খাবারে যে লবণ ব্যবহার করি, তার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এটি সোডিয়াম ধাতু ও ক্লোরিন গ্যাস যুক্ত হয়ে তৈরি আয়নিক যৌগ। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে Na⁺ আর ক্লোরিন সেটি নিয়ে Cl⁻ আয়ন হয়, এরপর বিপরীত আধানের আকর্ষণে দুটি আয়ন যুক্ত থাকে। NaOH ক্ষার, H₂SO₄ এসিড, আর Na₂SO₄ ভিন্ন একটি লবণ, তবে সাধারণ লবণ বলতে NaCl বোঝায়।
মনে রাখুন:
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি হয়।
সমুদ্রের পানিতে প্রায় ৩.৫ ভাগ লবণ থাকে।
লবণ গলনাঙ্ক প্রায় ৮০১°C। - ৪৭. 0.025 M KOH-এর pH কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH
- ক. 10.40
- খ. 11.40
- গ. 12.40
- ঘ. 13.40
উত্তর: গ. 12.40
KOH একটি প্রবল ক্ষার, যা দ্রবণে সম্পূর্ণ আয়নিত হয়। তাই 0.025 M KOH থেকে [OH⁻] = 0.025 M। এখন pOH = −log[OH⁻] = −log(0.025) = −log(2.5 × 10⁻²) = 2 − 0.398 = 1.602। 25°C তাপমাত্রায় pH + pOH = 14, তাই pH = 14 − 1.602 = 12.398 ≈ 12.40। ক্ষারীয় দ্রবণের pH ৭-এর চেয়ে বেশি হয়, উত্তরও সেই হিসাবের সঙ্গে মিলছে।
মনে রাখুন:
pH = −log[H⁺] এবং pOH = −log[OH⁻]।
প্রবল এসিড/ক্ষারে আয়ন-ঘনমাত্রা মোলারিটির সমান ধরা হয়।
দ্বিক্ষারীয় ক্ষারে, যেমন Ca(OH)₂, [OH⁻] দ্বিগুণ হয়। - ৪৮. ফেনফ্যালিন নির্দেশকের অম্লীয় মাধ্যমে বর্ণ—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নির্দেশক
- ক. হলুদ
- খ. লাল
- গ. কমলা
- ঘ. বর্ণহীন
উত্তর: ঘ. বর্ণহীন
ফেনফ্যালিন (Phenolphthalein) একটি জৈব নির্দেশক, যার রং পরিবেশের pH অনুসারে বদলায়। অম্লীয় ও প্রশম মাধ্যমে এটি বর্ণহীন থাকে। তীব্র ক্ষারীয় মাধ্যমে এটি গোলাপি-লালচে বেগুনি রং ধারণ করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষার দিয়ে অম্লের অনুমাপনে (Titration) শেষ বিন্দু বোঝার জন্য ফেনফ্যালিন ব্যবহার হয়। ফেনফ্যালিন একটি দুর্বল অম্ল। অম্লীয় মাধ্যমে এর আয়নন কমে যায় বলে রং দেখা যায় না, আর ক্ষারে আয়নিত হলে গোলাপি রং আসে।
মনে রাখুন:
লিটমাস: অম্লে লাল, ক্ষারে নীল।
মিথাইল অরেঞ্জ: অম্লে লাল, ক্ষারে হলুদ।
ফেনফ্যালিনের রং পরিবর্তনের pH পরিসর প্রায় ৮.২ থেকে ১০।
দুর্বল অম্ল ও তীব্র ক্ষারের অনুমাপনে ফেনফ্যালিন উপযোগী। - ৪৯. pH-এর মান দ্বারা পানিতে কিসের পরিমাপ করা হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. ফসফরাস
- গ. ম্যাগনেসিয়াম
- ঘ. পটাসিয়াম
উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
pH হলো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম, অর্থাৎ pH = -log[H+]। তাই pH-এর মান দিয়ে আসলে পানিতে হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ মাপা হয়। এই মান দেখে বোঝা যায় পানি বা দ্রবণটি অম্লীয়, ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ। ০ থেকে ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয়, ঠিক ৭ হলে নিরপেক্ষ, আর ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। হাইড্রোজেন আয়ন যত বেশি থাকে, pH তত কম হয়। তাই pH-এর মান যত কম হয়, পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন তত বেশি বুঝতে হবে, আর পানি তত বেশি অম্লীয় হয়।
মনে রাখুন:
বিশুদ্ধ পানির pH ৭।
লেবুর রসের pH প্রায় ২।
রক্তের pH প্রায় ৭.৪। - ৫০. কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী এসিড?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH
- ক. pH = 2
- খ. pH = 5
- গ. pH = 8
- ঘ. pH = 10
উত্তর: ক. pH = 2
কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয়, তা মাপা হয় pH স্কেলে। স্কেলটি ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত। pH যত কম, দ্রবণ তত বেশি অম্লীয় এবং তার অ্যাসিড তত শক্তিশালী। এখানে চারটির মধ্যে সবচেয়ে কম মান ২, তাই সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যাসিডের pH ২। pH-এর মান ১ কমলে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রা ১০ গুণ বাড়ে। বিপরীতে pH যত বেশি, দ্রবণ তত বেশি ক্ষারীয় হয়।
মনে রাখুন:
অম্লীয় দ্রবণ: pH < 7।
নিরপেক্ষ দ্রবণ (বিশুদ্ধ পানি): pH = 7।
ক্ষারীয় দ্রবণ: pH > 7। এখানে 8 ও 10 ক্ষারীয়, আর 5 ও 2 অম্লীয়। - ৫১. লেবুর রসে যে এসিড থাকে তার নাম—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব অ্যাসিড
- ক. এসিটিক এসিড
- খ. ফলিক এসিড
- গ. নাইট্রিক এসিড
- ঘ. সাইট্রিক এসিড
উত্তর: ঘ. সাইট্রিক এসিড
লেবুর রসে সাইট্রিক অ্যাসিড (Citric Acid) থাকে, যার জন্য লেবুর স্বাদ টক। লেবু, কমলা, জাম্বুরার মতো ফলকে এ কারণেই সাইট্রাস ফল বলা হয়। লেবুতে ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিডও আছে। লেবুর রসে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, তাই এর pH প্রায় ২।
মনে রাখুন:
সিরকায় আছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড।
টকদইয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড, তেঁতুলে টারটারিক অ্যাসিড।
নাইট্রিক অ্যাসিড একটি খনিজ অ্যাসিড, ফলে থাকে না।
সাইট্রিক অ্যাসিডের সংকেত C₆H₈O₇।
খাবার ও পানীয়ে টক স্বাদ আনতে এবং সংরক্ষণে এই অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়।
লেবুর রস ক্ষারীয় নয়, বরং এটি নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। - ৫২. pH = 4 হলে ঐ পানির (H⁺) আয়নের পরিমাণ কত?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH স্কেল
- ক. 10⁻¹² mol/L
- খ. 10⁻⁴ mol/L
- গ. 10¹² mol/L
- ঘ. 10⁴ mol/L
উত্তর: খ. 10⁻⁴ mol/L
pH হলো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম: pH = -log[H⁺]। তাই [H⁺] = 10^(-pH)। এখানে pH = 4 হলে [H⁺] = 10⁻⁴ mol/L। যেমন pH 7 হলে [H⁺] = 10⁻⁷ mol/L, আর pH 4 হলে সেটি 10⁻⁴ mol/L, অর্থাৎ ১০০০ গুণ বেশি।
মনে রাখুন: pH এক একক কমলে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রা ১০ গুণ বাড়ে। বিশুদ্ধ পানির pH = 7।
pH 4 হলে দ্রবণ অম্লীয়, এতে নীল লিটমাস কাগজ লাল হয়।
pH স্কেল প্রবর্তন করেন ডেনিশ রসায়নবিদ সরেনসেন।
pH-এর পূর্ণরূপ potential of hydrogen বা hydrogen ion power। - ৫৩. কাগজি লেবুতে কোন প্রকারের এসিড বিদ্যমান?প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব অ্যাসিড
- ক. এসিটিক এসিড
- খ. টারটারিক এসিড
- গ. সাইট্রিক এসিড
- ঘ. ল্যাকটিক এসিড
উত্তর: গ. সাইট্রিক এসিড
লেবু জাতীয় ফল, যেমন কাগজি লেবু, কমলা ও জাম্বুরায় প্রধান অ্যাসিড হলো সাইট্রিক অ্যাসিড (Citric Acid)। একে লেবুর টক স্বাদের কারণ ধরা হয়, আর এই ফলগুলোকে সাইট্রাস ফল বলা হয়। অন্যদিকে তেঁতুলের টক আসে টারটারিক অ্যাসিড থেকে, দুধ ও দই-এ থাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড, আর সিরকায় থাকে অ্যাসিটিক অ্যাসিড। কাগজি লেবুতে ভিটামিন সি-ও বেশি থাকে, যা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে।
মনে রাখুন:
আপেলে ম্যালিক অ্যাসিড।
পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক অ্যাসিড।
ভিটামিন সি-এর নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
টকজাতীয় ফল যেমন আমলকী ও পেয়ারায় ভিটামিন সি প্রচুর থাকে।
ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যাতে মাড়ি ফুলে রক্ত ঝরে। - ৫৪. পানির pH মান কত হলে পুরোপুরি ক্ষারকীয় হয়?কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH স্কেল
- ক. ৯
- খ. ১৪
- গ. ২০
- ঘ. ৭
উত্তর: খ. ১৪
pH স্কেল দিয়ে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা মাপা হয়। স্কেলের মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত। ৭ হলো নিরপেক্ষ, যেমন বিশুদ্ধ পানি। ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় আর ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয়। সর্বোচ্চ মান ১৪, তাই pH ১৪ হলে দ্রবণ সর্বোচ্চ ক্ষারীয় হয়।
মনে রাখুন: pH = −log[H⁺]। ০ হলো সর্বাধিক অম্লীয় মান।
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইডের মতো তীব্র ক্ষারের pH ১৪-এর কাছাকাছি হয়।
রক্তের pH প্রায় 7.4, অর্থাৎ সামান্য ক্ষারীয়।
লিটমাস কাগজ ক্ষার দ্রবণে নীল থাকে এবং অম্লীয় দ্রবণে লাল হয়।
পাকস্থলীর রসের pH প্রায় ১.৫ থেকে ৩.৫, তাই এটি তীব্র অম্লীয়। - ৫৫. জৈব এসিড হলো—বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
- গ. সালফিউরিক এসিড
- ঘ. এসিটিক এসিড
উত্তর: ঘ. এসিটিক এসিড
অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH₃COOH) একটি জৈব অ্যাসিড, কারণ এতে কার্বক্সিল মূলক (−COOH) আছে। এটি ভিনেগারে থাকে। নাইট্রিক, হাইড্রোক্লোরিক ও সালফিউরিক অ্যাসিড খনিজ বা অজৈব অ্যাসিড, কারণ এগুলো খনিজ পদার্থ থেকে পাওয়া যায় এবং এদের গঠনে কার্বক্সিল মূলক নেই। জৈব অ্যাসিড সাধারণত প্রাণী বা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। অজৈব অ্যাসিড সাধারণত তীব্র, আর জৈব অ্যাসিড তুলনায় দুর্বল হয়।
মনে রাখুন:
জৈব অ্যাসিড: ফরমিক (পিঁপড়ার কামড়), সাইট্রিক (লেবু), ল্যাকটিক (দই)।
অজৈব অ্যাসিডের সংকেত: HNO₃, HCl, H₂SO₄।
জৈব অ্যাসিডে কার্বন থাকে এবং তাতে −COOH মূলক থাকে, যেমন HCOOH। - ৫৬. মৌমাছিতে কোন এসিড থাকে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
- ক. টারটারিক এসিড
- খ. ফরমিক এসিড
- গ. ইরোসিক এসিড
- ঘ. লিনোলিক এসিড
উত্তর: খ. ফরমিক এসিড
মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড (Formic Acid) থাকে, যা কামড়ানোর পর জ্বালা ও ব্যথা তৈরি করে। এটি সবচেয়ে সরল জৈব অ্যাসিড, যার সংকেত HCOOH। পিঁপড়ার কামড়েও এই অ্যাসিড থাকে। ল্যাটিন ভাষায় Formica শব্দের অর্থ পিঁপড়া, সেখান থেকেই এর নাম হয়েছে। কামড়ানো জায়গায় খাবার সোডার মতো মৃদু ক্ষার লাগালে অ্যাসিডটি প্রশমিত হয়ে জ্বালা কমে।
মনে রাখুন:
টারটারিক অ্যাসিড: তেঁতুল, আঙুর।
ল্যাকটিক অ্যাসিড: টক দই।
সাইট্রিক অ্যাসিড: লেবু।
অ্যাসেটিক অ্যাসিড: ভিনেগার।
মৌমাছির হুলে বিষের থলি থাকে, যা হুল ফোটানোর পর শরীরে বিষ ছড়ায়।
মৌমাছি কামড়ানোর পর হুলটি শরীরে রেখে যায় এবং সাধারণত মারা যায়। - ৫৭. লেবুতে কোন এসিড থাকে?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক এসিড
- ক. এসিটিক এসিড
- খ. সাইট্রিক এসিড
- গ. ফরমিক এসিড
- ঘ. বেনজয়িক এসিড
উত্তর: খ. সাইট্রিক এসিড
লেবুর টক স্বাদের কারণ সাইট্রিক এসিড (Citric acid)। এটি একটি জৈব এসিড, যা লেবু, কমলা, জামুরার মতো সাইট্রাস জাতীয় ফলে থাকে। অন্য এসিডগুলো আলাদা উৎসে পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
এসিটিক এসিড থাকে ভিনেগারে।
ফরমিক এসিড থাকে লাল পিঁপড়া ও মৌমাছির হুলে।
টক দইয়ে থাকে ল্যাকটিক এসিড, আর আঙুর ও তেঁতুলে টারটারিক এসিড।
সাইট্রিক এসিডের সংকেত C6H8O7, আর এটি খাদ্যে টক স্বাদ আনা ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
লেবুর রস নীল লিটমাসকে লাল করে, কারণ এতে এসিড আছে। এ জন্য লেবু খেলে আমরা টক স্বাদ পাই।
ভিটামিন C-এর অন্য নাম অ্যাসকরবিক এসিড, আর এটিও লেবুজাতীয় ফলে প্রচুর পাওয়া যায়। - ৫৮. স্বর্ণ গলাতে কোন কোন এসিডের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যাকোয়া রেজিয়া
- ক. H₂SO₄:HCl
- খ. H₂SO₄:HNO₃
- গ. HCl:HNO₃
- ঘ. উপরের কোনোটি নয়
উত্তর: গ. HCl:HNO₃
স্বর্ণ খুবই নিষ্ক্রিয় ধাতু, তাই এটি সাধারণ কোনো একক এসিডে গলে না। কিন্তু ঘন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) ও ঘন নাইট্রিক এসিড (HNO3) প্রায় 3 : 1 অনুপাতে মেশালে যে মিশ্রণ হয়, তা স্বর্ণকে গলিয়ে ফেলে। এই মিশ্রণের নাম অ্যাকোয়া রেজিয়া (Aqua Regia), যার অর্থ রাজকীয় পানি। স্বর্ণ ধাতুর রাজা, আর এই মিশ্রণই তাকে গলাতে পারে, তাই এমন নাম।
মনে রাখুন:
অ্যাকোয়া রেজিয়া প্ল্যাটিনামকেও গলাতে পারে।
অ্যাকোয়া রেজিয়ায় HCl ও HNO3-এর অনুপাত 3 : 1।
এই মিশ্রণে HNO3 স্বর্ণকে জারিত করে, আর HCl থেকে পাওয়া ক্লোরাইড আয়ন সেই স্বর্ণ আয়নকে দ্রবণে ধরে রাখে। তাই দুই এসিড একসঙ্গে যে কাজ করতে পারে, আলাদাভাবে তা পারে না। - ৫৯. কলায় বিদ্যমান প্রধান জৈব অ্যাসিড কোনটি?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক এসিড
- ক. অক্সালিক অ্যাসিড
- খ. ম্যালিক অ্যাসিড
- গ. এসিটিক অ্যাসিড
- ঘ. ল্যাকটিক অ্যাসিড
উত্তর: খ. ম্যালিক অ্যাসিড
কলায় যেসব জৈব এসিড পাওয়া যায়, তার মধ্যে ম্যালিক এসিড (Malic acid) প্রধান। এটি আপেল, কলা প্রভৃতি ফলে থাকে এবং ফলের স্বাদে হালকা টক ভাব আনে। অক্সালিক এসিড পালংশাক ও টমেটোতে, এসিটিক এসিড ভিনেগারে আর ল্যাকটিক এসিড দইয়ে বেশি পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
আপেলে ম্যালিক এসিড, আঙুরে টারটারিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড।
কলায় পটাসিয়ামও প্রচুর থাকে।
পাকা কলায় স্টার্চ ভেঙে শর্করা তৈরি হয়, তাই পাকলে কলা মিষ্টি লাগে এবং এসিডের টক ভাব কম অনুভূত হয়।
তেঁতুলে টারটারিক এসিড এবং কমলা-লেবুতে সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
কাঁচা কলায় ট্যানিন থাকে বলে সেটি কষা লাগে। - ৬০. পানি নিরপেক্ষ হলে pH-এর মান হবে—জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নিরপেক্ষ দ্রবণ
- ক. ৭
- খ. ৮
- গ. ৯
- ঘ. ৬
উত্তর: ক. ৭
pH স্কেল পানির দ্রবণ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা মাপে। বিশুদ্ধ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ও হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH⁻) সমান সংখ্যায় থাকে, প্রতিটির ঘনমাত্রা 10⁻⁷ mol/L (25°C তাপমাত্রায়)। এ কারণে পানি নিরপেক্ষ এবং এর pH = 7। pH 7-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয়, বেশি হলে ক্ষারীয়।
মনে রাখুন:
pH স্কেলের পরিসর 0 থেকে 14।
পাকস্থলীর রস অম্লীয়, সাবানের দ্রবণ ক্ষারীয়।
pH = −log[H⁺]।
নিরপেক্ষতা বোঝাতে সবচেয়ে সহজ উদাহরণ বিশুদ্ধ পানি, যা লিটমাস কাগজের রং বদলায় না। pH পরিমাপের জন্য ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটর বা pH মিটার ব্যবহার হয়।
অম্ল ও ক্ষারক সমপরিমাণে মিশে পানি ও লবণ তৈরি করলে বিক্রিয়াটি প্রশমন বিক্রিয়া, আর তখন দ্রবণ প্রায় নিরপেক্ষ হয়। - ৬১. পিঁপড়ার কামড়ে কোন এসিড থাকে?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব অ্যাসিড
- ক. অক্সালিক এসিড
- খ. সাইট্রিক এসিড
- গ. ফরমিক এসিড
- ঘ. নাইট্রিক এসিড
উত্তর: গ. ফরমিক এসিড
পিঁপড়া কামড়ানোর সময় শরীরে ফরমিক এসিড (Formic acid) ঢুকিয়ে দেয়, তাই কামড়ের জায়গায় জ্বালা করে এবং ফুলে যায়। লাতিন শব্দ ‘formica’ মানে পিঁপড়া, আর এ থেকেই এসিডটির নাম এসেছে। এসিডের জ্বালা কমাতে চুন বা খাবার সোডার মতো ক্ষারীয় কিছু লাগানো হয়, কারণ ক্ষার এসিডকে প্রশমিত করে। ফরমিক এসিডের সংকেত HCOOH, আর এর আইইউপ্যাক নাম মিথানয়িক এসিড। পিঁপড়ার কামড়ে জ্বলুনি আসলে এই এসিডের জন্যই, আর মৌমাছির হুলের বিষেও এই এসিডের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
লেবুতে = সাইট্রিক এসিড।
টমেটোতে = অক্সালিক এসিড।
তেঁতুলে = টারটারিক এসিড।
দইয়ে = ল্যাকটিক এসিড। - ৬২. পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে থাকে -এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব অ্যাসিড
- ক. অ্যাসকরবিক এসিড
- খ. অক্সালিক এসিড
- গ. মিথানয়িক এসিড
- ঘ. টারটারিক এসিড
উত্তর: গ. মিথানয়িক এসিড
পিঁপড়া ও মৌমাছি কামড় বা হুল ফোটানোর সময় শরীরে ফরমিক এসিড ঢুকিয়ে দেয়, তাই জায়গাটি জ্বালা করে। ফরমিক এসিডের আইইউপ্যাক নাম মিথানয়িক এসিড, সংকেত HCOOH। ল্যাটিন ভাষায় formica মানে পিঁপড়া, সেখান থেকেই এসিডটির নাম। এটি সবচেয়ে সরল জৈব এসিড, কারণ এর অণুতে মাত্র একটি কার্বন পরমাণু আছে। কামড়ের জ্বালা কমাতে ক্ষারীয় পদার্থ, যেমন খাবার সোডার পেস্ট, লাগানো হয়। এই কারণে কামড়ের পর ঠান্ডা পানি বা বরফ লাগালেও কিছুটা আরাম পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
লেবু ও আমলকীতে থাকে অ্যাসকরবিক এসিড বা ভিটামিন C।
তেঁতুল ও আঙুরে থাকে টারটারিক এসিড।
ভিনেগারে থাকে অ্যাসিটিক এসিড। - ৬৩. যে দ্রবণ pH স্থির রাখার সক্ষমতা রাখে তাকে কী বলে?যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাফার দ্রবণ
- ক. মিশ্রণ দ্রবণ
- খ. ক্ষারীয় দ্রবণ
- গ. অম্লীয় দ্রবণ
- ঘ. বাফার দ্রবণ
উত্তর: ঘ. বাফার দ্রবণ
যে দ্রবণে অল্প পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও pH প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাকে বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) বলে। সাধারণত একটি দুর্বল এসিড ও তার লবণ, অথবা একটি দুর্বল ক্ষার ও তার লবণ মিলিয়ে বাফার তৈরি করা হয়। বাফার দ্রবণ বাইরে থেকে আসা সামান্য H⁺ বা OH⁻ আয়নকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, তাই দ্রবণের অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব হঠাৎ বদলে যায় না। গবেষণাগার, ওষুধ তৈরি ও খাদ্য শিল্পে নির্দিষ্ট pH ধরে রাখতে বাফার কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
আমাদের রক্ত একটি প্রাকৃতিক বাফার, তাই রক্তের pH প্রায় 7.35 থেকে 7.45 এর মধ্যে স্থির থাকে।
অ্যাসিটিক এসিড ও সোডিয়াম অ্যাসিটেটের মিশ্রণ একটি পরিচিত অম্লীয় বাফার। - ৬৪. মৌমাছির হুলে কোন এসিড থাকে?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (বেসামরিক), স্টোরম্যান, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
- ক. টারটারিক এসিড
- খ. ফরমিক এসিড
- গ. ইরোসিক এসিড
- ঘ. লিনোলিক এসিড
উত্তর: খ. ফরমিক এসিড
মৌমাছি ও পিঁপড়ার হুলে ফরমিক এসিড (Formic acid) থাকে, তাই হুল ফোটালে জ্বালা করে। এর রাসায়নিক সংকেত HCOOH। ল্যাটিন ভাষায় formica মানে পিঁপড়া, আর পিঁপড়া থেকে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল বলে এসিডটির এমন নাম। ফরমিক এসিড সবচেয়ে সরল জৈব এসিড, যা কার্বক্সিলিক এসিডের শ্রেণিতে পড়ে। হুল ফোটার জায়গায় ক্ষারধর্মী কিছু, যেমন চুন বা খাবার সোডা লাগালে জ্বালা কমে। পিঁপড়ার কামড়েও একই কারণে জ্বালা করে। কিছু গাছের কাঁটা, যেমন বিছুটি পাতার রোমেও ফরমিক এসিড থাকে, তাই ছুঁলে চুলকানি হয়।
মনে রাখুন:
তেঁতুলে টারটারিক এসিড।
লেবুতে সাইট্রিক এসিড।
ভিনেগারে অ্যাসিটিক এসিড। - ৬৫. নাইট্রিক এসিড ব্যবহৃত হয় -হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রিক এসিড
- ক. পাকস্থলীতে খাদ্য হজমে
- খ. সোনার গহনা তৈরিতে
- গ. মাইক বাজানোর কাজে
- ঘ. আচার সংরক্ষণের কাজে
উত্তর: খ. সোনার গহনা তৈরিতে
নাইট্রিক এসিড (HNO3) একটি শক্তিশালী এসিড। সোনা নিজে নাইট্রিক এসিডে গলে না, কিন্তু খাদ হিসেবে মেশানো তামা, রুপা ইত্যাদি গলে যায়। তাই স্বর্ণকাররা সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই ও গহনা পরিষ্কারের কাজে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। আবার ৩ ভাগ হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও ১ ভাগ নাইট্রিক এসিড মিশিয়ে অম্লরাজ (Aqua Regia) তৈরি হয়, যা সোনাকেও গলাতে পারে। নাইট্রিক এসিড সারের কারখানায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট তৈরিতে এবং বিস্ফোরক তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এ এসিড ত্বকে লাগলে হলুদ দাগ পড়ে, কারণ এটি ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
মনে রাখুন:
পাকস্থলীতে হজমে সাহায্য করে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl)।
আচার সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয় এসিটিক এসিড বা ভিনেগার। - ৬৬. গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহৃত এসিড কোনটি?এনটিআরসিএ, ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালফিউরিক এসিড
- ক. HNO₃
- খ. HCl
- গ. H₂SO₄
- ঘ. H₃PO₄
উত্তর: গ. H₂SO₄
গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিকে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি (Lead-acid battery) বলে, আর এতে লঘু সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়। এসিডটি সিসা ও সিসার ডাইঅক্সাইডের প্লেটের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ তৈরি করে, আর চার্জ দিলে বিক্রিয়াটি উল্টো দিকে ঘটে এবং ব্যাটারি আবার কাজের উপযোগী হয়। ব্যাটারি ব্যবহারের সময় সালফিউরিক এসিড কমে গিয়ে পানির ভাগ বাড়ে, ফলে এসিডের ঘনত্ব কমে। তাই হাইড্রোমিটারে এসিডের ঘনত্ব মেপে ব্যাটারি কতটা চার্জযুক্ত তা বোঝা যায়।
মনে রাখুন:
সালফিউরিক এসিডকে ‘এসিডের রাজা’ বলা হয়।
নাইট্রিক এসিড (HNO₃) ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড মিলে অম্লরাজ তৈরি হয়, যা সোনাও গলাতে পারে। - ৬৭. লেবুতে কোন এসিড পাওয়া যায়?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জুনিয়র অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
- ক. এসেটিক এসিড
- খ. ল্যাকটিক এসিড
- গ. সাইট্রিক এসিড
- ঘ. কার্বলিক এসিড
উত্তর: গ. সাইট্রিক এসিড
লেবু, কমলা ও মাল্টার মতো টক জাতীয় ফলে সাইট্রিক এসিড (Citric Acid) থাকে, আর এই এসিডের কারণেই এদের স্বাদ টক। সাইট্রিক এসিড একটি দুর্বল জৈব এসিড, তাই এটি খেলে আমাদের কোনো ক্ষতি হয় না। এর এই গুণের জন্য কোমল পানীয়, জ্যাম ও জেলিতে স্বাদ বাড়াতে এবং খাবার সংরক্ষণে সাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। লেবুতে সাইট্রিক এসিডের পাশাপাশি প্রচুর ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক এসিডও থাকে।
মনে রাখুন:
ভিনেগার: এসিটিক এসিড।
টক দই: ল্যাকটিক এসিড।
তেঁতুল ও আঙুর: টারটারিক এসিড।
কার্বলিক এসিড বা ফেনল জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - ৬৮. স্বর্ণের খাদ বের করতে কোন অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়?মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), অফিস সহায়ক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যাসিড
- ক. সাইট্রিক অ্যাসিড
- খ. নাইট্রিক অ্যাসিড
- গ. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
- ঘ. সালফিউরিক অ্যাসিড
উত্তর: খ. নাইট্রিক অ্যাসিড
সোনা একটি নিষ্ক্রিয় ধাতু, সাধারণ কোনো একক অ্যাসিড এর সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। কিন্তু গয়না শক্ত করতে সোনার সঙ্গে খাদ হিসেবে যে তামা বা রুপা মেশানো হয়, সেগুলো নাইট্রিক অ্যাসিডে (HNO₃) সহজে দ্রবীভূত হয়। তাই নাইট্রিক অ্যাসিড দিয়ে খাদ গলিয়ে আলাদা করা যায় এবং সোনা কতটা খাঁটি তাও পরীক্ষা করা যায়। সোনাকে গলাতে লাগে অম্লরাজ (Aqua regia), যা ঘন নাইট্রিক অ্যাসিড ও ঘন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ১:৩ অনুপাতের মিশ্রণ।
মনে রাখুন:
খাঁটি সোনাকে ২৪ ক্যারেট ধরা হয়।
অম্লরাজ সোনা ও প্লাটিনামকেও দ্রবীভূত করতে পারে। - ৬৯. কোনটি অম্লীয় যৌগ?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণের আর্দ্রবিশ্লেষণ
- ক. $FeCl_3$
- খ. KCl
- গ. $CH_3Cl$
- ঘ. $C_6H_5Cl$
উত্তর: ক. $FeCl_3$
কোনো লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করলে দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হতে পারে, একে আর্দ্রবিশ্লেষণ (Hydrolysis) বলে। ফেরিক ক্লোরাইড বা $FeCl_3$ তৈরি হয় দুর্বল ক্ষারক $Fe(OH)_3$ এবং তীব্র এসিড HCl থেকে। তাই পানিতে দ্রবীভূত করলে এটি আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়ে HCl তৈরি করে, ফলে দ্রবণ অম্লীয় হয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করে। তাছাড়া $Fe^{3+}$ আয়ন ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করতে পারে, তাই $FeCl_3$ একটি লুইস এসিডও। অন্যদিকে KCl তৈরি হয় তীব্র ক্ষারক KOH ও তীব্র এসিড HCl থেকে, তাই এটি নিরপেক্ষ লবণ।
মনে রাখুন:
তীব্র এসিড + দুর্বল ক্ষারক → অম্লীয় লবণ, যেমন $NH_4Cl$।
দুর্বল এসিড + তীব্র ক্ষারক → ক্ষারীয় লবণ, যেমন $Na_2CO_3$। - ৭০. নিচের কোনটি লবণ?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ
- ক. ZnO
- খ. KNO3
- গ. KOH
- ঘ. NaOH
উত্তর: খ. KNO3
এসিড ও ক্ষারকের প্রশমন বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি হয়। নাইট্রিক এসিড ($HNO_3$) ও পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) বিক্রিয়া করলে তৈরি হয় পটাশিয়াম নাইট্রেট ($KNO_3$), তাই এটি একটি লবণ (Salt)। অন্যদিকে KOH ও NaOH পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সাইড আয়ন দেয় বলে এরা ক্ষার, আর ZnO হলো জিংকের অক্সাইড। পটাশিয়াম নাইট্রেট সাধারণভাবে সোরা নামে পরিচিত।
মনে রাখুন:
সমীকরণ: $HNO_3 + KOH \rightarrow KNO_3 + H_2O$।
বারুদ তৈরিতে সোরা, গন্ধক ও কাঠকয়লা লাগে।
খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
KOH ও NaOH-এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। - ৭১. নাইট্রিক এসিডে কোন মৌলিক পদার্থটি নেই?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. সোডিয়াম
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: গ. সোডিয়াম
নাইট্রিক এসিডের (Nitric Acid) রাসায়নিক সংকেত $HNO_3$। সংকেতটি ভেঙে দেখলেই বোঝা যায়, এর প্রতিটি অণুতে ১টি হাইড্রোজেন, ১টি নাইট্রোজেন ও ৩টি অক্সিজেন পরমাণু আছে। তাই নাইট্রিক এসিডে সোডিয়াম নামের কোনো মৌল থাকে না। নাইট্রিক এসিড একটি তীব্র এসিড, এবং এটি সার, বিস্ফোরক ও রং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তীব্র এই এসিড চামড়ায় লাগলে হলুদ দাগ পড়ে, কারণ এটি ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
মনে রাখুন:
সালফিউরিক এসিড $H_2SO_4$, একে রাসায়নিকের রাজা বলা হয়।
হাইড্রোক্লোরিক এসিড HCl, যা আমাদের পাকস্থলীতে থাকে।
অম্লরাজ (Aqua Regia) হলো ৩ ভাগ HCl ও ১ ভাগ $HNO_3$-এর মিশ্রণ।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন