উদ্ভিদজগৎ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৫। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ২২৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (২২)
- ১. খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে কী গ্রহণ করে?৪০তম বিসিএস ও স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. জিংক
- খ. অক্সিজেন
- গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
উদ্ভিদ নিজের খাদ্য তৈরি করে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায়। এতে সে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয়, মাটি থেকে পানি টানে, আর সূর্যের আলো ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে গ্লুকোজ বানায়। পাশাপাশি অক্সিজেন বাতাসে ছাড়ে। জিংক ও ফসফরাস মাটি থেকে আসে। পাতার ছোট ছিদ্র স্টোমাটা (Stomata) দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ভেতরে ঢোকে।
মনে রাখুন:
6CO2 + 6H2O → C6H12O6 + 6O2।
গাছ দিনে অক্সিজেন ছাড়ে, রাতে শ্বসনে অক্সিজেন নেয়।
সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে এই কাজে সাহায্য করে।
গ্লুকোজ গাছের শক্তির উৎস, আর বাড়তি অংশ স্টার্চ হিসেবে জমা হয়। - ২. ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ কোন খাদ্য গ্রহণ করে?৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. অক্সিজেন
- খ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
- গ. সালফার
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: ঘ. নাইট্রোজেন
ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত CO(NH₂)₂ এবং এতে প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে। উদ্ভিদ বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন নিতে পারে না, তাই ইউরিয়া সার মাটিতে দিলে এটি থেকে নাইট্রোজেন পায়। নাইট্রোজেন পাতা সবুজ করতে এবং গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গাছ প্রধানত বাতাস থেকে নেয়, আর সালফার ইউরিয়ার উপাদান নয়। নাইট্রোজেনের অভাব হলে গাছের পাতা হলদে হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
টিএসপি সারে ফসফরাস এবং এমওপি সারে পটাশিয়াম থাকে।
গাছের তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদান: নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম।
ফসফরাস শিকড় ও ফুল-ফলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। - ৩. 'Necessary evil' কোনটি?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রস্বেদন
- ক. প্রস্বেদন
- খ. অভিস্রবন
- গ. ব্যাপন
- ঘ. শোষণ
উত্তর: ক. প্রস্বেদন
উদ্ভিদ পাতার ছোট ছিদ্র দিয়ে প্রচুর পানি বাষ্প হিসেবে হারায়, এই প্রক্রিয়ার নাম প্রস্বেদন (Transpiration)। এতে উদ্ভিদের কিছু ক্ষতি হয়, কারণ মাটি থেকে নেওয়া অনেক পানি নষ্ট হয়। আবার এই পানি হারানোর টানেই মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ ওপরে ওঠে এবং পাতা ঠান্ডা থাকে। উপকার ও ক্ষতি দুটোই আছে বলে প্রস্বেদনকে ‘অত্যাবশ্যক অমঙ্গল’ (Necessary evil) বলা হয়। মজার ব্যাপার হলো, একটি বড় গাছ দিনে শত শত লিটার পানি প্রস্বেদনের মাধ্যমে ছেড়ে দিতে পারে।
মনে রাখুন:
প্রস্বেদন মূলত পাতার পত্ররন্ধ্র (Stomata) দিয়ে ঘটে।
ব্যাপন ও অভিস্রবণ কোষে পদার্থ চলাচলের প্রক্রিয়া। - ৪. সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলাে-৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. ০%
- খ. ১০ – ১৫%
- গ. ৩ – ৬%
- ঘ. ১০০%
উত্তর: গ. ৩ – ৬%
গাছের পাতায় যে সূর্যালোক পড়ে, তার বড় অংশই কাজে লাগে না। কিছু আলো প্রতিফলিত হয়, কিছু পাতা ভেদ করে চলে যায়, কিছু তাপ হিসেবে হারায়, আর ক্লোরোফিল সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করতে পারে না। ফলে সালোকসংশ্লেষণে (Photosynthesis) সূর্যালোকের মাত্র ৩ থেকে ৬ শতাংশ রাসায়নিক শক্তি, অর্থাৎ শর্করায় রূপান্তরিত হয়। তাই সালোকসংশ্লেষণের কর্মদক্ষতা খুবই কম।
মনে রাখুন:
ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে, সবুজ আলো বেশি প্রতিফলিত করে। এ কারণেই পাতা সবুজ দেখায়।
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO2 + 12H2O → C6H12O6 + 6O2 + 6H2O। - ৫. কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. ক্রোমোপ্লাস্ট
- খ. ক্লোরোপ্লাস্ট
- গ. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
- ঘ. লিউকোপ্লাস্ট
উত্তর: ক. ক্রোমোপ্লাস্ট
উদ্ভিদকোষে প্লাস্টিড নামে এক ধরনের অঙ্গাণু থাকে, যাদের রং অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast) রঙিন প্লাস্টিড, যাতে লাল, হলুদ ও কমলা রঞ্জক থাকে। এই রঞ্জকের কারণে অনেক ফুল ও পাকা ফল রঙিন ও সুন্দর দেখায়। ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল থাকে, তাই এটি পাতাকে সবুজ রং দেয়।
মনে রাখুন:
লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন প্লাস্টিড এবং এতে খাদ্য, যেমন শ্বেতসার, সঞ্চিত থাকে।
অ্যান্থোসায়ানিন নামের রঞ্জকও অনেক ফুলের লাল ও বেগুনি রং তৈরি করে। - ৬. Photosynthesis takes place in-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. Roots of the plants
- খ. Stems of the plants
- গ. Green parts of the plants
- ঘ. All parts of the plants
উত্তর: গ. Green parts of the plants
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে গাছ সূর্যের আলোর সাহায্যে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড থেকে খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। এ কাজে ক্লোরোফিল নামের সবুজ রঞ্জক লাগে, আর ক্লোরোফিল থাকে উদ্ভিদের সবুজ অংশে, যেমন পাতা ও কচি কাণ্ডে। তাই সালোকসংশ্লেষণ হয় উদ্ভিদের সবুজ অংশে। মূলে বা অন্য অসবুজ অংশে ক্লোরোফিল থাকে না। সালোকসংশ্লেষণের জন্য আলো, পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ক্লোরোফিল, এই চারটি জিনিসই দরকার। এর কোনো একটি না থাকলে প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। বিক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেনই আমরা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করি।
মনে রাখুন: সূত্র হলো 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ (আলো ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে)। - ৭. ফল পাকানোর জন্য দায়ী কী?৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ হরমোন
- ক. ইথিলিন
- খ. প্রপিন
- গ. লাইকোপেন
- ঘ. মিথিলিন
উত্তর: ক. ইথিলিন
ফল পাকার জন্য দায়ী ইথিলিন (Ethylene) নামের একটি গ্যাস। এটি উদ্ভিদের একটি প্রাকৃতিক হরমোন, যা ফল নিজেই তৈরি করে। এর প্রভাবে ফল নরম হয়, মিষ্টি হয় আর রং বদলায়। কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর সময়ও কখনো কখনো ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে লাইকোপেন হলো টমেটোর লাল রঞ্জক পদার্থ, ফল পাকানোর গ্যাস নয়। একটি পাকা ফল আশপাশের কাঁচা ফলকেও পাকিয়ে দিতে পারে, কারণ ইথিলিন গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে যায়। এ কারণেই কাঁচা কলা পাকা কলার পাশে রাখলে তাড়াতাড়ি পাকে।
মনে রাখুন: অনেক সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে কৃত্রিমভাবে ফল পাকানো হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। - ৮. সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়-২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. সবুজ আলোতে
- খ. নীল আলোতে
- গ. লাল আলোতে
- ঘ. বেগুনী আলোতে
উত্তর: গ. লাল আলোতে
সালোকসংশ্লেষণে (Photosynthesis) উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে আলোর শক্তি শোষণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করে। ক্লোরোফিল লাল ও নীল আলো সবচেয়ে বেশি শোষণ করে, আর এর মধ্যে লাল আলোতে প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি হয়। সবুজ আলো পাতা থেকে প্রতিফলিত হয়ে যায়, আর এ কারণেই পাতা আমাদের চোখে সবুজ দেখায়। তাই সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম হয়।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO2 + 12H2O → C6H12O6 + 6O2 + 6H2O।
প্রক্রিয়াটি ক্লোরোপ্লাস্টে ঘটে। - ৯. ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে-১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝরে পড়ে
- খ. পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
- গ. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
- ঘ. ফুলে ফুলে সংস্পর্শে
উত্তর: ক. বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝরে পড়ে
ধান ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, আর ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুল সাধারণত বায়ুপরাগী ধরনের হয়। ধানের ফুল খুব ছোট এবং এতে উজ্জ্বল রঙের পাপড়ি বা মধু থাকে না, তাই কীটপতঙ্গ একে আকর্ষণ করে না। এর পরাগরেণু হালকা ও শুকনো, যা বাতাসের সাহায্যে ঝরে বা উড়ে গর্ভমুণ্ডে পৌঁছায়। পরাগায়ন সম্পন্ন হলে নিষেক ঘটে এবং ফুল থেকে ফল ও বীজ তৈরি হয়। ধানের ক্ষেত্রে বীজটাই আমাদের খাদ্যশস্য।
মনে রাখুন:
গম, ভুট্টা ও বাঁশও বায়ুপরাগী।
কীটপতঙ্গের সাহায্যে পরাগায়ন হয় সরিষা, কুমড়ার মতো রঙিন ও মধুযুক্ত ফুলে।
পরাগরেণু পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোকে পরাগায়ন (Pollination) বলে। - ১০. জলজ উদ্ভিদ সহজে ভাসতে পারে, কারণ-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলজ উদ্ভিদ
- ক. এরা অনেক ছোট হয়
- খ. এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
- গ. এরা পানিতে জন্মে
- ঘ. এদের পাতা অনেক কম থাকে
উত্তর: খ. এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরিপানা, শাপলা ও টোপাপানা পানির ওপর ভেসে থাকে। এদের কাণ্ড ও পাতায় বাতাসে ভরা অনেক ছোট ছোট ফাঁকা কুঠুরি বা বায়ুকুঠুরি (Air Chamber) থাকে। এই বাতাস উদ্ভিদের দেহকে হালকা করে দেয়, ফলে এরা সহজে পানিতে ভেসে থাকে। শুধু ভাসতেই নয়, এই বায়ুকুঠুরি শ্বসনেও সাহায্য করে, কারণ পানির নিচে ডুবে থাকা অংশে বাতাস পৌঁছে দেয়। কচুরিপানার ফোলা বৃন্ত আসলে বায়ুকুঠুরির এই গঠনেরই ফল। এ কারণে কচুরিপানা পানির ওপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জলাশয় ঢেকে ফেলে।
মনে রাখুন: জলজ উদ্ভিদের যে কলায় এই ফাঁকা জায়গা থাকে তাকে এরেনকাইমা বলে। - ১১. গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউজ চাষ
- ক. উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
- খ. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
- গ. আলো থেকে রক্ষার জন্য
- ঘ. ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
উত্তর: খ. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
গ্রিনহাউসের কাচ সূর্যের আলো ভেতরে ঢুকতে দেয়। ভেতরের মাটি ও গাছ সেই আলো শোষণ করে গরম হয় এবং অবলোহিত তাপ ছাড়ে। কিন্তু কাচ সেই তাপ বাইরে যেতে দেয় না, ফলে ভেতরটা উষ্ণ থাকে। এ কারণে শীতপ্রধান দেশে প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে গাছ বাঁচাতে গ্রিনহাউসে চাষ করা হয়। একই নীতিতে রোদে দাঁড় করানো বন্ধ গাড়ির ভেতরটাও দ্রুত গরম হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্যাস গ্রিনহাউসের কাচের মতো তাপ আটকে রাখে, একেই গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
গ্রিনহাউসের ভেতরে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে অসময়ের সবজিও ফলানো যায়। - ১২. বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন সংবন্ধন
- ক. সরাসরি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে
- খ. ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
- গ. পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
- ঘ. মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে
উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
বাতাসের প্রায় ৭৮ ভাগই নাইট্রোজেন, কিন্তু উদ্ভিদ এই গ্যাসকে সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। শিম-জাতীয় গাছের শিকড়ের গুটিতে রাইজোবিয়াম (Rhizobium) নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এরা বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট ও অ্যামোনিয়ার মতো যৌগে পরিণত করে। উদ্ভিদ এই যৌগ শোষণ করে প্রোটিন তৈরি করে, ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ে। এই প্রক্রিয়ার নাম নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation)। এ কারণে শিম, মটর ও মুগের মতো ডালজাতীয় ফসলের পরে জমিতে অন্য ফসল ফলালে বাড়তি সার কম লাগে।
মনে রাখুন:
মাটিতে মুক্তভাবে থাকা অ্যাজোটোব্যাক্টর ও নীলাভ-সবুজ শৈবালও নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
বজ্রপাতের সময়ও সামান্য নাইট্রোজেন যৌগে পরিণত হয়। - ১৩. কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ পুষ্টি
- ক. দস্তা
- খ. সালফার
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. পটাশিয়াম
উত্তর: খ. সালফার
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান হলো সালফার (গন্ধক)। সালফার আমিষ বা প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই এর অভাব হলে উদ্ভিদের আমিষ তৈরি ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা দেরিতে হয়। সালফারের অভাবে কচি পাতাও হলদে হয়ে যায়। সালফার ও নাইট্রোজেন দুটিই প্রোটিন তৈরিতে লাগে, কারণ কিছু অ্যামিনো এসিড, যেমন মেথিওনিন ও সিস্টিন, সালফারযুক্ত। সরিষার মতো তেলবীজ ফসলে সালফার সারের গুরুত্ব বেশি।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেনের অভাবে পুরোনো পাতা হলদে হয়।
দস্তার অভাবে ধানে খৈরা রোগ হয়।
পটাশিয়ামের অভাবে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। - ১৪. উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যায় কিসের অভাবে?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ পুষ্টি
- ক. নাইট্রোজেনের
- খ. ফসফরাসের
- গ. ইউরিয়ার
- ঘ. পটাসিয়ামের
উত্তর: ক. নাইট্রোজেনের
উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং আসে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামের রঞ্জক থেকে, আর ক্লোরোফিল তৈরিতে নাইট্রোজেন অপরিহার্য। মাটিতে নাইট্রোজেন কম থাকলে ক্লোরোফিল ঠিকমতো তৈরি হয় না, ফলে পাতা হলদে হয়ে যায়। এই অবস্থাকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলে। ইউরিয়া নিজে মৌলিক উপাদান নয়, এটি নাইট্রোজেন জোগানো একটি সার। নাইট্রোজেনের অভাব হলে পুরোনো পাতা আগে হলুদ হয়, কারণ গাছ নতুন পাতার জন্য পুরোনো পাতার নাইট্রোজেন সরিয়ে নেয়। তাই জমিতে ইউরিয়া সার দিলে পাতা আবার সবুজ হয়।
মনে রাখুন:
লোহার অভাবেও কচি পাতায় ক্লোরোসিস দেখা যায়।
ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি রঙের হতে পারে। - ১৫. গাছের খাদ্য তালিকায় আছে?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ পুষ্টি
- ক. N, P, K, S ও Zn
- খ. Na, P, K, S ও Zn
- গ. N, B, K, S ও Al
- ঘ. N, P, K, S ও Al
উত্তর: ক. N, P, K, S ও Zn
উদ্ভিদের বেড়ে ওঠার জন্য কিছু খনিজ উপাদান অপরিহার্য, যেগুলো অল্প বা বেশি পরিমাণে লাগে। এর মধ্যে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K) ও সালফার (S) বেশি পরিমাণে লাগে, আর দস্তা বা জিংক (Zn) কম পরিমাণে লাগে। সোডিয়াম (Na) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) উদ্ভিদের জন্য অপরিহার্য নয়।
মনে রাখুন:
প্রধান উপাদান: N, P, K, Ca, Mg, S।
অণুপুষ্টি: Fe, Mn, Zn, Cu, B, Mo, Cl।
ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন জোগায়, টিএসপি জোগায় ফসফরাস, আর এমওপি জোগায় পটাশিয়াম। - ১৬. বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন সংবন্ধন
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. পটাশিয়াম
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
বজ্রপাতের সময় প্রচণ্ড উত্তাপে বাতাসের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। এটি বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হয়, তারপর বৃষ্টির পানিতে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড মাটির যৌগের সঙ্গে মিলে নাইট্রেট হিসেবে জমা হয়, আর উদ্ভিদ তা সার হিসেবে শোষণ করে। তাই বজ্রবৃষ্টিতে মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়ে। তাই চাষিদের মধ্যে প্রচলিত আছে যে বজ্রবৃষ্টির পর জমির ফসল ভালো হয়।
মনে রাখুন:
বাতাসের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের ব্যবহারযোগ্য যৌগে পরিণত করাকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন বলে।
রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়াও সিমজাতীয় উদ্ভিদের মূলে এই কাজ করে। - ১৭. উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের বৃদ্ধি
- ক. ওডোমিটার
- খ. ক্রনমিটার
- গ. ট্যাকোমিটার
- ঘ. ক্রেসকোগ্রাফ
উত্তর: ঘ. ক্রেসকোগ্রাফ
ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph) এমন একটি যন্ত্র, যা দিয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মাপা যায়। এটি উদ্ভাবন করেন বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। গাছের বৃদ্ধি এত ধীরে হয় যে সাধারণ চোখে ধরা যায় না, কিন্তু এই যন্ত্র সেই বৃদ্ধিকে লক্ষ গুণ বড় করে দেখাতে পারত। এর মাধ্যমে তিনি দেখান, গাছও আলো, তাপ ও আঘাতে সাড়া দেয়।
মনে রাখুন: কয়েকটি যন্ত্র ও তাদের কাজ:
ওডোমিটার: গাড়ির চলা পথের দূরত্ব মাপে।
ট্যাকোমিটার: ঘূর্ণনের গতি মাপে।
ক্রনোমিটার: সঠিক সময় মাপে। - ১৮. ১৯৯৯ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কোন কৃষি বিজ্ঞানী বাংলাদেশ সফর করেন?১৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কৃষি বিজ্ঞানী
- ক. প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম
- খ. প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
- গ. ড. আব্দুল কাদের
- ঘ. ড. স্বামীনাথন
উত্তর: খ. প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সফর করা নোবেলজয়ী কৃষিবিজ্ঞানী হলেন মার্কিন বিজ্ঞানী নরম্যান বোরলগ (Norman Borlaug)। তিনি মেক্সিকোতে গবেষণা করে উচ্চফলনশীল ও খর্বাকৃতির গমের জাত উদ্ভাবন করেন, যার ফলে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় খাদ্য উৎপাদন বহু গুণ বেড়ে যায়। এই অবদানের জন্য তাঁকে ‘সবুজ বিপ্লবের জনক’ বলা হয়। ১৯৭০ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
মনে রাখুন: আব্দুস সালাম পাকিস্তানি বিজ্ঞানী, তিনি ১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। কৃষির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না। - ১৯. খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে-৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. অক্সিজেন
- খ. কার্বন ডাই অক্সাইড
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: খ. কার্বন ডাই অক্সাইড
সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্রহণ করে। এই গ্যাস পাতার পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে ভেতরে ঢোকে। এরপর পানি ও আলোর সাহায্যে CO₂ থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। বায়ুর বেশিরভাগ অংশ নাইট্রোজেন, কিন্তু উদ্ভিদ বাতাস থেকে সরাসরি তা নিতে পারে না। গাছ প্রস্বেদনের সময় জলীয় বাষ্প ছাড়ে, কিন্তু বাতাস থেকে তা গ্রহণ করে না। আর খাদ্য তৈরির কাঁচামাল দুটি: বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে নেওয়া পানি।
মনে রাখুন:
বায়ুতে CO₂ আছে শতকরা প্রায় ০.০৪ ভাগ।
উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসনের সময়, খাদ্য তৈরির সময় নয়। - ২০. আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-২২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে
- খ. গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
- গ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন অবদান নেই
- ঘ. ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়
উত্তর: খ. গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
গাছপালা সালোকসংশ্লেষণের সময় অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়। এভাবে বাতাস নির্মল থাকে এবং সব জীব শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। এছাড়া গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, ঝড় ও বন্যার ক্ষতি কমায় এবং কাঠ, ফল ও জ্বালানি দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। তাই বনায়ন আমাদের দেশে এত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের বনের মধ্যে সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এটি ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূলকে বাঁচায় এবং অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয় দেয়।
মনে রাখুন:
পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ ভাগে বন থাকা দরকার বলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ এর চেয়ে কম। - ২১. ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে -২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
- খ. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
- গ. বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
- ঘ. অধিক পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড নির্গত হয়
উত্তর: খ. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
গাছ রাত-দিন শ্বসন করে এবং অক্সিজেন নিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। দিনে সালোকসংশ্লেষণে সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার হয়ে যায়। রাতে আলো না থাকায় সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে, তাই শুধু শ্বসন চলে এবং গাছ থেকে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। ঘন পাতার গাছের নিচে এই গ্যাস জমে বাতাসে অক্সিজেন কমে যেতে পারে, তাই সেখানে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। একটি ঘন গাছের নিচে একজন মানুষ ও গাছ একই বাতাসের অক্সিজেন ব্যবহার করে, ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দিনের বেলা অবশ্য এ সমস্যা হয় না, কারণ তখন গাছ প্রচুর অক্সিজেন ছাড়ে।
মনে রাখুন: বদ্ধ ঘরে গাছ রাখলেও একই কারণে রাতে অক্সিজেন কমতে পারে। - ২২. নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কচুরিপানা
- ক. হিজল
- খ. করচ
- গ. চুমুর
- ঘ. গজারী
উত্তর: ঘ. গজারী
হিজল, করচ ও চুমুর বাংলাদেশের জলাভূমি ও বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলের গাছ। এরা বছরের অনেকটা সময় পানিতে ডুবে থেকে বেঁচে থাকতে পারে, তাই এদের জলজ বা জলাভূমির উদ্ভিদ বলা হয়। অন্যদিকে গজারী বা শাল গাছ মধুপুর গড়ের মতো উঁচু ও শুকনো এলাকায় জন্মায়, তাই এটি জলজ উদ্ভিদ নয়। জলাভূমির গাছের শিকড় পানির নিচে বাতাসের অভাবে টিকে থাকার জন্য বিশেষ শ্বাসমূল তৈরি করে। এভাবে এরা কাদা ও পানিতে ঢাকা মাটিতেও শ্বাস নিতে পারে।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে হিজল-করচ প্রধানত সিলেট ও হাওর অঞ্চলের জলাবনে দেখা যায়।
গজারী বা শাল বনের জন্য ভাওয়াল ও মধুপুরের নাম বিখ্যাত।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (২০১)
- ২৩. 'ইরাটম' কী?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উচ্চমান সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উন্নত ফসলের জাত
- ক. উন্নত জাতের পাট
- খ. উন্নত জাতের ধান
- গ. উন্নত জাতের গম
- ঘ. উন্নত জাতের ইক্ষু
উত্তর: খ. উন্নত জাতের ধান
ইরাটম ধানের একটি উন্নত জাত। ধানের জাত উন্নত করার একটি পদ্ধতি হলো বীজে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় পারমাণবিক বিকিরণ প্রয়োগ করে মিউটেশন (Mutation) ঘটানো, অর্থাৎ বংশগতির বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা। এভাবে যেসব গাছে ভালো বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, সেগুলো বেছে নিয়ে নতুন জাত দাঁড় করানো হয়। ইরাটম-২৪ এ ধরনের একটি জাত, আর সে কারণেই নামের মধ্যে অ্যাটম শব্দটি এসেছে। পাট, গম বা আখের সঙ্গে এই নামের কোনো সম্পর্ক নেই, তাই ওই বিকল্পগুলো ঠিক নয়। বাংলাদেশে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) বিকিরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করে।
মনে রাখুন:
বিনা-র সদর দপ্তর ময়মনসিংহে।
বিনা ধান-৭ আমাদের পরিচিত আরেকটি উন্নত ধানের জাত। - ২৪. ক্লোরোফিল পাওয়া যায়-বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোরোফিল
- ক. সকল প্রাণীতে
- খ. ছত্রাকে
- গ. সবুজ পাতায়
- ঘ. ফলে
উত্তর: গ. সবুজ পাতায়
ক্লোরোফিল (Chlorophyll) হলো উদ্ভিদের সবুজ রঞ্জক পদার্থ, যার বাংলা নাম পত্রহরিৎ। এটি কোষের ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) নামের অঙ্গাণুতে থাকে। সবুজ পাতায় ক্লোরোফিল সবচেয়ে বেশি থাকে বলে পাতা সবুজ দেখায়। সূর্যের আলো শোষণ করে ক্লোরোফিলই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, যার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি হয়। প্রাণীর দেহে ক্লোরোফিল থাকে না, কারণ প্রাণী নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। ছত্রাকেও এটি অনুপস্থিত, তাই ছত্রাক পরভোজী হিসেবে অন্যের ওপর নির্ভর করে খাদ্যের জন্য।
মনে রাখুন:
ক্লোরোফিলের একটি অণুর কেন্দ্রে ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু থাকে।
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂। - ২৫. খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. O₂
- খ. H₂
- গ. CO₂
- ঘ. H₂O
উত্তর: গ. CO₂
সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে, এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)। এ কাজের জন্য তিনটি জিনিস দরকার: সূর্যের আলো, পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইড। উদ্ভিদ মাটি থেকে শিকড়ের মাধ্যমে পানি শোষণ করে। অন্য দিকে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নেয় পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শুষে নিলে এই দুই কাঁচামাল থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয় এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বাতাসে মুক্ত হয়। তাই খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বাতাস থেকে নেয় CO₂, অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন নয়।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।
শ্বসনের সময় উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। - ২৬. ক্লোরোফিলে কোন মৌলটির উপস্থিতি বিদ্যমান?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোরোফিল
- ক. K
- খ. Ca
- গ. Mg
- ঘ. Na
উত্তর: গ. Mg
উদ্ভিদের সবুজ রঙের রঞ্জক ক্লোরোফিলের (Chlorophyll) অণুর কেন্দ্রে একটি ম্যাগনেসিয়াম (Mg) পরমাণু থাকে। এই রঞ্জক সূর্যের আলো শুষে নিয়ে সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে ক্লোরোফিল তৈরি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলদে হয়ে যায়। ক্লোরোফিলে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনও থাকে। পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca) ও সোডিয়াম (Na) এর অংশ নয়। ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু ক্লোরোফিলের পোরফাইরিন বলয়ের ঠিক মাঝখানে বসে থাকে। মাটিতে ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে গাছ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
রক্তের হিমোগ্লোবিনের কেন্দ্রে থাকে আয়রন (Fe)।
ক্লোরোফিল মূলত নীল-বেগুনি ও লাল আলো শোষণ করে, সবুজ আলো প্রতিফলিত করে বলে পাতা সবুজ দেখায়। - ২৭. উদ্ভিদের বৃদ্ধিমাপক যন্ত্রের নাম কী?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৃদ্ধি পরিমাপ
- ক. ক্যালোরিমিটার
- খ. স্ফিগমোম্যানোমিটার
- গ. অক্সানোমিটার
- ঘ. পোটোমিটার
উত্তর: গ. অক্সানোমিটার
উদ্ভিদ কত দ্রুত বাড়ছে, তা মাপার জন্য বিশেষ যন্ত্র আছে। অক্সানোমিটার (Auxanometer) এর মধ্যে একটি। এতে উদ্ভিদের শীর্ষের সঙ্গে একটি সরু সুতা বাঁধা থাকে, আর সুতার অন্য প্রান্ত একটি চাকা বা স্কেলের সঙ্গে যুক্ত। গাছ লম্বা হলে সুতা টেনে স্কেলের কাঁটা সরে যায়, এভাবে বৃদ্ধি মাপা হয়। জগদীশচন্দ্র বসু আবিষ্কৃত ক্রেসকোগ্রাফও এমন একটি যন্ত্র, যা গাছের বৃদ্ধি বহুগুণ বড় করে দেখায়। ক্যালোরিমিটার তাপ মাপে, আর স্ফিগমোম্যানোমিটার রক্তচাপ। পোটোমিটার (Potometer) উদ্ভিদের প্রস্বেদন মাপে।
মনে রাখুন:
ক্রেসকোগ্রাফ: জগদীশচন্দ্র বসু।
পোটোমিটার: প্রস্বেদনের হার।
ফটোমিটার: আলোর তীব্রতা। - ২৮. কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. লাল
- খ. নীল
- গ. কমলা
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ঘ. হলুদ
গাছপালা সালোকসংশ্লেষণের সময় সূর্যের আলো থেকে শক্তি নেয়। পাতার ক্লোরোফিল আলোর সব রঙ সমান শোষণ করে না। ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে, তাই এই দুই আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। কমলা ও বেগুনি আলোও কিছুটা কাজে লাগে। কিন্তু সবুজ ও হলুদ আলো ক্লোরোফিল খুব কম শোষণ করে, বরং বেশির ভাগই প্রতিফলিত করে দেয়। গাছের পাতা সবুজ দেখায় এই কারণেই। তাই হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম হয়।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ + 6H₂O।
সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম হয়। - ২৯. 'গাছের জীবন আছে' এই তত্ত্ব উদ্ঘাটন করেছিলেন—ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জগদীশচন্দ্র বসু
- ক. ইবনে সিনা
- খ. আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র
- গ. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
- ঘ. স্যার আইজাক নিউটন
উত্তর: গ. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
গাছেরও জীবন আছে, তারা প্রাণীর মতোই উদ্দীপনায় সাড়া দেয়, এটি পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। তিনি নিজের তৈরি অতি সংবেদনশীল যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ দিয়ে দেখান, আঘাত, বিষ বা তাপ দিলে গাছের মধ্যে প্রাণীর মতোই সাড়া জাগে। জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরের রাঢ়িখালে, যা এখন মুন্সীগঞ্জ জেলায়। ১৯১৭ সালে তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বেতার তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা করে তিনি অনেকের আগেই মাইক্রোওয়েভ তৈরি ও শনাক্ত করেছিলেন।
মনে রাখুন:
জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কৃত যন্ত্র: ক্রেসকোগ্রাফ।
তাঁর মৃত্যু ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর। - ৩০. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি তৈরি হয়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. আমিষ
- খ. শর্করা
- গ. ভিটামিন
- ঘ. এনজাইম
উত্তর: খ. শর্করা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) হলো সবুজ উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া। এতে পাতার ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে এবং সেই শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা, অর্থাৎ গ্লুকোজ তৈরি করে। এর সঙ্গে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বের হয়। এই বিক্রিয়ার সমীকরণ: 6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ + 6H₂O। আমিষ, ভিটামিন বা এনজাইম সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় না।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণ হয় ক্লোরোপ্লাস্টে।
তৈরি হওয়া গ্লুকোজ পরে স্টার্চ হিসেবে জমা থাকে।
উদ্ভিদ দিনের বেলা CO₂ নেয় ও O₂ ছাড়ে, ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য থাকে। - ৩১. নিচের কোনটি ঔষধি গাছ?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঔষধি গাছ
- ক. পাট
- খ. ধনিয়া
- গ. অর্জুন
- ঘ. তুলা
উত্তর: গ. অর্জুন
ঔষধি গাছ বা ভেষজ উদ্ভিদ হলো সেই গাছ, যার অংশ রোগ সারাতে বা প্রতিরোধে কাজে লাগে। অর্জুন গাছের ছাল হৃদরোগ ও রক্তচাপের চিকিৎসায় বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাকলে ট্যানিন থাকে, যা মাড়ির রক্তপাত ও প্রদাহ কমায়। পাট ও তুলা আঁশ উৎপাদনকারী অর্থকরী ফসল, আর ধনিয়া মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলো প্রচলিত অর্থে ঔষধি গাছ নয়।
মনে রাখুন:
অন্যান্য ঔষধি গাছ: নিম, তুলসী, বাসক, বহেড়া, হরীতকী, আমলকী।
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল, কিন্তু আমলকী-হরীতকী-বহেড়া মিলে ত্রিফলা তৈরি হয়।
নিমের পাতা জীবাণুনাশক হিসেবে পরিচিত। - ৩২. গাছের শারীরিক বৃদ্ধি হয় কোন সারে?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সার
- ক. TSP
- খ. MP
- গ. SSP
- ঘ. Urea
উত্তর: ঘ. Urea
গাছের কাণ্ড ও পাতা বেড়ে ওঠা, অর্থাৎ শারীরিক (Vegetative) বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার নাইট্রোজেন। ইউরিয়া সারের প্রায় ৪৬ ভাগই নাইট্রোজেন, তাই এটি গাছকে সবুজ ও সতেজ করে। TSP ফসফরাসের সার, যা মূলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধরার জন্য বেশি কাজে লাগে। MP পটাশের সার, যা রোগ প্রতিরোধ ও ফলের গুণ বাড়ায়। SSP-ও ফসফরাসের সার। নাইট্রোজেনের অভাব হলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং বৃদ্ধি থেমে যায়।
মনে রাখুন: ইউরিয়াতে নাইট্রোজেন, TSP-তে ফসফরাস, MP-তে পটাশিয়াম থাকে। মাটিতে এই তিনটি উপাদানের নাম NPK।
ফসফরাসের অভাবে ফুল ও ফল কম ধরে।
পটাশিয়ামের অভাবে পাতার কিনারা পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়। - ৩৩. নিচের কোন রাসায়নিক সারটি নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সার
- ক. টিএসপি
- খ. ইউরিয়া
- গ. জিংকে ফসফেট
- ঘ. জিপসাম
উত্তর: খ. ইউরিয়া
গাছের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন অপরিহার্য, কারণ এটি পাতা সবুজ করে এবং প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে। রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়াতে নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪৬ ভাগ। টিএসপি ফসফরাসের সার, আর জিপসাম সালফার ও ক্যালসিয়ামের উৎস। জিংক ফসফেটের উপাদান যথাক্রমে জিংক ও ফসফরাস। জমিতে ইউরিয়া দিলে মাটির অণুজীব একে প্রথমে অ্যামোনিয়া ও পরে নাইট্রেটে বদলে দেয়, যা গাছ সহজে শোষণ করে।
মনে রাখুন: ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত CO(NH₂)₂।
ফসফরাসের সার টিএসপি, আর পটাশিয়ামের সার এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ।
সার ব্যবহারে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন জমি ও পানি দূষিত করতে পারে। - ৩৪. সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার বিক্রিয়ার গতিপথ কতটি?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. দুইটি
- খ. তিনটি
- গ. চারটি
- ঘ. পাঁচটি
উত্তর: খ. তিনটি
সালোকসংশ্লেষণের (Photosynthesis) অন্ধকার বিক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড থেকে শর্করা তৈরি হয় এবং এর জন্য আলো লাগে না। উদ্ভিদভেদে এই বিক্রিয়ার তিনটি গতিপথ আছে: C₃ (ক্যালভিন চক্র), C₄ (হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র) এবং CAM (ক্রেসুলেসিয়ান এসিড বিপাক)। C₃ পথে প্রথম স্থায়ী যৌগ তিন কার্বনের ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড, আর C₄ পথে প্রথম স্থায়ী যৌগ চার কার্বনের অক্সালো-অ্যাসিটিক অ্যাসিড।
মনে রাখুন:
আখ ও ভুট্টা C₄ উদ্ভিদ।
কচু ও মরু অঞ্চলের ক্যাকটাস CAM পথে কাজ করে।
অন্ধকার বিক্রিয়া ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় এবং আলোক বিক্রিয়া গ্রানায় ঘটে।
অন্ধকার বিক্রিয়ায় গ্লুকোজ তৈরি হতে আলোক বিক্রিয়ায় তৈরি ATP ও NADPH লাগে। - ৩৫. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে—স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী/নকশাকার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সার
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: ঘ. নাইট্রোজেন
গাছ বাড়তে যে পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে বেশি দরকার হয়, তার একটি নাইট্রোজেন। নাইট্রোজেন প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের গঠনে লাগে, তাই এটি গাছের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ইউরিয়া সারে প্রচুর নাইট্রোজেন থাকে। মটর, সিম বা মসুরের মতো শিম্বগোত্রীয় গাছের শিকড়ে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটিতে আবদ্ধ করে। একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ করলে নাইট্রোজেন কমে যায়, তাই ফসলের পালাবদল করা হয়।
মনে রাখুন:
গাছের তিনটি প্রধান সার-উপাদান হলো নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K)।
ইউরিয়ায় প্রায় ৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
শিম্বগোত্রীয় গাছ মাটিকে উর্বর করে বলে এদের সবুজ সার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। - ৩৬. সূর্যের আলো থেকে আগত শক্তির কতটুকু সবুজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. ১%
- খ. ২%
- গ. ৩%
- ঘ. ৮%
উত্তর: ক. ১%
সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের (Photosynthesis) মাধ্যমে সূর্যের আলো থেকে খাদ্য তৈরি করে। কিন্তু সূর্য থেকে পৃথিবীতে যে আলো আসে, তার খুব সামান্য অংশই এ কাজে লাগে, সাধারণভাবে প্রায় ১ শতাংশ। বাকি অংশ প্রতিফলিত হয়, শোষিত হয়ে তাপ হয়ে যায় বা অন্যভাবে হারায়। এই সামান্য শক্তিই উদ্ভিদের দেহে খাদ্য হিসেবে জমা থাকে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সব প্রাণীর কাছে পৌঁছায়।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিল আলোর শক্তি শোষণ করে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা ও অক্সিজেন তৈরি হয়।
সূর্যের আলো না থাকলে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করতে পারত না, তাই সূর্যই সব খাদ্যশক্তির আদি উৎস। - ৩৭. পাখির দ্বারা পুষ্পরেণু বহন করাকে বলে-জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. Autogamy
- খ. Ornithophily
- গ. Entomophily
- ঘ. Anemophily
উত্তর: খ. Ornithophily
ফুলের পরাগরেণু একটি ফুল থেকে আরেকটি ফুলে পৌঁছানোকে পরাগায়ন (Pollination) বলে। যে পরাগায়নে বাহক হিসেবে পাখি কাজ করে, তাকে বলা হয় অর্নিথোফিলি (Ornithophily)। ফুলের মধু খেতে এসে পাখির দেহে পরাগ লেগে যায় এবং অন্য ফুলে গেলে সেটি সেখানে পড়ে। শিমুলের মতো কিছু ফুলে এভাবে পাখি পরাগায়ন ঘটায়।
মনে রাখুন:
অটোগ্যামি (Autogamy) হলো একই ফুলের পরাগে নিজের গর্ভমুণ্ডে পরাগায়ন।
এন্টোমোফিলি (Entomophily) হলো পোকামাকড় দ্বারা এবং অ্যানিমোফিলি (Anemophily) হলো বাতাস দ্বারা পরাগায়ন।
হাইড্রোফিলি (Hydrophily) হলো পানির মাধ্যমে পরাগায়ন।
অন্য ফুলের পরাগে পরাগায়ন হলে তাকে পরপরাগায়ন বলে। - ৩৮. কৃষিকাজের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাটি হলো—গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটসম্যান (সিভিল), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাটি
- ক. পলি মাটি
- খ. বেলে মাটি
- গ. এঁটেল মাটি
- ঘ. দো-আঁশ মাটি
উত্তর: ঘ. দো-আঁশ মাটি
দো-আঁশ মাটিতে বালি, পলি ও এঁটেল মাটি সুষম অনুপাতে মেশানো থাকে। এই মাটি পানি ধরে রাখতে পারে, আবার বাড়তি পানি বের করেও দেয়, ফলে শিকড় বাতাস পায়। তাছাড়া এতে জৈব পদার্থ ও খনিজ পুষ্টি বেশি থাকে। তাই কৃষির জন্য সবচেয়ে ভালো মাটি দো-আঁশ। এই মাটি ঝুরঝুরে হওয়ায় চাষ দেওয়াও সহজ হয়।
মনে রাখুন:
বেলে মাটি পানি ধরে রাখতে পারে না, আর এঁটেল মাটিতে পানি জমে থাকে।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ জমি নদীবাহিত পলি মাটির, তাই এখানকার মাটি খুব উর্বর। মধুপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি অবশ্য লালচে। - ৩৯. উদ্ভিদের বৃদ্ধি হয় নিচের কোনটির প্রভাবে?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. পানির প্রভাবে
- খ. Urea সারের প্রভাবে
- গ. TSP সারের প্রভাবে
- ঘ. MP সারের প্রভাবে
উত্তর: খ. Urea সারের প্রভাবে
ইউরিয়া সারে প্রায় ৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও কাণ্ড বাড়তে সাহায্য করে এবং গাছকে সবুজ রাখে, তাই সবুজ পাতাসহ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে ইউরিয়া সারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। মাটিতে নাইট্রোজেন কম থাকলে গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় এবং বাড়ন্ত ধীর হয়। শুধু পানি গাছের বেঁচে থাকার জন্য দরকার, কিন্তু পুষ্টি জোগানোর কাজটি সারই করে।
মনে রাখুন:
টিএসপি (TSP) ফসফরাসের উৎস, যা শিকড় ও ফল-ফুল গঠনে কাজে লাগে।
এমপি (MP) পটাশিয়ামের উৎস, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
উদ্ভিদের প্রধান তিনটি সার উপাদান হলো নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম, যাদের সংক্ষেপে NPK বলা হয়। - ৪০. উদ্ভিদ কোন অঙ্গের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাতা ও সালোকসংশ্লেষণ
- ক. মূল
- খ. কাণ্ড
- গ. পাতা
- ঘ. ফুল
উত্তর: গ. পাতা
উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে পাতার মাধ্যমে। পাতার কোষে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামে সবুজ রঞ্জক পদার্থ থাকে। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে এই ক্লোরোফিল মূলের টেনে আনা পানি এবং বাতাস থেকে নেওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শর্করায় রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)। মূল শুধু পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে, আর কাণ্ড সেগুলো উপরে পৌঁছে দেয়।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণে অক্সিজেন গ্যাস উপজাত হিসেবে বের হয়।
ক্যাকটাসের মতো কিছু উদ্ভিদে পাতা কাঁটায় রূপ নেয়, তখন সবুজ কাণ্ডই খাদ্য তৈরির কাজ করে।
পাতার নিচের দিকে স্টোমাটা (Stomata) নামে ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এগুলো দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ভেতরে ঢোকে এবং অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প বাইরে বেরিয়ে যায়। - ৪১. ছোলা কোন শ্রেণির উদ্ভিদ?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. গুল্ম
- খ. একবর্ষজীবী
- গ. উপগুল্ম
- ঘ. বীরুৎ
উত্তর: ঘ. বীরুৎ
যেসব উদ্ভিদের কাণ্ড নরম, সবুজ ও অকাষ্ঠল এবং উচ্চতা সাধারণত কম, তাদের বীরুৎ (Herb) বলে। ছোলা এমন একটি উদ্ভিদ, তাই এটি বীরুৎ। ‘একবর্ষজীবী’ হলো আয়ুষ্কালের ভিত্তিতে ভাগ, আর বীরুৎ, গুল্ম, বৃক্ষ হলো আকার ও কাণ্ডের প্রকৃতির ভিত্তিতে ভাগ। এখানে কাণ্ডের ধরন জানতে চাওয়া হয়েছে বলে উত্তর বীরুৎ।
মনে রাখুন:
বীরুৎ: ধান, গম, সরিষা, টমেটো, মুলা।
গুল্ম: জবা, গোলাপ, লেবু।
বৃক্ষ: আম, কাঁঠাল, শাল।
ছোলা শুঁটিজাতীয় বা ডাল-জাতীয় ফসল। এর শিকড়ের গুটিতে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আটকে জমির উর্বরতা বাড়ায়।
ছোলার বীজ প্রোটিনে সমৃদ্ধ, তাই ডাল ও বেসন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। - ৪২. লেবু গাছ কোন জাতীয় উদ্ভিদ?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), প্রশাসনিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. বৃক্ষ
- খ. বিরুৎ
- গ. গুল্ম
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. গুল্ম
যেসব উদ্ভিদের কাণ্ড শক্ত বা কাষ্ঠল, কিন্তু বৃক্ষের মতো একটি মোটা প্রধান কাণ্ড থাকে না এবং মাটির কাছ থেকেই অনেক শাখা বের হয়, তাদের গুল্ম (Shrub) বলে। লেবু গাছ এমন বৈশিষ্ট্যের, তাই এটি গুল্ম। বৃক্ষ (Tree) বড় ও একটিমাত্র শক্ত কাণ্ডবিশিষ্ট, আর বীরুৎ (Herb) নরম কাণ্ডের ছোট উদ্ভিদ।
মনে রাখুন:
গুল্মের উদাহরণ: গোলাপ, জবা, জুঁই।
বৃক্ষের উদাহরণ: আম, কাঁঠাল, নিম।
বীরুতের উদাহরণ: ধান, গম, সরিষা।
লেবু গাছের পাতায় ও কাণ্ডে ছোট কাঁটা থাকে, আর এর ফল থেকে আমরা সাইট্রিক এসিড পাই।
গুল্মের কাণ্ড বৃক্ষের মতো মোটা হয় না এবং সাধারণত উচ্চতা অল্প হয়।
লেবু ভিটামিন C-এর ভালো উৎস। - ৪৩. কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. বেগুনি
- খ. নীল
- গ. লাল
- ঘ. হলুদ
উত্তর: গ. লাল
সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিল দৃশ্যমান আলোর লাল ও নীল অংশ সবচেয়ে বেশি শোষণ করে। এর মধ্যে লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার সর্বাধিক হয়। সবুজ আলো ক্লোরোফিল বেশি শোষণ করে না, বরং প্রতিফলিত করে। এ কারণে পাতা সবুজ দেখায়। হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ তুলনায় খুবই কম।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম হয় সবুজ আলোতে।
ক্লোরোফিল-a প্রধান সালোকসংশ্লেষী রঞ্জক, যা গাঢ় নীল-সবুজ রঙের।
সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন তৈরি হয়।
সালোকসংশ্লেষণ চলে ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) নামের কোষ-অঙ্গাণুতে, যেখানে ক্লোরোফিল জমা থাকে।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 650 nm, আর নীল আলোর প্রায় 450 nm। ক্লোরোফিল এই দুই অঞ্চলের আলোই বেশি শোষণ করে।
কৃত্রিম আলোতেও গাছ সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে। - ৪৪. আলুর একটি জাতের নাম—বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফসলের জাত
- ক. ডায়মন্ড
- খ. রূপালি
- গ. ড্রামহেড
- ঘ. ব্রিশাইল
উত্তর: ক. ডায়মন্ড
ডায়মন্ড বাংলাদেশে চাষ হওয়া উন্নত জাতের আলুর নাম। অন্য বিকল্পগুলো আলুর জাত নয়: ড্রামহেড বাঁধাকপির একটি জাত, রূপালি তুলার জাত এবং ব্রিশাইল ধানের উন্নত জাত। এভাবে প্রতিটি ফসলের আলাদা আলাদা জাত থাকে, তাই ফসলের নামের সঙ্গে তার জাত মিলিয়ে মনে রাখা দরকার।
মনে রাখুন:
আলুর আরও কয়েকটি জাত: কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ও গ্রানুলা।
বাংলাদেশে আলু চাষে মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চল উল্লেখযোগ্য।
আলু আসলে কাণ্ডের রূপান্তর, যাকে কন্দ (Tuber) বলে। শিকড় নয়, মাটির নিচের কাণ্ডে খাদ্য জমা হয়ে আলু তৈরি হয়।
আলুতে শ্বেতসার প্রচুর থাকে, আর বাংলাদেশে এটি ধান ও গমের পরে বড় একটি খাদ্য ফসল। - ৪৫. ইউরিয়া থেকে উদ্ভিদ কী খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে?ক্রীড়া পরিদপ্তর, জেলা ক্রীড়া অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার ও পুষ্টি উপাদান
- ক. ফসফরাস
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. পটাশিয়াম
- ঘ. সালফার
উত্তর: খ. নাইট্রোজেন
ইউরিয়া সার CO(NH₂)₂ সূত্রযুক্ত যৌগ, যার ওজনের প্রায় ৪৬ শতাংশই নাইট্রোজেন। গাছ মাটি থেকে এই নাইট্রোজেন নেয়, কারণ এটি প্রোটিন, ক্লোরোফিল ও ডিএনএ তৈরির জন্য জরুরি। নাইট্রোজেনের অভাব হলে পাতা হলদে হয়ে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি কমে।
মনে রাখুন:
ফসফরাস সরবরাহ করে টিএসপি (TSP) সার।
পটাশিয়াম সরবরাহ করে এমওপি (MoP) সার।
ইউরিয়া সার বেশি দিলে গাছ লকলকে হয়ে যায় কিন্তু ফল-ফুল কম আসে এবং মাটির ক্ষতি হয়, তাই পরিমিত মাত্রায় দিতে হয়।
উদ্ভিদের প্রধান তিন পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম, যাদের সার হলো ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি। - ৪৬. শুকনো কিশমিশ পানিতে রাখলে ফুলে ওঠে কোন প্রক্রিয়ায়?ক্রীড়া পরিদপ্তর, জেলা ক্রীড়া অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ
- ক. ব্যাপন
- খ. প্রস্বেদন
- গ. অভিস্রবণ
- ঘ. ইমবাইবিশন
উত্তর: গ. অভিস্রবণ
কিশমিশের খোসা একটি অর্ধভেদ্য পর্দার মতো, যার ভেতরে ঘন শর্করার দ্রবণ আছে। পানিতে ডোবালে বাইরের পানি পর্দা ভেদ করে ভেতরের ঘন দ্রবণের দিকে ঢোকে, ফলে কিশমিশ ফুলে ওঠে। অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে পানির এই চলাচলকে অভিস্রবণ (Osmosis) বলে। ব্যাপন (Diffusion) হলো কোনো পর্দা ছাড়াই অণুর ছড়িয়ে পড়া।
মনে রাখুন:
অভিস্রবণে পানি হালকা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে যায়।
প্রস্বেদন হলো গাছের পাতা থেকে জলীয়বাষ্প বের হয়ে যাওয়া।
শুকনো কিশমিশে পানির পরিমাণ কম, আর ভেতরে শর্করা ঘন থাকে, তাই এটি পানিকে টেনে নেয়। এর উল্টোটা ঘটে লবণ বা চিনির ঘন দ্রবণে, যেখানে কোষ থেকে পানি বেরিয়ে গিয়ে কোষ কুঁচকে যায়। - ৪৭. মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয় –এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাষ ও পালন বিদ্যা
- ক. সেরিকালচার
- খ. টিস্যুকালচার
- গ. এপিকালচার
- ঘ. পিসিকালচার
উত্তর: গ. এপিকালচার
মৌমাছি পালন বিদ্যাকে এপিকালচার (Apiculture) বলে, কারণ ল্যাটিন ‘Apis’ শব্দের অর্থ মৌমাছি। পরিকল্পিতভাবে বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়। মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়নও ঘটায়, তাই সরিষা বা লিচুর মতো ফসলের বাগানের কাছে মৌচাষ করলে ফসলের ফলনও বাড়ে। একটি মৌচাকে একজন রানি, কয়েক শ পুরুষ ও হাজার হাজার শ্রমিক মৌমাছি থাকে, আর শ্রমিক মৌমাছিরাই ফুল থেকে মধুর উপাদান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশে সুন্দরবনের মধু বিখ্যাত, যা মৌয়ালরা সংগ্রহ করেন।
মনে রাখুন:
সেরিকালচার (Sericulture): রেশম চাষ।
পিসিকালচার (Pisciculture): মাছ চাষ।
টিস্যু কালচার (Tissue Culture): জীবকোষ বা কলা কৃত্রিম মাধ্যমে বাড়ানো।
হর্টিকালচার (Horticulture): উদ্যান বা ফল-ফুল-সবজি চাষ। - ৪৮. মধুবালা নামটি কি জন্য বিখ্যাত?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলের জাত
- ক. হলদে জাতের তরমুজ হিসেবে
- খ. নায়িকার নাম হিসেবে
- গ. পুরষ্কারপ্রাপ্ত ছবির নাম হিসেবে
- ঘ. উন্নতজাতের ধান হিসেবে
উত্তর: ক. হলদে জাতের তরমুজ হিসেবে
মধুবালা হলো বাংলাদেশে উদ্ভাবিত এক জাতের তরমুজ, যার শাঁস হলুদ রঙের। সাধারণ তরমুজের শাঁস লাল হয়, কিন্তু মধুবালার হলুদ শাঁস ও মিষ্টি স্বাদ একে আলাদা করে তোলে। নামটির মধ্যেই মধুর মতো মিষ্টি স্বাদের ইঙ্গিত আছে। উন্নত জাত তৈরি হলে কৃষক কম জমিতে বেশি ফলন পান, আর ক্রেতারাও নতুন স্বাদের ফল পান। হলুদ শাঁসের তরমুজে বিটা ক্যারোটিন জাতীয় রঞ্জক থাকে, যা লাল তরমুজের লাইকোপিন থেকে আলাদা।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) ফল, সবজি ও ভুট্টার অনেক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে।
তরমুজের লাল রঙের কারণ লাইকোপিন নামের রঞ্জক। - ৪৯. এপি কালচার কী ?এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাষ ও পালন বিদ্যা
- ক. পাখি পালন বিদ্যা
- খ. মৌমাছি পালন বিদ্যা
- গ. মৎস্য পালন বিদ্যা
- ঘ. গুটি পোকা চাষবিদ্যা
উত্তর: খ. মৌমাছি পালন বিদ্যা
লাতিন শব্দ ‘apis’ মানে মৌমাছি, তাই এপিকালচার (Apiculture) হলো মৌমাছি পালন বিদ্যা। এতে বাক্স বা মৌচাকে মৌমাছি পালন করে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়। মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়নেও সাহায্য করে, তাই সরিষার মতো ফসলের ক্ষেতে মৌচাষ করলে ফলনও বাড়ে। একটি মৌচাকে রানি, শ্রমিক ও পুরুষ মৌমাছি, এই তিন ধরনের মৌমাছি থাকে এবং শ্রমিক মৌমাছিরাই মধু সংগ্রহ করে। মৌচাকের মোম দিয়ে মোমবাতি ও প্রসাধনী তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
এভিকালচার (Aviculture) = পাখি পালন।
পিসিকালচার (Pisciculture) = মাছ চাষ।
সেরিকালচার (Sericulture) = রেশম চাষ।
হর্টিকালচার (Horticulture) = উদ্যান চাষ। - ৫০. কোন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. প্রস্বেদন
- খ. অভিস্রবণ
- গ. সালোকসংশ্লেষণ
- ঘ. শ্বসন
উত্তর: গ. সালোকসংশ্লেষণ
সবুজ উদ্ভিদ পাতার ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলো শোষণ করে এবং পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে শর্করা বা গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis), আর এর উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বাতাসে মুক্ত হয়। এ কারণেই উদ্ভিদকে খাদ্য উৎপাদক বলা হয়, কারণ প্রাণীরা নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। পাতার স্টোমাটার মাধ্যমে উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয় এবং অক্সিজেন ছাড়ে।
6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ (আলো ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে)
মনে রাখুন:
প্রস্বেদন: পাতা দিয়ে পানি বাষ্প আকারে বের হওয়া।
অভিস্রবণ: অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে পানি চলাচল।
শ্বসন: খাদ্য জারিত করে শক্তি উৎপাদন। - ৫১. রূপান্তরিত মূল কোনটি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ১৪৯১), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রূপান্তরিত মূল
- ক. ওলকপি
- খ. আদা
- গ. মিষ্টিআলু
- ঘ. কচু
উত্তর: গ. মিষ্টিআলু
কিছু উদ্ভিদের মূল খাদ্য জমা রেখে মোটা ও রসালো হয়ে যায়, একে রূপান্তরিত মূল (Modified Root) বলে। মিষ্টিআলুর খাওয়ার অংশটি আসলে এমন খাদ্য সঞ্চয়ী মূল, তাই এটি রূপান্তরিত মূল। মজার ব্যাপার হলো, আমরা যে আলু খাই সেটি কিন্তু রূপান্তরিত কাণ্ড, মূল নয়। আদা, কচু ও ওলকপিও রূপান্তরিত কাণ্ড, কারণ এদের গায়ে পর্ব, পর্বমধ্য বা কুঁড়ি থাকে। মিষ্টিআলু ও গাজরের মতো রূপান্তরিত মূল মাটির নিচে থাকে এবং খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে।
মনে রাখুন:
রূপান্তরিত মূল: মিষ্টিআলু, মুলা, গাজর, শালগম।
রূপান্তরিত কাণ্ড: আলু (স্ফীতকন্দ), আদা ও হলুদ (রাইজোম), কচু (গুঁড়িকন্দ), পেঁয়াজ (কন্দ)। - ৫২. কচুরিপানা পানিতে ভাসে কেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ২৫৯৪), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলজ উদ্ভিদ
- ক. পাতা হালকা বলে
- খ. পানির ঘনত্ব বেশি বলে
- গ. শিকড় শক্ত বলে
- ঘ. কাণ্ড ফাঁপা বলে
উত্তর: ঘ. কাণ্ড ফাঁপা বলে
কচুরিপানার পাতার বোঁটা ফুলে বলের মতো মোটা হয়ে যায়, আর তার ভেতরটা স্পঞ্জের মতো অসংখ্য ছোট ছোট বায়ুকুঠুরিতে ভরা থাকে। এই ফাঁপা অংশে বাতাস জমে থাকে বলে পুরো উদ্ভিদের গড় ঘনত্ব পানির চেয়ে কমে যায়, ফলে এটি সহজেই পানিতে ভেসে থাকে। প্রশ্নে এই ফাঁপা অংশটিকেই কাণ্ড বলা হয়েছে। কচুরিপানা প্রথমে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এসেছে, আর এখন বাংলাদেশের জলাশয়ে এটি বড় সমস্যা।
মনে রাখুন:
কচুরিপানা ভাসমান জলজ উদ্ভিদ (Hydrophyte), যা খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে।
কোনো বস্তুর ঘনত্ব পানির চেয়ে কম হলে তা পানিতে ভাসে, এটি আর্কিমিডিসের প্লবতার নীতির ফল। - ৫৩. গাছের প্রাণ আছে- কে প্রমাণ করেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৪০২১), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের প্রাণ
- ক. আলবার্ট আইনস্টাইন
- খ. জগদীশ চন্দ্র বসু
- গ. আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
- ঘ. চার্লস ডারউইন
উত্তর: খ. জগদীশ চন্দ্র বসু
বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা উদ্ভিদের খুব সামান্য বৃদ্ধি ও নড়াচড়াও কয়েক হাজার গুণ বড় করে দেখাতে পারত। এই যন্ত্র দিয়ে তিনি দেখান যে গাছও তাপ, আঘাত, বিষ ও আলোর মতো উদ্দীপনায় প্রাণীর মতোই সাড়া দেয়। এভাবে তিনি প্রমাণ করেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।
মনে রাখুন:
জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালে, ময়মনসিংহে, আর তাঁর পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রাঢ়িখালে।
বেতার তরঙ্গ নিয়ে তাঁর গবেষণা রেডিও আবিষ্কারের পথ সহজ করেছিল, আর তিনি লিখেছিলেন ‘অব্যক্ত’ নামের বই। - ৫৪. রূপান্তরিত পাতার উদাহরণ কোনটি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৮৪৩৩), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রূপান্তরিত পাতা
- ক. আকর্ষী
- খ. নারিকেল পাতা
- গ. জবাপাতা
- ঘ. গোলপাতা
উত্তর: ক. আকর্ষী
কিছু উদ্ভিদের পাতা বিশেষ কাজের জন্য আকার বদলে ফেলে, এদের রূপান্তরিত পাতা (Modified Leaf) বলে। মটরশুঁটির মতো লতানো গাছের পাতার অগ্রভাগ সরু সুতার মতো আকর্ষী (Tendril) হয়ে যায়, আর এই আকর্ষী দিয়ে গাছটি কোনো অবলম্বন জড়িয়ে ওপরে ওঠে। নারিকেল পাতা, জবাপাতা ও গোলপাতা সাধারণ পাতা, এগুলো খাদ্য তৈরির স্বাভাবিক কাজই করে। আকর্ষী ছাড়াও কিছু উদ্ভিদে পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়ে শিকারি প্রাণীর হাত থেকে গাছকে রক্ষা করে।
মনে রাখুন:
ফণিমনসার কাঁটা পাতার রূপান্তর, এতে পানির অপচয় কমে।
কলসপত্রী উদ্ভিদের পাতা কলসের আকার নিয়ে পোকা ধরে।
পেঁয়াজের রসালো খোসা হলো খাদ্য জমানো রূপান্তরিত পাতা। - ৫৫. নিচের কোনটি জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাত?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধানের জাত
- ক. ৪০৬
- খ. সোনার বাংলা-১
- গ. ব্রি বঙ্গবন্ধু-১০০
- ঘ. বাংলামতি
উত্তর: গ. ব্রি বঙ্গবন্ধু-১০০
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত ব্রি ধান১০০, যা ‘বঙ্গবন্ধু ধান’ নামেও পরিচিত, একটি জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত। জিংক (Zinc) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভাতের মাধ্যমেই এ পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়ার জন্য এমন জাত তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ ধানে জিংকের পরিমাণ কম থাকে, আর যাঁরা মূলত ভাতের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জিংকের অভাব হওয়ার ঝুঁকি বেশি। জিংকসমৃদ্ধ ধান ভাতের মাধ্যমে জিংকের অভাব পূরণের একটি সহজ উপায়।
মনে রাখুন:
ব্রি ধান৬২ জিংকসমৃদ্ধ ধানের একটি জাত।
BRRI-এর প্রধান কার্যালয় গাজীপুরে। - ৫৬. Lac Culture-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাষ ও পালন বিদ্যা
- ক. লাক্ষা চাষ
- খ. বাদাম চাষ
- গ. কোষ ক্লোনিং
- ঘ. ভুঁত চাষ
উত্তর: ক. লাক্ষা চাষ
Lac Culture মানে লাক্ষা চাষ। লাক্ষা পোকা নামের এক ধরনের ক্ষুদ্র কীট কুল, পলাশ বা বাবলার মতো গাছের ডালে বাস করে এবং দেহ থেকে এক ধরনের আঠালো রস নিঃসরণ করে। এই রস শুকিয়ে যে পদার্থ পাওয়া যায়, তা থেকে গালা তৈরি হয়, যা বার্নিশ, রং, চুড়ি ও সিলমোহরের কাজে লাগে। বাংলাদেশে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে লাক্ষা চাষ বেশি হয়। গালার রং লালচে বলে এটি থেকে একসময় প্রাকৃতিক লাল রঞ্জকও তৈরি হতো।
মনে রাখুন:
Sericulture: রেশম চাষ।
Apiculture: মৌমাছি পালন।
Pisciculture: মাছ চাষ।
Horticulture: উদ্যানপালন বা ফলমূল ও ফুলের চাষ। - ৫৭. সবুজ প্লাস্টিডের নাম-মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. ক্রোমপ্লাস্ট
- খ. লিওকোপ্লাস্ট
- গ. ক্লোরোপ্লাস্ট
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. ক্লোরোপ্লাস্ট
সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)। এতে সবুজ রঞ্জক পদার্থ ক্লোরোফিল (Chlorophyll) থাকে বলেই এর রং সবুজ। এখানে সূর্যের আলো, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ হয় এবং খাদ্য তৈরি হয়। ক্রোমোপ্লাস্ট লাল, হলুদ বা কমলা রঙের এবং লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন প্লাস্টিড। ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে থাইলাকয়েড নামের থলি গ্রানাম আকারে সাজানো থাকে। এখানে আলোক বিক্রিয়া ঘটে। আর ক্লোরোপ্লাস্টের তরল অংশ স্ট্রোমায় অন্ধকার বিক্রিয়া হয়ে গ্লুকোজ তৈরি হয়। মনে রাখার সুবিধার জন্য বলা যায়, chloro শব্দের অর্থ সবুজ আর plast মানে গঠনকারী কণা।
মনে রাখুন:
ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতর থাইলাকয়েড ও স্ট্রোমা থাকে।
ক্লোরোপ্লাস্টের নিজস্ব ডিএনএ আছে। - ৫৮. অসবুজ উদ্ভিদ কোনটি?সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজকল্যাণ সংগঠক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. শৈবাল
- খ. ফার্ন
- গ. ছত্রাক
- ঘ. স্পাইরোগাইরা
উত্তর: গ. ছত্রাক
ছত্রাক (Fungi) অসবুজ জীব, কারণ এর কোষে ক্লোরোফিল থাকে না। ক্লোরোফিল ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব নয়, তাই ছত্রাক নিজে খাদ্য বানাতে পারে না। সে মৃত বা জীবিত জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য শোষণ করে বেঁচে থাকে। শৈবাল, ফার্ন ও স্পাইরোগাইরায় ক্লোরোফিল থাকে বলে তারা সবুজ এবং নিজেরা খাদ্য তৈরি করে। ফার্ন সবুজ হলেও সপুষ্পক উদ্ভিদের চেয়ে আদি, কারণ এর ফুল ও বীজ হয় না। ছত্রাক বা ইস্ট দিয়ে রুটি ফোলানো, মদ ও পনির তৈরি হয়। আবার কিছু ছত্রাক থেকে পেনিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
ছত্রাকের উদাহরণ: ইস্ট, মাশরুম, পেনিসিলিয়াম।
স্পাইরোগাইরা একটি সবুজ শৈবাল। - ৫৯. ক্লোরোফিল অণুর উপাদান কি?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২২-২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. পটাশিয়াম
- খ. বোরন
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর: ঘ. ম্যাগনেসিয়াম
ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রে একটি ম্যাগনেসিয়াম (Mg) পরমাণু থাকে, তাই এটি ক্লোরোফিলের মূল ধাতব উপাদান। ক্লোরোফিলে নাইট্রোজেনও থাকে, তবে অণুর কেন্দ্রীয় পরমাণুটি ম্যাগনেসিয়াম। মাটিতে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে পাতা হলদে হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়। তুলনায় রক্তের হিমোগ্লোবিনের কেন্দ্রে থাকে লোহা। গাছের সবুজ রং ক্লোরোফিল-এ ও ক্লোরোফিল-বি নামের দুই ধরনের রঞ্জকের কারণে হয়। সালোকসংশ্লেষণে এই রঞ্জক আলোর শক্তি শোষণ করে। কৃষক জমিতে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO₄) সার দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করেন। ক্লোরোফিলের অণুতে ম্যাগনেসিয়াম পরমাণুটি চারটি নাইট্রোজেন পরমাণুর বলয়ের মাঝখানে থাকে।
মনে রাখুন:
ক্লোরোফিলের কেন্দ্রীয় পরমাণু: ম্যাগনেসিয়াম।
হিমোগ্লোবিনের কেন্দ্রীয় পরমাণু: লোহা (Fe)। - ৬০. ক্লোরোফিল নামক রঞ্জন পদার্থের উপস্থিতিতে ফল ও সবজি কোন রঙের হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. সবুজ
- খ. হলুদ
- গ. লাল
- ঘ. সাদা
উত্তর: ক. সবুজ
ক্লোরোফিল (Chlorophyll) এক ধরনের সবুজ রঞ্জক পদার্থ। ফল ও সবজির কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, আর তার ভেতরের ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে এবং সবুজ আলো ফিরিয়ে দেয়। তাই আমাদের চোখে এসব ফল ও সবজি সবুজ দেখায়। কাঁচা আম, পেয়ারা ও লাউ সবুজ থাকে এই কারণেই। শরৎ ও বর্ষাকালে গাছের সবুজ পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। শীতে বা শুকনো মৌসুমে ক্লোরোফিল ভেঙে গেলে পাতায় হলুদ বা লালচে ভাব দেখা যায়। কারণ তখন অন্য রঞ্জকগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে গাছ সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে।
পাকলে ক্লোরোফিল ভেঙে যায়, তখন অন্য রঞ্জক পদার্থের রং ফুটে ওঠে। - ৬১. সবুজ টমেটো পাকার পর লাল হয় কেন?গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী তথ্য অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল থাকার কারণে
- খ. বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল তৈরি হওয়ার কারণে
- গ. ক্লোরোফিল তৈরি বন্ধ হওয়ার কারণে
- ঘ. ক ও খ উভয়ই
উত্তর: গ. ক্লোরোফিল তৈরি বন্ধ হওয়ার কারণে
কাঁচা টমেটো সবুজ থাকে, কারণ তার কোষে ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল জমা থাকে। টমেটো পাকতে শুরু করলে ক্লোরোফিল ভেঙে যায় এবং নতুন করে তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তাই সবুজ রং কমে আসে। তখন ক্লোরোপ্লাস্ট ক্রোমোপ্লাস্টে রূপ নেয় এবং লাইকোপিন নামের লাল রঞ্জক পদার্থ জমতে থাকে। এভাবে ফলটি সবুজ থেকে লাল হয়ে যায়। টমেটোকে এভাবে সবুজ থেকে লাল হতে কয়েক দিন সময় লাগে, আর এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে ইথিলিন নামের গ্যাস। এ কারণে কাঁচা ফল পাকাতে সংরক্ষণের সময় ইথিলিন দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
টমেটোর লাল রঙের রঞ্জক: লাইকোপিন।
গাজরের কমলা রঙের রঞ্জক: ক্যারোটিন। - ৬২. কি কারণে সবুজ টমেটো পাকলে লাল হয়?জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সহকারী গবেষণা অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টিড
- ক. ক্লোরোপ্লাস্টটি নতুন প্রজন্ম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়
- খ. ক্লোরোপ্লাস্ট রূপান্তরিত হয়ে ক্রোমোপ্লাস্টে পরিণত হয়
- গ. ক্রোমোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়
- ঘ. কোনোটিই সঠিক নয়
উত্তর: খ. ক্লোরোপ্লাস্ট রূপান্তরিত হয়ে ক্রোমোপ্লাস্টে পরিণত হয়
টমেটো পাকার সময় ক্লোরোপ্লাস্ট রূপান্তরিত হয়ে ক্রোমোপ্লাস্টে (Chromoplast) পরিণত হয়। প্রথমে ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিল ভেঙে যায়, তারপর সেখানে লাইকোপিনের মতো লাল রঞ্জক জমে। এই লাল রঞ্জক ক্রোমোপ্লাস্টেই থাকে, ফলে ফলটির রং সবুজ থেকে লাল হয়। অর্থাৎ একই প্লাস্টিড অবস্থা বদলে নতুন রূপ নেয়, নতুন প্রজন্ম এসে এটিকে প্রতিস্থাপন করে না। লিউকোপ্লাস্টও আলোর সংস্পর্শে এলে ক্লোরোপ্লাস্টে রূপ নিতে পারে। যেমন মাটির নিচের আলু আলোতে বের হয়ে এলে সবুজ হয়ে যায়। এই সবুজ আলুতে সোলানিন নামের বিষাক্ত পদার্থ থাকে বলে তা খাওয়া ঠিক নয়।
মনে রাখুন:
ক্রোমোপ্লাস্ট থেকে আবার ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয় না।
পাকা ফলের রং বদলের কারণ প্লাস্টিডের রূপান্তর। - ৬৩. 'কার্বোহাইড্রেট ফ্যাক্টরী' নামে পরিচিত কোষের অঙ্গাণুটির নাম-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
- ক. গলগি বডি
- খ. ক্লোরোপ্লাস্ট
- গ. লাইসোসোম
- ঘ. মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর: খ. ক্লোরোপ্লাস্ট
ক্লোরোপ্লাস্টকে (Chloroplast) কার্বোহাইড্রেট ফ্যাক্টরি বলা হয়। কারণ এখানে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে সূর্যের আলোর সাহায্যে গ্লুকোজ নামের কার্বোহাইড্রেট তৈরি হয়। এই খাদ্যই পরে গাছের বৃদ্ধি ও শক্তির যোগান দেয় এবং সব প্রাণীর খাদ্যের মূল উৎস। সে কারণে একে কোষের রান্নাঘরও বলা হয়। ক্লোরোপ্লাস্টের নিজস্ব ডিএনএ ও রাইবোজোম আছে এবং দুই স্তরের ঝিল্লিতে ঘেরা। উদ্ভিদের পাতায় সবচেয়ে বেশি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, বিশেষ করে ম্যাসোফিল কলায়। উদ্ভিদের সবুজ অংশেই ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়।
মনে রাখুন:
গলজি বডি: কোষের ট্রাফিক পুলিশ।
মাইটোকন্ড্রিয়া: কোষের শক্তিঘর।
রাইবোজোম: প্রোটিন কারখানা। - ৬৪. উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয় -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (হেমন্ত, শরৎ), ২০১০ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ কলা
- ক. কাণ্ডের অগ্রভাগে
- খ. মূলের অগ্রভাগে
- গ. পাতায়
- ঘ. মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
উত্তর: ঘ. মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয় মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে। এই জায়গাগুলোতে ভাজক কলা (Meristem) থাকে, যার কোষগুলো বারবার বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। এ কারণে কাণ্ড লম্বা হয় এবং মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে। পাতায় বা কাণ্ডের মাঝের অংশে কোষ বিভাজন তুলনামূলক কম হয়। অগ্রভাগের এই ভাজক কলাকে বলে প্রান্তীয় ভাজক কলা। উদ্ভিদের ব্যাস বা মোটা হওয়ার জন্য দায়ী পার্শ্বীয় ভাজক কলা, যা ক্যাম্বিয়াম নামেও পরিচিত। দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে এই ক্যাম্বিয়ামের কারণে বছর বছর কাণ্ড মোটা হয় এবং বার্ষিক বলয় তৈরি হয়। এই বলয় গুনে গাছের বয়স আন্দাজ করা যায়।
মনে রাখুন:
প্রান্তীয় ভাজক কলা: দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি।
পার্শ্বীয় ভাজক কলা: ব্যাস বা প্রস্থ বৃদ্ধি। - ৬৫. উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে কোন কলার মাধ্যমে?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার (আরবরিকলচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ কলা
- ক. জাইলেম
- খ. ফ্লোয়েম
- গ. প্যারেনকাইমা
- ঘ. ক্লেরেনাইমা
উত্তর: ক. জাইলেম
উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে জাইলেম (Xylem) কলার মাধ্যমে। জাইলেমের নালিকা মূল থেকে কাণ্ড হয়ে পাতা পর্যন্ত লম্বা সরু নলের মতো কাজ করে এবং পানি ওপরের দিকে নিয়ে যায়। পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দেয় ফ্লোয়েম (Phloem)। প্যারেনকাইমা মূলত খাদ্য সঞ্চয় করে এবং স্কেরেনকাইমা যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেয়। জাইলেম নালিকার প্রাচীর লিগনিন দিয়ে মোটা হয়, তাই এটি পানিবাহী নল হিসেবে শক্তপোক্ত। গাছের পাতা থেকে পানি বাষ্প হয়ে বেরিয়ে গেলে টান তৈরি হয় এবং সেই টানে পানি মূল থেকে ওপরে ওঠে। পাতায় তৈরি খাদ্য ফ্লোয়েমের চালনী নালিকায় চলাচল করে।
মনে রাখুন:
জাইলেম: পানি ও খনিজ লবণ ওপরে নেয়।
ফ্লোয়েম: খাদ্য নিচে ও চারদিকে নেয়। - ৬৬. স্থায়ী কলার কাজমাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ কলা
- ক. খাদ্য উৎপাদন
- খ. সঞ্চয়
- গ. দৃঢ়তা প্রদান
- ঘ. উপরের সবগুলোই
উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলোই
স্থায়ী কলা (Permanent tissue) বিভিন্ন কাজ করে। প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোফিল থাকলে খাদ্য উৎপাদন হয়, আবার তা খাদ্য সঞ্চয়ও করে। কোলেনকাইমা ও স্কেরেনকাইমা উদ্ভিদকে দৃঢ়তা ও শক্তি দেয়। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন, সঞ্চয় ও দৃঢ়তা প্রদান এই সবই স্থায়ী কলার কাজ। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মতো পরিবহন কলাও স্থায়ী কলার অন্তর্গত। স্থায়ী কলা সরল ও জটিল দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সরল স্থায়ী কলার কোষ সব একই ধরনের, আর জটিল স্থায়ী কলা বিভিন্ন ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত। জাইলেম ও ফ্লোয়েম দুটিই জটিল স্থায়ী কলা।
মনে রাখুন:
স্থায়ী কলার কোষ বিভাজনে সক্ষম নয়।
ভাজক কলার কোষ বিভাজনে সক্ষম। - ৬৭. স্থায়ী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য -সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ কলা
- ক. অপরিণত কোষ দ্বারা গঠিত
- খ. কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম
- গ. কোষের আকার গঠন নির্দিষ্ট নয়
- ঘ. যান্ত্রিক কাজে দৃঢ়তা প্রদান করে
উত্তর: খ. কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম
স্থায়ী কলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম। ভাজক কলার কোষ থেকে তৈরি হওয়ার পর এসব কোষ পরিণত হয় এবং নির্দিষ্ট আকার ও কাজ পায়। ফলে এদের আর বিভাজিত হওয়ার ক্ষমতা থাকে না। অপরিণত কোষ দিয়ে গঠিত এবং বিভাজনে সক্ষম কলা হলো ভাজক কলা। স্থায়ী কলার কোষের আকার ও গঠন নির্দিষ্ট থাকে। স্থায়ী কলার কোষে বিভাজন না ঘটলেও কখনও পরিবেশের প্রয়োজনে কিছু কোষ আবার বিভাজন ক্ষমতা ফিরে পেতে পারে। যেমন গাছের ক্ষত সারানোর সময় এমন ঘটে। তবে সাধারণ অবস্থায় স্থায়ী কলার কোষ বিভাজিত হয় না।
মনে রাখুন:
স্থায়ী কলা: সরল ও জটিল দুই ধরনের।
সরল স্থায়ী কলা: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা, স্কেরেনকাইমা। - ৬৮. কোনটি থেকে পাটের সোনালী আঁশ পাওয়া যায়?পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ কলা
- ক. জাইলেম তন্তু
- খ. ফ্লোয়েম তন্তু
- গ. কোলেনকাইমা
- ঘ. ক্ষেলেরেনকাইমা
উত্তর: খ. ফ্লোয়েম তন্তু
পাটের সোনালি আঁশ ফ্লোয়েম তন্তু (Phloem fibre) থেকে পাওয়া যায়। পাট গাছের কাণ্ডের বাকলে ফ্লোয়েম তন্তুর লম্বা বান্ডিল থাকে। গাছ কেটে পানিতে পচানোর পর এই আঁশ আলাদা করা হয়, যাকে জাগ দেওয়া বলে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পাট গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে একে সোনালি আঁশ বলা হয়। এই তন্তু লম্বা, সরু ও শক্ত হয় বলে এ থেকে দড়ি, চট ও কাপড় তৈরি করা যায়। তুলা কিন্তু পাটের মতো কাণ্ডের তন্তু নয়, এটি বীজের গায়ের লোম থেকে পাওয়া যায়। সোনালি আঁশের সঙ্গে সঙ্গে পাটকাঠিও কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
পাটের বৈজ্ঞানিক নাম Corchorus capsularis।
জাইলেম তন্তু থেকে কাঠ তৈরি হয়। - ৬৯. শিমগাছ মাটিতে কোন উপাদান বৃদ্ধি করে?বন শিল্প অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন সংবন্ধন
- ক. পটাশিয়াম
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. হাইড্রোজেন
- ঘ. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর: খ. নাইট্রোজেন
শিম গাছ মাটিতে নাইট্রোজেন বৃদ্ধি করে। শিমের মতো শিম্বগোত্রীয় (Legume) গাছের শিকড়ে ছোট ছোট গুটি বা নডিউল থাকে। সেই গুটির ভেতরে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাস করে, যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের ব্যবহারযোগ্য যৌগে পরিণত করে। এই যৌগের কিছু অংশ গাছ মরে গেলে মাটিতে থেকে যায়। রাইজোবিয়াম ও শিমের সম্পর্কটি উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণে ডাল জাতীয় ফসলের চাষ জমির উর্বরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এ কারণেই কৃষকেরা শস্য আবর্তনে ডাল, মটর ও শিম জাতীয় ফসল চাষ করেন। এতে ইউরিয়া সারের খরচ কমে।
মনে রাখুন: বাতাসের প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, কিন্তু বেশিরভাগ উদ্ভিদ সরাসরি বাতাস থেকে তা নিতে পারে না। - ৭০. শিম জাতীয় উদ্ভিদে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট পরিণত করে?অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন সংবন্ধন
- ক. রাইজোবিয়াম
- খ. সিজিয়াম
- গ. নাইট্রোব্যাকটর
- ঘ. নাইট্রোসোমোনাম
উত্তর: ক. রাইজোবিয়াম
শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের গুটিতে বাস করে রাইজোবিয়াম (Rhizobium) ব্যাকটেরিয়া। এরা বাতাসের নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়াতে পরিণত করে উদ্ভিদের কাজে লাগায়। এই কাজকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation) বলে। শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের শিকড়ে নডিউল তৈরি না হলে রাইজোবিয়াম নাইট্রোজেন আটকাতে পারে না। কৃষিতে ডালের বীজে অনেক সময় রাইজোবিয়াম জীবাণু সার মেশানো হয়।
অ্যামোনিয়াকে আবার নাইট্রেটে পরিণত করে মাটির অন্য ব্যাকটেরিয়া। প্রথমে নাইট্রোসোমোনাস অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে পরিণত করে, তারপর নাইট্রোব্যাক্টর নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে পরিণত করে। এই প্রক্রিয়ার নাম নাইট্রিফিকেশন। উদ্ভিদ নাইট্রেট আকারেই বেশি নাইট্রোজেন গ্রহণ করে।
মনে রাখুন: সিজিয়াম একটি ধাতু, ব্যাকটেরিয়া নয়। - ৭১. রাইজোবিয়াম (Rhizobium) কি?আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন সংবন্ধন
- ক. ব্যাকটেরিয়া
- খ. ভাইরাস
- গ. ছত্রাক
- ঘ. পরগাছা
উত্তর: ক. ব্যাকটেরিয়া
রাইজোবিয়াম (Rhizobium) একটি ব্যাকটেরিয়া। এটি দণ্ডাকার এবং মাটিতে বাস করে। শিম, মটর, ছোলা ও মসুর জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে ঢুকে এরা গুটি তৈরি করে এবং সেখানে বাতাসের নাইট্রোজেন আটকে (সংবন্ধন করে) উদ্ভিদকে সরবরাহ করে। বিনিময়ে উদ্ভিদ ব্যাকটেরিয়াকে খাদ্য ও আশ্রয় দেয়। রাইজোবিয়াম গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। আলাদা অবস্থায় মাটিতে থাকলে এরা নাইট্রোজেন আটকাতে পারে না, গাছের শিকড়ের গুটিতে ঢুকলেই তা করতে পারে। শিকড়ের গুটিতে লেগহিমোগ্লোবিন নামের এক রঞ্জক থাকে, যা নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সহায়তা করে।
এই সম্পর্কটি পারস্পরিক উপকারের, তাই একে মিথোজীবিতা বা সিমবায়োসিস বলে।
মনে রাখুন: রাইজোবিয়াম ছত্রাক নয়, ভাইরাস নয়, আর পরগাছাও নয়। - ৭২. নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium কোন ধরনের জীব?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন সংবন্ধন
- ক. মিথোজীবী
- খ. পরজীবী
- গ. মুক্তজীবী
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. মুক্তজীবী
ক্লস্ট্রিডিয়াম (Clostridium) মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া। এটি অন্য কোনো উদ্ভিদের ওপর নির্ভর না করে মাটিতে স্বাধীনভাবে বাস করে এবং নিজেই বাতাসের নাইট্রোজেন আটকে ফেলে। এটি অ্যানারোবিক, অর্থাৎ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে। ক্লস্ট্রিডিয়াম ব্যাকটেরিয়া স্পোর তৈরি করে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। এদের অ্যাজোটোব্যাক্টরের মতো আরও কিছু মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া মাটির উর্বরতা বাড়ায়। মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়া কোনো উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল নয়, তাই মাটির যেকোনো জায়গায় নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
মনে রাখুন:
মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী: অ্যাজোটোব্যাক্টর, ক্লস্ট্রিডিয়াম, আর নীলাভ-সবুজ শৈবাল অ্যানাবিনা ও নস্টক।
মিথোজীবী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী: রাইজোবিয়াম, শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের শিকড়ের গুটিতে। - ৭৩. ধানের বাদামী রোগ হয়-প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
- ক. ছত্রাক দ্বারা
- খ. ভাইরাস দ্বারা
- গ. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা
- ঘ. ব্যাকটেরিওফাজ দ্বারা
উত্তর: ক. ছত্রাক দ্বারা
ধানের বাদামি দাগ রোগ (Brown spot) ছত্রাকের কারণে হয়। এর জীবাণু হেলমিনথোস্পোরিয়াম ওরাইজি (Helminthosporium oryzae) নামের একটি ছত্রাক। এই ছত্রাক ধানের পাতায় ছোট বাদামি রঙের দাগ তৈরি করে, পরে দাগ বড় হয়ে পুরো পাতা শুকিয়ে যায়। ১৯৪৩ সালে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়, ধানের এই রোগও ছিল তার অন্যতম কারণ। রোগ ঠেকাতে সুস্থ বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। মাটিতে পুষ্টির অভাব থাকলে গাছ দুর্বল হয়ে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
মনে রাখুন:
ধানের ব্লাস্ট রোগও ছত্রাকজনিত।
ধানের টুংরো রোগ ভাইরাসের কারণে হয়। - ৭৪. 'লেটব্লাইট' কোন ফসলের রোগ?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার (আরবরিকালচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
- ক. ধান
- খ. কলা
- গ. মরিচ
- ঘ. আলু
উত্তর: ঘ. আলু
লেট ব্লাইট (Late blight) বা আলুর ধসা রোগ আলুর রোগ। এর জীবাণু ফাইটোফথোরা ইনফেস্টান্স (Phytophthora infestans), যা ছত্রাকের মতো এক ধরনের জীব। পাতায় প্রথমে কালচে ভেজা দাগ পড়ে, পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পুরো গাছ ও আলু পচিয়ে ফেলে। ১৮৪০-এর দশকে আয়ারল্যান্ডে এই রোগ ছড়িয়ে আলুর ফলন নষ্ট হলে সেখানে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের ওই দুর্ভিক্ষে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং আরও অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যায়। এই ঘটনায় বোঝা যায়, একটি ফসলের ওপর পুরো দেশের নির্ভরতা কত ঝুঁকিপূর্ণ।
মনে রাখুন:
আলুর আর্লি ব্লাইট রোগও ছত্রাকজনিত। - ৭৫. আলুর 'লেট ব্লাইট' রোগের জন্য দায়ী হলো?চতুর্দশ বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
- ক. ভাইরাস
- খ. ব্যাকটেরিয়া
- গ. শৈবাল
- ঘ. ছত্রাক
উত্তর: ঘ. ছত্রাক
আলুর লেট ব্লাইট (Late blight) রোগের জন্য দায়ী ছত্রাক। জীবাণুর নাম ফাইটোফথোরা ইনফেস্টান্স (Phytophthora infestans)। ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ছত্রাক খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আলুর পাতা ও কন্দ পচিয়ে দেয়। এই রোগে পাতা বাদামি ও কালো হয়ে ঝরে যায়। কপার-জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করে একে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য, তাই এর রোগ দমন খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেট ব্লাইট শীতকালে বাংলাদেশেও আলুর বড় ক্ষতি করে।
মনে রাখুন:
আলু একটি কাণ্ড-কন্দ।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল এই রোগের কারণ নয়। - ৭৬. আলুর ধ্বসা রোগ কিসের দ্বারা হয়?DAE'র উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
- ক. ছত্রাক
- খ. ব্যাকটেরিয়া
- গ. ভাইরাস
- ঘ. নেমাটোড
উত্তর: ক. ছত্রাক
আলুর ধসা রোগ (Late blight) ছত্রাকের কারণে হয়। এর জীবাণু ফাইটোফথোরা ইনফেস্টান্স (Phytophthora infestans) নামের ছত্রাকসদৃশ জীব। ভেজা ও মেঘলা আবহাওয়ায় এটি আলুর পাতায় কালচে দাগ ফেলে এবং খুব অল্প সময়ে পুরো ক্ষেত নষ্ট করে দিতে পারে। রোগ ঠেকাতে সুস্থ বীজ-আলু ব্যবহার, ফসলের পালা বদল ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হয়। ছত্রাকজনিত রোগ ঠেকাতে ক্ষেতে পানি জমতে না দেওয়া এবং আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলাও কার্যকর। ফলে ক্ষেতের অন্য গাছে রোগ ছড়ায় না।
মনে রাখুন:
নেমাটোডের মতো কৃমিও আলুর ক্ষতি করে, তবে ধসা রোগ তাদের কারণে হয় না। - ৭৭. 'লালপচা' কোন ফসলের রোগ -PWD'র উপবিভাগীয় অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
- ক. সরিষা
- খ. গম
- গ. ধান
- ঘ. আখ
উত্তর: ঘ. আখ
লালপচা (Red rot) আখের রোগ। এটি কোলেটোট্রাইকাম ফ্যালকেটাম (Colletotrichum falcatum) নামের ছত্রাকের কারণে হয়। আক্রান্ত আখ কেটে দেখলে ভেতরের শাঁসে লাল রঙের দাগ দেখা যায় এবং সেখান থেকে টক গন্ধ ছড়ায়। ফলে আখের রসের পরিমাণ ও চিনির উৎপাদন কমে যায়। তাই বাংলাদেশে আখ চাষে এই রোগ বড় সমস্যা। আখ বীজ থেকে নয়, কাণ্ডের টুকরো থেকে চাষ করা হয়। রোগাক্রান্ত টুকরো লাগালে নতুন ক্ষেতেও রোগ ছড়ায়, তাই বীজ আখ বাছাইয়ে সতর্ক হতে হয়।
মনে রাখুন:
রোগমুক্ত বীজ আখ ব্যবহার করে ও ছত্রাকনাশক দিয়ে এ রোগ ঠেকানো যায়। - ৭৮. কোনটি চা-গাছে রোগ সৃষ্টি করে?প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক (ক্রিসানথিয়াম), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
- ক. শৈবাল
- খ. ছত্রাক
- গ. ব্যাকটেরিয়া
- ঘ. ভাইরাস
উত্তর: খ. ছত্রাক
চা-গাছে সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলো ছত্রাকের কারণে হয়। যেমন ব্লিস্টার ব্লাইট (Blister blight) রোগে চায়ের কচি পাতায় ফোসকার মতো দাগ পড়ে, ফলে চায়ের ফলন ও মান কমে যায়। এই রোগের কারণ এক্সোব্যাসিডিয়াম ভেক্সান্স নামের ছত্রাক। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামের চা-বাগানে ভেজা আবহাওয়ায় এ রোগ বেশি দেখা যায়। বাগানের মালিকরা তাই নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করেন। বাংলাদেশের চা প্রধানত সিলেট বিভাগে উৎপন্ন হয়। জলবায়ু ও মাটির কারণে চা-গাছ অনেক রোগের ঝুঁকিতে থাকে, তাই বাগানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
মনে রাখুন:
ছত্রাক উদ্ভিদের বহু রোগের কারণ। - ৭৯. যে সকল উদ্ভিদে কখনও ফুল হয় না, তাদের বলা হয়-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (তিস্তা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. অপুষ্পক উদ্ভিদ
- খ. সপুষ্পক উদ্ভিদ
- গ. মিথোজীবী উদ্ভিদ
- ঘ. স্বভোজী উদ্ভিদ
উত্তর: ক. অপুষ্পক উদ্ভিদ
যেসব উদ্ভিদে কখনো ফুল ফোটে না, তাদের অপুষ্পক উদ্ভিদ (Flowerless plants) বলে। এদের বংশবৃদ্ধি হয় ফুল ও বীজের মাধ্যমে নয়, বরং রেণু বা স্পোরের মাধ্যমে। শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা, যেমন মস ও ফার্ন, অপুষ্পক উদ্ভিদ। অন্যদিকে যেসব উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয়, তারা সপুষ্পক উদ্ভিদ। অপুষ্পক উদ্ভিদ আবার দুই দলে ভাগ হয়: যাদের ফুল ও বীজ কিছুই হয় না, আর যাদের ফুল হয় না কিন্তু বীজ হয়, যেমন নগ্নবীজী উদ্ভিদ। তাই 'অপুষ্পক' বললে সব সময় বীজহীন বোঝায় না।
মনে রাখুন:
মিথোজীবী উদ্ভিদ অন্য জীবের সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক গড়ে তোলে, যেমন লাইকেন।
স্বভোজী উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাবার নিজে বানায়। - ৮০. কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদ?টেলিফোন বোর্ডের সহকারী পরিচালক, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. মস
- খ. পাতাবাহার
- গ. ঘাস
- ঘ. ঝাউগাছ
উত্তর: ক. মস
মস (Moss) অপুষ্পক উদ্ভিদ, কারণ এতে কখনো ফুল ফোটে না। এটি ব্রায়োফাইটা বিভাগের উদ্ভিদ এবং স্যাঁতসেঁতে ইটের দেয়াল বা ছায়াঘেরা ভেজা জায়গায় মখমলের মতো সবুজ আস্তরণ হিসেবে জন্মায়। মসের বংশবৃদ্ধি হয় রেণুর মাধ্যমে। পাতাবাহার, ঘাস ও ঝাউগাছ সবুজ গাছ হলেও ঝাউগাছ নগ্নবীজী, আর পাতাবাহার ও ঘাস সপুষ্পক উদ্ভিদ, যাদের ফুল হয়। মসের ছোট ছোট কাণ্ড ও পাতার মতো অংশ আছে, তবে প্রকৃত মূল ও পরিবহন কলা নেই। এ কারণে মস সাধারণত ভেজা স্থানে ছোট আকারে জন্মায়।
মনে রাখুন:
ঝাউগাছে ফুল না থাকলেও এর শঙ্কু ও বীজ আছে, তাই একে অপুষ্পক বলা হয় না, নগ্নবীজী বলা হয়। - ৮১. মূল নেই কোনটির?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. মস
- খ. ফার্ন
- গ. একবীজি
- ঘ. দ্বিবীজি
উত্তর: ক. মস
মসের (Moss) প্রকৃত মূল নেই। এর বদলে নিচের দিকে সরু সুতার মতো রাইজয়েড (Rhizoid) থাকে, যা উদ্ভিদকে মাটিতে আটকে রাখে এবং সামান্য পানি শোষণ করে। ফার্নে প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতা সবই আছে। একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ সপুষ্পক, তাদেরও মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে। আসলে উদ্ভিদজগতে ব্রায়োফাইটাকে বলা হয় উভচর উদ্ভিদ। ব্রায়োফাইটার ডিম্বাণুর নিষেকের জন্য পানির প্রয়োজন হয় বলে এরা স্থলে জন্মালেও জলাভূমির কাছাকাছি থাকে। এ কারণেই একে উভচরের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
মনে রাখুন:
প্রকৃত মূল প্রথম দেখা যায় টেরিডোফাইটা বা ফার্নজাতীয় উদ্ভিদে। - ৮২. ফার্ন উদ্ভিদের জন্য কোনটি প্রযোজ্য?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত সপুষ্পক উদ্ভিদ
- খ. মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদ
- গ. কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
- ঘ. কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট সপুষ্পক উদ্ভিদ
উত্তর: খ. মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদ
ফার্ন (Fern) টেরিডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদ। এর দেহ প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। তবে ফার্নে ফুল হয় না, তাই এটি অপুষ্পক উদ্ভিদ। ফার্ন বংশবিস্তার করে পাতার নিচের দিকের স্পোরাঞ্জিয়ামে তৈরি স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে। সুতরাং ফার্ন সপুষ্পক নয়, আর দেহও মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। ফার্নের কচি পাতা কুণ্ডলী পাকানো অবস্থায় জন্মায়, পরে ধীরে ধীরে খুলে যায়। ফার্নের জীবনচক্রে দুটি দশা পর্যায়ক্রমে আসে, এই বৈশিষ্ট্য জনুক্রম (Alternation of generations) নামে পরিচিত।
মনে রাখুন:
ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের উদাহরণ: ঢেঁকিশাক, সোনালু ফার্ন, মার্সিলিয়া।
ফার্নে পরিবহন কলা (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) থাকে। - ৮৩. কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদ নয়?রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (শাপলা), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. ক্লোরেলা
- খ. শিমুল
- গ. নস্টক
- ঘ. ব্যাঙের ছাতা
উত্তর: খ. শিমুল
শিমুল সপুষ্পক উদ্ভিদ, অপুষ্পক নয়। বসন্তের শুরুতে গাছ পাতা ঝরিয়ে লাল ফুলে ভরে ওঠে, এরপর ফল ও তুলা তৈরি হয়। ক্লোরেলা ও নস্টক শৈবাল এবং ব্যাঙের ছাতা ছত্রাক, এদের ফুল হয় না, তাই সবাই অপুষ্পক। শিমুলের তুলা বালিশ ও তোশক ভরতে ব্যবহৃত হয়। ছত্রাক আসলে উদ্ভিদ নয়, তবু পুরোনো শ্রেণিবিভাগে একে উদ্ভিদের অপুষ্পক দলেই ধরা হতো। আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে ছত্রাক আলাদা রাজ্যের জীব। এই তিনটির উদাহরণে দেখা যায়, অপুষ্পক জীবের তালিকা বেশ বিচিত্র, যাতে শৈবাল ও ছত্রাক দুই-ই আছে।
মনে রাখুন:
নস্টক নীলাভ-সবুজ শৈবাল, যা বায়ুর নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে পারে।
ক্লোরেলা এককোষী সবুজ শৈবাল। - ৮৪. সপুষ্পক উদ্ভিদ কোনটি?বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ এর সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. শাপলা
- খ. মস
- গ. অ্যাগারিকাস
- ঘ. ফার্ন
উত্তর: ক. শাপলা
শাপলা সপুষ্পক উদ্ভিদ, অর্থাৎ এতে ফুল ফোটে। শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, এর বৈজ্ঞানিক নাম নিম্ফিয়া নৌচালি (Nymphaea nouchali)। এটি জলজ উদ্ভিদ হলেও এর ফুল ও বীজ হয়। মস ব্রায়োফাইটা, ফার্ন টেরিডোফাইটা এবং অ্যাগারিকাস একটি ছত্রাক, এদের কারও ফুল হয় না, তাই সবাই অপুষ্পক। শাপলার পাতা গোলাকার ও পানির ওপর ভাসে, আর ফুল সাদা বা হালকা গোলাপি রঙের হয়। এর কন্দ ও ফুলের ডাঁটা মানুষ খেয়ে থাকে।
মনে রাখুন:
পাতাসহ সমস্ত গাছ পানির ওপর ভেসে থাকে বলে শাপলাকে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ বলা যায়। - ৮৫. কোনটি সপুষ্পক উদ্ভিদ নয়?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (শীতলক্ষ্যা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. আম
- খ. অ্যাগারিকাস
- গ. শিমুল
- ঘ. পেয়ারা
উত্তর: খ. অ্যাগারিকাস
অ্যাগারিকাস (Agaricus) সপুষ্পক উদ্ভিদ নয়, এটি ছত্রাক। ছত্রাকে ফুল, ফল বা বীজ হয় না, এরা রেণুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। অ্যাগারিকাস খাওয়ার উপযোগী ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম। আম, শিমুল ও পেয়ারা সপুষ্পক উদ্ভিদ, এদের ফুল হয় এবং ফুল থেকে ফল ও বীজ তৈরি হয়। সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল প্রজননের কাজ করে। ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ও নিষেকের পর বীজ ও ফল তৈরি হয়। ছত্রাকের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রক্রিয়া নেই। সুতরাং ফুল ফোটা বা না ফোটাই সপুষ্পক ও অপুষ্পকের আসল পার্থক্য।
মনে রাখুন:
সপুষ্পক উদ্ভিদ দুই ভাগে বিভক্ত: একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী।
আম ও পেয়ারা দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ। - ৮৬. কোনটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট) ভর্তি, ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. বাঁশ
- খ. ধান
- গ. গম
- ঘ. সাইকাস
উত্তর: ঘ. সাইকাস
সাইকাস (Cycas) একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ। নগ্নবীজী মানে যার বীজ ফলের ভেতরে নয়, খোলা অবস্থায় থাকে। সাইকাসের বীজ শঙ্কুর আঁশের ওপর অনাবৃতভাবে জন্মায়। বাঁশ, ধান ও গম সপুষ্পক উদ্ভিদের একবীজপত্রী দলে পড়ে, আর এদের বীজ ফলের ভেতরে থাকে, তাই এরা আবৃতবীজী। নগ্নবীজী উদ্ভিদে ফুল ও ফল না হলেও শঙ্কু নামের বিশেষ অঙ্গে বীজ জন্মায়। সাইকাসকে তাই জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়, কারণ এর গঠন বহু প্রাচীন উদ্ভিদের মতো। সাইকাসের বীজ লাল-কমলা রঙের হয়, আর গাছটি দেখতে অনেকটা তালগাছের মতো। বাংলাদেশে সাইকাস শোভা বর্ধনের জন্য বাগানে লাগানো হয়।
মনে রাখুন:
নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ: সাইকাস, পাইন, ঝাউ, দেবদারু।
বাঁশ আসলে ঘাসজাতীয় আবৃতবীজী উদ্ভিদ। - ৮৭. নিচের কোনটি একবীজপত্রী?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (চট্টগ্রাম), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. ছোলা
- খ. ভুট্টা
- গ. মটর
- ঘ. সীম
উত্তর: খ. ভুট্টা
ভুট্টা একবীজপত্রী উদ্ভিদ। বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকলে তাকে একবীজপত্রী বলে। এদের পাতার শিরাবিন্যাস সমান্তরাল এবং মূল গুচ্ছ বা অস্থানিক। ছোলা, মটর ও সীম দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ, এদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে এবং শিরাবিন্যাস জালিকাকার। একবীজপত্রী উদ্ভিদে সাধারণত জাইলেম ও ফ্লোয়েম বিক্ষিপ্তভাবে সাজানো থাকে, কিন্তু দ্বিবীজপত্রীতে সেগুলো বৃত্তাকারে সাজানো। এ ছাড়া ভুট্টার বীজ আসলে ফল, যার বীজপত্র একটিই। এ কারণেই একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পার্থক্য পাতার শিরা, মূল এবং বীজপত্র দেখে চেনা যায়। অর্থাৎ বীজপত্রের সংখ্যাই এই বিভাজনের মূল ভিত্তি।
মনে রাখুন:
একবীজপত্রী: ধান, গম, ভুট্টা, নারিকেল, তাল।
দ্বিবীজপত্রী: আম, জাম, ছোলা, মটর, সীম। - ৮৮. কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ডাফোডিল), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. আম
- খ. ধান
- গ. জাম
- ঘ. কাঁঠাল
উত্তর: খ. ধান
ধান একবীজপত্রী উদ্ভিদ, অর্থাৎ ধানের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে। এ ধরনের উদ্ভিদের পাতার শিরাবিন্যাস সমান্তরাল। এদের মূল গুচ্ছমূল ও কাণ্ড সাধারণত শাখাহীন। আম, জাম ও কাঁঠাল দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ, এদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে এবং পাতার শিরা জালের মতো ছড়িয়ে থাকে। ধান ঘাসজাতীয় (Poaceae) পরিবারের উদ্ভিদ। এই পরিবারে ধান, গম, ভুট্টা, বাঁশ ও আখ আছে, যাদের সবাই একবীজপত্রী। আর ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য হওয়ায় একবীজপত্রী উদ্ভিদের পরিচিত উদাহরণ হিসেবে প্রশ্নে বারবার আসে।
মনে রাখুন:
একবীজপত্রী উদ্ভিদের ফুলের পাপড়ি সাধারণত ৩ বা ৩-এর গুণিতক।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের ফুলের পাপড়ি সাধারণত ৪ বা ৫। - ৮৯. কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ নয়?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (করতোয়া, ঝিলাম), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ
- ক. ভুট্টা
- খ. নারিকেল
- গ. গম
- ঘ. কাঁঠাল
উত্তর: ঘ. কাঁঠাল
কাঁঠাল একবীজপত্রী উদ্ভিদ নয়, এটি দ্বিবীজপত্রী। কাঁঠালের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে এবং পাতার শিরাবিন্যাস জালিকাকার, আর মূল ও কাণ্ড শাখাপ্রশাখাযুক্ত। ভুট্টা, নারিকেল ও গম একবীজপত্রী উদ্ভিদ, এদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে। কাঁঠালের বীজ খোসা ছাড়ালে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, আর এই দুই ভাগই বীজপত্র। এ কারণে দ্বিবীজপত্রী চেনা সহজ। উদ্ভিদের পাতার শিরাবিন্যাস দেখেও একে চেনা যায়, কারণ জালিকাকার শিরা দ্বিবীজপত্রীর বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া কাঁঠালের মূল মাটির গভীরে নেমে যায়, যাকে মুখ্যমূল বলে।
মনে রাখুন:
একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের ধরন গুচ্ছ বা অস্থানিক।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল সাধারণত মুখ্যমূল। - ৯০. নিচের কোনটি ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রূপান্তরিত কাণ্ড
- ক. শালগম
- খ. গাজর
- গ. আদা
- ঘ. মূলা
উত্তর: গ. আদা
আদা ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড, যাকে মৌলকাণ্ড বা রাইজোম (Rhizome) বলে। আদার গায়ে গাঁট ও পর্বমধ্য আছে এবং গাঁটে কুঁড়ি থাকে, এগুলো কাণ্ডের বৈশিষ্ট্য। শালগম, গাজর ও মূলা রূপান্তরিত মূল, তারা খাদ্য সঞ্চয় করে ফুলে ওঠে। রূপান্তরিত মূলে গাঁট বা কুঁড়ি থাকে না। আদা মাটির নিচে লম্বা হয়ে বাড়ে এবং এর গাঁট থেকে নতুন চারা গজায়। সে কারণে আদার টুকরো মাটিতে পুঁতে নতুন গাছ জন্মানো যায়, আর আদা সাধারণত রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড: আদা, হলুদ, আলু, ওল, পেঁয়াজ।
রাইজোমের উদাহরণ: আদা, হলুদ, কচু। - ৯১. উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সংজ্ঞায় গোল আলুকে কি বলে?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার (আরবরিকালচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রূপান্তরিত কাণ্ড
- ক. ফল
- খ. ফুল
- গ. কাণ্ড
- ঘ. মূল
উত্তর: গ. কাণ্ড
উদ্ভিদবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় গোল আলু একটি রূপান্তরিত কাণ্ড। আলু মাটির নিচে জন্মায় বলে অনেকে একে মূল ভাবে, কিন্তু এতে চোখ নামে কুঁড়ি থাকে, আর কুঁড়ি কেবল কাণ্ডেই থাকে। প্রতিটি চোখ থেকে নতুন গাছ গজাতে পারে। আলু খাদ্য সঞ্চয় করে ফুলে ওঠে, তাই একে কন্দ (Tuber) বলে। এটি ফল বা ফুল নয়। আলু গাছের মূল আলাদা, আলু মূলের অংশ নয়। আলুর গায়ে দৃশ্যমান চোখগুলো সর্পিলভাবে সাজানো থাকে, আর গাছের ভূ-উপরিস্থ অংশ সবুজ কাণ্ড ও পাতা নিয়ে গঠিত।
মনে রাখুন:
মূলের গায়ে কুঁড়ি থাকে না, তাই গাজর ও মূলা রূপান্তরিত মূল।
মিষ্টি আলু অবশ্য মূল। - ৯২. কোন উদ্ভিদের কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতার কাজ করে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রূপান্তরিত কাণ্ড
- ক. ফার্ন
- খ. ফণিমনসা
- গ. আদা
- ঘ. পাথরকুচি
উত্তর: খ. ফণিমনসা
ফণিমনসা (Opuntia) গাছের কাণ্ড চ্যাপ্টা ও সবুজ হয়ে পাতার কাজ করে, একে ফিলোক্ল্যাড (Phylloclade) বলে। এই গাছের আসল পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত, তাই সালোকসংশ্লেষণের কাজ করে সবুজ কাণ্ড। মরুভূমির মতো শুষ্ক জায়গায় পানি ধরে রাখতে এই ব্যবস্থা সাহায্য করে। কাঁটাগুলো আত্মরক্ষায় কাজে লাগে এবং বাষ্পমোচন কমায়। ফণিমনসার কাণ্ডে পানি জমা থাকে বলে একে মাংসল দেখায়। এর বাইরের আবরণ মোমের মতো, যা পানির ক্ষয় রোধ করে। আত্মরক্ষার জন্য ফণিমনসার কাঁটা থাকায় প্রাণীরা সহজে একে খেতে পারে না। অনেক সময় এই গাছ বেড়া হিসেবেও লাগানো হয়।
মনে রাখুন:
ফণিমনসা শুষ্ক অঞ্চলের উদ্ভিদ বা জেরোফাইট (Xerophyte)। - ৯৩. কোনটিতে পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়?রাবি (গ ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. পুদিনা
- খ. পাথরকুচি
- গ. আলু
- ঘ. কচুরিপানা
উত্তর: খ. পাথরকুচি
পাথরকুচির পাতার কিনারায় ছোট ছোট খাঁজ থাকে, সেখানে মুকুল জন্মায় এবং তা থেকে নতুন গাছ গজায়। এই মুকুল পাতা থেকে খসে মাটিতে পড়লে শিকড় ছেড়ে নতুন গাছ তৈরি করে। পাথরকুচির বৈজ্ঞানিক নাম ব্রায়োফিলাম (Bryophyllum)। পুদিনা বা আলু অন্যভাবে বাড়ে। পুদিনার ভূমি-সংলগ্ন কাণ্ড থেকে নতুন গাছ হয়, আর আলু বাড়ে চোখের কুঁড়ি থেকে। পাথরকুচির পাতা মোটা ও মাংসল, তাই পাতায় খাদ্য ও পানি জমা থাকে। এই খাদ্য মুকুলকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। বাংলায় গাছটিকে অনেকে পাতাফোঁড় নামেও চেনে।
মনে রাখুন:
পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি অঙ্গজ জননের একটি উদাহরণ।
কচুরিপানা ভাসমান শাখা (স্টোলন) দিয়ে বাড়ে। - ৯৪. পাথরকুচির চারা কিসের সাহায্যে উৎপন্ন করা হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. জোড় কলমের সাহায্যে
- খ. প্রকন্দের সাহায্যে
- গ. পাতার সাহায্যে
- ঘ. মৌল কাণ্ডের সাহায্যে
উত্তর: গ. পাতার সাহায্যে
পাথরকুচির (Bryophyllum) চারা পাতার সাহায্যে উৎপন্ন হয়। পাতার কিনারার খাঁজে মুকুল তৈরি হয়, আর পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেও সেখান থেকে শিকড় ও নতুন চারা বের হয়। এভাবে বীজ ছাড়াই নতুন গাছ জন্মায়। প্রাণীজগতে হাইড্রা যেমন মুকুলোদ্গমের মাধ্যমে নতুন হাইড্রা সৃষ্টি করে, পাথরকুচির পাতাও মুকুলের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। এ কারণে পাথরকুচির একটি পাতা ছিঁড়ে ভেজা মাটিতে রাখলেই নতুন গাছের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই পদ্ধতিতে জন্মানো গাছ মূল গাছের হুবহু প্রতিলিপি হয়।
মনে রাখুন:
পাথরকুচির পাতাকে বংশবিস্তারকারী পাতা বলা হয়।
বীজ ছাড়া উদ্ভিদের অন্য অংশ থেকে নতুন গাছ জন্মানো অঙ্গজ জনন। - ৯৫. কোনটি পাতার মাধ্যমে জনন সম্পন্ন করে?বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. পাথরকুচি
- খ. মিষ্টি আলু
- গ. পটল
- ঘ. আদা
উত্তর: ক. পাথরকুচি
পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে পাথরকুচি (Bryophyllum)। এর পাতার কিনারার খাঁজে মুকুল জন্মায় এবং সেই মুকুল থেকে নতুন গাছ হয়। মিষ্টি আলু মূলের কন্দ থেকে, পটল লতানো কাণ্ডের কাটা অংশ থেকে এবং আদা মৌলকাণ্ড থেকে নতুন গাছ জন্মায়। অর্থাৎ এখানে কেবল পাথরকুচির ক্ষেত্রেই পাতা বংশবিস্তারের কাজ করে। পাথরকুচির মতো পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে বেগোনিয়াও, তার পাতার কাটা অংশ থেকেও শিকড় ও নতুন চারা জন্মায়। অর্থাৎ পাতা থেকে বংশবিস্তার সব উদ্ভিদে ঘটে না, কেবল কয়েকটিতে দেখা যায়।
মনে রাখুন:
পাথরকুচির পাতা মাংসল ও পানিসমৃদ্ধ।
আদার মৌলকাণ্ডের গাঁটে কুঁড়ি থাকে। - ৯৬. মূলের সাহায্যে প্রজনন করে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. আদা
- খ. আলু
- গ. ডালিয়া
- ঘ. পিয়াজ
উত্তর: গ. ডালিয়া
ডালিয়া (Dahlia) মূলের সাহায্যে বংশবিস্তার করে। ডালিয়ার মূল খাদ্য সঞ্চয় করে ফুলে কন্দের মতো হয়, আর সেই মূলের মাথায় থাকা কুঁড়ি থেকে নতুন গাছ জন্মায়। আদা মৌলকাণ্ড, আলু কাণ্ডকন্দ আর পেঁয়াজ বাল্ব বা রূপান্তরিত কাণ্ড দিয়ে বাড়ে। এগুলো সবই কাণ্ডের রূপান্তর, মূল নয়। আসলে কিছু উদ্ভিদে মূলের কুঁড়ি থেকেও নতুন চারা হয়, যেমন মিষ্টি আলু। কিন্তু আদা, আলু ও পেঁয়াজে নতুন চারা সরাসরি কাণ্ডের কুঁড়ি থেকে আসে।
মনে রাখুন:
মূলের সাহায্যে জনন করে: মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কালোজাম।
আদা ও হলুদ মৌলকাণ্ড দিয়ে বংশবিস্তার করে। - ৯৭. কোন উদ্ভিদের মূল প্রজননে অংশগ্রহণ করে?বিসিএসআইআর এর ল্যাব এটেনডেন্ট, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. স্বর্ণলতা
- খ. মিষ্টি আলু
- গ. সুন্দরী
- ঘ. গরান
উত্তর: খ. মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলু রূপান্তরিত মূল বা মূলজ কন্দ। এর মূলে খাদ্য জমা হয়ে মূল ফুলে ওঠে, আর সেই মূল মাটিতে বসালে তার গায়ের অস্থানিক কুঁড়ি থেকে নতুন গাছ গজায়। এভাবে মূল প্রজননে অংশ নেয়। স্বর্ণলতা পরজীবী লতা, যা বীজ থেকে জন্মায়। সুন্দরী ও গরান ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, এদের শ্বাসমূল থাকে এবং এরা জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে বাড়ে। মিষ্টি আলুর কন্দ মাটিতে বসালে গজানো লতার অংশ কেটে আবার লাগিয়ে নতুন ক্ষেত করা যায়। মিষ্টি আলু আলুর মতো দেখতে হলেও সম্পূর্ণ আলাদা উদ্ভিদ, আর গোল আলু কাণ্ড।
মনে রাখুন:
সুন্দরী ও গরান সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ। - ৯৮. প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়- সেই উদ্ভিদ নিচের কোনটি?প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিএফএ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. আলু
- খ. আদা
- গ. পুদিনা
- ঘ. রসুন
উত্তর: ক. আলু
আলুর গায়ে ছোট ছোট গর্তের মতো অংশ আছে, যাকে চোখ বলা হয়। প্রতিটি চোখে একটি করে কুঁড়ি থাকে, আর আলুকে চোখসহ টুকরো করে মাটিতে বসালে প্রতিটি টুকরো থেকে স্বাধীন নতুন গাছ জন্মায়। আলু আসলে রূপান্তরিত কাণ্ড, আর কাণ্ডেই কুঁড়ি থাকে। পুদিনা ভূমি-সংলগ্ন কাণ্ড দিয়ে, রসুন কোয়া বা কুঁড়ি দিয়ে বাড়ে। আলুকে বীজ থেকে নয়, এভাবে অঙ্গজ উপায়ে চাষ করা হয়, যাতে গাছের সব গুণ অক্ষুণ্ন থাকে। আলুর গায়ে সূর্যের আলো পড়লে সবুজ হয়ে যায়, তা বিষাক্ত হতে পারে।
মনে রাখুন:
চোখ থেকে গজানো নতুন গাছ মূল গাছের হুবহু প্রতিলিপি।
বীজ ছাড়া এভাবে বংশবিস্তারকে অঙ্গজ জনন বলে। - ৯৯. কোনো গাছের শিকড়, ডাল বা পাতা কেটে যে নতুন চারা গজায় তাকে বলে -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন
- ক. দাবা কলম
- খ. খণ্ড কলম
- গ. জোড় কলম
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. খণ্ড কলম
গাছের শিকড়, ডাল বা পাতার একটি অংশ কেটে মাটিতে লাগিয়ে নতুন চারা তৈরি করাকে খণ্ড কলম বা কাটিং (Cutting) বলে। কাটা অংশে শিকড় গজালে সেটি আলাদা গাছ হয়ে বাড়ে। দাবা কলম (Layering) পদ্ধতিতে ডালকে মূল গাছ থেকে আলাদা না করেই মাটিতে বা বাইরে নুইয়ে শিকড় গজানো হয়। আর জোড় কলমে (Grafting) দুটি গাছের অংশ জুড়ে একটি গাছ তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে বীজ ছাড়াই মাতৃগাছের সমান গুণ পাওয়া যায়। এ ধরনের অঙ্গজ জননে নতুন গাছ মূল গাছের হুবহু প্রতিলিপি হয়।
মনে রাখুন:
গোলাপ, বেলি ও আখ খণ্ড কলমের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
আম ও লিচুতে জোড় কলম ও গুটি কলম ব্যবহার হয়। - ১০০. পৃথিবীর বৃহত্তম ফুলের নাম -জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ডি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৪-১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল
- ক. রক্তজবা
- খ. র্যাফলেশিয়া
- গ. ফণিমনসা
- ঘ. লরেঙ্গ
উত্তর: খ. র্যাফলেশিয়া
র্যাফলেশিয়া (Rafflesia arnoldii) পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল। এই ফুল প্রায় এক মিটার চওড়া হতে পারে এবং ওজন কয়েক কেজি পর্যন্ত হয়। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিওর জঙ্গলে এটি জন্মায়। এর মূল, কাণ্ড বা পাতা নেই, এটি পরজীবী হিসেবে অন্য লতার মূলের ভেতর থেকে খাদ্য নেয়। ফুলটি পচা মাংসের মতো গন্ধ ছড়ায়, ফলে মাছি এসে পরাগায়ন ঘটায়। র্যাফলেশিয়া নামটি এসেছে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা স্যার স্ট্যামফোর্ড র্যাফলসের নাম থেকে। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা, যার তুলনায় র্যাফলেশিয়া বহুগুণ বড়।
মনে রাখুন:
পৃথিবীর বৃহত্তম পুষ্পমঞ্জরি টাইটান আরাম (Titan arum), যাকে মৃতদেহ-ফুলও বলা হয়।
রক্তজবা ও ফণিমনসার ফুল অনেক ছোট। - ১০১. বহুপ্রতিসম ফুল কোনটি?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল
- ক. মটর
- খ. কলাবতী
- গ. শিম
- ঘ. সরিষা
উত্তর: ঘ. সরিষা
সরিষা ফুল বহুপ্রতিসম (Actinomorphic), অর্থাৎ ফুলের কেন্দ্র দিয়ে একাধিক সমতলে কাটলে প্রতিবারই দুটি সমান অংশ পাওয়া যায়। সরিষা ফুলের চারটি পাপড়ি ক্রুশের মতো সাজানো থাকে। মটর, কলাবতী ও শিমের ফুল একপ্রতিসম (Zygomorphic), এদের কেবল একটিমাত্র সমতলে কাটলে দুই সমান অংশ হয়। কেন্দ্র বরাবর যেকোনো দিকে ভাগ করলে সমান অংশ পাওয়ার এই বৈশিষ্ট্যকে প্রতিসমতা বলে। শিমের ফুলে পাঁচটি অসম পাপড়ি আছে, তাই সেটি একপ্রতিসম। অর্থাৎ ফুলের প্রতিসমতা চেনা সহজ, কেবল বিভাজনের সমতল গুনে নিলেই হয়।
মনে রাখুন:
বহুপ্রতিসম ফুলের উদাহরণ: সরিষা, ধুতুরা, জবা, মরিচ।
একপ্রতিসম ফুলের উদাহরণ: মটর, শিম, কলাবতী। - ১০২. নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?সুপ্রিম কোর্টের প্রোটোকল অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল ফোটা ও দিনের দৈর্ঘ্য
- ক. পাট
- খ. মূলা
- গ. গম
- ঘ. যব
উত্তর: ক. পাট
কিছু উদ্ভিদের ফুল ফোটা নির্ভর করে দিনে কত ঘণ্টা আলো পাওয়া যায় তার ওপর। এই ঘটনাকে আলোকপর্বীয়তা (Photoperiodism) বলে। যেসব উদ্ভিদ দিনের আলোর সময় কম থাকলে, অর্থাৎ প্রায় ১২ ঘণ্টার কম আলো পেলে ফুল ফোটায়, তাদের ছোট দিনের উদ্ভিদ (Short-day plant) বলা হয়। পাট এমন একটি উদ্ভিদ।
অন্যদিকে মূলা, গম ও যব বড় দিনের উদ্ভিদ (Long-day plant), কারণ এদের ফুল ফোটার জন্য বেশি সময় ধরে আলো লাগে।
মনে রাখুন:
ছোট দিনের উদ্ভিদ: পাট, আমন ধান, শিম, সয়াবিন।
বড় দিনের উদ্ভিদ: মূলা, গম, যব, পালংশাক।
নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: সূর্যমুখী, শসা, টমেটো। - ১০৩. নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ?মাউশি অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল ফোটা ও দিনের দৈর্ঘ্য
- ক. শসা
- খ. সূর্যমুখী
- গ. আউশ ধান
- ঘ. সবগুলি
উত্তর: ঘ. সবগুলি
কিছু উদ্ভিদের ফুল ফোটার জন্য দিন ছোট বা বড় হওয়ায় কিছু আসে যায় না। এরা বছরের যেকোনো সময় আলোর দৈর্ঘ্য যা-ই থাকুক না কেন ফুল ফোটাতে পারে। এদের নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ (Day-neutral plant) বলা হয়। শসা, সূর্যমুখী এবং আউশ ধান এই দলের উদ্ভিদ, তাই এখানে তিনটিই ঠিক।
এর সঙ্গে ছোট দিনের উদ্ভিদের পার্থক্যটা মনে রাখা দরকার, কারণ ছোট দিনের উদ্ভিদ নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের আলো না পেলে ফুল ফোটায় না।
মনে রাখুন:
নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: শসা, সূর্যমুখী, টমেটো, আউশ ধান।
ছোট দিনের উদ্ভিদ: পাট, আমন ধান, শিম। - ১০৪. কোনটি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল ফোটা ও দিনের দৈর্ঘ্য
- ক. পালং শাক
- খ. সূর্যমুখী
- গ. শিম
- ঘ. রোপা
উত্তর: খ. সূর্যমুখী
যেসব উদ্ভিদের ফুল ফোটা দিনের আলোর দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে না, তাদের নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ (Day-neutral plant) বলে। সূর্যমুখী এই দলের উদ্ভিদ, তাই দিন ছোট হোক বা বড়, এর ফুল ফুটতে বাধা হয় না। আলোর এই প্রভাব ধরা পড়ে মূলত পাতায়, তারপর সংকেত ফুলের কুঁড়ির দিকে যায়। তাই কৃষকেরা কোন ফসল কোন মৌসুমে বুনবেন, তা অনেকটা এর ওপর ভিত্তি করেই ঠিক করেন।
পালংশাক বড় দিনের উদ্ভিদ, আর শিম এবং রোপা আমন ধান ছোট দিনের উদ্ভিদ। এদের ফুল ফোটার জন্য আলো নির্দিষ্ট সময় ধরে পাওয়া জরুরি।
মনে রাখুন:
নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: সূর্যমুখী, শসা, টমেটো।
বড় দিনের উদ্ভিদ: পালংশাক, গম, মূলা।
ছোট দিনের উদ্ভিদ: শিম, পাট, রোপা আমন ধান। - ১০৫. নিরপেক্ষ দিনের ফসল -গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল ফোটা ও দিনের দৈর্ঘ্য
- ক. আমন ধান
- খ. আখ
- গ. আউশ ধান
- ঘ. তামাক
উত্তর: গ. আউশ ধান
আমাদের দেশের ফসলের মধ্যে আউশ ধান নিরপেক্ষ দিনের ফসল (Day-neutral crop)। এর ফুল ফোটা আলোর দৈর্ঘ্যের ওপর তেমন নির্ভর করে না, তাই বছরের নানা সময়ে একে চাষ করা যায়। অন্যদিকে আমন ধান ছোট দিনের উদ্ভিদ। দিন ছোট হয়ে এলে, অর্থাৎ শরৎকালের শেষ দিকে, এর ফুল আসে। সে কারণেই আমন ধান কাটা হয় হেমন্তের শেষে বা শীতের শুরুতে। আলোর ওপর নির্ভরতা কম হওয়ায় আউশ ধান গ্রীষ্মের শুরুতে বোনা যায়। এ কারণেই বাংলাদেশে এক বছরে একই জমি থেকে একাধিক ধানের ফসল তোলা সম্ভব হয়।
মনে রাখুন:
নিরপেক্ষ দিনের ফসল: আউশ ধান, সূর্যমুখী, শসা।
ছোট দিনের ফসল: আমন ধান, পাট। - ১০৬. পরাগায়ন কত প্রকার?DAE-র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. দুই
- খ. তিন
- গ. চার
- ঘ. পাঁচ
উত্তর: ক. দুই
পরাগধানী থেকে পরাগরেণু ফুলের গর্ভমুণ্ডে গিয়ে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন (Pollination) বলে। পরাগরেণু কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে পরাগায়ন দুই প্রকার। একই ফুলের পরাগ ওই ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে তাকে স্ব-পরাগায়ন (Self-pollination) বলে। আর এক ফুলের পরাগ একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে গেলে তা হয় পর-পরাগায়ন (Cross-pollination)। পর-পরাগায়ন হলে দুই ভিন্ন ফুলের বৈশিষ্ট্য মিশে যায়, তাই নতুন বীজ থেকে জন্মানো চারায় বৈচিত্র্য আসে। বেশিরভাগ ফুলে প্রকৃতি এমন ব্যবস্থা রাখে, যাতে একই ফুলের পরাগ নিজের গর্ভমুণ্ডে সহজে না পড়ে।
মনে রাখুন:
পর-পরাগায়নে বাহক হিসেবে বাতাস, পানি, পতঙ্গ ও পাখি কাজ করে।
স্ব-পরাগায়নে নতুন বৈশিষ্ট্য আসে না, কিন্তু পর-পরাগায়নে প্রজন্ম বেশি সবল হয়। - ১০৭. ধানের পরাগায়ন কিভাবে হয়?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. বাতাসের সাহায্যে
- খ. বৃষ্টির সাহায্যে
- গ. কীট-পতঙ্গের সাহায্যে
- ঘ. মৌমিছ্রির সাহায্যে
উত্তর: ক. বাতাসের সাহায্যে
ধান ঘাস গোত্রের উদ্ভিদ। এর ফুল ছোট, রঙিন নয় এবং এতে মধু বা গন্ধ থাকে না, তাই পতঙ্গ এতে আকৃষ্ট হয় না। এর পরাগরেণু হালকা ও শুকনো, ফলে বাতাসে সহজেই উড়ে যায়। এ কারণে ধানের পরাগায়নে বাতাসের ভূমিকাই প্রধান। যেসব ফুলের পরাগ বাতাসের সাহায্যে স্থানান্তরিত হয়, তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। ধান গাছের ফুলের ভেতর পরাগধানী ও গর্ভমুণ্ড কাছাকাছি থাকায় স্ব-পরাগায়নও কিছুটা ঘটে। তবু বাতাস বয়ে গেলে ফুলের পরাগ ছড়িয়ে পড়ে বলে ধানকে বায়ুপরাগী উদ্ভিদের দলে ধরা হয়।
মনে রাখুন:
বায়ুপরাগী উদ্ভিদ: ধান, ভুট্টা, গম, বাঁশ ও অন্যান্য ঘাস।
বায়ুপরাগী ফুলের পরাগরেণু প্রচুর পরিমাণে তৈরি হয়। - ১০৮. যে সব ফুল পতঙ্গপরাগী এবং রাতে ফোটে সেসব ফুলে কোনটি থাকে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. গন্ধ ও পাপড়িহীন
- খ. তীব্র গন্ধ এবং সাদা পাপড়ি
- গ. তীব্র গন্ধ পাপড়িহীন
- ঘ. গন্ধহীন কিন্তু অনেক মধু
উত্তর: খ. তীব্র গন্ধ এবং সাদা পাপড়ি
রাতের বেলা ফুটে ওঠা ফুলের পরাগায়নে সাধারণত নিশাচর পতঙ্গ, যেমন মথ, সাহায্য করে। অন্ধকারে তারা ফুলকে রঙ দেখে চেনে না, তাই ফুলের সাদা পাপড়ি রাতের অল্প আলোতেও চোখে পড়ে, আর তীব্র গন্ধ বহু দূর থেকে পতঙ্গকে ডেকে আনে। রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা ও বেলি এমন ফুলের উদাহরণ। দিনের আলো না থাকায় রাতের ফুল রঙের জোরে নয়, বরং গন্ধের জোরে পতঙ্গকে ডাকে। সাদা পাপড়ি অন্ধকারে ফুলটিকে একটু হলেও আলাদা করে দেখতে সাহায্য করে।
মনে রাখুন:
পতঙ্গপরাগী ফুল সাধারণত রঙিন, সুগন্ধী ও মধুযুক্ত হয়।
বায়ুপরাগী ফুল ছোট, গন্ধহীন ও রঙহীন হয়। - ১০৯. বাদুড় কোন ফুলের পরাগায়ন ঘটায়?মাউশি অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. পাতা ঝাঁঝি
- খ. জংলীকলা
- গ. মঞ্জুরীপত্র
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. জংলীকলা
বাদুড় যেসব ফুলের পরাগায়ন ঘটায়, তাদের মধ্যে জংলীকলা বা বুনো কলা অন্যতম। এই ফুল রাতে ফোটে এবং এতে প্রচুর মধু থাকে। রাতে চলাফেরা করা ফলখেকো বাদুড় মধু খেতে এসে গায়ে পরাগ মেখে নেয় এবং সেই পরাগ অন্য ফুলে পৌঁছে দেয়। পাতা ঝাঁঝি জলজ উদ্ভিদ আর মঞ্জুরীপত্র হলো পুষ্পমঞ্জরির গোড়ার পাতা, তাই এরা কোনো ফুলের নাম নয়। বাদুড় রাতের বেলা বহু দূর পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে, তাই এভাবে একই প্রজাতির দূরের গাছগুলোর মধ্যেও পরাগায়ন ঘটে। এতে প্রকৃতিতে উদ্ভিদের বংশবিস্তারে বড় সুবিধা হয়।
মনে রাখুন:
বাদুড়দ্বারা পরাগিত উদ্ভিদ: জংলীকলা ও বাওবাব।
এ ধরনের পরাগায়নকে কাইরোপ্টেরোফিলি (Chiropterophily) বলে। - ১১০. ডিম্বাণু সৃষ্টি হয় স্ত্রী স্তবকের -পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (FWV) প্রশিক্ষার্থী, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল, ফল ও বীজ
- ক. গর্ভদণ্ডে
- খ. গর্ভমুণ্ডে
- গ. ডিম্বাশয়ে
- ঘ. ডিম্বকে
উত্তর: ঘ. ডিম্বকে
ফুলের স্ত্রী স্তবকের নাম গর্ভপত্র (Carpel)। এর তিনটি অংশ থাকে: গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও ডিম্বাশয়। ডিম্বাশয়ের ভেতরে থাকে ডিম্বক (Ovule), আর এই ডিম্বকের ভেতরেই ডিম্বাণু তৈরি হয়। পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পড়লে সেখান থেকে নল তৈরি করে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছায়, তারপর নিষেক ঘটে। ডিম্বকের ভেতরের জায়গাকে ভ্রূণস্থলী বলে, আর ডিম্বাণু সেখানেই থাকে। পরাগনলের মাধ্যমে আসা পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হলে যে কোষ তৈরি হয়, তাকে জাইগোট বলে। এই জাইগোট থেকেই ভ্রূণ গড়ে ওঠে।
নিষেকের পর ডিম্বক বীজে এবং ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়।
মনে রাখুন:
গর্ভমুণ্ড পরাগরেণু গ্রহণ করে।
গর্ভদণ্ড গর্ভমুণ্ডকে ডিম্বাশয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। - ১১১. একটি আদর্শ ফলে পাওয়া যায়-পরিবেশ অধিদপ্তরের ফিল্ড ইনভেস্টিগেটর এবং রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল, ফল ও বীজ
- ক. বহিস্ত্বক ও অন্তঃত্বক
- খ. বহিস্ত্বক, মধ্যত্বক এবং অন্তঃত্বক
- গ. বীজপত্র ও ফলত্বক
- ঘ. বীজ ও বীজপত্র
উত্তর: খ. বহিস্ত্বক, মধ্যত্বক এবং অন্তঃত্বক
একটি আদর্শ ফলের দেয়াল বা ফলত্বক (Pericarp) তিনটি স্তরে গঠিত। সবার বাইরের স্তরকে বহিস্ত্বক বলে, এটি ফলের খোসা। মাঝের স্তরটির নাম মধ্যত্বক, আর সবচেয়ে ভেতরের স্তরটি অন্তঃত্বক। ডিম্বাশয়ের দেয়াল থেকেই এই তিনটি স্তর তৈরি হয়। কোনো কোনো ফলে এই তিন স্তর আলাদা করে বোঝা যায় না, যেমন কলার খোসা আর শাঁস। তবে আম, জাম ও কুলের মতো ফলে তিনটি স্তরই বেশ স্পষ্ট দেখা যায়।
আম খেতে গিয়ে আমরা বাইরের খোসা ফেলে দিই, মাঝের রসালো অংশটুকু খাই, আর ভেতরে শক্ত আঁটি পাই। এই রসালো অংশ হলো মধ্যত্বক এবং শক্ত আঁটির খোলস হলো অন্তঃত্বক।
মনে রাখুন: ফলের ভেতরের বীজ ফলত্বকের অংশ নয়, বীজ তৈরি হয় ডিম্বক থেকে। - ১১২. আনারস কোন জাতীয় ফল?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুল, ফল ও বীজ
- ক. যৌগিক ফল
- খ. গুচ্ছ ফল
- গ. সরল ফল
- ঘ. রসালো ফল
উত্তর: ক. যৌগিক ফল
একটি ফুলের একাধিক ডিম্বাশয় থেকে নয়, বরং একটি পুষ্পমঞ্জরির অনেকগুলো ফুল মিলে যে ফল তৈরি হয়, তাকে যৌগিক ফল (Multiple fruit) বলে। আনারস এমন একটি ফল। এর শরীরে অনেকগুলো ছোট ছোট ফুলের ফল একসঙ্গে জুড়ে একটি বড় ফল তৈরি হয়েছে। আনারসের গায়ে যে ছোট ছোট চোখের মতো অংশ দেখা যায়, সেগুলো আসলে আলাদা আলাদা ফুলের চিহ্ন। অনেক ফুল একসঙ্গে জুড়ে গিয়ে একটি ফলে পরিণত হয় বলেই একে যৌগিক ফল বলা হয়।
মনে রাখুন:
যৌগিক ফলের উদাহরণ: আনারস, কাঁঠাল, বট ও ডুমুর।
সরল ফল একটি ফুলের একটি ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয়, যেমন আম ও জাম।
গুচ্ছ ফল একটি ফুলের অনেক ডিম্বাশয় থেকে তৈরি হয়, যেমন আতা ও শরিফা। - ১১৩. নিচের কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রাসায়নিক পদার্থ
- ক. ভিটামিন কে
- খ. ভিটামিন এ
- গ. ক্যাপসিসিন
- ঘ. ভিটামিন ই
উত্তর: গ. ক্যাপসিসিন
মরিচের ঝাল স্বাদের কারণ ক্যাপসিসিন (Capsaicin) নামের একটি জৈব যৌগ। এটি মরিচের ভেতরের সাদা শাঁস ও বীজের চারপাশে বেশি থাকে। মুখে বা ত্বকে লাগলে এটি স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে, ফলে আমাদের জ্বালা জ্বালা অনুভূতি হয়। আসলে ঝাল কোনো স্বাদ নয়, বরং এটি জ্বালার অনুভূতি।
ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, ভিটামিন এ দৃষ্টির জন্য দরকার এবং ভিটামিন ই কোষের ক্ষতি রোধ করে। এদের কোনোটির সঙ্গে ঝালের সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: কাঁচা মরিচের ঝাল দূর করতে দুধ খাওয়া ভালো, কারণ ক্যাপসিসিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না। - ১১৪. বটের বীজের বিস্তার ঘটে কিসের সাহায্যে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (শীতলক্ষ্যা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বীজের বিস্তার
- ক. পাখি
- খ. পানি
- গ. বাতাস
- ঘ. এর কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. পাখি
বট গাছের ফল ছোট, রসালো ও লাল রঙের হয়। পাখি এই ফল খুব পছন্দ করে। ফল খাওয়ার সময় বীজগুলো পাখির পেটে যায়, কিন্তু হজম হয় না। পরে পাখির মলের সঙ্গে বীজ বেরিয়ে এসে দূরে কোনো গাছের ডালে বা দেয়ালের ফাটলে পড়ে এবং সেখানে অঙ্কুরিত হয়। এভাবে পাখির সাহায্যে বটের বীজ ছড়ায়। বট গাছের বীজ এত ছোট যে পাখির পাকস্থলী পেরিয়ে সহজে বেরিয়ে আসে। এ কারণে বট গাছ প্রায়ই পুরোনো দালানের ছাদ বা দেয়ালের ফাটলে জন্মাতে দেখা যায়।
মনে রাখুন:
বাতাসে ছড়ায়: শিমুল ও আকন্দের বীজ।
পানিতে ছড়ায়: নারকেলের বীজ।
প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়: কালকাসুন্দা ও চোরকাঁটার বীজ। - ১১৫. অঙ্কুরোদগমের জন্য দরকার হয় -মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বীজের অঙ্কুরোদগম
- ক. তাপ ও পানি
- খ. পানি ও অক্সিজেন
- গ. অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
- ঘ. তাপ,পানি ও অক্সিজেন
উত্তর: ঘ. তাপ,পানি ও অক্সিজেন
বীজের ভেতরে ভ্রূণ সুপ্ত অবস্থায় থাকে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সেই ভ্রূণ বেড়ে উঠে নতুন চারা হয়, একে অঙ্কুরোদগম (Germination) বলে। এর জন্য তিনটি জিনিস লাগে: পানি, অক্সিজেন ও উপযুক্ত তাপ। পানি বীজকে নরম করে ও ভেতরের খাদ্যকে দ্রবীভূত করে। অক্সিজেন শ্বসনে শক্তি জোগায়। আর তাপ রাসায়নিক বিক্রিয়াকে গতি দেয়। এই তিনটি উপাদানের একটিও না থাকলে অঙ্কুরোদগম হয় না। যেমন, শুকনো বীজে পানি নেই বলে তা অঙ্কুরিত হয় না, আর খুব ঠান্ডা জায়গায় তাপের অভাবে বীজ সুপ্ত হয়ে থাকে।
মনে রাখুন: অঙ্কুরোদগমের সময় আলো বা মাটি অপরিহার্য নয়, তাই পানিতে বা ভেজা কাপড়েও বীজ অঙ্কুরিত হতে পারে। - ১১৬. বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার, (আরবরিকলচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বীজের অঙ্কুরোদগম
- ক. পানি-তাপ-বায়ু
- খ. মাটি-সার-পানি
- গ. মাটি-তাপ-আলো
- ঘ. মাটি-আলো-বায়ু
উত্তর: ক. পানি-তাপ-বায়ু
বীজ অঙ্কুরিত হতে হলে পানি, তাপ ও বায়ু অর্থাৎ অক্সিজেন, এই তিনটি উপাদান অত্যাবশ্যক। শুকনো বীজ পানি শুষে ফুলে ওঠে, ফলে আবরণ ফেটে ভ্রূণমূল বেরিয়ে আসে। শ্বসনের জন্য বায়ুর অক্সিজেন লাগে। আর উপযুক্ত তাপমাত্রায় এনজাইমগুলো ভালোভাবে কাজ করে। অক্সিজেন না পেলে বীজের শ্বসন বন্ধ হয়ে যায়, সে কারণে পানিতে পুরোপুরি ডুবে থাকা বীজ সাধারণত পচে যায়। তাই কৃষকেরা বীজতলায় পানি আর বায়ুর ভারসাম্য রাখেন।
মাটি, সার বা আলো থাকলে চারা ভালো বাড়ে বটে, কিন্তু বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য এগুলো আবশ্যিক শর্ত নয়।
মনে রাখুন: খুব ঠান্ডা বা খুব গরম তাপমাত্রায় অঙ্কুরোদগম হয় না। - ১১৭. নিচের কোন বীজে মৃৎগত অঙ্কুরোদগম হয়? -কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বীজের অঙ্কুরোদগম
- ক. রেড়ি
- খ. মিষ্টি কুমড়া
- গ. আম
- ঘ. শিম
উত্তর: গ. আম
অঙ্কুরোদগমের সময় বীজপত্র মাটির ওপরে উঠে আসে কি না, তার ওপর ভিত্তি করে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। বীজপত্র মাটির নিচেই থেকে গেলে তাকে মৃৎগত (Hypogeal) অঙ্কুরোদগম বলে। আম এমন একটি বীজ, এর বীজপত্র আঁটির ভেতরে মাটির নিচে থেকে যায় এবং শুধু ভ্রূণমুকুল বেড়ে ওঠে। কাণ্ডের কোন অংশ লম্বা হয় তার ওপর এটি নির্ভর করে। মৃৎগত অঙ্কুরোদগমে বীজপত্রের নিচের অংশ বাড়ে না, ফলে বীজপত্র মাটির ভেতরে থেকে ভ্রূণমুকুলকে খাদ্য জুগিয়ে যায়।
আর বীজপত্র মাটির ওপরে উঠে এলে তাকে বায়ুগত (Epigeal) অঙ্কুরোদগম বলে।
মনে রাখুন:
বায়ুগত: রেড়ি, মিষ্টি কুমড়া, শিম।
মৃৎগত: আম, ধান, গম, ভুট্টা, মটর। - ১১৮. Osmosis শব্দটির অর্থ কী?প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিএফএ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. ব্যাপন
- খ. অভিস্রবণ
- গ. পানি শোষণ
- ঘ. প্রস্বেদন
উত্তর: খ. অভিস্রবণ
Osmosis শব্দটি গ্রিক ‘osmos’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ঠেলা বা চাপ। বাংলায় একে অভিস্রবণ বলা হয়। কোনো বিশেষ পর্দার একপাশে বেশি ঘন এবং অন্যপাশে কম ঘন দ্রবণ থাকলে পানি কম ঘন দিক থেকে বেশি ঘন দিকে চলে যায়। এই পর্দা শুধু পানির মতো ছোট অণুকে যেতে দেয়, দ্রবিত পদার্থকে নয়, তাই একে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। অভিস্রবণ চলাকালে পানির ঠেলা বা চাপ তৈরি হয়, একে অভিস্রবণ চাপ বলে। এই চাপের জন্যই উদ্ভিদকোষ ফুলে শক্ত থাকে, আর পানি কমলে পাতা ঝিমিয়ে পড়ে।
মনে রাখুন:
অভিস্রবণ ও ব্যাপন দুটোই কোষে পদার্থ চলাচলের উপায়, তবে অভিস্রবণে অর্ধভেদ্য পর্দা লাগে।
এই প্রক্রিয়ায় মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণ করে। - ১১৯. লবণের দ্রবণে আঙ্গুর রাখলে তা চুপসে যায় কোন প্রক্রিয়ায়?দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. ব্যাপন
- খ. অন্তঃঅভিস্রবণ
- গ. বহিঅভিস্রবণ
- ঘ. ইমবাইবিশন
উত্তর: গ. বহিঅভিস্রবণ
আঙুরের খোসা অর্ধভেদ্য পর্দার মতো কাজ করে। লবণের ঘন দ্রবণে আঙুর রাখলে বাইরের দ্রবণ ভেতরের রসের চেয়ে বেশি ঘন হয়। তখন আঙুরের ভেতর থেকে পানি বেরিয়ে বাইরের দ্রবণে চলে যায়। এভাবে কোষ থেকে পানি বের হয়ে যাওয়াকে বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis) বলে। পানি হারিয়ে আঙুর চুপসে যায়। উল্টো ঘটনাটি দেখা যায় পানিতে ডোবানো শুকনো আঙুরের বেলায়, তখন পানি ভেতরে ঢোকে। দুটো ঘটনাতেই পানি সবসময় কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে যায়।
মনে রাখুন:
লবণ দিয়ে আচার বা মাছ সংরক্ষণ করা যায়, কারণ বহিঃঅভিস্রবণে জীবাণুর কোষ থেকে পানি বেরিয়ে গিয়ে তারা মারা যায়।
এর উল্টোটি হলো অন্তঃঅভিস্রবণ, যাতে কোষ ফুলে ওঠে। - ১২০. উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে পানি শোষণ করে কোন প্রক্রিয়ায়?বিস্ফোরক অধিদপ্তর সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. শ্বসন
- খ. ব্যাপন
- গ. ইমবাইবিশন
- ঘ. অভিস্রবণ
উত্তর: ঘ. অভিস্রবণ
মাটির পানি তুলনায় কম ঘন, কিন্তু মূলরোমের কোষের রসে চিনি, লবণ ও নানা পদার্থ দ্রবীভূত থাকে বলে সেটি বেশি ঘন। তাই মাটির পানি অর্ধভেদ্য কোষপর্দা ভেদ করে মূলরোমের ভেতরে ঢুকে যায়। পানি এভাবে কম ঘন স্থান থেকে বেশি ঘন স্থানে যাওয়াকে অভিস্রবণ বলে। মূলরোমের কোষরস সাধারণত মাটির পানির চেয়ে ঘন। তাই এই পার্থক্যের টানেই পানি ঢোকে, আর অভিস্রবণ চাপ গাছকে মাটি থেকে পানি তুলতে সাহায্য করে।
মনে রাখুন:
শুকনো বীজ বা কাঠ পানি শুষে ফুলে উঠলে তা হয় ইমবাইবিশন (Imbibition)।
মূলরোম মূলের ডগার একটু ওপরে থাকে এবং এটি মূলের একটি কোষের বর্ধিত অংশ। - ১২১. উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে-মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. প্রস্বেদন
- খ. শ্বসন
- গ. ব্যাপন
- ঘ. বাষ্পীভবন
উত্তর: ক. প্রস্বেদন
উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ, বিশেষ করে পাতা থেকে জলীয় বাষ্পের আকারে পানি বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন (Transpiration) বলে। সাধারণত পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র পত্ররন্ধ্র (Stomata) দিয়ে এই কাজ হয়। শিকড় দিয়ে শোষিত পানি জাইলেম নালি বেয়ে ওপরে ওঠে, আর পাতায় এসে বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যায়। প্রস্বেদনের ফলে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়ে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনাও কিছুটা বাড়ে। বড় বনভূমি তাই জলবায়ুর ওপরও প্রভাব রাখে।
মনে রাখুন:
প্রস্বেদন ও বাষ্পীভবন এক নয়, কারণ প্রস্বেদন জীবিত উদ্ভিদের একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
প্রস্বেদনের টানে পানি মূল থেকে পাতা পর্যন্ত উঠে যায়। - ১২২. প্রস্বেদন পাতার একটি -DAE-র উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. বিশেষ কাজ
- খ. স্বাভাবিক কাজ
- গ. অসম্পূর্ণ কাজ
- ঘ. আদৌ পাতার কাজ নয়
উত্তর: খ. স্বাভাবিক কাজ
প্রস্বেদন (Transpiration) পাতার একটি স্বাভাবিক কাজ। সবুজ উদ্ভিদ প্রতিনিয়ত পত্ররন্ধ্র খুলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয়, আর এ সময় ভেতর থেকে কিছু জলীয় বাষ্পও বেরিয়ে যায়। এ থেকে উদ্ভিদের দুটি উপকার হয়। পানির টানে মাটির খনিজ লবণ ওপরে উঠে আসে এবং পাতা শীতল থাকে। প্রস্বেদন সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় না, কারণ পত্ররন্ধ্র খুলে না রাখলে সালোকসংশ্লেষণের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডও ঢুকতে পারে না। অর্থাৎ এটি গাছের জীবনযাত্রারই অংশ।
মনে রাখুন:
উদ্ভিদে পানি উঠে মূল থেকে পাতা পর্যন্ত, আর এর বেশিরভাগ বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যায়।
গরম, শুকনো ও বাতাসের দিনে প্রস্বেদন বেড়ে যায়। - ১২৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন উদ্ভিদের কোন অংশে হয়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. মূল
- খ. পাতা
- গ. কাণ্ড
- ঘ. ফুল
উত্তর: গ. কাণ্ড
উদ্ভিদের প্রস্বেদন তিন জায়গা দিয়ে হতে পারে। পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে হয় পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, পাতার বাইরের কিউটিকল দিয়ে হয় কিউটিকলীয় প্রস্বেদন, আর পুরোনো কাণ্ডের গায়ে থাকা ছোট ছোট ছিদ্র বা লেন্টিকেল (Lenticel) দিয়ে হয় লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। তাই লেন্টিকুলার প্রস্বেদন ঘটে কাণ্ডে। লেন্টিকেল ছোট বলে এ পথে পানি কম বের হয়, পুরো প্রস্বেদনের মাত্র প্রায় ০.১ ভাগ। তবু পুরোনো কাণ্ডে পত্ররন্ধ্র না থাকায় এই ছিদ্রগুলো গ্যাস বিনিময়েও সাহায্য করে।
মনে রাখুন:
সবচেয়ে বেশি প্রস্বেদন, প্রায় ৯০ ভাগ, পত্ররন্ধ্র দিয়ে হয়।
লেন্টিকেল গাছের কাণ্ড ও ডালের ওপর ছোট বিন্দুর মতো দেখা যায়। - ১২৪. সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গরম হয় না কোনটি?গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী তথ্য অফিসার, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. গাছের পাতা
- খ. বায়ুমণ্ডল
- গ. গাছের ফল
- ঘ. মাটি
উত্তর: ক. গাছের পাতা
রোদের প্রখর তাপেও গাছের পাতা সহজে গরম হয় না। কারণ পাতা থেকে অনবরত প্রস্বেদনের মাধ্যমে পানি বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যায়, আর বাষ্পীভবনের সময় পাতা থেকে তাপ শোষিত হয়। ফলে পাতা শীতল থাকে। ঘামের সময় আমাদের শরীর যেভাবে ঠান্ডা হয়, এ-ও ঠিক সেরকম। প্রস্বেদন গাছের পক্ষে ঘাম বের হওয়ার মতোই কাজ করে। যে গাছ যত বেশি পাতা মেলে, সে তত বেশি পানি বাষ্প করে এবং তত ঠান্ডা থাকে। গ্রীষ্মের দুপুরে বড় গাছের তলায় তাই এত আরাম লাগে।
মনে রাখুন: গাছের ছায়া ঠান্ডা লাগে এর অন্যতম কারণ হলো প্রস্বেদন। - ১২৫. শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে গাছের পাতা ঝড়ে যায় কেন?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. খাদ্যের অভাবে
- খ. শ্বসনের হার কমাতে
- গ. অভিস্রবণ কমাতে
- ঘ. প্রস্বেদন কমাতে
উত্তর: ঘ. প্রস্বেদন কমাতে
শীতকালে মাটির পানি কমে যায় ও ঠান্ডায় মূলের শোষণ ধীর হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে আবার প্রখর তাপে প্রস্বেদন খুব বেড়ে যায়। দুই সময়েই পাতা থেকে বেশি পানি হারিয়ে গেলে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই এ সময় পাতা ঝরে পড়ে। পাতা না থাকলে প্রস্বেদন অনেক কমে যায়, ফলে গাছ বাঁচার জন্য পানি জমিয়ে রাখতে পারে। পাতা ঝরার আগে গাছ পাতার দরকারি খনিজ কান্ডে ফিরিয়ে নেয়, তাই পাতা হলুদ হয়ে যায়। বসন্ত বা বর্ষায় আবার নতুন পাতা গজায়, তখন গাছ আগের মতো খাদ্য তৈরি শুরু করে।
মনে রাখুন:
যে গাছ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সব পাতা ঝরায়, তাকে পর্ণমোচী গাছ বলে।
শাল, শিমুল ও আম এই ধরনের গাছ। - ১২৬. কলার চারা লাগানোর সময় পাতা কেটে ফেলা হয় কেন?মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন
- ক. প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
- খ. শ্বসন বন্ধ করার জন্য
- গ. অভিস্রবণ ত্বরান্বিত করার জন্য
- ঘ. সালোকসংশ্লেষণের উপযোগী করে তোলার জন্য
উত্তর: ক. প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
কলার চারা এক জায়গা থেকে তুলে অন্য জায়গায় লাগানোর সময় এর মূল কিছুটা ছিঁড়ে যায়, ফলে নতুন মাটি থেকে পানি শোষণ করার ক্ষমতা কমে যায়। অথচ পাতা থেকে প্রস্বেদন চলতেই থাকে, আর তাতে চারা যে পানি হারায়, তা পূরণ হয় না। তাই চারা শুকিয়ে যাবে এই ভয়ে বেশিরভাগ পাতা কেটে ফেলা হয়, যাতে প্রস্বেদন কমে যায়। পাতা কেটে দিলে ছোট চারার শরীর থেকে পানি কম বেরোয়, ফলে নতুন মূল গজিয়ে মাটি থেকে পানি শোষণ শুরু করার আগে পর্যন্ত চারাটি টিকে থাকতে পারে। নতুন পাতা পরে আবার গজায়।
মনে রাখুন: চারা লাগানোর পর ছায়ায় রাখা বা বিকেলে লাগানোর কারণও একই, অর্থাৎ প্রস্বেদন কমানো। - ১২৭. কোন জীব নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (মানবিক) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. মানুষ
- খ. উদ্ভিদ
- গ. মৌমাছি
- ঘ. মাছ
উত্তর: খ. উদ্ভিদ
সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে, তাই একে স্বভোজী (Autotroph) বা উৎপাদক বলে। উদ্ভিদ পাতার সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল দিয়ে সূর্যের আলো ধরে এবং বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মাটি থেকে পাওয়া পানি দিয়ে গ্লুকোজ তৈরি করে। মানুষ, মৌমাছি ও মাছ নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, তাদের উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভর করতে হয়। এদের বলে পরভোজী (Heterotroph)। এজন্যই উদ্ভিদকে পৃথিবীর খাদ্যের মূল উৎস বলা হয়। উদ্ভিদ না থাকলে আমাদের খাবার এবং বাতাসের অক্সিজেন, দুটোই শেষ হয়ে যেত। অনেক শৈবাল ও সায়ানোব্যাকটেরিয়াও এভাবে নিজের খাদ্য তৈরি করে।
মনে রাখুন: উদ্ভিদের তৈরি খাদ্য দিয়েই খাদ্যশৃঙ্খল শুরু হয়, তাই উদ্ভিদকে বলা হয় উৎপাদক। - ১২৮. সালোকসংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক কোনটি?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. মিনারেলস
- খ. ক্লোরোফিল
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. পানি
উত্তর: খ. ক্লোরোফিল
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) ঘটতে কিছু অভ্যন্তরীণ ও কিছু বাইরের শর্ত লাগে। ক্লোরোফিল (Chlorophyll) উদ্ভিদের ভেতরেই থাকে এবং আলো শুষে নেয়, তাই এটি অভ্যন্তরীণ প্রভাবক। অন্যদিকে আলো, তাপমাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি বাইরের প্রভাবক। পত্ররন্ধ্র কতটা খোলা বা বন্ধ, তার ওপরও কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকা নির্ভর করে, তাই পত্ররন্ধ্রও এক রকম অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রক। আর এনজাইম ঠিকমতো না থাকলে বিক্রিয়ার গতি কমে যায়। এছাড়া পাতায় এনজাইমের পরিমাণও এই প্রক্রিয়ার গতি ঠিক করে।
মনে রাখুন:
অভ্যন্তরীণ প্রভাবক: ক্লোরোফিল, পত্ররন্ধ্র, এনজাইম।
বাহ্যিক প্রভাবক: আলো, তাপ, CO₂, পানি।
পাতায় ক্লোরোফিল না থাকলে সালোকসংশ্লেষণ চলে না। - ১২৯. ক্লোরোফিল ছাড়া সম্পন্ন হয় না -প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. শ্বসন
- খ. সালোকসংশ্লেষণ
- গ. রেচন
- ঘ. অভিস্রবণ
উত্তর: খ. সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) সূর্যের আলো শুষে নিয়ে সেই শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করতে সাহায্য করে। ক্লোরোফিল ছাড়া এই কাজটি সম্ভব নয়, তাই সবুজ রঞ্জকবিহীন কোনো অংশে সালোকসংশ্লেষণ হয় না। শ্বসন ও রেচন সব জীবের কোষে ঘটে, এর জন্য ক্লোরোফিল দরকার হয় না। যে পাতায় ক্লোরোফিল কম, যেমন বহুরঙা কোলিয়াস পাতার রঙিন অংশে, সেখানে খাদ্য তৈরি কম হয়। এ কারণে ঘরের ভেতরের রঙিন পাতার গাছে বাড়তি আলো দরকার হয়।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂
এতে আলোর শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপ নেয়। - ১৩০. সালোকসংশ্লেষণ কোথায় ঘটে?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. রাইবোজম
- খ. ক্রোমোজোম
- গ. প্লাস্টিড
- ঘ. মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর: গ. প্লাস্টিড
কোষের ভেতরে প্লাস্টিড (Plastid) নামে এক ধরনের অঙ্গাণু থাকে। এর একটি প্রকার হলো সবুজ প্লাস্টিড, যার নাম ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)। এই ক্লোরোপ্লাস্টেই ক্লোরোফিল থাকে, তাই সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডের ভেতরে ঘটে। রাইবোজোম প্রোটিন তৈরি করে, ক্রোমোজোম বংশগতির তথ্য বহন করে, আর মাইটোকন্ড্রিয়া শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি জোগায়। প্লাস্টিডের বাইরে সালোকসংশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া ঘটে না। শৈবালের মতো যেসব জীবে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, সেখানেও কাজটি এই অঙ্গাণুতেই হয়। প্রাণীকোষে প্লাস্টিড থাকে না, তাই প্রাণী সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে না।
মনে রাখুন:
প্লাস্টিড তিন প্রকার: ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট।
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুল ও ফলে রঙ দেয়। - ১৩১. সালোক সংশ্লেষণ সংঘটিত হয় কোষের -আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে
- খ. ক্রোমাজমে
- গ. ক্লোরোপ্লাস্টে
- ঘ. রাইবোজামে
উত্তর: গ. ক্লোরোপ্লাস্টে
সালোকসংশ্লেষণ ঘটে কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে (Chloroplast)। এই অঙ্গাণুর ভেতরে ক্লোরোফিল ও প্রয়োজনীয় এনজাইম থাকে। আলো ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিলে পড়লে সেখানে পানি ভেঙে অক্সিজেন বের হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। মাইটোকন্ড্রিয়া সালোকসংশ্লেষণ করে না, বরং শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে। ক্লোরোপ্লাস্টের দুটি পর্দা আছে। এর ভেতরে পর্দায় ঘেরা থলির মতো থাইলাকয়েড থাকে, আর ক্লোরোফিল এই থাইলাকয়েডের গায়ে লেগে থাকে। এই অঙ্গাণুই আলোর শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে বদলানোর কারখানা।
মনে রাখুন:
ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের স্তূপাকার অংশকে গ্রানা এবং তরল অংশকে স্ট্রোমা বলে।
আলোর বিক্রিয়া গ্রানায় ও অন্ধকার বিক্রিয়া স্ট্রোমায় হয়। - ১৩২. ফটোসিন্থেসিস গাছের কোন অংশে হয়?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. গাছের সবুজ অংশে
- খ. গাছের সকল অংশে
- গ. কাণ্ডে
- ঘ. মূলে
উত্তর: ক. গাছের সবুজ অংশে
সালোকসংশ্লেষণ ঘটাতে ক্লোরোফিল দরকার, আর ক্লোরোফিল থাকে উদ্ভিদের সবুজ অংশে। তাই গাছের সবুজ পাতা এবং সবুজ কাণ্ডে এই কাজ হয়। মূল সাধারণত মাটির নিচে থাকে, সেখানে আলো পৌঁছায় না এবং ক্লোরোফিলও থাকে না, তাই মূলে সালোকসংশ্লেষণ হয় না। গাছের সবুজ কচি কাণ্ড ও পাতার বোঁটাতেও কিছুটা ক্লোরোফিল থাকে, তাই সেখানেও সামান্য খাদ্য তৈরি হয়। শৈবাল ও সবুজ জলজ উদ্ভিদের পুরো দেহেই এই কাজ হয়।
মনে রাখুন:
পাতা সালোকসংশ্লেষণের প্রধান অঙ্গ, কারণ এতে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
ফলের সবুজ অবস্থাতেও কিছুটা সালোকসংশ্লেষণ হয়। - ১৩৩. সালোকসংশ্লেষণ সংঘটিত হয় যেখানে-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. মাইটোকন্ড্রিয়া আছে
- খ. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম আছে
- গ. নিউক্লিয়াস আছে
- ঘ. ক্লোরোফিল আছে
উত্তর: ঘ. ক্লোরোফিল আছে
সালোকসংশ্লেষণ সেখানেই ঘটে যেখানে ক্লোরোফিল আছে, কারণ ক্লোরোফিলই সূর্যের আলো ধরে খাদ্য তৈরির কাজ শুরু করে। মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও নিউক্লিয়াস প্রায় সব উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষেই থাকে, কিন্তু তাদের কাজ আলাদা। মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি জোগায়, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম পদার্থ পরিবহন করে এবং নিউক্লিয়াস কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্ভিদের পাতার কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট প্রচুর, তাই পাতায় সবচেয়ে বেশি খাদ্য তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রাণীকোষে ক্লোরোফিল না থাকায় প্রাণী সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে না। ক্লোরোফিল ছাড়া উদ্ভিদ সূর্যের আলো থেকে শক্তি ধরতে পারত না।
মনে রাখুন: উদ্ভিদকোষে ক্লোরোফিল ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে থাকে, আর প্রাণীকোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না। - ১৩৪. পাতার যে কোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে -সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. প্যারেনকাইমা
- খ. কোলেনকাইমা
- গ. প্যালিসেড প্যারেনকাইমা
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. প্যালিসেড প্যারেনকাইমা
পাতার ভেতরে কয়েক রকম কোষ থাকে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে প্যালিসেড প্যারেনকাইমায় (Palisade parenchyma)। এই কোষগুলো লম্বা ও থামের মতো, পাতার ওপরের দিকে সারি বেঁধে সাজানো থাকে, যাতে আলো সরাসরি এদের ওপর পড়তে পারে। তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রধানত এই কোষেই হয়। কোষে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় ও আলো সরাসরি পাওয়ায় এই কোষের সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি। নিচের স্পঞ্জি কোষেও ক্লোরোপ্লাস্ট আছে, তবে তুলনায় কম।
মনে রাখুন:
প্যালিসেড কোষের নিচে স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা থাকে, যেখানে ফাঁকা জায়গা বেশি।
কোলেনকাইমা পাতাকে নমনীয়তা ও দৃঢ়তা দেয়। - ১৩৫. উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি হয় কোথায়?রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সিনিয়র অফিসার, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. বীজপত্রে
- খ. কচিকাণ্ডে, বীজপত্রে ও পাতায়
- গ. পাতায়
- ঘ. কচিকাণ্ডের
উত্তর: খ. কচিকাণ্ডে, বীজপত্রে ও পাতায়
উদ্ভিদের যেসব অংশ সবুজ, সেখানেই ক্লোরোফিল থাকে এবং সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি হয়। পাতাই প্রধান খাদ্য তৈরির কারখানা, কিন্তু কচি কাণ্ড ও বীজপত্রও সবুজ হলে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। তাই শুধু পাতাকে নয়, এই তিনটি অংশকেই খাদ্য তৈরির জায়গা বলা হয়। গাছের যে অংশে খাদ্য তৈরি হয় না, যেমন মূল বা ফল, সেখানে খাদ্য জমা হয় বা ব্যবহৃত হয়। উদ্ভিদ এভাবে তৈরির জায়গা থেকে ব্যবহারের জায়গায় খাদ্য পাঠায়।
মনে রাখুন:
পাতায় তৈরি খাদ্য ফ্লোয়েম নালির মাধ্যমে উদ্ভিদের অন্য অংশে পৌঁছায়।
পাতার তৈরি বাড়তি খাদ্য শ্বেতসার হিসেবে জমা হয়। - ১৩৬. কোন কাণ্ড খাদ্য তৈরি করে?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. হলুদ এর কাণ্ড
- খ. রূপান্তরিত কাণ্ড
- গ. বায়বীয় কাণ্ড
- ঘ. সবুজ কাণ্ড
উত্তর: ঘ. সবুজ কাণ্ড
যে কাণ্ডে ক্লোরোফিল থাকে, তাকে সবুজ কাণ্ড বলে, এবং সেটি সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে। কচি ডাল ও লতানো গাছের কাণ্ড এমন সবুজ হয়ে থাকে। হলুদের কাণ্ড মাটির নিচে থাকে, আর এটি রূপান্তরিত কাণ্ড, যা খাদ্য জমা রাখে, তৈরি করে না। ফণিমনসা বা ক্যাকটাসের মতো মরুর গাছে পাতা কাঁটায় রূপ নিয়েছে, তাই খাদ্য তৈরির কাজ করে সবুজ কাণ্ড। এতে প্রস্বেদনও কম হয়, ফলে গাছ মরুভূমিতে টিকে থাকতে পারে।
মনে রাখুন:
রূপান্তরিত কাণ্ডের উদাহরণ: আদা, হলুদ, আলু ও পেঁয়াজ।
ফণিমনসার কাণ্ড সবুজ এবং পাতার কাজও সেই কাণ্ড করে। - ১৩৭. একমাত্র সবুজ উদ্ভিদ কি ব্যবহার করে নিজ খাদ্য তৈরি করে?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. তাপ
- খ. CO₂
- গ. সৌরশক্তি
- ঘ. বিদ্যুৎ
উত্তর: গ. সৌরশক্তি
সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সূর্যের আলো ব্যবহার করে। ক্লোরোফিল সূর্যের আলোর শক্তি শুষে নেয়, সেই শক্তি দিয়ে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। তাপ বা বিদ্যুৎ খাদ্য তৈরির শক্তি জোগায় না। একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সৌরশক্তিকে সরাসরি রাসায়নিক শক্তিরূপে খাদ্যে জমা করতে পারে। উদ্ভিদ ছাড়াও কিছু ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল সূর্যের আলো থেকে শক্তি নিয়ে খাদ্য তৈরি করে। এদের সবাইকে আলোকসংশ্লেষী জীব বলা হয়।
মনে রাখুন:
সৌরশক্তি → রাসায়নিক শক্তি, এটিই সালোকসংশ্লেষণের শক্তি রূপান্তর।
এ কারণে সূর্যই পৃথিবীর প্রায় সব খাদ্যের মূল শক্তির উৎস। - ১৩৮. সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে কোষের কোন অঙ্গ?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. সাইটোপ্লাজম
- খ. নিউক্লিয়াস
- গ. ক্লোরোপ্লাস্ট
- ঘ. গলজি বস্তু
উত্তর: গ. ক্লোরোপ্লাস্ট
কোষের ভেতরে যে সবুজ অঙ্গাণুতে সালোকসংশ্লেষণ হয়, তার নাম ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)। এতে ক্লোরোফিল থাকে বলে এটি সূর্যের আলো ধরতে পারে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। নিউক্লিয়াস কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, সাইটোপ্লাজম কোষের ভেতরের জেলির মতো পদার্থ, আর গলজি বস্তু নানা পদার্থ সংরক্ষণ ও বিতরণ করে। গাছের সবুজ রঙের জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিল দায়ী। শরতে ক্লোরোফিল ভেঙে গেলে পাতা হলুদ বা লালচে হয়ে ওঠে, কারণ তখন অন্য রঞ্জক চোখে পড়ে।
মনে রাখুন: ক্লোরোপ্লাস্টের নিজস্ব DNA আছে, তাই এটি কিছুটা নিজে নিজেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। - ১৩৯. সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না-প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. পাতায়
- খ. শাখা-প্রশাখায়
- গ. সবুজ কাণ্ডে
- ঘ. মূলে
উত্তর: ঘ. মূলে
সালোকসংশ্লেষণের জন্য ক্লোরোফিল ও আলো দরকার। পাতা, শাখা-প্রশাখা ও সবুজ কাণ্ডে ক্লোরোফিল থাকে এবং আলোও পৌঁছায়, তাই এসব অংশে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। মূল সাধারণত মাটির নিচে থাকে, সেখানে আলো পৌঁছায় না ও ক্লোরোফিলও থাকে না, ফলে মূলে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না। আবার কিছু গাছের মূল মাটির ওপরে এসে আলো পায়, ফলে সবুজ হয়ে সালোকসংশ্লেষণ করে। তবে সাধারণ গাছের মাটির নিচের মূলে তা ঘটে না।
মনে রাখুন:
মূলের কাজ মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করা এবং গাছকে মাটিতে আটকে রাখা।
কিছু জলজ উদ্ভিদের বায়বীয় মূলে ক্লোরোফিল থাকে। - ১৪০. পাতার ক্লোরোফিল সহায়তা করে -DPE-র হিসাব সহকারী, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. খাদ্য তৈরিতে
- খ. শ্বসন প্রক্রিয়ায়
- গ. পরাগায়নে
- ঘ. বংশ বৃদ্ধিতে
উত্তর: ক. খাদ্য তৈরিতে
পাতার ক্লোরোফিল (Chlorophyll) সূর্যের আলো শুষে নেয় এবং সেই শক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ তৈরি করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ ক্লোরোফিলের প্রধান কাজ হলো খাদ্য তৈরিতে সহায়তা করা। শ্বসন সব কোষেই হয় এবং এর জন্য ক্লোরোফিল লাগে না। ক্লোরোফিলের পরিমাণ বেশি হলে পাতার রঙ গাঢ় সবুজ দেখায়। শরৎকালে সেই ক্লোরোফিল ভেঙে গেলে পাতা হলদে হয়ে ঝরে যায়। ক্লোরোফিল শুধু খাদ্য তৈরির কাজ শুরু করে, শ্বসন বা পরাগায়নে এর ভূমিকা নেই।
মনে রাখুন:
ক্লোরোফিলে ম্যাগনেসিয়াম (Mg) থাকে।
ক্লোরোফিল না থাকলে পাতা হলুদ বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। - ১৪১. সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া, সেখানে তৈরি হয় -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. O₂
- খ. CO₂
- গ. SO₂
- ঘ. DNA
উত্তর: ক. O₂
সালোকসংশ্লেষণে গ্লুকোজ তৈরির সঙ্গে সঙ্গে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন (O₂) তৈরি হয়। আলোর উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানির অণু ভেঙে যায়, তখন তা থেকে অক্সিজেন মুক্ত হয় এবং পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাতাসে মিশে যায়। কার্বন ডাই-অক্সাইড এখানে কাঁচামাল, উৎপন্ন বস্তু নয়। উদ্ভিদের এই কাজের ফলে বাতাসে অক্সিজেন ফিরে আসে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ সীমিত থাকে। তাই বন ও সাগরের শৈবালকে পৃথিবীর ফুসফুসও বলা হয়।
মনে রাখুন:
সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂
বায়ুর অক্সিজেনের বড় একটি অংশ আসে গাছ ও শৈবালের সালোকসংশ্লেষণ থেকে। - ১৪২. গাছপালা বায়ুমণ্ডলে কি ত্যাগ করে?খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০০৯ ও শ্রম অধিদপ্তরে শ্রম কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. অক্সিজেন
- খ. হিলিয়াম
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর: ক. অক্সিজেন
গাছপালা সালোকসংশ্লেষণের সময় বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয় এবং বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। এই অক্সিজেন আমাদের শ্বাসের জন্য অপরিহার্য। হিলিয়াম ও নাইট্রোজেন গাছ ত্যাগ করে না, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড সে শ্বসনের সময় ছাড়লেও দিনের বেলায় সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে ফেলে, ফলে ফলাফলে অক্সিজেনই বেশি বের হয়। আমাজন বনকে এ কারণেই পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। তবে সাগরের শৈবাল ও ফাইটোপ্ল্যাংকটন পৃথিবীর অক্সিজেনের বড় অংশ যোগান দেয়। ফলে বনভূমি আমাদের বাতাস পরিষ্কার রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
মনে রাখুন: দিনে গাছ যত অক্সিজেন ছাড়ে, শ্বসনে তার চেয়ে অনেক কম অক্সিজেন ব্যবহার করে। - ১৪৩. সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস কি?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. ক্লোরোফিল
- খ. কার্বন ডাই অক্সাইড
- গ. পানি
- ঘ. পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর: গ. পানি
সালোকসংশ্লেষণে যে অক্সিজেন বেরিয়ে আসে, তা আসে পানির অণু থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে নয়। আলোর বিক্রিয়ায় ক্লোরোফিলের শক্তিতে পানির অণু ভেঙে যায় এবং তা থেকে অক্সিজেন বের হয়। এ কথা বিজ্ঞানীরা তেজস্ক্রিয় অক্সিজেন-১৮ আইসোটোপ দিয়ে পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন। কার্বন ডাই-অক্সাইডের অক্সিজেন গ্লুকোজ ও পানির অণুতে চলে যায়। ফলে গ্লুকোজের কার্বন আসে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে, আর হাইড্রোজেন আসে পানি থেকে। এই ধারণা প্রথম দেন বিজ্ঞানী কর্নেলিস ফ্যান নিল। অক্সিজেন-১৮ দিয়ে চিহ্নিত পানি ব্যবহার করলে নির্গত অক্সিজেনেও সেই চিহ্ন মেলে।
মনে রাখুন: পানির অণু ভাঙাকে আলোক-বিশ্লেষণ (Photolysis) বলে। - ১৪৪. সালোক সংশ্লেষণের অন্ধকার বিক্রিয়া কি নামে পরিচিত?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. টমসন বিক্রিয়া
- খ. কেলভিন বিক্রিয়া
- গ. কার্লো বিক্রিয়া
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. কেলভিন বিক্রিয়া
সালোকসংশ্লেষণ দুই ধাপে সম্পন্ন হয়: আলোর বিক্রিয়া ও অন্ধকার বিক্রিয়া। অন্ধকার বিক্রিয়ায় সরাসরি আলো লাগে না, তবে আলোর বিক্রিয়ায় তৈরি পদার্থ ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ গঠিত হয়। বিজ্ঞানী মেলভিন ক্যালভিন এই ধাপের বিস্তারিত পথ আবিষ্কার করেছিলেন বলে একে কেলভিন বিক্রিয়া বা ক্যালভিন চক্র (Calvin cycle) বলা হয়। কেলভিন বিক্রিয়ার কাজ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডকে স্থির করে শর্করায় পরিণত করা। আলোর বিক্রিয়ায় তৈরি ATP ও NADPH এখানে শক্তি ও হাইড্রোজেন জোগায়। এ কারণে অন্ধকার বিক্রিয়া আসলে আলো ছাড়া পুরোপুরি চলে না, দিনের বেলাতেই বেশি ঘটে।
মনে রাখুন:
আলোর বিক্রিয়া ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় এবং অন্ধকার বিক্রিয়া স্ট্রোমায় ঘটে।
আলোর বিক্রিয়ায় ATP ও অক্সিজেন তৈরি হয়। - ১৪৫. কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না -BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. লাল
- খ. নীল
- গ. বেগুনী
- ঘ. সবুজ
উত্তর: ঘ. সবুজ
সূর্যের সাদা আলোর মধ্যে নানা রঙের আলো মিশে আছে। ক্লোরোফিল প্রধানত লাল এবং নীল-বেগুনি আলো শুষে নেয়, তাই সালোকসংশ্লেষণ এসব আলোতে সবচেয়ে ভালো হয়। সবুজ আলো ক্লোরোফিল প্রায় শুষতে পারে না, বেশিরভাগটাই প্রতিফলিত হয়ে যায়। সে কারণেই আমাদের চোখে পাতা সবুজ দেখায়। অর্থাৎ লাল ও নীল-বেগুনি আলো খাদ্য তৈরির কাজে লাগে, আর সবুজ আলো তুলনায় অকেজো। কৃত্রিম আলোতে গাছ জন্মানোর সময় তাই লাল-নীল আলো বেশি ব্যবহার করা হয়। সবুজ আলোর বেশিরভাগ অংশ পাতা থেকে প্রতিফলিত হয়।
মনে রাখুন: সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয় লাল আলোতে, তারপর নীল আলোতে। - ১৪৬. বায়ুর কোন উপাদান জীবন ধারণের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. জলীয় বাষ্প
- ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর: খ. অক্সিজেন
বায়ুতে প্রায় ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন, ২১ ভাগ অক্সিজেন, আর খুব অল্প পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প থাকে। এদের মধ্যে জীবন ধারণের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় উপাদান হলো অক্সিজেন। শ্বসনের সময় আমরা অক্সিজেন নিই, যা খাদ্য জারিত করে শক্তি উৎপন্ন করে। সেই শক্তি দিয়েই আমরা হাঁটি, কাজ করি এবং আমাদের শরীর চলে। শ্বসনে অক্সিজেন খাদ্যকে জারিত করে এবং শক্তি মুক্ত করে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কমে গেলে, যেমন অনেক উঁচু পাহাড়ে, মানুষের শ্বাসকষ্ট হয়।
মনে রাখুন:
অক্সিজেন ছাড়া মস্তিষ্কের কোষ মাত্র কয়েক মিনিটেই নষ্ট হতে শুরু করে।
নাইট্রোজেন বায়ুর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্যাস। - ১৪৭. অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন হয় তাকে বলা হয় -স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. অবাত শ্বসন
- খ. শ্বসন
- গ. ক ও উভয়ই
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. অবাত শ্বসন
শ্বসন দুই রকম। বাতাসের অক্সিজেন ব্যবহার করে খাদ্য ভেঙে শক্তি পাওয়াকে সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) বলে। আর অক্সিজেন ছাড়াই খাদ্যের আংশিক ভাঙনে শক্তি পাওয়াকে অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration) বলে। ইস্ট বা খামিরে এ ধরনের শ্বসন ঘটে, তখন গ্লুকোজ ভেঙে ইথানল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। অবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজ থেকে মাত্র ২ অণু ATP পাওয়া যায়, তাই এতে অনেক কম শক্তি মেলে। ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ও কিছু পরজীবী কৃমি এভাবে শক্তি পায়।
মনে রাখুন:
সবাত শ্বসনে বেশি শক্তি পাওয়া যায়, অবাত শ্বসনে কম।
মানুষের পেশিতে অতিরিক্ত পরিশ্রমে অবাত শ্বসন হয় এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে। - ১৪৮. সবাত শ্বসনে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে কয় অণু পানি পাওয়া যায়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. ৩৮ অণু
- খ. ১২ অণু
- গ. ২ অণু
- ঘ. ৬ অণু
উত্তর: ঘ. ৬ অণু
সবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজ অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ভেঙে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও শক্তি উৎপন্ন হয়। সমীকরণ হলো C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি। এখানে ৬ অণু অক্সিজেন লাগে, আর উৎপন্ন হয় ৬ অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড ও ৬ অণু পানি। গ্লুকোজ ভেঙে আসলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের কার্বন আর পানির হাইড্রোজেন পাওয়া যায়। এই বিক্রিয়ায় যে শক্তি মুক্ত হয়, তার একটি অংশ কোষ ATP অণুতে জমিয়ে রাখে, বাকিটা তাপ হিসেবে বেরিয়ে যায়।
মনে রাখুন:
এক অণু গ্লুকোজ থেকে মোট ৩৮ অণু (কোনো কোনো হিসাবে ৩০ বা ৩২) ATP পাওয়া যায়।
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ এর ঠিক উল্টো। - ১৪৯. মাইটোকন্ড্রিয়ার কোষে কি ধরনের অঙ্গাণু আছে?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. রেচন অঙ্গাণু
- খ. পরিপাক অঙ্গাণু
- গ. শ্বসন অঙ্গাণু
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. শ্বসন অঙ্গাণু
মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) কোষের এমন একটি অঙ্গাণু, যেখানে শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো ঘটে এবং শক্তি তৈরি হয়। তাই একে শ্বসন অঙ্গাণু বলা হয়। এই শক্তি ATP নামের অণুতে জমা থাকে এবং কোষের প্রয়োজনে খরচ হয়। যেসব কোষ বেশি শক্তি খরচ করে, যেমন পেশিকোষ, তাতে মাইটোকন্ড্রিয়া বেশি থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ার দুটি পর্দা আছে। ভেতরের পর্দা ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি তৈরি করে, যা শ্বসনের কাজের জায়গা বাড়িয়ে দেয়। প্রাণীর যকৃত ও পেশির কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া প্রচুর থাকে, কারণ ওই কোষগুলো প্রচুর কাজ করে।
মনে রাখুন: মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের ‘শক্তিঘর’ (Powerhouse) বলা হয়। - ১৫০. কোষের শক্তি উৎপাদন করে -DAE-র উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
- খ. কোষ গহবর
- গ. লিউকোপ্লাস্ট
- ঘ. গলজি বস্তু
উত্তর: ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)। সেখানে শ্বসনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ভেঙে ATP তৈরি হয়, যা কোষের সব কাজের শক্তি জোগায়। এ কারণে একে কোষের শক্তিঘর বলা হয়। গলজি বস্তু পদার্থ সংরক্ষণ ও বিতরণ করে, আর লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন প্লাস্টিড, যা শ্বেতসার জমা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের ভেতরে আলাদা ভাবে নিজেকে দ্বিগুণ করতে পারে। তাই প্রাণীর ডিম্বাণুর মাইটোকন্ড্রিয়া সন্তানের শরীরে চলে আসে, শুক্রাণুর মাইটোকন্ড্রিয়া সাধারণত আসে না। অন্য কোনো অঙ্গাণু কোষে এত বেশি পরিমাণ শক্তি তৈরি করে না।
মনে রাখুন:
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে নিজস্ব DNA আছে।
মাইটোকন্ড্রিয়া দেখতে ডিম্বাকার, এর দুটি পর্দা আছে। - ১৫১. কোনটিতে শ্বসন ঘটে?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. নিউক্লিয়াসে
- খ. মাইটোকন্ড্রিয়ায়
- গ. সাইটোপ্লাজমে
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. মাইটোকন্ড্রিয়ায়
শ্বসনের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, বিশেষ করে ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন পরিবহন, মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি শক্তি তৈরি হয়। তাই শ্বসন ঘটে বলতে মাইটোকন্ড্রিয়াকেই বোঝানো হয়। নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সেখানে শ্বসন হয় না। ক্রেবস চক্রের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী হ্যান্স ক্রেবস। এই চক্রে পাইরুভিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি হয়ে যায় এবং অধিকাংশ ATP তৈরি হয়। এসব ধাপ শেষ হলে এক অণু গ্লুকোজ থেকে বেশিরভাগ ATP তৈরি হয়ে যায়।
মনে রাখুন: শ্বসনের প্রথম ধাপ গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং পরের ধাপগুলো ঘটে মাইটোকন্ড্রিয়ায়। - ১৫২. গ্লাইকোলাসিস প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের কোথায় সংঘটিত হয়?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. সাইটোপ্লাজম
- খ. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
- গ. মাইটোকন্ড্রিয়া
- ঘ. নিউক্লিয়াস
উত্তর: ক. সাইটোপ্লাজম
শ্বসনের প্রথম ধাপের নাম গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis)। এই ধাপে এক অণু গ্লুকোজ ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয়। উদ্ভিদকোষে এটি সাইটোপ্লাজমে ঘটে, এর জন্য অক্সিজেন লাগে না। পরের ধাপগুলো সবাত শ্বসনে মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে। এই ধাপে সামান্য শক্তি মুক্ত হয়, তবে পরের ধাপের কাঁচামাল পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয় বলে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অক্সিজেন পাওয়া গেলে পাইরুভিক অ্যাসিড মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঢোকে, না পেলে সাইটোপ্লাজমেই অবাত শ্বসন চলে।
মনে রাখুন:
গ্লাইকোলাইসিসে নিট ২ অণু ATP তৈরি হয়।
এই ধাপ সবাত ও অবাত দুই ধরনের শ্বসনেই ঘটে। - ১৫৩. শ্বসনে নির্গত হয় -প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (মিসিসিপি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. অক্সিজেন
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- ঘ. উপরের সবগুলোই
উত্তর: গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
শ্বসনে খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি পাওয়া যায়, আর বর্জ্য হিসেবে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি বের হয়ে আসে। তাই শ্বসনে নির্গত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড। অক্সিজেন এখানে গ্রহণ করা হয়, নির্গত হয় না, আর নাইট্রোজেন শ্বসনে অংশ নেয় না, তাই তা বাইরে আসে না। শ্বসনের এই কার্বন ডাই-অক্সাইড পরে সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, তাই প্রকৃতিতে কার্বনের চক্র চলতে থাকে। এখানে অক্সিজেন গৃহীত হয়, আর শ্বসনের শেষে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্জ্য হিসেবে বের হয়।
মনে রাখুন:
নিঃশ্বাসে ছাড়া বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ৪ ভাগ থাকে, যেখানে সাধারণ বাতাসে তা মাত্র ০.০৪ ভাগ।
চুনের পানি কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করে, গ্যাসটি দিলে তা ঘোলা হয়ে যায়। - ১৫৪. কোন এনজাইমের প্রভাবে গ্লুকোজ ইথানলে পরিণত হয়?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. মল্টেজ
- খ. জাইমেজ
- গ. ইনভার্টেজ
- ঘ. ডায়াসটেজ
উত্তর: খ. জাইমেজ
ইস্ট বা খামির অক্সিজেন ছাড়াই গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি পায়। এ কাজে জাইমেজ (Zymase) নামের এনজাইম সাহায্য করে এবং গ্লুকোজ ভেঙে ইথানল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়। একে গাঁজন বা ফারমেন্টেশন বলে। মল্টেজ মল্টোজ ভাঙে, ইনভার্টেজ ভাঙে সুক্রোজ, আর ডায়াস্টেজ শ্বেতসারকে মল্টোজে পরিণত করে। এই গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি কার্বন ডাই-অক্সাইড আটাকে ফুলিয়ে দেয়, তাই ইস্ট মেশানো আটা ফেঁপে ওঠে এবং রুটি বা পাউরুটি নরম হয়।
মনে রাখুন:
সমীকরণ: C₆H₁₂O₆ → 2C₂H₅OH + 2CO₂ + শক্তি
রুটি ফোলানো ও মদ তৈরিতে এই গাঁজন কাজে লাগে। - ১৫৫. শ্বসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ ত্যাগ করে-NBR-র সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
- ক. অক্সিজেন
- খ. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
- গ. কার্বন ডাই অক্সাইড
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: গ. কার্বন ডাই অক্সাইড
উদ্ভিদও আমাদের মতো সারাক্ষণ শ্বসন করে। শ্বসনের সময় সে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয় এবং শ্বসনের বর্জ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। দিনের বেলা সালোকসংশ্লেষণ চলে বলে সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড আবার ব্যবহৃত হয়ে যায়, ফলে আমরা শুধু অক্সিজেন বের হতে দেখি। সবুজ অংশে শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষণ একসঙ্গে চলে। মূল, কাণ্ড, ফল ও ফুলেও শ্বসন হয়, সেখানে আলো না থাকলেও শ্বসন থামে না। সুতরাং শ্বসনে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়া আর কোনো গ্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে বের হয় না।
মনে রাখুন: রাতে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে, কিন্তু শ্বসন চলতে থাকে, তাই তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়। - ১৫৬. সাইটোকাইনিন একটি -আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ হরমোন
- ক. ভিটামিন
- খ. এনজাইম
- গ. হরমোন
- ঘ. কার্বহাইড্রেট
উত্তর: গ. হরমোন
উদ্ভিদের দেহেও এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, যা খুব অল্প পরিমাণেই বৃদ্ধি ও অন্যান্য কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এদের উদ্ভিদ হরমোন (Plant hormone) বলে। সাইটোকাইনিন (Cytokinin) এমনই একটি হরমোন। এটি কোষ বিভাজন বাড়ায় এবং পাতার বার্ধক্য দেরিতে আনে। এটি ভিটামিন, এনজাইম বা কার্বোহাইড্রেট নয়। সাইটোকাইনিন সাধারণত মূলের ডগায় তৈরি হয়, তারপর কাণ্ড ও পাতায় পৌঁছায়। অক্সিনের সঙ্গে মিলে এটি কোষ বিভাজনের হার ঠিক রাখে এবং টিস্যু কালচারে নতুন চারা জন্মাতে কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
অক্সিন কাণ্ডের লম্বা হওয়া ও মূল গজাতে সাহায্য করে।
জিবেরেলিন কাণ্ডের বৃদ্ধি ও বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটায়।
ইথিলিন ফল পাকায়। - ১৫৭. ফুল ফোটা, অঙ্কুরোদগম এর ক্ষেত্রে কোন এনজাইমের ভূমিকা আছে?সিডিএফ-এর অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ হরমোন
- ক. ইন্ডোল অ্যাসিটিক এসিড
- খ. জিবেরেলিন
- গ. ইথিলিন গ্লাইকল
- ঘ. সাইটোকাইনিন
উত্তর: খ. জিবেরেলিন
বীজের অঙ্কুরোদগম ও ফুল ফোটা নিয়ন্ত্রণে জিবেরেলিন (Gibberellin) নামের উদ্ভিদ হরমোনের বড় ভূমিকা আছে। এটি বীজের সুপ্তাবস্থা ভেঙে দেয় এবং কাণ্ডকে লম্বা করে। প্রশ্নে ‘এনজাইম’ বলা হলেও জিবেরেলিন আসলে হরমোন, এনজাইম নয়। ইন্ডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড একটি অক্সিন, সাইটোকাইনিন কোষ বিভাজন ঘটায়, আর ইথিলিন গ্লাইকল গাড়ির অ্যান্টিফ্রিজে ব্যবহৃত হয় এবং এটি হরমোন নয়। জিবেরেলিন ব্যবহার করে বেঁটে গাছ লম্বা করা যায়, আবার বীজবিহীন আঙুর বড় করতেও এটি কাজে লাগে। জাপানি বিজ্ঞানী কুরোসাওয়া এই হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন।
মনে রাখুন: জিবেরেলিন প্রথম পাওয়া গেছে জিবেরেলা নামের এক ছত্রাক থেকে। - ১৫৮. কাঁচা কলা, টমেটো ও পেঁপে পাকানোর জন্য কি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়?ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০২-০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ হরমোন
- ক. ইথিলিন
- খ. ইথিকন
- গ. কার্বাইড
- ঘ. মিথিলিন
উত্তর: ক. ইথিলিন
কাঁচা ফল পাকানোর কাজে ইথিলিন (Ethylene, C₂H₄) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ইথিলিন একটি উদ্ভিদ হরমোন, যা গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। পাকা ফল থেকে এই গ্যাস বেরোয় এবং কাছাকাছি কাঁচা ফলকে পাকিয়ে তোলে। তাই কাঁচা কলা, টমেটো ও পেঁপে পাকাতে এই হরমোন ব্যবহার করা হয়। ফল পাকার সময় ইথিলিন বেশি তৈরি হয়, ফলে ফলের শাঁস নরম হয়, রঙ বদলে যায় আর মিষ্টি স্বাদ আসে। পাকা কলার পাশে কাঁচা ফল রাখলে সেটিও তাড়াতাড়ি পেকে ওঠে।
মনে রাখুন:
কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কারণ কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো বিষাক্ত অশুদ্ধি থাকতে পারে।
ইথিলিন পাতা ঝরাতেও সাহায্য করে। - ১৫৯. কোনটি পুষ্পায়নে সহায়তা করে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ হরমোন
- ক. জিবেরেলিন
- খ. অক্সিন
- গ. ফ্লোরিজেন
- ঘ. ফাইটোক্রম
উত্তর: গ. ফ্লোরিজেন
গাছে ফুল ফোটার জন্য যে হরমোন দায়ী বলে ধরা হয়, তার নাম ফ্লোরিজেন (Florigen)। পাতায় আলোর দৈর্ঘ্য ধরা পড়লে এই হরমোন তৈরি হয় এবং ফুল ফোটানোর জায়গায় পৌঁছে পুষ্পায়ন ঘটায়। অক্সিন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, জিবেরেলিন কাণ্ড বাড়ায় আর ফাইটোক্রোম হলো আলো শনাক্ত করার রঞ্জক, হরমোন নয়। পাতায় দিন-রাতের দৈর্ঘ্য বুঝতে পারা রঞ্জক ফাইটোক্রম আলোর সংকেত ধরে, আর সেই সংকেত পেয়ে ফ্লোরিজেন তৈরি হয়। এভাবে ফাইটোক্রম পরোক্ষভাবে ফুল ফোটার সঙ্গে জড়িত থাকে।
মনে রাখুন: ফ্লোরিজেন এখনো সরাসরি আলাদা করা যায়নি, তবে এর কাজ প্রমাণিত। - ১৬০. উদ্ভিদের মুখ্য পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে প্রাথমিক উপাদানগুলো কি কি? (প্রতীকগুলো প্রচলিত অর্থ বহন করে)কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. Fe, Mn, Zn
- খ. Mo, B, Na
- গ. N, P, K
- ঘ. Ca, Mg, S
উত্তর: গ. N, P, K
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যেসব পুষ্টি উপাদান বেশি পরিমাণে লাগে, তাদের মধ্যে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটিকে প্রাথমিক পুষ্টি উপাদান বলে। মাটিতে এগুলো দ্রুত কমে যায়, তাই সারের মাধ্যমে এদের জোগান দিতে হয়। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফারকে বলা হয় মাধ্যমিক উপাদান। মাটিতে এই তিনটি উপাদানের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হয়। এ কারণে কৃষকেরা ইউরিয়া (নাইট্রোজেন), টিএসপি (ফসফরাস) ও এমওপি (পটাশিয়াম) সার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। এই তিনটির সম্মিলিত সারকে NPK সার বলে।
মনে রাখুন:
NPK সারের তিন উপাদান: N পাতা বাড়ায়, P মূল ও ফুল-ফলের বিকাশ ঘটায়, K রোগ প্রতিরোধ বাড়ায়।
আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও জিংক অতি অল্প পরিমাণে লাগে। - ১৬১. নিচের কোনটি ম্যাক্রোমৌল?DAE-র উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. বোরন
- গ. আর্সেনিক
- ঘ. মারকারি
উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
উদ্ভিদের যেসব খনিজ উপাদান বেশি পরিমাণে লাগে, তাদের ম্যাক্রো উপাদান (Macronutrient) বা ম্যাক্রোমৌল বলে। নাইট্রোজেন এই দলের একটি মৌল, কারণ এটি প্রোটিন ও ক্লোরোফিল তৈরিতে প্রচুর লাগে। বোরন অতি অল্প পরিমাণে লাগে বলে সেটি মাইক্রো উপাদান। আর্সেনিক ও মারকারি উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান নয়, বরং বিষাক্ত। নাইট্রোজেন বায়ুতে আছে ৭৮ ভাগ, কিন্তু উদ্ভিদ তা সরাসরি নিতে পারে না। উদ্ভিদ মাটির নাইট্রেট ও অ্যামোনিয়াম আয়ন থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে।
মনে রাখুন:
ম্যাক্রো উপাদান: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার।
মাইক্রো উপাদান: লৌহ, জিংক, তামা, বোরন, মলিবডেনাম, ক্লোরিন। - ১৬২. উদ্ভিদের ম্যাক্রো খাদ্য উপাদান (Macro-nutrient) কোনটি?আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. জিংক
- খ. পটাশিয়াম
- গ. কপার
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: খ. পটাশিয়াম
উদ্ভিদের ম্যাক্রো পুষ্টি উপাদান (Macronutrient) বেশি পরিমাণে লাগে। পটাশিয়াম এই দলের একটি উপাদান, এটি কোষের পানি নিয়ন্ত্রণ এবং এনজাইমের কাজে সাহায্য করে। জিংক, তামা ও ক্লোরিন অল্প পরিমাণে লাগে, তাই এরা মাইক্রো উপাদান। পটাশিয়াম উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ করার কাজেও সাহায্য করে। তাই এটি প্রস্বেদন ও সালোকসংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার পটাশিয়ামের অভাবে ফল ছোট হয় এবং কাণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে।
মনে রাখুন:
ম্যাক্রো উপাদান: N, P, K, Ca, Mg, S।
মাইক্রো উপাদান: Fe, Zn, Cu, B, Mo, Cl, Mn।
পটাশিয়ামের অভাবে পাতার কিনারা হলদে হয়ে শুকিয়ে যায়। - ১৬৩. কোনটি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট নয়?DOE-র ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. বোরন
- খ. সালফার
- গ. মলিবডেনাম
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: খ. সালফার
মাইক্রো পুষ্টি উপাদান (Micronutrient) উদ্ভিদের খুব অল্প পরিমাণে লাগে। বোরন, মলিবডেনাম ও ক্লোরিন এই দলে পড়ে। কিন্তু সালফার বেশি পরিমাণে লাগে, তাই এটি ম্যাক্রো উপাদান। সালফার প্রোটিন তৈরির জন্য দরকারি অ্যামিনো অ্যাসিড গঠনে অংশ নেয়। সালফার বেশি পরিমাণে লাগে বলে ম্যাক্রো দলে পড়ে, কারণ উদ্ভিদের প্রোটিনের কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনে সালফার থাকে। বোরন, মলিবডেনাম ও ক্লোরিনের চাহিদা এত কম যে এদের মাত্রা সামান্য বাড়লেই গাছের ক্ষতি হতে পারে।
মনে রাখুন:
অল্প লাগলেও মাইক্রো উপাদান জরুরি, কারণ এদের অভাবে উদ্ভিদে রোগ দেখা দেয়।
বোরনের অভাবে ফুলকপির কাণ্ডে ফাঁপা দাগ হয়। - ১৬৪. উদ্ভিদ কোন মৌলিক উপাদান মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার (আরবরিকলচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. ম্যাগনেসিয়াম
- খ. ফসফরাস
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. পটাশিয়াম
উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
উদ্ভিদ মাটি থেকে নানা খনিজ উপাদান গ্রহণ করে, কিন্তু নাইট্রোজেন সে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নেয়। কারণ এটি প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড ও ক্লোরোফিলের অপরিহার্য উপাদান। তাই মাটিতে নাইট্রোজেন দ্রুত কমে যায় এবং ফসল ফলাতে প্রতি বছর ইউরিয়ার মতো নাইট্রোজেন-সার দিতে হয়। নাইট্রোজেন আমরা যে প্রতিটি আমিষে খুঁজে পাই তারই অংশ। যেহেতু উদ্ভিদ জীবন চালাতে এবং বীজ তৈরি করতে প্রচুর প্রোটিন বানায়, তাই এর চাহিদা অন্য উপাদানের চেয়ে বেশি।
মনে রাখুন: গাছের নাইট্রোজেন মাটিতে সাধারণত নাইট্রেট (NO₃⁻) ও অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) আয়ন হিসেবে থাকে। - ১৬৫. উদ্ভিদ কোন খাদ্যোপাদান মাটি থেকে নেয় না?আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. জিংক
- খ. পটাশিয়াম
- গ. কার্বন
- ঘ. ক্যালসিয়াম
উত্তর: গ. কার্বন
উদ্ভিদ জিংক, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান মাটি থেকে নেয়। কিন্তু কার্বন সে মাটি থেকে নেয় না। বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড পত্ররন্ধ্র দিয়ে ঢুকে সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, আর সেখান থেকেই উদ্ভিদ কার্বন পায়। তাই কার্বন গাছের বায়ু থেকে পাওয়া উপাদান। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড আছে মাত্র প্রায় ০.০৪ ভাগ, তবু গাছের শুকনো ওজনের প্রায় অর্ধেকই কার্বন। এই কার্বনের প্রায় সবটাই এসেছে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে বাতাস থেকে। কার্বনের এই উৎস মাটিতে নেই বলে সার দিয়ে তা জোগানো হয় না।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গাছ পানি থেকে এবং অক্সিজেন বাতাস থেকেও পায়। - ১৬৬. মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি থাকলে ধানগাছ কেমন দেখায়?ব্যয় হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীনে অধীক্ষক, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. পাতা গাঢ় হয়
- খ. পাতা সাদা দেখায়
- গ. পাতা হলুদ দেখায়
- ঘ. পাতা লাল রঙ দেখায়
উত্তর: গ. পাতা হলুদ দেখায়
মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি থাকলে ধান গাছ ক্লোরোফিল তৈরির উপাদান কম পায়, ফলে পাতা হলুদ দেখায়। গাছের বৃদ্ধিও কমে যায় এবং কুশি কম হয়। কৃষকেরা তখন জমিতে ইউরিয়া সার দেন, যাতে পাতা আবার গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে। নাইট্রোজেনের অভাব আগে নিচের পুরোনো পাতায় দেখা দেয়, কারণ গাছ নতুন পাতার দরকারে পুরোনো পাতা থেকে নাইট্রোজেন সরিয়ে নেয়। ধানের ক্ষেত্রে ফলন এতে অনেক কমে যায়।
মনে রাখুন:
অতিরিক্ত নাইট্রোজেন দিলে পাতা গাঢ় সবুজ হয় বটে, কিন্তু গাছ দুর্বল হয়ে ঢলে পড়তে পারে।
ইউরিয়ায় ৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। - ১৬৭. গাছের পাতা বেগুনি রং ধারণ করে কোন কারণে?৮ম বেসরকারী প্রভাষক নিবন্ধন, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. লৌহের অভাবে
- খ. ফসফরাসের অভাবে
- গ. গ্লুকোজের অভাবে
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. ফসফরাসের অভাবে
ফসফরাস উদ্ভিদে শক্তি স্থানান্তর, মূল গঠন ও ফুল-ফলের বিকাশে সাহায্য করে। মাটিতে ফসফরাসের ঘাটতি থাকলে গাছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের বেগুনি রঞ্জক জমে, ফলে পাতা বেগুনি রঙ ধারণ করে। বিশেষ করে ধান ও ভুট্টার চারায় এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়। অ্যান্থোসায়ানিন রঞ্জক গাছের পাতায় বেগুনি, লাল বা নীলচে রঙ আনে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বা ফসফরাসের অভাবে গাছে এর পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে ফসফরাসের অভাব চেনা যায় পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া দেখে।
মনে রাখুন:
লৌহের অভাবে নতুন পাতা হলদে হয়।
ফসফরাসের অভাবে গাছের বৃদ্ধি কমে এবং ফল দেরিতে ধরে। - ১৬৮. গাছের ফল ধরতে ও পাকতে দেরি হয় কিসের অভাবে?BPSC স্টাফ অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. বোরন
- খ. ফসফরাস
- গ. ম্যাগনেসিয়াম
- ঘ. সালফার
উত্তর: খ. ফসফরাস
ফসফরাস উদ্ভিদের ফুল ও ফল তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে এবং শক্তির বিনিময়ে অংশ নেয়। মাটিতে ফসফরাসের অভাব হলে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়, ফুল কম আসে এবং ফল ধরতে ও পাকতে দেরি হয়। সে কারণে ফল-ফসলে ফসফরাস-সার দেওয়ার প্রয়োজন হয়। ফসফরাস ছাড়া কোষে ATP তৈরি হয় না, কারণ ATP-র গঠনে ফসফেট থাকে। আবার DNA ও RNA-র গঠনেও ফসফরাস দরকার, তাই কোষ বিভাজন বাধা পায়।
মনে রাখুন:
ফসফরাস-সারের উদাহরণ: টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ডিএপি।
ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি বা গাঢ় সবুজ হয়ে যেতে পারে। - ১৬৯. নিচের কোনটির অভাবে একটি পাতা ফ্যাকাশে রঙের হতে পারে -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান
- ক. ফসফেট এবং লৌহ
- খ. ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম
- গ. ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহ
- ঘ. ফসফেট এবং পটাশিয়াম
উত্তর: গ. ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহ
পাতার সবুজ রঙের জন্য ক্লোরোফিল দায়ী। ক্লোরোফিলের অণুর কেন্দ্রে ম্যাগনেসিয়াম (Mg) থাকে, আর লৌহ (Fe) ক্লোরোফিল তৈরির বিক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ দুটির কোনোটি না পেলে গাছ ক্লোরোফিল ঠিকমতো বানাতে পারে না, ফলে পাতা ফ্যাকাশে বা হলদে হয়ে যায়। আয়রন বা লৌহ খুব অল্প লাগে, কিন্তু এর অভাবে নতুন পাতা হলুদ হয়ে যায়। অন্যদিকে ফসফেট ও পটাশিয়ামের অভাবে সবুজ রঙ নয়, বরং বৃদ্ধি ও ফলনে সমস্যা দেখা দেয়।
মনে রাখুন:
ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিলের গঠনের অংশ।
ক্লোরোফিল ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ চলে না, ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। - ১৭০. নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস কোনটি?মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন চক্র
- ক. মাটি
- খ. উদ্ভিদ
- গ. বায়ুমণ্ডল
- ঘ. প্রাণীদেহ
উত্তর: গ. বায়ুমণ্ডল
বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন গ্যাস (N₂)। পৃথিবীতে নাইট্রোজেনের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার তাই বায়ুমণ্ডল। মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহেও নাইট্রোজেন আছে, কিন্তু তার পরিমাণ বায়ুর তুলনায় খুবই সামান্য। অধিকাংশ উদ্ভিদ বায়ুর নাইট্রোজেন সরাসরি নিতে পারে না। কিছু ব্যাকটেরিয়া সেটিকে মাটির যৌগে রূপান্তর করে, তখন উদ্ভিদ তা গ্রহণ করে। বায়ুর নাইট্রোজেন গ্যাস অন্য কোনো বিক্রিয়া সহজে করে না। তাই এই গ্যাসকে যৌগে বদলাতে বজ্রপাত, বিশেষ ব্যাকটেরিয়া বা কারখানায় হেবার পদ্ধতি লাগে।
মনে রাখুন: নাইট্রোজেন চক্র (Nitrogen cycle) নামের প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেন বায়ু, মাটি ও জীবের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। - ১৭১. বজ্রপাতের সময় বায়ুমণ্ডলের কোন গ্যাসটি সক্রিয় হয়?মেডিক্যাল ভর্তি ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন চক্র
- ক. CO₂
- খ. N₂
- গ. H₂
- ঘ. Ar
উত্তর: খ. N₂
বজ্রপাতের সময় আকাশে প্রচণ্ড তড়িৎ স্ফুলিঙ্গ হয় এবং তার তাপে বায়ুর নাইট্রোজেন (N₂) ও অক্সিজেন বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) তৈরি করে। এটি আরও জারিত হয়ে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির পানিতে মিশে নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড মাটিতে নাইট্রেট লবণ হিসেবে জমা হয়। N₂ অণুতে তিনটি বন্ধন আছে বলে এটি খুব স্থিতিশীল। সাধারণ তাপমাত্রায় তাই এটি সহজে বিক্রিয়া করে না, বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড তাপ দরকার হয়।
মনে রাখুন:
N₂ + O₂ → 2NO (বিদ্যুৎ চমকানোর তাপে)
এভাবে গাছ বজ্রপাতের মাধ্যমেও কিছু প্রাকৃতিক সার পায়। - ১৭২. কোন রাসায়নিক যৌগে উদ্ভিদ সাধারণত মাটি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে-গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন চক্র
- ক. N₂
- খ. NO₂
- গ. NH₃
- ঘ. NO₃
উত্তর: ঘ. NO₃
উদ্ভিদ বায়ুর নাইট্রোজেন সরাসরি নিতে পারে না। মাটিতে ব্যাকটেরিয়ার কাজে নাইট্রোজেন নাইট্রেট (NO₃⁻) আয়নে পরিণত হয়, আর উদ্ভিদ প্রধানত এই আয়নই মূলের মাধ্যমে শোষণ করে। কিছু উদ্ভিদ অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) আয়নও নেয়। N₂ গ্যাস, NO₂ ও NH₃ উদ্ভিদ সাধারণভাবে গ্রহণ করে না। নাইট্রেট আয়ন পানিতে খুব সহজে দ্রবীভূত হয়, ফলে মূলরোম সহজে একে শুষে নিতে পারে। বৃষ্টি বেশি হলে এই নাইট্রেট ধুয়ে মাটির গভীরে চলে যেতে পারে।
মনে রাখুন:
নাইট্রিফিকেশন: অ্যামোনিয়া → নাইট্রাইট → নাইট্রেট, কাজ করে নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া।
নাইট্রেট থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস তৈরির প্রক্রিয়াকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে। - ১৭৩. 'সবুজ বিপ্লব' বলতে কি বোঝায়?৪র্থ বিজেএস (প্রিলিমিনারি) · বইয়ের অনুচ্ছেদ সবুজ বিপ্লব
- ক. পতিত জমির সবুজায়ন
- খ. সবুজ সারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন
- গ. ফলন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা
- ঘ. হাইব্রিডের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ফসল
উত্তর: গ. ফলন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা
উচ্চফলনশীল জাতের বীজ, রাসায়নিক সার, সেচ ও আধুনিক চাষপদ্ধতি ব্যবহার করে খাদ্যশস্যের ফলন দ্রুত বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে সবুজ বিপ্লব (Green Revolution) বলে। ১৯৬০-এর দশকে নরম্যান বোরলগ গম নিয়ে কাজ করে এই আন্দোলনের সূচনা করেন। তাঁকে এ কারণে সবুজ বিপ্লবের জনক বলা হয়। সবুজ বিপ্লবের ফলে এশিয়ার অনেক দেশে খাদ্যঘাটতি কমেছে। তবে বেশি রাসায়নিক সার ও সেচের কারণে মাটি ও পানির ওপর চাপও বেড়েছে।
মনে রাখুন:
নরম্যান বোরলগ ১৯৭০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লবের সঙ্গে উফশী ধানের চাষ জড়িত। - ১৭৪. নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. হাড়ের গুড়া
- খ. সরিষার খৈল
- গ. গৃহছলির ছাই
- ঘ. মাছের কাঁটা
উত্তর: খ. সরিষার খৈল
সরিষার খৈল সরিষার বীজ থেকে তেল বের করে নেওয়ার পর যা পড়ে থাকে তাই, এতে প্রোটিন বেশি থাকে বলে নাইট্রোজেনও বেশি থাকে। উদ্ভিদ বা প্রাণীজ উৎস থেকে পাওয়া সারকে জৈব সার বলে। মাটিতে মিশে খৈল ধীরে ধীরে পচে নাইট্রোজেন ছাড়ে, ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। হাড়ের গুঁড়ায় প্রধানত ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম থাকে, আর ছাইয়ে থাকে পটাশিয়াম। খৈল পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, তবে সার হিসেবে ব্যবহার করলে জমিতে ধীরে ধীরে নাইট্রোজেন মেশে। তাই এটি ধীর কার্যকর সার।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ জৈব সার: খৈল, গোবর, রক্তের গুঁড়া।
ফসফরাসসমৃদ্ধ: হাড়ের গুঁড়া। - ১৭৫. কোনটি জৈব সার নয়?রেজিস্টার্ড প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (টগর), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. সবুজ সার
- খ. গোবর সার
- গ. কম্পোস্ট সার
- ঘ. ইউরিয়া সার
উত্তর: ঘ. ইউরিয়া সার
জীবদেহ বা জৈব বর্জ্য পচে যে সার তৈরি হয়, তাকে জৈব সার বলে। সবুজ সার, গোবর সার ও কম্পোস্ট সার সবই এই দলের। কিন্তু ইউরিয়া সার কারখানায় রাসায়নিক পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে তৈরি হয়, তাই এটি অজৈব বা রাসায়নিক সার। সবুজ সার তৈরি হয় ধইঞ্চা বা শন জাতীয় গাছ জমিতে চাষ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। গোবর সার আসে গবাদি পশুর বর্জ্য থেকে, আর কম্পোস্ট সার হয় আবর্জনা পচিয়ে।
মনে রাখুন:
অজৈব সারের উদাহরণ: ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি।
জৈব সার মাটির গঠন ভালো রাখে, কিন্তু রাসায়নিক সার দ্রুত ফল দেয়। - ১৭৬. ইউরিয়া সারে কত ভাগ নাইট্রোজেন থাকে?গ্রামীণ ব্যাংকের শিক্ষানবিস অফিসার, ২০২৫ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. ৪০%
- খ. ৪৬%
- গ. ৫০%
- ঘ. ৫৫%
উত্তর: খ. ৪৬%
ইউরিয়া সারের সংকেত CO(NH₂)₂। এর আণবিক ভর ৬০, আর তাতে দুটি নাইট্রোজেন পরমাণুর ভর ২৮। তাই নাইট্রোজেনের শতকরা পরিমাণ হয় (২৮ ÷ ৬০) × ১০০, যা প্রায় ৪৬ ভাগ। সব রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই বেশি নাইট্রোজেনের কারণে সার হিসেবে ইউরিয়ার কম পরিমাণ দিলেই কাজ হয়, ফলে পরিবহন খরচও কমে। বাংলাদেশে কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন এই সারই।
মনে রাখুন:
অ্যামোনিয়াম সালফেটে নাইট্রোজেন প্রায় ২১ ভাগ।
ইউরিয়া সার সাদা দানাদার হয় এবং পানিতে সহজে গলে যায়। - ১৭৭. ইউরিয়া সারের প্রধান কাজ কি?আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীন সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০৭ ও থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. গাছের কাণ্ডকে শক্ত করা
- খ. গাছের পোকামাকড় রোধ করা
- গ. গাছকে সবুজ ও সতেজ করা
- ঘ. শাকসবজির স্বাদ বৃদ্ধি করা
উত্তর: গ. গাছকে সবুজ ও সতেজ করা
ইউরিয়া সারের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন। এটি ক্লোরোফিল ও প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং গাছের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধি বাড়ায়। ফলে ইউরিয়া দিলে গাছ সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে। কাণ্ড শক্ত করতে বেশি লাগে পটাশিয়াম, আর পোকামাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। ইউরিয়া বেশি দিলে ফসলের কাণ্ড নরম ও পোকার আক্রমণ বেশি হয়, আবার কম দিলে গাছ হলদে থাকে। তাই সার সঠিক পরিমাণ ও সঠিক সময়ে দেওয়া জরুরি।
মনে রাখুন:
ইউরিয়া বেশি দিলে গাছ নরম হয়ে ঢলে পড়ে এবং পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে।
পরিমাণমতো সার দিলেই ফলন ভালো হয়। - ১৭৮. উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে ইউরিয়া সার কী অবস্থায় শোষণ করে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. H₂NCONH₂
- খ. NH₄OH
- গ. NO₃ salt
- ঘ. NO₂ salt
উত্তর: গ. NO₃ salt
ইউরিয়া সার মাটিতে দেওয়ার পর মাটির অণুজীব ও এনজাইমের সাহায্যে প্রথমে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত হয়, তারপর নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার কাজে নাইট্রাইট ও শেষে নাইট্রেট লবণে পরিণত হয়। উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মূলত নাইট্রেট (NO₃⁻) আয়নের আকারেই এই নাইট্রোজেন শোষণ করে। ইউরিয়া অণু (H₂NCONH₂) সরাসরি শোষণের পরিমাণ খুবই কম। এই কারণে ইউরিয়াকে গাছ প্রত্যক্ষভাবে ব্যবহার করে না, বরং মাটির অণুজীবের সাহায্যে তৈরি নাইট্রেটই মূল পথ। মাটি খুব ঠান্ডা বা শুকনো হলে এই রূপান্তর ধীর হয়ে যায়।
মনে রাখুন: এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে নাইট্রিফিকেশন (Nitrification) বলে। - ১৭৯. ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়া গরু মোটা তাজা হয় কেন?দুগ্ধ উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. ইউরিয়া মিশ্রিত খড় তাড়াতাড়ি হজম হয়
- খ. ইউরিয়া মিশ্রিত খড়ে প্রচুর ভিটামিন থাকে
- গ. ইউরিয়া মিশ্রিত খড়ে আমিষ উৎপাদনকারী নাইট্রোজেন পর্যাপ্ত থাকে
- ঘ. ইউরিয়া মিশ্রিত খড়ে প্রচুর ফসফরাস থাকে
উত্তর: গ. ইউরিয়া মিশ্রিত খড়ে আমিষ উৎপাদনকারী নাইট্রোজেন পর্যাপ্ত থাকে
গরুর পাকস্থলীতে রুমেন নামে একটি অংশ আছে, সেখানে অনেক অণুজীব বাস করে। খড়ের সঙ্গে ইউরিয়া মেশালে এই অণুজীব ইউরিয়ার নাইট্রোজেন ব্যবহার করে আমিষ বা প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন গরুর কাজে লাগে, ফলে সে মোটাতাজা হয়। খড়ে প্রোটিন কম থাকে, তাই ইউরিয়া তার ঘাটতি পূরণ করে। গরুর মতো যেসব প্রাণী জাবর কাটে, তাদের পাকস্থলীতে এমন অণুজীব থাকে। মানুষের পাকস্থলীতে এই অণুজীব নেই, তাই মানুষ ইউরিয়া খেয়ে প্রোটিন বানাতে পারে না।
মনে রাখুন: ইউরিয়া-মোলাসেস-খড় (UMS) গবাদি পশুকে খাওয়ানোর একটি পরিচিত পদ্ধতি। - ১৮০. জমিতে সার হিসেবে নিম্নের কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. ক্যালসিয়াম সালফেট
- খ. কপার সালফেট
- গ. অ্যামোনিয়াম সালফেট
- ঘ. ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর: গ. অ্যামোনিয়াম সালফেট
অ্যামোনিয়াম সালফেট, (NH₄)₂SO₄, একটি অজৈব সার, যা মাটিতে নাইট্রোজেন ও সালফার জোগায়। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য এই দুটি উপাদানই দরকার। ক্যালসিয়াম সালফেট জিপসাম নামে পরিচিত এবং কপার সালফেট (তুঁতে) ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অ্যামোনিয়াম সালফেট ধানের জমিতে বিশেষ কাজে লাগে, কারণ ধানের মাটিতে সালফারের অভাব হলে সেটি পূরণ করে। দীর্ঘদিন একই সার দিলে অবশ্য মাটি কিছুটা অম্লীয় হয়ে পড়ে। এই সার সাদা দানাদার এবং পানিতে ভালোভাবে দ্রবীভূত হয়।
মনে রাখুন:
অ্যামোনিয়াম সালফেটে ২১ ভাগ নাইট্রোজেন ও ২৪ ভাগ সালফার থাকে।
ইউরিয়া ও টিএসপির পাশাপাশি এটিও কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত। - ১৮১. ট্রিপল সুপার ফসফেট হলো-আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. এক জাতীয় কীটনাশক
- খ. এক জাতীয় সার
- গ. এক জাতীয় ঔষধ
- ঘ. এক জাতীয় পশু খাদ্য
উত্তর: খ. এক জাতীয় সার
ট্রিপল সুপার ফসফেট (Triple Super Phosphate) সংক্ষেপে টিএসপি, একটি ফসফরাসযুক্ত রাসায়নিক সার। এতে ফসফরাস পেন্টক্সাইড (P₂O₅) প্রায় ৪৫ ভাগ থাকে। এটি গাছের মূল গঠন, ফুল ও ফল ধরার জন্য উপকারী। কীটনাশক পোকা মারে, ঔষধ রোগ সারায় এবং পশুখাদ্য প্রাণীর খাবার, তাই টিএসপি এই তিনটির কোনোটি নয়। ফসফরাস উদ্ভিদের মূল ও ফুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বলে ফল ও ডালের ফসলে টিএসপি বেশি দেওয়া হয়। এটি পানিতে দ্রবণীয়, তাই উদ্ভিদ সহজে ফসফরাস নিতে পারে।
মনে রাখুন: টিএসপি ক্যালসিয়াম ডাইহাইড্রোজেন ফসফেট (Ca(H₂PO₄)₂), যা ফসফরাইটকে ফসফরিক অ্যাসিডে বিক্রিয়া করিয়ে তৈরি হয়। - ১৮২. অ্যামোনিয়াম সালফেট কি?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী শ্রম পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. একটি অ্যাসিড
- খ. একটি ক্ষার
- গ. একটি মিশ্রণ
- ঘ. একটি লবণ
উত্তর: ঘ. একটি লবণ
অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় যে যৌগ তৈরি হয়, তাকে লবণ বলে। অ্যামোনিয়াম সালফেট, (NH₄)₂SO₄, অ্যামোনিয়া (ক্ষার) ও সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় তৈরি হয়, তাই এটি একটি লবণ। এটি অ্যাসিড বা ক্ষার নয়, আবার মিশ্রণও নয়, কারণ এর উপাদানগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত। লবণের উদাহরণ হিসেবে সাধারণ খাবার লবণ NaCl, ও অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH₄Cl মনে রাখা যায়। সব লবণ অবশ্য নিরপেক্ষ হয় না, কিছু লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয়।
মনে রাখুন:
2NH₃ + H₂SO₄ → (NH₄)₂SO₄
পানিতে গুললে এর দ্রবণ হালকা অম্লীয় হয়। - ১৮৩. Acid (অম্ল) মাটি কেমন?মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ১৯৯৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাটির অম্লতা
- ক. উর্বর
- খ. জৈব
- গ. অনুর্বর
- ঘ. প্রচুর ক্যালসিয়াম
উত্তর: গ. অনুর্বর
মাটির pH মান ৭-এর কম হলে সেটি অম্লীয় মাটি। এ ধরনের মাটিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপকারী উপাদান কমে যায় আর অ্যালুমিনিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান বেড়ে যায়। উপকারী অণুজীবও ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তাই অম্ল মাটিতে ফসল ভালো হয় না এবং একে অনুর্বর মাটি বলা হয়। আমাদের দেশে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে অম্লীয় মাটি বেশি পাওয়া যায়। চা বাগানে অম্লীয় মাটি ভালো, কারণ চা গাছ এই ধরনের মাটিতেই ভালো জন্মায়।
মনে রাখুন: অম্ল মাটি ঠিক করতে চুন দেওয়া হয়, কারণ চুন ক্ষারধর্মী এবং অম্লতা কমিয়ে দেয়। - ১৮৪. কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাটির অম্লতা
- ক. মাটির ক্ষয়রোধ করার জন্য
- খ. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
- গ. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
- ঘ. জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য
উত্তর: গ. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
মাটি অম্লীয় হলে তার pH কমে যায়, আর এতে অনেক ফসল ভালোভাবে বাড়ে না। চুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট) ক্ষারধর্মী পদার্থ। জমিতে চুন দিলে তা মাটির অম্লকে প্রশমিত করে, ফলে অম্লতা কমে এবং pH বাড়ে। এতে মাটির উর্বরতা ফিরে আসে। চুন মাটির গঠনও ভালো করে। কাদামাটিতে চুন দিলে মাটির কণা আলগা হয়ে বায়ু চলাচল বাড়ে এবং মূলের বৃদ্ধি সহজ হয়। এই কারণে অম্লীয় জমিতে ফসল রোপণের আগে চুন মেশানো হয়।
মনে রাখুন:
CaO + 2H⁺ → Ca²⁺ + H₂O
চুন ক্যালসিয়ামও জোগায়, যা গাছের পুষ্টির জন্য দরকারি। - ১৮৫. মাটির Pᴴ বৃদ্ধিতে কোনটি ব্যবহার হয়?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাটির অম্লতা
- ক. CaO
- খ. (NH₄)₂HPO₄
- গ. NH₄NO₃
- ঘ. KNO₃
উত্তর: ক. CaO
অম্লীয় মাটির pH বাড়ানো মানে তাকে কম অম্লীয় করা। এ জন্য ক্ষারধর্মী পদার্থ দিতে হয়। কুইকলাইম বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) একটি ক্ষারীয় অক্সাইড, যা মাটির অম্লকে প্রশমিত করে pH বাড়ায়। বাকিগুলো সার: (NH₄)₂HPO₄, NH₄NO₃ ও KNO₃ মাটিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এরা মাটির pH বাড়ায় না। pH বাড়ানোর জন্য ক্যালসিয়াম অক্সাইডের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম কার্বনেটও ব্যবহার হয়। এগুলো শুধু অম্লতা কমায় না, ক্যালসিয়ামের জোগানও দেয়, যা গাছের কোষপ্রাচীর শক্ত করতে লাগে।
মনে রাখুন: কুইকলাইমে পানি মেশালে স্লেকড লাইম, Ca(OH)₂, তৈরি হয়, যা চুনের পানি নামে পরিচিত। - ১৮৬. মাটির Pᴴ মান ৩ এর কম হলে, কোন খনিজ পদার্থযুক্ত সার ব্যবহার করতে হয়?খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাটির অম্লতা
- ক. নাইট্রোজেন ও সালফার
- খ. ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম
- গ. ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম
- ঘ. পটাশিয়াম ও ফসফরাস
উত্তর: খ. ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম
মাটির pH খুব কম, অর্থাৎ ৩-এর নিচে নামলে মাটি অতি অম্লীয় হয়ে পড়ে। তখন ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত সার, যেমন চুন বা ডলোমাইট (CaMg(CO₃)₂), দিতে হয়। এগুলো অম্লতা কমায় এবং একই সঙ্গে গাছের দরকারি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম জোগায়। চুনযুক্ত সার দিলে মাটির জীবাণু ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং ফসলের পুষ্টি উপাদান সহজে পাওয়া যায়। অম্লীয় মাটির বিপরীতে ক্ষারীয় মাটির pH ৭-এর বেশি থাকে।
মনে রাখুন:
ডলোমাইট অম্ল মাটি সংশোধনের একটি জনপ্রিয় উপাদান।
সাধারণ ফসলের জন্য মাটির pH ৬ থেকে ৭ হলে ভালো। - ১৮৭. ধান গাছ কোন জাতীয় উদ্ভিদ?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্থনৈতিক গুরুত্বের উদ্ভিদ
- ক. ছত্রাক
- খ. ঘাস
- গ. মস
- ঘ. শৈবাল
উত্তর: খ. ঘাস
ধান গাছ ঘাস গোত্রের (Poaceae) উদ্ভিদ। এর কাণ্ড সরু, গিঁটযুক্ত ও ফাঁপা, পাতা লম্বা ও সরু আর মূল গুচ্ছমূল। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ঘাসেরও থাকে, তাই ধানকে ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ বলা হয়। ছত্রাক, মস ও শৈবাল ধানের মতো ফুলবিশিষ্ট উদ্ভিদ নয়। ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। এর ফল দানাশস্য, যাকে ক্যারিওপসিস বলে, আর বীজের খোসা ও ফলের আবরণ জুড়ে থাকে। ধানের গোড়া থেকে কুশি বা নতুন ডগা গজিয়ে গাছের সংখ্যা বাড়ে।
মনে রাখুন:
ঘাস গোত্রের উদ্ভিদ: ধান, গম, ভুট্টা, আখ ও বাঁশ।
এরা একবীজপত্রী উদ্ভিদ, এদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে। - ১৮৮. সবচেয়ে বড় ঘাস-জাতীয় সংসদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রোটোকল অফিসার · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্থনৈতিক গুরুত্বের উদ্ভিদ
- ক. শিম গাছ
- খ. লাউ গাছ
- গ. বট গাছ
- ঘ. বাঁশ
উত্তর: ঘ. বাঁশ
বাঁশ ঘাস গোত্রের (Poaceae) উদ্ভিদ। তবে এটি সাধারণ ঘাসের মতো ছোট নয়, বরং উঁচু হয়ে ওঠে। কিছু প্রজাতির বাঁশ ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তাই বাঁশকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঘাস বলা হয়। শিম ও লাউ লতানো উদ্ভিদ, আর বট বিশাল গাছ হলেও তা ঘাস গোত্রের নয়। বাঁশের ফাঁপা ও শক্ত কাণ্ড ঘর, আসবাব ও মাচা তৈরিতে কাজে লাগে। বাংলাদেশের গ্রামে বাঁশ তাই খুবই পরিচিত একটি উদ্ভিদ।
মনে রাখুন: বাঁশ পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত বাড়া উদ্ভিদ, কিছু বাঁশ দিনে প্রায় ১ মিটারের বেশি বাড়তে পারে। - ১৮৯. কোনটি উচ্চফলনশীল ঘাস?প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্থনৈতিক গুরুত্বের উদ্ভিদ
- ক. নেপিয়ার
- খ. হেলেঞ্চা
- গ. ইপিল ইপিল
- ঘ. দূর্বা
উত্তর: ক. নেপিয়ার
নেপিয়ার ঘাস (Napier grass) আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আসা একটি উচ্চফলনশীল ঘাস। এটি খুব দ্রুত বাড়ে এবং প্রতি হেক্টরে প্রচুর সবুজ ঘাস দেয়। গবাদি পশুর খাবার হিসেবে এর চাষ বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়। তাই দুগ্ধ খামারিরা এই ঘাস চাষ করেন। নেপিয়ার ঘাস একবার লাগালে বছরে কয়েকবার কেটে নেওয়া যায়। এতে গবাদি পশুর জন্য সারা বছর সবুজ খাদ্যের জোগান থাকে। নেপিয়ার ঘাস গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি ভালো জন্মায়।
মনে রাখুন:
নেপিয়ার ঘাসকে হাতি ঘাসও বলা হয়।
দূর্বা একটি স্থানীয় ঘাস, যা পূজায় এবং ভেষজ কাজে লাগে, তবে এটি উচ্চফলনশীল নয়। - ১৯০. কোনটি তৈল বীজ নয়?খাদ্য অধিদপ্তরের অধীন খাদ্য পরিদর্শক · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্থনৈতিক গুরুত্বের উদ্ভিদ
- ক. তিসি
- খ. সরিষা
- গ. অড়হর
- ঘ. তিল
উত্তর: গ. অড়হর
যেসব ফসলের বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, তাদের তৈলবীজ বলে। তিসি, সরিষা ও তিল তৈলবীজ, কারণ এদের বীজ থেকে তেল নিষ্কাশন করা হয়। অড়হর একটি ডাল জাতীয় ফসল, যা মূলত প্রোটিন জোগায়, তেলের জন্য চাষ করা হয় না। তৈলবীজ থেকে তেল বের করার পর যে অংশ থাকে, তাকে খৈল বলে এবং তা সার ও পশুখাদ্যে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে সরিষা সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া তৈলবীজ।
মনে রাখুন:
তৈলবীজের উদাহরণ: সরিষা, তিল, তিসি, সয়াবিন, সূর্যমুখী।
ডাল ফসলের উদাহরণ: মসুর, মুগ, অড়হর, ছোলা। - ১৯১. What is the rarest and most expensive spice in the world by weight?Combined Bank and 2 FI Senior Officer, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্থনৈতিক গুরুত্বের উদ্ভিদ
- ক. Saffron
- খ. Asafoetida
- গ. Fenugreek
- ঘ. Anis
উত্তর: ক. Saffron
জাফরান (Saffron) ওজন হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মসলা। এটি ক্রোকাস সাটাইভাস নামের ফুলের গর্ভমুণ্ড থেকে পাওয়া যায়। প্রতিটি ফুলে মাত্র তিনটি গর্ভমুণ্ড থাকে, আর এগুলো হাতে তুলতে হয়। এক কেজি জাফরান পেতে প্রায় দেড় লক্ষ ফুল লাগে, সে কারণেই এর দাম এত বেশি। জাফরানের রঙ গাঢ় লালচে-কমলা, আর এর স্বাদ সামান্য তিতকুটে। রান্নায় ও মিষ্টান্নে সুগন্ধ ও রঙ আনতে এই মসলা ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
জাফরান প্রধানত ইরান, স্পেন ও কাশ্মীরে চাষ হয়।
ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জাফরান উৎপাদন করে। - ১৯২. কচুরিপানা কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে?মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গবেষণা কর্মকর্তা, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কচুরিপানা
- ক. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- খ. মেক্সিকো
- গ. ব্রাজিল
- ঘ. ভেনিজুয়েলা
উত্তর: গ. ব্রাজিল
কচুরিপানার আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল। সুন্দর বেগুনি ফুলের কারণে এটি অন্য দেশে নেওয়া হয়েছিল। উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমলে একে শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে আনা হয় এবং পরে এটি নদী, খাল ও বিল ছেয়ে ফেলে। কচুরিপানা প্রতিদিন দ্রুত বাড়ে, কয়েক দিনেই তার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। এ কারণে এটি বাংলাদেশে নদী ও নৌচলাচলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মনে রাখুন:
কচুরিপানা এখন বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিকর জলজ আগাছা।
এটি জলাশয়ে অক্সিজেন কমিয়ে মাছের ক্ষতি করে, তবে সার ও বায়োগ্যাস তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। - ১৯৩. জলজ উদ্ভিদ সহজে ভাসতে পারে, কারণ-১০ম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের অভিযোজন
- ক. এরা অনেক ছোট হয়
- খ. এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
- গ. এরা পানিতে জন্মে
- ঘ. এদের পাতা অনেক থাকে
উত্তর: খ. এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতার ভেতরে অনেক বড় বড় বায়ুকুঠুরি থাকে। এই কুঠুরিগুলো বাতাসে ভরা থাকে বলে গাছের দেহ পানির চেয়ে হালকা হয়ে যায়, আর তাই গাছ সহজেই ভেসে থাকতে পারে। বায়ুকুঠুরিযুক্ত এই বিশেষ কলাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলা হয়। ভাসতে সাহায্য করা ছাড়াও এই বাতাস পানির নিচে ডুবে থাকা অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, কারণ কাদাপানিতে অক্সিজেন খুব কম থাকে।
মনে রাখুন:
কচুরিপানার পাতার বোঁটা ফোলা ও স্পঞ্জের মতো, ভেতরে বাতাস ভরা থাকে।
শাপলার পাতা চওড়া ও মোমের মতো আবরণে ঢাকা, তাই পানিতে ভেজে না। - ১৯৪. পামরী পোকা কোন অবস্থার ধানের জন্য ক্ষতিকর?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফসলের শত্রু পোকা
- ক. শুককীট
- খ. পূর্ণাঙ্গ পোকা
- গ. ক ও খ উভয়েই
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. ক ও খ উভয়েই
ধানের পামরি পোকা বা হিস্পা (Rice hispa) পূর্ণাঙ্গ ও শুককীট দুই অবস্থাতেই ধানের ক্ষতি করে। পূর্ণাঙ্গ পোকা ধানপাতার সবুজ অংশ চেঁছে খায়, ফলে পাতায় সাদা লম্বা দাগ পড়ে। শুককীট পাতার ভেতরে ঢুকে সবুজ অংশ খায়, এতে পাতা শুকিয়ে যায়। দুই অবস্থার আক্রমণে ফসলের উৎপাদন কমে যায়। এই পোকা দমনে আক্রান্ত জমিতে হাতজাল দিয়ে পূর্ণাঙ্গ পোকা ধরে ফেলা যায়।
মনে রাখুন:
ধানের আরেক বড় শত্রু মাজরা পোকা, যার শুককীট কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে মরা ডিগ সৃষ্টি করে।
কীট দমনে আলোর ফাঁদ ও পরভোজী পোকা কাজে লাগানো যায়। - ১৯৫. আখ গাছের জন্য ক্ষতিকর -প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক (ডালিয়া), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফসলের শত্রু পোকা
- ক. বিছাপোকা
- খ. লার্ভা
- গ. মাজরা পোকা
- ঘ. শুয়াপোকা
উত্তর: গ. মাজরা পোকা
আখের প্রধান শত্রু মাজরা পোকা (Stem borer)। এর শুককীট আখের কাণ্ডে ছিদ্র করে ভেতরে ঢোকে এবং ভেতরের রস ও নরম অংশ খেয়ে ফেলে। এতে আখের বৃদ্ধি কমে যায়, আর রসে চিনির পরিমাণও কমে যায়। ডগা শুকিয়ে যাওয়া এই ক্ষতির একটি লক্ষণ। আখ চাষে এজন্য আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা এবং নিয়মিত জমি পরিষ্কার রাখা দরকার। আক্রমণ গুরুতর হলে একটি আখে কয়েকটি করে শুককীট দেখা যায়। এই পোকা সারা আখক্ষেতে ছড়ায়, তাই আখের টুকরো রোপণের আগেই বীজ শোধন করে নিতে হয়।
মনে রাখুন:
ধানের ক্ষেত্রেও মাজরা পোকা বড় ক্ষতিকর। ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আছে। - ১৯৬. সরিষা ফসলের প্রধান ক্ষতিকারক পোকা কোনটি?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফসলের শত্রু পোকা
- ক. বিহা পোকা
- খ. মাজরা পোকা
- গ. লাল মাকড়া
- ঘ. জাব পোকা
উত্তর: ঘ. জাব পোকা
সরিষার প্রধান ক্ষতিকারক পোকা জাব পোকা (Aphid)। এই ছোট পোকা দল বেঁধে গাছের কচি ডগা, পাতা ও ফুলে বসে রস শুষে নেয়। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়, ফুল ঝরে পড়ে এবং ফলন কমে যায়। জাব পোকা মধুরসের মতো এক ধরনের আঠালো তরল ছেড়ে দেয়, তাতে পাতায় ছত্রাক জন্মে। কৃষকেরা জাব পোকা দেখলে নিম বীজের নির্যাস বা সাবানপানি ছিটিয়ে সহজে দমন করতে পারেন। এতে ফসলে বিষ জমার ঝুঁকি কমে।
মনে রাখুন:
লেডিবার্ড বিটল জাব পোকা খেয়ে ফেলে, তাই এটি কৃষকের বন্ধু পোকা।
সরিষা রবি মৌসুমের তেলবীজ ফসল। - ১৯৭. কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে গাছের পাতা হলুদ হয়?মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অফিস সহায়ক, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদ পুষ্টি
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. পটাশিয়াম
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
নাইট্রোজেন ক্লোরোফিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, আর ক্লোরোফিলের কারণেই পাতা সবুজ দেখায়। মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল কম তৈরি হয়, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়। এই অবস্থাকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলে। নাইট্রোজেন প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড ও এনজাইমের মতো জরুরি যৌগেরও উপাদান। বয়স্ক পাতায় নাইট্রোজেনের অভাব আগে দেখা যায়, কারণ গাছ নাইট্রোজেন পুরোনো পাতা থেকে নতুন পাতায় সরিয়ে নেয়। পাতা হলুদ হওয়া শুরু হয় প্রথমে পুরোনো পাতা থেকে, তাই দেখে অভাব চেনা যায়।
মনে রাখুন:
ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেন থাকে প্রায় ৪৬%।
ম্যাগনেসিয়ামও ক্লোরোফিলের উপাদান, এর অভাবেও পাতা হলুদ হয়। - ১৯৮. বর্ণালী ও শুভ্র কী?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফসলের জাত
- ক. উন্নতজাতের ভুট্টা
- খ. উন্নতজাতের গম
- গ. উন্নতজাতের ধান
- ঘ. উন্নতজাতের পাট
উত্তর: ক. উন্নতজাতের ভুট্টা
বর্ণালী ও শুভ্র বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BARI) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ভুট্টা। এগুলো উচ্চফলনশীল হওয়ায় দেশের কৃষকদের কাছে জনপ্রিয়। ভুট্টা মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। BARI মূলত গম, ভুট্টা, আলু, ডাল ও সবজির মতো ফসলের জাত নিয়ে কাজ করে, আর পাটের জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI)। বাংলাদেশে প্রতিবছর ভুট্টার চাষ বাড়ছে, এবং ভুট্টা ধান ও গমের পর তৃতীয় প্রধান দানা জাতীয় ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়ে উঠছে।
মনে রাখুন: বাংলাদেশে ধানের জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)। - ১৯৯. এপিকালচার বলতে কী বুঝায়?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কৃষি
- ক. মৎস্য চাষ
- খ. রেশম চাষ
- গ. মৌমাছি চাষ
- ঘ. বৃক্ষ চাষ
উত্তর: গ. মৌমাছি চাষ
এপিকালচার (Apiculture) মানে মৌমাছি পালন বা মৌচাষ। শব্দটি এসেছে লাতিন ‘apis’ থেকে, যার অর্থ মৌমাছি। মৌচাষে মধু ও মোম পাওয়া যায়, আর মৌমাছি পরাগায়নে সাহায্য করে ফসলের ফলনও বাড়ায়। মৌমাছির কলোনিতে একটি রানি মৌমাছি, কয়েকশ পুরুষ মৌমাছি এবং হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি থাকে। মৌচাক থেকে পাওয়া মোম মোমবাতি ও প্রসাধনী তৈরিতেও কাজে লাগে। মধু শক্তির ভালো উৎস, কারণ এতে মূলত গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ নামের সরল শর্করা থাকে। সুন্দরবনের মধু বাংলাদেশে বিখ্যাত।
মনে রাখুন:
পিসিকালচার: মাছ চাষ
সেরিকালচার: রেশম চাষ
সিলভিকালচার: বনায়ন বা বৃক্ষ চাষ
হর্টিকালচার: উদ্যান চাষ - ২০০. কচু খেলে গলা চুলকায় কারণ কচুতে আছে –এনটিআরসিএ, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যযোগ্য উদ্ভিদ
- ক. ক্যালসিয়াম অক্সালেট
- খ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
- গ. ক্যালসিয়াম ফসফেট
- ঘ. ক্যালসিয়াম সালফেট
উত্তর: ক. ক্যালসিয়াম অক্সালেট
কচুর ডাঁটা, পাতা ও মূলে ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium oxalate) নামের যৌগের সূক্ষ্ম সুচের মতো স্ফটিক থাকে, যাকে র্যাফাইড (Raphide) বলে। খাওয়ার সময় এই স্ফটিকগুলো গলা ও মুখের ভেতরের নরম চামড়ায় বিঁধে যায়, ফলে গলা চুলকায়। লেবু বা তেঁতুলের অম্ল এই অক্সালেটকে কিছুটা নিষ্ক্রিয় করে, তাই কচু রান্নায় এগুলো দেওয়া হয়। ক্যালসিয়াম অক্সালেট দেহের ভেতরে বেশি জমলে কিডনিতে পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। পালংশাক ও টমেটোতেও কিছু অক্সালেট থাকে। তাই কচুর মুখী বা ডাঁটা কাঁচা খাওয়া ঠিক নয়, ভালো করে সিদ্ধ করে খেতে হয়।
মনে রাখুন: কচুতে প্রচুর আয়রন থাকে, তাই রক্তস্বল্পতায় কচুশাক উপকারী। - ২০১. 'ফ্লোরিকালচার' কী?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
- ক. সবজিচাষ সংক্রান্ত
- খ. ফুলচাষ সংক্রান্ত
- গ. ফলচাষ সংক্রান্ত
- ঘ. শস্যচাষ সংক্রান্ত
উত্তর: খ. ফুলচাষ সংক্রান্ত
লাতিন শব্দ 'flos' মানে ফুল, তাই ফ্লোরিকালচার (Floriculture) বলতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ ও তার ব্যবস্থাপনা বোঝায়। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস বা জারবেরার চাষ এর মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশে যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী এলাকা ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত, তাই একে দেশের ফুলের রাজধানী বলা হয়। ফুলচাষ উদ্যানবিদ্যা বা হর্টিকালচারের (Horticulture) একটি শাখা, যেখানে ফল, সবজি ও ফুল সবই আলোচিত হয়। ফুল চাষ এখন অনেক কৃষকের লাভজনক পেশা, কারণ বিয়ে, উৎসব ও দিবস পালনে ফুলের চাহিদা সারা বছরই থাকে। দেশের বাইরেও কিছু ফুল রপ্তানি হয়।
মনে রাখুন:
ফল চাষ: পমোলজি (Pomology)।
সবজি চাষ: অলেরিকালচার (Olericulture)।
বৃক্ষ চাষ: আরবরিকালচার (Arboriculture)। - ২০২. পটাশিয়ামবাহী সার কোনটি?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
- ক. ইউরিয়া
- খ. টিএসপি
- গ. ডিএপি
- ঘ. মিউরিয়েট অব পটাশ
উত্তর: ঘ. মিউরিয়েট অব পটাশ
উদ্ভিদের প্রধান তিনটি পুষ্টি উপাদান হলো নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম, যাদের একসঙ্গে NPK বলে। মিউরিয়েট অব পটাশ (MoP) আসলে পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl), তাই এটিই পটাশিয়ামবাহী সার। এতে প্রায় ৬০ শতাংশ পটাশিয়াম অক্সাইডের সমতুল্য পটাশ থাকে। পটাশিয়াম গাছের কাণ্ড মজবুত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফল ও দানার মান ভালো করে। মাটিতে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে পাতার কিনারা হলুদ বা বাদামি হয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়।
মনে রাখুন:
ইউরিয়া: নাইট্রোজেনবাহী সার, এতে প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে।
টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট): ফসফরাসবাহী সার।
ডিএপি: নাইট্রোজেন ও ফসফরাস দুটিই দেয়।
জিপসাম সার থেকে গাছ সালফার পায়। - ২০৩. নিচের কোনটি ভেষজ উদ্ভিদ নয়?সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- ক. গর্জন
- খ. বানরলাঠি
- গ. অর্জুন
- ঘ. দূর্বা
উত্তর: ক. গর্জন
যেসব উদ্ভিদের পাতা, ছাল, ফল বা শিকড় থেকে ওষুধ তৈরি হয়, তাদের ভেষজ বা ঔষধি উদ্ভিদ (Medicinal Plant) বলে। অর্জুন গাছের ছাল হৃদরোগের ওষুধে ব্যবহৃত হয়, বানরলাঠি বা সোনালুর ফলের শাঁস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, আর দূর্বা ঘাসের রস কাটা জায়গার রক্ত পড়া বন্ধ করে। অন্যদিকে গর্জন মূলত কাঠ উৎপাদনকারী বড় বৃক্ষ, যার শক্ত কাঠ রেলের স্লিপার, নৌকা ও ঘরের কাজে লাগে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে গর্জন বেশি জন্মে।
মনে রাখুন:
অন্য পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ: নিম, তুলসী, বাসক, থানকুনি ও সর্পগন্ধা।
সর্পগন্ধা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধে ব্যবহৃত হয়। - ২০৪. 'Flora' means –বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেন কন্ট্রোলার, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
- ক. All the flowers of an area
- খ. Elaborate decoration with flowers
- গ. A garland of flowers
- ঘ. All the plants of an area
উত্তর: ঘ. All the plants of an area
ফ্লোরা (Flora) বলতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা নির্দিষ্ট সময়ের সব ধরনের উদ্ভিদকে একসঙ্গে বোঝায়, শুধু ফুলকে নয়। এই নামটি এসেছে রোমান পুরাণের ফুল ও বসন্তের দেবী ফ্লোরার নাম থেকে। একইভাবে কোনো অঞ্চলের সব প্রাণীকে একসঙ্গে বলা হয় ফনা (Fauna)। কোনো এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণী মিলিয়ে বলা হয় ফ্লোরা ও ফনা, যা থেকে সেই এলাকার জীববৈচিত্র্যের ধারণা পাওয়া যায়। তাই কোনো বনের সব গাছপালার তালিকা বা বিবরণকেও সেই বনের ফ্লোরা বলা হয়।
মনে রাখুন:
Flora = কোনো অঞ্চলের উদ্ভিদজগৎ।
Fauna = কোনো অঞ্চলের প্রাণিজগৎ।
উদ্ভিদ নিয়ে বিজ্ঞানের শাখার নাম উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany)। - ২০৫. নিচের কোন গাছকে 'সূর্যের কন্যা' বলা হয়?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্থনৈতিক গুরুত্বের উদ্ভিদ
- ক. তুলা গাছ
- খ. দেবদারু গাছ
- গ. তাল গাছ
- ঘ. পাট গাছ
উত্তর: ক. তুলা গাছ
তুলা গাছকে ‘সূর্যের কন্যা’ (Daughter of the Sun) বলা হয়। তুলা গাছ ভালোভাবে বাড়তে প্রচুর রোদ ও উষ্ণ আবহাওয়া দরকার, আর ফল পাকার সময় শুকনো রোদেলা দিন না পেলে তুলার মান খারাপ হয়ে যায়। সূর্যের ওপর এমন নির্ভরতার জন্যই গাছটির এই নাম। তুলার আঁশ আসলে বীজের গায়ে লেগে থাকা লম্বা রোম, যা দিয়ে সুতা ও কাপড় তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
তুলার আঁশ প্রায় খাঁটি সেলুলোজ (Cellulose)।
পাটকে বলা হয় ‘সোনালি আঁশ’ (Golden Fibre)।
বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকার খামারবাড়িতে। - ২০৬. A dwarfed ornamental tree or shrub grown in a tray or shallow pot.গ্যাসফিল্ড কোম্পানি সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্যানবিদ্যা
- ক. Topiary
- খ. Fabrication
- গ. Gardening
- ঘ. Bonsai
উত্তর: ঘ. Bonsai
ট্রে বা অগভীর টবে কৃত্রিমভাবে খাটো করে রাখা শোভাবর্ধক গাছকে বনসাই (Bonsai) বলে। শিকড় ও ডালপালা নিয়মিত ছেঁটে এবং তার দিয়ে বেঁধে গাছটিকে ছোট আকারে রাখা হয়, তবু দেখতে এটি বড় পুরোনো গাছের মতোই লাগে। এই শিল্পের শুরু চীনে, পরে জাপানে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়। জাপানি ভাষায় ‘বন’ মানে ট্রে এবং ‘সাই’ মানে রোপণ। অনেক বনসাই গাছ শত বছরেরও বেশি সময় ধরে যত্নে বাঁচিয়ে রাখা হয়।
মনে রাখুন:
টপিয়ারি (Topiary) হলো ঝোপ বা গাছ ছেঁটে পশুপাখি বা নকশার আকার দেওয়ার শিল্প।
বট, পাকুড়, তেঁতুল, বাগানবিলাস বনসাইয়ের জন্য জনপ্রিয় গাছ। - ২০৭. প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন হয় যেটিতে -বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৪তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. সরিষা
- খ. ধান
- গ. পাতা শ্যাওলা
- ঘ. কদম
উত্তর: ঘ. কদম
ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোকে পরাগায়ন (Pollination) বলে, আর এ কাজে যে মাধ্যম সাহায্য করে তাকে বাহক বলে। বাহকের ভিত্তিতে ফুলকে বায়ুপরাগী, পানিপরাগী, পতঙ্গপরাগী ও প্রাণীপরাগী ভাগে ভাগ করা হয়। পতঙ্গ ছাড়া অন্য প্রাণী, যেমন পাখি, বাদুড় বা শামুকের মাধ্যমে পরাগায়ন হলে তাকে প্রাণীপরাগী (Zoophily) বলে। কদম ফুলে বাদুড়ের মাধ্যমে পরাগায়ন হয়, তাই এটি প্রাণীপরাগী ফুল। সরিষায় পরাগায়ন ঘটায় পতঙ্গ, আর পতঙ্গপরাগীকে আলাদা শ্রেণিতে ধরা হয় বলে এখানে কদমই সঠিক।
মনে রাখুন:
বায়ুপরাগী: ধান, গম, ভুট্টা।
পানিপরাগী: পাতা শ্যাওলা, হাইড্রিলা।
পতঙ্গপরাগী: সরিষা, কুমড়া।
পাখিপরাগী: শিমুল, মাদার।
শামুকপরাগী: কচু। - ২০৮. লবণের দ্রবণে আঙুর রাখলে তা চুপসে যায় কোন প্রক্রিয়ায়?দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপসহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভিস্রবণ
- ক. ব্যাপন
- খ. অন্তঃঅভিস্রবণ
- গ. বহিঃঅভিস্রবণ
- ঘ. ইমবাইবিশন
উত্তর: গ. বহিঃঅভিস্রবণ
অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবক অর্থাৎ পানির চলাচলকে অভিস্রবণ (Osmosis) বলে। আঙুরের খোসা ও কোষঝিল্লি অর্ধভেদ্য পর্দার মতো কাজ করে। লবণের ঘন দ্রবণে আঙুর রাখলে বাইরের দ্রবণ ভেতরের রসের চেয়ে ঘন হয়, তাই কোষের ভেতর থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে যায় এবং আঙুর চুপসে যায়। কোষ থেকে পানি বাইরে চলে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বহিঃঅভিস্রবণ বলে। উল্টোভাবে কিশমিশ পানিতে রাখলে পানি ভেতরে ঢুকে সেটি ফুলে ওঠে, একে অন্তঃঅভিস্রবণ বলে।
মনে রাখুন:
শুকনো বীজ বা কাঠ পানি শুষে ফুলে ওঠার প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে।
উদ্ভিদের মূলরোম মাটি থেকে অভিস্রবণের মাধ্যমে পানি শোষণ করে। - ২০৯. Which of the following is grown from stem cuttings?বাংলাদেশ ব্যাংক, অফিসার (জেনারেল), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অঙ্গজ প্রজনন
- ক. Sugarcane
- খ. Maize
- গ. Turmeric
- ঘ. Banana
উত্তর: ক. Sugarcane
বীজ ছাড়া উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতা থেকে নতুন গাছ জন্মানোকে অঙ্গজ প্রজনন (Vegetative Reproduction) বলে। আখের কাণ্ডে নির্দিষ্ট দূরত্বে গিঁট বা পর্ব থাকে, আর প্রতিটি পর্বে একটি কুঁড়ি থাকে। এমন গিঁটযুক্ত কাণ্ডের টুকরা মাটিতে লাগালে কুঁড়ি থেকে নতুন গাছ গজায়, তাই আখ চাষ করা হয় কাণ্ডের কাটিং দিয়ে। অন্যদিকে ভুট্টা হয় বীজ থেকে, হলুদ হয় মাটির নিচের রূপান্তরিত কাণ্ড রাইজোম থেকে, আর কলা গাছ হয় গোড়া থেকে বের হওয়া তেউড় থেকে।
মনে রাখুন:
গোলআলু হয় কন্দ বা টিউবার থেকে।
পাথরকুচির পাতা থেকে নতুন চারা হয়।
গোলাপ ও জবা শাখা কলম দিয়ে লাগানো যায়। - ২১০. মূলের কোন অংশ মাটি থেকে খাদ্য শোষণ করে?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মূল
- ক. বর্ধিষ্ণু অঞ্চল
- খ. টুপি অঞ্চল
- গ. বিভাজন অঞ্চল
- ঘ. মূলরোম অঞ্চল
উত্তর: ঘ. মূলরোম অঞ্চল
মূলের আগার একটু ওপরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রোম থাকে, এই অংশকে মূলরোম অঞ্চল (Root Hair Zone) বলে। মূলরোমগুলো মাটির কণার ফাঁকে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে পানি ও তাতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে, যা উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির কাঁচামাল। প্রতিটি রোম আসলে মূলের বাইরের একটি কোষের লম্বা অংশ। হাজার হাজার রোম থাকায় শোষণের তলের ক্ষেত্রফল অনেক গুণ বেড়ে যায়, তাই অল্প জায়গা থেকেও বেশি পানি টানা যায়। মূলের আগায় থাকা মূলটুপি নরম কোষগুলোকে মাটির ঘষা থেকে রক্ষা করে।
মনে রাখুন:
মূলটুপি: আগার কোষ রক্ষা করে।
বিভাজন অঞ্চল: নতুন কোষ তৈরি হয়।
বর্ধিষ্ণু অঞ্চল: কোষ লম্বা হয়ে মূল বড় হয়। - ২১১. শালগম কোন ধরনের রূপান্তরিত মূল?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রূপান্তরিত মূল
- ক. কন্দাকৃতি
- খ. রূপান্তরিত প্রধান মূল
- গ. অস্থানিক মূল
- ঘ. শাখা মূল
উত্তর: খ. রূপান্তরিত প্রধান মূল
বীজ থেকে সরাসরি যে মূল মাটির নিচে নামে, তাকে প্রধান মূল বলে। কিছু উদ্ভিদের প্রধান মূল খাদ্য জমিয়ে মোটা হয়ে বিশেষ আকার নেয়, তখন একে রূপান্তরিত প্রধান মূল (Modified Tap Root) বলে। শালগমের প্রধান মূলের ওপরের দিক খুব মোটা আর নিচের দিক হঠাৎ সরু হয়ে যায়, দেখতে অনেকটা লাটিমের মতো। তাই একে লাটিমাকৃতি মূল বলা হয়। মূলা, গাজর ও বিটও খাদ্য সঞ্চয়ী রূপান্তরিত প্রধান মূল, শুধু আকৃতিতে ভিন্ন।
মনে রাখুন:
মূলা: মাকুআকৃতি।
গাজর: শঙ্কু আকৃতি।
শালগম ও বিট: লাটিমাকৃতি।
মিষ্টি আলু: অস্থানিক মূলের রূপান্তর, কন্দাল মূল। - ২১২. পরাগায়ন কত প্রকার?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরাগায়ন
- ক. ২
- খ. ৩
- গ. ৪
- ঘ. ৫
উত্তর: ক. ২
ফুলের পরাগরেণু পরাগধানী থেকে একই প্রজাতির ফুলের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোকে পরাগায়ন (Pollination) বলে। পরাগায়ন দুই প্রকার। একটি ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলেরই গর্ভমুণ্ডে বা একই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। আর একই প্রজাতির ভিন্ন দুটি গাছের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন হলে তাকে পর-পরাগায়ন বলে। পর-পরাগায়নে পরাগরেণু বহন করতে বাতাস, পানি, পোকামাকড় বা পাখির মতো কোনো বাহক দরকার হয়।
মনে রাখুন:
পোকার সাহায্যে পরাগায়ন: এন্টোমোফিলি।
বাতাসের সাহায্যে: অ্যানিমোফিলি (যেমন ধান, গম)।
পানির সাহায্যে: হাইড্রোফিলি (যেমন পাতাঝাঁঝি)।
পাখির সাহায্যে: অরনিথোফিলি।
পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের শক্তিশালী সন্তান পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। - ২১৩. গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, অফিস সহায়ক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস
- ক. উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
- খ. ঝড় – বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
- গ. আলো থেকে রক্ষার জন্য
- ঘ. অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য
উত্তর: ঘ. অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য
গ্রিনহাউস (Greenhouse) হলো কাচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকে ঘেরা একটি ঘর, যার ভেতরে গাছ লাগানো হয়। সূর্যের আলো স্বচ্ছ দেয়াল ভেদ করে সহজে ভেতরে ঢোকে এবং মাটি ও গাছকে গরম করে। কিন্তু গরম বস্তু থেকে যে তাপ বিকিরিত হয়, তা কাচ ভেদ করে সহজে বাইরে যেতে পারে না, তাই ভেতরটা বাইরের চেয়ে উষ্ণ থাকে। এ কারণে শীতপ্রধান দেশে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষার থেকে গাছ রক্ষা করতে এবং সারা বছর সবজি ও ফুল ফলাতে গ্রিনহাউস ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন একইভাবে তাপ আটকে রাখে, একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। - ২১৪. কোনটি উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে কাজ করে?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, উপজেলা পোস্টমাস্টার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. জ্যান্থোফিল
- খ. জাইলেম
- গ. ক্রোমোপ্লাস্ট
- ঘ. ক্লোরোফিল
উত্তর: ঘ. ক্লোরোফিল
সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোর শক্তি কাজে লাগিয়ে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে শর্করা তৈরি করে, এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)। আলো শোষণের কাজটি করে পাতার ক্লোরোপ্লাস্টে থাকা সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল। ক্লোরোফিল মূলত লাল ও নীল আলো শোষণ করে আর সবুজ আলো প্রতিফলিত করে, তাই পাতা আমাদের চোখে সবুজ দেখায়। এই প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বাতাসে মুক্ত হয়, যা আমরা শ্বাস নিতে ব্যবহার করি।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।
ক্লোরোফিলের কেন্দ্রে থাকে ম্যাগনেসিয়াম।
জ্যান্থোফিল হলুদ আর ক্যারোটিন কমলা রঞ্জক। - ২১৫. কোনটি ক্ষুদ্রতম জলজ উদ্ভিদ?জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফিল্ড স্টাফ, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলজ উদ্ভিদ
- ক. Wolffia arrhiza
- খ. Azolla pinnata
- গ. Salvinia natans
- ঘ. Pistia stratiotes
উত্তর: ক. Wolffia arrhiza
উলফিয়া (Wolffia arrhiza) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি পুকুর বা ডোবার পানির ওপর ভেসে থাকে এবং দেখতে সবুজ ছোট দানার মতো, একেকটি উদ্ভিদ মাত্র ১ মিলিমিটারের কাছাকাছি লম্বা। এর কোনো মূল, কাণ্ড বা আলাদা পাতা নেই, পুরো দেহটিই একটি ছোট সবুজ গোলাকার অংশ। বাকি উদ্ভিদগুলোও জলজ ও ভাসমান, তবে আকারে বেশ বড়। অ্যাজোলা একটি জলজ ফার্ন, যার সঙ্গে বসবাসকারী নীলাভ সবুজ শৈবাল বাতাসের নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে। এ জন্য ধানখেতে জৈব সার হিসেবে অ্যাজোলা ব্যবহৃত হয়। Pistia stratiotes হলো টোপাপানা।
মনে রাখুন:
পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল র্যাফলেসিয়া। - ২১৬. রিবন রেটিং কি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাট
- ক. পাট পচানোর পদ্ধতি
- খ. রাবার চাষের পদ্ধতি
- গ. গতি পরিমাপক যন্ত্র
- ঘ. ধান চাষ পদ্ধতি
উত্তর: ক. পাট পচানোর পদ্ধতি
রিবন রেটিং (Ribbon retting) হলো পাট পচানোর একটি উন্নত পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে পুরো পাটগাছ আঁটি বেঁধে অনেক পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়। রিবন রেটিংয়ে কাঁচা পাটগাছ থেকে যন্ত্র বা হাতের সাহায্যে ছাল ফিতার মতো আলাদা করে নেওয়া হয়, তারপর শুধু ছালগুলো অল্প পানিতে বা গর্তে পচানো হয়। এতে কম পানি লাগে, পচতে কম সময় লাগে এবং আঁশের রং ও মান ভালো হয়। তাই যেসব এলাকায় পাট পচানোর মতো যথেষ্ট পানি পাওয়া যায় না, সেখানে এই পদ্ধতি খুব উপযোগী। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এই পদ্ধতি জনপ্রিয় করছে।
মনে রাখুন:
পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়। - ২১৭. অর্কিড কী ধরনের উদ্ভিদ?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি
- ক. পরাশ্রয়ী
- খ. মৃতজীবী
- গ. মিথোজীবী
- ঘ. উপরের সবগুলো
উত্তর: ক. পরাশ্রয়ী
অর্কিড (Orchid) সাধারণত বড় গাছের ডাল বা কাণ্ডে আশ্রয় নিয়ে জন্মায়, কিন্তু আশ্রয়দাতা গাছ থেকে কোনো খাদ্য বা পানি শুষে নেয় না। এর সবুজ পাতা নিজেই সালোকসংশ্লেষণ করে খাদ্য তৈরি করে। অন্য উদ্ভিদের ওপর শুধু আশ্রয়ের জন্য নির্ভর করে বলে এমন উদ্ভিদকে পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ (Epiphyte) বলে। অর্কিডের ঝুলন্ত বাতাসি মূলের গায়ে ভেলামেন নামের একটি বিশেষ স্পঞ্জের মতো টিস্যু থাকে, যা বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ করে। এই কারণে মাটিতে না থেকেও অর্কিড বেঁচে থাকতে পারে।
মনে রাখুন:
পরজীবী উদ্ভিদ আশ্রয়দাতার খাদ্য শোষণ করে, যেমন স্বর্ণলতা।
মিথোজীবীর উদাহরণ লাইকেন। - ২১৮. সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ হচ্ছে-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (তিতাস), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি
- ক. পরভোজী
- খ. স্বভোজী
- গ. পরজীবী
- ঘ. মিথোজীবী
উত্তর: খ. স্বভোজী
যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তাদের স্বভোজী (Autotroph) বলে। সপুষ্পক উদ্ভিদের সবুজ পাতায় ক্লোরোফিল থাকে। এই ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে, আর সেই শক্তিতে উদ্ভিদ বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মাটির পানি থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ। তাই সপুষ্পক উদ্ভিদ সাধারণভাবে স্বভোজী। তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে, যেমন স্বর্ণলতা ক্লোরোফিলবিহীন, এটি অন্য গাছের দেহ থেকে খাদ্য শোষণ করে বলে পরজীবী। অন্যদিকে মানুষসহ সব প্রাণী খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করে, তাই প্রাণীরা পরভোজী।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণে অক্সিজেন উপজাত হিসেবে বের হয়।
কলস উদ্ভিদ স্বভোজী হয়েও পোকা ধরে নাইট্রোজেনের ঘাটতি মেটায়। - ২১৯. উদ্ভিদ কোষ হতে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলে-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রস্বেদন
- ক. ব্যাপন
- খ. বাষ্পীভবন
- গ. শ্বসন
- ঘ. প্রস্বেদন
উত্তর: ঘ. প্রস্বেদন
উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে যে পানি শোষণ করে, তার খুব সামান্য অংশই খাদ্য তৈরিতে লাগে। বাকি বেশির ভাগ পানি পাতার নিচের দিকের ছোট ছোট ছিদ্র বা পত্ররন্ধ্র (Stomata) দিয়ে বাষ্প আকারে বাতাসে বেরিয়ে যায়। উদ্ভিদের দেহ থেকে এভাবে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে। প্রস্বেদনের ফলে পাতা ঠান্ডা থাকে, আর পাতায় যে টান তৈরি হয় তার ফলে মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ ওপরে উঠে আসে। অন্যদিকে বাষ্পীভবন শব্দটি সাধারণভাবে যেকোনো খোলা জায়গা থেকে তরলের বাষ্প হওয়া বোঝায়।
মনে রাখুন:
প্রায় ৯০ ভাগ প্রস্বেদন পত্ররন্ধ্র দিয়ে হয়।
আলো, তাপ ও বাতাস বাড়লে প্রস্বেদন বাড়ে। - ২২০. কোন খনিজ লবণের অভাবে গাছের পাতা ও ফুল ঝরে যায়?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি
- ক. ম্যাগনেসিয়াম
- খ. লৌহ
- গ. পটাশিয়াম
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ঘ. ফসফরাস
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাটি থেকে নানা খনিজ লবণ দরকার হয়, আর এদের মধ্যে ফসফরাস (Phosphorus) একটি প্রধান উপাদান। ফসফরাস শিকড়ের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন এবং ফুল ও ফল ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। এর অভাব হলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়, পাতা অকালে ঝরে পড়ে এবং ফুল ও কুঁড়িও ঝরে যায়। তাই কৃষকেরা জমিতে ফসফরাসের ঘাটতি পূরণে টিএসপি সার ব্যবহার করেন।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেনের অভাবে পাতা হলুদ হয়ে যায়, এর ঘাটতি পূরণে ইউরিয়া সার দেওয়া হয়।
পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণে এমওপি সার দেওয়া হয়।
ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিলের কেন্দ্রীয় মৌল। - ২২১. বৃক্ষ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য তৈরি করে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. শর্করা
- খ. আমিষ
- গ. স্নেহ
- ঘ. ভিটামিন
উত্তর: ক. শর্করা
সবুজ উদ্ভিদ পাতার ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলো শোষণ করে। সেই আলোর শক্তি কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদ মাটি থেকে নেওয়া পানি এবং বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলে। গ্লুকোজ একটি শর্করা, তাই সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। পরে এই গ্লুকোজ থেকেই উদ্ভিদ শ্বেতসার, সেলুলোজ এবং অন্যান্য যৌগ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বের হয়, যা আমরা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করি।
মনে রাখুন:
$6CO_2 + 6H_2O \rightarrow C_6H_{12}O_6 + 6O_2$
সালোকসংশ্লেষণ ঘটে কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে।
এতে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। - ২২২. উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যায় কিসের অভাবে?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের পুষ্টি
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. ফসফরাস
- গ. ইউরিয়া
- ঘ. পটাশিয়াম
উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
নাইট্রোজেন (Nitrogen) উদ্ভিদের ক্লোরোফিল ও প্রোটিন তৈরির অপরিহার্য উপাদান। মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি হলে পাতায় যথেষ্ট ক্লোরোফিল তৈরি হয় না, ফলে পাতার সবুজ রং হারিয়ে হলদে হয়ে যায়। এই অবস্থাকে ক্লোরোসিস বলে, আর এটি সাধারণত গাছের নিচের দিকের পুরোনো পাতায় আগে দেখা দেয়। ইউরিয়া নিজে কোনো পুষ্টি উপাদান নয়, বরং নাইট্রোজেন সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত একটি সার।
মনে রাখুন:
ইউরিয়া সারে প্রায় ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।
ফসফরাসের অভাবে শিকড়ের বৃদ্ধি কমে যায়।
পটাশিয়ামের অভাবে পাতার কিনারা পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়।
উদ্ভিদের প্রধান তিন পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম (NPK)। - ২২৩. উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের জন্য বায়ু থেকে গ্রহণ করে-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালোকসংশ্লেষণ
- ক. অক্সিজেন
- খ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: খ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে। পাতার নিচের দিকে থাকা ছোট ছোট পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা দিয়ে এই গ্যাস পাতার ভেতরে ঢোকে। আর মূল দিয়ে মাটি থেকে শোষণ করা পানি ও সূর্যের আলোর সাহায্যে ক্লোরোফিল এই কার্বন ডাইঅক্সাইডকে গ্লুকোজে পরিণত করে। এই প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে অক্সিজেন বের হয়ে বায়ুতে মেশে, যা আমরা শ্বাস নিতে ব্যবহার করি।
মনে রাখুন:
সমীকরণ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂ (আলো ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে)।
সালোকসংশ্লেষণ ঘটে কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে।
এ প্রক্রিয়ায় আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন