পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ৮। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ১৮৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (৩২)
- ১. কোন কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?৪০তম বিসিএস ও DMLC'র প্রভাষক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. ঘনীভবন
- খ. বাষ্পীভবন
- গ. গলনাঙ্ক
- ঘ. স্ফুটনাংক
উত্তর: গ. গলনাঙ্ক
বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক (Melting point) নির্দিষ্ট থাকে এবং খুব অল্প পরিসরে গলে যায়। কিন্তু অপদ্রব্য মেশানো থাকলে গলনাঙ্ক বদলে যায়, সাধারণত কমে যায় এবং গলার পরিসর বড় হয়। তাই গলনাঙ্ক মেপে আমরা বুঝতে পারি পদার্থটি বিশুদ্ধ কি না। তরলের ক্ষেত্রে এই কাজটি করা হয় স্ফুটনাঙ্ক (Boiling point) দিয়ে। একই ধারণায় তরলের বিশুদ্ধতা যাচাই করা হয় স্ফুটনাঙ্ক দিয়ে। বিশুদ্ধ পানির স্ফুটনাঙ্ক সাধারণ চাপে 100°C এবং গলনাঙ্ক 0°C। এর কোনো একটি বদলে গেলে বুঝতে হবে, পানিতে অন্য কিছু মেশানো আছে। তাই রসায়নাগারে নতুন তৈরি যৌগের বিশুদ্ধতা পরীক্ষায় গলনাঙ্ক মাপা একটি নিয়মিত কাজ।
মনে রাখুন: বরফে লবণ মেশালে গলনাঙ্ক 0°C-এর নিচে নেমে যায়। এ কারণেই শীতের দেশে বরফ গলাতে রাস্তায় লবণ ছড়ানো হয়। - ২. কোনটি মৌলিক পদার্থ?৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌল ও মিশ্রণ
- ক. লোহা
- খ. ব্রোঞ্জ
- গ. পানি
- ঘ. ইস্পাত
উত্তর: ক. লোহা
লোহা (Fe) একটি মৌলিক পদার্থ, কারণ এর প্রতিটি পরমাণু একই ধরনের। অন্যদিকে ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের সংকর ধাতু, আর ইস্পাত হলো লোহা ও কার্বনের সংকর ধাতু। সংকর ধাতু মিশ্রণ, তাই এরা মৌল নয়। পানি যৌগিক পদার্থ, কারণ এতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত থাকে। মৌলগুলোকে ধাতু ও অধাতুতে ভাগ করা যায়। লোহা একটি ধাতু, যা চুম্বকের টানে সাড়া দেয় এবং আর্দ্র বাতাসে মরিচা ধরে। সংকর ধাতু তৈরি করা হয় ধাতুর গুণ বদলে তাকে আরও কাজের উপযোগী করার জন্য, আর এ কারণেই সংকর ধাতুকে মিশ্র পদার্থ ধরা হয়।
মনে রাখুন:
ব্রোঞ্জ = তামা + টিন।
ইস্পাত = লোহা + কার্বন।
পিতল = তামা + দস্তা। - ৩. লবণ কী ধরনের পদার্থ?১৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. মৌলিক
- খ. গ্যাসীয়
- গ. মিশ্র
- ঘ. যৌগিক
উত্তর: ঘ. যৌগিক
খাবার লবণ সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এতে সোডিয়াম ও ক্লোরিন নামের দুটি মৌল নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত। তাই লবণ একটি যৌগিক পদার্থ। সোডিয়াম ধাতু এবং ক্লোরিন বিষাক্ত গ্যাস, কিন্তু এ দুটি যুক্ত হয়ে যে লবণ হয়, তার ধর্ম এই দুই মৌল থেকে একেবারে আলাদা। যৌগ তৈরি হলে উপাদানের ধর্ম বদলে যায়। আমরা রান্নায় যে লবণ ব্যবহার করি, তাতে অল্প পরিমাণে অন্য পদার্থ মেশানো থাকে, তাই বাজারের লবণ পুরোপুরি বিশুদ্ধ যৌগ নয়। কিন্তু বিশুদ্ধ অবস্থায় সোডিয়াম ক্লোরাইড একটি যৌগ। সমুদ্রের পানি থেকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আমরা লবণ সংগ্রহ করি।
মনে রাখুন: লবণ আয়নিক যৌগ, গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে। - ৪. নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌল ও মিশ্রণ
- ক. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
- খ. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনকেই বুঝায়
- গ. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
- ঘ. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
উত্তর: গ. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ। এতে প্রধানত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন আছে, তবে আর্গন, কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও আরও কিছু গ্যাসও মিশে আছে। তাই বায়ু বলতে শুধু অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনকে বোঝানো ঠিক নয়। এই গ্যাসগুলো রাসায়নিকভাবে যুক্ত নয়, তাই বায়ু যৌগ বা মৌল কোনোটিই নয়। শীতল করে তরল বায়ুকে আংশিক পাতন করলে এর উপাদান আলাদা করা যায়। বায়ু মিশ্রণ হলেও এতে উপাদানের গড় পরিমাণ মোটামুটি স্থির, তাই ভুল করে অনেকে এটিকে যৌগ ভাবে। কিন্তু বায়ুর উপাদানগুলো আলাদা করা যায় এবং তারা নিজ নিজ ধর্ম ধরে রাখে। মিশ্রণ আর যৌগের এই পার্থক্যটাই এখানে পরীক্ষায় মূল বিষয়।
মনে রাখুন: বায়ুর সবচেয়ে বেশি উপাদান নাইট্রোজেন, অক্সিজেন নয়। - ৫. ভারি পানি (Heavy water) এর সংকেত কি?৩৩তম বিসিএস ও ৩১তম বিসিএস ও BPSC'র হোম ইকোনোমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. 2H₂O₂
- খ. H₂O
- গ. D₂O
- ঘ. HD₂O₂
উত্তর: গ. D₂O
হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ হলো ডিউটেরিয়াম (D), যার নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটনের সঙ্গে একটি নিউট্রনও থাকে। এই ডিউটেরিয়াম অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে পানি তৈরি করে, তাকে ভারী পানি (Heavy water) বলে। এর সংকেত D₂O। সাধারণ হাইড্রোজেনের বদলে ভারী হাইড্রোজেন থাকে বলে এর আণবিক ভর বেশি, প্রায় 20। ভারী পানির স্ফুটনাঙ্ক 101.4°C ও গলনাঙ্ক 3.8°C, অর্থাৎ সাধারণ পানির চেয়ে সামান্য বেশি। হাইড্রোজেনের আরও এক আইসোটোপ ট্রিটিয়াম (T) তেজস্ক্রিয়, আর এর নিউক্লিয়াসে দুটি নিউট্রন থাকে। ভারী পানি পান করার জন্য উপযোগী নয়।
মনে রাখুন: পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমানোর কাজে ভারী পানি ব্যবহার হয়। - ৬. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কি কি থাকে?৩৪তম বিসিএস ও ২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. ইলেকট্রন ও প্রোটন
- খ. নিউট্রন ও প্রোটন
- গ. নিউট্রন ও পজিট্রন
- ঘ. ইলেকট্রন ও পজিট্রন
উত্তর: খ. নিউট্রন ও প্রোটন
পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। এ দুটিকে একসঙ্গে নিউক্লিয়ন বলা হয়। প্রোটনের চার্জ ধনাত্মক আর নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই, তাই নিউক্লিয়াস সব সময় ধনাত্মক চার্জযুক্ত। ইলেকট্রন কিন্তু নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে না, এটি বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনেরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, কারণ সমধর্মী চার্জ একে অপরকে দূরে ঠেলে। তবু নিউক্লিয়াস ভেঙে যায় না, কারণ কাছাকাছি দূরত্বে নিউক্লিয় বল নামের এক প্রবল আকর্ষণ বল কাজ করে। এই বল সবচেয়ে শক্তিশালী মৌলিক বল।
মনে রাখুন:
পরমাণুর প্রায় সব ভর নিউক্লিয়াসে থাকে।
নিউক্লিয়াসের আকার পরমাণুর তুলনায় অনেক ছোট। - ৭. নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. meson
- খ. neutron
- গ. proton
- ঘ. electron
উত্তর: ঘ. electron
নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। আর এই দুই কণাকে একসঙ্গে ধরে রাখে মেসন (Meson) নামের এক ধরনের কণিকা, যা নিউক্লিয় বল বহন করে। তাই প্রশ্নের তিনটি বিকল্প নিউক্লিয়াসের ভেতরে আছে। ইলেকট্রন কিন্তু নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে না, এটি নিউক্লিয়াসের বাইরে কক্ষপথে ঘোরে। আরও কিছু ক্ষণস্থায়ী কণিকা, যেমন মেসন, নিউক্লিয়াসের ভেতরে আদান-প্রদান হয়। ইলেকট্রন কিন্তু তেজস্ক্রিয় বিটা ক্ষয়ের সময় নিউক্লিয়াস থেকে বের হতে দেখা যায়, কারণ তখন একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় এবং একটি ইলেকট্রন তৈরি হয়।
মনে রাখুন: ১৯৩৫ সালে জাপানি বিজ্ঞানী হিদেকি ইউকাওয়া মেসনের অস্তিত্বের কথা ভবিষ্যদ্বাণী করেন। - ৮. নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়? -৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
- খ. প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
- গ. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
- ঘ. ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
উত্তর: গ. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন ও চার্জহীন নিউট্রন। আর ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে, বিভিন্ন কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। তাই ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থান করে, এই বাক্যটি সত্য নয়। বাকি তিনটি বাক্য ঠিক। মজার ব্যাপার হলো, ইলেকট্রনকে আমরা একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের চেয়ে বরং একটি মেঘের মতো সম্ভাবনার অঞ্চলে ঘুরতে দেখি। আধুনিক কোয়ান্টাম মডেলে একে অরবিটাল বলে। কিন্তু সব মডেলেই ইলেকট্রনের অবস্থান নিউক্লিয়াসের বাইরে।
মনে রাখুন: ধনাত্মক নিউক্লিয়াস ঋণাত্মক ইলেকট্রনকে আকর্ষণ করে বলেই ইলেকট্রন কক্ষপথে ঘুরতে পারে। - ৯. নিউট্রন আবিষ্কার করেন-২২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. কিউরি
- খ. রাদারফোর্ড
- গ. চ্যাডউইক
- ঘ. থমসন
উত্তর: গ. চ্যাডউইক
নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই বলে একে সরাসরি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক বেরিলিয়ামের ওপর আলফা কণা ফেলে এমন এক ভেদ্য রশ্মি পান, যা চার্জহীন কণা দিয়ে তৈরি। এই কণাই নিউট্রন। এজন্য তিনি ১৯৩৫ সালে নোবেল পুরস্কার পান। নিউট্রন নিজে চার্জহীন বলে একে ব্যবহার করে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো সহজ। ইউরেনিয়াম-235-এর নিউক্লিয়াসে একটি নিউট্রন আঘাত করলে সেটি ভেঙে যায় এবং প্রচুর শক্তি বের হয়। একে নিউক্লিয় বিভাজন (Fission) বলে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই নীতিতে চলে।
মনে রাখুন:
ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন থমসন।
প্রোটন আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড। - ১০. পরমাণু (Atom) চার্জ নিরপেক্ষ হয়, কারণ পরমাণুতে -২৪তম বিসিএস ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সহকারী সচিব, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. নিউট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান
- খ. প্রোটন ও নিউট্রনের ওজন সমান
- গ. ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান
- ঘ. নিউট্রন ও প্রোটন নিউক্লিয়াসে থাকে
উত্তর: গ. ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন থাকে, যাদের চার্জ ধনাত্মক। আর নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন ঘোরে, যাদের চার্জ ঋণাত্মক। একটি প্রোটনের ধনাত্মক চার্জ এবং একটি ইলেকট্রনের ঋণাত্মক চার্জ পরিমাণে সমান। তাই পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান হলে মোট চার্জ শূন্য হয়ে যায়, ফলে পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ। নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই, তাই এর সংখ্যা এখানে কোনো ভূমিকা রাখে না। যখন কোনো পরমাণু ইলেকট্রন হারায়, তখন প্রোটন বেশি থাকায় সেটি ধনাত্মক আয়নে (Cation) পরিণত হয়। আর ইলেকট্রন গ্রহণ করলে ঋণাত্মক আয়ন (Anion) হয়। যেমন সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে Na⁺ হয়, আর ক্লোরিন একটি ইলেকট্রন নিয়ে Cl⁻ হয়।
মনে রাখুন: ইলেকট্রন বাড়লে বা কমলে পরমাণু আয়নে পরিণত হয়। - ১১. মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাকে বলে -১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. অণু
- খ. পরমাণু
- গ. ইলেকট্রন
- ঘ. প্রোটন
উত্তর: খ. পরমাণু
কোনো মৌলিক পদার্থকে ভাঙতে ভাঙতে ছোট করলে শেষে যে ক্ষুদ্রতম কণা পাওয়া যায় এবং যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে, তাকে পরমাণু (Atom) বলে। পরমাণুর ভেতরে অবশ্য আরও ছোট কণা আছে, যেমন প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন, কিন্তু সেগুলো একা কোনো মৌলের ধর্ম বহন করে না। পরমাণু শব্দের অর্থ যাকে ভাঙা যায় না। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানে দেখা গেছে, পারমাণবিক বিক্রিয়ায় পরমাণুকেও ভাঙা যায়। তবে সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণু অক্ষত থাকে, কেবল নতুন করে সাজানো হয়।
মনে রাখুন:
পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, তাতে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে।
ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘোরে।
দুই বা তার বেশি পরমাণু যুক্ত হয়ে অণু তৈরি করে। - ১২. আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. ৩৯
- খ. ৩২
- গ. ৩৩
- ঘ. ৩৪
উত্তর: গ. ৩৩
আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। এটি পর্যায় সারণির পঞ্চম মৌলগোষ্ঠীর সদস্য এবং ধাতু ও অধাতুর মাঝামাঝি ধর্মের জন্য একে উপধাতু (Metalloid) বলা হয়। আর্সেনিক বিষাক্ত। বাংলাদেশের অনেক এলাকার নলকূপের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে আর্সেনিক মিশে থাকায় পানিদূষণের বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। পর্যায় সারণির পঞ্চম গ্রুপের মৌলগুলো হলো নাইট্রোজেন (৭), ফসফরাস (১৫), আর্সেনিক (৩৩), অ্যান্টিমনি (৫১) ও বিসমাথ (৮৩)। আর্সেনিক বিষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত।
মনে রাখুন:
আর্সেনিকের সংকেত As।
পানিতে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান), বাংলাদেশের মান ০.০৫ মিলিগ্রাম। - ১৩. ¹⁷₈O আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা কত?৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়
- ক. ৮
- খ. ১৭
- গ. ৯
- ঘ. ২৫
উত্তর: গ. ৯
¹⁷₈O আইসোটোপে ভর সংখ্যা ১৭ ও প্রোটন সংখ্যা ৮। নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা − প্রোটন সংখ্যা = 17 − 8 = 9। অতএব এই আইসোটোপের নিউক্লিয়াসে ৯টি নিউট্রন আছে। অক্সিজেনের সাধারণ আইসোটোপ ¹⁶O-তে নিউট্রন ৮টি, আর ¹⁸O-তে ১০টি। নিউট্রন সংখ্যা বদলায় বলেই এরা আলাদা আইসোটোপ। এখান থেকে বোঝা যায়, ¹⁶O, ¹⁷O ও ¹⁸O পরস্পরের আইসোটোপ। তিনটির রাসায়নিক ধর্ম একই, কারণ ইলেকট্রন সংখ্যা একই। এই হিসাবের নিয়ম সব আইসোটোপের জন্যই খাটে।
মনে রাখুন: আইসোটোপে প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে, নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। - ১৪. ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. ১৭
- খ. ১৮
- গ. ৩৫
- ঘ. ৭০
উত্তর: খ. ১৮
³⁵₁₇Cl-এ ভর সংখ্যা ৩৫ ও পারমাণবিক সংখ্যা ১৭, অর্থাৎ প্রোটন ১৭টি। নিউট্রন সংখ্যা = 35 − 17 = 18। ক্লোরিনের আরেকটি আইসোটোপ ³⁷Cl-এ নিউট্রন থাকে 37 − 17 = 20টি। প্রকৃতিতে ক্লোরিন-৩৫ আছে প্রায় ৭৫ ভাগ আর ক্লোরিন-৩৭ প্রায় ২৫ ভাগ। এ কারণেই ক্লোরিনের গড় পারমাণবিক ভর ৩৫.৫।
মনে রাখুন: ক্লোরিন একটি হ্যালোজেন, সাধারণ তাপমাত্রায় হলুদ-সবুজ গ্যাস।
মনে রাখুন: গড় পারমাণবিক ভর = (৩৫ × ৭৫ + ৩৭ × ২৫) ÷ ১০০ ≈ ৩৫.৫। অর্থাৎ আইসোটোপের শতকরা পরিমাণ জানলে গড় ভর হিসাব করা যায়। - ১৫. যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয়, তাদের বলে -২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. আইসোমার
- খ. আইসোটোপ
- গ. আইসোটোন
- ঘ. আইসোবার
উত্তর: খ. আইসোটোপ
যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলে। প্রোটন সংখ্যা সমান বলে এরা একই মৌলের পরমাণু। শুধু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা হওয়ায় ভর সংখ্যা আলাদা হয়। যেমন ¹²C, ¹³C ও ¹⁴C সবার প্রোটন ৬টি, কিন্তু নিউট্রন যথাক্রমে ৬, ৭ ও ৮টি। আইসোটোপের উদাহরণ আরও আছে। ইউরেনিয়ামের ²³⁵U ও ²³⁸U আইসোটোপ, এর মধ্যে ²³⁵U পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি।
মনে রাখুন:
আইসোবার: ভর সংখ্যা সমান, প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন।
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান।
আইসোমার: নিউক্লিয়াসের ভর ও প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু শক্তির অবস্থা ভিন্ন। - ১৬. এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে বলে-২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. আইসোটোপ
- খ. আইসোমার
- গ. আইসোটোন
- ঘ. আইসোবার
উত্তর: ক. আইসোটোপ
কোনো মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান থাকলেও নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যা বেশি হলে ভর সংখ্যা বেড়ে যায়। এই পরমাণুগুলো একই মৌলের হলেও ভরে আলাদা, এদের আইসোটোপ বলে। যেমন সাধারণ হাইড্রোজেনের ভর সংখ্যা ১, ডিউটেরিয়ামের ২ এবং ট্রিটিয়ামের ৩। তিনটির প্রোটন সংখ্যা ১, শুধু নিউট্রন সংখ্যা ০, ১ ও ২। এই ধারণা প্রথম দেন ফ্রেডরিক সডি, আর ভর বর্ণালীমাপক যন্ত্রে আইসোটোপ প্রথম আলাদা করে দেখান ফ্রান্সিস অ্যাস্টন। আইসোটোপ আছে বলেই মৌলের পারমাণবিক ভর পূর্ণ সংখ্যা না হয়ে দশমিক সংখ্যা হয়।
মনে রাখুন: আইসোটোপের রাসায়নিক ধর্ম একই, কিন্তু ভৌত ধর্ম (যেমন ঘনত্ব) সামান্য আলাদা। - ১৭. আইসোটোপের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ভর সংখ্যা সমান থাকে
- খ. নিউট্রন সংখ্যা একই থাকে
- গ. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
- ঘ. প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
উত্তর: গ. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
আইসোটোপ হলো একই মৌলের এমন পরমাণু, যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান। প্রোটন সংখ্যা সমান বলেই পারমাণবিক সংখ্যা সমান, ফলে এরা একই মৌল। কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় ভর সংখ্যাও ভিন্ন হয়। তাই ভর সংখ্যা, নিউট্রন সংখ্যা বা প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান থাকে না। চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত কয়েকটি আইসোটোপ হলো ক্যানসার চিকিৎসায় কোবাল্ট-৬০, থাইরয়েড চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ এবং জীবাশ্মের বয়স নির্ণয়ে কার্বন-১৪। আইসোটোপগুলো পর্যায় সারণিতে একই স্থান দখল করে।
মনে রাখুন:
আইসোটোপের ইলেকট্রন বিন্যাস একই, তাই রাসায়নিক ধর্ম একই।
আইসোটোপের ভৌত ধর্ম ও ভর আলাদা। - ১৮. যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয়, তাদের বলা হয় -২৯তম ও ২২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. আইসোটোন
- খ. আইসোমার
- গ. আইসোটোপ
- ঘ. আইসোবার
উত্তর: ক. আইসোটোন
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোন (Isotone) বলে। নিউট্রন সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন সংখ্যা আলাদা, তাই এরা ভিন্ন মৌল। যেমন ³¹P-তে 31 − 15 = 16টি নিউট্রন, আবার ³²S-এ 32 − 16 = 16টি নিউট্রন। দুটিতেই নিউট্রন ১৬টি, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন। সংক্ষেপে মনে রাখার উপায়: আইসোটোপ মানে একই প্রোটন, আইসোবার মানে একই ভর সংখ্যা এবং আইসোটোন মানে একই নিউট্রন। শব্দের শেষ অংশ থেকেই এদের আলাদা করা যায়।
মনে রাখুন:
আইসোটোপ: প্রোটন সংখ্যা সমান।
আইসোবার: ভর সংখ্যা সমান।
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান। - ১৯. সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কেলাস গঠন
- ক. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
- খ. দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
- গ. সংঘবদ্ধ- ঘনকাকার
- ঘ. সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
উত্তর: ক. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) আয়নিক যৌগ। এর কেলাসে Na⁺ ও Cl⁻ আয়নগুলো ঘনকের মতো সুশৃঙ্খল ত্রিমাত্রিক বিন্যাসে সাজানো থাকে। ক্লোরাইড আয়নগুলো ঘনকের আটটি কোণ ও ছয়টি তল-কেন্দ্রে বসে, আর সোডিয়াম আয়নগুলো তাদের মাঝের ফাঁকে থাকে। একে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকার (Face-centered Cubic) গঠন বলে। প্রতিটি আয়ন বিপরীত আধানের ৬টি আয়ন দিয়ে ঘেরা থাকে। NaCl এর গলনাঙ্ক প্রায় ৮০১°C, যা অনেক বেশি, কারণ আয়নগুলোর মধ্যে বন্ধন খুব শক্ত। কঠিন অবস্থায় এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, কিন্তু গলিত বা জলীয় দ্রবণে করে।
মনে রাখুন:
NaCl কেলাসের সন্নিবেশ সংখ্যা ৬ : ৬।
একে রক সল্ট গঠনও বলা হয়। - ২০. HPLC এর পূর্ণরূপ কী?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পৃথকীকরণ পদ্ধতি
- ক. High pressure liquid chromatography.
- খ. High power liquid chromatography.
- গ. High performance liquid chromatography.
- ঘ. High plant liquid chromatography.
উত্তর: গ. High performance liquid chromatography.
HPLC-এর পূর্ণরূপ High Performance Liquid Chromatography। এটি একটি আধুনিক পৃথকীকরণ পদ্ধতি, যাতে কঠিন পদার্থ ভরা একটি নলের ভেতর দিয়ে উচ্চ চাপে তরল দ্রাবক চালানো হয়। মিশ্রণের উপাদানগুলো নলে আলাদা গতিতে এগোয় বলে আলাদা হয়ে যায়। ওষুধ, খাদ্য ও পানির বিশ্লেষণে এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। শুরুতে এর নাম ছিল হাই প্রেসার, পরে উন্নত কার্যক্ষমতার কথা বোঝাতে হাই পারফরম্যান্স নামটি চালু হয়। HPLC-তে খুব অল্প নমুনা দিয়েই নির্ভুল বিশ্লেষণ করা যায়।
মনে রাখুন: ক্রোমাটোগ্রাফির মূল কথা হলো স্থির দশা ও গতিশীল দশার মধ্যে উপাদানের ভিন্ন আচরণ। - ২১. কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?৪১তম বিসিএস ও বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দ্রবণ
- ক. গ্লিসারিন
- খ. ফিটকারি
- গ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
- ঘ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
কোনো পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হবে কি না, তা নির্ভর করে পদার্থটির বন্ধনের ধরন ও পানির সঙ্গে আকর্ষণের ওপর। সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) আয়নিক যৌগ, তাই পানির পোলার অণু একে সহজে ভেঙে দ্রবীভূত করে। ফিটকারি এবং গ্লিসারিনও পানিতে ভালোভাবে মেশে, গ্লিসারিন তো পানির সঙ্গে যেকোনো অনুপাতে মিশে যায়। কিন্তু ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃), যার অন্য নাম চুনাপাথর, পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়। এর আয়নগুলোর মধ্যে আকর্ষণ এত বেশি যে পানির অণু সেই বন্ধন ভাঙতে পারে না।
মনে রাখুন:
চুনাপাথর, মার্বেল ও ঝিনুকের খোলের মূল উপাদান CaCO₃।
CaCO₃ তাপ দিলে ভেঙে চুন (CaO) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড দেয়। - ২২. বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি - -৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক বন্ধন
- ক. যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
- খ. যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
- গ. যুক্ত অবস্থার সমান
- ঘ. কোনোটিই সঠিক নয়
উত্তর: খ. যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
পরমাণুগুলো রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হওয়ার সময় শক্তি ছেড়ে দেয় এবং এতে আরও স্থিতিশীল হয়। তাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থার চেয়ে বেশি থাকে। উল্টো দিক থেকে ভাবলে, যুক্ত পরমাণুদের আলাদা করতে বাইরে থেকে শক্তি দিতে হয়, আর এই শক্তিকে বন্ধন শক্তি বলে। একটি বল পাহাড়ের চূড়া থেকে গড়িয়ে নিচে নামলে যেমন তার শক্তি কমে, এখানেও ব্যাপারটা তেমনই। এ কারণেই হাইড্রোজেন অণুর মতো যুক্ত অবস্থা বিচ্ছিন্ন পরমাণুর চেয়ে বেশি স্থায়ী।
মনে রাখুন:
বন্ধন গঠনের সময় শক্তি নির্গত হয়, আর ভাঙার সময় শক্তি শোষিত হয়।
যে অবস্থায় শক্তি কম, সেই অবস্থাই বেশি স্থিতিশীল। - ২৩. জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়-৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. অ্যানােডে
- খ. ক্যাথােডে
- গ. অ্যানােড এবং ক্যাথােড উভয়টিতে
- ঘ. বর্ণিত কোনটিতেই নয়
উত্তর: ক. অ্যানােডে
জারণ (Oxidation) মানে ইলেকট্রন ত্যাগ। তড়িৎ কোষে যে তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, সেটিই অ্যানোড (Anode)। তাই অ্যানোডে জারণ ঘটে। উল্টোদিকে ক্যাথোডে (Cathode) ইলেকট্রন গ্রহণ হয়, ফলে সেখানে বিজারণ (Reduction) ঘটে। এই নিয়ম গ্যালভানিক কোষ ও তড়িৎ বিশ্লেষণ, দুই ক্ষেত্রেই সত্য। জারণ ও বিজারণ একই বিক্রিয়ায় একসঙ্গে ঘটে বলে একটিকে ছাড়া অন্যটি হয় না।
মনে রাখুন:
মনে রাখার সূত্র: OIL RIG, অর্থাৎ Oxidation Is Loss, Reduction Is Gain।
জারণ সংখ্যা বাড়লে জারণ হয়, আর কমলে বিজারণ হয়।
গ্যালভানিক কোষে অ্যানোড ঋণাত্মক এবং ক্যাথোড ধনাত্মক, তড়িৎ বিশ্লেষণে ঠিক উল্টো। - ২৪. কোনটি জারক পদার্থ নয়?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. ক্লোরিন
- ঘ. ব্রোমিন
উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
যে পদার্থ অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বা তাতে অক্সিজেন যোগ করে, তাকে জারক পদার্থ (Oxidizing Agent) বলে। অক্সিজেন, ক্লোরিন ও ব্রোমিন ইলেকট্রন নিতে চায়, তাই এরা জারক। কিন্তু হাইড্রোজেন সাধারণত ইলেকট্রন ছেড়ে দেয় এবং অন্য পদার্থ থেকে অক্সিজেন সরিয়ে নেয়। এ কারণে হাইড্রোজেন জারক নয়, বরং বিজারক পদার্থ (Reducing Agent)। ক্লোরিন পানির জীবাণু ধ্বংস করে, কারণ এটি শক্তিশালী জারক পদার্থ।
মনে রাখুন:
জারক পদার্থ নিজে বিজারিত হয়।
বিজারক পদার্থ নিজে জারিত হয়।
পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড পরিচিত জারক পদার্থ। - ২৫. জারণ বিক্রিয়ায় ঘটে-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. ইলেক্ট্রন বর্জন
- খ. ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- গ. ইলেক্ট্রন আদান-প্রদান
- ঘ. তড়িৎ ধনাত্মক মৌলের বা মূলকের অপসারণ
উত্তর: ক. ইলেক্ট্রন বর্জন
যে বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে, তাকে জারণ (Oxidation) বলে। এ সময় ওই পরমাণু বা আয়নের জারণ সংখ্যা বাড়ে। উল্টোদিকে ইলেকট্রন গ্রহণকে বিজারণ (Reduction) বলে। জারণ ও বিজারণ সবসময় একই সঙ্গে ঘটে, তাই এই বিক্রিয়াকে রেডক্স বিক্রিয়া (Redox Reaction) বলা হয়। একটি পরমাণু যে ইলেকট্রন ছাড়ে, অন্য একটি পরমাণু সেটিই গ্রহণ করে। যে পদার্থ ইলেকট্রন ছাড়ে, সে বিজারক। আর যে গ্রহণ করে, সে জারক।
মনে রাখুন:
প্রাচীন সংজ্ঞায় অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিংবা হাইড্রোজেন হারানোও জারণ।
লোহায় মরিচা পড়া জারণের একটি পরিচিত উদাহরণ। - ২৬. অ্যানোডে কোন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. জারণ
- খ. বিজারণ
- গ. প্রশমন
- ঘ. পানি যোজন
উত্তর: ক. জারণ
তড়িৎ রসায়নে যে তড়িৎদ্বারে জারণ (Oxidation) ঘটে, তাকে অ্যানোড (Anode) বলে। জারণে পরমাণু ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, তাই অ্যানোডে ইলেকট্রন বের হয়ে বাইরের তারের মধ্য দিয়ে চলে যায়। অপর তড়িৎদ্বার ক্যাথোডে (Cathode) এই ইলেকট্রন গ্রহণ করা হয় এবং সেখানে বিজারণ (Reduction) ঘটে। বিদ্যুৎ কোষে অ্যানোড ও ক্যাথোডের চিহ্ন আলাদা। গ্যালভানিক কোষে অ্যানোড ঋণাত্মক ও ক্যাথোড ধনাত্মক, আর তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষে অ্যানোড ধনাত্মক ও ক্যাথোড ঋণাত্মক।
মনে রাখুন:
মনে রাখার সহজ উপায়: অ্যানোড ও জারণ দুটোই স্বরবর্ণ দিয়ে শুরু, আর ক্যাথোড ও বিজারণ দুটোই ব্যঞ্জনবর্ণ দিয়ে শুরু।
ইলেকট্রন সব সময় অ্যানোড থেকে ক্যাথোডের দিকে প্রবাহিত হয়। - ২৭. ³⁵₁₇Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউট্রন সংখ্যা
- ক. 17
- খ. 18
- গ. 35
- ঘ. 70
উত্তর: খ. 18
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে। প্রোটন সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা এবং প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টিকে ভরসংখ্যা বলে। তাই নিউট্রন সংখ্যা বের করার সূত্র হলো ভরসংখ্যা − পারমাণবিক সংখ্যা। ক্লোরিনের (Cl) ভরসংখ্যা ৩৫ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১৭, তাই নিউট্রন সংখ্যা = 35 − 17 = 18। এই সহজ সূত্র মনে রাখলে যেকোনো পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সঙ্গে সঙ্গে বের করা যায়। সংকেতে ভরসংখ্যা ওপরে ও পারমাণবিক সংখ্যা নিচে লেখা হয়।
মনে রাখুন: ক্লোরিনের আরেকটি আইসোটোপ Cl-37, যাতে নিউট্রন 37 − 17 = 20। এ কারণে ক্লোরিনের গড় পারমাণবিক ভর প্রায় 35.5। - ২৮. নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
- খ. প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
- গ. ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
- ঘ. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ভিতরে অবস্থান করে
উত্তর: ঘ. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ভিতরে অবস্থান করে
পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, যার ভেতরে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন ও চার্জহীন নিউট্রন থাকে। ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে না, বরং এর বাইরে নির্দিষ্ট কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে ঘোরে। তাই ‘ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে’ বাক্যটিই সত্য নয়। পরমাণুর গঠন বুঝলে এই বাক্যের ভুল সহজেই ধরা পড়ে। নিউক্লিয়াস পরমাণুর তুলনায় অনেক ছোট, কিন্তু প্রায় সব ভর সেখানে থাকে। তাই ইলেকট্রনের অবস্থান নিয়ে বাক্যটিই এখানে ভুল।
মনে রাখুন:
ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে জে থমসন (১৮৯৭)।
নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড (১৯১১)।
নিউট্রন আবিষ্কার করেন জেমস চ্যাডউইক (১৯৩২)।
প্রোটন ও নিউট্রনকে একত্রে নিউক্লিয়ন বলে। - ২৯. যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয়, তাদের কি বলা হয়?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোন
- ক. আইসোটোপ
- খ. আইসোটোন
- গ. আইসোমার
- ঘ. আইসোবার
উত্তর: খ. আইসোটোন
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোন (Isotone) বলে। উদাহরণ হিসেবে কার্বন-১৪ (৬টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন) ও নাইট্রোজেন-১৫ (৭টি প্রোটন, ৮টি নিউট্রন) আইসোটোন, কারণ দুটিতেই নিউট্রন ৮টি। নামগুলোর গোড়া দেখে মনে রাখা সহজ। আইসো মানে সমান, আর টোন শব্দটি নিউট্রনের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই আইসোটোন মানে সমান নিউট্রন। পরীক্ষায় এই তিন ধারণার ভুল সবচেয়ে বেশি হয়।
মনে রাখুন:
প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হলে আইসোটোপ।
ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন হলে আইসোবার। - ৩০. এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় বলে তাদের বলা হয় –২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. আইসোটোপ
- খ. আইসোটোন
- গ. আইসোমার
- ঘ. আইসোবার
উত্তর: ক. আইসোটোপ
কোনো মৌলের সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা সমান থাকে। কিন্তু কিছু পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা আলাদা হতে পারে, ফলে ভরসংখ্যাও আলাদা হয়। এমন পরমাণুদের আইসোটোপ (Isotope) বলে। যেমন কার্বন-12 ও কার্বন-14 দুটিতেই প্রোটন ৬টি, কিন্তু নিউট্রন যথাক্রমে ৬টি ও ৮টি। আইসোটোন বলতে নিউট্রন সংখ্যা সমান, আর আইসোবার বলতে ভরসংখ্যা সমান বোঝায়। আইসোটোপের ক্ষেত্রে পারমাণবিক সংখ্যা এক থাকায় তারা পর্যায় সারণির একই স্থানে বসে। ভরসংখ্যা বদলে গেলেও তাই মৌলের পরিচয় বদলায় না।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ হলো প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। - ৩১. যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয়, তাদের বলা হয় –২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. আইসোবার
- খ. আইসোটোপ
- গ. আইসোটোন
- ঘ. আইসোমার
উত্তর: খ. আইসোটোপ
কোনো মৌলের পরমাণুর পরিচয় ঠিক হয় প্রোটন সংখ্যা দিয়ে। কিন্তু একই মৌলের পরমাণুতে নিউট্রন সংখ্যা আলাদা হতে পারে, ফলে ভরসংখ্যা (প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টি) বদলে যায়। প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন হলে তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলে। যেমন হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।
মনে রাখুন:
আইসোবার (Isobar): ভরসংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, যেমন আর্গন-40 ও ক্যালসিয়াম-40।
আইসোটোন (Isotone): নিউট্রন সংখ্যা সমান, যেমন কার্বন-14 ও নাইট্রোজেন-15।
আইসোমার (Isomer): প্রোটন ও ভরসংখ্যা দুটিই সমান, কিন্তু শক্তি ভিন্ন। - ৩২. মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয়-১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণু
- ক. পরমাণু
- খ. ইলেকট্রন
- গ. অণু
- ঘ. প্রোটন
উত্তর: ক. পরমাণু
মৌলিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে, তাকে পরমাণু (Atom) বলে। অণু (Molecule) হলো এক বা একাধিক পরমাণুর সমষ্টি, যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। কিন্তু বিক্রিয়ার সময় অণুর বন্ধন ভেঙে যায় এবং পরমাণুগুলোই নতুনভাবে যুক্ত হয়। ইলেকট্রন ও প্রোটন পরমাণুর ভেতরের কণা, এরা আলাদাভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না। ডাল্টনের পরমাণুবাদে বলা হয়েছিল, পরমাণু বিভাজ্য নয়। পরে জানা গেছে পরমাণুর ভেতরেও আরও ক্ষুদ্র কণা আছে, তবু রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিচারে পরমাণুই মূল একক।
মনে রাখুন:
পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস, তাতে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে।
ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘোরে।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (১৫৭)
- ৩৩. কোনটি পদার্থ নয়?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থ ও শক্তি
- ক. আলো
- খ. অক্সিজেন
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. পানি
উত্তর: ক. আলো
যার ভর আছে এবং যে জায়গা দখল করে, তাকে আমরা পদার্থ (Matter) বলি। অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন গ্যাস, আর পানি তরল, এই তিনটিরই ভর আছে এবং স্থান দখল করে, তাই এগুলো পদার্থ। আলোর কিন্তু কোনো ভর নেই, স্থানও দখল করে না। আলো এক ধরনের শক্তি (Energy), তাই এটি পদার্থ নয়। পদার্থ আবার তিন অবস্থায় থাকতে পারে, কঠিন, তরল ও বায়বীয়। শক্তির কিন্তু এমন কোনো অবস্থা নেই। শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে বদলে যায়, যেমন বাতির ভেতরে বিদ্যুৎ-শক্তি আলোক-শক্তিতে পরিণত হয়।
মনে রাখুন:
পদার্থের দুটি বৈশিষ্ট্য: ভর আছে এবং স্থান দখল করে।
শক্তির উদাহরণ: আলো, তাপ, শব্দ, বিদ্যুৎ। - ৩৪. কোনটি পদার্থ?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থ ও শক্তি
- ক. বাতাস
- খ. বিদ্যুৎ
- গ. তাপ
- ঘ. আলো
উত্তর: ক. বাতাস
আমাদের চারপাশের বাতাস চোখে দেখা না গেলেও এর ভর আছে। বাতাস ভরা বেলুন খালি বেলুনের চেয়ে ভারী হয়, আর বাতাস সব সময় জায়গাও দখল করে। ভর আছে এবং জায়গা দখল করে, তাই বাতাস পদার্থ। বিদ্যুৎ, তাপ ও আলোর ভরও নেই, জায়গাও দখল করে না। এগুলো সবই শক্তির বিভিন্ন রূপ। আমরা বাতাসের চাপও অনুভব করতে পারি। ঝড়ের সময় বাতাস গাছ ভেঙে ফেলে, কারণ গতিশীল বাতাস বল প্রয়োগ করতে পারে। এই ধর্ম শুধু পদার্থেরই থাকে। বাতাস নিজে অবশ্য কোনো একক পদার্থ নয়, এটি নাইট্রোজেন, অক্সিজেনসহ অনেক গ্যাসের মিশ্রণ।
মনে রাখুন: পদার্থ কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে, শক্তির এমন কোনো অবস্থা নেই। - ৩৫. কোনটি আমাদের জীবনে অত্যাবশ্যকীয় পদার্থ?দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থ ও শক্তি
- ক. তাপ
- খ. শক্তি
- গ. লবণ
- ঘ. আলো
উত্তর: গ. লবণ
এখানে চারটি জিনিসের মধ্যে কেবল লবণ পদার্থ, কারণ লবণের ভর আছে এবং এটি জায়গা দখল করে। তাপ, শক্তি ও আলো পদার্থ নয়, এগুলো শক্তির রূপ। লবণ আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকারি। খাবার লবণ হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), যার সোডিয়াম আয়ন স্নায়ুর কাজ ও শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পদার্থ ও শক্তির এই পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। মনে রাখার সহজ উপায় হলো, যা হাতে ধরে ওজন করা যায় তা পদার্থ, আর যা দিয়ে কাজ করা যায় কিন্তু ওজন করা যায় না তা শক্তি। বেশি লবণ খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ে।
মনে রাখুন: সুস্থ মানুষের শরীরে লবণ-পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতেই খাবার স্যালাইনে লবণ দেওয়া হয়। - ৩৬. কোনটি শক্তি?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থ ও শক্তি
- ক. কয়লা
- খ. গ্যাস
- গ. তাপ
- ঘ. উষ্ণতা
উত্তর: গ. তাপ
কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে, আর তাপ এমনই এক ধরনের শক্তি। এই শক্তি এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে যায়, যখন তাদের তাপমাত্রা আলাদা থাকে। কয়লা ও গ্যাসের ভর আছে এবং এরা জায়গা দখল করে, তাই এরা পদার্থ, যদিও এদের পোড়ালে তাপশক্তি পাওয়া যায়। উষ্ণতা শক্তি নয়, এটি কোনো বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা তার একটি পরিমাপ মাত্র।
মনে রাখুন:
তাপ হলো শক্তি, উষ্ণতা হলো গরম-ঠান্ডার মাত্রা।
তাপের একক জুল (J), আর উষ্ণতার একক কেলভিন (K)। - ৩৭. আলো কি?পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থ ও শক্তি
- ক. পদার্থ
- খ. শক্তি
- গ. বস্তু
- ঘ. বল
উত্তর: খ. শক্তি
আলোর কোনো ভর নেই এবং এটি জায়গাও দখল করে না। তাই আলো পদার্থ বা বস্তু নয়। আলো আসলে এক ধরনের শক্তি, যা তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ আকারে ছড়ায়। বল হলো ধাক্কা বা টান, যা কোনো বস্তুর গতি বদলাতে চায়, তাই আলো বলও নয়। শক্তির বিভিন্ন রূপ আছে, যেমন আলো, তাপ, শব্দ, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক শক্তি। আলো সোজা পথে চলে বলে ছায়া তৈরি হয়। আলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে কোনো মাধ্যম লাগে না, তাই শূন্যস্থান পেরিয়ে সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসে। সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড লাগে।
মনে রাখুন:
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ m/s।
আলো ফোটন (Photon) নামের শক্তির কণিকা হিসেবেও আচরণ করে। - ৩৮. বিদ্যুৎ হচ্ছে-তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কো. লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থ ও শক্তি
- ক. কাজ
- খ. গতি
- গ. শক্তি
- ঘ. বল
উত্তর: গ. শক্তি
বিদ্যুৎ হলো শক্তির একটি রূপ। বিদ্যুতের সাহায্যে আমরা বাতি জ্বালাই, পাখা ঘোরাই, যন্ত্র চালাই, অর্থাৎ বিদ্যুৎ দিয়ে কাজ করা যায়। আর কাজ করার সামর্থ্যই শক্তি। বল, গতি বা কাজ কোনোটিই বিদ্যুতের সংজ্ঞা নয়। কাজ হলো বল প্রয়োগের ফল, আর গতি হলো অবস্থান বদলানো। আমরা যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, তখন আসলে বিদ্যুৎ-শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। হিটারে তা তাপ হয়, বাতিতে আলো হয়, আর পাখায় গতিশক্তি হয়। বিদ্যুৎ-শক্তির একক জুল (Joule), তবে বাড়িতে বিদ্যুৎ মাপা হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) এককে, যাকে আমরা এক ইউনিট বলি।
মনে রাখুন: শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে বদলায়, কিন্তু নতুন করে সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না। একে শক্তির নিত্যতা সূত্র বলে। - ৩৯. কোন পদার্থে আন্তঃকণা আকর্ষণ বেশি?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-র ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. চিনি
- খ. পানি
- গ. তেল
- ঘ. অক্সিজেন
উত্তর: ক. চিনি
পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে যে টান কাজ করে, তাকে আন্তঃকণা আকর্ষণ বলে। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি থাকে, তাই এই আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি হয়। চিনি কঠিন পদার্থ, কিন্তু পানি ও তেল তরল এবং অক্সিজেন গ্যাস। এদের কণার মধ্যে আকর্ষণ তুলনামূলক কম, তাই চিনির আন্তঃকণা আকর্ষণই সবচেয়ে বেশি। কঠিন পদার্থের কণাগুলো গায়ে গায়ে লেগে থাকে বলে এরা নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন ধরে রাখে এবং সহজে সংকুচিত হয় না। তরলের আয়তন নির্দিষ্ট, কিন্তু আকার পাত্র অনুযায়ী বদলায়। গ্যাসের আকার ও আয়তন কোনোটাই নির্দিষ্ট নয়, কারণ এর কণাগুলো প্রায় স্বাধীনভাবে ছোটাছুটি করে।
মনে রাখুন: আন্তঃকণা আকর্ষণ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি, তরলে মাঝারি এবং গ্যাসে সবচেয়ে কম। - ৪০. কোন অবস্থায় অণুসমূহের মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সর্বনিম্ন হয়?NESCO'র সহ স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. তরল
- খ. প্লাজমা
- গ. বায়বীয়
- ঘ. কঠিন
উত্তর: গ. বায়বীয়
গ্যাসীয় অবস্থায় অণুগুলো একে অপরের থেকে অনেক দূরে থাকে এবং খুব দ্রুত ছোটাছুটি করে। দূরত্ব বেশি বলে তাদের মধ্যকার আকর্ষণ বল প্রায় নেই বললেই চলে, তাই গ্যাস নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন ধরে রাখতে পারে না, যে পাত্রে থাকে তার পুরোটা ভরে ফেলে। তরলে অণুগুলো কাছাকাছি থাকে, আর কঠিনে সবচেয়ে কাছে গায়ে গায়ে লেগে থাকে। তাই গ্যাসকে সহজেই সংকুচিত করা যায়। সিলিন্ডারে রান্নার গ্যাস ভরা হয় এভাবেই, চাপ দিয়ে বিশাল আয়তনের গ্যাসকে ছোট জায়গায় এনে। কঠিন বা তরলকে এত সহজে সংকুচিত করা যায় না, কারণ তাদের কণাগুলো আগে থেকেই খুব কাছাকাছি থাকে।
মনে রাখুন: আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন > তরল > গ্যাস, আর অণুর গতিশক্তি এর উল্টো ক্রমে বাড়ে। - ৪১. পদার্থের চতুর্থ অবস্থাকে বলা হয়-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. ফোটন
- খ. প্লাজমা
- গ. অণু
- ঘ. পরমাণু
উত্তর: খ. প্লাজমা
সাধারণত আমরা পদার্থকে কঠিন, তরল ও বায়বীয়, এই তিন অবস্থায় দেখি। গ্যাসকে খুব বেশি উত্তপ্ত করলে এর অণুগুলো ভেঙে পরমাণু হয় এবং পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ছুটে বেরিয়ে যায়। তখন ধনাত্মক আয়ন ও মুক্ত ইলেকট্রনের যে মিশ্রণ তৈরি হয়, তাকে প্লাজমা (Plasma) বলে। এটিই পদার্থের চতুর্থ অবস্থা। প্লাজমা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রে সাড়া দেয়, যা সাধারণ গ্যাসের ধর্ম নয়। মহাবিশ্বের দৃশ্যমান পদার্থের বেশিরভাগই প্লাজমা অবস্থায় আছে। আবার অতি নিম্ন তাপমাত্রায় পাওয়া যায় আরেক ধরনের অবস্থা, যাকে বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট বলে। একে পদার্থের পঞ্চম অবস্থা ধরা হয়।
মনে রাখুন:
সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র মূলত প্লাজমা দিয়ে তৈরি।
বিদ্যুৎচমক এবং নিয়ন সাইনবোর্ডের আলোতেও প্লাজমা থাকে। - ৪২. কোন পদার্থ প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. লবণ
- খ. পারদ
- গ. পানি
- ঘ. কর্পূর
উত্তর: গ. পানি
পানি এমন একটি পদার্থ, যা প্রকৃতিতে স্বাভাবিক অবস্থাতেই তিন রূপে পাওয়া যায়। শীতের দেশে বরফ হিসেবে কঠিন, নদী-সাগরে তরল আর বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প হিসেবে বায়বীয়। লবণ ও কর্পূর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন, আর পারদ তরল। এদের অন্য অবস্থা প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় না। তিন অবস্থার মধ্যে রূপান্তরের নামও জানা দরকার। কঠিন থেকে তরলে যাওয়ার নাম গলন, তরল থেকে বাষ্পে যাওয়ার নাম বাষ্পীভবন, বাষ্প থেকে তরলে ফেরার নাম ঘনীভবন, আর তরল থেকে কঠিন হওয়ার নাম কঠিনীভবন। এ সবই ভৌত পরিবর্তন।
মনে রাখুন: পানি 0°C তাপমাত্রায় বরফ হয় এবং 100°C তাপমাত্রায় ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়। - ৪৩. একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ কি?সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. অণুর বিন্যাস
- খ. তাপের প্রভাব
- গ. পরমাণুর বিন্যাস
- ঘ. রাসায়নিক পরিবর্তন
উত্তর: খ. তাপের প্রভাব
একই পদার্থ কখনো কঠিন, কখনো তরল, আবার কখনো গ্যাস হয়। তাপ দিলে অণুগুলো বেশি শক্তি পায় এবং আরও দ্রুত নড়াচড়া করতে থাকে, ফলে তাদের মধ্যকার দূরত্ব বাড়ে। এভাবে কঠিন গলে তরল হয়, তরল বাষ্প হয়। তাপ কমালে উল্টোটা ঘটে। এই পরিবর্তনে নতুন কোনো পদার্থ তৈরি হয় না, শুধু অবস্থার পরিবর্তন হয়, তাই এটি ভৌত পরিবর্তন। তাই তাপমাত্রা ও চাপের পরিবর্তনে একই পদার্থের অবস্থা বদলে যেতে পারে। পানি এর সহজ উদাহরণ, যা 0°C-এর নিচে বরফ, 0°C থেকে 100°C-এর মধ্যে তরল এবং 100°C-এর ওপরে বাষ্প। চাপ বাড়ালে গ্যাসকে তরলে পরিণত করা সহজ হয়।
মনে রাখুন: গলন, কঠিনীভবন, বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন সবই ভৌত পরিবর্তনের উদাহরণ। - ৪৪. নিচের কোনটিকে ঠান্ডা করলে বরফে পরিণত হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ক্যাশ সরকারী, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. লোহা
- খ. পানি
- গ. কয়লা
- ঘ. তামা
উত্তর: খ. পানি
পানিকে 0°C তাপমাত্রায় ঠান্ডা করলে এটি জমে বরফ হয়। লোহা, কয়লা ও তামা কঠিন পদার্থ, এদের ঠান্ডা করলে বরফ হয় না। মজার ব্যাপার হলো, পানি জমে বরফ হলে এর আয়তন বাড়ে। তাই বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম এবং বরফ পানিতে ভাসে। এ কারণেই শীতের দেশে হ্রদের উপরে বরফ জমলেও নিচের পানিতে মাছ বেঁচে থাকে। একই কারণে বোতলে পানি ভরে ফ্রিজারে রাখলে বোতল ফেটে যেতে পারে, কারণ পানি জমে বরফ হলে আয়তন প্রায় ৯ শতাংশ বাড়ে। প্রকৃতিতে অন্য প্রায় সব তরল জমলে ঘন হয়, পানির এই আচরণ তাই একটু অস্বাভাবিক।
মনে রাখুন: পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4°C তাপমাত্রায়। - ৪৫. পানি যখন ফুটতে থাকে তার উষ্ণতার কি পরিবর্তন ঘটে?বন অধিদপ্তরের বন প্রহরী, ২০২৩ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. বাড়তে থাকে
- খ. কমতে থাকে
- গ. একই থাকে
- ঘ. কম-বেশি হয়
উত্তর: গ. একই থাকে
ফুটন্ত পানির তাপমাত্রা একই থাকে। আমরা চুলায় পানি গরম করে তাপ দিতে থাকি, তবু ফুটতে শুরু করার পর তাপমাত্রা আর বাড়ে না। এই বাড়তি তাপ পানির তাপমাত্রা বাড়ায় না, বরং পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করতে খরচ হয়। একে সুপ্ত তাপ (Latent heat) বলে। সাধারণ বায়ুচাপে পানি ফোটে 100°C তাপমাত্রায়। মজার ব্যাপার হলো, পানিতে লবণ মিশিয়ে ফোটালে স্ফুটনাঙ্ক সামান্য বেড়ে যায়। আবার উঁচু পাহাড়ে বায়ুচাপ কম বলে পানি 100°C-এর অনেক আগেই ফুটে যায়, ফলে সেখানে ভাত সেদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে। প্রেসার কুকারে চাপ বাড়ানো হয় বলে উল্টোটা ঘটে।
মনে রাখুন: গলনের সময়ও তাপমাত্রা স্থির থাকে। বরফ গলার সময় তাপমাত্রা 0°C থাকে। - ৪৬. কোনো কোনো কঠিন পদার্থ উত্তপ্ত করলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় -দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঊর্ধ্বপাতন
- ক. গলন
- খ. রাসায়নিক পরিবর্তন
- গ. বাষ্পীভবন
- ঘ. ঊর্ধ্বপাতন
উত্তর: ঘ. ঊর্ধ্বপাতন
কিছু কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তারা তরল হয় না, সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। আবার সেই বাষ্পকে ঠান্ডা করলে সরাসরি কঠিন হয়ে যায়। এই পদ্ধতির নাম ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation)। এ প্রক্রিয়ায় মাঝের তরল দশাটি আসেই না। এই পদ্ধতিতে কঠিন মিশ্রণ থেকে ঊর্ধ্বপাতিত উপাদানকে আলাদা করা হয়। যেমন লবণ ও নিশাদলের মিশ্রণ গরম করলে নিশাদল উড়ে গিয়ে ঠান্ডা পৃষ্ঠে জমে, আর লবণ পাত্রে পড়ে থাকে।
উদাহরণ:
নিশাদল (NH₄Cl), কর্পূর, আয়োডিন, ন্যাপথালিন।
মনে রাখুন: ঊর্ধ্বপাতনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বপাতিত ও অনূর্ধ্বপাতিত পদার্থের মিশ্রণ আলাদা করা যায়। - ৪৭. তরল অবস্থায় পরিবর্তিত না হয়ে কঠিন অবস্থা থেকে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার পদ্ধতিকে বলে -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঊর্ধ্বপাতন
- ক. Sublimation
- খ. Evaporation
- গ. Freezing
- ঘ. Boiling
উত্তর: ক. Sublimation
যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থ তরল অবস্থায় না গিয়ে সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় বদলে যায়, তাকে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। বাষ্পীভবন (Evaporation) হলো তরল থেকে গ্যাসে যাওয়া। হিমায়ন (Freezing) হলো তরল থেকে কঠিন হওয়া, আর স্ফুটন (Boiling) হলো তরলের ফুটে বাষ্প হওয়া। ঊর্ধ্বপাতনের একটি পরিচিত উদাহরণ ন্যাপথালিন, যা আলমারিতে রাখলে কিছুদিনের মধ্যে গায়েব হয়ে যায়। ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থের একটি বিশেষ ধর্ম হলো, এদের বাষ্পচাপ গলনাঙ্কের আগেই বায়ুচাপের সমান হয়ে যায়। সে কারণে এরা তরল দশায় যেতে পারে না। এ ধারণা মনে রাখলে ঊর্ধ্বপাতন আর বাষ্পীভবনের তফাত সহজে বোঝা যায়।
মনে রাখুন: শুকনো বরফ (কঠিন CO₂) ঊর্ধ্বপাতিত হয়ে সরাসরি গ্যাস হয়ে যায়। - ৪৮. কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত হয়?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঊর্ধ্বপাতন
- ক. NaCl
- খ. CuSO₄.5H₂O
- গ. Br₂
- ঘ. I₂
উত্তর: ঘ. I₂
আয়োডিন (I₂) উত্তপ্ত করলে গলে তরল হয় না, বেগুনি রঙের বাষ্প হয়ে উঠে যায়। ঠান্ডা পৃষ্ঠে সেই বাষ্প আবার কালচে কঠিন হিসেবে জমে। অর্থাৎ আয়োডিন ঊর্ধ্বপাতিত হয়। সাধারণ লবণ (NaCl) ও তুঁতে (CuSO₄.5H₂O) গরম করলে ঊর্ধ্বপাতিত হয় না, আর ব্রোমিন (Br₂) স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই তরল। আয়োডিন সামান্য পানিতে দ্রবীভূত হয় এবং তখন এর রং হয় বাদামি। স্টার্চের সঙ্গে আয়োডিন মিশলে গাঢ় নীল রং হয়, এটি স্টার্চ শনাক্তকরণের একটি পরিচিত পরীক্ষা। শরীরে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন তৈরিতেও আয়োডিন লাগে।
মনে রাখুন: ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ: আয়োডিন, কর্পূর, ন্যাপথালিন, নিশাদল ও বেনজোয়িক এসিড। - ৪৯. নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত হয় না?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঊর্ধ্বপাতন
- ক. বেনজোয়িক এসিড
- খ. নিশাদল
- গ. বেনজিন
- ঘ. আয়োডিন
উত্তর: গ. বেনজিন
বেনজোয়িক এসিড, নিশাদল ও আয়োডিন, এই তিনটিই কঠিন পদার্থ, যারা উত্তপ্ত হলে সরাসরি বাষ্প হয়ে যায়। কিন্তু বেনজিন কঠিন নয়, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এটি বর্ণহীন তরল। কঠিন অবস্থা থেকে সরাসরি গ্যাসে রূপান্তরই ঊর্ধ্বপাতন, তাই বেনজিন ঊর্ধ্বপাতিত হয় না। বেনজিন গরম করলে তরল থেকে বাষ্পে পরিণত হয়, অর্থাৎ বাষ্পীভবন ঘটে। ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থের তালিকা মনে রাখা সহজ, এতে মূলত কর্পূর, ন্যাপথালিন, আয়োডিন, নিশাদল ও বেনজোয়িক এসিড আছে। আর কঠিন পদার্থ গরম করলে গলে তরল হয়ে যাওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক, যেমন মোম বা বরফ। ঊর্ধ্বপাতন তাই একটু ব্যতিক্রমী ঘটনা।
মনে রাখুন: বেনজিনের সংকেত C₆H₆, এটি সুগন্ধি যৌগ। - ৫০. নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত বস্তু নয়?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঊর্ধ্বপাতন
- ক. কর্পূর
- খ. আয়োডিন
- গ. অ্যামোনিয়া
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. অ্যামোনিয়া
কর্পূর ও আয়োডিন উত্তপ্ত করলে সরাসরি বাষ্প হয়, তাই এরা ঊর্ধ্বপাতিত বস্তু। অ্যামোনিয়া (NH₃) কিন্তু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় একটি ঝাঁজালো গ্যাস, কঠিন নয়। কাজেই একে কঠিন থেকে বাষ্পে পরিণত করার প্রশ্নই আসে না। অনেকে অ্যামোনিয়ার সঙ্গে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বা নিশাদল (NH₄Cl) গুলিয়ে ফেলে। এই নিশাদল ঊর্ধ্বপাতিত হয়। প্রশ্নে অনেকে ভুল করে, কারণ ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থের তালিকায় সাধারণত নিশাদলের নাম আসে এবং সেটি অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড। এর রাসায়নিক সংকেত NH₄Cl, আর কর্পূর ও আয়োডিনের মতো এটিও উত্তপ্ত করলে সরাসরি বাষ্প হয়ে যায়। ফলে পরীক্ষাগারে কঠিন মিশ্রণ থেকে নিশাদলকে আলাদা করা যায়।
মনে রাখুন: অ্যামোনিয়া গ্যাস পানিতে খুব সহজে দ্রবীভূত হয়। - ৫১. কোনটি মৌলিক পদার্থ?NSI ফিল্ড অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক পদার্থ
- ক. চিনি
- খ. নিয়ন
- গ. লবণ
- ঘ. পানি
উত্তর: খ. নিয়ন
যে পদার্থকে ভেঙে একাধিক ভিন্ন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ (Element) বলে। নিয়ন (Ne) এমনই একটি মৌল, একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। আর চিনি, লবণ ও পানি যৌগিক পদার্থ। চিনিতে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আছে, লবণে সোডিয়াম ও ক্লোরিন, আর পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। কোনো পদার্থ মৌল কি না, তা বোঝার একটি উপায় হলো, তাকে ভেঙে একই রকম পরমাণু ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় কি না দেখা। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি। এর মধ্যে ধাতু বেশি, অধাতু অল্প, আর কিছু আছে উপধাতু।
মনে রাখুন: নিয়ন গ্যাস বিজ্ঞাপনের নিয়ন বাতিতে ব্যবহার হয়, যেখানে এটি লালচে-কমলা আলো দেয়। - ৫২. কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?পাবলিক সার্ভিস কমিশনে সহকারী পরিচালক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক পদার্থ
- ক. সোনা
- খ. রূপা
- গ. তামা
- ঘ. ইস্পাত
উত্তর: ঘ. ইস্পাত
সোনা (Au), রূপা (Ag) ও তামা (Cu) প্রতিটি আলাদা মৌলিক পদার্থ। কিন্তু ইস্পাত মৌল নয়, এটি লোহার সঙ্গে সামান্য কার্বন মিশিয়ে তৈরি একটি সংকর ধাতু। এতে লোহা ছাড়াও কার্বন থাকে, তাই এটি মিশ্র পদার্থ। খাঁটি লোহার চেয়ে ইস্পাত অনেক শক্ত ও মজবুত, এ কারণে ভবন, সেতু ও যন্ত্রপাতিতে ইস্পাত ব্যবহার হয়। কোনো সংকর ধাতুর সংকেত থাকে না, কারণ এর উপাদানের অনুপাত নির্দিষ্ট নয়, প্রয়োজনমতো বদলানো যায়। এই বৈশিষ্ট্য মিশ্র পদার্থের একটি প্রধান পরিচয়। স্টেইনলেস স্টিল তৈরিতে ইস্পাতের সঙ্গে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মেশানো হয়, ফলে এতে মরিচা ধরে না।
মনে রাখুন: সোনা ও রূপার প্রতীক যথাক্রমে Au ও Ag, যা ল্যাটিন নাম Aurum ও Argentum থেকে এসেছে। - ৫৩. সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের নাম-GDA এর সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক পদার্থ
- ক. ওগানেসন (Og)
- খ. নিহোনিয়াম (Nh)
- গ. ফ্লেরোভিয়াম (Fl)
- ঘ. লিভারমোরিয়াম (Lv)
উত্তর: ক. ওগানেসন (Og)
পর্যায় সারণির সর্বশেষ মৌল হলো ওগানেসন (Oganesson), এর প্রতীক Og এবং পরমাণু ক্রমাঙ্ক 118। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নামকরণ হয়। রুশ বিজ্ঞানী ইউরি ওগানেসিয়ানের নামে মৌলটির নাম রাখা হয়েছে। এটি একটি কৃত্রিম মৌল, যা পরীক্ষাগারে তৈরি। নিহোনিয়াম (Nh) এর ক্রমাঙ্ক 113, ফ্লেরোভিয়াম (Fl) এর 114 এবং লিভারমোরিয়াম (Lv) এর 116। মৌলিক পদার্থের তালিকায় ১১৮ নম্বর মৌল যুক্ত হওয়ায় পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায় সম্পূর্ণ হয়েছে। ক্রমাঙ্ক ৯৩-এর পরের সব মৌল, অর্থাৎ ইউরেনিয়ামের পরবর্তী মৌলগুলো, প্রধানত কৃত্রিম উপায়ে তৈরি। এদের বেশিরভাগই খুব অস্থিতিশীল, ফলে সামান্য সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়।
মনে রাখুন: ওগানেসন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ১৮ নম্বর গ্রুপে পড়ে। - ৫৪. নিচের কোনটি যৌগিক পদার্থ?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. সোনা
- খ. বালু ও চিনির মিশ্রণ
- গ. পানি
- ঘ. অক্সিজেন
উত্তর: গ. পানি
দুই বা তার বেশি মৌল নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যে নতুন পদার্থ তৈরি করে, তাকে যৌগিক পদার্থ (Compound) বলে। পানি এমন একটি যৌগ, যাতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত থাকে। সোনা ও অক্সিজেন মৌলিক পদার্থ, আর বালু ও চিনির মিশ্রণে দুটি পদার্থ রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয় না, শুধু মিশে থাকে, তাই সেটি মিশ্রণ। পানির উপাদান হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস, কিন্তু পানির ধর্ম এই দুই গ্যাসের ধর্ম থেকে আলাদা। যৌগ গঠনের এই বৈশিষ্ট্য মনে রাখা দরকার। উপাদানগুলো যৌগে একটি নির্দিষ্ট ভর-অনুপাতে থাকে। পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত ১ : ৮।
মনে রাখুন: যৌগের উপাদানগুলো ভৌত উপায়ে আলাদা করা যায় না, কিন্তু মিশ্রণের উপাদানগুলো সহজেই আলাদা করা যায়। - ৫৫. পানি এ দুটোর সংমিশ্রণে একটি কম্পাউন্ড-রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
- খ. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
- গ. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
- ঘ. অক্সিজেন ও হিলিয়াম
উত্তর: ক. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
পানি একটি যৌগ, কারণ হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নামের দুটি মৌল রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে এটি তৈরি করেছে। পানির সংকেত H₂O, অর্থাৎ প্রতিটি অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু আছে। নাইট্রোজেন বা হিলিয়াম পানির উপাদান নয়। মজার ব্যাপার হলো, হাইড্রোজেন নিজে দাহ্য আর অক্সিজেন দহনে সাহায্য করে, কিন্তু এ দুটি মিলে তৈরি পানি আগুন নেভায়। কম্পাউন্ড বা যৌগের ক্ষেত্রে মূল কথা হলো রাসায়নিক বন্ধন। মিশ্রণে উপাদানগুলো শুধু পাশাপাশি থাকে, কিন্তু যৌগে তারা বন্ধনে যুক্ত হয়ে একটি নতুন পদার্থ গড়ে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মিশ্রণে স্ফুলিঙ্গ দিলে বিস্ফোরণের সঙ্গে পানি তৈরি হয়।
মনে রাখুন: পানির গঠন প্রথম নির্ণয় করেন ক্যাভেন্ডিশ ও ল্যাভয়সিয়ে। - ৫৬. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের অনুপাত কত?বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিরাপত্তা প্রহরী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. ২ : ১
- খ. ১ : ২
- গ. ১৬ : ১
- ঘ. ১ : ১৬
উত্তর: খ. ১ : ২
পানির সংকেত H₂O। এর মানে, একটি পানির অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত থাকে। কাজেই অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন পরমাণুর অনুপাত ১ : ২। তড়িৎ বিশ্লেষণে পানিকে ভাঙলে হাইড্রোজেন গ্যাস অক্সিজেনের দ্বিগুণ আয়তনে পাওয়া যায়। কোনো যৌগের অণু থেকে উপাদানের পরমাণুসংখ্যার অনুপাত সহজে পাওয়া যায়, কিন্তু ভরের অনুপাত বের করতে পারমাণবিক ভর লাগে। হাইড্রোজেনের পরমাণুর ভর ১ আর অক্সিজেনের ১৬ ধরলে পানিতে ভরের অনুপাত হয় ২ : ১৬, অর্থাৎ ১ : ৮। হাইড্রোজেন পারক্সাইডে (H₂O₂) এই অনুপাত ভিন্ন।
মনে রাখুন: পানির তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন এবং অ্যানোডে অক্সিজেন জমা হয়। - ৫৭. সাধারণ লবণের উপাদান কী কী?বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির নার্স, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. পটাশিয়াম ও ক্লোরিন
- খ. ক্যালসিয়াম ও ক্লোরিন
- গ. সোডিয়াম ও পটাশিয়াম
- ঘ. সোডিয়াম ও ক্লোরিন
উত্তর: ঘ. সোডিয়াম ও ক্লোরিন
সাধারণ লবণ হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এর উপাদান দুটি মৌল, সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (Cl)। সোডিয়াম একটি নরম ও সক্রিয় ধাতু, আর ক্লোরিন হলো হলদে-সবুজ বিষাক্ত গ্যাস। এ দুটি যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল স্ফটিক তৈরি করে, যার স্বাদ লবণাক্ত। পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম সাধারণ লবণের উপাদান নয়। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে ধনাত্মক আয়ন Na⁺ হয়, আর ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন নিয়ে ঋণাত্মক আয়ন Cl⁻ হয়। বিপরীত চার্জের এই দুই আয়ন পরস্পরকে আকর্ষণ করে আয়নিক বন্ধন তৈরি করে। এভাবে NaCl গঠিত হয়, যা একটি আয়নিক যৌগ।
মনে রাখুন: পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl) আলাদা একটি লবণ, যা সার হিসেবে ব্যবহার হয়। - ৫৮. খাবার লবণের মূল উপাদান হলো -পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অ্যাসিস্টেন্ট অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. সোডিয়াম কার্বনেট
- খ. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
- গ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
- ঘ. আয়োডিন
উত্তর: গ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
খাবার লবণের মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) হলো কাপড় কাচার সোডা, আর সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) হলো কস্টিক সোডা, একটি তীব্র ক্ষার। আয়োডিন লবণের মূল উপাদান নয়। আমরা যে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাই, তাতে গলগণ্ড রোগ ঠেকাতে সামান্য আয়োডিন মেশানো থাকে। এই সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রধানত সমুদ্রের পানি ও লবণের খনি থেকে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে কক্সবাজার অঞ্চলে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ উৎপাদন করা হয়। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড আর সোডিয়াম কার্বনেট লবণ নয়, এদের প্রথমটি ক্ষার এবং দ্বিতীয়টি ক্ষারধর্মী লবণ।
মনে রাখুন: আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়। - ৫৯. খাবার লবণের রাসায়নিক সংকেত নিচের কোনটি?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (দ্বিতীয় পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. NaOH
- খ. NaCl
- গ. NaCl₂
- ঘ. KCl
উত্তর: খ. NaCl
খাবার লবণ সোডিয়াম ক্লোরাইডের রাসায়নিক সংকেত NaCl। এতে একটি সোডিয়াম পরমাণু (Na) ও একটি ক্লোরিন পরমাণু (Cl) থাকে। সোডিয়াম ধনাত্মক আয়ন এবং ক্লোরাইড ঋণাত্মক আয়ন, উভয়েরই চার্জ সমান, তাই এরা ১ : ১ অনুপাতে যুক্ত হয়। NaOH হলো কস্টিক সোডা, আর KCl হলো পটাশিয়াম ক্লোরাইড। NaCl₂ নামে কোনো স্থিতিশীল যৌগ হয় না। কোনো আয়নিক যৌগের সংকেত লেখার সময় আমরা ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মোট চার্জ সমান করে নিই। যেমন Mg²⁺ ও Cl⁻ মিলে MgCl₂ হয়, কারণ একটি Mg²⁺-এর জন্য দুটি Cl⁻ লাগে। আর Na⁺ ও Cl⁻ এর চার্জ সমান বলে সংকেত সরল হয়ে NaCl হয়।
মনে রাখুন: সোডিয়ামের প্রতীক Na এসেছে ল্যাটিন শব্দ Natrium থেকে। - ৬০. Water is to Oxygen as salt to-CGA Auditor : 22 · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. Iron
- খ. sodium
- গ. calcium
- ঘ. protein
উত্তর: খ. sodium
প্রশ্নটি একটি সাদৃশ্য খোঁজার প্রশ্ন। পানি একটি যৌগ, যার একটি উপাদান অক্সিজেন। তেমনই লবণ একটি যৌগ, যার একটি উপাদান সোডিয়াম। অর্থাৎ যৌগ ও তার একটি উপাদান মৌলের সম্পর্ক এখানে মেলাতে হবে। আয়রন, ক্যালসিয়াম বা প্রোটিন সাধারণ লবণের উপাদান নয়। লবণের অপর উপাদান ক্লোরিন। বিপরীত যৌগ-মৌল সম্পর্কের এই ধরনের প্রশ্ন ইংরেজি পরীক্ষায় 'analogy' নামে আসে। সম্পর্কটা আগে বুঝে তারপর বিকল্প মেলাতে হয়। এখানে সম্পর্কটি হলো 'একটি যৌগ ও তার একটি উপাদান'। আরও একটি সম্পর্ক হতে পারত, যেমন Water is to Hydrogen as salt to Chlorine।
মনে রাখুন: সোডিয়াম একটি ধাতু, আর ক্লোরিন একটি গ্যাস। এ দুটি মিলে NaCl তৈরি হয়। - ৬১. বায়ু একটি -বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. মৌলিক পদার্থ
- খ. মিশ্র পদার্থ
- গ. যৌগিক পদার্থ
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. মিশ্র পদার্থ
বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ। এতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প মিশে আছে, কিন্তু এরা রাসায়নিকভাবে যুক্ত নয়। প্রতিটি গ্যাস নিজের ধর্ম ধরে রাখে এবং এদের অনুপাতও স্থির নয়, জায়গাভেদে কিছুটা বদলায়। যৌগ হলে উপাদানের অনুপাত সব সময় নির্দিষ্ট থাকত। তরল বায়ুর আংশিক পাতন করে এর উপাদান গ্যাসগুলো আলাদা করা হয়, কারণ প্রত্যেক গ্যাসের স্ফুটনাঙ্ক ভিন্ন। নাইট্রোজেন সবচেয়ে কম তাপমাত্রায় ফোটে, তাই এটি আগে বেরিয়ে আসে। শিল্পে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন এভাবেই তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
বায়ুতে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮%।
অক্সিজেন প্রায় ২১%।
আর্গন প্রায় ০.৯৩%। - ৬২. কোনটি মিশ্র পদার্থ?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. পানি
- খ. লবণ
- গ. বায়ু
- ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর: গ. বায়ু
পানি (H₂O), লবণ (NaCl) ও কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) প্রতিটিই যৌগ, কারণ এদের উপাদান মৌলগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত থাকে। বায়ু কিন্তু যৌগ নয়, এটি নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও অন্যান্য গ্যাসের মিশ্রণ। মিশ্র পদার্থের উপাদানগুলো যেকোনো অনুপাতে মিশতে পারে এবং ভৌত উপায়ে আলাদা করা যায়। যৌগ ও মিশ্রণের পার্থক্য পরীক্ষায় বারবার আসে। যৌগের একটি নির্দিষ্ট সংকেত থাকে এবং এর গলনাঙ্ক-স্ফুটনাঙ্কও নির্দিষ্ট, কিন্তু মিশ্রণের ক্ষেত্রে এসব নির্দিষ্ট নয়। আবার যৌগের ধর্ম উপাদানের ধর্ম থেকে আলাদা হয়, মিশ্রণে উপাদানগুলো নিজ নিজ ধর্ম বজায় রাখে।
উদাহরণ:
মিশ্র পদার্থ: বায়ু, দুধ, সংকর ধাতু, মাটি।
যৌগিক পদার্থ: পানি, লবণ, চিনি। - ৬৩. নিচের কোনটি মৌল নয় আবার যৌগও নয়?পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. বায়ু
- খ. নিকেল
- গ. শর্করা
- ঘ. গোল্ড
উত্তর: ক. বায়ু
মৌল হলো একধরনের পরমাণু দিয়ে তৈরি পদার্থ, আর যৌগ হলো একাধিক মৌলের রাসায়নিক মিলনে তৈরি পদার্থ। নিকেল ও গোল্ড (সোনা) মৌল, আর শর্করা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি যৌগ। বায়ু কিন্তু এই দুইয়ের কোনোটিই নয়, কারণ এটি বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। মিশ্রণে উপাদানগুলো রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। মৌল, যৌগ ও মিশ্রণ, এই তিন শ্রেণি মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সহজ হয়। মৌল ও যৌগ উভয়কেই বিশুদ্ধ পদার্থ বলা হয়, আর মিশ্রণ বিশুদ্ধ পদার্থ নয়। বায়ু, দুধ, কাদা ও সংকর ধাতু মিশ্রণ, আর সোনা, লোহা, নিকেল মৌল।
মনে রাখুন: মিশ্রণ মৌলও নয়, যৌগও নয়। দুধ, মাটি ও বায়ু এর উদাহরণ। - ৬৪. Petrol একটি-মৎস্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যৌগ ও মিশ্রণ
- ক. মিশ্র পদার্থ
- খ. যৌগিক পদার্থ
- গ. মৌলিক পদার্থ
- ঘ. কোনটিই সঠিক নয়
উত্তর: ক. মিশ্র পদার্থ
পেট্রল একটি মিশ্র পদার্থ। এটি অপরিশোধিত খনিজ তেল থেকে আংশিক পাতনের মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং এতে অনেক ধরনের হাইড্রোকার্বন যৌগ মিশে থাকে, প্রধানত অক্টেন (C₈H₁₈), হেপটেন ও অন্যান্য। এর কোনো নির্দিষ্ট সংকেত নেই, উপাদানের অনুপাতও নির্দিষ্ট নয়। এ কারণেই পেট্রলকে যৌগ বা মৌল বলা যায় না। মিশ্র পদার্থ দুই রকম হয়, সমসত্ত্ব ও অসমসত্ত্ব। পেট্রল সমসত্ত্ব মিশ্রণ, কারণ এর উপাদানগুলো সম্পূর্ণ মিশে আছে। আবার বালু ও পানির মিশ্রণ অসমসত্ত্ব, কারণ এতে বালু আলাদা করে চোখে পড়ে। পেট্রলের পোড়ার গুণমান মাপা হয় অকটেন সংখ্যা দিয়ে।
মনে রাখুন: খনিজ তেল পরিশোধন করে একে একে পেট্রল, কেরোসিন, ডিজেল ও লুব্রিকেটিং তেল পাওয়া যায়। - ৬৫. পটাশিয়াম মৌলটির প্রতীক হল-WEWB সহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. Pt
- খ. Pa
- গ. K
- ঘ. Po
উত্তর: গ. K
প্রতিটি মৌলের একটি সংক্ষিপ্ত নাম বা প্রতীক আছে। পটাশিয়ামের প্রতীক K, যা ল্যাটিন নাম Kalium থেকে এসেছে। বাকি তিনটি প্রতীক অন্য মৌলের। Pt হলো প্লাটিনাম, Pa হলো প্রোটোঅ্যাক্টিনিয়াম আর Po হলো পোলোনিয়াম। ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে প্রতীক বানালে অনেক সময় দুটি মৌলের মধ্যে গোলমাল হতে পারে। তাই ল্যাটিন নাম থেকেও প্রতীক নেওয়া হয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, প্রতীকের প্রথম অক্ষর সব সময় বড় হাতের আর দ্বিতীয় অক্ষর ছোট হাতের লেখা হয়, যেমন Co হলো কোবাল্ট, কিন্তু CO হলো কার্বন মনোক্সাইড নামের যৌগ। এই ছোট নিয়মটি না জানলে প্রতীক ও সংকেত গুলিয়ে ফেলা সহজ।
মনে রাখুন:
সোডিয়াম Na, লোহা Fe, তামা Cu, সোনা Au, রূপা Ag।
এদের প্রতীক ল্যাটিন নাম থেকে নেওয়া। - ৬৬. Boron এবং Zirconium নাম দুটি কোন ভাষা থেকে এসেছে ?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. গ্রিক
- খ. ল্যাটিন
- গ. আরবি
- ঘ. ইংরেজি
উত্তর: গ. আরবি
মৌলের নামগুলো এসেছে বিভিন্ন ভাষা থেকে। বোরন (Boron) নামটি আরবি শব্দ বুরাক (Buraq) থেকে এসেছে, যার অর্থ বোরাক্স বা সোহাগা। জিরকোনিয়াম (Zirconium) নামটি আরবি বা ফারসি শব্দ জারগুন (Zargun) থেকে এসেছে, যার অর্থ সোনালি রং। উভয় নামের উৎস আরবি। আরবি থেকে আরও কিছু বিজ্ঞানের শব্দ ইংরেজিতে ঢুকেছে, যেমন অ্যালকোহল, অ্যালকালি (ক্ষার), অ্যালকেমি (রসায়ন) ও অ্যালজেবরা। এগুলোতে আরবি 'আল' উপসর্গটি লক্ষ করা যায়। বিজ্ঞানের ইতিহাসে মুসলিম বিজ্ঞানীদের, বিশেষ করে জাবির ইবনে হাইয়ানের, অবদান তাই এখানেও দেখা যায়।
মনে রাখুন:
আয়োডিন নামটি গ্রিক শব্দ ioeides (বেগুনি) থেকে এসেছে।
ক্লোরিন নামটি গ্রিক শব্দ chloros (হলদে-সবুজ) থেকে এসেছে। - ৬৭. মৌলের প্রতীক কোনটি নির্দেশক করে না?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. মৌলের একটি পরমাণু
- খ. মৌলের পারমাণবিক ওজন
- গ. মৌলের একটি অণু
- ঘ. মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ
উত্তর: গ. মৌলের একটি অণু
মৌলের প্রতীক বলতে আমরা মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ বুঝি। এটি ওই মৌলের একটি পরমাণু বোঝায় এবং সেই সঙ্গে এর পারমাণবিক ভরও নির্দেশ করে। উদাহরণ হিসেবে O প্রতীক অক্সিজেনের একটি পরমাণু ও এর ভর 16 বোঝায়। কিন্তু প্রতীক একটি অণু বোঝায় না। অক্সিজেনের একটি অণু বোঝাতে লিখতে হয় O₂, যা প্রতীক নয়, সংকেত। পারমাণবিক ভরের একক হলো অ্যাটমিক ম্যাস ইউনিট (amu), যা কার্বন-12 পরমাণুর ভরের ১২ ভাগের ১ ভাগ। কোনো মৌলের প্রতীকের পাশে ছোট করে সংখ্যা লিখে পরমাণু বা অণুতে পরমাণুর সংখ্যা বোঝানো হয়, যেমন Cl₂ মানে ক্লোরিনের অণুতে দুটি পরমাণু আছে।
মনে রাখুন: প্রতীক পরমাণু বোঝায়, আর সংকেত অণু বা যৌগের গঠন বোঝায়। - ৬৮. পানির রাসায়নিক সংকেত কী?BCSIR জুনিয়র টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. H₂O
- খ. CaCO₃
- গ. K⁺
- ঘ. NaCl
উত্তর: ক. H₂O
পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের যৌগ। এর একটি অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে, তাই সংকেত H₂O। বাকি সংকেতগুলো অন্য পদার্থের। NaCl হলো খাবার লবণ, আর CaCO₃ হলো চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট। K⁺ কোনো যৌগ নয়, এটি পটাশিয়ামের ধনাত্মক আয়ন। পানির অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে। অণুটি বাঁকা আকৃতির, ফলে এতে অল্প ধনাত্মক ও অল্প ঋণাত্মক প্রান্ত তৈরি হয়। এই কারণে পানি একটি পোলার যৌগ, আর পোলার হওয়ার ফলেই এতে লবণ ও চিনি সহজে মিশে যায়।
মনে রাখুন: পানি একটি সার্বজনীন দ্রাবক, কারণ এতে অনেক পদার্থ দ্রবীভূত হয়। - ৬৯. গ্লুকোজের মূল সংকেত কোনটি?MoLE মেডিকেল অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. CHO
- খ. CH₂O
- গ. C₂H₂O₂
- ঘ. C₂HO
উত্তর: খ. CH₂O
গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆। এখানে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর অনুপাত ৬ : ১২ : ৬, যাকে সরল করলে ১ : ২ : ১ হয়। এই সরলতম অনুপাত দিয়ে লেখা সংকেতকে মূল সংকেত (Empirical formula) বলে। তাই গ্লুকোজের মূল সংকেত CH₂O। মূল সংকেত থেকে আণবিক সংকেত পেতে হলে আণবিক ভর জানা দরকার। গ্লুকোজের আণবিক ভর 180, আর CH₂O-র ভর 30। এই দুইয়ের অনুপাত 180 ÷ 30 = 6, তাই আণবিক সংকেত হলো মূল সংকেতের ৬ গুণ, অর্থাৎ C₆H₁₂O₆।
মনে রাখুন:
আণবিক সংকেত মূল সংকেতের একটি গুণিতক।
একই মূল সংকেত CH₂O ফরমালডিহাইড (HCHO) ও অ্যাসিটিক এসিডেরও (C₂H₄O₂)। - ৭০. কোনটিতে যোজনী ও জারন মান উভয়ই শূন্য?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. CH₂Cl
- খ. MgO
- গ. Ne
- ঘ. F₂
উত্তর: গ. Ne
নিয়ন (Ne) একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যার সর্বশেষ কক্ষপথ ইলেকট্রনে পূর্ণ। তাই এটি অন্য পরমাণুর সঙ্গে ইলেকট্রন আদান-প্রদান বা ভাগাভাগি করে না। ফলে এর যোজনী শূন্য, আর জারণ মানও শূন্য। বাকিদের ক্ষেত্রে তা হয় না। MgO-তে ম্যাগনেসিয়ামের যোজনী ২, F₂ অণুতে ফ্লোরিনের যোজনী ১, আর কার্বনের যোজনী সাধারণত ৪। যোজনী মানে একটি পরমাণু অন্য পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সামর্থ্য, আর জারণ মান হলো যৌগে পরমাণুর আপাত চার্জ। মৌলিক অবস্থায় যেকোনো মৌলের জারণ মান শূন্য হয়, যেমন O₂-এ অক্সিজেনের জারণ মান 0। কিন্তু যোজনী শূন্য হয় কেবল নিষ্ক্রিয় গ্যাসে।
মনে রাখুন: নিষ্ক্রিয় গ্যাস হলো হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডন। - ৭১. গোল্ড এর যোজনী কত?DMLC'র জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতীক ও সংকেত
- ক. ৩
- খ. ২
- গ. ১ ও ৩
- ঘ. ২ ও ৩
উত্তর: গ. ১ ও ৩
গোল্ড বা সোনা (Au) একটি রূপান্তর ধাতু, যার যোজনী একটি নয়। এটি যৌগ গঠনের সময় ইলেকট্রন ছাড়ে এক বা তিনটি। তাই সোনার যোজনী ১ ও ৩। প্রথম অবস্থায় যৌগ হয় Au⁺ আয়ন দিয়ে, যেমন AuCl, আর দ্বিতীয়টিতে Au³⁺ আয়ন দিয়ে, যেমন AuCl₃। একে পরিবর্তনশীল যোজনী বলে। রূপান্তর ধাতুর যোজনী পরিবর্তনশীল হওয়ার কারণ হলো তাদের ভেতরের কক্ষপথের ইলেকট্রনও রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। সোনা খুব নিষ্ক্রিয় ধাতু, বাতাস বা পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে না, আর কেবল অ্যাকোয়া রেজিয়া নামের এসিড মিশ্রণে গলে।
মনে রাখুন:
তামার যোজনী ১ ও ২।
লোহার যোজনী ২ ও ৩। - ৭২. পরমাণু নামকরণ করেন -ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর মডেল
- ক. ডেমোক্রিটাস
- খ. হেরোক্লিটাস
- গ. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
- ঘ. আইনস্টাইন
উত্তর: ক. ডেমোক্রিটাস
খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস মনে করতেন, কোনো বস্তুকে ভাঙতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এমন একটি ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে, যাকে আর ভাঙা যায় না। তিনি এর নাম দেন অ্যাটম (Atom), গ্রিক শব্দ atomos থেকে, যার অর্থ অবিভাজ্য। এই ধারণা পরে বৈজ্ঞানিক রূপ পায় ১৮০৩ সালে জন ডাল্টনের পরমাণুবাদে। ডেমোক্রিটাসের এই ধারণা বহু শতাব্দী অবহেলিত ছিল, কারণ তখন প্রমাণ করার কোনো পরীক্ষা ছিল না। তাঁর শিক্ষক লিউকিপ্পাসকেও এই ধারণার সূচনাকারী মনে করা হয়। ১৮০৩ সালে ডাল্টন পরীক্ষালব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরমাণুবাদ দিয়ে এই ধারণাকে বিজ্ঞানের ভিত্তিতে দাঁড় করান।
মনে রাখুন: ডাল্টনের মতে পরমাণু অবিভাজ্য, পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়। - ৭৩. সৌর মডেল কোনটি?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর মডেল
- ক. থমসন পরমাণু মডেল
- খ. ডাল্টন পরমাণু মডেল
- গ. রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল
- ঘ. বোর পরমাণু মডেল
উত্তর: গ. রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল
রাদারফোর্ড দেখলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে ধনাত্মক চার্জযুক্ত ছোট ও ভারী একটি নিউক্লিয়াস আছে এবং ইলেকট্রনগুলো তার চারপাশে ঘোরে। সূর্যের চারদিকে যেভাবে গ্রহ ঘোরে, এখানেও অনেকটা তেমন। এ কারণে তাঁর মডেলকে সৌর মডেল বা গ্রহ মডেল বলে। থমসনের মডেলকে বলা হয় 'প্লাম পুডিং' মডেল, যেখানে ধনাত্মক চার্জের মধ্যে ইলেকট্রন ছড়ানো থাকে। পরে নীলস বোর ১৯১৩ সালে রাদারফোর্ডের মডেলের ত্রুটি দূর করেন। তিনি বলেন, ইলেকট্রন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ঘোরে এবং এক স্তর থেকে অন্য স্তরে গেলে শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে। রাদারফোর্ড মডেলে ধরা হতো ইলেকট্রন শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পড়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না।
মনে রাখুন: রাদারফোর্ডের স্বর্ণপাতের পরীক্ষা থেকে নিউক্লিয়াস আবিষ্কৃত হয়। - ৭৪. একটি পরমাণু (Atom)-এ কণিকার সংখ্যা কয়টি?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. তিনটি
- খ. চারটি
- গ. পাঁচটি
- ঘ. ছয়টি
উত্তর: ক. তিনটি
পরমাণুর ভেতরে মূলত তিন ধরনের কণিকা থাকে। এগুলো হলো প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন। প্রোটন ও নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে, অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে থাকে, আর ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে। প্রোটনের চার্জ ধনাত্মক, ইলেকট্রনের ঋণাত্মক, আর নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই। পরমাণুর প্রোটনসংখ্যাকে বলা হয় পারমাণবিক সংখ্যা, আর প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার যোগফলকে বলা হয় ভরসংখ্যা। পরমাণুতে প্রোটনসংখ্যা মৌলের পরিচয় ঠিক করে দেয়, তাই দুটি ভিন্ন মৌলের প্রোটনসংখ্যা কখনো এক হয় না।
মনে রাখুন: এই তিনটিকে পরমাণুর মূল বা মৌলিক কণিকা বলা হয়, যদিও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে প্রোটন ও নিউট্রনও কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত। - ৭৫. নিচের কোনটি মূল কণিকা?বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. নিউট্রিনো
- খ. নিউট্রন
- গ. পজিট্রন
- ঘ. ডিউট্রেন কণা
উত্তর: খ. নিউট্রন
পরমাণুর মূল কণিকা হলো প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন। এই তিনটিই পরমাণু গঠনে সরাসরি অংশ নেয়। তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে নিউট্রন একটি মূল কণিকা। নিউট্রিনো ও পজিট্রন তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের সময় পাওয়া কণিকা, এরা পরমাণুর স্থায়ী গঠনে থাকে না। ডিউট্রন গঠিত হয় একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন মিলে, তাই এটি মূল কণিকা নয়। একসময় ধারণা ছিল পরমাণু অবিভাজ্য, কিন্তু আজ আমরা জানি এর ভেতরে আরও ছোট কণা আছে। আবার প্রোটন ও নিউট্রন আরও ছোট কণা কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি। একটি প্রোটনে দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক থাকে।
মনে রাখুন: ১৯৩২ সালে জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। - ৭৬. কোনটি মৌলিক কণিকা নয়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. প্রোটন
- খ. নিউট্রন
- গ. ইলেকট্রন
- ঘ. হাইড্রোজেন পরমাণু
উত্তর: ঘ. হাইড্রোজেন পরমাণু
প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন পরমাণুর মৌলিক কণিকা, কারণ এই তিনটি দিয়েই পরমাণু গঠিত। হাইড্রোজেন পরমাণু নিজেই একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন দিয়ে তৈরি, অর্থাৎ এটি এই কণিকাগুলোর সমষ্টি। তাই একে মৌলিক কণিকা বলা যায় না। হাইড্রোজেনের পরমাণুর চার্জ শূন্য, কারণ এর একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রনের চার্জ পরস্পরকে বাতিল করে। কোনো কণিকাকে মৌলিক বলতে হলে তাকে ভেঙে আর ছোট অংশ পাওয়া যাবে না, এমন হতে হবে। পরমাণুকে ভেঙে প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন পাওয়া যায়। তাই পরমাণু মৌলিক কণিকা নয়, যদিও এটি মৌলের ক্ষুদ্রতম একক।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেনই একমাত্র পরমাণু, যার নিউক্লিয়াসে সাধারণত নিউট্রন থাকে না। - ৭৭. একটি পারমাণবিক কণার -পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. আয়তন নেই, ওজন আছে
- খ. ওজন আছে, আয়তন আছে
- গ. আয়তন আছে, ওজন নেই
- ঘ. আয়তন নেই, ওজন নেই
উত্তর: খ. ওজন আছে, আয়তন আছে
পরমাণু যত ছোটই হোক, এটি পদার্থ। তাই পারমাণবিক কণারও ভর আছে এবং আয়তন আছে। উদাহরণ হিসেবে প্রোটনের ভর প্রায় 1.67 × 10⁻²⁷ kg, যা খুবই কম হলেও শূন্য নয়। আর ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের প্রায় ১৮৩৬ ভাগের ১ ভাগ। পরমাণুর আকারও খুব ছোট, প্রায় 10⁻¹⁰ মিটার। এর নিউক্লিয়াস আরও ছোট, প্রায় 10⁻¹⁵ মিটার। ফলে পরমাণুর ভেতরের বেশিরভাগ জায়গাই ফাঁকা, অথচ প্রায় পুরো ভর কেন্দ্রের ছোট নিউক্লিয়াসে জমা থাকে। এ কারণে নিউক্লিয়াসের ঘনত্ব অকল্পনীয় রকম বেশি।
মনে রাখুন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের ভর ও আয়তন আছে, কিন্তু আলোর কণা ফোটনের স্থির ভর নেই। - ৭৮. The Atomic Nucleus was discovered by -জীবন বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ম্যানেজার, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর মডেল
- ক. Dalton
- খ. Thompson
- গ. Rutherford
- ঘ. Einstein
উত্তর: গ. Rutherford
আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। তিনি পাতলা স্বর্ণপাতের ওপর আলফা কণা ছুড়ে দেখেন, বেশিরভাগ কণা সোজা বেরিয়ে যায়, কিন্তু কিছু কণা বেঁকে যায়, এমনকি কয়েকটি ফিরেও আসে। এ থেকে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন, পরমাণুর কেন্দ্রে ধনাত্মক চার্জযুক্ত ছোট ও ভারী একটি অংশ আছে। এর নাম নিউক্লিয়াস। ডাল্টন পরমাণুবাদ দেন, আর থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন। রাদারফোর্ডের পরীক্ষা থেকে আরও জানা গেল, পরমাণুর বেশিরভাগ জায়গা ফাঁকা। এর ফলে থমসনের আগের মডেলটি বাতিল হয়ে গেল। পরমাণুর ব্যাসের তুলনায় নিউক্লিয়াসের ব্যাস প্রায় এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ।
মনে রাখুন: রাদারফোর্ডকে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। - ৭৯. প্রোটনের -বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. পজেটিভ চার্জ আছে
- খ. পজেটিভ ও নেগেটিভ এই দুই রকম চার্জই আছে
- গ. পজেটিভ চার্জ নেই
- ঘ. উপরের কোনোটিই সত্য নয়
উত্তর: ক. পজেটিভ চার্জ আছে
প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা একটি কণিকা, যার চার্জ ধনাত্মক (পজিটিভ)। প্রোটনের চার্জের পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জের সমান, কিন্তু বিপরীত ধরনের, অর্থাৎ +1.6 × 10⁻¹⁹ কুলম্ব। এই কারণে পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান হলে মোট চার্জ শূন্য হয়ে যায়। প্রোটনের ভর প্রায় 1.67 × 10⁻²⁷ kg, যা নিউট্রনের ভরের প্রায় সমান। পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা মানে তার প্রোটনের সংখ্যা। যেমন কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬, তাই প্রতিটি কার্বন পরমাণুতে ৬টি প্রোটন থাকে।
মনে রাখুন: ১৯১৯ সালে রাদারফোর্ড প্রোটন আবিষ্কার করেন, আর প্রোটন (Proton) নামটিও তাঁর দেওয়া। - ৮০. ইলেকট্রন কে আবিষ্কার করেন?অগ্রণী ব্যাংক লি. সিনিয়র অফিসার, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. থমসন
- খ. নীলস বোর
- গ. রাদারফোর্ড
- ঘ. নিউটন
উত্তর: ক. থমসন
১৮৯৭ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জে. জে. থমসন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা করার সময় ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন। তিনি দেখেন, এই রশ্মি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণার স্রোত এবং এই কণা পরমাণুর চেয়েও ছোট। নীলস বোর পরমাণুর কক্ষপথের মডেল দেন, রাদারফোর্ড নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন, আর নিউটন গতির সূত্র ও মহাকর্ষের সূত্র দেন। থমসন পরে একটি পরমাণু-মডেলও দিয়েছিলেন, যেখানে ধনাত্মক চার্জের গোলকের ভেতর ইলেকট্রন ছড়ানো থাকে, অনেকটা পুডিংয়ে কিশমিশের মতো। ইলেকট্রনের চার্জ ও ভরের অনুপাত (e/m) তিনিই প্রথম নির্ণয় করেন। এই অনুপাত 1.76 × 10¹¹ C/kg।
মনে রাখুন: থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কারের জন্য ১৯০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান। - ৮১. পরমাণুর সবচেয়ে হালকা কণিকা?কর্ণফুলী গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এর টেকনিশিয়ান, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. প্রোটন
- খ. ইলেকট্রন
- গ. নিউট্রন
- ঘ. সবগুলোর ওজন সমান
উত্তর: খ. ইলেকট্রন
পরমাণুর তিনটি মূল কণিকার মধ্যে ইলেকট্রন সবচেয়ে হালকা। ইলেকট্রনের ভর প্রায় 9.1 × 10⁻³¹ kg, যা প্রোটনের ভরের প্রায় ১৮৩৬ ভাগের ১ ভাগ। প্রোটন ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান, তাই পরমাণুর প্রায় সব ভর নিউক্লিয়াসে থাকে। ইলেকট্রন এত হালকা বলে পরমাণুর ভর হিসাব করার সময় সাধারণত ইলেকট্রনের ভর ধরা হয় না। আর এই হালকা কণাই বিদ্যুৎ পরিবহনে মূল ভূমিকা রাখে। তারের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহই আমাদের কাছে বিদ্যুৎ-প্রবাহ।
মনে রাখুন:
ভরের ক্রম: নিউট্রন > প্রোটন > ইলেকট্রন।
নিউট্রনের ভর প্রোটনের চেয়ে সামান্য বেশি। - ৮২. একটি ইলেকট্রনে চার্জের পরিমাণ হলো-বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. 1.08 × 10⁻⁸ কুলম্ব
- খ. 9 × 10⁹ কুলম্ব
- গ. 1.606 × 10⁻¹⁹ কুলম্ব
- ঘ. 1.66 × 10⁻⁹ কুলম্ব
উত্তর: গ. 1.606 × 10⁻¹⁹ কুলম্ব
একটি ইলেকট্রনের চার্জ ঋণাত্মক এবং পরিমাণ প্রায় 1.6 × 10⁻¹⁹ কুলম্ব (C)। এটি প্রকৃতির মৌলিক একক চার্জ, কারণ কোনো বস্তুর চার্জ এর পূর্ণসংখ্যার গুণিতক হয়, এর ভগ্নাংশ হয় না। ১৯০৯ সালে রবার্ট মিলিকান তেলের ফোঁটার পরীক্ষায় প্রথম এই মান সঠিকভাবে মাপেন। এই চার্জ এত ছোট যে বাস্তবে আমরা এক কুলম্ব চার্জ পেতে প্রায় 6.25 × 10¹⁸টি ইলেকট্রন লাগে। অর্থাৎ ছোট একটি চার্জের বস্তুতেও কোটি কোটি ইলেকট্রনের হিসাব জড়িত থাকে। এ থেকেই বোঝা যায়, দৈনন্দিন বিদ্যুতের পেছনে কত বিশাল সংখ্যক কণা কাজ করে।
মনে রাখুন: প্রোটনের চার্জও পরিমাণে একই, তবে ধনাত্মক। অর্থাৎ +1.6 × 10⁻¹⁹ C। - ৮৩. ইলেকট্রনের বৈশিষ্ট্য হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. চার্জ না থাকা
- খ. ভর না থাকা
- গ. ধনাত্মক চার্জ
- ঘ. ঋণাত্মক চার্জ
উত্তর: ঘ. ঋণাত্মক চার্জ
ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণিকা। এর চার্জ আছে এবং ভরও আছে, যদিও ভর খুবই কম। ধনাত্মক চার্জ থাকে প্রোটনে। ইলেকট্রনের ঋণাত্মক চার্জ আছে বলেই নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক প্রোটন একে আকর্ষণ করে, ফলে পরমাণু স্থিতিশীল থাকে। কোনো বস্তুতে ইলেকট্রন বেশি থাকলে সেটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়, আর ইলেকট্রন কম থাকলে ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়। তাই চার্জ আসলে ইলেকট্রনের আদান-প্রদানের ফল। এ কারণেই সমধর্মী চার্জ পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, আর বিপরীত চার্জ আকর্ষণ করে।
মনে রাখুন: কাচদণ্ডকে সিল্কে ঘষলে কাচ থেকে ইলেকট্রন সিল্কে চলে যায়, তাই কাচ ধনাত্মক এবং সিল্ক ঋণাত্মক চার্জ পায়। - ৮৪. কোনটি চার্জবিহীন?PGCB'র জুনিয়র হিসাব সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. ইলেকট্রন
- খ. প্রোটন
- গ. নিউট্রন
- ঘ. পজিট্রন
উত্তর: গ. নিউট্রন
নিউট্রন চার্জবিহীন কণিকা, যার নাম থেকেই বোঝা যায় এটি নিরপেক্ষ। ইলেকট্রন ঋণাত্মক ও প্রোটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত। পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতিকণা, যার চার্জ ইলেকট্রনের সমান কিন্তু ধনাত্মক। নিউট্রনের ভর প্রোটনের চেয়ে সামান্য বেশি। পরমাণুর স্থায়িত্বে নিউট্রনের ভূমিকা আছে। নিউট্রন নিউক্লিয়াসের প্রোটনদের মধ্যে বিকর্ষণ কমিয়ে নিউক্লিয়াসকে স্থিতিশীল রাখে। একই মৌলের পরমাণুতে নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন হলে তাদের আইসোটোপ বলে। যেমন কার্বন-12 ও কার্বন-14 আইসোটোপ।
মনে রাখুন: ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন, চার্জ না থাকায় এটি আবিষ্কার করা কঠিন ছিল। - ৮৫. প্রতিটি ইলেকট্রনিক কক্ষে ইলেকট্রনের সংখ্যা -কারিগরি শিক্ষা জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রন বিন্যাস
- ক. n²
- খ. 2n²
- গ. 3n²
- ঘ. 4n
উত্তর: খ. 2n²
পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ইলেকট্রনগুলো যে কক্ষপথে ঘোরে, তাদের নিউক্লিয়াসের কাছ থেকে বাইরের দিকে K, L, M, N নামে ডাকা হয়। কোনো একটি কক্ষে সর্বোচ্চ কতগুলো ইলেকট্রন থাকতে পারে, তা বের করার সূত্র হলো 2n², যেখানে n হলো কক্ষের ক্রম, অর্থাৎ নিউক্লিয়াস থেকে গোনা প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা।
মনে রাখুন:
প্রথম কক্ষে (n = 1) সর্বোচ্চ 2 × 1² = 2টি ইলেকট্রন।
দ্বিতীয় কক্ষে (n = 2) সর্বোচ্চ 2 × 2² = 8টি।
তৃতীয় কক্ষে (n = 3) সর্বোচ্চ 2 × 3² = 18টি।
চতুর্থ কক্ষে (n = 4) সর্বোচ্চ 2 × 4² = 32টি। - ৮৬. একটি পরমাণুর দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকে?বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রন বিন্যাস
- ক. ২
- খ. ৮
- গ. ১৮
- ঘ. ৩২
উত্তর: খ. ৮
কক্ষে ইলেকট্রনের সর্বোচ্চ সংখ্যা বের করা হয় 2n² সূত্র দিয়ে। দ্বিতীয় কক্ষের জন্য n = 2, তাই সংখ্যাটি হয় 2 × 2² = 8। অর্থাৎ নিউক্লিয়াস থেকে দ্বিতীয় কক্ষে সবচেয়ে বেশি ৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।
একটি মজার ব্যাপার হলো, যেকোনো পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষে ৮টির বেশি ইলেকট্রন থাকে না। নিয়ন (Ne) পরমাণুর দুটি কক্ষে ২ ও ৮টি ইলেকট্রন আছে, তাই সে খুব স্থিতিশীল, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সহজে অংশ নিতে চায় না।
মনে রাখুন: প্রথম কক্ষে ২, দ্বিতীয় কক্ষে ৮, তৃতীয় কক্ষে ১৮ এবং চতুর্থ কক্ষে ৩২টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। - ৮৭. কোন পরমাণুর চতুর্থ কক্ষের ইলেকট্রনের সংখ্যা-বাংলাদেশ রেলওয়ের সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রন বিন্যাস
- ক. ৯টি
- খ. ১৬টি
- গ. ১৮টি
- ঘ. ৩২টি
উত্তর: ঘ. ৩২টি
কোনো কক্ষে ইলেকট্রনের সর্বোচ্চ সংখ্যা 2n² সূত্রে পাওয়া যায়। চতুর্থ কক্ষের জন্য n = 4, তাই 2 × 4² = 2 × 16 = 32। অর্থাৎ চতুর্থ কক্ষ (N কক্ষ) সর্বোচ্চ ৩২টি ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে। এই কক্ষে s, p, d ও f নামের চারটি উপকক্ষ থাকে, আর সেগুলোতে যথাক্রমে ২, ৬, ১০ ও ১৪টি করে ইলেকট্রন থাকতে পারে। যোগ করলে পাওয়া যায় ২ + ৬ + ১০ + ১৪ = ৩২।
মনে রাখুন: তৃতীয় কক্ষে সর্বোচ্চ ১৮টি, কিন্তু পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষে ৮টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না। - ৮৮. মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কে কি বলে?বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. অণু
- খ. পরমাণু
- গ. ভর সংখ্যা
- ঘ. নিউট্রন সংখ্যা
উত্তর: খ. পরমাণু
মৌলিক পদার্থকে ক্রমাগত ভাঙলে যে ক্ষুদ্রতম কণায় পৌঁছানো যায় এবং যা ওই মৌলের রাসায়নিক ধর্ম ধারণ করে, তার নাম পরমাণু (Atom)। ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা কোনো কণার নাম নয়, এগুলো পরমাণুর বৈশিষ্ট্য মাপার সংখ্যা। অণু আবার একটি বা একাধিক পরমাণু দিয়ে তৈরি হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণু তৈরি হয় না, ধ্বংসও হয় না, কেবল এক সঙ্গী ছেড়ে আরেক সঙ্গীর সঙ্গে যুক্ত হয়। এই কারণেই বিক্রিয়ার আগে ও পরে মোট ভর সমান থাকে।
মনে রাখুন:
পরমাণুর ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
পরমাণুর ধারণা প্রথম দেন গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস, আর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেন জন ডাল্টন। - ৮৯. বস্তুর ধর্ম ধারণ করে এরকম ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম-কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ইন্সট্রাক্টর (নন্টেক), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. অণু
- খ. পরমাণু
- গ. কণা
- ঘ. মৌল
উত্তর: ক. অণু
কোনো পদার্থকে ভাগ করতে করতে ছোট করলে যে ক্ষুদ্রতম কণায় পৌঁছানো যায় এবং যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে ও ওই পদার্থের সব ধর্ম বহন করে, তার নাম অণু (Molecule)। যেমন পানির ক্ষুদ্রতম কণা H₂O অণু, ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণু আলাদা করলে আর পানির ধর্ম থাকে না। পরমাণু বা মৌল এভাবে পদার্থের নিজস্ব ধর্ম ধরে রাখে না। আর যেসব মৌলের অণু একটি মাত্র পরমাণু দিয়ে তৈরি, যেমন হিলিয়াম ও নিয়ন, সেখানে পরমাণু ও অণু একই জিনিস। এ ধরনের মৌলকে একপরমাণুক বলা হয়।
মনে রাখুন: অণুতে যত পরমাণু থাকে, সেটাই ওই অণুর পরমাণুকতা (Atomicity)। যেমন He একপরমাণুক, O₂ দ্বিপরমাণুক, O₃ ত্রিপরমাণুক। - ৯০. দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রিত হলে গঠিত হয়?জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. আয়ন
- খ. যৌগ
- গ. অণু
- ঘ. রেডিক্যাল
উত্তর: গ. অণু
একই মৌলের বা ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হলে অণু (Molecule) গঠিত হয়। যেমন দুটি অক্সিজেন পরমাণু মিলে O₂ অণু, আবার দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলে H₂O অণু হয়। যৌগ হতে হলে অণুতে অন্তত দুটি ভিন্ন মৌলের পরমাণু থাকতে হয়। তাই সব অণু যৌগ নয়, যেমন O₂ একটি মৌলিক অণু। এই কারণে অণুর গঠন জানতে হলে কোন পরমাণু কীভাবে যুক্ত আছে তা দেখা দরকার।
মনে রাখুন:
অণু: O₂, N₂, H₂ (মৌলিক অণু) এবং H₂O, CO₂ (যৌগের অণু)।
আয়ন হলো আধানযুক্ত পরমাণু বা পরমাণুগুচ্ছ। - ৯১. হাইড্রোজেন মৌলের অণুতে পরমাণুর সংখ্যা-পরিবেশ অধিদপ্তরের ফিল্ড ইনভেস্টিগেটর এবং রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. এক
- খ. দুই
- গ. তিন
- ঘ. চার
উত্তর: খ. দুই
হাইড্রোজেন গ্যাসের একটি অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে, তাই এর সংকেত H₂। একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর বাইরের কক্ষে ১টি ইলেকট্রন থাকে। দুটি পরমাণু ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে নিয়ে প্রথম কক্ষ পূর্ণ করে নেয়, তখন অণুটি স্থিতিশীল হয়। এ কারণে হাইড্রোজেনকে দ্বিপরমাণুক (Diatomic) অণু বলা হয়। হাইড্রোজেন পরমাণুতে মাত্র একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন থাকে, তাই এটি সবচেয়ে সরল পরমাণু। দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে যে বন্ধন গড়ে, সেটি একক সমযোজী বন্ধন।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেনের মতো অক্সিজেন (O₂), নাইট্রোজেন (N₂), ফ্লোরিন (F₂) ও ক্লোরিনও (Cl₂) দ্বিপরমাণুক। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো একপরমাণুক। - ৯২. নিচের কোনটি অণু গঠন করে না-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. নিয়ন
- খ. আর্গন
- গ. ফ্লোরিন
- ঘ. ক ও খ উভয়ই
উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই
নিয়ন (Ne) ও আর্গন (Ar) নিষ্ক্রিয় গ্যাস, এদের বাইরের কক্ষ ইলেকট্রনে পূর্ণ থাকে। তাই এরা অন্য পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন গড়ে না, নিজেদের মধ্যেও জোড়া বাঁধে না। এরা একটি করে পরমাণু হিসেবেই থাকে, অর্থাৎ একপরমাণুক (Monoatomic)। ফ্লোরিনের বাইরের কক্ষে ৭টি ইলেকট্রন, আরেকটি পরমাণুর সঙ্গে ভাগাভাগি করলে স্থিতিশীল হয়, তাই এটি F₂ অণু তৈরি করে। কাজেই নিয়ন ও আর্গন, এই দুটিই অণু গঠন করে না। অর্থাৎ একপরমাণুক গ্যাসের ক্ষেত্রে পরমাণুই তার অণু।
মনে রাখুন: নিষ্ক্রিয় গ্যাস ছয়টি, হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডন। - ৯৩. কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা হচ্ছে -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. তার পরমাণুতে নিউট্রনের সংখ্যা
- খ. তার পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা
- গ. তার পরমাণুতে নিউট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা
- ঘ. তার পরমাণুতে মৌলিক কণিকার সংখ্যা
উত্তর: খ. তার পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলো প্রোটন থাকে, সেটিই ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number), একে Z দিয়ে প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি মৌলের প্রোটন সংখ্যা আলাদা, তাই পারমাণবিক সংখ্যাকে মৌলের পরিচয়পত্র বলা চলে। আবার নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান, ফলে ইলেকট্রন সংখ্যাও Z-এর সমান। ধাতু ও অধাতু চেনার জন্য বা পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান জানার জন্যও পারমাণবিক সংখ্যা কাজে লাগে। একই পারমাণবিক সংখ্যার সব পরমাণু একই মৌলের, তাদের ভর ভিন্ন হলেও।
মনে রাখুন:
আধুনিক পর্যায় সারণি পারমাণবিক সংখ্যার ক্রমে সাজানো।
পারমাণবিক সংখ্যা আবিষ্কার করেন হেনরি মোজলে। - ৯৪. কোনটি বৃদ্ধি পেলে নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি পায়-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. পারমাণবিক সংখ্যা
- খ. পারমাণবিক ভর
- গ. পারমাণবিক ওজন
- ঘ. পারমাণবিক আয়ন
উত্তর: ক. পারমাণবিক সংখ্যা
নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক আধান আছে কেবল প্রোটনের, প্রতিটি প্রোটন বহন করে একক ধনাত্মক আধান। নিউট্রন আধানহীন। কাজেই প্রোটন সংখ্যা যত বাড়ে, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানও তত বাড়ে। প্রোটন সংখ্যাকেই বলা হয় পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number), তাই এটি বাড়লে নিউক্লিয়াসের আধানও বাড়ে। পারমাণবিক ভর বাড়লেও আধান না-ও বাড়তে পারে, কারণ নিউট্রন বাড়লে ভর বাড়ে কিন্তু আধান বাড়ে না। প্রোটনের আধান +1.6 × 10⁻¹⁹ কুলম্ব এবং ইলেকট্রনের আধান ঠিক একই মানের কিন্তু ঋণাত্মক। এ জন্য নিরপেক্ষ পরমাণুতে মোট আধান শূন্য হয়।
মনে রাখুন: নিউক্লিয়াসের আধান = +Ze, যেখানে Z হলো পারমাণবিক সংখ্যা। - ৯৫. সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা কত?DNC সহকারী পরিচালক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. ১০
- খ. ১২
- গ. ১৪
- ঘ. ১৬
উত্তর: গ. ১৪
সিলিকনের (Si) পারমাণবিক সংখ্যা ১৪, অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে ১৪টি প্রোটন থাকে। ইলেকট্রন বিন্যাস হয় 2, 8, 4। বাইরের কক্ষে ৪টি ইলেকট্রন থাকায় সিলিকন পর্যায় সারণির ১৪ নম্বর মৌল ও চতুর্থ মৌলগোষ্ঠীর সদস্য। সিলিকন একটি অর্ধপরিবাহী (Semiconductor), কম্পিউটারের চিপ ও সৌরকোষ তৈরিতে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। পর্যায় সারণিতে সিলিকন তৃতীয় পর্যায়ে এবং ১৪ নম্বর গ্রুপে আছে। এর ঠিক ওপরের মৌল কার্বন, উভয়ের বাইরের কক্ষে ৪টি ইলেকট্রন থাকায় রাসায়নিক ধর্মে কিছু মিল দেখা যায়।
মনে রাখুন:
ভূত্বকে অক্সিজেনের পরেই সিলিকন সবচেয়ে প্রচুর পাওয়া যায়।
বালি ও কাচের প্রধান উপাদান সিলিকন ডাইঅক্সাইড (SiO₂)। - ৯৬. পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. ১৯
- খ. ১৫
- গ. ২১
- ঘ. ১৭
উত্তর: ক. ১৯
পটাশিয়ামের (K) পারমাণবিক সংখ্যা ১৯। এর বিন্যাস হলো 2, 8, 8, 1, অর্থাৎ সবচেয়ে বাইরের কক্ষে একটি মাত্র ইলেকট্রন আছে। এই একটি ইলেকট্রন সহজে ছেড়ে দিয়ে পটাশিয়াম K⁺ আয়ন তৈরি করে, তাই এটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু। পটাশিয়াম ক্ষার ধাতু (Alkali Metal), এটি পানির সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া করে, তাই একে কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখা হয়। পটাশিয়াম নরম ধাতু, ছুরি দিয়ে কাটা যায়। এর শিখা বেগুনি রঙের হয়। আরেকটি ক্ষার ধাতু সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং লিথিয়ামের ৩।
মনে রাখুন:
পটাশিয়ামের সংকেত K এসেছে ল্যাটিন নাম Kalium থেকে।
গাছের বৃদ্ধির জন্য পটাশিয়াম একটি প্রয়োজনীয় সার-উপাদান। - ৯৭. ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক সংখ্যা
- ক. ৭২
- খ. ৮২
- গ. ৯২
- ঘ. ১০২
উত্তর: গ. ৯২
ইউরেনিয়ামের (U) পারমাণবিক সংখ্যা ৯২, অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে ৯২টি প্রোটন থাকে। প্রকৃতিতে পাওয়া মৌলগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সবচেয়ে ভারী। এর আইসোটোপ U-235 বিদারণ (Fission) বিক্রিয়ায় বিপুল শক্তি দেয়, তাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে। ইউরেনিয়াম ধূসর-রুপালি ধাতু। এর আরেকটি আইসোটোপ U-238 প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, প্রায় ৯৯ ভাগ। U-235 আছে মাত্র প্রায় ০.৭ ভাগ, তাই জ্বালানি বানাতে ইউরেনিয়ামকে সমৃদ্ধ (Enriched) করতে হয়।
মনে রাখুন:
ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয় মৌল।
মার্টিন ক্ল্যাপরথ ১৭৮৯ সালে এটি আবিষ্কার করেন, আর তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন হেনরি বেকেরেল। - ৯৮. 'ভর সংখ্যা' বলতে বোঝায়-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভর সংখ্যা
- ক. প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা
- খ. ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা
- গ. ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা
- ঘ. নিউট্রন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা
উত্তর: ক. প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা
পরমাণুর প্রায় সব ভর থাকে নিউক্লিয়াসে, আর নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। প্রোটন ও নিউট্রনকে একসঙ্গে নিউক্লিয়ন (Nucleon) বলে। একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে মোট যতগুলো প্রোটন ও নিউট্রন আছে, তার যোগফলকে ভর সংখ্যা (Mass Number) বলা হয়। ইলেকট্রনের ভর এত কম যে ভর সংখ্যা গণনায় তাকে ধরা হয় না। ভর সংখ্যা সব সময় পূর্ণ সংখ্যা, কিন্তু পারমাণবিক ভর দশমিক সংখ্যা হতে পারে, কারণ সেটি আইসোটোপগুলোর গড় ভর। সংকেতে ভর সংখ্যা মৌলের প্রতীকের ওপরে বামে এবং পারমাণবিক সংখ্যা নিচে বামে লেখা হয়।
মনে রাখুন:
ভর সংখ্যা A = প্রোটন সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)।
নিউট্রন সংখ্যা N = A − Z। - ৯৯. নিউক্লিয়ন সংখ্যা A, প্রোটন সংখ্যা P, নিউট্রন সংখ্যা N হলে, পরমাণুর ভর সংখ্যা-বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভর সংখ্যা
- ক. A = P + N
- খ. Z = A + P
- গ. M = P + N
- ঘ. N = A + P
উত্তর: ক. A = P + N
নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন, দুটিকেই নিউক্লিয়ন বলে। পরমাণুর ভর সংখ্যা হলো নিউক্লিয়াসের এই কণাগুলোর মোট সংখ্যা। তাই প্রোটন সংখ্যা P ও নিউট্রন সংখ্যা N হলে ভর সংখ্যা A = P + N। ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের প্রায় ১৮৩৬ ভাগের ১ ভাগ, এজন্য সূত্রে ইলেকট্রন আসে না। অর্থাৎ ভর সংখ্যা থেকে পারমাণবিক সংখ্যা বাদ দিলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। কার্বন-১২ এর ভর সংখ্যা ১২, প্রোটন ৬, তাই নিউট্রনও ৬টি।
মনে রাখুন: নিউট্রন সংখ্যা বের করতে হলে N = A − P ব্যবহার করা হয়। - ১০০. ¹⁵₇N আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা কত?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়
- ক. ১৫
- খ. ২২
- গ. ৭
- ঘ. ৮
উত্তর: ঘ. ৮
¹⁵₇N সংকেতে ওপরের সংখ্যা ১৫ হলো ভর সংখ্যা এবং নিচের সংখ্যা ৭ হলো পারমাণবিক সংখ্যা, অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা। নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা − প্রোটন সংখ্যা = 15 − 7 = 8। অতএব এই নাইট্রোজেন আইসোটোপের নিউক্লিয়াসে ৮টি নিউট্রন আছে। নিউট্রন সংখ্যা সম্পর্কে একটি কথা মনে রাখা ভালো। নিউট্রন আধানহীন এবং ভর প্রায় প্রোটনের সমান। ১৯৩২ সালে জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। নাইট্রোজেন প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিডের অপরিহার্য উপাদান।
মনে রাখুন:
সাধারণ নাইট্রোজেনের আইসোটোপ ¹⁴₇N, তাতে নিউট্রন ৭টি।
বায়ুর প্রায় ৭৮ ভাগই নাইট্রোজেন। - ১০১. ¹⁸₈O পরমাণুতে নিউক্লিয়ন সংখ্যা কত?শাবিপ্রবি বি-ইউনিট ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়
- ক. ২৬
- খ. ১০
- গ. ১৮
- ঘ. ৮
উত্তর: গ. ১৮
¹⁸₈O সংকেতে ওপরের সংখ্যা ১৮ ভর সংখ্যা, নিচের সংখ্যা ৮ প্রোটন সংখ্যা। ভর সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা, আর এই দুই কণাকে একসঙ্গে নিউক্লিয়ন বলা হয়। তাই নিউক্লিয়ন সংখ্যা সরাসরি ১৮। এখানে নিউট্রন সংখ্যা 18 − 8 = 10। এখানে নিউক্লিয়ন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কথা।
মনে রাখুন: অক্সিজেনের তিনটি স্থিতিশীল আইসোটোপ হলো ¹⁶O, ¹⁷O ও ¹⁸O, এদের প্রোটন সংখ্যা সবার ৮।
মনে রাখুন: প্রোটন আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড, ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে. জে. থমসন এবং নিউট্রন আবিষ্কার করেন চ্যাডউইক। - ১০২. সোডিয়াম-এর (²³Na) একটি পরমাণুতে রয়েছে -ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়
- ক. ১০টি প্রোটন ও ১৩টি নিউট্রন
- খ. ১১টি প্রোটন ও ১২টি নিউট্রন
- গ. ১২টি প্রোটন ও ১১টি নিউট্রন
- ঘ. ১৩টি প্রোটন ও ১০টি নিউট্রন
উত্তর: খ. ১১টি প্রোটন ও ১২টি নিউট্রন
সোডিয়ামের (Na) পারমাণবিক সংখ্যা ১১, তাই এর পরমাণুতে ১১টি প্রোটন থাকে। ভর সংখ্যা ২৩ হলে নিউট্রন সংখ্যা 23 − 11 = 12। কাজেই একটি সোডিয়াম পরমাণুতে ১১টি প্রোটন ও ১২টি নিউট্রন আছে। নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যাও ১১। একই নিয়মে ক্লোরিনের ³⁵Cl-এ প্রোটন ১৭টি ও নিউট্রন ১৮টি। সংকেত থেকে প্রোটন ও নিউট্রন বের করতে পারা এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে।
মনে রাখুন:
সোডিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 1।
একটি ইলেকট্রন ছেড়ে সোডিয়াম Na⁺ আয়ন তৈরি করে। - ১০৩. সোডিয়ামের (Na) নিউট্রন সংখ্যা কত?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়
- ক. 23
- খ. 12
- গ. 11
- ঘ. 35
উত্তর: খ. 12
সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা ১১ এবং প্রকৃতিতে পাওয়া প্রায় সব সোডিয়াম পরমাণুর ভর সংখ্যা ২৩। নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা − প্রোটন সংখ্যা = 23 − 11 = 12। ২৩ হলো ভর সংখ্যা, নিউট্রন সংখ্যা নয়, আর ১১ হলো প্রোটন সংখ্যা। মনে রাখার সহজ উপায় হলো, নিউট্রন সংখ্যা সব সময় ভর সংখ্যা থেকে পারমাণবিক সংখ্যা বাদ দিয়ে বের করতে হয়। সোডিয়ামের পারমাণবিক ভর প্রায় ২৩। এটি ক্ষার ধাতু, নরম ও রুপালি। পানির সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া করে NaOH ও হাইড্রোজেন তৈরি করে, তাই কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখা হয়।
মনে রাখুন: সোডিয়ামের সংকেত Na এসেছে ল্যাটিন নাম Natrium থেকে। - ১০৪. Cl₂ এর আণবিক ভর কত?BD রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক ভর
- ক. ৩৫.৫
- খ. ৭২
- গ. ৭১
- ঘ. ৩৬
উত্তর: গ. ৭১
ক্লোরিনের পারমাণবিক ভর প্রায় ৩৫.৫। Cl₂ অণুতে দুটি ক্লোরিন পরমাণু থাকে, তাই আণবিক ভর হয় 2 × 35.5 = 71। কোনো অণুর আণবিক ভর পাওয়া যায় তার সব পরমাণুর পারমাণবিক ভর যোগ করে। ৩৫.৫ হলো একটি পরমাণুর ভর, তাই এটি অণুর ভর নয়। আণবিক ভর পরিমাপে কার্বন-১২ কে মান ধরা হয়, তার ভরের ১২ ভাগের ১ ভাগ হলো ১ amu। আণবিক ভর হলো আপেক্ষিক ভর, তাই এর কোনো একক নেই।
মনে রাখুন:
ক্লোরিন গ্যাস পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ব্লিচিং পাউডার তৈরিতেও ক্লোরিন লাগে। - ১০৫. পারমাণবিক ভর বা ওজন ধারণার প্রবর্তক কে?তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (গণযোগাযোগ প্রশিক্ষণ), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. গাউস
- খ. গে লুস্যাক
- গ. জন ডাল্টন
- ঘ. ডেমোক্রিটাস
উত্তর: গ. জন ডাল্টন
পরমাণুর ভর বা ওজনের ধারণা প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে দেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন (John Dalton)। ১৮০৩ সালে তিনি বলেন, একই মৌলের সব পরমাণুর ভর সমান, আর ভিন্ন মৌলের পরমাণুর ভর আলাদা। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তিনি বিভিন্ন মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের একটি তালিকাও তৈরি করেন। ডেমোক্রিটাস পরমাণুর ধারণা দিয়েছিলেন দর্শনের দিক থেকে, পরীক্ষার ভিত্তিতে নয়। ডাল্টনের পর বার্জেলিয়াস আরও নির্ভুলভাবে পারমাণবিক ভর নির্ণয় করেন। বর্তমানে কার্বন-১২ কে মান ধরে পারমাণবিক ভর নির্ণয় করা হয়, আর এখন তা ভর বর্ণালীমাপক যন্ত্র দিয়ে মাপা হয়।
মনে রাখুন:
ডাল্টনের পরমাণুবাদ ১৮০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
ডাল্টনের তত্ত্বে পরমাণু অবিভাজ্য, পরে জানা গেছে পরমাণুও ভাঙা যায়। - ১০৬. পারমাণবিক ওজন কোনটির সমান?প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. ইলেকট্রন ও নিউট্রনের ওজনের সমান
- খ. প্রোটনের ওজনের সমান
- গ. নিউট্রন ও প্রোটনের ওজনের সমান
- ঘ. প্রোটন ও ইলেকট্রনের ওজনের সমান
উত্তর: গ. নিউট্রন ও প্রোটনের ওজনের সমান
পরমাণুর প্রায় সব ভর থাকে নিউক্লিয়াসে, যেখানে আছে প্রোটন ও নিউট্রন। ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের প্রায় ১৮৩৬ ভাগের ১ ভাগ, তাই তার অবদান নগণ্য। কাজেই পারমাণবিক ভর মূলত প্রোটন ও নিউট্রনের মোট ভরের সমান। প্রোটন ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান এবং প্রতিটির ভর প্রায় ১ একক (amu)। ইলেকট্রনকে হিসাবে না ধরলেও ক্ষতি নেই, কারণ ১০০০টি ইলেকট্রনের ভর প্রায় ০.৫৫ প্রোটনের সমান। এই কারণে পরমাণুর প্রায় পুরো ভরই কেন্দ্রের নিউক্লিয়াসে থাকে।
মনে রাখুন: কার্বন-১২ আইসোটোপের ভরের ১২ ভাগের ১ ভাগকে ১ পারমাণবিক ভর একক (amu) ধরা হয়। - ১০৭. পরমাণুর ভর বলতে কি বুঝায়?প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (পিইডিপি), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. নিউট্রনের ভর
- খ. প্রোটনের ভর
- গ. নিউট্রন ও প্রোটনের ভর
- ঘ. নিউট্রন, প্রোটন ও ইলেকট্রনের ভর
উত্তর: গ. নিউট্রন ও প্রোটনের ভর
পরমাণুর ভর আসলে নিউক্লিয়াসের ভর, কারণ পরমাণুর ভরের প্রায় পুরোটাই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত। নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন, তাই এ দুটির সম্মিলিত ভরই পরমাণুর ভর হিসেবে ধরা হয়। ইলেকট্রনের ভর এত কম যে হিসাবে ধরা হয় না। পরমাণুর আকারের তুলনায় নিউক্লিয়াস অতি ক্ষুদ্র, প্রায় ১০⁻¹⁵ মিটার, কিন্তু প্রায় সব ভর সেখানেই। তাই নিউক্লিয়াসের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই পারমাণবিক ভরের হিসাবে ইলেকট্রনের ভর বাদ দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
প্রোটনের ভর প্রায় ১.৬৭ × 10⁻²⁴ গ্রাম।
নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের সমান।
ইলেকট্রনের ভর প্রায় 9.1 × 10⁻²⁸ গ্রাম। - ১০৮. সবচেয়ে হালকা মৌল কোনটি?সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. লিথিয়াম
- গ. রেডিয়াম
- ঘ. ব্রোমিন
উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
সব মৌলের মধ্যে সবচেয়ে হালকা হলো হাইড্রোজেন (H)। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ আর পারমাণবিক ভর প্রায় ১। সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে মাত্র একটি প্রোটন থাকে আর কক্ষে একটি ইলেকট্রন। লিথিয়াম, রেডিয়াম ও ব্রোমিনের পারমাণবিক ভর যথাক্রমে প্রায় ৭, ২২৬ ও ৮০, তাই সবগুলোই হাইড্রোজেনের চেয়ে ভারী। হাইড্রোজেন আবিষ্কার করেন হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ১৭৬৬ সালে, আর এর নাম দেন ল্যাভয়সিয়ে, যার অর্থ পানি উৎপাদনকারী। সূর্য ও নক্ষত্রের শক্তির উৎস হাইড্রোজেনের মিলন বা ফিউশন।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেন মহাবিশ্বে সবচেয়ে প্রচুর মৌল।
সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম। - ১০৯. সবচেয়ে হালকা গ্যাস কোনটি?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. হিলিয়াম
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. আর্গন
উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
সবচেয়ে হালকা গ্যাস হাইড্রোজেন। এর অণু H₂-এর আণবিক ভর প্রায় ২, তাই একই অবস্থায় এটি বাতাসের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ হালকা। হিলিয়ামের আণবিক ভর ৪, ফলে এটি দ্বিতীয় হালকা গ্যাস। হাইড্রোজেন দাহ্য, তাই বেলুনে ব্যবহার করা বিপজ্জনক, আর হিলিয়াম দাহ্য নয় বলে বেলুন ও এয়ারশিপে ব্যবহার করা নিরাপদ। হিলিয়াম আবিষ্কৃত হয় প্রথমে সূর্যের বর্ণালীতে, তাই এর নাম গ্রিক শব্দ হেলিয়স অর্থাৎ সূর্য থেকে এসেছে। হাইড্রোজেন এখন ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবেও আলোচিত।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেনের আণবিক ভর ২৮, আর্গনের ভর প্রায় ৪০।
সবচেয়ে হালকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়াম। - ১১০. কোন মৌলিক গ্যাস সবচেয়ে ভারী?পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. রেডন
- খ. জেনন
- গ. নিয়ন
- ঘ. আর্গন
উত্তর: ক. রেডন
গ্যাসীয় মৌলগুলোর মধ্যে রেডন (Rn) সবচেয়ে ভারী। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮৬ আর ভর সংখ্যা প্রায় ২২২। জেনন ১৩১, আর্গন ৪০ ও নিয়ন ২০-এর কাছাকাছি, তাই রেডন এদের সবার চেয়ে ভারী। রেডন একটি তেজস্ক্রিয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এটি ইউরেনিয়াম ও রেডিয়ামের ক্ষয় থেকে তৈরি হয়। তবে তেজস্ক্রিয় না ধরলে স্থিতিশীল নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে ভারী হলো জেনন। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ভর ক্রমান্বয়ে বাড়ে: হিলিয়াম ৪, নিয়ন ২০, আর্গন ৪০, ক্রিপ্টন ৮৪, জেনন ১৩১ ও রেডন ২২২। গ্রুপে নিচে গেলে ভর বাড়ে।
মনে রাখুন: রেডন ঘরের ভেতরে জমলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। - ১১১. অক্সিজেনের পারমাণবিক ওজন-পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মেডিকেল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক ভর
- ক. ১২
- খ. ১৪
- গ. ১৬
- ঘ. ১৮
উত্তর: গ. ১৬
অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১৬। পারমাণবিক সংখ্যা ৮, অর্থাৎ ৮টি প্রোটন ও ৮টি নিউট্রন মিলে ভর সংখ্যা ১৬ হয়। অক্সিজেনের সবচেয়ে সাধারণ আইসোটোপ ¹⁶O। কার্বনের পারমাণবিক ভর ১২ এবং নাইট্রোজেনের ১৪, তাই এগুলো অক্সিজেনের ভর নয়। অক্সিজেন আবিষ্কার করেন জোসেফ প্রিস্টলি ও শিলি, আর এর নাম দেন ল্যাভয়সিয়ে। অক্সিজেনের অণুর আণবিক ভর 2 × 16 = 32। তাই অক্সিজেনের একটি মোল পরমাণুর ভর ১৬ গ্রাম।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন প্রায় ২১ ভাগ।
অক্সিজেন নিজে দাহ্য নয়, কিন্তু দহনে সাহায্য করে। - ১১২. অক্সিজেনের আণবিক ভর কত?ইসলামী ব্যাংক সহকারী অফিসার (গ্রেড-৩), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক ভর
- ক. ১৬
- খ. ১৬ গ্রাম
- গ. ৩২
- ঘ. ৩২ গ্রাম
উত্তর: গ. ৩২
অক্সিজেন গ্যাস দ্বিপরমাণুক, অর্থাৎ এর অণুর সংকেত O₂। একটি পরমাণুর পারমাণবিক ভর ১৬, তাই অণুর আণবিক ভর হবে 2 × 16 = 32। আণবিক ভর একটি আপেক্ষিক ভর, এর কোনো একক নেই। অন্যদিকে এক মোল O₂-এর ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে তা ৩২ গ্রাম হয়, একে মোলার ভর বলে।
মনে রাখুন: ওজোন (O₃) অণুর আণবিক ভর 3 × 16 = 48।
আরও মনে রাখুন: কার্বন মনোক্সাইড (CO) এর আণবিক ভর ২৮ এবং পানির (H₂O) ১৮। আণবিক ভর হিসাব করার সময় প্রতিটি পরমাণুর সংখ্যা দিয়ে ভর গুণ করে যোগ করতে হয়। - ১১৩. সালফিউরিক এসিডের একটি অণুতে মোট পরমাণুর সংখ্যা কত?টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইন্সট্রাক্টর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক ভর
- ক. ২
- খ. ৫
- গ. ৭
- ঘ. ৮
উত্তর: গ. ৭
সালফিউরিক এসিডের সংকেত H₂SO₄। এখানে হাইড্রোজেন পরমাণু ২টি, সালফার ১টি এবং অক্সিজেন ৪টি। সব মিলিয়ে একটি অণুতে পরমাণুর সংখ্যা 2 + 1 + 4 = 7। সালফিউরিক এসিড একটি শক্তিশালী খনিজ এসিড এবং শিল্পে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলোর একটি, তাই একে রাসায়নিকের রাজা বলা হয়। এই এসিডের আণবিক ভর ৯৮। পানির সঙ্গে মেশালে প্রচুর তাপ নির্গত হয়, তাই এসিডে পানি ঢালতে নেই, বরং পানিতে ধীরে ধীরে এসিড ঢালতে হয়।
মনে রাখুন:
গাড়ির ব্যাটারিতে লেড-এসিড কোষে এই এসিড ব্যবহৃত হয়।
সার ও বিস্ফোরক তৈরিতেও এটি লাগে। - ১১৪. সালফিউরিক এসিড-এর molecular weight কত?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক ভর
- ক. ৯৮
- খ. ৪৮
- গ. ১০৪
- ঘ. ১৪০
উত্তর: ক. ৯৮
H₂SO₄-এর আণবিক ভর বের করতে সব পরমাণুর পারমাণবিক ভর যোগ করতে হয়। হাইড্রোজেনের ভর ১, সালফারের ৩২ ও অক্সিজেনের ১৬। তাই হিসাব দাঁড়ায় (2 × 1) + 32 + (4 × 16) = 2 + 32 + 64 = 98। অতএব সালফিউরিক এসিডের আণবিক ভর ৯৮।
মনে রাখুন:
এক মোল H₂SO₄-এর ভর ৯৮ গ্রাম।
এটি দ্বিক্ষারীয় এসিড, কারণ একটি অণু থেকে ২টি H⁺ আয়ন দিতে পারে।
মনে রাখুন: HCl এর আণবিক ভর ৩৬.৫, HNO₃ এর ৬৩ এবং H₂SO₄ এর ৯৮। এগুলো শক্তিশালী এসিডের উদাহরণ। - ১১৫. CO₂- এর আণবিক ভর কত?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক ভর
- ক. ৩৩
- খ. ৪৪
- গ. ১২
- ঘ. ২২
উত্তর: খ. ৪৪
CO₂-এর আণবিক ভর বের করতে কার্বন ও অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর যোগ করতে হয়। কার্বনের ভর ১২ এবং অক্সিজেনের ১৬। অণুতে একটি কার্বন ও দুটি অক্সিজেন আছে, তাই 12 + (2 × 16) = 12 + 32 = 44। কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই এটি নিচে জমে থাকে। এ কারণে আগুন নেভাতে একে ব্যবহার করা হয়। এক মোল CO₂ এর ভর ৪৪ গ্রাম, আর প্রমাণ অবস্থায় এর আয়তন 22.4 লিটার। একটি CO₂ অণুতে মোট ৩টি পরমাণু আছে।
মনে রাখুন: CO₂ একটি গ্রিনহাউজ গ্যাস এবং শুকনো বরফ হলো কঠিন CO₂। - ১১৬. ১ গ্রাম হাইড্রোজেন গ্যাসে হাইড্রোজেন পরমাণুর সংখ্যা-ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোল ও অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা
- ক. ১ × ১০⁻²³ × ১০⁻²³
- খ. ৬.০২ × ১০²³
- গ. ৩.০১ × ১০⁻²³
- ঘ. ১৪.০৪ × ১০⁻²³
উত্তর: খ. ৬.০২ × ১০²³
হাইড্রোজেন পরমাণুর পারমাণবিক ভর ১, তাই ১ গ্রাম হাইড্রোজেন পরমাণু হলো ১ গ্রাম-পরমাণু বা ১ মোল। যেকোনো পদার্থের ১ মোলে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা (Avogadro Number) পরিমাণ কণা থাকে, যার মান 6.02 × 10²³। অতএব ১ গ্রাম হাইড্রোজেনে হাইড্রোজেন পরমাণু আছে 6.02 × 10²³টি। এই সংখ্যার নাম রাখা হয়েছে ইতালীয় বিজ্ঞানী অ্যামেদেও অ্যাভোগেড্রোর সম্মানে। এটি এত বড় যে এক মোল মার্বেল পুরো পৃথিবীকে কয়েক মাইল পুরু স্তরে ঢেকে দিতে পারত।
মনে রাখুন:
অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার প্রতীক N_A।
এক মোল H₂ অণুর ভর ২ গ্রাম, তাতে 6.02 × 10²³টি অণু আছে। - ১১৭. STP তে সকল গ্যাসের মোলার (molar) আয়তন-ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোল ও গ্যাসের আয়তন
- ক. 28.4 L
- খ. 22.4 L
- গ. 22.9 L
- ঘ. 22.8 L
উত্তর: খ. 22.4 L
অ্যাভোগেড্রোর সূত্র অনুযায়ী একই তাপমাত্রা ও চাপে সমআয়তনের সব গ্যাসে সমান সংখ্যক অণু থাকে। প্রমাণ অবস্থায় (STP), অর্থাৎ 0°C তাপমাত্রা ও ১ বায়ুমণ্ডল চাপে, যেকোনো গ্যাসের ১ মোল 22.4 লিটার আয়তন দখল করে। একে গ্যাসের মোলার আয়তন (Molar Volume) বলে। তাই H₂, O₂ বা CO₂, যেকোনো গ্যাসের ক্ষেত্রেই মান একই। অতএব ২ গ্রাম H₂, ৩২ গ্রাম O₂ আর ৪৪ গ্রাম CO₂, প্রতিটিই প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার জায়গা নেয়। এই ধারণা দিয়ে গ্যাসের ঘনত্বও বের করা যায়।
মনে রাখুন: STP-তে তাপমাত্রা 273 K (0°C) এবং চাপ 1 atm (760 mmHg)। - ১১৮. প্রমাণ অবস্থায় 2 গ্রাম H₂ গ্যাসের আয়তন কত?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোল ও গ্যাসের আয়তন
- ক. 22.4 লিটার
- খ. 11.2 লিটার
- গ. 44.8 লিটার
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. 22.4 লিটার
H₂-এর আণবিক ভর 2 × 1 = 2, তাই ২ গ্রাম H₂ হলো ঠিক ১ মোল। প্রমাণ অবস্থায় (STP) যেকোনো গ্যাসের ১ মোল 22.4 লিটার আয়তন দখল করে। অতএব ২ গ্রাম হাইড্রোজেন গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। যদি ১ গ্রাম হতো, তাহলে সেটি ০.৫ মোল হতো এবং আয়তন হতো 11.2 লিটার। এভাবে হিসাব করলে ৩২ গ্রাম অক্সিজেন গ্যাস প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার আয়তন দখল করে, কারণ O₂ এর মোলার ভর ৩২ গ্রাম।
মনে রাখুন:
আয়তন = মোল সংখ্যা × 22.4 L।
মোল সংখ্যা = ভর ÷ মোলার ভর। - ১১৯. এক মোল পানির ওজন হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোল ও গ্যাসের আয়তন
- ক. ১৮.০ গ্রাম
- খ. ১৮.২৫ গ্রাম
- গ. ১৮.৫ গ্রাম
- ঘ. ১৮.২ গ্রাম
উত্তর: ক. ১৮.০ গ্রাম
এক মোল পানির (H₂O) ভর বের করতে হলে আণবিক ভর হিসাব করতে হয়। হাইড্রোজেন ২টি ও অক্সিজেন ১টি, তাই (2 × 1) + 16 = 18। কোনো পদার্থের আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে ১ মোলের ভর পাওয়া যায়। অতএব ১ মোল পানির ভর ১৮ গ্রাম। এই ১৮ গ্রাম পানিতে 6.02 × 10²³টি পানির অণু থাকে।
মনে রাখুন: ১ মোল CO₂-এর ভর ৪৪ গ্রাম এবং ১ মোল NaCl-এর ভর ৫৮.৫ গ্রাম।
আরও মনে রাখুন: পানির ঘনত্ব প্রায় ১ গ্রাম/ঘন সেমি, তাই ১৮ গ্রাম পানি প্রায় ১৮ ঘন সেমি জায়গা নেয়। আর ৪°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। - ১২০. Isotope এ 'tope' এর অর্থ কি?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. স্থান
- খ. ক্রিয়া
- গ. গতি
- ঘ. বিকিরণ
উত্তর: ক. স্থান
Isotope শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ থেকে। এর Iso অংশের অর্থ সমান এবং tope অংশের অর্থ স্থান। তাই আইসোটোপ মানে সমান স্থান। কারণ একই মৌলের বিভিন্ন আইসোটোপের পারমাণবিক সংখ্যা সমান, ফলে পর্যায় সারণিতে সবগুলো একই ঘরে বসে। ১৯১৩ সালে ফ্রেডরিক সডি এই নামটি প্রস্তাব করেন। আইসোটোপের ধারণা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। টপোস (topos) শব্দের অর্থই স্থান।
মনে রাখুন:
আইসোটোপের প্রোটন সংখ্যা সমান, নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।
আইসোটোপ পর্যায় সারণির একই স্থানে বসে। - ১২১. হাইড্রোজেনের পরমাণুতে কোনটি নেই?শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন সহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ইলেকট্রন
- খ. প্রোটন
- গ. নিউট্রন
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. নিউট্রন
হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ রূপ প্রোটিয়াম (¹H)। এর নিউক্লিয়াসে মাত্র একটি প্রোটন থাকে আর কোনো নিউট্রন থাকে না, কক্ষে থাকে একটি ইলেকট্রন। তাই সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুতে নিউট্রন নেই। প্রকৃতিতে পাওয়া হাইড্রোজেনের প্রায় সবই এই প্রোটিয়াম। ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়ামে অবশ্য যথাক্রমে ১টি ও ২টি নিউট্রন থাকে। নিউট্রন আবিষ্কারের আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন নিউক্লিয়াস শুধু প্রোটনে গঠিত। পরে ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করলে ভর সংক্রান্ত ধাঁধা মেটে। তাই হাইড্রোজেনকে নিউট্রনহীন মৌল বলা চলে।
মনে রাখুন: নিউট্রনবিহীন একমাত্র স্থিতিশীল পরমাণু হলো সাধারণ হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম)। - ১২২. কোন মৌলে নিউট্রন নেই?SID'র পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. লিথিয়াম
- খ. অক্সিজেন
- গ. হাইড্রোজেন
- ঘ. হিলিয়াম
উত্তর: গ. হাইড্রোজেন
লিথিয়াম, অক্সিজেন ও হিলিয়ামের নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সঙ্গে নিউট্রনও থাকে। যেমন হিলিয়াম-৪ এ ২টি প্রোটন ও ২টি নিউট্রন, অক্সিজেন-১৬ তে ৮টি নিউট্রন। কিন্তু হাইড্রোজেনের সাধারণ রূপ প্রোটিয়ামের নিউক্লিয়াসে কেবল একটি প্রোটন থাকে, নিউট্রন থাকে না। তাই নিউট্রনবিহীন মৌল বলতে হাইড্রোজেনকেই বোঝানো হয়। হাইড্রোজেনের ভর সংখ্যা ১ এবং এটি পর্যায় সারণির প্রথম মৌল। এর একটি মাত্র ইলেকট্রন প্রথম কক্ষে থাকে। সাধারণ হাইড্রোজেনই প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়াম (¹H), ডিউটেরিয়াম (²H) ও ট্রিটিয়াম (³H)।
ভারী পানি (D₂O) ডিউটেরিয়াম দিয়ে তৈরি। - ১২৩. আইসোটোপ তৈরি হয় কোনটির তারতম্যের কারণে?রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ইলেকট্রন
- খ. প্রোটন
- গ. নিউট্রন
- ঘ. কারণ অনাবিষ্কৃত
উত্তর: গ. নিউট্রন
একই মৌলের সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা হতে পারে। নিউট্রন সংখ্যার এই পার্থক্যের কারণেই আইসোটোপ তৈরি হয়। নিউট্রন কম-বেশি হলে পরমাণুর ভর কম-বেশি হয়, কিন্তু প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা একই থাকায় রাসায়নিক ধর্ম বদলায় না।
উদাহরণ:
ক্লোরিনের ³⁵Cl ও ³⁷Cl, কার্বনের ¹²C ও ¹⁴C। নিউট্রন বেশি হলে নিউক্লিয়াস অস্থির হতে পারে, তখন আইসোটোপটি তেজস্ক্রিয় হয়। যেমন হাইড্রোজেনের ³H এবং কার্বনের ¹⁴C তেজস্ক্রিয়।
মনে রাখুন: কার্বন-১৪ (¹⁴C) তেজস্ক্রিয়, এটি দিয়ে প্রাচীন জীবাশ্ম ও নিদর্শনের বয়স নির্ণয় করা হয়। - ১২৪. প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ২টি
- খ. ৩টি
- গ. ৪টি
- ঘ. ৫টি
উত্তর: খ. ৩টি
প্রকৃতিতে হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ পাওয়া যায়, প্রোটিয়াম (¹H), ডিউটেরিয়াম (²H) ও ট্রিটিয়াম (³H)। তিনটির প্রোটন সংখ্যা ১, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে ০, ১ ও ২। প্রকৃতিতে প্রায় ৯৯.৯৮ ভাগই প্রোটিয়াম। ট্রিটিয়াম তেজস্ক্রিয়, বায়ুমণ্ডলে খুব সামান্য পরিমাণে তৈরি হয়। নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় ভরেও পার্থক্য হয়, তাই ডিউটেরিয়ামের ভর সংখ্যা ২ এবং ট্রিটিয়ামের ৩। কোনো মৌলের আইসোটোপগুলোর নাম সাধারণত মৌলের নামের সঙ্গে ভর সংখ্যা জুড়ে বলা হয়।
মনে রাখুন:
ডিউটেরিয়াম (ভারী হাইড্রোজেন) দিয়ে ভারী পানি (D₂O) তৈরি হয়, যা পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমাতে ব্যবহৃত হয়।
ট্রিটিয়াম ও ডিউটেরিয়াম হাইড্রোজেন বোমায় লাগে। - ১২৫. আইসোটোনের উদাহরণ-বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ⁴⁰₂₀Ca, ⁴⁰₁₉K
- খ. ³¹₁₅P, ³²₁₆S
- গ. ⁴⁰₁₈Ar, ⁴⁰₂₀Ca
- ঘ. ¹³₇N, ¹³₆C
উত্তর: খ. ³¹₁₅P, ³²₁₆S
আইসোটোন বলতে বোঝায় এমন পরমাণু, যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান। ³¹₁₅P-তে নিউট্রন 31 − 15 = 16টি এবং ³²₁₆S-এ নিউট্রন 32 − 16 = 16টি। নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা আলাদা, অর্থাৎ এরা আইসোটোন। অন্য জোড়াগুলো দেখা যাক। ⁴⁰Ca ও ⁴⁰K-এর ভর সংখ্যা সমান, তাই এরা আইসোবার। ⁴⁰Ar ও ⁴⁰Ca-ও আইসোবার। আইসোটোন চিনতে হলে প্রতিটি পরমাণুর ভর সংখ্যা থেকে প্রোটন বাদ দিয়ে নিউট্রন বের করে মিলিয়ে দেখতে হয়। এই নিয়ম অন্য জোড়ার ক্ষেত্রেও খাটে।
মনে রাখুন: আইসোবারের উদাহরণ ⁴⁰Ar ও ⁴⁰Ca, আইসোটোপের উদাহরণ ¹²C ও ¹⁴C। - ১২৬. দুধ একটি-ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিশ্রণ ও কলয়েড
- ক. Solution
- খ. Gel
- গ. Colloid
- ঘ. Suspense
উত্তর: গ. Colloid
দুধ একটি কলয়েড (Colloid)। এতে পানির মধ্যে চর্বির অতি ক্ষুদ্র কণা ও প্রোটিনের কণা ছড়িয়ে থাকে। এই কণাগুলো এত ছোট যে ছাঁকনি কাগজে আটকায় না, আবার নিচেও থিতিয়ে পড়ে না। কিন্তু কণাগুলো বড় হওয়ায় দুধ আলো ছড়িয়ে দেয়, সেজন্য এটি ঘোলাটে দেখায়। চর্বিকণা পানিতে মিশে না থেকেও ভেসে থাকে বলে দুধকে ইমালশন (Emulsion) জাতীয় কলয়েডও বলা হয়। দুধ ছাড়া রক্ত ও কুয়াশাও কলয়েডের উদাহরণ।
মনে রাখুন:
কলয়েডের উদাহরণ: দুধ, কুয়াশা, মাখন, ধোঁয়া।
বিশুদ্ধ দ্রবণ স্বচ্ছ, আর কলয়েডে আলোর পথ দেখা যায় (টিন্ডাল ক্রিয়া)। - ১২৭. Choose the correct spelling:পোস্টমাস্টার জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) পোস্টম্যান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমাটোগ্রাফি
- ক. Chronotography
- খ. Chromathography
- গ. Chornationgraphy
- ঘ. Chromatography
উত্তর: ঘ. Chromatography
বানানটি হলো Chromatography। শব্দটি এসেছে গ্রিক chroma (রং) ও graphein (লেখা) থেকে। কারণ ১৯০৬ সালে রুশ বিজ্ঞানী মিখাইল সভেট (Tswett) উদ্ভিদের রঞ্জক পদার্থকে এই পদ্ধতিতে আলাদা করে রঙিন ব্যান্ড পেয়েছিলেন। ক্রোমাটোগ্রাফিতে মিশ্রণের উপাদানগুলো স্থির দশার ওপর দিয়ে চলার সময় আলাদা গতিতে এগোয়, ফলে আলাদা হয়ে যায়। কলাম ক্রোমাটোগ্রাফির আরও একটি রূপ হলো গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি, যাতে বাহক হিসেবে হিলিয়ামের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহৃত হয়। ফরেনসিক পরীক্ষাতেও এটি কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
ক্রোমাটোগ্রাফির প্রকারভেদ: কাগজ, স্তর, কলাম, গ্যাস ও তরল ক্রোমাটোগ্রাফি।
কালি বা পাতার রঞ্জক পৃথক করতে কাগজ ক্রোমাটোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়। - ১২৮. নিচের কোনটি আয়নিক যৌগ?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক বন্ধন
- ক. CH₄
- খ. CH₃Cl
- গ. NaCl
- ঘ. PCl₃
উত্তর: গ. NaCl
NaCl আয়নিক যৌগ। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ছেড়ে Na⁺ আয়ন হয় এবং ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন নিয়ে Cl⁻ আয়ন হয়। বিপরীত আধানের দুই আয়নের মধ্যে স্থির-বৈদ্যুতিক আকর্ষণে আয়নিক বন্ধন গড়ে ওঠে। CH₄, CH₃Cl ও PCl₃-এ পরমাণুগুলো ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে, তাই এগুলো সমযোজী যৌগ। সাধারণত ধাতু ও অধাতুর মধ্যে আয়নিক বন্ধন হয়।
মনে রাখুন:
আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি।
গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিক যৌগ বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
আরও মনে রাখুন: MgO, KBr ও CaCl₂-ও আয়নিক যৌগ। আয়নিক যৌগ সাধারণত পানিতে দ্রবণীয় এবং শক্ত ও ভঙ্গুর কেলাস গঠন করে। - ১২৯. ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে বলে-ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়নীকরণ শক্তি
- ক. তড়িৎ ঋণাত্মকতা
- খ. আয়নিক পটেনশিয়াল
- গ. আয়নিকরণ শক্তি
- ঘ. ইলেকট্রন আসক্তি
উত্তর: গ. আয়নিকরণ শক্তি
গ্যাসীয় অবস্থায় থাকা কোনো পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন সরিয়ে নিয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে ন্যূনতম শক্তি লাগে, তাকে আয়নীকরণ শক্তি (Ionization Energy) বলে। পরমাণুর আকার ছোট হলে নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনকে জোরে ধরে রাখে, ফলে আয়নীকরণ শক্তি বেশি হয়। অপরদিকে পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করলে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ইলেকট্রন আসক্তি (Electron Affinity) বলে। আয়নীকরণ শক্তির একক সাধারণত kJ/mol বা eV। প্রথম আয়নীকরণ শক্তির চেয়ে দ্বিতীয় আয়নীকরণ শক্তি সব সময় বেশি, কারণ ধনাত্মক আয়ন থেকে ইলেকট্রন সরানো কঠিনতর।
মনে রাখুন:
পর্যায় সারণির একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে আয়নীকরণ শক্তি বাড়ে।
একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচে গেলে কমে। - ১৩০. কোন মৌলটির আয়নীকরণ শক্তি বেশি?বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ ও BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়নীকরণ শক্তি
- ক. Li
- খ. B
- গ. C
- ঘ. Ne
উত্তর: ঘ. Ne
Li, B, C ও Ne, চারটিই দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌল। একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধান বাড়ে, অথচ ইলেকট্রন কক্ষ একই থাকে। ফলে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের দিকে আরও জোরে টান অনুভব করে এবং আয়নীকরণ শক্তি বাড়ে। এই চারটির মধ্যে নিয়ন (Ne) সবচেয়ে ডানে, তাই এর আয়নীকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। এর বাইরের কক্ষ পূর্ণ, ফলে স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস ভাঙা বেশ কঠিন। তাই একই পর্যায়ে নিয়নের আয়নীকরণ শক্তি সর্বোচ্চ।
মনে রাখুন: সব মৌলের মধ্যে হিলিয়ামের আয়নীকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি, আর ক্ষার ধাতুর সবচেয়ে কম। - ১৩১. নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (দাজলা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন
- ক. বরফ গলে পানি হওয়া
- খ. চিনি পানিতে দ্রবীভূত হওয়া
- গ. তাপ দ্বারা মোম গলানো
- ঘ. লোহায় মরিচা ধরা
উত্তর: ঘ. লোহায় মরিচা ধরা
লোহায় মরিচা ধরলে লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার সঙ্গে বিক্রিয়া করে আয়রন অক্সাইড (Fe₂O₃·xH₂O) নামের নতুন পদার্থ তৈরি করে। নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় বলে এটি রাসায়নিক পরিবর্তন। বরফ গলা, চিনি পানিতে মেশা ও মোম গলানোয় পদার্থের শুধু অবস্থা বা আকার বদলায়, নতুন কোনো পদার্থ হয় না, তাই এগুলো ভৌত পরিবর্তন। লোহার মরিচা রোধের জন্য রং করা, দস্তা বা জিংকের প্রলেপ দেওয়া (গ্যালভানাইজেশন) বা তেল মাখানোর মতো উপায় ব্যবহার করা হয়, যাতে লোহা আর্দ্র বাতাসের সংস্পর্শে না আসে।
মনে রাখুন:
ভৌত পরিবর্তন সাধারণত ফিরিয়ে আনা যায়।
রাসায়নিক পরিবর্তনে নতুন ধর্মের নতুন পদার্থ তৈরি হয়। - ১৩২. নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?BPSC'র হোম ইকোনোমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন
- ক. গলন
- খ. বাষ্পীভবন
- গ. প্রস্বেদন
- ঘ. সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর: ঘ. সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন তৈরি করে। এখানে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়, তাই এটি রাসায়নিক পরিবর্তন। বিক্রিয়াটি হলো 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂। গলন, বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনে পদার্থ কেবল এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় যায়, রাসায়নিক গঠন বদলায় না, তাই এগুলো ভৌত পরিবর্তন। সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিল আলোকশক্তি শোষণ করে, তাই পাতা সবুজ। এই বিক্রিয়া শক্তি-শোষী এবং বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেনের প্রধান উৎস। আরও রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ হলো খাদ্য পচা ও কাগজ পোড়ানো।
মনে রাখুন: প্রস্বেদন (Sublimation) হলো কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প হওয়া, যেমন কর্পূর ও ন্যাপথলিন। - ১৩৩. নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন নয়?হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন
- ক. দুধকে ছানায় পরিণত করা
- খ. লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা
- গ. লোহায় মরিচা ধরা
- ঘ. দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো
উত্তর: খ. লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা
লোহাকে চুম্বকে পরিণত করলে লোহার ভেতরের চৌম্বক ডোমেইনগুলো একই দিকে সাজানো হয়, কিন্তু লোহা তখনও লোহাই থাকে, নতুন কোনো পদার্থ তৈরি হয় না। তাই এটি ভৌত পরিবর্তন। অন্যদিকে দুধ থেকে ছানা হলে দুধের প্রোটিন জমাট বেঁধে নতুন গঠনে যায়, মরিচা ধরলে আয়রন অক্সাইড তৈরি হয়, আর দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালালে দহন হয়। তিনটিই রাসায়নিক পরিবর্তন।
মনে রাখুন:
ভৌত পরিবর্তনে পদার্থের রাসায়নিক সংযুক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
দহন সব সময় রাসায়নিক পরিবর্তন।
আরও মনে রাখুন: কাগজ ছিঁড়ে ফেলা, পানি জমে বরফ হওয়া এবং কাচ ভাঙা ভৌত পরিবর্তন। আর ফল পাকা ও খাবার হজম রাসায়নিক পরিবর্তন। - ১৩৪. কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন নয়?রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (টাগর), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন
- ক. লোহাতে মরিচা পড়া
- খ. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানি তৈরি করা
- গ. বরফকে পানিতে পরিণত করা
- ঘ. চাল সিদ্ধ করে ভাতে পরিণত করা
উত্তর: গ. বরফকে পানিতে পরিণত করা
বরফ গলে পানি হলে পদার্থের অবস্থা কঠিন থেকে তরলে যায়, কিন্তু উভয় অবস্থায় সেটি H₂O-ই থাকে। নতুন পদার্থ তৈরি হয় না এবং পানি জমালে আবার বরফ পাওয়া যায়। তাই এটি ভৌত পরিবর্তন। মরিচা পড়া, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে পানি তৈরি হওয়া এবং চাল সিদ্ধ হয়ে ভাত হওয়ায় নতুন ধর্মের পদার্থ হয়, তাই এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তন। ভৌত পরিবর্তনে পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম অপরিবর্তিত থাকে।
মনে রাখুন: ভাত রান্নায় চালের শ্বেতসার পানিতে ফুলে ও ভেঙে নতুন গঠন পায়, ফলে আর আগের চাল ফিরিয়ে আনা যায় না। - ১৩৫. পেট্রোল দ্বারা গাড়ি চলা কোন ধরনের পরিবর্তন?ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ফিল্ড অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন
- ক. রাসায়নিক পরিবর্তন
- খ. ভৌত পরিবর্তন
- গ. ক ও খ
- ঘ. কোনোটাই নয়
উত্তর: ক. রাসায়নিক পরিবর্তন
গাড়ির ইঞ্জিনে পেট্রোল বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে পুড়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও তাপশক্তি তৈরি করে। এই দহন বিক্রিয়ায় নতুন পদার্থ তৈরি হয়, তাই এটি রাসায়নিক পরিবর্তন। এই তাপশক্তি ইঞ্জিনের পিস্টন নাড়িয়ে গাড়ি চালায়। পেট্রোল ও ডিজেলের দহনের ফলে কার্বন মনোক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসও বের হয়, যা বায়ুদূষণ ঘটায়। পেট্রোল পুড়ে অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয় বলে একে জারণ বিক্রিয়াও বলা যায়। আবার পেট্রোলের বাষ্পীভবন, অর্থাৎ বাষ্প হয়ে যাওয়া, একটি ভৌত পরিবর্তন।
মনে রাখুন:
দহন একটি তাপ-উৎপাদী (Exothermic) বিক্রিয়া।
পেট্রোলের প্রধান উপাদান অক্টেন (C₈H₁₈)। - ১৩৬. নিম্নের কোনটির মান সর্বদা ঋণাত্মক?BPSC জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ রসায়ন
- ক. দহন তাপ
- খ. বিক্রিয়া তাপ
- গ. সংঘটন তাপ
- ঘ. দ্রবণ তাপ
উত্তর: ক. দহন তাপ
দহন তাপ (Heat of Combustion) হলো কোনো পদার্থের ১ মোল পদার্থ অক্সিজেনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেলে যে তাপ নির্গত হয়। দহন সব সময় তাপ ছাড়ে, তাই এর মান সর্বদা ঋণাত্মক হয়। বিক্রিয়া তাপ, সংঘটন তাপ ও দ্রবণ তাপ ধনাত্মকও হতে পারে। যেমন অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার সময় তাপ শোষণ করে, তাই দ্রবণ তাপ ধনাত্মক। বিক্রিয়া তাপের নাম বিক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী বদলায়, যেমন দহন তাপ, সংঘটন তাপ ও প্রশমন তাপ। এসিড ও ক্ষারের প্রশমনে তাপ নির্গত হয়, তাই প্রশমন তাপও ঋণাত্মক হয়।
মনে রাখুন:
তাপ ছাড়লে বিক্রিয়া তাপ-উৎপাদী এবং ΔH ঋণাত্মক।
তাপ শোষণ করলে বিক্রিয়া তাপ-শোষী এবং ΔH ধনাত্মক। - ১৩৭. কোনটিতে জারণ বিজারণ হয় নি?স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক, ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. Mg + Cu⁺⁺ → Mg⁺⁺ + Cu
- খ. C + O₂ → CO₂
- গ. Ca⁺⁺ + CO₃⁻⁻ → Ca⁺⁺CO₃⁻⁻
- ঘ. Fe + 2H⁺ → Fe⁺⁺ + H₂
উত্তর: গ. Ca⁺⁺ + CO₃⁻⁻ → Ca⁺⁺CO₃⁻⁻
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণুর জারণ সংখ্যা বদলায়। Ca²⁺ + CO₃²⁻ → CaCO₃ বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম ও কার্বনেটের জারণ সংখ্যা আগে-পরে একই থাকে, কেবল আয়নের মিলনে অধঃক্ষেপ তৈরি হয়। তাই এতে জারণ-বিজারণ ঘটে না। অন্য তিনটিতে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান হয়েছে। যেমন Mg + Cu²⁺ → Mg²⁺ + Cu বিক্রিয়ায় Mg জারিত হয়ে 0 থেকে +2 হয়, আর Cu²⁺ বিজারিত হয়ে +2 থেকে 0 হয়। আরও একটি উদাহরণ: HCl এবং NaOH মিশলে NaCl ও পানি তৈরি হয়। এটি প্রশমন বিক্রিয়া এবং এতেও জারণ সংখ্যা বদলায় না, তাই এটিও জারণ-বিজারণ নয়।
মনে রাখুন: যে বিক্রিয়ায় জারণ সংখ্যা বদলায় না, সেটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া নয়। - ১৩৮. H₂SO₄ এর S এর জারণ সংখ্যা কত?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২২ ও কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. 6
- খ. +6
- গ. -6
- ঘ. +4
উত্তর: খ. +6
H₂SO₄ একটি নিরপেক্ষ অণু, তাই সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল শূন্য। হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1 এবং অক্সিজেনের −2। ধরা যাক সালফারের জারণ সংখ্যা x, তাহলে 2(+1) + x + 4(−2) = 0, অর্থাৎ 2 + x − 8 = 0, ফলে x = +6। জারণ সংখ্যা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে, তাই চিহ্নসহ +6 লেখাই সঠিক। এই একই পদ্ধতিতে SO₂ তে সালফারের জারণ সংখ্যা +4 এবং H₂S এ −2। মৌলিক অবস্থায় যেকোনো মৌলের জারণ সংখ্যা 0।
মনে রাখুন: শিল্পে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে সালফিউরিক এসিডকে রাসায়নিকের রাজা (King of chemicals) বলা হয়। - ১৩৯. নিচের কোনটিতে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা বেশি?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. KCl
- খ. KClO
- গ. KClO₂
- ঘ. KClO₃
উত্তর: ঘ. KClO₃
প্রতিটি যৌগে পটাশিয়ামের জারণ সংখ্যা +1 এবং অক্সিজেনের −2। যৌগ নিরপেক্ষ, তাই ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা বের করা যায়। KCl-এ Cl = −1। KClO-তে Cl = +1। KClO₂-তে Cl = +3। KClO₃-তে 1 + x + 3(−2) = 0, অর্থাৎ x = +5। অতএব KClO₃-তে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জারণ সংখ্যা বাড়লে জারণ এবং কমলে বিজারণ ঘটে। যে পদার্থ নিজে বিজারিত হয়ে অন্যকে জারিত করে তাকে জারক বলে। KClO₃ শক্তিশালী জারক, তাই আতশবাজি ও দিয়াশলাইয়ে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা −1 থেকে +7 পর্যন্ত হতে পারে।
KClO₄-এ ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা +7। - ১৪০. কোন আয়নে +3 জারণ সংখ্যার পরমাণু আছে?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২২-২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. ClO₂⁻
- খ. PO₄⁻³
- গ. S₂O₃⁻²
- ঘ. NO₂
উত্তর: ক. ClO₂⁻
ClO₂⁻ আয়নে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা −2, আর আয়নের মোট আধান −1। ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা x ধরলে x + 2(−2) = −1, অর্থাৎ x = +3। অন্য আয়নগুলো দেখা যাক। PO₄³⁻-এ ফসফরাস +5, S₂O₃²⁻-এ সালফার +2, NO₂-এ নাইট্রোজেন +4। তাই শুধু ClO₂⁻ আয়নেই +3 জারণ সংখ্যার পরমাণু আছে। জারণ সংখ্যা ভগ্নাংশ হতে পারে। যেমন S₂O₃²⁻ এ সালফারের গড় জারণ সংখ্যা +2। এছাড়া সবচেয়ে বেশি জারণ সংখ্যা ধরে রাখা মৌল জারক হিসেবে কাজ করে।
মনে রাখুন: আয়নে সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল আয়নের আধানের সমান। - ১৪১. পদার্থের ৪র্থ অবস্থাকে বলা হয়-বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. ফোটন
- খ. প্লাজমা
- গ. অণু
- ঘ. পরমাণু
উত্তর: খ. প্লাজমা
আমরা সাধারণত কঠিন, তরল ও গ্যাস, এই তিনটি অবস্থার কথাই জানি। কিন্তু এর বাইরেও পদার্থের একটি চতুর্থ অবস্থা আছে, যার নাম প্লাজমা (Plasma)। গ্যাসকে প্রচণ্ড উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পরমাণুগুলো থেকে ইলেকট্রন খুলে বেরিয়ে আসে। তখন মুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক আয়নের একটি তড়িৎবাহী মিশ্রণ তৈরি হয়, এটাই প্লাজমা। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র মূলত প্লাজমা দিয়ে গঠিত। আমাদের চেনা জিনিসের মধ্যে টিউবলাইটের ভেতরের জ্বলন্ত গ্যাস এবং আকাশের বিদ্যুৎ চমকানোতেও প্লাজমা দেখা যায়। ফোটন আলোর কণা, আর অণু ও পরমাণু পদার্থের গঠন-একক, তারা পদার্থের অবস্থা নয়।
মনে রাখুন:
পদার্থের পঞ্চম অবস্থার নাম বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট।
মহাবিশ্বের দৃশ্যমান পদার্থের বেশির ভাগই প্লাজমা অবস্থায় আছে। - ১৪২. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কী কী থাকে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. প্রোটন ও নিউট্রন
- খ. ইলেকট্রন ও নিউট্রন
- গ. নিউট্রন ও পজিট্রন
- ঘ. ইলেকট্রন ও পজিট্রন
উত্তর: ক. প্রোটন ও নিউট্রন
পরমাণু অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা, আর এর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস (Nucleus)। নিউক্লিয়াস গঠিত হয় প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে। প্রোটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, আর নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই, অর্থাৎ এটি চার্জনিরপেক্ষ। ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে না, বরং এর চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে। পজিট্রন ইলেকট্রনের প্রতিকণা, এটি স্বাভাবিক পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না। তাই ইলেকট্রন বা পজিট্রন আছে এমন বিকল্পগুলো ঠিক নয়।
মনে রাখুন:
১৯১১ সালে রাদারফোর্ড পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
পারমাণবিক সংখ্যা বলতে বোঝায় নিউক্লিয়াসের প্রোটনের সংখ্যা। - ১৪৩. ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখায় কোন মৌলিক?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রন বিন্যাস
- ক. Zn
- খ. Cr
- গ. Fe
- ঘ. Ca
উত্তর: খ. Cr
পরমাণুর ইলেকট্রন সাধারণত কম শক্তির উপস্তরে আগে বসে। এই নিয়মে স্ক্যান্ডিয়াম থেকে দস্তা পর্যন্ত ৪s উপস্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকার কথা। কিন্তু ক্রোমিয়াম (Cr, পারমাণবিক সংখ্যা ২৪) এর ব্যতিক্রম। নিয়ম মানলে এর বিন্যাস 3d⁴ 4s² হতো, কিন্তু আসলে পাওয়া যায় 3d⁵ 4s¹। এর কারণ হলো d উপস্তর অর্ধপূর্ণ (d⁵) বা পূর্ণ (d¹⁰) হলে পরমাণু বেশি স্থিতিশীল হয়। তাই একটি ইলেকট্রন 4s থেকে 3d-তে চলে যায়। Zn (3d¹⁰ 4s²), Fe (3d⁶ 4s²) ও Ca (4s²) নিয়ম মেনে চলে।
মনে রাখুন:
তামা (Cu, ২৯)-ও ব্যতিক্রম: 3d¹⁰ 4s¹।
d উপস্তরে সর্বোচ্চ ১০টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। - ১৪৪. জারণ প্রক্রিয়ায় যা ঘটে—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. মৌল ইলেকট্রন গ্রহণ করে
- খ. মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে
- গ. মৌল প্রোটন গ্রহণ করে
- ঘ. মৌল নিউট্রন দান করে
উত্তর: খ. মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে
রসায়নে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) সব সময় একসঙ্গে ঘটে। জারণ প্রক্রিয়ায় কোনো পরমাণু, মৌল বা আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে, ফলে তার জারণ সংখ্যা বাড়ে। যেমন Na → Na⁺ + e⁻ বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। বিপরীত প্রক্রিয়ায়, অর্থাৎ ইলেকট্রন গ্রহণ করলে সেটি বিজারণ, যেমন Cl + e⁻ → Cl⁻। প্রোটন বা নিউট্রন দান-গ্রহণ জারণ-বিজারণের সংজ্ঞায় আসে না, কারণ বিক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস অপরিবর্তিত থাকে।
মনে রাখুন:
মনে রাখার সহজ উপায়: OIL RIG, অর্থাৎ Oxidation Is Loss, Reduction Is Gain।
লোহায় মরিচা পড়া জারণের একটি পরিচিত উদাহরণ। - ১৪৫. নিচের কোনটি ক্লোরিন এর জারণ সংখ্যা বেশি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ সংখ্যা
- ক. KCl
- খ. KClO
- গ. KClO₂
- ঘ. KClO₃
উত্তর: ঘ. KClO₃
জারণ সংখ্যা হলো কোনো যৌগে একটি পরমাণুর আপাত চার্জ। যৌগে ধাতুর জারণ সংখ্যা জানা থাকলে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা ধরে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা বের করা যায়। পটাশিয়ামের জারণ সংখ্যা +1 এবং অক্সিজেনের −2। KCl-এ: +1 + x = 0, তাই Cl = −1। KClO-তে: +1 + x − 2 = 0, তাই Cl = +1। KClO₂-তে: +1 + x − 4 = 0, তাই Cl = +3। KClO₃-তে: +1 + x − 6 = 0, তাই Cl = +5। সুতরাং KClO₃-তে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
মনে রাখুন:
KClO₄-তে ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা +7, যা ক্লোরিনের সর্বোচ্চ।
যৌগে সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল শূন্য। - ১৪৬. কোন যৌগটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধন গঠন করে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হাইড্রোজেন বন্ধন
- ক. ইথানল
- খ. ইথার
- গ. পানি
- ঘ. বিউটেন
উত্তর: গ. পানি
হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond) গঠিত হয় তখন, যখন হাইড্রোজেন পরমাণু ফ্লোরিন, অক্সিজেন বা নাইট্রোজেনের মতো তীব্র তড়িৎ-ঋণাত্মক পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং পাশের অণুর এমন একটি পরমাণুকে আকর্ষণ করে। পানির অণুতে দুটি হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের দুটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় আছে। তাই প্রতিটি পানির অণু চারদিকের অণুর সঙ্গে হাইড্রোজেন বন্ধন গড়ে ঘন জালের মতো কাঠামো তৈরি করতে পারে। এ কারণে পানির বন্ধন সবচেয়ে শক্তিশালী। ইথানলেও হাইড্রোজেন বন্ধন আছে, তবে মাত্র একটি –OH থাকায় তা কম। ইথার ও বিউটেনে এমন বন্ধন গড়ে ওঠে না।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেন বন্ধনের কারণে ছোট অণু হয়েও পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
হাইড্রোজেন বন্ধনের শক্তির ক্রম: H···F > H···O > H···N। - ১৪৭. নিচের কোন পদার্থ প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. পারদ
- খ. কর্পূর
- গ. পানি
- ঘ. লবণ
উত্তর: গ. পানি
প্রকৃতিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে পানি কঠিন (বরফ), তরল (পানি) ও বায়বীয় (জলীয় বাষ্প) এই তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়। যেমন মেরু অঞ্চলে বরফ, সাগরের তরল পানি ও বাতাসে জলীয় বাষ্প একসঙ্গে দেখা যায়। পারদ কক্ষ তাপমাত্রায় তরল, কর্পূর সহজেই কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প হয়ে যায় (ঊর্ধ্বপাতন) এবং লবণ সাধারণ অবস্থায় কেবল কঠিন, বলা যায় প্রকৃতিতে এদের কোনোটি তিন অবস্থায় পাওয়া যায় না।
মনে রাখুন:
বরফ গলে পানি হয়, পানি ফুটে বাষ্প হয়।
পানির ঘনত্ব 4°C তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি, তাই বরফ পানির উপর ভাসে। - ১৪৮. দুধ হচ্ছে—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিশ্রণ ও কলয়েড
- ক. জেল
- খ. ইমালশন
- গ. দ্রবণ
- ঘ. সাসপেনশন
উত্তর: খ. ইমালশন
দুটি অমিশ্রণীয় তরলের একটি অন্যটির ভেতর অতি ক্ষুদ্র ফোঁটার আকারে ছড়িয়ে থাকলে তাকে ইমালশন (Emulsion) বলে, যেমন তেল ও পানি। দুধে পানির মধ্যে অতি ক্ষুদ্র ফ্যাটের বিন্দু ছড়ানো থাকে, তাই দুধ একটি প্রাকৃতিক ইমালশন। ফ্যাট যে সহজে আলাদা হয় না, তার কারণ দুধের প্রোটিন কেইসিন ফ্যাটকে ঘিরে ধরে স্থায়ী রাখে। অর্থাৎ দুধ প্রকৃত দ্রবণ নয়, কারণ এর কণাগুলো দ্রবণের কণার চেয়ে বড়।
মনে রাখুন:
দুধ একটি কলয়েড।
দুধ থেকে মাখন তৈরি করার সময় ফ্যাট আলাদা হয়।
দুধের প্রধান শর্করা ল্যাকটোজ। - ১৪৯. কোনটিকে মিশ্র পদার্থ বলা হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিশ্রণ
- ক. লবণ
- খ. পানি
- গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- ঘ. বায়ু
উত্তর: ঘ. বায়ু
যে পদার্থ দুই বা ততোধিক উপাদান নিয়ে গঠিত এবং উপাদানগুলো নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে যেকোনো অনুপাতে মেশানো যায়, তাকে মিশ্র পদার্থ (Mixture) বলে। বায়ু এমনই একটি মিশ্রণ, যাতে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস পাশাপাশি আছে। এদের প্রত্যেককে ভৌত উপায়ে আলাদা করা যায়। লবণ একটি যৌগ, পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইডও যৌগ, কারণ এদের উপাদানগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত থাকে। পদার্থের শ্রেণিবিন্যাসে মিশ্র পদার্থ দুই রকমের হয়: সমসত্ত্ব (যেমন বায়ু, লবণের দ্রবণ) এবং অসমসত্ত্ব (যেমন বালু ও পানির মিশ্রণ)।
মনে রাখুন:
মিশ্রণের উদাহরণ: বায়ু, দুধ, সমুদ্রের পানি, মাটি।
বিশুদ্ধ পদার্থ দুই ধরনের: মৌল ও যৌগ। - ১৫০. নিচের কোনটি মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ বিশ্লেষ্য
- ক. NaCl
- খ. H₂O
- গ. CuSO₄
- ঘ. H₂SO₄
উত্তর: খ. H₂O
যেসব পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নে ভেঙে তড়িৎ পরিবহণ করে, তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte) বলে। যে পদার্থ প্রায় সম্পূর্ণ আয়নিত হয়, সেটি তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য, আর যার অল্প অংশ আয়নিত হয়, তাকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO₄) এবং সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) পানিতে প্রায় পুরোপুরি আয়নিত হয়, তাই এরা তীব্র। কিন্তু বিশুদ্ধ পানি (H₂O) খুব সামান্যই H⁺ ও OH⁻ আয়নে ভাঙে, ফলে এটি মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য।
মনে রাখুন:
অন্যান্য মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: ইথানয়িক এসিড (CH₃COOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড (NH₄OH)।
চিনির দ্রবণ তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। - ১৫১. H₂SO₄-এ সালফারের জারণ সংখ্যা কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ সংখ্যা
- ক. +2
- খ. +4
- গ. +6
- ঘ. 0
উত্তর: গ. +6
কোনো যৌগে একটি পরমাণুর জারণ সংখ্যা বের করতে হলে মনে রাখতে হয় যে, যৌগ নিরপেক্ষ, তাই সব পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল শূন্য হয়। H₂SO₄-এ হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1 এবং অক্সিজেনের −2। ধরা যাক সালফারের জারণ সংখ্যা x।
2(+1) + x + 4(−2) = 0
2 + x − 8 = 0
x = +6
অতএব সালফারের জারণ সংখ্যা +6। সালফারের এই +6 অবস্থা তার সর্বোচ্চ জারণ অবস্থা, কারণ সালফারের বাইরের কক্ষপথে ৬টি ইলেকট্রন আছে। তাই H₂SO₄-এর সালফার আর ইলেকট্রন হারাতে পারে না, ফলে এটি শক্তিশালী জারক (Oxidising agent) হিসেবে কাজ করে।
মনে রাখুন:
সাধারণত অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা −2, হাইড্রোজেনের +1।
পারঅক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা −1।
মৌলিক অবস্থায় যেকোনো পরমাণুর জারণ সংখ্যা 0। - ১৫২. কোন গ্যাসের ব্যাপন হার বেশি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাপন
- ক. N₂
- খ. O₂
- গ. CO₂
- ঘ. H₂
উত্তর: ঘ. H₂
গ্যাসের অণুগুলো নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়ে মিশে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যাপন (Diffusion) বলে। গ্রাহামের সূত্র অনুযায়ী একই তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের ব্যাপনের হার তার আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ যে গ্যাসের অণু যত হালকা, সে তত দ্রুত ছড়ায়। এখানে আণবিক ভর N₂ = 28, O₂ = 32, CO₂ = 44 এবং H₂ = 2। যেহেতু হাইড্রোজেনের আণবিক ভর সবচেয়ে কম, তাই তার ব্যাপনের হার সবচেয়ে বেশি। হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস।
মনে রাখুন:
গ্রাহামের সূত্র: r ∝ 1/√M।
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম খুব দ্রুত ব্যাপিত হয়। - ১৫৩. নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌল ও যৌগ
- ক. ডায়মন্ড
- খ. সাদা ফসফরাস
- গ. রম্বিক সালফার
- ঘ. ফসফিন
উত্তর: ঘ. ফসফিন
যে পদার্থকে ভাঙলে একই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো সরল পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ (Element) বলে। ডায়মন্ড বা হীরা শুধু কার্বন পরমাণু দিয়ে তৈরি, সাদা ফসফরাস শুধু ফসফরাস পরমাণু দিয়ে তৈরি, আর রম্বিক সালফার শুধু সালফার পরমাণু দিয়ে তৈরি। এগুলো কোনো না কোনো মৌলের রূপ, তাই মৌলিক পদার্থ। ফসফিনের (PH₃) অণুতে ফসফরাস ও হাইড্রোজেন দুই ধরনের পরমাণু আছে, ফলে এটি যৌগ।
মনে রাখুন:
কার্বনের রূপভেদ (বহুরূপতা): হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিন।
সালফারের রূপ: রম্বিক ও মনোক্লিনিক।
ফসফরাসের রূপ: সাদা ও লাল। - ১৫৪. 'Cheese' is an example of–ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কলয়েড
- ক. Molecular dispersion
- খ. Colloidal dispersion
- গ. Coarse dispersion
- ঘ. None of the above
উত্তর: খ. Colloidal dispersion
কোনো পদার্থের কণা অন্য মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকলে তাকে বিস্তার (Dispersion) বলে। কণার আকার অনুযায়ী এর তিন ভাগ: আণবিক, কলয়েডীয় ও স্থূল। আণবিক বিস্তারে কণা অণুর মাপের, যেমন চিনির দ্রবণ। কলয়েডীয় বিস্তারে কণা বেশ বড়, কিন্তু খালি চোখে ধরা পড়ে না, যেমন দুধ বা জেলি। চিজ দুধ থেকে তৈরি আধা-কঠিন বস্তু, এতে তরল ও চর্বি কঠিন জালকের মধ্যে ছড়ানো থাকে, তাই এটি কলয়েডীয় বিস্তারের উদাহরণ।
মনে রাখুন:
দুধ একটি ইমালশন, কণার মাপ প্রায় 1 nm থেকে 1000 nm হলে তা কলয়েড।
স্থূল বিস্তারে কণা খালি চোখে দেখা যায়, যেমন বালিমিশ্রিত পানি। - ১৫৫. দুধ একটি–স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কলয়েড ও দ্রবণ
- ক. Solution
- খ. Emulsion
- গ. Suspension
- ঘ. ক, খ ও গ
উত্তর: খ. Emulsion
দুই বা ততোধিক পরস্পর অমিশ্রণীয় তরল মিশিয়ে একটি তরলের ক্ষুদ্র ফোঁটা অন্য তরলে ছড়িয়ে দিলে যা পাওয়া যায়, তাকে ইমালশন (Emulsion) বলে। দুধে পানির ভেতর অতি ক্ষুদ্র চর্বির ফোঁটা ছড়িয়ে থাকে, তাই দুধ প্রাকৃতিক ইমালশন। এজন্য দুধ ফেলে রাখলে ওপরে ননী জমে। দ্রবণে দ্রাব সম্পূর্ণ মিশে যায়, আর সাসপেনশনে কণা বড় হয়ে নিচে থিতিয়ে পড়ে। দুধ এ দুটির কোনোটি নয়।
মনে রাখুন:
পানিতে তেলের ইমালশন (O/W): দুধ। তেলে পানির ইমালশন (W/O): মাখন।
ইমালশন স্থিতিশীল রাখতে ইমালসিফায়ার লাগে, যেমন ডিমের কুসুমের লেসিথিন। - ১৫৬. রাসায়নিক সাম্যাবস্থার উপর কোনটির প্রভাব কার্যকর নয়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সাম্য
- ক. তাপমাত্রা
- খ. চাপ
- গ. ঘনমাত্রা
- ঘ. প্রভাবক
উত্তর: ঘ. প্রভাবক
রাসায়নিক সাম্যাবস্থা (Chemical equilibrium) হলো সেই অবস্থা, যখন সম্মুখ ও বিপরীত বিক্রিয়ার হার সমান হয়ে যায়। লা-শাতেলিয়ের নীতি অনুযায়ী তাপমাত্রা, চাপ ও ঘনমাত্রা বদলালে সাম্যাবস্থা সরে যায়। কিন্তু প্রভাবক (Catalyst) সম্মুখ ও বিপরীত দুই বিক্রিয়ার হারকে একই অনুপাতে বাড়ায়। ফলে সাম্যাবস্থার অবস্থান বদলায় না, শুধু সাম্যাবস্থায় পৌঁছাতে সময় কম লাগে। প্রভাবক ছাড়া কোনো বিক্রিয়া ধীরে সাম্যে পৌঁছালেও শেষ সাম্যাবস্থা একই থাকে, কারণ প্রভাবক বিক্রিয়ার ফল বদলায় না, শুধু পথ সহজ করে। এ জন্য শিল্পে প্রভাবক ব্যবহার করে সময় ও খরচ কমানো হয়।
মনে রাখুন:
প্রভাবক বিক্রিয়ার সক্রিয়ন শক্তি কমায়।
তাপ বাড়ালে তাপগ্রাহী বিক্রিয়ার দিকে সাম্য সরে।
হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনে লোহা প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - ১৫৭. কোন বিক্রিয়ার হার বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে না?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিক্রিয়ার হার
- ক. শূন্য ক্রম
- খ. প্রথম ক্রম
- গ. দ্বিতীয় ক্রম
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. শূন্য ক্রম
রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার (Rate of Reaction) সাধারণত বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু শূন্য ক্রমের (Zero Order) বিক্রিয়ায় বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বাড়ালে বা কমালেও হারের কোনো পরিবর্তন হয় না। এখানে হার সমীকরণ হলো হার = k, অর্থাৎ হার শুধু ধ্রুবকের সমান। প্রথম ক্রমের বিক্রিয়ায় হার ঘনমাত্রার প্রথম ঘাতের সমানুপাতিক, আর দ্বিতীয় ক্রমে দ্বিতীয় ঘাতের সমানুপাতিক। এজন্য শূন্য ক্রমের বিক্রিয়ার লেখচিত্রে বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা সময়ের সঙ্গে সরলরেখায় কমে। এ ধরনের বিক্রিয়ায় অর্ধায়ুও প্রাথমিক ঘনমাত্রার ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখুন:
প্রথম ক্রমের হার = k[A]।
দ্বিতীয় ক্রমের হার = k[A]²।
শূন্য ক্রমের উদাহরণ: প্ল্যাটিনাম পৃষ্ঠে অ্যামোনিয়ার বিয়োজন, কিছু এনজাইম-নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া। - ১৫৮. যদি একটি গ্লাসে ৩৬ গ্রাম পানি থাকে তাহলে ঐ গ্লাসে কয়টি পানির অণু আছে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোল ধারণা
- ক. 1×6.023×10²³
- খ. 2×6.023×10²³
- গ. 3×6.023×10²³
- ঘ. 4×6.023×10²³
উত্তর: খ. 2×6.023×10²³
মোল (Mole) ধারণা অনুযায়ী যেকোনো পদার্থের এক মোলে ৬.০২৩×10²³টি কণা থাকে। একে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা বলে। পানির (H₂O) আণবিক ভর = ২×১ + ১৬ = ১৮। তাই ১৮ গ্রাম পানি হলো এক মোল।
এখন ৩৬ গ্রাম পানির মোল সংখ্যা = 36/18 = 2 মোল।
অণুর সংখ্যা = 2 × 6.023×10²³
শর্টকাট: প্রদত্ত ভরকে আণবিক ভর দিয়ে ভাগ করলেই মোল সংখ্যা পাওয়া যায়। সেই সংখ্যাকে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে অণুর সংখ্যা মেলে।
মনে রাখুন: STP-তে যেকোনো গ্যাসের এক মোলের আয়তন ২২.৪ লিটার। - ১৫৯. নিচের কোনটিতে নাইট্রোজেনের জারণ ঘটে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. N₂→2NH₃
- খ. N₂O₄→2NO₂
- গ. 2NO₃⁻→N₂O₅
- ঘ. NO₂⁻→NO₃⁻
উত্তর: ঘ. NO₂⁻→NO₃⁻
জারণ (Oxidation) বলতে ইলেকট্রন ত্যাগ বোঝায়, ফলে জারণ সংখ্যা বাড়ে। NO₂⁻ আয়নে নাইট্রোজেনের জারণ সংখ্যা +3, আর NO₃⁻ আয়নে +5। অর্থাৎ বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেন দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করেছে, তাই এখানে নাইট্রোজেনের জারণ ঘটেছে। অন্য বিক্রিয়াগুলো দেখা যাক। N₂→2NH₃-এ জারণ সংখ্যা 0 থেকে −3 হয়েছে, এটি বিজারণ। N₂O₄→2NO₂-এ +4 থেকে +4 থাকে, কোনো পরিবর্তন নেই। NO₃⁻ থেকে N₂O₅-তেও +5 অপরিবর্তিত থাকে। মনে রাখার সহজ উপায় হলো, জারণ সংখ্যা যেদিকে বাড়ে সেটিই জারণ, আর যেদিকে কমে সেটিই বিজারণ। এই নিয়ম দিয়ে যেকোনো রেডক্স বিক্রিয়া সহজে বোঝা যায়।
মনে রাখুন:
জারণ: ইলেকট্রন ত্যাগ, জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি।
বিজারণ: ইলেকট্রন গ্রহণ, জারণ সংখ্যা হ্রাস। - ১৬০. নিচের কোনটির প্রথম আয়নিকরণ শক্তি কম?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পর্যায় সারণি
- ক. B
- খ. C
- গ. Al
- ঘ. Si
উত্তর: গ. Al
কোনো গ্যাসীয় পরমাণু থেকে সবচেয়ে দুর্বলভাবে আটকে থাকা ইলেকট্রনটি বের করতে যে শক্তি লাগে, তাকে প্রথম আয়নিকরণ শক্তি (Ionization Energy) বলে। পর্যায় সারণিতে একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে সাধারণত এটি বাড়ে, আর একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচে নামলে এটি কমে। B ও C দ্বিতীয় পর্যায়ের, তাই এদের আয়নিকরণ শক্তি বেশি। Al ও Si তৃতীয় পর্যায়ের এবং বড় আকারের। এদের মধ্যে Al-এর পারমাণবিক সংখ্যা কম, ফলে এর ইলেকট্রন সবচেয়ে সহজে বের হয়। তাই Al-এর আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন: আয়নিকরণ শক্তির মান (kJ/mol) B প্রায় ৮০১, C প্রায় ১০৮৬, Al প্রায় ৫৭৮ এবং Si প্রায় ৭৮৬। - ১৬১. একটি সোডিয়াম পরমাণুর ভর কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোল ধারণা
- ক. 3.82×10⁻²³g
- খ. 4.82×10⁻²³g
- গ. 5.82×10⁻²³g
- ঘ. 6.82×10⁻²³g
উত্তর: ক. 3.82×10⁻²³g
এক মোল সোডিয়ামের ভর ২৩ গ্রাম, এবং এতে ৬.০২৩×10²³টি পরমাণু থাকে। তাই একটি পরমাণুর ভর হলো মোলার ভরকে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া মান। অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান জানা থাকলে এভাবে যেকোনো মৌলের একটি পরমাণুর ভর সহজেই বের করা যায়। এই ভর এত ক্ষুদ্র যে কোনো সাধারণ নিক্তিতে মাপা সম্ভব নয়।
ভর = 23/(6.023×10²³) g
= 3.82×10⁻²³ g
শর্টকাট: একটি পরমাণুর ভর = পারমাণবিক ভর (গ্রামে) ÷ 6.023×10²³। এই সূত্র যেকোনো মৌলের একটি পরমাণুর ভরের জন্য খাটে।
মনে রাখুন: সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১, ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 1। এটি একটি ক্ষার ধাতু এবং কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখা হয়। - ১৬২. তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় কোন ক্যাটায়নটি প্রথমে চার্জমুক্ত হবে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ বিশ্লেষণ
- ক. Ag⁺
- খ. Fe²⁺
- গ. Na⁺
- ঘ. Ca²⁺
উত্তর: ক. Ag⁺
তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় একাধিক ক্যাটায়ন (ধনাত্মক আয়ন) থাকলে যে আয়ন ইলেকট্রন সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে, সেটিই প্রথমে ক্যাথোডে চার্জমুক্ত হয়। তড়িৎ রাসায়নিক সারিতে ধাতুগুলো সক্রিয়তার ক্রমে সাজানো থাকে। যে ধাতু কম সক্রিয়, তার আয়ন সারিতে নিচের দিকে থাকে এবং ইলেকট্রন গ্রহণ করে ধাতুতে পরিণত হতে বেশি আগ্রহী। প্রদত্ত ক্যাটায়নগুলোর মধ্যে সিলভার সবচেয়ে কম সক্রিয়, তাই Ag⁺ আগে চার্জমুক্ত হবে।
মনে রাখুন: সক্রিয়তা সারি (বেশি থেকে কম): Ca > Na > Fe > Ag। তাই আগে Ag⁺, তারপর Fe²⁺ চার্জমুক্ত হয়। Na⁺ ও Ca²⁺ জলীয় দ্রবণে সাধারণত চার্জমুক্ত হয় না, সেখানে H⁺ আগে ডিসচার্জ হয়। - ১৬৩. সঠিক সম্পর্ক কোনটি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সাম্য
- ক. pH = pKa + Log [HA]/[A⁻]
- খ. pKa = pH + Log [A⁻]/[HA]
- গ. Kp = Kc(RT)^Δn
- ঘ. Kc = Kp(RT)^Δn
উত্তর: গ. Kp = Kc(RT)^Δn
গ্যাসীয় বিক্রিয়ায় সাম্যাবস্থায় আংশিক চাপের ভিত্তিতে সাম্যধ্রুবক Kp এবং ঘনমাত্রার ভিত্তিতে সাম্যধ্রুবক Kc পাওয়া যায়। আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT থেকে দেখা যায়, গ্যাসের ঘনমাত্রা ও চাপ সমানুপাতিক। এই ধারণা থেকে দুটি ধ্রুবকের সম্পর্ক দাঁড়ায় Kp = Kc(RT)^Δn। এখানে Δn = উৎপাদের মোট মোল সংখ্যা − বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা। Δn = 0 হলে Kp = Kc হয়। হেন্ডারসন-হ্যাসেলবাখ সমীকরণের সঠিক রূপ pH = pKa + log [A⁻]/[HA], তাই প্রথম দুটি সমীকরণ ভুল।
মনে রাখুন: R-এর মান 0.0821 L·atm/(mol·K), আর T-কে কেলভিনে লিখতে হয়। - ১৬৪. SF₆-এর আকৃতি কেমন?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক আকৃতি
- ক. চতুস্তলকীয়
- খ. পিরামিডাল
- গ. দ্বি-পিরামিডাল
- ঘ. অষ্টতলকীয়
উত্তর: ঘ. অষ্টতলকীয়
SF₆ অণুতে কেন্দ্রীয় পরমাণু সালফারের একটি s, তিনটি p ও দুটি d অরবিটাল মিশে ছয়টি সমতুল্য sp³d² সংকর অরবিটাল গঠন করে। এই ছয়টি অরবিটাল ছয়টি ফ্লুরিন পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন গড়ে। ইলেকট্রন জোড়াগুলো পরস্পরকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে চায়, তাই অণুর আকৃতি হয় অষ্টতলকীয় (Octahedral)। এতে সব বন্ধন কোণ ৯০° এবং সালফারে কোনো মুক্তজোড় ইলেকট্রন নেই। সালফারের যোজ্যতা স্তরে d অরবিটাল থাকে বলে এটি আটটির বেশি ইলেকট্রন ধারণ করে বন্ধন গড়তে পারে। এ কারণেই SF₆ সম্ভব হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলের ক্ষেত্রে হয় না।
মনে রাখুন:
CH₄-এর আকৃতি চতুস্তলকীয় (sp³)।
NH₃-এর আকৃতি পিরামিডাল (sp³)।
PCl₅-এর আকৃতি ত্রিকোণীয় দ্বি-পিরামিডাল (sp³d)। - ১৬৫. তাপহারী বিক্রিয়ার জন্য নিচের কোনটি প্রযোজ্য?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপরসায়ন
- ক. ΔH<0
- খ. ΔH>0
- গ. ΔE<0
- ঘ. ΔG>0
উত্তর: খ. ΔH>0
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পারিপার্শ্বিক থেকে তাপ শোষিত হয়, তাকে তাপহারী (Endothermic) বিক্রিয়া বলে। এতে উৎপাদের মোট এনথালপি বিক্রিয়কের মোট এনথালপির চেয়ে বেশি থাকে। তাই এনথালপির পরিবর্তন ΔH = H(উৎপাদ) − H(বিক্রিয়ক) ধনাত্মক হয়, অর্থাৎ ΔH > 0। এ ধরনের বিক্রিয়ায় পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। অপরদিকে তাপউৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক হয়। তাপহারী বিক্রিয়া চালাতে বাইরে থেকে তাপ দিতে হয়। বরফ গলা ও পানির বাষ্পীভবনও এ ধরনের পরিবর্তন, যেখানে পদার্থ চারপাশ থেকে তাপ টেনে নেয়।
মনে রাখুন:
তাপহারী: ΔH > 0, উদাহরণ: পানির বাষ্পীভবন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের দ্রবণ।
তাপউৎপাদী: ΔH < 0, উদাহরণ: দহন, প্রশমন বিক্রিয়া।
স্বতঃস্ফূর্ত বিক্রিয়ায় সাধারণত ΔG < 0 হয়। - ১৬৬. Proton-এর ভর Electron-এর ভরের—স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সহকারী প্রকৌশলী (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. কম
- খ. সমান
- গ. ২০০০ গুণ
- ঘ. ১৮৩৭ গুণ
উত্তর: ঘ. ১৮৩৭ গুণ
প্রোটন ইলেকট্রনের তুলনায় বেশ ভারী। প্রোটনের ভর প্রায় 1.672 × 10^-24 গ্রাম এবং ইলেকট্রনের ভর প্রায় 9.1 × 10^-28 গ্রাম। ভাগ করলে 1.672 × 10^-24 ÷ 9.1 × 10^-28 ≈ 1836 পাওয়া যায়, যা পরীক্ষায় সাধারণত ১৮৩৬ বা ১৮৩৭ হিসেবে লেখা হয়। অর্থাৎ প্রোটন ইলেকট্রনের প্রায় ১৮৩৭ গুণ ভারী। পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, আর ইলেকট্রন সেই কেন্দ্রের চারদিকে ঘোরে।
মনে রাখুন:
নিউট্রনের ভর প্রোটনের প্রায় সমান।
প্রোটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন ঋণাত্মক, আর নিউট্রন চার্জহীন।
প্রোটনের ভর প্রায় 1 amu এবং ইলেকট্রনের ভর প্রায় 1/1837 amu।
নিউট্রন আবিষ্কার করেন চ্যাডউইক, ১৯৩২ সালে। - ১৬৭. সালফিউরিক এসিড-এর molecular weight কত?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আণবিক ভর
- ক. 98
- খ. 48
- গ. 104
- ঘ. 140
উত্তর: ক. 98
সালফিউরিক অ্যাসিডের সংকেত H₂SO₄। আণবিক ভর বের করতে প্রতিটি পরমাণুর পারমাণবিক ভর যোগ করতে হয়।
H = 1, S = 32, O = 16
M = (2 × 1) + 32 + (4 × 16) = 2 + 32 + 64 = 98
অর্থাৎ এর আণবিক ভর 98।
মনে রাখুন:
আণবিক ভর হলো অণুতে থাকা সব পরমাণুর পারমাণবিক ভরের যোগফল।
একই নিয়মে পানির (H₂O) আণবিক ভর 18 এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO₂) আণবিক ভর 44।
সালফিউরিক অ্যাসিডকে রাসায়নিক শিল্পের রাজা বলা হয়।
মোলার ভর বলতে এক মোল পদার্থের ভরকে বোঝায়, সালফিউরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে যা 98 g/mol। - ১৬৮. এক অণু সালফিউরিক এসিডে কতটি পরমাণু আছে?বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ), ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণু ও পরমাণু
- ক. ৩
- খ. ৫
- গ. ৭
- ঘ. ৯
উত্তর: গ. ৭
সালফিউরিক এসিডের সংকেত H₂SO₄। এক অণুতে হাইড্রোজেন (H) পরমাণু 2টি, সালফার (S) পরমাণু 1টি এবং অক্সিজেন (O) পরমাণু 4টি থাকে। মোট পরমাণু 2 + 1 + 4 = 7টি। সংকেতে যে মৌলের পাশে কোনো সংখ্যা লেখা থাকে না, সেই মৌলের পরমাণু একটিই ধরতে হয়, যেমন এখানে সালফার।
মনে রাখুন:
সংকেতে মৌলের পাশে নিচের ছোট সংখ্যাই সেই মৌলের পরমাণুর সংখ্যা জানায়।
পানির সংকেত H₂O, তাই এক অণুতে 3টি পরমাণু থাকে।
কার্বন ডাই-অক্সাইডের সংকেত CO₂, তাই এক অণুতে 3টি পরমাণু থাকে। - ১৬৯. নিচের কোনটি Negative ion?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়ন
- ক. Chloride
- খ. Sodium
- গ. Calcium
- ঘ. Magnesium
উত্তর: ক. Chloride
যে পরমাণু বা মূলক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আধান পায়, তাকে ঋণাত্মক আয়ন (Anion) বলে। ক্লোরিন একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়নে পরিণত হয়। সোডিয়াম (Na⁺), ক্যালসিয়াম (Ca²⁺) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg²⁺) ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন তৈরি করে। ক্লোরিনের বাইরের কক্ষপথে ৭টি ইলেকট্রন থাকে, তাই আরেকটি ইলেকট্রন পেলেই তার কক্ষপথ পূর্ণ হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
ধাতু সাধারণত ধনাত্মক আয়ন তৈরি করে এবং অধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
ধনাত্মক আয়নকে ক্যাটায়ন (Cation) বলে।
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) হলো Na⁺ ও Cl⁻ আয়নের মিলনে তৈরি যৌগ। - ১৭০. কোনো পরমাণুর চতুর্থ কক্ষের ইলেক্ট্রন সংখ্যা—বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য পদ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. ৯টি
- খ. ১৬টি
- গ. ১৮টি
- ঘ. ৩২টি
উত্তর: ঘ. ৩২টি
কোনো পরমাণুর n-তম কক্ষপথে সর্বোচ্চ 2n² সংখ্যক ইলেকট্রন থাকতে পারে। চতুর্থ কক্ষের জন্য n = 4, তাই ইলেকট্রনের সর্বোচ্চ সংখ্যা 2 × 4² = 2 × 16 = 32। তাই উত্তর ৩২টি। ৯, ১৬ ও ১৮ এই সংখ্যাগুলো অন্য কক্ষের বা অন্য হিসাবের সঙ্গে মেলে, যেমন ১৮ হলো তৃতীয় কক্ষের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
মনে রাখুন:
প্রথম কক্ষে সর্বোচ্চ 2টি, দ্বিতীয়তে 8টি এবং তৃতীয়তে 18টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।
বাইরের কক্ষে সর্বোচ্চ 8টি ইলেকট্রন থাকলে পরমাণু স্থিতিশীল হয়।
কোনো কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা সবচেয়ে বাইরের কক্ষের নিয়ম মেনে চলে, অর্থাৎ বাইরের কক্ষে ৮টির বেশি থাকে না। বোর মডেলে ইলেকট্রন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরের কক্ষপথে ঘোরে বলে ধরা হয়। - ১৭১. যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কী বলে?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. জারক
- খ. বিজারক
- গ. ক্ষারক
- ঘ. ক্ষারিত
উত্তর: খ. বিজারক
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে পদার্থ ইলেকট্রন দান করে, সে নিজে জারিত (Oxidised) হয় আর অন্যকে বিজারিত করে, তাই তাকে বিজারক (Reducing Agent) বলে। উল্টো দিকে যে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে, সে জারক (Oxidising Agent)। জারক নিজে বিজারিত হয় এবং অন্যকে জারিত করে। ক্ষারক বা ক্ষারিত শব্দ দুটি ইলেকট্রন লেনদেনের নাম নয়।
উদাহরণ: Zn + Cu²⁺ → Zn²⁺ + Cu। এখানে Zn ইলেকট্রন দেয়, তাই সে বিজারক।
মনে রাখুন:
জারণ মানে ইলেকট্রন ত্যাগ।
বিজারণ মানে ইলেকট্রন গ্রহণ।
একসঙ্গে ঘটে বলে একে রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া বলে। - ১৭২. কার্বন ডাই অক্সাইড কোন তাপমাত্রায় ড্রাই আইসে পরিণত হয়?বাংলাদেশ রেলওয়ে, সহকারী স্টেশন মাস্টার, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পদার্থের অবস্থা
- ক. 0°C
- খ. 100°C
- গ. -100°C
- ঘ. -78.4°C
উত্তর: ঘ. -78.4°C
কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ (Dry Ice) বলে। স্বাভাবিক বায়ুচাপে কার্বন ডাই-অক্সাইড −78.5°C তাপমাত্রায় সরাসরি গ্যাস থেকে কঠিনে পরিণত হয়, আবার এই তাপমাত্রার ওপরে গেলে তরল না হয়েই গ্যাসে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে, আর গলে পানি হয় না বলেই একে ‘শুষ্ক’ বরফ বলা হয়। গ্যাস সরাসরি কঠিনে বা কঠিন সরাসরি গ্যাসে পরিণত হওয়ার এই ধর্মের কারণে শুষ্ক বরফ ব্যবহার করলে কোনো ভেজা দাগ থাকে না। কর্পূর ও ন্যাপথলিনও একইভাবে ঊর্ধ্বপাতিত হয়।
মনে রাখুন: শুষ্ক বরফ খাবার ও ওষুধ ঠান্ডা রাখতে, মঞ্চে ধোঁয়ার মতো কুয়াশা তৈরিতে এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। - ১৭৩. সার্বজনীন দ্রাবক কী?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর ট্রাফিক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিশ্রণ ও দ্রবণ
- ক. এসিড
- খ. পানি
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. ক্ষার
উত্তর: খ. পানি
পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক (Universal Solvent) বলা হয়, কারণ পৃথিবীর অন্য যেকোনো তরলের চেয়ে পানি বেশি সংখ্যক পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারে। পানির অণু পোলার (Polar), অর্থাৎ এর অক্সিজেন প্রান্তে আংশিক ঋণাত্মক এবং হাইড্রোজেন প্রান্তে আংশিক ধনাত্মক আধান থাকে। এই আধানগুলো লবণ, চিনি, অনেক এসিড ও ক্ষারের কণাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে আলাদা করে ফেলে। এ কারণেই আমাদের দেহের রক্ত ও কোষরসে নানা পুষ্টি উপাদান পানিতে গুলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে। তবে পানি সব কিছু দ্রবীভূত করে না, তেল বা চর্বির মতো অপোলার পদার্থ পানিতে মেশে না।
মনে রাখুন:
যে পদার্থে দ্রবীভূত হয় তাকে দ্রাবক, আর যা দ্রবীভূত হয় তাকে দ্রব বলে।
তেল বা চর্বি দ্রবীভূত করতে কেরোসিন, পেট্রোল বা অ্যালকোহলের মতো জৈব দ্রাবক লাগে। - ১৭৪. Mg(OH)₂ ও H₂O এর মিশ্রণকে কি বলা হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-গার্হস্থ্য অর্থনীতি ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিশ্রণ ও দ্রবণ
- ক. কলয়েড
- খ. দ্রবণ
- গ. ইমালসন
- ঘ. সাসপেনশন
উত্তর: ঘ. সাসপেনশন
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড [Mg(OH)₂] পানিতে প্রায় দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি পানিতে মেশালে এর ছোট ছোট কঠিন কণা পানিতে ভেসে থাকে এবং কিছুক্ষণ রেখে দিলে নিচে থিতিয়ে পড়ে। কঠিন কণা তরলে এভাবে ভেসে থেকে পরে থিতিয়ে পড়লে সেই মিশ্রণকে সাসপেনশন (Suspension) বলে। এই মিশ্রণটি বাজারে মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া (Milk of Magnesia) নামে পরিচিত, যা পেটের অম্লতা কমাতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই এর বোতলের গায়ে লেখা থাকে, ব্যবহারের আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন।
মনে রাখুন:
দ্রবণে কণা চোখে দেখা যায় না এবং থিতিয়েও পড়ে না।
সাসপেনশনের কণা বড়, তাই ছাঁকলে কাগজে আটকে যায়।
কলয়েডের কণার আকার দ্রবণ ও সাসপেনশনের মাঝামাঝি। - ১৭৫. দুধ হল-বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিশ্রণ ও দ্রবণ
- ক. পানিতে ফ্যাটের দ্রবণ
- খ. পানিতে ফ্যাটের ইমালসন
- গ. পানিতে কার্বহাইড্রেটের দ্রবণ
- ঘ. পানিতে কার্বহাইড্রেটের ইমালসন
উত্তর: খ. পানিতে ফ্যাটের ইমালসন
দুধ হলো পানিতে চর্বি বা ফ্যাটের ইমালসন (Emulsion)। দুটি তরল যদি একে অপরের সঙ্গে মিশে না যায়, কিন্তু একটির ক্ষুদ্র ফোঁটা অপরটির মধ্যে ছড়িয়ে থাকে, তবে সেই মিশ্রণকে ইমালসন বলে। দুধে চর্বির অতি ক্ষুদ্র ফোঁটা পানির মধ্যে ছড়িয়ে থাকে, আর কেসিন (Casein) নামের প্রোটিন ফোঁটাগুলোকে একসঙ্গে জোড়া লাগতে দেয় না। তাই দুধ দেখতে সাদা ও ঘোলা হয়। দুধ কিছুক্ষণ রেখে দিলে হালকা চর্বি উপরে উঠে সর বা ক্রিম তৈরি করে। ইমালসন আসলে এক ধরনের কলয়েড, তাই দুধকে কলয়েডও বলা হয়।
উদাহরণ:
মাখন হলো চর্বিতে পানির ইমালসন, আর মেয়োনিজ হলো ভিনেগার ও তেলের ইমালসন। - ১৭৬. নিচের কোনটি বিজারক পদার্থের বৈশিষ্ট্য?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. জারণ ঘটানো
- খ. সংশ্লিষ্ট পরমাণুর হ্রাস করা
- গ. ইলেকট্রন হারানো
- ঘ. নিজের বিজারণ ঘটানো
উত্তর: গ. ইলেকট্রন হারানো
যে পদার্থ অন্য পদার্থকে ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক (Reducing Agent) বলে। ইলেকট্রন দান করতে গিয়ে বিজারক নিজে ইলেকট্রন হারায়, তাই ইলেকট্রন হারানোই বিজারকের মূল বৈশিষ্ট্য। আবার ইলেকট্রন হারানো মানেই জারণ, ফলে বিক্রিয়ায় বিজারক নিজে জারিত হয় এবং অপর পদার্থটিকে বিজারিত করে। জারক (Oxidizing Agent) ঠিক উল্টো কাজ করে, সে ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিজে বিজারিত হয়।
উদাহরণ:
Zn + Cu²⁺ → Zn²⁺ + Cu বিক্রিয়ায় জিংক ২টি ইলেকট্রন হারিয়ে বিজারকের কাজ করে।
মনে রাখুন:
H₂, C, CO, H₂S এবং সক্রিয় ধাতু ভালো বিজারক।
O₂, Cl₂, KMnO₄ ও K₂Cr₂O₇ ভালো জারক। - ১৭৭. কোনটি মৌলিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিজারক হিসেবে কাজ করে?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর প্ল্যানিং অ্যাসিস্টেন্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. ক্লোরিন
- ঘ. ব্রোমিন
উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
হাইড্রোজেন একটি ভালো বিজারক (Reducing Agent), কারণ এটি সহজে ইলেকট্রন দান করে বা অন্য যৌগ থেকে অক্সিজেন সরিয়ে নিতে পারে। যেমন উত্তপ্ত কপার অক্সাইডের উপর দিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস চালালে অক্সাইডটি বিজারিত হয়ে লাল রঙের কপার ধাতু তৈরি হয়, আর হাইড্রোজেন নিজে জারিত হয়ে পানিতে পরিণত হয়। অন্যদিকে অক্সিজেন, ক্লোরিন ও ব্রোমিন অধাতু হলেও ইলেকট্রন গ্রহণ করতে ভালোবাসে, তাই এগুলো জারক (Oxidizing Agent) হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ:
CuO + H₂ → Cu + H₂O
মনে রাখুন:
হ্যালোজেনদের মধ্যে ফ্লোরিন সবচেয়ে শক্তিশালী জারক।
কার্বন ও কার্বন মনোক্সাইড ধাতু নিষ্কাশনে বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - ১৭৮. কোনটি বিজারক পদার্থের উদাহরণ?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জারণ-বিজারণ
- ক. কার্বন
- খ. পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
- গ. ক্লোরিন
- ঘ. ফ্লোরিন
উত্তর: ক. কার্বন
কার্বন একটি পরিচিত বিজারক (Reducing Agent), কারণ এটি উচ্চ তাপমাত্রায় ধাতব অক্সাইড থেকে অক্সিজেন সরিয়ে নিয়ে ধাতুকে মুক্ত করে দেয়। এজন্য ব্লাস্ট ফার্নেসে কোক নামের প্রায় বিশুদ্ধ কার্বন দিয়ে আকরিক থেকে লোহা নিষ্কাশন করা হয়। সেখানে কার্বন থেকে তৈরি কার্বন মনোক্সাইড আয়রন অক্সাইডকে বিজারিত করে গলিত লোহা তৈরি করে। অন্যদিকে পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, ক্লোরিন ও ফ্লোরিন ইলেকট্রন টেনে নেয়, তাই এরা জারক (Oxidizing Agent) হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ:
ZnO + C → Zn + CO
Fe₂O₃ + 3CO → 2Fe + 3CO₂
মনে রাখুন:
যে বিক্রিয়ায় জারণ ও বিজারণ একসঙ্গে ঘটে তাকে রিডক্স (Redox) বিক্রিয়া বলে। - ১৭৯. কলয়েডধর্মী পদার্থ হলো- (i) স্টার্চ (ii) সেলুলোজ (iii) জেলাটিন (iv) ক্লোরোফিল নিচের কোনটি সঠিক?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক (১৮ মার্চ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দ্রবণ ও কলয়েড
- ক. i ও ii
- খ. i ও iii
- গ. i, ii ও iii
- ঘ. i ও iv
উত্তর: গ. i, ii ও iii
কলয়েড (Colloid) হলো এমন মিশ্রণ, যেখানে মিশে থাকা কণাগুলো প্রকৃত দ্রবণের কণার চেয়ে বড় কিন্তু সাসপেনশনের কণার চেয়ে ছোট। স্টার্চ, সেলুলোজ ও জেলাটিন বিশাল অণু দিয়ে গঠিত, তাই পানিতে মেশালে এরা চিনি বা লবণের মতো প্রকৃত দ্রবণ তৈরি করে না, বরং কলয়েডের মতো আচরণ করে। ক্লোরোফিল উদ্ভিদের সবুজ রঞ্জক পদার্থ, একে সাধারণত কলয়েডধর্মী পদার্থের তালিকায় রাখা হয় না। কলয়েডের কণা ছাঁকনি কাগজ দিয়ে আলাদা করা যায় না, তবে এর ভেতর দিয়ে আলো পাঠালে আলোর পথটি দেখা যায়। এই ঘটনাকে টিনডাল প্রভাব (Tyndall effect) বলে।
মনে রাখুন:
কলয়েডের পরিচিত উদাহরণ হলো দুধ, রক্ত, কুয়াশা ও জেলি।
কলয়েড কণার আকার প্রায় 1 nm থেকে 1000 nm। - ১৮০. গোল্ড এর যোজনী কত?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক (১৮ মার্চ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যোজনী
- ক. 3
- খ. 2
- গ. 1 ও 3
- ঘ. 2 ও 3
উত্তর: গ. 1 ও 3
কোনো মৌলের এক পরমাণু অন্য মৌলের কয়টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সেই সংখ্যাকে যোজনী (Valency) বলে। সোনা বা গোল্ড (Au) একটি অবস্থান্তর ধাতু, তাই এর যোজনী একটি নয়, এটি পরিবর্তনশীল যোজনী দেখায়। সোনা যখন ১ যোজনী দেখায় তখন তার যৌগকে অরাস যৌগ বলে, যেমন অরাস ক্লোরাইড (AuCl)। আবার যখন ৩ যোজনী দেখায় তখন তাকে অরিক যৌগ বলে, যেমন অরিক ক্লোরাইড (AuCl₃)। তাই সোনার যোজনী ১ ও ৩।
মনে রাখুন:
লোহার যোজনী ২ ও ৩ (ফেরাস ও ফেরিক)।
তামার যোজনী ১ ও ২ (কিউপ্রাস ও কিউপ্রিক)।
সোনার প্রতীক Au এসেছে ল্যাটিন শব্দ Aurum থেকে। - ১৮১. ঘর্ষণ, তাপ, রাসায়নিক ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় সহজেই পরমাণু থেকে নির্গত হয়-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. প্রোটন
- খ. ইলেকট্রন
- গ. নিউট্রন
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. ইলেকট্রন
পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যার ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন শক্তিশালী নিউক্লীয় বলে আবদ্ধ থাকে। আর ইলেকট্রন (Electron) নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘোরে। ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের প্রায় ১৮৩৬ ভাগের ১ ভাগ, তাই এটি খুব হালকা। বিশেষ করে বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের সঙ্গে দুর্বলভাবে যুক্ত থাকে। এ কারণে ঘর্ষণ, তাপ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মতো সামান্য শক্তি পেলেই ইলেকট্রন পরমাণু ছেড়ে বেরিয়ে যায়। কাচের দণ্ডকে রেশম দিয়ে ঘষলে স্থির বিদ্যুৎ তৈরি হয় এই ইলেকট্রন স্থানান্তরের জন্যই। প্রোটন বা নিউট্রন সরাতে অনেক বেশি শক্তি লাগে।
মনে রাখুন:
ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন জে. জে. টমসন।
প্রোটন আবিষ্কার করেন রাদারফোর্ড আর নিউট্রন আবিষ্কার করেন চ্যাডউইক। - ১৮২. কোনটি মৌলিক পদার্থ?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌল ও যৌগ
- ক. চিনি
- খ. টিন
- গ. পানি
- ঘ. লবণ
উত্তর: খ. টিন
যে পদার্থকে রাসায়নিকভাবে ভেঙে আর অন্য কোনো সরল পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল (Element) বলে। মৌল কেবল এক ধরনের পরমাণু দিয়ে গঠিত। টিন একটি ধাতু, এর প্রতীক Sn এবং এটি শুধু টিনের পরমাণু দিয়ে তৈরি, তাই টিন মৌলিক পদার্থ। অন্যদিকে দুই বা ততোধিক মৌল নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যৌগিক পদার্থ তৈরি করে। পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে, খাবার লবণ সোডিয়াম ও ক্লোরিন দিয়ে আর চিনি কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত যৌগ।
মনে রাখুন:
পানি: $H_2O$
খাবার লবণ: $NaCl$
চিনি (সুক্রোজ): $C_{12}H_{22}O_{11}$
টিনের প্রতীক Sn এসেছে ল্যাটিন নাম Stannum থেকে। - ১৮৩. নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (দাজলা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন
- ক. তাপ দ্বারা মোম গলানো
- খ. লোহার মরিচা ধরা
- গ. পানি চিনিতে দ্রবীভূত হওয়া
- ঘ. বরফ গলে পানি হওয়া
উত্তর: খ. লোহার মরিচা ধরা
যে পরিবর্তনে বস্তুর গঠন বদলে নতুন ধর্মের নতুন পদার্থ তৈরি হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical change) বলে। লোহা আর্দ্র বাতাসে রাখলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয়বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লালচে বাদামি রঙের আর্দ্র আয়রন অক্সাইড তৈরি করে, যাকে আমরা মরিচা বলি। মরিচা লোহার মতো শক্ত বা চকচকে নয়, ঝুরঝুরে হয়ে খসে পড়ে এবং সহজ কোনো উপায়ে আবার লোহায় ফেরানো যায় না। তাই মরিচা পড়া রাসায়নিক পরিবর্তন। অন্যদিকে মোম গলানো, বরফ গলা বা চিনি পানিতে দ্রবীভূত হওয়ায় নতুন পদার্থ তৈরি হয় না, শুধু অবস্থা বদলায়, তাই এগুলো ভৌত পরিবর্তন।
মনে রাখুন:
মরিচার সংকেত Fe₂O₃·nH₂O।
লোহায় রং করা বা দস্তার প্রলেপ দেওয়া (গ্যালভানাইজিং) মরিচা ঠেকায়। - ১৮৪. অ্যালকাইল হ্যালাইড হতে অ্যালকোহল প্রস্তুতি কোন ধরনের বিক্রিয়া?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক বিক্রিয়া
- ক. অপসারণ
- খ. প্রতিস্থাপন
- গ. যুত
- ঘ. আইসোমারীকরণ
উত্তর: খ. প্রতিস্থাপন
অ্যালকাইল হ্যালাইডকে জলীয় সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে গরম করলে অ্যালকোহল তৈরি হয়। এই বিক্রিয়ায় অ্যালকাইল হ্যালাইডের হ্যালোজেন পরমাণু সরে যায়, আর তার জায়গায় -OH মূলক বসে। উদাহরণ হিসেবে, $CH_3Cl + NaOH \rightarrow CH_3OH + NaCl$। যে বিক্রিয়ায় কোনো যৌগের একটি পরমাণু বা মূলকের জায়গা অন্য একটি পরমাণু বা মূলক দখল করে, তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Substitution reaction) বলে। তাই এটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া। মজার ব্যাপার হলো, একই অ্যালকাইল হ্যালাইডকে অ্যালকোহলীয় KOH-এর সঙ্গে গরম করলে অ্যালকিন তৈরি হয়, যা অপসারণ বিক্রিয়া।
মনে রাখুন:
অ্যালকিনে হাইড্রোজেন যোগ হওয়া যুত বিক্রিয়ার উদাহরণ। - ১৮৫. কোন যৌগটিতে কেবলমাত্র সিগমা বন্ধন রয়েছে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক বন্ধন
- ক. $CH_4$
- খ. $C_2H_4$
- গ. $C_2H_2$
- ঘ. $C_6H_6$
উত্তর: ক. $CH_4$
দুটি পরমাণুর অরবিটাল যখন মুখোমুখি বা অক্ষ বরাবর মিলে বন্ধন তৈরি করে, তাকে সিগমা বন্ধন (Sigma bond) বলে। আর পাশাপাশি অরবিটালের মিলনে যে দুর্বল বন্ধন হয়, তাকে পাই বন্ধন বলে। প্রতিটি একক বন্ধন একটি সিগমা বন্ধন। দ্বিবন্ধনে থাকে একটি সিগমা ও একটি পাই বন্ধন, আর ত্রিবন্ধনে থাকে একটি সিগমা ও দুটি পাই বন্ধন। মিথেন বা $CH_4$ অণুতে কার্বন চারটি হাইড্রোজেনের সঙ্গে চারটি একক বন্ধনে যুক্ত, তাই এতে কেবল সিগমা বন্ধন আছে। অন্যদিকে ইথিনে দ্বিবন্ধন, ইথাইনে ত্রিবন্ধন এবং বেনজিনে একান্তর দ্বিবন্ধন থাকায় এগুলোতে পাই বন্ধনও আছে।
মনে রাখুন:
মিথেনে ৪টি সিগমা বন্ধন।
ইথাইনে ৩টি সিগমা ও ২টি পাই বন্ধন। - ১৮৬. 1 মোলের 1 লিটার NaOH দ্রবণ তৈরীতে 40 গ্রাম দ্রব প্রয়োজন। একই দ্রবের একই পরিমাণ 0.01 মোলার দ্রবণ তৈরীতে কত গ্রাম দ্রব প্রয়োজন?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দ্রবণের ঘনমাত্রা
- ক. 0.4 g
- খ. 4 g
- গ. 0.8 g
- ঘ. 10 g
উত্তর: ক. 0.4 g
এক লিটার দ্রবণে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে, তাকে দ্রবণের মোলারিটি (Molarity) বলে। NaOH-এর আণবিক ভর = 23 + 16 + 1 = 40, তাই ১ মোল NaOH মানে ৪০ গ্রাম। সেজন্য ১ লিটার ১ মোলার দ্রবণ তৈরিতে ৪০ গ্রাম NaOH লাগে। একই আয়তনের ০.০১ মোলার দ্রবণ তৈরিতে দ্রবের ভর হবে মোলারিটি × আণবিক ভর × আয়তন = 0.01 × 40 × 1 = 0.4 গ্রাম। অর্থাৎ ঘনমাত্রা ১০০ ভাগের ১ ভাগ হলে দ্রবের পরিমাণও ১০০ ভাগের ১ ভাগ হয়।
মনে রাখুন:
W = S × M × V ÷ 1000, যেখানে V মিলিলিটারে।
মোলারিটির একক mol/L, একে M দিয়ে লেখা হয়। - ১৮৭. ক্লোরাইড আয়ন শনাক্ত করতে যে দ্রবণ ব্যবহৃত হয়-কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়ন শনাক্তকরণ
- ক. জলীয় $AgNO_3$
- খ. অ্যালকোহলীয় KOH
- গ. জলীয় $BaCl_2$
- ঘ. জলীয় NaCl
উত্তর: ক. জলীয় $AgNO_3$
কোনো দ্রবণে ক্লোরাইড আয়ন ($Cl^-$) আছে কি না, তা বোঝার জন্য দ্রবণে কয়েক ফোঁটা জলীয় সিলভার নাইট্রেট ($AgNO_3$) দেওয়া হয়। ক্লোরাইড থাকলে সিলভার আয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিলভার ক্লোরাইড তৈরি হয়। সিলভার ক্লোরাইড পানিতে অদ্রবণীয়, তাই এটি সাদা দইয়ের মতো অধঃক্ষেপ হিসেবে নিচে জমে। এই অধঃক্ষেপ অ্যামোনিয়া দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, যা দিয়ে ক্লোরাইড নিশ্চিত হওয়া যায়। বিক্রিয়াটি হলো $NaCl + AgNO_3 \rightarrow AgCl + NaNO_3$।
মনে রাখুন:
সালফেট আয়ন শনাক্ত করতে $BaCl_2$ দেওয়া হয়, তখন $BaSO_4$-এর সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে।
ব্রোমাইড দিলে $AgBr$-এর হালকা হলুদ অধঃক্ষেপ পড়ে। - ১৮৮. The reaction which converts sugar solution into alcohol is an example ofজনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক বিক্রিয়া
- ক. saponification
- খ. fermentation
- গ. hydrogenation
- ঘ. hydrolysis
উত্তর: খ. fermentation
চিনি বা গ্লুকোজের দ্রবণে ইস্ট মিশিয়ে রেখে দিলে কিছুদিনের মধ্যে তা থেকে ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি হয়। ইস্টের ভেতরে থাকা এনজাইম, যেমন জাইমেজ, বাতাসের অনুপস্থিতিতে গ্লুকোজকে ভেঙে ইথাইল অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে। অণুজীবের এনজাইমের সাহায্যে জৈব যৌগের এমন ধীর ভাঙনকে গাঁজন (Fermentation) বলে। এই প্রক্রিয়াতেই পাউরুটি ফুলে ওঠে, দই জমে এবং ভিনেগার তৈরি হয়। গাঁজনে তৈরি কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের বুদবুদই রুটির ময়দাকে ফোলায়।
মনে রাখুন:
$C_6H_{12}O_6 \rightarrow 2C_2H_5OH + 2CO_2$
স্যাপোনিফিকেশন: চর্বি থেকে সাবান তৈরি।
হাইড্রোজেনেশন: তেল থেকে বনস্পতি ঘি তৈরি।
হাইড্রোলাইসিস: পানির সাহায্যে যৌগের ভাঙন। - ১৮৯. কোনটিতে নিউট্রন নেই?পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: ক. হাইড্রোজেন
সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে শুধু একটি প্রোটন থাকে, কোনো নিউট্রন (Neutron) থাকে না। হাইড্রোজেনের এই রূপকে প্রোটিয়াম বলে, আর প্রকৃতির হাইড্রোজেনের প্রায় ৯৯.৯৮ শতাংশই প্রোটিয়াম। অন্যদিকে অক্সিজেন, কার্বন ও ক্লোরিনসহ অন্য সব মৌলের নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সঙ্গে নিউট্রনও থাকে। তাই নিউট্রনহীন পরমাণু বলতে আমরা সাধারণ হাইড্রোজেনকেই বুঝি।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।
ডিউটেরিয়ামে ১টি এবং ট্রিটিয়ামে ২টি নিউট্রন থাকে।
নিউট্রন আবিষ্কার করেন জেমস চ্যাডউইক, ১৯৩২ সালে।
ট্রিটিয়াম তেজস্ক্রিয়।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, আর ইলেকট্রন ঘোরে নিউক্লিয়াসের বাইরে।
হাইড্রোজেন পর্যায় সারণির প্রথম ও সবচেয়ে হালকা মৌল।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন