লিয়ানা বুকস

রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৯। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৪১০টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।

এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →

বিসিএস (৫১)

  1. ১. কোনটি এন্টিবায়োটিক?৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. ইনসুলিন
    • খ. পেপসিন
    • গ. পেনিসিলিন
    • ঘ. ইথিলিন
    উত্তর: গ. পেনিসিলিন
    এন্টিবায়োটিক (Antibiotic) হলো এমন ওষুধ, যা কোনো অণুজীব তৈরি করে এবং অন্য ক্ষতিকর জীবাণুকে মারতে বা বাড়তে বাধা দিতে পারে। পেনিসিলিন একটি ছত্রাক, পেনিসিলিয়াম নোটেটাম থেকে পাওয়া প্রথম এন্টিবায়োটিক। ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের হরমোন, পেপসিন পাকস্থলীর এনজাইম, আর ইথিলিন একটি গ্যাস, যা ফলকে পাকাতে সাহায্য করে। কাজেই এগুলোর কোনোটিই জীবাণুনাশক ওষুধ নয়।
    মনে রাখুন:
    স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন, ১৯২৯ সালে তা প্রকাশ করেন।
    এই কাজের জন্য ১৯৪৫ সালে ফ্লেমিং, হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইন নোবেল পুরস্কার পান।
    এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
  2. ২. কোভিড-১৯ কোন ধরনের ভাইরাস?৪৩তম বিসিএস ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. DNA
    • খ. DNA + RNA
    • গ. RNA
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. RNA
    কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের নাম SARS-CoV-2। এটি একটি করোনাভাইরাস, যার জেনেটিক পদার্থ হলো RNA। অর্থাৎ এর ভেতরে DNA নেই, আছে একসূত্রক RNA। সব ভাইরাসের জেনেটিক পদার্থ একরকম নয়। কোনোটি DNA ভাইরাস, কোনোটি RNA ভাইরাস। কোনো ভাইরাসে একসঙ্গে DNA ও RNA দুটিই থাকে না। ভাইরাসের মধ্যে RNA থাকলে তার জিনের পরিবর্তন বা মিউটেশন বেশি ঘটে, তাই করোনাভাইরাসের নতুন নতুন ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে।
    মনে রাখুন:
    RNA ভাইরাস: ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, জলাতঙ্ক, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইচআইভি।
    DNA ভাইরাস: গুটিবসন্ত, হার্পিস, হেপাটাইটিস-বি, T₂ ফাজ।
    কোভিড-১৯ রোগটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালে চীনের উহান শহরে।
  3. ৩. যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদেরকে বলে—৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগের জীবাণু
    • ক. ইনফেকশন
    • খ. ফ্লোরা
    • গ. টক্সিন
    • ঘ. প্যাথজেনিক
    উত্তর: ঘ. প্যাথজেনিক
    যেসব অণুজীব মানুষ, প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহে রোগ ঘটায়, তাদের রোগজীবাণু বা প্যাথজেনিক (Pathogenic) অণুজীব বলে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া এর মধ্যে পড়ে। ইনফেকশন (Infection) মানে সংক্রমণ, অর্থাৎ জীবাণু শরীরে ঢুকে বংশবৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া। টক্সিন হলো জীবাণুর ছাড়া বিষাক্ত পদার্থ। ফ্লোরা বলতে সাধারণত কোনো অঞ্চলের উদ্ভিদকুল বা দেহের ভেতরের উপকারী অণুজীবকে বোঝায়। প্যাথজেনিক অণুজীব দেহে ঢুকে বিষাক্ত পদার্থ ছাড়ে, ফলে জ্বর, ডায়রিয়া বা সংক্রমণের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এর বিপরীতে যে অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে না, তাকে নন-প্যাথজেনিক বলে।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়াম (প্রোটোজোয়া)।
    যক্ষ্মার জীবাণু ব্যাকটেরিয়া, কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত রোগ।
    সব অণুজীব ক্ষতিকর নয়, দই তৈরির ল্যাকটোব্যাসিলাস উপকারী।
  4. ৪. ক্যান্সার রোগের কারণ—২৮তম বিসিএস ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. কোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু
    • খ. কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
    • গ. কোষের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা
    • ঘ. সবগুলো
    উত্তর: খ. কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
    আমাদের দেহের কোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। কোষ কখন বিভাজিত হবে আর কখন থামবে, তা শরীরের নানা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিক করে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোষ অস্বাভাবিকভাবে ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে থাকে। ফলে টিউমার তৈরি হয় এবং তা ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ক্যান্সারের মূল কারণ কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। P53 প্রোটিন কোষচক্রকে ঠিক রাখে, তাই এর ত্রুটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
    মনে রাখুন:
    যে টিউমার ছড়ায় না, তাকে বিনাইন, আর যা ছড়িয়ে পড়ে তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বলে।
    তামাক, অতিবেগুনি রশ্মি ও তেজস্ক্রিয়তা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
  5. ৫. পেনিসিলিনের আবিষ্কর্তা কে?২২তম বিসিএস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেনিসিলিন
    • ক. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    • খ. হিপোক্রেটিস
    • গ. ইবনে সিনা
    • ঘ. ইউক্লিড
    উত্তর: ক. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    পেনিসিলিন (Penicillin) হলো প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক। ১৯২৮ সালে স্কটল্যান্ডের জীবাণুবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং লক্ষ করেন, তাঁর পরীক্ষাগারে ফেলে রাখা একটি পাত্রে পেনিসিলিয়াম নামের ছত্রাক জন্মেছে এবং তার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারছে না। এ থেকেই তিনি পদার্থটির জীবাণু ধ্বংসের ক্ষমতা বুঝতে পারেন।
    মনে রাখুন:
    পরে হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইন ওষুধ হিসেবে পেনিসিলিন তৈরির পথ দেখান।
    এই তিনজন ১৯৪৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
    হিপোক্রেটিসকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক এবং ইউক্লিডকে জ্যামিতির জনক বলা হয়।
    পেনিসিলিন তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম নোটেটাম নামের ছত্রাক থেকে।
    ফ্লেমিং তখন লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালে কাজ করতেন।
  6. ৬. কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?২৯তম বিসিএস ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগজীবাণু তত্ত্ব
    • ক. লুই পাস্তুর
    • খ. এডিসন
    • গ. ডারউইন
    • ঘ. আইনস্টাইন
    উত্তর: ক. লুই পাস্তুর
    রোগ যে অণুজীব বা জীবাণু থেকে হয়, এই ধারণাকে রোগজীবাণু তত্ত্ব (Germ theory) বলে। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর পরীক্ষা করে এটি প্রমাণ করেন। তিনিই জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সের টিকা তৈরি করেন এবং দুধের জীবাণু মারার পদ্ধতি পাস্তুরায়ন (Pasteurization) আবিষ্কার করেন। জলাতঙ্কের টিকা তিনি ১৮৮৫ সালে প্রথম মানুষের ওপর প্রয়োগ করেন। এই তত্ত্বের ফলেই জীবাণুনাশক ও টিকার ব্যবহার শুরু হয়।
    মনে রাখুন:
    ডারউইন বিবর্তনবাদ, এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আর আইনস্টাইন আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত।
    রবার্ট কখ যক্ষ্মা ও কলেরার জীবাণু শনাক্ত করেন।
    এডওয়ার্ড জেনার বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন।
  7. ৭. ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি?৩৬তম বিসিএস ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. জন্ডিস
    • খ. চোখ ওঠা
    • গ. এইডস
    • ঘ. নিউমোনিয়া
    উত্তর: ঘ. নিউমোনিয়া
    জন্ডিস (হেপাটাইটিস), চোখ ওঠা ও এইডস ভাইরাস থেকে হয়। অন্যদিকে নিউমোনিয়া মূলত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ফুসফুসে হয়, তাই এটিকে ভাইরাসজনিত রোগ ধরা হয় না। এইডস সৃষ্টি করে HIV ভাইরাস, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ভাইরাসের রোগে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর।
    মনে রাখুন:
    ভাইরাসজনিত রোগ: হাম, পোলিও, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জলবসন্ত।
    ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: যক্ষ্মা, কলেরা, টাইফয়েড।
    ম্যালেরিয়া ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নয়, প্রোটোজোয়া দিয়ে হয়।
    জন্ডিস রোগে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়। যকৃতের রঞ্জক বিলিরুবিন বেড়ে গেলে এমন হয়।
    চোখ ওঠা রোগটি অ্যাডেনোভাইরাস নামের ভাইরাসের সংক্রমণে হয়।
  8. ৮. এন্টিবায়োটিকের কাজ—৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. জীবাণু ধ্বংস করা
    • খ. জীবাণুর বংশ বৃদ্ধি করা
    • গ. ভাইরাস ধ্বংস করা
    • ঘ. জীবাণু বহন করা
    উত্তর: ক. জীবাণু ধ্বংস করা
    এন্টিবায়োটিক (Antibiotic) এমন ওষুধ, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়। তাই এর মূল কাজ জীবাণু ধ্বংস করা। এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর কাজ করে না, তাই সর্দি-কাশির মতো ভাইরাসজনিত রোগে এটি দিয়ে লাভ হয় না। এটি জীবাণুর বংশ বাড়ায় না বা জীবাণু বহনও করে না।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিন প্রথম এন্টিবায়োটিক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।
    অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ কোর্সে এন্টিবায়োটিক খেলে জীবাণু ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
    ভাইরাসের চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার হয়।
    অ্যান্টিবায়োটিক শব্দটি এসেছে গ্রিক ‘অ্যান্টি’ (বিরুদ্ধে) ও ‘বায়োস’ (জীবন) থেকে।
  9. ৯. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সঠিক নয় তা হলো–৩০তম বিসিএস ও বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. এ রোগে মানবদেহে কিডনী নষ্ট হয়
    • খ. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়
    • গ. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
    • ঘ. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়
    উত্তর: খ. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এ রোগ হয়
    ডায়াবেটিস (Diabetes) হয় অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন হরমোন কম তৈরি হলে, কিংবা শরীর তা ঠিকমতো কাজে লাগাতে না পারলে। তখন রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন চললে কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। শুধু চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলেই এই রোগ হয় না, তাই এ কথাটিই ভুল। তবে অতিরিক্ত ওজন ও কম পরিশ্রম রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষে।
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট (১৯২১ সালে)।
    ডায়াবেটিস দুই ধরনের: টাইপ-১ ও টাইপ-২।
    টাইপ-১-এ অগ্ন্যাশয় প্রায় ইনসুলিন তৈরিই করে না, আর টাইপ-২-এ শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে না।
  10. ১০. জন্ডিসে আক্রান্ত হয়—৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস
    • ক. যকৃত
    • খ. কিডনি
    • গ. পাকস্থলি
    • ঘ. বৃহদান্ত্র
    উত্তর: ক. যকৃত
    জন্ডিস (Jaundice) প্রধানত যকৃতের (Liver) রোগ। আমাদের লোহিত রক্তকণিকা পুরোনো হলে ভেঙে যায়, তখন বিলিরুবিন নামে একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়। সুস্থ যকৃত এই বিলিরুবিন রক্ত থেকে সরিয়ে পিত্তরসের সঙ্গে বের করে দেয়। যকৃত ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে বিলিরুবিন জমতে থাকে। ফলে চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ দেখায় এবং প্রস্রাবও গাঢ় হলুদ হয়।
    মনে রাখুন:
    যকৃত আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
    হেপাটাইটিস A, B, C, D ও E ভাইরাস যকৃতে সংক্রমণ ঘটিয়ে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে।
    হেপাটাইটিস A ও E সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস B ও C ছড়ায় সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে।
  11. ১১. ডেঙ্গু জ্বরের বাহক মশা কোনটি?৩০তম বিসিএস ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. এনোফিলিস
    • খ. কিউলেক্স
    • গ. এডিস
    • ঘ. সকল মশা
    উত্তর: গ. এডিস
    ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস বহন করে এডিস (Aedes) মশা, বিশেষ করে Aedes aegypti। এই মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় এবং ঘরের আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। অ্যানোফিলিস ম্যালেরিয়া ছড়ায়, আর কিউলেক্স ফাইলেরিয়া ছড়ায়। সব মশা একই রোগ ছড়ায় না, তাই ‘সকল মশা’ অপশনটি ভুল।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গুতে রক্তের অণুচক্রিকা কমে যায়।
    ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফুলদানি, ডাবের খোসা ও টায়ারে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
    এডিস মশার গায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, তাই একে বাঘা মশাও বলা হয়। ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, রোগীকে প্রচুর তরল খাবার ও বিশ্রামে রাখা হয়।
  12. ১২. একজন টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে কোন্‌ বক্তব্যটি সঠিক?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. নির্দিষ্ট কোষের ইনসুলিন প্রতিরোধিতা
    • খ. বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
    • গ. অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ দ্বারা গ্লুকাগনের অতিরিক্ত উৎপাদন
    • ঘ. প্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিনে রূপান্তরে ত্রুটি
    উত্তর: খ. বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
    ডায়াবেটিস মেলিটাস প্রধানত দুই ধরনের। টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন (Autoimmune) রোগ, যেখানে দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষকে ধ্বংস করে। বিটা কোষই ইনসুলিন তৈরি করে, তাই ইনসুলিনের উৎপাদন অনেক কমে যায় এবং রোগীকে বাইরে থেকে ইনসুলিন নিতে হয়। অন্যদিকে ইনসুলিন প্রতিরোধিতা (Insulin Resistance) টাইপ-২ ডায়াবেটিসের বৈশিষ্ট্য। বিটা কোষ নষ্ট হয়ে গেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, কারণ কোষে গ্লুকোজ ঢোকাতে ইনসুলিন দরকার।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ গ্লুকাগন এবং বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে।
    এই কোষগুলো অগ্ন্যাশয়ের ল্যাঙ্গারহ্যান্স দ্বীপপুঞ্জে থাকে।
    টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত অল্প বয়সে দেখা দেয়।
  13. ১৩. 'কোভিড-১৯'-এর জন্য তৈরি টিকা কীভাবে কাজ করে?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার জন্য দুর্বল ভাইরাসের একটি রূপ প্রবর্তন করে
    • খ. পরিশোধিত ভাইরাল প্রোটিনের সাবইউনিট প্রবিষ্ট করানোর মাধ্যমে
    • গ. হোস্ট কোষে জেনেটিক উপাদান বহন করার জন্য একটি ভাইরাস ঘটিত বাহক ব্যবহার করে
    • ঘ. mRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়
    উত্তর: ঘ. mRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়
    কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকা mRNA প্রযুক্তিতে তৈরি। এই টিকা দেহকোষে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরির নির্দেশসহ mRNA পৌঁছে দেয়। কোষ সেই নির্দেশ মেনে ভাইরাসের একটি নিরীহ প্রোটিন বানায়। তখন দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সেটি শনাক্ত করে অ্যান্টিবডি ও স্মৃতিকোষ তৈরি করে। ফলে আসল ভাইরাস এলে দেহ দ্রুত তাকে প্রতিরোধ করতে পারে। mRNA কোষে খুব অল্প সময় থাকে এবং কাজ শেষে ভেঙে যায়। এটি কোষের নিউক্লিয়াসে ঢোকে না, তাই দেহের DNA-র সঙ্গে মেশে না।
    মনে রাখুন:
    অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকায় ভাইরাল ভেক্টর ব্যবহৃত হয়।
    সিনোফার্মের টিকায় নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থাকে।
    নোভাভ্যাক্সে প্রোটিন সাবইউনিট থাকে।
  14. ১৪. Causative Organism responsible for Cervical cancer৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. HSV
    • খ. HPV
    • গ. Chlamydia
    • ঘ. Herpes zoster
    উত্তর: খ. HPV
    জরায়ুমুখ ক্যানসারের (Cervical Cancer) প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (Human Papilloma Virus, HPV)। বিশেষ করে এইচপিভির ১৬ ও ১৮ ধরন প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। ভাইরাসটি যৌন সংস্পর্শে ছড়ায়। দীর্ঘদিন সংক্রমণ থাকলে জরায়ুমুখের কোষে পরিবর্তন আসে এবং ধীরে ধীরে তা ক্যানসারে রূপ নেয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে HSV হলো হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, ক্ল্যামিডিয়া একটি ব্যাকটেরিয়া, আর হারপিস জোস্টার চিকেন পক্সের ভাইরাসজনিত।
    মনে রাখুন:
    ক্যানসারের আগেই ভায়া (VIA) বা প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষায় তা ধরা যায়।
    কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দিয়ে এই ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। টিকাগুলোর নাম গার্ডাসিল ও সারভারিক্স।
  15. ১৫. Congenital malformation can be attributed to maternal infection with-৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মগত ত্রুটি
    • ক. poliomyelitis
    • খ. Measles
    • গ. Chicken Pox
    • ঘ. Toxoplasmosis
    উত্তর: ঘ. Toxoplasmosis
    গর্ভাবস্থায় মায়ের কিছু সংক্রমণ গর্ভফুল পেরিয়ে ভ্রূণকে আক্রান্ত করে জন্মগত ত্রুটি ঘটায়। এদের একত্রে TORCH সংক্রমণ বলা হয়: T টক্সোপ্লাজমোসিস (Toxoplasmosis), O অন্যান্য (সিফিলিস, ভ্যারিসেলা), R রুবেলা, C সাইটোমেগালোভাইরাস এবং H হারপিস। টক্সোপ্লাজমোসিস Toxoplasma gondii নামের প্রোটোজোয়া দিয়ে হয়, যা বিড়ালের মল বা আধা-সেদ্ধ মাংস থেকে ছড়ায়। এতে ভ্রূণের মস্তিষ্কে পানি জমা (হাইড্রোসেফালাস), চোখের প্রদাহ ও মস্তিষ্কে ক্যালসিয়াম জমে।
    পোলিও ও হামের কারণে এ ধরনের গঠনগত জন্মত্রুটি সাধারণত হয় না।
    মনে রাখুন:
    TORCH: Toxoplasma, Others, Rubella, CMV, Herpes
  16. ১৬. In ECG, which feature is indicative for thrombolytic therapy?৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ
    • ক. New onset LBBB
    • খ. ST depression
    • গ. Appearance of Q wave
    • ঘ. T inversion
    উত্তর: ক. New onset LBBB
    হার্ট অ্যাটাকে (Myocardial Infarction) করোনারি ধমনী রক্তের জমাটে বন্ধ হয়ে গেলে ইসিজিতে ST সেগমেন্ট উঁচু (STEMI) দেখা যায়। এ অবস্থায় জমাট গলাতে থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি (যেমন স্ট্রেপটোকাইনেজ) দেওয়া হয়। বুকে ব্যথার সঙ্গে নতুন করে বাম বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (New-onset LBBB) দেখা দিলেও ST-এর পরিবর্তন ঠিকভাবে পড়া যায় না। তাই একে STEMI-এর সমতুল্য ধরে থ্রম্বোলিসিস দেওয়া যায়।
    ST অবনমন ও T তরঙ্গ উল্টে যাওয়া সাধারণত NSTEMI বা অস্থির এনজাইনায় দেখা যায়, এতে থ্রম্বোলাইসিস দেওয়া হয় না। Q তরঙ্গ পুরোনো, সম্পন্ন ইনফার্কশন বোঝায়।
    মনে রাখুন:
    STEMI বা নতুন LBBB: থ্রম্বোলিসিস/প্রাইমারি PCI
  17. ১৭. The EPl vaccine given at birth is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইপিআই টিকা
    • ক. BCG
    • খ. Diphtheria
    • গ. Measles
    • ঘ. Tetanus
    উত্তর: ক. BCG
    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (Expanded Programme on Immunization, EPI) বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে শুরু হয়। এই কর্মসূচিতে জন্মের পরপরই শিশুকে বিসিজি (BCG, Bacillus Calmette-Guérin) টিকা দেওয়া হয়, যা যক্ষ্মার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এটি সাধারণত ডান কাঁধের ওপরে চামড়ার ভেতর (intradermal) দেওয়া হয়। ডিপথেরিয়া ও ধনুষ্টংকারের টিকা পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার অংশ হিসেবে ছয় সপ্তাহ বয়স থেকে শুরু হয়, আর হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয় নয় মাস বয়সে।
    মনে রাখুন:
    জন্মের সময় বিসিজি।
    ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি।
    ৯ মাসে হাম-রুবেলা।
  18. ১৮. Ideal graft for coronary artery bipass graft is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ চিকিৎসা
    • ক. Great saphenous vein
    • খ. Ulner artery
    • গ. Radial artery
    • ঘ. Left internal mammary artery
    উত্তর: ঘ. Left internal mammary artery
    করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং (CABG) অস্ত্রোপচারে হৃৎপিণ্ডের আটকে যাওয়া করোনারি ধমনীকে পাশ কাটিয়ে নতুন নালি বসিয়ে রক্ত চালানো হয়। আদর্শ গ্রাফট হলো বাম ইন্টারনাল ম্যামারি ধমনী (Left Internal Mammary Artery, LIMA), যাকে বাম অ্যান্টেরিয়র ডিসেন্ডিং ধমনীর সঙ্গে জোড়া হয়। এটি ধমনী বলে উচ্চচাপ সহ্য করতে পারে, চর্বি জমে সরু হওয়ার প্রবণতাও কম, আর ১০ বছর পরেও প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে খোলা থাকে। পায়ের গ্রেট স্যাফেনাস শিরাও ব্যবহার করা যায়, কিন্তু শিরা ধমনীর চাপ সহ্য করতে পারে না বলে তা দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    CABG-র আদর্শ গ্রাফট হলো LIMA, যা LAD ধমনীর সঙ্গে জোড়া হয়।
    দ্বিতীয় পছন্দ স্যাফেনাস শিরা ও র‍্যাডিয়াল ধমনী।
  19. ১৯. Viral disease that may cause thrombocytopenia is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. SARS-Cov-2
    • খ. Influenza
    • গ. Dengue
    • ঘ. Hepatitis B
    উত্তর: গ. Dengue
    ডেঙ্গু (Dengue) এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর। ডেঙ্গু ভাইরাস অস্থিমজ্জায় অণুচক্রিকা (Platelet) তৈরি কমিয়ে দেয় এবং রক্তে অণুচক্রিকা ধ্বংসও বাড়ায়। ফলে রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা দ্রুত কমে যায়, একে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia) বলে। অণুচক্রিকা কমলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে, তাই ডেঙ্গুর চিকিৎসায় নিয়মিত এর সংখ্যা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত প্রতি ঘনমিলিমিটারে ১ লাখের নিচে নামলে অবস্থা বিপজ্জনক ধরা হয়। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তাই চিকিৎসায় প্রচুর তরল খাওয়া ও বিশ্রামের ওপর জোর দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গুর বৈশিষ্ট্য হলো জ্বর, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া ও রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া।
    বাহক মশা এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস।
  20. ২০. Multidrug resistant tuberculosis is treated by৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ যক্ষ্মা
    • ক. Amikacin
    • খ. Streptomycin
    • গ. Tazobactum
    • ঘ. Ethambutol
    উত্তর: ক. Amikacin
    মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা (MDR-TB) হলো যক্ষ্মার এমন অবস্থা, যেখানে জীবাণু অন্তত আইসোনায়াজিড (INH) ও রিফামপিসিন (RIF), এই দুই প্রধান প্রথম সারির ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে যায়। তখন সাধারণ চিকিৎসা কাজ করে না, তাই দ্বিতীয় সারির ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এর মধ্যে আছে অ্যামিকাসিন (Amikacin, ইনজেকশন), ফ্লুরোকুইনোলোন, বেডাকুইলিন ও লাইনেজোলিড। ইথামবিউটল ও স্ট্রেপটোমাইসিন প্রথম সারির ওষুধ। আর ট্যাজোব্যাকটাম একটি বিটা-ল্যাকটামেজ ইনহিবিটর, যা যক্ষ্মার ওষুধ নয়।
    মনে রাখুন:
    MDR-TB হলো INH ও RIF প্রতিরোধী যক্ষ্মা।
    XDR-TB-তে এর সঙ্গে ফ্লুরোকুইনোলোন ও ইনজেকশন ওষুধের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
  21. ২১. Diabetes in pregnancy should be treated by৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. Glipizide
    • খ. Metformin
    • গ. Insulin
    • ঘ. Rosiglitazone
    উত্তর: গ. Insulin
    গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস (পূর্ব থেকে থাকা বা গর্ভকালীন) চিকিৎসায় ইনসুলিন (Insulin) সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রমিত পছন্দ। ইনসুলিন বড় আকারের প্রোটিন অণু, যা গর্ভফুল পেরিয়ে ভ্রূণে যেতে পারে না। তাই ভ্রূণের ক্ষতির আশঙ্কা নেই এবং ডোজ নমনীয়ভাবে সামঞ্জস্য করা যায়। রক্তে শর্করা ভালো নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটি ও আইইউডি-র ঝুঁকি কমে।
    গ্লিপিজাইড ও রোসিগ্লিটাজোনের মতো মুখে খাওয়ার ওষুধ গর্ভফুল পার হয়ে ভ্রূণে যায় এবং নবজাতকের রক্তে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে, তাই এগুলো সাধারণত এড়ানো হয়।
    মনে রাখুন:
    গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে প্রথম পছন্দ: খাদ্যনিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনে ইনসুলিন
  22. ২২. EPI-এর পূর্ণরূপ কী?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইপিআই টিকা
    • ক. Extended Program on immunization
    • খ. Expanded program on immunization
    • গ. Essential polio immunization
    • ঘ. Extended pediatric immunization
    উত্তর: খ. Expanded program on immunization
    EPI-এর পূর্ণরূপ Expanded Programme on Immunization, অর্থাৎ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি। এর মাধ্যমে শিশুদের যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, পোলিও ও হামের মতো রোগের টিকা দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এই কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটি প্রথম চালু করে ১৯৭৪ সালে। টিকা শরীরকে জীবাণু চিনতে শেখায়। ফলে আসল জীবাণু এলে দেহ দ্রুত তা মোকাবিলা করতে পারে। এভাবেই টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ থেকে আগেভাগেই সুরক্ষা দেয়।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মার টিকার নাম বিসিজি।
    বাংলাদেশে শিশুদের নিয়মিত টিকা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
  23. ২৩. গমের মোজাইক ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ উদ্ভিদের রোগ
    • ক. ইদুঁরের মাধ্যমে
    • খ. মাইটের মাধ্যমে
    • গ. বাতাসের মাধ্যমে
    • ঘ. পাখির মাধ্যমে
    উত্তর: খ. মাইটের মাধ্যমে
    গমের স্ট্রিক মোজাইক ভাইরাস (Wheat Streak Mosaic Virus) ছড়ায় অতি ক্ষুদ্র মাইটের (Mite) মাধ্যমে, যার নাম হুইট কার্ল মাইট। মাইট আক্রান্ত গাছের রস খায় এবং ভাইরাসটি দেহে ধারণ করে। পরে সুস্থ গাছের রস খাওয়ার সময় সেটি ভাইরাসটি সঞ্চারিত করে। বাতাসের সঙ্গে ওড়া মাইট এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে ভাইরাস ছড়ায়। গমের পাতায় সবুজ-হলুদ লম্বা ডোরা দেখা দেয় এবং ফলন কমে যায়।
    মনে রাখুন: যেসব প্রাণী ভাইরাস বা রোগজীবাণু বহন করে, তাদের বাহক (Vector) বলে। মশা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার বাহক।
  24. ২৪. যে কারণে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে তা হলো –৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশুর রোগ
    • ক. এইচআইভি/এইডস
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. হাম
    • ঘ. যক্ষা
    উত্তর: গ. হাম
    হাম (Measles) একটি ভাইরাসজনিত রোগ। হামে আক্রান্ত অপুষ্ট শিশুর শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দ্রুত বাড়ে। এতে চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই শৈশব-অন্ধত্বের একটি বড় কারণ হাম। হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এতে জ্বর, কাশি ও সারা গায়ে লালচে র‍্যাশ হয়। অপুষ্ট শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে, তাই সময়মতো টিকা দেওয়া খুব জরুরি।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    হামের টিকা শিশুদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করে।
    হামের জীবাণু একটি RNA ভাইরাস।
  25. ২৫. নিম্নের কোন রােগটি DNA ভাইরাসঘটিত?৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ডেঙ্গুজ্বর
    • খ. স্মলপক্স
    • গ. কোভিড-১৯
    • ঘ. পােলিও
    উত্তর: খ. স্মলপক্স
    ভাইরাসের জিনগত উপাদান DNA বা RNA হয়ে থাকে। গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স রোগের জীবাণু ভ্যারিওলা ভাইরাস (Variola virus), একটি পক্সভাইরাস, যার জিনগত উপাদান DNA। তাই এটি DNA ভাইরাসজনিত রোগ। বিকল্পের বাকি রোগগুলো RNA ভাইরাসজনিত। ডেঙ্গুর জীবাণু ডেঙ্গু ভাইরাস, কোভিড-১৯-এর জীবাণু SARS-CoV-2 এবং পোলিওর জীবাণু পোলিওভাইরাস। ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্মলপক্স নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করে। ভাইরাসের জিনগত উপাদান কী, তা দেখেই ভাইরাসকে DNA ভাইরাস বা RNA ভাইরাস ভাগে ফেলা হয়।
    মনে রাখুন:
    চিকেনপক্স, হারপিস ও হেপাটাইটিস বি-ও DNA ভাইরাসজনিত রোগ।
    ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, জলাতঙ্ক ও এইডস RNA ভাইরাসজনিত রোগ।
  26. ২৬. মা-এর রক্তে হেপাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস থাকলে নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কি হওয়া উচিত?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হেপাটাইটিস-বি টিকা
    • ক. ৩০ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে
    • খ. ৭ দিন ইনকিউবেটরে রাখতে হবে
    • গ. জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি (HBIG) শট দিতে হয়
    • ঘ. জন্মের ১ মাস পর কেবলমাত্র (HBIG) শট দিতে হয়
    উত্তর: গ. জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচবিআইজি (HBIG) শট দিতে হয়
    মায়ের রক্তে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস থাকলে জন্মের সময় তা শিশুর দেহে ছড়াতে পারে। তাই এমন নবজাতককে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস-বি টিকা এবং হেপাটাইটিস-বি ইমিউনোগ্লোবুলিন (HBIG) দুটোই দিতে হয়। টিকা শিশুর দেহে নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, কিন্তু সেটি তৈরি হতে সময় লাগে। এই সময়ে HBIG আগে থেকে তৈরি অ্যান্টিবডি জোগান দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সুরক্ষা দেয়।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস-বি রক্ত ও দেহ-তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।
    এটি যকৃতকে আক্রমণ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হলে যকৃতের ক্যান্সার হতে পারে।
  27. ২৭. ডেঙ্গু রোগ ছড়ায় -৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. Aedes aegypti মশা
    • খ. House flies
    • গ. Anopheles মশা
    • ঘ. ইঁদুর ও কাঠবেড়ালী
    উত্তর: ক. Aedes aegypti মশা
    ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, আর এর বাহক এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশা। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং ঘরের আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়, আর মাছি, ইঁদুর বা কাঠবেড়ালি ডেঙ্গুর বাহক নয়। সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে রোগ ছড়ায়। এডিস মশাকে চেনা যায় গায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ দেখে, তাই একে টাইগার মশাও বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন আছে।
    বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বেশি হয়, তাই এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে।
  28. ২৮. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যাটি সঠিক নয় তা হল-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. এ রোগে মানবদেহের কিডনি নষ্ট করে
    • খ. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এ রোগ হয়
    • গ. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
    • ঘ. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়
    উত্তর: খ. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এ রোগ হয়
    ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যেখানে দেহে ইনসুলিন কম তৈরি হয় বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হওয়া এবং রক্তে গ্লুকোজ বাড়া, দুটিই সঠিক তথ্য। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনির ক্ষতিও হয়। কিন্তু শুধু চিনিজাতীয় খাবার খেলেই রোগ হয়, এই তথ্যটি সঠিক নয়, কারণ রোগটির পেছনে বংশগতি, স্থূলতা ও জীবনযাপনের নানা কারণ আছে।
    মনে রাখুন: ইনসুলিন তৈরি করে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ।
  29. ২৯. কোন ডালের সংগে ল্যাথারাইজম রোগের সম্পর্ক আছে?৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ল্যাথারাইজম
    • ক. অড়হর
    • খ. ছোলা
    • গ. খেসারী
    • ঘ. মটর
    উত্তর: গ. খেসারী
    ল্যাথারিজম (Lathyrism) এমন একটি রোগ, যাতে পায়ের পেশি দুর্বল ও অসাড় হয়ে যায়। দীর্ঘদিন প্রতিদিন বেশি পরিমাণে খেসারি ডাল খেলে এ রোগ হয়। কারণ খেসারি ডালে ODAP নামে একটি বিষাক্ত অ্যামিনো এসিড থাকে। অন্য ডালগুলো, যেমন অড়হর, ছোলা ও মটর, ল্যাথারিজমের কারণ নয়। এই বিষ স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাই পা অবশ হয়ে যেতে পারে। এজন্য ডাল হিসেবে শুধু খেসারির ওপর নির্ভর না করে নানা রকম খাবার খাওয়া উচিত।
    মনে রাখুন:
    খেসারি ডালের বৈজ্ঞানিক নাম Lathyrus sativus। এই নাম থেকেই রোগটির নাম এসেছে।
    ডাল প্রোটিনের ভালো উৎস।
  30. ৩০. Dengue fever is spread by-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. Aedes aegypti mosquito
    • খ. Common House flies
    • গ. Anopheles mosquito
    • ঘ. Rats and squirrels
    উত্তর: ক. Aedes aegypti mosquito
    ডেঙ্গু (Dengue) জ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশা এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষকে কামড়ালে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। এ কারণে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে শুধু রাতে মশারি টাঙানোই যথেষ্ট নয়। অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়, আর মাছি এবং ইঁদুর-কাঠবিড়ালি ডেঙ্গুর বাহক নয়। ডেঙ্গুর লক্ষণ হলো হঠাৎ উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা ও শরীরে ব্যথা।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
    মশার বংশ নিয়ন্ত্রণে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
  31. ৩১. যকৃতের রোগ কোনটি?৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস
    • ক. জন্ডিস
    • খ. টাইফয়েড
    • গ. হাম
    • ঘ. কলেরা
    উত্তর: ক. জন্ডিস
    জন্ডিস যকৃতের (Liver) রোগ। যকৃৎ ঠিকমতো কাজ না করলে বা পিত্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে রক্তে বিলিরুবিন নামের হলুদ রঞ্জক পদার্থ জমে। তাতে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়। হেপাটাইটিস এ ও বি ভাইরাসের সংক্রমণে যকৃতের প্রদাহ হয়ে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। টাইফয়েড ও কলেরা অন্ত্রের জীবাণুঘটিত রোগ, আর হাম ভাইরাসজনিত রোগ। জন্ডিস নিজে কোনো আলাদা জীবাণুর রোগ নয়, বরং যকৃৎ বা পিত্তনালির সমস্যার লক্ষণ। হেপাটাইটিস এ দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
    যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
  32. ৩২. নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানব দেহের-২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউমোনিয়া
    • ক. ফুসফুস
    • খ. যকৃত
    • গ. কিডনি
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: ক. ফুসফুস
    নিউমোনিয়া (Pneumonia) ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে হতে পারে। এতে ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিতে (অ্যালভিওলাই) তরল জমে যায়। ফলে রোগীর জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। তাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় ফুসফুস। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ নিউমোনিয়া। এর সাধারণ লক্ষণ হলো দ্রুত শ্বাস নেওয়া ও বুক ভেতরে দেবে যাওয়া। এই রোগ প্রতিরোধে পিসিভি, অর্থাৎ নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    যকৃতের রোগ হেপাটাইটিস ও জন্ডিস।
    যক্ষ্মা (টিবি) ফুসফুসের আরেকটি রোগ, যার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস।
  33. ৩৩. বিষধর সাপে কামড়ালে ক্ষতস্থানে থাকে –২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাপের দংশন
    • ক. পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ
    • খ. অনেকগুলো ছোট ছোট দাঁতের দাগ
    • গ. ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্ষপাত হতে থাকে
    • ঘ. ক্ষতস্থানে প্রচুর বিষ লেগে থাকে
    উত্তর: ক. পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ
    বিষধর সাপের ওপরের চোয়ালে দুটি লম্বা ও ফাঁপা বিষদাঁত থাকে, যার ভেতর দিয়ে শিকারের দেহে বিষ ঢোকে। তাই কামড় দিলে ক্ষতস্থানে পাশাপাশি দুটি গভীর দাঁতের দাগ দেখা যায়। নির্বিষ সাপের এমন বিষদাঁত থাকে না। তাদের কামড়ে অনেকগুলো ছোট ছোট দাঁতের দাগ পড়ে। দাঁতের দাগ দেখে সাপ বিষধর কি না বোঝার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু সবসময় নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই সাপে কামড়ালে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হয়, কারণ বিষনাশক ওষুধ অ্যান্টিভেনম সেখানেই পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    বিষধর সাপের উদাহরণ হলো গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া ও শঙ্খিনী।
    নির্বিষ সাপের উদাহরণ হলো দাঁড়াশ ও ঢোঁড়া।
  34. ৩৪. ডায়বেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় সেটি হলো –২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
    • খ. এই রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
    • গ. এই রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে
    • ঘ. ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়
    উত্তর: ক. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
    ডায়াবেটিস (Diabetes) রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ ইনসুলিন (Insulin) নামের হরমোন তৈরি করে। এই হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে রোগটি হয়। তাই শুধু চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলেই রোগটি হয়, এই কথা সত্য নয়। বাকি তিনটি তথ্য সত্য, কারণ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিস কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে।
    মনে রাখুন: ১৯২১ সালে ফ্রেডারিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।
  35. ৩৫. ‘স্ট্রোক’ আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে – এটি কি?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ট্রোক
    • ক. হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
    • খ. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা
    • গ. হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা
    • ঘ. ফুসফুসে হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া
    উত্তর: খ. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা
    স্ট্রোক (Stroke) হলো মস্তিষ্কের রক্তনালির সমস্যা। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে অথবা রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল আটকে গেলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না। তখন রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হতে পারে, শরীরের এক পাশ অবশ হতে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি বন্ধ হলে তাকে বলা হয় হার্ট অ্যাটাক। দ্রুত চিকিৎসা পেলে স্ট্রোকের ক্ষতি অনেক কমানো যায়।
    মনে রাখুন:
    স্ট্রোক দুই ধরনের, রক্তনালি বন্ধ হয়ে হওয়া ইসকেমিক এবং রক্তনালি ফেটে হওয়া হেমোরেজিক।
    উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান কারণ।
  36. ৩৬. এন্টিবডি তৈরি করে নিচের কোনটি?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. Red blood corpuscle
    • খ. Thrombocyte
    • গ. B Lymphocyte
    • ঘ. Monocyte
    উত্তর: গ. B Lymphocyte
    অ্যান্টিবডি (Antibody) হলো প্রোটিনজাতীয় অণু, যা জীবাণুর অ্যান্টিজেনকে চিনে তাদের নিষ্ক্রিয় করে। এটি তৈরি করে শ্বেত রক্তকণিকার এক শ্রেণি, B লিম্ফোসাইট। জীবাণু শনাক্ত হলে B লিম্ফোসাইট প্লাজমা কোষে পরিণত হয় এবং প্রচুর অ্যান্টিবডি ছাড়ে। লোহিত কণিকা (RBC) অক্সিজেন বহন করে, অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায়, আর মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু গিলে ফেলে। জীবাণু শনাক্ত করার পর দেহ সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে স্মৃতিকোষ তৈরি করে রাখে। তাই দ্বিতীয়বার একই জীবাণু এলে দ্রুত প্রতিরোধ হয়।
    মনে রাখুন: T লিম্ফোসাইট সরাসরি আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করে, আর B লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে।
  37. ৩৭. মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের (First line of defence) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. লাইসোজাইম
    • খ. গ্যাসট্রিক জুস
    • গ. সিলিয়া
    • ঘ. লিস্ফোসাইট
    উত্তর: ঘ. লিস্ফোসাইট
    মানবদেহে রোগ প্রতিরোধের প্রথম প্রতিরক্ষাস্তর জীবাণুকে দেহে ঢুকতেই দেয় না। ত্বক, শ্বাসনালির সিলিয়া, চোখের পানি ও লালার লাইসোজাইম এবং পাকস্থলীর অম্লীয় গ্যাস্ট্রিক রস এই স্তরের অংশ। কিন্তু লিম্ফোসাইট শ্বেতরক্তকণিকার একটি ধরন, যা জীবাণু ঢোকার পর নির্দিষ্টভাবে লড়াই করে। তাই এটি প্রথম নয়, পরের স্তরের প্রতিরক্ষার অংশ। দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাস্তরে থাকে শ্বেত রক্তকণিকা, যা জীবাণু ঢোকার পর তা গিলে ফেলে। এই কাজকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।
    মনে রাখুন:
    লাইসোজাইম জীবাণুর কোষপ্রাচীর ভেঙে ফেলে।
    লিম্ফোসাইট দুই রকম, বি-কোষ ও টি-কোষ, যারা অ্যান্টিবডি তৈরিতে অংশ নেয়।
  38. ৩৮. A 40-year old man presented at Medicine OPD with recurrent haemoptysis for last 05 years: general examination revealed clubbing. Which one of the following is the most likely diagnosis৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুসফুসের রোগ
    • ক. Bronchiectasis
    • খ. Interstitial Lung discase
    • গ. Mitral Stenosis
    • ঘ. Lung Cancer
    উত্তর: ক. Bronchiectasis
    ব্রঙ্কিয়েকটেসিস (Bronchiectasis) হলো ফুসফুসের শ্বাসনালির স্থায়ী ও অস্বাভাবিক প্রসারণ। এতে নালির ভেতর পুঁজযুক্ত শ্লেষ্মা জমে বারবার সংক্রমণ হয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে অনেক কফসহ কাশি ও মাঝে মাঝে কাশির সঙ্গে রক্ত (Haemoptysis) আসে। দীর্ঘদিনের পুঁজভরা ফুসফুসের রোগে আঙুলের ডগা মোটা হয়ে যায়, যাকে ক্লাবিং (Clubbing) বলে। পাঁচ বছর ধরে বারবার রক্তকাশির ইতিহাস ও ক্লাবিং, দুটোই এই রোগের সঙ্গে খাপ খায়।
    ফুসফুসের ক্যানসারে এত দীর্ঘ ইতিহাস সাধারণত থাকে না। মাইট্রাল স্টেনোসিসে রক্তকাশি হলেও সাধারণত ক্লাবিং হয় না।
    মনে রাখুন:
    ক্লাবিং: ব্রঙ্কিয়েকটেসিস, ফুসফুস ক্যানসার, সায়ানোটিক জন্মগত হৃদরোগ
  39. ৩৯. Which of the following is not a feature of acute type II respiratory failure৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা
    • ক. PaO2 < 8.0 kpa
    • খ. PaCo2 > 6 kpa
    • গ. HCO3- is increased
    • ঘ. H+ is increased
    উত্তর: গ. HCO3- is increased
    শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা (Respiratory Failure) দুই ধরনের। টাইপ ১-এ রক্তে অক্সিজেন কমে (PaO₂ < 8 kPa), কিন্তু CO₂ স্বাভাবিক বা কম থাকে। টাইপ ২-এ রক্তে অক্সিজেন কমে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ে (PaCO₂ > 6 kPa)। CO₂ বাড়ায় রক্তে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) বাড়ে এবং রক্ত অম্লীয় হয়। তীব্র (acute) টাইপ ২-এ শরীর কিডনির মাধ্যমে বাইকার্বনেট (HCO₃⁻) জমিয়ে ক্ষতিপূরণ করার সময় পায় না, তাই HCO₃⁻ স্বাভাবিক থাকে। এই ক্ষতিপূরণে HCO₃⁻ বাড়ে দীর্ঘস্থায়ী (chronic) টাইপ ২-এ, যেমন COPD-তে।
    মনে রাখুন:
    তীব্র টাইপ ২-এ PaCO₂ বাড়ে, H⁺ বাড়ে, আর HCO₃⁻ স্বাভাবিক থাকে।
    দীর্ঘস্থায়ী টাইপ ২-এ HCO₃⁻ বেড়ে যায়।
  40. ৪০. Clinical feature of raised intracranial pressure is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা
    • ক. Raised respiratory rate
    • খ. Bradycardia
    • গ. Fever
    • ঘ. Hypotension
    উত্তর: খ. Bradycardia
    মাথার খুলির ভেতরের চাপ (Intracranial Pressure) বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছানো কমে যায়। শরীর তখন মস্তিষ্কে রক্ত চালু রাখতে প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কের ব্রেইনস্টেমের চাপের প্রতিক্রিয়ায় হৃৎস্পন্দন ধীর হয়ে যায় (Bradycardia) এবং শ্বাস অনিয়মিত হয়। বাড়তে থাকা রক্তচাপ, ধীর নাড়ি ও অনিয়মিত শ্বাসকে একসঙ্গে কুশিং ত্রয়ী (Cushing's Triad) বলা হয়, যা মস্তিষ্কের চাপ বাড়ার গুরুতর সংকেত।
    অন্য লক্ষণ: মাথাব্যথা, বমি, ঝাপসা দৃষ্টি ও অজ্ঞান হওয়া।
    মনে রাখুন:
    কুশিং ত্রয়ী: উচ্চ রক্তচাপ, ধীর নাড়ি, অনিয়মিত শ্বাস
  41. ৪১. ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি –৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. বয়লিং
    • খ. বেনজিন ওয়াশ
    • গ. ফরমালিন ওয়াশ
    • ঘ. কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
    উত্তর: ঘ. কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন
    কাঁচি, ব্লেড ও স্ক্যালপেলের মতো ধারালো যন্ত্র ফুটন্ত পানিতে বা উচ্চ তাপে রাখলে ধার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের যন্ত্রকে জীবাণুমুক্ত করার ভালো পদ্ধতি হলো রাসায়নিক জীবাণুনাশকে ডুবিয়ে রাখা, যাকে কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন বলে। এতে যন্ত্রের ধার ঠিক থাকে এবং জীবাণুও মরে যায়। অস্ত্রোপচারের সময় সংক্রমণ এড়াতে যন্ত্রপাতি পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাপে ধার নষ্ট হয় বলে এ কাজে সাধারণ পদ্ধতির বদলে রাসায়নিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ যন্ত্র জীবাণুমুক্ত করতে অটোক্লেভ (উচ্চ চাপের বাষ্প) ব্যবহার করা হয়।
    ফুটন্ত পানিতে জীবাণুমুক্ত করার কাজটিকে বয়লিং বলে।
  42. ৪২. Which of the following is a compelling indication of calcium channel blocker in the management of Hypertension?৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপের চিকিৎসা
    • ক. Heart failure
    • খ. Secondary stroke prevention
    • গ. Older patient
    • ঘ. Left ventricular dysfunction
    উত্তর: গ. Older patient
    ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার (Calcium Channel Blocker, CCB), যেমন অ্যামলোডিপিন, উচ্চ রক্তচাপের একটি প্রধান ওষুধ। এটি রক্তনালির পেশিতে ক্যালসিয়ামের প্রবেশ আটকে ধমনী প্রসারিত করে রক্তচাপ কমায়। বয়স্ক রোগীদের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁদের শুধু সিস্টোলিক রক্তচাপ বেশি (Isolated Systolic Hypertension), CCB অত্যন্ত কার্যকর এবং জোরালোভাবে সুপারিশকৃত। কালো মানুষদেরও এ ওষুধ ভালো কাজ করে।
    হার্ট ফেইলিউর ও বাম নিলয়ের দুর্বলতায় ACE ইনহিবিটর, বিটা ব্লকার ও মূত্রবর্ধক ওষুধ অগ্রাধিকার পায়। স্ট্রোক পুনরাবৃত্তি রোধেও ACE ইনহিবিটর ও ডাইইউরেটিক ব্যবহার হয়।
    মনে রাখুন:
    CCB: বয়স্ক ও আইসোলেটেড সিস্টোলিক হাইপারটেনশন
  43. ৪৩. পোলিও টীকা আবিস্কারক জোনাস সাল্ক যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে মারা যান, শহরটির নাম-১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা আবিষ্কারক
    • ক. La Martini
    • খ. La Zola
    • গ. San Antonio
    • ঘ. San Hose
    উত্তর: খ. La Zola
    পোলিও টিকার আবিষ্কারক মার্কিন বিজ্ঞানী জোনাস সাল্ক ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লা হোইয়া (La Jolla) শহরে মারা যান। বিকল্পে নামটি ‘La Zola’ বানানে এসেছে, কিন্তু শহরটি একই। এই শহরেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাল্ক ইনস্টিটিউট অবস্থিত। তিনি ১৯৫৫ সালে মৃত পোলিও ভাইরাস থেকে তৈরি ইনজেকশনের টিকা সফলভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেন। এই প্রশ্নে বানান ভুল ধরে বিভ্রান্ত না হয়ে শহরটিকে চেনা দরকার। সাল্ক ইনস্টিটিউট জীববিজ্ঞান গবেষণার একটি বিখ্যাত কেন্দ্র।
    মনে রাখুন:
    মুখে খাওয়ার জীবিত দুর্বল ভাইরাসের পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন আলবার্ট সাবিন।
    পোলিও ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।
  44. ৪৪. Natural protein এর কোড নাম -১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. P 49
    • খ. P 51
    • গ. P 53
    • ঘ. P 54
    উত্তর: গ. P 53
    P53 হলো একটি প্রোটিনের নাম, যা টিউমার দমনকারী প্রোটিন (Tumor suppressor) হিসেবে কাজ করে। কোনো কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে P53 কোষ বিভাজন থামিয়ে মেরামতের সুযোগ দেয়, আর মেরামত সম্ভব না হলে কোষটিকে ধ্বংস করে দেয়। এভাবে এটি ক্যান্সার ঠেকায়। মানুষের বহু ক্যান্সারে P53 জিনে পরিবর্তন বা মিউটেশন পাওয়া যায়। একে কখনো জিনোমের অভিভাবক (Guardian of the genome) বলা হয়। প্রোটিনের নাম P53 হওয়ার কারণ এর আণবিক ওজন প্রায় ৫৩ কিলোডালটন। এ প্রোটিন তৈরি হয় TP53 জিন থেকে। ১৯৭৯ সালে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৯৩ সালে সায়েন্স সাময়িকী একে বছরের সেরা অণু হিসেবে ঘোষণা করে।
    মনে রাখুন:
    P53 জিন ১৭ নম্বর ক্রোমোজোমে থাকে।
    P53 নষ্ট হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
  45. ৪৫. জাতিসংঘের কোন সংস্থাটি করোনাভাইরাসকে 'Pandemic' ঘোষণা করে?৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. ECOSOC
    • খ. FAO
    • গ. WHO
    • ঘ. HRC
    উত্তর: গ. WHO
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২০ সালের ১১ মার্চ কোভিড-১৯কে প্যান্ডেমিক (Pandemic) বা বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। রোগ যখন একসঙ্গে অনেক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন একে প্যান্ডেমিক বলা হয়। কোনো রোগ একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে বলে এন্ডেমিক, একটি এলাকায় হঠাৎ বেড়ে গেলে বলে এপিডেমিক বা মহামারী, আর পুরো পৃথিবীতে ছড়ালে বলে প্যান্ডেমিক।
    WHO জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। অন্য সংস্থাগুলোর কাজ আলাদা: FAO বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্য নিয়ে কাজ করে, ECOSOC জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, আর HRC মানবাধিকার পরিষদ।
  46. ৪৬. 'Black Death' is the name of a-৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লেগ
    • ক. plague pandemic
    • খ. death of black people
    • গ. black fever
    • ঘ. fever
    উত্তর: ক. plague pandemic
    ব্ল্যাক ডেথ (Black Death) হলো মধ্যযুগের ভয়াবহ প্লেগ মহামারীর নাম। ১৩৪০-এর দশকে এশিয়া থেকে শুরু হয়ে এই মহামারী ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক মানুষ মারা যায়। প্লেগের জীবাণু ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়া, যা ইঁদুরের গায়ের মাছির কামড়ে মানুষের শরীরে ঢোকে। আক্রান্ত মানুষের ত্বক কালচে হয়ে যেত বলেই সম্ভবত এই নাম হয়েছে। ব্ল্যাক ডেথে ইউরোপের অর্থনীতি, সমাজ ও ধর্মীয় জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে প্লেগ আরও কয়েকবার মহামারী আকারে ফিরে এসেছিল, যেমন ১৯শ শতকের শেষে ভারত-চীন অঞ্চলে।
    মনে রাখুন:
    প্লেগের তিন রূপ: বিউবোনিক, নিউমোনিক ও সেপ্টিসেমিক।
  47. ৪৭. রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিৎ নয়?বাতিলকৃত ২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. বেলে মাছ
    • খ. পালং শাক
    • গ. খাসির মাংস
    • ঘ. মুরগীর মাংস
    উত্তর: গ. খাসির মাংস
    কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে যে খাবারে সম্পৃক্ত স্নেহ (Saturated fat) এবং কোলেস্টেরল বেশি, তা এড়িয়ে চলতে হয়। খাসির মাংস লাল মাংস, এতে চর্বি ও কোলেস্টেরল বেশি থাকে। তাই এটি রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। বেলে মাছ ও মুরগির মাংসে চর্বি অনেক কম। পালং শাক উদ্ভিজ্জ খাবার, তাতে কোনো কোলেস্টেরলই নেই।
    মনে রাখুন:
    কোলেস্টেরল শুধু প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়।
    ডিমের কুসুম, কলিজা, মগজ ও মাখনে কোলেস্টেরল বেশি।
    ওটস, ফলমূল ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
    রান্নায় ভাজাপোড়া কম করে সেদ্ধ বা গ্রিল করা খাবার বেছে নিলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
  48. ৪৮. এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে -৩০তম ও ২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. হৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেওয়া
    • খ. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
    • গ. হৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে নতুন টিস্যু সংযোজন
    • ঘ. হৃৎপিণ্ডের নতুন শিরা সংযোজন
    উত্তর: খ. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
    হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনিতে চর্বি জমে সরু বা বন্ধ হয়ে গেলে হৃদরোগ হতে পারে। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি (Angioplasty) পদ্ধতিতে ডাক্তার সরু নল বা ক্যাথেটারের মাথায় ছোট বেলুন ঢুকিয়ে বন্ধ জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে বেলুন ফুলিয়ে ধমনিকে প্রশস্ত করা হয়। এতে আবার স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    প্রায়ই ধমনি খোলা রাখতে সেখানে জালির মতো ছোট নল বসানো হয়, একে স্টেন্ট (Stent) বলে।
    ১৯৭৭ সালে আন্দ্রেয়াস গ্রুয়েন্টজিগ প্রথম সফল অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করেন।
    অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতে বুক কাটতে হয় না, কিন্তু বাইপাস অস্ত্রোপচারে বুক কেটে নতুন নালী জোড়া লাগাতে হয়।
  49. ৪৯. জন্ডিস আক্রান্ত হয় -৩৩তম বিসিএস ও BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. যকৃত (Liver)
    • খ. কিডনি
    • গ. পাকস্থলি
    • ঘ. হৃৎপিণ্ড
    উত্তর: ক. যকৃত (Liver)
    জন্ডিস মূলত যকৃতের (Liver) সমস্যার লক্ষণ। যকৃৎ রক্ত থেকে বিলিরুবিন নামের হলুদ রঞ্জক আলাদা করে পিত্তরসে মিশিয়ে দেয়। যকৃৎ আক্রান্ত হলে এই কাজ ব্যাহত হয়, ফলে বিলিরুবিন রক্তে জমে গিয়ে চোখ আর ত্বক হলুদ করে তোলে। মজার ব্যাপার হলো, জন্ডিস নিজে কোনো আলাদা রোগ নয়, এটি অন্য কোনো রোগের চিহ্ন। যকৃৎ আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি, যার ওজন প্রায় দেড় কেজি। এটি পিত্তরস তৈরি করা ছাড়াও রক্তের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলে এবং গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। তাই যকৃতের অসুখ পুরো দেহের কাজে প্রভাব ফেলে।
    মনে রাখুন:
    যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
    হেপাটাইটিস ভাইরাস যকৃতে প্রদাহ ঘটিয়ে জন্ডিস করতে পারে।
    জন্ডিসের রোগীর প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়।
  50. ৫০. মা এর রক্তে হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস থাকলে নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কি হওয়া উচিত?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. ৩০ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হবে
    • খ. ৭ দিন ইনকিউবেটরে রাখতে হবে
    • গ. জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচ বি আই জি (HBIG) শট দিতে হবে
    • ঘ. জন্মের ১ মাস পর কেবলমাত্র (HBIG) শট দিতে হবে
    উত্তর: গ. জন্মের ১২ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ও এইচ বি আই জি (HBIG) শট দিতে হবে
    হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস বহনকারী মায়ের সন্তানের সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেশি, কারণ জন্মের সময় মায়ের রক্তের মাধ্যমে ভাইরাস শিশুর দেহে যেতে পারে। তাই শিশুর জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস-বি টিকা এবং HBIG (Hepatitis B Immunoglobulin) দেওয়া হয়। টিকা দেহে ধীরে ধীরে নিজস্ব সুরক্ষা তৈরি করে, আর HBIG তৈরি অ্যান্টিবডি হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করে। সঠিক সময়ে এই দুটি ব্যবস্থা নিলে প্রায় ৯০ ভাগের বেশি ক্ষেত্রে নবজাতককে সংক্রমণ থেকে বাঁচানো যায়। দেরি হলে ভাইরাস শিশুর যকৃতে স্থায়ী হয়ে বড় বয়সে সিরোসিস বা যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    দুটি ইনজেকশন শিশুর দুই আলাদা স্থানে দেওয়া হয়।
    পরে নির্দিষ্ট সময় ধরে টিকার বাকি ডোজগুলোও সম্পূর্ণ করতে হয়।
  51. ৫১. কোন ডালের সংগে 'ন্যাথারাইজম' রোগের সম্পর্ক আছে?৩৫তম বিসিএস ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় (চট্টগ্রাম) স্টোর কিপার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভাবজনিত রোগ
    • ক. অড়হর
    • খ. ছোলা
    • গ. খেসারি
    • ঘ. মটর
    উত্তর: গ. খেসারি
    ল্যাথারিজম (Lathyrism) রোগের সঙ্গে খেসারি ডালের সম্পর্ক আছে। খেসারি ডালে বিটা-অক্সালিল অ্যামিনো অ্যালানিন (BOAA) নামে একটি বিষাক্ত পদার্থ থাকে। দীর্ঘদিন শুধু খেসারি ডাল খেয়ে থাকলে এই বিষ স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। ফলে পা অবশ হয়ে যায় এবং মানুষ ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। আমাদের দেশের কিছু অঞ্চলে এটি দেখা গেছে। খেসারি আমাদের দেশে সস্তা বলে গরিব মানুষ একে প্রধান খাবার হিসেবে খায়। খেসারি ডাল ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে বিষ অনেক কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    খেসারি ডাল অন্য খাবারের সঙ্গে অল্প খেলে সমস্যা হয় না।
    এর বৈজ্ঞানিক নাম Lathyrus sativus।

অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৩৫৯)

  1. ৫২. এইডস-এর জীবাণু-নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ব্যাকটেরিয়া
    • খ. ভাইরাস
    • গ. ছত্রাক
    • ঘ. পরজীবী
    উত্তর: খ. ভাইরাস
    এইডস (AIDS) মানে Acquired Immuno Deficiency Syndrome। এই রোগ হয় এইচআইভি (HIV) নামের একটি ভাইরাসের কারণে, যার পূর্ণরূপ Human Immunodeficiency Virus। ভাইরাসটি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার একটি বিশেষ ধরন, অর্থাৎ সিডি৪ কোষ ধ্বংস করে দেয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং সাধারণ জীবাণুও মারাত্মক রোগ বাধায়। এইচআইভি সংক্রমণের একেবারে শেষ ধাপকে এইডস বলা হয়। এই রোগের জীবাণু ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবী নয়।
    মনে রাখুন:
    এইডস ছড়ায় সংক্রমিত রক্ত, অনিরাপদ যৌন সংসর্গ ও আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুর দেহে।
    করমর্দন, একসঙ্গে খাওয়া বা মশার কামড়ে এইডস ছড়ায় না।
    প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়।
  2. ৫৩. ডায়রিয়ার কারণ নিচের কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগজীবাণু
    • ক. ব্যাকটেরিয়া
    • খ. রোটা ভাইরাস
    • গ. প্রোটোজোয়া
    • ঘ. ফাংগাস
    উত্তর: খ. রোটা ভাইরাস
    ডায়রিয়া হলে দিনে বহুবার পাতলা পায়খানা হয়, আর দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। এর কারণ হিসেবে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া, সব ধরনের জীবাণুই দায়ী হতে পারে। তবে শিশুদের তীব্র ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় কারণ রোটা ভাইরাস (Rotavirus), তাই প্রশ্নে এটিকেই উত্তর ধরা হয়। এই ভাইরাস দূষিত খাবার, পানি বা হাতের মাধ্যমে মুখ দিয়ে শরীরে ঢোকে। ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো দেহে পানিশূন্যতা, তাই রোগীকে দ্রুত খাবার স্যালাইন খাওয়ানো উচিত।
    মনে রাখুন:
    খাবার স্যালাইনে থাকে পানি, লবণ ও গুড় বা চিনি।
    কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি নামের ব্যাকটেরিয়া, আমাশয়ের জীবাণু অ্যামিবা বা শিগেলা।
    রোটা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা আছে।
  3. ৫৪. নিচের কোনটি Non-communicable disease নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. ডায়াবেটিস
    • খ. হার্ট ডিজিস
    • গ. Covid-19
    • ঘ. উচ্চ রক্তচাপ
    উত্তর: গ. Covid-19
    যে রোগ একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহে ছড়ায় না, তাকে অসংক্রামক রোগ (Non-communicable disease) বলে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ এ ধরনের রোগ। জীবনযাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, বংশগতি ও পরিবেশের কারণে এসব রোগ হয়, কোনো জীবাণু এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে গিয়ে এগুলো ঘটায় না। অন্যদিকে কোভিড-১৯ (Covid-19) সার্স-কোভ-২ নামের একটি ভাইরাসের কারণে হয় এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। তাই এটি সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক নয়। এ কারণে এটিই প্রশ্নের উত্তর।
    মনে রাখুন:
    অসংক্রামক রোগের আরও উদাহরণ: ক্যান্সার, স্ট্রোক, হাঁপানি।
    কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের শেষে চীনের উহান শহরে।
    বাংলাদেশে প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ।
  4. ৫৫. ডেঙ্গু হলে রক্তের কোন উপাদানটি পরিবর্তন হয় সবচেয়ে বেশি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. Platelet
    • খ. Neutrophil
    • গ. Lymphocyte
    • ঘ. Basophil
    উত্তর: ক. Platelet
    ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস (Aedes) মশার কামড়ে ছড়ায়। ডেঙ্গু ভাইরাস রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট (Platelet)-এর সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। প্লেটলেট রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, তাই এর সংখ্যা অনেক কমে গেলে শরীরের ভেতরে বা বাইরে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। একজন সুস্থ মানুষের প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে সাধারণত দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ প্লেটলেট থাকে। ডেঙ্গুতে এই সংখ্যা হঠাৎ কমে যেতে পারে, তাই রোগীর রক্তের প্লেটলেট নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট ও বেসোফিল শ্বেত রক্তকণিকার ধরন, ডেঙ্গুতে সেগুলোর পরিবর্তন তুলনায় কম।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে কামড়ায়।
    এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
  5. ৫৬. কিডনি রোগের চিকিৎসা যে ডাক্তার করেন তাকে কী বলা হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
    • ক. Cardiologist
    • খ. Nephrologist
    • গ. Neurologist
    • ঘ. Pathologist
    উত্তর: খ. Nephrologist
    চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিটি অঙ্গের রোগের আলাদা বিশেষজ্ঞ আছেন। কিডনি বা বৃক্কের রোগ নিয়ে যিনি কাজ করেন, তাঁকে নেফ্রোলজিস্ট (Nephrologist) বলে। কিডনি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ ও বাড়তি পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, আর এর রোগে সেই কাজ ব্যাহত হয়। অন্য বিশেষজ্ঞদের কাজ আলাদা। কার্ডিওলজিস্ট (Cardiologist) হৃদরোগের চিকিৎসা করেন, নিউরোলজিস্ট (Neurologist) চিকিৎসা করেন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগের। আর প্যাথলজিস্ট (Pathologist) রক্ত, প্রস্রাব ও কলার নমুনা পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করেন।
    মনে রাখুন:
    প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে, নেফ্রন বৃক্কের কার্যকরী একক।
    ইউরোলজিস্ট মূত্রতন্ত্রের রোগের এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট পরিপাকতন্ত্রের রোগের চিকিৎসা করেন।
  6. ৫৭. বায়ুর মাধ্যমে সংক্রমিত হয় কোন রোগটি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগের বিস্তার
    • ক. আমাশয়
    • খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    • গ. ডেঙ্গু
    • ঘ. কলেরা
    উত্তর: খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    যেসব রোগের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে পৌঁছায়, তাদের বায়ুবাহিত রোগ বলে। ইনফ্লুয়েঞ্জা এমন একটি রোগ। এর জীবাণু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, যা আক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশির সঙ্গে ক্ষুদ্র জলকণায় মিশে বাতাসে ছড়ায় এবং সুস্থ মানুষের শ্বাসের সঙ্গে নাকে-গলায় ঢোকে। অন্য রোগগুলো ভিন্নভাবে ছড়ায়। আমাশয় ও কলেরা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, আর ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে।
    মনে রাখুন:
    বায়ুবাহিত রোগের আরও উদাহরণ: যক্ষ্মা, হাম, চিকেন পক্স।
    পানিবাহিত রোগ: কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়।
    মশাবাহিত রোগ: ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া।
  7. ৫৮. টাইফয়েড রোগের কারণ—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ছত্রাক
    • খ. ভাইরাস
    • গ. ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. নেমাটোড
    উত্তর: গ. ব্যাকটেরিয়া
    টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর। এর জীবাণু সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) নামের ব্যাকটেরিয়া। আক্রান্ত মানুষের মলের মাধ্যমে জীবাণু বাইরে এসে মাছি, দূষিত পানি ও খোলা খাবারে মেশে, আর সেখান থেকে সুস্থ মানুষের শরীরে ঢোকে। সংক্রমণের পর একটানা জ্বর, মাথাব্যথা ও পেটব্যথা হয়, আর চিকিৎসা না করলে জটিলতা বাড়ে। এ রোগ ছত্রাক, ভাইরাস বা নেমাটোড কৃমির কারণে হয় না। এই কারণেই ব্যাকটেরিয়া সঠিক উত্তর।
    মনে রাখুন:
    উইডাল টেস্ট (Widal Test) দিয়ে টাইফয়েড শনাক্ত করা হয়।
    টাইফয়েডের টিকা আছে, আর বিশুদ্ধ পানি পান ও হাত ধোয়া এই রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে।
  8. ৫৯. কোভিড-১৯ শব্দটি সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. Co-Carbon monoxide
    • খ. VI-Very Important
    • গ. D-Disease
    • ঘ. ১৯-এই সিরিজে ১৯ নং virus
    উত্তর: গ. D-Disease
    COVID-19 নামটি একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। এখানে CO মানে করোনা (Corona), VI মানে ভাইরাস (Virus) এবং D মানে রোগ (Disease)। আর ১৯ সংখ্যাটি রোগটি প্রথম শনাক্ত হওয়ার বছর ২০১৯-এর শেষ দুই অঙ্ক। অপশনের বাকি ব্যাখ্যাগুলো তাই ভুল। ২০১৯ সালের শেষে চীনের উহান শহরে এই রোগ প্রথম ধরা পড়ে এবং ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি (Pandemic) ঘোষণা করে। রোগটির প্রধান লক্ষণ জ্বর, শুকনো কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। এটি বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র কণা ও হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়।
    মনে রাখুন:
    রোগের নাম COVID-19, আর রোগসৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম SARS-CoV-2।
    এটি একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাস।
  9. ৬০. ডেঙ্গুর নিচের কোন ধরনের 'মশার' মাধ্যমে ছড়ায়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. পুরুষ এডিস মশা
    • খ. স্ত্রী এডিস মশা
    • গ. স্ত্রী কিউলেক্স মশা
    • ঘ. পুরুষ অ্যানোফিলিস মশা
    উত্তর: খ. স্ত্রী এডিস মশা
    ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী স্ত্রী এডিস (Aedes) মশা মানুষকে কামড়ালে রোগটি ছড়ায়। মশার জীবনে একটি বিশেষ ঘটনা আছে: ডিম পাড়ার জন্য রক্তের প্রোটিন দরকার হয় বলে শুধু স্ত্রী মশাই রক্ত খায়। পুরুষ মশা ফুলের রস খেয়ে বাঁচে। এডিস মশা মূলত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে ও বিকেলে কামড়ায়, আর এর শরীরে ডোরাকাটা সাদা দাগ থাকে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় এড়ানো জরুরি, কারণ রাতে নয়, দিনেই এডিস মশা বেশি সক্রিয় থাকে।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে।
    ফাইলেরিয়া (গোদ) ছড়ায় কিউলেক্স মশার মাধ্যমে।
  10. ৬১. দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অনাক্রম্যতা
    • ক. অ্যান্টিজেন
    • খ. এ্যান্টিবডি
    • গ. প্রোটিন
    • ঘ. রক্ত
    উত্তর: খ. এ্যান্টিবডি
    আমাদের শরীরে রোগজীবাণু ঢুকলে অনাক্রম্যতা ব্যবস্থা তাদের ঠেকাতে সক্রিয় হয়। জীবাণুর গায়ে থাকা বিজাতীয় প্রোটিনকে অ্যান্টিজেন (Antigen) বলে। এর বিরুদ্ধে শ্বেত রক্তকণিকার একটি অংশ (বি লিম্ফোসাইট) বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে, যার নাম অ্যান্টিবডি (Antibody)। অ্যান্টিবডি রক্তরসে থাকে এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবাণুকে অকেজো করে দেয়। এজন্য একে দেহের প্রধান সৈনিক বলা হয়। অ্যান্টিবডির আকার অনেকটা ইংরেজি Y অক্ষরের মতো, আর প্রতিটি অ্যান্টিবডি কেবল নির্দিষ্ট একটি অ্যান্টিজেনের সঙ্গেই খাপ খায়। পরে একই জীবাণু আবার এলে শরীর তাড়াতাড়ি অ্যান্টিবডি বানিয়ে ফেলে।
    মনে রাখুন:
    ভ্যাকসিনে দুর্বল বা মৃত জীবাণু থাকে, যা শরীরকে আগে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শেখায়।
    অ্যান্টিবডি আসলে ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামেও পরিচিত।
  11. ৬২. অ্যান্টিবায়োটিক কাদের উপর কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. ব্যাকটেরিয়া
    • খ. ছত্রাক
    • গ. শৈবাল
    • ঘ. ভাইরাস
    উত্তর: ঘ. ভাইরাস
    অ্যান্টিবায়োটিক এমন ওষুধ, যা ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর, প্রোটিন সংশ্লেষণ বা অন্য জৈব প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়ে তাদের মেরে ফেলে বা বাড়তে দেয় না। ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন বা বিপাক নেই। ভাইরাস সুস্থ কোষের ভেতরে ঢুকে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের উপর কাজ করে না। সর্দি, ফ্লু বা ডেঙ্গুর মতো ভাইরাসজনিত রোগে তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া অর্থহীন। অপ্রয়োজনে খেলে ব্যাকটেরিয়া ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহৃত হয়।
    ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
  12. ৬৩. কোনটি কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি করে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ব্যাকটেরিয়া
    • খ. ভাইরাস
    • গ. সিজেলা
    • ঘ. জিয়ারডিয়া
    উত্তর: ক. ব্যাকটেরিয়া
    কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা তিনটিই ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। কলেরা সৃষ্টি করে ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae), টাইফয়েড সৃষ্টি করে সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) এবং যক্ষ্মা সৃষ্টি করে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস। ব্যাকটেরিয়া এককোষী অণুজীব, যারা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দমন করা যায়। পক্ষান্তরে ভাইরাস একেবারে আলাদা গঠনের জীব। সিজেলা ব্যাকটেরিয়া, জিয়ারডিয়া প্রোটোজোয়া, তাই এদের এখানে তিন রোগের কারণ হিসেবে ধরা যায় না। মানুষের রোগজীবাণুর মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, আর অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে চিকিৎসক উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেন।
    মনে রাখুন:
    ভাইরাসজনিত রোগ: হাম, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু, এইডস, ইনফ্লুয়েঞ্জা।
    ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্যান্য রোগ: ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি।
  13. ৬৪. ডেঙ্গু রোগটি (DENGUE) কোন মশার মাধ্যমে ছড়ায়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. AEDES AEGYPTI
    • খ. ANOPHELES
    • গ. CULEX
    • ঘ. ASIAN TIGER
    উত্তর: ক. AEDES AEGYPTI
    ডেঙ্গু ভাইরাসঘটিত জ্বর। এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) নামের মশা এই ভাইরাস বহন করে, এবং এর স্ত্রী মশার কামড়ে রোগটি ছড়ায়। এডিস মশার গায়ে সাদা-কালো ডোরা থাকে বলে একে বাঘ মশাও বলে। এরা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে, যেমন ফুলের টব, পুরোনো টায়ার ও ডাবের খোসায় ডিম পাড়ে। অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়, আর কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া ছড়ায়। এশিয়ান টাইগার (Asian Tiger) হলো এডিস আলবোপিক্টাস মশার ডাকনাম। এটিও কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে, তবে প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টি।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গু রোধের প্রধান উপায় বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া।
    এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়।
  14. ৬৫. সংক্রামক ব্যাধি কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. এইডস
    • খ. ডায়াবেটিস
    • গ. উচ্চ রক্তচাপ
    • ঘ. ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর
    উত্তর: ক. এইডস
    যে রোগ রোগজীবাণুর মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়, তাকে সংক্রামক রোগ বলে। এইডস (AIDS) এইচআইভি (HIV) নামের ভাইরাস থেকে হয়, যা রক্ত, অনিরাপদ যৌন সংসর্গ ও সংক্রমিত সুই-সিরিঞ্জের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়। তাই এটি সংক্রামক রোগ। পক্ষান্তরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর অসংক্রামক রোগ, এগুলো জীবনযাপন, বংশগতি বা অঙ্গের ত্রুটি থেকে হয়, অন্যকে ছোঁয়াচের মতো ছড়ায় না।
    মনে রাখুন:
    এইডসের পূর্ণরূপ Acquired Immuno Deficiency Syndrome।
    HIV শরীরের টি-হেল্পার শ্বেত কণিকাকে আক্রমণ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষয় করে।
  15. ৬৬. সবচেয়ে Common type of anaemia কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তশূন্যতা
    • ক. Megaloblastic anaemia
    • খ. Aplastic anaemia
    • গ. Thalassemia
    • ঘ. Iron deficiency anaemia
    উত্তর: ঘ. Iron deficiency anaemia
    রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে তাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা বলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron Deficiency Anaemia)। হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন লাগে, তাই খাবারে আয়রন কম থাকলে বা রক্তক্ষরণে আয়রন হারিয়ে গেলে এটি হয়। নারী ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় অস্থিমজ্জা রক্তকোষ তৈরি করতে পারে না, থ্যালাসেমিয়া বংশগত রোগ, আর মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া ভিটামিন B₁₂ বা ফলিক এসিডের অভাবে হয়।
    মনে রাখুন:
    আয়রনের উৎস: কলিজা, লাল মাংস, কচু শাক, ডাল।
    ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
  16. ৬৭. নিম্নলিখিতদের মধ্যে সারা বিশ্বে মহিলাদের সর্বাধিক ক্যান্সার কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. জরায়ু
    • খ. স্তন
    • গ. পাকস্থলী
    • ঘ. থাইরয়েড
    উত্তর: খ. স্তন
    বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ক্যান্সার ধরা পড়ে, সেটি স্তন ক্যান্সার (Breast Cancer)। এতে স্তনের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে এবং পিণ্ডের মতো গঠন তৈরি করে। আগেভাগে ধরা পড়লে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়, তাই নারীদের নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা ও ম্যামোগ্রাফির পরামর্শ দেওয়া হয়। জরায়ুমুখের ক্যান্সারও নারীদের মধ্যে বেশ প্রচলিত, তবে সংখ্যায় স্তন ক্যান্সারের পরে।
    মনে রাখুন:
    জরায়ুমুখের ক্যান্সারের একটি বড় কারণ এইচপিভি (HPV) ভাইরাস, যার টিকা আছে।
    পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ও প্রস্টেট ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।
    অক্টোবর মাস স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়।
  17. ৬৮. Covid-19 রোগটি নিচের কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মহামারি
    • ক. PANDEMIC
    • খ. ENDEMIC
    • গ. EPIDEMIC
    • ঘ. SPORADIC
    উত্তর: ক. PANDEMIC
    কোনো সংক্রামক রোগ যখন এক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক মহাদেশে বা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে মহামারি বা প্যানডেমিক (Pandemic) বলে। কোভিড-১৯ ঠিক এমনই ছিল। ২০১৯ সালের শেষে চীনে শুরু হয়ে এটি অল্প সময়ে প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে যায়, আর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে প্যানডেমিক ঘোষণা করে। এন্ডেমিক রোগ কোনো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে থাকে, এপিডেমিক একটি এলাকায় হঠাৎ বেড়ে যায়, আর স্পোর্যাডিক ছড়ানো-ছিটানো কয়েকটি ঘটনা।
    মনে রাখুন:
    আগের প্যানডেমিকের উদাহরণ: স্প্যানিশ ফ্লু (১৯১৮ সাল), সোয়াইন ফ্লু (২০০৯ সাল)।
    বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াকে স্থানিক বা এন্ডেমিক ধরা হয়।
  18. ৬৯. নিচের কোনটি Fungal infection?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাকজনিত রোগ
    • ক. Tuberculosis
    • খ. Measles
    • গ. Ring worm
    • ঘ. Gonorrhea
    উত্তর: গ. Ring worm
    রিং ওয়ার্ম (Ring Worm) আসলে কোনো কৃমি নয়, এটি ত্বকের একটি ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, যাকে দাদ বলে। ত্বকে গোল আংটির মতো লাল চাকা তৈরি হয় এবং চুলকায়। এ কারণে ইংরেজি নামে 'ওয়ার্ম' শব্দ এসেছে। টিউবারকিউলোসিস (যক্ষ্মা) এবং গনোরিয়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, আর মিজলস (হাম) ভাইরাসজনিত রোগ। ছত্রাকের কারণে হওয়া অন্যান্য রোগ হলো অ্যাথলিট'স ফুট ও নখের ছত্রাক সংক্রমণ। ত্বকের ভাঁজ, মাথার ত্বক ও পায়ের আঙুলের ফাঁকে এই সংক্রমণ বেশি হয় এবং আর্দ্র ও ঘামযুক্ত পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত বাড়ে। অন্যের তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করলে এটি ছড়াতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ছত্রাক সংক্রমণের উদাহরণ: দাদ, ক্যান্ডিডিয়াসিস।
    ছত্রাকের দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী।
  19. ৭০. গোদ রোগের জন্য দায়ী কোন জীবাণু?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গোদ রোগ
    • ক. ফাইলেরিয়া কৃমি
    • খ. প্লাজমোডিয়াম
    • গ. এ্যামিবা
    • ঘ. সালমোনেলা
    উত্তর: ক. ফাইলেরিয়া কৃমি
    গোদ বা ফাইলেরিয়াসিস (Filariasis) একটি পরজীবীঘটিত রোগ। এর জন্য দায়ী উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি (Wuchereria bancrofti) নামের সুতার মতো সরু কৃমি, যাকে ফাইলেরিয়া কৃমি বলে। কিউলেক্স জাতের স্ত্রী মশা এক মানুষকে কামড়ে কৃমির লার্ভা অন্য মানুষের দেহে ছড়িয়ে দেয়। কৃমিগুলো লসিকাবাহীতে জমে লসিকা চলাচলে বাধা দেয়, ফলে পা, হাত বা অণ্ডকোষ ফুলে মোটা হয়ে যায়। প্লাজমোডিয়াম একটি প্রোটোজোয়া, যা ম্যালেরিয়া ঘটায়। অ্যামিবা আমাশয়ের এবং সালমোনেলা টাইফয়েডের জীবাণু। রোগটি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং অনেক বছর পরে লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাই একে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে ভালো।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশায়।
    ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশায়।
    গোদ ছড়ায় কিউলেক্স মশায়।
  20. ৭১. Polio রোগের Vaccine—পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. OPV
    • খ. BCG
    • গ. Rubella
    • ঘ. Mumps
    উত্তর: ক. OPV
    পোলিও (Polio) একটি ভাইরাসঘটিত রোগ, যাতে শিশুর হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে। এই রোগ ঠেকাতে দুই ধরনের টিকা আছে। একটি হলো খাওয়ার পোলিও টিকা, যার নাম অরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV), অন্যটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া নিষ্ক্রিয় পোলিও ভ্যাকসিন (IPV)। আমাদের দেশে শিশুদের ফোঁটা আকারে যে টিকা খাওয়ানো হয়, সেটি ওপিভি। বিসিজি (BCG) যক্ষ্মার টিকা, আর রুবেলা ও মাম্পস (Mumps) আলাদা ভাইরাসজনিত রোগ, এদের টিকাও আলাদা। শিশুদের পোলিও টিকা নিয়মিত খাওয়ালে এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করেছে।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মার টিকা: বিসিজি।
    হাম-রুবেলার টিকা: এমআর।
    ইনজেকশনের পোলিও টিকা তৈরি করেন জোনাস সল্ক।
  21. ৭২. মস্তিষ্কের ডোপামিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট হলে কী রোগ হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুরোগ
    • ক. থ্রম্বোসিন
    • খ. প্যারালাইসিস
    • গ. এপিলেপসি
    • ঘ. পারকিনসন
    উত্তর: ঘ. পারকিনসন
    আমাদের মস্তিষ্কের কিছু স্নায়ুকোষ ডোপামিন (Dopamine) নামের রাসায়নিক বার্তাবাহক তৈরি করে। ডোপামিন পেশির নড়াচড়াকে মসৃণ ও নিয়ন্ত্রিত রাখে। এই কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকলে ডোপামিনের পরিমাণ কমে যায়, আর রোগী হাত-পায়ে কাঁপুনি অনুভব করে। চলাফেরা ধীর হয়ে যায় এবং শরীর শক্ত হয়ে আসে। এই রোগের নাম পারকিনসন (Parkinson's disease)। প্যারালাইসিস মানে অঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়া, আর এপিলেপসি হলো খিঁচুনির রোগ, এদের কারণ আলাদা।
    মনে রাখুন:
    পারকিনসন সাধারণত বয়স্কদের রোগ।
    স্মৃতিভ্রংশের রোগের নাম আলঝেইমার।
    ব্রিটিশ চিকিৎসক জেমস পারকিনসন ১৮১৭ সালে এই রোগের বর্ণনা দেন।
  22. ৭৩. রক্ত কোষের ক্যান্সারকে কী বলে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. লিওকেমিয়া
    • খ. এ্যানিমিয়া
    • গ. Blood Clotting
    • ঘ. অ্যানজিনা
    উত্তর: ক. লিওকেমিয়া
    আমাদের রক্তের তিন প্রকার কোষ আছে, লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা। অস্থিমজ্জায় এসব কোষ তৈরি হয়। যখন অস্থিমজ্জায় শ্বেত কণিকা অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তখন তাকে রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া (Leukaemia) বলে। এসব অস্বাভাবিক কোষ সুস্থ কোষকে জায়গা দেয় না, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। অ্যানিমিয়া মানে রক্তস্বল্পতা, যাতে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন কমে যায়। রক্ত জমাট বাঁধা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অ্যানজিনা হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনের ঘাটতিতে বুকের ব্যথা।
    মনে রাখুন:
    লিউকেমিয়া শব্দের অর্থ ‘সাদা রক্ত’।
    রক্তে অণুচক্রিকা (প্লেটলেট) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  23. ৭৪. CT Scan-এর পূর্ণরূপ কী?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগনির্ণয় প্রযুক্তি
    • ক. Computed Treatment Scan
    • খ. Computed Tomography Scan
    • গ. Computed Tomology Scan
    • ঘ. Computed Therapy Scan
    উত্তর: খ. Computed Tomography Scan
    সিটি স্ক্যান (CT scan) কথাটির পূর্ণরূপ Computed Tomography Scan, কখনো Computerised Tomography Scan-ও লেখা হয়। ‘টোমোগ্রাফি’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ টোমোস থেকে, যার অর্থ কাটা অংশ বা খণ্ড। এই পরীক্ষায় একটি এক্স-রে যন্ত্র দেহের চারদিকে ঘুরে অনেক কোণ থেকে ছবি নেয়। কম্পিউটার সেসব ছবি জোড়া দিয়ে দেহের ভেতরের হাড়, মস্তিষ্ক, ফুসফুস বা অন্য অঙ্গের কাটা অংশের মতো বিস্তারিত ছবি তৈরি করে। এটি সাধারণ এক্স-রের চেয়ে অনেক স্পষ্ট ছবি দেয়।
    মনে রাখুন:
    সিটি স্ক্যান আবিষ্কার করেন গডফ্রে হাউন্সফিল্ড (১৯৭১)।
    এমআরআই (MRI) পুরো নাম Magnetic Resonance Imaging; এতে এক্স-রে নয়, চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহৃত হয়।
  24. ৭৫. যক্ষ্মা রোগের জীবাণু কোনটি?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যক্ষ্মা
    • ক. Pneumococcus
    • খ. Plasmodium
    • গ. Mycobacterium tuberculosis
    • ঘ. Streptococcus
    উত্তর: গ. Mycobacterium tuberculosis
    যক্ষ্মা বা টিবি (Tuberculosis) রোগের জন্য দায়ী জীবাণু হলো Mycobacterium tuberculosis নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। রোগী কাশলে বা হাঁচি দিলে এই জীবাণু বাতাসে ছড়ায়, আর সুস্থ মানুষ শ্বাসের সঙ্গে তা গ্রহণ করলে ফুসফুসে সংক্রমণ শুরু হয়। বাকি তিনটি নামও পরিচিত, কিন্তু সেগুলো অন্য রোগের সঙ্গে জড়িত। Pneumococcus নিউমোনিয়া ঘটায়, Streptococcus গলাব্যথা ও বাতজ্বরের কারণ হতে পারে, আর Plasmodium ব্যাকটেরিয়াই নয়, এটি ম্যালেরিয়ার পরজীবী প্রোটোজোয়া।
    মনে রাখুন:
    ১৮৮২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
    যক্ষ্মার প্রতিষেধক টিকার নাম বিসিজি (BCG)।
    প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়।
  25. ৭৬. পানিবাহিত রোগ কোনটি নয়?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, ২০২২ ও নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিবাহিত রোগ
    • ক. ডায়রিয়া
    • খ. টাইফয়েড
    • গ. ম্যালেরিয়া
    • ঘ. আমাশয়
    উত্তর: গ. ম্যালেরিয়া
    যে রোগের জীবাণু পানির মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করে, তাকে পানিবাহিত রোগ বলে। ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয়ের জীবাণু দূষিত পানি বা তা দিয়ে ধোয়া খাবারের সঙ্গে পেটে যায়, তাই এগুলো পানিবাহিত। ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আলাদা। এর পরজীবী Plasmodium মানুষের দেহে ঢোকে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে, পানি পান করে নয়। এ কারণে ম্যালেরিয়াকে বলা হয় মশাবাহিত রোগ।
    মনে রাখুন:
    পানিবাহিত রোগ: কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, আমাশয়, জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ)।
    মশাবাহিত রোগ: ম্যালেরিয়া (অ্যানোফিলিস), ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া (এডিস)।
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু আবিষ্কার করেন রোনাল্ড রস।
  26. ৭৭. ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার প্রক্রিয়া কোনটি?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. MT test
    • খ. তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
    • গ. বৈদ্যুতিক তরঙ্গ
    • ঘ. চৌম্বক তরঙ্গ
    উত্তর: খ. তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
    ক্যান্সারে শরীরের কোষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এই কোষগুলোকে ধ্বংস করার একটি প্রচলিত উপায় হলো রেডিওথেরাপি (Radiotherapy), অর্থাৎ আক্রান্ত স্থানে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ফেলা। এক্স-রে (X-ray) বা গামা-রে (γ-ray) টিউমারের কোষের ডিএনএ নষ্ট করে দেয়, ফলে কোষ আর বিভাজিত হতে পারে না। বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক তরঙ্গ দিয়ে এভাবে কোষ ধ্বংস করা যায় না। আর MT test আসলে ক্যান্সারের নয়, যক্ষ্মা শনাক্তের একটি পরীক্ষা।
    মনে রাখুন:
    ক্যান্সার চিকিৎসায় কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা-রে ব্যবহৃত হয়।
    এছাড়া অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি ক্যান্সারের অন্য প্রধান চিকিৎসা।
    প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস।
  27. ৭৮. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনের নাম—বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. মর্ডানা
    • খ. কোভিশিল্ড
    • গ. কোভিভ্যাক্স
    • ঘ. আরভিভি ডিমার
    উত্তর: খ. কোভিশিল্ড
    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা যৌথভাবে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের যে টিকা তৈরি করে, তার মূল নাম AZD1222, পরে এটি Vaxzevria নামেও পরিচিত হয়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এই একই টিকা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে কোভিশিল্ড (Covishield) নামে। বাংলাদেশেও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এই টিকা দিয়েই গণটিকাদান শুরু হয়। মডার্না একটি আলাদা কোম্পানির এমআরএনএ টিকা, আর কোভ্যাক্স কোনো টিকার নাম নয়, এটি টিকা বিতরণের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
    মনে রাখুন:
    ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্না এমআরএনএ (mRNA) প্রযুক্তির টিকা।
    ভারতের নিজস্ব টিকা কোভ্যাক্সিন (Covaxin), প্রস্তুতকারক ভারত বায়োটেক।
  28. ৭৯. ইনসোমনিয়া কী ধরনের অসুখ?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মানসিক রোগ
    • ক. স্নায়ুরোগ
    • খ. চোখের রোগ
    • গ. নিদ্রাহীনতার রোগ
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. নিদ্রাহীনতার রোগ
    ইনসোমনিয়া (Insomnia) হলো ঘুম না আসার রোগ, বাংলায় যাকে নিদ্রাহীনতা বলে। এ রোগে মানুষ ঘুমাতে গেলেও ঘুম আসে না, অথবা ঘুমিয়ে পড়লেও বারবার জেগে যায়। দিনের পর দিন এমন চললে মস্তিষ্ক ও দেহ ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না, ফলে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়। এটি স্নায়ুরোগ বা চোখের রোগ হিসেবে পরিচিত নয়।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম দরকার।
    অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যাকে বলা হয় হাইপারসোমনিয়া।
    দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত চা-কফি ও ঘুমের অনিয়ম নিদ্রাহীনতার সাধারণ কারণ।
  29. ৮০. এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়—ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. ফার্ন
    • খ. শৈবাল
    • গ. ছত্রাক
    • ঘ. লাইকেন
    উত্তর: গ. ছত্রাক
    এন্টিবায়োটিক ওষুধ সাধারণত অণুজীব থেকে পাওয়া যায়। প্রথম আবিষ্কৃত এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম নামের ছত্রাক (Fungus) থেকে। ছত্রাক নিজের চারপাশের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকাতে যে রাসায়নিক নিঃসরণ করে, বিজ্ঞানীরা সেটিকেই ওষুধ হিসেবে কাজে লাগান। ফার্ন ও শৈবাল থেকে এভাবে সাধারণ এন্টিবায়োটিক তৈরি হয় না। লাইকেন ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থান, কিন্তু সেটিও এন্টিবায়োটিকের প্রধান উৎস নয়।
    মনে রাখুন:
    স্ট্রেপটোমাইসিন তৈরি হয় স্ট্রেপটোমাইসিস নামের ব্যাকটেরিয়া জাতীয় অণুজীব থেকে।
    পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।
    নির্দেশ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে জীবাণু ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
  30. ৮১. ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাসের নাম কী?ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. রুবিওলা
    • খ. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
    • গ. ভেরিওলা
    • ঘ. হার্পিস সিমপ্লেক্স
    উত্তর: খ. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
    ডেঙ্গুজ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এর ভাইরাসের নাম ডেঙ্গু ভাইরাস, যা ফ্ল্যাভিভাইরাস (Flavivirus) গণের অন্তর্ভুক্ত। সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশার কামড়ে এই ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলায় কামড়ায়। বাকি ভাইরাসগুলো অন্য রোগ ঘটায়: রুবিওলা ভাইরাস হাম বা জার্মান হাম ঘটায়, আর ভেরিওলা ভাইরাস গুটিবসন্তের কারণ।
    মনে রাখুন:
    হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস মুখে ও যৌনাঙ্গে ঘা সৃষ্টি করে।
    ডেঙ্গুর জন্য নির্দিষ্ট কোনো এন্টিবায়োটিক নেই, রোগীর প্রচুর বিশ্রাম ও তরল দরকার।
    এডিস মশা চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসও ছড়ায়।
  31. ৮২. 'অটিজম' কোন ধরনের সমস্যা?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, নকশাকার (ড্রাফটসম্যান), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অটিজম
    • ক. মস্তিষ্কের বৃদ্ধিজনিত সমস্যা
    • খ. মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা
    • গ. শ্রবণশক্তির ঘাটতিজনিত সমস্যা
    • ঘ. মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা
    উত্তর: ঘ. মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা
    অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism) মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এ সমস্যা থাকলে শিশুর শৈশব থেকেই কথা বলা, অন্যের সঙ্গে মেলামেশা ও আচরণে অসুবিধা দেখা যায়। এটি মস্তিষ্ক কীভাবে বিকশিত হয় তার সঙ্গে জড়িত, তাই রক্তক্ষরণ বা শ্রবণশক্তির ঘাটতিজনিত সমস্যা নয়। এটি রোগ নয়, ছোঁয়াচেও নয়। সঠিক সময়ে ধরা পড়লে বিশেষ শিক্ষা ও থেরাপির মাধ্যমে শিশুর অনেক উন্নতি সম্ভব।
    মনে রাখুন:
    প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।
    বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজে অবদানের জন্য সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
    অটিজমের লক্ষণ সাধারণত দুই-তিন বছর বয়সের মধ্যেই দেখা যায়।
  32. ৮৩. মরফিন কে আবিষ্কার করেন?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ আবিষ্কার
    • ক. ফ্রেডরিখ সার্টার্নার
    • খ. লুই পাস্তুর
    • গ. উইলিয়াম মার্ডিনডেল
    • ঘ. গ্যারেন
    উত্তর: ক. ফ্রেডরিখ সার্টার্নার
    মরফিন (Morphine) আফিম (Opium) থেকে পাওয়া একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক। আফিম আসে পপি গাছের কাঁচা ফলের আঠালো রস থেকে। জার্মান ফার্মাসিস্ট ফ্রেডরিখ সার্টার্নার (Friedrich Sertürner) প্রথম আফিম থেকে এই সক্রিয় পদার্থ আলাদা করেন। কাজটি ১৮০৪-০৫ সালের দিকে করা হয়। তিনি গ্রিক স্বপ্নের দেবতা মরফিয়াসের নামে এর নাম রাখেন। লুই পাস্তুর জীবাণুতত্ত্ব ও টিকার জন্য বিখ্যাত, এই কাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    মরফিন থেকে হিরোইন তৈরি হয়।
    মরফিন আসক্তি সৃষ্টি করে, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এর ব্যবহার বেআইনি।
    মরফিন আফিমের প্রধান ক্ষারীয় উপাদান (অ্যালকালয়েড)।
  33. ৮৪. হুপিং কফ-এর জন্য দায়ী অণুজীব কোনটি?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগের জীবাণু
    • ক. Clostridium botulinum
    • খ. Escherichia coli
    • গ. Salmonella typhi
    • ঘ. Bordetella pertussis
    উত্তর: ঘ. Bordetella pertussis
    হুপিং কাশি বা কাশির সঙ্গে 'হুপ' শব্দ করা ঘনঘন কাশির রোগটির জীবাণু বর্ডেটেলা পারটুসিস (Bordetella pertussis) নামের ব্যাকটেরিয়া। এ রোগে শিশুর একটানা কাশির পর শ্বাস টানার সময় বাঁশির মতো 'হুপ' শব্দ হয়। রোগটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, একে পারটুসিসও বলে। বাকি জীবাণুগুলো অন্য রোগের জন্য দায়ী: Clostridium botulinum বটুলিজম, E. coli ডায়রিয়া, আর Salmonella typhi টাইফয়েডের কারণ।
    মনে রাখুন:
    ডিপিটি (DPT) টিকা ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কার থেকে রক্ষা করে।
    পেন্টাভ্যালেন্ট টিকায় এই তিনটির সঙ্গে আরও দুটি রোগের প্রতিরোধ থাকে।
  34. ৮৫. HIV হলো এক প্রকার—শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. কীট
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. ভাইরাস
    HIV-এর পূর্ণরূপ Human Immunodeficiency Virus। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি ভাইরাস। এই ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেতকণিকাকে, বিশেষ করে CD4 কোষকে আক্রমণ করে নষ্ট করে। ফলে দেহ সাধারণ রোগের বিরুদ্ধেও লড়তে পারে না। রোগের শেষ ধাপকে এইডস (AIDS) বলে। এটি ব্যাকটেরিয়া বা কীট নয়।
    মনে রাখুন:
    AIDS = Acquired Immuno Deficiency Syndrome।
    এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত, অনিরাপদ যৌনমিলন ও আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুর দেহে ছড়াতে পারে। সাধারণ স্পর্শে বা একসঙ্গে খেলে ছড়ায় না।
    প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস।
  35. ৮৬. পেডিয়াট্রিক সম্পর্কযুক্ত—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা পরিভাষা
    • ক. পুরুষ
    • খ. মহিলা
    • গ. শিশু
    • ঘ. বৃদ্ধ
    উত্তর: গ. শিশু
    পেডিয়াট্রিক (Pediatric) শব্দটি এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে, যার মানে শিশুর চিকিৎসা। পেডিয়াট্রিক্স হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে নবজাতক থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত শিশুদের রোগ, বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হয়। যিনি এ কাজে বিশেষজ্ঞ, তাঁকে পেডিয়াট্রিশিয়ান বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলে। তাই পেডিয়াট্রিক শিশুদের সঙ্গে সম্পর্কিত। শব্দটি গঠিত হয়েছে গ্রিক paidos (শিশু) ও iatros (চিকিৎসক) শব্দ দিয়ে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ও টিকাদান এই শাখার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শিশুর বয়স অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা ঠিক করাও একটি বড় দায়িত্ব, কারণ ছোটদের দেহ বড়দের ছোট সংস্করণ নয়।
    মনে রাখুন:
    বৃদ্ধদের চিকিৎসাবিদ্যার নাম জেরিয়াট্রিক্স (Geriatrics)।
    নারীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যার নাম গাইনোকোলজি।
    হৃদরোগ বিষয়ক বিদ্যার নাম কার্ডিওলজি।
  36. ৮৭. COVID-19 একটি—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. RNA Virus
    • খ. DNA Virus
    • গ. ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. ছত্রাক
    উত্তর: ক. RNA Virus
    কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টি করে সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2) নামের একটি নতুন করোনাভাইরাস। এর জিনোম আরএনএ দিয়ে গঠিত, তাই এটি একটি আরএনএ ভাইরাস। করোনা শব্দের অর্থ মুকুট, কারণ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এর গায়ের কাঁটাগুলো মুকুটের মতো দেখায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক নয়, তাই অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ করে না।
    মনে রাখুন:
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ মার্চ কোভিড-১৯ কে অতিমারি ঘোষণা করে।
    বাংলাদেশে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ।
    ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এইচআইভিও আরএনএ ভাইরাস।
  37. ৮৮. ভ্যাকসিনের কাজ কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা
    • খ. রোগ নিরাময় করা
    • গ. রোগ বৃদ্ধি করা
    • ঘ. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া
    উত্তর: ক. রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা
    ভ্যাকসিন (Vaccine) বা টিকা এমন একটি ওষুধ, যাতে মৃত বা দুর্বল করা রোগজীবাণু অথবা জীবাণুর কোনো অংশ থাকে। টিকা দিলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই জীবাণুকে চিনে রাখে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি করে। পরে আসল জীবাণু আক্রমণ করলে দেহ সহজেই তাকে ঠেকাতে পারে। তাই ভ্যাকসিনের কাজ হলো রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, রোগ সারানো নয়।
    মনে রাখুন:
    প্রথম টিকা আবিষ্কার করেন এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে, গুটিবসন্তের জন্য।
    জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর।
    টিকা দিয়ে গুটিবসন্ত পৃথিবী থেকে নির্মূল করা হয়েছে।
  38. ৮৯. রক্তদানের বয়সসীমা কত?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তদান
    • ক. ১৫-৪৫ বছর
    • খ. ১০-৬০ বছর
    • গ. ১৮-৫৭ বছর
    • ঘ. ১৮-৭০ বছর
    উত্তর: গ. ১৮-৫৭ বছর
    রক্ত দানের জন্য একজন সুস্থ মানুষের বয়স একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা দরকার। অল্প বয়সে দেহ পুরোপুরি পরিণত হয় না, আবার বেশি বয়সে দেহের সক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশে সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তিরা রক্ত দিতে পারেন। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে ১৮-৫৭ বছর এই সীমার সবচেয়ে কাছাকাছি, তাই এটিই গ্রহণযোগ্য উত্তর। দাতার ওজন সাধারণত ৪৫ কেজির কম হলে চলে না, আর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পর্যাপ্ত থাকতে হয়।
    মনে রাখুন:
    একবার রক্ত দিলে পুরুষরা সাধারণত ৩ মাস এবং নারীরা ৪ মাস পর আবার দিতে পারেন।
    বাংলাদেশে ১৪ই জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত হয়।
  39. ৯০. রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় না কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. হেপাটাইটিস-A
    • খ. হেপাটাইটিস-B
    • গ. ম্যালেরিয়া
    • ঘ. হেপাটাইটিস-C
    উত্তর: ক. হেপাটাইটিস-A
    কিছু রোগ সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস-বি ও সি ভাইরাস সংক্রমিত রক্ত, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা মা থেকে শিশুর দেহে যেতে পারে। ম্যালেরিয়ার জীবাণু সংক্রমিত অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে রক্তে প্রবেশ করে, আর সংক্রমিত রক্ত গ্রহণেও এই রোগ ছড়ায়। কিন্তু হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে নয়, দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস-ই-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এ কারণে রক্তদানের আগে রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয়, তাতে এসব রোগের জীবাণু আছে কি না। নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস-এ ও ই জন্ডিস রোগ সৃষ্টি করে, এগুলো পানিবাহিত।
    হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধে টিকা আছে।
    হেপাটাইটিস যকৃতের প্রদাহ।
  40. ৯১. 'Neurology' relates to—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা পরিভাষা
    • ক. Heat
    • খ. Hormone
    • গ. Nerve
    • ঘ. Blood
    উত্তর: গ. Nerve
    Neurology হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) ও তার রোগ নিয়ে আলোচনা হয়। শব্দটির গোড়ায় আছে গ্রিক neuron, যার অর্থ স্নায়ু, আর logy মানে জ্ঞান বা আলোচনা। তাই Neurology-র সঙ্গে সম্পর্ক স্নায়ুর, অর্থাৎ Nerve-এর। যে চিকিৎসক স্নায়ুর রোগের চিকিৎসা করেন, তাঁকে Neurologist বলে। মস্তিষ্ক, সুষুম্না ও স্নায়ুর নানা সমস্যা, যেমন মৃগী বা স্ট্রোক, এই শাখার আওতায় পড়ে। মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ুর রোগ নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকের জ্ঞানই এই শাখার মূল বিষয়।
    মনে রাখুন:
    Cardiology: হৃৎপিণ্ড।
    Dermatology: ত্বক।
    Haematology: রক্ত।
    Endocrinology: হরমোন ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
  41. ৯২. যৌনরোগ কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. Syphilis
    • খ. Diphtheria
    • গ. Diabetes
    • ঘ. Cancer
    উত্তর: ক. Syphilis
    যৌন মিলনের মাধ্যমে যে রোগ ছড়ায়, তাকে যৌনবাহিত রোগ বলে। সিফিলিস (Syphilis) তেমন একটি রোগ, যা Treponema pallidum নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। ডিপথেরিয়া শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, যা Corynebacterium diphtheriae ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। আর ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার সংক্রামকই নয়, প্রথমটি অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন-জনিত সমস্যা এবং দ্বিতীয়টি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। তাই এখানে যৌনরোগ হলো সিফিলিস। সিফিলিসের চিকিৎসায় পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, আর সময়মতো চিকিৎসা না করালে রোগটি হৃদ্‌যন্ত্র ও স্নায়ুকেও আক্রান্ত করতে পারে। তাই যৌনরোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
    মনে রাখুন:
    গনোরিয়া একটি যৌনবাহিত রোগ।
    এইডস (HIV) যৌনবাহিত হতে পারে।
  42. ৯৩. নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. কমা
    • খ. কক্কাস
    • গ. ব্যাসিলাস
    • ঘ. স্পাইরিলাস
    উত্তর: খ. কক্কাস
    নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি সংক্রমণ, যাতে ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রদাহ হয়। এই রোগের প্রধান জীবাণু স্ট্রেপ্টোককাস নিউমোনিয়া (পুরোনো নাম Diplococcus pneumoniae)। এটি গোলাকার ব্যাকটেরিয়া, আর গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে কক্কাস (Coccus) বলে। কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়া কলেরা সৃষ্টি করে, আর ব্যাসিলাস দণ্ডাকার। ফুসফুসের বায়ুথলিতে এই জীবাণু বাড়লে থলিগুলো তরলে ভরে যায়, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
    মনে রাখুন:
    কলেরা: Vibrio cholerae (কমা আকৃতি)।
    যক্ষ্মা: Mycobacterium tuberculosis (দণ্ডাকার)।
    নিউমোনিয়ার লক্ষণ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট।
    শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধে নিউমোককাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (PCV) দেওয়া হয়।
    শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া বেশি মারাত্মক হয়ে ওঠে।
  43. ৯৪. ম্যালেরিয়ার জীবানু বহনকারী মশার নাম কী?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ ও বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. এডিস
    • খ. কিউলেক্স
    • গ. এনোফিলিস
    • ঘ. ম্যানসোনাইট
    উত্তর: গ. এনোফিলিস
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে স্ত্রী অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশা। এই জীবাণুটি আসলে প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামের এককোষী পরজীবী, যা মশার কামড়ের সময় মানুষের রক্তে ঢোকে। এডিস মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়, আর কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া (গোদ) রোগ ছড়ায়। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা থেকে ভোরের মধ্যে কামড়ায়।
    মনে রাখুন: ম্যালেরিয়ার জীবাণু আবিষ্কার করেন রোনাল্ড রস, আর এর জন্য তিনি ১৯০২ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
    ম্যালেরিয়ার লক্ষণ হলো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া।
    বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি।
    ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশারি, মশা নিধন এবং জমে থাকা পানি সরানো জরুরি।
  44. ৯৫. 'ম্যালেরিয়া' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, উপ-পরিদর্শক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. ফ্রেঞ্চ
    • খ. ইতালিয়ান
    • গ. গ্রিক
    • ঘ. পর্তুগিজ
    উত্তর: খ. ইতালিয়ান
    ম্যালেরিয়া শব্দটি ইতালীয় ভাষার ‘mala aria’ থেকে এসেছে। ‘Mala’ মানে খারাপ, আর ‘aria’ মানে বাতাস। আগে মানুষ ভাবত, জলাভূমির দূষিত বাতাস থেকেই এই রোগ হয়। পরে জানা গেল, রোগটি আসলে প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামের এককোষী পরজীবী থেকে হয় এবং স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা এটি ছড়ায়। তাই নামে বাতাস থাকলেও রোগটি বাতাসে ছড়ায় না। ১৮৯৭ সালে রোনাল্ড রস মশার দেহে এই পরজীবী খুঁজে পান।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু একটি প্রোটোজোয়া, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস নয়।
    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায় এডিস মশা।
    ম্যালেরিয়ার বাহক স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা।
    ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে প্রাচীন কাল থেকে সিনকোনা গাছের ছাল থেকে পাওয়া কুইনাইন ব্যবহার হয়ে আসছে।
  45. ৯৬. রক্তের কোন কণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. লোহিত কণিকা
    • খ. শ্বেত কণিকা
    • গ. শ্বেত ও লোহিত কণিকা
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. শ্বেত কণিকা
    শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell) আমাদের দেহকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু এই কণিকা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে রক্তের ক্যান্সার হয়, যাকে লিউকেমিয়া (Leukemia) বলে। অন্যদিকে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell) দেহের কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, আর এটি কমে গেলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। তাই কোন কণিকা বাড়লে বা কমলে কী রোগ হয়, এই পার্থক্যটা আমাদের জানা দরকার।
    মনে রাখুন:
    লিউকেমিয়ায় অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক শ্বেত কণিকা তৈরি হতে থাকে।
    লোহিত কণিকা কমলে অ্যানিমিয়া হয়।
    অণুচক্রিকা (Platelet) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  46. ৯৭. কোনটি হৃদরোগের কারণ?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ
    • ক. পরিমিত ঘুম
    • খ. ধূমপান
    • গ. সুষম খাদ্যগ্রহণ
    • ঘ. রক্তপাত
    উত্তর: খ. ধূমপান
    ধূমপান হৃদরোগের একটি প্রধান কারণ। সিগারেটের ধোঁয়ায় নিকোটিনসহ অনেক ক্ষতিকর পদার্থ থাকে, যা রক্তনালিকে সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। অন্যদিকে পরিমিত ঘুম ও সুষম খাদ্য আমাদের সুস্থ রাখে, আর রক্তপাত সরাসরি হৃদরোগ সৃষ্টি করে না, এটি দেহ থেকে রক্ত হারানোর অবস্থা। এছাড়া অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, স্থূলতা ও পরিশ্রমহীন জীবনও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
    মনে রাখুন:
    ধূমপান হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
    তামাকের প্রধান ক্ষতিকর উপাদান নিকোটিন।
    উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও হৃদরোগের কারণ।
  47. ৯৮. নিচের কোনটি সংক্রামক ব্যাধি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. ডায়াবেটিস
    • খ. উচ্চরক্তচাপ
    • গ. হাঁপানী
    • ঘ. যক্ষ্মা
    উত্তর: ঘ. যক্ষ্মা
    যে রোগ রোগজীবাণুর মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়, তাকে সংক্রামক রোগ (Communicable disease) বলে। যক্ষ্মা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় এবং কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হাঁপানি জীবনযাত্রা, বংশগতি বা অ্যালার্জির মতো কারণে হয় বলে এগুলো অসংক্রামক। অসংক্রামক রোগ কারও কাছ থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায় না।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মা প্রতিরোধে শিশুকে BCG টিকা দেওয়া হয়।
    যক্ষ্মা প্রধানত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। রবার্ট কখ ১৮৮২ সালে এর জীবাণু আবিষ্কার করেন।
    ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস।
    সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পানি পানের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
  48. ৯৯. কোনটি পানিবাহিত রোগ?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিবাহিত রোগ
    • ক. ডেঙ্গু
    • খ. টাইফয়েড
    • গ. ম্যালেরিয়া
    • ঘ. লেপ্রসি
    উত্তর: খ. টাইফয়েড
    যে রোগের জীবাণু দূষিত পানি পান বা ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়ায়, তাকে পানিবাহিত রোগ (Waterborne disease) বলে। টাইফয়েড সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়ায় হয় এবং দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া মশার কামড়ে ছড়ায়, আর কুষ্ঠ (Leprosy) দীর্ঘ সময়ের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়ায়। তাই টাইফয়েড থেকে বাঁচতে ফোটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    কলেরা, আমাশয় ও ডায়রিয়াও পানিবাহিত রোগ। কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি।
    হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসও দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
    নিরাপদ পানি পান এবং হাত ধোয়া এসব রোগ ঠেকানোর প্রধান উপায়।
  49. ১০০. কোন রোগটির প্রতিষেধক DPT vaccine নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. Diphtheria
    • খ. Pneumonia
    • গ. Tetanus
    • ঘ. Pertussis
    উত্তর: খ. Pneumonia
    DPT টিকা তিনটি রোগ থেকে রক্ষা করে। D মানে ডিপথেরিয়া (Diphtheria), P মানে হুপিং কাশি (Pertussis) এবং T মানে ধনুষ্টংকার (Tetanus)। নিউমোনিয়ার জন্য আলাদা টিকা আছে, যার নাম PCV, তাই নিউমোনিয়া এই টিকার আওতায় পড়ে না। এই টিকা শিশুকে ৬ সপ্তাহ বয়স থেকে কয়েক ধাপে দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    এখন DPT, হেপাটাইটিস বি ও হিব মিলিয়ে একসঙ্গে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেওয়া হয়।
    ধনুষ্টংকারের জীবাণু ক্লস্ট্রিডিয়াম টেটানি, ডিপথেরিয়ার জীবাণু করিনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়ে এবং হুপিং কাশির জীবাণু বর্ডেটেলা পারটুসিস।
    বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) ১৯৭৯ সালে শুরু হয়।
  50. ১০১. চিকনগুনিয়া রোগটি কিসের মাধ্যমে ছড়ায়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকুনগুনিয়া
    • ক. এডিস মশা
    • খ. এনোফিলিস মশা
    • গ. মাছি
    • ঘ. ইঁদুর
    উত্তর: ক. এডিস মশা
    চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যাতে জ্বরের সঙ্গে তীব্র গিঁটে ব্যথা হয়। এডিস (Aedes) মশা কামড়ালে এই ভাইরাস ছড়ায়। ডেঙ্গুও একই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়, তবে ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে। মাছি ও ইঁদুর এই রোগ ছড়ায় না। এই রোগে আক্রান্ত মানুষকে মশা কামড়ালে সেই মশা আবার সুস্থ মানুষের কাছে ভাইরাস পৌঁছে দেয়।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলায় কামড়ায়।
    এডিস মশার গায়ে সাদা-কালো ডোরা দাগ থাকে, তাই একে বাঘা মশাও বলা হয়।
    জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেললে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি কমানো যায়।
  51. ১০২. Thalassemia হলো—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ থ্যালাসেমিয়া
    • ক. Thyroid জনিত রোগ
    • খ. রক্তের জন্মগত ত্রুটি
    • গ. Osteoporosis
    • ঘ. Atherosclerosis
    উত্তর: খ. রক্তের জন্মগত ত্রুটি
    থ্যালাসেমিয়া মা-বাবার জিনের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে আসা একটি রক্তের রোগ। এতে হিমোগ্লোবিন তৈরির ত্রুটি থাকে, ফলে লোহিত রক্তকণিকা ঠিকভাবে তৈরি হয় না এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। তাই এটি রক্তের জন্মগত ত্রুটি। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা, অস্টিওপোরোসিস হাড়ের সমস্যা এবং অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ধমনির সমস্যা, এগুলো আলাদা ধরনের।
    মনে রাখুন:
    বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাহক শনাক্ত করলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
    গুরুতর থ্যালাসেমিয়ায় রোগীকে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়।
    ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।
    থ্যালাসেমিয়া মূলত হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশ তৈরির জিনগত ত্রুটি থেকে হয়, তাই এটি সংক্রামক নয়।
  52. ১০৩. যে জীবাণুর সংক্রমণে জরায়ুর মুখে ক্যান্সার হয় তার নাম কী?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. HIV
    • খ. HPV
    • গ. Hepatitis B Virus
    • ঘ. Candida albicans
    উত্তর: খ. HPV
    জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) নামের একটি ভাইরাস। এটি যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। HIV এইডস রোগ ঘটায়, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস যকৃতের রোগ ঘটায়, আর Candida albicans একটি ছত্রাক, যা সাধারণত ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ঘটায়। সুতরাং ক্যান্সারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভাইরাস হলো HPV।
    মনে রাখুন:
    HPV-এর বিরুদ্ধে টিকা আছে, যা কিশোরীদের দিলে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে।
    HPV-এর ১৬ ও ১৮ নম্বর ধরন থেকে বেশিরভাগ জরায়ুমুখের ক্যান্সার হয়।
    প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষায় জরায়ুমুখের ক্যান্সার আগেভাগে ধরা যায়।
    জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই নিয়মিত পরীক্ষা করানো জরুরি।
  53. ১০৪. এইডস রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. Herpes simplex
    • খ. Picoma virus
    • গ. Coxsachie virus
    • ঘ. Human immunodeficiency virus
    উত্তর: ঘ. Human immunodeficiency virus
    এইডস (AIDS) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস হলো এইচআইভি, অর্থাৎ Human Immunodeficiency Virus। এই ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে সামান্য সংক্রমণেও শরীর কাবু হয়ে পড়ে। বাকি বিকল্পগুলো অন্য ভাইরাস: Herpes simplex ঠোঁট বা যৌনাঙ্গে ঘা করে, আর Coxsackie ও Picorna ভাইরাস সাধারণত জ্বর ও গলার সংক্রমণ ঘটায়।
    মনে রাখুন:
    এইচআইভি রক্ত, অনিরাপদ যৌন সংসর্গ এবং সংক্রমিত মায়ের থেকে শিশুর দেহে ছড়াতে পারে। সাধারণ স্পর্শে বা একসঙ্গে খেলে ছড়ায় না।
    AIDS-এর পূর্ণরূপ Acquired Immuno Deficiency Syndrome।
    ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস।
  54. ১০৫. The scientific study of and treatment of tumors in the body is—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসাশাস্ত্রের শাখা
    • ক. Oncology
    • খ. Cardiology
    • গ. Ophthalmology
    • ঘ. Neurology
    উত্তর: ক. Oncology
    শরীরের টিউমার ও ক্যান্সারের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন এবং চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা চিকিৎসাশাস্ত্রের শাখাকে Oncology বলে। গ্রিক ভাষায় ‘onkos’ মানে ফোলা বা পিণ্ড, সেখান থেকেই এই নামের উৎপত্তি। অন্য শব্দগুলো ভিন্ন শাখা: Cardiology হলো হৃদরোগবিদ্যা, Ophthalmology হলো চক্ষুবিদ্যা, আর Neurology হলো স্নায়ুবিদ্যা। তাই টিউমারের প্রশ্নে উত্তর Oncology।
    মনে রাখুন:
    Oncology-র বিশেষজ্ঞকে oncologist বলা হয়।
    অন্য শাখা: Nephrology (কিডনি), Dermatology (ত্বক), Paediatrics (শিশুরোগ), Haematology (রক্ত)।
    Radiology শাখায় এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই দিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়।
    Cardiology-র বিশেষজ্ঞকে cardiologist এবং Neurology-র বিশেষজ্ঞকে neurologist বলা হয়।
  55. ১০৬. নিউমোনিয়া রোগে দেহের কোন অংশ আক্রান্ত হয়?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউমোনিয়া
    • ক. ফুসফুস
    • খ. গলা
    • গ. লিভার
    • ঘ. নাক
    উত্তর: ক. ফুসফুস
    নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ, যাতে ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রদাহ হয়। ফলে জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। গলা, লিভার বা নাক এই রোগের প্রধান আক্রান্ত অঙ্গ নয়। আক্রান্ত বায়ুথলিতে তরল জমে যায়, তাই রক্তে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর একটি বড় কারণ এই রোগ।
    মনে রাখুন:
    শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
    যক্ষ্মাও ফুসফুসের রোগ, যার কারণ ব্যাকটেরিয়া।
    হেপাটাইটিস লিভারের রোগ।
    নিউমোনিয়ার জন্য PCV টিকা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে দেওয়া হয়। ধূমপান ও ঠান্ডা লাগা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  56. ১০৭. 'চিকুনগুনিয়া' কীসের মাধ্যমে ছড়ায়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকুনগুনিয়া
    • ক. এডিস মশার মাধ্যমে
    • খ. পানির মাধ্যমে
    • গ. বানরের মাধ্যমে
    • ঘ. বাতাসের মাধ্যমে
    উত্তর: ক. এডিস মশার মাধ্যমে
    চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস (Aedes) জাতীয় মশার কামড়ে ছড়ায়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। ডেঙ্গু রোগও এই মশার মাধ্যমেই ছড়ায়। রোগটি পানি, বাতাস বা বানরের মাধ্যমে সরাসরি ছড়ায় না। তাই বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই এই রোগ ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ উপায়।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশায়।
    ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশায়।
    চিকুনগুনিয়া নামটি আফ্রিকার মাকোন্দে ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘বেঁকে যাওয়া’। রোগে জোড়ায় ব্যথা হয় বলে রোগী কুঁজো হয়ে যায়।
    চিকুনগুনিয়ায় জ্বর সাধারণত কয়েক দিনে সারে, কিন্তু গিঁটের ব্যথা মাসের পর মাস থাকতে পারে।
  57. ১০৮. কোন মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া জ্বর হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. কিউলেক্স
    • খ. এনোফিলিস
    • গ. এডিস
    • ঘ. Sand fly
    উত্তর: গ. এডিস
    চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস (Aedes) মশার কামড়ে ছড়ায়। এডিস মশা পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলা কামড়ায়। এই মশাই ডেঙ্গুও ছড়ায়। অন্য মশাগুলোর সঙ্গে এই রোগের সম্পর্ক নেই। কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস মশা অন্য রোগের বাহক, আর বালিমাছি মশা নয়, এটি আলাদা এক পতঙ্গ।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা।
    ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশা।
    কালাজ্বর ছড়ায় বালিমাছি (Sand fly)।
    এডিস মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাস ছড়ায়।
    চিকুনগুনিয়া শব্দটি আফ্রিকার একটি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘বেঁকে যাওয়া’। রোগীর গাঁটে ব্যথা হয় বলে সে বেঁকে হাঁটে।
    বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ঢাকায় চিকুনগুনিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
  58. ১০৯. নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের কোন অঙ্গ?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বাসতন্ত্রের রোগ
    • ক. কলিজা
    • খ. হৃৎপিণ্ড
    • গ. ফুসফুস
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: গ. ফুসফুস
    নিউমোনিয়া এমন রোগ, যাতে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রদাহ হয় এবং থলিতে তরল জমে। তাই আক্রান্ত অঙ্গ ফুসফুস (Lung)। এতে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। যকৃত (কলিজা), হৃৎপিণ্ড ও প্লীহা এই রোগে আক্রান্ত হয় না।
    মনে রাখুন:
    পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ নিউমোনিয়া।
    প্রতিবছর ১২ নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালিত হয়।
    নিউমোনিয়ার একটি পরিচিত জীবাণু স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়ে নামের ব্যাকটেরিয়া।
    নিউমোনিয়ায় ফুসফুসের বায়ুথলিতে তরল জমে বলে গ্যাস বিনিময় ব্যাহত হয়।
    নিউমোনিয়ার টিকা পিসিভি (PCV) বাংলাদেশের ইপিআই কর্মসূচিতে শিশুদের দেওয়া হয়।
  59. ১১০. ডায়াবেটিস (Diabetes) রোগ হয়—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. ইনসুলিনের অভাবে
    • খ. থাইরোক্সিনের অভাবে
    • গ. ইস্ট্রোজেনের অভাবে
    • ঘ. গ্রোথ হরমোনের অভাবে
    উত্তর: ক. ইনসুলিনের অভাবে
    আমাদের অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশের নাম আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স। সেখানকার বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন (Insulin) নামে হরমোন তৈরি হয়, যা রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের অভাব হলে রক্তে গ্লুকোজ জমে যায় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই রোগকেই ডায়াবেটিস (বহুমূত্র) বলে।
    মনে রাখুন:
    থাইরক্সিনের অভাবে গলগণ্ড হয়, আর গলগণ্ড মূলত আয়োডিনের অভাবে হয়।
    বৃদ্ধি হরমোনের অভাবে বামনত্ব দেখা দেয়।
    ইনসুলিন আবিষ্কারের সঙ্গে ব্যান্টিং ও বেস্টের নাম জড়িত (১৯২১)।
    আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নামে আরেকটি হরমোন তৈরি হয়, যা রক্তের গ্লুকোজ বাড়ায়।
  60. ১১১. খাবার স্যালাইন বানানোর পর খাওয়ানো যাবে—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাবার স্যালাইন
    • ক. ৬ ঘণ্টা
    • খ. ১২ ঘণ্টা
    • গ. ৩ ঘণ্টা
    • ঘ. ২ ঘণ্টা
    উত্তর: খ. ১২ ঘণ্টা
    ঘরে বা প্যাকেট থেকে বানানো খাবার স্যালাইন (Oral Rehydration Solution, ORS) বেশিক্ষণ রেখে দিলে তা দূষিত হতে পারে। তাই বানানোর পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়াতে হয়। এর পরে বাকি থাকলে ফেলে দিয়ে নতুন করে বানাতে হবে।
    মনে রাখুন:
    ডায়রিয়ায় শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, খাবার স্যালাইন সেই ঘাটতি পূরণ করে।
    খাবার স্যালাইনের আবিষ্কারে বাংলাদেশের বড় ভূমিকা আছে। ১৯৭১ সালে শরণার্থী শিবিরে কলেরার চিকিৎসায় ডা. দিলীপ মহলানবিশ একে ব্যাপকভাবে কাজে লাগান।
    ঢাকার আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B) ডায়রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বখ্যাত।
  61. ১১২. পানিবাহিত রোগ কোনটি?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিবাহিত রোগ
    • ক. গলগণ্ড
    • খ. হেপাটাইটিস A
    • গ. ম্যালেরিয়া
    • ঘ. কালাজ্বর
    উত্তর: খ. হেপাটাইটিস A
    পানিবাহিত রোগ হলো যে রোগের জীবাণু দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস A ভাইরাস দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এবং যকৃতের প্রদাহ ঘটায়। অন্য রোগগুলো আলাদা পথে ছড়ায়। গলগণ্ড হয় আয়োডিনের অভাবে, ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশা, আর কালাজ্বর ছড়ায় বালিমাছি (Sand fly)।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস A ও E পানিবাহিত, আর B ও C মূলত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়।
    কলেরা, টাইফয়েড ও আমাশয় পানিবাহিত রোগের পরিচিত উদাহরণ।
    কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি নামের ব্যাকটেরিয়া।
    পানি ফুটিয়ে বা ক্লোরিন দিয়ে বিশুদ্ধ করলে পানিবাহিত রোগ অনেকটা ঠেকানো যায়।
    টাইফয়েডের জীবাণু সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) নামের ব্যাকটেরিয়া।
  62. ১১৩. জন্ম নিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী পদ্ধতি কোনটি?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ম নিয়ন্ত্রণ
    • ক. Copper T
    • খ. Ligation
    • গ. Vasectomy
    • ঘ. Hysterectomy
    উত্তর: ক. Copper T
    কপার-টি (Copper T) তামার তারে মোড়ানো ছোট T-আকৃতির একটি ডিভাইস, যা জরায়ুর ভেতরে বসানো হয়। এটি অস্থায়ী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি, কারণ প্রয়োজন হলে খুলে ফেলা যায় এবং তখন আবার সন্তান ধারণ সম্ভব। অন্য তিনটি ব্যবস্থা স্থায়ী। লাইগেশন (নারীর নল বন্ধ করা) ও ভ্যাসেকটমি (পুরুষের নালি বন্ধ করা) স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। হিস্টেরেকটমি অস্ত্রোপচারে জরায়ু কেটে ফেলা হয়, ফলে আর সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না।
    মনে রাখুন:
    অস্থায়ী পদ্ধতির উদাহরণ: খাবার বড়ি, কনডম, ইনজেকশন, ইমপ্যান্ট।
    কপার-টি একবার বসালে কয়েক বছর পর্যন্ত কাজ করে, প্রয়োজন হলে তখনই খুলে ফেলা যায়।
    কনডম জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যৌন সংক্রামক রোগ থেকেও রক্ষা করে।
  63. ১১৪. রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে কী হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস
    • ক. Anemia
    • খ. Cyanosis
    • গ. Jaundice
    • ঘ. Clubbing
    উত্তর: গ. Jaundice
    যকৃত পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামে হলুদ রঙ্গক তৈরি করে। যকৃতের রোগ বা পিত্তনালি বন্ধ হলে এই রঙ্গক রক্তে বেড়ে যায় এবং চামড়া ও চোখ হলুদ দেখায়। এই অবস্থাকে জন্ডিস (Jaundice) বলে। অন্য তিনটি অবস্থা আলাদা কারণে হয়।
    মনে রাখুন:
    রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তশূন্যতা (Anaemia) হয়।
    অক্সিজেনের অভাবে ত্বক নীলচে হলে তাকে সায়ানোসিস (Cyanosis) বলে।
    আঙুলের ডগা মোটা ও বাঁকা হয়ে গেলে তাকে ক্লাবিং (Clubbing) বলে।
    নবজাতকদের মধ্যে জন্ডিস অনেক সময় দেখা যায়।
    হেপাটাইটিস ভাইরাস যকৃতের প্রদাহ ঘটিয়ে জন্ডিস করতে পারে।
  64. ১১৫. Penicillin কে আবিষ্কার করেন?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ আবিষ্কার
    • ক. Robert Brown
    • খ. Alexander Fleming
    • গ. Robert Koch
    • ঘ. Joseph Lister
    উত্তর: খ. Alexander Fleming
    ১৯২৮ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং লক্ষ করেন, একটি ছত্রাক (পেনিসিলিয়াম) তাঁর পেট্রিডিশের ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলেছে। এভাবেই প্রথম এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কৃত হয়। এ কাজের জন্য তিনি ১৯৪৫ সালে হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইনের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার পান।
    মনে রাখুন:
    রবার্ট কখ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন, আর জোসেফ লিস্টার জীবাণুনাশক ব্যবহার চালু করেন।
    রবার্ট ব্রাউন ১৮৩১ সালে কোষের নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
    ফ্লেমিং ১৯২১ সালে লাইসোজাইম নামের জীবাণুনাশক উৎসেচকও আবিষ্কার করেন।
    পেনিসিলিন তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম নোটেটাম নামের ছত্রাক থেকে।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আহত সৈন্যদের চিকিৎসায় পেনিসিলিনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।
  65. ১১৬. Normal Saline এ কী আছে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্যালাইন
    • ক. 0.9% Sodium chloride
    • খ. 0.5% Sodium chloride
    • গ. 0.75% Sodium chloride
    • ঘ. 3% Sodium chloride
    উত্তর: ক. 0.9% Sodium chloride
    নরমাল স্যালাইন (Normal Saline) হলো পানিতে ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড মেশানো দ্রবণ, অর্থাৎ ১০০ মিলিলিটারে ০.৯ গ্রাম লবণ। এর লবণের মাত্রা রক্তরসের মতো বলে শিরায় দিলে কোষের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই একে আইসোটনিক দ্রবণ বলা হয়। বেশি ঘন দ্রবণে (যেমন ৩%) কোষ থেকে পানি বেরিয়ে কোষ কুঁচকে যায়, আর বেশি পাতলা দ্রবণে কোষ ফুলে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    ৫% ডেক্সট্রোজ ও রিংগার্স ল্যাকটেট অন্য দুটি পরিচিত শিরায় দেওয়ার দ্রবণ।
    ৩% সোডিয়াম ক্লোরাইড হাইপারটোনিক দ্রবণ, যা বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
    নরমাল স্যালাইনে প্রতি লিটারে ৯ গ্রাম লবণ থাকে।
  66. ১১৭. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা 200 mg/dL এর বেশি কোন রোগে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. Diabetes
    • খ. Asthma
    • গ. Jaundice
    • ঘ. Anaemia
    উত্তর: ক. Diabetes
    ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের অভাবে বা কাজ না করার কারণে রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে পারে না, ফলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। খাওয়ার পর যেকোনো সময়ের পরীক্ষায় এই মাত্রা ২০০ mg/dL বা তার বেশি হলে এবং লক্ষণ থাকলে ডায়াবেটিস ধরা হয়। হাঁপানি, জন্ডিস বা রক্তশূন্যতায় রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা এভাবে বাড়ে না।
    মনে রাখুন:
    খালি পেটে গ্লুকোজ ১২৬ mg/dL-এর বেশি হলেও ডায়াবেটিস ধরা হয়।
    সুস্থ মানুষের খালি পেটে গ্লুকোজ সাধারণত ৭০ থেকে ১০০ mg/dL।
    প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়।
    রক্তে গ্লুকোজ মাপার যন্ত্রকে গ্লুকোমিটার বলে।
    সুস্থ মানুষের রক্তে গ্লুকোজ প্রতি ডেসিলিটারে ১০০ মিলিগ্রামের নিচে থাকে।
  67. ১১৮. Dialysis করা প্রয়োজন হয় কোন রোগে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কিডনি রোগ
    • ক. Respiratory failure
    • খ. Hepatic failure
    • গ. Cardiac failure
    • ঘ. Renal failure
    উত্তর: ঘ. Renal failure
    কিডনি বা বৃক্ক রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য প্রস্রাব হিসেবে বের করে দেয়। কিডনি অকেজো হলে (Renal failure) এই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তখন যন্ত্রের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়, একে ডায়ালাইসিস (Dialysis) বলে। ফুসফুস, যকৃৎ বা হৃৎপিণ্ডের অকার্যকারিতায় ডায়ালাইসিস করা হয় না, এসব ক্ষেত্রে অন্য চিকিৎসা লাগে।
    মনে রাখুন:
    ডায়ালাইসিসের পরে স্থায়ী সমাধান হলো কিডনি প্রতিস্থাপন।
    ডায়ালাইসিস দুই ধরনের: হিমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।
    প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০ লাখ নেফ্রন থাকে।
    কিডনি নষ্ট হলে রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন জমে যায়।
    ডায়ালাইসিস যন্ত্রকে অনেক সময় কৃত্রিম কিডনি বলা হয়।
  68. ১১৯. কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস কখন দেয়া হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জরুরি চিকিৎসা
    • ক. Respiratory failure
    • খ. Liver failure
    • গ. Cardiac arrest
    • ঘ. Renal failure
    উত্তর: ক. Respiratory failure
    ফুসফুস যখন নিজে থেকে শরীরে যথেষ্ট অক্সিজেন ঢোকাতে বা কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করতে পারে না, তখন তাকে শ্বাসতন্ত্রের অকার্যকারিতা (Respiratory failure) বলে। তখন যন্ত্র (ভেন্টিলেটর) বা মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়া হয়। অন্য অবস্থাগুলোতে কৃত্রিম শ্বাসের বদলে আলাদা চিকিৎসা লাগে।
    মনে রাখুন:
    হৃৎপিণ্ড থেমে গেলে (Cardiac arrest) বুকে চাপ দিয়ে সিপিআর (CPR) করতে হয়।
    সিপিআর-এ সাধারণত ৩০ বার বুকে চাপের পর ২ বার কৃত্রিম শ্বাস দেওয়া হয়।
    CPR-এর পুরো নাম Cardiopulmonary Resuscitation।
    মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার সময় আমাদের নিঃশ্বাসের বাতাস রোগীর ফুসফুসে যায়, আর তাতে তখনও প্রায় ১৬ ভাগ অক্সিজেন থাকে।
  69. ১২০. কত ওজনের Newborn বাচ্চাকে Low Birth Weight বলে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশুস্বাস্থ্য
    • ক. ৩ কেজির নিচে
    • খ. ২½ কেজির নিচে
    • গ. ২ কেজির নিচে
    • ঘ. ১½ কেজির নিচে
    উত্তর: খ. ২½ কেজির নিচে
    জন্মের সময় শিশুর ওজন ২৫০০ গ্রাম বা ২½ কেজির কম হলে তাকে কম জন্ম-ওজনের শিশু (Low Birth Weight) বলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই মান নির্ধারণ করেছে। এমন শিশুদের সংক্রমণ ও অপুষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ৩ কেজি নয়, ২½ কেজিই এখানে সীমারেখা। ২ কেজি বা ১½ কেজির নিচের শিশুরা আরও ঝুঁকিতে থাকে, কিন্তু মান ধরা হয় ২½ কেজি।
    মনে রাখুন: শিশুর স্বাভাবিক জন্ম-ওজন গড়ে ৩ কেজির কাছাকাছি।
    ১৫০০ গ্রামের নিচে হলে তাকে খুব কম জন্ম-ওজনের শিশু বলে।
  70. ১২১. কোন টীকাটি ইপিআই প্রোগ্রামে দেয়া হয় না?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকাদান
    • ক. MMR
    • খ. BCG
    • গ. DPT
    • ঘ. Polio
    উত্তর: ক. MMR
    ইপিআই (EPI – Expanded Programme on Immunization) হলো বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি। এতে বিসিজি, পোলিও, ডিপিটি (বর্তমানে পেন্টাভ্যালেন্ট), হাম-রুবেলা প্রভৃতি টিকা দেওয়া হয়। এম.এম.আর (হাম, মাম্পস, রুবেলা) তখন এই তালিকায় ছিল না, তাই এটিই এমন টিকা, যা ইপিআই-তে দেওয়া হয় না।
    মনে রাখুন:
    বিসিজি যক্ষ্মার, ডিপিটি ডিপথেরিয়া-হুপিং কাশি-ধনুষ্টংকারের টিকা।
    বাংলাদেশে ইপিআই কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৭৯ সালে।
    বিসিজি টিকা জন্মের পরপরই দেওয়া হয়।
    ইপিআই শুরুর সময় ছয়টি মারাত্মক রোগের টিকা দেওয়া হতো: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, পোলিও ও হাম।
    শিশুর এক বছর বয়সের মধ্যেই সব টিকা সম্পূর্ণ করা উচিত।
  71. ১২২. কোনটি ভেক্টরবাহিত রোগ নয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভেক্টরবাহিত রোগ
    • ক. ম্যালেরিয়া
    • খ. কালাজ্বর
    • গ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    • ঘ. ডেঙ্গু জ্বর
    উত্তর: গ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    রোগজীবাণু বহন করে অন্যকে সংক্রমিত করে এমন প্রাণীকে ভেক্টর (Vector) বলে। ম্যালেরিয়ার ভেক্টর অ্যানোফিলিস মশা, ডেঙ্গুর এডিস মশা, আর কালাজ্বরের বালিমাছি। ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, এর কোনো ভেক্টর নেই। তাই এটিই ভেক্টরবাহিত রোগ নয়।
    মনে রাখুন:
    ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া যায়।
    চিকুনগুনিয়া ছড়ায় এডিস মশা, আর ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশা।
    প্লেগের জীবাণু ইঁদুরের গায়ের মাছির মাধ্যমে ছড়ায়।
    সাধারণ নিয়ম: যে কাজ করে তাকে বোঝাতে অনেক সময় -er বা -or বসে, যেমন teacher, editor। তবে cobbler, tailor ও butcher এভাবে ভিন্ন শেষাংশের পেশা-শব্দ, এগুলো আলাদা করে মনে রাখতে হয়।
  72. ১২৩. স্ট্রোক শরীরের কোন অংশের রোগ?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ট্রোক
    • ক. মস্তিষ্ক
    • খ. যকৃত
    • গ. কিডনি
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: ক. মস্তিষ্ক
    মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে স্ট্রোক (Stroke) হয়। তখন সেই অংশের কোষ অক্সিজেন না পেয়ে মারা যায়, ফলে শরীরের এক পাশ অবশ বা কথা বলতে অসুবিধা হয়। তাই স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ, যকৃত, কিডনি বা প্লীহার নয়।
    মনে রাখুন:
    উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি।
    স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের: রক্ত জমাট বেঁধে নালি বন্ধ হওয়া এবং রক্তনালি ফেটে যাওয়া।
    প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়।
    ধূমপান ও অতিরিক্ত কোলেস্টেরলও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
    স্ট্রোকের পর নিয়মিত ফিজিওথেরাপি করালে রোগীর চলাফেরার ক্ষমতা অনেকটা ফিরে আসতে পারে।
  73. ১২৪. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্য সঠিক নয়—বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রোগ্রামার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. এ রোগ মানবদেহে কিডনি নষ্ট করে
    • খ. চিনি জাতীয় খাবার খেলে
    • গ. এ রোগ হলে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
    • ঘ. ইনসুলিনের অভাবে এ রোগ হয়
    উত্তর: খ. চিনি জাতীয় খাবার খেলে
    ডায়াবেটিস মেলিটাস হলো এমন একটি রোগ, যাতে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে ইনসুলিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তের গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করিয়ে মাত্রা ঠিক রাখে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে ডায়াবেটিস হয়। দীর্ঘদিন চললে কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়।
    কেবল মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার খেলেই এই রোগ হয়, কথাটি ঠিক নয়। তবে রোগী হলে এসব খাবার কম খেতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট।
    ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ের লাঙ্গারহ্যান্সের দ্বীপপুঞ্জে।
    বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ১৪ নভেম্বর।
  74. ১২৫. ডেঙ্গু জ্বরে (Dengue) শরীরে—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. হিমোগ্লোবিন কমে যায়
    • খ. Platelet বেড়ে যায়
    • গ. Platelet কমে যায়
    • ঘ. হিমোগ্লোবিন বেড়ে যায়
    উত্তর: গ. Platelet কমে যায়
    ডেঙ্গু ভাইরাস (Dengue Virus) আক্রমণ করলে রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট (Platelet) দ্রুত কমে যায়। প্লাটিলেটের কাজ রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা, তাই এর সংখ্যা খুব কমে গেলে শরীরের নানা জায়গা থেকে রক্তপাত হতে পারে। সুস্থ মানুষের প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে সাধারণত দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ প্লাটিলেট থাকে। এর অভাবই ডেঙ্গুর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস (Aedes) মশার কামড়ে। এ মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে এবং দিনের বেলায় কামড়ায়।
    ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ আছে।
    গুরুতর ডেঙ্গুকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়।
  75. ১২৬. জন্ডিসে আক্রান্ত হয়—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস
    • ক. চোখ
    • খ. ত্বক
    • গ. লিভার
    • ঘ. হার্ট
    উত্তর: গ. লিভার
    জন্ডিস (Jaundice) আসলে যকৃৎ বা লিভারের রোগ। লিভার ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে বিলিরুবিন নামের হলুদ রঞ্জক জমে যায়, তখন চোখ ও ত্বক হলুদ দেখায়। কাজেই চোখ ও ত্বকের হলুদ রং রোগের লক্ষণ মাত্র, আক্রান্ত অঙ্গ হলো লিভার। লিভার পিত্তরস তৈরি করে, আর পিত্তরস চর্বি হজমে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    ভাইরাসজনিত জন্ডিস বা হেপাটাইটিস হয় A, B, C, D ও E ভাইরাস থেকে। এর মধ্যে A ও E দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
    লিভার মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি।
  76. ১২৭. কোনটি ছোঁয়াচে রোগ নয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছোঁয়াচে রোগ
    • ক. মামস
    • খ. AIDS
    • গ. যক্ষ্মা
    • ঘ. স্ক্যাবিস (Scabies)
    উত্তর: খ. AIDS
    যে রোগ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে বা কাছাকাছি থাকলে সহজে অন্যের শরীরে ছড়ায়, তাকে ছোঁয়াচে রোগ বলে। মামস ও যক্ষ্মা শ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়, আর স্ক্যাবিস (খোসপাঁচড়া) ছড়ায় ত্বকের সরাসরি স্পর্শে। এইডস (AIDS) এইচআইভি ভাইরাস থেকে হয়, কিন্তু এটি সাধারণ মেলামেশা বা স্পর্শে ছড়ায় না। রক্ত, অনিরাপদ যৌনসংসর্গ এবং আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুর দেহে এটি ছড়াতে পারে।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মা হয় মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামের ব্যাকটেরিয়া থেকে।
    মামস ভাইরাসজনিত রোগ।
    স্ক্যাবিস হয় এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র মাইটের কারণে।
    হাত মেলানো, একসঙ্গে খাওয়া বা মশার কামড়ে এইডস ছড়ায় না।
  77. ১২৮. পাঁচ বছরের নিচে বাচ্চার সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ কোনটি নয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশুস্বাস্থ্য
    • ক. ডায়রিয়া
    • খ. নিউমোনিয়া
    • গ. অপুষ্টিজনিত
    • ঘ. ক্যান্সার
    উত্তর: ঘ. ক্যান্সার
    পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া। এই রোগগুলো দরিদ্র দেশে সহজেই ছড়ায় এবং ছোট শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় বিপদ বেড়ে যায়। ক্যান্সার শিশুদের হয় বটে, কিন্তু মৃত্যুর প্রধান কারণের মধ্যে পড়ে না।
    মনে রাখুন:
    ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইন, আর নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি ঠেকাতে টিকা ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার জীবন বাঁচায়।
    পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যু হিসাব করা হয় প্রতি হাজার জীবিত জন্মে কতজন মারা যায়, সেই হারে।
    বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) চালু হয় ১৯৭৯ সালে।
  78. ১২৯. ইসিজির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ নির্ণয়
    • ক. ফুসফুসের
    • খ. চর্মের
    • গ. হার্টের
    • ঘ. মস্তিষ্কের
    উত্তর: গ. হার্টের
    ইসিজি (ECG বা Electrocardiogram) যন্ত্র হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের সঙ্গে সৃষ্ট বিদ্যুৎ-সংকেত মেপে গ্রাফ আঁকে। সেই গ্রাফ দেখে ডাক্তার বুঝতে পারেন হৃৎপিণ্ডের ছন্দ ঠিক আছে কি না। তাই ইসিজি দিয়ে হৃদরোগ নির্ণয় করা হয়।
    মনে রাখুন:
    মস্তিষ্কের বিদ্যুৎ-সংকেত মাপা হয় ইইজি (EEG) দিয়ে।
    পেশির বিদ্যুৎ-সংকেত মাপা হয় ইএমজি (EMG) দিয়ে।
    হৃৎপিণ্ডের গঠন দেখতে ইকো (Echocardiogram) করা হয়।
    ইসিজির গ্রাফে P, QRS ও T নামের তিনটি তরঙ্গ দেখা যায়।
    ইসিজি যন্ত্র আবিষ্কার করেন উইলেম আইনথোভেন, এ জন্য তিনি ১৯২৪ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
    রক্তনালির ভেতরের ছবি দেখতে এনজিওগ্রাফি করা হয়।
  79. ১৩০. হেপাটাইটিস (জন্ডিস) রোগের প্রধান কারণ—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হেপাটাইটিস
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ছত্রাক
    • গ. ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. ভাইরাস
    হেপাটাইটিস (Hepatitis) মানে যকৃতের প্রদাহ, আর জন্ডিস এর একটি প্রধান লক্ষণ। হেপাটাইটিস A, B, C, D ও E নামের পাঁচ ধরনের ভাইরাস এই রোগ ঘটায়। তাই এর প্রধান কারণ ভাইরাস।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস B ও C রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। এর মধ্যে B-এর বিরুদ্ধে টিকা আছে।
    হেপাটাইটিস A ও E দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
    ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস।
    হেপাটাইটিস ভাইরাস ছাড়াও অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা কিছু ওষুধ যকৃতে প্রদাহ ঘটাতে পারে।
    হেপাটাইটিস A সাধারণত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবারে সেরে যায়।
    হেপাটাইটিস B-এর টিকা শিশুদের ইপিআই-এর পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার অংশ।
  80. ১৩১. কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. থাইরয়েড
    • খ. ইনসুলিন
    • গ. গ্রোথ হরমোন
    • ঘ. গ্লোকাগন
    উত্তর: খ. ইনসুলিন
    ইনসুলিন (Insulin) অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে তৈরি হয় এবং রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। এই হরমোন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়, এ রোগের নাম ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus) বা বহুমূত্র।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন রক্তে শর্করা কমায়, আর গ্লুকাগন বাড়ায়।
    ১৯২১ সালে ব্যান্টিং ও বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।
    ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস।
    ডায়াবেটিসে প্রস্রাবের সঙ্গে গ্লুকোজ বেরিয়ে আসে এবং রোগীর বারবার প্রস্রাব ও অতিরিক্ত পিপাসা হয়।
    অগ্ন্যাশয়ের যে অংশে ইনসুলিন তৈরি হয়, তার নাম আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স।
    টাইপ-১ ডায়াবেটিসের রোগীকে প্রতিদিন ইনসুলিন নিতে হয়।
  81. ১৩২. গ্লোমারোলোনেফ্রোইটিস কোন অংশের অসুখ?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কিডনি রোগ
    • ক. হার্ট
    • খ. কিডনী
    • গ. লিভার
    • ঘ. ব্রেইন
    উত্তর: খ. কিডনী
    গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস (Glomerulonephritis) কিডনির রোগ। কিডনির ভেতরে নেফ্রন নামে ক্ষুদ্র ছাঁকনি-একক আছে, আর তার একটি অংশ গ্লোমেরুলাস রক্ত ছেঁকে বর্জ্য আলাদা করে। এই গ্লোমেরুলাসে প্রদাহ হলে কিডনির ছাঁকার কাজ নষ্ট হয়, তখন এই রোগ হয়।
    মনে রাখুন:
    কিডনির প্রধান কাজ রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করা।
    প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০ লাখ নেফ্রন থাকে।
    কিডনিকে বাংলায় বৃক্কও বলা হয়।
    নেফ্রনের ছাঁকনি অংশের নাম বোম্যানস ক্যাপসুল, আর তার ভেতরেই গ্লোমেরুলাস থাকে।
    এ রোগে প্রস্রাবে রক্ত বা প্রোটিন যেতে পারে এবং মুখ-পা ফুলে যায়।
    গলায় স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের পর এ রোগ দেখা দিতে পারে।
  82. ১৩৩. খাবার স্যালাইন আবিষ্কারে মূল অবদান রাখে—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাবার স্যালাইন
    • ক. WHO
    • খ. UNESCO
    • গ. ICDDR,B
    • ঘ. UNICEF
    উত্তর: গ. ICDDR,B
    খাবার স্যালাইন বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS) ডায়রিয়ায় দেহ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ঢাকার কলেরা গবেষণাগারের (বর্তমান icddr,b) গবেষকরা এই সমাধান ব্যবহারের পদ্ধতি দাঁড় করান। তাই এর আবিষ্কারে icddr,b-এর অবদান সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    ডায়রিয়ায় ওআরএস সময়মতো খাওয়ালে শিশুর প্রাণ বাঁচে।
    বিখ্যাত চিকিৎসা-সাময়িকী ল্যানসেট একে বিংশ শতকের অন্যতম বড় চিকিৎসা আবিষ্কার বলেছে।
    icddr,b-এর পূর্ণ নাম International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh।
    ওআরএস-এ গ্লুকোজ ও লবণ থাকে, আর গ্লুকোজ অন্ত্রে লবণ ও পানি শোষণে সাহায্য করে।
    ডায়রিয়ার শিশুকে ওআরএস দেওয়ার পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হয়।
  83. ১৩৪. বর্তমান বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ রোগ কোনটি?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. AIDS
    • খ. প্লেগ
    • গ. বসন্ত
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. AIDS
    এইডস (AIDS) এর পূর্ণ নাম Acquired Immune Deficiency Syndrome। এইচআইভি (HIV) ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, তখন সামান্য সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এই রোগের এখনও সম্পূর্ণ নিরাময় নেই, তাই একে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগগুলোর একটি মনে করা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এইডস শনাক্ত হয়।
    প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস।
    এইচআইভির পূর্ণ নাম Human Immunodeficiency Virus।
    এইডস রোগীর শরীরে সিডি৪ (CD4) নামের শ্বেতকণিকা কমে যায়।
    এইচআইভি ভাইরাস রক্ত, অনিরাপদ যৌনমিলন, সংক্রমিত সুই-সিরিঞ্জ এবং মায়ের কাছ থেকে শিশুর দেহে ছড়াতে পারে। সাধারণ স্পর্শ বা একসঙ্গে খাওয়ায় ছড়ায় না।
  84. ১৩৫. হেমোডায়ালাইসিস চিকিৎসা পদ্ধতি—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কিডনি রোগ
    • ক. হার্ট-ফেইলরের
    • খ. স্ট্রোক এর
    • গ. কিডনী বিকলতার
    • ঘ. রেসপেরেটরি ফেইলরের
    উত্তর: গ. কিডনী বিকলতার
    কিডনি বা বৃক্ক রক্ত ছেঁকে বর্জ্য বের করে দেয়। কিডনি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেলে এই কাজ আর হয় না। তখন হেমোডায়ালাইসিস (Haemodialysis) যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীর রক্ত শরীরের বাইরে এনে পরিষ্কার করে আবার শরীরে ফেরত দেওয়া হয়। তাই এটি কিডনি বিকলতার চিকিৎসা।
    মনে রাখুন:
    কিডনি স্থায়ীভাবে নষ্ট হলে শেষ সমাধান কিডনি প্রতিস্থাপন।
    ডায়ালাইসিসের আরেকটি পদ্ধতি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।
    কিডনি নষ্ট হলে রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন জমে যায়।
    ডায়ালাইসিসের সময় রক্ত যন্ত্রের একটি পর্দার মধ্য দিয়ে যায়, যা বর্জ্য আলাদা করে।
    সাধারণত রোগীকে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হিমোডায়ালাইসিস নিতে হয়, প্রতিবার প্রায় চার ঘণ্টা।
  85. ১৩৬. কোনটি Immunoglobin এর প্রকারভেদ নয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. IgG
    • খ. IgM
    • গ. IgF
    • ঘ. IgE
    উত্তর: গ. IgF
    ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin) বা অ্যান্টিবডি এক ধরনের প্রোটিন, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে রক্ষা করে। এর পাঁচটি প্রধান ধরন আছে: IgG, IgM, IgA, IgD ও IgE। তাই IgF নামে কোনো ধরন নেই।
    মনে রাখুন:
    রক্তে সবচেয়ে বেশি থাকে IgG।
    অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত IgE।
    মায়ের দুধ ও লালার মতো নিঃসরণে থাকে IgA।
    সংক্রমণের শুরুতে প্রথম তৈরি হয় IgM।
    অ্যান্টিবডি জীবাণুর গায়ের অ্যান্টিজেন নামের বস্তুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে অকেজো করে দেয়।
    অ্যান্টিবডির আকার ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো।
    মায়ের শালদুধ শিশুকে অ্যান্টিবডি জোগায়।
    সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরেও অনেকদিন শরীরে কিছু অ্যান্টিবডি থেকে যায়।
  86. ১৩৭. ক্যান্সার চিকিৎসায় কোনটি ব্যবহার করা হয়?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. এমআরআই
    • খ. কেমোথেরাপি
    • গ. এনজিওগ্রাফি
    • ঘ. আলট্রাসনোগ্রাফি
    উত্তর: খ. কেমোথেরাপি
    ক্যান্সারে শরীরের কিছু কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে। কেমোথেরাপি (Chemotherapy) নামের চিকিৎসায় বিশেষ রাসায়নিক ওষুধ দিয়ে এই ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা বা তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করা হয়। অন্য তিনটি পদ্ধতি রোগ নির্ণয়ের জন্য, চিকিৎসার জন্য নয়।
    মনে রাখুন:
    এমআরআই: চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে শরীরের ভেতরের ছবি তোলা।
    আলট্রাসনোগ্রাফি: শব্দতরঙ্গ দিয়ে ছবি তোলা।
    এনজিওগ্রাফি: রক্তনালির ছবি তোলা।
    ক্যান্সারের অন্যান্য চিকিৎসা: অস্ত্রোপচার ও রেডিওথেরাপি (বিকিরণ চিকিৎসা)।
    ক্যান্সার কোষ শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে, একে মেটাস্টেসিস বলে।
    রোগ নির্ণয়ে বায়োপসি করা হয়, যাতে টিউমারের ছোট একটি অংশ নিয়ে অণুবীক্ষণে দেখা হয়।
    প্রতিবছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস।
  87. ১৩৮. কোনটি সোয়াইন ফ্লু-এর ভাইরাস?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. H₂N₁
    • খ. N₁H₁
    • গ. H₁N₁
    • ঘ. HN
    উত্তর: গ. H₁N₁
    সোয়াইন ফ্লু (Swine flu) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একটি ধরন, যার নাম H1N1। ভাইরাসের গায়ের দুটি প্রোটিনের নাম হেমাগ্লুটিনিন (H) এবং নিউরামিনিডেজ (N)। এই ভাইরাসে প্রথম ধরনের হেমাগ্লুটিনিন ও প্রথম ধরনের নিউরামিনিডেজ আছে, তাই এর নাম H1N1। নামটি H আগে, N পরে লেখা হয়, তাই N₁H₁ বা H₂N₁ ঠিক নয়। ২০০৯ সালে এটি মহামারির রূপ নেয়।
    মনে রাখুন:
    বার্ড ফ্লুর ভাইরাসের নাম H5N1।
    H1N1 প্রথমে শূকরের মধ্যে ছড়ায়, তাই নাম সোয়াইন ফ্লু।
    ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ তিন ধরনের হয়, আর মহামারির জন্য প্রধানত ‘এ’ ধরনটি দায়ী।
  88. ১৩৯. কোনটি অসংক্রামক রোগ?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ
    • ক. কলেরা
    • খ. ডায়াবেটিস
    • গ. টাইফয়েড
    • ঘ. আমাশয়
    উত্তর: খ. ডায়াবেটিস
    যে রোগ জীবাণুর মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়, তাকে সংক্রামক রোগ বলে। কলেরা, টাইফয়েড ও আমাশয় এ ধরনের রোগ। ডায়াবেটিস ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে হয়, তাই এটি জীবাণু ছড়ানো রোগ নয়, অসংক্রামক।
    মনে রাখুন:
    অসংক্রামক রোগের উদাহরণ: হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হাঁপানি।
    কলেরা ও টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়, আর আমাশয় হতে পারে ব্যাকটেরিয়া বা অ্যামিবা থেকে।
    ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম ও বংশগত কারণে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে একে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
    অসংক্রামক রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠে।
  89. ১৪০. ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় নিচের কোনটি?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার চিকিৎসা
    • ক. এম.আর.আই.
    • খ. এনজিওগ্রাফি
    • গ. কেমোথেরাপি
    • ঘ. আলট্রাসনোগ্রাফি
    উত্তর: গ. কেমোথেরাপি
    ক্যান্সার হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। এর চিকিৎসায় ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়, এই পদ্ধতির নাম কেমোথেরাপি (Chemotherapy)। এমআরআই, এনজিওগ্রাফি ও আলট্রাসনোগ্রাফি হলো রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি, চিকিৎসা নয়। এমআরআই-এ চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ দিয়ে দেহের ছবি তোলা হয়, আর এনজিওগ্রাফিতে রক্তনালির বাধা দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    ক্যান্সারের অন্য চিকিৎসা: রেডিওথেরাপি (বিকিরণ) ও অস্ত্রোপচার।
    আলট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দোত্তর তরঙ্গ (Ultrasound) ব্যবহার হয়।
    কেমোথেরাপির ওষুধ ক্যান্সার কোষের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করে। এ জন্য চুল পড়া, বমি ভাব ও দুর্বলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
  90. ১৪১. Autoclave-এর কাজ—ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), প্রশাসনিক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. ভাইরাস ধ্বংস করা
    • খ. টিটেনাস জীবাণু মারা
    • গ. ফাংগাস ধ্বংস করা
    • ঘ. সব জীবাণু ধ্বংস করা
    উত্তর: ঘ. সব জীবাণু ধ্বংস করা
    অটোক্লেভ (Autoclave) এমন একটি যন্ত্র, যেখানে উচ্চ চাপে প্রায় 121°C তাপমাত্রার বাষ্প ব্যবহার করে সার্জারির যন্ত্রপাতি ও কালচার মাধ্যম জীবাণুমুক্ত করা হয়। এই তাপ ও চাপ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এমনকি তাদের স্পোরও মেরে ফেলে। তাই এটি সব ধরনের জীবাণু ধ্বংস করে।
    মনে রাখুন:
    অটোক্লেভ সাধারণত প্রায় 15 psi চাপে 15-20 মিনিট চালানো হয়।
    প্রেসার কুকারও একই নীতিতে কাজ করে।
    শুকনো বাতাসে গরম করার ওভেনে জীবাণু মারতে বেশি সময় লাগে। অটোক্লেভে আর্দ্র তাপ ব্যবহার হয় বলে একই কাজ অনেক কম সময়ে ও কম তাপমাত্রায় হয়ে যায়।
  91. ১৪২. কোনটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ নয়?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. হেপাটাইটিস
    • খ. গনোরিয়া
    • গ. কুষ্ঠ
    • ঘ. টাইফয়েড জ্বর
    উত্তর: ক. হেপাটাইটিস
    হেপাটাইটিস যকৃতের প্রদাহ, যার প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ভাইরাস (A, B, C, D, E)। তাই এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়। গনোরিয়া, কুষ্ঠ ও টাইফয়েড জ্বর, তিনটিই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। বাংলাদেশে বিশেষ করে হেপাটাইটিস A ও E দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
    মনে রাখুন:
    কুষ্ঠের জীবাণু Mycobacterium leprae, টাইফয়েডের জীবাণু Salmonella typhi।
    ভাইরাসজনিত রোগ: হাম, জলবসন্ত, পোলিও, ডেঙ্গু, এইডস।
    হেপাটাইটিস B ও C রক্ত এবং দূষিত সুই-সিরিঞ্জের মাধ্যমে ছড়ায়। এর বিরুদ্ধে হেপাটাইটিস B-এর টিকা আছে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকার তালিকায় তা অন্তর্ভুক্ত।
    হেপাটাইটিস B-এর বিরুদ্ধে টিকা নিলে যকৃতের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে।
  92. ১৪৩. কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়াজনিত?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ডেঙ্গু
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    • ঘ. টাইফয়েড
    উত্তর: ঘ. টাইফয়েড
    টাইফয়েড জ্বরের জীবাণু Salmonella typhi নামের ব্যাকটেরিয়া। এটি দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে হয়, আর ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়াম নামের এককোষী প্রোটোজোয়া, ব্যাকটেরিয়া নয়। রোগের কারণ জানা থাকলে প্রতিরোধও সহজ হয়, যেমন টাইফয়েডে নিরাপদ পানি ও খাবার জরুরি।
    মনে রাখুন:
    ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: কলেরা, যক্ষ্মা, টিটেনাস, নিউমোনিয়া।
    ভাইরাসজনিত রোগ: হাম, জলবসন্ত, পোলিও, এইডস।
    টাইফয়েড হলে একটানা জ্বর থাকে, আর রোগ নির্ণয়ের জন্য উইডাল পরীক্ষা (Widal test) করা হয়। এর বিরুদ্ধে টিকা পাওয়া যায়।
    কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae এবং টিটেনাসের জীবাণু Clostridium tetani।
  93. ১৪৪. কোন রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. জন্ডিস
    • খ. উচ্চ রক্তচাপ
    • গ. গনোরিয়া
    • ঘ. এইডস
    উত্তর: ঘ. এইডস
    এইডস (AIDS) রোগ সৃষ্টি করে HIV (Human Immunodeficiency Virus) ভাইরাস। এই ভাইরাস শরীরের সংক্রমণ প্রতিরোধকারী CD4 কোষ (এক ধরনের শ্বেতকণিকা) আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সামান্য রোগেও মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। AIDS-এর পূর্ণরূপ Acquired Immuno Deficiency Syndrome। জন্ডিস যকৃতের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির সমস্যা, আর গনোরিয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, এগুলোর কোনোটিই প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এভাবে ধ্বংস করে না।
    মনে রাখুন:
    HIV রক্ত, অনিরাপদ যৌনসংসর্গ ও সংক্রমিত মায়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
    বিশ্ব এইডস দিবস ১ ডিসেম্বর।
  94. ১৪৫. কোন ভাইরাসটি জরায়ুর মুখ ক্যান্সার-এর কারণ?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. হেপাটাইটিস A
    • খ. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস
    • গ. হেপাটাইটিস-C
    • ঘ. এইচ.আই.ভি
    উত্তর: খ. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস
    জরায়ুমুখ বা সারভিক্সের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (Human Papillomavirus, HPV)-এর সংক্রমণ। এই ভাইরাস দীর্ঘদিন শরীরে থেকে সারভিক্সের কোষকে বদলে ক্যান্সারে পরিণত করতে পারে। হেপাটাইটিস A ও C যকৃতের রোগ করে, আর HIV ইমিউন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। তাই জরায়ুমুখের ক্যান্সারের সঙ্গে HPV-ই সরাসরি যুক্ত।
    মনে রাখুন:
    HPV টিকা নেওয়া হলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে।
    প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষায় সারভিক্সের ক্যান্সার আগেভাগে ধরা যায়।
    HPV সাধারণত যৌন সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এটি আঁচিল সৃষ্টিরও কারণ। ১১-১২ বছর বয়সী মেয়েদের এই টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
  95. ১৪৬. ম্যালেরিয়া রোগ কোন মশা দিয়ে ছড়ায়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. এডিস
    • খ. কিউলেক্স
    • গ. অ্যানোফিলিস
    • ঘ. সবগুলো
    উত্তর: গ. অ্যানোফিলিস
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামের এককোষী পরজীবী। স্ত্রী অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশা কামড়ালে এই পরজীবী মানুষের রক্তে ঢোকে। এডিস মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ছড়ায়, আর কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ ছড়ায়। তাই ‘সবগুলো’ উত্তরটি ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যানোফিলিস মশা পানির ওপর বসার সময় শরীর হেলিয়ে থাকে।
    ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস।
    ম্যালেরিয়ায় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা ফিরে আসে। কুইনাইন ও ক্লোরোকুইন এই রোগের পরিচিত ওষুধ।
    আলফোঁস লাভেরান ১৮৮০ সালে ম্যালেরিয়ার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
    ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশারি ব্যবহার এবং জমা পানি নিষ্কাশন কার্যকর।
  96. ১৪৭. কোনটি ছোঁয়াচে রোগ?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. অ্যাজমা
    • খ. রাতকানা
    • গ. ডায়াবেটিস
    • ঘ. স্ক্যাবিস
    উত্তর: ঘ. স্ক্যাবিস
    যে রোগ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়, তাকে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে। স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া Sarcoptes scabiei নামের ক্ষুদ্র মাইটের মাধ্যমে হয় এবং আক্রান্তের গায়ের স্পর্শে বা ব্যবহৃত কাপড়-বিছানার মাধ্যমে ছড়ায়। অ্যাজমা, ডায়াবেটিস ও রাতকানা ছোঁয়াচে নয়। ডায়াবেটিস ইনসুলিনের সমস্যায় আর রাতকানা ভিটামিন A-এর অভাবে হয়।
    মনে রাখুন:
    ছোঁয়াচে চর্মরোগ: স্ক্যাবিস, দাদ, চুলকানি।
    স্ক্যাবিসে রাতে চুলকানি বেশি হয়।
    স্ক্যাবিস থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, তোয়ালে ও বিছানা আলাদা রাখা এবং গরম পানিতে ধোয়া উচিত। পরিবারের সবার একসঙ্গে চিকিৎসা নিলে রোগ বারবার ফিরে আসে না।
  97. ১৪৮. কোন রোগটি ভাইরাসজনিত?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. টাইফয়েড
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. কলেরা
    • ঘ. এইডস
    উত্তর: ঘ. এইডস
    এইডস সৃষ্টিকারী HIV একটি ভাইরাস। টাইফয়েড ও কলেরা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। ম্যালেরিয়া প্লাজমোডিয়াম নামক প্রোটোজোয়ার কারণে হয়। এভাবে জীবাণুর ধরন আলাদা করে মনে রাখলে রোগের শ্রেণি চিনতে সুবিধা হয়।
    মনে রাখুন:
    কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae।
    ভাইরাস কেবল জীবিত কোষের ভেতরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
    এইচআইভি ভাইরাস শ্বেতকণিকার একটি বিশেষ অংশ T-হেল্পার কোষকে আক্রমণ করে। এর ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
    ভাইরাসের ওপর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে।
    এইডসের পূর্ণরূপ Acquired Immuno Deficiency Syndrome।
    এইডসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো কার্যকর টিকা নেই, তবে ওষুধ দিয়ে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
  98. ১৪৯. হার্ট অ্যাটাকের কারণ কোনটি?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ
    • ক. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
    • খ. ভয়
    • গ. অপুষ্টি
    • ঘ. আঘাত
    উত্তর: ক. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
    দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি থাকে। এতে রক্তনালির ভেতরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চর্বি জমে নালি সরু হয়ে যায়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। তাই ডায়াবেটিস হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় কারণ। ভয়, অপুষ্টি বা আঘাত সরাসরি করোনারি ধমনি বন্ধ করে না।
    মনে রাখুন:
    হার্ট অ্যাটাকের অন্য ঝুঁকি: ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্থূলতা।
    বুকে ব্যথা, ঘাম ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হয়।
    ডায়াবেটিস রোগীদের স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই অনেক সময় তাঁরা হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা টেরই পান না। এ কারণে নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি।
  99. ১৫০. কিডনি বিকল হওয়ার কারণ কী?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কিডনি রোগ
    • ক. আঘাত
    • খ. উচ্চ রক্তচাপ
    • গ. টাইফয়েড
    • ঘ. আর্থ্রাইটিস
    উত্তর: খ. উচ্চ রক্তচাপ
    উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ছোট রক্তনালিগুলোর দেয়াল শক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে কিডনি রক্ত ছাঁকার ক্ষমতা হারায়। দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ তাই কিডনি বিকলের একটি প্রধান কারণ। ডায়াবেটিসও একটি বড় কারণ। আর্থ্রাইটিস জোড়ার রোগ এবং টাইফয়েড পেটের সংক্রমণ, এগুলো সরাসরি কিডনি নষ্ট করে না।
    মনে রাখুন:
    কিডনি রোগ প্রতিরোধে লবণ কম খাওয়া, পানি বেশি পান করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা উপকারী।
    কিডনির গঠনগত একক নেফ্রন।
    কিডনি বিকলের শুরুতে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। পরে পায়ে পানি আসা, ক্লান্তি ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাই রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা উচিত।
  100. ১৫১. নিম্নের কোনটি পানিবাহিত রোগ নয়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিবাহিত রোগ
    • ক. ডায়রিয়া
    • খ. টাইফয়েড
    • গ. ম্যালেরিয়া
    • ঘ. আমাশয়
    উত্তর: গ. ম্যালেরিয়া
    যেসব রোগের জীবাণু দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়, তাদের পানিবাহিত রোগ বলে। ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয় এই ধরনের রোগ। ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে, তাই এটি পানিবাহিত নয়, বরং মশাবাহিত রোগ। তবে মশা পানিতে ডিম পাড়ে বলে অনেকে ম্যালেরিয়াকে ভুল করে পানিবাহিত ভাবেন।
    মনে রাখুন:
    আরও পানিবাহিত রোগ: কলেরা, হেপাটাইটিস A।
    পানি ফুটিয়ে খেলে পানিবাহিত রোগ অনেকটা ঠেকানো যায়।
    পানিবাহিত রোগের জীবাণু রোগীর মলের মাধ্যমে বের হয়ে খাবার বা পানিতে মিশে যায়। তাই টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এসব রোগ প্রতিরোধের সহজ উপায়।
  101. ১৫২. Common Bacterial Disease কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. Dysentery
    • খ. Influenza
    • গ. Dengue
    • ঘ. Malaria
    উত্তর: ক. Dysentery
    ব্যাকটেরিয়া থেকে হওয়া সাধারণ একটি রোগ আমাশয় (Dysentery), বিশেষ করে ব্যাসিলারি আমাশয়, যার জীবাণু Shigella। অন্য অপশনগুলোর কারণ আলাদা। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয়, আর ম্যালেরিয়া হয় প্লাজমোডিয়াম নামক প্রোটোজোয়ার কারণে। রোগের জীবাণু কোন শ্রেণির, তা জানলে এমন প্রশ্নে সহজে উত্তর মেলে।
    মনে রাখুন:
    অ্যামিবা-জনিত আমাশয়ও হয়, যার জীবাণু Entamoeba histolytica।
    অপরিচ্ছন্ন পানি ও খাবার আমাশয় ছড়ায়।
    ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্য রোগ: কলেরা, টিটেনাস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া ও কুষ্ঠ। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করে। প্রতিরোধের জন্য নিরাপদ পানি পান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
    আমাশয়ের লক্ষণ হলো পেটে ব্যথা ও মলের সঙ্গে রক্ত-আম পড়া।
  102. ১৫৩. অসংক্রামক ব্যাধি কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ
    • ক. যক্ষ্মা
    • খ. নিউমোনিয়া
    • গ. উচ্চ রক্তচাপ
    • ঘ. আমাশয়
    উত্তর: গ. উচ্চ রক্তচাপ
    যে রোগ জীবাণুর মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না, তাকে অসংক্রামক রোগ বলে। উচ্চ রক্তচাপ এমন রোগ, যার কারণ জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও বংশগতি। যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও আমাশয় জীবাণু থেকে ছড়ায়, তাই এগুলো সংক্রামক। যক্ষ্মার জীবাণু ব্যাকটেরিয়া, আর আমাশয়ও জীবাণুঘটিত।
    মনে রাখুন:
    অসংক্রামক রোগ: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার।
    যক্ষ্মার জীবাণু Mycobacterium tuberculosis।
    উচ্চ রক্তচাপ সময়মতো ধরা না পড়লে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি বিকল হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং কম লবণ খাওয়া দরকার।
    যক্ষ্মা কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, আর নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থেকে হয়।
    উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ কম খেয়ে এবং নিয়মিত হেঁটে ঝুঁকি কমানো যায়।
  103. ১৫৪. স্ট্রিট ভাইরাস (Street Virus) কোন রোগের জীবাণুর নাম?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলাতঙ্ক
    • ক. টিটেনাস
    • খ. রেবিস
    • গ. হাম
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. রেবিস
    জলাতঙ্ক (Rabies) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের একটি রূপকে স্ট্রিট ভাইরাস (Street Virus) বলা হয়। প্রকৃতিতে কুকুর, শেয়াল, বাদুড়সহ নানা প্রাণীর দেহে যে বন্য ভাইরাস থাকে, তাকেই এই নাম দেওয়া হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় এর সঙ্গে টিটেনাস (ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়) বা হামের (অন্য ভাইরাস) কোনো সম্পর্ক নেই। আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকে লালার মাধ্যমে ভাইরাস মানুষের দেহে ঢোকে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে।
    মনে রাখুন:
    জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর।
    গবেষণাগারে পরিবর্তিত ভাইরাসকে ফিক্সড ভাইরাস (Fixed Virus) বলে।
    একবার উপসর্গ দেখা দিলে রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী, তাই কামড়ের পরই টিকা নিতে হয়।
  104. ১৫৫. জিকা ভাইরাস ছড়ায় কীসের মাধ্যমে?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. মশা
    • খ. মাছি
    • গ. পানি
    • ঘ. বাতাস
    উত্তর: ক. মশা
    জিকা ভাইরাস (Zika Virus) সংক্রমিত এডিস (Aedes) মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। এই মশা ডেঙ্গু ও পীতজ্বর ছড়ানোর জন্যও দায়ী। মাছি, পানি বা বাতাস এর স্বাভাবিক বাহক নয়। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা অরণ্যে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়, সেখান থেকেই এর নাম। গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে নবজাতকের মাথা ছোট হওয়ার (মাইক্রোসেফালি) ঝুঁকি থাকে।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশা।
    ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশা।
    জিকা ভাইরাস যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। এই রোগে জ্বর, ফুসকুড়ি, জোড়ায় ব্যথা ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়, আর বেশিরভাগ সময় এর উপসর্গ মৃদু থাকে।
    এডিস মশা বাহিত রোগের উদাহরণ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও পীতজ্বর।
  105. ১৫৬. নিচের কোন জীবাণুটি রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তবাহিত রোগ
    • ক. Hepatitis C
    • খ. TB
    • গ. Covid-19
    • ঘ. Vit-C
    উত্তর: ক. Hepatitis C
    হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (Hepatitis C) সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়, যেমন একই সূচ ব্যবহার করলে বা অনিরাপদ রক্ত নিলে। যক্ষ্মা (TB) জীবাণু আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচির সঙ্গে বাতাসে ছড়ায়, আর কোভিড-১৯ প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের কণার মাধ্যমে ছড়ায়। Vit-C জীবাণু নয়, এটি ভিটামিন।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস বি ও এইচআইভি-ও রক্তের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
    নিরাপদ সূচ ও পরীক্ষা করা রক্ত ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে।
    হেপাটাইটিস যকৃৎ বা লিভারের প্রদাহ।
    হেপাটাইটিস সি-এর বিরুদ্ধে আজও কার্যকর কোনো টিকা নেই, তবে নতুন ওষুধে এটি সারানো সম্ভব। অন্যদিকে হেপাটাইটিস A ও B-এর টিকা রয়েছে।
  106. ১৫৭. স্ট্রিট ভাইরাস কোন রোগের জীবাণুর নাম?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলাতঙ্ক
    • ক. টিটেনাস
    • খ. র‍্যাবিস
    • গ. হাম
    • ঘ. যক্ষ্মা
    উত্তর: খ. র‍্যাবিস
    স্ট্রিট ভাইরাস (Street Virus) হলো প্রকৃতিতে পাওয়া বন্য র‍্যাবিস ভাইরাস, যা জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ ঘটায়। কুকুর, শেয়াল, বাদুড় প্রভৃতি প্রাণীর কামড়ে এই ভাইরাস মানুষের লালার মাধ্যমে দেহে ঢোকে এবং স্নায়ুতন্ত্র আক্রমণ করে। টিটেনাস ব্যাকটেরিয়াজনিত, আর হাম ও যক্ষ্মার জীবাণু আলাদা।
    মনে রাখুন:
    গবেষণাগারে পরিবর্তিত ভাইরাসকে ফিক্সড ভাইরাস বলে।
    জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর।
    রেবিস ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের জায়গা থেকে স্নায়ু বেয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। কামড় খাওয়ার পর ক্ষত সাবান-পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দ্রুত টিকা নিতে হয়।
    জলাতঙ্ক রোগীর পানি দেখলে ভয় পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তাই এর আরেক নাম হাইড্রোফোবিয়া।
  107. ১৫৮. করোনা কোন ধরনের ভাইরাস?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. DNA
    • খ. RNA
    • গ. MRNA
    • ঘ. RNA+DNA
    উত্তর: খ. RNA
    করোনাভাইরাস একটি RNA ভাইরাস, অর্থাৎ এর জিনগত উপাদান ডিএনএ নয়, আরএনএ। SARS-CoV-2 নামের এই ভাইরাস থেকে যে রোগ হয়, তার নাম কোভিড-১৯ (COVID-19)। MRNA একটি অণু যা প্রোটিন তৈরির নির্দেশ বহন করে, ভাইরাসের ধরন নয়।
    মনে রাখুন:
    কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে।
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ মার্চ একে অতিমারি ঘোষণা করে।
    ৫ মে ২০২৩ সংস্থাটি জরুরি অবস্থার ঘোষণা তুলে নেয়।
    করোনাভাইরাসের গায়ে মুকুটের মতো কাঁটা থাকে বলে এর নাম করোনা, যার অর্থ মুকুট। এই ভাইরাস ভেতরে স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে মানুষের কোষে ঢোকে।
    ফ্লু ও জলবসন্ত মুখ ও নাকের তরল কণার মাধ্যমে ছড়ানো রোগের উদাহরণ।
  108. ১৫৯. ‘ইবোলা’ ভাইরাস-এর উৎপত্তিস্থল কোথায় ?এনটিআরসিএ, ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. সিয়েরালিওন
    • খ. কঙ্গো
    • গ. লিবিয়া
    • ঘ. ইথিওপিয়া
    উত্তর: খ. কঙ্গো
    ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে, তখনকার জায়ার অর্থাৎ বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে। সেখানকার ইবোলা নদীর কাছের একটি গ্রামে রোগটি ছড়িয়েছিল, তাই নদীর নাম থেকেই ভাইরাসটির নাম রাখা হয় ইবোলা। একই বছর দক্ষিণ সুদানেও প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইবোলা আক্রান্ত মানুষের রক্ত ও শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এতে তীব্র জ্বর ও রক্তক্ষরণ হয়। রোগীকে আলাদা রেখে এবং সুরক্ষা পোশাক পরে সেবা দিলে সংক্রমণ আটকানো যায়।
    মনে রাখুন:
    ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকার গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে।
    ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার মনে করা হয়।
  109. ১৬০. বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করেন কবে?এনটিআরসিএ, ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. ১৯৭৫ সালে
    • খ. ১৯৭৬ সালে
    • গ. ১৯৭৭ সালে
    • ঘ. ১৯৭৮ সালে
    উত্তর: খ. ১৯৭৬ সালে
    বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করেন ১৯৭৬ সালে। সে বছর তখনকার জায়ার, অর্থাৎ বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, এবং দক্ষিণ সুদানে প্রায় একই সময়ে রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কঙ্গোর ইবোলা নদীর কাছের গ্রামে রোগটি ছড়িয়েছিল বলে নদীর নামেই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়। ইবোলা ভাইরাসজনিত রোগে তীব্র জ্বর ও রক্তক্ষরণ হয়, আর এটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। রোগটির জন্য এখন টিকা ও কার্যকর চিকিৎসা আছে, তবে আক্রান্ত রোগীকে আলাদা রেখে সেবা দেওয়া জরুরি।
    মনে রাখুন:
    ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে।
    ইবোলা ভাইরাসের আকৃতি লম্বা সুতার মতো।
  110. ১৬১. ‘জিকা ভাইরাস‘ কোন দেশে সর্বপ্রথম ছড়ায়?এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. ভারত
    • খ. আমেরিকা
    • গ. ব্রাজিল
    • ঘ. ইরাক
    উত্তর: গ. ব্রাজিল
    জিকা ভাইরাস (Zika virus) প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনে একটি বানরের দেহে, আর এই বনের নামেই ভাইরাসটির নাম। তবে বড় আকারে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে ২০১৫ সালে ব্রাজিলে, যেখান থেকে তা আমেরিকা মহাদেশের অনেক দেশে ছড়ায়। প্রশ্নে দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে তাই ব্রাজিলই ভাইরাসটির ব্যাপক বিস্তারের কেন্দ্র। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে জনস্বাস্থ্যের জন্য আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে।
    মনে রাখুন: জিকা ভাইরাস এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়, আর গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে শিশুর মাথা ছোট হওয়ার রোগ মাইক্রোসেফালি দেখা দিতে পারে।
  111. ১৬২. হিউম্যান প্যাপিলোমা কী ?এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. ছত্রাক
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. ভাইরাস
    • ঘ. অণুজীব
    উত্তর: গ. ভাইরাস
    হিউম্যান প্যাপিলোমা (Human Papilloma Virus বা HPV) একটি ভাইরাস। এটি ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে সংক্রমণ ঘটায়, আর এর কিছু ধরন নারীদের জরায়ুমুখ ক্যানসারের (Cervical Cancer) প্রধান কারণ। এই ক্যানসার প্রতিরোধে HPV টিকা দেওয়া হয়, আর বাংলাদেশে ২০২৩ সাল থেকে কিশোরী মেয়েদের জন্য সরকারিভাবে এই টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। টিকাটি আক্রান্ত হওয়ার আগে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। টিকার পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা করালে জরায়ুমুখ ক্যানসার আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব।
    মনে রাখুন:
    ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মাঝামাঝি বলা হয়, কারণ জীবকোষের বাইরে এটি নিষ্ক্রিয় থাকে।
    ভাইরাস বংশবৃদ্ধির জন্য অন্য জীবের কোষের ওপর নির্ভর করে।
  112. ১৬৩. আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে কোন রোগের চিকিৎসা হয়?এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কলেরা ও ডায়রিয়া
    • ক. ম্যালেরিয়া
    • খ. যক্ষ্মা
    • গ. নিউমোনিয়া
    • ঘ. কলেরা
    উত্তর: ঘ. কলেরা
    আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)-এর পূর্ণরূপ International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত এর হাসপাতালে মূলত কলেরা ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা হয়, তাই সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘কলেরা হাসপাতাল’ নামে পরিচিত। এখান থেকেই খাবার স্যালাইন (ORS) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কলেরায় দেহ থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, তাই স্যালাইন দিয়ে সেই পানির ঘাটতি পূরণ করা সবচেয়ে জরুরি। আইসিডিডিআর,বি-র গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত হাত ধোয়া ও বিশুদ্ধ পানি পান করলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
    মনে রাখুন: কলেরা রোগের জীবাণু Vibrio cholerae নামের একটি ব্যাকটেরিয়া।
  113. ১৬৪. চিকনগুনিয়া রোগটি কোন মাধ্যম বাহিত রোগ?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. পানিবাহিত
    • খ. পতঙ্গবাহিত
    • গ. বায়ুবাহিত
    • ঘ. রক্তবাহিত
    উত্তর: খ. পতঙ্গবাহিত
    চিকনগুনিয়া (Chikungunya) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, আর এই ভাইরাস ছড়ায় এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে। মশা একটি পতঙ্গ, তাই চিকনগুনিয়াকে পতঙ্গবাহিত রোগ বলা হয়। এ রোগে তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীরের গিঁটে গিঁটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, আর বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ঢাকায় এর বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে, তাই বাসার আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। চিকনগুনিয়া শব্দটি আফ্রিকার ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘বেঁকে যাওয়া’, কারণ ব্যথায় রোগী কুঁজো হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশা = ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, জিকা।
    অ্যানোফিলিস মশা = ম্যালেরিয়া।
    কিউলেক্স মশা = ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ।
  114. ১৬৫. চিকুনগুনিয়ার বাহক কোনটি?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. অ্যানোফিলিস
    • খ. কিউলেক্স
    • গ. এডিস
    • ঘ. সকল ধরণের মশা
    উত্তর: গ. এডিস
    চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, আর এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকে এডিস মশার কামড়ে। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসও এই একই মশা ছড়ায়। এডিস মশার দেহে সাদা-কালো ডোরা দাগ থাকে বলে একে বাঘা মশা বা টাইগার মশাও বলা হয়, আর মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারলে রোগও ছড়ায় না। এডিস মশা মূলত বাসার আশপাশে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার ও ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়ার বাহক স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা।
    গোদ বা ফাইলেরিয়ার বাহক কিউলেক্স মশা।
  115. ১৬৬. এডিস মশা নিচের কোন রোগটির বাহন?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. গোদ রোগ
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. চিকুনগুনিয়া
    • ঘ. ফাইলেরিয়া
    উত্তর: গ. চিকুনগুনিয়া
    এডিস মশা কয়েকটি ভাইরাসজনিত রোগের বাহক, তার মধ্যে চিকুনগুনিয়া একটি। এই মশা আক্রান্ত মানুষকে কামড়ে ভাইরাস নিজের শরীরে নেয়, পরে সুস্থ মানুষকে কামড়ালে ভাইরাসটি তার শরীরে ছড়িয়ে দেয়। ডেঙ্গু, জিকা ও পীতজ্বরও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই শুধু রাতে মশারি টাঙালেই এসব রোগ থেকে পুরোপুরি বাঁচা যায় না। তাই এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে সপ্তাহে একবার জমে থাকা পানি ফেলে দিতে বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    গোদ রোগ ও ফাইলেরিয়া একই রোগ, এর বাহক কিউলেক্স মশা।
    ম্যালেরিয়ার বাহক স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা।
  116. ১৬৭. সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল কোথায়?এনটিআরসিএ, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. এশিয়া
    • খ. মেক্সিকো
    • গ. অস্ট্রেলিয়া
    • ঘ. আফ্রিকা
    উত্তর: খ. মেক্সিকো
    সোয়াইন ফ্লু (Swine flu) হলো H1N1 নামের এক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শূকরের দেহে পাওয়া ভাইরাস থেকে উদ্ভূত। ২০০৯ সালে এই রোগের বৈশ্বিক মহামারি প্রথম শনাক্ত হয় মেক্সিকোতে, সেখান থেকে এটি দ্রুত বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেই বছরই একে বৈশ্বিক মহামারি (Pandemic) ঘোষণা করে। এ রোগে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শরীরে ব্যথা হয়। সাধারণ ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায়, তাই মাস্ক পরা ও হাত ধোয়া উপকারী।
    মনে রাখুন: বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস H5N1।
  117. ১৬৮. AIDS রোগের জন্য নিচের কোন ভাইরাসটি দায়ী?এনটিআরসিএ, ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. SARS
    • খ. র‍্যাবিস
    • গ. HIV
    • ঘ. ইবোলা
    উত্তর: গ. HIV
    এইডস (AIDS) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের নাম এইচআইভি (HIV, Human Immunodeficiency Virus)। এই ভাইরাস দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার শ্বেত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে, ফলে সাধারণ সংক্রমণ থেকেও মানুষ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। AIDS-এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome। এই ভাইরাস সাধারণ ছোঁয়া বা একসঙ্গে খাওয়ায় ছড়ায় না, ছড়ায় আক্রান্ত রক্ত, অনিরাপদ যৌনমিলন ও আক্রান্ত মায়ের শিশুর কাছে। এখনো এইডসের নিরাময় নেই, তবে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ দিয়ে রোগীকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা যায়।
    মনে রাখুন:
    SARS: করোনা পরিবারের একটি ভাইরাস
    র‍্যাবিস: জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস
    ইবোলা: রক্তক্ষরণমূলক জ্বরের ভাইরাস
    ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস।
  118. ১৬৯. ক্যান্সার সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলে –এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসাবিদ্যার শাখা
    • ক. টিউমারোলজি
    • খ. অকোলজি
    • গ. অঙ্কোলজি
    • ঘ. সাইটোলজি
    উত্তর: গ. অঙ্কোলজি
    ক্যান্সার ও টিউমার নির্ণয় এবং চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের শাখাকে অঙ্কোলজি (Oncology) বলে। শব্দটি এসেছে গ্রিক onkos থেকে, যার অর্থ পিণ্ড বা ফোলা অংশ। এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে অঙ্কোলজিস্ট বলে। ক্যান্সারে দেহের কোষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিভাজিত হয়ে টিউমার তৈরি করে, আর অঙ্কোলজিতে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়, তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। যে টিউমার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ম্যালিগন্যান্ট বা মারাত্মক টিউমার বলে। আর যা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে, তা বিনাইন বা সৌম্য টিউমার।
    মনে রাখুন:
    কার্ডিওলজি: হৃৎপিণ্ড
    নেফ্রোলজি: বৃক্ক বা কিডনি
    নিউরোলজি: স্নায়ুতন্ত্র
    সাইটোলজি: কোষ
  119. ১৭০. গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয় টিকা কোনটি?গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. TT
    • খ. BCG
    • গ. OPV
    • ঘ. DPT
    উত্তর: ক. TT
    গর্ভাবস্থায় মাকে টিটি (TT বা Tetanus Toxoid) টিকা দেওয়া হয়, যাতে মা নিজে এবং জন্মের পর নবজাতক ধনুষ্টংকার (Tetanus) রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকে। প্রসবের সময় অপরিচ্ছন্ন যন্ত্র ব্যবহারে নবজাতকের নাড়ি কাটার জায়গা দিয়ে ধনুষ্টংকারের জীবাণু ঢুকতে পারে, আর মায়ের শরীরে তৈরি প্রতিরোধ ক্ষমতা গর্ভফুলের মাধ্যমে শিশুর কাছেও পৌঁছায়। বাংলাদেশে সাধারণত গর্ভবতী মাকে নির্দিষ্ট বিরতিতে কয়েক ডোজ টিটি টিকা দেওয়া হয়। টিটি টিকা ছাড়াও গর্ভবতী মায়ের আয়রন ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়া দরকার।
    মনে রাখুন:
    বিসিজি (BCG) যক্ষ্মার টিকা।
    ওপিভি (OPV) পোলিওর টিকা।
    ডিপিটি (DPT) ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টংকারের শিশু-টিকা।
  120. ১৭১. প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস সর্বপ্রথম কোথায় শনাক্ত করা হয়েছিল?এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস রোগ
    • ক. চীনের উহানে
    • খ. চীনের সাংহাইতে
    • গ. চীনের বেইজিংয়ে
    • ঘ. ইতালির লোম্বার্ডিতে
    উত্তর: ক. চীনের উহানে
    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ভাইরাসটির বৈজ্ঞানিক নাম SARS-CoV-2, আর এর কারণে যে রোগ হয় তার নাম কোভিড-১৯ (COVID-19)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ মার্চ একে বৈশ্বিক মহামারি (Pandemic) ঘোষণা করে। এই ভাইরাস প্রধানত আক্রান্ত মানুষের হাঁচি-কাশির ক্ষুদ্র কণা থেকে ছড়ায়। ভাইরাসটির বাইরের দিকে কাঁটার মতো প্রোটিন থাকে, যা মুকুটের মতো দেখায় বলে এর নাম করোনা (Corona)। সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরা ও দূরত্ব বজায় রাখা কার্যকর।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। COVID-19 কথাটির পূর্ণরূপ Coronavirus Disease 2019।
  121. ১৭২. তামাকে সর্বাপেক্ষা বিষাক্ত বস্তুর নাম কি?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তামাক ও নিকোটিন
    • ক. সায়ানাইড
    • খ. আয়োডিন
    • গ. নিকোটিন
    • ঘ. কার্বাইড
    উত্তর: গ. নিকোটিন
    তামাক পাতায় নিকোটিন (Nicotine) নামের একটি বিষাক্ত ক্ষারীয় পদার্থ থাকে, যা তামাকের সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদান। নিকোটিনের কারণেই মানুষ ধূমপান বা জর্দা-গুলে আসক্ত হয়ে পড়ে। এটি রক্তনালি সংকুচিত করে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, আর তামাকের ধোঁয়ার অন্য রাসায়নিকের সঙ্গে মিলে ক্যানসারের কারণ হয়। প্রতি বছর ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়। তামাক সরাসরি না খেলেও অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া নিলে (পরোক্ষ ধূমপান) ক্ষতি হয়, আর তামাকের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে লাখো মানুষ মারা যায়।
    মনে রাখুন: চায়ে থাকে ক্যাফেইন ও থিন, কফিতে ক্যাফেইন, আর আফিমে মরফিন।
  122. ১৭৩. কোনটি ধনুষ্টংকার রোগ সৃষ্টি করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ২৮১৫), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. কমা
    • খ. স্পাইরাল
    • গ. কক্কাস
    • ঘ. ব্যাসিলাস
    উত্তর: ঘ. ব্যাসিলাস
    ধনুষ্টংকার (Tetanus) রোগ হয় ক্লস্ট্রিডিয়াম টেটানি (Clostridium tetani) নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে। এই ব্যাকটেরিয়া দেখতে দণ্ড বা লাঠির মতো, আর দণ্ডাকার ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস (Bacillus) বলে। মাটি, ধুলা বা মরিচা ধরা পেরেক দিয়ে শরীর কেটে গেলে এর জীবাণু ক্ষতস্থানে ঢুকে পড়ে, আর রোগীর মাংসপেশি শক্ত হয়ে খিঁচুনি হয়। জীবাণুর স্পোর মাটিতে বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে, তাই টিকা ছাড়া ক্ষত পরিষ্কার না করলে ঝুঁকি থাকে।
    মনে রাখুন:
    আকৃতি অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়া: গোলাকার কক্কাস, দণ্ডাকার ব্যাসিলাস, কমা আকৃতির ভিব্রিও (কলেরার জীবাণু) আর প্যাঁচানো স্পাইরিলাম।
    ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে টিটেনাস টক্সয়েড (TT) টিকা দেওয়া হয়।
    ব্যাকটেরিয়া এককোষী আদিকোষী জীব, এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই।
  123. ১৭৪. ‘কার্ডিওলজি’ কোন রোগের সাথে সম্পৃক্ত?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ২৮১৫), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসাবিদ্যার শাখা
    • ক. হার্ট
    • খ. চোখ
    • গ. কিডনি
    • ঘ. ফুসফুস
    উত্তর: ক. হার্ট
    কার্ডিওলজি (Cardiology) হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির গঠন, কাজ ও রোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দটি এসেছে গ্রিক kardia (হৃদয়) ও logia (বিদ্যা) থেকে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে কার্ডিওলজিস্ট বলা হয়। হৃদরোগের পরীক্ষায় সাধারণত ইসিজি (ECG) করা হয়, যা হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে। কার্ডিওলজিস্টরা ইসিজি, ইকো ও এনজিওগ্রামের মতো পরীক্ষা করে হৃৎপিণ্ডের অবস্থা বুঝতে পারেন। হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলে বাধা পড়লে ব্লক ধরা পড়ে এবং প্রয়োজনে রিং বা বাইপাস সার্জারি করা হয়। হৃদরোগ এড়াতে লবণ ও চর্বি কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    চোখ: অপথালমোলজি
    কিডনি: নেফ্রোলজি
    ফুসফুস: পালমোনোলজি
    স্নায়ু: নিউরোলজি
    ত্বক: ডার্মাটোলজি
  124. ১৭৫. জার্মতন্ত্র মতবাদ কে প্রবর্তন করে-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৮-০৯ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগজীবাণু তত্ত্ব
    • ক. George Cuvier
    • খ. Louis Pasteur
    • গ. August Weismann
    • ঘ. Charles Darwin
    উত্তর: খ. Louis Pasteur
    জার্মতন্ত্র বা রোগজীবাণুতত্ত্ব (Germ theory) হলো এমন ধারণা, যে অনেক রোগের কারণ অণুজীব। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) পরীক্ষা করে দেখান যে গাঁজন, পচন ও অনেক রোগের পেছনে জীবাণুর ভূমিকা আছে। এর আগে লোকে ভাবত রোগ আসে দূষিত বাতাস থেকে। পরে রবার্ট কখ নির্দিষ্ট জীবাণু নির্দিষ্ট রোগের কারণ বলে প্রমাণ করেন। এই মতবাদ ভেঙে দেয় আগের ধারণা, যেখানে ভাবা হতো, অসুখ আসে কোনো রহস্যময় বাতাস থেকে।
    মনে রাখুন:
    পাস্তুর জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সের টিকা তৈরি করেন এবং পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
    রবার্ট কখ যক্ষ্মা ও কলেরার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
  125. ১৭৬. জলাতঙ্ক টিকার আবিষ্কারক হলেন -মেডিকেল ভর্তি, ২০০২-০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. লুই পাস্তুর
    • খ. সোয়ান
    • গ. ওয়ালেস
    • ঘ. মর্গান
    উত্তর: ক. লুই পাস্তুর
    ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) ১৮৮৫ সালে জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিসের প্রথম টিকা সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করেন। তিনি আক্রান্ত খরগোশের মেরুদণ্ডের টিস্যু শুকিয়ে দুর্বল করা জীবাণু দিয়ে টিকা বানান। প্রথম রোগী ছিল জোসেফ মেইস্টার নামের ৯ বছরের এক বালক, যাকে পাগলা কুকুর কামড়েছিল। বালকটি সুস্থ হয়ে ওঠে। পাস্তুর দেখেছিলেন, দুর্বল করা জীবাণু শরীরে ঢোকালে দেহ ওই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
    মনে রাখুন:
    জলাতঙ্ক রোগ ভাইরাসঘটিত এবং এটি পাগলা কুকুর, বিড়াল ও বাদুড়ের কামড় থেকে ছড়ায়।
    এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন।
  126. ১৭৭. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছিলেন একজন বিশিষ্ট -প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাইফার অফিসার, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী পরিচিতি
    • ক. বিজ্ঞানী
    • খ. ক্রিকেটার
    • গ. মুক্তিযোদ্ধা
    • ঘ. ঔপন্যাসিক
    উত্তর: ক. বিজ্ঞানী
    স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming) ছিলেন স্কটিশ বিজ্ঞানী ও জীবাণুবিদ। ১৯২৮ সালে লন্ডনের সেন্ট মেরিস হাসপাতালে কাজ করার সময় তিনি দেখেন, ব্যাকটেরিয়ার একটি পাত্রে ছত্রাক জন্মানোর জায়গাটির চারপাশে ব্যাকটেরিয়া মরে গেছে। এর থেকে তিনি আবিষ্কার করেন প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৪৫ সালে ফ্লোরি ও চেইনের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি বলেছিলেন, তিনি পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছেন, কিন্তু একে ওষুধে রূপ দিয়েছেন অন্যরা। ছত্রাকের ওই নির্যাস থেকেই আজকের অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের যাত্রা শুরু।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিন তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম নোটাটাম নামের ছত্রাক থেকে।
  127. ১৭৮. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং কেন বিখ্যাত?জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের জন্য
    • খ. হাইড্রোজেন আবিষ্কারের জন্য
    • গ. আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য
    • ঘ. অশ্বশক্তি আবিষ্কারের জন্য
    উত্তর: ক. অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের জন্য
    আলেকজান্ডার ফ্লেমিং বিখ্যাত অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য। ১৯২৮ সালে তিনি লক্ষ করেন, এক ধরনের ছত্রাকের আশপাশে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে না। এ থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, ছত্রাকটি এমন রাসায়নিক ছাড়ে যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এই আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব আনে, কারণ এর মাধ্যমে নিউমোনিয়া, সিফিলিস ও অনেক সংক্রমণের চিকিৎসা সম্ভব হয়। হাইড্রোজেন আবিষ্কার করেন হেনরি ক্যাভেন্ডিশ। আজকাল ব্যাকটেরিয়া অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি রোধক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছে, তাই ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিনকে 'বিস্ময়কর ওষুধ' (Wonder drug) বলা হয়।
    ফ্লেমিং ১৯৪৫ সালে নোবেল পান।
  128. ১৭৯. পেনিসিলিন (এন্টিবায়োটিক) ওষুধ তৈরি করা হয়-BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও সিজিডিএফ-এর জুনিয়র অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. ফার্ন দিয়ে
    • খ. শৈবাল দিয়ে
    • গ. ছত্রাক দিয়ে
    • ঘ. লাইকেন দিয়ে
    উত্তর: গ. ছত্রাক দিয়ে
    পেনিসিলিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা পেনিসিলিয়াম (Penicillium) নামের ছত্রাক (Fungi) থেকে তৈরি হয়। ছত্রাক হলো ক্লোরোফিলবিহীন এক ধরনের জীব, যারা মরা জৈব পদার্থ থেকে খাবার সংগ্রহ করে। ফার্ন, শৈবাল বা লাইকেন থেকে পেনিসিলিন পাওয়া যায় না, যদিও লাইকেন নিজেও ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থান। এ কারণে পেনিসিলিনকে ছত্রাকজাত ওষুধ ধরা হয়। ছত্রাক নিজেই পুষ্টির জন্য অন্য জীব বা মৃত জৈব বস্তুর ওপর নির্ভর করে।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিয়াম দেখতে রুটিতে জন্মানো নীলচে-সবুজ ছাতার মতো।
    স্ট্রেপটোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিকটি অবশ্য ছত্রাক নয়, বরং স্ট্রেপটোমাইসিস নামের ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া যায়।
  129. ১৮০. সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি কোন দেশের নাগরিক?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়- ডি ইউনিট ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. জার্মানি
    • খ. ফ্রান্স
    • গ. যুক্তরাষ্ট্র
    • ঘ. বেলজিয়াম
    উত্তর: গ. যুক্তরাষ্ট্র
    অ্যান্থনি ফাউসি (Anthony Fauci) যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক ছিলেন। এইডস, ইবোলা ও কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি ওয়াশিংটন ডি.সি.-র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (NIH)-এ কাজ করেছেন। এ কারণে প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্পটিই সঠিক। তাঁর নেতৃত্বে এইচআইভি গবেষণাও অনেক এগিয়েছে।
    মনে রাখুন:
    কোভিড-১৯ রোগের কারণ SARS-CoV-2 ভাইরাস।
    ২০১৯ সালের শেষে চীনের উহান শহরে এ রোগ প্রথম শনাক্ত হয়।
  130. ১৮১. The doctor who treats diseases of the brain is known as a/an-প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এস্টিমেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা শাখা
    • ক. pathologist
    • খ. cardiologist
    • গ. nephrologist
    • ঘ. neurologist
    উত্তর: ঘ. neurologist
    যে চিকিৎসক মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের রোগের চিকিৎসা করেন, তাঁকে নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বলে। Neuron শব্দের অর্থ স্নায়ুকোষ, তাই নামেই কাজের ইঙ্গিত আছে। স্ট্রোক, মৃগীরোগ ও পারকিনসন্স রোগ এঁদের চিকিৎসার আওতায় পড়ে। বাকিদের ক্ষেত্র আলাদা: প্যাথলজিস্ট রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত ও কলা পরীক্ষা করেন, কার্ডিওলজিস্ট হৃদরোগ দেখেন, আর নেফ্রোলজিস্ট কিডনির রোগ দেখেন। মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সব কাজের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যার ওজন প্রায় ১৩০০ থেকে ১৪০০ গ্রাম। মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে স্ট্রোক হয়, আর তখন দ্রুত নিউরোলজিস্টের কাছে নেওয়া জরুরি।
    মনে রাখুন:
    নেফ্রোলজি: বৃক্ক বা কিডনি।
    ইউরোলজি: মূত্রতন্ত্র।
    নিউরোসার্জন: মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেন।
  131. ১৮২. হৃদরোগের চিকিৎসককে কী বলা হয়?ফেনী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৫ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা শাখা
    • ক. Nephrologist
    • খ. Urologist
    • গ. Neurologist
    • ঘ. Cardiologist
    উত্তর: ঘ. Cardiologist
    হৃদরোগের চিকিৎসককে বলা হয় কার্ডিওলজিস্ট (Cardiologist)। Cardio শব্দের অর্থ হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড, আর logy মানে আলোচনা। হৃৎপিণ্ড আমাদের দেহে রক্ত পাম্প করে সারা শরীরে পাঠায়, তাই এর রোগ হলে পুরো শরীরেই প্রভাব পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও হৃদস্পন্দনের অনিয়ম কার্ডিওলজিস্টের চিকিৎসার বিষয়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ড মিনিটে গড়ে ৭২ বার স্পন্দিত হয়। হৃদপিণ্ডের বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট, আর হৃদপিণ্ডে অস্ত্রোপচার করেন কার্ডিয়াক সার্জন। হৃদরোগ নির্ণয়ের একটি পরিচিত পরীক্ষা হলো ইসিজি (ECG)। কার্ডিওলজির সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি শব্দ হলো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, যার অর্থ হৃদপিণ্ড হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেওয়া।
    মনে রাখুন:
    নেফ্রোলজিস্ট: কিডনি বিশেষজ্ঞ।
    ইউরোলজিস্ট: মূত্রতন্ত্র বিশেষজ্ঞ।
    নিউরোলজিস্ট: মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিশেষজ্ঞ।
  132. ১৮৩. টিউমার সংক্রান্ত চর্চাকে কি বলে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (মিসিসিপি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা শাখা
    • ক. একোলজি
    • খ. অঙ্কোলজি
    • গ. সাইটোলজি
    • ঘ. টিউমারোলজি
    উত্তর: খ. অঙ্কোলজি
    টিউমার ও ক্যান্সার নিয়ে আলোচনার শাখার নাম অঙ্কোলজি (Oncology)। গ্রিক onkos শব্দের অর্থ ফোলা বা পিণ্ড। যে চিকিৎসক ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন তাঁকে অঙ্কোলজিস্ট বলা হয়। শরীরের কোনো অংশের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকলে টিউমার তৈরি হয়। টিউমার ক্ষতিকর (malignant) হলে তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। টিউমার সব সময় ক্যান্সার নয়। যে টিউমার এক জায়গায় থেকে যায় এবং অন্য অঙ্গে ছড়ায় না, তাকে সৌম্য বা বিনাইন (Benign) বলে। আর যে টিউমার রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে মারাত্মক বা ম্যালিগন্যান্ট (Malignant) টিউমার বা ক্যান্সার বলে।
    মনে রাখুন:
    সাইটোলজি: কোষ নিয়ে আলোচনা।
    অঙ্কোলজি: টিউমার ও ক্যান্সার।
    ক্যান্সারের চিকিৎসা: অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি।
  133. ১৮৪. Surgeon এর পরিভাষা –বিপিএসসির সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা শাখা
    • ক. শল্য চিকিৎসক
    • খ. দন্ত চিকিৎসক
    • গ. অস্থি চিকিৎসক
    • ঘ. সার্জেন্ট
    উত্তর: ক. শল্য চিকিৎসক
    Surgeon শব্দের বাংলা পরিভাষা শল্য চিকিৎসক। যিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা করেন তিনিই সার্জন। শল্য মানে অস্ত্র বা ছুরি, তাই এই চিকিৎসাকে শল্যচিকিৎসা বলা হয়। অন্যদিকে দন্ত চিকিৎসককে ইংরেজিতে ডেন্টিস্ট বলে, আর অস্থি বা হাড়ের চিকিৎসকের ইংরেজি নাম অর্থোপেডিক সার্জন। সার্জেন্ট শব্দটি সেনা বা পুলিশের একটি পদের নাম, যা সার্জন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলায় ফিজিশিয়ান শব্দের পরিভাষা চিকিৎসক বা ভিষক, এঁরা সাধারণত ওষুধ দিয়ে রোগ সারান। শল্য চিকিৎসকেরা ক্ষেত্রবিশেষে রোগীকে অজ্ঞান করে অস্ত্রোপচার করেন, আর অজ্ঞান করার কাজ করেন আলাদা বিশেষজ্ঞ, যাঁকে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট বলে।
    মনে রাখুন:
    ফিজিশিয়ান: ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন।
    সার্জন: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন।
  134. ১৮৫. Osteology অর্থ?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগে সহকারী পরিচালক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা শাখা
    • ক. হাড় বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান
    • খ. দন্ত বিষয়ক চিকিৎসা শাস্ত্র
    • গ. সূর্য রশ্মির সাহায্যে রোগের চিকিৎসা
    • ঘ. তেজস্ক্রিয়তা সম্পর্কীয় বিজ্ঞান
    উত্তর: ক. হাড় বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞান
    Osteology শব্দটি এসেছে গ্রিক osteon (হাড়) থেকে। তাই এর অর্থ হাড় বিষয়ক বিদ্যা, যেখানে হাড়ের গঠন, কাজ ও রোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে, যদিও জন্মের সময় শিশুর হাড়ের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। বয়স বাড়লে কিছু হাড় জোড়া লেগে যায়। হাড়ের প্রধান অজৈব উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেট। হাড়ের মজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়। শরীরের সবচেয়ে লম্বা হাড় উরুর ফিমার, আর সবচেয়ে ছোট হাড় কানের ভেতরের স্টেপিস।
    মনে রাখুন:
    ডেন্টিস্ট্রি: দাঁতের চিকিৎসা।
    হেলিওথেরাপি: সূর্যরশ্মির সাহায্যে চিকিৎসা।
    রেডিওলজি: তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা এক্স-রে সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
  135. ১৮৬. আকুপাংচার হলো -প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিকল্প চিকিৎসা
    • ক. জাপানের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
    • খ. গ্রিসের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
    • গ. চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
    • ঘ. মিসরের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
    উত্তর: গ. চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
    আকুপাংচার (Acupuncture) হলো চীন দেশের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু বিন্দুতে সরু সূচ ফুটিয়ে ব্যথা ও নানা রোগ উপশমের চেষ্টা করা হয়। প্রাচীন চীনারা বিশ্বাস করত, দেহে কিউই (Qi) নামের একটি প্রাণশক্তি চলাচল করে এবং সূচ ফুটিয়ে তার প্রবাহ ঠিক করা যায়। আজকের দিনে ব্যথা কমানোর জন্য বিশ্বের অনেক দেশে এটি ব্যবহৃত হয়। আকুপাংচারে ব্যবহৃত সূচ অত্যন্ত সরু, তাই সাধারণত ব্যথা হয় না। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এতে স্নায়ুতে উদ্দীপনা তৈরি হয় এবং দেহে ব্যথা কমানোর রাসায়নিক পদার্থ এন্ডোরফিন নিঃসৃত হতে পারে। তবে পদ্ধতিটির পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
    মনে রাখুন:
    আকুপ্রেশার: সূচের বদলে হাতের চাপ দেওয়া হয়।
    আয়ুর্বেদ: ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি।
  136. ১৮৭. হোমিওপ্যাথির জনক বলে বিবেচিত -প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিকল্প চিকিৎসা
    • ক. স্যামুয়েল হনিম্যান
    • খ. স্টিফেন ব্যারেট
    • গ. রফিকুজ্জামান খান
    • ঘ. রোকনুজ্জামান
    উত্তর: ক. স্যামুয়েল হনিম্যান
    জার্মান চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (Samuel Hahnemann) হোমিওপ্যাথির (Homeopathy) জনক। তিনি ১৭৯৬ সালের দিকে এই পদ্ধতি প্রচার করেন। হোমিওপ্যাথির মূল নীতি হলো, যে পদার্থ সুস্থ মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ তৈরি করে, তার অতি সূক্ষ্ম মাত্রা সেই লক্ষণযুক্ত রোগীকে সারাতে পারে। একে বলা হয় সদৃশ নীতি। হোমিওপ্যাথির ওষুধ খুব পাতলা করে তৈরি হয়, ফলে ওষুধে মূল পদার্থের পরিমাণ অতি সামান্য থাকে। পদ্ধতিটির কার্যকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে সরকারিভাবে হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসার আলাদা বোর্ড আছে।
    মনে রাখুন:
    হোমিওপ্যাথি শব্দের অর্থ সদৃশ রোগ।
    অ্যালোপ্যাথি: প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসা।
    আকুপাংচার: চীন দেশের প্রাচীন চিকিৎসা।
  137. ১৮৮. প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কি বোঝায়?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রভাষক (শারীরিক শিক্ষা), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাথমিক চিকিৎসা
    • ক. রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া
    • খ. রোগীকে সুস্থ করে তোলা
    • গ. রোগীকে পরামর্শ দেওয়া
    • ঘ. রোগীকে হাসপাতলে নেওয়া
    উত্তর: ক. রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া
    প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid) হলো কোনো দুর্ঘটনা বা হঠাৎ অসুস্থতায় ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর আগেই রোগীকে যে তাৎক্ষণিক সাহায্য দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য রোগীর জীবন বাঁচানো, অবস্থা আরও খারাপ হওয়া ঠেকানো এবং দ্রুত সেরে ওঠার ব্যবস্থা করা। এটি পূর্ণ চিকিৎসার বিকল্প নয়, তাই প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়া উচিত। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় প্রথমে রোগীর শ্বাস নেওয়া ও নাড়ি চলা পরীক্ষা করা হয়। রক্তপাত হলে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রক্ত থামানোর চেষ্টা করতে হয়। এই চিকিৎসা দিতে পারেন যে কেউ, তবে সঠিক প্রশিক্ষণ থাকলে সেবার মান অনেক ভালো হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য: জীবন রক্ষা করা।
    প্রাথমিক চিকিৎসার প্রতীক: লাল ক্রস।
  138. ১৮৯. দুর্ঘটনায় পতিত কোন ব্যক্তির ভাঙ্গা হাত-পায়ের প্রাথমিক পরিচর্যা কি করার জন্য বিশেষজ্ঞরা উপদেশ দিয়ে থাকেন?পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ১২টি পদ, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাথমিক চিকিৎসা
    • ক. ব্যথা নিবরাক মলম জাতীয় ঔষধ লাগানো
    • খ. ভাঙ্গা স্থান কাঠ দিয়ে বেঁধে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের নিকট পাঠানো
    • গ. শুধু সান্ত্বনা দেয়া
    • ঘ. মালিশ করা
    উত্তর: খ. ভাঙ্গা স্থান কাঠ দিয়ে বেঁধে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের নিকট পাঠানো
    হাত বা পা ভেঙে গেলে ভাঙা জায়গা নাড়াচাড়া করলে হাড়ের টুকরো আরও সরে গিয়ে ভেতরের রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রথমে ভাঙা স্থানটি কাঠ বা শক্ত কিছুর সঙ্গে বেঁধে নড়াচড়া বন্ধ করা হয়, যাকে স্প্লিন্ট (Splint) বলে। তারপর রোগীকে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে হয়। ভাঙা জায়গায় মালিশ করলে ব্যথা ও ক্ষতি দুটোই বাড়ে, আর শুধু মলম লাগালে হাড় জোড়া লাগে না।
    মনে রাখুন:
    ভাঙা অংশ নড়াচড়া না করানোই প্রথম নিয়ম।
    ভাঙা অংশের ওপরের ও নিচের জোড়াও স্থির রাখতে হয়।
  139. ১৯০. আঘাত লেগে ফুলে যাওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা কোনটি?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাথমিক চিকিৎসা
    • ক. ঠাণ্ডা পানি ও বরফ দেওয়া
    • খ. ডেটল বা চুনের পানি দেওয়া
    • গ. পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা
    • ঘ. এসপিরিন বড়ি খেতে দেওয়া
    উত্তর: ক. ঠাণ্ডা পানি ও বরফ দেওয়া
    আঘাত লেগে কোনো জায়গা ফুলে গেলে সেখানে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিতে হয়। ঠান্ডার প্রভাবে ছোট রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে ভেতরে রক্ত ও তরল কম জমে এবং ফোলা ও ব্যথা কমে। বরফ সরাসরি না লাগিয়ে কাপড়ে মুড়ে লাগানো ভালো, এতে ত্বকের ক্ষতি হয় না। ডেটল বা চুনের পানি লাগানো হয় কাটা জায়গার জীবাণু রোধে, ফোলা কমানোর জন্য নয়। ফোলা কমার পর অনেক সময় আহত স্থান উঁচু করে বিশ্রামে রাখতে বলা হয়, এতে রক্ত ও তরল সহজে সরে যায়। দুই দিন ধরে ফোলা না কমলে বা হাড় ভেঙেছে বলে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। পুড়ে গেলেও আগে ঠান্ডা পানি ঢালা হয়।
    মনে রাখুন:
    মচকানো বা ফোলায় ঠান্ডা সেঁক দেওয়া হয়।
    ব্যথা কমে যাওয়ার পর কখনো গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
  140. ১৯১. বিষধর সাপের কয়টি বিষ দাঁত থাকে?রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাথমিক চিকিৎসা
    • ক. চারটি
    • খ. তিনটি
    • গ. দুটি
    • ঘ. একটি
    উত্তর: গ. দুটি
    বিষধর সাপের ওপরের চোয়ালে সামনের দিকে দুটি লম্বা ও ফাঁপা বিষদাঁত (Fangs) থাকে। সাপ কামড়ালে এই দাঁতের ভেতর দিয়ে বিষগ্রন্থি থেকে বিষ ক্ষতে ঢুকে যায়। বিষদাঁতের কামড়ে সাধারণত দুটি গভীর দাগ পড়ে, আর নির্বিষ সাপের কামড়ে সারি করে ছোট ছোট অনেক দাগ থাকে। এই দাগ দেখে অনেক সময় সাপটি বিষধর কি না বোঝা যায়। বিষধর সাপের বিষ কয়েক ধরনের। কোবরার বিষ স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে, আর চন্দ্রবোড়ার বিষ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। বাংলাদেশে কোবরা, চন্দ্রবোড়া, কেউটে ও শঙ্খিনী বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত। অজগর বিষধর নয়।
    মনে রাখুন:
    সাপের কামড়ের পর কামড়ানো অংশ নড়াচড়া করানো উচিত নয়।
    রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
  141. ১৯২. ANALGESIC বলতে কোন ধরনের ঔষধকে বোঝায়?বিপিএসসির সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাথমিক চিকিৎসা
    • ক. যা ব্যথা সারায়
    • খ. যা Anaemia সারায়
    • গ. যা ইনফেকশন দূর করে
    • ঘ. যা ব্লাডপ্রেসার কমায়
    উত্তর: ক. যা ব্যথা সারায়
    অ্যানালজেসিক (Analgesic) এমন ওষুধ, যা ব্যথা কমায় বা দূর করে। গ্রিক an অর্থ ছাড়া আর algos অর্থ ব্যথা, তাই শব্দটির অর্থ ব্যথাহীন করা। প্যারাসিটামল ও অ্যাসপিরিন এমন ওষুধের উদাহরণ। এই ওষুধ ব্যথা কমায় ঠিকই, কিন্তু রোগের মূল কারণ সারায় না। সংক্রমণ দূর করতে লাগে অ্যান্টিবায়োটিক, আর রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া সারাতে আয়রনজাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। ব্যথানাশক ওষুধ আবার দুই ধরনের: কিছু ওষুধ ব্যথার সঙ্গে জ্বরও কমায়, যেমন প্যারাসিটামল। আর মরফিন জাতীয় শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেওয়া যায় না, কারণ এতে আসক্তি তৈরি হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    অ্যান্টিপাইরেটিক: জ্বর কমায়।
    অ্যান্টিবায়োটিক: জীবাণু ধ্বংস করে।
    অ্যানেসথেটিক: অনুভূতি লোপ করে।
  142. ১৯৩. মানুষের শরীরে কোনো স্থানে ক্যান্সার হলে সেখানে -সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. দ্রুত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়
    • খ. দ্রুত কোষের সংখ্যা কমে যায়
    • গ. কোষের সংখ্যা বাড়েও না কমেও না
    • ঘ. উপরের কোনেটিই ঠিক নয়
    উত্তর: ক. দ্রুত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়
    ক্যান্সারে শরীরের কোনো অংশের কোষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ও অস্বাভাবিক দ্রুত বিভাজিত হয়, ফলে সেখানে কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। সুস্থ অবস্থায় কোষ বিভাজন একটি নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু জিনের পরিবর্তনের ফলে সেই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোষগুলো টিউমার বা পিণ্ড তৈরি করে। এসব কোষ রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দেহের অন্য জায়গায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ধূমপান, তামাক চিবানো, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও কিছু ভাইরাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যেসব বস্তু ক্যান্সার সৃষ্টি করে, তাদের কার্সিনোজেন (Carcinogen) বলে। ফুসফুস, স্তন ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়াকে মেটাস্টাসিস (Metastasis) বলে।
    ক্যান্সার নিয়ে গবেষণার বিজ্ঞানকে অঙ্কোলজি বলে।
  143. ১৯৪. অতিশক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা রোগ নিরাময় ব্যবস্থাকে কি বলে?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ১৯৯৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. রেডিওথেরাপি
    • খ. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
    • গ. কেমোথেরাপি
    • ঘ. হাইড্রোথেরাপি
    উত্তর: গ. কেমোথেরাপি
    রাসায়নিক ওষুধ দিয়ে রোগের চিকিৎসাকে কেমোথেরাপি (Chemotherapy) বলে। বিশেষ করে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এমন শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা দ্রুত বিভাজিত ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে। রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয়, আর হাইড্রোথেরাপিতে পানি ব্যবহার করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি কোনো চিকিৎসা নয়, এটি শব্দতরঙ্গ দিয়ে দেহের ভেতরের ছবি তোলার পদ্ধতি। কেমোথেরাপির ওষুধ রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়ায়, তাই এটি দেহের যেকোনো জায়গায় ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে। অন্যদিকে রেডিওথেরাপি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট স্থানে কাজ করে।
    মনে রাখুন:
    কেমোথেরাপি: ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা।
    রেডিওথেরাপি: রশ্মি দিয়ে চিকিৎসা।
  144. ১৯৫. কেমোথেরাপিতে নিচের কোনটি ঘটে না?বিপিএসসির সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে
    • খ. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
    • গ. রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
    • ঘ. ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়
    উত্তর: খ. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
    কেমোথেরাপিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে না, বরং কমে যায়। কেমোথেরাপির ওষুধ দ্রুত বিভাজিত কোষকে ধ্বংস করে, আর এই ওষুধ ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি অস্থিমজ্জার কোষ, চুলের গোড়া ও পাকস্থলীর কোষকেও আক্রান্ত করে। ফলে রক্তকণিকা কমে গিয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে, রক্তশূন্যতা দেখা দেয়, চুল পড়ে এবং ক্ষুধামন্দা হয়। কেমোথেরাপির সময় রোগীর শ্বেত রক্তকণিকা কমে যায়, তাই সামান্য সংক্রমণও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকেরা তাই এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। চিকিৎসা শেষে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কেটে যায়।
    মনে রাখুন:
    কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বমি বমি ভাব, চুল পড়া, দুর্বলতা।
    এ সময় সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকতে হয়।
  145. ১৯৬. কেমোথেরাপির জনক হলেন-বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. পল এহর্লিক
    • খ. উইলিয়াম রনজেন
    • গ. মাদাম কুরি
    • ঘ. গোল্ড সেইন
    উত্তর: ক. পল এহর্লিক
    জার্মান বিজ্ঞানী পল এহর্লিক (Paul Ehrlich) কেমোথেরাপির জনক। তিনি রোগ সারাতে রাসায়নিক যৌগ ব্যবহারের ধারণা দেন এবং রোগজীবাণুকে লক্ষ্য করে ধ্বংসকারী রাসায়নিককে 'ম্যাজিক বুলেট' নাম দেন। ১৯০৯ সালে তিনি সিফিলিসের চিকিৎসার জন্য সালভারসান নামের ওষুধ আবিষ্কার করেন। ১৯০৮ সালে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। এহর্লিক রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করে কোষ রাঙিয়ে দেখার পদ্ধতিও চালু করেন। তাঁর ধারণা ছিল, জীবাণুর নির্দিষ্ট অংশে রঞ্জক আটকে যায়, তাই ওষুধও কেবল জীবাণুকেই আক্রমণ করা সম্ভব। এ থেকেই আজকের লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার ধারণা এসেছে।
    মনে রাখুন:
    উইলিয়াম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
    মাদাম কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন।
  146. ১৯৭. 'রেডিওথেরাপি' কোষের কোনটিকে ধ্বংস করে?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • খ. নিউক্লিয়াস
    • গ. DNA
    • ঘ. কোষগহ্বর
    উত্তর: গ. DNA
    রেডিওথেরাপিতে উচ্চ শক্তির রশ্মি ক্যান্সারের কোষে প্রয়োগ করা হয়। এই রশ্মি কোষের ডিএনএকে (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে। ডিএনএ নষ্ট হলে কোষ আর বিভাজিত হতে পারে না এবং ধীরে ধীরে মরে যায়। ক্যান্সার কোষ খুব দ্রুত বাড়ে বলে ডিএনএ ক্ষতির প্রভাব তাদের ওপর বেশি পড়ে। সুস্থ কোষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য রশ্মি শুধু আক্রান্ত অংশে সীমিত রাখা হয়। রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো আয়নিত বিকিরণ ব্যবহার করা হয়। এই রশ্মি কোষের পানির অণু ভেঙে মুক্ত মূলক তৈরি করে, যা ডিএনএর ক্ষতি করে। এ চিকিৎসা অনেক সময় অস্ত্রোপচারের আগে বা পরেও দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    রেডিওথেরাপিতে ব্যবহৃত রশ্মি: এক্স-রে বা গামা রশ্মি।
    কোবাল্ট-৬০ রেডিওথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়।
  147. ১৯৮. প্রাণিদেহে জীবাণুজাত বিষ নিষ্ক্রিয়কারী রাসায়নিক পদার্থের নাম কি?শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন কারিগরি শিক্ষা জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব ও রোগ
    • ক. অ্যান্টিজেন
    • খ. অ্যান্টিবডি
    • গ. অ্যান্টিটক্সিন
    • ঘ. অ্যান্টিসিড
    উত্তর: গ. অ্যান্টিটক্সিন
    কিছু ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকে বিষ বা টক্সিন (Toxin) তৈরি করে। ডিপথেরিয়া ও ধনুষ্টঙ্কার এমন রোগের উদাহরণ। এই বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় যে রাসায়নিক পদার্থ, তার নাম অ্যান্টিটক্সিন (Antitoxin)। রোগীকে অ্যান্টিটক্সিন সেরাম দিলে বিষের ক্ষতি থেমে যায়। টিকা বা ভ্যাকসিন শরীরকে আগেই রোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুত করে, আর অ্যান্টিটক্সিন বিষ তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তাকে নিষ্ক্রিয় করে। তাই বিষজনিত রোগে জরুরি অবস্থায় অ্যান্টিটক্সিন দিতে হয়।
    ডিপথেরিয়ার অ্যান্টিটক্সিন তৈরি করেন জার্মান বিজ্ঞানী এমিল ফন বেরিং, যার জন্য তিনি ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান।
    বাকি শব্দগুলোর অর্থ আলাদা: অ্যান্টিজেন (Antigen) এমন পদার্থ, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া ঘটায়। অ্যান্টিবডি (Antibody) অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রোটিন। অ্যান্টাসিড পাকস্থলীর অম্লতা কমায়।
  148. ১৯৯. কোন হেপাটাইটিস ভাইরাস RNA ভাইরাস নয়?৯ম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. হেপাটাইটিস A ভাইরাস
    • খ. হেপাটাইটিস B ভাইরাস
    • গ. হেপাটাইটিস C ভাইরাস
    • ঘ. হেপাটাইটিস E ভাইরাস
    উত্তর: খ. হেপাটাইটিস B ভাইরাস
    হেপাটাইটিস (Hepatitis) যকৃতের প্রদাহ। হেপাটাইটিস A, C ও E ভাইরাসের জিনগত পদার্থ আরএনএ, কিন্তু হেপাটাইটিস B ভাইরাস একটি ডিএনএ ভাইরাস। তাই আরএনএ ভাইরাস নয়, এমন ভাইরাস হলো হেপাটাইটিস B। হেপাটাইটিস B ডিএনএ ভাইরাস হলেও এর কিছু ধাপে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম কাজ করে। তাই এটি একটি বিশেষ ধরনের ডিএনএ ভাইরাস। তবু সাধারণভাবে একে ডিএনএ ভাইরাস ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস A ও E দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
    হেপাটাইটিস B ও C রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়।
    A ও B-র টিকা আছে, কিন্তু C-র টিকা নেই।
  149. ২০০. কোন গাছে ভাইরাস মোজাইক রোগ উৎপন্ন করে?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ডালিয়া), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ধান গাছে
    • খ. তামাক গাছে
    • গ. বেগুন গাছে
    • ঘ. পাট গাছে
    উত্তর: খ. তামাক গাছে
    তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে তামাকের মোজাইক ভাইরাস (Tobacco Mosaic Virus বা TMV)। আক্রান্ত গাছের পাতায় হলুদ ও গাঢ় সবুজ রঙের ছোপ পড়ে, যেন মোজাইক করা। পাতা কুঁচকে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। আক্রান্ত গাছ থেকে রস সুস্থ গাছে ছড়ালে সেটিও আক্রান্ত হয়। এ থেকে প্রমাণ হয়েছিল যে রোগটির কারণ অতি ক্ষুদ্র কোনো জীবাণু।
    TMV পৃথিবীর প্রথম আবিষ্কৃত ভাইরাস। এই ভাইরাস তামাক ছাড়াও টমেটো, আলু ও অন্যান্য গাছকে আক্রমণ করতে পারে।
    মনে রাখুন: বেগুনের ক্ষতি করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগ, আর ধানের টুংরো রোগ ভাইরাসজনিত।
  150. ২০১. নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-সি ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. যক্ষ্মা
    • খ. পোলিও
    • গ. টাইফয়েড
    • ঘ. নিউমোনিয়া
    উত্তর: খ. পোলিও
    পোলিও (Polio) পোলিওভাইরাস থেকে হয়, তাই এটি ভাইরাসজনিত রোগ। যক্ষ্মা, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়া মূলত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস, টাইফয়েডের জীবাণু সালমোনেলা টাইফি এবং নিউমোনিয়ার একটি প্রধান জীবাণু স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়ে। পোলিও থেকে সুরক্ষার জন্য শিশুদের নির্দিষ্ট বয়সে পোলিও টিকা দেওয়া হয়, আর যক্ষ্মা, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ রোগের কারণ আলাদা হলে চিকিৎসার পথও আলাদা হয়। টাইফয়েড ও যক্ষ্মা প্রতিরোধেও আলাদা টিকা আছে।
    মনে রাখুন: ব্যাকটেরিয়ার রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, কিন্তু ভাইরাসের রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজে আসে না।
  151. ২০২. কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. বহুমূত্র
    • খ. জলাতঙ্ক
    • গ. যক্ষ্মা
    • ঘ. টাইফয়েড
    উত্তর: খ. জলাতঙ্ক
    জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস (Rabies) একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের লালায় এই ভাইরাস থাকে এবং কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢোকে। বাকি রোগগুলোর মধ্যে যক্ষ্মা ও টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়াজনিত। বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস কোনো জীবাণুর রোগ নয়, এটি দেহের বিপাকজনিত সমস্যা। র‍্যাবিস ভাইরাস স্নায়ুর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছে সেখানে প্রদাহ ঘটায়। এ কারণে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরে চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
    রোগের নাম জলাতঙ্ক, কারণ রোগী পানি দেখলে ভয় পায় এবং গিলতে কষ্ট হয়।
    মনে রাখুন: কুকুর কামড়ালে ক্ষত সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দ্রুত টিকা নিতে হয়। ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর এই রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
  152. ২০৩. কোনটি Viral disease?স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. Tuberculosis
    • খ. Pneumonia
    • গ. Diphtheria
    • ঘ. Influenza
    উত্তর: ঘ. Influenza
    ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) বা ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসের গঠন প্রায়ই বদলে যায়, তাই প্রতি বছর নতুন করে ফ্লুর টিকা তৈরি করতে হয়। ফ্লুর ভাইরাসকে তিনটি প্রধান ধরনে ভাগ করা হয়: A, B ও C। এর মধ্যে A ধরনের ভাইরাস থেকেই মহামারি ঘটার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, কারণ এর গঠন সবচেয়ে ঘন ঘন বদলায়। তাই প্রতি বছর ফ্লুর নতুন টিকা দিতে হয়।
    বাকি তিনটি ব্যাকটেরিয়াজনিত। যক্ষ্মা (Tuberculosis) মাইকোব্যাকটেরিয়াম থেকে হয়, ডিপথেরিয়া হয় করিনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়ে থেকে, আর নিউমোনিয়া সাধারণত স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
  153. ২০৪. ভাইরাসজনিত রোগ কোনটি?DGFP'র মেডিকেল অফিসার · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. Plague
    • খ. Rabies
    • গ. Leishmaniasis
    • ঘ. Pertusis
    উত্তর: খ. Rabies
    র‍্যাবিস (Rabies) বা জলাতঙ্ক রোগ হয় র‍্যাবিস ভাইরাস থেকে। এই ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের সময় লালা দিয়ে শরীরে ঢোকে এবং স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ককে আক্রমণ করে। প্লেগ, কালাজ্বর ও হুপিং কাশি তিনটিই ভাইরাস ছাড়া অন্য জীবাণুর রোগ, তাই জলাতঙ্ককে আলাদা করে চেনা যায়।
    অন্য তিনটি রোগের কারণ ভাইরাস নয়: প্লেগ (Plague) হয় ইয়ার্সিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া থেকে, যা ইঁদুরের গায়ের মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। লিশম্যানিয়াসিস বা কালাজ্বর হয় লিশম্যানিয়া নামের প্রোটোজোয়া থেকে, বাহক বালি মাছি। পারটুসিস বা হুপিং কাশি হয় বোর্ডেটেলা ব্যাকটেরিয়া থেকে।
  154. ২০৫. নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সিসিপি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. টিটেনাস
    • খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    • গ. চিকেন পক্স
    • ঘ. হাম
    উত্তর: ক. টিটেনাস
    টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার ভাইরাস থেকে হয় না। এই রোগ সৃষ্টি করে ক্লস্ট্রিডিয়াম টিটানি নামের ব্যাকটেরিয়া। এর স্পোর মাটিতে থাকে এবং কাটা বা ক্ষতের মধ্য দিয়ে শরীরে ঢুকে বিষ তৈরি করে। সেই বিষ স্নায়ুকে আক্রমণ করে পেশি শক্ত করে দেয়। মাটি, ধুলা ও প্রাণীর মলে এই স্পোর বহুদিন বেঁচে থাকে। তাই কাটা বা ছেঁড়া জায়গা মাটির সংস্পর্শে এলে ধনুষ্টঙ্কারের ঝুঁকি থাকে, এবং ক্ষত ভালো করে পরিষ্কার করে টিকা নিতে হয়।
    অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, জলবসন্ত (চিকেন পক্স) ও হাম তিনটিই ভাইরাসজনিত রোগ।
    মনে রাখুন: টিটেনাস রোধে ভ্যাকসিন নেওয়া হয়, আর শিশুদের টিকাদানের তালিকায় এর অন্তর্ভুক্তি আছে।
  155. ২০৬. কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. AIDS
    • খ. জলাতঙ্ক
    • গ. ডিপথেরিয়া
    • ঘ. পোলিও
    উত্তর: গ. ডিপথেরিয়া
    ডিপথেরিয়া ভাইরাসজনিত নয়, এটি করিনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়ে নামের ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া গলায় বিষ ছড়ায় এবং গলায় পর্দার মতো আস্তরণ তৈরি করে শ্বাস নিতে কষ্ট ঘটায়। ডিপথেরিয়ার জীবাণুর বিষ হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুকেও ক্ষতি করতে পারে। এর চিকিৎসায় অ্যান্টিটক্সিন ও অ্যান্টিবায়োটিক দুটোই লাগে। এ কারণে সময়মতো শিশুকে ডিপিটি টিকা দেওয়া খুব জরুরি।
    অন্য তিনটি রোগের কারণ ভাইরাস: এইডস (AIDS) হয় এইচআইভি ভাইরাস থেকে, জলাতঙ্ক হয় র‍্যাবিস ভাইরাস থেকে, আর পোলিও হয় পোলিওভাইরাস থেকে।
    মনে রাখুন: ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে একসঙ্গে ডিপিটি (DPT) টিকা দেওয়া হয়।
  156. ২০৭. কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ নয়?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (খ ইউনিট) ভর্তি · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. কলেরা
    • খ. বসন্ত
    • গ. হাম
    • ঘ. জন্ডিস
    উত্তর: ক. কলেরা
    কলেরা ভাইরাস থেকে হয় না। এই রোগের জীবাণু ভিব্রিও কলেরি নামের কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এটি শরীরে ঢোকে এবং পাতলা পায়খানা ও বমি ঘটায়। ১৮৮৩ সালে রবার্ট কখ এই জীবাণু শনাক্ত করেন। কলেরায় রোগী ঘন ঘন চালধোয়া পানির মতো পায়খানা করে। ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ঠিকমতো স্যালাইন না দিলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যেতে পারে।
    বসন্ত, হাম ও জন্ডিস ভাইরাসজনিত। বিশেষ করে ভাইরাল হেপাটাইটিসের কারণেই জন্ডিস হয়ে থাকে।
    মনে রাখুন: কলেরার চিকিৎসায় প্রধান কাজ হলো খাওয়ার স্যালাইন, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
  157. ২০৮. কোন রোগটি ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয় না?DGFI-এর SI · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. যক্ষ্মা
    • খ. করোনা
    • গ. পোলিও
    • ঘ. হাম
    উত্তর: ক. যক্ষ্মা
    যক্ষ্মা বা টিউবারকুলোসিস (Tuberculosis) ভাইরাসের কারণে হয় না, এর জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামের ব্যাকটেরিয়া। ১৮৮২ সালে রবার্ট কখ এই ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন। এটি প্রধানত ফুসফুসকে আক্রমণ করে এবং কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। যক্ষ্মার জীবাণু ধীরে বাড়ে বলে এর চিকিৎসা অনেক মাস, সাধারণত ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে চালাতে হয়। বাংলাদেশে এই চিকিৎসা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। শিশুদের জন্য বিসিজি টিকা দেওয়া হয়।
    করোনা, পোলিও ও হাম তিনটিই ভাইরাসঘটিত রোগ।
    মনে রাখুন: যক্ষ্মা প্রতিরোধে শিশুদের বিসিজি (BCG) টিকা দেওয়া হয়।
  158. ২০৯. সাধারণ সর্দি-কাশি হয় যে ভাইরাসের কারণে তার নাম-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. রেট্রো ভাইরাস
    • খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
    • গ. রাইনো ভাইরাস
    • ঘ. রোটা ভাইরাস
    উত্তর: গ. রাইনো ভাইরাস
    সাধারণ সর্দি-কাশি সাধারণত রাইনো ভাইরাসের (Rhinovirus) কারণে হয়। ‘রাইনো’ শব্দের অর্থ নাক, কারণ এই ভাইরাস নাক ও গলার ভেতরের আস্তরণে সংক্রমণ ঘটায়। এটি হাঁচি, কাশি ও আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ থেকে ছড়ায়। সর্দির জন্য ১০০টিরও বেশি রকমের ভাইরাস দায়ী হতে পারে, এ কারণে একবার সর্দি হলে তা আবার হতে পারে। ফ্লুর জন্য আলাদা টিকা থাকলেও সাধারণ সর্দির জন্য কোনো টিকা নেই।
    অন্য ভাইরাসগুলোও ক্ষতিকর। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে হয় ফ্লু, যা সাধারণ সর্দির চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক। রোটা ভাইরাস শিশুদের ডায়রিয়ার একটি প্রধান কারণ। আর এইচআইভি একটি রেট্রোভাইরাস।
  159. ২১০. 'এইচপিভি' টিকা কোন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. স্তন ক্যান্সার
    • খ. জরায়ু মুখের ক্যান্সার
    • গ. ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার
    • ঘ. রক্তের ক্যান্সার
    উত্তর: খ. জরায়ু মুখের ক্যান্সার
    এইচপিভি (HPV) বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস জরায়ুর মুখে ক্যানসার ঘটাতে পারে। তাই এইচপিভি টিকা নিলে ভাইরাসের সংক্রমণ আটকানো যায় এবং জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। সংক্রমিত হওয়ার আগে, অর্থাৎ কিশোর বয়সে টিকা নিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। টিকা না থাকলে জরায়ুমুখের ক্যানসার নারীদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর একটি বড় কারণ। এ রোগের শুরুতেই পরীক্ষা করে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। ক্যানসার প্রতিরোধের এটি সবচেয়ে সফল টিকাগুলোর একটি।
    অধিকাংশ জরায়ুমুখের ক্যানসারের পেছনে এইচপিভির ১৬ ও ১৮ নম্বর ধরন দায়ী।
    মনে রাখুন: এইচপিভি একটি ডিএনএ ভাইরাস।
  160. ২১১. জলবসন্তের রোগ জীবাণুর নাম-DGFP এর মেডিকেল অফিসার · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. Vibrio
    • খ. Varicella
    • গ. Rubiola
    • ঘ. Rubella
    উত্তর: খ. Varicella
    জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের (Chickenpox) জীবাণু ভ্যারিসেলা-জস্টার ভাইরাস, আর রোগটির বৈজ্ঞানিক নাম ভ্যারিসেলা (Varicella)। এতে সারা শরীরে পানিভরা ফোসকা ওঠে এবং খুব চুলকায়। রোগীর ফোসকার তরল ও শ্বাসের মাধ্যমে এই রোগ খুব সহজে ছড়ায়, তাই আক্রান্তদের আলাদা রাখা হয়। শিশুকে টিকা দেওয়া থাকলে রোগটি হালকা হয় বা একেবারেই হয় না।
    ভাইরাসটি রোগ সারার পরও স্নায়ুকোষে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়। অনেক বছর পরে এটি আবার সক্রিয় হয়ে হার্পিস জস্টার বা শিঙ্গলস (Shingles) নামের বেদনাদায়ক রোগ ঘটাতে পারে।
    মনে রাখুন: রুবিওলা (Rubeola) মানে হাম আর রুবেলা (Rubella) মানে জার্মান হাম। এই দুটি জলবসন্ত নয়।
  161. ২১২. HMPV কী?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ব্যাকটেরিয়া
    • খ. কম্পিউটার প্রোগ্রামের নাম
    • গ. ভাইরাস
    • ঘ. নতুন প্রযুক্তি
    উত্তর: গ. ভাইরাস
    এইচএমপিভি (HMPV) হলো হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস (Human Metapneumovirus)। ২০০১ সালে নেদারল্যান্ডসে এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা হয়। এটি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, যার লক্ষণ সাধারণ সর্দি-কাশির মতো: জ্বর, কাশি ও নাক বন্ধ হওয়া। এ ধরনের রোগের জন্য আলাদা কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসা হয় লক্ষণ অনুযায়ী, যেমন বিশ্রাম, তরল খাবার ও প্রয়োজনে অক্সিজেন। ফলে রোগীকে বিশ্রামে রাখা এবং বেশি করে পানি খাওয়ানো উপকারী।
    শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এটি ছড়ায়।
  162. ২১৩. 'নিউক্যাসেল' রোগের অপর নাম কি?মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. বসন্ত
    • খ. কক্সিডিওসিস
    • গ. রানীক্ষেত রোগ
    • ঘ. মুরগীর কলেরা
    উত্তর: গ. রানীক্ষেত রোগ
    নিউক্যাসল রোগ (Newcastle Disease) হাঁস-মুরগির একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ। ভারতের রানীক্ষেত নামের একটি জায়গায় এর প্রাদুর্ভাব প্রথম লক্ষ করা হয়েছিল, তাই এর আরেক নাম রানীক্ষেত রোগ। ১৯২৬ সালে ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল শহরেও এই রোগ শনাক্ত হয়, আর সেখান থেকেই রোগটির আসল নাম এসেছে। এই ভাইরাসের কারণে মুরগির খামারে মারাত্মক ক্ষতি হয়, তাই বাংলাদেশে মুরগির বাচ্চাদের নির্দিষ্ট বয়সে টিকা দেওয়া হয়।
    রোগে আক্রান্ত মুরগি ঝিমায়, শ্বাসকষ্টে ভোগে এবং খুব দ্রুত মারা যায়। টিকা দিয়ে একে প্রতিরোধ করা যায়।
    মনে রাখুন: মুরগির কলেরা ব্যাকটেরিয়াজনিত, আর কক্সিডিওসিস প্রোটোজোয়াজনিত।
  163. ২১৪. সর্বপ্রথম সোয়াইন ফ্লুর আক্রমণ দেখা যায় -জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (নৃবিজ্ঞান বিভাগ) ভর্তি, ২০০৯-১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ভারত
    • খ. থাইল্যান্ড
    • গ. চীন
    • ঘ. মেক্সিকো
    উত্তর: ঘ. মেক্সিকো
    ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মেক্সিকোতে সোয়াইন ফ্লুর (H₁N₁) বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম ধরা পড়ে। সেখান থেকে খুব অল্প সময়ে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে ছড়ায়, এবং ওই বছরের জুন মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে বৈশ্বিক মহামারি বা প্যান্ডেমিক (Pandemic) ঘোষণা করে। এই রোগে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি দেখা যায়। টিকা এবং ওসেলটামিভির নামের ভাইরাসরোধী ওষুধ এর বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হয়।
    ফ্লুটির নাম সোয়াইন ফ্লু, কারণ এর ভাইরাস শূকরের (Swine) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে মিল রাখে। তবে এটি মূলত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছিল, তাই শূকরের মাংস খেয়ে এই রোগ হয় না।
  164. ২১৫. সার্স কি?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৩-০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার্স, মার্স ও করোনা
    • ক. প্রশাসনিক অঞ্চল
    • খ. খেলা
    • গ. ব্যাধি
    • ঘ. অস্ত্র
    উত্তর: গ. ব্যাধি
    সার্স (SARS) একটি রোগের নাম, অর্থাৎ ব্যাধি। এর পূর্ণরূপ Severe Acute Respiratory Syndrome, বাংলায় তীব্র তীক্ষ্ণ শ্বাসতন্ত্রীয় সংক্রমণ। এই রোগে রোগীর ফুসফুস মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয় এবং শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়। রোগীর কাশি বা হাঁচির ফোঁটার মাধ্যমে সার্স ছড়ায়, তাই মুখে মাস্ক পরা এবং আক্রান্তকে আলাদা রাখা এর প্রতিরোধের প্রধান পথ।
    রোগটি প্রথম ধরা পড়ে ২০০২ সালের শেষ দিকে চীনের গুয়াংডং প্রদেশে। ২০০৩ সালে এটি কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর জন্য দায়ী SARS-CoV নামের একটি করোনাভাইরাস।
    মনে রাখুন: ইংরেজি SAR মানে বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (Special Administrative Region), যেমন হংকং। কিন্তু SARS-এর এই অর্থের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
  165. ২১৬. SARS এর পূর্ণরূপ কোনটি?DNC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার্স, মার্স ও করোনা
    • ক. Severe Acute Respiratory Syndrome
    • খ. Severe Acute Recovery Syndrome
    • গ. Simple Access Recovery Syndrome
    • ঘ. None
    উত্তর: ক. Severe Acute Respiratory Syndrome
    SARS-এর পূর্ণরূপ Severe Acute Respiratory Syndrome। Severe মানে গুরুতর, Acute মানে তীব্র ও দ্রুত বাড়ে এমন, Respiratory মানে শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত এবং Syndrome মানে একসঙ্গে দেখা দেওয়া লক্ষণের সমষ্টি। এটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৩ সালের মার্চে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করে। পরে এর জন্য দায়ী ভাইরাসকে শনাক্ত করা হয় এবং দ্রুত রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
    সার্সের লক্ষণ প্রথমে সাধারণ ফ্লুর মতো থাকে: জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা। পরে শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হয়ে যায়।
    মনে রাখুন: সার্স, মার্স ও কোভিড-১৯, তিনটি রোগই করোনাভাইরাস পরিবারের ভাইরাস থেকে হয়।
  166. ২১৭. 'হংকং ভাইরাস' নামে পরিচিত 'সার্স' প্রথম কোন দেশে দেখা যায়?প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পার্সোনাল অফিসার, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার্স, মার্স ও করোনা
    • ক. চীন
    • খ. থাইল্যান্ড
    • গ. হংকং
    • ঘ. ভিয়েতনাম
    উত্তর: ক. চীন
    সার্স প্রথম দেখা যায় চীনে। ২০০২ সালের নভেম্বরে চীনের গুয়াংডং প্রদেশে প্রথম রোগী ধরা পড়ে। পরের বছর এক আক্রান্ত চিকিৎসক হংকংয়ের একটি হোটেলে থাকার সময় আরও অনেককে সংক্রমিত করেন। সেখান থেকে ভিয়েতনাম, কানাডা ও অন্যান্য দেশে রোগটি ছড়ায়। সে কারণেই অনেকে একে হংকং ভাইরাস নামে চিনত। রোগটি দ্রুত ছড়ানোর কারণ ছিল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ। এক জায়গার আক্রান্ত মানুষ বিমানে অন্য দেশে গিয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সার্স রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করতে হয়েছিল।
    মনে রাখুন: ১৯৬৮ সালের ‘হংকং ফ্লু’ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা এক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি (H₃N₂)।
  167. ২১৮. কোন দেশে প্রথম মার্স ভাইরাস দেখা দেয়?সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার্স, মার্স ও করোনা
    • ক. জর্ডান
    • খ. সৌদি আরব
    • গ. কুয়েত
    • ঘ. ইরাক
    উত্তর: খ. সৌদি আরব
    মার্স (MERS) বা মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম প্রথম শনাক্ত হয় ২০১২ সালে সৌদি আরবে। এর জন্য দায়ী MERS-CoV নামের একটি করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসের উৎস উট বলে ধরা হয়, আর আক্রান্ত উটের সংস্পর্শে এলে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্তদের জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, আর অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও কিডনির সমস্যাও দেখা দেয়। এই রোগে মৃত্যুহার সার্সের চেয়ে অনেক বেশি। মার্স রোগের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই।
    মনে রাখুন:
    সার্স প্রথম দেখা যায় ২০০২ সালে চীনে।
    মার্স প্রথম দেখা যায় ২০১২ সালে সৌদি আরবে।
    কোভিড-১৯ প্রথম দেখা যায় ২০১৯ সালে চীনে।
  168. ২১৯. করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোন দেশ হতে?আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে অফিস সহায়ক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. ইতালি
    • খ. দক্ষিণ কোরিয়া
    • গ. চীন
    • ঘ. জাপান
    উত্তর: গ. চীন
    কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে চীনে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে অজানা কারণে নিউমোনিয়ার মতো রোগের রোগী দেখা যায়। পরে জানা যায়, এটি একটি নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। পরে ২০২০ সালের মার্চ মাস নাগাদ ভাইরাসটি প্রায় সব মহাদেশে পৌঁছে যায়। এই কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে।
    করোনা মানে মুকুট। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটির চারদিকে মুকুটের মতো কাঁটা দেখা যায় বলে এই পরিবারের ভাইরাসের নাম করোনাভাইরাস।
    মনে রাখুন: ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এই ভাইরাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা বলে ঘোষণা করে।
  169. ২২০. 'করোনাভাইরাস' চীনের কোন প্রদেশে প্রথম দেখা যায়?বিসিএসআইআর জুনিয়র টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. উহান
    • খ. উনবেন
    • গ. সাংহাই
    • ঘ. হুবেই
    উত্তর: ঘ. হুবেই
    করোনাভাইরাস প্রথম দেখা যায় চীনের হুবেই (Hubei) প্রদেশে। হুবেই প্রদেশের রাজধানী হলো উহান। উহান একটি শহর, প্রদেশ নয়, তাই প্রদেশের নাম জানতে চাইলে উত্তর হুবেই। সাংহাই আলাদা একটি পৌর অঞ্চল। শুরুতে ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয় নভেল করোনাভাইরাস (2019-nCoV), পরে এর নাম হয় SARS-CoV-2। রোগটির নাম রাখা হয় কোভিড-১৯। ২০২০ সালের শুরুতে হুবেই প্রদেশে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছিল। ওই শহরের একটি বাজারকে ঘিরেই প্রথম রোগীদের পাওয়া যায়।
    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানের একটি বাজারকে ঘিরে প্রথম রোগীদের খোঁজ মেলে।
    মনে রাখুন: উহান শহরটি ইয়াংজি নদীর তীরে অবস্থিত।
  170. ২২১. Covid-19 রোগী প্রথম কোন শহরে দেখা যায়?NSI-এর ডেসপ্যাচ রাইডার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. দিল্লী
    • খ. লন্ডন
    • গ. উহান
    • ঘ. কিউবেক
    উত্তর: গ. উহান
    কোভিড-১৯ রোগী প্রথম শনাক্ত হয় চীনের উহান (Wuhan) শহরে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেখানে নিউমোনিয়ার মতো অচেনা এক রোগে অনেকে আক্রান্ত হন। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বিষয়টি জানায়। ভাইরাসটি কীভাবে মানুষের মধ্যে এসেছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন। অধিকাংশ করোনাভাইরাসের মতো এটিও প্রাণী থেকে মানুষে এসেছে বলে ধারণা করা হয়। এর ফলে ভাইরাসের উৎস নিয়ে গবেষণা আজও চলছে।
    এরপর খুব দ্রুত রোগটি অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে।
  171. ২২২. Covid-19 রোগের ভাইরাসের নাম কী?PGCL এর টেকনিক্যাল এটেনডেন্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. SARS-COV-1
    • খ. SARS-COV-2
    • গ. Carona Virus
    • ঘ. Covid-19 Virus
    উত্তর: খ. SARS-COV-2
    কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম SARS-CoV-2। এর পুরো নাম Severe Acute Respiratory Syndrome Coronavirus 2। এটি ২০০২-০৩ সালের সার্স রোগের ভাইরাস SARS-CoV-এর সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে আলাদা ভাইরাস। ভাইরাসটি বদলে নতুন ধরন তৈরি করলেও নাম একই থাকে, শুধু ধরনের আলাদা নাম দেওয়া হয়, যেমন ডেল্টা ও ওমিক্রন। এখানে মনে রাখার বিষয় হলো, ভাইরাসের নাম ও রোগের নাম আলাদা।
    এখানে রোগ ও ভাইরাসের নাম আলাদা। রোগের নাম কোভিড-১৯ (COVID-19), আর ভাইরাসের নাম SARS-CoV-2। যেমন এইডস হলো রোগ আর এইচআইভি হলো তার ভাইরাস।
    ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই নাম দুটি ঘোষণা করা হয়।
  172. ২২৩. করোনাভাইরাসকে কী নামে আন্তর্জাতিকভাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?পরিবেশ অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. Covid- 19
    • খ. Novel
    • গ. Corona 19
    • ঘ. Novel 19
    উত্তর: ক. Covid- 19
    করোনাভাইরাসের রোগটির আন্তর্জাতিক নাম কোভিড-১৯ (COVID-19)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই নাম ঘোষণা করে। আগে রোগটিকে সাময়িকভাবে ‘নভেল করোনাভাইরাস’ (2019-nCoV) বলা হতো। নভেল মানে নতুন। নামের শেষের ১৯ সংখ্যাটি রোগটি যে বছর প্রথম শনাক্ত হয় (২০১৯), সেই বছর বোঝায়। আর কোভিড শব্দটি COronaVIrus Disease এই তিন অংশ জুড়ে তৈরি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেছে নিয়েছে। এই নামকরণে কোনো দেশ বা শহরের নাম রাখা হয়নি।
    নামের মধ্যে কোনো দেশ বা এলাকার নাম রাখা হয়নি, যাতে কোনো জনগোষ্ঠী কলঙ্কিত না হয়।
  173. ২২৪. 'COVID-19'– এর পূর্ণরূপ কী?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ডি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯
    • খ. করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট ২০১৯
    • গ. সংক্রামক ভাইরাস ডিজিজ ২০১৯
    • ঘ. করোনাভাইরাস ভিক্টরি ডিজিজ ২০১৯
    উত্তর: ক. করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯
    COVID-19 এর পূর্ণরূপ Coronavirus Disease 2019, অর্থাৎ করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯। এর CO অংশ করোনা, VI অংশ ভাইরাস এবং D অংশ ডিজিজ বা রোগ। ১৯ সংখ্যাটি ২০১৯ সালকে বোঝায়, যে বছর প্রথম এই রোগ ধরা পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নামটি ঘোষণা করে ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। রোগের নাম রাখার সময় কোনো দেশ, শহর বা প্রাণীর নাম এড়িয়ে চলা হয়, যাতে কোনো জনগোষ্ঠী নিয়ে ভুল ধারণা না ছড়ায়।
    এই নাম ঠিক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাকি তিনটি বিকল্পে ‘ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট’ বা ‘ভিক্টরি’ বলে যা আছে, সেগুলোর কোনো সম্পর্ক এই নামের সঙ্গে নেই।
  174. ২২৫. বাংলাদেশে প্রথম কত তারিখে করোনা (কোভিড-১৯ আক্রান্ত) রোগী শনাক্ত হয়?বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. ৮ এপ্রিল, ২০২০
    • খ. ৩ মার্চ, ২০২০
    • গ. ২ এপ্রিল, ২০২০
    • ঘ. ৮ মার্চ, ২০২০
    উত্তর: ঘ. ৮ মার্চ, ২০২০
    বাংলাদেশে প্রথম তিনজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর খবর জানানো হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) তা শনাক্ত করে এবং ঘোষণা দেয়। এর কয়েক দিন পরেই, ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। পরে সংক্রমণ ক্রমে বাড়তে থাকে এবং সরকার বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা নেয়। দেশে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। এ কারণে ওই দিনটি করোনার ইতিহাসে বিশেষভাবে মনে রাখা হয়।
    মনে রাখুন: সরকার ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল।
  175. ২২৬. সন্দেহভাজন করোনা রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ নয় কোনটি?BPSC এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. জ্বর
    • খ. শুকনো কাশি
    • গ. গলা ব্যথা
    • ঘ. পেটে ব্যথা
    উত্তর: ঘ. পেটে ব্যথা
    করোনা সন্দেহ করার মতো সাধারণ লক্ষণ হলো জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট। কারও কারও গন্ধ ও স্বাদ বোঝার ক্ষমতাও কমে যায়। পেটে ব্যথা এই রোগের প্রধান বা বিশিষ্ট লক্ষণ নয়। প্রতিরোধে মুখে মাস্ক পরা, সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এবং অন্যের থেকে অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখা কার্যকর। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে পরীক্ষা করানো উচিত।
    রোগের লক্ষণ দেখা যায় সাধারণত ভাইরাস শরীরে ঢোকার ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে। এই সময়কে ইনকিউবেশন পিরিয়ড (Incubation Period) বা সুপ্তিকাল বলে।
  176. ২২৭. RT-PCR এর পূর্ণরূপ কী?BBAL'র গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. Real Time Chain Reaction
    • খ. Real Time Critical Reaction
    • গ. Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction
    • ঘ. Reverse Time Polymerase Chain Reaction
    উত্তর: গ. Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction
    RT-PCR এর পূর্ণরূপ Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction। করোনাভাইরাসের জিনগত পদার্থ ডিএনএ নয়, আরএনএ। পিসিআর কেবল ডিএনএকে বহুগুণ বাড়াতে পারে, তাই প্রথমে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম দিয়ে আরএনএকে ডিএনএতে রূপান্তর করা হয়। তারপর সেই ডিএনএ বাড়িয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই রূপান্তরের ধাপটিকেই রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন বলে। এই পরীক্ষায় নাক ও গলার ভেতর থেকে নমুনা নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। ভাইরাসের আরএনএ থাকলে পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এই পরীক্ষায় দুই থেকে তিন ঘণ্টায় ফল পাওয়া যায়।
    কোভিড-১৯ শনাক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা হিসেবে আরটি-পিসিআরকে ধরা হয়।
  177. ২২৮. PCR- এর পরিপূর্ণ অর্থ কি?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. Polymer Chain Room
    • খ. Public Common Reaction
    • গ. Polymerase Chain Reaction
    • ঘ. Polytechnic College Reading
    উত্তর: গ. Polymerase Chain Reaction
    PCR এর পূর্ণরূপ Polymerase Chain Reaction (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন)। এটি ডিএনএর একটি ছোট অংশকে ল্যাবরেটরিতে কম সময়ে লক্ষ কোটি গুণ বাড়ানোর কৌশল। আমেরিকান বিজ্ঞানী ক্যারি মুলিস ১৯৮৩ সালে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং ১৯৯৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
    এই পদ্ধতিতে ডিএনএকে বারবার গরম ও ঠান্ডা করা হয়, তাই এমন এনজাইম লাগে যা উচ্চ তাপে নষ্ট হয় না। ব্যবহার করা হয় ট্যাক পলিমারেজ, যা উষ্ণ প্রস্রবণের ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: রোগ নির্ণয়, ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ফরেনসিক পরীক্ষায় পিসিআর ব্যবহার করা হয়।
  178. ২২৯. রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. হাইড্রোমিটার
    • খ. ওডোমিটার
    • গ. পালস ম্যানোমিটার
    • ঘ. পালস অক্সিমিটার
    উত্তর: ঘ. পালস অক্সিমিটার
    রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্রের নাম পালস অক্সিমিটার (Pulse Oximeter)। আঙুলে লাগিয়ে এটি আলোর সাহায্যে রক্তের হিমোগ্লোবিনে কতটা অক্সিজেন আছে তা মাপে। ফলাফল শতকরা হারে দেখানো হয়, যাকে SpO₂ বলে। করোনার সময় ঘরে থেকে রোগীর অবস্থা নজরে রাখতে এই যন্ত্র খুব কাজে লেগেছে। যন্ত্রটি আঙুলে আটকে দিলেই কয়েক সেকেন্ডে ফল দেখায়।
    সুস্থ মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা সাধারণত ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি থাকে। করোনার সময় এই মাত্রা কমে গেলে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতো।
    অন্য যন্ত্রগুলো: হাইড্রোমিটার তরলের ঘনত্ব মাপে, আর ওডোমিটার গাড়ি কত দূর চলেছে তা মাপে।
  179. ২৩০. আই.সি.ইউ-এর পূর্ণরূপ কী?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. ইন্টেনসিড করোনা ইউনিট
    • খ. ইমপালসিভ কেয়ার ইউনিট
    • গ. ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট
    • ঘ. ইমপ্রেসিভ ক্যান্সার ইউনিট
    উত্তর: গ. ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট
    আইসিইউ (ICU) এর পূর্ণরূপ Intensive Care Unit, বাংলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র। এখানে এমন রোগীদের রাখা হয়, যাদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর এবং যাদের ২৪ ঘণ্টা বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন হয়। আইসিইউতে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সরা ২৪ ঘণ্টা রোগীর পাশে থাকেন। এটি হাসপাতালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও জটিল ইউনিটগুলোর একটি। সাধারণ ওয়ার্ডে এমন নজরদারি সম্ভব নয়।
    আইসিইউতে হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা মাপার নানা যন্ত্র থাকে। শ্বাস নিতে না পারা রোগীর জন্য থাকে ভেন্টিলেটর (Ventilator) যন্ত্র, যা কৃত্রিমভাবে ফুসফুসে বাতাস পাঠায়। করোনার সময় এই ইউনিটের চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
  180. ২৩১. প্রথম কোন দেশ করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করে?কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. রাশিয়া
    • খ. চীন
    • গ. জার্মানি
    • ঘ. কোরিয়া
    উত্তর: ক. রাশিয়া
    করোনাভাইরাসের টিকা সাধারণ ব্যবহারের জন্য সবার আগে নিবন্ধন করে রাশিয়া। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে তারা ‘স্পুটনিক ভি’ (Sputnik V) টিকা অনুমোদন দেয়। গামালেয়া ইনস্টিটিউট এই টিকা তৈরি করে। এই টিকা তৈরির সময় অন্য দেশগুলোও পরীক্ষামূলক টিকা নিয়ে কাজ করছিল। তাই কারা প্রথম, সেই প্রশ্ন বিতর্কিত হলেও রাশিয়ার নামই সাধারণত বলা হয়। পরে রাশিয়ার এই টিকা বহু দেশে পাঠানো হয়।
    নামটি এসেছে ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের উৎক্ষেপণ করা বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক’ থেকে।
    মনে রাখুন: পরে অন্যান্য দেশের টিকাও অনুমোদন পায়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও চীনের সিনোফার্ম।
  181. ২৩২. What is the name of the Russian developed CORONA vaccine?NRBC Bank Ltd. TAO, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. COVAX
    • খ. GAVI
    • গ. Pfizer
    • ঘ. Sputnik
    উত্তর: ঘ. Sputnik
    রাশিয়ার তৈরি করোনা টিকার নাম স্পুটনিক (Sputnik V)। মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউট এই টিকা তৈরি করে এবং ২০২০ সালের আগস্টে এটি নিবন্ধিত হয়। স্পুটনিক ভি টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয় এবং অনেক দেশে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি তৈরি করে রাশিয়ার মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউট, আর পরে অনেক দেশ এই টিকা ব্যবহার করে। নামের ভি (V) অক্ষরটি ইংরেজি Vaccine এর সংক্ষিপ্ত রূপ বলে ধরা হয়, যদিও রোমান ৫ সংখ্যা হিসেবেও পড়া যায়।
    অন্য নামগুলোর পরিচয় আলাদা: কোভ্যাক্স (COVAX) হলো দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। গ্যাভি (GAVI) হলো টিকা সংক্রান্ত একটি বৈশ্বিক জোট। আর ফাইজার (Pfizer) একটি আমেরিকান ওষুধ কোম্পানি।
  182. ২৩৩. কার নেতৃত্বে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রোজেনেকা টিকা আবিষ্কার করা হয়?বিআরডিবির সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. অযলেম টুরেসি
    • খ. সারাহ গিলবার্ট
    • গ. হ্যামিলটন বিনেট
    • ঘ. আদর পুনেওয়ালা
    উত্তর: খ. সারাহ গিলবার্ট
    অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা তৈরির গবেষণাদলের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী। টিকাটির ব্যাপক উৎপাদন করে অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানি। এই টিকা সাধারণ রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রায় রাখা যায় বলে এটি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সুবিধাজনক ছিল। এই টিকার মূল প্রযুক্তি ভাইরাল ভেক্টরভিত্তিক, যেখানে শিম্পাঞ্জির একটি নিরীহ অ্যাডেনোভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
    ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট এই টিকা ‘কোভিশিল্ড’ নামে তৈরি করেছিল, আর এর প্রধান নির্বাহী ছিলেন আদর পুনাওয়ালা। বাংলাদেশে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই টিকা দিয়েই করোনার গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়।
    মনে রাখুন: অযলেম তুরেসি জার্মান বায়োএনটেক কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যিনি ফাইজারের সঙ্গে আরেকটি টিকা তৈরিতে ছিলেন।
  183. ২৩৪. করোনার ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক 'সিনোভ্যাক বায়োটেক' কোন দেশের প্রতিষ্ঠান?বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এস্টিমেটর, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোভিড-১৯
    • ক. রাশিয়া
    • খ. যুক্তরাজ্য
    • গ. যুক্তরাষ্ট্র
    • ঘ. চীন
    উত্তর: ঘ. চীন
    সিনোভ্যাক বায়োটেক (Sinovac Biotech) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের একটি ওষুধ কোম্পানি। এরা করোনার টিকা ‘করোনাভ্যাক’ (CoronaVac) তৈরি করেছে। এটি নিষ্ক্রিয় বা মৃত ভাইরাস দিয়ে তৈরি টিকা। কোভিডের টিকা নেওয়ার পরে শরীরে রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। মৃত বা নিষ্ক্রিয় ভাইরাস দিয়ে তৈরি টিকা সাধারণত নিরাপদ, কারণ ভাইরাসটি আর সংখ্যা বাড়াতে পারে না। প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। মৃত ভাইরাসের টিকা কোনো সংক্রমণ ঘটাতে পারে না।
    চীনের আরেকটি কোম্পানি সিনোফার্মও (Sinopharm) করোনার টিকা তৈরি করেছে, এবং এই টিকা বাংলাদেশেও ব্যবহার করা হয়েছে।
  184. ২৩৫. কোনটি AIDS রোগের জন্য দায়ী?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. AIDV
    • খ. IDV
    • গ. HILV
    • ঘ. HIV
    উত্তর: ঘ. HIV
    এইডস (AIDS) রোগের জন্য দায়ী এইচআইভি (HIV), অর্থাৎ হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। এটি একটি রেট্রোভাইরাস, যার জিনগত পদার্থ আরএনএ। ভাইরাসটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষকে আক্রমণ করে ধীরে ধীরে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। এইচআইভি ভাইরাস রক্তের শ্বেত কণিকায় ঢুকে নিজের সংখ্যা বাড়ায়। সংক্রমণের পর অনেক বছর কোনো লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে, তবে ওই ব্যক্তি অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন। ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ করতে ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়।
    ১৯৮৩ সালে ফ্রান্সের লুক মঁতানিয়ে ও ফ্রাঁসোয়াজ বারে-সিনুসি এই ভাইরাস শনাক্ত করেন। এ জন্য তাঁরা ২০০৮ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
  185. ২৩৬. HIV এর পূর্ণরূপ কি?ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয় · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. Human Immunodeficiency Virus
    • খ. Harvest imantive Vaccine
    • গ. Heavy immuno Vital
    • ঘ. High inactive Voltage
    উত্তর: ক. Human Immunodeficiency Virus
    HIV এর পূর্ণরূপ Human Immunodeficiency Virus। Human মানে মানুষ, কারণ এই ভাইরাস শুধু মানুষকে আক্রমণ করে। Immunodeficiency মানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি। কারণ ভাইরাসটি আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে ফেলে। ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিকভাবে এই ভাইরাসের নাম এইচআইভি বলে স্থির করা হয়। পরীক্ষা করে এইচআইভি আছে কি না জানা যায়। এই নামকরণ করা হয় বিভিন্ন গবেষকদলের দেওয়া আলাদা নামের বদলে একটি সর্বজনীন নাম দেওয়ার জন্য।
    মনে রাখুন: এইচআইভি হলো ভাইরাস, আর এইডস হলো সেই ভাইরাসের সংক্রমণের শেষ ধাপে দেখা দেওয়া রোগ। তাই এইচআইভি সংক্রমিত হলেই কেউ এইডস রোগী হয়ে যান না।
  186. ২৩৭. HIV কি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. এইডস ভাইরাস
    • খ. এইডস নিরাময়ের ঔষুধ
    • গ. রোগের নাম
    • ঘ. উন্নতমানের কৃষি উপকরণ
    উত্তর: ক. এইডস ভাইরাস
    এইচআইভি (HIV) হলো এইডস রোগের ভাইরাস। এটি ওষুধ নয়, কৃষির উপকরণও নয়, আবার কোনো রোগের নামও নয়। ভাইরাসটি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক বছর পরে এই অবস্থাকেই আমরা এইডস বলি। যাঁদের এইচআইভি আছে, তাঁদের ওষুধ খেয়ে ভাইরাসের মাত্রা খুব কমিয়ে রাখা যায়। তখন তাঁরা সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন এবং অন্যকে ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে যায়। সংক্রমণের শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা করা তাই গুরুত্বপূর্ণ।
    মনে রাখুন: এইচআইভি সংক্রমণ হলে নিয়মিত ওষুধ (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART) খেয়ে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
  187. ২৩৮. HIV ছড়ায় -নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. খাদ্যের মাধ্যমে
    • খ. অনিরাপদ পানির মাধ্যমে
    • গ. কাপড়ের মাধ্যমে
    • ঘ. রক্তের মাধ্যমে
    উত্তর: ঘ. রক্তের মাধ্যমে
    এইচআইভি রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত রক্ত অন্যকে দেওয়া, একই সিরিঞ্জ বা সুই একাধিক জনের ব্যবহার, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, এবং আক্রান্ত মা থেকে গর্ভে, প্রসবের সময় বা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর কাছে, এই কয়েকটি পথেই ভাইরাস ছড়ায়। এইচআইভি পরীক্ষা করে সংক্রমণ আছে কি না জানা যায়, তাই সন্দেহ হলে সময়মতো পরীক্ষা করানো ভালো।
    অন্যদিকে খাবার, পানি, কাপড়, হাত মেলানো, একসঙ্গে থাকা বা মশার কামড়ে এইডস ছড়ায় না। তাই আক্রান্ত মানুষকে এড়িয়ে চলার কোনো কারণ নেই।
    মনে রাখুন: রক্ত দেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া এবং নতুন বা জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার করা এইডস প্রতিরোধের জরুরি উপায়।
  188. ২৩৯. HIV রক্তের কোনটিকে আক্রমণ করে?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. লোহিত কণিকা
    • খ. শ্বেত কণিকা
    • গ. অনুচক্রিকা
    • ঘ. রক্তরস
    উত্তর: খ. শ্বেত কণিকা
    এইচআইভি রক্তের শ্বেত কণিকাকে আক্রমণ করে। বিশেষ করে সাহায্যকারী টি-কোষ (Helper T Cell বা CD4 কোষ) নামের শ্বেত কণিকা এর শিকার হয়। এই কোষ শরীরের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়। এটি নষ্ট হয়ে গেলে শরীর সামান্য জীবাণুর বিরুদ্ধেও লড়তে পারে না। ভাইরাস এই কোষে ঢুকে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম দিয়ে নিজের আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি করে। এভাবে কোষটি ভাইরাসের কারখানায় পরিণত হয়।
    লোহিত কণিকার কাজ অক্সিজেন বহন করা, আর অণুচক্রিকার কাজ রক্ত জমাট বাঁধানো। রক্তরস আসলে রক্তের তরল অংশ।
    মনে রাখুন: রোগীর শরীরে CD4 কোষের সংখ্যা কমতে থাকলে এইডসের লক্ষণ দেখা দেয়।
  189. ২৪০. যে রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি ধ্বংস হয়ে যায় তাকে বলে-BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. ধনুষ্টঙ্কার
    • খ. হৃদরোগ
    • গ. জন্ডিস
    • ঘ. এইডস (AIDS)
    উত্তর: ঘ. এইডস (AIDS)
    এইডস (AIDS) রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এইচআইভি ভাইরাস শরীরের প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে আক্রমণ করে নষ্ট করে ফেলে। এ কারণে শরীর যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণের মতো নানা রোগের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। এইডস সরাসরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে, তাই এর রোগীদের অন্য সংক্রমণ হলে সেরে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। অন্যান্য রোগে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করতে থাকে, কিন্তু এইডসে সেই ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে।
    ধনুষ্টঙ্কার ব্যাকটেরিয়াজনিত, হৃদরোগ হৃৎপিণ্ডের রোগ এবং জন্ডিস সাধারণত যকৃতের সমস্যা।
    মনে রাখুন: প্রতিবছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়।
  190. ২৪১. এইডস রোগের ক্ষতিকারক দিক হচ্ছে-সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. দেহের যকৃত নষ্ট হয়
    • খ. মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়
    • গ. দেহের কিডনি নষ্ট হয়
    • ঘ. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়
    উত্তর: ঘ. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়
    এইডসের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। এইচআইভি সংক্রমিত মানুষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে হতে এমন জায়গায় পৌঁছায় যে সামান্য সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এই সুযোগ নিয়ে যেসব জীবাণু রোগ ঘটায়, তাদের সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ (Opportunistic Infection) বলে। এইডসের প্রথম দিকের লক্ষণ হিসেবে দীর্ঘদিন জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, গলায় গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ও ঘন ঘন সংক্রমণ দেখা যেতে পারে।
    মনে রাখুন: যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও কিছু ক্যানসার এইডস রোগীর মধ্যে বেশি দেখা যায়। এইডস সরাসরি যকৃত বা কিডনির রোগ নয়।
  191. ২৪২. HIV সংক্রমণের শেষ পর্যায় হলোপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. ক্যান্সার
    • খ. সিফিলিস
    • গ. এইডস
    • ঘ. গনোরিয়া
    উত্তর: গ. এইডস
    এইচআইভি সংক্রমণের শেষ পর্যায় হলো এইডস (AIDS)। ভাইরাস ঢোকার পর বহু বছর রোগী সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পারেন, কারণ এ সময় শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টিকে থাকে। কিন্তু চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা কোষ কমে যায় এবং রোগী এইডসের পর্যায়ে পৌঁছান। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে এই শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো ঠেকানো যায়। এইডসের পর্যায়ে রোগীর রক্তে CD4 কোষের সংখ্যা প্রতি মাইক্রোলিটারে ২০০-এর নিচে নেমে যায়।
    সিফিলিস ও গনোরিয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌনবাহিত রোগ, আর ক্যানসার সম্পূর্ণ আলাদা এক রোগ।
    মনে রাখুন: সময়মতো ওষুধ (ART) শুরু করলে এইচআইভি সংক্রমিত মানুষ অনেক বছর সুস্থ থাকতে পারেন।
  192. ২৪৩. এইডস (AIDS) একটি -BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ
    • খ. ভাইরাসঘটিত রোগ
    • গ. প্রোটোজোয়াঘটিত রোগ
    • ঘ. ফাংগাসঘটিত রোগ
    উত্তর: খ. ভাইরাসঘটিত রোগ
    এইডস একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এর জীবাণু এইচআইভি (HIV) নামের ভাইরাস, যার জিনগত পদার্থ আরএনএ। ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া বা ছত্রাক এই রোগের কারণ নয়। এইডস যেসব উপায়ে ছড়ায়, তার প্রধান পথ রক্ত, যৌন সংসর্গ ও আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ। ভাইরাসের কারণ বলে এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক, ছত্রাকনাশক বা প্রোটোজোয়ানাশক ওষুধ কার্যকর হয় না। কেবল ভাইরাসরোধী ওষুধ কাজ করে।
    ভাইরাসজনিত রোগ বলেই এইডসে পেনিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। বর্তমানে এমন ওষুধ আছে, যা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি আটকে রাখে, কিন্তু রোগ পুরোপুরি সারানোর ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।
  193. ২৪৪. AIDS এর অভিব্যক্তি কি?আমদানি-রপ্তানি অধিদপ্তরের অফিসার, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. American Immunity Deficiency Symptom
    • খ. Acquired Intestintal Deficiency System
    • গ. Acquired Immunity Deficiency Symptom
    • ঘ. Acquired Immune Deficiency Syndrome
    উত্তর: ঘ. Acquired Immune Deficiency Syndrome
    AIDS এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome। Acquired মানে অর্জিত, অর্থাৎ এই রোগ বংশগত নয় বরং সংক্রমণের মাধ্যমে পাওয়া। Immune Deficiency মানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি। আর Syndrome মানে একসঙ্গে দেখা দেওয়া নানা লক্ষণের সমষ্টি। ইংরেজিতে ভাইরাসের নাম হলো HIV, আর রোগের নাম AIDS। এই দুটি শব্দের পার্থক্য মনে রাখলে প্রশ্নে ভুল হয় না। প্রথম অক্ষর A অর্থাৎ Acquired বা অর্জিত শব্দটিই জানিয়ে দেয় যে রোগটি জন্মগত নয়।
    এই রোগ প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে।
    মনে রাখুন: বাকি বিকল্পগুলোতে Immunity, Intestinal, System বা Symptom শব্দ আছে, যা এই নামের অংশ নয়।
  194. ২৪৫. এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কোনটি অধিকতর কার্যকর?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. সচেতনতা সৃষ্টি
    • খ. শিকার ব্যবস্থা
    • গ. আক্রান্তদের এড়িয়ে চলা
    • ঘ. আক্রান্তদের প্রতি যত্নবান হওয়া
    উত্তর: ক. সচেতনতা সৃষ্টি
    এইডসের টিকাও নেই, সম্পূর্ণ নিরাময়ের ওষুধও নেই। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা সৃষ্টি। মানুষ যদি জানে এইডস কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে ছড়ায় না, তাহলে সে নিজেকে সহজেই সুরক্ষিত রাখতে পারে। সচেতনতা তৈরির কাজ চলে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও গণমাধ্যমে। এখানে বলা হয়, নিরাপদ রক্ত নেওয়া, জীবাণুমুক্ত সুই ব্যবহার এবং নিরাপদ যৌন আচরণ এইডস থেকে সুরক্ষা দেয়।
    সচেতনতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এইডস স্পর্শ, কথা বলা বা একসঙ্গে খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না। তাই আক্রান্ত মানুষের প্রতি যত্ন নেওয়া দরকার, কিন্তু সেটি প্রতিরোধের প্রধান উপায় নয়। রোগীকে এড়িয়ে চললে সমস্যা বাড়ে, কমে না।
    মনে রাখুন: লাল ফিতা এইডস সচেতনতার আন্তর্জাতিক প্রতীক।
  195. ২৪৬. পৃথিবীর কোন দেশে সবচেয়ে বেশি এইডস রোগী রয়েছে?জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (খ-ইউনিট) ভর্তি, ২০০৮-০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. দক্ষিণ আফ্রিকা
    • খ. বোতসওনা
    • গ. জিম্বাবুয়ে
    • ঘ. সোয়াজিল্যান্ড
    উত্তর: ক. দক্ষিণ আফ্রিকা
    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এইচআইভি সংক্রমিত মানুষ আছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৭০ লক্ষের বেশি। বোতসওয়ানা, জিম্বাবুয়ে ও এসোয়াতিনি (সোয়াজিল্যান্ড) জনসংখ্যার তুলনায় সংক্রমণের হার বেশি, কিন্তু মোট সংখ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে। এই অঞ্চলে জনসংখ্যার বড় অংশ এইচআইভি সংক্রমিত। গরিব মানুষের জন্য চিকিৎসার সুযোগ কম থাকা এবং সচেতনতার অভাবও এর কারণ। ভারতও এই তালিকায় উপরের দিকে আছে, কারণ সেখানকার জনসংখ্যা অনেক বেশি। তবে এখানে মোট সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, শতকরা হারের কথা নয়।
    আফ্রিকার দক্ষিণাংশের দেশগুলো এইডসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার কম, তবু সচেতনতার প্রয়োজন আছে।
  196. ২৪৭. AIDS সম্বন্ধে যে তথ্যটি সঠিক নয় -প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাইবার অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. AIDS-এর ভাইরাস রক্ত কণিকাকে সংক্রমিত করে
    • খ. AIDS-মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খর্ব করে
    • গ. পেনিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিক দ্বারা AIDS রোগ সারানো যায়
    • ঘ. AIDS-যৌন সংগমের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়
    উত্তর: গ. পেনিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিক দ্বারা AIDS রোগ সারানো যায়
    পেনিসিলিন দিয়ে এইডস সারানো যায় না। পেনিসিলিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা কেবল ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এইডস ভাইরাসজনিত রোগ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক এখানে অকেজো। বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ দিয়ে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও রোগটি সম্পূর্ণ সারে না। এইডসের ওষুধ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা উচিত নয়, নয়তো ভাইরাস আবার বাড়তে শুরু করে।
    বাকি তিনটি তথ্য সঠিক। এইচআইভি রক্তের শ্বেত কণিকাকে সংক্রমিত করে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং যৌন সংসর্গের মাধ্যমেও ছড়ায়।
    মনে রাখুন: পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং, ১৯২৮ সালে।
  197. ২৪৮. কোন ঔষধটি এখন AIDS রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হয়?উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস ও এইচআইভি
    • ক. টেট্রাসাইক্লিন (Tetracycline)
    • খ. এজিডোথাইমেডিন (Azidothymedin)
    • গ. ইমরান (Imaran)
    • ঘ. কার্টিসন (Cartisone)
    উত্তর: খ. এজিডোথাইমেডিন (Azidothymedin)
    এজিডোথাইমিডিন (Azidothymidine বা AZT) এইডসের প্রথম ওষুধ, যা ১৯৮৭ সালে অনুমোদন পায়। ওষুধটি এইচআইভির রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইমের কাজে বাধা দেয়, ফলে ভাইরাসের সংখ্যা বাড়তে পারে না। বর্তমানে একাধিক ওষুধ একসঙ্গে দিয়ে এইচআইভির চিকিৎসা করা হয়। এই ওষুধ সংক্রমিত মা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ কমাতেও ব্যবহৃত হয়েছে। আজকাল সারা পৃথিবীতেই একাধিক ওষুধ মিলিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতি চালু। এইডসের রোগীকে এই ওষুধ দিলে ভাইরাসের সংখ্যা কমে এবং বেঁচে থাকার সময় বাড়ে।
    টেট্রাসাইক্লিন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক। ইমুরান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমনকারী ওষুধ, আর কর্টিসন একটি স্টেরয়েড।
  198. ২৪৯. নিচের কোনটি ভাইরাস বিরোধী ঔষধ?থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা ও ওষুধ
    • ক. ভ্যাকসিন (Vaccine)
    • খ. সালফাডক্সিন পাইরিমিথামিন (Sulphadoxine Pyrimithamine)
    • গ. অ্যাসিক্লোভার (Acyclover)
    • ঘ. ক্লোরোকুইন (Chloroquine)
    উত্তর: গ. অ্যাসিক্লোভার (Acyclover)
    অ্যাসাইক্লোভির (Acyclovir) একটি ভাইরাস বিরোধী বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। হার্পিস ভাইরাস এবং জলবসন্ত ও শিঙ্গলসের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধ ভাইরাসের ডিএনএ তৈরিতে বাধা দেয়। ভাইরাস শরীরের জীবন্ত কোষের ভেতরে থাকে বলে এমন ওষুধ বানানো কঠিন, যা ভাইরাসকে মারবে অথচ কোষকে ক্ষতি করবে না। এ কারণেই ভাইরাসরোধী ওষুধের সংখ্যা অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় অনেক কম।
    বাকি তিনটির কাজ আলাদা। ভ্যাকসিন বা টিকা রোগ হওয়ার আগে শরীরকে প্রস্তুত করে, ওষুধ নয়। সালফাডক্সিন-পাইরিমিথামিন এবং ক্লোরোকুইন ম্যালেরিয়ার ওষুধ। ম্যালেরিয়া প্রোটোজোয়া থেকে হয়, ভাইরাস থেকে নয়।
  199. ২৫০. পোলিও ভাইরাস দেহে কিভাবে প্রবেশ করে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোলিও
    • ক. লালা গ্রন্থির দ্বারা
    • খ. দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা
    • গ. মশা কামড়ালে
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা
    পোলিও ভাইরাস দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে ঢোকে। আক্রান্ত মানুষের মলের মাধ্যমে ভাইরাস পরিবেশে ছড়ায় এবং অপরিষ্কার হাত বা পানির সঙ্গে অন্যের মুখে পৌঁছায়। প্রথমে এটি অন্ত্রে বংশবৃদ্ধি করে, তারপর রক্তের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে পেশি অবশ করে দিতে পারে। পোলিও আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের তেমন কোনো লক্ষণ হয় না। কিন্তু প্রতি ২০০ জনের মধ্যে একজনের স্থায়ী পক্ষাঘাত হতে পারে।
    এ কারণে বিশুদ্ধ পানি পান, হাত ধোয়া এবং স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করা এই রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: ২০১৪ সালে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল পোলিওমুক্ত ঘোষিত হয়।
  200. ২৫১. Which one of the following statements is true for polio disease?শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিনিয়র শিক্ষানবিস অফিসার, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোলিও
    • ক. The parasite enters the blood and attacks the blood cell
    • খ. Caused by flies that carry germs from insected rats
    • গ. The movement of nerves are affected, caused by virus
    • ঘ. Increasing white blood corpuscles in blood
    উত্তর: গ. The movement of nerves are affected, caused by virus
    পোলিও রোগে স্নায়ুর কাজ ব্যাহত হয়, আর এর কারণ ভাইরাস। এই ভাইরাস মেরুদণ্ডের স্নায়ুকোষ আক্রমণ করে এবং পেশিকে অবশ করে দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই এই রোগের আরেক নাম শিশু পক্ষাঘাত। পোলিওর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই টিকা নেওয়াই একমাত্র নিরাপদ উপায়। শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে পোলিওর ফোঁটা টিকা দেওয়া হয়। ভাইরাসটি সরাসরি স্নায়ুকোষকে ধ্বংস করে বলে অবশ হয়ে যাওয়া পেশি আর আগের মতো সচল হয় না।
    অন্য বিবৃতিগুলো আলাদা রোগের ক্ষেত্রে খাটে। রক্তের কোষে পরজীবী ঢুকে আক্রমণ করে ম্যালেরিয়ায়। ইঁদুরের মাছির মাধ্যমে প্লেগ ছড়ায়। আর রক্তে শ্বেত কণিকা বেড়ে যায় লিউকেমিয়া বা সংক্রমণে।
  201. ২৫২. Oral Polio Vaccine-BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোলিও
    • ক. Live attenuated
    • খ. Killed
    • গ. Subunit
    • ঘ. Toxoid
    উত্তর: ক. Live attenuated
    মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা (Oral Polio Vaccine বা OPV) হলো লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড, অর্থাৎ জীবিত কিন্তু দুর্বল করা ভাইরাস দিয়ে তৈরি টিকা। ভাইরাস দুর্বল হওয়ায় এটি রোগ ঘটাতে পারে না, কিন্তু অন্ত্রে বংশবৃদ্ধি করে শরীরকে প্রতিরোধ গড়তে শেখায়। আলবার্ট সেবিন এই টিকা আবিষ্কার করেন। এই টিকা সুবিধাজনক, কারণ এটি খুব সস্তা এবং মুখে খাওয়ানো সহজ। তবে বিরল ক্ষেত্রে দুর্বল ভাইরাসটি আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে, তাই অনেক দেশ এখন ইনজেকশনের টিকায় ফিরছে।
    উল্টো দিকে ইনজেকশনে দেওয়া পোলিও টিকা (IPV) মৃত ভাইরাস দিয়ে তৈরি, যা আবিষ্কার করেন জোনাস সল্ক।
    মনে রাখুন: টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার টিকা টক্সয়েড দিয়ে তৈরি, আর হেপাটাইটিস B টিকা সাবইউনিট ধরনের।
  202. ২৫৩. পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন -রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (হিসাববিজ্ঞান) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোলিও
    • ক. মেকুল্লাস
    • খ. ডোনাল্ড রস
    • গ. জোনাস ই স্যাক
    • ঘ. জেনার
    উত্তর: গ. জোনাস ই স্যাক
    পোলিও টিকা প্রথম আবিষ্কার করেন আমেরিকান বিজ্ঞানী জোনাস ই. সল্ক (Jonas E. Salk)। তিনি মৃত পোলিও ভাইরাস দিয়ে ইনজেকশনের টিকা বানান। ১৯৫৫ সালে এই টিকা সবার জন্য অনুমোদিত হয়। এর ফলে সেই সময় পোলিওর ভয়ংকর মহামারি অনেকটা থেমে যায়। সল্কের টিকা পরীক্ষার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ শিশুকে নিয়ে বড় এক পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাতে ভালো ফল আসায় পরের বছরই টিকা সবার জন্য ছাড় পায়।
    বাকিদের পরিচয়: এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন, আর রোনাল্ড রস (ডোনাল্ড রস নয়) ম্যালেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
    মনে রাখুন: মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন আলবার্ট সেবিন।
  203. ২৫৪. পোলিও টিকা আবিষ্কারক জোনাস সাল্ক যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে মারা যান, শহরটির নাম -বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোলিও
    • ক. La Martini
    • খ. La Jolla
    • গ. San Antonio
    • ঘ. San Jose
    উত্তর: খ. La Jolla
    জোনাস সল্ক ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লা হোয়া (La Jolla) শহরে মারা যান। এটি সান দিয়েগো শহরের একটি এলাকা। এই শহরেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত সল্ক ইনস্টিটিউট অবস্থিত, যেটি ১৯৬০ সালে স্থাপিত হয়েছিল। জোনাস সল্ক ১৯১৪ সালে নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রতীরের এই শহরে এখনো তাঁর গবেষণাগার আছে। তাঁর নামেই প্রতিষ্ঠানটির নাম।
    সল্ক ১৯৫৫ সালে পোলিওর টিকা আবিষ্কার করে বিখ্যাত হন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি এই টিকার জন্য কোনো পেটেন্ট নেননি। তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, সূর্যের কি পেটেন্ট হয়?
  204. ২৫৫. ওরাল পোলিও প্রতিষেধক কে আবিষ্কার করেন?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৮-০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোলিও
    • ক. রস
    • খ. জেনার
    • গ. সেবিন
    • ঘ. কচ
    উত্তর: গ. সেবিন
    মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা (Oral Polio Vaccine) আবিষ্কার করেন পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আমেরিকান বিজ্ঞানী আলবার্ট সেবিন (Albert Sabin)। তিনি দুর্বল করা জীবন্ত ভাইরাস ব্যবহার করে এই টিকা বানান, যা ১৯৬১ সালের দিকে ব্যবহার শুরু হয়। সেবিনের এই টিকার সুবিধা হলো, এটি অন্ত্রেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাই ভাইরাস ছড়ানোও কমে যায়। ইনজেকশনের টিকা অন্ত্রে এতটা সুরক্ষা দেয় না।
    মুখে খাওয়ার টিকা সস্তা ও দেওয়া সহজ। ফোঁটা হিসেবে মুখে ফেলে দিলেই চলে, ইনজেকশনের দরকার হয় না, তাই গণটিকা কর্মসূচিতে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।
    মনে রাখুন: ইনজেকশনের পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন জোনাস সল্ক, জেনার গুটিবসন্তের টিকা, আর রবার্ট কখ যক্ষ্মা ও কলেরার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
  205. ২৫৬. কোনটি শিশুর জন্মগত ত্রুটিজনিত রোগ?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. হাম
    • খ. পোলিও
    • গ. হেপাটাইটিস
    • ঘ. রুবেলা
    উত্তর: ঘ. রুবেলা
    রুবেলা বা জার্মান হাম (Rubella) একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এটি হালকা হলেও গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মায়ের রুবেলা হলে গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। একে কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম বলে। রুবেলা ভাইরাস আরএনএ ভাইরাস। এ কারণে গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে শিশুর অঙ্গ গঠনের সময় ক্ষতি হয়।
    এতে শিশুর চোখে ছানি পড়তে পারে, কানে কম শুনতে পারে, হৃৎপিণ্ডে ত্রুটি থাকতে পারে এবং মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
    মনে রাখুন: হাম ও রুবেলার জন্য একসঙ্গে এমআর (MR) টিকা দেওয়া হয়। গর্ভধারণের আগেই টিকা নিয়ে রাখা এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  206. ২৫৭. পাগলা কুকুর কামড়ালে কোন রোগ হয়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. সেপটোসেমিয়া
    • খ. জলাতঙ্ক
    • গ. রিকেটস
    • ঘ. পঙ্গুত্ব
    উত্তর: খ. জলাতঙ্ক
    পাগলা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ হয়। আক্রান্ত কুকুরের লালায় র‍্যাবিস ভাইরাস থাকে এবং কামড়ের ক্ষত দিয়ে তা স্নায়ুর পথ ধরে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর রোগটি প্রায় সবসময় মারাত্মক হয়। পাগলা কুকুর ছাড়াও বন্য শিয়াল, বাদুড় ও বিড়ালের কামড়ে জলাতঙ্ক হতে পারে। তাই কামড় খেলে পোষা প্রাণীর টিকা আছে কি না, সেটি জেনে নেওয়া ভালো।
    এই রোগে রোগী পানি দেখলে ভয় পায় এবং গিলতে গিয়ে গলার পেশিতে তীব্র কষ্ট হয়। এ কারণে বাংলায় এর নাম জলাতঙ্ক।
    মনে রাখুন: কুকুর কামড়ালে ক্ষত সাবান-পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধুয়ে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব টিকা নিতে হয়। সেপটিসেমিয়া হলো রক্তের সংক্রমণ আর রিকেটস ভিটামিন ডি-র অভাবে হয়।
  207. ২৫৮. ভ্যাক্সিন বা টিকা কে আবিষ্কার করেন?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা ও ওষুধ
    • ক. ওয়াটসন এন্ড ক্রিক
    • খ. এডওয়ার্ড জেনার
    • গ. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    • ঘ. ল্যামার্ক
    উত্তর: খ. এডওয়ার্ড জেনার
    টিকা বা ভ্যাকসিন (Vaccine) আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার। ১৭৯৬ সালে তিনি লক্ষ করেন যে গরুর বসন্ত বা কাউপক্সে আক্রান্ত দুধ দোয়ানো মেয়েদের গুটিবসন্ত হয় না। তখন তিনি কাউপক্সের পুঁজ এক বালকের শরীরে ঢুকিয়ে দেন। এতে সে গুটিবসন্ত থেকে সুরক্ষা পায়। জেনারের এই কাজ থেকেই পরে সব টিকার ধারণা তৈরি হয়েছে। টিকা শরীরকে সক্রিয়ভাবে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শেখায়, যেন সত্যিকারের জীবাণু এলে শরীর তা দ্রুত ঠেকাতে পারে।
    ল্যাটিন শব্দ vacca মানে গরু, আর সেখান থেকেই ভ্যাকসিন শব্দটি এসেছে।
    মনে রাখুন: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছেন, আর ওয়াটসন ও ক্রিক ডিএনএর গঠন নির্ণয় করেছেন।
  208. ২৫৯. কোন সংক্রামক ব্যাধিটি পৃথিবী হতে নির্মূল হয়েছে?মেডিকেল কলেজ ভর্তি, ২০১০-১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. কলেরা
    • খ. প্লেগ
    • গ. গুটি
    • ঘ. ম্যালেরিয়া
    উত্তর: গ. গুটি
    গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়েছে। কলেরা, প্লেগ ও ম্যালেরিয়া এখনো পৃথিবীর কোথাও না কোথাও দেখা যায়। ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কল্যাণে ১৯৭৭ সালে সোমালিয়ায় সর্বশেষ প্রাকৃতিক রোগী পাওয়া যায়, আর ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) রোগটি নির্মূল হওয়ার ঘোষণা দেয়। গুটিবসন্তের ভাইরাস শুধু মানুষের শরীরে বাঁচত, অন্য কোনো প্রাণীতে বাসা বাঁধতে পারত না। এ কারণেই টিকা দিয়ে মানুষকে সুরক্ষিত করে এই ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।
    মনে রাখুন: গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন এডওয়ার্ড জেনার। মানুষের রোগের মধ্যে এটিই প্রথম ও একমাত্র সম্পূর্ণ নির্মূল হওয়া রোগ।
  209. ২৬০. ডেঙ্গু শব্দটির উৎস ভাষা-BPSC'র সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. মঙ্গোলিয়ান
    • খ. ডেনিশ
    • গ. পর্তুগিজ
    • ঘ. স্প্যানিশ
    উত্তর: ঘ. স্প্যানিশ
    ডেঙ্গু শব্দটি স্প্যানিশ ভাষা থেকে ইংরেজিতে এসেছে বলে ধরা হয়। স্প্যানিশ ভাষায় ‘ডেঙ্গে’ মানে সাবধানি বা কষ্টে চলাফেরা, কারণ রোগীর শরীরে এত ব্যথা হয় যে সে সাবধানে পা ফেলে হাঁটে। কেউ কেউ মনে করেন শব্দটির মূল সোয়াহিলি ভাষায়। ডেঙ্গুতে হঠাৎ প্রবল জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা ও শরীরে ব্যথা হয়। সে কারণে এর আরেক নাম হাড়ভাঙা জ্বর। ডেঙ্গুর কোনো টিকা সবার জন্য এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।
    ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ, আর এডিস (Aedes) জাতের মশা এর বাহক।
    মনে রাখুন: এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায় এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
  210. ২৬১. ডেঙ্গু রোগের মোট কয়টি সাবটাইপ হয়ে থাকে?সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. ১টি
    • খ. ২টি
    • গ. ৩টি
    • ঘ. ৪টি
    উত্তর: ঘ. ৪টি
    ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি আলাদা সিরোটাইপ বা উপধরন আছে: DENV-1, DENV-2, DENV-3 ও DENV-4। যেকোনো একটিতে সংক্রমিত হলে সেই ধরনের বিরুদ্ধে সারা জীবনের প্রতিরোধ তৈরি হয়, কিন্তু অন্য তিনটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না। ডেঙ্গুর কোনো সুনির্দিষ্ট ভাইরাসরোধী ওষুধ নেই। চিকিৎসা হয় লক্ষণ অনুযায়ী, আর রোগীকে প্রচুর তরল খাবার দিতে হয়।
    তাই কারও দ্বিতীয়বার ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গু হলে রোগটি গুরুতর আকার নিতে পারে। একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলে। এতে শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হয়।
    মনে রাখুন: চার ধরনের ভাইরাসই একই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়।
  211. ২৬২. DENV-1, 2 কোন ধরনের রোগ?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (খ ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. ব্যাকটেরিয়াজনিত
    • খ. ভাইরাসজনিত
    • গ. পানিবাহিত
    • ঘ. বায়ুবাহিত
    উত্তর: খ. ভাইরাসজনিত
    DENV-1, DENV-2 ডেঙ্গু ভাইরাসের (Dengue Virus) ধরন, তাই এটি ভাইরাসজনিত রোগ। ভাইরাসটি আরএনএ ভাইরাস এবং ফ্লাভিভাইরাস পরিবারের সদস্য। এডিস মশার কামড়ে এটি মানুষের শরীরে ঢোকে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা (Aedes aegypti ও Aedes albopictus) গায়ের সাদা-কালো ডোরা দাগ দেখে চেনা যায়, তাই এদের চিতা মশাও বলা হয়।
    ডেঙ্গুর কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল কাজ হলো প্রচুর তরল খাবার খাওয়া, বিশ্রামে থাকা এবং জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল নেওয়া।
    মনে রাখুন: ডেঙ্গু রোগে ব্যথানাশক হিসেবে অ্যাসপিরিন খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে রক্তক্ষরণ বাড়তে পারে।
  212. ২৬৩. ডেঙ্গু জ্বর হলে রক্তের যে উপাদানটি কমে যায়-ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাঠ সংগঠক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. হিমোগ্লোবিন
    • খ. লোহিত কণিকা
    • গ. শ্বেত কণিকা
    • ঘ. অণুচক্রিকা
    উত্তর: ঘ. অণুচক্রিকা
    ডেঙ্গু জ্বর হলে রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট (Platelet) কমে যায়। অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। তাই এর সংখ্যা অনেক কমে গেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। রোগের কয়েক দিনের মধ্যে রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা সবচেয়ে কমে যায়। এ সময়ে রোগীকে সতর্ক নজরে রাখা ও প্রচুর তরল খাওয়ানো জরুরি।
    সুস্থ মানুষের প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে সাধারণত দেড় লক্ষ থেকে চার লক্ষ অণুচক্রিকা থাকে। ডেঙ্গুতে এই সংখ্যা ১ লক্ষের নিচে নেমে গেলে রোগীকে সতর্ক নজরে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন: অণুচক্রিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জার মেগাক্যারিওসাইট কোষ থেকে।
  213. ২৬৪. ডেঙ্গু রোগে রক্তের কোন উপাদানটি দ্রুত কমে যায়?BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. শ্বেত রক্ত কণিকা
    • খ. প্লাটিলেট রক্ত কণিকা
    • গ. লোহিত রক্ত কণিকা
    • ঘ. মনোসাইট
    উত্তর: খ. প্লাটিলেট রক্ত কণিকা
    ডেঙ্গু রোগে রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা দ্রুত কমে যায়। ডেঙ্গু ভাইরাস অস্থিমজ্জায় প্লাটিলেট তৈরিতে বাধা দেয়, আর শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্লাটিলেট নষ্ট করে ফেলে। ফলে মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, ত্বকে লালচে দাগ এবং কখনো কখনো ভেতরে রক্তক্ষরণ দেখা দেয়। ডেঙ্গুতে শ্বেত রক্তকণিকাও কিছুটা কমতে পারে, তবে প্লাটিলেটের হ্রাসই সবচেয়ে বেশি ও দ্রুত হয়। তাই রোগীর অবস্থা বুঝতে বারবার প্লাটিলেট গণনা করা হয়।
    ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে এডিস মশা দমন জরুরি। বাড়ির আশপাশে ফেলে রাখা টব, ডাবের খোসা ও টায়ারে পানি জমতে দেওয়া যাবে না, কারণ সেখানেই এডিস মশা ডিম পাড়ে।
  214. ২৬৫. Ebola কী?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. রোগ
    • ঘ. ফসলের জাত
    উত্তর: ক. ভাইরাস
    ইবোলা (Ebola) একটি ভাইরাস। এটি ফাইলোভাইরাস পরিবারের সদস্য। ইবোলায় আক্রান্ত মানুষের জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হয়, আর অনেক সময় শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এর মৃত্যুহার খুব বেশি। ইবোলায় প্রাণঘাতী হওয়ার হার অনেক বেশি, তাই একে প্রাণঘাতী ভাইরাস বলা হয়। সুরক্ষার জন্য এখন টিকা আছে। মনে রাখুন, ইবোলা ও মার্বার্গ ভাইরাস একই পরিবারের।
    ধারণা করা হয়, ফল খাওয়া বাদুড় এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে মানুষ সংক্রমিত হয়, তারপর রোগীর রক্ত বা দেহরসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়।
  215. ২৬৬. ঘাতক ভাইরাস ইবোলা প্রথম শনাক্ত করা হয় কোন দেশে?১১তম শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. ভারত
    • খ. কঙ্গো
    • গ. ইথিওপিয়া
    • ঘ. সুদান
    উত্তর: খ. কঙ্গো
    ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে। সে বছর আফ্রিকায় প্রায় একই সময়ে দুটি প্রাদুর্ভাব ঘটে। একটি ঘটে তখনকার জায়ার (বর্তমান গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র) ইয়াম্বুকু গ্রামে, আরেকটি সুদানে। কঙ্গোর ঘটনাটিকেই সাধারণত ইবোলা ভাইরাসের প্রথম শনাক্তকরণ ধরা হয়। ইবোলার বাহক সম্ভবত ফল খাওয়া বাদুড়, আর এই ভাইরাস আফ্রিকার ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত মানুষের রক্ত ও দেহরসের সংস্পর্শে এলে রোগ ছড়ায়।
    এই ভাইরাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা সেখান থেকেই জানতে শুরু করেন।
    মনে রাখুন: ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে, যাতে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  216. ২৬৭. ইবোলা ভাইরাস কিসের নামানুসারে নামকৃত?জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ডি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৪-১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু ও ইবোলা
    • ক. নদী
    • খ. বানর
    • গ. মাছ
    • ঘ. শিম্পাজি
    উত্তর: ক. নদী
    ইবোলা ভাইরাস একটি নদীর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোর যে গ্রামে রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, তার কাছ দিয়ে ইবোলা নামে একটি নদী বয়ে গেছে। গবেষকেরা সেই নদীর নামেই ভাইরাসটির নাম রাখেন। এতে কোনো মানুষ বা সম্প্রদায়ের নামে কলঙ্ক লাগার সুযোগ থাকে না। নদীর নামে ভাইরাসের নাম রাখার এই রীতি বহু রোগের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। যেমন মার্বার্গ ভাইরাসের নাম জার্মানির মার্বার্গ শহর থেকে এসেছে।
    মনে রাখুন: ইবোলা ভাইরাসের বাহক বাদুড় বলে ধারণা করা হয়, বানর বা শিম্পাঞ্জির সংস্পর্শ থেকেও মানুষ সংক্রমিত হতে পারে।
  217. ২৬৮. যে সকল ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে তাদেরকে বলা হয় -গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলী, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. এরোবেটিক ব্যাকটেরিয়া
    • খ. এনএরাবেটিক ব্যাকটেরিয়া
    • গ. ফেকালটেটিভ ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে প্যাথোজেনিক (Pathogenic) ব্যাকটেরিয়া বা রোগজীবাণু বলে। প্রশ্নের প্রথম তিনটি বিকল্প আসলে অন্য বিষয়ের নাম। এগুলো ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের ওপর কতটা নির্ভর করে, তার ভিত্তিতে ভাগ। ব্যাকটেরিয়া রোগ ঘটায় কি না তা তার অক্সিজেন-নির্ভরতা দিয়ে বোঝা যায় না। অনেক এরোবিক ব্যাকটেরিয়াও রোগ ঘটায়, আবার ক্লস্ট্রিডিয়ামের মতো অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়াও রোগ সৃষ্টি করে। তাই রোগ সৃষ্টি করে কি না, তা জানতে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি আলাদাভাবে দেখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    এরোবিক ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না।
    অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে।
    ফ্যাকালটেটিভ ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন থাকলে বা না থাকলে দুই অবস্থাতেই বাঁচতে পারে।
  218. ২৬৯. পানিতে ব্যাকটেরিয়া থাকলে কোনটি ঘটে?সমাজসেবা অধিদপ্তরে সমাজসেবা অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব ও রোগ
    • ক. Hardness
    • খ. Alkalinity
    • গ. Diseases
    • ঘ. Bad taste
    উত্তর: গ. Diseases
    পানিতে ব্যাকটেরিয়া থাকলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রোগ (Diseases) ছড়ানো। কলেরা, টাইফয়েড ও আমাশয়ের জীবাণু দূষিত পানির মাধ্যমে শরীরে ঢুকে এসব রোগ ঘটায়। এগুলোকে পানিবাহিত রোগ বলে। ব্যাকটেরিয়া থাকা পানি পান করলে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডের মতো রোগ হতে পারে। তাই পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়া নিরাপদ। ফুটানোর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা যায়।
    পানিকে নিরাপদ করার সহজ উপায় হলো ফুটিয়ে নেওয়া, ফিটকিরি বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে শোধন করা।
    মনে রাখুন: পানির খরতা (Hardness) হয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণের কারণে, ব্যাকটেরিয়ার কারণে নয়।
  219. ২৭০. কোনটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. পোলিও
    • খ. হাম
    • গ. জলাতঙ্ক
    • ঘ. ডিপথেরিয়া
    উত্তর: ঘ. ডিপথেরিয়া
    ডিপথেরিয়া (Diphtheria) একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। কোরিনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়ে নামের ব্যাকটেরিয়া গলা ও শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ঘটায়, ফলে গলায় পুরু পর্দা পড়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বাকি তিনটি রোগের কারণ ভিন্ন। পোলিও ও হাম ভাইরাসের কারণে হয়, আর জলাতঙ্কও ভাইরাসজনিত রোগ, যা পাগলা কুকুর বা শিয়ালের কামড়ে ছড়ায়। এই রোগ বিশেষ করে শিশুদের বেশি হয়, তাই জন্মের পর নির্দিষ্ট সময়ে টিকা দেওয়া খুব জরুরি। রোগের সময় ব্যাকটেরিয়ার তৈরি বিষ হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুরও ক্ষতি করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ডিপথেরিয়া প্রতিরোধে ডিপিটি টিকা দেওয়া হয়।
    ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্য রোগ: কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার।
  220. ২৭১. যেটি কলেরা, টাইফয়েড এবং যক্ষ্মা রোগ সৃষ্টি করে -BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. সিগেলামনি
    • ঘ. জিয়াডিয়া
    উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়া
    কলেরা, টাইফয়েড ও যক্ষ্মা, তিনটি রোগই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। কলেরা সৃষ্টি করে ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae), টাইফয়েড সৃষ্টি করে সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) আর যক্ষ্মা সৃষ্টি করে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (Mycobacterium tuberculosis)। ভাইরাস এই রোগগুলো ঘটায় না। ভাইরাস থেকে হয় পোলিও, হাম, ডেঙ্গু ও জলাতঙ্কের মতো রোগ। এই তিনটি জীবাণুর চেহারা ও বাসস্থান আলাদা হলেও সবাই এককোষী প্রোক্যারিওট, যাদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এ কারণে এদের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হয়।
    মনে রাখুন:
    জিয়ার্ডিয়া ও অ্যামিবা প্রোটোজোয়া, এরা পেটের পীড়া ও আমাশয় ঘটায়।
    ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, ভাইরাসের ক্ষেত্রে করে না।
  221. ২৭২. কলেরা রোগের জীবাণুর নাম কি?DMLC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. Shigella
    • খ. Rola viras
    • গ. Vibrio
    • ঘ. E coli
    উত্তর: গ. Vibrio
    কলেরা রোগের জীবাণুর নাম ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae)। এটি কমার আকৃতির একটি ব্যাকটেরিয়া। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এটি ছড়ায় এবং অন্ত্রে বিষ তৈরি করে, ফলে রোগীর পাতলা পায়খানা ও বমি হয় এবং শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাই চিকিৎসায় সবচেয়ে জরুরি হলো খাওয়ার স্যালাইন বা শিরায় স্যালাইন দিয়ে পানির ঘাটতি পূরণ করা। পানি ফুটিয়ে পান করলে এবং হাত ধুয়ে খেলে কলেরা থেকে বাঁচা যায়। বাংলাদেশে কলেরা বন্যার পর বা দূষিত পানির এলাকায় বেশি দেখা যায়। রোগটি খুব দ্রুত ছড়ায়, তাই একে অনেক সময় মহামারীর রোগ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    শিগেলা (Shigella) রক্ত আমাশয়ের জীবাণু।
    ১৮৮৩ সালে রবার্ট কচ কলেরার জীবাণু শনাক্ত করেন।
  222. ২৭৩. টাইফয়েড এর জন্য দায়ী জীবাণু?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ভিব্রিও কলেরা
    • খ. প্লাজমোডিয়াম
    • গ. সালমোনেলা
    • ঘ. হিস্টোলাইটিকা
    উত্তর: গ. সালমোনেলা
    টাইফয়েডের জন্য দায়ী জীবাণু সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi), যা একটি ব্যাকটেরিয়া। মলে দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এটি মানুষের অন্ত্রে ঢোকে। এর ফলে রোগীর দীর্ঘদিন জ্বর থাকে, পেটব্যথা হয় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্য তিনটি জীবাণুর কাজ ভিন্ন। ভিব্রিও কলেরি কলেরা ঘটায়, প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়া ঘটায় আর এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা অ্যামিবীয় আমাশয় ঘটায়। বাংলাদেশে বর্ষাকাল এবং বন্যার পর টাইফয়েডের রোগী বেশি পাওয়া যায়। টিকা নিলে ও ফুটানো পানি খেলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, আর অসুস্থ হলে এন্টিবায়োটিকে ভালো ফল পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    টাইফয়েড নির্ণয়ের পরীক্ষার নাম উইডাল (Widal) পরীক্ষা।
    প্লাজমোডিয়াম ও এন্টামিবা প্রোটোজোয়া, এরা ব্যাকটেরিয়া নয়।
  223. ২৭৪. লেপ্রোসি বা কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ফাংগাস জনিত রোগ
    • খ. হরমোন অভাবজনিত রোগ
    • গ. ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ
    • ঘ. ভাইরাস জনিত রোগ
    উত্তর: গ. ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ
    কুষ্ঠরোগ বা লেপ্রোসি (Leprosy) একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি (Mycobacterium leprae) নামের ব্যাকটেরিয়া ত্বক ও স্নায়ুকে আক্রমণ করে এই রোগ ঘটায়। এই রোগে ত্বকের স্থানটি অসাড় হয়ে যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে হাত-পায়ের আঙুল বেঁকে যেতে পারে। নরওয়ের চিকিৎসক হ্যানসেন এই জীবাণু আবিষ্কার করেন, তাই রোগটিকে হ্যানসেন রোগও বলা হয়। কুষ্ঠ খুব ধীরে ধীরে বাড়ে, জীবাণু ঢোকার কয়েক বছর পর লক্ষণ দেখা দেয়। রোগটি অনেকে ভয় পেলেও এটি সামান্য ছোঁয়ায় সহজে ছড়ায় না।
    মনে রাখুন:
    কুষ্ঠ আর যক্ষ্মার জীবাণু একই গণের (Mycobacterium) অন্তর্গত।
    বহু ওষুধ মিশিয়ে (MDT) চিকিৎসা করলে এ রোগ পুরোপুরি সারে।
  224. ২৭৫. কোনটি কুষ্ঠরোগের লক্ষণ?পরিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. দুর্গন্ধযুক্ত ত্বকে ক্ষত
    • খ. ক্ষতে অতিরিক্ত চুলকানি
    • গ. ক্ষতস্থান লাল হয়ে যাওয়া
    • ঘ. ত্বকে বিশেষ ধরনের ক্ষতে ব্যথাহীনতা
    উত্তর: ঘ. ত্বকে বিশেষ ধরনের ক্ষতে ব্যথাহীনতা
    কুষ্ঠরোগের সবচেয়ে বিশেষ লক্ষণ হলো ত্বকের ক্ষতে ব্যথাহীনতা। রোগের জীবাণু ত্বকের স্নায়ুকে নষ্ট করে দেয়, তাই আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, গরম বা ঠান্ডার অনুভূতি থাকে না। ত্বকে ফ্যাকাসে বা লালচে দাগ দেখা দেয়, কিন্তু সেখানে চুলকানি হয় না এবং ব্যথাও লাগে না। এ কারণে অনেকে রোগটি ধরতে দেরি করে ফেলে। ত্বকের স্নায়ু নষ্ট হয়ে গেলে রোগী টের পায় না যে হাত বা পা পুড়ে বা কেটে যাচ্ছে, ফলে ক্ষত বড় হয়ে স্থায়ী ক্ষতি করে ফেলে। অন্য ত্বকের রোগে সাধারণত চুলকানি বা ব্যথা থাকে, কুষ্ঠে থাকে না।
    মনে রাখুন:
    কুষ্ঠ রোগের জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি।
    সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগ সেরে যায় এবং বিকলাঙ্গতা ঠেকানো যায়।
  225. ২৭৬. অ্যানথ্রাক্স রোগের জীবাণুর নাম কি?বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০১১-১২ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০১০-১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস
    • খ. ব্যাকটেরিয়ডস অ্যানথ্রাসিস
    • গ. ক্লস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্স
    • ঘ. ব্রাসিলাস সেরিয়াস
    উত্তর: ক. ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস
    অ্যানথ্রাক্স (Anthrax) রোগের জীবাণু ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস (Bacillus anthracis)। এটি দণ্ডের মতো দেখতে একটি ব্যাকটেরিয়া এবং প্রতিকূল পরিবেশে এটি স্পোর তৈরি করে বহু বছর মাটিতে টিকে থাকতে পারে। গরু, ছাগল ও ভেড়ার মতো গৃহপালিত পশুতে এই রোগ বেশি হয়। আক্রান্ত পশুর মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে মানুষও আক্রান্ত হতে পারে। রবার্ট কচ প্রথম প্রমাণ করেন যে নির্দিষ্ট জীবাণু নির্দিষ্ট রোগ ঘটায়, আর তিনি এই অ্যানথ্রাক্স জীবাণু নিয়েই কাজ করেছিলেন। আজ অ্যানথ্রাক্সের বিরুদ্ধে পশুদের টিকা দেওয়া হয়। লুই পাস্তুর ১৮৮১ সালে এই রোগের পশুর জন্য প্রথম কার্যকর টিকা প্রদর্শন করেন। আক্রান্ত পশুর মাংস না খাওয়া এবং মৃত পশু মাটিতে গভীরভাবে পুঁতে ফেলাই নিরাপদ পথ।
    মনে রাখুন:
    অ্যানথ্রাক্সকে বাংলায় তড়কা রোগও বলা হয়।
  226. ২৭৭. 'এনথ্রাক্স' শব্দটির মূলভাষা -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০১০-১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগের নামের উৎস
    • ক. ইংরেজি
    • খ. ফরাসি
    • গ. গ্রিক
    • ঘ. ল্যাটিন
    উত্তর: গ. গ্রিক
    এনথ্রাক্স (Anthrax) শব্দটি এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে। গ্রিক ভাষায় anthrax মানে কয়লা। এ রোগে আক্রান্ত মানুষের ত্বকে কালো রঙের ক্ষত দেখা যায়, দেখতে অনেকটা পোড়া কয়লার মতো, আর সেই সাদৃশ্য থেকেই এই নাম। রোগের জীবাণুটির নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস, একটি ব্যাকটেরিয়া। এই ক্ষতের রঙ কালো বলেই গ্রিক পণ্ডিতরা একে 'কয়লা' নাম দিয়েছিলেন। শব্দ ও রোগের নাম মনে রাখার একটি ভালো উপায় হলো এ কথাটি স্মরণ করা। অর্থাৎ নামটিই রোগের বাইরের চেহারার বর্ণনা দেয়, এটি মনে রাখলে শব্দের উৎস ভোলা কঠিন।
    মনে রাখুন:
    রোগটিকে বাংলায় তড়কা বলা হয়।
    গৃহপালিত পশু থেকে এই রোগ মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।
  227. ২৭৮. কোনটির সংক্রমণে যক্ষ্মা রোগ হয় -বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. ছত্রাক
    • ঘ. প্রোটোজোয়া
    উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়া
    যক্ষ্মা বা টিউবারকুলোসিস (Tuberculosis) রোগ হয় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে। জীবাণুটির নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস। রোগীর কাশি বা হাঁচির সঙ্গে বাতাসে ছড়ানো জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে অন্যের ফুসফুসে ঢুকে সংক্রমণ ঘটায়। তাই যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ। দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, ঘাম, ওজন কমে যাওয়া এসব যক্ষ্মার সাধারণ লক্ষণ। ছয় মাস নিয়ম মেনে ওষুধ খেলে এই রোগ সম্পূর্ণ সারে, তবে ওষুধ মাঝপথে ছেড়ে দিলে আরও কঠিন হয়ে ফিরে আসতে পারে।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ দুই সপ্তাহের বেশি কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া ও ওজন কমা।
    প্রতিষেধক হিসেবে শিশুকে বিসিজি টিকা দেওয়া হয়।
  228. ২৭৯. যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন কে?ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. ল্যাভয়সিয়ে
    • খ. রবার্ট কচ
    • গ. রোলান্ড রস
    • ঘ. লুই পাস্তুর
    উত্তর: খ. রবার্ট কচ
    যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন জার্মান চিকিৎসক ও জীবাণুবিজ্ঞানী রবার্ট কচ (Robert Koch)। তিনি ১৮৮২ সালে ঘোষণা করেন যে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামের ব্যাকটেরিয়া যক্ষ্মা ঘটায়। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯০৫ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। অন্যদিকে লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা বের করেন, আর রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া পরজীবীর বাহক আবিষ্কার করেন। কচ আরও দেখিয়েছিলেন যে জীবাণুকে আলাদা করে আরেক প্রাণীর দেহে প্রবেশ করালে একই রোগ হয়। এই পদ্ধতি কচের স্বীকার্য (Koch's postulates) নামে জীবাণুবিজ্ঞানে বিখ্যাত। প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়, কারণ ওই দিনেই কচ জীবাণুর আবিষ্কার ঘোষণা করেন।
    মনে রাখুন:
    কচ ১৮৮৩ সালে কলেরার জীবাণুও শনাক্ত করেন।
    ল্যাভয়সিয়ে আধুনিক রসায়নের জনক।
  229. ২৮০. টিউবারকুলোসিস (TB) শরীরের কোন অঙ্গের রোগ?কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. যকৃত
    • খ. প্লীহা
    • গ. পাকস্থলী
    • ঘ. ফুসফুস
    উত্তর: ঘ. ফুসফুস
    টিউবারকুলোসিস (TB) বা যক্ষ্মা প্রধানত ফুসফুসের রোগ। এর জীবাণু বাতাস থেকে শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢোকে এবং সেখানে বংশবৃদ্ধি করে ফুসফুসের কোষ নষ্ট করে। ফলে রোগীর দীর্ঘদিন কাশি হয়, বুকে ব্যথা হয় এবং কাশির সঙ্গে রক্তও আসতে পারে। অবশ্য সংক্রমণ কখনো কখনো হাড়, মস্তিষ্ক বা কিডনিতেও ছড়াতে পারে। সব যক্ষ্মা সংক্রামক নয়, ফুসফুসের যক্ষ্মাই বেশি ছড়ায়। অন্য অঙ্গের যক্ষ্মা সাধারণত অন্যের দেহে সংক্রমণ ঘটায় না। ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশ সরকার বিনামূল্যে যক্ষ্মার চিকিৎসা দেয়।
    চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করলে জীবাণু ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে যেতে পারে।
  230. ২৮১. AFB test is done for what?DMLC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. Leprosy
    • খ. Tuberculosis
    • গ. Food poisoning
    • ঘ. Tetanus
    উত্তর: খ. Tuberculosis
    AFB পরীক্ষা করা হয় যক্ষ্মা (Tuberculosis) শনাক্ত করতে। AFB-এর পূর্ণ রূপ Acid Fast Bacilli, বাংলায় অম্ল-প্রতিরোধী দণ্ডাকার ব্যাকটেরিয়া। যক্ষ্মার জীবাণুর দেহাবরণে মোমের মতো চর্বি থাকায় এটি এসিডে সহজে রং হারায় না, তাই বিশেষ রঞ্জন (Ziehl-Neelsen) পদ্ধতিতে রং করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখলে জীবাণু ধরা পড়ে। রোগীর কফ বা থুতু এই পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়। যক্ষ্মা সন্দেহ হলে প্রথমে কফের এই পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল পজিটিভ এলে ডাক্তার ওষুধ শুরু করেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
    মনে রাখুন:
    কফ পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মা নির্ণয় সহজ ও সস্তা।
    আধুনিক পদ্ধতি জিন-এক্সপার্ট (GeneXpert) পরীক্ষা।
  231. ২৮২. যক্ষ্মা (Tuberculosis) এর টিকা কোনটি?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. বিসিজি
    • খ. ওপিভি
    • গ. টিটি
    • ঘ. এমএমআর
    উত্তর: ক. বিসিজি
    যক্ষ্মা প্রতিরোধের টিকার নাম বিসিজি (BCG)। এর পূর্ণ রূপ Bacillus Calmette-Guérin। ফরাসি বিজ্ঞানী ক্যালমেট ও গেরিন গরুর যক্ষ্মার জীবাণুকে দুর্বল করে এই টিকা তৈরি করেন। জন্মের পরপর শিশুর ডান বাহুতে ত্বকের ভেতরে এটি দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার কিছুদিন পর সেখানে ছোট একটি দাগ থেকে যায়। টিকার কার্যকারিতা শিশুদের মারাত্মক যক্ষ্মা, যেমন মস্তিষ্কের যক্ষ্মা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে বেশি। বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) অধীনে এটি সব শিশুকে দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ওপিভি পোলিওর, টিটি ধনুষ্টংকারের আর এমএমআর হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা।
    বিসিজি একটি লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড টিকা।
  232. ২৮৩. কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য বি.সি.জি (B.C.G) টিকা ব্যবহার করা হয়?MOEWOE'র সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. কলেরা
    • খ. যক্ষ্মা
    • গ. ধনুষ্টংকার
    • ঘ. টাইফয়েড
    উত্তর: খ. যক্ষ্মা
    বি.সি.জি (B.C.G) টিকা ব্যবহার করা হয় যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য। এর পূর্ণ রূপ Bacillus Calmette-Guérin। যক্ষ্মার জীবাণুর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দুর্বল ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি বলে এই টিকা শরীরে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। বিশেষ করে শিশুদের মারাত্মক যক্ষ্মা থেকে এটি রক্ষা করে। ফলে বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এটি জন্মের পরই দেওয়া হয়। বিসিজির ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার পর সাধারণত ক্ষতচিহ্ন বা দাগ পড়ে, আর এটি টিকা কাজ করছে তারই নিদর্শন। ধনুষ্টংকারের টিকার ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ লাগে।
    মনে রাখুন:
    কলেরা ও টাইফয়েডের জন্য আলাদা টিকা আছে।
    ধনুষ্টংকারের টিকা টিটি (TT), যা গর্ভবতী মায়েদেরও দেওয়া হয়।
  233. ২৮৪. কয়টি রোগের জন্য ডিপিটি টিকা দেওয়া হয়?DMLC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. ৪টি
    • খ. ৫টি
    • গ. ৩টি
    • ঘ. ২টি
    উত্তর: গ. ৩টি
    ডিপিটি (DPT) টিকা তিনটি রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। নামটির D হলো ডিপথেরিয়া (Diphtheria), P হলো পারটুসিস (Pertussis) বা হুপিং কাশি এবং T হলো টিটেনাস (Tetanus) বা ধনুষ্টংকার। তিনটি রোগই ব্যাকটেরিয়াজনিত। ফলে একটি টিকায় তিন রোগের প্রতিরোধ হয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে এর সঙ্গে হেপাটাইটিস বি ও হিব মিশিয়ে পেন্টাভ্যালেন্ট নামের একটি টিকা দেওয়া হয়, যা মোট পাঁচটি রোগ ঠেকায়। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর পরের ডোজগুলো নির্দিষ্ট ব্যবধানে না দিলে পুরো সুরক্ষা পাওয়া যায় না। তাই শিশুর টিকার কার্ড যত্ন করে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ডিপিটি টিকা শিশুকে ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে দেওয়া হয়।
  234. ২৮৫. DPT vaccine কোন রোগের প্রতিষেধক নয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. ডিপথেরিয়া
    • খ. পলিওমাইলাইটিস
    • গ. হুপিং কাশি
    • ঘ. ধনুষ্টংকার
    উত্তর: খ. পলিওমাইলাইটিস
    ডিপিটি (DPT) টিকা ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি (পারটুসিস) ও ধনুষ্টংকারের (টিটেনাস) প্রতিষেধক। পোলিওমাইলাইটিস বা পোলিও এই টিকায় নেই। পোলিও রোগটি ভাইরাসের কারণে হয় এবং এর জন্য আলাদা টিকা, অর্থাৎ খাওয়ার ওপিভি বা ইনজেকশনের আইপিভি দেওয়া হয়। বাকি তিনটি রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় বলে এদের টিকা একসঙ্গে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ডিপিটির আরেকটি অংশ, পারটুসিস, ছোট শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। রোগীর কাশি এমন তীব্র হয় যে শেষে 'হুপ' শব্দ করে শ্বাস নিতে হয়, তাই একে হুপিং কাশি বলে।
    মনে রাখুন:
    ডিপিটির D, P, T মানে Diphtheria, Pertussis, Tetanus।
    পোলিও ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে।
  235. ২৮৬. প্লেগ রোগের ব্যাকটেরিয়ার নাম কি?DYD'র সহকারী পরিচালক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. Plagie vincenna
    • খ. Yarsenia indinna
    • গ. Yersinia pestis
    • ঘ. Plagia tropica
    উত্তর: গ. Yersinia pestis
    প্লেগ রোগের জীবাণুর নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস (Yersinia pestis)। এটি একটি ব্যাকটেরিয়া। ইঁদুরের গায়ের ইঁদুর-মাছি বা ফ্লি (Flea) এই জীবাণু বহন করে এবং কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দেয়। সুইস-ফরাসি চিকিৎসক আলেকজান্ডার ইয়ারসিন ১৮৯৪ সালে এই জীবাণু আবিষ্কার করেন, তাঁর নামেই গণের নাম ইয়ারসিনিয়া। প্লেগ বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে, তখন একে নিউমোনিক প্লেগ বলে। বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই রোগ নিরাময় সম্ভব, তবে দেরি করলে রোগী মারা যেতে পারে। ইঁদুর মরে গেলে মাছিগুলো মানুষের দিকে সরে আসে, আর এভাবেই পুরো এলাকায় প্লেগ ছড়ায়।
    মনে রাখুন:
    প্লেগের প্রধান বাহক ইঁদুর-মাছি।
    মধ্যযুগের ভয়াবহ প্লেগ মহামারী ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত।
  236. ২৮৭. কোন রোগের ক্ষেত্রে প্রথম কোয়ারেন্টাইন প্রথা চালু হয়?পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লেগ
    • ক. Plague
    • খ. Spanish Flue
    • গ. Small Pox
    • ঘ. Cholera
    উত্তর: ক. Plague
    কোয়ারেন্টাইন (Quarantine) প্রথা প্রথম চালু হয় প্লেগ রোগের কারণে। ১৩৭৭ সালে আড্রিয়াটিক সাগরের তীরের রাগুসা বন্দরে (বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার দুবরোভনিক) বাইরে থেকে আসা জাহাজের যাত্রীদের শহরে ঢোকার আগে একটি নির্দিষ্ট সময় আলাদা রাখা হতো। প্রথমে এই সময় ছিল ৩০ দিন। পরে তা বাড়িয়ে ৪০ দিন করা হয়, আর ইতালীয় ভাষায় চল্লিশকে quaranta বলে, সেখান থেকেই Quarantine শব্দ এসেছে। পরবর্তীতে এই নিয়ম অন্যান্য সংক্রামক রোগ, যেমন কলেরা ও গুটিবসন্তের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে। করোনা মহামারীতে আমরা আবারও কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজনীয়তা দেখেছি।
    মনে রাখুন:
    কোয়ারেন্টাইন অর্থ সংক্রামক রোগ ছড়ানো ঠেকাতে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনদের আলাদা রাখা।
  237. ২৮৮. সর্বপ্রথম 'ম্যালেরিয়া' শব্দটি প্রয়োগ করেন কে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. রস
    • খ. টর্টি
    • গ. ল্যাভেরন
    • ঘ. গ্র্যাসি
    উত্তর: খ. টর্টি
    ম্যালেরিয়া (Malaria) শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন ইতালীয় চিকিৎসক ফ্রান্সেস্কো টর্টি (Francesco Torti), ১৭১৭ সালে। ইতালীয় mala aria মানে খারাপ বাতাস। তখন মানুষ ভাবত, জলাভূমির দূষিত বাতাস থেকেই এই জ্বর হয়। পরে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন আসল কারণ প্লাজমোডিয়াম নামের পরজীবী। ১৮৮০ সালে ল্যাভেরন এই পরজীবী আবিষ্কার করেন এবং ১৮৯৭ সালে রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা এটি ছড়ায়। রোগটি অনেক পুরোনো, তবে নামের মতো বাতাস নয়, প্লাজমোডিয়াম পরজীবীই এর আসল কারণ, এই সত্য আবিষ্কারের পরে সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধের পথ খুলে যায়।
    মনে রাখুন:
    ল্যাভেরন ও রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
  238. ২৮৯. বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত ম্যালেরিয়া পরজীবীকে বলা হয় -বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. ফেনেরোজোয়াইট
    • খ. সাইজন্ট
    • গ. মেরোজোয়াইট
    • ঘ. ট্রফোজোয়াইট
    উত্তর: খ. সাইজন্ট
    ম্যালেরিয়া পরজীবী প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় বিভিন্ন দশার মধ্য দিয়ে যায়। এর মধ্যে বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত দশাটির নাম সাইজন্ট (Schizont)। এই সাইজন্ট ভেঙে অনেকগুলো মেরোজোয়াইট তৈরি হয়, যারা নতুন লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর রোগীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। ট্রফোজোয়াইট দশায় অবশ্য নিউক্লিয়াস থাকে একটি। সাইজন্টের আগের দশা ট্রফোজোয়াইট, যাতে মাত্র একটি নিউক্লিয়াস থাকে। সাইজন্ট ভাঙলে তৈরি মেরোজোয়াইটগুলোর কাজ হলো নতুন লোহিত রক্তকণিকায় ঢোকা।
    মনে রাখুন:
    প্লাজমোডিয়ামের চক্র মানুষ ও স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা, দুই দেহেই চলে।
    রোগটি প্রোটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট।
  239. ২৯০. কোন গাছের বাকল হতে 'কুইনাইন' আহরিত হয়?মেইল অপারেটর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. ইউক্যালিপটাস
    • খ. সিংকোনা
    • গ. নিম
    • ঘ. সিডার
    উত্তর: খ. সিংকোনা
    সিংকোনা (Cinchona) গাছের বাকল থেকে কুইনাইন (Quinine) পাওয়া যায়। এই গাছ দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালার স্থানীয়। কুইনাইন ম্যালেরিয়া পরজীবী প্লাজমোডিয়ামকে মেরে ফেলে, তাই ম্যালেরিয়ার প্রাচীনতম প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে এটি বহুদিন ব্যবহৃত হয়েছে। আজকাল কুইনাইনের পাশাপাশি ক্লোরোকুইন ও আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক ওষুধও ব্যবহার করা হয়। সিংকোনা গাছ বছরের পর বছর ধরে চাষ করে বাকল সংগ্রহ করা হতো। এখন কৃত্রিম উপায়ে অনেক ম্যালেরিয়ার ওষুধ বানানো যায়, তবে কুইনাইনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও রয়ে গেছে।
    মনে রাখুন:
    কুইনাইন স্বাদে খুব তেতো।
    ইউক্যালিপটাস গাছের তেল সাধারণত সর্দি-কাশিতে ব্যবহার করা হয়।
  240. ২৯১. 'সিঙ্কোনা' কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. আমাশয়
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. কালাজ্বর
    • ঘ. এইডস
    উত্তর: খ. ম্যালেরিয়া
    সিংকোনা (Cinchona) গাছের বাকল থেকে কুইনাইন নামের ওষুধ তৈরি হয়, আর এটি ব্যবহৃত হয় ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায়। কুইনাইন ম্যালেরিয়ার পরজীবী প্লাজমোডিয়ামকে ধ্বংস করে। দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় মানুষ প্রথমে জ্বর কমানোর জন্য এই বাকল ব্যবহার করত, পরে ইউরোপীয়রা তা জানতে পারে। কালাজ্বর হয় লিশম্যানিয়া নামের পরজীবী থেকে, আর আমাশয় ঘটায় শিগেলা ব্যাকটেরিয়া বা অ্যামিবা। কুইনাইন দেহের ভেতর পরজীবীর রক্তকণিকায় বাস করা অবস্থাটাকে আক্রমণ করে। তাই জ্বরের সময় ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশমতো পুরো মাত্রায় খেতে হয়। এ কারণে সিংকোনার ছাল বহু শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়ার জ্বরের প্রতিকার হিসেবে বিখ্যাত।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়ার আরও ওষুধ: ক্লোরোকুইন, মেফ্লোকুইন, আর্টেমিসিনিন।
  241. ২৯২. ম্যালেরিয়া রোগ কোন জেলায় নাই?টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. খাগড়াছড়ি
    • খ. বান্দরবান
    • গ. রাঙামাটি
    • ঘ. লালমনিরহাট
    উত্তর: ঘ. লালমনিরহাট
    বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায়, যেমন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এসব এলাকায় ঘন জঙ্গল ও ঝরনার ধারে অ্যানোফিলিস মশা সহজে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। লালমনিরহাট সমতল এলাকা, সেখানে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য নয়। ম্যালেরিয়ার বিস্তার জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও জঙ্গলের ওপর নির্ভর করে। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশারি বিতরণ ও দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ থেকে বোঝা যায়, ম্যালেরিয়ার বিস্তারে এলাকার প্রকৃতির ভূমিকা বড়।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়া হয় তিন পার্বত্য জেলায়।
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে।
  242. ২৯৩. কোনটি ম্যালেরিয়ার ঔষধ নয়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. ক্লোরোকুইন
    • খ. পাইরামিথামিন + সালফাডক্সিন
    • গ. ফ্লোক্সাসিলিন
    • ঘ. মেফলোকুইন
    উত্তর: গ. ফ্লোক্সাসিলিন
    ফ্লক্সাসিলিন (Flucloxacillin) ম্যালেরিয়ার ওষুধ নয়, এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা পেনিসিলিন গোত্রের। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে ত্বক ও কোমল কলার সংক্রমণে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ম্যালেরিয়া ঘটায় প্লাজমোডিয়াম নামের প্রোটোজোয়া, তাই এর বিরুদ্ধে ক্লোরোকুইন, মেফ্লোকুইন এবং পাইরামিথামিন-সালফাডক্সিনের মতো ম্যালেরিয়ারোধী ওষুধ কাজ করে। রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্তের পাতলা বা পুরু ফিল্ম অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখে পরজীবী শনাক্ত করা হয়। এছাড়া দ্রুত পরীক্ষার কিটও (RDT) ব্যবহৃত হয়। তাই অ্যান্টিবায়োটিক আর ম্যালেরিয়ার ওষুধকে এক করে ভাবা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, প্রোটোজোয়া বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নয়।
    এখন ম্যালেরিয়ার প্রধান চিকিৎসা আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক ওষুধ।
  243. ২৯৪. Recently approved R21/Matrix-M is the vaccine against which of the following diseases?সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. COVID-19
    • খ. Malaria
    • গ. Tuberculosis
    • ঘ. Influenza
    উত্তর: খ. Malaria
    R21/Matrix-M ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে অনুমোদিত নতুন টিকা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এটি তৈরি করেছেন এবং ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আফ্রিকার শিশুদের জন্য এটি ব্যবহারের সুপারিশ করে। ম্যালেরিয়ার জন্য এর আগে অনুমোদিত প্রথম টিকাটির নাম RTS,S বা মসকুইরিক্স (Mosquirix)। এই টিকা ম্যালেরিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতি প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরামের বিরুদ্ধে কাজ করে। অনুমোদনের পর কয়েকটি আফ্রিকার দেশে এই টিকার ব্যবহার শুরু হয়। টিকার পাশাপাশি মশারি ও কীটনাশক ব্যবহারও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য জরুরি। ২০২৩ সালে ঘানা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশ এই টিকার অনুমোদন দেয়।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়া পরজীবী প্রোটোজোয়া, ভাইরাস নয়।
  244. ২৯৫. Most common species of malarial parasite found in Bangladesh is -বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালসমূহে সহকারী সার্জন, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ম্যালেরিয়া
    • ক. Plasmodium falciparum
    • খ. Plasmodium malariae
    • গ. Plasmodium ovale
    • ঘ. Plasmodium vivax
    উত্তর: ক. Plasmodium falciparum
    বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম (Plasmodium falciparum) প্রজাতির ম্যালেরিয়া পরজীবী। দেশের বেশির ভাগ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর শরীরে এই প্রজাতি পাওয়া যায়, তাই বাংলাদেশে এটিই প্রধান। এটি সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতিও, কারণ এর কারণে মস্তিষ্কের ম্যালেরিয়া হতে পারে। দ্বিতীয় স্থানে আছে প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স। ভাইভ্যাক্স প্রজাতি সাধারণত কম মারাত্মক, কিন্তু রোগ সেরে যাওয়ার মাসের পর মাস পরেও যকৃতে লুকিয়ে থাকা পরজীবী থেকে আবার জ্বর ফিরে আসতে পারে। ফ্যালসিপেরাম থেকে শরীরে রক্তশূন্যতাও খুব তাড়াতাড়ি দেখা দেয়, তাই দ্রুত চিকিৎসা করাতে হয়।
    মনে রাখুন:
    মানুষের ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী প্রজাতি চারটি: ফ্যালসিপেরাম, ভাইভ্যাক্স, ওভেল ও ম্যালেরি।
  245. ২৯৬. কোনটি রক্ত আমাশয়ের জীবাণু -সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের শিক্ষক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমাশয়
    • ক. সিগেলা
    • খ. জিয়ারডিয়া
    • গ. ক্যামপাইলোব্যাকটার
    • ঘ. সালমোনেলা
    উত্তর: ক. সিগেলা
    রক্ত আমাশয় বা ব্যাসিলারি আমাশয়ের জীবাণু শিগেলা (Shigella) নামের ব্যাকটেরিয়া। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই জীবাণু অন্ত্রে ঢুকে অন্ত্রের প্রাচীরে ক্ষত তৈরি করে। ফলে মলের সঙ্গে রক্ত ও শ্লেষ্মা বের হয় এবং পেটে মোচড় দেওয়া ব্যথা হয়। জিয়ারডিয়া নামের প্রোটোজোয়া অবশ্য আলাদা, সেটি অন্ত্রের পীড়া ঘটায়, আর এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা ঘটায় অ্যামিবীয় আমাশয়। শিগেলা ডাইসেন্ট্রি নামে এই জীবাণুর একটি প্রজাতি সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের আমাশয় ঘটায়। আমাশয়ের চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন ও জীবাণুনাশক ওষুধ দুই-ই দরকার হয়।
    মনে রাখুন:
    আমাশয় দুই ধরনের: ব্যাসিলারি (শিগেলা) ও অ্যামিবীয় (এন্টামিবা)।
  246. ২৯৭. বাণিজ্যিকভাবে নিচের কোনটি থেকে পেনিসিলিন তৈরি হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. Penicillium notatum
    • খ. Penicillium chrysogenum
    • গ. Penicillium rogueforti
    • ঘ. Penicillum camemberti
    উত্তর: খ. Penicillium chrysogenum
    বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিন (Penicillin) তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম ক্রাইসোজেনাম (Penicillium chrysogenum) ছত্রাক থেকে। ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম নোটেটাম ছত্রাকে ব্যাকটেরিয়া মারার ক্ষমতা আবিষ্কার করেন। পরে দেখা যায়, ক্রাইসোজেনাম প্রজাতি অনেক বেশি পেনিসিলিন উৎপাদন করে। তাই শিল্পে এটিকেই ব্যবহার করা হয়। রোকফোর্ট ও ক্যামেমবার্ট পনির তৈরিতে অন্য দুটি প্রজাতি ব্যবহৃত হয়। পেনিসিলিনের আবিষ্কার ফ্লেমিংয়ের হঠাৎ পর্যবেক্ষণ থেকে হয়। তিনি দেখেছিলেন, একটি পেট্রিডিশে ছত্রাক জন্মানোর জায়গার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া বাড়ছে না। পেনিসিলিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দিয়ে তাদের মেরে ফেলে।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিন বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক।
    ফ্লেমিং, ফ্লোরি ও চেইন ১৯৪৫ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
  247. ২৯৮. কোনটি বায়ুবাহিত রোগ?রেজিস্টার্ড প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. ডায়রিয়া
    • খ. কলেরা
    • গ. হাম
    • ঘ. জন্ডিস
    উত্তর: গ. হাম
    হাম (Measles) বায়ুবাহিত রোগ। হামের ভাইরাস রোগীর কাশি বা হাঁচির সময় ছোট ছোট জলকণার সঙ্গে বাতাসে ছড়ায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে অন্যের শরীরে ঢোকে। ডায়রিয়া ও কলেরা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, আর জন্ডিসের হেপাটাইটিস এ ভাইরাসও সাধারণত দূষিত খাবার-পানি দিয়ে ছড়ায়, তাই এগুলো পানি ও খাদ্যবাহিত। হামে আক্রান্ত শিশুর গায়ে লালচে র‍্যাশ ওঠে এবং জ্বর, কাশি ও চোখ লাল হয়। দূষিত পানি ও খাবার থেকে ছড়ানো রোগের সঙ্গে এর পার্থক্য এখানেই, হাম ছড়ায় বাতাসের মাধ্যমে।
    মনে রাখুন:
    বায়ুবাহিত রোগ: হাম, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, চিকেন পক্স।
    হামের টিকা এমএমআর বা এমআর।
  248. ২৯৯. নিম্নের কোনটি মশা বাহিত রোগ?খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. ডায়রিয়া
    • খ. বসন্ত
    • গ. ডেঙ্গু
    • ঘ. সবগুলি
    উত্তর: গ. ডেঙ্গু
    ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাস স্ত্রী এডিস মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ঢোকে। ডায়রিয়া ছড়ায় দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এবং বসন্ত বা গুটিবসন্ত ভাইরাসের সংস্পর্শ ও বাতাস দিয়ে ছড়ায়, এদের সঙ্গে মশার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সবগুলো রোগ মশাবাহিত নয়। ডেঙ্গুতে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা ও শরীরে ফুসকুড়ি হতে পারে। মারাত্মক হলে রোগীর রক্তক্ষরণ হয়, যাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর বলে।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায় এবং জমা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে।
    ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়া।
  249. ৩০০. কোন রোগটি মশার কামড়ে হয় না?DNC'র সহকারী পরিচালক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. ডেঙ্গু
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. কলেরা
    • ঘ. এনসেফেলাইটিস
    উত্তর: গ. কলেরা
    কলেরা মশার কামড়ে হয় না। ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানুষের অন্ত্রে ঢোকে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও এনসেফেলাইটিস মশার কামড়ে ছড়ায়। ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা, ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশা, আর জাপানি এনসেফেলাইটিস ছড়ায় কিউলেক্স মশা। কলেরার জীবাণু ছড়ায় মলের মাধ্যমে দূষিত পানিতে মিশে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণ করলেও কলেরা কমে না, এর জন্য নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি দরকার। দূষিত পানির কারণে ছড়ানো রোগকে পানিবাহিত রোগ বলে। তাই কলেরা এই দলেই পড়ে, মশাবাহিত রোগের দলে নয়।
    মনে রাখুন:
    গোদ বা ফাইলেরিয়া ছড়ায় কিউলেক্স মশায়।
    পানিবাহিত রোগ: কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়।
  250. ৩০১. কোনটি ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহনকারী মশা?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. অ্যানোফিলিস
    • খ. এডিস ইজিপটাই
    • গ. কিউলেক্স
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. অ্যানোফিলিস
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়াম বহন করে স্ত্রী অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশা। এই মশা ম্যালেরিয়ার রোগীর রক্ত খেলে পরজীবী মশার দেহে ঢোকে এবং সেখানে বিকশিত হয়। পরে সুস্থ মানুষকে কামড়ালে পরজীবী তাঁর রক্তে ঢুকে যায়। এডিস ইজিপ্টাই ডেঙ্গু ছড়ায় আর কিউলেক্স গোদ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত রক্ত খায়। তাই রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোই ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার সহজ উপায়। ম্যালেরিয়ার পরজীবী প্লাজমোডিয়ামের জীবনচক্রে মশা চূড়ান্ত পোষক এবং মানুষ মধ্যবর্তী পোষক।
    মনে রাখুন:
    অ্যানোফিলিস মশা বসার সময় দেহ তেরছাভাবে উঁচু করে রাখে।
    ১৮৯৭ সালে রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস মশার দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবী খুঁজে পান।
  251. ৩০২. কিউলেক্স মশা কোন রোগের জীবাণু ছড়ায়?প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক (রাজশাহী), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. ম্যালেরিয়া
    • খ. ডেঙ্গু
    • গ. গোদ
    • ঘ. যক্ষ্মা
    উত্তর: গ. গোদ
    কিউলেক্স (Culex) মশা গোদ বা ফাইলেরিয়া (Filariasis) রোগের জীবাণু ছড়ায়। রোগের কারণ উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি নামের এক প্রকার সূক্ষ্ম কৃমি। মশা কামড়ালে কৃমির লার্ভা মানুষের লসিকা বা লিম্ফ নালিতে ঢোকে। সেখানে এরা বাড়তে থাকে এবং পা বা দেহের অন্য অংশ ফুলে মোটা হয়ে যায়। ম্যালেরিয়া ঘটায় অ্যানোফিলিস, ডেঙ্গু ঘটায় এডিস, আর যক্ষ্মা মশা দিয়ে ছড়ায় না, এটি বায়ুবাহিত। গোদ রোগে আক্রান্ত অংশ ফুলে হাতির পায়ের মতো হয়ে যায়, তাই একে ইংরেজিতে এলিফ্যান্টিয়াসিস (Elephantiasis)ও বলে। রোগ ঠেকাতে মশার কামড় এড়ানো এবং বছরে একবার প্রতিরোধমূলক ওষুধ খাওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশে রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে গোদ রোগ তুলনামূলক বেশি।
  252. ৩০৩. স্ত্রী কিউলেক্স মশা যে রোগের জীবাণু বহন করে -স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. ম্যালেরিয়া
    • খ. কালাজ্বর
    • গ. ফাইলেরিয়া
    • ঘ. ডেঙ্গুজ্বর
    উত্তর: গ. ফাইলেরিয়া
    স্ত্রী কিউলেক্স (Culex) মশা ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণু বহন করে। রোগের কারণ উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি নামের সূক্ষ্ম কৃমি, যা মানুষের লসিকা নালিতে বাসা বাঁধে। লসিকা প্রবাহ বাধা পেলে হাত, পা বা অণ্ডকোষ ফুলে যায়। ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশা, ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা, আর কালাজ্বর ছড়ায় বালুমাছি। কিউলেক্স মশা সন্ধ্যার পর কামড়ায় এবং ড্রেন বা নর্দমার মতো নোংরা বদ্ধ পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। ড্রেন পরিষ্কার রাখলে এদের সংখ্যা অনেক কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    কিউলেক্স মশা নোংরা বদ্ধ পানিতে ডিম পাড়ে।
    এনসেফেলাইটিস ভাইরাসও কিউলেক্স মশা ছড়ায়।
  253. ৩০৪. বার্ড ফ্লু-এর উৎস কোনটি?বিআরডিবি-এর সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীবাহিত রোগ
    • ক. গরু
    • খ. বিড়াল
    • গ. মুরগি
    • ঘ. ছাগল
    উত্তর: গ. মুরগি
    বার্ড ফ্লুর (Bird Flu) উৎস মুরগি ও অন্য পাখি। রোগটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের কারণে হয়, এর পরিচিত ধরন H5N1। আক্রান্ত মুরগি, হাঁস বা অন্য পাখির সংস্পর্শে এলে বা তাদের মল ও লালার সঙ্গে মিশলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। এ কারণে সংক্রমণ দেখা দিলে খামারের পাখি মেরে ফেলা হয়। বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর খবর পাওয়া যায়। আক্রান্ত মুরগি বা হাঁস ধরার সময় মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরা ভালো। মাংস ও ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে ভাইরাস মরে যায়, ফলে খাওয়া নিরাপদ।
    মনে রাখুন:
    বার্ড ফ্লুকে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জাও বলা হয়।
    সোয়াইন ফ্লুর উৎস শূকর।
  254. ৩০৫. নিপাহ্ ভাইরাসের বাহক-BPSC 'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীবাহিত রোগ
    • ক. বিড়াল
    • খ. মাছি
    • গ. মশা
    • ঘ. বাদুড়
    উত্তর: ঘ. বাদুড়
    নিপাহ ভাইরাসের (Nipah virus) প্রাকৃতিক বাহক ফল-খেকো বাদুড়। এই ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার নিপাহ গ্রামে, আর সেখান থেকেই এর নাম হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি শীতে খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে নিপাহ সংক্রমণ দেখা যায়। বাদুড় রসের হাঁড়িতে মুখ দিলে তার লালা বা মূত্রের মাধ্যমে ভাইরাস রসে মিশে যায়। নিপাহ সংক্রমণের মৃত্যুহার অনেক বেশি, প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ। তাই প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে ভালো উপায়, আর বাংলাদেশে প্রতি বছর শীতে সতর্কবার্তা জানানো হয়।
    মনে রাখুন:
    নিপাহ আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে।
    বাদুড়ের লালা, মল ও মূত্রের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়।
  255. ৩০৬. খেজুরের কাঁচা রসে কোন ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীবাহিত রোগ
    • ক. নিপাহ
    • খ. পোলিও
    • গ. হাম
    • ঘ. করোনা
    উত্তর: ক. নিপাহ
    খেজুরের কাঁচা রসে নিপাহ (Nipah) ভাইরাস পাওয়া যেতে পারে। রাতের বেলা ফল-খেকো বাদুড় খেজুরের রস খেতে গাছের হাঁড়িতে বসে, তখন বাদুড়ের লালা ও মূত্র রসে মিশে যায়। এই বাদুড় নিপাহ ভাইরাস বহন করে, ফলে সেই রস কাঁচা খেলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। রস ফুটিয়ে বা জাল দিয়ে খেলে ভাইরাস মরে যায়, তাই কাঁচা রস না খাওয়াই নিরাপদ। পোলিও ও হাম অন্য ভাইরাসের রোগ। নিপাহ সংক্রমণ মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে, বিশেষ করে রোগীর সেবাকারী আত্মীয়দের মধ্যে। এ কারণে সন্দেহজনক রোগীর সংস্পর্শে সাবধানতা দরকার।
    মনে রাখুন:
    নিপাহ সংক্রমণের মৌসুম ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল।
    হাঁড়ির মুখ বাঁশের ঝুড়ি বা জাল দিয়ে ঢেকে রাখলে বাদুড় ঢুকতে পারে না।
  256. ৩০৭. 'সোয়াইন ফ্লু' রোগের বাহক-সিজিএ-এর অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীবাহিত রোগ
    • ক. শূকর
    • খ. বাদুড়
    • গ. এডিস মশা
    • ঘ. মুরগি
    উত্তর: ক. শূকর
    সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu) রোগের উৎস বা বাহক শূকর (Swine)। রোগটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের H1N1 ধরনের কারণে হয়। শূকরের শ্বাসতন্ত্রে এই ভাইরাস থাকে, আর শূকরের সংস্পর্শে এলে তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২০০৯ সালে মেক্সিকো থেকে শুরু হয়ে এটি সারা পৃথিবীতে মহামারীর মতো ছড়ায়। পরে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে কাশি-হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। মজার ব্যাপার হলো, ২০০৯ সালের ওই ভাইরাসে শূকর, পাখি ও মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জিন মিশে গিয়েছিল। শূকরের মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করলে ভাইরাসের কোনো ঝুঁকি থাকে না।
    মনে রাখুন:
    বার্ড ফ্লুর উৎস পাখি, সোয়াইন ফ্লুর উৎস শূকর।
  257. ৩০৮. নিম্নের কোন রোগ দুটি অসংক্রামক ব্যাধি?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (গ্রুপ-২), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অসংক্রামক রোগ
    • ক. আমাশয় ও ডায়াবেটিস
    • খ. ক্যান্সার ও স্ট্রোক
    • গ. টাইফয়েড ও ডায়াবেটিস
    • ঘ. কলেরা ও স্ট্রোক
    উত্তর: খ. ক্যান্সার ও স্ট্রোক
    ক্যান্সার ও স্ট্রোক দুটিই অসংক্রামক রোগ। ক্যান্সারে শরীরের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, আর স্ট্রোক হয় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে বা রক্তনালি ফেটে গেলে। এই দুটির কোনোটিই জীবাণুর কারণে হয় না এবং একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায় না। আমাশয়, টাইফয়েড ও কলেরা জীবাণুর কারণে হয়, তাই এরা সংক্রামক। অন্য বিকল্পগুলোতে একটি করে সংক্রামক রোগ আছে বলে সেগুলো ঠিক নয়। ক্যান্সারের কারণ বিভিন্ন হতে পারে, যেমন তামাক, বিকিরণ ও কিছু রাসায়নিক। আর স্ট্রোকের প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, যা নিয়মিত পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ করলে ঝুঁকি কমে।
    মনে রাখুন:
    ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন ও অনিয়মিত জীবনযাপন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  258. ৩০৯. কোনটি সংক্রামক ব্যাধি নয়?BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অসংক্রামক রোগ
    • ক. ম্যালেরিয়া
    • খ. হাম
    • গ. যক্ষ্মা
    • ঘ. অ্যাজমা
    উত্তর: ঘ. অ্যাজমা
    অ্যাজমা বা হাঁপানি সংক্রামক রোগ নয়। এ রোগে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং বুকে শোঁ শোঁ শব্দ হয়। সাধারণত ধুলাবালি, পরাগরেণু, ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে এটি বাড়ে। ম্যালেরিয়া, হাম ও যক্ষ্মা কিন্তু জীবাণুর কারণে হয় এবং এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায়, তাই এগুলো সংক্রামক। হাঁপানির সঙ্গে আরেকটি পরিচিত অসংক্রামক রোগ হলো ডায়াবেটিস। কিন্তু হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হয়। এভাবে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের পার্থক্য মনে রাখা সহজ হয়।
    মনে রাখুন:
    হাঁপানি রোগীরা ইনহেলার ব্যবহার করেন।
    অ্যালার্জিজনিত রোগও সংক্রামক নয়।
  259. ৩১০. নিচের কোনটি জীবাণুবাহিত রোগ নয়?GDA-এর ইমারত পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অসংক্রামক রোগ
    • ক. হাঁপানি
    • খ. হাম
    • গ. টাইফয়েড
    • ঘ. যক্ষ্মা
    উত্তর: ক. হাঁপানি
    হাঁপানি (Asthma) জীবাণুবাহিত রোগ নয়। এ রোগ জীবাণুর সংক্রমণে নয়, বরং শ্বাসনালির অতি-সংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জির কারণে হয়। ধুলা, ধোঁয়া বা পরাগরেণুর কারণে শ্বাসনালি সরু হয়ে গেলে শ্বাসকষ্ট হয়। বিপরীতে হাম ভাইরাসের কারণে, টাইফয়েড সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার কারণে এবং যক্ষ্মা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিসের কারণে হয়। হাঁপানির রোগীর ফুসফুসের ক্ষতি ঠেকাতে ধুলা ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা উপকারী। তামাকের ধোঁয়া রোগটিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে হাঁপানির রোগীর পাশে বসলে সুস্থ মানুষ আক্রান্ত হয় না।
    মনে রাখুন:
    জীবাণুবাহিত রোগ এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়াতে পারে।
    হাঁপানি বংশগত কারণেও হতে পারে।
  260. ৩১১. কোনটি জীবাণুঘটিত রোগ নয়?পরিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অসংক্রামক রোগ
    • ক. হাম
    • খ. জলাতঙ্ক
    • গ. Gout
    • ঘ. নিউমোনিয়া
    উত্তর: গ. Gout
    গাউট (Gout) জীবাণুঘটিত রোগ নয়, এটি একটি বিপাকজনিত রোগ। রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে এর স্ফটিক হাড়ের জোড়ায় জমে এবং জোড়া ফুলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুলে। অন্যদিকে হাম ও জলাতঙ্ক ভাইরাসের কারণে হয় এবং নিউমোনিয়া মূলত স্ট্রেপ্টোককাস নিউমোনিয়ে নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। গাউট অসংক্রামক রোগ, এটি এক রোগী থেকে অন্য মানুষে ছড়ায় না। জীবাণুঘটিত রোগের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো এখানে রোগের কারণ কোনো জীবাণু নয়, শরীরের ভেতরের বিপাকীয় গোলমাল।
    মনে রাখুন:
    ইউরিক এসিড বেশি হলে প্রোটিন ও লাল মাংস কম খাওয়া ভালো।
    জলাতঙ্ক ছড়ায় পাগলা কুকুর বা শিয়ালের কামড়ে।
  261. ৩১২. চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক কোন উক্তি সঠিক নয়?আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীন সহকারী আবহাওয়াবিদ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ ও চিকিৎসা
    • ক. এন্টিবায়োটিক রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে
    • খ. ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
    • গ. ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য বিশেষ কোনো ঔষধ নেই
    • ঘ. এনোফিলিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়
    উত্তর: ঘ. এনোফিলিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়
    এনোফিলিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয় না, এ কথাটি ভুল। ডেঙ্গু ছড়ায় স্ত্রী এডিস মশা, আর অ্যানোফিলিস ছড়ায় ম্যালেরিয়া। বাকি তিনটি কথা সঠিক। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে মারে বা তার বৃদ্ধি থামায়। ডায়াবেটিসে ইনসুলিন কম থাকায় রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। ডেঙ্গু ভাইরাসঘটিত রোগ বলে এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, রোগীকে বিশ্রাম, প্রচুর তরল ও জ্বরের ওষুধ দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর প্রতিরোধ মশার প্রজননস্থল নষ্ট করার মাধ্যমে সম্ভব। এ কারণে মশা নিধনের অভিযানে জমা পানি সরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমে যেতে পারে, তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
  262. ৩১৩. নিচের কোন পদ্ধতিতে Bacteria এর Spore ধ্বংস হয়?BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. Boiling
    • খ. Fumigation
    • গ. Cidex solution
    • ঘ. Autoclave
    উত্তর: ঘ. Autoclave
    ব্যাকটেরিয়ার স্পোর (Spore) ধ্বংস করতে হলে প্রচণ্ড তাপ লাগে, আর অটোক্লেভ (Autoclave) সেই কাজ নির্ভরযোগ্যভাবে করে। অটোক্লেভে চাপের মধ্যে ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার স্যাচুরেটেড বাষ্প ব্যবহার করা হয়। এই তাপে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও তাদের স্পোর সবই মরে যায়। ফুটন্ত পানির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি, আর সাধারণ ফুটানো স্পোর মারতে পারে না। জীবাণুনাশক (Disinfectant) রাসায়নিক সাধারণত স্পোর মারতে পারে না। তাই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র ও কাপড় জীবাণুমুক্ত করার জন্য অটোক্লেভই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
    মনে রাখুন:
    জীবাণুমুক্ত করাকে স্টেরিলাইজেশন (Sterilization) বলে।
    অটোক্লেভের আবিষ্কারক চার্লস চেম্বারল্যান্ড (১৮৭৯ সাল)।
  263. ৩১৪. অটোক্লেভিয়ের জন্য ব্যবহৃত আদর্শ তাপমাত্রা এবং চাপ-BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. ১২ পাউন্ড চাপে ১১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা
    • খ. ১৫ পাউন্ড চাপে ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা
    • গ. ১৫ পাউন্ড চাপে ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা
    • ঘ. ১৬ পাউন্ড চাপে ১২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা
    উত্তর: গ. ১৫ পাউন্ড চাপে ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা
    অটোক্লেভের (Autoclave) আদর্শ অবস্থা হলো ১৫ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি (15 psi) চাপে ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। সাধারণ চাপে পানি ১০০ ডিগ্রিতে ফোটে, কিন্তু চাপ বাড়ালে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। তাই চাপের মধ্যে বাষ্প ১২১ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। এই অবস্থায় সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখলে সব জীবাণু ও স্পোর মরে যায়। প্রচলিত ভাষায় একে প্রেসার স্টেরিলাইজার বলা যায়। বাষ্প যন্ত্রের সব ফাঁকে ঢুকে যায় বলে বিশেষ কাপড়ে মোড়ানো জিনিসও এতে জীবাণুমুক্ত হয়।
    মনে রাখুন:
    চাপ রান্নার প্রেসার কুকারের মতো কাজ করে।
    হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের যন্ত্র, কাপড় ও ড্রেসিং জীবাণুমুক্ত করতে অটোক্লেভ ব্যবহার করা হয়।
  264. ৩১৫. Surgical instrument জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. Boiling
    • খ. Autoclave
    • গ. Hot air oven
    • ঘ. Formaline
    উত্তর: খ. Autoclave
    অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি (Surgical instrument) জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি অটোক্লেভ। চাপের মধ্যে ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আর্দ্র বাষ্প যন্ত্রের সব জায়গায় পৌঁছায় এবং ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও স্পোরকে ধ্বংস করে। ফুটানো সব স্পোর মারতে পারে না। হট এয়ার ওভেনে শুষ্ক তাপ ব্যবহার হয় বলে সময় বেশি লাগে। আর ফরমালিনের মতো রাসায়নিক সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে না। অস্ত্রোপচারের সময় জীবাণু মানুষের দেহে ঢুকলে সংক্রমণ হয়, তাই যন্ত্রের নিরাপত্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অটোক্লেভ করা যন্ত্রকে প্যাকেটে মুড়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপদ রাখা হয়।
    মনে রাখুন:
    অটোক্লেভের তাপ ও চাপ দুই-ই ব্যবহার হয়।
  265. ৩১৬. Hot Air oven এ জীবাণুমুক্ত করা হয়-নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. All Glass Material
    • খ. Sharp Instrument
    • গ. Culture Media
    • ঘ. O.T Dress
    উত্তর: ক. All Glass Material
    হট এয়ার ওভেনে (Hot air oven) শুষ্ক তাপে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এতে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় দুই ঘণ্টা রাখা হয়। কাচের জিনিসপত্র (Glassware) যেমন টেস্টটিউব, পেট্রিডিশ ও সিরিঞ্জ এই তাপ সহ্য করতে পারে, তাই এগুলো এই পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করা হয়। কালচার মিডিয়া ও কাপড়ে ভেজা তাপ দরকার, কারণ শুষ্ক তাপে সেগুলো নষ্ট হতে পারে। হট এয়ার ওভেনে বায়ু পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ ছড়ায়, তবে বাতাস পানির বাষ্পের চেয়ে কম কার্যকরভাবে তাপ পরিবহন করে। সে কারণে শুষ্ক তাপে বেশি তাপমাত্রা ও বেশি সময় লাগে।
    মনে রাখুন:
    পাউডার, তেল ও ধারালো নয় এমন ধাতব জিনিসও হট এয়ার ওভেনে জীবাণুমুক্ত করা যায়।
  266. ৩১৭. Laparoscopy এর যন্ত্রপাতি নিচের কোন পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করা হয়?BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাণুমুক্তকরণ
    • ক. Savlon
    • খ. Lysol
    • গ. Cidex
    • ঘ. Boiling
    উত্তর: গ. Cidex
    ল্যাপারোস্কোপির (Laparoscopy) যন্ত্রে আছে সূক্ষ্ম লেন্স ও ক্যামেরা, এগুলো তাপ সহ্য করতে পারে না। অটোক্লেভের প্রচণ্ড তাপে যন্ত্র নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই এগুলো জীবাণুমুক্ত করা হয় সাইডেক্স (Cidex) নামের রাসায়নিক দ্রবণে। এর মূল উপাদান গ্লুটারালডিহাইড (Glutaraldehyde)। এই দ্রবণে যন্ত্র ডুবিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক মরে যায়। স্যাভলন, লাইসল ও ফুটানো এ কাজের জন্য যথেষ্ট কার্যকর নয়। এ ধরনের যন্ত্র সাধারণত দুই থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত দ্রবণে ভিজিয়ে রাখা হয়, তারপর জীবাণুমুক্ত পানিতে ধুয়ে ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    তাপে নষ্ট হয় এমন যন্ত্রের জন্য ঠান্ডা জীবাণুমুক্তকরণ (Cold sterilization) ব্যবহৃত হয়।
  267. ৩১৮. পানির Disinfecton কী দিয়ে করা হয়?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি পরিশোধন
    • ক. ক্লোরিন
    • খ. অতিবেগুনী রশ্মি
    • গ. ওজোন
    • ঘ. উপরোক্ত সব
    উত্তর: ঘ. উপরোক্ত সব
    পানির জীবাণুমুক্তকরণ (Disinfection) এই তিনটি উপায়েই করা যায়। ক্লোরিন পানিতে মিশে জীবাণুর কোষ নষ্ট করে। অতিবেগুনি রশ্মি (UV) জীবাণুর DNA নষ্ট করে বংশবৃদ্ধি থামিয়ে দেয়। ওজোন (O₃) শক্তিশালী জারক, যা জীবাণুকে ধ্বংস করে। তাই 'উপরোক্ত সব' উত্তর সঠিক। এর মধ্যে ক্লোরিনই সবচেয়ে সস্তা বলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। পানি জীবাণুমুক্ত করার প্রথম ধাপ হলো ঘোলাটে পানি থিতিয়ে ও ছেঁকে পরিষ্কার করা। তারপর ক্লোরিন বা অন্য পদ্ধতিতে জীবাণু মারা হয়। ঘরোয়াভাবে পানি ফুটিয়ে নিলেও জীবাণু মরে যায়।
    মনে রাখুন:
    ফিটকিরি পানির ময়লা থিতিয়ে ফেলে, জীবাণু মারার কাজ মূলত করে না।
    পানিতে ক্লোরিন গ্যাস বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
  268. ৩১৯. পানীয় জলে সচরাচর সবচেয়ে বেশী disinfectant (জীবাণু ধ্বংসকারক) ব্যবহার করা হয় -/ Which chemical is used to purify drinking water?সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি পরিশোধন
    • ক. ফিটকিরি
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. চুন
    • ঘ. ক্লোরিন
    উত্তর: ঘ. ক্লোরিন
    পানীয় জলের জীবাণু ধ্বংসকারী পদার্থ (Disinfectant) হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ক্লোরিন (Cl₂)। ক্লোরিন পানিতে মিশে হাইপোক্লোরাস এসিড তৈরি করে, যা জীবাণুর কোষ নষ্ট করে দেয়। এটি সস্তা এবং অল্প মাত্রায় কার্যকর, আর পানির মধ্যে খানিকটা ক্লোরিন অবশিষ্ট থাকে বলে পরেও জীবাণু জন্মাতে পারে না। ফিটকিরি পানির কাদা থিতিয়ে দেয়, কিন্তু জীবাণু মারে না। অতিরিক্ত ক্লোরিন দিলে পানিতে গন্ধ ও স্বাদ খারাপ হয়, তাই সঠিক মাত্রা ঠিক রাখা জরুরি। পানির আরেকটি পরিশোধন পদ্ধতি হলো তলানি ফেলা বা থিতানো, যাতে ময়লা নিচে জমে।
    মনে রাখুন:
    ব্লিচিং পাউডারে ক্লোরিন থাকে, তাই এটি পানি শোধনে ব্যবহৃত হয়।
    জীবাণু মারার আরও উপায় হলো অতিবেগুনি রশ্মি ও ওজোন।
  269. ৩২০. গোদরোগ সৃষ্টিকারী পরজীবীর নাম -চবি (ক ইউনিট) ভর্তি · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরজীবী ও রোগজীবাণু
    • ক. *Entamoeba histolytica*
    • খ. *Wuchereria bancrofti*
    • গ. *Aedes fatigans*
    • ঘ. *Culex quinquefasciatus*
    উত্তর: খ. *Wuchereria bancrofti*
    গোদ রোগ বা ফাইলেরিয়াসিস (Filariasis) সৃষ্টি করে উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি (Wuchereria bancrofti) নামের সূত্রাকার কৃমি। এই কৃমি মানুষের লসিকাবাহীতে বাসা বাঁধে, ফলে লসিকা চলাচল আটকে যায় এবং পা বা অণ্ডকোষ ফুলে ওঠে। কিউলেক্স কুইনকুইফেসিয়াটাস (Culex quinquefasciatus) মশা এই পরজীবী ছড়ায়। মশা এখানে বাহক মাত্র, রোগের জীবাণু নয়। একসময় এই রোগে পায়ের আকার হাতির পায়ের মতো ফুলে ওঠে বলে একে ইংরেজিতে এলিফ্যান্টিয়াসিস (Elephantiasis) বলে। রোগটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। রাতে মশা কামড়ালে এই পরজীবীর লার্ভা মানুষের দেহে ঢোকে। ম্যালেরিয়ার মতো এই রোগও মশাবাহিত।
    মনে রাখুন:
    এন্টামিবা হিস্টোলিটিকা (Entamoeba histolytica) আমাশয় ঘটায়।
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় অ্যানোফিলিস মশা, আর ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা।
  270. ৩২১. রক্তশূন্যতা বলতে কি বুঝায়?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (শৈলকূপা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তাল্পতা
    • ক. রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া
    • খ. রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া
    • গ. রক্তে অণুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
    • ঘ. রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
    উত্তর: ক. রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া
    রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া (Anaemia) বলতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়াকে বোঝায়। হিমোগ্লোবিন কমলে রক্ত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বহন করতে পারে না, ফলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও ফ্যাকাশে ভাব দেখা দেয়। এখানে রক্তের মোট পরিমাণ কমা জরুরি নয়, বরং রক্তের গুণগত মান কমে যায়। রক্তশূন্যতা একটি অবস্থা, নির্দিষ্ট জীবাণুর রোগ নয়, তাই বিভিন্ন কারণে হতে পারে। পুষ্টিকর খাবার, যেমন কলিজা ও শাক, এ রোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    লোহার অভাবজনিত রক্তশূন্যতা সবচেয়ে সাধারণ।
    নারী ও শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
  271. ৩২২. রক্তশূন্যতার অপর নাম কি?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তাল্পতা
    • ক. লিউকোমিয়া
    • খ. অ্যানেমিয়া
    • গ. সিরোসিস
    • ঘ. জন্ডিস
    উত্তর: খ. অ্যানেমিয়া
    রক্তশূন্যতার অপর নাম অ্যানিমিয়া (Anaemia)। লিউকোমিয়া রক্তের ক্যান্সার, সিরোসিস যকৃতের রোগ এবং জন্ডিসে রক্তে পিত্তরঞ্জক বিলিরুবিন বেড়ে যায়। অ্যানিমিয়ায় হিমোগ্লোবিন বা লোহিত কণিকা কমে যায়। লোহা, ভিটামিন B₁₂ বা ফলিক অ্যাসিডের অভাব এর সাধারণ কারণ। গ্রিক ভাষায় অ্যানিমিয়া মানে রক্তহীনতা। এই রোগ কোনো জীবাণুর সংক্রমণে হয় না, বরং পুষ্টির অভাবে বা রক্তক্ষরণে ঘটে। রক্তশূন্যতার অন্য কারণ হলো কৃমির সংক্রমণ, ম্যালেরিয়া ও দীর্ঘ রক্তক্ষরণ। রোগের চিকিৎসা কারণ বুঝেই করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    জন্ডিসে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়।
    সিরোসিসে যকৃতের কোষ নষ্ট হয়ে শক্ত তন্তুতে ভরে যায়।
  272. ৩২৩. কোন ভিটামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা (Anaemia) শুরু হয়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তাল্পতা
    • ক. ভিটামিন বি ১
    • খ. ভিটামিন বি ২
    • গ. ভিটামিন বি ৬
    • ঘ. ভিটামিন বি ১২
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন বি ১২
    ভিটামিন B₁₂-এর অভাবে এক ধরনের রক্তশূন্যতা শুরু হয়। অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরির সময় এই ভিটামিন লাগে। এর অভাব হলে কণিকা ঠিকমতো পূর্ণতা পায় না, ফলে বড় অথচ কম সংখ্যক কণিকা তৈরি হয়। এই রোগকে পারনিশাস (Pernicious) অ্যানিমিয়া বলে। পাকস্থলীতে ভিটামিন B₁₂ শোষণের জন্য ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর নামের একটি উপাদান লাগে। নিরামিষভোজীদের এই ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে, কারণ এটি মূলত প্রাণিজ খাদ্যে মেলে। ভিটামিন B₁₂ ছাড়াও আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা হয়, আর ফলিক অ্যাসিডের অভাবেও।
    মনে রাখুন:
    লোহা ও ফলিক অ্যাসিডের অভাবেও রক্তশূন্যতা হয়।
    ভিটামিন B₁ এর অভাবে বেরিবেরি হয়।
  273. ৩২৪. বংশগত রোগ কোনটি?BBAL-এর সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগত রোগ
    • ক. নিউমোনিয়া
    • খ. হুপিং কাশি
    • গ. থ্যালাসেমিয়া
    • ঘ. টাইফয়েড
    উত্তর: গ. থ্যালাসেমিয়া
    থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) একটি বংশগত রোগ, যা বাবা-মা থেকে সন্তানের দেহে জিনের মাধ্যমে আসে। এই রোগে হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশ ঠিকমতো তৈরি হয় না, ফলে লোহিত কণিকা অল্প সময়ে ভেঙে যায়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ও টাইফয়েড জীবাণুর সংক্রমণে হয়, বংশগত নয়। এই রোগের ফলে রোগীকে নিয়মিত রক্ত নিতে হয়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাহক শনাক্ত করা গেলে সন্তানের ঝুঁকি কমানো যায়। নিউমোনিয়া ও হুপিং কাশি জীবাণু থেকে হয়, তাই এগুলো সংক্রামক রোগ। টাইফয়েডও সালমোনেলা নামের ব্যাকটেরিয়ায় ঘটে।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশে অনেক মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক।
    বাবা-মা দুজনেই বাহক হলে সন্তানের গুরুতর থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  274. ৩২৫. 'Thalassemia' is a hereditary disease affecting- / 'থ্যালাসেমিয়া' একটি বংশানুক্রমিক রোগ যা ......... কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগত রোগ
    • ক. Lungs
    • খ. Blood
    • গ. Heart
    • ঘ. Kidney
    উত্তর: খ. Blood
    থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) রক্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি একটি বংশগত রক্তের রোগ, যেখানে হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন শৃঙ্খল ঠিকমতো তৈরি হয় না। ফলে লোহিত কণিকা দুর্বল হয়ে দ্রুত ভেঙে যায় এবং রোগীর রক্তাল্পতা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীকে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। এ রোগ সংক্রামক নয়। অর্থাৎ ছোঁয়া বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। পরিবারের জিনের মাধ্যমে এটি পরের প্রজন্মে যায়। থ্যালাসেমিয়ায় লোহিত কণিকা ভেঙে গেলে প্লীহা বড় হয়ে যায়। রক্ত নিতে নিতে রোগীর দেহে লোহা জমেও ক্ষতি হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    থ্যালাসেমিয়া শব্দটি গ্রিক থ্যালাসা (সমুদ্র) থেকে এসেছে, কারণ ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে এটি প্রথম চিহ্নিত হয়।
  275. ৩২৬. রক্ত কোষের ক্যান্সারকে কি বলে?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের রোগ
    • ক. লিউকেমিয়া
    • খ. এ্যানিমিয়া
    • গ. Blood Clotting
    • ঘ. অ্যানজিনা
    উত্তর: ক. লিউকেমিয়া
    রক্ত কোষের ক্যান্সারকে লিউকেমিয়া (Leukemia) বা রক্তের ক্যান্সার বলে। এই রোগে অস্থিমজ্জা অস্বাভাবিক ও অপরিণত শ্বেত কণিকা তৈরি করতে থাকে। এই কণিকাগুলো সুস্থ কোষের জায়গা দখল করে ফেলে এবং রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। অ্যানিমিয়া হলো রক্তাল্পতা, আর অ্যানজিনায় হৃৎপিণ্ডে বুকে ব্যথা হয়। ক্যান্সার শব্দের অর্থ কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। রক্তের কোষের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি অস্থিমজ্জায় শুরু হয়। শিশুদের মধ্যেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। লিউকেমিয়া তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী, এই দুই ধরনের হয়। ডাক্তাররা অস্থিমজ্জা পরীক্ষা করে এই রোগ নিশ্চিত করেন।
    মনে রাখুন:
    লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়।
  276. ৩২৭. রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে কোন রোগটি হয়?বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের রোগ
    • ক. স্ট্রোক
    • খ. এইডস
    • গ. এনিমিয়া
    • ঘ. লিউকেমিয়া
    উত্তর: ঘ. লিউকেমিয়া
    রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে লিউকেমিয়া (Leukemia) রোগ হয়। গ্রিক শব্দ লিউকোস (সাদা) থেকে এর নাম এসেছে। এখানে অপরিণত শ্বেত কণিকা বিপুল পরিমাণে তৈরি হয় এবং লোহিত কণিকা ও অণুচক্রিকার জায়গা কমিয়ে দেয়। ফলে রোগীর রক্তাল্পতা ও রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দেয়। লিউকেমিয়া রক্তের ক্যান্সার। রক্ত পরীক্ষায় শ্বেত কণিকার সংখ্যা অনেক বেশি পাওয়া গেলে চিকিৎসকেরা এ রোগের সন্দেহ করেন। স্বাভাবিক অবস্থায় সংক্রমণ হলে শ্বেত কণিকা সাময়িকভাবে বাড়ে, কিন্তু লিউকেমিয়ায় এই বৃদ্ধি অস্বাভাবিক ও স্থায়ী।
    মনে রাখুন:
    স্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালনের সমস্যা, আর এইডস HIV ভাইরাসে হয়।
  277. ৩২৮. হিমোফিলিয়া কি ?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের রোগ
    • ক. স্নায়ু ব্যাধি
    • খ. রক্ত ব্যাধি
    • গ. মস্তিষ্ক ব্যাধি
    • ঘ. বৃক্ক ব্যাধি
    উত্তর: খ. রক্ত ব্যাধি
    হিমোফিলিয়া (Haemophilia) একটি রক্তের রোগ। এই রোগে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টর, বিশেষ করে ফ্যাক্টর VIII কম বা অনুপস্থিত থাকে। ফলে সামান্য কেটে গেলেও রক্ত সহজে বন্ধ হয় না। রোগটি বংশগত এবং এটি X ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বাহিত হয়, তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের হয়। এই রোগে রোগীর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে, বিশেষ করে গাঁটে। এই রোগে ভোগা ব্যক্তির আঘাত পাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এই রোগে একবার রক্ত পড়া শুরু হলে সহজে থামে না, তাই চিকিৎসায় জমাট বাঁধার উপাদান দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    রানি ভিক্টোরিয়ার পরিবারে এই রোগ বিখ্যাত।
    এ রোগে ফ্যাক্টর ভিন্ন করে রক্তদান করে চিকিৎসা হয়।
  278. ৩২৯. উচ্চ রক্তচাপে কোন খাবার পরিহার করতে হবে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার
    • খ. সোডিয়ামযুক্ত খাবার
    • গ. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার
    • ঘ. শর্করাসমৃদ্ধ খাবার
    উত্তর: খ. সোডিয়ামযুক্ত খাবার
    খাবারের লবণে থাকা সোডিয়াম (Sodium) দেহে পানি ধরে রাখে। ফলে রক্তের আয়তন বাড়ে এবং ধমনির ওপর চাপ বেড়ে যায়। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে সোডিয়ামযুক্ত খাবার, যেমন বেশি লবণ, আচার, লবণাক্ত শুঁটকি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিন ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়ার পরামর্শ দেয়।
    পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল ও সবজি, যেমন কলা ও শাকসবজি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
    রক্তচাপ ১৪০/৯০ mmHg-এর বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়।
    অতিরিক্ত ওজন কমানো, নিয়মিত হাঁটা এবং ধূমপান বর্জনও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগে।
  279. ৩৩০. রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?ডিপিডিসি-এর সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. 4-6 mg/dL
    • খ. 80-120 mg/dL
    • গ. 100-200 mg/dL
    • ঘ. 170-300 mg/dL
    উত্তর: গ. 100-200 mg/dL
    রক্তে মোট কোলেস্টেরলের (Cholesterol) মান সাধারণত ২০০ mg/dL-এর কম হলে তা স্বাভাবিক ধরা হয়। এ কারণে ১০০ থেকে ২০০ mg/dL পরিসরকে স্বাভাবিক বলা হয়। ২০০ থেকে ২৩৯ mg/dL সীমারেখার কাছাকাছি, আর ২৪০ mg/dL বা তার বেশি হলে তা উচ্চ ঝুঁকির লক্ষণ।
    মনে রাখুন:
    কোলেস্টেরল এক ধরনের স্নেহজাতীয় পদার্থ। যকৃতে এটি তৈরি হয় এবং কোষপর্দা ও কিছু হরমোন গঠনে লাগে।
    LDL খারাপ কোলেস্টেরল, এটি ধমনির গায়ে জমে।
    HDL ভালো কোলেস্টেরল, এটি বাড়তি কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
    রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের (Triglyceride) মাত্রাও হৃদরোগের ঝুঁকি মাপতে দেখা হয়। এর স্বাভাবিক মান ১৫০ mg/dL-এর কম।
  280. ৩৩১. চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক কোন উক্তিটি সঠিক নয়?আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীন সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হৃৎপিণ্ড পরীক্ষার পদ্ধতিকে Echo-cardiography বলা হয়
    • খ. E.T.T দ্বারা হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা পরিমাপ করা হয়
    • গ. Coronary angiography হৃদরোগের চিকিৎসা
    • ঘ. Coronary bypass হৃদরোগের চিকিৎসা
    উত্তর: গ. Coronary angiography হৃদরোগের চিকিৎসা
    করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (Coronary angiography) একটি রোগনির্ণয় পদ্ধতি, চিকিৎসা নয়। এতে রক্তনালীতে বিশেষ রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করিয়ে এক্স-রে ছবির মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের ধমনির কোথায় সরু বা বন্ধ হয়েছে তা দেখা হয়। তাই এ বিবৃতিটি সঠিক নয়। বাকি তিনটি বিবৃতি সঠিক।
    মনে রাখুন:
    শব্দতরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে হৃদপিণ্ড পরীক্ষাকে ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Echocardiography) বলে।
    E.T.T বা Exercise Tolerance Test-এ ট্রেডমিলে হাঁটিয়ে হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা পরিমাপ করা হয়।
    হৃদরোগের চিকিৎসা হলো অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও করোনারি বাইপাস।
    আল্ট্রাসাউন্ড বা শব্দতরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না, কিন্তু এটি দেহের ভেতরের ছবি তুলতে কাজে লাগে।
    অ্যাঞ্জিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত রঞ্জক পদার্থ এক্স-রেতে স্পষ্ট দেখা যায় বলে ছবিতে রক্তনালী পরিষ্কার ফুটে ওঠে।
  281. ৩৩২. ECG শরীরের কোন অঙ্গ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. হৃদপিণ্ড
    • খ. ফুসফুস
    • গ. ব্রেন
    • ঘ. কিডনি
    উত্তর: ক. হৃদপিণ্ড
    ECG-এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি (Electrocardiography)। হৃদপিণ্ড স্পন্দিত হওয়ার সময় সামান্য বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়। ECG যন্ত্র বুকে লাগানো তারের মাধ্যমে সেই সংকেত ধরে একটি রেখাচিত্রে দেখায়। এতে হৃদপিণ্ডের ছন্দ ঠিক আছে কি না এবং হার্ট অ্যাটাকের চিহ্ন আছে কি না তা বোঝা যায়।
    মনে রাখুন:
    ফুসফুসের রোগ ধরতে বুকের এক্স-রে ব্যবহার হয়।
    মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পরীক্ষা করা হয় EEG দিয়ে।
    ECG যন্ত্রের মূল ধারণা দেন উইলেম আইনথোভেন।
    ECG-এর ফলে পাওয়া রেখার ওপর-নিচ উঠানামা দেখে চিকিৎসকেরা হৃদস্পন্দনের ছন্দ ও হার বুঝতে পারেন।
    হার্ট অ্যাটাক হলে ECG-তে বিশেষ চিহ্ন ধরা পড়ে, তাই জরুরি বিভাগে সবার আগে এটিই করা হয়।
  282. ৩৩৩. করোনারী হৃদরোগ নির্ণয়ে প্রথম ধাপের পরীক্ষা কোনটি?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. লিপিড প্রোফাইল
    • খ. ই-টি-টি
    • গ. ই-সি-জি
    • ঘ. এনজিওগ্রাম
    উত্তর: গ. ই-সি-জি
    হৃদরোগের সন্দেহ হলে প্রথম ধাপে সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত পরীক্ষা হিসেবে ECG করা হয়। এতে ব্যথাহীনভাবে হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কাজের ছবি পাওয়া যায়। ECG-তে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে তখন পরের ধাপে ই-টি-টি (ETT), ইকোকার্ডিওগ্রাফি বা অ্যাঞ্জিওগ্রামের মতো পরীক্ষা করা হয়।
    মনে রাখুন:
    লিপিড প্রোফাইল রক্তে চর্বির মাত্রা মাপে। এটি রোগ নয়, ঝুঁকির কারণ জানায়।
    করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রামে ধমনির বাধা সরাসরি দেখা যায়, তাই এটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। কিন্তু এতে অস্ত্রোপচারের মতো ঝুঁকি থাকে বলে এটি প্রথম ধাপে করা হয় না।
    ETT হৃদপিণ্ডের ওপর ব্যায়ামের চাপ দিয়ে ECG রেকর্ড করে, তাই একে স্ট্রেস টেস্টও বলা হয়।
  283. ৩৩৪. হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. কম্পাস
    • খ. স্টেথস্কোপ
    • গ. গ্যালভানোমিটার
    • ঘ. কার্ডিওগ্রাফ
    উত্তর: ঘ. কার্ডিওগ্রাফ
    হৃদপিণ্ডের গতি বা স্পন্দন রেখাচিত্রের মাধ্যমে ধরে রাখার যন্ত্রকে কার্ডিওগ্রাফ (Cardiograph) বলে। এর ফলাফল লেখচিত্রের আকারে পাওয়া যায়। গ্যালভানোমিটার (Galvanometer) বিদ্যুৎ প্রবাহ নির্ণয় করে, কম্পাস দিক নির্ণয় করে, আর স্টেথস্কোপ (Stethoscope) দিয়ে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ শোনা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮১৬ সালে ফরাসি চিকিৎসক রেনে ল্যানেক স্টেথস্কোপ আবিষ্কার করেন।
    হৃদপিণ্ডের গতির লেখচিত্র যে যন্ত্র আঁকে, তার ফলাফলকে কার্ডিওগ্রাম (Cardiogram) বলে।
    ECG হলো হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কাজ ধরার কার্ডিওগ্রাম।
    গ্যালভানোমিটার তড়িৎ প্রবাহ মাপার যন্ত্র, তাই হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় না।
    স্টেথস্কোপ দিয়ে হৃদস্পন্দনের শব্দ শোনা যায়, কিন্তু রেখাচিত্র আঁকা যায় না।
  284. ৩৩৫. এনজিওপ্লাস্টি করলে কি হয়?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়
    • খ. সরু ধমনী প্রশস্ত হয়
    • গ. হৃদস্পন্দনের গতি ধীর হয়
    • ঘ. রক্ত সঞ্চালনের গতি বৃদ্ধি পায়
    উত্তর: খ. সরু ধমনী প্রশস্ত হয়
    অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতে বেলুন ফুলিয়ে বা স্টেন্ট বসিয়ে হৃদপিণ্ডের সরু হয়ে যাওয়া ধমনিকে প্রশস্ত করা হয়। ধমনি চওড়া হলে হৃৎপেশিতে আবার প্রয়োজনীয় রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায়। এতে বুকে ব্যথা কমে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে।
    মনে রাখুন:
    ধমনির দেয়ালে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে সরু হয়ে যাওয়াকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis) বলে।
    এ প্রক্রিয়ায় স্পন্দনের গতি বাড়ানো বা কমানো লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য শুধু ধমনি খুলে রক্তপ্রবাহ ঠিক করা।
    যদি একাধিক ধমনি আটকে থাকে, তখন বাইপাস অস্ত্রোপচার (CABG) করা হয়।
    অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পর রোগীকে সাধারণত অল্প দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া যায়।
  285. ৩৩৬. পেসমেকারের কাজ কি?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. রক্তকে তরল রাখে
    • খ. রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে
    • গ. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে
    • ঘ. হৃদস্পন্দনের ধীরগতি নিয়ন্ত্রণ করে
    উত্তর: ঘ. হৃদস্পন্দনের ধীরগতি নিয়ন্ত্রণ করে
    পেসমেকার (Pacemaker) একটি ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা সাধারণত কণ্ঠার হাড়ের নিচে চামড়ার তলায় বসানো হয়। হৃদস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হয়ে গেলে এটি হৃদপিণ্ডে ছোট বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়। ফলে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রিত ও স্বাভাবিক হারে চলতে থাকে। অর্থাৎ ধীরগতির হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করাই পেসমেকারের কাজ।
    মনে রাখুন:
    হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে স্বাভাবিক পেসমেকারের মতো কাজ করে SA নোড (Sinoatrial node)। সেখান থেকেই প্রতিটি স্পন্দনের সংকেত শুরু হয়।
    SA নোড দুর্বল হয়ে গেলে কৃত্রিম পেসমেকার বসাতে হয়।
    পেসমেকার বসানোর পর রোগী স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন, তবে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হয়।
  286. ৩৩৭. বিশ্বে প্রথম হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি হয় কোন দেশে?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদরোগ ও চিকিৎসা
    • ক. যুক্তরাষ্ট্র
    • খ. ব্রিটেন
    • গ. সাউথ আফ্রিকা
    • ঘ. জার্মানি
    উত্তর: গ. সাউথ আফ্রিকা
    বিশ্বের প্রথম মানুষের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন (Heart transplant) করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। ১৯৬৭ সালের ৩ ডিসেম্বর কেপটাউনের গ্রুট শুর হাসপাতালে ডা. ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড এই অস্ত্রোপচার করেন। রোগী ছিলেন লুইস ওয়াশকানস্কি। তিনি অস্ত্রোপচারের পর প্রায় ১৮ দিন বেঁচে ছিলেন।
    মনে রাখুন:
    প্রতিস্থাপনে দাতার মস্তিষ্ক মৃত ঘোষণা হলেও হৃদপিণ্ড কিছু সময় সচল রাখা যায়।
    প্রতিস্থাপনের পর রোগীকে সারা জীবন ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ খেতে হয়, নইলে দেহ নতুন অঙ্গকে প্রত্যাখ্যান করে।
    দক্ষিণ আফ্রিকার বার্নার্ডের সাফল্যের পর পৃথিবীর অনেক দেশেই হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন শুরু হয়।
    বার্নার্ডের প্রথম রোগী নিউমোনিয়ায় মারা যান, কারণ নতুন অঙ্গ বাঁচাতে তাঁর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ওষুধ দিয়ে কমিয়ে রাখতে হয়েছিল।
  287. ৩৩৮. Which is the correct spelling?সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্রের রোগ
    • ক. Neumonia
    • খ. Pnumonia
    • গ. Pneumonia
    • ঘ. Pneiumonia
    উত্তর: গ. Pneumonia
    সঠিক বানান Pneumonia। শব্দটি এসেছে গ্রিক pneumon থেকে, যার অর্থ ফুসফুস। শুরুর p অক্ষরটি উচ্চারণে শোনা যায় না, কিন্তু বানানে লিখতে হয়। নিউমোনিয়া এমন একটি রোগ, যাতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণে ফুসফুসের অ্যালভিওলাই প্রদাহিত হয় এবং তরলে ভরে যায়।
    মনে রাখুন:
    নিউমোনিয়া মূলত স্ট্রেপটোককাস নিউমোনি (Streptococcus pneumoniae) ব্যাকটেরিয়ার কারণে বেশি হয়।
    লক্ষণ: জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা।
    পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ নিউমোনিয়া।
    নিউমোনিয়া থেকে বাঁচতে শিশুদের নিউমোকোক্কাল টিকা (PCV) দেওয়া হয়।
    বাংলায় লিখলে 'নিউমোনিয়া' হলেও ইংরেজি বানানে শুরুতে P থাকে।
  288. ৩৩৯. নাক দিয়ে রক্তক্ষরণকে কি বলে?স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্রের রোগ
    • ক. Haemoptysis
    • খ. Haematuria
    • গ. Epistaxis
    • ঘ. Malaena
    উত্তর: গ. Epistaxis
    নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এপিস্ট্যাক্সিস (Epistaxis) বলে। নাকের ভেতরের পর্দায় খুব সরু রক্তনালী থাকে, আঘাত লাগলে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় সেগুলো ফেটে গিয়ে রক্ত পড়ে। এই চারটি শব্দ আলাদা ধরনের রক্তক্ষরণ বোঝায়, তাই এদের মধ্যে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া হিমোপটিসিস (Haemoptysis)।
    প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া হিমাটুরিয়া (Haematuria)।
    কালো আলকাতরার মতো মল হওয়া মেলেনা (Malaena), এটি পরিপাকতন্ত্রের ওপরের অংশে রক্তক্ষরণের লক্ষণ।
    এপিস্ট্যাক্সিসে মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে নাকের নরম অংশ কিছুক্ষণ চেপে ধরলে অনেক সময় রক্ত বন্ধ হয়।
    কপালে বা নাকে আঘাত, উচ্চ রক্তচাপ ও সর্দি-জ্বরও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ হতে পারে।
  289. ৩৪০. মস্তিষ্কের ধমনী ছিঁড়ে রক্তপাত হওয়াকে বলে -জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ট্রোক
    • ক. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট
    • খ. কার্ডিয়াক ফেইলিউর
    • গ. হার্ট এ্যাটাক
    • ঘ. স্ট্রোক
    উত্তর: ঘ. স্ট্রোক
    মস্তিষ্কের রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তপাত হওয়া স্ট্রোকের একটি ধরন, যাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic stroke) বলে। উচ্চ রক্তচাপে নালীর দেয়াল দুর্বল হয়ে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এতে মস্তিষ্কের কোষে রক্ত যায় না এবং কোষগুলো নষ্ট হতে শুরু করে।
    মনে রাখুন:
    হার্ট অ্যাটাক (Heart attack) হয় হৃদপিণ্ডের করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে।
    কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Cardiac arrest) মানে হৃদপিণ্ড হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেওয়া।
    কার্ডিয়াক ফেইলিউর (Cardiac failure) অবস্থায় হৃদপিণ্ড প্রয়োজনমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না।
    ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান মস্তিষ্কের রক্তনালী দুর্বল করে দিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
  290. ৩৪১. 'স্ট্রোক' এর প্রধান লক্ষণসমূহ হলো -বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ট্রোক
    • ক. চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা
    • খ. হঠাৎ দুর্বলতা অনুভব করা বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
    • গ. হঠাৎ তন্দ্রাচ্ছন্নতা হওয়া বা চলতে ফিরতে সমস্যা অনুভব করা
    • ঘ. উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
    উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
    স্ট্রোকের লক্ষণ হঠাৎ করে দেখা দেয়। চোখে ঝাপসা দেখা, কথা বলতে অসুবিধা, হঠাৎ দুর্বল লাগা, মুখ বা হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, তন্দ্রাচ্ছন্নতা কিংবা চলতে-ফিরতে সমস্যা, এগুলোর যে কোনো একটি বা সবগুলোই স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। তাই সবগুলো লক্ষণই ঠিক।
    মনে রাখুন:
    সহজে চেনার জন্য ইংরেজিতে FAST নিয়মটি মনে রাখা হয়। Face মুখ বেঁকে যাওয়া, Arm হাত দুর্বল হওয়া, Speech কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং Time দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া।
    স্ট্রোকের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
    স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যায় বা এক হাত-পা অবশ হয়ে পড়ে। এমন লক্ষণ দেখলে একেবারেই দেরি করা উচিত নয়।
  291. ৩৪২. 'হার্ট-এটাক' ও 'স্ট্রোক' সম্পর্কে কোন উক্তিটি সঠিক নয়?আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ট্রোক
    • ক. হার্ট-এটাক হলে হৃৎপিণ্ডের কিছু টিস্যু মরে যায়
    • খ. মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাঁধাপ্রাপ্ত হলে স্ট্রোক হতে পারে
    • গ. স্ট্রোকের মূল কারণ হার্ট-এটাক
    • ঘ. স্ট্রোক-এর ফলে মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে
    উত্তর: গ. স্ট্রোকের মূল কারণ হার্ট-এটাক
    স্ট্রোক হয় মস্তিষ্কের রক্তনালী বন্ধ বা ছিঁড়ে গেলে, হৃদপিণ্ডের আক্রমণের কারণে নয়। তাই স্ট্রোকের মূল কারণ হার্ট অ্যাটাক, এই বিবৃতিটি সঠিক নয়। হার্ট অ্যাটাকে হৃদপিণ্ডের করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে হৃৎপেশির কিছু অংশ মরে যায়।
    মনে রাখুন:
    মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাধাপ্রাপ্ত হলে স্ট্রোক হয়।
    স্ট্রোকে মস্তিষ্কের যে অংশ আক্রান্ত হয়, দেহের উল্টো দিকের পেশি অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে।
    দুটি রোগেরই ঝুঁকির কারণ উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল।
    স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক দুটোই রক্ত চলাচলের বাধা থেকে হয় বলে এদের ঝুঁকির কারণ অনেকটা এক।
    উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে এ দুটি রোগের ঝুঁকিই অনেক কমে।
  292. ৩৪৩. সরাসরি বাহির হতে ভিতরের অঙ্গ দেখার প্রক্রিয়া কোনটি?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি
    • ক. সিটি স্ক্যান
    • খ. ইইজি
    • গ. ইটিটি
    • ঘ. ইসিজি
    উত্তর: ক. সিটি স্ক্যান
    সিটি স্ক্যান (CT Scan) এমন একটি পদ্ধতি, যাতে দেহের ভেতরের অঙ্গের ছবি তুলে বাইরে থেকে সরাসরি দেখা যায়। বাকি তিনটি পরীক্ষা অঙ্গের ছবি দেখায় না। EEG মস্তিষ্কের তড়িৎ তরঙ্গ রেকর্ড করে। ETT হলো হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতার ব্যায়াম পরীক্ষা, আর ECG হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে।
    মনে রাখুন:
    EEG-এর পূর্ণরূপ Electroencephalogram।
    ECG-এর পূর্ণরূপ Electrocardiogram।
    ETT-এর পূর্ণরূপ Exercise Tolerance Test।
    আল্ট্রাসনোগ্রাফিও (Ultrasonography) অঙ্গের ছবি দেখায়, তবে এক্স-রের বদলে শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে।
    কোন পরীক্ষা কোন অঙ্গের জন্য, নামের প্রথম অংশ দেখে বোঝা যায়: কার্ডিও মানে হৃদপিণ্ড এবং এনসেফালো মানে মস্তিষ্ক।
  293. ৩৪৪. শরীরের ভিতর কোমল টিস্যুর অভ্যন্তরীণ গঠনগত পার্থক্য বোঝার জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি?সিজিডিএফ-এর অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি
    • ক. এক্স-রে
    • খ. এনজিওগ্রাফি
    • গ. সিটি স্ক্যান
    • ঘ. এমআরআই
    উত্তর: ঘ. এমআরআই
    এমআরআই (MRI) পদ্ধতিতে শক্তিশালী চুম্বক ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে দেহের ভেতরের ছবি তোলা হয়। দেহের কোমল টিস্যু, যেমন মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, পেশি ও অস্থিবন্ধনীর সূক্ষ্ম গঠন এতে খুব স্পষ্ট ধরা পড়ে। তাই কোমল টিস্যুর পার্থক্য বোঝার জন্য এমআরআই-ই সবচেয়ে ভালো।
    মনে রাখুন:
    MRI-এর পূর্ণরূপ Magnetic Resonance Imaging।
    এতে এক্স-রের মতো আয়নাইজিং বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না।
    হাড়ের ভাঙন দেখতে এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান সাধারণত বেশি কাজে লাগে।
    দেহে ধাতব ইমপ্ল্যান্ট বা পেসমেকার থাকলে এমআরআই করানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।
    এক্স-রে সাধারণত হাড়ের ছবি তোলার জন্য এবং এনজিওগ্রাফি রক্তনালী দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  294. ৩৪৫. BELL'S PALSY কোন Nerve injury হলে হয়?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুর রোগ
    • ক. Facial
    • খ. Trigeminal
    • গ. Hypoglossal
    • ঘ. Olfactory
    উত্তর: ক. Facial
    বেলস পালসি (Bell's palsy) এমন এক রোগ, যাতে মুখের একপাশের পেশি হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়। এর কারণ ফেসিয়াল স্নায়ু (Facial nerve) বা সপ্তম করোটিক স্নায়ুতে প্রদাহ বা ক্ষতি। আক্রান্ত দিকের চোখ বন্ধ করা বা হাসা কঠিন হয়ে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    রোগটির নাম স্কটিশ শল্যচিকিৎসক স্যার চার্লস বেলের নামে হয়েছে।
    বেশির ভাগ রোগী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ভালো হয়ে যান।
    ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু মুখের অনুভূতি বহন করে এবং চোয়ালের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।
    ফেসিয়াল স্নায়ুর ক্ষতি হলে চোখের পাতা পুরোপুরি বন্ধ হয় না, তাই চোখ শুকিয়ে না যায় সেদিকে যত্ন নিতে হয়।
  295. ৩৪৬. স্নায়ুবিকাশ জনিত সমস্যার একটি বিকৃত রূপকে বলে -প্রকৌশল অধিদপ্তরের নকশাকার ড্রাফটসম্যান, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুর রোগ
    • ক. স্নায়ুরোগ
    • খ. থেলাসেমিয়া
    • গ. ব্রেনস্ট্রোক
    • ঘ. অটিজম
    উত্তর: ঘ. অটিজম
    অটিজম (Autism) স্নায়ুবিকাশজনিত একটি জটিল অবস্থা, যাতে শিশুর যোগাযোগ, সামাজিক আচরণ ও কথা বলার ক্ষমতায় ভিন্নতা দেখা যায়। একে এখন অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism Spectrum Disorder) বলা হয়, কারণ এর লক্ষণ ও তীব্রতা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা। থ্যালাসেমিয়া রক্তের জন্মগত রোগ এবং ব্রেনস্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা।
    মনে রাখুন:
    প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়।
    অটিজমের কোনো একক কারণ নেই। জিনগত ও পরিবেশগত বহু বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
    প্রাথমিক বয়সে শনাক্ত করে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিলে শিশুদের বিকাশ অনেক ভালো হয়।
    অটিজম আক্রান্ত অনেক শিশু একই কাজ বারবার করে এবং চোখে চোখ রেখে তাকাতে চায় না।
  296. ৩৪৭. ইনসমনিয়া কোন ধরনের অসুখ?DMLC-এর জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুর রোগ
    • ক. নিদ্রাহীনতা
    • খ. স্নায়ুরোগ
    • গ. সেরিব্রাল পালসি
    • ঘ. চোখের রোগ
    উত্তর: ক. নিদ্রাহীনতা
    ইনসমনিয়া (Insomnia) হলো ঘুম না আসা বা ঘুম ভেঙে গেলে আবার ঘুমাতে না পারার রোগ, বাংলায় একে নিদ্রাহীনতা বলে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত চা-কফি, বা অনিয়মিত জীবনযাপনে এ সমস্যা বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ঘুম না হলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
    অতিরিক্ত ঘুম আসার সমস্যাকে হাইপারসমনিয়া (Hypersomnia) বলে।
    সেরিব্রাল পালসি (Cerebral palsy) জন্মের সময় বা তার আগে মস্তিষ্কের ক্ষতির ফলে হওয়া চলাফেরার সমস্যা, ঘুমের রোগ নয়।
    দীর্ঘদিন ঘুম কম হলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
  297. ৩৪৮. পেপটিক আলসার রোগ নির্ণয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কোনটি?মেডিক্যাল অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. এন্ডোসকপি
    • খ. গ্যাস্ট্রিক জুস অ্যানালাইসিস
    • গ. আলট্রাসনোগ্রাফি
    • ঘ. বেরিয়াম মিল এক্সরে
    উত্তর: ক. এন্ডোসকপি
    পেপটিক আলসারে (Peptic ulcer) পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশের ভেতরের দেয়ালে ঘা হয়। এন্ডোসকপি (Endoscopy) পদ্ধতিতে আলোসহ একটি সরু নল ক্যামেরা-সহ মুখ দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হয়। এতে ঘা সরাসরি দেখা যায় এবং প্রয়োজনে টিস্যুর নমুনাও নেওয়া যায়। তাই এটিই রোগ নির্ণয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
    মনে রাখুন:
    পেপটিক আলসারের একটি প্রধান কারণ হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (Helicobacter pylori) ব্যাকটেরিয়া। এটি আবিষ্কারের জন্য ওয়ারেন ও মার্শাল ২০০৫ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
    লক্ষণ: পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা।
    পেপটিক আলসারে মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া এবং সময়মতো খাবার খাওয়া উপকারী।
  298. ৩৪৯. কোন লালাগ্রন্থির ভাইরাসজনিত সংক্রমণকে মাম্পস বলে?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লালাগ্রন্থি
    • ক. সাবমেন্টাল
    • খ. সাবম্যান্ডিবুলার
    • গ. প্যারোটিড
    • ঘ. সাবলিঙ্গুয়াল
    উত্তর: গ. প্যারোটিড
    মাম্পস (Mumps) প্যারামিক্সোভাইরাস (Paramyxovirus) নামের ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। এই ভাইরাস কানের সামনের প্যারোটিড লালাগ্রন্থিকে আক্রমণ করে। ফলে গাল ও কানের নিচে ব্যথাসহ ফুলে যায়, সঙ্গে জ্বর ও চিবাতে কষ্ট হয়। তাই প্যারোটিড গ্রন্থির ভাইরাসজনিত সংক্রমণকে মাম্পস বলে।
    মনে রাখুন:
    মাম্পস এক জনের কাছ থেকে অন্যের মধ্যে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়।
    প্রতিরোধে MMR টিকা দেওয়া হয়, যার পূর্ণরূপ Measles, Mumps ও Rubella।
    বড়দের মাম্পস হলে অণ্ডকোষ বা ডিম্বাশয়ের প্রদাহ ঘটার ঝুঁকি থাকে।
    মাম্পসে আক্রান্ত শিশুর গাল ফুলে বেলুনের মতো দেখায়। ঠিক এ কারণেই একে অনেক সময় গালফোলা রোগ বলা হয়।
  299. ৩৫০. দিনে কতবার পাতলা পায়খানা হলে ডায়রিয়া বলে?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়রিয়া ও স্যালাইন
    • ক. ২বার
    • খ. ৪বার
    • গ. ৩বার
    • ঘ. ৫বার
    উত্তর: গ. ৩বার
    দিনে তিনবার বা তার বেশি পাতলা বা পানির মতো পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া (Diarrhoea) বলা হয়। এ অবস্থায় দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, তাই দ্রুত চিকিৎসা না নিলে পানিশূন্যতা (Dehydration) দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ডায়রিয়ার প্রধান চিকিৎসা খাবার স্যালাইন (ORS)। সঙ্গে জিংক ট্যাবলেটও দেওয়া হয়।
    কলেরা ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।
    বিশুদ্ধ পানি পান এবং হাত ধোয়া ডায়রিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে সহজ উপায়।
    পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে, তাই দেরি না করে স্যালাইন খাওয়াতে হয়।
  300. ৩৫১. কলেরা বা ডায়রিয়ার রোগীকে স্যালাইন খেতে দেওয়া হয় কেন?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়রিয়া ও স্যালাইন
    • ক. দেহ বর্ধনের জন্য
    • খ. বমি বন্ধ হওয়ার জন্য
    • গ. দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
    • ঘ. পায়খানা বন্ধ হওয়ার জন্য
    উত্তর: গ. দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
    কলেরা বা ডায়রিয়ায় রোগীর দেহ থেকে অনেক পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। খাবার স্যালাইনে পানি, লবণ ও গ্লুকোজ থাকে। দেহের ঘাটতি পূরণে এটি দেওয়া হয়। এতে থাকা গ্লুকোজ ক্ষুদ্রান্ত্রে সোডিয়ামের শোষণ বাড়ায়, ফলে সোডিয়ামের সঙ্গে পানিও দ্রুত রক্তে পৌঁছায়।
    মনে রাখুন:
    খাবার স্যালাইন ঘরেই তৈরি করা যায়। এক লিটার বিশুদ্ধ পানিতে এক মুঠো গুড় বা চিনি এবং তিন আঙুলে এক চিমটি লবণ মেশালে হয়।
    ঢাকার কলেরা হাসপাতালে (বর্তমানে আইসিডিডিআর,বি) ওরাল স্যালাইন নিয়ে গবেষণা বিশ্বব্যাপী সাফল্য পেয়েছে।
    স্যালাইন বমি বা পায়খানা বন্ধ করে না।
    বাংলাদেশে ঘরোয়া ও প্যাকেট দুই রকম খাবার স্যালাইনই ব্যবহৃত হয়।
  301. ৩৫২. নরমাল স্যালাইনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এর পরিমাণ-বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ইনস্ট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়রিয়া ও স্যালাইন
    • ক. ০.০৯%
    • খ. ০.৯%
    • গ. ০.০০৯%
    • ঘ. ১.০৯%
    উত্তর: খ. ০.৯%
    নরমাল স্যালাইন বা স্বাভাবিক স্যালাইনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) থাকে ০.৯%। অর্থাৎ ১০০ মিলিলিটার পানিতে ০.৯ গ্রাম বা এক লিটারে ৯ গ্রাম NaCl। এই ঘনত্ব রক্তরসের লবণের ঘনত্বের সমান, তাই একে আইসোটনিক (Isotonic) দ্রবণ বলে। এজন্য শিরায় দিলেও লোহিত রক্তকণিকা ফুলে বা চুপসে যায় না।
    মনে রাখুন:
    আইসোটনিক দ্রবণে কোষ আকার ঠিক রাখে।
    বেশি ঘন দ্রবণে কোষ থেকে পানি বেরিয়ে চুপসে যায়।
    বেশি পাতলা দ্রবণে কোষে পানি ঢুকে ফুলে ফেটে যেতে পারে।
    নরমাল স্যালাইন ক্ষত ধুতে এবং শিরায় তরল দিতে ব্যবহৃত হয়।
    খাবার স্যালাইনের লবণ-চিনির অনুপাত ভুল হলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে, তাই মাপ ঠিক রাখা জরুরি।
  302. ৩৫৩. বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কোন রোগ হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত
    • ক. অ্যানিমিয়া
    • খ. ডায়াবেটিস
    • গ. জন্ডিস
    • ঘ. স্কার্ভি
    উত্তর: গ. জন্ডিস
    রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। এ অবস্থাকে জন্ডিস (Jaundice) বলে। যকৃতের প্রদাহ বা পিত্তনালী বন্ধ হওয়া কিংবা অতিরিক্ত লোহিত কণিকা ভাঙার কারণে এমন হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    জন্ডিসের সঙ্গে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যায়।
    নবজাতকের জন্ডিস অনেক সময় যকৃত পরিণত না হওয়ায় হয়, আলোর চিকিৎসায় (ফটোথেরাপি) ভালো হয়।
    অ্যানিমিয়া রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া রোগ।
    স্কার্ভি ভিটামিন C-এর অভাবজনিত রোগ।
    জন্ডিস আসলে একটি রোগ নয়, বরং অন্য কোনো রোগের লক্ষণ, তাই কারণ খুঁজে বের করে চিকিৎসা করতে হয়।
  303. ৩৫৪. একজন মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত কিনা পরীক্ষা করতে রক্তের যে পরীক্ষা করা হয়-GDA -এর ইমারত পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. Hemoglobin
    • খ. S. Creatinine
    • গ. eGFR
    • ঘ. Bilirubin
    উত্তর: ঘ. Bilirubin
    জন্ডিসে রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামের হলুদ রঞ্জক পদার্থ বেড়ে যায়, তাই রক্তে এর পরিমাণ মেপেই জন্ডিস ধরা হয়। লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে বিলিরুবিন তৈরি হয় এবং যকৃৎ একে পিত্তরসের সঙ্গে বের করে দেয়। যকৃৎ ঠিকমতো কাজ না করলে, পিত্তনালি বন্ধ হলে বা অনেক বেশি রক্তকণিকা ভেঙে গেলে বিলিরুবিন রক্তে জমে। তখন ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ দেখায়। জন্ডিসের রোগীর প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, আর মল হালকা বা মাটির মতো রঙের দেখায়। রক্তের এই পরীক্ষায় বিলিরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেলে চিকিৎসক জন্ডিস নিশ্চিত করেন।
    মনে রাখুন:
    হিমোগ্লোবিন পরীক্ষায় রক্তস্বল্পতা ধরা পড়ে।
    সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও eGFR দিয়ে কিডনির কাজ বোঝা যায়।
    নবজাতকের জন্ডিসেও বিলিরুবিনের মাত্রা মাপা হয়।
  304. ৩৫৫. মানুষের কোন অঙ্গটি হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. যকৃত
    • খ. কিডনি
    • গ. ফুসফুস
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: ক. যকৃত
    হেপাটাইটিস (Hepatitis) শব্দের অর্থ যকৃতের প্রদাহ, তাই এই রোগে আক্রান্ত হয় যকৃৎ। ভাইরাসের সংক্রমণ, অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা কিছু ওষুধের কারণে যকৃতের কোষ নষ্ট হতে থাকলে এই রোগ হয়। সবচেয়ে পরিচিত ভাইরাসগুলো হলো হেপাটাইটিস A, B, C, D ও E। হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর, ক্লান্তি ও খিদে কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পরে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের হেপাটাইটিস বি বা সি যকৃতে সিরোসিস বা ক্যানসার পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস A ও E দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
    হেপাটাইটিস B ও C মূলত রক্ত এবং শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।
    হেপাটাইটিস B-এর টিকা আছে, তাই শিশুকালেই এই টিকা দেওয়া হয়।
  305. ৩৫৬. Hepatitis-B virus এর জন্য নিচের কোন কোন পরীক্ষাটি করা হয়?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. HbsAg
    • খ. Anti-HbsAg
    • গ. Anti-HCV
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. HbsAg
    হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস শনাক্ত করতে রক্তে HBsAg (Hepatitis B surface antigen) পরীক্ষা করা হয়। এটি ভাইরাসের গায়ের একটি প্রোটিন। রক্তে এটি পাওয়া গেলে বোঝা যায় ব্যক্তি এখন এই ভাইরাসে সংক্রমিত। অন্যদিকে Anti-HBs হলো শরীরের তৈরি প্রতিরক্ষা অ্যান্টিবডি, যা টিকা নেওয়ার পর বা রোগ সেরে যাওয়ার পর পাওয়া যায় এবং সুরক্ষার চিহ্ন। Anti-HCV পরীক্ষা দিয়ে হেপাটাইটিস-সি সংক্রমণ ধরা হয়। রক্ত সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা করা হয়, আর ফল কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যায়। এজন্য রক্তদানের আগে এবং অস্ত্রোপচারের আগে সংক্রমিত রক্ত বা রোগীকে শনাক্ত করতে এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।
    মনে রাখুন:
    HBsAg ধনাত্মক হলে হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণ আছে।
    Anti-HBs ধনাত্মক হলে দেহ প্রতিরক্ষা পেয়েছে।
  306. ৩৫৭. গর্ভাবস্থায় একজন নারী নিচের কোন ভাইরাস দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়?BPSC এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. হেপাটাইটিস - B
    • খ. হেপাটাইটিস - A
    • গ. হেপাটাইটিস - E
    • ঘ. হেপাটাইটিস–C
    উত্তর: গ. হেপাটাইটিস - E
    গর্ভবতী নারীর শরীরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে, তাই হেপাটাইটিস-E ভাইরাস তাঁদের জন্য বেশি বিপজ্জনক। এই ভাইরাস দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এবং গর্ভাবস্থায় যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি করে মায়ের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বন্যা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে এই সংক্রমণ সবচেয়ে মারাত্মক হয়। অনেক সময় হঠাৎ যকৃৎ অকেজো হয়ে যায় এবং সন্তান পেটেই মারা যেতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীর ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস A ও E ছড়ায় মলের মাধ্যমে দূষিত পানি বা খাবারে।
    হেপাটাইটিস B ও C-এর ঝুঁকি তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ।
    নিরাপদ পানি পান ও হাত ধোয়া এসব রোগ প্রতিরোধের সহজ উপায়।
  307. ৩৫৮. কোন নির্ণয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম থেকে এক্স-রে বেশি কার্যকর?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. Heart failure
    • খ. Gall bladder stone
    • গ. Fracture
    • ঘ. Prostate cancer
    উত্তর: গ. Fracture
    হাড় ভাঙা (Fracture) ধরার জন্য এক্স-রে বেশি কার্যকর, কারণ এক্স-রে রশ্মি কোমল টিস্যুর ভেতর দিয়ে চলে গেলেও হাড়ে আটকে যায়। ফলে ছবিতে হাড়ের গঠন ও ভাঙা অংশ পরিষ্কার দেখা যায়। আল্ট্রাসনোগ্রাম শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে। তরলভরা বা নরম অঙ্গ, যেমন পিত্তথলির পাথর, গর্ভের শিশু ও প্রোস্টেট দেখতে এটি ভালো কাজ করে। তাই কোন রোগে কোন যন্ত্র বেশি কাজ করে, তা জানা প্রয়োজন। পিত্তথলির পাথর, গর্ভের শিশুর অবস্থান ও কিডনির পাথর আল্ট্রাসনোগ্রামে সহজে ধরা পড়ে। কিন্তু হাড় ও ফুসফুসের রোগ ধরতে এক্স-রে বেশি ভালো।
    মনে রাখুন:
    আল্ট্রাসনোগ্রামে আয়নাইজিং বিকিরণ নেই, তাই গর্ভাবস্থাতেও নিরাপদ।
    হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বোঝার জন্য ইকো ও ইসিজি ব্যবহার হয়।
  308. ৩৫৯. CHOLECYSTECTOMY অপারেশনে যে অঙ্গটি অপসারণ করা হয়-BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. Appendix
    • খ. Urinary bladder
    • গ. Gall bladder
    • ঘ. Ovary
    উত্তর: গ. Gall bladder
    Cholecystectomy শব্দের অর্থ পিত্তথলি কেটে অপসারণ, তাই এই অপারেশনে পিত্তথলি (Gall bladder) বাদ দেওয়া হয়। পিত্তথলি যকৃতের নিচে থাকা ছোট থলি, যেখানে যকৃতের তৈরি পিত্তরস জমা থাকে। পিত্তথলিতে পাথর হলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তখন এটি কেটে ফেলা হয়। পিত্তথলি না থাকলেও পিত্তরস সরাসরি যকৃৎ থেকে অন্ত্রে আসতে পারে বলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বাঁচে। অ্যাপেন্ডিক্স হলো বৃহদন্ত্রের শুরুতে লেগে থাকা ছোট আঙুলের মতো অংশ, আর মূত্রথলি প্রস্রাব জমা রাখে। পিত্তথলির পাথর অনেক সময় চর্বিযুক্ত খাবারের পর পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    অ্যাপেন্ডিক্স কাটার অপারেশনের নাম অ্যাপেন্ডেকটমি।
    ডিম্বাশয় কাটার অপারেশনের নাম ওভারিয়েকটমি।
  309. ৩৬০. কোন রোগে বার্গার, লুচি, পেয়াজু এই ধরনের খাবারগুলো পরিহার করা উচিত?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-গার্হস্থ্য অর্থনীতি ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস ও যকৃৎ
    • ক. কোয়াশিয়রকর
    • খ. রাতকানা
    • গ. জন্ডিস
    • ঘ. রিকেট
    উত্তর: গ. জন্ডিস
    জন্ডিসে যকৃৎ দুর্বল থাকে এবং পিত্তরস ঠিকমতো তৈরি বা নিঃসরণ হয় না। অথচ চর্বি হজম করতে পিত্তরসই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। বার্গার, লুচি ও পেঁয়াজুর মতো তেলে ভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবার তাই এই সময় হজম হতে চায় না, বরং যকৃতের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। সে কারণে জন্ডিসের রোগীকে এসব খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হয়। এর বদলে সেদ্ধ, কম তেলের ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া হয়। ভাত, ফলের রস, আখের রস ও প্রচুর পানি জন্ডিসের রোগীর যকৃৎকে বিশ্রাম দেয় এবং সেরে উঠতে সাহায্য করে। অ্যালকোহলও পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    জন্ডিসে রোগীকে বিশ্রাম, বেশি পানি এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার দিতে হয়।
    কোয়াশিয়রকর প্রোটিনের অভাবে এবং রাতকানা ভিটামিন এ-এর অভাবে হয়।
  310. ৩৬১. থায়ামিনের অভাবজনিত রোগ হল-প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভাবজনিত রোগ
    • ক. গ্লসাইটিস (Glossitis)
    • খ. পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া (Pernicious anaemia)
    • গ. স্টোমাটাইটিস (Stomatitis)
    • ঘ. বেরিবেরি (Beriberi)
    উত্তর: ঘ. বেরিবেরি (Beriberi)
    থায়ামিন বা ভিটামিন বি₁-এর অভাবে বেরিবেরি (Beriberi) রোগ হয়। এ রোগে স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায়, হাত-পা অবশ লাগে এবং হৃৎপিণ্ডেরও ক্ষতি হতে পারে। যারা কলে ছাঁটা সাদা চাল বেশি খায়, তাদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি, কারণ ছাঁটার সময় তুষের সঙ্গে থায়ামিন বেরিয়ে যায়। গ্লসাইটিস ও স্টোমাটাইটিস হয় ভিটামিন বি-গোত্রের অন্য ভিটামিনের অভাবে, আর পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া হয় ভিটামিন বি₁₂-এর অভাবে। থায়ামিনের অভাবে কোষ শর্করা থেকে ঠিকমতো শক্তি পায় না, ফলে বেশি ক্ষতি হয় যেসব অঙ্গ বেশি শক্তি চায় সেগুলোর, যেমন স্নায়ু, হৃৎপিণ্ড ও পেশি।
    মনে রাখুন: বেরিবেরির দুটি রূপ, শুকনো ও ভেজা।
  311. ৩৬২. ভিটামিন বি₁ এর অভাবে কোন রোগ হয়?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভাবজনিত রোগ
    • ক. রিকেটস
    • খ. স্কার্ভি
    • গ. বেরিবেরি
    • ঘ. পেলেগ্রা
    উত্তর: গ. বেরিবেরি
    ভিটামিন বি₁ (থায়ামিন) স্নায়ুতন্ত্র ও শক্তি বিপাকের জন্য দরকার। এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়, যার লক্ষণ ক্ষুধামান্দ্য, হাত-পা অবশ লাগা, পায়ে ফোলা এবং হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতা। অন্য রোগগুলোর কারণ আলাদা ভিটামিনের অভাব। বি₁ পানিতে দ্রবণীয়, তাই দেহে জমে থাকে না এবং প্রতিদিন খাবার থেকে নিতে হয়। ঢেঁকিছাঁটা চাল, ডাল ও বাদামে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। কলে ছাঁটা চালের ওপর নির্ভরশীল মানুষের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    রিকেটস হয় ভিটামিন ডি-এর অভাবে।
    স্কার্ভি হয় ভিটামিন সি-এর অভাবে।
    পেলেগ্রা হয় ভিটামিন বি₃ বা নিয়াসিনের অভাবে।
    রাতকানা হয় ভিটামিন এ-র অভাবে।
    পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া হয় ভিটামিন বি₁₂-এর অভাবে।
  312. ৩৬৩. ঠোঁটের কোণ ও মুখের চারদিকে ফেটে যায়-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (গোলাপ), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভাবজনিত রোগ
    • ক. ভিটামিন সি এর অভাবে
    • খ. ভিটামিন বি-১ এর অভাবে
    • গ. ভিটামিন বি₂ এর অভাবে
    • ঘ. ভিটামিন বি₁₂ এর অভাবে
    উত্তর: গ. ভিটামিন বি₂ এর অভাবে
    ভিটামিন বি₂-কে রিবোফ্লাভিন (Riboflavin) বলা হয়। এর অভাবে ঠোঁটের কোণ ফেটে যায়, মুখের চারপাশে ঘা হয় এবং জিহ্বা লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এ অবস্থাকে অ্যাঙ্গুলার স্টোমাটাইটিস বলে। চোখের কর্নিয়াও অনেক সময় প্রভাবিত হয়। দুধ, ডিম, যকৃৎ ও সবুজ শাকে রিবোফ্লাভিন প্রচুর পাওয়া যায়। বি₂-এর অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যায় এবং চোখ লাল হয়ে জ্বালা করে। রিবোফ্লাভিন দেহে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ থেকে শক্তি তৈরিতে সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এই ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়, আর ছানার পানির হালকা সবুজাভ হলুদ রংও রিবোফ্লাভিনের জন্য।
    মনে রাখুন: ভিটামিন বি₂ আলোতে নষ্ট হয়, তাই দুধ অনেকক্ষণ রোদে রাখা ঠিক নয়।
  313. ৩৬৪. ..... এর অভাবে ঠোঁটে ও জিহবায় ঘা হয়?সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-এর ক্লাস্টার আইটি অ্যাসিস্টেন্ট, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভাবজনিত রোগ
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন বি
    • গ. ভিটামিন সি
    • ঘ. ভিটামিন ডি
    উত্তর: খ. ভিটামিন বি
    ঠোঁট ও জিহ্বায় ঘা হওয়ার পেছনে ভিটামিন বি-গোত্রের অভাব দায়ী। এই গোত্রে ভিটামিন বি₁, বি₂, বি₃, বি₆, বি₉ ও বি₁₂ আছে, যেগুলো মিলে বি-কমপ্লেক্স তৈরি করে। এদের অভাবে মুখের কোণ ফাটে, জিহ্বায় ঘা হয় ও স্নায়ু দুর্বল হয়। বি-কমপ্লেক্স শর্করা, আমিষ ও স্নেহ থেকে শক্তি তৈরি করার বিক্রিয়ায় সাহায্য করে। এজন্য এই ভিটামিনের অভাবে সাধারণ দুর্বলতাও দেখা দেয়। মুখে ঘা হওয়ার আরও কারণ আছে, যেমন আয়রন বা ভিটামিন সি-এর অভাব, কিন্তু ঠোঁট ও জিহ্বায় বারবার ঘা হলে ভিটামিন বি-এর অভাবই প্রথমে সন্দেহ করা হয়।
    মনে রাখুন: ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা, সি-এর অভাবে স্কার্ভি এবং ডি-এর অভাবে রিকেটস হয়।
  314. ৩৬৫. ইনসুলিন কে আবিষ্কার করেন?মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অফিস সহায়ক, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবিষ্কারক ও ওষুধ
    • ক. ফ্রেডরিক হপর্কিন
    • খ. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    • গ. টমাস আলভা এডিসন
    • ঘ. ফ্রেডরিক বেন্টিং
    উত্তর: ঘ. ফ্রেডরিক বেন্টিং
    ইনসুলিন (Insulin) আবিষ্কার করেন কানাডার বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ব্যান্টিং, ১৯২১ সালে তাঁর সহকারী চার্লস বেস্টের সঙ্গে মিলে। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে নিঃসৃত এই হরমোন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, আর এর অভাবে ডায়াবেটিস হয়। এই আবিষ্কারের জন্য ব্যান্টিং ১৯২৩ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান। ইনসুলিন আবিষ্কারের আগে ডায়াবেটিস ছিল প্রায় মারাত্মক রোগ। এখন ইনসুলিন ইনজেকশন বা পাম্পের মাধ্যমে দেহে পৌঁছে রোগীরা সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (১৯২৮)।
    ভিটামিন নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পান ফ্রেডরিক গোল্যান্ড হপকিন্স।
  315. ৩৬৬. Hantaviruses are best described as:সম্মিলিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (জেনারেল), ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. Single virus species
    • খ. A group of related viruses
    • গ. Bacterial infections
    • ঘ. Parasitic worms
    উত্তর: খ. A group of related viruses
    হান্টাভাইরাস (Hantavirus) কোনো একটি ভাইরাস নয়, বরং পরস্পর সম্পর্কিত কয়েকটি ভাইরাসের একটি দল, যারা ভাইরাসের একই গণের (Genus) অন্তর্ভুক্ত। মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র ও লালা থেকে এই ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়ায় এবং ফুসফুস বা কিডনির মারাত্মক রোগ ঘটাতে পারে। হান্টাভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস, যা বুনিয়াভাইরাস পরিবারের সদস্য। রোগীর সঙ্গে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস সাধারণত ছড়ায় না, তাই ইঁদুর যেখানে বেশি সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। রোগের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, পেশির ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
    মনে রাখুন: দক্ষিণ কোরিয়ার হানতান নদীর নাম থেকে ভাইরাসটির নাম রাখা হয়েছে।
  316. ৩৬৭. নিম্নের কোনটি ছোঁয়াচে রোগ নয়?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. এইডস
    • খ. যক্ষ্মা
    • গ. বসন্ত
    • ঘ. প্লেগ
    উত্তর: ক. এইডস
    এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ, তবে ছোঁয়াচে নয়। HIV ভাইরাস ছড়ায় রক্ত, অনিরাপদ যৌনমিলন, সংক্রমিত সুচ এবং মায়ের থেকে শিশুর দেহে, স্পর্শ, হাত মেলানো বা একসঙ্গে খাওয়ায় ছড়ায় না। অন্যদিকে যক্ষ্মা, বসন্ত ও প্লেগ রোগীর সংস্পর্শে বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। অনেক সময় সংক্রামক রোগ ও ছোঁয়াচে রোগকে এক ধরা হয়, কিন্তু পরীক্ষায় ছোঁয়াচে বলতে সাধারণত সংস্পর্শে ছড়ানো রোগ বোঝায়, যেমন বসন্ত ও যক্ষ্মা।
    মনে রাখুন:
    AIDS-এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome।
    যক্ষ্মা হয় ব্যাকটেরিয়া থেকে, আর বসন্ত হয় ভাইরাস থেকে।
  317. ৩৬৮. ইনসোমনিয়া একটি-এনটিআরসিএ, ৯ম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ু ও ঘুমের রোগ
    • ক. নিদ্রাহীনতাজনিত রোগ
    • খ. স্নায়ুরোগ
    • গ. চোখের রোগ
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. নিদ্রাহীনতাজনিত রোগ
    ইনসোমনিয়া (Insomnia) হলো নিদ্রাহীনতাজনিত রোগ, যেখানে মানুষ সহজে ঘুমাতে পারে না বা ঘুম বারবার ভেঙে যায়। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন আর অতিরিক্ত ক্যাফেইন এর সাধারণ কারণ। ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চললে মনোযোগ কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম দরকার। ঘুমের নির্দিষ্ট সময় মেনে চললে এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল-টিভি এড়ালে এই সমস্যা অনেকটা কমে। ঘুম না হওয়া একটানা বহু দিন চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এ থেকে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা জন্ম নিতে পারে।
    মনে রাখুন:
    অ্যামনেশিয়া: স্মৃতিভ্রংশ
    হাইড্রোফোবিয়া: জলাতঙ্ক
    নিক্টালোপিয়া: রাতকানা
  318. ৩৬৯. What is Ervebo?বাংলাদেশ ব্যাংক, অফিসার (ক্যাশ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিকা
    • ক. Measles Vaccine
    • খ. Polio Vaccine
    • গ. Small Pox Vaccine
    • ঘ. Ebola Vaccine
    উত্তর: ঘ. Ebola Vaccine
    Ervebo হলো ইবোলা (Ebola) রোগের টিকা, যা ২০১৯ সালে প্রথম অনুমোদন পায়। রোগটির নাম এসেছে কঙ্গোর ইবোলা নদী থেকে, কারণ ১৯৭৬ সালে ওই নদীর কাছেই রোগটি প্রথম শনাক্ত হয়। ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে জ্বর, বমি ও রক্তক্ষরণ হয়, আর এটি রোগীর রক্ত বা দেহরসের সংস্পর্শে ছড়ায়। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় রোগটি মহামারির আকার নেয়। তখন থেকেই এর টিকা নিয়ে গবেষণা জোরদার হয়।
    মনে রাখুন:
    ইবোলা ভাইরাস বাদুড় থেকে মানুষে ছড়ায় বলে ধারণা করা হয়।
    ইবোলা একটি ভাইরাসজনিত রোগ, অ্যান্টিবায়োটিক এতে কাজ করে না।
  319. ৩৭০. “Thalassemia” is a hereditary disease affecting-বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগত রোগ
    • ক. Lungs
    • খ. Blood
    • গ. Heart
    • ঘ. Kidney
    উত্তর: খ. Blood
    থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) একটি বংশগত রক্তরোগ, যা বাবা-মায়ের কাছ থেকে জিনের মাধ্যমে সন্তানের দেহে আসে। এ রোগে শরীর স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না, ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায় এবং রোগীর তীব্র রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। অনেক রোগীকে নিয়মিত রক্ত নিতে হয়। থ্যালাসেমিয়া দুই প্রকার, আলফা ও বিটা। বাংলাদেশে এই রোগীর সংখ্যা বেশি এবং প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বাহক বলে ধারণা করা হয়। জিনগত ত্রুটি থেকে হয় বলে এটি ছোঁয়াচে নয়।
    মনে রাখুন: বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাবা-মা দুজন বাহক কি না জেনে নিলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
  320. ৩৭১. ডেঙ্গু জ্বরের বাহক –এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. কিউলেক্স মশা
    • খ. এনোফিলিস মশা
    • গ. এডিস মশা
    • ঘ. পুরুষ মশা
    উত্তর: গ. এডিস মশা
    ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, আর এই ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়ায় স্ত্রী এডিস মশার (Aedes aegypti) কামড়ে। এডিস মশার গায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে এবং এরা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। এডিস মশা থেকে ডেঙ্গু ঠেকাতে বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পুরোনো টায়ারে জমা পানি ফেলে দিতে হয়, কারণ এসব জায়গায় এরা ডিম পাড়ে। এডিস মশা ছাড়া অন্য মশা সাধারণত সন্ধ্যায় বা রাতে কামড়ায়, তাই ডেঙ্গুর সময় দিনেও মশারি বা প্রতিরোধক ব্যবহার করা ভালো।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়ার বাহক: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা
    ফাইলেরিয়ার বাহক: কিউলেক্স মশা
    চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসও এডিস মশা ছড়ায়।
  321. ৩৭২. অ্যান্টিবায়োটিক কী কাজ করে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. শরীরে প্রতিরোধ বাড়িয়ে
    • খ. উপকারী জীবাণু জোরদার করে
    • গ. জীবাণু ধ্বংস করে
    • ঘ. ভাইরাস ধ্বংস করে
    উত্তর: গ. জীবাণু ধ্বংস করে
    অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) হলো এমন ওষুধ, যা শরীরে ঢোকা রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে অথবা তাদের বংশবৃদ্ধি থামিয়ে দেয়। তাই এটি সরাসরি জীবাণু ধ্বংস করে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ এটি করে না। মজার ব্যাপার হলো, অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না, এজন্য সর্দি-জ্বর বা ফ্লুতে এটি খেয়ে লাভ হয় না। প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আবিষ্কার করেন, যা পেনিসিলিয়াম নামের একটি ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    প্রয়োজন ছাড়া বা কোর্স শেষ না করে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে জীবাণু ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে যায়।
    ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ওষুধকে অ্যান্টিভাইরাল বলে।
  322. ৩৭৩. মানবদেহে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয় কবে?নিপোর্ট (NIPORT) হাউজকিপার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. ১৯২০-এর দশকে
    • খ. ১৯৬০-এর দশকে
    • গ. ১৯৮০-এর দশকে
    • ঘ. ২০০০-এর দশকে
    উত্তর: খ. ১৯৬০-এর দশকে
    করোনা ভাইরাস (Coronavirus) কোনো নতুন ভাইরাস নয়। মানুষের দেহে এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৬০-এর দশকে, যখন সাধারণ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর নমুনা থেকে বিজ্ঞানীরা এটি আলাদা করেন। অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটির চারপাশে মুকুটের মতো কাঁটা দেখা যায়, আর লাতিন ভাষায় মুকুটকে ‘করোনা’ বলে। পরে এই পরিবারের নতুন নতুন ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে, যেমন ২০০২ সালে সার্স এবং ২০১২ সালে মার্স।
    মনে রাখুন:
    কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাসের নাম SARS-CoV-2।
    কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, চীনের উহানে।
    বাংলাদেশে প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ, ২০২০।
  323. ৩৭৪. মানুষের হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক এবং পেশিজনিত কার্যক্রমগুলো পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয় কোনটি?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৩তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা যন্ত্র
    • ক. এক্স-রে
    • খ. ইসিজি
    • গ. ইইজি
    • ঘ. সিটি স্ক্যান
    উত্তর: খ. ইসিজি
    হৃৎপিণ্ড প্রতিবার সংকুচিত হওয়ার আগে তার পেশিতে একটি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত ছড়িয়ে পড়ে। ইসিজি (Electrocardiogram) যন্ত্র বুকে, হাতে ও পায়ে লাগানো ইলেকট্রোডের সাহায্যে এই সংকেত রেকর্ড করে কাগজে বা পর্দায় ঢেউয়ের মতো রেখা আঁকে। এই রেখা দেখে চিকিৎসক হৃৎস্পন্দনের হার, ছন্দের গোলমাল এবং হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বুঝতে পারেন। অন্যদিকে ইইজি যন্ত্র মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম রেকর্ড করে।
    মনে রাখুন:
    এক্স-রে দিয়ে প্রধানত হাড় ভাঙা দেখা হয়।
    সিটি স্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করে দেহের ভেতরের প্রস্থচ্ছেদের ছবি তোলা হয়।
    শব্দোত্তর তরঙ্গ দিয়ে হৃৎপিণ্ডের ছবি দেখার পদ্ধতিকে ইকোকার্ডিওগ্রাফি বলে।
  324. ৩৭৫. মানবদেহে ক্যান্সারের মূল কারণ কোনটি?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৩তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যান্সার
    • ক. কোষ বিভাজন
    • খ. অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন
    • গ. ভাইরাসের আক্রমণ
    • ঘ. নির্দিষ্ট কেমিক্যাল গ্রহণ
    উত্তর: খ. অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন
    আমাদের দেহের কোষগুলো একটি নিয়ম মেনে বিভাজিত হয়, পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষের জায়গা পূরণ হলেই বিভাজন থেমে যায়। কোনো কারণে কোষের এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোষটি অস্বাভাবিকভাবে বারবার বিভাজিত হতে থাকে এবং একটি পিণ্ড বা টিউমার তৈরি করে। এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন যখন আশপাশের কলায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে ক্যান্সার (Cancer) বলে। ধূমপান, কিছু ভাইরাস, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক এ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে, তবে মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন।
    মনে রাখুন:
    ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থকে কার্সিনোজেন বলে।
    রক্তের ক্যান্সারকে লিউকেমিয়া বলে।
    ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়।
  325. ৩৭৬. এন্টিবায়োটিক কাজ করে-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৪র্থ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. শরীরে প্রতিরোধ বাড়িয়ে
    • খ. জীবাণু ধ্বংস করে
    • গ. উপকারী জীবাণু জোরদার করে
    • ঘ. ভাইরাস ধ্বংস করে
    উত্তর: খ. জীবাণু ধ্বংস করে
    অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) এমন ওষুধ, যা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়। এটি জীবাণুর কোষপ্রাচীর বা প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া নষ্ট করে কাজ করে, শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নয়। ভাইরাসের এমন কোষপ্রাচীর বা নিজস্ব বিপাক ব্যবস্থা নেই, তাই সর্দি-জ্বরের মতো ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বা পুরো কোর্স শেষ না করলে জীবাণু ধীরে ধীরে ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তখন সেই ওষুধ আর কাজ করে না।
    মনে রাখুন:
    প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং, ১৯২৮ সালে।
    ভাইরাসজনিত রোগের ওষুধকে অ্যান্টিভাইরাল বলে।
  326. ৩৭৭. AIDS -এর সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৮ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে
    • খ. রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
    • গ. স্তন পানের মাধ্যমে মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে
    • ঘ. AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
    উত্তর: ঘ. AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
    এইডস (AIDS) রোগ হয় এইচআইভি নামের একটি ভাইরাসের আক্রমণে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। এই ভাইরাস থাকে আক্রান্ত মানুষের রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধের মতো দেহরসে। তাই এটি ছড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, একই সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং মা থেকে শিশুর দেহে, অর্থাৎ গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা বুকের দুধের মাধ্যমে। কিন্তু হাত মেলানো, একসঙ্গে খাওয়া, কোলাকুলি বা সাধারণ স্পর্শে এই রোগ ছড়ায় না, তাই রোগীকে দূরে সরিয়ে রাখার দরকার নেই।
    মনে রাখুন:
    এইচআইভি মূলত দেহের হেল্পার টি-লিম্ফোসাইট কোষ ধ্বংস করে।
    প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়।
  327. ৩৭৮. Which of the following is not a contagious disease?বাংলাদেশ ব্যাংক, অফিসার (জেনারেল), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংক্রামক রোগ
    • ক. Mumps
    • খ. Small Pox
    • গ. Typhoid
    • ঘ. Tuberculosis
    উত্তর: গ. Typhoid
    যে রোগ রোগীর সরাসরি সংস্পর্শে, হাঁচি-কাশির ফোঁটায় বা বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়, তাকে ছোঁয়াচে রোগ (Contagious Disease) বলে। মাম্পস, গুটিবসন্ত ও যক্ষ্মা এভাবে ছড়ায়, তাই এগুলো ছোঁয়াচে। টাইফয়েড সংক্রামক রোগ হলেও এটি সাধারণ সংস্পর্শে ছড়ায় না। সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়া মিশে থাকা দূষিত পানি ও খাবার খেলেই মূলত এ রোগ হয়। তাই টাইফয়েড থেকে বাঁচতে আমাদের ফোটানো পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ভালোভাবে ধোয়া জরুরি।
    মনে রাখুন:
    যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস।
    মাম্পস ও গুটিবসন্ত ভাইরাসজনিত রোগ।
    গুটিবসন্ত পৃথিবী থেকে নির্মূল ঘোষণা করা হয় ১৯৮০ সালে।
  328. ৩৭৯. কুইনাইন কোন গাছ থেকে তৈরী হয়?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, মেইল অপারেটর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. সিনকোনা
    • খ. কালমেঘ
    • গ. বাসক
    • ঘ. ফনিমনষা
    উত্তর: ক. সিনকোনা
    ম্যালেরিয়া রোগের পুরোনো ও বিখ্যাত ওষুধ কুইনাইন (Quinine) তৈরি হয় সিনকোনা গাছের ছাল বা বাকল থেকে। এই গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত অঞ্চল। বহু শতাব্দী ধরে মানুষ এর তেতো ছাল গুঁড়ো করে জ্বর সারাতে ব্যবহার করেছে, পরে বিজ্ঞানীরা ছাল থেকে কুইনাইন আলাদা করেন। কুইনাইন রক্তে থাকা ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়ামকে ধ্বংস করে। অন্য গাছগুলোরও ভেষজ গুণ আছে, যেমন বাসক পাতা কাশি সারাতে আর কালমেঘ পেটের অসুখ ও জ্বরে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    কুইনাইন: সিনকোনা গাছের বাকল।
    অ্যাসপিরিন মূলত উইলো গাছের ছাল থেকে পাওয়া উপাদানের ভিত্তিতে তৈরি।
  329. ৩৮০. What is the period of time an infectious disease infected person must be kept away from other people called?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. Quarantine
    • খ. Gestation
    • গ. Isolation
    • ঘ. Seclusion
    উত্তর: গ. Isolation
    যে মানুষ সত্যিই কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত, তাঁকে সুস্থ মানুষের কাছ থেকে আলাদা করে রাখাকে Isolation (আইসোলেশন) বলে। এতে রোগীর দেহ থেকে জীবাণু অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে না। অন্যদিকে Quarantine (কোয়ারেন্টাইন) হলো এমন সুস্থ মানুষকে আলাদা রাখা, যিনি রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এবং যাঁর দেহে রোগ এখনো প্রকাশ পায়নি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই দুটি শব্দ খুব পরিচিত হয়ে ওঠে, কারণ তখন হাসপাতালে রোগীকে আইসোলেশনে আর বিদেশফেরত মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হতো।
    মনে রাখুন:
    Quarantine শব্দটি এসেছে ইতালীয় ‘quaranta giorni’ থেকে, যার মানে চল্লিশ দিন।
    Gestation মানে গর্ভকাল, আর Seclusion মানে সাধারণ নির্জনতা।
  330. ৩৮১. কোন মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর হয়?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), লাইন ক্রু লেভেল-১, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. কিউলেক্স
    • খ. এনোফিলিস
    • গ. এডিস
    • ঘ. স্যান্ড ফ্লাই
    উত্তর: গ. এডিস
    ডেঙ্গুজ্বর (Dengue) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, আর এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় স্ত্রী এডিস মশার কামড়ে। এডিস মশার গায়ে ও পায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, এবং এটি সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে ও বিকেলে কামড়ায়। এই মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে, যেমন ফুলের টব, পুরোনো টায়ার বা ডাবের খোসায়। তাই বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
    মনে রাখুন:
    এনোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া ছড়ায়।
    কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ ছড়ায়।
    স্যান্ড ফ্লাই বা বালুমাছি কালাজ্বর ছড়ায়।
  331. ৩৮২. ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জুনিয়র অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়াবেটিস
    • ক. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এই রোগ বেশি হয়
    • খ. এ রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে
    • গ. এ রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে
    • ঘ. ইনসুলিনের ক্ষরণ কম হলে এ রোগ হয়
    উত্তর: ক. চিনি জাতীয় খাবার খেলে এই রোগ বেশি হয়
    ডায়াবেটিস (Diabetes) হয় যখন অগ্ন্যাশয় থেকে যথেষ্ট ইনসুলিন নিঃসৃত হয় না বা দেহের কোষ ইনসুলিনে ঠিকমতো সাড়া দেয় না। তখন রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে পারে না, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন রক্তে গ্লুকোজ বেশি থাকলে কিডনি, চোখ, স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ইনসুলিনের ঘাটতি, রক্তে গ্লুকোজ বাড়া এবং কিডনির ক্ষতি, এই তিনটি তথ্যই সঠিক। কিন্তু শুধু চিনি জাতীয় খাবার খেলেই ডায়াবেটিস হয়, এ ধারণা ভুল। বংশগতি, স্থূলতা ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এর বড় কারণ, যদিও রোগ হওয়ার পরে চিনি খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন প্রায় তৈরিই হয় না।
    টাইপ-২ ডায়াবেটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
  332. ৩৮৩. অটিজম কী?কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স (সিজিডিএফ), অফিস সহকারী, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অটিজম
    • ক. চোখের সমস্যা
    • খ. বিকাশের সমস্যা
    • গ. দাঁতের সমস্যা
    • ঘ. কথা জড়তা
    উত্তর: খ. বিকাশের সমস্যা
    অটিজম (Autism) কোনো সংক্রামক রোগ নয়, এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশজনিত একটি সমস্যা। শিশুর মস্তিষ্ক অন্যদের চেয়ে কিছুটা ভিন্নভাবে বিকশিত হয় বলে তার সামাজিক যোগাযোগ, ভাষা শেখা ও আচরণে পার্থক্য দেখা দেয়। এমন শিশু অনেক সময় চোখে চোখ রেখে তাকায় না, একই কাজ বারবার করে বা আশপাশের মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে না। এর লক্ষণ সাধারণত তিন বছর বয়সের আগেই প্রকাশ পায়। দ্রুত শনাক্ত করে বিশেষ যত্ন ও প্রশিক্ষণ দিলে শিশুর অনেক উন্নতি সম্ভব।
    মনে রাখুন:
    প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়।
    অটিজমকে এখন অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) বলা হয়।
  333. ৩৮৪. জিকা (Zika) একটি _____ এর নাম।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. মূল্যবান পাথর
    • খ. ভাইরাস
    • গ. পার্ক
    • ঘ. নদী
    উত্তর: খ. ভাইরাস
    জিকা (Zika) একটি ভাইরাসের নাম। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বন নামের একটি বনে বানরের দেহে এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়, আর সেই বনের নাম থেকেই ভাইরাসটির নাম হয়েছে। ডেঙ্গুর মতো জিকা ভাইরাসও ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে। বেশির ভাগ মানুষের দেহে এতে হালকা জ্বর, র‍্যাশ ও চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তবে গর্ভবতী মা আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুর মাথা ও মস্তিষ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, একে মাইক্রোসেফালি বলে।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশাবাহিত ভাইরাস রোগ: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও পীতজ্বর।
    ২০১৫-১৬ সালে ব্রাজিলে জিকার বড় প্রাদুর্ভাব হয়।
  334. ৩৮৫. খাদ্যবাহিত রোগ–বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, অফিস সহায়ক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিবাহিত রোগ
    • ক. ফ্লু
    • খ. হাম
    • গ. টাইফয়েড
    • ঘ. কোভিড-১৯
    উত্তর: গ. টাইফয়েড
    টাইফয়েড (Typhoid) হয় সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে। রোগীর মলের মাধ্যমে এই জীবাণু খাবার ও পানিতে মিশে যায়, আর সেই দূষিত খাবার বা পানি খেলে অন্য মানুষ আক্রান্ত হয়। তাই টাইফয়েডকে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ বলা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে জ্বর, পেটব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। অন্যদিকে ফ্লু, হাম ও কোভিড-১৯ ছড়ায় হাঁচি-কাশির ফোঁটার মাধ্যমে, অর্থাৎ এগুলো বায়ুবাহিত রোগ।
    মনে রাখুন:
    খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ: টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও হেপাটাইটিস-এ।
    বায়ুবাহিত রোগ: যক্ষ্মা, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯।
  335. ৩৮৬. নিচের কোনটি এইডস রোগের ভাইরাস?খাদ্য অধিদপ্তর, সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক/অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. HIV
    • খ. HIN1
    • গ. H1N5
    • ঘ. H5N1
    উত্তর: ক. HIV
    এইডস (AIDS) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের নাম HIV, যার পূর্ণরূপ Human Immunodeficiency Virus। এই ভাইরাস রক্তের এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা, যাকে CD4 কোষ বলে, ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে এবং সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। HIV ছড়ায় অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, একই সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত মা থেকে সন্তানে। অন্যদিকে H5N1 হলো বার্ড ফ্লুর ভাইরাস আর H1N1 সোয়াইন ফ্লুর ভাইরাস।
    মনে রাখুন:
    প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়।
    HIV হাত মেলানো, একসঙ্গে খাওয়া বা মশার কামড়ে ছড়ায় না।
  336. ৩৮৭. কোনটি ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহনকারী মশা?খাদ্য অধিদপ্তর, সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক/অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. এনোফিলিস
    • খ. এডিস
    • গ. কিউলেক্স
    • ঘ. সিসি
    উত্তর: ক. এনোফিলিস
    ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামের একটি এককোষী পরজীবী। এই জীবাণু বহন করে স্ত্রী এনোফিলিস মশা। আক্রান্ত মানুষের রক্ত খাওয়ার সময় জীবাণু মশার দেহে ঢোকে এবং সেখানে বংশবৃদ্ধি করে। পরে সেই মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে জীবাণু তার রক্তে চলে যায়। এনোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কামড়ায় এবং বসার সময় দেহ তির্যকভাবে উঁচু করে রাখে।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশা: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা।
    কিউলেক্স মশা: ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ।
    সেসি মাছি (সিসি) মশা নয়, এটি আফ্রিকার ঘুম রোগ ছড়ায়।
    ম্যালেরিয়ার জীবাণু আবিষ্কার করেন রোনাল্ড রস।
  337. ৩৮৮. ‘ফ্লুরোনা’ কিসের নাম?খাদ্য অধিদপ্তর, স্প্রেম্যান, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. এক প্রকার ভাইরাস
    • খ. ইতালির একটি শহরের নাম
    • গ. ফ্লু ও করোনা ভাইরাসের সম্মিলিত লক্ষণ
    • ঘ. এক জাতীয় গোলাপ ফুল
    উত্তর: গ. ফ্লু ও করোনা ভাইরাসের সম্মিলিত লক্ষণ
    ‘ফ্লুরোনা’ (Flurona) শব্দটি তৈরি হয়েছে ‘ফ্লু’ আর ‘করোনা’ শব্দ দুটি জুড়ে। একই মানুষ যখন একই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও করোনাভাইরাস দুটিতেই আক্রান্ত হন, তখন সেই অবস্থাকে ফ্লুরোনা বলা হয়। তাই এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয়, বরং দুটি আলাদা ভাইরাসের একসঙ্গে সংক্রমণ এবং তাদের সম্মিলিত লক্ষণ। ২০২২ সালের শুরুতে ইসরায়েলে এমন ঘটনা শনাক্ত হলে শব্দটি সারা বিশ্বে আলোচনায় আসে। দুটি রোগই শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে বলে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ দুটির জন্যই আলাদা টিকা আছে।
    কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাস SARS-CoV-2।
  338. ৩৮৯. 'এইচআইভি' কী?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. রোগের নাম
    • ঘ. ফসলের জাত
    উত্তর: ক. ভাইরাস
    এইচআইভি (HIV) একটি ভাইরাস, এর পূর্ণরূপ Human Immunodeficiency Virus। এটি রোগের নাম নয়, বরং একটি রোগের কারণ। এই ভাইরাস দেহে ঢুকে রোগ প্রতিরোধে কাজ করা বিশেষ শ্বেত রক্তকণিকাগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট করে। কয়েক বছর পর প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন খুব দুর্বল হয়ে যায়, তখন যে রোগ দেখা দেয় তার নাম এইডস (AIDS)। সময়মতো চিকিৎসা নিলে আক্রান্ত মানুষ অনেক বছর স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন, যদিও এখনো এর স্থায়ী নিরাময় বা টিকা নেই।
    মনে রাখুন:
    AIDS এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome।
    এইডস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৮১ সালে, যুক্তরাষ্ট্রে।
    HIV একটি রেট্রোভাইরাস, এর জিনগত উপাদান RNA।
  339. ৩৯০. কোন গাছের বাকল হতে কুইনাইন আবিষ্কৃত হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. ইউক্যালিপটাস
    • খ. সিনকোনা
    • গ. সিডার
    • ঘ. নিম
    উত্তর: খ. সিনকোনা
    ম্যালেরিয়া রোগের প্রথম কার্যকর ওষুধ কুইনাইন (Quinine) পাওয়া যায় সিনকোনা গাছের বাকল থেকে। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু অঞ্চলের আদিবাসীরা বহু আগে থেকেই এই তেতো বাকল জ্বর সারাতে ব্যবহার করত। পরে ১৮২০ সালে দুজন ফরাসি রসায়নবিদ বাকল থেকে কুইনাইনকে বিশুদ্ধ অবস্থায় আলাদা করেন। কুইনাইন রক্তে থাকা ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্লাজমোডিয়ামকে ধ্বংস করে। অন্য গাছগুলোর মধ্যে নিমের পাতা ও বাকল জীবাণুনাশক হিসেবে পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    ম্যালেরিয়ার আধুনিক ওষুধ আর্টেমিসিনিন পাওয়া যায় আর্টেমিসিয়া গাছ থেকে।
    পেনিসিলিন পাওয়া যায় পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে।
    ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা থেকে সুগন্ধি তেল পাওয়া যায়।
  340. ৩৯১. এডিস মশা কিসের জীবাণু বহন করে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মশাবাহিত রোগ
    • ক. ডায়রিয়া
    • খ. কলেরা
    • গ. ম্যালেরিয়া
    • ঘ. ডেঙ্গুজ্বর
    উত্তর: ঘ. ডেঙ্গুজ্বর
    এডিস (Aedes) মশা ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাস বহন করে। আক্রান্ত মানুষকে কামড়ানোর পর ভাইরাস এই মশার দেহে বেড়ে ওঠে, পরে সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে ভাইরাস তার রক্তে ঢোকে। এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায় এবং ঘরের আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। ম্যালেরিয়া অবশ্য এডিস নয়, এনোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আর ডায়রিয়া ও কলেরা মশাবাহিত রোগই নয়, এগুলো ছড়ায় দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে।
    মনে রাখুন:
    এডিস মশাবাহিত রোগ: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও পীতজ্বর।
    কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি নামের ব্যাকটেরিয়া।
    ডেঙ্গুর মারাত্মক রূপকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু বলে।
  341. ৩৯২. কোনটি রক্ত আমাশয়ের জীবাণু?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমাশয়
    • ক. শিগেলা
    • খ. জিয়ারডিয়া
    • গ. ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর
    • ঘ. সালমোনেলা
    উত্তর: ক. শিগেলা
    রক্ত আমাশয় বা ব্যাসিলারি আমাশয় (Bacillary dysentery) হয় শিগেলা (Shigella) নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এই জীবাণু অন্ত্রে ঢুকে বৃহদন্ত্রের দেয়ালে ক্ষত তৈরি করে, ফলে পায়খানার সঙ্গে রক্ত ও শ্লেষ্মা যায় এবং পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা হয়। আমাশয়ের আরেকটি ধরন হলো অ্যামিবিক আমাশয়, যা হয় এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামের প্রোটোজোয়ার কারণে। অন্য জীবাণুগুলো আলাদা রোগ ঘটায়। জিয়ারডিয়া পাতলা পায়খানা করে আর সালমোনেলা টাইফয়েড জ্বরের জন্য দায়ী।
    মনে রাখুন:
    কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি।
    ডায়রিয়া ও আমাশয়ে পানিশূন্যতা ঠেকাতে খাবার স্যালাইন দেওয়া হয়।
  342. ৩৯৩. জন্ডিসে কোন অঙ্গটি আক্রান্ত হয়?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্টোরম্যান, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্ডিস
    • ক. যকৃৎ
    • খ. ফুসফুস
    • গ. হৃৎপিণ্ড
    • ঘ. চোখ
    উত্তর: ক. যকৃৎ
    জন্ডিস (Jaundice) মূলত যকৃতের (Liver) সমস্যার লক্ষণ। পুরোনো লোহিত কণিকা ভাঙলে বিলিরুবিন নামের একটি হলুদ রঞ্জক তৈরি হয়, আর সুস্থ যকৃৎ এটিকে পিত্তরসের সঙ্গে দেহ থেকে বের করে দেয়। যকৃৎ আক্রান্ত হলে বা পিত্তনালি বন্ধ হলে রক্তে বিলিরুবিন জমতে থাকে। তখন চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়। চোখ হলুদ হওয়া জন্ডিসের লক্ষণ মাত্র, আক্রান্ত অঙ্গ আসলে যকৃৎ। আমাদের দেশে জন্ডিসের একটি বড় কারণ হেপাটাইটিস ভাইরাস, বিশেষ করে দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ানো হেপাটাইটিস এ ও ই।
    মনে রাখুন:
    যকৃৎ মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি।
    হেপাটাইটিস বি রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে ছড়ায়, এর টিকা আছে।
  343. ৩৯৪. কোনটি ছোঁয়াচে রোগ?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (ধানসিঁড়ি), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছোঁয়াচে রোগ
    • ক. বাতজ্বর
    • খ. পাঁচড়া
    • গ. রাতকানা
    • ঘ. হাঁপানি
    উত্তর: খ. পাঁচড়া
    যে রোগ আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে কিংবা তার ব্যবহার করা কাপড়, তোয়ালে বা বিছানার মাধ্যমে অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ছোঁয়াচে রোগ (Contagious disease) বলে। পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস এমনই একটি রোগ। সারকপটিস স্ক্যাবিয়াই নামের খুব ছোট এক ধরনের মাইট ত্বকের নিচে গর্ত করে ডিম পাড়ে, ফলে আঙুলের ফাঁকে, কবজিতে ও কোমরে তীব্র চুলকানি আর ফুসকুড়ি হয়। পরিবারের একজনের হলে অন্যদেরও সহজে হয়ে যায়। অন্যদিকে বাতজ্বর হয় স্ট্রেপ্টোকক্কাস সংক্রমণের পরে দেহের প্রতিক্রিয়া থেকে, রাতকানা হয় ভিটামিন এ-এর অভাবে আর হাঁপানি শ্বাসনালির অ্যালার্জিজনিত রোগ। এগুলো একজনের কাছ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায় না।
    মনে রাখুন: পাঁচড়া প্রতিরোধে আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড় ও বিছানা গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতে হয়।
  344. ৩৯৫. শরীরের কোনো অংশ পোড়া গেলে তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক ব্যবস্থা কী নেওয়া উচিত?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাথমিক চিকিৎসা
    • ক. লবণ পানি দেওয়া
    • খ. ডিম ভেঙে শুধু সাদা অংশ দিয়ে প্রলেপ দেওয়া
    • গ. বরফ বা পরিষ্কার পানি দেওয়া
    • ঘ. নারিকেল তেল দেওয়া
    উত্তর: গ. বরফ বা পরিষ্কার পানি দেওয়া
    দেহের কোনো অংশ পুড়ে গেলে ত্বকের ভেতরে অনেকক্ষণ তাপ জমে থাকে এবং সেই তাপ আরও গভীরের টিস্যুর ক্ষতি করতে থাকে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা (First aid) হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে পোড়া জায়গায় পরিষ্কার ঠান্ডা পানি ঢালতে হয়, অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে। এতে জ্বালা কমে, ফোসকা কম পড়ে এবং ক্ষত তাড়াতাড়ি সারে। অনেকে পোড়া জায়গায় ডিমের সাদা অংশ, তেল, টুথপেস্ট বা লবণ লাগান, কিন্তু এগুলো তাপ আটকে রাখে এবং জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। সরাসরি অনেকক্ষণ বরফ চেপে ধরাও ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডায় ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    পোড়া জায়গার ফোসকা গলানো উচিত নয়।
    বড় পোড়ায় পরিষ্কার কাপড়ে ঢেকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়।
  345. ৩৯৬. টিউমার সংক্রান্ত চর্চাকে বলে -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শাখা
    • ক. নিউরোলজি
    • খ. অনকোলজি
    • গ. সাইটোলজি
    • ঘ. ইকোলজি
    উত্তর: খ. অনকোলজি
    চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় টিউমার ও ক্যানসার নিয়ে গবেষণা, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়, তাকে অনকোলজি (Oncology) বলে। গ্রিক শব্দ ‘অনকোস’ মানে স্ফীতি বা পিণ্ড। দেহের কোনো কোষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হতে থাকলে সেখানে পিণ্ড তৈরি হয়, একে টিউমার বলে। যে টিউমার এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে তা সাধারণত নিরীহ, কিন্তু যেটি আশপাশে ও দেহের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে সেটিই ক্যানসার। ক্যানসার বিশেষজ্ঞকে অনকোলজিস্ট বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    নিউরোলজি স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে বিদ্যা।
    সাইটোলজি কোষ নিয়ে বিদ্যা।
    ইকোলজি জীব ও পরিবেশের সম্পর্ক নিয়ে বিদ্যা।
    কার্ডিওলজি হৃৎপিণ্ড নিয়ে বিদ্যা।
  346. ৩৯৭. নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (শীতলক্ষ্যা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
    • ক. অ্যাথলিটস ফুট
    • খ. হাম
    • গ. দাদ
    • ঘ. কুষ্ঠ
    উত্তর: ঘ. কুষ্ঠ
    কুষ্ঠ (Leprosy) একটি দীর্ঘমেয়াদি সংক্রামক রোগ, যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি (Mycobacterium leprae) নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই জীবাণু মূলত ত্বক ও প্রান্তীয় স্নায়ুকে আক্রমণ করে, ফলে আক্রান্ত জায়গায় অনুভূতি কমে যায় এবং চামড়ায় দাগ পড়ে। ১৮৭৩ সালে নরওয়ের বিজ্ঞানী হ্যানসেন এই জীবাণু আবিষ্কার করেন, তাই একে হ্যানসেনের রোগও বলে। বর্তমানে কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে খাইয়ে কুষ্ঠ সম্পূর্ণ ভালো করা যায়। এই রোগ খুব ধীরে ছড়ায় এবং জীবাণু দেহে ঢোকার পর লক্ষণ দেখা দিতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
    মনে রাখুন:
    অ্যাথলিটস ফুট ও দাদ ছত্রাকজনিত রোগ।
    হাম ভাইরাসজনিত রোগ।
    যক্ষ্মা, কলেরা ও টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।
  347. ৩৯৮. কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ক্যাশিয়ার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাসজনিত রোগ
    • ক. কলেরা
    • খ. যক্ষ্মা
    • গ. বসন্ত
    • ঘ. টাইফয়েড
    উত্তর: গ. বসন্ত
    বসন্ত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। গুটিবসন্ত (Smallpox) হয় ভ্যারিওলা ভাইরাসের কারণে, আর জলবসন্ত (Chickenpox) হয় ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাসের কারণে। দুটিতেই শরীরে জ্বর হয় এবং চামড়ায় পানি বা পুঁজভরা গুটি ওঠে। ১৭৯৬ সালে ইংরেজ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন, আর ব্যাপক টিকাদানের ফলে ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীকে গুটিবসন্তমুক্ত ঘোষণা করে। গুটিবসন্তই একমাত্র মানব রোগ, যা টিকার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা গেছে। জলবসন্ত এখনো দেখা যায়, তবে এটি সাধারণত কম মারাত্মক এবং একবার হলে সাধারণত আর হয় না।
    মনে রাখুন:
    কলেরা, যক্ষ্মা ও টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।
    হাম, ডেঙ্গু ও পোলিও ভাইরাসজনিত রোগ।
  348. ৩৯৯. কেমোথেরাপির জনক হলেন-বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. পল এহরলিখ
    • খ. উইলিয়াম রন্টজেন
    • গ. মাদাম কুরি
    • ঘ. গোল্ড স্মিথ
    উত্তর: ক. পল এহরলিখ
    জার্মান চিকিৎসাবিজ্ঞানী পল এহরলিখ (Paul Ehrlich) প্রথম এই ধারণা দেন যে নির্দিষ্ট রাসায়নিক যৌগ দিয়ে দেহের ক্ষতি না করে শুধু রোগজীবাণুকে ধ্বংস করা যায়। তিনি একে ‘ম্যাজিক বুলেট’ বলতেন। ১৯০৯ সালে তিনি সিফিলিস রোগের ওষুধ সালভারসান আবিষ্কার করেন, যা প্রথম সফল কৃত্রিম রাসায়নিক ওষুধগুলোর একটি। রাসায়নিক যৌগ দিয়ে রোগের চিকিৎসার এই পদ্ধতিকে কেমোথেরাপি বলে, তাই তাঁকে কেমোথেরাপির জনক বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলিয়াম রন্টজেন।
    রেডিয়াম আবিষ্কার করেন মাদাম কুরি ও পিয়েরে কুরি।
    পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।
  349. ৪০০. যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয়-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগজীবাণু
    • ক. প্যাথোজেনিক
    • খ. ইনফেকশন
    • গ. টক্সিন
    • ঘ. জীবাণু
    উত্তর: ক. প্যাথোজেনিক
    যেসব অণুজীব আমাদের দেহে ঢুকে রোগ সৃষ্টি করে, তাদের প্যাথোজেন বা প্যাথোজেনিক (Pathogenic) অণুজীব বলে। বেশির ভাগ অণুজীব কিন্তু ক্ষতিকর নয়, অনেকে আমাদের উপকারও করে, তাই রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবগুলোকে আলাদা করে বোঝাতে এই নাম ব্যবহার করা হয়। কিছু ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া প্যাথোজেন হতে পারে। অন্যদিকে প্যাথোজেন দেহে ঢুকে বংশবৃদ্ধি করাকে বলে সংক্রমণ বা ইনফেকশন, আর জীবাণুর তৈরি বিষাক্ত পদার্থকে বলে টক্সিন। প্যাথোজেন শব্দটি এসেছে গ্রিক ‘প্যাথোস’ অর্থাৎ কষ্ট বা রোগ থেকে।
    মনে রাখুন:
    যে অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে না, তাকে ননপ্যাথোজেনিক বলে।
    দইয়ের ল্যাকটোব্যাসিলাস একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া।
  350. ৪০১. The formula of antiviral CODIV19 oral medicine, 'Molnupiravir' will be shared with the developing countries by Bio Therapeutics and-সম্মিলিত ৮ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (২৭ নভেম্বর), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওষুধ
    • ক. Merck
    • খ. AstraZeneca
    • গ. Moderna
    • ঘ. Pfizer
    উত্তর: ক. Merck
    মলনুপিরাভির (Molnupiravir) হলো কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য তৈরি একটি মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। এটি যৌথভাবে তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মার্ক (Merck) এবং রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিকস। ২০২১ সালে এই দুই প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ-সমর্থিত মেডিসিনস পেটেন্ট পুলের সঙ্গে চুক্তি করে, যাতে উন্নয়নশীল দেশের কোম্পানিগুলো কম খরচে ওষুধটি তৈরি করতে পারে। ওষুধটি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির সময় তার জিনগত উপাদানে ভুল ঢুকিয়ে দেয়, ফলে ভাইরাস আর ঠিকমতো সংখ্যায় বাড়তে পারে না। বাংলাদেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানিও এটি উৎপাদন করেছে।
    মনে রাখুন:
    অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা তৈরি হয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে।
    ফাইজারের মুখে খাওয়ার কোভিড ওষুধের নাম প্যাক্সলোভিড।
  351. ৪০২. কোনটি পানিবাহিত রোগ?সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানিবাহিত রোগ
    • ক. বসন্ত
    • খ. ইনফ্লুয়েঞ্জা
    • গ. সর্দি-কাশি
    • ঘ. জন্ডিস
    উত্তর: ঘ. জন্ডিস
    যেসব রোগের জীবাণু দূষিত পানির মাধ্যমে দেহে ঢোকে, সেগুলোকে পানিবাহিত রোগ বলে। জন্ডিস (Jaundice) সাধারণত হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের কারণে হয়, আর এই দুটি ভাইরাস দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাস যকৃৎ বা লিভারে আক্রমণ করলে রক্তে বিলিরুবিন জমে, ফলে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়। অন্যদিকে বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও সর্দি-কাশি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, তাই এগুলো বায়ুবাহিত রোগ। পানি ফুটিয়ে পান করলে পানিবাহিত রোগ অনেকটাই এড়ানো যায়।
    মনে রাখুন:
    অন্যান্য পানিবাহিত রোগ: কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়।
    হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায় রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে।
  352. ৪০৩. কোন রোগে শরীরে ইমিউনিটি (immunity) নষ্ট হয়?সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. গনোরিয়া
    • খ. হারপিস
    • গ. ডায়রিয়া
    • ঘ. এইডস
    উত্তর: ঘ. এইডস
    এইডস (AIDS) রোগ হয় এইচআইভি (HIV) নামের একটি ভাইরাসের কারণে। এই ভাইরাস রক্তের এক ধরনের শ্বেতকণিকাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে, যাদের CD4 কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট বলে। এই কোষগুলোই দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পরিচালনা করে। ফলে এগুলো কমে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। তখন সাধারণ সর্দি, যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ার মতো রোগেও রোগী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এইডসের পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome।
    মনে রাখুন:
    HIV ছড়ায় অনিরাপদ যৌনমিলন, সংক্রমিত রক্ত ও সুচ এবং মা থেকে শিশুর দেহে।
    ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস।
    গনোরিয়া হয় ব্যাকটেরিয়ার কারণে।
  353. ৪০৪. Normal Saline এ কী আছে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্যালাইন
    • ক. 0.9% NaCl
    • খ. 0.5% NaCl
    • গ. 0.75% NaCl
    • ঘ. 0.3% NaCl
    উত্তর: ক. 0.9% NaCl
    নরমাল স্যালাইন (Normal saline) হলো বিশুদ্ধ পানিতে ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণের দ্রবণ। অর্থাৎ ১০০ মিলিলিটার দ্রবণে ০.৯ গ্রাম লবণ থাকে। এই দ্রবণের ঘনত্ব আমাদের রক্তরসের লবণের ঘনত্বের সমান, তাই একে আইসোটনিক দ্রবণ বলে। শিরায় দিলে এটি রক্তকণিকা থেকে পানি টেনে নেয় না, আবার কণিকায় অতিরিক্ত পানিও ঢোকায় না। ফলে কণিকা চুপসে যায় না বা ফেটেও যায় না। এজন্য পানিশূন্যতা, রক্তক্ষরণ বা অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে নরমাল স্যালাইন দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    লবণের সংকেত NaCl।
    খাবার স্যালাইন বা ওআরএস-এ লবণের সঙ্গে গ্লুকোজ থাকে।
    বাংলাদেশের আইসিডিডিআর,বি ওআরএস জনপ্রিয় করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
  354. ৪০৫. Penicillin is widely used asজনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যান্টিবায়োটিক
    • ক. an antiseptic
    • খ. a disinfectant
    • গ. an insecticide
    • ঘ. an antibiotic
    উত্তর: ঘ. an antibiotic
    স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৮ সালে লক্ষ করেন যে পেনিসিলিয়াম নামের একটি ছত্রাক তার আশপাশের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলছে। এই ছত্রাক থেকেই পাওয়া যায় পেনিসিলিন, যা পৃথিবীর প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic)। যে ওষুধ জীবন্ত অণুজীব থেকে তৈরি হয় এবং দেহের ভেতরে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে বা তাদের বৃদ্ধি থামায়, তাকে অ্যান্টিবায়োটিক বলে। অ্যান্টিসেপটিক ক্ষতস্থান বা ত্বকের ওপরে জীবাণু মারে, আর ডিসইনফেকট্যান্ট মেঝে ও যন্ত্রপাতির জীবাণু মারে।
    মনে রাখুন:
    অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
    অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ কোর্সে খেলে ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
    পেনিসিলিনের জন্য ফ্লেমিং ১৯৪৫ সালে নোবেল পান।
  355. ৪০৬. HIV কী?জীবন বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এইডস
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. রোগের নাম
    • ঘ. ফসলের জাত
    উত্তর: ক. ভাইরাস
    HIV-এর পুরো নাম Human Immunodeficiency Virus, অর্থাৎ এটি একটি ভাইরাস। এই ভাইরাস দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার শ্বেত রক্তকণিকা, বিশেষ করে CD4 বা হেলপার T কোষ ধ্বংস করে। ধীরে ধীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই কমে যায় যে সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, এই অবস্থাকে এইডস (AIDS) বলে। তাই HIV হলো রোগের জীবাণু, আর এইডস হলো সেই রোগের নাম।
    মনে রাখুন:
    AIDS-এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome।
    HIV ছড়ায় আক্রান্ত রক্ত, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, একই সুচ ব্যবহার এবং মা থেকে শিশুর দেহে।
    করমর্দন, একসঙ্গে খাওয়া বা মশার কামড়ে HIV ছড়ায় না।
    প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়।
  356. ৪০৭. Den-3 is variant of-প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, অফিসার (জেনারেল), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডেঙ্গু
    • ক. COVID-19
    • খ. Dengue
    • গ. Malaria
    • ঘ. Chikungunya
    উত্তর: খ. Dengue
    DEN-3 হলো ডেঙ্গু (Dengue) ভাইরাসের একটি ধরন বা সেরোটাইপ। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ আছে: DEN-1, DEN-2, DEN-3 ও DEN-4। কোনো মানুষ একটি ধরনে আক্রান্ত হলে সেই ধরনের বিরুদ্ধে সারাজীবনের প্রতিরোধ ক্ষমতা পায়, কিন্তু পরে অন্য ধরনে আক্রান্ত হলে রোগ আরও মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশে ২০২১ সালের দিকে DEN-3 ধরনের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছিল।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার (Aedes aegypti) কামড়ে।
    এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়।
    চিকুনগুনিয়াও এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ।
    ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে।
  357. ৪০৮. Hepatitis-C increases the risk of_____রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হেপাটাইটিস
    • ক. Blood Cancer
    • খ. Stomach Cancer
    • গ. Liver Cancer
    • ঘ. HIV AIDS
    উত্তর: গ. Liver Cancer
    হেপাটাইটিস-সি (Hepatitis C) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত যকৃৎ বা লিভারকে আক্রান্ত করে। ভাইরাসটি বহু বছর ধরে নীরবে যকৃতে প্রদাহ ঘটায়, ফলে যকৃতের কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে শক্ত দাগের মতো টিস্যুতে পরিণত হয়। এই অবস্থাকে সিরোসিস বলে, আর সিরোসিস থেকে যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। হেপাটাইটিস-সি ছড়ায় মূলত আক্রান্ত রক্ত ও একই সুচ ব্যবহারের মাধ্যমে।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস-বি-এর টিকা আছে, কিন্তু হেপাটাইটিস-সি-এর কোনো টিকা নেই।
    হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়ায় দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে।
    ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস।
  358. ৪০৯. Insects that can transmit diseases to humans are referred to asসাধারণ বীমা কর্পোরেশন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগের বাহক
    • ক. Vectors
    • খ. Carriers
    • গ. Reservoirs
    • ঘ. Incubators
    উত্তর: ক. Vectors
    যে কীটপতঙ্গ বা প্রাণী রোগের জীবাণু এক দেহ থেকে আরেক দেহে বহন করে নিয়ে যায়, তাকে বাহক বা ভেক্টর (Vector) বলে। যেমন স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা আক্রান্ত মানুষের রক্ত খাওয়ার সময় ম্যালেরিয়ার জীবাণু নেয়, তারপর সুস্থ মানুষকে কামড়ালে জীবাণুটি তার দেহে ঢুকিয়ে দেয়। ভেক্টর নিজে সাধারণত রোগে আক্রান্ত হয় না, শুধু জীবাণু পৌঁছে দেয়। তাই মশা ও মাছি নিয়ন্ত্রণ করলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
    উদাহরণ:
    এডিস মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়।
    কিউলেক্স মশা গোদ বা ফাইলেরিয়া ছড়ায়।
    বালুমাছি কালাজ্বর ছড়ায়।
    ইঁদুরের মাছি প্লেগ ছড়ায়।
  359. ৪১০. The Nobel Prize in Physiology Medicine in 2020 was awarded for the discovery of which hepatitis virus, leading to the development of blood tests and vaccines?পূবালী ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হেপাটাইটিস
    • ক. Hepatitis A virus
    • খ. Hepatitis B virus
    • গ. Hepatitis C virus
    • ঘ. Hepatitis D virus
    উত্তর: গ. Hepatitis C virus
    ২০২০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (Hepatitis C Virus) আবিষ্কারের জন্য। পুরস্কারটি যৌথভাবে পান হার্ভি জে. অল্টার, মাইকেল হাউটন ও চার্লস এম. রাইস। তাঁদের গবেষণার আগে রক্ত গ্রহণের পরে অনেকের যকৃতে প্রদাহ হতো, কিন্তু কারণ জানা ছিল না। ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করে সংক্রমিত রক্ত বাদ দেওয়া সম্ভব হয় এবং কার্যকর ওষুধও তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস সি-এর কোনো টিকা এখনো নেই।
    হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আবিষ্কার করেন বারুক ব্লুমবার্গ, এর জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে নোবেল পান।
    হেপাটাইটিস মানে যকৃতের প্রদাহ।

অন্যান্য অধ্যায়

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন