আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ৭। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ১১৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (৩২)
- ১. রঙিন টেলিভিশন থেকে কী ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়?২২তম ও ৩০তম বিসিএস ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে
- ক. কসমিক রশ্মি
- খ. বিটা রশ্মি
- গ. রঞ্জন রশ্মি
- ঘ. গামা রশ্মি
উত্তর: গ. রঞ্জন রশ্মি
রঙিন টিভির পুরোনো ধরনের পর্দায় ক্যাথোড রে টিউব (CRT) ব্যবহার হতো। এর ইলেকট্রন গান থেকে দ্রুতগতির ইলেকট্রন পর্দায় আঘাত করলে সামান্য পরিমাণ রঞ্জন রশ্মি (X-ray) তৈরি হতো, যা অতিরিক্ত সময় কাছ থেকে দেখলে ক্ষতিকর হতে পারে। কসমিক রশ্মি আসে মহাকাশ থেকে এবং গামা ও বিটা রশ্মি তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বের হয়, তাই এগুলো টিভির উৎস নয়।
মনে রাখুন: রঞ্জন রশ্মি আবিষ্কার করেন উইলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে। আধুনিক LED ও LCD পর্দায় এই সমস্যা নেই।
হাড় ভাঙা ধরার জন্য চিকিৎসায় এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। - ২. পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?২৮তম ও ২৯তম বিসিএস ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. সোডিয়াম
- খ. পটাশিয়াম
- গ. ম্যাগনেসিয়াম
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. সোডিয়াম
পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ তৈরি হয়, সেই তাপ বাইরে নিয়ে যেতে শীতলকারী পদার্থ (Coolant) লাগে। তরল সোডিয়ামের গলনাঙ্ক কম এবং তাপ পরিবহনের ক্ষমতা খুব বেশি, তাই বিশেষ ধরনের চুল্লিতে এটি ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম একটি ক্ষার ধাতু। ম্যাগনেসিয়াম এ কাজে ব্যবহার করা হয় না।
মনে রাখুন:
নিউট্রনের গতি কমাতে গ্রাফাইট বা ভারী পানি ব্যবহার হয়, যাকে মডারেটর বলে।
বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে বোরন বা ক্যাডমিয়ামের দণ্ড ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনা জেলায় অবস্থিত। এতে চুল্লির তাপ বহন করতে সাধারণত পানি ব্যবহৃত হয়।
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের বিভাজন (ফিশন) থেকে শক্তি পাওয়া যায়। - ৩. পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো:৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
- খ. চুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
- গ. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
- ঘ. ক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
উত্তর: গ. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
পারমাণবিক চুল্লিতে (Nuclear Reactor) ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াসের ফিশনে নিউট্রন বের হয়, যেগুলো অত্যন্ত দ্রুতগামী। দ্রুত নিউট্রন U-235 নিউক্লিয়াসে সহজে শোষিত হয় না, ধীরগতির নিউট্রন সহজে শোষিত হয়ে ফিশন ঘটায়। মডারেটর (Moderator) দ্রুত নিউট্রনের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে পরবর্তী ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ে। মডারেটর হিসেবে ভারী পানি, গ্রাফাইট বা সাধারণ পানি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
কন্ট্রোল রড নিউট্রন শোষণ করে বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন ক্যাডমিয়াম ও বোরন।
কুল্যান্ট চুল্লির তাপ বের করে নিয়ে যায়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে। - ৪. MRI কোন্ নীতিতে কাজ করে?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এমআরআই
- ক. শরীরের ত্রি-মাত্রিক চিত্র তৈরি করতে এক্স-রে ব্যবহার করে
- খ. তেজস্ক্রিয় ট্রেসার দ্বারা নির্গত গামা-রে সনাক্তের মাধ্যমে
- গ. শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
- ঘ. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
উত্তর: গ. শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
MRI-এর পূর্ণরূপ Magnetic Resonance Imaging। এই যন্ত্রে খুব শক্তিশালী চুম্বকক্ষেত্র তৈরি করা হয়। এতে দেহের পানি ও চর্বিতে থাকা হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসগুলো সারিবদ্ধ হয়। এরপর রেডিও তরঙ্গ পাঠালে নিউক্লিয়াসগুলো সংকেত ফেরত দেয়, আর কম্পিউটার সেই সংকেত থেকে দেহের ভেতরের বিস্তারিত ছবি বানায়। তাই MRI শক্তিশালী চুম্বক ও রেডিও তরঙ্গের নীতিতে কাজ করে।
মনে রাখুন:
এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।
আলট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
PET স্ক্যানে তেজস্ক্রিয় ট্রেসার ব্যবহার করা হয়। - ৫. পরমাণু চুল্লীতে সচরাচর কোন্ জ্বালানী ব্যবহার করা হয়?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. ইউরেনিয়াম-২৩৫
- খ. ইউরেনিয়াম-২৩৮
- গ. থোরিয়াম-১৩২
- ঘ. প্লুটোনিয়াম-২৪০
উত্তর: ক. ইউরেনিয়াম-২৩৫
পারমাণবিক চুল্লিতে সাধারণত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধীরগতির নিউট্রন শোষণ করলে U-235 ভেঙে (ফিশন) দুটি হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়, প্রচুর শক্তি এবং আরও নিউট্রন বের করে। সেই নিউট্রন আরও ফিশন ঘটায়, ফলে শিকল বিক্রিয়া (Chain Reaction) চলে। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে U-235 প্রায় 0.7 শতাংশ, তাই চুল্লির জন্য একে সমৃদ্ধ (Enrich) করা হয়।
মনে রাখুন:
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের প্রায় 99.3 শতাংশ U-238।
U-238 নিউট্রন শোষণ করে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ তৈরি করতে পারে।
থোরিয়াম-২৩২ ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে গবেষণাধীন। - ৬. হাইড্রোজেন বোমায় ক্রিয়া করে-৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. ফিশন বিক্রিয়া
- খ. ফিউশন বিক্রিয়া
- গ. ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই
- ঘ. সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া
উত্তর: গ. ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই
হাইড্রোজেন বোমায় ফিউশন (Fusion) ঘটাতে কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা লাগে। এই তাপ জোগাতে প্রথমে একটি ছোট ফিশন (Fission) বোমা বিস্ফোরিত হয়, আর তারপর হালকা নিউক্লিয়াস জুড়ে ফিউশন শুরু হয়। তাই এই বোমায় ফিশন ও ফিউশন দুটোই কাজ করে। ফিউশনে তুলনামূলক অনেক বেশি শক্তি বের হয়, তাই হাইড্রোজেন বোমা পরমাণু বোমার চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী। হাইড্রোজেন বোমায় ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়ামের মতো হাইড্রোজেনের ভারী আইসোটোপ ব্যবহার হয়। এ কারণেই এটি হাইড্রোজেন বোমা নামে পরিচিত।
মনে রাখুন:
পরমাণু বোমা (অ্যাটম বোমা) শুধু ফিশন বিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
সূর্যের শক্তির উৎস ফিউশন। - ৭. প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা কতভাগ 238U আইসোটোপ থাকে?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইউরেনিয়াম
- ক. 50%
- খ. 99.3%
- গ. 0%
- ঘ. 69.3%
উত্তর: খ. 99.3%
একই মৌলের ভিন্ন ভর সংখ্যার পরমাণুকে আইসোটোপ বলে। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে মূলত দুটি আইসোটোপ আছে, ইউরেনিয়াম-২৩৮ ও ইউরেনিয়াম-২৩৫। এর মধ্যে ²³⁸U আছে প্রায় 99.3% এবং ²³⁵U প্রায় 0.7%। পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন বা বিভাজন ঘটে ²³⁵U-এর, তাই চুল্লির জন্য ইউরেনিয়ামকে সমৃদ্ধ (Enrichment) করে ²³⁵U-এর অনুপাত বাড়াতে হয়। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের এই অনুপাত বুঝলে বোঝা যায় কেন ইউরেনিয়ামের খনি থেকে পাওয়া আকরিক সরাসরি বোমা বা চুল্লিতে ব্যবহার করা যায় না। প্রথমে তাকে প্রক্রিয়াজাত করে ²³⁵U-এর ভাগ বাড়াতে হয়।
মনে রাখুন:
²³⁸U নিজে সহজে ফিশনযোগ্য নয়।
তবে এটি নিউট্রন শোষণ করে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ তৈরি করতে পারে। - ৮. প্রকৃতিতে মৌলিক বল কয়টি?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক বল
- ক. 2 টি
- খ. 3 টি
- গ. 4 টি
- ঘ. 5 টি
উত্তর: গ. 4 টি
প্রকৃতির সব ঘটনার পেছনে যে মৌলিক বল কাজ করে, তা চার ধরনের:
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): ভরযুক্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ, সবচেয়ে দুর্বল কিন্তু পাল্লা অসীম
২. তড়িৎচুম্বকীয় বল (Electromagnetic Force): আধানযুক্ত কণার মধ্যে ক্রিয়া করে
৩. সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): নিউক্লিয়াসের ভেতরে নিউক্লিয়ন বেঁধে রাখে, সবচেয়ে শক্তিশালী
৪. দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): তেজস্ক্রিয় বিটা ক্ষয়ের জন্য দায়ী
অতএব মৌলিক বল ৪ টি। ঘর্ষণ বল ও স্প্রিং বল এই চারটিরই কোনো না কোনো রূপ।
মনে রাখুন: শক্তির ক্রম: সবল > তড়িৎচুম্বকীয় > দুর্বল > মহাকর্ষ। - ৯. সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে কোন ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ন্যানো প্রযুক্তি
- ক. Na2O
- খ. ZnO
- গ. Al2O3
- ঘ. CuO
উত্তর: খ. ZnO
জিংক অক্সাইড (ZnO) ন্যানো কণা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ ও প্রতিফলিত করে ত্বককে রক্ষা করে। কণার আকার ন্যানোমিটার মাত্রার হওয়ায় ত্বকে লাগালে সাদা ছাপ পড়ে না এবং লোশন স্বচ্ছ দেখায়। বড় আকারের ZnO কণা ত্বকে সাদা ছাপ ফেলে, কিন্তু ন্যানো আকারে এই সমস্যা থাকে না। এ কারণেই সানস্ক্রিন লোশনে এটি ব্যবহৃত হয়। ন্যানো প্রযুক্তির এই ব্যবহার দেখায় যে পদার্থের আকার ছোট হলে তার ধর্মও বদলে যায়। কসমেটিকস ও প্রসাধনী শিল্পে তাই ন্যানো কণার ব্যবহার বাড়ছে।
মনে রাখুন:
টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড (TiO₂) ন্যানো কণাও সানস্ক্রিনে ব্যবহার হয়।
১ ন্যানোমিটার সমান ১০⁻⁹ মিটার। - ১০. ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি ?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গামা রশ্মি
- ক. আইসোটোন
- খ. আইসোটোপ
- গ. আইসোবার
- ঘ. আইসোমার
উত্তর: খ. আইসোটোপ
একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলে। অনেক আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় এবং তারা গামা রশ্মি ছাড়ে। কোবাল্ট-৬০ এমন একটি আইসোটোপ। এর গামা রশ্মি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়, আর এই চিকিৎসাকে রেডিওথেরাপি বলে। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার তাই চিকিৎসা ও গবেষণা, দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। আইসোটোপ বলতে যেহেতু একই মৌলের পরমাণু বোঝায়, ক্যান্সার চিকিৎসার উৎস হিসেবে আইসোটোপই সঠিক বিকল্প। আইসোটোন, আইসোবার ও আইসোমার ভিন্ন ধারণা।
মনে রাখুন: আইসোটোপের আরও কয়েকটি ব্যবহার আছে।
আয়োডিন-১৩১ থাইরয়েড চিকিৎসায় কাজে লাগে।
কার্বন-১৪ দিয়ে প্রাচীন জীবাশ্মের বয়স নির্ণয় করা হয়। - ১১. ক্যান্সার চিকিৎসায় যে বিকিরণ ব্যবহার করা হয় তা হলো -৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় রশ্মি
- ক. আলফা রে (Alpha rays)
- খ. বিটা রে (Beta rays)
- গ. গামা রে (Gama rays)
- ঘ. এক্স রে (X-rays)
উত্তর: গ. গামা রে (Gama rays)
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিকিরণ গামা রশ্মি (Gamma Ray)। এই রশ্মি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভেদনক্ষম, তাই শরীরের ভেতরে ঢুকে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে পারে। কোবাল্ট-৬০ নামের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে বের হওয়া গামা রশ্মি এভাবে রেডিওথেরাপিতে কাজে লাগে। আলফা ও বিটা রশ্মির ভেদনক্ষমতা কম, আর এক্স-রে মূলত শরীরের ভেতরের ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়। একই কারণে কোবাল্ট বোমা নামের যন্ত্রে গামা রশ্মি ফেলে টিউমার কোষ নষ্ট করা হয়। গামা রশ্মি খাদ্যদ্রব্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কাজেও ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
গামা রশ্মি তড়িৎচৌম্বক বর্ণালির সবচেয়ে বেশি শক্তিসম্পন্ন রশ্মি।
গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন পল ভিলার্ড। - ১২. জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় রশ্মি
- ক. আলফা রশ্মি
- খ. বিটা রশ্মি
- গ. গামা রশ্মি
- ঘ. আলট্রাভায়োলেট রশ্মি
উত্তর: গ. গামা রশ্মি
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বের হয়। এর মধ্যে গামা রশ্মির শক্তি সবচেয়ে বেশি এবং ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি, ফলে এটি দেহের গভীরে ঢুকে কোষ ও ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আলফা রশ্মি এক টুকরো কাগজেই আটকে যায়, আর বিটা রশ্মি পাতলা ধাতুর পাতে থেমে যায়। তাই জীবজগতের জন্য গামা রশ্মি সবচেয়ে ক্ষতিকর।
মনে রাখুন:
ভেদন ক্ষমতার ক্রম: গামা > বিটা > আলফা।
আয়নিত করার ক্ষমতার ক্রম: আলফা > বিটা > গামা। - ১৩. গোয়েন্দা বিভাগে নিম্নের কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় রশ্মি
- ক. বেকেরেল রশ্মি
- খ. গামা রশ্মি
- গ. X- রশ্মি
- ঘ. বিটা- রশ্মি
উত্তর: গ. X- রশ্মি
এক্স-রে (X-ray) কাপড়, চামড়া বা কাঠের মতো হালকা পদার্থ ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু ধাতু বা ঘন পদার্থে আটকে যায়। তাই ব্যাগ বা শরীরের ভেতরে লুকানো অস্ত্র, ধাতব বস্তু বা অন্য নিষিদ্ধ জিনিস খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগে এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। বিমানবন্দরে ব্যাগ স্ক্যান করার যন্ত্রেও এই নীতি কাজ করে।
মনে রাখুন:
এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলহেলম রন্টগেন, ১৮৯৫ সালে। তিনি ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান।
বেকেরেল রশ্মি ইউরেনিয়াম থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় রশ্মি। - ১৪. মহাজাগতিক রশ্মির আবিস্কারক-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মহাজাগতিক রশ্মি
- ক. হেস
- খ. আইনস্টাইন
- গ. টলেমি
- ঘ. হাবল
উত্তর: ক. হেস
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Ray) হলো মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা অতি শক্তিশালী কণার স্রোত। অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস (Victor Hess) ১৯১২ সালে বেলুনে চড়ে অনেক ওপরে উঠে বিকিরণ মাপেন। তিনি দেখেন, ওপরে যত যাওয়া যায় বিকিরণ তত বাড়ে। এ থেকে প্রমাণ হয়, বিকিরণ মহাশূন্য থেকে আসছে। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। ভিক্টর হেসের এই পরীক্ষা কণা পদার্থবিজ্ঞানের গোড়াপত্তনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। পরে এই রশ্মি থেকেই পজিট্রন ও মিউয়নের মতো কণা প্রথম ধরা পড়ে।
মনে রাখুন: ‘Cosmic ray’ নামটি দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী রবার্ট মিলিকান। - ১৫. ফটোইলেকট্রিক কোষের উপর আলো পড়লে কি উৎপন্ন হয়?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোক তড়িৎ ক্রিয়া
- ক. বিদ্যুৎ
- খ. তাপ
- গ. চুম্বক
- ঘ. কিছুই হয় না
উত্তর: ক. বিদ্যুৎ
আলোক-তড়িৎ কোষে (Photoelectric cell) আলো পড়লে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। আলো যথেষ্ট শক্তিশালী হলে তা ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে ইলেকট্রন বের করে আনে। এই বেরিয়ে আসা ইলেকট্রনের প্রবাহই বিদ্যুৎ প্রবাহ। এই ঘটনাকে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া (Photoelectric effect) বলে। এই কোষের ধাতব পাতের ওপর কেবল নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের বেশি আলো পড়লেই ইলেকট্রন বের হয়, আলো বেশি উজ্জ্বল হলেই হয় না। আইনস্টাইন এখানেই আলোর কণাধর্মের প্রমাণ পান।
মনে রাখুন:
আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে এই ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন এবং এ জন্য ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
স্বয়ংক্রিয় দরজা ও আলো নিয়ন্ত্রণে এই কোষ ব্যবহৃত হয়। - ১৬. পারমাণবিক চুল্লিতে কোন মৌল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. পেট্রোলিয়াম
- খ. ইউরেনিয়াম-২৩৫
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: খ. ইউরেনিয়াম-২৩৫
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে সাধারণত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) ব্যবহৃত হয়। একটি ধীরগতির নিউট্রন এই নিউক্লিয়াসকে আঘাত করলে নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি ছোট নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল শক্তি ও আরও কয়েকটি নিউট্রন ছাড়ে। এই প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় ফিশন (Nuclear fission) বলে। নতুন নিউট্রনগুলো আরও নিউক্লিয়াস ভাঙে, ফলে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চলতে থাকে। পেট্রোলিয়াম, অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন ফিশন ঘটায় না।
মনে রাখুন:
চুল্লির শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে বোরন বা ক্যাডমিয়ামের দণ্ড ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মিত হচ্ছে। - ১৭. সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গামা রশ্মি
- ক. আলফা রশ্মি
- খ. বিটা রশ্মি
- গ. গামা রশ্মি
- ঘ. রঞ্জন রশ্মি
উত্তর: গ. গামা রশ্মি
তড়িৎচৌম্বক বর্ণালিতে (Electromagnetic spectrum) গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোট, তাই এর শক্তিও সবচেয়ে বেশি। আলফা ও বিটা রশ্মি আলোর মতো তরঙ্গ নয়, বরং কণার স্রোত। আর রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে গামার চেয়ে কিছুটা বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের। যে তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, তার কম্পাঙ্ক তত বেশি এবং শক্তিও তত বেশি। গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয়। এই কারণে গামা রশ্মিকে আটকাতে মোটা সীসার দেয়াল লাগে।
মনে রাখুন:
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বড় থেকে ছোট: রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, এক্স-রে, গামা রশ্মি।
আলফা কণা হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, আর বিটা কণা ইলেকট্রন। - ১৮. রঙিন টেলিভিশন হতে ক্ষতিকর কোন রশ্মি বের হয়?১৬তম ও ২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে
- ক. মৃদু রঞ্জন রশ্মি
- খ. বিটা রশ্মি
- গ. গামা রশ্মি
- ঘ. কসমিক রশ্মি
উত্তর: ক. মৃদু রঞ্জন রশ্মি
পুরোনো ধরনের রঙিন টেলিভিশনে একটি পিকচার টিউব থাকত, যেখানে অনেক বেশি বিভবে ছোটানো ইলেকট্রন পর্দার ভেতরের দিকে আঘাত করে ছবি তৈরি করত। এই উচ্চগতির ইলেকট্রনের আঘাতে সামান্য মৃদু রঞ্জন রশ্মি (Soft X-ray) তৈরি হয়। তাই খুব কাছ থেকে দীর্ঘ সময় টেলিভিশন দেখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে ধরা হতো। বিটা, গামা ও কসমিক রশ্মি টিভি থেকে বের হয় না। এই ক্ষতির কারণেই পুরোনো টিউব টিভিতে পর্দার কাচে সীসা মেশানো থাকত, যাতে রশ্মি আটকে যায়। তবু শিশুদের জন্য কাছ থেকে টিভি দেখা নিষেধ করা হতো।
মনে রাখুন: এখনকার এলসিডি ও এলইডি পর্দায় এমন টিউব থাকে না। - ১৯. রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেডিও আইসোটোপ
- ক. কিডনির পাথর গলাতে
- খ. পিত্তপাথর গলাতে
- গ. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
- ঘ. নতুন পরমাণু তৈরিতে
উত্তর: গ. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
যে পরমাণুর নিউক্লিয়াস অস্থির এবং তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছেড়ে ভেঙে যায়, তাকে রেডিও আইসোটোপ বলে। থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকভাবেই আয়োডিন শোষণ করে। তাই রোগীকে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন (আয়োডিন-131) খাওয়ালে তা থাইরয়েডে জমা হয়। এর বিকিরণ মেপে গলগণ্ডসহ থাইরয়েডের রোগ নির্ণয় করা যায়। কিডনি বা পিত্তের পাথর গলাতে রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার করা হয় না, আর নতুন পরমাণুও এর মাধ্যমে তৈরি হয় না।
মনে রাখুন:
কোবাল্ট-60 ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
কার্বন-14 দিয়ে প্রাচীন জীবাশ্ম বা বস্তুর বয়স নির্ণয় করা হয়। - ২০. সূর্যে শক্তি উৎপন্ন হয়-২২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লীয় সংযোজন
- ক. পরমাণুর ফিশন পদ্ধতিতে
- খ. পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতিতে
- গ. রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে
- ঘ. তেজস্ক্রিয়তার ফলে
উত্তর: খ. পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতিতে
সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সেখানে চাপও প্রচণ্ড। সেখানে হাইড্রোজেনের হালকা নিউক্লিয়াসগুলো পরস্পর মিলে ভারী হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার নাম নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion)। বিক্রিয়ায় কিছু ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (E = mc²), আর সেই শক্তিই আলো ও তাপ হয়ে সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসে। ফিশন বা বিভাজনে ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, যা পারমাণবিক বোমা ও চুল্লিতে ঘটে। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য প্রায় ৬০ কোটি টন হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে পরিণত করে, তবু বহু কোটি বছর ধরে এভাবে জ্বলার মতো জ্বালানি এর ভেতরে আছে।
মনে রাখুন: হাইড্রোজেন বোমা ফিউশন পদ্ধতিতে কাজ করে। - ২১. কোনটি তেজস্ক্রীয় পদার্থ নয়?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. লৌহ
- খ. ইউরেনিয়াম
- গ. প্লটোনিয়াম
- ঘ. নেপচুনিয়াম
উত্তর: ক. লৌহ
যে মৌলের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল, সে নিজে থেকে ভেঙে তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছড়ায়। এই ধর্মকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে। ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম ও নেপচুনিয়াম এমন ভারী তেজস্ক্রিয় মৌল। কিন্তু লোহার নিউক্লিয়াস খুবই স্থিতিশীল, তাই লোহা তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়। সাধারণত যে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-র বেশি, তার সব আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় হয়। লোহার নিউক্লিয়াসের এই স্থিতিশীলতার কারণেই এটি আমাদের দৈনন্দিন কাজে নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বের হয়।
মনে রাখুন:
১৮৯৬ সালে হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার করেন। - ২২. মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কার করে কোন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পান?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মহাজাগতিক রশ্মি
- ক. হেস
- খ. গোল্ডস্টাইন
- গ. রাদারফোর্ড
- ঘ. আইনস্টাইন
উত্তর: ক. হেস
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Ray) আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস (Victor Hess)। তিনি ১৯১২ সালে বেলুনে চড়ে অনেক উঁচুতে উঠে দেখান যে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকিরণের মাত্রা বাড়ে, অর্থাৎ রশ্মিটি মহাশূন্য থেকে আসছে। বাকি তিনজনও বিখ্যাত বিজ্ঞানী, কিন্তু তাঁদের আবিষ্কার আলাদা। গোল্ডস্টাইন ক্যানাল রশ্মি আবিষ্কার করেন, রাদারফোর্ড পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন, আর আইনস্টাইন আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য ১৯২১ সালে নোবেল পান।
মনে রাখুন: ১৯৩৬ সালেই কার্ল অ্যান্ডারসন পজিট্রন আবিষ্কারের জন্য হেসের সঙ্গে নোবেল ভাগ করে নেন। - ২৩. ফিউশন প্রক্রিয়ায়-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লীয় সংযোজন
- ক. একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করে
- খ. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
- গ. ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
- ঘ. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
উত্তর: খ. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
দুটি হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াস মিলে যখন একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ফিউশন (Nuclear Fusion) বলে। এ সময় প্রচুর শক্তি নির্গত হয়, কিন্তু ফিউশন ঘটাতে কয়েক কোটি ডিগ্রি তাপমাত্রা লাগে। সূর্যে হাইড্রোজেন মিলে হিলিয়াম তৈরি হয়ে যে শক্তি বের হয়, সেটি এর বড় উদাহরণ। ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা অংশে ভাগ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ফিশন (Fission), তাই অপশনের বাকিগুলো ফিশনের বর্ণনা।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেন বোমা ফিউশনের নীতিতে কাজ করে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পরমাণু বোমা ফিশনের নীতিতে কাজ করে। - ২৪. নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কি বলা হয়?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লীয় বিভাজন
- ক. ফিশন
- খ. মেসন
- গ. ফিউশন
- ঘ. ফিউশন ও মেসন
উত্তর: ক. ফিশন
একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়াকে নিউক্লীয় ফিশন (Nuclear Fission) বা নিউক্লিয়াসের বিভাজন বলে। এই ভাঙনের সময় প্রচুর শক্তি বের হয়। উল্টো ঘটনায় দুটি হালকা নিউক্লিয়াস জুড়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি হলে তাকে ফিউশন বলে। মেসন হলো এক ধরনের মৌলিক কণা, তাই এটি কোনো বিক্রিয়ার নাম নয়। ফিশনে একটি নিউট্রন ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াসে আঘাত করলে সেটি দুই ভাগ হয় এবং আরও নিউট্রন বের করে দেয়। এই নতুন নিউট্রনগুলো পরপর আরও নিউক্লিয়াস ভাঙে, একে শৃঙ্খল বিক্রিয়া বলে।
মনে রাখুন:
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ফিশনের নীতিতে চলে।
সূর্য ও হাইড্রোজেন বোমায় ফিউশন ঘটে।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনা জেলায় অবস্থিত। - ২৫. হিগের কণার (Higgs Particle) প্রকৃতির সাথে কোন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নাম জড়িয়ে আছে?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কণা পদার্থবিজ্ঞান
- ক. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
- খ. সত্যেন্দ্র নাথ বসু
- গ. প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম
- ঘ. ড. কুদরত-ই-খুদা
উত্তর: খ. সত্যেন্দ্র নাথ বসু
হিগস কণা (Higgs boson) এক ধরনের বোসন কণা। বোসন নামটি এসেছে বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর (S. N. Bose) নাম থেকে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় আইনস্টাইনের সঙ্গে মিলে যে পরিসংখ্যান (বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান) দেন, তা এসব কণার আচরণ ব্যাখ্যা করে। এ কারণেই হিগস কণার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। এই পরিসংখ্যান মেনে চলা কণাগুলোকে বসুর নামানুসারে বোসন বলা হয়। হিগস কণা বস্তুকে ভর দেয় বলে একে মৌলিক কণাদের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
বোসন কণার স্পিন পূর্ণসংখ্যা, যেমন ফোটন।
হিগস কণাকে জনপ্রিয় ভাষায় ‘ঈশ্বর কণা’ বলা হয়।
২০১২ সালে সার্নের গবেষণাগারে এই কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। - ২৬. পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. আইনস্টাইন
- খ. ওপেনহাইমার
- গ. অটোহ্যান
- ঘ. রোজেনবার্গ
উত্তর: খ. ওপেনহাইমার
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন প্রকল্পে পারমাণবিক বোমা তৈরির বৈজ্ঞানিক কাজের নেতৃত্ব দেন পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমার, তাই তাঁকে পারমাণবিক বোমার জনক বলা হয়। ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই নিউ মেক্সিকোতে এর প্রথম পরীক্ষা হয়। সে বছরই আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলা হয়। অটো হান নিউক্লীয় বিভাজন (Nuclear fission) আবিষ্কার করেছিলেন, তবে তিনি বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ম্যানহাটন প্রকল্পে নিউ মেক্সিকোর লস অ্যালামোস গবেষণাগারে শত শত বিজ্ঞানী একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। প্রথম পরীক্ষাটির সাংকেতিক নাম ছিল ট্রিনিটি।
মনে রাখুন: আইনস্টাইন ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করে চিঠি লিখেছিলেন। - ২৭. ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হল-৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফোটন
- ক. hλ/c
- খ. hc/λ
- গ. cλ/h
- ঘ. chλ
উত্তর: খ. hc/λ
ফোটন (Photon) আলোর শক্তির ক্ষুদ্রতম একক। প্ল্যাঙ্কের সূত্র অনুযায়ী ফোটনের শক্তি E = hf, যেখানে h প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক (6.63 × 10⁻³⁴ J·s) এবং f আলোর কম্পাঙ্ক। আলোর বেগ c, তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ হলে c = fλ, অর্থাৎ f = c/λ। বসালে E = hc/λ। সূত্র থেকে বোঝা যায়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, ফোটনের শক্তি তত বেশি। তাই বেগুনি আলোর ফোটনের শক্তি লাল আলোর চেয়ে বেশি।
মনে রাখুন: আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯২১ সালে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পান। - ২৮. আইনস্টাইন নােবেল পুরস্কার পান-৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোক তড়িৎ ক্রিয়া
- ক. আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
- খ. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
- গ. কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
- ঘ. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
উত্তর: ঘ. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার জন্য নয়, আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার (Photoelectric Effect) ব্যাখ্যার জন্য ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। ধাতুতে আলো পড়লে ইলেকট্রন বের হয়, আর আলোকে শক্তির কণিকা বা ফোটন ধরে আইনস্টাইন এর ব্যাখ্যা দেন। নোবেল কমিটি সে সময় আপেক্ষিক তত্ত্বকে যথেষ্ট প্রমাণিত মনে করেনি, তাই আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যাকেই পুরস্কারের কারণ করা হয়। আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া পরে আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ভিত্তি গড়তে সাহায্য করে। সৌরকোষ ও ডিজিটাল ক্যামেরার সেন্সরেও এই ঘটনার প্রয়োগ আছে।
মনে রাখুন:
আপেক্ষিক তত্ত্ব তিনি ১৯০৫ ও ১৯১৫ সালে দেন, তবে এর জন্য নোবেল পাননি।
তাঁর বিখ্যাত সমীকরণ E = mc²। - ২৯. কোনটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radio active element) নয়?২০তম বিসিএস ও CAAB'র প্রকিউরমেন্ট অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় পদার্থ
- ক. লোহা
- খ. ইউরেনিয়াম
- গ. প্লুটোনিয়াম
- ঘ. নেপচুনিয়াম
উত্তর: ক. লোহা
তেজস্ক্রিয় মৌল (Radioactive element) বলতে সেসব মৌল বোঝায়, যাদের নিউক্লিয়াস অস্থির এবং ভেঙে গিয়ে বিকিরণ ছাড়ে। ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম ও নেপচুনিয়াম তিনটিই এমন মৌল, কারণ এদের পারমাণবিক সংখ্যা অনেক বড়। কিন্তু লোহার (Fe) নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল, তাই এটি তেজস্ক্রিয় নয়। ইউরেনিয়াম হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া সবচেয়ে ভারী মৌল, আর প্লুটোনিয়াম ও নেপচুনিয়াম মূলত পরীক্ষাগারে বা পারমাণবিক চুল্লিতে তৈরি হয়। লোহা কিন্তু মানবদেহের হিমোগ্লোবিনেও থাকে, এবং এটি আমাদের জন্য নিরাপদ।
মনে রাখুন:
নেপচুনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম ইউরেনিয়ামের পরের মৌল, এদের ট্রান্সইউরেনিয়াম মৌল বলে।
সাধারণত পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি হলে মৌল তেজস্ক্রিয় হয়। - ৩০. টিউমার, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিকিরণের ব্যবহার
- ক. আলফা
- খ. এক্সরে
- গ. গামা
- ঘ. বিটা
উত্তর: গ. গামা
টিউমার ও ক্যান্সার কোষ খুব দ্রুত বাড়ে, আর গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা প্রচুর হওয়ায় এটি দেহের গভীরে পৌঁছে এসব কোষ ধ্বংস করতে পারে। এই চিকিৎসাকে রেডিওথেরাপি (Radiotherapy) বলে। সাধারণত কোবাল্ট-৬০ নামের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে গামা রশ্মি পাওয়া যায়, যা একটি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রোগাক্রান্ত জায়গায় ফেলা হয়। ক্যান্সার কোষ তুলনায় বিকিরণ সহ্য করতে কম পারে বলে এই পদ্ধতি কাজ করে, তবে সুস্থ কোষেরও ক্ষতি হতে পারে, তাই মাত্রা খুব সাবধানে ঠিক করতে হয়।
মনে রাখুন:
কোবাল্ট-৬০ কে 'কোবাল্ট বোমা' ডাকা হয়।
আয়োডিন-১৩১ থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার ও রোগ নির্ণয়ে লাগে। - ৩১. পারমাণবিক চুল্লিতে সচরাচর কোন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়?৫০তম বিসিএস ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পোস্টম্যান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. ইউরেনিয়াম ২৩৫
- খ. ইউরেনিয়াম ২৩৮
- গ. থোরিয়াম ১৩২
- ঘ. প্লুটোনিয়াম ২৪০
উত্তর: ক. ইউরেনিয়াম ২৩৫
পারমাণবিক চুল্লিতে সচরাচর ইউরেনিয়াম-২৩৫ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ ধীরগতির নিউট্রন আঘাত করলে এর নিউক্লিয়াস সহজে ভাঙে। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে এর পরিমাণ খুব কম, তাই চুল্লির জন্য একে ৩ থেকে ৫ শতাংশে সমৃদ্ধ করা হয়। ²³⁸U সরাসরি ফিশন করে না। প্লুটোনিয়াম-২৪০ চুল্লির জ্বালানি নয়, আর থোরিয়ামের ভরসংখ্যা ২৩২। কাজেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়াম রডে প্রধানত ²³⁵U-এর কিছু অংশ আর বেশির ভাগ ²³⁸U থাকে। সুতরাং চুল্লির ক্ষেত্রে সঠিক বিকল্প ইউরেনিয়াম-২৩৫।
মনে রাখুন:
থোরিয়াম-২৩২ নিউট্রন শোষণ করে ইউরেনিয়াম-২৩৩-এ পরিণত হতে পারে।
²³⁸U থেকে চুল্লির ভেতরে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ তৈরি হয়। - ৩২. পারমাণবিক বোমা (Atom bomb) এর আবিষ্কারক কে?১৩তম বিসিএস ও দুদক-এর অফিস সহায়ক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. আইনস্টাইন
- খ. ওপেনহেইমার
- গ. অটোহ্যান
- ঘ. রোজেনবার্গ
উত্তর: খ. ওপেনহেইমার
১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন প্রকল্পে (Manhattan Project) প্রথম পরমাণু বোমা তৈরি হয়। এই প্রকল্পের লস অ্যালামোস গবেষণাগারের প্রধান ছিলেন জে. রবার্ট ওপেনহাইমার (J. Robert Oppenheimer), তাই তাঁকে পরমাণু বোমার জনক বলা হয়। আইনস্টাইন প্রকল্প শুরুর পেছনে রুজভেল্টকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু বোমা বানানোর কাজে ছিলেন না। অটো হান ১৯৩৮ সালে ফিশন আবিষ্কার করেন। ফিশন বিক্রিয়ার বিজ্ঞান জানা ছিল আগেই, কিন্তু ব্যবহারযোগ্য বোমায় রূপ দেওয়ার নেতৃত্বটি ওপেনহাইমারের ছিল। এ কারণেই তাঁর নামই এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়।
মনে রাখুন:
প্রথম পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ১৬ জুলাই ১৯৪৫, নিউ মেক্সিকোর ট্রিনিটি স্থানে।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৮৭)
- ৩৩. পারমাণবিক বোমা তৈরি হয় নিচের কোন ধাতু দিয়ে?জাতীয় সংসদ সচিবালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৩ ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
- ক. রেডিয়াম
- খ. ইউরেনিয়াম
- গ. সোডিয়াম
- ঘ. পটাসিয়াম
উত্তর: খ. ইউরেনিয়াম
পারমাণবিক বোমা তৈরিতে নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission) বিক্রিয়া কাজে লাগানো হয়। এই বিক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে একটি নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে সেটি ভেঙে দুটি হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড পরিমাণে শক্তি বের হয় এবং আরও নিউট্রন ছিটকে এসে পরপর আরও পরমাণু ভেঙে দেয়। এভাবে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চলতে থাকে। ইউরেনিয়াম-২৩৫ আইসোটোপ এই কাজে প্রধান পদার্থ। সোডিয়াম ও পটাসিয়াম হালকা ধাতু, আর রেডিয়াম তেজস্ক্রিয় হলেও বোমা তৈরির কাজে লাগে না।
মনে রাখুন:
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় ইউরেনিয়াম বোমা এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে প্লুটোনিয়াম বোমা ফেলা হয়।
হাইড্রোজেন বোমা নিউক্লিয়ার ফিউশনের নীতিতে কাজ করে। - ৩৪. কম্পটন ক্রিয়ার আলোর কোন ধর্ম প্রকাশ পায়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কম্পটন ক্রিয়া
- ক. তরঙ্গ ধর্ম
- খ. কণা ধর্ম
- গ. তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
- ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. কণা ধর্ম
আলো কখনো তরঙ্গের মতো এবং কখনো কণার মতো আচরণ করে। ব্যতিচার ও অপবর্তনের মতো ঘটনায় আলোর তরঙ্গ ধর্ম প্রকাশ পায়। কিন্তু কম্পটন ক্রিয়ায় (Compton Effect) আলোর কণা ধর্ম প্রকাশ পায়। এই ঘটনায় উচ্চশক্তির এক্স-রে ফোটন কোনো মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিক্ষিপ্ত হয়। তখন ফোটনের শক্তি ও ভরবেগ কিছুটা ইলেকট্রনে চলে যায়, ফলে বিক্ষিপ্ত রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়ে যায়। দুটি বলের সংঘর্ষের মতো এই আচরণ ব্যাখ্যা করতে আলোকে ভরবেগযুক্ত কণা হিসেবে ধরতে হয়। আলোর কণা ধর্মের অন্য প্রমাণ আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া।
মনে রাখুন:
১৯২৩ সালে আর্থার কম্পটন এই ক্রিয়া আবিষ্কার করেন এবং ১৯২৭ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন আইনস্টাইন। - ৩৫. তেজস্ক্রিয়তার একক কী?স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. বেকেরেল
- খ. ব্যারেল
- গ. ওহম
- ঘ. প্যাসকেল
উত্তর: ক. বেকেরেল
তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিউক্লিয়াস নিজে থেকেই ভেঙে যায় এবং রশ্মি বা কণা ছেড়ে দেয়। প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো নিউক্লিয়াস ভাঙছে, সেই হারকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে। SI পদ্ধতিতে এর একক বেকেরেল (Becquerel, প্রতীক Bq), যেখানে ১ Bq মানে প্রতি সেকেন্ডে একটি বিভাজন। ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন, তাঁর নামেই এককটির নাম। ওহম রোধের একক, প্যাসকেল চাপের একক, আর ব্যারেল তেলের পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
তেজস্ক্রিয়তার পুরোনো একক কুরি (Ci), ১ Ci = 3.7 × 10¹⁰ Bq।
শোষিত মাত্রার SI একক গ্রে (Gy)। - ৩৬. আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি ধ্রুব?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিকতা
- ক. দৈর্ঘ্য
- খ. ভর
- গ. সময়
- ঘ. আলোর দ্রুতি
উত্তর: ঘ. আলোর দ্রুতি
নিউটনীয় ধারণায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে সবার জন্য একই ধরা হতো। কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দেখাল যে পর্যবেক্ষকের বেগের সঙ্গে দৈর্ঘ্য সংকুচিত হয়, সময় ধীর হয় এবং ভরও বাড়ে। এই তত্ত্বের মূল স্বীকার্য হলো, শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি সব পর্যবেক্ষকের কাছেই একই, যার মান প্রায় 3 × 10⁸ ms⁻¹। অর্থাৎ আপেক্ষিক তত্ত্বে ধ্রুব হলো আলোর দ্রুতি।
মনে রাখুন:
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc²।
১৯২১ সালে আইনস্টাইন আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে। - ৩৭. সৌর শক্তির উৎস হলো—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়ার ফিউশন
- ক. ফিউশন বিক্রিয়া
- খ. চেইন বিক্রিয়া
- গ. ফিশন বিক্রিয়া
- ঘ. রাসায়নিক বিক্রিয়া
উত্তর: ক. ফিউশন বিক্রিয়া
সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং চাপ অত্যন্ত বেশি। এই পরিবেশে হাইড্রোজেনের হালকা নিউক্লিয়াসগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার ফিউশন (Fusion) বলে। বিক্রিয়ার সময় যে সামান্য ভর কমে যায়, তা E = mc² সূত্র অনুযায়ী প্রচুর শক্তিতে পরিণত হয়, এটাই আমরা সূর্যের আলো ও তাপ হিসেবে পাই। ফিশনে ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, সেটি পারমাণবিক বোমা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঘটে, সূর্যে নয়।
মনে রাখুন:
সূর্যের প্রধান উপাদান হাইড্রোজেন, তারপর হিলিয়াম।
হাইড্রোজেন বোমা ফিউশনের নীতিতে কাজ করে। - ৩৮. ক্যান্সার চিকিৎসায় কোন আইসোটোপটি ব্যবহার করা হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ
- ক. ⁶⁰Co
- খ. ³²P
- গ. ⁶⁵Zn
- ঘ. ¹³¹I
উত্তর: ক. ⁶⁰Co
ক্যান্সারের কোষ দ্রুত বাড়ে, আর গামা রশ্মি সেই কোষকে ধ্বংস করতে পারে। কোবাল্ট-৬০ (⁶⁰Co) একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, যা থেকে শক্তিশালী গামা রশ্মি বের হয়। চিকিৎসকেরা সেই রশ্মি নিয়ন্ত্রিতভাবে আক্রান্ত স্থানে ফেলে টিউমার নষ্ট করেন, এই চিকিৎসাকে রেডিওথেরাপি বলে। তাই ক্যান্সার চিকিৎসায় কোবাল্ট-৬০ বহুল ব্যবহৃত। কোবাল্ট-৬০-এর অর্ধায়ু প্রায় ৫.২৭ বছর, তাই দীর্ঘদিন এটি দিয়ে চিকিৎসা চলে। গামা রশ্মি সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করতে পারে, তাই রশ্মির মাত্রা খুব সাবধানে ঠিক করতে হয়।
মনে রাখুন:
আয়োডিন-১৩১ (¹³¹I) প্রধানত থাইরয়েডের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় লাগে।
ফসফরাস-৩২ (³²P) কিছু রক্তের রোগ ও গবেষণায় ব্যবহার হয়।
ইউরেনিয়াম-২৩৫ পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি। - ৩৯. দুবার নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী বিজ্ঞানী হলেন—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী
- ক. পিয়ারে কুরি
- খ. মাদাম কুরি
- গ. লুইপাস্তুর
- ঘ. রোনাল্ড রস
উত্তর: খ. মাদাম কুরি
মাদাম মারি কুরি (Marie Curie) বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন একজন, যিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য স্বামী পিয়ের কুরি ও হেনরি বেকেরেলের সঙ্গে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এরপর পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কারের জন্য ১৯১১ সালে একা রসায়নে নোবেল লাভ করেন। তিনি প্রথম নারী নোবেল বিজয়ী। পিয়ের কুরি এই পুরস্কার একবারই পেয়েছেন, আর রোনাল্ড রসও পেয়েছেন একবার। লুই পাস্তুর নোবেল পুরস্কার পাননি, কারণ পুরস্কারটি চালু হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
মনে রাখুন:
দুবার নোবেল পাওয়া আরও দুজন: লাইনাস পলিং (রসায়ন ও শান্তি) এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার (দুবারই রসায়ন)।
রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহক আবিষ্কার করে ১৯০২ সালে চিকিৎসায় নোবেল পান। - ৪০. কোন রশ্মির ভেদন ক্ষমতা বেশি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় রশ্মি
- ক. আলফা
- খ. বিটা
- গ. গামা
- ঘ. সবগুলোর সমান
উত্তর: গ. গামা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি বের হয়, আলফা, বিটা ও গামা। রশ্মিগুলো কোনো বস্তুর ভেতর দিয়ে কতটা যেতে পারে, তাকে ভেদন ক্ষমতা বলে। আলফা কণা ভারী ও বেশি আধানযুক্ত, তাই বাতাসে অল্প দূরত্ব গেলেই শক্তি হারায় এবং একটি কাগজ দিয়েই আটকে যায়। বিটা কণা অনেক হালকা, তাই কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়ামের পাত ভেদ করে যেতে পারে। গামা রশ্মি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, এর কোনো আধান বা ভর নেই। ফলে এটি সবচেয়ে বেশি ভেদ করে, এমনকি পুরু সীসা বা কংক্রিটের দেয়ালও দরকার হয় একে থামাতে।
মনে রাখুন:
ভেদন ক্ষমতা: গামা > বিটা > আলফা।
আয়নায়ন ক্ষমতা: আলফা > বিটা > গামা। - ৪১. কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন–শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- ক. নিউটন
- খ. ম্যাক্সপ্ল্যাঙ্ক
- গ. হাইগেন
- ঘ. ম্যাক্সওয়েল
উত্তর: খ. ম্যাক্সপ্ল্যাঙ্ক
উনিশ শতকের শেষে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, আলো ঢেউয়ের মতো একটানা বের হয়। কিন্তু উত্তপ্ত বস্তুর বিকিরণ এই ধারণায় ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না। ১৯০০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক (Max Planck) প্রস্তাব করেন, শক্তি একটানা না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট বা কোয়ান্টামে বের হয়। এটাই কোয়ান্টাম তত্ত্ব। প্রতিটি কোয়ান্টামের শক্তি E = hν, যেখানে h প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবক এবং ν কম্পাঙ্ক। নিউটন আলোর কণাতত্ত্ব, হাইগেনস তরঙ্গতত্ত্ব, আর ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ তত্ত্ব দিয়েছেন।
মনে রাখুন:
প্ল্যাঙ্ক ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে ফোটন ধারণা দিয়ে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
h-এর মান প্রায় 6.626 × 10⁻³⁴ J·s। - ৪২. কোন বস্তুর গতি যদি আলোর গতির সমান হয় তাহলে এটির দৈর্ঘ্য পরিমার্জিত হয়ে কত হবে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিকতা
- ক. অসীম
- খ. দ্বিগুণ
- গ. অর্ধেক
- ঘ. শূন্য
উত্তর: ঘ. শূন্য
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে খুব উচ্চ বেগে চলমান বস্তুর দৈর্ঘ্য গতির দিকে ছোট হয়ে যায়। একে দৈর্ঘ্য সংকোচন (Length Contraction) বলে। সূত্রটি L = L₀√(1 − v²/c²), যেখানে L₀ হলো স্থির অবস্থায় দৈর্ঘ্য। বস্তুর বেগ v আলোর বেগ c-এর সমান হলে √(1 − 1) = 0, ফলে L = 0। অর্থাৎ দৈর্ঘ্য শূন্য হয়ে যায়। বাস্তবে ভরযুক্ত কোনো বস্তুর বেগ আলোর বেগে পৌঁছাতে পারে না।
মনে রাখুন:
চলমান বস্তুর সময় ধীর হয়, একে সময় দীর্ঘায়ন বলে।
বেগ বাড়লে বস্তুর ভর বাড়ে।
আলোর বেগ প্রায় ৩×10⁸ ms⁻¹। - ৪৩. একটি বস্তুর গতি যখন আলোর গতির কাছাকাছি হয় তখন এর ভর হয়—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিকতা
- ক. অসীম
- খ. দ্বিগুণ
- গ. একই থাকে
- ঘ. শূন্য
উত্তর: ক. অসীম
আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব অনুসারে বস্তুর ভর তার গতির সঙ্গে বদলায়। সূত্রটি m = m₀/√(1 − v²/c²), যেখানে m₀ হলো স্থির অবস্থায় বস্তুর ভর, v বস্তুর বেগ, আর c আলোর বেগ। বেগ v আলোর বেগ c-এর কাছাকাছি গেলে হরের মান শূন্যের দিকে যায়, ফলে ভর m অসীমের দিকে যেতে থাকে। অসীম ভর বাড়ানোর জন্য অসীম শক্তি লাগে, আর তা কখনো সম্ভব নয়। এ কারণে কোনো ভরযুক্ত বস্তু আলোর বেগে পৌঁছাতে পারে না।
মনে রাখুন:
আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc²।
আলোর কণা ফোটনের স্থির ভর শূন্য, তাই ফোটন আলোর বেগে চলতে পারে।
এর সঙ্গে দৈর্ঘ্য সংকোচন ও সময় দীর্ঘায়নও ঘটে। - ৪৪. 'থিওরি অব রিলেটিভিটি'র প্রণেতা কে?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিকতা
- ক. আইজ্যাক নিউটন
- খ. আদ্রে শাখারভ
- গ. আলবার্ট আইনস্টাইন
- ঘ. চার্লস ডারউইন
উত্তর: গ. আলবার্ট আইনস্টাইন
থিওরি অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতার তত্ত্ব দিয়েছেন আলবার্ট আইনস্টাইন। নিউটন স্থান ও কালকে অপরিবর্তনীয় ধরেছিলেন। আইনস্টাইন দেখান, গতির সঙ্গে এগুলো বদলে যায়। তিনি ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিকতা এবং ১৯১৫ সালে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব দেন। এই তত্ত্বের বিখ্যাত ফল E = mc², যা ভর ও শক্তির সম্পর্ক দেখায়।
মনে রাখুন:
১৯২১ সালে আইনস্টাইন নোবেল পুরস্কার পান আলোকতড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য, আপেক্ষিকতার জন্য নয়।
নিউটন মহাকর্ষ ও গতির সূত্র দিয়েছেন।
E = mc²-এ m হলো ভর আর c হলো আলোর বেগ।
আইনস্টাইনের জন্ম ১৮৭৯ সালে জার্মানিতে।
আইনস্টাইন ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পান আলোকতড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য। - ৪৫. এক্স রে আবিষ্কার করেন—চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ ও বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে
- ক. মার্কনী
- খ. নিউটন
- গ. ফ্যারাডে
- ঘ. রন্টজেন
উত্তর: ঘ. রন্টজেন
১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রে (X-ray) আবিষ্কার করেন। তিনি ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা করার সময় দেখেন, একটি অজানা রশ্মি কাগজ ও মাংস ভেদ করে যায়। অজানা বলেই তিনি এর নাম দেন এক্স-রে। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। আজ হাড় ভাঙা শনাক্ত করতে এই রশ্মি চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
মার্কনী রেডিও বা বেতার তারবিহীন যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত।
ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ আবিষ্কার করেন।
নিউটন মহাকর্ষ ও গতির সূত্র দেন।
এক্স-রে একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনি রশ্মির চেয়ে কম। - ৪৬. বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ), ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপের ব্যবহার
- ক. প্রোটন
- খ. ইলেকট্রন
- গ. নিউট্রন
- ঘ. আইসোটোপ
উত্তর: ঘ. আইসোটোপ
আইসোটোপ (Isotope) হলো একই মৌলের এমন পরমাণু, যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা। এদের কিছু তেজস্ক্রিয়, আর সেই বিকিরণ চিকিৎসায় কাজে লাগে। যেমন কোবাল্ট-60 ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং আয়োডিন-131 থাইরয়েড রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়। প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রন পরমাণুর মৌলিক কণা, কিন্তু রোগ নিরাময়ে সরাসরি এদের ব্যবহার হয় না।
মনে রাখুন:
কার্বন-14 দিয়ে প্রাচীন জিনিসের বয়স নির্ণয় করা হয়, আর ইউরেনিয়াম-235 পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি।
হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।
আইসোটোপের রাসায়নিক ধর্ম এক, কিন্তু ভৌত ধর্ম আলাদা। - ৪৭. ঈশ্বর কণা কোনটি?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক কণা
- ক. হিগস বোসন
- খ. ফোটন
- গ. ইলেকট্রন
- ঘ. লেপটন
উত্তর: ক. হিগস বোসন
হিগস বোসন কণাকে বলা হয় ঈশ্বর কণা (God Particle)। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এই কণার ধারণা দেন, যা বস্তুকে ভর দেয়। কণাটির নামের দ্বিতীয় অংশ ভারতীয় বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে। ২০১২ সালে সার্নের (CERN) বিজ্ঞানীরা এই কণার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন। ফোটন ও ইলেকট্রন সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কণা, তাই এগুলোকে ঈশ্বর কণা বলা হয় না।
মনে রাখুন:
ফোটন আলোর কণা এবং ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা। ১৮৯৭ সালে জে. জে. থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
লেপটন পরিবারের সদস্য ইলেকট্রন, মিউয়ন ও টাউ কণা।
হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এংলার্ট ২০১৩ সালে এই কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। - ৪৮. কোন অবস্থায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়?স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. কোনো রকম প্রভাব ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে
- খ. যখন সেটি উত্তপ্ত করা হয়
- গ. যখন তার উপর উচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হয়
- ঘ. যখন অন্য পদার্থের সাথে সংঘর্ষ হয়
উত্তর: ক. কোনো রকম প্রভাব ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে
তেজস্ক্রিয় পদার্থের পরমাণুর নিউক্লিয়াস অস্থির। নিজে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য নিউক্লিয়াস আপনা থেকেই ভেঙে যায় এবং তা থেকে আলফা (α), বিটা (β) ও গামা (γ) রশ্মি বের হয়। এই ভাঙনে তাপ, চাপ বা অন্য পদার্থের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো কোনো বাইরের প্রভাব লাগে না। তাই একে স্বতঃস্ফূর্ত ভাঙন বলা হয়। এমনকি পদার্থকে যতই গরম বা চাপযুক্ত করা হোক, এর তেজস্ক্রিয়তা বদলায় না।
মনে রাখুন:
আলফা রশ্মি হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (ধনাত্মক চার্জযুক্ত), বিটা রশ্মি ইলেকট্রনের স্রোত, আর গামা রশ্মি চার্জহীন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি গামা রশ্মির এবং সবচেয়ে কম আলফা রশ্মির।
হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। ১৮৯৮ সালে মেরি ও পিয়ের কুরি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।
তেজস্ক্রিয়তার SI একক বেকেরেল (Bq)। - ৪৯. খাদ্যজাত দ্রব্যের মান সঠিক রাখার জন্য প্যাকেটের ভিতর প্রলেপ করার প্রযুক্তি হলো—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ন্যানোটেকনোলজি
- ক. বয়োটেকনোলজি
- খ. ন্যানোটেকনোলজি
- গ. বায়োমেট্রিক্স
- ঘ. জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
উত্তর: খ. ন্যানোটেকনোলজি
ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology) অতি ক্ষুদ্র আকারের, অর্থাৎ এক মিটারের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ মাপের, বস্তু নিয়ে কাজ করে। এই প্রযুক্তিতে খাবারের প্যাকেটের ভেতরে ন্যানো কণার পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়, যা বাতাস ও জীবাণু ঠেকিয়ে খাবারের মান ও তাজা ভাব অনেক দিন ধরে রাখে। বায়োমেট্রিক্স বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এই কাজের প্রযুক্তি নয়।
মনে রাখুন:
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং জীবের জিন বদলানোর কাজ করে, আর বায়োমেট্রিক্স মানুষের দেহবৈশিষ্ট্য, যেমন আঙুলের ছাপ, দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করে।
১ ন্যানোমিটার = ১০⁻⁹ মিটার।
ন্যানোপ্রযুক্তি ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স ও কাপড়ের কাজেও ব্যবহার হয়। - ৫০. ক্যান্সার চিকিৎসায় যে বিকিরণ ব্যবহার করা হয় তা হলো–বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য পদ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
- ক. আলফা রেস (Alpha rays)
- খ. বিটা রেস (Beta rays)
- গ. গামা রেস (Gamma rays)
- ঘ. এক্স রেস (X-rays)
উত্তর: গ. গামা রেস (Gamma rays)
ক্যান্সারের রেডিওথেরাপিতে উচ্চশক্তির গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়। গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি, তাই এটি দেহের গভীরে থাকা টিউমারের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে পারে। কোবাল্ট-60 এই কাজে ব্যবহৃত গামা উৎস। আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা খুব কম, কাগজেই আটকে যায়, আর এক্স-রে সাধারণত ছবি তোলার কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
ক্ষতিগ্রস্ত হাড় দেখতে এক্স-রে ব্যবহার হয়।
রেডিওথেরাপির সময় সুস্থ কোষের ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখতে হয়।
তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মধ্যে আলফা রশ্মি হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস, বিটা রশ্মি দ্রুতগামী ইলেকট্রন এবং গামা রশ্মি উচ্চশক্তির তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। গামা রশ্মির কোনো চার্জ বা ভর নেই। - ৫১. ভাঙা হাড় নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে
- ক. রঞ্জন রশ্মি
- খ. আলফা রশ্মি
- গ. বিটা রশ্মি
- ঘ. গামা রশ্মি
উত্তর: ক. রঞ্জন রশ্মি
ভাঙা হাড় দেখতে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়। এক্স-রে মাংসপেশি ভেদ করে চলে যায়, কিন্তু ঘন হাড়ে বেশি শোষিত হয়, তাই ছবিতে হাড়ের গঠন স্পষ্ট দেখা যায়। ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেলম রন্টজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন, তাই এর আরেক নাম রঞ্জন রশ্মি। আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বের হয়।
মনে রাখুন:
এক্স-রে একটি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
রন্টজেন এই আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান।
এক্স-রে ফটোগ্রাফিক ফিল্মকে প্রভাবিত করে এবং কিছু পদার্থকে ঝলমল করায়। চিকিৎসা ছাড়াও বিমানবন্দরে ব্যাগ পরীক্ষা এবং ধাতুর ফাটল ধরার কাজে এর ব্যবহার আছে। অতিরিক্ত এক্স-রে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। - ৫২. গামা রশ্মির চার্জ কোনটি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় রশ্মি
- ক. ধনাত্মক
- খ. ঋণাত্মক
- গ. চার্জনিরপেক্ষ
- ঘ. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় ধরনের
উত্তর: গ. চার্জনিরপেক্ষ
গামা রশ্মি (Gamma Ray) আসলে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা শক্তিশালী ফোটন দিয়ে গঠিত। ফোটনের কোনো চার্জ থাকে না, তাই গামা রশ্মি চার্জনিরপেক্ষ। এ কারণে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে একে বাঁকানো যায় না। বিপরীতে আলফা কণা ধনাত্মক আর বিটা কণা ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, তাই ক্ষেত্রে এরা বেঁকে যায়।
মনে রাখুন:
আলফা কণা হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, বিটা কণা হলো ইলেকট্রন।
তিন রশ্মির মধ্যে গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
আলফা রশ্মির আয়নায়ন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
গামা রশ্মি সাধারণত তখন বের হয়, যখন তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস আলফা বা বিটা কণা ছাড়ার পর উত্তেজিত অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় আসে।
গামা রশ্মি আলোর বেগেই চলে। - ৫৩. গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে
- ক. বেকেরেল রশ্মি
- খ. এক্স রশ্মি
- গ. বিটা রশ্মি
- ঘ. গামা রশ্মি
উত্তর: খ. এক্স রশ্মি
এক্স রশ্মি (X-ray) ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা কাঠ, কাপড় বা চামড়ার মতো হালকা পদার্থ ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু ধাতু ও হাড়ে আটকে যায়। তাই নিরাপত্তা তল্লাশি ও গোয়েন্দা কাজে লুকানো অস্ত্র, বিস্ফোরক বা চোরাচালানের জিনিস এই রশ্মি দিয়ে খুঁজে বের করা হয়। ১৮৯৫ সালে উইলহেলম রন্টগেন এটি আবিষ্কার করেন।
মনে রাখুন:
চিকিৎসায় হাড় ভাঙা দেখতে এক্স-রে ব্যবহৃত হয়।
ক্যানসার চিকিৎসায় গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
বিমানবন্দর ও বড় ভবনে ব্যাগ স্ক্যানারে এক্স-রে ব্যবহৃত হয়, তাই ভেতরের জিনিস না খুলেই দেখা যায়। চোখের অলক্ষ্যে এভাবে অপরাধ ধরা পড়ে।
এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে ছবি তৈরি করে এবং গ্যাসকে আয়নিত করে। - ৫৪. আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবর্তক কে?দুদক-এর সহকারী পরিচালক, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- ক. নিউটন
- খ. হাইগেন
- গ. প্ল্যাঙ্ক
- ঘ. ম্যাক্সওয়েল
উত্তর: গ. প্ল্যাঙ্ক
১৯০০ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক (Max Planck) প্রস্তাব করেন যে আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তির প্যাকেটের আকারে নির্গত ও শোষিত হয়। এই প্যাকেটকে কোয়ান্টাম (Quantum) বলে। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে কোয়ান্টাম তত্ত্ব। প্ল্যাঙ্ক ১৯১৮ সালে নোবেল পুরস্কার পান। প্ল্যাঙ্কের এই ধারণার পরেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি নতুন শাখা শুরু হয়। পরে এই ধারণা ব্যবহার করে আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া এবং বোর পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করেন।
মনে রাখুন:
প্রতিটি কোয়ান্টামের শক্তি E = hν, যেখানে h প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক আর ν কম্পাঙ্ক।
আইনস্টাইন পরে আলোর কোয়ান্টামকে ফোটন নাম দেন। - ৫৫. ফটো-তড়িৎ প্রক্রিয়া কোন তত্ত্বের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়?গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট সহকারী পরিচালক (টেলিভিশন ও বেতার প্রকৌশলী), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- ক. তড়িৎ চৌম্বক তত্ত্ব
- খ. তরঙ্গ তত্ত্ব
- গ. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- ঘ. কণা তত্ত্ব
উত্তর: গ. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
ফটো-তড়িৎ প্রক্রিয়ায় ধাতুর ওপর আলো ফেললে ধাতু থেকে ইলেকট্রন বের হয়। আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের কম আলো যত উজ্জ্বলই হোক, ইলেকট্রন বের হয় না। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে দেখান যে আলো ফোটন নামের শক্তির প্যাকেট হিসেবে ধাতুতে আঘাত করে এবং ইলেকট্রন বের করে আনে। কণা তত্ত্বের প্রচলিত রূপ এই ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারেনি। কোয়ান্টাম তত্ত্বে ফোটনের শক্তির হিসাব আলাদা, যা এই পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মেলে।
মনে রাখুন:
এই কাজের জন্য আইনস্টাইন ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
ফটো-তড়িৎ ক্রিয়ায় ইলেকট্রন বের হতে আলোর একটি সর্বনিম্ন কম্পাঙ্ক, অর্থাৎ থ্রেশহোল্ড কম্পাঙ্ক লাগে। - ৫৬. নিম্নের কোন উক্তিটি ফোটনের ক্ষেত্রে সঠিক নয়?চাবি (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- ক. ফোটনের ভরবেগ ও শক্তি নেই
- খ. ফোটন কণা এবং তরঙ্গ উভয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে
- গ. শূন্য মাধ্যমে ফোটন আলোর বেগে চলে
- ঘ. ফোটনের ভর শূন্য
উত্তর: ক. ফোটনের ভরবেগ ও শক্তি নেই
ফোটন (Photon) হলো আলোর কোয়ান্টাম, অর্থাৎ আলোর শক্তির এক একটি ক্ষুদ্র প্যাকেট। এর স্থির ভর শূন্য, কিন্তু শক্তি আছে, যা E = hν সূত্রে পাওয়া যায়। ভর শূন্য হলেও ফোটনের ভরবেগ আছে, যার মান p = h/λ। তাই 'ফোটনের ভরবেগ ও শক্তি নেই' কথাটি সঠিক নয়। ফোটন কণা ও তরঙ্গ দুই ধর্মই দেখাতে পারে এবং শূন্যস্থানে আলোর বেগে চলে। এই কারণেই সূর্যের আলো কোনো বস্তুর ওপর পড়লে তা সামান্য চাপ দেয়, যাকে বিকিরণ চাপ বলে।
মনে রাখুন:
ফোটনের কোনো তড়িৎ আধান নেই।
ফোটনের শক্তি কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক। - ৫৭. Planck's Constant-এর মান কত?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীনে অধীক্ষক, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- ক. 6.55×10⁻²⁴ erg sec
- খ. 6.65×10⁻²⁷ erg sec
- গ. 6.72×10⁻²⁵ erg sec
- ঘ. 6.74×10⁻²⁶ erg sec
উত্তর: খ. 6.65×10⁻²⁷ erg sec
প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক (Planck's Constant) h হলো এমন একটি ধ্রুবক, যা ফোটনের শক্তি ও কম্পাঙ্কের সম্পর্ক ঠিক করে, E = hν। SI এককে এর মান 6.626 × 10⁻³⁴ জুল-সেকেন্ড। CGS এককে এটি 6.626 × 10⁻²⁷ আর্গ-সেকেন্ড। দেওয়া মানগুলোর মধ্যে এর সবচেয়ে কাছের মান 6.65 × 10⁻²⁷ erg·s। এই ধ্রুবক খুব ছোট বলে আমাদের দৈনন্দিন বড় জগতে কোয়ান্টাম প্রভাব চোখে পড়ে না। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধ্রুবক হিসেবে এটি আজও সব হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
১ জুল = 10⁷ আর্গ।
প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবকের একক কৌণিক ভরবেগের এককের সমান। - ৫৮. 'রন্টজেন' কিসের একক?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে ও রঞ্জন রশ্মি
- ক. এক্স-রে
- খ. লেন্সের ক্ষমতা
- গ. তেজস্ক্রিয়তা
- ঘ. দীপন ক্ষমতা
উত্তর: ক. এক্স-রে
রন্টজেন (Roentgen) হলো এক্স-রে ও গামা রশ্মির মতো আয়নায়নকারী বিকিরণের মাত্রা পরিমাপের একক। কোনো স্থানে বিকিরণ কতটা আছে, অর্থাৎ বাতাসকে কতটা আয়নিত করছে, এই একককে তা মাপা হয়। এক্স-রে আবিষ্কারক উইলহেলম রন্টজেনের নামেই এর নাম রাখা হয়েছে। এক্স-রে বা গামা রশ্মি বাতাসের পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ছুটিয়ে আয়ন তৈরি করে। সেই আয়ন থেকে যে চার্জ পাওয়া যায়, তা মেপেই বিকিরণের এই মাত্রা হিসাব করা হয়। এখন অবশ্য গ্রে (Gy) ও সিভার্ট (Sv) একক বেশি চলে।
মনে রাখুন:
তেজস্ক্রিয়তার একক বেকেরেল (Bq) ও কুরি (Ci)।
লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপটার (D)।
দীপন ক্ষমতার একক লাক্স (lux) ও ফুট ক্যান্ডেল।
এই সবকটির মধ্যে রন্টজেন একমাত্র বিকিরণ মাত্রার একক। - ৫৯. X-Ray উৎপাদনে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?বিসিএসআইআর-এর ল্যাব এটেনডেন্ট, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে ও রঞ্জন রশ্মি
- ক. গামা রশ্মি
- খ. আপতিত রশ্মি
- গ. ক্যাথোড রশ্মি
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. ক্যাথোড রশ্মি
এক্স-রে তৈরির যন্ত্রে একটি গরম ক্যাথোড থেকে ইলেকট্রন বের হয়। উচ্চ ভোল্টেজের কারণে এই ইলেকট্রনের স্রোতই ক্যাথোড রশ্মি (Cathode ray) হিসেবে খুব দ্রুত ছুটে গিয়ে একটি ধাতব লক্ষ্যবস্তুতে, যাকে অ্যানোড বা টার্গেট বলে, আঘাত করে। হঠাৎ থেমে যাওয়ার সময় ইলেকট্রনের শক্তি এক্স-রে হিসেবে বেরিয়ে আসে। কাজেই এক্স-রে তৈরিতে ক্যাথোড রশ্মিই ব্যবহার হয়, গামা রশ্মি নয়। মজার ব্যাপার হলো, নলের ভেতরে প্রায় বায়ুশূন্য অবস্থা রাখতে হয়, না হলে ইলেকট্রন বাতাসের কণার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে শক্তি হারিয়ে ফেলত।
মনে রাখুন:
টার্গেট হিসেবে সাধারণত টাংস্টেন ব্যবহার করা হয়, কারণ এর গলনাঙ্ক খুব বেশি।
এক্স-রে নলকে কুলিজ নল (Coolidge tube) বলে। - ৬০. ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে -ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরমাণুর গঠন
- ক. গামা রশ্মি
- খ. এক রশ্মি হিলিয়াম আয়ন
- গ. এক রশ্মি ইলেকট্রন
- ঘ. আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
উত্তর: গ. এক রশ্মি ইলেকট্রন
ক্যাথোড রশ্মি আসলে কোনো আলো নয়, এটি দ্রুত গতির ইলেকট্রনের স্রোত। বায়ুশূন্য কাচের নলে দুই প্রান্তে উচ্চ ভোল্টেজ দিলে ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার ক্যাথোড থেকে এই কণাগুলো ছুটে বের হয়। ১৮৯৭ সালে জে. জে. থমসন প্রমাণ করেন যে এরা ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, আর এভাবেই ইলেকট্রন আবিষ্কৃত হয়। আজকের পুরোনো টেলিভিশন বা কম্পিউটারের ক্যাথোড রশ্মি নল (CRT) এই নীতিতেই ছবি দেখাত। এই আবিষ্কারই পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন জানার প্রথম ধাপ।
মনে রাখুন:
ক্যাথোড রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্রে বেঁকে যায়, যা ঋণাত্মক চার্জের প্রমাণ।
আলফা কণা আসলে হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস, তবে তা ক্যাথোড রশ্মি নয়। - ৬১. দ্রুত গতিসম্পন্ন কোন কণিকাটি ধাতুকে আঘাত করলে এক্স-রে উৎপন্ন হয়?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে ও রঞ্জন রশ্মি
- ক. ইলেকট্রন
- খ. নিউটন
- গ. প্রোটন
- ঘ. অণু
উত্তর: ক. ইলেকট্রন
এক্স-রে যন্ত্রে ইলেকট্রনকে উচ্চ ভোল্টেজের সাহায্যে প্রচণ্ড গতি দেওয়া হয়। এই দ্রুত ইলেকট্রন কোনো ভারী ধাতুর পাতে ধাক্কা খেয়ে হঠাৎ থেমে গেলে তার গতিশক্তির কিছুটা এক্স-রে রূপে বেরিয়ে আসে। সুতরাং ইলেকট্রনই এখানে সেই কণিকা। প্রোটন বা অণুর এ কাজ করার কথা নয়, নিউটন আবার বলের একক, কোনো কণা নয়। এখানে ধাতুর পরমাণুর ভেতরের স্তরের ইলেকট্রন সরে গেলে সেই খালি জায়গা পূরণ করতে বাইরের স্তরের ইলেকট্রন নামে, আর এ সময়েও নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এক্স-রে বের হয়।
মনে রাখুন:
ইলেকট্রনের গতিশক্তি যত বেশি, এক্স-রের ভেদন ক্ষমতা তত বেশি।
এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট, প্রায় ০.০১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার। - ৬২. আসল হীরা চেনার উপায় কি?শ্রম অধিদপ্তরের অধীন শ্রম অফিসার, ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে ও রঞ্জন রশ্মি
- ক. এর ভিতর দিয়ে রঞ্জন রশ্মি যেতে পারে না
- খ. ইহা রঞ্জন রশ্মি শোষণ করে নেয়
- গ. এর ভিতর দিয়ে রঞ্জন রশ্মি যেতে পারে
- ঘ. ইহা উপরের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য দেখে
উত্তর: গ. এর ভিতর দিয়ে রঞ্জন রশ্মি যেতে পারে
হীরা কার্বন দিয়ে তৈরি, আর কার্বনের পরমাণু হালকা হওয়ায় এক্স-রে এর ভেতর দিয়ে অনায়াসে চলে যায়। কিন্তু নকল হীরা সাধারণত কাচ বা সীসা মেশানো পদার্থ থেকে বানানো হয়, যার ভারী পরমাণু এক্স-রে শোষণ করে নেয়। তাই পর্দায় আসল হীরা স্বচ্ছ আর নকল হীরা ছায়া হয়ে দেখা যায়। এ ছাড়া আসল হীরাকে অতিবেগুনি আলোতে ফেললে অনেক সময় নীল আভা দেখা যায়, আর নকল হীরায় তা হয় না।
মনে রাখুন:
হীরা কার্বনের একটি রূপভেদ (Allotrope), এটি প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
হীরার চাকচিক্য দেখে আসল-নকল বলা যায় না, কারণ কাচকেও কেটে ঝকঝকে করা যায়। - ৬৩. X-ray radiation প্রতিরোধ করতে একজন technician পরিধান করবে-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে ও রঞ্জন রশ্মি
- ক. iron apron
- খ. thick cotton apron
- গ. steel apron
- ঘ. lead apron
উত্তর: ঘ. lead apron
এক্স-রে আয়নায়ন ঘটিয়ে দেহকোষের ক্ষতি করে, তাই যাঁরা নিয়মিত এক্স-রে যন্ত্রের কাছে কাজ করেন, তাঁদের সুরক্ষা দরকার। এ জন্য সীসার তৈরি অ্যাপ্রন (lead apron) পরা হয়। সীসার ঘনত্ব ও পারমাণবিক সংখ্যা অনেক বেশি, ফলে এটি এক্স-রে ও গামা রশ্মিকে শোষণ করে দেহ পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না। লোহা, ইস্পাত বা মোটা সুতির কাপড় এই কাজে ততটা কার্যকর নয়। সীসার পাত যত পুরু হয়, সুরক্ষা তত ভালো হয়।
মনে রাখুন:
এক্স-রে কক্ষের দেয়ালেও সীসার পাত লাগানো থাকে।
বিকিরণকর্মীরা নিজের দেহে কতটা বিকিরণ লেগেছে তা মাপতে ডোসিমিটার ব্যবহার করেন। - ৬৪. মাদাম কুরি ছিলেন একজন-ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী পরিচিতি
- ক. কবি
- খ. সাহিত্যিক
- গ. অর্থনীতিবিদ
- ঘ. বৈজ্ঞানিক
উত্তর: ঘ. বৈজ্ঞানিক
মাদাম কুরি, পুরো নাম মারি স্ক্লোদোভস্কা কুরি, পোল্যান্ডে জন্মে ফ্রান্সে বিজ্ঞানের সাধনা করেছেন। স্বামী পিয়ের কুরির সঙ্গে মিলে তিনি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম মৌল আবিষ্কার করেন। তাঁর গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) শব্দটিও জনপ্রিয় হয়। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ১৯০৩ সালে এবং রসায়নে ১৯১১ সালে নোবেল পান। নিজের গবেষণার কাজ করতে গিয়ে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৯৩৪ সালে মারা যান।
মনে রাখুন:
মারি কুরি প্রথম নারী নোবেলজয়ী, আবার দুটি ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পাওয়া প্রথম ব্যক্তিও।
১৯০৩ সালের পদার্থবিজ্ঞান নোবেলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পিয়ের কুরি ও আঁরি বেকেরেল। - ৬৫. জুলিও কুরি একজন -BAEC-এর টেকনিশিয়ান (হেলপার), ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী পরিচিতি
- ক. কবি
- খ. সাহিত্যিক
- গ. বৈজ্ঞানিক
- ঘ. শিল্পী
উত্তর: গ. বৈজ্ঞানিক
জুলিও কুরি বা ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরি ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানী। তিনি মাদাম কুরির কন্যা ইরেন কুরিকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি ১৯৩৪ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা (Artificial radioactivity) আবিষ্কার করেন। এতে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আলফা কণা ছুড়ে তাঁরা তেজস্ক্রিয় ফসফরাস তৈরি করেছিলেন। এই কাজের জন্য ১৯৩৫ সালে দুজনে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর কাজ পরে পারমাণবিক শক্তি ও নিউক্লিয়ার বিভাজন গবেষণার পথ আরও সহজ করে দেয়। তাঁদের মেয়ে এবং জামাইও পরে বিজ্ঞানী হন।
মনে রাখুন:
কুরি পরিবারে মোট পাঁচটি নোবেল পুরস্কার এসেছে।
ইরেন ও ফ্রেডেরিক ছিলেন বিশ্ব শান্তি পরিষদেরও সক্রিয় সদস্য। - ৬৬. কোন মৌলটি রেডিয়েশন দেয়?BBAL'র ট্রাফিক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় পদার্থ
- ক. রেডিয়াম
- খ. বেরিয়াম
- গ. ক্যালসিয়াম
- ঘ. সোডিয়াম
উত্তর: ক. রেডিয়াম
রেডিয়াম (Ra) একটি তেজস্ক্রিয় মৌল, অর্থাৎ এর পরমাণুর নিউক্লিয়াস অস্থির এবং আপনা থেকেই ভেঙে গিয়ে আলফা, বিটা বা গামা বিকিরণ ছড়ায়। ১৮৯৮ সালে মারি ও পিয়ের কুরি পিচব্লেন্ড আকরিক থেকে এটি আলাদা করেন। বেরিয়াম, ক্যালসিয়াম আর সোডিয়াম এমন বিকিরণ দেয় না। রেডিয়ামের অর্ধায়ু প্রায় ১৬০০ বছর, তাই এর ক্ষয় ধীরে ধীরে চলে। সোডিয়াম ও ক্যালসিয়াম ধাতু এবং বেরিয়ামের স্বাভাবিক আইসোটোপ স্থিতিশীল, আর এ কারণেই এরা রেডিয়েশন ছড়ায় না। বেরিয়াম সালফেট নিরাপদ বলেই এক্স-রের সময় রোগীকে পান করানো হয়।
মনে রাখুন:
রেডিয়াম অন্ধকারে হালকা নীলচে আলো ছড়ায়, তাই আগে ঘড়ির কাঁটায় এর রং লাগানো হতো।
রেডিয়ামের ক্ষয়ে পরিশেষে সীসা তৈরি হয়। - ৬৭. নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের উদাহরণ?বাংলাদেশ ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্প করপোরেশন শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয় পদার্থ
- ক. বেনজিন
- খ. টলুইন
- গ. জাইলিন
- ঘ. রেডিয়াম
উত্তর: ঘ. রেডিয়াম
তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলতে সেসব পদার্থ বোঝায়, যাদের নিউক্লিয়াস অস্থির বলে নিজে থেকেই ভেঙে বিকিরণ ছাড়ে। রেডিয়াম (Radium) এমনই একটি মৌল। বেনজিন, টলুইন ও জাইলিন তিনটিই কার্বন ও হাইড্রোজেনের তৈরি জৈব যৌগ, এরা সুগন্ধি হাইড্রোকার্বন, তাই এদের নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল আর কোনো বিকিরণ দেয় না। রেডিয়ামের মতো আরও কিছু তেজস্ক্রিয় মৌল আছে, যেমন ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম। এগুলো থেকে বের হওয়া বিকিরণ অন্ধকারেও ফটোগ্রাফিক প্লেটকে কালো করে দিতে পারে, আর ঠিক এভাবেই বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা প্রথম ধরতে পেরেছিলেন।
মনে রাখুন:
প্রকৃতিতে পাওয়া তেজস্ক্রিয় মৌলের উদাহরণ ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম।
পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি প্রায় সব মৌলই তেজস্ক্রিয়। - ৬৮. রেডিও অ্যাকটিভ মৌল অনুসন্ধান করার যন্ত্র-প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. গাইগার মূলার কাউন্টার
- খ. ম্যানোমিটার
- গ. ক্রনমিটার
- ঘ. ওডোমিটার
উত্তর: ক. গাইগার মূলার কাউন্টার
গাইগার-মূলার কাউন্টার (Geiger-Müller counter) এমন একটি যন্ত্র, যা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ শনাক্ত ও পরিমাপ করে। এর নলের ভেতর কম চাপে গ্যাস ভরা থাকে। বিকিরণ ঢুকে সেই গ্যাসকে আয়নিত করলে সামান্য তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়, আর যন্ত্র তখন খট খট শব্দ করে বা সংখ্যা দেখায়। এভাবেই তেজস্ক্রিয় মৌলের উপস্থিতি ধরা পড়ে। সুতরাং খনিতে বা পরীক্ষাগারে কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আছে কি না তা জানতে গাইগার কাউন্টারই ভরসা। এই যন্ত্র হ্যান্স গাইগার ও ওয়াল্টার মূলার তৈরি করেছিলেন।
মনে রাখুন:
ম্যানোমিটার চাপ, ক্রনোমিটার সময় এবং ওডোমিটার গাড়ির অতিক্রান্ত দূরত্ব মাপে।
গাইগার কাউন্টার বিশেষ করে বিটা ও গামা বিকিরণ ধরতে ভালো কাজ করে। - ৬৯. রেডিও আইসোটোপ হচ্ছে এমন একটা আইসোটোপ যা -পাসপোর্ট এন্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. রেডিওতে ব্যবহৃত হয়
- খ. রেডিও তরঙ্গ তৈরি করে
- গ. তেজস্ক্রিয়
- ঘ. আলো তৈরি করে
উত্তর: গ. তেজস্ক্রিয়
কোনো মৌলের একই পারমাণবিক সংখ্যার কিন্তু ভিন্ন ভরসংখ্যার পরমাণুকে আইসোটোপ (Isotope) বলে। এদের মধ্যে যেসব আইসোটোপের নিউক্লিয়াস অস্থির হওয়ায় বিকিরণ ছাড়ে, তাদের রেডিও আইসোটোপ (Radioisotope) বা তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলা হয়। নামে 'রেডিও' থাকলেও এর সঙ্গে রেডিও যন্ত্র বা রেডিও তরঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন কার্বনের সাধারণ আইসোটোপ কার্বন-১২ স্থিতিশীল, কিন্তু কার্বন-১৪ তেজস্ক্রিয়, তাই কার্বন-১৪ একটি রেডিও আইসোটোপ। রেডিও আইসোটোপ থেকে বের হওয়া বিকিরণ ধরার জন্য গাইগার কাউন্টার ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
কার্বন-১৪, আয়োডিন-১৩১ ও কোবাল্ট-৬০ বিখ্যাত রেডিও আইসোটোপ।
চিকিৎসা, কৃষি ও কার্বন-ডেটিংয়ে এদের ব্যবহার আছে। - ৭০. দেহের হাড় বৃদ্ধি নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি.-এর প্ল্যানিং অ্যাসিস্টেন্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিকিরণের ব্যবহার
- ক. আয়োডিন ১৩১
- খ. কোবাল্ট ৬০
- গ. টেকনিশিয়াম ৯৯
- ঘ. ফসফরাস ৩২
উত্তর: গ. টেকনিশিয়াম ৯৯
টেকনিশিয়াম-৯৯ম (Tc-99m) হলো চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রেডিও আইসোটোপ। এটি রোগীর দেহে অল্প মাত্রায় প্রবেশ করালে হাড় বা অঙ্গের ওপর জমে গামা রশ্মি ছাড়ে, আর বিশেষ ক্যামেরায় হাড়ের বৃদ্ধি ও ক্ষত শনাক্ত করা যায়। এর অর্ধায়ু প্রায় ৬ ঘণ্টা, ফলে দেহে ক্ষতি করার আগেই বিকিরণ কমে যায়। এটি তৈরি হয় মলিবডেনাম-৯৯ নামের আরেকটি আইসোটোপের ক্ষয় থেকে। সুতরাং হাড়ের রোগ ধরতে এটিই বেশি কার্যকর।
মনে রাখুন:
আয়োডিন-১৩১ থাইরয়েডের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় লাগে।
ফসফরাস-৩২ রক্তের কোষ ও কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
কোবাল্ট-৬০ ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। - ৭১. উন্নত প্রজাতির বীজ তৈরীতে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?মেডিক্যাল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিকিরণের ব্যবহার
- ক. এক্স-রে
- খ. রেডিও আইসোটোপ
- গ. লেজার রশ্মি
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: খ. রেডিও আইসোটোপ
রেডিও আইসোটোপের বিকিরণ বীজের জিনে পরিবর্তন (Mutation) ঘটাতে পারে। বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় এই বিকিরণ বীজে ফেলে বেছে নেন সেই গাছ, যার ফলন বেশি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। এভাবে উন্নত প্রজাতির ধান, গম, পাট ইত্যাদির জাত তৈরি হয়েছে। এই কাজে সাধারণত কোবাল্ট-৬০ থেকে আসা গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়। রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে বিকিরণ দিয়ে পোকামাকড়ের বন্ধ্যাত্বও ঘটানো যায়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এই পদ্ধতিতে অনেক উন্নত ফসলের জাত বের করেছে।
ফসফরাস-৩২ দিয়ে গাছ সার কতটা শোষণ করে তা-ও মাপা যায়। - ৭২. একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ২০০ বছর। মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?DMLC'র জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধায়ু
- ক. ১৫০
- খ. ৩০০
- গ. ৪০০
- ঘ. ৪৫০
উত্তর: গ. ৪০০
অর্ধায়ু (Half life) হলো এমন সময়, যে সময়ে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয় হয়ে যায়। ধরা যাক শুরুতে ১০০ ভাগ আছে। ২০০ বছর পর ৫০ ভাগ, আরও ২০০ বছর পর ২৫ ভাগ বাকি থাকে। অর্থাৎ ২ অর্ধায়ুতে ৭৫% ক্ষয় হয় এবং মোট সময় লাগে 2 × 200 = 400 বছর। এ ধরনের অঙ্কে প্রথমে দেখতে হবে কত অংশ বাকি আছে। ৭৫% ক্ষয় মানে বাকি ২৫%, অর্থাৎ ১/৪ ভাগ, আর ১/৪ = (১/২)², তাই n = ২।
মনে রাখুন:
সূত্র: N = N₀ (½)ⁿ, যেখানে n হলো অর্ধায়ুর সংখ্যা।
অর্ধায়ু তাপমাত্রা বা চাপের ওপর নির্ভর করে না। - ৭৩. Carbon-14 রেডিও আইসোটোপের অর্ধায়ু -তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ১৯৯৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধায়ু
- ক. 3680 বছর
- খ. 5568 বছর
- গ. 1283 বছর
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. 5568 বছর
কার্বন-১৪ (C-14) একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। জীবিত প্রাণী ও উদ্ভিদ বাতাস ও খাবার থেকে এটি গ্রহণ করে, কিন্তু মারা গেলে গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায় আর জমা থাকা C-14 ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। আগের হিসাবে এর অর্ধায়ু ৫৫৬৮ বছর ধরা হয়, তবে আধুনিক মানে এটি প্রায় ৫৭৩০ বছর। ক্ষয়ের হার মেপে প্রাচীন জীবাশ্ম বা কাঠের বয়স বের করা যায়, একে কার্বন ডেটিং বলে।
মনে রাখুন:
কার্বন ডেটিং প্রায় ৫০,০০০ বছর পর্যন্ত পুরোনো জৈব নমুনার বয়স নির্ণয়ে কাজ করে।
ইউরেনিয়াম-লেড পদ্ধতিতে শিলার বয়স বের করা হয়। - ৭৪. Half life of Uranium-238 is -ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরে সহকারী ভূরসায়নবিদ, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধায়ু
- ক. 82,000 years
- খ. 4,510,000,000 years
- গ. 269,000 years
- ঘ. A few seconds
উত্তর: খ. 4,510,000,000 years
ইউরেনিয়াম-২৩৮ (U-238) প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের সবচেয়ে প্রচুর আইসোটোপ। এর অর্ধায়ু প্রায় ৪৫১ কোটি বছর (4,510,000,000 years), যা প্রায় পৃথিবীর বয়সের কাছাকাছি। তাই পৃথিবী সৃষ্টির সময়ের ইউরেনিয়ামের প্রায় অর্ধেক এখনও আছে। ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে এটি শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল সীসা-২০৬ হয়ে যায়। ইউরেনিয়াম ভারী ও তেজস্ক্রিয় মৌল, যার পারমাণবিক সংখ্যা ৯২। এটি প্রকৃতিতে প্রধানত পিচব্লেন্ড নামের আকরিক থেকে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ২৩৮ আইসোটোপই প্রায় ৯৯.৩ শতাংশ থাকে।
মনে রাখুন:
ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর অর্ধায়ু প্রায় ৭০ কোটি বছর।
ইউরেনিয়াম-লেড অনুপাত মেপে পৃথিবীর শিলা ও উল্কার বয়স হিসাব করা হয়। - ৭৫. আলফা কণার বৈশিষ্ট্য কোনটি?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলফা, বিটা ও গামা
- ক. ভর সংখ্যা দুই
- খ. দুটি প্রোটন ও দুটি ইলেকট্রন আছে
- গ. খুব ধীরগতিসম্পন্ন কণা
- ঘ. ধনাত্মক চার্জিত কণা
উত্তর: ঘ. ধনাত্মক চার্জিত কণা
আলফা (α) কণা আসলে হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস, যার মধ্যে ২টি প্রোটন ও ২টি নিউট্রন আছে। প্রোটন ধনাত্মক আর নিউট্রন চার্জহীন, তাই পুরো কণাটি +২ চার্জযুক্ত ধনাত্মক কণা। এর ভরসংখ্যা ৪, অর্থাৎ দুই নয়। এটি ইলেকট্রন বহন করে না এবং বেশ ধীর হলেও খুব ভারী। আলফা কণা ইলেকট্রন ধরে নিলে হিলিয়াম পরমাণু হয়ে যায়। রাদারফোর্ডের বিখ্যাত স্বর্ণপাত পরীক্ষায় এই কণাই ব্যবহার হয়েছিল।
মনে রাখুন:
আলফা কণার আয়নায়ন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে কম।
এক টুকরো কাগজ বা চামড়ার বাইরের স্তর আলফা কণা আটকে দিতে পারে। - ৭৬. কোনটি α কণা?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলফা, বিটা ও গামা
- ক. 1 neutron and 1 proton
- খ. 2 neutron and 2 proton
- গ. 1 neutron and 2 proton
- ঘ. 2 neutron and 1 proton
উত্তর: খ. 2 neutron and 2 proton
আলফা কণা (α particle) হলো হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াস। এতে দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন একসঙ্গে থাকে, তাই একে ⁴₂He² বলে লেখা হয়। এর ভরসংখ্যা ২ + ২ = ৪ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ২। অন্য বিকল্পগুলোর কোনোটিই হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মেলে না। নিউক্লিয়াসের এই চারটি কণাকে একত্রে ধরে রাখে প্রবল নিউক্লিয় বল। পরমাণুর নিউক্লিয়াস যে ছোট ও ঘন, রাদারফোর্ড আলফা কণার বিক্ষেপণ দেখেই তা বুঝতে পেরেছিলেন।
মনে রাখুন:
কোনো পরমাণু আলফা কণা ছাড়লে তার ভরসংখ্যা ৪ ও পারমাণবিক সংখ্যা ২ কমে যায়।
আর্নেস্ট রাদারফোর্ড আলফা কণা ছুড়ে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। - ৭৭. যখন একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে একটি বিটা কণা নির্গত হয়, তখন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২২-২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলফা, বিটা ও গামা
- ক. পারমাণবিক সংখ্যা এক কমে যায়
- খ. ভর সংখ্যা এক কমে যায়
- গ. পারমাণবিক সংখ্যা এক বেড়ে যায়
- ঘ. ভর সংখ্যা এক বেড়ে যায়
উত্তর: গ. পারমাণবিক সংখ্যা এক বেড়ে যায়
বিটা (β) ক্ষয়ে নিউক্লিয়াসের একটি নিউট্রন ভেঙে একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন তৈরি হয়। এই ইলেকট্রনই বিটা কণা হিসেবে বেরিয়ে যায়, আর প্রোটনটি নিউক্লিয়াসে থেকে যায়। ফলে প্রোটনের সংখ্যা ১টি বাড়ে, অর্থাৎ পারমাণবিক সংখ্যা ১ বেড়ে যায়। ইলেকট্রনের ভর নগণ্য বলে ভরসংখ্যা একই থাকে। বিটা কণার গতি আলোর গতির প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিটা ক্ষয়ে যে ইলেকট্রন বের হয়, সে ইলেকট্রন পরমাণুর বাইরের কক্ষপথের নয়, বরং নিউক্লিয়াসের ভেতরেই তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
আলফা কণা ছাড়লে পারমাণবিক সংখ্যা ২ ও ভরসংখ্যা ৪ কমে।
গামা রশ্মি ছাড়লে এ দুটির কোনোটিই বদলায় না। - ৭৮. নিচের কোন রশ্মির চার্জ ও ভর নেই?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী শ্রম অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলফা, বিটা ও গামা
- ক. আলফা (α)
- খ. বিটা (β)
- গ. গামা (γ)
- ঘ. পজিট্রন
উত্তর: গ. গামা (γ)
গামা (γ) রশ্মি আসলে খুব ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, কোনো কণা নয়। তাই এর ভর বা চার্জ কিছুই নেই। আলফা কণা ধনাত্মক চার্জযুক্ত, বিটা কণা ঋণাত্মক চার্জযুক্ত আর পজিট্রনও চার্জবিশিষ্ট কণা, তাই এদের চার্জ ও ভর দুটোই আছে। গামা রশ্মির বিকিরণ প্রায়ই আলফা বা বিটা ক্ষয়ের পরে ঘটে, যখন নতুন নিউক্লিয়াস উত্তেজিত অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসে। কাজেই বিকল্পের মধ্যে একমাত্র গামা রশ্মিই চার্জহীন ও ভরহীন।
মনে রাখুন:
গামা রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রে বেঁকে যায় না।
গামা রশ্মির গতি আলোর গতির সমান, প্রায় ৩ × 10⁸ m/s। - ৭৯. কোন রশ্মির ভেদন (অনুপ্রবেশ) ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ ও BMET'র ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলফা, বিটা ও গামা
- ক. আলফা
- খ. বিটা
- গ. গামা
- ঘ. সবগুলির সমান
উত্তর: গ. গামা
তিন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মির মধ্যে গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা (Penetrating power) সবচেয়ে বেশি। এর কারণ হলো গামা রশ্মির কোনো ভর বা চার্জ নেই, ফলে পদার্থের পরমাণুর সঙ্গে খুব কম বাধা পায়। তাই এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত পর্যন্ত ভেদ করতে পারে। আলফা কণা একটি কাগজেই থেমে যায়, আর বিটা কণাকে পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের পাত আটকে দেয়। সুতরাং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করার সময় গামা রশ্মি থেকেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়।
মনে রাখুন:
ভেদন ক্ষমতা: গামা > বিটা > আলফা।
আয়নায়ন ক্ষমতা ঠিক উল্টো: আলফা > বিটা > গামা। - ৮০. কোন দেশে আলবার্ট আইনস্টাইন জন্মগ্রহণ করেন?NSI-এর জুনিয়র ফিল্ড অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. ইংল্যান্ড
- খ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- গ. জার্মানি
- ঘ. ফ্রান্স
উত্তর: গ. জার্মানি
আলবার্ট আইনস্টাইন ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির উল্ম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা ও চাকরি করেন। ১৯৩৩ সালে নাৎসি শাসনের সময় জার্মানি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখানেই ১৯৫৫ সালে মারা যান। তাই তিনি জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করলেও শেষ জীবন কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন। শিশুবয়সে কথা বলতে তাঁর কিছুটা দেরি হয়েছিল, আবার পরবর্তী জীবনে তিনি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পান।
মনে রাখুন:
১৯২১ সালে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য আইনস্টাইন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
১৯০৫ সালকে তাঁর 'অলৌকিক বছর' বলা হয়। - ৮১. 'Imagination is more important than knowledge' কার উক্তি?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (খ ইউনিট) ভর্তি, ১৯৯৯-০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. উইনস্টন চার্চিল
- গ. আলবার্ট আইনস্টাইন
- ঘ. এরিস্টটল
উত্তর: গ. আলবার্ট আইনস্টাইন
'Imagination is more important than knowledge' বা 'জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ' কথাটি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের। তাঁর মতে জ্ঞান শুধু আমরা যা জানি তার মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু কল্পনা সারা পৃথিবীকে জড়িয়ে ধরে এবং নতুন আবিষ্কারের পথ খুলে দেয়। নিজের অনেক তত্ত্বই তিনি আগে মনে মনে কল্পনা করে ভেবে নিয়েছিলেন, যেমন আলোর রশ্মির সঙ্গে ছুটলে কী হবে। তাই বলা যায়, বিজ্ঞানে নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য শুধু বই পড়লেই চলে না, কল্পনাশক্তিও লাগে।
মনে রাখুন:
আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব দেন ১৯০৫ সালে এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব দেন ১৯১৫ সালে।
তাঁর বিখ্যাত সমীকরণ E = mc²। - ৮২. আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (The theory of Relativity) এর প্রণেতা-GDA-এর ইমারত পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. আইজ্যাক নিউটন
- খ. আলবার্ট আইনস্টাইন
- গ. চার্লস ডারউইন
- ঘ. আঁদ্রে শাখারভ
উত্তর: খ. আলবার্ট আইনস্টাইন
আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) দিয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯০৫ সালে তিনি বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং ১৯১৫ সালে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রকাশ করেন। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো স্থান ও সময় পরম নয়, পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে। নিউটন মহাকর্ষের সূত্র দিয়েছিলেন, ডারউইন বিবর্তনবাদ, আর শাখারভ হাইড্রোজেন বোমার জন্য পরিচিত। ১৯১৯ সালে সূর্যগ্রহণের সময় তারার আলো সূর্যের পাশ দিয়ে বেঁকে আসতে দেখে তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয়।
মনে রাখুন:
শূন্যস্থানে আলোর বেগ সব পর্যবেক্ষকের কাছেই সমান।
সাধারণ আপেক্ষিকতায় মহাকর্ষকে স্থান-কালের বক্রতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। - ৮৩. আপেক্ষিকতাবাদের আবিষ্কারক কে?প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. গ্যালিলিও
- খ. ডারউইন
- গ. নিউটন
- ঘ. আইনস্টাইন
উত্তর: ঘ. আইনস্টাইন
আপেক্ষিকতাবাদের প্রবর্তক বা প্রণেতা হলেন আইনস্টাইন। ১৯০৫ সালে তাঁর বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রকাশিত হয়, যা বলে যে আলোর বেগ সব পর্যবেক্ষকের কাছে একই, আর গতিশীল ঘড়ি ধীরে চলে। গ্যালিলিও আগে আপেক্ষিক গতির ধারণা দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু আপেক্ষিকতাবাদ বলতে আইনস্টাইনের তত্ত্বকেই বোঝায়। ডারউইন জীববিজ্ঞানী আর নিউটন বলবিদ্যা ও মহাকর্ষের জন্য বিখ্যাত। আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুযায়ী স্থান ও সময় মিলে একটি যৌথ কাঠামো তৈরি করে, যাকে স্থান-কাল বলা হয়।
মনে রাখুন:
সময় দীর্ঘায়ন ও দৈর্ঘ্য সংকোচন আপেক্ষিকতার বিখ্যাত ফল।
সাধারণ আপেক্ষিকতার জন্য আইনস্টাইন নোবেল পাননি, পেয়েছেন আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার জন্য। - ৮৪. E= mc² সূত্রের আবিষ্কারক-নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অফিস সহায়ক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভর-শক্তি সমীকরণ
- ক. গ্যালিলিও
- খ. কোপার্নিকাস
- গ. আর্কিমিডিস
- ঘ. আইনস্টাইন
উত্তর: ঘ. আইনস্টাইন
E = mc² সমীকরণটি আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে তাঁর বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অংশ হিসেবে দেন। এখানে E হলো শক্তি, m হলো ভর এবং c হলো শূন্যস্থানে আলোর বেগ। সমীকরণ বলে যে ভর আর শক্তি আসলে একই জিনিসের দুটি রূপ, আর সামান্য ভরের বদলে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়। কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক মডেল, গ্যালিলিও টেলিস্কোপ, আর আর্কিমিডিস প্লবতার সূত্র দিয়েছিলেন। সমীকরণটি ঠিক আছে কি না, তা পরে পারমাণবিক বিক্রিয়ায় ভরের ঘাটতি মেপে যাচাই করা হয়েছে।
মনে রাখুন:
c-এর মান প্রায় ৩ × 10⁸ m/s।
পারমাণবিক বোমা ও সূর্যের শক্তির পেছনে এই সম্পর্কের ভূমিকা আছে। - ৮৫. E = mc² কোন থিওরির একটি ফর্মূলা?সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি), ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. বসু-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান
- খ. আইনস্টাইনের থিউরি অব রিলেটিভিটি
- গ. বিগ ব্যাং থিউরী
- ঘ. রোজারের সিংগুলারিটি থিওরী
উত্তর: খ. আইনস্টাইনের থিউরি অব রিলেটিভিটি
E = mc² সমীকরণটি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের (Theory of Relativity) একটি সূত্র, যা ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিকতার অংশ হিসেবে এসেছিল। এখানে ভর মানে শক্তির জমাট রূপ। বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান মূলত কণার আচরণ নিয়ে, বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে এবং সিংগুলারিটি মহাকর্ষের এক ধরনের গাণিতিক বিন্দু নিয়ে কথা বলে। কাজেই এর সঠিক উত্তর আপেক্ষিকতার তত্ত্ব। অন্য তত্ত্বগুলোর সঙ্গে এই সূত্রের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন:
এই সমীকরণ থেকেই বোঝা যায় নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় ভরের সামান্য ক্ষতি বিপুল শক্তি তৈরি করে।
ভর ক্ষতিকে ভর ত্রুটি (Mass defect) বলে। - ৮৬. আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র হলো-সাব-রেজিস্ট্রার, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভর-শক্তি সমীকরণ
- ক. E = mc
- খ. E = m²c²
- গ. E = mc²
- ঘ. E = ½m²c²
উত্তর: গ. E = mc²
আইনস্টাইনের ভর ও শক্তির সমতার সূত্রটি হলো E = mc²। এর অর্থ, কোনো বস্তুর ভর m হলে তাকে সম্পূর্ণ শক্তিতে বদলালে E = m × c² পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়, যেখানে c হলো আলোর বেগ। c-এর মান অনেক বড় এবং বর্গ হয়ে আরও বড় হয়, তাই সামান্য ভরের বিনিময়েই বিপুল শক্তি পাওয়া যায়। অন্য বিকল্পগুলোর কোনোটির মাত্রা ঠিক নয়।
মনে রাখুন:
১ কিলোগ্রাম ভর পুরোপুরি শক্তি হলে প্রায় 9 × 10¹⁶ জুল শক্তি পাওয়া যায়।
এই সূত্র বোমা ও রিয়্যাক্টরের শক্তির হিসাবে কাজে লাগে। - ৮৭. বস্তুর আপেক্ষিক ভর কে আবিষ্কার করেন?আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. বৈজ্ঞানিক ডাল্টন
- খ. বৈজ্ঞানিক আর্কিমিডিস
- গ. গ্যালিলিও
- ঘ. বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন
উত্তর: ঘ. বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন
নিউটনের বলবিদ্যায় বস্তুর ভর সব অবস্থায় একই ধরা হতো। কিন্তু আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্বে দেখান যে বস্তুর গতি যত বাড়ে, পর্যবেক্ষকের কাছে তার ভরও তত বাড়ে। একে আপেক্ষিক ভর (Relativistic mass) বলা হয়। আলোর বেগের কাছাকাছি গেলে এই বৃদ্ধি খুব বেশি হয়। ডাল্টন পরমাণুবাদ, আর্কিমিডিস প্লবতা এবং গ্যালিলিও গতির সূত্র নিয়ে কাজ করেছিলেন। সূত্র হিসেবে, গতি বাড়লে ভর বাড়ে এই ধারণা আইনস্টাইনের।
মনে রাখুন:
কোনো বস্তুর পক্ষে আলোর বেগে পৌঁছানো সম্ভব নয়, কারণ তখন তার ভর অসীম হয়ে যেত।
প্রতিদিনের গতিতে এই পরিবর্তন এত ছোট যে চোখে পড়ে না। - ৮৮. নিউটনিয়ান বলবিদ্যা অনুসারে কোনটি ধ্রুব নয়?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইনস্টাইন ও আপেক্ষিকতা
- ক. ভর
- খ. স্থান
- গ. সময়
- ঘ. ভরবেগ
উত্তর: ঘ. ভরবেগ
নিউটনের বলবিদ্যায় ভর, স্থান ও সময় তিনটিকেই ধ্রুব বা পরম ধরা হয়, অর্থাৎ পর্যবেক্ষক যেভাবেই চলুক এদের মান বদলায় না। কিন্তু ভরবেগ (Momentum) হলো ভর ও বেগের গুণফল, তাই বস্তুর বেগ বদলালে ভরবেগও বদলে যায়। ফলে নিউটনের বলবিদ্যা অনুসারে ভরবেগ ধ্রুব নয়, তবে বাইরে থেকে বল না লাগলে সামগ্রিক ভরবেগ সংরক্ষিত থাকে। নিউটনের মতে একটি পরম সময় আছে, যা বিশ্বজুড়ে একই গতিতে চলে, আর স্থানও পরম।
মনে রাখুন:
ভরবেগ P = mv, এর একক kg·m/s।
আইনস্টাইনের তত্ত্বে ভর, স্থান ও সময়ও পর্যবেক্ষকের গতির ওপর নির্ভর করে। - ৮৯. বোস- আইনস্টাইন তত্ত্বের সত্যেন বসু প্রথম জীবনে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন?জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (আই ইউনিট) ভর্তি, ২০১৮-১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী পরিচিতি
- ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের রিডার হিসেবে যোগ দেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই ১৯২৪ সালে তিনি আলোর কণা ফোটনের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখে আইনস্টাইনের কাছে পাঠান। আইনস্টাইন সেটি নিজে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে ছাপান। এরপর থেকে বসুর তত্ত্ব আর আইনস্টাইনের কাজ মিলে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান নামে পরিচিত হয়। পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান, কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ ঢাকায় থাকার সময়েরই।
মনে রাখুন:
এই পরিসংখ্যান যেসব কণা মেনে চলে, তাদের বোসন বলে।
পদার্থবিজ্ঞানীর সম্মানে ফোটন, গ্লুয়ন ইত্যাদি কণাকে বোসন নাম দেওয়া হয়েছে। - ৯০. সূর্যের মধ্যে ফিউশন বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে কোনটি তৈরি হয়?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয় ফিউশন
- ক. neon
- খ. helium
- গ. oxygen
- ঘ. nitrogen
উত্তর: খ. helium
সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর চাপও প্রচণ্ড। এই অবস্থায় হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস একত্র হয়ে হিলিয়াম (helium) নিউক্লিয়াস তৈরি করে। একে ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া বলে। বিক্রিয়ার সময় কিছু ভর শক্তিতে বদলে যায় (E = mc²), আর এই শক্তিই আলো ও তাপ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। নিয়ন, অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন এই প্রক্রিয়ার প্রধান ফল নয়। প্রতি সেকেন্ডে সূর্যের ভেতরে কোটি কোটি টন হাইড্রোজেন এভাবে হিলিয়ামে বদলে যায়।
মনে রাখুন:
সূর্যের প্রায় ৭৩ শতাংশ হাইড্রোজেন ও ২৫ শতাংশ হিলিয়াম।
হাইড্রোজেন বোমাও এই ফিউশন বিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে তৈরি। - ৯১. সূর্যের পারমাণবিক বিকিরণের মূল উৎস হলো -পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয় ফিউশন
- ক. নিরবিচ্ছিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া
- খ. অতি উচ্চ তাপমাত্রায় সূর্যের পদার্থ উত্তপ্ত হওয়া
- গ. হাল্কা পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতি
- ঘ. ভারী পরমাণুর ফিশন পদ্ধতি
উত্তর: গ. হাল্কা পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতি
সূর্যের শক্তির উৎস হলো নিউক্লিয় ফিউশন (Nuclear fusion), অর্থাৎ হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াস একত্র হয়ে ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করা। সূর্যের ভেতরের প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস মিলে হিলিয়াম হয়, আর বিপুল শক্তি বের হয়। কেবল রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বা শুধু উত্তপ্ত হয়ে এত শক্তি বহু বছর ধরে পাওয়া সম্ভব হতো না। ভারী পরমাণুর ভাঙনকে বলে ফিশন, তা সূর্যে প্রধান নয়। এ কারণেই সূর্য কোটি কোটি বছর ধরে আলো ও তাপ দিয়ে যাচ্ছে।
মনে রাখুন:
ফিউশন: হালকা নিউক্লিয়াস জোড়া লাগে (সূর্য, হাইড্রোজেন বোমা)।
ফিশন: ভারী নিউক্লিয়াস ভাঙে (পারমাণবিক চুল্লি, এটম বোমা)। - ৯২. ১৯৩২ সালে যে দুজন বিজ্ঞানী অ্যাটমকে কৃত্রিম উপায়ে ভাগ করেছিলেন, তাদের নাম -পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, (সহকারী পরিচালক), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বিক্রিয়া
- ক. স্টেম ফ্লেমিং এবং জন কক্ক্রফট
- খ. স্টেম ফ্লেমিং ও টমাস বুন
- গ. আর্নেস্ট ওয়ালটন ও জন কক্ক্রফট
- ঘ. স্টেম ফ্লেমিং ও আর্নেস্ট ওয়ালটন
উত্তর: গ. আর্নেস্ট ওয়ালটন ও জন কক্ক্রফট
১৯৩২ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন কক্ক্রফট (John Cockcroft) এবং আয়ারল্যান্ডের আর্নেস্ট ওয়ালটন (Ernest Walton) ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরিতে কণা ত্বরক ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম উপায়ে পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভাঙেন। তাঁরা দ্রুত গতির প্রোটন দিয়ে লিথিয়ামকে আঘাত করেন, ফলে দুটি আলফা কণা তৈরি হয়। এই কাজের জন্য ১৯৫১ সালে তাঁরা যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁদের এই কাজের ফলে প্রমাণিত হয় যে পরমাণু অবিভাজ্য নয় এবং কণা ত্বরকের সাহায্যে নিউক্লিয়াস ভাঙা সম্ভব।
মনে রাখুন:
১৯১৯ সালে রাদারফোর্ড নাইট্রোজেনকে আলফা কণা দিয়ে আঘাত করে প্রথম কৃত্রিম রূপান্তর ঘটান।
১৯৩২ সালেই জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। - ৯৩. ফিশন (Fission) প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড শক্তি উৎপাদিত হয়গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয় ফিশন
- ক. হাইড্রোজেন বোমা
- খ. এটম বোমা
- গ. সূর্য
- ঘ. নভোরশ্মি
উত্তর: খ. এটম বোমা
ফিশন (Fission) মানে ভাঙন। ইউরেনিয়াম-২৩৫ বা প্লুটোনিয়ামের মতো ভারী নিউক্লিয়াসে একটি নিউট্রন আঘাত করলে নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস তৈরি হয়, সঙ্গে আরও নিউট্রন ও প্রচুর শক্তি বের হয়। নতুন নিউট্রনগুলো আবার অন্য নিউক্লিয়াস ভাঙে, এভাবে শিকল বিক্রিয়া (Chain reaction) চলতে থাকে। এটম বোমায় এই শিকল বিক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘটে। সূর্য ও হাইড্রোজেন বোমায় ঘটে ফিউশন। এ কারণেই বিস্ফোরণের সঙ্গে প্রচণ্ড তাপ ও বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে। তাই ফিশনকে সংক্ষেপে নিউক্লিয়াস ভাঙার বিক্রিয়া বলা যায়।
মনে রাখুন:
পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন নিয়ন্ত্রিতভাবে চলে।
১৯৩৮ সালে ওটো হান ও ফ্রিৎস স্ট্রাসম্যান ফিশন আবিষ্কার করেন। - ৯৪. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লারের পরিবর্তে কি থাকে?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. প্রাইম মুভার
- খ. ট্রান্সফরমার
- গ. জেনারেটর
- ঘ. রিয়েক্টর
উত্তর: ঘ. রিয়েক্টর
কয়লা বা গ্যাসের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারে জ্বালানি পুড়িয়ে পানিকে বাষ্প করা হয়, আর সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারের জায়গায় থাকে রিয়্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লি। এর ভেতর ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়ায় যে তাপ তৈরি হয়, তা দিয়েই বাষ্প তৈরি হয়। এরপরের ধাপগুলো সবই আগের মতো। কাজেই পারমাণবিক কেন্দ্র আর সাধারণ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পার্থক্য তাপ তৈরির উৎসে, অর্থাৎ রাসায়নিক জ্বলনের বদলে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনার রূপপুরে হচ্ছে।
রূপপুর কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত VVER ধরনের। - ৯৫. নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরে ক্যাডমিয়াম দণ্ড ব্যবহার হয় যাতে -মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ ও গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট সহকারী পরিচালক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. অতি দ্রুত শক্তি উৎপাদন করা হয়
- খ. বেশি সংখ্যক পরমাণু ভাঙ্গে
- গ. বিক্রিয়ার তাপমাত্রা শোষিত হয়
- ঘ. অধিকাংশ নিউট্রন শোষিত হয়
উত্তর: ঘ. অধিকাংশ নিউট্রন শোষিত হয়
পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়ার শিকল চলে নিউট্রনের মাধ্যমে। যদি নিউট্রনের সংখ্যা বেশি বেড়ে যায়, বিক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই ক্যাডমিয়াম (Cd) বা বোরনের দণ্ড চুল্লিতে ঢুকিয়ে অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করা হয়। এসব দণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ দণ্ড (Control rod) বলে। এগুলো ওঠানামা করে বিক্রিয়ার গতি ঠিক রাখা হয়। চুল্লি জরুরি অবস্থায় বন্ধ করতে চাইলে এসব দণ্ড পুরোপুরি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, ফলে নিউট্রন প্রায় সবই শোষিত হয়ে বিক্রিয়া থেমে যায়।
মনে রাখুন:
মডারেটর নিউট্রনের গতি কমায়, যেমন গ্রাফাইট বা ভারী পানি।
কুল্যান্ট চুল্লি থেকে তাপ বের করে আনে, যেমন পানি। - ৯৬. কোনটি পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?মৎস্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক চুল্লি
- ক. গ্রাফাইট
- খ. স্টিল
- গ. কয়লা
- ঘ. সীসা
উত্তর: ক. গ্রাফাইট
ফিশনে যে নিউট্রন বের হয়, তা খুব দ্রুতগামী। কিন্তু ইউরেনিয়াম-২৩৫ ধীর নিউট্রনকে সহজে গ্রহণ করে ভাঙে। তাই চুল্লিতে নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য মডারেটর (Moderator) ব্যবহার করা হয়। গ্রাফাইট (কার্বনের একটি রূপ) এমন একটি মডারেটর, যা নিউট্রন শোষণ না করে শুধু ধাক্কা দিয়ে গতি কমিয়ে দেয়। ভারী পানি (D₂O) ও বেরিলিয়ামও মডারেটর। কয়লা, স্টিল বা সীসা এই কাজে লাগে না। নিউট্রনের গতি কমানোর এই ধাপ না থাকলে শিকল বিক্রিয়া ঠিকমতো চালিয়ে রাখা কঠিন হতো।
মনে রাখুন:
প্রথম পারমাণবিক চুল্লি শিকাগোতে এনরিকো ফের্মির নেতৃত্বে ১৯৪২ সালে চালু হয়েছিল।
সেই চুল্লিতেও গ্রাফাইট মডারেটর ছিল। - ৯৭. ইউরেনিয়ামের আইসোটোপ কোনটি?শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন কারিগরি শিক্ষা জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ²³⁴U
- খ. ²³⁵U
- গ. ²³⁸U
- ঘ. সবগুলোই
উত্তর: ঘ. সবগুলোই
কোনো মৌলের একই প্রোটন সংখ্যার, কিন্তু ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যার পরমাণুকে আইসোটোপ বলে। ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৯২, অর্থাৎ সব ইউরেনিয়াম পরমাণুতে ৯২টি প্রোটন থাকে। ²³⁴U, ²³⁵U ও ²³⁸U প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি আইসোটোপ, যাদের নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে ১৪২, ১৪৩ ও ১৪৬। এ কারণে প্রদত্ত সবগুলোই ইউরেনিয়ামের আইসোটোপ। আইসোটোপগুলোর রাসায়নিক ধর্ম এক, কিন্তু নিউক্লিয় ধর্ম আলাদা, যেমন কেবল ²³⁵U ধীর নিউট্রনে সহজে ফিশন করে। ইউরেনিয়ামের আরও কিছু কৃত্রিম আইসোটোপ পরীক্ষাগারে তৈরি হয়, যেমন ²³³U।
মনে রাখুন:
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ²³⁸U প্রায় ৯৯.৩%, ²³⁵U প্রায় ০.৭% এবং ²³⁴U অতি সামান্য।
সবগুলোই তেজস্ক্রিয়। - ৯৮. ইউরোনিয়ামের আইসোটোপগুলোর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি অস্থিতবস্থায় থাকে?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. U(233)
- খ. U(234)
- গ. U(235)
- ঘ. U(238)
উত্তর: ক. U(233)
কোনো আইসোটোপ কত অস্থির, তা বোঝা যায় তার অর্ধায়ু দিয়ে। অর্ধায়ু যত কম, আইসোটোপ তত অস্থির। ইউরেনিয়ামের এই আইসোটোপগুলোর মধ্যে ²³³U-এর অর্ধায়ু প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার বছর, ²³⁴U-এর প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার বছর, ²³⁵U-এর প্রায় ৭০ কোটি বছর এবং ²³⁸U-এর প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। তাই সবচেয়ে অস্থির হলো ²³³U। মনে রাখা সহজ, অর্ধায়ু কম মানে ক্ষয় দ্রুত, আর ক্ষয় দ্রুত মানে আইসোটোপটি কম স্থিতিশীল। তাই ভরসংখ্যা কম হলেই যে বেশি অস্থির হবে, তা সবসময় ঠিক নয়, এখানে অর্ধায়ু মিলিয়ে দেখতে হয়।
মনে রাখুন:
²³³U তৈরি হয় থোরিয়াম-২৩২ থেকে নিউট্রন শোষণের পর।
এটি ফিশনযোগ্য, তাই থোরিয়ামভিত্তিক চুল্লিতে ভবিষ্যতের জ্বালানি হতে পারে। - ৯৯. ইউরেনিয়ামের বহুল ব্যবহৃত আইসোটোপটির নাম কি?কারিগরি শিক্ষা জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. ²³³U
- খ. ²³⁵U
- গ. ²³⁸U
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. ²³⁵U
প্রকৃতিতে ইউরেনিয়ামের যে আইসোটোপটি সহজে ফিশন করে এবং পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, সেটি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫ (²³⁵U)। ধীরগতির নিউট্রন পেলে এর নিউক্লিয়াস ভেঙে বিপুল শক্তি ছাড়ে। যদিও প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ²³⁸U বেশি, এটি সহজে ফিশন করে না। ²³³U প্রকৃতিতে নেই, থোরিয়াম থেকে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়। চুল্লির জন্য তাই প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ²³⁵U-এর ভাগ কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে নেওয়া হয়। কাজেই চুল্লির ক্ষেত্রে ²³⁵U বেশি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
²³⁵U-এর ভাঙনে প্রতিবার গড়ে প্রায় ২ থেকে ৩টি নিউট্রন বের হয়।
এই নিউট্রনই শিকল বিক্রিয়া চালিয়ে যায়। - ১০০. What is the minimum percentage of Uranium-235 enrichment required to produce military-grade nuclear warheads?বিসিআইসির সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আইসোটোপ
- ক. 60%
- খ. 70%
- গ. 80%
- ঘ. 90%
উত্তর: ঘ. 90%
পরমাণু বোমার জন্য ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর পরিমাণ যত বেশি হয়, বোমা তত কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক মানে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্র-মানের (Weapons-grade) ধরা হয়। এ কারণে প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর ৯০%। সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধকরণই যথেষ্ট। কাজেই জ্বালানির জন্য ও অস্ত্রের জন্য সমৃদ্ধকরণের মাত্রা আলাদা, এবং এই পার্থক্যই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) নজরদারিতে রাখে।
মনে রাখুন:
২০ শতাংশের বেশি হলে একে উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (HEU) বলা হয়।
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ²³⁵U মাত্র ০.৭ শতাংশ থাকে। - ১০১. পারমাণবিক বোমার জনক ওপেন হেইমার এর জন্মস্থান-BREB-এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. যুক্তরাষ্ট্র
- খ. রাশিয়া
- গ. যুক্তরাজ্য
- ঘ. জার্মানি
উত্তর: ক. যুক্তরাষ্ট্র
জে. রবার্ট ওপেনহাইমার ১৯০৪ সালের ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ম্যানহাটন প্রকল্পে লস অ্যালামোস গবেষণাগারের পরিচালক হিসেবে পরমাণু বোমা তৈরির নেতৃত্ব দেন। তাই তাঁকে 'পরমাণু বোমার জনক' বলা হয়। পরে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের বিরোধিতা করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি রসায়ন ও খনিজবিদ্যায় আগ্রহী ছিলেন। পরে হার্ভার্ডে পড়াশোনা করে ইউরোপে পদার্থবিজ্ঞান শেখেন। তাঁর জীবনকাহিনি নিয়ে ২০২৩ সালে 'ওপেনহাইমার' নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
প্রথম পরমাণু বোমার পরীক্ষার নাম ছিল 'ট্রিনিটি'।
হিরোশিমার বোমার নাম 'লিটল বয়' এবং নাগাসাকির বোমার নাম 'ফ্যাট ম্যান'। - ১০২. প্রথম এটম বোমা কবে ফাটানো হয়?রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. ১৯৪৪ সালে
- খ. ১৯৪৫ সালে
- গ. ১৯৪৬ সালে
- ঘ. ১৯৪৭ সালে
উত্তর: খ. ১৯৪৫ সালে
পৃথিবীর প্রথম পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো মরুভূমিতে। এর কয়েক সপ্তাহ পরে ওই বছরই ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে যুদ্ধে পরমাণু বোমা ফেলা হয়। এরপর ১৯৪৫ সালেই জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। তাই সঠিক সাল ১৯৪৫। এই পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে বোমা বাস্তবেই কাজ করে। এই তারিখগুলো পরীক্ষার জন্য মনে রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
হিরোশিমায় প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
এখন পর্যন্ত যুদ্ধে পরমাণু বোমা ব্যবহারের ঘটনা শুধু এ দুটিই। - ১০৩. সর্বপ্রথম কোন দেশ পারমাণবিক বোমা তৈরি করে?সিজিডিএফ-এর জুনিয়র অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. চীন
- খ. যুক্তরাষ্ট্র
- গ. জাপান
- ঘ. রাশিয়া
উত্তর: খ. যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম পরমাণু বোমা তৈরি করে। ম্যানহাটন প্রকল্পে ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে তারা প্রথম পরীক্ষা চালায়, আর আগস্টে জাপানের দুই শহরে বোমা ফেলে। সোভিয়েত ইউনিয়ন (আজকের রাশিয়া) এর পর ১৯৪৯ সালে নিজেদের বোমা পরীক্ষা করে। চীন বোমা পরীক্ষা করে ১৯৬৪ সালে, আর জাপান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি করেনি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম পরমাণু শক্তিধর দেশ বলা হয়। সুতরাং পরমাণু বোমার ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম।
মনে রাখুন:
যুক্তরাজ্য ১৯৫২, ফ্রান্স ১৯৬০ সালে বোমা পরীক্ষা করে।
ভারত ১৯৭৪ ও ১৯৯৮ সালে এবং পাকিস্তান ১৯৯৮ সালে পরীক্ষা করে। - ১০৪. ফিউশন গেলন পদ্ধতির ভিত্তিতে তৈরিকৃত বোমার নাম -জাতীয় সংসদে সচিবালয়ে সহকারী গবেষণা, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক বোমা
- ক. এটম বোমা
- খ. নিউক্লিয়ার বোমা
- গ. হাইড্রোজেন বোমা
- ঘ. কোনোটিই সঠিক নয়
উত্তর: গ. হাইড্রোজেন বোমা
হাইড্রোজেন বোমা তৈরি হয় নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার ভিত্তিতে। এতে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়ামের নিউক্লিয়াস একত্র হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে এবং প্রচুর শক্তি ছাড়ে। ফিউশন শুরু করতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা লাগে, তাই বোমার ভেতরে প্রথমে একটি ছোট ফিশন বোমা ফাটানো হয়। এটম বোমা চলে ফিশন বিক্রিয়ায়। ফিউশন বোমার তুলনায় ফিশন বোমার শক্তি সীমিত থাকে, কারণ ফিশনে নির্দিষ্ট ক্রান্তিক ভরের বেশি পদার্থ রাখা যায় না।
মনে রাখুন:
হাইড্রোজেন বোমাকে থার্মোনিউক্লিয়ার বোমাও বলা হয়।
এটি এটম বোমার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫২ সালে প্রথম হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা করে। - ১০৫. তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন-সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. জন এ লারসন
- খ. লেসার্ড
- গ. ডেনিস গ্যাবর
- ঘ. হেনরি বেকরেল
উত্তর: ঘ. হেনরি বেকরেল
তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) আবিষ্কার করেন ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল, ১৮৯৬ সালে। তিনি লক্ষ করেন যে ইউরেনিয়াম লবণ কালো কাগজে মোড়া ফটোগ্রাফিক প্লেটকেও ঝাপসা করে দেয়, অথচ সেখানে কোনো আলো পড়েনি। তিনি বুঝতে পারেন, ইউরেনিয়াম নিজে থেকেই অদৃশ্য এক ধরনের রশ্মি বের করছে। কিছু ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস এভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বিকিরণ করে, এই ঘটনাকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। পরে মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার করেন। এই কাজের জন্য ১৯০৩ সালে বেকরেল ও কুরি দম্পতি একসঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
মনে রাখুন:
তেজস্ক্রিয়তার এসআই একক বেকরেল (Bq)।
ডেনিস গ্যাবর হলোগ্রাফি আবিষ্কার করেন। - ১০৬. হেনরি বেকেরেল কোন আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী শ্রম অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. রঞ্জনরশ্মি
- খ. রেডিয়াম
- গ. তেজস্ক্রিয়তা
- ঘ. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
উত্তর: গ. তেজস্ক্রিয়তা
ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে লক্ষ করেন যে ইউরেনিয়ামের লবণ কোনো আলো ছাড়াই ফটোগ্রাফিক প্লেটকে কালো করে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, ইউরেনিয়াম নিজে থেকেই অদৃশ্য রশ্মি ছড়াচ্ছে। এভাবে কিছু ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে আপনা-আপনি রশ্মি বের হওয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯০৩ সালে বেকেরেল, পিয়ারে কুরি ও মেরি কুরি একসঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তেজস্ক্রিয়তা থেকে তিন ধরনের রশ্মি বের হয়, যাদের নাম আলফা, বিটা ও গামা।
মনে রাখুন:
তেজস্ক্রিয়তার SI একক বেকেরেল (Bq), তাঁর নামেই রাখা।
রঞ্জনরশ্মি বা এক্স-রে আবিষ্কার করেন রন্টজেন, ১৮৯৫ সালে। - ১০৭. ১৮৯৮ সালে মাদাম কুরি ও পিয়ারে কুরি আবিষ্কার করেন -সহকারী আবহাওয়াবিদ, ১৯৯৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. ইউরেনিয়াম
- খ. রেডিয়াম
- গ. ক্রোমিয়াম
- ঘ. লেজার রশ্মি
উত্তর: খ. রেডিয়াম
বেকেরেলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের পর মেরি কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরি পিচব্লেন্ড নামের একটি ইউরেনিয়াম আকরিক নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁরা দেখেন, এই আকরিক খাঁটি ইউরেনিয়ামের চেয়েও বেশি রশ্মি ছড়ায়, তাই এতে আরও শক্তিশালী কোনো মৌল লুকিয়ে আছে। ১৮৯৮ সালে তাঁরা পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম (Radium) নামে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কার করেন। পোলোনিয়ামের নাম রাখা হয় মেরি কুরির জন্মভূমি পোল্যান্ডের নামে। ইউরেনিয়াম অবশ্য অনেক আগে, ১৭৮৯ সালে, ক্লাপরথ আবিষ্কার করেছিলেন।
মনে রাখুন:
মেরি কুরি দুইবার নোবেল পান, ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে। - ১০৮. 'অধরা কণা'র আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পদার্থ বিজ্ঞানী-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১১তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অধরা কণা
- ক. মাকসুদুল আলম
- খ. এম জাহিদ হাসান
- গ. দীপঙ্কর তালুকদার
- ঘ. সেলিম শাহরিয়ার
উত্তর: খ. এম জাহিদ হাসান
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একদল গবেষক ভাইল ফার্মিয়ন (Weyl Fermion) নামের একটি কণার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। জার্মান বিজ্ঞানী হারমান ভাইল ১৯২৯ সালে তাত্ত্বিকভাবে এই কণার কথা বলেছিলেন, কিন্তু প্রায় ৮৫ বছর ধরে কেউ একে খুঁজে পাননি, তাই একে অধরা কণা বলা হতো। গবেষক দলটি একটি বিশেষ কেলাসের ভেতরে ভরহীন এই কণার আচরণ শনাক্ত করেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর সাহায্যে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ও কম শক্তি খরচের ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরি করা যাবে।
মনে রাখুন:
জাহিদ হাসান বাংলাদেশের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
পাটের জিনোম রহস্য উন্মোচনে নেতৃত্ব দেন ড. মাকসুদুল আলম। - ১০৯. রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর কোন রশ্মি বের হয়?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কার্যসহকারী (২৪ ফেব্রুয়ারি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এক্স-রে
- ক. গামা
- খ. বিটা
- গ. কসমিক
- ঘ. রঞ্জন
উত্তর: ঘ. রঞ্জন
পুরোনো দিনের টেলিভিশনে ক্যাথোড রে টিউব (CRT) থাকত। এর ভেতরে খুব উচ্চ ভোল্টেজে ত্বরিত ইলেকট্রন পর্দার ওপর আঘাত করে ছবি তৈরি করত। দ্রুতগামী ইলেকট্রন কোনো বস্তুতে হঠাৎ থেমে গেলে তার শক্তির কিছু অংশ রঞ্জন রশ্মি (X-ray) হিসেবে বের হয়। রঙিন টেলিভিশনে ভোল্টেজ বেশি লাগত বলে সামান্য রঞ্জন রশ্মি তৈরি হতো, তাই খুব কাছে বসে দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখা ক্ষতিকর বলা হতো। রঞ্জন রশ্মি ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেম রন্টগেন আবিষ্কার করেন, তাঁর নামেই এর বাংলা নাম রঞ্জন রশ্মি।
মনে রাখুন:
রঞ্জন রশ্মি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, তাই এটি আধানবিহীন।
হাড় ভাঙা শনাক্ত করতে রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। - ১১০. নিচের কোন বিজ্ঞানী পদার্থ ও রসায়ন নামে মোট দুবার নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (বরিশাল বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী ও আবিষ্কার
- ক. জন বার্ডিন
- খ. লিনাস পাউলিং
- গ. ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার
- ঘ. মাদাম কুরি
উত্তর: ঘ. মাদাম কুরি
মেরি কুরি (Marie Curie) একমাত্র বিজ্ঞানী, যিনি বিজ্ঞানের দুটি আলাদা শাখায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি স্বামী পিয়ের কুরি ও অঁরি বেকেরেলের সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। পরে ১৯১১ সালে রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম মৌল আবিষ্কারের জন্য তিনি একাই রসায়নে নোবেল পান। তিনি নোবেলজয়ী প্রথম নারীও। অন্যরাও দুবার নোবেল পেয়েছেন, তবে ভিন্নভাবে। জন বার্ডিন দুবারই পদার্থবিজ্ঞানে এবং ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার দুবারই রসায়নে পেয়েছেন। লিনাস পাউলিং পেয়েছেন রসায়নে ও শান্তিতে।
মনে রাখুন:
পোলোনিয়াম মৌলের নাম রাখা হয় মেরি কুরির জন্মভূমি পোল্যান্ডের নামে। - ১১১. $E = mc^2$ সূত্রটি কার?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (বরিশাল বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিকতা
- ক. আইনস্টাইন
- খ. নিউটন
- গ. মাদাম কুরি
- ঘ. রাদারফোর্ড
উত্তর: ক. আইনস্টাইন
$E = mc^2$ সূত্রটি দেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein), ১৯০৫ সালে তাঁর বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অংশ হিসেবে। এখানে E হলো শক্তি, m হলো ভর এবং c হলো আলোর বেগ, যার মান প্রায় $3 \times 10^8$ m/s। সূত্রটি বলে, ভর ও শক্তি আসলে একই জিনিসের দুই রূপ এবং ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। c-এর মান খুব বড় বলে c² আরও বিশাল, তাই সামান্য ভর থেকেও বিপুল শক্তি পাওয়া যায়। পারমাণবিক বোমা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সূর্যের শক্তির উৎস এই সূত্র দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়।
মনে রাখুন:
আইনস্টাইন ১৯২১ সালে নোবেল পান আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য, আপেক্ষিকতার জন্য নয়। - ১১২. ‘বেকেরেল’ কিসের একক?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন/ এইচআর), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. লেন্সের ক্ষমতা
- খ. এক্সরে
- গ. দীপন ক্ষমতা
- ঘ. তেজস্ক্রিয়তা
উত্তর: ঘ. তেজস্ক্রিয়তা
বেকেরেল (Becquerel) হলো তেজস্ক্রিয়তা মাপার SI একক। কোনো তেজস্ক্রিয় নমুনায় যদি প্রতি সেকেন্ডে একটি করে নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, তাহলে সেই নমুনার তেজস্ক্রিয়তা ১ বেকেরেল। ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে ইউরেনিয়াম লবণ থেকে অদৃশ্য রশ্মি বের হতে দেখে প্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন, তাঁর নামেই এককটির নাম রাখা হয়েছে। তেজস্ক্রিয়তার একটি পুরোনো ও বড় একক হলো কুরি, যা মেরি কুরির নামে রাখা। অন্যদিকে লেন্সের ক্ষমতা মাপা হয় ডায়অপ্টার এককে আর দীপন মাপা হয় লাক্স এককে।
মনে রাখুন:
1 Bq = প্রতি সেকেন্ডে ১টি ভাঙন।
1 Ci = 3.7 × 10^10 Bq।
লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়অপ্টার। - ১১৩. ইউরেনিয়ামের আইসোটোপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকে-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), উপ সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. U (233)
- খ. U (234)
- গ. U (235)
- ঘ. U (238)
উত্তর: ক. U (233)
কোনো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কতটা অস্থিতিশীল, তা বোঝা যায় তার অর্ধায়ু (Half-life) দেখে। অর্ধায়ু হলো যে সময়ে কোনো নমুনার অর্ধেক পরমাণু ভেঙে যায়। অর্ধায়ু যত কম, আইসোটোপটি তত দ্রুত ভাঙে, অর্থাৎ তত বেশি অস্থিতিশীল। প্রদত্ত আইসোটোপগুলোর মধ্যে U-233-এর অর্ধায়ু সবচেয়ে কম, প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বছর। U-234-এর অর্ধায়ু প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার বছর, U-235-এর প্রায় ৭০ কোটি বছর আর U-238-এর প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। তাই এদের মধ্যে U-238 সবচেয়ে স্থিতিশীল।
মনে রাখুন:
প্রকৃতির ইউরেনিয়ামের প্রায় ৯৯.৩% হলো U-238।
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে মূলত U-235 ব্যবহৃত হয়। - ১১৪. 'রেডিও আইসোটোপ পরীক্ষা' দ্বারা নিরূপণ করা হয়?জীবন বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. তেজস্ক্রিয়তা
- খ. ঘন বস্তুর বয়স
- গ. ঘনত্ব
- ঘ. গতি
উত্তর: খ. ঘন বস্তুর বয়স
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (Radioisotope) একটি নির্দিষ্ট হারে ক্ষয় হয়ে অন্য মৌলে পরিণত হয়। এই হার বাইরের তাপ বা চাপে প্রায় বদলায় না, আর এটি বোঝানো হয় অর্ধায়ু দিয়ে। কোনো নমুনায় আইসোটোপটি কতখানি ক্ষয় হয়েছে তা মাপলে হিসাব করা যায় যে নমুনাটি কত বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে জীবাশ্ম, শিলা ও প্রাচীন বস্তুর বয়স নির্ণয় করা হয়, একে তেজস্ক্রিয় ডেটিং বলে। জীবাশ্ম ও কাঠের বয়স বের করতে কার্বন-১৪ ব্যবহার করা হয়, যার অর্ধায়ু প্রায় ৫৭৩০ বছর। আর পুরোনো শিলার বয়স বের করতে ইউরেনিয়াম-সীসা পদ্ধতি কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ে আয়োডিন-১৩১ ব্যবহৃত হয়।
ক্যান্সার চিকিৎসায় কোবাল্ট-৬০ ব্যবহৃত হয়। - ১১৫. নিচের কোন বস্তুটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেজস্ক্রিয়তা
- ক. ইউরেনিয়াম
- খ. লৌহ
- গ. প্লুটোনিয়াম
- ঘ. নেপচুনিয়াম
উত্তর: খ. লৌহ
যে মৌলের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং নিজে থেকেই ভেঙে আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি ছড়ায়, তাকে তেজস্ক্রিয় (Radioactive) মৌল বলে। ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম ও নেপচুনিয়াম এমন ভারী মৌল, যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙে। অন্যদিকে লৌহ বা লোহার নিউক্লিয়াস খুবই স্থিতিশীল, এমনকি সব মৌলের মধ্যে লোহার নিউক্লিয়াসই সবচেয়ে স্থিতিশীলগুলোর একটি। তাই প্রদত্ত বস্তুগুলোর মধ্যে লোহা তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়।
মনে রাখুন:
তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন হেনরি বেকেরেল, ১৮৯৬ সালে।
রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেন মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরি।
তেজস্ক্রিয়তার SI একক বেকেরেল (Bq)।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়। - ১১৬. The radiant energy of the Sun results fromপ্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, এক্সিকিউটিভ অফিসার (১ নভেম্বর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লীয় ফিউশন
- ক. Nuclear fission
- খ. Nuclear fusion
- গ. Cosmic radiation
- ঘ. Combustion
উত্তর: খ. Nuclear fusion
সূর্যের বিকিরিত শক্তির উৎস নিউক্লীয় সংযোজন বা ফিউশন (Nuclear Fusion)। সূর্যের কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং চাপও প্রচণ্ড। এই অবস্থায় চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস মিলে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। তৈরি হওয়া হিলিয়ামের ভর মূল হাইড্রোজেনগুলোর মোট ভরের চেয়ে সামান্য কম থাকে, আর সেই হারানো ভরটুকুই বিপুল শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে আলো ও তাপ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।
মনে রাখুন:
ভর ও শক্তির সম্পর্ক $E = mc^2$, যা আইনস্টাইন দেন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শক্তি আসে নিউক্লীয় ফিশন থেকে।
হাইড্রোজেন বোমায় ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে। - ১১৭. Solar energy is due toসাধারণ বীমা কর্পোরেশন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লীয় ফিউশন
- ক. fission reactions
- খ. combustion reactions
- গ. fusion reactions
- ঘ. chemical reactions
উত্তর: গ. fusion reactions
সূর্যের শক্তির উৎস নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion) বিক্রিয়া। সূর্যের কেন্দ্রের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে হালকা হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসগুলো এত জোরে ধাক্কা খায় যে এরা জুড়ে গিয়ে ভারী হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সামান্য ভর হারিয়ে যায়, এবং সেই ভর আইনস্টাইনের $E = mc^2$ সূত্র অনুযায়ী বিপুল শক্তিতে পরিণত হয়। সেই শক্তিই আলো ও তাপ হয়ে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
মনে রাখুন:
ফিশনে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস হয়।
ফিউশনে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস মিলে একটি ভারী নিউক্লিয়াস হয়।
সূর্যের ভরের প্রায় ৭৩ শতাংশ হাইড্রোজেন। - ১১৮. Gravitational waves predicted by Albert Einstein was first detected by LIGO and Virgo Scientific Collaboration in the year -সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মহাকর্ষ তরঙ্গ
- ক. 2014
- খ. 2015
- গ. 2016
- ঘ. 2017
উত্তর: খ. 2015
আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯১৬ সালে তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব থেকে মহাকর্ষ তরঙ্গের (Gravitational Waves) কথা বলেছিলেন। প্রায় ১০০ বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের LIGO মানমন্দির প্রথমবারের মতো এই তরঙ্গ শনাক্ত করে। তরঙ্গটি এসেছিল প্রায় ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে দুটি কৃষ্ণগহ্বরের মিলনের ফলে। LIGO ও Virgo বিজ্ঞানী দল আবিষ্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
মনে রাখুন:
LIGO-এর পূর্ণরূপ Laser Interferometer Gravitational-Wave Observatory।
এই আবিষ্কারের জন্য ২০১৭ সালে রাইনার ওয়েইস, ব্যারি ব্যারিশ ও কিপ থর্ন নোবেল পান।
মহাকর্ষ তরঙ্গ আলোর বেগে চলে। - ১১৯. The Large Hadron Collider (LHC), the world's largest and most powerful particle accelerator, is located at which research facility?পূবালী ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কণা পদার্থবিজ্ঞান
- ক. Fermilab (USA)
- খ. CERN (Switzerland/France)
- গ. JINR (Russia)
- ঘ. KEK (Japan)
উত্তর: খ. CERN (Switzerland/France)
লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (Large Hadron Collider) অবস্থিত ইউরোপীয় নিউক্লীয় গবেষণা সংস্থা CERN-এ, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে জেনেভার কাছে। এটি মাটির প্রায় ১০০ মিটার নিচে ২৭ কিলোমিটার লম্বা একটি বৃত্তাকার সুড়ঙ্গ। এখানে প্রোটন কণাকে প্রায় আলোর বেগে ছুটিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটানো হয়, আর সেই সংঘর্ষ থেকে বিজ্ঞানীরা নতুন কণা খোঁজেন। এই যন্ত্রেই ২০১২ সালে হিগস বোসন কণা শনাক্ত হয়।
মনে রাখুন:
হিগস বোসনকে অনেকে ‘ঈশ্বর কণা’ বলেন।
বোসন কণার নাম এসেছে বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম থেকে।
CERN প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন