বিদ্যুৎ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ৪। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ২০১টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (৪৬)
- ১. সাধারণ স্টোরেজ ব্যাটারিতে সীসার ইলেকট্রোডের সঙ্গে যে তরলটি ব্যবহৃত হয় তা হলো-১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. নাইট্রিক এসিড
- খ. সালফিউরিক এসিড
- গ. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
- ঘ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর: খ. সালফিউরিক এসিড
সীসা-এসিড স্টোরেজ ব্যাটারিতে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে লঘু সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ডোবানো থাকে সীসার পাত (ঋণাত্মক) এবং সীসা ডাই-অক্সাইড (PbO₂) দিয়ে ঢাকা পাত (ধনাত্মক)। ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার সময় দুটি পাতই সীসা সালফেট (PbSO₄) তৈরি করে এবং এসিড ক্রমে পানি হয়ে যায়। বিদ্যুৎ নেওয়ার সময় বিক্রিয়াটি হলো Pb + PbO₂ + 2H₂SO₄ → 2PbSO₄ + 2H₂O। চার্জ করার সময় এটি উল্টো দিকে ঘটে এবং সালফিউরিক এসিড আবার তৈরি হয়।
মনে রাখুন: স্টোরেজ ব্যাটারি চার্জ করা যায়, অর্থাৎ বিক্রিয়াটিকে উল্টো দিকে চালানো যায়, তাই এটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য (Secondary) কোষ। - ২. গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহৃত এসিড-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. HNO₃(নাইট্রিক)
- খ. HCl (হাইড্রোক্লোরিক)
- গ. H₂SO₄(সালফিউরিক)
- ঘ. H₃PO₄(ফসফরিক)
উত্তর: গ. H₂SO₄(সালফিউরিক)
গাড়ির ব্যাটারি সাধারণত সীসা-এসিড (Lead-Acid) ব্যাটারি। এতে লঘু সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ইলেকট্রোলাইট হিসেবে থাকে। সীসার পাত ও সীসা ডাই-অক্সাইডের পাতের সঙ্গে এই এসিডের বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ তৈরি হয়। চার্জ করার সময় বিক্রিয়াটি উল্টো দিকে ঘটে। সীসা-এসিড ব্যাটারি বেশি বিদ্যুৎ দিতে পারে, তাই গাড়ির ইঞ্জিন চালু করার সময় স্টার্টার মোটরকে প্রয়োজনীয় তীব্র প্রবাহ এই ব্যাটারি দেয়। গাড়ি চলার সময় অল্টারনেটর একে চার্জ করে।
মনে রাখুন:
সম্পূর্ণ চার্জ হওয়া ব্যাটারির এসিডের ঘনত্ব প্রায় ১.২৮ g/cm³।
চার্জ কমে গেলে সালফিউরিক এসিডের ঘনত্ব কমে যায়, তাই হাইড্রোমিটার দিয়ে চার্জ পরীক্ষা করা যায়। - ৩. সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়?১৪তম বিসিএস ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাল্ব
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. হিলিয়াম
- গ. হাইড্রোজেন
- ঘ. অক্সিজেন
উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরে ফিলামেন্ট থাকে, যা অনেক উঁচু তাপমাত্রায় জ্বলে। বাল্বে বাতাস থাকলে অক্সিজেনের সঙ্গে ফিলামেন্ট বিক্রিয়া করে পুড়ে যেত। তাই বাল্বের ভেতর থেকে বাতাস সরিয়ে নিষ্ক্রিয় বা কম সক্রিয় গ্যাস ভরা হয়। নাইট্রোজেন এ কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ফিলামেন্টের সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না। বাস্তবে আর্গনের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়, তাতে ফিলামেন্টের আয়ু বাড়ে। অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন দহনে সাহায্য করে বা নিজে জ্বলে, তাই এগুলো ব্যবহার করা চলে না।
মনে রাখুন:
বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেনের তৈরি।
টিউবলাইটে পারদ বাষ্প ও আর্গন গ্যাস থাকে। - ৪. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট যে ধাতু দিয়ে তৈরি তা হলো-২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাল্ব
- ক. পিতল
- খ. তামা
- গ. সীসা
- ঘ. টাংস্টেন
উত্তর: ঘ. টাংস্টেন
বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন (Tungsten) ধাতু দিয়ে তৈরি। এর গলনাঙ্ক প্রায় ৩৪১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সব ধাতুর চেয়ে বেশি। তাই খুব গরম হয়ে সাদা আলো দিলেও এটি গলে যায় না। পিতল, তামা বা সীসার গলনাঙ্ক অনেক কম, তাই ফিলামেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। প্রথম দিকের বাল্বে কার্বনের ফিলামেন্ট ব্যবহার হতো, পরে টাংস্টেন সেই জায়গা নেয়।
মনে রাখুন:
বাল্বের ভেতরে সাধারণত নিষ্ক্রিয় গ্যাস ভরা থাকে, যাতে ফিলামেন্ট পুড়ে না যায়।
টাংস্টেনের রাসায়নিক প্রতীক W।
বৈদ্যুতিক ফিউজ তারে সীসা ও টিনের সংকর ব্যবহার হয়, কারণ এর গলনাঙ্ক কম। - ৫. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে ব্যবহৃত হয়—২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িতের তাপীয় ফল
- ক. কপার তার
- খ. এন্টিমনি তার
- গ. টাংস্টেন তার
- ঘ. নাইক্রোম তার
উত্তর: ঘ. নাইক্রোম তার
ইস্ত্রি ও হিটারে এমন তার লাগে যার রোধ বেশি এবং যা উত্তপ্ত হলেও গলে না বা সহজে মরিচা ধরে না। নাইক্রোম নামের সংকর ধাতুর তারে এই গুণগুলো আছে। এটি প্রধানত নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সঙ্গে সামান্য লোহার মিশ্রণ। এর গলনাঙ্ক অনেক বেশি, তাই বিদ্যুৎ চলার সময় তারটি লাল হয়ে গরম হলেও নষ্ট হয় না। রোধ বেশি বলে বিদ্যুৎশক্তি সহজে তাপে বদলে যায়।
মনে রাখুন:
তামার রোধ কম, তাই তামার তার বিদ্যুৎ পরিবহনে ব্যবহার করা হয়।
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরের ফিলামেন্ট টাংস্টেনের তৈরি, কারণ টাংস্টেনের গলনাঙ্ক সব ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
ফিউজ তারের গলনাঙ্ক কম, যাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গেলে তারটি গলে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়। - ৬. লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি মিথ্যা?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি
- ক. Ni-Cd ব্যাটারির তুলনায় এদের শক্তির ঘনত্ব বেশি
- খ. এতে লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড ক্যাথোড ব্যবহার করা হয়
- গ. 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয়
- ঘ. এখানে অতিরিক্ত চার্জিং-এর ফলে আগুন লাগতে পারে
উত্তর: গ. 'মেমরি এফেক্ট'-এর কারণে এদের পর্যায়ক্রমিক সম্পূর্ণ ডিসচার্জের প্রয়োজন হয়
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি (Li-ion Battery) আধুনিক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে ব্যবহৃত হয়। এতে লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড ক্যাথোড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং Ni-Cd-এর তুলনায় এদের শক্তির ঘনত্ব বেশি। অতিরিক্ত চার্জ হলে এরা অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরাতেও পারে। কিন্তু মেমরি এফেক্ট (Memory Effect) লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সমস্যা নয়, এটি পুরোনো Ni-Cd ব্যাটারির সমস্যা। তাই পর্যায়ক্রমে পুরো ডিসচার্জের দরকার হয় না, বক্তব্যটি মিথ্যা।
মনে রাখুন:
মেমরি এফেক্ট মানে আংশিক ডিসচার্জের পর চার্জ দিলে ক্ষমতা কমে যাওয়া।
Li-ion ব্যাটারি বারবার চার্জ করা যায়।
২০১৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উদ্ভাবনের জন্য দেওয়া হয়। - ৭. কোনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কার্যনীতিকে সর্বোত্তমভাবে বর্ণনা করতে পারে?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাইক্রোওয়েভ ওভেন
- ক. উচ্চ তাপ বিকিরণ এবং খাদ্য কণাগুলিতে পরিবহন
- খ. খাদ্য কণাগুলিতে ইনফ্রা-রেড বিকিরণ এবং শোষণ
- গ. পানির অণুগুলির ইন্ডাকশন হিটিং
- ঘ. ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
উত্তর: ঘ. ঘূর্ণনের কারণে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং
মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রায় 2.45 GHz কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে। এই তরঙ্গের তড়িৎক্ষেত্র সেকেন্ডে কোটি কোটি বার দিক বদলায়। খাবারে থাকা পানি পোলার অণু, অর্থাৎ এর এক প্রান্ত ধনাত্মক ও অন্য প্রান্ত ঋণাত্মক। তড়িৎক্ষেত্রের সঙ্গে তাল রেখে পানির অণুগুলো বারবার ঘুরতে থাকে, আর এই ঘূর্ণন ও ঘর্ষণ থেকে তাপ তৈরি হয়। একে ডাই-ইলেকট্রিক হিটিং (Dielectric Heating) বলে।
মনে রাখুন:
ইন্ডাকশন চুলা চৌম্বকক্ষেত্র দিয়ে ধাতব পাত্র গরম করে।
মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ধাতব পাত্র ব্যবহার করা বিপজ্জনক।
চুলার ভেতরের তাপ আগে খাবারের পানিযুক্ত অংশে তৈরি হয়। - ৮. একটি NPN ট্রানজিস্টরে, প্রধান চার্জ বাহক হলো-৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রানজিস্টর
- ক. হোল
- খ. ইলেকট্রন
- গ. প্রোটন
- ঘ. আয়ন
উত্তর: খ. ইলেকট্রন
ট্রানজিস্টর অর্ধপরিবাহী দিয়ে তৈরি তিন স্তরের যন্ত্র। NPN ট্রানজিস্টরে দুই প্রান্তের স্তর, অর্থাৎ ইমিটার ও কালেক্টর, n-টাইপ এবং মাঝের স্তর বা বেস p-টাইপ অর্ধপরিবাহী। n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন বেশি থাকে, তাই NPN ট্রানজিস্টরে প্রধান চার্জ বাহক ইলেকট্রন। PNP ট্রানজিস্টরে প্রধান বাহক হোল। NPN ট্রানজিস্টরে বেস থেকে সামান্য প্রবাহ দিলে ইমিটার থেকে কালেক্টরে অনেক বেশি প্রবাহ চলে। এভাবেই ট্রানজিস্টর সংকেতকে বিবর্ধিত করে।
মনে রাখুন:
ট্রানজিস্টরের তিনটি অংশ ইমিটার, বেস ও কালেক্টর।
ট্রানজিস্টর বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে কাজ করে।
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য ১৯৫৬ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। - ৯. একটি আদর্শ তড়িৎ উৎসের অভ্যন্তরীণ রােধ কত?৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ উৎস
- ক. শূন্য
- খ. অসীম
- গ. অতিক্ষুদ্র
- ঘ. যে কোনাে মান
উত্তর: ক. শূন্য
একটি বাস্তব তড়িৎ উৎস (যেমন ব্যাটারি)-এর ভেতরেই কিছু রোধ থাকে, যাকে অভ্যন্তরীণ রোধ বলে। বর্তনী দিয়ে প্রবাহ গেলে এই রোধে কিছু বিভব পতন হয়, ফলে উৎসের প্রান্তীয় বিভব পার্থক্য তার তড়িচ্চালক বল (emf)-এর চেয়ে কমে যায়। যে উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য, তার ক্ষেত্রে এই ক্ষয় হয় না, প্রান্তীয় বিভব পার্থক্য সবসময় emf-এর সমান থাকে। এটিকেই আদর্শ তড়িৎ উৎস বলে। তাই এর অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য।
মনে রাখুন:
প্রান্তীয় বিভব পার্থক্য V = E − Ir, এখানে r অভ্যন্তরীণ রোধ। আদর্শ উৎসে r = 0, তাই V = E।
আদর্শ ভোল্টমিটারের রোধ অসীম এবং আদর্শ অ্যামিটারের রোধ শূন্য। - ১০. ইলেক্ট্রনিক বাল্ব-এর ফিলামেন্ট যারা দ্বারা তৈরি-৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাল্ব
- ক. আয়রন
- খ. কার্বন
- গ. টাংস্টেন
- ঘ. লেড
উত্তর: গ. টাংস্টেন
বাল্বের ফিলামেন্ট বিদ্যুৎ চলার সময় অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে আলো ছড়ায়, তাই এর উপাদানের গলনাঙ্ক খুব বেশি হতে হয়। টাংস্টেনের (Tungsten) গলনাঙ্ক প্রায় 3400°C, যা সব ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ কারণেই ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি হয়। সিসার গলনাঙ্ক খুব কম, তাই সিসা ফিলামেন্টের অনুপযোগী। আবার কার্বন উত্তপ্ত অবস্থায় সহজে পুড়ে যায়। টাংস্টেনের ফিলামেন্ট তাই দীর্ঘ সময় ধরে উজ্জ্বল আলো দিতে পারে।
মনে রাখুন:
বাল্বে নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যেমন আর্গন বা নাইট্রোজেন, ভরা থাকে, যাতে ফিলামেন্ট পুড়ে না যায়।
ফিউজ তার তৈরিতে কম গলনাঙ্কের সিসা-টিনের সংকর ব্যবহার করা হয়। - ১১. AC কে DC করার যন্ত্র-৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেকটিফায়ার
- ক. রেকটিফায়ার
- খ. অ্যামপ্লিফায়ার
- গ. ট্রানজিস্টর
- ঘ. ডায়োড
উত্তর: ক. রেকটিফায়ার
আমাদের ঘরে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সাধারণত পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current, AC), যার দিক বারবার বদলায়। কিন্তু মোবাইল চার্জার, ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একমুখী প্রবাহ (Direct Current, DC) লাগে। AC-কে DC-তে রূপান্তর করার যন্ত্রকে রেকটিফায়ার (Rectifier) বলে। এতে ডায়োড ব্যবহৃত হয়, কারণ ডায়োড প্রবাহকে এক দিকে চলতে দেয়। তাই ডায়োড রেকটিফায়ারের একটি অংশ, আর পুরো যন্ত্রের নাম রেকটিফায়ার। ঘরের সকেটের AC-কে প্রথমে ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ কমিয়ে নেওয়া হয়, তারপর রেকটিফায়ার সেটিকে DC করে।
মনে রাখুন: DC-কে AC-তে রূপান্তর করার যন্ত্রকে ইনভার্টার বলে। - ১২. একটি বাল্বে ”60 W- 220 V” লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম ( Ohm) ?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ ও ক্ষমতা
- ক. 16.36
- খ. 160
- গ. 280
- ঘ. 806.67
উত্তর: ঘ. 806.67
বাল্বে '60 W – 220 V' লেখার অর্থ হলো, 220 ভোল্টে চললে এটি 60 ওয়াট ক্ষমতায় কাজ করবে। ক্ষমতার সূত্র P = V²/R, তাই রোধ হবে নিচের মতো।
R = V²/P = 220² / 60 = 48400 / 60 ≈ 806.67 ওহম
মনে রাখুন:
ক্ষমতার সূত্র তিনটি হলো P = VI, P = I²R ও P = V²/R।
একই ভোল্টেজে বেশি ওয়াটের বাল্বের রোধ কম হয়।
ওহমের সূত্র V = IR থেকে এই বাল্বের মধ্য দিয়ে প্রবাহ I = P/V = 60/220 ≈ 0.27 A। - ১৩. কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো - –৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থির তড়িৎ
- ক. অ্যামিটার
- খ. ভোল্টামিটার
- গ. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
- ঘ. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
উত্তর: ঘ. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
কোনো বস্তুতে আধান (Charge) আছে কি না, তা বোঝার যন্ত্র তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বা ইলেকট্রোস্কোপ (Electroscope)। এর ধাতব দণ্ডের নিচে দুটি পাতলা সোনা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত ঝোলানো থাকে। কোনো আহিত বস্তু দণ্ডের মাথায় ছোঁয়ালে বা কাছে আনলে পাত দুটিতে একই ধরনের আধান জমে এবং সমধর্মী আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে বলে পাত দুটি ফাঁক হয়ে যায়। ফাঁক যত বেশি, আধান তত বেশি।
অ্যামিটার দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ আর ভোল্টমিটার দিয়ে বিভব পার্থক্য মাপা হয়। অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছোট বস্তুকে বড় করে দেখায়। এগুলোর কোনোটিই আধানের অস্তিত্ব ধরে না।
মনে রাখুন:
তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করে
অ্যামিটার প্রবাহ মাপে, ভোল্টমিটার বিভব পার্থক্য মাপে - ১৪. নিচের কোনটির বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি?৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিবাহিতা
- ক. তামা
- খ. রূপা
- গ. সোনা
- ঘ. কার্বন
উত্তর: খ. রূপা
সব ধাতুর মধ্যে রুপার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। এর পরের স্থান তামার, তারপর সোনার। কার্বনের একটি রূপ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে, কিন্তু ধাতুর তুলনায় তার পরিবাহিতা অনেক কম। রুপা দামি বলে বৈদ্যুতিক তারে সাধারণত তামা ব্যবহার করা হয়। পরিবাহিতা বেশি হলে রোধ কম হয়, তাই তাপ কম উৎপন্ন হয়ে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়। সোনা মরিচা ধরে না বলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সংযোগে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
বৈদ্যুতিক তার তৈরিতে তামার পরে অ্যালুমিনিয়ামও ব্যবহার হয়।
ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে, কারণ এদের ভেতরে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। - ১৫. গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়?৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি
- ক. নাইট্রিক
- খ. সালফিউরিক
- গ. হাইড্রোক্লোরিক
- ঘ. পারক্লোরিক
উত্তর: খ. সালফিউরিক
গাড়ির ব্যাটারি সাধারণত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি। এতে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কাজ করে, আর ভেতরে সীসার পাত ও সীসার ডাইঅক্সাইডের পাত তড়িৎদ্বার হিসেবে থাকে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই ব্যাটারি বিদ্যুৎ তৈরি করে, আবার চার্জ করে একে ব্যবহারযোগ্য করা যায়। ডিসচার্জের সময় দুটি পাতই সীসার সালফেটে পরিণত হয় এবং সালফিউরিক অ্যাসিড পাতলা হয়ে যায়। চার্জ দিলে প্রক্রিয়াটি উল্টো দিকে ঘটে। এ কারণে ব্যাটারিতে কতটা চার্জ আছে, তা অ্যাসিডের ঘনত্ব মেপেও বোঝা যায়।
মনে রাখুন: গাড়ির সাধারণ ব্যাটারি ১২ ভোল্টের, যাতে ৬টি কোষ থাকে এবং প্রতিটি কোষ ২ ভোল্ট দেয়। - ১৬. কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়?৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিবাহী-অন্তরক
- ক. তামা
- খ. লোহা
- গ. রূপা
- ঘ. রাবার
উত্তর: ঘ. রাবার
কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলতে পারে কি না, তা নির্ভর করে পদার্থটিতে মুক্ত ইলেকট্রন আছে কি না তার ওপর। তামা, লোহা ও রুপা ধাতু, এদের ভেতরে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন আছে, তাই বিদ্যুৎ সহজে চলে। রাবারে মুক্ত ইলেকট্রন নেই। তাই এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, বরং অপরিবাহী। এ কারণেই বৈদ্যুতিক তারের বাইরে রাবার বা প্লাস্টিকের আবরণ দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু রুপা, তারপর তামা।
কিছু অধাতুও বিদ্যুৎ পরিবহন করে, যেমন গ্রাফাইট। - ১৭. ডায়োড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়োড
- ক. ক্যাপাসিটর হিসেবে
- খ. ট্রান্সফরমার হিসেবে
- গ. রেজিস্টর হিসেবে
- ঘ. রেক্টিফায়ার হিসেবে
উত্তর: ঘ. রেক্টিফায়ার হিসেবে
ডায়োড (Diode) এমন একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র, যা তড়িৎ প্রবাহকে শুধু এক দিকে যেতে দেয়। এই ধর্মের কারণে এটি পর্যায়ক্রমিক প্রবাহকে (AC) একমুখী প্রবাহে (DC) রূপান্তর করতে পারে, আর এই কাজকে রেক্টিফিকেশন বলে। তাই ডায়োড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় রেক্টিফায়ার হিসেবে। ক্যাপাসিটর আধান জমা রাখে, ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ বদলায়, আর রেজিস্টর প্রবাহে বাধা দেয়। ডায়োড p-টাইপ ও n-টাইপ অর্ধপরিবাহী জুড়ে তৈরি করা হয়। যে দিকে প্রবাহ চলতে দেয় তাকে সম্মুখ ঝোঁক এবং যে দিকে চলতে দেয় না তাকে বিপরীত ঝোঁক বলে।
মনে রাখুন: মোবাইল চার্জারের ভেতরেও ডায়োড দিয়ে তৈরি রেক্টিফায়ার থাকে। - ১৮. বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি হলো-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসি কম্পাঙ্ক
- ক. ৫০ হার্জ
- খ. ২২০ হার্জ
- গ. ২০০ হার্জ
- ঘ. ১০০ হার্জ
উত্তর: ক. ৫০ হার্জ
বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুতের (AC) কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ হার্জ এবং ভোল্টেজ ২২০ ভোল্ট। ৫০ হার্জ মানে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহ ৫০টি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করে, অর্থাৎ প্রবাহের দিক প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বার বদলায়। ২২০ হার্জ বা ২০০ হার্জ আমাদের ঘরোয়া বিদ্যুতের কম্পাঙ্ক নয়। AC-র ক্ষেত্রে প্রবাহের মান ও দিক সময়ের সঙ্গে নিয়মিত বদলায়। বাংলাদেশ, ভারত ও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে ৫০ হার্জ চালু। কম্পাঙ্কের একক হার্জের নাম দেওয়া হয়েছে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হাইনরিখ হার্জের নামে।
মনে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্রে ঘরোয়া বিদ্যুতের কম্পাঙ্ক ৬০ হার্জ। - ১৯. বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায়-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ বিল
- ক. এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
- খ. এক ওয়াট-ঘণ্টা
- গ. এক কিলোওয়াট
- ঘ. এক ওয়াট
উত্তর: ক. এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
বিদ্যুৎ বিলে আমরা যে ‘ইউনিট’ দেখি, তা আসলে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)। এটি বিদ্যুৎ শক্তির পরিমাণের একক। এক কিলোওয়াট মানে ১০০০ ওয়াট ক্ষমতা। ১০০০ ওয়াটের একটি যন্ত্র এক ঘণ্টা চললে যে শক্তি খরচ হয়, সেটি এক ইউনিট। কিলোওয়াট নিজে ক্ষমতার (Power) একক, শক্তির (Energy) নয়, তাই শুধু কিলোওয়াট বললে ইউনিট হয় না।
মনে রাখুন:
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = 3.6 × 10⁶ জুল।
শক্তি = ক্ষমতা × সময়।
উদাহরণ: ১০০ ওয়াটের বাল্ব ১০ ঘণ্টা জ্বললে 100 × 10 = 1000 ওয়াট-ঘণ্টা, অর্থাৎ ১ ইউনিট খরচ হয়। - ২০. কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়?৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী
- ক. লোহা
- খ. সিলিকন
- গ. জার্মেনিয়াম
- ঘ. গ্যালিয়াম
উত্তর: ক. লোহা
অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) এমন পদার্থ, যার তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি। সিলিকন ও জার্মেনিয়াম এর বিখ্যাত উদাহরণ, আর গ্যালিয়াম আর্সেনাইড যৌগ হিসেবে অর্ধপরিবাহী ব্যবহৃত হয়। কিন্তু লোহা একটি ধাতু, আর ধাতু সুপরিবাহী। তাই লোহা অর্ধপরিবাহী নয়। বিশুদ্ধ সিলিকনে সামান্য অপদ্রব্য, যেমন ফসফরাস বা বোরন মেশালে এর পরিবাহিতা অনেক বেড়ে যায়। এই পদ্ধতিকে ডোপিং বলে, আর এভাবেই n-টাইপ ও p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
ট্রানজিস্টর, ডায়োড ও কম্পিউটারের চিপ অর্ধপরিবাহী দিয়ে তৈরি হয়।
তাপমাত্রা বাড়লে অর্ধপরিবাহীর পরিবাহিতা বাড়ে, ধাতুর ক্ষেত্রে তা কমে। - ২১. বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার
- ক. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
- খ. স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
- গ. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
- ঘ. এডাপটারের সাহায্যে
উত্তর: গ. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
বিদ্যুতের উচ্চ ভোল্টেজ থেকে নিম্ন ভোল্টেজ পাওয়া যায় স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে। ট্রান্সফরমার (Transformer) পরিবর্তী প্রবাহের ভোল্টেজ বদলায় পারস্পরিক আবেশের নীতিতে। স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীতে প্যাঁচের সংখ্যা কম থাকে, তাই ভোল্টেজ কমে যায়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ ভোল্টেজ বাড়ায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দূরে বিদ্যুৎ পাঠানোর সময় স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ অনেক বাড়ানো হয়, যাতে তারে তাপ হিসেবে শক্তির অপচয় কম হয়। এরপর ঘরের কাছে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ কমিয়ে ২২০ ভোল্টে নামিয়ে আনে।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফরমার শুধু পরিবর্তী প্রবাহে (AC) কাজ করে।
অ্যাডাপ্টার পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে (DC) পরিণত করে। - ২২. আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় –৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বজ্রপাত
- ক. মেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
- খ. দুখণ্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষ হলে
- গ. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে
- ঘ. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
উত্তর: ক. মেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর কারণ মেঘের অসংখ্য জলকণা ও বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হওয়া। মেঘের ভেতরে বাতাসের ওপরে-নিচে ছুটে চলা জলকণা ও বরফকণা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়, ফলে মেঘের এক অংশে ধনাত্মক আর অন্য অংশে ঋণাত্মক আধান জমে। দুই অংশের মধ্যে বা মেঘ ও ভূমির মধ্যে বিভব পার্থক্য খুব বেশি হয়ে গেলে হঠাৎ করে আধান ছুটে যায়, আর তাতেই আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এই ঝলকানির সময় বাতাস প্রচণ্ড গরম হয়ে ফুলে ওঠে, ফলে বজ্রধ্বনি শোনা যায়।
মনে রাখুন:
আলো শব্দের চেয়ে অনেক দ্রুত চলে, তাই আমরা আগে বিদ্যুৎ চমক দেখি, পরে বজ্রের শব্দ শুনি।
বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন ১৭৫২ সালে ঘুড়ি উড়িয়ে প্রমাণ করেন যে বজ্র একধরনের বিদ্যুৎ। - ২৩. বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে কোন ধাতুর তার ব্যবহার করা হয়?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিটারের তার
- ক. তামা
- খ. নাইক্রোম
- গ. স্টেনিয়াম
- ঘ. প্লাটিনাম
উত্তর: খ. নাইক্রোম
বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং তারটি লাল হয়ে ওঠে। এ কাজের জন্য এমন তার দরকার, যার রোধ বেশি এবং যা উচ্চ তাপমাত্রায় গলে না বা সহজে মরিচা ধরে না। নাইক্রোম (Nichrome) নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু, যার রোধ বেশি এবং গলনাঙ্ক উচ্চ, তাই এটি হিটার ও ইস্ত্রির তারে ব্যবহৃত হয়। তামার রোধ কম, তাই এটি বৈদ্যুতিক তারে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন: তাপ সৃষ্টির সূত্র H = I²Rt, অর্থাৎ রোধ R বেশি হলে একই বিদ্যুৎ প্রবাহে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। - ২৪. যে যন্ত্রের সাহায্যে পরবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তার নাম কি?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার
- ক. ট্রান্সফর্মার
- খ. মোটর
- গ. জেনারেটর
- ঘ. ডায়নামো
উত্তর: ক. ট্রান্সফর্মার
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী প্রবাহের উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা যায়, তার নাম ট্রান্সফর্মার (Transformer)। এটি তড়িৎচৌম্বক আবেশের নীতিতে কাজ করে। মোটর বিদ্যুৎ-শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। আর জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ-শক্তিতে রূপান্তর করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে একাধিকবার ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়। কারণ দূরে পাঠাতে উচ্চ ভোল্টেজ এবং ঘরে ব্যবহারের জন্য নিম্ন ভোল্টেজ দরকার হয়।
মনে রাখুন:
যে ট্রান্সফর্মার বিভব বাড়ায়, তাকে স্টেপ-আপ বলে, আর যে কমায় তাকে স্টেপ-ডাউন বলে।
ট্রান্সফর্মার শুধু পরিবর্তী প্রবাহে (AC) কাজ করে, সরল প্রবাহে (DC) নয়। - ২৫. বিদ্যুৎ বিলের হিসাব কিভাবে করা হয়?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ বিল
- ক. ওয়াট আওয়ারে
- খ. ওয়াটে
- গ. ভোল্টে
- ঘ. কিলোওয়াট ঘণ্টায়
উত্তর: ঘ. কিলোওয়াট ঘণ্টায়
বিদ্যুৎ বিলের হিসাব হয় কত পরিমাণ বিদ্যুৎ-শক্তি খরচ হয়েছে তার ওপর। এই শক্তির বাণিজ্যিক একক কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh)। ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। ওয়াট ও ভোল্ট শক্তির একক নয়। ওয়াট হলো ক্ষমতার একক, আর ভোল্ট বিভবের একক। আমাদের বাড়িতে মিটার এই ইউনিটের হিসাব রাখে, আর সেই ইউনিটকে টাকার হারে গুণ করে বিল তৈরি হয়।
উদাহরণ: 100 ওয়াটের একটি বাতি 10 ঘণ্টা জ্বললে খরচ = 100 × 10 = 1000 Wh = 1 kWh বা ১ ইউনিট।
মনে রাখুন: 1 kWh = 3.6 × 10⁶ জুল। - ২৬. আকাশে বিজলী চমকায়-১২তম ও ২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বজ্রপাত
- ক. দুই খন্ড মেঘ পর পর এলে
- খ. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তেরি হলে
- গ. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
- ঘ. মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
উত্তর: ঘ. মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
মেঘের ভেতরে পানির কণা ও বরফকণা বাতাসের প্রবল স্রোতে একে অপরের সঙ্গে ঘষা খায়। এতে কিছু কণা ধনাত্মক এবং কিছু কণা ঋণাত্মক চার্জে আহিত হয়। মেঘের নিচের অংশে ঋণাত্মক ও ওপরের অংশে ধনাত্মক চার্জ জমলে চার্জের পার্থক্য খুব বেড়ে যায়, তখন মেঘ থেকে মেঘে বা মেঘ থেকে মাটিতে হঠাৎ তড়িৎক্ষরণ হয়। সেই আলোকে আমরা বিজলি চমক বলি।
মনে রাখুন:
বিদ্যুতের তীব্র তাপে বাতাস হঠাৎ প্রসারিত হয়ে যে শব্দ করে, তাকে বজ্রধ্বনি বলে।
আলো শব্দের চেয়ে দ্রুত চলে, তাই আগে বিজলি দেখা যায়, পরে বজ্রের শব্দ শোনা যায়। - ২৭. বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে সাধারণত বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না কারণ-২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ নিরাপত্তা
- ক. পাখির গায়ে বিদ্যুৎরোধী আবরণ থাকে
- খ. পাখির দেহের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না
- গ. বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হলেও পাখি মরে না
- ঘ. মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
উত্তর: ঘ. মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য থাকা চাই, আর সম্পূর্ণ বর্তনী দরকার। পাখি যখন একটি মাত্র তারে বসে, তার দুই পা প্রায় একই বিভবের তারে থাকে, আর সে মাটি বা অন্য কোনো তারকে স্পর্শ করে না। ফলে পাখির দেহের দুই পায়ের মধ্যে কোনো বিভব পার্থক্য হয় না এবং তার দেহের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ যায় না। কিন্তু পাখি যদি একই সময়ে দুটি আলাদা তার স্পর্শ করে, তখন দুর্ঘটনা ঘটে।
মনে রাখুন: মানুষ মাটিতে দাঁড়িয়ে তার ছুঁলে মাটির সঙ্গে বর্তনী পূর্ণ হয়, তাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। - ২৮. ডিজিটাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে উঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রনিক্স
- ক. এলইডি
- খ. আইসি
- গ. এলসিডি
- ঘ. সিলিকন চিপ
উত্তর: গ. এলসিডি
ডিজিটাল ঘড়ি ও ক্যালকুলেটরে যে কালচে ও অনুজ্জ্বল লেখা ফুটে ওঠে, তা তৈরি হয় তরল স্ফটিক প্রদর্শনী (Liquid Crystal Display, LCD) দিয়ে। বিদ্যুৎ দিলে তরল স্ফটিকের অণুগুলো এমনভাবে ঘুরে যায় যে আলো আটকে যায়, ফলে সেই অংশ কালো দেখায়। এলসিডি নিজে আলো দেয় না, তাই লেখা অনুজ্জ্বল দেখায়। এর বিপরীতে এলইডি (LED) নিজে আলো দেয়। এলসিডি পর্দায় আলো নিজে তৈরি হয় না, বাইরের আলো প্রতিফলিত হয় বা পেছনের বাতি থেকে আসে। তাই অন্ধকারে ঘড়ির লেখা দেখতে আলাদা বাতি লাগে।
মনে রাখুন: এলসিডি খুব কম বিদ্যুৎ খরচ করে বলে ঘড়ি ও ক্যালকুলেটরে এটি ব্যবহার করা হয়। - ২৯. আবাসিক বাড়ির বর্তনীতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়-২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার্কিট ব্রেকার
- ক. বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে
- খ. অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধের উদ্দেশ্যে
- গ. বৈদ্যুতিক বাল্ব থেকে বেশি আলো পাওয়ার জন্য
- ঘ. বিদ্যুতের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য
উত্তর: খ. অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধের উদ্দেশ্যে
আবাসিক বাড়ির বর্তনীতে মাঝে মাঝে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে, যেমন শর্ট সার্কিট বা ওভারলোডের সময়। তখন তার অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে। সার্কিট ব্রেকার (Circuit Breaker) এমন সময় নিজে থেকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তাই অতিরিক্ত বিদ্যুৎজনিত দুর্ঘটনা রোধ হয়। এটি বিদ্যুৎ খরচ কমায় না বা বাল্বের আলোও বাড়ায় না।
মনে রাখুন:
ফিউজ একবার গলে গেলে বদলাতে হয়, আর সার্কিট ব্রেকার আবার চালু করা যায়।
ফিউজ তার সাধারণত সিসা ও টিনের সংকর ধাতুর হয়, যার গলনাঙ্ক কম। - ৩০. বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক (frequency) প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কি?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসি কম্পাঙ্ক
- ক. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার বদ্ধ হয়
- খ. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
- গ. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
- ঘ. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার উঠানামা করে
উত্তর: গ. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
আমাদের বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current, AC), যার দিক নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলায়। ৫০ সাইকেল প্রতি সেকেন্ড অর্থাৎ ৫০ হার্জ কম্পাঙ্ক মানে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহ ৫০টি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করে। প্রতি চক্রে প্রবাহ একবার এক দিকে চলে, তারপর দিক বদলে উল্টো দিকে চলে এবং আবার আগের দিকে ফেরে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহ ৫০ বার করে দিক বদলের এই পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে। তাই অপশনের মধ্যে ‘৫০ বার দিক বদলায়’ উত্তরটি গ্রহণ করা হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশ, ভারত ও ইউরোপে AC-এর কম্পাঙ্ক ৫০ হার্জ, যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হার্জ।
বাংলাদেশে সাধারণত ২২০ ভোল্টের AC সরবরাহ করা হয়। - ৩১. বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ী করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষা রাখার জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহণ করবেন?১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বজ্রপাত
- ক. গাড়ির মধ্যে বসে থাকবেন
- খ. কোন গাছের তলায় আশ্রয় নিবেন
- গ. বাইরে এসে মাটির উপর শুয়ে থাকবেন
- ঘ. বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
উত্তর: ক. গাড়ির মধ্যে বসে থাকবেন
বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে বসে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। ধাতব দেহের গাড়ি ফ্যারাডে খাঁচার (Faraday Cage) মতো কাজ করে, ফলে বজ্রের বিদ্যুৎ গাড়ির বাইরের ধাতব আবরণ ধরে মাটিতে চলে যায়, ভেতরের মানুষের ক্ষতি হয় না। তবে জানালা বন্ধ রাখতে হয় এবং গাড়ির ধাতব অংশ ছোঁয়া উচিত নয়। অন্যদিকে গাছের নিচে দাঁড়ালে বজ্র গাছের মধ্য দিয়ে মানুষের দেহে আসতে পারে, তাই সেটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। খোলা জায়গায় শুয়ে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও নিরাপদ নয়।
মনে রাখুন: বজ্রনিরোধক দণ্ড (Lightning conductor) আবিষ্কার করেন বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন। - ৩২. অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থির তড়িৎ
- ক. অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
- খ. পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
- গ. ডিজিট্যাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
- ঘ. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
উত্তর: ঘ. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন স্থির বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক (Electrostatic) নীতিতে কাজ করে, এই পদ্ধতির নাম জেরোগ্রাফি। যন্ত্রের ভেতরের একটি ড্রাম আলোর সংস্পর্শে এলে পরিবাহী হয়ে যায়। তাই মূল কাগজের সাদা অংশের আলো ফিরে ড্রামের ওপর পড়লে সেই অংশের চার্জ সরে যায়, আর লেখা বা ছবির কালো অংশে চার্জ থেকে যায়। চার্জযুক্ত অংশে টোনার নামের কালো গুঁড়া আটকে যায় এবং তাপ দিয়ে কাগজে ছাপ বসানো হয়।
মনে রাখুন: জেরোগ্রাফি পদ্ধতির উদ্ভাবক চেস্টার কার্লসন। - ৩৩. সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে থাকে-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ড্রাইসেল
- ক. তামার দন্ড ও দস্তার দন্ড
- খ. তামার পাত ও দস্তার পাত
- গ. কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
- ঘ. তামার দন্ড ও দস্তার কৌটা
উত্তর: গ. কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
সাধারণ ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষে বিদ্যুৎ তৈরির জন্য দুটি তড়িৎদ্বার (Electrode) থাকে। মাঝখানে থাকে একটি কার্বন দণ্ড, যা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার। আর বাইরের কৌটোটি দস্তা (জিঙ্ক) দিয়ে তৈরি এবং সেটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার। এ দুইয়ের মাঝখানে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পেস্ট থাকে, আর কার্বন দণ্ডের চারপাশে ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড দেওয়া হয়। একটি ড্রাইসেলে প্রায় 1.5 ভোল্ট বিভব পাওয়া যায়।
মনে রাখুন: এই কোষটি লেকলাঁশে কোষের পরিবর্তিত রূপ। ড্রাইসেল প্রাথমিক কোষ, অর্থাৎ ফুরিয়ে গেলে আর চার্জ করা যায় না। - ৩৪. দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ সঞ্চালন
- ক. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
- খ. এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
- গ. অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
- ঘ. প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
উত্তর: ক. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
বিদ্যুৎ তার দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় তারের রোধের কারণে কিছুটা শক্তি তাপ হিসেবে নষ্ট হয়, যাকে লাইন লস বলে। এই অপচয়ের হিসাব হলো P = I²R, অর্থাৎ বিদ্যুৎপ্রবাহ (I) বেশি হলে অপচয় অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বিদ্যুতের মোট ক্ষমতা P = V × I। তাই একই ক্ষমতা উচ্চ ভোল্টেজে পাঠালে প্রবাহ কম লাগে, ফলে দূরে পাঠাতে অপচয়ও অনেক কমে। ব্যবহারের জায়গায় এসে ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ কমিয়ে নেওয়া হয়।
মনে রাখুন: ট্রান্সফরমার শুধু পরিবর্তী প্রবাহে (AC) কাজ করে। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে ভোল্টেজ বাড়াতে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার হয়। - ৩৫. বৈদ্যুতিক মটর এমন একটি যন্ত্রকৌশল, যা-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক মোটর
- ক. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
- খ. তাপ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরিত করে
- গ. যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরিত করে
- ঘ. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
উত্তর: ঘ. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
বৈদ্যুতিক মোটর এমন একটি যন্ত্র, যা তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এর কাজের নীতি হলো, চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখা কোনো তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে তার ওপর একটি বল কাজ করে এবং তারটি ঘুরতে থাকে। বৈদ্যুতিক পাখা, মিক্সার ও পানির পাম্প এই নীতিতে চলে। জেনারেটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে বদলে দেয়।
মনে রাখুন: মোটরের দিক বের করতে ফ্লেমিংয়ের বামহস্ত নিয়ম এবং জেনারেটরের ক্ষেত্রে ডানহস্ত নিয়ম ব্যবহার করা হয়। - ৩৬. সুপরিবাহী পদার্থে valence band এবং conduction band –৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী
- ক. আলাদা থাকে
- খ. ওভারল্যাপ থাকে
- গ. অনেক দূরে থাকে
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. ওভারল্যাপ থাকে
পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড (Valence band) ও পরিবহন ব্যান্ড (Conduction band) একটি আরেকটির ওপর উঠে ওভারল্যাপ করে থাকে। ফলে যোজন ব্যান্ডের ইলেকট্রন কোনো বাড়তি শক্তি ছাড়াই পরিবহন ব্যান্ডে চলে যেতে পারে এবং সহজে বিদ্যুৎ চলে। তাই সুপরিবাহীতে ব্যান্ড দুটি ওভারল্যাপ করে থাকে। ধাতু যেমন তামা বা রুপা এর উদাহরণ। অন্তর বা অন্তরক পদার্থ যেমন কাচ ও রবারে ইলেকট্রন সহজে মুক্ত হয় না বলে বিদ্যুৎ চলে না। অর্ধপরিবাহী মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ালে এর পরিবাহিতা বাড়ে।
মনে রাখুন:
অন্তরকে ব্যান্ড দুটির মধ্যে বড় শক্তি ব্যবধান (Energy gap) থাকে।
অর্ধপরিবাহীতে এই ব্যবধান অল্প, যেমন সিলিকন ও জার্মেনিয়াম। - ৩৭. আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ উৎস
- ক. অসীম
- খ. শূন্য
- গ. অতি ক্ষুদ্র
- ঘ. অনেক বড়
উত্তর: খ. শূন্য
আদর্শ ভোল্টেজ উৎস এমন একটি কাল্পনিক উৎস, যার প্রান্তীয় ভোল্টেজ বর্তনীতে প্রবাহ যত বদলায়, ততই অপরিবর্তিত থাকে। এটি তখনই সম্ভব, যখন উৎসের ভেতরে কোনো বিভব ক্ষয় হয় না। উৎসের ভেতরে বিভব ক্ষয় হয় অভ্যন্তরীণ রোধের কারণে। তাই আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য। বাস্তবে এমন উৎস পাওয়া যায় না। রোধ শূন্য না হলে ভোল্টেজ উৎসের প্রান্তীয় বিভব প্রবাহ বাড়লে কমে যায়। বাস্তব ব্যাটারিতে এ কারণেই বেশি বিদ্যুৎ টানলে ভোল্টেজ কিছুটা কমে যেতে দেখা যায়। আদর্শ উৎসে এমন সমস্যা হয় না।
মনে রাখুন: আদর্শ বিদ্যুৎ প্রবাহ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম। - ৩৮. ১০০ ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে কত শক্তি ব্যয় হয়?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক শক্তি
- ক. ১০০ জুল
- খ. ৬০ জুল
- গ. ৬০০০ জুল
- ঘ. ৩৬০০০০ জুল
উত্তর: ঘ. ৩৬০০০০ জুল
ক্ষমতা (Power) হলো কাজ করার হার, তাই শক্তি = ক্ষমতা × সময়। ১ ঘণ্টা মানে 3600 সেকেন্ড। কাজেই 100 ওয়াটের বাল্বে ব্যয়িত শক্তি = 100 × 3600 = 360000 জুল। ওয়াটকে এভাবে সেকেন্ড দিয়ে গুণ করলেই জুল পাওয়া যায়, কারণ ওয়াট হলো প্রতি সেকেন্ডে ব্যয়িত জুল। হিসাবটা ভুল না হওয়ার জন্য সময়কে সবসময় সেকেন্ডে রূপান্তর করে নিতে হয়। ঘণ্টা বা মিনিটে রেখে গুণ করলে উত্তর জুলে আসে না।
মনে রাখুন:
1 ওয়াট = 1 জুল/সেকেন্ড।
1 কিলোওয়াট-ঘণ্টা = 3.6 × 10⁶ জুল, আর এটিই বিদ্যুৎ বিলের এক ইউনিট। - ৩৯. কোন যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনারেটর
- ক. ট্রান্সফরমার
- খ. ডায়নামো
- গ. বৈদ্যুতিক মটর
- ঘ. হুইল
উত্তর: খ. ডায়নামো
ডায়নামো (Dynamo) বা জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের (Electromagnetic Induction) নীতিতে চলে, যেখানে চুম্বকের মধ্যে তারের কুণ্ডলী ঘোরালে তারে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়। বৈদ্যুতিক মোটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। ট্রান্সফরমার শুধু ভোল্টেজ বাড়ায় বা কমায়, শক্তির রূপ বদলায় না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় জেনারেটরগুলোও একই নীতিতে টারবাইনের ঘূর্ণনকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরো ব্যবস্থার শুরুতে থাকে এই যন্ত্র।
মনে রাখুন:
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ আবিষ্কার করেন মাইকেল ফ্যারাডে।
বাইসাইকেলের ডায়নামো চাকা ঘুরিয়ে বাতি জ্বালায়। - ৪০. বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ –১১তম ও ২৩তম ও ৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক শক্তি
- ক. কম হয়
- খ. খুব কম হয়
- গ. একই হয়
- ঘ. বেশি হয়
উত্তর: গ. একই হয়
সাধারণ পাখার গতি কমানো হয় রেগুলেটরের সাহায্যে, আর এই রেগুলেটর আসলে একটি পরিবর্তনশীল রোধ। এটি বর্তনীতে রোধ বাড়িয়ে পাখার মোটরে বিদ্যুতের পরিমাণ কমায়, ফলে পাখা ধীরে ঘোরে। কিন্তু পাখা যে বিদ্যুৎশক্তি কম নেয়, সেই শক্তি রেগুলেটরের রোধে তাপ হয়ে খরচ হয়ে যায়। তাই পাখা ধীরে ঘুরলেও মোট বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই থাকে বলে ধরা হয়। রোধের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে তাপ উৎপন্ন হয়, আর এই তাপ রেগুলেটর গরম করে দেয়।
মনে রাখুন:
আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটর রোধের বদলে সার্কিট ব্যবহার করে, তাই তাতে অপচয় তুলনায় কম।
বিদ্যুৎশক্তি নষ্ট হয় না, কেবল অন্য রূপে বদলে যায়, এটিই শক্তির নিত্যতা। - ৪১. বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর জন্য কোন বৈজ্ঞানিকের অবদান সবচেয়ে বেশি?১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ আবিষ্কার
- ক. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
- খ. আইজ্যাক নিউটন
- গ. টমাস এডিসন
- ঘ. ভোল্টা
উত্তর: গ. টমাস এডিসন
টমাস আলভা এডিসন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আবিষ্কারক। ১৮৭৯ সালে তিনি ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক বাতি (ভাস্বর বাতি) তৈরি করেন। শুধু বাতি বানিয়েই তিনি থেমে থাকেননি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের একটি ব্যবস্থাও দাঁড় করান। এতে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর পথ খুলে যায়। তাই সাধারণ মানুষের কাজে বিদ্যুৎ লাগানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদানই সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় আমরা বিদ্যুৎ আবিষ্কারকে এডিসনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি, কিন্তু আসলে তিনি বিদ্যুৎকে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছিলেন। এখানে সেই ব্যবহারিক দিকটিই প্রশ্নের কেন্দ্রে।
মনে রাখুন:
এডিসন ফনোগ্রাফও আবিষ্কার করেন।
ভোল্টা প্রথম ব্যাটারি তৈরি করেন, আর ফ্র্যাঙ্কলিন বজ্রপাত ও বিদ্যুতের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন। - ৪২. বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক কি?৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক শক্তি
- ক. এক কিলোওয়াট সেকেন্ড
- খ. এক ওয়াট ঘণ্টা
- গ. এক কিলোওয়াট ঘণ্টা
- ঘ. এক ওয়াট সেকেন্ড
উত্তর: গ. এক কিলোওয়াট ঘণ্টা
জুল শক্তির একক হলেও বিদ্যুতের হিসাবে এটি খুবই ছোট। তাই বাণিজ্যিক কাজে বড় একক কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ব্যবহার করা হয়, যাকে ১ ইউনিট বলে। ১ কিলোওয়াট (১০০০ ওয়াট) ক্ষমতার কোনো যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যে শক্তি খরচ হয়, সেটাই ১ kWh। মিটার এই এককেই বিদ্যুতের ব্যবহার মাপে এবং বিলও এ অনুযায়ী হয়।
মনে রাখুন:
১ kWh = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড = ৩৬,০০,০০০ জুল = ৩.৬ × 10⁶ J।
ওয়াট-ঘণ্টা ও কিলোওয়াট-সেকেন্ডও শক্তির একক, কিন্তু বাণিজ্যিক একক নয়।
সাধারণ বাসাবাড়িতে এই ইউনিটই বিল হিসাবের ভিত্তি। - ৪৩. উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার
- ক. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
- খ. এডাপটারের সাহায্যে
- গ. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে
- ঘ. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারের সাহায্যে
উত্তর: গ. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে
ট্রান্সফরমার (Transformer) পরিবর্তী ভোল্টেজের মান কমাতে বা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। যে ট্রান্সফরমারে সেকেন্ডারি কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা প্রাইমারির চেয়ে কম থাকে, সেটি ভোল্টেজ কমিয়ে দেয়, একে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। আমাদের মোবাইল চার্জারের ভেতরে এ ধরনের ট্রান্সফরমারই থাকে। উল্টোভাবে পাকসংখ্যা বেশি হলে ভোল্টেজ বাড়ে, সেটি স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফরমার কাজ করে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের নীতিতে, তাই এটি কেবল এসি-তে চলে, ডিসি-তে নয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূরে পাঠানোর সময় ভোল্টেজ বাড়ানো হয়, যাতে তারে শক্তির অপচয় কম হয়।
ট্রান্সফরমারে শক্তির ক্ষয় না ধরলে, প্রাইমারিতে যত ক্ষমতা দেওয়া হয় সেকেন্ডারিতে তত ক্ষমতাই পাওয়া যায়। - ৪৪. বৈদ্যুতিক হিটার ও বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে কোন ধরনের তার ব্যবহার করা হয়?২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. সিসার তার
- খ. তামার তার
- গ. নাইক্রোম তার
- ঘ. টাংস্টেন তার
উত্তর: গ. নাইক্রোম তার
হিটার বা ইস্ত্রির কুণ্ডলীতে এমন তার লাগে, যার রোধ বেশি এবং যেটি লাল হয়ে তপ্ত হলেও গলে না বা অক্সিজেনে পুড়ে যায় না। নাইক্রোম (Nichrome) নামের সংকর এই দুটি গুণই পূরণ করে। এটি নিকেল, ক্রোমিয়াম ও সামান্য লোহার সংকর, যার আপেক্ষিক রোধ বেশি এবং গলনাঙ্ক উচ্চ। জুলের তাপীয় সূত্র H = I²Rt অনুযায়ী রোধ বেশি হলে তাপও বেশি জন্মায়। তামার তার রোধ কম বলে এ কাজে ব্যবহার হয় না, আর সিসা সহজেই গলে যায়।
মনে রাখুন: টাংস্টেন তার বাল্বের ফিলামেন্টে ব্যবহৃত হয়, হিটারে নয়। - ৪৫. যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তার নাম হল২৮তম বিসিএস ও উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার ও মোটর
- ক. ট্রান্সফরমার
- খ. মোটর
- গ. জেনারেটর
- ঘ. ডায়নামো
উত্তর: ক. ট্রান্সফরমার
ট্রান্সফরমার (Transformer) এমন একটি যন্ত্র, যা পরিবর্তী প্রবাহের উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে। এতে একটি লোহার মজ্জার উপর দুটি আলাদা তারের কুণ্ডলী জড়ানো থাকে, যাদের মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলী বলে। মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তী প্রবাহ দিলে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের ফলে গৌণ কুণ্ডলীতে বিভব সৃষ্টি হয়। গৌণ কুণ্ডলীতে প্যাঁচের সংখ্যা বেশি হলে বিভব বাড়ে, কম হলে কমে। ট্রান্সফরমার একমুখী প্রবাহে কাজ করে না, কারণ ডিসিতে চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তন হয় না।
মনে রাখুন:
বিভব বাড়ায় স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার, কমায় স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার।
মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। - ৪৬. একটি ডায়োড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী ও ডায়োড
- ক. রেজিস্টার হিসাবে
- খ. ক্যাপাসিটর হিসাবে
- গ. ট্রান্সফর্মার হিসাবে
- ঘ. রেক্টিফায়ার হিসাবে
উত্তর: ঘ. রেক্টিফায়ার হিসাবে
ডায়োড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় রেক্টিফায়ার (Rectifier) হিসেবে, অর্থাৎ পরিবর্তী প্রবাহকে (AC) একমুখী প্রবাহে (DC) রূপান্তর করতে। ডায়োডের বিশেষ ধর্ম হলো, এটি কেবল একদিকে প্রবাহ চলতে দেয় এবং উল্টো দিকে প্রবাহ আটকে দেয়। এসি প্রবাহ পর্যায়ক্রমে দিক বদলায়, তাই ডায়োডের মধ্য দিয়ে কেবল একদিকের অংশটুকু পার হয়, ফলে বের হয়ে আসা প্রবাহ একমুখী হয়। মোবাইল ফোনের চার্জার, ল্যাপটপের অ্যাডাপ্টার ও টেলিভিশনের ভেতরে এভাবেই রেক্টিফায়ার কাজ করে। চারটি ডায়োড একসঙ্গে লাগিয়ে তৈরি ব্রিজ রেক্টিফায়ার পূর্ণ তরঙ্গ রেক্টিফিকেশন করে।
মনে রাখুন:
এলইডি (LED) হলো আলো নিঃসরণকারী ডায়োড।
ডিসিকে এসিতে রূপান্তর করে ইনভার্টার।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (১৫৫)
- ৪৭. তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র আবিষ্কার করেন -বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. মেন্ডেলিফ
- খ. নিউটন
- গ. অ্যাভোগ্যাড্রো
- ঘ. ফ্যারাডে
উত্তর: ঘ. ফ্যারাডে
ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে (Michael Faraday) ১৮৩৩-৩৪ সালে তড়িৎ বিশ্লেষণের পরিমাণগত সূত্র আবিষ্কার করেন। এগুলোকে ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ সূত্র বলে। প্রথম সূত্র অনুযায়ী তড়িৎ বিশ্লেষণে কোনো পদার্থ যে পরিমাণে জমা হয়, তা প্রবাহিত তড়িতের পরিমাণের সমানুপাতিক। প্রথম সূত্র অনুযায়ী W = ZQ, যেখানে W জমা হওয়া পদার্থের ভর, Q তড়িতের পরিমাণ এবং Z তড়িৎ রাসায়নিক সমতুল্য। তড়িতের এককের (ফ্যারাডে) নামকরণও তাঁর নামে।
মনে রাখুন:
ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশও আবিষ্কার করেন।
মেন্ডেলিফ পর্যায় সারণি তৈরি করেন, আর অ্যাভোগ্যাড্রো গ্যাসের আয়তন ও অণুর সংখ্যা নিয়ে সূত্র দেন। - ৪৮. পানির লবণাক্ততা কোন মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ pH ও নির্দেশক
- ক. ক্লোরাইড আয়ন
- খ. Electrical conductivity
- গ. Alkalinity
- ঘ. (ক) এবং (খ)
উত্তর: ঘ. (ক) এবং (খ)
পানিতে দ্রবীভূত লবণ বেশি থাকলে লবণাক্ততা বেশি হয়। এই লবণ আয়ন হিসেবে থাকে বলে পানি তড়িৎ পরিবহন করে, তাই লবণাক্ততা বাড়লে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা (Electrical Conductivity) বাড়ে। এই পরিবাহিতা মেপে সহজে লবণাক্ততা নির্ণয় করা যায়। আবার সাগরের পানিতে প্রধান লবণ NaCl হওয়ায় ক্লোরাইড আয়নের পরিমাণ মেপেও, যেমন সিলভার নাইট্রেট দিয়ে টাইট্রেশন করে, লবণাক্ততা বের করা চলে। তাই দুটি পদ্ধতিই ব্যবহার করা যায়।
ক্ষারত্ব (Alkalinity) দিয়ে পানির এসিড প্রশমনের ক্ষমতা মাপা হয়, লবণাক্ততা নয়।
মনে রাখুন: সাগরের পানির গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩.৫%। - ৪৯. সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসাবে থাকে -১০ম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. তামার দণ্ড ও দস্তার দণ্ড
- খ. তামার পাত ও দস্তার পাত
- গ. কার্বন দণ্ড ও দস্তার কৌটা
- ঘ. তামার দণ্ড ও দস্তার কৌটা
উত্তর: গ. কার্বন দণ্ড ও দস্তার কৌটা
সাধারণ শুষ্ক কোষে (Dry Cell) দস্তার একটি কৌটা থাকে, যা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। কৌটার মাঝখানে একটি কার্বন বা গ্রাফাইট দণ্ড থাকে, যা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড। দুটির মাঝখানে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পেস্ট থাকে, যা ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে। তামার কোনো ইলেকট্রোড এখানে থাকে না। দুই ধরনের কোষ আছে। শুষ্ক কোষের মতো যে কোষ একবার ফুরিয়ে গেলে আর চার্জ করা যায় না, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। আর সীসা-এসিড ব্যাটারির মতো চার্জযোগ্য কোষকে গৌণ কোষ বলে।
মনে রাখুন: এই কোষের আবিষ্কারক জর্জেস লেক্লাঞ্চে, তাই একে লেক্লাঞ্চে কোষও বলে। - ৫০. শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. দস্তার খোল
- খ. কার্বন দণ্ড
- গ. ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
- ঘ. কয়লার গুঁড়া
উত্তর: ক. দস্তার খোল
শুষ্ক কোষের দস্তার খোল অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। এখানে দস্তা জারিত হয়ে ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়, অর্থাৎ Zn → Zn²⁺ + 2e⁻। এই ইলেকট্রন বাইরের তারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কার্বন দণ্ডে পৌঁছায়। কার্বন দণ্ড নিজে কোনো বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না, শুধু ইলেকট্রন গ্রহণের স্থান হিসেবে কাজ করে, আর ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড এই ইলেকট্রন নিয়ে বিজারিত হয়। শুষ্ক কোষে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পেস্ট থাকে বলে একে শুষ্ক বলা হলেও এটি সম্পূর্ণ শুকনো নয়, এর ভেতরে সামান্য আর্দ্রতা থাকে।
মনে রাখুন: দস্তার খোল ক্রমে ক্ষয় হয়, তাই পুরোনো শুষ্ক কোষ থেকে ভেতরের রাসায়নিক পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে। - ৫১. শুষ্ক কোষে কার্বন দণ্ডের চারপাশে থাকে-গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. জিংক ক্লোরাইড ও কার্বন পাউডার
- খ. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও কার্বন পাউডার
- গ. দস্তা চূর্ণ ও কার্বন পাউডার
- ঘ. ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড ও কার্বন পাউডার
উত্তর: ঘ. ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড ও কার্বন পাউডার
শুষ্ক কোষে কার্বন দণ্ডের চারপাশে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO₂) ও কার্বন পাউডারের মিশ্রণ থাকে। MnO₂ ক্যাথোডে হাইড্রোজেন গ্যাস জমতে দেয় না। এটি হাইড্রোজেনকে জারিত করে পানিতে পরিণত করে, তাই একে ডিপোলারাইজার (Depolarizer) বলে। কার্বন পাউডার মিশ্রণের পরিবাহিতা বাড়ায়। দস্তা ও কার্বনের মাঝে থাকা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড পেস্ট আয়নের চলাচলে সাহায্য করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের পথ সম্পূর্ণ করে। এর ফলে কোষের ভেতরের বর্তনী পূর্ণ হয়।
মনে রাখুন: কার্বন দণ্ড ও দস্তার খোলের মাঝের জায়গায় থাকে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পেস্ট। - ৫২. ড্রাইসেল ব্যাটারির তড়িচ্চালক শক্তি কত?প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পার্সোনাল অফিসার, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. ১.৫ ভোল্ট
- খ. ১.১ ভোল্ট
- গ. ২ ভোল্ট
- ঘ. ৫ ভোল্ট
উত্তর: ক. ১.৫ ভোল্ট
সাধারণ শুষ্ক কোষ বা ড্রাইসেলের তড়িচ্চালক শক্তি (Electromotive Force) প্রায় ১.৫ ভোল্ট। দস্তা ও কার্বন তড়িৎদ্বার এবং তাদের মধ্যবর্তী রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে এই বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। বেশি ভোল্ট দরকার হলে কয়েকটি কোষ শ্রেণিতে যুক্ত করা হয়, যেমন ৬ ভোল্টের ব্যাটারিতে ৪টি কোষ থাকে। ব্যাটারি বা কোষের মোট বিভব পার্থক্যকে তড়িচ্চালক শক্তি (EMF) বলে। এর একক ভোল্ট। কোষ যখন বিদ্যুৎ দিতে থাকে, তখন ভেতরের রোধের কারণে প্রান্তীয় ভোল্টেজ EMF-এর চেয়ে সামান্য কম হয়।
মনে রাখুন: গাড়ির সীসা-এসিড ব্যাটারির প্রতিটি কোষ প্রায় ২ ভোল্ট দেয়, আর ছয়টি কোষ মিলে ১২ ভোল্ট হয়। - ৫৩. ব্যাটারি থেকে কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল অ্যান্ড পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. D.C
- খ. A.C
- গ. E.C
- ঘ. T.C
উত্তর: ক. D.C
ব্যাটারির ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন সব সময় একই দিকে ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে প্রবাহিত হয়। তাই ব্যাটারি থেকে সরাসরি প্রবাহ (Direct Current) বা DC পাওয়া যায়। এর দিক বদলায় না।
অন্যদিকে AC বা পরিবর্তী প্রবাহের দিক নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলে যায়। বাংলাদেশে বাড়ির সরবরাহের AC-এর কম্পাঙ্ক ৫০ হার্জ। তাই ব্যাটারি দিয়ে সরাসরি টর্চ, ঘড়ি ও মোবাইল ফোন চালানো যায়। কিন্তু ট্রান্সফরমার ব্যবহারের জন্য AC লাগে, সেজন্য ট্রান্সফরমার ব্যাটারির DC-তে কাজ করে না।
মনে রাখুন: ইনভার্টার DC-কে AC-তে এবং রেক্টিফায়ার AC-কে DC-তে রূপান্তর করে। - ৫৪. ব্যাটারীর নিয়মিত কি চেক করা উচিত?বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের গ্রীজার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও তড়িৎ কোষ
- ক. ভোল্টেজ
- খ. পানি/ইলেকট্রোলাইট লেবেল
- গ. অ্যাম্পিয়ার
- ঘ. ব্যাটারীর চার্জ
উত্তর: খ. পানি/ইলেকট্রোলাইট লেবেল
সীসা-এসিড ব্যাটারি চালু থাকার সময় তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ইলেকট্রোলাইটের পানি ধীরে ধীরে কমে যায়। পানি কমে পাতগুলো বাতাসে খোলা পড়ে গেলে সেগুলো নষ্ট হতে পারে এবং ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যায়। তাই নিয়মিত ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা পরীক্ষা করে প্রয়োজনে পাতিত পানি যোগ করতে হয়। তাছাড়া ব্যাটারির প্রান্তে মরিচা বা সাদা গুঁড়ো জমলে তা পরিষ্কার করা উচিত, কারণ এটি বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা দেয়।
মনে রাখুন:
ব্যাটারিতে সাধারণ পানির বদলে পাতিত পানি ব্যবহার করা উচিত, কারণ সাধারণ পানির লবণ ব্যাটারির ক্ষতি করে।
এসিড কমে যায় না, শুধু পানি কমে, তাই ব্যাটারিতে নতুন এসিড দেওয়া ঠিক নয়। - ৫৫. AC প্রবাহকে DC প্রবাহে রূপান্তর করতে কোন ডিভাইসকে ব্যবহার করবেন?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রনিক্স
- ক. ডায়োড
- খ. জেনারেটর
- গ. ট্রানজিস্টর
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: ক. ডায়োড
পরিবর্তী প্রবাহ বা AC নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক বদলায়, কিন্তু একমুখী প্রবাহ বা DC সব সময় একই দিকে চলে। AC-কে DC-তে রূপান্তরের কাজকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। ডায়োড (Diode) এমন একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র, যা তড়িৎ প্রবাহকে শুধু এক দিকে যেতে দেয়, উল্টো দিকে আটকে দেয়। তাই এটি রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, ট্রানজিস্টর সংকেত বিবর্ধন বা সুইচের কাজ করে, আর অ্যামপ্লিফায়ার সংকেতকে বড় করে। এগুলোর কোনোটি সরাসরি AC-কে DC করার জন্য ব্যবহৃত হয় না।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফরমার AC-এর ভোল্টেজ কমায় বা বাড়ায়, DC-তে কাজ করে না।
বাড়ির বিদ্যুতের লাইন AC, আর মোবাইল চার্জার তাকে DC করে। - ৫৬. ইলেকট্রিক বাল্ব কোন ফিলামেন্ট-এ তৈরি করা হয়?বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাল্ব
- ক. টাংস্টেন
- খ. আয়রণ
- গ. কার্বন
- ঘ. লেড
উত্তর: ক. টাংস্টেন
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরে সরু তারের কুণ্ডলী থাকে, যাকে ফিলামেন্ট (Filament) বলে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে তারটি তপ্ত হয়ে সাদা আভায় জ্বলে ওঠে, আর আমরা আলো পাই। এই কাজে টাংস্টেন সবচেয়ে উপযোগী। কারণ ধাতুগুলোর মধ্যে এর গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৪২২°C, তাই খুব উঁচু তাপমাত্রাতেও এটি গলে যায় না। লোহা ও সীসা অনেক কম তাপে গলে যেত। কার্বনের ফিলামেন্ট প্রথম দিকের বাল্বে ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু টাংস্টেনের মতো টেকসই নয়।
মনে রাখুন:
টাংস্টেনের অন্য নাম উলফ্রাম, প্রতীক W।
বাল্বের ভেতরে সাধারণত আর্গন ও নাইট্রোজেনের মিশ্রণ ভরা থাকে, যাতে ফিলামেন্ট পুড়ে না যায়। - ৫৭. নিচের কোনটিতে পারস্পরিক আবেশ ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফর্মার
- ক. ডায়োড
- খ. ট্রানজিস্টার
- গ. ট্রান্সফর্মার
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: গ. ট্রান্সফর্মার
একটি কয়েলে পরিবর্তনশীল তড়িৎপ্রবাহ চললে তার চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়। পাশের আরেকটি কয়েলে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে ওই কয়েলে তড়িৎচালক বল সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে পারস্পরিক আবেশ (Mutual Induction) বলে। ট্রান্সফর্মার ঠিক এই নীতিতেই কাজ করে। এতে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি নামে দুটি কয়েল থাকে, আর প্রাইমারির শক্তি আবেশের মাধ্যমে সেকেন্ডারিতে পৌঁছায়। ডায়োড, ট্রানজিস্টার ও অ্যামপ্লিফায়ার অর্ধপরিবাহী নির্ভর ইলেকট্রনিক যন্ত্র, এদের কাজের নীতি আলাদা।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফর্মার শুধু পরিবর্তী প্রবাহে (AC) কাজ করে, DC-তে করে না।
ভোল্টেজ বাড়ালে তাকে স্টেপ আপ এবং কমালে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে। - ৫৮. তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহীর রোধ—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. বাড়ে
- খ. কমে
- গ. অপরিবর্তিত থাকে
- ঘ. শূন্য হয়
উত্তর: ক. বাড়ে
ধাতব পরিবাহীতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যেগুলো তড়িৎপ্রবাহ বহন করে। তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর পরমাণুগুলো আরও জোরে কাঁপতে থাকে। এতে চলমান ইলেকট্রনের সঙ্গে পরমাণুর সংঘর্ষ বাড়ে, ফলে ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা বা রোধ বেড়ে যায়। সম্পর্কটি লেখা যায় R_t = R₀(1 + αt) সূত্রে, যেখানে α হলো রোধের তাপমাত্রা সহগ। অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে ঘটনা উল্টো। তাপমাত্রা বাড়লে বেশি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তাই রোধ কমে।
মনে রাখুন:
ধাতুর রোধ তাপমাত্রার সঙ্গে বাড়ে।
অর্ধপরিবাহী ও অন্তরকের রোধ তাপমাত্রা বাড়লে কমে।
খুব নিম্ন তাপমাত্রায় কিছু পদার্থ অতিপরিবাহী হয়ে যায়। - ৫৯. পরম শূন্য তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী কীসের মতো আচরণ করে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী
- ক. পরিবাহী
- খ. অপরিবাহী
- গ. অর্ধপরিবাহী
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. অপরিবাহী
পরম শূন্য তাপমাত্রায় (০ কেলভিন, প্রায় −২৭৩°C) কোনো পদার্থের পরমাণুর তাপীয় গতি প্রায় থেমে যায়। অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে তখন সব ইলেকট্রন যোজন ব্যান্ডে আটকে থাকে এবং পরিবহণ ব্যান্ড পুরো খালি থাকে। তড়িৎ চালনা করার মতো মুক্ত ইলেকট্রন তখন থাকে না, ফলে অর্ধপরিবাহী অপরিবাহী বা অন্তরকের মতো আচরণ করে। তাপমাত্রা বাড়ালে কিছু ইলেকট্রন শক্তি পেয়ে নিষিদ্ধ ব্যান্ড পেরিয়ে পরিবহণ ব্যান্ডে চলে যায়, তখন অর্ধপরিবাহীতে তড়িৎ চলতে পারে। তাই পরম শূন্য তাপমাত্রায় সিলিকনের মতো অর্ধপরিবাহীকে আদর্শ অন্তরক ধরা হয়। এ কারণে পরীক্ষার প্রশ্নে এখানে অপরিবাহীই সঠিক উত্তর।
মনে রাখুন:
সিলিকন ও জার্মেনিয়াম পরিচিত অর্ধপরিবাহী।
তাপমাত্রা বাড়লে অর্ধপরিবাহীর রোধ কমে। - ৬০. ১০০ ওয়াট ও ২০০ ভোল্টবিশিষ্ট একটি বাতির রোধ কত?বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, উপসহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশল), ২০২১ ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ ও ক্ষমতা
- ক. ১০০ ওহম
- খ. ২০০ ওহম
- গ. ৪০০ ওহম
- ঘ. ৫০ ওহম
উত্তর: গ. ৪০০ ওহম
বৈদ্যুতিক বাতির ক্ষমতা P = V²/R, যেখানে V বিভব পার্থক্য ও R রোধ। এ থেকে R = V²/P। প্রশ্নে P = 100 W এবং V = 200 V। তাই R = (200)²/100 = 40000/100 = 400 ওহম। যাচাই: I = P/V = 100/200 = 0.5 A, আবার R = V/I = 200/0.5 = 400 Ω। দুই পদ্ধতিতেই একই উত্তর আসে।
মনে রাখুন:
P = VI = I²R = V²/R।
ক্ষমতা ও ভোল্টেজ দেওয়া থাকলে সরাসরি R = V²/P ব্যবহার করুন।
রোধের SI একক ওহম (Ω)। - ৬১. সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সৌরকোষ
- ক. ট্রান্সফর্মার
- খ. জেনারেটর
- গ. স্টোরেজ ব্যাটারি
- ঘ. ক্যাপাসিটর
উত্তর: গ. স্টোরেজ ব্যাটারি
সৌরকোষ (Solar cell) সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে, তাই রাতে সূর্য না থাকলে বিদ্যুৎ তৈরি হয় না। দিনের বেলা উৎপন্ন বাড়তি বিদ্যুৎ যদি স্টোরেজ ব্যাটারিতে জমা রাখা যায়, তবে রাতে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব। ব্যাটারি বিদ্যুৎশক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে জমিয়ে রাখে এবং প্রয়োজনে আবার বিদ্যুৎ দেয়। ট্রান্সফর্মার শুধু ভোল্টেজ বদলায়, জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, আর ক্যাপাসিটর খুব সামান্য আধান জমা রাখে।
মনে রাখুন:
সৌরকোষ সিলিকনের তৈরি অর্ধপরিবাহী দিয়ে গঠিত।
সৌর প্যানেল ডিসি (DC) বিদ্যুৎ দেয়, ইনভার্টার দিয়ে এসি (AC) করা যায়।
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে সালফিউরিক এসিড থাকে। - ৬২. একটি অ্যামিটারের রেঞ্জ বৃদ্ধির জন্য শান্ট রেজিস্ট্যান্স-এর মান—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যামিটার
- ক. বাড়াতে হয়
- খ. কমাতে হয়
- গ. বাড়িয়ে কমাতে হয়
- ঘ. কিছুই করতে হয় না
উত্তর: খ. কমাতে হয়
অ্যামিটার বা তড়িৎ প্রবাহ মাপার যন্ত্র তৈরি হয় গ্যালভানোমিটারের সঙ্গে সমান্তরালে একটি কম রোধ যুক্ত করে। এই রোধকে শান্ট (Shunt) রেজিস্ট্যান্স বলে। অ্যামিটারের রেঞ্জ বাড়াতে হলে বেশি প্রবাহের বেশিরভাগ অংশ শান্টের মধ্য দিয়ে যেতে দিতে হবে, যাতে যন্ত্রের মূল কুণ্ডলী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তার জন্য শান্টের রোধ কমাতে হয়। গ্যালভানোমিটারের রোধ r হলে n গুণ বেশি প্রবাহ মাপতে হলে শান্টের রোধ হবে r/(n−1)।
মনে রাখুন:
অ্যামিটার বর্তনীর শ্রেণিতে যুক্ত করতে হয় এবং এর রোধ খুব কম হওয়া উচিত।
ভোল্টমিটার সমান্তরালে লাগানো হয় এবং এর রোধ অনেক বেশি।
ভোল্টমিটারের রেঞ্জ বাড়াতে শ্রেণিতে উচ্চ রোধ যুক্ত করা হয়। - ৬৩. Incandescent bulb-এর filament কী দিয়ে তৈরি?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. Nickel
- খ. Nichrome
- গ. Tungsten
- ঘ. Aluminium
উত্তর: গ. Tungsten
বৈদ্যুতিক বাতির (Incandescent bulb) ফিলামেন্ট টাংস্টেন (Tungsten) ধাতুর তৈরি। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক খুব বেশি, প্রায় ৩৪২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই বিদ্যুৎ চলার সময় ফিলামেন্ট প্রচণ্ড গরম হয়ে সাদা আলো দিলেও গলে যায় না।
অন্য ধাতুগুলো এই কাজে লাগে না। নিকেল ও অ্যালুমিনিয়ামের গলনাঙ্ক কম, আর নাইক্রোম (Nichrome) বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রির তারে ব্যবহার করা হয়। ফিলামেন্টের তার খুব সরু এবং সর্পিলভাবে পেঁচানো থাকে, ফলে অল্প জায়গায় বেশি দৈর্ঘ্যের তার ও বেশি রোধ পাওয়া যায়।
মনে রাখুন: বাতির ভেতরে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (আর্গন) ভরা থাকে, যাতে ফিলামেন্ট দ্রুত জারিত না হয়। প্রথম ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক বাতি বানান টমাস আলভা এডিসন।
টাংস্টেনের প্রতীক W, যা এর আরেক নাম উলফ্রাম থেকে এসেছে। - ৬৪. একটি 12V ব্যাটারিতে সাধারণত কয়টি cell থাকে?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও সেল
- ক. 2
- খ. 4
- গ. 6
- ঘ. 8
উত্তর: গ. 6
সাধারণত ১২ ভোল্টের ব্যাটারি বলতে গাড়ি বা ইউপিএসের লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি বোঝায়। এই ব্যাটারির প্রতিটি সেল প্রায় ২ ভোল্ট দেয়, তাই ১২ ভোল্ট পেতে ১২ ÷ 2 = 6টি সেল সিরিজে জোড়া থাকে।
শুকনো সেলের (Dry cell) ভোল্টেজ ১.৫ V, তাই সেই হিসাবে 12 ÷ 1.5 = 8টি সেল লাগত, কিন্তু প্রচলিত ১২ ভোল্ট ব্যাটারিতে ছয়টি সেলই থাকে। লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি চার্জ দিয়ে বারবার ব্যবহার করা যায়, তাই একে গৌণ বা সঞ্চয়ী সেল (Secondary cell) বলে।
মনে রাখুন: একই ভাবে ৬ ভোল্টের লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে ৩টি সেল থাকে।
শুকনো সেল একবার ব্যবহারের পর আর চার্জ করা যায় না, তাই একে প্রাথমিক সেল বলা হয়। - ৬৫. Two electric bulb rated for the same voltage have power of 200W and 100W respectively of their resistances are respectively R₁ and R₂, then—স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ ক্ষমতা
- ক. R₁ = 2R₂
- খ. R₂ = 2R₁
- গ. R₂ = 4R₁
- ঘ. R₁ = 4R₂
উত্তর: খ. R₂ = 2R₁
একই ভোল্টেজে (V) দুটি বাল্ব চালালে P = V²/R সূত্রে প্রতিরোধ R = V²/P। প্রথম বাল্বের P = 200 W, তাই R₁ = V²/200। দ্বিতীয় বাল্বের P = 100 W, তাই R₂ = V²/100।
দুটির অনুপাত: R₂/R₁ = (V²/100) ÷ (V²/200) = 200/100 = 2। অতএব R₂ = 2R₁। ওহমের সূত্র ও ক্ষমতার সূত্র মিলিয়ে বোঝা যায়, ভোল্টেজ স্থির থাকলে ক্ষমতা রোধের ব্যস্তানুপাতিক।
মনে রাখুন: একই ভোল্টেজে বেশি ক্ষমতার বাল্বের রোধ কম হয়, তাই ২০০ ওয়াটের বাল্বের রোধ ১০০ ওয়াটের অর্ধেক।
২২০ V-এ ১০০ W বাল্বের রোধ 220² ÷ 100 = 484 Ω, আর ২০০ W বাল্বের রোধ 242 Ω। - ৬৬. Super conductor-এর conductivity —স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অতিপরিবাহী
- ক. infinite
- খ. zero
- গ. very small
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. infinite
কোনো পদার্থ খুব কম তাপমাত্রায় ঠান্ডা করলে যদি তার তড়িৎ রোধ শূন্য হয়ে যায়, তাকে অতিপরিবাহী (Superconductor) বলে। রোধ শূন্য হলে পরিবাহিতা, অর্থাৎ রোধের উল্টো রাশি, অসীম বা infinite হয়। তাই অতিপরিবাহীতে একবার তড়িৎ চালু করলে তা প্রায় ক্ষয় ছাড়াই বইতে থাকে। অন্যদিকে অন্তরকের (Insulator) পরিবাহিতা প্রায় শূন্য এবং অর্ধপরিবাহীর (Semiconductor) পরিবাহিতা খুব কম।
মনে রাখুন: ১৯১১ সালে ডাচ বিজ্ঞানী কামারলিং ওনেস প্রথম পারদে অতিপরিবাহিতা আবিষ্কার করেন।
সাধারণ পরিবাহীর রোধ তাপমাত্রা কমলে কমে, কিন্তু অতিপরিবাহীতে একটি নির্দিষ্ট ক্রান্তি তাপমাত্রার নিচে রোধ হঠাৎ শূন্য হয়ে যায়।
চৌম্বক ট্রেন ও এমআরআই যন্ত্রে অতিপরিবাহী ব্যবহার করা হয়। - ৬৭. DC (Direct Current)-এর Frequency কত?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সহকারী প্রকৌশলী (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসি ও ডিসি
- ক. Infinite
- খ. শূন্য
- গ. 50HZ
- ঘ. 60HZ
উত্তর: খ. শূন্য
ডিসি (DC) বা একমুখী প্রবাহে কারেন্ট সবসময় একই দিকে একই মানে বয়ে চলে, তার দিক বা মান পর্যায়ক্রমে বদলায় না। কম্পাঙ্ক (Frequency) বলতে প্রতি সেকেন্ডে কতবার চক্র সম্পূর্ণ হয় তা বোঝায়, আর ডিসিতে কোনো চক্রই নেই। তাই এর কম্পাঙ্ক শূন্য।
মনে রাখুন:
এসি (AC)-এর কম্পাঙ্ক বাংলাদেশে ৫০ হার্জ, আর যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হার্জ।
ব্যাটারি ও সৌর প্যানেল ডিসি দেয়, আর জেনারেটর সাধারণত এসি দেয়।
বিদ্যুৎ বিতরণে এসি ব্যবহার হয়, কারণ ট্রান্সফরমার দিয়ে এসির ভোল্টেজ সহজে বাড়ানো ও কমানো যায়।
ডিসি তড়িৎ দেয় ব্যাটারি, সেল ও সৌর প্যানেল। - ৬৮. একটি Fuse তারের Rating কী দিয়ে প্রকাশ করা হয়?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিউজ
- ক. Ampere-hr
- খ. Ampere Volts
- গ. kWh
- ঘ. Ampere
উত্তর: ঘ. Ampere
ফিউজ তারের রেটিং বলতে বোঝায়, সেই তার সর্বোচ্চ কত বিদ্যুৎ প্রবাহ নিরাপদে বহন করতে পারে। ফিউজ তারের মধ্য দিয়ে বেশি বিদ্যুৎ গেলে তা গরম হয়ে গলে যায়, তাতে বর্তনী কেটে যায়। তাই রেটিং প্রকাশ করা হয় প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ারে (A), যেমন ৫ A বা ১৩ A ফিউজ। kWh শক্তির একক আর Ampere-hr আধানের একক।
মনে রাখুন: ফিউজ সবসময় লাইভ তারে লাগাতে হয়, আর এর উপাদান কম গলনাঙ্কের সংকর ধাতু।
ফিউজের কাজ অতিরিক্ত প্রবাহ থেকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রকে রক্ষা করা, আধুনিক ঘরে এর বদলে সার্কিট ব্রেকারও ব্যবহার হয়। - ৬৯. ইলেকট্রিক চাপকে কী বলা হয়?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভোল্টেজ
- ক. Resistance
- খ. Power
- গ. Voltage
- ঘ. Energy
উত্তর: গ. Voltage
ভোল্টেজ (Voltage) বা বিভব পার্থক্যকে অনেক সময় তড়িৎ চাপ বলা হয়, কারণ পানির নলের চাপের মতো এটিই বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহকে ঠেলে দেয়। এর একক ভোল্ট (V)। রোধ (Resistance) বিদ্যুৎ চলাচলে বাধা দেয়, ক্ষমতা (Power) কাজ করার হার আর শক্তি (Energy) মোট কাজের সামর্থ্য।
মনে রাখুন: ওহমের সূত্র: V = IR। এখানে V ভোল্টেজ, I প্রবাহ আর R রোধ।
ভোল্টেজ মাপার যন্ত্রের নাম ভোল্টমিটার, এটি বর্তনীর সঙ্গে সমান্তরালে লাগানো হয়।
প্রবাহ মাপে অ্যামিটার, যা শ্রেণি সংযোগে লাগে।
ভোল্টেজের বড় একক কিলোভোল্ট (kV) এবং ছোট একক মিলিভোল্ট (mV)। - ৭০. নিচের কোনটি বিদ্যুতের সবচাইতে ভালো পরিবাহী?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিবাহী
- ক. Iron
- খ. Silver
- গ. Copper
- ঘ. Carbon
উত্তর: খ. Silver
বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে পদার্থের রোধের ওপর। রোধ যত কম, পরিবাহিতা তত বেশি। বিকল্পগুলোর মধ্যে রুপার (Silver) আপেক্ষিক রোধ সবচেয়ে কম, তাই এটি বিদ্যুতের সর্বোত্তম পরিবাহী। তামা প্রায় কাছাকাছি, তবে দামের কারণে তার আর তারের কাজে তামাই বেশি ব্যবহৃত হয়। লোহা ও কার্বনের পরিবাহিতা অনেক কম।
মনে রাখুন: পরিবাহিতার ক্রম: রুপা > তামা > সোনা > অ্যালুমিনিয়াম।
পরিবাহিতা হলো রোধের বিপরীত রাশি, এর SI একক সিমেন্স (S)।
অধাতু গ্রাফাইটও কিছুটা বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সাধারণত তাপমাত্রা বাড়লে ধাতুতে কমে।
ধাতুতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে বলে সেগুলো বিদ্যুৎ ভালো পরিবহন করে। - ৭১. বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ—সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ খরচ
- ক. কম হয়
- খ. বেশি হয়
- গ. একই হয়
- ঘ. খুব কম হয়
উত্তর: ক. কম হয়
পাখার গতি কমাতে রেগুলেটর ব্যবহার করলে সার্কিটে রোধ বেড়ে যায়। রোধ বাড়লে মোটরের মধ্য দিয়ে কম তড়িৎ প্রবাহ চলে, ফলে ধীরে ঘোরা পাখা কম বিদ্যুৎ টানে। তবে সাধারণ রোধ-ধরনের রেগুলেটরে কিছু বিদ্যুৎ রোধে তাপ হয়ে নষ্ট হয়, তাই সাশ্রয় খুব বেশি হয় না। ‘খুব কম’ বলা তাই ঠিক নয়।
মনে রাখুন: আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটরে এই অপচয় কম হয়, তাই ধীর গতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বেশি হয়।
ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রকে রেগুলেটর বলে।
বিদ্যুৎ খরচ মাপা হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) এককে, একে ১ ইউনিটও বলে।
ফ্যানের গতি কমালে রেগুলেটরের রোধ বাড়ে, ফলে মোটরে কম কারেন্ট যায়। - ৭২. কোনটি ব্যাটারীতে ব্যবহৃত হয়?কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও সেল
- ক. HNO₃
- খ. H₂SO₄
- গ. HCl
- ঘ. HF
উত্তর: খ. H₂SO₄
সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি, যা গাড়ি ও আইপিএসে ব্যবহৃত হয়, তাতে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) থাকে। এই অ্যাসিড সীসার পাত ও সীসা ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ তৈরি করতে সাহায্য করে। নাইট্রিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বা হাইড্রোফ্লুরিক অ্যাসিড সাধারণ ব্যাটারিতে ব্যবহৃত হয় না। সালফিউরিক অ্যাসিড পানিতে আয়নে ভেঙে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে।
মনে রাখুন: সালফিউরিক অ্যাসিডকে রাসায়নিক শিল্পের রাজা বলা হয়।
শুকনো সেলে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পেস্ট থাকে।
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির দুটি পাতই সীসা ও সীসা ডাইঅক্সাইড দিয়ে গঠিত।
সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি আবিষ্কার করেন গাস্টন প্লান্তে, ১৮৫৯ সালে। - ৭৩. ব্যাটারির ক্যাপাসিটি পরিমাপ করা হয় — দ্বারা।কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি ও সেল
- ক. Weight
- খ. Ampere-hour
- গ. Volt
- ঘ. Ampere
উত্তর: খ. Ampere-hour
ব্যাটারি কতক্ষণ কত কারেন্ট দিতে পারবে, সেটিই তার ক্যাপাসিটি। একে মাপা হয় অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (Ah) এককে। যেমন 100 Ah ব্যাটারি এক ঘণ্টায় 100 অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট অথবা 10 ঘণ্টায় 10 অ্যাম্পিয়ার করে কারেন্ট দিতে পারে। ভোল্ট দিয়ে বিভব বা চাপ মাপা হয়, আর অ্যাম্পিয়ার দিয়ে মাপা হয় কেবল কারেন্টের মান, কতক্ষণ দেবে তা নয়।
মনে রাখুন: অ্যাম্পিয়ার × সময় = চার্জ, তাই 1 Ah = 3600 কুলম্ব।
ভোল্ট ও অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার গুণ করলে ব্যাটারি কত শক্তি (Wh) দিতে পারে তা পাওয়া যায়, যেমন 12 V × 100 Ah = 1200 Wh। - ৭৪. বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব নিকাশে ব্যবহৃত একক—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ শক্তির একক
- ক. অ্যাম্পিয়ার
- খ. ভোল্ট
- গ. কিলোওয়াট ঘণ্টা
- ঘ. ওয়াট
উত্তর: গ. কিলোওয়াট ঘণ্টা
বাড়িতে কত বিদ্যুৎ খরচ হলো, তার হিসাব রাখা হয় কিলোওয়াট ঘণ্টা (kWh) এককে। এক কিলোওয়াট ক্ষমতার যন্ত্র এক ঘণ্টা চললে যে শক্তি খরচ হয়, সেটিই ১ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিলে যে ‘ইউনিট’ লেখা থাকে, সেটি আসলে এই একক। অ্যাম্পিয়ার, ভোল্ট ও ওয়াট কোনোটিই খরচ হওয়া শক্তির পরিমাণ দেখায় না। এগুলো যথাক্রমে প্রবাহ, বিভব ও ক্ষমতা মাপে। শক্তি পেতে হলে ক্ষমতাকে সময় দিয়ে গুণ করতে হয়, আর সেই কাজটিই কিলোওয়াট ঘণ্টায় হয়।
মনে রাখুন:
তড়িৎপ্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার (A)।
তড়িৎ বিভব বা ভোল্টেজের একক ভোল্ট (V)।
ক্ষমতার একক ওয়াট (W)।
১ কিলোওয়াট ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ১ ঘণ্টা = ৩৬ লক্ষ জুল।
ক্ষমতার সূত্র P = VI এবং শক্তির সূত্র E = Pt। - ৭৫. সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর কী গ্যাস ব্যবহৃত হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. আর্গন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. সালফার
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ক. আর্গন
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতরে টাংস্টেনের সরু তার (ফিলামেন্ট) থাকে। বিদ্যুৎ গেলে এটি খুব গরম হয়ে আলো দেয়। বাতাসে অক্সিজেন থাকলে তারটি পুড়ে যেত, তাই ভিতরে নিষ্ক্রিয় আর্গন (Argon) গ্যাস ভরা থাকে। আর্গন অন্য পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না এবং তুলনামূলক সস্তা। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক খুব বেশি বলে এটি ফিলামেন্টের জন্য উপযোগী।
মনে রাখুন:
নিয়ন গ্যাস বিজ্ঞাপনের আলোয় এবং হিলিয়াম বেলুনে ব্যবহার হয়।
আর্গন, নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপ্টন ও জেনন নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেন টমাস আলভা এডিসন।
বাল্বের ফিলামেন্টে প্রথমে কার্বনের তার ব্যবহার হতো, পরে টাংস্টেন ব্যবহার শুরু হয়। - ৭৬. টিউব লাইটে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. আর্গন
- গ. নিয়ন
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: খ. আর্গন
টিউব লাইটের কাচের নলের ভেতরে অল্প পরিমাণ পারদের বাষ্প ও আর্গন (Argon) গ্যাস ভরা থাকে। বিদ্যুৎ চালালে এই গ্যাসের মধ্য দিয়ে ডিসচার্জ হয়ে অতিবেগুনি রশ্মি তৈরি হয়, যা নলের ভেতরের ফসফর আস্তরণে পড়ে দৃশ্যমান আলো দেয়। আর্গন নিষ্ক্রিয় গ্যাস, তাই এটি নলের ভেতরের জিনিসের ক্ষয় ঠেকায়।
মনে রাখুন:
সাধারণ বাল্বে ভরা থাকে নাইট্রোজেন বা আর্গন।
বিজ্ঞাপনের নিয়ন বাতিতে নিয়ন গ্যাস থাকে।
টিউব লাইট সাধারণ বাল্বের চেয়ে কম বিদ্যুতে বেশি আলো দেয়।
টিউব লাইটের দুই প্রান্তে ইলেকট্রোড থাকে। সেখান থেকে ইলেকট্রন বেরিয়ে পারদ-বাষ্পের পরমাণুকে উত্তেজিত করে। - ৭৭. LED-এর পূর্ণরূপ কোনটি?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইলেকট্রনিক্স ও ডায়োড
- ক. Light-emitting Device
- খ. Light-emitting Diode
- গ. Light-electronic Diode
- ঘ. Light-emitting Director
উত্তর: খ. Light-emitting Diode
LED-এর পূর্ণরূপ Light-emitting Diode। এটি এমন একটি অর্ধপরিবাহী ডায়োড, যার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে আলো বের হয়। অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তি সরাসরি আলোক শক্তিতে রূপ নেয়। সাধারণ বাল্বের চেয়ে এতে বিদ্যুৎ কম লাগে এবং এটি অনেক দিন টিকে থাকে।
মনে রাখুন:
ডায়োড তড়িৎ কেবল এক দিকে চলতে দেয়।
LCD-এর পূর্ণরূপ Liquid Crystal Display।
LED-এর ভেতরে p-n জংশন থাকে। বিদ্যুৎ চালালে ইলেকট্রন ও হোল মিলিত হয়ে শক্তি ছাড়ে, আর সেই শক্তি আলো হিসেবে বের হয়। ডায়োডের উপাদান সাধারণত সিলিকন বা জার্মেনিয়াম।
এলইডির উন্নত রূপ OLED আধুনিক টিভি ও মোবাইল পর্দায় ব্যবহৃত হয়। - ৭৮. বৈদ্যুতিক শক্তির বাণিজ্যিক একক কী?বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ শক্তির একক
- ক. কিলোওয়াট-ঘণ্টা
- খ. কিলোওয়াট
- গ. ওয়াট
- ঘ. জুল
উত্তর: ক. কিলোওয়াট-ঘণ্টা
বাড়িতে বা কারখানায় বিদ্যুৎ কতটা খরচ হলো তা মাপতে আমরা কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ব্যবহার করি। ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যে বিদ্যুৎশক্তি খরচ হয়, সেটিই ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। বিদ্যুৎ বিলে একে ‘ইউনিট’ বলে লেখা হয় এবং একে বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট (BOT) নামেও ডাকা হয়। বাকি এককগুলো এই কাজে চলে না: কিলোওয়াট ও ওয়াট ক্ষমতার একক, আর জুল শক্তির এসআই একক হলেও খুব ছোট বলে বিলের হিসাবে ব্যবহার হয় না।
উদাহরণ: 100 W-এর বাল্ব ১০ ঘণ্টা জ্বললে খরচ = 0.1 kW × 10 h = 1 kWh।
মনে রাখুন: 1 kWh = 3.6 × 10⁶ J। - ৭৯. ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা সমান কত?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ শক্তির একক
- ক. ৬.৩ মেগা জুল
- খ. ৩.৬ মেগা জুল
- গ. ৩.৫ মেগা জুল
- ঘ. ১ মেগা জুল
উত্তর: খ. ৩.৬ মেগা জুল
১ কিলোওয়াট মানে 1000 ওয়াট, আর ১ ঘণ্টা মানে 3600 সেকেন্ড। ওয়াট × সেকেন্ড = জুল, তাই 1 kWh = 1000 × 3600 = 3600000 J = 3.6 MJ। সুতরাং 1 kWh = 3.6 মেগা জুল।
মনে রাখুন:
১ মেগা জুল = 10⁶ জুল।
বিদ্যুৎ বিলে যে ‘ইউনিট’ লেখা থাকে, তা আসলে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।
ক্ষমতার একক ওয়াট, শক্তির একক জুল।
বিদ্যুতের বিল হিসাব করতে এই এককই ব্যবহার হয়। যেমন 2 kW ক্ষমতার একটি হিটার ৩ ঘণ্টা চললে খরচ 2 × 3 = 6 kWh অর্থাৎ ৬ ইউনিট।
জুল (J) শক্তির SI একক, আর 1 J = 1 W × 1 s। - ৮০. টেলিফোন লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়–সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ সংকেত
- ক. তড়িৎশক্তি
- খ. শব্দশক্তি
- গ. চৌম্বকশক্তি
- ঘ. আলোকশক্তি
উত্তর: ক. তড়িৎশক্তি
টেলিফোনে আমরা কথা বললে মাউথপিসের মাইক্রোফোন শব্দশক্তিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তর করে। এই তড়িৎ সংকেত তার বেয়ে অপর প্রান্তে যায়, সেখানে রিসিভার আবার তাকে শব্দে ফিরিয়ে আনে। অর্থাৎ লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তড়িৎশক্তি, শব্দ নয়। শব্দ তার বেয়ে এত দূর যেতে পারে না।
মনে রাখুন:
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর সংকেত চলে, কিন্তু সাধারণ টেলিফোন লাইনে বিদ্যুৎ।
টেলিফোন তারে বিদ্যুতের তীব্রতা শব্দের ওঠানামার সঙ্গে ওঠানামা করে, এ জন্য দূরের মানুষের কণ্ঠস্বর চেনা যায়।
মোবাইল ফোনে তার ছাড়া তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে সংকেত যায়। - ৮১. কোন পদার্থ সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহী?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিবাহী
- ক. রুপা
- খ. সোনা
- গ. পাথর
- ঘ. লোহা
উত্তর: ক. রুপা
যে পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে, তাকে বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductor) বলে। ধাতুগুলোর মধ্যে রুপা সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী, কারণ এর মুক্ত ইলেকট্রন খুব সহজে চলাচল করতে পারে। এরপর ক্রমানুসারে আছে তামা, সোনা ও অ্যালুমিনিয়াম। রুপার দাম বেশি বলে বিদ্যুতের তারে সাধারণত তামা ব্যবহার করা হয়। সোনা মরিচা ধরে না বলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সংযোগে সোনার ব্যবহার হয়। বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা তাপমাত্রা বাড়লে ধাতুতে কিছুটা কমে যায়।
মনে রাখুন:
পাথর, কাঠ, প্লাস্টিক ও রাবারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলে না, এদের অপরিবাহী (Insulator) বলে।
রুপার আপেক্ষিক রোধ সবচেয়ে কম। - ৮২. সবচেয়ে বেশি সুপরিবাহী পদার্থ?ডিপিডিসি কমপ্লেইন সুপারভাইজার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ পরিবাহিতা
- ক. তামা
- খ. লোহা
- গ. অ্যালুমিনিয়াম
- ঘ. সোনা
উত্তর: ক. তামা
ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে ভালো পরিবাহী হলো রুপা, তবে দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে তামার পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। তামার রোধাংক খুব কম (প্রায় 1.7 × 10⁻⁸ Ω·m), এবং এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা বলে বৈদ্যুতিক তার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। অ্যালুমিনিয়াম হালকা, তাই উচ্চ ভোল্টেজের ওভারহেড তারে ব্যবহার হয়। লোহার পরিবাহিতা তামার চেয়ে অনেক কম। অ্যালুমিনিয়াম হালকা বলে উচ্চ চাপের বিদ্যুৎ লাইনে এর তার ব্যবহৃত হয়। সোনা ভালো পরিবাহী হলেও দামি বলে সাধারণ কাজে লাগে না। তামার তার মাটির নিচের কেবল, মোটরের কুণ্ডলী ও ঘরের তারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
পরিবাহিতার ক্রম: রুপা > তামা > সোনা > অ্যালুমিনিয়াম > লোহা। - ৮৩. বিমান চালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ -আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থির বিদ্যুৎ
- ক. শুষ্ক বায়ুর মধ্যে দিয়ে
- খ. ঠাণ্ডা বায়ুর মধ্যে দিয়ে
- গ. আর্দ্র বায়ু বা মেঘযুক্ত বায়ুর মধ্যে দিয়ে
- ঘ. লু হাওয়ার মধ্যে দিয়ে
উত্তর: গ. আর্দ্র বায়ু বা মেঘযুক্ত বায়ুর মধ্যে দিয়ে
মেঘের ভেতর বরফকণা ও পানির কণার ঘর্ষণে বিপুল পরিমাণ স্থির বিদ্যুৎ জমে। আর্দ্র বায়ু বা মেঘ বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবহন করে, তাই সেখানে হঠাৎ বজ্রপাত বা বৈদ্যুতিক ডিসচার্জ হতে পারে। এছাড়া মেঘের মধ্যে ঝড়ো হাওয়া, ঝাঁকুনি ও কম দৃশ্যমানতাও থাকে। এসব কারণে আর্দ্র ও মেঘযুক্ত বায়ুর মধ্য দিয়ে বিমান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। মেঘের ভেতর দিয়ে বিমান চালাতে গেলে বিমানের গায়ে স্থির বিদ্যুৎ জমতে পারে। বিমানের ডানার প্রান্তে তাই বিশেষ ডিসচার্জ উইক লাগানো থাকে, যা জমা চার্জ বাতাসে ছেড়ে দেয়।
মনে রাখুন: শুষ্ক বায়ু ভালো অন্তরক, তাই সেখানে বিদ্যুৎ সহজে প্রবাহিত হয় না। - ৮৪. অনেক বস্তুর মধ্যে দিয়ে সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে (পরিবাহক), আবার কোনো কোনো বস্তুর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে না (অপরিবাহক)। নিম্নলিখিত কোন বস্তুটি অপরিবাহক?পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সহকারী পরিচালক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ পরিবাহিতা
- ক. তামা
- খ. প্লাস্টিক
- গ. রূপা
- ঘ. লোহা
উত্তর: খ. প্লাস্টিক
ধাতুর পরমাণুতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যারা সহজে চলাচল করে বিদ্যুৎ বহন করতে পারে। তামা, রুপা ও লোহা ধাতু বলে ভালো পরিবাহক। প্লাস্টিকের ইলেকট্রনগুলো পরমাণুর সঙ্গে শক্তভাবে বাঁধা থাকে, মুক্ত হয়ে চলাচল করতে পারে না। তাই প্লাস্টিক মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যেতে দেয় না এবং এটি অপরিবাহক বা অন্তরক। প্লাস্টিক ছাড়াও রাবার, কাচ, চীনামাটি ও শুকনো কাঠ ভালো অপরিবাহক। এরা অন্তরক পদার্থ হিসেবে তার ঢেকে রাখতে কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
অন্তরকের উদাহরণ: রাবার, কাচ, প্লাস্টিক, শুকনো কাঠ।
বৈদ্যুতিক তারের বাইরে প্লাস্টিকের আবরণ দেওয়া হয় নিরাপত্তার জন্য। - ৮৫. নিচের কোনটি অন্তরক?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ পরিবাহিতা
- ক. সিরামিক
- খ. বিসমাথ
- গ. সিলিকন
- ঘ. লোহা
উত্তর: ক. সিরামিক
সিরামিকের ইলেকট্রন পরমাণুর সঙ্গে শক্তভাবে আটকে থাকে এবং মুক্তভাবে চলতে পারে না, তাই এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় না। এজন্য এটি অন্তরক (Insulator)। বিদ্যুতের খুঁটিতে তার আটকানো চীনামাটির ইনসুলেটর এর উদাহরণ। বিসমাথ ও লোহা ধাতু, তাই এরা পরিবাহী। সিলিকন একটি অর্ধপরিবাহী। কাচ, রাবার ও চীনামাটির মতো পদার্থ দিয়েও ইনসুলেটর তৈরি হয়, তবে সিরামিকই সবচেয়ে বেশি টেকসই। সিরামিক উচ্চ তাপমাত্রাতেও গলে না এবং ক্ষয় হয় না বলে বিদ্যুৎ লাইনের কঠিন পরিবেশেও টেকে।
মনে রাখুন:
অন্তরকের শক্তি ব্যবধান অনেক বড় হয়, ফলে ইলেকট্রন সহজে পরিবহন ব্যান্ডে উঠতে পারে না। - ৮৬. বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ নয় কোনটি?পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৫ ও ডিপিডিসির সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ পরিবাহিতা
- ক. রূপা
- খ. দস্তা
- গ. ইস্পাত
- ঘ. শুকনো কাঠ
উত্তর: ঘ. শুকনো কাঠ
রুপা ও দস্তা ধাতু, ইস্পাত লোহার সংকর। এগুলোতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে বলে সবাই বিদ্যুৎ পরিবহন করে। শুকনো কাঠে মুক্ত ইলেকট্রন প্রায় থাকে না, তাই এটি অপরিবাহী। কাঠ ভেজা হলে তার ভেতরের পানিতে থাকা আয়ন বিদ্যুৎ বহন করতে পারে, তাই ভেজা কাঠ পরিবাহী হয়ে যায়। ভালো পরিবাহক ও অন্তরক আলাদা করার সময় মনে রাখতে হবে, পরিবাহী ধাতুর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন আছে, কিন্তু অন্তরকে তা নেই। ধাতব সব পদার্থেই এভাবে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, তাই বিদ্যুৎ বহন করতে পারে।
মনে রাখুন:
বৈদ্যুতিক কাজে রাবারের হাতমোজা ব্যবহার করা হয়, কারণ রাবার অন্তরক।
মানুষের শরীর ভেজা অবস্থায় বিদ্যুতের জন্য ভালো পরিবাহী। - ৮৭. অর্ধপরিবাহী পদার্থ কোনটি?ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ফিল্ড অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী
- ক. তামা
- খ. রূপা
- গ. সিলিকন
- ঘ. রাবার
উত্তর: গ. সিলিকন
যেসব পদার্থের পরিবাহিতা ধাতু ও অন্তরকের মাঝামাঝি, তাদের অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) বলে। সিলিকন এই ধরনের পদার্থ। তামা ও রুপা ভালো পরিবাহী ধাতু, আর রাবার অন্তরক। সিলিকন দিয়েই ট্রানজিস্টর, ডায়োড ও কম্পিউটার চিপ তৈরি হয়। একটি বিশুদ্ধ সিলিকন কেলাসে প্রতিটি পরমাণু চারটি প্রতিবেশীর সঙ্গে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে, আর এই সমযোজী বন্ধন তাকে স্থিতিশীল করে রাখে। সিলিকন পৃথিবীর ভূত্বকে অক্সিজেনের পরেই সবচেয়ে প্রচুর পাওয়া মৌল। বালিতে এটি সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂) রূপে থাকে।
মনে রাখুন:
সিলিকন ও জার্মেনিয়ামের বাইরের কক্ষপথে ৪টি করে ইলেকট্রন থাকে।
অর্ধপরিবাহীতে সামান্য ভিন্ন পরমাণু মেশালে (ডোপিং) পরিবাহিতা বাড়ে। - ৮৮. নিচের কোনটি অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor)?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী (ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী
- ক. রাবার
- খ. জার্মেনিয়াম
- গ. গন্ধক
- ঘ. কাচ
উত্তর: খ. জার্মেনিয়াম
জার্মেনিয়াম (Ge) একটি অর্ধপরিবাহী মৌল, যার বাইরের কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন থাকে। প্রথম দিকের ট্রানজিস্টর ও ডায়োড এই পদার্থ দিয়ে বানানো হয়। রাবার, গন্ধক ও কাচ অন্তরক, তাই এদের পরিবাহিতা প্রায় শূন্য। অর্ধপরিবাহীর রোধ ধাতুর চেয়ে অনেক বেশি কিন্তু অন্তরকের চেয়ে অনেক কম, আর এই মাঝামাঝি অবস্থানের কারণেই এরা ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মূল উপাদান। গন্ধক একটি অধাতু আর রাবার ও কাচ অন্তরক। এজন্য এদের মধ্যে শক্তির ব্যবধান এত বড় হয় যে সাধারণ তাপমাত্রায় ইলেকট্রন মুক্ত হতে পারে না।
মনে রাখুন:
প্রধান অর্ধপরিবাহী মৌল সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।
গ্যালিয়াম আর্সেনাইড (GaAs) নামের যৌগও অর্ধপরিবাহী। - ৮৯. কোনটি Semiconductor নয়?মৎস্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী
- ক. Silicon
- খ. Gallium arsenide
- গ. Germanium
- ঘ. Indium
উত্তর: ঘ. Indium
সিলিকন ও জার্মেনিয়াম মৌলিক অর্ধপরিবাহী, আর গ্যালিয়াম আর্সেনাইড একটি যৌগিক অর্ধপরিবাহী, যা এলইডি ও দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহার হয়। ইন্ডিয়াম একটি নরম ধাতু, তাই সে পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী নয়। ইন্ডিয়ামকে অর্ধপরিবাহীতে ডোপিংয়ের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যখন সিলিকনে সামান্য ইন্ডিয়াম বা বোরনের মতো তিন যোজনীয় পরমাণু মেশানো হয়, তখন তৈরি হয় p-টাইপ অর্ধপরিবাহী, যাতে হোল বেশি থাকে। ইন্ডিয়াম ফসফাইডও দরকারি যৌগিক অর্ধপরিবাহী। কিন্তু ইন্ডিয়াম নিজে ধাতু, তাই সে নিজে অর্ধপরিবাহী হিসেবে গণ্য হয় না।
মনে রাখুন:
অর্ধপরিবাহীর উদাহরণ: Si, Ge, GaAs।
ধাতু: তামা, রুপা, ইন্ডিয়াম ইত্যাদি। - ৯০. একটি ধাতব পদার্থের উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে এর-তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (টেলিভিশন), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ ও তাপমাত্রা
- ক. বৈদ্যুতিক রোধ বেড়ে যায়
- খ. বৈদ্যুতিক রোধ কমে যায়
- গ. বৈদ্যুতিক রোধ অপরিবর্তিত থাকে
- ঘ. কোনটিই সত্য নয়
উত্তর: ক. বৈদ্যুতিক রোধ বেড়ে যায়
ধাতুতে তাপমাত্রা বাড়লে পরমাণুগুলো বেশি জোরে কাঁপতে থাকে। তখন মুক্ত ইলেকট্রনগুলো চলার পথে পরমাণুর সঙ্গে বেশি ধাক্কা খায় এবং বাধা পায়। এর ফলে ধাতুর রোধ (Resistance) বেড়ে যায়। সুপারকন্ডাক্টর ধাতুর রোধ এক নির্দিষ্ট নিম্ন তাপমাত্রার নিচে একদম শূন্য হয়ে যায়, তবে এটি সাধারণ ধাতুর ধর্ম নয়। অর্থাৎ ধাতুর রোধের তাপমাত্রা সহগ ধনাত্মক, আর রোধ বাড়ার হার তাপমাত্রার প্রায় সমানুপাতিক। এজন্য তামার তারের রোধ গরমের দিনে সামান্য বেশি থাকে।
মনে রাখুন:
এ কারণে বৈদ্যুতিক বাতির ফিলামেন্ট জ্বললে তার রোধ ঠাণ্ডা অবস্থার চেয়ে বেশি হয়।
অর্ধপরিবাহী ও কার্বনের ক্ষেত্রে ঘটে উল্টোটা, তাপমাত্রা বাড়লে রোধ কমে। - ৯১. একটি সেমিকন্ডাক্টরের ইলেক্ট্রিক্যাল রেজিস্ট্যান্স তাপমাত্রার সাথে-বাংলাদেশ রেলওয়ের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ ও তাপমাত্রা
- ক. বৃদ্ধি পায়
- খ. হ্রাস পায়
- গ. স্থির থাকে
- ঘ. কোনোটাই নয়
উত্তর: খ. হ্রাস পায়
অর্ধপরিবাহীতে ঠাণ্ডা অবস্থায় প্রায় কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। তাপমাত্রা বাড়লে বন্ধন ভেঙে নতুন নতুন মুক্ত ইলেকট্রন ও হোল তৈরি হয়। বাহক বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ প্রবাহ সহজ হয়, তাই অর্ধপরিবাহীর রোধ তাপমাত্রা বাড়লে কমে যায়। এই ধর্মের কারণে অর্ধপরিবাহীকে অতিরিক্ত গরম হতে দিলে তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ আরও বেশি যেতে থাকে, তাই ট্রানজিস্টরের বর্তনীতে তাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। এজন্য অর্ধপরিবাহী দিয়ে তৈরি তাপমাত্রা সংবেদী যন্ত্র বা থার্মিস্টর খুব সূক্ষ্মভাবে তাপ মাপতে পারে। ঠাণ্ডা অবস্থায় অর্ধপরিবাহী প্রায় অন্তরকের মতো আচরণ করে।
মনে রাখুন:
ধাতুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি উল্টো, তাপ বাড়লে রোধ বাড়ে।
থার্মিস্টর নামের যন্ত্রে এই ধর্ম কাজে লাগে। - ৯২. তাপমাত্রা বাড়ালে অর্ধপরিবাহীর রোধ -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ ও তাপমাত্রা
- ক. কমবে
- খ. বৃদ্ধি পাবে
- গ. পরিবর্তন হবে না
- ঘ. শূন্য হবে
উত্তর: ক. কমবে
তাপ পেলে অর্ধপরিবাহীর বন্ধন ভেঙে আরও ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে যায় এবং সমান সংখ্যক হোলও তৈরি হয়। চার্জবাহকের সংখ্যা বাড়ার ফলে পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে চলে, তাই রোধ কমে যায়। এই ধর্মকে ঋণাত্মক তাপমাত্রা সহগ বলা হয়। সিলিকনের মতো অর্ধপরিবাহীতে খুব সামান্য ভেজাল মেশালেও (ডোপিং) পরিবাহিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। ধাতুর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়লে পরমাণুর কম্পন বেড়ে যায় এবং সেটি ইলেকট্রনের গতি বাধা দেয়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীতে নতুন চার্জবাহকের প্রভাব এই বাধার চেয়ে অনেক বেশি।
মনে রাখুন:
পরম শূন্য তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী অন্তরকের মতো আচরণ করে।
উচ্চ তাপমাত্রায় এর পরিবাহিতা বাড়তে থাকে। - ৯৩. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে কার্বনের রোধ-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ ও তাপমাত্রা
- ক. অল্প বৃদ্ধি পায়
- খ. হ্রাস পায়
- গ. বেশি বৃদ্ধি পায়
- ঘ. অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর: খ. হ্রাস পায়
কার্বন অধাতু হলেও গ্রাফাইট আকারে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। ধাতুর মতো নয়, কার্বনের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়লে আরও বেশি চার্জবাহক মুক্ত হয় এবং তাই রোধ কমে যায়। অর্থাৎ কার্বনের রোধের তাপমাত্রা সহগ ঋণাত্মক। গ্রাফাইট কার্বনের একটি রূপ, আর এটি তড়িৎ পরিবাহী, তাই ব্যাটারির ভেতরের ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে হীরা কার্বনের অন্য একটি রূপ, যা অপরিবাহী। একই ধরনের আচরণ দেখা যায় ইলেক্ট্রোলাইটের ক্ষেত্রেও। এ কারণে কার্বন ফিলামেন্টের পুরোনো বাতিতে প্রথমে বেশি বিদ্যুৎ টানত।
মনে রাখুন:
অর্ধপরিবাহী, কার্বন ও ইলেক্ট্রোলাইটের রোধ তাপমাত্রা বাড়লে কমে।
তামা, লোহা ইত্যাদি ধাতুর রোধ তাপমাত্রা বাড়লে বাড়ে। - ৯৪. সিরিজ সার্কিটে একই থাকে কোনটি?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বর্তনী
- ক. বিভব
- খ. বিদ্যুৎ প্রবাহ
- গ. ক্ষমতা
- ঘ. রোধ
উত্তর: খ. বিদ্যুৎ প্রবাহ
শ্রেণি বর্তনীতে (Series Circuit) সব উপাদান একটির পর একটি এক সারিতে যুক্ত থাকে, বর্তনী শাখায় ভাগ হয় না। ফলে একই পথ ধরেই সব চার্জ যায়, আর তাই প্রতিটি উপাদানের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ একই থাকে। কিন্তু রোধ ও বিভব পার্থক্য প্রতিটির আলাদা হয়, আর মোট বিভব পার্থক্য তাদের যোগফলের সমান হয়। একারণেই ক্রিসমাস গাছের আলোর মালায় একটি বাল্ব নষ্ট হলে পুরো মালার বাতি নিভে যায়, কারণ বর্তনী একটি পথেই চলে আর কোথাও ছিঁড়ে গেলে প্রবাহ থেমে যায়।
মনে রাখুন:
সমান্তরাল বর্তনীতে বিভব পার্থক্য সবখানে এক থাকে।
শ্রেণি বর্তনীতে মোট রোধ R = R₁ + R₂ + R₃। - ৯৫. ব্যাটারী সিরিজ কানেকশন করলে কি হয়?BIWTA গ্রীজার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের সংযোগ
- ক. এম্পিয়ার বৃদ্ধি পায়
- খ. ভোল্টেজ বৃদ্ধি পায়
- গ. এম্পিয়ার ও ভোল্টেজ উভয় বৃদ্ধি পায়
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. ভোল্টেজ বৃদ্ধি পায়
কয়েকটি ব্যাটারি বা কোষ (Cell) সিরিজে সাজালে একটির ধনাত্মক প্রান্ত পরেরটির ঋণাত্মক প্রান্তের সঙ্গে জোড়া লাগে। তখন প্রতিটি কোষের তড়িচ্চালক বল যোগ হয়ে যায়, ফলে মোট ভোল্টেজ বাড়ে। যেমন ১.৫ ভোল্টের তিনটি কোষ সিরিজে জুড়লে মোট ভোল্টেজ হয় ৪.৫ ভোল্ট।
কিন্তু বর্তনীতে একটাই পথ থাকে বলে সব কোষের মধ্য দিয়ে একই কারেন্ট যায়, তাই একটি কোষ যে কারেন্ট দিতে পারে, সিরিজে জুড়লেও কারেন্টের ক্ষমতা তার বেশি হয় না।
মনে রাখুন:
সিরিজে ভোল্টেজ বাড়ে, কারেন্ট একই থাকে।
সমান্তরালে ভোল্টেজ একই থাকে, কিন্তু কারেন্ট সরবরাহের সময় বাড়ে। - ৯৬. কোনটি বর্তনীর প্রকারভেদ নয়-BREB'র মিটার টেস্টার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বর্তনীর প্রকারভেদ
- ক. সিরিজ সার্কিট
- খ. প্যারালাল সার্কিট
- গ. মিশ্র সার্কিট
- ঘ. স্ট্রিং সার্কিট
উত্তর: ঘ. স্ট্রিং সার্কিট
বর্তনী (Circuit) মানে বিদ্যুৎ চলার বন্ধ পথ। বর্তনীর উপাদানগুলো কীভাবে জোড়া লাগানো হয়, তার ওপর ভিত্তি করে বর্তনীকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। উপাদানগুলো একটার পর একটা এক সারিতে যুক্ত থাকলে তাকে সিরিজ সার্কিট (Series Circuit) বলে। আবার সবগুলো পাশাপাশি আলাদা শাখায় যুক্ত থাকলে তাকে প্যারালাল সার্কিট (Parallel Circuit) বলে। আর এই দুই ধরনের সংযোগ একসঙ্গে থাকলে তাকে মিশ্র সার্কিট (Combination Circuit) বলে। স্ট্রিং সার্কিট নামে বর্তনীর কোনো প্রকার নেই।
মনে রাখুন:
সিরিজ বর্তনীতে সব জায়গায় কারেন্ট সমান থাকে।
প্যারালাল বর্তনীতে প্রতিটি শাখায় ভোল্টেজ সমান থাকে। - ৯৭. প্যারালাল সার্কিটে সমান থাকে-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিরিজ ও প্যারালাল বর্তনী
- ক. কারেন্ট
- খ. রেজিস্ট্যান্স
- গ. ভোল্টেজ
- ঘ. সবকয়টি
উত্তর: গ. ভোল্টেজ
প্যারালাল সার্কিটে সবগুলো রোধ বা যন্ত্র একই দুটি বিন্দুর মধ্যে আলাদা আলাদা শাখায় যুক্ত থাকে। তাই প্রতিটি শাখার দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য সমান হয়, অর্থাৎ ভোল্টেজ সমান থাকে। কিন্তু প্রতিটি শাখার রোধ আলাদা হলে ওহমের সূত্র (I = V/R) অনুযায়ী সেখানকার কারেন্টও আলাদা হয়। মোট কারেন্ট হলো সব শাখার কারেন্টের যোগফল।
মনে রাখুন:
প্যারালাল সংযোগে মোট রোধ সবচেয়ে ছোট রোধটির চেয়েও কম হয়।
সিরিজ সংযোগে কারেন্ট সমান থাকে, কিন্তু ভোল্টেজ ভাগ হয়ে যায়।
এ কারণেই একটি শাখা নষ্ট হলেও বাকি শাখাগুলো চালু থাকে। - ৯৮. বাসাবাড়িতে কোন ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করা হয়?স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিরিজ ও প্যারালাল বর্তনী
- ক. সিরিজ
- খ. মিশ্র
- গ. প্যারালাল
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. প্যারালাল
আমাদের বাসাবাড়িতে বাতি, পাখা, টিভি, ফ্রিজ সবকিছু প্যারালাল সংযোগে লাগানো হয়। এর কারণ হলো, এতে প্রতিটি যন্ত্র সরাসরি মূল লাইনের পুরো ভোল্টেজ পায়, তাই সবাই ঠিকভাবে চলে। এছাড়া একটি যন্ত্রের সুইচ বন্ধ করলে বা সেটি নষ্ট হয়ে গেলে বাকি যন্ত্রগুলোর কাজে কোনো বাধা পড়ে না। সিরিজে লাগালে একটি বাতি নষ্ট হলেই পুরো বর্তনী ছিন্ন হয়ে সবগুলো বন্ধ হয়ে যেত, আর প্রতিটি যন্ত্র পুরো ভোল্টেজও পেত না।
মনে রাখুন: উৎসবের রঙিন বাতির মালায় অনেক সময় বাতিগুলো সিরিজে লাগানো থাকে, তাই একটি খারাপ হলে পুরো মালা নিভে যায়। - ৯৯. বৈদ্যুতিক চাপ বলতে কী বুঝায়?PWD-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিভব ও ভোল্টেজ
- ক. resistance
- খ. current
- গ. energy
- ঘ. voltage
উত্তর: ঘ. voltage
বিদ্যুৎ কোনো তারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে হলে তার দুই প্রান্তের মধ্যে একটা বিভব পার্থক্য (Potential Difference) থাকতে হয়। এই বিভব পার্থক্যই আধানকে ঠেলে নিয়ে চলে, তাই একে সাধারণ ভাষায় বৈদ্যুতিক চাপ বলা হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ভোল্টেজ (Voltage) এবং এর একক ভোল্ট (V)। পানির নলের উদাহরণ ভাবা যায়: উঁচু ট্যাংক থেকে পানি যত বেশি চাপে নামে, পানির প্রবাহ তত জোরালো হয়। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভোল্টেজ সেই চাপের কাজ করে।
মনে রাখুন:
ভোল্টেজ মাপার যন্ত্রের নাম ভোল্টমিটার।
ভোল্টমিটারকে বর্তনীর সঙ্গে সমান্তরালে লাগাতে হয়।
কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ার এবং রোধের একক ওহম। - ১০০. পৃথিবীর বিভব কত ধরা হয়?NESCO সাব স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিভব ও ভোল্টেজ
- ক. ১০০ ভোল্ট
- খ. ১০ ভোল্ট
- গ. ১ মেগাভোল্ট
- ঘ. ০ ভোল্ট
উত্তর: ঘ. ০ ভোল্ট
কোনো বস্তুর বিভব মাপতে হলে একটি তুলনার মান দরকার হয়। পৃথিবী আকারে অনেক বড় এবং একটি ভালো পরিবাহী, তাই এর সঙ্গে কিছু আধান যুক্ত হলেও পৃথিবীর বিভব উল্লেখযোগ্যভাবে বদলায় না। এ কারণে পৃথিবীর বিভব শূন্য ধরা হয় এবং অন্য সব বস্তুর বিভব এর সঙ্গে তুলনা করে মাপা হয়।
মনে রাখুন:
বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বডিকে তার দিয়ে মাটির সঙ্গে যুক্ত করাকে আর্থিং (Earthing) বলে।
আর্থিং থাকলে যন্ত্রের বডিতে লিকেজ কারেন্ট এলে তা মাটিতে চলে যায়, ফলে আমরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাই। - ১০১. বাংলাদেশের বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের সরবরাহ ভোল্টেজ কত?ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের অফিসার, ২০০৫ ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির নিরাপত্তা প্রহরী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গৃহের বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ক. ১১০ ভোল্ট এ.সি
- খ. ১১০ ভোল্ট ডি.সি
- গ. ২২০ ভোল্ট এ.সি
- ঘ. ২২০ ভোল্ট ডি.সি
উত্তর: গ. ২২০ ভোল্ট এ.সি
আমাদের দেশে বাসাবাড়িতে যে বিদ্যুৎ আসে, তা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি (AC), যার ভোল্টেজ প্রায় ২২০ ভোল্ট এবং কম্পাঙ্ক ৫০ হার্টজ। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূরে পাঠানোর সময় এসি-র ভোল্টেজ ট্রান্সফরমার দিয়ে সহজে কমানো-বাড়ানো যায়, তাই সরবরাহের জন্য এসি ব্যবহার করা হয়। ডিসি (DC) পাওয়া যায় ব্যাটারি বা কোষ থেকে, গৃহের মূল লাইনে নয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে সরবরাহের কম্পাঙ্ক ৫০ হার্টজ।
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহের ভোল্টেজ প্রায় ১১০ ভোল্ট এবং কম্পাঙ্ক ৬০ হার্টজ।
আমাদের দেশে বিদ্যুতের লাইনে ফেজ ও নিউট্রাল তারের মধ্যে বিভব পার্থক্য ২২০ ভোল্ট, আর ফেজ ও আর্থের মধ্যেও প্রায় একই মান পাওয়া যায়। - ১০২. কোন বর্তনীয় মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের বাধাকে কি বলে-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিটার টেস্টার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. বোধ
- খ. রোধ
- গ. ন্যাগিং
- ঘ. রিডিং
উত্তর: খ. রোধ
কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলার সময় পরিবাহীর পরমাণুর সঙ্গে ইলেকট্রনের সংঘর্ষ ঘটে এবং এতে প্রবাহে বাধা তৈরি হয়। এই বাধাকে রোধ (Resistance) বলে। রোধ যত বেশি হয়, একই ভোল্টেজে কারেন্ট তত কম চলে।
মনে রাখুন:
রোধকে R দিয়ে প্রকাশ করা হয় এবং এর একক ওহম (Ω)।
রোধের উল্টো ধারণা হলো পরিবাহিতা (Conductance), যার একক সিমেন্স (S)।
রোধ মাপার যন্ত্রের নাম ওহমমিটার।
রোধের পরিমাপ করার জন্য ওহমমিটার ছাড়াও মাল্টিমিটার ব্যবহার করা যায়।
কোনো বর্তনীতে রোধ বাড়ালে একই ভোল্টেজে কারেন্ট কমে যায়, আর রোধ কমালে কারেন্ট বাড়ে। - ১০৩. বিদ্যুৎ পরিবাহকের রোধের একক-স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. ওয়াট
- খ. কুলম্ব
- গ. অ্যাম্পিয়ার
- ঘ. ওহম
উত্তর: ঘ. ওহম
রোধের একক ওহম (Ohm), যার প্রতীক গ্রিক অক্ষর Ω। জার্মান বিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহমের নামে এই এককের নাম রাখা হয়েছে। কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তে ১ ভোল্ট বিভব পার্থক্য দিলে যদি তার মধ্য দিয়ে ১ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট যায়, তবে ওই পরিবাহীর রোধ ১ ওহম।
মনে রাখুন:
ওয়াট ক্ষমতার একক, কুলম্ব আধানের একক এবং অ্যাম্পিয়ার কারেন্টের একক।
ভোল্ট বিভব পার্থক্যের একক।
১ ওহম মানে প্রতি অ্যাম্পিয়ারে ১ ভোল্ট।
ওহমের চেয়ে বড় এককের নাম কিলোওহম (kΩ) এবং মেগাওহম (MΩ), যেখানে ১ kΩ = ১০০০ Ω। - ১০৪. ওহমের সূত্র অনুযায়ী কোন সমীকরণটি প্রযোজ্য?বেপজা'র উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওহমের সূত্র
- ক. R = VI
- খ. I = VR
- গ. V = IR
- ঘ. সবগুলো
উত্তর: গ. V = IR
জর্জ সাইমন ওহম দেখিয়েছিলেন, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য (V) এবং তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট (I) সমানুপাতিক। এই অনুপাতের ধ্রুবকটিই পরিবাহীর রোধ (R)। তাই লেখা যায় V = IR। এই সমীকরণ থেকে I = V/R এবং R = V/I পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
ভোল্টেজ বাড়ালে একই রোধে কারেন্ট বাড়ে।
একই ভোল্টেজে রোধ বাড়ালে কারেন্ট কমে।
ওহমের সূত্র সব পরিবাহীর জন্য খাটে না, যেমন ডায়োডের ক্ষেত্রে V আর I-এর সম্পর্ক সরলরৈখিক নয়।
রোধের বর্ণ-সংকেত দেখে রোধের মান বের করা যায়, আর একই ভোল্টেজে রোধ বেশি হলে কারেন্ট কম যায়। - ১০৫. ১০০ ওহম রোধের বৈদ্যুতিক বর্তনীতে ২.২ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হলে সরবরাহ ভোল্টেজ কত?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ইলেকট্রিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওহমের সূত্র
- ক. ২৪০ ভোল্ট
- খ. ২২২ ভোল্ট
- গ. ২৩০ ভোল্ট
- ঘ. ২২০ ভোল্ট
উত্তর: ঘ. ২২০ ভোল্ট
ওহমের সূত্র অনুযায়ী ভোল্টেজ V = IR। এখানে রোধ R = 100 Ω এবং কারেন্ট I = 2.2 A, তাই V = 2.2 × 100 = 220 V। অর্থাৎ বর্তনীতে ২২০ ভোল্টের উৎস লাগানো আছে, যা আমাদের গৃহের বিদ্যুৎ সরবরাহের ভোল্টেজের সমান।
মনে রাখুন:
সূত্রটি তিনভাবে লেখা যায়: V = IR, I = V/R এবং R = V/I।
এ ধরনের অঙ্কে একক মিলিয়ে নিতে হয়: ভোল্টের সঙ্গে ওহম ও অ্যাম্পিয়ার, মিলি-অ্যাম্পিয়ার থাকলে আগে অ্যাম্পিয়ারে বদলে নিতে হয়।
একই সূত্র উল্টে নিলে I = V/R, তাই ২২০ ভোল্টে ১০০ Ω রোধের মধ্য দিয়ে ঠিক ২.২ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট যায়। - ১০৬. কোন পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 200V এবং তড়িৎ প্রবাহ মাত্রা 20A হলে এর রোধ কত?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওহমের সূত্র
- ক. 4000Ω
- খ. 1Ω
- গ. 10Ω
- ঘ. 1Ω
উত্তর: গ. 10Ω
ওহমের সূত্র অনুযায়ী রোধ R = V/I। এখানে বিভব পার্থক্য V = 200 V এবং কারেন্ট I = 20 A, তাই R = 200/20 = 10 Ω। যাচাই করে দেখলেও মেলে, কারণ 20 A × 10 Ω = 200 V।
মনে রাখুন:
রোধ বাড়লে একই ভোল্টেজে কারেন্ট কমে যায়।
রোধের বিপরীত রাশি পরিবাহিতা, যার মান 1/R এবং একক সিমেন্স।
এই তারের দুই প্রান্তে ভোল্টেজ বাড়িয়ে ৪০০ ভোল্ট করলে, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলে কারেন্ট বেড়ে ৪০ অ্যাম্পিয়ার হবে, কারণ রোধ ধ্রুব।
পরিবাহীর রোধ এভাবে মেপে বের করার পদ্ধতিটি পরীক্ষাগারে ভোল্টমিটার ও অ্যামিটার দিয়ে করা হয়। - ১০৭. ওহমের সূত্র প্রযোজ্য হওয়ার জন্যতথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (টেলিভিশন), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওহমের সূত্র
- ক. উষ্ণতা কমানো উচিত
- খ. উষ্ণতা অপরিবর্তিত থাকা উচিত
- গ. উষ্ণতা বৃদ্ধি করা উচিত
- ঘ. কোনটিই সত্য নয়
উত্তর: খ. উষ্ণতা অপরিবর্তিত থাকা উচিত
ওহমের সূত্র প্রযোজ্য হওয়ার প্রধান শর্ত হলো পরিবাহীর তাপমাত্রা ও অন্যান্য ভৌত অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে হবে। কারণ কারেন্ট চলার সময় পরিবাহী গরম হয়, আর তাপমাত্রা বদলালে পরিবাহীর রোধও বদলে যায়। রোধ ধ্রুব না থাকলে V আর I-এর অনুপাতও ধ্রুব থাকে না, ফলে সূত্র আর খাটে না।
মনে রাখুন:
যেসব পরিবাহীর রোধ কারেন্টের সঙ্গে বদলায় না, তাদের ওহমীয় পরিবাহী বলে।
ডায়োড ও ট্রানজিস্টর অওহমীয় (Non-ohmic) উপাদানের উদাহরণ।
তাপমাত্রা ছাড়াও পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদ ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকতে হয়।
যেসব উপাদানে এই শর্ত খাটে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে V ও I-এর লেখচিত্র সরলরেখা হয় না। - ১০৮. কোন পরিবাহীর রোধ কিসের উপর নির্ভরশীল নয়?ডিপিডিসি-এর সুইচ বোর্ড এ্যাটেনডেন্ট, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. তাপমাত্রা
- খ. উপাদান
- গ. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
- ঘ. চাপ
উত্তর: ঘ. চাপ
কোনো পরিবাহী তারের রোধ নির্ভর করে তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান এবং তাপমাত্রার ওপর। এই সম্পর্কটি R = ρL/A সূত্রে লেখা হয়, যেখানে ρ হলো উপাদানের আপেক্ষিক রোধ। তাই তারটি লম্বা হলে রোধ বাড়ে, মোটা হলে রোধ কমে। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় বাইরের চাপ রোধের একটি নির্ধারক রাশি নয়।
মনে রাখুন:
ধাতুর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়লে রোধ বাড়ে।
সিলিকন বা জার্মেনিয়ামের মতো অর্ধপরিবাহীতে তাপমাত্রা বাড়লে রোধ কমে।
বাইরের চাপ বদলালেও সাধারণ তারের রোধের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলায় না।
রোধ নির্ভর করে উপাদানের ধরন ও তারের আকারের ওপর, তাই রুপা ও তামা কম রোধের ধাতু। - ১০৯. রোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে না?NESCO'র সাব স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. উপাদান
- খ. দৈর্ঘ্য
- গ. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
- ঘ. তড়িৎ প্রবাহ
উত্তর: ঘ. তড়িৎ প্রবাহ
তারের রোধ R = ρL/A সূত্রে প্রকাশ করা হয়, যেখানে L হলো দৈর্ঘ্য, A প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং ρ উপাদানের আপেক্ষিক রোধ। অর্থাৎ রোধ উপাদান, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ওপর নির্ভর করে। তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট এখানে রোধের নির্ধারক নয়, বরং রোধ ও ভোল্টেজ থেকেই কারেন্ট পাওয়া যায়। তাপমাত্রা স্থির রাখলে একই তারে কারেন্ট কম-বেশি করা হলেও রোধ একই থাকে।
মনে রাখুন:
রোধ দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক।
তাপমাত্রা বদলালে রোধ বদলে যায়, কিন্তু কারেন্টের মান নিজে রোধ ঠিক করে দেয় না। - ১১০. একটি তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করা হলে রোধ কি হবে?জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সুইচ বোর্ড এটেনডেন্ট, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. দ্বিগুণ
- খ. রোধের মাত্রার উপর নির্ভর করবে
- গ. অর্ধেক
- ঘ. একই
উত্তর: ক. দ্বিগুণ
তারের রোধ R = ρL/A সূত্র অনুযায়ী দৈর্ঘ্য L-এর সমানুপাতিক। তাই প্রস্থচ্ছেদ ও উপাদান একই থাকলে দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে রোধও দ্বিগুণ হয়। কারণটা সহজে বোঝা যায়: তার লম্বা হলে ইলেকট্রনকে বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়, ফলে পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষও বেশি হয় এবং বাধা বাড়ে।
মনে রাখুন:
দৈর্ঘ্য অর্ধেক করলে রোধও অর্ধেক হয়।
একটি তারকে টেনে লম্বা করলে ক্ষেত্রফল কমে যায়, তাই তখন রোধ আরও বেশি বাড়ে।
তারের উপাদান ও প্রস্থচ্ছেদ একই থাকলে দৈর্ঘ্য তিনগুণ করলে রোধও তিনগুণ হবে।
তাই অনেক লম্বা তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ পাঠালে তারের রোধ বেড়ে গিয়ে শক্তি অপচয় হয়। - ১১১. একটি মোটা তারের রোধ একটি চিকন তারের রোধের তুলনায়-বেপজা'র উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. বেশি
- খ. কম
- গ. সমান
- ঘ. দ্বিগুণ
উত্তর: খ. কম
তারের রোধ R = ρL/A সূত্রে প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A-এর ব্যস্তানুপাতিক। উপাদান ও দৈর্ঘ্য একই হলে মোটা তারের ক্ষেত্রফল বেশি, তাই রোধ কম হয়। একে একটা চওড়া রাস্তার সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে গাড়ি সহজে চলতে পারে। চিকন তার সরু গলির মতো, সেখানে ইলেকট্রনের চলতে বেশি বাধা পায়।
মনে রাখুন: এ কারণেই বেশি কারেন্ট নিতে হলে বাড়ির মূল লাইনে মোটা তার ব্যবহার করা হয়। চিকন তার দিয়ে বেশি কারেন্ট গেলে তা অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়।
একই কারণে মোটা তামার তার দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে পরিবহন করা যায়। - ১১২. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ করা হলে রোধের পরিমাণ কত হবে?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. তিনগুণ
- খ. চারগুণ
- গ. অর্ধেক
- ঘ. দ্বিগুণ
উত্তর: গ. অর্ধেক
R = ρL/A সূত্র থেকে দেখা যায়, রোধ প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ হলে ইলেকট্রন চলার পথ দ্বিগুণ চওড়া হয়, ফলে রোধ অর্ধেক হয়ে যায়। অর্থাৎ নতুন রোধ হয় ρL/(2A) = R/2।
মনে রাখুন:
ক্ষেত্রফল তিনগুণ হলে রোধ এক-তৃতীয়াংশ হয়।
তারের ব্যাস দ্বিগুণ হলে ক্ষেত্রফল চারগুণ হয়, তাই রোধ এক-চতুর্থাংশ হয়, কারণ বৃত্তের ক্ষেত্রফল ব্যাসার্ধের বর্গের সমানুপাতিক।
আপেক্ষিক রোধ ρ উপাদানের নিজস্ব ধর্ম এবং এর একক ওহম-মিটার।
তামা ও রুপার আপেক্ষিক রোধ খুব কম, তাই এগুলো ভালো পরিবাহী।
এভাবে তারের প্রস্থচ্ছেদ দ্বিগুণ করলে রোধ হ্রাস পেয়ে কারেন্টের পথ সহজ হয়। - ১১৩. বৃত্তাকার প্রস্থচ্ছেদের কোনো পরিবাহীর ব্যাসার্ধ অর্ধেক করা হলে তার রোধ হবে?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. 1/4 গুণ
- খ. 2 গুণ
- গ. 4 গুণ
- ঘ. 1/2 গুণ
উত্তর: গ. 4 গুণ
বৃত্তাকার প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A = πr²। ব্যাসার্ধ r অর্ধেক করলে নতুন ক্ষেত্রফল হয় π(r/2)² = πr²/4, অর্থাৎ ক্ষেত্রফল চার ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়। রোধ R = ρL/A সূত্রে ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক, তাই ক্ষেত্রফল ¼ হলে রোধ হয় ৪ গুণ।
মনে রাখুন:
রোধ ব্যাসার্ধের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক, অর্থাৎ R ∝ 1/r²।
ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ করলে রোধ এক-চতুর্থাংশ হয়।
এই সম্পর্ক ধরেই কারেন্ট বহনের জন্য কোন তার কতটা মোটা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়।
অর্থাৎ ব্যাসার্ধ অর্ধেক হলে তারটি বেশি চিকন হয়ে যায় এবং কারেন্টের পথ সংকীর্ণ হয়। - ১১৪. দুটি কপার কন্ডাক্টারের দৈর্ঘ্য একই, কিন্তু একটির প্রস্থচ্ছেদ অপরটির প্রস্থচ্ছেদের দ্বিগুণ। যদি মোটা কন্ডাক্টারের রেজিস্ট্যান্স 20Ω হয় তবে অন্যটির রেজিস্ট্যান্স হবে?BREB'র সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. 60Ω
- খ. 10Ω
- গ. 20Ω
- ঘ. 40Ω
উত্তর: ঘ. 40Ω
দুটি তামার তারের দৈর্ঘ্য ও উপাদান একই হলে রোধ প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। মোটা তারের ক্ষেত্রফল চিকন তারের দ্বিগুণ, তাই চিকন তারের রোধ মোটা তারের দ্বিগুণ হবে। মোটা তারের রোধ 20 Ω হলে চিকন তারের রোধ হবে 2 × 20 = 40 Ω।
মনে রাখুন: R₁/R₂ = A₂/A₁। অর্থাৎ ক্ষেত্রফলের অনুপাত উল্টে নিয়ে রোধের অনুপাত পাওয়া যায়।
দুই তারের দৈর্ঘ্য সমান না হলে দৈর্ঘ্যের অনুপাতও হিসাবে ধরতে হতো, তখন সূত্রটি হতো R₁/R₂ = (L₁/L₂) × (A₂/A₁)।
চিকন তারের রোধ বেশি হওয়ার কারণে সেটি একই কারেন্টে বেশি গরম হয়। - ১১৫. যদি একটি তামার তারের ব্যাস দ্বিগুণ করা হয় তবে এর কারেন্ট বহন ক্ষমতা-ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধ
- ক. চতুর্গুণ বৃদ্ধি পায়
- খ. এক চতুর্থাংশ হ্রাস পায়
- গ. অর্ধেক হ্রাস পায়
- ঘ. দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়
উত্তর: ক. চতুর্গুণ বৃদ্ধি পায়
তামার তারের ব্যাস দ্বিগুণ করলে প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল চারগুণ হয়, কারণ বৃত্তের ক্ষেত্রফল ব্যাসের বর্গের সমানুপাতিক। ক্ষেত্রফল চারগুণ হলে রোধ এক-চতুর্থাংশ হয়ে যায়, ফলে তারটি গরম না হয়ে অনেক বেশি কারেন্ট বহন করতে পারে। অর্থাৎ কারেন্ট বহন ক্ষমতা প্রায় চারগুণ বাড়ে।
মনে রাখুন: এ কারণেই ঘরের এসি বা হিটারের মতো বেশি কারেন্টের যন্ত্রে মোটা তার লাগানো হয়।
পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদ বাড়ালে তারের ওজন ও দামও বাড়ে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মাপ ঠিক করা হয়।
তারের ব্যাস দ্বিগুণ করলে তার ওজনও প্রায় চারগুণ বেড়ে যায়। - ১১৬. প্রতিটির ৯ ওহম বিশিষ্ট ৩টি রোধ সমান্তরালে যুক্ত করলে মোট রোধ কত হবে?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোধের সংযোগ
- ক. ২৭ ওহম
- খ. ৩ ওহম
- গ. ৮১ ওহম
- ঘ. ১ ওহম
উত্তর: খ. ৩ ওহম
সমান্তরাল সংযোগে মোট রোধের ব্যস্ত মান হলো আলাদা আলাদা রোধের ব্যস্ত মানের যোগফল। এখানে তিনটি রোধের প্রতিটি ৯ Ω, তাই 1/R = 1/9 + 1/9 + 1/9 = 3/9 = 1/3। এ থেকে R = 3 Ω পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
সমান n সংখ্যক রোধ r সমান্তরালে থাকলে মোট রোধ r/n হয়।
সমান্তরাল সংযোগে মোট রোধ সবচেয়ে ছোট রোধটির চেয়েও কম হয়।
সিরিজে মোট রোধ সব রোধের যোগফল।
কারণ প্রতিটি রোধ আলাদা শাখা দিয়ে কারেন্ট যাওয়ার সুযোগ দেয়।
৩ Ω মোট রোধে ২২০ ভোল্ট দিলে মোট কারেন্ট হয় প্রায় ৭৩ অ্যাম্পিয়ার। - ১১৭. বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিরাপত্তা প্রহরী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা
- ক. অ্যাম্পিয়ার
- খ. ওহম
- গ. ভোল্ট
- ঘ. ওয়াট
উত্তর: ঘ. ওয়াট
কোনো যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে কতটা বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে, তাকে সেই যন্ত্রের বৈদ্যুতিক ক্ষমতা (Electric Power) বলে। এর একক ওয়াট (W), যা স্কটিশ প্রকৌশলী জেমস ওয়াটের নামে রাখা হয়েছে। ১ সেকেন্ডে ১ জুল শক্তি খরচ হলে ক্ষমতা হয় ১ ওয়াট। অ্যাম্পিয়ার কারেন্টের একক, ওহম রোধের একক এবং ভোল্ট বিভব পার্থক্যের একক, তাই বাকি তিনটি এখানে খাটে না।
মনে রাখুন:
১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট।
১ অশ্বক্ষমতা (Horse Power) = ৭৪৬ ওয়াট।
যন্ত্রের গায়ে লেখা ওয়াট দেখে বোঝা যায় যন্ত্রটি প্রতি সেকেন্ডে কত শক্তি ব্যবহার করে। - ১১৮. ওয়াট কিসের একক?পাবলিক সার্ভিস কমিশনে সহকারী পরিচালক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা
- ক. ক্ষমতার
- খ. শক্তির
- গ. কাজের
- ঘ. রোধের
উত্তর: ক. ক্ষমতার
ওয়াট (Watt) হলো ক্ষমতার (Power) একক। ক্ষমতা মানে কাজ করার হার, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে কতটা কাজ হয় বা কতটা শক্তি ব্যয় হয়। ১ সেকেন্ডে ১ জুল কাজ হলে ক্ষমতা ১ ওয়াট। শক্তি ও কাজ দুটিরই একক জুল, আর রোধের একক ওহম, তাই বাকি তিনটি এখানে সঠিক নয়।
মনে রাখুন:
১ ওয়াট = ১ জুল/সেকেন্ড।
ক্ষমতার আরেকটি বড় একক কিলোওয়াট (kW) এবং আরও বড় একক মেগাওয়াট (MW), যা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন মাপতে ব্যবহৃত হয়।
ওয়াট শক্তির একক নয়, শক্তির একক জুল, আর শক্তি = ক্ষমতা × সময় সূত্রটি এই পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। - ১১৯. বৈদ্যুতিক পাওয়ার নির্ণয়ের সূত্র কি?তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. এর টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা
- ক. P = V × I ওয়াট
- খ. P = I × R ওয়াট
- গ. I = P × R ওয়াট
- ঘ. P = V × R ওয়াট
উত্তর: ক. P = V × I ওয়াট
কারেন্ট I অ্যাম্পিয়ার কোনো যন্ত্রের মধ্য দিয়ে গেলে এবং তার দুই প্রান্তের ভোল্টেজ V হলে যন্ত্রটি প্রতি সেকেন্ডে V × I জুল শক্তি ব্যয় করে। এটাই বৈদ্যুতিক ক্ষমতা, তাই P = VI ওয়াট। ওহমের সূত্র V = IR বসালে আরও দুটি রূপ পাওয়া যায়: P = I²R এবং P = V²/R।
মনে রাখুন:
রোধ নির্দিষ্ট থাকলে ক্ষমতা কারেন্টের বর্গের সমানুপাতিক।
ভোল্টেজ নির্দিষ্ট থাকলে ক্ষমতা রোধের ব্যস্তানুপাতিক।
তাই কারেন্ট ও ভোল্টেজ জানা থাকলে যন্ত্রের ক্ষমতা সহজেই বের করা যায়, যেমন ২২০ ভোল্টে ০.৫ অ্যাম্পিয়ারে ক্ষমতা ১১০ ওয়াট। - ১২০. ওয়াট হলো -তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (টেলিভিশন), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা
- ক. ১ ভোল্ট/১ ওহম
- খ. ১ ওহম/১ অ্যাম্পিয়ার
- গ. ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার
- ঘ. ওপরের কোনোটিই সত্য নয়
উত্তর: গ. ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার
ক্ষমতার সূত্র P = V × I। তাই ১ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে ১ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট চললে ক্ষমতা হয় ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার, আর এই পরিমাণকে বলে ১ ওয়াট। এককের হিসাবেও এটি মেলে: ১ ভোল্ট = ১ জুল/কুলম্ব এবং ১ অ্যাম্পিয়ার = ১ কুলম্ব/সেকেন্ড, তাই গুণ করলে পাওয়া যায় ১ জুল/সেকেন্ড, যা ওয়াটের সংজ্ঞা।
মনে রাখুন:
১ ভোল্ট/১ ওহম = ১ অ্যাম্পিয়ার, তাই ওই রাশিটি কারেন্টের।
১ ওহম/১ অ্যাম্পিয়ার-এর কোনো বিশেষ নাম নেই।
ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ারকে ভিএ বলা হয়, এসি বর্তনীতে একে আপাত ক্ষমতা বলে। - ১২১. বৈদ্যুতিক ক্ষমতা হলো-তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (টেলিভিশন), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা
- ক. I²R
- খ. I R²
- গ. I/R
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. I²R
কোনো রোধের মধ্য দিয়ে কারেন্ট I চললে বৈদ্যুতিক ক্ষমতা P = VI। এখানে ওহমের সূত্র অনুযায়ী V = IR, তাই P = I × IR = I²R। এই ক্ষমতাই রোধে তাপ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, আর এ কারণেই হিটার বা ইস্ত্রি গরম হয়। I²R-এর তুলনায় IR² বা I/R এই কারেন্ট ও রোধের সম্পর্কের কোনো পরিচিত রূপ নয়।
মনে রাখুন:
তাপ উৎপাদনের জুলের সূত্র H = I²Rt।
কারেন্ট দ্বিগুণ হলে একই রোধে ক্ষমতা চারগুণ হয়।
রোধ ও কারেন্ট জানা থাকলে এই সূত্র দিয়েই ক্ষমতা বের করা সবচেয়ে সহজ। - ১২২. ১০০ ওয়াটের একটি বাতির রোধ একটি ৬০ ওয়াটের বাতির তুলনায়-বেপজা'র উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা
- ক. 80 ওহম বেশি
- খ. বেশি
- গ. কম
- ঘ. সমান
উত্তর: গ. কম
বাতি একই ২২০ ভোল্টের লাইনে লাগানো হয়, তাই P = V²/R সূত্র থেকে R = V²/P পাওয়া যায়। ভোল্টেজ সমান থাকলে রোধ ক্ষমতার ব্যস্তানুপাতিক। ১০০ ওয়াটের বাতির ক্ষমতা বেশি, তাই তার রোধ কম হয়। হিসাব করলে ১০০ ওয়াটের বাতির রোধ প্রায় 484 Ω, আর ৬০ ওয়াটের বাতির রোধ প্রায় 807 Ω।
মনে রাখুন:
বেশি ওয়াটের বাতির ফিলামেন্ট মোটা এবং রোধ কম, তাই কারেন্ট বেশি যায়।
সিরিজে লাগালে কম ওয়াটের বাতি বেশি উজ্জ্বল হয়, কারণ তার রোধ বেশি।
তুলনা করার সময় দুটি বাতি একই ভোল্টেজের জন্য তৈরি কি না, তা আগে দেখে নিতে হয়। - ১২৩. বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সময় আমরা যার জন্য বিল পরিশোধ করি তা হলোতথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (গ্রেড-২), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ বিল
- ক. কারেন্ট
- খ. ভোল্টেজ
- গ. ক্ষমতা
- ঘ. শক্তি
উত্তর: ঘ. শক্তি
বিদ্যুতের বিল আমরা শক্তি ব্যবহারের জন্য দিই, কারণ বিল হিসাব হয় মিটারে মাপা কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) অনুযায়ী, যা শক্তির একক। কোনো যন্ত্র কতক্ষণ চলল এবং তার ক্ষমতা কত, দুটো একসঙ্গে গুণ করলেই শক্তির পরিমাণ পাওয়া যায়। শুধু ক্ষমতা জানলে চলে না, কারণ একটি ১০০ ওয়াটের বাতি এক মিনিট চললে যা খরচ করে, এক ঘণ্টা চললে খরচ হয় তার ৬০ গুণ।
মনে রাখুন: শক্তি = ক্ষমতা × সময়। বিদ্যুৎ বিলের ১ ইউনিট মানে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।
ঘরে একটা বাতি জ্বললে তার ক্ষমতা ছোট মনে হলেও পুরো মাসের হিসাবে ইউনিট জমে বড় বিল হয়ে যায়। - ১২৪. নিচের কোনটি একক KWh?PWD-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক শক্তি
- ক. পাওয়ার
- খ. এনার্জি
- গ. ভোল্ট -এম্পিয়ার
- ঘ. সময়
উত্তর: খ. এনার্জি
কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) নামেই বোঝা যায় এটি ক্ষমতা ও সময়ের গুণফল। ক্ষমতা (kW) × সময় (h) হলো শক্তি, তাই kWh শক্তির (Energy) একক। ক্ষমতার একক শুধু kW বা ওয়াট, কিন্তু সেটিকে সময় দিয়ে গুণ করলে শক্তি পাওয়া যায়। ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (VA) আসলে আপাত ক্ষমতার একক এবং ঘণ্টা সময়ের একক।
মনে রাখুন:
১ kWh = ৩৬ লক্ষ জুল।
বিদ্যুৎ বিলে যাকে আমরা ইউনিট বলি, সেটি এই kWh।
বিদ্যুৎ বিলের হিসাবে ১ ইউনিটকে বলা হয় এক বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট, যা ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টার সমান। - ১২৫. ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা নিচের কোনটির সমান?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক শক্তি
- ক. ১০০KJ
- খ. ৩৬০০J
- গ. ৩৬০০KJ
- ঘ. ৩৬০০০KJ
উত্তর: গ. ৩৬০০KJ
১ কিলোওয়াট মানে ১০০০ ওয়াট, আর ১ ঘণ্টা মানে ৩৬০০ সেকেন্ড। তাই ১ kWh = ১০০০ W × ৩৬০০ s = 3,600,000 J। এটিকে কিলোজুলে প্রকাশ করলে হয় 3600 kJ, কারণ ১ কিলোজুল = ১০০০ জুল। অর্থাৎ ৩৬০০ কিলোজুল।
মনে রাখুন:
১ kWh = ৩.৬ × 10⁶ J = ৩৬০০ kJ।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ জুল।
বিদ্যুৎ বিলের ১ ইউনিট ঠিক এই পরিমাণ শক্তি।
আবার ১ ওয়াট-ঘণ্টা মানে ৩.৬ কিলোজুল।
বিদ্যুৎ বিলে এই এককই ব্যবহার করা হয়, কারণ জুল দিয়ে হিসাব করলে সংখ্যা অনেক বড় হয়ে যেত। - ১২৬. ১০০ ওয়াটের একটি বাতি ১ মিনিট চললে উহা কি পরিমাণ কাজ করবে?বাংলাদেশ রোড অথরিটির সহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক শক্তি
- ক. ১০০ জুল
- খ. ৬০০০ জুল
- গ. ৫/৩ জুল
- ঘ. ৬০০ জুল
উত্তর: খ. ৬০০০ জুল
ক্ষমতা হলো প্রতি সেকেন্ডে কাজের পরিমাণ, তাই কাজ বা শক্তি = ক্ষমতা × সময়। ১০০ ওয়াটের বাতি প্রতি সেকেন্ডে ১০০ জুল কাজ করে। ১ মিনিট মানে ৬০ সেকেন্ড, অতএব মোট কাজ হয় 100 × 60 = 6000 জুল।
মনে রাখুন:
সময়কে সবসময় সেকেন্ডে বদলে নিতে হয়, নইলে জুলে উত্তর আসে না।
একই বাতি ১ ঘণ্টা চললে কাজ হয় 100 × 3600 = 360000 জুল।
আরও একটি উপায়ে বললে, ১০০ ওয়াট মানে প্রতি সেকেন্ডে ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হওয়া।
একই বাতি এক মিনিটে ১০০ জুলের বদলে ৬০০০ জুল শক্তি ব্যয় করে, তাই ১০০ জুল ও ৬০০ জুল সঠিক নয়। - ১২৭. একটি ২০০ ওয়াটের বাতি ৫ ঘণ্টা জ্বললে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ বিলের হিসাব
- ক. ১ ইউনিট
- খ. ২৫ ইউনিট
- গ. ১০ ইউনিট
- ঘ. ১০০০ ইউনিট
উত্তর: ক. ১ ইউনিট
বিদ্যুৎ বিলের ১ ইউনিট মানে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। ২০০ ওয়াট হলো ০.২ কিলোওয়াট, আর বাতিটি ৫ ঘণ্টা জ্বলেছে। তাই শক্তি = ০.২ kW × ৫ h = ১ kWh, অর্থাৎ ১ ইউনিট।
মনে রাখুন:
ইউনিট = (ওয়াট × ঘণ্টা)/১০০০।
এভাবে ওয়াটকে আগে কিলোওয়াটে বদলে নিলে হিসাব সহজ হয়।
বিলের টাকা হলো ইউনিট সংখ্যাকে প্রতি ইউনিটের দাম দিয়ে গুণ করা।
একই হিসাবে ২০০ ওয়াটের বাতি ১০ ঘণ্টা জ্বললে ২ ইউনিট খরচ হবে।
সাধারণ ঘরোয়া মিটারে প্রতি মাসের ইউনিট খরচ গুণ করেই মাসিক বিল ঠিক করা হয়। - ১২৮. ১০০ ওয়াটের একটি বাল্ব দশ ঘণ্টা জ্বললে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যয় হয়-BREB Sub Assistant Engineer, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ বিলের হিসাব
- ক. 1000 kWh
- খ. 100 kWh
- গ. 1 Unit
- ঘ. 1 kW
উত্তর: গ. 1 Unit
১০০ ওয়াট মানে ০.১ কিলোওয়াট। বাল্বটি ১০ ঘণ্টা জ্বললে ব্যয়িত শক্তি হয় ০.১ kW × ১০ h = ১ kWh। বিদ্যুৎ বিলে একে ১ ইউনিট বলা হয়। তাই সঠিক উত্তর ১ ইউনিট। কিলোওয়াট ক্ষমতার একক, শক্তির নয়, সুতরাং ১ kW এখানে সঠিক নয়।
মনে রাখুন:
kWh শক্তির একক এবং kW ক্ষমতার একক।
ইউনিট = ক্ষমতা (kW) × সময় (h)।
এই বাল্ব ১ মাস, অর্থাৎ ৩০ দিন প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা জ্বললে ৩০ ইউনিট খরচ হবে।
বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ওয়াট ও কিলোওয়াট নামের ক্ষমতার এককগুলোকে শক্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। - ১২৯. তড়িৎ প্রাবল্যের ব্যবহারিক একক কোনটি?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রাবল্য
- ক. নিউটন-কুলম্ব
- খ. নিউটন/কুলম্ব
- গ. ডাইন/ই.এস.ইউ চার্জ
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. নিউটন/কুলম্ব
তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধানের ওপর যে বল কাজ করে, তাকে সেই বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য (Electric Field Intensity) বলে। বলের একক নিউটন এবং আধানের একক কুলম্ব, তাই প্রাবল্যের একক নিউটন/কুলম্ব (N/C)। একে ভোল্ট/মিটার (V/m) এককেও প্রকাশ করা যায়, আর দুটি একক আসলে সমান।
মনে রাখুন:
তড়িৎ প্রাবল্য একটি ভেক্টর রাশি।
নিউটন-কুলম্ব কোনো প্রচলিত একক নয়।
CGS পদ্ধতিতে এর একক ডাইন/ই.এস.ইউ চার্জ।
কোনো বিন্দুতে তড়িৎ প্রাবল্য E হলে সেখানে q আধানের ওপর বল হয় F = qE।
তড়িৎ প্রাবল্যের দিক সবসময় ধনাত্মক আধানের ওপর বলের দিকে ধরা হয়। - ১৩০. শর্ট সার্কিট হলে কী হয়?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ইলেকট্রিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. কারেন্ট বাড়ে
- খ. রেজিস্ট্যান্স বাড়ে
- গ. ইন্ডাকট্যান্স বাড়ে
- ঘ. ভোল্টেজ বাড়ে
উত্তর: ক. কারেন্ট বাড়ে
বর্তনীর দুটি তার কোনোভাবে সরাসরি স্পর্শ করলে বা রোধহীন পথে যুক্ত হয়ে গেলে তাকে শর্ট সার্কিট (Short Circuit) বলে। তখন বর্তনীর রোধ প্রায় শূন্য হয়ে যায়। ওহমের সূত্র I = V/R অনুযায়ী ভোল্টেজ একই থাকলে রোধ কমে গেলে কারেন্ট খুব বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত কারেন্ট তারকে অতিরিক্ত গরম করে এবং আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।
মনে রাখুন:
শর্ট সার্কিটে রোধ বাড়ে না, বরং কমে যায়।
এ ঝুঁকি ঠেকাতে বর্তনীতে ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার লাগানো হয়।
অতিরিক্ত যন্ত্র একসঙ্গে চালালে ওভারলোড হয়ে একইভাবে কারেন্ট বেড়ে যেতে পারে। - ১৩১. ফিউজ কোন ধরনের ডিভাইস?রেপজা উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. কন্ট্রোলিং
- খ. প্রটেকটিভ
- গ. ইন্ডিকেটর
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. প্রটেকটিভ
ফিউজ (Fuse) হলো এমন একটি নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যা বর্তনীকে অতিরিক্ত কারেন্টের হাত থেকে রক্ষা করে। বর্তনীতে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি কারেন্ট গেলে ফিউজের তার গরম হয়ে গলে যায় এবং বর্তনী ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বাকি যন্ত্র ও তার নষ্ট হওয়া বা আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে না। তাই ফিউজ একটি প্রটেকটিভ বা সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণের (Controlling) বা নির্দেশক সরঞ্জাম নয়।
মনে রাখুন:
ফিউজ বর্তনীতে সবসময় সিরিজে লাগানো হয়।
ফিউজ একবার গলে গেলে নতুন করে বসাতে হয়, আর সার্কিট ব্রেকার আবার চালু করা যায়। - ১৩২. বৈদ্যুতিক বর্তনীতে নির্ধারিত মানের অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলেই ....... নিজে গলে গিয়ে বর্তনীকে বিপদমুক্ত করে।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কো. লি. এর টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. সার্কিট বেকার
- খ. আইসোলেটর
- গ. ফিউজ
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. ফিউজ
ফিউজ হলো সরু ও কম গলনাঙ্কের ধাতব তার, যা বর্তনীর সঙ্গে সিরিজে লাগানো থাকে। বর্তনীতে নির্ধারিত মানের বেশি কারেন্ট গেলে তারে তাপ বেশি উৎপন্ন হয়, ফলে তারটি নিজে গলে যায়। তখন বর্তনী ছিন্ন হয়ে কারেন্টের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তনী ও যন্ত্রপাতি নিরাপদ থাকে। সার্কিট ব্রেকারও একই কাজ করে, কিন্তু সেটি গলে যায় না, বরং সুইচের মতো বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে আবার চালু করা যায়।
মনে রাখুন: আইসোলেটর বর্তনীর কোনো অংশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে হাতে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ব্যবহৃত হয়। - ১৩৩. বৈদ্যুতিক বর্তনীতে শর্ট সার্কিটজনিত ক্ষতিরোধ করার জন্য যে ফিউজ ব্যবহার করা হয়, তা হলো-যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. ছোট সরু তার
- খ. ছোট মোটা তার
- গ. লম্বা সরু তার
- ঘ. লম্বা মোটা তার
উত্তর: ক. ছোট সরু তার
ফিউজ তার আসলে ছোট ও সরু হয়, কারণ তারের রোধ প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। সরু হলে রোধ বেশি হয়, তাই কারেন্ট গেলে তারে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। জুলের তাপীয় সূত্র H = I²Rt অনুযায়ী অতিরিক্ত কারেন্ট গেলে তাপ দ্রুত বাড়ে এবং তারটি গলে গিয়ে বর্তনীকে ছিন্ন করে। মোটা তার হলে রোধ কম থাকত, তাপ কম হতো এবং তা সহজে গলত না।
মনে রাখুন: ফিউজ তারের গলনাঙ্ক কম হতে হয়, নইলে তা সময়মতো গলবে না।
মোটা ও কম রোধের তার ব্যবহার করলে কারেন্ট বেড়ে গেলেও সহজে গলে না, তাই তা ফিউজের জন্য ঠিক নয়। - ১৩৪. গৃহে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে লক্ষ্য রাখতে হয়-সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. মেইন সুইচে কোনো ফিউজ দেওয়া না হয়
- খ. পিভিসি কেবল না দেওয়া হয়
- গ. নিরাপত্তা ফিউজের সংযোগ কম গলনাঙ্কের কোন ধাতব তারে দেওয়া হয়
- ঘ. মিটার লাগানো হয়
উত্তর: গ. নিরাপত্তা ফিউজের সংযোগ কম গলনাঙ্কের কোন ধাতব তারে দেওয়া হয়
ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগে নিরাপত্তার জন্য মেইন সুইচে ফিউজ অবশ্যই লাগাতে হয়। এই ফিউজ তার তৈরি হয় কম গলনাঙ্কের ধাতব সংকর দিয়ে, যাতে অতিরিক্ত কারেন্ট গেলে সেটি দ্রুত গলে যায় এবং বর্তনী খুলে যায়। এভাবে শর্ট সার্কিট বা ওভারলোড থেকে আগুন লাগা ও যন্ত্র পুড়ে যাওয়া রোধ করা যায়। ফিউজ না থাকলে বা ফিউজের বদলে অন্য তার বসালে এই সুরক্ষা কাজ করে না।
মনে রাখুন:
ফিউজ সবসময় ফেজ (জীবন্ত) লাইনে সিরিজে লাগানো হয়।
ফিউজ তার ও পরিবাহী তার একই জিনিস নয়, আলাদা কাজের জন্য আলাদা মানের হয়। - ১৩৫. ফিউজ তার কিসের সংকর?পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি'র জুনিয়র হিসাব সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. টিন ও লোহা
- খ. টিন ও সীসা
- গ. সোনা ও রূপা
- ঘ. সীসা ও ব্রোঞ্জ
উত্তর: খ. টিন ও সীসা
ফিউজ তারের গলনাঙ্ক কম হতে হয়, কিন্তু রোধ বেশি হতে হয়। এই দুটি গুণ পাওয়া যায় টিন (Sn) ও সিসার (Pb) সংকরে, যার গলনাঙ্ক প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সংকর (Alloy) হলো দুটি বা তার বেশি ধাতু মিশিয়ে তৈরি এমন ধাতু, যার ধর্ম মূল ধাতুগুলোর থেকে আলাদা হয়। তামার মতো ধাতুর গলনাঙ্ক অনেক বেশি, তাই তা দিয়ে ফিউজ তৈরি করা হয় না।
মনে রাখুন:
সোল্ডার বা ঝালাইয়ের মিশ্রণও টিন ও সিসা দিয়ে তৈরি।
ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের সংকর, কাঁসা তামা ও দস্তার সংকর। - ১৩৬. একটি ফিউজ তারের রেটিং কী দিয়ে প্রকাশ করা হয়?পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্ট সার্কিট ও ফিউজ
- ক. Ampere-hr
- খ. Ampere Volts
- গ. KWh
- ঘ. Ampere
উত্তর: ঘ. Ampere
ফিউজ তার কতটুকু কারেন্ট সহ্য করতে পারে, সেটাই তার রেটিং। কারণ ফিউজ তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট মানের কারেন্ট পেরিয়ে গেলে গলে যাওয়ার জন্য। তাই রেটিং প্রকাশ করা হয় কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ারে (A), যেমন ৫ A বা ১৫ A। যে ফিউজের রেটিং ৫ A, তার ভেতর দিয়ে ৫ অ্যাম্পিয়ারের বেশি কারেন্ট গেলে তা গলে যাবে।
মনে রাখুন:
ভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার আপাত ক্ষমতার একক এবং kWh শক্তির একক, তাই এগুলো ফিউজের রেটিংয়ের একক নয়।
যন্ত্রের কারেন্টের তুলনায় সামান্য বেশি রেটিংয়ের ফিউজ বসাতে হয়।
রেটিংয়ের মান এভাবেই ঠিক করা হয় যে যন্ত্রের স্বাভাবিক কারেন্টের তুলনায় তা কিছুটা বেশি থাকে। - ১৩৭. থ্রি পিন সকেটের মোটা পিনটি কিসের?টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গৃহের বৈদ্যুতিক সংযোগ
- ক. লাইন
- খ. আর্থ
- গ. নিউট্রাল
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. আর্থ
থ্রি-পিন প্লাগ ও সকেটে তিনটি পিন থাকে: ফেজ, নিউট্রাল ও আর্থ। এর মধ্যে সবচেয়ে মোটা বা বড় পিনটি আর্থ (Earth) সংযোগের জন্য। যন্ত্রের ধাতব বডি এই পিনের মাধ্যমে মাটির সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে কোনো কারণে বডিতে বিদ্যুৎ চলে এলে সেটি মাটিতে নেমে যায়, আর আমরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাই।
মনে রাখুন:
বাকি দুটি পিন ফেজ (জীবন্ত) ও নিউট্রাল (নিরপেক্ষ) লাইনের জন্য।
আর্থ পিনটি বড় রাখা হয় যাতে প্লাগ ঢোকানোর সময় আগে আর্থ সংযোগ হয় এবং বের করার সময় সবার শেষে বিচ্ছিন্ন হয়। - ১৩৮. থ্রি-পিন সকেটের একটি পিন বড় রাখা হয় কেন?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ইলেকট্রিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গৃহের বৈদ্যুতিক সংযোগ
- ক. আর্থিং পয়েন্ট সহজে চেনার জন্য
- খ. লিকেজ কারেন্ট দ্রুত মাটিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য
- গ. সংযোগ ঠিকমতো হওয়ার জন্য
- ঘ. সবগুলো
উত্তর: ঘ. সবগুলো
থ্রি-পিন সকেটে বড় পিনটি আর্থ সংযোগের জন্য। এটি বড় রাখার কারণ একটা নয়, একাধিক। প্রথমত, বড় পিন দেখে আর্থিং পয়েন্ট সহজে চেনা যায় এবং প্লাগ ভুলভাবে ঢোকানো যায় না। দ্বিতীয়ত, যন্ত্রের বডিতে লিকেজ কারেন্ট এলে তা এই পিন দিয়ে দ্রুত মাটিতে চলে যায়। তৃতীয়ত, বড় পিন সকেটে ভালোভাবে বসে বলে সংযোগ মজবুত হয়। তাই তিনটি কারণই সঠিক।
মনে রাখুন: আর্থিং ঠিক না থাকলে যন্ত্রের বডি ছুঁয়ে আমরা বিদ্যুতের ধাক্কা খেতে পারি।
তাই কেবল একটি কারণ নয়, তিনটি কারণ মিলিয়ে বড় পিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আর্থিংয়ের তারের রঙ সাধারণত সবুজ হয়। - ১৩৯. বৈদ্যুতিক সংযোগের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেজ লাইন কী রঙের তার দিয়ে দেয়া হয়?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ইলেকট্রিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গৃহের বৈদ্যুতিক সংযোগ
- ক. কালো
- খ. লাল
- গ. হলুদ
- ঘ. নীল
উত্তর: খ. লাল
হাউজ ওয়্যারিংয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের দুটি মূল তার থাকে: ফেজ (Phase) বা লাইভ এবং নিউট্রাল (Neutral)। বাংলাদেশে প্রচলিত নিয়মে ফেজ লাইন লাল রঙের তার দিয়ে এবং নিউট্রাল লাইন কালো রঙের তার দিয়ে দেওয়া হয়। ফেজ তারে বিভব থাকে, তাই এটি ছুঁলে বিদ্যুতের ধাক্কা লাগতে পারে। রঙ দেখে তার চেনা যায় বলে মেরামতের সময় ভুল তারে হাত পড়ার ঝুঁকি কমে।
মনে রাখুন:
আর্থ তারের জন্য সাধারণত সবুজ রঙের (বা সবুজ-হলুদ) তার ব্যবহার করা হয়।
সুইচ সবসময় ফেজ লাইনে বসাতে হয়।
ঘরের মূল লাইনে ফেজ তার ফিউজ ও সুইচের মধ্য দিয়ে যায়, আর এর দিকটা বুঝে নেওয়া বিদ্যুৎকর্মীদের জন্য জরুরি। - ১৪০. হাউজ ওয়্যারিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কালো রংয়ের তারটি-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর এডমিন অ্যাসিস্টেন্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গৃহের বৈদ্যুতিক সংযোগ
- ক. জীবন্ত
- খ. ধনাত্মক আধানযুক্ত
- গ. নিরপেক্ষ
- ঘ. ঋণাত্মক আধানযুক্ত
উত্তর: গ. নিরপেক্ষ
ঘরের ওয়্যারিংয়ে তারের রঙ দিয়ে তার চেনানোর নিয়ম আছে। লাল রঙের তারটি ফেজ বা জীবন্ত (Live) লাইন, যেটি ছুঁলে ধাক্কা খাওয়ার ভয় থাকে। কালো রঙের তারটি নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ (Neutral) লাইন। এটি বর্তনীকে সম্পূর্ণ করে বিদ্যুৎকে উৎসে ফিরে যাওয়ার পথ দেয়। নিউট্রাল তারের বিভব প্রায় শূন্য থাকে, কিন্তু তবুও বর্তনী চালু থাকলে এটি ছোঁয়া নিরাপদ নয়।
মনে রাখুন:
সবুজ তার আর্থিংয়ের জন্য।
নিউট্রাল ও আর্থ আলাদা, নিউট্রাল দিয়ে কারেন্ট ফিরে আসে আর আর্থ শুধু নিরাপত্তার পথ।
ফেজ ও নিউট্রাল তারের মধ্যে ২২০ ভোল্ট বিভব পার্থক্য থাকে, তাই বর্তনী পূর্ণ হলে এই দুই তার দিয়েই কারেন্ট যাতায়াত করে। - ১৪১. কারেন্ট পরিমাপের মাধ্যম হলো-ডিপিডিসি-এর বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ মাপার যন্ত্র
- ক. অ্যামিটার
- খ. রাডার
- গ. ব্যারোমিটার
- ঘ. ভোল্টেজ
উত্তর: ক. অ্যামিটার
কারেন্ট বা তড়িৎ প্রবাহ মাপার যন্ত্রের নাম অ্যামিটার (Ammeter), এবং কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ার। অ্যামিটারকে বর্তনীর সঙ্গে সিরিজে লাগাতে হয়, যাতে বর্তনীর সবটুকু কারেন্ট এর ভেতর দিয়ে যায়। অ্যামিটারের রোধ খুব কম হয়, নইলে তা নিজেই কারেন্টের মান বদলে দিত। রাডার দূরের বস্তু শনাক্ত করার যন্ত্র, ব্যারোমিটার বায়ুচাপ মাপে এবং ভোল্টেজ কোনো যন্ত্র নয়, এটি বিভব পার্থক্যের নাম।
মনে রাখুন:
ভোল্টমিটার সমান্তরালে লাগাতে হয় এবং এর রোধ খুব বেশি হয়।
মিলিঅ্যামিটার ও মাইক্রোঅ্যামিটার নামে আরও ছোট কারেন্ট মাপার যন্ত্রও আছে।
কারেন্ট মাপার সময় বর্তনীকে ছিঁড়ে অ্যামিটার ঢোকাতে হয়, ভোল্টমিটারের মতো শুধু পাশে লাগালে চলে না। - ১৪২. Ⓐ চিহ্নটি কী নির্দেশ করে-BREB'র লাইনম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ মাপার যন্ত্র
- ক. বিদ্যুৎ প্রবাহ
- খ. ব্যাটারী
- গ. অ্যামিটার
- ঘ. রোধ
উত্তর: গ. অ্যামিটার
বর্তনীর নকশায় প্রতিটি যন্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট প্রতীক ব্যবহার করা হয়। বৃত্তের ভেতরে A লেখা থাকলে সেটি অ্যামিটার (Ammeter) বোঝায়, যা বর্তনীর কারেন্ট মাপে। বৃত্তের ভেতরে V থাকলে সেটি ভোল্টমিটার। প্রতীকগুলো জানা থাকলে নকশা দেখেই বোঝা যায় বর্তনীতে কোন যন্ত্র কীভাবে যুক্ত আছে।
মনে রাখুন:
অ্যামিটার বর্তনীর সঙ্গে সিরিজে যুক্ত থাকে।
ব্যাটারির প্রতীক একটি লম্বা ও একটি খাটো সমান্তরাল রেখা।
রোধের প্রতীক আঁকাবাঁকা রেখা বা ছোট আয়তক্ষেত্র।
গ্যালভানোমিটারের প্রতীক বৃত্তের ভেতর G, যা অতি সামান্য কারেন্ট শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ভোল্টমিটারের প্রতীক বৃত্তের ভেতর V লেখা থাকে এবং ওহমমিটারের প্রতীকে Ω লেখা থাকে। - ১৪৩. মাল্টিমিটার দ্বারা কি পরিমাপ করা হয়?টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ মাপার যন্ত্র
- ক. ভোল্টেজ
- খ. রেজিস্ট্যান্স
- গ. কারেন্ট
- ঘ. সবকয়টি
উত্তর: ঘ. সবকয়টি
মাল্টিমিটার (Multimeter) এমন একটি যন্ত্র, যা একাধিক মাপার কাজ একাই করতে পারে। যন্ত্রটির সিলেক্টর ঘুরিয়ে ভোল্টেজ, কারেন্ট ও রোধ মাপা যায়, তাই অনেকে একে ভোল্ট-ওহম-মিলিঅ্যামিটার (VOM) বলে। কোন রাশি মাপা হবে সেটা ঠিক করে পরীক্ষা তার দুটি বর্তনীর সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। তাই সবকয়টি রাশি মাপা যায়।
মনে রাখুন:
ডিজিটাল মাল্টিমিটারে সংখ্যা সরাসরি পর্দায় দেখা যায়।
মাল্টিমিটারে অনেক সময় ডায়োড ও ক্যাপাসিটর পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকে।
সাধারণ ব্যবহারে বাতি বা তার ঠিক আছে কি না, মাল্টিমিটার দিয়ে সেটিও পরীক্ষা করা যায়। - ১৪৪. তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হলেন-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ
- ক. নিউটন
- খ. ফ্যারাডে
- গ. গ্যালিলিও
- ঘ. ম্যাক্স
উত্তর: খ. ফ্যারাডে
১৮৩১ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে (Michael Faraday) দেখান যে কোনো কুণ্ডলীর কাছে চুম্বক নাড়ালে কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়। একে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) বলে। এই আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করেই জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার তৈরি হয়েছে।
মনে রাখুন:
নিউটন গতি ও মহাকর্ষের সূত্রের জন্য বিখ্যাত।
গ্যালিলিও দূরবীন ব্যবহার করে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
ওরস্টেড আবিষ্কার করেন যে তড়িৎ প্রবাহ চুম্বকক্ষেত্র তৈরি করে, আর ফ্যারাডে এর উল্টো ঘটনাটি দেখান।
আবেশের ফলে যে তড়িচ্চালক বল তৈরি হয়, তার মান নির্ভর করে চৌম্বক ফ্লাক্স কত দ্রুত বদলায় তার ওপর। - ১৪৫. একটি বৈদ্যুতিক 'জেনারেটর' হচ্ছে -৯ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনারেটর ও মোটর
- ক. তাপ শক্তির উৎস
- খ. বৈদ্যুতিক আধানের উৎস
- গ. একটি বিদ্যুৎ চুম্বক
- ঘ. শক্তির কনভার্টার
উত্তর: ঘ. শক্তির কনভার্টার
জেনারেটর (Generator) আধান তৈরি করে না, বরং এক ধরনের শক্তিকে অন্য ধরনের শক্তিতে বদলে দেয়। এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। জেনারেটরের কুণ্ডলী চুম্বকক্ষেত্রে ঘোরানো হলে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের কারণে তাতে তড়িচ্চালক বল সৃষ্টি হয়। এ কারণে জেনারেটরকে শক্তির রূপান্তরক বা কনভার্টার বলা হয়।
মনে রাখুন:
কুণ্ডলীকে ঘোরানোর জন্য টারবাইন ব্যবহার হয়, যা চলে বাষ্প, পানি বা বাতাসের জোরে।
বিদ্যুৎ শক্তি জেনারেটর তৈরি করে না, রূপান্তর করে, কারণ শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।
জেনারেটর যে বিদ্যুৎ তৈরি করে, তা আসলে কুণ্ডলীর ভেতরের মুক্ত ইলেকট্রনের গতি, নতুন আধান তৈরি হয় না। - ১৪৬. জেনারেটরের কাজ কী?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনারেটর ও মোটর
- ক. যান্ত্রিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর
- খ. রাসায়নিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর
- গ. তড়িৎ বিভব শক্তির বিবর্ধন
- ঘ. তড়িৎ শক্তির বিবর্ধন
উত্তর: ক. যান্ত্রিক শক্তি থেকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর
জেনারেটরের কাজ হলো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা। চুম্বকক্ষেত্রের ভেতরে একটি কুণ্ডলী ঘোরালে কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে যাওয়া চৌম্বক ফ্লাক্স বদলাতে থাকে, আর ফ্যারাডের আবেশের সূত্র অনুযায়ী তাতে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে বদলায় ব্যাটারি বা কোষ, জেনারেটর নয়।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফরমার তড়িৎ শক্তি বাড়ায় না, শুধু ভোল্টেজ বদলায়।
বৈদ্যুতিক মোটর ঠিক উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
জেনারেটরের আসল সূত্র তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ, যা ফ্যারাডে আবিষ্কার করেছিলেন।
মোটর ও জেনারেটরের গঠন অনেকটা একই রকম, শুধু শক্তির রূপান্তরের দিক উল্টো। - ১৪৭. যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ (বৈদ্যুতিক) শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে, তাকে বলে-EED'র উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনারেটর ও মোটর
- ক. যান্ত্রিক মোটর
- খ. মোটর
- গ. তড়িৎ মোটর
- ঘ. তড়িৎ শক্তি
উত্তর: গ. তড়িৎ মোটর
যে যন্ত্র বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে বদলে দেয়, তাকে তড়িৎ মোটর (Electric Motor) বলে। চুম্বকক্ষেত্রে রাখা কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে কারেন্ট গেলে কুণ্ডলীর ওপর একটি বল কাজ করে, ফলে সেটি ঘুরতে থাকে। আমাদের ঘরের পাখা, ওয়াশিং মেশিন ও পানির পাম্পের ভেতরে এই মোটরই কাজ করে।
মনে রাখুন:
তড়িৎ মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে, আর জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে বদলায়।
মোটরের কাজের মূলনীতি হলো চুম্বকক্ষেত্রে কারেন্টবাহী তারের ওপর বল কাজ করা।
বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন, ইলেকট্রিক গাড়ি এবং লিফটেও এই ধরনের মোটর ব্যবহার করা হয়। - ১৪৮. একটি জেনারেটরের শক্তি কিসের উপর নির্ভর করে না?পাবলিক সার্ভিস কমিশনে সহকারী পরিচালক, ১৯৯৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনারেটর ও মোটর
- ক. আর্মেচারের চুম্বকক্ষেত্রের শক্তির উপর
- খ. এর তারের পাকসংখ্যার উপর
- গ. এর ঘূর্ণনের উপর
- ঘ. এর ভিতরে প্রবাহিত বিদ্যুৎশক্তির উপর
উত্তর: ঘ. এর ভিতরে প্রবাহিত বিদ্যুৎশক্তির উপর
জেনারেটরে উৎপন্ন তড়িচ্চালক বল বা ক্ষমতা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর: চুম্বকক্ষেত্রের শক্তি, কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা এবং কুণ্ডলী কত দ্রুত ঘুরছে। এই তিনটি যত বাড়ে, আবেশী তড়িচ্চালক বল ততই বাড়ে। কিন্তু জেনারেটর থেকে যে বিদ্যুৎ বেরোয়, সেটি তো ফল, শর্ত নয়, তাই জেনারেটরের ক্ষমতা এর ভেতরে প্রবাহিত বিদ্যুৎশক্তির ওপর নির্ভর করে না।
মনে রাখুন:
আবেশী তড়িচ্চালক বল ফ্লাক্স বদলের হারের সমানুপাতিক।
জেনারেটরের কুণ্ডলীকে আর্মেচার বলে।
আর্মেচারের কুণ্ডলীতে পাকসংখ্যা বেশি হলে একই গতিতে বেশি তড়িচ্চালক বল পাওয়া যায়।
চুম্বকক্ষেত্র যত শক্তিশালী হয়, উৎপন্ন বিদ্যুৎও তত বেশি হয়। - ১৪৯. কম্যুটেটর কোথায় ব্যবহৃত হয়?BRTA'র সহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনারেটর ও মোটর
- ক. ট্রান্সফরমারে
- খ. ডিসি মোটরে
- গ. এসি মোটরে
- ঘ. মাইক্রোফোনে
উত্তর: খ. ডিসি মোটরে
কম্যুটেটর (Commutator) হলো দুই ভাগে ভাগ করা একটি বলয়, যা ডিসি মোটর বা ডিসি জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়। ডিসি মোটরে কুণ্ডলী অর্ধেক ঘোরার পর কারেন্টের দিক উল্টে দেওয়াই কম্যুটেটরের কাজ, ফলে কুণ্ডলী একই দিকে ঘুরতেই থাকে। ডিসি জেনারেটরে একই কৌশলে কুণ্ডলীতে উৎপন্ন পরিবর্তী কারেন্টকে একমুখী করা হয়। ট্রান্সফরমার ও মাইক্রোফোনে কম্যুটেটর থাকে না।
মনে রাখুন:
এসি জেনারেটরে কম্যুটেটরের বদলে স্লিপ রিং ব্যবহার করা হয়।
কম্যুটেটরের গায়ে কার্বনের ব্রাশ লেগে থাকে।
ডিসি মোটরের গতি বদলাতে চাইলে কম্যুটেটরের সঙ্গে যুক্ত ভোল্টেজ বদলানো হয়। - ১৫০. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সঞ্চালন ভোল্টেজ কত?বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ সঞ্চালন
- ক. ৩৩ কেভি
- খ. ১৩২ কেভি
- গ. ২৩০ কেভি
- ঘ. ৪০০ কেভি
উত্তর: ঘ. ৪০০ কেভি
বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূরের শহরে বিদ্যুৎ পাঠাতে হলে ভোল্টেজ অনেক বাড়িয়ে নেওয়া হয়, কারণ উচ্চ ভোল্টেজে কারেন্ট কম লাগে এবং তারে তাপের অপচয়ও কম হয়। বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ সঞ্চালন ভোল্টেজ ৪০০ কিলোভোল্ট (kV), যা মাতারবাড়ী থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ মান ছিল ২৩০ কেভি।
মনে রাখুন:
দেশের সঞ্চালন লাইনের প্রচলিত ভোল্টেজ ১৩২ কেভি ও ২৩০ কেভি, আর বিতরণ লাইনে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি।
ঘরে আসার আগে ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ কমিয়ে ২২০ ভোল্টে আনে।
সঞ্চালন লাইনে ভোল্টেজ যত বেশি, দূর-দূরান্তে বিদ্যুৎ পাঠানোর খরচ তত কম হয়। - ১৫১. সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ-ডিপিডিসি-এর কাস্টমার সার্ভিস এটেনডেন্ট, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. তাপ সৃষ্টি
- খ. আলট্রা ভায়োলেট সৃষ্টি
- গ. আলোর শোষণ
- ঘ. হলুদাভ আলো
উত্তর: ক. তাপ সৃষ্টি
সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলো ও তাপে রূপান্তরিত হয়। ফিলামেন্টকে সাদা হয়ে আলো ছড়ানোর জন্য প্রায় ২৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম করতে হয়, ফলে বেশির ভাগ শক্তিই তাপ হিসেবে বেরিয়ে যায় এবং আলো হিসেবে পাওয়া যায় মাত্র কয়েক শতাংশ। তাই এ বাতিতে বিদ্যুতের অপচয়ের প্রধান কারণ তাপ সৃষ্টি।
মনে রাখুন:
এ কারণে এলইডি বাতিতে বিদ্যুৎ অনেক কম লাগে, কারণ এতে তাপ কম উৎপন্ন হয়।
সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং ল্যাম্প বা সিএফএল-এ বিদ্যুৎ কম খরচ হয়।
বাল্বের আলো পাওয়ার জন্য ফিলামেন্টকে সাদা-তপ্ত করতে হয়, আর এ কাজে বিদ্যুতের বড় অংশ তাপ হয়ে খরচ হয়ে যায়। - ১৫২. সর্বোচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট ধাতু হলো-BPSC'র সুপারিন্টেন্ডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. টাইটানিয়াম
- খ. টাংস্টেন
- গ. প্লাটিনাম
- ঘ. ইউরেনিয়াম
উত্তর: খ. টাংস্টেন
সব ধাতুর মধ্যে টাংস্টেনের গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৪২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে টাইটানিয়াম ১৬৬৮, প্লাটিনাম ১৭৬৮ ও ইউরেনিয়ামের গলনাঙ্ক প্রায় ১১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তাই টাংস্টেনের গলনাঙ্কই সবচেয়ে বেশি। এ কারণেই বাল্বের ফিলামেন্টে টাংস্টেন ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
সবচেয়ে কম গলনাঙ্কের ধাতু পারদ, যা কক্ষ তাপমাত্রায়ও তরল থাকে।
অধাতুর মধ্যে কার্বনের গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি।
টাংস্টেনের প্রতীক W।
মৌলিক পদার্থের তালিকায় সবচেয়ে বেশি গলনাঙ্ক কার্বনের, প্রায় ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।
টাংস্টেনের ঘনত্বও অনেক বেশি, তাই এটি ভারী ধাতুর একটি। - ১৫৩. ফটোস্ট্যাট মেশিনে ব্যবহৃত মৌলিক পদার্থটির নাম কি?সাব-রেজিস্ট্রার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফটোকপি যন্ত্র
- ক. সোডিয়াম
- খ. সেলিনিয়াম
- গ. মলিবডেনাম
- ঘ. রুবিয়াম
উত্তর: খ. সেলিনিয়াম
ফটোকপি বা ফটোস্ট্যাট মেশিনে ব্যবহৃত মৌলটি হলো সেলিনিয়াম (Se)। সেলিনিয়ামের একটি বিশেষ ধর্ম আছে: অন্ধকারে এটি বিদ্যুৎ অন্তরক, কিন্তু আলো পড়লে এর পরিবাহিতা অনেক বেড়ে যায়। এই ধর্মকে আলোক পরিবাহিতা (Photoconductivity) বলে। মেশিনের ড্রামে সেলিনিয়ামের আস্তরণ থাকে। আলোকিত অংশের আধান সরে যায় এবং অন্ধকার অংশে আধান থেকে যায়, সেখানে কালো টোনার গুঁড়ো লেগে ছাপ তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
সেলিনিয়ামের প্রতীক Se এবং এটি একটি অধাতু।
এ ধর্মের কারণে সেলিনিয়াম আলোক-সেল ও সৌর কোষেও ব্যবহৃত হতো।
ফটোকপি করার সময় মেশিনের ভেতরের আলো মূল কাগজের সাদা অংশে প্রতিফলিত হয়ে ড্রামে পড়ে, আর লেখার কালো অংশে আলো প্রতিফলিত না হওয়ায় সেখানে আধান থেকে যায়। - ১৫৪. ডায়োড কী ধরনের ডিভাইস?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়োড
- ক. একমুখী
- খ. দ্বিমুখী
- গ. উভয়ই
- ঘ. কোনোটাই নয়
উত্তর: ক. একমুখী
ডায়োড (Diode) হলো দুই প্রান্তবিশিষ্ট অর্ধপরিবাহী উপাদান, যা p-type ও n-type অর্ধপরিবাহী জুড়ে তৈরি হয়। ফরোয়ার্ড বায়াসে এর রোধ খুব কম, তাই কারেন্ট সহজে চলে। রিভার্স বায়াসে রোধ খুব বেশি, তাই কারেন্ট প্রায় চলে না। অর্থাৎ ডায়োড একদিকেই বিদ্যুৎ চলতে দেয়। এ কারণে ডায়োডকে একমুখী (Unidirectional) ডিভাইস বলা হয়।
মনে রাখুন:
এ ধর্মের কারণে ডায়োড দিয়ে এসি-কে ডিসিতে বদলানো যায়।
লাইট এমিটিং ডায়োড (LED) এমন ডায়োড, যেটি কারেন্ট গেলে আলো দেয়।
ডায়োডের সংকেত-চিহ্নে তীরের দিকটি কারেন্ট যাওয়ার দিক নির্দেশ করে। - ১৫৫. যে ইলেকট্রনিক সার্কিট পরিবর্তিত বিদ্যুৎ প্রবাহ (AC) কে একদিকে প্রবাহ (DC) তে পরিণত করে তাকে ........... বলে।চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়োড
- ক. অসিলেটর
- খ. রেগুলেটর
- গ. রেকটিফায়ার
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: গ. রেকটিফায়ার
যে ইলেকট্রনিক বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহ (AC) কে একমুখী প্রবাহ (DC)-তে বদলে দেয়, তাকে রেকটিফায়ার (Rectifier) বলে। ডায়োড একদিকেই কারেন্ট যেতে দেয়, তাই এসি-এর এক অর্ধেক চক্র চলতে দিয়ে বাকিটা বন্ধ করে দেয়। এতে একমুখী কারেন্ট পাওয়া যায়। অসিলেটর ডিসি থেকে এসি তৈরি করে এবং অ্যামপ্লিফায়ার সংকেতের বিবর্ধন ঘটায়।
মনে রাখুন:
একটি ডায়োড দিয়ে অর্ধতরঙ্গ এবং চারটি ডায়োডের ব্রিজ বর্তনী দিয়ে পূর্ণতরঙ্গ রেকটিফায়ার তৈরি হয়।
মোবাইল চার্জারে রেকটিফায়ার থাকে।
রেকটিফায়ারের পর ফিল্টার সার্কিট ব্যবহার করলে ডিসি আরও মসৃণ হয়।
রেকটিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি চার্জার, মোবাইল ও ল্যাপটপের অ্যাডাপ্টার কাজ করত না। - ১৫৬. রেকটিফায়ার তড়িৎ প্রবাহকে-উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়োড
- ক. বৃদ্ধি করে
- খ. হ্রাস করে
- গ. একমুখী করে
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. একমুখী করে
রেকটিফায়ার (Rectifier) তড়িৎ প্রবাহকে একমুখী করে, অর্থাৎ পরিবর্তী প্রবাহকে সমপ্রবাহে রূপান্তর করে। এর মূল উপাদান ডায়োড, যা শুধু এক দিকে কারেন্ট যেতে দেয়। রেকটিফায়ার কারেন্টের মান বাড়ায়ও না, কমায়ও না, কেবল দিকটা নির্দিষ্ট করে দেয়। কারেন্ট বা ভোল্টেজের মান বাড়ানো বা কমানোর কাজ করে ট্রান্সফরমারের মতো যন্ত্র।
মনে রাখুন:
এসি কারেন্ট সময়ের সঙ্গে দিক বদলায়, আর ডিসি কারেন্টের দিক সব সময় একই থাকে।
রেকটিফায়ারের পরে ফিল্টার ব্যবহার করে ডিসিকে আরও মসৃণ করা হয়।
কাজেই কারেন্ট বাড়ানো বা কমানোর জন্য রেকটিফায়ার ব্যবহৃত হয় না। - ১৫৭. ক্যাপাসিটরের প্রধান কাজ কি?পরিচালক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যাপাসিটর
- ক. বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা প্রদান
- খ. বিদ্যুৎ প্রবাহে সহায়তা করা
- গ. তাপ ক্ষয় করা
- ঘ. শক্তি সংরক্ষণ করা
উত্তর: ঘ. শক্তি সংরক্ষণ করা
ক্যাপাসিটর (Capacitor) বা ধারক হলো এমন একটি উপাদান, যাতে দুটি পরিবাহী পাত একটি অন্তরক পদার্থ দিয়ে আলাদা করা থাকে। বর্তনীতে ভোল্টেজ দিলে এক পাতে ধনাত্মক ও অন্য পাতে ঋণাত্মক আধান জমা হয় এবং এর মাধ্যমে ক্যাপাসিটর শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। প্রয়োজনের সময় এই সঞ্চিত শক্তি আবার বর্তনীতে ফিরিয়ে দিতে পারে।
মনে রাখুন:
ক্যাপাসিটরের ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)।
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বা ফ্যানের স্টার্টারে ক্যাপাসিটর শক্তি জমিয়ে হঠাৎ ছেড়ে দেওয়ার কাজ করে।
ক্যাপাসিটরে শক্তি তড়িৎ ক্ষেত্রের আকারে জমা থাকে।
ক্যাপাসিটরের সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ (1/2)CV²। - ১৫৮. একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস, যা ডিসিকে বাধা দেয়, কিন্তু এসিকে অনুমতি দেয় তাকে বলা হয়?উপ-সহকারী পদের পরীক্ষা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যাপাসিটর
- ক. রেকটিফায়ার
- খ. ইন্ডাক্টর
- গ. ক্যাপাসিটর
- ঘ. ট্রান্সডিউসার
উত্তর: গ. ক্যাপাসিটর
ক্যাপাসিটর ডিসি প্রবাহকে আটকে দেয় এবং এসি প্রবাহকে যেতে দেয়। ডিসি সরবরাহ পেলে ক্যাপাসিটর শুরুতে কিছুক্ষণ চার্জ হয়, পুরো চার্জ হয়ে গেলে আর কারেন্ট যায় না। কিন্তু এসি-এর ভোল্টেজ বারবার দিক বদলায়, ফলে ক্যাপাসিটর বারবার চার্জ ও ডিসচার্জ হতে থাকে এবং বর্তনীতে কারেন্ট চলতে থাকে।
মনে রাখুন:
রেকটিফায়ার এসি-কে ডিসিতে বদলায়।
ইন্ডাক্টর ঠিক উল্টো, সে ডিসিকে পার হতে দেয় এবং এসি-কে বাধা দেয়।
রেডিওতে ক্যাপাসিটর দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ডিসি আটকানো হয়।
ক্যাপাসিটর বেশি কম্পাঙ্কের এসি-কে সহজে পার হতে দেয়, কম কম্পাঙ্ক বা ডিসি-কে বাধা দেয়। - ১৫৯. কোনো ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স কোন ইউনিটে মাপা হয়?বাংলাদেশ রোড অথরিটির সহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যাপাসিটর
- ক. কুলম্ব
- খ. ফ্যারাড
- গ. জুল
- ঘ. ওয়াট
উত্তর: খ. ফ্যারাড
ক্যাপাসিটরের ধারকত্ব (Capacitance) বলতে বোঝায়, ক্যাপাসিটরে ১ ভোল্ট বিভব পার্থক্য দিলে সে কতটুকু আধান ধরে রাখতে পারে। সূত্রটি C = Q/V। আধানের একক কুলম্ব এবং ভোল্টের একক ভোল্ট, তাই ধারকত্বের একক কুলম্ব/ভোল্ট, যার নাম ফ্যারাড (Farad)। বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডের নামে এ নাম রাখা হয়েছে।
মনে রাখুন:
১ ফ্যারাড অনেক বড় একক, তাই ব্যবহারে মাইক্রোফ্যারাড (μF) ও পিকোফ্যারাড (pF) বেশি চলে।
জুল শক্তির একক, কুলম্ব আধানের এবং ওয়াট ক্ষমতার একক।
ক্যাপাসিটরের পাতের ক্ষেত্রফল বাড়ালে ধারকত্ব বাড়ে এবং পাত দুটি কাছাকাছি আনলেও ধারকত্ব বাড়ে। - ১৬০. ইনভার্টারের কাজ কি?টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইনভার্টার
- ক. এসিকে ডিসি করা
- খ. ডিসিকে এসি করা
- গ. উভয়
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. ডিসিকে এসি করা
ইনভার্টার (Inverter) এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যাটারির ডিসি বিদ্যুৎকে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। ব্যাটারি ডিসি দেয়, কিন্তু আমাদের ঘরের বাতি-পাখা এসি-তে চলে। তাই লোডশেডিং হলে ইনভার্টার বা আইপিএস ব্যাটারির ডিসিকে এসি বানিয়ে ঘরের যন্ত্র চালিয়ে দেয়। রেকটিফায়ার ঠিক এর উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ এসি-কে ডিসি করে।
মনে রাখুন:
সৌর প্যানেল ডিসি তৈরি করে, তাই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে ঘর চালাতে ইনভার্টার লাগে।
ইউপিএস ও আইপিএসে রেকটিফায়ার এবং ইনভার্টার দুটিই থাকে।
ইনভার্টার শব্দের অর্থ উল্টে দেওয়া, ডিসির একমুখী প্রবাহকে পর্যায়ক্রমে উল্টে এটি এসি তৈরি করে। - ১৬১. PN-ডায়োডকে ফরোয়ার্ড বায়াস করলে রোধ-মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডায়োড
- ক. বাড়ে
- খ. কমে
- গ. মাঝামাঝি থাকে
- ঘ. অপরিবর্তিতত থাকে
উত্তর: খ. কমে
পিএন জংশন ডায়োডে p-type অংশে হোল এবং n-type অংশে ইলেকট্রন বেশি থাকে। ফরোয়ার্ড বায়াসে p-অংশ ব্যাটারির ধনাত্মক ও n-অংশ ঋণাত্মক প্রান্তে যুক্ত থাকে, ফলে সংযোগস্থলের ডিপ্লিশন স্তর সরু হয়ে যায়। তখন আধান বাহক সহজে এ পার হতে পারে এবং ডায়োডের রোধ কমে যায়। রিভার্স বায়াসে ঠিক উল্টো ঘটে: স্তর চওড়া হয়, রোধ বেড়ে যায়, কারেন্ট প্রায় চলে না।
মনে রাখুন:
সিলিকন ডায়োডে ফরোয়ার্ড বায়াসে প্রায় ০.৭ ভোল্টের পর কারেন্ট দ্রুত বাড়ে।
এ কারণে ফরোয়ার্ড বায়াসে ডায়োড প্রায় সুইচ চালু করার মতো কাজ করে। - ১৬২. NPN ট্রানজিস্টরে 'P' অংশটি কী?উপ-সহকারী পরিচালক (কারিগরি), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রানজিস্টর
- ক. নিঃসারক
- খ. সংগ্রাহক
- গ. ভিত্তি
- ঘ. বিবর্ধক
উত্তর: গ. ভিত্তি
ট্রানজিস্টরের তিনটি অংশ থাকে: এমিটার (নিঃসারক), বেস (ভিত্তি) ও কালেক্টর (সংগ্রাহক)। NPN ট্রানজিস্টরে দুই পাশে দুটি n-type অংশ এবং মাঝখানে একটি অতি পাতলা p-type অংশ থাকে। মাঝের এই p-type অংশটিই বেস বা ভিত্তি, যা এমিটার থেকে আসা ইলেকট্রনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। দুই পাশের n-অংশের একটি এমিটার, অন্যটি কালেক্টর।
মনে রাখুন:
ক্ষুদ্র বেস কারেন্ট দিয়ে বড় কালেক্টর কারেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাই ট্রানজিস্টর বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে কাজ করে।
বেসের পুরুত্ব খুব কম রাখা হয়, ফলে এমিটার থেকে আসা বেশির ভাগ ইলেকট্রন সরাসরি কালেক্টরে পৌঁছে যায়। - ১৬৩. FET একটি ........ ট্রানজিস্টর।সহকারী পরিচালক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রানজিস্টর
- ক. ইউনিপোলার
- খ. বাইপোলার
- গ. মাল্টিপোলার
- ঘ. শূন্য পোলার
উত্তর: ক. ইউনিপোলার
FET-এর পুরো নাম ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর (Field Effect Transistor)। এতে কারেন্ট চলে শুধু একটি চ্যানেলের ভেতর দিয়ে, যা হয় n-type অথবা p-type অর্ধপরিবাহী। অর্থাৎ কারেন্ট বহন করে কেবল এক ধরনের আধান বাহক, হয় ইলেকট্রন নয়তো হোল। তাই FET ইউনিপোলার (Unipolar) ট্রানজিস্টর। সাধারণ BJT ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল দুই ধরনের বাহকই কাজ করে বলে তাকে বাইপোলার বলে।
মনে রাখুন:
FET-এর তিনটি প্রান্ত হলো সোর্স, ড্রেন ও গেট।
FET-এর ইনপুট রোধ অনেক বেশি।
FET-এর ফলে ছোট আকারের ইলেকট্রনিক চিপ তৈরি সহজ হয়েছে, তাই আধুনিক কম্পিউটারের চিপে MOSFET প্রচুর ব্যবহার হয়। - ১৬৪. ‘বিদ্যুৎ শক্তি’র বাণিজ্যিক একক কী?বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, নিম্নমান হিসাব সহকারী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ শক্তির একক
- ক. ওয়াট
- খ. ওয়াট ঘণ্টা
- গ. কিলোওয়াট ঘণ্টা
- ঘ. মিটার
উত্তর: গ. কিলোওয়াট ঘণ্টা
বাড়িতে বা কারখানায় কতটা বিদ্যুৎ খরচ হলো, তা মাপা হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) এককে, তাই এটিকে বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক বলে। ১০০০ ওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যে শক্তি খরচ হয়, সেটিই ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, আর বিদ্যুৎ বিলে একে ১ ইউনিট লেখা হয়। ওয়াট হলো ক্ষমতা (Power)-এর একক, শক্তির নয়। শক্তির এসআই একক জুল, কিন্তু এটি অনেক ছোট একক বলে বাসাবাড়ির খরচ জুলে হিসাব করা ঝামেলার। তাই সুবিধার জন্য বড় এককে, অর্থাৎ কিলোওয়াট-ঘণ্টায় হিসাব রাখা হয়।
মনে রাখুন: 1 kWh = 1000 W × 3600 s = 3.6 × 10⁶ J। - ১৬৫. বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে কি বুঝায়?গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ শক্তির একক
- ক. এক কিলোওয়াট
- খ. এক কিলোওয়াট-ঘন্টা
- গ. এক ওয়াট
- ঘ. ১ ওয়াট-ঘন্টা
উত্তর: খ. এক কিলোওয়াট-ঘন্টা
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বলতে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) বিদ্যুৎ শক্তি বোঝায়। অর্থাৎ ১০০০ ওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা চালালে যে শক্তি খরচ হয়, তাই এক ইউনিট। কিলোওয়াট নিজে ক্ষমতার একক, শক্তির নয়, তাই শুধু কিলোওয়াট দিয়ে খরচের হিসাব হয় না।
1 kWh = 1000 W × 3600 s = 3.6 × 10⁶ J
উদাহরণ: ১০০ ওয়াটের একটি বাতি ১০ ঘণ্টা জ্বললে খরচ হয় 100 × 10 = 1000 Wh = 1 ইউনিট। বিদ্যুৎ বিলে মিটারের পাঠ নেওয়া হয় পরপর দুই মাসের, আর তাদের পার্থক্যই সেই সময়ে খরচ হওয়া ইউনিট। - ১৬৬. কোন দেশ কত উন্নত, তা বোঝা যায় কোনটি বিবেচনা করে?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (২য় পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. দেশের আয়তন
- খ. দেশের ভৌগোলিক অবস্থান
- গ. মাথাপিছু বিদ্যুৎশক্তির ব্যবহার
- ঘ. দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ
উত্তর: গ. মাথাপিছু বিদ্যুৎশক্তির ব্যবহার
কোনো দেশের উন্নয়ন বোঝার একটি ভালো মাপকাঠি হলো মাথাপিছু বিদ্যুৎশক্তির ব্যবহার। কলকারখানা, কৃষি সেচ, যোগাযোগ, হাসপাতাল ও ঘরের আলো, প্রায় সব আধুনিক কাজই বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে। তাই যে দেশের মানুষ গড়ে যত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, সে দেশে শিল্প ও জীবনযাত্রার মান সাধারণত তত উন্নত হয়। একটি দেশের আয়তন বড় বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেশি হলেই সে দেশ উন্নত হয় না। সেই সম্পদ কাজে লাগাতেও শক্তি লাগে। এজন্য অর্থনীতিবিদরা মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি মাথাপিছু বিদ্যুৎ ও শক্তি ব্যবহারকেও উন্নয়নের সূচক হিসেবে দেখেন।
মনে রাখুন:
বিদ্যুৎশক্তি মাপা হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) এককে, যাকে সাধারণভাবে ১ ইউনিট বলা হয়। - ১৬৭. বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে কোনটি?বিটিআরসি-এর উপ-সহকারী পরিচালক (কারিগরি), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. প্রোটনের প্রবাহ
- খ. নিউট্রনের প্রবাহ
- গ. ইলেকট্রনের প্রবাহ
- ঘ. তাপের প্রবাহ
উত্তর: গ. ইলেকট্রনের প্রবাহ
ধাতব তারের বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয় ইলেকট্রনের প্রবাহে। ধাতুর পরমাণুর বাইরের কক্ষপথের কিছু ইলেকট্রন খুব আলগাভাবে আটকে থাকে, এদের মুক্ত ইলেকট্রন (Free Electron) বলে। ব্যাটারি বা কোষ লাগালে এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে চলতে শুরু করে, আর এই চলাই তড়িৎ প্রবাহ। প্রোটন নিউক্লিয়াসের ভেতরে শক্তভাবে আটকে থাকে এবং নিউট্রনের কোনো আধানই নেই, তাই এরা প্রবাহ তৈরি করে না। মজার ব্যাপার হলো, প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক প্রান্তের দিকে, যা ইলেকট্রনের চলার ঠিক উল্টো।
মনে রাখুন:
তড়িৎ বিশ্লেষণে আয়নের প্রবাহেও তড়িৎ প্রবাহ ঘটে। - ১৬৮. ইলেকট্রন প্রবাহের হার বলে-LGED এর ইলেকট্রিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. কারেন্ট
- খ. ভোল্টেজ
- গ. রেজিস্ট্যান্স
- ঘ. কন্ডাকট্যান্স
উত্তর: ক. কারেন্ট
কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ আধান বা ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়, তাকে তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট (Current) বলে। তাই ইলেকট্রন প্রবাহের হারই কারেন্ট। এর সূত্র I = Q/t এবং একক অ্যাম্পিয়ার। ভোল্টেজ (Voltage) হলো দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য, যা ইলেকট্রনকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে। রেজিস্ট্যান্স (Resistance) বা রোধ প্রবাহে বাধা দেয়, আর কন্ডাকট্যান্স (Conductance) হলো রোধের বিপরীত রাশি। ওহমের সূত্র এই তিনটির সম্পর্ক জানায়, V = IR।
মনে রাখুন:
বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট (V)।
রোধের একক ওহম (Ω)।
কন্ডাকট্যান্সের একক সিমেন্স (S) বা মো (mho)। - ১৬৯. তড়িৎ প্রবাহের একক কী?ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. ভোল্ট
- খ. অ্যাম্পিয়ার
- গ. ওহম
- ঘ. কুলম্ব
উত্তর: খ. অ্যাম্পিয়ার
তড়িৎ প্রবাহের এসআই একক অ্যাম্পিয়ার (Ampere), যার প্রতীক A। কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১ কুলম্ব আধান প্রবাহিত হলে প্রবাহের মান হয় ১ অ্যাম্পিয়ার। ফরাসি বিজ্ঞানী আঁদ্রে-মারি অ্যাম্পিয়ারের নামে এককটির নাম রাখা হয়েছে। অ্যাম্পিয়ার এসআই পদ্ধতির সাতটি মৌলিক এককের একটি। বর্তনীতে প্রবাহ মাপা হয় অ্যামিটার দিয়ে, যা বর্তনীর সঙ্গে শ্রেণিতে যুক্ত করতে হয়। অ্যামিটারের রোধ খুব কম রাখা হয়, যাতে এটি বর্তনীর প্রবাহকে প্রায় বদলে না দেয়। অন্যদিকে বিভব পার্থক্য মাপার ভোল্টমিটার বর্তনীর সঙ্গে সমান্তরালে যুক্ত করা হয়।
মনে রাখুন:
ভোল্ট বিভব পার্থক্যের একক।
ওহম রোধের একক।
কুলম্ব আধানের একক।
১ কুলম্ব = ১ অ্যাম্পিয়ার × ১ সেকেন্ড। - ১৭০. তড়িৎ প্রবাহমাত্রার একক হচ্ছে-NBR সুইচ বোর্ড এটেনডেন্ট · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. A
- খ. V
- গ. M
- ঘ. Hz
উত্তর: ক. A
তড়িৎ প্রবাহমাত্রার একক অ্যাম্পিয়ার, যার প্রতীক A। কোনো তারের প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১ কুলম্ব আধান গেলে প্রবাহমাত্রা হয় ১ অ্যাম্পিয়ার। অন্য প্রতীকগুলোর অর্থ আলাদা। V দিয়ে বোঝানো হয় ভোল্ট, যা বিভব পার্থক্যের একক। Hz বা হার্টজ হলো কম্পাঙ্কের একক, যেমন আমাদের বাসার বিদ্যুতের কম্পাঙ্ক ৫০ Hz। আর M কোনো তড়িৎ এককের প্রতীক নয়, এটি সাধারণত মেগা বা ১০ লক্ষ গুণ বোঝাতে উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
ছোট প্রবাহ মাপতে মিলিঅ্যাম্পিয়ার (mA) ব্যবহার করা হয়, ১ mA = 10⁻³ A।
রোধের একক ওহম, প্রতীক Ω। - ১৭১. বৈদ্যুতিক কারেন্ট সমান-ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. Qt Amp
- খ. t/q Amp
- গ. Q/t Amp
- ঘ. V/t Amp
উত্তর: গ. Q/t Amp
বৈদ্যুতিক কারেন্ট বা তড়িৎ প্রবাহ হলো প্রতি একক সময়ে প্রবাহিত আধানের পরিমাণ। তাই কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে t সেকেন্ডে Q কুলম্ব আধান প্রবাহিত হলে প্রবাহ I = Q/t অ্যাম্পিয়ার। যেমন ১০ সেকেন্ডে ২০ কুলম্ব আধান প্রবাহিত হলে প্রবাহ হবে 20/10 = 2 A। এই সূত্র থেকে আমরা আধানের পরিমাণও বের করতে পারি, Q = It। কোনো বস্তুতে প্রবাহিত আধান দেখে ইলেকট্রনের সংখ্যাও হিসাব করা যায়, কারণ একটি ইলেকট্রনের আধান 1.6 × 10⁻¹⁹ কুলম্ব।
মনে রাখুন:
১ অ্যাম্পিয়ার = ১ কুলম্ব/সেকেন্ড।
ওহমের সূত্র অনুযায়ী I = V/R।
বৈদ্যুতিক ক্ষমতা P = VI। - ১৭২. Solar PV কী ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?BREB-এর সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. DC
- খ. AC
- গ. উভয়ই-ক, খ
- ঘ. কোনটি নয়
উত্তর: ক. DC
সোলার পিভি (Solar PV বা Photovoltaic) প্যানেল সূর্যের আলো থেকে সরাসরি একমুখী বিদ্যুৎ বা ডিসি (DC) উৎপাদন করে। প্যানেলের ভেতরের সিলিকন সৌরকোষে আলো পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং সেগুলো সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়। তাই এর প্রবাহ একমুখী থাকে। ঘরের সাধারণ যন্ত্রপাতি চালাতে পরিবর্তী বিদ্যুৎ বা এসি (AC) লাগে। এজন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইনভার্টার (Inverter) নামের একটি যন্ত্র ডিসিকে এসিতে রূপান্তর করে। দিনের বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমিয়ে রাখা হয়, আর ব্যাটারিও ডিসি বিদ্যুৎই জমা রাখে।
মনে রাখুন:
সৌরকোষ আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
এসিকে ডিসিতে রূপান্তর করে রেক্টিফায়ার। - ১৭৩. এসি কারেন্টের বৈশিষ্ট্য হলBPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ প্রবাহ
- ক. শুধু একদিকে চলে
- খ. ব্যাটারি থেকে উৎপন্ন হয়
- গ. সময়ের সাথে দিকের পরিবর্তন হয়
- ঘ. সময়ের সাথে দিকের পরিবর্তন হয় না
উত্তর: গ. সময়ের সাথে দিকের পরিবর্তন হয়
এসি (AC) বা পরিবর্তী প্রবাহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর দিক ও মান বারবার বদলায়। এই প্রবাহ এক মুহূর্তে একদিকে চলে, পরের মুহূর্তে উল্টো দিকে চলে, আর এভাবে নিয়মিত পর্যায়ক্রমে ঘুরতে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটর এই ধরনের প্রবাহ তৈরি করে। ব্যাটারি থেকে পাওয়া প্রবাহ শুধু একদিকে চলে এবং দিক বদলায় না, তাকে ডিসি (DC) বা একমুখী প্রবাহ বলে। এসির বড় সুবিধা হলো ট্রান্সফরমার দিয়ে সহজে এর ভোল্টেজ বাড়ানো-কমানো যায়। এজন্যই দূরে বিদ্যুৎ পাঠাতে এসি ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ ২২০ ভোল্ট, ৫০ হার্টজ এসি। - ১৭৪. নিচের কোন যন্ত্রের সাহায্যে একটি কোষের তড়িচ্চালক শক্তি নির্ণয় করা হয়?NESCO'র সাব স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ পরিমাপক যন্ত্র
- ক. অ্যামিটার
- খ. গ্যালভানোমিটার
- গ. পোটেনশিওমিটার
- ঘ. ওহম মিটার
উত্তর: গ. পোটেনশিওমিটার
পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) দিয়ে একটি কোষের তড়িচ্চালক শক্তি (EMF) সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়। এই যন্ত্র পরিমাপের সময় কোষ থেকে কোনো প্রবাহ নেয় না। শূন্য বিক্ষেপ পদ্ধতিতে কাজ করে বলে কোষের ভেতরের রোধে কোনো বিভব হারায় না এবং আসল তড়িচ্চালক শক্তির মান পাওয়া যায়। ভোল্টমিটার দিয়ে মাপলে কোষ থেকে সামান্য প্রবাহ চলে যায়, তাই পাঠ প্রকৃত মানের চেয়ে একটু কম আসে। পোটেনশিওমিটার দিয়ে দুটি কোষের তড়িচ্চালক শক্তির তুলনা এবং কোষের অভ্যন্তরীণ রোধও নির্ণয় করা যায়।
মনে রাখুন:
অ্যামিটার দিয়ে প্রবাহ মাপা হয়।
গ্যালভানোমিটার দিয়ে খুব সামান্য প্রবাহের উপস্থিতি ও দিক বোঝা যায়।
ওহম মিটার দিয়ে রোধ মাপা হয়। - ১৭৫. বৈদ্যুতিক মোটর এমন একটি যন্ত্রকৌশল যা-১০ম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার ও মোটর
- ক. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
- খ. তাপ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
- গ. যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
- ঘ. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
উত্তর: ঘ. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
বৈদ্যুতিক মোটর (Electric Motor) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে রাখা একটি তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে কুণ্ডলীটি একটি বল অনুভব করে এবং ঘুরতে শুরু করে। এই ঘূর্ণনই পাখা, পানির পাম্প, ওয়াশিং মেশিন বা বৈদ্যুতিক গাড়ির চাকা ঘোরায়। মোটরের ঠিক উল্টো কাজ করে জেনারেটর বা ডায়নামো, যা যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। জেনারেটর কাজ করে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের নীতিতে, যা মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন। তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে ইঞ্জিন, যেমন পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিন।
মনে রাখুন:
মোটর: তড়িৎ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি।
জেনারেটর: যান্ত্রিক শক্তি → তড়িৎ শক্তি। - ১৭৬. ট্রান্সফরমারে কোনটি পরিবর্তন হয়?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০২৫ ও বেপজা'র উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার ও মোটর
- ক. কারেন্ট
- খ. ভোল্টেজ
- গ. কারেন্ট ও ভোল্টেজ
- ঘ. ফ্রিকোয়েন্সি
উত্তর: গ. কারেন্ট ও ভোল্টেজ
ট্রান্সফরমারে ভোল্টেজ ও কারেন্ট দুটিই পরিবর্তিত হয়, কিন্তু কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি একই থাকে। একটি আদর্শ ট্রান্সফরমারে শক্তির অপচয় হয় না, তাই মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলীতে ক্ষমতা সমান থাকে, অর্থাৎ VₚIₚ = VₛIₛ। এই সম্পর্ক থেকে বোঝা যায়, ভোল্টেজ বাড়ালে কারেন্ট সেই অনুপাতে কমে যায় এবং ভোল্টেজ কমালে কারেন্ট বাড়ে। গৌণ কুণ্ডলীতে যে বিভব আবিষ্ট হয়, তা মুখ্য কুণ্ডলীর পরিবর্তী প্রবাহের তালে তালেই ওঠানামা করে। তাই ৫০ হার্টজের বিদ্যুৎ দিলে বের হয়ে আসা বিদ্যুতের কম্পাঙ্কও ৫০ হার্টজ থাকে।
মনে রাখুন:
Vₛ/Vₚ = Nₛ/Nₚ, এখানে N হলো কুণ্ডলীর প্যাঁচের সংখ্যা। - ১৭৭. কোনটির কার্যপ্রণালিতে তাড়িত চৌম্বক আবেশকে ব্যবহার করা হয়?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার ও মোটর
- ক. ট্রানজিস্টর
- খ. মোটর
- গ. ট্রান্সফর্মার
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: গ. ট্রান্সফর্মার
ট্রান্সফরমার কাজ করে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতিতে। এর মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তী প্রবাহ দিলে লোহার মজ্জায় পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়। সেই পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র পাশের গৌণ কুণ্ডলীতে বিভব আবিষ্ট করে। দুটি কুণ্ডলীর মধ্যে কোনো তারের সংযোগ না থাকলেও এভাবে বিদ্যুৎ এক কুণ্ডলী থেকে আরেক কুণ্ডলীতে চলে যায়, একে পারস্পরিক আবেশ বলে। ১৮৩১ সালে মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ আবিষ্কার করেন। জেনারেটর ও ডায়নামোও এই নীতিতেই কাজ করে।
মনে রাখুন:
ট্রানজিস্টর ও অ্যামপ্লিফায়ার অর্ধপরিবাহী দিয়ে সংকেত বিবর্ধন করে।
সাধারণ মোটর ঘোরে চৌম্বকক্ষেত্রে রাখা বিদ্যুৎবাহী তারের উপর বল কাজ করে বলে। - ১৭৮. অধিক দূরত্বে তড়িৎ প্রেরণে ভোল্টেজ বাড়ানো হয় এবং তড়িৎ প্রবাহ কমানো হয়, কারণ এতে-১০ম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রান্সফরমার ও মোটর
- ক. তড়িৎ অতি দ্রুত গন্তব্যে পৌছায়
- খ. তাপ শক্তি উৎপাদন কম হয় বলে তড়িৎ শক্তি অপচয় কম হয়
- গ. প্রেরক তার দীর্ঘদিন ভাল থাকে
- ঘ. প্রেরক তারের রোধ কম থাকে
উত্তর: খ. তাপ শক্তি উৎপাদন কম হয় বলে তড়িৎ শক্তি অপচয় কম হয়
বিদ্যুৎ যখন তারের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তারের রোধের কারণে কিছু শক্তি তাপ হয়ে নষ্ট হয়। এই অপচয়ের পরিমাণ I²R, অর্থাৎ প্রবাহের বর্গের সমানুপাতিক। একই পরিমাণ ক্ষমতা পাঠাতে ভোল্টেজ বাড়ালে প্রবাহ কমে যায়, কারণ ক্ষমতা P = VI। প্রবাহ অর্ধেক হলে তাপে অপচয় কমে চার ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়। তাই দূরে বিদ্যুৎ পাঠানোর সময় স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ লক্ষাধিক ভোল্টে তোলা হয়। এতে তাপ কম উৎপন্ন হয় এবং বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় কমে। গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোল্টেজ আবার ২২০ ভোল্টে নামিয়ে আনা হয়।
মনে রাখুন:
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সাধারণত ১৩২ কেভি, ২৩০ কেভি বা ৪০০ কেভি ভোল্টেজে পাঠানো হয়। - ১৭৯. সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে তা p- টাইপে পরিণত হয়?বিটিআরসি-এর উপ-সহকারী পরিচালক (কারিগরি), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী ও ডায়োড
- ক. ফসফরাস
- খ. বোরন
- গ. হাইড্রোজেন
- ঘ. কার্বন
উত্তর: খ. বোরন
বিশুদ্ধ সিলিকনের সঙ্গে বোরন মেশালে সেটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। সিলিকনের যোজ্যতা স্তরে ৪টি ইলেকট্রন থাকে, কিন্তু বোরনের থাকে মাত্র ৩টি। বোরন পরমাণু সিলিকনের জালিতে বসলে বন্ধন গঠনে একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে, আর এই ফাঁকা জায়গাকে হোল (Hole) বলে। হোল ধনাত্মক আধানের মতো আচরণ করে, তাই এই অর্ধপরিবাহীকে p-টাইপ (Positive) বলা হয়। বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীতে এভাবে সামান্য অপদ্রব্য মেশানোকে ডোপিং (Doping) বলে। বোরন ইলেকট্রন গ্রহণ করে বলে একে গ্রাহক (Acceptor) অপদ্রব্যও বলা হয়।
মনে রাখুন:
৩ যোজ্যতার বোরন, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম মেশালে p-টাইপ হয়।
৫ যোজ্যতার ফসফরাস, আর্সেনিক ও অ্যান্টিমনি মেশালে n-টাইপ হয়। - ১৮০. n-type অর্ধ-পরিবাহী তৈরীতে অপদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী ও ডায়োড
- ক. আর্সেনিক
- খ. গ্যালিয়াম
- গ. বোরন
- ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর: ক. আর্সেনিক
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরিতে অপদ্রব্য হিসেবে আর্সেনিক ব্যবহার করা হয়। আর্সেনিকের যোজ্যতা স্তরে ৫টি ইলেকট্রন থাকে, অথচ সিলিকন বা জার্মেনিয়ামের থাকে ৪টি। আর্সেনিক পরমাণু ৪টি ইলেকট্রন দিয়ে পাশের পরমাণুগুলোর সঙ্গে বন্ধন গঠন করে। তখন পঞ্চম ইলেকট্রনটি মুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনে অংশ নেয়। এখানে আধানবাহক মূলত ঋণাত্মক ইলেকট্রন, তাই একে n-টাইপ (Negative) বলা হয়। এ ধরনের অপদ্রব্য ইলেকট্রন দান করে বলে এদের দাতা (Donor) অপদ্রব্যও বলে। অন্যদিকে গ্যালিয়াম, বোরন ও অ্যালুমিনিয়ামের যোজ্যতা ৩, তাই এরা মেশালে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
p-টাইপ ও n-টাইপ জোড়া দিয়ে ডায়োড তৈরি হয়। - ১৮১. 'Diode' দুটি প্রান্ত হলো -গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অর্ধপরিবাহী ও ডায়োড
- ক. Gate and Drain
- খ. Pentrode and Triode
- গ. Drain and Source
- ঘ. Anode and Cathode
উত্তর: ঘ. Anode and Cathode
ডায়োড (Diode) হলো দুই প্রান্তবিশিষ্ট একটি ইলেকট্রনিক উপাদান, আর এর প্রান্ত দুটির নাম অ্যানোড (Anode) ও ক্যাথোড (Cathode)। ‘Di’ মানে দুই এবং ‘ode’ এসেছে ইলেকট্রোড থেকে, তাই নামের মধ্যেই দুটি প্রান্তের কথা আছে। p-n জাংশন ডায়োডে p-টাইপ অংশটি অ্যানোড এবং n-টাইপ অংশটি ক্যাথোড। অ্যানোডকে ধনাত্মক ও ক্যাথোডকে ঋণাত্মক বিভবে রাখলে ডায়োড দিয়ে প্রবাহ চলে, একে সম্মুখী ঝোঁক (Forward Bias) বলে। উল্টো করে লাগালে প্রবাহ প্রায় বন্ধ থাকে। গেট, ড্রেন ও সোর্স হলো ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টরের (FET) তিনটি প্রান্তের নাম।
মনে রাখুন:
সাধারণ ট্রানজিস্টরের তিনটি প্রান্ত: ইমিটার, বেস ও কালেক্টর। - ১৮২. একটি ফিউজ তারের রেটিং কী দিয়ে প্রকাশ করা হয়? / The rating of fuse is expressed as-পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিউজ ও নিরাপত্তা
- ক. Ampere-hr
- খ. Ampere Volts
- গ. KWh
- ঘ. Ampere
উত্তর: ঘ. Ampere
ফিউজ (Fuse) হলো কম গলনাঙ্কের একটি সরু তার, যা বর্তনীতে শ্রেণিতে লাগানো থাকে। বর্তনীতে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎপ্রবাহ চললে তারটি গরম হয়ে গলে যায় এবং বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফিউজটি সর্বোচ্চ কতটুকু প্রবাহ সহ্য করতে পারবে, সেটিই তার রেটিং, আর প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার (Ampere)। তাই ফিউজের রেটিং লেখা হয় অ্যাম্পিয়ারে, যেমন ৫ A বা ১৫ A ফিউজ।
মনে রাখুন:
ফিউজ তার সাধারণত টিন ও সীসার সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি।
kWh হলো বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক, আর অ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা দিয়ে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বোঝায়। - ১৮৩. বাড়ির ওয়্যারিংয়ে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৭ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুতের নিরাপত্তা
- ক. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করে
- খ. বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে
- গ. অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য
- ঘ. বৈদ্যুতিক বাল্ব থেকে বেশি আলো পাওয়ার জন্য
উত্তর: গ. অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য
বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট হলে বা একসঙ্গে বেশি যন্ত্র চালালে তারের মধ্য দিয়ে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎপ্রবাহ চলে। তখন তার গরম হয়ে আগুন লাগতে পারে। সার্কিট ব্রেকার (Circuit Breaker) এমন একটি নিরাপত্তা যন্ত্র, যা অতিরিক্ত প্রবাহ টের পেলেই নিজে থেকে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই এর কাজ অতিমাত্রার বিদ্যুৎপ্রবাহজনিত দুর্ঘটনা ঠেকানো।
মনে রাখুন:
একই কাজ পুরোনো ব্যবস্থায় ফিউজ (Fuse) করে, তবে ফিউজের তার গলে গেলে বদলাতে হয়, আর সার্কিট ব্রেকার আবার সুইচ তুলে চালু করা যায়।
ফিউজ তার তৈরি হয় টিন ও সীসার সংকর ধাতু দিয়ে, যার গলনাঙ্ক কম। - ১৮৪. বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার (চুক্তিভিত্তিক), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক যন্ত্র
- ক. অ্যামিটার
- খ. ভোল্ট মিটার
- গ. গ্যালভানো মিটার
- ঘ. ট্রান্সফর্মার
উত্তর: ক. অ্যামিটার
বর্তনীতে কত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে, তা মাপার যন্ত্রের নাম অ্যামিটার (Ammeter)। এটি অ্যাম্পিয়ার এককে প্রবাহ মাপে বলে এর নাম অ্যামিটার। প্রবাহ মাপার সময় অ্যামিটারকে বর্তনীর সঙ্গে শ্রেণি সংযোগে বসাতে হয়, যাতে পুরো প্রবাহ এর ভেতর দিয়ে যায়। এজন্য অ্যামিটারের রোধ খুব কম রাখা হয়। ভোল্টমিটার অবশ্য প্রবাহ নয়, দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য মাপে, আর এটি বসাতে হয় সমান্তরাল সংযোগে।
মনে রাখুন:
গ্যালভানোমিটার: খুব ক্ষুদ্র প্রবাহের উপস্থিতি ও দিক শনাক্ত করে।
ট্রান্সফর্মার: পরিবর্তী ভোল্টেজ বাড়ায় বা কমায়।
বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ খরচ মাপা হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা মিটারে। - ১৮৫. সর্বাপেক্ষা বেশি কর্মদক্ষতা সম্পন্ন ইঞ্জিন কোনটি?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক মোটর
- ক. জেনারেটর
- খ. বৈদ্যুতিক মোটর
- গ. ডায়নামো
- ঘ. রকেট ইঞ্জিন
উত্তর: খ. বৈদ্যুতিক মোটর
কোনো ইঞ্জিনে যে শক্তি দেওয়া হয়, তার কত অংশ কাজের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তাকে কর্মদক্ষতা (Efficiency) বলে। পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিনের মতো তাপ ইঞ্জিনে জ্বালানির বেশির ভাগ শক্তি তাপ হিসেবে নষ্ট হয়, তাই এদের দক্ষতা সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ। বৈদ্যুতিক মোটরে বিদ্যুৎশক্তি সরাসরি চৌম্বক বলের মাধ্যমে ঘূর্ণন শক্তিতে রূপ নেয় এবং অপচয় খুব কম হয়। ফলে বড় বৈদ্যুতিক মোটরের দক্ষতা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি হয়। জেনারেটর ও ডায়নামো আসলে ইঞ্জিন নয়, এরা যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে।
মনে রাখুন:
বৈদ্যুতিক মোটর: বিদ্যুৎশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি।
জেনারেটর: যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি। - ১৮৬. নিচের কোন যন্ত্রে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বিল্ডিং ওভারসিয়ার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শক্তির রূপান্তর
- ক. বৈদ্যুতিক মটর
- খ. ব্যাটারী
- গ. জেনারেটর
- ঘ. ঘূর্ণায়মান কয়েল মিটার
উত্তর: খ. ব্যাটারী
ব্যাটারির (Battery) ভেতরে দুটি ভিন্ন তড়িৎদ্বার ও একটি তড়িৎবিশ্লেষ্য থাকে। এদের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন এক তড়িৎদ্বার থেকে বাইরের তারের ভেতর দিয়ে অন্য তড়িৎদ্বারে যায়, আর এই ইলেকট্রনের প্রবাহই বিদ্যুৎ। এভাবে ব্যাটারিতে জমা রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মোবাইল ফোনের মতো রিচার্জেবল ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় উল্টো কাজটি ঘটে, তখন বিদ্যুৎশক্তি আবার রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা হয়।
মনে রাখুন:
জেনারেটর: যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি।
বৈদ্যুতিক মোটর: বিদ্যুৎশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি।
সৌরকোষ: আলোকশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি।
প্রথম বৈদ্যুতিক কোষ তৈরি করেন আলেসান্দ্রো ভোল্টা। - ১৮৭. বৈদ্যুতিক ফিউজে কোনটি ব্যবহার করা হয়?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক (১৮ মার্চ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিউজ
- ক. লোহা ও তামা
- খ. তামা ও সীসা
- গ. সীসা ও ব্রোঞ্জ
- ঘ. সীসা ও টিন
উত্তর: ঘ. সীসা ও টিন
ফিউজ (Fuse) হলো বৈদ্যুতিক বর্তনীর একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর তারটি সীসা ও টিনের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি, কারণ এই সংকরের গলনাঙ্ক বেশ কম। বর্তনীতে হঠাৎ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তারটি দ্রুত গরম হয়ে গলে যায়। ফলে বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং দামি যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়া বা আগুন লাগার হাত থেকে রক্ষা পায়। ফিউজকে সবসময় বর্তনীর সঙ্গে শ্রেণিতে এবং জীবন্ত তারে যুক্ত করা হয়। এখনকার বাড়িতে ফিউজের বদলে অনেক সময় সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়, যেটি গলে না গিয়ে সুইচের মতো নিজে থেকেই সংযোগ কেটে দেয়।
মনে রাখুন:
ফিউজ তারের ধর্ম: রোধ বেশি, গলনাঙ্ক কম।
বাল্বের ফিলামেন্টে ব্যবহৃত হয় উচ্চ গলনাঙ্কের টাংস্টেন। - ১৮৮. টেলিফোন কে আবিষ্কার করেন?ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ক্যাশিয়ার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী ও আবিষ্কার
- ক. মিশেল প্লাতিনি
- খ. নিউটন
- গ. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
- ঘ. ইশিকাওয়া
উত্তর: গ. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
টেলিফোন আবিষ্কার করেন স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (Alexander Graham Bell)। ১৮৭৬ সালে তিনি এর পেটেন্ট পান। টেলিফোনের মুখের অংশে থাকা মাইক্রোফোন শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে, আর তারের মধ্য দিয়ে সেই সংকেত অন্য প্রান্তে পৌঁছালে সেখানকার স্পিকার আবার তাকে শব্দে পরিণত করে। শব্দের তীব্রতার একক ডেসিবেল (Decibel) তাঁর নাম থেকেই এসেছে। বাকি নামগুলোর মধ্যে নিউটন গতির সূত্র ও মহাকর্ষ সূত্রের জন্য বিখ্যাত, আর মিশেল প্লাতিনি একজন ফরাসি ফুটবলার।
মনে রাখুন:
মোবাইল ফোনের উদ্ভাবক মার্টিন কুপার।
বেতার যন্ত্রের উদ্ভাবক মার্কনি। - ১৮৯. Electric bulb filament is made of:কর্মসংস্থান ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈদ্যুতিক বাতি
- ক. Copper
- খ. Aluminum
- গ. Zinc
- ঘ. Tungsten
উত্তর: ঘ. Tungsten
Electric bulb-এর ফিলামেন্ট টাংস্টেন (Tungsten) ধাতুর তৈরি। ফিলামেন্টের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে এটি প্রায় ২৫০০°C-এর বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে সাদা আলো দেয়। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৪২২°C, যা ধাতুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, তাই এত উত্তাপেও এটি গলে যায় না। এ ছাড়া টাংস্টেনের রোধ বেশি এবং একে খুব সরু তারে পরিণত করা যায়। ফিলামেন্ট যাতে পুড়ে না যায়, সে জন্য বাল্বের ভেতর বাতাস সরিয়ে আর্গন বা নাইট্রোজেনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস ভরা হয়। তামা ও অ্যালুমিনিয়াম ভালো পরিবাহী হলেও এদের গলনাঙ্ক অনেক কম।
মনে রাখুন:
বৈদ্যুতিক বাল্বের উদ্ভাবক টমাস আলভা এডিসন। - ১৯০. Battery Capacity প্রকাশ করা হয় নিচের কোন এককের মাধ্যমে?জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), অফিস সহায়ক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাটারি
- ক. Amps
- খ. Volts
- গ. Amp-Hour
- ঘ. Watt
উত্তর: গ. Amp-Hour
একটি ব্যাটারি কতটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, তাকে তার ধারণক্ষমতা (Battery capacity) বলে। এটি প্রকাশ করা হয় অ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা (Ampere-hour বা Ah) এককে। ১ Ah মানে ব্যাটারিটি ১ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ টানা ১ ঘণ্টা দিতে পারে। অর্থাৎ ধারণক্ষমতা = প্রবাহ × সময়। যেমন ১০০ Ah-এর একটি ব্যাটারি ৫ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ প্রায় ২০ ঘণ্টা দিতে পারে। মোবাইলের ছোট ব্যাটারির ক্ষমতা লেখা থাকে মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টায় (mAh)। অন্য এককগুলো আলাদা রাশির, অ্যাম্পিয়ার প্রবাহের, ভোল্ট বিভব পার্থক্যের আর ওয়াট ক্ষমতার একক।
মনে রাখুন:
1 Ah = 1000 mAh = 3600 কুলম্ব।
বিদ্যুৎ বিলের হিসাব হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) এককে। - ১৯১. বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ি করে যাচ্ছেন। নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য আপনি কোন কাজটি করবেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বজ্রপাত
- ক. বাইরে এসে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়বেন
- খ. বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
- গ. কোনো বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিবেন
- ঘ. গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
উত্তর: ঘ. গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে বসে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। গাড়ির ধাতব বডি একটি ফাঁপা পরিবাহী খোলসের মতো কাজ করে, যাকে ফ্যারাডে খাঁচা (Faraday cage) বলে। বজ্র পড়লে বিদ্যুৎ ধাতব খোলসের বাইরের গা দিয়ে মাটিতে চলে যায়, ভেতরে থাকা মানুষের দেহ দিয়ে প্রবাহিত হয় না। তবে জানালার কাচ বন্ধ রাখতে হয় এবং গাড়ির ধাতব অংশ স্পর্শ না করাই ভালো। খোলা মাঠে দাঁড়ালে মানুষই সবচেয়ে উঁচু বস্তু হয়ে যায়, আর বড় গাছের নিচে দাঁড়ালে গাছে পড়া বজ্রের বিদ্যুৎ লাফিয়ে দেহে আসতে পারে।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়।
উঁচু ভবনকে রক্ষা করতে বজ্র নিরোধক দণ্ড ব্যবহার হয়, যা আবিষ্কার করেন বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন। - ১৯২. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল কী আবিষ্কার করেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (বুড়িগঙ্গা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবিষ্কার
- ক. টেলিফোন
- খ. টেলিভিশন
- গ. তড়িৎ
- ঘ. টেলিগ্রাফিক সংকেত
উত্তর: ক. টেলিফোন
স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে টেলিফোন (Telephone) আবিষ্কার করেন। তিনি বধিরদের শিক্ষক ছিলেন, তাই শব্দ ও কণ্ঠস্বর কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন। টেলিফোনে কথার শব্দতরঙ্গ একটি পাতলা পর্দাকে কাঁপায়, আর সেই কম্পন বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপ নিয়ে তারের ভেতর দিয়ে দূরে চলে যায়। অপর প্রান্তে সেই সংকেত আবার পর্দা কাঁপিয়ে শব্দে ফিরে আসে। টেলিফোনে প্রথম যে বাক্যটি শোনা গিয়েছিল তা ছিল সহকারী ওয়াটসনকে ডাকা: ‘Mr. Watson, come here.’
মনে রাখুন:
টেলিভিশনের আবিষ্কারক জন লগি বেয়ার্ড।
টেলিগ্রাফ ও মোর্স কোডের জন্য বিখ্যাত স্যামুয়েল মোর্স।
বেতার বা রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে মার্কনির নাম বেশি পরিচিত। - ১৯৩. বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক কী?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (ঝিলাম), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুতের একক
- ক. ওয়াট
- খ. ওয়াট-ঘন্টা
- গ. জুল
- ঘ. কিলোওয়াট-ঘন্টা
উত্তর: ঘ. কিলোওয়াট-ঘন্টা
বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আমাদের বাড়িতে যে বিদ্যুৎ শক্তি আসে, তার বিল হিসাব করতে জুল একক খুব ছোট পড়ে যায়। তাই বাণিজ্যিক কাজে কিলোওয়াট-ঘণ্টা (Kilowatt-hour) একক ব্যবহার করা হয়, যাকে সংক্ষেপে ১ ইউনিট বলে। ১ কিলোওয়াট বা ১০০০ ওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র ১ ঘণ্টা চালালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, তা-ই ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। মনে রাখা দরকার, ওয়াট হলো ক্ষমতার একক, শক্তির নয়। ক্ষমতাকে সময় দিয়ে গুণ করলে তবেই শক্তি পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
1 kWh = 1000 W × 3600 s = 3.6 × 10⁶ J
খরচ (ইউনিট) = ক্ষমতা (কিলোওয়াট) × সময় (ঘণ্টা)।
উদাহরণ:
১০০ ওয়াটের একটি বাতি ১০ ঘণ্টা জ্বললে খরচ হয় ১ ইউনিট। - ১৯৪. বিদ্যুৎ প্রবাহের একক -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুতের একক
- ক. ভোল্ট
- খ. অ্যাম্পিয়ার
- গ. ওয়াট
- ঘ. জুল
উত্তর: খ. অ্যাম্পিয়ার
কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয়, তাকে তড়িৎপ্রবাহ (Electric current) বলে। তড়িৎপ্রবাহের SI একক অ্যাম্পিয়ার, যা ফরাসি বিজ্ঞানী আঁদ্রে-মারি অ্যাম্পিয়ারের নামে রাখা হয়েছে। কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১ কুলম্ব আধান প্রবাহিত হলে প্রবাহের মান হয় ১ অ্যাম্পিয়ার। তড়িৎপ্রবাহ মাপার যন্ত্রকে অ্যামিটার বলে, এটি বর্তনীতে শ্রেণিতে যুক্ত করতে হয়।
মনে রাখুন:
I = Q/t, অর্থাৎ 1 A = 1 C/s।
বিভব পার্থক্যের একক ভোল্ট, এটি মাপা হয় ভোল্টমিটার দিয়ে।
রোধের একক ওহম।
ক্ষমতার একক ওয়াট, আর কাজ বা শক্তির একক জুল। - ১৯৫. The nature of electricity being produced using sun rays is :বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সৌরবিদ্যুৎ
- ক. AC
- খ. DC
- গ. Both AC and DC
- ঘ. None
উত্তর: খ. DC
সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয় সৌরকোষ বা ফটোভোলটাইক কোষে (Photovoltaic cell)। এই কোষ সিলিকনের মতো অর্ধপরিবাহী দিয়ে তৈরি। আলো পড়লে এর ভেতরের ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলতে থাকে, তাই এখান থেকে সব সময় একমুখী প্রবাহ বা DC (Direct current) বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এই বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা রাখা যায়। তবে ঘরের পাখা, ফ্রিজের মতো AC যন্ত্র চালাতে ইনভার্টার দিয়ে একে AC-তে রূপান্তর করতে হয়।
মনে রাখুন:
ব্যাটারি ও শুষ্ক কোষও DC বিদ্যুৎ দেয়।
বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ 220 V ও 50 Hz-এর AC। - ১৯৬. পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ
- ক. ডায়োড
- খ. ট্রান্সফর্মার
- গ. ট্রানজিস্টর
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: খ. ট্রান্সফর্মার
পাশাপাশি রাখা দুটি কুণ্ডলীর একটিতে প্রবাহ পরিবর্তন করলে অন্যটিতে তড়িচ্চালক বল আবিষ্ট হয়, একে পারস্পরিক আবেশ (Mutual induction) বলে। ট্রান্সফর্মার এই নীতিতেই কাজ করে। এর মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তী প্রবাহ দিলে লোহার মজ্জায় পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়, আর সেই ক্ষেত্র গৌণ কুণ্ডলীতে ভোল্টেজ আবিষ্ট করে। দুই কুণ্ডলীর পাকসংখ্যার অনুপাত বদলে ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো যায়। ডায়োড, ট্রানজিস্টর ও অ্যামপ্লিফায়ার অর্ধপরিবাহীর ধর্মে কাজ করে।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফর্মার শুধু AC প্রবাহে কাজ করে, DC-তে কাজ করে না।
তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ আবিষ্কার করেন মাইকেল ফ্যারাডে। - ১৯৭. মোবাইল টেলিফোনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় -বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন/ এইচআর), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
- ক. শব্দ শক্তি
- খ. তরঙ্গ তড়িৎ
- গ. আলোক শক্তি
- ঘ. তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
উত্তর: ঘ. তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
মোবাইল ফোনে আমরা যখন কথা বলি, ফোনের মাইক্রোফোন কথাকে বৈদ্যুতিক সংকেতে বদলে দেয়। এরপর ফোনের অ্যান্টেনা এই সংকেতকে বেতার তরঙ্গে, অর্থাৎ তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গে (Electromagnetic wave) রূপান্তর করে কাছের টাওয়ারে পাঠায়। টাওয়ার থেকে আবার একই ধরনের তরঙ্গে সংকেত অন্যজনের ফোনে পৌঁছায়। তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ চলতে কোনো মাধ্যম লাগে না এবং এটি আলোর বেগে চলে, তাই মুহূর্তেই অনেক দূরে কথা পৌঁছে যায়।
মনে রাখুন:
শূন্য মাধ্যমে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
বেতার, টেলিভিশন, এক্স-রে ও দৃশ্যমান আলোও তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। - ১৯৮. The instrument used to measure electric current is-সম্মিলিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিনিয়র অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যামিটার
- ক. Ammeter
- খ. Electrometer
- গ. Galvanometer
- ঘ. Spectrometer
উত্তর: ক. Ammeter
বর্তনীতে বিদ্যুৎপ্রবাহ (Electric current) কত, তা মাপা হয় অ্যামিটার (Ammeter) দিয়ে। এর স্কেলে সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পাঠ পাওয়া যায়। অ্যামিটারকে বর্তনীর সঙ্গে শ্রেণিতে যুক্ত করতে হয়, যাতে পুরো প্রবাহ এর ভেতর দিয়ে যায়। এজন্য এর রোধ খুব কম রাখা হয়। গ্যালভানোমিটার দিয়ে বর্তনীতে খুব সামান্য প্রবাহ আছে কি না এবং তার দিক কোন দিকে, তা বোঝা যায়, কিন্তু বড় প্রবাহ মাপা যায় না। অন্যদিকে বিভব পার্থক্য মাপতে ভোল্টমিটার ব্যবহৃত হয়, আর একে বর্তনীর সঙ্গে সমান্তরালে যুক্ত করা হয়।
মনে রাখুন:
অ্যামিটার: শ্রেণিতে, রোধ কম।
ভোল্টমিটার: সমান্তরালে, রোধ বেশি।
স্পেকট্রোমিটার দিয়ে বর্ণালি বিশ্লেষণ করা হয়। - ১৯৯. কিলোওয়াট-ঘণ্টা নিচের কোন রাশিটির একক নয়?জীবন বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ শক্তির একক
- ক. বিদ্যুৎশক্তি
- খ. শক্তি
- গ. কাজ
- ঘ. ক্ষমতা
উত্তর: ঘ. ক্ষমতা
কিলোওয়াট (kW) হলো ক্ষমতার একক, আর ক্ষমতা মানে প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু কাজ হয়। এই ক্ষমতাকে সময় দিয়ে গুণ করলে পাওয়া যায় মোট কাজ বা শক্তি। তাই কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) কাজ, শক্তি ও বিদ্যুৎশক্তির একক, কিন্তু ক্ষমতার একক নয়। আমাদের বাসার বিদ্যুৎ বিলে যে "ইউনিট" লেখা থাকে, সেটি আসলে এই ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।
মনে রাখুন:
1 kWh = 1000 W × 3600 s = 3.6 × 10^6 J।
ক্ষমতার SI একক ওয়াট (W), আর 1 W = 1 J/s।
১ অশ্বক্ষমতা (Horse Power) প্রায় 746 ওয়াটের সমান। - ২০০. বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক কে?জীবন বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বেতার
- ক. টমাস এডিসন
- খ. আলবার্ট আইনস্টাইন
- গ. জি মার্কনি
- ঘ. গ্রাহামবেল
উত্তর: গ. জি মার্কনি
বেতার বা রেডিও (Radio) যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনির নামই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি তার ছাড়া তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের সাহায্যে দূরে সংকেত পাঠাতে সফল হন এবং ১৯০১ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে বেতার সংকেত পাঠান। এই কাজের জন্য ১৯০৯ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুও প্রায় একই সময়ে মাইক্রোওয়েভ নিয়ে অগ্রণী গবেষণা করেছিলেন।
মনে রাখুন:
টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল।
বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন।
আপেক্ষিকতা তত্ত্বের প্রবক্তা আলবার্ট আইনস্টাইন।
বেতার সংকেত আসলে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, যা আলোর বেগে চলে। - ২০১. টেলিভিশনে ছবি প্রেরণের সময় ছবিকে যে পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা হয় তাকে কী বলা হয়?জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফিল্ড অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টেলিভিশন
- ক. ট্যানিং
- খ. স্ক্যানিং
- গ. স্ক্রিনিং
- ঘ. গ্যানিং
উত্তর: খ. স্ক্যানিং
টেলিভিশনে একটি পুরো ছবি একসঙ্গে পাঠানো যায় না। তাই ক্যামেরা ছবিটিকে অনেকগুলো সরু সারি ও ক্ষুদ্র বিন্দুতে ভাগ করে, তারপর একটির পর একটি অংশের আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে পাঠায়। এই প্রক্রিয়াকে স্ক্যানিং (Scanning) বলে। গ্রাহক টেলিভিশনও একই ক্রমে বিন্দুগুলো পর্দায় সাজিয়ে আবার পুরো ছবি তৈরি করে। এটি এত দ্রুত ঘটে যে আমাদের চোখ আলাদা অংশ বুঝতে পারে না, পুরো ছবিটিই দেখে।
মনে রাখুন:
টেলিভিশনের আবিষ্কারক জন লগি বেয়ার্ড, ১৯২৬ সালে।
বাংলাদেশে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৬৪ সালে।
টেলিভিশন সংকেত পাঠাতে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন