বায়ুমণ্ডল: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ২০। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ১৪৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (২৫)
- ১. নিচের কোনটি প্রাইমারি দূষক?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষক
- ক. SO3
- খ. N2O5
- গ. NO
- ঘ. HNO3
উত্তর: গ. NO
যেসব দূষক উৎস থেকে সরাসরি বাতাসে মেশে, সেগুলোকে প্রাইমারি দূষক (Primary Pollutant) বলে। গাড়ির ইঞ্জিনে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন উচ্চ তাপে যুক্ত হয়ে সরাসরি NO তৈরি করে এবং তা বাতাসে নির্গত হয়। অন্যদিকে যেসব দূষক বাতাসে প্রাইমারি দূষকের পারস্পরিক বিক্রিয়ায় পরে তৈরি হয়, সেগুলো সেকেন্ডারি দূষক (Secondary Pollutant)। SO₃, N₂O₅ ও HNO₃ এই দ্বিতীয় ধরনের।
উদাহরণ:
SO₂ থেকে SO₃, তারপর পানির সঙ্গে বিক্রিয়ায় H₂SO₄ তৈরি হয়। NO জারিত হয়ে NO₂ হয় এবং শেষ পর্যন্ত HNO₃ তৈরি করে। - ২. গ্রিনহাউজ কি?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউজ ইফেক্ট
- ক. কাচের তৈরি ঘর
- খ. সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
- গ. সবুজ ভবনের নাম
- ঘ. সবুজ গাছপালা
উত্তর: ক. কাচের তৈরি ঘর
গ্রিনহাউস (Greenhouse) হলো কাচ বা স্বচ্ছ আবরণে ঘেরা একটি ঘর, যেখানে ঠান্ডা দেশে গাছ লাগানো হয়। সূর্যের আলো কাচ ভেদ করে ভেতরে ঢোকে, কিন্তু ভেতরের তাপ সহজে বাইরে বের হতে পারে না। ফলে ঘরের ভেতরটা গরম থাকে এবং শীতেও গাছ বেঁচে থাকে। বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস পৃথিবীর তাপ এভাবেই আটকে রাখে, তাই এই ঘটনাকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলা হয়।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড প্রধান।
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবী জীবনধারণের জন্য অনেক বেশি ঠান্ডা হতো। - ৩. কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. ডিজেল
- খ. পেট্রোল
- গ. অকটেন
- ঘ. সিএনজি
উত্তর: ক. ডিজেল
কয়লা ও জ্বালানি তেলের মতো কিছু জ্বালানিতে সালফার থাকে। ডিজেলে পেট্রোল, অকটেন বা সিএনজির চেয়ে বেশি সালফার মিশে থাকে। ডিজেল পোড়ালে সেই সালফার অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) তৈরি করে। এই গ্যাস বাতাস দূষিত করে এবং বৃষ্টির পানিতে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) ঘটায়। সালফার ডাই-অক্সাইড ফুসফুসের জন্যও ক্ষতিকর, কারণ এটি শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া শহরের বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ।
মনে রাখুন:
অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান কারণ সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড।
সিএনজি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার জ্বালানি, কারণ এতে সালফার প্রায় নেই। - ৪. কোনটি বায়ুর উপাদান নহে?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ঘ. ফসফরাস
বায়ু কয়েকটি গ্যাসের মিশ্রণ। এর প্রায় ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন ও ২১ ভাগ অক্সিজেন, বাকিটা আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অল্প হাইড্রোজেন ও জলীয় বাষ্প। কার্বন মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডের অংশ হিসেবে বায়ুতে থাকে। কিন্তু ফসফরাস অত্যন্ত সক্রিয় মৌল, তাই এটি সহজেই অন্য পদার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এবং মুক্ত অবস্থায় বায়ুতে থাকে না। এজন্য ফসফরাস বায়ুর উপাদান নয়। বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও আবহাওয়াভেদে বদলায়, তাই বায়ুর উপাদানের শতকরা মান সাধারণত শুষ্ক বায়ুর হিসাবে বলা হয়।
মনে রাখুন:
বায়ুতে সবচেয়ে বেশি আছে নাইট্রোজেন, তারপর অক্সিজেন।
বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ০.০৪ শতাংশ। - ৫. দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. কার্বন ডাইঅক্সাইড
- খ. কার্বন মনোক্সাইড
- গ. নাইট্রিক অক্সাইড
- ঘ. সালফার ডাইঅক্সাইড
উত্তর: খ. কার্বন মনোক্সাইড
কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি বিষাক্ত গ্যাস, যার রং বা গন্ধ নেই। জ্বালানি পুরোপুরি না পুড়লে এটি তৈরি হয়। শ্বাসের সঙ্গে ঢুকে এই গ্যাস রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে বহুগুণ বেশি দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয় এবং কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন নামের যৌগ তৈরি করে। ফলে হিমোগ্লোবিন আর অক্সিজেন বহন করতে পারে না এবং শরীরের কোষ অক্সিজেনের অভাবে পড়ে।
মনে রাখুন: বন্ধ ঘরে কয়লা বা কাঠের আগুন জ্বালালে কার্বন মনোক্সাইডে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, তাই ঘরে বায়ু চলাচল জরুরি। - ৬. ”গ্রীন হাউজ ইফেক্টের’ পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি কি হবে?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউজ ইফেক্ট
- ক. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
- খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
- গ. নাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
- ঘ. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
উত্তর: খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
গ্রিনহাউস প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ে। এতে মেরু অঞ্চল ও পর্বতের বরফ গলে এবং সমুদ্রের পানি তাপে প্রসারিত হয়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের বড় অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব সামান্য উঁচু। তাই এখানে সবচেয়ে গুরুতর সরাসরি ক্ষতি হবে নিম্নভূমি তলিয়ে যাওয়া। নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিও বাড়বে। ঘূর্ণিঝড় আরও শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নে সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ ক্ষতি হিসেবে নিম্নভূমির নিমজ্জনকেই ধরা হয়েছে।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড প্রধান।
সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়লে নদীর পানিতে লবণাক্ততাও বাড়ে এবং কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - ৭. ‘নিত্য ব্যবহার্য বহু’ এরোসোলের’ কৌটায় এখন লেখা থাকে ‘সিএফসি’ বিহীন। সিএফসি গ্যাস কেন ক্ষতিকারক?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর ও CFC
- ক. ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে
- খ. গ্রিন হাউজ ইফেক্টে অবদান রাখে
- গ. ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
- ঘ. দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায়
উত্তর: গ. ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
সিএফসি (Chlorofluorocarbon) এমন একটি যৌগ, যা আগে এরোসোল স্প্রে ও ফ্রিজে ব্যবহার করা হতো। এটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে, অর্থাৎ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে অতিবেগুনি রশ্মির আঘাতে ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু ছাড়ে। একটি ক্লোরিন পরমাণু বহু ওজোন অণু ভেঙে ফেলে। ফলে ওজোনস্তর পাতলা হয়ে ফুটোর মতো সৃষ্টি হয় এবং সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে বেশি আসে। ওজোনস্তরের ফুটো প্রথম ধরা পড়ে দক্ষিণ মেরুর ওপরে, অ্যান্টার্কটিকায়।
মনে রাখুন:
ওজোনস্তর রক্ষায় ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল করা হয়।
অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের ক্যান্সার ও চোখের ছানি বাড়ে। - ৮. ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. স্ট্রাটোমণ্ডল
- খ. ট্রপােমণ্ডল
- গ. মেসোমণ্ডল
- ঘ. তাপমণ্ডল
উত্তর: ক. স্ট্রাটোমণ্ডল
ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোমণ্ডলে (Stratosphere) অবস্থিত, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায়। এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবকে রক্ষা করে। ওজোন হলো অক্সিজেনের তিন পরমাণুর অণু (O₃)। স্ট্র্যাটোমণ্ডলে এর ঘনত্ব বেশি বলে এখানে ওজোনস্তর বলা হয়। ওজোনস্তর পাতলা হয়ে গেলে বেশি অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছায় এবং ত্বকের ক্যান্সার ও চোখের ছানির ঝুঁকি বাড়ে। প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস পালন করা হয়।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো নিচ থেকে ওপরে ট্রপোমণ্ডল, স্ট্র্যাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, থার্মোমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল।
আবহাওয়ার ঘটনা ঘটে ট্রপোমণ্ডলে। - ৯. বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত ঘটে?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. ট্রপোমন্ডল (Troposphere)
- খ. স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere)
- গ. মেসোমন্ডল (Mesosphere)
- ঘ. তাপমন্ডল (Troposphere)
উত্তর: ক. ট্রপোমন্ডল (Troposphere)
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তরের নাম ট্রপোমণ্ডল (Troposphere)। জলীয় বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় এবং আবহাওয়ার প্রায় সব ঘটনা এই স্তরেই ঘটে। বজ্রমেঘও এই স্তরে তৈরি হয়, তাই বজ্রপাত ঘটে ট্রপোমণ্ডলে। স্ট্র্যাটোমণ্ডলে মেঘ ও ঝড় নেই বললেই চলে, সেখানে আছে ওজোন স্তর। বজ্রপাত ঘটে যখন মেঘের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান জমে এবং তাদের মাঝে বা মেঘ ও ভূমির মাঝে বিদ্যুৎ ক্ষরণ হয়। বিমান সাধারণত ট্রপোমণ্ডলের ওপরের দিকে বা স্ট্র্যাটোমণ্ডলের নিচে ওড়ে, যেখানে ঝড়ের সম্ভাবনা কম।
মনে রাখুন:
ট্রপোমণ্ডলে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে।
বায়ুমণ্ডলের স্তর নিচ থেকে ওপরে ট্রপোমণ্ডল, স্ট্র্যাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল। - ১০. বায়ুমন্ডলের যে স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় -৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
- খ. ট্রপোস্ফিয়ার
- গ. আয়োনোস্ফিয়ার
- ঘ. ওজোনস্তর
উত্তর: গ. আয়োনোস্ফিয়ার
বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere) স্তর বেতার তরঙ্গকে পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে দেয়। এই স্তরে সূর্যের রশ্মির প্রভাবে গ্যাসের অণু আয়নিত হয় এবং মুক্ত ইলেকট্রন তৈরি করে। ওই ইলেকট্রনগুলো রেডিও তরঙ্গকে প্রতিফলিত করে, তাই বহু দূরের বেতার সংকেত আমাদের কাছে পৌঁছায়। ট্রপোস্ফিয়ারে আবহাওয়ার ঘটনা ঘটে, আর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়। আয়নোস্ফিয়ার মেসোমণ্ডলের ওপরের অংশ থেকে শুরু করে তাপমণ্ডল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ কারণে আয়নোস্ফিয়ারকে বেতার যোগাযোগের আয়না বলা যায়।
মনে রাখুন: রাতে আয়নোস্ফিয়ারের নিচের স্তর হারিয়ে যায়, তাই দূরের মিডিয়াম ওয়েভ বেতার স্টেশন রাতে ভালো শোনা যায়। - ১১. বায়ুমণ্ডলে শতকরা কতভাগ আর্গন বিদ্যমান?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ৭৮.০
- খ. ০.৮
- গ. ০.৪১
- ঘ. ০.৩
উত্তর: খ. ০.৮
বাতাসের প্রায় ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, ২১ শতাংশ অক্সিজেন, আর এর পরের প্রধান গ্যাস আর্গন, যার পরিমাণ প্রায় ০.৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ আর্গন এক শতাংশের কাছাকাছি, আর অপশনগুলোর মধ্যে এর সবচেয়ে কাছের মান ০.৮। ৭৮ শতাংশ হলো নাইট্রোজেনের পরিমাণ। আর্গন বায়ুতে তৃতীয় বৃহত্তম উপাদান। এর নাম এসেছে গ্রিক শব্দ আর্গোস থেকে, যার অর্থ নিষ্ক্রিয়। বাতাসের এই তিনটি প্রধান গ্যাস মিলে বায়ুর প্রায় পুরোটাই গঠিত।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের ক্রম হলো নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড।
কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৪ শতাংশ।
আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, বৈদ্যুতিক বাল্বে এটি ব্যবহৃত হয়। - ১২. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ৭৫.৮%
- খ. ৭৮.১%
- গ. ৭৯.২%
- ঘ. প্রায় ৮০%
উত্তর: খ. ৭৮.১%
শুষ্ক বাতাসের আয়তনের প্রায় ৭৮.১ শতাংশ নাইট্রোজেন, প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন এবং বাকি অল্প অংশ আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্যাস। তাই বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন। 'প্রায় ৮০ শতাংশ' একটি কাছাকাছি অনুমান মাত্র, কিন্তু সঠিক মান ৭৮.১ শতাংশ। বাতাসের নাইট্রোজেন সরাসরি আমাদের শ্বাসের কাজে লাগে না। এটি অক্সিজেনকে মিশিয়ে হালকা করে রাখে, তাই অক্সিজেন তীব্র হয়ে ক্ষতি করে না। এই নাইট্রোজেন থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি করে সার বানানো হয়।
মনে রাখুন:
আর্গন বায়ুমণ্ডলে প্রায় ০.৯৩ শতাংশ।
কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্র প্রায় ০.০৪ শতাংশ থাকলেও গ্রিনহাউস প্রভাবে এর ভূমিকা বড়। - ১৩. বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কি?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. মাইকোমিটার
- খ. হাইগ্রোমিটার
- গ. ব্যারোমিটার
- ঘ. গ্রাভিমিটার
উত্তর: খ. হাইগ্রোমিটার
বাতাসে কতটা জলীয় বাষ্প আছে, তার পরিমাণকে আর্দ্রতা (Humidity) বলে। এই আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার (Hygrometer)। বাকি যন্ত্রগুলো অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্যারোমিটার বায়ুর চাপ মাপে, মাইক্রোমিটার খুব ছোট দৈর্ঘ্য মাপে এবং গ্র্যাভিমিটার অভিকর্ষ বলের মান মাপে। আবহাওয়ার খবরে যে আপেক্ষিক আর্দ্রতার শতকরা হিসাব শোনা যায়, তা এই যন্ত্র দিয়েই বের করা হয়। আর্দ্রতা বেশি হলে গরমে ঘাম শুকাতে চায় না, তাই অস্বস্তি বাড়ে। এই কারণে বর্ষাকালে গরম বেশি অসহ্য লাগে।
মনে রাখুন:
আবহাওয়া বিজ্ঞানে বায়ুর গতিবেগ মাপে অ্যানিমোমিটার।
বৃষ্টিপাত মাপে রেইন গজ। - ১৪. নিচের কোনটি গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউজ গ্যাস
- ক. জলীয় বাষ্প (H2O)
- খ. কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
- গ. মিথেন (CH4)
- ঘ. নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
উত্তর: ঘ. নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) হলো এমন গ্যাস, যা সূর্য থেকে আসা আলো পৃথিবীতে ঢুকতে দেয়, কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে ফিরে যাওয়া তাপ (অবলোহিত রশ্মি) শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে গরম রাখে। জলীয় বাষ্প (H₂O), কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) ও মিথেন (CH₄) এ ধরনের গ্যাস। অপশনে গ্রিনহাউস গ্যাস নয় নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। গ্রিনহাউস গ্যাস হলো নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), যাকে অনেক সময় ভুল করে NO ভাবা হয়।
মনে রাখুন: অন্য প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস ওজোন (O₃) ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)। - ১৫. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত ভাগ?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের উপাদান
- ক. ৮২.০২%
- খ. ৭৮.০১%
- গ. ৮০.০২%
- ঘ. ৭৬.০২%
উত্তর: খ. ৭৮.০১%
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, আর শুষ্ক বায়ুতে এর পরিমাণ আয়তন অনুযায়ী প্রায় ৭৮ শতাংশ। সঠিক হিসাবে এটি ৭৮.০৮%। সাধারণভাবে এটিকে ৭৮ শতাংশ ধরা হয়। বাকি অংশে আছে প্রায় ২১% অক্সিজেন এবং সামান্য আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেন বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে প্রচুর গ্যাস হলেও উদ্ভিদ সরাসরি তা ব্যবহার করতে পারে না।
মটর, সিমের মতো শিমজাতীয় গাছের মূলের গুটিতে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বায়ুর নাইট্রোজেনকে যৌগে পরিণত করে।
বায়ুতে নাইট্রোজেন বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বলে।
বজ্রপাতের সময় বাতাসের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে নাইট্রোজেনের অক্সাইড তৈরি হয়, আর বৃষ্টির সঙ্গে তা মাটিতে নেমে এসে উদ্ভিদের সারের কাজ করে। - ১৬. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত ঘটে?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. ট্রপোমণ্ডল (Troposphere)
- খ. স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere)
- গ. মেসোমণ্ডল (Mesosphere)
- ঘ. তাপমণ্ডল (Thermosphere)
উত্তর: ক. ট্রপোমণ্ডল (Troposphere)
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর ট্রপোমণ্ডলে (Troposphere) বজ্রপাত ঘটে। এই স্তরে জলীয় বাষ্প, মেঘ ও বায়ুপ্রবাহ থাকে, আর মেঘের ভেতরে বিদ্যুৎ জমে বজ্র তৈরি হয়। ট্রপোমণ্ডলে বৃষ্টি, কুয়াশা ও ঝড়ও হয়। ওপরের স্তরগুলোতে জলীয় বাষ্প প্রায় নেই বলে সেখানে মেঘ ও বজ্রপাত ঘটে না।
মনে রাখুন:
ট্রপোমণ্ডলে বায়ুর প্রায় ৭৫ শতাংশ থাকে।
স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোন স্তর আছে, মেসোমণ্ডল সবচেয়ে ঠান্ডা, আর তাপমণ্ডলে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি।
বজ্রপাতের সময় মেঘের ভেতরে ও মেঘ আর ভূমির মধ্যে বিপুল বৈদ্যুতিক চার্জের বিনিময় হয়। বজ্রপাতের তাপে চারপাশের বায়ু হঠাৎ প্রসারিত হয়ে বজ্রের শব্দ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে বজ্রপাত একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। - ১৭. কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবায়ুর উপাদান
- ক. উষ্ণতা
- খ. আর্দ্রতা
- গ. সমুদ্রস্রোত
- ঘ. বায়ুপ্রবাহ
উত্তর: গ. সমুদ্রস্রোত
কোনো অঞ্চলের জলবায়ু (Climate) গড়ে ওঠে সেখানকার উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের মতো উপাদান দিয়ে। এগুলো মেপেই আমরা বলতে পারি ওই এলাকার আবহাওয়া কেমন। সমুদ্রস্রোত কিন্তু জলবায়ুর উপাদান নয়, এটি জলবায়ুকে প্রভাবিত করা একটি নিয়ামক (Factor)। উষ্ণ স্রোত পাশের উপকূলকে গরম ও ভেজা রাখে, আর শীতল স্রোত উপকূলকে ঠান্ডা ও শুষ্ক করে তোলে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য হলো সময়ে। আবহাওয়া একটি স্থানের অল্প সময়ের, যেমন একদিনের অবস্থা। আর জলবায়ু অনেক বছরের গড় আবহাওয়া।
মনে রাখুন:
জলবায়ুর উপাদান: উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত।
জলবায়ুর নিয়ামক: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান। - ১৮. নিম্নের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবায়ুর নিয়ামক
- ক. অক্ষরেখা
- খ. দ্রাঘিমারেখা
- গ. উচ্চতা
- ঘ. সমুদ্রস্রোত
উত্তর: খ. দ্রাঘিমারেখা
কোনো দেশের জলবায়ু নির্ধারণের নিয়ামকগুলোর মধ্যে আছে অক্ষাংশ বা অক্ষরেখা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ও সমুদ্রস্রোত। অক্ষাংশ বলে দেয় সূর্যের আলো কতটা লম্বভাবে পড়বে, উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে, আর উষ্ণ বা শীতল স্রোত উপকূলের আবহাওয়াকে বদলে দেয়। দ্রাঘিমারেখা এই কাজে ভূমিকা রাখে না। দ্রাঘিমারেখা পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান ও স্থানীয় সময় নির্ণয়ের কাজে লাগে। তাই এক অক্ষাংশে থাকা দুটি স্থানের জলবায়ু আলাদা হতে পারে। একটি সাগরের ধারে থাকলে অন্যটি মহাদেশের ভেতরে থাকলে তাদের তাপমাত্রার পার্থক্য হয়ে যায়।
মনে রাখুন: গ্রিনিচ থেকে প্রতি ১৫° দ্রাঘিমা পার হলে স্থানীয় সময় ১ ঘণ্টা বদলে যায়। - ১৯. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে ট্রপোমণ্ডলে বায়ুর ক্রমহ্রাসমান তাপমাত্রা হলো-৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ট্রপোমণ্ডল
- ক. ৫.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
- খ. ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
- গ. ৭.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
- ঘ. ৮.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
উত্তর: খ. ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তরকে ট্রপোমণ্ডল (Troposphere) বলে। এই স্তরে উপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের তাপমাত্রা কমতে থাকে। প্রতি ১ কিলোমিটার ওপরে উঠলে তাপমাত্রা গড়ে ৬.৫° সেলসিয়াস কমে যায়, একে তাপমাত্রার হ্রাসের হার (Lapse rate) বলা হয়। পাহাড়ের চূড়ায় তাই সমতলের চেয়ে ঠান্ডা বেশি পড়ে। এই কারণে এভারেস্টের চূড়ায় সমতলের তুলনায় তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। ট্রপোমণ্ডলের ঠিক ওপরে আছে স্ট্র্যাটোমণ্ডল, যেখানে ওজোন স্তর অবস্থিত।
মনে রাখুন:
ট্রপোমণ্ডলেই মেঘ, বৃষ্টি ও ঝড় তৈরি হয়।
এই স্তরের উচ্চতা মেরুর কাছে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষরেখার কাছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার। - ২০. যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয়-১২তম ও ১০ম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিয়ত বায়ু
- ক. অয়ন বায়ু
- খ. প্রত্যয়ন বায়ু
- গ. মৌসুমি বায়ু
- ঘ. নিয়ত বায়ু
উত্তর: ঘ. নিয়ত বায়ু
যে বায়ু সারা বছর একই দিকে, উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে নিয়মিত প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বা স্থায়ী বায়ু (Permanent wind) বলে। ঋতু বদলালেও এর দিক বদলায় না, কারণ পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলো স্থির থাকে। অয়ন বায়ু, প্রত্যয়ন বায়ু ও মেরু বায়ু নিয়ত বায়ুর তিনটি প্রধান ভাগ। নিয়ত বায়ু পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয় ও আবর্তনের ফলে সারা বছর একই দিকে বয়, তাই ঋতু বদলালেও দিক বদলায় না। এখানেই নিয়ত বায়ুর সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর পার্থক্য।
মনে রাখুন:
নিয়ত বায়ু: অয়ন, প্রত্যয়ন ও মেরু বায়ু।
সাময়িক বায়ু: মৌসুমি বায়ু, স্থল ও সমুদ্র বায়ু।
স্থানীয় বায়ু: সাইমুম, লু, চিনুক ইত্যাদি। - ২১. প্রত্যয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে ______ দিক থেকে ______ দিকে প্রবাহিত হয়।৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিয়ত বায়ু
- ক. পূর্ব, পশ্চিম
- খ. দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব
- গ. উত্তর, দক্ষিণ
- ঘ. উত্তর, পশ্চিম
উত্তর: খ. দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব
৩০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরু অঞ্চলের নিম্নচাপের দিকে যে বায়ু বয়, তার নাম প্রত্যয়ন বায়ু (Westerlies)। পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে একই বাতাস উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বয়। পশ্চিম দিক থেকে আসে বলেই একে পশ্চিমা বায়ুও বলে। এই বাতাস সাধারণত ঝড়বৃষ্টি বহন করে। ইউরোপের পশ্চিম উপকূলের বৃষ্টি মূলত প্রত্যয়ন বায়ুর কারণে হয়।
মনে রাখুন: দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগ কম বলে প্রত্যয়ন বায়ু সেখানে অনেক বেশি প্রবল। - ২২. আবহাওয়ার ৯০% আর্দ্রতা মানে –১৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯০%
- খ. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থার ৯০%
- গ. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯০%
- ঘ. ১০০ ভাগ বাতাসে ৯০ ভাগ জলীয় বাষ্প
উত্তর: খ. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থার ৯০%
বাতাস নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ যতটুকু জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে, সেটিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative humidity) বলতে বোঝায় ওই সময় বাতাসে বাষ্প আছে সম্পৃক্ত অবস্থার তুলনায় কত শতাংশ। তাই ৯০ শতাংশ আর্দ্রতার অর্থ হলো বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থার ৯০ শতাংশ। এটি বৃষ্টির সম্ভাবনা বোঝায় না। আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও শুকনো বাল্বের থার্মোমিটারের পার্থক্য থেকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বের করা হয়।
মনে রাখুন: ১০০ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতায় বাতাস সম্পৃক্ত হয়ে যায়, তখন কুয়াশা বা মেঘ তৈরি হতে পারে। - ২৩. সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা হয়?৪১তম ও ৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমরেখা
- ক. আইসোথার্ম
- খ. আইসোবার
- গ. আইসোহাইট
- ঘ. আইসোহেলাইন
উত্তর: গ. আইসোহাইট
সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানগুলোকে যোগ করে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা আঁকা হয়, তাকে আইসোহাইট বা আইসোহায়েট (Isohyet) বলে। এই রেখা দেখে বোঝা যায় কোন অঞ্চলে বৃষ্টি বেশি আর কোথায় কম। মনে রাখার সহজ উপায়: ‘আইসো’ মানে সমান। আর শব্দের পরের অংশ বলে দেয় কী সমান, যেমন থার্ম তাপ, বার চাপ, হাইট উচ্চতা বা বৃষ্টি।
মনে রাখুন:
আইসোথার্ম: সমান তাপমাত্রার স্থান যোগ করে।
আইসোবার: সমান বায়ুচাপের স্থান যোগ করে।
আইসোহেলাইন (Isohaline): সমান লবণাক্ততার স্থান যোগ করে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির এলাকা সিলেট ও তার আশপাশ, আর সবচেয়ে কম বৃষ্টির এলাকা রাজশাহী অঞ্চল। - ২৪. মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মেঘ
- ক. সিরাস
- খ. নিম্বাস
- গ. কিউমুলাস
- ঘ. স্ট্র্যাটাস
উত্তর: খ. নিম্বাস
বায়ুমণ্ডলে মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা অনুযায়ী তিন স্তরে ভাগ করা হয়, নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ। সিরাস মেঘ অনেক উঁচুতে ভাসে, এটি উচ্চ স্তরের পাতলা, সাদা তন্তুর মতো মেঘ। কিউমুলাস ও স্ট্র্যাটাস নিচু স্তরের মেঘ। মধ্যম স্তরের মেঘের মধ্যে আছে অল্টোকিউমুলাস, অল্টোস্ট্র্যাটাস এবং নিম্বোস্ট্র্যাটাস বা নিম্বাস, যা গাঢ় ধূসর মেঘ এবং সাধারণত বৃষ্টি আনে। উচ্চ স্তরের মেঘের মধ্যে সিরাস, সিরোকিউমুলাস ও সিরোস্ট্র্যাটাস আছে। নিম্ন স্তরের মেঘ হলো স্ট্র্যাটাস, কিউমুলাস ও স্ট্র্যাটোকিউমুলাস।
মনে রাখুন: ‘নিম্বাস’ কথার অর্থই বৃষ্টিবাহী মেঘ।
মেঘ তৈরির মূল কারণ বাতাসের জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হওয়া, আর আকাশের উচ্চতা অনুযায়ী মেঘের ধরন আলাদা হয়। - ২৫. এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এল নিনো ও লা নিনা
- ক. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি
- খ. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
- গ. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়
- ঘ. ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়
উত্তর: খ. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
এল নিনো ঘটলে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাংশের সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়। এতে বায়ুমণ্ডলের সাধারণ সঞ্চালন ছন্দ হারায়, আর এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অনেক স্থানে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর ফলে মৌসুমি বৃষ্টির স্বাভাবিক ধরন নষ্ট হয়। কোথাও খরা হয়, আবার কোথাও অনিয়মিত ভারী বৃষ্টি দেখা দেয়। আবহাওয়াবিদরা এল নিনো পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নিয়মিত মাপেন। এটি বিশ্বের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন:
প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পর এল নিনো দেখা দেয়।
পেরু ও ইকুয়েডরের উপকূলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (১২২)
- ২৬. বায়ুমণ্ডলে শতকরা কত ভাগ নাইট্রোজেন বিদ্যমান?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ২০.৭১%
- খ. ৭৮.০২%
- গ. ০.৮১%
- ঘ. ০.০৩%
উত্তর: খ. ৭৮.০২%
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে আছে নাইট্রোজেন (Nitrogen)। শুষ্ক বায়ুর আয়তনের প্রায় ৭৮ ভাগই এই গ্যাস, সূক্ষ্ম হিসাবে প্রায় ৭৮.০৮%। নাইট্রোজেন সহজে অন্য পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। বাতাসে এটি বেশি থাকায় অক্সিজেনের তীব্রতা কমে যায়, ফলে আগুন হঠাৎ করে সব কিছুকে গ্রাস করে না। দ্বিতীয় স্থানে আছে অক্সিজেন, যা প্রায় ২১ ভাগ, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড আছে খুব সামান্য, শতকরা ০.০৩ ভাগের কাছাকাছি। এই অল্প পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডই উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল।
মনে রাখুন:
বায়ুতে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮%, অক্সিজেন প্রায় ২১% এবং আর্গন প্রায় ১%।
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে, আবহাওয়ার সব ঘটনা এখানেই ঘটে। - ২৭. SMOG কী?জাতীয় সংসদ সচিবালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. সিগারেটের ধোঁয়া
- খ. কুয়াশা
- গ. দূষিত বাতাস
- ঘ. শিশির
উত্তর: গ. দূষিত বাতাস
স্মগ (SMOG) শব্দটি এসেছে ইংরেজি Smoke (ধোঁয়া) ও Fog (কুয়াশা) শব্দ দুটি জুড়ে। শীতকালে ঠান্ডা বাতাস যখন ভূপৃষ্ঠের কাছে আটকে থাকে, তখন কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া ওপরে উঠে ছড়াতে পারে না। সেই ধোঁয়া কুয়াশার জলকণার সঙ্গে মিশে ঘন, বিষাক্ত ও দূষিত বাতাসের একটি স্তর তৈরি করে, যাকে স্মগ বলে। এই বাতাস শ্বাস নিলে চোখ জ্বালা করে, কাশি হয় এবং হাঁপানির রোগীর কষ্ট বাড়ে। শুধু সিগারেটের ধোঁয়া বা কুয়াশা বা শিশিরকে স্মগ বলা যায় না, কারণ স্মগে দূষণকারী পদার্থ থাকাই এর মূল বৈশিষ্ট্য।
মনে রাখুন:
১৯৫২ সালে লন্ডনে ভয়াবহ স্মগে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।
গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে সূর্যের আলোর বিক্রিয়ায় যে স্মগ হয়, তাকে আলোক-রাসায়নিক স্মগ বলে। - ২৮. CFC গ্যাস কী?জাতীয় সংসদ সচিবালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
- খ. কমপ্রেসড ফ্লুরোকার্বন
- গ. কমন ফ্লুরোকার্বন
- ঘ. ক্লোরোফেরিক কার্বন
উত্তর: ক. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
CFC-এর পূর্ণরূপ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (Chlorofluorocarbon)। এটি ক্লোরিন, ফ্লোরিন ও কার্বন দিয়ে গঠিত একধরনের যৌগ। একসময় রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারের শীতলকারক হিসেবে এবং অ্যারোসল স্প্রেতে এর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। বায়ুমণ্ডলের ওপরের দিকে গেলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে CFC ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু ছেড়ে দেয়। এই ক্লোরিন ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সহজে পৃথিবীতে পৌঁছায়। CFC একটি গ্রিনহাউস গ্যাসও, তাই ধরিত্রীর উষ্ণতা বাড়াতেও এর ভূমিকা আছে।
মনে রাখুন:
১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রোটোকলে CFC ব্যবহার কমানোর চুক্তি হয়।
প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প।
ওজোন স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকে। - ২৯. নিচের কোন গ্যাস গ্রিন হাউস গ্যাস নয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. নাইট্রাস অক্সাইড
- গ. সালফার ডাই-অক্সাইড
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: গ. সালফার ডাই-অক্সাইড
সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ শুষে নেয়, আর ভূপৃষ্ঠ থেকে ফিরে যাওয়া তাপের একটি অংশকে কিছু গ্যাস আটকে রাখে। এই গ্যাসের কারণে পৃথিবী উষ্ণ থাকে, তাই এদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বন এই গ্রুপের গ্যাস। সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এ গ্রুপে পড়ে না। কয়লা ও খনিজ তেল পোড়ালে এটি বাতাসে মেশে, আর বৃষ্টির পানিতে গলে অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করে। এ কারণে প্রশ্নের উত্তর সালফার ডাই-অক্সাইড।
মনে রাখুন:
অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য প্রধানত SO₂ ও নাইট্রোজেন অক্সাইড দায়ী।
বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় কারণ কার্বন ডাই-অক্সাইড। - ৩০. নিচের কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস?স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. অক্সিজেন
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: গ. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
সূর্য থেকে আসা আলো পৃথিবীকে গরম করে। পৃথিবী সেই তাপ আবার অবলোহিত (Infrared) বিকিরণ হিসেবে মহাশূন্যে ফেরত পাঠাতে চায়। বায়ুমণ্ডলের যে গ্যাসগুলো এই বিকিরণ শুষে নিয়ে পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) বলে। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) এমনই একটি গ্যাস, এমনকি তাপ ধরে রাখার ক্ষমতায় এটি কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন অবলোহিত বিকিরণ উল্লেখযোগ্যভাবে শোষণ করে না, তাই এগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
মনে রাখুন:
প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), ওজোন (O₃), জলীয় বাষ্প ও CFC।
CFC ওজোন স্তরেরও ক্ষতি করে। - ৩১. নিচের কোন উপাদানটি বায়ুতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. অক্সিজেন
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
আমাদের চারপাশের বায়ু বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। এর মধ্যে নাইট্রোজেন সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৮ শতাংশ। এরপর আছে অক্সিজেন, প্রায় ২১ শতাংশ। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ খুবই সামান্য, মাত্র ০.০৩ থেকে ০.০৪ শতাংশের মতো। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও আবহাওয়াভেদে বদলায়। আমরা অক্সিজেনের কথা বেশি শুনি বলে অনেকে ভাবে অক্সিজেনই সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আসলে নাইট্রোজেনই প্রায় তিন-চতুর্থাংশের বেশি জায়গা দখল করে আছে।
মনে রাখুন:
শুষ্ক বায়ুতে প্রায় ০.৯ শতাংশ আর্গন থাকে। বায়ুতে সবচেয়ে বেশি থাকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গন।
উদ্ভিদ নাইট্রোজেন সরাসরি বায়ু থেকে নিতে পারে না, ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে যৌগরূপে নেয়। - ৩২. নিচের কোন গ্যাসটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. নাইট্রাস অক্সাইড
- গ. কার্বন ডাই-সালফাইড
- ঘ. জলীয় বাষ্প
উত্তর: গ. কার্বন ডাই-সালফাইড
যে গ্যাস অবলোহিত তাপীয় বিকিরণ শুষে পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে, সেটিই গ্রিনহাউস গ্যাস। জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজোন এবং ক্লোরোফ্লোরো কার্বন এই গ্যাসগুলোর মধ্যে পড়ে। কার্বন ডাই-সালফাইড (CS₂) একটি উদ্বায়ী তরল যৌগ। এর মূল ব্যবহার শিল্পে দ্রাবক হিসেবে, বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখার জন্য এটি পরিচিত নয়। তাই অপশনের বাকি তিনটি গ্রিনহাউস গ্যাস হলেও এটি নয়।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা খুব কম হতো, প্রাণের জন্য অনুপযুক্ত।
বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ মানুষের কাজে বাড়তে থাকা CO₂ ও মিথেন। - ৩৩. কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. O₂
- খ. O₃
- গ. CO₂
- ঘ. Water Vapor
উত্তর: ক. O₂
গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas) এমন গ্যাস, যা পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া তাপ শুষে নিয়ে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), পানির বাষ্প এবং ওজোন (O₃) এই ধরনের গ্যাস। কিন্তু অক্সিজেন (O₂) গ্রিনহাউস গ্যাস নয়, কারণ দুই পরমাণুর এই অণুটি অবলোহিত রশ্মি বা তাপ তেমন শোষণ করতে পারে না। নাইট্রোজেনও ঠিক একই কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর ভূমিকা কার্বন ডাই-অক্সাইডের।
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যেত।
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। - ৩৪. শুষ্ক বাতাসের তুলনায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের ঘনত্ব—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলীয় বাষ্প
- ক. বেশি
- খ. কম
- গ. সমান
- ঘ. কোনো সম্পর্ক নেই
উত্তর: খ. কম
বাতাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন (N₂, আণবিক ভর 28) ও অক্সিজেন (O₂, আণবিক ভর 32), তাই শুষ্ক বাতাসের গড় আণবিক ভর প্রায় 29। জলীয় বাষ্পের অণু (H₂O) আরও হালকা, এর আণবিক ভর মাত্র 18। বাতাসে জলীয় বাষ্প মিশলে কিছু ভারী অণুর জায়গায় হালকা অণু এসে বসে, কারণ একই তাপমাত্রা ও চাপে একই আয়তনে অণুর সংখ্যা সমান থাকে। ফলে মিশ্রণের গড় ভর কমে যায়। তাই আর্দ্র বাতাসের ঘনত্ব শুষ্ক বাতাসের চেয়ে কম।
মনে রাখুন:
আর্দ্র বাতাস হালকা বলে ঊর্ধ্বে ওঠে।
ঝড়-বৃষ্টির আগে বায়ুর চাপ কমে যায়, ব্যারোমিটারের পারদ নামে। - ৩৫. 'Green House' কথাটি প্রথম ব্যবহৃত হয় কোন সালে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস
- ক. ১৯৯৬
- খ. ১৮৯৬
- গ. ১৮৯০
- ঘ. ১৯৫০
উত্তর: খ. ১৮৯৬
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস সূর্যের তাপকে ধরে রেখে ভূপৃষ্ঠকে উষ্ণ রাখে, কাচের ঘর বা গ্রিনহাউস যেমন ভেতরে তাপ আটকে রাখে। এই ধারণাটি গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse effect) নামে পরিচিত। ফরাসি বিজ্ঞানী জোসেফ ফুরিয়ে ১৮২৪ সালে প্রথম ধারণা দেন। তবে সুইডিশ বিজ্ঞানী সভান্তে আরহেনিয়াস ১৮৯৬ সালে হিসাব করে দেখান, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়লে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়বে। এ কারণে প্রশ্নে ১৮৯৬ সালকেই সঠিক ধরা হয়।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় −18°C হতো।
বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় 15°C। - ৩৬. নিচের কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২২ ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. মিথেন
- খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. নাইট্রাস অক্সাইড
উত্তর: গ. অক্সিজেন
গ্রিনহাউস গ্যাস হলো বায়ুমণ্ডলের সেই গ্যাস, যা পৃথিবীর ছাড়া তাপীয় অবলোহিত বিকিরণ শুষে রাখে এবং বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড এই ধরনের গ্যাস। অক্সিজেন (O₂) দুই পরমাণুর সরল অণু, এটি অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে না, তাই গ্রিনহাউস গ্যাস নয়। মজার ব্যাপার হলো, গ্রিনহাউস গ্যাস না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা অনেক কম হতো, জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ত।
মনে রাখুন:
অন্য গ্রিনহাউস গ্যাস: ওজোন, জলীয় বাষ্প, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)।
গ্রিনহাউস প্রভাব বেশি হলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ে।
ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আটকায়। - ৩৭. বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য কোন গ্যাসটি বেশি দায়ী?শিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপসহকারী প্রকৌশলী (ড্রাফটসম্যান), ২০২২ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. মিথেন
- গ. ওজোন
- ঘ. কার্বন মনো অক্সাইড
উত্তর: ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো সূর্যের তাপকে ধরে রাখে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়। এদের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) সবচেয়ে বেশি দায়ী, কারণ কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোয়, বন কাটায় এবং কলকারখানার ধোঁয়ায় এটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। মিথেন প্রতি অণুতে বেশি তাপ আটকালেও এর পরিমাণ অনেক কম। কার্বন মনোক্সাইড সরাসরি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে প্রধান ভূমিকা রাখে না।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস প্রভাবের জন্য দায়ী প্রধান গ্যাসগুলো: CO₂, CH₄, N₂O, CFC।
ধানখেত ও গবাদিপশুর পেট থেকে মিথেন নির্গত হয়।
পৃথিবীর উষ্ণায়ন ঠেকাতে ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি হয়। - ৩৮. CFC-12 এর সংকেত কোনটি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. CFCl₃
- খ. CF₂Cl₂
- গ. CF₃Cl
- ঘ. CF₂ClCFCl₂
উত্তর: খ. CF₂Cl₂
ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) যৌগের নামকরণে একটি সহজ নিয়ম আছে। সংখ্যার সঙ্গে 90 যোগ করলে তিন অঙ্ক পাওয়া যায়, যা যথাক্রমে কার্বন, হাইড্রোজেন ও ফ্লোরিন পরমাণুর সংখ্যা। CFC-12-এর ক্ষেত্রে 12 + 90 = 102, অর্থাৎ কার্বন ১টি, হাইড্রোজেন ০টি, ফ্লোরিন ২টি। মিথেনের মতো কার্বনে মোট ৪টি বন্ধন থাকে, তাই বাকি ২টি জায়গায় ক্লোরিন বসে এবং সংকেত হয় CF₂Cl₂। একই নিয়মে CFC-11 হলো CFCl₃ এবং CFC-13 হলো CF₃Cl।
মনে রাখুন:
CFC-12 (ডাইক্লোরোডাইফ্লোরোমিথেন) রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
CFC ওজোন স্তর ক্ষয় করে।
CFC-কে ফ্রেয়নও বলা হয়। - ৩৯. বাতাসে নাইট্রোজেন গ্যাস আছে কত ভাগ?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. শতকরা ৬০ ভাগ
- খ. শতকরা ৬৫ ভাগ
- গ. শতকরা ৭০ ভাগ
- ঘ. শতকরা ৭৯ ভাগ
উত্তর: ঘ. শতকরা ৭৯ ভাগ
বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি আছে নাইট্রোজেন গ্যাস। আধুনিক মাপে এর পরিমাণ আয়তনে প্রায় ৭৮ ভাগ। এখানে চারটি বিকল্পের মধ্যে ৭৮-এর সবচেয়ে কাছের সংখ্যা ৭৯, তাই ‘শতকরা ৭৯ ভাগ’ উত্তরটিই এখানে গ্রহণযোগ্য।
অন্য বিকল্পগুলো অনেক দূরে। নাইট্রোজেন তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে বাতাসের অক্সিজেনকে লঘু করে রাখে, তাই জিনিস হঠাৎ দ্রুত পুড়ে যায় না।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮%, অক্সিজেন প্রায় ২১%, আর্গন প্রায় ০.৯৩%, কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৪%।
পুরোনো বইয়ে নাইট্রোজেন ৭৯% আর অক্সিজেন ২১% ধরা হয়।
নাইট্রোজেনের প্রতীক N।
নাইট্রোজেন চক্রের মাধ্যমে বাতাসের নাইট্রোজেন আবার মাটিতে ফিরে আসে। - ৪০. করোনার কারণে কোন গ্যাসের সৃষ্টি হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন
- ক. CO₂
- খ. O₂
- গ. O₃
- ঘ. সবকয়টি
উত্তর: গ. O₃
উচ্চ ভোল্টেজের তারের চারপাশের বাতাসে বিদ্যুৎ ক্ষরণ হলে সেখানে হালকা নীলচে আলো দেখা যায় এবং আশপাশের বাতাস আয়নিত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে করোনা নিঃসরণ (Corona Discharge) বলে। এই সময় বাতাসের অক্সিজেন অণু ভেঙে নতুন করে জুড়ে গিয়ে ওজোন (O₃) তৈরি হয়। তাই উত্তর ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সাধারণ অক্সিজেন নয়।
মনে রাখুন: ওজোন হলো অক্সিজেনেরই একটি রূপ (বহুরূপতা)। বজ্রপাতের সময়ও বাতাসে অল্প ওজোন তৈরি হয় বলে ঝড়ের পরে একটা বিশেষ গন্ধ পাওয়া যায়।
ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকে এবং সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। - ৪১. বৃষ্টিপাত সাধারণত কোন এককে পরিমাপ করা হয়?স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী/নকশাকার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৃষ্টিপাত
- ক. বর্গমিটার
- খ. ঘনমিটার
- গ. মিলিমিটার
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. মিলিমিটার
বৃষ্টিপাত পরিমাপের যন্ত্রের নাম রেইনগেজ (Rain gauge)। এটি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে যত গভীরতার পানি জমেছে, তা মাপে। তাই বৃষ্টিপাত সাধারণত মিলিমিটার (mm) এককে প্রকাশ করা হয়। বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের একক এবং ঘনমিটার আয়তনের একক। এই দুটি দিয়ে বৃষ্টির গভীরতা প্রকাশ করা হয় না। রেইনগেজ খোলা জায়গায় বসানো হয়, যাতে গাছ বা ঘরের আড়াল ছাড়াই বৃষ্টির পানি সোজা জমা হয়।
মনে রাখুন: ১ মিলিমিটার বৃষ্টি মানে ১ বর্গমিটার জায়গায় ১ লিটার পানি জমা।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে।
বাতাসের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার। - ৪২. উষ্ণতার জন্য দায়ী প্রধান গ্যাস কোনটি?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস প্রভাব
- ক. মিথেন
- খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. ওজোন
উত্তর: খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
পৃথিবী গরম হয়ে ওঠার প্রধান কারণ গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse effect)। সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবী থেকে ফিরে যেতে চাইলে বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস সেটি আটকে রাখে। জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), তাই উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী গ্যাস এটিই। মিথেনও তাপ আটকায়, তবে এর পরিমাণ অনেক কম।
মনে রাখুন:
আরও গ্রিনহাউস গ্যাস: মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, CFC, জলীয় বাষ্প।
নাইট্রোজেন গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী গ্যাস CFC।
বাতাসে CO₂ বাড়লে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ে, মেরুর বরফ গলে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। - ৪৩. Clean dry air-এ কত শতাংশ Oxygen থাকে?স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. 75
- খ. 15
- গ. 23
- ঘ. 48
উত্তর: গ. 23
শুষ্ক ও পরিষ্কার বাতাসে আয়তন হিসাবে অক্সিজেন প্রায় ২১ শতাংশ, আর নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ। কিন্তু ভর বা ওজনের হিসাবে বাতাসে অক্সিজেন প্রায় ২৩ শতাংশ। প্রশ্নের বিকল্পে ২১ নেই, আছে ২৩, আর সেটি ভরের হিসাবে সঠিক মান, তাই এটিই গ্রহণযোগ্য উত্তর। পরিবেশ প্রকৌশলে বাতাসের গঠন প্রায়ই ওজনের হিসাবে বলা হয়।
মনে রাখুন:
আয়তন হিসাবে: নাইট্রোজেন ৭৮.০৯%, অক্সিজেন ২০.৯৫%, আর্গন ০.৯৩%, কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৪%।
ভর হিসাবে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৫.৫%।
বাতাসের গ্যাসগুলো মিশে থাকলেও রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয় না, তাই বাতাস যৌগ নয়, মিশ্রণ।
বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত। - ৪৪. বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়—প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. অক্সিজেন
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. মিথেন
উত্তর: খ. নাইট্রোজেন
আমাদের চারপাশের বাতাসের প্রায় ৭৮ ভাগই নাইট্রোজেন (Nitrogen), অক্সিজেন প্রায় ২১ ভাগ। এর পরে আর্গন প্রায় ০.৯৩ ভাগ, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্র প্রায় ০.০৪ ভাগ। অক্সিজেন আমরা শ্বাসে নিই বলে অনেকে মনে করে যে সেটিই সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আসলে নাইট্রোজেনই সবচেয়ে বেশি। বাতাসের প্রায় অর্ধেক ভর ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫.৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের ক্রম: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড।
মিথেন বায়ুতে অতি সামান্য থাকে, কিন্তু এটি একটি গ্রিনহাউস গ্যাস।
জলীয় বাষ্প স্থানভেদে বদলায়, তাই বাতাসের গঠন শুষ্ক বাতাস ধরে হিসাব করা হয়। - ৪৫. বায়ুমণ্ডলে নিচের কোন উপাদানটি সবচেয়ে কম?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, উপ-পরিদর্শক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ওজোন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. মিথেন
- ঘ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর: ক. ওজোন
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এর বাইরে কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৪ শতাংশ। মিথেন প্রায় ১.৮ ppm (শতাংশে ০.০০০১৮), হাইড্রোজেন প্রায় ০.৫ ppm। অপশনের চারটি গ্যাসের মধ্যে ওজোনের পরিমাণ সবচেয়ে কম, সাধারণ বাতাসে এর গড় ভাগ খুবই সামান্য। তাই ওজোনই এখানে সবচেয়ে কম থাকা উপাদান। তবু এই সামান্য গ্যাসটিই ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি আটকে প্রাণের সুরক্ষা দেয়।
মনে রাখুন:
ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বেশি জমে থাকে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আটকায়।
বায়ুতে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং অক্সিজেন প্রায় ২১ শতাংশ।
ওজোনের রাসায়নিক সংকেত O₃।
আবহাওয়াবিদেরা বায়ুর গ্যাসের পরিমাণ বোঝাতে অনেক সময় ppm (প্রতি দশ লক্ষ ভাগে কত ভাগ) এককটি ব্যবহার করেন। - ৪৬. গ্রিনহাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্ব ক্ষতি কী হবে?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উপসহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস প্রভাব
- ক. বৃষ্টিপাত হবে না
- খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
- গ. মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি হবে না
- ঘ. সাইক্লোন হবে
উত্তর: খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়লে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব সামান্য উঁচু, তাই সমুদ্রের পানি বাড়লে নিম্নভূমি, বিশেষ করে উপকূলের বড় অংশ, তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এর সঙ্গে লোনা পানি ঢুকে ফসল ও সুপেয় পানি নষ্ট করে। এ কারণে গ্রিনহাউস ইফেক্টের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো নিম্নভূমির নিমজ্জন।
মনে রাখুন:
গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে প্রধান হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন।
বায়ুমণ্ডলে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) ও নাইট্রাস অক্সাইডও গ্রিনহাউস গ্যাস।
গ্রিনহাউস ইফেক্টের ফলে সৃষ্ট এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) বলে। - ৪৭. কখনো কখনো শিলাবৃষ্টি হয়। এ ধরনের বৃষ্টির কারণ কী?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিলাবৃষ্টি
- ক. মেঘের পানির কণা খুবই উত্তপ্ত হয়ে যায়
- খ. মেঘে পানি কণার চেয়ে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে
- গ. মেঘের পানির কণার সাথে বাতাসের ভাসমান রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়ার ফলে
- ঘ. মেঘের পানির কণা খুব ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ায়
উত্তর: ঘ. মেঘের পানির কণা খুব ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ায়
গ্রীষ্মকালে প্রবল ঝড়ের মেঘে নিচ থেকে ওপরে ওঠা শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ থাকে। এই বাতাসের টানে মেঘের পানির কণা অনেক ওপরে চলে যায়, যেখানে তাপমাত্রা খুব কম। সেখানে কণাগুলো জমে বরফের টুকরো হয়ে যায়। বাতাসে ওঠানামার সময় একে একে আরও পানি জমে স্তর তৈরি হয়, ফলে টুকরোগুলো বড় ও ভারী হয়। তখন আর বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না এবং অভিকর্ষ বলের টানে নিচে পড়ে। এটিই শিলাবৃষ্টি (Hailstorm)। তাই কারণ হলো মেঘের পানির কণা খুব ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, কণা উত্তপ্ত হয়ে যাওয়া বা রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়।
মনে রাখুন:
বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে কালবৈশাখীর সময় শিলাবৃষ্টি বেশি হয়।
শিলাবৃষ্টি সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘ থেকে হয়।
শিলাবৃষ্টি ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি করে। - ৪৮. বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ২২%
- খ. ২৯%
- গ. ৩৩%
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ঘ. কোনোটিই নয়
বাতাস বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। আয়তনে এতে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮ শতাংশ, অক্সিজেন প্রায় ২১ শতাংশ (আরও নির্দিষ্ট করে ২০.৯৫ শতাংশ) এবং বাকি প্রায় ১ শতাংশ আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস। দেওয়া ২২%, ২৯% বা ৩৩% কোনোটিই এই মানের কাছাকাছি নয়, তাই উত্তর কোনোটিই নয়।
মনে রাখুন:
বাতাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, অক্সিজেন নয়।
বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্র প্রায় ০.০৩ থেকে ০.০৪ শতাংশ।
অক্সিজেন শ্বাসপ্রশ্বাস ও দহনে সাহায্য করে।
উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে বাতাসের চাপ কমে, ফলে প্রতি শ্বাসে কম অক্সিজেন পাওয়া যায়। তাই খুব উঁচু পাহাড়ে ওঠার সময় শ্বাসকষ্ট হয়। - ৪৯. আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রধান কারণ কী?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়া
- ক. বৃষ্টি
- খ. কুয়াশা
- গ. বায়ুপ্রবাহ
- ঘ. মেঘ
উত্তর: গ. বায়ুপ্রবাহ
আবহাওয়া হলো কোনো জায়গার নির্দিষ্ট সময়ের তাপমাত্রা, বৃষ্টি, বাতাস ও আর্দ্রতার অবস্থা। বায়ু যখন এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে বয়ে যায়, তখন সে তাপ ও জলীয় বাষ্প বহন করে নিয়ে যায়। ফলে নতুন জায়গায় তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত বদলে যায়। তাই আবহাওয়া বদলের প্রধান নিয়ামক হিসেবে বায়ুপ্রবাহকে ধরা হয়। বৃষ্টি, কুয়াশা ও মেঘ আবহাওয়ারই রূপ, এগুলো পরিবর্তনের মূল কারণ নয়।
উদাহরণ: গ্রীষ্মে দক্ষিণ থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে বৃষ্টি আনে।
মনে রাখুন: আবহাওয়া অল্প সময়ের অবস্থা, আর জলবায়ু কোনো স্থানের দীর্ঘদিনের গড় আবহাওয়া। - ৫০. নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ গ্যাস নয়?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. মিথেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. নাইট্রাস
- ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর: খ. অক্সিজেন
গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse gas) বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখে এবং পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে। মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এই শ্রেণির গ্যাস। অক্সিজেন (O2) তাপ আটকে রাখতে পারে না, তাই এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
মনে রাখুন:
আরও গ্রিনহাউস গ্যাস: জলীয় বাষ্প, ওজোন ও সিএফসি।
গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা অনেক কম থাকত।
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন প্রায় ২১ ভাগ থাকে, কিন্তু এটি সূর্যের তাপ আটকাতে পারে না। বাতাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেনও গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
ধান খেত ও গবাদি পশুর পাচনক্রিয়া থেকে প্রচুর মিথেন বের হয়। - ৫১. জলবায়ু পরিবর্তন বলতে বোঝায়—বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবায়ু পরিবর্তন
- ক. পৃথিবীর তাপমাত্রা পরিবর্তন
- খ. পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন
- গ. নতুন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি
- ঘ. ঘন ঘন বন্যা এবং খরা হওয়া
উত্তর: খ. পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন
জলবায়ু (Climate) মানে কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ৩০ বছর বা তার বেশি, আবহাওয়ার গড় অবস্থা। তাই জলবায়ু পরিবর্তন বলতে শুধু তাপমাত্রা নয়, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বাতাসসহ আবহাওয়ার সামগ্রিক দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন বোঝায়। বন্যা বা খরা এর ফল হতে পারে, কিন্তু সংজ্ঞা নয়।
মনে রাখুন:
আবহাওয়া হলো অল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলের অবস্থা, আর জলবায়ু দীর্ঘ সময়ের গড়।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেলের নাম IPCC।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ে। বাংলাদেশের মতো নিচু উপকূলীয় দেশের জন্য এটি বড় ঝুঁকির কারণ।
মানুষের কাজকর্ম, বিশেষ করে বন কাটা ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের বড় কারণ। - ৫২. বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সূর্যের শক্তি
- ক. ৯০ শতাংশ
- খ. ৯৪ শতাংশ
- গ. ৯৮ শতাংশ
- ঘ. ৯৯.৯৭ শতাংশ
উত্তর: ঘ. ৯৯.৯৭ শতাংশ
পৃথিবীতে আমরা যত শক্তি ব্যবহার করি, তার প্রায় সবটাই আসে সূর্য থেকে, হিসাবে যা ৯৯.৯৭ শতাংশ। সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পরমাণু একত্র হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে (নিউক্লীয় ফিউশন), আর সেই বিপুল শক্তি আলো ও তাপ হয়ে মহাশূন্য পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। বাকি শক্তি আসে ভূগর্ভের তাপ, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি অন্য উৎস থেকে।
মনে রাখুন:
গাছ সূর্যের আলো থেকে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
কয়লা, তেল ও গ্যাস মূলত কোটি কোটি বছর আগের সৌরশক্তিরই সঞ্চিত রূপ। - ৫৩. বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি কোন গ্যাস বিদ্যমান?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. অক্সিজেন
- খ. হিলিয়াম
- গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: ঘ. নাইট্রোজেন
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি আছে নাইট্রোজেন, প্রায় ৭৮ ভাগ। এর পরে আছে অক্সিজেন, প্রায় ২১ ভাগ, আর তারপর আর্গন। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ মাত্র কয়েক শতাংশের ভগ্নাংশ, আর হিলিয়াম আরও কম। নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে বাতাসে সহজে বিক্রিয়া করে না, ফলে আমাদের শ্বাস নেওয়ার সময় অক্সিজেনের তীব্রতা কমে থাকে।
মনে রাখুন:
বাতাসের প্রায় ৯৯ ভাগই নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
গাছ সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেন নিতে পারে না, কিছু ব্যাকটেরিয়া তাকে ব্যবহারযোগ্য যৌগে পরিণত করে।
বায়ুতে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮.০৮ ভাগ, অক্সিজেন প্রায় ২০.৯৫ ভাগ, আর্গন প্রায় ০.৯৩ ভাগ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৩ ভাগ।
বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও সময়ভেদে বদলায়। - ৫৪. বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সূর্যের শক্তি
- ক. ৯৯.৯৭%
- খ. ৯৮%
- গ. ৯৪%
- ঘ. ৯০%
উত্তর: ক. ৯৯.৯৭%
পৃথিবীতে যত শক্তি আছে, তার প্রায় পুরোটাই আসে সূর্য থেকে, হিসাবে ৯৯.৯৭ শতাংশ। সূর্যের ভেতরে হাইড্রোজেন মিলে হিলিয়াম হওয়ার সময় (নিউক্লীয় ফিউশন) প্রচুর শক্তি মুক্ত হয়, আর সেই শক্তি বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌঁছায়। পৃথিবীর নিজস্ব তাপ ও অন্যান্য উৎস মিলে মাত্র সামান্য অংশ দেয়।
মনে রাখুন:
জীবাশ্ম জ্বালানি ও বায়ুপ্রবাহ মূলত সৌরশক্তিরই রূপান্তর।
সূর্যালোক থেকে গাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
সৌরশক্তির মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ পৃথিবীতে পৌঁছায়, তবু তা দিয়েই পৃথিবীর জলবায়ু, বায়ুপ্রবাহ ও জীবজগৎ চলে। সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় নেয়। - ৫৫. বায়ুমণ্ডলে শতকরা কতভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড বিদ্যমান?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টাফ অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ০.৩
- খ. ০.৪১
- গ. ০.০৩
- ঘ. ০.৮০
উত্তর: গ. ০.০৩
বায়ুমণ্ডলের গঠনে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন, তারপর অক্সিজেন। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) অনেক কম, পরীক্ষায় এর পরিমাণ সাধারণত প্রায় ০.০৩ শতাংশ ধরা হয়। গাছ এই গ্যাস নিয়েই সালোকসংশ্লেষণ করে খাদ্য তৈরি করে।
হালনাগাদ: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বর্তমানে এর পরিমাণ বেড়ে প্রায় ০.০৪২ শতাংশে (প্রায় 420 ppm বা তার বেশি) পৌঁছেছে।
মনে রাখুন: CO₂ একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, বাড়লে বিশ্ব উষ্ণ হয়।
বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কম হলেও এর অভাবে গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারত না এবং পৃথিবী অনেক ঠান্ডা হয়ে যেত। তবে বাড়তি পরিমাণ উষ্ণায়ন ঘটায়। - ৫৬. বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাস সর্বাধিক পরিমাণে পাওয়া যায় ?এনটিআরসিএ, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. অক্সিজেন
- খ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, যা আয়তনে প্রায় ৭৮ ভাগ। এর পরেই অক্সিজেন, প্রায় ২১ ভাগ। আর্গন প্রায় ০.৯ ভাগ, আর কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ মাত্র ০.০৪ ভাগের মতো। বাকি সামান্য অংশে আছে নিয়ন, হিলিয়াম, মিথেন ও জলীয় বাষ্প। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও আবহাওয়ার সঙ্গে বদলায়, তাই একে স্থির উপাদান ধরা হয় না। শুষ্ক বাতাসে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিয়ে প্রায় ৯৯ ভাগ হয়।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো আচরণ করে বলে অক্সিজেনের দহনক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গন।
উদ্ভিদ নাইট্রোজেন সরাসরি নিতে পারে না, মাটির ব্যাকটেরিয়া একে নাইট্রেটে বদলে দেয়। - ৫৭. ভূমি থেকে বহু উপরে (যেমন- পর্বতের চূড়ায়) উঠলে শ্বাসকষ্ট হয়, কারণ -জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপ-পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর চাপ
- ক. উপরে বায়ুর চাপ বেশি
- খ. উপরে বায়ুর চাপ কম
- গ. উপরে বায়ুতে ওজন কম
- ঘ. খ ও গ উভয়টিই ঠিক
উত্তর: খ. উপরে বায়ুর চাপ কম
আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় বায়ুর অক্সিজেন ফুসফুসে টেনে নিই। উঁচু পাহাড়ে বায়ুর চাপ কম থাকে, আর চাপ কম হলে অক্সিজেনেরও আংশিক চাপ কমে যায়। ফলে প্রতিবার শ্বাসে রক্তে কম অক্সিজেন ঢোকে, তাই শ্বাসকষ্ট হয়। এখানে সঠিক কারণ হলো উপরে বায়ুর চাপ কম। 'বায়ুতে ওজন কম' কথাটি বিজ্ঞানসম্মত কারণ নয়। শ্বাস নেওয়ার জন্য বাতাসের পরিমাণ নয়, বরং অক্সিজেনের আংশিক চাপই আসল। চাপ কমলে ফুসফুস যথেষ্ট অক্সিজেন টানতে পারে না।
মনে রাখুন:
উচ্চতা বাড়লে বায়ুমণ্ডল পাতলা হয়, তাই বায়ুচাপ কমে।
পর্বতারোহীরা এ কারণে প্রায়ই অক্সিজেন সিলিন্ডার সঙ্গে নেন। - ৫৮. পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করলে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, কারণ ওখানে-দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সহকারী পরিদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর চাপ
- ক. অক্সিজেন কম থাকে
- খ. বায়ুর চাপ কম থাকে
- গ. বায়ুর চাপ বেশি থাকে
- ঘ. বায়ু ঠাণ্ডা থাকে
উত্তর: খ. বায়ুর চাপ কম থাকে
উঁচু পাহাড়ে বায়ুর চাপ অনেক কম। আমাদের শরীরের ভেতরের রক্তের চাপ কিন্তু সমুদ্রতলের স্বাভাবিক চাপের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি। বাইরের চাপ কমে গেলে ভেতরের চাপ তুলনায় বেড়ে যায়, ফলে নাকের মতো সূক্ষ্ম রক্তনালি ফেটে রক্ত বের হতে পারে। তাই এর কারণ হলো সেখানে বায়ুর চাপ কম। তবে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শরীর কিছুদিন সময় নেয়, তাই পর্বতারোহীরা ধীরে ধীরে ওপরে ওঠেন।
মনে রাখুন:
অক্সিজেনের অভাবও পাহাড়ে কষ্টের কারণ, কিন্তু নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সরাসরি কারণ বাইরের কম চাপ।
মহাকাশচারীরা বিশেষ চাপ-নিয়ন্ত্রিত পোশাক পরেন, যাতে শরীরের ভেতর-বাইরের চাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। - ৫৯. ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বহু উপরে উঠলে শরীর ফেটে রক্ত পড়ে কেন?সহকারী উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসার, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর চাপ
- ক. সেখানে বায়ুর চাপ কম
- খ. সেখানে বায়ুতে অক্সিজেন কম থাকে
- গ. সেখানে বায়ু গরম
- ঘ. সেখানে বায়ু শীতল
উত্তর: ক. সেখানে বায়ুর চাপ কম
আমাদের শরীরের ভেতরের রক্তচাপ বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চাপের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলে। অনেক উঁচুতে উঠলে বাইরের বায়ুর চাপ খুব কমে যায়, ফলে ভেতরের চাপ বাইরের চেয়ে বেশি হয়ে পড়ে। তখন সূক্ষ্ম রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্ত বের হতে পারে। তাই এর কারণ হলো সেখানে বায়ুর চাপ কম। তবে সাধারণ উচ্চতার ভ্রমণে এমন সমস্যা হয় না, কেবল কয়েক হাজার মিটার ওপরে উঠলে এ রকম অসুবিধা দেখা দেয়। বিমানের ভেতরে চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে যাত্রীরা নিরাপদ থাকেন।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলের চাপ উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে।
বিমানের ভেতরের বায়ুচাপ কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যাতে যাত্রীদের এ ধরনের সমস্যা না হয়। - ৬০. শীতকালে ঠোঁট ও গায়ের চামড়া ফেটে যায়, কারণ-সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. বাতাস ঠাণ্ডা বলে
- খ. বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি বলে
- গ. বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম বলে
- ঘ. শীতকালে ঘাম কম হয় বলে
উত্তর: গ. বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম বলে
বাতাসে কী পরিমাণ জলীয় বাষ্প আছে, তাকে বলে আর্দ্রতা (Humidity)। কোনো তাপমাত্রায় বাতাস সর্বোচ্চ যতটা জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে, তার তুলনায় বাস্তবে কতটা আছে, সেটিই আপেক্ষিক আর্দ্রতা। শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকে, অর্থাৎ আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে। তখন আমাদের ত্বক ও ঠোঁট থেকে পানি দ্রুত বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, ফলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়। শুধু শীতে নয়, মরুভূমির মতো শুষ্ক এলাকায়ও ত্বক ও ঠোঁট একইভাবে ফাটে।
মনে রাখুন:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার।
বর্ষাকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে, তাই তখন ত্বক শুষ্ক হয় না। - ৬১. কোনটি বায়ুর উপাদান?আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের উপাদান
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: ক. নাইট্রোজেন
বায়ুর সবচেয়ে বড় উপাদান নাইট্রোজেন (N₂), যা আয়তনের প্রায় ৭৮ শতাংশ। এরপর আছে অক্সিজেন, প্রায় ২১ শতাংশ। বাকি সামান্য অংশে আছে আর্গন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নিয়ন ও অন্যান্য গ্যাস এবং জলীয় বাষ্প। হাইড্রোজেন বায়ুতে অতি সামান্য থাকে, আর কার্বন ও ফসফরাস মূল মৌল অবস্থায় বায়ুর উপাদান নয়।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো আচরণ করে, তাই বাতাসে জিনিস দ্রুত পুড়ে যায় না।
উদ্ভিদ নাইট্রোজেন সরাসরি নিতে পারে না, ব্যাকটেরিয়া এটিকে যৌগে রূপান্তর করে দেয়।
আয়তন হিসাবে বায়ুর উপাদান: নাইট্রোজেন ৭৮.০৮%, অক্সিজেন ২০.৯৫%, আর্গন ০.৯৩% এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্র ০.০৪% এর মতো।
বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ স্থান ও সময়ভেদে বদলায়। - ৬২. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো-বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের উপাদান
- ক. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
- খ. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
- গ. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
- ঘ. অক্সিজেন ও কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর: ক. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি গ্যাস হলো নাইট্রোজেন (প্রায় ৭৮%) ও অক্সিজেন (প্রায় ২১%)। এই দুটি মিলে বায়ুর প্রায় ৯৯ শতাংশ গঠন করে। বাকি সামান্য অংশে আছে আর্গন (প্রায় ০.৯৩%), কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আরও কিছু গ্যাস।
মনে রাখুন:
অক্সিজেন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্বলনে লাগে।
নাইট্রোজেন অক্সিজেনের তীব্রতা কমিয়ে রাখে এবং উদ্ভিদের প্রোটিন তৈরির উপাদান জোগায়।
কার্বন মনোক্সাইড বায়ুর স্বাভাবিক উপাদান নয়, এটি দূষণের ফল।
বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের টানে ধরা থাকে।
উচ্চতা বাড়লে বায়ু পাতলা হয়, তাই পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার সময় অক্সিজেনের অভাবে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়।
বায়ুর অন্য গ্যাসের মধ্যে আছে আর্গন, নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপ্টন ও জেনন। এগুলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত। - ৬৩. বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক পাওয়া যায় -চবি (ডি উপ-ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের উপাদান
- ক. অক্সিজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে নাইট্রোজেন (N₂), আয়তনের প্রায় ৭৮ শতাংশ। এটি সরাসরি আমাদের কাজে না লাগলেও বায়ুর অক্সিজেনকে পাতলা করে রাখে, ফলে জ্বলন ও শ্বসনের তীব্রতা ঠিক থাকে। অক্সিজেন বায়ুতে প্রায় ২১ শতাংশ। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ খুবই কম, কিন্তু এটি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় বৃহত্তম উপাদান আর্গন, প্রায় ০.৯৩%।
হাইড্রোজেন বায়ুতে অতি সামান্য থাকে।
অক্সিজেন আলাদা করা হয় তরল বাতাসের আংশিক পাতন পদ্ধতিতে।
নাইট্রোজেন তরল অবস্থায় প্রায় −১৯৬° সেলসিয়াসে ফোটে, আর এটি খাদ্য ও রক্ত সংরক্ষণে ঠান্ডা করার কাজে ব্যবহার হয়।
নাইট্রোজেন দিয়েই ইউরিয়া সার তৈরি হয়। - ৬৪. পরিমাণের বিবেচনায় বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের স্থান-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (নৃবিজ্ঞান) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের উপাদান
- ক. ১ম
- খ. ২য়
- গ. ৪র্থ
- ঘ. ৫ম
উত্তর: খ. ২য়
বায়ুর উপাদানগুলোকে পরিমাণ অনুযায়ী সাজালে প্রথম নাইট্রোজেন (প্রায় ৭৮%), দ্বিতীয় অক্সিজেন (প্রায় ২১%), তৃতীয় আর্গন (প্রায় ০.৯৩%) এবং চতুর্থ কার্বন ডাই-অক্সাইড। তাই অক্সিজেনের স্থান দ্বিতীয়।
মনে রাখুন:
অক্সিজেন ছাড়া প্রাণীরা বাঁচতে পারে না, কারণ কোষে খাদ্য জারণের জন্য এটি লাগে।
সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় অক্সিজেন ছাড়ে, ফলে বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ মোটামুটি স্থির থাকে।
সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাবার তৈরি করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অক্সিজেন থেকে ওজোন (O₃) তৈরি হয়।
কার্বন ডাই-অক্সাইড তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে থাকে এবং অনেক কম।
আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যা ইলেকট্রিক বাল্ব ভরার কাজে ব্যবহৃত হয়।
অক্সিজেনের পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে প্রাণীর শ্বাসকষ্ট হয়। - ৬৫. বাতাসে মিথেনের পরিমাণ কত?CAG'র অধীক্ষক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের উপাদান
- ক. ০.০০২%
- খ. ০.০০০২%
- গ. ০.০০০০২%
- ঘ. ০.০০০০০২%
উত্তর: খ. ০.০০০২%
বায়ুতে মিথেন (CH₄) খুব অল্প পরিমাণে থাকে, আয়তনের প্রায় ২ ppm, অর্থাৎ প্রতি ১০ লক্ষ ভাগে প্রায় ২ ভাগ। শতাংশে লিখলে এটি প্রায় ০.০০০২%। তবে পরিমাণ কম হলেও মিথেন শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, যা প্রতি অণুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বেশি তাপ আটকে রাখে।
মনে রাখুন:
ধানখেত, জলাভূমি, গবাদি পশুর পরিপাক ও আবর্জনার স্তূপ থেকে মিথেন তৈরি হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।
মিথেন গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন, আর বাতাসের চেয়ে হালকা। বায়ুতে এর পরিমাণ অল্প হলেও শিল্প বিপ্লবের পর থেকে বাড়ছে।
গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বন। - ৬৬. বায়ুমণ্ডলের স্তর কয়টি?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. ৩টি
- খ. ৪টি
- গ. ৫টি
- ঘ. ৬টি
উত্তর: গ. ৫টি
বায়ুমণ্ডলকে তাপমাত্রার তারতম্য অনুযায়ী পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে স্তরগুলো হলো: ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার। প্রতিটি স্তরের তাপমাত্রার ধরন আলাদা, আর প্রতিটির মাঝে একটি করে সীমারেখা আছে।
মনে রাখুন:
সীমারেখাগুলোর নাম ট্রপোপজ, স্ট্রাটোপজ, মেসোপজ ও থার্মোপজ।
ওজোন স্তর স্ট্রাটোস্ফিয়ারে আছে।
আয়নোস্ফিয়ার আলাদা স্তর নয়; এটি মেসোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ারের একটি আয়নিত অংশ।
বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৯ শতাংশ বায়ু ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে।
বায়ুমণ্ডলের কোনো নির্দিষ্ট বাইরের সীমানা নেই; এক্সোস্ফিয়ার ধীরে ধীরে মহাশূন্যে মিশে যায়।
আয়নোস্ফিয়ার থেকে রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে দূরের স্থানে পৌঁছায়। - ৬৭. ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ু স্তরকে কী বলা হয়?GDA এর ইমারত পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. ট্রপোস্ফিয়ার
- খ. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
- গ. ফটোস্ফিয়ার
- ঘ. এক্সস্ফিয়ার
উত্তর: ক. ট্রপোস্ফিয়ার
ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছের বায়ুস্তরের নাম ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)। এর উচ্চতা মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার ও নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এই স্তরে বায়ু ঘন এবং জলীয় বাষ্প থাকে, তাই মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাত এখানেই ঘটে।
মনে রাখুন:
ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে, প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৬.৫° সেলসিয়াস।
এর ওপরের স্তরটির নাম স্ট্রাটোস্ফিয়ার।
ফটোস্ফিয়ার হলো সূর্যের দৃশ্যমান বাইরের স্তর, বায়ুমণ্ডলের স্তর নয়।
ট্রপোস্ফিয়ারের পরের স্তরের নাম স্ট্রাটোস্ফিয়ার।
ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মাঝের সীমারেখার নাম ট্রপোপজ।
বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৫ শতাংশ ভর এই স্তরেই রয়েছে, আর জলীয় বাষ্পের প্রায় সবটাই এখানে থাকে। - ৬৮. বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে প্রাকৃতিক ঝড়-ঝঞ্ঝা সংঘটিত হয় তার নাম-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
- খ. মেসোস্ফিয়ার
- গ. আয়নোস্ফিয়ার
- ঘ. ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর: ঘ. ট্রপোস্ফিয়ার
ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো আবহাওয়ার প্রায় সব ঘটনা বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ারে ঘটে। সূর্যের তাপে ভূ-পৃষ্ঠ গরম হয়ে ওপরের বায়ু ওঠানামা করে, আর এই স্তরে জলীয় বাষ্প থাকে বলে মেঘ ও বৃষ্টি তৈরি হয়। ওপরের স্তরগুলোতে জলীয় বাষ্প প্রায় নেই, তাই সেখানে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন হয় না।
মনে রাখুন:
বিমান সাধারণত স্ট্রাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে ওড়ে, যেখানে আকাশ শান্ত।
ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের সীমারেখার নাম ট্রপোপজ।
ট্রপোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা উচ্চতার সঙ্গে কমে, আর এর ওপর ওজোন স্তর থাকা স্ট্রাটোস্ফিয়ারে তাপমাত্রা বাড়ে।
আয়নোস্ফিয়ার আয়নিত গ্যাসের অঞ্চল, যা রেডিও যোগাযোগে সহায়তা করে।
মেসোস্ফিয়ার আবহাওয়া নয়, উল্কাপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। - ৬৯. বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম-DYD'র ক্রেডিট সুপারভাইজার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. ট্রপোমণ্ডল
- খ. আয়নোমণ্ডল
- গ. স্ট্রাটোমণ্ডল
- ঘ. এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: গ. স্ট্রাটোমণ্ডল
বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে এই ক্রমে সাজানো: ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার। এখানে প্রথম স্তর ট্রপোস্ফিয়ার, আর দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)। এর উচ্চতা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
মনে রাখুন:
স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর আছে, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
এখানে ওপরের দিকে উঠলে তাপমাত্রা বাড়ে।
এই স্তরে মেঘ ও ঝড় নেই, তাই বিমান চলাচলের জন্য শান্ত।
এই স্তরের নিচের অংশ সবচেয়ে ঠান্ডা এবং ওপরের অংশ বেশ গরম, কারণ ওজোন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে তাপ ছাড়ে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর প্রাণীকুলের সুরক্ষাকবচ। - ৭০. বায়ুমণ্ডলে শীতল ও উষ্ণতম স্তর কোনটি?রবি (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডলের স্তর
- ক. Mesosphere and Thermosphere
- খ. Mesosphere and Thermopause
- গ. Mesosphere and Ionosphere
- ঘ. Exosphere and Mesosphere
উত্তর: ক. Mesosphere and Thermosphere
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere), যেখানে তাপমাত্রা নামতে নামতে প্রায় −৯০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়। সবচেয়ে উষ্ণ স্তর থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere), যেখানে সূর্যের উচ্চশক্তির বিকিরণ শোষিত হয়ে তাপমাত্রা অনেক হাজার ডিগ্রিতে ওঠে। তবে এই স্তরে বায়ু এত পাতলা যে সেই উচ্চ তাপমাত্রা আমরা অনুভব করতে পারব না।
মনে রাখুন:
মহাকাশ থেকে আসা উল্কা মূলত মেসোস্ফিয়ারে এসে জ্বলে ওঠে।
থার্মোস্ফিয়ারে অরোরা বা মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
বায়ুমণ্ডলের প্রতিটি স্তরের মাঝের সীমারেখার নামও জানা দরকার: মেসোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ারের মাঝের সীমারেখার নাম মেসোপজ, যেখানে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন হয়।
মেসোস্ফিয়ারের উচ্চতা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ কিলোমিটার।
থার্মোস্ফিয়ার প্রায় ৮০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। - ৭১. আবহাওয়া সম্পর্কীয় বিজ্ঞান-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়া ও জলবায়ু
- ক. মেটালার্জি
- খ. অ্যাস্ট্রোলজি
- গ. মেটিওরোলজি
- ঘ. মিনার্যালজি
উত্তর: গ. মেটিওরোলজি
আবহাওয়া নিয়ে পড়াশোনার বিজ্ঞানের নাম মেটিওরোলজি (Meteorology)। এতে তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বৃষ্টি, বায়ুর আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং এসব তথ্য থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এই বিজ্ঞানই কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
মেটালার্জি (Metallurgy) হলো ধাতুবিদ্যা।
অ্যাস্ট্রোলজি (Astrology) হলো জ্যোতিষবিদ্যা, যা বিজ্ঞান নয়।
মিনার্যালজি (Mineralogy) হলো খনিজবিদ্যা।
জলবায়ুর বিজ্ঞানের নাম ক্লাইমেটোলজি (Climatology)।
আবহাওয়া কোনো স্থানের একটি নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, যেমন আজ গরম বা কাল বৃষ্টি।
আবহাওয়ার উপাদান: তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ও মেঘ।
আবহাওয়া মাপার যন্ত্রগুলোর মধ্যে আছে থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার ও বৃষ্টিমাপক যন্ত্র। - ৭২. 'Climate' হলো-পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়া ও জলবায়ু
- ক. আবহাওয়া
- খ. পরিবেশ
- গ. জলবায়ু
- ঘ. ঋতু
উত্তর: গ. জলবায়ু
ইংরেজি Climate শব্দের বাংলা অর্থ জলবায়ু। কোনো স্থানের আবহাওয়া দিনে দিনে বদলায়, কিন্তু জলবায়ু বলতে সেই স্থানের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ৩০ বছরের, আবহাওয়ার গড় অবস্থা বোঝায়। তাই বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি, কিন্তু আজকের আবহাওয়া হয়তো বৃষ্টিমুখর।
মনে রাখুন:
আবহাওয়ার ইংরেজি Weather।
পরিবেশের ইংরেজি Environment, ঋতুর ইংরেজি Season।
আবহাওয়া কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের অবস্থা, আর জলবায়ু কয়েক দশকের গড় অবস্থা।
কোনো স্থানের জলবায়ু নির্ধারণ করে অক্ষাংশ, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, উচ্চতা ও সমুদ্রস্রোতের মতো বিষয়।
বাংলাদেশে ছয়টি ঋতু আছে: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
আবহাওয়ার ইংরেজি প্রতিশব্দ Weather, আর ঋতু হলো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়, যেমন শীত বা বর্ষা। - ৭৩. জলবায়ু পরিবর্তন বলতে বুঝায়?BPSC'র ইলেকট্রিক ইন্সপেক্টর, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবায়ু পরিবর্তন
- ক. পৃথিবীর তাপমাত্রা পরিবর্তন
- খ. পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং আবহাওয়া দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন
- গ. নতুন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি
- ঘ. ঘন ঘন বন্যা এবং খরা হওয়া
উত্তর: খ. পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং আবহাওয়া দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তন (Climate change) বলতে বোঝায় পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার ধরনের দীর্ঘমেয়াদী বদল। শুধু তাপমাত্রা বাড়ার কথা এখানে সীমাবদ্ধ নয়। বৃষ্টির ধরন, ঝড়ের ঘনঘটা, সমুদ্রের পানির উচ্চতা ইত্যাদিও এর মধ্যে পড়ে। আজকের দিনে এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো।
মনে রাখুন:
বন্যা ও খরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হতে পারে, এগুলো নিজে জলবায়ু পরিবর্তন নয়।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি।
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়লে বায়ুমণ্ডল বেশি তাপ ধরে রাখে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ে, একে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা বিপদে পড়ে। - ৭৪. জলবায়ু পরিবর্তন পরিমাপের কত বছরের পরিবর্তনকে ধরা হয়?জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (নৃবিজ্ঞান) ভর্তি, ২০০৯-১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়া ও জলবায়ু
- ক. ১০
- খ. ২০
- গ. ৩০
- ঘ. ৪০
উত্তর: গ. ৩০
জলবায়ু বলতে কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের গড় আবহাওয়ার অবস্থা বোঝায়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এর জন্য সাধারণত ৩০ বছরের গড় ধরে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মাপতে হলে অন্তত ৩০ বছরের তথ্যের তুলনা করতে হয়। ১০ বা ২০ বছরের পরিবর্তন দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, কারণ সেটি স্বল্পমেয়াদি ওঠানামাও হতে পারে।
মনে রাখুন:
আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা।
জলবায়ুর বিজ্ঞানকে বলে ক্লাইমেটোলজি।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC) জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বিশ্ব গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২° সেলসিয়াসের নিচে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। - ৭৫. কোন স্থানের জলবায়ু কিসের উপর নির্ভর করে?পাবলিক সার্ভিস কমিশনে সহকারী পরিচালক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবায়ুর নিয়ামক
- ক. বিষুবরেখা হতে এর দূরত্ব
- খ. সাগর বা মহাসাগর হতে এর দূরত্ব
- গ. সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা
- ঘ. উপরের সবগুলোই
উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলোই
একটি স্থানের জলবায়ু কোনো একটি মাত্র কারণে ঠিক হয় না, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে। নিরক্ষরেখা থেকে দূরত্ব বা অক্ষাংশ ঠিক করে সূর্যের আলো কতটা লম্বভাবে পড়বে, তাই নিরক্ষরেখার কাছে গরম আর মেরুর কাছে ঠান্ডা। সাগর থেকে দূরত্বও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাগরের কাছে তাপমাত্রার ওঠানামা কম থাকে। আবার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়লে বাতাস পাতলা হয় বলে তাপমাত্রা কমে যায়। এই কারণেই একই দেশের দুই জায়গার জলবায়ু আলাদা হতে পারে। যেমন আমাদের দেশের সমতলে গরম বেশি পড়লেও পাহাড়ি অঞ্চলে তুলনামূলক কম গরম পড়ে।
মনে রাখুন: এই তিনটির সঙ্গে সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ ও পর্বতের অবস্থানও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে। - ৭৬. বায়ুর শক্তি (বা তাপের) প্রধান উৎস কি?বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের উৎস
- ক. সৌরজগৎ
- খ. নীহারিকা
- গ. সূর্য
- ঘ. ধূমকেতু
উত্তর: গ. সূর্য
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপের প্রধান উৎস সূর্য। সূর্য থেকে আসা বিকিরণ পৃথিবীর মাটি ও পানিকে গরম করে, আর সেই গরম ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই বাতাস গরম হয়, তাই বায়ুমণ্ডলে যা কিছু ঘটে, যেমন বায়ুপ্রবাহ, মেঘ ও বৃষ্টি, সবকিছুর পেছনে আছে সূর্যের তাপ। নীহারিকা ও ধূমকেতু পৃথিবী থেকে এত দূরে যে সেখান থেকে বায়ুমণ্ডলে তেমন তাপ আসে না। বায়ু গরম হয়ে হালকা হয় এবং ওপরে ওঠে, আর চারপাশ থেকে ঠান্ডা বায়ু সেখানে জায়গা নেয়। এভাবেই বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়। অর্থাৎ বাতাস চলাচলের মূল শক্তিও সূর্য থেকে আসে।
মনে রাখুন: সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় নেয়। - ৭৭. সমান উষ্ণতাবিশিষ্ট স্থানগুলোকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমরেখা
- ক. সমবর্ষণ রেখা
- খ. সমোচ্চরেখা
- গ. সমচাপরেখা
- ঘ. সমোষ্ণরেখা
উত্তর: ঘ. সমোষ্ণরেখা
মানচিত্রে একই মানের স্থানগুলোকে যোগ করে যে কাল্পনিক রেখা আঁকা হয়, তাকে সমরেখা বলে। সমান উষ্ণতার স্থানগুলো যে রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়, তার নাম সমোষ্ণরেখা (Isotherm)। এই রেখা দেখে সহজেই বোঝা যায় কোন অঞ্চল বেশি গরম আর কোনটি ঠান্ডা। আবহাওয়ার মানচিত্রে এই রেখাগুলো দেখে আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাস দেন। সমোষ্ণরেখা সাধারণত অক্ষাংশের সমান্তরালে চলে, কিন্তু সমুদ্রস্রোত ও পর্বতের কারণে কোথাও বেঁকে যায়।
মনে রাখুন:
সমচাপরেখা (Isobar): সমান বায়ুচাপের স্থান যুক্ত করে।
সমোচ্চরেখা (Contour): সমান উচ্চতার স্থান যুক্ত করে।
সমবর্ষণ রেখা (Isohyet): সমান বৃষ্টিপাতের স্থান যুক্ত করে। - ৭৮. বায়ু কোন দিকে চাপ দেয়?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (মার্কেটিং বিভাগ) ভর্তি, ২০০১-০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. উপরের দিকে
- খ. নিচের দিকে
- গ. পাশের দিকে
- ঘ. সব দিকে
উত্তর: ঘ. সব দিকে
বাতাসের ওজন আছে, তাই বাতাস ভূপৃষ্ঠের ওপর চাপ দেয়। তবে এই চাপ শুধু নিচের দিকে পড়ে না। তরলের মতো বাতাসও একটি প্রবাহী পদার্থ, তাই এটি উপরে, নিচে ও পাশে, অর্থাৎ সব দিকেই সমানভাবে চাপ দেয়। আমাদের শরীরের ওপরও সব দিক থেকে বাতাসের চাপ কাজ করে, কিন্তু শরীরের ভেতরের চাপ এর সমান বলে আমরা তা টের পাই না। এজন্য একটি বদ্ধ পাত্রের ভেতরে বাতাস থাকলে সেই বাতাস পাত্রের সব দেয়ালের ওপর সমান চাপ দেয়। বেলুনে বাতাস ভরলে তা সব দিকে সমান ফুলে ওঠে, এটিও সেই কারণেই।
মনে রাখুন: সমুদ্রপৃষ্ঠে বাতাসের স্বাভাবিক চাপ ১ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, যা প্রায় ১০১৩ মিলিবারের সমান। - ৭৯. The standard sea level in millibars is-সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক লিমিটেডের অফিসার (আইটি), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. 1013 mb
- খ. 1060 mb
- গ. 960 mb
- ঘ. 990 mb
উত্তর: ক. 1013 mb
সমুদ্রপৃষ্ঠে বাতাসের স্বাভাবিক চাপ ধরা হয় ১০১৩ মিলিবার (1013 mb)। একে এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (1 atm) বলে। এই চাপ পারদ ব্যারোমিটারে ৭৬ সেন্টিমিটার বা ৭৬০ মিলিমিটার উঁচু পারদস্তম্ভকে ধরে রাখতে পারে। উচ্চতা বাড়লে বাতাস পাতলা হয় বলে বায়ুচাপও কমে যায়। পাহাড়ে উঠলে বায়ুচাপ কমে যায় বলে আরোহীদের শ্বাসকষ্ট হয়। এভারেস্টের চূড়ায় বায়ুচাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
মনে রাখুন:
১ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ১০১৩ মিলিবার = ১০১.৩ কিলোপাস্কাল (kPa)।
আবহাওয়াবিদরা বায়ুচাপ প্রকাশ করতে সাধারণত মিলিবার একক ব্যবহার করেন।
আবহাওয়ার মানচিত্রে ১০১৩ মিলিবারের চেয়ে কম চাপের এলাকাকে সাধারণত নিম্নচাপ এবং বেশি চাপের এলাকাকে উচ্চচাপ ধরা হয়। - ৮০. ভূ-পৃষ্ঠের প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ-ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. ১৭.৭২ পাউন্ড
- খ. ২২.১৫ পাউন্ড
- গ. ১৪.৭২ পাউন্ড
- ঘ. ১২.১৪ পাউন্ড
উত্তর: গ. ১৪.৭২ পাউন্ড
বাতাসের ওজন আছে, তাই সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রতি বর্গ ইঞ্চি জায়গার ওপর বাতাস যে চাপ দেয়, তা প্রায় ১৪.৭ পাউন্ড ওজনের সমান। এই মানকেই বলা হয় এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (1 atm)। অনেক সময় এটিকে ১৪.৭২ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চিও লেখা হয়। একই চাপ অন্য এককেও প্রকাশ করা যায়। বাতাসের এই ওজন আমরা টের পাই না, কারণ আমাদের শরীরের ভেতর থেকেও সমান চাপ বাইরের দিকে কাজ করে। ফলে দুই চাপ একে অপরকে সাম্যাবস্থায় রাখে।
মনে রাখুন:
১ atm = ১৪.৭ psi (পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি)।
১ atm = ১০১৩ মিলিবার = ৭৬০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ।
১ atm = ১.০৩৩ কেজি প্রতি বর্গ সেন্টিমিটার। - ৮১. এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান-পিএসসির সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (TTC), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. ১৪.৭ কেজি/সে.মি.²
- খ. ১ কেজি/মি.²
- গ. ১.০৩৩ কেজি/সে.মি.²
- ঘ. ১.০৩৩ কেজি/মি.²
উত্তর: গ. ১.০৩৩ কেজি/সে.মি.²
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (1 atm) হলো সমুদ্রপৃষ্ঠে বাতাসের স্বাভাবিক চাপ। এই চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটার জায়গার ওপর প্রায় ১.০৩৩ কেজি ওজনের সমান বল প্রয়োগ করে, তাই মান লেখা হয় ১.০৩৩ kg/cm²। অন্য একক ব্যবহার করলেও একই চাপ পাওয়া যায়। কেজি প্রতি বর্গ মিটার এককে মানটি অনেক বড় হয়ে যায়, সেখানে ১ atm প্রায় ১০৩৩০ kg/m²। আর ১৪.৭ সংখ্যাটি আসে বর্গ ইঞ্চিতে পাউন্ড এককে। ব্যারোমিটারে এই চাপ মাপার সময় পারদস্তম্ভের উচ্চতা দেখা হয়। উচ্চতা বাড়লে চাপ কমে, তাই বিমানের কেবিন বাইরের বাতাসের চেয়ে বেশি চাপে রাখা হয়।
মনে রাখুন: ১ atm = ১০১৩ মিলিবার = ৭৬০ মিমি পারদস্তম্ভ = ১০১৩২৫ পাস্কাল। - ৮২. পানির স্তম্ভের হিসাবে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের পরিমাণ-কারিগরি শিক্ষা জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. ৫ মিটার
- খ. ২.৫ মিটার
- গ. ৯.৮১মিটার
- ঘ. ১০.৩০ মিটার
উত্তর: ঘ. ১০.৩০ মিটার
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ যত উঁচু পানির স্তম্ভকে ধরে রাখতে পারে, তা প্রায় ১০.৩ মিটার। পারদ পানির চেয়ে প্রায় ১৩.৬ গুণ ভারী, তাই একই চাপে পারদস্তম্ভ ওঠে মাত্র ৭৬ সেন্টিমিটার। আর পানি হালকা বলে একই চাপে পানির স্তম্ভ ওঠে ১০.৩ মিটারের মতো। এজন্যই পানির ব্যারোমিটার বানালে সেটি হতো অনেক লম্বা, প্রায় তিনতলা বাড়ির সমান, আর ব্যবহারের অসুবিধা হতো। সাধারণ কূপ থেকে পাম্প দিয়ে বাতাসের চাপে পানি তোলার সীমাও এই কারণেই সর্বোচ্চ প্রায় ১০ মিটার। এর চেয়ে গভীর থেকে পানি তুলতে চাইলে পাম্পের অবস্থান নিচে নামাতে হয়।
মনে রাখুন: বায়ুচাপ মাপার জন্য তাই পারদের ব্যারোমিটারই সবচেয়ে সুবিধাজনক। - ৮৩. Standard Atmospheric Pressure বলতে নিম্নের কোনটি বোঝায়?মৎস্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. 100 kPa
- খ. 101.3 kPa
- গ. 103.325 kPa
- ঘ. কোনটিই সঠিক নয়
উত্তর: খ. 101.3 kPa
সমুদ্রপৃষ্ঠে বাতাসের স্বাভাবিক বা আদর্শ চাপকে আদর্শ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Standard Atmospheric Pressure) বলে। এর মান ১০১.৩২৫ কিলোপাস্কাল, অর্থাৎ প্রায় 101.3 kPa। আন্তর্জাতিক এককে চাপের একক পাস্কাল (Pa), তাই এই মান পাস্কালে ১০১৩২৫ Pa। এর কাছাকাছি 100 kPa মানটি হিসাব সহজ করার জন্য মোটামুটি ধরে নেওয়া হয়, কিন্তু আদর্শ মান নয়। বিমানচালনা, বিজ্ঞানের গবেষণা ও প্রকৌশল হিসাবে এই আদর্শ চাপ একটি মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। বিভিন্ন স্থানের বায়ুচাপ তুলনা করতে এই মান কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
১ atm = ১০১.৩ kPa = ১০১৩ মিলিবার।
১ atm = ৭৬০ মিমি পারদস্তম্ভ। - ৮৪. The key factor in determining the weather is the quantity of ........ in the atmosphere. / আবহাওয়ার প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে বাতাসে ........ এর পরিমাণ।জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়ার নিয়ামক
- ক. Water vapor
- খ. Oxygen
- গ. Carbon dioxide
- ঘ. Hydrogen
উত্তর: ক. Water vapor
আবহাওয়া মানে কোনো স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের অবস্থা, আর এই অবস্থা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণের ওপর। জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে মেঘ জমে, বৃষ্টি হয় এবং আবহাওয়া আর্দ্র থাকে। আবার জলীয় বাষ্প কম হলে আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকে। বাতাসের ঘনীভূত হওয়ার ফলে কুয়াশা, শিশির ও মেঘের মতো ঘটনাও ঘটে। আবহাওয়ার আরও কয়েকটি উপাদান হলো তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত। এদের সবগুলোর ওপর জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে।
মনে রাখুন:
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সাধারণত ০ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে।
এটি একটি গ্রিনহাউস গ্যাসও বটে। - ৮৫. বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপের কি পরিবর্তন হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ ও আর্দ্রতা
- ক. বায়ুচাপ বেড়ে যায়
- খ. বায়ুচাপ কখনো বাড়ে কখনো কমে
- গ. বায়ুচাপ কমে যায়
- ঘ. বায়ুচাপ স্থির থাকে
উত্তর: গ. বায়ুচাপ কমে যায়
জলীয় বাষ্পের অণুর ভর বাতাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের অণুর চেয়ে কম। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়লে আগের গ্যাসের কিছু অণু সরে যায় এবং বাতাসের মোট ঘনত্ব কমে যায়। ঘনত্ব কমে গেলে বাতাসের ওজনও কমে, ফলে বায়ুচাপ কমে যায়। এজন্যই আর্দ্র ও বর্ষার দিনে ব্যারোমিটারে পারদ নেমে যায়। জলীয় বাষ্পের আণবিক ভর প্রায় ১৮, আর নাইট্রোজেনের ২৮। আর্দ্রতার সঙ্গে বায়ুচাপের এই সম্পর্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
শুষ্ক বাতাস আর্দ্র বাতাসের চেয়ে ভারী।
বায়ুচাপ হঠাৎ কমলে ঝড়ের আশঙ্কা থাকে।
আবার শীতকালে শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস বেশি ঘন হয় বলে তখন বায়ুচাপ বেশি থাকে। - ৮৬. কোনো স্থানের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কি হয়?সার্ভে অ্যাডজুটেন্ট, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ ও তাপমাত্রা
- ক. মেঘের সৃষ্টি হয়
- খ. নিম্নচাপ হয়
- গ. উচ্চচাপ হয়
- ঘ. চাপের পরিবর্তন হয় না
উত্তর: খ. নিম্নচাপ হয়
কোনো স্থানের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে সেখানকার বাতাস গরম হয়ে প্রসারিত হয়। প্রসারণের ফলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায় এবং হালকা বাতাস ওপরে উঠে যায়। এতে ওই স্থানের বায়ুচাপ কমে গিয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। তখন আশপাশের ঠান্ডা ও উচ্চচাপের বাতাস সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে ছুটে আসে। এই নিম্নচাপের অঞ্চলকে ঘিরে অনেক সময় মেঘ জমে বৃষ্টি হয়। সাগরের ওপর তৈরি তীব্র নিম্নচাপ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।
মনে রাখুন:
তাপমাত্রা বাড়লে নিম্নচাপ, তাপমাত্রা কমলে উচ্চচাপ হয়।
বাতাস সবসময় উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।
এজন্য গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ এশিয়ার স্থলভাগ খুব গরম হয়ে নিম্নচাপ তৈরি হয় এবং সাগর থেকে আর্দ্র বাতাস এসে বর্ষা ঘটায়। - ৮৭. বায়ুর চাপ সাধারণত সবচেয়ে বেশি হয় কখন?নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সহকারী পরিচালক, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. গরম ও আর্দ্র থাকলে
- খ. ঠাণ্ডা ও শুষ্ক থাকলে
- গ. ঠাণ্ডা ও আর্দ্র থাকলে
- ঘ. গরম ও শুষ্ক থাকলে
উত্তর: খ. ঠাণ্ডা ও শুষ্ক থাকলে
বাতাস ঠান্ডা হলে তার অণুগুলো কাছাকাছি চলে আসে, ফলে ঘনত্ব বাড়ে। আবার শুষ্ক বাতাসে হালকা জলীয় বাষ্প কম থাকে, তাই এর ঘনত্ব আরও বেশি হয়। যেহেতু ঘন বাতাস ভারী, সে কারণে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস সবচেয়ে বেশি চাপ দেয়। উল্টো দিকে গরম ও আর্দ্র বাতাস সবচেয়ে হালকা, তাই সেখানে চাপ কম থাকে। আবহাওয়ার মানচিত্রে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের এলাকাগুলোকে উচ্চচাপ কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়। এসব অঞ্চলে সাধারণত আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং বৃষ্টি হয় না।
মনে রাখুন: শীতকালে এশিয়ার মহাদেশীয় অঞ্চলে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে উচ্চচাপ কেন্দ্র তৈরি হয়। - ৮৮. কোন স্থানের বায়ুচাপ হঠাৎ কমে গেলে কি হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ
- ক. বায়ুপ্রবাহ কমে যায়
- খ. বায়ু প্রবাহ বেড়ে যায়
- গ. বায়ুপ্রবাহ থেমে যায়
- ঘ. বায়ু প্রবাহ অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর: খ. বায়ু প্রবাহ বেড়ে যায়
কোনো স্থানে বায়ুচাপ হঠাৎ কমে গেলে সেখানে নিম্নচাপ তৈরি হয়। আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চলের বাতাস তখন দ্রুত সেই নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসে। চাপের পার্থক্য যত বেশি হয়, বাতাসের গতিবেগও তত বাড়ে, তাই বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়। এভাবেই ঝড় বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। আবার নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাস ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়, ফলে মেঘ জমে ঝড়বৃষ্টি হয়। তাই বায়ুচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া খারাপ আবহাওয়ার আগাম সংকেত।
মনে রাখুন:
বায়ুপ্রবাহের মূল কারণ বায়ুচাপের পার্থক্য।
দুই স্থানের চাপের পার্থক্যকে চাপের নতি (Pressure gradient) বলে।
ঘূর্ণিঝড়ের আগে এভাবে আবহাওয়া অফিস বায়ুচাপের দ্রুত পতন লক্ষ করে আগাম সতর্কসংকেত দেয়। - ৮৯. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম-ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ পরিমাপ
- ক. হাইড্রোমিটার
- খ. ব্যারোমিটার
- গ. ল্যাক্টোমিটার
- ঘ. ভোল্টামিটার
উত্তর: খ. ব্যারোমিটার
বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার (Barometer)। এতে একটি কাচের নলে পারদ থাকে এবং বাতাসের চাপে পারদস্তম্ভের উচ্চতা বদলায়। এই উচ্চতা দেখেই চাপ জানা যায় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসও দেওয়া যায়। টরিসেলি এই যন্ত্র আবিষ্কার করেন। আবহাওয়া অফিসগুলোতে বায়ুচাপ নিয়মিত মেপে পূর্বাভাস তৈরি করা হয়। উচ্চতা মাপার জন্য এর একটি সংস্করণ অ্যালটিমিটার নামে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
হাইড্রোমিটার: তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব মাপে।
ল্যাকটোমিটার: দুধের ঘনত্ব মেপে খাঁটিত্ব পরীক্ষা করে।
ভোল্টমিটার: বিদ্যুৎ বর্তনীতে বিভব পার্থক্য মাপে।
যন্ত্রটির আবিষ্কারের কারণেই বাতাসের ওজন আছে, এই সত্যটি বিজ্ঞানীরা প্রথম হাতে-কলমে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। - ৯০. ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন-প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক (ড্যাফোডিল), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ পরিমাপ
- ক. এডিসন
- খ. গ্যালিলিও
- গ. টরেসিলি
- ঘ. জর্জ কেলি
উত্তর: গ. টরেসিলি
ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন ইতালির বিজ্ঞানী ইভাঞ্জেলিস্তা টরিসেলি (Torricelli), ১৬৪৩ সালে। তিনি একটি কাচের নলে পারদ ভরে উল্টে পারদের পাত্রে দাঁড় করিয়ে দেখলেন, পারদ নেমে গিয়ে প্রায় ৭৬ সেন্টিমিটার উঁচুতে স্থির থাকে। বাতাসের চাপই যে পারদকে ধরে রাখে, তা এভাবে প্রমাণ হলো। তিনি ছিলেন গ্যালিলিওর ছাত্র। ১৬৪৮ সালে ব্লেইজ প্যাসকেলের অনুরোধে ফ্রান্সের একটি পাহাড়ে ব্যারোমিটার নিয়ে উঠে দেখা গেল, উচ্চতা বাড়লে পারদস্তম্ভ ছোট হয়। এতে বোঝা যায়, বায়ুচাপ উচ্চতার সঙ্গে কমে যায়।
মনে রাখুন: নলের ওপরের ফাঁকা অংশকে টরিসেলির শূন্যস্থান (Torricellian vacuum) বলে।
তাঁর সম্মানে নিম্নচাপের একক টর (Torr) নামে প্রচলিত আছে, যেখানে ১ টর প্রায় ১ মিলিমিটার পারদস্তম্ভের চাপের সমান। - ৯১. ক্রমশ ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা বৃদ্ধি কিসের ইঙ্গিত দেয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যারোমিটার
- ক. ভাল আবহাওয়ার
- খ. আসন্ন ঝড়ের
- গ. বৃষ্টির সম্ভাবনা
- ঘ. তাৎপর্যহীন
উত্তর: ক. ভাল আবহাওয়ার
ব্যারোমিটারে পারদস্তম্ভ ধীরে ধীরে উঁচু হতে থাকা মানে বায়ুচাপ বাড়ছে। চাপ বাড়লে বাতাস ভারী ও ঘন হয়ে নিচে নামে, মেঘ কেটে যায় এবং আকাশ পরিষ্কার হয়। তাই এটি ভালো আবহাওয়ার লক্ষণ। উল্টো দিকে পারদ নামতে থাকলে বায়ুচাপ কমছে, আর আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার সময় পারদের ওঠানামা দেখেই ধারণা করা যায় পরের দিনগুলোতে আকাশ পরিষ্কার থাকবে নাকি মেঘলা।
মনে রাখুন:
পারদ ধীরে নামলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
পারদ হঠাৎ অনেকটা নেমে গেলে ঝড়ের আশঙ্কা থাকে।
কোনো স্থানে বায়ুচাপ বেড়ে গেলে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস নিচে নামে, তাই বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। - ৯২. ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ হ্রাস পেলে-আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীন সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যারোমিটার
- ক. বৃষ্টি হওয়ার আভাস পাওয়া যায়
- খ. ভাল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়
- গ. ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়
- ঘ. ক্ষণস্থায়ী ভাল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়
উত্তর: গ. ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়
ব্যারোমিটারে পারদস্তম্ভ হঠাৎ নিচে নেমে গেলে বোঝা যায় বায়ুচাপ খুব দ্রুত কমছে। তখন আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চলের বাতাস প্রচণ্ড বেগে ওই নিম্নচাপের দিকে ছুটে যায়, ফলে ঝড় হতে পারে। তাই হঠাৎ পারদ কমাকে ঝড়ের সংকেত হিসেবে ধরা হয়। পারদ স্তম্ভের এই দ্রুত পতনকে ‘ঝড়ের গ্লাস’ও বলা হত, কারণ নাবিকরা জাহাজে ব্যারোমিটার দেখে ঝড়ের আগাম আভাস পেতেন।
মনে রাখুন:
পারদ ধীরে ধীরে কমলে বৃষ্টির আভাস পাওয়া যায়।
পারদ ধীরে ধীরে বাড়লে ভালো আবহাওয়া থাকে।
উপকূলীয় এলাকায় এই সংকেত ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতায় কাজে লাগে।
ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও কেন্দ্রের কাছে বায়ুচাপ খুব কমে যায়, আর পারদ অনেকটা নিচে নেমে যায়। - ৯৩. ব্যারোমিটার যন্ত্রে কোন তরল পদার্থটি ব্যবহার করা হয়?বাংলাদেশ রোড অথরিটির সহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যারোমিটার
- ক. পারদ
- খ. পানি
- গ. অ্যালকোহল
- ঘ. তেল
উত্তর: ক. পারদ
ব্যারোমিটারে তরল হিসেবে পারদ (Mercury) ব্যবহার করা হয়, কারণ পারদ খুব ভারী। এর ঘনত্ব পানির প্রায় ১৩.৬ গুণ, তাই বায়ুচাপে মাত্র ৭৬ সেন্টিমিটার উঁচু পারদস্তম্ভ পাওয়া যায় এবং যন্ত্রটি ছোট রাখা যায়। পারদ কাচের গায়ে লেগে থাকে না এবং এর বাষ্পচাপও খুব কম, ফলে মাপ সঠিক হয়। পানি ব্যবহার করলে নল ১০ মিটারের বেশি লম্বা হয়ে যেত। বাংলাদেশে সহজ ধরনের অ্যানিরয়েড ব্যারোমিটারও পাওয়া যায়, যেখানে পারদ থাকে না, একটি ধাতব বাক্সের সংকোচন-প্রসারণ দেখে চাপ মাপা হয়।
মনে রাখুন: পারদ ধাতু হয়েও কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে। - ৯৪. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র -KGDCL'র সার্ভেয়ার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাপ পরিমাপক যন্ত্র
- ক. ব্যারোমিটার
- খ. ম্যানোমিটার
- গ. হাইগ্রোমিটার
- ঘ. পাইরোমিটার
উত্তর: খ. ম্যানোমিটার
আবদ্ধ পাত্রের ভেতরের গ্যাস বা তরলের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ম্যানোমিটার (Manometer)। সাধারণত একটি U আকৃতির নলে তরল রেখে দুই দিকের তরলের উচ্চতার পার্থক্য দেখে গ্যাসের চাপ নির্ণয় করা হয়। ম্যানোমিটারে সাধারণত পারদ বা পানি ব্যবহার করা হয়। রান্নার গ্যাসের লাইনে বা রাসায়নিক গবেষণাগারে গ্যাসের চাপ মাপতে এই যন্ত্র কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
ব্যারোমিটার: বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপে।
হাইগ্রোমিটার: বাতাসের আর্দ্রতা মাপে।
পাইরোমিটার: অনেক বেশি তাপমাত্রা মাপে।
ম্যানোমিটারে যে চাপ মাপা হয়, তা বায়ুমণ্ডলের চাপের তুলনায় কতটা বেশি, সেই মান। একে গজ চাপ (Gauge pressure) বলে। - ৯৫. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থান কোথায়?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জলবায়ু অঞ্চল
- ক. ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
- খ. ১৫° থেকে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
- গ. ৩০° থেকে ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
- ঘ. ২৩° থেকে ৬৬° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
উত্তর: ক. ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল নিরক্ষরেখার দুই পাশে, প্রায় ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে বিস্তৃত। এখানে সূর্যের কিরণ প্রায় সারা বছর লম্বভাবে পড়ে, তাই সারা বছর গরম থাকে এবং প্রতিদিনই পরিচলন বৃষ্টি হয়। ফলে এই অঞ্চলে ঘন চিরহরিৎ বৃষ্টি-অরণ্য জন্মায়। ছয় ধরনের প্রধান জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল সবচেয়ে গরম ও আর্দ্র। এখানকার গাছগুলো এত ঘন যে সূর্যের আলো মাটিতে সহজে পৌঁছায় না।
মনে রাখুন:
নিরক্ষীয় অঞ্চলের উদাহরণ: আমাজন অববাহিকা, কঙ্গো অববাহিকা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
এখানে তাপমাত্রার বার্ষিক পার্থক্য খুব কম।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে বিকালে প্রায় প্রতিদিন ঝমঝম বৃষ্টি হয়, সঙ্গে মেঘগর্জন ও বিদ্যুৎ চমকায়। - ৯৬. কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে কি বলা হয়-গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিয়ত বায়ু
- ক. অয়ন বায়ু
- খ. প্রত্যয়ন বায়ু
- গ. মৌসুমি বায়ু
- ঘ. নিয়ত বায়ু
উত্তর: ক. অয়ন বায়ু
কর্কটীয় ও মকরীয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর যে বায়ু বয়ে যায়, তার নাম অয়ন বায়ু (Trade wind)। পৃথিবী নিজ অক্ষে ঘোরে বলে এই বাতাস সোজা না এসে একটু বেঁকে যায়। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে বয়। নিরক্ষরেখার কাছে যেখানে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ু মিলিত হয়, সেই অঞ্চলে বাতাস প্রায় শান্ত থাকে। একে শান্তবলয় বা ডোলড্রামস বলে।
মনে রাখুন: প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ এই বাতাসের সাহায্যে পাল তুলে চলত, তাই একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। - ৯৭. ক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রবাহিত বায়ুর নাম-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিয়ত বায়ু
- ক. অয়ন বায়ু
- খ. প্রত্যয়ন বায়ু
- গ. মেরু বায়ু
- ঘ. সমুদ্র বায়ু
উত্তর: ক. অয়ন বায়ু
ক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল (প্রায় ৩০° অক্ষাংশ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে অয়ন বায়ু (Trade wind) বলে। পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বয়, তাই একে পূর্বালি বায়ুও বলা হয়। নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে বায়ু গরম হয়ে ওপরে ওঠে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে অয়ন বায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে ছুটে আসে।
মনে রাখুন:
প্রত্যয়ন বায়ু ৩০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে বয়।
মেরু বায়ু মেরু অঞ্চল থেকে নিম্ন অক্ষাংশের দিকে বয়।
সমুদ্র বায়ু একটি স্থানীয় বায়ু। - ৯৮. গর্জনশীল চল্লিশার অবস্থান কোনটি?ডাক অধিদপ্তর এর ইন্সপেক্টর, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিয়ত বায়ু
- ক. ৪০° দক্ষিণ থেকে ৪৭° দক্ষিণ
- খ. ৩০° দক্ষিণ থেকে ৩৫° দক্ষিণ
- গ. ৪০° উত্তর থেকে ৪৭° উত্তর
- ঘ. ৩০° উত্তর থেকে ৩৫° উত্তর
উত্তর: ক. ৪০° দক্ষিণ থেকে ৪৭° দক্ষিণ
দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত প্রবল পশ্চিমা বায়ুকে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) বলা হয়। ওই অক্ষাংশে স্থলভাগ কম, তাই বাতাসের পথে বাধা নেই এবং বায়ু প্রচণ্ড শব্দ করে বয়। এই বায়ুর দুর্দান্ত গতির কারণে নামটি এসেছে। নাবিকরা প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে এই প্রবল বাতাসের সুবিধা নিয়ে ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যেতেন। এই বাতাসকে সামাল দেওয়া অবশ্য সহজ ছিল না।
মনে রাখুন:
৫০° দক্ষিণের কাছাকাছি বায়ু আরও প্রবল, তাকে ভয়ংকর পঞ্চাশা (Furious Fifties) বলে।
৬০° দক্ষিণের কাছাকাছি বায়ুকে চিৎকারকারী ষাটা (Screaming Sixties) বলে। - ৯৯. ঋতু পরিবর্তনের সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয়, তাকে বলে-CAAB'র সিনিয়র অফিসার ও প্রকিউরমেন্ট অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌসুমি বায়ু
- ক. অয়ন বায়ু
- খ. প্রত্যয়ন বায়ু
- গ. মৌসুমী বায়ু
- ঘ. স্থানীয় বায়ু
উত্তর: গ. মৌসুমী বায়ু
ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে যে বায়ুর দিক বদলে যায়, তাকে মৌসুমি বায়ু (Monsoon) বলে। আরবি শব্দ ‘মওসিম’ মানে ঋতু, সেখান থেকেই নামটি এসেছে। গ্রীষ্মকালে এই বাতাস সাগর থেকে স্থলের দিকে এসে বৃষ্টি ঘটায়, আর শীতকালে স্থল থেকে সাগরের দিকে গিয়ে শুষ্ক আবহাওয়া আনে। মৌসুমি বায়ুর কারণেই আমাদের উপমহাদেশে বর্ষাকাল আসে এবং বাংলাদেশে কৃষির বড় অংশ এই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বর্ষা চলে।
মনে রাখুন:
গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আসে, যা আমাদের দেশে বর্ষা নিয়ে আসে।
শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বয়, যা শুষ্ক। - ১০০. মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দেশ নয়-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০২-০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌসুমি জলবায়ু
- ক. ভারত
- খ. নাইজেরিয়া
- গ. বাংলাদেশ
- ঘ. চীন
উত্তর: খ. নাইজেরিয়া
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে ঋতুভেদে বায়ুর দিক বদলায়, গ্রীষ্মে প্রচুর বৃষ্টি হয় আর শীতে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই অঞ্চলের প্রধান উদাহরণ, তাই ভারত, বাংলাদেশ ও চীন এর অন্তর্ভুক্ত। নাইজেরিয়া পড়ে আফ্রিকার ক্রান্তীয় সাভানা জলবায়ু অঞ্চলে, যেখানে বছরের এক সময় বৃষ্টি হয় এবং অন্য সময় শুষ্ক থাকে। আফ্রিকার অন্যান্য অংশেও স্বতন্ত্র সাভানা জলবায়ু আছে। মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো গ্রীষ্মে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং শীতে শুষ্কতা।
মনে রাখুন: বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের উদাহরণ।
মৌসুমি জলবায়ুর অন্য নাম ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু। এই অঞ্চলে বছরের প্রায় ৮০ শতাংশ বৃষ্টি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ুর কারণে হয়। - ১০১. সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়-মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থল ও সমুদ্র বায়ু
- ক. রাতে
- খ. সকালে
- গ. দুপুরে
- ঘ. বিকালে
উত্তর: ঘ. বিকালে
দিনের বেলা স্থলভাগ সাগরের চেয়ে দ্রুত গরম হয়, তাই স্থলে নিম্নচাপ এবং সাগরে উচ্চচাপ থাকে। এর ফলে সাগর থেকে স্থলের দিকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে, একে সমুদ্র বায়ু (Sea breeze) বলে। দুপুরের পর স্থল সবচেয়ে বেশি গরম হয় বলে চাপের পার্থক্য তখন সবচেয়ে বেশি থাকে, ফলে বিকালে এই বাতাস সবচেয়ে প্রবল বেগে বয়। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও কুয়াকাটার মতো সৈকতে বিকেল বেলা সমুদ্র থেকে যে ঠান্ডা বাতাস বয়ে আসে, সেটিই সমুদ্র বায়ু।
মনে রাখুন:
রাতে স্থল দ্রুত ঠান্ডা হয়, তখন স্থল থেকে সাগরের দিকে স্থল বায়ু বয়।
উপকূলীয় এলাকায় বিকেলের আবহাওয়া তাই আরামদায়ক হয়। - ১০২. সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থল ও সমুদ্র বায়ু
- ক. রাত্রিতে
- খ. মধ্যাহ্নে
- গ. সকালে
- ঘ. অপরাহ্ণে
উত্তর: ঘ. অপরাহ্ণে
সাগর ও স্থলের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা আলাদা। দিনের বেলা সূর্যের তাপে স্থল সাগরের চেয়ে তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়, ফলে স্থলে নিম্নচাপ তৈরি হয়। তখন সাগর থেকে স্থলের দিকে সমুদ্র বায়ু (Sea breeze) বইতে থাকে। অপরাহ্নে স্থলের উত্তাপ সবচেয়ে বেশি হয়, তাই এই সময় চাপের পার্থক্য সর্বোচ্চ থাকে এবং বাতাসের বেগও সবচেয়ে বেশি হয়। এই বাতাসের ফলে উপকূলীয় এলাকায় গরমের তীব্রতা কমে। তাই সমুদ্রের কাছের শহরে গরমকাল তুলনামূলক আরামদায়ক হয়।
মনে রাখুন: রাতে বায়ু উল্টো দিকে, অর্থাৎ স্থল থেকে সাগরের দিকে বয়। একে স্থল বায়ু বলে। - ১০৩. চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল এবং শীতকালে উষ্ণ থাকে-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমুদ্র বায়ুর প্রভাব
- ক. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
- খ. সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
- গ. স্থলবায়ুর প্রভাবে
- ঘ. অয়ন বায়ুর প্রভাবে
উত্তর: খ. সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
চট্টগ্রাম বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। পানি দেরিতে গরম হয় এবং দেরিতে ঠান্ডা হয়। তাই গ্রীষ্মে সাগরের ঠান্ডা বাতাস চট্টগ্রামে এসে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়, আবার শীতে সাগরের জমিয়ে রাখা তাপ শহরকে তুলনামূলক উষ্ণ রাখে। দিনাজপুর সাগর থেকে অনেক দূরে বলে সেখানে এই প্রভাব নেই, তাই সেখানে গ্রীষ্মে অনেক গরম এবং শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে। বঙ্গোপসাগরের ঠিক এই প্রভাবের কারণেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মতো উপকূলীয় জেলায় গ্রীষ্ম ও শীতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের চেয়ে কম থাকে।
মনে রাখুন: সাগরের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা নাতিশীতোষ্ণ বলা হয়। - ১০৪. কোনটি স্থানীয় বায়ু?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থানীয় বায়ু
- ক. টাইফুন
- খ. হারিকেন
- গ. সাইমুম
- ঘ. টর্নেডো
উত্তর: গ. সাইমুম
কোনো নির্দিষ্ট ছোট এলাকায় স্থানীয় কারণে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় বায়ু (Local wind) বলে। সাইমুম আরব মরুভূমির একটি শুষ্ক ও উত্তপ্ত স্থানীয় বায়ু, তাই এটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ। টাইফুন, হারিকেন ও টর্নেডো প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়, যা অঞ্চলভেদে আলাদা নাম পায়, এগুলো স্থানীয় বায়ু নয়। স্থানীয় বায়ুর আরও কিছু নাম হলো লু (উত্তর ভারত), চিনুক (রকি পর্বতমালা), ফেন (আল্পস) ও মিস্ট্রাল (ফ্রান্স)। এসব বায়ু নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির কারণে সৃষ্টি হয়।
মনে রাখুন:
টাইফুন: চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়।
হারিকেন: আটলান্টিক মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়।
টর্নেডো: যুক্তরাষ্ট্রের ছোট কিন্তু প্রবল ঘূর্ণিঝড়। - ১০৫. আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত বায়ুর নাম কি?DMLC'র সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থানীয় বায়ু
- ক. টাইফুন
- খ. সিরোক্কো
- গ. সাইমুম
- ঘ. খামসিন
উত্তর: গ. সাইমুম
আরব মরুভূমি অঞ্চলে সাইমুম (Simoom) নামের একটি শুষ্ক, উত্তপ্ত ও ধুলোময় বায়ু প্রবাহিত হয়। ‘সাইমুম’ শব্দের অর্থ বিষাক্ত বা দমবন্ধ করা, কারণ এই বাতাসে বালি ও ধুলা মিশে থাকে এবং এতে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। সাইমুম মরুভূমিতে বালির ঝড় তোলে, আর এর তাপমাত্রা প্রায় ৫০° সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে। এই বাতাসে চলাচল করা কাফেলার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
মনে রাখুন:
সিরোক্কো: সাহারা থেকে ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বয়ে আসা উষ্ণ বায়ু।
খামসিন: মিসরের মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ, শুষ্ক বায়ু।
টাইফুন একটি ঘূর্ণিঝড়, মরুভূমির বায়ু নয়। - ১০৬. উত্তর গোলার্ধে সাইক্লোনের বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হয়?টেলিফোন বোর্ডের সহকারী পরিচালক, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঘূর্ণিঝড়
- ক. সরল রেখার উত্তর দিকে
- খ. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
- গ. সরল রেখার দক্ষিণ দিকে
- ঘ. ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘূর্ণায়মান গতিতে
উত্তর: খ. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের বাতাস ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রের দিকে এগোয়। এর কারণ পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বল (Coriolis force), যা উত্তর গোলার্ধে চলন্ত বস্তুকে ডান দিকে বাঁকিয়ে দেয়। কেন্দ্রের নিম্নচাপ চারপাশের বাতাসকে টানে বলে বাতাস ঘুরে ঘুরে ভেতরে ঢোকে। কোরিওলিস বলের কারণে দক্ষিণ গোলার্ধে চলন্ত বস্তু বাঁ দিকে বেঁকে যায়, তাই ঘূর্ণিঝড় সেখানে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। নিরক্ষরেখায় এই বল শূন্য, তাই সেখানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় না।
মনে রাখুন: দক্ষিণ গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড় ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে, আর বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় উত্তর গোলার্ধে হওয়ায় ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে ঘোরে। - ১০৭. বাতাসের তাপমাত্রা হ্রাস পেলে আর্দ্রতা-পরিসংখ্যান ব্যুরোর কম্পিউটার কর্মকর্তা, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. বাড়ে
- খ. কমে
- গ. অপরিবর্তিত থাকে
- ঘ. প্রথমে বাড়ে ও পরে কমে
উত্তর: ক. বাড়ে
বাতাসের তাপমাত্রা কমে গেলে সেই বাতাস কম জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। তাই একই পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকলেও বাতাস সম্পৃক্ত অবস্থার কাছাকাছি চলে আসে, ফলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative humidity) বেড়ে যায়। তাপমাত্রা কমতে কমতে বাতাস সম্পৃক্ত হয়ে গেলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশির বা কুয়াশা তৈরি করে। রাতের বেলা তাপমাত্রা কমলে ঘাসের ওপর শিশির জমে। কারণ বাতাস তখন শিশিরাঙ্কে পৌঁছে যায় এবং বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ফোঁটা তৈরি করে।
মনে রাখুন:
তাপমাত্রা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে।
যে তাপমাত্রায় বাতাস সম্পৃক্ত হয়, তাকে শিশিরাঙ্ক বলে। - ১০৮. দুটি ঘরের তাপমাত্রা সমান কিন্তু আপেক্ষিক আর্দ্রতা যথাক্রমে ৫০% ও ৭৫% হলে কোন ঘরটি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হবে?সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন থানা ও জেলা সমাজসেবা অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. প্রথমটি
- খ. দ্বিতীয়টি
- গ. একই রকম হবে
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. প্রথমটি
আমাদের শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করে ঠান্ডা থাকে। ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে গেলে শরীর শীতল হয়। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে শুকায় না, তাই গুমোট লাগে। দুটি ঘরের তাপমাত্রা সমান হলে যেটির আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৫০ শতাংশ, সেটিতে ঘাম সহজে শুকায় বলে ওই ঘর বেশি আরামদায়ক। আর ৭৫ শতাংশ আর্দ্রতার ঘরে ঘাম শুকাতে দেরি হয়। তাই আর্দ্রতা বেশি থাকলে আমরা একই তাপমাত্রাতেও বেশি গরম অনুভব করি। আবহাওয়াবিদরা একে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ বা হিট ইনডেক্স দিয়ে প্রকাশ করেন।
মনে রাখুন: মানুষের জন্য আরামদায়ক আপেক্ষিক আর্দ্রতা সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে। - ১০৯. শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ-জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৯ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৩-০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. কম থাকে
- খ. বেশি থাকে
- গ. মধ্যম মানের
- ঘ. থাকে না
উত্তর: ক. কম থাকে
শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম থাকে, আর ঠান্ডা বাতাস কম জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। এছাড়া এই সময় আমাদের দেশে বৃষ্টি কম হয় এবং সাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর বদলে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুষ্ক বাতাস আসে। তাই শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে। তাই শীতকালে আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে, কুয়াশা ছাড়া আর মেঘ কম দেখা যায়। বর্ষাকালে ঠিক উল্টোটা ঘটে, তখন বাতাসে জলীয় বাষ্প প্রচুর থাকে।
মনে রাখুন: কম আর্দ্রতার কারণে শীতকালে ভিজা কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়, আবার ঠোঁট ও ত্বক ফেটে যায়। - ১১০. শীতকালে আমাদের দেশে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় এবং গায়ের চামড়া বা ঠোঁট ফেটে যায় কারণ-MHA'র সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে বলে
- খ. আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে
- গ. সকালে কুয়াশা থাকে বলে
- ঘ. তাপমাত্রা কম থাকে বলে
উত্তর: ক. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে বলে
শীতকালে আমাদের দেশের বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকে, তাই আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম হয়। বাতাস তখন শুষ্ক এবং অনেক জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। ভিজা কাপড় থেকে পানি দ্রুত বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়, তাই কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়। একইভাবে আমাদের ঠোঁট ও ত্বক থেকে পানি দ্রুত উবে যায়, ফলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়। এই কারণেই শীতকালে বাতাসের শুষ্কতা বেশি হয় এবং অনেকের ঠোঁট, হাত-পায়ের চামড়া ফাটে। শরীরের কোষ থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে যাওয়া এর মূল কারণ।
মনে রাখুন: শীতকালে তাই ত্বকে ক্রিম বা তেল মাখা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো। - ১১১. শীতকালে ঠোঁট ও গায়ের চামড়া ফেটে যায়, কারণ-সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. বাতাস ঠাণ্ডা বলে
- খ. বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি বলে
- গ. শীতকালে ঘাম কম হয় বলে
- ঘ. বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম বলে
উত্তর: ঘ. বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম বলে
শীতকালে আমাদের বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে। বাতাস তখন শুষ্ক হয়ে ত্বক ও ঠোঁট থেকে পানি শুষে নেয়। ত্বকের কোষ থেকে পানি উবে গেলে ত্বক শুকিয়ে যায় এবং নমনীয়তা হারিয়ে ফেটে যেতে থাকে। শরীরের ঘাম কম হওয়া একটি সহায়ক কারণ হতে পারে, কিন্তু প্রধান কারণ বাতাসের শুষ্কতা। তাই শীতকালে বেশি করে পানি পান করা, ঠোঁটে ও ত্বকে ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করা উপকারী। এতে ত্বকের পানি ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
মনে রাখুন:
শীতে বাতাস কম আর্দ্র হলে ভিজা কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়।
ত্বকের পানি ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। - ১১২. শীতকালে চামড়া ফাটে কেন?BPSC'র সহকারী পরিচালক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. আর্দ্রতার অভাবে
- খ. স্নেহজাতীয় পদার্থের অভাবে
- গ. ভিটামিনের অভাবে
- ঘ. রৌদ্রের অভাবে
উত্তর: ক. আর্দ্রতার অভাবে
শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকে, অর্থাৎ বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্ক বাতাস আমাদের ত্বক ও ঠোঁটের পানি শুষে নেয়, ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং ফেটে যায়। তাই চামড়া ফাটার মূল কারণ আর্দ্রতার অভাব, ভিটামিন বা রৌদ্রের অভাব নয়। এই সমস্যার সমাধান হলো ত্বকে তেল বা ক্রিম লাগানো এবং ঘরে আর্দ্রতা বাড়ানো। ত্বকের বাইরের স্তরে পানি ধরে রাখলে ফাটা কমে যায়।
মনে রাখুন:
বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার (Hygrometer)।
শীতকালে ত্বকের যত্নে পানি ও তেলজাতীয় ক্রিম কাজে লাগে।
ত্বকের একেবারে বাইরের স্তরে যথেষ্ট পানি না থাকলে সেটি সংকুচিত হয়ে চিড় ধরে। - ১১৩. শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় কেন?পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন রিসার্চ অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে বলে
- খ. বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকে বলে
- গ. বাতাসে অক্সিজেন বেশি থাকে বলে
- ঘ. বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেশি থাকে বলে
উত্তর: খ. বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকে বলে
কাপড় শুকানো মানে কাপড়ের পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যাওয়া। বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকলে সেই বাতাস আরও বাষ্প ধরে রাখতে পারে, তাই কাপড়ের পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। শীতকালে আমাদের দেশের বাতাস শুষ্ক থাকে, এজন্য ভিজা কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়। অক্সিজেন বা কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। আবার কাপড় ঘরে শুকাতে দিলে বাতাস চলাচল ভালো হলে কাপড় আরও দ্রুত শুকায়, কারণ চলমান বাতাস বাষ্পকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
মনে রাখুন: তাপমাত্রা বেশি হলে, বাতাস থাকলে এবং আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পীভবনের হার বাড়ে। - ১১৪. বর্ষাকালে ভিজা কাপড় শুকাতে দেরী হয়, কারণ -সঞ্চয় পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্দ্রতা
- ক. বৃষ্টিপাত বেশি হয়
- খ. সূর্য মেঘে ঢাকা থাকে
- গ. বাতাস কম থাকে
- ঘ. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে
উত্তর: ঘ. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে
বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, ফলে বাতাস প্রায় সম্পৃক্ত হয়ে থাকে এবং তাতে আর বেশি বাষ্প মেশানোর জায়গা থাকে না। তাই ভিজা কাপড় থেকে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে সময় লাগে। এজন্য বর্ষায় কাপড় শুকাতে দেরি হয়, আবার ঘামও সহজে শুকায় না বলে গরম ও গুমোট লাগে। তাই বর্ষাকালে আমরা ঘরে ভ্যাপসা গন্ধ পাই এবং ছত্রাক জন্মাতে দেখি। উচ্চ আর্দ্রতা ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল।
মনে রাখুন: বর্ষাকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হয়, আর শীতকালে এর মান অনেক কমে যায়। - ১১৫. বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার ফলে দেখা দেয়-শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশির ও কুয়াশা
- ক. শিশির
- খ. রোদ
- গ. কুয়াশা
- ঘ. ক ও গ
উত্তর: ঘ. ক ও গ
বাতাস ঠান্ডা হতে হতে সম্পৃক্ত অবস্থায় পৌঁছালে তার জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানির ছোট ফোঁটায় পরিণত হয়। এই ঘনীভবন মাটির কাছাকাছি ঘটলে সৃষ্টি হয় শিশির ও কুয়াশা। রোদ জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার ফল নয়, এটি সূর্যের আলো। তাই শিশির ও কুয়াশা, দুটিই সঠিক উত্তর। শিশির ও কুয়াশার মূল পার্থক্য হলো, শিশির ভূপৃষ্ঠের বস্তুর গায়ে জমে, আর কুয়াশা বাতাসে ভেসে থাকে। শীতকালের ভোরে আমরা দুটোই দেখতে পাই।
মনে রাখুন:
শিশির পড়ে ঘাস ও পাতার ওপর, রাতের বেলা ভূপৃষ্ঠ ঠান্ডা হলে।
কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ভেসে থাকা মেঘ।
আকাশে ঘনীভবন হলে মেঘ তৈরি হয়। - ১১৬. শিশিরাঙ্ক প্রকাশ করে-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশিরাঙ্ক
- ক. আপেক্ষিক আর্দ্রতা
- খ. বাষ্পীয় চাপ
- গ. তাপমাত্রা
- ঘ. আর্দ্রতা
উত্তর: গ. তাপমাত্রা
বাতাসকে ঠান্ডা করতে করতে যে তাপমাত্রায় তা জলীয় বাষ্পে সম্পৃক্ত হয়ে যায় এবং বাষ্প ঘনীভূত হতে শুরু করে, সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক (Dew point) বলে। অর্থাৎ শিশিরাঙ্ক আসলে একটি তাপমাত্রা। বাতাসের শিশিরাঙ্ক যত বেশি হয়, তাতে জলীয় বাষ্প তত বেশি থাকে। আবহাওয়াবিদরা শিশিরাঙ্ক দেখে বলে দিতে পারেন কখন কুয়াশা বা তুষার জমতে পারে। শিশিরাঙ্ক ০° সেলসিয়াসের নিচে হলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত না হয়ে সরাসরি বরফের কণা বা তুষার হয়।
মনে রাখুন:
বাতাসের প্রকৃত তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের সমান হলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ হয়।
শিশিরাঙ্কের নিচে নামলে শিশির, কুয়াশা বা মেঘ তৈরি হয়। - ১১৭. কখনো কখনো শিলা বৃষ্টি হয়। এ ধরনের বৃষ্টির কারণ কি?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিলাবৃষ্টি
- ক. মেঘের পানির কণা খুবই উত্তপ্ত হয়ে যায়
- খ. মেঘে পানি কণার চেয়ে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে
- গ. মেঘের পানির কণার সাথে বাতাসের ভাসমান রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়ার ফলে
- ঘ. মেঘের পানির কণা খুব ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায়
উত্তর: ঘ. মেঘের পানির কণা খুব ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায়
মেঘের ভেতরে যখন তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে নেমে যায়, তখন পানির কণা অত্যন্ত ঠান্ডা হয়ে জমে বরফের কণায় পরিণত হয়। শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহে এই কণাগুলো বারবার ওপরে-নিচে ঘুরে এর ওপর নতুন নতুন বরফের স্তর জমায়। এক সময় কণাগুলো ভারী হয়ে যায় এবং বাতাস তাদের ধরে রাখতে পারে না, তখন তা শিলা হয়ে নিচে পড়ে। শিলার আকার কখনো মটরদানার সমান, আবার কখনো ক্রিকেট বলের সমান হয়ে ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি করে। বাংলাদেশে এপ্রিল-মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি বেশি দেখা যায়।
মনে রাখুন: শিলাবৃষ্টি সাধারণত কালবৈশাখীর মতো বজ্রসহ ঝড়ের সময় হয়। - ১১৮. পৃথিবীতে বেশি বৃষ্টিপাত হয় কোন স্থানে?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (খ-ইউনিট) ভর্তি, ২০০৮-০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৃষ্টিপাত
- ক. কোয়েটা
- খ. কটক
- গ. চেরাপুঞ্জি
- ঘ. সিলেট
উত্তর: গ. চেরাপুঞ্জি
এই বিকল্পগুলোর মধ্যে চেরাপুঞ্জি বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য বিখ্যাত। এটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু খাসিয়া পাহাড়ে বাধা পেয়ে ওপরে উঠে যায় এবং ঠান্ডা হয়ে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি ঝরায়। এখানে বছরে গড়ে ১১,০০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। চেরাপুঞ্জি অঞ্চলের বৃষ্টি মূলত গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ুর কারণে হয়। শীতকালে সেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়।
মনে রাখুন:
চেরাপুঞ্জির কাছেই মৌসিনরাম আরও বেশি বৃষ্টির স্থান হিসেবে বর্তমানে পরিচিত।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় সিলেট অঞ্চলে।
কারণ বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে আসা মৌসুমি বায়ু উত্তরের খাসিয়া ও জৈন্তা পাহাড়ে প্রায় সরাসরি এসে ধাক্কা খায়, আর এই পাহাড় একটি ফানেলের মতো বাতাসকে ওপরে তুলে দেয়। - ১১৯. এশিয়ার কোন অঞ্চলে সারা বছর পরিচলন বৃষ্টি হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (গোলাপ), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিচলন বৃষ্টি
- ক. জাপান ও ভারতে
- খ. মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়
- গ. নেপাল ও বাংলাদেশে
- ঘ. থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর
উত্তর: খ. মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যের কিরণ সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে। ফলে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত গরম হয়, বাতাস হালকা হয়ে ওপরে ওঠে এবং ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি ঝরায়। এই ধরনের বৃষ্টিকে পরিচলন বৃষ্টি (Convectional rain) বলে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া নিরক্ষরেখার কাছে অবস্থিত, তাই সেখানে সারা বছর, বিশেষ করে বিকেলের দিকে, পরিচলন বৃষ্টি হয়। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার জলবায়ু নিরক্ষীয় ধরনের। তাই এখানে সারা বছর গরম ও বৃষ্টি থাকে এবং শীত বা গ্রীষ্ম বলে আলাদা কোনো ঋতু নেই।
মনে রাখুন: ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের বৃষ্টি মূলত মৌসুমি বায়ুর কারণে হয়। - ১২০. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ কোনটি?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
- ক. তাপমাত্রার তারতম্য
- খ. জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া
- গ. বায়ুপ্রবাহ
- ঘ. ঘূর্ণিঝড়
উত্তর: খ. জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া
জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস পর্বতের গায়ে বাধা পেলে ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে যায়। উপরে উঠলে বাতাস ঠান্ডা হয়, বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং পর্বতের যে ঢাল বাতাসের মুখোমুখি থাকে সেখানে বৃষ্টি হয়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic rain) বলে। চেরাপুঞ্জির বৃষ্টি এই ধরনের। ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিম ঢালে বিপুল বৃষ্টি হলেও পূর্ব দিকের দাক্ষিণাত্যে কম বৃষ্টি হয়, এটি বৃষ্টিছায়ার উদাহরণ।
মনে রাখুন:
পর্বতের যে ঢালে বৃষ্টি হয় না, সেটিকে বৃষ্টিছায়া অঞ্চল বলে।
পরিচলন বৃষ্টি হয় বাতাস গরম হয়ে ওপরে উঠলে।
ঘূর্ণি বৃষ্টি হয় উষ্ণ ও ঠান্ডা বায়ুর মিলনে। - ১২১. বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?LGED'র কার্যসহকারী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়ার যন্ত্র
- ক. রেইনগ্রেট
- খ. সিসমোগ্রাফ
- গ. রেইনগেজ
- ঘ. ক্রনোমিটার
উত্তর: গ. রেইনগেজ
বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রের নাম রেইনগেজ (Rain gauge)। এতে একটি খোলা মুখের পাত্র ও পরিমাপ-নল থাকে। বৃষ্টির পানি পাত্রে জমে, তারপর তা পরিমাপ-নলে ঢেলে মিলিমিটারে পরিমাণ মাপা হয়। বৃষ্টি মাপার এককও মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করে এবং এর ভিত্তিতে বন্যা ও খরার পূর্বাভাস দেয়।
মনে রাখুন:
সিসমোগ্রাফ: ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপে।
ক্রনোমিটার: সঠিক সময় মাপে, নাবিকরা সমুদ্রে দ্রাঘিমা নির্ণয়ে ব্যবহার করে।
ব্যারোমিটার: বায়ুচাপ মাপে।
হাইগ্রোমিটার: আর্দ্রতা মাপে।
বৃষ্টিপাত নির্ণয়ে যন্ত্রটি খোলা জায়গায়, গাছপালা বা ঘরবাড়ি থেকে দূরে বসানো হয়, যাতে বৃষ্টির পানি বাধা ছাড়াই পাত্রে পড়ে। - ১২২. এল নিনো এবং লা নিনা শব্দ দুটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?BPSC-এর মেডিক্যাল অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এল নিনো ও লা নিনা
- ক. আরবি
- খ. ইংরেজি
- গ. স্প্যানিশ
- ঘ. ফ্রেঞ্চ
উত্তর: গ. স্প্যানিশ
এল নিনো (El Niño) ও লা নিনা (La Niña) শব্দ দুটি স্প্যানিশ ভাষা থেকে এসেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের জেলেরা দেখতেন, প্রতি কয়েক বছর পর বড়দিনের সময় সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়। তারা এই ঘটনার নাম দেন এল নিনো, যার অর্থ ‘ছোট ছেলে’ বা শিশু যিশু। এর বিপরীত ঘটনা, যখন পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডা হয়, তার নাম লা নিনা অর্থাৎ ‘ছোট মেয়ে’। জেলেরা লক্ষ্য করেছিলেন, এল নিনোর বছরে মাছ কমে যায় কারণ গরম পানিতে প্লাঙ্কটন কম জন্মায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মনে রাখুন: এই দুটি ঘটনা প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। - ১২৩. লা নিনা কোন ভাষার শব্দ এবং এর দ্বারা কি বুঝায়?শিক্ষা অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এল নিনো ও লা নিনা
- ক. গ্রিক : খরা ও ঘূর্ণিঝড়
- খ. ল্যাটিন : শৈত্যপ্রবাহ
- গ. স্পেনীয় : দুরন্ত বালিকা, প্রকৃত অর্থে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যা
- ঘ. মালয়েশীয় : বিপদ সংকেত
উত্তর: গ. স্পেনীয় : দুরন্ত বালিকা, প্রকৃত অর্থে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যা
লা নিনা (La Niña) শব্দটি স্প্যানিশ ভাষার, যার অর্থ ‘ছোট মেয়ে’ বা বালিকা। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা হয়ে গেলে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায়ই বেশি বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা থাকে। লা নিনার সময় অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টি বেশি হয়, কিন্তু পেরু ও ইকুয়েডরের উপকূলে খরা দেখা যায়।
মনে রাখুন:
এল নিনো ঘটলে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে গরম থাকে, বাংলাদেশে বৃষ্টি অনিয়মিত হয়।
লা নিনা হলো এল নিনোর উল্টো ঘটনা।
এল নিনো ও লা নিনা মিলিয়ে বৈজ্ঞানিক ভাষায় এল নিনো দক্ষিণ দোলন (ENSO) বলা হয়। - ১২৪. গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় যে বিষাক্ত গ্যাস থাকে, তা হল-বিসিক-এর প্রমোশন অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. ইথিলিন
- খ. পিরিডিন
- গ. কার্বন মনোক্সাইড
- ঘ. মিথেন
উত্তর: গ. কার্বন মনোক্সাইড
গাড়ির ইঞ্জিনে জ্বালানি, অর্থাৎ পেট্রল বা ডিজেল সম্পূর্ণ পোড়ে না। পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেলে জ্বালানির কার্বন থেকে কার্বন মনোক্সাইড (CO) তৈরি হয়, যা গাড়ির কালো ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস। কার্বন মনোক্সাইডের ক্ষতি এড়াতে গাড়ির ইঞ্জিন নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং বদ্ধ গ্যারেজে গাড়ি চালু রাখা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ বদ্ধ জায়গায় এই গ্যাস জমে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
মনে রাখুন:
গাড়ির ধোঁয়ায় আরও থাকে নাইট্রোজেনের অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও সীসার কণা।
ইথিলিন, পিরিডিন ও মিথেন এখানকার প্রধান বিষাক্ত গ্যাস নয়। - ১২৫. রক্তের অক্সিহিমোগ্লবিন গঠনে বাধা দেয় যে গ্যাস-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. SO₂
- খ. CO
- গ. N₂O
- ঘ. CO₂
উত্তর: খ. CO
কার্বন মনোক্সাইড (CO) শ্বাসের সঙ্গে রক্তে ঢুকলে লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে খুব সহজে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। এই বন্ধন অক্সিজেনের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বেশি শক্ত, তাই হিমোগ্লোবিন আর অক্সিজেন বহন করতে পারে না এবং অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠিত হয় না। ফলে শরীরের কোষে অক্সিজেনের অভাব হয়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। কার্বক্সিহিমোগ্লোবিনের কারণে ত্বক আপাতদৃষ্টিতে গোলাপি দেখাতে পারে। এই কারণে প্রাথমিক চিকিৎসায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রথমে খোলা বাতাসে নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনে অক্সিজেন দেওয়া হয়।
মনে রাখুন: বদ্ধ ঘরে কয়লা বা কাঠের চুলা জ্বালিয়ে ঘুমালে CO বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। - ১২৬. নিচে উল্লেখিত বায়ুদূষণকারী গ্যাস সমূহের মধ্যে কোনটিকে নীরব ঘাতক বলা হয়?কৃষি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. NO
- খ. SO₂
- গ. CO
- ঘ. PANs
উত্তর: গ. CO
কার্বন মনোক্সাইড (CO) কে নীরব ঘাতক (Silent killer) বলা হয়। কারণ এটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন, তাই আমরা এর উপস্থিতি টের পাই না। অথচ শ্বাসের সঙ্গে নিলে এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বন্ধ করে দেয়, আর মানুষ ধীরে ধীরে অজ্ঞান হয়ে মারা যেতে পারে। এর আরও একটি বিপজ্জনক দিক হলো, কম মাত্রায়ও এটি মাথাব্যথা ও দুর্বলতা ঘটায়, যা সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হয়। তাই অনেক দেশে বাড়িতে CO ডিটেক্টর লাগানো হয়।
মনে রাখুন:
অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হয়।
গাড়ির ধোঁয়া, চুলার ধোঁয়া ও সিগারেটের ধোঁয়ায় CO থাকে। - ১২৭. এসিড বৃষ্টি হয় বাতাসে-সঞ্চয় পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড বৃষ্টি
- ক. কার্বন ডাই অক্সাইডের আধিক্যে
- খ. সালফার ডাইঅক্সাইডের আধিক্যে
- গ. নাইট্রাস অক্সাইডের আধিক্যে
- ঘ. ক ও খ উভয়ই ঠিক
উত্তর: খ. সালফার ডাইঅক্সাইডের আধিক্যে
কয়লা ও খনিজ তেল পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) বাতাসে মেশে। এই গ্যাস বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) তৈরি করে। অ্যাসিড মেশানো এই বৃষ্টিই এসিড বৃষ্টি। সাধারণ বৃষ্টির pH প্রায় ৫.৬, আর এসিড বৃষ্টির pH ৫.৬ এর নিচে নেমে যায়। এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও মাটির অম্লতা বাড়িয়ে মাছ, গাছ ও অণুজীবের ক্ষতি করে। এটি মার্বেল ও চুনাপাথরের স্থাপনাও ক্ষয় করে, যেমন আগ্রার তাজমহলের মার্বেলের ক্ষতি হয়।
মনে রাখুন:
নাইট্রোজেনের অক্সাইডও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে এসিড বৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
CO₂ থেকে বৃষ্টির পানি সামান্য অম্লীয় হয়, কিন্তু একে এসিড বৃষ্টি বলা হয় না। - ১২৮. কোন বায়ু-দূষক এসিড বৃষ্টি ঘটায়?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড বৃষ্টি
- ক. SO₃
- খ. CO₂
- গ. N₂O
- ঘ. CO
উত্তর: ক. SO₃
সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO₃) বৃষ্টির পানির সঙ্গে সরাসরি বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) তৈরি করে। বিক্রিয়াটি এভাবে লেখা হয়: SO₃ + H₂O → H₂SO₄। এই অ্যাসিড বৃষ্টির সঙ্গে ঝরে পড়ে বলে একে এসিড বৃষ্টি বলা হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড এর জন্য দায়ী নয়। শিল্পাঞ্চলে কারখানার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় সালফারের অক্সাইড থাকে বলে সেখান থেকে দূরেও এসিড বৃষ্টি হতে পারে। বাতাস এই দূষণ বহু কিলোমিটার দূরে ছড়িয়ে দেয়।
মনে রাখুন:
কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পোড়ালে প্রথমে SO₂ তৈরি হয়, পরে বাতাসে তা SO₃ তে পরিণত হয়।
এসিড বৃষ্টি ভবন, মূর্তি, ফসল ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি করে। - ১২৯. SMOG হচ্ছে-বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্মগ
- ক. সিগারেটের ধোয়া
- খ. কুয়াশা
- গ. দূষিত বাতাস
- ঘ. শিশির
উত্তর: গ. দূষিত বাতাস
স্মগ (Smog) শব্দটি এসেছে Smoke (ধোঁয়া) ও Fog (কুয়াশা) এই দুই শব্দ মিলিয়ে। এটি ধোঁয়া, ধুলা ও গ্যাস মেশানো কুয়াশার মতো দূষিত বাতাস, যা শহরে ও শিল্পাঞ্চলে দেখা যায়। স্মগ দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেয় এবং শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখের জ্বালা ঘটায়। স্মগ কমানোর উপায় হলো শিল্পকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ার পরিমাণ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করা। শীতকালে ঢাকার বাতাসে ধুলা ও ধোঁয়া জমে স্মগের মতো অবস্থা তৈরি করে।
মনে রাখুন:
লন্ডনের ১৯৫২ সালের স্মগে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল।
সূর্যের আলোর সঙ্গে গাড়ির ধোঁয়ার বিক্রিয়ায় আলোক-রাসায়নিক স্মগ তৈরি হয়, যাতে ওজোন ও PAN থাকে। - ১৩০. বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জুনিয়র অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. ৭৫.০২%
- খ. ৭৬.০২%
- গ. ৭৮.০২%
- ঘ. ৭৯.০২%
উত্তর: গ. ৭৮.০২%
বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি থাকা গ্যাস হলো নাইট্রোজেন, যার পরিমাণ আয়তনে প্রায় ৭৮ শতাংশ, আর পরীক্ষায় একে ৭৮.০২% ধরা হয়। নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির গ্যাস, তাই এটি অক্সিজেনের দহন ক্ষমতাকে মৃদু রাখে। যদি বাতাসে শুধু অক্সিজেন থাকত, তাহলে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেই সবকিছু দ্রুত পুড়ে যেত। গাছও নাইট্রোজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না, ডালজাতীয় গাছের শিকড়ের ব্যাকটেরিয়া এই গ্যাসকে ব্যবহারযোগ্য যৌগে বদলে দেয়। তরল নাইট্রোজেন অতি ঠান্ডা, তাই হিমায়ক হিসেবে রক্ত ও খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
অক্সিজেন বাতাসে প্রায় ২১ শতাংশ আছে।
আর্গন প্রায় ০.৮০% এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৩%। - ১৩১. বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা কত ভাগ?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুমণ্ডল
- ক. ২১%
- খ. ৩০%
- গ. ৭৮.০১%
- ঘ. ৫%
উত্তর: ক. ২১%
বায়ুমণ্ডলে আয়তন অনুযায়ী অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১% (সূক্ষ্মভাবে ২০.৯৫%)। অক্সিজেন প্রাণীর শ্বসন ও জ্বালানির দহনের জন্য অপরিহার্য। বাতাসে অক্সিজেন না থাকলে আমরা শ্বাস নিতে পারতাম না, আর কোনো কিছু পুড়তেও পারত না। সালোকসংশ্লেষণ চলতে থাকে বলেই গাছ প্রতিদিন বাতাসে নতুন অক্সিজেন যোগ করছে, ফলে বাতাসে এর পরিমাণ মোটামুটি স্থির থাকে। মহাসাগরের শৈবালও এই কাজে বড় ভূমিকা রাখে। বায়ুমণ্ডলের নিচের দিকের এই অক্সিজেন ওজোন স্তর তৈরির উপাদানও জোগায়।
মনে রাখুন:
বাতাসে সবচেয়ে বেশি থাকে নাইট্রোজেন, প্রায় ৭৮%।
আর্গন প্রায় ০.৯৩% আর কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ০.০৪%। - ১৩২. বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে?এনটিআরসিএ, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস প্রভাব
- ক. CO
- খ. CO2
- গ. S2O
- ঘ. CFC
উত্তর: খ. CO2
গাছ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) শোষণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। বন উজাড় করলে CO₂ শোষণের পরিমাণ কমে যায়, আবার গাছ পোড়ালে বা পচলে জমে থাকা কার্বন CO₂ হয়ে বাতাসে মেশে। ফলে বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর পরিমাণ বাড়ে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া কাঠ পুড়িয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারও বায়ুতে CO₂ বাড়ায়। পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার ফলে মেরুর বরফ গলছে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে, যা বাংলাদেশের মতো নিচু দেশের জন্য বড় হুমকি।
মনে রাখুন: প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও সিএফসি। - ১৩৩. বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর অবক্ষয়ের জন্য কোন গ্যাসের ভূমিকা সর্বোচ্চ?এনটিআরসিএ, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. সিএফসি
- খ. মিথেন
- গ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: ক. সিএফসি
রেফ্রিজারেটর, এসি ও এরোসল স্প্রেতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছে অতিবেগুনি রশ্মিতে ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু ছাড়ে। এই ক্লোরিন বারবার বিক্রিয়া করে অসংখ্য ওজোন (O₃) অণু ভেঙে ফেলে, তাই ওজোন স্তর ক্ষয়ে সিএফসির ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড মূলত গ্রিনহাউস গ্যাস, যা পৃথিবীকে উষ্ণ করে। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি আটকে রাখে, তাই স্তরটি পাতলা হলে ত্বকের ক্যানসার ও চোখের ছানি বাড়ে। ১৯৮৭ সালের মন্ট্রিল প্রটোকল সিএফসির ব্যবহার সীমিত করার আন্তর্জাতিক চুক্তি।
মনে রাখুন:
ওজোন স্তর থাকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে।
১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস। - ১৩৪. নিম্নের কোন স্থানটি নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (এইচ ইউনিট) ভর্তি, ২০১১-১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্ষাংশ ও অক্ষরেখা
- ক. মঙ্গোলিয়া
- খ. সাইবেরিয়া
- গ. সাইপ্রাস
- ঘ. ইন্দোনেশিয়া
উত্তর: ঘ. ইন্দোনেশিয়া
নিরক্ষরেখার দুই পাশে মোটামুটি ৫° থেকে ১০° অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চলের জলবায়ুকে নিরক্ষীয় জলবায়ু (Equatorial climate) বলে। এখানে সারা বছর সূর্য প্রায় খাড়াভাবে কিরণ দেয়, তাই তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং প্রায় প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টি হয়। ইন্দোনেশিয়ার ওপর দিয়ে নিরক্ষরেখা চলে গেছে, তাই দেশটি এই জলবায়ু অঞ্চলে পড়ে। অন্যদিকে মঙ্গোলিয়া ও সাইবেরিয়া অনেক উত্তরে, সেখানে শীত খুব তীব্র, আর সাইপ্রাসে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু।
মনে রাখুন:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে ঘন চিরহরিৎ বনভূমি দেখা যায়, যেমন আমাজন ও কঙ্গো অববাহিকা।
এই অঞ্চলে শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্য খুব কম। - ১৩৫. কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাস নয়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৪র্থ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস প্রভাব
- ক. মিথেন
- খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- গ. নাইট্রোজেন
- ঘ. সিএফসি
উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
যে গ্যাসগুলো পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলে আটকে রাখে, সেগুলোকে গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) বলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও সিএফসি এমন গ্যাস। নাইট্রোজেন বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৮ ভাগ জুড়ে থাকলেও এর অণু অবলোহিত তাপ শোষণ করে না, তাই এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বেড়ে গেলে বেশি তাপ আটকে পড়ে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, একে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।
মনে রাখুন:
প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড।
নাইট্রোজেন নিজে গ্রিনহাউস গ্যাস না হলেও এর একটি যৌগ নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।
জলীয় বাষ্পও প্রাকৃতিক গ্রিনহাউস গ্যাস। - ১৩৬. বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, উপজেলা পোস্টমাস্টার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. অক্সিজেন
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. হাইড্রোজেন
- ঘ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর: খ. নাইট্রোজেন
আমাদের চারপাশের বাতাস কয়েকটি গ্যাসের মিশ্রণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকে নাইট্রোজেন (Nitrogen), আয়তনের হিসাবে প্রায় ৭৮ ভাগ। এরপর অক্সিজেন প্রায় ২১ ভাগ, আর্গন প্রায় ০.৯ ভাগ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্র ০.০৪ ভাগের মতো। নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় গ্যাস হওয়ায় এটি অক্সিজেনকে পাতলা করে রাখে, ফলে আগুন খুব দ্রুত জ্বলে ওঠে না। আবার উদ্ভিদের প্রোটিন তৈরিতেও নাইট্রোজেন অপরিহার্য।
মনে রাখুন:
বায়ুতে সবচেয়ে বেশি থাকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস: আর্গন।
হাইড্রোজেন বায়ুতে খুবই সামান্য থাকে।
শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ করে। - ১৩৭. কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, অফিস সহকারী ও অন্যান্য পদ, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস গ্যাস
- ক. $CH_4$
- খ. $N_2O$
- গ. $N_2$
- ঘ. $CO_2$
উত্তর: গ. $N_2$
যে গ্যাসগুলো পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে ফিরে যাওয়া তাপ বা অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে আটকে রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) বলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$), মিথেন ($CH_4$) ও নাইট্রাস অক্সাইড ($N_2O$) এমন গ্যাস, তাই এদের পরিমাণ বাড়লে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। নাইট্রোজেন ($N_2$) বায়ুর প্রায় ৭৮ ভাগ জুড়ে থাকলেও এর অণু অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে না। তাই নাইট্রোজেন গ্রিনহাউস গ্যাস নয়। অক্সিজেনও একই কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
মনে রাখুন:
সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্রিনহাউস গ্যাস জলীয় বাষ্প।
অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস: সিএফসি ও ওজোন।
ধানক্ষেত ও গবাদিপশু থেকে প্রচুর মিথেন বের হয়। - ১৩৮. বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. অক্সিজেন
- গ. ওজোন
- ঘ. হিলিয়াম
উত্তর: গ. ওজোন
বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোন (Ozone) গ্যাসের একটি পাতলা স্তর আছে। ওজোনের অণু তিনটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে তৈরি, সংকেত $O_3$। এই স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির (Ultraviolet ray) বেশির ভাগ শোষণ করে নেয়। অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছালে ত্বকের ক্যানসার, চোখে ছানি এবং ফসলের ক্ষতি হতে পারত। তাই ওজোন স্তরকে পৃথিবীর রক্ষাকবচ বলা হয়। ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশনারে ব্যবহৃত সিএফসি গ্যাস এই স্তরকে ক্ষয় করে।
মনে রাখুন:
ওজোন স্তরের পুরুত্ব মাপা হয় ডবসন একক দিয়ে।
বিশ্ব ওজোন দিবস ১৬ সেপ্টেম্বর। - ১৩৯. 'সিএফসি' কি ক্ষতি করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. বায়ুর তাপ বৃদ্ধি করে
- খ. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
- গ. এসিড বৃষ্টিপাত ঘটায়
- ঘ. রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে
উত্তর: খ. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (Chlorofluorocarbon) বা সিএফসি হলো কার্বন, ক্লোরিন ও ফ্লুরিন দিয়ে তৈরি একটি যৌগ, যা একসময় ফ্রিজ ও এসির শীতলীকারক, স্প্রে ক্যান ও ফোম তৈরিতে প্রচুর ব্যবহার হতো। বাতাসে ছাড়া পেলে সিএফসি ধীরে ধীরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায়। সেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ভেঙে এটি ক্লোরিন পরমাণু ছেড়ে দেয়, আর একটি ক্লোরিন পরমাণুই হাজার হাজার ওজোন অণু ভেঙে ফেলতে পারে। এভাবে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে ত্বকের ক্যানসার ও চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
মনে রাখুন:
ওজোন স্তর রক্ষায় ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস।
অ্যান্টার্কটিকার ওপর ওজোন স্তরে সবচেয়ে বড় ফাটল দেখা যায়। - ১৪০. মেঘাচ্ছন্ন আকাশে রাত অপেক্ষাকৃত গরম হয়, কারণ-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আবহাওয়া
- ক. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কম থাকা
- খ. বায়ুমণ্ডলীয় ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া
- গ. বায়ুমণ্ডলে বেশি পরিমাণ ধূলিকণা থাকা
- ঘ. মেঘ মাটি থেকে বায়ুতে তাপ বিকিরণে বাধা দেয়
উত্তর: ঘ. মেঘ মাটি থেকে বায়ুতে তাপ বিকিরণে বাধা দেয়
দিনের বেলা সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠ গরম হয়। রাতে সূর্য না থাকায় মাটি সেই তাপ বিকিরণ (Radiation) করে ওপরের দিকে ছেড়ে দেয়, আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই তাপ সহজে মহাশূন্যে হারিয়ে যায়, ফলে রাত বেশ ঠান্ডা হয়ে পড়ে। কিন্তু আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে মেঘ সেই বিকিরিত তাপের বড় অংশ শোষণ করে এবং আবার নিচের দিকে ফিরিয়ে দেয়, অনেকটা কম্বলের মতো। তাই মেঘলা রাত তুলনামূলক গরম থাকে। একই কারণে পরিষ্কার আকাশের শীতের রাতে বেশি কুয়াশা ও শিশির পড়ে, আর মেঘলা রাতে শিশির কম পড়ে।
মনে রাখুন: গ্রিনহাউস গ্যাসও এভাবে পৃথিবীর বিকিরিত তাপ আটকে রাখে, একে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। - ১৪১. বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপ -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (ঝিলাম), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুচাপ
- ক. কমে যায়
- খ. বেড়ে যায়
- গ. স্থির থাকে
- ঘ. শূন্য হয়
উত্তর: ক. কমে যায়
বাতাস মূলত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন অণু দিয়ে তৈরি। নাইট্রোজেন অণুর আণবিক ভর ২৮ আর অক্সিজেনের ৩২, কিন্তু পানির অণুর আণবিক ভর মাত্র ১৮। একই তাপমাত্রা ও চাপে একই আয়তনে গ্যাসের অণুর সংখ্যা সমান থাকে, তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প (Water vapour) বাড়লে কিছু ভারী অণুর জায়গা হালকা পানির অণু দখল করে। ফলে আর্দ্র বাতাস শুষ্ক বাতাসের চেয়ে হালকা হয় এবং বায়ুচাপ কমে যায়। এ কারণে ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা হঠাৎ কমে গেলে বৃষ্টি বা ঝড়ের সম্ভাবনা বোঝা যায়।
মনে রাখুন:
ব্যারোমিটারের পারদ ধীরে ধীরে বাড়লে আবহাওয়া ভালো থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুচাপ তত কমে। - ১৪২. নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (আলফা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. উদ্ভিদ
- খ. প্রাণীদেহ
- গ. মাটি
- ঘ. বায়ুমন্ডল
উত্তর: ঘ. বায়ুমন্ডল
বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৮ ভাগই নাইট্রোজেন (Nitrogen) গ্যাস, তাই প্রকৃতিতে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস বায়ুমণ্ডল। তবে উদ্ভিদ বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন সরাসরি নিতে পারে না। শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের গুটিতে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রোজেন যৌগে রূপান্তর করে মাটিতে যোগ করে। বজ্রপাতের সময়ও বাতাসের নাইট্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে নাইট্রেট হিসেবে মাটিতে আসে। এরপর উদ্ভিদ মাটি থেকে এই নাইট্রেট শোষণ করে প্রোটিন তৈরি করে। এভাবে নাইট্রোজেন বায়ু, মাটি ও জীবদেহের মধ্যে ঘুরে ঘুরে চলে, একে নাইট্রোজেন চক্র বলে।
মনে রাখুন:
বায়ুতে অক্সিজেন প্রায় ২১ ভাগ।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে প্রোটিন গঠনে নাইট্রোজেন অপরিহার্য। - ১৪৩. Gravity settling chambers are used in industries to removeবেসিক ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুদূষণ
- ক. NOx
- খ. SOx
- গ. CO
- ঘ. Suspended particulate matter
উত্তর: ঘ. Suspended particulate matter
গ্র্যাভিটি সেটলিং চেম্বার (Gravity settling chamber) হলো কলকারখানার ধোঁয়া থেকে ভাসমান কণা আলাদা করার একটি সহজ যন্ত্র। এটি একটি বড় প্রশস্ত বাক্সের মতো, যার ভেতরে ঢুকলে ধোঁয়ার গতি অনেক কমে যায়। গতি কমে গেলে ধোঁয়ার সঙ্গে আসা ভারী ধূলিকণা ও ছাই অভিকর্ষের টানে নিচে পড়ে জমা হয়, আর পরিষ্কার গ্যাস বেরিয়ে যায়। তাই এটি ভাসমান কণা বা Suspended particulate matter দূর করতে ব্যবহৃত হয়। NOx, SOx বা CO-এর মতো গ্যাসীয় দূষক অভিকর্ষে নিচে পড়ে না, তাই এই যন্ত্রে এদের আলাদা করা যায় না।
মনে রাখুন:
খুব সূক্ষ্ম কণা দূর করতে ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর ব্যবহার করা হয়।
সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস দূর করতে স্ক্রাবার ব্যবহৃত হয়। - ১৪৪. Which of the following gases plays an important role in maintaining atmospheric temperature?সম্মিলিত ২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (১৩ ডিসেম্বর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রিনহাউস প্রভাব
- ক. Nitrogen
- খ. Oxygen
- গ. Argon
- ঘ. Carbon Dioxide
উত্তর: ঘ. Carbon Dioxide
দিনের বেলা সূর্যের আলো পৃথিবীকে গরম করে, আর রাতে পৃথিবী সেই তাপ অবলোহিত রশ্মি হিসেবে মহাকাশে ফিরিয়ে দিতে চায়। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড এই অবলোহিত রশ্মির একটি অংশ শোষণ করে আবার চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। ফলে তাপের কিছুটা পৃথিবীর কাছেই আটকে থাকে এবং বায়ুমণ্ডল উষ্ণ থাকে। এই ঘটনাকে গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse effect) বলে। এই প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় −18°C হতো। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে গেলে পৃথিবী অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে, একে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে। নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও আর্গন এভাবে তাপ ধরে রাখে না।
মনে রাখুন:
অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস: মিথেন, জলীয় বাষ্প, নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসি। - ১৪৫. Which one among the following is responsible for formation of 'Ozone Holes' in the stratosphere?সম্মিলিত ৫ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার পর্যায় (৩০ নভেম্বর), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. Chloro Fluoro Carbons
- খ. Benzopyrene
- গ. Hydrocarbons
- ঘ. UV radiation
উত্তর: ক. Chloro Fluoro Carbons
বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ওজোন গ্যাসের একটি পাতলা স্তর আছে, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি আটকে দেয়। রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার ও স্প্রে ক্যানে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাস ধীরে ধীরে ওপরে উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে যায়। সেখানে অতিবেগুনি রশ্মির আঘাতে CFC ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত হয়। একটি ক্লোরিন পরমাণুই হাজার হাজার ওজোন অণু ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করতে পারে। ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, যাকে ওজোন ছিদ্র বলে। সবচেয়ে বড় ওজোন ছিদ্র দেখা যায় অ্যান্টার্কটিকার ওপরে।
মনে রাখুন:
ওজোনের সংকেত $O_3$।
ওজোন স্তর রক্ষায় ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস। - ১৪৬. The ozone layer restrictsসম্মিলিত ৫ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার পর্যায় (২৯ মার্চ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ওজোন স্তর
- ক. Ultraviolet radiation
- খ. Infrared radiation
- গ. Visible light
- ঘ. Gamma rays
উত্তর: ক. Ultraviolet radiation
সূর্যের আলোর সঙ্গে প্রচুর অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet ray) আসে, যা জীবের জন্য ক্ষতিকর। বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে, প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায়, ওজোন গ্যাসের একটি স্তর আছে। এই স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বেশির ভাগ শোষণ করে নেয়, ফলে তা পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। ওজোন স্তর না থাকলে মানুষের ত্বকের ক্যান্সার ও চোখের ছানি বেড়ে যেত এবং ফসলের ক্ষতি হতো। এজন্য ওজোন স্তরকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ছাতা বলা হয়। অবলোহিত রশ্মি ও দৃশ্যমান আলো এই স্তর ভেদ করে সহজেই আসে।
মনে রাখুন:
ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ সিএফসি গ্যাস।
ওজোনের ঘনত্ব মাপার একক ডবসন। - ১৪৭. The air we inhale is mixture of gases. Which of the following gases in the mixture is highest in percentage?প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, এক্সিকিউটিভ অফিসার (১ নভেম্বর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়ুর উপাদান
- ক. Carbon dioxide
- খ. Oxygen
- গ. Ozone
- ঘ. Nitrogen
উত্তর: ঘ. Nitrogen
আমরা শ্বাসের সঙ্গে যে বাতাস নিই, তা কয়েকটি গ্যাসের মিশ্রণ। এই মিশ্রণে সবচেয়ে বেশি থাকে নাইট্রোজেন (Nitrogen), প্রায় ৭৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে অক্সিজেন, প্রায় ২১ শতাংশ, আর বাকি ১ শতাংশের মধ্যে বেশিরভাগই আর্গন। কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে মাত্র প্রায় ০.০৪ শতাংশ, আর ওজোন থাকে আরও অনেক কম। নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় বলে বায়ুর অক্সিজেনকে পাতলা করে রাখে, ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না।
মনে রাখুন:
বায়ুতে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর মধ্যে আর্গন সবচেয়ে বেশি, প্রায় ০.৯৩ শতাংশ।
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ার।
উদ্ভিদ বায়ুর নাইট্রোজেন সরাসরি নিতে পারে না, শিমজাতীয় উদ্ভিদের মূলের ব্যাকটেরিয়া তা মাটিতে আবদ্ধ করে।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন