চুম্বক: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ৩। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ২৪টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (৯)
- ১. নিচের কোনটি চৌম্বক পদার্থ?১৩তম বিসিএস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক পদার্থ
- ক. পারদ
- খ. বিসমাথ
- গ. কোবাল্ট
- ঘ. অ্যান্টিমনি
উত্তর: গ. কোবাল্ট
যে পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে, তাকে চৌম্বক পদার্থ বলে। লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট এ ধরনের পদার্থ। কোবাল্ট এদের মধ্যে অন্যতম, তাই এটি চৌম্বক। পারদ, বিসমাথ ও অ্যান্টিমনিকে চুম্বক সামান্য বিকর্ষণ করে, এদের বলে ডায়াচৌম্বক (Diamagnetic) পদার্থ।
মনে রাখুন:
লোহা, নিকেল ও কোবাল্টকে ফেরোচৌম্বক পদার্থ বলে।
অ্যালুমিনিয়ামের মতো কিছু পদার্থকে চুম্বক সামান্য আকর্ষণ করে, এদের বলে প্যারাচৌম্বক পদার্থ।
ফেরোচৌম্বক পদার্থ চুম্বকের সংস্পর্শে সহজেই চুম্বকিত হয় এবং চুম্বককে জোরে আকর্ষণ করে।
ডায়াচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ তামা, সোনা, রুপা ও পানি।
কিউরি তাপমাত্রার ওপরে গেলে ফেরোচৌম্বক পদার্থ তার চৌম্বক ধর্ম হারিয়ে ফেলে। - ২. কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকীয় পদার্থ
- ক. তামা
- খ. ইস্পাত
- গ. পিতল
- ঘ. স্বর্ণ
উত্তর: খ. ইস্পাত
লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং এদের সংকর ধাতু (যেমন ইস্পাত) চৌম্বক পদার্থ, কারণ এদের ভেতরের ক্ষুদ্র চৌম্বক অংশগুলোকে একই দিকে সাজানো যায়। ইস্পাতকে কোনো চুম্বকের সংস্পর্শে বা কুণ্ডলীর ভেতর রেখে বিদ্যুৎ চালালে সেটি চুম্বকে পরিণত হয় এবং বহুদিন সেই ধর্ম ধরে রাখে। তামা, পিতল ও স্বর্ণ অচৌম্বক পদার্থ, তাই এদের চুম্বকে পরিণত করা যায় না।
মনে রাখুন:
নরম লোহা সহজে চুম্বকিত হয়, কিন্তু সহজেই চৌম্বকত্ব হারায়, তাই এটি অস্থায়ী চুম্বকের কাজে লাগে।
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ইস্পাত ব্যবহার হয়।
তামা ও পিতল প্রতিচৌম্বক জাতীয় পদার্থ, যেগুলো চুম্বকের প্রতি সামান্য বিকর্ষিত হয়। আর লোহা, নিকেল ও কোবাল্টকে বলা হয় লৌহচৌম্বক পদার্থ। - ৩. বাতাস একটি –৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকীয় ধর্ম
- ক. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
- খ. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
- গ. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
- ঘ. অ্যান্টিফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
উত্তর: খ. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
যেসব পদার্থ চুম্বক ক্ষেত্রের দিকে দুর্বলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাদের প্যারাচুম্বকীয় (Paramagnetic) পদার্থ বলে। বাতাসের প্রায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন, আর অক্সিজেন অণুতে দুটি অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকে। এই অযুগ্ম ইলেকট্রনের কারণে অক্সিজেন চুম্বকের দিকে সামান্য আকৃষ্ট হয়। ফলে বাতাস সামগ্রিকভাবে প্যারাচুম্বকীয়। মজার ব্যাপার হলো, তরল অক্সিজেন শক্তিশালী চুম্বকের দিকে সরাসরি আকৃষ্ট হতে দেখা যায়। ফলে বায়ুকে চুম্বকের দিকে আকৃষ্ট হওয়া পদার্থের দলে ফেলা হয়।
মনে রাখুন:
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ চুম্বক ক্ষেত্র থেকে সামান্য বিকর্ষিত হয়, যেমন পানি ও তামা।
ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ খুব জোরে আকৃষ্ট হয়, যেমন লোহা ও নিকেল। - ৪. পানির অণু একটি-৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকীয় ধর্ম
- ক. প্যারাচুম্বক
- খ. ডায়াচুম্বক
- গ. ফেরােচুম্বক
- ঘ. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
উত্তর: খ. ডায়াচুম্বক
যেসব পদার্থের সব ইলেকট্রন জোড়ায় জোড়ায় থাকে, অর্থাৎ বিজোড় ইলেকট্রন নেই, চৌম্বক ক্ষেত্র সেগুলোকে সামান্য বিকর্ষণ করে। এদের ডায়াচুম্বক (Diamagnetic) পদার্থ বলে। পানির অণু (H2O)-এ অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সব ইলেকট্রন জোড়বদ্ধ, তাই পানি ডায়াচুম্বক। বিপরীতে প্যারাচুম্বক পদার্থে বিজোড় ইলেকট্রন থাকে, ফলে সেটি চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে সামান্য আকর্ষিত হয়। তাই শক্তিশালী চুম্বকের কাছে পানির ফোঁটা সামান্য সরে যায়, যদিও এই বিকর্ষণ এত দুর্বল যে সাধারণ অবস্থায় টের পাওয়া যায় না।
মনে রাখুন:
ডায়াচুম্বকের উদাহরণ: পানি, তামা, সোনা, বিসমাথ।
প্যারাচুম্বকের উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম, অক্সিজেন।
ফেরোচুম্বকের উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট। - ৫. পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ
- ক. ডায়োড
- খ. ট্রান্সফরমার
- গ. ট্রানজিস্টার
- ঘ. অ্যামপ্লিফায়ার
উত্তর: খ. ট্রান্সফরমার
একটি তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎপ্রবাহ বদলালে তার চারপাশের চৌম্বক ক্ষেত্রও বদলায়। পাশের কাছাকাছি আরেকটি কুণ্ডলী থাকলে সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে সেখানে তড়িৎচালক বল তৈরি হয়। এই ঘটনাকে পারস্পরিক আবেশ (Mutual Induction) বলে। ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলী ও গৌণ কুণ্ডলী নামে দুটি কুণ্ডলী থাকে এবং এই নীতিতেই এটি কাজ করে। ডায়োড, ট্রানজিস্টার ও অ্যামপ্লিফায়ার অর্ধপরিবাহী বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র, এদের কাজ আলাদা নীতিতে চলে।
মনে রাখুন:
ট্রান্সফরমার শুধু পরিবর্তী প্রবাহ (AC)-এ কাজ করে।
ভোল্টেজ বাড়ালে একে স্টেপ-আপ এবং কমালে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। - ৬. টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কি ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকের ব্যবহার
- ক. স্থায়ী চুম্বক
- খ. অস্থায়ী চুম্বক
- গ. সংকর চুম্বক
- ঘ. প্রাকৃতিক চুম্বক
উত্তর: ক. স্থায়ী চুম্বক
টেপ রেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় আয়রন অক্সাইডের মতো এমন পদার্থের প্রলেপ থাকে, যা একবার চুম্বকিত হলে সেই চুম্বকত্ব দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারে। এ কারণেই তথ্য ফিতায় জমা থাকে। যে চুম্বক চুম্বকত্ব ধরে রাখে, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। আর যে চুম্বক তাড়াতাড়ি চুম্বকত্ব হারায়, তাকে বলে অস্থায়ী চুম্বক। আমাদের ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ডের কালো ফিতাতেও এই নীতিতেই তথ্য জমা থাকে। পুরোনো ক্যাসেটের ফিতাতেও এভাবে গান ধরা থাকত।
মনে রাখুন:
নরম লোহা অস্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যেমন তড়িৎচুম্বকে।
ইস্পাত দিয়ে স্থায়ী চুম্বক তৈরি হয়। - ৭. ক্যাসেটের ফিতার শব্দ রক্ষিত থাকে কি হিসেবে?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকের ব্যবহার
- ক. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
- খ. মেমোরী চিপ হিসেবে
- গ. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
- ঘ. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
উত্তর: গ. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
ক্যাসেট টেপের ফিতায় আয়রন অক্সাইডের মতো চৌম্বক পদার্থের মিহি গুঁড়ার প্রলেপ থাকে। রেকর্ড করার সময় শব্দকে প্রথমে বিদ্যুৎ সংকেতে রূপান্তর করা হয়। এই সংকেত একটি ছোট তড়িৎচুম্বকের মাধ্যমে ফিতার কণাগুলোকে সংকেতের ধরন অনুযায়ী চুম্বকিত করে। ফলে শব্দ চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে ফিতায় জমা থাকে। বাজানোর সময় প্রক্রিয়াটি উল্টো দিকে চলে, আর সংরক্ষিত চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে আবার বিদ্যুৎ সংকেত ও শব্দ তৈরি হয়।
মনে রাখুন: কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও তথ্য চৌম্বক ক্ষেত্র হিসেবে সংরক্ষণ করে। - ৮. কোন পদার্থটি চৌম্বক পদার্থ নয়?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকীয় পদার্থ
- ক. কাঁচা লৌহ
- খ. ইস্পাত
- গ. এলুমিনিয়াম
- ঘ. কোবাল্ট
উত্তর: গ. এলুমিনিয়াম
লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট চুম্বক দিয়ে জোরালোভাবে আকৃষ্ট হয়, তাই এদের চৌম্বক (ফেরোম্যাগনেটিক) পদার্থ বলে। ইস্পাত লোহা থেকে তৈরি, তাই সেও চৌম্বক পদার্থ। কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম চুম্বকের প্রতি এত সামান্য সাড়া দেয় যে একে চৌম্বক পদার্থ বলা হয় না। এটি আসলে দুর্বল প্যারাচৌম্বক পদার্থ। এই কারণে লোহা, নিকেল ও কোবাল্টকেই সাধারণত চৌম্বক পদার্থ বলে চেনা হয়। এ কারণে চুম্বক দিয়ে লোহার জিনিস আলাদা করা গেলেও অ্যালুমিনিয়ামের জিনিস আলাদা করা যায় না।
মনে রাখুন:
কাঁচা লোহা সহজে চুম্বকিত হয় এবং সহজেই চৌম্বকত্ব হারায়।
ইস্পাত দেরিতে চুম্বকিত হয়, কিন্তু চৌম্বকত্ব দীর্ঘদিন ধরে রাখে। - ৯. টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারে স্মৃতির ফিতায় কি ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক পদার্থ
- ক. অস্থায়ী চুম্বক
- খ. স্থায়ী চুম্বক বা সিরামিক চুম্বক
- গ. সংকর চুম্বক
- ঘ. প্রাকৃতিক চুম্বক
উত্তর: খ. স্থায়ী চুম্বক বা সিরামিক চুম্বক
ক্যাসেট টেপ বা কম্পিউটারের স্মৃতি-ফিতায় খুব সূক্ষ্ম চৌম্বক কণার একটি প্রলেপ থাকে, সাধারণত আয়রন অক্সাইড বা সেরকম সিরামিক পদার্থ দিয়ে। তথ্য লেখার সময় এই কণাগুলো চুম্বকিত হয় এবং তথ্য ধরে রাখে। তথ্য যাতে সহজে মুছে না যায়, তাই কণাগুলো এমন পদার্থের হতে হয়, যার চুম্বকত্ব দীর্ঘদিন থাকে, অর্থাৎ স্থায়ী চুম্বক। টেপের গায়ের এই প্রলেপ রেকর্ডিং হেডের পাশ দিয়ে গেলে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে কণাগুলোর চুম্বকত্বের নকশা বদলে যায়। সেই নকশাই পরে শব্দ বা তথ্য হিসেবে পড়া হয়।
মনে রাখুন:
সিরামিক চুম্বককে ফেরাইট চুম্বকও বলা হয়।
নরম লোহা অস্থায়ী চুম্বকের উদাহরণ।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (১৫)
- ১০. নিচের কোনটি ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক পদার্থ
- ক. লৌহ
- খ. নিকেল
- গ. সোনা
- ঘ. কোবাল্ট
উত্তর: গ. সোনা
চৌম্বকক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের আচরণ তিন রকম হতে পারে। যেসব পদার্থ ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে এবং চুম্বক থেকে সামান্য দূরে সরে যায়, তাদের ডায়াচৌম্বক (Diamagnetic) পদার্থ বলে। সোনা এ ধরনের পদার্থ। রুপা, তামা, দস্তা, সীসা, বিসমাথ ও পানিও ডায়াচৌম্বক। অন্য দিকে লোহা, নিকেল ও কোবাল্ট চুম্বকের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয় এবং নিজেরাও শক্তিশালী চুম্বক হতে পারে। এদের বলে ফেরোচৌম্বক পদার্থ।
মনে রাখুন:
প্যারাচৌম্বক পদার্থ চুম্বকক্ষেত্রের দিকে সামান্য আকৃষ্ট হয়, যেমন অ্যালুমিনিয়াম ও প্ল্যাটিনাম।
ডায়াচৌম্বক পদার্থের আপেক্ষিক ভেদ্যতা ১-এর সামান্য কম। - ১১. গতিশীল চার্জের ওপর যে বল ক্রিয়া করে তাকে বলে—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক বল
- ক. চৌম্বক বল
- খ. তড়িৎ বল
- গ. কুলম্ব বল
- ঘ. তড়িৎ-চুম্বকীয় বল
উত্তর: ক. চৌম্বক বল
স্থির আধান চারপাশে শুধু তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করে। কিন্তু আধান গতিশীল হলে সে চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্রও তৈরি করে। এই চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে ক্রিয়া করেই আধান বল অনুভব করে, তাই গতিশীল আধানের ওপর যে বল ক্রিয়া করে তা চৌম্বক বল (Magnetic Force)। এর মান F = qvB sinθ। এই বল আধানের বেগের সঙ্গে লম্বভাবে ক্রিয়া করে, তাই বেগের মান না বদলে কেবল দিক বদলায়। স্থির আধানের মধ্যকার বল কুলম্ব বল, আর কেবল তড়িৎক্ষেত্রের কারণে সৃষ্ট বলকে তড়িৎ বল বলে।
মনে রাখুন:
চার্জ স্থির থাকলে তার ওপর কোনো চৌম্বক বল ক্রিয়া করে না।
তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্র দুটি একসঙ্গে ক্রিয়া করলে মোট বলকে লরেন্টজ বল বলে। - ১২. 2.5×10⁻³ টেসলা একটি চৌম্বকক্ষেত্রে যদি চৌম্বক বল প্রোটনের ওজনের সমান হয়, তাহলে প্রোটনটির গতিবেগ কত হবে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক বল
- ক. 3.09×10⁻⁵ ms⁻¹
- খ. 4.09×10⁻⁵ ms⁻¹
- গ. 2.09×10⁻⁵ ms⁻¹
- ঘ. 0.09×10⁻⁵ ms⁻¹
উত্তর: খ. 4.09×10⁻⁵ ms⁻¹
চৌম্বকক্ষেত্রে চার্জিত কণার ওপর যে বল কাজ করে, তা হলো F = qvB (বেগ ও ক্ষেত্র পরস্পর লম্ব হলে)। প্রশ্নে এই বলকে প্রোটনের ওজন mg-এর সমান ধরা হয়েছে। তাই qvB = mg, অর্থাৎ v = mg/(qB)।
এখানে m = 1.672×10⁻²⁷ kg, g = 9.8 ms⁻², q = 1.6×10⁻¹⁹ C, B = 2.5×10⁻³ T।
mg = 1.672×10⁻²⁷ × 9.8 = 1.639×10⁻²⁶ N
qB = 1.6×10⁻¹⁹ × 2.5×10⁻³ = 4×10⁻²²
v = 1.639×10⁻²⁶ / 4×10⁻²² = 4.09×10⁻⁵ ms⁻¹
মনে রাখুন: চৌম্বক বল সবসময় বেগের দিকের সঙ্গে লম্ব, তাই এই বল কণার বেগের মান না বদলে শুধু দিক বদলায় এবং কোনো কাজ করে না। প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় ১৮৩৬ গুণ। - ১৩. চৌম্বক ভ্রামক একটি—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক ভ্রামক
- ক. মেরুশক্তি
- খ. বিশ্বজনীন ধ্রুবক
- গ. অদিক রাশি
- ঘ. সদিক রাশি
উত্তর: ঘ. সদিক রাশি
কোনো চুম্বকের একটি মেরুর শক্তি ও দুই মেরুর মধ্যবর্তী কার্যকর দূরত্বের গুণফলকে চৌম্বক ভ্রামক (Magnetic Moment) বলে, M = m × 2l। এর দিক আছে, দক্ষিণ মেরু থেকে উত্তর মেরুর দিকে। যেসব রাশির মান ও দিক দুটোই আছে, সেগুলোকে সদিক বা ভেক্টর রাশি বলে। তাই চৌম্বক ভ্রামক সদিক রাশি। আর অদিক রাশির কেবল মান থাকে, যেমন ভর বা সময়। চৌম্বক ভ্রামক যত বেশি হয়, চুম্বক তত শক্তিশালী হয়। কোনো চুম্বক চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে তার ওপর যে টর্ক কাজ করে, তা এই রাশির ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখুন:
চৌম্বক ভ্রামকের SI একক অ্যাম্পিয়ার-বর্গমিটার (A·m²)।
বল, বেগ, ত্বরণ, ভরবেগ সদিক রাশি।
দূরত্ব, দ্রুতি, কাজ, শক্তি অদিক রাশি। - ১৪. মোটর, জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার ইত্যাদিতে কী ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বক
- ক. অস্থায়ী চুম্বক
- খ. স্থায়ী চুম্বক
- গ. প্রাকৃতিক চুম্বক
- ঘ. সিরামিক চুম্বক
উত্তর: ক. অস্থায়ী চুম্বক
মোটর, জেনারেটর ও ট্রান্সফরমারে নরম লোহার কোরের ওপর তারের কুণ্ডলী জড়িয়ে তড়িৎচুম্বক (Electromagnet) বানানো হয়। কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চললেই লোহার কোর চুম্বক হয়, বিদ্যুৎ বন্ধ করলে তার চুম্বকত্ব প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়। এ কারণে একে অস্থায়ী চুম্বক বলে। এ ধরনের যন্ত্রে বারবার চুম্বকত্ব তৈরি ও বিলুপ্ত হতে হয়, তাই এখানে স্থায়ী চুম্বক চলে না।
মনে রাখুন:
নরম লোহা সহজে চুম্বকিত হয় এবং সহজে চুম্বকত্ব হারায়। ইস্পাত দিয়ে স্থায়ী চুম্বক তৈরি হয়, কারণ ইস্পাত চুম্বকত্ব ধরে রাখে।
তড়িৎচুম্বকের শক্তি কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা এবং বিদ্যুতের পরিমাণ বাড়ালে বাড়ে।
ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄) খনিজ হলো প্রাকৃতিক চুম্বক। - ১৫. ক্যাসেটের ফিতার শব্দ রক্ষিত থাকে কী হিসাবে?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চুম্বকের ব্যবহার
- ক. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
- খ. মেমোরিচিপ হিসেবে
- গ. চুম্বক হিসেবে
- ঘ. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
উত্তর: গ. চুম্বক হিসেবে
ক্যাসেটের ফিতায় লোহার অক্সাইড বা ক্রোমিয়াম ডাই-অক্সাইডের মতো চৌম্বক পদার্থের সূক্ষ্ম কণার আস্তরণ থাকে। রেকর্ড করার সময় শব্দের সংকেত থেকে তৈরি হওয়া চৌম্বক ক্ষেত্র এই কণাগুলোকে চুম্বকিত করে দেয়। ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও চুম্বকত্ব থেকে যায়, তাই শব্দ চুম্বক হিসেবেই জমা থাকে। এটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র, মেমোরিচিপ বা কার্বন ক্ষেত্র নয়।
মনে রাখুন: চালানোর সময় এই চৌম্বক নকশা থেকে আবার বিদ্যুৎ সংকেত তৈরি করে শব্দ ফিরিয়ে আনা হয়।
সিডিতে তথ্য জমা থাকে লেজার দিয়ে পড়া গর্তের আকারে।
পুরোনো গ্রামোফোন রেকর্ডে শব্দ খাঁজ আকারে জমা থাকত। - ১৬. ঝুলন্ত চুম্বক উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে থাকে কোনটির প্রভাবে?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভূ-চুম্বকত্ব
- ক. বায়ুচাপ
- খ. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
- গ. ভূ-চুম্বক
- ঘ. অভিকর্ষ
উত্তর: গ. ভূ-চুম্বক
পৃথিবী নিজেই একটি বিশাল চুম্বকের মতো আচরণ করে, একে ভূ-চুম্বকত্ব (Geomagnetism) বলে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে সুতায় ঝোলানো কোনো চুম্বক ঘুরে গিয়ে প্রায় উত্তর-দক্ষিণ বরাবর থেমে যায়। চুম্বকের একটি মেরু ভৌগোলিক উত্তরের দিকে, অন্যটি দক্ষিণের দিকে মুখ করে থাকে। কম্পাসের কাঁটাও এক ধরনের ছোট ঝুলন্ত চুম্বক, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায়। পৃথিবীর কেন্দ্রের তরল লোহা ও নিকেল ঘূর্ণনের ফলে যে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে, ভূ-চুম্বকত্বের কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা সেটিকেই মনে করেন।
মনে রাখুন:
দিক নির্ণয়ের কম্পাস এই কারণেই কাজ করে।
পৃথিবীর চৌম্বক মেরু আর ভৌগোলিক মেরু ঠিক একই জায়গায় নয়। - ১৭. কে প্রথম বলেন- পৃথিবী একটি চুম্বক?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (দানিয়ুব), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভূ-চুম্বকত্ব
- ক. প্লেটো
- খ. ওয়েবার
- গ. গিলবার্ট
- ঘ. রবার্ট নরম্যান
উত্তর: গ. গিলবার্ট
ইংরেজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম গিলবার্ট (William Gilbert) ১৬০০ সালে তাঁর 'ডি ম্যাগনেট' বইয়ে প্রথম বলেন, পৃথিবী নিজেই একটি বিশাল চুম্বক। তিনি একটি গোলাকার চুম্বকের গায়ে ছোট কম্পাস বসিয়ে দেখান, সেগুলো ঠিক পৃথিবীর বুকে কম্পাসের মতোই আচরণ করে। তাঁকে তড়িৎ ও চুম্বকবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। ১৬০০ সালে প্রকাশিত তাঁর বইয়ের নাম 'ডি ম্যাগনেট' (De Magnete)। গিলবার্টই প্রথম পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে ঘর্ষণ-জাত তড়িৎ ও চুম্বকত্ব আলাদা ধরনের ব্যাপার। এজন্য তাঁকে চুম্বকবিজ্ঞানের জনক বলে সম্মান করা হয়।
মনে রাখুন:
ওয়েবার (Weber) চুম্বকীয় ফ্লাক্সের এককের নামের সঙ্গে জড়িত জার্মান বিজ্ঞানী।
চৌম্বক আবেশের এককের নাম টেসলা। - ১৮. পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক। এ ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু থাকে -প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী (ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভূ-চুম্বকত্ব
- ক. উত্তর দিকে
- খ. উত্তর দক্ষিণ মেরু বরাবর
- গ. কেন্দ্রস্থলে
- ঘ. দক্ষিণ দিকে
উত্তর: ঘ. দক্ষিণ দিকে
চুম্বকের যে প্রান্ত উত্তর দিকে মুখ করে থাকে, তাকে আমরা উত্তর মেরু বলি। বিপরীত মেরু একে অপরকে আকর্ষণ করে, তাই এই প্রান্তটিকে আকর্ষণ করছে পৃথিবীর ভৌগোলিক উত্তর দিকে থাকা চৌম্বক দক্ষিণ মেরু। অতএব ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু থাকে ভৌগোলিক দক্ষিণ দিকে, আর ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু থাকে ভৌগোলিক উত্তর দিকে। একই যুক্তিতে ভৌগোলিক উত্তর মেরুর কাছে থাকা চৌম্বক মেরুকে প্রকৃতপক্ষে চুম্বকের দক্ষিণ মেরু বলে ধরা হয়। এজন্য চুম্বকের উত্তর মেরু সবসময় ভৌগোলিক উত্তরের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।
মনে রাখুন:
পৃথিবীর চুম্বকের অক্ষ আর ঘূর্ণন অক্ষ প্রায় ১১° কোণে আছে।
কম্পাসের কাঁটার উত্তরমুখী মেরুকে বলা হয় উত্তর-সন্ধানী মেরু। - ১৯. চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না-বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক পদার্থ
- ক. লৌহ
- খ. ইস্পাত
- গ. নিকেল
- ঘ. পিতল
উত্তর: ঘ. পিতল
লোহা, ইস্পাত ও নিকেল এই তিনটি পদার্থের গঠনে চৌম্বক ধর্ম আছে, তাই চুম্বক তাদের আকর্ষণ করে। পিতল তামা ও দস্তার সংকর ধাতু। এতে লোহা না থাকায় এটি চৌম্বক পদার্থ নয় এবং চুম্বক একে আকর্ষণ করে না। পিতলের মতো সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি তালা-চাবি, বাদ্যযন্ত্র ও পানির কল চুম্বকের কাছে আসলেও আকৃষ্ট হয় না। চুম্বক দিয়ে লোহা আর অন্য ধাতু আলাদা করার কাজেও এই ধর্ম লাগে, যেমন পুরোনো লোহা বাছাই করার কারখানায়।
মনে রাখুন:
ইস্পাত লোহার সঙ্গে সামান্য কার্বন মিশিয়ে তৈরি হয়।
তামা, রুপা, সোনা, অ্যালুমিনিয়াম এসব চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না বা খুব সামান্য প্রভাবিত হয়। - ২০. নিচের কোনটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক পদার্থ
- ক. কোবাল্ট
- খ. প্লাটিনাম
- গ. বিসমাথ
- ঘ. নিকেল
উত্তর: খ. প্লাটিনাম
প্যারাচৌম্বক (Paramagnetic) পদার্থ চুম্বকের দিকে খুব সামান্য আকৃষ্ট হয়। প্লাটিনাম, অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম ও অক্সিজেন এই ধরনের পদার্থ। অন্যদিকে কোবাল্ট ও নিকেল লৌহচৌম্বক পদার্থ, যারা অনেক জোরে আকৃষ্ট হয়, আর বিসমাথ ডায়াচৌম্বক পদার্থ, যা সামান্য বিকর্ষিত হয়। প্যারাচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকে, তাই বাইরের ক্ষেত্রে সেগুলো সামান্য সারিবদ্ধ হয়ে ক্ষেত্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। প্যারাচৌম্বক পদার্থ চুম্বকিত ক্ষেত্র সরিয়ে নিলে নিজের চুম্বকত্ব ধরে রাখে না। তাপমাত্রা বাড়ালে এই ধর্ম আরও দুর্বল হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ: বিসমাথ, তামা, সোনা, পানি।
লৌহচৌম্বক পদার্থ: লোহা, কোবাল্ট, নিকেল। - ২১. কলিং বেলে বিদ্যুৎ চুম্বকের জন্য নরম লোহা ব্যবহার করা হয়, কারণ-জাতীয় সংসদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রোটোকল অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বক
- ক. বিদ্যুৎ প্রবাহে নরম লোহা দ্রুত চুম্বকে পরিণত হয়
- খ. বিদ্যুৎ প্রবাহে নরম লোহা ধীরে চুম্বকে পরিণত হয়
- গ. বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করলে নরম লোহার চুম্বকত্ব ধীরে ধীরে লোপ পায়
- ঘ. উপরের সবগুলোই সত্য
উত্তর: ক. বিদ্যুৎ প্রবাহে নরম লোহা দ্রুত চুম্বকে পরিণত হয়
কলিং বেলে ব্যবহৃত তড়িৎচুম্বকের (Electromagnet) কুণ্ডলীর ভেতরে নরম লোহা রাখা হয়। কারণ কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে নরম লোহা খুব দ্রুত শক্তিশালী চুম্বকে পরিণত হয় এবং বেলের হাতুড়ি টেনে আনে। বিদ্যুৎ বন্ধ করলে এর চুম্বকত্ব প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়, ফলে হাতুড়ি আগের জায়গায় ফিরে আসে। এভাবে বারবার বাজতে পারে। বেলের হাতুড়ির সঙ্গে যুক্ত একটি স্প্রিং আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে স্প্রিং তাকে টেনে ফিরিয়ে আনে। এভাবে একটি ছোট বর্তনী বারবার সংযোগ ও বিচ্ছেদের মাধ্যমে বেল বাজায়।
মনে রাখুন:
ইস্পাত দিয়ে তড়িৎচুম্বক বানালে বিদ্যুৎ বন্ধের পরও চুম্বকত্ব থেকে যেত।
ক্রেন ও মোটরেও তড়িৎচুম্বক ব্যবহার হয়। - ২২. নিচের কোন ধাতুটির চৌম্বক প্রবণতা সবচেয়ে বেশি?এনএসআই ফিল্ড অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক পদার্থ
- ক. কোবাল্ট
- খ. শক্ত লোহা
- গ. নিকেল
- ঘ. নরম লোহা
উত্তর: ঘ. নরম লোহা
চৌম্বক প্রবণতা (Susceptibility) বোঝায় কোনো পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে কত সহজে চুম্বকিত হয়। নরম লোহার চৌম্বক প্রবণতা ও ভেদ্যতা অনেক বেশি, তাই বাইরের ক্ষেত্রে সে খুব সহজে ও জোরালোভাবে চুম্বকিত হয়। কোবাল্ট ও নিকেলও লৌহচৌম্বক হলেও তাদের মান কম, আর শক্ত লোহার মান আরও কম। এই কারণেই ট্রান্সফরমার ও মোটরের কোর নরম লোহা দিয়ে বানানো হয়। এতে ক্ষেত্র বদলের সঙ্গে সঙ্গে চুম্বকত্বও দ্রুত বদলায় ও শক্তিক্ষয় কম হয়।
মনে রাখুন:
নরম লোহা সহজে চুম্বক হয় এবং সহজে চুম্বকত্ব হারায়।
শক্ত লোহা বা ইস্পাত কষ্ট করে চুম্বক হয় কিন্তু চুম্বকত্ব ধরে রাখে। - ২৩. চৌম্বক আবেশের একক কি?মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক ক্ষেত্র
- ক. ওয়েবার/মিটার²
- খ. ওয়েবার/ফুট²
- গ. মিটার²/ওয়েবার
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. ওয়েবার/মিটার²
চৌম্বক আবেশ বা চৌম্বক ক্ষেত্র প্রাবল্য (B) বোঝায় একক ক্ষেত্রফল দিয়ে কতটা চৌম্বক ফ্লাক্স যাচ্ছে। তাই এর একক ওয়েবার প্রতি বর্গমিটার (Wb/m²)। এই এককের আরেক নাম টেসলা (Tesla)। বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার নামে এর নাম। এই একককে ছোট করে 'টেসলা' বলা হয়, আর এটি চৌম্বক বলরেখার ঘনত্ব নির্দেশ করে। বিজ্ঞানী ওয়েবারের নাম চৌম্বক ফ্লাক্সের এককের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, আর বিজ্ঞানী টেসলার নাম চৌম্বক আবেশের এককের সঙ্গে।
মনে রাখুন:
1 T = 1 Wb/m²।
CGS পদ্ধতিতে এর একক গাউস (Gauss), আর 1 T = 10⁴ গাউস। - ২৪. এস. আই এককে 'চৌম্বক ফ্লাক্স' এর একক-তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (টেলিভিশন), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চৌম্বক ক্ষেত্র
- ক. ক্যান্ডেলা
- খ. ওয়েবার
- গ. লাক্স
- ঘ. লুমেন
উত্তর: খ. ওয়েবার
চৌম্বক ফ্লাক্স (Magnetic Flux) বোঝায় কোনো তলের মধ্য দিয়ে কত চৌম্বক বলরেখা যাচ্ছে। SI পদ্ধতিতে এর একক ওয়েবার (Weber)। জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেলম ওয়েবারের নামে এই একক। ক্যান্ডেলা, লাক্স ও লুমেন আলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একক। ফ্লাক্স আর চৌম্বক আবেশের পার্থক্য হলো, ফ্লাক্স হলো সমগ্র তলের জন্য মোট পরিমাণ, আর আবেশ হলো একক ক্ষেত্রফলে পরিমাণ। এক ওয়েবার ফ্লাক্স একটি কুণ্ডলীর ভেতর দিয়ে এক সেকেন্ডে সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেলে কুণ্ডলীতে এক ভোল্ট তড়িচ্চালক বল আবিষ্ট হয়।
মনে রাখুন:
ক্যান্ডেলা হলো দীপন তীব্রতার একক।
লুমেন আলোক ফ্লাক্সের একক।
লাক্স আলোক আলোকনের একক।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন