তাপ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ৬। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ১৭৫টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (২৪)
- ১. প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাঙ্ক-২৫তম বিসিএস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক
- ক. কম হয়
- খ. বেশি হয়
- গ. ঠিক থাকে
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. বেশি হয়
তরলকে ফোটাতে গেলে তার বাষ্পচাপ বাইরের চাপের সমান করতে হয়। বাইরের চাপ বেশি হলে তরলকে বেশি তাপমাত্রায় নিয়ে যেতে হয়, তাই স্ফুটনাঙ্কও বেড়ে যায়। প্রেসার কুকারের ঢাকনা শক্তভাবে আটকানো থাকে, ফলে ভেতরের জলীয় বাষ্প বের হতে পারে না এবং কুকারের ভেতরের চাপ বাইরের বায়ুচাপের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এই চাপে পানি ১০০°C-এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ফোটে। বেশি তাপে খাবার তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়, তাই মাংস বা ডাল রান্না কম সময়ে হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
পাহাড়ের চূড়ায় বায়ুচাপ কম, তাই সেখানে পানি ১০০°C-এর কম তাপমাত্রায় ফোটে এবং রান্না ধীরে হয়।
পানিতে লবণ মেশালেও স্ফুটনাঙ্ক সামান্য বাড়ে। - ২. কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গলনাঙ্ক
- ক. ঘনীভবন
- খ. বাষ্পীভবন
- গ. গলনাংক
- ঘ. স্ফুটনাংক
উত্তর: গ. গলনাংক
বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং দ্রুত গলে যায়। এই তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক (Melting Point) বলে। পদার্থে ভেজাল মিশলে গলনাঙ্ক কমে যায় এবং পদার্থটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার বদলে বিস্তৃত পরিসরে ধীরে ধীরে গলে। তাই গলনাঙ্ক দেখে কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা বোঝা যায়। যেমন বিশুদ্ধ বরফ 0°C-এ গলে, কিন্তু লবণ মেশানো বরফ আরও কম তাপমাত্রায় গলে। এ কারণেই শীতের দেশে রাস্তার বরফ গলাতে লবণ ছিটানো হয়।
মনে রাখুন:
তরল পদার্থের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে স্ফুটনাঙ্ক ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ চাপে বিশুদ্ধ পানির গলনাঙ্ক 0°C এবং স্ফুটনাঙ্ক 100°C। - ৩. বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব কোন গ্যাসটি রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হয়?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেটর
- ক. টাইক্লোরোটাইফ্লুরো ইথেন
- খ. টেট্রাফ্লুরো ইথেন
- গ. ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন
- ঘ. আর্গন
উত্তর: খ. টেট্রাফ্লুরো ইথেন
আগে রেফ্রিজারেটরে সিএফসি (CFC, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) গ্যাস ব্যবহার হতো। এর অণুতে ক্লোরিন থাকায় গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলে উঠে ওজোনস্তরকে ক্ষয় করত। তাই এখন ব্যবহৃত হয় টেট্রাফ্লুরোইথেন (HFC-134a), যার অণুতে ক্লোরিন নেই। ফলে এটি ওজোনস্তরের ক্ষতি করে না, আর তাই একে পরিবেশবান্ধব হিমায়ক ধরা হয়। অন্য দুটি গ্যাস, টাইক্লোরো টাইফ্লুরো ইথেন ও ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন, সিএফসি জাতীয়। আর আর্গন রেফ্রিজারেটরের হিমায়ক নয়। ফ্রিজের হিমায়ক গ্যাস তরল থেকে বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় তাপ শোষণ করে ফ্রিজের ভেতরটা ঠান্ডা করে।
মনে রাখুন: ১৯৮৭ সালের মন্ট্রিয়ল প্রটোকলে সিএফসি-এর ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। - ৪. তাপ ইঞ্জিনের কাজ –৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. যান্ত্রিকশক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর
- খ. তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
- গ. বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
- ঘ. তাপশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর
উত্তর: খ. তাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
তাপ ইঞ্জিন (Heat Engine) জ্বালানি পুড়িয়ে পাওয়া তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। পেট্রল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন তাপ ইঞ্জিনের উদাহরণ। এর উল্টো প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক শক্তি থেকে তাপ তৈরি হয়, যেমন ঘর্ষণে। পেট্রল ও ডিজেল ইঞ্জিন অন্তর্দহন ইঞ্জিন, কারণ এদের সিলিন্ডারের ভেতরেই জ্বালানি পোড়ে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন বহির্দহন ইঞ্জিন, কারণ এর বাইরে বয়লারে পানি ফুটিয়ে বাষ্প বানানো হয়। কোনো তাপ ইঞ্জিনই তাপশক্তির পুরোটা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে না।
মনে রাখুন:
বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে বৈদ্যুতিক মোটর।
যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে ডায়নামো বা জেনারেটর। - ৫. ঘর্মাক্ত দেহে পাখার বাতাস আরাম দেয় কেন?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. গায়ের ঘাম বের হতে দেয় না
- খ. বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
- গ. পাখার বাতাস শীতল জলীয়বাষ্প ধারণ করে
- ঘ. পাখার বাতাস সরাসরি লোমকূপ দিয়ে শরীরে ঢুকে যায়
উত্তর: খ. বাষ্পায়ন শীতলতার সৃষ্টি করে
ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শরীর থেকে তাপ শোষণ করে, ফলে চামড়া ঠান্ডা হয়। পাখার বাতাস শরীরের পাশের জলীয়বাষ্পে ভরা বাতাস সরিয়ে শুকনো বাতাস এনে দেয়, তাই বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। এই বাষ্পায়নজনিত শীতলতার কারণেই ঘর্মাক্ত শরীরে পাখার বাতাস আরাম দেয়। পাখা কিন্তু ঘরের আসল তাপমাত্রা কমায় না। একই কারণে বাতাসহীন গরম দিনে ঘাম শুকোতে চায় না এবং বেশি অস্বস্তি লাগে।
মনে রাখুন:
গরমের দিনে ঘাম হওয়া শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি উপায়।
বাষ্পায়ন একটি শীতলকারী প্রক্রিয়া, যে কারণে মাটির কলসির পানি ঠান্ডা থাকে। - ৬. রেফ্রিজারেটরে কমপ্রেসরের কাজ কি?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেটর
- ক. ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা
- খ. ফ্রেয়নকে বাষ্পে পরিণত করা
- গ. ফ্রেয়নকে সংকুচিত করে এর তাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো
- ঘ. ফ্রেয়নকে ঠাণ্ডা করা
উত্তর: গ. ফ্রেয়নকে সংকুচিত করে এর তাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো
রেফ্রিজারেটরে ঠান্ডা করার জন্য ফ্রেয়ন (Freon) নামের একটি গ্যাস বন্ধ নলের ভেতরে ঘোরে। কম্প্রেসরের কাজ বাষ্পীয় ফ্রেয়নকে চেপে সংকুচিত করা। সংকুচিত হলে গ্যাসের চাপ ও তাপমাত্রা দুটোই বাড়ে। এরপর সেই উত্তপ্ত গ্যাস কনডেন্সারে গেলে তাপ বাইরে ছেড়ে দিয়ে তরল হয়। তারপর ইভাপোরেটরে এসে তরল ফ্রেয়ন আবার বাষ্প হয় এবং ভেতর থেকে তাপ শুষে নিয়ে ঠান্ডা সৃষ্টি করে।
মনে রাখুন: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) জাতীয় ফ্রেয়ন ওজোন স্তরের ক্ষতি করে বলে এখন তা কম ব্যবহৃত হয়। - ৭. এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি হতে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে কত তাপের প্রয়োজন?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের পরিমাণ
- ক. ১০ ক্যালরি
- খ. ২ ক্যালরি
- গ. ৩ ক্যালরি
- ঘ. ৪ ক্যালরি
উত্তর: ক. ১০ ক্যালরি
আপেক্ষিক তাপ (Specific heat) হলো ১ গ্রাম পদার্থের তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে যে তাপ লাগে। পানির আপেক্ষিক তাপ ১ ক্যালরি/গ্রাম/°C। তাপের সূত্র Q = m × s × Δt।
এখানে Q = 1 × 1 × (30 - 20) = 10 ক্যালরি।
মনে রাখুন: 1 ক্যালরি = প্রায় 4.2 জুল।
পানির আপেক্ষিক তাপ অন্য অনেক তরলের চেয়ে বেশি, তাই পানি সহজে গরম বা ঠান্ডা হয় না। এ কারণে সমুদ্রের কাছের এলাকার জলবায়ু মধ্যম প্রকৃতির হয়। তাপ মাপার এই ক্যালরি এককে 1 ক্যালরি হলো 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1°C বাড়ানোর তাপ। - ৮. কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. পেট্রোল ইঞ্জিনে
- খ. ডিজেল ইঞ্জিনে
- গ. রকেট ইঞ্জিনে
- ঘ. বিমান ইঞ্জিনে
উত্তর: ক. পেট্রোল ইঞ্জিনে
কার্বুরেটর (Carburettor) এমন একটি যন্ত্র, যা পেট্রোল ও বাতাসকে সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে সিলিন্ডারে পাঠায়। তারপর স্পার্ক প্লাগের স্ফুলিঙ্গে মিশ্রণটি জ্বলে ওঠে। তাই কার্বুরেটর থাকে পেট্রোল ইঞ্জিনে। ডিজেল ইঞ্জিনে বাতাসকে প্রচণ্ড চেপে গরম করা হয় এবং তাতে ডিজেল স্প্রে করলে সেটি নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে। তাই সেখানে কার্বুরেটর বা স্পার্ক প্লাগ লাগে না। এখন বেশির ভাগ পেট্রোল গাড়িতে কার্বুরেটরের জায়গায় ফুয়েল ইনজেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় জ্বালানি স্প্রে করে। ডিজেল ইঞ্জিনে স্পার্ক প্লাগ লাগে না বলে একে সংকোচন-দহন ইঞ্জিনও বলা হয়।
মনে রাখুন: ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন রুডলফ ডিজেল। - ৯. প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়, কারণ?১০তম ও ২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাপ ও স্ফুটনাঙ্ক
- ক. রান্নার জন্য শুধু তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
- খ. বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
- গ. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
- ঘ. সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নার সহায়ক
উত্তর: গ. উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়
চাপ বাড়লে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। প্রেসার কুকারের ঢাকনা আঁটা থাকে, তাই ভেতরের বাষ্প বের হতে না পেরে চাপ বাড়ায়। ফলে পানি ১০০ °C-এর বেশি, প্রায় 120 °C তাপমাত্রায় ফোটে। এই বেশি তাপমাত্রায় খাবার কম সময়ে সেদ্ধ হয়। তাই রান্না তাড়াতাড়ি হওয়ার কারণ উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি। প্রেসার কুকারের ঢাকনায় একটি ভাল্ব থাকে, যা অতিরিক্ত বাষ্প বের করে দিয়ে বিস্ফোরণ ঠেকায়।
মনে রাখুন: উঁচু পাহাড়ে বায়ুচাপ কম বলে পানি ১০০ °C-এর আগেই ফোটে, তাই সেখানে ভাত সেদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে। - ১০. পাহাড়ের উপর রান্না করতে বেশি সময় লাগে কেন?২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাপ ও স্ফুটনাঙ্ক
- ক. বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণে
- খ. বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
- গ. পাহাড়ের উপর বাতাস কম থাকায়
- ঘ. পাহাড়ের উপর তাপমাত্রা বেশি থাকায়
উত্তর: খ. বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
পানির স্ফুটনাঙ্ক বায়ুর চাপের ওপর নির্ভর করে: চাপ কমলে পানি কম তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে। পাহাড়ের ওপরে বায়ুমণ্ডলের চাপ কম থাকে, তাই সেখানে পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেই ফোটে। এই কম তাপমাত্রার পানিতে খাবার সিদ্ধ হতে বেশি সময় লাগে, তাই পাহাড়ের ওপর রান্না করতে দেরি হয়। এভারেস্টের চূড়ায় পানি প্রায় ৭০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায় ফোটে।
মনে রাখুন:
প্রেসার কুকারে চাপ বাড়ানো হয়, ফলে পানি ১০০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ফোটে এবং রান্না দ্রুত হয়।
কম বায়ুচাপে স্ফুটনাঙ্ক কমে, বেশি চাপে বাড়ে। - ১১. ফারেনহাইট ও সেলসিয়াসের স্কেলে কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ০°
- খ. ১০০°
- গ. ৪°
- ঘ. -৪০°
উত্তর: ঘ. -৪০°
সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) স্কেলের সম্পর্ক C/5 = (F − 32)/9। দুই স্কেলে একই পাঠ x হলে C = F = x বসিয়ে পাই x/5 = (x − 32)/9, অর্থাৎ 9x = 5x − 160। তাই 4x = −160 এবং x = −40।
সুতরাং −40° তাপমাত্রায় দুটি স্কেলই একই মান দেখায়।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক 0°C = 32°F এবং স্ফুটনাঙ্ক 100°C = 212°F।
কেলভিন স্কেলে K = C + 273।
ফারেনহাইট থেকে সেলসিয়াসে যেতে সূত্রটি C = (F − 32) × 5/9। - ১২. তাপ প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় কোন পদার্থ?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. তরল পদার্থ
- খ. বায়বীয় পদার্থ
- গ. কঠিন পদার্থ
- ঘ. নরম পদার্থ
উত্তর: খ. বায়বীয় পদার্থ
একই পরিমাণ তাপ দিলে বায়বীয় পদার্থ বা গ্যাস সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়, তারপর তরল, আর কঠিন পদার্থ সবচেয়ে কম প্রসারিত হয়। এর কারণ হলো গ্যাসের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ খুব দুর্বল এবং ফাঁকা জায়গা অনেক বেশি। তাই তাপ পেলে অণুগুলো সহজেই দূরে সরে যেতে পারে। কঠিন পদার্থে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে বলে তাদের প্রসারণ খুব কম।
মনে রাখুন: পানি এর একটি ব্যতিক্রম। ০° থেকে ৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম করলে পানি সংকুচিত হয়, আর ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। - ১৩. মাটির পাত্রে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. মাটির পাত্র পানি থেকে তাপ শোষণ করে
- খ. মাটির পাত্র ভালো তাপ পরিবাহী
- গ. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
- ঘ. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
উত্তর: গ. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
মাটির পাত্রের গায়ে অসংখ্য অতি ছোট ছিদ্র থাকে। এসব ছিদ্র দিয়ে ভেতরের পানি ধীরে ধীরে চুঁইয়ে বাইরে আসে এবং সেখান থেকে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। বাষ্পীভবনের জন্য তাপ লাগে, আর সেই তাপ নেওয়া হয় পাত্রের ভেতরের পানি থেকে। ফলে পানির তাপমাত্রা কমে যায় এবং পানি ঠান্ডা থাকে।
মনে রাখুন:
বাষ্পীভবনে ঠান্ডা হওয়ার আরেকটি উদাহরণ ঘামের শুকানো, ঘাম শুকানোর সময় দেহের তাপ নিয়ে যায় বলে আমাদের আরাম লাগে।
গ্রামে এ জন্যই মাটির কলসি বা মটকার পানি গরমের দিনে ঠান্ডা থাকে। - ১৪. আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ বিকিরণ
- ক. মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
- খ. সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
- গ. বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
- ঘ. মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
উত্তর: ঘ. মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং পরে সেই তাপ অবলোহিত রশ্মির আকারে ওপরের দিকে বিকিরণ করে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সেই তাপ সহজে মহাশূন্যে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আকাশে মেঘ থাকলে মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় এবং নিচের দিকে ফিরিয়ে দেয়। ফলে তাপ আটকে থাকে এবং আমাদের গরম বেশি লাগে। মেঘলা দিনে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে। ফলে ঘাম শুকোতে দেরি হয় এবং গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি লাগে।
মনে রাখুন: একই কারণে মেঘলা রাত পরিষ্কার রাতের চেয়ে বেশি উষ্ণ থাকে। - ১৫. কোন রঙের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ বিকিরণ
- ক. সাদা
- খ. কালো
- গ. লাল
- ঘ. ধূসর
উত্তর: খ. কালো
যে বস্তু ভালো তাপ শোষণ করে, সে ভালো তাপ বিকিরণও করে। কালো রং সবচেয়ে ভালো তাপ শোষক এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে ভালো বিকিরকও। তাই কালো কাপে গরম চা রাখলে কাপ থেকে তাপ দ্রুত বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়। সাদা বা চকচকে পৃষ্ঠ তাপ কম বিকিরণ করে, ফলে সাদা কাপে চা বেশিক্ষণ গরম থাকে।
মনে রাখুন: গরমকালে সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরলে কম গরম লাগে, কারণ সাদা রং তাপ কম শোষণ করে। - ১৬. রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ পরিবহন
- ক. এটি হালকা ও দামে সস্তা
- খ. এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
- গ. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
- ঘ. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
উত্তর: গ. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
রান্নার হাঁড়ি-পাতিল সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়, কারণ অ্যালুমিনিয়াম তাপের ভালো পরিবাহী। চুলার তাপ পাত্রের তলা থেকে খুব দ্রুত সারা পাত্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং খাবারে পৌঁছায়, ফলে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। অ্যালুমিনিয়াম হালকা ও তুলনামূলক সস্তা, এগুলো বাড়তি সুবিধা। তবে প্রধান কারণ এর তাপ পরিবহনের ক্ষমতা। অ্যালুমিনিয়াম বাতাসের সংস্পর্শে এলে এর গায়ে অক্সাইডের পাতলা স্তর পড়ে, যা ভেতরের ধাতুকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
মনে রাখুন:
তাপ ও বিদ্যুতের ভালো পরিবাহী ধাতুগুলোর মধ্যে রুপা সেরা, তারপর তামা।
অ্যালুমিনিয়াম বক্সাইট আকরিক থেকে পাওয়া যায়। - ১৭. পরম শূন্য তাপমাত্রা কোনটি?৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরম শূন্য তাপমাত্রা
- ক. ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
- খ. -২৭৩° ফারেনহাইট
- গ. ০° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ০° কেলভিন
উত্তর: ঘ. ০° কেলভিন
যে তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর তাপীয় গতি সর্বনিম্ন হয়, তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute zero) বলে। কেলভিন স্কেলে এটি 0 K। এটি সেলসিয়াস স্কেলে প্রায় -273.15 °C এবং ফারেনহাইট স্কেলে প্রায় -459.67 °F। বিকল্পগুলোর মধ্যে তাই ০° কেলভিনই সঠিক। এর চেয়ে কম তাপমাত্রা পাওয়া সম্ভব নয়। পরম শূন্য তাপমাত্রায় পদার্থের অণুদের গতি প্রায় থেমে যায়, তাই এর নিচে নামা সম্ভব নয়। ১৮৪৮ সালে লর্ড কেলভিন এই স্কেল প্রস্তাব করেন, আর তাঁর নামেই এর নাম কেলভিন। এই স্কেলে পানি জমে ২৭৩ K-এ এবং ফোটে ৩৭৩ K-এ।
মনে রাখুন:
K = °C + 273।
কেলভিন স্কেলে কোনো ঋণাত্মক তাপমাত্রা নেই। - ১৮. নিচের কোনটি চার্লসের সূত্র?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চার্লসের সূত্র
- ক. V ∝ T
- খ. PV = K
- গ. V ∝ n
- ঘ. P ∝ T
উত্তর: ক. V ∝ T
চার্লসের সূত্র (Charles's Law) বলে, চাপ স্থির থাকলে নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার (কেলভিন) সমানুপাতিক। অর্থাৎ V ∝ T, বা V/T = ধ্রুবক। তাপ বাড়লে অণুগুলোর গতিশক্তি বাড়ে, ফলে গ্যাস প্রসারিত হয়। ফরাসি বিজ্ঞানী জ্যাক চার্লস এই সূত্র দেন। তাপমাত্রাকে অবশ্যই কেলভিনে নিতে হয়, সেলসিয়াসে নয়, কারণ সূত্রটি পরম শূন্য থেকে মাপা তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। উদাহরণস্বরূপ গরম আবহাওয়ায় বেলুনের ভেতরের বাতাস প্রসারিত হয়ে বেলুন ফুলে ওঠে।
মনে রাখুন:
PV = K হলো বয়েলের সূত্র, যেখানে তাপমাত্রা স্থির।
V ∝ n হলো অ্যাভোগাড্রোর সূত্র, যেখানে চাপ ও তাপমাত্রা স্থির।
P ∝ T হলো গে-লুসাকের সূত্র, যেখানে আয়তন স্থির। - ১৯. শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে কারণ-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ বিকিরণ
- ক. সরকারি নির্দেশ
- খ. দূর থেকে চোখে পড়বে বলে
- গ. তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
- ঘ. দেখতে সুন্দর লাগে
উত্তর: গ. তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
রোদে দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় সূর্যের তাপ শরীরকে গরম করে। সাদা রং সূর্যের আলো ও তাপের বেশির ভাগ প্রতিফলিত করে এবং খুব কম শোষণ করে। কালো বা গাঢ় রঙের জামা বেশি তাপ শোষণ করে শরীর গরম করে তোলে। তাই ট্রাফিক পুলিশ তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচতে সাদা ছাতা ও জামা ব্যবহার করে। সাদা রং দূর থেকে চোখে পড়ে, এটি বাড়তি সুবিধা হলেও মূল কারণ নয়।
মনে রাখুন:
যে বস্তু ভালো তাপ শোষণ করে, সেটি ভালো তাপ বিকিরণও করে, কালো বস্তু যার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।
গ্রীষ্মকালে সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরা আরামদায়ক। - ২০. এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২° থেকে ৩° সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য কত তাপের প্রয়োজন?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ও ক্যালরি
- ক. ১ ক্যালরি
- খ. ২ ক্যালরি
- গ. ৩ ক্যালরি
- ঘ. ৪ ক্যালরি
উত্তর: ক. ১ ক্যালরি
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে যে তাপ লাগে, তাকে এক ক্যালরি বলে। পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় 1 cal/g·°C। এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২° C থেকে ৩° C-এ নিতে তাপমাত্রা বাড়াতে হয় 1° C, তাই লাগবে Q = ms∆T = 1 × 1 × 1 = 1 ক্যালরি।
মনে রাখুন:
পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় 4200 J/kg·K বা 1 cal/g·°C।
পানির আপেক্ষিক তাপ বেশি বলে এটি অনেক তাপ শোষণ করেও খুব বেশি গরম হয় না। এ কারণে সমুদ্র ও পানি জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। - ২১. তাপ ইঞ্জিনের কাজ- (Heat Engine)-৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর
- খ. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর
- গ. বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর
- ঘ. তাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর
উত্তর: খ. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর
তাপ ইঞ্জিন (Heat Engine) এমন যন্ত্র, যা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। জ্বালানি পুড়িয়ে তাপ তৈরি হয়, আর সেই তাপের একটি অংশ পিস্টন বা টারবাইন ঘুরিয়ে কাজ করে। বাকি তাপ বাইরে ফেলে দিতে হয়, ফলে তাপ ইঞ্জিনের দক্ষতা কখনোই ১০০% হতে পারে না।
মনে রাখুন:
তাপ ইঞ্জিনের উদাহরণ: বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন ও ডিজেল ইঞ্জিন।
বৈদ্যুতিক মোটর বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, তাই এটি তাপ ইঞ্জিন নয়।
দক্ষতা = কাজ ÷ গৃহীত তাপ।
তাপ ইঞ্জিনের কাজ তিনটি জিনিসের উপর নির্ভর করে: উচ্চ তাপমাত্রার উৎস, নিম্ন তাপমাত্রার আধার এবং কাজ করার বস্তু, যেমন গ্যাস বা বাষ্প। - ২২. কোন উষ্ণতায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?২৫তম ও ২১তম বিসিএস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. ০° সেলসিয়াস
- খ. ৪° সেলসিয়াস
- গ. ৩২° সেলসিয়াস
- ঘ. ১০০° সেলসিয়াস
উত্তর: খ. ৪° সেলসিয়াস
পানি ০° C থেকে ৪° C পর্যন্ত গরম করলে সংকুচিত হয়, ফলে আয়তন কমে ও ঘনত্ব বাড়ে। ৪° C পার হলে পানি আবার প্রসারিত হয় এবং ঘনত্ব কমতে থাকে। তাই ৪° C তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় 1000 kg/m³ বা 1 g/cm³।
মনে রাখুন:
পানির এই আচরণের কারণে শীতকালে হ্রদের উপরের স্তর জমে বরফ হলেও নিচের পানি ৪° C-এ তরল থাকে। তাই মাছ ও জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে।
বরফ পানির চেয়ে হালকা, তাই পানিতে ভাসে। - ২৩. রান্না করার হাড়ি-পাতিল সাধারণত অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ-১২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. এটি হাল্কা ও দামে সস্তা
- খ. এটি সবদেশেই পাওয়া যায়
- গ. এতে তাপ দ্রুত সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
- ঘ. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না
উত্তর: গ. এতে তাপ দ্রুত সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
রান্নার পাত্রের কাজ হলো চুলার তাপ দ্রুত খাবারে পৌঁছে দেওয়া। অ্যালুমিনিয়াম ভালো তাপ পরিবাহক, তাই চুলার তাপ খুব সহজে পাত্রের ভেতরের খাবারে পৌঁছায় এবং খাবার তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। এর সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম হালকা ও তুলনামূলক সস্তা বলে এটি আরও বেশি ব্যবহৃত হয়, কিন্তু রান্নার পাত্র হিসেবে এর প্রধান কারণ তাপের দ্রুত সঞ্চালন। তা ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নিজে থেকেই একটি পাতলা অক্সাইডের স্তর তৈরি হয়, যা ভেতরের ধাতুকে মরচে ধরা থেকে বাঁচায়।
মনে রাখুন:
অ্যালুমিনিয়ামের গলনাঙ্ক প্রায় ৬৬০° সেলসিয়াস।
তামার পরিবাহকত্ব আরও বেশি, কিন্তু তামা ভারী ও দামি। - ২৪. আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
- খ. সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
- গ. মেঘ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
- ঘ. বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
উত্তর: গ. মেঘ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
দিনের বেলা সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠ গরম হয় এবং সেই তাপ অবলোহিত রশ্মি (Infrared) হিসেবে আবার উপরের দিকে বিকিরণ করে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই তাপের বড় অংশ সহজে মহাশূন্যে চলে যায়। কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকলে মেঘের জলীয় বাষ্প ও পানির কণা বিকীর্ণ তাপ শোষণ করে আবার নিচের দিকে ফেরত পাঠায়। ফলে ভূপৃষ্ঠের তাপ আটকে থাকে এবং আমাদের গরম বেশি লাগে, সঙ্গে বাতাস আর্দ্র থাকায় ঘামও সহজে শুকায় না। এজন্যই মেঘলা রাত পরিষ্কার রাতের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়।
মনে রাখুন:
পরিষ্কার আকাশের রাতে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়, তাই সেসব রাতে শিশির বেশি জমে।
গ্রিনহাউস গ্যাসও একইভাবে পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (১৫১)
- ২৫. কোন তাপমাত্রার পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ ও কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ঘনত্ব
- ক. 4°F
- খ. 0°F
- গ. 0°C
- ঘ. 4°C
উত্তর: ঘ. 4°C
পানির একটি বিশেষ আচরণ আছে। অন্য অনেক তরল ঠান্ডা করলে সংকুচিত হয়ে ঘন হতে থাকে, কিন্তু পানি ঠান্ডা করতে করতে ৪° সেলসিয়াস (4°C) পর্যন্ত সংকুচিত হয়। এই তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম, তাই ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১০০০ কেজি/মিটার³। এর চেয়ে আরও ঠান্ডা করলে পানি আবার প্রসারিত হতে শুরু করে এবং ঘনত্ব কমে। এ কারণেই বরফ (0°C) পানির চেয়ে হালকা এবং পানিতে ভাসে। শীতের দেশে হ্রদের উপরিভাগ জমে বরফ হয়ে গেলেও নিচের ৪°C তাপমাত্রার পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী বেঁচে থাকে। ফারেনহাইট স্কেলের 4°F বা 0°F ঘনত্বের সর্বোচ্চ বিন্দু নয়।
মনে রাখুন:
পানির এই ব্যতিক্রমী আচরণকে পানির অসংগত প্রসারণ বলে।
পানির ঘনত্ব ৪°C তাপমাত্রায় ১ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার। - ২৬. ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. 0°C
- খ. 100°C
- গ. 4°C
- ঘ. -40°C
উত্তর: ঘ. -40°C
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্কের সূত্র: C/5 = (F − 32)/9। দুই স্কেলে একই পাঠ কোথায় মেলে তা জানতে ধরি C = F = x। তাহলে x/5 = (x − 32)/9। আড়াআড়ি গুণ করলে 9x = 5x − 160, অর্থাৎ 4x = −160। এখান থেকে x = −40। যাচাই করা যায়: −40°C-কে ফারেনহাইটে নিলে F = (9/5) × (−40) + 32 = −72 + 32 = −40। সুতরাং −40° এমন একমাত্র তাপমাত্রা, যেখানে দুটি স্কেলের পাঠ সমান হয়।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক সেলসিয়াসে 0° ও ফারেনহাইটে 32°, স্ফুটনাঙ্ক যথাক্রমে 100° ও 212°।
কেলভিন স্কেলে K = C + 273। - ২৭. একটি কক্ষের তাপমাত্রা 30°C। ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা কত হবে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. 86°F
- খ. 80°F
- গ. 68°F
- ঘ. 62°F
উত্তর: ক. 86°F
সেলসিয়াস (C) থেকে ফারেনহাইট (F) স্কেলে রূপান্তরের সূত্র: C/5 = (F − 32)/9। এখানে C = 30। তাহলে 30/5 = (F − 32)/9, অর্থাৎ 6 = (F − 32)/9। দুই দিকে 9 দিয়ে গুণ করলে F − 32 = 54। এখান থেকে F = 54 + 32 = 86। সুতরাং কক্ষের তাপমাত্রা 86°F।
শর্টকাট: F = (9/5) × C + 32 = (9/5) × 30 + 32 = 54 + 32 = 86।
মনে রাখুন:
উল্টো দিকে F থেকে C বের করতে C = (5/9) × (F − 32)।
−40° এমন একমাত্র তাপমাত্রা, যেখানে সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান। - ২৮. কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল একই পাঠ দেখায়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. 160°C
- খ. −40°C
- গ. 40°C
- ঘ. −160°C
উত্তর: খ. −40°C
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো C/5 = (F − 32)/9। দুই স্কেলে পাঠ সমান হলে F = C ধরি। তখন C/5 = (C − 32)/9।
আড়াআড়ি গুণ করে পাই 9C = 5C − 160।
4C = −160, তাই C = −40।
অর্থাৎ −40°C = −40°F, এই একটি তাপমাত্রাতেই দুই স্কেলের পাঠ মেলে।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক 0°C = 32°F এবং স্ফুটনাঙ্ক 100°C = 212°F।
কেলভিনে রূপান্তর: K = °C + 273।
সেলসিয়াস স্কেলে মৌলিক ব্যবধান ১০০ ভাগ, আর ফারেনহাইটে ১৮০ ভাগ। - ২৯. কোন পদার্থের আপেক্ষিক তাপ সর্বাধিক?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. বায়ু
- খ. পানি
- গ. লোহা
- ঘ. তামা
উত্তর: খ. পানি
আপেক্ষিক তাপ হলো ১ কিলোগ্রাম পদার্থের তাপমাত্রা ১ কেলভিন বাড়াতে যে তাপ লাগে। কোনো পদার্থের আপেক্ষিক তাপ বেশি হলে তাকে গরম করতে বেশি তাপ লাগে, আবার ঠান্ডা হতেও সময় নেয়। এই চারটির মধ্যে পানির আপেক্ষিক তাপ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪২০০ J/kg·K। বাতাসের আপেক্ষিক তাপ প্রায় ১০০০, তামার প্রায় ৩৮৫ এবং লোহার প্রায় ৪৫০। পানির এই বড় আপেক্ষিক তাপের কারণে সমুদ্র দিনের বেলা ধীরে গরম হয়, আবার রাতে ধীরে ঠান্ডা হয়। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া মৃদু থাকে।
মনে রাখুন:
পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় 1 cal/g·°C।
সমুদ্র থেকে দূরের মহাদেশীয় অঞ্চলে দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি হয়, কারণ স্থলভাগ দ্রুত গরম ও ঠান্ডা হয়। - ৩০. কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলা হয়?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা/সহকারী কনস্যুলার কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরম শূন্য তাপমাত্রা
- ক. ০° সেলসিয়াস
- খ. − ৮° সেলসিয়াস
- গ. − ২৭৩° সেলসিয়াস
- ঘ. − ২৯১° সেলসিয়াস
উত্তর: গ. − ২৭৩° সেলসিয়াস
যে তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রা সম্ভব নয়, তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute zero) বলে। গ্যাসের আয়তন ও তাপমাত্রার সম্পর্ক থেকে বোঝা যায়, চাপ স্থির রেখে প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস কমালে গ্যাসের আয়তন 0°C-এর আয়তনের 1/273 অংশ করে কমে। তাই −273°C-এ তাত্ত্বিকভাবে আয়তন শূন্য হয়ে যায়। এই বিন্দুতে অণুগুলোর গতি প্রায় থেমে যায়। ০° সেলসিয়াস হলো বরফ গলার তাপমাত্রা, তা পরম শূন্য নয়।
মনে রাখুন:
পরম শূন্য তাপমাত্রা = 0 K = −273.15°C।
কেলভিন স্কেলে 0°C = 273 K।
কেলভিন স্কেলের প্রবর্তক লর্ড কেলভিন। - ৩১. রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসারের মধ্যে যে তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয় তার নাম—শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেটর
- ক. নিয়ন
- খ. ফ্রেয়ন
- গ. অক্সিজেন
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: খ. ফ্রেয়ন
রেফ্রিজারেটরের ভেতরে যে তরল পদার্থ ঘুরে ঘুরে ঠান্ডা তৈরি করে, তাকে রেফ্রিজারেন্ট বলে। কম্প্রেসার এই রেফ্রিজারেন্টকে চাপ দিয়ে তরলে পরিণত করে, পরে সেটি বাষ্পীভূত হওয়ার সময় ভেতর থেকে তাপ শুষে নেয়, ফলে ভেতরটা ঠান্ডা হয়। ফ্রেয়ন (Freon) এই কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি বর্ণহীন, সহজে জ্বলে না, কম বিষাক্ত এবং রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল। মিথেন ও ইথেনের হাইড্রোজেন পরমাণুর জায়গায় ক্লোরিন ও ফ্লোরিন বসিয়ে ফ্রেয়ন পাওয়া যায়। নিয়ন, অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন এ কাজে ব্যবহৃত হয় না।
মনে রাখুন:
ফ্রেয়ন-১২-এর সংকেত CCl₂F₂।
ফ্রেয়ন ওজোন স্তরের ক্ষতি করে, তাই মন্ট্রিয়ল প্রটোকল (১৯৮৭) এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
ফ্রেয়ন ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) শ্রেণির যৌগ। - ৩২. গ্যাসের আণবিক গতির সাথে যে শক্তি নিহিত—বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, উপসহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশল), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অভ্যন্তরীণ শক্তি
- ক. গতিশক্তি
- খ. অভ্যন্তরীণ শক্তি
- গ. এন্ট্রপি
- ঘ. এনথালপি
উত্তর: খ. অভ্যন্তরীণ শক্তি
কোনো পদার্থের সব অণুর বিক্ষিপ্ত গতির গতিশক্তি এবং অণুদের পারস্পরিক আকর্ষণের স্থিতিশক্তি মিলে যে মোট শক্তি তৈরি হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ শক্তি (Internal energy) বলে। গ্যাসের অণুরা সবসময় অনিয়মিতভাবে ছুটে বেড়ায়, আর তাপমাত্রা বাড়লে এই গতি বাড়ে। তাই গ্যাসের অণুগুলোর গতির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ শক্তি জড়িয়ে আছে। আদর্শ গ্যাসের ক্ষেত্রে এটি শুধু তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। এন্ট্রপি বিশৃঙ্খলার পরিমাপ, আর এনথালপি = অভ্যন্তরীণ শক্তি + চাপ × আয়তন। গ্যাসের তাপমাত্রা যত বাড়ে, অণুর গতিশক্তি তত বাড়ে, আর সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ শক্তিও বাড়ে। তাই তাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি বদলে যায়।
মনে রাখুন:
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: ΔU = Q − W।
অভ্যন্তরীণ শক্তির একক জুল। - ৩৩. একটি গ্যাসীয় সিস্টেমে 110J শক্তি প্রয়োগ করা হলো এবং এটির আভ্যন্তরীণ শক্তি 40J পরিমাণ বৃদ্ধি পেল। বাহ্যিক কাজের পরিমাণ—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপগতিবিদ্যা
- ক. 150J
- খ. 70J
- গ. 110J
- ঘ. 40J
উত্তর: খ. 70J
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র আসলে শক্তির সংরক্ষণ নীতিরই একটি রূপ। এ অনুসারে সিস্টেমে যে তাপ সরবরাহ করা হয়, তা দুটি কাজে লাগে। একটি অংশ অভ্যন্তরীণ শক্তি বাড়ায়, বাকি অংশ বাইরে কাজ করে। সূত্রটি হলো ΔQ = ΔU + ΔW।
এখানে ΔQ = 110 J, ΔU = 40 J
ΔW = ΔQ − ΔU = 110 − 40 = 70 J
অর্থাৎ সিস্টেম বাইরে ৭০ জুল কাজ করেছে।
মনে রাখুন: রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় ΔQ = 0, তাই ΔW = −ΔU। সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা স্থির বলে ΔU = 0। - ৩৪. একটি কার্নট ইঞ্জিনের সিংকের তাপমাত্রা 27°C। এটির দক্ষতা 25% হলে উৎসের তাপমাত্রা কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্নট ইঞ্জিন
- ক. 227°c
- খ. 327°c
- গ. 127°c
- ঘ. 27°c
উত্তর: গ. 127°c
কার্নো ইঞ্জিনের দক্ষতা নির্ভর করে উৎস ও সিংকের পরম তাপমাত্রার ওপর। সূত্রটি η = 1 − T₂/T₁, যেখানে T₁ উৎসের এবং T₂ সিংকের তাপমাত্রা (কেলভিনে)।
T₂ = 27 + 273 = 300 K, η = 25% = 0.25
0.25 = 1 − 300/T₁
300/T₁ = 0.75
T₁ = 400 K = 400 − 273 = 127°C
শর্টকাট: দক্ষতা ও সিংক তাপমাত্রা দেওয়া থাকলে T₁ = T₂/(1 − η) বের করে নিলেই চলে।
মনে রাখুন: গণনায় তাপমাত্রা সবসময় কেলভিনে ধরতে হয়। কার্নো ইঞ্জিনের দক্ষতা কখনো ১০০% হয় না, কারণ সিংকের তাপমাত্রা কখনো শূন্য কেলভিন হতে পারে না। - ৩৫. থার্মোডাইনামিক্স-এর প্রথম সূত্রটি কোন সমীকরণ দ্বারা প্রকাশ করা হয়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপগতিবিদ্যা
- ক. W = JH
- খ. H = JW
- গ. W = J + H
- ঘ. H = J + W [যখন J তাপের যান্ত্রিক তুল্যাংক, W কাজ ও H তাপ প্রকাশ করে।]
উত্তর: ক. W = JH
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র শক্তির সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে মিলে যায়। এ সূত্রের প্রাচীন রূপ হলো যান্ত্রিক শক্তি কাজে লাগিয়ে যে তাপ পাওয়া যায়, তা কাজের সমানুপাতিক। এই সম্পর্ককে লেখা হয় W = JH, যেখানে W কাজ, H উৎপন্ন তাপ এবং J তাপের যান্ত্রিক তুল্যাঙ্ক। J-এর মান প্রায় ৪.২ জুল প্রতি ক্যালরি। জুল এই তুল্যাঙ্কের মান পরীক্ষা করে বের করেন।
মনে রাখুন:
আধুনিক রূপ: ΔQ = ΔU + ΔW।
দ্বিতীয় সূত্র তাপের স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহের দিক এবং ইঞ্জিনের দক্ষতার সীমা নির্ধারণ করে।
তাপ এবং কাজের একক জুল। - ৩৬. একটি গ্যাসের রুদ্ধতাপীয় প্রসারণ কোন সূত্র দ্বারা প্রকাশ করা হয়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপগতিবিদ্যা
- ক. PV = constant
- খ. PVᵞ = constant
- গ. PV⁰ = constant
- ঘ. PVᵅ = constant
উত্তর: খ. PVᵞ = constant
গ্যাসের রুদ্ধতাপীয় (Adiabatic) প্রসারণে গ্যাস ও পরিবেশের মধ্যে কোনো তাপ আদান-প্রদান হয় না। এখানে গ্যাসের চাপ ও আয়তনের সম্পর্ক হলো PVᵞ = ধ্রুবক। γ হলো গ্যাসের স্থির চাপ ও স্থির আয়তনে আপেক্ষিক তাপের অনুপাত (Cp/Cv)। সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা স্থির থাকে বলে সম্পর্ক হয় PV = ধ্রুবক, যাকে বয়েলের সূত্র বলে। রুদ্ধতাপীয় প্রসারণে গ্যাস নিজের অভ্যন্তরীণ শক্তি খরচ করে কাজ করে, তাই তাপমাত্রা কমে যায়।
মনে রাখুন:
γ সব সময় ১-এর চেয়ে বেশি।
এক পরমাণুক গ্যাসের γ = ১.৬৭ এবং দ্বি-পরমাণুক গ্যাসের γ = ১.৪। - ৩৭. উষ্ণতার একক কীভাবে প্রকাশ করা হয়?তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার একক
- ক. মিটার
- খ. অ্যাম্পিয়ার
- গ. কেলভিন
- ঘ. ফারেনহাইট
উত্তর: গ. কেলভিন
তাপমাত্রার আন্তর্জাতিক পদ্ধতির (SI) একক হলো কেলভিন (K)। দৈনন্দিন ব্যবহারে সেলসিয়াস (°C) আর ফারেনহাইট (°F) চলে, তবে বৈজ্ঞানিক কাজে কেলভিন ব্যবহার হয়। মিটার দৈর্ঘ্যের এবং অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহের একক। পরম শূন্য তাপমাত্রাকে ০ কেলভিন ধরে এই স্কেল তৈরি করা হয়েছে, তাই কেলভিন স্কেলে ঋণাত্মক মান হয় না। সেলসিয়াস স্কেলে পানির হিমাঙ্ক ০ ডিগ্রি ও স্ফুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রি, আর ফারেনহাইট স্কেলে সেগুলো যথাক্রমে ৩২ ও ২১২ ডিগ্রি।
মনে রাখুন:
K = °C + 273.15
পরম শূন্য তাপমাত্রা 0 K, যা প্রায় −273.15 °C।
কেলভিনের ক্ষেত্রে ডিগ্রি চিহ্ন বসে না, আমরা শুধু 300 K লিখি। - ৩৮. পরম শূন্য তাপমাত্রা হিসাবে গ্রহণ করা হয়—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরম শূন্য তাপমাত্রা
- ক. −২৭৩°C
- খ. ২৭০°C
- গ. ২৩৭°C
- ঘ. −২৩৭°C
উত্তর: ক. −২৭৩°C
পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো সর্বনিম্ন সম্ভাব্য তাপমাত্রা, যেখানে আদর্শ গ্যাসের আয়তন তত্ত্বগতভাবে শূন্য হয়ে যায়। সেলসিয়াস স্কেলে এর মান প্রায় −273°C (সূক্ষ্মভাবে −273.15°C)। কেলভিন স্কেলে এই বিন্দুকে 0 K ধরা হয়, তাই T(K) = t(°C) + 273।
মনে রাখুন: এই তাপমাত্রায় অণুর গতি প্রায় থেমে যায়। বাস্তবে কোনো বস্তুকে ঠিক এই তাপমাত্রায় পৌঁছানো যায় না।
পরম শূন্য তাপমাত্রা ফারেনহাইট স্কেলে প্রায় −459.67°F।
কেলভিন স্কেলের নাম বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিনের নামে রাখা হয়েছে।
পরম শূন্য তাপমাত্রার কাছাকাছি গেলে কিছু পদার্থ অতিপরিবাহী হয়ে যায়।
পরম শূন্যের নিচে কোনো তাপমাত্রা সম্ভব নয়। - ৩৯. নিচের কোনটিতে সবচেয়ে কম thermal conductivity?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ পরিবাহিতা
- ক. Copper
- খ. Silver
- গ. Glass
- ঘ. Air
উত্তর: ঘ. Air
তাপ পরিবাহিতা (Thermal conductivity) হলো কোনো পদার্থ কত ভালোভাবে তাপ পরিবহন করে তার মাপ। তামা ও রুপা ধাতু বলে এদের মুক্ত ইলেকট্রন সহজে তাপ বহন করে, তাই পরিবাহিতা অনেক বেশি। কাচের পরিবাহিতা কম, কিন্তু বায়ুর পরিবাহিতা আরও কম, প্রায় ০.০২৬ W/m·K। এ কারণেই বায়ু আটকে রাখা পদার্থ, যেমন উল বা ফোম, ভালো অন্তরক হিসেবে কাজ করে।
মনে রাখুন: ধাতুর মধ্যে রুপার তাপ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, তার পরেই তামা।
পানি ও অন্যান্য তরলের তাপ পরিবাহিতা ধাতুর চেয়ে অনেক কম।
রুপার তাপ পরিবাহিতা প্রায় 429 W/m·K। - ৪০. যে তাপমাত্রার গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়ে যায় তাকে বলা হয়—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরম শূন্য তাপমাত্রা
- ক. পরম স্কেল তাপমাত্রা
- খ. পরম শূন্য তাপমাত্রা
- গ. পরম তাপমাত্রা
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. পরম শূন্য তাপমাত্রা
গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রা কমালে কমে। চার্লসের সূত্র অনুযায়ী স্থির চাপে প্রতি ১°C তাপমাত্রা কমলে গ্যাসের আয়তন ০°C-এর আয়তনের ১/২৭৩ অংশ করে কমে। এই হিসাবে −273°C তাপমাত্রায় আয়তন তত্ত্বগতভাবে শূন্য হয়ে যায়, আর এই তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute zero) বলে। কেলভিন স্কেলে এর মান 0 K। এই ধারণার ভিত্তিতে লর্ড কেলভিন পরম স্কেল চালু করেন।
মনে রাখুন: বাস্তব গ্যাস এই তাপমাত্রার আগেই তরল হয়ে যায়, তাই আয়তন সত্যিই শূন্য হয় না, এটি তাত্ত্বিক ধারণা।
স্থির আয়তনে গ্যাসের চাপও প্রতি ১°C তাপমাত্রা কমলে ০°C-এর চাপের ১/২৭৩ অংশ করে কমে। - ৪১. Molecular collision এর মাধ্যমে তাপ পরিবহনকে বলা হয়—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ পরিবাহিতা
- ক. Conduction
- খ. Convection
- গ. Radiation
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. Conduction
অণুগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষের মাধ্যমে তাপ এক অণু থেকে আরেক অণুতে যায়, কিন্তু অণুগুলো নিজের জায়গা ছেড়ে সরে না। এভাবে তাপের পরিবহনকে পরিবহন বা পরিবাহন (Conduction) বলে। সংবহনে (Convection) তাপ বহন করে তরল বা গ্যাসের অণুগুলো নিজেরাই স্থান বদলায়, আর বিকিরণে (Radiation) তাপ মাধ্যম ছাড়াই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গে যায়। ধাতুতে মুক্ত ইলেকট্রনও তাপ বহন করে, তাই ধাতু ভালো তাপ পরিবাহী।
মনে রাখুন:
কঠিন পদার্থে তাপ প্রধানত পরিবহনে ছড়ায়।
সূর্যের তাপ পৃথিবীতে আসে বিকিরণে।
উদাহরণ: গরম চায়ে রাখা ধাতব চামচ কিছুক্ষণ পরে নিজেও গরম হয়ে ওঠে।
পরিবহনে তাপ সাধারণত বেশি তাপমাত্রার প্রান্ত থেকে কম তাপমাত্রার প্রান্তে যায়। - ৪২. ১°C সমান — ডিগ্রি ফারেনহাইট—কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ৩২.৬
- খ. ৩২.৪
- গ. ৩২.৮
- ঘ. ৩৩.৮
উত্তর: ঘ. ৩৩.৮
সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে রূপান্তরের সূত্র হলো F = (9/5) × C + 32। এখানে C = 1 বসালে F = 1.8 + 32 = 33.8। অর্থাৎ ১°C সমান 33.8°F। সেলসিয়াস স্কেলে পানির হিমাঙ্ক 0° আর ফারেনহাইট স্কেলে সেটি 32°, তাই হিসাবে 32 যোগ করতে হয়। উল্টো দিকে ফারেনহাইট থেকে সেলসিয়াসে যেতে লিখি C = (F − 32) × 5/9।
মনে রাখুন: পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C, যা 212°F-এর সমান।
মানুষের স্বাভাবিক দেহতাপ 37°C, যা প্রায় 98.6°F।
গলন্ত বরফের তাপমাত্রা 0°C = 32°F এবং ফুটন্ত পানির তাপমাত্রা 100°C = 212°F।
দুই স্কেলের ঘরের অনুপাত 100 : 180 = 5 : 9। - ৪৩. ১ ক্যালরি = কত জুল?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের একক
- ক. ৪.২
- খ. ২.৮
- গ. ৪.৯
- ঘ. ৫
উত্তর: ক. ৪.২
তাপ এক ধরনের শক্তি। SI পদ্ধতিতে তাপের একক জুল (J), আর আগের একক ক্যালরি (cal)। এদের সম্পর্ক 1 cal = 4.2 J (আরও সূক্ষ্মভাবে 4.18 J)। ক্যালরি হলো ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১°C বাড়াতে যে তাপ লাগে, তার পরিমাণ।
মনে রাখুন: 1 kcal = 1000 cal = 4200 J।
খাবারের শক্তি মাপতে বড় ক্যালরি বা কিলোক্যালরি (kcal) ব্যবহার করা হয়।
১ গ্রাম শর্করা ও আমিষ থেকে প্রায় ৪ kcal এবং ১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রায় ৯ kcal শক্তি পাওয়া যায়।
ক্যালরি ছোট একক, তাই খাবারের শক্তি মাপতে বড় একক কিলোক্যালরি ব্যবহৃত হয়। - ৪৪. চাপ বাড়লে কোন পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গলনাঙ্ক
- ক. বিসমাথ
- খ. মোম
- গ. অ্যান্টিমনি
- ঘ. ঢালাই লোহা
উত্তর: খ. মোম
বেশিরভাগ পদার্থ গলে তরল হলে তাদের আয়তন বাড়ে, আবার চাপ দিলে আয়তন বাড়াতে বাধা পায়। তাই এ ধরনের পদার্থকে গলাতে বেশি তাপ লাগে, অর্থাৎ চাপ বাড়লে গলনাঙ্ক বাড়ে। মোম এমনই একটি পদার্থ। অন্যদিকে বরফ, বিসমাথ ও অ্যান্টিমনির মতো পদার্থ জমাট বাঁধার সময় আয়তনে বাড়ে, গলার সময় কমে। চাপ বাড়ালে এদের গলা সহজ হয়, তাই এদের গলনাঙ্ক কমে যায়।
মনে রাখুন:
চাপে গলনাঙ্ক বাড়ে: মোম, সীসা, তামা।
চাপে গলনাঙ্ক কমে: বরফ, বিসমাথ (Bismuth), অ্যান্টিমনি, ঢালাই লোহা।
মজার ব্যাপার হলো, বরফের ওপর স্কেটিং করা সহজ হয় এই কারণেই। স্কেটের নিচের চাপে বরফ সামান্য গলে পিচ্ছিল স্তর তৈরি করে। - ৪৫. কোনটি তাপ কুপরিবাহী?ডাক অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ পরিবহন
- ক. লোহা
- খ. তামা
- গ. রাবার
- ঘ. পানি
উত্তর: গ. রাবার
যে পদার্থের ভেতর দিয়ে তাপ সহজে চলাচল করতে পারে না, তাকে তাপ কুপরিবাহী বলে। রাবার এমনই একটি পদার্থ। লোহা ও তামা ধাতু বলে তাপ খুব ভালোভাবে পরিবহন করে। পানি তাপ পরিবহন করে পরিচলন প্রক্রিয়ায়, তবে এটিও কুপরিবাহীই, কেবল ধাতুর মতো সুপরিবাহী নয়। এ কারণেই রান্নার পাত্র ধাতুর হয় আর তার হাতল রাবার বা কাঠের হয়। ধাতুর মুক্ত ইলেকট্রন তাপ বহন করে বলে ধাতু সুপরিবাহী হয়।
মনে রাখুন:
কাঠ, প্লাস্টিক ও কাচও তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী।
সুপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ: তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম।
তাপ পরিবহনের তিনটি পদ্ধতি হলো পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ। - ৪৬. কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ বিকিরণ
- ক. লাল
- খ. হলুদ
- গ. সাদা
- ঘ. কালো
উত্তর: ঘ. কালো
কালো রঙের বস্তু তার ওপর পড়া প্রায় সব তাপ বিকিরণ শোষণ করে নেয়। তাই কালো বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। সাদা বস্তু বেশির ভাগ তাপ প্রতিফলিত করে, তাই এর শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম। লাল ও হলুদ রং কিছুটা শোষণ করে, কিন্তু কালোর মতো এতটা নয়। রোদে রাখা কালো কাপড় তাই সাদা কাপড়ের চেয়ে তাড়াতাড়ি গরম হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
এ কারণেই গ্রীষ্মকালে সাদা বা হালকা রঙের জামা পরলে কম গরম লাগে।
যে বস্তু ভালো শোষক, সে ভালো বিকিরকও।
চকচকে পৃষ্ঠ তাপ ভালো প্রতিফলন করে। - ৪৭. কোনটি পানির স্ফুটনাঙ্ক তাপমাত্রা?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও স্কেল
- ক. 80° F
- খ. 100° F
- গ. 180° F
- ঘ. 212° F
উত্তর: ঘ. 212° F
স্বাভাবিক বায়ুচাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক সেলসিয়াস স্কেলে 100°C। সেলসিয়াসকে ফারেনহাইটে নেওয়ার সূত্র F = (9/5)C + 32। তাই F = (9/5) × 100 + 32 = 180 + 32 = 212°F। অন্য অপশনের 180° F হলো কেবল 100°C-এর ফারেনহাইট ব্যবধান, প্রকৃত তাপমাত্রা নয়। ফারেনহাইট স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক 32°F এবং ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক 212°F, এই দুইয়ের মাঝে 180টি ভাগ থাকে।
মনে রাখুন:
বরফের গলনাঙ্ক 0°C বা 32°F।
কেলভিন স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক 373 K।
কেলভিন স্কেলে K = C + 273।
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় 37°C।
কেলভিন স্কেলে পানির হিমাঙ্ক 273 K। - ৪৮. তাপের এস. আই. একক কী?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের একক
- ক. ক্যালরি
- খ. কিলোক্যালরি
- গ. জুল
- ঘ. ওয়াট
উত্তর: গ. জুল
তাপ এক ধরনের শক্তি, তাই এর এস.আই. (SI) একক শক্তির এককের সমান, অর্থাৎ জুল (Joule)। ক্যালরি ও কিলোক্যালরিও তাপের একক, তবে সেগুলো এস.আই. পদ্ধতির একক নয়। ওয়াট হলো ক্ষমতার একক, যেখানে এক সেকেন্ডে কত শক্তি খরচ হয় তা মাপা হয়। কাজ ও শক্তির এককও জুল, কারণ তাপ আসলে শক্তিরই একটি রূপ।
মনে রাখুন:
১ ক্যালরি ≈ 4.2 জুল।
১ ওয়াট = ১ জুল প্রতি সেকেন্ড।
তাপমাত্রার এস.আই. একক কেলভিন (K)।
তাপ পরিমাপের যন্ত্রকে ক্যালরিমিটার বলা হয়। তাপ সবসময় উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। - ৪৯. তাপ এক ধরনের—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের ধারণা
- ক. পদার্থ
- খ. আলো
- গ. বল
- ঘ. শক্তি
উত্তর: ঘ. শক্তি
তাপ একটি শক্তি (Energy), যা উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুর দিকে প্রবাহিত হতে পারে। এর কারণেই আমরা গরম বা ঠান্ডা অনুভব করি। তাপ নিজে কোনো পদার্থ নয়, কারণ এর ভর বা আয়তন নেই। এটি আলো বা বলও নয়, কারণ আলো আরেক ধরনের শক্তি আর বল ঠেলা বা টানকে বোঝায়।
মনে রাখুন:
তাপের SI একক জুল (J), আর তাপমাত্রার SI একক কেলভিন (K)।
তাপ তিনভাবে ছড়ায়: পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ।
তাপ ও তাপমাত্রা এক জিনিস নয়। তাপমাত্রা বলে বস্তুটি কতটা গরম বা ঠান্ডা।
তাপের আরেকটি একক ক্যালরি, আর ১ ক্যালরি প্রায় 4.186 জুলের সমান। - ৫০. রোদে কাপড় শুকায় কোন প্রক্রিয়ায়?বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. স্ফুটন
- খ. বাষ্পীভবন
- গ. ঊর্ধ্বপাতন
- ঘ. ঘনীভবন
উত্তর: খ. বাষ্পীভবন
ভিজা কাপড় রোদে দিলে তাপে কাপড়ের পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়। তরল পানির এভাবে ধীরে ধীরে বাষ্প হওয়াকে বাষ্পীভবন (Evaporation) বলে। এটি যেকোনো তাপমাত্রায় ঘটে, কিন্তু তাপ ও বাতাস বেশি হলে দ্রুত ঘটে। এ কারণেই রোদ ও বাতাসের দিনে কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়।
মনে রাখুন:
স্ফুটনে পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (১০০° সেলসিয়াস) ফুটে বাষ্প হয়।
ঘনীভবনে বাষ্প ঠান্ডা হয়ে আবার তরল হয়।
ঊর্ধ্বপাতনে কঠিন পদার্থ সরাসরি বাষ্প হয়, যেমন কর্পূর।
বাষ্পীভবনের সময় পানি আশপাশ থেকে তাপ নেয়, তাই ঘামে ভেজা শরীরে বাতাস লাগলে ঠান্ডা লাগে।
কাপড় শুকানোর জন্য ছায়ার চেয়ে খোলা বাতাসে মেলে দেওয়া ভালো। - ৫১. ৫০° ফারেনহাইট উষ্ণতার সমান—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ১০০° সেন্টিগ্রেড
- খ. ৫০° সেন্টিগ্রেড
- গ. ৩২° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ১০° সেন্টিগ্রেড
উত্তর: ঘ. ১০° সেন্টিগ্রেড
ফারেনহাইট (F) থেকে সেলসিয়াস (C) পাওয়ার সূত্র হলো C/5 = (F − 32)/9। এখানে F = 50 বসালে
C/5 = (50 − 32)/9 = 18/9 = 2
C = 10
তাই ৫০° ফারেনহাইট = ১০° সেলসিয়াস (সেন্টিগ্রেড)।
যাচাই: উল্টো পথে F = C × 9/5 + 32 = 10 × 9/5 + 32 = 18 + 32 = 50। মিলে যায়।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক ০°C = ৩২°F এবং স্ফুটনাঙ্ক ১০০°C = ২১২°F।
কেলভিন (K) = C + 273 (সুনির্দিষ্ট মান 273.15)।
−৪০° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান হয়। - ৫২. কোন রঙের কাপে চা বেশি সময় গরম থাকে?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের বিকিরণ
- ক. সাদা
- খ. কালো
- গ. নীল
- ঘ. সকল রঙের কাপে সমান
উত্তর: ক. সাদা
চায়ের কাপ থেকে তাপ বিকিরণ ও পরিবহনের মাধ্যমে বাইরে চলে যায়। হালকা রঙের, বিশেষ করে সাদা, পৃষ্ঠ তাপ কম বিকিরণ করে। কালো বা গাঢ় রঙের পৃষ্ঠ তাপ বেশি শোষণ ও বিকিরণ করে। তাই সাদা কাপে চা বেশি সময় গরম থাকে এবং গাঢ় রঙের কাপে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়।
মনে রাখুন:
কালো পৃষ্ঠ ভালো শোষক এবং ভালো বিকিরকও।
থার্মোসফ্লাস্কের ভেতরের দেয়ালে রুপালি প্রলেপ থাকে, যাতে বিকিরণে তাপ বের হতে না পারে।
শীতকালে গাঢ় রঙের কাপড় বেশি তাপ শোষণ করে বলে গরম লাগে। - ৫৩. ১ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বিশুদ্ধ পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও হিমাঙ্ক
- ক. 0° সেলসিয়াস
- খ. ৯৮.৬° সেলসিয়াস
- গ. ১০০° সেলসিয়াস
- ঘ. ২৭৬° সেলসিয়াস
উত্তর: গ. ১০০° সেলসিয়াস
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বিশুদ্ধ পানি 100°C তাপমাত্রায় ফোটে। একে স্ফুটনাঙ্ক বলে। একই চাপে 0°C-এ পানি বরফে পরিণত হয়, এটি হিমাঙ্ক। পাহাড়ের চূড়ায় বায়ুচাপ কম, তাই সেখানে পানি 100°C-এর কম তাপমাত্রায় ফোটে।
মনে রাখুন:
কেলভিন স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক 373 K।
ফারেনহাইট স্কেলে স্ফুটনাঙ্ক 212°F।
চাপ বাড়লে স্ফুটনাঙ্কও বাড়ে। প্রেসার কুকারে বেশি চাপ থাকে বলে পানি 100°C-এর বেশি তাপমাত্রায় ফোটে এবং রান্না দ্রুত হয়।
পানিতে লবণ মেশালে স্ফুটনাঙ্ক সামান্য বেড়ে যায় এবং হিমাঙ্ক কমে যায়।
বিশুদ্ধ পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয় 4°C তাপমাত্রায়।
পানির এই স্ফুটনাঙ্ককেই সেলসিয়াস স্কেলের উচ্চ স্থির বিন্দু ধরা হয়, আর নিম্ন স্থির বিন্দু হলো বরফের গলনাঙ্ক 0°C। - ৫৪. বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন কে?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীয় ইঞ্জিন
- ক. আইজাক নিউটন
- খ. স্টিফেন হকিংস
- গ. হেনরিক মার্জ
- ঘ. জেমস ওয়াট
উত্তর: ঘ. জেমস ওয়াট
বাষ্পীয় ইঞ্জিনের কার্যকর ও উন্নত রূপ উদ্ভাবন করেন স্কটিশ প্রকৌশলী জেমস ওয়াট (James Watt), ১৭৬৯ সালে তিনি এর পেটেন্ট নেন। তাঁর আগে টমাস নিউকোমেনের ইঞ্জিন চালু ছিল, কিন্তু সেটি অনেক জ্বালানি নষ্ট করত। ওয়াট আলাদা কনডেনসার যুক্ত করে যন্ত্রটিকে অনেক বেশি দক্ষ করে তোলেন। ফলে কারখানা, খনি ও পরিবহনে বাষ্পশক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে এবং শিল্পবিপ্লব এগিয়ে যায়। শিল্পবিপ্লবের এই আবিষ্কারের কারণে সামগ্রিকভাবে মানুষের উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
মনে রাখুন:
ক্ষমতার SI একক ওয়াট (W) তাঁর নামে রাখা হয়েছে।
‘অশ্বক্ষমতা’ (Horsepower) ধারণাটিও তিনিই চালু করেন।
বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনের জনক জর্জ স্টিফেনসন। - ৫৫. পানি কত ডিগ্রি Centigrade এ ফুটে?গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক
- ক. ১০০°C
- খ. ২০০°C
- গ. ২৩২°C
- ঘ. ১১০°C
উত্তর: ক. ১০০°C
স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে, অর্থাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান উচ্চতায়, বিশুদ্ধ পানি ১০০° সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ফোটে। এই তাপমাত্রাকে পানির স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) বলে। বায়ুচাপ কমলে স্ফুটনাঙ্কও কমে যায়, তাই উঁচু পাহাড়ে পানি ১০০°-এর কম তাপমাত্রায় ফোটে আর সেখানে রান্না করতে বেশি সময় লাগে। উল্টোভাবে প্রেশার কুকারে চাপ বেশি থাকায় পানি ১০০°-এর বেশি তাপমাত্রায় ফোটে। পানির স্ফুটনাঙ্ক কেলভিন স্কেলে ৩৭৩ কেলভিন (373 K), আর পানি ফুটে বাষ্প হলে তার আয়তন প্রায় ১৬০০ গুণ বেড়ে যায়।
মনে রাখুন: পানির হিমাঙ্ক 0°C, আর ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক 212°F। - ৫৬. সাধারণ তাপমাত্রায় বায়ুচাপে পানি কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফোটে?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক
- ক. ১০০° সেন্টিগ্রেড
- খ. ৯৯° সেন্টিগ্রেড
- গ. ১০৮° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ২১২° সেন্টিগ্রেড
উত্তর: ক. ১০০° সেন্টিগ্রেড
প্রমাণ বায়ুচাপে, অর্থাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠে বাতাসের স্বাভাবিক চাপে (76 cm পারদস্তম্ভ), বিশুদ্ধ পানি 100° সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ফোটে। ফারেনহাইট স্কেলে এই তাপমাত্রা 212°F, তাই 212° সেন্টিগ্রেড লেখা বিকল্পটি ভুল। বায়ুচাপ কমলে স্ফুটনাঙ্কও কমে, এ কারণে পাহাড়ের চূড়ায় পানি 100°-এর কম তাপমাত্রায় ফুটে যায়। পানি ফুটতে থাকলে এর তাপমাত্রা আর বাড়ে না, বাড়তি তাপ তখন পানিকে বাষ্পে পরিণত করার কাজে লাগে, একে সুপ্ততাপ বলে। তাই পাহাড়ে রান্না করতে প্রেশার কুকার বেশি কাজে আসে।
মনে রাখুন: প্রেশার কুকারে চাপ বাড়িয়ে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ানো হয়, ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। - ৫৭. পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক
- ক. ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- খ. ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
- গ. ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- ঘ. ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তর: ঘ. ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
স্বাভাবিক বা প্রমাণ বায়ুচাপে বিশুদ্ধ পানি 100° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফোটে, এটিই পানির স্ফুটনাঙ্ক। ফারেনহাইট স্কেলে এই তাপমাত্রা 212°F, তাই 100° ফারেনহাইট লেখা বিকল্পটি ভুল। বায়ুচাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, এ কারণে উঁচু পাহাড়ে পানি 100°-এর কম তাপমাত্রায় ফোটে। পানিতে লবণ বা চিনির মতো কোনো পদার্থ মেশালে কিন্তু স্ফুটনাঙ্ক সামান্য বেড়ে যায়। সেলসিয়াস স্কেলে পানির হিমাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের মধ্যবর্তী ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তাই একে সেন্টিগ্রেড স্কেলও বলে।
মনে রাখুন: পানির হিমাঙ্ক 0°C বা 32°F। সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে নিতে F = (9/5)C + 32। - ৫৮. বাষ্পীয় ইঞ্জিন কে আবিষ্কার করেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (শিক্ষাবিজ্ঞানসহ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীয় ইঞ্জিন
- ক. জেমস্ ওয়াট
- খ. আইজ্যাক নিউটন
- গ. হেনরিক মার্জ
- ঘ. স্টিফেন হকিংস
উত্তর: ক. জেমস্ ওয়াট
স্কটিশ প্রকৌশলী জেমস ওয়াট (James Watt) ১৭৬৯ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের উন্নত ও কার্যকর রূপ তৈরি করেন। তাঁর আগে টমাস নিউকোমেনের একটি বাষ্পীয় ইঞ্জিন ছিল, কিন্তু সেটি প্রচুর কয়লা খরচ করত। ওয়াট আলাদা কনডেনসার যোগ করে জ্বালানির অপচয় অনেক কমিয়ে দেন, আর এই ইঞ্জিনই কারখানা ও যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে শিল্পবিপ্লবকে এগিয়ে নেয়। ওয়াটের নামে একক রাখা হলেও তিনি ঘনত্ব ও তাপ নিয়েও গবেষণা করেছিলেন।
মনে রাখুন:
ক্ষমতার একক ওয়াট (W) তাঁর নামে রাখা হয়েছে।
বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনের জনক জর্জ স্টিফেনসন।
বাষ্পীয় ইঞ্জিনে পানিকে ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্পের চাপে পিস্টন চলে। - ৫৯. তাপের একক কোনটি?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের একক
- ক. ক্যালরি
- খ. সেলসিয়াস
- গ. সেন্ট্রিগ্রেড
- ঘ. ফারেনহাইট
উত্তর: ক. ক্যালরি
তাপ একটি শক্তি, তাই এর SI একক জুল (J)। তবে তাপের প্রচলিত একক ক্যালরি (Calorie)। এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ লাগে, তাকে এক ক্যালরি বলে। সেলসিয়াস, সেন্টিগ্রেড ও ফারেনহাইট হলো তাপমাত্রা মাপার স্কেল। এগুলো তাপের একক নয়।
মনে রাখুন:
1 ক্যালরি = 4.2 জুল (প্রায়)।
খাদ্যের শক্তি মাপতে ব্যবহৃত বড় ক্যালরি (Cal) সমান 1000 ক্যালরি বা 1 কিলোক্যালরি।
তাপ ও তাপমাত্রা এক নয়। তাপ শক্তি, তাপমাত্রা হলো বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা, তার পরিমাপ। - ৬০. কোন বস্তুর মধ্যে Heat Transfer নির্ভর করে?মৎস্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ পরিবহন
- ক. চাপের পার্থক্যের উপর
- খ. তাপের পার্থক্যের উপর
- গ. তাপমাত্রার পার্থক্যের উপর
- ঘ. কোনটিই সঠিক নয়
উত্তর: গ. তাপমাত্রার পার্থক্যের উপর
দুটি বস্তুর মধ্যে তাপ আদান-প্রদান হয় তাদের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে। তাপ সব সময় বেশি তাপমাত্রার বস্তু থেকে কম তাপমাত্রার বস্তুতে প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রার পার্থক্য যত বেশি হয়, তাপ স্থানান্তরের হারও তত বেশি হয়। দুই বস্তুর তাপমাত্রা সমান হলে তাপের আর কোনো আদান-প্রদান হয় না। একে তাপীয় সাম্যাবস্থা বলে।
মনে রাখুন:
তাপ স্থানান্তর তিন উপায়ে হয়: পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ।
চাপের পার্থক্য তাপ প্রবাহের নিয়ামক নয়, এটি তরল বা গ্যাসের প্রবাহ ঘটায়।
তাপমাত্রার পার্থক্য না থাকলে কোনো প্রবাহ ঘটে না, কারণ তাপ ও তাপমাত্রা এক জিনিস নয়। - ৬১. আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রার একককে কি বলে?উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. সেন্টিগ্রেড
- খ. কেলভিন
- গ. সেলসিয়াস
- ঘ. ফারেনহাইট
উত্তর: খ. কেলভিন
আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতিতে (SI) তাপমাত্রার একক কেলভিন (K)। এই স্কেল পরম শূন্য তাপমাত্রা থেকে শুরু হয় বলে একে পরম স্কেলও বলা হয়। সেন্টিগ্রেড ও সেলসিয়াস একই স্কেলের দুটি নাম, আর ফারেনহাইট আলাদা একটি স্কেল। এ দুটি দৈনন্দিন কাজে বহুল ব্যবহৃত হলেও এরা SI একক নয়।
মনে রাখুন:
K = °C + 273।
কেলভিন স্কেলে ডিগ্রি চিহ্ন বসে না। আমরা শুধু ‘300 K’ লিখি।
স্কেলটির নাম ব্রিটিশ পদার্থবিদ লর্ড কেলভিনের নামে রাখা হয়েছে।
পানির ত্রি-বিন্দুর তাপমাত্রার 1/273.16 অংশকে এক কেলভিন ধরা হয়। - ৬২. উষ্ণতা পরিমাপে কোনটি ব্যবহৃত হয়?জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (বি-ইউনিট) ভর্তি, ২০১৩-১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. মিটার স্কেল
- খ. কেলভিন স্কেল
- গ. ভার্নিয়ার স্কেল
- ঘ. স্লাইড ক্যালিপার্স
উত্তর: খ. কেলভিন স্কেল
উষ্ণতা বা তাপমাত্রা মাপার জন্য বিভিন্ন স্কেল আছে, যেমন সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন। কেলভিন স্কেল (Kelvin Scale) পরম শূন্য থেকে শুরু হওয়া একটি পরম স্কেল, আর এটি SI একক পদ্ধতির তাপমাত্রার একক। মিটার স্কেল দৈর্ঘ্য মাপে। ভার্নিয়ার স্কেল ও স্লাইড ক্যালিপার্স দিয়েও দৈর্ঘ্য মাপা হয়, কিন্তু এগুলো তাপমাত্রা মাপার কাজে লাগে না।
মনে রাখুন:
তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের নাম থার্মোমিটার।
পারদ থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়, কারণ তাপে পারদ নিয়মিতভাবে প্রসারিত হয়।
বিজ্ঞানের গবেষণায় কেলভিন স্কেলই বেশি ব্যবহার হয়, কারণ গ্যাসের সূত্রগুলো পরম তাপমাত্রা দিয়ে সরল আকারে লেখা যায়। - ৬৩. সেন্টিগ্রেড মাপে তাপমাত্রার পরিবর্তন ৪৫° হয়, তাহলে কেলভিন মাপে পরিবর্তন কত হবে?শ্রম অধিদপ্তরের শ্রম কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ২৫°
- খ. ৪৫°
- গ. ৮১°
- ঘ. ১১৩°
উত্তর: খ. ৪৫°
সেন্টিগ্রেড (সেলসিয়াস) স্কেল ও কেলভিন স্কেলের প্রতি ডিগ্রির মাপ একেবারে সমান। দুটি স্কেলে শুধু শূন্যের অবস্থান আলাদা, কারণ K = °C + 273। তাই সেন্টিগ্রেডে তাপমাত্রার পরিবর্তন 45° হলে কেলভিনেও পরিবর্তন হবে 45 K। যেমন 10° C থেকে 55° C-এ গেলে পরিবর্তন 45° C, আর 283 K থেকে 328 K-এ গেলে পরিবর্তন 45 K।
মনে রাখুন:
ফারেনহাইট স্কেলে এক ডিগ্রির মাপ ছোট। সেলসিয়াসের 1° ফারেনহাইটের 1.8° এর সমান।
∆°C = ∆K এবং ∆°F = 1.8 × ∆°C। - ৬৪. সেলসিয়াস স্কেলে বরফের গলনাঙ্ক কত?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর ট্রাফিক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ০°
- খ. ১০০°
- গ. ৩২°
- ঘ. ২৭৩°
উত্তর: ক. ০°
সেলসিয়াস স্কেলে দুটি স্থির বিন্দু আছে। বিশুদ্ধ পানির হিমাঙ্ক বা বরফের গলনাঙ্ক ধরা হয় ০° এবং পানির স্ফুটনাঙ্ক ধরা হয় ১০০°। দুটি বিন্দুর মাঝের অংশকে ১০০ ভাগে ভাগ করে প্রতি ভাগকে এক ডিগ্রি বলা হয়, তাই এর আরেক নাম সেন্টিগ্রেড স্কেল। ফারেনহাইট স্কেলে বরফের গলনাঙ্ক ৩২° এবং কেলভিন স্কেলে ২৭৩ K।
মনে রাখুন:
সুইডিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স সেলসিয়াস এই স্কেল প্রস্তাব করেন।
স্বাভাবিক বায়ুচাপে (1 atm) এই মানগুলো প্রযোজ্য।
পানির ত্রি-বিন্দু, যেখানে বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প একসঙ্গে থাকে, তার তাপমাত্রা প্রায় 0.01° C। - ৬৫. সেলসিয়াস স্কেলে তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি হলে তা ফারেনহাইট স্কেলে কত হবে?সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ১০০° ফারেনহাইট
- খ. ৩২° ফারেনহাইট
- গ. ২৭৩° ফারেনহাইট
- ঘ. ১৮০° ফারেনহাইট
উত্তর: খ. ৩২° ফারেনহাইট
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে রূপান্তরের সূত্র হলো F = (9/5) × C + 32। এখানে C = 0 বসালে F = (9/5) × 0 + 32 = 32 পাওয়া যায়। অর্থাৎ ০° সেলসিয়াস সমান ৩২° ফারেনহাইট। ০° সেলসিয়াস হলো বরফের গলনাঙ্ক, তাই ফারেনহাইট স্কেলে বরফের গলনাঙ্কই ৩২°।
মনে রাখুন:
পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস সমান ২১২° ফারেনহাইট।
দুই স্থির বিন্দুর মধ্যে ফারেনহাইট স্কেলে 180টি ভাগ থাকে, সেলসিয়াসে থাকে 100টি।
উল্টো রূপান্তরের সূত্র C = (5/9) × (F − 32)। - ৬৬. The Freezing point in Farenheit thermometer is-/ ফারেনহাইট স্কেলের শীতল বা নিম্নবিন্দু হল-কর্মসংস্থান ব্যাংক লিমিটেডের অফিসার, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. 32⁰ Farenheit
- খ. 0⁰ Farenheit
- গ. 212⁰ Farenheit
- ঘ. 1⁰ Farenheit
উত্তর: ক. 32⁰ Farenheit
ফারেনহাইট স্কেলে বিশুদ্ধ পানির হিমাঙ্ক ৩২° এবং স্ফুটনাঙ্ক ২১২°। জার্মান পদার্থবিদ গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট এই স্কেল তৈরি করেন। দুই স্থির বিন্দুর মধ্যবর্তী ব্যবধান 212 − 32 = 180 ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তাই পানির জমে যাওয়ার তাপমাত্রা বোঝাতে ফারেনহাইট স্কেলে ৩২° ধরা হয়।
মনে রাখুন:
সেলসিয়াসে হিমাঙ্ক ০° এবং স্ফুটনাঙ্ক ১০০°।
কেলভিনে হিমাঙ্ক 273 K এবং স্ফুটনাঙ্ক 373 K।
ফারেনহাইট স্কেল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি দেশে এখনো ব্যবহৃত হয়।
আমাদের দেশে আবহাওয়ার খবরে সেলসিয়াস ব্যবহৃত হলেও জ্বর মাপার সময় অনেকেই ফারেনহাইট স্কেল দেখেন। - ৬৭. ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রাকে ফারেনহাইটে রূপান্তর করলে কত হবে?সমবায় অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ১৪৮
- খ. ২১২
- গ. ২১৬
- ঘ. -২১৬
উত্তর: খ. ২১২
সেন্টিগ্রেড থেকে ফারেনহাইটে রূপান্তরের সূত্র F = (9/5) × C + 32। এখানে C = 100 বসালে F = (9/5) × 100 + 32 = 180 + 32 = 212। তাই ১০০° সেন্টিগ্রেড সমান ২১২° ফারেনহাইট। ১০০° সেন্টিগ্রেড আসলে স্বাভাবিক চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক, আর ২১২° ফারেনহাইটও সেই একই স্ফুটনাঙ্ক।
মনে রাখুন:
বিপরীত রূপান্তর: C = (5/9) × (F − 32)।
একটি তাপমাত্রা সেলসিয়াস ও ফারেনহাইটে সমান হয় −40 ডিগ্রিতে।
এই সূত্র মনে রাখার সহজ উপায় হলো সেলসিয়াসকে ১.৮ দিয়ে গুণ করে ৩২ যোগ করা। - ৬৮. ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ৮০
- খ. ১০০
- গ. ১৮০
- ঘ. ২১২
উত্তর: ঘ. ২১২
ফারেনহাইট স্কেলে বিশুদ্ধ পানির স্ফুটনাঙ্ক ২১২° এবং হিমাঙ্ক ৩২°। সেলসিয়াস স্কেলে এ দুটি মান যথাক্রমে ১০০° ও ০°। রূপান্তরের সূত্র F = (9/5) × C + 32 থেকে C = 100 বসালে পাওয়া যায় F = 180 + 32 = 212। তাই এই স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক ২১২° ফারেনহাইট।
মনে রাখুন:
স্ফুটনাঙ্ক ও হিমাঙ্কের পার্থক্য সেলসিয়াসে 100 এবং ফারেনহাইটে 180।
এজন্য সেলসিয়াসের 1 ডিগ্রি ফারেনহাইটের 1.8 ডিগ্রির সমান।
কেলভিন স্কেলে এই স্ফুটনাঙ্ক 373 K।
পানি ফোটা অবস্থায় তাপমাত্রা না বেড়ে স্থির থাকে, কারণ তখন সরবরাহকৃত তাপ বাষ্পে রূপান্তরেই যায়। - ৬৯. মানবদেহের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে, সেলসিয়াস স্কেলে কত ডিগ্রি?বিআরইবির সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ৩৭
- খ. ৩৭.৬৭
- গ. ৩৬.৬৭
- ঘ. ৩৮.৬৭
উত্তর: গ. ৩৬.৬৭
ফারেনহাইট থেকে সেলসিয়াসে নেওয়ার সূত্র C = (5/9) × (F − 32)। এখানে F = 98 বসালে C = (5/9) × (98 − 32) = (5/9) × 66 = 36.67। তাই ৯৮° ফারেনহাইট প্রায় ৩৬.৬৭° সেলসিয়াসের সমান। প্রথম ধাপে 98 থেকে 32 বিয়োগ করা হয়, আর ফল 5/9 দিয়ে গুণ করা হয়, এটাই এ ধরনের অঙ্কের পদ্ধতি।
মনে রাখুন:
সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
জ্বর মাপতে সাধারণত ফারেনহাইট স্কেলের থার্মোমিটার ব্যবহার হয়। - ৭০. ৯৮.২° ফারেনহাইট সমান কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?থানা শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. প্রায় ৪০° সে.
- খ. প্রায় ৩৯° সে.
- গ. প্রায় ৩৮° সে.
- ঘ. প্রায় ৩৭° সে.
উত্তর: ঘ. প্রায় ৩৭° সে.
রূপান্তরের সূত্র C = (5/9) × (F − 32)। F = 98.2 বসালে C = (5/9) × 66.2 = 36.78, অর্থাৎ ৯৮.২° ফারেনহাইট প্রায় ৩৭° সেলসিয়াসের সমান। দেওয়া অন্য মানগুলো, যেমন ৩৮°, ৩৯° বা ৪০°, জ্বরের তাপমাত্রা নির্দেশ করে, যা স্বাভাবিক নয়।
মনে রাখুন:
৯৮.৬° ফারেনহাইট সমান ৩৭° সেলসিয়াস। এ মানকে মানুষের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরা হয়।
দেহের তাপমাত্রা ১০০.৪° ফারেনহাইট বা ৩৮° সেলসিয়াস ছাড়ালে সাধারণত একে জ্বর বলা হয়।
তাই সেলসিয়াসে দেহের তাপমাত্রা বলার সময় আমরা মোটামুটি ৩৭° ধরে নিই। - ৭১. 103 ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান-বিপিএসসির সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. 49⁰ সেলসিয়াস
- খ. 39⁰ সেলসিয়াস
- গ. 39.44⁰ সেলসিয়াস
- ঘ. 49.44⁰ সেলসিয়াস
উত্তর: গ. 39.44⁰ সেলসিয়াস
ফারেনহাইট থেকে সেলসিয়াসে যাওয়ার সূত্র C = (5/9) × (F − 32)। F = 103 হলে C = (5/9) × (103 − 32) = (5/9) × 71 = 39.44। তাই ১০৩° ফারেনহাইট সমান ৩৯.৪৪° সেলসিয়াস। রোগীর জ্বর ১০৩° ফারেনহাইট হলে একে বেশ তীব্র জ্বর ধরা হয়, কারণ স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইটের চেয়ে এটি প্রায় ৪.৬° বেশি।
মনে রাখুন:
প্রথমে ফারেনহাইট থেকে 32 বিয়োগ করতে হয়, তারপর 5/9 দিয়ে গুণ করতে হয়। - ৭২. 40⁰ C এর মান ফারেনহাইট হয়-আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. 120⁰ F
- খ. 99⁰ F
- গ. 104⁰ F
- ঘ. 108⁰ F
উত্তর: গ. 104⁰ F
সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে রূপান্তরের সূত্র F = (9/5) × C + 32। C = 40 হলে F = (9/5) × 40 + 32 = 72 + 32 = 104। তাই ৪০° সেলসিয়াস সমান ১০৪° ফারেনহাইট।
মনে রাখুন:
পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বদলে নয় ডিগ্রি ফারেনহাইট, সম্পর্কটি এভাবে মনে রাখা সহজ।
৩৭° সেলসিয়াস মানুষের স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা, ফারেনহাইটে প্রায় ৯৮.৬°।
গরম গ্রীষ্মের দিনে ৪০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে সেটি দাবদাহ বলে বিবেচিত হয়।
আরেকটি উপায় হলো সেলসিয়াসের মানকে ১.৮ গুণ করে ৩২ যোগ করা। - ৭৩. তাপমাত্রার কোন স্কেলে 'শূন্য' ডিগ্রি সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা?গুপ্ত সংকেত পরিদপ্তরের সাইফার অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ফারেনহাইট
- খ. কেলভিন
- গ. সেন্ট্রিগ্রেড
- ঘ. সেলসিয়াস
উত্তর: খ. কেলভিন
কেলভিন স্কেলে শূন্য ডিগ্রি হলো পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute Zero), যা তাত্ত্বিকভাবে সর্বনিম্ন সম্ভাব্য তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা সেলসিয়াস স্কেলে −273.15° C এবং ফারেনহাইট স্কেলে প্রায় −459.67° F। অন্যদিকে সেলসিয়াস স্কেলের ০° হলো বরফের গলনাঙ্ক এবং ফারেনহাইটের ০° হলো প্রায় −17.8° C। তাই কেলভিন স্কেলের শূন্যই সবচেয়ে ঠান্ডা।
মনে রাখুন:
0 K = −273.15° C।
প্রকৃতিতে পরম শূন্য তাপমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব নয়, কেবল তার খুব কাছাকাছি যাওয়া যায়।
কেলভিন স্কেলে ঋণাত্মক তাপমাত্রা হয় না।
বাস্তবে এত কম তাপমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাতে বিজ্ঞানীরা লেজার ও চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করেন। - ৭৪. পরম শূন্য (Absolute Zero) তাপমাত্রা সমান -পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
- খ. ২৩৭° সেন্টিগ্রেড
- গ. - ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ০° সেন্টিগ্রেড
উত্তর: গ. - ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো তাত্ত্বিক সবচেয়ে কম তাপমাত্রা, যেখানে পদার্থের অণুগুলোর তাপীয় গতি প্রায় থেমে যায়। কেলভিন স্কেলে এটি 0 K, আর সেন্টিগ্রেড স্কেলে প্রায় −273° C। তাই K = °C + 273 সূত্রে 0 K বসালে °C = −273 পাওয়া যায়। অর্থাৎ সেন্টিগ্রেড স্কেলে এর মান ঋণাত্মক, ধনাত্মক নয়।
মনে রাখুন:
পরম শূন্যে গ্যাসের চাপ ও আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয়ে যায়।
পরম শূন্য তাপমাত্রার ধারণা দেন লর্ড কেলভিন।
পরম শূন্যে কোনো পদার্থ থেকে আর তাপশক্তি বের করে নেওয়া যায় না, এটাই এর তাত্ত্বিক ধারণা। - ৭৫. পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন-সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যাসের ধর্ম
- ক. ১০০ সি.সি
- খ. ২৭৩ সি.সি
- গ. অসীম
- ঘ. শূন্য
উত্তর: ঘ. শূন্য
চার্লসের সূত্র অনুযায়ী স্থির চাপে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক। তাপমাত্রা কমালে আয়তন কমতে থাকে। ধরা হয়, পরম শূন্য (0 K বা −273° C) তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়ে যাবে। বাস্তবে এর আগেই সব গ্যাস তরল বা কঠিন হয়ে যায়, তাই এটি একটি তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত।
মনে রাখুন:
চার্লসের সূত্র: V/T = ধ্রুবক।
বয়েলের সূত্র: স্থির তাপমাত্রায় PV = ধ্রুবক।
স্থির আয়তনে গ্যাসের চাপও পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।
এ কারণে গ্যাসের সূত্রগুলোতে সেলসিয়াস নয়, কেলভিন স্কেলের তাপমাত্রা ব্যবহার করা হয়। - ৭৬. কোন অবস্থাকে STP বলে?কৃষি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যাসের ধর্ম
- ক. 0° C, 760 cm.
- খ. 0° C, 76 cm পারদ
- গ. 0 K, 760 cm.
- ঘ. 273 k
উত্তর: খ. 0° C, 76 cm পারদ
গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রা ও চাপের উপর নির্ভর করে, তাই তুলনা করার জন্য একটি আদর্শ অবস্থা ঠিক করা হয়েছে। এটিই প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ বা STP (Standard Temperature and Pressure)। এই অবস্থায় তাপমাত্রা 0° C (273 K) এবং চাপ 76 cm পারদস্তম্ভের চাপ, যা 1 atm বা 760 mm পারদের সমান। এখানে মনে রাখার বিষয় হলো, চাপ 76 cm পারদস্তম্ভ, 760 cm নয়। 760 হলো মিলিমিটারে মান।
মনে রাখুন:
STP-তে 1 মোল যেকোনো গ্যাসের আয়তন প্রায় 22.4 লিটার। - ৭৭. NTP -এর পূর্ণ নাম কি?বাংলাদেশ রেলওয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যাসের ধর্ম
- ক. Normal Temperature & Pressure
- খ. Natural Temperature & Pressure
- গ. Norminal Temperature & Pressure
- ঘ. Normal Thermodynamic Pressure
উত্তর: ক. Normal Temperature & Pressure
NTP-এর পূর্ণ রূপ Normal Temperature and Pressure, অর্থাৎ স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও চাপ। এই অবস্থায় সাধারণত তাপমাত্রা 0° C এবং চাপ 1 atm (76 cm পারদ) ধরা হয়। গ্যাসের পরিমাণ বা আয়তন নিয়ে হিসাব করার সময় সবাই একই অবস্থায় তুলনা করে বলে এই নির্দিষ্ট অবস্থাটি ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
STP ও NTP প্রায় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে NTP-তে তাপমাত্রা 20° C ধরা হয়।
NTP-তে 1 মোল আদর্শ গ্যাসের আয়তন প্রায় 22.4 লিটার, যখন তাপমাত্রা 0° C ধরা হয়। - ৭৮. ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে কোন স্কেল ব্যবহার করা হয়?নিয়োগ পরীক্ষা, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রা পরিমাপ
- ক. ফারেনহাইট
- খ. সেন্টিগ্রেড
- গ. কেলভিন
- ঘ. র্যাঙ্কিন
উত্তর: ক. ফারেনহাইট
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার (Clinical Thermometer) দিয়ে মানুষের দেহের তাপমাত্রা মাপা হয়। মানুষের দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বদলায় না, তাই এ যন্ত্রে ফারেনহাইট স্কেলের ছোট একটি অংশ, প্রায় ৯৫° থেকে ১১০° ফারেনহাইট, দাগ কেটে বসানো থাকে। এই স্কেলে প্রতি ডিগ্রিকে আবার ছোট ভাগে ভাগ করা হয়, ফলে অল্প তাপমাত্রার তারতম্যও সহজে ধরা যায়।
মনে রাখুন:
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহৃত হয়।
নলের একটি সংকীর্ণ অংশ থাকে বলে পারদ নিজে থেকে নেমে যায় না।
পড়া নেওয়ার পর ঝাঁকিয়ে পারদ নামাতে হয়। - ৭৯. ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে কত পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে?দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রা পরিমাপ
- ক. ৯০ - ৯৫° F
- খ. ৯৫ - ১১০° F
- গ. ৯৫ - ১০৫° F
- ঘ. ৯৮ - ১০৮° F
উত্তর: খ. ৯৫ - ১১০° F
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার শুধু মানুষের দেহের তাপমাত্রা মাপার জন্য তৈরি। সুস্থ ও অসুস্থ মানুষের তাপমাত্রা সীমিত একটি পরিসরের মধ্যে থাকে, তাই এতে সাধারণত ৯৫° থেকে ১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে। নিচের অংশে ৯৫° ফারেনহাইটের নিচে অতিরিক্ত দাগ রাখার দরকার হয় না, কারণ জীবিত মানুষের দেহ এর চেয়ে বেশি ঠান্ডা হলে তা বিপজ্জনক।
মনে রাখুন:
সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
সেলসিয়াস স্কেলের ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে সাধারণত ৩৫° C থেকে ৪২° C পর্যন্ত দাগ থাকে। - ৮০. The natural temperature of human body in Celsius scale?নিয়োগ পরীক্ষা, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রা পরিমাপ
- ক. 35.7⁰
- খ. 36.5⁰
- গ. 36.9⁰
- ঘ. 37.8⁰
উত্তর: গ. 36.9⁰
সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা ফারেনহাইট স্কেলে ৯৮.৪°। সূত্র C = (5/9) × (F − 32) অনুযায়ী C = (5/9) × (98.4 − 32) = (5/9) × 66.4 = 36.9। অর্থাৎ সেলসিয়াস স্কেলে মানুষের স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা প্রায় ৩৬.৯° সেলসিয়াস। অনেকে মোটামুটি ৩৭° সেলসিয়াসও বলেন।
মনে রাখুন:
সুস্থ মানুষের তাপমাত্রা দিনের বিভিন্ন সময়ে সামান্য বদলায়। সকালে কম থাকে এবং বিকেলে একটু বাড়ে।
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস।
শরীরের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা সামান্য ভিন্ন হয়। বগলের তাপমাত্রা মুখের তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকে। - ৮১. হাইপার পাইরেক্সিয়ায় জ্বর কত আসে?নিয়োগ পরীক্ষা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রা পরিমাপ
- ক. ১০৮° F এর বেশি
- খ. ১০৬° F এর বেশি
- গ. ১০৩° F এর বেশি
- ঘ. ১০০° F এর বেশি
উত্তর: খ. ১০৬° F এর বেশি
জ্বরের সঙ্গে দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে হাইপারপাইরেক্সিয়া (Hyperpyrexia) বলে। দেহের তাপমাত্রা ১০৬° ফারেনহাইট (প্রায় ৪১.১° সেলসিয়াস) ছাড়ালে এ অবস্থা বলা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়, কারণ এত বেশি তাপমাত্রায় মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
মনে রাখুন:
১০০.৪° ফারেনহাইটের বেশি হলে সাধারণত জ্বর ধরা হয়।
দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলে তাকে হাইপোথার্মিয়া বলে।
এ অবস্থায় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়। পথে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিলে তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য হয়।
৯৪° ফারেনহাইটের নিচে দেহের তাপমাত্রা নেমে গেলেও বিপদ, একে হাইপোথার্মিয়া বলা হয়। - ৮২. ৯৮.৪° ফারেনহাইট সমান কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?নিয়োগ পরীক্ষা, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রা পরিমাপ
- ক. ৩৬.৯
- খ. ৩৮.৪
- গ. ৩৪.২
- ঘ. ৩২.৪
উত্তর: ক. ৩৬.৯
সেলসিয়াস স্কেলে রূপান্তরের সূত্র C = (5/9) × (F − 32)। F = 98.4 হলে C = (5/9) × (98.4 − 32) = (5/9) × 66.4 = 36.9। অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট প্রায় ৩৬.৯° সেলসিয়াসের সমান। এটি সুস্থ মানুষের গড় স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা।
মনে রাখুন:
৯৮.৬° ফারেনহাইট সমান ৩৭° সেলসিয়াস।
দেহের তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইটের চেয়ে ১° বাড়লে সেলসিয়াসে বাড়ে প্রায় ০.৫৬°।
বিপরীত সূত্র F = (9/5) × C + 32।
থার্মোমিটারে ফারেনহাইটে পাওয়া মানকে এই সূত্রে সেলসিয়াসে নিলে সহজে তুলনা করা যায়। - ৮৩. আদর্শ গ্যাসের সমীকরণ হলো-কৃষি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যাসের ধর্ম
- ক. PV = nRT
- খ. PV = ⅓ MnC²
- গ. PV = RT
- ঘ. P₁V₁ = P₂V₂
উত্তর: ক. PV = nRT
আদর্শ গ্যাসের (Ideal Gas) সমীকরণ হলো PV = nRT। এখানে P গ্যাসের চাপ, V আয়তন, n মোল সংখ্যা, T পরম তাপমাত্রা এবং R সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক। এই সমীকরণ বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র ও অ্যাভোগাড্রোর সূত্রকে একত্র করে পাওয়া যায়। এক মোল গ্যাসের জন্য এটি PV = RT আকারে লেখা হয়।
মনে রাখুন:
R-এর মান প্রায় 8.314 J/mol·K।
PV = ⅓ MnC² সূত্রটি গ্যাসের গতিতত্ত্ব থেকে পাওয়া যায়।
P₁V₁ = P₂V₂ হলো স্থির তাপমাত্রায় বয়েলের সূত্রের রূপ। - ৮৪. তাপ গতিবিদ্যার প্রথম সূত্র কি?স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপগতিবিদ্যা
- ক. তাপের রূপান্তর
- খ. ভরের রূপান্তর
- গ. বলের রূপান্তর
- ঘ. শক্তি রূপান্তর
উত্তর: ঘ. শক্তি রূপান্তর
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র (First Law of Thermodynamics) আসলে শক্তির নিত্যতার সূত্রের একটি রূপ। এ সূত্র অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করা যায়। কোনো ব্যবস্থায় তাপ দিলে সেই তাপ অংশত ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ শক্তি বাড়ায় এবং অংশত বাইরে কাজ করে। সূত্রটি লেখা হয় Q = ∆U + W।
মনে রাখুন:
শূন্যতম সূত্র তাপীয় সাম্য ও তাপমাত্রার ধারণা দেয়।
দ্বিতীয় সূত্র বলে, তাপ আপনা-আপনি ঠান্ডা বস্তু থেকে গরম বস্তুতে যায় না। - ৮৫. কোন সূত্রের উপর নির্ভর করে তাপীয় ইঞ্জিন ও রেফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপগতিবিদ্যা
- ক. তাপগতি বিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র
- খ. তাপগতি বিদ্যার প্রথম সূত্র
- গ. তাপগতি বিদ্যার তৃতীয় সূত্র
- ঘ. তাপগতি বিদ্যার শূন্যতম সূত্র
উত্তর: ক. তাপগতি বিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র
তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রের (Second Law) একটি রূপ বলে, কোনো তাপ ইঞ্জিন তাপ গ্রহণ করে তার পুরোটাকে কাজে রূপান্তর করতে পারে না। কিছু তাপ অবশ্যই নিম্ন তাপমাত্রার আধারে ফেলে দিতে হয়। আরেক রূপে সূত্রটি বলে, বাইরের কাজ ছাড়া তাপ নিজে থেকে ঠান্ডা বস্তু থেকে গরম বস্তুতে যায় না। প্রথম রূপটি তাপ ইঞ্জিনের ভিত্তি, আর দ্বিতীয় রূপটি রেফ্রিজারেটরের ভিত্তি।
মনে রাখুন:
প্রথম সূত্র শক্তির নিত্যতা, দ্বিতীয় সূত্র তাপ প্রবাহের দিক, আর তৃতীয় সূত্র পরম শূন্য তাপমাত্রা নিয়ে। - ৮৬. পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে প্রথম চালু করেন কে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বিটি), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. জেমস ওয়াট
- খ. ড. অটো
- গ. কেলভিন
- ঘ. কার্নো
উত্তর: খ. ড. অটো
জার্মান প্রকৌশলী নিকোলাউস অটো (Nikolaus Otto) ১৮৭৬ সালে চার স্ট্রোকবিশিষ্ট অন্তর্দহন ইঞ্জিন সফলভাবে চালু করেন, যা আজকের পেট্রোল ইঞ্জিনের ভিত্তি। এই ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালী তাঁর নামেই অটো চক্র (Otto Cycle) হিসেবে পরিচিত। জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিনের উন্নতি করেছিলেন, আর কার্নো তাপ ইঞ্জিনের আদর্শ তাত্ত্বিক চক্র দিয়েছেন।
মনে রাখুন:
ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন রুডলফ ডিজেল।
বাষ্পীয় ইঞ্জিনের উন্নত রূপ তৈরি করেন জেমস ওয়াট।
রুডলফ ডিজেল ১৮৯২ সালে তাঁর ইঞ্জিনের পেটেন্ট নেন। সেখানে সংকোচনের তাপেই জ্বালানি জ্বলে ওঠে।
অটোর ইঞ্জিন চার স্ট্রোকে কাজ করে: ভেতরে টানা, সংকোচন, শক্তি ও নির্গমন। - ৮৭. পেট্রোল ইঞ্জিন কোন সাইকেলে কার্য সম্পাদন করে?সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. অটো সাইকেল
- খ. কারনট সাইকেল
- গ. ডিজেল সাইকেল
- ঘ. জুল সাইকেল
উত্তর: ক. অটো সাইকেল
পেট্রোল ইঞ্জিনে বাতাসের সঙ্গে মেশানো পেট্রোলের বাষ্প সিলিন্ডারে সংকুচিত হয়, তারপর স্পার্ক প্লাগের বিদ্যুৎ-স্ফুলিঙ্গে আগুন ধরে। এ ঘটনায় প্রায় স্থির আয়তনে তাপ যুক্ত হয়, আর এই ধরনের আদর্শ চক্রের নাম অটো চক্র (Otto Cycle)। তাই পেট্রোল ইঞ্জিন অটো চক্রে কাজ করে।
মনে রাখুন:
ডিজেল ইঞ্জিন কাজ করে ডিজেল চক্রে। এতে বাতাসের তীব্র সংকোচনের ফলে সৃষ্ট তাপে জ্বালানি নিজে নিজেই জ্বলে ওঠে।
কার্নো চক্র একটি আদর্শ তাত্ত্বিক চক্র, যা বাস্তবে কোনো ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয় না। - ৮৮. সি.এন.জি গাড়ি চলে -বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. অটো চক্রে
- খ. ডিজেল চক্রে
- গ. ব্রেটন চক্রে
- ঘ. কারনট চক্রে
উত্তর: ক. অটো চক্রে
সিএনজি (CNG) বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে চলা গাড়ির ইঞ্জিন মূলত পেট্রোল ইঞ্জিনেরই রূপ। এতে বাতাস ও মিথেন গ্যাসের মিশ্রণ সংকুচিত করা হয় এবং স্পার্ক প্লাগের স্ফুলিঙ্গে আগুন ধরানো হয়। এই পদ্ধতি অটো চক্র (Otto Cycle) অনুসরণ করে, তাই সিএনজি গাড়ি অটো চক্রে চলে।
মনে রাখুন:
CNG-র মূল উপাদান মিথেন (CH₄)।
ডিজেল ইঞ্জিনে স্পার্ক প্লাগ থাকে না, সংকোচনের তাপেই ডিজেল জ্বলে।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের কারণে সিএনজি গাড়ি ব্যাপক জনপ্রিয়।
অটো চক্রে আগুন ধরানো হয় স্পার্ক প্লাগের স্ফুলিঙ্গ দিয়ে, তাই একে স্পার্ক ইগনিশন ইঞ্জিনও বলা হয়। - ৮৯. কোন দুটি প্রধান অংশ দ্বারা পেট্রোল ইঞ্জিন চেনা যায়?কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির নার্স, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. কার্বুরেটর ও ইনজেক্টর
- খ. হাই প্রেশার পাম্প ও ইনজেক্টর
- গ. কার্বুরেটর ও স্পার্ক প্লাগ
- ঘ. হাই প্রেশার পাম্প ও স্পার্ক প্লাগ
উত্তর: গ. কার্বুরেটর ও স্পার্ক প্লাগ
পেট্রোল ইঞ্জিনে কার্বুরেটর (Carburetor) জ্বালানিকে বাতাসের সঙ্গে মিশিয়ে বাষ্পের মিশ্রণ তৈরি করে। এরপর স্পার্ক প্লাগ (Spark Plug) স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে সেই মিশ্রণে আগুন ধরায়। ইনজেক্টর ও হাই প্রেশার পাম্প থাকে ডিজেল ইঞ্জিনে, সেখানে স্পার্ক প্লাগের দরকার হয় না। তাই কার্বুরেটর ও স্পার্ক প্লাগ দেখে পেট্রোল ইঞ্জিন চেনা যায়।
মনে রাখুন:
আধুনিক পেট্রোল ইঞ্জিনে অনেক সময় কার্বুরেটরের জায়গায় ইলেকট্রনিক জ্বালানি-ইনজেকশন ব্যবহার হয়, তবে স্পার্ক প্লাগ থাকে।
ডিজেল ইঞ্জিনকে বলা হয় কম্প্রেশন ইগনিশন ইঞ্জিন, কারণ সেখানে স্ফুলিঙ্গ ছাড়াই শুধু সংকোচনের তাপে আগুন ধরে। - ৯০. ইঞ্জিনের কোন অংশে জ্বালানিকে বাষ্পে পরিণত করে?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. কার্বুরেটর
- খ. প্রেসার পাম্প
- গ. স্পার্ক প্লাগ
- ঘ. ইনজেকটর
উত্তর: ক. কার্বুরেটর
পেট্রোল ইঞ্জিনের কার্বুরেটর (Carburetor) নামের অংশটি জ্বালানি তেলকে সূক্ষ্ম কণায় ভেঙে বাতাসের সঙ্গে মিশিয়ে বাষ্পে পরিণত করে। পেট্রোলের মতো উদ্বায়ী জ্বালানি সহজেই বাষ্প হয়, ফলে সিলিন্ডারে জ্বালানি-বাতাসের সমরূপ মিশ্রণ পাঠানো যায়। তারপর স্পার্ক প্লাগ এই মিশ্রণে আগুন ধরায়।
মনে রাখুন:
ডিজেল ইঞ্জিনে ইনজেক্টর জ্বালানিকে উচ্চ চাপে সিলিন্ডারে ছিটিয়ে দেয়।
প্রেসার পাম্প জ্বালানিকে চাপ দিয়ে এগিয়ে দেয়।
কার্বুরেটর এখন অনেক নতুন গাড়িতে ইনজেকশন ব্যবস্থার জায়গায় আর ব্যবহৃত হয় না।
কার্বুরেটরে বাতাসের প্রবাহ সরু নলের ভেতর দিয়ে চালিয়ে চাপ কমানো হয়, ফলে জ্বালানি টানা হয়ে বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। - ৯১. নিচের কোনটি সবচেয়ে Volatile fuel?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. Diesel
- খ. Kerosene
- গ. Fuel oil
- ঘ. Gasoline
উত্তর: ঘ. Gasoline
কোনো তরল জ্বালানি যত সহজে বাষ্প হয়ে যায়, তাকে তত বেশি উদ্বায়ী (Volatile) বলা হয়। পেট্রোল বা গ্যাসোলিনের স্ফুটনাঙ্ক খুব কম, তাই সাধারণ তাপমাত্রাতেও এটি দ্রুত বাষ্প হয়। কেরোসিন, ডিজেল ও ফুয়েল অয়েলের স্ফুটনাঙ্ক ক্রমান্বয়ে বেশি, তাই এরা কম উদ্বায়ী। এ কারণেই পেট্রোলে আগুন ধরার ঝুঁকি বেশি।
মনে রাখুন:
খনিজ তেলের আংশিক পাতনে সবচেয়ে হালকা অংশ গ্যাস, তারপর পেট্রোল, কেরোসিন, ডিজেল ও সবশেষে ফুয়েল অয়েল পাওয়া যায়।
উদ্বায়ী জ্বালানি ব্যবহারে ঠান্ডা আবহাওয়াতেও ইঞ্জিন সহজে চালু হয়। - ৯২. স্টিম ইঞ্জিন কোন সাইকেল অনুসারে চলে?BRTA মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. অটো সাইকেল
- খ. র্যাঙ্কিন (Rankine) সাইকেল
- গ. ডুয়েল সাইকেল
- ঘ. ডিজেল সাইকেল
উত্তর: খ. র্যাঙ্কিন (Rankine) সাইকেল
স্টিম ইঞ্জিনে বয়লারে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প সিলিন্ডারে বা টারবাইনে প্রসারিত হয়ে কাজ করে এবং পরে ঠান্ডা হয়ে আবার পানিতে পরিণত হয়। পানি ও বাষ্পের এই চক্রীয় প্রক্রিয়ার আদর্শ রূপের নাম র্যাঙ্কিন চক্র (Rankine Cycle)। তাই বাষ্পীয় ইঞ্জিন এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন র্যাঙ্কিন চক্র অনুসরণ করে।
মনে রাখুন:
পেট্রোল ইঞ্জিন অটো চক্রে এবং ডিজেল ইঞ্জিন ডিজেল চক্রে কাজ করে।
বাষ্পীয় ইঞ্জিনের উন্নতিতে জেমস ওয়াটের অবদান সবচেয়ে বেশি।
র্যাঙ্কিন চক্র আবিষ্কার করেন স্কটিশ প্রকৌশলী উইলিয়াম র্যাঙ্কিন। - ৯৩. আদর্শ মেশিনের দক্ষতা কেমন হয়?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. ৫০-৬০%
- খ. ৪০-৫০%
- গ. ৭০-৮০%
- ঘ. ১০০%
উত্তর: ঘ. ১০০%
কোনো যন্ত্রের দক্ষতা (Efficiency) হলো প্রাপ্ত কার্যকর শক্তিকে প্রদত্ত শক্তি দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করা। আদর্শ যন্ত্রে ঘর্ষণ, তাপ ক্ষয় বা শব্দ হিসেবে কোনো শক্তির অপচয় হয় না। ফলে যতটুকু শক্তি দেওয়া হয়, পুরোটাই কাজে পাওয়া যায়, অর্থাৎ দক্ষতা ১০০%। বাস্তবে ঘর্ষণ থাকে বলে কোনো মেশিনই এত দক্ষ হয় না।
মনে রাখুন:
কোনো যন্ত্রের দক্ষতা কখনো ১০০%-এর বেশি হতে পারে না, কারণ তাহলে শক্তির নিত্যতা সূত্র ভাঙত।
বাস্তব মেশিনে সবসময় শক্তির কিছুটা অপচয় হয়। - ৯৪. পেট্রোল ইঞ্জিনের দক্ষতা প্রায়-সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ ইঞ্জিন
- ক. ৭০%
- খ. ৩০%
- গ. ০.৪%
- ঘ. ০.৩%
উত্তর: খ. ৩০%
পেট্রোল ইঞ্জিনে জ্বালানি পুড়ে যে তাপ উৎপন্ন হয়, তার মাত্র একটি অংশ যান্ত্রিক কাজে রূপান্তরিত হয়। বাকি তাপের বেশিরভাগ নির্গত ধোঁয়া ও ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমে বাইরে চলে যায়, কিছুটা ক্ষয় হয় ঘর্ষণে। এ কারণে পেট্রোল ইঞ্জিনের দক্ষতা প্রায় ৩০%-এর কাছাকাছি।
মনে রাখুন:
ডিজেল ইঞ্জিনের সংকোচন অনুপাত বেশি বলে এর দক্ষতা পেট্রোল ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি, সাধারণত ৩৫-৪০%।
বাষ্পীয় ইঞ্জিনের দক্ষতা আরও কম, প্রায় ৮-১০%।
আদর্শ কার্নো ইঞ্জিনও ১০০% দক্ষতা দিতে পারে না, কারণ দক্ষতা নির্ভর করে উৎস ও আধারের তাপমাত্রার পার্থক্যের উপর। - ৯৫. নিচের কোন তাপ ইঞ্জিন বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করে?বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেশন
- ক. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
- খ. পেট্রোল ইঞ্জিন
- গ. রেফ্রিজারেটর
- ঘ. ডিজেল ইঞ্জিন
উত্তর: গ. রেফ্রিজারেটর
তাপ ইঞ্জিন গরম উৎস থেকে তাপ নিয়ে কিছুটা কাজে রূপান্তর করে এবং বাকিটা ঠান্ডা আধারে ফেলে দেয়। রেফ্রিজারেটর ঠিক এর উল্টো কাজ করে। এটি বাইরে থেকে বিদ্যুতের কাজ গ্রহণ করে এবং ঠান্ডা অংশ, অর্থাৎ ফ্রিজের ভেতর থেকে তাপ তুলে গরম অংশ, অর্থাৎ বাইরের পরিবেশে ছেড়ে দেয়। তাই রেফ্রিজারেটরকে বিপরীতমুখী তাপ ইঞ্জিন বলা হয়।
মনে রাখুন:
বাষ্পীয়, পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিন সবই স্বাভাবিক দিকে চলা তাপ ইঞ্জিন।
ফ্রিজের পেছনের কয়েলগুলো গরম থাকে, কারণ এখানেই তাপ ছাড়া হয়। - ৯৬. রেফ্রিজারেশন কোন সাইকেল অনুসারে কাজ করে?কর্ণফুলী গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির টেকনিশিয়ান, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেশন
- ক. কার্নোট সাইকেল
- খ. রিভার্স কার্নোট সাইকেল
- গ. জুল সাইকেল
- ঘ. এরিসন সাইকেল
উত্তর: খ. রিভার্স কার্নোট সাইকেল
কার্নো চক্র একটি আদর্শ তাপ ইঞ্জিনের চক্র, যেখানে উচ্চ তাপমাত্রার উৎস থেকে তাপ নিয়ে কিছুটা কাজে রূপান্তর করা হয়। রেফ্রিজারেটর এর উল্টো চলে। এটি বাইরের কাজ গ্রহণ করে নিম্ন তাপমাত্রার স্থান থেকে তাপ তুলে উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে ফেলে দেয়। তাই আদর্শ রেফ্রিজারেশন চক্র হলো রিভার্স কার্নো চক্র (Reverse Carnot Cycle)।
মনে রাখুন:
প্রচলিত ফ্রিজে বাষ্প সংকোচন রেফ্রিজারেশন চক্র ব্যবহৃত হয়, যা রিভার্স কার্নো চক্রের একটি বাস্তবসম্মত রূপ।
কার্নো চক্র আবিষ্কার করেন ফরাসি প্রকৌশলী সাদি কার্নো। - ৯৭. একটি Refrigeration চক্রে Refrigerant তাপ বর্জন করে কোন যন্ত্রাংশে?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেশন
- ক. Compressor
- খ. Condenser
- গ. Evaporator
- ঘ. Expansion valve
উত্তর: খ. Condenser
রেফ্রিজারেশন চক্রে রেফ্রিজারেন্ট চারটি প্রধান অংশ ঘুরে আসে। বাষ্পীভবকে (Evaporator) তরল রেফ্রিজারেন্ট বাষ্প হয়ে ঠান্ডা স্থান থেকে তাপ শোষণ করে। কম্প্রেসর সেই বাষ্পকে সংকুচিত করে চাপ ও তাপমাত্রা বাড়ায়। এরপর ঘনীভবকে (Condenser) গরম বাষ্প তাপ বর্জন করে বাইরের পরিবেশে তাপ ছাড়ে এবং আবার তরলে পরিণত হয়। শেষে সম্প্রসারণ ভালভ চাপ কমিয়ে তরলকে বাষ্পীভবকে পাঠায়।
মনে রাখুন:
ফ্রিজের পেছনের কালো জালির মতো অংশটিই কনডেনসার।
ফ্রিজে ফ্রেয়নের মতো রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহৃত হতো, যা ওজোন স্তরের ক্ষতি করে বলে এখন সরানো হচ্ছে। - ৯৮. একটি বদ্ধ ঘরে একটি চালু ফ্রীজের দরজা খুলে রাখলে ঘরের তাপমাত্রা-সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেশন
- ক. হ্রাস পাবে
- খ. গ্রীষ্মকাল হলে হ্রাস পাবে
- গ. বৃদ্ধি পাবে
- ঘ. অপরিবর্তিত থাকবে
উত্তর: গ. বৃদ্ধি পাবে
বদ্ধ ঘরে ফ্রিজের দরজা খুলে রাখলে মনে হতে পারে ঘর ঠান্ডা হবে। কিন্তু ফ্রিজ ঠান্ডা সৃষ্টি করে না, বরং ভেতর থেকে তাপ তুলে পেছনের কনডেনসার দিয়ে ঘরের ভেতরেই ছেড়ে দেয়। আবার কম্প্রেসর চালাতে যে বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার শক্তিও শেষে তাপ হয়ে ঘরেই জমা হয়। যেহেতু ঘরটি বদ্ধ, কোনো তাপ বাইরে যেতে পারে না। ফলে ছাড়া তাপ ও কম্প্রেসরের কাজ মিলে ঘরের তাপমাত্রা বাড়ে।
মনে রাখুন: ঘর ঠান্ডা করতে হলে তাপ ঘরের বাইরে ফেলতে হয়, যেমন এয়ার কন্ডিশনারের বাইরের ইউনিট করে। - ৯৯. এয়ার কন্ডিশনিং কি?বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেশন
- ক. শীতলকরণ
- খ. উত্তপ্তকরণ
- গ. আর্দ্রকরণ
- ঘ. সবগুলোই
উত্তর: ঘ. সবগুলোই
এয়ার কন্ডিশনিং (Air Conditioning) বলতে কোনো স্থানের বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও চলাচল আরামদায়ক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করাকে বোঝায়। কাজেই এতে গরমের সময় বায়ু শীতল করা, শীতের সময় উত্তপ্ত করা এবং প্রয়োজনমতো আর্দ্রতা বাড়ানো বা কমানো, সবই অন্তর্ভুক্ত। শুধু ঠান্ডা করা এর একটি অংশ মাত্র।
মনে রাখুন:
এয়ার কন্ডিশনারে বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত করে সরানো হয়, ফলে ঘরের আর্দ্রতা কমে।
এয়ার কন্ডিশনিংয়ের মূল নীতি রেফ্রিজারেশনের মতোই।
শীতাতপনিয়ন্ত্রণ শব্দটি এয়ার কন্ডিশনিংয়ের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার হয়। - ১০০. One ton refrigeration বলতে কোনটি বোঝায়?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেফ্রিজারেশন
- ক. 50 kCal/min
- খ. 50 kCal/hr
- গ. 80 kCal/min
- ঘ. 50 kCal/Sec
উত্তর: ক. 50 kCal/min
রেফ্রিজারেশন ক্ষমতা মাপার একককে টন (Ton of Refrigeration, TR) বলে। এক টন রেফ্রিজারেশন বলতে বোঝায় ০° C তাপমাত্রার ১ টন (২০০০ পাউন্ড) পানিকে ২৪ ঘণ্টায় ০° C তাপমাত্রার বরফে পরিণত করতে যে হারে তাপ সরাতে হয়। এই হার প্রতি মিনিটে প্রায় 50 কিলোক্যালরির সমান, অর্থাৎ 50 kCal/min। ঘণ্টার হিসাবে মান হয় 3000 kCal/hr।
মনে রাখুন:
1 TR = 12000 BTU/h।
1 TR = প্রায় 3.517 kW।
এই একক এসেছে যখন বরফ দিয়ে ঠান্ডা করা হতো তখনকার হিসাব থেকে। - ১০১. থার্মোফ্লাস্ক কয় স্তরবিশিষ্ট পাত্র?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ প্রবাহ
- ক. দুই স্তর
- খ. তিন স্তর
- গ. চার স্তর
- ঘ. পাঁচ স্তর
উত্তর: ক. দুই স্তর
থার্মোফ্লাস্ক বা ভ্যাকুয়াম ফ্লাস্ক দ্বিস্তরবিশিষ্ট কাচের পাত্র। ভেতরের ও বাইরের দুটি দেয়ালের মাঝখানের জায়গা থেকে প্রায় সব বাতাস সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে সেখানে শূন্যস্থান তৈরি হয়। শূন্যস্থানে কণা নেই, তাই পরিবহন ও পরিচলন দুটোই বন্ধ থাকে। দেয়ালের উপরের রুপালি আস্তর বিকিরণকে ফিরিয়ে দেয়, ফলে তাপ ভেতরে থেকে যায়।
মনে রাখুন:
গরম জিনিস গরম এবং ঠান্ডা জিনিস ঠান্ডা থাকে।
থার্মোফ্লাস্ক আবিষ্কার করেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ডিউয়ার।
থার্মোফ্লাস্কের মুখে ছিপি ভালোভাবে আঁটা থাকে, যাতে বাইরের বাতাসের সঙ্গে পরিচলনে তাপ আদান-প্রদান না হয়। - ১০২. তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে কি ধরনের প্রসারণ বুঝায়?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিক্যাল অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. আয়তন প্রসারণ
- খ. দৈর্ঘ্য ও ক্ষেত্র প্রসারণ
- গ. প্রস্থের প্রসারণ
- ঘ. ক্ষেত্র প্রসারণ
উত্তর: ক. আয়তন প্রসারণ
কঠিন পদার্থ তাপে দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল ও আয়তন, তিন রকমেই প্রসারিত হতে পারে। কিন্তু তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, সে পাত্রের আকার নেয়। তাই তরলের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল নিয়ে কথা বলা অর্থহীন। তরলের ক্ষেত্রে কেবল আয়তন প্রসারণই মাপা যায়, তাই তরলের প্রসারণ বলতে আয়তন প্রসারণকে বোঝায়।
মনে রাখুন:
গ্যাসের প্রসারণও আয়তন প্রসারণ।
কঠিনের দৈর্ঘ্য প্রসারণ সহগ α, আয়তন প্রসারণ সহগ γ = 3α।
থার্মোমিটারের পারদ তাপে আয়তন প্রসারণের নীতিতেই ওঠে।
পানি ও পারদের মতো তরলের আয়তন প্রসারণ সহগ কঠিন পদার্থের চেয়ে সাধারণত অনেক বেশি। - ১০৩. কোন পদার্থ তাপে সংকুচিত হয়?টেলিফোন বোর্ডের সহকারী পরিচালক, ১৯৯৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. পারদ
- খ. পানি
- গ. জার্মান সিলভার
- ঘ. প্লুটোনিয়াম
উত্তর: খ. পানি
সাধারণত তাপ পেলে পদার্থ প্রসারিত হয়। কিন্তু পানি এর ব্যতিক্রম, কারণ ০° C থেকে ৪° C পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ালে পানি প্রসারিত না হয়ে সংকুচিত হয়। ৪° C তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম আর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। তারপর আরও তাপ দিলে পানি অন্য তরলের মতোই প্রসারিত হতে থাকে। পারদ, জার্মান সিলভার ও প্লুটোনিয়াম সাধারণভাবে তাপে প্রসারিত হয়।
মনে রাখুন:
পানির এ আচরণকে পানির অস্বাভাবিক প্রসারণ বলা হয়।
এ কারণে শীতের দেশে হ্রদের উপরিভাগ জমে বরফ হলেও নিচের পানি ৪° C-এ তরল থাকে এবং জলজ প্রাণী বেঁচে থাকে। - ১০৪. পানিকে শূন্য ডিগ্রী থেকে ১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এ উন্নীত করলে আয়তন-বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের টেকনিশিয়ান হেলপার, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. প্রথমে কমে পরে বাড়ে
- খ. কমে
- গ. অপরিবর্তিত থাকে
- ঘ. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
উত্তর: ক. প্রথমে কমে পরে বাড়ে
পানির আয়তন তাপমাত্রার সঙ্গে সাধারণ নিয়মে বদলায় না। ০° C থেকে ৪° C পর্যন্ত পানি গরম করলে এর আয়তন কমে, ৪° C-এ আয়তন সবচেয়ে কম হয়। এরপর তাপমাত্রা ১০° C পর্যন্ত বাড়ালে আয়তন আবার বাড়তে থাকে। তাই ০° C থেকে ১০° C-এ নিলে পানির আয়তন প্রথমে কমে, তারপর বাড়ে।
মনে রাখুন:
ঘনত্ব আয়তনের উল্টো আচরণ করে। প্রথমে ঘনত্ব বাড়ে এবং ৪° C-এ সর্বোচ্চ হয়, তারপর কমে।
এই ধর্ম পানির একটি বিশেষত্ব, যা হাইড্রোজেন বন্ধনের কারণে হয়। - ১০৫. কোন পদার্থ তরল অবস্থার চেয়ে কঠিন অবস্থায় ঘনত্ব কম?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. কার্বন ডাই অক্সাইড
- খ. পানি
- গ. দুধ
- ঘ. তেল
উত্তর: খ. পানি
পানি একটি ব্যতিক্রমী পদার্থ। বেশিরভাগ পদার্থ জমে কঠিন হলে তাদের অণুগুলো আরও কাছাকাছি চলে আসে, ফলে আয়তন কমে আর ঘনত্ব বাড়ে। পানির বেলায় ঘটে উল্টোটা। পানি জমে বরফ হওয়ার সময় এর অণুগুলো একটি ফাঁকা কাঠামোতে সেজে যায়, তাই আয়তন বাড়ে এবং ঘনত্ব কমে যায়। সেজন্যই বরফ পানিতে ভেসে থাকে। এই ব্যতিক্রমী আচরণ নিয়ে একটি মজার ব্যাপার আছে। যদি বরফ পানির চেয়ে ভারী হতো, তাহলে শীতকালে হ্রদের তলায় বরফ জমে পুরো জলাশয় জমাট বেঁধে যেত।
মনে রাখুন:
৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ গ্রাম/ঘন সেমি।
বরফের ঘনত্ব প্রায় ০.৯২ গ্রাম/ঘন সেমি, অর্থাৎ পানির চেয়ে কম। - ১০৬. সামুদ্রিক প্রাণী বরফ আচ্ছন্ন পানিতে বেঁচে থাকে, কারণ -জাতীয় সংসদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রোটোকল অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. নিচের পানি কখনও জমাট বাঁধে না
- খ. সামুদ্রিক প্রাণীগুলো বিশেষ উপায়ে নিজেদের গরম রাখে
- গ. উপরের স্তরের বরফ কিছু পরিমাণ তাপ ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়
- ঘ. প্রাণীগুলো বরফের মধ্যে হাইবারনেশনে থাকে
উত্তর: ক. নিচের পানি কখনও জমাট বাঁধে না
শীতের দেশে হ্রদ বা সমুদ্রের ওপরের পানি জমে বরফ হয়ে যায়, কিন্তু তার নিচের পানি তরলই থাকে। এর কারণ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ। ঠান্ডায় পানি ৪° সেলসিয়াসে সবচেয়ে ভারী হয়ে নিচে নেমে যায়, আর তার ওপরের হালকা পানি ঠান্ডা হয়ে জমে বরফ হয়। বরফ হালকা বলে ওপরেই ভেসে থাকে এবং একটি অন্তরক স্তরের মতো কাজ করে। ফলে নিচের পানি থেকে তাপ সহজে বের হতে পারে না, তাই সেই পানি জমে না। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যতিক্রমী আচরণ না থাকলে বরফ ডুবে গিয়ে নিচ থেকে জলাশয়কে জমিয়ে ফেলত।
মনে রাখুন:
এভাবে নিচের পানিতে মাছ ও অন্যান্য প্রাণী বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ পায়।
তবে একেবারে কখনোই জমে না, এমন নয়। অত্যন্ত দীর্ঘ ও তীব্র শীতে অগভীর জলাশয় পুরোটাও জমে যেতে পারে। - ১০৭. পানি বরফে পরিণত হলে কী ঘটবে?ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিস সহায়ক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
- খ. আয়তনের পরিবর্তন ঘটবে না
- গ. ভর কমে যাবে
- ঘ. আয়তন বেড়ে যাবে
উত্তর: ঘ. আয়তন বেড়ে যাবে
পানি জমে বরফ হলে এর আয়তন বাড়ে। এর কারণ বরফের স্ফটিকে পানির অণুগুলো হাইড্রোজেন বন্ধনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ষড়ভুজাকার কাঠামোয় সাজানো থাকে, আর এই কাঠামোতে অনেক ফাঁকা জায়গা থাকে। তরল পানিতে অণুগুলো এতটা ফাঁকা হয়ে থাকে না। তাই একই ভরের পানি বরফ হলে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি জায়গা দখল করে। ভর কিন্তু একই থাকে, কেবল আয়তন বাড়ার কারণে ঘনত্ব কমে যায়। এই কারণেই পানি জমে বরফ হলে বোতল বা ঢাকনা আঁটা পাত্র ফেটে যেতে পারে।
মনে রাখুন:
শীতের দেশে পানির পাইপ জমে ফেটে যায়, কারণ বরফ হওয়ার সময় আয়তন বাড়ে।
পানি জমলে ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। - ১০৮. কোন পদার্থের তরল অবস্থার চেয়ে কঠিন অবস্থায় ঘনত্ব কম?জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অধীন সহকারী সচিব, ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. কার্বন ডাই অক্সাইড
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. জল
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: গ. জল
কোন পদার্থের কঠিন অবস্থার ঘনত্ব তরলের চেয়ে কম, তা জানতে আমরা প্রতিদিনের একটি অভিজ্ঞতা মনে করতে পারি। বরফ পানিতে ভাসে। অর্থাৎ বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম। বেশিরভাগ পদার্থ জমে গেলে কণাগুলো আরও ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকে, তাই কঠিন অবস্থায় তাদের ঘনত্ব বেশি হয়। পানি এর ব্যতিক্রম, কারণ বরফের কাঠামোতে অণুগুলোর মাঝে ফাঁকা জায়গা থেকে যায়। বাকি তিনটি পদার্থের ক্ষেত্রে কঠিন অবস্থার ঘনত্বই বেশি। একই কারণে বরফের চাঁই সবসময় পানির ওপরে অংশত ভেসে থাকে, আর হিমশৈলের মাত্র প্রায় এক-দশমাংশ পানির ওপরে দেখা যায়।
মনে রাখুন:
পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াসে।
পানির মতো বিসমাথ ও অ্যান্টিমনিও জমে গেলে প্রসারিত হয়। - ১০৯. দুই টুকরা বরফকে চাপ দিয়ে এক টুকরা বরফে পরিণত করা যায় কারণ সংযোগ স্থলের–প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৭ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পুনঃশিলীভবন
- ক. তাপমাত্রা বেড়ে যায়
- খ. তাপমাত্রা কমে যায়
- গ. গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস থেকে বেড়ে যায়
- ঘ. গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস থেকে কমে যায়
উত্তর: ঘ. গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস থেকে কমে যায়
দুই টুকরা বরফ চেপে ধরলে সংযোগস্থলে চাপ পড়ে। বরফের ক্ষেত্রে চাপ বাড়ালে গলনাঙ্ক কমে যায়। তাই ০° সেলসিয়াসের চেয়ে কম তাপমাত্রাতেও ওই জায়গার বরফ গলে পানি হয়। চাপ সরিয়ে নিলে সেই পানি আবার জমে যায় এবং দুই টুকরাকে জুড়ে দেয়। এই ঘটনার নাম পুনঃশিলীভবন (Regelation)। বরফের ওপর ধারালো স্কেটের পাতলা ফলা দিয়ে চাপ দিলে বরফ সামান্য গলে পিচ্ছিল স্তর তৈরি হয়, ফলে স্কেটিং সহজ হয়।
মনে রাখুন:
বরফের তৈরি গোলা বা স্নোবল বানানোর সময় বরফ চেপে ধরলে এই ঘটনাই ঘটে।
তারের ফাঁস দিয়ে একটি বরফের চাঁই ঝুলিয়ে রাখলে তার ধীরে ধীরে বরফ কেটে নিচে নেমে যায়, তবু বরফ আবার জোড়া লেগে থাকে। - ১১০. তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পানির -DLRS-এর সহকারী ভূ-রসায়নবিদ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. বাষ্পচাপ বৃদ্ধি পায়
- খ. স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়
- গ. বাষ্পচাপ হ্রাস পায়
- ঘ. স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়
উত্তর: ক. বাষ্পচাপ বৃদ্ধি পায়
পানিকে গরম করলে এর অণুগুলোর গতিশক্তি বাড়ে, ফলে আরও বেশি অণু তরল ছেড়ে বাষ্প হয়ে ওপরে ওঠে। এতে পানির ওপরের বাষ্পের চাপ বেড়ে যায়। একে সম্পৃক্ত বাষ্পচাপ বলা হয়। তাপমাত্রা যত বাড়ে, বাষ্পচাপও তত বাড়ে। যখন এই বাষ্পচাপ বাইরের বায়ুচাপের সমান হয়, তখনই পানি ফুটতে শুরু করে। তাই আমরা যখন পাত্রে পানি গরম করি, তখন প্রথমে ছোট ছোট বুদবুদ ওঠে এবং তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছালে পুরো পানিতে বুদবুদ তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
স্ফুটনাঙ্ক কোনো তাপমাত্রার সঙ্গে বাড়ে না। এটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, যা বাইরের চাপের ওপর নির্ভর করে।
স্বাভাবিক বায়ুচাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস। - ১১১. চাপ কমলে পানির Boiling Point-DOF-এর উপসহকারী প্রকৌশলী · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. একই থাকে
- খ. প্রথমে কমে পরে বাড়ে
- গ. বাড়ে
- ঘ. কমে
উত্তর: ঘ. কমে
কোনো তরল তখনই ফোটে, যখন তার বাষ্পচাপ বাইরের চাপের সমান হয়। বাইরের চাপ কমে গেলে কম বাষ্পচাপেই এই শর্ত পূরণ হয়ে যায়, আর কম বাষ্পচাপের জন্য কম তাপমাত্রা লাগে। তাই চাপ কমলে পানির স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) কমে যায়। এখান থেকে বোঝা যায়, স্ফুটনাঙ্ক কোনো স্থির সংখ্যা নয়। এটি আশপাশের চাপের সঙ্গে বদলায়।
মনে রাখুন:
উঁচু পাহাড়ে বায়ুচাপ কম, তাই সেখানে পানি ১০০° সেলসিয়াসের আগেই ফোটে।
ভ্যাকুয়াম পাম্প দিয়ে চাপ কমিয়ে দিলে ঘরের তাপমাত্রার কাছাকাছি তাপমাত্রাতেও পানি ফোটানো যায়।
উল্টো দিকে চাপ বাড়ালে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে। - ১১২. এভারেস্ট পর্বতের উপর পানি ফুটতে থাকে -টেলিভিশন এবং বিজ্ঞাপন অধিকারিক (গ্রেড-২), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. ৭০° ফা. উষ্ণতায়
- খ. ১০০° সে. উষ্ণতায়
- গ. ৭০° সে.উষ্ণতায়
- ঘ. ৭০° রোমার উষ্ণতায়
উত্তর: গ. ৭০° সে.উষ্ণতায়
এভারেস্ট পর্বতের চূড়ার উচ্চতা প্রায় ৮৮৪৯ মিটার। এত উঁচুতে বায়ুমণ্ডলের চাপ সমুদ্রতলের চাপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। চাপ কম বলে পানির বাষ্পচাপ কম তাপমাত্রাতেই বাইরের চাপের সমান হয়ে যায়, তাই পানি ফুটতে শুরু করে প্রায় ৭০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এটি ৭০° ফারেনহাইট নয়, কারণ ফারেনহাইটের ৭০ ডিগ্রি মোটামুটি ২১° সেলসিয়াস। এই উষ্ণতায় পানি ফুটলেও তা এত গরম থাকে না যে ডাল বা চাল ভালোভাবে সেদ্ধ হবে।
মনে রাখুন:
এ কারণে পাহাড়ের চূড়ায় ভাত বা ডাল সিদ্ধ হতে সময় বেশি লাগে।
সমুদ্রতলে স্বাভাবিক বায়ুচাপে পানি ফোটে ১০০° সেলসিয়াসে। - ১১৩. উচ্চ পর্বতের উপর পানির স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, কারণ ঐ উচ্চতায়-প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (শীতলক্ষ্যা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. বায়ুর চাপ বেশি
- খ. সূর্য তাপের প্রখরতা বেশি
- গ. বায়ুর চাপ কম
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. বায়ুর চাপ কম
উচ্চতা বাড়লে বায়ুমণ্ডলের স্তর পাতলা হয়ে আসে, তাই বায়ুর চাপ কমে যায়। পানি ফোটে তখন, যখন তার বাষ্পচাপ চারপাশের চাপের সমান হয়। চাপ কম থাকলে কম তাপমাত্রাতেই বাষ্পচাপ সেই মানে পৌঁছায়, ফলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়। সূর্যের তাপের প্রখরতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। একটি ছোট হিসাব মনে রাখলে সুবিধা হয়: উচ্চতা যত বাড়ে, পানি তত কম তাপমাত্রায় ফোটে। এখানে সূর্যের তাপ বেশি হওয়ার কোনো ভূমিকা নেই, বরং উচ্চতা বাড়লে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ দুটোই কমে।
মনে রাখুন:
প্রায় প্রতি ৩০০ মিটার উচ্চতায় স্ফুটনাঙ্ক মোটামুটি ১° সেলসিয়াস করে কমে।
তাই পাহাড়ে রান্নার জন্য প্রেসার কুকার বেশি কাজে লাগে। - ১১৪. প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক-BRTA মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. স্বাভাবিক
- খ. স্বাভাবিকের চেয়ে কম
- গ. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
প্রেসার কুকার এমন একটি পাত্র, যার ঢাকনা বায়ুরোধীভাবে আটকানো থাকে। ভেতরের পানি গরম হয়ে বাষ্প হলেও বাষ্প বাইরে বের হতে পারে না, ফলে ভেতরের চাপ বাড়তে থাকে। চাপ বাড়লে পানির স্ফুটনাঙ্কও বাড়ে। তাই পাত্রের ভেতরের পানি ১০০° সেলসিয়াসের অনেক বেশি তাপমাত্রা পর্যন্ত, প্রায় ১২০° সেলসিয়াস পর্যন্ত, গরম হতে পারে। এই উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার অল্প সময়ে সিদ্ধ হয়ে যায়। ঢাকনা আটকে দেওয়ার কারণে এখানে বাষ্প বেরোতে পারে না। সেই আটকে থাকা বাষ্পই চাপ বাড়ায়।
মনে রাখুন:
প্রেসার কুকারে জ্বালানি ও সময় দুটোই কম লাগে।
নিরাপত্তার জন্য এতে একটি সেফটি ভালভ থাকে, যা বাড়তি চাপ বের করে দেয়। - ১১৫. প্রেসার কুকারে রান্না সম্পর্কে যেটি সঠিক নয় -আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীন সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না তাড়াতাড়ি হয়
- খ. পাত্রের মধ্যে উচ্চতাপ সৃষ্টি হয়
- গ. উচ্চচাপ পানিকে উচ্চতর তাপমাত্রায় রাখা সম্ভব হয়
- ঘ. উচ্চচাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়
উত্তর: ঘ. উচ্চচাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়
প্রেসার কুকারে ভেতরের চাপ বাড়ে বলে পানি ১০০° সেলসিয়াসে না ফুটে আরও বেশি তাপমাত্রায় ফোটে। এই বাড়তি তাপমাত্রার কারণেই রান্না তাড়াতাড়ি হয়। কিন্তু বলা হয়েছে যে উচ্চ চাপে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, এই কথাটি ভুল। কারণ চাপ বাড়লে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে, কমে না। প্রেসার কুকারের মূল কৌশলটাই এই যে চাপ বাড়িয়ে পানিকে বেশি গরম করা হয়। কম চাপ হলে ঠিক উল্টোটা ঘটত। অর্থাৎ প্রেসার কুকারে দ্রুত রান্না হয় তাপমাত্রা বেশি বলে, স্ফুটনাঙ্ক কম বলে নয়।
মনে রাখুন:
চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে, আর চাপ বাড়লে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে।
প্রেসার কুকারের ঢাকনা বায়ুরোধী বলে এর ভেতরে চাপ বাড়ানো সম্ভব হয়। - ১১৬. মাটির কলসিতে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?ইসলামী ব্যাংক লিঃ সহকারী অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. Vessel does not allow the hot air to come
- খ. Water coming out of the pores evaporates and takes heat from the water
- গ. Cooled air passes through the pores of vessel
- ঘ. It is not correct.
উত্তর: খ. Water coming out of the pores evaporates and takes heat from the water
মাটির কলসির গায়ে অসংখ্য অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্র দিয়ে ভেতরের পানি অল্প অল্প করে বাইরে চুঁইয়ে আসে এবং কলসির গা থেকে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। বাষ্পীভবনের (Evaporation) জন্য তাপ লাগে, আর এই তাপ আসে কলসির ভেতরের পানি থেকে। পানি তাপ হারায় বলে সেটি ঠান্ডা হয়ে যায়। মাটির কলসি গ্রীষ্মকালে বেশি কার্যকর, কারণ তখন গরম ও শুষ্ক বাতাসে বাষ্পীভবনের গতি বেড়ে যায়।
মনে রাখুন:
বাষ্পীভবনের সময় তরল চারপাশ থেকে তাপ শোষণ করে, তাই এটি একটি শীতলকারী প্রক্রিয়া।
গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় বাষ্পীভবন দ্রুত হয়, তাই তখন কলসির পানি আরও ঠান্ডা থাকে। - ১১৭. ফ্যান চালালে আমরা ঠাণ্ডা অনুভব করি, কারণ ফ্যান-জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপ-পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. বাতাসকে ঠাণ্ডা করে
- খ. শরীর থেকে বাষ্পীভবনের হার বাড়িয়ে দেয়
- গ. ঘাম কমিয়ে দেয়
- ঘ. ঠাণ্ডা বাতাস তৈরি করে
উত্তর: খ. শরীর থেকে বাষ্পীভবনের হার বাড়িয়ে দেয়
ফ্যান বাতাসকে ঠান্ডা করে না। বরং ফ্যান আমাদের চারপাশের বাতাসকে সরিয়ে দেয়। গরমে আমাদের শরীর থেকে ঘাম বের হয়, আর ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শরীর থেকে তাপ নিয়ে যায়। ফ্যানের বাতাস শরীরের কাছের আর্দ্র বাতাসকে সরিয়ে শুকনো বাতাস এনে দেয়, তাই ঘামের বাষ্পীভবনের হার বাড়ে এবং আমরা বেশি শীতলতা অনুভব করি। একারণেই খুব আর্দ্র বা ভেজা আবহাওয়ায় ফ্যানের বাতাসেও তেমন আরাম পাওয়া যায় না, কারণ তখন বাতাস আগে থেকেই জলীয় বাষ্পে ভরা থাকে এবং ঘাম শুকোতে চায় না।
মনে রাখুন:
ফ্যানের বাতাসে ঘরের তাপমাত্রা কমে না, বরং ফ্যানের মোটর থেকে সামান্য তাপ যোগ হয়।
ঘর খালি থাকলে ফ্যান চালিয়ে রাখলে লাভ নেই, কারণ তখন ঠান্ডা অনুভব করার মতো কেউ থাকে না। - ১১৮. ভিজা কাপড় গায়ে দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কারণ -জাতীয় সংসদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রোটোকল অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. ভিজা কাপড়ে শরীরে ঠাণ্ডা লাগে
- খ. সর্দি কাশি হওয়ার সম্ভবনা থাকে
- গ. কাপড়ের পানি বাষ্পীভবনের সময় শরীর হতে তাপ গ্রহণ করে
- ঘ. কাপড়ের পানি শরীরের জন্য ভাল নয়
উত্তর: গ. কাপড়ের পানি বাষ্পীভবনের সময় শরীর হতে তাপ গ্রহণ করে
ভিজা কাপড়ের পানি শরীরের গরমে বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে চায়। বাষ্পীভবনের জন্য তাপ লাগে, আর কাপড় এই তাপ নেয় আমাদের শরীর থেকে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং আমরা ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারি। তাই ভিজা কাপড় গায়ে রাখা ক্ষতিকর। ঠান্ডা লাগা এর ফল, মূল কারণ নয়। একই কারণে বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়ালে আমরা বেশি কাঁপি। শীতের সময় তাই ভিজে কাপড় দ্রুত বদলে ফেলা উচিত, যাতে শরীরের তাপ হারানো কমে।
মনে রাখুন:
বাষ্পীভবনে তরল তাপ শোষণ করে, তাই তা শীতল অনুভূতি দেয়।
গরমে ঘাম বাষ্প হয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখে, একই নিয়মে। - ১১৯. কাপে গরম চা রাখলে কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে?সমবায় অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাষ্পীভবন
- ক. উর্ধ্বপাতন
- খ. বাষ্পীভবন
- গ. ব্যাপন
- ঘ. নিঃসরণ
উত্তর: খ. বাষ্পীভবন
কাপে গরম চা রাখলে তা থেকে ধোঁয়ার মতো বাষ্প ওপরে ওঠে। তরলের পৃষ্ঠ থেকে অণুগুলো বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলে বাষ্পীভবন (Evaporation)। এটি যেকোনো তাপমাত্রায় ঘটে, তবে তাপমাত্রা বেশি হলে দ্রুত ঘটে। তাই গরম চায়ে বাষ্পীভবন বেশি হয়। আমরা চা ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করি, কারণ ফুঁ দিলে চায়ের ওপরের বাষ্প সরে যায় এবং বাষ্পীভবন আরও দ্রুত হয়।
মনে রাখুন:
উর্ধ্বপাতন (Sublimation) হলো কঠিন পদার্থ সরাসরি বাষ্প হয়ে যাওয়া, যেমন কর্পূর বা ন্যাপথালিনের উবে যাওয়া।
বাষ্পীভবন তরলের পৃষ্ঠে ঘটে, আর স্ফুটন ঘটে পুরো তরল জুড়ে ও নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্কে। - ১২০. তাপ সঞ্চালনের মাধ্যম কয়টি?সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. দুইটি
- খ. তিনটি
- গ. চারটি
- ঘ. পাঁচটি
উত্তর: খ. তিনটি
এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তাপ যাওয়াকে বলা হয় তাপ সঞ্চালন (Transmission of Heat)। এটি তিনটি পদ্ধতিতে ঘটে। কঠিন পদার্থে ঘটে পরিবহন, তরল ও গ্যাসে ঘটে পরিচলন, আর বিকিরণের জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না। এই তিন পদ্ধতির যেকোনো একটি বা একাধিক পদ্ধতিতে তাপ এক বস্তু থেকে আরেক বস্তুতে যায়। বাস্তবে অনেক ঘটনায় একসঙ্গে একাধিক পদ্ধতি কাজ করে।
মনে রাখুন:
পরিবহন (Conduction): পদার্থের কণা নিজের জায়গা না ছেড়ে তাপ এগিয়ে দেয়।
পরিচলন (Convection): তাপ বহন করে পদার্থের কণা নিজেই স্থান বদলায়।
বিকিরণ (Radiation): তাপ তরঙ্গ আকারে শূন্যস্থানের ভেতর দিয়েও যেতে পারে। - ১২১. তাপ পরিবাহকত্বের মান নির্ভর করে-গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট সহকারী পরিচালক, টেলিভিশন ও বেতার প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. পরিবাহকের দৈর্ঘ্য
- খ. পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
- গ. পরিবাহকের আয়তন
- ঘ. পরিবাহকের উপাদান
উত্তর: ঘ. পরিবাহকের উপাদান
তাপ পরিবাহকত্ব (Thermal Conductivity) বলতে বোঝায় কোনো পদার্থ তাপ কতটা ভালোভাবে পরিবহন করতে পারে। এই মান পদার্থের নিজস্ব ধর্ম। তামা, রুপা বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতুর মান বেশি, আর কাঠ বা রবারের মান কম। পরিবাহকের দৈর্ঘ্য বা প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বদলালে তাপ প্রবাহের পরিমাণ বদলাতে পারে, কিন্তু পরিবাহকত্বের মান বদলায় না। এই মান নির্ভর করে শুধু উপাদানের ওপর। আরেকটি মনে রাখার বিষয় হলো, পরিবাহকের দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাপের প্রবাহ কমে এবং প্রস্থচ্ছেদ বেশি হলে প্রবাহ বাড়ে। তবে সেটি পরিবাহকের আকারের প্রভাব, পরিবাহকত্বের নয়।
মনে রাখুন:
পরিবাহকত্বের একক W/m·K।
ধাতুর মুক্ত ইলেকট্রন তাপ দ্রুত বহন করে, তাই ধাতু ভালো তাপ পরিবাহক। - ১২২. কোন পদার্থের মধ্যে দিয়ে তাপ পরিবহন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি হয়?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. কঠিন
- খ. তরল
- গ. বায়বীয়
- ঘ. ভ্যাকুয়াম
উত্তর: ক. কঠিন
তাপ পরিবহন হয় কণার সংঘর্ষ ও কম্পনের মাধ্যমে। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি থাকে, তাই এক কণা থেকে আরেক কণায় তাপ সহজে পৌঁছায়। তরলে কণাগুলো আরও দূরে দূরে থাকে বলে পরিবহন কম হয়, আর গ্যাসে আরও কম। শূন্যস্থানে কোনো কণাই নেই, তাই সেখানে পরিবহন একেবারেই হয় না। এ কারণেই কঠিন ধাতুর টুকরোর এক প্রান্তে আগুন দিলে অল্প সময়ের মধ্যে অপর প্রান্তও গরম হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
কঠিন পদার্থের মধ্যে ধাতু সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক।
গ্যাস ও শূন্যস্থান ভালো তাপ অন্তরক, তাই থার্মোস ফ্লাস্কের দুই দেয়ালের মাঝখানের জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। - ১২৩. সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে-MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. লোহা
- খ. তামা
- গ. সীসা
- ঘ. ব্রোঞ্জ
উত্তর: খ. তামা
ধাতুর মধ্যে ভালো তাপ পরিবাহক হলো সেই ধাতু, যার মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন বেশি আছে এবং সেগুলো সহজে চলাচল করতে পারে। দেওয়া চার ধাতুর মধ্যে তামার পরিবাহকত্ব সবচেয়ে বেশি। লোহা, সীসা আর ব্রোঞ্জের পরিবাহকত্ব তামার চেয়ে কম। সব ধাতুর মধ্যে অবশ্য সবচেয়ে ভালো পরিবাহক রুপা। এজন্যই রান্নার পাত্রের তলায় অনেক সময় তামার আস্তরণ দেওয়া হয়, যাতে তাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।এই চারটি ধাতুর মধ্যে সীসা ও ব্রোঞ্জ তুলনামূলক কম পরিবাহী, তাই তামার পরিবাহকত্বই এখানে সবচেয়ে বেশি। বৈদ্যুতিক তারেও তামা বেশি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
তামার পরে ভালো তাপ পরিবাহকের কথা বলতে গেলে সোনা ও অ্যালুমিনিয়ামের নাম আসে।
সীসার তাপ পরিবাহকত্ব ধাতুর মধ্যে তুলনামূলক কম। - ১২৪. আকাশ মেঘলা থাকলে শিশির পড়ে না কেন?অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. মেঘ তাপরোধী পদার্থ
- খ. ভূপৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে
- গ. মেঘ তাপ গ্রহণ করে
- ঘ. জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়
উত্তর: ক. মেঘ তাপরোধী পদার্থ
রাতে পৃথিবীর পৃষ্ঠ বিকিরণের মাধ্যমে তাপ হারিয়ে ঠান্ডা হয়। ভূপৃষ্ঠের ঘাস বা পাতা যথেষ্ট ঠান্ডা হলে তার সংস্পর্শে আসা বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশির জমে। আকাশ মেঘলা থাকলে মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে আসা তাপ বিকিরণকে মহাকাশে বেরিয়ে যেতে দেয় না, বরং আটকে রাখে। মেঘ এখানে তাপরোধী আবরণের মতো কাজ করে। ফলে ভূপৃষ্ঠ তেমন ঠান্ডা হয় না, তাই শিশিরও জমে না।
মনে রাখুন:
শিশির জমার জন্য আকাশ পরিষ্কার, বাতাস শান্ত আর রাত দীর্ঘ হলে ভালো হয়।
যে তাপমাত্রায় বাতাস জলীয় বাষ্পে সম্পৃক্ত হয়, তাকে শিশিরাঙ্ক বলে। - ১২৫. তরল পদার্থে তাপ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার নাম কী?রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. পরিবহন
- খ. পরিচলন
- গ. বিকিরণ
- ঘ. উপরের সবগুলো
উত্তর: খ. পরিচলন
তরল পদার্থে তাপ স্থানান্তরিত হয় পরিচলনের (Convection) মাধ্যমে। পাত্রের নিচে তাপ দিলে নিচের তরল গরম হয়ে প্রসারিত হয় এবং হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। তখন ওপরের ঠান্ডা ও ভারী তরল নিচে নেমে আসে। এভাবে তরলের কণাগুলো নিজেরাই তাপ বহন করে একটি স্রোত তৈরি করে। কঠিন পদার্থে এমন চলাচল সম্ভব নয়, তাই সেখানে পরিবহন ঘটে। একই নিয়মে ঘরের বাতাসেও পরিচলন ঘটে। গরম বাতাস ওপরে উঠে যায় বলে ঘরের ভেন্টিলেটর ছাদের কাছে রাখা হয়।
মনে রাখুন:
পরিচলন শুধু তরল ও গ্যাসে ঘটে।
সমুদ্র ও স্থলের বাতাস এবং চুলার ওপরের পানির ফুটন্ত স্রোত পরিচলনের উদাহরণ। - ১২৬. রোদে দাঁড়ানোর ফলে শরীর গরম হয় কি জন্য?বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট, ১৯৮৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. প্রতিফলন
- খ. পরিবহন
- গ. পরিচলন
- ঘ. বিকিরণ
উত্তর: ঘ. বিকিরণ
রোদে দাঁড়ালে সূর্য থেকে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে আমাদের শরীরে এসে পৌঁছায়। সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে প্রায় পুরোটাই শূন্যস্থান, সেখানে পরিবহন বা পরিচলন চলতে পারে না। বিকিরণের জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না, তাই তা এই শূন্যস্থান পেরিয়ে আসতে পারে। শরীর সেই বিকিরণ শোষণ করে গরম হয়। মেঘলা দিনে সূর্যের কিছু বিকিরণ মেঘে আটকে যায়, তাই রোদেলা দিনের তুলনায় তখন কম গরম অনুভূত হয়। গায়ের চামড়া এই বিকিরণ শুষে নিয়ে তাপে রূপান্তর করে, ফলে আমরা গরম অনুভব করি।
মনে রাখুন:
বিকিরণ আলোর বেগেই চলে।
সূর্যের তাপ বিকিরণ আকারে পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় নেয়। - ১২৭. সূর্যের তাপ পৃথিবীতে পৌঁছায় .... মাধ্যমে।বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির মোটর পরিদর্শক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. কনডাকশন
- খ. কনভেকশন
- গ. রেডিয়েশন
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. রেডিয়েশন
সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার, আর এর বেশিরভাগ জায়গাই শূন্যস্থান। পরিবহন ও পরিচলনের জন্য পদার্থের কণা বা মাধ্যম দরকার, তাই এ দুটি পদ্ধতিতে সূর্যের তাপ আসতে পারে না। কেবল বিকিরণ (Radiation) এমন একটি পদ্ধতি, যাতে তাপ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের আকারে শূন্যস্থান পেরিয়ে আসে। একই কারণে চাঁদ বা অন্য গ্রহ থেকেও কোনো আলো বা তাপ শুধু বিকিরণের মাধ্যমেই আসে।
মনে রাখুন:
বিকিরণ ছাড়া অন্য দুই পদ্ধতিতে তাপ পাঠাতে মাধ্যম লাগে।
সূর্য থেকে আসা বিকিরণের মধ্যে দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত ও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে। - ১২৮. সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে-PDBF-এর মাঠ কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. বিকিরণ পদ্ধতিতে
- খ. পরিবহন পদ্ধতিতে
- গ. পরিচলন পদ্ধতিতে
- ঘ. সব উপায়েই
উত্তর: ক. বিকিরণ পদ্ধতিতে
সূর্য আর পৃথিবীর মাঝে বাতাসহীন বিশাল শূন্যস্থান থাকায় সেখানে তাপ পরিবহন বা পরিচলনের মাধ্যমে আসতে পারে না। সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণ (Radiation) পদ্ধতিতে। বিকিরণ এমন এক পদ্ধতি, যাতে তাপ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের আকারে সরাসরি ছড়িয়ে পড়ে। তাই আমরা দূর থেকে আগুনের তাপ অনুভব করি, কারণ আগুনের বিকিরণও একই ধরনের তরঙ্গ। তিনটি পদ্ধতির মধ্যে শূন্যস্থান পেরোনোর ক্ষমতা কেবল বিকিরণেরই আছে, তাই এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি বিকিরণ।
মনে রাখুন:
তিন পদ্ধতির মধ্যে বিকিরণই সবচেয়ে দ্রুত তাপ পৌঁছে দেয়।
কালো ও খসখসে তল বিকিরণ ভালো শোষণ ও নির্গমন করে। - ১২৯. সূর্য হতে পৃথিবীতে কোন প্রক্রিয়ায় আলো আসে?বাংলাদেশ রেলওয়ে বুকিং সহকারী (গ্রেড ২), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. পরিবহন
- খ. পরিচলন
- গ. বিকিরণ
- ঘ. প্রতিফলন
উত্তর: গ. বিকিরণ
সূর্যের আলো ও তাপ দুটিই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এগুলো সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসে বিকিরণের মাধ্যমে। কারণ এই দুই গ্রহের মাঝখানে বিশাল শূন্যস্থান, যেখানে কোনো পদার্থ নেই। বিকিরণে কোনো মাধ্যম লাগে না বলে তা শূন্যস্থান দিয়েও চলতে পারে। শুধু তাপ নয়, রেডিও ও টিভির সংকেতও এ ধরনের তরঙ্গের মাধ্যমে শূন্যস্থানে বা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সূর্য থেকে আসা আলোর সঙ্গে তাপও আসে, কারণ সূর্যের বিকিরণে দৃশ্যমান আলো ও অবলোহিত রশ্মি দুটোই থাকে। দুটিই তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর অংশ।
মনে রাখুন:
শূন্যস্থানে আলোর বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
প্রতিফলন হলো আলো কোনো তলে বাধা পেয়ে ফিরে আসা, সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া নয়। - ১৩০. তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া কোনটি?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বিলাম), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. পরিবহন
- খ. পরিচলন
- গ. বিকিরণ
- ঘ. এর কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. বিকিরণ
তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতির মধ্যে বিকিরণ (Radiation) সবচেয়ে দ্রুত। বিকিরণে তাপ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের আকারে আলোর বেগে ছুটে চলে। সূর্যের তাপ প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে পৃথিবীতে পৌঁছে যায়। পরিবহন ও পরিচলনে তাপ কণার মাধ্যমে ধাপে ধাপে যায়, তাই সেগুলো অনেক ধীর। বিকিরণের এই গতির কারণেই সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের আলো আটকে গেলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছায়া অনুভব করি। পরিবহন ও পরিচলনে কণাগুলো ধাপে ধাপে তাপ হস্তান্তর করে বলে এই দুটি পদ্ধতিতে সময় বেশি লাগে।
মনে রাখুন:
বিকিরণে কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না।
তাপ বিকিরণের অধিকাংশই অবলোহিত রশ্মি, যাকে তাপীয় রশ্মিও বলা হয়। - ১৩১. Vacuum-এ তাপ পরিবাহিত হয় ....... মাধ্যমে।মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের জুনিয়র অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. পরিচলনের
- খ. বিকিরণের
- গ. বিকিরণ ও পরিবহনের
- ঘ. বিকিরণ ও পরিচলনের
উত্তর: খ. বিকিরণের
শূন্যস্থানে কোনো পদার্থ নেই। তাই সেখানে কণার সংঘর্ষ বা স্থান পরিবর্তন করে তাপ বহন করার সুযোগ নেই, ফলে পরিবহন ও পরিচলন সম্ভব নয়। শুধু বিকিরণই শূন্যস্থানে তাপ পাঠাতে পারে, কারণ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের চলার জন্য মাধ্যম লাগে না। সূর্যের তাপ এভাবেই পৃথিবীতে আসে। এই ধরনের প্রশ্নে মনে রাখতে হবে, পরিচলন কেবল তরল ও গ্যাসে ঘটে, আর পরিবহন কঠিন পদার্থে বেশি ঘটে।
মনে রাখুন:
থার্মোস ফ্লাস্কের দুই কাচের দেয়ালের মাঝে শূন্যস্থান রাখা হয়, যাতে পরিবহন ও পরিচলন বন্ধ থাকে।
দেয়ালে রুপালি প্রলেপ দেওয়া হয়, যাতে বিকিরণও কমে যায়। - ১৩২. চুলার উপর রাখলে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কেটলির হাতল গরম হয়-তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (গ্রেড-২), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. তাপের পরিবহনের জন্য
- খ. তাপের পরিচালনের জন্য
- গ. তাপের বিকিরণের জন্য
- ঘ. ব্যাপন প্রক্রিয়ার জন্য
উত্তর: ক. তাপের পরিবহনের জন্য
কেটলির হাতল কেটলির পাত্রের সঙ্গে ধাতুর মাধ্যমে জোড়া লাগানো থাকে। চুলার আগুনে পাত্রের নিচের অংশ গরম হলে সেই তাপ ধাতুর ভেতর দিয়ে এক কণা থেকে পরবর্তী কণায় এগিয়ে হাতল পর্যন্ত পৌঁছায়। কঠিন পদার্থে তাপের এভাবে চলাচলকে বলে পরিবহন (Conduction)। অ্যালুমিনিয়াম ভালো তাপ পরিবাহক বলে হাতল দ্রুত গরম হয়ে ওঠে। পরিবহনে ধাতুর মুক্ত ইলেকট্রনও তাপ বহন করতে সাহায্য করে, তাই ধাতব হাতল খুব দ্রুত গরম হয়।
মনে রাখুন:
এ কারণে অনেক কেটলি বা কড়াইয়ের হাতল কাঠ বা প্লাস্টিকের তৈরি হয়, যেগুলো খারাপ পরিবাহক।
পরিবহনে পদার্থের কণা নিজের জায়গা ছেড়ে সরে যায় না। - ১৩৩. Why woolen clothes keep warmer than cotton clothes:IFIC Bank Ltd. Probationary Officer, ১৯৯২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. Woolen clothes is thicker than cotton clothes
- খ. Wool is relatively poor conductor of heat than cotton
- গ. Cotton cloth is more porous than woolen cloth
- ঘ. Wool is animal fibre and cotton is plant fibre
উত্তর: খ. Wool is relatively poor conductor of heat than cotton
উলের কাপড়ে অসংখ্য ছোট ছোট তন্তু থাকে এবং সেই তন্তুর ফাঁকে বাতাস আটকে থাকে। বাতাস তাপের খারাপ পরিবাহক, আর উল নিজেও সুতির চেয়ে কম তাপ পরিবহন করে। তাই উলের পোশাক আমাদের শরীরের তাপ বাইরে যেতে দেয় না এবং বাইরের ঠান্ডা ভেতরে ঢুকতে দেয় না। ফলে আমরা গরম অনুভব করি। শুধু পুরু হওয়াই কারণ নয়। একারণেই শীতের দিনে আমরা পাতলা কয়েকটি পোশাকের স্তর পরে নিই। এতে স্তরগুলোর মাঝে আটকে থাকা বাতাস তাপ ধরে রাখে।
মনে রাখুন:
পাখি শীতে পালক ফুলিয়ে নেয়, যাতে পালকের ফাঁকে বেশি বাতাস আটকে থাকে।
দুটি পাতলা কম্বল একসঙ্গে ব্যবহার করলে মাঝের বাতাস অন্তরকের কাজ করে। - ১৩৪. শীতে শরীর কাঁপে কেন?পরিবেশ অধিদপ্তরের সহ পরিচালক (কারিগরী), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. শরীরের তাপ ও বাহিরের তাপ সমান বলে
- খ. শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
- গ. শরীরে রক্ত কম বলে
- ঘ. শরীরে রক্ত বেশি বলে
উত্তর: খ. শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৩৭° সেলসিয়াস। শীতে বাইরের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে কম থাকে, তাই শরীর থেকে তাপ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যেতে চায়। শরীর তখন তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য পেশিকে বারবার সংকুচিত ও প্রসারিত করে। এতে তাপ উৎপন্ন হয়। পেশির এই দ্রুত নড়াচড়াকেই আমরা কাঁপুনি হিসেবে অনুভব করি। প্রচণ্ড ঠান্ডায় আমাদের দাঁত ঠকঠক করে বাজে, এটিও একই ঘটনার ফল। শরীর যখন বুঝতে পারে যে তাপ বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন মস্তিষ্কের একটি অংশ পেশিকে কাজ করার নির্দেশ দেয়।
মনে রাখুন:
কাঁপুনি শরীরের নিজস্ব তাপ উৎপাদনের কৌশল।
শীতে ত্বকের রক্তনালি সরু হয়ে যায়, যাতে শরীরের তাপ কম বের হয়। - ১৩৫. মেঘলা রাতে-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. শিশির উৎপন্ন হয় না
- খ. শিশির উৎপন্ন হয়
- গ. উভয়টিই ঠিক
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. শিশির উৎপন্ন হয় না
শিশির জমার জন্য রাতে ভূপৃষ্ঠকে বিকিরণের মাধ্যমে তাপ হারিয়ে যথেষ্ট ঠান্ডা হতে হয়। মেঘলা রাতে মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে বেরোনো তাপকে আটকে রাখে এবং খানিকটা ফিরিয়ে দেয়। ফলে মাটি ও ঘাস তেমন ঠান্ডা হয় না, আর বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশির জমার সুযোগও থাকে না। তাই মেঘলা রাতে শিশির উৎপন্ন হয় না। এ কারণেই শিশির দেখা যায় ভোরবেলার ঘাসে, বিশেষ করে শীতের পরিষ্কার রাতের পর। মেঘ না থাকলে ভূপৃষ্ঠের তাপ মহাকাশে চলে যায়, ফলে মাটি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে শিশির পড়ার অনুকূল অবস্থা তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
শিশির জমে স্বচ্ছ আকাশের শান্ত রাতে।
তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নামলে বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। - ১৩৬. কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা কম?পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের শোষণ ও বিকিরণ
- ক. কালো
- খ. বেগুনি
- গ. সাদা
- ঘ. হলুদ
উত্তর: গ. সাদা
কোনো বস্তুর রং তার তাপ শোষণের ক্ষমতা ঠিক করে। কালো রঙের বস্তু প্রায় সব বিকিরণ শুষে নেয়, তাই কালো বস্তু সবচেয়ে বেশি তাপ শোষণ করে। সাদা বস্তু বেশিরভাগ বিকিরণ প্রতিফলন করে ফেলে, তাই শোষণ করে সবচেয়ে কম। দেওয়া রংগুলোর মধ্যে সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম। তাই যে বস্তু যত কম তাপ শোষণ করে, সে তত বেশি তাপ প্রতিফলন করে। কালো বস্তুকে বলা হয় আদর্শ শোষক, কারণ এটি প্রায় সব বিকিরণ শুষে নেয়।
মনে রাখুন:
যে বস্তু ভালো শোষক, সে ভালো বিকিরকও হয়।
সাদা বস্তু খারাপ শোষক এবং খারাপ বিকিরক। - ১৩৭. কোন রং-এর কাপে চা বেশিক্ষণ গরম থাকে?BPSC-এর সহকারী পরিচালক, ২০২৫ ও সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের শোষণ ও বিকিরণ
- ক. কালো
- খ. সাদা
- গ. সবুজ
- ঘ. হলুদ
উত্তর: খ. সাদা
গরম চা ঠান্ডা হওয়ার একটি বড় কারণ কাপের গা থেকে তাপ বিকিরণ। সাদা কাপ ভালো প্রতিফলক ও খারাপ বিকিরক, তাই সাদা কাপ চায়ের তাপ কম বিকিরণ করে। কালো বা গাঢ় রঙের কাপ বেশি তাপ বিকিরণ করে, ফলে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়। এজন্য যে রঙের কাপে চা বেশিক্ষণ গরম থাকে, সেটি সাদা। থার্মোস ফ্লাস্কের ভেতরের দেয়ালে চকচকে প্রলেপ দেওয়ার কারণও এটাই, যাতে বিকিরণে তাপ কম বেরোয়।
মনে রাখুন:
সাদা তল তাপ কম শোষণ করে আর কম বিকিরণ করে।
কালো তল তাপ বেশি শোষণ ও বেশি বিকিরণ করে। - ১৩৮. গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় পরা হয়, কারণ -প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (রাইন), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের শোষণ ও বিকিরণ
- ক. সাদা কাপড়ের তাপ বিকিরণ ক্ষমতা বেশি
- খ. সাদা কাপড় তাপ শোষণ করে না
- গ. সাদা কাপড়ে তাপ প্রতিফলন ক্ষমতা বেশি
- ঘ. সাদা কাপড়ের প্রতিসরণ ক্ষমতা বেশি
উত্তর: গ. সাদা কাপড়ে তাপ প্রতিফলন ক্ষমতা বেশি
সাদা রং আলো ও তাপের বেশির ভাগ অংশ প্রতিফলন করে ফেলে। গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপ প্রখর, তাই সাদা কাপড় পরলে সেই তাপের বড় অংশ কাপড় থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। ফলে কাপড় ও শরীর কম গরম হয়। এ কারণে সাদা কাপড়ের প্রতিফলন ক্ষমতা বেশি, যা গরমে আরাম দেয়। সাদা কাপড়ের তাপ বিকিরণ ক্ষমতা বরং কম। এজন্যই তীব্র গরমে হালকা রঙের পোশাক পরতে বলা হয়।
মনে রাখুন:
শীতে কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় পরলে বেশি তাপ শোষণ হয়, তাই তা আরামদায়ক।
হালকা রঙের বাড়ি গ্রীষ্মে তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। - ১৩৯. ছাতার কাপড়ের রং সাধারণত কালো হয় কেন?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রধান পরিদর্শক (সাধারণ), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের শোষণ ও বিকিরণ
- ক. ভালো লাগে তাই
- খ. কালো রং তাপ শোষণ করে বলে
- গ. ময়লা হয় না তাই
- ঘ. কোনোটাই নয়
উত্তর: খ. কালো রং তাপ শোষণ করে বলে
কালো রং সূর্যের আলো ও তাপ প্রায় সবটুকু শুষে নেয়, ফলে কালো কাপড়ের ছাতা সূর্যের আলোকে নিচে আসতে দেয় না এবং ছাতার নিচে ছায়া তৈরি করে। কালো কাপড় বেশি তাপ শোষণ করে বলে ছাতার ওপরের অংশ গরম হয়ে ওঠে, আর সেই তাপ বাতাসে ছড়িয়ে যায়। এ কারণেই ছাতার কাপড় সাধারণত কালো রঙের হয়। এ ছাড়া কালো রঙে ময়লা কম দেখা যায়, তবে বৈজ্ঞানিক কারণ হলো তাপ শোষণ। এজন্যই শীতপ্রধান দেশে মানুষ গাঢ় রঙের কোট পরে, আর গরম দেশে হালকা রঙের পোশাক বেশি দেখা যায়।
মনে রাখুন:
কালো তল ভালো শোষক, সাদা তল ভালো প্রতিফলক। - ১৪০. গ্রীষ্মকালে আমরা কালো কাপড় পরিধান করি না কারণ-জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপ-পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের শোষণ ও বিকিরণ
- ক. কালো কাপড় চোখের জন্য ক্ষতিকর
- খ. কালো কাপড় তাপ শোষণ করে
- গ. কালো কাপড় শরীরের তাপকে বাইরে যেতে দেয় না
- ঘ. কালো কাপড় চামড়ার ক্ষতি করে
উত্তর: খ. কালো কাপড় তাপ শোষণ করে
কালো রং সূর্যের তাপের প্রায় সবটুকুই শোষণ করে নেয়। গ্রীষ্মকালে কালো কাপড় পরলে সূর্যের তাপ কাপড়ে শোষিত হয়ে কাপড়কে গরম করে তোলে, আর সেই গরম কাপড়ের কারণে শরীরও বেশি গরম হয়। তাই গ্রীষ্মে আমরা কালো কাপড় এড়িয়ে চলি। একই কারণে গরমে কালো রঙের গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা সাদা গাড়ির চেয়ে বেশি হয়। আমাদের শরীরের নিজস্ব তাপ তৈরি হয় বলে গরমে বাইরের তাপ শোষণ করে এমন কাপড় বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন:
সাদা বা হালকা রঙের কাপড় তাপ প্রতিফলন করে, তাই গরমে এ ধরনের কাপড় আরামদায়ক।
কালো কাপড় শীতে বেশি তাপ শোষণ করে, তাই তখন উপকারী। - ১৪১. কোন বস্তুর একক ভরের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে কি বলে?কর্ণফুলী গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির টেকনিশিয়ান, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. তাপধারণ ক্ষমতা
- খ. আপেক্ষিক তাপ
- গ. পানিসম
- ঘ. এনট্রপি
উত্তর: খ. আপেক্ষিক তাপ
কোনো পদার্থের একক ভরের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়াতে যে পরিমাণ তাপ লাগে, তাকে সেই পদার্থের আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat) বলে। এটি পদার্থের নিজস্ব ধর্ম। যেমন ১ কেজি পানির তাপমাত্রা ১ কেলভিন বাড়াতে প্রায় ৪২০০ জুল তাপ লাগে। তাপধারণ ক্ষমতা (Heat Capacity) এর থেকে আলাদা। তাপধারণ ক্ষমতা হলো পুরো বস্তুর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ। এই সংজ্ঞায় 'একক ভর' শব্দটিই আপেক্ষিক তাপ ও তাপধারণ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।
মনে রাখুন:
তাপধারণ ক্ষমতা = ভর × আপেক্ষিক তাপ।
পানিসম হলো কোনো বস্তুর তাপধারণ ক্ষমতার সমান তাপধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পানির ভর। - ১৪২. আপেক্ষিক তাপের একক কী?RPCL-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. J/kg
- খ. Pa-5
- গ. J/kg-K
- ঘ. উপরের সবগুলো
উত্তর: গ. J/kg-K
আপেক্ষিক তাপ বের করার সূত্র হলো Q = m × s × ΔT। এখানে Q তাপ, m ভর আর ΔT তাপমাত্রার পরিবর্তন। এ থেকে s = Q / (m × ΔT)। তাই এর একক হয় জুল প্রতি কিলোগ্রাম প্রতি কেলভিন, অর্থাৎ J/kg·K। J/kg হলো একক ভরের শক্তির একক, তাপমাত্রার ভাগ এতে নেই, তাই তা আপেক্ষিক তাপের একক হতে পারে না। সূত্রটি মনে রাখলে ভুল করার সম্ভাবনা কমে। এককগুলো সূত্র থেকে নিজে নিজেই বের করে নেওয়া যায়।
মনে রাখুন:
CGS পদ্ধতিতে আপেক্ষিক তাপের একক cal/g·°C।
তাপধারণ ক্ষমতার একক J/K। - ১৪৩. পানির Specific heat কত?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীনে অধীক্ষক, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. 3.2 KJKg⁻¹K⁻¹
- খ. 4.2 KJKg⁻¹K⁻¹
- গ. 5.4 KJKg⁻¹K⁻¹
- ঘ. 6.3 KJKg⁻¹K⁻¹
উত্তর: খ. 4.2 KJKg⁻¹K⁻¹
পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় ৪.২ kJ/kg·K, অর্থাৎ ১ কেজি পানির তাপমাত্রা ১ কেলভিন বাড়াতে প্রায় ৪২০০ জুল তাপ লাগে। CGS পদ্ধতিতে এটি ১ ক্যালরি/গ্রাম·°C। সাধারণ পদার্থের মধ্যে পানির আপেক্ষিক তাপ অনেক বেশি, তাই পানি অনেক তাপ শোষণ করলেও তার তাপমাত্রা তেমন বাড়ে না। এই মান বেশি হওয়ায় পানি তাপ সংরক্ষণ ও পরিবহনের কাজেও ব্যবহৃত হয়, যেমন হিটারে বা কেন্দ্রীয় তাপনে। এই মান অনেক বড়, তাই পানি তাপমাত্রা বদলের বিরুদ্ধে একটি স্থির ভারসাম্য বজায় রাখে। সমুদ্র এই কারণেই ধীরে গরম হয় ও ধীরে ঠান্ডা হয়, ফলে উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রার ওঠানামা কম হয়।
মনে রাখুন:
১ ক্যালরি ≈ 4.2 জুল।
বরফের আপেক্ষিক তাপ পানির প্রায় অর্ধেক। - ১৪৪. মোটরগাড়ির ইঞ্জিনকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য পানি ব্যবহার করা হয় কেন?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. ইঞ্জিনের তাপে পানি সহজেই বাষ্পীভূত হয়
- খ. অনেক তাপ শোষণ করলেও পানির উষ্ণতা অল্প বৃদ্ধি পায়
- গ. পানি সবচেয়ে সহজলভ্য তরল পদার্থ
- ঘ. এ কাজের জন্য বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয় না
উত্তর: খ. অনেক তাপ শোষণ করলেও পানির উষ্ণতা অল্প বৃদ্ধি পায়
গাড়ির ইঞ্জিন চলার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, তা না সরালে ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পানির আপেক্ষিক তাপ অনেক বেশি, তাই পানি ইঞ্জিন থেকে প্রচুর তাপ শুষে নিলেও তার নিজের তাপমাত্রা অল্প বাড়ে। এই গরম পানি রেডিয়েটরে গিয়ে ঠান্ডা হয় এবং আবার ইঞ্জিনে ফিরে আসে। এভাবে ইঞ্জিন নিরাপদ তাপমাত্রায় থাকে। এজন্য শীতপ্রধান দেশে পানির সঙ্গে অ্যান্টিফ্রিজ (Antifreeze) মেশানোর রীতি আছে, যাতে পানি জমে নল ফেটে না যায়।
মনে রাখুন:
শীতের দেশে পানি জমে যাওয়া ঠেকাতে এর সঙ্গে অ্যান্টিফ্রিজ মেশানো হয়।
একই কারণে সমুদ্রের কাছের এলাকার আবহাওয়া মৃদু থাকে। - ১৪৫. রেডিয়েটরের কাজ কী?বিএডিসির ড্রাইভার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. পানি ঠাণ্ডা করা
- খ. জয়েন্ট পার্টস
- গ. রেডিও চালনা
- ঘ. কোনটিও নয়
উত্তর: ক. পানি ঠাণ্ডা করা
গাড়ির ইঞ্জিনে জ্বালানি পোড়ার ফলে প্রচুর তাপ তৈরি হয়। ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখতে এর চারপাশে পানি ঘুরিয়ে তাপ সরিয়ে নেওয়া হয়। গরম হয়ে যাওয়া সেই পানি রেডিয়েটর (Radiator) নামে একটি যন্ত্রে আসে। রেডিয়েটরে অনেক সরু নল থাকে, যার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় পানি বাইরের বাতাসে তাপ ছেড়ে ঠান্ডা হয়। ঠান্ডা পানি আবার ইঞ্জিনে ফিরে যায়। এটিই রেডিয়েটরের কাজ। রেডিয়েটর না থাকলে গরম পানি বারবার ইঞ্জিনে ফিরে গিয়ে ইঞ্জিনকে ঠান্ডা না করে আরও গরম করে তুলত।
মনে রাখুন:
রেডিয়েটরের নল ও পাখনা সাধারণত তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের হয়, কারণ এগুলো তাপের ভালো পরিবাহক। - ১৪৬. কুলিং ফ্যানের কাজ কী?বিএডিসির ড্রাইভার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. রেডিয়েটরের পানিকে ঠাণ্ডা করা
- খ. ইঞ্জিনওয়েলকে ঠাণ্ডা করা
- গ. ব্রেকওয়েলকে ঠাণ্ডা করা
- ঘ. ব্যাটারি ঠাণ্ডা করা
উত্তর: ক. রেডিয়েটরের পানিকে ঠাণ্ডা করা
গাড়ির রেডিয়েটরের ভেতরের গরম পানি বাইরের বাতাসে তাপ ছাড়ে। গাড়ি থেমে থাকলে বা ধীরে চললে পর্যাপ্ত বাতাস আসে না, তাই ঠান্ডা বাতাস টেনে আনার জন্য কুলিং ফ্যান ব্যবহার করা হয়। ফ্যান ঘুরে রেডিয়েটরের ওপর দিয়ে বাতাস পাঠায়, ফলে পানি দ্রুত ঠান্ডা হয়। এভাবে কুলিং ফ্যান পরোক্ষভাবে ইঞ্জিনকেও ঠান্ডা রাখে। ফ্যান ছাড়া শুধু গাড়ি চলার বাতাসে গাড়ি ধীরে চললে বা থেমে থাকলে রেডিয়েটরের তাপ ঠিকমতো বেরোয় না।
মনে রাখুন:
ইঞ্জিন ওয়েল ঠান্ডা করতে তেলের নিজস্ব কুলার আলাদা থাকে।
রেডিয়েটর ও কুলিং ফ্যান দুটি মিলেই ইঞ্জিন কুলিং সিস্টেম গড়ে ওঠে। - ১৪৭. সমান তাপমাত্রা দিলেও দুধ পানি অপেক্ষা আগে ফোটে কেন?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ১৯৯৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আপেক্ষিক তাপ
- ক. পানির তাপগ্রাহিতা বেশি বলে
- খ. দুধের তাপগ্রাহিতা বেশি বলে
- গ. দুধ পানির চেয়ে ঘন বলে
- ঘ. পানি বর্ণহীন-দুধ সাদা বলে
উত্তর: ক. পানির তাপগ্রাহিতা বেশি বলে
আমরা যে তাপ দিই, তা দিয়ে কোনো পদার্থের তাপমাত্রা কত বাড়বে, তা নির্ভর করে পদার্থের আপেক্ষিক তাপের ওপর। পানির আপেক্ষিক তাপ প্রায় ৪.২ kJ/kg·K, আর দুধের আপেক্ষিক তাপ তার চেয়ে কিছুটা কম। অর্থাৎ একই ভরের পানি ও দুধকে সমান তাপ দিলে দুধের তাপমাত্রা বেশি বাড়ে। তাই দুধ আগে ফুটে ওঠে। এর কারণ পানির তাপ গ্রহণের ক্ষমতা বেশি। বাস্তবে দুধের তাপমাত্রা বাড়া ছাড়াও এর ওপর প্রোটিনের একটি সর স্তর জমে এবং সেটি ফোটার সময় উপচে ওঠে।
মনে রাখুন:
যে পদার্থের আপেক্ষিক তাপ বেশি, সে দেরিতে গরম হয় এবং দেরিতে ঠান্ডা হয়।
সবচেয়ে বেশি আপেক্ষিক তাপসম্পন্ন সাধারণ তরল পানি। - ১৪৮. ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত ডিগ্রি?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ১০০ ডিগ্রি
- খ. ২১২ ডিগ্রি
- গ. ১৮০ ডিগ্রি
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. ২১২ ডিগ্রি
ফারেনহাইট স্কেলে পানির হিমাঙ্ক 32°F আর স্ফুটনাঙ্ক 212°F, অর্থাৎ এই দুইয়ের মাঝে ১৮০ ভাগ। সেলসিয়াস স্কেলে একই দুটি বিন্দু 0°C ও 100°C।
সূত্র: F = (9/5)C + 32, তাই C = 100 হলে F = 180 + 32 = 212 বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগে সাধারণত সেলসিয়াস স্কেল ব্যবহার করা হয়, আর যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনে ফারেনহাইট স্কেলের চল বেশি। কেলভিন স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক 373 K। সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে পাঠ রূপান্তর করতে ৯/৫ দিয়ে গুণ করে ৩২ যোগ করতে হয়, আর উল্টো করতে ৩২ বিয়োগ করে ৫/৯ দিয়ে গুণ করতে হয়।
মনে রাখুন: −40 তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান হয়। - ১৪৯. পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি-এনটিআরসিএ, ৯ম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. 3°C তাপমাত্রায়
- খ. 4°C তাপমাত্রায়
- গ. 5°C তাপমাত্রায়
- ঘ. 6°C তাপমাত্রায়
উত্তর: খ. 4°C তাপমাত্রায়
বেশির ভাগ পদার্থ ঠান্ডা হলে সংকুচিত হয়ে ঘন হয়, কিন্তু পানি এ নিয়মের ব্যতিক্রম। পানিকে ঠান্ডা করলে ৪°C পর্যন্ত এর আয়তন কমে, তারপর আরও ঠান্ডা করলে আয়তন বাড়তে থাকে। তাই ৪°C তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, যা ১,০০০ kg/m³। তাপমাত্রা ০°C-এর কাছে গেলে পানির অণুগুলো এমনভাবে সাজায় যে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা বেড়ে যায়, ফলে বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম হয় এবং বরফ পানিতে ভাসে।
মনে রাখুন: পানির এই অস্বাভাবিক প্রসারণের জন্যই শীতের দেশে পুকুরের ওপরে বরফ জমলেও নিচের পানিতে মাছ বেঁচে থাকে। - ১৫০. কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. ০°
- খ. ৪°
- গ. ৩২°
- ঘ. ১০০°
উত্তর: খ. ৪°
সাধারণত কোনো তরলকে ঠান্ডা করলে তার আয়তন কমে আর ঘনত্ব বাড়ে। পানির ক্ষেত্রে মজার ব্যাপার হলো, ঠান্ডা করলে ৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত আয়তন কমে, তারপর আরও ঠান্ডা করলে আয়তন উল্টো বাড়তে থাকে। এই অস্বাভাবিক আচরণকে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous expansion) বলে, আর এ কারণে ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় 1000 kg/m³। সমুদ্রে বা হ্রদে বরফ শুধু ওপরে জমে, তার নিচে পানি তরল থাকে এবং জলজ প্রাণী বেঁচে থাকে।
মনে রাখুন: শীতের দেশে পুকুরের ওপরের পানি বরফ হলেও নিচে ৪° সেলসিয়াসের ভারী পানি জমা থাকে, তাই মাছ বেঁচে থাকতে পারে। - ১৫১. মাঝখানে গোলাকার ছিদ্র বিশিষ্ট একটি প্লেটকে উত্তপ্ত করলে, ছিদ্রটির ব্যাস -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. কমবে
- খ. বাড়বে
- গ. অপরিবর্তিত থাকবে
- ঘ. প্রথমে বাড়বে
উত্তর: খ. বাড়বে
মাঝখানে ছিদ্রওয়ালা একটি ধাতব প্লেটকে উত্তপ্ত করলে ছিদ্রটির ব্যাসও বেড়ে যায়। অনেকে ভাবেন, প্লেট চারদিকে ফুলে উঠে ছিদ্রটিকে ছোট করে দেবে, কিন্তু আসলে তা হয় না। তাপে প্লেটের প্রতিটি অংশ সমান অনুপাতে প্রসারিত হয়, ঠিক যেন পুরো প্লেটের একটি বড় করা ছবি। ছিদ্রের কিনারার ধাতুও বাইরের দিকে সরে যায়, তাই ছিদ্রটি প্লেটের সঙ্গে একই অনুপাতে বড় হয়। এই নীতি কাজে লাগিয়ে কামাররা গরুর গাড়ির কাঠের চাকায় লোহার বেড় পরান। বেড়টি গরম করে বড় করা হয় এবং চাকায় বসানোর পর ঠান্ডা হলে সেটি সংকুচিত হয়ে শক্তভাবে এঁটে যায়।
মনে রাখুন:
শক্ত হয়ে আটকে যাওয়া বোতলের ধাতব ঢাকনা গরম পানিতে ডোবালে সহজে খোলে। - ১৫২. পুরু কাচের গ্লাসে গরম পানি রাখলে তা ফেটে যায় কারণ -জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. গ্লাস তাপের অপরিবাহী বলে
- খ. গ্লাস তাপের সুপরিবাহী বলে
- গ. কাচের গলনাঙ্ক কম বলে
- ঘ. গ্লাসের ভিতরে ও বাহিরে অসম আয়তন প্রসারণের জন্য
উত্তর: ঘ. গ্লাসের ভিতরে ও বাহিরে অসম আয়তন প্রসারণের জন্য
পুরু কাচের গ্লাসে হঠাৎ গরম পানি ঢাললে গ্লাসের ভেতরের তলটি সঙ্গে সঙ্গে গরম হয়ে প্রসারিত হয়। কিন্তু কাচ তাপের কুপরিবাহী, তাই সেই তাপ পুরু দেয়াল পেরিয়ে বাইরের তলে পৌঁছাতে সময় নেয়। ফলে বাইরের তল তখনও ঠান্ডা ও আগের আকারে থাকে। ভেতর ও বাইরের এই অসম প্রসারণে কাচে প্রবল টান সৃষ্টি হয়, আর কাচ ভঙ্গুর বলে গ্লাসটি ফেটে যায়। পাতলা গ্লাসে তাপ দ্রুত দুই তলে ছড়িয়ে পড়ে, তাই সেটি সহজে ফাটে না। এজন্যই গরম পানি ঢালার আগে গ্লাসে একটি চামচ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
পাইরেক্স (Pyrex) কাচের প্রসারণ খুব কম, তাই ল্যাবরেটরির পাত্র ও রান্নার কাচের পাত্র এ দিয়ে তৈরি হয়। - ১৫৩. একখণ্ড পাথরকে উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কেন?জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার, ১৯৯৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. ভেতরের অংশ থেকে বাহিরের আবরণ বেশি উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়, তাই ফেটে যায়
- খ. উত্তপ্ত পাথরে বেশি শক্তি সঞ্চয় হয়, তাই ফেটে যায়
- গ. ভিতরের অংশ উত্তপ্ত হওয়ার ফলে বাহিরের শিলায় চাপের সৃষ্টি করে, তাই ফেটে যায়
- ঘ. পাথরের বাধন হাল্কা হয়ে যায় বলে ফেটে যায়
উত্তর: ক. ভেতরের অংশ থেকে বাহিরের আবরণ বেশি উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়, তাই ফেটে যায়
পাথর তাপের কুপরিবাহী, তাই একখণ্ড পাথরকে উত্তপ্ত করলে প্রথমে কেবল তার বাইরের আবরণ গরম হয়। তাপ ভেতরের অংশে পৌঁছাতে অনেক সময় নেয়, ফলে ভেতরটা তখনও তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। গরম বাইরের স্তর বেশি প্রসারিত হতে চায়, কিন্তু ঠান্ডা ভেতরের অংশ সেভাবে প্রসারিত হয় না। এই অসম প্রসারণের টানে পাথরে ফাটল ধরে এবং এক সময় সেটি ফেটে যায়। প্রকৃতিতে এই ঘটনা অনেক বড় আকারে ঘটে। মরুভূমিতে দিনে প্রচণ্ড গরম আর রাতে ঠান্ডার কারণে পাথরের উপরের স্তর বারবার প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। এতে পাথর ধীরে ধীরে খোসার মতো খসে পড়ে, একে যান্ত্রিক আবহবিকার (Weathering) বলে।
মনে রাখুন:
পাথর, কাচ ও মাটির পাত্র তাপের কুপরিবাহী। - ১৫৪. রেললাইনের ফিস প্লেট কি কাজে ব্যবহৃত হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ক্রিসানথিমাম), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. ট্রেনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করে
- খ. উষ্ণতার কারণে রেললাইন বেঁকে যাওয়া নিবারণ করে
- গ. দুইটি রেলকে সংযুক্ত করে
- ঘ. রেলকে সমদূরত্বে রাখে
উত্তর: গ. দুইটি রেলকে সংযুক্ত করে
ফিস প্লেট (Fish Plate) হলো লোহা বা ইস্পাতের একটি চ্যাপ্টা পাত, যা দিয়ে পাশাপাশি দুটি রেলকে নাট-বল্টু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। জোড়া দেওয়ার সময় দুটি রেলের মাথার মাঝে সামান্য ফাঁক রাখা হয়। গ্রীষ্মকালে গরমে রেল প্রসারিত হয়ে লম্বা হলে এই ফাঁকটুকু সেই বাড়তি দৈর্ঘ্যকে জায়গা করে দেয়। ফলে রেললাইন বেঁকে যায় না। ফিস প্লেটের বল্টুর ছিদ্রগুলো একটু লম্বাটে রাখা হয়, যাতে রেল প্রসারিত হলে সামান্য সরে যেতে পারে। তবে ফিস প্লেটের মূল কাজ দুটি রেলকে সংযুক্ত রাখা।
মনে রাখুন:
রেললাইনের দুটি রেলকে সমান দূরত্বে ধরে রাখে নিচের স্লিপার।
ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় ব্রেক দিয়ে। - ১৫৫. বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের তার ঝুলিয়ে টানা হয়, কারণ -প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. টান করে তার লাগানো সম্ভব নয়
- খ. বেশি টানে পিলার হেলে যেতে পারে
- গ. শীতকালে ঠাণ্ডায় তার সঙ্কুচিত হয়
- ঘ. উপরের সবগুলোই ঠিক
উত্তর: গ. শীতকালে ঠাণ্ডায় তার সঙ্কুচিত হয়
বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের তার ঝুলিয়ে টানা হয়, কারণ শীতকালে ঠান্ডায় ধাতব তার সংকুচিত হয়ে ছোট হয়ে যায়। গ্রীষ্মে টানটান করে তার লাগালে শীতকালে তারটি আরও ছোট হতে চাইবে। তখন তারে এত বেশি টান পড়বে যে সেটি ছিঁড়ে যেতে পারে বা খুঁটি বেঁকে যেতে পারে। তাই শুরু থেকেই তারগুলো একটু ঢিলা রেখে খুঁটির মাঝে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালে গরমে তার প্রসারিত হয় বলে এই ঝোলার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়, আর শীতে তার কিছুটা টানটান দেখায়।
মনে রাখুন:
কঠিন পদার্থ তাপে প্রসারিত হয় এবং ঠান্ডায় সংকুচিত হয়।
রেললাইনের জোড়ায় ফাঁক রাখা এবং সেতুর এক প্রান্ত রোলারের উপর বসানো একই কারণে করা হয়। - ১৫৬. সাধারণ তাপমাত্রায় বায়ুচাপে পানি কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফুটে?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. 100° C
- খ. 0° C
- গ. 1000° C
- ঘ. 105° C
উত্তর: ক. 100° C
স্বাভাবিক বায়ুচাপে, অর্থাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠে ৭৬ সেন্টিমিটার পারদস্তম্ভের চাপে বিশুদ্ধ পানি 100° C তাপমাত্রায় ফোটে। যে তাপমাত্রায় তরলের বাষ্পচাপ বাইরের বায়ুচাপের সমান হয়, সেই তাপমাত্রায় তরলটি ফুটতে শুরু করে। এই তাপমাত্রাকে স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) বলে। বাইরের চাপ বদলালে স্ফুটনাঙ্কও বদলায়, চাপ কমলে পানি 100° C-এর নিচেই ফোটে আর চাপ বাড়লে আরও বেশি তাপমাত্রায় ফোটে। পানিতে লবণ বা চিনি মেশালেও স্ফুটনাঙ্ক কিছুটা বেড়ে যায়।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক 0° C বা 32° F।
পানির স্ফুটনাঙ্ক 212° F এবং 373 K।
প্রেশার কুকারে চাপ বাড়িয়ে পানির স্ফুটনাঙ্ক প্রায় 120° C পর্যন্ত তোলা হয়। - ১৫৭. একটি খোলা পাত্রে ফুটানো হলে, পানি সর্বোচ্চ যে তাপমাত্রায় পৌছায় তা হলোপরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক ও চাপ
- ক. ১০০° সে.
- খ. ১২০° সে.
- গ. ২৮০° সে.
- ঘ. ১০০০° সে.
উত্তর: ক. ১০০° সে.
খোলা পাত্রে পানি ফোটালে স্বাভাবিক বায়ুচাপে এর তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। পানি ফুটতে শুরু করার পর আরও তাপ দিলেও তাপমাত্রা আর বাড়ে না। এই বাড়তি তাপ পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করার কাজে খরচ হয়, যাকে বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ (Latent Heat) বলে। তাই চুলা যত জোরেই জ্বালানো হোক, খোলা পাত্রের ফুটন্ত পানি ১০০° সেলসিয়াসেই থাকে, কেবল দ্রুত বাষ্প হয়ে কমতে থাকে। পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ করে চাপ বাড়ালে তবেই পানির তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াসের উপরে তোলা যায়।
মনে রাখুন:
পানির বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ প্রায় 2.26 × 10⁶ J/kg।
একই কারণে বাষ্পে পোড়া ফুটন্ত পানিতে পোড়ার চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। - ১৫৮. গরম কম অনুভূত হওয়ার জন্য রৌদ্রের মধ্যে কোন রঙের পোশাক পরা উচিত?GDA -এর সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপের শোষণ ও বিকিরণ
- ক. লাল
- খ. কালো
- গ. সাদা
- ঘ. সবুজ
উত্তর: গ. সাদা
রোদের মধ্যে গরম কম লাগার জন্য সাদা রঙের পোশাক পরা উচিত। সাদা কাপড় সূর্যের আলো ও তাপের বেশির ভাগ অংশ প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়, ফলে খুব কম তাপ শরীর পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্যদিকে কালো কাপড় প্রায় সব আলো শোষণ করে নেয় এবং দ্রুত গরম হয়ে ওঠে। লাল বা সবুজ কাপড়ও কিছু রঙের আলো শোষণ করে, তাই সেগুলো সাদার চেয়ে বেশি গরম হয়। এজন্য মরুভূমি অঞ্চলের মানুষ প্রায়ই ঢিলেঢালা সাদা পোশাক পরেন। ঢিলেঢালা কাপড়ের ভেতরে বাতাস চলাচল করতে পারে বলে ঘামও সহজে শুকায়।
মনে রাখুন:
শীতকালে গাঢ় বা কালো পোশাক বেশি তাপ শোষণ করে আরাম দেয়। - ১৫৯. Which one among the following would expand the most on being heated?জনতা ব্যাংক লি. এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপীয় প্রসারণ
- ক. Air
- খ. Water
- গ. Alcohol
- ঘ. Glass
উত্তর: ক. Air
তাপ দিলে কঠিন, তরল ও গ্যাস তিন ধরনের পদার্থই প্রসারিত হয়, কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় গ্যাস। গ্যাসের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল খুব কম, তাই তাপ পেয়ে অণুগুলো দ্রুত ছোটাছুটি করে অনেক দূরে সরে যেতে পারে। বায়ু একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ, তাই একই পরিমাণ তাপে বায়ুর আয়তন সবচেয়ে বেশি বাড়ে। অ্যালকোহল ও পানির মতো তরল এর চেয়ে কম প্রসারিত হয়, আর কাচের মতো কঠিন পদার্থ প্রসারিত হয় সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন:
প্রসারণের ক্রম: গ্যাস > তরল > কঠিন।
৪°C তাপমাত্রায় পানির আয়তন সবচেয়ে কম ও ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে, একে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ বলে। - ১৬০. পানি কত ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফোটে?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৩য় বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক
- ক. ১০০°F
- খ. ১০০°C
- গ. ১২০°F
- ঘ. ১২০°C
উত্তর: খ. ১০০°C
যে তাপমাত্রায় তরল ফুটতে শুরু করে এবং তাপ দিলেও আর তাপমাত্রা বাড়ে না, তাকে ওই তরলের স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) বলে। স্বাভাবিক বায়ুচাপে, অর্থাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠে, বিশুদ্ধ পানি ১০০° সেলসিয়াস বা ২১২° ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ফোটে। এ সময় দেওয়া তাপ পানিকে বাষ্পে পরিণত করার কাজে লাগে, একে বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ বলে। বায়ুচাপ কমলে স্ফুটনাঙ্কও কমে যায়, তাই পাহাড়ের চূড়ায় পানি ১০০° সেলসিয়াসের আগেই ফোটে এবং সেখানে রান্না হতে বেশি সময় লাগে।
মনে রাখুন:
প্রেসার কুকারে চাপ বাড়িয়ে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ানো হয়, তাই রান্না দ্রুত হয়।
পানিতে লবণ বা চিনি মেশালে স্ফুটনাঙ্ক বাড়ে। - ১৬১. ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে কত পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে?দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কোর্ট পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ থার্মোমিটার
- ক. ৯০° - ৯৫°
- খ. ৯৫° - ১১০°
- গ. ৯৮° - ১০৪°
- ঘ. ৯৫° - ১০৫°
উত্তর: খ. ৯৫° - ১১০°
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার (Clinical Thermometer) দিয়ে শুধু মানুষের দেহের তাপমাত্রা মাপা হয়। সুস্থ বা অসুস্থ যেকোনো অবস্থায় মানুষের দেহের তাপমাত্রা সাধারণত ৯৫° ফারেনহাইটের নিচে নামে না এবং ১১০° ফারেনহাইটের ওপরে ওঠে না। তাই এই থার্মোমিটারে ৯৫° থেকে ১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে, যা সেলসিয়াস স্কেলে প্রায় ৩৫° থেকে ৪৩°। এর সরু নলের গোড়ায় একটি বাঁক থাকে, ফলে মুখ থেকে বের করার পরও পারদ নিচে নেমে যায় না এবং আমরা ধীরে সুস্থে পাঠ নিতে পারি।
মনে রাখুন:
সুস্থ মানুষের দেহের তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৭° সেলসিয়াস।
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে সাধারণত পারদ ব্যবহার করা হয়। - ১৬২. মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত ডিগ্রি ফারেনহাইট?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), লাইন ক্রু লেভেল-১, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের তাপমাত্রা
- ক. ৯৭.২
- খ. ৯৪.৮
- গ. ৯৬.৪
- ঘ. ৯৮.৪
উত্তর: ঘ. ৯৮.৪
সুস্থ মানুষের দেহের তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় স্থির থাকে, আর সেটি প্রায় ৯৮.৪° ফারেনহাইট (Fahrenheit)। অনেক জায়গায় মানটি ৯৮.৬° ফারেনহাইট হিসেবেও লেখা হয়, দুটিই প্রায় ৩৭° সেলসিয়াসের সমান। দিনের বিভিন্ন সময়ে বা পরিশ্রমের পরে এই মান সামান্য ওঠানামা করে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে আমরা তাকে জ্বর বলি। দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ। গরমে ঘাম বের করে এবং শীতে কাঁপুনি তুলে এটি তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক সীমায় ধরে রাখে।
মনে রাখুন:
সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে নেওয়ার সূত্র: F = (9/5)C + 32।
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলে −৪০° তাপমাত্রা একই। - ১৬৩. শূন্য মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয় কোন পদ্ধতিতে?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জুনিয়র অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. পরিবহন
- খ. পরিচালন
- গ. বিকিরণ
- ঘ. সঞ্চালন
উত্তর: গ. বিকিরণ
তাপ তিনভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়: পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ (Radiation)। পরিবহনে কঠিন পদার্থের কণাগুলো পাশের কণাকে তাপ দেয়, আর পরিচলনে তরল বা গ্যাসের গরম কণা নিজেই সরে গিয়ে তাপ বয়ে নেয়। এই দুই পদ্ধতিতেই কণাময় মাধ্যম লাগে। কিন্তু বিকিরণে তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ আকারে চলে, তাই কোনো মাধ্যম ছাড়াই শূন্যস্থান পেরিয়ে যেতে পারে। এভাবেই প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ফাঁকা মহাশূন্য পার হয়ে সূর্যের তাপ পৃথিবীতে পৌঁছায়।
মনে রাখুন:
কালো ও অমসৃণ তল বিকিরণ সবচেয়ে বেশি শোষণ করে।
থার্মোফ্লাস্কে তিন পদ্ধতিতেই তাপ চলাচল কমানোর ব্যবস্থা থাকে। - ১৬৪. তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ সঞ্চালন
- ক. দুটি
- খ. তিনটি
- গ. চারটি
- ঘ. পাঁচটি
উত্তর: খ. তিনটি
তাপ সবসময় উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুর দিকে যায়। এই তাপ সঞ্চালন (Heat transfer) তিনটি প্রক্রিয়ায় ঘটে: পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ। পরিবহনে বস্তুর কণাগুলো নিজের জায়গায় থেকে কম্পনের মাধ্যমে পাশের কণায় তাপ পৌঁছে দেয়, এটি কঠিন পদার্থে বেশি ঘটে। পরিচলনে উত্তপ্ত কণাগুলো নিজেরাই হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং তাপ বয়ে নিয়ে যায়, এটি তরল ও গ্যাসে ঘটে। বিকিরণে কোনো মাধ্যম লাগে না, তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে চলে। এ জন্যই সূর্যের তাপ শূন্য মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে।
উদাহরণ:
চামচের এক মাথা গরম করলে অন্য মাথা গরম হয় পরিবহনে।
সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু তৈরি হয় পরিচলনে। - ১৬৫. কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (হেমন্ত; মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. ০° সেন্টিগ্রেড
- খ. ২° সেন্টিগ্রেড
- গ. ৪° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ৬° সেন্টিগ্রেড
উত্তর: গ. ৪° সেন্টিগ্রেড
সাধারণত কোনো পদার্থকে ঠান্ডা করলে এটি সংকুচিত হয় এবং ঘনত্ব বাড়ে। পানিও ৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু ৪° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা করলে পানি উল্টো প্রসারিত হতে থাকে, একে পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ (Anomalous expansion) বলে। তাই ৪° সেলসিয়াসে পানির আয়তন সবচেয়ে কম এবং ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ গ্রাম প্রতি ঘনসেন্টিমিটার। এই ধর্মের কারণে শীতের দেশে পুকুর বা হ্রদের ওপরের পানি জমে বরফ হলেও নিচে ৪° সেলসিয়াসের ভারী পানি তরল থেকে যায়, আর মাছ ও অন্য জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে।
মনে রাখুন: ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রা ফারেনহাইট স্কেলে ৩৯.২° ফারেনহাইট। - ১৬৬. কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাচ তাপ-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (কপোতাক্ষ), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ পরিবহন
- ক. অন্তরক
- খ. সুপরিবাহী
- গ. কুপরিবাহী
- ঘ. অর্ধ-পরিবাহী
উত্তর: গ. কুপরিবাহী
কাচ তাপের কুপরিবাহী (Bad conductor), অর্থাৎ এর ভেতর দিয়ে তাপ খুব ধীরে চলাচল করে। তাই কাচকে হঠাৎ গরম করলে যে অংশে তাপ লাগে কেবল সেটিই দ্রুত গরম হয়ে প্রসারিত হয়, অথচ পাশের বা ভেতরের অংশ তখনও ঠান্ডা থাকে। এক জায়গা বাড়তে চায় আর আরেক জায়গা আগের মাপে থাকে, এই অসম প্রসারণের টানেই কাচ ফেটে যায়। ধাতু তাপের সুপরিবাহী বলে তাপ দ্রুত পুরো ধাতুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সব অংশ প্রায় একসঙ্গে প্রসারিত হয়, তাই ধাতু ফাটে না। একই কারণে গরম কাচের গ্লাসে হঠাৎ ঠান্ডা পানি ঢাললেও গ্লাস ফেটে যেতে পারে।
মনে রাখুন: পাইরেক্স কাচ খুব কম প্রসারিত হয়, তাই ল্যাবরেটরির পাত্র ও ওভেনের বাসন এই কাচে তৈরি হয়। - ১৬৭. পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তনে-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (দানিয়ুব), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. বাড়ে
- খ. কমে
- গ. একই থাকে
- ঘ. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
উত্তর: ক. বাড়ে
পানি জমে বরফ হওয়ার সময় এর অণুগুলো হাইড্রোজেন বন্ধনের (Hydrogen bond) মাধ্যমে ষড়ভুজাকার একটি নির্দিষ্ট কাঠামোয় সাজে, যার ভেতরে অনেক ফাঁকা জায়গা থাকে। তরল পানিতে অণুগুলো এর চেয়ে কাছাকাছি গাদাগাদি করে থাকে। তাই একই ভরের পানি বরফে পরিণত হলে আয়তন প্রায় ৯ ভাগ বেড়ে যায়, আর ঘনত্ব কমে যায়। এ কারণেই বরফ পানিতে ভাসে, এবং ভাসমান বরফের মাত্র ১০ ভাগের ১ ভাগের মতো অংশ পানির ওপরে থাকে। শীতের দেশে পানির পাইপের ভেতর পানি জমে বরফ হলে আয়তন বেড়ে পাইপ ফেটে যায়।
মনে রাখুন:
বরফের ঘনত্ব প্রায় ০.৯২ গ্রাম প্রতি ঘনসেন্টিমিটার।
হিমশৈলের বেশির ভাগ অংশ পানির নিচে লুকিয়ে থাকে, তাই জাহাজের জন্য এটি বিপজ্জনক। - ১৬৮. কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানির ব্যতিক্রমী প্রসারণ
- ক. ০° সে.গ্রে
- খ. ৪° সে.গ্রে
- গ. ৬° সে.গ্রে
- ঘ. ৮° সে.গ্রে
উত্তর: খ. ৪° সে.গ্রে
পানিকে গরম অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করলে ৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত এর আয়তন কমতে থাকে। এরপর আরও ঠান্ডা করলে আয়তন কমার বদলে বাড়তে শুরু করে, আর ০° সেলসিয়াসে বরফ হওয়ার সময় হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যায়। যেহেতু নির্দিষ্ট ভরের পানির আয়তন ৪° সেলসিয়াসে সবচেয়ে কম, তাই এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব (Density) সবচেয়ে বেশি। পানির এই আচরণকে ব্যতিক্রমী প্রসারণ বলে। এই কারণেই শীতকালে পানির পাইপ ফেটে যেতে পারে এবং ঠান্ডা দেশের হ্রদের তলায় পানি তরল থাকে।
মনে রাখুন:
৪° সেলসিয়াসে বিশুদ্ধ পানির ঘনত্ব ১০০০ কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার।
বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম, তাই বরফ পানিতে ভাসে। - ১৬৯. ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ৩৬.৮৭
- খ. ৩৭.৮৭
- গ. ৩৬.৭৮
- ঘ. ৩৭.৭৮
উত্তর: ঘ. ৩৭.৭৮
ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের সম্পর্ক হলো $\frac{C}{5} = \frac{F-32}{9}$। এখানে F = 100 বসালে C = (100 − 32) × 5/9 = 68 × 5/9 ≈ 37.78। তাই ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা প্রায় ৩৭.৭৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান। সেলসিয়াস স্কেলে পানির হিমাঙ্ক ০ ডিগ্রি ও স্ফুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রি, আর ফারেনহাইট স্কেলে এই দুটি মান যথাক্রমে ৩২ ও ২১২ ডিগ্রি। দুই স্কেলের মধ্যে রূপান্তরে এই পার্থক্যই কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
সুস্থ মানুষের দেহের তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
−৪০ ডিগ্রিতে সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান। - ১৭০. কোন রংয়ের কাপে চা দ্রুত ঠাণ্ডা হয়?সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, উচ্চমান সহকারী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপ বিকিরণ
- ক. কালো
- খ. সাদা
- গ. লাল
- ঘ. বেগুনি
উত্তর: ক. কালো
কালো তল যেমন ভালো তাপ শোষক, তেমনি ভালো তাপ বিকিরকও (Radiator)। গরম চা ভরা কাপ চারপাশের বাতাসের চেয়ে উষ্ণ, তাই কাপের গা থেকে তাপ বিকিরণ হয়ে বাইরে চলে যায়। কালো কাপ এই তাপ সাদা বা উজ্জ্বল রঙের কাপের চেয়ে অনেক দ্রুত বিকিরণ করে, ফলে কালো কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়। অন্যদিকে সাদা ও চকচকে তল তাপ কম বিকিরণ করে, তাই এমন কাপে চা বেশিক্ষণ গরম থাকে।
মনে রাখুন:
ফ্লাস্কের ভেতরের দেয়াল চকচকে রাখা হয় যাতে বিকিরণে তাপ কম হারায়।
বিকিরণে তাপ সঞ্চালনের জন্য কোনো মাধ্যম লাগে না। - ১৭১. প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়, কারণ-বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্ফুটনাঙ্ক
- ক. বদ্ধ পাত্রে তাপ সংরক্ষিত হয়
- খ. রান্নার জন্য শুধু তাপ নয় চাপও কাজে লাগে
- গ. উচ্চ চাপে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়
- ঘ. সঞ্চিত বাষ্পের তাপ রান্নার সহায়ক
উত্তর: গ. উচ্চ চাপে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়
প্রেসার কুকারের ঢাকনা শক্ত করে আটকানো থাকে, তাই ভেতরে তৈরি বাষ্প বাইরে যেতে পারে না এবং ভেতরের চাপ বেড়ে যায়। চাপ বাড়লে তরলের স্ফুটনাঙ্ক (Boiling point) বেড়ে যায়, ফলে পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না ফুটে প্রায় ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফোটে। বেশি তাপমাত্রার পানি ও বাষ্পে খাবার অনেক তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়, তাই প্রেসার কুকারে রান্না দ্রুত হয় এবং জ্বালানিও কম লাগে।
মনে রাখুন:
চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়।
এজন্য পাহাড়ের উপরে বায়ুর চাপ কম থাকায় পানি ১০০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রায় ফোটে এবং রান্না হতে দেরি হয়। - ১৭২. পরমশূন্য তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর সমান?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সহকারী ব্যবস্থাপক (ট্রেইনি জেনারেল), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. ২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড
- খ. ২৩৭.১৫° সেন্টিগ্রেড
- গ. – ২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড
- ঘ. ০° সেন্টিগ্রেড
উত্তর: গ. – ২৭৩.১৫° সেন্টিগ্রেড
যে তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি সর্বনিম্ন হয়ে যায় এবং এর চেয়ে কম তাপমাত্রা আর সম্ভব নয়, তাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা (Absolute zero) বলে। কেলভিন স্কেলে এই তাপমাত্রা ০ K, আর সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড স্কেলে এর মান −২৭৩.১৫ ডিগ্রি। দুই স্কেলের সম্পর্ক হলো K = C + 273.15, তাই 0 K বসালে C = −273.15 পাওয়া যায়। পরমশূন্য তাপমাত্রায় এখন পর্যন্ত কেউ পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি, তবে এর খুব কাছাকাছি যাওয়া গেছে।
মনে রাখুন:
কেলভিন স্কেলে কোনো ঋণাত্মক তাপমাত্রা নেই।
পানির হিমাঙ্ক কেলভিন স্কেলে ২৭৩.১৫ K। - ১৭৩. Instrument used for measuring very high temperature isসম্মিলিত ২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (১৩ ডিসেম্বর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ থার্মোমিটার
- ক. Pyrometer
- খ. Periscope
- গ. Seismograph
- ঘ. Xylometer
উত্তর: ক. Pyrometer
সাধারণ পারদ থার্মোমিটার দিয়ে খুব উচ্চ তাপমাত্রা মাপা যায় না, কারণ বেশি তাপে পারদ ফুটে যায় আর কাচও গলে যেতে পারে। তাই চুল্লি, গলিত ধাতু বা সূর্যের মতো খুব উত্তপ্ত বস্তুর তাপমাত্রা মাপতে পাইরোমিটার (Pyrometer) ব্যবহার করা হয়। উত্তপ্ত বস্তু থেকে যে তাপ বিকিরণ বের হয়, পাইরোমিটার তা মেপে দূর থেকেই তাপমাত্রা নির্ণয় করে। ফলে যন্ত্রটিকে বস্তুর গায়ে লাগাতে হয় না। এ কারণে ইস্পাত কারখানা ও কাচ শিল্পে এটি খুব কাজের যন্ত্র।
মনে রাখুন:
সিসমোগ্রাফ ভূমিকম্প মাপে।
পেরিস্কোপ দিয়ে ডুবোজাহাজ থেকে পানির ওপরে দেখা যায়।
জাইলোমিটার দিয়ে কাঠের আয়তন মাপা হয়। - ১৭৪. Celsius Fahrenheit scale shows the same reading at ___ temperature.সম্মিলিত ৭ ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রার স্কেল
- ক. -40
- খ. 40
- গ. 32
- ঘ. -32
উত্তর: ক. -40
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্ক হলো $\frac{C}{5} = \frac{F - 32}{9}$। দুই স্কেলের পাঠ সমান হলে F = C ধরা যায়। তখন 9C = 5C − 160, অর্থাৎ 4C = −160, তাই C = −40। সুতরাং −40 ডিগ্রি তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট দুই স্কেলেই একই পাঠ পাওয়া যায়। এই ঘটনাটি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে, তাই হিসাবটি আমরা মনে রাখতে পারি। একইভাবে দেখা যায়, ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের পাঠ সমান হয় প্রায় 574 ডিগ্রিতে।
মনে রাখুন:
পানির হিমাঙ্ক: 0°C = 32°F = 273 K।
পানির স্ফুটনাঙ্ক: 100°C = 212°F = 373 K।
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা: 37°C = 98.6°F। - ১৭৫. The normal temperature of human body in Celsius Scale is -সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তাপমাত্রা
- ক. 35.7 degree
- খ. 36.9 degree
- গ. 37.8 degree
- ঘ. 39.4 degree
উত্তর: খ. 36.9 degree
সুস্থ মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৪° ফারেনহাইট। একে সেলসিয়াস স্কেলে রূপান্তর করলে পাওয়া যায় প্রায় ৩৬.৯° সেলসিয়াস, যা সাধারণভাবে ৩৭° সেলসিয়াস বলা হয়। হিসাবটি সহজ: $C = \frac{5}{9}(F - 32) = \frac{5}{9}(98.4 - 32) \approx 36.9$। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস, আর তাপমাত্রা প্রায় ৩৮° সেলসিয়াস ছাড়ালে আমরা বলি জ্বর হয়েছে।
মনে রাখুন:
দেহের তাপমাত্রা মাপা হয় ডাক্তারি থার্মোমিটার বা ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার দিয়ে।
ডাক্তারি থার্মোমিটারের পাল্লা সাধারণত ৯৫° থেকে ১১০° ফারেনহাইট।
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল −৪০°-এ সমান পাঠ দেয়।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন