লিয়ানা বুকস

মানবদেহ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৬। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৪৩৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।

এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →

বিসিএস (৪১)

  1. ১. মানুষের গায়ের রং কোন উপাদানের ওপর নির্ভর করে?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. মেলানিন
    • খ. থায়ামিন
    • গ. ক্যারোটিন
    • ঘ. হিমোগ্লোবিন
    উত্তর: ক. মেলানিন
    আমাদের ত্বকের রং নির্ভর করে মেলানিন (Melanin) নামের একটি রঞ্জক পদার্থের ওপর। ত্বকের গভীর স্তরে মেলানোসাইট নামে বিশেষ কোষ আছে, যেগুলো এই রঞ্জক তৈরি করে। যার ত্বকে মেলানিন বেশি থাকে, তার গায়ের রং তত গাঢ় হয়। আর মেলানিন কম থাকলে ত্বক ফর্সা দেখায়। মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ত্বককে ক্ষতি থেকে বাঁচায়। ক্যারোটিন গাজরের মতো খাবারে থাকে এবং এটি দেহে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। হিমোগ্লোবিন রক্তের লাল রঞ্জক, আর থায়ামিন ভিটামিন বি১।
    মনে রাখুন:
    মেলানিনের অভাবে যে রোগ হয়, তার নাম অ্যালবিনিজম।
    মেলানিন চুল ও চোখের রঙের জন্যও দায়ী।
  2. ২. হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. আয়োডিন
    • খ. আমিষ
    • গ. স্নেহ
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: খ. আমিষ
    হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) লোহিত রক্তকণিকায় থাকে। এটি হিম নামের লৌহযুক্ত অংশ ও গ্লোবিন নামের প্রোটিন দিয়ে গঠিত, তাই এটি আমিষ জাতীয় পদার্থ। হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহের কোষে পৌঁছে দেয়। দেহে আয়রনের অভাব হলে হিমোগ্লোবিন কম তৈরি হয় এবং রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    এটির রঙ লাল, কারণ এর লোহা অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
    লোহিত কণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং এর আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে সহজে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন বন্ধ করে দেয়।
  3. ৩. রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?২৫তম ও ৩৪তম বিসিএস ও কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. অক্সিজেন পরিবহন করা
    • খ. রোগ প্রতিরোধ করা
    • গ. রক্ত জমাট বাঁধানো
    • ঘ. রক্ত তরল রাখা
    উত্তর: ক. অক্সিজেন পরিবহন করা
    হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) লোহিত কণিকার ভেতরে থাকা লোহাযুক্ত লাল রঞ্জক। এর প্রধান কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহের কোষে পৌঁছে দেওয়া। এ কারণেই রক্ত লাল দেখায়। রোগ প্রতিরোধ করে শ্বেতকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধায় অণুচক্রিকা।
    মনে রাখুন:
    হিমোগ্লোবিনে লোহা থাকে, তাই লোহার অভাবে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয়।
    কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে সহজে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহনে বাধা দেয়।
    হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা উজ্জ্বল লাল। কোষে পৌঁছে অক্সিজেন ছেড়ে দিলে এর রং গাঢ় হয়ে যায়।
    প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে প্রায় ১৪ থেকে ১৮ গ্রাম।
  4. ৪. নিচের কোনটি আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে?৩৬তম বিসিএস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক এনজাইম
    • ক. ট্রিপসিন
    • খ. লাইপেজ
    • গ. টায়ালিন
    • ঘ. অ্যামাইলেজ
    উত্তর: ক. ট্রিপসিন
    আমিষ বা প্রোটিন হজম করে প্রোটিয়েজ জাতীয় এনজাইম। ট্রিপসিন (Trypsin) এমনই একটি এনজাইম, যা অগ্ন্যাশয়ের রসে থাকে এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিনকে ভেঙে ছোট অংশ করে। বাকি বিকল্পগুলো অন্য খাদ্য হজম করে: লাইপেজ (Lipase) স্নেহ বা চর্বিকে এবং টায়ালিন ও অ্যামাইলেজ শর্করা বা শ্বেতসারকে ভাঙে।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীতে প্রোটিন হজম করে পেপসিন।
    লালায় থাকা টায়ালিন শ্বেতসারকে মল্টোজে পরিণত করে।
    স্নেহ পদার্থ হজমে লাইপেজ কাজ করে।
    এনজাইম হলো জৈব অনুঘটক, যা খাদ্য হজমের বিক্রিয়াকে দ্রুত করে কিন্তু নিজে অপরিবর্তিত থাকে। প্রতিটি এনজাইম নির্দিষ্ট খাদ্যের ওপর কাজ করে।
    প্রোটিন ভেঙে শেষ পর্যন্ত অ্যামিনো এসিড তৈরি হয়, যা অন্ত্র শোষণ করে নেয়।
  5. ৫. কোন্‌ টিস্যু পেশীকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেশি ও হাড়
    • ক. তরুণাস্থি
    • খ. লিগামেন্ট
    • গ. টেন্ডন
    • ঘ. অ্যারিওলার টিস্যু
    উত্তর: গ. টেন্ডন
    মানবদেহে বিভিন্ন যোজক কলা (Connective Tissue) বিভিন্ন কাজ করে। পেশিকে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে টেন্ডন (Tendon), যা শক্ত তন্তুময় কলা। অন্যদিকে লিগামেন্ট (Ligament) এক হাড়কে অন্য হাড়ের সঙ্গে জোড়া লাগায়, আর তরুণাস্থি (Cartilage) হাড়ের জোড়ার প্রান্তে নরম আস্তরণ হিসেবে থাকে। তাই সঠিক উত্তর টেন্ডন। টেন্ডন নমনীয় নয়, বরং শক্ত ও মজবুত। ফলে পেশির টান হাড়ে পৌঁছে হাড়কে নাড়াতে পারে।
    মনে রাখুন:
    টেন্ডন জোড়া লাগায় পেশি আর হাড়কে।
    লিগামেন্ট জোড়া লাগায় হাড় আর হাড়কে।
    দেহের সবচেয়ে বড় টেন্ডন অ্যাকিলিস টেন্ডন, যা গোড়ালিতে আছে।
  6. ৬. The antigen presenting cell on skin is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. Basal cells
    • খ. Keralinocytes
    • গ. Langerhan cells
    • ঘ. Melanocytes
    উত্তর: গ. Langerhan cells
    ত্বকের বাইরের স্তর এপিডার্মিসে থাকা ল্যাঙ্গারহ্যান্স কোষ (Langerhans Cell) ত্বকের অ্যান্টিজেন উপস্থাপক কোষ (Antigen Presenting Cell, APC)। এরা শরীরে ঢোকা জীবাণুর অ্যান্টিজেন ধরে ফেলে, তা নিয়ে নিকটবর্তী লসিকাগ্রন্থিতে যায় এবং সেখানে টি-লিম্ফোসাইটের কাছে তুলে ধরে। এর ফলে অনাক্রম্যতা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ১৮৬৮ সালে জার্মান চিকিৎসক পল ল্যাঙ্গারহ্যান্স এই কোষ আবিষ্কার করেন। পল ল্যাঙ্গারহ্যান্স প্রথম এই কোষ দেখে ভেবেছিলেন এগুলো স্নায়ুকোষ।
    মনে রাখুন:
    মেলানোসাইট ত্বকের রঞ্জক মেলানিন তৈরি করে।
    কেরাটিনোসাইট কেরাটিন তৈরি করে এবং ত্বকের প্রধান আবরণ গড়ে।
    বেসাল কোষ নতুন কোষ তৈরি করে।
  7. ৭. Nerve responsible for sensation of smell is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. Olfactory
    • খ. Trigeminal
    • গ. Facial
    • ঘ. Oculomotor
    উত্তর: ক. Olfactory
    গন্ধের অনুভূতি বহনকারী স্নায়ু অলফ্যাক্টরি স্নায়ু (Olfactory Nerve), যা প্রথম করোটি স্নায়ু (Cranial Nerve I)। নাকের ভেতরের ওপরের অংশের ঘ্রাণকোষ থেকে সংকেত অলফ্যাক্টরি বাল্বে ও সেখান থেকে মস্তিষ্কে যায়। এটি শুধু সংবেদী স্নায়ু।
    ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু (পঞ্চম) মুখের সাধারণ অনুভূতি ও চোয়ালের পেশি নিয়ন্ত্রণ করে। ফেসিয়াল স্নায়ু (সপ্তম) মুখের অভিব্যক্তির পেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং জিহ্বার সামনের অংশে স্বাদ দেয়। অকুলোমোটর স্নায়ু (তৃতীয়) চোখের নড়াচড়া ও মণি নিয়ন্ত্রণ করে।
    মনে রাখুন:
    CN I: অলফ্যাক্টরি (গন্ধ), CN II: অপটিক (দৃষ্টি)
    কোভিড-১৯-এ গন্ধ চলে যাওয়ার (anosmia) অনুষঙ্গ
  8. ৮. Part of Parasympathetic nervous system is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. Celiac ganglion
    • খ. Cervical ganglion
    • গ. Ciliary ganglion
    • ঘ. Sacral ganglion
    উত্তর: গ. Ciliary ganglion
    স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের (Autonomic Nervous System) দুটি অংশ আছে, সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক। প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্ত্রের মাথার অংশে চারটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাংলিয়ন আছে। এগুলো হলো সিলিয়ারি (Ciliary), পটারিগোপ্যালাটাইন, সাবম্যান্ডিবুলার ও অটিক। সিলিয়ারি গ্যাংলিয়ন অকুলোমোটর স্নায়ুর প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্তু বহন করে চোখের মণি ছোট করে এবং লেন্সকে কাছে দেখার জন্য মানিয়ে নেয়। সিলিয়াক ও সার্ভাইক্যাল গ্যাংলিয়ন সিমপ্যাথেটিক তন্ত্রের অংশ, আর সেক্রাল গ্যাংলিয়নও সিমপ্যাথেটিক শৃঙ্খলের অন্তর্ভুক্ত। প্যারাসিমপ্যাথেটিক তন্ত্র সাধারণত বিশ্রাম ও হজমের সময় কাজ করে। আর সিমপ্যাথেটিক তন্ত্র বিপদের সময় লড়াই বা পালানোর অবস্থায় কাজ করে।
    মনে রাখুন: প্যারাসিমপ্যাথেটিক গ্যাংলিয়ন হলো ciliary, otic, submandibular ও pterygopalatine।
  9. ৯. Fibrinolysis is done by৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. Plasminogen
    • খ. Prothrombin
    • গ. Fibrinogen
    • ঘ. Haptoglobin
    উত্তর: ক. Plasminogen
    ফাইব্রিনোলাইসিস (Fibrinolysis) হলো শরীরে জমাট বাঁধা রক্ত বা ফাইব্রিনের জাল গলিয়ে ফেলার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এটি ক্ষত সারার পর অপ্রয়োজনীয় জমাট সরায় এবং রক্তনালির পথ খোলা রাখে। যকৃতে তৈরি নিষ্ক্রিয় প্লাজমিনোজেন (Plasminogen) টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর (tPA) দ্বারা সক্রিয় প্লাজমিনে (Plasmin) পরিণত হয়। প্লাজমিন তখন ফাইব্রিনকে ভেঙে ফেলে। অন্য বিকল্পগুলোর কাজ আলাদা। প্রোথ্রম্বিন থ্রম্বিনে রূপান্তরিত হয়ে জমাট বাঁধায়, ফাইব্রিনোজেন থ্রম্বিনের প্রভাবে ফাইব্রিনে পরিণত হয়, আর হ্যাপটোগ্লোবিন রক্তের মুক্ত হিমোগ্লোবিনকে বেঁধে ফেলে।
    মনে রাখুন: থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ, যেমন tPA ও স্ট্রেপটোকাইনেজ, প্লাজমিনোজেনকে সক্রিয় করে জমাট গলায়।
  10. ১০. The structural and functional unit of Lung is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফুসফুস
    • ক. Alveoli
    • খ. Bronchiole
    • গ. Bronchus
    • ঘ. Trachea
    উত্তর: ক. Alveoli
    ফুসফুসের প্রধান কাজ রক্তের সঙ্গে বাতাসের গ্যাস বিনিময়, অর্থাৎ অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্জন। এই কাজ ঘটে ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাইতে (Alveoli)। এদের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা এবং রক্তজালিকায় ঘেরা, তাই প্রাচীর ভেদ করে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস আদান-প্রদান হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দুই ফুসফুসে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ কোটি অ্যালভিওলাই থাকে। তাই এটি ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক। ব্রংকাস ও ব্রংকিওল বাতাস চলাচলের পথ, আর শ্বাসনালি বাতাসকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। অ্যালভিওলাই থাকায় গ্যাস বিনিময়ের মোট ক্ষেত্রফল অনেক বেড়ে যায়, যা কার্যকর শ্বসনের জন্য জরুরি।
    মনে রাখুন: ফুসফুসের একক অ্যালভিওলাই এবং কিডনির একক নেফ্রন।
  11. ১১. Protein is digested by৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক
    • ক. Amylase
    • খ. Bile Salt
    • গ. Lipase
    • ঘ. Trypsin
    উত্তর: ঘ. Trypsin
    প্রোটিন বা আমিষ পরিপাকের এনজাইমকে বলা হয় প্রোটিয়েজ। পাকস্থলীতে পেপসিন প্রোটিন ভাঙে। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ট্রিপসিন (Trypsin) ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন ও পেপটাইডকে ক্ষুদ্র পেপটাইডে ভেঙে ফেলে। এটি অগ্ন্যাশয়ে নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন রূপে তৈরি হয় এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে এন্টেরোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে সক্রিয় হয়। অ্যামাইলেজ স্টার্চ ভাঙে এবং লাইপেজ চর্বি ভাঙে। পিত্তলবণ এনজাইম নয়, এটি চর্বিকে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে লাইপেজের কাজ সহজ করে। পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে পেপসিন কাজ করে, আর ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষারীয় পরিবেশে ট্রিপসিন কাজ করে।
    মনে রাখুন:
    প্রোটিন ভাঙে পেপসিন ও ট্রিপসিন।
    শর্করা ভাঙে অ্যামাইলেজ।
    চর্বি ভাঙে লাইপেজ।
  12. ১২. Bone metabolism is the primary concern of৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Glucagon
    • খ. Growth hormone
    • গ. Parathyroid hormone
    • ঘ. Thyroid stimulating hormone
    উত্তর: গ. Parathyroid hormone
    হাড়ের বিপাক (Bone Metabolism) বলতে হাড় গঠন ও ক্ষয়ের সমন্বিত প্রক্রিয়া বোঝায়, যার সঙ্গে রক্তে ক্যালসিয়ামের নিয়ন্ত্রণ জড়িত। রক্তে ক্যালসিয়াম কমে গেলে প্যারাথাইরয়েড হরমোন (Parathyroid Hormone, PTH) নিঃসৃত হয়। এটি অস্টিওক্লাস্ট কোষ সক্রিয় করে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বের করে আনে, কিডনিতে ক্যালসিয়ামের পুনঃশোষণ বাড়ায় এবং ভিটামিন ডি সক্রিয় করে অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়। তাই হাড়ের বিপাকই এর প্রধান কাজ। গ্লুকাগন রক্তে শর্করা বাড়ায়, বৃদ্ধি হরমোন দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়, আর TSH থাইরয়েডকে উদ্দীপিত করে।
    মনে রাখুন: PTH রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়ায়, আর ক্যালসিটোনিন ক্যালসিয়াম কমায়।
  13. ১৩. Plasma albumin helps in৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. Colloidal osmotic pressure maintenance
    • খ. Blood clotting
    • গ. Iron transport
    • ঘ. Copper transport
    উত্তর: ক. Colloidal osmotic pressure maintenance
    অ্যালবুমিন (Albumin) রক্তরসের সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে থাকা প্রোটিন, যা যকৃতে তৈরি হয়। রক্তরসে এর পরিমাণ ৩.৫ থেকে ৫ গ্রাম/ডেসিলিটার। অ্যালবুমিনের প্রধান কাজ রক্তনালির ভেতরের কলয়েড অভিস্রবণ চাপ (Colloid Osmotic Pressure) বজায় রাখা, যা রক্তনালির ভেতরে পানি ধরে রাখে। এ ছাড়া এটি বিভিন্ন ওষুধ, হরমোন ও বিলিরুবিন বহন করে। অ্যালবুমিন কমে গেলে, যেমন যকৃৎ বা কিডনির রোগে, পানি রক্তনালি থেকে টিস্যুতে বেরিয়ে শরীর ফুলে যায়, একে ইডিমা (Oedema) বলে।
    মনে রাখুন:
    রক্ত জমাটের কাজ করে ফাইব্রিনোজেন।
    লোহা বহন করে ট্রান্সফেরিন এবং তামা বহন করে সেরুলোপ্লাজমিন।
  14. ১৪. মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. চারটি
    • খ. পাঁচটি
    • গ. তিনটি
    • ঘ. দুইটি
    উত্তর: ক. চারটি
    রক্তের গ্রুপ ভাগ করা হয় লোহিত রক্তকণিকার গায়ে কোন অ্যান্টিজেন আছে তার ভিত্তিতে। ABO পদ্ধতিতে এর চারটি গ্রুপ হয়, A, B, AB ও O। শুধু A অ্যান্টিজেন থাকলে A গ্রুপ, শুধু B থাকলে B গ্রুপ, দুটিই থাকলে AB এবং কোনোটিই না থাকলে O গ্রুপ। রক্তগ্রুপ ছাড়াও আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টর আছে, যার ভিত্তিতে রক্ত পজিটিভ বা নেগেটিভ হয়। রক্ত দেওয়ার আগে তাই গ্রুপ মিলিয়ে নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা এবং AB গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
    কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার ABO রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন।
  15. ১৫. হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. ভেইন
    • খ. আর্টারি
    • গ. ক্যাপিলারি
    • ঘ. নার্ভ
    উত্তর: খ. আর্টারি
    যে রক্তনালি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে বহন করে, তার নাম ধমনি বা আর্টারি (Artery)। এর প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক, কারণ রক্ত এখানে উচ্চ চাপে চলে। অন্যদিকে শিরা বা ভেইন (Vein) রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। নার্ভ হলো স্নায়ু, রক্তনালি নয়। হৃৎপিণ্ড থেকে বেরোনো সবচেয়ে বড় ধমনির নাম মহাধমনি বা অ্যাওর্টা। ধমনির রক্ত সাধারণত উজ্জ্বল লাল, কারণ তাতে অক্সিজেন বেশি থাকে।
    মনে রাখুন:
    ফুসফুসীয় ধমনি একটি ব্যতিক্রম, কারণ এটি অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে।
    কৈশিকনালি (Capillary) ধমনি ও শিরাকে যুক্ত করে।
  16. ১৬. মানবদেহে লােহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কত দিন?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ৭ দিন
    • খ. ৩০ দিন
    • গ. ১৮০ দিন
    • ঘ. উপরের কোনটিই নয়
    উত্তর: ঘ. উপরের কোনটিই নয়
    মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cell) আয়ুষ্কাল গড়ে প্রায় ১২০ দিন। এরপর পুরোনো কণিকা প্লীহা ও যকৃতে ভেঙে যায়। বিকল্পে ৭, ৩০ ও ১৮০ দিন আছে, কিন্তু কোনোটিই ১২০ নয়। তাই সঠিক উত্তর হলো 'উপরের কোনটিই নয়'। লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামের লোহাযুক্ত প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেন বহন করে এবং রক্তকে লাল রং দেয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তস্বল্পতা (Anaemia) হয়।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়।
    শ্বেত রক্তকণিকার আয়ু কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন।
    অণুচক্রিকার আয়ু প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন।
  17. ১৭. মানুষের রক্তে লোহিত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. হৃদযন্ত্রে
    • খ. বৃক্কে
    • গ. ফুসফুসে
    • ঘ. প্লীহাতে
    উত্তর: ঘ. প্লীহাতে
    প্লীহা (Spleen) পাকস্থলীর বাঁ পাশে থাকা একটি অঙ্গ। এটি লোহিত রক্তকণিকার ভান্ডার হিসেবে কাজ করে এবং দরকার হলে রক্তে কণিকা ছেড়ে দেয়। পুরোনো ও নষ্ট লোহিত কণিকাও এখানে ভেঙে ফেলা হয়, আর এ কারণে প্লীহাকে লোহিত কণিকার কবরস্থান বলা হয়। প্লীহা লসিকা কলার একটি বড় অঙ্গ, তাই এটি রক্ত পরিশোধন ও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধেও অংশ নেয়। প্লীহা ছাড়াও মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, তবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়।
    লোহিত কণিকার গড় আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    শ্বেত কণিকা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  18. ১৮. মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অঙ্গ?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. স্নায়ুতন্ত্রের
    • খ. রেচনতন্ত্রের
    • গ. পরিপাকতন্ত্রের
    • ঘ. শ্বাসতন্ত্রের
    উত্তর: ক. স্নায়ুতন্ত্রের
    মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড মিলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র তৈরি করে। তাই মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের অঙ্গ। এটি শরীরের সব অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং চিন্তা, স্মৃতি ও অনুভূতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। স্নায়ুতন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত, কেন্দ্রীয় ও প্রান্তীয়। মস্তিষ্ক মাথার খুলির ভেতরে সুরক্ষিত থাকে এবং তিন স্তর পর্দা দিয়ে ঢাকা, যাকে মেনিনজেস বলে। মস্তিষ্ককে ঘিরে থাকা তরল আঘাত থেকে একে রক্ষা করে।
    মনে রাখুন:
    মানুষের মস্তিষ্কের ওজন গড়ে প্রায় ১.৩৫ কিলোগ্রাম।
    মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ সেরিব্রাম, সেরিবেলাম ও মেডুলা অবলাঙ্গাটা।
    সেরিব্রাম চিন্তা ও স্মৃতির কেন্দ্র, আর সেরিবেলাম দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  19. ১৯. আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ টিস্যু
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৫
    উত্তর: খ. ৩
    আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue) দেহের ভেতরের ও বাইরের তল ঢেকে রাখে, যেমন ত্বক, মুখগহ্বর, পাকস্থলী ও রক্তনালির ভেতরের স্তর। কোষের আকৃতি, দেহে অবস্থান ও কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী একে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: আঁইশাকার (Squamous), ঘনাকার (Cuboidal) ও স্তম্ভাকার (Columnar)। আঁইশাকার কোষ চ্যাপ্টা, ঘনাকার কোষ ঘনকের মতো, আর স্তম্ভাকার কোষ লম্বা থামের মতো।
    এই টিস্যু দেহকে সুরক্ষা দেয়, খাদ্যরস শোষণ করে এবং ঘাম বা এনজাইমের মতো রস ক্ষরণ করে।
    মনে রাখুন:
    আবরণী টিস্যু তিন ধরনের: আঁইশাকার, ঘনাকার, স্তম্ভাকার
    কাজ: সুরক্ষা, শোষণ ও ক্ষরণ
  20. ২০. হৃৎপিণ্ড কোন ধরনের পেশি দ্বারা গঠিত?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. ঐচ্ছিক
    • খ. অনৈচ্ছিক
    • গ. বিশেষ ধরনের ঐচ্ছিক
    • ঘ. বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক
    উত্তর: ঘ. বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক
    হৃৎপিণ্ড গঠিত হয় কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac Muscle) দিয়ে। এটি আমাদের ইচ্ছার অধীন নয়। আমরা চাইলেও হৃৎস্পন্দন থামাতে বা বাড়াতে পারি না, এটি সারা জীবন নিজে থেকেই ছন্দে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই দিক থেকে এটি অনৈচ্ছিক পেশি।
    কিন্তু সাধারণ অনৈচ্ছিক পেশি, যেমন পাকস্থলী বা অন্ত্রের পেশি, মসৃণ ও ডোরাহীন। হৃৎপিণ্ডের পেশিতে ঐচ্ছিক পেশির মতোই আড়াআড়ি ডোরা দাগ আছে। ডোরা থাকা সত্ত্বেও কাজে অনৈচ্ছিক, এই মিশ্র বৈশিষ্ট্যের কারণে একে বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    হৃৎপিণ্ডের পেশি = কার্ডিয়াক পেশি = ডোরাযুক্ত অনৈচ্ছিক পেশি
    মসৃণ পেশিতে ডোরা থাকে না
  21. ২১. মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
    • ক. পরিপাক
    • খ. খাদ্য গ্রহণ
    • গ. শ্বসন
    • ঘ. রক্ত সংবহন
    উত্তর: গ. শ্বসন
    আমাদের দেহের শক্তি আসে শ্বসন (Respiration) প্রক্রিয়া থেকে। কোষের ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্লুকোজ অক্সিজেনের সাহায্যে ভেঙে যায়, আর তখন শক্তি মুক্ত হয়ে ATP নামের অণুতে জমা থাকে। খাদ্য গ্রহণে আমরা কাঁচামাল পাই, পরিপাক সেই খাদ্যকে সরল করে, আর রক্ত সংবহন সেই সরল খাদ্য ও অক্সিজেন কোষে পৌঁছে দেয়। কিন্তু শক্তি উৎপন্ন করে শ্বসনই। এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হলে কোষে প্রায় ৩০ থেকে ৩৮টি ATP তৈরি হয়। অক্সিজেন না থাকলে কোষ অবাত শ্বসন করে, তখন খুব সামান্য শক্তি পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
  22. ২২. কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?১৯তম ও ৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক
    • ক. পেপসিন
    • খ. এমাইলেজ
    • গ. রেনিন
    • ঘ. ট্রিপসিন
    উত্তর: গ. রেনিন
    পাকস্থলীতে দুধ পৌঁছালে রেনিন (Rennin) নামের এনজাইম দুধের আমিষ কেসিনকে জমাট বাঁধিয়ে দেয়। জমাট বাঁধার ফলে দুধ কিছুক্ষণ পাকস্থলীতে আটকে থাকে, আর সেই সুযোগে পেপসিন এনজাইম আমিষটিকে ভালোভাবে হজম করতে পারে। রেনিন বিশেষ করে শিশুদের পাকস্থলীতে বেশি পাওয়া যায়, কারণ শিশুরা প্রধানত দুধ খেয়েই বেড়ে ওঠে। অন্য এনজাইমগুলোর কাজ আলাদা। অ্যামাইলেজ শর্করা ভাঙে, আর ট্রিপসিন ক্ষুদ্রান্ত্রে আমিষ হজমে সাহায্য করে। খাবারে দুধ থাকলে এই কারণেই আমিষ হজমের সময় বেশি পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    পেপসিন পাকস্থলীতে আমিষ ভাঙে এবং অম্লীয় পরিবেশে ভালো কাজ করে।
    পাকস্থলীর এই অম্ল হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
  23. ২৩. মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ১৫ ইঞ্চি (প্রায়)
    • খ. ১৭ ইঞ্চি (প্রায়)
    • গ. ১৮ ইঞ্চি (প্রায়)
    • ঘ. ২০ ইঞ্চি (প্রায়)
    উত্তর: গ. ১৮ ইঞ্চি (প্রায়)
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড (Spinal cord) প্রায় ১৮ ইঞ্চি বা ৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা। এটি মস্তিষ্কের নিচের অংশ থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের ভেতরের নালির মধ্য দিয়ে নিচে নেমে গেছে। সুষুম্নাকাণ্ড মস্তিষ্ক ও দেহের অন্য অংশের মধ্যে স্নায়ুবার্তা আদান-প্রদান করে। এ ছাড়া হাতে গরম কিছু লাগলে সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রতিবর্ত ক্রিয়াও এটি নিয়ন্ত্রণ করে। মেরুদণ্ড এই কোমল স্নায়ুকে ঘিরে রেখে আঘাত থেকে বাঁচায়, তাই মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগলে হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে।
    মনে রাখুন:
    সুষুম্নাকাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু বের হয়।
    মস্তিষ্ক থেকে বের হয় ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু।
  24. ২৪. মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. দুটি
    • খ. চারটি
    • গ. ছয়টি
    • ঘ. আটটি
    উত্তর: খ. চারটি
    মানুষের হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। ওপরের দুটি হলো ডান ও বাম অলিন্দ (Atrium), আর নিচের দুটি হলো ডান ও বাম নিলয় (Ventricle)। অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে এবং নিলয় সেই রক্ত পাম্প করে দেহের বিভিন্ন অংশে পাঠায়। মাঝখানের একটি দেয়াল বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্তকে আলাদা রাখে, তাই দুই ধরনের রক্ত কখনো মিশে যায় না। হৃৎপিণ্ডের এই গঠন আছে বলেই আমাদের দেহে রক্ত দুই দফায় ঘোরে, একবার ফুসফুসে এবং একবার সারা দেহে।
    মনে রাখুন:
    মাছের হৃৎপিণ্ডে ২টি, উভচরের ৩টি এবং সরীসৃপের (কুমির ছাড়া) ৩টি প্রকোষ্ঠ থাকে।
    পাখি, কুমির ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ থাকে।
  25. ২৫. বিলিরুবিন তৈরি হয়—২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ ও প্লীহা
    • ক. পিত্তথলিতে
    • খ. কিডনীতে
    • গ. প্লীহায়
    • ঘ. যকৃতে
    উত্তর: গ. প্লীহায়
    আমাদের লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন। এরপর পুরোনো কণিকাগুলো প্লীহায় (Spleen) ভেঙে যায়, আর তাদের হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামের হলুদ রঞ্জক তৈরি হয়। পরে যকৃৎ এই বিলিরুবিনকে পিত্তরসের সঙ্গে মিশিয়ে অন্ত্রে পাঠায় এবং তা দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। রক্তে বিলিরুবিন বেশি জমলে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়, এই অবস্থাকে জন্ডিস বলে। বিলিরুবিন বেশি তৈরি হলে বা যকৃৎ ঠিকমতো কাজ না করলে তা রক্তে জমে যায়।
    মনে রাখুন:
    প্লীহাকে ‘রক্তের কবরস্থান’ বলা হয়।
    পিত্তরস তৈরি হয় যকৃতে এবং জমা থাকে পিত্তথলিতে।
  26. ২৬. নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?২৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. নেফ্রোন
    • খ. নিউরন
    • গ. থাইমাস
    • ঘ. মাস্ট সেল
    উত্তর: খ. নিউরন
    স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous system) গঠন ও কাজের একক হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন (Neuron)। এই কোষগুলো দেহের এক অংশ থেকে অন্য অংশে উদ্দীপনা বহন করে। বিকল্পগুলোর মধ্যে নেফ্রন বৃক্কের গঠন ও কাজের একক। থাইমাস একটি গ্রন্থি, আর মাস্ট সেল এমন এক ধরনের কোষ, যা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। দেহের প্রতিটি অঙ্গের কাজ এভাবে একটি নির্দিষ্ট একককে ঘিরে চলে। নিউরন লম্বা সুতার মতো হয়, আর একটি নিউরন থেকে আরেকটিতে সংকেত যায় সিন্যাপসের মাধ্যমে।
    মনে রাখুন:
    নিউরনের তিনটি অংশ হলো কোষদেহ, অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট।
    যকৃতের একক হেপাটোসাইট এবং ফুসফুসের একক অ্যালভিওলাস।
  27. ২৭. মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের –২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
    • খ. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
    • গ. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
    • ঘ. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
    উত্তর: ক. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
    আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করে স্নায়ুকোষ বা নিউরনের মাধ্যমে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্নায়ুকোষ একবার নষ্ট হলে সাধারণত আর নতুন করে তৈরি হয় না। তাই বয়স বা রোগের কারণে এসব কোষ ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেই মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমতে শুরু করে। এই কারণে মাথায় আঘাত লাগা থেকে নিজেকে রক্ষা করা খুব জরুরি। তবে নিউরনের সংযোগ নতুন নতুন কাজ শেখার মাধ্যমে ক্রমাগত বদলায়, তাই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা উপকারী।
    মনে রাখুন:
    স্নায়ুকোষের দেহ থেকে বের হওয়া লম্বা অংশ অ্যাক্সন, আর ছোট শাখাগুলো ডেনড্রাইট।
    স্নায়ুতন্ত্রের একক হলো নিউরন।
  28. ২৮. অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. পেনিসিলিন
    • খ. ইনসুলিন
    • গ. ফোলিক এসিড
    • ঘ. অ্যামিনো এসিড
    উত্তর: খ. ইনসুলিন
    অগ্ন্যাশয় (Pancreas) নামের গ্রন্থির মধ্যে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামে কিছু কোষগুচ্ছ থাকে। এগুলো থেকে ইনসুলিন (Insulin) নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে রক্তে শর্করা বেড়ে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। পেনিসিলিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, ফোলিক অ্যাসিড একটি ভিটামিন আর অ্যামিনো অ্যাসিড আমিষের উপাদান, এগুলো কোনোটিই হরমোন নয়।
    মনে রাখুন: ইনসুলিন প্রথম আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট, ১৯২১ সালে। আর রক্তে শর্করা বাড়ায় গ্লুকাগন হরমোন।
  29. ২৯. কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. থাইবোসিন
    • খ. গ্লুকাগন
    • গ. এড্রিনালিন
    • ঘ. ইনসুলিন
    উত্তর: ঘ. ইনসুলিন
    ইনসুলিন (Insulin) অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছ থেকে নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের অভাব হলে বা এটি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, আর একেই ডায়াবেটিস (Diabetes Mellitus) বলে। গ্লুকাগন হরমোন উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। অ্যাড্রিনালিনও রক্তে শর্করা বাড়াতে সাহায্য করে। এই কারণে ডায়াবেটিসের কিছু রোগীকে নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। ইনসুলিনের মতো হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে যায়, তাই অগ্ন্যাশয়কে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিও বলা হয়।
    মনে রাখুন: ১৯২১ সালে ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।
  30. ৩০. বহুমূত্র রোগে কোন হরমোনের দরকার?১৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. ইনসুলিন
    • খ. থাইরক্সিন
    • গ. এনড্রোজেন
    • ঘ. এস্ট্রোজেন
    উত্তর: ক. ইনসুলিন
    ইনসুলিন (Insulin) হরমোনটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছ থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে এই হরমোন সাহায্য করে। যখন ইনসুলিন কম তৈরি হয়, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে না, তখন রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং প্রস্রাবের সঙ্গেও শর্করা বেরোয়। এই রোগকেই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus) বলে। তাই এর চিকিৎসায় ইনসুলিনের দরকার হয়। ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাব ঘন ঘন হয় বলেই একে বহুমূত্র নাম দেওয়া হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    থাইরক্সিন থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন।
    এন্ড্রোজেন পুরুষ হরমোন, যেমন টেস্টোস্টেরন।
    ঈস্ট্রোজেন নারী হরমোন।
  31. ৩১. নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়—১৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. ধমনির ভেতর দিয়ে
    • খ. শিরার ভেতর দিয়ে
    • গ. স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
    • ঘ. ল্যাকটিয়ালের ভেতর দিয়ে
    উত্তর: ক. ধমনির ভেতর দিয়ে
    হৃৎপিণ্ড প্রতিবার সংকুচিত হলে রক্তকে ধমনির (Artery) ভেতরে জোরে ঠেলে দেয়। তখন ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীর ঢেউয়ের মতো একটু প্রসারিত হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফেরে। এই ঢেউই আমাদের নাড়ির স্পন্দন (Pulse), যা কবজির ধমনিতে আঙুল রাখলে টের পাওয়া যায়। শিরায় রক্তের চাপ কম থাকে বলে সেখানে এমন স্পন্দন অনুভূত হয় না।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নাড়ির স্পন্দন মিনিটে প্রায় ৭২ বার।
    ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত বহন করে নিয়ে যায়, আর শিরা রক্ত ফিরিয়ে আনে হৃৎপিণ্ডে।
  32. ৩২. কোনটি রক্তের কাজ নয়?১৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা
    • খ. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
    • গ. হরমোন বিতরণ করা
    • ঘ. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
    উত্তর: ঘ. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
    রক্ত দেহের পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম। এটি ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে খাদ্যের সারবস্তু কোষে পৌঁছে দেয়, কোষের বর্জ্য পদার্থ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুস বা বৃক্কে নিয়ে যায় এবং হরমোনও এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বয়ে নেয়। কিন্তু জারক রস বা এনজাইম পরিপাকতন্ত্রের নালির ভেতরেই কাজ করে এবং গ্রন্থি থেকে নালিপথে সরাসরি খাদ্যে মিশে যায়। রক্ত এগুলো বিতরণ করে না।
    মনে রাখুন:
    হরমোন নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে সরাসরি রক্তে মেশে।
    রক্তের অন্য কাজ রোগ প্রতিরোধ এবং দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ।
  33. ৩৩. একজন সাধারণ মানুষের দেহে মোট কত টুকরা হাড় থাকে?১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ২০৬
    • খ. ৩০৬
    • গ. ৪০৬
    • ঘ. ৫০৬
    উত্তর: ক. ২০৬
    জন্মের সময় একটি শিশুর দেহে প্রায় ৩০০টি হাড় থাকে। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অনেক হাড় একে অন্যের সঙ্গে জোড়া লেগে যায়, ফলে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে হাড়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০৬টি। মজার ব্যাপার হলো, শিশুর কিছু হাড় প্রথমে নরম তরুণাস্থি থাকে এবং পরে ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। হাড়ের এই কাঠামো দেহকে আকার দেয়, নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে এবং চলাফেরায় সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে লম্বা হাড় ফিমার, যা উরুতে থাকে।
    দেহের সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস, যা কানের ভেতরে থাকে।
    মেরুদণ্ডে কশেরুকা থাকে ৩৩টি।
  34. ৩৪. আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
    • খ. অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
    • গ. ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
    • ঘ. এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
    উত্তর: ক. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
    আমাদের দেহের প্রতিটি কোষ শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে, আর এর জন্য কোষের অক্সিজেন ও গ্লুকোজ লাগে। রক্ত এই দুটি পদার্থ সারা দেহে পৌঁছে দেয়, আর কোষ সেখান থেকে তা গ্রহণ করে। শ্বসনের ফলে তৈরি কার্বন ডাইঅক্সাইড কোষ আবার রক্তে ছেড়ে দেয়, যা ফুসফুসের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। ইউরিয়া একটি বর্জ্য পদার্থ, তাই কোষ তা রক্তে ছেড়ে দেয়, গ্রহণ করে না। এভাবে রক্ত দেহের প্রতিটি কোষকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অক্সিজেন জোগায় এবং কোষের বর্জ্য সরিয়ে নেয়।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে।
    ইউরিয়া রক্ত থেকে বৃক্কে ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।
  35. ৩৫. হৃদযন্ত্রের সংকোচন হওয়াকে বলা হয়-৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. ডায়াস্টল
    • খ. সিস্টল
    • গ. ডায়াসিস্টল
    • ঘ. উপরের কোনটিই নয়
    উত্তর: খ. সিস্টল
    হৃৎপিণ্ডের পেশি পর্যায়ক্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। সংকোচনের অবস্থাকে সিস্টোল (Systole) বলে। এ সময় নিলয় সংকুচিত হয়ে রক্তকে ধমনিতে ঠেলে দেয়। প্রসারণের অবস্থাকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে, তখন হৃৎপিণ্ড রক্তে ভরে ওঠে। ‘Diasystole’ নামে কোনো শব্দ নেই। রক্তচাপ মাপার সময় বড় মানটি সিস্টোলিক ও ছোট মানটি ডায়াস্টোলিক চাপ। সিস্টোল ও ডায়াস্টোল মিলেই আমাদের নাড়ির স্পন্দন তৈরি হয়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎপিণ্ড মিনিটে প্রায় ৭২ বার স্পন্দিত হয়।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg।
    হৃৎপিণ্ডের একবার সংকোচন ও প্রসারণ মিলে একটি হৃদচক্র (Cardiac cycle) হয়।
  36. ৩৬. মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র –২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. স্ফিগমোম্যানোমিটার
    • খ. স্টেথস্কোপ
    • গ. ইকোকার্ডিওগ্রাফ
    • ঘ. কার্ডিগ্রাফ
    উত্তর: ক. স্ফিগমোম্যানোমিটার
    মানুষের রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)। এতে হাতে একটি ফিতা জড়িয়ে বাতাস পাম্প করে রক্তনালি চেপে ধরা হয়, তারপর ধীরে ধীরে বাতাস ছেড়ে রক্তপ্রবাহের শব্দ শোনা হয়। স্টেথোস্কোপ দিয়ে শুধু হৃৎস্পন্দন ও ফুসফুসের শব্দ শোনা যায়, রক্তচাপ মাপা যায় না। ইকোকার্ডিওগ্রাফ শব্দতরঙ্গ দিয়ে হৃৎপিণ্ডের ছবি তোলে। রক্তচাপ নিয়মিত না মাপলে উচ্চ রক্তচাপের মতো নীরব রোগ অনেক সময় ধরা পড়ে না। উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
    মনে রাখুন: স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg, যেখানে বড় সংখ্যাটি সিস্টোলিক ও ছোট সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক চাপ।
  37. ৩৭. মানবদেহে লোহিত কণিকা (Red blood cell) এর আয়ুষ্কাল (life span) কতদিন?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহিত কণিকা
    • ক. ১০০ দিন
    • খ. ১২০ দিন
    • গ. ১৩০ দিন
    • ঘ. ১৮০ দিন
    উত্তর: খ. ১২০ দিন
    মানবদেহে লোহিত কণিকার (Red blood cell) আয়ু প্রায় ১২০ দিন। এরপর বুড়ো হয়ে যাওয়া কণিকা মূলত প্লীহা ও যকৃতে ভেঙে যায়। অস্থিমজ্জা তখন নতুন কণিকা তৈরি করে ঘাটতি পূরণ করে। পরিণত লোহিত কণিকার নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এটি নিজেকে মেরামত করতে পারে না এবং কিছুদিন পরই ক্ষয় হয়ে যায়। নতুন লোহিত কণিকা প্রতিদিন লাখ লাখ তৈরি হচ্ছে বলে দেহে কণিকার সংখ্যা সমান থাকে।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকার আকার দুই দিকে বসা চাকতির মতো (Biconcave)।
    প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ লক্ষ লোহিত কণিকা থাকে।
  38. ৩৮. মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অংশ?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. স্নায়ুতন্ত্র
    • খ. পরিপাকতন্ত্র
    • গ. রেচনতন্ত্র
    • ঘ. শ্বসনতন্ত্র
    উত্তর: ক. স্নায়ুতন্ত্র
    মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু মিলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central nervous system) গঠন করে। এটি সারা দেহ থেকে সংকেত গ্রহণ করে, তা বিশ্লেষণ করে এবং পেশি ও গ্রন্থিকে কী করতে হবে তার নির্দেশ পাঠায়।
    মনে রাখুন:
    করোটি বা খুলির হাড় মস্তিষ্ককে ঘিরে সুরক্ষা দেয়।
    মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর বাইরের স্নায়ুগুলো প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (Peripheral nervous system) গঠন করে।
    মস্তিষ্ক দেহের মোট ওজনের মাত্র প্রায় ২%, কিন্তু প্রায় ২০% শক্তি খরচ করে।
    স্নায়ুতন্ত্রের কাজ হলো দেহের ভেতরে ও বাইরের পরিবর্তন অনুভব করে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেওয়া। মস্তিষ্ক এ কাজের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
  39. ৩৯. ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?৩৪তম ও ২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. যকৃত (Liver)
    • খ. পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary)
    • গ. অ্যাশয় (Pancreas)
    • ঘ. থাইরয়েড গ্রন্থি
    উত্তর: গ. অ্যাশয় (Pancreas)
    ইনসুলিন নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে। অগ্ন্যাশয়ের ভেতরের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ এই হরমোন তৈরি করে। রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গেলে এই কোষ ইনসুলিন ছেড়ে দেয়। তখন গ্লুকোজ কোষে ঢুকে পড়ে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা কমে আসে। অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে থাকে এবং দেখতে লম্বাটে। ইনসুলিনের মাত্রা কমে গেলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বা বহুমূত্র রোগ বলে।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়।
    অগ্ন্যাশয় পাচক রসও তৈরি করে, যাতে ট্রিপসিন ও অ্যামাইলেজের মতো উৎসেচক থাকে।
    যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে, ইনসুলিন নয়।
  40. ৪০. ভায়াগ্রা কি?১৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. একটি জলপ্রপাত
    • খ. সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রের নাম
    • গ. নতুন জাহাজের নাম
    • ঘ. নতুন একটি ঔষধ
    উত্তর: ঘ. নতুন একটি ঔষধ
    ভায়াগ্রা (Viagra) একটি ওষুধের বাণিজ্যিক নাম, যার সক্রিয় উপাদান সিলডেনাফিল (Sildenafil)। প্রথমে এটি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য গবেষণা করা হয়েছিল। পরে দেখা যায় যে এটি পুরুষের যৌন অক্ষমতা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন দূর করতে সাহায্য করে। বিশ্বে ১৯৯৮ সালে এই ওষুধ বাজারে আসে। এই ওষুধ কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। সিলডেনাফিল ধমনির পেশি শিথিল করে রক্ত চলাচল বাড়ায়, ফলে যৌন উত্তেজনার সময় প্রয়োজনীয় রক্ত পৌঁছাতে পারে। কিছু হৃদরোগের ওষুধের সঙ্গে একসঙ্গে খেলে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভায়াগ্রা জননাঙ্গের রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
    এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ নয়।
  41. ৪১. মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের (First line of defence) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. লাইসোজাইম (Lysozyme)
    • খ. গ্যাসট্রিক জুস (Gastric Juice)
    • গ. সিলিয়া (Cilia)
    • ঘ. লিম্ফোসাইট (Lymphocyte)
    উত্তর: ঘ. লিম্ফোসাইট (Lymphocyte)
    রোগজীবাণু দেহে ঢোকার আগেই যে বাধাগুলো তাদের আটকে দেয়, সেগুলো প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ। অশ্রু ও লালায় থাকা লাইসোজাইম (Lysozyme) জীবাণুর কোষপ্রাচীর ভেঙে দেয়। পাকস্থলীর গ্যাসট্রিক রসের হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সঙ্গে আসা জীবাণু মেরে ফেলে। শ্বাসনালির সিলিয়া (Cilia) ধুলো ও জীবাণু ঠেলে বাইরে পাঠায়। কিন্তু লিম্ফোসাইট (Lymphocyte) এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা, যা দেহের ভেতরে ঢুকে পড়া নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই এটি প্রথম স্তরের অংশ নয়। ত্বক ও শ্লেষ্মা একটি দেয়ালের মতো কাজ করে, আর এই দেয়াল পেরোতে পারলে তবেই জীবাণু ভেতরের প্রতিরক্ষার মুখোমুখি হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রথম স্তরের উদাহরণ: ত্বক, শ্লেষ্মা, অশ্রু, লালা ও গ্যাসট্রিক রস।

অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৩৯২)

  1. ৪২. রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাবে মানবদেহে কোন জটিলতা সৃষ্টি হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. রাতকানা রোগ
    • খ. রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়
    • গ. জয়েন্টে ব্যথা হয়
    • ঘ. ডায়রিয়া হয়
    উত্তর: খ. রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়
    আমাদের রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) নামে একটি লাল রঞ্জক পদার্থ থাকে। এটি হিম (Haem) নামের আয়রনযুক্ত অংশ আর গ্লোবিন (Globin) নামের প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত। ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহের কোষে পৌঁছে দেওয়াই হিমোগ্লোবিনের কাজ। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে কোষগুলো প্রয়োজনমতো অক্সিজেন পায় না, ফলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া (Anaemia) দেখা দেয়। তখন মানুষ দুর্বল বোধ করে, মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে। রাতকানা ভিটামিন-এ-এর অভাবে হয়, তাই এটি সঠিক উত্তর নয়।
    মনে রাখুন:
    রক্তস্বল্পতা ঠেকাতে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন কলিজা, কচুশাক ও ডাল খাওয়া ভালো।
    পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন সাধারণত নারীর চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।
  2. ৪৩. রোগীর জন্ডিস শরীরের কোন স্থানে ভালোভাবে ফুটে ওঠে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত ও জন্ডিস
    • ক. হাতের তালু
    • খ. চোখের sclera
    • গ. চোখের Conjunctiva
    • ঘ. জিহ্বার তলদেশ
    উত্তর: খ. চোখের sclera
    জন্ডিসে রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামের হলুদ রঞ্জক পদার্থ বেড়ে যায়। যকৃৎ ঠিকমতো কাজ না করলে, কিংবা পিত্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে এটি দেহ থেকে বের হতে পারে না। তখন রোগীর ত্বক ও চোখ হলুদ দেখায়। চোখের সাদা অংশকে স্ক্লেরা (Sclera) বলে। এখানে স্বাভাবিক অবস্থায় রং সাদা থাকে, তাই বিলিরুবিনের হলুদ আভা এখানেই সবচেয়ে আগে ও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে। এ জন্য চিকিৎসকেরা জন্ডিস আছে কি না দেখতে প্রথমে রোগীর চোখের সাদা অংশ পরীক্ষা করেন। হাতের তালুতে বা জিহ্বার নিচেও হলুদ রং দেখা যায়, কিন্তু স্ক্লেরার মতো স্পষ্টভাবে নয়।
    মনে রাখুন:
    যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
    পিত্তরস যকৃতে তৈরি হয় এবং পিত্তথলিতে জমা থাকে।
  3. ৪৪. নিচের কোনটি Endocrine gland নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি
    • ক. Pituitary
    • খ. Liver
    • গ. Thyroid
    • ঘ. Adrenal
    উত্তর: খ. Liver
    দেহের যেসব গ্রন্থি নালি ছাড়াই সরাসরি রক্তে হরমোন ছেড়ে দেয়, তাদের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) বলে। পিটুইটারি, থাইরয়েড ও অ্যাড্রিনাল এ ধরনের গ্রন্থি। যকৃৎ বা লিভার (Liver) পিত্তরস তৈরি করে, আর পিত্তরস নালির মাধ্যমে পিত্তথলি হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। নালি দিয়ে রস নিঃসরণ করে বলে যকৃৎ বহিঃক্ষরা গ্রন্থি (Exocrine gland) হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণে প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে যকৃৎই অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নয়।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারিকে মাস্টার গ্রন্থি বলা হয়, কারণ এটি অন্য গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
    থাইরয়েড থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
  4. ৪৫. মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অস্থি
    • ক. ফিমার (Femur)
    • খ. টিবিয়া (Tibia)
    • গ. Humerus
    • ঘ. Ulna
    উত্তর: ক. ফিমার (Femur)
    মানবদেহে মোট ২০৬টি অস্থি আছে, আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্থি হলো ফিমার (Femur) বা ঊরুর হাড়। এটি উরুতে থাকে এবং নিতম্ব থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত। দেহের পুরো ওজন বহন করতে হয় বলে এই হাড় অত্যন্ত শক্ত ও লম্বা। টিবিয়া (Tibia) হাঁটুর নিচে পায়ের পাতার দিকের মোটা হাড়, যা বড় হলেও ফিমারের চেয়ে ছোট। হিউমেরাস (Humerus) উপরের বাহুর হাড়, আর আলনা (Ulna) সামনের বাহুর দুটি হাড়ের একটি। দুটিই ফিমারের চেয়ে অনেক ছোট।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে ছোট হাড় কানের ভেতরের স্টেপিস (Stapes)।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে হাড় ২০৬টি, আর নবজাতকের দেহে প্রায় ৩০০টি।
  5. ৪৬. লোহিত রক্ত কণিকার জীবনকাল কত দিন?জাতীয় সংসদ সচিবালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ৬০ দিন
    • খ. ৯০ দিন
    • গ. ১০০ দিন
    • ঘ. ১২০ দিন
    উত্তর: ঘ. ১২০ দিন
    আমাদের রক্তের লোহিত কণিকা (Red Blood Cell) অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। পরিণত লোহিত কণিকায় কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এটি নিজেকে ভাগ করে নতুন কোষ তৈরি করতে পারে না। কাজ করতে করতে এক সময় কণিকা জীর্ণ হয়ে যায়। সাধারণত লোহিত কণিকার জীবনকাল প্রায় ১২০ দিন, অর্থাৎ প্রায় চার মাস। জীবনকাল শেষ হলে প্লীহা ও যকৃতে এগুলো ভেঙে ফেলা হয়, আর অস্থিমজ্জা নতুন কণিকা জোগান দেয়। এ কারণে মানুষের রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা মোটামুটি স্থির থাকে।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকার প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে অক্সিজেন পরিবহন।
    শ্বেত রক্তকণিকার প্রধান কাজ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করা।
    অণুচক্রিকার কাজ রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা।
  6. ৪৭. মানবদেহে রক্তচাপ-নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম–কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. ফিগমোম্যানোমিটার
    • খ. স্টেথোস্কোপ
    • গ. ইকোকার্ডিওগ্রাফ
    • ঘ. কার্ডিওগ্রাম
    উত্তর: ক. ফিগমোম্যানোমিটার
    হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করার সময় ধমনির দেয়ালে যে চাপ পড়ে, তাকে রক্তচাপ (Blood Pressure) বলে। এই চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)। এতে হাতের বাহুতে একটি রবারের ফিতে জড়ানো হয় এবং বাতাস পাম্প করে চাপ দেওয়া হয়। তারপর ধীরে ধীরে চাপ ছেড়ে দিয়ে রক্তচাপ পড়া হয়। অন্য যন্ত্রগুলোর কাজ আলাদা। স্টেথোস্কোপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ শোনা হয়, ইকোকার্ডিওগ্রাফি দিয়ে হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ দেখা হয়, আর কার্ডিওগ্রাম হৃৎপিণ্ডের বিদ্যুৎ-সংকেতের রেকর্ড।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg, প্রথমটি সিস্টোলিক ও দ্বিতীয়টি ডায়াস্টোলিক চাপ।
    ই.সি.জি. (ECG) হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কাজ রেকর্ড করে।
  7. ৪৮. যে মানুষের রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে না তাকে কী বলে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. গ্রুপ A
    • খ. গ্রুপ B
    • গ. গ্রুপ AB
    • ঘ. গ্রুপ O
    উত্তর: ঘ. গ্রুপ O
    লোহিত রক্তকণিকার গায়ের ওপর A ও B নামের দুই ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। এই অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি অনুযায়ী মানুষের রক্তকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যার রক্তে শুধু A অ্যান্টিজেন থাকে তাঁর রক্তগ্রুপ A, শুধু B থাকলে গ্রুপ B, আর দুটিই থাকলে গ্রুপ AB। যাঁর কণিকায় এর কোনোটিই থাকে না, তাঁর রক্তগ্রুপ O। O গ্রুপের রক্তের কণিকায় অ্যান্টিজেন না থাকায় এটি অন্য গ্রুপের রোগীকে দিলে সাধারণত সমস্যা হয় না। এ কারণে O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal donor) বলে।
    মনে রাখুন:
    ১৯০১ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্তের ABO গ্রুপ আবিষ্কার করেন।
    AB গ্রুপের রক্তে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই একে সর্বজনীন গ্রহীতা বলে।
    রক্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো আরএইচ (Rh)।
  8. ৪৯. রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের নাম–স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্বাস্থ্য পরিমাপক যন্ত্র
    • ক. হাইড্রোমিটার
    • খ. ওডোমিটার
    • গ. পালস ম্যানোমিটার
    • ঘ. পালস অক্সিমিটার
    উত্তর: ঘ. পালস অক্সিমিটার
    আঙুলের ডগায় লাগিয়ে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্রটির নাম পালস অক্সিমিটার (Pulse Oximeter)। এটি আঙুলের ভেতর দিয়ে আলো পাঠিয়ে বোঝে যে রক্তের হিমোগ্লোবিন কতটা অক্সিজেন বহন করছে, সেই হিসাবকে অক্সিজেন সম্পৃক্ততা (SpO₂) বলে। সুস্থ মানুষের এই মান সাধারণত ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই যন্ত্র ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠে। ছোট এই যন্ত্র একই সঙ্গে নাড়ির স্পন্দনও দেখায়। অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোমিটার তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব মাপে।
    ওডোমিটার যানবাহনের অতিক্রান্ত দূরত্ব মাপে।
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগমোম্যানোমিটার।
  9. ৫০. ইনসুলিন মানবদেহের কোন অংশ হতে নিঃসৃত হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. যকৃত
    • খ. অগ্ন্যাশয়
    • গ. পাকস্থলি
    • ঘ. ক্ষুদ্রান্ত্র
    উত্তর: খ. অগ্ন্যাশয়
    আমাদের পাকস্থলীর পেছনে অগ্ন্যাশয় (Pancreas) নামে একটি গ্রন্থি আছে। এর ভেতরে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামে একদল বিশেষ কোষ থাকে, যেখানে ইনসুলিন হরমোন তৈরি হয়। এর বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন ও আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলাইটাস হয়। এজন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থিও বলা হয়, কারণ এটি হরমোনের পাশাপাশি পরিপাকরসও ক্ষরণ করে।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট (১৯২১ সাল)।
    গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, ইনসুলিনের কাজের উল্টো।
  10. ৫১. কোনটি মানবদেহের জন্য ভাল কোলেস্টেরল?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ ও নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. HDL
    • খ. VLDL
    • গ. LDL
    • ঘ. TG
    উত্তর: ক. HDL
    কোলেস্টেরল চর্বিজাতীয় পদার্থ, যা রক্তে লাইপোপ্রোটিন নামের বাহকের সঙ্গে চলাচল করে। এর মধ্যে HDL (High Density Lipoprotein) রক্ত ও ধমনির দেয়াল থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যেখানে তা পিত্তরসের মাধ্যমে বের করে দেওয়া হয়। তাই এর মাত্রা বেশি থাকা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং একে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। অন্যদিকে LDL ও VLDL ধমনির গায়ে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে ও রক্তনালি সরু করে দেয়, তাই এদের খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    TG-এর পূর্ণরূপ ট্রাইগ্লিসারাইড, রক্তের আরেক ধরনের চর্বি।
    ডিম, মাংস ও ঘিয়ের মতো প্রাণিজ খাবারে কোলেস্টেরল থাকে, উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকে না।
  11. ৫২. কোন রস শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক
    • ক. টায়লিন
    • খ. পেপসিন
    • গ. গ্যাস্ট্রিক রস
    • ঘ. অগ্ন্যাশয় রস
    উত্তর: ঘ. অগ্ন্যাশয় রস
    আমাদের খাদ্যের তিনটি প্রধান উপাদান শর্করা, আমিষ ও স্নেহ। অগ্ন্যাশয় রসে এই তিনটির জন্যই এনজাইম আছে: অ্যামাইলেজ শর্করাকে, ট্রিপসিন আমিষকে এবং লাইপেজ স্নেহকে ভেঙে ছোট অণুতে পরিণত করে। তাই অগ্ন্যাশয় রস একাই শর্করা ও আমিষ, দুটোই পরিপাক করে। টায়ালিন লালারসের এনজাইম, যা শুধু শ্বেতসার ভাঙে। পেপসিন ও গ্যাস্ট্রিক রস পাকস্থলীতে মূলত আমিষ পরিপাক করে। অগ্ন্যাশয় রস ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ গ্রহণী (Duodenum)তে এসে পড়ে এবং সেখানে খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাকের কাজ শুরু করে দেয়।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয় রস ক্ষারীয়, পাকস্থলীর রস অম্লীয়।
    পিত্তরস স্নেহকে ক্ষুদ্র কণায় ভাঙতে সাহায্য করে, কিন্তু নিজে এনজাইম নয়।
  12. ৫৩. রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন ও রক্ত
    • ক. CO
    • খ. CO₂
    • গ. CH₄
    • ঘ. Cl₂
    উত্তর: ক. CO
    আমাদের রক্তের লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে সারা শরীরে অক্সিজেন বয়ে নেয়। কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি শক্তভাবে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। ফলে রক্ত অক্সিজেন বহন করতে পারে না এবং শরীরের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে অচল হয়ে পড়ে। এই কারণেই বদ্ধ ঘরে কয়লার চুলা জ্বালিয়ে ঘুমালে মানুষ মারা যেতে পারে। এজন্য কয়লা, কাঠ বা গ্যাস জ্বালানোর সময় ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল রাখা খুব জরুরি।
    মনে রাখুন:
    CO বর্ণহীন ও গন্ধহীন এবং খুব বিষাক্ত গ্যাস।
    অসম্পূর্ণ দহনের ফলে CO তৈরি হয়।
  13. ৫৪. বৃক্কের একক হলো–পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৃক্ক
    • ক. নিউরন
    • খ. নেফ্রন
    • গ. পেসমেকার
    • ঘ. হেমোটোসাইট
    উত্তর: খ. নেফ্রন
    কিডনি বা বৃক্ক আমাদের রক্ত ছেঁকে বর্জ্য আলাদা করে প্রস্রাব তৈরি করে। এর গঠন ও কাজের একক হলো নেফ্রন (Nephron)। প্রতিটি নেফ্রনে একটি ছাঁকনির মতো গঠন (গ্লোমেরুলাস) এবং একটি সরু নালি থাকে। প্রত্যেক বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ নেফ্রন থাকে। নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক। পেসমেকার হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের তাল ঠিক রাখে, আর হেমাটোসাইট রক্তকোষের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দ।
    মনে রাখুন:
    দুটি বৃক্ক থাকে, শিমের বীজের মতো দেখতে।
    বৃক্ক অকেজো হয়ে গেলে ডায়ালাইসিস বা বৃক্ক প্রতিস্থাপন করা হয়।
    প্রস্রাবের প্রধান বর্জ্য ইউরিয়া।
  14. ৫৫. রক্তচাপ মাপার জন্য কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. স্ফিগমোম্যানোমিটার
    • খ. থার্মোমিটার
    • গ. ম্যানোমিটার
    • ঘ. ব্যারোমিটার
    উত্তর: ক. স্ফিগমোম্যানোমিটার
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)। বাহুতে একটি কাপড়ের ব্যান্ড জড়িয়ে তাতে বাতাস ভরা হয় এবং পারদ বা ডায়ালের সাহায্যে চাপ পড়া হয়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg, যার প্রথম সংখ্যা সিস্টোলিক, দ্বিতীয়টি ডায়াস্টোলিক চাপ। থার্মোমিটার শরীরের তাপমাত্রা মাপে, ম্যানোমিটার বদ্ধ গ্যাসের চাপ মাপে, আর ব্যারোমিটার বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপে। রক্তচাপ বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে তাই আগেভাগেই সমস্যা ধরা যায়।
    মনে রাখুন:
    সিস্টোলিক চাপ হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ।
    ডায়াস্টোলিক চাপ হৃৎপিণ্ড প্রসারিত হওয়ার সময়ের চাপ।
  15. ৫৬. মানবদেহের রক্তে মূলত কত ধরনের কোষ থাকে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ৮ ধরনের
    • খ. ৩ ধরনের
    • গ. ২ ধরনের
    • ঘ. ১ ধরনের
    উত্তর: খ. ৩ ধরনের
    মানুষের রক্ত তরল রক্তরসের মধ্যে ভাসমান তিন ধরনের কোষ বা কণিকা নিয়ে গঠিত। লোহিত রক্তকণিকা (RBC) হিমোগ্লোবিন ধারণ করে অক্সিজেন বহন করে, শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে এবং অণুচক্রিকা (Platelet) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। রক্তরসের বেশির ভাগই পানি, তাতে নানা লবণ, প্রোটিন ও হরমোন মিশে থাকে। রক্তরস ও কণিকা মিলে রক্ত গঠিত হয়, আর রক্তকে একটি তরল যোজক কলা বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে রক্ত থাকে আনুমানিক ৫-৬ লিটার।
    অণুচক্রিকা আসলে পূর্ণাঙ্গ কোষ নয়, কোষের টুকরো।
  16. ৫৭. নিচের কোন হরমোনের অভাবে Diabetes mellitus হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. গ্লুকাগন
    • খ. কর্টিসল
    • গ. ইনসুলিন
    • ঘ. ইস্ট্রোজেন
    উত্তর: গ. ইনসুলিন
    অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে এবং বাড়তি গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমায়। ইনসুলিনের অভাব বা কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজ জমে বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস মেলাইটাস (Diabetes Mellitus) হয়। এর লক্ষণ হলো বারবার পিপাসা, বেশি প্রস্রাব, ক্ষুধা, ওজন কমে যাওয়া ও ক্ষত দেরিতে সারা। গ্লুকাগন বরং রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, ইস্ট্রোজেন নারী হরমোন, আর কর্টিসল অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির হরমোন।
    মনে রাখুন:
    ডায়াবেটিস দুই ধরনের: টাইপ-১ (ইনসুলিন তৈরি হয় না) ও টাইপ-২ (শরীর ইনসুলিনে সাড়া দেয় না)।
    ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস।
  17. ৫৮. মানবদেহে সবচেয়ে লম্বা Bone কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হাড়
    • ক. TIBIA
    • খ. FIBULA
    • গ. FEMUR
    • ঘ. HUMERUS
    উত্তর: গ. FEMUR
    মানবদেহের সবচেয়ে লম্বা ও সবচেয়ে মজবুত হাড় হলো উরুর হাড়, যার নাম ফিমার (Femur)। এটি নিতম্ব থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং আমাদের শরীরের ভার বহন করে। টিবিয়া হলো পায়ের নিচের অংশের মোটা হাড়, ফিবুলা তার পাশের সরু হাড়, আর হিউমেরাস উপরের বাহুর হাড়। এগুলো সবই ফিমারের চেয়ে ছোট। শরীরের সবচেয়ে ছোট হাড় কানের ভেতরে থাকে।
    মনে রাখুন:
    কানের স্টেপিস হাড়টি দেহের ক্ষুদ্রতম হাড়।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট হাড় থাকে ২০৬টি।
    শিশুদের হাড়ের সংখ্যা বেশি, কারণ অনেক হাড় বড় হওয়ার সময় জুড়ে যায়।
  18. ৫৯. মানবদেহে Largest Artery কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধমনি
    • ক. CAROTID
    • খ. AORTA
    • গ. FEMORAL
    • ঘ. RENAL
    উত্তর: খ. AORTA
    যে রক্তনালি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত শরীরের দিকে নিয়ে যায়, তাকে ধমনি (Artery) বলে। হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয় থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত যে সবচেয়ে মোটা ধমনিতে বেরিয়ে আসে, তার নাম মহাধমনি বা এওর্টা (Aorta)। এখান থেকে শাখা-প্রশাখা বেরিয়ে সারা দেহে রক্ত পৌঁছে দেয়। ক্যারোটিড ধমনি মাথা ও গলায় রক্ত নিয়ে যায়, ফিমোরাল ধমনি উরুতে এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। এরা সবাই এওর্টার শাখা।
    মনে রাখুন:
    ধমনির দেয়াল পুরু ও স্থিতিস্থাপক।
    ফুসফুসীয় ধমনি একমাত্র ধমনি যা অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে।
    দেহের সবচেয়ে বড় শিরা ভেনা কাভা।
  19. ৬০. Red blood cell-এর Life span কত দিন?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ৮০ দিন
    • খ. ৯০ দিন
    • গ. ১১০ দিন
    • ঘ. ১২০ দিন
    উত্তর: ঘ. ১২০ দিন
    লোহিত রক্তকণিকা (RBC) অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং প্রায় ১২০ দিন রক্তে থাকে। এরপর পুরোনো কণিকাগুলো প্লীহা ও যকৃতে ভেঙে যায়, তাই প্লীহাকে লোহিত কণিকার কবরস্থান বলা হয়। ভাঙা কণিকার হিমোগ্লোবিন থেকে আয়রন আবার নতুন কণিকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে শ্বেত রক্তকণিকা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ বাঁচে, আর অণুচক্রিকার আয়ু প্রায় ৫ থেকে ৯ দিন।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকার সংখ্যা পুরুষে প্রায় ৫০ লক্ষ প্রতি ঘন মিলিমিটারে, নারীতে কিছুটা কম।
    প্রাপ্তবয়স্কের লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
    হিমোগ্লোবিনের কারণে রক্ত লাল।
  20. ৬১. স্বাভাবিক Pulse rate কোনটি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাড়ির স্পন্দন
    • ক. প্রতি মিনিটে ৬৪ বার
    • খ. প্রতি মিনিটে ৭২ বার
    • গ. প্রতি মিনিটে ৮৮ বার
    • ঘ. প্রতি মিনিটে ৯৪ বার
    উত্তর: খ. প্রতি মিনিটে ৭২ বার
    হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি সংকোচনে ধমনির দেয়ালে যে ঢেউ ওঠে, তাকে নাড়ির স্পন্দন বা পালস (Pulse) বলে। কবজির কাছে আঙুল রেখে একে গুনে দেখা যায়। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক পালস রেট প্রতি মিনিটে গড়ে ৭২ বার, সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে। শিশুদের হৃৎস্পন্দন তুলনায় বেশি হয়, আর দৌড়ানো বা উত্তেজনার সময়ও তা বেড়ে যায়। ঘুমন্ত বা বিশ্রামে থাকা মানুষের পালস কিছুটা কমে। ব্যায়ামে প্রশিক্ষিত ক্রীড়াবিদদের বিশ্রামকালীন পালস রেট প্রায়ই কম হয়, কারণ তাঁদের হৃৎপিণ্ড প্রতিটি স্পন্দনে বেশি রক্ত পাম্প করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    হৃৎস্পন্দন গণনার যন্ত্রের নাম স্টেথোস্কোপ।
    শিশুর পালস রেট প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০-১২০।
  21. ৬২. মানুষের দেহে হাড়ের সংখ্যা–পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হাড়
    • ক. ১৩৮
    • খ. ২০৬
    • গ. ৩০৬
    • ঘ. ৪০৬
    উত্তর: খ. ২০৬
    একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহকাঠামোতে মোট ২০৬টি হাড় থাকে। নবজাতক শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, প্রায় ৩০০টি। শিশু বড় হওয়ার সময় এদের কিছু কিছু হাড় পরস্পর জুড়ে যায়, যেমন মাথার খুলির হাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের দিকের হাড়। ফলে শেষ পর্যন্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ২০৬। শিশুর শুরুর দিকের হাড়ের একটি বড় অংশ নরম তরুণাস্থি, যা পরে শক্ত হাড়ে পরিণত হয়।
    মনে রাখুন:
    মানুষের মেরুদণ্ডে কশেরুকা ৩৩টি।
    দেহের সবচেয়ে বড় হাড় ফিমার, যা উরুতে থাকে।
    সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস, যা কানের ভেতরে থাকে।
  22. ৬৩. মানুষের মুখে কর্তন দন্ত কয়টি?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. ৪টি
    • খ. ৬টি
    • গ. ৮টি
    • ঘ. ১০টি
    উত্তর: গ. ৮টি
    মানুষের মুখে চার ধরনের দাঁত থাকে। প্রতিটি দাঁতের গড়ন ও কাজ আলাদা। সামনের দিকে যে সমতল ও ধারালো দাঁতগুলো খাবার কেটে নেয়, সেগুলো কর্তন দাঁত (Incisor)। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উপরের চোয়ালে ৪টি ও নিচের চোয়ালে ৪টি, মোট ৮টি কর্তন দাঁত থাকে। কর্তনের পাশে থাকে চোখা ছেদন দাঁত, যা খাবার ছিঁড়তে সাহায্য করে। এর সংখ্যা ৪। তারপর অগ্রপেষণ দাঁত ৮টি এবং পেষণ দাঁত ১২টি, এগুলো খাবার চিবিয়ে গুঁড়ো করে। সব মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্কের দাঁত ৩২টি।
    মনে রাখুন:
    দাঁতের সংখ্যা ৮ + ৪ + ৮ + ১২ = ৩২।
    শিশুর দুধের দাঁত ২০টি।
    দাঁতের বাইরের আবরণ এনামেল, যা দেহের সবচেয়ে শক্ত অংশ।
  23. ৬৪. কোন রক্ত গ্রুপকে 'সর্বজনীন' দাতা বলা হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. ও পজিটিভ
    • খ. বি পজিটিভ
    • গ. এ পজিটিভ
    • ঘ. এবি পজিটিভ
    উত্তর: ক. ও পজিটিভ
    রক্তের গ্রুপ ঠিক হয় লোহিত কণিকার ওপর অ্যান্টিজেন আছে কি না, তার ওপর। O গ্রুপের রক্তে এ ও বি দুই অ্যান্টিজেনই অনুপস্থিত। এ কারণে এই রক্ত গ্রহণ করলে অন্য গ্রুপের রোগীর দেহে সাধারণত প্রতিক্রিয়া হয় না, আর O গ্রুপকে তাই সর্বজনীন দাতা (Universal donor) বলা হয়। সবচেয়ে নিরাপদ ধরা হয় O নেগেটিভ রক্ত, কারণ তাতে আরএইচ ফ্যাক্টরও নেই। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে O গ্রুপের একমাত্র বিকল্প হলো O পজিটিভ। অন্যদিকে AB গ্রুপ সবার রক্ত নিতে পারে, তাই সে সর্বজনীন গ্রহীতা।
    মনে রাখুন:
    সর্বজনীন দাতা: O গ্রুপ।
    সর্বজনীন গ্রহীতা: AB গ্রুপ।
    রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
  24. ৬৫. ইনসুলিন কোথায় উৎপন্ন হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. পিত্তাশয়ে
    • খ. পাকস্থলীতে
    • গ. ইন্টারফেরনে
    • ঘ. অগ্ন্যাশয়ে
    উত্তর: ঘ. অগ্ন্যাশয়ে
    ইনসুলিন (Insulin) একটি হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসের ভেতরে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামে কিছু কোষগুচ্ছ আছে। এদের বিটা (β) কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ নিয়ে যকৃত ও পেশিকোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে, ফলে রক্তের শর্করা কমে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়। পিত্তাশয় পিত্ত জমা রাখে এবং পাকস্থলী খাদ্য হজম করে, এরা ইনসুলিন তৈরি করে না।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট (১৯২১)।
    আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়, যা রক্তের গ্লুকোজ বাড়ায়।
  25. ৬৬. পাকস্থলীতে কোন এসিড উৎপন্ন হয়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক
    • ক. HClO
    • খ. HClO₄
    • গ. HCl
    • ঘ. HNO₃
    উত্তর: গ. HCl
    আমাদের পাকস্থলীর দেয়ালে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নামে অনেক ছোট গ্রন্থি আছে। এর মধ্যে প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (Hydrochloric acid, HCl) নিঃসৃত হয়। এই এসিড খাদ্যের সঙ্গে আসা বহু জীবাণু মেরে ফেলে। এটি পেপসিন নামের এনজাইমকে সক্রিয় করে তোলে, যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। পাকস্থলীর ভেতরের পরিবেশ তাই বেশ অম্লীয়, pH মান প্রায় ১.৫ থেকে ৩.৫। দেয়ালকে এসিড থেকে বাঁচাতে একই সঙ্গে শ্লেষ্মা নিঃসৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীতে মূলত প্রোটিন হজমের শুরু হয়।
    মুখের লালায় টায়ালিন বা অ্যামাইলেজ থাকে, যা শর্করা হজম শুরু করে।
    বেশি এসিড তৈরি হলে অম্লতা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।
  26. ৬৭. Which hormone among the followings is responsible for delivery pain?ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Estrogen
    • খ. Thyroxin
    • গ. Oxytocin
    • ঘ. Progesterone
    উত্তর: গ. Oxytocin
    অক্সিটোসিন (Oxytocin) মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ খণ্ড থেকে নির্গত হয়। সন্তান প্রসবের সময় এই হরমোন জরায়ুর পেশিকে সংকুচিত করে। এই সংকোচনের ফলেই প্রসববেদনা হয় এবং শিশু বের হয়ে আসতে সাহায্য পায়। বাকি তিনটি হরমোন ভিন্ন কাজ করে: ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন নারীদেহের প্রজননতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে, আর থাইরক্সিন বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রসব আসন্ন হলে চিকিৎসকরা প্রয়োজনে কৃত্রিম অক্সিটোসিন দিয়ে প্রসবব্যথা শুরু করান, একে ইনডাকশন বলে।
    মনে রাখুন:
    অক্সিটোসিন সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর সময় স্তন থেকে দুধ নিঃসরণেও সাহায্য করে।
    থাইরক্সিন নির্গত হয় থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে।
    প্রজেস্টেরন গর্ভাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  27. ৬৮. যে রক্তনালীর মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয় তাকে বলে–বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. শিরা
    • খ. ধমনী
    • গ. কৈশিক জালিকা
    • ঘ. উপশিরা
    উত্তর: খ. ধমনী
    আমাদের দেহে রক্ত চলাচলের জন্য তিন রকম রক্তনালী আছে: ধমনী, শিরা ও কৈশিকনালী। যে নালী হৃৎপিণ্ড থেকে রক্তকে দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায়, তাকে ধমনী (Artery) বলে। ধমনির দেয়াল পুরু ও স্থিতিস্থাপক, কারণ হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত প্রবল চাপে বেরিয়ে আসে। এর বিপরীতে শিরা (Vein) দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। আর কৈশিকজালিকা ধমনী ও শিরার মাঝখানে অবস্থিত অতি সরু নালীর জাল।
    মনে রাখুন:
    ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনি অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে ফুসফুসে নেয়, আর ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফেরায়।
    দেহের বৃহত্তম ধমনি মহাধমনি বা অ্যাওর্টা।
  28. ৬৯. নিচের কোনটি এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড নয়?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি
    • ক. পিটুইটারি গ্রন্থি
    • খ. সেকাম
    • গ. এড্রিনাল মেডুলা
    • ঘ. প্যানক্রিয়াস
    উত্তর: খ. সেকাম
    এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এমন গ্রন্থি, যার কোনো নালী নেই। এরা হরমোন সরাসরি রক্তে ছেড়ে দেয়। পিটুইটারি, অ্যাড্রিনাল মেডুলা ও অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) হরমোন তৈরি করে, তাই এগুলো এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি। সিকাম (Caecum) আসলে কোনো গ্রন্থিই নয়। এটি বৃহদন্ত্রের প্রথম অংশ, যেখানে ক্ষুদ্রান্ত্র এসে মিশেছে। বৃহদন্ত্রের তিন অংশ হলো সিকাম, কোলন ও মলাশয়।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারিকে বলা হয় 'মাস্টার গ্ল্যান্ড'।
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে এন্ডোক্রাইন ও এক্সোক্রাইন গ্রন্থি, কারণ এটি ইনসুলিন ছাড়াও পরিপাক রস তৈরি করে।
    অ্যাড্রিনাল মেডুলা অ্যাড্রিনালিন নিঃসরণ করে।
  29. ৭০. পাকস্থলীতে খাবারের কোন উপাদান হজম হয় না?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হজম
    • ক. শর্করা
    • খ. আমিষ
    • গ. চর্বি
    • ঘ. ক ও গ
    উত্তর: ঘ. ক ও গ
    আমাদের খাদ্য পরিপাক হয় এনজাইমের কাজে। পাকস্থলীতে পেপসিন নামের এনজাইম আমিষকে ভাঙে। কিন্তু শর্করা ভাঙার এনজাইম পাকস্থলীতে নেই। লালার অ্যামাইলেজ কিছুটা কাজ করলেও পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে তা অচল হয়ে যায়। তাই শর্করার পরিপাক পাকস্থলীতে হয় না। স্নেহ বা চর্বির পরিপাকও মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে হয়, কারণ সেখানে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়ের লাইপেজ থাকে। কাজেই শর্করা ও চর্বি দুটিই পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীতে আমিষ পরিপাক হয় পেপসিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাহায্যে।
    খাদ্য পরিপাকের প্রধান স্থান ক্ষুদ্রান্ত্র।
    পাকস্থলীর HCl খাদ্যের সঙ্গে আসা জীবাণু মারে।
  30. ৭১. কোন হরমোনের জন্য প্রসব বেদনা হয়?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Estrogen
    • খ. Thyroxin
    • গ. Oxytocin
    • ঘ. Progesterone
    উত্তর: গ. Oxytocin
    অক্সিটোসিন (Oxytocin) পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ খণ্ড থেকে নির্গত হয়। এই হরমোনের প্রভাবে জরায়ুর পেশি ছন্দে ছন্দে সংকুচিত হয়, আর এই সংকোচনই প্রসবের বেদনা তৈরি করে ও শিশুকে বাইরে আসতে সাহায্য করে। প্রসবের পরে এটি স্তন থেকে দুধ নির্গমনেও সাহায্য করে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন প্রজননতন্ত্রের অন্য কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, আর থাইরক্সিন বিপাক হার ঠিক রাখে। গর্ভবতী নারীর জরায়ু এই হরমোনের প্রতি প্রসবের শেষ দিকে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, ফলে ব্যথা ক্রমে বাড়ে ও প্রসব ত্বরান্বিত হয়।
    মনে রাখুন:
    অক্সিটোসিনকে 'প্রেমের হরমোন'ও বলা হয়।
    থাইরক্সিন তৈরি হয় থাইরয়েড গ্রন্থিতে।
    প্রোল্যাকটিন হরমোন দুধ তৈরি করে।
  31. ৭২. মানুষের ত্বকে গঠনগতভাবে কয়টি স্তর রয়েছে?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. তিনটি
    • খ. চারটি
    • গ. পাঁচটি
    • ঘ. ছয়টি
    উত্তর: ক. তিনটি
    মানুষের ত্বক গঠনগতভাবে তিনটি স্তরে বিভক্ত। সবচেয়ে বাইরের স্তর এপিডার্মিস (Epidermis), যা পাতলা ও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রথম বাধা। এর নিচে ডার্মিস (Dermis), যেখানে ঘর্মগ্রন্থি, তৈলগ্রন্থি, রক্তনালী ও স্নায়ুপ্রান্ত থাকে। সবচেয়ে ভেতরের স্তর হাইপোডার্মিস (Hypodermis) বা চর্বিযুক্ত স্তর, যা তাপ ধরে রাখে ও আঘাত থেকে দেহকে বাঁচায়। ত্বকের নিচের এই স্তরগুলো মিলেই আমাদের শরীরকে সংক্রমণ, আঘাত ও পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। কেউ কেউ হাইপোডার্মিসকে আলাদা স্তর না ধরে ডার্মিসের নিচের কলা বলেন, তবে প্রচলিত পাঠ্যে তিনটি স্তরই ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ত্বক মানুষের দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ।
    ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে মেলানিন নামের রঞ্জক, যা এপিডার্মিসে তৈরি হয়।
    ঘাম বের হয়ে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  32. ৭৩. রক্তের তরল অংশের নাম কী?শিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপসহকারী প্রকৌশলী (ড্রাফটসম্যান), ২০২২ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ ও নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. সিরাম
    • খ. প্লাজমা
    • গ. লোহিত কণিকা
    • ঘ. অনুচক্রিকা
    উত্তর: খ. প্লাজমা
    রক্ত দুটি প্রধান অংশে গঠিত: তরল অংশ রক্তরস বা প্লাজমা (Plasma) এবং কঠিন অংশ রক্তকণিকা। প্লাজমা হালকা হলুদ রঙের তরল, যার প্রায় ৯০-৯২ ভাগই পানি। এতে খাদ্যসার, হরমোন, লবণ ও বর্জ্যপদার্থ গোলা থাকে এবং এটি সেগুলো দেহের বিভিন্ন জায়গায় বয়ে নিয়ে যায়। লোহিত কণিকা ও অণুচক্রিকা রক্তকণিকার অংশ, তরল নয়। সিরাম আর প্লাজমা এক জিনিস নয়, প্লাজমা থেকে রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন ফাইব্রিনোজেন বাদ দিলে সিরাম পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    রক্তকণিকা তিন প্রকার: লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে।
    লোহিত কণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়।
  33. ৭৪. মানবদেহে কোন অঙ্গটির সাথে পোর্টাল শিরা যুক্ত আছে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পোর্টাল শিরা
    • ক. চোখ
    • খ. মস্তিষ্ক
    • গ. যকৃত
    • ঘ. কিডনি
    উত্তর: গ. যকৃত
    পোর্টাল শিরা (Portal Vein) পাকস্থলী, অন্ত্র ও প্লীহা থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে যকৃতে নিয়ে যায়। সেখানে যকৃত খাদ্যসার প্রক্রিয়া করে এবং ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে ফেলে। যকৃত দুই পথে রক্ত পায়। একটি পোর্টাল শিরা, যা প্রায় ৭৫% রক্ত আনে। অন্যটি হেপাটিক ধমনী, যা বাকি প্রায় ২৫% অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে। এ কারণে চোখ, মস্তিষ্ক বা কিডনির সঙ্গে পোর্টাল শিরার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    যকৃত মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি।
    যকৃত পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি হজমে সাহায্য করে।
    গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে যকৃতে জমা থাকে।
  34. ৭৫. কোন গ্রন্থিকে গ্রন্থির রাজা বলা হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি
    • ক. এড্রেনাল
    • খ. থাইরয়েড
    • গ. পিটুইটারী
    • ঘ. থাইমাস
    উত্তর: গ. পিটুইটারী
    পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland) মস্তিষ্কের নিচের দিকে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি। আকার ছোট হলেও এটি অনেক হরমোন তৈরি করে। আর এসব হরমোন আবার থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল ও জননগ্রন্থির মতো অন্য গ্রন্থিগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণে পিটুইটারিকে প্রধান গ্রন্থি বা গ্রন্থির রাজা (Master Gland) বলা হয়। এর আকার মটরদানার মতো, আর ওজন প্রায় ০.৫ গ্রাম।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারি বৃদ্ধি হরমোন (GH) নিঃসরণ করে। এর অভাবে বামনত্ব ও আধিক্যে অতিকায়ত্ব দেখা দেয়।
    থাইরয়েড থাইরক্সিন নিঃসরণ করে, যা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
    অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অ্যাড্রেনালিন তৈরি করে।
  35. ৭৬. আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হজম
    • ক. টায়ালিন
    • খ. লাইপেজ
    • গ. এমাইলেজ
    • ঘ. ট্রিপসিন
    উত্তর: ঘ. ট্রিপসিন
    আমিষ বা প্রোটিন হজমের জন্য বিশেষ এনজাইম লাগে। অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন (Trypsin) নামে একটি এনজাইম থাকে। এটি প্রথমে নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন হিসেবে তৈরি হয়, পরে ক্ষুদ্রান্ত্রে এন্টারোকাইনেজের প্রভাবে সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিণত হয়। তখন এটি প্রোটিন ও পেপটোনকে ভেঙে ছোট পেপটাইড ও অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত করে। টায়ালিন বা লালার অ্যামাইলেজ এবং অগ্ন্যাশয়ের অ্যামাইলেজ শর্করা হজম করে। লাইপেজ করে চর্বি হজম।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীতে পেপসিন প্রোটিন হজম শুরু করে।
    শিশুদের পাকস্থলীতে রেনিন দুধের প্রোটিন জমাট বাঁধায়।
    সব এনজাইমের মধ্যে অগ্ন্যাশয় রস সবচেয়ে সমৃদ্ধ হজম রস।
  36. ৭৭. মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অস্থি
    • ক. ফিমার
    • খ. টিবিয়া
    • গ. স্টেপস
    • ঘ. রেডিয়াম
    উত্তর: ক. ফিমার
    মানবদেহের সবচেয়ে বড়, লম্বা ও শক্তিশালী অস্থি হলো ফিমার (Femur), যাকে উরুর হাড় বলা হয়। এটি কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত। দেহের ভার সামলাতে এই হাড়ের মজবুত গড়ন কাজে লাগে। টিবিয়া হলো পায়ের নিচের অংশের হাড়, রেডিয়াস হাতের হাড়, আর স্টেপস (রেকাব) কানের ভেতরের হাড়। স্টেপস দেহের সবচেয়ে ছোট হাড়। ফিমার এত শক্ত যে এটি ভাঙতে অনেক বেশি বলের দরকার হয়। এর মাথাটি গোলাকার এবং নিতম্বের হাড়ের সঙ্গে বল-সকেট সন্ধি গঠন করে, যার ফলে পা সব দিকে ঘোরানো যায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে।
    নবজাতক শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা প্রায় ৩০০।
    কানের তিনটি হাড়: ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপস।
  37. ৭৮. মানুষের মস্তিষ্কের করোটি স্নায়ু সংখ্যা কত?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ১০ জোড়া
    • খ. ১২ জোড়া
    • গ. ১৫ জোড়া
    • ঘ. ৮ জোড়া
    উত্তর: খ. ১২ জোড়া
    মস্তিষ্ক থেকে যে স্নায়ুগুলো জোড়ায় জোড়ায় বের হয়ে করোটির ছিদ্রপথ দিয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, তাদের করোটিক স্নায়ু (Cranial Nerve) বলে। মানুষের মস্তিষ্ক থেকে এরকম ১২ জোড়া স্নায়ু বের হয়। কাজের ধরন অনুসারে এদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সংবেদী স্নায়ু, চেষ্টীয় স্নায়ু ও মিশ্র স্নায়ু। চোখ, নাক, কান ও জিহ্বা থেকে সংবেদন মস্তিষ্কে পাঠানো এদেরই কাজ।
    মনে রাখুন:
    মেরুরজ্জু থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু বের হয়।
    দৃষ্টি স্নায়ু ও ঘ্রাণ স্নায়ু সংবেদী স্নায়ুর উদাহরণ।
    ভেগাস স্নায়ু মিশ্র স্নায়ু এবং এটি দীর্ঘতম করোটিক স্নায়ু।
  38. ৭৯. শতভাগ (১০০%) বিশুদ্ধ অক্সিজেন শরীরের জন্য—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
    • ক. ক্ষতিকর
    • খ. উপকারী
    • গ. ক্ষতিকর নয়
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. ক্ষতিকর
    বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২১%। দেহ এই মাত্রার অক্সিজেনে অভ্যস্ত। শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন বেশি সময় ধরে নিলে ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ অতিরিক্ত অক্সিজেনে মুক্ত র‍্যাডিক্যাল তৈরি হয়ে কোষের ক্ষতি করে। একে অক্সিজেনের বিষক্রিয়া (Oxygen Toxicity) বলে। এ কারণে চিকিৎসায় রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী মাপা পরিমাণে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তাছাড়া অক্সিজেন দহনে সাহায্য করে বলে বিশুদ্ধ অক্সিজেনে আগুন ধরার ঝুঁকিও অনেক বেশি।
    মনে রাখুন:
    বাতাসে নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮% ও অক্সিজেন প্রায় ২১%।
    অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, কিন্তু অন্য বস্তুর জ্বলতে সাহায্য করে।
  39. ৮০. কোনটি রক্তে অক্সিজেন পরিবহণ ক্ষমতা খর্ব করে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. নাইট্রিক অক্সাইড
    • খ. সালফার ডাই-অক্সাইড
    • গ. কার্বন মনোক্সাইড
    • ঘ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    উত্তর: গ. কার্বন মনোক্সাইড
    কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি বিষাক্ত, বর্ণহীন ও গন্ধহীন গ্যাস। জ্বালানি অসম্পূর্ণ পুড়লে এটি তৈরি হয়। এই গ্যাস লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি দ্রুত যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। ফলে হিমোগ্লোবিন আর অক্সিজেন বহন করতে পারে না এবং দেহকোষ অক্সিজেন-সংকটে পড়ে। বেশি মাত্রায় নিলে মানুষ অজ্ঞান হয় ও মৃত্যুও ঘটতে পারে। বদ্ধ ঘরে কয়লা বা চুলার আগুন জ্বালিয়ে ঘুমানো বিপজ্জনক হওয়ার এটিই কারণ।
    মনে রাখুন:
    CO বর্ণ ও গন্ধহীন বলে একে নীরব ঘাতক বলা হয়।
    CO₂ রক্তে বাইকার্বনেট হিসেবে বেশি পরিবাহিত হয়।
  40. ৮১. খাদ্য হজম প্রক্রিয়া শুরু হয়—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হজম
    • ক. পাকস্থলীতে
    • খ. ক্ষুদ্রান্ত্রে
    • গ. মুখগহ্বরে
    • ঘ. বৃহদান্ত্রে
    উত্তর: গ. মুখগহ্বরে
    খাদ্য হজম শুরু হয় মুখগহ্বরেই। আমরা খাবার চিবানোর সময় দাঁত দিয়ে তা ছোট ছোট টুকরো করি, একে যান্ত্রিক হজম বলে। একই সঙ্গে লালাগ্রন্থি থেকে লালা মিশে যায়। লালায় টায়ালিন (লালার অ্যামাইলেজ) নামে একটি এনজাইম থাকে, যা শ্বেতসার বা স্টার্চকে ভেঙে মল্টোজ নামে শর্করা বানায়। তাই রাসায়নিক হজমও মুখগহ্বর থেকে শুরু হয়। পরে খাদ্য পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে আরও হজম হয়, আর ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যসার শোষিত হয়।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীতে প্রোটিন হজম শুরু হয়।
    ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম সম্পন্ন ও শোষণ হয়।
    বৃহদান্ত্রে পানি শোষিত হয়।
  41. ৮২. কোনটি রক্তের কাজ নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. অক্সিজেন বিতরণ করা
    • খ. হরমোন বিতরণ করা
    • গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহণ করা
    • ঘ. জারক রস বিতরণ করা
    উত্তর: ঘ. জারক রস বিতরণ করা
    রক্ত দেহের পরিবহণ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম। এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে কোষে পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে খাদ্যসার, হরমোন ও বর্জ্য পদার্থ বহন করে, তাপ ছড়িয়ে দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ করে। কিন্তু জারক রস (পাচক রস) রক্তের মাধ্যমে বিতরণ করা হয় না। এই রস লালাগ্রন্থি, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের মতো গ্রন্থি থেকে সরাসরি নালির মাধ্যমে পৌষ্টিকনালিতে আসে।
    মনে রাখুন:
    রক্ত জমাট বাঁধা, অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা রক্তের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার।
  42. ৮৩. কোন রক্তকণিকা দেহে এন্টিবডি তৈরি করে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. নিউট্রোফিল
    • খ. বেসোফিল
    • গ. ইওসিনোফিল
    • ঘ. লিম্ফোসাইট
    উত্তর: ঘ. লিম্ফোসাইট
    রক্তের শ্বেতকণিকার একটি প্রকার লিম্ফোসাইট (Lymphocyte)। এদের মধ্যে বি-লিম্ফোসাইট জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, আর টি-লিম্ফোসাইট সরাসরি আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করে। লিম্ফোসাইট তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জা, লসিকাগ্রন্থি ও প্লীহায়। তাই অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ এদের। নিউট্রোফিল জীবাণু গিলে ফেলে। ইওসিনোফিল অ্যালার্জি ও পরজীবীর বিরুদ্ধে কাজ করে। বেসোফিল হিস্টামিন নিঃসরণ করে। মানবদেহে এন্টিবডি তৈরির কাজ শুরু হয় জীবাণু বা বহিরাগত পদার্থ, অর্থাৎ অ্যান্টিজেন ঢোকার পর। একবার তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি মনে রাখার কোষগুলো পরেও থাকে, তাই দ্বিতীয়বার আক্রমণে দেহ আরও দ্রুত সাড়া দেয়।
    মনে রাখুন:
    শ্বেতকণিকার প্রধান কাজ রোগ প্রতিরোধ।
    লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন বহন করে।
    অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় সাহায্য করে।
  43. ৮৪. নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. ধমনীর ভিতর
    • খ. শিরার ভিতর
    • গ. স্নায়ুর ভিতর
    • ঘ. নাসিকা নালীর ভিতর
    উত্তর: ক. ধমনীর ভিতর
    হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হয়ে ধমনীতে রক্ত ঠেলে দেওয়ার সময় ধমনীর দেয়াল প্রসারিত ও সংকুচিত হয়ে একটি ঢেউ তৈরি করে। এই ঢেউ ধমনীর ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং কবজি বা গলার কাছে হাত দিলে আমরা অনুভব করি। একে নাড়ীর স্পন্দন বা পালস (Pulse) বলে। ধমনীর দেয়াল পুরু ও স্থিতিস্থাপক, তাই ঢেউ তাতে স্পষ্ট হয়। শিরার দেয়াল পাতলা এবং শিরায় রক্তের চাপ কম, ফলে সেখানে পালস স্পষ্ট বোঝা যায় না।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের নাড়ীর স্পন্দন মিনিটে প্রায় ৭২ বার।
    সাধারণত কবজিতে রেডিয়াল ধমনীতে নাড়ী দেখা হয়।
  44. ৮৫. বৃহদান্ত্রের অংশ কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হজম
    • ক. ডিওডেনাম
    • খ. জেজুনাম
    • গ. এপেনডিক্স
    • ঘ. ইলিয়াম
    উত্তর: গ. এপেনডিক্স
    মানুষের পৌষ্টিকনালির শেষ দিকের মোটা অংশ হলো বৃহদান্ত্র। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৫ মিটার এবং এর তিনটি অংশ আছে: সিকাম, কোলন ও রেকটাম। সিকামের নিচের দিকে একটি ছোট আঙুলের মতো নলাকার অংশ থাকে, একে অ্যাপেনডিক্স (Appendix) বলে। তাই অ্যাপেনডিক্স বৃহদান্ত্রের অংশ। ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম এই তিনটি অংশ নিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্র গঠিত। অ্যাপেনডিক্সের কোনো গুরুত্বপূর্ণ হজম-কাজ নেই। এটি মানুষের দেহের একটি অবশেষী অঙ্গ বলে ধরা হয়, তবে এতে সংক্রমণ হলে অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ক্ষুদ্রান্ত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ থেকে ৭ মিটার।
    ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যসার শোষিত হয়।
    অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ হলে অ্যাপেনডিসাইটিস রোগ হয়।
  45. ৮৬. মানুষের শরীরে সবচেয়ে বৃহৎ গ্রন্থি কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি
    • ক. বৃক্ক
    • খ. পিটুইটারি
    • গ. যকৃত
    • ঘ. থাইরয়েড
    উত্তর: গ. যকৃত
    মানুষের দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত বা লিভার (Liver)। এটি পেটের ডান দিকে, মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে থাকে। যকৃত পিত্তরস তৈরি করে, আর এই রস চর্বি হজমে সাহায্য করে। এছাড়া যকৃত দেহের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলে এবং বাড়তি গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। যকৃত নষ্ট হয়ে গেলে এসব কাজ ব্যাহত হয়, তাই একে দেহের রাসায়নিক কারখানা বলা হয়। যকৃতের কোষ নষ্ট হলেও নতুন কোষ তৈরি হয়ে একে অনেকটা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে, এটি যকৃতের একটি মজার বৈশিষ্ট্য।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্কের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫ কেজি।
    দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ত্বক।
    সবচেয়ে বড় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থাইরয়েড।
  46. ৮৭. কোন উপাদানের ঘাটতির কারণে ডায়াবেটিস রোগ হয়?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইনসুলিন ও ডায়াবেটিস
    • ক. বিলিরুবিন
    • খ. মেলানিন
    • গ. ইনসুলিন
    • ঘ. হিমোগ্লোবিন
    উত্তর: গ. ইনসুলিন
    আমাদের অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামে কোষগুচ্ছের বিটা কোষ ইনসুলিন (Insulin) হরমোন তৈরি করে। এই হরমোন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা কাজ না করলে গ্লুকোজ রক্তেই থেকে যায় এবং মূত্রের সঙ্গে বের হয়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে। অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ গ্লুকাগন নামে আরেকটি হরমোন তৈরি করে, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়।
    মনে রাখুন: বিলিরুবিন পিত্তের রঞ্জক, মেলানিন ত্বকের রঙ ঠিক করে, আর হিমোগ্লোবিন রক্তে অক্সিজেন বহন করে।
    ডায়াবেটিসের লক্ষণ হলো বারবার প্রস্রাব, অতিরিক্ত পিপাসা ও ক্ষুধা।
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ব্যান্টিং ও বেস্ট, ১৯২১ সালে।
  47. ৮৮. দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি কোনটি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ
    • ক. অগ্ন্যাশয়
    • খ. আক্কেল গ্রন্থি
    • গ. যকৃৎ
    • ঘ. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
    উত্তর: গ. যকৃৎ
    যকৃৎ বা লিভার (Liver) আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এটি পাকস্থলীর ওপরের দিকে, মধ্যচ্ছদার নিচে ডান পাশে থাকে। এর কাজের মধ্যে পিত্তরস তৈরি, বিষাক্ত পদার্থ ভেঙে ফেলা এবং গ্লুকোজ সঞ্চয় করা উল্লেখযোগ্য। অগ্ন্যাশয় একটি গ্রন্থি হলেও আকারে যকৃতের চেয়ে ছোট। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় দেড় কেজি।
    মনে রাখুন: দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ত্বক, আর সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ।
    যকৃতের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিজে থেকে কিছুটা পুনরায় গড়ে উঠতে পারে।
    যকৃত যে পিত্তরস তৈরি করে, তা জমা থাকে পিত্তথলিতে।
    যকৃতের আরেকটি কাজ রক্তে মিশে থাকা অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় বদলানো।
  48. ৮৯. মানুষের হৃৎপিণ্ডে মোট কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ), ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই), ২০১৮ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রোগ্রামার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. ৪টি
    • খ. ৬টি
    • গ. ৩টি
    • ঘ. ২টি
    উত্তর: ক. ৪টি
    মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠে (Chamber) ভাগ করা। ওপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের দুটিকে নিলয় (Ventricle) বলে। ডান অলিন্দ শরীর থেকে অশুদ্ধ রক্ত নেয়, আর বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত পায়। বাম নিলয় সেই রক্ত পাম্প করে সারা শরীরে পাঠায়, তাই এর দেয়াল সবচেয়ে পুরু।
    মনে রাখুন: মাছের হৃৎপিণ্ডে ২টি, উভচর ও অধিকাংশ সরীসৃপে ৩টি এবং পাখি ও স্তন্যপায়ীতে ৪টি প্রকোষ্ঠ থাকে।
    অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝে কপাটিকা থাকে, যা রক্তকে উল্টো পথে যেতে দেয় না।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ড মিনিটে গড়ে প্রায় ৭২ বার স্পন্দিত হয়।
  49. ৯০. মানুষের শরীরে হাড়ের সংখ্যা কত?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অস্থি
    • ক. ১০৬টি
    • খ. ২০৬টি
    • গ. ১৯৩টি
    • ঘ. ২০৪টি
    উত্তর: খ. ২০৬টি
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে। তবে নবজাতক শিশুর হাড়ের সংখ্যা বেশি, প্রায় ৩০০। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছোট হাড় জোড়া লেগে এক হয়ে যায়, ফলে সংখ্যা কমে ২০৬ হয়। মানুষের মেরুদণ্ড, বুকের খাঁচা ও খুলিসহ সব হাড় মিলে কঙ্কাল (Skeleton) গঠন করে।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে বড় হাড় ফিমার, যা উরুতে থাকে।
    সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপস, যা কানে থাকে।
    মেরুদণ্ডে কশেরুকা থাকে ৩৩টি।
    কঙ্কাল দেহকে আকার দেয়, ভেতরের কোমল অঙ্গ রক্ষা করে এবং পেশির সঙ্গে মিলে দেহকে চলতে সাহায্য করে।
    হাড়ের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেট।
  50. ৯১. মানুষের রক্তের গ্রুপ কয়টি?প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. ৫
    • খ. ৪
    • গ. ৩
    • ঘ. ৬
    উত্তর: খ. ৪
    মানুষের লোহিত রক্তকণিকার গায়ে অ্যান্টিজেন (Antigen) নামে এক ধরনের প্রোটিন থাকে। A অ্যান্টিজেন, B অ্যান্টিজেন, দুটিই, অথবা একটিও না, এই চারটি সম্ভাবনা থেকে রক্তের চারটি গ্রুপ পাওয়া যায়: A, B, AB ও O। এই শ্রেণিবিভাগ করেছিলেন বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০১ সালে। এর বাইরে আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টর থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি গ্রুপকে পজিটিভ ও নেগেটিভ ভাগ করা হয়।
    মনে রাখুন:
    সার্বজনীন দাতা: O নেগেটিভ গ্রুপ।
    সার্বজনীন গ্রহীতা: AB পজিটিভ গ্রুপ।
    Rh ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন ল্যান্ডস্টেইনার ও ওয়াইনার, ১৯৪০ সালে।
    রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারের জন্য কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
  51. ৯২. The word 'neuron' is related to —কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুকোষ
    • ক. brain
    • খ. stomach
    • গ. kidney
    • ঘ. heart
    উত্তর: ক. brain
    Neuron বা স্নায়ুকোষ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের মূল একক। এই কোষগুলো মস্তিষ্ক (brain), মেরুদণ্ড ও সারা শরীরের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান করে। তাই Neuron-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক মস্তিষ্কের। পাকস্থলী, কিডনি বা হৃৎপিণ্ডের মূল একক আলাদা কোষ বা গঠন, সেগুলোকে neuron দিয়ে চেনানো হয় না।
    মনে রাখুন:
    নিউরনের তিনটি অংশ: কোষদেহ, ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন।
    মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন আছে বলে ধরা হয়।
    দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপ্স (Synapse) বলে।
    নিউরনের লম্বা শাখা অ্যাক্সন বার্তা বহন করে নিয়ে যায়।
    নিউরনের ছোট ছোট শাখা ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে সংকেত গ্রহণ করে।
  52. ৯৩. রক্তশূন্যতা বলতে কী বোঝায়?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. রক্তে হিমোগ্লোবিন হ্রাস পাওয়া
    • খ. রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
    • গ. রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া
    • ঘ. রক্তে অণুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
    উত্তর: ক. রক্তে হিমোগ্লোবিন হ্রাস পাওয়া
    রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া (Anaemia) হলো রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া। হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকায় থাকে এবং ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে সারা দেহে পৌঁছায়। এর অভাব হলে শরীর দুর্বল লাগে, মুখ ফ্যাকাশে হয় ও হাঁপ ধরে। আয়রনের অভাব এর একটি সাধারণ কারণ, তাই কচুশাক, কলিজা ও ডালের মতো আয়রনসমৃদ্ধ খাবার এই রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    অণুচক্রিকা (Platelet) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ।
    পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মান নারীর চেয়ে সামান্য বেশি থাকে।
    অ্যানিমিয়া হলে খাবারে প্রোটিন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন সি রাখাও জরুরি।
  53. ৯৪. রক্তের গ্রুপ কয়টি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ), ২০১৯ ও নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. ৫টি
    • খ. ২টি
    • গ. ৪টি
    • ঘ. ৬টি
    উত্তর: গ. ৪টি
    মানুষের রক্তকে লোহিত কণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্তরসে থাকা অ্যান্টিবডির (Antibody) ভিত্তিতে ৪টি প্রধান গ্রুপে ভাগ করা হয়। এই চারটি গ্রুপ হলো A, B, AB ও O। ১৯০১ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এই ABO রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের ফলে নিরাপদে রক্ত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    O গ্রুপের রক্ত প্রায় সবাইকে দেওয়া যায়, তাই একে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।
    AB গ্রুপের মানুষ সব গ্রুপের রক্ত নিতে পারেন, তাই তাঁদের সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
    আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টরের কারণে প্রতিটি গ্রুপ আবার পজিটিভ ও নেগেটিভ হয়।
  54. ৯৫. মানবদেহে পানির পরিমাণ শতকরা কত ভাগ?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের পানি
    • ক. ৫০%
    • খ. ৬০%
    • গ. ৭০%
    • ঘ. ৮০%
    উত্তর: খ. ৬০%
    মানবদেহের ওজনের একটি বড় অংশ পানি। পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে এর পরিমাণ গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ। শিশুদের শরীরে পানির অনুপাত আরও বেশি থাকে। পানি রক্ত ও কোষে বিভিন্ন পুষ্টি পরিবহনে এবং দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ঘামের মাধ্যমে দেহ থেকে পানি বের হয়ে গেলে আমরা গরম থেকে স্বস্তি পাই, এভাবেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয়।
    মনে রাখুন:
    একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত।
    রক্তরসের (Plasma) প্রায় ৯০ ভাগই পানি।
    দেহে পানির অভাব হলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হয়।
  55. ৯৬. নিচের কোনটি বিভিন্ন Organ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তসংবহন
    • ক. Veins
    • খ. Arteries
    • গ. Nerves
    • ঘ. Lungs
    উত্তর: ক. Veins
    আমাদের দেহে রক্ত চলাচলের নল দুই রকম। ধমনি (Artery) হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গে নিয়ে যায়, আর শিরা (Vein) অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। তাই প্রশ্নের কাজটি শিরার। স্নায়ু (Nerve) রক্ত নয়, সংকেত বহন করে, আর ফুসফুস শ্বাসপ্রশ্বাসের অঙ্গ।
    মনে রাখুন:
    ফুসফুসীয় ধমনিতে অশুদ্ধ রক্ত থাকে এবং ফুসফুসীয় শিরায় শুদ্ধ রক্ত থাকে। এটি সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম।
    ধমনির দেয়াল পুরু ও স্থিতিস্থাপক, শিরার দেয়াল তুলনায় পাতলা এবং শিরায় রক্তের উল্টো প্রবাহ ঠেকানোর জন্য কপাটিকা (Valve) থাকে।
    দেহের সবচেয়ে বড় ধমনি মহাধমনি (Aorta)।
  56. ৯৭. Phagocytosis প্রক্রিয়াটি সাধিত হয় কোথায়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. Eosinophil
    • খ. Platelet
    • গ. Neutrophil
    • ঘ. Red blood cell
    উত্তর: গ. Neutrophil
    দেহে জীবাণু ঢুকলে কিছু শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে গ্রাস করে হজম করে ফেলে। এই প্রক্রিয়ার নাম ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis)। দেহের প্রধান ফ্যাগোসাইট হলো নিউট্রোফিল, কারণ সংক্রমণের জায়গায় সবার আগে এটিই পৌঁছায়। লোহিত কণিকা অক্সিজেন বহন করে এবং অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, তাই এ দুটি এই কাজ করে না।
    মনে রাখুন:
    নিউট্রোফিলের পাশাপাশি মনোসাইটও ফ্যাগোসাইটোসিস করে। মনোসাইট কলার ভেতরে গিয়ে ম্যাক্রোফেজ নামে বড় ফ্যাগোসাইটে পরিণত হয়।
    ইওসিনোফিল অ্যালার্জি ও পরজীবী সংক্রমণের সময় সক্রিয় হয়, আর লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে।
    ফ্যাগোসাইটোসিস আবিষ্কার করেন রুশ বিজ্ঞানী ইলিয়া মেচনিকভ।
  57. ৯৮. নিচের কোনটি Milk ejection reflex করে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Oxytocin
    • খ. Estrogen
    • গ. Progesterone
    • ঘ. Thyroxin
    উত্তর: ক. Oxytocin
    শিশু যখন মায়ের স্তনে মুখ লাগিয়ে চোষে, তখন সেই স্পর্শের সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এতে পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎ খণ্ড থেকে অক্সিটোসিন (Oxytocin) হরমোন নিঃসৃত হয় এবং স্তনের দুধ বের হয়ে আসে। একে Milk ejection reflex বা দুধ নির্গমন প্রতিবর্ত বলে। অন্যদিকে দুধ তৈরি হওয়ার কাজটি করে প্রোল্যাকটিন হরমোন। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন মূলত গর্ভাবস্থা ও স্তনের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত, আর থাইরক্সিন বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
    মনে রাখুন:
    অক্সিটোসিন প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচনেও সাহায্য করে।
    প্রোল্যাকটিন নিঃসৃত হয় পিটুইটারির অগ্র খণ্ড থেকে।
  58. ৯৯. Heart প্রকোষ্ঠ কয়টি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. চারটি
    • খ. তিনটি
    • গ. পাঁচটি
    • ঘ. ছয়টি
    উত্তর: ক. চারটি
    মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart) ভেতরে চারটি প্রকোষ্ঠে ভাগ করা। ওপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে ডান ও বাম অলিন্দ (Atrium) বলে, আর নিচের দুটিকে ডান ও বাম নিলয় (Ventricle) বলে। অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে, আর নিলয় রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে পাঠিয়ে দেয়। ডান দিকে অশুদ্ধ রক্ত এবং বাম দিকে শুদ্ধ রক্ত থাকে, দুই দিকের রক্ত মেশে না।
    মনে রাখুন:
    মাছের হৃৎপিণ্ডে ২টি, উভচরের ৩টি এবং সরীসৃপের (কুমির বাদে) ৩টি প্রকোষ্ঠ থাকে।
    কুমির, পাখি ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ থাকে।
    ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝখানের কপাটিকা ট্রাইকাসপিড, আর বাম দিকেরটি বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা।
  59. ১০০. মানব শরীরে সর্বমোট vertebra'র সংখ্যা হলো—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কাল
    • ক. ৩৬টি
    • খ. ৩২টি
    • গ. ৩৯টি
    • ঘ. ৩৩টি
    উত্তর: ঘ. ৩৩টি
    মানুষের মেরুদণ্ড মোট ৩৩টি কশেরুকা (Vertebra) দিয়ে গঠিত। এগুলো ৫টি অঞ্চলে ভাগ করা: গ্রীবা অঞ্চলে ৭টি, বক্ষ অঞ্চলে ১২টি, কটি অঞ্চলে ৫টি, ত্রিকাস্থিতে ৫টি এবং অনুত্রিকে ৪টি। সব মিলিয়ে ৭ + ১২ + ৫ + ৫ + ৪ = ৩৩।
    মনে রাখুন:
    ত্রিকাস্থির ৫টি এবং অনুত্রিকের ৪টি কশেরুকা জোড়া লেগে যায়। তাই বয়স্ক মানুষের মেরুদণ্ডে আলাদা কশেরুকা থাকে ২৬টি।
    গ্রীবা অঞ্চলের প্রথম দুটি কশেরুকার নাম অ্যাটলাস ও অ্যাক্সিস।
    জিরাফের ঘাড় এত লম্বা হলেও তার গ্রীবা কশেরুকা মানুষের মতো ৭টিই।
  60. ১০১. নিচের কোন এসিড পাকস্থলিতে (Stomach) থাকে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. Hydrochloric acid
    • খ. Acetic acid
    • গ. Formic acid
    • ঘ. Sulphuric-acid
    উত্তর: ক. Hydrochloric acid
    আমাদের পাকস্থলীর (Stomach) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। এই রসে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) থাকে। এই এসিড খাবারের সঙ্গে আসা জীবাণু মেরে ফেলে এবং পেপসিন এনজাইমের কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। এতে পাকস্থলীর ভেতরের পরিবেশ বেশ অম্লীয় হয়, pH প্রায় ১ থেকে ২।
    মনে রাখুন:
    লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড, ভিনেগারে অ্যাসিটিক এসিড এবং পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
    পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙে ছোট অংশে পরিণত করে।
    পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে শ্লেষ্মা (Mucus) থাকে, যা এসিডের ক্ষতি থেকে দেয়ালকে রক্ষা করে।
    পাকস্থলীতে প্রোটিন হজম শুরু হয়, আর কার্বোহাইড্রেট হজম শুরু হয় মুখে।
  61. ১০২. মস্তিষ্ক (Brain) আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য যে হাড় আবরণ তৈরি করে তার নাম কী?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কাল
    • ক. Sternum
    • খ. Cranium
    • গ. Clavicle
    • ঘ. Pelvis
    উত্তর: খ. Cranium
    খুলির যে হাড় মস্তিষ্ককে ঘিরে রেখে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তাকে ক্র্যানিয়াম (Cranium) বা করোটি বলে। এটি অনেকগুলো চ্যাপ্টা হাড় জোড়া লেগে তৈরি একটি শক্ত খোলের মতো, তাই ভেতরের কোমল মস্তিষ্ক সহজে আঘাত পায় না। স্টার্নাম হলো বুকের মাঝখানের হাড়, ক্ল্যাভিকল হলো কণ্ঠার হাড় এবং পেলভিস হলো কটিদেশের হাড়।
    মনে রাখুন:
    করোটি ৮টি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত।
    মুখমণ্ডলের হাড় ১৪টি, আর মাথার খুলি মোট ২২টি হাড় দিয়ে তৈরি।
    মস্তিষ্ক তিন স্তরের পর্দা দিয়েও আবৃত থাকে, যাকে মেনিনজেস (Meninges) বলে।
    করোটির হাড়গুলো সিউচার নামের অনড় জোড়ায় যুক্ত থাকে, তাই এগুলো নড়ে না।
  62. ১০৩. যে হরমোনের ঘাটতির জন্য ডায়াবেটিস হয় তা হলো—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Glucagon
    • খ. Thyroxin
    • গ. Insulin
    • ঘ. Prolactin
    উত্তর: গ. Insulin
    অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন (Insulin) হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজ জমে যায় এবং ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ দেখা দেয়। গ্লুকাগন বরং রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, আর প্রোল্যাকটিন দুধ তৈরিতে কাজ করে। এভাবে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন একসঙ্গে রক্তের শর্করা স্বাভাবিক রাখে।
    মনে রাখুন:
    থাইরক্সিন বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ করে। আয়োডিনের অভাবে থাইরক্সিন কম তৈরি হলে গলগণ্ড হতে পারে।
    ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ের ল্যাঙ্গারহ্যান্স দ্বীপপুঞ্জে।
    ১৯২১ সালে ব্যান্টিং ও বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।
    ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস।
    ইনসুলিন ইনজেকশন হিসেবে দিতে হয়, কারণ মুখে খেলে পাকস্থলীর এনজাইম একে ভেঙে ফেলে।
  63. ১০৪. রক্তে Platelet এর কাজ কী?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. O₂ পরিবহণ
    • খ. সংক্রমণ প্রতিরোধ
    • গ. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
    • ঘ. রক্তের pH এর পরিমাণ নির্ধারণ করা
    উত্তর: গ. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
    অণুচক্রিকা (Platelet) রক্তের একটি ক্ষুদ্র উপাদান। শরীর কেটে গেলে অণুচক্রিকা ক্ষতস্থানে জমা হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এতে রক্তপাত বন্ধ হয়। অক্সিজেন বহন করা লোহিত কণিকার কাজ, আর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা শ্বেত কণিকার কাজ।
    মনে রাখুন:
    অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে গেলে রক্তপাত সহজে থামে না। ডেঙ্গু জ্বরে এ কারণেই অণুচক্রিকার সংখ্যা দেখা হয়।
    অণুচক্রিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং এর আয়ু প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন।
    রক্ত জমাট বাঁধার সময় দ্রবণীয় ফাইব্রিনোজেন অদ্রবণীয় ফাইব্রিনে পরিণত হয়।
    ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  64. ১০৫. নিচের কোনটি মূত্রতন্ত্রের অংশ নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মূত্রতন্ত্র
    • ক. Ureter
    • খ. Kidney
    • গ. Appendix
    • ঘ. Urethra
    উত্তর: গ. Appendix
    মূত্রতন্ত্র (Urinary system) রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং তা দেহ থেকে বের করে দেয়। এই তন্ত্রে থাকে কিডনি (Kidney), ইউরেটার, মূত্রথলি ও ইউরেথ্রা। অ্যাপেন্ডিক্স হলো বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট থলি, যা পরিপাকতন্ত্রের অংশ, তাই এটি মূত্রতন্ত্রে পড়ে না। কিডনি রক্ত পরিশোধন করে আমাদের দেহের পানি ও লবণের ভারসাম্যও ঠিক রাখে।
    মনে রাখুন:
    ইউরেটার কিডনি থেকে মূত্রথলিতে মূত্র নিয়ে যায়, আর ইউরেথ্রা মূত্রথলি থেকে দেহের বাইরে বের করে।
    কিডনির কার্যকরী একক নেফ্রন (Nephron)।
    মানুষের দুটি কিডনি থাকে।
    অ্যাপেন্ডিক্স একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ, যা প্রদাহ হলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগ হয়।
  65. ১০৬. রক্তে হিমোগ্লোবিন হলো একটি—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. Fat
    • খ. Antigen
    • গ. Platelet
    • ঘ. Protein
    উত্তর: ঘ. Protein
    হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকায় থাকে। এর ভেতরে আছে হিম নামের লোহাযুক্ত রঞ্জক এবং গ্লোবিন নামের প্রোটিন, তাই হিমোগ্লোবিন একটি প্রোটিন। এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহের কোষে পৌঁছে দেয় এবং রক্তকে লাল রং দেয়। ফেরার পথে এটি কিছু কার্বন ডাইঅক্সাইডও ফুসফুসে বয়ে আনে।
    মনে রাখুন:
    হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন প্রয়োজন, তাই আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা হতে পারে।
    হিমোগ্লোবিন কার্বন মনোক্সাইডের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে অনেক সহজে যুক্ত হয়, তাই এই গ্যাস বিষাক্ত।
    স্তন্যপায়ীর পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
    হিমোগ্লোবিনের একটি অণুতে চারটি হিম গ্রুপ থাকে, তাই এক অণু চারটি অক্সিজেন অণু বহন করতে পারে।
  66. ১০৭. নিচের কোনটি শ্বাসতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বাসতন্ত্র
    • ক. Pharynx
    • খ. Trachea
    • গ. Maxilla
    • ঘ. Bronchus
    উত্তর: গ. Maxilla
    শ্বাসতন্ত্র নাক থেকে ফুসফুস পর্যন্ত বাতাস চলাচলের পথ তৈরি করে। এর অংশ হলো নাক, ফ্যারিংক্স (গলনালি), ট্রাকিয়া (শ্বাসনালি), ব্রঙ্কাস ও ফুসফুস। ম্যাক্সিলা হলো উপরের চোয়ালের হাড়, যা কঙ্কালতন্ত্রের অংশ, তাই এটি শ্বাসতন্ত্রের মধ্যে পড়ে না। ফুসফুসের ভেতরে ক্ষুদ্র বায়ুথলি থাকে, যেখানে রক্ত ও বাতাসের মধ্যে গ্যাসের আদান-প্রদান ঘটে।
    মনে রাখুন:
    ডান ফুসফুসে ৩টি ও বাম ফুসফুসে ২টি খণ্ড থাকে।
    বাম ফুসফুস ছোট, কারণ বাম দিকে হৃৎপিণ্ডের জন্য জায়গা রাখতে হয়।
    শ্বাসনালি কার্টিলেজের আংটি দিয়ে গঠিত, তাই এটি সবসময় খোলা থাকে।
    ম্যাক্সিলা ছাড়াও ম্যান্ডিবল (নিচের চোয়াল) কঙ্কালতন্ত্রের অংশ।
  67. ১০৮. Heart এর বাইরের আবরণকে বলে—।নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. Pleura
    • খ. Pericardium
    • গ. Peritoneum
    • ঘ. Mucosa
    উত্তর: খ. Pericardium
    হৃৎপিণ্ডের বাইরের দিকে দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা আবরণ থাকে, যার নাম পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium)। এটি হৃৎপিণ্ডকে আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং ভেতরের তরল স্পন্দনের সময় ঘর্ষণ কমায়। প্লুরা ফুসফুসের আবরণ, পেরিটোনিয়াম পেটের গহ্বরের আবরণ, আর মিউকোসা হলো শ্লেষ্মাস্তর। এভাবে প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব আবরণ আছে।
    মনে রাখুন:
    হৃৎপিণ্ডের দেয়ালের তিনটি স্তর: এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
    মস্তিষ্কের আবরণ মেনিনজেস।
    হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ আছে।
    পেরিকার্ডিয়াম দুই স্তরের মাঝের স্থানে সামান্য তরল ধরে রাখে, যা আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়। হৃৎপিণ্ড বুকের মাঝখানে কিছুটা বাম দিকে হেলে থাকে এবং এর ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম।
  68. ১০৯. বুকের মাঝখানের হাড়ের নাম হলো—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কাল
    • ক. Sternum
    • খ. Ileum
    • গ. Cranium
    • ঘ. Humerous
    উত্তর: ক. Sternum
    বুকের মাঝখানের লম্বাটে চ্যাপ্টা হাড়টির নাম স্টার্নাম (Sternum) বা বক্ষাস্থি। এটি বুকের পাঁজরগুলোকে সামনের দিকে যুক্ত করে এবং হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে রক্ষা করে। ক্র্যানিয়াম খুলির হাড়, আর হিউমেরাস বাহুর হাড়। বিকল্পের Ileum আসলে ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশ, আর কটিদেশের হাড়ের অংশটির বানান Ilium। পাঁজর, স্টার্নাম ও মেরুদণ্ড মিলে বুকের খাঁচা তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    ক্ল্যাভিকল বা কণ্ঠাস্থি বুকের ওপরের দিকে আড়াআড়িভাবে থাকে।
    মানুষের পাঁজরের হাড় ১২ জোড়া, অর্থাৎ ২৪টি।
    উরুর হাড় ফিমার (Femur) দেহের সবচেয়ে বড় ও শক্ত হাড়।
    স্টার্নামের তিনটি অংশ হলো ম্যানুব্রিয়াম, বডি ও জিফয়েড প্রসেস।
  69. ১১০. Larynx কোন তন্ত্রের অংশ?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বাসতন্ত্র
    • ক. পরিপাকতন্ত্র
    • খ. শ্বাসতন্ত্র
    • গ. স্নায়ুতন্ত্র
    • ঘ. রেচনতন্ত্র
    উত্তর: খ. শ্বাসতন্ত্র
    ল্যারিংক্স (Larynx) বা স্বরযন্ত্র শ্বাসতন্ত্রের অংশ। এটি গলনালি ও শ্বাসনালির মাঝখানে থাকে। বাতাস এর ভেতর দিয়ে ফুসফুসে যায় এবং এখানকার স্বররজ্জু কাঁপলে শব্দ তৈরি হয়। তাই এটি পরিপাক, স্নায়ু বা রেচনতন্ত্রের অংশ নয়। স্বররজ্জু টান টান থাকলে সুর চড়া হয়, আর শিথিল থাকলে সুর খাদে নামে।
    মনে রাখুন:
    নাক থেকে ফুসফুসে বাতাসের পথ: নাক, ফ্যারিংক্স, ল্যারিংক্স, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ফুসফুস।
    ল্যারিংক্সের মুখে এপিগ্লটিস নামের ঢাকনা থাকে, যা খাবার গিলতে গেলে শ্বাসনালির মুখ বন্ধ করে দেয়।
    গলার সামনের উঁচু অংশকে অনেকে অ্যাডামস অ্যাপল বলে, এটি ল্যারিংক্সের অংশ।
  70. ১১১. Red blood cell-এর life span হলো—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ১০০ দিন
    • খ. ১২০ দিন
    • গ. ১৩০ দিন
    • ঘ. ১৮০ দিন
    উত্তর: খ. ১২০ দিন
    লোহিত রক্তকণিকা (Red blood cell) অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং প্রায় ১২০ দিন বেঁচে থাকে। এরপর প্লীহা ও যকৃতে এগুলো ভেঙে যায়, তাই প্লীহাকে রক্তকণিকার কবরখানা বলা হয়। পুরোনো কণিকা ভেঙে গেলে তার আয়রন আবার নতুন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে কাজে লাগে, ফলে শরীরের উপাদান নষ্ট হয় না।
    মনে রাখুন:
    শ্বেত রক্তকণিকার আয়ু কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস।
    অণুচক্রিকার আয়ু প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন।
    লোহিত কণিকা তৈরিতে কিডনি থেকে নিঃসৃত ইরিথ্রোপয়েটিন হরমোন সাহায্য করে।
    লোহিত কণিকার আকার গোলাকার, দুই পাশ চাপা ও কেন্দ্রস্থলে গর্তযুক্ত।
    পরিণত লোহিত কণিকায় কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এর আয়ু সীমিত।
  71. ১১২. ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় কোন হরমোনের প্রভাবে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. অ্যাড্রেনালিন
    • খ. ইনসুলিন
    • গ. থাইরোক্সিন
    • ঘ. গ্লুকাগন
    উত্তর: ক. অ্যাড্রেনালিন
    ভয় পেলে আমাদের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায় এবং শরীরকে বিপদের মুখে লড়াই বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে। এ কারণেই ভয়ের সময় গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। একে তাই জরুরি অবস্থার হরমোনও বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি দুই কিডনির ওপরে অবস্থিত।
    অ্যাড্রেনালিন তৈরি হয় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির মজ্জা অংশে, আর কর্টেক্স অংশে তৈরি হয় কর্টিসল।
    ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের হরমোন এবং থাইরক্সিন থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন।
    অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ বাড়লে চোখের মণিও বড় হয়ে যায়।
    ভয় ও রাগের সময় অ্যাড্রেনালিন রক্তে গ্লুকোজও বাড়িয়ে দেয়, ফলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়।
  72. ১১৩. Spinal nerve কয়টি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ৩১ জোড়া
    • খ. ৩০ জোড়া
    • গ. ১২ জোড়া
    • ঘ. ৩৫ জোড়া
    উত্তর: ক. ৩১ জোড়া
    মানুষের মেরুদণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু (Spinal nerve) বের হয়। এর মধ্যে গ্রীবা অঞ্চলে ৮ জোড়া, বক্ষ অঞ্চলে ১২ জোড়া, কটি অঞ্চলে ৫ জোড়া, ত্রিকাস্থি অঞ্চলে ৫ জোড়া এবং অনুত্রিকে ১ জোড়া। যোগফল ৮ + ১২ + ৫ + ৫ + ১ = ৩১। এই স্নায়ুগুলো সুষুম্নাকাণ্ডের সঙ্গে দেহের বিভিন্ন অংশের সংযোগ রক্ষা করে এবং সংবেদন ও আদেশ বহন করে।
    মনে রাখুন:
    মস্তিষ্ক থেকে বের হওয়া স্নায়ু ১২ জোড়া, এদের করোটিক স্নায়ু বলা হয়।
    সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের ভেতরের নালিতে থাকে।
    সুষুম্নাকাণ্ডের প্রতিবর্ত ক্রিয়া মস্তিষ্ক ছাড়াই ঘটে।
  73. ১১৪. রক্তের কোন গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. A
    • খ. B
    • গ. O
    • ঘ. AB
    উত্তর: গ. O
    রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন (Antigen) নামের বিশেষ পদার্থের ওপর। O গ্রুপের রক্তে A বা B কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না। তাই এই রক্ত অন্য যেকোনো গ্রুপের মানুষের শরীরে দিলে সাধারণত প্রতিক্রিয়া হয় না। এ কারণেই O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal donor) বলা হয়। অন্য গ্রুপের রক্তে এক বা দুই রকম অ্যান্টিজেন থাকে, ফলে গ্রহীতার শরীরের অ্যান্টিবডির সঙ্গে সেগুলোর বিক্রিয়া ঘটতে পারে।
    মনে রাখুন:
    AB গ্রুপের রক্তে দুই রকম অ্যান্টিজেনই আছে, কিন্তু প্লাজমায় কোনো অ্যান্টিবডি নেই। তাই AB গ্রুপ যেকোনো গ্রুপের রক্ত নিতে পারে এবং একে সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal recipient) বলা হয়।
    ABO রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার, ১৯০১ সালে।
    A গ্রুপে A অ্যান্টিজেন, B গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে।
  74. ১১৫. রক্তের লোহিত কণিকার কাজ—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উপসহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. অক্সিজেন বহন করা
    • খ. নাইট্রোজেন বহন করা
    • গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করা
    • ঘ. রোগ প্রতিরোধ করা
    উত্তর: ক. অক্সিজেন বহন করা
    আমাদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell) থাকে, যার ভেতরে হিমোগ্লোবিন নামের লাল রঙের প্রোটিন আছে। হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। তাই লোহিত কণিকার প্রধান কাজ অক্সিজেন বহন করা। লোহিত কণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়, আর শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে রক্তশূন্যতা (Anaemia) দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ করে।
    অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    হিমোগ্লোবিনে আয়রন বা লোহা থাকে, তাই এর রং লাল।
    লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এর আকার দুই পাশ চাপা চাকতির মতো।
    একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ লোহিত কণিকা থাকে।
  75. ১১৬. কোনটি উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উপসহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. থাইরয়েড গ্রন্থি
    • খ. পিটুইটারী গ্রন্থি
    • গ. অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি
    • ঘ. অগ্ন্যাশয়
    উত্তর: গ. অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি
    অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal Gland) থেকে অ্যাড্রেনালিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়। ভয় বা উত্তেজনার সময় এই হরমোন হৃৎস্পন্দন বাড়ায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এই গ্রন্থি দুটি আমাদের দুই কিডনির ঠিক ওপরে বসে থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির সম্পর্ক আছে।
    মনে রাখুন:
    থাইরয়েড গ্রন্থি থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে, যা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
    অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়।
    পিটুইটারি গ্রন্থিকে অন্য সব গ্রন্থির নিয়ন্ত্রক বলা হয়।
    অ্যাড্রেনালিন হরমোনকে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ (লড়াই বা পালানো) হরমোন বলা হয়, কারণ বিপদে এটি শরীরকে প্রস্তুত করে।
    অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির বাইরের অংশ থেকে কর্টিসল হরমোনও নিঃসৃত হয়।
  76. ১১৭. কোনটি Upper Limb এর bone নয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. Femur
    • খ. Ulna
    • গ. Radius
    • ঘ. Humerus
    উত্তর: ক. Femur
    আমাদের হাতের উপরের অংশের হাড় হলো হিউমেরাস (Humerus), আর কনুইয়ের নিচের দুটি হাড় রেডিয়াস (Radius) ও আলনা (Ulna)। এ তিনটিই ঊর্ধ্ব অঙ্গের (Upper limb) হাড়। কিন্তু ফিমার (Femur) হলো ঊরুর হাড়, যা পায়ের অংশ। তাই ফিমার ঊর্ধ্ব অঙ্গের হাড় নয়।
    মনে রাখুন:
    ফিমার মানবদেহের সবচেয়ে লম্বা ও শক্ত হাড়।
    নিম্ন অঙ্গের অন্য হাড়: টিবিয়া, ফিবুলা ও প্যাটেলা (হাঁটুর বাটি)।
    ঊর্ধ্ব অঙ্গের সঙ্গে কাঁধের হাড় ক্ল্যাভিকল ও স্ক্যাপুলা যুক্ত থাকে।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে।
    হিউমেরাস কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত বিস্তৃত।
    হাতের কবজির হাড়কে কার্পাল এবং তালুর হাড়কে মেটাকার্পাল বলা হয়।
  77. ১১৮. মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের তাপমাত্রা
    • ক. ৯৭.২° ফা.
    • খ. ৯৪.৮° ফা.
    • গ. ৯৬.৪° ফা.
    • ঘ. ৯৮.৪° ফা.
    উত্তর: ঘ. ৯৮.৪° ফা.
    সুস্থ মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট। তাপমাত্রা সবসময় ঠিক এক থাকে না, দিনের সময় ও শরীরের অবস্থা অনুযায়ী সামান্য কমবেশি হয়। অন্য বিকল্পগুলোর মান স্বাভাবিকের চেয়ে কম। সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে যেতে সূত্র F = (9/5) C + 32। তাই (9/5) × 37 + 32 = 98.6, তবে পরীক্ষায় সাধারণত ৯৮.৪° ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ৯৮.৪° ফারেনহাইট প্রায় ৩৭° সেলসিয়াসের সমান।
    মানুষের শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মোমিটারকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
    ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার ৩৫° থেকে ৪২° সেলসিয়াস (৯৪° থেকে ১০৮° ফারেনহাইট) পর্যন্ত মাপতে পারে।
  78. ১১৯. হিমোগ্লোবিনের কাজ—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. নাইট্রোজেন বহন করা
    • খ. হাইড্রোজেন বহন করা
    • গ. অক্সিজেন বহন করা
    • ঘ. হিলিয়াম বহন করা
    উত্তর: গ. অক্সিজেন বহন করা
    হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) লোহিত রক্তকণিকার ভেতরের একটি লৌহযুক্ত প্রোটিন। ফুসফুসে এটি অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে এবং দেহের সব কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। এই লোহার জন্যই রক্তের রং লাল। নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন বা হিলিয়াম বহন করা এর কাজ নয়।
    মনে রাখুন:
    হিমোগ্লোবিন কম হলে রক্তশূন্যতা (Anaemia) হয়।
    একটি হিমোগ্লোবিন অণু সর্বোচ্চ ৪টি অক্সিজেন অণু বহন করতে পারে।
    কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে অনেক দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়, তাই এই গ্যাস বিষাক্ত।
    লোহিত রক্তকণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং এর আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
  79. ১২০. সাধারণত রোগীর Pulse দেখা হয় কোথায়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাড়িস্পন্দন
    • ক. Ulnar artery
    • খ. Radial artery
    • গ. Femoral artery
    • ঘ. Brachial artery
    উত্তর: খ. Radial artery
    নাড়ি বা পালস (Pulse) হলো ধমনির দেয়ালের তালে তালে স্পন্দন, যা প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে সৃষ্টি হয়। কবজির ঠিক ওপরে বুড়ো আঙুলের দিকে থাকা রেডিয়াল ধমনি ত্বকের খুব কাছে এবং নিচে হাড় আছে, তাই আঙুল দিয়ে সহজে অনুভব করা যায়। এ কারণে সাধারণত এখানেই পালস দেখা হয়। ফিমোরাল ও ব্র্যাকিয়াল ধমনিতেও পালস পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো সাধারণ পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় না।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক পালস প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার।
    রক্তচাপ মাপার সময় সাধারণত ব্র্যাকিয়াল ধমনি ব্যবহার করা হয়।
    গলার পাশে ক্যারোটিড ধমনিতে জরুরি অবস্থায় পালস দেখা হয়।
  80. ১২১. একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ কতদিন পর পর রক্ত দান করতে পারেন?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ১২ মাস
    • খ. ৭ মাস
    • গ. ৩ মাস
    • ঘ. ৬ মাস
    উত্তর: গ. ৩ মাস
    একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ রক্ত দেওয়ার পর শরীর নতুন রক্ত তৈরি করে ঘাটতি পূরণ করে নিতে কিছুদিন সময় নেয়। তাই নিরাপদে রক্ত দিতে হলে অন্তত ৩ মাস পর পর রক্ত দান করা যায়। এর চেয়ে কম সময়ে বারবার রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    রক্তদাতার বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হয় এবং ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি লাগে।
    কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার ১৯০১ সালে ABO রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন।
    প্রতিবছর ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত হয়।
    সর্বজনীন দাতা (Universal donor) হলো O নেগেটিভ গ্রুপ।
  81. ১২২. Ovary শরীরের কোন অংশে অবস্থিত?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. গলায়
    • খ. বুকে
    • গ. তলপেটে
    • ঘ. পেটে
    উত্তর: গ. তলপেটে
    ডিম্বাশয় (Ovary) নারীর প্রজননতন্ত্রের অঙ্গ। জরায়ুর দুই পাশে একটি করে, মোট দুটি বাদামের মতো আকারের ডিম্বাশয় তলপেটের শ্রোণী গহ্বরে থাকে। এখানে ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয়। তাই গলা, বুক বা ওপরের পেট নয়, তলপেটই এর অবস্থান।
    মনে রাখুন:
    পুরুষের প্রজননতন্ত্রে অণ্ডকোষ শুক্রাণু ও টেস্টোস্টেরন তৈরি করে।
    ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় ফ্যালোপিয়ান নালিতে, তারপর জরায়ুতে গিয়ে ভ্রূণ হিসেবে বাড়তে থাকে।
    অণ্ডকোষ থাকে দেহের বাইরে অণ্ডথলিতে।
    ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে সাধারণত একটি পরিণত ডিম্বাণু বের হয়, একে ডিম্বপাত (Ovulation) বলে।
    ডিম্বাশয় নারীদেহের একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিও।
  82. ১২৩. কত'র নিচে হৃৎস্পন্দন হলে Bradycardia বলে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎস্পন্দন
    • ক. ৬০/মিনিট
    • খ. ৭০/মিনিট
    • গ. ৮০/মিনিট
    • ঘ. ১০০/মিনিট
    উত্তর: ক. ৬০/মিনিট
    হৃৎপিণ্ড প্রাপ্তবয়স্কের বিশ্রামে সাধারণত মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়। মিনিটে ৬০-এর নিচে নেমে গেলে তাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া (Bradycardia) বলে, আর ১০০-এর ওপরে উঠলে ট্যাকিকার্ডিয়া (Tachycardia)। নিয়মিত ক্রীড়াবিদদের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকভাবেই কম থাকতে পারে, তাই সবসময় এটি রোগের লক্ষণ নয়।
    মনে রাখুন:
    ‘ব্র্যাডি’ মানে ধীর, ‘ট্যাকি’ মানে দ্রুত।
    হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SA node), যাকে প্রাকৃতিক পেসমেকার বলা হয়।
    গড়ে প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন মিনিটে প্রায় ৭২ বার।
    নবজাতকের হৃৎস্পন্দন মিনিটে প্রায় ১২০ বারের কাছাকাছি থাকে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে দ্রুত।
    ঘুমের সময় হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়।
  83. ১২৪. Hypoxia কখন হয়?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
    • ক. Oxygen কমে গেলে
    • খ. Carbon dioxide বেড়ে গেলে
    • গ. Oxygen বেড়ে গেলে
    • ঘ. Carbon dioxide কমে গেলে
    উত্তর: ক. Oxygen কমে গেলে
    Hypoxia শব্দটি এসেছে ‘হাইপো’ (কম) আর ‘অক্সিয়া’ (অক্সিজেন) থেকে। শরীরের কলায় প্রয়োজনের তুলনায় অক্সিজেন কমে গেলে এই অবস্থা হয়। উঁচু পাহাড়ে বা ফুসফুসের রোগে এমন হতে পারে এবং ঠোঁট নীলচে দেখায়। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়া বা কমা এই শব্দের অর্থ নয়।
    মনে রাখুন:
    কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়াকে Hypercapnia বলে।
    শরীরে অক্সিজেন একেবারে না থাকলে তাকে Anoxia বলে।
    পালস অক্সিমিটার দিয়ে রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা মাপা হয়, যা সুস্থ মানুষের ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ।
    শব্দের শেষের অংশ দেখে বিশেষজ্ঞ চেনা যায়: -ology মানে বিদ্যা বা শাস্ত্র, আর -ologist মানে সেই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ। আবার -iatrician বা -iatrist দিয়েও চিকিৎসক বোঝানো হয়, যেমন paediatrician ও psychiatrist।
  84. ১২৫. অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ
    • ক. গ্লুকোজ
    • খ. গ্লাইকোজেন
    • গ. আমিষ
    • ঘ. গ্যালাকটোজ
    উত্তর: খ. গ্লাইকোজেন
    আমরা বেশি খাবার খেলে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন (Glycogen) নামে জটিল শর্করায় বদলে যকৃত ও পেশিতে জমিয়ে রাখে। শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে যকৃত এই গ্লাইকোজেন ভেঙে আবার গ্লুকোজ তৈরি করে। তাই যকৃতে জমা থাকা চিনি গ্লুকোজ নয়, গ্লাইকোজেন। আমিষ হলো প্রোটিন, আর গ্যালাকটোজ দুধের শর্করার একটি অংশ।
    মনে রাখুন:
    গ্লাইকোজেনকে ‘প্রাণিজ শ্বেতসার’ বলা হয়।
    গাছে শর্করা জমা হয় শ্বেতসার (স্টার্চ) হিসেবে।
    ইনসুলিন গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে বদলাতে সাহায্য করে।
    শেকসপিয়র নাট্যকার হওয়ার পাশাপাশি কবিও ছিলেন। তাঁর সনেটগুলো ১৬০৯ সালে একসঙ্গে প্রকাশিত হয়। তাঁর নাটক মঞ্চস্থ হতো লন্ডনের বিখ্যাত গ্লোব থিয়েটারে।
  85. ১২৬. মানুষের শরীরে কত প্রকারের রক্তকণিকা আছে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. তিন
    • খ. চার
    • গ. দুই
    • ঘ. পাঁচ
    উত্তর: ক. তিন
    রক্তে তিন ধরনের কণিকা থাকে। লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন বহন করে, শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে, আর অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এই তিনটি ছাড়া রক্তে আর কোনো কণিকা নেই, তাই সংখ্যাটি তিন।
    মনে রাখুন:
    রক্তের তরল অংশের নাম রক্তরস (Plasma)।
    লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না এবং এটি সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি।
    শ্বেত রক্তকণিকা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে, তাই একে দেহের সৈনিকও বলা হয়।
    পরীক্ষায় antonym প্রশ্নে আগে শব্দটির সরাসরি উল্টো অর্থ খুঁজে নিতে হয়। যেমন smooth পৃষ্ঠ হাত দিয়ে মসৃণ লাগে, আর rough পৃষ্ঠ খসখসে লাগে। এই অনুভূতির পার্থক্যই শব্দ দুটিকে বিপরীত করেছে।
  86. ১২৭. প্রস্টেট গ্রন্থি—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মূত্রতন্ত্র
    • ক. খাদ্যনালীর অংশ
    • খ. শ্বাসনালীর অংশ
    • গ. মূত্রতন্ত্রের অংশ
    • ঘ. রক্তনালীর অংশ
    উত্তর: গ. মূত্রতন্ত্রের অংশ
    প্রস্টেট গ্রন্থি (Prostate Gland) পুরুষের মূত্রথলির ঠিক নিচে মূত্রনালীকে ঘিরে থাকে। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস শুক্রাণুকে সচল রাখে, তাই এটি পুরুষ প্রজননতন্ত্রের অংশ। একই সঙ্গে মূত্রনালী এর ভেতর দিয়ে গেছে বলে একে মূত্রতন্ত্রের সঙ্গেও যুক্ত ধরা হয়। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে মূত্রতন্ত্রই সঠিক।
    মনে রাখুন:
    বয়স বাড়লে প্রস্টেট বড় হয়ে মূত্রত্যাগে সমস্যা করতে পারে।
    প্রস্টেট কেবল পুরুষের দেহেই থাকে।
    প্রস্টেটের রস বীর্যের একটি অংশ তৈরি করে।
    প্রস্টেট গ্রন্থির আকার অনেকটা আখরোটের মতো।
    বয়স্ক পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সারও হতে পারে।
    প্রস্টেটের রস বীর্যের একটি অংশ তৈরি করে বলে শুক্রাণু বাঁচতে পারে।
  87. ১২৮. নিম্নের কোনটি মানবদেহের পুলিশ ম্যান হিসেবে কাজ করে?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. শ্বেত কণিকা
    • খ. লোহিত কণিকা
    • গ. অনুচক্রিকা
    • ঘ. প্লাজমা
    উত্তর: ক. শ্বেত কণিকা
    শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell) দেহের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো কাজ করে। শরীরে রোগজীবাণু ঢুকলে এই কণিকা সেগুলোকে ঘিরে ফেলে এবং খেয়ে ধ্বংস করে দেয়। এই প্রক্রিয়ার নাম ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis)। এভাবে পাহারা দিয়ে রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে বলেই একে মানবদেহের পুলিশ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা অক্সিজেন বহন করে, আর অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে।
    শ্বেত কণিকার আরেক নাম লিউকোসাইট।
    শ্বেত কণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।
    শ্বেত কণিকার ক্যান্সারকে লিউকেমিয়া বলে।
    সুস্থ মানুষের প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে শ্বেত কণিকা থাকে প্রায় ৪০০০ থেকে ১১০০০টি।
    লোহিত কণিকার চেয়ে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অনেক কম।
  88. ১২৯. রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. কার্বন পরিবহন
    • খ. অক্সিজেন পরিবহন
    • গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ
    • ঘ. পুষ্টি বর্ধন
    উত্তর: খ. অক্সিজেন পরিবহন
    হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) লোহিত রক্তকণিকার ভেতরের লাল রঞ্জক, যার মধ্যে লোহা থাকে। এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহের সব কোষে পৌঁছে দেয়। লোহিত কণিকার লাল রং এই হিমোগ্লোবিনের জন্যই।
    মনে রাখুন:
    হিমোগ্লোবিনের অভাবে রক্তশূন্যতা (Anaemia) হয়, তাই খাবারে আয়রন থাকা জরুরি।
    লোহিত কণিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং এর আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে সহজে যুক্ত হয়, তাই এটি বিষাক্ত।
    রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি ডেসিলিটারে প্রায় ১৪ থেকে ১৮ গ্রাম, আর নারীর ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ গ্রাম।
    হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উজ্জ্বল লাল অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে।
  89. ১৩০. পূর্ণবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ কোনটি?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. ১৬০/৯০
    • খ. ১২০/৮০
    • গ. ১৮০/১০০
    • ঘ. ৯০/৬০
    উত্তর: খ. ১২০/৮০
    প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg। এখানে ওপরের মানটি সিস্টোলিক চাপ, যখন হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত ঠেলে দেয়। নিচেরটি ডায়াস্টোলিক চাপ, যখন হৃৎপিণ্ড শিথিল থাকে। রক্তচাপ নিয়মিত 140/90-এর ওপরে থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে।
    মনে রাখুন:
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার।
    রক্তচাপ খুব কমে গেলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলে।
    উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
    রক্তচাপ মিলিমিটার পারদস্তম্ভে (mmHg) মাপা হয়, কারণ আগে এ যন্ত্রে পারদ ব্যবহার করা হতো।
    লবণ বেশি খেলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই খাবারে লবণ কম খাওয়া ভালো।
    রক্তচাপ মাপার সময় রোগীকে বিশ্রামে বসিয়ে রাখতে হয়।
  90. ১৩১. কোন উপাদানটি রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ক্যালসিয়াম
    • খ. ম্যাঙ্গানিজ
    • গ. প্রোটিন
    • ঘ. লৌহ
    উত্তর: ঘ. লৌহ
    হিমোগ্লোবিনের মূল উপাদান হিম (Heme) নামের একটি অংশ, যার মধ্যে লৌহ বা আয়রন (Fe) থাকে। সঙ্গে গ্লোবিন নামে একটি প্রোটিন মিলে হিমোগ্লোবিন তৈরি হয়। তাই রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য লৌহ দরকার।
    মনে রাখুন:
    লৌহের অভাবে রক্তশূন্যতা হয়।
    কলিজা, কচুশাক ও ডালে লৌহ পাওয়া যায়।
    ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত গঠন করে।
    ভিটামিন সি লৌহ শোষণে সাহায্য করে।
    একটি হিমোগ্লোবিন অণুতে চারটি হিম অংশ থাকে, আর প্রতিটিতে একটি লোহার পরমাণু থাকে।
    গর্ভবতী মাকে আয়রন ও ফলিক এসিডের ট্যাবলেট দেওয়া হয়।
    নারীদের মাসিকের কারণে রক্তক্ষয় হয় বলে তাঁদের আয়রনের চাহিদা বেশি।
    হিমোগ্লোবিনে লোহা ফেরাস (Fe²⁺) অবস্থায় থাকে।
  91. ১৩২. দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে–পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. রক্তরস
    • খ. শ্বেতকণিকা
    • গ. অণুচক্রিকা
    • ঘ. লোহিত কণিকা
    উত্তর: খ. শ্বেতকণিকা
    শ্বেতকণিকা (White blood cell) আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এটি দেহে ঢোকা জীবাণুকে গিলে ফেলে ধ্বংস করে, এই প্রক্রিয়ার নাম ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis)। এ ছাড়া এটি জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরিতেও সাহায্য করে। রক্তরস শুধু বিভিন্ন পদার্থ বহন করে, তাই প্রতিরক্ষায় প্রধান ভূমিকা রাখে না।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা অক্সিজেন বহন করে।
    অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি প্রোটিন থাকে।
    শ্বেতকণিকা পাঁচ ধরনের: নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল, লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
    লোহিত কণিকার চেয়ে শ্বেতকণিকা আকারে বড় এবং এতে নিউক্লিয়াস থাকে।
    সংক্রমণের সময় রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
  92. ১৩৩. মানবদেহে রক্তের গ্রুপ-এর মধ্যে নিচের কোনটি সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient)?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. A
    • খ. B+
    • গ. O
    • ঘ. AB+
    উত্তর: ঘ. AB+
    রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয় লোহিত কণিকার গায়ের অ্যান্টিজেন (Antigen) দিয়ে। AB গ্রুপের লোহিত কণিকায় A ও B দুই ধরনের অ্যান্টিজেনই থাকে, তাই এই গ্রুপের রক্তরসে A বা B কোনো অ্যান্টিবডি (Antibody) থাকে না। ফলে AB গ্রুপের মানুষ যেকোনো গ্রুপের রক্ত নিলেও তার রক্ত জমাট বাঁধে না। এ কারণে AB+ কে সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient) বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    O গ্রুপের লোহিত কণিকায় A বা B অ্যান্টিজেন নেই, তাই O− হলো সর্বজনীন দাতা (Universal Donor)।
    Rh ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন ল্যান্ডস্টেইনার ও ওয়েনার।
  93. ১৩৪. কোন অঙ্গ মানুষের শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন করে?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. প্যানক্রিয়াস
    • খ. লিভার
    • গ. কিডনি
    • ঘ. হার্ট
    উত্তর: ক. প্যানক্রিয়াস
    ইনসুলিন (Insulin) হরমোনটি তৈরি করে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস (Pancreas)। এই গ্রন্থির ভেতরে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামে কিছু কোষগুচ্ছ আছে, যার বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে। লিভার পিত্তরস তৈরি করে, কিডনি রক্ত ছেঁকে প্রস্রাব বানায় আর হার্ট রক্ত সঞ্চালন করে।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে পাচক রস তৈরি করে, তাই এটি যেমন অন্তঃক্ষরা, তেমনি বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
    অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নামে আরেকটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি ইনসুলিনের বিপরীত কাজ করে, অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
  94. ১৩৫. ইনসুলিন কী?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ (সাধারণ পুল), প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. এক প্রকার ভিটামিন
    • খ. এক প্রকার মানব হরমোন
    • গ. কার্বোহাইড্রেট
    • ঘ. প্রোটিন
    উত্তর: খ. এক প্রকার মানব হরমোন
    ইনসুলিন একটি হরমোন, যা অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে নিঃসৃত হয়। এটি রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রাসায়নিক গঠনে ইনসুলিন একটি প্রোটিন-জাতীয় পদার্থ। তবু এটি কাজ করে হরমোন হিসেবে, তাই প্রশ্নের সবচেয়ে সঠিক উত্তর হলো মানব হরমোন। ভিটামিন বা কার্বোহাইড্রেট বলা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়।
    ১৯২১ সালে ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আলাদা করেন।
    ইনসুলিন নিঃসরণ কম হলে বা শরীর একে ঠিকমতো কাজে লাগাতে না পারলে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। তখন রোগীকে ইনজেকশনে ইনসুলিন নিতে হতে পারে।
  95. ১৩৬. রক্ত জমাট বাঁধানো কোনটির কাজ?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. লোহিত কণিকা
    • খ. শ্বেতকণিকা
    • গ. লসিকা
    • ঘ. অণুচক্রিকা
    উত্তর: ঘ. অণুচক্রিকা
    রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে অণুচক্রিকা (Platelet)। শরীর কেটে গেলে অণুচক্রিকা ক্ষতস্থানে জমা হয় এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক উপাদান ছাড়ে। এর ফলে রক্তের ফাইব্রিনোজেন নামের প্রোটিন ফাইব্রিন সুতায় বদলে জাল তৈরি করে এবং রক্ত আটকে যায়। লোহিত কণিকা অক্সিজেন বহন করে, আর শ্বেতকণিকা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। লসিকা রক্তজমাটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
    মনে রাখুন:
    ডেঙ্গু জ্বরে অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যায়, তাই রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
    অণুচক্রিকা অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
    রক্ত জমাট বাঁধতে ক্যালসিয়াম আয়ন ও ভিটামিন K-এরও প্রয়োজন হয়।
    রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম আয়নও অংশ নেয়।
  96. ১৩৭. হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা কত?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৫
    উত্তর: গ. ৪
    মানব হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ আছে: উপরের দিকে ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ, নিচের দিকে ডান নিলয় ও বাম নিলয়। ডান পাশে দূষিত রক্ত এবং বাম পাশে বিশুদ্ধ রক্ত থাকে। মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠের এবং সরীসৃপের সাধারণত তিন প্রকোষ্ঠের।
    মনে রাখুন:
    হৃৎপিণ্ড একটি পেশিবহুল অঙ্গ, যার ওজন প্রায় 300 গ্রাম।
    সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন মিনিটে প্রায় ৭২ বার।
    হৃৎপিণ্ডের ডান দিকের রক্ত ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেন নিয়ে আসে। বাম দিক সেই বিশুদ্ধ রক্ত মহাধমনি দিয়ে সারা দেহে পাঠায়।
    সুস্থ হৃৎপিণ্ড দিনে প্রায় এক লক্ষ বার স্পন্দিত হয় এবং ফুসফুসে রক্ত পাঠানোর পথকে পালমোনারি সংবহন বলে।
  97. ১৩৮. বহুমূত্র রোগ কোন হরমোনের অভাবে হয়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. গ্লুকাজেন
    • খ. থাইরয়েড
    • গ. ইস্ট্রোজেন
    • ঘ. ইনসুলিন
    উত্তর: ঘ. ইনসুলিন
    আমরা যে খাবার খাই, তার শর্করা হজম হয়ে রক্তে গ্লুকোজ হিসেবে ঘুরে বেড়ায়। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোন এই গ্লুকোজকে কোষে ঢুকিয়ে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের অভাব হলে গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে পারে না, রক্তে জমতে থাকে এবং প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়। এই রোগের নাম বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস।
    মনে রাখুন:
    গ্লুকাগন হরমোন রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, যেটি ইনসুলিনের কাজের উল্টো।
    থাইরক্সিনের অভাবে শিশুদের ক্রেটিনিজম হয়।
    বহুমূত্র রোগে রোগীর খুব পিপাসা পায় এবং বারবার প্রস্রাব হয়। ডায়াবেটিস দুই ধরনের: টাইপ-১-এ অগ্ন্যাশয় প্রায় ইনসুলিন তৈরিই করে না, আর টাইপ-২-এ শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে না।
  98. ১৩৯. মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় হাড় কোনটি?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কাল ও হাড়
    • ক. Skull
    • খ. Femur
    • গ. Fibula
    • ঘ. Patella
    উত্তর: খ. Femur
    মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও শক্ত হাড় ফিমার (Femur), যা উরুর হাড়। এটি সারা শরীরের ওজন বহন করে এবং হাঁটা-চলায় প্রধান ভূমিকা রাখে। স্কাল হলো মাথার খুলি, ফিবুলা পায়ের নিচের অংশের সরু হাড়, আর প্যাটেলা হাঁটুর বাটি। এগুলোর কোনোটিই ফিমারের চেয়ে বড় নয়।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস (Stapes), যা কানের ভেতরে থাকে।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে হাড়ের সংখ্যা ২০৬টি।
    ফিমারের দৈর্ঘ্য একজন মানুষের উচ্চতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ফিমারের উপরের প্রান্ত নিতম্বের গর্তে বসে নিতম্বের জোড় তৈরি করে।
    সবচেয়ে লম্বা পেশি দর্জির পেশি (Sartorius) এই উরুতেই থাকে।
  99. ১৪০. মানবদেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ কোনটি?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. স্নায়ু
    • খ. ত্বক
    • গ. যকৃত
    • ঘ. কিডনি
    উত্তর: খ. ত্বক
    ত্বক বা চামড়া মানবদেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। এটি পুরো শরীরকে ঢেকে রাখে এবং জীবাণু, আলো ও আঘাত থেকে রক্ষা করে। যকৃৎ বা লিভার সবচেয়ে বড় গ্রন্থি, কিডনি রক্ত ছেঁকে প্রস্রাব তৈরি করে, আর স্নায়ু সংবেদন বহন করে। তাই অঙ্গ হিসেবে সবচেয়ে বড় এবং গ্রন্থি হিসেবে সবচেয়ে বড়, এ দুটি প্রশ্ন আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকের ক্ষেত্রফল প্রায় 1.5 থেকে 2 বর্গমিটার।
    ত্বকের মাধ্যমে ঘামের সঙ্গে সামান্য বর্জ্যও বের হয়, আর ত্বক ভিটামিন D তৈরিতে সাহায্য করে।
  100. ১৪১. কোন হরমোনের অভাবে শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়ে না?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. ইনসুলিন
    • খ. গ্লুকাজেন
    • গ. থাইরক্সিন
    • ঘ. প্রোল্যাকটিন
    উত্তর: গ. থাইরক্সিন
    থাইরক্সিন হরমোন গলার থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং শরীরের বিপাক ও মস্তিষ্কের বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুকালে থাইরক্সিনের অভাব হলে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বুদ্ধি বাড়ে না। এ অবস্থার নাম ক্রেটিনিজম (Cretinism)। ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের কাজ রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে, আর প্রোল্যাকটিন দুধ তৈরিতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্কের থাইরক্সিনের অভাবে মিক্সিডিমা হয়।
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড হয়, কারণ আয়োডিন থাইরক্সিনের উপাদান।
    থাইরক্সিন তৈরির জন্য আয়োডিন লাগে বলে গর্ভবতী মায়ের খাবারে আয়োডিন থাকা জরুরি। না থাকলে গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  101. ১৪২. মানুষের গায়ের রঙ কোন উপাদানের উপর নির্ভরশীল?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. মেলানিন
    • খ. মেলাটোনিন
    • গ. হিমোগ্লোবিন
    • ঘ. থায়ামিন
    উত্তর: ক. মেলানিন
    মানুষের গায়ের রং নির্ভর করে ত্বকে থাকা মেলানিন (Melanin) রঞ্জকের পরিমাণের ওপর। ত্বকের মেলানোসাইট কোষ এটি তৈরি করে। মেলানিন বেশি থাকলে ত্বক গাঢ় হয়, কম থাকলে ফর্সা দেখায়। মেলাটোনিন ঘুমের হরমোন, হিমোগ্লোবিন রক্তের লাল রঞ্জক, আর থায়ামিন ভিটামিন B1। এগুলোর কোনোটিই ত্বকের রং নির্ধারণ করে না।
    মনে রাখুন:
    মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে কিছুটা রক্ষা করে।
    মেলানিনের অভাবে অ্যালবিনিজম হয়।
    শরীরে মেলানিন বেশি তৈরি হলে ত্বকের কিছু অংশে কালো ছোপ পড়তে পারে। একে আমরা তিল বা ছুলি হিসেবে চিনি। মেলানিন চুল ও চোখের মণির রংও নির্ধারণ করে।
  102. ১৪৩. ত্বকের সবচেয়ে বাইরের আবরণ কী?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. চর্বি
    • খ. ডার্মিস
    • গ. এপিডার্মিস
    • ঘ. হাড়
    উত্তর: গ. এপিডার্মিস
    ত্বক দুটি প্রধান স্তরে গঠিত। সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম এপিডার্মিস (Epidermis)। এর নিচে থাকে ডার্মিস (Dermis), যেখানে ঘর্মগ্রন্থি, রক্তনালি ও স্নায়ু আছে। ডার্মিসের নিচে চর্বির স্তর থাকে। চর্বি ও হাড় ত্বকের বাইরের আবরণ নয়, এগুলো ভেতরের স্তর।
    মনে রাখুন:
    এপিডার্মিসের কোষে মেলানিন তৈরি হয়।
    এপিডার্মিস জীবাণু ও পানি প্রবেশের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা।
    এপিডার্মিসের সবচেয়ে বাইরের মৃত কোষগুলো প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ে এবং নিচ থেকে নতুন কোষ উঠে আসে। এ কারণেই ত্বকের কোনো অংশ ছড়ে গেলেও কিছুদিনে আবার ঠিক হয়ে যায়।
    ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ, আর ঘামের মাধ্যমে দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা আছে।
  103. ১৪৪. মানবদেহের রেচন অঙ্গ কোনটি?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচন ব্যবস্থা
    • ক. ফুসফুস
    • খ. হৃৎপিণ্ড
    • গ. প্লীহা
    • ঘ. বৃক্ক
    উত্তর: ঘ. বৃক্ক
    শরীরের বিপাকের ফলে যেসব বর্জ্য তৈরি হয়, তা দেহ থেকে বের করার প্রক্রিয়াকে রেচন বলে। রেচনের প্রধান অঙ্গ বৃক্ক বা কিডনি। এটি রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া ও অতিরিক্ত পানি আলাদা করে প্রস্রাব হিসেবে বের করে। ফুসফুস গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায়, হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করে এবং প্লীহা পুরোনো লোহিত কণিকা ধ্বংস করে।
    মনে রাখুন:
    মানুষের দেহে দুটি বৃক্ক থাকে এবং এদের গঠনগত একককে নেফ্রন বলে।
    ত্বক ও ফুসফুসও কিছু বর্জ্য বের করে, তবে প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক।
    সুস্থ বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১.৫ লিটার প্রস্রাব তৈরি করে। বৃক্ক বিকল হলে রক্তে বর্জ্য জমে যায়, তখন রক্ত পরিশোধনের জন্য ডায়ালাইসিস করতে হয়।
  104. ১৪৫. ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. লিভার
    • খ. পিত্তথলি
    • গ. অগ্ন্যাশয়
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: গ. অগ্ন্যাশয়
    ইনসুলিন নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস থেকে। এর ভেতরের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স অংশের বিটা কোষ এই হরমোন তৈরি করে। ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে এবং পিত্তথলি সেই রস জমা রাখে, আর প্লীহা রক্ত সংক্রান্ত কাজে যুক্ত, ইনসুলিন তৈরি করে না।
    মনে রাখুন:
    আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়।
    ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়।
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি। ইনসুলিন সরাসরি রক্তে মেশে, আর পাচক এনজাইমযুক্ত রস নালির মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে যায়।
    ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ের আইলেটসে, যার সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ।
  105. ১৪৬. ভালো কোলেস্টেরল কোনটি?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল ও রক্ত
    • ক. LDL
    • খ. HDL
    • গ. VLDL
    • ঘ. Triglycerid
    উত্তর: খ. HDL
    কোলেস্টেরল রক্তে বিশেষ প্রোটিনের সঙ্গে মিশে চলাচল করে, যাকে লাইপোপ্রোটিন বলে। এর মধ্যে HDL (High-density Lipoprotein) অতিরিক্ত কোলেস্টেরল রক্তনালি থেকে যকৃতে ফিরিয়ে নেয়, তাই এটি ভালো কোলেস্টেরল। LDL ধমনির দেয়ালে চর্বি জমায় বলে খারাপ কোলেস্টেরল।
    মনে রাখুন:
    VLDL ও ট্রাইগ্লিসারাইডের উচ্চ মাত্রাও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
    নিয়মিত ব্যায়াম ও শাকসবজি HDL বাড়াতে সাহায্য করে।
    কোলেস্টেরল আমাদের কোষের পর্দা গঠনে ও কিছু হরমোন তৈরিতে দরকার। কিন্তু বেশি হলে ধমনির ভেতরে চর্বি জমে রক্তনালি সরু হয়ে যায়, ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
    ডিমের কুসুম, মাংস ও ঘিতে কোলেস্টেরল বেশি থাকে।
  106. ১৪৭. স্বাভাবিক রক্তচাপ কোনটি?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. ১০৫০ মি.মি. মারকারি
    • খ. ৬০/১০০ মি.মি. মারকারি
    • গ. ১২০/৮০ মি.মি. মারকারি
    • ঘ. ২০০/১২০ মি.মি. মারকারি
    উত্তর: গ. ১২০/৮০ মি.মি. মারকারি
    প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ 120/80 mmHg। এখানে 120 হলো সিস্টোলিক চাপ, যা হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময় থাকে। আর 80 হলো ডায়াস্টোলিক চাপ, যা হৃৎপিণ্ড শিথিল থাকার সময় থাকে। 200/120 অনেক বেশি এবং 60/100-এ সিস্টোলিক চাপ ডায়াস্টোলিকের চেয়ে কম, যা সম্ভব নয়।
    মনে রাখুন:
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার।
    রক্তচাপ সাধারণত 140/90 বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়।
    রক্তচাপ বেড়ে গেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি বিকলের ঝুঁকি দেখা দেয়, তাই একে নীরব ঘাতক বলা হয়।
    ঘুম ও বিশ্রামে রক্তচাপ কিছুটা কমে, আর দৌড়ঝাঁপ বা উত্তেজনায় সাময়িকভাবে বাড়ে।
  107. ১৪৮. রক্তে লোহিত কণিকা কোথায় তৈরি হয়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. যকৃত
    • খ. অস্থিমজ্জা
    • গ. তরুণাস্থি
    • ঘ. হৃৎপিণ্ড
    উত্তর: খ. অস্থিমজ্জা
    লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায় (Red bone marrow)। সেখানকার স্টেম কোষ থেকে ধাপে ধাপে লোহিত কণিকা গড়ে ওঠে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চ্যাপ্টা হাড়, যেমন বুকের হাড় ও কশেরুকায় এই মজ্জা থাকে। লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন, তারপর যকৃৎ ও প্লীহায় এরা ধ্বংস হয়।
    মনে রাখুন:
    ভ্রূণ অবস্থায় যকৃৎ ও প্লীহায় লোহিত কণিকা তৈরি হয়।
    অস্থিমজ্জায় শ্বেতকণিকা ও অণুচক্রিকাও তৈরি হয়।
    লোহিত কণিকা তৈরিতে লোহা, ফলিক এসিড ও ভিটামিন B12 দরকার হয়। এগুলোর অভাব হলে লোহিত কণিকা কম তৈরি হয় এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
    স্তন্যপায়ী প্রাণীর পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
  108. ১৪৯. হৃৎপিণ্ডের আবৃতকারী পর্দার নাম কী?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. পুরা
    • খ. পেরিকার্ডিয়াম
    • গ. এন্ডোকার্ডিয়াম
    • ঘ. পেরিটোনিয়াম
    উত্তর: খ. পেরিকার্ডিয়াম
    হৃৎপিণ্ডকে ঘিরে রাখা দুই স্তরের পাতলা আবরণের নাম পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium)। দুই স্তরের মাঝে থাকা সামান্য তরল হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে। হৃৎপিণ্ডের ভেতরের দেয়ালের আবরণ হলো এন্ডোকার্ডিয়াম। পেরিটোনিয়াম পেটের গহ্বরের আবরণ। নামের শুরুতে ‘পেরি’ অংশটির অর্থ চারপাশ, তাই ‘পেরিকার্ডিয়াম’ মানে হৃৎপিণ্ডের চারপাশের আবরণ।
    মনে রাখুন:
    ফুসফুসের আবরণ প্লুরা (Pleura)।
    মস্তিষ্কের আবরণ মেনিনজেস (Meninges)।
    হৃৎপিণ্ডের দেয়াল তিন স্তরের: বাইরে এপিকার্ডিয়াম, মাঝে পেশিস্তর মায়োকার্ডিয়াম এবং ভেতরে এন্ডোকার্ডিয়াম।
    হৃৎপিণ্ড বুকের মাঝখানে কিছুটা বাম দিকে হেলে অবস্থান করে।
    হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম এবং আকার মুঠো করা হাতের সমান।
    পেরিকার্ডিয়ামের ভেতরের স্তরকে ভিসেরাল এবং বাইরের স্তরকে প্যারাইটাল স্তর বলে, আর দুই স্তরের মাঝের ফাঁকে তরল থাকে।
  109. ১৫০. হৃৎপিণ্ডের রক্ত চলাচল কমে বুক ব্যথা হওয়াকে কী বলে?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. স্ট্রোক
    • খ. অ্যানজাইনা
    • গ. ব্লক
    • ঘ. সিনাকাপ
    উত্তর: খ. অ্যানজাইনা
    হৃৎপেশিতে যথেষ্ট অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত না পৌঁছালে বুকে চাপ বা নিষ্পেষণের মতো ব্যথা হয়। এটিকে অ্যানজাইনা (Angina) বলে। হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনি সরু হয়ে গেলে এমনটা ঘটে। স্ট্রোক হয় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে, তাই বুকের ব্যথার নাম স্ট্রোক নয়।
    মনে রাখুন:
    করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন) হয়।
    অ্যানজাইনায় বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যেতে পারে।
    অ্যানজাইনার ব্যথা অনেক সময় বাম হাত, কাঁধ ও চোয়ালের দিকে ছড়িয়ে যায়। এ ব্যথা কয়েক মিনিট পরে কমলেও এটিকে অবহেলা করা চলে না, কারণ এটি ভবিষ্যতের হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে।
  110. ১৫১. কোনটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. লোহিত কণিকা
    • খ. হিমোগ্লোবিন
    • গ. অণুচক্রিকা
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. অণুচক্রিকা
    রক্ত জমাট বাঁধার সময় প্রথমে অণুচক্রিকা (Platelet) ক্ষতস্থানে জমা হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান ছাড়ে। এতে ফাইব্রিন সুতার জাল তৈরি হয়, যা রক্ত আটকে দেয়। লোহিত কণিকা এবং তার রঞ্জক হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে। তাই রক্ত জমাট বাঁধার কাজ এদের নয়।
    মনে রাখুন:
    অণুচক্রিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
    অণুচক্রিকা কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে, যেমন ডেঙ্গুতে।
    অণুচক্রিকা অস্থিমজ্জার মেগাক্যারিওসাইট কোষ ভেঙে তৈরি হয়। এর আয়ু প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন। প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে সাধারণত দেড় থেকে সাড়ে চার লক্ষ অণুচক্রিকা থাকে।
    ফাইব্রিন জাল লোহিত কণিকাকে আটকে রেখে রক্তপিণ্ড বা ক্লট (Clot) তৈরি করে।
  111. ১৫২. কিডনি বিকল হলে রক্তে কোনটির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচন ব্যবস্থা
    • ক. ইউরিয়া
    • খ. সোডিয়াম
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. ক্লোরাইড
    উত্তর: ক. ইউরিয়া
    কিডনি রক্ত থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। কিডনি বিকল হলে এই কাজ ঠিকমতো হয় না, ফলে বর্জ্য রক্তে জমে যায়। তখন রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ অবস্থার নাম ইউরেমিয়া। সোডিয়াম, গ্লুকোজ বা ক্লোরাইড বর্জ্য নয়, এগুলো শরীরের দরকারি উপাদান।
    মনে রাখুন:
    কিডনি বিকল হলে রক্ত পরিশোধনের জন্য ডায়ালাইসিস করা হয়।
    চূড়ান্ত চিকিৎসা কিডনি প্রতিস্থাপন।
    ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে, যেখানে প্রোটিন ভেঙে উৎপন্ন বিষাক্ত অ্যামোনিয়া ইউরিয়ায় রূপ নেয়। এরপর কিডনি সেই ইউরিয়াকে রক্ত থেকে সরিয়ে প্রস্রাবে পাঠায়। রক্তে ইউরিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ১০০ মিলিলিটারে প্রায় ১৫ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম।
  112. ১৫৩. ডায়াবেটিস রোগ হয়–নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. ইনসুলিনের অভাবে
    • খ. থাইরক্সিনের অভাবে
    • গ. ইস্ট্রোজেনের অভাবে
    • ঘ. গ্রোথ হরমোনের অভাবে
    উত্তর: ক. ইনসুলিনের অভাবে
    ডায়াবেটিস হয় ইনসুলিন হরমোনের অভাবে অথবা তা ঠিকমতো কাজ না করার কারণে। অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ ইনসুলিন তৈরি করে। ইনসুলিন কম হলে রক্তের গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে পারে না, ফলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। অন্য অপশনগুলোর অভাবে ভিন্ন সমস্যা হয়: থাইরক্সিনের অভাবে ক্রেটিনিজম বা মিক্সিডিমা, আর গ্রোথ হরমোনের অভাবে বামনত্ব দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    প্রথম ধরনের ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
    বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ১৪ নভেম্বর।
    ডায়াবেটিসে রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা উপবাসে সাধারণত ১২৬ মি.গ্রা./ডেসিলিটারের বেশি হলে রোগ ধরা হয়। এ রোগের পুরোনো নাম বহুমূত্র।
  113. ১৫৪. কোন এসিড পাকস্থলিতে থাকে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক তন্ত্র
    • ক. Acetic Acid
    • খ. Hydrochloric Acid
    • গ. Sulphuric Acid
    • ঘ. Formic Acid
    উত্তর: খ. Hydrochloric Acid
    পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) থাকে, যা গ্যাস্ট্রিক রসের অংশ। এই এসিড খাবারের সঙ্গে আসা জীবাণু মেরে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপ দেয়। পেপসিন প্রোটিন হজমে সাহায্য করে। অ্যাসিটিক, সালফিউরিক বা ফরমিক এসিড পাকস্থলির স্বাভাবিক উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    গ্যাস্ট্রিক রসের pH প্রায় 1.5 থেকে 3.5।
    পাকস্থলির ভেতরের দেয়াল শ্লেষ্মা দিয়ে ঢাকা থাকে বলে এসিড তাকে ক্ষয় করতে পারে না।
    পাকস্থলির দেয়াল পেশিবহুল, আর খাবার এখানে মন্থিত হয়ে পেস্টের মতো কাইম (Chyme) তৈরি করে।
    বেশি এসিড তৈরি হলে বুক জ্বালা বা আলসার দেখা দিতে পারে, তখন অ্যান্টাসিড ওষুধ এসিডকে প্রশমিত করে।
  114. ১৫৫. কোনটি গ্রন্থির রাজা?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. এড্রেনাল
    • খ. থাইরয়েড
    • গ. পিটুইটারি
    • ঘ. থাইমাস
    উত্তর: গ. পিটুইটারি
    পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত মটরদানার মতো ছোট গ্রন্থি। এটি বৃদ্ধি, প্রজনন ও বিপাকসহ নানা কাজের হরমোন তৈরি করে। আবার থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল ও জননগ্রন্থির মতো অন্য গ্রন্থিদের কাজও এটি নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে একে গ্রন্থির রাজা বা মাস্টার গ্রন্থি বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারি গ্রন্থির পরিচালক হাইপোথ্যালামাস।
    পিটুইটারি থেকে বৃদ্ধি হরমোন (GH) নিঃসৃত হয়।
    পিটুইটারি গ্রন্থিকে সামনের ও পেছনের দুই অংশে ভাগ করা হয়। বৃদ্ধি হরমোন কম হলে শিশু বেঁটে হয় আর বেশি হলে অতিকায় আকার ধারণ করে।
    থাইমাস গ্রন্থি শিশুকালে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে ভূমিকা রাখে।
  115. ১৫৬. Heart-এর বাহিরের আবরণীকে কী বলে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. Pleura
    • খ. Peritoneum
    • গ. Pericardium
    • ঘ. Mucosa
    উত্তর: গ. Pericardium
    হৃৎপিণ্ডের বাইরের আবরণের নাম পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium)। এটি দুই স্তরের পর্দা, যার মাঝের তরল হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে বাঁচায়। প্লুরা (Pleura) ফুসফুসের আবরণ, পেরিটোনিয়াম (Peritoneum) পেটের গহ্বরের আবরণ এবং মিউকোসা (Mucosa) হলো শ্লেষ্মা ঝিল্লি।
    মনে রাখুন:
    হৃৎপিণ্ডের ভেতরের আবরণ এন্ডোকার্ডিয়াম।
    হৃৎপিণ্ডের পেশিস্তরকে মায়োকার্ডিয়াম বলে।
    পেরিকার্ডিয়ামে প্রদাহ হলে তাকে পেরিকার্ডাইটিস বলে। হৃৎপিণ্ড এই আবরণের ভেতরে থেকে প্রতিটি স্পন্দনে মুক্তভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে।
    চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘কার্ডিও’ উপসর্গটি হৃৎপিণ্ড বোঝায়, যেমন কার্ডিওলজি মানে হৃদবিজ্ঞান।
    আবরণ ও তরলের কারণে হৃৎপিণ্ড বুকের মধ্যে নিরাপদে ও মসৃণভাবে স্পন্দন করে।
    পেরিকার্ডিয়াম একটি নমনীয় থলির মতো, তাই এতে হৃৎপিণ্ড ঢিলেঢালাভাবে বসে থাকে এবং পরিমিত জায়গা পায়।
  116. ১৫৭. পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী—বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ ও পিত্ত
    • ক. বিলিরুবিন
    • খ. জারক রস
    • গ. প্রোটিন
    • ঘ. ইউরিক এসিড
    উত্তর: ক. বিলিরুবিন
    আমাদের যকৃৎ (Liver) প্রতিদিন পিত্তরস (Bile) তৈরি করে। এই রসের হলুদ-সবুজ রং আসে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামের রঞ্জক পদার্থ থেকে। পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে হিমোগ্লোবিন থেকে এই রঞ্জক তৈরি হয় এবং যকৃৎ একে পিত্তের সঙ্গে বের করে দেয়। বাকি বিকল্পগুলো পিত্তের রং বদলাতে পারে না: জারক রস খাবার হজম করে, প্রোটিন দেহ গঠন করে আর ইউরিক এসিড বর্জ্য পদার্থ।
    মনে রাখুন:
    রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে চামড়া ও চোখ হলুদ হয়ে যায়, একে জন্ডিস (Jaundice) বলে।
    পিত্ত জমা থাকে পিত্তথলিতে।
  117. ১৫৮. পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির নাড়ীর গড় স্পন্দন প্রতি মিনিটে কত?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাড়ির স্পন্দন
    • ক. ৬৮
    • খ. ৮০
    • গ. ৭২
    • ঘ. ৯০
    উত্তর: গ. ৭২
    বিশ্রামে থাকা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার হয়, আর নাড়ির স্পন্দনও একই হারে চলে। কারণ হৃৎপিণ্ড যতবার সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করে, ধমনিতে ততবারই ধাক্কা অনুভূত হয়। কবজির ধমনিতে আঙুল রেখে আমরা এ স্পন্দন গুনতে পারি। সাধারণ সীমা প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার।
    মনে রাখুন:
    প্রতি মিনিটে ৬০-এর কম হলে তাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া (Bradycardia) বলে।
    ১০০-র বেশি হলে তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া (Tachycardia) বলে।
    শিশুদের হৃৎস্পন্দনের হার বড়দের চেয়ে বেশি হয়।
    ব্যায়ামের সময় বা উত্তেজনায় স্পন্দন বাড়ে।
    নাড়ির স্পন্দন সবচেয়ে সহজে অনুভব করা যায় কবজি ও গলার ধমনিতে।
    হৃৎস্পন্দনের সময় আমরা বুকে যে দুটি শব্দ শুনি, তা হৃৎপিণ্ডের কপাটিকা বন্ধ হওয়ার শব্দ।
  118. ১৫৯. রক্তনালিতে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য দায়ী কোনটি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. হেপারিন
    • খ. হিস্টামিন
    • গ. হিমোগ্লোবিন
    • ঘ. লিম্ফোসাইট
    উত্তর: ক. হেপারিন
    রক্তনালির ভেতরে রক্ত সাধারণত জমাট বাঁধে না, কারণ রক্তে হেপারিন (Heparin) নামে একটি তন্তুনিরোধক বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (Anticoagulant) পদার্থ থাকে। এটি মূলত বেসোফিল ও মাস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং প্রোথ্রম্বিন থেকে থ্রম্বিন তৈরিতে বাধা দেয়। থ্রম্বিন তৈরি না হলে ফাইব্রিনোজেন ফাইব্রিনে বদলায় না, ফলে রক্ত জমাট বাঁধে না। হিস্টামিন প্রদাহের সঙ্গে জড়িত আর হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে।
    মনে রাখুন:
    ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম সাহায্য করে।
    চিকিৎসায় রক্ত জমাট ঠেকাতে হেপারিন ইনজেকশন দেওয়া হয়।
    লিম্ফোসাইট শ্বেতকণিকার একটি ধরন, যা অ্যান্টিবডি তৈরি করে দেহকে রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে।
  119. ১৬০. নিচের কোনটি কিডনির কার্যকরী একক?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচন ব্যবস্থা
    • ক. নিউরন
    • খ. নেফ্রন
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. মেজর ক্যালিস
    উত্তর: খ. নেফ্রন
    বৃক্ক বা কিডনি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য বের করে মূত্র তৈরি করে। এর ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট নল-আকৃতির গঠন আছে, যার নাম নেফ্রন (Nephron)। প্রতিটি নেফ্রনে রক্ত পরিশোধনের পুরো কাজটি হয়, তাই নেফ্রনকে কিডনির গাঠনিক ও কার্যকরী একক বলা হয়। নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের একক, আর গ্লুকোজ একটি শর্করা।
    মনে রাখুন:
    প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে।
    নেফ্রনের প্রধান অংশ গ্লোমেরুলাস, বোম্যান্স ক্যাপসুল ও নালিকা।
    মেজর ক্যালিস কিডনির ভেতরের একটি অংশ, একক নয়।
    রক্ত নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসে এসে ছাঁকা হয়, আর নালিকা পথে দরকারি পানি ও গ্লুকোজ আবার রক্তে ফিরে যায়। বাকি বর্জ্য মূত্র হয়ে মূত্রথলিতে জমা হয়।
  120. ১৬১. বৃক্কের একক কী?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচন ব্যবস্থা
    • ক. নিউরন
    • খ. নেফ্রন
    • গ. অ্যান্টিওর্ট
    • ঘ. ফাইব্রোব্লাস্ট
    উত্তর: খ. নেফ্রন
    বৃক্ক বা কিডনির গাঠনিক ও কার্যকরী এককের নাম নেফ্রন (Nephron)। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে এবং প্রতিটি নেফ্রন আলাদাভাবে রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করে। এভাবে দেহের ক্ষতিকর বর্জ্য বেরিয়ে যায় এবং শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক থাকে। নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের একক, আর ফাইব্রোব্লাস্ট যোজক কলার একধরনের কোষ।
    মনে রাখুন:
    নেফ্রনের অংশ: গ্লোমেরুলাস, বোম্যান্স ক্যাপসুল, নালিকা।
    স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, ফুসফুসের একক অ্যালভিওলাস।
    নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসে রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে নেওয়া হয়। তারপর নালিকা দিয়ে যাওয়ার সময় দরকারি পানি ও গ্লুকোজ আবার রক্তে ফিরে যায়, আর বর্জ্য প্রস্রাব হয়ে বেরোয়।
  121. ১৬২. গ্রন্থির রাজা কোনটি?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. Hypothalamus
    • খ. Pituitary gland
    • গ. Thyroid gland
    • ঘ. Adrenal gland
    উত্তর: খ. Pituitary gland
    পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland) মস্তিষ্কের নিচের দিকে ছোট্ট একটি গ্রন্থি। এটি অনেকগুলো হরমোন তৈরি করে এবং সেই হরমোন দিয়ে থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল ও জননগ্রন্থির মতো অন্য গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে একে গ্রন্থির রাজা (Master Gland) বলা হয়। হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারিকে চালিত করে ঠিকই, কিন্তু সরাসরি এত হরমোন নিঃসরণ করে না, তাই এই নাম পিটুইটারিরই।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারির বৃদ্ধি হরমোনের অভাবে বামনত্ব এবং আধিক্যে অতিকায়ত্ব হয়।
    থাইরয়েড গ্রন্থি থাইরক্সিন নিঃসরণ করে।
    অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অ্যাড্রিনালিন নিঃসরণ করে।
    পিটুইটারির আকার মটরদানার সমান এবং ওজন প্রায় আধা গ্রাম। এটি মস্তিষ্কের নিচে স্ফেনয়েড হাড়ের একটি খাঁজে অবস্থান করে।
  122. ১৬৩. শরীরের অতিরিক্ত মেদ জমা হয়—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কলা বা টিস্যু
    • ক. এডিপোস টিস্যু
    • খ. এক্রোসোম
    • গ. কানেকটিভ টিস্যু
    • ঘ. বোন ম্যারো
    উত্তর: ক. এডিপোস টিস্যু
    আমরা খাদ্য থেকে যে বাড়তি শক্তি পাই, দেহ তার একটি অংশ চর্বি আকারে জমিয়ে রাখে। এই চর্বি জমা থাকে এডিপোস টিস্যু (Adipose Tissue) বা চর্বিযুক্ত কলায়, যা ত্বকের নিচে ও অঙ্গের চারপাশে ছড়ানো। এডিপোস টিস্যু এক ধরনের যোজক কলা, তবে নির্দিষ্টভাবে চর্বি জমান এটিই। এক্রোসোম শুক্রাণুর মাথার অংশ আর বোন ম্যারো অস্থিমজ্জা, এদের কোনোটির সঙ্গে মেদ জমার সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    এডিপোস টিস্যু তাপ ধরে রাখে ও আঘাত থেকে অঙ্গকে রক্ষা করে।
    অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়।
    চর্বি জমে পুরু হলে স্থূলতা দেখা দেয়, আর তা রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। কলা চার প্রকার: আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু কলা।
  123. ১৬৪. বিলিরুবিন কোথায় তৈরি হয়?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ ও পিত্ত
    • ক. অস্থিতে
    • খ. রক্তে
    • গ. যকৃতে
    • ঘ. পাকস্থলিতে
    উত্তর: গ. যকৃতে
    লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন, তারপর সেগুলো ভেঙে যায়। ভাঙা কণিকার হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন (Bilirubin) তৈরি হয়, আর যকৃৎ (Liver) এটিকে প্রক্রিয়া করে পিত্তের সঙ্গে বের করে দেয়। অস্থি, রক্ত বা পাকস্থলী এই কাজের জায়গা নয়, তাই প্রদত্ত বিকল্পের মধ্যে যকৃৎই উত্তর।
    মনে রাখুন:
    রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস হয়।
    বিলিরুবিন পিত্তের ও মলের রঙের জন্য দায়ী।
    যকৃৎ দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
    যকৃৎ প্রোটিন, চর্বি ও শর্করার বিপাক, বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয়করণ এবং ভিটামিন জমা রাখার কাজও করে। এটি এমন একমাত্র অঙ্গ, যা অনেকটা অংশ কেটে ফেললেও আবার বেড়ে উঠতে পারে।
  124. ১৬৫. মানবদেহে সবচেয়ে বড় হাড় কোনটি?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কাল ও হাড়
    • ক. Fibula
    • খ. Tibia
    • গ. Femur
    • ঘ. Humerus
    উত্তর: গ. Femur
    মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও শক্ত হাড় ফিমার (Femur), যা উরুর হাড়। এটি শরীরের পুরো ভার বহন করে বলে বেশ মোটা ও লম্বা। টিবিয়া ও ফিবুলা পায়ের নিচের অংশের হাড়, আর হিউমেরাস বাহুর ওপরের হাড়, তাই এগুলো ফিমারের চেয়ে ছোট।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে ছোট হাড় কানের স্ট্যাপিস।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে।
    টিবিয়া পায়ের নিচের অংশের মোটা হাড়, ফিবুলা তার পাশের সরু হাড়।
    শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা বেশি থাকে, প্রায় ৩০০টি। বড় হওয়ার সময় কিছু হাড় জুড়ে গিয়ে সংখ্যা কমে ২০৬টি হয়।
    কানের স্টেপিস হাড়টির দৈর্ঘ্য মাত্র প্রায় ৩ মিলিমিটার।
  125. ১৬৬. মানুষের ত্বকের রং নির্ভর করে যে উপাদানটির ওপর-এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ত্বক
    • ক. থায়ামিন
    • খ. টায়ালিন
    • গ. মেলানিন
    • ঘ. নিয়াসিন
    উত্তর: গ. মেলানিন
    মানুষের ত্বকের রং নির্ভর করে মেলানিন (Melanin) নামের একটি রঞ্জক পদার্থের ওপর। ত্বকের মেলানোসাইট নামের কোষ এটি তৈরি করে। যাঁদের ত্বকে মেলানিন বেশি, তাঁদের গায়ের রং গাঢ়, আর যাঁদের কম, তাঁদের রং ফর্সা। মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে, তাই রোদপ্রধান অঞ্চলের মানুষের ত্বক সাধারণত গাঢ় হয়। দেহে মেলানিন একেবারে না থাকলে ত্বক, চুল ও চোখ ফ্যাকাশে দেখায়, এই অবস্থাকে অ্যালবিনিজম (Albinism) বলে।
    মনে রাখুন: থায়ামিন হলো ভিটামিন বি১, নিয়াসিন ভিটামিন বি৩, আর টায়ালিন লালারসের একটি এনজাইম, যা শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে।
  126. ১৬৭. ইনসুলিনের অভাবে কী রোগ হয়?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. রাতকানা
    • খ. রিকেট
    • গ. ডায়াবেটিস
    • ঘ. স্কার্ভি
    উত্তর: গ. ডায়াবেটিস
    ইনসুলিন (Insulin) অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন। এটি রক্তের গ্লুকোজকে দেহকোষে ঢুকতে সাহায্য করে এবং বাড়তি গ্লুকোজকে যকৃতে জমা রাখে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, আর এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে। রোগীর প্রস্রাবেও তখন গ্লুকোজ বেরিয়ে আসে। রোগীর প্রস্রাবেও তখন গ্লুকোজ বেরিয়ে আসে, আর তাই এই রোগের নাম মধুমেহ।
    মনে রাখুন:
    ১৯২১ সালে কানাডার বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।
    রাতকানা হয় ভিটামিন এ-এর, রিকেট ভিটামিন ডি-এর আর স্কার্ভি ভিটামিন সি-এর অভাবে।
  127. ১৬৮. কোন রক্ত গ্রুপকে সার্বিক গ্রহীতা বলে?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. A রক্ত গ্রুপকে
    • খ. B রক্ত গ্রুপকে
    • গ. AB রক্ত গ্রুপকে
    • ঘ. O রক্ত গ্রুপকে
    উত্তর: গ. AB রক্ত গ্রুপকে
    AB রক্তগ্রুপের মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় A ও B দুই ধরনের অ্যান্টিজেন থাকে, কিন্তু রক্তরসে A বা B কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। ফলে অন্য যেকোনো গ্রুপের রক্ত দিলেও তা জমাট বাঁধে না, তাই AB গ্রুপকে সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient) বলা হয়। অন্যদিকে O গ্রুপের রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না, তাই O গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা (Universal Donor) বলে। রক্তদানের আগে গ্রুপ না মিলিয়ে দিলে গ্রহীতার দেহে রক্ত জমাট বেঁধে প্রাণসংশয় হতে পারে, তাই গ্রুপ মেলানো জরুরি।
    মনে রাখুন: রক্তের ABO গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার, ১৯০১ সালে। রক্তদানের আগে Rh ফ্যাক্টরও মিলিয়ে দেখতে হয়।
  128. ১৬৯. মানবশিশুর দুধ দাঁতের সংখ্যা কতটি?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. ২০টি
    • খ. ২১টি
    • গ. ২৪টি
    • ঘ. ২৬টি
    উত্তর: ক. ২০টি
    মানবশিশুর দুধদাঁত বা অস্থায়ী দাঁত (Milk teeth) মোট ২০টি। সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে দাঁত উঠতে শুরু করে, আর আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব দুধদাঁত উঠে যায়। ছয় বছর বয়সের পর এগুলো একে একে পড়ে গিয়ে স্থায়ী দাঁত ওঠে। তাই জীবনে মানুষের দুই দফা দাঁত ওঠে, এই বৈশিষ্ট্যকে দ্বিবার দন্তিক (Diphyodont) বলে। শিশুর দাঁত ওঠার সময় তার মাড়ি ফুলে ব্যথা হয়, তাই সে সব কিছু মুখে দিতে চায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্থায়ী দাঁত ৩২টি, যার মধ্যে শেষের ৪টিকে আক্কেল দাঁত বলে।
    দাঁতের বাইরের স্তর এনামেল, যা দেহের সবচেয়ে শক্ত অংশ।
  129. ১৭০. মানুষের রক্তে শ্বেতকণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত-এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ১ঃ৫০০
    • খ. ১ঃ৬৫০
    • গ. ২ঃ৭০০
    • ঘ. ১ঃ৭০০
    উত্তর: ঘ. ১ঃ৭০০
    রক্তে তিন ধরনের কণিকা থাকে, লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা ও অণুচক্রিকা। এর মধ্যে লোহিত কণিকা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি, প্রতি ঘন মিলিমিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ, আর শ্বেতকণিকা থাকে মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার। মোটামুটি প্রতি ৭০০টি লোহিত কণিকার বিপরীতে ১টি শ্বেতকণিকা থাকে, তাই শ্বেতকণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত প্রায় ১ : ৭০০। রোগজীবাণুর সংক্রমণ হলে শ্বেতকণিকার সংখ্যা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে রক্ত পরীক্ষায় লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে গেলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া ধরা পড়ে।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা অক্সিজেন পরিবহন করে, এর আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    শ্বেতকণিকা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
    অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  130. ১৭১. করোনারী থ্রম্বসিস অসুখটি-এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. যকৃতের
    • খ. হৃৎপিন্ডের
    • গ. অগ্ন্যাশয়ের
    • ঘ. কিডনীর
    উত্তর: খ. হৃৎপিন্ডের
    হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে করোনারি ধমনি (Coronary artery)। এই ধমনির ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে তাকে করোনারি থ্রম্বসিস (Coronary thrombosis) বলে, আর এর ফলে হৃৎপেশি অক্সিজেন পায় না এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই এটি হৃৎপিণ্ডের অসুখ। রক্তনালির ভেতরে কোলেস্টেরল জমে সরু হয়ে গেলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। করোনারি থ্রম্বসিস হলে রোগীর বুকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হয়, তাই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। এ কারণে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া ও নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো।
    মনে রাখুন:
    হেপাটাইটিস = যকৃতের রোগ।
    ডায়াবেটিস = অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতিজনিত রোগ।
    নেফ্রাইটিস = কিডনির রোগ।
  131. ১৭২. দেহ বৃদ্ধিকারক হরমোন কোনটি?এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. থাইরক্সিন
    • খ. প্রোল্যাকটিন
    • গ. এড্রিনালিন
    • ঘ. সোমাটোট্রফিন
    উত্তর: ঘ. সোমাটোট্রফিন
    মস্তিষ্কের নিচে থাকা পিটুইটারি গ্রন্থির (Pituitary gland) সামনের অংশ থেকে সোমাটোট্রফিন বা গ্রোথ হরমোন (Growth hormone) নিঃসৃত হয়, যা দেহের হাড় ও পেশির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুকালে এর অভাব হলে মানুষ খর্বাকৃতি হয়, আর বেশি হলে অস্বাভাবিক লম্বা হয়ে যায়, যাকে অতিকায়ত্ব (Gigantism) বলে। পিটুইটারি গ্রন্থি অন্য অনেক গ্রন্থির কাজও নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে প্রভু গ্রন্থি (Master gland) বলা হয়। গ্রোথ হরমোন ঘুমের সময় বেশি নিঃসৃত হয়, তাই শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন।
    মনে রাখুন:
    থাইরক্সিন: বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে
    প্রোল্যাকটিন: মাতৃদুগ্ধ তৈরিতে সাহায্য করে
    অ্যাড্রিনালিন: বিপদে দেহকে প্রস্তুত করে
  132. ১৭৩. কোন হরমোনের অভাবে গলগন্ড রোগের সৃষ্টি হয়?এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. থাইরক্সিন
    • খ. ইনসুলিন
    • গ. গ্লুকাগন
    • ঘ. করটিসোল
    উত্তর: ক. থাইরক্সিন
    গলার সামনে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন (Thyroxine) হরমোন তৈরি হয়, আর এটি তৈরিতে আয়োডিন লাগে। খাবারে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরক্সিন কম তৈরি হয়, ফলে গ্রন্থিটি বেশি কাজ করতে গিয়ে ফুলে ওঠে। গলার এই ফোলাকে গলগণ্ড (Goitre) রোগ বলে। এ কারণেই বাংলাদেশে খাবার লবণে আয়োডিন মেশানো বাধ্যতামূলক। থাইরক্সিন দেহের বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ করে। গলগণ্ড প্রতিরোধে সামুদ্রিক মাছ ও আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উপকারী।
    মনে রাখুন: ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়, আর ইনসুলিন ও গ্লুকাগন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় থেকে।
    শিশুকালে থাইরক্সিনের অভাব হলে ক্রেটিনিজম রোগ হয়।
  133. ১৭৪. ভালো কোলেস্টেরল নিচের কোনটিকে বলা হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. এলডিএল
    • খ. এইচডিএল
    • গ. এমডিএল
    • ঘ. টিডিএল
    উত্তর: খ. এইচডিএল
    রক্তে কোলেস্টেরল একা চলাচল করতে পারে না, তাই এটি লাইপোপ্রোটিন নামের বাহকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চলে। এইচডিএল (High Density Lipoprotein) রক্তনালির গা থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল তুলে যকৃতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, ফলে রক্তনালি পরিষ্কার থাকে। এ কারণে এইচডিএলকে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। অন্যদিকে এলডিএল (Low Density Lipoprotein) বেশি হলে রক্তনালির ভেতরে চর্বি জমে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে।
    মনে রাখুন: নিয়মিত ব্যায়াম ও আঁশযুক্ত খাবার এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে, আর ট্রান্সফ্যাট এলডিএল বাড়ায়।
  134. ১৭৫. ‘ইনসুলিন’ হরমোনের অভাবে কোন রোগ হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (শিক্ষাবিজ্ঞানসহ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. ষ্কার্ভি
    • খ. রিকেট
    • গ. রাতকানা
    • ঘ. ডায়াবেটিস
    উত্তর: ঘ. ডায়াবেটিস
    ইনসুলিন (Insulin) হলো অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছ থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন। এটি রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে এবং বাড়তি গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, আর এই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus) বলে। ইনসুলিনের সঙ্গে গ্লুকাগন নামের আরেকটি হরমোন বিপরীত কাজ করে, অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে তা বাড়ায়।
    মনে রাখুন:
    স্কার্ভি হয় ভিটামিন সি-এর অভাবে।
    রিকেট হয় ভিটামিন ডি-এর অভাবে।
    রাতকানা হয় ভিটামিন এ-এর অভাবে।
    বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ১৪ নভেম্বর।
  135. ১৭৬. 'Fabric of human body' গ্রন্থের লেখক কে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মানবদেহ ও শারীরস্থান
    • ক. William Harvey
    • খ. Andreas Vesalius
    • গ. René Descartes
    • ঘ. Marcello Malpighi
    উত্তর: খ. Andreas Vesalius
    'De humani corporis fabrica' বা 'Fabric of the Human Body' বইটির লেখক আন্দ্রেয়াস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius)। ১৫৪৩ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে তিনি মানুষের মৃতদেহ কেটে দেখে হাড়, পেশি, স্নায়ু ও শিরা-উপশিরার ছবি এঁকেছেন। আগে মানুষ প্রাচীন গ্যালেনের বর্ণনা অন্ধভাবে মানত, ভেসালিয়াস সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে সেই বর্ণনার অনেক ভুল ধরিয়ে দেন। বইয়ের ছবিগুলো আঁকা হয়েছিল সে সময়ের বিখ্যাত শিল্পীদের হাতে, আর এগুলো আজও শারীরস্থানের ইতিহাসে বিখ্যাত।
    মনে রাখুন:
    ভেসালিয়াসকে আধুনিক এনাটমির জনক বলা হয়।
    উইলিয়াম হার্ভে রক্ত সঞ্চালন আবিষ্কার করেন, আর মার্সেলো মালপিঘি কৈশিক নালি আবিষ্কার করেন।
  136. ১৭৭. এনাটমির জনক কে?মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি), ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মানবদেহ ও শারীরস্থান
    • ক. ভেসালিয়াস
    • খ. উইলিয়াম হার্ভে
    • গ. রাসেল ওয়ালেস
    • ঘ. জন ফ্লেমিং
    উত্তর: ক. ভেসালিয়াস
    এনাটমি (Anatomy) বা শারীরস্থান বিদ্যার জনক ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius)। তিনি ১৫৪৩ সালে 'De humani corporis fabrica' বই লিখে মানবদেহের গঠনকে মৃতদেহ কেটে সরাসরি দেখে বর্ণনা করেন। এই বইয়ের ছবিগুলো এতটাই নিখুঁত ছিল যে এর ভিত্তিতে পরে আধুনিক শারীরস্থান বিজ্ঞান গড়ে ওঠে। উইলিয়াম হার্ভে ছিলেন শারীরবিদ্যার জনক। রাসেল ওয়ালেস ডারউইনের সমসাময়িক প্রকৃতিবিদ। ভেসালিয়াস ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন এবং নিজে হাতে মৃতদেহ কেটে ছাত্রদের দেখাতেন। এ কারণে শারীরস্থান পড়ুয়াদের কাছে তাঁর নাম সবচেয়ে আগে আসে।
    মনে রাখুন:
    এনাটমি: দেহের গঠন। ফিজিওলজি: দেহের কাজ।
  137. ১৭৮. শারীরবিদ্যার জনক কে?মেডিকেল ভর্তি, ২০০৩-০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মানবদেহ ও শারীরস্থান
    • ক. লুই পাস্তুর
    • খ. উইলিয়াম হার্ভে
    • গ. হিপোক্রাটাস
    • ঘ. এরিস্টটল
    উত্তর: খ. উইলিয়াম হার্ভে
    ইংরেজ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে (William Harvey) ১৬২৮ সালে প্রমাণ করেন যে হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো কাজ করে রক্তকে ধমনির মাধ্যমে সারা দেহে পাঠায় এবং শিরার মাধ্যমে আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। এ কারণে রক্ত দেহে ঘুরেই চলে। জীবদেহের অঙ্গ কীভাবে কাজ করে তা পরীক্ষা করে দেখানোর জন্য তাঁকে শারীরবিদ্যার জনক (Father of Physiology) বলা হয়। তাঁর কাজের ফলে আধুনিক শারীরবিদ্যা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত শক্ত হয়েছে। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লসের ব্যক্তিগত চিকিৎসকও। হার্ভের তত্ত্ব ওই সময় অনেকে মানেননি।
    মনে রাখুন:
    হিপোক্রাটিস চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক। পাস্তুর অণুজীববিজ্ঞানের জনকদের একজন।
  138. ১৭৯. মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার আবিষ্কারক-মেডিকেল ভর্তি, ১৯৮৯-৯০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মানবদেহ ও শারীরস্থান
    • ক. অ্যারিস্টটল
    • খ. গেলেন
    • গ. হার্ভে
    • ঘ. গ্যালিলিও
    উত্তর: গ. হার্ভে
    মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন (Blood circulation) আবিষ্কার করেন ইংরেজ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে। ১৬২৮ সালে প্রকাশিত 'De Motu Cordis' বইয়ে তিনি দেখান যে হৃৎপিণ্ড রক্তকে পাম্প করে দেহময় ঘোরায়। আগে গ্যালেনের মতো ধরা হতো, রক্ত যকৃতে তৈরি হয়ে দেহে খরচ হয়ে যায়। হার্ভে হিসাব করে দেখান, এত বেশি রক্ত প্রতিদিন তৈরি হওয়া সম্ভব নয়, তাই রক্ত নিশ্চয়ই ঘুরে ফিরে আসে। হার্ভে দেখান যে হৃৎপিণ্ডের ভেতরের কপাটিকা রক্তকে একমুখী পথে চালায়, উল্টো দিকে ফিরতে দেয় না।
    মনে রাখুন:
    পরে মার্সেলো মালপিঘি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কৈশিক নালি দেখে হার্ভের তত্ত্বকে পূর্ণতা দেন।
  139. ১৮০. কোন অঙ্গের পেশির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেশি
    • ক. হাতের
    • খ. পায়ের
    • গ. চোয়ালের
    • ঘ. পাকস্থলীর
    উত্তর: ঘ. পাকস্থলীর
    আমাদের পাকস্থলীর পেশি অনৈচ্ছিক (Involuntary) পেশি, তাই এর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ইচ্ছা করলেও আমরা পাকস্থলীর খাদ্য মন্থন থামাতে বা বাড়াতে পারি না। হাত, পা ও চোয়ালের পেশি ঐচ্ছিক, অর্থাৎ ইচ্ছামতো নাড়ানো যায়। অনৈচ্ছিক পেশি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। মেরুদণ্ডী প্রাণীর পেশি তিন ধরনের: কঙ্কালপেশি, মসৃণ পেশি ও হৃৎপেশি। কঙ্কালপেশি ডোরাকাটা ও ঐচ্ছিক, মসৃণ পেশি ডোরাহীন ও অনৈচ্ছিক। শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি ডায়াফ্রাম অবশ্য ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক দুভাবেই কাজ করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    অনৈচ্ছিক পেশির উদাহরণ: পাকস্থলী, অন্ত্র, রক্তনালি।
    হৃৎপেশি অনৈচ্ছিক হলেও এর গঠন ভিন্ন ধরনের।
  140. ১৮১. কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো-BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেশি
    • ক. গোলাকার
    • খ. নলাকার
    • গ. পিপাকৃত
    • ঘ. অর্ধচন্দ্রাকৃত
    উত্তর: খ. নলাকার
    কার্ডিয়াক বা হৃৎপেশির কোষ নলাকার ও শাখান্বিত। কোষগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি বিশেষ সংযোগের মাধ্যমে যুক্ত থাকে, যাকে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলে। এর ফলে হৃদপিণ্ডে স্পন্দনের সংকেত দ্রুত এক কোষ থেকে আরেক কোষে ছড়ায় এবং পুরো হৃদপিণ্ড একসঙ্গে সংকুচিত হয়। এই কোষে ডোরাকাটা দাগ থাকে এবং সাধারণত একটি বা দুটি নিউক্লিয়াস থাকে। কঙ্কালপেশির কোষ বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং শাখাহীন, আর মসৃণ পেশির কোষে একটিমাত্র নিউক্লিয়াস থাকে। তিন ধরনের পেশির কোষ দেখেই আলাদা করা যায়। হৃৎপেশির কোষের মতো গঠন আর কোনো পেশিতে নেই।
    মনে রাখুন:
    কঙ্কালপেশির কোষ লম্বা, নলাকার ও অশাখান্বিত।
    মসৃণ পেশির কোষ সরু ও দুই প্রান্ত সূচালো।
  141. ১৮২. মানব দেহের যে অঙ্গে ইউরিয়া তৈরী হয় তার নাম-গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচন ও যকৃত
    • ক. ত্বক
    • খ. যকৃত
    • গ. বৃক্ক
    • ঘ. মূত্রথলি
    উত্তর: খ. যকৃত
    আমাদের শরীরে প্রোটিন ভাঙলে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া তৈরি হয়। যকৃত বা লিভার এই অ্যামোনিয়াকে কম বিষাক্ত ইউরিয়ায় পরিণত করে। এরপর ইউরিয়া রক্তের মাধ্যমে বৃক্কে যায়, যেখানে রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেওয়া হয়। তাই ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে, আর বের করা হয় বৃক্কের মাধ্যমে। ইউরিয়া তৈরির এই চক্রকে ইউরিয়া চক্র বা অর্নিথিন চক্র বলে। বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে ইউরিয়া জমে যায়, তখন ডায়ালাইসিস দরকার হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    যকৃত ইউরিয়া তৈরি করে, বৃক্ক তা ছেঁকে বের করে এবং মূত্রথলি প্রস্রাব জমিয়ে রাখে।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গ্রাম ইউরিয়া ত্যাগ করে।
  142. ১৮৩. কোনটি রক্তের উপাদান নয়?CGA-এর কার্যালয়ের অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের উপাদান
    • ক. লোহিত কণিকা
    • খ. শ্বেত কণিকা
    • গ. লিউকোপ্লাস্ট
    • ঘ. বেসোফিল
    উত্তর: গ. লিউকোপ্লাস্ট
    রক্তের মূল উপাদান দুটি: রক্তরস (Plasma) ও রক্তকণিকা। রক্তকণিকা আবার তিন প্রকার: লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা। বেসোফিল শ্বেত কণিকার একটি ধরন, তাই এটি রক্তের উপাদান। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast) একটি উদ্ভিদ-কোষের প্লাস্টিড, যেখানে খাদ্য জমা থাকে। এর সঙ্গে রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। রক্তের উপাদানের আলোচনায় এই পার্থক্যটা মনে রাখা দরকার। প্লাস্টিড উদ্ভিদের কোষে থাকে, প্রাণীর রক্তে নয়। তাই এটি কখনো রক্তের উপাদান হতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন প্লাস্টিড এবং স্টার্চ সঞ্চয় করে।
    প্লাস্টিড তিন ধরনের: ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট।
  143. ১৮৪. কোনটি রক্তের উপাদান নয়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের উপাদান
    • ক. আরবিসি
    • খ. ডব্লিউবিসি
    • গ. থ্রোম্বসাইট
    • ঘ. পেপটাইড
    উত্তর: ঘ. পেপটাইড
    পেপটাইড (Peptide) রক্তের কোনো উপাদান নয়। এটি অ্যামিনো অ্যাসিডের ছোট শৃঙ্খল। আরবিসি (RBC) অর্থাৎ লোহিত কণিকা, ডব্লিউবিসি (WBC) অর্থাৎ শ্বেত কণিকা এবং থ্রোম্বোসাইট (Thrombocyte) অর্থাৎ অণুচক্রিকা, তিনটিই রক্তকণিকা। এদের সঙ্গে রক্তরস মিলে রক্ত গঠিত হয়। পেপটাইডের মধ্যকার রাসায়নিক বন্ধনের নাম পেপটাইড বন্ধন। দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হলে ডাইপেপটাইড হয়, এভাবে বহু অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হলে পলিপেপটাইড তৈরি হয়। রক্তের উপাদান নিয়ে কথা উঠলে প্রথমেই মনে করুন যে রক্ত একটি তরল যোজক কলা, যার তরল অংশ প্লাজমা এবং কঠিন অংশ কণিকা।
    মনে রাখুন:
    অনেকগুলো অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত হয়ে পেপটাইড ও পরে প্রোটিন তৈরি হয়।
    অণুচক্রিকাকে প্লেটলেটও বলা হয়।
  144. ১৮৫. রক্তের উপাদান নয় কোনটি?BBAL-এর কার্গো সহকারী, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের উপাদান
    • ক. হিমোগ্লোবিন
    • খ. RBC
    • গ. WBC
    • ঘ. HCL
    উত্তর: ঘ. HCL
    HCl বা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড রক্তের উপাদান নয়। এটি পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রসে থাকে এবং খাদ্য হজমে সাহায্য করে। অন্যদিকে RBC (লোহিত কণিকা) ও WBC (শ্বেত কণিকা) রক্তের কণিকা, আর হিমোগ্লোবিন লোহিত কণিকার ভেতরের প্রোটিন, যা রক্তের উপাদানের অংশ। রক্তে অ্যাসিড মিশলে রক্তের pH বদলে যেত, তাই দেহে এমন কিছু ঘটতে দেওয়া হয় না। পাকস্থলীর কোষ থেকে HCl নিঃসৃত হয় এবং রক্তে এর কোনো অংশ ঘোরে না। রক্তের pH প্রায় ৭.৪, অর্থাৎ হালকা ক্ষারীয়। অ্যাসিড তো দূরের কথা, সামান্য pH বদলালেও দেহের কাজ ব্যাহত হয়।
    মনে রাখুন:
    পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রস অম্লীয় বলে খাবারের জীবাণুও অনেকটা মরে যায়।
  145. ১৮৬. নিচের কোনটি রক্তের উপাদান নয়?সিভিল সার্জন, কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের উপাদান
    • ক. শ্বেতকণিকা
    • খ. লোহিত কণিকা
    • গ. সিএসএফ
    • ঘ. অনুচক্রিকা
    উত্তর: গ. সিএসএফ
    সিএসএফ (CSF) মানে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে ঘিরে থাকে। এটি রক্তের উপাদান নয়। শ্বেতকণিকা, লোহিত কণিকা ও অণুচক্রিকা, তিনটিই রক্তের কণিকা। সিএসএফ মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে বাঁচায় এবং এর পুষ্টি জোগায়। এছাড়া সিএসএফ-এ কোনো লোহিত বা অণুচক্রিকা থাকে না, এটি প্রায় স্বচ্ছ তরল। পিঠের নিচে সূঁচ ফুটিয়ে এই তরল সংগ্রহ করে মেনিনজাইটিসের মতো রোগ ধরা হয়। রক্তে যে তরল অংশ থাকে, তার নাম রক্তরস। সিএসএফ রক্তরসের মতো দেখতে হলেও এর গঠন আলাদা এবং এতে প্রোটিন কম থাকে।
    মনে রাখুন:
    মস্তিষ্ক তিনটি পর্দা দিয়ে ঢাকা, এদের মেনিনজেস বলে।
    এই পর্দায় সংক্রমণ হলে মেনিনজাইটিস রোগ হয়।
  146. ১৮৭. পূর্ণবয়স্ক পুরুষের মোট রক্তের গড় পরিমাণ-প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের পরিমাণ
    • ক. ৫ লিটার
    • খ. ৭ লিটার
    • গ. ৮ লিটার
    • ঘ. ১০ লিটার
    উত্তর: ক. ৫ লিটার
    একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫ লিটার রক্ত থাকে। পুরুষের রক্তের পরিমাণ সাধারণত ৫ থেকে ৬ লিটারের মধ্যে থাকে। নারীর দেহে এর চেয়ে কিছু কম, প্রায় ৪ থেকে ৫ লিটার রক্ত থাকে। আকারে ছোট বলে শিশুর রক্তও কম হয়। নারীদের রক্ত পুরুষদের তুলনায় কম, কারণ তাদের দেহ সাধারণত ছোট। দেহের আকার ও ওজন অনুযায়ী রক্তের পরিমাণ সামান্য বদলায়।
    মনে রাখুন:
    রক্তের পরিমাণ দেহের ওজনের প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ।
    সুস্থ মানুষ একবারে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ মিলি রক্ত দান করতে পারেন।
  147. ১৮৮. মানুষের দেহে সাধারণ ওজনের কত শতাংশ রক্ত থাকে?বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের পরিমাণ
    • ক. ১০%
    • খ. ৫%
    • গ. ৮%
    • ঘ. ৯%
    উত্তর: গ. ৮%
    মানবদেহের মোট ওজনের প্রায় ৮ শতাংশ রক্ত। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষের দেহে প্রায় ৪.৮ কেজি রক্ত থাকে। রক্তের এই পরিমাণ লিঙ্গ ও বয়সভেদে কিছু বদলায়। আসলে দেহের ওজনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ রক্ত থাকে, আর প্রচলিত হিসাবে ৮ শতাংশ ধরা হয়। ওজন বাড়লে রক্তের পরিমাণও আনুপাতিক হারে বাড়ে। রক্ত দেহের সব অংশে পৌঁছে অক্সিজেন, খাদ্য ও হরমোন দেয়। এই পরিমাণ রক্ত না থাকলে দেহের কোষ বাঁচতে পারত না। রক্তের পরিমাণ বেশি কমে গেলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে বা মারা যায়, তাই রক্তক্ষরণ থামানো খুবই জরুরি।
    মনে রাখুন:
    রক্তের এই আয়তন দেহের তাপ, পুষ্টি ও গ্যাস সঞ্চালনের জন্য যথেষ্ট।
  148. ১৮৯. এক রক্তদান শিবিরে আপনি যদি ২৫০ মিলি. রক্ত দান করেন তাহলে আপনার শরীরের মোট রক্তের শতকরা কত ভাগ রক্ত নেয়া হবে?MOEWOE-র সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের পরিমাণ
    • ক. ৫%
    • খ. ৮%
    • গ. ৭%
    • ঘ. ৪%
    উত্তর: ক. ৫%
    একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫ লিটার, অর্থাৎ ৫০০০ মিলি রক্ত থাকে। রক্তদান করার সময় নেওয়া হয় ২৫০ মিলি। তাই শতকরা হিসাব হবে (250 ÷ 5000) × 100 = 5%। অর্থাৎ দেহের মোট রক্তের পাঁচ শতাংশ নেওয়া হলো। এই পরিমাণ রক্ত হারালে দেহ সহজেই সামলে নেয়, কারণ ক্ষয় হওয়া রক্ত কয়েক দিনে আবার তৈরি হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    রক্তদাতার বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর হওয়া উচিত।
    রক্ত দেওয়ার পর রক্তরস কয়েক ঘণ্টায় এবং লোহিত কণিকা কয়েক সপ্তাহে পূরণ হয়।
  149. ১৯০. ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের শরীরে রক্তের পরিমাণ-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের পরিমাণ
    • ক. ৭ লিটার
    • খ. ৪ লিটার
    • গ. ৫ লিটার
    • ঘ. ৬ লিটার
    উত্তর: গ. ৫ লিটার
    মানুষের দেহের ওজনের প্রায় ৭ শতাংশ রক্ত। ৭০ কেজির ৭ শতাংশ হিসাব করলে প্রায় ৪.৯ কেজি হয়। রক্তের ঘনত্ব পানির কাছাকাছি, তাই ওজনের এই হিসাব প্রায় ৫ লিটার আয়তনের সমান ধরা যায়। এজন্য ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের রক্তের পরিমাণ প্রায় ৫ লিটার। অনুপাত ধরে হিসাব করা হয় বলে ওজন বদলালে রক্তের পরিমাণও বদলায়। যেমন ৫০ কেজি ওজনের মানুষের রক্ত প্রায় সাড়ে ৩ লিটার হয়।
    মনে রাখুন:
    পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দেহে গড়ে ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
    রক্ত দেহের একমাত্র তরল যোজক কলা।
  150. ১৯১. মানবদেহের রক্তে মূলত কত ধরনের কোষ থাকে?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইন ক্রু, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তকণিকা
    • ক. ৫ প্রকার
    • খ. ৪ প্রকার
    • গ. ২ প্রকার
    • ঘ. ৩ প্রকার
    উত্তর: ঘ. ৩ প্রকার
    মানবদেহের রক্তে মূলত তিন ধরনের কণিকা থাকে: লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা। লোহিত কণিকা অক্সিজেন বহন করে। শ্বেত কণিকা রোগজীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে। অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। এদের প্রত্যেকের কাজ আলাদা, তাই রক্ত শুধু একটি তরল নয়, একটি জটিল কলা। এদের মধ্যে লোহিত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, আর শ্বেত কণিকা সবচেয়ে কম। রক্তের কণিকা আর রক্তরস মিলিয়েই রক্ত গঠিত। তিন ধরনের কণিকার সংখ্যার অনুপাত এবং তাদের কাজ ভালোভাবে মনে রাখলে এ অধ্যায়ের অনেক প্রশ্ন সহজ হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    অণুচক্রিকা আসলে পূর্ণ কোষ নয়, কোষের ক্ষুদ্র টুকরো।
    তিনটি কণিকাই অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।
  151. ১৯২. রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি হয় -BPSC-র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহিত কণিকা
    • ক. তরুণাস্থিতে
    • খ. হরিদ্রা অস্থিমজ্জায়
    • গ. লোহিত অস্থিমজ্জায়
    • ঘ. যকৃতে
    উত্তর: গ. লোহিত অস্থিমজ্জায়
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের লোহিত কণিকা তৈরি হয় লোহিত অস্থিমজ্জায় (Red bone marrow)। এটি কশেরুকা, পাঁজর, বক্ষাস্থি ও নিতম্বের মতো চ্যাপ্টা হাড়ের ভেতরে থাকে। হরিদ্রা বা হলুদ মজ্জা মূলত চর্বি জমা রাখে। ভ্রূণ অবস্থায় যকৃৎ ও প্লীহাতে লোহিত কণিকা তৈরি হয়। বয়স্ক মানুষের যকৃতে এই কাজ হয় না। লোহিত অস্থিমজ্জায় সব ধরনের রক্তকণিকার জন্ম হয়। শিশুদের সব হাড়েই লোহিত মজ্জা থাকে, কিন্তু বয়স বাড়লে তা কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকা তৈরির জন্য আয়রন, ভিটামিন B₁₂ ও ফলিক অ্যাসিড দরকার।
    এই কণিকা গঠনের হরমোনের নাম এরিথ্রোপয়েটিন।
  152. ১৯৩. RBC সম্বন্ধে কোনটি মিথ্যা?সেবা পরিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহিত কণিকা
    • ক. Life span 120 days
    • খ. Nucleus নাই
    • গ. Maturation এর জন্য vit D দরকার
    • ঘ. Spleen এ উৎপত্তি হয়
    উত্তর: গ. Maturation এর জন্য vit D দরকার
    লোহিত কণিকা (RBC) পরিণত হতে ভিটামিন D লাগে না, লাগে ভিটামিন B₁₂ ও ফলিক অ্যাসিড। তাই এই বক্তব্যটিই মিথ্যা। বাকি তথ্যগুলো ঠিক। লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন। পরিণত অবস্থায় এতে নিউক্লিয়াস থাকে না, তাই এতে হিমোগ্লোবিন রাখার জায়গা বেশি হয়। এছাড়া ভ্রূণ অবস্থায় প্লীহা লোহিত কণিকা তৈরি করে। লোহিত কণিকা দুই দিকে অবতল চাকতির মতো দেখতে, তাই ছোট নালির ভেতরেও সহজে চলতে পারে। এর পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াস থাকে না, এই বৈশিষ্ট্যও মনে রাখার মতো।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন D ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড় গঠনে সাহায্য করে।
    B₁₂-এর অভাবে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হয়।
  153. ১৯৪. রক্ত লাল হয় যে কারণে?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. হিমোগ্লোবিন
    • খ. কোলেস্টেরল
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. নিউট্রোফিল
    উত্তর: ক. হিমোগ্লোবিন
    রক্তের লাল রঙের কারণ হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin)। এটি লোহিত কণিকার ভেতরের একটি প্রোটিন, যার মধ্যে লোহা (Fe) আছে। অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হলে এই লোহা উজ্জ্বল লাল রং দেয়। তাই ধমনির রক্ত গাঢ় লাল দেখায়। অক্সিজেন ছেড়ে দেওয়ার পর রক্ত কিছুটা গাঢ় বা কালচে লাল হয়। হিমোগ্লোবিন লোহিত কণিকার ভেতরে থাকে, তাই কণিকা ভাঙলে রক্ত রং হারায়। মজার ব্যাপার হলো, শিরার রক্তকে নীল দেখালেও তার আসল রং গাঢ় লাল। এ কারণে হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে মানুষের ঠোঁট, হাতের তালু বা নখ ফ্যাকাশে দেখায়।
    মনে রাখুন:
    হিমোগ্লোবিনের কাজ অক্সিজেন বহন করা।
    কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজ রক্তের রং নির্ধারণ করে না।
  154. ১৯৫. নিচের কোন অঙ্গে লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণার্থী, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহিত কণিকা
    • ক. প্লীহা
    • খ. যকৃত
    • গ. পাকস্থলী
    • ঘ. বৃক্ক
    উত্তর: ক. প্লীহা
    প্লীহা (Spleen) পুরোনো ও নষ্ট হয়ে যাওয়া লোহিত কণিকা ধ্বংস করে। এজন্য প্লীহাকে লোহিত কণিকার কবরস্থান বলা হয়। ধ্বংস হওয়ার পর কণিকার ভেতরের লোহা আবার কাজে লাগে এবং হিমোগ্লোবিনের বাকি অংশ থেকে পিত্তরঞ্জক তৈরি হয়। যকৃৎও কিছু কণিকা ভাঙে, কিন্তু প্লীহাকেই প্রধান ধরা হয়। প্লীহা পেটের গহ্বরে পাকস্থলীর বাঁ দিকে থাকে এবং আকারে মুঠির মতো। এটি লোহিত কণিকা সংগ্রহ করে নতুন কণিকা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রক্ত জমা রাখে।
    মনে রাখুন:
    প্লীহা পাকস্থলীর বাঁ পাশে থাকে। এটি লসিকা ও রক্ত ছেঁকে জীবাণু ধ্বংসেও সাহায্য করে।
  155. ১৯৬. রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে-প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (কুড়িগ্রাম), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. লোহিত রক্তকণিকায়
    • খ. শ্বেত রক্তকণিকায়
    • গ. অণুচক্রিকায়
    • ঘ. প্লাজমায়
    উত্তর: ক. লোহিত রক্তকণিকায়
    হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে থাকে। প্রতিটি লোহিত কণিকায় কোটি কোটি হিমোগ্লোবিন অণু ভরা থাকে। শ্বেত কণিকা, অণুচক্রিকা ও প্লাজমায় হিমোগ্লোবিন থাকে না। লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস না থাকায় হিমোগ্লোবিন রাখার জায়গা বেশি পাওয়া যায়, ফলে রক্ত বেশি অক্সিজেন বহন করতে পারে। লোহিত কণিকার লালচে রঙের কারণও এই হিমোগ্লোবিন। অন্য কণিকায় কিন্তু এই প্রোটিন থাকে না, তাই এগুলো প্রায় বর্ণহীন। কেঁচোর ক্ষেত্রে অবশ্য হিমোগ্লোবিন রক্তরসে থাকে, কিন্তু মানুষে তা লোহিত কণিকার ভেতরে।
    মনে রাখুন:
    পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১৩ থেকে ১৭ গ্রাম/ডেসিলিটার।
    নারীর ক্ষেত্রে মাত্রা ১২ থেকে ১৫ গ্রাম/ডেসিলিটারের মতো।
  156. ১৯৭. রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠিত হয়?ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. জিংক এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
    • খ. কপার এবং লিপিডের সমন্বয়ে
    • গ. ম্যাঙ্গানিজ ও প্রোটিনের সমন্বয়
    • ঘ. লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
    উত্তর: ঘ. লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
    হিমোগ্লোবিন লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত। এর প্রোটিন অংশের নাম গ্লোবিন, আর লোহাযুক্ত অংশের নাম হিম (Heme)। প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণুতে চারটি হিম থাকে, আর প্রতিটি হিম একটি অক্সিজেন অণু ধরে রাখতে পারে। লোহার অভাব হলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, ফলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়। হিমোগ্লোবিনের লোহা দেহ থেকে বেরিয়ে গেলে তা আবার খাদ্য থেকে পূরণ করতে হয়। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত লোহা না থাকলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি তৈরি হয়। হিমোগ্লোবিন অণুটি চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খলে গঠিত। গ্লোবিন অংশ প্রোটিন, আর লোহাযুক্ত হিম অংশই অক্সিজেনকে আটকে রাখে।
    মনে রাখুন:
    লোহা কলিজা, পালংশাক ও কচু শাকে বেশি থাকে।
  157. ১৯৮. খাদ্যের কোন উপাদান রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১২ ও পেট্রোবাংলার সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. আমিষ (Protein)
    • খ. শর্করা (Carbohydrate)
    • গ. স্নেহ (Fat)
    • ঘ. ভিটামিন (Vitamin)
    উত্তর: ক. আমিষ (Protein)
    খাদ্যের আমিষ বা প্রোটিন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশ প্রোটিন দিয়ে তৈরি, আর প্রোটিন হজম হয়ে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হলে দেহ তা থেকে নতুন প্রোটিন বানায়। তাই খাদ্যে প্রোটিন কম থাকলে হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি হয় না। শর্করা ও স্নেহ মূলত শক্তি জোগায়। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের এই কারণে বেশি আমিষ দরকার। মাংস, ডিম, ডাল ও দুধে ভালো মানের প্রোটিন থাকে।
    মনে রাখুন:
    প্রোটিনের পাশাপাশি লোহা, ভিটামিন B₁₂ ও ফলিক অ্যাসিডও দরকার।
    মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল ভালো আমিষের উৎস।
  158. ১৯৯. রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠিত হয়-আরডিএ-র সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. জিংক এবং প্রোটিন এর সমন্বয়ে
    • খ. কপার এবং লিপিডের এর সমন্বয়ে
    • গ. লৌহ এবং প্রোটিনের এর সমন্বয়ে
    • ঘ. ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
    উত্তর: গ. লৌহ এবং প্রোটিনের এর সমন্বয়ে
    হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় লৌহ (Fe) এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে। এর লোহাযুক্ত অংশের নাম হিম (Heme) এবং প্রোটিন অংশের নাম গ্লোবিন (Globin)। হিম অংশে থাকা লোহা অক্সিজেনকে ধরে রাখে। এখানে জিংক, তামা বা ম্যাঙ্গানিজ এই কাজ করে না। লিপিডও হিমোগ্লোবিনের উপাদান নয়। একটি হিমোগ্লোবিন অণুতে চারটি হিম ও চারটি গ্লোবিন শৃঙ্খল থাকে। তাই একটি অণু চারটি অক্সিজেন অণু বহন করতে পারে। লোহা ছাড়া এই অণু কাজ করতে পারে না। এ কারণেই পুষ্টি পরিকল্পনায় আয়রনযুক্ত খাবারের ওপর জোর দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    কার্বন মনোক্সাইড হিমের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়েও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়, তাই এটি বিষাক্ত।
  159. ২০০. লোহিত কণিকার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সহায়তা করে কোন ভিটামিন?দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সহকারী পরিদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. ভিটামিন C
    • খ. ভিটামিন B
    • গ. ভিটামিন A
    • ঘ. ভিটামিন B₁₂
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন B₁₂
    ভিটামিন B₁₂ লোহিত কণিকার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সাহায্য করে। অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা তৈরির সময় কোষবিভাজনের জন্য B₁₂ দরকার হয়। এই ভিটামিনের অভাবে কণিকা পূর্ণতা না পেয়ে বড় ও অসম্পূর্ণ থেকে যায়, ফলে পারনিশাস অ্যানিমিয়া হতে পারে। ভিটামিন B₁₂-এর রাসায়নিক নাম কোবালামিন (Cobalamin)। অনেক সময় খাদ্যে B₁₂ থাকলেও পাকস্থলী থেকে একটি বিশেষ উপাদান কম নিঃসৃত হলে তা শোষিত হয় না। ফলে একই রকম রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এই ভিটামিনের অভাব দীর্ঘদিন থাকলে স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    B₁₂ মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে পাওয়া যায়।
    এতে কোবাল্ট (Co) থাকে।
  160. ২০১. হিমোগ্লোবিনের কাজ কি?সমন্বয় পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. খাদ্য পরিবহন করা
    • খ. খাদ্য সংশ্লেষণ করা
    • গ. হরমোন বহন করা
    • ঘ. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করা
    উত্তর: ঘ. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করা
    হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহকোষে পৌঁছে দেওয়া। কোষ থেকে ফেরার পথে এটি কার্বন ডাই-অক্সাইডের কিছু অংশও ফুসফুসে বয়ে আনে। বাকি বেশির ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্তরসে বাইকার্বনেট আয়ন (HCO₃⁻) হিসেবে বাহিত হয়। হিমোগ্লোবিন খাদ্য বা হরমোন পরিবহন করে না। তবে বহনকারী হিসেবে অক্সিজেনেই এর ভূমিকা সবচেয়ে বড়। ফুসফুসে অক্সিজেনের চাপ বেশি, তাই সেখানে হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ধরে নেয়। কোষে চাপ কম, তাই সেখানে তা ছেড়ে দেয়। কার্বন ডাই-অক্সাইডের বাকি অল্প অংশ রক্তরসে সরাসরি দ্রবীভূত থাকে।
    মনে রাখুন:
    অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিনকে অক্সিহিমোগ্লোবিন বলে।
    খাদ্য ও হরমোন রক্তরসে বাহিত হয়।
  161. ২০২. মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহন হয় কোন অঙ্গের মাধ্যমে?অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের কাজ
    • ক. মস্তিষ্ক
    • খ. রক্ত
    • গ. হৃদপিণ্ড
    • ঘ. ফুসফুস
    উত্তর: খ. রক্ত
    মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহন করে রক্ত। ফুসফুস বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে রক্তে মিশিয়ে দেয়। রক্তের লোহিত কণিকা এই অক্সিজেন বহন করে হৃৎপিণ্ডের পাম্পের মাধ্যমে সারা দেহের কোষে পৌঁছে দেয়। ফুসফুস শুধু গ্যাস বিনিময়ের জায়গা, আর হৃৎপিণ্ড রক্ত চালানোর পাম্প। মস্তিষ্ক এই কাজ করে না। ধমনি দিয়ে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত কোষে যায় এবং শিরা দিয়ে অক্সিজেনহীন রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফেরে। এ কাজে হিমোগ্লোবিন মূল ভূমিকা রাখে। ফুসফুস অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং রক্তের মাধ্যমে তা দেহের সবখানে পৌঁছে যায়।
    মনে রাখুন:
    রক্ত অক্সিজেন ছাড়াও পুষ্টি, হরমোন ও বর্জ্য পরিবহন করে।
  162. ২০৩. একটি রক্তের রিপোর্টে কোনটি বেশি থাকা ভাল?শ্রম অধিদপ্তরের শ্রম কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হিমোগ্লোবিন
    • ক. ইউরিক এসিড
    • খ. হিমোগ্লোবিন
    • গ. শর্করা
    • ঘ. কোলেস্টেরল
    উত্তর: খ. হিমোগ্লোবিন
    রক্তের রিপোর্টে হিমোগ্লোবিন বেশি থাকা ভালো, তবে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে। হিমোগ্লোবিন বেশি থাকলে রক্ত বেশি অক্সিজেন বহন করে দেহ সতেজ রাখে। অন্যদিকে ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে গাউট রোগ হয়, রক্তে শর্করা বেশি হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং কোলেস্টেরল বেশি হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে রক্ত পরীক্ষার ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দেখে চিকিৎসকেরা রক্তাল্পতা আছে কি না বুঝতে পারেন। তবে মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাড়াও ভালো নয়। কারণ হিমোগ্লোবিন বেশি থাকলে দেহ বেশি অক্সিজেন পায়।
    মনে রাখুন:
    পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন সাধারণত নারীর চেয়ে কিছু বেশি।
  163. ২০৪. মানবদেহের লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার অনুপাত কত?সহকারী পরিচালক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তকণিকা
    • ক. ৭০০ : ১
    • খ. ৮০০ : ১
    • গ. ৯০০ : ১
    • ঘ. ১০০০ : ১
    উত্তর: ক. ৭০০ : ১
    মানবদেহে লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার অনুপাত প্রায় ৭০০ : ১। প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকা থাকে প্রায় ৫০ লক্ষ, আর শ্বেত কণিকা থাকে প্রায় ৭০০০। তাই ৫০ লক্ষকে ৭ হাজার দিয়ে ভাগ করলে মোটামুটি ৭০০ পাওয়া যায়। বলা যায়, প্রতি ৭০০টি লোহিত কণিকার বিপরীতে মাত্র একটি শ্বেত কণিকা থাকে। শ্বেত কণিকা সংখ্যায় কম হলেও রোগ প্রতিরোধে বিশাল ভূমিকা রাখে। সংখ্যা কম বলে এরা ছোট বাহিনীর মতো কাজ করে। শ্বেত কণিকা পাঁচ ধরনের: নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট, মনোসাইট, ইওসিনোফিল ও বেসোফিল।
    মনে রাখুন:
    শ্বেত কণিকার সংখ্যা সংক্রমণের সময় অনেক বেড়ে যায়।
  164. ২০৫. রক্তের ফ্যাগোসাইটোসিসকারী কোষের নাম-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বেত কণিকা
    • ক. লিম্ফোসাইট
    • খ. ইয়োসিনোফিল
    • গ. ব্যাসোফিল
    • ঘ. নিউট্রোফিল
    উত্তর: ঘ. নিউট্রোফিল
    নিউট্রোফিল (Neutrophil) রক্তের প্রধান ফ্যাগোসাইট। এটি রোগজীবাণুকে গিলে হজম করে ফেলে, এই প্রক্রিয়ার নাম ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis)। শ্বেত কণিকার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই নিউট্রোফিল। ক্ষতস্থানে জমে থাকা পুঁজে মৃত নিউট্রোফিল থাকে। লিম্ফোসাইট প্রধানত অ্যান্টিবডি তৈরি করে। নিউট্রোফিল গোলাকার, এর নিউক্লিয়াস কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত। এটি অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়ে রক্তে ঘুরে বেড়ায়। জীবাণু ঢুকলে এরা রক্তনালির দেয়াল ভেদ করে ক্ষতস্থানে পৌঁছায়। রক্তের অণুচক্রিকা বা লোহিত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস করতে পারে না। ফ্যাগোসাইটোসিস মানে কোষ দ্বারা গিলে খাওয়া।
    মনে রাখুন:
    মনোসাইট পরে ম্যাক্রোফেজ হয়ে বড় জীবাণু গিলে খায়।
  165. ২০৬. কোন কোষ হেপারিন তৈরী ও নিঃসরণ করে?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বেত কণিকা
    • ক. নিউট্রোফিল
    • খ. লিম্ফোসাইট
    • গ. মনোসাইট
    • ঘ. বেসোফিল
    উত্তর: ঘ. বেসোফিল
    বেসোফিল (Basophil) হেপারিন তৈরি ও নিঃসরণ করে। হেপারিন রক্তকে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়, ফলে রক্ত রক্তনালির ভেতরে তরল থাকে। বেসোফিল শ্বেত কণিকার সবচেয়ে কম সংখ্যক ধরন, শতকরা এক ভাগেরও কম। এটি হিস্টামিনও নিঃসরণ করে, যা অ্যালার্জির সময় ভূমিকা রাখে। বেসোফিলের কোষের ভেতরে গাঢ় দানা থাকে, যা রং করলে নীলচে দেখায়। হেপারিনের কাজ হলো রক্তনালির ভেতরে রক্তকে তরল রাখা, যাতে অকারণে রক্ত জমাট না বাঁধে। হেপারিন প্রাকৃতিক রক্তজমাট-প্রতিরোধক। হেপারিন ব্যবহার করে চিকিৎসকরা হৃদরোগীর রক্ত পাতলা রাখেন।
    মনে রাখুন:
    চিকিৎসায় রক্ত জমাট আটকাতে কৃত্রিম হেপারিন দেওয়া হয়।
  166. ২০৭. কোন রক্ত-কণিকা হিস্টামিন নিঃসরণ করে?ডেন্টাল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বেত কণিকা
    • ক. বেসোফিল
    • খ. অণুচক্রিকা
    • গ. নিউট্রোফিল
    • ঘ. মনোসাইট
    উত্তর: ক. বেসোফিল
    বেসোফিল (Basophil) নামের শ্বেত রক্তকণিকা হিস্টামিন নিঃসরণ করে। অ্যালার্জি বা প্রদাহ হলে এটি রক্তনালি প্রসারিত করে এবং রক্তনালির দেয়াল ভেদ্য করে দেয়। ফলে শ্বেত কণিকা সহজে ক্ষতস্থানে পৌঁছাতে পারে। এই কারণে ত্বক লাল হয়ে ফুলে যায় এবং চুলকায়। বেসোফিলের মতো মাস্ট কোষও হিস্টামিন নিঃসরণ করে। অ্যালার্জির ক্ষেত্রে হাঁচি, চুলকানি ও ফুলে যাওয়া হিস্টামিনের জন্যই ঘটে। শ্বেত কণিকার ভেতরে বেসোফিল সবচেয়ে কম থাকে। হিস্টামিন আসলে দেহের প্রতিরক্ষারই অংশ।
    মনে রাখুন:
    অ্যালার্জির ওষুধ অ্যান্টিহিস্টামিন হিস্টামিনের কাজ থামিয়ে দেয়।
    বেসোফিল হেপারিনও তৈরি করে।
  167. ২০৮. রক্তে Platelet এর কাজ কী?১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল/সমপর্যায়), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুচক্রিকা
    • ক. O₂ পরিবহন
    • খ. সংক্রমণ প্রতিরোধ
    • গ. রক্ত জমা বাঁধতে সাহায্য করা
    • ঘ. রক্তের Pᴴ এর পরিমাণ নির্ধারণ করা
    উত্তর: গ. রক্ত জমা বাঁধতে সাহায্য করা
    অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট (Platelet) রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। কেটে গেলে অণুচক্রিকা ক্ষতস্থানে জমা হয়ে একটি অস্থায়ী ছিপির মতো কাজ করে। তারপর প্রোথ্রোম্বিন ও ফাইব্রিনোজেনের সঙ্গে মিলে জমাট রক্তের জাল তৈরি করে। এ কারণে রক্তপাত থেমে যায়। অণুচক্রিকা অস্থিমজ্জার বিশাল কোষ থেকে ভেঙে তৈরি হয়। এর কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না, আয়ু প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন। রক্তপাত হলে এটিই সবার আগে ক্ষতস্থানে পৌঁছায়। লোহিত কণিকার কাজ অক্সিজেন বহন আর শ্বেত কণিকার কাজ সংক্রমণ প্রতিরোধ।
    মনে রাখুন:
    প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকা থাকে প্রায় দেড় থেকে সাড়ে চার লক্ষ।
    ডেঙ্গুতে অণুচক্রিকা কমে যায়।
  168. ২০৯. আমাদের শরীরের কোনো স্থানে কেটে গেলে রক্তের কোন উপাদানটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?কারা অধিদপ্তরের কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত জমাট বাঁধা
    • ক. এলবোমিন
    • খ. ফাইব্রিনোজেন
    • গ. অক্সিহিমোগ্লোবিন
    • ঘ. হরমোন
    উত্তর: খ. ফাইব্রিনোজেন
    ফাইব্রিনোজেন (Fibrinogen) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এটি রক্তরসে থাকা একটি দ্রবণীয় প্রোটিন। কেটে গেলে থ্রোম্বিন নামের এনজাইমের কাজে ফাইব্রিনোজেন অদ্রবণীয় ফাইব্রিনের সুতায় রূপ নেয়। এই সুতার জালে রক্তকণিকা আটকে গিয়ে জমাট বাঁধে এবং রক্তপাত থামে। ফাইব্রিনোজেনের অভাব হলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না। ফাইব্রিনের সুতার জালে আটকা পড়া কণিকা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যে স্তর তৈরি করে, তাকে আমরা চলতি কথায় খোসা বা ক্ষত শুকানোর আস্তরণ বলি। ফলে ক্ষত ঢাকা পড়ে।
    মনে রাখুন:
    ফাইব্রিনোজেন যকৃতে তৈরি হয়।
    এলবুমিন রক্তের অভিস্রবণ চাপ ঠিক রাখে।
  169. ২১০. প্লাজমার কোন উপাদান রক্তক্ষরণ বন্ধে সহায়তা করে?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত জমাট বাঁধা
    • ক. এলবুমিন
    • খ. গ্লোবিউলিন
    • গ. সেরেটোনিন
    • ঘ. ফাইব্রিনোজেন
    উত্তর: ঘ. ফাইব্রিনোজেন
    ফাইব্রিনোজেন (Fibrinogen) প্লাজমার সেই উপাদান, যা রক্তক্ষরণ বন্ধে সহায়তা করে। রক্ত জমাট বাঁধার সময় এটি অদ্রবণীয় ফাইব্রিনে পরিণত হয় এবং জালের মতো ছড়িয়ে ক্ষতস্থানে রক্ত আটকে ফেলে। এলবুমিন ও গ্লোবিউলিন অন্য কাজ করে। এলবুমিন রক্তের চাপ ঠিক রাখে, আর গ্লোবিউলিন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কাটা জায়গায় জমাট রক্ত শুকিয়ে একটি শক্ত আস্তরণ তৈরি করে, যা ভেতরের কলা রক্ষা করে। রক্তের এই জমাট বাঁধার ক্ষমতা না থাকলে সামান্য কাটাতেও মানুষ অনেক রক্ত হারাত।
    মনে রাখুন:
    যকৃৎ ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রোম্বিন তৈরি করে।
    প্রোথ্রোম্বিন তৈরিতে ভিটামিন K লাগে।
  170. ২১১. রক্ত জমাট বাঁধনে কোন ধাতুর আয়ন সাহায্য করে?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত জমাট বাঁধা
    • ক. আয়রন
    • খ. সোডিয়াম
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. ম্যাগনেসিয়াম
    উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম
    রক্ত জমাট বাঁধতে ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca²⁺) সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম আয়ন প্রোথ্রোম্বিনকে থ্রোম্বিনে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করে। থ্রোম্বিন তখন ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিনে বদলে দেয় এবং রক্ত জমে যায়। আয়রন, সোডিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম এই কাজ করে না। ক্যালসিয়ামকে অনেক সময় রক্ত জমাট বাঁধার চতুর্থ ফ্যাক্টর বলা হয়। দেহে ক্যালসিয়াম কমে গেলে জমাট বাঁধতে দেরি হয়। এজন্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার, যেমন দুধ ও ছোট মাছ, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন K-ও এ ক্ষেত্রে দরকার।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে প্রয়োজনীয়।
    পরীক্ষাগারে রক্ত জমাট আটকাতে সাইট্রেট দিয়ে ক্যালসিয়ামকে সরানো হয়।
  171. ২১২. রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কোনটির প্রয়োজন নেই?অষ্টম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত জমাট বাঁধা
    • ক. অনুচক্রিকা
    • খ. হরমোন
    • গ. ফিব্রিনোজেন
    • ঘ. প্রোথ্রোম্বিন
    উত্তর: খ. হরমোন
    রক্ত জমাট বাঁধতে অণুচক্রিকা, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রোম্বিন ও ক্যালসিয়াম আয়ন লাগে। তবে হরমোনের কোনো ভূমিকা এতে নেই। অণুচক্রিকা ক্ষতস্থানে জমা হয়, প্রোথ্রোম্বিন থ্রোম্বিনে বদলায় এবং ফাইব্রিনোজেন ফাইব্রিনে পরিণত হয়। এভাবে জাল তৈরি হয়ে রক্ত জমে যায়। কেটে গেলে সবার আগে অণুচক্রিকা কাজ শুরু করে, তারপর ফ্যাক্টরগুলোর পরপর পরিবর্তনের মাধ্যমে ফাইব্রিন সুতা তৈরি হয়। এই ধাপে ধাপে ঘটা ঘটনাকে রক্ত জমাট বাঁধার ক্যাসকেড বলে। হরমোন রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়, তাই এটি উত্তর।
    মনে রাখুন:
    হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং দেহের বৃদ্ধি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
  172. ২১৩. সিরামে নিচের কোনটি অনুপস্থিত থাকে?DMLC-র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ ও BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তরস
    • ক. এলবুমিন
    • খ. পানি
    • গ. ফাইব্রিনোজেন
    • ঘ. সবগুলো
    উত্তর: গ. ফাইব্রিনোজেন
    সিরামে (Serum) ফাইব্রিনোজেন থাকে না। রক্ত জমাট বাঁধলে ফাইব্রিনোজেন ফাইব্রিনে বদলে যায় এবং কণিকাগুলোর সঙ্গে জমাট বাঁধে। পরে যে হালকা হলদে তরল রয়ে যায়, সেটাই সিরাম। অর্থাৎ সিরাম হলো রক্তরস থেকে জমাট বাঁধার উপাদান বাদ দিলে যা থাকে। এতে পানি ও এলবুমিন থাকে। রক্তরসে ফাইব্রিনোজেন থাকলেও সিরামে তা থাকে না, এ পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। এছাড়া অ্যান্টিবডি ও হরমোনও সিরামে মেলে, তাই রক্তে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা সিরাম দিয়েই করা হয়। অর্থাৎ সিরামকে রক্ত জমাট বাঁধার পরের তরল বলা যায়।
    মনে রাখুন:
    রক্তরসে ফাইব্রিনোজেন থাকে।
    সিরামের সাহায্যে রক্তের অনেক পরীক্ষা করা হয়।
  173. ২১৪. মানবদেহের রক্তের প্রধান উপাদান কী?চবি (বি২ ইউনিট) ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের উপাদান
    • ক. লোহিত রক্তকণিকা
    • খ. প্লাটিলেট
    • গ. শ্বেত রক্তকণিকা
    • ঘ. প্লাজমা
    উত্তর: ঘ. প্লাজমা
    রক্তের প্রধান উপাদান প্লাজমা বা রক্তরস। রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই প্লাজমা, আর বাকি ৪৫ শতাংশ রক্তকণিকা। প্লাজমা হালকা হলুদ রঙের তরল। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে এবং খাদ্য, হরমোন, লবণ ও বর্জ্য দ্রবীভূত থাকে। এই তরলই রক্তকণিকাকে বহন করে। প্লাজমা ছাড়া রক্তে থাকে লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা। প্লাজমা থেকে কণিকা আলাদা করা হয় সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রে, যা রক্তকে দ্রুত ঘুরিয়ে ভারী কণিকা নিচে আর হালকা প্লাজমা ওপরে জমায়। বলা যায়, রক্তের অর্ধেকের বেশি অংশই তরল।
    মনে রাখুন:
    প্লাজমায় এলবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন নামের প্রোটিন থাকে।
  174. ২১৫. রক্তের কত শতাংশ প্লাজমা?CAAB-র নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তরস
    • ক. ৪০%
    • খ. ৫০%
    • গ. ৫৫%
    • ঘ. ৬০%
    উত্তর: গ. ৫৫%
    রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ প্লাজমা। প্লাজমা একটি তরল, যার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভেসে চলে। বাকি ৪৫ শতাংশ রক্তকণিকা, যার প্রায় সবটাই লোহিত কণিকা। প্লাজমার প্রায় ৯০ শতাংশ পানি আর বাকিটা প্রোটিন, লবণ ও অন্যান্য পদার্থ। রক্ত টেস্টটিউবে নিয়ে সেন্ট্রিফিউজ করলে ওপরে হালকা হলুদ প্লাজমা ও নিচে লাল কণিকার স্তর দেখা যায়। প্লাজমার প্রায় ৭ শতাংশ প্রোটিন আর বাকি অংশে লবণ, শর্করা ও হরমোন। প্লাজমার এই ভাগ তাই রক্তের সবচেয়ে বড় অংশ।
    মনে রাখুন:
    রক্তে কণিকার আয়তনের অনুপাতকে হেমাটোক্রিট (Haematocrit) বলে।
    প্লাজমা খাদ্য ও হরমোন বহন করে।
  175. ২১৬. রক্তে রক্ত কণিকার পরিমাণ কত?ডাক অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তকণিকা
    • ক. ৪৫%
    • খ. ৫০%
    • গ. ৫৫%
    • ঘ. ৬০%
    উত্তর: ক. ৪৫%
    রক্তের প্রায় ৪৫ শতাংশ হলো রক্তকণিকা। বাকি প্রায় ৫৫ শতাংশ প্লাজমা বা রক্তরস। কণিকার এই ৪৫ শতাংশের প্রায় সবটাই লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা ও অণুচক্রিকা মিলে মাত্র সামান্য অংশ। কণিকার পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কিছু বেশি এবং নারীর ক্ষেত্রে কিছু কম হতে পারে। অনুপাত অনেক কমে গেলে রক্তাল্পতা আর অনেক বেড়ে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রক্তকণিকার এই আয়তনকে চিকিৎসার ভাষায় প্যাকড সেল ভলিউম (Packed cell volume) বলে।
    মনে রাখুন:
    রক্ত দেহের একমাত্র তরল যোজক কলা।
    কণিকা ও প্লাজমার মোট যোগফল ১০০ শতাংশ।
  176. ২১৭. রক্তরসে কোন গ্যাসীয় পদার্থ নেই?BARD-এর সহকারী পরিচালক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তরস
    • ক. O₂
    • খ. CO₂
    • গ. Cl₂
    • ঘ. N₂
    উত্তর: গ. Cl₂
    রক্তরসে ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂) থাকে না। রক্তরসে অক্সিজেন (O₂), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও নাইট্রোজেন (N₂) দ্রবীভূত থাকে। ক্লোরিন একটি বিষাক্ত গ্যাস। এটি দেহে তৈরি হয় না। দেহে ক্লোরিন থাকে ক্লোরাইড আয়ন (Cl⁻) হিসেবে, যেমন খাবার লবণ NaCl-এ। দেহ বায়ু থেকে নেওয়া গ্যাসগুলোই রক্তরসে বহন করে। তবে ক্লোরিনের মতো বিষাক্ত গ্যাস নিলে ফুসফুস ও রক্ত দুটিরই ক্ষতি হয়। দেহ ক্লোরিন গ্যাস তৈরি করে না, শুধু ক্লোরাইড আয়ন কাজে লাগায়। অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস রক্তের মাধ্যমে ফুসফুস ও কোষের মধ্যে ঘোরে।
    মনে রাখুন:
    ক্লোরিন পানি বিশুদ্ধ করতে ব্যবহার হয়।
    পাকস্থলীর HCl-এ ক্লোরাইড আয়ন থাকে।
  177. ২১৮. মানুষের দেহের রক্তরসে শতকরা কত ভাগ পানি থাকে?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (গ্রুপ-২), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তরস
    • ক. ৯০
    • খ. ৮০
    • গ. ৭৫
    • ঘ. ৭০
    উত্তর: ক. ৯০
    মানুষের রক্তরসে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ প্রোটিন, লবণ, শর্করা, চর্বি ও হরমোন ইত্যাদি। এই পানি খাদ্য ও বর্জ্য দ্রবীভূত করে বহন করে। এ কারণে রক্তরস পানির মতো হালকা হলুদ তরল। রক্তরসের পানি বেরিয়ে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। ডায়রিয়া বা কলেরায় বেশি পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে এজন্যই খাওয়ার স্যালাইন খেতে হয়। রক্তরসের এই পানি দ্রাবক হিসেবে কাজ করে এবং সারা দেহে পদার্থ পৌঁছে দেয়।
    মনে রাখুন:
    পানি ছাড়া রক্তরসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে প্রোটিন।
    দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতেও রক্তরসের পানির ভূমিকা আছে।
  178. ২১৯. মানবদেহের কোন বাফারটি রক্তের Pᴴ নিয়ন্ত্রণ করে?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাফার ও pH
    • ক. CH₃COOH + CH₃COO⁻
    • খ. H₂CO₃ + HCO₃⁻
    • গ. CH₃COOH + HPO₃⁻
    • ঘ. NH₄OH + NH₄⁺
    উত্তর: খ. H₂CO₃ + HCO₃⁻
    রক্তের pH নিয়ন্ত্রণ করে H₂CO₃ + HCO₃⁻ বাফার, অর্থাৎ কার্বনিক অ্যাসিড ও বাইকার্বনেটের মিশ্রণ। রক্তে অ্যাসিড বাড়লে HCO₃⁻ তা শুষে নেয়। আবার ক্ষার বাড়লে H₂CO₃ তা প্রশমিত করে। এভাবে রক্তের pH প্রায় ৭.৪-এর কাছাকাছি স্থির থাকে। অন্য বাফারগুলো দেহের রক্তে প্রধান ভূমিকা রাখে না। রক্ত যদি বাফারহীন হতো, তাহলে খাবারের অ্যাসিডেই pH ওঠানামা করত। শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় CO₂ বের হয়ে যায় বলে কার্বনিক অ্যাসিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। বৃক্কও এই কাজে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    রক্তের স্বাভাবিক pH ৭.৩৫ থেকে ৭.৪৫। এর বাইরে গেলে মারাত্মক সমস্যা হয়।
  179. ২২০. Which one of the following words dissimilar to other three?CGA-র অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের উপাদান
    • ক. Leukaemia
    • খ. Cataract
    • গ. Diphtheria
    • ঘ. Leukocyte
    উত্তর: ঘ. Leukocyte
    Leukocyte হলো শ্বেত রক্তকণিকা, যা রক্তের একটি উপাদান। বাকি তিনটি Leukaemia (রক্তের ক্যান্সার), Cataract (চোখের লেন্স ঘোলা হওয়া) এবং Diphtheria (গলার সংক্রামক রোগ) সবই রোগের নাম। তাই তিনটি শব্দ রোগ বোঝায়, আর Leukocyte বোঝায় একটি কোষ। ইংরেজি প্রশ্নে এভাবে একটি ভিন্ন ধরনের শব্দ খুঁজে বের করতে হলে প্রতিটি শব্দের অর্থ জানা দরকার। Leuko মানে সাদা এবং cyte মানে কোষ, তাই leukocyte শব্দের অর্থ সাদা কোষ। Cataract, Diphtheria ও Leukaemia সবই রোগ, আর Leukocyte হলো কোষ।
    মনে রাখুন:
    Leukocyte-এর অতিরিক্ত বৃদ্ধিতে Leukaemia হয়।
    ছানি অস্ত্রোপচারে সারে, আর ডিপথেরিয়া টিকায় প্রতিরোধযোগ্য।
  180. ২২১. AB দ্বারা বুঝি -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. রক্তের গ্রুপ
    • খ. রক্তের উপাদান
    • গ. রক্তের কণিকা
    • ঘ. রক্তের রস
    উত্তর: ক. রক্তের গ্রুপ
    AB হলো ABO পদ্ধতির একটি রক্তের গ্রুপ। কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০১ সালে এই গ্রুপগুলো আবিষ্কার করেন। লোহিত কণিকার গায়ে A বা B অ্যান্টিজেন আছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করে গ্রুপ নির্ধারিত হয়। AB গ্রুপের কণিকায় A ও B দুই অ্যান্টিজেনই থাকে। লোহিত কণিকার গায়ে কোনো অ্যান্টিজেন না থাকলে সেটি O গ্রুপ। এর বাইরে রক্তের আরেকটি গ্রুপ-পদ্ধতি হলো Rh ফ্যাক্টর, যা সংক্ষেপে পজিটিভ বা নেগেটিভ বলে লেখা হয়।
    মনে রাখুন:
    ABO পদ্ধতির চারটি গ্রুপ: A, B, AB ও O।
    AB গ্রুপের মানুষ সব গ্রুপের রক্ত নিতে পারে।
  181. ২২২. কোন রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Uni versal donar) বলা হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. গ্রুপ A
    • খ. গ্রুপ B
    • গ. গ্রুপ O
    • ঘ. গ্রুপ AB
    উত্তর: গ. গ্রুপ O
    O গ্রুপের রক্তকে সর্বজনীন দাতা (Universal donor) বলা হয়। এই রক্তের লোহিত কণিকায় A বা B কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না, তাই গ্রহীতার দেহ একে বিদেশি বস্তু ভেবে আক্রমণ করে না। জরুরি অবস্থায় তাই O গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীকে দেওয়া যায়। গ্রুপ O-এর রক্তরসে অবশ্য A ও B দুই ধরনের অ্যান্টিবডিই থাকে। তাই এই গ্রুপের মানুষ কেবল O গ্রুপ থেকেই রক্ত গ্রহণ করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    AB গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal recipient) বলে।
    আরও নিরাপদ হওয়ার জন্য Rh ফ্যাক্টরও মিলিয়ে দেখা হয়।
  182. ২২৩. কোন রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient) বলে?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. A রক্ত গ্রুপকে
    • খ. B রক্ত গ্রুপকে
    • গ. AB রক্ত গ্রুপকে
    • ঘ. O রক্ত গ্রুপকে
    উত্তর: গ. AB রক্ত গ্রুপকে
    রক্তের গ্রুপ ঠিক হয় লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন (Antigen) দেখে। AB গ্রুপের রক্তে A ও B দুই রকম অ্যান্টিজেনই থাকে, কিন্তু রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি (Antibody) থাকে না। তাই এই গ্রুপের মানুষ অন্য যে কোনো গ্রুপের রক্ত নিলে গৃহীত কণিকা জমাট বাঁধে না। এ কারণেই AB গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient) বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    O গ্রুপের লোহিত কণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন নেই, তাই O গ্রুপ সর্বজনীন দাতা (Universal Donor)।
    ১৯০১ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ABO রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন।
    Rh ফ্যাক্টর দেখে রক্তকে আবার Rh-ধনাত্মক (+) ও Rh-ঋণাত্মক (-) ভাগে ভাগ করা হয়, তাই গ্রুপের সঙ্গে এই ফ্যাক্টরও মিলিয়ে দেখা জরুরি।
  183. ২২৪. কোন গ্রুপের রক্তে A ও B উভয় ধরনের এন্টিবডি থাকে?বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. A
    • খ. B
    • গ. O
    • ঘ. AB
    উত্তর: গ. O
    রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী রক্তরসে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibody) থাকে, যা অন্য গ্রুপের অ্যান্টিজেনকে আক্রমণ করে। O গ্রুপের লোহিত কণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন নেই, কিন্তু এর রক্তরসে anti-A ও anti-B দুই রকম অ্যান্টিবডিই থাকে। তাই O গ্রুপের মানুষকে A, B বা AB গ্রুপের রক্ত দিলে রক্ত জমাট বেঁধে বিপদ ঘটে।
    মনে রাখুন:
    A গ্রুপের রক্তরসে শুধু anti-B থাকে।
    B গ্রুপের রক্তরসে শুধু anti-A থাকে।
    AB গ্রুপের রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডিই থাকে না, তাই AB সর্বজনীন গ্রহীতা।
    এই অ্যান্টিবডি জন্ম থেকেই রক্তরসে থাকে। তাই রক্ত দেওয়ার আগে দাতা ও গ্রহীতার রক্তের মিল দেখে নেওয়া হয়, যাকে ক্রস ম্যাচিং (Cross matching) বলে।
  184. ২২৫. Anti-D immunoglobulin শিশুর জন্মের পর দেওয়া হয় -নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ Rh ফ্যাক্টর
    • ক. মাকে
    • খ. নবজাতককে
    • গ. বাবাকে
    • ঘ. নবজাতককে, রক্ত যদি Rh negative হয়
    উত্তর: ক. মাকে
    Rh-ঋণাত্মক (negative) মা যদি Rh-ধনাত্মক (positive) শিশুর জন্ম দেন, তাহলে প্রসবের সময় শিশুর কিছু রক্ত মায়ের দেহে ঢুকে যেতে পারে। তখন মায়ের দেহ Rh ফ্যাক্টরের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে ফেলে। এটি ঠেকাতে প্রসবের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাকে Anti-D ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে মায়ের দেহে ক্ষতিকর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    প্রথম শিশু সাধারণত নিরাপদ থাকে, কিন্তু অ্যান্টিবডি তৈরি হলে পরের Rh-ধনাত্মক শিশুর লোহিত কণিকা ধ্বংস হতে পারে। এ অবস্থাকে নবজাতকের হিমোলাইটিক রোগ (Erythroblastosis fetalis) বলে।
    ১৯৪০ সালে ল্যান্ডস্টেইনার ও উইনার রেসাস বানরের রক্তে Rh ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন।
  185. ২২৬. নেগেটিভ রক্তের মাকে প্রথম শিশু জন্ম দেবার পর কোন ইনজেকশন দেয়া হয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ Rh ফ্যাক্টর
    • ক. Tetanus
    • খ. Anti D immunoglobulin
    • গ. MMR
    • ঘ. Oxytocin
    উত্তর: খ. Anti D immunoglobulin
    যে মায়ের রক্ত Rh-ঋণাত্মক (negative), তাঁর গর্ভের শিশুর রক্ত Rh-ধনাত্মক হলে প্রসবের সময় শিশুর রক্ত মায়ের দেহে মিশে যেতে পারে। তখন মায়ের দেহে Rh-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং পরের গর্ভধারণে শিশুর ক্ষতি করে। এই ঝুঁকি কমাতে প্রথম শিশুর জন্মের পর মাকে Anti-D ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এটি মায়ের দেহে ওই অ্যান্টিবডি তৈরির আগেই Rh-ধনাত্মক কণিকাগুলোকে নষ্ট করে ফেলে।
    মনে রাখুন:
    সাধারণত প্রসবের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই ইনজেকশন দিতে হয়।
    Tetanus ধনুষ্টংকারের টিকা, MMR হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা, আর অক্সিটোসিন প্রসবে জরায়ু সংকোচনের হরমোন।
  186. ২২৭. হৃদপিণ্ড (Heart) এর বাইরের আবরণকে বলে-বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ও BPSC-এর ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদপিণ্ডের গঠন
    • ক. পেরিটোনিয়াম
    • খ. পেরিকার্ডিয়াম
    • গ. পুরা
    • ঘ. যকৃত
    উত্তর: খ. পেরিকার্ডিয়াম
    হৃদপিণ্ড বুকের ভেতরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে থাকে। এর বাইরে পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium) নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি থলির মতো আবরণ জড়িয়ে থাকে। দুই স্তরের মাঝে সামান্য তরল থাকে, ফলে হৃদপিণ্ড স্পন্দনের সময় ঘষা না খেয়ে সহজে নড়াচড়া করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ফুসফুসের আবরণের নাম প্লিউরা (Pleura)।
    পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর আবরণ পেরিটোনিয়াম (Peritoneum)।
    মস্তিষ্কের আবরণ মেনিনজেস (Meninges)।
    আর যকৃত হলো পরিপাকের একটি গ্রন্থি, কোনো আবরণ নয়।
    পেরিকার্ডিয়ামের ভেতরের তরল হৃদপিণ্ডকে আঘাত থেকেও কিছুটা রক্ষা করে। এর প্রদাহকে পেরিকার্ডাইটিস (Pericarditis) বলে।
    পেরিকার্ডিয়ামের দুই স্তরের মাঝের তরল না থাকলে স্পন্দনের সময় প্রতিবার হৃদপিণ্ডের গায়ে ঘষা লাগত। এই আবরণ হৃদপিণ্ডকে বুকের ভেতরে নিজের জায়গায় ধরেও রাখে।
  187. ২২৮. কোনটি হৃদপিণ্ডের স্তর নয়?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদপিণ্ডের গঠন
    • ক. এন্ডোকার্ডিয়াম
    • খ. মায়োকার্ডিয়াম
    • গ. এপিকার্ডিয়াম
    • ঘ. পেরিকার্ডিয়াম
    উত্তর: ঘ. পেরিকার্ডিয়াম
    হৃদপিণ্ডের প্রাচীর তিনটি স্তর দিয়ে গঠিত। ভেতরের স্তর এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium), মাঝের পুরু পেশির স্তর মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium) এবং বাইরের পাতলা স্তর এপিকার্ডিয়াম (Epicardium)। পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium) প্রাচীরের স্তর নয়। এটি হৃদপিণ্ডকে ঘিরে থাকা বাইরের একটি থলির মতো আবরণ।
    মনে রাখুন:
    হৃদপিণ্ডের পেশির নাম হৃৎপেশি (Cardiac muscle)। এটি অনৈচ্ছিক পেশি, অর্থাৎ আমাদের ইচ্ছায় চলে না।
    হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের সবচেয়ে বেশি পুরু অংশ বাম নিলয়ের, কারণ এটিকেই পুরো দেহে রক্ত পাঠাতে হয়।
    হৃদপিণ্ডের ভেতরের কপাটিকাগুলো এন্ডোকার্ডিয়ামেরই ভাঁজ দিয়ে তৈরি, যা রক্তকে উল্টো দিকে যেতে দেয় না।
    হৃদপিণ্ড নিজের পেশিতে রক্ত পায় করোনারি ধমনির মাধ্যমে, ভেতরের প্রকোষ্ঠের রক্ত থেকে নয়।
  188. ২২৯. কোন বাক্যটি সঠিক -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক ও জেলা সরকারী শিক্ষা অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদপিণ্ডের গঠন
    • ক. হৃদপিণ্ডে অলিন্দের অবস্থান উপরে
    • খ. হৃদপিণ্ডে ২টি করে অলিন্দ ও নিলয় আছে
    • গ. হৃদপিণ্ডে নিলয়ের অবস্থান নিচে
    • ঘ. উপরের সবগুলো
    উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
    মানুষের হৃদপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। ওপরের দিকে ডান ও বাম নামে দুটি অলিন্দ (Atrium) থাকে এবং নিচের দিকে ডান ও বাম নামে দুটি নিলয় (Ventricle) থাকে। অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে, আর নিলয় রক্ত পাম্প করে বাইরে পাঠায়। তাই প্রশ্নের তিনটি বাক্যই সঠিক।
    মনে রাখুন:
    ডান অলিন্দে দেহের অক্সিজেনবিহীন রক্ত এসে জমা হয়।
    বাম অলিন্দে ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত আসে।
    বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, কারণ এটি মহাধমনির (Aorta) মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত পাঠায়।
    অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝখানে কপাটিকা থাকে। ডান পাশে ত্রিপত্র কপাটিকা এবং বাম পাশে দ্বিপত্র বা মাইট্রাল কপাটিকা।
  189. ২৩০. পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন কত?ডাক বিভাগের পোস্টাল অপারেটর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদপিণ্ডের গঠন
    • ক. ১ কিলোগ্রাম
    • খ. ৫০০ গ্রাম
    • গ. ৩০০ গ্রাম
    • ঘ. ২০০ গ্রাম
    উত্তর: গ. ৩০০ গ্রাম
    পূর্ণবয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ড দেখতে অনেকটা নিজের মুঠো করা হাতের সমান। এর ওজন গড়ে প্রায় ৩০০ গ্রাম। পুরুষের হৃদপিণ্ড সাধারণত নারীর হৃদপিণ্ডের চেয়ে একটু ভারী হয়, নারীর ক্ষেত্রে ওজন প্রায় ২৫০ গ্রামের কাছাকাছি।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের হৃদপিণ্ড মিনিটে গড়ে প্রায় ৭২ বার স্পন্দিত হয়।
    এক মিনিটে হৃদপিণ্ড প্রায় ৫ লিটার রক্ত পাম্প করে।
    হৃদপিণ্ড বুকের মাঝ বরাবর থাকলেও এর অগ্রভাগ কিছুটা বাঁ দিকে হেলে থাকে।
    হৃদপিণ্ড শরীরের ওজনের তুলনায় খুব ছোট একটি অঙ্গ, তবু জীবনভর একটানা কাজ করে চলে।
    হৃদপিণ্ড প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ বার স্পন্দিত হয় এবং এক জীবনে কখনো থামে না, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলে।
  190. ২৩১. ডায়াস্টোল বলতে বুঝায় -বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদস্পন্দন
    • ক. হৃদপিণ্ডের প্রসারণ
    • খ. হৃদপিণ্ডের সংকোচন
    • গ. হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবেশ করা
    • ঘ. হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ
    উত্তর: ক. হৃদপিণ্ডের প্রসারণ
    হৃদপিণ্ড একবার সংকুচিত হয়, আবার শিথিল হয়ে প্রসারিত হয়। সংকোচনের ধাপকে বলে সিস্টোল (Systole), আর প্রসারণের ধাপকে বলে ডায়াস্টোল (Diastole)। ডায়াস্টোলের সময় হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো শিথিল থাকে এবং এতে নতুন রক্ত ভরে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোল মিলিয়ে একটি হৃদস্পন্দন বা কার্ডিয়াক চক্র (Cardiac cycle) সম্পন্ন হয়।
    বিশ্রামে একটি চক্র শেষ হতে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড লাগে।
    রক্তচাপ মাপার সময় ওপরের সংখ্যাটি সিস্টোলিক এবং নিচের সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক চাপ।
    ডায়াস্টোল শব্দের অর্থ প্রসারণ, আর সিস্টোল শব্দের অর্থ সংকোচন। দুটি শব্দ একসঙ্গে মনে রাখলে গুলিয়ে যাবে না।
  191. ২৩২. সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায়-সরকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদস্পন্দন
    • ক. হৃদপিণ্ডের সংকোচন চাপ
    • খ. হৃদপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
    • গ. হৃদপিণ্ডের প্রসারণ ও সংকোচন চাপ
    • ঘ. এর কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. হৃদপিণ্ডের সংকোচন চাপ
    নিলয় সংকুচিত হয়ে রক্তকে ধমনিতে ঠেলে দেওয়ার সময় ধমনির প্রাচীরে যে সর্বোচ্চ চাপ পড়ে, তাকে সিস্টোলিক চাপ (Systolic pressure) বলে। অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের সংকোচনের সময় রক্তচাপই সিস্টোলিক চাপ।
    মনে রাখুন:
    স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ প্রায় ১২০ mmHg।
    হৃদপিণ্ড প্রসারিত থাকার সময় চাপ সবচেয়ে কম থাকে, একে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। এর স্বাভাবিক মান প্রায় ৮০ mmHg।
    এ কারণে স্বাভাবিক রক্তচাপ লেখা হয় 120/80 mmHg।
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)।
    উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
    কারণ ছাড়াই ঘন ঘন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা হলে রক্তচাপ মেপে দেখা ভালো।
  192. ২৩৩. রক্তনালী কয় ধরনের?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. ১
    • খ. ২
    • গ. ৩
    • ঘ. ৪
    উত্তর: গ. ৩
    আমাদের দেহে রক্ত তিন ধরনের নালীর ভেতর দিয়ে চলাচল করে। ধমনি (Artery) হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায়। শিরা (Vein) দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। আর এ দুইয়ের মাঝখানে থাকে অতি সরু কৈশিকনালি (Capillary), যার পাতলা প্রাচীর ভেদ করে রক্ত ও কোষের মধ্যে খাদ্য, অক্সিজেন ও বর্জ্যের আদান-প্রদান ঘটে।
    মনে রাখুন:
    ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক, শিরার প্রাচীর পাতলা।
    শিরায় রক্তের উল্টো প্রবাহ ঠেকাতে কপাটিকা (Valve) থাকে।
    ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনিতে অক্সিজেনবিহীন রক্ত চলে।
    দেহের সবচেয়ে বড় ধমনি মহাধমনি বা অ্যাওর্টা (Aorta), আর সবচেয়ে বড় শিরা মহাশিরা বা ভেনা কাভা (Vena cava)।
  193. ২৩৪. রক্তশূন্যতা হলে চুপসে যায় কোনটি?NSI ফিল্ড অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. ধমনী
    • খ. শিরা
    • গ. উপশিরা
    • ঘ. জালিকা
    উত্তর: খ. শিরা
    শিরার প্রাচীর ধমনির তুলনায় অনেক পাতলা এবং কম স্থিতিস্থাপক। শিরায় রক্তের চাপও কম থাকে। তাই দেহে রক্ত কমে গেলে বা শিরা রক্তশূন্য হলে এর পাতলা প্রাচীর চুপসে যায়। ধমনির প্রাচীর পুরু ও শক্ত বলে রক্ত না থাকলেও ধমনি তার আকার ধরে রাখে।
    মনে রাখুন:
    দেহের মোট রক্তের বড় একটি অংশ, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, যে কোনো সময় শিরার ভেতরে থাকে।
    কৈশিকনালি এত সরু যে একটি লোহিত রক্তকণিকা একটি একটি করে তার ভেতর দিয়ে যায়।
    শিরার ভেতরে কপাটিকা থাকে, ধমনিতে থাকে না।
    শিরার ফাঁকা অংশ বা লিউমেন ধমনির চেয়ে বড়, ফলে শিরায় বেশি রক্ত ধরে।
  194. ২৩৫. রক্ত সংগ্রহ করা হয় সাধারণত কোন শিরা থেকে?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. সেফালিক
    • খ. মিডিয়ান কিউবিটাল
    • গ. ফিমোরাল
    • ঘ. ব্যাসিলিক
    উত্তর: খ. মিডিয়ান কিউবিটাল
    কনুইয়ের ভাঁজের ঠিক সামনে মিডিয়ান কিউবিটাল (Median cubital) শিরা থাকে। এটি মোটা ও ত্বকের একেবারে কাছে অবস্থিত। আশপাশের কলার সঙ্গে ভালোভাবে আটকানো থাকে বলে শিরাটি সহজে নড়ে না। তাই সুচ ফোটানো সহজ হয় এবং রক্ত সংগ্রহ বা ইনজেকশন দিতে সাধারণত এই শিরাটিই ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    হাতের অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ওপরের শিরা হলো সেফালিক (Cephalic) ও ব্যাসিলিক (Basilic)।
    ফিমোরাল শিরা উরুতে থাকে। এটি অনেক গভীরে বলে সাধারণ রক্ত সংগ্রহে ব্যবহার হয় না।
    শিরা ত্বকের নিচেই থাকে বলে হাতের ওপর নীলচে রেখার মতো দেখা যায়।
  195. ২৩৬. Pulse rate গণনা করতে আঙ্গুল রাখতে হয়-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তনালী
    • ক. শিরার উপর
    • খ. ধমনীর উপর
    • গ. লসিকা নালীর উপর
    • ঘ. স্নায়ুর উপর
    উত্তর: খ. ধমনীর উপর
    পালস বা নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা যায় ধমনির ওপর আঙুল রেখে। সাধারণত কবজির কাছে বুড়ো আঙুলের দিকে থাকা রেডিয়াল ধমনির (Radial artery) ওপর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল রেখে এক মিনিট গুনতে হয়। বুড়ো আঙুল ব্যবহার করা হয় না, কারণ তার নিজের ভেতরেও স্পন্দন থাকে। শিরার প্রাচীর পাতলা এবং চাপ কম, তাই শিরায় এভাবে পালস পাওয়া যায় না।
    মনে রাখুন:
    গলার পাশে ক্যারোটিড ধমনিতে (Carotid artery) এবং কনুইয়ের কাছে ব্র্যাকিয়াল ধমনিতেও পালস পাওয়া যায়।
    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের বিশ্রামে পালস মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হয়।
  196. ২৩৭. হৃদস্পন্দন কত কম হলে Bradycardia বলে?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদস্পন্দন
    • ক. ৪০
    • খ. ৬০
    • গ. ৭২
    • ঘ. ৭৫
    উত্তর: খ. ৬০
    বিশ্রামে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের হৃদস্পন্দন মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বারের মধ্যে থাকে। হৃদস্পন্দন মিনিটে ৬০-এর নিচে নেমে গেলে এ অবস্থাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া (Bradycardia) বলে। ব্র্যাডি শব্দের অর্থ ধীর, আর কার্ডিয়া মানে হৃদপিণ্ড সম্পর্কিত। নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যাথলেটদের হৃদস্পন্দন এমনিতেই কম থাকতে পারে, তবু অন্য ক্ষেত্রে এটি রোগের লক্ষণ হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    হৃদস্পন্দন মিনিটে ১০০-এর বেশি হলে তাকে ট্যাকিকার্ডিয়া (Tachycardia) বলে।
    স্বাভাবিক গড় হৃদস্পন্দন প্রায় ৭২।
    মিনিটে ৪০-এর নিচে নামলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।
  197. ২৩৮. একটি সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে সময় লাগে-BPSC-এর হোম ইকোনোমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃদস্পন্দন
    • ক. ০.৫ সেকেন্ড
    • খ. ০.৮ সেকেন্ড
    • গ. ০.২ সেকেন্ড
    • ঘ. ০.৪ সেকেন্ড
    উত্তর: খ. ০.৮ সেকেন্ড
    হৃদপিণ্ড একবার সংকুচিত ও একবার শিথিল হলে একটি হৃদস্পন্দন বা কার্ডিয়াক চক্র (Cardiac cycle) সম্পন্ন হয়। বিশ্রামে মানুষের হৃদপিণ্ড মিনিটে প্রায় ৭২ বার স্পন্দিত হয়, তাই প্রতিটি চক্র শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড। এই সময়ের মধ্যে অলিন্দ, নিলয় এবং বিশ্রামের ধাপ পরপর ঘটে।
    মনে রাখুন:
    অলিন্দের সংকোচনে লাগে প্রায় ০.১ সেকেন্ড।
    নিলয়ের সংকোচনে লাগে প্রায় ০.৩ সেকেন্ড।
    বাকি প্রায় ০.৪ সেকেন্ড হৃদপিণ্ড বিশ্রাম নেয়।
    এই তিনটি সময় যোগ করলে মোট ০.৮ সেকেন্ড হয়।
    হৃদস্পন্দনের হার বাড়লে প্রতিটি চক্রের সময়ও কমে যায়।
    ব্যায়াম করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, ফলে এই সময়ের হিসাবও ছোট হয়ে আসে।
  198. ২৩৯. Blood pressure পরিমাপক যন্ত্রটির নাম শুদ্ধ বানানে কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. Sphygmometer
    • খ. Sphygmomanometer
    • গ. Sphygmanometer
    • ঘ. Sphygmeter
    উত্তর: খ. Sphygmomanometer
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer)। গ্রিক শব্দ sphygmos মানে নাড়ির স্পন্দন, আর manometer মানে চাপ মাপার যন্ত্র। বাহুতে কাপড়ের কাফ (Cuff) জড়িয়ে তাতে বাতাস ভরা হয়, তারপর ধীরে ধীরে বাতাস ছেড়ে স্টেথস্কোপ দিয়ে ধমনির শব্দ শুনে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপ নির্ণয় করা হয়।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg।
    রক্তচাপ সব সময় সংখ্যায় দুটি মান দিয়ে লেখা হয়। ওপরেরটি সিস্টোলিক, নিচেরটি ডায়াস্টোলিক।
    স্টেথস্কোপ দিয়ে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দও শোনা হয়।
    পারদের বদলে এখন ডিজিটাল যন্ত্রও ব্যবহার করা হয়, তবে মাপার মূলনীতি একই।
  199. ২৪০. লসিকার বৈশিষ্ট্য কোনগুলো?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক · বইয়ের অনুচ্ছেদ লসিকাতন্ত্র
    • ক. ক্ষারীয়
    • খ. লোহিত রক্তকণিকা অনুপস্থিত
    • গ. শ্বেত রক্তকণিকা অনুপস্থিত
    • ঘ. ক ও খ উভয়ই
    উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই
    লসিকা (Lymph) হলো রক্তের মতোই এক ধরনের তরল, যা কোষের চারপাশে জমে থাকা তরল থেকে তৈরি হয়। এতে লোহিত রক্তকণিকা থাকে না, কিন্তু শ্বেত রক্তকণিকা, বিশেষত লিম্ফোসাইট (Lymphocyte) থাকে। লসিকা সামান্য ক্ষারীয় এবং প্রায় বর্ণহীন। তাই ক্ষারীয় হওয়া এবং লোহিত কণিকা না থাকা, দুটিই লসিকার বৈশিষ্ট্য।
    মনে রাখুন:
    লসিকা সব সময় কোষ থেকে হৃদপিণ্ডের দিকে একমুখী পথে চলে।
    লসিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগ থেকে রক্ষা করে এবং চর্বি পরিবহনেও সাহায্য করে।
    লসিকা গ্রন্থি দেহের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকে, যেমন গলা, বগল ও কুঁচকিতে।
  200. ২৪১. কোনটি লসিকা গ্রন্থির কাজ?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স · বইয়ের অনুচ্ছেদ লসিকাতন্ত্র
    • ক. জীবাণু অপসারণ
    • খ. লিম্ফোসাইট উৎপাদন
    • গ. এন্টিবডি উৎপাদন
    • ঘ. সবগুলো
    উত্তর: ঘ. সবগুলো
    লসিকা গ্রন্থি (Lymph node) ছোট শিমের আকৃতির গ্রন্থি। এটি ছাঁকনির মতো কাজ করে। লসিকার সঙ্গে আসা জীবাণু ও ক্ষতিকর কণা এখানে আটকে যায় এবং ধ্বংস হয়। এই গ্রন্থিতে লিম্ফোসাইট (Lymphocyte) নামে শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়। আবার লিম্ফোসাইট থেকে সৃষ্ট কোষ অ্যান্টিবডিও তৈরি করে। তাই জীবাণু অপসারণ, লিম্ফোসাইট উৎপাদন ও অ্যান্টিবডি উৎপাদন, সবই লসিকা গ্রন্থির কাজ।
    মনে রাখুন:
    দেহে সংক্রমণ হলে গলা, বগল বা কুঁচকির লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠে।
    প্লীহা (Spleen) লসিকাতন্ত্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গ।
    গলার দুই পাশে ও থুতনির নিচের লসিকা গ্রন্থি ফুলে গেলে টনসিলের সংক্রমণ হয়েছে বলে ধরা যায়।
  201. ২৪২. শরীরের কোন অঙ্গ অক্সিজেন আত্তীকরণ করে?কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. প্লীহা
    • খ. হৃদপিণ্ড
    • গ. ফুসফুস
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: গ. ফুসফুস
    ফুসফুস (Lungs) আমাদের শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। শ্বাসের সঙ্গে ঢোকা বাতাস ফুসফুসের ভেতরের ক্ষুদ্র বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাইয়ে (Alveoli) পৌঁছায়। সেখানে অ্যালভিওলাইয়ের পাতলা প্রাচীরের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন রক্তে মিশে যায় এবং রক্ত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে বের হয়ে আসে। তাই অক্সিজেন গ্রহণ করে ফুসফুস।
    মনে রাখুন:
    একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ফুসফুসে কোটি কোটি অ্যালভিওলাই থাকে, ফলে গ্যাস বিনিময়ের জন্য বিশাল পৃষ্ঠতল পাওয়া যায়।
    প্লীহা রক্ত ছেঁকে পুরোনো লোহিত কণিকা ভেঙে ফেলে।
    হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করে।
    ধূমপান ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
    ফুসফুস ছাড়া ত্বকের মতো কিছু অঙ্গ দিয়েও সামান্য গ্যাস বিনিময় হতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রধান শ্বসনাঙ্গ ফুসফুসই।
  202. ২৪৩. শ্বাস-প্রশ্বাসের কয়টি পর্যায়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৫
    উত্তর: ক. ২
    শ্বাস-প্রশ্বাস বলতে আমরা বুঝি ফুসফুসে বাতাস নেওয়া এবং ফুসফুস থেকে বাতাস ছাড়া। এর দুটি পর্যায় আছে। বাতাস ভেতরে নেওয়াকে প্রশ্বাস (Inspiration) এবং বাতাস বাইরে ছাড়াকে নিঃশ্বাস (Expiration) বলে। প্রশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) সংকুচিত হয়ে নিচে নামে এবং বুক প্রসারিত হয়।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক বিশ্রামে মিনিটে ১২ থেকে ২০ বার শ্বাস নেয়।
    শ্বাস-প্রশ্বাস একটি বাহ্যিক ঘটনা। কোষের ভেতরে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে কোষীয় শ্বসন (Cellular respiration) বলে, যা আলাদা প্রক্রিয়া।
    শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস নাকের লোম ও শ্লেষ্মায় ধুলাবালি আটকে পরিষ্কার হয় এবং কিছুটা গরম ও আর্দ্র হয়।
  203. ২৪৪. ফুসফুসে বায়ুর প্রবেশকে কি বলা হয়?পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. নিঃশ্বাস
    • খ. প্রশ্বাস
    • গ. শ্বাস ত্যাগ
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: খ. প্রশ্বাস
    আমরা যখন বাইরের বাতাস নাক দিয়ে ভেতরে টানি, তখন তা শ্বাসনালী হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। ফুসফুসে বায়ু প্রবেশের এই ধাপকে প্রশ্বাস (Inspiration) বলে। এ সময় মধ্যচ্ছদা নিচে নামে এবং পাঁজরের হাড় ওপরে-বাইরে সরে যায়, ফলে বুকের গহ্বর বড় হয় এবং বাতাস ভেতরে ঢোকে।
    মনে রাখুন:
    ফুসফুস থেকে বাতাস বাইরে বেরিয়ে আসাকে নিঃশ্বাস (Expiration) বলে।
    নিঃশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা শিথিল হয়ে ওপরে ওঠে এবং বুকের গহ্বর ছোট হয়।
    শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাসের গতিপথ: নাক, গলবিল, শ্বাসনালী, শ্বসনী এবং শেষে অ্যালভিওলাই।
    নাকের ভেতরের লোম ও শ্লেষ্মা বাতাসকে ছেঁকে, উষ্ণ ও আর্দ্র করে ফুসফুসে পাঠায়, তাই মুখের চেয়ে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া ভালো।
  204. ২৪৫. মানুষ নিঃশ্বাসের সাথে কী ত্যাগ করে?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: গ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    কোষে খাদ্য জারিত হলে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। রক্ত এই গ্যাসকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা বাইরে বেরিয়ে যায়। তাই মানুষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে।
    মনে রাখুন:
    বাতাসের প্রায় ২১% অক্সিজেন থাকে। নিঃশ্বাসের বাতাসেও প্রায় ১৬% অক্সিজেন থেকে যায়, সবটা শরীর ব্যবহার করে না।
    নিঃশ্বাসের বাতাসে প্রায় ৪% কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে, যেখানে প্রশ্বাসের বাতাসে থাকে মাত্র ০.০৪%।
    দুই ক্ষেত্রেই নাইট্রোজেন প্রায় একই থাকে।
    চুনের পানিতে নিঃশ্বাসের বাতাস দিলে পানি ঘোলা হয়ে যায়, এতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি বোঝা যায়।
    গাছ ঠিক উল্টো কাজ করে, দিনের বেলা সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে অক্সিজেন ছাড়ে।
  205. ২৪৬. মানুষের ডান ফুসফুস কত খণ্ড বিশিষ্ট?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. ১
    • খ. ২
    • গ. ৩
    • ঘ. ৪
    উত্তর: গ. ৩
    মানুষের ডান ও বাম ফুসফুসের গঠন একরকম নয়। ডান ফুসফুস তিনটি খণ্ডে (Lobe) বিভক্ত, আর বাম ফুসফুস দুটি খণ্ডে। বাম ফুসফুসের একটি খাঁজে হৃদপিণ্ড বসে থাকে বলে সেটি আকারে ছোট এবং দুই খণ্ডবিশিষ্ট।
    মনে রাখুন:
    ডান ফুসফুস তুলনামূলকভাবে চওড়া ও খাটো। এর নিচে যকৃত থাকে।
    প্রতিটি ফুসফুস প্লিউরা (Pleura) নামে দুই স্তরের পর্দায় ঢাকা থাকে।
    ডান ফুসফুসে সাধারণত ১০টি এবং বাম ফুসফুসে ৮ থেকে ১০টি ক্ষুদ্র অংশ থাকে। এগুলোকে ব্রঙ্কোপালমোনারি সেগমেন্ট বলে।
    ফুসফুস স্পঞ্জের মতো নরম ও স্থিতিস্থাপক, তাই বাতাস ঢুকলে ফুলে ওঠে এবং বাতাস বেরোলে চুপসে যায়।
  206. ২৪৭. ফুসফুসের আবরণকে বলা হয়-মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. পেরিকার্ডিয়াম
    • খ. পেরিঅস্টিয়াম
    • গ. প্লিউরা
    • ঘ. পেরিকন্ড্রিয়াম
    উত্তর: গ. প্লিউরা
    আমাদের প্রতিটি ফুসফুস প্লিউরা (Pleura) নামে দুই স্তরের পাতলা পর্দা দিয়ে মোড়ানো থাকে। দুই স্তরের মাঝের ফাঁকা জায়গায় সামান্য তরল থাকে। এই তরল ঘর্ষণ কমায়, তাই শ্বাস নেওয়ার সময় ফুসফুস সহজে ফুলতে ও সংকুচিত হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    প্লিউরায় প্রদাহ হলে তাকে প্লুরিসি (Pleurisy) বলে।
    হৃদপিণ্ডের আবরণ পেরিকার্ডিয়াম।
    হাড়ের আবরণ পেরিঅস্টিয়াম (Periosteum)।
    তরুণাস্থির আবরণ পেরিকন্ড্রিয়াম (Perichondrium)।
    ফুসফুসের আবরণের ভেতরের স্তরটি ফুসফুসের গায়ে লেগে থাকে এবং বাইরের স্তরটি বুকের গহ্বরের দেয়ালে লেগে থাকে।
    ফুসফুসের আবরণে তরল জমে যাওয়াকে প্লুরাল ইফিউশন (Pleural effusion) বলে। তখন শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
  207. ২৪৮. একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ু কোষকে বলা হয় -স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. নিউরন
    • খ. নেফ্রন
    • গ. মলিকুলার সেল
    • ঘ. ম্যাক্রোফেস
    উত্তর: ক. নিউরন
    স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষ, যাকে নিউরন (Neuron) বলে। প্রতিটি নিউরনে একটি কোষদেহ, কোষদেহ থেকে বেরোনো শাখা-প্রশাখা বা ডেনড্রাইট (Dendrite) এবং একটি লম্বা অ্যাক্সন (Axon) থাকে। ডেনড্রাইট সংকেত গ্রহণ করে এবং অ্যাক্সন সেই সংকেত পরের কোষে পৌঁছে দেয়।
    মনে রাখুন:
    নেফ্রন (Nephron) বৃক্কের গঠন ও কাজের একক।
    ম্যাক্রোফেজ (Macrophage) এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা, যা জীবাণু গিলে খায়।
    মানবদেহে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন আছে বলে ধারণা করা হয়।
    নিউরনের অ্যাক্সনের ওপর মায়েলিন (Myelin) নামে চর্বিজাতীয় আবরণ থাকে, যা সংকেতকে দ্রুত চলতে সাহায্য করে।
  208. ২৪৯. প্রাণী দেহের দীর্ঘতম কোষটির নাম-NSI ফিল্ড অফিসার, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. RBC
    • খ. নিউরন
    • গ. গবলেট
    • ঘ. WBC
    উত্তর: খ. নিউরন
    প্রাণীদেহের কোষ সাধারণত অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না, কিন্তু নিউরনের অ্যাক্সন অনেক লম্বা হয়। মানুষের মেরুরজ্জু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি স্নায়ুকোষের দৈর্ঘ্য প্রায় এক মিটার হতে পারে। তাই নিউরন প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ।
    মনে রাখুন:
    মানুষের সবচেয়ে বড় কোষ ডিম্বাণু (Ovum)।
    সবচেয়ে ছোট কোষ শুক্রাণু (Sperm)।
    প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় কোষ উটপাখির ডিমের কুসুম।
    লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও গবলেট কোষ আকারে অনেক ছোট।
    নিউরনের কোষদেহ ছোট হলেও এর লম্বা অ্যাক্সন বহু দূর পর্যন্ত সংকেত পৌঁছে দিতে পারে, এ কারণেই একে লম্বা কোষ বলা হয়।
  209. ২৫০. মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ কোনটি?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. মায়োসাইট
    • খ. স্পারম্যাটোসাইট
    • গ. নিউরন
    • ঘ. ওভাম
    উত্তর: গ. নিউরন
    মানবদেহের কোষগুলোর মধ্যে নিউরন বা স্নায়ুকোষ সবচেয়ে লম্বা। এর অ্যাক্সন নামে লম্বা সুতার মতো অংশ কোষের সংকেত দূরে পাঠায়। মেরুদণ্ডের নিচ থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত যাওয়া স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন প্রায় এক মিটার লম্বা হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    মানবদেহের সবচেয়ে বড় কোষ ডিম্বাণু (Ovum), যা খালি চোখে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো দেখা যায়।
    সবচেয়ে ছোট কোষ শুক্রাণু।
    মায়োসাইট (Myocyte) পেশিকোষ, আর স্পারম্যাটোসাইট শুক্রাণু তৈরির আগের ধাপের কোষ।
    নিউরন আর বিভাজিত হয় না বলে একবার নষ্ট হলে সাধারণত আর ফিরে আসে না।
    সায়াটিক স্নায়ু মানবদেহের সবচেয়ে লম্বা ও মোটা স্নায়ু, যা কোমর থেকে পা পর্যন্ত নেমে গেছে।
  210. ২৫১. মস্তিষ্কের আবৃতকারী পর্দার নাম কী?বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. অস্ট্রিয়াম
    • খ. পেরিকার্ডিয়াম
    • গ. মেনিনজেস
    • ঘ. মায়োকার্ডিয়াম
    উত্তর: গ. মেনিনজেস
    মস্তিষ্ক খুব নরম ও স্পর্শকাতর অঙ্গ, তাই এটি তিন স্তরের পর্দায় জড়ানো থাকে। এই পর্দাকে মেনিনজেস (Meninges) বলে। বাইরের স্তরের নাম ডুরা ম্যাটার (Dura mater), মাঝেরটির নাম অ্যারাকনয়েড (Arachnoid) এবং ভেতরেরটির নাম পায়া ম্যাটার (Pia mater)।
    মনে রাখুন:
    মেনিনজেসের মাঝের তরল মস্তিষ্কস্থ তরল বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (Cerebrospinal fluid), যা মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে বাঁচায়।
    মেনিনজেসের প্রদাহকে মেনিনজাইটিস (Meningitis) বলে।
    পেরিকার্ডিয়াম ও মায়োকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
    মস্তিষ্কের ভেতরে প্রকোষ্ঠ নামে ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানেও এই তরল জমা থাকে এবং মস্তিষ্কের পুষ্টি জোগায়।
    খুলির ভেতরে মস্তিষ্ক এই তিন স্তর ও তরলের গদিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে বলে আঘাত সহজে লাগে না।
  211. ২৫২. মানুষের মস্তিষ্কের ওজন কত?মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ১.৫০ কেজি
    • খ. ১.৪০ কেজি
    • গ. ১.৩৬ কেজি
    • ঘ. ১.২৫ কেজি
    উত্তর: গ. ১.৩৬ কেজি
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি বা ১৩৬০ গ্রাম। দেহের মোট ওজনের তুলনায় এটি মাত্র প্রায় ২%, অথচ মস্তিষ্ক দেহের প্রায় ২০% অক্সিজেন ও শক্তি ব্যবহার করে। তাই মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল মুহূর্তের জন্যও বন্ধ থাকলে ক্ষতি হতে থাকে।
    মনে রাখুন:
    মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ হলো সেরিব্রাম, সেরিবেলাম ও ব্রেনস্টেম।
    মানুষের মস্তিষ্ক প্রাণীজগতের তুলনায় আকারে ও জটিলতায় সবচেয়ে উন্নত।
    মেয়েদের মস্তিষ্কের ওজন গড়ে ছেলেদের চেয়ে কিছুটা কম, তবে এতে বুদ্ধিমত্তার তারতম্য হয় না।
    নবজাতকের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ৪০০ গ্রাম। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাড়তে থাকে এবং প্রাপ্তবয়সে স্থির হয়।
  212. ২৫৩. কোনটি মস্তিষ্কের সমস্ত ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্রস্থল?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. থ্যালামাস
    • খ. ক্যালোসাম
    • গ. সেরিব্রাম
    • ঘ. কারপাস
    উত্তর: গ. সেরিব্রাম
    সেরিব্রাম (Cerebrum) মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ, যা মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ ভাগ জুড়ে থাকে। চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, ইচ্ছাকৃত নড়াচড়া এবং ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি, এই সব মূল কাজের কেন্দ্র সেরিব্রামেই। তাই একে মস্তিষ্কের সব ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্র বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    সেরিব্রামের দুটি গোলার্ধ আছে, ডান ও বাম। কর্পাস ক্যালোসাম (Corpus callosum) নামে স্নায়ুতন্তুর একটি পটি এ দুটিকে যুক্ত রাখে।
    থ্যালামাস (Thalamus) ইন্দ্রিয়ের সংকেত সেরিব্রামে পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
    কারপাস হলো কবজির হাড়, মস্তিষ্কের অংশ নয়।
    সেরিব্রামের ওপরের ভাঁজ করা পৃষ্ঠকে সেরিব্রাল কর্টেক্স বলে। এই ভাঁজের কারণে সীমিত জায়গায় অনেক বেশি স্নায়ুকোষ ধরে।
  213. ২৫৪. চিন্তার সঙ্গে মস্তিষ্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে বলা হয়প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. সেরিব্রাম
    • খ. সেরিবেলাম
    • গ. মেডুলা
    • ঘ. স্পাইনাল কর্ড
    উত্তর: ক. সেরিব্রাম
    সেরিব্রাম চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি ও বিচারবুদ্ধির কেন্দ্র। যে কোনো জিনিস মনে রাখা, সমস্যার সমাধান করা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজ এই অংশেই ঘটে। তাই মানুষের চিন্তার সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্কিত অংশ সেরিব্রাম।
    মনে রাখুন:
    সেরিবেলাম (Cerebellum) দেহের ভারসাম্য ও পেশির সমন্বয় ঠিক রাখে।
    মেডুলা অবলংগাটা (Medulla oblongata) হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
    স্পাইনাল কর্ড বা মেরুরজ্জু মস্তিষ্কের নিচ থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে নেমে যায়।
    সেরিব্রামের ডান গোলার্ধ দেহের বাম অংশকে এবং বাম গোলার্ধ দেহের ডান অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে।
    সেরিব্রামের সামনের অংশ ফ্রন্টাল লোব পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ করে।
  214. ২৫৫. শীত, গ্রীষ্ম, লজ্জা, ক্রোধ প্রভৃতি অনুভূতিবোধ থাকে-মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অডিটর, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. চোখে
    • খ. সেরিব্রাল কর্টেক্সে
    • গ. মনে
    • ঘ. অস্থিতে
    উত্তর: খ. সেরিব্রাল কর্টেক্সে
    সেরিব্রামের বাইরের পাতলা, ধূসর রঙের স্তরকে সেরিব্রাল কর্টেক্স (Cerebral cortex) বলে। ত্বক ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় থেকে আসা সংকেত এখানে পৌঁছায়, তাই শীত-গ্রীষ্মের অনুভূতি এবং লজ্জা, ক্রোধ, ভালোবাসার মতো আবেগ এই স্তরেই অনুভূত হয়। চোখ শুধু দেখার যন্ত্র, আর অস্থি কাঠামো দেয়।
    মনে রাখুন:
    কর্টেক্সকে ধূসর পদার্থ (Grey matter) বলে, কারণ এখানে স্নায়ুকোষের দেহ বেশি।
    ভেতরের অংশ সাদা পদার্থ (White matter), যেখানে স্নায়ুতন্তু বেশি।
    কর্টেক্সের ভাঁজ বেশি বলে ছোট খুলির ভেতরেই এর পৃষ্ঠতল অনেক বড় হতে পারে।
    চোখ আলো গ্রহণ করে কেবল সংকেত তৈরি করে, কিন্তু দেখার অনুভূতি তৈরি হয় মস্তিষ্কের পশ্চাৎ অংশে।
  215. ২৫৬. নিচের কোনটি হাইপোথ্যালামাসের কাজ?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণার্থী, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করা
    • খ. ঐচ্ছিক চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা
    • গ. দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা
    • ঘ. দেহ তাপ নিয়ন্ত্রণ করা
    উত্তর: ঘ. দেহ তাপ নিয়ন্ত্রণ করা
    হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus) মস্তিষ্কের নিচের দিকে অবস্থিত একটি ছোট অংশ। এটি দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গরম লাগলে ঘাম ঝরিয়ে, আবার ঠান্ডা লাগলে কাঁপুনি তুলে দেহের তাপ ঠিক রাখতে নির্দেশ দেয়।
    মনে রাখুন:
    এটি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম এবং আবেগের নিয়ন্ত্রণও করে।
    হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারি গ্রন্থির সঙ্গে যুক্ত থেকে হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
    ঐচ্ছিক নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে সেরিব্রাম এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে সেরিবেলাম।
    অম্ল-ক্ষারের সমতা রক্ষায় কিডনি ও ফুসফুসের ভূমিকা বেশি।
    দেহ খুব বেশি গরম হলে হাইপোথ্যালামাসের নির্দেশে ত্বকের রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং ঘাম বাড়ে।
    হাইপোথ্যালামাস ঘুম-জাগরণের জৈব ঘড়িও ঠিক রাখে।
  216. ২৫৭. মস্তিষ্কের কোন অংশ মানুষের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণ করে?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. মেডুলা অবলংগাটা
    • খ. সেরিবেলাম
    • গ. হাইপোথ্যালামাস
    • ঘ. সেরিব্রাম
    উত্তর: গ. হাইপোথ্যালামাস
    মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কেন্দ্র আছে। রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে বা দেহে পানির অভাব হলে এ অংশ সংকেত পেয়ে আমাদের খিদে ও পিপাসা অনুভব করায়। এর কাছাকাছি থাকা পিটুইটারি গ্রন্থির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি দেহের অনেক হরমোনের নিয়ন্ত্রণও করে।
    মনে রাখুন:
    হাইপোথ্যালামাস দেহের তাপমাত্রা, ঘুম ও আবেগের কেন্দ্রও।
    মেডুলা অবলংগাটা শ্বাস ও হৃদস্পন্দনের কেন্দ্র।
    সেরিবেলাম ভারসাম্য রক্ষা করে।
    সেরিব্রাম চিন্তা ও স্মৃতির কেন্দ্র।
    হাইপোথ্যালামাসের ক্ষতি হলে মানুষ অতিরিক্ত খেতে বা একেবারে না খেতে পারে, কারণ ক্ষুধার নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো হয় না।
    হাইপোথ্যালামাসের আকার একটি বাদামের সমান হলেও এর কাজ অনেক।
  217. ২৫৮. স্পাইনাল কর্ড কোন তন্ত্রের অংশ?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. স্নায়ুতন্ত্রের
    • খ. পরিপাকতন্ত্রের
    • গ. রেচন তন্ত্রের
    • ঘ. কোনটা নয়
    উত্তর: ক. স্নায়ুতন্ত্রের
    মস্তিষ্কের মেডুলা অবলংগাটার নিচ থেকে একটি লম্বা, দড়ির মতো স্নায়ু অংশ নেমে গেছে, যার নাম স্পাইনাল কর্ড বা মেরুরজ্জু। এটি মেরুদণ্ডের ভেতরের ফাঁকা পথ দিয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের মতোই কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ। এটি দেহ ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানের প্রধান পথ।
    মনে রাখুন:
    মেরুরজ্জুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার।
    এখান থেকে ৩১ জোড়া স্পাইনাল স্নায়ু বেরিয়েছে।
    হাতে গরম কিছু লাগলে মেরুরজ্জুই দ্রুত প্রতিবর্ত ক্রিয়া ঘটিয়ে হাত সরিয়ে নেয়, মস্তিষ্কের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে না।
    মেরুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেহের নিচের অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে, কারণ মস্তিষ্ক ও পায়ের মধ্যে সংকেত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
  218. ২৫৯. মানবদেহে সপ্তম করোটিক স্নায়ুর নাম কি?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ট্রকলিয়র স্নায়ু
    • খ. ভেগাস স্নায়ু
    • গ. ফেসিয়াল স্নায়ু
    • ঘ. অপটিক স্নায়ু
    উত্তর: গ. ফেসিয়াল স্নায়ু
    মানুষের মস্তিষ্ক থেকে ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু (Cranial nerve) বেরিয়েছে। এদের মধ্যে সপ্তম জোড়া ফেসিয়াল স্নায়ু (Facial nerve)। এটি মুখের পেশি নাড়িয়ে হাসি, কান্না ও অন্যান্য অভিব্যক্তি তৈরি করে এবং জিভের সামনের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে স্বাদের অনুভূতি পাঠায়।
    মনে রাখুন:
    প্রথম জোড়া ঘ্রাণ স্নায়ু (Olfactory), দ্বিতীয় জোড়া দৃষ্টি স্নায়ু (Optic)।
    চতুর্থ জোড়া ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
    দশম জোড়া ভেগাস স্নায়ু (Vagus), যা সবচেয়ে লম্বা করোটিক স্নায়ু এবং হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে ছড়িয়ে আছে।
    অষ্টম জোড়া শ্রবণ ও ভারসাম্যের স্নায়ু।
    বারো জোড়া করোটিক স্নায়ু মনে রাখতে হলে প্রথম তিনটি মনে রাখলেই চলে: ঘ্রাণ, দৃষ্টি ও চোখ নাড়ানোর স্নায়ু।
  219. ২৬০. Spinal nerve কয় জোড়া?DGNM-এর মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ৩১ জোড়া
    • খ. ৩০ জোড়া
    • গ. ১২ জোড়া
    • ঘ. ৩৫ জোড়া
    উত্তর: ক. ৩১ জোড়া
    মেরুরজ্জু থেকে মোট ৩১ জোড়া স্পাইনাল স্নায়ু (Spinal nerve) বেরিয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এই স্নায়ুগুলো মেরুদণ্ডের কশেরুকার ফাঁক দিয়ে বের হয়। প্রতিটি স্নায়ুতে সংবেদী ও চালক দুই ধরনের স্নায়ুতন্তুই থাকে।
    মনে রাখুন:
    ৩১ জোড়ার ভাগ: গ্রীবা ৮ জোড়া, বক্ষ ১২ জোড়া, কটি ৫ জোড়া, ত্রিক ৫ জোড়া এবং অনুত্রিক ১ জোড়া।
    মস্তিষ্ক থেকে বেরোনো করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
    মানুষের দেহে তাই মোট ৪৩ জোড়া স্নায়ু আছে।
    মেরুরজ্জুর স্পাইনাল স্নায়ুগুলো দেহের প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পথ হিসেবেও কাজ করে। এ কারণে কাঁটা ফুটলে আমরা না ভেবেই পা সরিয়ে নিই।
  220. ২৬১. নখ বা চুল কাটলে আমরা ব্যথা পাই না কারণজাতীয় সংসদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রোটোকল অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. এরা শরীরের কোন অংশ নয়
    • খ. এদের মধ্যে কোনো স্নায়ু নেই
    • গ. এদের মধ্যে লসিকা নালী আছে
    • ঘ. সবগুলোই ঠিক
    উত্তর: খ. এদের মধ্যে কোনো স্নায়ু নেই
    চুল ও নখের যে অংশ আমরা কাটি, তা আসলে মৃত কোষ দিয়ে গঠিত, যাতে কেরাটিন (Keratin) নামের প্রোটিন থাকে। এই অংশে কোনো স্নায়ু বা রক্তনালী নেই। ব্যথার অনুভূতি স্নায়ুর মাধ্যমেই মস্তিষ্কে যায়, তাই স্নায়ু না থাকায় নখ বা চুল কাটলে আমরা ব্যথা পাই না।
    মনে রাখুন:
    চুলের গোড়া ত্বকের ভেতরে থাকে এবং সেখানে স্নায়ু আছে, তাই চুল টেনে ছিঁড়লে ব্যথা লাগে।
    নখ বাড়ে নখের গোড়ার জীবিত কোষ বিভাজিত হয় বলে।
    নখ ও চুলের রঙ আসে মেলানিন (Melanin) থেকে, যা ত্বকেও থাকে।
    কেরাটিন শুধু চুল ও নখে নয়, পাখির পালক ও শিংয়েও থাকে।
  221. ২৬২. মানুষের পৌষ্টিক নালীর দৈর্ঘ্য কত?DPE-এর হিসাব সহকারী, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. ৬ মিটার
    • খ. ৩-৪ মিটার
    • গ. ৮-১০ মিটার
    • ঘ. ২ মিটার
    উত্তর: গ. ৮-১০ মিটার
    মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত খাদ্য চলাচলের লম্বা নলটিকে পৌষ্টিক নালী (Alimentary canal) বলে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের এই নালীর দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ মিটার। এর মধ্যে ক্ষুদ্রান্ত্র সবচেয়ে লম্বা অংশ, আর বৃহদন্ত্র অপেক্ষাকৃত ছোট।
    মনে রাখুন:
    পৌষ্টিক নালীর ক্রম: মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালী, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র ও পায়ু।
    যকৃত, অগ্ন্যাশয় ও লালাগ্রন্থি পরিপাকে সাহায্য করে, কিন্তু এগুলো পৌষ্টিক নালীর অংশ নয়।
    ক্ষুদ্রান্ত্র প্রায় ৬ মিটার লম্বা। বৃহদন্ত্র আকারে মোটা হলেও দৈর্ঘ্যে প্রায় দেড় মিটার।
    সবচেয়ে প্রশস্ত অংশ পাকস্থলী, যেখানে খাবার জমা থেকে প্রাথমিক পরিপাক হয়।
  222. ২৬৩. দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম কি?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. হিউমেরাস
    • খ. ফিমার
    • গ. এনামেল
    • ঘ. রেডিও আলনা
    উত্তর: গ. এনামেল
    দাঁতের বাইরের আবরণকে এনামেল (Enamel) বলে। এতে ক্যালসিয়াম ফসফেটের মতো খনিজ পদার্থ প্রায় ৯৬ ভাগ থাকে, তাই এটি দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশ। হিউমেরাস ও ফিমার হাড় হলেও এনামেলের মতো কঠিন নয়।
    মনে রাখুন:
    এনামেলে কোনো জীবন্ত কোষ নেই, তাই ক্ষয় হলে দাঁত নিজে থেকে তা পূরণ করতে পারে না।
    ফিমার উরুর হাড় এবং এটি মানুষের সবচেয়ে লম্বা ও শক্ত হাড়।
    হিউমেরাস বাহুর হাড়।
    এনামেলের ক্ষয় ঠেকাতে ফ্লোরাইড টুথপেস্ট সাহায্য করে।
    এনামেলের নিচে থাকে ডেন্টিন (Dentin), যা কিছুটা নরম এবং ভেতরে পাল্প গহ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত।
    এনামেলের ক্ষতি হলে দাঁতে সহজে ঠান্ডা-গরম লাগে।
  223. ২৬৪. মানুষের দুধের দাঁতের সংখ্যা কতটি?১২তম প্রভাষক নিবন্ধন, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. ১৬টি
    • খ. ২০টি
    • গ. ২৮টি
    • ঘ. ৩২টি
    উত্তর: খ. ২০টি
    মানুষের জীবনে দুই সেট দাঁত ওঠে। প্রথম সেটটিকে দুধ দাঁত বা অস্থায়ী দাঁত বলে। এর সংখ্যা ২০টি, যার মধ্যে ৮টি ছেদন, ৪টি কর্তন ও ৮টি পেষণ দাঁত। শিশুর বয়স আনুমানিক ছয় মাস হলে দাঁত ওঠা শুরু হয় এবং আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব দুধ দাঁত উঠে যায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্থায়ী দাঁত ৩২টি।
    স্থায়ী দাঁতের বিন্যাস: ছেদন ৮, কর্তন ৪, অগ্রপেষণ ৮ এবং পেষণ ১২।
    ছয় থেকে বারো বছর বয়সে দুধ দাঁত পড়ে স্থায়ী দাঁত গজায়।
    ছেলেমেয়েদের প্রথম দুধ দাঁত সাধারণত নিচের সামনের ছেদন দাঁত হিসেবে ওঠে।
  224. ২৬৫. মানব দেহের ক্যানাইন দাঁতের সংখ্যা?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. ৭টি
    • খ. ৪টি
    • গ. ১৩টি
    • ঘ. ৯টি
    উত্তর: খ. ৪টি
    কর্তন বা ক্যানাইন (Canine) দাঁত সূচালো আকৃতির এবং শক্ত খাবার ছিঁড়তে কাজে লাগে। মানুষের উপরের চোয়ালে দুটি ও নিচের চোয়ালে দুটি, মোট চারটি ক্যানাইন দাঁত থাকে। মাংসাশী প্রাণীর ক্যানাইন দাঁত বেশি ধারালো ও লম্বা হয়।
    মনে রাখুন:
    ছেদন দাঁত (Incisor) খাবার কাটে, সংখ্যা ৮।
    অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar) ৮টি এবং পেষণ দাঁত (Molar) ১২টি। এগুলো খাবার চিবিয়ে পিষে ফেলে।
    চার জোড়া বা শেষ পেষণ দাঁতকে আক্কেল দাঁত (Wisdom tooth) বলে।
    কুকুর-বিড়ালের মতো মাংসাশী প্রাণীর ক্যানাইন দাঁত শিকার ধরা ও ছেঁড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
    দুধ দাঁতেও চারটি ক্যানাইন থাকে, তাই স্থায়ী দাঁতেও সংখ্যা একই চার।
  225. ২৬৬. একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের নিচের চোয়ালে মোলার দাঁতের সংখ্যা হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. ৩
    • খ. ৬
    • গ. ৪
    • ঘ. ২
    উত্তর: খ. ৬
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মোট ১২টি মোলার বা পেষণ দাঁত থাকে। উপরের চোয়ালে ৬টি এবং নিচের চোয়ালে ৬টি। প্রতি চোয়ালের প্রতি পাশে ৩টি করে মোলার থাকে, যার সবচেয়ে পেছনেরটি আক্কেল দাঁত।
    মনে রাখুন:
    মোলার দাঁত চওড়া ও সমতল, তাই খাবার চিবিয়ে মিহি করতে কাজে লাগে।
    আক্কেল দাঁত সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে ওঠে।
    স্থায়ী দাঁতের মোট সংখ্যা ৩২ এবং দুধ দাঁতে কোনো আক্কেল দাঁত থাকে না।
    মোলারের উপরিতলে কয়েকটি উঁচু অংশ থাকে, যা চিবানোর কাজ আরও ভালো করে।
    নিচের চোয়ালে ছয়টি মোলারের সংখ্যা দুই পাশ মিলিয়ে গোনা হয়েছে।
  226. ২৬৭. পাকস্থলী প্রাচীরের কোন কোষ HCl নিঃসরণ করে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৭-১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. মিউকাস নেক কোষ
    • খ. গবলেট কোষ
    • গ. প্যারাইটাল কোষ
    • ঘ. চিফ কোষ
    উত্তর: গ. প্যারাইটাল কোষ
    পাকস্থলীর প্রাচীরে বিভিন্ন কোষ আছে এবং প্রতিটির কাজ আলাদা। প্যারাইটাল কোষ (Parietal cell) হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) নিঃসরণ করে। এই অ্যাসিড খাবারের সঙ্গে আসা জীবাণু মেরে ফেলে এবং পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে।
    মনে রাখুন:
    চিফ কোষ (Chief cell) নিঃসরণ করে পেপসিনোজেন।
    মিউকাস নেক কোষ পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালকে বাঁচাতে পিচ্ছিল শ্লেষ্মা তৈরি করে। তাই অ্যাসিড পাকস্থলীর দেয়াল নিজে হজম করে ফেলে না।
    পাকস্থলীর ভেতরের অম্লতা প্রায় pH 1.5 থেকে 2।
    পাকস্থলীর প্রাচীর থেকে নিঃসৃত অ্যাসিড ও পেপসিন আমিষ হজমে লাগে, সঙ্গে শ্লেষ্মার সুরক্ষাও কাজ করে।
    HCl-এর অভাব হলে প্রোটিন ঠিকমতো হজম হয় না।
  227. ২৬৮. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির কাজ?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. পরিপাক
    • খ. শ্বসন
    • গ. রেচন
    • ঘ. খাদ্য কৌশল
    উত্তর: ক. পরিপাক
    পাকস্থলীর প্রাচীরে অসংখ্য ছোট গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি (Gastric gland) আছে। এগুলো গ্যাস্ট্রিক রস নামে হজমের রস তৈরি করে। তাই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির কাজ হলো খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করা, যা শ্বসন বা রেচনের কাজ নয়।
    মনে রাখুন:
    গ্যাস্ট্রিক রসে থাকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, পেপসিন এবং শ্লেষ্মা। শিশুদের পাকস্থলীতে রেনিন (Rennin) নামের এনজাইমও থাকে, যা দুধের প্রোটিন জমাট বাঁধায়।
    পাকস্থলীতে খাবার প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকে এবং আধা-তরল কাইম (Chyme) হয়ে যায়।
    পাকস্থলী একটি থলির মতো অঙ্গ, যার ধারণক্ষমতা প্রায় এক থেকে দেড় লিটার। ভেতরের ভাঁজ খাবারকে মন্থন করে।
  228. ২৬৯. পৌষ্টিকতন্ত্রের কোন অংশে শোষিত হয়?কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. যকৃত
    • খ. ক্ষুদ্রান্ত্র
    • গ. বৃহদন্ত্র
    • ঘ. অগ্ন্যাশয়
    উত্তর: খ. ক্ষুদ্রান্ত্র
    খাদ্য হজম হয়ে সরল পদার্থে পরিণত হওয়ার পর সেই পদার্থ ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine) থেকে রক্তে শোষিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের দেয়ালে অসংখ্য আঙুলের মতো ভিলাই (Villi) থাকে। এগুলো শোষণের পৃষ্ঠতল অনেক বাড়িয়ে দেয়, ফলে খাদ্যসার দ্রুত ও কার্যকরভাবে রক্তে চলে যায়।
    মনে রাখুন:
    বৃহদন্ত্র মূলত পানি ও কিছু খনিজ শোষণ করে এবং অপাচ্য অংশ মলে পরিণত করে।
    যকৃত ও অগ্ন্যাশয় হজমের রস তৈরি করে, কিন্তু খাদ্য শোষণ করে না।
    ক্ষুদ্রান্ত্রের দৈর্ঘ্য বেশি এবং ভেতরের ভাঁজ ও ভিলাই বেশি, এ কারণে শোষণ এত কার্যকর হয়।
    প্রতিটি ভিলাসের ভেতরে সরু রক্তনালী ও ল্যাকটিয়াল থাকে, যা সরল খাদ্য বহন করে।
  229. ২৭০. ডিওডেনাম কার অংশ?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. শ্বসন তন্ত্র
    • খ. রেচন তন্ত্র
    • গ. পরিপাক তন্ত্র
    • ঘ. রক্ত সংবহন তন্ত্র
    উত্তর: গ. পরিপাক তন্ত্র
    ডিওডেনাম (Duodenum) ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম ও ছোট অংশ, যা পাকস্থলীর ঠিক পরে থাকে। এটি ইংরেজি C অক্ষরের মতো বাঁকানো এবং লম্বায় প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। যকৃতের পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়ের রস এখানে এসে খাবারের সঙ্গে মেশে। তাই ডিওডেনাম পরিপাক তন্ত্রের অংশ।
    মনে রাখুন:
    ক্ষুদ্রান্ত্রের তিনটি অংশ: ডিওডেনাম, জেজুনাম (Jejunum) ও ইলিয়াম (Ileum)।
    ডিওডেনামে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের শোষণ বেশি হয়।
    ডিওডেনামে অম্লীয় খাবার ক্ষারীয় হয়ে যায়।
    ডিওডেনামের নামটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ বারো আঙুল। কারণ এর দৈর্ঘ্য প্রায় বারো আঙুল চওড়া সমান।
    ডিওডেনামের পর জেজুনাম এবং শেষে ইলিয়াম আসে, তারপর শুরু হয় বৃহদন্ত্র।
  230. ২৭১. সবচেয়ে বেশি খাদ্যসার শোষিত হয়-মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. জেজুনাম
    • খ. পাকস্থলী
    • গ. ডিউডেনাম
    • ঘ. ইলিয়াম
    উত্তর: ক. জেজুনাম
    ক্ষুদ্রান্ত্রের তিনটি অংশের মধ্যে জেজুনামে (Jejunum) সবচেয়ে বেশি খাদ্যসার শোষিত হয়। এর দেয়ালে ভিলাইয়ের সংখ্যা বেশি এবং সেগুলো লম্বা, তাই শোষণের পৃষ্ঠতল বিশাল। পাকস্থলীতে প্রধানত পরিপাক হয়, শোষণ সামান্যই হয়।
    মনে রাখুন:
    ডিওডেনামে আয়রন ও ক্যালসিয়াম বেশি শোষিত হয়।
    ইলিয়াম (Ileum) ভিটামিন B₁₂ এবং পিত্তলবণ শোষণ করে।
    ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই শর্করা, আমিষ ও চর্বির সরল রূপ রক্ত ও লসিকায় পাঠিয়ে দেয়।
    ক্ষুদ্রান্ত্রের দৈর্ঘ্যের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ জেজুনাম, বাকি অংশ ইলিয়াম।
    তবু শোষণের ক্ষেত্রে দুটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ, ক্ষুদ্রান্ত্রের পুরো দৈর্ঘ্যই খাদ্যসার শোষণে কাজ করে। জেজুনামে ভিলাই সবচেয়ে ঘন ও লম্বা বলে সবচেয়ে বেশি শোষণ ঘটে।
  231. ২৭২. বৃহদন্ত্রের অংশবিশেষ হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাকতন্ত্র
    • ক. ইলিয়াম
    • খ. জেজুনাম
    • গ. সিকাম
    • ঘ. ডিওডেনাম
    উত্তর: গ. সিকাম
    বৃহদন্ত্র (Large intestine) কয়েকটি অংশ নিয়ে গঠিত: সিকাম (Caecum), কোলন (Colon) ও মলাশয় (Rectum)। সিকাম ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সংযোগস্থলে থাকা থলির মতো অংশ। ইলিয়াম, জেজুনাম ও ডিওডেনাম ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ।
    মনে রাখুন:
    সিকামের নিচে ছোট আঙুলের মতো অ্যাপেন্ডিক্স (Appendix) লেগে থাকে।
    বৃহদন্ত্রে পানি শোষিত হয়ে অপাচ্য খাদ্য শক্ত মলে পরিণত হয়।
    বৃহদন্ত্রে বসবাসকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়া কিছু ভিটামিন, যেমন ভিটামিন K, তৈরি করে।
    বৃহদন্ত্রের শেষ অংশ মলাশয়, যেখানে মল জমা থাকে এবং পায়ু দিয়ে বেরিয়ে যায়।
    অ্যাপেন্ডিক্সে সংক্রমণ হলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়, যার জন্য অনেক সময় অস্ত্রোপচার লাগে।
    বৃহদন্ত্র ক্ষুদ্রান্ত্রের চেয়ে চওড়া, কিন্তু দৈর্ঘ্যে ছোট।
  232. ২৭৩. এনজাইম কি দিয়ে তৈরি হয় -DTE-এর ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. আমিষ
    • খ. শর্করা
    • গ. চর্বি
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: ক. আমিষ
    এনজাইম (Enzyme) হলো জৈব অনুঘটক, যা দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দ্রুত ঘটায়, কিন্তু নিজে অপরিবর্তিত থাকে। প্রায় সব এনজাইমই আমিষ বা প্রোটিন দিয়ে গঠিত। তাই এনজাইম তৈরি হয় আমিষ দিয়ে।
    মনে রাখুন:
    এনজাইমের নামের শেষে সাধারণত -ase থাকে, যেমন অ্যামাইলেজ (Amylase) ও লাইপেজ (Lipase)।
    অতিরিক্ত তাপে এনজাইমের গঠন নষ্ট হয়ে যায় এবং কাজ বন্ধ হয়। এ জন্য জ্বর বেশি হলে দেহে সমস্যা দেখা দেয়।
    প্রতিটি এনজাইম নির্দিষ্ট একটি বিক্রিয়াতেই কাজ করে।
    এনজাইমের প্রতিটি অণুতে একটি নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, যেখানে ঠিক সেই বিক্রিয়ার উপাদানই বসে যায়।
    এনজাইম ছাড়া দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়া এত দ্রুত হতে পারত না যে আমরা বেঁচে থাকতে পারি।
  233. ২৭৪. মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইম-বাংলাদেশ রেলওয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. টায়ালিন
    • খ. পেপসিন
    • গ. রেনিন
    • ঘ. লাইপেজ
    উত্তর: ক. টায়ালিন
    আমাদের মুখে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে। এদের লালা বা থুতুতে টায়ালিন (Ptyalin) নামে একটি এনজাইম থাকে, যাকে লালার অ্যামাইলেজও বলে। টায়ালিন শ্বেতসার বা স্টার্চকে ভেঙে মল্টোজ নামে শর্করা তৈরি করে। এ জন্য ভাত বেশি সময় চিবালে মুখে মিষ্টি স্বাদ লাগে।
    মনে রাখুন:
    পেপসিন (Pepsin) প্রোটিন হজম করে এবং তৈরি হয় পাকস্থলীতে।
    রেনিন (Rennin) দুধের প্রোটিনকে জমাট করে।
    লাইপেজ (Lipase) চর্বি হজম করে।
    মুখের লালা সামান্য ক্ষারীয়, যা টায়ালিনের কাজের জন্য উপযুক্ত।
    সুস্থ মানুষের লালার pH মান প্রায় ৬.৫ থেকে ৭.৫, যা টায়ালিনের কাজের জন্য উপযোগী।
    টায়ালিনের কাজ পাকস্থলীর অ্যাসিডে বন্ধ হয়ে যায়, তাই শর্করার হজম আর এগোয় না।
  234. ২৭৫. মুখ গহ্বরে কোন খাদ্যটির আংশিক পরিপাক ঘটে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. ভিটামিন
    • খ. শর্করা
    • গ. আমিষ
    • ঘ. ফ্যাটি অ্যাসিড
    উত্তর: খ. শর্করা
    মুখগহ্বরে খাবার চিবানোর সময় লালার সঙ্গে মিশে যায়। লালায় থাকা টায়ালিন (Ptyalin) এনজাইম শ্বেতসারের মতো জটিল শর্করাকে ভেঙে মল্টোজ নামে সরল শর্করায় পরিণত করে। এভাবে শর্করার আংশিক পরিপাক মুখেই শুরু হয়।
    মনে রাখুন:
    আমিষের পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলীতে।
    স্নেহ বা চর্বির পরিপাক মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে হয়।
    ভিটামিন সরল পদার্থ বলে এর পরিপাকের প্রয়োজন নেই, ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে সরাসরি শোষিত হয়।
    লালা খাবারকে পিচ্ছিল করে গিলতে সাহায্য করে।
    লালায় থাকা পানি খাবারকে নরম করে এবং লালার মিউসিন গলা পিচ্ছিল রাখে।
    মুখে পরিপাকের ফল মল্টোজ, যা পরে ক্ষুদ্রান্ত্রে গ্লুকোজে পরিণত হয়।
  235. ২৭৬. প্রোটিন পরিপাক শুরু হয় -স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. মুখে
    • খ. পাকস্থলীতে
    • গ. ডিওডেনামে
    • ঘ. ক্ষুদ্রান্ত্রে
    উত্তর: খ. পাকস্থলীতে
    প্রোটিনের পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলীতে। পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে পেপসিন (Pepsin) নামে এনজাইম প্রোটিনকে ভেঙে ছোট ছোট খণ্ড পেপটোন ও পলিপেপটাইড তৈরি করে। পরে ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিন ও অন্যান্য এনজাইম এই খণ্ডগুলোকে অ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।
    মনে রাখুন:
    শর্করার পরিপাক মুখে শুরু হয়।
    স্নেহের পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রে ঘটে, পিত্তরস এ সময় চর্বিকে ছোট কণায় ভেঙে দেয়।
    পেপসিন প্রথমে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন রূপে তৈরি হয় এবং HCl-এর সংস্পর্শে সক্রিয় হয়।
    পাকস্থলীতে এনজাইম কাজ করার সময় অ্যাসিড পরিবেশ প্রয়োজন, তাই এর pH মান খুব কম, প্রায় ১.৫ থেকে ২।
    পেপসিনের কাজ করতে অম্লীয় পরিবেশ লাগে, কিন্তু ট্রিপসিন ক্ষারীয় পরিবেশে কাজ করে।
  236. ২৭৭. খাদ্য পরিপাকের সময় ব্যাঙে ট্রিপসিনোজেন নিঃসৃত হয় কোথায় থেকে?সাব-রেজিস্ট্রার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. পিত্তথলি
    • খ. অগ্ন্যাশয়
    • গ. যকৃত
    • ঘ. ডিওডেনাম
    উত্তর: খ. অগ্ন্যাশয়
    ব্যাঙ ও মানুষের মতো মেরুদণ্ডী প্রাণীতে ট্রিপসিনোজেন (Trypsinogen) তৈরি করে অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। ডিওডেনামে পৌঁছালে এনটারোকাইনেজ (Enterokinase) নামে এনজাইম একে সক্রিয় ট্রিপসিনে (Trypsin) রূপান্তরিত করে। নিষ্ক্রিয় অবস্থায় তৈরি হয় বলে অগ্ন্যাশয় নিজে হজম হয়ে যায় না।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
    এর অন্তঃক্ষরা অংশ ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি করে।
    যকৃত পিত্তরস তৈরি করে, আর পিত্তথলি তা জমিয়ে রাখে।
    অগ্ন্যাশয় রস ডিওডেনামে এসে মেশার পর সেখানকার অম্লীয় খাবারকে ক্ষারীয় করে।
    বাকি অঙ্গ, যেমন পিত্তথলি ও যকৃত, ট্রিপসিনোজেন তৈরি করে না।
  237. ২৭৮. ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে এমন-RDA-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. অগ্ন্যাশয় রসে
    • খ. মুখ গহ্বরের লালাতে
    • গ. প্লাস্টিক রসে
    • ঘ. যকৃত রসে
    উত্তর: ক. অগ্ন্যাশয় রসে
    ট্রিপসিন (Trypsin) আমিষ হজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম। এটি অগ্ন্যাশয় রসে (Pancreatic juice) থাকে এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে এসে প্রোটিন ও পেপটোনকে ভেঙে ছোট পেপটাইড করে। এরপর আরও এনজাইমের কাজে সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন ছাড়াও অ্যামাইলোপসিন (Amylopsin) এবং স্টিয়াপসিন (Steapsin) থাকে। অ্যামাইলোপসিন শর্করা এবং স্টিয়াপসিন চর্বি হজম করে।
    মুখের লালায় থাকে টায়ালিন।
    পেপসিন পাওয়া যায় পাকস্থলীর রসে।
    ট্রিপসিন ছাড়াও অগ্ন্যাশয় রসে বাইকার্বনেট থাকে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের অম্লতা কমায়।
    অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইম একসঙ্গে আমিষ, শর্করা ও চর্বি, তিন ধরনের খাদ্যই হজম করতে পারে।
  238. ২৭৯. আমিষ পরিপাক হয়ে কি হয়?শ্রম অধিদপ্তরে শ্রম অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. কার্বোহাইড্রেড
    • খ. ফ্যাটি এসিড
    • গ. ন্যাকটিক এসিড
    • ঘ. এমাইনো এসিড
    উত্তর: ঘ. এমাইনো এসিড
    আমিষ বা প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো এসিডের শিকল দিয়ে গঠিত। পরিপাকের সময় পেপসিন, ট্রিপসিন ও অন্যান্য এনজাইম এই শিকল ভেঙে অ্যামাইনো এসিড (Amino acid) তৈরি করে। অ্যামাইনো এসিড ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে রক্তে শোষিত হয়ে কোষে পৌঁছায় এবং নতুন প্রোটিন তৈরিতে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    শর্করা হজম হলে গ্লুকোজ তৈরি হয়।
    স্নেহ হজম হলে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল তৈরি হয়।
    প্রোটিনে মোট ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড থাকে। এর মধ্যে ৯টি অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড, যা দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না।
    অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড আমাদের খাবার থেকেই পেতে হয়, যেমন ডিম, মাছ, মাংস ও ডালে এগুলো থাকে।
  239. ২৮০. কোন এনজাইম কার্বোহাইড্রেট পরিপাকে সহায়তা করে?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. পেপসিন
    • খ. এমাইলেজ
    • গ. রেনিন
    • ঘ. ট্রিপসিন
    উত্তর: খ. এমাইলেজ
    অ্যামাইলেজ (Amylase) এনজাইম শ্বেতসারের মতো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হজমে সাহায্য করে। এটি লালা ও অগ্ন্যাশয় রস, দুই জায়গাতেই থাকে। লালার অ্যামাইলেজ মুখেই কাজ শুরু করে এবং অগ্ন্যাশয়ের অ্যামাইলেজ ক্ষুদ্রান্ত্রে তা সম্পন্ন করে।
    মনে রাখুন:
    পেপসিন ও ট্রিপসিন প্রোটিন হজম করে।
    রেনিন দুধের প্রোটিনকে জমাট বাঁধায়।
    লাইপেজ চর্বি হজম করে।
    কোনো এনজাইমের নাম শুনে কী হজম করে তা বোঝা যায়: অ্যামাইলেজ থেকে অ্যামাইলাম বা শ্বেতসার, লাইপেজ থেকে লিপিড বা চর্বি।
    আমাদের লালা ও অগ্ন্যাশয় রস, উভয়েই শর্করা হজমের এনজাইম থাকলেও পাকস্থলীর রসে এ এনজাইম থাকে না।
    অ্যামাইলেজ শ্বেতসারের বন্ধন ভেঙে ছোট শর্করা তৈরি করে।
  240. ২৮১. এমাইলেজ এনজাইম শ্বেতসার ভেঙ্গে কি তৈরি করে?আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. এমাইনো এসিড
    • খ. ফ্যাটি এসিড
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. পেপটাইড
    উত্তর: গ. গ্লুকোজ
    অ্যামাইলেজ (Amylase) শ্বেতসার বা স্টার্চের জটিল অণুকে ভেঙে ছোট অণু মল্টোজ করে। পরে মল্টেজ (Maltase) এনজাইম মল্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে। শেষ ফল গ্লুকোজ, যা রক্তে শোষিত হয়ে কোষে শক্তি দেয়। প্রশ্নের অন্য তিন উত্তর শর্করার পরিপাকে তৈরি হয় না, বরং আমিষ বা চর্বির পরিপাকে তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    আমিষ ভেঙে পাওয়া যায় অ্যামাইনো এসিড ও পেপটাইড।
    চর্বি ভেঙে পাওয়া যায় ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল।
    ভাত, রুটি, আলু এগুলো শ্বেতসারে ভরপুর খাবার।
    মল্টোজ দুটি গ্লুকোজ অণু জুড়ে তৈরি শর্করা, যাকে মল্ট সুগারও বলে।
    গ্লুকোজ ছোট অণু বলে ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই সহজেই শুষে নিতে পারে।
  241. ২৮২. নিচের কোনটি স্নেহ (চর্বি) জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. ট্রিপসিন
    • খ. লাইপেজ
    • গ. টায়ালিন
    • ঘ. অ্যামাইলেজ
    উত্তর: খ. লাইপেজ
    লাইপেজ (Lipase) এনজাইম স্নেহ বা চর্বি হজম করে। পিত্তরস প্রথমে চর্বিকে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে দেয়, যাকে ইমালসিফিকেশন (Emulsification) বলে। তখন লাইপেজ সেই কণাগুলোকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করতে পারে। অগ্ন্যাশয়ের রসে এই এনজাইম সবচেয়ে বেশি থাকে।
    মনে রাখুন:
    ট্রিপসিন আমিষ হজম করে।
    টায়ালিন ও অ্যামাইলেজ শর্করা হজম করে।
    পিত্তরস নিজে এনজাইম নয়। এর কাজ চর্বিকে ইমালসিফাই করে লাইপেজকে সাহায্য করা।
    পিত্তরস না থাকলে চর্বির হজম ঠিকমতো হয় না এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণেও সমস্যা হয়।
    লাইপেজ ছাড়া তেল-ঘির মতো খাবার ঠিকমতো হজম হতো না।
    অন্ত্রের লাইপেজকেও আন্ত্রিক লাইপেজ বলে।
  242. ২৮৩. কোন জাতীয় খাদ্য পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে?সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এনজাইম ও পরিপাক
    • ক. আমিষ
    • খ. শর্করা
    • গ. স্নেহ
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: গ. স্নেহ
    খাদ্যের তিন প্রধান উপাদানের মধ্যে স্নেহ বা চর্বি পাকস্থলীতে সবচেয়ে বেশি সময় থাকে। চর্বি হজম হতে সময় লাগে বেশি, আর চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার গতিও কমিয়ে দেয়। এ কারণে ঘি-তেলে ভাজা খাবার খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা মনে হয়।
    মনে রাখুন:
    শর্করা সবচেয়ে দ্রুত হজম হয় এবং তাড়াতাড়ি শক্তি দেয়।
    আমিষ মাঝামাঝি সময়ে হজম হয়।
    ভিটামিনের পরিপাক হয় না, কারণ তা সরল অবস্থায়ই থাকে।
    পাকস্থলীতে সাধারণত খাবার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকে।
    ক্ষুধা মেটাতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে তাই চর্বিজাতীয় খাবার সাহায্য করে, তবে বেশি খেলে ওজন ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
  243. ২৮৪. মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি-BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত
    • ক. এন্ডোক্রাইন
    • খ. যকৃত
    • গ. অগ্ন্যাশয়
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: খ. যকৃত
    যকৃত বা লিভার (Liver) মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫ কেজি। এটি পেটের ডান ওপরের অংশে মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে অবস্থিত। যকৃত পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি হজমে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ত্বক।
    অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্গও যকৃত।
    যকৃত নিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পূরণ করতে পারে, তাই এর একটি অংশ কেটে নিলেও আবার বেড়ে ওঠে।
    প্লীহা (Spleen) একটি লসিকা অঙ্গ, গ্রন্থি নয়।
    যকৃতের নিচে নাশপাতির মতো আকৃতির পিত্তথলি আছে, যেখানে পিত্তরস জমা থাকে।
    যকৃতের বাম ও ডান দুটি বড় খণ্ড আছে। ডান খণ্ডটি বাম খণ্ডের চেয়ে বড়।
  244. ২৮৫. দেহে কোথায় ভিটামিন সঞ্চিত থাকে?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত
    • ক. হৃৎপিণ্ডে
    • খ. যকৃতে
    • গ. মস্তিষ্কে
    • ঘ. মাংশপেশীতে
    উত্তর: খ. যকৃতে
    যকৃতে (Liver) দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জমা থাকে। চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, যেমন ভিটামিন A, D, E ও K এবং ভিটামিন B₁₂ যকৃতে সঞ্চিত হয়। প্রয়োজনের সময় যকৃত এগুলো রক্তে ছেড়ে দেয়। তাই ভিটামিন সঞ্চয়ের প্রধান স্থান যকৃত, হৃৎপিণ্ড নয়।
    মনে রাখুন:
    যকৃত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন (Glycogen) হিসেবে জমিয়ে রাখে।
    এখানে আয়রনও জমা থাকে।
    এ কারণে কলিজা খেলে ভিটামিন A ও আয়রন পাওয়া যায়।
    ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    যকৃতে রক্ত আসে দুটি পথে: যকৃতীয় ধমনি এবং পোর্টাল শিরা, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে পুষ্টি বহন করে আনে।
    যকৃতের এই সঞ্চয়ের কারণে অনেকদিন ভিটামিন না পেলেও দেহ কিছুদিন চালিয়ে নিতে পারে।
  245. ২৮৬. মানব দেহের জৈব রসায়নাগার কোনটি?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-গার্হস্থ্য অর্থনীতি ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত
    • ক. পাকস্থলী
    • খ. যকৃত
    • গ. ক্ষুদ্রান্ত্র
    • ঘ. অগ্ন্যাশয়
    উত্তর: খ. যকৃত
    যকৃত (Liver) দেহের জৈব রসায়নাগার নামে পরিচিত, কারণ এখানে অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এটি পিত্তরস তৈরি করে, ক্ষতিকর পদার্থকে বিষমুক্ত করে, গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন বানায় এবং অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। রক্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনও এখানেই তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    যকৃত রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রম্বিন তৈরি করে।
    পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বিলিরুবিন তৈরিতেও যকৃত ভূমিকা রাখে।
    ভ্রূণ অবস্থায় যকৃত লোহিত কণিকা তৈরি করে।
    অতিরিক্ত মদ্যপান ও ভাইরাস সংক্রমণ, যেমন হেপাটাইটিস, যকৃতের ক্ষতি করে।
    যকৃত বিপাকের কেন্দ্র বলেই একে জৈব রসায়নাগার বলা হয়।
    যকৃতের ভেতরে রক্ত পরিশোধিত হয়ে ক্ষতিকর বিষ দূর হয়।
  246. ২৮৭. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নয় কোনটি?গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত
    • ক. যকৃত
    • খ. পিটুইটারী
    • গ. থাইরয়েড
    • ঘ. পিনিয়াল
    উত্তর: ক. যকৃত
    অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) নালিবিহীন, এর হরমোন সরাসরি রক্তে মেশে। পিটুইটারি, থাইরয়েড ও পিনিয়াল, তিনটিই এ ধরনের গ্রন্থি। যকৃত পিত্তরস তৈরি করে এবং তা নালির মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠায়, তাই এটি বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড বলা হয়, কারণ এটি অন্য গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।
    থাইরয়েড গলার সামনে থাকে এবং থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে।
    পিনিয়াল গ্রন্থি মেলাটোনিন হরমোন তৈরি করে, যা ঘুমের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
    অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ক্ষরণ করে হরমোন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছায়।
    পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত এবং আকারে একটি মটরদানার সমান।
  247. ২৮৮. কোনটি লালাগ্রন্থি?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লালাগ্রন্থি
    • ক. প্যারাথাইরয়েড
    • খ. যকৃত
    • গ. প্যারোটিড
    • ঘ. অগ্ন্যাশয়
    উত্তর: গ. প্যারোটিড
    মুখে খাবার চিবানোর সময় ভেজা ও পিচ্ছিল করার জন্য লালা তৈরি হয়। লালা তৈরি করে লালাগ্রন্থি (Salivary gland)। আমাদের মুখে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে: প্যারোটিড (Parotid), সাবম্যান্ডিবুলার (Submandibular) এবং সাবলিঙ্গুয়াল (Sublingual)। তাই প্যারোটিড লালাগ্রন্থি।
    মনে রাখুন:
    প্যারাথাইরয়েড (Parathyroid) গলার থাইরয়েডের পেছনে থাকা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, যা রক্তে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে।
    যকৃত ও অগ্ন্যাশয় পরিপাকের গ্রন্থি, কিন্তু লালাগ্রন্থি নয়।
    প্রতিদিন আমাদের মুখে প্রায় এক থেকে দেড় লিটার লালা তৈরি হয়।
    লালা শুধু হজমে নয়, মুখ পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে এবং দাঁতের ক্ষয়ের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা দেয়।
    তিন জোড়ার মধ্যে সাবলিঙ্গুয়াল সবচেয়ে ছোট এবং জিভের নিচে থাকে।
  248. ২৮৯. মানবদেহের বৃহত্তম লালাগ্রন্থি কোনটি?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লালাগ্রন্থি
    • ক. প্যারোটিড
    • খ. প্লীহা
    • গ. থাইরয়েড
    • ঘ. যকৃত
    উত্তর: ক. প্যারোটিড
    প্যারোটিড (Parotid) গ্রন্থি কানের সামনে ও নিচে গালের দুই পাশে থাকে এবং এটিই মানুষের বৃহত্তম লালাগ্রন্থি। এর লালায় টায়ালিন এনজাইম বেশি থাকে, যা শর্করার পরিপাক শুরু করে। প্যারোটিড ছাড়া আরও দুই জোড়া লালাগ্রন্থি আছে, যারা মাঝারি ও ছোট।
    মনে রাখুন:
    প্যারোটিডের পরেই আকারে সাবম্যান্ডিবুলার এবং সবচেয়ে ছোট সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থি।
    থাইরয়েড গলার অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
    প্লীহা রক্ত ছাঁকে।
    যকৃত দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি, কিন্তু সে লালাগ্রন্থি নয়।
    প্যারোটিড গ্রন্থির নালী গালের ভেতরের দিকে ওপরের মোলার দাঁতের কাছে মুখে খোলে।
    প্যারোটিডের পর আকারে দ্বিতীয় বড় গ্রন্থি সাবম্যান্ডিবুলার, যা চোয়ালের নিচে থাকে।
  249. ২৯০. বিলিরুবিন তৈরি হয় কোনটি থেকে?DMLC-এর জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃত
    • ক. লোহিত রক্তকণিকা
    • খ. শ্বেত রক্তকণিকা
    • গ. অনুচক্রিকা
    • ঘ. এনজাইম
    উত্তর: ক. লোহিত রক্তকণিকা
    আমাদের লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন। এরপর পুরোনো কণিকাগুলো প্লীহা ও যকৃতে ভেঙে ফেলা হয়। কণিকার হিমোগ্লোবিনের হিম (Heme) অংশ থেকে হলুদ রঙের বিলিরুবিন (Bilirubin) তৈরি হয়। যকৃত বিলিরুবিনকে পিত্তরসের সঙ্গে মিশিয়ে দেহ থেকে বের করে দেয়।
    মনে রাখুন:
    বিলিরুবিনই মলের স্বাভাবিক বাদামি রঙ আনে।
    পিত্তনালী বন্ধ হলে মল সাদাটে হয়।
    রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত প্রতি ডেসিলিটারে ১.২ মিলিগ্রামের কম।
    শ্বেত রক্তকণিকা বা অনুচক্রিকা থেকে বিলিরুবিন তৈরি হয় না।
    বিলিরুবিন যকৃতে গিয়ে পানিতে দ্রবণীয় হয় এবং পিত্তের সঙ্গে বেরিয়ে আসে।
    পুরোনো লোহিত কণিকা ভাঙার ফলে মুক্ত হওয়া আয়রন আবার নতুন কণিকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  250. ২৯১. কোনটি গ্রন্থি নয়?BPSC এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. পিত্তথলি
    • খ. ডিম্বাশয়
    • গ. অগ্ন্যাশয়
    • ঘ. শুক্রাশয়
    উত্তর: ক. পিত্তথলি
    গ্রন্থি হলো এমন অঙ্গ, যা নির্দিষ্ট রস বা হরমোন তৈরি ও নিঃসরণ করে। পিত্তথলি পিত্তরস তৈরি করে না, শুধু যকৃতের তৈরি পিত্তরস জমিয়ে রাখে, তাই একে গ্রন্থি বলা যায় না। বাকি তিনটি আসলে গ্রন্থি। ডিম্বাশয় ও শুক্রাশয় হরমোন তৈরি করে, আর অগ্ন্যাশয় হজম-রস ও ইনসুলিন হরমোন দুটিই তৈরি করে। অর্থাৎ কোনো অঙ্গ গ্রন্থি কি না তা বুঝতে দেখতে হয়, সেটি নিজে রস তৈরি করে কি না। যে অঙ্গ কেবল তৈরি রস সংরক্ষণ করে, সেটি গ্রন্থি নয়। যেমন মূত্রথলি মূত্র তৈরি করে না, শুধু জমা রাখে।
    মনে রাখুন:
    পিত্তরস তৈরি করে যকৃৎ।
    ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন এবং শুক্রাশয় থেকে টেস্টোস্টেরন নিঃসৃত হয়।
  251. ২৯২. চোখের পানির উৎস কোথায়?PTD'র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. কর্নিয়া
    • খ. ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি
    • গ. পিউপিল
    • ঘ. ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
    উত্তর: খ. ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি
    চোখের পানি তৈরি করে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি (Lacrimal gland)। এই গ্রন্থি চোখের উপরের কোণের দিকে থাকে। এর রস চোখের কর্নিয়াকে ভেজা রাখে, ধুলো পরিষ্কার করে এবং জীবাণুর হাত থেকে চোখ বাঁচায়। বাড়তি পানি নাকের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এজন্যই কাঁদলে নাক দিয়েও পানি ঝরে। চোখের পানিতে লাইসোজাইম নামের একটি উৎসেচক থাকে, যা অনেক ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। চোখে ধুলো পড়লে বা পেঁয়াজ কাটলে গ্রন্থিটি বেশি রস ছাড়ে, তাই চোখ দিয়ে পানি ঝরে।
    মনে রাখুন:
    কর্নিয়া চোখের সামনের স্বচ্ছ আবরণ।
    পিউপিল বা তারারন্ধ্র দিয়ে আলো চোখে ঢোকে।
    ফোবিয়া সেন্ট্রালিস রেটিনার সবচেয়ে স্পষ্ট দেখার অংশ।
  252. ২৯৩. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় কোনটি?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. লালা
    • খ. পিত্তরস
    • গ. পেপসিন
    • ঘ. হরমোন
    উত্তর: ঘ. হরমোন
    অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) থেকে কোনো নালি ছাড়াই সরাসরি রক্তে রস মিশে যায়, আর এই রসের নাম হরমোন (Hormone)। লালা, পিত্তরস ও পেপসিন নালির মাধ্যমে নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলো বহিঃক্ষরা গ্রন্থির রস। হরমোন খুব অল্প পরিমাণেও দেহের বৃদ্ধি, বিপাক ও প্রজননের মতো অনেক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোন খুব অল্প পরিমাণে তৈরি হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। এর পরিমাণ কম বা বেশি হলে নানা রোগ হয়। যেমন ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস এবং থাইরক্সিনের অভাবে গলগণ্ড বা ক্রেটিনিজম হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারি, থাইরয়েড ও অ্যাড্রিনাল অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
    লালাগ্রন্থি ও যকৃৎ বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
  253. ২৯৪. মানবদেহে রাসায়নিক দূত হিসেবে কাজ করে -মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. স্নায়ুতন্ত্র
    • খ. হরমোন
    • গ. পেশী
    • ঘ. উৎসেচক
    উত্তর: খ. হরমোন
    হরমোনকে দেহের রাসায়নিক দূত (Chemical messenger) বলা হয়। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হরমোন তৈরি করে রক্তে ছেড়ে দেয়। রক্ত একে বয়ে নিয়ে যায় নির্দিষ্ট অঙ্গে, আর সেখানে পৌঁছে হরমোন সংবাদ পাঠানোর মতো করে সেই অঙ্গের কাজ বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেয়। স্নায়ুতন্ত্র তড়িৎ সংকেতে দ্রুত কাজ করে, আর হরমোন রাসায়নিকভাবে তুলনামূলক ধীরে, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ছাড়ে, আর সেটি যকৃত ও পেশিকে গ্লুকোজ জমাতে বলে। এভাবে হরমোনের সংকেতে দেহের ভেতরের পরিবেশ স্থির থাকে।
    মনে রাখুন:
    উৎসেচক (এনজাইম) রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়।
    হরমোনের প্রভাব নির্দিষ্ট লক্ষ্য কোষ বা অঙ্গে সীমাবদ্ধ।
  254. ২৯৫. গ্রন্থিরাজ বলা হয়-BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. পিটুইটারি-কে
    • খ. থাইরয়েড-কে
    • গ. যকৃত-কে
    • ঘ. অ্যাড্রিনাল-কে
    উত্তর: ক. পিটুইটারি-কে
    পিটুইটারি গ্রন্থিকে গ্রন্থিরাজ (Master gland) বলা হয়। কারণ এটি থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল ও জননগ্রন্থির মতো আরও অনেক গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মটরদানার মতো ছোট এই গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচে একটি ছোট গর্তে বসানো থাকে। এটি বৃদ্ধি হরমোন, প্রোল্যাকটিন, TSH ও আরও কিছু হরমোন তৈরি করে। গ্রন্থিরাজ বলা হলেও পিটুইটারি নিজে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এর সামনের অংশ থেকে বৃদ্ধি হরমোন, TSH, ACTH, FSH ও LH নিঃসৃত হয়, আর পেছনের অংশ থেকে অক্সিটোসিন ও ADH নিঃসৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারির নিয়ন্ত্রক হাইপোথ্যালামাস, যা মস্তিষ্কের একটি অংশ।
    থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় থাকে এবং থাইরক্সিন তৈরি করে।
    অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি বৃক্কের ওপরে থাকে।
  255. ২৯৬. Excessive secretion from the pituitary gland in the children results in-Janata Bank Ltd. Asst. Executive Officer, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. increased height
    • খ. weakening of bones
    • গ. retarded growth
    • ঘ. None of these
    উত্তর: ক. increased height
    পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বৃদ্ধি হরমোন (Growth hormone) বা সোমাটোট্রপিন নিঃসৃত হয়। শৈশবে এই হরমোন বেশি তৈরি হলে হাড় অস্বাভাবিকভাবে লম্বা হয় এবং মানুষ অতিদীর্ঘ হয়ে যায়। এই অবস্থার নাম জাইগ্যান্টিজম (Gigantism)। অন্যদিকে শৈশবে হরমোনের অভাব হলে বামনত্ব (Dwarfism) দেখা দেয়। গ্রন্থির এই অতিরিক্ত নিঃসরণের কারণ অনেক সময় গ্রন্থিতে একটি টিউমার। চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার বা ওষুধ দেওয়া হয়। হাড় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে চিকিৎসা শুরু করলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থামানো সহজ।
    মনে রাখুন:
    বড়দের বেলায় এই হরমোন বেশি হলে অ্যাক্রোমেগালি হয়, যাতে হাত, পা ও চোয়াল অস্বাভাবিক বড় হয়।
    থাইরক্সিনের অভাবে শিশুর ক্রেটিনিজম হয়।
  256. ২৯৭. কোন হরমোন রক্তে ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২২ ও জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. ইনসুলিন
    • খ. থাইরোক্যালসিটোনিন
    • গ. থাইরক্সিন
    • ঘ. গ্লুকাগন
    উত্তর: খ. থাইরোক্যালসিটোনিন
    রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্যালসিটোনিন (Calcitonin) নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্তের বাড়তি ক্যালসিয়ামকে হাড়ে জমা করে এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে আনে। এর বিপরীত কাজ করে প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির প্যারাথরমোন, যা রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়ায়। এই দুই হরমোন মিলেই ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখে। ক্যালসিয়াম শুধু হাড় ও দাঁত গড়েই কাজ শেষ করে না, বরং পেশির সংকোচন, স্নায়ুর কাজ এবং রক্ত জমাট বাঁধার জন্যও এটি জরুরি। তাই রক্তে এর পরিমাণ খুব সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।
    থাইরক্সিন দেহের বিপাকের হার ঠিক রাখে।
  257. ২৯৮. ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় কোন হরমোনের জন্য? অথবা, সংকটকালীন বা আপদকালীন হরমোন কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ ও নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. অ্যাডরিনালিন
    • খ. থাইরক্সিন
    • গ. গ্লুকাগন
    • ঘ. ইনসুলিন
    উত্তর: ক. অ্যাডরিনালিন
    ভয় পেলে বা বিপদে পড়লে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রিনালিন (Adrenaline) নামের হরমোন রক্তে মিশে যায়। এতে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শ্বাস দ্রুত হয়। পেশিতে বেশি রক্ত যায় বলে লড়াই বা পালিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়, আর গায়ের লোমও খাড়া হয়ে যায়। এজন্য একে সংকটকালীন বা আপদকালীন হরমোন বলা হয়। গরম বা ঠান্ডা, আনন্দ বা রাগ, যেকোনো উত্তেজনার সময়েও অ্যাড্রিনালিন কিছুটা নিঃসৃত হয়। এ হরমোন যকৃৎ থেকে গ্লুকোজ ছেড়ে দিয়ে দ্রুত শক্তির জোগান দেয়, আর চোখের তারারন্ধ্রও বড় করে দেয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির বাইরের অংশ কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশ মেডুলা।
    অ্যাড্রিনালিনকে ফাইট অর ফ্লাইট হরমোনও বলে।
  258. ২৯৯. দাড়িগোঁফ গজায়-জাতীয় সংসদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রোটোকল অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. প্রজেস্টেরন হরমোনের জন্য
    • খ. টেস্টোস্টেরন হরমোনের জন্য
    • গ. এস্ট্রোজেন হরমোনের জন্য
    • ঘ. ইনসুলিনের জন্য
    উত্তর: খ. টেস্টোস্টেরন হরমোনের জন্য
    ছেলেরা কিশোর বয়সে পৌঁছালে শুক্রাশয় থেকে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়। এই হরমোনই দাড়িগোঁফ গজানো, গলার স্বর ভারী হওয়া, পেশি শক্ত হওয়া ও কাঁধ চওড়া হওয়ার মতো পুরুষালি বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। এসব বৈশিষ্ট্যকে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য বলা হয়। টেস্টোস্টেরন হাড় ও পেশির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং শুক্রাণু তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। এই হরমোন তৈরি হওয়ার সময় বয়ঃসন্ধি বলে। মেয়েদের দেহেও খুব অল্প পরিমাণে টেস্টোস্টেরন তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    মেয়েদের স্তন বিকাশ ও ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে ইস্ট্রোজেন।
    প্রোজেস্টেরন গর্ভধারণ টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
    ইনসুলিন রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে।
  259. ৩০০. নিচের কোন হরমোনটি মানুষের ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত হয়?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. প্রোলেকটিন
    • খ. প্রোজেস্টেরন
    • গ. অক্সিটোসিন
    • ঘ. গোনাডোট্রপিন
    উত্তর: খ. প্রোজেস্টেরন
    প্রোজেস্টেরন (Progesterone) হরমোন মানুষের ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত হয়। ডিম্বাণু বেরিয়ে যাওয়ার পর ডিম্বাশয়ে যে কর্পাস লিউটিয়াম তৈরি হয়, সেটি এই হরমোন তৈরি করে। এটি জরায়ুর ভেতরের স্তরকে ভ্রূণের জন্য প্রস্তুত করে এবং গর্ভ ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রোল্যাকটিন ও গোনাডোট্রপিন তৈরি হয় পিটুইটারি গ্রন্থিতে, আর অক্সিটোসিন তৈরি হয় হাইপোথ্যালামাসে। কর্পাস লিউটিয়াম গর্ভধারণ হলে কয়েক মাস সক্রিয় থাকে, পরে গর্ভফুল নিজেই প্রোজেস্টেরন তৈরি শুরু করে। গর্ভধারণ না হলে এটি ছোট হয়ে যায়, প্রোজেস্টেরন কমে যায় এবং মাসিক শুরু হয়।
    মনে রাখুন:
    ডিম্বাশয়ের অন্য হরমোন হলো ইস্ট্রোজেন।
    অক্সিটোসিন প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ঘটায়।
    প্রোল্যাকটিন দুধ তৈরিতে সাহায্য করে।
  260. ৩০১. অতিরিক্ত শর্করা মানবদেহে জমা থাকে-সিভিল সার্জন অফিস, কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৫ ও BSMMU-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. গ্লাইকোজেন রূপে
    • খ. গ্লুকোজ রূপে
    • গ. ফ্রুক্টোজ রূপে
    • ঘ. চর্বি রূপে
    উত্তর: ক. গ্লাইকোজেন রূপে
    আমরা খাবারের শর্করা থেকে যে গ্লুকোজ পাই, তার প্রয়োজনের বাড়তি অংশ যকৃৎ ও পেশিতে গ্লাইকোজেন (Glycogen) হিসেবে জমা হয়। গ্লাইকোজেনকে প্রাণীজ শ্বেতসার বলা হয়, কারণ এটি অনেকগুলো গ্লুকোজ অণু জুড়ে তৈরি একটি বড় অণু। শরীরে গ্লুকোজ কমে গেলে এটি আবার ভেঙে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে ফিরে আসে। প্রাপ্তবয়স্কের দেহে যকৃতে প্রায় ১০০ গ্রাম এবং পেশিতে প্রায় ৪০০ গ্রাম গ্লাইকোজেন জমা থাকতে পারে। বেশ কয়েক ঘণ্টা না খেলে যকৃতের জমা গ্লাইকোজেন ফুরিয়ে যায়, আর তখন দেহ চর্বি থেকে শক্তি নিতে শুরু করে।
    মনে রাখুন:
    উদ্ভিদ শ্বেতসার হিসেবে খাদ্য জমা রাখে।
    গ্লাইকোজেন জমা হওয়ার প্রক্রিয়ার নাম গ্লাইকোজেনেসিস।
    প্রয়োজনের চেয়েও বেশি শর্করা শেষে চর্বি হিসেবেও জমতে পারে।
  261. ৩০২. মানবদেহের কোন অঙ্গ গ্লাইকোজেন জমা করতে পারে?জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিস সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. পিত্তথলি
    • খ. অগ্ন্যাশয়
    • গ. যকৃত
    • ঘ. হাড়
    উত্তর: গ. যকৃত
    যকৃৎ (Liver) রক্তের বাড়তি গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা করতে পারে। যখন রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়, তখন যকৃৎ এই গ্লাইকোজেন ভেঙে আবার গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে ছেড়ে দেয়। ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা প্রায় স্থির থাকে। যকৃতের পাশাপাশি কঙ্কালপেশিও গ্লাইকোজেন জমা রাখে, তবে পেশির গ্লাইকোজেন রক্তে ফিরে যায় না, পেশির নিজের কাজেই লাগে। রক্তের শর্করার এই ভারসাম্য ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ বাড়লে ইনসুলিন গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে যকৃতে জমা রাখতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ও গ্লুকাগন তৈরি করে, কিন্তু গ্লাইকোজেন জমায় না।
    যকৃৎ দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
  262. ৩০৩. গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে কী বলে?শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বি-ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. Glycogenolysis
    • খ. Gluconeogenesis
    • গ. Glycogenesis
    • ঘ. Glycolysis
    উত্তর: গ. Glycogenesis
    গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন তৈরির প্রক্রিয়ার নাম গ্লাইকোজেনেসিস (Glycogenesis)। রক্তে গ্লুকোজ বেশি হলে ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে এই প্রক্রিয়া ঘটে এবং গ্লুকোজ যকৃৎ ও পেশিতে জমে যায়। এর উল্টো প্রক্রিয়াটি গ্লাইকোজেনোলাইসিস, যাতে গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ হয়। ইনসুলিন ছাড়া রক্তের গ্লুকোজ ঠিকমতো গ্লাইকোজেনে পরিণত হতে পারে না, আর ডায়াবেটিসে এ কারণেই রক্তে গ্লুকোজ জমে থাকে। অন্যদিকে গ্লুকাগন হরমোন গ্লাইকোজেনোলাইসিসকে উদ্দীপ্ত করে।
    মনে রাখুন:
    গ্লুকোনিওজেনেসিস হলো শর্করা ছাড়া অন্য উপাদান, যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ল্যাকটেট থেকে গ্লুকোজ তৈরি।
    গ্লাইকোলাইসিস হলো গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি পাওয়ার প্রথম ধাপ, যা কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে।
  263. ৩০৪. লিভারের গ্লাইকোজেনকে ভেঙ্গে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে-তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. গ্লুকাগন
    • খ. থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন
    • গ. রেনিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন
    • ঘ. ইনসুলিন
    উত্তর: ক. গ্লুকাগন
    গ্লুকাগন (Glucagon) অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে এই হরমোন যকৃতের জমা গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে, ফলে রক্তের গ্লুকোজ বাড়ে। ইনসুলিনের কাজ ঠিক উল্টো, কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজ কমায়। এই দুই হরমোন মিলে রক্তের শর্করার ভারসাম্য রাখে। রক্তে গ্লুকোজ কম থাকলে আমরা ক্ষুধা অনুভব করি, তখন এই হরমোন কাজে নামে। এভাবে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন একে অপরের বিপরীত কাজ করে রক্তের গ্লুকোজকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখে।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন তৈরি হয় বিটা কোষে।
    TSH থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে।
    রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন ব্যবস্থা রক্তচাপ ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে।
  264. ৩০৫. ইনসুলিন কী?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. এক ধরনের হরমোন
    • খ. এক ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ
    • গ. এক ধরনের এনজাইম
    • ঘ. এক ধরনের অস্ত্র
    উত্তর: ক. এক ধরনের হরমোন
    ইনসুলিন (Insulin) এক ধরনের হরমোন, যা অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। এটি রক্তের গ্লুকোজকে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে এবং বাড়তি গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা করে। ফলে রক্তের শর্করা কমে যায়। ইনসুলিনের অভাব হলে রক্তে শর্করা বেড়ে ডায়াবেটিস মেলিটাস হয়। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস হয়। ডায়াবেটিস টাইপ ১-এ বিটা কোষ নষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীকে নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। টাইপ ২-এ দেহ ইনসুলিনে ঠিকমতো সাড়া দেয় না এবং সাধারণত ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন একমাত্র হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজ কমায়।
    এটি একটি প্রোটিনধর্মী হরমোন।
  265. ৩০৬. ইনসুলিন হচ্ছে একটি -মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. নিউক্লিক এসিড
    • খ. প্রোটিন
    • গ. অ্যামাইনো এসিড
    • ঘ. গ্লুকোজ
    উত্তর: খ. প্রোটিন
    ইনসুলিন একটি প্রোটিন। এটি ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি, যার মধ্যে দুটি শৃঙ্খল আছে: A শৃঙ্খলে ২১টি এবং B শৃঙ্খলে ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড। প্রোটিন বলেই ইনসুলিন মুখে খেলে পাকস্থলীর উৎসেচকে হজম হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, তাই ডায়াবেটিসের রোগীকে এটি ইনজেকশন দিয়ে দিতে হয়। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার ১৯৫০-এর দশকে ইনসুলিনের পুরো গঠন নির্ণয় করেন। পরে বিজ্ঞানীরা জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে মানব ইনসুলিন তৈরি করতে সক্ষম হন, যা এখন সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিনই প্রথম প্রোটিন, যার অ্যামাইনো অ্যাসিডের পুরো ক্রম জানা গিয়েছিল।
    ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার এই কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
  266. ৩০৭. ইনসুলিন প্রথম কত সালে কোন দেশে আবিষ্কৃত হয়?পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. ১৯২০ সালে ইংল্যান্ডে
    • খ. ১৯২১ সালে কানাডায়
    • গ. ১৯২২ সালে জার্মানিতে
    • ঘ. ১৯২৩ সালে আমেরিকায়
    উত্তর: খ. ১৯২১ সালে কানাডায়
    ১৯২১ সালে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন। তাঁরা এই গবেষণা করেন অধ্যাপক জন ম্যাক্লিওডের পরীক্ষাগারে। পরের বছর ১৯২২ সালে প্রথম একজন মানুষকে ইনসুলিন দেওয়া হয়। এই আবিষ্কারের জন্য ব্যান্টিং ও ম্যাক্লিওড নোবেল পুরস্কার পান। ইনসুলিন আবিষ্কারের আগে ডায়াবেটিসের শিশুরা কয়েক মাসের বেশি বাঁচত না। নতুন আবিষ্কারের পর এই ইনজেকশন তাদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়। এজন্য ইনসুলিনের আবিষ্কারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বড় অর্জন ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিনের আবিষ্কারে ডায়াবেটিসের রোগীর বেঁচে থাকার পথ খুলে যায়।
    প্রথম দিকে ইনসুলিন পশুর অগ্ন্যাশয় থেকে সংগ্রহ করা হতো।
  267. ৩০৮. কোন গ্রন্থির অকার্যকরিতায় ডায়াবেটিস হয়?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. থাইরয়েড
    • খ. প্যানক্রিয়াস
    • গ. এড্রেনাল
    • ঘ. প্যারাথাইরয়েড
    উত্তর: খ. প্যানক্রিয়াস
    ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। কারণ অগ্ন্যাশয় (Pancreas) যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনে ঠিকমতো সাড়া দেয় না। ইনসুলিন ছাড়া কোষ রক্ত থেকে গ্লুকোজ নিতে পারে না, ফলে গ্লুকোজ রক্তে জমে যায় এবং প্রস্রাবের সঙ্গেও বেরিয়ে আসে। এই রোগীদের জন্য নিয়ন্ত্রিত খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও প্রয়োজনে ওষুধ বা ইনসুলিন দরকার হয়। নিয়ন্ত্রণ না করলে এর ফলে চোখ, বৃক্ক, স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে। প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়।
    মনে রাখুন:
    অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব ও ওজন কমে যাওয়া এই রোগের সাধারণ লক্ষণ।
    ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস হয় ADH হরমোনের অভাবে।
  268. ৩০৯. ডায়াবেটিস রোগীর দেহে ইনসুলিন দেওয়া হয়-সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য
    • খ. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য
    • গ. বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণের জন্য
    • ঘ. গ্লুকোজের পরিপাক নিয়ন্ত্রণের জন্য
    উত্তর: ঘ. গ্লুকোজের পরিপাক নিয়ন্ত্রণের জন্য
    ডায়াবেটিসের রোগীর অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, ফলে রক্তের গ্লুকোজ বেড়ে যায়। বাইরে থেকে ইনসুলিন দিলে কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজ নিতে পারে এবং বাড়তি গ্লুকোজ যকৃতে জমা হয়। এভাবে ইনসুলিন দেহে গ্লুকোজের ব্যবহার ও পরিপাক নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডায়াবেটিস দুই ধরনের: টাইপ ১ ও টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ইনসুলিন রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিনের মাত্রা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না, ওগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে অন্য ওষুধ লাগে।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন সাধারণত ত্বকের নিচে ইনজেকশন দিয়ে নিতে হয়।
    ইনসুলিন বেশি হয়ে গেলে রক্তে গ্লুকোজ অতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  269. ৩১০. হাইপোগ্লাইসেমিয়া কিসের অভাবে হয়?সিভিল সার্জনের কার্যালয়, (কক্সবাজার) এর পরিসংখ্যানবিদ, ২০২৫ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. ভিটামিন E
    • খ. ইনসুলিন
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. রক্তের গ্লুকোজ
    উত্তর: ঘ. রক্তের গ্লুকোজ
    হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia) মানে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া। গ্লুকোজ মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি, তাই এর অভাবে ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা ও ক্ষুধা পায়, আর গুরুতর হলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগী বেশি ইনসুলিন নিলে বা খাবার না খেলে এমন হতে পারে। এর উল্টো অবস্থা হাইপারগ্লাইসেমিয়ায় রক্তে গ্লুকোজ অনেক বেশি থাকে। রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা খালি পেটে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার। এর নিচে নামলেই হাইপোগ্লাইসেমিয়া ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    হাইপারগ্লাইসেমিয়া হলো রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া।
    হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় তাৎক্ষণিক চিনি বা গ্লুকোজ খাওয়ালে রোগী সেরে ওঠে।
  270. ৩১১. থাইমাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন কোনটি?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এর সহকারী প্রটোকল অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন ও গ্রন্থি
    • ক. থাইরক্সিন
    • খ. প্যারাথাইরক্সিন
    • গ. থাইমোক্সিন
    • ঘ. থাইরেট্রোপিন
    উত্তর: গ. থাইমোক্সিন
    থাইমাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম থাইমোক্সিন, যা থাইমোসিন (Thymosin) নামেও পরিচিত। থাইমাস বুকের উপরের দিকে হৃৎপিণ্ডের সামনে থাকে। শিশুকালে এটি বড় থাকে এবং টি-লিম্ফোসাইট নামের শ্বেত রক্তকণিকাকে পরিণত হতে সাহায্য করে। এভাবে এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। বয়স বাড়লে এই গ্রন্থি ছোট হয়ে যায়। থাইমাস গ্রন্থিকে লিম্ফ গ্রন্থিও বলা হয়, কারণ এর কাজ শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি ও পরিপক্ব করার সঙ্গে জড়িত। মানুষের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর ওপর অনেকটাই নির্ভর করে, বিশেষ করে ছোটবেলায়।
    মনে রাখুন:
    থাইরক্সিন নিঃসৃত হয় থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে।
    প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে।
  271. ৩১২. বিপাকীয় ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ অপসারণ প্রক্রিয়াকে কি বলে?পিএসসি এর সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. রেচন
    • খ. শোধন
    • গ. বিপাক
    • ঘ. নিঃসরণ
    উত্তর: ক. রেচন
    দেহের কোষে বিপাক (Metabolism) চলার সময় ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও ক্রিয়েটিনিনের মতো ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি হয়। এসব বর্জ্য দেহ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার নাম রেচন (Excretion)। রেচন না হলে বর্জ্য রক্তে জমে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক, যা রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করে। সব জীবই বিপাকে বর্জ্য তৈরি করে, তাই রেচন সব জীবের জন্য জরুরি। এককোষী প্রাণী কোষের গা দিয়ে বর্জ্য ছেড়ে দেয়, আর বহুকোষী উন্নত প্রাণীতে এর জন্য আলাদা রেচনতন্ত্র আছে।
    মনে রাখুন:
    বিপাক হলো দেহের ভেতরের রাসায়নিক পরিবর্তনের সমষ্টি।
    নিঃসরণে দেহের উপকারী রস, যেমন হরমোন বা উৎসেচক, বের হয়।
    ফুসফুস, ত্বক ও যকৃৎও রেচনে সাহায্য করে।
  272. ৩১৩. রেচনতন্ত্র দেহের যে কাজ করে -মাউশির প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. শ্বাস গ্রহণ
    • খ. প্রজনন
    • গ. বর্জ্য ত্যাগ
    • ঘ. খাদ্য পরিপাক
    উত্তর: গ. বর্জ্য ত্যাগ
    রেচনতন্ত্র (Excretory system) দেহের বিপাকে তৈরি বর্জ্য ত্যাগ করার কাজ করে। এই তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ দুটি বৃক্ক, যা রক্ত থেকে ইউরিয়া ও বাড়তি পানি আলাদা করে মূত্র তৈরি করে। মূত্র দুটি মূত্রনালি দিয়ে মূত্রথলিতে জমা হয় এবং মূত্রনালির মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়। কিডনি বা বৃক্ক রক্ত পরিশোধন করে বলে একে দেহের ছাঁকনি বলা যায়। বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে বর্জ্য জমে যায়, আর তখন কৃত্রিম উপায়ে রক্ত পরিষ্কার বা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    শ্বাস গ্রহণ করে শ্বসনতন্ত্র।
    প্রজনন করে প্রজননতন্ত্র।
    খাদ্য পরিপাক করে পরিপাকতন্ত্র।
    রেচনতন্ত্র রক্তের লবণ ও পানির ভারসাম্যও রক্ষা করে।
  273. ৩১৪. কোন অঙ্গটি দেহ থেকে ক্ষতিকর পদার্থ নিষ্কাশনে ভূমিকা রাখে না?গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. ফুসফুস
    • খ. অন্ত্র
    • গ. হৃদপিণ্ড
    • ঘ. ত্বক
    উত্তর: গ. হৃদপিণ্ড
    হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করে সারা দেহে ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু নিজে বর্জ্য বের করে না। অন্যদিকে ফুসফুস শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প বের করে। ত্বক ঘামের সঙ্গে পানি, লবণ ও সামান্য ইউরিয়া ফেলে দেয়, আর অন্ত্র অপাচ্য খাদ্য ও কিছু বর্জ্য মলের সঙ্গে বের করে। এজন্য বলা হয়, রেচন কেবল বৃক্কের কাজ নয়। ফুসফুস, ত্বক, যকৃৎ ও বৃক্ক মিলে দেহকে বর্জ্যমুক্ত রাখে। তবে হৃৎপিণ্ডের কাজ রক্ত সঞ্চালন, বর্জ্য নিষ্কাশন নয়।
    মনে রাখুন:
    প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক।
    যকৃৎ বিলিরুবিনের মতো বর্জ্যকে পিত্তরসের মাধ্যমে বের করে দেয়।
    ঘাম ত্বকের স্বেদগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
  274. ৩১৫. প্রোস্টেট গ্রন্থি?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. খাদ্যনালীর অংশ
    • খ. মূত্রনালীর অংশ
    • গ. শ্বাস নালীর অংশ
    • ঘ. রক্তনালীর অংশ
    উত্তর: খ. মূত্রনালীর অংশ
    প্রোস্টেট গ্রন্থি (Prostate gland) পুরুষের মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে এবং মূত্রনালির প্রথম অংশকে ঘিরে রাখে। তাই একে মূত্রনালির সঙ্গে যুক্ত অংশ হিসেবে ধরা হয়। এই গ্রন্থি এক ধরনের দুধের মতো রস তৈরি করে, যা শুক্রাণুর সঙ্গে মিশে বীর্য তৈরি করে এবং শুক্রাণুকে সচল রাখে। প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলে মূত্রনালি চেপে যায় এবং প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়। প্রোস্টেটের ক্যানসারও বয়স্ক পুরুষের একটি পরিচিত রোগ। নারীদের দেহে প্রোস্টেট গ্রন্থি থাকে না।
    মনে রাখুন:
    বয়স্ক পুরুষের প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলে প্রস্রাবে বাধা হতে পারে।
    পুরুষের মূত্রনালি দিয়ে প্রস্রাব ও বীর্য উভয়ই বের হয়।
  275. ৩১৬. পূর্ণবয়স্ক মানুষের কিডনির ওজন-পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মেডিক্যাল অফিসার, ১৯৮৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. ৫০ গ্রাম
    • খ. ৭৫ গ্রাম
    • গ. ১৫০ গ্রাম
    • ঘ. ২৫০ গ্রাম
    উত্তর: গ. ১৫০ গ্রাম
    একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের একটি বৃক্কের ওজন গড়ে প্রায় ১৫০ গ্রাম। বৃক্ক শিমের বীজের মতো আকৃতির এবং দেহে এমন দুটি থাকে। এগুলো মেরুদণ্ডের দুই পাশে পেটের পেছনের দিকে অবস্থিত। প্রতি মিনিটে হৃৎপিণ্ডের পাম্প করা রক্তের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বৃক্কে যায় এবং সেখানে পরিশোধিত হয়। বৃক্কের বাইরের অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। ওপরের প্রান্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি বসে থাকে। বৃক্কের ভেতরে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছাঁকা হয়, অথচ মূত্র হয় মাত্র ১ থেকে ২ লিটার।
    মনে রাখুন:
    প্রতিদিন একজন সুস্থ মানুষ প্রায় ১ থেকে ২ লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
    ডান বৃক্ক যকৃতের চাপের কারণে বাঁ বৃক্কের চেয়ে সামান্য নিচে থাকে।
  276. ৩১৭. বৃক্ক (Kidney)-এর একক হলো-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. নিউরন
    • খ. নেফ্রন
    • গ. পেসমেকার
    • ঘ. হেগোটোসাইট
    উত্তর: খ. নেফ্রন
    বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো নেফ্রন (Nephron)। প্রতিটি নেফ্রনে একটি ম্যালপিজিয়ান বডি এবং একটি লম্বা সূক্ষ্ম নালিকা থাকে। রক্ত ম্যালপিজিয়ান বডিতে ছাঁকা হয় এবং নালিকায় প্রয়োজনীয় পদার্থ আবার রক্তে ফিরে যায়। যা পড়ে থাকে, সেটাই মূত্র হয়ে বের হয়। নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের একক। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ নেফ্রন থাকে। মূত্র তৈরির তিনটি ধাপ হলো পরিস্রাবণ, পুনঃশোষণ ও নিঃসরণ। পরিস্রাবণ ঘটে ম্যালপিজিয়ান বডিতে, আর পুনঃশোষণ ঘটে নালিকায়। নেফ্রনের সংখ্যা কমে গেলে বৃক্কের ছাঁকার ক্ষমতাও কমে যায়, আর একবার নষ্ট হওয়া নেফ্রন নতুন করে তৈরি হয় না। তাই বৃক্ক সুস্থ রাখা জরুরি, বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
    মনে রাখুন:
    ম্যালপিজিয়ান বডিতে বোম্যানস ক্যাপসুল ও গ্লোমেরুলাস থাকে।
    পেসমেকার হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
  277. ৩১৮. কোন অঙ্গে মূত্র তৈরি হয়?সংসদ সচিবালয়ে সহকারী গবেষণা অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. যকৃত
    • খ. প্লীহা
    • গ. বৃক্ক
    • ঘ. মূত্রনালী
    উত্তর: গ. বৃক্ক
    মূত্র তৈরি হয় বৃক্কে (Kidney)। বৃক্কের লক্ষ লক্ষ নেফ্রন রক্ত ছেঁকে তার ভেতর থেকে ইউরিয়া, বাড়তি পানি ও লবণ আলাদা করে মূত্র তৈরি করে। মূত্রনালি শুধু এই মূত্র মূত্রথলিতে পৌঁছে দেয়, আর মূত্রথলি সেটি জমা রাখে। যকৃৎ ইউরিয়া তৈরি করে, তবে মূত্র তৈরি করে না। বৃক্কে তৈরি মূত্র দুটি মূত্রনালি বা ইউরেটার দিয়ে মূত্রথলিতে যায়, তারপর মূত্রনালি বা ইউরেথ্রা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। মূত্র পরীক্ষা করে বৃক্ক, ডায়াবেটিস ও যকৃতের অনেক রোগের খোঁজ পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    প্লীহা রক্তের পুরোনো লোহিত কণিকা ভেঙে ফেলে।
    মূত্রে প্রায় ৯৫ ভাগ পানি থাকে।
    মূত্রের সাধারণ রং হলুদ হয় ইউরোক্রোম রঞ্জকের কারণে।
  278. ৩১৯. অসমোরেগুলেশান মানবদেহের কোন অঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. যকৃত
    • খ. অগ্ন্যাশয়
    • গ. বৃক্ক
    • ঘ. ফুসফুস
    উত্তর: গ. বৃক্ক
    অভিস্রবণীয় নিয়ন্ত্রণ বা অসমোরেগুলেশন (Osmoregulation) হলো দেহের তরলে পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা। বৃক্ক এই কাজটি করে। দেহে পানি কমে গেলে বৃক্ক ঘন মূত্র তৈরি করে পানি ধরে রাখে, আর পানি বেশি থাকলে পাতলা মূত্র তৈরি করে বাড়তি পানি বের করে দেয়। এ কাজে ADH নামের হরমোন সাহায্য করে। মানুষ যেখানে প্রচুর ঘামে, সেখানে মূত্র কম ও ঘন হয়। আবার শীতের দিনে ঘাম কম হয় বলে মূত্র বেশি ও পাতলা হয়। এসবই বৃক্কের নিয়ন্ত্রণের ফল। এর ফলে দেহের রক্তচাপও স্থির থাকে।
    মনে রাখুন:
    ADH পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
    ADH-এর অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস হয় এবং প্রচুর পাতলা মূত্র হয়।
  279. ৩২০. গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস কোন অংশের অসুখ?নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. হার্ট
    • খ. কিডনি
    • গ. লিভার
    • ঘ. ব্রেইন
    উত্তর: খ. কিডনি
    গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস (Glomerulonephritis) হলো বৃক্কের একটি রোগ। বৃক্কের নেফ্রনে গ্লোমেরুলাস নামের সূক্ষ্ম রক্তনালির গুচ্ছ আছে, যা রক্ত ছেঁকে নেয়। এই গ্লোমেরুলাসে প্রদাহ হলে রোগটি হয়। তখন প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত ও প্রোটিন বেরোতে পারে, মুখ ও পা ফুলে যায় এবং রক্তচাপ বাড়ে। কখনও কখনও গলার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের পরেও এটি দেখা দেয়। রোগের নাম থেকেই বোঝা যায়: গ্লোমেরুলাসের প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস। গ্লোমেরুলাস বৃক্কের ছাঁকনির কাজ করে, তাই এতে সমস্যা হলে রক্তের কোষ ও প্রোটিন মূত্রে বেরিয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    পাইলোনেফ্রাইটিস বৃক্কের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ।
    দীর্ঘদিন চললে বৃক্ক অকেজো হয়ে যেতে পারে।
  280. ৩২১. নিচের কোনটি নাইট্রোজেনবিহীন পদার্থ?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. ল্যাকটিক এসিড
    • খ. ক্রিয়েটিনিন
    • গ. অ্যামোনিয়া
    • ঘ. ইউরিয়া
    উত্তর: ক. ল্যাকটিক এসিড
    ল্যাকটিক অ্যাসিডের সংকেত C₃H₆O₃, এতে নাইট্রোজেন নেই, কেবল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আছে। কিন্তু ইউরিয়া (NH₂CONH₂), অ্যামোনিয়া (NH₃) ও ক্রিয়েটিনিনে নাইট্রোজেন থাকে। এগুলো প্রোটিন ও অ্যামাইনো অ্যাসিডের ভাঙনে তৈরি নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য। কঠিন পরিশ্রমের সময় পেশিতে অক্সিজেন কম পড়লে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে, ফলে পেশিতে ব্যথা হয়। এসব বর্জ্যের মধ্যে ক্ষতিকর হলো অ্যামোনিয়া, তাই যকৃৎ একে ইউরিয়ায় রূপান্তর করে। মাছের মতো জলজ প্রাণী সরাসরি অ্যামোনিয়া ফেলে দেয়, পাখি ও সরীসৃপ ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    ইউরিক অ্যাসিডও একটি নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য।
    দইয়ের টকভাব ল্যাকটিক অ্যাসিডের জন্য।
  281. ৩২২. শরীর হতে বর্জ্য পদার্থ ইউরিয়া বের করে দেয়-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. যকৃত
    • খ. হৃৎপিণ্ড
    • গ. ফুসফুস
    • ঘ. কিডনি
    উত্তর: ঘ. কিডনি
    যকৃতে প্রোটিন ভাঙার সময় বিষাক্ত অ্যামোনিয়া তৈরি হয় এবং যকৃৎ তা কম বিষাক্ত ইউরিয়ায় পরিণত করে। এই ইউরিয়া রক্তের মাধ্যমে বৃক্কে আসে। বৃক্ক রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া আলাদা করে মূত্রের সঙ্গে দেহের বাইরে বের করে দেয়। তাই ইউরিয়া তৈরি করে যকৃৎ, কিন্তু বের করে বৃক্ক বা কিডনি। ঘামের সঙ্গেও সামান্য ইউরিয়া বেরোয়, কিন্তু প্রধান ভূমিকা কিডনির। কিডনি কাজ না করলে রক্তে ইউরিয়া জমে ক্লান্তি, বমি ও খিঁচুনি দেখা দেয়। এ কারণেই রক্তের ইউরিয়া পরীক্ষা বৃক্কের কার্যক্ষমতা মাপার উপায়।
    মনে রাখুন:
    স্বাভাবিক মূত্রে প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ ইউরিয়া থাকে।
    বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে ইউরিয়া জমে যায়, এই অবস্থাকে ইউরেমিয়া বলে।
  282. ৩২৩. Serum creatinine level বেড়ে যায় সাধারণত কোন রোগে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. Bronchitis
    • খ. Chronic kidney disease
    • গ. Cervicities
    • ঘ. Arthritis
    উত্তর: খ. Chronic kidney disease
    ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) পেশির স্বাভাবিক বিপাকে তৈরি একটি বর্জ্য, যা বৃক্ক রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। বৃক্ক ঠিকমতো কাজ করলে রক্তে এর মাত্রা কম থাকে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বৃক্কের রোগ (Chronic kidney disease) হলে বৃক্ক আর ঠিকমতো ছাঁকতে পারে না, ফলে রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যায়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সাধারণত ০.৬ থেকে ১.২ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার হয়। এই মাত্রা বাড়তে থাকলে বোঝা যায় বৃক্ক বর্জ্য কম ছাঁকছে।
    মনে রাখুন:
    ক্রিয়েটিনিনের পাশাপাশি রক্তের ইউরিয়া ও eGFR দেখে বৃক্কের কার্যক্ষমতা বোঝা যায়।
    ব্রংকাইটিস শ্বাসনালির এবং আর্থ্রাইটিস অস্থিসন্ধির রোগ।
  283. ৩২৪. ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে কী করা হয়?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. রক্ত বাড়ানো হয়
    • খ. কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়
    • গ. রক্ত পরিশোধন করা হয়
    • ঘ. প্রস্রাব তৈরি করা হয়
    উত্তর: গ. রক্ত পরিশোধন করা হয়
    বৃক্ক অকেজো হয়ে গেলে রক্ত থেকে বর্জ্য আর ছাঁকা যায় না। তখন ডায়ালাইসিস (Dialysis) মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। মেশিন রোগীর রক্ত বের করে এনে বিশেষ পর্দার সাহায্যে ইউরিয়া, বাড়তি পানি ও লবণ আলাদা করে। এরপর পরিষ্কার রক্ত আবার রোগীর দেহে ফিরিয়ে দেয়। এতে বৃক্কের প্রতিস্থাপন হয় না, শুধু বৃক্কের কাজ চালানো যায়। ডায়ালাইসিস দুই রকম: হেমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। হেমোডায়ালাইসিসে রক্ত দেহের বাইরের মেশিনে পরিশোধিত হয়। পেরিটোনিয়ালে পেটের ভেতরের পর্দাকেই ছাঁকনি হিসেবে কাজে লাগানো হয়।
    মনে রাখুন:
    ডায়ালাইসিস সাধারণত সপ্তাহে কয়েকবার করতে হয়।
    স্থায়ী সমাধানের জন্য বৃক্ক প্রতিস্থাপন (Kidney transplant) করা হয়।
  284. ৩২৫. হেমোডায়ালাইসিস চিকিৎসা পদ্ধতি-নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. হার্ট-ফেইলরের
    • খ. রেসেপেরেটরি ফেইলরের
    • গ. কিডনি বিকলতার
    • ঘ. স্ট্রোক এর
    উত্তর: গ. কিডনি বিকলতার
    হেমোডায়ালাইসিস (Hemodialysis) হলো বৃক্ক বিকল হয়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে রোগীর রক্ত একটি কৃত্রিম বৃক্ক বা ডায়ালাইজারের ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। সেখানে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও বাড়তি পানি আলাদা হয়ে যায়, আর পরিষ্কার রক্ত আবার দেহে ফেরে। হেমো মানে রক্ত, ডায়ালাইসিস মানে পৃথক করা। এই চিকিৎসা সাধারণত সপ্তাহে তিনবার, প্রতিবার প্রায় চার ঘণ্টা করে নিতে হয়। প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত দাতা না পাওয়া গেলে অনেক রোগীকে সারাজীবন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    বৃক্ক বিকলের আরেক ডায়ালাইসিস পদ্ধতি হলো পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।
    এটি পেটের পর্দা দিয়ে করা হয়।
  285. ৩২৬. হেমোডায়ালাইসিস চিকিৎসা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রেচনতন্ত্র
    • ক. হার্টফেইলিয়ার
    • খ. স্ট্রোক
    • গ. কিডনি বিকল
    • ঘ. শ্বাস কষ্ট
    উত্তর: গ. কিডনি বিকল
    বৃক্ক বিকল (Kidney failure) হলে বৃক্ক রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে বের করতে পারে না, তখন হেমোডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। এই চিকিৎসায় একটি মেশিন রোগীর রক্ত থেকে বর্জ্য সরিয়ে পরিষ্কার রক্ত ফিরিয়ে দেয়। হৃদরোগ, স্ট্রোক বা শ্বাসকষ্টে এই পদ্ধতি কাজ করে না, কারণ সেসব রোগের সমস্যা রক্ত ছাঁকায় নয়। কিডনি বিকল দুই ধরনের: হঠাৎ হয়ে যাওয়া তীব্র এবং ধীরে ধীরে হয়ে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী। দীর্ঘস্থায়ী বিকলে বৃক্কের ক্ষতি আর ফেরানো যায় না, তখন নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপন দরকার।
    মনে রাখুন:
    ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বৃক্ক বিকলের প্রধান কারণ।
    কিডনি প্রতিস্থাপন বৃক্ক বিকলের স্থায়ী চিকিৎসা।
  286. ৩২৭. নিম্নের কোনটি শুক্রাণু তৈরি করে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. স্পার্মাটোগোনিয়া
    • খ. প্রেটাম
    • গ. ইপিডিডাইমিস
    • ঘ. প্রোস্টেট গ্রন্থি
    উত্তর: ক. স্পার্মাটোগোনিয়া
    পুরুষের শুক্রাশয়ের ভেতরে শুক্রজনন নালিকা থাকে। সেখানে স্পার্মাটোগোনিয়া (Spermatogonia) নামের কোষ বিভাজিত হয়ে ক্রমে পরিণত শুক্রাণু (Sperm) তৈরি করে। তৈরি হওয়া শুক্রাণু এপিডিডাইমিসে জমা থাকে এবং সেখানে পরিণত হয়। প্রোস্টেট গ্রন্থি শুক্রাণু তৈরি করে না, বরং এমন রস তৈরি করে, যা শুক্রাণুকে চলাচলে সাহায্য করে। পরিণত শুক্রাণুর তিনটি অংশ থাকে: মাথা, মধ্যাংশ ও লেজ। মাথায় নিউক্লিয়াস, মধ্যাংশে শক্তির জন্য মাইটোকন্ড্রিয়া এবং লেজ সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। প্রতি ঘনসেন্টিমিটার বীর্যে কয়েক কোটি শুক্রাণু থাকে।
    মনে রাখুন:
    শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়ার নাম স্পার্মাটোজেনেসিস।
    শুক্রাশয় থলির ভেতরে থাকে, যার নাম অণ্ডকোষ।
  287. ৩২৮. আয়তনের দিক থেকে মানব দেহের সর্ববৃহৎ কোষের নাম হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. ডিম্বাণু
    • খ. শ্বেত কণিকা
    • গ. লোহিত কণিকা
    • ঘ. শুক্রাণু
    উত্তর: ক. ডিম্বাণু
    মানবদেহের সবচেয়ে বড় কোষ হলো ডিম্বাণু (Ovum), যার ব্যাস প্রায় ০.১ মিলিমিটার, তাই খালি চোখেও কোনোরকমে দেখা যায়। ডিম্বাণুর ভেতরে ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের জন্য প্রচুর খাদ্য জমা থাকে বলে এটি বড়। তুলনায় শুক্রাণু অনেক ছোট, কিন্তু এটি লেজের সাহায্যে সাঁতার কেটে চলতে পারে। প্রতি মাসিক চক্রে সাধারণত একটি ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত হয়। শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হলে ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে জাইগোট তৈরি করে, যা বারবার বিভাজিত হয়ে ক্রমে ভ্রূণে পরিণত হয়।
    মনে রাখুন:
    দৈর্ঘ্যে সবচেয়ে বড় কোষ স্নায়ুকোষ।
    লোহিত রক্তকণিকা আকারে খুব ছোট এবং এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
  288. ৩২৯. কোনটি জরায়ুর অংশ নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. Fundus
    • খ. Body
    • গ. Vagina
    • ঘ. Cervix
    উত্তর: গ. Vagina
    জরায়ু (Uterus) নাশপাতির মতো পেশিবহুল অঙ্গ, যার তিনটি অংশ: ফান্ডাস (Fundus), বডি (Body) ও সার্ভিক্স (Cervix)। ফান্ডাস সবচেয়ে ওপরের গম্বুজের মতো অংশ, বডি মাঝের প্রধান অংশ, আর সার্ভিক্স নিচের সরু মুখ। এই সার্ভিক্স গিয়ে খোলে ভ্যাজাইনায়। ভ্যাজাইনা (Vagina) জরায়ুর অংশ নয়, এটি আলাদা একটি নালি, যা জন্মপথ হিসেবে কাজ করে। জরায়ুর দেয়ালের ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। প্রতি মাসে এই স্তর ঘন হয়ে ভ্রূণকে গ্রহণের জন্য তৈরি হয়। গর্ভধারণ না হলে স্তরটি ঝরে গিয়ে মাসিক বা রজঃস্রাব হয়।
    মনে রাখুন:
    ভ্রূণ জরায়ুর বডির ভেতরের স্তরে স্থাপিত হয়।
    ডিম্বনালি জরায়ুর দুই পাশে ডিম্বাশয়ের দিকে গেছে।
  289. ৩৩০. Ectopic pregnancy এর ক্ষেত্রে সত্যি নয়-নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. Ovary তে হয়
    • খ. Fallopian tube এ হয়
    • গ. Cervix এ হয়
    • ঘ. Uterus এ হয়
    উত্তর: ঘ. Uterus এ হয়
    স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর (Uterus) ভেতরে স্থাপিত হয়ে ভ্রূণে পরিণত হয়। জরায়ুর বাইরে ভ্রূণ স্থাপিত হলে তাকে একটোপিক প্রেগন্যান্সি (Ectopic pregnancy) বলে। তাই এটি জরায়ুতে হয় বলা ঠিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ডিম্বনালিতে (Fallopian tube) হয়, তবে ডিম্বাশয় বা জরায়ুমুখেও হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে আকার বড় হয়ে নালি ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই গর্ভধারণের শুরুতেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে নিশ্চিত হওয়া ভালো। এ অবস্থায় সাধারণত অস্ত্রোপচার বা ওষুধ দিয়ে ভ্রূণ সরিয়ে ফেলা হয়।
    মনে রাখুন:
    এটি মায়ের জন্য জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ জরুরি অবস্থা, কারণ নালি ফেটে গিয়ে ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
    তলপেটে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত এর লক্ষণ।
  290. ৩৩১. বিশ্বে প্রথম টেস্টটিউব বেবীর দেশ-BAEC-এর টেকনিশিয়ান হেলপার, ২০২৬ ও আমদানি-রপ্তানি অধিদপ্তরের নির্বাহী অফিসার, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. আয়ারল্যান্ড
    • খ. ফ্রান্স
    • গ. জাপান
    • ঘ. ইংল্যান্ড
    উত্তর: ঘ. ইংল্যান্ড
    বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়। ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামে লুইস ব্রাউন জন্মগ্রহণ করেন। এই পদ্ধতিতে মায়ের ডিম্বাণু ও বাবার শুক্রাণু দেহের বাইরে পরীক্ষাগারে মিলিয়ে নিষেক ঘটানো হয়। ভ্রূণ কয়েকদিন পরে জরায়ুতে বসিয়ে দেওয়া হয়। এর নাম ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)। ইংল্যান্ডের বোর্ন হল ক্লিনিক ছিল এই পদ্ধতির প্রথম কেন্দ্র। চিকিৎসক প্যাট্রিক স্টেপটো ও শারীরবিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডসের সঙ্গে নার্স জিন পার্ডিও ছিলেন এই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
    মনে রাখুন:
    ইন ভিট্রো মানে কাচের পাত্রে, অর্থাৎ দেহের বাইরে।
    এই পদ্ধতির উদ্ভাবকদের একজন রবার্ট এডওয়ার্ডস ২০১০ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
  291. ৩৩২. বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি কে?নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. লুইস ব্রাউন (ইংল্যান্ড)
    • খ. টিমথি (প্যারিস)
    • গ. এরিক ব্রাউন (মিউনিক)
    • ঘ. জন এন্ডারসন (আয়ারল্যান্ড)
    উত্তর: ক. লুইস ব্রাউন (ইংল্যান্ড)
    বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউন (Louise Brown), যিনি ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামে জন্ম নেন। তাঁর মা লেসলি ব্রাউনের ডিম্বনালি বন্ধ ছিল বলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। তখন চিকিৎসক প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্ট এডওয়ার্ডস পরীক্ষাগারে নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণটি জরায়ুতে স্থাপন করেন। নাম 'টেস্টটিউব বেবি' হলেও নিষেক আসলে কাচের একটি ছোট প্লেটে ঘটানো হয়। লুইস ব্রাউন পরে সুস্থভাবে বড় হন এবং নিজেও স্বাভাবিকভাবে সন্তানের মা হন।
    মনে রাখুন:
    পদ্ধতিটির নাম ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)।
    টেস্টটিউব বেবিও স্বাভাবিক শিশুর মতোই মায়ের জরায়ুতে বড় হয়।
  292. ৩৩৩. বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের জন্ম হয় কত সালে?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. ১৯৬৮
    • খ. ১৯৭৮
    • গ. ১৯৮৮
    • ঘ. ১৯৯৮
    উত্তর: খ. ১৯৭৮
    বিশ্বের প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউন ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম চিকিৎসাবিজ্ঞানে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় এক নতুন যুগ শুরু করে। এরপর থেকে এই ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) পদ্ধতিতে সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ শিশু জন্ম নিয়েছে। লুইস ব্রাউনের জন্মের পর অন্য দেশগুলোতেও এই পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে এর অনেক উন্নত রূপ আছে, যেমন সরাসরি ডিম্বাণুতে একটি শুক্রাণু প্রবেশ করানো (ICSI) পদ্ধতি। সমাজে এ নিয়ে প্রথমে অনেক প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পদ্ধতিটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
    মনে রাখুন:
    লুইস ব্রাউনের জন্ম ছিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে।
    পদ্ধতির উদ্ভাবক চিকিৎসক রবার্ট এডওয়ার্ডস ও প্যাট্রিক স্টেপটো।
  293. ৩৩৪. 'টেস্ট টিউব বেবি' পদ্ধতির জনক -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (খ ইউনিট) ভর্তি, ২০১০-১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রজননতন্ত্র
    • ক. ইগর কুজনেতসুভ
    • খ. উচিতা ও হারা
    • গ. রবার্ট এডওয়ার্ডস
    • ঘ. নাইজেল ম্যাক্লিনান
    উত্তর: গ. রবার্ট এডওয়ার্ডস
    টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতির জনক ব্রিটিশ শারীরবিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডস (Robert Edwards)। তিনি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক স্টেপটোর সঙ্গে মিলে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এই পদ্ধতিতে ১৯৭৮ সালে প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউন জন্ম নেন। এই কাজের জন্য এডওয়ার্ডস ২০১০ সালে শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। প্যাট্রিক স্টেপটো ছিলেন একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপি পদ্ধতিতে সিদ্ধহস্ত। দুজনের যৌথ গবেষণা কয়েক বছর ধরে চলে এবং বহু ব্যর্থতার পর ১৯৭৮ সালে সফল হয়।
    মনে রাখুন:
    স্টেপটো ১৯৮৮ সালে মারা যান, আর নোবেল পুরস্কার মরণোত্তর দেওয়া হয় না, তাই তিনি পুরস্কার পাননি।
  294. ৩৩৫. কোন সনে জাতিসংঘ জন্মনিয়ন্ত্রণকে মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দেয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. ১৯৬৮
    • খ. ১৯৬৭
    • গ. ১৯৬৯
    • ঘ. ১৯৭০
    উত্তর: ক. ১৯৬৮
    ১৯৬৮ সালে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে পরিবার পরিকল্পনাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, প্রতিটি দম্পতির স্বাধীনভাবে ঠিক করার অধিকার আছে তাঁরা কতজন সন্তান নেবেন এবং কতদিন পরপর নেবেন। সেই সম্মেলনের পর থেকে বিভিন্ন দেশ জনসংখ্যা নীতিতে পরিবার পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। জাতিসংঘের সংস্থা UNFPA এ কাজে বিশ্বজুড়ে সহায়তা করে। বাংলাদেশেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এই কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং সব ধরনের পদ্ধতি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়।
    মনে রাখুন:
    দুটি সন্তানের মধ্যে ব্যবধান রাখলে মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
    এর মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষা হয় এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  295. ৩৩৬. নিম্নের কোনটি দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. কপার টি
    • খ. কনডম
    • গ. ইনজেকশন
    • ঘ. ইমপ্ল্যান্ট
    উত্তর: খ. কনডম
    কনডম (Condom) একটি স্বল্পমেয়াদি বা বাধাদানকারী পদ্ধতি, যা কেবল ব্যবহারের সময়ই কাজ করে। প্রতিবার সহবাসের সময় নতুন কনডম ব্যবহার করতে হয়। কপার টি বসানোর পর ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করে, আর ইমপ্ল্যান্ট ৩ থেকে ৫ বছর সুরক্ষা দেয়। তিন মাস পরপর নেওয়া ইনজেকশনও দীর্ঘমেয়াদি হরমোনযুক্ত পদ্ধতির মধ্যে ধরা হয়। পুরুষের জন্য ব্যবহারযোগ্য একমাত্র অস্থায়ী বাধাদানকারী পদ্ধতি কনডম। এতে শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে না। নারীদের জন্য একই ধরনের পদ্ধতি হলো ডায়াফ্রাম ও নারী কনডম।
    মনে রাখুন:
    কনডম যৌনরোগ ও এইচআইভি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
    স্থায়ী পদ্ধতি হলো পুরুষের ভ্যাসেকটমি ও নারীর টিউবেকটমি।
  296. ৩৩৭. জন্ম নিয়ন্ত্রণে হরমোন-সেবা পরিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. Safe period
    • খ. OCP (Oral Contraceptive Pill)
    • গ. Condom
    • ঘ. Copper T
    উত্তর: খ. OCP (Oral Contraceptive Pill)
    জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা OCP (Oral Contraceptive Pill)-এ ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন জাতীয় হরমোন থাকে। এই হরমোন ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হওয়া বন্ধ রাখে এবং জরায়ুমুখের মিউকাস ঘন করে শুক্রাণুর চলাচলে বাধা দেয়। ফলে গর্ভধারণ হয় না। নিরাপদ কাল পদ্ধতি, কনডম ও কপার টি হরমোনধর্মী নয়। বড়ি ঠিকমতো খেলে গর্ভনিরোধে এর কার্যকারিতা ৯৯ ভাগের কাছাকাছি। তবে ধূমপায়ী, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে এমন নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বড়ি খাওয়া ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    বড়ি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হয়।
    হরমোনধর্মী আরও পদ্ধতি হলো ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্ট।
  297. ৩৩৮. জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মধ্যে কোনটি হরমোন নয়?BPSC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. COPPER-T
    • খ. Oral contraceptive pill
    • গ. Injection
    • ঘ. Implant
    উত্তর: ক. COPPER-T
    কপার টি (Copper-T) হলো একটি IUD, যা জরায়ুর ভেতরে বসানো হয়। এতে তামা থাকে, কোনো হরমোন থাকে না। তামা শুক্রাণুর জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ তৈরি করে, ফলে নিষেক হতে পারে না। অন্যদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্ট হরমোনধর্মী পদ্ধতি, যাদের হরমোন ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ করে। তামার এই গুণের কারণে কপার টি বসালে মাসিকে কিছুটা বেশি রক্তপাত হতে পারে, যা হরমোনধর্মী পদ্ধতিতে কম হয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক যেকোনো সময় একে খুলে ফেলতে পারেন, তখন আবার গর্ভধারণ করা যায়।
    মনে রাখুন:
    কপার টি একবার বসালে প্রায় ১০ বছর কাজ করে।
    ইমপ্ল্যান্ট সাধারণত বাহুর চামড়ার নিচে বসানো হয়।
  298. ৩৩৯. Mini pill এ কোন হরমোন থাকে?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. Progesterone
    • খ. Thyroid Hormone
    • গ. Oestrogen
    • ঘ. সবগুলি
    উত্তর: ক. Progesterone
    মিনি পিল (Mini pill) এমন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, যাতে শুধু প্রোজেস্টেরন (Progesterone) থাকে, ইস্ট্রোজেন থাকে না। এটি জরায়ুমুখের মিউকাস ঘন করে শুক্রাণুর প্রবেশে বাধা দেয়। ইস্ট্রোজেন না থাকায় বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্যও এটি তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ ইস্ট্রোজেন দুধের পরিমাণ কমাতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সম্মিলিত বড়ির তুলনায় মিনি পিলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। তবে এটি প্রতিদিন একই সময়ে খেতে হয়, নইলে কার্যকারিতা কমে যায়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটিই প্রথম পছন্দ।
    মনে রাখুন:
    মিনি পিল প্রতিদিন একই সময়ে খেতে হয়।
    সম্মিলিত বড়িতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন দুটিই থাকে।
  299. ৩৪০. নিচের কোনটি পরিবার-পরিকল্পনার অস্থায়ী পদ্ধতি নয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. টিউবেকটমী
    • খ. ইমপ্ল্যান্ট
    • গ. আইইউসিডি
    • ঘ. খাবারবড়ি
    উত্তর: ক. টিউবেকটমী
    টিউবেকটমি (Tubectomy) নারীর স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ অপারেশন, যাতে ডিম্বনালি কেটে বা বেঁধে দেওয়া হয়। একে অস্থায়ী পদ্ধতি বলা যায় না, কারণ এর পর সাধারণত আবার সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না। ইমপ্ল্যান্ট, আইইউসিডি ও খাবার বড়ি অস্থায়ী পদ্ধতি, কারণ ব্যবহার বন্ধ করলে আবার গর্ভধারণ করা যায়। অস্থায়ী পদ্ধতির সুবিধা হলো এগুলো বন্ধ করলে সন্তান ধারণের ক্ষমতা আবার ফিরে আসে। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে তাই অস্থায়ী পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়, আর সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে স্থায়ী পদ্ধতি।
    মনে রাখুন:
    স্থায়ী পদ্ধতি দুটি: নারীর জন্য টিউবেকটমি বা লাইগেশন, পুরুষের জন্য ভ্যাসেকটমি।
    আইইউসিডির পুরো নাম ইন্ট্রা ইউটেরাইন কন্ট্রাসেপ্টিভ ডিভাইস।
  300. ৩৪১. অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোনটি নয়?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি
    • খ. ইনজেকশন ৩ মাস পর পর
    • গ. ইমপ্ল্যান্ট
    • ঘ. ভ্যাসেকটমি
    উত্তর: ঘ. ভ্যাসেকটমি
    ভ্যাসেকটমি (Vasectomy) পুরুষের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতি। এতে শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু বহনকারী শুক্রনালি কেটে বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে বীর্যে আর শুক্রাণু থাকে না। তাই এটি অস্থায়ী নয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, তিন মাস পরপর নেওয়া ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্ট অস্থায়ী পদ্ধতি, কারণ ব্যবহার বন্ধ করলে সন্তান ধারণের ক্ষমতা ফিরে আসে। অস্ত্রোপচারটি সহজ ও ছোট এবং এতে দুই-এক দিন বিশ্রাম নিলেই চলে। অপারেশনের পরও কিছুদিন বীর্যে শুক্রাণু থাকতে পারে, তাই প্রথম কয়েক মাস অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ভ্যাসেকটমির পরও পুরুষের যৌনক্ষমতা ও হরমোন একই থাকে।
    নারীর জন্য স্থায়ী পদ্ধতি টিউবেকটমি।
  301. ৩৪২. Ligation অপারেশন কোথায় করা হয়?DGNM'র মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. Uterus
    • খ. Ovary
    • গ. Cervix
    • ঘ. Fallopian tube
    উত্তর: ঘ. Fallopian tube
    নারীর লাইগেশন (Ligation) অপারেশন করা হয় ডিম্বনালি বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে (Fallopian tube)। ডিম্বাশয় থেকে বেরোনো ডিম্বাণু এই নালি দিয়ে জরায়ুতে যায় এবং এখানেই শুক্রাণুর সঙ্গে মিলে নিষেক হয়। নালি কেটে বা বেঁধে দিলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিলিত হতে পারে না, ফলে গর্ভধারণ বন্ধ হয়। এই অপারেশন ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে বা সামান্য কাটার মাধ্যমে করা যায়। প্রসবের পরপরই বা সিজারিয়ান অপারেশনের সময়ও এটি করা সম্ভব। অপারেশনের পর নারীর মাসিক ও যৌনজীবনে পরিবর্তন আসে না।
    মনে রাখুন:
    এই অপারেশনের আরেক নাম টিউবেকটমি।
    ডিম্বাশয় বা জরায়ু এতে অক্ষত থাকে, তাই মাসিক চলতে থাকে।
  302. ৩৪৩. লাইগেশন এর মাধ্যমে কী করা হয়?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জন্মনিয়ন্ত্রণ
    • ক. মহিলাদের দুই পার্শ্বের ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়া হয়
    • খ. মহিলাদের দুই পার্শ্বের ইউটেরাইন টিউব কেটে দেওয়া হয়
    • গ. মহিলা ও পুরুষ উভয়ের অপারেশন করা হয়
    • ঘ. জরায়ু ফেলে দেওয়া হয়
    উত্তর: খ. মহিলাদের দুই পার্শ্বের ইউটেরাইন টিউব কেটে দেওয়া হয়
    লাইগেশন (Ligation) হলো নারীদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ অপারেশন, যাতে দুই পাশের ইউটেরাইন টিউব বা ডিম্বনালি কেটে বা বেঁধে দেওয়া হয়। এতে ডিম্বাণু জরায়ুতে যেতে পারে না এবং শুক্রাণুও ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছায় না। ডিম্বাশয় বা জরায়ু ফেলে দেওয়া হয় না, আর মাসিকও যথারীতি চলে। পুরুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের অপারেশনের নাম ভ্যাসেকটমি। নালি বন্ধ হওয়ার ফলে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়, কিন্তু তা শরীরের ভেতরেই শোষিত হয়ে যায়। এই কারণে লাইগেশন বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নয়, বরং সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফল।
    মনে রাখুন:
    এটি একবার করলে সাধারণত আর ফেরানো যায় না।
  303. ৩৪৪. গর্ভাবস্থায় প্রথম প্রসবকালীন পরিচর্যার জন্য কোন রোগী আসলে নিম্নের কোন পরীক্ষাটি করা হয়?DNC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. Hb%, Blood group, Urine R/M/E
    • খ. ECG
    • গ. Chest X-ray
    • ঘ. All of the above
    উত্তর: ক. Hb%, Blood group, Urine R/M/E
    গর্ভাবস্থায় প্রথমবার পরিচর্যার জন্য এলে সবার আগে হিমোগ্লোবিন (Hb%), রক্তের গ্রুপ এবং প্রস্রাবের নিয়মিত পরীক্ষা (Urine R/M/E) করা হয়। এতে রক্তস্বল্পতা, রক্তের Rh ফ্যাক্টর এবং প্রস্রাবে প্রোটিন, শর্করা বা সংক্রমণ আছে কি না বোঝা যায়। ইসিজি বা বুকের এক্স-রে সবার জন্য দরকার হয় না, আর এক্স-রে ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরীক্ষাগুলো মা ও শিশুর ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। Rh নেগেটিভ মায়ের সন্তান Rh পজিটিভ হলে শিশুর জন্য সমস্যা হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থার শুরুতেই রক্তের গ্রুপ জানা দরকার।
    মনে রাখুন:
    প্রথম দেখাতেই রক্তচাপ ও ওজনও মাপা হয়।
    প্রয়োজনে VDRL ও রক্তের শর্করা পরীক্ষাও করা হয়।
  304. ৩৪৫. গর্ভকালীন প্রসূতিবস্থা (ANC)-এর সময় কোন ল্যাবরেটর[অস্পষ্ট] পরীক্ষা জরুরি নয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. হিমোগ্লোবিন
    • খ. Urine R/M/E
    • গ. VDRL
    • ঘ. Cholesterol level
    উত্তর: ঘ. Cholesterol level
    গর্ভকালীন নিয়মিত পরিচর্যায় হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হয় রক্তস্বল্পতা ধরার জন্য, আর Urine R/M/E করা হয় প্রস্রাবে প্রোটিন, শর্করা ও সংক্রমণ দেখতে। VDRL পরীক্ষায় সিফিলিস ধরা পড়ে, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা এই পরীক্ষার তালিকায় সাধারণত থাকে না, এটি জরুরি নয়। ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর সংক্রমণ আগেই ধরা পড়লে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়। তাই শুধু প্রয়োজনীয় পরীক্ষাই করানো হয় এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রয়োজনে রক্তের গ্রুপ ও গ্লুকোজ পরীক্ষাও করা হয়।
    প্রতিটি পরিচর্যায় রক্তচাপ মাপা জরুরি, কারণ উচ্চ রক্তচাপ প্রি-একলামসিয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
  305. ৩৪৬. কোন পরীক্ষা গর্ভবতী মা'র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. ECG
    • খ. Ultrasonography
    • গ. X-ray
    • ঘ. Blood sugar
    উত্তর: গ. X-ray
    এক্স-রে (X-ray) আয়নাইজিং বিকিরণ ব্যবহার করে, যা গর্ভের বিকাশমান ভ্রূণের কোষের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে। তাই গর্ভবতী নারীর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। আল্ট্রাসনোগ্রাফি শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে বলে নিরাপদ, আর ইসিজি ও রক্তের শর্করা পরীক্ষায় কোনো বিকিরণ নেই। গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহে ভ্রূণের অঙ্গ তৈরি হয় বলে তখন বিকিরণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিকিরণ ভ্রূণের কোষ বিভাজনে বিঘ্ন ঘটিয়ে জন্মগত ত্রুটি বা বৃদ্ধির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    গর্ভের শিশুর অবস্থা দেখতে আল্ট্রাসনোগ্রাম ব্যবহার করা হয়।
    একান্ত প্রয়োজন হলে চিকিৎসক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এক্স-রে করান।
  306. ৩৪৭. গর্ভকালীন সময়ে কোন টিকা দিতে হয়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. টিটেনাস
    • খ. MMR
    • গ. হেপাটাইটিস বি
    • ঘ. রুবেলা
    উত্তর: ক. টিটেনাস
    গর্ভকালীন সময়ে টিটেনাস (Tetanus) টিকা দিতে হয়, যাতে মা এবং নবজাতক দুজনেই ধনুষ্টংকারের হাত থেকে রক্ষা পায়। মায়ের শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি গর্ভের শিশুতে যায়। ফলে জন্মের পর নাভি কাটার সময় সংক্রমণ হলেও শিশু সুরক্ষিত থাকে। MMR ও রুবেলার টিকা জীবিত ভাইরাস দিয়ে তৈরি বলে গর্ভাবস্থায় সাধারণত দেওয়া হয় না। গর্ভকালীন টিকা নিয়ে সাধারণ নিয়ম হলো, মৃত বা নিষ্ক্রিয় জীবাণুর টিকা নিরাপদ, কিন্তু জীবন্ত দুর্বল জীবাণুর টিকা ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। টিটেনাস টিকা নিষ্ক্রিয় টক্সয়েড দিয়ে তৈরি।
    মনে রাখুন:
    টিটেনাস ক্লস্ট্রিডিয়াম টিটানি নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
    নবজাতকের ধনুষ্টংকার ঘটে অপরিষ্কার যন্ত্রে নাভি কাটলে।
  307. ৩৪৮. টিটেনাস টিকা কয় ডোজ নিতে হবে?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৫
    উত্তর: ঘ. ৫
    বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে সন্তান ধারণের বয়সী নারীকে মোট ৫ ডোজ টিটেনাস টিকা (TT বা Td) নিতে বলা হয়। এই পাঁচ ডোজ নিলে নারী প্রায় সারা জীবনের জন্য ধনুষ্টংকার থেকে সুরক্ষিত থাকেন, আর তাঁর নবজাতকও জন্মের পর সুরক্ষা পায়। ডোজগুলো নির্দিষ্ট ব্যবধানে দিতে হয়। টিকাগুলোর প্রথম দুই ডোজ ন্যূনতম এক মাসের ব্যবধানে দিতে হয়। তৃতীয় ডোজ ছয় মাস পরে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ আরও এক বছরের ব্যবধানে দেওয়ার নিয়ম আছে।
    মনে রাখুন:
    টিকা না নিলে নবজাতকের টিটেনাস মারাত্মক হতে পারে।
    Td টিকায় টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার প্রতিষেধক থাকে।
  308. ৩৪৯. ১৫-৪৯ বয়সী নারীদের প্রদত্ত টিকার নাম কী?সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. পেন্টা
    • খ. MR
    • গ. TD
    • ঘ. BCG
    উত্তর: গ. TD
    ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষম বয়সে থাকেন। তাঁদের মা ও নবজাতককে ধনুষ্টংকারের হাত থেকে বাঁচাতে Td (টিটেনাস-ডিপথেরিয়া) টিকা দেওয়া হয়। BCG যক্ষ্মার, MR হামরুবেলার এবং পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা শিশুদের জন্য দেওয়া হয়। এই টিকা শুধু গর্ভবতী নারী নয়, সন্তান ধারণের বয়সের সব নারীকে দেওয়া হয়। কারণ ধনুষ্টংকার নবজাতকের মৃত্যুর একটি বড় কারণ ছিল, আর এই টিকা সেই ঝুঁকি অনেক কমিয়ে এনেছে।
    মনে রাখুন:
    পেন্টা টিকা একসঙ্গে পাঁচটি রোগ প্রতিরোধ করে: ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি ও হিব।
  309. ৩৫০. গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত কোনটি নয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. পাফুলা
    • খ. ওজন বৃদ্ধি
    • গ. রক্তপাত
    • ঘ. জ্বর
    উত্তর: খ. ওজন বৃদ্ধি
    গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়া স্বাভাবিক, কারণ শিশু, গর্ভফুল, জরায়ু ও মায়ের শরীরে জমা পানি ও চর্বি মিলে ওজন বাড়ে, তাই এটি বিপদসংকেত নয়। কিন্তু পা ফুলে যাওয়া, রক্তপাত ও জ্বর বিপদসংকেত, কারণ এসব রক্তচাপ বৃদ্ধি, গর্ভফুলের সমস্যা বা সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। অপরদিকে হঠাৎ করে খুব বেশি ওজন বেড়ে যাওয়া বা দ্রুত মুখ ও হাত ফুলে যাওয়া বিপদের লক্ষণ হতে পারে। তাই ওজনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বিপদসংকেত নয়, কিন্তু অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    অন্যান্য বিপদসংকেত হলো তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, খিচুনি এবং শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া।
    এসব লক্ষণে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়।
  310. ৩৫১. গর্ভাবস্থায় মায়ের ঝুঁকিপূর্ণ শনাক্তকরণ Sign কী?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. উচ্চ রক্তচাপ
    • খ. সর্দি কাশি
    • গ. ডায়ারিয়া
    • ঘ. শ্বাসকষ্ট
    উত্তর: ক. উচ্চ রক্তচাপ
    গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ মা ও শিশু দুজনের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ। এটি প্রি-একলামসিয়া (Pre-eclampsia) নামের জটিলতার প্রধান ইঙ্গিত, যা চিকিৎসা না করলে খিচুনি বা একলামসিয়ায় (Eclampsia) গড়াতে পারে। সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া সাধারণ অসুখ, যেগুলো অবশ্যই চিকিৎসা প্রয়োজন, তবে ঝুঁকি শনাক্তকরণের মূল চিহ্ন নয়। গর্ভকালে রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে তা উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়। এ কারণে গর্ভবতী মা প্রতিবার পরিচর্যায় গেলে রক্তচাপ মাপা হয়, আর তা বেশি পাওয়া গেলে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রতিটি ANC ভিজিটে রক্তচাপ মাপা হয়।
    সঙ্গে প্রস্রাবে প্রোটিন আছে কি না, তা দেখা হয়।
  311. ৩৫২. ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা কোনটি?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. গর্ভকালীন বমি বমি ভাব
    • খ. গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ ও খিচুনি
    • গ. গর্ভকালীন পায়ে পানি জমা
    • ঘ. গর্ভকালীন অতিরিক্ত চুল পড়া
    উত্তর: খ. গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ ও খিচুনি
    গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ ও খিচুনি হলো প্রি-একলামসিয়া ও একলামসিয়ার (Eclampsia) লক্ষণ, যা মা ও শিশু দুজনের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। অন্যদিকে বমি বমি ভাব, পায়ে হালকা পানি জমা এবং কিছু চুল পড়া গর্ভাবস্থায় সাধারণ পরিবর্তন, যাদের বেশিরভাগই বিপজ্জনক নয়। এটি গর্ভফুলের রক্ত সরবরাহে সমস্যার কারণে হয় বলে মনে করা হয়। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে মা ও শিশু উভয়ের মৃত্যু হতে পারে। প্রসবই এর চূড়ান্ত চিকিৎসা, আর ম্যাগনেসিয়াম সালফেট খিঁচুনি আটকাতে দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    খিচুনির আগে মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং পেটের উপরের দিকে ব্যথা হতে পারে।
    এ অবস্থায় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়।
  312. ৩৫৩. Eclampsia সাধারণত কি পরীক্ষা করে বুঝা যায়?নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. Pulse
    • খ. Blood pressure
    • গ. Temperature
    • ঘ. Heart sound
    উত্তর: খ. Blood pressure
    একলামসিয়া (Eclampsia) গর্ভাবস্থার উচ্চ রক্তচাপজনিত মারাত্মক জটিলতা, যাতে খিচুনি হয়। তার আগে প্রি-একলামসিয়ায় রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং প্রস্রাবে প্রোটিন দেখা যায়। তাই গর্ভবতীর রক্তচাপ (Blood pressure) নিয়মিত মাপলেই এই বিপদ আগে থেকে ধরা পড়ে। নাড়ি, তাপমাত্রা বা হৃদশব্দ দেখে এটি নির্ণয় করা যায় না। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় বাড়িতে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া উপকারী। প্রি-একলামসিয়া সাধারণত গর্ভের ২০ সপ্তাহ পরে দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg।
    গর্ভাবস্থায় 140/90 mmHg বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়।
  313. ৩৫৪. বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ-BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. বিলম্বিত প্রসব
    • খ. প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ
    • গ. প্রসব পরবর্তী প্রদাহ
    • ঘ. প্রি-এক্লাম্পশিয়া
    উত্তর: খ. প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ
    বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ (Haemorrhage), বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত রক্তপাত। এর পরের গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রি-একলামসিয়া ও একলামসিয়া। রক্তপাত খুব দ্রুত ঘটে বলে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো জরুরি। বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এর কারণ প্রশিক্ষিত দাইয়ের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব এবং জরুরি প্রসূতি সেবার প্রসার। এজন্য সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে নিরাপদ মাতৃত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যান্য কারণের মধ্যে সংক্রমণ, বাধাগ্রস্ত প্রসব এবং অনিরাপদ গর্ভপাত গুরুত্বপূর্ণ।
    মনে রাখুন:
    মাতৃমৃত্যু বলতে গর্ভাবস্থা থেকে প্রসবের ৪২ দিনের মধ্যে মায়ের মৃত্যু বোঝায়।
    প্রসব প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে হওয়া নিরাপদ।
  314. ৩৫৫. মাতৃমৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণ কোনটি?DGNM'র মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. Eclampsia
    • খ. Anaemia
    • গ. জ্বর
    • ঘ. RTI
    উত্তর: ক. Eclampsia
    মাতৃমৃত্যুর কারণ দুই ধরনের: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ। প্রত্যক্ষ কারণ হলো গর্ভাবস্থা বা প্রসব থেকেই সৃষ্ট জটিলতা, যেমন প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ, একলামসিয়া (Eclampsia), সংক্রমণ ও বাধাগ্রস্ত প্রসব। রক্তস্বল্পতা, জ্বর বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ আগে থেকে থাকা বা অন্য রোগের ফল হিসেবে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়, তাই সেগুলো পরোক্ষ কারণ। প্রত্যক্ষ কারণগুলো সম্পর্কে আগেভাগে সচেতন হলে মৃত্যু অনেকটা এড়ানো যায়। এজন্য প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর অন্তত চারবার গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে প্রসব এবং প্রসবের পরের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ।
    মনে রাখুন:
    রক্তস্বল্পতা বাংলাদেশের নারীদের একটি বড় সমস্যা।
    নিয়মিত গর্ভকালীন পরিচর্যা এসব ঝুঁকি কমায়।
  315. ৩৫৬. নবজাতক (Neonate) কাকে বলে?BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. 0 -1 month
    • খ. 1month – 5 years
    • গ. 1 years - 5 years
    • ঘ. 0 -1 year
    উত্তর: ক. 0 -1 month
    জন্মের পর প্রথম ২৮ দিন বা প্রায় ১ মাস বয়সী শিশুকে নবজাতক (Neonate) বলা হয়। এই সময়টি শিশুর জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়, কারণ মায়ের গর্ভ থেকে বাইরের পরিবেশে মানিয়ে নিতে শিশুর শরীরকে অনেক পরিবর্তন করতে হয়। এরপর ১ বছর পর্যন্ত বয়সকে শৈশব (Infancy) এবং এক থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে প্রাক-বিদ্যালয় শৈশব বলা হয়। নবজাতককে আবার দুই ভাগ করা হয়: প্রথম সাত দিন পর্যন্ত আগাম নবজাতক এবং এরপর ২৮ দিন পর্যন্ত পরবর্তী নবজাতক। এ সময়ে শিশু সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয় বলে যত্ন ও টিকা বিশেষ জরুরি।
    মনে রাখুন:
    জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হয়।
    প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট।
  316. ৩৫৭. গর্ভকালীন সময়ের বিস্তৃতি হলো –DSHE'র প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. ২৫০-২৬০ দিন
    • খ. ২৭০-২৮০ দিন
    • গ. ২৬০-২৭৫ দিন
    • ঘ. ২৪০-২৪৫ দিন
    উত্তর: খ. ২৭০-২৮০ দিন
    মানুষের স্বাভাবিক গর্ভকাল প্রায় ২৮০ দিন বা ৪০ সপ্তাহ, অর্থাৎ শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে গোনা হলে ২৭০ থেকে ২৮০ দিন। নিষেকের পর থেকে ধরলে এটি প্রায় ২৬৬ দিন। সময়মতো জন্ম হলে শিশুর ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গ পরিপক্ব হয়ে বাইরের জীবনের জন্য প্রস্তুত থাকে। শেষ মাসিকের তারিখ থেকে গোনা হলে গর্ভকাল প্রায় ৪০ সপ্তাহ বা ৯ মাস ৭ দিনের মতো। আর নিষেকের তারিখ থেকে গোনা হলে সেটি প্রায় ৩৮ সপ্তাহ। দুই হিসাবে দুই সপ্তাহের মতো তফাত থাকে।
    মনে রাখুন:
    গর্ভকালকে তিনটি ত্রৈমাসিকে ভাগ করা হয়।
    ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম হলে শিশুকে অপরিণত বলা হয়।
  317. ৩৫৮. EDD (Expected date of Delivery) গোনা হয় -নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. LMP থেকে ৯ মাস + ৭ দিন
    • খ. LMP থেকে ১০ মাস + ৭ দিন
    • গ. LMP থেকে ৯ মাস - ৭ দিন
    • ঘ. LMP থেকে ১০ মাস ১০ দিন
    উত্তর: ক. LMP থেকে ৯ মাস + ৭ দিন
    প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ বা EDD (Expected Date of Delivery) বের করা হয় নেগেলের নিয়মে। শেষ মাসিকের প্রথম দিনের তারিখ বা LMP (Last Menstrual Period) থেকে ৯ মাস যোগ করে এর সঙ্গে ৭ দিন যোগ দিতে হয়। এই হিসাবে গর্ভকাল প্রায় ২৮০ দিন বা ৪০ সপ্তাহ পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে, শেষ মাসিকের প্রথম দিন ১০ জানুয়ারি হলে ৯ মাস পর ১০ অক্টোবর হয় এবং ৭ দিন যোগ করলে ১৭ অক্টোবর পাওয়া যায়। নিয়মটি ২৮ দিনের নিয়মিত মাসিক চক্রের ওপর ভিত্তি করে।
    মনে রাখুন:
    অন্য উপায়ে মাস থেকে ৩ বিয়োগ করে ৭ দিন যোগ করা যায়।
    বেশিরভাগ শিশু আসলে সম্ভাব্য তারিখের কয়েক দিন আগে বা পরে জন্ম নেয়।
  318. ৩৫৯. সোনিয়ার LMP ০২.০১.২০১৯। ওর EDD-হবে -নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. ১২.১২.২০১৯
    • খ. ৯.১১.২০১৯
    • গ. ৯.১০.২০১৯
    • ঘ. ৯.১২.২০১৯
    উত্তর: গ. ৯.১০.২০১৯
    নেগেলের নিয়মে LMP-র তারিখ থেকে ৯ মাস যোগ করে ৭ দিন যোগ করতে হয়। সোনিয়ার LMP ০২.০১.২০১৯ হলে ৯ মাস যোগ করে পাওয়া যায় ০২.১০.২০১৯। এর সঙ্গে ৭ দিন যোগ করলে হয় ০৯.১০.২০১৯। এটিই তাঁর সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ। তারিখের হিসাবে ৯ মাস যোগ করলে মাসটি অক্টোবর হয়, কারণ জানুয়ারি থেকে ৯ মাস পর অক্টোবর। এরপর ৭ দিন যোগ করলে মাস না বদলে দিনটি ২ থেকে ৯ হয়। হিসাবটি এভাবে সহজেই মিলিয়ে নেওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    EDD = LMP + ৯ মাস + ৭ দিন।
    EDD মানে সম্ভাব্য তারিখ, নিশ্চিত তারিখ নয়।
  319. ৩৬০. Premature baby বলতে কোন সময়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুকে বলা হয়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. ৯ - ১০ মাস
    • খ. ২৮ সপ্তাহ - ৩৭ সপ্তাহ
    • গ. ৩৭ সপ্তাহের পূর্ববর্তী সময়
    • ঘ. ৪০ সপ্তাহের বেশি
    উত্তর: গ. ৩৭ সপ্তাহের পূর্ববর্তী সময়
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সংজ্ঞায় গর্ভকালের ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে জন্মানো শিশুকে অপরিণত বা প্রিম্যাচিউর (Premature) শিশু বলা হয়। এসব শিশুর ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গ পুরোপুরি তৈরি হয় না, তাই শ্বাসকষ্ট ও তাপমাত্রা ধরে রাখতে সমস্যা হয়। সময়মতো জন্ম হয় ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে। অপরিণত শিশুর ওজনও সাধারণত ২.৫ কেজির কম হয়। এদের ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই মায়ের বুকের সঙ্গে ত্বক লাগিয়ে রাখা বা কাঙ্গারু মাদার কেয়ার এসব শিশুর ক্ষেত্রে খুব উপকারী।
    মনে রাখুন:
    অপরিণত শিশুদের বেশি যত্ন দরকার, কাঙ্গারু মাদার কেয়ারে এদের দেহের উষ্ণতা রক্ষা হয়।
    ৪২ সপ্তাহের পরে জন্ম হলে পোস্ট ম্যাচিউর বলা হয়।
  320. ৩৬১. Post mature pregnancy কখন হয়?DGNM'র মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গর্ভকালীন যত্ন
    • ক. > 36 wks
    • খ. > 40 wks
    • গ. > 42 wks
    • ঘ. > 43 wks
    উত্তর: গ. > 42 wks
    গর্ভকাল ৪২ সপ্তাহ বা ২৯৪ দিন পার হয়ে গেলে তাকে পোস্ট ম্যাচিউর প্রেগন্যান্সি (Post mature pregnancy) বলে। এ অবস্থায় গর্ভফুল ঠিকমতো পুষ্টি ও অক্সিজেন দিতে পারে না, ফলে শিশুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা অনেক সময় প্রসব ত্বরান্বিত করেন। ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম হলে সেটি প্রিটার্ম। গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের আগে হলে প্রিটার্ম, ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে হলে টার্ম আর ৪২ সপ্তাহের পরে হলে পোস্ট টার্ম বলা হয়। এই তিনটি শব্দের পার্থক্য পরীক্ষার জন্য জানা দরকার।
    মনে রাখুন:
    পূর্ণকাল গর্ভাবস্থা ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে ধরা হয়।
  321. ৩৬২. একজন পূর্ণবয়স্ক নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ন্যূনতম কত?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. ৩০০০ গ্রাম
    • খ. ২৫০০ গ্রাম
    • গ. ২০০০ গ্রাম
    • ঘ. ১৫০০ গ্রাম
    উত্তর: খ. ২৫০০ গ্রাম
    একজন পূর্ণমেয়াদে জন্মানো নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ন্যূনতম ২৫০০ গ্রাম বা ২.৫ কেজি। গড়ে এটি ২.৫ থেকে ৩.৫ কেজির মধ্যে থাকে। এর কম ওজনে জন্ম নিলে তাকে কম জন্ম ওজনের শিশু ধরা হয়, যাদের সংক্রমণ ও অপুষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকে। মায়ের পুষ্টি ও গর্ভকালীন যত্ন শিশুর জন্ম ওজনে বড় ভূমিকা রাখে। ওজনের হিসাব প্রসবের পরপরই নিতে হয়, কারণ এর পর ওজন বদলাতে শুরু করে। জন্মের সময় ওজন মাপা শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায়। এর ভিত্তিতে শিশুকে বিশেষ যত্নে রাখা হবে কি না তা ঠিক হয়।
    মনে রাখুন:
    জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে শিশুর ওজন সামান্য কমে, পরে আবার বাড়ে।
    নবজাতকের মাথা ও বুকের মাপও নেওয়া হয়।
  322. ৩৬৩. কম জন্ম ওজন (LBW)-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. জন্ম ওজন < ২.৫ কেজি
    • খ. জন্ম ওজন > ২.৫ কেজি
    • গ. জন্ম ওজন > ৩.০ কেজি
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: ক. জন্ম ওজন < ২.৫ কেজি
    জন্মের সময় শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তাকে কম জন্ম ওজনের শিশু বা LBW (Low Birth Weight) বলা হয়। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা। অপরিণত জন্ম, মায়ের অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতা এর প্রধান কারণ। এসব শিশুর সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি। মা গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেলে এই ঝুঁকি কমে। তাই অনেক সময় গর্ভবতী নারীকে ওজন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত খাবার ও বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ১.৫ কেজির কম ওজন হলে তাকে অতি কম জন্ম ওজন (VLBW) বলা হয়।
    মায়ের বুকের দুধ ও উষ্ণতা এসব শিশুর যত্নের মূল চাবিকাঠি।
  323. ৩৬৪. নবজাতকের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের হার প্রতি মিনিটে কত?বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. ২০-৩০
    • খ. ৪০-৬০
    • গ. ৮০-১২০
    • ঘ. ১৬-২০
    উত্তর: খ. ৪০-৬০
    নবজাতকের শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক হার প্রতি মিনিটে ৪০ থেকে ৬০ বার। শিশুর ফুসফুস ছোট এবং শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা বেশি বলে বড়দের চেয়ে সে অনেক দ্রুত শ্বাস নেয়। প্রাপ্তবয়স্কের শ্বাসের হার প্রতি মিনিটে ১৬ থেকে ২০। প্রতি মিনিটে ৬০-এর বেশি হলে তাকে দ্রুত শ্বাস ধরা হয়, যা নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। নবজাতকের নাড়ির স্পন্দন বা হৃৎস্পন্দনও প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে দ্রুত। নবজাতক নাক দিয়ে শ্বাস নেয় এবং তার শ্বাস কখনও একটু অনিয়মিত দেখায়। এটি স্বাভাবিক, তবে শ্বাসের সময় বুক ভেতরে ঢুকে গেলে বিপদের লক্ষণ।
    মনে রাখুন:
    নবজাতকের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে প্রায় ১২০ থেকে ১৬০।
  324. ৩৬৫. Growth Chart এ একটি শিশুর কোন তথ্যটি থাকে না?নার্সিং সেবা অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. Height
    • খ. Immunization status
    • গ. Weight
    • ঘ. Blood group
    উত্তর: ঘ. Blood group
    গ্রোথ চার্ট (Growth chart) বা বৃদ্ধি তালিকায় শিশুর বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতার মান আঁকা হয়, যাতে বোঝা যায় শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হচ্ছে কি না। এতে টিকা দেওয়ার তথ্যও সাধারণত থাকে। কিন্তু রক্তের গ্রুপ (Blood group) জন্ম থেকেই স্থির, এটি বৃদ্ধির সঙ্গে বদলায় না, তাই গ্রোথ চার্টে এর স্থান নেই। শিশুর বৃদ্ধি এভাবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অপুষ্টি আগেই ধরা পড়ে। কার্ডে বয়স অনুযায়ী ওজন ধীরে ধীরে ওপরে উঠলে শিশুর বৃদ্ধি ভালো বোঝায়। যদি রেখা সমান থাকে বা নিচে নামে, তাহলে সতর্ক হতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ওজন কম বা বৃদ্ধি থেমে যাওয়া অপুষ্টির প্রাথমিক ইঙ্গিত।
    মাথার পরিধিও অনেক সময় চার্টে মাপা হয়।
  325. ৩৬৬. কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?MoFL-এর কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. স্থিতিস্থাপক
    • খ. তন্তুময়
    • গ. দৃঢ়
    • ঘ. নরম
    উত্তর: গ. দৃঢ়
    অস্থি বা হাড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর দৃঢ়তা। হাড়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমে থাকে বলে এটি শক্ত ও মজবুত হয়। এই দৃঢ়তার জন্যই হাড় দেহের কাঠামো তৈরি করে এবং মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের মতো কোমল অঙ্গকে রক্ষা করে। তরুণাস্থি তুলনায় নরম ও নমনীয়। দেহের অস্থি দুই ভাগে বিভক্ত: অক্ষীয় ও উপাঙ্গীয় কঙ্কাল। জন্মের সময় শিশুর অস্থি সংখ্যায় প্রায় ৩০০টি থাকে, যা বড় হওয়ার সময় জোড়া লেগে ২০৬টি হয়ে যায়। হাড় নিজেও জীবন্ত টিস্যু ও রক্তনালির সরবরাহ পায়।
    মনে রাখুন:
    হাড়ের ভেতরের মজ্জা রক্তকণিকা তৈরি করে।
    পূর্ণবয়স্ক মানুষের হাড়ের সংখ্যা ২০৬টি।
  326. ৩৬৭. মানুষের করোটিতে কয়টি অস্থি আছে?শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বি-ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ২০
    • খ. ২২
    • গ. ২৩
    • ঘ. ২৬
    উত্তর: খ. ২২
    মানুষের মাথার খুলি বা করোটিতে (Skull) মোট ২২টি অস্থি আছে। এর মধ্যে ৮টি অস্থি মস্তিষ্ককে ঘিরে রাখে আর ১৪টি অস্থি মুখমণ্ডল গঠন করে। এই অস্থিগুলো সেলাইয়ের মতো অচল সন্ধিতে জোড়া লাগানো থাকে, কেবল নিচের চোয়াল নড়াচড়া করতে পারে। খুলির এই কাঠামো মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে নিরাপদ রাখে। শিশুর খুলির অস্থিগুলোর মাঝে ফাঁক থাকে, যাকে ফন্টানেল বলে। জন্মের পর কয়েক মাসে এসব ফাঁক বন্ধ হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    কানের ভেতরে ৩ জোড়া ছোট অস্থি এবং গলায় ১টি হাইয়য়েড অস্থি আছে, যা এই ২২টির বাইরে ধরা হয়।
    করোটির নিচের চোয়ালই একমাত্র সচল অস্থি।
  327. ৩৬৮. মানবদেহে কশেরুকা (Vertebra)-এর সংখ্যা কতটি?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ৩১টি
    • খ. ৩২টি
    • গ. ৩৩টি
    • ঘ. ৩৪টি
    উত্তর: গ. ৩৩টি
    মানুষের মেরুদণ্ড কশেরুকা (Vertebra) দিয়ে তৈরি, যার মোট সংখ্যা ৩৩টি। এগুলো পাঁচ ভাগে ভাগ করা: গ্রীবা অঞ্চলে ৭টি, বক্ষ অঞ্চলে ১২টি, কটি অঞ্চলে ৫টি, ত্রিকাস্থিতে ৫টি এবং অনুত্রিকে ৪টি। প্রাপ্তবয়স্ক হলে ত্রিকের ৫টি জুড়ে ১টি আর অনুত্রিকের ৪টি জুড়ে ১টি হয়ে যায়, ফলে তখন কার্যকর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬টি। কশেরুকার মাঝখানে ডিস্ক বা চাকতি থাকে, যা আঘাত সামলে মেরুদণ্ডকে নমনীয় রাখে। মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড যায়, আর কশেরুকা সেই স্নায়ু-দড়িকে ঘিরে রক্ষা করে।
    মনে রাখুন:
    সংখ্যাসূত্র: ৭, ১২, ৫, ৫, ৪।
    প্রথম কশেরুকার নাম অ্যাটলাস।
  328. ৩৬৯. কোনটি Upper Limb এর বোন (Bone) নয়?স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. Femur
    • খ. Ulna
    • গ. Radius
    • ঘ. Humerous
    উত্তর: ক. Femur
    ফিমার (Femur) বা উরুর হাড় নিম্ন অঙ্গের (Lower limb) অস্থি, ঊর্ধ্ব অঙ্গের নয়। ঊর্ধ্ব অঙ্গ বা বাহুর অস্থি হলো হিউমেরাস (Humerus), রেডিয়াস (Radius) ও আলনা (Ulna)। হিউমেরাস উপরের বাহুতে থাকে আর রেডিয়াস ও আলনা সামনের বাহুতে থাকে। অন্যদিকে নিম্ন অঙ্গ পা, যার প্রধান অস্থিগুলো উরুতে ফিমার, পায়ের নিচের অংশে টিবিয়া ও ফিবুলা এবং হাঁটুতে প্যাটেলা। ঊর্ধ্ব অঙ্গের সঙ্গে বক্ষের যোগ ঘটায় কাঁধের অস্থি স্ক্যাপুলা ও ক্ল্যাভিকল।
    মনে রাখুন:
    নিম্ন অঙ্গের অস্থি: ফিমার, টিবিয়া, ফিবুলা ও প্যাটেলা।
    কাঁধের অস্থি স্ক্যাপুলা ও কলার বোন বা ক্ল্যাভিকল।
  329. ৩৭০. মানবদেহের সবচেয়ে লম্বা অস্থির (হাড়) নাম কি?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. কার্পাল
    • খ. আলনা
    • গ. টিবিয়া
    • ঘ. ফিমার
    উত্তর: ঘ. ফিমার
    মানবদেহের সবচেয়ে লম্বা ও সবচেয়ে শক্ত অস্থি ফিমার (Femur) বা উরুর হাড়। এটি নিতম্ব থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং শরীরের ভার বহন করে, তাই এটিকে শক্তিশালী হতে হয়। টিবিয়া হলো হাঁটুর নিচের পায়ের মূল হাড়। আলনা ও কার্পাল হাতের অস্থি। ফিমার এত শক্ত যে এটি ভাঙতে প্রচুর শক্তি লাগে। এর ওপরের প্রান্তে গোলাকার মাথা নিতম্বের গহ্বরে বসে সন্ধি গড়ে, আর নিচের প্রান্ত হাঁটুর সন্ধি তৈরিতে অংশ নেয়।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে ছোট অস্থি স্টেপিস, যা কানের ভেতরে থাকে।
    সবচেয়ে ছোট পেশি স্টেপিডিয়াসও কানে অবস্থিত।
  330. ৩৭১. হাঁটুর হাড়ের অংশ কোনটি?শ্রম অধিদপ্তরে শ্রম কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. প্যাটেলা
    • খ. ফিমার
    • গ. স্ক্যাপুলা
    • ঘ. টিবিয়া
    উত্তর: ক. প্যাটেলা
    হাঁটুর সামনে ঢালের মতো বসে থাকা ছোট চ্যাপ্টা হাড়ের নাম প্যাটেলা (Patella), যাকে হাঁটুর চাকতি বলা হয়। এটি হাঁটু সন্ধিকে আঘাত থেকে রক্ষা করে। ফিমার উরুর হাড়, টিবিয়া পায়ের নিচের অংশের হাড় এবং স্ক্যাপুলা কাঁধের হাড়। হাঁটুর সন্ধিতে তিনটি হাড় মিলিত হয়: উরুর ফিমার, পায়ের নিচের টিবিয়া এবং সামনে প্যাটেলা। প্যাটেলা না থাকলে হাঁটু বাঁকানো ও সোজা করার সময় পেশির জোর কমে যায়। হাঁটুতে আঘাত লাগলে প্যাটেলা সরে যেতে বা ভেঙে যেতে পারে, তাই খেলাধুলার সময় হাঁটুর সুরক্ষা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    প্যাটেলা একটি সিসাময়েড অস্থি, যা পেশির টেন্ডনের ভেতরে তৈরি হয়।
    হাঁটু একটি কব্জা সন্ধি।
  331. ৩৭২. কোন অস্থিতে গ্লেনয়েড গহ্বর থাকে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. স্ক্যাপুলা
    • খ. হিউমেরাস
    • গ. রেডিও-আলনা
    • ঘ. পেলভিক গার্ডেল
    উত্তর: ক. স্ক্যাপুলা
    গ্লেনয়েড গহ্বর (Glenoid cavity) স্ক্যাপুলা (Scapula) বা কাঁধের হাড়ে থাকে। হিউমেরাসের গোলাকার মাথা এই গহ্বরে বসে কাঁধের সন্ধি তৈরি করে। এটি বলসকেট সন্ধি, যে কারণে বাহু সব দিকে ঘোরানো যায়। স্ক্যাপুলা পিঠের উপরের দিকের তিন কোনা বিশিষ্ট চ্যাপ্টা হাড়। কাঁধের সন্ধিতে বাহুর হাড় সহজে সরে যেতে পারে, তাই এটি সহজেই স্থানচ্যুত হয়। স্ক্যাপুলার সঙ্গে কলার বোন বা ক্ল্যাভিকল যুক্ত হয়ে কাঁধের কাঠামো গঠিত হয়। এই দুটি মিলে পেকটোরাল গার্ডল তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    নিতম্বের অ্যাসিটাবুলামে ফিমারের মাথা বসে, সেটিও একটি বলসকেট সন্ধি।
    কাঁধের সন্ধি দেহের সবচেয়ে সচল সন্ধি।
  332. ৩৭৩. মানবদেহে অস্থিসন্ধি থাকে কয় প্রকারের?জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় (সি-৬ ইউনিট) ভর্তি, ২০১৩-১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ৩
    • খ. ৪
    • গ. ২
    • ঘ. ৫
    উত্তর: ক. ৩
    অস্থিসন্ধি তিন ধরনের: অচল, অল্প সচল ও সচল সন্ধি। মাথার খুলির অস্থিগুলোর সন্ধি নড়ে না, তাই সেটি অচল সন্ধি। মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর মধ্যে সামান্য নড়াচড়া হয়, এটি অল্প সচল সন্ধি। কাঁধ, কনুই ও হাঁটুর মতো সন্ধি অনেক নড়াচড়া করতে দেয়, এগুলো সচল সন্ধি। এই শ্রেণিবিভাগ সন্ধির নড়াচড়ার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। অচল সন্ধির উদাহরণ খুলির অস্থিগুলোর জোড়, অল্প সচল সন্ধির উদাহরণ মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর জোড়, আর সচল সন্ধির উদাহরণ কাঁধ ও হাঁটুর জোড়।
    মনে রাখুন:
    সচল সন্ধির উদাহরণ: বলসকেট (কাঁধ), কব্জা (কনুই) ও পিভট।
    সচল সন্ধিতে সাইনোভিয়াল তরল থাকে, যা ঘর্ষণ কমায়।
  333. ৩৭৪. নিচের কোনটি মানুষের শরীরের একটি হাড় কে অন্য হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে?সমবায় অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. লিগামেন্ট
    • খ. টেন্ডন
    • গ. ফিব্রোব্লাস্ট
    • ঘ. এর কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. লিগামেন্ট
    লিগামেন্ট (Ligament) হলো শক্ত তন্তুময় বন্ধনী, যা এক হাড়কে অন্য হাড়ের সঙ্গে সন্ধিতে যুক্ত রাখে। এর কাজ সন্ধিকে স্থির রাখা এবং অতিরিক্ত নড়াচড়া আটকানো। অন্যদিকে টেন্ডন (Tendon) পেশিকে হাড়ের সঙ্গে জোড়া লাগায়, ফলে পেশি সংকুচিত হলে হাড় নড়ে। লিগামেন্ট ও টেন্ডন দুটোই তন্তুময় সংযোজক টিস্যু দিয়ে তৈরি। কিন্তু একটি হাড়ের সঙ্গে হাড় জোড়া লাগায়, অন্যটি পেশির সঙ্গে হাড় জোড়া লাগায়। এই পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। লিগামেন্টে রক্ত চলাচল কম বলে ছিঁড়ে গেলে এটি ধীরে ধীরে সারে। টেন্ডনের একটি পরিচিত উদাহরণ গোড়ালির অ্যাকিলিস টেন্ডন, যা পায়ের পেশিকে গোড়ালির হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে।
    মনে রাখুন:
    মোচড় লেগে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে স্প্রেন হয়।
    ফিব্রোব্লাস্ট সংযোজক টিস্যুর কোষ, যা তন্তু তৈরি করে।
  334. ৩৭৫. পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের একটি হলো -হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইন্দ্রিয় ও ত্বক
    • ক. দাঁত
    • খ. জিহ্বা
    • গ. মগজ
    • ঘ. নখ
    উত্তর: খ. জিহ্বা
    পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে স্বাদ নেওয়ার ইন্দ্রিয় হলো জিহ্বা। জিহ্বার ওপরে অসংখ্য স্বাদকোরক (Taste bud) আছে, যা মিষ্টি, টক, নোনতা, তেতো ও উমামি স্বাদ চিনতে পারে। বাকি চারটি ইন্দ্রিয় হলো চোখ (দৃষ্টি), কান (শ্রবণ), নাক (ঘ্রাণ) এবং ত্বক (স্পর্শ)। দাঁত, মগজ বা নখ ইন্দ্রিয় নয়। অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের কাজ আলাদা: চোখের রেটিনা আলো গ্রহণ করে, কানের কক্লিয়া শব্দ ধরে, নাকের ভেতরের কোষ ঘ্রাণ চেনে, আর ত্বকের স্নায়ুপ্রান্ত স্পর্শ, তাপ ও ব্যথা বুঝতে পারে।
    মনে রাখুন:
    মগজ বা মস্তিষ্ক ইন্দ্রিয় থেকে পাওয়া সংকেত বিশ্লেষণ করে।
    দাঁত খাদ্য চিবোতে সাহায্য করে।
  335. ৩৭৬. মানব দেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ-বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইন্দ্রিয় ও ত্বক
    • ক. যকৃৎ
    • খ. স্নায়ু
    • গ. ত্বক
    • ঘ. কিডনি
    উত্তর: গ. ত্বক
    মানবদেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ত্বক (Skin)। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকের ক্ষেত্রফল প্রায় ১.৫ থেকে ২ বর্গমিটার। ত্বক দেহকে জীবাণু, আঘাত ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে, ঘামের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখে এবং স্পর্শ, ব্যথা ও তাপ অনুভব করায়। সূর্যের আলো ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতেও সাহায্য করে। ত্বকের দুটি প্রধান স্তর হলো বাইরের এপিডার্মিস এবং ভেতরের ডার্মিস। এপিডার্মিস মৃত কোষে ঢাকা এবং জল-নিরোধক, আর ডার্মিসে রক্তনালি, স্নায়ু, ঘর্মগ্রন্থি ও লোমকূপ থাকে।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ।
    ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে মেলানিন রঞ্জক।
  336. ৩৭৭. মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় স্ট্যাপিস কোথায় থাকে?ইসলামি ব্যাংক পিএলসির ট্রেইনি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. নাক
    • খ. কান
    • গ. হাত
    • ঘ. পা
    উত্তর: খ. কান
    স্ট্যাপিস (Stapes) নামের হাড়টি আমাদের কানের মধ্যকর্ণে থাকে। মধ্যকর্ণে পরপর তিনটি ছোট হাড় সাজানো আছে। এগুলো হলো ম্যালিয়াস (Malleus), ইনকাস (Incus) ও স্ট্যাপিস। কানের পর্দায় শব্দ লাগলে পর্দা কেঁপে ওঠে, আর সেই কম্পন এই তিনটি হাড় বেয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। সবচেয়ে শেষের হাড়টি স্ট্যাপিস, যেটি ককলিয়ার ডিম্বাকৃতি ছিদ্রে গিয়ে ঠেকে। আকারে এটি ঘোড়ার রেকাবের মতো, তাই একে রেকাব হাড়ও বলা হয়। মধ্যকর্ণ বাতাসে ভরা একটি ছোট কুঠুরি, আর এটি ইউস্টেশিয়ান নালির মাধ্যমে গলার সঙ্গে যুক্ত।
    মনে রাখুন:
    স্ট্যাপিস মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড়, লম্বায় মাত্র প্রায় ৩ মিলিমিটার।
    মানবদেহের সবচেয়ে বড় হাড় উরুর ফিমার।
  337. ৩৭৮. কানে শব্দ তরঙ্গ প্রবেশ করলে প্রথম যে অংশটি কেঁপে উঠে তা হলো -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. শ্রুতিহাড়
    • খ. ককলিয়া
    • গ. কানপর্দা
    • ঘ. ডিম্বাকৃতি ফুটো
    উত্তর: গ. কানপর্দা
    শব্দ তরঙ্গ কানের ছিদ্র দিয়ে ঢুকে প্রথমে যে পাতলা পর্দায় ধাক্কা দেয়, সেটি হলো কানপর্দা বা টিমপেনিক পর্দা (Tympanic membrane)। এই পর্দা বহিঃকর্ণ আর মধ্যকর্ণের মাঝখানে থাকে। শব্দের কারণে বাতাসের চাপ বদলায়, ফলে পর্দাটি কেঁপে ওঠে। এরপর কম্পনটি মধ্যকর্ণের তিনটি শ্রুতিহাড় হয়ে ভেতরের ককলিয়ায় পৌঁছায়। ককলিয়ার ভেতরে কম্পন স্নায়ুসংকেতে বদলে যায় এবং স্নায়ু বেয়ে মস্তিষ্কে যায়। তখনই আমরা শব্দটি শুনতে পাই। কানপর্দা খুব পাতলা, পুরুত্ব এক মিলিমিটারের চেয়েও কম, তাই অল্প কম্পনেই নড়ে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    কানপর্দা ছিঁড়ে গেলে শ্রবণশক্তি কমে যায়।
    শব্দ শোনার ক্রম: কানপর্দা, শ্রুতিহাড়, ডিম্বাকৃতি ছিদ্র, ককলিয়া, শ্রবণ স্নায়ু।
  338. ৩৭৯. The smallest bones in the human body found in the-কম্বাইন্ড ৯ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. Ears
    • খ. Feet
    • গ. Fingers
    • ঘ. Knees
    উত্তর: ক. Ears
    মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড়গুলো কানে থাকে। মধ্যকর্ণে ম্যালিয়াস (Malleus), ইনকাস (Incus) ও স্ট্যাপিস (Stapes) নামে তিনটি ছোট হাড় আছে, যেগুলোকে একসঙ্গে শ্রুতিহাড় (Ossicles) বলা হয়। এদের কাজ কানের পর্দার কম্পনকে ভেতরের কানে পৌঁছে দেওয়া, আর পথে কম্পনকে কিছুটা জোরালো করা। এই তিন হাড়ের মধ্যে স্ট্যাপিস সবচেয়ে ছোট। মধ্যকর্ণে এ ছাড়া আর কোনো হাড় নেই। ছোট হাড় হলেও এদের কাজ বড়, কারণ এরা না থাকলে শব্দের কম্পন ঠিকমতো ভেতরে পৌঁছাত না এবং আমরা আস্তে হওয়া শব্দ ধরতে পারতাম না।
    মনে রাখুন:
    ম্যালিয়াস হাতুড়ির মতো, ইনকাস নেহাইয়ের মতো এবং স্ট্যাপিস রেকাবের মতো দেখতে।
    ম্যালিয়াস কানের পর্দার সঙ্গে লেগে থাকে।
  339. ৩৮০. 'অর্গান অব কর্টি' যে অঙ্গে থাকে-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. মধ্যকর্ণ
    • খ. ককলিয়া
    • গ. অর্ধবৃত্তাকার নালি
    • ঘ. ইউট্রিকুলাস
    উত্তর: খ. ককলিয়া
    অর্গান অব কর্টি (Organ of Corti) থাকে অন্তঃকর্ণের ককলিয়া (Cochlea) নামের শামুকের মতো পেঁচানো নলের ভেতরে। এই অঙ্গে অসংখ্য রোমযুক্ত সংবেদী কোষ আছে। শব্দের কম্পন ককলিয়ার তরলে ঢেউ তুললে এই রোমগুলো নড়ে ওঠে এবং কম্পনকে স্নায়ুসংকেতে পরিণত করে। সংকেতটি শ্রবণ স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনতে পাই। তাই একে শ্রবণের আসল সংবেদী অঙ্গ বলা হয়। ককলিয়ার ভেতরে তরল ভরা থাকে, আর মানুষের ককলিয়া প্রায় আড়াই পাক ঘুরে শামুকের খোলের মতো আকার নিয়েছে।
    মনে রাখুন:
    ইতালীয় বিজ্ঞানী আলফোনসো কর্টি এই অঙ্গটি আবিষ্কার করেন।
    ককলিয়া শ্রবণের জন্য, আর অর্ধবৃত্তাকার নালি ভারসাম্যের জন্য কাজ করে।
  340. ৩৮১. শ্রবণ ছাড়া কানের অন্যতম কাজ হল -সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার (হাসপাতাল), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. দেহ সতেজ রাখা
    • খ. দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা
    • গ. দেহের কার্যক্ষমতা বাড়ানো
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: খ. দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা
    শোনার পাশাপাশি কান আমাদের দেহের ভারসাম্য (Balance) রক্ষা করে। অন্তঃকর্ণে ককলিয়ার পাশেই তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি এবং ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস নামে দুটি ছোট থলি আছে। এগুলোর ভেতরে তরল ভরা থাকে। মাথা নড়লে বা শরীর হেলে গেলে তরল নড়ে ওঠে এবং সংবেদী কোষ সেই খবর মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক তখন পেশিগুলোকে নির্দেশ দিয়ে শরীর সোজা রাখে। এ কারণে কানের ভেতরে সমস্যা হলে মাথা ঘোরে এবং হাঁটতে অসুবিধা হয়। কানের ভেতরের তরল ঘূর্ণি বা বেগের পরিবর্তন টের পায় বলে নাগরদোলায় চড়লে আমাদের মাথা ঘোরে।
    মনে রাখুন: অন্তঃকর্ণ একই সঙ্গে শ্রবণ ও ভারসাম্য, দুটি কাজই করে।
  341. ৩৮২. কোন অঙ্গ মানবদেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. অন্তঃকর্ণ
    • খ. ন্যাসোফ্যারিংস
    • গ. মধ্যকর্ণ
    • ঘ. বহিঃকর্ণ
    উত্তর: ক. অন্তঃকর্ণ
    মানবদেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে অন্তঃকর্ণ (Inner ear)। অন্তঃকর্ণের যে অংশটি এই কাজ করে, তাতে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে, যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে সমকোণে বসানো। তাই মাথা যেদিকেই ঘুরুক, কোনো না কোনো নালির তরল নড়ে এবং মস্তিষ্ক দিক বুঝে নেয়। মধ্যকর্ণ আর বহিঃকর্ণ মূলত শব্দ বহনের কাজ করে, ভারসাম্যের সঙ্গে এদের সম্পর্ক নেই। ন্যাসোফ্যারিংস আসলে নাক ও গলার পেছনের অংশ। অর্ধবৃত্তাকার নালিগুলো মাথার ঘূর্ণন টের পায়, আর ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস টের পায় সোজা বা পাশের দিকের নড়াচড়া।
    মনে রাখুন: ইউস্টেশিয়ান নালি মধ্যকর্ণকে গলার সঙ্গে যুক্ত করে কানের ভেতর ও বাইরের বায়ুচাপ সমান রাখে।
  342. ৩৮৩. মানবদেহের ভারসাম্য রক্ষায় কর্ণের কোন অংশটি সম্পৃক্ত?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট), ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কান
    • ক. মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ
    • খ. অর্গান অব কর্টি
    • গ. টিমপেনিক পর্দা
    • ঘ. ম্যালিয়াস
    উত্তর: ক. মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ
    অন্তঃকর্ণের ভেতরে পর্দার তৈরি জটিল একটি নালিকাতন্ত্র আছে, যার নাম মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ (Membranous labyrinth)। এর ভেতরে এন্ডোলিম্ফ নামের তরল ভরা থাকে। এই তন্ত্রের অর্ধবৃত্তাকার নালি, ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাস অংশ দেহের ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে অর্গান অব কর্টি শোনার কাজ করে, আর ম্যালিয়াস মধ্যকর্ণের একটি হাড়, যেটি শুধু কম্পন বহন করে। টিমপেনিক পর্দা হলো কানের পর্দা। এই তন্ত্রের একটি অংশ ককলিয়ার ভেতরেও আছে, সেখানেই অর্গান অব কর্টি বসানো। আর নালিগুলোতে সংবেদী রোম আছে, যা তরল নড়লে বেঁকে যায়।
    মনে রাখুন:
    ল্যাবিরিন্থের বাইরে থাকে হাড়ের তৈরি বোনি ল্যাবিরিন্থ।
    বোনি ও মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থের মাঝখানে থাকে পেরিলিম্ফ তরল।
  343. ৩৮৪. মানবদেহের সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষায় তৃতীয় স্তরে কাজ করে কোনটি?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. সাইটোকাইনস
    • খ. লিম্ফোসাইটস
    • গ. ফ্যাগোসাইটস
    • ঘ. ইন্টারফেরন
    উত্তর: খ. লিম্ফোসাইটস
    দেহের প্রতিরক্ষা তিন স্তরে সাজানো আছে। প্রথম স্তরে ত্বক, শ্লেষ্মা ও অশ্রুর মতো বাধা জীবাণুকে ঢুকতে দেয় না। জীবাণু ভেতরে ঢুকে গেলে দ্বিতীয় স্তরে ফ্যাগোসাইট (Phagocyte) কোষ জীবাণুকে গিলে ফেলে এবং ইন্টারফেরন ভাইরাসের বিস্তার ঠেকায়। এই দুটি স্তর সব জীবাণুর বিরুদ্ধেই একইভাবে কাজ করে। তৃতীয় স্তরে কাজ করে লিম্ফোসাইট (Lymphocyte)। এই কোষ নির্দিষ্ট জীবাণুকে চিনে তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং জীবাণুটির কথা মনে রাখে, তাই দ্বিতীয়বার আক্রমণ হলে দেহ দ্রুত সাড়া দেয়।
    মনে রাখুন: লিম্ফোসাইট দুই রকম, বি কোষ ও টি কোষ।
  344. ৩৮৫. দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০২৫ ও BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রোগ প্রতিরোধ
    • ক. অ্যান্টিজেন
    • খ. অ্যান্টিবডি
    • গ. প্রোটিন
    • ঘ. রক্ত
    উত্তর: খ. অ্যান্টিবডি
    অ্যান্টিবডি (Antibody) এক ধরনের প্রোটিন, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহের প্রধান সৈনিকের মতো কাজ করে। রোগজীবাণু বা বাইরের বিজাতীয় বস্তুকে অ্যান্টিজেন (Antigen) বলে। দেহে অ্যান্টিজেন ঢুকলে লিম্ফোসাইটের বি কোষ সেই অ্যান্টিজেনের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের সঙ্গে আটকে গিয়ে তাকে অকেজো করে দেয়, আর তখন অন্য শ্বেত রক্তকণিকা তাকে ধ্বংস করে। অ্যান্টিবডি Y অক্ষরের মতো দেখতে, আর এর দুই মাথায় অ্যান্টিজেন আটকে ধরার জায়গা আছে। প্রতিটি অ্যান্টিবডি কেবল একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সঙ্গেই মেলে, চাবি ও তালার মতো।
    মনে রাখুন:
    টিকা দিলে দেহে আগে থেকে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে থাকে।
    অ্যান্টিবডিকে ইমিউনোগ্লোবিউলিনও বলা হয়।
  345. ৩৮৬. থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসরণ হয়-BBAL-এর নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ থাইরয়েড হরমোন
    • ক. Thymus Hormone
    • খ. Thyroxine Hormone
    • গ. Hormone
    • ঘ. Insulin Hormone
    উত্তর: খ. Thyroxine Hormone
    থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের দিকে অবস্থিত একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন (Thyroxine) হরমোন নিঃসৃত হয়। থাইরক্সিন দেহের বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। থাইরক্সিন তৈরিতে আয়োডিন লাগে।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়।
    থাইমাস গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
    থাইরক্সিন বেশি হলে হাইপারথাইরয়েডিজম এবং কম হলে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়।
    থাইরয়েড গ্রন্থি দেখতে প্রজাপতির মতো এবং এর ওজন প্রায় ২০ গ্রাম।
    থাইরক্সিন কমে গেলে শিশুদের ক্রেটিনিজম ও বড়দের মিক্সিডিমা হয়।
    থাইরক্সিন বেড়ে গেলে গ্রেভস রোগ বা গয়টার হতে পারে।
  346. ৩৮৭. হৃদযন্ত্রের জন্য কোন উপাদানটি উপকারী?যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. HDL
    • খ. LDL
    • গ. Red Meat
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: ক. HDL
    রক্তে কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিনের সঙ্গে মিশে চলাচল করে। উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন বা এইচডিএল (HDL: High Density Lipoprotein) রক্তনালি থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল সরিয়ে যকৃতে ফিরিয়ে নেয়, তাই একে ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বলা হয় এবং এটি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। অন্যদিকে এলডিএল (LDL) রক্তনালির দেয়ালে কোলেস্টেরল জমিয়ে ধমনি সরু করে, তাই একে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বলে। লাল মাংসে সম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকায় তা এলডিএল বাড়ায়। অতিরিক্ত এলডিএল জমলে রক্তনালি সরু হয়ে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, আর এইচডিএল বেশি থাকলে সেই ঝুঁকি কমে।
    মনে রাখুন: নিয়মিত ব্যায়াম ও মাছের তেলের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে।
  347. ৩৮৮. মানবদেহের কোন গ্রন্থিটিকে ‘জৈব ঘড়ি’ বা Biological Clock নিয়ন্ত্রক বলা হয়, যা মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে?বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. থাইরয়েড গ্রন্থি
    • খ. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
    • গ. পাইনিয়াল গ্ল্যান্ড
    • ঘ. পিটুইটারি গ্রন্থি
    উত্তর: গ. পাইনিয়াল গ্ল্যান্ড
    মস্তিষ্কের ভেতরে মটরদানার মতো ছোট একটি গ্রন্থি আছে, যার নাম পিনিয়াল গ্রন্থি (Pineal Gland)। অন্ধকার হলে এই গ্রন্থি মেলাটোনিন (Melatonin) হরমোন বেশি নিঃসরণ করে, যা আমাদের ঘুম পাওয়ায়, আর আলোতে এর নিঃসরণ কমে যায়। এভাবে দিন-রাতের সঙ্গে শরীরের ঘুম ও জাগরণের ছন্দ মিলিয়ে রাখে বলে একে জৈবিক ঘড়ির (Biological Clock) নিয়ন্ত্রক বলা হয়। পাইনিয়াল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মেলাটোনিন ঘুমের সময় নির্ধারণে সাহায্য করে, তাই বিদেশ ভ্রমণের পর সময়ের পার্থক্যে ঘুম এলোমেলো হলে মেলাটোনিনের ভূমিকা থাকে।
    মনে রাখুন: পিটুইটারিকে প্রধান বা ‘মাস্টার’ গ্রন্থি বলা হয়। থাইরয়েড থেকে থাইরক্সিন আর অ্যাড্রেনাল থেকে অ্যাড্রেনালিন হরমোন আসে।
  348. ৩৮৯. মানবদেহের কোন অঙ্গটি নিজের ক্ষতিগ্রস্ত বা কেটে ফেলা অংশকে পুনরায় উৎপাদন করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে?বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ
    • ক. অগ্ন্যাশয়
    • খ. যকৃৎ
    • গ. কিডনি
    • ঘ. প্লীহা
    উত্তর: খ. যকৃৎ
    যকৃৎ (Liver) মানবদেহের এমন একটি অঙ্গ, যার কোষগুলো আবার বিভাজিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পূরণ করতে পারে। অস্ত্রোপচারে যকৃতের অর্ধেকের বেশি অংশ কেটে ফেললেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাকি অংশ বেড়ে প্রায় আগের আকারে ফিরে আসে। এ কারণে জীবিত দাতার যকৃতের একটি অংশ নিয়ে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। যকৃৎ ছাড়াও ত্বক এবং অস্থিমজ্জার কোষ ক্ষতের পর নতুন কোষ তৈরি করতে পারে, তবে যকৃতের এই ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। যকৃতের ওজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে প্রায় ১.৫ কিলোগ্রাম।
    মনে রাখুন: যকৃৎ মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এটি পিত্তরস তৈরি করে এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ভেঙে নিরাপদ করে।
  349. ৩৯০. থাইমাস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন কোনটি?রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সহকারী প্রটোকল অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্রন্থি ও হরমোন
    • ক. থাইরক্সিন
    • খ. প্যারাথাইরক্সিন
    • গ. থাইমোসিন
    • ঘ. থাইরোট্রপিন
    উত্তর: গ. থাইমোসিন
    বক্ষগহ্বরে হৃৎপিণ্ডের ঠিক ওপরে থাইমাস (Thymus) নামে একটি গ্রন্থি থাকে, যা থেকে থাইমোসিন (Thymosin) হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন টি-লিম্ফোসাইটকে (T-cell) পরিপক্ব করে তোলে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুকালে থাইমাস বড় থাকে, আর বয়ঃসন্ধির পর ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। থাইমাস গ্রন্থিকে লিম্ফ্যাটিক বা রোগ প্রতিরোধ তন্ত্রের অংশ ধরা হয়। এই গ্রন্থিতে তৈরি হওয়া টি-কোষ দেহের ভেতরে ঢুকে পড়া জীবাণু ও ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করে।
    মনে রাখুন: থাইরক্সিন নিঃসৃত হয় থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে, আর প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে।
  350. ৩৯১. মানবদেহে মোট হাড়ের সংখ্যা কতটি?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ২০৬টি
    • খ. ২৩০টি
    • গ. ২১৬টি
    • ঘ. ২২২টি
    উত্তর: ক. ২০৬টি
    পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে। নবজাতক শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা প্রায় ৩০০টি, কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু হাড় জোড়া লেগে সংখ্যা কমে যায়। কঙ্কালতন্ত্র দেহকে কাঠামো দেয়, ভেতরের কোমল অঙ্গ রক্ষা করে এবং পেশির সঙ্গে মিলে চলাফেরায় সাহায্য করে। লাল অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়। মেরুদণ্ডে হাড় আছে ৩৩টি আর পাঁজরে ২৪টি হাড় থাকে। কঙ্কালের হাড়গুলোর সংযোগস্থলকে সন্ধি বলে, যেমন কনুই ও হাঁটুর সন্ধি।
    মনে রাখুন:
    দেহের দীর্ঘতম হাড় ফিমার (উরুর হাড়)।
    ক্ষুদ্রতম হাড় স্টেপিস, যা মধ্যকর্ণে থাকে।
    মাথার খুলিতে হাড় আছে ২২টি।
  351. ৩৯২. মানুষের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত কত?এনটিআরসিএ, ৮ম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ১ : ৭০০
    • খ. ১ : ১০০
    • গ. ১ : ৫০০
    • ঘ. ১ : ১২০
    উত্তর: ক. ১ : ৭০০
    মানুষের রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা শ্বেত রক্তকণিকার চেয়ে অনেক বেশি। প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকা প্রায় ৪৫-৫০ লাখ, আর শ্বেত কণিকা মাত্র ৫-১০ হাজার, তাই এদের অনুপাত মোটামুটি ১ : ৭০০। স্বাভাবিক পুরুষের রক্তে লোহিত কণিকা নারীর চেয়ে কিছু বেশি থাকে। শ্বেত কণিকার সংখ্যা সংক্রমণ হলে বেড়ে যায়, আর লিউকেমিয়া রোগে তা অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। রক্তস্রোতে এই অনুপাত রোগভেদে বদলায়, যেমন সংক্রমণ হলে শ্বেত কণিকা বাড়ে।
    মনে রাখুন: লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন এবং এতে থাকা হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে। শ্বেত কণিকা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে দেহকে রক্ষা করে।
  352. ৩৯৩. লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কতদিন?এনটিআরসিএ, ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ১২০ দিন
    • খ. ১০০ দিন
    • গ. ৮০ দিন
    • ঘ. ৬০ দিন
    উত্তর: ক. ১২০ দিন
    লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell) সাধারণত প্রায় ১২০ দিন বাঁচে। এরপর প্লীহা ও যকৃতে পুরোনো কণিকাগুলো ভেঙে যায়, আর লাল অস্থিমজ্জায় নতুন কণিকা তৈরি হয়ে তাদের জায়গা নেয়। মানুষের পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। লোহিত কণিকা লাল রঙ পায় হিমোগ্লোবিনের আয়রন থেকে। প্রতি সেকেন্ডে দেহে লাখ লাখ নতুন লোহিত কণিকা তৈরি হয়, ফলে মোট সংখ্যা মোটামুটি স্থির থাকে। লোহিত কণিকা তৈরির জন্য আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিড দরকার, আর এদের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়।
    মনে রাখুন:
    শ্বেত রক্তকণিকার আয়ু: কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন
    অণুচক্রিকার আয়ু: ৫ থেকে ১০ দিন
  353. ৩৯৪. বিলিরুবিন তৈরী হয়-এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ
    • ক. যকৃতে
    • খ. বৃক্কতে
    • গ. পিত্তথলিতে
    • ঘ. হৃদযন্ত্রে
    উত্তর: ক. যকৃতে
    পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে তার হিমোগ্লোবিন থেকে হলুদ রঙের রঞ্জক বিলিরুবিন (Bilirubin) তৈরি হয়। এ ভাঙন ও বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রধান কেন্দ্র যকৃৎ, আর যকৃৎ থেকেই এটি পিত্তরসের সঙ্গে অন্ত্রে যায়। রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়, যাকে জন্ডিস বলে। শিশুর জন্মের পর অনেক সময় যকৃৎ পুরোপুরি কাজ শুরু করতে না পারায় নবজাতক জন্ডিসে ভোগে। আলোয় রাখলে বিলিরুবিন ভেঙে যায়, তাই এই চিকিৎসাকে ফটোথেরাপি বলে। যকৃতে তৈরি হওয়া পিত্তরস চর্বি হজমে সাহায্য করে এবং বিলিরুবিনের কারণেই মলের রং হলদে-বাদামি হয়।
    মনে রাখুন: যকৃতে তৈরি পিত্তরস জমা থাকে পিত্তথলিতে।
  354. ৩৯৫. ভয় পেলে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১১তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. অ্যাড্রেনালিন
    • খ. পিটুইটারি
    • গ. অক্সিটোসিন
    • ঘ. থাইরক্সিন
    উত্তর: ক. অ্যাড্রেনালিন
    ভয় পেলে বা হঠাৎ উত্তেজিত হলে আমাদের বৃক্কের ওপরে থাকা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্তে মিশে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, শ্বাসের গতি বাড়ায় এবং যকৃৎ থেকে গ্লুকোজ বের করে পেশিতে বাড়তি শক্তি জোগায়। ফলে দেহ বিপদের মুখে লড়াই করতে বা পালাতে প্রস্তুত হয়ে যায়, তাই একে জরুরি হরমোন বলা হয়। পিটুইটারি আসলে কোনো হরমোন নয়, এটি একটি গ্রন্থির নাম।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারিকে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
    অক্সিটোসিন সন্তান প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন ঘটায়।
    থাইরক্সিন নিঃসৃত হয় থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে এবং এটি দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
  355. ৩৯৬. চোখের কোনটি মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৩তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখ
    • ক. চোখের মণি
    • খ. আইরিস
    • গ. রেটিনা
    • ঘ. কর্নিয়া
    উত্তর: গ. রেটিনা
    চোখের লেন্স বাইরের বস্তু থেকে আসা আলোকে বাঁকিয়ে চোখের পেছনের পর্দা রেটিনার (Retina) ওপর একটি উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি করে। রেটিনায় রড ও কোন নামে দুই ধরনের আলোকসংবেদী কোষ থাকে, এরা আলোকে স্নায়ু সংকেতে বদলে দেয়। সেই সংকেত দর্শন স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছালে আমরা বস্তুটি সোজা দেখতে পাই। তাই দর্শনের অনুভূতি জাগানোর মূল কাজটি করে রেটিনা। কর্নিয়া চোখের সামনের স্বচ্ছ আবরণ, আর আইরিস মণির আকার বদলে চোখে আলো ঢোকার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
    মনে রাখুন:
    রড কোষ মৃদু আলোতে দেখতে সাহায্য করে।
    কোন কোষ রং চিনতে সাহায্য করে।
    রেটিনার যে স্থান থেকে দর্শন স্নায়ু বের হয় সেখানে কোনো প্রতিবিম্ব হয় না, একে অন্ধবিন্দু বলে।
  356. ৩৯৭. কোনটিকে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৪তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মস্তিষ্ক
    • ক. মেডুলা
    • খ. সেরিব্রাম
    • গ. পনস
    • ঘ. সেরিবেলাম
    উত্তর: ক. মেডুলা
    মেডুলা অবলংগাটা (Medulla oblongata) মস্তিষ্কের একেবারে নিচের অংশ, যা নিচের দিকে সুষুম্নাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বোঁটার মাধ্যমে যেমন ফল গাছের সঙ্গে লেগে থাকে, তেমনি এই অংশের মাধ্যমে মস্তিষ্ক সুষুম্নাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাই একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। হৃৎস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তচাপের মতো অনৈচ্ছিক কাজ এটি নিয়ন্ত্রণ করে। গিলে ফেলা, হাঁচি, কাশি ও বমির মতো প্রতিবর্তী কাজও চলে এর নির্দেশে, তাই এখানে আঘাত লাগলে জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    সেরিব্রাম মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।
    সেরিবেলাম দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
    পনস মেডুলার ঠিক ওপরে থাকে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  357. ৩৯৮. মানবদেহের প্রহরীর মত কাজ করে কোনটি?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৫তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. লোহিত রক্তকণিকা
    • খ. শ্বেত রক্তকণিকা
    • গ. রক্তরস
    • ঘ. অণুচক্রিকা
    উত্তর: খ. শ্বেত রক্তকণিকা
    রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell) দেহে ঢোকা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করে। নিউট্রোফিল ও মনোসাইটের মতো কিছু শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে গিলে ফেলে ধ্বংস করে। আবার লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুকে অকেজো করে দেয়। এভাবে পাহারাদারের মতো দেহকে রোগ থেকে রক্ষা করে বলে একে দেহের প্রহরী বলা হয়। লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন বহন করে আর অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    শ্বেত রক্তকণিকার নির্দিষ্ট আকার নেই এবং এতে নিউক্লিয়াস থাকে।
    সুস্থ মানুষের প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪,০০০ থেকে ১১,০০০টি শ্বেত কণিকা থাকে।
    রক্তে শ্বেত কণিকা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে লিউকেমিয়া হতে পারে।
  358. ৩৯৯. অস্থি বিন্যাস অনুযায়ী মানুষের অন্তঃকঙ্কালকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৬তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ৬
    • খ. ৫
    • গ. ৪
    • ঘ. ২
    উত্তর: ঘ. ২
    দেহের ভেতরে থাকা হাড় ও তরুণাস্থির কাঠামোকে অন্তঃকঙ্কাল (Endoskeleton) বলে। অস্থিগুলো কোথায় বিন্যস্ত আছে সেই অনুযায়ী মানুষের অন্তঃকঙ্কালকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দেহের মাঝখানের লম্বা অক্ষ বরাবর যে অস্থিগুলো থাকে, যেমন মাথার খুলি, মেরুদণ্ড, পাঁজর ও বুকের অস্থি, সেগুলো নিয়ে অক্ষীয় কঙ্কাল গঠিত। আর হাত, পা এবং এগুলোকে দেহের সঙ্গে যুক্ত করা কাঁধ ও শ্রোণি বলয়ের অস্থি নিয়ে গঠিত উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি অস্থি থাকে।
    দেহের সবচেয়ে লম্বা অস্থি ফিমার, যা ঊরুতে থাকে।
    সবচেয়ে ছোট অস্থি স্টেপিস, যা মধ্যকর্ণে থাকে।
  359. ৪০০. সুস্থ অবস্থায় মানব দেহের তাপমাত্রা কত ডিগ্রী?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৩য় বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের তাপমাত্রা
    • ক. ৯৭°F
    • খ. ৯৭.৮°F
    • গ. ৯৮°F
    • ঘ. ৯৮.৬°F
    উত্তর: ঘ. ৯৮.৬°F
    সুস্থ মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৯৮.৬° ফারেনহাইট (Fahrenheit), যা সেলসিয়াস স্কেলে ৩৭°। আমরা খাবার থেকে পাওয়া শক্তির একটি অংশ দিয়ে দেহে তাপ তৈরি করি, আর মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামের অংশ এই তাপমাত্রা প্রায় একই রাখে। গরমে ঘাম বের হয়ে বাষ্পীভূত হলে দেহ ঠান্ডা হয়, আর শীতে কাঁপুনির মাধ্যমে দেহ তাপ তৈরি করে। জ্বর হলে তাপমাত্রা এর চেয়ে বেড়ে যায়, তাই ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৮.৬° দাগটি আলাদা করে চিহ্নিত থাকে।
    মনে রাখুন:
    সেলসিয়াস থেকে ফারেনহাইটে রূপান্তরের সূত্র F = 9C/5 + 32।
    ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫° থেকে ১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
  360. ৪০১. ডায়াস্টোল বলতে কী বুঝায়?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৭ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হৃৎপিণ্ড
    • ক. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
    • খ. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
    • গ. হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবেশ করা
    • ঘ. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ
    উত্তর: খ. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
    হৃৎপিণ্ড ছন্দে ছন্দে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্ত পাম্প করে। হৃৎপিণ্ডের প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে, এ সময় প্রকোষ্ঠগুলো ঢিলে হয়ে রক্তে ভরে ওঠে। আর সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) বলে, এ সময় রক্ত ধমনিতে ঠেলে পাঠানো হয়। একবার সিস্টোল ও একবার ডায়াস্টোল মিলে একটি পূর্ণ হৃৎস্পন্দন হয়, একে হৃদচক্র (Cardiac Cycle) বলে।
    মনে রাখুন:
    রক্তচাপ মাপার সময় বড় সংখ্যাটি সিস্টোলিক আর ছোট সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক চাপ।
    একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ড মিনিটে প্রায় ৭২ বার স্পন্দিত হয়।
  361. ৪০২. The largest part of the human brain is -বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মস্তিষ্ক
    • ক. Cerebrum
    • খ. Medulla oblongata
    • গ. Cerebellum
    • ঘ. None of these
    উত্তর: ক. Cerebrum
    মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ সেরিব্রাম (Cerebrum) বা গুরুমস্তিষ্ক, যা পুরো মস্তিষ্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে থাকে। এটি চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, কথা বলা ও ঐচ্ছিক চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। সেরিব্রামের পেছনের নিচের দিকে থাকে সেরিবেলাম বা লঘুমস্তিষ্ক, যা দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। সেরিব্রাম ডান ও বাম দুই গোলার্ধে বিভক্ত, আর ডান গোলার্ধ দেহের বাম পাশ এবং বাম গোলার্ধ দেহের ডান পাশ নিয়ন্ত্রণ করে।
    মনে রাখুন:
    মেডালা অবলংগাটা হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি।
  362. ৪০৩. সর্বজনীন দাতা বলা হয় কোন ব্লাড গ্রুপকে?দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কোর্ট পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. A +ve
    • খ. B +ve
    • গ. AB +ve
    • ঘ. O +ve
    উত্তর: ঘ. O +ve
    O গ্রুপের রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে A বা B কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না। তাই এই রক্ত অন্য গ্রুপের মানুষের দেহে দিলে গ্রহীতার অ্যান্টিবডি তাকে চিনে আক্রমণ করে না, এ কারণে O গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা (Universal Donor) বলা হয়। সূক্ষ্মভাবে বললে Rh ফ্যাক্টরও না থাকায় O নেগেটিভই আসল সর্বজনীন দাতা, তবে প্রদত্ত গ্রুপগুলোর মধ্যে কেবল O পজিটিভেই O গ্রুপ আছে। উল্টো দিকে AB গ্রুপের রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই AB গ্রুপের মানুষ সব গ্রুপের রক্ত নিতে পারে।
    মনে রাখুন:
    সর্বজনীন দাতা: O গ্রুপ (বিশেষ করে O নেগেটিভ)।
    সর্বজনীন গ্রহীতা: AB গ্রুপ (বিশেষ করে AB পজিটিভ)।
    রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
  363. ৪০৪. ইনসুলিন এক ধরনের-বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, সহকারী স্টোর কিপার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. হরমোন
    • খ. শর্করা
    • গ. ভিটামিন
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. হরমোন
    ইনসুলিন (Insulin) একটি হরমোন। আমাদের অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে ছোট ছোট কোষগুচ্ছ থাকে, এদের নাম আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স। এই কোষগুচ্ছের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন সরাসরি রক্তে মেশে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করে এবং বাড়তি গ্লুকোজকে যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। এভাবে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়, এই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস বলে।
    মনে রাখুন:
    ইনসুলিন রাসায়নিকভাবে একটি প্রোটিন।
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক ব্যান্টিং ও চার্লস বেস্ট (১৯২১ সাল)।
    অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়।
  364. ৪০৫. থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসরণ হয়-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Thyroxin Hormone
    • খ. Thymuses Hormone
    • গ. Hormone
    • ঘ. Insulin Hormone
    উত্তর: ক. Thyroxin Hormone
    আমাদের গলার সামনের দিকে শ্বাসনালীর দুই পাশে প্রজাপতির মতো দেখতে একটি গ্রন্থি আছে, এর নাম থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland)। এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন (Thyroxine) হরমোন নিঃসৃত হয়। থাইরক্সিন দেহের বিপাকের হার, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন তৈরিতে আয়োডিন লাগে, তাই খাদ্যে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়। ইনসুলিন অবশ্য থাইরয়েড থেকে নয়, অগ্ন্যাশয় থেকে আসে।
    মনে রাখুন:
    থাইরয়েড গ্রন্থি দেহের সবচেয়ে বড় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
    শিশুদের থাইরক্সিনের অভাবে ক্রেটিনিজম রোগ হয়।
  365. ৪০৬. মানুষের শরীরে কত ধরনের রক্ত কণিকা আছে?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), লাইন ক্রু লেভেল-১, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ৩
    • খ. ৪
    • গ. ৫
    • ঘ. ৬
    উত্তর: ক. ৩
    মানুষের রক্তের দুটি অংশ, তরল রক্তরস আর তাতে ভাসমান রক্তকণিকা। রক্তকণিকা তিন ধরনের: লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell), শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে দেহের কোষে অক্সিজেন বহন করে। শ্বেত কণিকা জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে আমাদের রোগ থেকে রক্ষা করে। অণুচক্রিকা কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তপাত বন্ধ করে। এই তিন ধরনের কণিকাই তৈরি হয় লম্বা হাড়ের ভেতরের লাল অস্থিমজ্জায়।
    মনে রাখুন:
    সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি লোহিত রক্তকণিকা, আর আকারে সবচেয়ে বড় শ্বেত রক্তকণিকা।
    লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    রক্তের লাল রঙের কারণ হিমোগ্লোবিন।
  366. ৪০৭. মানবদেহে কয়টি হাড় আছে?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, উপজেলা পোস্টমাস্টার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ২০০
    • খ. ২০৮
    • গ. ২০৬
    • ঘ. ৩০৬
    উত্তর: গ. ২০৬
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় (Bone) থাকে। জন্মের সময় শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি, প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০টি। শিশু বড় হতে হতে মাথার খুলি, মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও শ্রোণিচক্রের কিছু হাড় একসঙ্গে জোড়া লেগে যায়, তাই সংখ্যাটি কমে ২০৬-এ দাঁড়ায়। এই হাড়গুলো মিলে কঙ্কাল তৈরি হয়, যা দেহকে আকার দেয়, ভেতরের নরম অঙ্গগুলো রক্ষা করে এবং পেশির সঙ্গে মিলে চলাফেরায় সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে বড় ও লম্বা হাড়: ফিমার (ঊরুর হাড়)।
    সবচেয়ে ছোট হাড়: কানের স্টেপিস।
    মাথার খুলিতে হাড় থাকে ২২টি।
  367. ৪০৮. মানুষের রক্তের লোহিত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক (৯ সেপ্টেম্বর), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. বৃক্ক
    • খ. অস্থিমজ্জা
    • গ. প্লীহা
    • ঘ. হৃৎপিণ্ড
    উত্তর: গ. প্লীহা
    লোহিত রক্তকণিকা (Red blood cell) তৈরি হয় লম্বা হাড়ের লাল অস্থিমজ্জায়। তৈরি হওয়ার পর এর একটি অংশ প্লীহায় জমা থাকে এবং দেহে হঠাৎ রক্তের প্রয়োজন হলে প্লীহা সেগুলো রক্তস্রোতে ছেড়ে দেয়। এ জন্য প্লীহাকে রক্তের ভান্ডার বলা হয়। প্লীহার আরেকটি বড় কাজ হলো পুরোনো ও নষ্ট লোহিত কণিকা ভেঙে ফেলা, তাই একে লোহিত কণিকার কবরস্থানও বলা হয়। একটি লোহিত কণিকা সাধারণত প্রায় ১২০ দিন বাঁচে।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে।
    মানুষের পরিণত লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
    ভ্রূণ অবস্থায় যকৃৎ ও প্লীহাও লোহিত কণিকা তৈরি করে।
  368. ৪০৯. একজন সাধারণ মানুষের দেহে মোট কতটি হাড় আছে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অস্থি
    • ক. ১০৬
    • খ. ২০৬
    • গ. ৩০৬
    • ঘ. ৪০৬
    উত্তর: খ. ২০৬
    একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি অস্থি বা হাড় (Bone) থাকে। নবজাতক শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা প্রায় ৩০০টি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার খুলি, মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও আরও কিছু জায়গার হাড় জোড়া লেগে যায়, ফলে হাড়ের মোট সংখ্যা কমে ২০৬টিতে দাঁড়ায়। হাড় দেহের কাঠামো তৈরি করে, ভেতরের নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে এবং হাড়ের ভেতরের অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়। হাড় শক্ত হয় মূলত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের কারণে।
    মনে রাখুন:
    দেহের দীর্ঘতম হাড় ফিমার (ঊরুর হাড়)।
    ক্ষুদ্রতম হাড় স্টেপিস, এটি মধ্যকর্ণে থাকে।
    মাথার খুলিতে মোট ২২টি হাড় থাকে।
  369. ৪১০. রক্তশূন্যতা বলতে বোঝায় -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া
    • খ. রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
    • গ. হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া
    • ঘ. অণুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
    উত্তর: গ. হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া
    রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া (Anaemia) বলতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়াকে বোঝায়। হিমোগ্লোবিন লোহিত কণিকার ভেতরের লৌহঘটিত একটি প্রোটিন, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে দেহের সব কোষে পৌঁছে দেয়। তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে কোষগুলো যথেষ্ট অক্সিজেন পায় না, ফলে শরীর দুর্বল লাগে, অল্পতেই ক্লান্তি আসে, শ্বাসকষ্ট হয় এবং ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়। রক্তশূন্যতার সবচেয়ে সাধারণ কারণ খাবারে লৌহের অভাব। এ ছাড়া বেশি রক্তক্ষরণ, কৃমি সংক্রমণ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রোগেও রক্তশূন্যতা হয়।
    মনে রাখুন:
    পূর্ণবয়স্ক পুরুষের রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে।
  370. ৪১১. সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তচাপ
    • ক. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
    • খ. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
    • গ. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
    • ঘ. এর কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
    হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো কাজ করে রক্তকে ধমনির ভেতর দিয়ে সারা দেহে পাঠায়, আর এ সময় ধমনির দেয়ালে রক্ত যে চাপ দেয় তাকে রক্তচাপ (Blood pressure) বলে। হৃৎপিণ্ডের নিলয় সংকুচিত হয়ে রক্ত ধমনিতে ঠেলে দেওয়ার মুহূর্তে চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, এই সর্বোচ্চ চাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে। আবার নিলয় প্রসারিত হয়ে রক্তে ভরে ওঠার সময় চাপ সবচেয়ে কমে যায়, এই নিম্নতম চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় 120/80 mmHg, যেখানে ১২০ সিস্টোলিক ও ৮০ ডায়াস্টোলিক চাপ।
    মনে রাখুন:
    রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের নাম স্ফিগমোম্যানোমিটার।
  371. ৪১২. মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অস্থি
    • ক. ৩১টি
    • খ. ৩২টি
    • গ. ৩৩টি
    • ঘ. ৩৪টি
    উত্তর: গ. ৩৩টি
    মেরুদণ্ড (Vertebral column) অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় দিয়ে তৈরি, এই হাড়গুলোকে কশেরুকা বলে। শিশু অবস্থায় মানুষের মেরুদণ্ডে মোট ৩৩টি কশেরুকা থাকে। এগুলো পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়: ঘাড়ে ৭টি, বুকে ১২টি, কোমরে ৫টি, স্যাক্রাম অঞ্চলে ৫টি এবং একেবারে নিচে কক্সিক্স অঞ্চলে ৪টি। বয়স বাড়ার সঙ্গে স্যাক্রামের ৫টি কশেরুকা জোড়া লেগে একটি হাড় হয়, আর কক্সিক্সের ৪টিও জুড়ে একটি হাড়ে পরিণত হয়। তাই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মেরুদণ্ডে আলাদাভাবে ২৬টি হাড় গোনা যায়।
    মনে রাখুন:
    মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড চলে গেছে।
    প্রথম কশেরুকাকে অ্যাটলাস বলে, এটি মাথার খুলিকে ধরে রাখে।
  372. ৪১৩. মানবদেহে মোট কশেরুকা কয়টি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (সিলেট বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ৩০টি
    • খ. ৩২টি
    • গ. ৩৩টি
    • ঘ. ৩৫টি
    উত্তর: গ. ৩৩টি
    আমাদের মেরুদণ্ড (Vertebral column) একটানা একটি হাড় নয়, এটি ছোট ছোট অনেকগুলো হাড় দিয়ে তৈরি, যাদের কশেরুকা বলে। মানুষের মেরুদণ্ডে মোট ৩৩টি কশেরুকা থাকে। এদের মাঝে নরম চাকতি থাকায় আমরা সামনে-পেছনে ঝুঁকতে ও ঘুরতে পারি, আর মেরুদণ্ডের ভেতরের নালির মধ্যে সুষুম্নাকাণ্ড সুরক্ষিত থাকে। বড় হওয়ার পর নিচের দিকের কয়েকটি কশেরুকা জোড়া লেগে যায়, তাই পূর্ণবয়স্ক মানুষে আলাদা হাড় হিসেবে গুনলে সংখ্যাটি ২৬টি দাঁড়ায়।
    মনে রাখুন:
    গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা ৭টি।
    বক্ষদেশীয় কশেরুকা ১২টি।
    কটিদেশীয় কশেরুকা ৫টি।
    স্যাক্রাল কশেরুকা ৫টি, যা জুড়ে একটি হাড় হয়।
    কক্সিজিয়াল কশেরুকা ৪টি।
  373. ৪১৪. কোন রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. এবি
    • খ. এ
    • গ. ও
    • ঘ. বি
    উত্তর: ক. এবি
    রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসে থাকা অ্যান্টিবডির ওপর। এবি (AB) গ্রুপের লোহিত কণিকায় A ও B দুই ধরনের অ্যান্টিজেনই থাকে, কিন্তু রক্তরসে A বা B-এর বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। তাই অন্য যেকোনো গ্রুপের রক্ত দিলে এবি গ্রুপের দেহে তা জমাট বাঁধে না, আর এ কারণে এবি গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (Universal recipient) বলা হয়। উল্টো দিকে ও (O) গ্রুপের লোহিত কণিকায় কোনো অ্যান্টিজেন নেই, তাই এটি সবাইকে দেওয়া যায় এবং একে সর্বজনীন দাতা বলে।
    মনে রাখুন:
    রক্তের ABO গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
    রক্ত দেওয়ার আগে Rh ফ্যাক্টরও মিলিয়ে নিতে হয়।
  374. ৪১৫. করোটিতে কতগুলো অস্থি থাকে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (বুড়িগঙ্গা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ২৭
    • খ. ২৮
    • গ. ২৯
    • ঘ. ৩০
    উত্তর: গ. ২৯
    মাথার খুলিকে করোটি (Skull) বলে। করোটির হাড়গুলো মস্তিষ্ককে ঘিরে রাখে এবং মুখমণ্ডলের কাঠামো তৈরি করে। প্রচলিত হিসাবে করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি ধরা হয়। এর মধ্যে মস্তিষ্ককে ঘিরে রাখা অংশে ৮টি এবং মুখমণ্ডলে ১৪টি হাড় থাকে। এর সঙ্গে দুই কানের ভেতরের ৬টি ক্ষুদ্র অস্থি এবং গলার কাছের ১টি হাইঅয়েড অস্থি যোগ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯। করোটির হাড়গুলোর মধ্যে কেবল নিচের চোয়ালের হাড়টি নড়াচড়া করতে পারে, বাকিগুলো খাঁজে খাঁজে শক্তভাবে আটকে থাকে।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে ছোট অস্থি কানের স্টেপিস।
    দেহের সবচেয়ে বড় অস্থি ঊরুর ফিমার।
    মস্তিষ্ককে ঘিরে রাখা হাড়ের খোলসকে ক্রেনিয়াম বলে।
  375. ৪১৬. জীবদেহের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কোথায় সঞ্চিত থাকে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (দানিয়ুব), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ যকৃৎ
    • ক. প্লীহা
    • খ. যকৃত
    • গ. অগ্ন্যাশয়
    • ঘ. পিত্তথলি
    উত্তর: খ. যকৃত
    খাবার হজম হয়ে যে গ্লুকোজ রক্তে আসে, তার সবটুকু তখনই দরকার হয় না। ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃৎ (Liver) অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন নামের জটিল শর্করায় রূপান্তর করে জমা রাখে। পেশিতেও কিছু গ্লাইকোজেন জমা থাকে। পরে উপোস থাকলে বা রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোনের সংকেতে যকৃৎ জমানো গ্লাইকোজেন ভেঙে আবার গ্লুকোজ রক্তে ছেড়ে দেয়। এভাবে যকৃৎ রক্তে শর্করার মাত্রা মোটামুটি স্থির রাখে। গ্লাইকোজেনের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়তি শর্করা থাকলে তা চর্বিতে পরিণত হয়ে দেহে জমে।
    মনে রাখুন:
    যকৃৎ দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
    যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে, আর পিত্তথলি তা জমা রাখে।
    ইনসুলিন ও গ্লুকাগন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ে।
  376. ৪১৭. দুধ দাঁতের সংখ্যা-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দাঁত
    • ক. ২০টি
    • খ. ২৪টি
    • গ. ২৮টি
    • ঘ. ১৬টি
    উত্তর: ক. ২০টি
    শিশুর মুখে প্রথম যে দাঁতগুলো ওঠে, সেগুলোকে দুধ দাঁত বা অস্থায়ী দাঁত (Milk teeth) বলে। সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে দুধ দাঁত উঠতে শুরু করে এবং আড়াই থেকে ৩ বছরের মধ্যে মোট ২০টি দাঁত ওঠা শেষ হয়। ওপরের ও নিচের চোয়ালে ১০টি করে দাঁত থাকে। দুধ দাঁতে কোনো প্রিমোলার থাকে না। প্রায় ৬ বছর বয়স থেকে দুধ দাঁত একে একে পড়ে গিয়ে সেখানে স্থায়ী দাঁত ওঠে।
    মনে রাখুন:
    পূর্ণবয়স্ক মানুষের স্থায়ী দাঁত ৩২টি।
    স্থায়ী দাঁতের মধ্যে কর্তন দাঁত ৮টি, ছেদন দাঁত ৪টি, প্রিমোলার ৮টি ও মোলার ১২টি।
    সবশেষে ওঠা চারটি মোলারকে আক্কেল দাঁত বলে।
    দাঁতের এনামেল দেহের সবচেয়ে শক্ত পদার্থ।
  377. ৪১৮. মানুষের রক্তে কত ধরনের রক্ত কণিকা আছে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. ৪ প্রকার
    • খ. ২ প্রকার
    • গ. ৩ প্রকার
    • ঘ. ৫ প্রকার
    উত্তর: গ. ৩ প্রকার
    রক্তের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে, আর এর মধ্যে ভেসে থাকে কঠিন অংশ রক্তকণিকা (Blood cells)। মানুষের রক্তে তিন ধরনের রক্তকণিকা থাকে। লোহিত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে দেহের সব কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগ থেকে রক্ষা করে। আর অণুচক্রিকা কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    পূর্ণবয়স্ক মানুষের লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
    রক্তকণিকা তৈরি হয় লাল অস্থিমজ্জায়।
    রক্তের প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস।
  378. ৪১৯. একজন সাধারণ মানুষের দেহে মোট কতটি হাড় থাকে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (মিসিসিপি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. 106
    • খ. 206
    • গ. 306
    • ঘ. 406
    উত্তর: খ. 206
    একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের কঙ্কাল (Skeleton) মোট ২০৬টি হাড় দিয়ে তৈরি। মজার ব্যাপার হলো, নবজাতক শিশুর দেহে হাড় থাকে প্রায় ৩০০টি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করোটি, মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও শ্রোণির কয়েকটি হাড় একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া লেগে যায়, তাই হাড়ের সংখ্যা কমে ২০৬টিতে দাঁড়ায়। কঙ্কাল দেহকে নির্দিষ্ট আকার দেয়, মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের মতো নরম অঙ্গকে রক্ষা করে এবং পেশির সঙ্গে মিলে চলাফেরায় সাহায্য করে। হাড়ের ভেতরের লাল অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকাও তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    দেহের সবচেয়ে বড় ও লম্বা হাড় ঊরুর ফিমার।
    সবচেয়ে ছোট হাড় মধ্যকর্ণের স্টেপিস।
    হাড়ের প্রধান খনিজ উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেট।
  379. ৪২০. মানুষের রক্তকে কয়টি গ্রুপে ভাগ করা যায়?সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, উচ্চমান সহকারী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. ৬
    • খ. ৫
    • গ. ৪
    • ঘ. ৩
    উত্তর: গ. ৪
    ১৯০১ সালে অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার (Karl Landsteiner) লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে মানুষের রক্তকে ভাগ করেন। লোহিত কণিকায় A অ্যান্টিজেন থাকলে রক্তের গ্রুপ A, B থাকলে B, দুটোই থাকলে AB আর কোনোটিই না থাকলে O হয়। এই ABO পদ্ধতিতে মানুষের রক্ত চারটি গ্রুপে ভাগ করা যায়। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৩০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান, আর এর ফলে নিরাপদে রক্ত দেওয়া-নেওয়া সম্ভব হয়।
    মনে রাখুন:
    O গ্রুপের মানুষকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।
    AB গ্রুপের মানুষকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
    রক্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো Rh ফ্যাক্টর।
  380. ৪২১. নিচের কোন অঙ্গটির গঠনতন্ত্রের একক হচ্ছে অ্যালভিওলাই-বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসনতন্ত্র
    • ক. রেচনতন্ত্র
    • খ. কঙ্কালতন্ত্র
    • গ. যকৃত
    • ঘ. ফুসফুস
    উত্তর: ঘ. ফুসফুস
    ফুসফুসের (Lung) ভেতরে শ্বাসনালি ভাগ হতে হতে অসংখ্য সূক্ষ্ম নালিতে পরিণত হয়, আর প্রতিটি নালির শেষে আঙুরের থোকার মতো ছোট ছোট বায়ুথলি থাকে। এই বায়ুথলিগুলোকে অ্যালভিওলাই (Alveoli) বলে, আর এরাই ফুসফুসের গঠন ও কাজের একক। প্রতিটি অ্যালভিওলাসের পাতলা প্রাচীর ঘিরে থাকে অসংখ্য রক্তজালিকা। এখানে বাতাসের অক্সিজেন রক্তে ঢোকে এবং রক্তের কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে বেরিয়ে আসে। অ্যালভিওলাইয়ের মোট তল অনেক বড়, তাই খুব দ্রুত গ্যাস বিনিময় হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    মানুষের দুটি ফুসফুসে প্রায় ৩০ কোটি অ্যালভিওলাই থাকে।
    বৃক্কের গঠন ও কাজের একক নেফ্রন।
    যকৃতের গঠনের একক লোবিউল।
  381. ৪২২. রক্তে কোলেস্টেরল উপকারী, যদি রক্তে বেশি থাকে -বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. LDL
    • খ. HDL
    • গ. উভয়টি (ক+খ)
    • ঘ. TG
    উত্তর: খ. HDL
    কোলেস্টেরল রক্তে একা চলতে পারে না, তাই এটি প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লাইপোপ্রোটিন হিসেবে চলাচল করে। এদের মধ্যে HDL (High Density Lipoprotein) দেহের বিভিন্ন অংশ ও রক্তনালি থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে যকৃতে ফিরিয়ে নেয়, আর যকৃত তা দেহ থেকে বের করে দেয়। এজন্য রক্তে HDL বেশি থাকা উপকারী, আর একে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। অন্যদিকে LDL বেশি হলে তা ধমনির প্রাচীরে জমে নালি সরু করে দেয় এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই LDL-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলে।
    মনে রাখুন:
    TG বা ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকাও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
    নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে HDL বাড়াতে সাহায্য করে।
  382. ৪২৩. Who discovered the blood circulation process of the human body?সম্মিলিত ৫ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্যাশ (৬ নভেম্বর), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত সংবহন
    • ক. Karl Landsteiner
    • খ. Jan Swammerdam
    • গ. Giulio Bizzozero
    • ঘ. William Harvey
    উত্তর: ঘ. William Harvey
    ইংরেজ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে (William Harvey) ১৬২৮ সালে প্রথম সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেন যে হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো কাজ করে রক্তকে ধমনির মাধ্যমে সারা দেহে পাঠায়। সেই রক্ত শিরার মাধ্যমে আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। অর্থাৎ রক্ত একটি বদ্ধ পথে বারবার ঘুরে বেড়ায়, এই প্রক্রিয়াকে রক্ত সংবহন বলে। তাঁর আগে অনেকে মনে করতেন যকৃতে প্রতিদিন নতুন রক্ত তৈরি হয় এবং দেহে খরচ হয়ে যায়। হার্ভের এই আবিষ্কার আধুনিক শারীরবিদ্যার ভিত্তি গড়ে দেয়।
    মনে রাখুন:
    কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার: রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার।
    জিউলিও বিজোজেরো: অণুচক্রিকার ভূমিকা।
    ইয়ান সোয়ামারডাম: লোহিত রক্তকণিকা প্রথম দেখেন।
  383. ৪২৪. Which blood group is called universal donor?সম্মিলিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (জেনারেল), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. AB Positive
    • খ. A Positive
    • গ. B Negative
    • ঘ. O Negative
    উত্তর: ঘ. O Negative
    রক্ত দেওয়ার সময় দাতার লোহিত কণিকায় থাকা অ্যান্টিজেনই গ্রহীতার দেহে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। O নেগেটিভ গ্রুপের লোহিত কণিকায় A অ্যান্টিজেন নেই, B অ্যান্টিজেন নেই, আবার Rh অ্যান্টিজেনও নেই। তাই জরুরি অবস্থায় এই রক্ত প্রায় যেকোনো গ্রুপের মানুষকে দেওয়া যায়, আর এজন্য O নেগেটিভকে সর্বজনীন দাতা (Universal donor) বলে। অন্যদিকে AB পজিটিভ গ্রুপের রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই এরা সব গ্রুপের রক্ত নিতে পারে এবং এদের সর্বজনীন গ্রহীতা বলে। রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
    মনে রাখুন:
    সর্বজনীন দাতা: O নেগেটিভ।
    সর্বজনীন গ্রহীতা: AB পজিটিভ।
    বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় B পজিটিভ গ্রুপ।
  384. ৪২৫. রক্তের হিমোগ্লোবিন হলো একটি-সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. চর্বি
    • খ. এন্টিজেন
    • গ. প্লাটিলেট
    • ঘ. আমিষ
    উত্তর: ঘ. আমিষ
    হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) হলো লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে থাকা লৌহযুক্ত একটি প্রোটিন বা আমিষ। এর দুটি অংশ আছে। হিম নামের অংশে লৌহ থাকে, আর গ্লোবিন নামের অংশটি একটি প্রোটিন। ফুসফুসে হিমোগ্লোবিনের লৌহ অক্সিজেনের সঙ্গে আলগাভাবে যুক্ত হয় এবং রক্তের মাধ্যমে সেই অক্সিজেন দেহের সব কোষে পৌঁছে দেয়। হিমোগ্লোবিনের জন্যই রক্তের রং লাল। দেহে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হয়। তাই রক্তশূন্যতা দূর করতে লৌহসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।
    মনে রাখুন:
    সুস্থ পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন প্রায় ১৩ থেকে ১৭ গ্রাম/ডেসিলিটার।
    অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  385. ৪২৬. স্পাইনাল নার্ভ কয় জোড়া?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নায়ুতন্ত্র
    • ক. ৩০ জোড়া
    • খ. ৩১ জোড়া
    • গ. ৩২ জোড়া
    • ঘ. ৩৫ জোড়া
    উত্তর: খ. ৩১ জোড়া
    মানুষের মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যে লম্বা স্নায়ুরজ্জু নিচে নেমে গেছে, তাকে সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড বলে। এই সুষুম্নাকাণ্ড থেকে দুই পাশে জোড়ায় জোড়ায় মোট ৩১ জোড়া স্নায়ু বের হয়, এদের স্পাইনাল নার্ভ (Spinal nerve) বা সুষুম্না স্নায়ু বলে। এরা হাত, পা ও দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায় এবং মস্তিষ্কের নির্দেশ পেশিতে পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি বের হয় ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু। তাই মানবদেহে মোট স্নায়ু জোড়া ৪৩টি।
    মনে রাখুন:
    ৩১ জোড়া: ৮ জোড়া গ্রীবা, ১২ জোড়া বক্ষ, ৫ জোড়া কটি, ৫ জোড়া স্যাক্রাল ও ১ জোড়া কক্সিজিয়াল।
    স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক নিউরন।
  386. ৪২৭. জারক রস বলতে কি বুঝায়?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিপাক
    • ক. অম্ল
    • খ. প্রোটিন
    • গ. অনুঘটক
    • ঘ. নিউক্লীয় প্রোটিন
    উত্তর: গ. অনুঘটক
    আমাদের দেহে খাবার ভাঙা থেকে শুরু করে প্রায় সব রাসায়নিক বিক্রিয়া খুব দ্রুত ঘটে। এই দ্রুততার পেছনে কাজ করে জারক রস বা এনজাইম (Enzyme)। এনজাইম বিক্রিয়ার গতি অনেক বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থেকে যায়। অনুঘটকের ঠিক এই বৈশিষ্ট্যই থাকে, আর এনজাইম জীবদেহে তৈরি হয়। তাই জারক রসকে জৈব অনুঘটক বলা হয়। গঠনের দিক থেকে বেশির ভাগ এনজাইম প্রোটিন, তবে প্রশ্নে জারক রস দিয়ে কী বোঝায় জানতে চাওয়া হয়েছে, আর তার উত্তর অনুঘটক।
    মনে রাখুন:
    টায়ালিন: শ্বেতসারকে মলটোজে ভাঙে, থাকে লালায়।
    পেপসিন: আমিষ ভাঙে, থাকে পাকস্থলীতে।
    লাইপেজ: স্নেহ পদার্থ ভাঙে।
  387. ৪২৮. মানব দেহের রক্তের গ্রুপিংয়ের জন্য দায়ী হচ্ছে:জীবন বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. লোহিত রক্ত কণিকা
    • খ. বিলিভার্ডিন
    • গ. এন্টিবডি
    • ঘ. অ্যান্টিজেন
    উত্তর: ঘ. অ্যান্টিজেন
    রক্তের গ্রুপ ঠিক হয় লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন (Antigen) দিয়ে। কোনো মানুষের লোহিত কণিকায় A অ্যান্টিজেন থাকলে তার গ্রুপ A, B থাকলে B, দুটোই থাকলে AB আর কোনোটিই না থাকলে O হয়। অন্যদিকে রক্তরসে থাকা অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীতে কাজ করে, তাই ভুল গ্রুপের রক্ত দিলে রক্ত জমাট বেঁধে বিপদ ঘটে। এই ABO পদ্ধতি আবিষ্কার করেন অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার, ১৯০১ সালে।
    মনে রাখুন:
    রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
    Rh ফ্যাক্টর নামের আরেকটি অ্যান্টিজেন থাকলে রক্ত পজিটিভ, না থাকলে নেগেটিভ হয়।
    বিলিভার্ডিন হলো পিত্তরসের একটি রঞ্জক, রক্তের গ্রুপের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
  388. ৪২৯. মানবদেহে কতটি হাড় থাকে?জীবন বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কঙ্কালতন্ত্র
    • ক. ২০৬
    • খ. ৩০০
    • গ. ৩১০
    • ঘ. ২১০
    উত্তর: ক. ২০৬
    একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে মোট ২০৬টি হাড় থাকে। নবজাতক শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি, প্রায় ৩০০টি। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার খুলি, মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও শ্রোণিচক্রের কিছু হাড় একসঙ্গে জোড়া লেগে যায়, তাই বড়দের হাড়ের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২০৬টিতে। এই হাড়গুলো মিলে দেহের কাঠামো বা কঙ্কাল (Skeleton) তৈরি করে, যা দেহকে আকার দেয় এবং ভেতরের অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে।
    মনে রাখুন:
    দেহের দীর্ঘতম হাড় ফিমার (উরুর হাড়)।
    দেহের ক্ষুদ্রতম হাড় স্টেপিস, যা মধ্যকর্ণে থাকে।
    মানুষের মেরুদণ্ডে ৩৩টি কশেরুকা থাকে।
  389. ৪৩০. In which organ of the body is insulin produced?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Liver
    • খ. Pancreas
    • গ. Brain
    • ঘ. Kidney
    উত্তর: খ. Pancreas
    ইনসুলিন (Insulin) তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসে। অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছের বিটা কোষ এই হরমোন তৈরি করে। খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গেলে ইনসুলিন সেই গ্লুকোজকে দেহকোষে ঢুকতে সাহায্য করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে আসে। ইনসুলিন কম তৈরি হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
    মনে রাখুন:
    অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ গ্লুকাগন তৈরি করে, যা রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়।
    অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
    ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক বান্টিং ও চার্লস বেস্ট, ১৯২১ সালে।
  390. ৪৩১. Insulin is secreted inরাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হরমোন
    • ক. Pituitary
    • খ. Liver
    • গ. Kidney
    • ঘ. Pancreas
    উত্তর: ঘ. Pancreas
    ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস থেকে। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের ছোট ছোট কোষগুচ্ছের বিটা কোষ এই হরমোন তৈরি করে সরাসরি রক্তে ছেড়ে দেয়। ইনসুলিন রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজকে দেহকোষে পাঠায় এবং বাড়তি অংশ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখতে সাহায্য করে। এভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। অন্যদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে আসে বৃদ্ধি হরমোন।
    মনে রাখুন:
    পিটুইটারিকে প্রভু গ্রন্থি (Master Gland) বলা হয়।
    দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি যকৃৎ।
    ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস হয়।
    ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস।
    যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
  391. ৪৩২. What is the main function of White Blood Cells (WBC)?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্ত
    • ক. To carry nutrients
    • খ. To combat infections
    • গ. To carry oxygen
    • ঘ. To give strength
    উত্তর: খ. To combat infections
    শ্বেত রক্তকণিকার (White Blood Cell) প্রধান কাজ জীবাণুর সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করা। কিছু শ্বেত কণিকা, যেমন নিউট্রোফিল ও মনোসাইট, জীবাণুকে গিলে খেয়ে ধ্বংস করে, একে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। আবার লিম্ফোসাইট নামের শ্বেত কণিকা অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে। এ কারণে শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সৈনিক বলা হয়। অন্যদিকে অক্সিজেন বহনের কাজ করে লোহিত রক্তকণিকা।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে।
    অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    শ্বেত কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসার হতে পারে।
  392. ৪৩৩. A universal donor is a person having blood group of.সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রক্তের গ্রুপ
    • ক. A
    • খ. B
    • গ. O
    • ঘ. AB
    উত্তর: গ. O
    O গ্রুপের রক্তের মানুষকে সর্বজনীন দাতা (Universal Donor) বলা হয়। O গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকার গায়ে A বা B কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না। তাই এ রক্ত অন্য যেকোনো গ্রুপের মানুষকে দিলে গ্রহীতার রক্তরসের অ্যান্টিবডি একে চিনতে পারে না, ফলে রক্ত দলা পাকিয়ে জমাট বাঁধে না। অন্যদিকে AB গ্রুপের রক্তরসে A বা B কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই AB গ্রুপের মানুষ সব গ্রুপের রক্ত নিতে পারে।
    মনে রাখুন:
    AB গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
    O নেগেটিভ রক্তই প্রকৃত সর্বজনীন দাতা।
    রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।

অন্যান্য অধ্যায়

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন