বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৮। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৯৭টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (১৪)
- ১. জীববিজ্ঞানে কী ধরনের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োইনফরমেটিক্স
- ক. বায়োইনফরমেটিক্স
- খ. বায়োমেট্রিক্স
- গ. বায়োকেমিস্ট্রি
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. বায়োইনফরমেটিক্স
জীববিজ্ঞানে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের শাখার নাম বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics)। এখানে DNA ও প্রোটিনের ক্রম, জিনের তথ্য ও জীবের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও তুলনা করা হয়। মানব জিনোম প্রকল্পের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ বায়োইনফরমেটিক্স ছাড়া সম্ভব হতো না। অন্য দুটি শব্দের অর্থ আলাদা। বায়োমেট্রিক্স (Biometrics) আঙুলের ছাপ, চোখের মণি বা মুখের গঠন দিয়ে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে, আর বায়োকেমিস্ট্রি জীবদেহের রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। জিন প্রযুক্তি, ওষুধ আবিষ্কার ও রোগের কারণ খোঁজার কাজেও এই শাখা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: BLAST সফটওয়্যার দিয়ে অজানা জিনের ক্রম ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। - ২. মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা –৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ৪৪ টি
- খ. ৪২ টি
- গ. ৪৬ টি
- ঘ. ৪৮ টি
উত্তর: গ. ৪৬ টি
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ২৩ জোড়া, অর্থাৎ মোট ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোজোম, যারা দেহ গঠন নিয়ন্ত্রণ করে, আর ১ জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোসোম। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোসোম XX এবং পুরুষের XY। জনন কোষে, অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে, ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে ২৩টি থাকে। মানুষের পুরো ক্রোমোসোম সেট ছবিতে সাজিয়ে দেখানোকে ক্যারিওটাইপ বলে। এই ছবিতে ক্রোমোসোমের সংখ্যা বা গঠনের ত্রুটি ধরা পড়ে।
মনে রাখুন:
দেহকোষে ক্রোমোসোমের এই সংখ্যাকে ডিপ্লয়েড (2n) এবং জনন কোষে অর্ধেক সংখ্যাকে হ্যাপ্লয়েড (n) বলে।
২১ নম্বর ক্রোমোসোম একটি বেশি থাকলে ডাউন সিনড্রোম হয়। - ৩. ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর জনক কে?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএ
- ক. স্যাংগার ও পলিং
- খ. ওয়াটসন ও ক্রিক
- গ. লুই পাস্তুর ও ওয়াটসন
- ঘ. পলিং ও ক্রিক
উত্তর: খ. ওয়াটসন ও ক্রিক
১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ডিএনএ-র দ্বি-হেলিক্স (Double Helix) কাঠামোর মডেল প্রস্তাব করেন। এই মডেলে দুটি লম্বা শিকল পরস্পরকে প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো জড়িয়ে থাকে। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৬২ সালে তাঁরা মরিস উইলকিন্সের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার পান। রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের তোলা এক্স-রে ছবি এই মডেল তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ডিএনএ-র দুই শিকলের ভেতরের দিকে ক্ষারকগুলো হাইড্রোজেন বন্ধনে আটকে থাকে। এই বন্ধনের কারণেই দুই শিকল একসঙ্গে থেকে সিঁড়ির ধাপের মতো দেখায়।
মনে রাখুন:
ডিএনএ-র ক্ষারকগুলো জোড়া বাঁধে এভাবে, অ্যাডেনিন-থাইমিন ও গুয়ানিন-সাইটোসিন।
লুই পাস্তুর জীবাণুতত্ত্ব ও টিকার জন্য বিখ্যাত। - ৪. মানব দেহে সাধারণভাবে ক্রোমোজোম থাকে-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ২৫ জোড়া
- খ. ২৪ জোড়া
- গ. ২৩ জোড়া
- ঘ. ২০ জোড়া
উত্তর: গ. ২৩ জোড়া
মানুষের দেহকোষে মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম বা দেহ ক্রোমোজোম, আর বাকি এক জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোজোম। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম XX এবং পুরুষের XY। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে ২৩টি থাকে। ক্রোমোজোমের ওপরেই জিন থাকে। ক্রোমোজোম DNA ও হিস্টোন নামের প্রোটিন দিয়ে গঠিত। নারী ও পুরুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান, শুধু লিঙ্গ ক্রোমোজোম আলাদা।
মনে রাখুন:
২১ নম্বর ক্রোমোজোম একটি বেশি থাকলে ডাউন সিনড্রোম হয়।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ হয় পুরুষের শুক্রাণু X না Y বহন করছে তার ওপর। - ৫. নিচের কোনটি DNA-এর নাইট্রোজেন বেস?২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএ
- ক. ইউরাসিল
- খ. গোয়ানিন
- গ. পিরিডক্সিন
- ঘ. অ্যাসপারাজিন
উত্তর: খ. গোয়ানিন
DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস (Nitrogenous base) থাকে। এগুলো হলো অ্যাডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T)। তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে গুয়ানিনই DNA-র বেস। ইউরাসিল থাকে RNA-তে, থাইমিনের জায়গায়। আর পিরিডক্সিন হলো ভিটামিন বি-৬ এবং অ্যাসপারাজিন একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। DNA-তে শর্করা হলো ডিঅক্সিরাইবোজ, আর RNA-তে রাইবোজ। DNA-র একক নিউক্লিওটাইড, যাতে একটি ফসফেট, একটি শর্করা ও একটি নাইট্রোজেন বেস থাকে।
মনে রাখুন:
DNA-তে অ্যাডেনিন সবসময় থাইমিনের সঙ্গে এবং গুয়ানিন সাইটোসিনের সঙ্গে জোড় বাঁধে।
RNA-র চার বেস হলো অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল। - ৬. Adult Cell- ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-১৮তম ও ২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. শেলী
- খ. ডলি
- গ. মলি
- ঘ. নেলী
উত্তর: খ. ডলি
১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের রোজলিন ইনস্টিটিউটে পূর্ণবয়স্ক ভেড়ার একটি দেহকোষ থেকে প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী ক্লোন করা হয়, আর সেই ভেড়ার নাম ডলি। ইয়ান উইলমুটের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা এই কাজ করেন। ক্লোন মানে মূল প্রাণীর সঙ্গে হুবহু একই জিনবিশিষ্ট প্রাণী। পূর্ণবয়স্ক কোষের নিউক্লিয়াস একটি ডিম্বাণুতে বসিয়ে ডলিকে তৈরি করা হয়। ডলি সাধারণ ভেড়ার তুলনায় আগেভাগে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগেছিল, তাই ক্লোনিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
মনে রাখুন:
ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই, আর খবরটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে।
ডলি ২০০৩ সালে মারা যায়। - ৭. প্রথম ক্লোন শিশু ‘ইভ’ – এর জন্ম তারিখ কত?২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. নভেম্বর ২০, ২০০২
- খ. ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
- গ. জানুয়ারি ৭, ২০০৩
- ঘ. মার্চ ২৩, ২০০৩
উত্তর: খ. ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ক্লোনএইড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করে যে প্রথম ক্লোন করা মানবশিশুর জন্ম হয়েছে, আর তার নাম দেওয়া হয়েছে ইভ। এই ঘোষণার তারিখই প্রশ্নের উত্তর। তবে এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ক্লোনিং হলো কোনো জীবের জিনগতভাবে হুবহু একই রকম আরেকটি জীব তৈরি করা। মানুষের ক্লোনিং নৈতিক কারণে অনেক দেশে নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
মনে রাখুন:
বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলি নামের ভেড়া, যার জন্ম ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের রোজলিন ইনস্টিটিউটে।
ডলির স্রষ্টা বিজ্ঞানীদের একজন ইয়ান উইলমুট। - ৮. ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কী?১৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. নেনী
- খ. টর্মি
- গ. শেলী
- ঘ. ডলি
উত্তর: ঘ. ডলি
ক্লোনিং (Cloning) পদ্ধতিতে জন্মানো বিখ্যাত ভেড়ার নাম ডলি (Dolly)। ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার রোজলিন ইনস্টিটিউটে বিজ্ঞানীরা একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভেড়ার স্তনগ্রন্থির কোষ থেকে নিউক্লিয়াস নিয়ে অন্য একটি ভেড়ার নিষিক্ত ডিম্বাণুতে বসান, যার নিজের নিউক্লিয়াস সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এভাবেই জন্ম নেয় ডলি। এটি প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর দেহকোষ থেকে তৈরি প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী। ডলি তার মূল ভেড়ার হুবহু জিনগত প্রতিলিপি ছিল।
মনে রাখুন: ডলির জন্মের খবর প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে, আর ২০০৩ সালে সে মারা যায়। - ৯. ‘Adult Cell’ ক্লোন করে কোন দেশে একটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে –১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. যুক্তরাজ্যে
- খ. যুক্তরাষ্ট্রে
- গ. অস্ট্রোলিয়ায়
- ঘ. ফ্রান্সে
উত্তর: ক. যুক্তরাজ্যে
ডলি ভেড়ার জন্ম হয় যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডে, এডিনবরার কাছে রোজলিন ইনস্টিটিউটে। ইয়ান উইলমুট ও কিথ ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বে একটি দল পূর্ণবয়স্ক ভেড়ার দেহকোষ থেকে এই ক্লোনিং করে। তাই সঠিক উত্তর যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা ফ্রান্সের সঙ্গে এই কাজের সম্পর্ক নেই। ক্লোনিংয়ের এই পদ্ধতির নাম সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার। এতে একটি ভেড়ার ডিম্বাণু থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে সেখানে অন্য ভেড়ার দেহকোষের নিউক্লিয়াস বসানো হয়, তারপর সেটি পালক-মায়ের জরায়ুতে বড় হয়।
মনে রাখুন:
ক্লোন হলো কোনো জীবের জিনগতভাবে অবিকল প্রতিলিপি।
ডলি ছিল প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী। - ১০. প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বংশসম্মন্ধীয় বিদ্যাকে বলে - -৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতিবিদ্যা
- ক. বায়োলজী
- খ. জুওলজী
- গ. জেনেটিক
- ঘ. ইভোলিউশন
উত্তর: গ. জেনেটিক
জীবের বৈশিষ্ট্য কীভাবে বংশপরম্পরায় একজনের কাছ থেকে আরেকজনে যায়, সেই আলোচনার বিজ্ঞানকে বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics) বলে। প্রশ্নে বংশ-সম্পর্কিত বিদ্যার কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর জেনেটিক্স। বায়োলজি জীবের সামগ্রিক অধ্যয়ন, জুওলজি শুধু প্রাণীর অধ্যয়ন, আর ইভোলিউশন জীবের ক্রমবিবর্তনের আলোচনা। এই বিদ্যায় জিন, ক্রোমোসোম ও DNA নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন মা-বাবার চোখের রং বা উচ্চতার মতো বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে কীভাবে আসে, তা বংশগতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। এই বিদ্যা কৃষিতে উন্নত জাত তৈরিতেও কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
বংশগতিবিদ্যার জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।
ক্রমবিবর্তনের মূল তত্ত্ব দিয়েছেন চার্লস ডারউইন। - ১১. প্রাণী জগতের উৎপত্তি ও বংশ সম্বন্ধীয় বিদ্যাকে বলে-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতিবিদ্যা
- ক. জুওলজী
- খ. বায়োলজী
- গ. ইভোলিউশন
- ঘ. জেনেটিক্স
উত্তর: ঘ. জেনেটিক্স
জেনেটিক্স (Genetics) বা বংশগতিবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে আলোচনা করা হয় জীবের বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যায়। প্রশ্নে প্রাণীর বংশ সম্পর্কিত বিদ্যার কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর জেনেটিক্স। জুওলজি হলো প্রাণীবিদ্যা, বায়োলজি হলো জীবনের সাধারণ বিজ্ঞান, আর ইভোলিউশন হলো জীবের ক্রমবিবর্তনের আলোচনা। জিন হলো ক্রোমোসোমের ওপর থাকা DNA-র সেই অংশ, যা কোনো একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
মনে রাখুন:
বংশগতিবিদ্যার জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল, যিনি মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণা করেন।
জেনেটিক্স শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন উইলিয়াম বেটসন। - ১২. ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈবপ্রযুক্তি ও ইস্ট
- ক. মদ্য শিল্পে
- খ. রুটি শিল্পে
- গ. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
- ঘ. এক কোষীয় প্রোটিন তৈরিতে
উত্তর: গ. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
ইস্ট (Yeast) এক ধরনের এককোষী ছত্রাক, যা চিনিকে গাঁজন (Fermentation) করে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। তাই মদ শিল্প ও রুটি শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয়, আর এককোষী প্রোটিন তৈরিতেও এটি কাজে লাগে। কিন্তু সাইট্রিক অ্যাসিড শিল্পে তৈরি হয় অ্যাসপারজিলাস নাইজার (Aspergillus niger) নামের আরেক ছত্রাক দিয়ে। তাই সাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদনে ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই। ইস্টের জাইমেজ নামের উৎসেচক চিনিকে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে ভাঙে। রুটির ময়দায় ইস্ট মেশালে কার্বন ডাই-অক্সাইড বুদবুদ তৈরি করে রুটি ফুলিয়ে দেয়।
মনে রাখুন: ইস্টের বৈজ্ঞানিক নাম স্যাকারোমাইসিস সেরেভিসিয়ে। - ১৩. মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?১১তম ও ১৯তম ও ২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ২৫ জোড়া
- খ. ২৬ জোড়া
- গ. ২৩ জোড়া
- ঘ. ২৪ জোড়া
উত্তর: গ. ২৩ জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম (Chromosome) থাকে, যা ২৩ জোড়ায় সাজানো। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম বা দেহ ক্রোমোজোম এবং ১ জোড়া লিঙ্গ-নির্ধারক ক্রোমোজোম। নারীর লিঙ্গ-ক্রোমোজোম XX এবং পুরুষের XY। সন্তানের দেহে অর্ধেক ক্রোমোজোম আসে মায়ের কাছ থেকে, আর বাকি অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে। ক্রোমোজোম গোনা হয় কোষ বিভাজনের সময়, যখন এগুলো সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। উত্তরাধিকার সূত্রে বৈশিষ্ট্য এভাবেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যায়।
মনে রাখুন:
জননকোষ, অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম থাকে ২৩টি।
ডাউন সিনড্রোমে ২১ নম্বর ক্রোমোজোম তিনটি থাকে। - ১৪. DNA অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর জনক কে?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএর গঠন
- ক. ওয়াটসন
- খ. ক্রিক
- গ. ডারউইন
- ঘ. ওয়াটসন এবং ক্রিক
উত্তর: ঘ. ওয়াটসন এবং ক্রিক
ডিএনএ (DNA) অণুর পেঁচানো সিঁড়ির মতো দ্বি-হেলিক্স (Double Helix) কাঠামোর মডেলটি ১৯৫৩ সালে প্রস্তাব করেন আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক। দুজনের যৌথ কাজ বলেই এই আবিষ্কারের কৃতিত্ব কোনো একজনকে দেওয়া যায় না। তাঁদের গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছিল ‘নেচার’ পত্রিকায়। মজার ব্যাপার হলো, এই ঘোষণা এসেছিল মাত্র একটি পৃষ্ঠার গবেষণাপত্রে। সেখানে তাঁরা লিখেছিলেন, ডিএনএর এই গঠন থেকেই বোঝা যায় কীভাবে জিনগত তথ্য নিজের অনুলিপি তৈরি করতে পারে।
এই মডেল তৈরিতে রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন ও মরিস উইলকিনসের তোলা ডিএনএর এক্স-রে ছবি বড় সাহায্য করেছিল।
চার্লস ডারউইন তাঁর বিবর্তন তত্ত্বের জন্য পরিচিত, ডিএনএর কাঠামোর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৮৩)
- ১৫. মানবদেহে কয় জোড়া AUTOSOME আছে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোসোম
- ক. ২২ জোড়া
- খ. ২৩ জোড়া
- গ. ২৬ জোড়া
- ঘ. ১ জোড়া
উত্তর: ক. ২২ জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ক্রোমোজোম থাকে ৪৬টি, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোজোম (Autosome), যারা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং নারী-পুরুষে একই রকম। বাকি ১ জোড়াকে সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ ক্রোমোজোম বলে, যা শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করে। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম XX, আর পুরুষের XY। তাই ২৩ জোড়ার সবগুলো অটোজোম নয়। অটোজোম দেহের গঠন, রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের জিন বহন করে, যা পিতামাতা উভয়ের কাছ থেকে সমানভাবে আসে।
মনে রাখুন:
জনন কোষ (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) তে ক্রোমোজোম থাকে ২৩টি।
শিশুর লিঙ্গ নির্ধারিত হয় পিতার শুক্রাণুর X বা Y ক্রোমোজোম থেকে। - ১৬. বংশগতি বিদ্যার জনক কে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতি
- ক. রাদারফোর্ড
- খ. মেন্ডেল
- গ. ডন লিউয়েন হুক
- ঘ. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
উত্তর: খ. মেন্ডেল
বংশগতি বা জিনতত্ত্ব (Genetics) হলো বংশ পরম্পরায় বৈশিষ্ট্য সঞ্চারের বিজ্ঞান। অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটরশুঁটি গাছ নিয়ে অনেক বছর পরীক্ষা করেন। সেই পরীক্ষার ফল থেকে তিনি বংশগতির মূল সূত্রগুলো প্রকাশ করেন ১৮৬৬ সালে। এ জন্য তাঁকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়। তাঁর কাজ প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেয়নি, পরে ১৯০০ সালে তিনজন বিজ্ঞানী তা নতুন করে আবিষ্কার করেন। অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন, আর রাদারফোর্ড পরমাণুর কেন্দ্রক আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।
মনে রাখুন:
মেন্ডেলের সূত্র দুটি: পৃথকীকরণ সূত্র ও স্বাধীন সঞ্চরণ সূত্র।
'জিন' শব্দটি প্রস্তাব করেন জোহানসেন। - ১৭. ক্রোমোসোমের গঠন কী?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোসোম
- ক. DNA
- খ. প্রোটিন
- গ. RNA
- ঘ. DNA এবং প্রোটিন
উত্তর: ঘ. DNA এবং প্রোটিন
আমাদের কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতার মতো ক্রোমোসোম (Chromosome) থাকে। এগুলো বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে। ক্রোমোসোমের মূল কাঠামো তৈরি হয় ডিএনএ (DNA) ও হিস্টোন নামের প্রোটিন দিয়ে। ডিএনএর লম্বা সুতা হিস্টোনের গায়ে প্যাঁচানো থাকে, ফলে এত লম্বা অণু সামান্য জায়গায় ধরে। শুধু ডিএনএ বা শুধু প্রোটিন দিয়ে ক্রোমোসোম গঠিত নয়, দুটোই লাগে। আরএনএও খুব অল্প পরিমাণে থাকে। ক্রোমোসোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান তাই ডিএনএ ও প্রোটিনের মিলিত রূপ।
মনে রাখুন:
মানুষের কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা ৪৬টি বা ২৩ জোড়া।
ডিএনএ–প্রোটিনের এই জটিল পদার্থকে ক্রোমাটিন বলে।
নিউক্লিওসোম হলো ডিএনএ ও হিস্টোনের মৌলিক একক। - ১৮. মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোসোম
- ক. ২৩
- খ. ৪৪
- গ. ৪৬
- ঘ. ৪৮
উত্তর: গ. ৪৬
আমাদের দেহের প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোম থাকে। মানুষের দেহকোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা ৪৬টি, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। এর অর্ধেক এসেছে মায়ের কাছ থেকে আর অর্ধেক বাবার কাছ থেকে। ২৩ জোড়ার মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম, যা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি এক জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোসোম। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোসোম XX এবং পুরুষের XY। ২৩ সংখ্যাটি জোড়ার সংখ্যা, মোট সংখ্যা নয়, তাই এটি সঠিক উত্তর নয়। কোনো ব্যক্তির ক্রোমোসোম সংখ্যা কম বা বেশি হলে নানা রকম জেনেটিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মনে রাখুন:
যৌনকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) ক্রোমোসোম সংখ্যা ২৩টি।
ডাউন সিনড্রোমে ২১ নম্বর ক্রোমোসোম তিনটি থাকে। - ১৯. মানুষের চোখের রং নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২২ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন
- ক. ডিএনএ
- খ. আরএনএ
- গ. নিউক্লিওলাস
- ঘ. সেন্ট্রোমিয়ার
উত্তর: ক. ডিএনএ
আমাদের চোখের রঙ কেমন হবে, তা ঠিক হয় বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিনের মাধ্যমে। জিন হলো ডিএনএ (DNA) অণুর নির্দিষ্ট অংশ, যাতে বংশগত তথ্য লেখা থাকে। চোখের মণির আইরিসে মেলানিন নামের রঞ্জক কতটা তৈরি হবে, তা এই জিনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। মেলানিন বেশি হলে চোখ কালো বা বাদামি, কম হলে নীল বা ধূসর দেখায়। আরএনএ ডিএনএর তথ্য নিয়ে প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, নিউক্লিওলাস রাইবোসোম তৈরি করে আর সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোসোমের দুই ক্রোমাটিডকে ধরে রাখে।
মনে রাখুন:
ডিএনএর গঠন দ্বি-হেলিক্স, আবিষ্কার করেন ওয়াটসন ও ক্রিক (১৯৫৩)।
ডিএনএ মূলত নিউক্লিয়াসে থাকে। - ২০. পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন–বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিনোম
- ক. ফরিদুল আলম
- খ. শহীদুল আলম
- গ. মাকসুদুল আলম
- ঘ. মিজানুর রহমান
উত্তর: গ. মাকসুদুল আলম
পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম। ২০১০ সালে তাঁর নেতৃত্বে একটি গবেষক দল দেশি পাটের (Corchorus olitorius) জিনোম বিন্যাস শনাক্ত করে। জিনোম হলো কোনো জীবের সব জিনের সমষ্টি। এই আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতে বেশি ফলনশীল ও রোগ-প্রতিরোধী পাটের জাত উদ্ভাবনের পথ খুলেছে। জিনোম জানা থাকলে বিজ্ঞানীরা পাটের আঁশের গুণ বাড়ানো এবং পাটের ক্ষতিকারক ছত্রাক দমনের উপায় খুঁজে পান।
মনে রাখুন:
ড. মাকসুদুল আলম এর আগে পেঁপে ও রাবারের জিনোমও উন্মোচন করেন।
পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের কাজে তাঁর সঙ্গে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা।
পাটকে বলা হয় সোনালি আঁশ। - ২১. Which one among the following is absent in 'RNA'?ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ RNA
- ক. Guanine
- খ. Uracil
- গ. Thymine
- ঘ. Cytosine
উত্তর: গ. Thymine
আমাদের কোষে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড আছে: DNA ও RNA। প্রতিটির নাইট্রোজেন বেস অর্থাৎ ক্ষারক চারটি। DNA-তে আছে অ্যাডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T)। RNA-তে থাইমিনের বদলে থাকে ইউরাসিল (U), বাকি তিনটি একই। তাই RNA-তে থাইমিন (Thymine) থাকে না। বেসগুলো জোড়া বাঁধে নির্দিষ্ট নিয়মে: DNA-তে A-T এবং G-C, আর RNA-তে A-U এবং G-C। নিউক্লিক এসিডের এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, থাইমিন কেবল DNA-র নিজস্ব বেস।
মনে রাখুন:
DNA-তে সুগার ডিঅক্সিরাইবোজ, RNA-তে রাইবোজ।
DNA সাধারণত দ্বিসূত্রক, RNA একসূত্রক।
DNA-এর দ্বিসূত্রক কুণ্ডলী মডেল দেন ওয়াটসন ও ক্রিক (১৯৫৩)। - ২২. 'সুপার বাগ' কী কাজে ব্যবহৃত হয়?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, নকশাকার (ড্রাফটসম্যান), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবপ্রযুক্তি
- ক. সমুদ্রের তেল উত্তোলনে
- খ. সমুদ্রের তেল অপসারণে
- গ. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে
- ঘ. সমুদ্রের সীমানা নির্ণয়ে
উত্তর: খ. সমুদ্রের তেল অপসারণে
সুপার বাগ (Superbug) হলো জেনেটিক প্রযুক্তিতে তৈরি এক বিশেষ ব্যাকটেরিয়া, যা সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল খেয়ে ফেলতে পারে। জাহাজডুবি বা তেল-কূপের দুর্ঘটনায় সমুদ্রে তেল ছড়ালে জলজ প্রাণী মারা যায় ও পরিবেশ নষ্ট হয়। সুপার বাগ সেই তেল ভেঙে ফেলে ক্ষতিহীন পদার্থে পরিণত করে, তাই এটি তেল অপসারণে কাজে লাগে। এটি তেল উত্তোলন, গভীরতা মাপা বা সীমানা নির্ণয়ের কোনো কাজে ব্যবহৃত হয় না।
মনে রাখুন:
সুপার বাগ তৈরি করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী আনন্দ মোহন চক্রবর্তী।
এটি ব্যাকটেরিয়া সুডোমোনাস প্রজাতির জিন পরিবর্তন করে তৈরি।
অণুজীব দিয়ে দূষণ পরিষ্কারকে জৈব প্রতিকার (Bioremediation) বলে। - ২৩. মানব জিন থাকে—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন
- ক. RNA-তে
- খ. RBC-তে
- গ. DNA-তে
- ঘ. সাইটোপ্লাজমে
উত্তর: গ. DNA-তে
জিন (Gene) হলো বংশগতির মৌলিক একক। জীবকোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে ক্রোমোজোম থাকে, আর ক্রোমোজোম গঠিত DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) দিয়ে। DNA-এর যে নির্দিষ্ট অংশ কোনো বৈশিষ্ট্যের তথ্য বহন করে, সেই অংশই জিন। অর্থাৎ মানুষের জিন DNA-তেই থাকে। RNA প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, আর RBC বা লোহিত রক্তকণিকার কাজ অক্সিজেন বহন। জিনের সংখ্যা মানুষের দেহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। মানব জিনোম প্রকল্প এই জিনগুলোর পুরো নকশা বের করে এবং ২০০৩ সালে তা সম্পূর্ণ হয়।
মনে রাখুন:
DNA-এর গঠন দ্বিসূত্রক প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো, যা ওয়াটসন ও ক্রিক ১৯৫৩ সালে প্রস্তাব করেন।
DNA-র ক্ষার চারটি: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
RNA-তে থায়ামিনের বদলে ইউরাসিল থাকে। - ২৪. জীবের বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. সাইটোপ্লাজম
- খ. ক্রোমোজোম
- গ. নিউক্লিয়াস
- ঘ. নিউক্লিওলাস
উত্তর: খ. ক্রোমোজোম
পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে যে বস্তুর মাধ্যমে বাহিত হয়, তাকে বংশগতীয় বস্তু বলে। এর প্রধান বাহক ক্রোমোজোম (Chromosome), যা নিউক্লিয়াসের ভেতর থাকে। ক্রোমোজোমে থাকা DNA-র নির্দিষ্ট অংশ জিন হিসেবে কাজ করে। জিনই জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। সাইটোপ্লাজম কোষের তরল অংশ, নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, আর নিউক্লিওলাস রাইবোজোম তৈরির জায়গা। তাই বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে ক্রোমোজোম। কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে, ফলে নতুন কোষও একই বংশগত তথ্য পায়। এভাবেই এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে বৈশিষ্ট্য যায়।
মনে রাখুন:
মানুষের কোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
বংশগতির জনক গ্রেগর মেন্ডেল।
ক্রোমোজোম শব্দের অর্থ রঙিন বস্তু। - ২৫. মানুষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ২০ জোড়া
- খ. ২২ জোড়া
- গ. ২৩ জোড়া
- ঘ. ২৮ জোড়া
উত্তর: গ. ২৩ জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষের নিউক্লিয়াসে মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। জোড়া ধরলে এই সংখ্যা ২৩ জোড়া। এদের মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম, যা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম। নারীর কোষে এই জোড়া XX এবং পুরুষের কোষে XY। এ কারণে ২৩ জোড়াই হলো সঠিক উত্তর। ক্রোমোজোমের সংখ্যা প্রজাতিভেদে আলাদা হয়। যেমন মাছির দেহকোষে ৮টি এবং ধানে ২৪টি ক্রোমোজোম থাকে। তাই এই সংখ্যা প্রজাতি চেনার একটি বৈশিষ্ট্য।
মনে রাখুন:
জনন কোষে (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক, ২৩টি।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে পিতার ক্রোমোজোম।
অটোসোম ৪৪টি। - ২৬. সন্তান ছেলে কি মেয়ে হবে নির্ভর করে—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. মহিলাদের ডিম্বাণুর ক্রোমোসোমের উপর
- খ. পুরুষদের শুক্রাণুর ক্রোমোসোমের উপর
- গ. উভয়ের ক্রোমোসোমের উপর
- ঘ. কোনটির উপর নয়
উত্তর: খ. পুরুষদের শুক্রাণুর ক্রোমোসোমের উপর
সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে, তা নির্ভর করে পিতার শুক্রাণুর ক্রোমোসোমের ওপর। মায়ের ডিম্বাণুতে সবসময় একটি X ক্রোমোসোম থাকে। কিন্তু শুক্রাণু X অথবা Y, যেকোনো একটি বহন করতে পারে। X শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে XX অর্থাৎ কন্যা হয়, আর Y শুক্রাণু নিষিক্ত করলে XY অর্থাৎ পুত্র হয়। তাই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই। অর্থাৎ ছেলে বা মেয়ে হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শুক্রাণু, ডিম্বাণু নয়।
মনে রাখুন:
মানুষের দেহকোষে মোট ক্রোমোসোম ২৩ জোড়া বা ৪৬টি।
এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোজোম আর ১ জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোসোম। - ২৭. Down syndrome হলো একটি—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগত রোগ
- ক. Genetic disorder
- খ. রক্তের সমস্যা
- গ. Thyroid জনিত সমস্যা
- ঘ. কিডনীর সমস্যা
উত্তর: ক. Genetic disorder
মানুষের কোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome) রোগে ২১ নম্বর ক্রোমোসোম দুটির বদলে তিনটি থাকে। তাই এটি একটি জিনগত রোগ (Genetic disorder)। আক্রান্ত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ধীরে হয়। সাধারণত মায়ের বয়স বেশি হলে এই রোগে আক্রান্ত শিশু জন্মানোর ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে, তবে এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়।
মনে রাখুন:
এই অবস্থাকে ট্রাইসোমি ২১ (Trisomy 21) বলা হয়।
ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির মোট ক্রোমোসোম ৪৭টি।
২১ মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস।
ডাউন সিনড্রোম প্রথম বর্ণনা করেন ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাংডন ডাউন।
ডাউন সিনড্রোমের শিশুদের চোখের গড়নে বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। - ২৮. DNA কী?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ DNA
- ক. ক্রোমোজোম
- খ. জাইগোট
- গ. নিউক্লিওপ্লাজম
- ঘ. নিউক্লিক এসিড
উত্তর: ঘ. নিউক্লিক এসিড
DNA-এর পূর্ণরূপ ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (Deoxyribonucleic Acid)। এটি এক ধরনের নিউক্লিক এসিড, যা জীবের বংশগতির তথ্য বহন করে। DNA কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকে, তাই এটি নিজে ক্রোমোজোম বা জাইগোট নয়। নিউক্লিওপ্লাজমও নিউক্লিয়াসের ভেতরের তরল পদার্থ, DNA নয়। DNA-এর তথ্য অনুযায়ী কোষে প্রোটিন তৈরি হয় এবং এভাবেই জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
মনে রাখুন:
নিউক্লিক এসিড দুই প্রকার, DNA ও RNA।
DNA-এর দ্বিসূত্রক পেঁচানো গঠনের মডেল ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক দেন।
জাইগোট হলো নিষিক্ত ডিম্বাণু, যা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে তৈরি হয়।
DNA-এর চারটি ক্ষারক হলো অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন। - ২৯. মানবদেহে ক্রোমোজোম সাধারণত কয় জোড়া থাকে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ২৩ জোড়া
- খ. ৪৬ জোড়া
- গ. ২১ জোড়া
- ঘ. ৪২ জোড়া
উত্তর: ক. ২৩ জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। এর ২২ জোড়া অটোজোম (দেহ গঠনের) এবং বাকি ১ জোড়া লিঙ্গ নির্ধারণকারী। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম XX আর পুরুষের XY। ৪৬ হলো মোট সংখ্যা, জোড়ার সংখ্যা নয়, তাই ৪৬ জোড়া ভুল।
মনে রাখুন:
জননকোষে (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) ক্রোমোজোম থাকে ২৩টি।
ক্রোমোজোম গঠিত হয় ডিএনএ ও প্রোটিন দিয়ে।
২১তম ক্রোমোজোম একটি বেশি থাকলে ডাউন সিনড্রোম হয়।
নিষিক্ত ডিম্বাণুতে ২৩টি ক্রোমোজোম আসে মায়ের কাছ থেকে এবং ২৩টি আসে বাবার কাছ থেকে।
ক্রোমোজোমের সংখ্যা প্রজাতিভেদে আলাদা, যেমন মটর গাছে ১৪টি। - ৩০. জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে বহন করে—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএ
- ক. ডি এন এ
- খ. আর এন এ
- গ. মাইটোকন্ড্রিয়া
- ঘ. নিউক্লিক এসিড
উত্তর: ক. ডি এন এ
জীবের দেহকোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম থাকে, আর ক্রোমোজোম গঠিত হয় ডিএনএ (DNA বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) দিয়ে। এই ডিএনএতে বংশগত বৈশিষ্ট্যের তথ্য জমা থাকে, আর প্রজননের সময় তা পিতামাতা থেকে সন্তানে যায়। তাই বংশগতির ধারক ও বাহক হলো ডিএনএ। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণু, আর নিউক্লিক অ্যাসিড একটি বৃহত্তর শ্রেণি, যার মধ্যে ডিএনএ ও আরএনএ দুটিই পড়ে, তাই নির্দিষ্ট উত্তর ডিএনএ।
মনে রাখুন:
কিছু ভাইরাসে ডিএনএর বদলে আরএনএ (RNA) এই কাজ করে।
ডিএনএ-র ছোট একটি অংশই জিন (Gene)।
১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক ডিএনএর দ্বিসূত্রক কুণ্ডলী গঠনের মডেল দেন। - ৩১. মানুষের শরীরে কতজোড়া ক্রোমোজোম আছে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ৬ জোড়া
- খ. ২৩ জোড়া
- গ. ৩৩ জোড়া
- ঘ. ৪৬ জোড়া
উত্তর: খ. ২৩ জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট 46টি ক্রোমোজোম থাকে, যা 23 জোড়া। এর মধ্যে 22 জোড়া অটোজোম এবং 1 জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোজোম। নারীদের লিঙ্গ ক্রোমোজোম XX আর পুরুষদের XY। অনেকে 46 সংখ্যাটিকেই জোড়ার সংখ্যা ভেবে ভুল করেন, কিন্তু 46 হলো মোট ক্রোমোজোম, জোড়ার সংখ্যা নয়।
মনে রাখুন:
জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক, অর্থাৎ 23।
ডাউন সিনড্রোমে 21 নম্বর ক্রোমোজোম একটি বেশি থাকে।
ক্রোমোজোম থাকে কোষের নিউক্লিয়াসে এবং এর মূল উপাদান DNA ও প্রোটিন। মানুষের মতো আরও কিছু জীবের সংখ্যা: শিম্পাঞ্জির ক্রোমোজোম ৪৮টি, আর মটরশুঁটির ১৪টি।
মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ হলেও প্রশ্নে জোড়া জানতে চাইলে উত্তর ২৩। - ৩২. মানবদেহের কোষের Chromosome এর সংখ্যা—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ২২ জোড়া
- খ. ২৩ জোড়া
- গ. ২৮ জোড়া
- ঘ. ১৩ জোড়া
উত্তর: খ. ২৩ জোড়া
মানবদেহের প্রতিটি দেহকোষের নিউক্লিয়াসে মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম (Chromosome) থাকে, যা ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম বা দেহ ক্রোমোজোম, আর বাকি এক জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোজোম। নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম XX এবং পুরুষের XY। তাই বিকল্পের মধ্যে ২৩ জোড়াই সঠিক। ২২ জোড়া শুধু অটোসোমের সংখ্যা।
মনে রাখুন:
জননকোষে (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি।
নিষেকের সময় দুটি জননকোষ মিলে আবার ৪৬টি হয়।
ক্রোমোজোমের ভেতরে জিন থাকে, যা বংশগত বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে বয়ে নিয়ে যায়।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ হয় পিতার ক্রোমোজোম দিয়ে, কারণ পুরুষ X বা Y যেকোনো শুক্রাণু তৈরি করতে পারে, আর নারী সব সময় X ডিম্বাণু দেয়। - ৩৩. বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কোন প্রাণীর ‘জিনগত নকশা‘ উন্মোচন করেছেন?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিনোম
- ক. গরু
- খ. ভেড়া
- গ. ছাগল
- ঘ. মহিষ
উত্তর: ঘ. মহিষ
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কোনো প্রাণী হিসেবে মহিষের জিনগত নকশা বা জিনোম (Genome) উন্মোচন করেন। জিনোম হলো কোনো জীবের সম্পূর্ণ জিনের সমষ্টি। এটি জানা থাকলে কোন জিন কী কাজ করে তা বোঝা যায়, ফলে উন্নত জাত তৈরি ও রোগ প্রতিরোধের গবেষণা সহজ হয়। তাই মহিষের জিনোম উন্মোচন দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বড় অগ্রগতি। বাংলাদেশের জন্য এই সাফল্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশুর অবদান অনেক বড়।
মনে রাখুন:
২০১০ সালে বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশের গবেষকেরা উদ্ভিদ হিসেবে তোষা পাটের জিনোম উন্মোচন করেছিলেন।
জিনোম উন্মোচনকে জিনোম সিকোয়েন্সিং (Genome sequencing) বলে। - ৩৪. মানবদেহের প্রতিটি কোষে কত জোড়া ক্রোমোজোম আছে?এনটিআরসিএ, ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. 22 জোড়া
- খ. 23 জোড়া
- গ. 24 জোড়া
- ঘ. 25 জোড়া
উত্তর: খ. 23 জোড়া
মানুষের দেহকোষে মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ২২ জোড়া হলো অটোজোম (Autosome), যা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি ১ জোড়া লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম, ছেলেদের ক্ষেত্রে XY আর মেয়েদের ক্ষেত্রে XX। ক্রোমোজোম গঠিত হয় ডিএনএ ও প্রোটিন দিয়ে, আর কোষবিভাজনের সময় এগুলো সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। ডাউন সিনড্রোমের মতো কিছু জিনগত রোগ ক্রোমোজোমের সংখ্যায় গোলমালের কারণে হয়। আবার ক্রোমোজোমে থাকা জিনের মাধ্যমে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে যায়।
মনে রাখুন:
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জননকোষে ক্রোমোজোম থাকে অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারিত হয় বাবার শুক্রাণুর ক্রোমোজোম দিয়ে। - ৩৫. ‘ডাউন সিনড্রোম‘ বলতে বুঝানো হয় –এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডাউন সিনড্রোম
- ক. গর্ভস্থ শিশুর অপরিণত বিকাশ
- খ. ধানগাছের বিশেষ রোগ
- গ. নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ
- ঘ. ফলের অপরিণত বিকাশ
উত্তর: ক. গর্ভস্থ শিশুর অপরিণত বিকাশ
ডাউন সিনড্রোম (Down Syndrome) একটি জিনগত অবস্থা, যা হয় ২১ নম্বর ক্রোমোজোম দুটির বদলে তিনটি থাকলে। এই বাড়তি ক্রোমোজোমের কারণে গর্ভে থাকা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হয় না, আর জন্মের পর শিশুর শেখার গতি ধীর হয় ও চেহারায় কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাংডন ডাউনের নাম অনুসারে এর নামকরণ হয়েছে। মায়ের বয়স বেশি হলে এই ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।
মনে রাখুন: এর আরেক নাম ট্রাইসোমি ২১, আর প্রতি বছর ২১ মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত হয়। - ৩৬. উচ্চ ফলনশীল শস্য উৎপাদনে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
- ক. বায়োমেট্রিক্স
- খ. ভার্চুয়াল রিয়ালিটি
- গ. ন্যানোটেকনোলজি
- ঘ. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
উত্তর: ঘ. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering) হলো জীবের ডিএনএ-তে কাঙ্ক্ষিত জিন যোগ, বাদ বা পরিবর্তন করার প্রযুক্তি। এর সাহায্যে বেশি ফলনশীল, রোগ ও পোকা প্রতিরোধী এবং লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত তৈরি করা যায়। এভাবে তৈরি ফসলকে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (GM) ফসল বলে। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা ক্ষেত্রের প্রযুক্তি, যেমন বায়োমেট্রিক্সে আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি দিয়ে মানুষ শনাক্ত করা হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ‘বিটি বেগুন’ একটি জিএম ফসল, যা ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধ করে।
গোল্ডেন রাইস জিএম ধান, যাতে ভিটামিন এ-এর পূর্বসূরি বিটা ক্যারোটিন থাকে। - ৩৭. টিস্যু কালচার প্রযুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কি?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার (আরবরিকালচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈবপ্রযুক্তি
- ক. নতুন নতুন টিস্যু উৎপাদন
- খ. উদ্ভিদ অঙ্গ থেকে চারা উৎপাদন
- গ. উন্নতমানের বীজ উৎপাদন
- ঘ. উন্নতমানের জাত উৎপাদন
উত্তর: খ. উদ্ভিদ অঙ্গ থেকে চারা উৎপাদন
টিস্যু কালচার (Tissue Culture) হলো পরীক্ষাগারে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে উদ্ভিদের কোষ বা কলা থেকে নতুন চারা তৈরির পদ্ধতি। উদ্ভিদের একটি ছোট অংশ, যেমন কচি কাণ্ডের ডগা, পুষ্টি মাধ্যমে রাখলে তা ধীরে ধীরে বেড়ে পূর্ণ চারায় পরিণত হয়। এভাবে অল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যের অনেক চারা পাওয়া যায়। কলা, আলু ও অর্কিডের চারা এভাবে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করা হয়। ১৯০২ সালে জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী গটলিব হ্যাবারল্যান্ড প্রথম উদ্ভিদকোষ কালচারের ধারণা দেন। টিস্যু কালচারের জন্য যে মাধ্যম ব্যবহৃত হয়, তাতে ঘন জেলি বা আগার (Agar) থাকে। এতে পানি, শর্করা, খনিজ লবণ ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোন মেশানো হয়।
মনে রাখুন:
এ পদ্ধতিতে সৃষ্ট চারাগুলো মাতৃউদ্ভিদের হুবহু ক্লোন।
অণুচারা (Micropropagation) বলতে এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনকেই বোঝায়। - ৩৮. টিস্যু কালচারের প্রাথমিক লক্ষ্য-মেডিক্যাল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈবপ্রযুক্তি
- ক. উন্নত বীজ তৈরী করা
- খ. নতুন ধরনের টিস্যু তৈরী করা
- গ. অধিক পরিমাণ টিস্যু তৈরী করা
- ঘ. প্রচুর পরিমাণ নতুন চারা উৎপাদন করা
উত্তর: ঘ. প্রচুর পরিমাণ নতুন চারা উৎপাদন করা
টিস্যু কালচারের প্রধান লক্ষ্য অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে নতুন চারা উৎপাদন করা। এতে উদ্ভিদের একটি ছোট অংশ থেকে হাজার হাজার একই রকম চারা পাওয়া যায়, ফলে ভালো জাত দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। রোগমুক্ত চারা তৈরি করা এবং বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ বাঁচিয়ে রাখাও এর আরও উপকারিতা। এ প্রক্রিয়ায় লক্ষ্য কোনো আলাদা টিস্যু তৈরি করা নয়, কলাকে বাড়িয়ে পূর্ণ চারা পাওয়াই এর উদ্দেশ্য। চারা মূল গাছের মতোই বৈশিষ্ট্য পায় বলে ভালো জাতের গাছের চারা বিক্রির জন্য এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণাগারে কলা, আলু, কচু ও অর্কিডের টিস্যু কালচারের কাজ চলছে।
মনে রাখুন:
টিস্যু কালচারে বীজ লাগে না, উদ্ভিদের অংশ থেকেই চারা হয়।
পুষ্টি মাধ্যমে হরমোন ও শর্করা মেশানো থাকে। - ৩৯. কোন জীব থেকে অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট জীবকে কি বলে?গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রকৌশলী, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. অণুজীব
- খ. জীন
- গ. ক্লোন
- ঘ. ভ্রূণ
উত্তর: গ. ক্লোন
একটি জীবের দেহকোষ থেকে অযৌন প্রজননের মাধ্যমে যে হুবহু একই জিনগত বৈশিষ্ট্যের জীব তৈরি হয়, তাকে ক্লোন (Clone) বলে। ক্লোনের জিনগত গঠন মূল জীবের মতোই হয়, কারণ এতে নর ও নারীর গ্যামেট মিলিত হয় না। এ কারণে একে মূল জীবের জিনগত প্রতিলিপি বলা চলে। যেসব উদ্ভিদ কলম বা অঙ্গজ প্রজননে বংশবিস্তার করে, সেগুলোও প্রকৃতপক্ষে ক্লোন। ক্লোনিং তিনভাবে হয়: জিন ক্লোনিং, প্রজননমূলক ক্লোনিং ও চিকিৎসামূলক ক্লোনিং। চিকিৎসামূলক ক্লোনিংয়ে স্টেম সেল তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত কলা মেরামতের চেষ্টা চলে, আর প্রজননমূলক ক্লোনিংয়ে পুরো প্রাণী তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
ক্লোনিং (Cloning): ক্লোন তৈরির প্রক্রিয়া।
প্রথম ক্লোন করা প্রাপ্তবয়স্ক স্তন্যপায়ী প্রাণী: ডলি নামের ভেড়া।
জিন হলো বংশগতির একক, আর অণুজীব হলো অতি ক্ষুদ্র জীব। - ৪০. ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে জন্ম দেন-তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী পরিচালক (গ্রেড-২), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. ইঁদুর
- খ. গরু
- গ. ভেড়া
- ঘ. মানুষ
উত্তর: গ. ভেড়া
স্কটল্যান্ডের রোসলিন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. ইয়ান উইলমুট (Ian Wilmut) ও তাঁর সহযোগীরা ১৯৯৬ সালে ডলি নামের একটি ভেড়ার ক্লোন তৈরি করেন। ডলি ছিল প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী। ডলির জন্ম ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই, আর ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ খবর প্রকাশ হয়। ২০০৩ সালে ফুসফুসের রোগে ডলি মারা যায়। ডলি ছয় বছর বেঁচে ছিল, অথচ ভেড়া সাধারণত প্রায় বারো বছর বাঁচে। ডলির কিছু কোষ আগে থেকেই বয়স্ক ছিল বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন। পরে ডলির বাচ্চা জন্মেছিল, যা প্রমাণ করে ক্লোন করা প্রাণীরও স্বাভাবিক প্রজনন সম্ভব।
মনে রাখুন:
ক্লোনিংয়ের পদ্ধতির নাম: সোম্যাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার।
ডলির জন্য ব্যবহৃত কোষ এসেছিল একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভেড়ার স্তনগ্রন্থি থেকে। - ৪১. বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম কি?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. ডলি
- খ. পলি
- গ. ট্রেট্রা
- ঘ. প্রমিথিয়া
উত্তর: গ. ট্রেট্রা
বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা বানর শাবকের নাম টেট্রা (Tetra)। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন রিজিওনাল প্রাইমেট রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা একটি রিসাস বানরের ভ্রূণকে ভাগ করে এই বানর শাবকটি তৈরি করেন। ডলি ছিল ভেড়া, তাই সেটি এখানে সঠিক নয়। ২০১৮ সালে চীনা বিজ্ঞানীরা দেহকোষ থেকে ঝং ঝং ও হুয়া হুয়া নামের দুটি বানর ক্লোন করেন, যা ডলির পদ্ধতিতে তৈরি প্রথম প্রাইমেট ক্লোন। প্রাইমেট বা বানর, বনমানুষ ও মানুষের শ্রেণির প্রাণী ক্লোন করা অন্য স্তন্যপায়ীর চেয়ে কঠিন, কারণ এদের ভ্রূণের কোষ বিভাজনের ধরন ভিন্ন। তাই চীনা বিজ্ঞানীদের ২০১৮ সালের সাফল্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হয়।
মনে রাখুন:
ডলি: প্রথম ক্লোন করা প্রাপ্তবয়স্ক স্তন্যপায়ী (ভেড়া)।
টেট্রা: প্রথম ক্লোন বানর। - ৪২. মানবশিশু ক্লোন করেছে বলে দাবি করেছে?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০২-০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. ক্লোনটেক
- খ. ক্লোন আইটি
- গ. সুপার ক্লোন
- ঘ. ক্লোন এইড
উত্তর: ঘ. ক্লোন এইড
২০০২ সালের ডিসেম্বরে ক্লোনএইড (Clonaid) নামের একটি প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে তারা প্রথম মানবশিশুকে ক্লোন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রায়েলিয়ান নামের একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে তারা এ দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি, তাই বিজ্ঞানীরা দাবিটি গ্রহণ করেননি। মানুষের ক্লোনিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে নৈতিক বিতর্ক রয়েছে এবং বহু দেশে তা নিষিদ্ধ। ক্লোনএইডের প্রধান ছিলেন ব্রিজিট বোয়াসেলিয়ার। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ চাইলেও ডিএনএ পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার পর মানব ক্লোনিংয়ের নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা তীব্র হয়।
মনে রাখুন:
ক্লোনএইডের দাবি করা প্রথম শিশুর নাম ইভ (Eve)।
প্রমাণ না থাকায় এটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত নয়। - ৪৩. বিশ্বের দাবিকৃত প্রথম ক্লোন শিশুর নাম কি?ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (গ ইউনিট) ভর্তি, ২০০২-০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. ইভ
- খ. ডলি
- গ. অ্যাঞ্জেল
- ঘ. জিম
উত্তর: ক. ইভ
ক্লোনএইড (Clonaid) ২০০২ সালের ডিসেম্বরে দাবি করে যে তারা ইভ (Eve) নামের একটি কন্যাশিশুকে ক্লোন করেছে। একে বিশ্বের দাবিকৃত প্রথম ক্লোন মানবশিশু বলা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কখনো শিশুর ডিএনএ পরীক্ষার প্রমাণ দেখায়নি, ফলে বিজ্ঞানীরা দাবিটিকে বিশ্বাস করেননি। ডলি ছিল ভেড়া, তাই ডলি এই প্রশ্নের উত্তর নয়। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ক্লোনএইডের প্রধান ব্রিজিট বোয়াসেলিয়ার ইভের জন্মের কথা ঘোষণা করেন। দাবিটির সপক্ষে কোনো স্বাধীন ডিএনএ পরীক্ষা না হওয়ায় বিজ্ঞানী সমাজ এ নিয়ে সন্দিহান থেকে যায়।
মনে রাখুন:
ডলি: ভেড়া, জন্ম ১৯৯৬ সাল।
ইভ: দাবিকৃত ক্লোন মানবশিশু, ২০০২ সাল। - ৪৪. মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ করেছে কোন সংস্থা?সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের জুনিয়র অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. ILO
- খ. EU
- গ. IMF
- ঘ. OECD
উত্তর: খ. EU
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সনদে মানুষের প্রজননের উদ্দেশ্যে ক্লোনিং স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। এর কারণ হলো, ক্লোন করা মানুষের পরিচয়, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন ওঠে। বাকি সংস্থাগুলোর কাজ আলাদা: আইএলও শ্রমিক অধিকার, আইএমএফ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতি, আর ওইসিডি অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে। ক্লোনিং নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নিজেদের মতো করে নেয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও ২০০৫ সালে সদস্য দেশগুলোকে মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে একটি ঘোষণা গ্রহণ করে, যদিও এই ঘোষণা বাধ্যতামূলক ছিল না।
মনে রাখুন:
চিকিৎসা গবেষণার জন্য ভ্রূণ ক্লোনিং আর মানুষের প্রজননের জন্য ক্লোনিং আলাদা বিষয়।
ILO জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা। - ৪৫. মাতা-পিতা হতে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তান-সন্ততিতে আসার প্রক্রিয়াকে বলে-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতি
- ক. জেনেটিক্স
- খ. ইনহেরিটেন্স
- গ. হেরিডিটি
- ঘ. বংশগতি বিদ্যা
উত্তর: গ. হেরিডিটি
পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বংশগতি বা হেরিডিটি (Heredity) বলে। এই বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যায়, তাই সন্তানের চেহারা, চুলের রং ও রক্তের গ্রুপ পিতামাতার সঙ্গে মেলে। আর বংশগতির বৈজ্ঞানিক আলোচনাকে বলা হয় জেনেটিক্স বা বংশগতিবিদ্যা (Genetics)। জেনেটিক্স বা বংশগতিবিদ্যা এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনার শাখা। প্রাণীর যে বৈশিষ্ট্য বংশগতির মাধ্যমে আসে না, বরং পরিবেশের প্রভাবে অর্জিত হয়, তা সন্তানে যায় না। যেমন ব্যায়াম করে পেশি গড়ে তোলা, যা সন্তান পায় না।
মনে রাখুন:
হেরিডিটি: বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ।
জেনেটিক্স: বংশগতি নিয়ে আলোচনার বিজ্ঞান।
বংশগতির একক: জিন। - ৪৬. 'জেনেটিক্স' শব্দের প্রথম প্রয়োগ করেন কে?বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতি
- ক. মেন্ডেল
- খ. বেটসন
- গ. মর্গান
- ঘ. ডারউইন
উত্তর: খ. বেটসন
জেনেটিক্স (Genetics) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ইংরেজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম বেটসন (William Bateson)। ১৯০৫ সালে তিনি এই শব্দ প্রস্তাব করেন এবং ১৯০৬ সালে এক সম্মেলনে তা প্রকাশ্যে ব্যবহার করেন। গ্রিক genesis শব্দের অর্থ উৎপত্তি। বংশগতির সূত্র দিয়েছিলেন মেন্ডেল, কিন্তু তাঁর কাজের জন্য এই নাম বেটসনই দেন। বেটসন মেন্ডেলের কাজের একজন বড় প্রচারক ছিলেন এবং ইংরেজিতে মেন্ডেলের গবেষণা অনুবাদ করেন। জিন শব্দটি আসার আগে মেন্ডেল বংশগতির বাহককে 'ফ্যাক্টর' বলতেন। পরে জিন নাম দিয়ে একে বৈজ্ঞানিক রূপ দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
বংশগতির জনক: গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।
জিন (Gene) শব্দটি দেন উইলহেলম জোহানসেন (১৯০৯)। - ৪৭. জেনেটিক্স বা বংশগতির জনক কে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতি
- ক. লুই পাস্তুর
- খ. হরগোবিন্দ খোরানা
- গ. মেন্ডেল
- ঘ. ডারউইন
উত্তর: গ. মেন্ডেল
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (Gregor Johann Mendel) বংশগতিবিদ্যার জনক। তিনি মটর গাছ নিয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা চালিয়ে বংশগতির মূল নিয়মগুলো আবিষ্কার করেন। ১৮৬৬ সালে তাঁর গবেষণার ফল প্রকাশিত হলেও তখন বিজ্ঞানীরা তা গুরুত্ব দেননি। ১৯০০ সালে তিনজন বিজ্ঞানী আলাদাভাবে আবার একই সূত্র আবিষ্কার করলে মেন্ডেলের কাজ স্বীকৃতি পায়। ডারউইন বিবর্তন নিয়ে এবং পাস্তুর জীবাণু নিয়ে কাজ করেছেন। মেন্ডেল ২৮ হাজারেরও বেশি মটর গাছ নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি গাছের উচ্চতা, ফুলের রং, বীজের আকার ইত্যাদি সাতটি জোড়া বৈশিষ্ট্য বেছে নেন। এত বেশি গাছ নিয়ে পরীক্ষা করায় তাঁর ফলাফল পরিসংখ্যানের দিক থেকে নির্ভরযোগ্য হয়েছিল।
মনে রাখুন:
মেন্ডেলের পরীক্ষার গাছ: মটর (Pisum sativum)।
হরগোবিন্দ খোরানা কৃত্রিম জিন সংশ্লেষণ করেন। - ৪৮. বংশগতির দুটি সূত্র দিয়েছেন কোন বিজ্ঞানী?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীনে অধীক্ষক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতি
- ক. ডারউইন
- খ. হেকেল
- গ. মেন্ডেল
- ঘ. লিনিয়াস
উত্তর: গ. মেন্ডেল
বংশগতির দুটি সূত্র দিয়েছেন গ্রেগর জোহান মেন্ডেল। প্রথমটি পৃথকীকরণ সূত্র (Law of Segregation), যেখানে জিনের জোড়া গ্যামেট তৈরির সময় আলাদা হয়ে যায়। দ্বিতীয়টি স্বাধীন বণ্টন সূত্র (Law of Independent Assortment), যেখানে একাধিক বৈশিষ্ট্যের জিন একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে বণ্টিত হয়। এই কারণে মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়। প্রথম সূত্রে বলা হয়, একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একজোড়া জিন থাকে এবং গ্যামেট গঠনের সময় এরা আলাদা হয়ে যায়। দ্বিতীয় সূত্রে বলা হয়, দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জিন একে অপরকে প্রভাবিত না করেই বিন্যস্ত হয়। এটি দ্বিসংকর পরীক্ষায় ৯:৩:৩:১ অনুপাতে দেখা যায়।
মনে রাখুন:
প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের ধারণাও মেন্ডেলের গবেষণা থেকে এসেছে।
ডারউইন বিবর্তনবাদের জন্য পরিচিত। - ৪৯. জোহান গ্রেগর মেন্ডেল ছিলেন একজন -মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বংশগতি
- ক. ধর্মযাজক
- খ. সমাজবিজ্ঞানী
- গ. জীববিজ্ঞানী
- ঘ. রসায়নবিদ
উত্তর: ক. ধর্মযাজক
জোহান গ্রেগর মেন্ডেল ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক। অস্ট্রিয়ার ব্রুনে (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রের ব্রনো) শহরের সেন্ট টমাস মঠে তিনি একজন সন্ন্যাসী হিসেবে কাজ করতেন। মঠের বাগানে প্রায় আট বছর মটর গাছ নিয়ে পরীক্ষা করেই তিনি বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করেন। তাঁর কাজ পরবর্তী কালে জেনেটিক্স বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে দেয়। মেন্ডেলের জন্ম অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের হাইনৎসেনডর্ফ গ্রামে এক কৃষক পরিবারে। তিনি পরে মঠের মঠাধ্যক্ষ হন এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় গবেষণা বন্ধ করে দেন। তাঁর মৃত্যু হয় ১৮৮৪ সালে এবং তাঁর কাজের স্বীকৃতি আসে মৃত্যুর পরে।
মনে রাখুন:
মেন্ডেলের জন্ম ১৮২২ সালে।
মেন্ডেলের আবিষ্কার ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়। - ৫০. গ্রেগর মেন্ডেল কোন দেশের লোক?মেডিকেল ভর্তি, ১৯৮৮-৮৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মেন্ডেলের সূত্র
- ক. রাশিয়া
- খ. ইংল্যান্ড
- গ. ফ্রান্স
- ঘ. অস্ট্রিয়া
উত্তর: ঘ. অস্ট্রিয়া
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ১৮২২ সালে তৎকালীন অস্ট্রীয় সাম্রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে সেই জায়গা চেক প্রজাতন্ত্রের অন্তর্গত। তিনি ব্রনো শহরের একটি মঠে ধর্মযাজক ছিলেন এবং মঠের বাগানে মটরশুঁটি গাছ নিয়ে বছরের পর বছর পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। এই পরীক্ষা থেকেই তিনি বংশগতির মূল নিয়মগুলো খুঁজে পান, তাই তাঁকে বংশগতিবিদ্যার (Genetics) জনক বলা হয়। মেন্ডেলের এই কাজের কারণে আজ আমরা জানি যে প্রতিটি বৈশিষ্ট্য এক জোড়া উপাদান দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাদের এখন আমরা জিন বলি।
মনে রাখুন:
মেন্ডেল তাঁর গবেষণা প্রকাশ করেন ১৮৬৬ সালে, কিন্তু তখন কেউ এর গুরুত্ব বোঝেনি।
১৯০০ সালে হুগো দ্য ভ্রিস, কার্ল করেনস ও এরিখ ফন চেরমাক আলাদাভাবে তাঁর কাজের পুনরাবিষ্কার করেন। - ৫১. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মেন্ডেলের সূত্র
- ক. ৯ : ৩ : ৩ : ১
- খ. ৯ : ৯
- গ. ৯ : ২ : ২ : ২
- ঘ. ৯ : ৩ : ৪
উত্তর: ক. ৯ : ৩ : ৩ : ১
মেন্ডেল দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে নিয়ে মটরশুঁটির সংকরায়ণ করেছিলেন, যেমন বীজের আকার ও বীজের রং। দ্বিতীয় প্রজন্মে (F₂) চারটি আলাদা রকমের গাছ পাওয়া গেল এবং তাদের অনুপাত দাঁড়াল ৯ : ৩ : ৩ : ১। এই ফলাফল থেকেই মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র, অর্থাৎ স্বাধীন বণ্টন সূত্র (Law of Independent Assortment) পাওয়া যায়। এই সূত্র অনুযায়ী এক জোড়া বৈশিষ্ট্য অন্য জোড়া বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর না করে আলাদাভাবে সন্তানের মধ্যে যায়।
উদাহরণ:
গোল হলুদ বীজ ৯টি, গোল সবুজ ৩টি, কুঁচকানো হলুদ ৩টি এবং কুঁচকানো সবুজ ১টি।
মনে রাখুন: একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে করা সংকরায়ণে মেন্ডেলের প্রথম সূত্র অনুযায়ী F₂ প্রজন্মে ফিনোটাইপ অনুপাত হয় ৩ : ১। - ৫২. দুটো প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাত-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকরায়ণ
- ক. দোয়াশ
- খ. সংকর
- গ. কৃত্রিম
- ঘ. মিশ্র
উত্তর: খ. সংকর
দুটি ভিন্ন প্রজাতির (Species) পুরুষ ও স্ত্রী জীবের মিলনে যে সন্তান জন্মায়, তাকে সংকর (Hybrid) বলে। দুই প্রজাতির বৈশিষ্ট্যই সংকরের মধ্যে মিশে থাকে। ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে সংকরায়ণ প্রকৃতিতে সহজে হয় না, তাই মানুষ নিজের প্রয়োজনে কৃত্রিম উপায়ে এ ধরনের সংকর তৈরি করে। খচ্চর বোঝা বইতে ও কাজ করতে খুব উপযোগী।
উদাহরণ:
ঘোড়া ও গাধার সংকর হলো খচ্চর। সিংহ ও বাঘিনীর সংকরও পাওয়া যায়।
প্রজাতি আলাদা হলে তাদের ক্রোমোজোমের সংখ্যা মেলে না, তাই খচ্চরের মতো সংকর প্রাণী সাধারণত বন্ধ্যা হয় এবং নিজেরা সন্তান জন্ম দিতে পারে না। অন্যদিকে ‘দোয়াশ’ শব্দটি আসলে এক ধরনের মাটির নাম, যাতে বালি ও কাদা প্রায় সমান অনুপাতে মিশে থাকে। - ৫৩. 'হাইব্রিড' এর পরিভাষা কী?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৯-১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকরায়ণ
- ক. উচ্চ ফলনশীল
- খ. উন্নত প্রজনন
- গ. কৃত্রিম প্রজনন
- ঘ. সঙ্কর
উত্তর: ঘ. সঙ্কর
ইংরেজি ‘হাইব্রিড’ (Hybrid) শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো সংকর, যার অর্থ মিশ্র বংশের জীব। ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের দুটি জনকের মিলনে সংকর জন্মায় এবং এতে দুই জনকেরই গুণ কিছুটা থাকে।
অনেক সময় সংকর জীব তার জনকদের চেয়ে বেশি সবল ও বেশি ফলনশীল হয়। একে সংকর শক্তি (Hybrid Vigour বা Heterosis) বলে। এই কারণেই আমাদের দেশে সংকর ধান ও সংকর ভুট্টার চাষ জনপ্রিয় হয়েছে।
‘উচ্চ ফলনশীল’ কথাটি আলাদা একটি শব্দবন্ধ, যা ইংরেজিতে High Yielding Variety (HYV) নামে পরিচিত। সব সংকর উচ্চ ফলনশীল হয় না, আবার সব উচ্চ ফলনশীল জাত সংকর নয়। - ৫৪. DNA অণুর গঠনের আবিষ্কারক-ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা, ২০০৪-০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএর গঠন
- ক. ওয়াটসন ও ক্রিক
- খ. লুইপাস্তুর ও থিওডোর সোয়ান
- গ. উইলিয়াম হার্ভে
- ঘ. রবার্ট হুক
উত্তর: ক. ওয়াটসন ও ক্রিক
ডিএনএ অণুর গঠন বা মডেল আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক। তাঁরা দেখান যে ডিএনএ দুটি সুতা পরস্পরকে পেঁচিয়ে একটি সিঁড়ির মতো কাঠামো তৈরি করে। এই আবিষ্কার ১৯৫৩ সালে বংশগতি ও আণবিক জীববিজ্ঞানে নতুন এক যুগ শুরু করে। এর ফলে জিন প্রকৌশল ও ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের মতো প্রযুক্তি সম্ভব হয়েছে।
ডিএনএ নিজে অবশ্য আরও আগে, ১৮৬৯ সালে সুইস বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক মিশার কোষের নিউক্লিয়াস থেকে আলাদা করেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন নিউক্লিন।
বাকিদের কাজ ভিন্ন: লুই পাস্তুর জীবাণুবিদ্যা ও টিকার জন্য, থিওডোর সোয়ান কোষতত্ত্বের জন্য, উইলিয়াম হার্ভে রক্ত সংবহনের জন্য এবং রবার্ট হুক কোষ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। - ৫৫. DNA অণুর সঠিক মডেল তৈরি করে কারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএর গঠন
- ক. ওয়াটসন ও ক্রিক
- খ. ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিনস
- গ. মর্গান, ভূজার্ডিন ও পোর্টার
- ঘ. ব্রাউন ও মিসেল
উত্তর: খ. ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিনস
ডিএনএর গঠন আবিষ্কারের জন্য ১৯৬২ সালে শারীরবিদ্যা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান তিন বিজ্ঞানী: জেমস ওয়াটসন, ফ্রান্সিস ক্রিক ও মরিস উইলকিনস। উইলকিনস ডিএনএর এক্স-রে ছবি তুলে এই কাজে প্রমাণ জোগান দিয়েছিলেন, তাই পুরস্কারটি তিনজনকে ভাগ করে দেওয়া হয়। ওয়াটসন ও ক্রিক ডিএনএর কাঠামোর মডেল দাঁড় করান, আর উইলকিনস এক্স-রে বিবর্তন পদ্ধতিতে প্রমাণ জোগান। তিনজনের এই সম্মিলিত কাজই ডিএনএ বোঝার ভিত্তি।
মজার ব্যাপার হলো, এক্স-রে ছবির আসল কারিগর রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন ১৯৫৮ সালেই মারা যান। নোবেল পুরস্কার মৃত ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, তাই তিনি এই সম্মান পাননি।
টমাস হান্ট মর্গান ক্রোমোজোম তত্ত্বের জন্য ১৯৩৩ সালে আলাদাভাবে নোবেল পান। - ৫৬. DNA is concerned withIFIC Bank Ltd. Probationary Officer, ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএর গঠন
- ক. Physics (পদার্থবিদ্যা)
- খ. International Organization (আন্তর্জাতিক সংস্থা)
- গ. Biology (জীববিজ্ঞান)
- ঘ. Plants (উদ্ভিদ)
উত্তর: গ. Biology (জীববিজ্ঞান)
ডিএনএ (DNA) অর্থাৎ ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Deoxyribonucleic Acid) জীবের কোষে থাকে এবং বংশগতির সব তথ্য বহন করে। জীবের গঠন, বৃদ্ধি ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা জীববিজ্ঞানের (Biology) কাজ, তাই ডিএনএ জীববিজ্ঞানের বিষয়। এ কারণে ডিএনএর গঠন, কাজ ও পরিবর্তন নিয়ে গবেষণাকে জীববিজ্ঞানের একটি বড় শাখা বলা হয়। শাখাটির নাম আণবিক জীববিজ্ঞান (Molecular Biology)।
মনে রাখুন:
ডিএনএর চারটি ক্ষার হলো অ্যাডেনিন, থাইমিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন।
ডিএনএর শর্করা অংশ ডিঅক্সিরাইবোজ এবং এতে ফসফেট গ্রুপও থাকে।
ডিএনএর অণু থেকে প্রোটিন তৈরির নির্দেশ পাওয়া যায়, আর সেই প্রোটিনই জীবের বৈশিষ্ট্য ঠিক করে। - ৫৭. DNA is found in -BPSC-এর মেডিক্যাল অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএর গঠন
- ক. Chromosome
- খ. Lysosome
- গ. Ribosome
- ঘ. Golgi complex
উত্তর: ক. Chromosome
সুকেন্দ্রিক কোষে ডিএনএ থাকে ক্রোমোজোমের (Chromosome) ভেতরে। ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াসের ভেতরের সুতার মতো গঠন, যা ডিএনএ ও হিস্টোন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। জীবের বংশগতির সব তথ্য এখানেই সাজানো থাকে। কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম মোটা হয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে স্পষ্ট দেখা যায়। মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ২৩ জোড়া, অর্থাৎ মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
অন্য অঙ্গাণুগুলোর কাজ আলাদা: লাইসোসোম কোষের ভেতরের বর্জ্য হজম করে, রাইবোসোম প্রোটিন তৈরি করে এবং গলগি বস্তু (Golgi complex) তৈরি হওয়া পদার্থ প্যাকেট করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠায়।
মনে রাখুন: নিউক্লিয়াস ছাড়াও মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে অল্প পরিমাণ ডিএনএ থাকে। - ৫৮. ডিএনএ বিদ্যমান -মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএর গঠন
- ক. সাইটোপ্লাজমে
- খ. মাইটোকন্ড্রিয়ায়
- গ. নিউক্লিয়াসে
- ঘ. প্লাজমা মেমব্রেনে
উত্তর: গ. নিউক্লিয়াসে
সুকেন্দ্রিক কোষে ডিএনএ প্রধানত নিউক্লিয়াসের ভেতর ক্রোমোজোম আকারে থাকে। নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, তাই বংশগতির তথ্যও এখানেই সুরক্ষিত থাকে। নিউক্লিয়াসের ভেতরে ডিএনএ প্রোটিনের সঙ্গে প্যাঁচানো অবস্থায় ক্রোমাটিন নামের সুতার মতো আকারে থাকে। কোষ ভাগ হওয়ার আগে এই ক্রোমাটিনই গুটিয়ে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
ব্যাকটেরিয়ার মতো আদিকোষী জীবে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। সেখানে ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিয়য়েড (Nucleoid) নামের একটি অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকে।
এ ছাড়া মাইটোকন্ড্রিয়ায় সামান্য ডিএনএ আছে। মজার ব্যাপার হলো, নিষেকের পর শুক্রাণুর মাইটোকন্ড্রিয়া সাধারণত ধ্বংস হয়ে যায়, তাই মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএ আমরা মায়ের কাছ থেকেই পাই। - ৫৯. DNA অণুতে অনুপস্থিত -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিক অ্যাসিড
- ক. ইউরাসিল
- খ. গোয়ানিন
- গ. এডিনিন
- ঘ. সাইটোসিন
উত্তর: ক. ইউরাসিল
ডিএনএতে চার ধরনের নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষার (Nitrogenous Base) থাকে: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন। ইউরাসিল এই তালিকায় নেই। এটি পাওয়া যায় আরএনএতে (RNA), আর সেখানে থাইমিনের জায়গা নেয় ইউরাসিল। ডিএনএর শর্করা ডিঅক্সিরাইবোজ, আর আরএনএর শর্করা রাইবোজ। এই দুটি পার্থক্যই, অর্থাৎ শর্করার ধরন ও একটি ক্ষারের তফাত, ডিএনএ ও আরএনএকে আলাদা করে। ইউরাসিল আরএনএর বিশেষ ক্ষার। তাই ডিএনএর ক্ষার তালিকায় ইউরাসিলকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না।
মনে রাখুন:
ডিএনএর ক্ষার: A, T, G, C।
আরএনএর ক্ষার: A, U, G, C।
ডিএনএতে অ্যাডেনিন সবসময় থাইমিনের সঙ্গে এবং গুয়ানিন সাইটোসিনের সঙ্গে জোড়া বাঁধে। - ৬০. নিচের কোনটি Purine Base?মেডিক্যাল ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিক অ্যাসিড
- ক. Uracil
- খ. Cytosine
- গ. Thymine
- ঘ. Adenine
উত্তর: ঘ. Adenine
নিউক্লিক অ্যাসিডের ক্ষারগুলো গঠন অনুযায়ী দুই দলে ভাগ করা যায়। যাদের অণুতে দুটি রিং থাকে, তাদের বলে পিউরিন (Purine), আর যাদের একটি রিং থাকে, তাদের বলে পাইরিমিডিন (Pyrimidine)। অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন হলো পিউরিন ক্ষার। নিউক্লিওটাইড হলো নিউক্লিক অ্যাসিডের একক। একটি নিউক্লিওটাইডে একটি শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষার থাকে। এই নিয়ম মনে রাখলে বাকি ক্ষারগুলোর শ্রেণি চেনা সহজ হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
পিউরিন: অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন।
পাইরিমিডিন: সাইটোসিন, থাইমিন ও ইউরাসিল।
ডিএনএর দুই সুতার মাঝখানে সবসময় একটি পিউরিনের সঙ্গে একটি পাইরিমিডিন জোড়া বাঁধে, তাই সিঁড়ির দুই ধাপের মাপ সমান থাকে। - ৬১. কোনটি নিউক্লিওটাইডের পাইরিমিডিন বেস নয়?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিক অ্যাসিড
- ক. গোয়ানিন
- খ. থাইমিন
- গ. সাইটোসিন
- ঘ. ইউরাসিল
উত্তর: ক. গোয়ানিন
গুয়ানিন একটি পিউরিন ক্ষার, কারণ এর অণুতে দুটি রিং আছে। তাই এটি পাইরিমিডিন নয়। বাকি তিনটি, অর্থাৎ থাইমিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল একরিং বিশিষ্ট পাইরিমিডিন ক্ষার। ডিএনএর একটি সুতায় থাকা ক্ষারের ক্রম থেকেই জিনের তথ্য তৈরি হয়। এই ক্রম বদলে গেলে জীবের বৈশিষ্ট্যও বদলে যেতে পারে।
ডিএনএতে ক্ষারগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। অ্যাডেনিন ও থাইমিনের মাঝে দুটি এবং গুয়ানিন ও সাইটোসিনের মাঝে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি হয়। এই বন্ধনই ডিএনএর দুই সুতাকে ধরে রাখে।
মনে রাখুন: পিউরিন মাত্র দুটি (অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন), তাই এ দুটি মনে রাখলেই বাকি তিনটি পাইরিমিডিন বলে বোঝা যায়। - ৬২. জেনেটিক কোডের আবিষ্কারক কে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (রিটি), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক কোড
- ক. ড. এম স্বামীনাথন
- খ. জোহানসন
- গ. ড. খোরানা
- ঘ. ড. রোনাল্ড রস
উত্তর: গ. ড. খোরানা
জেনেটিক কোড বা বংশগত সংকেতের রহস্য উন্মোচন করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী হর গোবিন্দ খোরানা। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে ডিএনএর ক্ষারের বিন্যাস প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রম ঠিক করে। এই কাজের জন্য তিনি ১৯৬৮ সালে মার্শাল নিরেনবার্গ ও রবার্ট হলির সঙ্গে নোবেল পুরস্কার পান। এই গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে তিনটি ক্ষার মিলে একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত তৈরি করে। এই সংকেতই জেনেটিক কোড।
বাকিদের পরিচয় আলাদা: এম এস স্বামীনাথন ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক, রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া ছড়ানোর পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য পরিচিত, আর উইলহেম জোহানসেন ‘জিন’ শব্দটির প্রবর্তক। - ৬৩. জেনেটিক ইনফরমেশনের মূল একক কি?মাউশির প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক কোড
- ক. লুপ
- খ. অনুলিপন
- গ. ট্রিপলেট
- ঘ. এ্যান্টিকোডন
উত্তর: গ. ট্রিপলেট
জেনেটিক তথ্যের মূল একক হলো ট্রিপলেট (Triplet), অর্থাৎ পরপর তিনটি নিউক্লিওটাইডের একটি দল। প্রতিটি ট্রিপলেট একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য সংকেত দেয়। অনেকগুলো অ্যামিনো অ্যাসিড জুড়ে প্রোটিন তৈরি হয়, আর প্রোটিনই জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য একাধিক কোডন থাকতে পারে, তাই জেনেটিক কোডকে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত সংকেতবিশিষ্ট বলা হয়। কিন্তু একটি কোডন একাধিক অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত দেয় না।
এই একই তিন-ক্ষারের দল তিন জায়গায় তিন নামে পরিচিত: ডিএনএতে ট্রিপলেট, mRNA-তে কোডন (Codon) এবং tRNA-তে অ্যান্টিকোডন (Anticodon)।
মনে রাখুন: মোট ৬৪টি কোডনের মধ্যে ৬১টি অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য এবং ৩টি প্রোটিন তৈরি থামানোর সংকেতের জন্য। - ৬৪. ট্রান্সলেশন শুরু করার (start) কোডন কোনটি?গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক কোড
- ক. AUG
- খ. UAA
- গ. UAG
- ঘ. UGA
উত্তর: ক. AUG
রাইবোসোমে প্রোটিন তৈরি শুরু হয় mRNA-র AUG কোডন থেকে, তাই এটিকে স্টার্ট কোডন বলে। এই কোডন অ্যামিনো অ্যাসিড মিথিওনিনের জন্য সংকেত দেয়, ফলে নতুন প্রোটিন শৃঙ্খলের প্রথম অ্যামিনো অ্যাসিড সাধারণত মিথিওনিন হয়। মিথিওনিন একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। অনেক সময় প্রোটিন তৈরি হওয়ার পর শুরুর এই মিথিওনিন কেটে বাদ দেওয়া হয়। প্রোটিন তৈরিতে এই কোডনই কাজের সূচনা ঠিক করে দেয়।
প্রোটিন তৈরির কাজ কোথায় থামবে, সে সংকেতও কোডনেই থাকে। UAA, UAG ও UGA, এই তিনটি কোডন কোনো অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য সংকেত দেয় না। এগুলো স্টপ কোডন (Stop Codon) নামে পরিচিত। - ৬৫. RNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়ার নাম হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক কোড
- ক. রেপলিকেশন
- খ. ট্রান্সফরমেশন
- গ. ট্রান্সক্রিপশন
- ঘ. ট্রান্সলেশন
উত্তর: ঘ. ট্রান্সলেশন
আরএনএ থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন (Translation) বা অনুবাদ বলে। কোষের রাইবোসোমে mRNA-র কোডনগুলো পরপর পড়া হয়। tRNA প্রতিটি কোডনের উপযোগী অ্যামিনো অ্যাসিড এনে হাজির করে, আর অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো জুড়ে প্রোটিন তৈরি হয়। প্রক্রিয়াটিতে নিউক্লিক অ্যাসিডের ভাষা প্রোটিনের ভাষায় রূপ নেয় বলে এর নাম অনুবাদ। এই প্রক্রিয়ায় যে প্রোটিন তৈরি হয়, সেটি কোষের গঠন, এনজাইম এবং হরমোনের কাজে লাগে। তাই ডিএনএ থেকে প্রোটিন পর্যন্ত পুরো পথটিকে জীবনের মূল তথ্যপ্রবাহ বলা হয়।
মনে রাখুন:
রেপ্লিকেশন: ডিএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি।
ট্রান্সক্রিপশন: ডিএনএ থেকে mRNA তৈরি।
ট্রান্সফরমেশন: ব্যাকটেরিয়া বাইরে থেকে ডিএনএ গ্রহণ করে নিজের বৈশিষ্ট্য বদলে ফেলে। - ৬৬. RNA থেকে DNA তৈরীর কৌশলকে কি বলা হয়?গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক কোড
- ক. ট্রান্সক্রিপশন
- খ. ট্রান্সলেশন
- গ. রেপ্লিকেশন
- ঘ. রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন
উত্তর: ঘ. রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন
সাধারণত ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরি হয়, কিন্তু আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরির উল্টো পথও আছে। একে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন (Reverse Transcription) বলে। এই কাজ করে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ (Reverse Transcriptase) নামের একটি এনজাইম। ডিএনএ থেকে আরএনএ, আরএনএ থেকে প্রোটিন, এই স্বাভাবিক প্রবাহকে সেন্ট্রাল ডগমা (Central Dogma) বলে। রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন এই প্রবাহের ব্যতিক্রম।
এইচআইভি (HIV)-এর মতো রেট্রোভাইরাসের জিনোম আরএনএ। তারা মানবকোষে ঢুকে এই এনজাইমের সাহায্যে নিজের আরএনএ থেকে ডিএনএ বানায়, তারপর সেই ডিএনএ আমাদের ক্রোমোজোমের মধ্যে ঢুকে যায়।
মনে রাখুন: ১৯৭০ সালে হাওয়ার্ড টেমিন ও ডেভিড বাল্টিমোর এই এনজাইম আবিষ্কার করেন এবং পরে নোবেল পুরস্কার পান। - ৬৭. নিচের কোনটিতে অ্যান্টিকোডন পাওয়া যায়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জেনেটিক কোড
- ক. DNA
- খ. mRNA
- গ. tRNA
- ঘ. rRNA
উত্তর: গ. tRNA
অ্যান্টিকোডন (Anticodon) পাওয়া যায় tRNA-তে। tRNA-র একটি জায়গায় পরপর তিনটি ক্ষার থাকে, যা mRNA-র কোডনের সঙ্গে ঠিক মিলে যায়। এভাবে tRNA বুঝতে পারে কোন কোডনের জন্য কোন অ্যামিনো অ্যাসিড আনতে হবে। tRNA-এর অ্যান্টিকোডন mRNA-র কোডনের সঙ্গে জোড়া লাগে বলেই প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো সঠিক ক্রমে সাজানো হয়। প্রতিটি tRNA একটিমাত্র নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করে।
tRNA-র আকৃতি ক্লোভার পাতার মতো। এর এক প্রান্তে অ্যামিনো অ্যাসিড লেগে থাকে আর অন্য দিকে থাকে অ্যান্টিকোডন।
মনে রাখুন: কোডন থাকে mRNA-তে, আর rRNA রাইবোসোমের গঠনে অংশ নেয়। ডিএনএতে কোডন বা অ্যান্টিকোডন কোনোটিই থাকে না। - ৬৮. হুগো দ্য ভ্রিস যে বিষয়ের উপর গবেষণা করেন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৯-১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিউটেশন
- ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
- খ. হরমোন
- গ. মিউটেসন
- ঘ. প্রাণী আচরণ
উত্তর: গ. মিউটেসন
ডাচ উদ্ভিদবিজ্ঞানী হুগো দ্য ভ্রিস (Hugo de Vries) মিউটেশন বা পরিব্যক্তি (Mutation) নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি সন্ধ্যামালতী গাছ নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন যে হঠাৎ করে কোনো গাছের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য জন্ম নিতে পারে এবং সেই বৈশিষ্ট্য পরের প্রজন্মে চলে যায়। ১৯০১ সালে তিনি এই নিয়ে পরিব্যক্তিবাদ প্রকাশ করেন। পরিব্যক্তি থেকে জীবের নতুন নতুন জাত সৃষ্টি হয়, আর বিবর্তনের একটি প্রধান উৎসও এটি।
মনে রাখুন:
মিউটেশন হলো জীবের জিনে বা ক্রোমোজোমে হঠাৎ ঘটা বংশানুসারী পরিবর্তন।
১৯০০ সালে মেন্ডেলের সূত্রের পুনরাবিষ্কারেও দ্য ভ্রিসের ভূমিকা ছিল। - ৬৯. কোনটি সেক্স-লিঙ্কড বৈশিষ্ট্য?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লিঙ্গসংলগ্ন বংশগতি
- ক. বর্ণান্ধতা
- খ. গাত্রবর্ণ
- গ. চোখের রঙ
- ঘ. সিস্টিক ফাইব্রোসিস
উত্তর: ক. বর্ণান্ধতা
যেসব বৈশিষ্ট্যের জিন X ক্রোমোজোমে থাকে, সেগুলোকে সেক্স-লিঙ্কড বা লিঙ্গসংলগ্ন বৈশিষ্ট্য বলে। বর্ণান্ধতা (Colour Blindness) এমন একটি বৈশিষ্ট্য, যার জিন X ক্রোমোজোমে থাকে এবং এটি প্রচ্ছন্ন।
ছেলেদের কোষে একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকে। সেই X-এ ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলে তা ঢেকে দেওয়ার মতো আর কিছু থাকে না, তাই ছেলেদের মধ্যে বর্ণান্ধতা বেশি দেখা যায়। মেয়েদের দুটি X থাকে, তাই দুটিতেই ত্রুটি না থাকলে তাঁরা শুধু বাহক হন।
অন্য দিকে ত্বকের রং ও চোখের রং একাধিক জিনের কাজ। সিস্টিক ফাইব্রোসিসের জিন অটোসোমে থাকে।
মনে রাখুন: হিমোফিলিয়াও একটি লিঙ্গসংলগ্ন রোগ। - ৭০. বর্ণান্ধ লোকেরা কোন কোন রং বুঝতে পারে না?উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১০ ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লিঙ্গসংলগ্ন বংশগতি
- ক. লাল ও সবুজ
- খ. লাল ও নীল
- গ. লাল, নীল ও সবুজ
- ঘ. সবুজ ও নীল
উত্তর: ক. লাল ও সবুজ
সবচেয়ে প্রচলিত বর্ণান্ধতা হলো লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা। এমন মানুষ লাল ও সবুজ রংকে আলাদা করে চিনতে পারে না। চোখের রেটিনায় রং চেনার জন্য কোণ কোষ (Cone Cell) থাকে, আর লাল ও সবুজ চেনার কোষের জিন X ক্রোমোজোমে থাকে। এই জিনে ত্রুটি থাকলে বর্ণান্ধতা হয়। এই বর্ণান্ধতা প্রধানত বংশগত। পুরুষদের মধ্যে এটি অনেক বেশি দেখা যায়, কারণ এর জিন X ক্রোমোজোমে প্রচ্ছন্ন হয়ে থাকে।
ইংরেজ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন নিজে বর্ণান্ধ ছিলেন। তিনিই ১৭৯৪ সালে প্রথম এই সমস্যার বিবরণ দেন, তাই এর আরেক নাম ডাল্টনিজম (Daltonism)। - ৭১. ইশিহার চার্ট কি?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লিঙ্গসংলগ্ন বংশগতি
- ক. বর্ণান্ধতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত চার্ট
- খ. শিশুদের বৃদ্ধি পরীক্ষায় ব্যবহৃত চার্ট
- গ. চোখের পাওয়ার নির্ণয়ে ব্যবহৃত চার্ট
- ঘ. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ে ব্যবহৃত চার্ট
উত্তর: ক. বর্ণান্ধতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত চার্ট
ইশিহারা চার্ট (Ishihara Chart) বর্ণান্ধতা পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত একটি চার্ট। এতে নানা রঙের অনেক ছোট ছোট বৃত্ত দিয়ে সাজানো ছবির মধ্যে কোনো সংখ্যা লুকিয়ে থাকে। স্বাভাবিক দৃষ্টির মানুষ সেই সংখ্যা পড়তে পারে, কিন্তু বর্ণান্ধ মানুষ তা দেখে না বা অন্য সংখ্যা পড়ে। প্রতিটি পাতায় সাধারণত একটি সংখ্যা থাকে এবং কোনো ব্যক্তি কোন সংখ্যা পড়তে পারছেন, তা থেকে তাঁর বর্ণান্ধতার ধরন বোঝা যায়।
জাপানি চক্ষু চিকিৎসক শিনোবু ইশিহারা ১৯১৭ সালে এই চার্ট তৈরি করেন এবং তাঁর নামেই এর নাম।
মনে রাখুন: পাইলট, চালক ও রেলের চাকরির স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বর্ণান্ধতা দেখা হয়, কারণ সংকেতের রং চিনতে ভুল হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। - ৭২. ডিএনএ প্রতিলিপি তৈরির জন্য অত্যাবশ্যকীয় এনজাইম কোনটি?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট) ভর্তি, ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএ প্রতিলিপন
- ক. এক্সোনিউক্লিয়েস
- খ. পলিমারেজ
- গ. অ্যামাইলেজ
- ঘ. লাইপেজ
উত্তর: খ. পলিমারেজ
ডিএনএর প্রতিলিপি বা রেপ্লিকেশনে নতুন সুতা তৈরির কাজ করে ডিএনএ পলিমারেজ (DNA Polymerase) নামের এনজাইম। এটি পুরোনো সুতার ক্ষারের সঙ্গে মিলিয়ে একটি একটি করে নিউক্লিওটাইড জুড়ে নতুন সুতা তৈরি করে। এভাবে কোষ ভাগ হওয়ার আগে ডিএনএর হুবহু দুটি কপি পাওয়া যায়। আমেরিকান বিজ্ঞানী আর্থার কর্নবার্গ এই এনজাইম আবিষ্কার করে ১৯৫৯ সালে নোবেল পান। ডিএনএ প্রতিলিপন অর্ধ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতিতে ঘটে। অর্থাৎ নতুন ডিএনএর একটি সুতা পুরোনো ডিএনএ থেকে আসে এবং অন্যটি নতুন তৈরি হয়।
অন্য এনজাইমগুলোর কাজ আলাদা: এক্সোনিউক্লিয়েজ নিউক্লিওটাইড কেটে ফেলে, অ্যামাইলেজ শর্করা (শ্বেতসার) ভাঙে এবং লাইপেজ স্নেহ পদার্থ ভাঙে। - ৭৩. ‘ক্রিসপার-ক্যাস ৯’ (CRISPR-Cas 9) প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানের কোন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে?বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন সম্পাদনা
- ক. কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
- খ. পারমাণবিক সংযোজন
- গ. জিন সম্পাদনা/জিনোম এডিটিং
- ঘ. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
উত্তর: গ. জিন সম্পাদনা/জিনোম এডিটিং
ক্রিসপার-ক্যাস ৯ (CRISPR-Cas9) এমন একটি প্রযুক্তি, যা দিয়ে জীবের ডিএনএর নির্দিষ্ট জায়গা কেটে বাদ দেওয়া, বদলানো বা নতুন অংশ যোগ করা যায়। একে অনেক সময় ‘জিনের কাঁচি’ বলা হয়। এর ফলে জিন সম্পাদনা বা জিনোম এডিটিং (Genome Editing) আগের চেয়ে অনেক সহজ, সস্তা ও নিখুঁত হয়েছে এবং বংশগত রোগের চিকিৎসা ও উন্নত ফসলের জাত তৈরির নতুন পথ খুলেছে। এই প্রযুক্তি ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে নেওয়া, যেখানে ক্যাস ৯ এনজাইম পথপ্রদর্শক আরএনএর নির্দেশে ডিএনএর নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে কাটে। এটি সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো রোগের চিকিৎসায় গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
মনে রাখুন: এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য জেনিফার ডাউডনা ও এমানুয়েল শার্পেন্তিয়ে ২০২০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। - ৭৪. মানবদেহে জিন কোথায় সংরক্ষিত থাকে?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (বেসামরিক), স্টোরম্যান, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএ
- ক. RNA
- খ. RBC
- গ. DNA
- ঘ. সাইটোপ্লাজম
উত্তর: গ. DNA
জিন (Gene) হলো বংশগতির একক, আর এটি আসলে DNA অণুর একটি নির্দিষ্ট অংশ। DNA কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোমের ভেতরে থাকে এবং বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে বয়ে নিয়ে যায়। একেকটি জিন নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশ বহন করে, আর সেই প্রোটিনই আমাদের দেহের গড়ন ও বৈশিষ্ট্য ঠিক করে। ডিএনএর দ্বিসূত্রক গঠনের মডেল দেন ওয়াটসন ও ক্রিক। কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ নিজের হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করে, ফলে নতুন কোষও একই জিন পায়।
মনে রাখুন:
DNA-এর পূর্ণরূপ Deoxyribonucleic Acid।
মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
RBC হলো লোহিত রক্তকণিকা, যার কাজ অক্সিজেন পরিবহন। - ৭৫. পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনকারী দলের নেতা-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিনোম
- ক. ফরিদুল আলম
- খ. মাকসুদুল আলম
- গ. শহীদুল আলম
- ঘ. মোঃ জলিল
উত্তর: খ. মাকসুদুল আলম
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল দেশীয় গবেষক ২০১০ সালে তোষা পাটের জীবনরহস্য বা জিনোম সিকোয়েন্স (Genome sequence) উন্মোচন করেন। জিনোম হলো কোনো জীবের সব জিনের সম্পূর্ণ নকশা, তাই এটি জানা গেলে উন্নত জাতের পাট উদ্ভাবন সহজ হয়। জিনোম সিকোয়েন্স জানা থাকলে কোন জিন আঁশের মান, রোগ প্রতিরোধ বা ফলন ঠিক করে তা শনাক্ত করা যায়। এ কাজে পাটের ছত্রাকজনিত রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনোমও পরে উন্মোচিত হয়। তোষা পাট (Corchorus olitorius) বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল, একে সোনালি আঁশ বলা হয়।
মনে রাখুন:
ড. মাকসুদুল আলম ২০১৪ সালে মারা যান। - ৭৬. ক্রোমোজোম কে আবিষ্কার করেন?বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. মেন্ডেল
- খ. ভলতেয়ার
- গ. স্ট্রাসবুর্গার
- ঘ. ওয়াটসন ও ক্রিক
উত্তর: গ. স্ট্রাসবুর্গার
কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতার মতো কিছু গঠন দেখা যায়, এদের ক্রোমোজোম (Chromosome) বলে। জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী এডুয়ার্ড স্ট্রাসবুর্গার ১৮৭৫ সালে প্রথম এই গঠন লক্ষ করেন, তাই তাঁকে ক্রোমোজোমের আবিষ্কারক বলা হয়। পরে ১৮৮৮ সালে ওয়ালডেয়ার এর নাম দেন ক্রোমোজোম, যার অর্থ রঙিন বস্তু, কারণ রং দিলে এটি সহজে রঞ্জিত হয়। ক্রোমোজোমই জিন বহন করে বাবা-মা থেকে সন্তানে বৈশিষ্ট্য পৌঁছে দেয়। প্রতিটি প্রজাতিতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে।
মনে রাখুন:
মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়।
ওয়াটসন ও ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন বা ডাবল হেলিক্স মডেল দেন। - ৭৭. মানবদেহে লিঙ্গ (Sex) নির্ধারক ক্রোমোজোমের সংখ্যা.গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. এক জোড়া
- খ. দুই জোড়া
- গ. ২২ জোড়া
- ঘ. ২৩ জোড়া
উত্তর: ক. এক জোড়া
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, এদের অটোসোম (Autosome) বলে। বাকি মাত্র এক জোড়া ক্রোমোজোম ঠিক করে দেয় মানুষটি ছেলে হবে না মেয়ে, তাই এদের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম (Sex Chromosome) বলে। মেয়েদের এই জোড়াটি XX এবং ছেলেদের XY। এই একটি জোড়ার কারণেই ছেলে ও মেয়ের দেহে কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
মনে রাখুন:
Y ক্রোমোজোম শুধু পুরুষের দেহে থাকে এবং এটি X-এর চেয়ে ছোট।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জননকোষে ক্রোমোজোম থাকে অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি। - ৭৮. মানব জননকোষে থাকা ক্রোমোজোমের সংখ্যা -বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. ০২
- খ. ৪৬
- গ. ৮৮
- ঘ. ২৩
উত্তর: ঘ. ২৩
মানুষের দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জননকোষ (Gamete) তৈরি হয় মিয়োসিস (Meiosis) বিভাজনে। এই বিভাজনে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়, তাই প্রতিটি জননকোষে থাকে ২৩টি ক্রোমোজোম। নিষেকের সময় বাবার শুক্রাণুর ২৩টি আর মায়ের ডিম্বাণুর ২৩টি মিলে আবার ৪৬টি হয়। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে। দেহকোষের বিভাজন মাইটোসিসে কিন্তু ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
মনে রাখুন:
জননকোষের অবস্থাকে হ্যাপ্লয়েড (n) এবং দেহকোষের অবস্থাকে ডিপ্লয়েড (2n) বলে।
একটি ক্রোমোজোম বেশি থাকলে ডাউন সিনড্রোমের মতো জেনেটিক ত্রুটি দেখা দেয়। - ৭৯. সন্তান পুত্র বা কন্যা হওয়ার জন্য কে দায়ী?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক · বইয়ের অনুচ্ছেদ লিঙ্গ নির্ধারণ
- ক. বাবা
- খ. মা
- গ. বাবা-মা উভয়ই
- ঘ. কেউই নয়
উত্তর: ক. বাবা
মায়ের ডিম্বাণুতে সবসময় একটি X ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু বাবার শুক্রাণুর অর্ধেকে থাকে X এবং বাকি অর্ধেকে থাকে Y ক্রোমোজোম। X বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে সন্তান হয় XX, অর্থাৎ মেয়ে। আর Y বহনকারী শুক্রাণু নিষিক্ত করলে সন্তান হয় XY, অর্থাৎ ছেলে। তাই সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা নির্ধারিত হয় বাবার শুক্রাণু থেকে। এজন্য মেয়ে সন্তান জন্মের জন্য মাকে দোষ দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে একেবারে ভুল ধারণা। অর্থাৎ বাবার কাছ থেকে কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুতে পৌঁছাবে, সেটি একেবারেই সম্ভাবনার ব্যাপার।
মনে রাখুন:
ছেলে বা মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা প্রতিবার সমান, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ। - ৮০. ধান গাছের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. ১২টি
- খ. ১৬টি
- গ. ২০টি
- ঘ. ২৪টি
উত্তর: ঘ. ২৪টি
প্রতিটি প্রজাতির জীবের কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে। ধান গাছের দেহকোষে ১২ জোড়া, অর্থাৎ মোট ২৪টি ক্রোমোজোম থাকে, আর এর জননকোষে থাকে ১২টি। ক্রোমোজোম সংখ্যা কম এবং জিনোম তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ধান গবেষণার জন্য একটি আদর্শ উদ্ভিদ। ২০০২ সালের দিকে ধানের পূর্ণ জিনোম নকশা প্রথম প্রকাশিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, ক্রোমোজোম বেশি হলেই জীব উন্নত হয় না, যেমন আলুর ক্রোমোজোম মানুষের চেয়ে বেশি। কোনো জীবের জিনোম জানা থাকলে বিজ্ঞানীরা রোগ প্রতিরোধী ও বেশি ফলনশীল নতুন জাত সহজে উদ্ভাবন করতে পারেন।
মনে রাখুন:
মানুষ: ৪৬টি।
পেঁয়াজ: ১৬টি।
মটর: ১৪টি।
আলু: ৪৮টি। - ৮১. জিন আবিষ্কার করেন-ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০১-০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. সাটন
- খ. মেন্ডেল
- গ. মর্গান
- ঘ. স্ট্রাসবুর্গার
উত্তর: খ. মেন্ডেল
অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা করে দেখান যে বাবা-মা থেকে সন্তানে বৈশিষ্ট্য যায় কিছু নির্দিষ্ট একক বা ফ্যাক্টরের মাধ্যমে। তাঁর এই ফ্যাক্টরকেই আজ আমরা জিন (Gene) বলি, তাই জিনের আবিষ্কারক হিসেবে মেন্ডেলের নামই আসে। তিনি ১৮৬৬ সালে গবেষণা প্রকাশ করলেও তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি, ১৯০০ সালে তা নতুন করে আবিষ্কৃত হয়। পরে ১৯০৯ সালে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জোহানসেন 'জিন' নামটি দেন। তাই মেন্ডেলের সূত্র আজও বংশগতিবিদ্যার মূল ভিত্তি।
মনে রাখুন:
মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়।
'Genetics' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন উইলিয়াম বেটসন। - ৮২. কৃত্রিম জীন আবিষ্কার করেন-পিএসসির সচিবালয়ে সহকারী সচিব, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. এইচ জি খোরানা
- খ. এইচ জে মুলার
- গ. মর্গান
- ঘ. ওয়াটসন
উত্তর: ক. এইচ জি খোরানা
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী হরগোবিন্দ খোরানা ১৯৭০ সালে গবেষণাগারে প্রথম কৃত্রিম জিন তৈরি করেন। এর আগে তিনি দেখিয়েছিলেন যে DNA-এর তিনটি করে নিউক্লিওটাইড মিলে একটি সংকেত তৈরি হয়, যা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো এসিড ঠিক হয়। এই জেনেটিক কোড ব্যাখ্যার জন্য ১৯৬৮ সালে তিনি নিরেনবার্গ ও হলির সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর কাজ পরে জিন প্রকৌশলের পথ খুলে দেয়।
মনে রাখুন:
এইচ জে মুলার এক্স-রে দিয়ে কৃত্রিম মিউটেশন ঘটান।
টমাস হান্ট মর্গান ফলের মাছি নিয়ে কাজ করে জিনের সংযোগ (Linkage) ব্যাখ্যা করেন। - ৮৩. ক্রোমোজোমের গঠন কী?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. DNA
- খ. প্রোটিন
- গ. RNA
- ঘ. DNA এবং প্রোটিন
উত্তর: ঘ. DNA এবং প্রোটিন
ক্রোমোজোম মূলত দুটি উপাদানে গঠিত, DNA এবং প্রোটিন। লম্বা DNA সুতা হিস্টোন (Histone) নামের প্রোটিনের চারপাশে পেঁচিয়ে ছোট ছোট গুটির মতো একক তৈরি করে, এদের নিউক্লিওসোম বলে। এভাবে পেঁচানো থাকার কারণেই প্রায় দুই মিটার লম্বা DNA একটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসের ভেতরে এঁটে যায়। এই DNA-প্রোটিনের মিশ্রণকে ক্রোমাটিন বলে, যা কোষ বিভাজনের সময় ঘন হয়ে ক্রোমোজোম রূপে দেখা দেয়। এর সঙ্গে সামান্য RNA-ও থাকে। প্রতিটি ক্রোমোজোম জোড়ায় জোড়ায় থাকে, যার একটি আসে বাবার কাছ থেকে, অন্যটি মায়ের কাছ থেকে।
মনে রাখুন:
ক্রোমোজোমের দুই অংশ যেখানে যুক্ত থাকে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। - ৮৪. কোন রাসায়নিক পদার্থটি ক্রোমোজোমের ভিতর থাকে না?পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. ডি.এন.এ
- খ. আর.এন. এ
- গ. প্রোটিন
- ঘ. লিপিড
উত্তর: ঘ. লিপিড
রাসায়নিকভাবে ক্রোমোজোম গঠিত হয় DNA, হিস্টোন ও নন-হিস্টোন প্রোটিন এবং সামান্য পরিমাণ RNA দিয়ে। এর সঙ্গে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো কিছু ধাতব আয়নও থাকে, যা গঠন ধরে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু লিপিড (Lipid) বা চর্বিজাতীয় পদার্থ ক্রোমোজোমের উপাদান নয়। লিপিড মূলত কোষঝিল্লি বা প্লাজমা মেমব্রেন তৈরিতে কাজে লাগে এবং শক্তি জমা রাখে। তাই এখানে দেওয়া চারটি উপাদানের মধ্যে কেবল লিপিডই ক্রোমোজোমে থাকে না।
মনে রাখুন:
ক্রোমোজোমে DNA ও প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় সমান।
RNA মূলত প্রোটিন তৈরির কাজে DNA-এর বার্তা বহন করে।
DNA-তে থাকা চিনির নাম ডিঅক্সিরাইবোজ। - ৮৫. জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদানকে বলা হয়-সোনালী ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ), ২০১৪ ও সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. DNA
- খ. RNA
- গ. ATP
- ঘ. TNA
উত্তর: ক. DNA
জিন (Gene) হলো ক্রোমোজোমের ওপর থাকা DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা একটি বৈশিষ্ট্য বা একটি প্রোটিন তৈরির সংকেত বহন করে। তাই রাসায়নিকভাবে জিন আসলে DNA দিয়েই তৈরি। DNA গঠিত হয় নিউক্লিওটাইড নামের একক দিয়ে, যার প্রতিটিতে থাকে একটি চিনি, একটি ফসফেট এবং একটি নাইট্রোজেন ক্ষারক। এই ক্ষারকগুলো সাজানোর ক্রমই জিনের বার্তা ঠিক করে। কিছু ভাইরাসে অবশ্য DNA থাকে না, সেখানে RNA-ই জিনের কাজ করে। এভাবে DNA-এর একটি ছোট অংশ থেকে বৈশিষ্ট্য তৈরির নির্দেশ আসে।
মনে রাখুন:
DNA-এর চার ক্ষারক: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
ATP হলো কোষের শক্তির মুদ্রা, জিন নয়। - ৮৬. DNA-এর পূর্ণরূপ কোনটি?সমন্বিত সাত ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম ও জিন
- ক. Diluted Nitric Acid
- খ. Dioxane Nitric Acid
- গ. Distributed Nucleic Acid
- ঘ. Deoxyribonucleic acid
উত্তর: ঘ. Deoxyribonucleic acid
DNA-এর পূর্ণরূপ Deoxyribonucleic Acid বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড। নামটি এসেছে এর চিনির অণু থেকে, যার নাম ডিঅক্সিরাইবোজ, আর নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় বলে একে নিউক্লিক এসিড বলে। ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক দেখান যে DNA দুটি সুতা পরস্পরকে পেঁচিয়ে মইয়ের মতো দ্বিসূত্রক (Double Helix) গঠন তৈরি করে। এই গঠনের ছবি তুলতে রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের এক্স-রে ছবিটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। মানুষের প্রতিটি কোষে DNA-এর বিন্যাস একই, কিন্তু দুজন মানুষের DNA পুরোপুরি এক নয়।
মনে রাখুন:
RNA-এর পূর্ণরূপ Ribonucleic Acid।
RNA সাধারণত একসূত্রক এবং এতে থায়ামিনের বদলে ইউরাসিল থাকে।
অপরাধী শনাক্ত করতে DNA টেস্ট ব্যবহৃত হয়। - ৮৭. একটি ক্রোমোজোমে কয়টি DNA অণু থাকে?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ১টি
- খ. ৩টি
- গ. ২৩টি
- ঘ. ৪৬টি
উত্তর: ক. ১টি
প্রতিটি ক্রোমোজোম (Chromosome) একটি মাত্র লম্বা DNA অণু দিয়ে গঠিত। এই DNA অণুটি হিস্টোন (Histone) নামের প্রোটিনের চারপাশে বারবার পেঁচিয়ে ঘন হয়ে থাকে, তাই এত লম্বা অণুও কোষের ছোট নিউক্লিয়াসে এঁটে যায়। কোষ বিভাজনের আগে DNA-র অনুলিপি তৈরি হলে ক্রোমোজোমটি দুটি ক্রোমাটিডে (Chromatid) ভাগ হয়ে দেখা দেয়, তখন প্রতিটি ক্রোমাটিডে একটি করে DNA অণু থাকে। তাই সাধারণ অবস্থায় একটি ক্রোমোজোমে একটিই DNA অণু থাকে।
মনে রাখুন:
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম থাকে ৪৬টি, অর্থাৎ ২৩ জোড়া।
মানুষের শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম থাকে ২৩টি।
‘ক্রোমোজোম’ নামটি দেন বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার, ১৮৮৮ সালে। - ৮৮. ডিএনএ কাটার জন্য এনজাইম কোনটি?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৬তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন প্রকৌশল
- ক. পলিমারেজ
- খ. লাইগেজ
- গ. নিউক্লিয়েজ
- ঘ. রেস্ট্রিকশন
উত্তর: ঘ. রেস্ট্রিকশন
রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Enzyme) ডিএনএ অণুর একটি নির্দিষ্ট ক্ষারক ক্রম চিনে নিয়ে ঠিক সেই জায়গায় কেটে দেয়। কাঁচির মতো নিখুঁতভাবে কাটে বলে একে আণবিক কাঁচি বলা হয়। জিন প্রকৌশলে কোনো জীবের কাঙ্ক্ষিত জিন কেটে আলাদা করতে এবং বাহক ডিএনএ কাটতে এই এনজাইম লাগে। কাটা অংশগুলো পরে জোড়া লাগায় লাইগেজ এনজাইম, তাই লাইগেজকে আণবিক আঠা বলে। এভাবে দুই উৎসের ডিএনএ জুড়ে তৈরি নতুন ডিএনএকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে।
মনে রাখুন:
ডিএনএ পলিমারেজ নতুন ডিএনএ সূত্র তৈরি করে।
জিন প্রকৌশলে বাহক হিসেবে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিড বেশি ব্যবহৃত হয়।
রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রথম পাওয়া গিয়েছিল ব্যাকটেরিয়া থেকে। - ৮৯. পাটের জীবন রহস্য উন্মোচিত হয় কোন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৬ষ্ঠ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিনোম সিকোয়েন্স
- ক. সাইদুল আলম
- খ. মাহবুব আলম
- গ. মাকসুদুল আলম
- ঘ. আব্দুল কাইয়ুম
উত্তর: গ. মাকসুদুল আলম
কোনো জীবের ডিএনএতে ক্ষারকগুলো কোন ক্রমে সাজানো আছে তা পুরোপুরি খুঁজে বের করাকে জিনোম সিকোয়েন্সিং (Genome Sequencing) বলে, আর একেই সহজ ভাষায় জীবন রহস্য উন্মোচন বলা হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশের একদল গবেষক তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন। এরপর তাঁর দল দেশি পাট এবং পাটের জন্য ক্ষতিকর একটি ছত্রাকের জিনোমও উন্মোচন করে। এই তথ্য কাজে লাগিয়ে উন্নত মানের ও রোগ সহনশীল পাটের জাত তৈরির পথ খুলে গেছে।
মনে রাখুন:
ড. মাকসুদুল আলম এর আগে পেঁপে ও রাবার গাছের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়েও কাজ করেছিলেন।
তিনি ২০১৪ সালে মারা যান। - ৯০. টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে প্রথম সফলতা আসে কত সালে?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টেস্টটিউব বেবি
- ক. ১৯৫৯
- খ. ১৯৬৮
- গ. ১৯৭৫
- ঘ. ১৯৭৮
উত্তর: ঘ. ১৯৭৮
দেহের বাইরে গবেষণাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিলিয়ে নিষিক্ত করে সেই ভ্রূণ মায়ের জরায়ুতে স্থাপন করার পদ্ধতিকে আইভিএফ (In Vitro Fertilization) বলে। এভাবে জন্ম নেওয়া শিশুকেই সাধারণভাবে টেস্টটিউব বেবি বলা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথম সফলতা আসে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই, যখন ইংল্যান্ডে লুইস ব্রাউন নামের শিশুটি জন্ম নেয়। এই কাজের নেতৃত্ব দেন রবার্ট এডওয়ার্ডস ও প্যাট্রিক স্টেপটো, আর এডওয়ার্ডস পরে ২০১০ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হয় ২০০১ সালে।
‘In Vitro’ কথাটির অর্থ কাচের পাত্রের ভেতরে, অর্থাৎ দেহের বাইরে। - ৯১. PCR-এর পূর্ণরূপ-বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বিভিন্ন পদ, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবপ্রযুক্তি
- ক. Public Common Reaction
- খ. Polymer Cotton Room
- গ. Polymerase Chain Reaction
- ঘ. Polytechnic College Reaction
উত্তর: গ. Polymerase Chain Reaction
PCR এর পূর্ণরূপ Polymerase Chain Reaction। এটি একটি পরীক্ষাগার পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ডিএনএ-র একটি নির্দিষ্ট ছোট অংশের লক্ষ লক্ষ কপি অল্প সময়ে তৈরি করা যায়। এতে বারবার তাপমাত্রা ওঠানামা করিয়ে ডিএনএ পলিমারেজ নামের একটি এনজাইম দিয়ে ডিএনএ-র কপি বানানো হয়। অল্প নমুনা থেকেও এভাবে যথেষ্ট ডিএনএ পাওয়া যায় বলে রোগ শনাক্তকরণ, অপরাধী শনাক্তকরণ ও পিতৃত্ব নির্ণয়ে PCR খুব কাজে লাগে। কোভিড-১৯ শনাক্তে যে RT-PCR পরীক্ষা হয়েছে, সেটিও এর একটি রূপ।
মনে রাখুন:
PCR পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন ক্যারি মুলিস, ১৯৮৩ সালে।
এজন্য তিনি ১৯৯৩ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। - ৯২. মানব দেহের কোষে কত জোড়া ক্রোমোজোম থাকে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২০১৪ সালের স্থগিত পরীক্ষা, ২০ জেলা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্রোমোজোম
- ক. ২৪
- খ. ৩৯
- গ. ২৩
- ঘ. ২৫
উত্তর: গ. ২৩
মানুষের প্রতিটি দেহকোষের নিউক্লিয়াসে ৪৬টি ক্রোমোজোম (Chromosome) থাকে, যেগুলো জোড়ায় জোড়ায় সাজানো। অর্থাৎ মানবকোষে ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ২২ জোড়াকে অটোজোম বলে, এরা দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বহন করে। বাকি ১ জোড়া হলো লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম, নারীর ক্ষেত্রে XX এবং পুরুষের ক্ষেত্রে XY। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জননকোষে ক্রোমোজোম থাকে অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি। নিষেকের সময় এ দুটি মিলিত হলে আবার ৪৬টি পূর্ণ হয়। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা নির্ধারিত হয় বাবার কাছ থেকে X না Y ক্রোমোজোম আসে তার ওপর।
মনে রাখুন:
ডাউন সিনড্রোমে ২১ নম্বর ক্রোমোজোম একটি বেশি থাকে। - ৯৩. জীনের রাসায়নিক উপাদান-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (তিতাস), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন ও ডিএনএ
- ক. আরএনএ
- খ. ডিএনএ
- গ. ডিএনএ ও হ্যালিক্স
- ঘ. আরএনএ ও হ্যালিক্স
উত্তর: খ. ডিএনএ
জিন (Gene) হলো বংশগতির একক, অর্থাৎ বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য এর মাধ্যমেই সন্তানে যায়। রাসায়নিকভাবে জিন আলাদা কোনো পদার্থ নয়, এটি ক্রোমোজোমে থাকা ডিএনএ অণুর একটি নির্দিষ্ট অংশ। ডিএনএর পূর্ণ নাম ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড। এই অংশে নিউক্লিওটাইডগুলো একটি বিশেষ ক্রমে সাজানো থাকে, আর সেই ক্রম অনুযায়ী কোষে নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি হয়, যা চোখের রং বা উচ্চতার মতো বৈশিষ্ট্য ঠিক করে। ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক দেখান যে ডিএনএ অণু দুটি সুতার পেঁচানো সিঁড়ির মতো, একে ডাবল হেলিক্স বলে।
মনে রাখুন:
কিছু ভাইরাসে ডিএনএর বদলে আরএনএ বংশগতির বাহক হিসেবে কাজ করে।
‘জিন’ নামটি দেন বিজ্ঞানী জোহানসেন।
মানুষের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। - ৯৪. DNA stnads for -সম্মিলিত ৭ ব্যাংক, অফিসার (ক্যাশ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিএনএ
- ক. Dioxyribosnucleic acid
- খ. Deoxyribonucleic acid
- গ. Dihydralnucleic acid
- ঘ. Disacchrideic acid
উত্তর: খ. Deoxyribonucleic acid
DNA-এর পূর্ণরূপ Deoxyribonucleic Acid, বাংলায় ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড। এর গঠনে ডিঅক্সিরাইবোজ নামের একটি শর্করা থাকে, যাতে সাধারণ রাইবোজের চেয়ে একটি অক্সিজেন পরমাণু কম। তাই এর নামে ডিঅক্সি শব্দটি আছে। DNA জীবের কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোমের ভেতরে থাকে এবং বংশগতির সব তথ্য বহন করে। ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক দেখান যে DNA দুটি সুতার প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো গঠনের, যাকে ডাবল হেলিক্স বলে। DNA-তে চার ধরনের ক্ষারক থাকে, আর এদের সাজানোর ক্রমই জিনের তথ্য বহন করে।
মনে রাখুন:
DNA-এর ক্ষারক: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন।
RNA-তে থাইমিনের বদলে থাকে ইউরাসিল।
RNA-এর পূর্ণরূপ Ribonucleic Acid। - ৯৫. বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী উপাদানের নাম কি?গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, সহকারী তথ্য অফিসার, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন
- ক. জিন
- খ. প্রোটিন
- গ. ক্রোমোজোম
- ঘ. গ্যাসেট
উত্তর: ক. জিন
জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য, যেমন চোখের রং, চুলের ধরন বা উচ্চতা, নিয়ন্ত্রণ করে জিন (Gene)। জিন হলো ক্রোমোজোমে থাকা ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট একটি অংশ। এই অংশে প্রোটিন তৈরির সংকেত লেখা থাকে, আর সেই প্রোটিনই শেষ পর্যন্ত বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ করে। বাবা-মায়ের জিন জননকোষের মাধ্যমে সন্তানের দেহে আসে, তাই জিনকে বংশগতির একক বলা হয়। ক্রোমোজোম জিনকে বহন করে মাত্র, নিজে বৈশিষ্ট্যের একক নয়।
মনে রাখুন:
‘জিন’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন বিজ্ঞানী জোহানসেন।
বংশগতির জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।
মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। - ৯৬. The process of fragmentation of DNA in Genetic Engineering is known as -সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জিন প্রকৌশল
- ক. Electro synthesis
- খ. Electrophoresis
- গ. Electro analysis
- ঘ. Electrolysis
উত্তর: খ. Electrophoresis
জিন প্রকৌশলে (Genetic Engineering) ডিএনএকে প্রথমে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কেটে ছোট ছোট খণ্ড করা হয়। তারপর এই খণ্ডগুলোকে আকার অনুযায়ী আলাদা করে দেখা হয় ইলেকট্রোফোরেসিস (Electrophoresis) পদ্ধতিতে। ডিএনএর গায়ে ঋণাত্মক আধান থাকে, তাই জেলের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ দিলে খণ্ডগুলো ধনাত্মক প্রান্তের দিকে সরে যায়। ছোট খণ্ডগুলো জেলের ফাঁক দিয়ে দ্রুত এগোয় আর বড়গুলো ধীরে চলে, ফলে আলাদা আলাদা দাগ বা ব্যান্ড তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
ডিএনএ কাটার এনজাইমকে আণবিক কাঁচি বলে।
ডিএনএ জোড়া লাগানোর এনজাইম লাইগেজ।
অপরাধী শনাক্তে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং-এ ইলেকট্রোফোরেসিস ব্যবহৃত হয়। - ৯৭. Which term describes the process of creating genetically identical copies of an organism, often using advanced biotechnology techniques?পূবালী ব্যাংক, জুনিয়র অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্লোনিং
- ক. Cloning
- খ. Mutation
- গ. Hybridization
- ঘ. Evolution
উত্তর: ক. Cloning
কোনো জীবের হুবহু জিনগত প্রতিলিপি তৈরির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং (Cloning) বলে। এতে সাধারণত দাতা প্রাণীর একটি দেহকোষের নিউক্লিয়াস বের করে নিউক্লিয়াসহীন একটি ডিম্বাণুতে বসানো হয়, তারপর সেই ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ তৈরি করে মাতৃগর্ভে বড় করা হয়। জন্ম নেওয়া প্রাণীটির ডিএনএ দাতার ডিএনএর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ভেড়া ডলি প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী।
মনে রাখুন:
মিউটেশন হলো জিনের হঠাৎ স্থায়ী পরিবর্তন।
হাইব্রিডাইজেশন হলো দুটি ভিন্ন জাতের মধ্যে সংকরায়ণ।
উদ্ভিদে টিস্যু কালচার পদ্ধতিও এক ধরনের ক্লোনিং।
ক্লোন করা প্রথম বানর ঝং ঝং ও হুয়া হুয়া।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন