লিয়ানা বুকস

ধাতু, অধাতু ও যৌগ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ৯। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৩২৪টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।

এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →

বিসিএস (৪৫)

  1. ১. বিরল ভূতল খনিজ (Rare-Earth Minerals) সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিরল খনিজ
    • ক. এর মধ্যে ১৫টি ধাতু রয়েছে
    • খ. লিথিয়াম এই খনিজের মধ্যে অন্যতম সদস্য
    • গ. ইউক্রেন এ খনিজ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে আছে
    • ঘ. এর অসাধারণ চৌম্বক ধর্ম রয়েছে
    উত্তর: ঘ. এর অসাধারণ চৌম্বক ধর্ম রয়েছে
    বিরল মৃত্তিকা খনিজ (Rare Earth Elements) ১৭টি মৌলের একটি দল। এদের মধ্যে ১৫টি ল্যান্থানাইড এবং সঙ্গে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম আছে। এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অসাধারণ চৌম্বক ও আলোক ধর্ম, তাই শক্তিশালী চুম্বক, মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুকলের জেনারেটরে এগুলো লাগে। লিথিয়াম এই দলের সদস্য নয়, এটি ক্ষার ধাতু। বিরল মৃত্তিকা উৎপাদনে শীর্ষে আছে চীন, ইউক্রেন নয়। চীন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতে বিরল মৃত্তিকার খনি আছে। এসব মৌল প্রযুক্তি শিল্পে এত প্রয়োজনীয় যে এদের নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা চলে।
    মনে রাখুন: নামে বিরল হলেও এই মৌলগুলো ভূত্বকে একেবারে দুর্লভ নয়, কিন্তু আকরিক থেকে আলাদা করা কঠিন।
  2. ২. এসবেস্টস কি?২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ
    • ক. অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
    • খ. কম ঘনত্ববিশিষ্ট তরল পদার্থ
    • গ. বেশি ঘনত্ববিশিষ্ট তরল পদার্থ
    • ঘ. এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ
    উত্তর: ক. অগ্নি নিরোধক খনিজ পদার্থ
    এসবেস্টস (Asbestos) হলো আঁশের মতো গঠনের একটি খনিজ পদার্থ। এটি আগুনে পোড়ে না এবং তাপও পরিবহন করে না, তাই অগ্নিনিরোধক পোশাক, ছাদের শিট ও পাইপ তৈরিতে একে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এর সূক্ষ্ম আঁশ নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে গেলে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগ হতে পারে, তাই এখন অনেক দেশে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। এসবেস্টস তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী হওয়ায় বয়লার ও চুল্লির ঢাকনায় ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য এখন এর বিকল্প বেছে নেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    এসবেস্টস থেকে হওয়া ফুসফুসের রোগের নাম অ্যাসবেস্টোসিস।
    এসবেস্টস সিলিকেট শ্রেণির খনিজ।
  3. ৩. কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. সোডিয়াম
    • খ. ম্যাগনেসিয়াম
    • গ. রেডিয়াম
    • ঘ. ইউরেনিয়াম
    উত্তর: ক. সোডিয়াম
    সোডিয়াম পানির সঙ্গে খুব দ্রুত বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে। বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ বের হয়, ফলে হাইড্রোজেন গ্যাস জ্বলে ওঠে এবং আগুন ধরে যায়। ম্যাগনেসিয়াম ঠান্ডা পানির সঙ্গে প্রায় বিক্রিয়াই করে না, আর ইউরেনিয়াম ও রেডিয়াম এমনভাবে আগুন ধরায় না। এ কারণেই সোডিয়াম কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখা হয়। রেডিয়াম আরও সক্রিয় হলেও তেজস্ক্রিয় বলে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয় না। ইউরেনিয়াম ব্যবহার হয় পরমাণু চুল্লির জ্বালানি হিসেবে।
    মনে রাখুন:
    2Na + 2H₂O → 2NaOH + H₂।
    পটাশিয়াম আরও তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে এবং বেগুনি শিখায় জ্বলে ওঠে।
  4. ৪. খাবার সোডার বা বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সোডিয়ামের যৌগ
    • ক. Na₂CO₃
    • খ. Na₂SO₄
    • গ. NaNO₃
    • ঘ. NaHCO₃
    উত্তর: ঘ. NaHCO₃
    খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট, সংকেত NaHCO₃। বেকিং পাউডারে এই যৌগ থাকে, সঙ্গে একটি দুর্বল অ্যাসিডও মেশানো থাকে। রান্নার সময় এটি তাপ বা অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে, ফলে কেক বা রুটি ফুলে ওঠে। ফিটকিরি বা তুঁতের মতো কেলাসিত লবণ থেকে সোডা আলাদা, তাই রান্নাঘরের এই সোডাকে সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা বেকিং সোডাও বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    কাপড় কাচার সোডা Na₂CO₃·10H₂O।
    খাবার সোডা অ্যান্টাসিড হিসেবেও কাজ করে, কারণ এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে।
    এটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেও ব্যবহৃত হয়।
  5. ৫. অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?৩০তম ও ২৯তম বিসিএস ও MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিটকিরি ও ভিট্রিয়ল
    • ক. ফিটকিরি
    • খ. চুন
    • গ. সেভিং সোপ
    • ঘ. কস্টিক সোডা
    উত্তর: ক. ফিটকিরি
    অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি ভাষায় ফিটকিরি (Alum) বলা হয়। ঘোলা পানিতে ফিটকিরি দিলে এটি কাদার কণাকে জমাট বাঁধিয়ে নিচে বসিয়ে দেয়, ফলে পানি পরিষ্কার হয়। শেভিং-এর পর রক্ত বন্ধ করতেও এটি ব্যবহৃত হয়। চুন হলো ক্যালসিয়াম অক্সাইড, আর কস্টিক সোডা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড। ফিটকিরি দিয়ে পানি পরিষ্কার করার এই পদ্ধতি গ্রামে অনেকদিন ধরে চলে আসছে। অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জেলির মতো পদার্থ কাদার কণা আটকে নিচে নামায়।
    মনে রাখুন:
    পানি বিশুদ্ধকরণে ফিটকিরির এই ক্রিয়াকে স্কন্দন (Coagulation) বলে।
    সাধারণ ফিটকিরি আসলে পটাশ অ্যালাম।
  6. ৬. ইস্পাত সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন, কারণ এতে-১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে
    • খ. সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
    • গ. লোহাকে টেম্পারিং করা হয়েছে
    • ঘ. সব বিজাতীয় দ্রব্য বের করে দেয়া হয়েছে
    উত্তর: খ. সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
    ইস্পাত (Steel) আসলে লোহা আর কার্বনের একটি সংকর ধাতু। এতে কার্বনের পরিমাণ সুনিয়ন্ত্রিতভাবে রাখা হয়, সাধারণত ২ শতাংশের কম। কার্বন মিশলে লোহার কাঠিন্য ও শক্তি অনেক বেড়ে যায়, তাই ইস্পাত সাধারণ লোহার চেয়ে মজবুত হয় এবং দালান, সেতু ও যন্ত্রপাতি তৈরিতে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    পেটা লোহায় কার্বন সবচেয়ে কম, প্রায় ০.১২ থেকে ০.২৫ শতাংশ।
    ঢালাই লোহায় কার্বন বেশি, প্রায় ২ থেকে ৪.৫ শতাংশ, তাই এটি শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর।
    ইস্পাতে কার্বনের ভাগ যত বাড়ে, সেটি তত শক্ত হয়, কিন্তু একই সঙ্গে ভঙ্গুরও হয়ে ওঠে। তাই কাজ অনুযায়ী মৃদু ইস্পাত (Mild steel) ও উচ্চ কার্বন ইস্পাত আলাদা আলাদা ব্যবহার হয়।
  7. ৭. লোহাকে গ্যালভানাইজিং করতে ব্যবহৃত হয়-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ব্যবহার
    • ক. তামা
    • খ. জিঙ্ক
    • গ. রূপা
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    উত্তর: খ. জিঙ্ক
    লোহাকে মরিচার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়, তা হলো জিঙ্ক বা দস্তা। এই প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকেই গ্যালভানাইজিং বলে। জিঙ্ক বাতাসে একটি পাতলা, শক্ত অক্সাইডের স্তর তৈরি করে, যা ভেতরের লোহাকে সুরক্ষিত রাখে। তাই টিনের চাল, বালতি ও পাইপ তৈরিতে গ্যালভানাইজড লোহা ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন: জিঙ্ক লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই প্রলেপে ফাটল ধরলেও আগে জিঙ্ক ক্ষয় হয়, লোহা নয়।
    এই প্রলেপের কারণে গ্যালভানাইজড লোহার জিনিস দীর্ঘদিন টেকে। তামা ও রূপা লোহার চেয়ে কম সক্রিয়, তাই এদের প্রলেপ দিলে ফাটল ধরলে লোহা আরও দ্রুত ক্ষয় হতে পারে।
  8. ৮. Stainless Steel-এ মরিচা না পড়ার কারণ-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. লোহা
    • খ. ক্রোমিয়াম
    • গ. কার্বন
    • ঘ. সিলিকনের উপস্থিতি
    উত্তর: খ. ক্রোমিয়াম
    স্টেইনলেস স্টিলে মরিচা না ধরার কারণ এতে মেশানো ক্রোমিয়াম (Chromium)। ক্রোমিয়াম বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইস্পাতের গায়ে ক্রোমিয়াম অক্সাইডের একটি অতি পাতলা, অদৃশ্য ও শক্ত স্তর তৈরি করে। এই স্তর ভেতরের লোহাকে পানি ও অক্সিজেনের সংস্পর্শ থেকে আড়াল করে রাখে। মজার ব্যাপার হলো, স্তরটি কোথাও আঁচড়ে উঠে গেলেও বাতাসের সংস্পর্শে আবার নিজে থেকেই তৈরি হয়ে যায়।
    মনে রাখুন: স্টেইনলেস স্টিলে লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেল থাকে।
    কার্বনের উপস্থিতি অবশ্য ইস্পাতকে আরও শক্ত করে, কিন্তু মরিচা রোধের ক্ষমতা আসে ক্রোমিয়াম থেকে। লোহা নিজে মরিচা ধরার জন্য দায়ী, সেটি কখনো রক্ষক নয়।
  9. ৯. কোন ধাতু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল থাকে?৩৩তম ও ১৩তম বিসিএস ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির জুনিয়র হিসাব সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. পারদ
    • খ. ব্রোমিন
    • গ. সোডিয়াম
    • ঘ. হিলিয়াম
    উত্তর: ক. পারদ
    স্বাভাবিক বা কক্ষ তাপমাত্রায় একমাত্র যে ধাতু তরল অবস্থায় থাকে, তার নাম পারদ বা মার্কারি (Hg)। এর গলনাঙ্ক প্রায় −৩৯°C, তাই ঘরের তাপমাত্রায় এটি জমে না। ব্রোমিনও কক্ষ তাপমাত্রায় তরল, কিন্তু সেটি ধাতু নয়, অধাতু। সোডিয়াম একটি ধাতু হলেও কঠিন, আর হিলিয়াম একটি গ্যাস।
    মনে রাখুন: পারদ ছাড়া সিজিয়াম ও গ্যালিয়ামের মতো কিছু ধাতু সামান্য উষ্ণ করলেই গলে যায়, কিন্তু ২৫°C তাপমাত্রায় তরল ধাতু বলতে আমরা সাধারণত পারদকেই বুঝি।
    পারদের লাল আকরিকের নাম সিনাবার (Cinnabar), যার সংকেত HgS। এই আকরিক গরম করে পারদ নিষ্কাশন করা হয়।
  10. ১০. তামার সাথে নিচের কোনটি মেশালে পিতল হয়?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. নিকেল
    • খ. টিন
    • গ. সিসা
    • ঘ. দস্তা (জিঙ্ক)
    উত্তর: ঘ. দস্তা (জিঙ্ক)
    তামার সঙ্গে দস্তা বা জিঙ্ক মেশালে পিতল (Brass) তৈরি হয়। সাধারণত এতে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ তামা এবং ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ দস্তা থাকে। পিতল দেখতে সোনালি, সহজে মরিচা ধরে না, আর এটি দিয়ে সহজে নানা জিনিস গড়া যায়। তাই কলের মুখ, কাতুজের খোল, বাদ্যযন্ত্র ও সাজসজ্জার সামগ্রী এর তৈরি।
    মনে রাখুন:
    তামা ও টিন মিশলে ব্রোঞ্জ বা কাঁসা হয়।
    তামা ও নিকেলের সংকর কাপরোনিকেল, যা মুদ্রায় ব্যবহার করা হয়।
    তামার সঙ্গে টিন মেশালে ব্রোঞ্জ আর তামার সঙ্গে জিঙ্ক মেশালে পিতল হয়, এই পার্থক্যটি পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়। জিঙ্কের ভাগ বাড়ালে পিতলের রং হলুদ থেকে ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
  11. ১১. সংকর ধাতু পিতলের উপাদান-৩৩তম, ৩২তম ও ৩০তম বিসিএস ইত্যাদি · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও টিন
    • খ. তামা ও দস্তা
    • গ. তামা ও সীসা
    • ঘ. তামা ও নিকেল
    উত্তর: খ. তামা ও দস্তা
    পিতল (Brass) তামা ও দস্তার সংকর ধাতু। এতে তামার ভাগ বেশি, সাধারণত ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ, আর দস্তার ভাগ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। দস্তার পরিমাণ বদলালে পিতলের রং ও কাঠিন্য বদলে যায়। এর প্রধান উপাদান তামা বলে পিতলের রং সোনালি-হলুদ হয়।
    মনে রাখুন:
    ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের সংকর।
    পিতলের সঙ্গে টিন মেশানো হলে সেটি সমুদ্রের পানিতে ক্ষয় সহ্য করতে পারে, তাই জাহাজের যন্ত্রাংশে নেভাল ব্রাস ব্যবহৃত হয়।
    তাই কেউ প্রশ্ন করলে মনে রাখবেন, তামা থাকে ব্রোঞ্জ ও পিতল দুটিতেই, কিন্তু অপর উপাদান আলাদা: একটিতে টিন, অন্যটিতে দস্তা। এই পার্থক্য থেকেই দুটি সংকরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়।
  12. ১২. গ্রাফিন (Graphene) কার বহুরূপী?বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. কার্বন
    • খ. কার্বন ও অক্সিজেন
    • গ. কার্বন ও হাইড্রোজেন
    • ঘ. কার্বন ও নাইট্রোজেন
    উত্তর: ক. কার্বন
    গ্রাফিন (Graphene) হলো কার্বনের একটি বহুরূপ। এতে কার্বন পরমাণুগুলো মৌচাকের মতো ষড়ভুজাকার জালিতে সাজানো থাকে এবং পুরুত্ব মাত্র একটি পরমাণুর সমান। গ্রাফাইট আসলে এমন অসংখ্য গ্রাফিন স্তর একটির ওপর আরেকটি সাজানো অবস্থা। গ্রাফিন অত্যন্ত হালকা, ইস্পাতের চেয়ে বহুগুণ শক্ত, আর তাপ ও বিদ্যুৎ খুব ভালো পরিবহন করে।
    মনে রাখুন:
    ২০১০ সালে গ্রাফিন নিয়ে গবেষণার জন্য আন্দ্রে গেইম ও কনস্ট্যান্টিন নোভোসেলভ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
    কার্বনের অন্যান্য বহুরূপ হীরা, গ্রাফাইট ও ফুলেরিন।
    গ্রাফিন এই কারণে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি ও টাচস্ক্রিনের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
  13. ১৩. প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ (Hardest element) কোনটি?২৩তম ও ১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. পিতল
    • খ. হীরা
    • গ. ইস্পাত
    • ঘ. গ্রানাইট
    উত্তর: খ. হীরা
    প্রাকৃতিক পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো হীরা (Diamond)। এটি কার্বনের একটি রূপ, যাতে প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি প্রতিবেশী পরমাণুর সঙ্গে দৃঢ় সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ। ফলে পুরো কেলাসটি অত্যন্ত শক্ত হয়, মোহস স্কেলে এর কাঠিন্য ১০। পিতল, ইস্পাত ও গ্রানাইট এর চেয়ে নরম।
    মনে রাখুন:
    হীরা ও গ্রাফাইট একই কার্বনের রূপ, তবু হীরা সবচেয়ে কঠিন আর গ্রাফাইট খুবই নরম।
    হীরা বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, তবে তাপ ভালো পরিবহন করে।
    হীরার উজ্জ্বলতাও এর বিশেষ ধর্ম, কারণ এর প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি। এই উজ্জ্বলতা ও কাঠিন্যের জন্য এটি মূল্যবান রত্ন এবং শিল্পে কাটার যন্ত্র হিসেবে সমাদৃত।
  14. ১৪. শুষ্ক বরফ বলা হয় -২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. হিমায়িত অক্সিজেনকে
    • খ. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
    • গ. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
    • ঘ. হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইডকে
    উত্তর: ঘ. হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইডকে
    কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসকে চাপ দিয়ে ঠান্ডা করলে এটি জমে সাদা কঠিন পদার্থে পরিণত হয়, যাকে আমরা শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস (Dry Ice) বলি। সাধারণ বরফ গললে পানি তৈরি হয় বলে সেটি ভিজিয়ে দেয়। কিন্তু শুষ্ক বরফ গলে না, সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, অর্থাৎ এটি উর্ধ্বপাতিত হয়। তাই একে শুষ্ক বলা হয়।
    মনে রাখুন: শুষ্ক বরফের তাপমাত্রা প্রায় −৭৮°C।
    শুষ্ক বরফ ঠান্ডা রাখার কাজ করে কিন্তু ভিজিয়ে দেয় না, তাই পরিবহনের সময় আইসক্রিম, টিকা ও মাছ সংরক্ষণে এটি ব্যবহার করা হয়।
  15. ১৫. 'ড্রাই আইস'(Dry Ice) হলো-২১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাই অক্সাইড
    • খ. কঠিন অবস্থায় সালফার ডাই অক্সাইড
    • গ. শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে বরফ
    • ঘ. হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের কঠিন অবস্থা
    উত্তর: ক. কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাই অক্সাইড
    ড্রাই আইস (Dry Ice) হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)। উচ্চ চাপে CO₂ গ্যাসকে ঠান্ডা করলে এটি কঠিন সাদা বরফের মতো পদার্থ হয়ে যায়। সাধারণ চাপে এটি গলে তরল হয় না, বরং সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, একে উর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। এ কারণে ভেজা না করে জিনিস ঠান্ডা রাখার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    আইসক্রিম ও মাছ-মাংস সংরক্ষণে শুষ্ক বরফ ব্যবহার করা হয়।
    মঞ্চে কুয়াশার দৃশ্য বানাতেও এটি কাজে লাগে।
    CO₂ গ্যাসের ত্রৈধ বিন্দুর চাপ বায়ুচাপের চেয়ে বেশি। এ কারণেই সাধারণ বায়ুচাপে এটি তরল অবস্থা পার না এবং সরাসরি কঠিন থেকে গ্যাসে পরিণত হয়।
  16. ১৬. কোন গ্যাসটি 'ড্রাই আইস' তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
    • গ. সালফার ডাই-অক্সাইড
    • ঘ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    উত্তর: ঘ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    ড্রাই আইস তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস থেকে। এই গ্যাসকে বেশি চাপে সংকুচিত ও ঠান্ডা করলে প্রথমে তরল, পরে চাপ কমালে ঠান্ডা কঠিন তুষার তৈরি হয়, যা চেপে চাকতি বা ব্লক বানানো হয়। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড কিংবা সালফার ডাই-অক্সাইড দিয়ে এভাবে শুষ্ক বরফ তৈরি হয় না।
    মনে রাখুন: শুষ্ক বরফ সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় বলে এর তাপমাত্রা খুব কম, প্রায় −৭৮°C।
    শুষ্ক বরফ তৈরির এই পদ্ধতিতে প্রচুর CO₂ প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত শিল্পকারখানার উপজাত গ্যাস থেকে সংগ্রহ করা হয়। এভাবে একটি অপচয় হওয়া গ্যাসকে কাজে লাগানো যায়।
  17. ১৭. রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
    • খ. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
    • গ. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
    • ঘ. প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে
    উত্তর: খ. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
    আগুন জ্বলতে জ্বালানি, তাপ ও অক্সিজেন লাগে। এর যেকোনো একটি সরিয়ে নিলেই আগুন নিভে যায়। রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ফোম বের হয়ে আগুনের ওপর একটি আবরণ তৈরি করে। এতে বাতাসের অক্সিজেন আগুনের কাছে পৌঁছাতে পারে না, ফলে আগুন নিভে যায়।
    মনে রাখুন: সোডা-অ্যাসিড নির্বাপকে সোডিয়াম বাইকার্বনেটের সঙ্গে সালফিউরিক অ্যাসিড বিক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস তৈরি করে।
    আগুন নেভানোর তিনটি মূল উপায় হলো জ্বালানি সরিয়ে নেওয়া, তাপমাত্রা কমানো এবং অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করা। রাসায়নিক নির্বাপক শেষ পদ্ধতিটি কাজে লাগায়।
  18. ১৮. পেট্রোলের আগুন পানি দ্বারা নেভানো যায় না, কারণ-২৩তম বিসিএস ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির জুনিয়র হিসাব সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দহন ও অগ্নিনির্বাপণ
    • ক. পেট্রোলের সাথে পানি মিশে যায়
    • খ. পেট্রোল পানির সাথে মিশে না
    • গ. পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা
    • ঘ. খ ও গ উভয়ই ঠিক
    উত্তর: ঘ. খ ও গ উভয়ই ঠিক
    পেট্রোলের আগুনে পানি ঢাললে আগুন নেভে না, বরং ছড়িয়ে পড়ে। এর দুটি কারণ আছে। প্রথমত, পেট্রোল পানির সঙ্গে মেশে না। দ্বিতীয়ত, পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা। ফলে পানির ওপর পেট্রোল ভেসে ওঠে এবং জ্বলতে জ্বলতে পানির সঙ্গে সঙ্গে বহু দূর ছড়িয়ে যায়। তাই দুটি কারণই সঠিক।
    মনে রাখুন:
    তেল বা পেট্রোলের আগুনে বালি, ফোম বা কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্বাপক ব্যবহার করা উচিত।
    বিদ্যুৎজনিত আগুনে পানি দেওয়া বিপজ্জনক।
    এই কারণে পেট্রোল বা কেরোসিনের মতো তেলের আগুনে আগুন নেভাতে ফোম ব্যবহার করা হয়, যা তেলের ওপর আবরণ তৈরি করে অক্সিজেন আটকে দেয়। পানি ঢাললে আগুনের জ্বলন্ত তেল ভেসে আরও দূরে চলে যায়।
  19. ১৯. 'অ্যাকোয়া রেজিয়া' বলতে বুঝায়-১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড ও ক্ষার
    • ক. কনসেনট্রেটেড সালফিউরিক এবং কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিডের মিশ্রণ
    • খ. কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ
    • গ. কনসেনট্রেটেড সালফিউরিক এসিড
    • ঘ. কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিড
    উত্তর: খ. কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ
    অ্যাকোয়া রেজিয়া (Aqua regia) ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ 'রাজার জল'। গাঢ় নাইট্রিক এসিড ও গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে সাধারণত ১:৩ অনুপাতে মেশালে এটি তৈরি হয়। এর বাংলা নাম রাজঅম্ল। স্বর্ণ ও প্লাটিনামের মতো মহার্ঘ ধাতু অন্য কোনো এসিডে গলে না, কিন্তু এই মিশ্রণ তাদের গলিয়ে দেয়। মিশ্রণটি অস্থিতিশীল, তাই ব্যবহারের ঠিক আগে তৈরি করতে হয়। মিশ্রণে নাইট্রিক এসিড স্বর্ণকে জারিত করে, আর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্লোরাইড আয়ন তাকে দ্রবণে ধরে রাখে। ফলে স্বর্ণ ক্লোরোঅরিক এসিড হিসেবে দ্রবীভূত হয়।
    মনে রাখুন:
    সালফিউরিক ও নাইট্রিক এসিডের মিশ্রণ রাজঅম্ল নয়।
    রাজঅম্ল ক্ষয়কারী ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়ে, তাই সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
  20. ২০. স্বর্ণের খাদ বের করতে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়?৩২তম ও বাতিলকৃত ২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড ও ক্ষার
    • ক. সাইট্রিক এসিড
    • খ. নাইট্রিক এসিড
    • গ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
    • ঘ. টারটারিক এসিড
    উত্তর: খ. নাইট্রিক এসিড
    স্বর্ণের সঙ্গে রুপা ও তামা মিশে থাকলে নাইট্রিক এসিড (HNO₃) দিয়ে তা আলাদা করা যায়। নাইট্রিক এসিড রুপা ও তামাকে দ্রবীভূত করে, কিন্তু স্বর্ণের ওপর কোনো বিক্রিয়া করে না। ফলে খাঁটি স্বর্ণ পড়ে থাকে। এই পদ্ধতিকে পার্টিং (Parting) বলা হয়। স্বর্ণ খাঁটি কি না যাচাই করার পরীক্ষাতেও এই এসিড কাজে লাগে। পদ্ধতিটি কাজ করে কারণ স্বর্ণ নাইট্রিক এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না, কিন্তু রুপা ও তামা করে। বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেনের অক্সাইডের লালচে বাদামী গ্যাস বের হয়।
    মনে রাখুন:
    স্বর্ণ নিজে গলাতে হলে নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ রাজঅম্ল লাগে।
    স্বর্ণের বিশুদ্ধতা মাপা হয় ক্যারেটে, ২৪ ক্যারেট হলো খাঁটি স্বর্ণ।
  21. ২১. কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসে (Inert gas) আটটি ইলেকট্রন নেই?৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. হিলিয়াম
    • খ. নিয়ন
    • গ. আর্গন
    • ঘ. জেনন
    উত্তর: ক. হিলিয়াম
    হিলিয়ামে (He) মোট ইলেকট্রন ২টি, আর এই ২টি ইলেকট্রনেই এর একমাত্র শক্তিস্তর পূর্ণ হয়ে যায়। অন্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডনের বাইরের স্তরে ৮টি করে ইলেকট্রন থাকে। এই ৮ ইলেকট্রনের বিন্যাসকে অষ্টক (Octet) বলে। অষ্টক বা পূর্ণ স্তর থাকলে পরমাণু স্থিতিশীল হয়, তাই এরা নিষ্ক্রিয়। কোনো পরমাণুর বাইরের শক্তিস্তর পূর্ণ থাকলে পরমাণুটি স্থিতিশীল হয়। হিলিয়ামের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরে সর্বোচ্চ ২টি ইলেকট্রনই থাকতে পারে, তাই ২টি ইলেকট্রনেই স্তর পূর্ণ হয়।
    মনে রাখুন:
    নিয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৮ এবং আর্গনের ২, ৮, ৮।
    হিলিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস শুধু ২, একে দ্বিত্ব (Duet) বিন্যাস বলা যায়।
  22. ২২. সোডিয়াম অ্যাসিটেটের সংকেত?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. CH₂COONa
    • খ. CH₃COOSi
    • গ. CH₃COONa
    • ঘ. CH₂COONa₂
    উত্তর: গ. CH₃COONa
    সোডিয়াম অ্যাসিটেট (Sodium acetate) হলো অ্যাসিটিক এসিডের সোডিয়াম লবণ। অ্যাসিটিক এসিড (CH₃COOH) থেকে –COOH মূলকের হাইড্রোজেন সরে গিয়ে সেখানে সোডিয়াম বসলে CH₃COONa পাওয়া যায়। অ্যাসিটিক এসিডের সঙ্গে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) মেশালেও এই লবণ তৈরি হয়: CH₃COOH + NaOH → CH₃COONa + H₂O। সোডিয়াম অ্যাসিটেট ব্যবহার হয় রং শিল্পে, বাফার দ্রবণ তৈরিতে এবং খাবারে স্বাদ ও সংরক্ষণের কাজে। হাত গরম করার কিছু প্যাডেও এই লবণ থাকে।
    মনে রাখুন:
    অ্যাসিটেট আয়নের সংকেত CH₃COO⁻।
    দুর্বল এসিডের লবণ হওয়ায় সোডিয়াম অ্যাসিটেটের জলীয় দ্রবণ সামান্য ক্ষারীয় হয়।
  23. ২৩. ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়-২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. আমলকিতে
    • খ. আঙুরে
    • গ. টমেটোতে
    • ঘ. কমলালেবুতে
    উত্তর: খ. আঙুরে
    ম্যালিক এসিড (Malic acid) আপেল ও আঙুরে পাওয়া যায়, বিশেষ করে অপক আঙুরে এর পরিমাণ বেশি থাকে। আঙুর পাকলে ম্যালিক এসিড কমে এবং শর্করা বেড়ে যায়, তাই পাকা আঙুর মিষ্টি লাগে। অন্য বিকল্পগুলো আলাদা: টমেটো ও কমলালেবুতে মূলত সাইট্রিক এসিড থাকে, আর আমলকিতে থাকে অ্যাসকরবিক এসিড। আঙুরের রস গেঁজিয়ে ওয়াইন তৈরি করা হয়। এই গাঁজনের সময় ম্যালিক এসিডের একটি অংশ ল্যাকটিক এসিডে পরিণত হয় এবং স্বাদ নরম হয়।
    মনে রাখুন:
    সাইট্রিক এসিড লেবুজাতীয় ফলের প্রধান এসিড।
    আঙুরে টারটারিক এসিডও থাকে।
  24. ২৪. দুধে কোন ধরনের এসিড থাকে?৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. সাইট্রিক এসিড
    • খ. ল্যাকটিক এসিড
    • গ. সাইট্রিক ও ল্যাকটিক এসিড
    • ঘ. কোনো এসিড নেই
    উত্তর: খ. ল্যাকটিক এসিড
    দুধে প্রধানত ল্যাকটিক এসিড (Lactic acid) থাকে বলা হয়। দুধে ল্যাকটোজ নামে এক ধরনের চিনি আছে। কিছু ব্যাকটেরিয়া এই চিনিকে ভেঙে ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে। দুধ টকে গেলে বা দই জমলে এই কারণেই হয়। তাজা দুধে এই এসিড খুব সামান্য থাকে, কিন্তু রেখে দিলে ব্যাকটেরিয়ার কাজের ফলে এর পরিমাণ বাড়তে থাকে, তাই দুধ ক্রমে টক হয়ে যায়। গরুর দুধে ল্যাকটোজের পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। এই চিনি হজম করতে না পারলে কারও কারও পেটের সমস্যা হয়, যাকে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বলে।
    মনে রাখুন:
    দুধ ও দইয়ের টক স্বাদ ল্যাকটিক এসিড থেকে আসে।
    দুধের চিনির নাম ল্যাকটোজ।
    ব্যায়ামের সময় পেশিতে অক্সিজেনের অভাব হলে ল্যাকটিক এসিড জমে ব্যথা হয়।
  25. ২৫. সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো-৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. R₃NH⁺
    • খ. SO₃-Na⁺
    • গ. R₂NH₂⁺
    • ঘ. COO-Na⁺
    উত্তর: ঘ. COO-Na⁺
    সাবানের অণুর একপ্রান্ত আয়নিক, তাকে বলে আয়নিক মাথা। সাবান উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের লবণ বলে এর আয়নিক গ্রুপ কার্বক্সিলেট গ্রুপ, অর্থাৎ COO⁻Na⁺। অণুর অন্য প্রান্তে থাকে লম্বা হাইড্রোকার্বন শৃঙ্খল। আয়নিক মাথা পানির প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং একে জলাকর্ষী বলে। আর হাইড্রোকার্বন লেজ তেল বা ময়লার প্রতি আকৃষ্ট হয়, একে জলবিকর্ষী বলে। এভাবে সাবান ময়লাকে ঘিরে ফেলে পানিতে ভাসিয়ে দেয়। সাবানের অণুর এই গঠনকে মাইসেল (Micelle) গঠনের ভিত্তি বলা হয়। অণুগুলো লেজ ভেতরে ও মাথা বাইরে রেখে গোলকের মতো সাজে, আর লেজের ভেতরে তেল আটকে যায়।
    মনে রাখুন: SO₃⁻Na⁺ গ্রুপটি সাধারণত সিনথেটিক ডিটারজেন্টে থাকে।
  26. ২৬. টুথপেস্টের প্রধান উপাদান -১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ টুথপেস্ট
    • ক. জেলী ও মশলা
    • খ. ফ্লোরাইড ও ক্লোরোফিল
    • গ. সাবান ও পাউডার
    • ঘ. ভোজ্য তেল ও সোডা
    উত্তর: গ. সাবান ও পাউডার
    টুথপেস্টের প্রধান উপাদান দুটি: সাবান বা ডিটারজেন্ট এবং পাউডার জাতীয় মিহি ঘর্ষক পদার্থ। এখানে পাউডার মানে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের মতো মিহি ঘর্ষক পদার্থ, যা দাঁত ঘষে ময়লা তোলে। আর সাবান বা ডিটারজেন্ট ফেনা তৈরি করে ময়লা ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে। বাকি উপাদান কম পরিমাণে থাকে। টুথপেস্টে ঘর্ষক হিসেবে সাধারণত খড়িমাটি বা সিলিকা মেশানো থাকে, আর কিছু পেস্টে বেকিং সোডাও থাকে। এই ঘর্ষক দাঁতের ওপরে জমা দাগ আলতো করে ঘষে তুলে ফেলে।
    মনে রাখুন:
    আধুনিক টুথপেস্টে এর সঙ্গে ফ্লোরাইড, গন্ধ-স্বাদের উপাদান ও গ্লিসারিনের মতো আর্দ্রতা ধরে রাখার পদার্থ মেশানো হয়।
  27. ২৭. কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. পায়খানা, প্রসাবখানায়
    • খ. গোসলখানায়
    • গ. পুকুরে
    • ঘ. নালায়
    উত্তর: ক. পায়খানা, প্রসাবখানায়
    সলিড ফিনাইল (গোলাকার ফিনাইলের বড়ি) মূলত পায়খানা ও প্রস্রাবখানায় ব্যবহার করা হয়। এতে ন্যাপথালিন বা p-ডাইক্লোরোবেনজিনের মতো গন্ধযুক্ত অ্যারোমেটিক যৌগ থাকে। এগুলো দুর্গন্ধ দূর করে এবং জীবাণু ও পোকামাকড় তাড়ায়। এই বড়ি ধীরে ধীরে উবে যায়, ফলে অনেকক্ষণ সুগন্ধ বজায় থাকে। গোসলখানা, পুকুর বা নালায় এর ব্যবহার সাধারণ নয়। আজকাল সলিড ফিনাইলের বদলে তরল ফিনাইল ও অন্যান্য জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা হয়। তবে বড় আকারের বড়ি টয়লেটের গন্ধ রোধে সবচেয়ে কার্যকর।
    মনে রাখুন:
    ন্যাপথালিন একটি অ্যারোমেটিক যৌগ, যা উবে যায়।
    কাপড় ও আলমারির পোকামাকড় তাড়াতে ন্যাপথালিন ব্যবহার করা হয়।
  28. ২৮. কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল (raw material) হলো-২৬তম ও ১১তম বিসিএস ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ ও সিলিকা
    • ক. সাজিমাটি
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. জিপসাম
    • ঘ. বালি
    উত্তর: ঘ. বালি
    কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল বালি, অর্থাৎ সিলিকা বা সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂)। বালির সঙ্গে সোডা অ্যাশ (সাজিমাটি, Na₂CO₃) ও চুনাপাথর মিশিয়ে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলানো হয়। সোডা অ্যাশ বালির গলনাঙ্ক কমিয়ে দেয়, আর চুনাপাথর কাচকে পানিতে অদ্রবণীয় করে। ঠান্ডা হলে স্বচ্ছ কাচ পাওয়া যায়। কাচের গলনাঙ্ক কমাতে আর রঙ বা অন্যান্য গুণ আনতে নানা উপাদান যোগ করা যায়। বোরোসিলিকেট কাচ তাপ সহ্য করতে পারে বলে পরীক্ষাগারের বিকার ও ফ্লাস্কে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ কাচের সংকেত Na₂O·CaO·6SiO₂।
    কাচ একটি অকেলাস (অ্যামর্ফাস) কঠিন পদার্থ।
  29. ২৯. কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট ও সিরামিক
    • ক. সালফার
    • খ. জিপসাম
    • গ. খনিজ লবণ
    • ঘ. সোডিয়াম
    উত্তর: খ. জিপসাম
    জিপসাম সিমেন্ট তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্লিংকার গুঁড়ো করার সময় এর সঙ্গে প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ জিপসাম মেশানো হয়। জিপসাম না মেশালে সিমেন্ট পানির সংস্পর্শে খুব দ্রুত জমে যেত, ফলে কাজ করার সময় পাওয়া যেত না। অন্য বিকল্পগুলো, অর্থাৎ সালফার, খনিজ লবণ ও সোডিয়াম, সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না। জিপসামের বাইরে সিমেন্টের কাঁচামাল হিসেবে কখনো কখনো আয়রন অক্সাইডের উৎস বা বালিও যুক্ত করা হয়, কিন্তু সেগুলো মূল উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    জিপসামের সংকেত CaSO₄·2H₂O।
    সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথর ও কাদামাটি।
  30. ৩০. নিচের কোনটি সিরামিক উপাদানের প্রধান কাঁচামাল?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট ও সিরামিক
    • ক. SiO₂
    • খ. Na₂CO₃
    • গ. Fe₂O₃
    • ঘ. NaNO₃
    উত্তর: ক. SiO₂
    সিরামিক উপাদানের প্রধান কাঁচামাল সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂), অর্থাৎ সিলিকা বা বালি। সিরামিক তৈরি হয় কাদামাটি, সিলিকা ও ফেলডস্পার মিশিয়ে উচ্চ তাপে পুড়িয়ে। কাপ-পিরিচ, টাইলস ও চিনামাটির বাসনপত্র সিরামিকের পরিচিত উদাহরণ। অন্য বিকল্পগুলো, অর্থাৎ Na₂CO₃, Fe₂O₃ ও NaNO₃, প্রধান কাঁচামাল নয়। সিরামিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ কেরামোস থেকে, যার অর্থ কুমোরের মাটি। কাচও এক ধরনের সিরামিক, যদিও সেটি অকেলাস গঠনের। সিরামিক তৈরির সময় মাটির মিশ্রণ ছাঁচে ঢেলে শুকিয়ে ভাটায় পোড়ানো হয়। পোড়ানোর পর এর ওপরে গ্লেজ নামের কাচের মতো পাতলা আস্তর দিলে এটি মসৃণ ও পানিরোধী হয়।
    মনে রাখুন:
    সিরামিক শক্ত, তাপসহনশীল, কিন্তু ভঙ্গুর।
    সিরামিক তড়িৎ-অপরিবাহী বলে বৈদ্যুতিক ইনসুলেটরেও ব্যবহার হয়।
  31. ৩১. পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রাপ্ত ধাতু কোনটি?২৯তম বিসিএস ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর প্রাপ্যতা
    • ক. লোহা
    • খ. সিলিকন
    • গ. পারদ
    • ঘ. তামা
    উত্তর: ক. লোহা
    ভূত্বকে সবচেয়ে প্রচুর ধাতু আসলে অ্যালুমিনিয়াম, তার পরেই লোহা। কিন্তু এই প্রশ্নের বিকল্পে অ্যালুমিনিয়াম নেই। সিলিকন প্রচুর থাকলেও সেটি ধাতু নয়, অর্ধধাতু (Metalloid)। বাকি তিনটি ধাতুর মধ্যে পারদ ও তামা ভূত্বকে অল্প পাওয়া যায়, আর লোহা প্রায় ৫ শতাংশ। তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর লোহা।
    মনে রাখুন:
    ভূত্বকে পরিমাণের ক্রম: অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা।
    পৃথিবীর মোট ভরের হিসাবে (কেন্দ্রসহ) লোহা সবচেয়ে বেশি।
    ভূত্বকে অক্সিজেন ওজনের প্রায় ৪৬ শতাংশ, সিলিকন প্রায় ২৮ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম প্রায় ৮ শতাংশ।
    লোহা বিশুদ্ধ অবস্থায় না পেয়ে প্রধানত হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইটের মতো আকরিক থেকে নিষ্কাশন করা হয়।
  32. ৩২. স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা
    • খ. দস্তা
    • গ. ক্রোমিয়াম
    • ঘ. এলুমিনিয়াম
    উত্তর: গ. ক্রোমিয়াম
    স্টেইনলেস স্টিল লোহা, কার্বন ও ক্রোমিয়ামের একটি সংকর ধাতু, যাতে সাধারণত নিকেলও থাকে। এর প্রধান গুণ হলো, এতে সহজে মরিচা ধরে না। এর কারণ ক্রোমিয়াম। বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে ক্রোমিয়াম লোহার ওপর অক্সাইডের একটি পাতলা, অদৃশ্য স্তর তৈরি করে। এই স্তর ভেতরের লোহাকে বাতাস ও পানি থেকে রক্ষা করে। তামা, দস্তা বা অ্যালুমিনিয়াম এর উপাদান নয়। অন্যদিকে লোহা আর্দ্র বাতাসে খোলা থাকলে সহজেই মরিচা ধরে নষ্ট হয়, আর এই ক্ষয় রোধ করাই স্টেইনলেস স্টিলের বিশেষত্ব।
    মনে রাখুন:
    স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে রান্নার বাসন, চামচ ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্র তৈরি হয়।
    দুই বা ততোধিক ধাতু মিশিয়ে তৈরি ধাতবকে সংকর ধাতু বলে।
  33. ৩৩. লোহাকে গ্যালভানাইজিং করতে ব্যবহৃত হয়-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ব্যবহার
    • ক. তামা
    • খ. দস্তা
    • গ. রূপা
    • ঘ. এলুমিনিয়াম
    উত্তর: খ. দস্তা
    লোহার ওপর পাতলা করে দস্তার (Zinc) প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকে গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলে। লোহা পানি ও বাতাসের সংস্পর্শে মরিচা ধরে নষ্ট হয়। দস্তা লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই প্রলেপ ক্ষয়ে গেলেও আগে দস্তা ক্ষয় হয় এবং লোহাকে রক্ষা করে। আমরা যে টিনের চালের ঢেউটিন দেখি, তা আসলে দস্তা-প্রলিপ্ত লোহার পাত।
    মনে রাখুন: সক্রিয়তার ক্রমে দস্তা লোহার ওপরে এবং তামা ও রুপা লোহার নিচে থাকে। তাই তামা বা রুপার প্রলেপ লোহাকে একই ভাবে রক্ষা করে না।
  34. ৩৪. পিতলের উপাদান হলো-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও টিন
    • খ. তামা ও নিকেল
    • গ. তামা ও সিসা
    • ঘ. তামা ও দস্তা
    উত্তর: ঘ. তামা ও দস্তা
    পিতল (Brass) তামা ও দস্তা মিশিয়ে তৈরি একটি সংকর ধাতু (Alloy)। দুই বা তার বেশি ধাতু মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি হয়, যার গুণ মূল ধাতুগুলোর চেয়ে আলাদা। তামার সঙ্গে দস্তা মেশালে ধাতু আরও শক্ত হয় এবং দেখতে সোনালি হয়, তাই পিতল ব্যবহৃত হয় বাসনপত্র, কলকবজা ও যন্ত্রাংশে। তামা ও টিন মিশে তৈরি হয় কাঁসা বা ব্রোঞ্জ।
    মনে রাখুন: কয়েকটি সংকর ধাতু:
    পিতল: তামা ও দস্তা।
    ব্রোঞ্জ বা কাঁসা: তামা ও টিন।
    সোল্ডার: সীসা ও টিন।
    স্টেইনলেস স্টিল: লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেল।
  35. ৩৫. কোন গ্যাসটি “ড্রাই আইস” তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. কার্ব ডাই-অক্সাইড
    • গ. সালফার ডাই-অক্সাই
    • ঘ. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
    উত্তর: খ. কার্ব ডাই-অক্সাইড
    কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসকে অত্যন্ত চাপে ও ঠান্ডায় কঠিন করলে যে সাদা কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে শুষ্ক বরফ (Dry Ice) বলে। এর তাপমাত্রা প্রায় -78.5°C। সাধারণ বরফের মতো এটি গলে তরল হয় না, বরং সরাসরি কঠিন থেকে গ্যাসে পরিণত হয়, আর এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। তাই ভেজা না করে জিনিসপত্র খুব ঠান্ডা রাখতে এটি কাজে লাগে।
    মনে রাখুন: শুষ্ক বরফ থেকে ঘন কুয়াশার মতো ধোঁয়া বের হওয়ার কারণ হলো বাতাসের জলীয় বাষ্প জমে যাওয়া, আর এটি মঞ্চে বা আইসক্রিম রাখার সময় ব্যবহৃত হয়।
  36. ৩৬. নিম্নের কোনটি বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের সংকেত?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. CaCO3
    • খ. NaHCO3
    • গ. NH4HCO3
    • ঘ. (NH4)2CO3
    উত্তর: খ. NaHCO3
    বেকিং পাউডারের মূল উপাদান সোডিয়াম বাইকার্বনেট (Sodium Bicarbonate), যাকে আমরা খাবার সোডাও বলি। এর সংকেত NaHCO3। এর সঙ্গে সাধারণত একটি দুর্বল অম্ল, যেমন টারটারিক অ্যাসিড, এবং কিছু স্টার্চ মেশানো থাকে। কেক বা পাউরুটির ময়দায় তাপ ও আর্দ্রতা পেলে এই মিশ্রণ বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ছাড়ে। গ্যাসের বুদবুদ আটকে পড়ে বলে ময়দা ফুলে নরম হয়ে ওঠে।
    CaCO3 হলো চুনাপাথর বা মার্বেলের সংকেত। NH4HCO3 ও (NH4)2CO3 অ্যামোনিয়ামের লবণ, এগুলো বেকিং পাউডারের মূল উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    খাবার সোডা = সোডিয়াম বাইকার্বনেট = NaHCO3
    গরম করলে এটি Na2CO3, পানি ও CO2 দেয়
  37. ৩৭. প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের বহুরূপতা
    • ক. পিতল
    • খ. হীরা
    • গ. ইস্পাত
    • ঘ. গ্রানাইট
    উত্তর: খ. হীরা
    প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হীরা। হীরা কার্বনের একটি রূপ, যেখানে প্রতিটি কার্বন পরমাণু আরও চারটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে দৃঢ় সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থেকে ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরি করে। এই দৃঢ় কাঠামোর কারণেই হীরা এত শক্ত। এ জন্য কাচ কাটার কাজে হীরা ব্যবহৃত হয়। ইস্পাত, পিতল ও গ্র্যানাইট শক্ত হলেও হীরার সমান নয়। হীরা বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, কারণ এতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের আরেকটি রূপ গ্রাফাইট নরম, পিচ্ছিল এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী।
    খনিজের কাঠিন্য মাপার মোহ স্কেলে হীরার মান সর্বোচ্চ, অর্থাৎ ১০।
  38. ৩৮. রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো –২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. ৯০% ইথাইল অ্যালকোহল + ১০% পানি
    • খ. ৮০% ইথাইল অ্যালকোহল + ২০% পানি
    • গ. ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
    • ঘ. ৯৮% ইথাইল অ্যালকোহল + ২% পানি
    উত্তর: গ. ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
    রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো প্রায় ৯৫ শতাংশ ইথাইল অ্যালকোহল ও ৫ শতাংশ পানির মিশ্রণ। চিনি বা গুড় গাঁজিয়ে পাওয়া তরলকে পাতন করলে এই মিশ্রণ পাওয়া যায়। এর চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ অ্যালকোহল সাধারণ পাতনে পাওয়া যায় না, কারণ ওই অনুপাতের মিশ্রণ একই তাপমাত্রায় ফোটে এবং একসঙ্গে বাষ্প হয়ে যায়। প্রায় ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ অ্যালকোহলকে বলে অ্যাবসোলিউট অ্যালকোহল। মজার ব্যাপার হলো, রেক্টিফাইড স্পিরিট ওষুধ ও বার্নিশ তৈরিতে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার হয়।
    মনে রাখুন: মিথাইলেটেড স্পিরিট হলো ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে মিথানল মেশানো মিশ্রণ, যা পান করার অযোগ্য।
  39. ৩৯. সবচেয়ে শক্ত বস্তু কোনটি?১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের বহুরূপতা
    • ক. হীরা
    • খ. প্রানাইট পাথর
    • গ. পিতল
    • ঘ. ইস্পাত
    উত্তর: ক. হীরা
    হীরা (Diamond) প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে শক্ত পদার্থ। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ, যেখানে প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্ত সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থেকে ত্রিমাত্রিক জালক তৈরি করে। এই দৃঢ় গঠনের কারণে হীরা সহজে আঁচড় খায় না এবং এর সাহায্যে কাচ কাটা যায়। গ্রানাইট, পিতল ও ইস্পাত তুলনায় নরম। তাই হীরাই এ প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর।
    মনে রাখুন:
    মোহস স্কেলে হীরার কাঠিন্য ১০, আর এটিই সর্বোচ্চ।
    গ্রাফাইট কার্বনের আরেকটি রূপ, কিন্তু এটি নরম ও পিচ্ছিল।
    খাঁটি হীরা একসময় কার্বনের পরমাণুর নিবিড় বিন্যাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
  40. ৪০. ইউরিয়া সারের কাঁচামাল-১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
    • ক. অপরিশোধিত তেল
    • খ. ক্লিংকার
    • গ. এমোনিয়া
    • ঘ. মিথেন গ্যাস
    উত্তর: ঘ. মিথেন গ্যাস
    ইউরিয়া সার তৈরির মূল কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস, যার প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)। প্রথমে মিথেন থেকে হাইড্রোজেন নেওয়া হয়। এই হাইড্রোজেন বাতাসের নাইট্রোজেনের সঙ্গে মিলে অ্যামোনিয়া (NH₃) তৈরি করে। তারপর অ্যামোনিয়া কার্বন ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইউরিয়া দেয়। অ্যামোনিয়া তাই কারখানার মাঝের ধাপের পদার্থ, আর শুরুর কাঁচামাল হলো মিথেন গ্যাস। বাংলাদেশের বেশির ভাগ সার কারখানা তাই গ্যাসক্ষেত্রের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। কাঁচামালের উৎস কাছাকাছি থাকলে পরিবহন খরচ কমে।
    মনে রাখুন:
    ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেন থাকে প্রায় ৪৬ ভাগ, তাই এটি সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ সার।
    সিমেন্ট তৈরিতে ক্লিংকার লাগে, ইউরিয়ায় নয়।
  41. ৪১. নিচের কোনটি সিরামিক উপাদানের প্রধান কাঁচামাল?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট ও সিরামিক
    • ক. SiO2
    • খ. Na2CO3
    • গ. Fe2O3
    • ঘ. NaNO3
    উত্তর: ক. SiO2
    সিরামিক (Ceramic) তৈরির প্রধান কাঁচামাল কাদামাটি ও সিলিকা (SiO₂), অর্থাৎ বালি। উচ্চ তাপে পোড়ালে এগুলো শক্ত ও তাপসহ কাঠামো গঠন করে। বিকল্পের অন্য যৌগগুলো এ কাজে প্রধান কাঁচামাল নয়। Na₂CO₃ হলো সোডা অ্যাশ, Fe₂O₃ হলো লোহার অক্সাইড আর NaNO₃ হলো সোডিয়াম নাইট্রেট। কাদামাটি তাপে শক্ত হয়ে আকার ধরে রাখে, আর সিলিকা তাকে আরও দৃঢ় করে। এই কারণে সিরামিক পাত্র সহজে গলে না ও রাসায়নিক পদার্থেও ক্ষয় হয় না। সিরামিককে তাই তাপসহ ও শক্ত পদার্থ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    সিরামিকের উদাহরণ চীনামাটির বাসন, ইট, টাইলস।
    Na₂CO₃ (সোডা অ্যাশ) কাচ তৈরিতে অন্যতম কাঁচামাল।
  42. ৪২. কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো-১১তম ও ২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ
    • ক. শাজিমাটি
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. জিপশাম
    • ঘ. বালি
    উত্তর: ঘ. বালি
    কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল বালি, যার মূল উপাদান সিলিকা (সিলিকন ডাই-অক্সাইড, SiO₂)। বালির সঙ্গে সোডা অ্যাশ ও চুনাপাথর মিশিয়ে অনেক বেশি তাপে গলালে কাচ তৈরি হয়। তাই সাধারণ কাচের প্রধান উপাদান বালি। বালিতে থাকা সিলিকা অনেক উচ্চ তাপমাত্রায় গলে। সোডা অ্যাশ মেশালে গলনাঙ্ক কমে যায়, আর চুনাপাথর কাচকে টেকসই করে। শীতল হলে মিশ্রণটি স্ফটিক না হয়ে স্বচ্ছ ও কঠিন কাচে পরিণত হয়, তাই কাচকে অতিশীতল তরলও বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশের সিলেট ও কক্সবাজার অঞ্চলের কাচবালি কাচ কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
    জিপসাম সিমেন্ট তৈরিতে লাগে।
    কাচে রং আনতে বিভিন্ন ধাতব অক্সাইড মেশানো হয়।
  43. ৪৩. কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কী?৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. ক্লোরোপিক্রিন
    • খ. মিথেন
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. ইথেন
    উত্তর: ক. ক্লোরোপিক্রিন
    কাঁদুনে গ্যাস চোখে জ্বালা ধরিয়ে অশ্রু ঝরায়। ক্লোরোপিক্রিন (Chloropicrin, CCl₃NO₂) এমন একটি রাসায়নিক, যা কাঁদুনে গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মিথেন, নাইট্রোজেন ও ইথেন কাঁদুনে গ্যাস নয়। মিথেন ও ইথেন দাহ্য হাইড্রোকার্বন গ্যাস, আর নাইট্রোজেন বাতাসের প্রধান উপাদান। কাঁদুনে গ্যাস চোখ, নাক ও গলায় জ্বালা সৃষ্টি করে, ফলে মানুষ সাময়িকভাবে দেখতে ও শ্বাস নিতে অসুবিধায় পড়ে। এ কারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করা হয়। বেশি মাত্রায় এটি শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই এর ব্যবহার সীমিত রাখা হয়। ক্লোরোপিক্রিন কীটনাশক হিসেবেও কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    দাঙ্গা দমনে ব্যবহৃত কাঁদুনে গ্যাসের আরেকটি পরিচিত নাম CS গ্যাস।
  44. ৪৪. সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস-৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যাস
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. হাইড্রোজেন
    • গ. র‍্যাডন
    • ঘ. নাইট্রোজেন
    উত্তর: খ. হাইড্রোজেন
    গ্যাসের হালকা বা ভারী হওয়া নির্ভর করে তার অণুর ভরের ওপর। হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা মৌল, কারণ এর পরমাণুতে একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন থাকে এবং সাধারণ হাইড্রোজেনে নিউট্রন থাকে না। তাই হাইড্রোজেন গ্যাস সবচেয়ে হালকা। র‍্যাডন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, আর এটি অনেক ভারী। অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনও হাইড্রোজেনের চেয়ে অনেক ভারী। হাইড্রোজেন এত হালকা বলে একসময় বেলুন ও বিমানে ব্যবহৃত হতো, কিন্তু এটি সহজে আগুন ধরে যায় বলে এখন সেই কাজে হিলিয়াম ব্যবহার হয়।
    মনে রাখুন:
    হিলিয়াম দ্বিতীয় হালকা গ্যাস, আর নিরাপদ বলে বেলুনে এর ব্যবহার বেশি।
    নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে র‍্যাডন সবচেয়ে ভারী।
  45. ৪৫. স্বর্ণের খাদ বের করতে ব্যবহার করা হয়-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্বর্ণ
    • ক. সালফিউরিক এসিড
    • খ. নাইট্রিক এসিড
    • গ. সাইট্রিক এসিড
    • ঘ. কার্বোলিক এসিড
    উত্তর: খ. নাইট্রিক এসিড
    খাঁটি সোনা নাইট্রিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। অথচ গয়না তৈরির সময় সোনায় সাধারণত তামা বা রুপা মেশানো হয়, যাকে খাদ বলে। এই খাদের ধাতুগুলো নাইট্রিক অ্যাসিডে গলে যায়। তাই সোনায় খাদ আছে কি না, থাকলে কতটা আছে, তা যাচাই করতে নাইট্রিক অ্যাসিড ব্যবহার হয়। সালফিউরিক অ্যাসিডে বা সাইট্রিক অ্যাসিডে এই কাজ সহজে হয় না।
    মনে রাখুন:
    সোনা গলাতে পারে কেবল অ্যাকোয়া রেজিয়া, অর্থাৎ ৩ ভাগ হাইড্রোক্লোরিক ও ১ ভাগ নাইট্রিক অ্যাসিডের মিশ্রণ।
    খাঁটি সোনা ২৪ ক্যারেট। ২২ ক্যারেটের সোনায় প্রায় ৯১.৬% সোনা থাকে।

অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (২৭৯)

  1. ৪৬. নিচের কোনটি ধাতু?ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. আয়োডিন
    • খ. পারদ
    • গ. ক্লোরিন
    • ঘ. ওজোন
    উত্তর: খ. পারদ
    পারদ (Mercury) একটি ধাতু, যদিও এটি অন্য ধাতুর মতো কঠিন নয়। সাধারণ তাপমাত্রায় যে ধাতুটি তরল অবস্থায় থাকে, সেটি হলো পারদ। তাই থার্মোমিটার ও ব্যারোমিটারে এটি ব্যবহার করা যায়। বাকি তিনটি, অর্থাৎ আয়োডিন, ক্লোরিন ও ওজোন, ধাতু নয়। আয়োডিন ও ক্লোরিন অধাতু, আর ওজোন হলো অক্সিজেনের একটি রূপভেদ, যার সংকেত O₃।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ তাপমাত্রায় তরল ধাতু পারদ, আর তরল অধাতু ব্রোমিন।
    পারদের প্রতীক Hg, যা এসেছে ল্যাটিন নাম Hydrargyrum থেকে।
    পারদের বাষ্প বিষাক্ত, তাই এটি সাবধানে সামলাতে হয়।
  2. ৪৭. কোন ধাতুর উপর আঘাত করলে শব্দ হয় না?ডিডিপি অধিদপ্তরের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. পিতল
    • খ. লোহা
    • গ. অ্যান্টিমনি
    • ঘ. তামা
    উত্তর: গ. অ্যান্টিমনি
    সাধারণত ধাতুর গায়ে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়, এই ধর্মকে ধ্বনিময়তা (Sonorosity) বলে। পিতল, লোহা ও তামা এই ধর্মটি স্পষ্টভাবে দেখায়, তাই ঘণ্টা, কাঁসা বা শিকলে আঘাত করলে আমরা আওয়াজ শুনি। কিন্তু অ্যান্টিমনি (Sb) একটি ভঙ্গুর ধাতুকল্প। আঘাত করলে সেটি ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়, তাই এতে কোনো শব্দ হয় না।
    মনে রাখুন:
    ধাতুর সাধারণ ধর্ম হলো উজ্জ্বলতা, ঘাতসহতা, তন্যতা এবং তাপ ও তড়িৎ পরিবহন।
    ধাতুকল্প (Metalloid) ধাতু ও অধাতু দুয়ের কিছু ধর্ম দেখায়, যেমন সিলিকন ও আর্সেনিক।
  3. ৪৮. ধাতুর যে ধর্মের কারণে পিটিয়ে পাত (sheet) এ পরিণত করা যায় তা হলো-ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্টেশন মাস্টার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. Ductility
    • খ. Brittleness
    • গ. Malleability
    • ঘ. Toughness
    উত্তর: গ. Malleability
    যে ধর্মের কারণে ধাতুকে পিটিয়ে বা চাপ দিয়ে পাতলা পাতে পরিণত করা যায়, তাকে ঘাতসহতা (Malleability) বলে। সোনা, রুপা ও অ্যালুমিনিয়ামের পাত এই ধর্মেরই ফল। মিষ্টির ওপরের রুপালি পাতলা আবরণও এভাবেই বানানো হয়। অন্যদিকে ধাতুকে টেনে সরু তার বানানোর ধর্মের নাম তন্যতা (Ductility)। ধাতুর এই ধর্মের কারণেই ছাদের অ্যালুমিনিয়ামের শিট ও গয়নার সোনার পাত বানানো সম্ভব হয়। আঘাতে যে ধাতু ভেঙে যায়, তার ঘাতসহতা থাকে না।
    মনে রাখুন:
    ঘাতসহতা মানে পাত বানানো যায়, আর তন্যতা মানে তার বানানো যায়।
    ভঙ্গুরতা (Brittleness) হলো আঘাতে ভেঙে যাওয়ার ধর্ম, যেমন কাচ বা অ্যান্টিমনি।
    সোনা সবচেয়ে ঘাতসহ ধাতু।
  4. ৪৯. কোন ধাতু দিয়ে তার বানানো সহজতর?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. টিন
    • খ. সিসা
    • গ. তামা
    • ঘ. দস্তা
    উত্তর: গ. তামা
    তার বানানোর জন্য ধাতুকে টেনে লম্বা করতে হয়, আর এই ক্ষমতাকে তন্যতা (Ductility) বলে। তামার তন্যতা খুব ভালো, তাই তামা দিয়ে সহজে সরু তার তৈরি করা যায়। টিন, সিসা ও দস্তা নরম বা ভঙ্গুর বলে এদের দিয়ে ভালো তার হয় না। তামা তড়িৎও খুব ভালো পরিবহন করে, সে কারণেই বৈদ্যুতিক তারে তামা এত বেশি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    তড়িৎ পরিবহনে রুপার পরেই তামার স্থান।
    তামার সঙ্গে দস্তা মিশিয়ে পিতল এবং টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি হয়।
  5. ৫০. কোন ধাতুকে পোড়ালে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের শিখা উৎপন্ন করে?ঢাবি (ক ইউনিট), ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিখা পরীক্ষা
    • ক. পটাশিয়াম
    • খ. ক্যালসিয়াম
    • গ. সোডিয়াম
    • ঘ. ম্যাগনেসিয়াম
    উত্তর: গ. সোডিয়াম
    সোডিয়াম পোড়ালে বা এর কোনো লবণ বুনসেন শিখায় ধরলে উজ্জ্বল হলুদ শিখা তৈরি হয়। উত্তপ্ত অবস্থায় সোডিয়ামের ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তরে উঠে যায় এবং আবার নিচে নেমে আসার সময় হলুদ আলো ছাড়ে। এই কারণে আগুনে সামান্য লবণ পড়লেই শিখা হলুদ হয়ে যায়। রাস্তার হলুদ সোডিয়াম বাতিও একই কারণে হলুদ আলো দেয়। শিখার এই রং ব্যবহার করে অজানা লবণে কোন ধাতু আছে তা সহজেই ধরা যায়। বিশ্লেষণ রসায়নে তাই শিখা পরীক্ষা একটি প্রাথমিক ও দ্রুত পদ্ধতি।
    মনে রাখুন:
    সোডিয়াম: উজ্জ্বল হলুদ, পটাশিয়াম: বেগুনি, ক্যালসিয়াম: ইটের মতো লাল।
    ম্যাগনেসিয়াম পোড়ালে উজ্জ্বল সাদা আলো হয়।
  6. ৫১. নিচের কোনটি শিখা পরীক্ষায় বেগুনী বর্ণ দেয়?মেডিকেল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিখা পরীক্ষা
    • ক. K⁺
    • খ. Al³⁺
    • গ. Ni²⁺
    • ঘ. Na⁺
    উত্তর: ক. K⁺
    শিখা পরীক্ষায় (Flame test) পটাশিয়াম আয়ন (K⁺) বেগুনি বর্ণ দেয়। সোডিয়াম আয়ন (Na⁺) দেয় হলুদ, আর অ্যালুমিনিয়াম ও নিকেল আয়ন শিখাকে বিশেষ কোনো রং দেয় না। হলুদ রং এত উজ্জ্বল হয় যে মিশ্রণে সোডিয়াম থাকলে পটাশিয়ামের বেগুনি রং ঢাকা পড়ে যায়, তখন নীল কোবাল্ট কাচের ভেতর দিয়ে শিখা দেখতে হয়। শিখা পরীক্ষা করার জন্য সাধারণত প্লাটিনামের তারের ডগায় লবণ লাগিয়ে শিখায় ধরা হয়। প্লাটিনাম ব্যবহার করা হয় কারণ এটি শিখায় নিজে কোনো রং দেয় না।
    মনে রাখুন:
    লিথিয়াম: গাঢ় লাল, বেরিয়াম: হলুদাভ সবুজ।
    তামা: নীলাভ সবুজ, স্ট্রনসিয়াম: লাল।
  7. ৫২. শিখা পরীক্ষায় (Flame test) কপার কোন রঙ তৈরি করে?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিখা পরীক্ষা
    • ক. সবুজ
    • খ. বেগুনি
    • গ. লাল
    • ঘ. কমলা
    উত্তর: ক. সবুজ
    তামার লবণ বা তামার যৌগ শিখায় ধরলে শিখার রং হয় সবুজ বা নীলাভ সবুজ। উত্তপ্ত অবস্থায় তামার পরমাণুর ইলেকট্রন উত্তেজিত হয়ে আবার আগের স্তরে ফিরে আসার সময় সবুজ আলো বিকিরণ করে। প্রতিটি ধাতুর বিকিরিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা, তাই শিখার রং দেখে ধাতু চেনা যায়। একেই শিখা পরীক্ষা (Flame test) বলে। এই পরীক্ষায় লবণে প্রথমে সামান্য ঘন HCl মিশিয়ে নেওয়া হয়, তাতে ক্লোরাইড তৈরি হয়ে সহজে উবে যায় এবং রং আরও স্পষ্ট দেখা যায়। ধাতু শনাক্তকরণে এটি খুব কাজের পদ্ধতি।
    মনে রাখুন:
    আতশবাজিতে তামা ও বেরিয়ামের লবণ সবুজ রং, আর স্ট্রনসিয়ামের লবণ লাল রং আনে।
  8. ৫৩. সবচেয়ে হালকা ধাতু (lightest metal) কি?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের প্রভাষক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. লিথিয়াম
    • খ. হিলিয়াম
    • গ. সীসা
    • ঘ. সোডিয়াম
    উত্তর: ক. লিথিয়াম
    লিথিয়াম (Li) সবচেয়ে হালকা ধাতু। এর ঘনত্ব মাত্র ০.৫৩ গ্রাম/ঘন সেমি, যা পানির প্রায় অর্ধেক, তাই এটি পানিতে ভাসে। হিলিয়াম আরও হালকা হলেও সেটি ধাতু নয়, একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। লিথিয়ামের পরমাণুতে মাত্র ৩টি ইলেকট্রন থাকে বলে এটি এত হালকা। ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে হালকা বলে লিথিয়াম বিমান ও মহাকাশযানের হালকা সংকর ধাতু বানাতেও কাজে লাগে। লিথিয়াম নরম ধাতু, ছুরি দিয়ে কেটে ফেলা যায়।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেন।
    সবচেয়ে ভারী ধাতু অসমিয়াম ও ইরিডিয়াম।
    লিথিয়াম এখন মোবাইল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
  9. ৫৪. কোনটি সবচেয়ে ভারি ধাতু?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. লোহা
    • খ. পারদ
    • গ. প্লাটিনাম
    • ঘ. নিকেল
    উত্তর: গ. প্লাটিনাম
    দেওয়া চারটি ধাতুর মধ্যে প্লাটিনামের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২১.৪৫ গ্রাম/ঘন সেমি। তুলনায় লোহার ঘনত্ব প্রায় ৭.৮৭, নিকেলের প্রায় ৮.৯ এবং পারদের প্রায় ১৩.৫। পারদ তরল বলে ভারী মনে হলেও ঘনত্বে প্লাটিনামের চেয়ে অনেক কম। ঘনত্ব মানে একক আয়তনের ভর, আর যে ধাতুর ঘনত্ব বেশি, তাকেই আমরা ভারী ধাতু বলি। প্লাটিনাম সহজে মরিচা ধরে না এবং অনেক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সে কারণে গয়না ও গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টারে এর ব্যবহার আছে।
    মনে রাখুন:
    প্রকৃতিতে সবচেয়ে ঘন মৌল অসমিয়াম, তার ঘনত্ব প্রায় ২২.৬ গ্রাম/ঘন সেমি।
    ইরিডিয়ামের ঘনত্বও প্রায় একই।
  10. ৫৫. কোন মৌলটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় (Reactive)?ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর সক্রিয়তা
    • ক. Na
    • খ. Mg
    • গ. K
    • ঘ. O
    উত্তর: গ. K
    দেওয়া মৌলগুলোর মধ্যে পটাশিয়াম (K) সবচেয়ে সক্রিয়। সোডিয়াম ও পটাশিয়াম একই গ্রুপের ধাতু, তবে পটাশিয়ামের পরমাণু বড় হওয়ায় বাইরের ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াস থেকে দূরে থাকে এবং সহজে ছেড়ে দেওয়া যায়। ম্যাগনেসিয়াম এদের চেয়ে কম সক্রিয়। অক্সিজেন অধাতু, ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা তার বেশি, তবে ধাতুর মতো সক্রিয়তা সে দেখায় না। এ কারণেই ক্ষার ধাতু প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় থাকে না, সবসময় যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়। সক্রিয়তা কম বলে সোনা ও প্লাটিনাম অবশ্য মুক্ত অবস্থায় মেলে।
    মনে রাখুন:
    সক্রিয়তার ক্রম K > Na > Ca > Mg > Al > Zn > Fe।
    গ্রুপে ওপর থেকে নিচে গেলে ধাতুর সক্রিয়তা বাড়ে।
  11. ৫৬. কোনটি মুদ্রা ধাতু নয়?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. কপার
    • খ. সিলভার
    • গ. গোল্ড
    • ঘ. রন্টজেনিয়াম
    উত্তর: ঘ. রন্টজেনিয়াম
    যেসব ধাতু দিয়ে মুদ্রা বানানো হয়, তাদের মুদ্রা ধাতু (Coinage metals) বলে। তামা, রুপা ও সোনা এই তিনটি মুদ্রা ধাতু। রন্টজেনিয়াম (Rg) একটি কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় মৌল। এটি পরীক্ষাগারে খুব অল্প পরিমাণে তৈরি হয় এবং এর অর্ধায়ু অতি সামান্য, তাই মুদ্রা তৈরির প্রশ্নই ওঠে না। মৌলটির নাম এক্স-রের আবিষ্কারক রন্টজেনের নামে রাখা হয়েছে। মুদ্রা ধাতুর তালিকায় আগেকার দিনে নিকেলের মুদ্রাও চলত। আজকের অনেক মুদ্রা তামা-নিকেল সংকর ধাতু দিয়ে বানানো হয়, কারণ তা সহজে ক্ষয় হয় না।
    মনে রাখুন:
    তামা, রুপা ও সোনা পর্যায় সারণীর একই গ্রুপে (১১ নম্বর গ্রুপ) আছে।
    এই তিনটি ধাতু তাপ ও তড়িতের ভালো পরিবাহী।
  12. ৫৭. সোনায় মরিচা ধরে না কেন?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর সক্রিয়তা
    • ক. সোনা সক্রিয় ধাতু
    • খ. সোনা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ধাতু
    • গ. সোনা উজ্জ্বল ধাতু
    • ঘ. সোনা মূল্যবান ধাতু
    উত্তর: খ. সোনা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ধাতু
    মরিচা ধরে লোহায়, কারণ লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে আয়রন অক্সাইড তৈরি করে। সোনা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ধাতু, তাই এটি অক্সিজেন বা পানির সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না। সে কারণে সোনা বহুদিন পরেও চকচকে থাকে এবং মাটির নিচে হাজার বছর থাকলেও নষ্ট হয় না। রুপা বাতাসের সালফার যৌগের সংস্পর্শে কালচে সিলভার সালফাইড তৈরি করে, কিন্তু সোনায় তেমন কিছু ঘটে না। তাই গয়না ও দাঁতের চিকিৎসায় সোনা বেশি পছন্দের।
    মনে রাখুন:
    সোনা শুধু রাজজল (Aqua regia) দ্রবীভূত করতে পারে, যা HCl ও HNO₃-এর ৩:১ মিশ্রণ।
    নিষ্ক্রিয় ধাতু বলেই সোনা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায়ও পাওয়া যায়।
  13. ৫৮. ১ ক্যারেট = কত গ্রাম?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যারেট ও স্বর্ণ
    • ক. ৫ গ্রাম
    • খ. ১০ গ্রাম
    • গ. ১৮ গ্রাম
    • ঘ. ০.২ গ্রাম
    উত্তর: ঘ. ০.২ গ্রাম
    ক্যারেট (Carat) দুটি আলাদা জিনিস মাপতে ব্যবহৃত হয়। মণিমুক্তা ও হীরার ওজন মাপার একক হিসেবে ১ ক্যারেট সমান ০.২ গ্রাম বা ২০০ মিলিগ্রাম। আর সোনার বিশুদ্ধতা মাপার ক্ষেত্রে ক্যারেট মানে ২৪ ভাগের কত ভাগ সোনা আছে। দুটি একই নামে পরিচিত হলেও এদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তাই প্রশ্নে কোনটি জানতে চাওয়া হচ্ছে তা দেখে নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ৫ ক্যারেট হীরার ওজন হয় ১ গ্রাম, কারণ ৫ × ০.২ = ১।
    সোনার ওজন সাধারণত ভরি বা গ্রাম হিসেবে মাপা হয়।
  14. ৫৯. বিশুদ্ধ সোনা (Pure gold)-PPA-এর সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যারেট ও স্বর্ণ
    • ক. 26-Carat
    • খ. 24-Carat
    • গ. 22-Carat
    • ঘ. 18-Carat
    উত্তর: খ. 24-Carat
    সোনার বিশুদ্ধতা ক্যারেট (Carat) দিয়ে মাপা হয় এবং ২৪ ক্যারেটকে বিশুদ্ধ সোনা ধরা হয়। এতে অন্য কোনো ধাতু মেশানো থাকে না। কিন্তু বিশুদ্ধ সোনা খুব নরম, তাই গয়না বানাতে এর সঙ্গে তামা বা রুপা মেশানো হয়। এভাবে সোনা শক্ত হয় এবং গয়নার আকার ধরে রাখতে পারে। ক্যারেটের সংখ্যা যত কম, সোনার ভাগ তত কম এবং অন্য ধাতুর ভাগ তত বেশি। সে কারণে ২৪ ক্যারেটের চেয়ে কম ক্যারেটের গয়না বেশি শক্ত ও টেকসই হয়।
    মনে রাখুন:
    ২২ ক্যারেট সোনায় ২২ ভাগ সোনা ও ২ ভাগ অন্য ধাতু থাকে।
    ১৮ ক্যারেট সোনায় ৭৫% সোনা থাকে।
  15. ৬০. ২২ ক্যারেট স্বর্ণে কত ভাগ স্বর্ণ থাকে?কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যারেট ও স্বর্ণ
    • ক. ১০০%
    • খ. ৯৫.৩৭%
    • গ. ৯১.৬৭%
    • ঘ. ৭৫%
    উত্তর: গ. ৯১.৬৭%
    ২৪ ক্যারেট মানে ১০০% বিশুদ্ধ সোনা, তাই ২২ ক্যারেটে সোনার ভাগ হবে (২২ ÷ ২৪) × ১০০ = ৯১.৬৭%। বাকি প্রায় ৮.৩৩% অংশে তামা বা রুপার মতো ধাতু মেশানো থাকে। আমাদের দেশে গয়নার জন্য ২২ ক্যারেটের সোনাই সবচেয়ে বেশি চলে, কারণ এটি যথেষ্ট বিশুদ্ধ এবং একই সঙ্গে গয়না বানানোর জন্য যথেষ্ট শক্ত। আমাদের দেশে সোনা ওজনে ভরি হিসেবে বিক্রি হয়। ১ ভরি সোনা সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, এটি জেনে রাখা পরীক্ষার জন্য কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    ১৮ ক্যারেটে সোনা ৭৫%।
    ১৪ ক্যারেটে সোনা প্রায় ৫৮.৩৩%।
  16. ৬১. কোনটি অ্যালকালি মেটাল?শ্রম পরিদপ্তরের সহকারী শ্রম পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্ষার ধাতু
    • ক. ম্যাগনেসিয়াম
    • খ. অ্যালুমিনিয়াম
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. সোডিয়াম
    উত্তর: ঘ. সোডিয়াম
    পর্যায় সারণীর ১ নম্বর গ্রুপের ধাতুগুলোকে ক্ষার ধাতু (Alkali metal) বলে। এরা পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষার তৈরি করে, তাই এমন নাম। সোডিয়াম এই গ্রুপের সদস্য। ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম ২ নম্বর গ্রুপের মৃৎক্ষার ধাতু, আর অ্যালুমিনিয়াম ১৩ নম্বর গ্রুপে পড়ে। ক্ষার ধাতুর বাইরের স্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকে, যা এরা সহজে ছেড়ে দেয়। এই গ্রুপের ধাতুগুলো এত নরম যে ছুরি দিয়ে কাটা যায়, আর এদের গলনাঙ্ক খুব কম। এদের যৌগ সাধারণত পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয়।
    মনে রাখুন:
    ক্ষার ধাতু ছয়টি, লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম ও ফ্রান্সিয়াম।
    এরা এত সক্রিয় যে কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখতে হয়।
  17. ৬২. নিম্নের কোন যৌগটি ক্ষারধর্ম প্রদর্শন করে?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্ষার ও ক্ষারক
    • ক. Ba(OH)₂
    • খ. Al(OH)₂
    • গ. C₂H₅OH
    • ঘ. C₆H₅OH
    উত্তর: ক. Ba(OH)₂
    বেরিয়াম হাইড্রোক্সাইড, Ba(OH)₂, পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH⁻) ছাড়ে, তাই এটি ক্ষারধর্মী। ২ নম্বর গ্রুপের ধাতুগুলোর হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে বেরিয়ামেরটি অন্যতম শক্ত ক্ষার। অ্যালকোহল C₂H₅OH প্রায় নিরপেক্ষ, আর ফেনল C₆H₅OH দুর্বল অম্লধর্মী, যাকে কার্বলিক অ্যাসিডও বলা হয়। অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড আবার অ্যাম্ফোটেরিক, অর্থাৎ অ্যাসিড ও ক্ষার দুয়ের সঙ্গেই বিক্রিয়া করে। কোনো যৌগ ক্ষারধর্মী কি না, তা বুঝতে সেটি পানিতে হাইড্রোক্সিল আয়ন ছাড়ে কি না দেখতে হয়। পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারের পিএইচ ৭ এর বেশি হয়।
    মনে রাখুন: ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
  18. ৬৩. কোন মৌল গ্রুপটি পর্যায় সারণীতে একই গ্রুপে রয়েছে?ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পর্যায় সারণী
    • ক. Na, K, Mg
    • খ. Ca, Mg, Sr
    • গ. Mg, Al, Zn
    • ঘ. K, Rb, Ba
    উত্তর: খ. Ca, Mg, Sr
    Ca, Mg ও Sr তিনটিই ২ নম্বর গ্রুপের মৃৎক্ষার ধাতু। এদের বাইরের শক্তিস্তরে ২টি করে ইলেকট্রন আছে, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম অনেকটা এক রকম। অন্য বিকল্পগুলোতে ভিন্ন গ্রুপের মৌল মেশানো আছে। যেমন Na ও K ১ নম্বর গ্রুপের, কিন্তু Mg ২ নম্বরের। আবার Mg, Al ও Zn তিনটি আলাদা গ্রুপের। পর্যায় সারণীতে উল্লম্ব সারিকে গ্রুপ আর আনুভূমিক সারিকে পর্যায় বলে। একই গ্রুপের মৌলের ধর্মে মিল থাকে বলেই মৌলগুলোকে এভাবে সাজানো হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    ২ নম্বর গ্রুপে আছে Be, Mg, Ca, Sr, Ba ও Ra।
    একই গ্রুপের মৌলের বাইরের স্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হয়।
  19. ৬৪. 'বিরল খনিজ' মজুতে শীর্ষ দেশ ?বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিরল খনিজ
    • ক. চীন
    • খ. ইউক্রেন
    • গ. বলিভিয়া
    • ঘ. নরওয়ে
    উত্তর: ক. চীন
    বিরল মৃত্তিকা খনিজের (Rare Earth) মজুতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। দেশটির মজুত প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ টন, যা বিশ্ব মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। উৎপাদন ও পরিশোধনেও চীন শীর্ষে, তাই এই খনিজের বাজারে দেশটির প্রভাব অনেক বেশি। এই কারণে অন্য দেশগুলো এখন নিজস্ব উৎস খুঁজছে। মোবাইল, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সামরিক সরঞ্জামে এই খনিজ অপরিহার্য। বাংলাদেশেও কক্সবাজার ও কুয়াকাটার সৈকতের কালো বালিতে কিছু বিরল মৃত্তিকা মৌল পাওয়া যায়, যদিও পরিমাণ তুলনামূলক কম।
    মনে রাখুন: মজুতের দিক থেকে চীনের পরে ব্রাজিল, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নাম আসে।
  20. ৬৫. নিচের কোনটি সবচেয়ে নরম খনিজ?বিটিভির উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ
    • ক. ট্যালক
    • খ. হীরা
    • গ. চুনাপাথর
    • ঘ. সিলিকা
    উত্তর: ক. ট্যালক
    খনিজের কাঠিন্য মাপা হয় মোহস স্কেলে (Mohs scale), যেখানে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত নম্বর থাকে। ট্যালক (Talc) এই স্কেলের ১ নম্বরে, অর্থাৎ সবচেয়ে নরম খনিজ। নখ দিয়েই একে আঁচড় কাটা যায়। হীরা ১০ নম্বরে, তাই সবচেয়ে শক্ত। ট্যালক থেকেই বেবি পাউডার তৈরি হয়। খনিজের কাঠিন্য মাপার সময় দেখা হয় কোন খনিজ অন্য কোনটিকে আঁচড় কাটতে পারে। যে খনিজ অন্যটিকে আঁচড় কাটে, সেটি তুলনায় বেশি শক্ত।
    মনে রাখুন:
    স্কেলের ক্রম: ট্যালক, জিপসাম, ক্যালসাইট, ফ্লুরাইট, অ্যাপাটাইট, অর্থোক্লেজ, কোয়ার্ৎজ, টোপাজ, করান্ডাম, হীরা।
    জিপসামকেও নখ দিয়ে আঁচড় কাটা যায়, তার কাঠিন্য ২।
  21. ৬৬. Name of the Cu-ore is-ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকরিক
    • ক. Pyrite
    • খ. Cassiterite
    • গ. Chalcopyrite
    • ঘ. Lazurite
    উত্তর: গ. Chalcopyrite
    ক্যালকোপাইরাইট (Chalcopyrite, CuFeS₂) তামার প্রধান আকরিক। এতে তামা, লোহা ও সালফার থাকে এবং এর রং পিতলের মতো হলুদ। পাইরাইট (FeS₂) আসলে আয়রনের সালফাইড, কাসিটেরাইট টিনের আকরিক, আর লাজুরাইট নীল রঙের একটি রত্ন খনিজ। আকরিক হলো সেই খনিজ, যা থেকে লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। তামা তাপ ও তড়িৎ খুব ভালো পরিবহন করে বলে ক্যালকোপাইরাইটের মতো আকরিক থেকে তামা নিষ্কাশন শিল্পে খুব গুরুত্বপূর্ণ। তামার সংকেত Cu, যা ল্যাটিন Cuprum থেকে এসেছে।
    মনে রাখুন:
    তামার আরেকটি আকরিক ম্যালাকাইট (সবুজ)।
    টিনের আকরিক কাসিটেরাইট (SnO₂)।
  22. ৬৭. Which mineral is commonly referred to as "Fool's Gold" due to its metallic luster and pale brass-yellow colour?বিসিআইসির সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকরিক
    • ক. Mica
    • খ. Pyrite
    • গ. Galena
    • ঘ. Magnetite
    উত্তর: খ. Pyrite
    পাইরাইট (Pyrite, FeS₂) দেখতে সোনার মতো চকচকে ও হালকা পিতল-হলুদ রঙের, তাই একে বোকার সোনা (Fool's Gold) বলে। অনেক সময় অনভিজ্ঞ লোকেরা একে সোনা ভেবে ভুল করে। আসল সোনা অনেক নরম ও ভারী, আর পাইরাইট শক্ত এবং ভঙ্গুর। আগুনে পোড়ালে এর থেকে সালফার ডাই-অক্সাইডের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়। পাইরাইট আর সোনার পার্থক্য সহজেই ধরা যায়। সোনা ছুরির আঘাতে নরম হয়ে বেঁকে যায়, কিন্তু পাইরাইট ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরির কাঁচামাল হিসেবে পাইরাইট ব্যবহৃত হয়।
    পাইরাইটের আরেক নাম আয়রন পাইরাইটিস।
  23. ৬৮. Common ore of iron is -ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকরিক
    • ক. Bauxite
    • খ. Pyrite
    • গ. Garnet
    • ঘ. Haematite
    উত্তর: ঘ. Haematite
    হেমাটাইট (Haematite, Fe₂O₃) লোহার প্রধান আকরিক। এতে প্রায় ৭০% লোহা থাকে, তাই এটি থেকে ভালো মানের লোহা পাওয়া যায়। বক্সাইট অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক, গার্নেট একটি সিলিকেট খনিজ। পাইরাইটে লোহা থাকলেও এ থেকে লোহা নিষ্কাশন করা সুবিধাজনক নয়, কারণ এর সালফার লোহার মান নষ্ট করে। হেমাটাইট লাল-বাদামি রঙের হয় এবং এর গুঁড়োর রং লাল। এই লাল রঙের কারণেই লোহার মরিচার রংও লালচে-বাদামি হয়।
    মনে রাখুন:
    লোহার অন্য আকরিক ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄) এবং সিডেরাইট (FeCO₃)।
    ম্যাগনেটাইটে লোহার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭২%।
  24. ৬৯. Bauxite is –ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকরিক
    • ক. Iron ore
    • খ. Antimony ore
    • গ. Aluminium ore
    • ঘ. Lead ore
    উত্তর: গ. Aluminium ore
    বক্সাইট (Bauxite, Al₂O₃·2H₂O) অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক। বক্সাইট থেকে প্রথমে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনা (Al₂O₃) তৈরি করা হয়, তারপর হল-হেরোল্ট পদ্ধতিতে গলিত অ্যালুমিনার তড়িৎ বিশ্লেষণ করে অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়াম পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে প্রচুর ধাতু, তবে এটি মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না। বক্সাইটে লোহার অক্সাইড অপদ্রব্য হিসেবে থাকে বলে এর রং লালচে হয়। তাই বক্সাইট থেকে অ্যালুমিনিয়াম পেতে আগে সেই অপদ্রব্য আলাদা করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    সিসার আকরিক গ্যালেনা (PbS)।
    অ্যান্টিমনির আকরিক স্টিবনাইট (Sb₂S₃)।
    অ্যালুমিনিয়ামের আরেকটি আকরিক ক্রায়োলাইট (Na₃AlF₆)।
  25. ৭০. 'এপসম' লবণের রাসায়নিক নাম-BBS-এর কম্পিউটার কর্মকর্তা, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লবণ ও ক্ষারের যৌগ
    • ক. সিলভার ক্লোরাইড
    • খ. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
    • গ. ম্যাগনেসিয়াম সালফেট
    • ঘ. জিঙ্ক নাইট্রেট
    উত্তর: গ. ম্যাগনেসিয়াম সালফেট
    এপসম লবণের রাসায়নিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, এর সংকেত MgSO₄·7H₂O। ইংল্যান্ডের এপসম শহরের একটি ঝরনা থেকে প্রথম এই লবণ পাওয়া গিয়েছিল, তাই এমন নাম। এটি জোলাপ হিসেবে এবং পেশির ব্যথা কমাতে গোসলের পানিতে ব্যবহার করা হয়। সপ্তজলী স্ফটিকের কারণে এটি সাদা ও স্বচ্ছ দানার মতো দেখায়। এটি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয় এবং স্বাদে তেতো। বাগানের গাছে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতেও এই লবণ ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    এপসম লবণ সাতটি পানির অণুসহ স্ফটিক তৈরি করে।
    ম্যাগনেসিয়াম সালফেট পানির স্থায়ী খরতার একটি কারণ।
  26. ৭১. জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল প্রভৃতির সমন্বয়ে গঠিত হয়-তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকরিক
    • ক. সোনা
    • খ. কালোসোনা
    • গ. রূপা
    • ঘ. প্লাটিনাম
    উত্তর: খ. কালোসোনা
    সমুদ্র উপকূলের কালো বালিতে জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল, ইলমেনাইট ও ম্যাগনেটাইটের মতো ভারী খনিজ মিশে থাকে। এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই বালিকে কালোসোনা বলা হয়। বাংলাদেশে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার সৈকতে এমন কালো বালির মজুত আছে। এসব খনিজ থেকে পরমাণু শিল্প, সিরামিক ও রঙ তৈরির উপাদান পাওয়া যায়। কালো বালিতে থাকা ভারী খনিজকে চৌম্বক ও বিদ্যুৎ-পদ্ধতিতে আলাদা করা হয়। তাই এই বালি দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    মোনাজাইট থেকে থোরিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা মৌল পাওয়া যায়।
    জিরকন থেকে জিরকোনিয়াম, রুটাইল থেকে টাইটানিয়াম পাওয়া যায়।
  27. ৭২. জন্মদিনে কেক ফুলানোর জন্য শেহতাজ একটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। উল্লেখিত রাসায়নিক পদার্থটি কি?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি.-এর এডমিন অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সোডিয়ামের যৌগ
    • ক. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • খ. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
    • গ. সোডিয়াম কার্বনেট
    • ঘ. সোডিয়াম গ্লুটামেট
    উত্তর: খ. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
    কেক ফোলানোর জন্য সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO₃) ব্যবহার করা হয়। গরম করলে এটি ভেঙে সোডিয়াম কার্বনেট, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস কেকের ভেতরে ছোট ছোট ফাঁপা জায়গা তৈরি করে, ফলে কেক নরম ও ফোলা হয়। বিক্রিয়াটি হলো 2NaHCO₃ → Na₂CO₃ + H₂O + CO₂। কেক ফোলানোর এই ক্রিয়ার জন্য বেকিং সোডার সঙ্গে ভিনেগার বা দইয়ের মতো কিছু অম্লীয় উপাদান যোগ করলে আরও দ্রুত CO₂ তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) খাবার লবণ।
    সোডিয়াম গ্লুটামেট স্বাদবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  28. ৭৩. ১ অণু ওয়াশিং সোডায় কত অণু পানি উপস্থিত থাকে?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সোডিয়ামের যৌগ
    • ক. ৬
    • খ. ৫
    • গ. ৭
    • ঘ. ১০
    উত্তর: ঘ. ১০
    ওয়াশিং সোডার সংকেত Na₂CO₃·10H₂O। এখানে প্রতিটি সোডিয়াম কার্বনেটের অণুর সঙ্গে ১০টি পানির অণু যুক্ত থাকে, একে কেলাস পানি (Water of crystallisation) বলে। বাতাসে রাখলে কিছু পানি হারিয়ে এটি গুঁড়ো হয়ে যায়, এই ঘটনাকে ক্ষয়ীভবন বা এফ্লোরেসেন্স বলে। ওয়াশিং সোডার দ্রবণ ক্ষারীয়। ওয়াশিং সোডার জলীয় দ্রবণে ক্ষারীয় প্রকৃতি থাকে, তাই এটি লাল লিটমাসকে নীল করে। কাপড় কাচা, কাচ তৈরি ও পানির খরতা দূর করায় এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    নির্জল সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) সোডা অ্যাশ নামে পরিচিত।
    ওয়াশিং সোডা পানির স্থায়ী খরতা দূর করে।
  29. ৭৪. কাপড় কাঁচা সোডার রাসায়নিক সংকেত কি?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লাইনম্যান, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সোডিয়ামের যৌগ
    • ক. NH₄OH
    • খ. CuSO₄. 5H₂O
    • গ. Na₂CO₃.5H₂O
    • ঘ. Na₂CO₃.10H₂O
    উত্তর: ঘ. Na₂CO₃.10H₂O
    কাপড় কাচার সোডা হলো সোডিয়াম কার্বনেটের কেলাসিত রূপ, যার সংকেত Na₂CO₃·10H₂O। এটি পানিতে দ্রবীভূত হলে ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি হয়, ফলে কাপড়ের তেল ও ময়লা সহজে ছাড়ে। CuSO₄·5H₂O হলো তুঁতে, আর NH₄OH অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, যা সোডার সংকেত নয়। পাঁচ অণু পানিসহ Na₂CO₃ও প্রচলিত লবণ নয়। কেলাস পানি মানে লবণ স্ফটিক গঠনের সময় যে পানি স্ফটিকের ভেতরে আটকে থাকে। এই পানি সরে গেলে স্ফটিক ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    সলভে পদ্ধতিতে Na₂CO₃ তৈরি করা হয়।
    কাচ ও কাগজ শিল্পেও সোডিয়াম কার্বনেট লাগে।
  30. ৭৫. কোন যৌগটি কাপড়ের দাগ তুলতে সাহায্য করে?PGCB-র সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সোডিয়ামের যৌগ
    • ক. সোডিয়াম কার্বনেট
    • খ. ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট
    • গ. সোডিয়াম বাইকার্বনেট
    • ঘ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
    উত্তর: ক. সোডিয়াম কার্বনেট
    সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) কাপড়ের দাগ তুলতে সাহায্য করে। এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয়, তাই এটি তেল ও চর্বিজাতীয় ময়লাকে সাবানের মতো ভেঙে পানিতে মিশিয়ে দেয়। এজন্য একে কাপড় কাচার সোডাও বলে। ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়, তাই ধোয়ার কাজে লাগে না। সোডিয়াম বাইকার্বনেট ক্ষারধর্ম অনেক দুর্বল বলে দাগ তোলায় কম কার্যকর। সোডিয়াম কার্বনেটের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় হয় কারণ কার্বনেট আয়ন পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে OH⁻ আয়ন তৈরি করে। কাপড়ের দাগ তোলার কাজটি এই ক্ষারধর্মের ওপরই নির্ভর করে।
    মনে রাখুন: সোডিয়াম কার্বনেট পানির খরতা দূর করার কাজেও লাগে।
  31. ৭৬. হাইপো-এর রাসায়নিক নাম কী?বিআরডিবির উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সোডিয়ামের যৌগ
    • ক. সোডিয়াম সালফেট
    • খ. সোডিয়াম থায়োসালফেট
    • গ. সিলভার ক্লোরাইড
    • ঘ. সোডিয়াম বাই-সালফেট
    উত্তর: খ. সোডিয়াম থায়োসালফেট
    হাইপো (Hypo) হলো সোডিয়াম থায়োসালফেটের (Na₂S₂O₃·5H₂O) চলতি নাম। আলোকচিত্রে ফিল্ম ধোয়ার সময় এটি ফিক্সার হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি ফিল্মের অব্যবহৃত সিলভার ব্রোমাইড দ্রবীভূত করে ফেলে। এছাড়া কাপড় ব্লিচ করার পর অতিরিক্ত ক্লোরিন দূর করতেও এটি ব্যবহার করা হয়। ফোটোগ্রাফিতে ফিল্ম ধোয়ার এই ধাপকে ফিক্সিং বলে, এর পর ছবি আর আলোতে নষ্ট হয় না। ডেভেলপারের পর হাইপোর দ্রবণে ফিল্ম ডোবানো হয়। হাইপোর দ্রবণ আয়োডিনের সঙ্গেও বিক্রিয়া করে, তাই আয়োডোমিতিক টাইট্রেশনে এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    সোডিয়াম থায়োসালফেটকে অ্যান্টিক্লোরও বলে।
    সোডিয়াম সালফেটের সংকেত Na₂SO₄, থায়োসালফেটের সংকেত Na₂S₂O₃।
  32. ৭৭. পানিতে Ca(OH)₂ এর সম্পৃক্ত দ্রবণ কে কি বলা হয়?বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়ামের যৌগ
    • ক. ব্ল্যাক লাইম
    • খ. লাইম ওয়াটার
    • গ. নিশাদল
    • ঘ. তড়িৎ বিশ্লেষণ
    উত্তর: খ. লাইম ওয়াটার
    ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, Ca(OH)₂, পানিতে সামান্য দ্রবীভূত হয়। এর সম্পৃক্ত স্বচ্ছ দ্রবণকে চুনের পানি (Lime water) বলে। এই দ্রবণে কার্বন ডাই-অক্সাইড চালনা করলে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হয় এবং দ্রবণ ঘোলা হয়ে যায়। ফলে CO₂ গ্যাস শনাক্ত করতে চুনের পানি ব্যবহৃত হয়। চুনের পানির এই ঘোলা হওয়ার ঘটনা খুবই পরিচিত একটি পরীক্ষা। নিঃশ্বাসের বাতাসে CO₂ আছে কি না তা দেখতেও এই পরীক্ষা করা হয়।
    মনে রাখুন:
    Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃ + H₂O।
    আরও বেশি CO₂ চালনা করলে ঘোলাভাব কেটে যায়, কারণ দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি হয়।
  33. ৭৮. 'Plaster of Paris' কোথায় ব্যবহৃত হয়?BPSC-র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়ামের যৌগ
    • ক. হৃদরোগের চিকিৎসায়
    • খ. হাঁপানীর চিকিৎসায়
    • গ. হাড়ভাঙ্গার চিকিৎসায়
    • ঘ. ডায়রিয়ার চিকিৎসায়
    উত্তর: গ. হাড়ভাঙ্গার চিকিৎসায়
    প্লাস্টার অব প্যারিস (Plaster of Paris) হলো ক্যালসিয়াম সালফেটের হেমিহাইড্রেট, CaSO₄·½H₂O। পানি মেশালে এটি জমে শক্ত হয়ে যায়। হাড় ভাঙলে ভাঙা অংশ নড়াচড়া না করার জন্য ওপরে এই পেস্ট দিয়ে শক্ত আবরণ বা প্লাস্টার তৈরি করা হয়। এছাড়া মূর্তি বানাতে এবং দেয়ালের সাজসজ্জায়ও এটি ব্যবহৃত হয়। ক্যালসিয়াম সালফেটের হেমিহাইড্রেট পানি পেলে আবার জিপসামে ফিরে যায়, আর এভাবেই শক্ত হয়। কারখানায় ছাঁচ তৈরিতেও এই ধর্ম কাজে লাগানো হয়।
    মনে রাখুন:
    জিপসাম (CaSO₄·2H₂O) ১২০°C-এ গরম করলে প্লাস্টার অব প্যারিস পাওয়া যায়।
    এটি জমাট বাঁধার সময় সামান্য আয়তনে বাড়ে।
  34. ৭৯. ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়ামের যৌগ
    • ক. Ca(OCl)Cl
    • খ. C₆H₆O₆
    • গ. CaCO₃
    • ঘ. HCl
    উত্তর: ক. Ca(OCl)Cl
    ব্লিচিং পাউডার হলো কলিচুন, Ca(OH)₂, ও ক্লোরিন গ্যাসের বিক্রিয়ায় তৈরি যৌগ, এর সংকেত Ca(OCl)Cl বা CaOCl₂। এর মধ্যে থাকা ক্লোরিন কাপড়ের রং নষ্ট করে ফর্সা করে, তাই কাপড় ও কাগজ শিল্পে এটি ব্যবহৃত হয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে CaCO₃ চুনাপাথর, আর HCl হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। কলিচুনের ওপর ক্লোরিন গ্যাস চালিয়ে ব্লিচিং পাউডার তৈরি করা হয়, এর বিক্রিয়া Ca(OH)₂ + Cl₂ → CaOCl₂ + H₂O। বাতাসের আর্দ্রতায় এটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়, তাই বন্ধ পাত্রে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ব্লিচিং পাউডারকে ক্লোরাইড অব লাইমও বলে।
    এর কার্যকর ক্লোরিনের পরিমাণ প্রায় ৩৫%।
  35. ৮০. পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে কী ব্যবহৃত হয়?কৃষি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়ামের যৌগ
    • ক. Ca(OCl)Cl
    • খ. CO₂
    • গ. SO₂
    • ঘ. NO₂
    উত্তর: ক. Ca(OCl)Cl
    ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl, পানিতে মিশলে ক্লোরিন ছাড়ে, আর এই ক্লোরিন জীবাণু মেরে ফেলে। এজন্য পানি বিশুদ্ধ করতে এবং পুকুর বা কূপ জীবাণুমুক্ত করতে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। CO₂, SO₂ ও NO₂ গ্যাস পানিকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় না। বন্যার পরে সুপেয় পানির জন্য এই পাউডার খুব কাজে লাগে। ক্লোরিনের জীবাণুনাশক ক্ষমতা আছে বলে ক্লোরিনযুক্ত যৌগ পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহার হয়। বাজারের ওয়াটার পিউরিফিকেশন ট্যাবলেটেও ক্লোরিনঘটিত যৌগ থাকে।
    মনে রাখুন:
    সুইমিং পুলের পানি জীবাণুমুক্ত রাখতেও ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়।
  36. ৮১. উড়োজাহাজ তৈরিতে সাধারণত ব্যবহার করা হয়-বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির নার্স, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. স্টেইনলেস স্টিল
    • খ. হাইস্পিড স্টিল
    • গ. অ্যালুমিনিয়াম
    • ঘ. মাইল্ড স্টিল
    উত্তর: গ. অ্যালুমিনিয়াম
    উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ও তার সংকর ধাতু বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ অ্যালুমিনিয়াম খুব হালকা অথচ যথেষ্ট শক্ত। ওজন কম হলে উড়োজাহাজ কম জ্বালানিতে ওড়ে। তাছাড়া অ্যালুমিনিয়াম সহজে মরিচা ধরে না, কারণ এর গায়ে অক্সাইডের পাতলা স্তর পড়ে যায়। স্টিল শক্ত হলেও অনেক ভারী, তাই পুরো কাঠামোয় তা ব্যবহার করা হয় না। অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে সামান্য তামা, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ মিশিয়ে শক্তি আরও বাড়ানো হয়। আধুনিক উড়োজাহাজের কাঠামোর বড় অংশই এই ধরনের সংকর ধাতুতে তৈরি।
    মনে রাখুন: ডুরালুমিন (Al, Cu, Mg, Mn-এর সংকর) উড়োজাহাজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  37. ৮২. নিচের কোনটি অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের সংকেত?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিটকিরি ও ভিট্রিয়ল
    • ক. Al₂(SO₄)₃
    • খ. AlSO₄
    • গ. Al₃(SO₄)₂
    • ঘ. Al₂SO₄
    উত্তর: ক. Al₂(SO₄)₃
    অ্যালুমিনিয়ামের যোজনী ৩ এবং সালফেট আয়ন (SO₄) এর যোজনী ২। যোজনী আড়াআড়ি বদলালে অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের সংকেত হয় Al₂(SO₄)₃। এতে ২টি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু ও ৩টি সালফেট আয়ন থাকে, ফলে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান সমান হয়ে যৌগটি নিরপেক্ষ থাকে (2 × 3 = 3 × 2)। বাকি সংকেতগুলোতে আধান মেলে না। অ্যালুমিনিয়াম সালফেট পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ও কাগজ শিল্পে বড় পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। এই যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    ফিটকিরির সংকেত K₂SO₄·Al₂(SO₄)₃·24H₂O।
    যোজনী আড়াআড়ি বদলানোর নিয়মে প্রতীকের নিচে অন্যটির যোজনী লেখা হয়।
  38. ৮৩. সাত অণু পানি সহযোগে গঠিত জিংক সালফেটের অণুকে কি বলা হয়?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিটকিরি ও ভিট্রিয়ল
    • ক. সবুজ ভিট্রিয়ল
    • খ. সাদা ভিট্রিয়ল
    • গ. নীল ভিট্রিয়ল
    • ঘ. লাল ভিট্রিয়ল
    উত্তর: খ. সাদা ভিট্রিয়ল
    জিংক সালফেটের সপ্তজলী স্ফটিক, ZnSO₄·7H₂O, সাদা রঙের হয়, তাই একে সাদা ভিট্রিয়ল (White vitriol) বলে। ধাতুর সালফেটের কেলাসিত লবণকে সাধারণত ভিট্রিয়ল বলা হয়, আর রং দেখে তাদের আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে। সাদা ভিট্রিয়ল চোখের ওষুধ ও কাপড়ের রং ফিক্স করতে ব্যবহৃত হয়। কেলাস পানির সংখ্যা মনে রাখার জন্য সবুজ ও সাদা ভিট্রিয়লে ৭, আর নীল ভিট্রিয়লে ৫ অণু পানি আছে, এটি মনে রাখা সহজ।
    মনে রাখুন:
    সবুজ ভিট্রিয়ল FeSO₄·7H₂O।
    নীল ভিট্রিয়ল CuSO₄·5H₂O, যার চলতি নাম তুঁতে।
  39. ৮৪. কপার সালফেটকে কী বলা হয়?ডাক অধিদপ্তরের এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিটকিরি ও ভিট্রিয়ল
    • ক. ফিটকিরি
    • খ. তুঁতে
    • গ. কর্পূর
    • ঘ. চুন
    উত্তর: খ. তুঁতে
    কপার সালফেটের (CuSO₄·5H₂O) চলতি নাম তুঁতে। এটি নীল রঙের স্ফটিক, তাই একে নীল ভিট্রিয়লও বলে। গরম করলে কেলাস পানি বেরিয়ে যায় এবং এটি সাদা গুঁড়োয় পরিণত হয়। ছত্রাকনাশক হিসেবে তুঁতে চাষবাসে ব্যবহার করা হয়। তুঁতে পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয় এবং দ্রবণ নীল দেখায়। কপার সালফেটের দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে পেরেকে লালচে তামা জমে, কারণ লোহা তামার চেয়ে বেশি সক্রিয়।
    মনে রাখুন:
    ফিটকিরি হলো অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, আর চুন ক্যালসিয়াম অক্সাইড।
    তুঁতে ও চুন মিশিয়ে বোর্দো মিশ্রণ তৈরি হয়, যা গাছের ছত্রাকনাশক।
  40. ৮৫. তুঁতে কয় অণু পানি থাকে?মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিটকিরি ও ভিট্রিয়ল
    • ক. ৪ অণু
    • খ. ৮ অণু
    • গ. ৫ অণু
    • ঘ. ১০ অণু
    উত্তর: গ. ৫ অণু
    তুঁতের সংকেত CuSO₄·5H₂O, অর্থাৎ প্রতি অণু কপার সালফেটের সঙ্গে ৫ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। এই পানির কারণেই এর রং নীল। পানি হারালে নির্জল কপার সালফেট সাদা হয়ে যায়। আবার পানি যোগ করলে নীল রং ফিরে আসে, তাই পানির উপস্থিতি পরীক্ষায় এটি ব্যবহৃত হয়। কেলাস পানি দেওয়া এই যৌগকে হাইড্রেট বলে। নির্জল কপার সালফেট পানি শুষে আবার নীল হয় বলে একে পানির শনাক্তকারক বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    সবুজ ভিট্রিয়লে ৭ অণু ও ফিটকিরিতে ২৪ অণু কেলাস পানি থাকে।
    ওয়াশিং সোডায় থাকে ১০ অণু পানি।
  41. ৮৬. FeSO₄.7H₂O -ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফিটকিরি ও ভিট্রিয়ল
    • ক. Mohr's Salt
    • খ. Epsom Salt
    • গ. Green Vitriol
    • ঘ. Blue Vitriol
    উত্তর: গ. Green Vitriol
    FeSO₄·7H₂O হলো ফেরাস সালফেটের সপ্তজলী স্ফটিক, যা হালকা সবুজ রঙের। এজন্য এর নাম সবুজ ভিট্রিয়ল (Green vitriol)। মোর লবণ হলো ফেরাস অ্যামোনিয়াম সালফেট, এপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, আর নীল ভিট্রিয়ল কপার সালফেট। ফেরাস সালফেট বাতাসে রাখলে ধীরে ধীরে জারিত হয়ে হলদে-বাদামি ফেরিক যৌগে পরিণত হয়। সেজন্য এর দ্রবণ নতুন করে তৈরি করে ব্যবহার করা ভালো।
    মনে রাখুন:
    রক্তশূন্যতার ওষুধ ও পানি শোধনেও ফেরাস সালফেট ব্যবহৃত হয়।
    গরম করলে এটি প্রথমে কেলাস পানি হারায়, পরে SO₂ ও SO₃ ছাড়ে।
  42. ৮৭. কোন লোহায় বেশি পরিমাণ কার্বন থাকে?প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. রট আয়রন
    • খ. কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রন
    • গ. ইস্পাত
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রন
    কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রনে কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১.৭ থেকে ৪.৫%। ব্লাস্ট ফার্নেসে লোহার আকরিক গলিয়ে এটি পাওয়া যায়। এতে কার্বন বেশি থাকায় এটি শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর, তাই পিটিয়ে আকার দেওয়া যায় না, শুধু ঢালাই করা যায়। ইস্পাতে কার্বন তুলনায় কম থাকে, আর রট আয়রনে সবচেয়ে কম। পিগ আয়রনকে আবার পরিশোধন করে ইস্পাত বা রট আয়রন বানানো হয়। এতে কার্বন ও অন্যান্য অপদ্রব্য সরিয়ে ফেলা হয়।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের পরিমাণ বাড়লে লোহা শক্ত হয় কিন্তু নমনীয়তা কমে।
    কার্বনের ক্রম: রট আয়রন < ইস্পাত < কাস্ট আয়রন।
  43. ৮৮. Cast iron-এ কার্বনের শতকরা হার কত থাকে?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. ০.১ থেকে ০.৫
    • খ. ০.৫ থেকে ১.০
    • গ. ১.০ থেকে ১.৭
    • ঘ. ১.৭ থেকে ৪.৫
    উত্তর: ঘ. ১.৭ থেকে ৪.৫
    কাস্ট আয়রনে (Cast iron) কার্বনের শতকরা পরিমাণ ১.৭ থেকে ৪.৫%। এই বেশি কার্বনের কারণে এটি শক্ত, কিন্তু ভঙ্গুর হয়। আঘাত করলে ভেঙে যায়, তাই পিটিয়ে আকার বদলানো সম্ভব নয়, গলিয়ে ছাঁচে ঢালতে হয়। সেজন্যই একে ঢালাই লোহা বলে। কাস্ট আয়রন দিয়ে ইঞ্জিনের ব্লক, পাইপ ও রান্নার ভারী পাত্র তৈরি হয়। এসব কাজে নমনীয়তার চেয়ে ঢালাইয়ের সুবিধা বেশি দরকার।
    মনে রাখুন:
    রট আয়রনে কার্বন অতি সামান্য, ০.১৫%-এর কম।
    ইস্পাতে কার্বন থাকে প্রায় ০.১৫ থেকে ১.৫%।
    কাস্ট আয়রনের রং ধূসর বা সাদা, কার্বন কোন রূপে আছে তার ওপর নির্ভর করে।
  44. ৮৯. লোহার সাথে কী মিশিয়ে ইস্পাত তৈরি করা হয়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. দস্তা
    • খ. তামা
    • গ. কার্বন
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    উত্তর: গ. কার্বন
    লোহার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত (Steel) তৈরি করা হয়। কার্বন মেশালে লোহার কাঠিন্য ও শক্তি বাড়ে, আবার ঠিক পরিমাণে থাকলে এটি নমনীয়ও থাকে। এজন্য ইস্পাত দিয়ে দালানের রড, রেললাইন ও যন্ত্রপাতি তৈরি হয়। ইস্পাত আসলে লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু। লোহার সঙ্গে ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল বা ক্রোমিয়ামের মতো ধাতু মিশিয়েও বিশেষ ধরনের ইস্পাত তৈরি করা হয়। তবে সাধারণ ইস্পাতের মূল মিশ্রক উপাদান কার্বনই।
    মনে রাখুন:
    স্টেইনলেস স্টিলে লোহার সঙ্গে ক্রোমিয়াম ও নিকেল মেশানো থাকে, তাই এতে মরিচা ধরে না।
  45. ৯০. ইস্পাতে (স্টিলে) কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি.-এর টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. ০.১৫-১.৫%
    • খ. ৫.৫-৬.২৫%
    • গ. ১০-১২.৫%
    • ঘ. ২২%
    উত্তর: ক. ০.১৫-১.৫%
    ইস্পাত বা স্টিলে কার্বনের পরিমাণ মোটামুটি ০.১৫ থেকে ১.৫%। কার্বন কম থাকলে ইস্পাত নরম ও নমনীয় হয়, আর বেশি থাকলে শক্ত হয় কিন্তু ভঙ্গুর হতে শুরু করে। কার্বনের পরিমাণ অনুযায়ী ইস্পাত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: মৃদু, মাঝারি ও উচ্চ কার্বন ইস্পাত। ইস্পাত তৈরির জন্য পিগ আয়রন থেকে বাড়তি কার্বন ও অপদ্রব্য সরিয়ে নিতে হয়। বেইজমার কনভার্টার ও ওপেন হার্থ চুল্লি এই কাজে বহুদিন ব্যবহৃত হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    কাস্ট আয়রনে কার্বন ১.৭ থেকে ৪.৫%, তাই এটি ইস্পাতের চেয়ে বেশি ভঙ্গুর।
    মৃদু ইস্পাতে (Mild steel) কার্বন প্রায় ০.১৫ থেকে ০.২৫%।
  46. ৯১. রট আয়রনে কার্বনের সর্বোচ্চ পরিমাণ হলো-পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি.-এর টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. ০.১৫%
    • খ. ১.৩%
    • গ. ১.৫%
    • ঘ. ২%
    উত্তর: ক. ০.১৫%
    রট আয়রন (Wrought iron) বা পেটা লোহা লোহার সবচেয়ে বিশুদ্ধ বাণিজ্যিক রূপ। এতে কার্বন অতি সামান্য থাকে, সর্বোচ্চ ০.১৫%। কার্বন এত কম বলে এটি নরম, নমনীয় ও ঘাতসহ, তাই পিটিয়ে সহজে আকার দেওয়া যায় এবং গরম করে জোড়া লাগানো যায়। এটি দিয়ে শিকল, গেট ও কাঁটাতারের মতো জিনিস বানানো হয়। রট আয়রনের তন্তুর মতো গঠন থাকে, ফলে এটি টান সহ্য করতে পারে। আধুনিক যুগে অবশ্য এর জায়গা নিয়েছে মৃদু ইস্পাত।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের পরিমাণের ক্রম হলো রট আয়রন < ইস্পাত < কাস্ট আয়রন।
    রট আয়রনে মরিচা তুলনামূলক ধীরে ধরে।
  47. ৯২. কাস্ট আয়রন ......... প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হয়।পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. সিমেন্টেশন
    • খ. ক্রবিকল
    • গ. বেইজমার
    • ঘ. ফার্নেস
    উত্তর: ঘ. ফার্নেস
    কাস্ট আয়রন উৎপাদিত হয় ফার্নেসে, আরও নির্দিষ্ট করে ব্লাস্ট ফার্নেসে (Blast furnace)। এতে লোহার আকরিকের সঙ্গে কোক ও চুনাপাথর দিয়ে বাতাসের ঝাপটায় গলানো হয়, তারপর গলিত লোহা ছাঁচে ঢেলে পিগ আয়রন তৈরি হয়। বেইজমার কনভার্টার বা ক্রুসিবল পদ্ধতিতে সাধারণত ইস্পাত তৈরি হয়, সিমেন্টেশন প্রক্রিয়াতেও ইস্পাত তৈরি করা হয়। ব্লাস্ট ফার্নেসের ভেতরে কোক পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করে, যা আকরিকের লোহার অক্সাইডকে বিজারিত করে লোহা আলাদা করে। এই লোহা তরল অবস্থায় চুল্লির নিচে জমা হয়।
    মনে রাখুন:
    ব্লাস্ট ফার্নেসে কোক বিজারক হিসেবে কাজ করে।
    চুনাপাথর এখানে গালক হিসেবে অপদ্রব্য সরায়, এর ফলে যা তৈরি হয় তার নাম স্ল্যাগ।
  48. ৯৩. Piston Compression rings কী দিয়ে তৈরি?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. Cast iron
    • খ. Steel
    • গ. Aluminum
    • ঘ. Bronze
    উত্তর: ক. Cast iron
    ইঞ্জিনের পিস্টনের কমপ্রেশন রিং সাধারণত কাস্ট আয়রন দিয়ে তৈরি হয়। কাস্ট আয়রনে থাকা গ্রাফাইট নিজেই তৈলাক্ত পদার্থের মতো কাজ করে, ফলে সিলিন্ডারের দেয়ালের সঙ্গে ঘষা লেগে ক্ষয় কম হয়। উচ্চ তাপমাত্রায়ও এটি তার আকার ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখে এবং তুলনামূলক সস্তা। পিস্টন রিং সিলিন্ডারের গ্যাস লিক হওয়া ঠেকায়। পিস্টনের এই রিংগুলো একই সঙ্গে সিলিন্ডারের গ্যাস আটকে রাখে এবং তাপ সিলিন্ডারের দেয়ালে পৌঁছে দেয়। এজন্য এদের উপাদানকে তাপ ও ঘর্ষণ দুটোই সহ্য করতে হয়।
    মনে রাখুন: ইঞ্জিনের সিলিন্ডার ব্লকও সাধারণত কাস্ট আয়রনে তৈরি হয়।
  49. ৯৪. ইস্পাতকে শক্ত করতে কোনটি প্রভাব সবচেয়ে বেশি?কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির নার্স, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. কার্বন
    • খ. সিলিকন
    • গ. সালফার
    • ঘ. ফসফরাস
    উত্তর: ক. কার্বন
    ইস্পাতের কাঠিন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে তাতে থাকা কার্বনের পরিমাণের ওপর। কার্বন যত বাড়ে, ইস্পাতের কাঠিন্য ও টানশক্তি তত বাড়ে, তবে নমনীয়তা কমে যায়। সিলিকন, সালফার ও ফসফরাসও ইস্পাতে কিছু প্রভাব ফেলে, তবে সেগুলো প্রধানত অপদ্রব্য, আর সালফার ও ফসফরাস বেশি হলে ইস্পাত ভঙ্গুর হয়ে যায়। কার্বন বেশি থাকা ইস্পাত ছুরি, কাঁচি ও যন্ত্রপাতির ধারালো প্রান্তের জন্য ব্যবহার হয়। আর কম কার্বনের নরম ইস্পাত তার, পেরেক ও গাড়ির দেহে লাগে।
    মনে রাখুন: ইস্পাতকে লাল গরম করে হঠাৎ ঠান্ডা করলে সেটি আরও শক্ত হয়, এই প্রক্রিয়াকে কোয়েঞ্চিং (Quenching) বলে।
  50. ৯৫. বেসিমার পদ্ধতি দ্বারা কি উৎপাদন করা হয়?শ্রম অধিদপ্তরের শ্রম কর্মকর্তা এবং জনসংখ্যা পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. সাবান
    • খ. ইউরিয়া
    • গ. ইস্পাত
    • ঘ. পেট্রোল
    উত্তর: গ. ইস্পাত
    বেসিমার পদ্ধতি (Bessemer process) হলো ঢালাই লোহা থেকে ইস্পাত তৈরির একটি শিল্পপদ্ধতি। ঢালাই লোহায় কার্বন ও অন্যান্য অপদ্রব্য বেশি থাকে। গলিত অবস্থায় এর ভেতর দিয়ে বাতাসের জোরালো স্রোত পাঠালে অক্সিজেন কার্বন, সিলিকন ও ম্যাঙ্গানিজের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সেগুলো বের করে দেয়। ফলে কার্বনের পরিমাণ কমে গিয়ে ইস্পাত পাওয়া যায়। ইংরেজ প্রকৌশলী হেনরি বেসিমার এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
    মনে রাখুন: আজকাল ইস্পাত তৈরিতে মূলত বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস ও ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস ব্যবহার করা হয়।
    বেসিমার চুল্লি দেখতে নাশপাতির মতো এবং এর ভেতরে গলিত লোহায় বাতাস ফুঁকে দেওয়া হয়। বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ তৈরি হয় বলে আলাদা করে জ্বালানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
  51. ৯৬. পিয়ানোর তার তৈরিতে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লোহা ও ইস্পাত
    • ক. ঢালাই লোহা
    • খ. পেটা লোহা
    • গ. ইস্পাত
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    উত্তর: গ. ইস্পাত
    পিয়ানোর তারকে বারবার টান ও কম্পন সহ্য করতে হয়, আবার সুর ঠিক রাখার জন্য সেটিকে খুব শক্ত ও স্থিতিস্থাপক হতে হয়। এই গুণগুলো পাওয়া যায় উচ্চ কার্বনযুক্ত ইস্পাতে, তাই পিয়ানোর তার ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয়। পেটা লোহা নরম, তাই টান দিলে সহজেই লম্বা হয়ে যায় আর সুর ধরে রাখতে পারে না। ঢালাই লোহা আবার ভঙ্গুর, টানলে ভেঙে যায়।
    মনে রাখুন:
    পেটা লোহা নরম ও নমনীয়, তাই এটি দিয়ে শিকল, তারকাঁটা ও পেরেক বানানো যায়।
    ঢালাই লোহা শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর, তাই এটি দিয়ে পাইপ, চুলা ও যন্ত্রের কাঠামো ঢালাই করা হয়।
  52. ৯৭. লোহায় মরিচা ধরার জন্য কোনটি প্রয়োজন?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মরিচা ও ক্ষয়রোধ
    • ক. পানি
    • খ. অক্সিজেন
    • গ. কেরোসিন
    • ঘ. পানি ও অক্সিজেন
    উত্তর: ঘ. পানি ও অক্সিজেন
    লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সংস্পর্শে এলে ধীরে ধীরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্ষয় হয়, একেই আমরা মরিচা (Rust) ধরা বলি। শুকনো বাতাসে অক্সিজেন থাকলেও মরিচা খুব কম ধরে, আবার অক্সিজেনহীন পানিতেও লোহা প্রায় অক্ষত থাকে। তাই মরিচা ধরার জন্য পানি ও অক্সিজেন দুটোই একসঙ্গে দরকার। মজার ব্যাপার হলো, লবণাক্ত পানিতে লোহা আরও দ্রুত মরিচা ধরে, কারণ লবণ তড়িৎ পরিবহন বাড়িয়ে দেয়।
    মনে রাখুন: মরিচার রং লালচে-বাদামি। এটি আর্দ্র আয়রন অক্সাইড।
    মরিচা রোধের উপায়গুলো হলো লোহার গায়ে রং, তেল বা গ্রিজ লাগানো, জিঙ্কের প্রলেপ দেওয়া এবং স্টেইনলেস স্টিলের মতো সংকর ব্যবহার করা। এগুলো সবই লোহাকে পানি ও অক্সিজেনের হাত থেকে আড়াল করে।
  53. ৯৮. মরিচার একটি গ্রহণযোগ্য সূত্র হলো -সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মরিচা ও ক্ষয়রোধ
    • ক. Fe₂O₃. H₂O
    • খ. FeO₃. H₂O₂
    • গ. Fe₃O₂. 5H₂O
    • ঘ. Fe₂O₃. nH₂O
    উত্তর: ঘ. Fe₂O₃. nH₂O
    মরিচা হলো লোহার আর্দ্র বা পানিযুক্ত অক্সাইড। লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করলে আয়রন(III) অক্সাইডের সঙ্গে কিছু পানির অণু যুক্ত হয়ে যে পদার্থ তৈরি হয়, সেটিই মরিচা। এতে পানির অণুর সংখ্যা সব সময় সমান থাকে না, তাই মরিচার সূত্র লেখা হয় Fe₂O₃.nH₂O, যেখানে n একটি পরিবর্তনশীল সংখ্যা।
    মনে রাখুন:
    মরিচা ধরলে লোহা ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং এর ওজন বাড়ে।
    মরিচা লোহার ওপর একটি আলগা স্তর তৈরি করে, যা ঝরে পড়ে এবং নিচের লোহাকে আবার ক্ষয়ের মুখে ফেলে।
  54. ৯৯. একটি ধাতুর উপর জিঙ্কের প্রলেপ দেওয়াকে কী বলে?পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির জুনিয়র হিসাব সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যালভানাইজিং
    • ক. গ্যালভানাইজিং
    • খ. টিনপ্লেটিং
    • গ. ভলকানাইজিং
    • ঘ. ইলেকট্রোপ্লেটিং
    উত্তর: ক. গ্যালভানাইজিং
    কোনো ধাতুর, বিশেষ করে লোহা বা ইস্পাতের, ওপর দস্তা বা জিঙ্কের (Zinc) পাতলা প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতির নাম গ্যালভানাইজিং (Galvanizing)। জিঙ্ক বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে একটি শক্ত অক্সাইডের আবরণ তৈরি করে, ফলে ভেতরের লোহা পানি ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে পারে না। প্রলেপ কোথাও উঠে গেলেও জিঙ্ক লোহার আগে ক্ষয় হয়, তাই লোহা বেঁচে যায়।
    মনে রাখুন:
    টিনের প্রলেপ দেওয়াকে টিন প্লেটিং বলে।
    রবারের সঙ্গে সালফার মিশিয়ে তাকে শক্ত ও টেকসই করার পদ্ধতির নাম ভালকানাইজেশন।
    লোহার মতো সক্রিয় ধাতুর ওপর নিকেল বা ক্রোমিয়ামের প্রলেপ দেওয়ার কাজটি সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হয়, যাকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলে। গ্যালভানাইজিং থেকে এটি আলাদা।
  55. ১০০. লোহার গ্যালভানাইজিং বলতে বুঝায়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৭ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যালভানাইজিং
    • ক. লোহার উপর লেডের প্রলেপ দেয়া
    • খ. লোহাকে ইস্পাতে পরিণত করে তার উপর কালো রঙের প্রলেপ দেয়া
    • গ. লোহার উপর কপারের প্রলেপ দেয়া
    • ঘ. লোহাকে বিগলিত জিংকের মধ্যে ডুবিয়ে তার উপর জিংকের প্রলেপ দেয়া
    উত্তর: ঘ. লোহাকে বিগলিত জিংকের মধ্যে ডুবিয়ে তার উপর জিংকের প্রলেপ দেয়া
    গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে লোহার ওপর জিঙ্কের প্রলেপ দেওয়া হয়। এর একটি প্রচলিত উপায় হলো পরিষ্কার করা লোহাকে গলিত জিঙ্কের মধ্যে ডুবিয়ে নেওয়া, একে হট-ডিপ গ্যালভানাইজিং বলে। ঠান্ডা হলে লোহার গায়ে জিঙ্কের একটি আস্তরণ বসে যায়। এই আস্তরণ লোহাকে পানি ও বাতাস থেকে আড়াল করে রাখে, ফলে মরিচা সহজে ধরে না।
    মনে রাখুন: টিন, সিসা বা তামার প্রলেপ দেওয়া হলে সেটিকে গ্যালভানাইজিং বলা যায় না। শুধু জিঙ্কের প্রলেপই গ্যালভানাইজিং।
    গ্যালভানাইজড লোহা তাই খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর টিকে থাকে। জিঙ্ক ক্ষয় হয়ে যে আবরণ তৈরি করে, সেটিও লোহার ওপর আরেকটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
  56. ১০১. লোহার ক্ষয়রোধ করতে ব্যবহৃত হয়?PGCB-র উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মরিচা ও ক্ষয়রোধ
    • ক. তামা
    • খ. রূপা
    • গ. অ্যালুমিনিয়াম
    • ঘ. দস্তা
    উত্তর: ঘ. দস্তা
    লোহার ক্ষয় বা মরিচা রোধ করার একটি কার্যকর উপায় হলো এর গায়ে দস্তা বা জিঙ্ক লাগানো। জিঙ্ক লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয় ধাতু, তাই ক্ষয়ের সুযোগ পেলে জিঙ্কই আগে ক্ষয় হয় এবং লোহা রক্ষা পায়। এভাবে জিঙ্ক নিজে আত্মত্যাগ করে লোহাকে বাঁচায়, তাই একে ত্যাগী অ্যানোড বলা হয়। তামা ও রূপা লোহার চেয়ে কম সক্রিয়, তাই এদের সংস্পর্শে লোহার ক্ষয় বরং আরও বেড়ে যায়।
    মনে রাখুন: জাহাজের তলায় জিঙ্কের ফলক লাগিয়ে সমুদ্রের লোনা পানি থেকে লোহার খোলকে রক্ষা করা হয়।
  57. ১০২. গ্যালভানাইজড পাইপের উর্ধ্বে প্রলেপ দেয়া হয়-তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যালভানাইজিং
    • ক. দস্তা
    • খ. পেইন্ট
    • গ. তেল
    • ঘ. Galvanoleum
    উত্তর: ক. দস্তা
    গ্যালভানাইজড পাইপ হলো এমন লোহা বা ইস্পাতের পাইপ, যার ওপর দস্তা বা জিঙ্কের (Zinc) প্রলেপ দেওয়া থাকে। পানি ও বাতাসের সংস্পর্শে পাইপের লোহা যাতে মরিচা না ধরে, সেজন্যই এই প্রলেপ। পেইন্ট বা তেলের আবরণ সময়ের সঙ্গে উঠে যায়, কিন্তু জিঙ্কের প্রলেপ লোহার সঙ্গে শক্তভাবে আটকে থাকে এবং বহু বছর টিকে যায়।
    মনে রাখুন: গ্যালভানাইজড পাইপ ও টিন এখনো ঘরের চাল, পানির লাইন ও বেড়ার তারে বহুল ব্যবহৃত হয়।
    গ্যালভানাইজড পাইপ তাই খোলা জায়গায় এবং মাটির নিচে পানি ও গ্যাস সরবরাহের কাজে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা চলে। রং করা সাধারণ লোহার পাইপ অনেক আগেই মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যায়।
  58. ১০৩. তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন ধাতুর উপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে কি বলে?রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যালভানাইজিং
    • ক. ভলকানাইজিং
    • খ. ধাতুর বিশোধন
    • গ. গ্যালভানাইজিং
    • ঘ. ইলেকট্রোপ্লেটিং
    উত্তর: ঘ. ইলেকট্রোপ্লেটিং
    তড়িৎ বিশ্লেষণের (Electrolysis) সাহায্যে এক ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর পাতলা স্তর জমানোর পদ্ধতির নাম ইলেকট্রোপ্লেটিং (Electroplating)। যে বস্তুতে প্রলেপ দিতে হবে সেটিকে ক্যাথোডে রাখা হয়, আর প্রলেপের ধাতুর লবণের দ্রবণে তড়িৎ চালনা করলে সেই ধাতু ক্যাথোডে জমা হয়। এভাবে সোনা, রূপা, নিকেল বা ক্রোমিয়ামের প্রলেপ দেওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    গ্যালভানাইজিংয়ে গলিত জিঙ্কে ডোবানো হয়, তাই এতে তড়িৎ লাগে না।
    ভালকানাইজিং ধাতুর নয়, রবারের প্রক্রিয়া।
    ইলেকট্রোপ্লেটিংয়ে ধাতুর ওপর সুন্দর চকচকে ভাব আনা যায় এবং ক্ষয়ও রোধ করা যায়। গয়না, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও কলের মুখে এই পদ্ধতিতে প্রলেপ দেওয়া হয়।
  59. ১০৪. স্টেইনলেস স্টিল নিম্নের কোনটির অ্যালয়?কর্ণফুলী গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি টেকনিশিয়ান, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. আয়রন, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল
    • খ. আয়রন ও নিকেল
    • গ. আয়রন, নিকেল ও মলিবডেনাম
    • ঘ. আয়রন, ক্রোমিয়াম ও মলিবডেনাম
    উত্তর: ক. আয়রন, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল
    স্টেইনলেস স্টিল (Stainless Steel) হলো লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেলের সংকর ধাতু। সাধারণ স্টিলের সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৮ শতাংশ বা তারও বেশি ক্রোমিয়াম মেশালে এটি তৈরি হয়, আর নিকেল একে আরও টেকসই ও মসৃণ করে। এজন্য এতে সহজে মরিচা ধরে না।
    মনে রাখুন:
    স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে চামচ, থালা, রান্নার বাসন ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্র তৈরি হয়।
    প্রচলিত ধরন প্রায় ১৮ শতাংশ ক্রোমিয়াম ও ৮ শতাংশ নিকেল দিয়ে তৈরি।
    ক্রোমিয়াম মেশানোর ফলে এই সংকরের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর পড়ে, আর নিকেল একে নমনীয় ও আরও টেকসই করে তোলে। এ কারণে রান্নাঘর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত সবখানে এর ব্যবহার দেখা যায়।
  60. ১০৫. পারদ তাপ-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (তিতাস), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. অপরিবাহী
    • খ. সুপরিবাহী
    • গ. পরিবাহী
    • ঘ. কুপরিবাহী
    উত্তর: খ. সুপরিবাহী
    পারদ বা মার্কারি (Mercury) একটি ধাতু, আর ধাতু সাধারণত তাপ ও বিদ্যুতের সুপরিবাহী হয়। পারদের মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তাপ বহন করে বলে এটি তাপ ভালোভাবে পরিবহন করে। এজন্য থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহার করলে তা পরিবেশের তাপমাত্রা দ্রুত গ্রহণ করে এবং সঠিক তাপমাত্রা দেখাতে পারে।
    মনে রাখুন:
    রূপা ও তামার তুলনায় পারদের তাপ পরিবাহিতা কম, তবু অন্য সব তরলের তুলনায় এটি অনেক ভালো পরিবাহী।
    পানি, তেল ও কাঠ তাপের কুপরিবাহী।
    পারদ ধাতুর মধ্যে একমাত্র তরল ধাতু, তবু এর মুক্ত ইলেকট্রন থাকায় এটি বিদ্যুতেরও সুপরিবাহী। এজন্য কিছু বৈদ্যুতিক সুইচে পারদ ব্যবহার করা হয়েছে।
  61. ১০৬. কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. দস্তা
    • খ. সীসা
    • গ. লোহা
    • ঘ. পারদ
    উত্তর: ঘ. পারদ
    সব ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম, মাত্র প্রায় −৩৯°C। অর্থাৎ ঘরের তাপমাত্রায় এটি জমাট বাঁধে না, তরল অবস্থাতেই থাকে। দস্তার গলনাঙ্ক প্রায় ৪২০°C, সিসার প্রায় ৩২৭°C আর লোহার প্রায় ১৫৩৮°C, তাই এগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় শক্ত থাকে।
    এর কারণ হলো পারদের পরমাণুগুলোর মধ্যে ধাতব বন্ধন অত্যন্ত দুর্বল, তাই সামান্য তাপেই বন্ধন কেটে যায়।
    মনে রাখুন:
    পারদের স্ফুটনাঙ্ক প্রায় ৩৫৭°C।
    সবচেয়ে বেশি গলনাঙ্কের ধাতু টাংস্টেন, প্রায় ৩৪২২°C।
    পারদ আর ব্রোমিনের গলনাঙ্ক কম হলেও ধাতুর মধ্যে সর্বনিম্ন গলনাঙ্ক শুধু পারদের। এর বিপরীতে টাংস্টেনের গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টে সেটি ব্যবহৃত হয়।
  62. ১০৭. কোন ধাতু কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. রেডিয়াম
    • খ. জিংক
    • গ. প্রোটিনিয়াম
    • ঘ. মার্কারি (Hg)
    উত্তর: ঘ. মার্কারি (Hg)
    কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে এমন ধাতু হলো মার্কারি (Hg), যার বাংলা নাম পারদ। এর গলনাঙ্ক প্রায় −৩৯°C, তাই ঘরের তাপমাত্রায় এটি গলিত অবস্থাতেই থাকে। রেডিয়াম, জিংক ও প্রোটিনিয়াম এই তাপমাত্রায় কঠিন। এর রাসায়নিক প্রতীক Hg এসেছে ল্যাটিন শব্দ হাইড্রারজিরাম (Hydrargyrum) থেকে, যার অর্থ তরল রূপা।
    মনে রাখুন: পারদ অত্যন্ত বিষাক্ত। তাই ভাঙা থার্মোমিটার থেকে বেরোনো পারদ খালি হাতে ধরা উচিত নয়।
    পারদ আকরিক থেকে বের করা হয়, আর এর বাষ্পও বিষাক্ত। তাই বন্ধ ঘরে পারদ ফেলা খুবই বিপজ্জনক।
  63. ১০৮. সর্বাপেক্ষা ভারী তরল পদার্থ কোনটি?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. সরিষার তেল
    • খ. পারদ
    • গ. নারিকেল তেল
    • ঘ. পানি
    উত্তর: খ. পারদ
    দেওয়া তরলগুলোর মধ্যে পারদ সবচেয়ে ভারী। কোনো পদার্থের ঘনত্ব যত বেশি, সমান আয়তনে সেটি তত ভারী হয়। পারদের ঘনত্ব প্রায় ১৩.৬ g/cm³, অথচ পানির ঘনত্ব ১ g/cm³ এবং সরিষা ও নারিকেল তেলের ঘনত্ব পানির চেয়েও কম। এ কারণেই পারদের ওপর লোহার টুকরোও ভাসতে পারে।
    মনে রাখুন: বায়ুচাপ মাপার ব্যারোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়, কারণ ভারী বলে অল্প উচ্চতার পারদস্তম্ভ দিয়েই বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপা যায়। স্বাভাবিক বায়ুচাপে পারদস্তম্ভের উচ্চতা ৭৬০ মিমি।
    পারদের এই ঘনত্ব এবং সামান্য তাপে সুষম প্রসারণ ধর্ম একে ব্যারোমিটার ও থার্মোমিটারের উপযোগী করেছে। সেজন্য এ দুটি যন্ত্রে অন্য তরলের বদলে পারদ বেশি ব্যবহৃত হয়।
  64. ১০৯. নিচের কোন পদার্থটি সবচেয়ে ভারী?পিজিসিএলের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. তেল
    • খ. পানি
    • গ. পারদ
    • ঘ. মধু
    উত্তর: গ. পারদ
    দেওয়া পদার্থগুলোর মধ্যে পারদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৩.৬ g/cm³। অন্যদিকে পানির ঘনত্ব ১ g/cm³, মধুর ঘনত্ব প্রায় ১.৪ এবং তেলের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম। ঘনত্ব বেশি হলে সমান আয়তনের পদার্থ বেশি ভারী হয়, তাই পারদই এখানে সবচেয়ে ভারী।
    মনে রাখুন:
    তরল পদার্থের মধ্যে পারদ সবচেয়ে ভারী।
    পানির ঘনত্ব ৪°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ, ১ g/cm³।
    তেলের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম বলে তেল পানির ওপর ভাসে। মধু পানির চেয়ে ঘন হলেও পারদের তুলনায় অনেক হালকা। ঘনত্বের একক CGS পদ্ধতিতে g/cm³ এবং SI পদ্ধতিতে kg/m³।
  65. ১১০. পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব কত?ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. 13.6
    • খ. 0.8
    • গ. 1
    • ঘ. 65
    উত্তর: ক. 13.6
    কোনো পদার্থের ঘনত্ব এবং একই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্বের অনুপাতকে আপেক্ষিক গুরুত্ব বা আপেক্ষিক ঘনত্ব (Specific gravity) বলে। পারদের ঘনত্ব প্রায় ১৩.৬ g/cm³, আর পানির ১ g/cm³, তাই পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১৩.৬। অর্থাৎ পারদ পানির চেয়ে প্রায় ১৩.৬ গুণ ভারী।
    মনে রাখুন:
    আপেক্ষিক গুরুত্ব দুটি ঘনত্বের অনুপাত বলে এর কোনো একক নেই।
    পানির আপেক্ষিক গুরুত্ব ১। যে পদার্থের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১-এর বেশি, তা পানিতে ডুবে যায়।
    এর ফলে পারদের ঘনত্ব SI এককে প্রায় ১৩৬০০ kg/m³। তুলনায় লোহার আপেক্ষিক গুরুত্ব প্রায় ৭.৮ আর সোনার প্রায় ১৯.৩।
  66. ১১১. থার্মোমিটারে কোন পদার্থ থাকে?DAE-র সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. সীসা
    • খ. পারদ
    • গ. রূপা
    • ঘ. দস্তা
    উত্তর: খ. পারদ
    থার্মোমিটারে তাপমাত্রা মাপার জন্য পারদ ব্যবহার করা হয়। তাপ পেলে পারদ সুষমভাবে প্রসারিত হয়, ফলে নলের ভেতর পারদের সুতো ওপরে উঠে তাপমাত্রা নির্দেশ করে। পারদ চকচকে ও অস্বচ্ছ, তাই নলের ভেতরে এর সুতো স্পষ্ট দেখা যায়। এছাড়া এটি তাপের সুপরিবাহী এবং এর স্ফুটনাঙ্ক বেশি, ফলে অনেক বিস্তৃত তাপমাত্রা পরিসরে এটি তরল থাকে।
    মনে রাখুন: ডাক্তারি থার্মোমিটারে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬°F বা ৩৭°C।
    আজকাল পারদ বিষাক্ত বলে অনেক জায়গায় ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার হচ্ছে। তবু পারদ থার্মোমিটার নির্ভুল ও সস্তা, তাই এর চলও এখনো আছে।
  67. ১১২. নিচের কোনটি কঠিন পদার্থ -বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. SO₂
    • খ. CO
    • গ. NH₃
    • ঘ. MgCl₂
    উত্তর: ঘ. MgCl₂
    MgCl₂ বা ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড একটি আয়নিক যৌগ। ম্যাগনেসিয়াম ধাতু ও ক্লোরিন অধাতুর মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানে আয়ন তৈরি হয়, আর বিপরীত আধানের এই আয়নগুলোর মধ্যে প্রবল আকর্ষণ থাকে। তাই আয়নিক যৌগ ঘরের তাপমাত্রায় কঠিন স্ফটিক হয়। অন্যদিকে SO₂, CO ও NH₃ সমযোজী যৌগ, এবং এগুলো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গ্যাস।
    মনে রাখুন: আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত বেশি হয়।
    আয়নিক যৌগ পানিতে গুললে বা গলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে, কারণ তখন আয়নগুলো চলাচল করতে পারে। কঠিন অবস্থায় আয়ন একই জায়গায় আটকে থাকে বলে বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
  68. ১১৩. সংকর ধাতু ব্রোঞ্জের উপাদান হলো-কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও লোহা
    • খ. তামা ও টিন
    • গ. টিন ও দস্তা
    • ঘ. লোহা ও দস্তা
    উত্তর: খ. তামা ও টিন
    দুই বা তার বেশি ধাতু, বা ধাতুর সঙ্গে সামান্য অধাতু মিশিয়ে যে নতুন ধাতব পদার্থ বানানো হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের সংকর। সাধারণত এতে প্রায় ৮৮ থেকে ৯০ শতাংশ তামা আর বাকিটা টিন থাকে। তামার চেয়ে ব্রোঞ্জ শক্ত এবং সহজে ক্ষয় হয় না, তাই মূর্তি, মুদ্রা ও পদক তৈরিতে এর ব্যবহার আছে।
    মনে রাখুন: মানুষ প্রথম যে সংকর ধাতু ব্যবহার করে, তা-ই ব্রোঞ্জ। এ থেকেই ইতিহাসের ব্রোঞ্জ যুগের নাম এসেছে।
  69. ১১৪. সংকর ধাতু কাঁসার উপাদান কি কি?BREB-র সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও টিন
    • খ. তামা ও লোহা
    • গ. তামা ও দস্তা
    • ঘ. তামা ও নিকেল
    উত্তর: ক. তামা ও টিন
    কাঁসা তামা ও টিনের সংকর ধাতু। এতে সাধারণত প্রায় ৭৮ শতাংশ তামা এবং ২২ শতাংশ টিন থাকে। কাঁসা শক্ত ও ভঙ্গুর, আর আঘাত করলে এর থেকে সুন্দর ধ্বনি বের হয়। এ কারণে ঘণ্টা, ঝাঁঝর ও কাঁসার থালা-বাসন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পিতল তামা ও দস্তার সংকর।
    ব্রোঞ্জে তামার ভাগ বেশি, টিন তুলনায় কম।
    কাঁসা ও ব্রোঞ্জ দুটিই তামা-টিন সংকর, তবে কাঁসায় টিনের ভাগ বেশি হওয়ায় এটি ব্রোঞ্জের চেয়ে কঠিন ও ভঙ্গুর।
    কাঁসার এই ধ্বনিময়তার জন্য বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁসার বাসন ও করতালও বিখ্যাত। এটি সহজে মরিচা ধরে না, তবে তামা বা পিতলের মতো সময়ের সঙ্গে রং হারায়।
  70. ১১৫. তামা ও দস্তার মিশ্রণের ফলে সৃষ্ট সংকর (Alloy) ধাতু কোনটি?ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. Babbit metal
    • খ. Brass
    • গ. Monem metal
    • ঘ. Bronze
    উত্তর: খ. Brass
    তামা ও দস্তা মিশিয়ে যে সংকর ধাতু পাওয়া যায়, তার নাম ব্রাস (Brass) বা পিতল। এই সংকরে তামার ভাগ বেশি থাকে। ব্রোঞ্জ (Bronze) তামা ও টিনের সংকর। ব্যাবিট ধাতু (Babbitt metal) টিন, অ্যান্টিমনি ও তামার সংকর, যা যন্ত্রের বিয়ারিংয়ে ঘর্ষণ কমাতে ব্যবহৃত হয়। মনেল ধাতু (Monel metal) প্রধানত নিকেল ও তামার সংকর।
    মনে রাখুন: ব্রাস হলো তামা ও দস্তা, আর ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিন।
    সংকর ধাতু মূল ধাতুর চেয়ে সাধারণত বেশি শক্ত ও ক্ষয়রোধী হয়। তাই বিশুদ্ধ তামার বদলে ব্রাস ও ব্রোঞ্জের ব্যবহারই শিল্পে বেশি দেখা যায়।
  71. ১১৬. গান মেটালের প্রধান উপাদান কি?ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা
    • খ. সীসা
    • গ. নিকেল
    • ঘ. দস্তা
    উত্তর: ক. তামা
    গান মেটাল (Gun metal) হলো তামা, টিন ও সামান্য দস্তার সংকর। এতে সবচেয়ে বেশি থাকে তামা, প্রায় ৮৫ থেকে ৯২ শতাংশ, আর বাকি অংশে টিন ও অল্প দস্তা। এটি শক্ত, ক্ষয়রোধী এবং সহজে ঢালাই করা যায়। এককালে কামান ঢালাইয়ের জন্য এই সংকর ব্যবহার হতো, সেখান থেকেই এর নাম এসেছে। এখন এটি দিয়ে গিয়ার, বুশ ও পাম্পের যন্ত্রাংশ তৈরি হয়।
    মনে রাখুন: গান মেটালও ব্রোঞ্জ গোত্রের সংকর।
    তামা, টিন ও দস্তা তিনটি ধাতুর এই মিশ্রণের সঙ্গে সামান্য সীসা বা নিকেলও থাকতে পারে। তামার ভাগ বেশি বলেই এর রং লালচে-বাদামি, আর এটি সহজে সমুদ্রের লোনা পানিতেও ক্ষয় হয় না।
  72. ১১৭. Which of the following does not belong to the group?Bank Asia PLC (Teller), ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. Silver
    • খ. Brass
    • গ. Copper
    • ঘ. Iron
    উত্তর: খ. Brass
    এখানে Silver, Copper ও Iron তিনটিই মৌলিক ধাতু, অর্থাৎ এরা বিশুদ্ধ পদার্থ। কিন্তু Brass বা পিতল মৌল নয়, এটি তামা ও দস্তা মিশিয়ে বানানো একটি সংকর ধাতু, তাই এটি দলের বাইরে পড়ে। মিশ্রণ হিসেবে সংকর ধাতুতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানো থাকে, কিন্তু এদের মধ্যে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয় না।
    মনে রাখুন:
    ব্রোঞ্জ, কাঁসা ও স্টেইনলেস স্টিলও সংকর ধাতু।
    সংকর ধাতু সাধারণত মূল ধাতুর চেয়ে বেশি শক্ত হয়।
    কোনো মৌল বা বিশুদ্ধ পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে, কিন্তু সংকরের গলনাঙ্ক সাধারণত একটি পরিসরের মধ্যে পড়ে। এই পার্থক্য দিয়েও মৌল ও সংকর আলাদা করা যায়।
  73. ১১৮. অধাতু কোনটি?রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (জবা), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. মার্কারি
    • খ. কার্বন
    • গ. পটাশিয়াম
    • ঘ. কপার
    উত্তর: খ. কার্বন
    কার্বন (Carbon) একটি অধাতু। মার্কারি বা পারদ, পটাশিয়াম ও কপার বা তামা তিনটিই ধাতু। অধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এরা চকচকে হয় না, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, আর পেটালে ভেঙে যায়। তবে ব্যতিক্রম আছে। যেমন, গ্রাফাইট কার্বনের রূপভেদ হয়েও বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
    মনে রাখুন:
    কক্ষ তাপমাত্রায় তরল অধাতু ব্রোমিন।
    সবচেয়ে কঠিন অধাতু হীরা।
    ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো চকচকে ভাব, পেটালে পাতলা হওয়া এবং তাপ ও বিদ্যুতের সুপরিবাহিতা।
    এবার নিজে মিলিয়ে দেখুন। বাকি তিনটি ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং আঘাত করলে ধাতব ধ্বনি তোলে, অথচ কার্বনের এসব ধর্ম নেই, এর হীরা-রূপভেদও বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
  74. ১১৯. নিম্নের কোনটি Negative ion?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. Chloride
    • খ. Sodium
    • গ. Calcium
    • ঘ. Magnesium
    উত্তর: ক. Chloride
    ঋণাত্মক আয়ন (Negative ion) বা অ্যানায়ন তৈরি হয় যখন কোনো পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ক্লোরিন অধাতু, তাই এটি সহজে একটি ইলেকট্রন নিয়ে Cl⁻ বা ক্লোরাইড আয়নে পরিণত হয়। সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ধাতু, এরা ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na⁺, Ca²⁺ ও Mg²⁺ ধনাত্মক আয়ন তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
    বিপরীত আধানের এই দুই ধরনের আয়ন একসঙ্গে যুক্ত হয়ে আয়নিক যৌগ তৈরি করে, যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।
    ক্লোরাইড ছাড়াও অক্সাইড (O²⁻), সালফাইড (S²⁻) ও নাইট্রেট (NO₃⁻) ঋণাত্মক আয়নের উদাহরণ। এগুলোর নামের শেষে সাধারণত -আইড বা -এট বসে।
  75. ১২০. কোন অধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে?উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. সালফার
    • খ. গ্রাফাইট
    • গ. ফসফরাস
    • ঘ. সিলিকন
    উত্তর: খ. গ্রাফাইট
    সাধারণত অধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। কিন্তু গ্রাফাইট এর ব্যতিক্রম। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ এবং এতে প্রতিটি কার্বন পরমাণু তিনটি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর চতুর্থ ইলেকট্রনটি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে। এই মুক্ত ইলেকট্রনই বিদ্যুৎ বহন করে। সালফার, ফসফরাস ও সিলিকন বিদ্যুতের কুপরিবাহী বা অর্ধপরিবাহী।
    মনে রাখুন: এ কারণেই গ্রাফাইট ইলেকট্রোড ও ড্রাই সেলের কার্বন দণ্ড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
    হীরা কার্বনের আরেক রূপ, কিন্তু সেখানে চারটি ইলেকট্রনই বন্ধনে আটকে থাকে, তাই হীরা বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। একই মৌলের দুটি রূপ ভিন্ন আচরণ করার এটি ভালো উদাহরণ।
  76. ১২১. কক্ষ তাপমাত্রায় নিম্নের কোনটি তরল?বিপিএসসির জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. Fe
    • খ. Cl₂
    • গ. Br₂
    • ঘ. I₂
    উত্তর: গ. Br₂
    কক্ষ তাপমাত্রায় ব্রোমিন (Br₂) তরল অবস্থায় থাকে। এটি লালচে-বাদামি রঙের ঘন তরল এবং সহজে বাষ্পীভূত হয়। ক্লোরিন (Cl₂) এই তাপমাত্রায় হলদে-সবুজ গ্যাস, আয়োডিন (I₂) বেগুনি-কালো কঠিন, আর লোহা (Fe) কঠিন ধাতু।
    মনে রাখুন:
    হ্যালোজেনের মধ্যে ফ্লুরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন কঠিন।
    ধাতুর মধ্যে একমাত্র পারদ তরল।
    ব্রোমিনের বাষ্প বিষাক্ত ও ঝাঁঝালো, তাই এটি নিয়ে কাজ করতে সতর্ক থাকতে হয়।
    ব্রোমিন সাধারণ তাপমাত্রায় সহজে উবে যায়, তাই এটি সংরক্ষণের সময় কাচের বোতলে ঢাকনা দিয়ে রাখতে হয়। পানির নিচেও এর বোতল রাখা হয়।
  77. ১২২. কোন মৌলিক অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও অধাতু
    • ক. ব্রোমিন
    • খ. পারদ
    • গ. আয়োডিন
    • ঘ. জেনন
    উত্তর: ক. ব্রোমিন
    অধাতু মৌলের মধ্যে একমাত্র ব্রোমিন (Br₂) কক্ষ তাপমাত্রায় তরল। এটি গাঢ় লালচে-বাদামি রঙের এবং এর ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত বাষ্প বিষাক্ত। পারদও কক্ষ তাপমাত্রায় তরল, কিন্তু সেটি ধাতু। আয়োডিন কঠিন, আর জেনন নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
    মনে রাখুন:
    ব্রোমিন শব্দের অর্থ দুর্গন্ধ, এর তীব্র গন্ধ থেকেই নামটি এসেছে।
    ব্রোমিন হ্যালোজেন পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের ফ্লুরিন ও ক্লোরিন গ্যাস এবং আয়োডিন কঠিন।
    ধাতু ও অধাতু মিলিয়ে কক্ষ তাপমাত্রায় তরল মৌল মাত্র দুটি, ব্রোমিন ও পারদ।
    ব্রোমিন দিয়ে কীটনাশক, রং ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক তৈরি হয়। ফটোগ্রাফির ফিল্মে ব্যবহৃত সিলভার ব্রোমাইডও এ থেকে পাওয়া যায়।
  78. ১২৩. বহুরূপী মৌল কোনটি?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. কার্বন
    • খ. সোডিয়াম
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    উত্তর: ক. কার্বন
    একই মৌল যখন ভৌত ধর্মে ভিন্ন কিন্তু রাসায়নিক ধর্মে অভিন্ন একাধিক রূপে থাকে, তখন তাকে বহুরূপী মৌল বলে, আর এই ঘটনাকে বহুরূপতা বা অ্যালোট্রপি (Allotropy) বলা হয়। কার্বনের বহুরূপের মধ্যে আছে হীরা, গ্রাফাইট, ফুলেরিন ও গ্রাফিন। সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামের এমন বহুরূপ সাধারণভাবে পাওয়া যায় না।
    মনে রাখুন:
    অক্সিজেনের বহুরূপ O₂ ও ওজোন (O₃)।
    ফসফরাস ও সালফারের বহুরূপও আছে।
    কার্বনের বহুরূপী হওয়ার কারণ এর পরমাণুগুলোর সাজানোর ধরন আলাদা হওয়া। হীরায় পরমাণুগুলো ত্রিমাত্রিক জালিতে, আর গ্রাফাইটে স্তরে স্তরে সাজানো থাকে।
  79. ১২৪. কোনটি আলাদা?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. কার্বন
    • খ. গ্রাফাইট
    • গ. হীরক
    • ঘ. স্বর্ণ
    উত্তর: ঘ. স্বর্ণ
    কার্বন, গ্রাফাইট ও হীরক এই তিনটিই একই মৌল কার্বনের রূপ। কার্বন কয়লা বা ভুসা কালির মতো অকেলাসিত রূপে যেমন থাকে, তেমনি গ্রাফাইট ও হীরা নামে কেলাসিত রূপেও থাকে। কিন্তু স্বর্ণ সম্পূর্ণ আলাদা একটি ধাতব মৌল, যার প্রতীক Au। তাই স্বর্ণ বাকি তিনটি থেকে আলাদা।
    মনে রাখুন: হীরা ও গ্রাফাইটকে পুড়িয়ে নিলে দুটি থেকেই শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) পাওয়া যায়।
    স্বর্ণ পরিচিত ভারী ও নমনীয় ধাতু, যা সহজে ক্ষয় হয় না। তাই এটি গয়নায় ব্যবহৃত হয়। কার্বনের তিনটি রূপই ভিন্ন, কিন্তু সবগুলোর মূল উপাদান একই কার্বন।
  80. ১২৫. পেন্সিলের শিষে প্রধানত থাকে -প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. কার্বন ব্লাক
    • খ. লেড
    • গ. প্লাস্টিক
    • ঘ. গ্রাফাইট
    উত্তর: ঘ. গ্রাফাইট
    পেন্সিলের শিষ তৈরি হয় গ্রাফাইট (Graphite) দিয়ে। গ্রাফাইট কার্বনের একটি রূপ, যার স্তরগুলো একটির ওপর আরেকটি সহজে পিছলে যায়। কাগজে ঘষলে এই স্তরগুলো ছড়িয়ে লেগে লেখার দাগ তৈরি করে। নামে সীস বলা হলেও পেন্সিলে সীসা (লেড) থাকে না। প্রাচীনকালে মানুষ গ্রাফাইটকে সীসার আকরিক ভেবে ভুল করেছিল, সেই নামই আজও চলে আসছে।
    মনে রাখুন: গ্রাফাইট নরম, পিচ্ছিল ও বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই এটি লুব্রিকেন্ট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
    পেন্সিলের গায়ে লেখা HB, 2B বা 2H আসলে শিষের কোমলতা বোঝায়। B মানে কালো ও নরম, আর H মানে শক্ত। মাটির ভাগ বেশি হলে শিষ শক্ত হয়, আর গ্রাফাইটের ভাগ বেশি হলে নরম ও গাঢ় লেখা পড়ে।
  81. ১২৬. উড পেন্সিলের 'সীস' হল -বিটিভির বিজ্ঞাপন অফিসার (গ্রেড-২) · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. গ্রাফাইট
    • খ. কপার চূর্ণ
    • গ. সালফার
    • ঘ. চিনি
    উত্তর: ক. গ্রাফাইট
    কাঠ পেন্সিলের ভেতরের কালো সরু দণ্ডটিকে আমরা সীস বলি, কিন্তু এটি আসলে গ্রাফাইট (Graphite), অর্থাৎ কার্বনের একটি রূপ। গ্রাফাইটের স্তরগুলো সহজে একটি থেকে আরেকটিতে পিছলে যায়, তাই কাগজে ঘষলে লেখা পড়ে। এতে সীসা ধাতু নেই, ফলে পেন্সিল কামড়ালেও সীসার বিষক্রিয়ার ভয় থাকে না। সাধারণত গ্রাফাইটের সঙ্গে কাদামাটি মিশিয়ে শিষ বানানো হয়।
    মনে রাখুন: গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং এর ঘনত্ব হীরার চেয়ে কম।
    অতএব নামে সীস বা লেড থাকলেও কাঠ পেন্সিলের লেখার উপাদান আসলে কার্বন। প্রাচীন রোমানরা লেখার জন্য সত্যিকারের সীসার দণ্ড ব্যবহার করত, সেই নামই থেকে গেছে।
  82. ১২৭. নিচের কোনটি কার্বনের বহুরূপ?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. স্বর্ণ
    • খ. হীরক
    • গ. ইউরেনিয়াম
    • ঘ. প্ল্যাটিনাম
    উত্তর: খ. হীরক
    কার্বনের বহুরূপের মধ্যে হীরক বা হীরা অন্যতম। হীরায় প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে এবং পুরো কেলাস জুড়ে এক বিশাল ত্রিমাত্রিক জালিকা গড়ে ওঠে। স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম ও প্ল্যাটিনাম আলাদা আলাদা ধাতব মৌল, এদের কোনোটিই কার্বনের রূপ নয়।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের কেলাসাকার বহুরূপ হীরা ও গ্রাফাইট।
    অকেলাসাকার রূপ কয়লা, কোক ও ভুসা কালি।
    কার্বনের নানা রূপের ভৌত ধর্ম আলাদা হলেও রাসায়নিক ধর্ম এক, কারণ সবই কার্বন পরমাণু দিয়ে তৈরি। প্রমাণ হিসেবে এগুলো পোড়ালে একই গ্যাস CO₂ পাওয়া যায়।
  83. ১২৮. হীরাকে বায়ুতে পোড়ালে কী উৎপন্ন হয়?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. কোক
    • খ. কঠিন গ্যাস
    • গ. ছাই
    • ঘ. CO₂
    উত্তর: ঘ. CO₂
    হীরা আসলে বিশুদ্ধ কার্বন। তাই বাতাসে অনেক উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ালে এটি অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস তৈরি করে। এতে কোনো ছাই বা কোক থাকে না। রাসায়নিক সমীকরণ হলো C + O₂ → CO₂। এই পরীক্ষা দিয়েই বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন যে হীরা কার্বন ছাড়া কিছু নয়।
    মনে রাখুন: গ্রাফাইটকে পোড়ালেও একই ফল, শুধু CO₂ পাওয়া যায়।
    একই রকমভাবে গ্রাফাইট পোড়ালে CO₂ ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না। এই বিক্রিয়া তাপ ছাড়ে বলে এটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার একটি উদাহরণ। কয়লা বা কার্বন যথেষ্ট অক্সিজেন না পেলে অসম্পূর্ণ দহনে CO তৈরি হয়।
  84. ১২৯. হীরায় কাচ কাটা যায় কেন?পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অফিসার, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. নরম পদার্থ বলে
    • খ. কঠিনতম পদার্থ বলে
    • গ. ভঙ্গুর পদার্থ বলে
    • ঘ. তরল পদার্থ বলে
    উত্তর: খ. কঠিনতম পদার্থ বলে
    কাচ একটি শক্ত পদার্থ, কিন্তু হীরা তার চেয়েও কঠিন। কোনো পদার্থ দিয়ে অন্য পদার্থের গায়ে দাগ কাটতে হলে সেই পদার্থটিকে অপরটির চেয়ে শক্ত হতে হয়। হীরা প্রকৃতির কঠিনতম পদার্থ বলে একে দিয়ে কাচ কাটা যায়। এজন্যই কাচ কাটার যন্ত্র এবং পাথর ও ধাতু কাটার ড্রিলের মুখে হীরার টুকরো লাগানো হয়।
    মনে রাখুন: হীরা কাঠিন্যে সর্বোচ্চ হলেও এটি ভঙ্গুর, জোরে আঘাত করলে ভেঙে যেতে পারে।
    এই কঠিন বলেই হীরা সহজে ক্ষয় বা আঁচড়ে নষ্ট হয় না। কোনো একটি পদার্থ আরেকটিকে আঁচড় কাটতে পারলে বোঝা যায়, সেটি তুলনায় বেশি শক্ত।
  85. ১৩০. সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে কিসের অ্যানোড ব্যবহৃত হয়?বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. গ্রাফাইট
    • খ. কপার
    • গ. ক্লোরিন
    • ঘ. সোডিয়াম
    উত্তর: ক. গ্রাফাইট
    সোডিয়াম ধাতু তৈরি হয় গলিত সোডিয়াম ক্লোরাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণে, যার প্রচলিত পদ্ধতির নাম ডাউনস কোষ (Downs cell)। এই কোষে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয় গ্রাফাইট। গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং ক্লোরিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ক্ষয় হয় না। অ্যানোডে ক্লোরিন গ্যাস পাওয়া যায়, আর ক্যাথোডে গলিত সোডিয়াম জমা হয়।
    মনে রাখুন:
    ক্যাথোডে লোহার জালি ব্যবহার হয়।
    সোডিয়ামের গলনাঙ্ক কমাতে NaCl-এর সঙ্গে CaCl₂ মেশানো হয়।
    ডাউনস কোষে অ্যানোডে ক্লোরিন গ্যাস মুক্ত হয় আর ক্যাথোডে সোডিয়াম ধাতু জমা হয়, এই দুটিই শিল্পে মূল্যবান উপজাত। সোডিয়াম এভাবে তড়িৎ বিশ্লেষণ ছাড়া নিষ্কাশন করা কঠিন, কারণ এটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু।
  86. ১৩১. CO₂ -এর জন্য কোনটি সঠিক?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. Colourless
    • খ. Non-flammable
    • গ. Odourless
    • ঘ. All of these
    উত্তর: ঘ. All of these
    কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন গ্যাস। এটি নিজে জ্বলে না এবং অন্য কিছুকে জ্বলতেও সাহায্য করে না, তাই বলা হয় এটি অদাহ্য। এ কারণেই আগুন নেভাতে এর ব্যবহার আছে। প্রশ্নের তিনটি তথ্যই সঠিক, তাই সবগুলোই উত্তর।
    মনে রাখুন:
    CO₂ বাতাসের চেয়ে ভারী।
    এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) তৈরি করে, যা দুর্বল অ্যাসিড।
    চুনের পানিকে এটি ঘোলা করে দেয়।
    শিল্পে CO₂ ব্যবহার করে কোমল পানীয়ে গ্যাস মেশানো হয়। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে এই গ্যাস গ্রহণ করে এবং নিঃশ্বাসে আমরা তা ছাড়ি।
  87. ১৩২. কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান?ঢাকা সেনানিবাসের জুনিয়র শিক্ষক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. H₂O
    • খ. CO₂
    • গ. NH₃
    • ঘ. PH₃
    উত্তর: খ. CO₂
    শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড, যার সংকেত CO₂। পানি (H₂O), অ্যামোনিয়া (NH₃) ও ফসফিন (PH₃) আলাদা পদার্থ। সাধারণ বরফ জমাট বাঁধা পানি, আর শুষ্ক বরফ জমাট বাঁধা CO₂ গ্যাস। মজার ব্যাপার হলো, শুষ্ক বরফ গলে পানি না হয়ে সরাসরি গ্যাস হয়ে উড়ে যায়।
    মনে রাখুন: CO₂ বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই শুষ্ক বরফ থেকে উঠে আসা ধোঁয়া নিচের দিকে নামে।
    শুষ্ক বরফের প্রতিটি অণুতে একটি কার্বন ও দুটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। এই অণুগুলো কঠিন অবস্থায় দুর্বল আকর্ষণে একত্র থাকে বলে তাপ পেলেই সহজে গ্যাস হয়ে যায়।
  88. ১৩৩. কোন গ্যাস এসিডধর্মী?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. CO₂
    • খ. CO
    • গ. N₂O
    • ঘ. NO
    উত্তর: ক. CO₂
    CO₂ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) তৈরি করে। এই অ্যাসিড নীল লিটমাসকে লাল করে, তাই CO₂ হলো অম্লীয় অক্সাইড বা এসিডধর্মী গ্যাস। CO, N₂O ও NO প্রশমিত অক্সাইড, অর্থাৎ এরা এসিডও নয়, ক্ষারও নয়। এদের পানিতে গুলে অম্ল বা ক্ষার তৈরি হয় না।
    মনে রাখুন:
    অধাতুর অক্সাইড সাধারণত অম্লীয়, যেমন CO₂, SO₂।
    ধাতুর অক্সাইড সাধারণত ক্ষারীয়, যেমন Na₂O, CaO।
    CO₂ বেশি জমলে সমুদ্রের পানিও ধীরে ধীরে অম্লীয় হয়ে যায়, একে সমুদ্র অম্লায়ন বলে। বৃষ্টির পানিও স্বাভাবিকভাবে সামান্য অম্লীয়, কারণ তাতে CO₂ দ্রবীভূত থাকে।
  89. ১৩৪. Laparoscopy operation এ পেটে কোন গ্যাস ঢোকানো হয়?স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. Oxyzen
    • খ. Nitrus oxide
    • গ. Carbondioxide
    • ঘ. Halothame
    উত্তর: গ. Carbondioxide
    ল্যাপারোস্কপি (Laparoscopy) অস্ত্রোপচারে পেটের গহ্বরে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস ঢোকানো হয়। এতে পেট ফুলে ওঠে এবং অন্ত্র ও অঙ্গগুলো সরে গিয়ে সার্জনের কাজ করার ও দেখার জায়গা তৈরি হয়। CO₂ অদাহ্য এবং শরীরের রক্ত সহজেই এটি শুষে নেয় ও শ্বাসের সঙ্গে বের করে দেয়, তাই এটি নিরাপদ।
    মনে রাখুন: ল্যাপারোস্কপি একটি ছোট ছিদ্রের অস্ত্রোপচার, যাতে ক্যামেরা লাগানো একটি সরু নল ব্যবহৃত হয়।
    শরীরে ঢোকানোর আগে গ্যাসটি জীবাণুমুক্ত ও আর্দ্রতামুক্ত করে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের শেষে গ্যাসটি পেট থেকে বের করে দেওয়া হয়, ফলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
  90. ১৩৫. কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দহন ও অগ্নিনির্বাপণ
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. হাইড্রোজেন
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. হাইড্রোজেন
    হাইড্রোজেন একটি দাহ্য গ্যাস, অর্থাৎ এটি নিজে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে জ্বলে এবং পানি তৈরি করে। কিন্তু হাইড্রোজেন নিজে অন্য কিছুকে জ্বলতে সাহায্য করে না, তাই জ্বলন্ত কাঠি হাইড্রোজেনপূর্ণ পাত্রে ঢোকালে সেটি নিভে যায়, আর গ্যাসটি ফট করে শব্দ করে জ্বলে ওঠে। অক্সিজেন জ্বলতে সাহায্য করে কিন্তু নিজে জ্বলে না, নাইট্রোজেন দুটির কোনোটিই করে না।
    মনে রাখুন: সাধারণ গ্যাসের মধ্যে হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা।
    হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মিশ্রণ জ্বালালে বিস্ফোরণ ঘটে, তাই এই গ্যাস রাখা ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা নিতে হয়। হাইড্রোজেন জ্বালানি কোষে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
  91. ১৩৬. কোন গ্যাস নিজে জ্বলে না অন্যকে জ্বালাতে সাহায্য করে?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দহন ও অগ্নিনির্বাপণ
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. হাইড্রেজেন
    উত্তর: ক. অক্সিজেন
    অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, কিন্তু অন্য বস্তুকে জ্বলতে সাহায্য করে, একে সহায়ক বা দহনপোষক গ্যাস বলা হয়। মোমবাতি বা কাঠ বাতাসের চেয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেনে অনেক উজ্জ্বলভাবে জ্বলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন কিছুকেই জ্বলতে সাহায্য করে না, আর হাইড্রোজেন নিজে জ্বলে।
    মনে রাখুন:
    আগুন জ্বলতে জ্বালানি, অক্সিজেন ও তাপ তিনটিই লাগে।
    অক্সিজেনের পরিমাণ বাতাসের প্রায় ২১ শতাংশ।
    অক্সিজেন ছাড়া আগুন জ্বলে না বলেই হাসপাতালে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার সময় আগুন থেকে দূরে রাখার নিয়ম আছে। লোহা, সালফার বা কার্বনও বিশুদ্ধ অক্সিজেনে প্রচণ্ড উজ্জ্বলভাবে পোড়ে।
  92. ১৩৭. অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে-সিভিল সার্জনের কার্যালয় (কক্সবাজার) স্বাস্থ্য সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দহন ও অগ্নিনির্বাপণ
    • ক. তরল অ্যামোনিয়া
    • খ. অক্সিজেন তরল আকারে
    • গ. তরল নাইট্রোজেন
    • ঘ. তরল কার্বন ডাই অক্সাইড
    উত্তর: ঘ. তরল কার্বন ডাই অক্সাইড
    অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে সাধারণত তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড ভরা থাকে। মুখ খুললে এটি দ্রুত প্রসারিত হয়ে ঠান্ডা সাদা তুষার ও গ্যাসে পরিণত হয়, আর আগুনের ওপর চেপে বসে বায়ুর অক্সিজেনকে আগুন থেকে আলাদা করে দেয়। CO₂ নিজে জ্বলে না এবং বাতাসের চেয়ে ভারী, ফলে আগুন নিভে যায়।
    মনে রাখুন:
    বিদ্যুতের তার বা যন্ত্রে আগুন লাগলে CO₂ নির্বাপক নিরাপদ, কারণ এটি তড়িৎ অপরিবাহী।
    তেল বা পেট্রোলের আগুনেও এটি ব্যবহার করা চলে।
    তরল CO₂ সিলিন্ডারে ভরা থাকে উচ্চ চাপে। মুখ খুললে চাপ কমে গিয়ে এটি গ্যাস হয়ে যায় এবং আশপাশের তাপ শুষে নিয়ে জায়গাটি ঠান্ডা করে ফেলে, যা আগুন নেভাতে সাহায্য করে।
  93. ১৩৮. একটি জ্বলন্ত মোমবাতিকে কাচের গ্লাস দ্বারা ঢাকলে মোমবাতি নিভে যায়, কারণ-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (কর্ণফুলী), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দহন ও অগ্নিনির্বাপণ
    • ক. কাচ আলোকে জ্বলতে বাধা দেয়
    • খ. গ্লাসের ভিতর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়
    • গ. গ্লাসের ভিতর হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়
    • ঘ. পাত্রের ভিতর বায়ুশূন্য হয়ে যায়
    উত্তর: খ. গ্লাসের ভিতর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়
    জ্বলন্ত মোমবাতিকে কাচের গ্লাস দিয়ে ঢেকে দিলে গ্লাসের ভেতরের অক্সিজেন মোমের দহনে খরচ হয়ে যায়। বাইরে থেকে নতুন বাতাস ঢুকতে পারে না বলে অক্সিজেন ফুরিয়ে আসে, আর অক্সিজেন ছাড়া দহন চলে না। তাই মোমবাতি নিভে যায়। এখানে বাতাস একেবারে শূন্য হয় না, বরং অক্সিজেনের অভাব ঘটে।
    মনে রাখুন: দহন চলার জন্য জ্বালানি, তাপ ও অক্সিজেন, এই তিনটি শর্ত একসঙ্গে লাগে।
    কাচের গ্লাস বড় হলে মোমবাতি বেশিক্ষণ জ্বলে, কারণ তখন ভেতরে বেশি অক্সিজেন থাকে। এই সহজ পরীক্ষা থেকে বোঝা যায়, দহনে অক্সিজেনের পরিমাণই আগুনের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে।
  94. ১৩৯. ফস-চেক কি কাজে ব্যবহৃত হয়?DMLC'র জুনিয়র শিক্ষক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের ব্যবহার
    • ক. আগুন নেভানো
    • খ. আগুন জ্বালানো
    • গ. পানি উঠানো
    • ঘ. বালি উঠানো
    উত্তর: ক. আগুন নেভানো
    ফস-চেক (Phos-Chek) হলো আগুন নেভানো ও আগুনের বিস্তার ঠেকানোর একটি রাসায়নিক মিশ্রণ। এর প্রধান উপাদান অ্যামোনিয়াম ফসফেট জাতীয় লবণ। এটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে আগুনের ওপর বা আগুনের সামনের গাছপালার ওপর ছড়ানো হয়। তাপে এই লবণ ভেঙে গেলে একটি আবরণ তৈরি হয়, যা বস্তুকে বাতাসের অক্সিজেন থেকে আলাদা করে রাখে, তাই আগুন আর ছড়াতে পারে না। বনের দাবানল নেভাতে অনেক সময় বিমান থেকে এটি ফেলা হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ অগ্নিনির্বাপকে ব্যবহৃত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), যা বাতাসের চেয়ে ভারী এবং নিজে জ্বলে না।
    আগুন জ্বলতে তিনটি জিনিস লাগে: জ্বালানি, অক্সিজেন ও তাপ। এর যেকোনো একটি সরিয়ে দিলেই আগুন নিভে যায়।
  95. ১৪০. কোমল পানীয়তে কোনটি ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের ব্যবহার
    • ক. CO₂
    • খ. O₂
    • গ. SO₂
    • ঘ. N₂
    উত্তর: ক. CO₂
    কোমল পানীয় (Soft drink) তৈরির সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস উচ্চ চাপে পানির সঙ্গে মেশানো হয়। চাপ বেশি থাকলে গ্যাস বেশি পরিমাণে পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে। বোতলের মুখ খুললে ভেতরের চাপ কমে যায়, তখন দ্রবীভূত গ্যাস বুদবুদ হয়ে বেরিয়ে আসে। আমরা তখন ফেনা দেখি এবং ফস করে শব্দ শুনি। পানিতে মেশা CO₂-এর একটি অংশ কার্বনিক এসিডে (H₂CO₃) পরিণত হয়, তাই কোমল পানীয়ের স্বাদে হালকা টক ভাব থাকে।
    মনে রাখুন:
    CO₂ বাতাসের চেয়ে ভারী এবং আগুন নেভাতে সাহায্য করে।
    ঠান্ডা পানীয়তে গ্যাস বেশি দ্রবীভূত থাকে, গরম হলে গ্যাস দ্রুত বেরিয়ে যায়।
  96. ১৪১. কোন গ্যাসকে অত্যধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (শীতলক্ষ্যা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের ব্যবহার
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. কার্বন- ডাই-অক্সাইড
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. হাইড্রোজেন
    উত্তর: খ. কার্বন- ডাই-অক্সাইড
    সোডা ওয়াটার (Soda water) তৈরি করতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসকে উচ্চ চাপে পানিতে দ্রবীভূত করা হয়। কোনো গ্যাসের ওপর চাপ বাড়ালে তা বেশি পরিমাণে তরলে মিশতে পারে। তাই বেশি চাপে অনেকটা CO₂ পানিতে ধরে রাখা সম্ভব হয়। বোতল খুললে চাপ কমে যায় এবং গ্যাস বুদবুদ হয়ে বেরিয়ে আসে। পানিতে মেশা CO₂-এর একটি অংশ কার্বনিক এসিডে (H₂CO₃) পরিণত হয়, যা খুব দুর্বল এসিড।
    মনে রাখুন:
    গ্যাসের দ্রবণীয়তা চাপ বাড়লে বাড়ে, আর তাপমাত্রা বাড়লে কমে।
    কঠিন CO₂-কে শুষ্ক বরফ (Dry ice) বলে, কারণ এটি গলে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাস হয়ে যায়।
  97. ১৪২. পানিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের দ্রবণকে বলা হয়-দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের ব্যবহার
    • ক. সোডা ওয়াটার
    • খ. লাইম ওয়াটার
    • গ. মিল্ক অব লাইম
    • ঘ. হেভি ওয়াটার
    উত্তর: ক. সোডা ওয়াটার
    পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) উচ্চ চাপে দ্রবীভূত করলে যে দ্রবণ পাওয়া যায়, তাকে সোডা ওয়াটার (Soda water) বলে। এই দ্রবণে সামান্য কার্বনিক এসিড (H₂CO₃) তৈরি হয়, তাই এতে হালকা টক স্বাদ থাকে। বাকি নামগুলো আলাদা জিনিস। চুনের পানিকে লাইম ওয়াটার (Lime water) বলে, এটি CO₂-এর সংস্পর্শে ঘোলা হয়ে যায়। চুনের ঘন দ্রবণকে মিল্ক অব লাইম বলে। আর সাধারণ হাইড্রোজেনের জায়গায় ভারী হাইড্রোজেন (ডিউটেরিয়াম) থাকা পানি হলো হেভি ওয়াটার (D₂O)।
    মনে রাখুন: লাইম ওয়াটারে CO₂ চালালে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হয় বলে তা ঘোলা হয়, এটি CO₂ শনাক্ত করার পরীক্ষা।
  98. ১৪৩. গ্যাসীয় জ্বালানিতে দাহ্য কোনটি?বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নার্স, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের যৌগ
    • ক. N₂
    • খ. O₂
    • গ. CO
    • ঘ. CO₂
    উত্তর: গ. CO
    কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি দাহ্য গ্যাস। এটি বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে জ্বলে নীল শিখা দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) তৈরি করে। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ পাওয়া যায়, তাই গ্যাসীয় জ্বালানির মিশ্রণে CO হলো দাহ্য উপাদান। নাইট্রোজেন (N₂) ও CO₂ নিজে জ্বলে না। অক্সিজেন (O₂) নিজেও জ্বলে না, কিন্তু অন্য বস্তুকে জ্বলতে সাহায্য করে। গ্যাসীয় জ্বালানি যেমন কোল গ্যাস ও ওয়াটার গ্যাসে হাইড্রোজেন ও মিথেনও দাহ্য উপাদান হিসেবে থাকে। কিন্তু এই প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে একমাত্র CO দাহ্য।
    মনে রাখুন:
    CO অত্যন্ত বিষাক্ত, কারণ এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন বহনে বাধা দেয়।
    ওয়াটার গ্যাস ও প্রডিউসার গ্যাসেও CO থাকে।
  99. ১৪৪. সমআয়তন হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোক্সাইডের মিশ্রণকে কি বলা হয়?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের যৌগ
    • ক. থারমিট
    • খ. ওয়াটার গ্যাস
    • গ. নেসলার দ্রবণ
    • ঘ. রাজঅম্ল
    উত্তর: খ. ওয়াটার গ্যাস
    সমান আয়তনের হাইড্রোজেন (H₂) ও কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাসের মিশ্রণকে ওয়াটার গ্যাস (Water gas) বলে। লাল তপ্ত কোকের ওপর দিয়ে জলীয় বাষ্প চালনা করলে এই মিশ্রণ পাওয়া যায়: C + H₂O → CO + H₂। দুটি গ্যাসই জ্বলতে পারে, তাই ওয়াটার গ্যাস জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। এ ছাড়া এ থেকে হাইড্রোজেন ও মিথানল তৈরির শিল্পও গড়ে উঠেছে।
    মনে রাখুন:
    ওয়াটার গ্যাসের সঙ্গে নাইট্রোজেন মেশানো থাকলে তাকে প্রডিউসার গ্যাস বলে।
    থারমিট হলো অ্যালুমিনিয়াম গুঁড়া ও আয়রন অক্সাইডের মিশ্রণ।
    রাজঅম্ল (অ্যাকোয়া রেজিয়া) হলো নাইট্রিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মিশ্রণ।
  100. ১৪৫. ওয়াটার গ্যাসের উপাদানগুলো কি কি?মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের যৌগ
    • ক. হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোক্সাইড
    • খ. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
    • গ. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
    • ঘ. হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের
    উত্তর: ক. হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোক্সাইড
    ওয়াটার গ্যাস (Water gas) হলো সমান আয়তনের হাইড্রোজেন (H₂) ও কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাসের মিশ্রণ। লাল তপ্ত কোকের ওপর দিয়ে জলীয় বাষ্প গেলে কার্বন বাষ্প থেকে অক্সিজেন টেনে নেয় এবং এই দুটি গ্যাস তৈরি হয়: C + H₂O → CO + H₂। দুটি উপাদানই দাহ্য, তাই এই মিশ্রণ গ্যাসীয় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বিক্রিয়াটি তাপ শোষণ করে, তাই কোককে বারবার গরম করে নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    ওয়াটার গ্যাসের সঙ্গে নাইট্রোজেন মিশে থাকলে তাকে প্রডিউসার গ্যাস বলে।
    এই মিশ্রণ থেকে মিথানল ও কৃত্রিম পেট্রোল তৈরি করা যায়।
  101. ১৪৬. অক্সিজেন গ্যাসের রং কি?স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্সিজেন
    • ক. সাদা
    • খ. হলুদ
    • গ. ধুসর
    • ঘ. বর্ণহীন
    উত্তর: ঘ. বর্ণহীন
    অক্সিজেন (Oxygen, O₂) একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন গ্যাস। বাতাসের প্রায় ২১ ভাগই অক্সিজেন, আর আমরা সারাক্ষণ এই গ্যাস নিয়ে শ্বাস নিই, অথচ চোখে এর কোনো রং ধরা পড়ে না। এই গ্যাস পানিতে অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়, আর সেই দ্রবীভূত অক্সিজেন দিয়েই মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী শ্বাস নেয়। অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, কিন্তু দহনে সাহায্য করে। অক্সিজেন তরল করতে প্রায় −১৮৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা করতে হয়। সেই অবস্থায় এটি হালকা নীল রঙের তরলে পরিণত হয় এবং চুম্বকের প্রতি সামান্য আকৃষ্ট হয়।
    মনে রাখুন:
    তরল অক্সিজেনের রং হালকা নীল।
    অক্সিজেনের রূপভেদ ওজোন (O₃) হালকা নীল রঙের গ্যাস, যার গন্ধ আছে।
  102. ১৪৭. 'অম্লজান' শব্দটি কোন শব্দের পরিভাষা?জনতা ব্যাংক সিনিয়র অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্সিজেন
    • ক. নাইট্রোজেন
    • খ. সালফিউরিক এসিড
    • গ. হাইড্রোজেন
    • ঘ. অক্সিজেন
    উত্তর: ঘ. অক্সিজেন
    অম্লজান হলো অক্সিজেনের (Oxygen) বাংলা নাম। আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন যে সব এসিডেই অক্সিজেন থাকে এবং অক্সিজেনই এসিড তৈরি করে। ল্যাভয়সিয়ে এই গ্যাসের নাম দেন অক্সিজেন, যার অর্থ অম্ল উৎপাদনকারী। বাংলায় তাই নাম হয় অম্লজান, মানে যা অম্ল বা এসিড জন্ম দেয়। পরে জানা গেছে, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়, যেমন হাইড্রোক্লোরিক এসিডে (HCl) অক্সিজেন নেই। তবু নামটি রয়ে গেছে।
    মনে রাখুন:
    নাইট্রোজেনের বাংলা নাম যবক্ষারজান।
    হাইড্রোজেনের বাংলা নাম উদজান।
    কার্বনের বাংলা নাম অঙ্গার। এই নামগুলো ধাতব ও অধাতব মৌলের বাংলা পরিভাষা হিসেবে পরীক্ষায় আসে।
  103. ১৪৮. অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্সিজেন
    • ক. বার্জেস
    • খ. ভ্যানহেলমন্ট
    • গ. জোসেফ প্রিস্টলি
    • ঘ. ক্যাভেন্ডিস
    উত্তর: গ. জোসেফ প্রিস্টলি
    ১৭৭৪ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী জোসেফ প্রিস্টলি (Joseph Priestley) পারদের অক্সাইড উত্তপ্ত করে অক্সিজেন গ্যাস পান। প্রায় একই সময়ে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল শিলও এই গ্যাস আলাদাভাবে আবিষ্কার করেছিলেন। পরে ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে (Lavoisier) এর নাম দেন অক্সিজেন এবং দেখান যে দহনের সময় বস্তু এই গ্যাসের সঙ্গেই বিক্রিয়া করে। ল্যাভয়সিয়ের কাজের ফলেই দহন সম্পর্কে আগের ফ্লজিস্টন তত্ত্ব বাতিল হয়। প্রিস্টলি যে পদ্ধতিতে গ্যাসটি পান, সেটি হলো পারদের লাল অক্সাইড উত্তপ্ত করা: 2HgO → 2Hg + O₂। তিনি এই গ্যাসের নাম দিয়েছিলেন 'ডিফ্লজিস্টিকেটেড এয়ার'।
    মনে রাখুন:
    ক্যাভেন্ডিস (Cavendish) হাইড্রোজেন আবিষ্কার করেন।
    ভ্যান হেলমন্ট কার্বন ডাই-অক্সাইডকে প্রথম আলাদা গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত করেন।
  104. ১৪৯. জীবন রক্ষাকারী ঔষধ কোনটি?স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্সিজেন
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. হাইড্রোজেন
    • গ. নাইট্রাস
    • ঘ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    উত্তর: ক. অক্সিজেন
    শ্বাস নিতে না পারলে বা রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে রোগীকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন (Oxygen) দেওয়া হয়। এতে শরীরের কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় এবং রোগীর জীবন রক্ষা পায়। তাই অক্সিজেনকে জীবন রক্ষাকারী গ্যাস বলা হয়। হাসপাতালে সিলিন্ডার, মাস্ক ও ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। নিউমোনিয়া, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যায় এর প্রয়োজন হয়। শরীরের প্রতিটি কোষ শক্তি তৈরির জন্য অক্সিজেন ব্যবহার করে। তাই কয়েক মিনিট অক্সিজেন না পেলেও মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে।
    মনে রাখুন:
    নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) মৃদু চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, জীবন রক্ষাকারী হিসেবে নয়।
    পর্বতারোহী ও ডুবুরিরাও সিলিন্ডারে অক্সিজেন বহন করেন।
  105. ১৫০. কোনটি Strong Acid?বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড ও ক্ষার
    • ক. HNO₃
    • খ. H₃PO₄
    • গ. CH₃-COOH
    • ঘ. HCOOH
    উত্তর: ক. HNO₃
    নাইট্রিক এসিড (HNO₃) একটি তীব্র বা শক্তিশালী এসিড (Strong acid)। পানিতে এটি প্রায় সম্পূর্ণ আয়নিত হয়ে H⁺ আয়ন দেয়, তাই এর এসিডধর্ম খুব প্রবল। বাকিগুলো তুলনায় দুর্বল। ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) মাঝারি দুর্বল এসিড। ইথানয়িক এসিড (CH₃COOH) ও মিথানয়িক এসিড (HCOOH) জৈব এসিড, এরা পানিতে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়। জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের মধ্যে মিথানয়িক এসিড সবচেয়ে শক্তিশালী।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ও নাইট্রিক এসিড (HNO₃) এই তিনটি পরিচিত তীব্র খনিজ এসিড।
    এসিডের শক্তি নির্ভর করে আয়নিত হওয়ার পরিমাণের ওপর, ঘনত্বের ওপর নয়।
  106. ১৫১. দিয়াশলাই বক্সের দু ধারে কাগজের ওপর যে বারুদ থাকে তা আসলে -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বাতিল পরীক্ষা), ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দিয়াশলাই
    • ক. গ্রাফাইট
    • খ. কাঁচচূর্ণ মিশ্রিত ফসফরাস
    • গ. গন্ধক
    • ঘ. হীরক
    উত্তর: খ. কাঁচচূর্ণ মিশ্রিত ফসফরাস
    নিরাপদ দিয়াশলাইয়ের বাক্সের দুই পাশে কাগজের ওপর যে লালচে খসখসে প্রলেপ থাকে, তা লোহিত ফসফরাস (Red phosphorus) ও কাচের গুঁড়ার মিশ্রণ। কাঠির মাথা এই পৃষ্ঠে ঘষলে ঘর্ষণে তাপ তৈরি হয়। তখন লোহিত ফসফরাসের কিছুটা অংশ জ্বলে ওঠে এবং কাঠির মাথার রাসায়নিক পদার্থকে জ্বালিয়ে দেয়। লোহিত ফসফরাস বিষাক্ত নয় এবং সহজে জ্বলে ওঠে না, তাই এই দিয়াশলাই নিরাপদ।
    মনে রাখুন:
    শ্বেত ফসফরাস বিষাক্ত এবং বাতাসে আপনা-আপনি জ্বলে ওঠে, তাই এটি পানির নিচে রাখা হয়।
    শ্বেত ফসফরাসকে বদ্ধ পাত্রে গরম করলে লোহিত ফসফরাস পাওয়া যায়।
  107. ১৫২. গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান হলো-উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সক্রিয় কাঠকয়লা
    • ক. কার্বন
    • খ. কাঠ কয়লা
    • গ. ফসফরাস পেন্টাক্সাইড
    • ঘ. পিট কয়লা
    উত্তর: খ. কাঠ কয়লা
    গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান সক্রিয় কাঠকয়লা (Activated charcoal)। এই কয়লা বিশেষভাবে তৈরি, তাই এর কণার গায়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে এবং ছোট এক টুকরোরও পৃষ্ঠতল অনেক বড় হয়। বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া এই পৃষ্ঠে আটকে যায়, একে শোষণ (Adsorption) বলে। ফলে মাস্কের ভেতর দিয়ে বিশুদ্ধ বাতাস আসে। একই কারণে পানি পরিশোধনেও কাঠকয়লা ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    কাঠকয়লা রং শোষণ করে বলে চিনি শিল্পে চিনির বর্ণ দূর করতেও ব্যবহৃত হয়।
    বিষক্রিয়ায় পেটের ভেতরের বিষ শোষণ করাতেও সক্রিয় কাঠকয়লা খাওয়ানো হয়।
  108. ১৫৩. ওলিয়াম কাকে বলে? -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালফিউরিক এসিড
    • ক. গাঢ় সালফিউরিক এসিডকে
    • খ. ধূমায়মান সালফিউরিক এসিডকে
    • গ. মধ্যম গাঢ় সালফিউরিক এসিডকে
    • ঘ. লঘু সালফিউরিক এসিডকে
    উত্তর: খ. ধূমায়মান সালফিউরিক এসিডকে
    গাঢ় সালফিউরিক এসিডে সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO₃) দ্রবীভূত করলে যে ধোঁয়া ওঠা তরল পাওয়া যায়, তাকে ওলিয়াম (Oleum) বা ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড বলে। এর সংকেত H₂S₂O₇। অতিরিক্ত SO₃ এর ভেতর থেকে বাতাসে বেরিয়ে আসে এবং আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে সাদা ধোঁয়ার মতো দেখায়। তাই এই নাম। সালফিউরিক এসিড তৈরির স্পর্শ পদ্ধতিতে SO₃ সরাসরি পানিতে না মিশিয়ে আগে গাঢ় সালফিউরিক এসিডে মেশানো হয়, কারণ সরাসরি পানিতে মেশালে প্রচণ্ড তাপে এসিডের কুয়াশা তৈরি হয়। পরে ওলিয়ামে পানি মিশিয়ে প্রয়োজনীয় ঘনত্বের এসিড পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: সালফিউরিক এসিডকে 'রাসায়নিক দ্রব্যের রাজা' বলা হয়।
  109. ১৫৪. পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী-বন অধিদপ্তরের বন প্রহরী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সালফারের যৌগ
    • ক. কার্বন মনোক্সাইড
    • খ. হাইড্রোজেন সালফাইড
    • গ. ক্যালসিয়াম সালফেট
    • ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
    উত্তর: খ. হাইড্রোজেন সালফাইড
    পচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী গ্যাসটি হাইড্রোজেন সালফাইড (Hydrogen sulfide, H₂S)। ডিমের প্রোটিনে সালফার থাকে। ডিম পচলে অণুজীব এই প্রোটিন ভেঙে ফেলে এবং তখন H₂S গ্যাস বের হয়। গ্যাসটি বিষাক্ত, তবে খুব অল্প পরিমাণেই এর গন্ধ নাকে ধরা পড়ে। এই গ্যাস রুপার জিনিসকে কালো করে দেয়, কারণ এর সঙ্গে বিক্রিয়ায় কালো সিলভার সালফাইড তৈরি হয়। রাসায়নিক পরীক্ষাগারে সালফাইডের ওপর লঘু এসিড ঢাললে এই গ্যাস তৈরি হয়। যেমন, আয়রন সালফাইডের সঙ্গে লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বিক্রিয়ায় H₂S পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    জলাভূমি, পায়খানার গ্যাস ও আগ্নেয়গিরির নির্গমনেও H₂S থাকে।
    কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন ও গন্ধহীন, তাই এর উপস্থিতি টের পাওয়া কঠিন।
  110. ১৫৫. চিপসের প্যাকেটে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেন
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. জলীয় বাষ্প
    উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
    চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন (N₂) গ্যাস ভরা থাকে। নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির গ্যাস, তাই এটি চিপসের তেলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। প্যাকেটে অক্সিজেন থাকলে চিপসের তেল জারিত হয়ে টক বা তেতো স্বাদ তৈরি করত এবং চিপস নরম হয়ে যেত। নাইট্রোজেন ভরা থাকলে সেই সম্ভাবনা থাকে না। এ ছাড়া গ্যাসে ফোলা প্যাকেট চিপসকে চাপে ভেঙে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। প্যাকেটের এই গ্যাসের কারণেই চিপস মুখে নিলে সেটি মচমচে থাকে। অক্সিজেন ও আর্দ্রতা না থাকায় চিপসের মচমচে ভাব এবং স্বাদ বেশিদিন বজায় থাকে।
    মনে রাখুন:
    বাতাসের প্রায় ৭৮ ভাগই নাইট্রোজেন।
    তরল নাইট্রোজেন খুব নিম্ন তাপমাত্রা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
  111. ১৫৬. কোন এসিডের মিশ্রণ স্বর্ণ গলিয়ে দেয়?BPSC'র সহকারী পরিচালক, ২০২৫ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ), ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড ও ক্ষার
    • ক. HNO₃, HCl
    • খ. H₂CO₃, CH₃COOH
    • গ. H₂SO₄, HNO₃
    • ঘ. H₂SO₄, HCl
    উত্তর: ক. HNO₃, HCl
    গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO₃) ও গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে (HCl) ১:৩ অনুপাতে মেশালে রাজঅম্ল (অ্যাকোয়া রেজিয়া, Aqua regia) পাওয়া যায়। সাধারণ কোনো একক এসিডে স্বর্ণ গলে না, কিন্তু এই মিশ্রণ গলিয়ে দেয়। নাইট্রিক এসিড স্বর্ণকে জারিত করে, আর HCl থেকে পাওয়া ক্লোরাইড আয়ন সেই স্বর্ণ আয়নকে দ্রবণে ধরে রাখে। ফলে স্বর্ণ ধীরে ধীরে দ্রবীভূত হয়। সোনা খুব নিষ্ক্রিয় ধাতু বলে বাতাস, পানি বা সাধারণ এসিডে ক্ষয় হয় না। এ কারণেই হাজার বছরের পুরোনো স্বর্ণের গয়না আজও চকচক করে।
    মনে রাখুন:
    স্বর্ণের মতো 'রাজা' ধাতুকে গলাতে পারে বলেই এর নাম রাজঅম্ল।
    প্লাটিনামও এই মিশ্রণে গলে।
  112. ১৫৭. লাফিং গ্যাস (Laughing gas) কি?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের জুনিয়র অডিটর, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেনের যৌগ
    • ক. NO
    • খ. N₂O
    • গ. N₂O₄
    • ঘ. N₂O₅
    উত্তর: খ. N₂O
    লাফিং গ্যাস (Laughing gas) হলো নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide), যার সংকেত N₂O। অল্প পরিমাণে শুঁকলে মানুষ হেসে ওঠে বলে এই নাম। এটি বর্ণহীন, মৃদু মিষ্টি গন্ধের গ্যাস। দাঁতের চিকিৎসায় ও ছোট অস্ত্রোপচারে ব্যথা কমাতে এটি মৃদু চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উত্তপ্ত করলে এই গ্যাস পাওয়া যায়। গ্যাসটি দাহ্য না হলেও দহনে সাহায্য করে, কারণ উত্তপ্ত অবস্থায় এটি ভেঙে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। নাইট্রোজেনের অক্সাইডের মধ্যে একে সবচেয়ে কম বিষাক্ত বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    NO হলো নাইট্রিক অক্সাইড।
    N₂O₄ হলো ডাইনাইট্রোজেন টেট্রাঅক্সাইড।
    N₂O₅ হলো নাইট্রোজেন পেন্টাঅক্সাইড।
  113. ১৫৮. মৃদু চেতনানাশকরূপে ব্যবহৃত গ্যাস কোনটি?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেনের যৌগ
    • ক. N₂O
    • খ. NO₂
    • গ. NO
    • ঘ. N₂O₄
    উত্তর: ক. N₂O
    নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) মৃদু চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি শ্বাসের সঙ্গে নিলে স্নায়ুকে অবশ করে ব্যথা কমায় এবং রোগী কিছুটা হালকা বোধ করে। অল্প পরিমাণে নিলে হাসি পায় বলে একে লাফিং গ্যাসও বলা হয়। তাই দাঁতের চিকিৎসা ও ছোট অস্ত্রোপচারে এর ব্যবহার আছে। অক্সিজেনের সঙ্গে মিশিয়ে একে নিরাপদভাবে দেওয়া হয়। এই গ্যাস রোগীকে সম্পূর্ণ অচেতন করে না, শুধু ব্যথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। এ জন্য একে মৃদু চেতনানাশক বলা হয়, আর বড় অস্ত্রোপচারে অন্য শক্তিশালী চেতনানাশক লাগে।
    মনে রাখুন:
    NO₂ লালচে-বাদামী ও বিষাক্ত গ্যাস, এটি চেতনানাশক নয়।
    নাইট্রাস অক্সাইড কিছু ক্ষেত্রে ক্রিম হুইপ করার পাত্রেও ব্যবহৃত হয়।
  114. ১৫৯. কোন গ্যাসের রঙ লালচে বাদামী?শ্রম পরিদপ্তরের জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেনের যৌগ
    • ক. ক্লোরিন
    • খ. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
    • গ. সালফার ডাই অক্সাইড
    • ঘ. ফ্লোরিন
    উত্তর: খ. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
    নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂) গ্যাসের রং লালচে বাদামী। এটি তীব্র গন্ধযুক্ত বিষাক্ত গ্যাস। গাড়ির ধোঁয়া ও বজ্রপাতেও এই গ্যাস তৈরি হয় এবং বাতাসের পানির সঙ্গে মিশে এসিড তৈরি করে, যা অম্লবৃষ্টির (Acid rain) অন্যতম কারণ। এই গ্যাস শ্বাসের সঙ্গে নিলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়। নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ঠান্ডা করলে ডাইমারে (N₂O₄) পরিণত হয় এবং তখন রং ফিকে হয়ে যায়। কারখানায় নাইট্রিক এসিড তৈরির সময় এই গ্যাস মধ্যবর্তী পর্যায়ে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    ক্লোরিন হলো হলদে-সবুজ গ্যাস।
    ফ্লোরিন হলো ফ্যাকাশে হলুদ গ্যাস।
    সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) বর্ণহীন, কিন্তু এর ঝাঁঝালো গন্ধ আছে।
  115. ১৬০. কোন মৌলটি হ্যালোজেনের অন্তর্ভুক্ত?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হ্যালোজেন
    • ক. সালফার
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. অক্সিজেন
    • ঘ. আয়োডিন
    উত্তর: ঘ. আয়োডিন
    পর্যায় সারণির ১৭ নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। এরা হলো ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন ও অ্যাস্টাটিন। তাই আয়োডিন হ্যালোজেনের অন্তর্ভুক্ত। সালফার ও অক্সিজেন ১৬ নম্বর গ্রুপের মৌল, আর নাইট্রোজেন ১৫ নম্বর গ্রুপের। হ্যালোজেনের বাইরের শক্তিস্তরে ৭টি ইলেকট্রন থাকে, তাই এরা আরেকটি ইলেকট্রন নিয়ে স্থিতিশীল হতে চায় এবং খুব বিক্রিয়াশীল। পর্যায় সারণিতে বাম থেকে ডান দিকে গেলে অধাতুর ধর্ম বাড়ে, আর হ্যালোজেনরা সবচেয়ে সক্রিয় অধাতুদের মধ্যে পড়ে। এরা ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করে, যেমন সোডিয়ামের সঙ্গে ক্লোরিন মিলে NaCl।
    মনে রাখুন:
    'হ্যালোজেন' শব্দের অর্থ লবণ উৎপাদক।
    সাধারণ তাপমাত্রায় ফ্লোরিন ও ক্লোরিন গ্যাস, ব্রোমিন তরল এবং আয়োডিন কঠিন।
  116. ১৬১. আয়োডিন পাওয়া যায় -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বরিশাল বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হ্যালোজেন
    • ক. লাইকেনে
    • খ. মিউকরে
    • গ. এগারিকাসে
    • ঘ. শৈবালে
    উত্তর: ঘ. শৈবালে
    আয়োডিন (Iodine) সমুদ্রের পানিতে অল্প পরিমাণে থাকে। সামুদ্রিক শৈবাল (Seaweed) এই আয়োডিন শোষণ করে নিজের দেহে জমিয়ে রাখে, ফলে শৈবালে আয়োডিনের পরিমাণ অনেক বেশি পাওয়া যায়। কেল্প জাতীয় শৈবাল পুড়িয়ে তার ছাই থেকে আগে আয়োডিন সংগ্রহ করা হতো। আমাদের গলার থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন দিয়ে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে। পৃথিবীর অনেক অঞ্চলের মাটি ও পানিতে আয়োডিনের ঘাটতি থাকে, সেখানকার খাবারেও আয়োডিন কম থাকে। শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছ তাই আয়োডিনের ভালো উৎস।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড (গয়টার) রোগ হয়, তাই লবণে আয়োডিন মেশানো হয়।
    আয়োডিনের দ্রবণ জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  117. ১৬২. Etches Glass-ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হ্যালোজেন
    • ক. HCl
    • খ. HF
    • গ. HI
    • ঘ. HBr
    উত্তর: খ. HF
    হাইড্রোফ্লোরিক এসিড (HF) কাচকে ক্ষয় করে বা খোদাই করে (Etch)। কাচের মূল উপাদান সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂)। এর সঙ্গে HF বিক্রিয়া করে সিলিকন টেট্রাফ্লোরাইড (SiF₄) তৈরি করে: SiO₂ + 4HF → SiF₄ + 2H₂O। এ কারণে HF কাচের বোতলে রাখা যায় না, রাখা হয় প্লাস্টিক বা মোমের পাত্রে। কাচের ওপর নকশা আঁকা বা কাচ মসৃণ করতে এই এসিড কাজে লাগে।
    মনে রাখুন: HF হ্যালোজেনের হাইড্রোসিডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল এসিড, কিন্তু এটি ত্বক ও হাড়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
  118. ১৬৩. কোন হ্যালোজেন এসিডটি শক্তিশালী?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হ্যালোজেন
    • ক. HCl
    • খ. HF
    • গ. HI
    • ঘ. HBr
    উত্তর: গ. HI
    হ্যালোজেনের হাইড্রোসিডগুলোর মধ্যে HI সবচেয়ে শক্তিশালী। আয়োডিনের পরমাণু বড় বলে H–I বন্ধনটি দীর্ঘ ও দুর্বল, তাই পানিতে সহজে ভেঙে H⁺ আয়ন ছেড়ে দেয়। বিপরীতে ফ্লোরিনের পরমাণু ছোট, তাই H–F বন্ধন খুব শক্ত। সে কারণে HF সবচেয়ে কম আয়নিত হয় এবং দুর্বলতম। এসিডের শক্তি এভাবে গ্রুপের নিচের দিকে বাড়তে থাকে। এসিডের শক্তি বলতে বোঝায়, পানিতে সে কত সহজে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ছেড়ে দেয়। সুতরাং বন্ধন যত দুর্বল, এসিড তত শক্তিশালী হয়।
    মনে রাখুন:
    এসিডের শক্তির ক্রম HI > HBr > HCl > HF।
    HCl, HBr ও HI তীব্র এসিড, আর HF দুর্বল এসিড।
  119. ১৬৪. হ্যালোজেনের হাইড্রোসিডগুলোর শক্তি ক্রম -সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হ্যালোজেন
    • ক. HCl > HF > HBr > HI
    • খ. HF > HCl > HBr > HI
    • গ. HBr > HF > HCl> HI
    • ঘ. HI > HBr > HCl > HF
    উত্তর: ঘ. HI > HBr > HCl > HF
    হ্যালোজেনের হাইড্রোসিডের শক্তির ক্রম হলো HI > HBr > HCl > HF। গ্রুপের নিচের দিকে গেলে হ্যালোজেনের পরমাণু বড় হয়, ফলে H–X বন্ধন দীর্ঘ ও দুর্বল হয়। দুর্বল বন্ধন সহজে ভাঙে বলে পানিতে H⁺ আয়ন বেশি ছাড়ে। এ জন্য HI সবচেয়ে শক্তিশালী। আবার H–F বন্ধন সবচেয়ে শক্ত হওয়ায় HF সবচেয়ে দুর্বল। এই ক্রম মনে রাখার সহজ উপায় হলো, পরমাণু যত বড়, হাইড্রোসিড তত শক্তিশালী। ফ্লোরিন সবচেয়ে ছোট হ্যালোজেন, আর আয়োডিন সবচেয়ে বড় (অ্যাস্টাটিন বাদে)।
    মনে রাখুন:
    বন্ধন-শক্তির ক্রম এর বিপরীত, HF > HCl > HBr > HI।
    হ্যালোজেনের সক্রিয়তা আবার উল্টো দিকে কমে: F₂ > Cl₂ > Br₂ > I₂।
  120. ১৬৫. নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. ৬
    • খ. ৭
    • গ. ৮
    • ঘ. ১০
    উত্তর: ক. ৬
    পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble gas) বলে। প্রকৃতিতে এরকম গ্যাস ৬টি: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। এদের বাইরের শক্তিস্তর পূর্ণ থাকে, তাই এরা ইলেকট্রন দেয় না, নেয়ও না, ফলে সহজে বিক্রিয়া করে না। এরা এক-পরমাণুক গ্যাস। বাতাসে এই গ্যাসগুলোর মধ্যে আর্গন সবচেয়ে বেশি থাকে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোকে বিরল গ্যাসও বলা হয়, কারণ বাতাসে এদের পরিমাণ খুব কম।
    মনে রাখুন:
    হিলিয়ামে ২টি ইলেকট্রন থাকে, বাকিগুলোর বাইরের স্তরে ৮টি করে।
    কৃত্রিমভাবে তৈরি ওগানেসন (Og) এ গ্রুপের সপ্তম মৌল।
  121. ১৬৬. কোন মৌলটি সবচেয়ে বেশি নিষ্ক্রিয় (Inert)?ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. H
    • খ. He
    • গ. N
    • ঘ. O
    উত্তর: খ. He
    হিলিয়াম (Helium, He) সবচেয়ে বেশি নিষ্ক্রিয়। এর একমাত্র শক্তিস্তরটি ২টি ইলেকট্রনে পূর্ণ। পরমাণুটি এত ছোট যে নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনকে খুব শক্ত করে ধরে রাখে, তাই ইলেকট্রন দেওয়া বা নেওয়া প্রায় অসম্ভব। হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন তুলনায় অনেক বিক্রিয়াশীল। সব নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে হিলিয়ামের আয়নীকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ এর ইলেকট্রন সরাতে সবচেয়ে বেশি শক্তি লাগে। এই কারণেই হিলিয়ামের কোনো স্থিতিশীল যৌগ পাওয়া যায় না।
    মনে রাখুন:
    হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সব মৌলের মধ্যে সবচেয়ে কম।
    হিলিয়াম হাইড্রোজেনের পর দ্বিতীয় হালকা মৌল এবং সূর্যে প্রচুর পাওয়া যায়।
  122. ১৬৭. 'ইনার্ট গ্যাস' কোনটি?চবি (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. মিথেন
    • খ. ওজোন
    • গ. হিলিয়াম
    • ঘ. অক্সিজেন
    উত্তর: গ. হিলিয়াম
    হিলিয়াম (Helium, He) একটি নিষ্ক্রিয় বা ইনার্ট গ্যাস (Inert gas)। এর বাইরের শক্তিস্তর পূর্ণ বলে এটি অন্য মৌলের সঙ্গে সাধারণত বিক্রিয়া করে না। এ জন্য এটি জ্বলেও না, দহনে সাহায্যও করে না। অন্য বিকল্পগুলো তা নয়: মিথেন (CH₄) সহজে জ্বলে ওঠে, আর ওজোন ও অক্সিজেন বিক্রিয়াশীল গ্যাস। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে তাদের ইনার্ট (Inert) গ্যাসও বলা হয়। তাই যেসব জায়গায় অক্সিজেন বা বাতাস থেকে কোনো বস্তুকে দূরে রাখা দরকার, সেখানে এদের ব্যবহার হয়।
    মনে রাখুন:
    নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো ১৮ নম্বর গ্রুপে থাকে এবং এক-পরমাণুক।
    বেলুন ও ডুবুরির শ্বাসযন্ত্রে হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
  123. ১৬৮. কোনটি নোবেল গ্যাস নহে?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. ওজোন
    • খ. হিলিয়াম
    • গ. নিয়ন
    • ঘ. আর্গন
    উত্তর: ক. ওজোন
    ওজোন (O₃) নোবেল গ্যাস নয়, এটি অক্সিজেনের একটি রূপভেদ। এর অণুতে ৩টি অক্সিজেন পরমাণু থাকে এবং এটি বেশ বিক্রিয়াশীল ও শক্তিশালী জারক। নোবেল গ্যাস (Noble gas) হলো ১৮ নম্বর গ্রুপের মৌল, যেমন হিলিয়াম, নিয়ন ও আর্গন। এদের বাইরের শক্তিস্তর পূর্ণ, তাই এরা প্রায় বিক্রিয়াই করে না। নোবেল বা মহৎ গ্যাস নামটি এসেছে এদের প্রায় বিক্রিয়াহীন আচরণ থেকে, ঠিক যেমন স্বর্ণ ও প্লাটিনামের মতো মহৎ ধাতু সহজে বিক্রিয়া করে না। ১৮ নম্বর গ্রুপের বাইরের কোনো মৌলকে তাই নোবেল গ্যাস বলা যায় না।
    মনে রাখুন:
    ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে আমাদের রক্ষা করে।
    পানি ও বাতাস জীবাণুমুক্ত করতেও ওজোন ব্যবহৃত হয়।
  124. ১৬৯. নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নিয়ন
    • গ. হিলিয়াম
    • ঘ. আর্গন
    উত্তর: ক. অক্সিজেন
    অক্সিজেন নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়, এটি বেশ বিক্রিয়াশীল এবং দহনে সাহায্য করে। অন্যদিকে নিয়ন, হিলিয়াম ও আর্গন তিনটিই নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert gas), কারণ এদের বাইরের শক্তিস্তর পূর্ণ থাকে, তাই এরা সাধারণত অন্য মৌলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। অক্সিজেনের বাইরের স্তরে ৬টি ইলেকট্রন আছে, তাই এটি আরও ২টি ইলেকট্রন নিয়ে স্থিতিশীল হতে চায়। যে মৌল সহজে অন্য মৌলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে, তাকে নিষ্ক্রিয় বলা যায় না। অক্সিজেন প্রায় সব মৌলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সাইড গঠন করে।
    মনে রাখুন:
    অক্সিজেন ১৬ নম্বর গ্রুপের মৌল, আর নিষ্ক্রিয় গ্যাস ১৮ নম্বর গ্রুপের।
    বাতাসে আর্গনের পরিমাণ প্রায় ০.৯৩ শতাংশ, যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
  125. ১৭০. এরোপ্লেন ও ডুবুরিদের কাছে যে নিষ্ক্রিয় গ্যাস প্রয়োজন তা হলো-সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. হিলিয়াম
    • খ. অক্সিজেন
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. হাইড্রোজেন
    উত্তর: ক. হিলিয়াম
    ডুবুরিরা গভীর পানিতে শ্বাস নিতে অক্সিজেনের সঙ্গে হিলিয়াম মেশানো মিশ্রণ ব্যবহার করেন। সাধারণ বাতাসের নাইট্রোজেন বেশি চাপে রক্তে দ্রবীভূত হয়ে নেশার মতো অবস্থা তৈরি করে, আর হঠাৎ উপরে উঠলে ব্যথা ও অসুস্থতা হয়। হিলিয়াম রক্তে খুব কম দ্রবীভূত হয় এবং এটি হালকা, তাই এই ঝুঁকি কমে। বিমানেও হিলিয়াম ব্যবহার হয়। এটি নিষ্ক্রিয় ও অদাহ্য, তাই নিরাপদ। হিলিয়ামের আরেকটি বড় ব্যবহার হলো আকাশে ওড়ানো বেলুন ও এয়ারশিপে। গ্যাসটি অত্যন্ত হালকা, বাতাসের তুলনায় প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ ঘনত্ব।
    মনে রাখুন:
    হিলিয়াম মেশানো এই মিশ্রণকে হেলিঅক্স (Heliox) বলে।
    হিলিয়াম আবহাওয়ার বেলুনেও ব্যবহৃত হয়।
  126. ১৭১. হাইড্রোজেন অপেক্ষাকৃত হালকা হওয়া সত্ত্বেও কেন হিলিয়াম দ্বারা বেলুন ভর্তি করা হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. হিলিয়াম সহজলভ্য
    • খ. হিলিয়াম গ্যাসের দাম কম
    • গ. হিলিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ঘ. উপরের সবকটিই
    উত্তর: গ. হিলিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    হাইড্রোজেন হিলিয়ামের চেয়ে হালকা, তবু বেলুনে হিলিয়াম ভরা হয়, কারণ হিলিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস। হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য, তাই আগুন লাগলে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। কিন্তু হিলিয়াম জ্বলে না, তাই এটি নিরাপদ। হিলিয়ামের দাম হাইড্রোজেনের চেয়ে বেশি, আর এটি সহজলভ্যও নয়, তাই দাম কম বা সহজলভ্য হওয়া এর কারণ নয়। হিলিয়ামের উৎস প্রধানত প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি, যেখান থেকে এটি আলাদা করা হয়। পৃথিবীতে এর ভাণ্ডার সীমিত, তাই হিলিয়াম বেলুনে নষ্ট করা বিজ্ঞানীদের অনেকে অপচয় মনে করেন।
    মনে রাখুন:
    ১৯৩৭ সালে হিন্ডেনবার্গ নামের হাইড্রোজেনভর্তি আকাশযানে আগুন লেগে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
    হিলিয়াম বাতাসের চেয়ে প্রায় সাত গুণ হালকা হলেও হাইড্রোজেনের তুলনায় ভাসানোর ক্ষমতা সামান্য কম।
  127. ১৭২. ফটোগ্রাফিক ফ্লাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. হিলিয়াম
    • খ. নিয়ন
    • গ. জেনন
    • ঘ. আর্গন
    উত্তর: গ. জেনন
    ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে জেনন (Xenon, Xe) গ্যাস ভরা থাকে। এই গ্যাসের ভেতর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ গেলে হঠাৎ খুব উজ্জ্বল সাদা আলো বের হয়, যা দিনের আলোর মতো। তাই ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ও গাড়ির উজ্জ্বল হেডলাইটে জেনন ব্যবহার করা হয়। নিয়নের লালচে আলো বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ডে দেখা যায়। প্রতিটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নিঃসরণ নলে বিদ্যুৎ চালালে আলাদা রঙের আলো পাওয়া যায়, আর এভাবেই বিভিন্ন রঙের নিয়ন বাতি তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    নিয়ন বিজ্ঞাপনের বাতিতে লালচে কমলা আলো দেয়।
    আর্গন সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে ভরা হয়, কারণ এটি ফিলামেন্টকে জ্বলে যাওয়া থেকে বাঁচায়।
    জেনন প্রথম যৌগ গঠনকারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
  128. ১৭৩. বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয় বিভাজন হতে আবিষ্কার করেন-বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. রেডন
    • খ. জেনন
    • গ. নিয়ন
    • ঘ. আর্গন
    উত্তর: ক. রেডন
    ১৯০০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রিডরিখ ডর্ন (Friedrich Dorn) রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে রেডন (Radon, Rn) গ্যাস আবিষ্কার করেন। রেডিয়াম ক্ষয় হতে হতে এই গ্যাস তৈরি করে। রেডন ১৮ নম্বর গ্রুপের একটি ভারী ও তেজস্ক্রিয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস। রেডিয়াম নিজেও একটি তেজস্ক্রিয় মৌল, যা মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি আবিষ্কার করেছিলেন। রেডিয়ামের ক্ষয়ের ফলে যে নতুন মৌল তৈরি হয়, সেটাই রেডন।
    মনে রাখুন:
    ঘরের মেঝে ও মাটি থেকে বেরোনো রেডন দীর্ঘদিন শ্বাসের সঙ্গে নিলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
    হিলিয়ামের আবিষ্কারক র‍্যামজে ও লকিয়ার, আর বাকি নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো আবিষ্কারে র‍্যামজের বড় ভূমিকা ছিল।
  129. ১৭৪. রেডন কি ধরনের মৌল?মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. নন তেজস্ক্রিয়
    • খ. হ্যালো তেজস্ক্রিয়
    • গ. কঠিন
    • ঘ. তেজস্ক্রিয়
    উত্তর: ঘ. তেজস্ক্রিয়
    রেডন (Radon, Rn) একটি তেজস্ক্রিয় মৌল। এর সব আইসোটোপ অস্থিতিশীল, তাই এরা ক্ষয় হতে হতে আলফা কণা বিকিরণ করে। সাধারণ তাপমাত্রায় রেডন গ্যাস, কঠিন নয়। এর সবচেয়ে স্থিতিশীল আইসোটোপ Rn-222, যার অর্ধায়ু প্রায় ৩.৮ দিন। এই গ্যাস রেডিয়ামের ক্ষয় থেকে তৈরি হয়। রেডনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮৬। এই গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন, তাই সহজে টের পাওয়া যায় না। রেডনের তেজস্ক্রিয়তা মাপার জন্য বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে একমাত্র রেডনই তেজস্ক্রিয়।
    রেডন সব নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে ভারী।
  130. ১৭৫. কার্বন ব্যতীত আর কোন মৌলে ক্যাটেনেশন দেখা যায়?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. Al
    • খ. Ga
    • গ. In
    • ঘ. Si
    উত্তর: ঘ. Si
    একই মৌলের পরমাণু একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল বা বলয় গঠন করার ধর্মকে ক্যাটেনেশন (Catenation) বলে। কার্বনে এই ধর্ম সবচেয়ে বেশি। কার্বনের পরেই সিলিকনে (Si) এটি দেখা যায়, তাই সিলিকন Si–Si শিকল গঠন করে সিলেন (Silane) নামের যৌগ তৈরি করে। অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ও ইন্ডিয়াম ধাতু, তাই এদের মধ্যে এই ধর্ম প্রায় দেখা যায় না। কার্বনে এই ধর্ম বেশি হওয়ার কারণ হলো C–C বন্ধন অত্যন্ত শক্ত। সিলিকনের Si–Si বন্ধন তুলনায় দুর্বল, তাই সিলিকনের শিকল দীর্ঘ হতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    ক্যাটেনেশনের কারণেই কার্বনের যৌগের সংখ্যা এত বেশি।
    সালফারও কিছুটা ক্যাটেনেশন দেখায়।
  131. ১৭৬. জৈব যৌগের উপাদানগুলো হচ্ছে -কৃষি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. C, N, O, F
    • খ. C, H, O, N, P, S
    • গ. H, O, N, I
    • ঘ. Na, Cl, O
    উত্তর: খ. C, H, O, N, P, S
    জৈব যৌগের প্রধান উপাদান কার্বন ও হাইড্রোজেন। এর সঙ্গে প্রায়ই অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও সালফার যুক্ত থাকে, তাই জৈব যৌগের উপাদান হলো C, H, O, N, P, S। যেমন প্রোটিনে সালফার থাকে, আর নিউক্লিক এসিডে ফসফরাস থাকে। কিছু জৈব যৌগে হ্যালোজেনও পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে শর্করা ও চর্বিতে C, H ও O থাকে। প্রোটিনে এর সঙ্গে নাইট্রোজেন এবং কখনো কখনো সালফারও থাকে।
    মনে রাখুন:
    জৈব যৌগে কার্বন সবসময় থাকে।
    সাধারণত জৈব যৌগ সমযোজী হয় এবং কম তাপমাত্রায় গলে ও জ্বলে।
    এরা সাধারণত পানিতে কম দ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবকে ভালো দ্রবীভূত হয়।
  132. ১৭৭. কোন জৈব বস্তুর অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?শ্রম পরিদপ্তরের জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের যৌগ
    • ক. কার্বন ডাই অক্সাইড
    • খ. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
    • গ. সলফার ডাই অক্সাইড
    • ঘ. কার্বন মনোক্সাইড
    উত্তর: ঘ. কার্বন মনোক্সাইড
    কোনো জৈব বস্তু পর্যাপ্ত অক্সিজেনে পুড়লে সম্পূর্ণ দহনে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) তৈরি হয়। কিন্তু অক্সিজেন কম থাকলে অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড (CO) পাওয়া যায়। এই বিষাক্ত গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন। এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন বহনে বাধা দেয়, ফলে শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যু ঘটতে পারে। অসম্পূর্ণ দহনের সময় কার্বনের একটি অংশ কালো ঝুলও হয়ে যায়। কেরোসিনের চুলা কিংবা মোমবাতির শিখা থেকে যে কালো ধোঁয়া বা ঝুল বেরোয়, তা অসম্পূর্ণ দহনেরই ফল।
    মনে রাখুন:
    বন্ধ ঘরে কয়লা বা কাঠ পুড়িয়ে আগুন পোহালে CO জমে মৃত্যু ঘটতে পারে।
    CO জ্বললে নীল শিখা দেয় এবং CO₂ তৈরি করে।
  133. ১৭৮. ইথানয়িক এসিডের সংকেত কি?বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী লোকোমোটিভ মাস্টার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. C₂H₅OH
    • খ. HCOOH
    • গ. HCO3
    • ঘ. CH₃COOH
    উত্তর: ঘ. CH₃COOH
    ইথানয়িক এসিডের (Ethanoic acid) সংকেত CH₃COOH। এতে দুটি কার্বন পরমাণু আছে, তাই নামের শুরুতে 'ইথ' আছে। আর শেষের '-ওয়িক এসিড' বোঝায়, এটি কার্বক্সিলিক এসিড (–COOH মূলকযুক্ত)। এর সাধারণ নাম এসিটিক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। সিরকার টক স্বাদ এই এসিডের কারণেই হয়। দৈনন্দিন জীবনে এই এসিডকে আমরা সিরকা হিসেবে চিনি। বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি বর্ণহীন তরল এবং এর গন্ধ বেশ ঝাঁঝালো।
    মনে রাখুন:
    HCOOH হলো মিথানয়িক বা ফরমিক এসিড, যা পিঁপড়ার কামড়ে থাকে।
    C₂H₅OH হলো ইথানল (অ্যালকোহল), এসিড নয়।
  134. ১৭৯. সিরকা তৈরিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় অফিসার (আরবরিকালচার), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. এসিটিক এসিড
    • খ. সাইট্রিক এসিড
    • গ. ল্যাকটিক এসিড
    • ঘ. অ্যাসকরবিক এসিড
    উত্তর: ক. এসিটিক এসিড
    সিরকা বা ভিনেগার (Vinegar) তৈরি হয় এসিটিক এসিড (CH₃COOH) দিয়ে। খেজুরের রস বা আখের রস গেঁজে প্রথমে অ্যালকোহল হয়। তারপর অ্যাসিটোব্যাক্টর নামের ব্যাকটেরিয়া সেই অ্যালকোহলকে জারিত করে এসিটিক এসিডে পরিণত করে। এই এসিডের কারণেই সিরকায় টক স্বাদ ও ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে। এই প্রক্রিয়াকে গাঁজন (Fermentation) বলে। একই কারণে বাজারের কৃত্রিম সিরকাও আসলে এসিটিক এসিডের পাতলা দ্রবণ, যা কারখানায় তৈরি করা হয়।
    মনে রাখুন:
    সিরকা আচার ও খাবার সংরক্ষণে কাজে লাগে।
    সিরকায় সাধারণত ৬-১০ শতাংশ এসিটিক এসিড থাকে।
  135. ১৮০. ভিনেগার বলতে কি বুঝায়?সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইনস্ট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. ৬-১০% এসিটিক এসিডের জলীয় দ্রবণ
    • খ. ১০-১৫% এসিটিক এসিডের জলীয় দ্রবণ
    • গ. ৫-১০% সাইট্রিক এসিডের জলীয় দ্রবণ
    • ঘ. ১০-১৫% সাইট্রিক এসিডের জলীয় দ্রবণ
    উত্তর: ক. ৬-১০% এসিটিক এসিডের জলীয় দ্রবণ
    ভিনেগার বা সিরকা হলো এসিটিক এসিডের (CH₃COOH) জলীয় দ্রবণ, যাতে সাধারণত ৬-১০ শতাংশ এসিটিক এসিড থাকে। এসিটিক এসিডই এর টক স্বাদ ও ঝাঁঝালো গন্ধের কারণ। এ কারণে ভিনেগার আচার তৈরি ও খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়, কারণ এসিডের টক পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বাঁচতে পারে না। ঘরে ব্যবহারের সিরকায় এসিটিক এসিডের পরিমাণ সাধারণত এর নিচের দিকে, প্রায় ৪-৮ শতাংশ থাকে।
    মনে রাখুন:
    সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায় লেবুজাতীয় ফলে, সিরকায় নয়।
    ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ এসিটিক এসিড ঠান্ডায় বরফের মতো জমে যায়, তাই একে গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড বলে।
  136. ১৮১. নিচের কোনটি ভিনেগার?BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. 6 - 10% HCOOH
    • খ. 6 - 10% CH₃COOH
    • গ. 6 - 10% C₂H₅COOH
    • ঘ. 6 - 10% C₆H₅COOH
    উত্তর: খ. 6 - 10% CH₃COOH
    ভিনেগারে ৬-১০ শতাংশ এসিটিক এসিড (CH₃COOH) থাকে এবং বাকিটা পানি। বাকি বিকল্পগুলো অন্য এসিড। HCOOH হলো ফরমিক এসিড, যা পিঁপড়া ও বিছুটি পাতার হুলে থাকে। C₂H₅COOH হলো প্রোপানয়িক এসিড। আর C₆H₅COOH হলো বেনজোয়িক এসিড, যা খাদ্য সংরক্ষণে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভিনেগার রান্নাঘরে খুব পরিচিত একটি জিনিস, তাই এর রাসায়নিক পরিচয় জেনে রাখা ভালো। এটি আসলে পানিতে এসিটিক এসিডের একটি পাতলা দ্রবণ, তাই এর স্বাদ টক এবং এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
    মনে রাখুন:
    এসিটিক এসিডের আইইউপিএসি নাম ইথানয়িক এসিড।
    ভিনেগার সবচেয়ে পরিচিত গৃহস্থালির দুর্বল এসিড।
  137. ১৮২. ভিনেগারে কোন এসিড থাকে?পিএসসি (ক্যাডার) জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. সাইট্রিক এসিড
    • খ. টারটারিক এসিড
    • গ. কার্বনিক এসিড
    • ঘ. ইথানয়িক এসিড
    উত্তর: ঘ. ইথানয়িক এসিড
    ভিনেগারে এসিটিক এসিড (CH₃COOH) থাকে, যার আইইউপিএসি নাম ইথানয়িক এসিড (Ethanoic acid)। এই এসিডের কারণেই ভিনেগারে টক স্বাদ ও ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে। অন্য এসিডগুলো আলাদা উৎসে পাওয়া যায়: সাইট্রিক এসিড লেবুতে, টারটারিক এসিড তেঁতুল ও আঙুরে, আর কার্বনিক এসিড কোমল পানীয়তে। আমরা ঘরে যে সিরকা ব্যবহার করি, তা এই এসিডের পাতলা দ্রবণ। কোনো জিনিসে এসিড আছে কি না, তা বুঝতে নীল লিটমাস কাগজ ব্যবহার করা যায়, কারণ এসিডে এটি লাল হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    খাঁটি এসিটিক এসিড ঠান্ডায় বরফের মতো জমে যায়, তাই একে গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড বলে।
    সিরকা ফল বা চিনির রস গেঁজে তৈরি করা হয়।
  138. ১৮৩. অ্যাসিটিক এসিড কি কাজে ব্যবহার করা হয়?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর এডমিন অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব এসিড
    • ক. খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
    • খ. চামড়া সংরক্ষণে
    • গ. আইপিএস এর ব্যাটারিতে
    • ঘ. ফল পাকানোতে
    উত্তর: ক. খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
    এসিটিক এসিড জীবাণুর বৃদ্ধি ঠেকায়, তাই খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়। আচার, সস ও সবজি সংরক্ষণে সিরকা মেশানো হয়, কারণ টক পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সহজে বাঁচতে পারে না। সিরকার মূল উপাদান হলো এসিটিক এসিড (Acetic acid)। ঘরে আচার বানানোর সময় আমরা এ কারণেই সিরকা বা লেবুর রস মেশাই। যে খাবারে এসিডের পরিমাণ বেশি, সেখানে জীবাণু জন্মাতে সময় নেয়, তাই খাবার বেশিদিন ভালো থাকে।
    মনে রাখুন:
    ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
    আইপিএসের ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড থাকে।
    চামড়া সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাতে ট্যানিন জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
  139. ১৮৪. আমলকিতে কোন এসিড থাকে?সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. অ্যাসকরবিক এসিড
    • খ. টারটারিক এসিড
    • গ. অ্যামাইনো এসিড
    • ঘ. নাইট্রিক এসিড
    উত্তর: ক. অ্যাসকরবিক এসিড
    আমলকিতে প্রচুর অ্যাসকরবিক এসিড (Ascorbic acid) থাকে, যাকে ভিটামিন সি-ও বলে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাড়ি ও ত্বক সুস্থ রাখে। এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যাতে মাড়ি ফোলে ও রক্ত পড়ে। আমলকির মতো অন্য টক ফলেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আমলকির ভিটামিন সি রান্না বা শুকানোর পরেও কিছুটা টিকে থাকে, তাই এটি শীতকালে সহজলভ্য একটি ভালো পুষ্টির উৎস। আমাদের শরীর নিজে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না, খাবার থেকেই পেতে হয়।
    মনে রাখুন:
    লেবু, কমলা ও পেয়ারাও ভিটামিন সির ভালো উৎস।
    রান্না করলে ভিটামিন সি সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।
  140. ১৮৫. আপেলে কোন এসিড থাকে?১১তম প্রভাষক নিবন্ধন, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. টারটারিক এসিড
    • খ. সাইট্রিক এসিড
    • গ. ম্যালিক এসিড
    • ঘ. সালফিউরিক এসিড
    উত্তর: গ. ম্যালিক এসিড
    আপেলে ম্যালিক এসিড (Malic acid) থাকে। ল্যাটিন 'malum' শব্দের অর্থ আপেল, আর এখান থেকেই এই এসিডের নাম এসেছে। কাঁচা আপেলের টক স্বাদ প্রধানত এই এসিডের কারণে হয়। আপেল পাকলে শর্করা বাড়ে ও এসিডের পরিমাণ কমে, তাই স্বাদ মিষ্টি হয়। আপেলের ছাল ও শাঁসে ম্যালিক এসিডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই এসিড শরীরে শক্তি উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়ার (সাইট্রিক এসিড চক্র) মধ্যবর্তী যৌগ হিসেবেও কাজ করে।
    মনে রাখুন:
    আঙুর ও তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।
    লেবুজাতীয় ফলে সাইট্রিক এসিড থাকে।
    টক দইয়ে ল্যাকটিক এসিড থাকে।
  141. ১৮৬. কলায় বিদ্যমান প্রধান জৈব এসিড কোনটি?BPSC'র সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. অক্সালিক এসিড
    • খ. ম্যালিক এসিড
    • গ. এসিটিক এসিড
    • ঘ. ল্যাকটিক এসিড
    উত্তর: খ. ম্যালিক এসিড
    কলায় প্রধান জৈব এসিড হলো ম্যালিক এসিড (Malic acid)। কাঁচা কলায় এর পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে, আর কলা পাকলে শর্করা বাড়ে ও টক ভাব কমে যায়। ম্যালিক এসিড আপেল, আঙুর ও চেরির মতো ফলেও পাওয়া যায়। কলায় অল্প পরিমাণে সাইট্রিক ও অক্সালিক এসিডও থাকে। পাকা কলায় স্টার্চ ভেঙে সুক্রোজ, গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ নামের শর্করা তৈরি হয়। সে কারণে কাঁচা কলার চেয়ে পাকা কলা বেশি মিষ্টি লাগে।
    মনে রাখুন:
    কাঁচা কলার কষে ট্যানিন থাকে, যা মুখে কষা ভাব আনে।
    আপেলের নামের সঙ্গে মিল রেখেই ম্যালিক এসিডের নাম রাখা হয়েছে।
  142. ১৮৭. আঙ্গুর ফলে কোন এসিড থাকে?প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভিএফএ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. ম্যালিক
    • খ. অক্সালিক
    • গ. সাইট্রিক
    • ঘ. এসকরবিক
    উত্তর: ক. ম্যালিক
    আঙুর ফলে ম্যালিক এসিড (Malic acid) ও টারটারিক এসিড থাকে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে ম্যালিক এসিডই আঙুরে পাওয়া যায়। অপক আঙুরের টক স্বাদ এই এসিডের কারণে হয়, আর পাকার সঙ্গে সঙ্গে এসিড কমে ও শর্করা বাড়ে, তাই পাকা আঙুর মিষ্টি লাগে। বাণিজ্যিকভাবে আঙুর থেকেই টারটারিক এসিড সংগ্রহ করা হয়, কারণ ওয়াইন তৈরির সময় পাত্রের তলায় এর লবণ জমে। ম্যালিক এসিড অনেক টক ফলের স্বাদের জন্য দায়ী।
    মনে রাখুন:
    টারটারিক এসিড আঙুর ও তেঁতুলে পাওয়া যায়।
    অক্সালিক এসিড পাওয়া যায় টমেটো ও পালংশাকে, আর সাইট্রিক এসিড লেবুতে।
  143. ১৮৮. আঙ্গুর ফলে কোন এসিড বর্তমান থাকে-বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এরোড্রাম সহকারী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. সাইট্রিক এসিড
    • খ. টারটারিক এসিড
    • গ. এসকরবিক এসিড
    • ঘ. ফরমিক এসিড
    উত্তর: খ. টারটারিক এসিড
    আঙুরের রসে টারটারিক এসিড (Tartaric acid) থাকে। এই এসিডের কারণেই পাকা আঙুরের স্বাদে হালকা টক ভাব পাওয়া যায়। আঙুরের রস গেঁজিয়ে ওয়াইন তৈরি করার সময় পাত্রের তলায় যে সাদা দানার মতো জিনিস জমা হয়, তা আসলে টারটারিক এসিডের লবণ। এই এসিড খাদ্য ও পানীয়ে টক স্বাদ দেওয়ার জন্য এবং বেকিং পাউডারে ব্যবহার করা হয়। সোডিয়াম বাইকার্বনেটের সঙ্গে টারটারিক এসিড মিশলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, আর সেই গ্যাসই কেক বা রুটিকে ফুলিয়ে তোলে। আঙুর ছাড়াও কলা ও তেঁতুলে এই এসিড কিছুটা পাওয়া যায়। এর একটি লবণ, পটাশিয়াম হাইড্রোজেন টারট্রেট, রান্নাঘরে ক্রিম অব টারটার নামে পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    আঙুর ও তেঁতুলের এসিড টারটারিক এসিড।
    লেবুর এসিড সাইট্রিক এসিড এবং আপেলের এসিড ম্যালিক এসিড।
  144. ১৮৯. তেঁতুলে কোন এসিড বর্তমান থাকে -ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্টেশন অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. টারটারিক এসিড
    • খ. সাইট্রিক এসিড
    • গ. অক্সালিক এসিড
    • ঘ. ফরমিক এসিড
    উত্তর: ক. টারটারিক এসিড
    তেঁতুলের টক স্বাদের প্রধান কারণ টারটারিক এসিড (Tartaric acid)। তেঁতুলে অল্প পরিমাণে ম্যালিক ও সাইট্রিক এসিডও থাকে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি থাকে টারটারিক এসিড। পাকা তেঁতুলের শাঁসে এই এসিডের পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৮ শতাংশ হতে পারে, তাই তেঁতুল এত টক লাগে। আঙুরেও একই এসিড পাওয়া যায়, ফলে খাদ্যের এসিড মনে রাখার সময় এই দুটি উৎসকে একসঙ্গে মনে রাখা সুবিধাজনক। টারটারিক এসিড একটি জৈব এসিড, যা শ্বেতবর্ণের স্ফটিক হিসেবে পাওয়া যায় এবং পানিতে খুব ভালোভাবে দ্রবীভূত হয়।
    মনে রাখুন:
    তেঁতুল ও আঙুর: টারটারিক এসিড।
    লেবু ও কমলা: সাইট্রিক এসিড।
    আপেল: ম্যালিক এসিড।
    টমেটো: অক্সালিক এসিড।
  145. ১৯০. অক্সালিক এসিড থাকে কোন ফলে?প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভিএফএ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. কমলা
    • খ. টমেটো
    • গ. আপেল
    • ঘ. লেবু
    উত্তর: খ. টমেটো
    টমেটোতে অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) থাকে। টমেটোর টক স্বাদ আসে এই এসিডের পাশাপাশি সামান্য সাইট্রিক ও ম্যালিক এসিড থেকেও। অন্য ফলগুলোর টক স্বাদের কারণ আলাদা। কমলা ও লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড, আর আপেলে থাকে ম্যালিক এসিড। অক্সালিক এসিড বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম অক্সালেট তৈরি করে, আর এটিই কিডনিতে পাথর হওয়ার একটি কারণ। টমেটো ও পালংশাকের মতো সবজিতে এই এসিড থাকে বলে কিডনিতে পাথরের রোগীদের এগুলো কম খেতে বলা হয়। আমাদের শরীর নিজেও অল্প পরিমাণে অক্সালিক এসিড তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    টমেটো ও পালংশাকে অক্সালিক এসিড থাকে।
    অক্সালিক এসিড একটি দুর্বল জৈব এসিড, যা কাপড় বা ধাতু থেকে মরিচা ও দাগ তুলতে ব্যবহার করা হয়।
  146. ১৯১. ল্যাকটিক এসিড নিচের কোনটিতে পাওয়া যায়?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. দই
    • খ. পালংশাক
    • গ. লেবু
    • ঘ. ভিনেগার
    উত্তর: ক. দই
    দইয়ে ল্যাকটিক এসিড (Lactic acid) থাকে। দুধে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের ব্যাকটেরিয়া জন্মালে সেগুলো দুধের ল্যাকটোজ চিনিকে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে। এর ফলে দুধের প্রোটিন জমাট বেঁধে দই হয় এবং দইয়ে হালকা টক স্বাদ আসে। অন্য বিকল্পগুলোর এসিড আলাদা। লেবুতে সাইট্রিক এসিড, পালংশাকে অক্সালিক এসিড এবং ভিনেগারে এসিটিক এসিড থাকে। দই হজমে সহায়ক, কারণ এর উপকারী ব্যাকটেরিয়া পেটের ভেতরের পরিবেশ ভালো রাখে। দুধ থেকে দই হতে সাধারণত ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে, আর গরম আবহাওয়ায় প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়। এ কারণে শীতকালে দই জমতে বেশি সময় নেয়।
    মনে রাখুন: ভিনেগারে এসিটিক এসিডের পরিমাণ সাধারণত ৫ থেকে ৮ শতাংশ।
  147. ১৯২. বোরহানিতে কি থাকে?BREB-এর লাইনম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. সালফেট
    • খ. এসিটিক এসিড
    • গ. নাইট্রিক এসিড
    • ঘ. ল্যাকটিক এসিড
    উত্তর: ঘ. ল্যাকটিক এসিড
    বোরহানি তৈরি হয় দই, পুদিনা, সরিষা, লবণ ও মসলা দিয়ে। এর প্রধান উপাদান দই, আর দইয়ে থাকে ল্যাকটিক এসিড (Lactic acid)। এই এসিডই বোরহানিকে হালকা টক স্বাদ দেয় এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। তাই বিয়েবাড়ির পোলাও বা বিরিয়ানির সঙ্গে ভারী খাবার হজম করার জন্য বোরহানি পরিবেশন করার চল আছে। দইয়ের ব্যাকটেরিয়া পেটের জন্য উপকারী। এছাড়া বোরহানির পুদিনা ও কাঁচা মরিচ একে সুগন্ধি ও ঝাল স্বাদ দেয়। ঐতিহ্যগতভাবে এটি ঢাকাই খাবারের একটি বিশেষ অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    দই, ঘোল ও টকদুধ, সবকিছুতেই ল্যাকটিক এসিড থাকে।
    ল্যাকটিক এসিড প্রথম আলাদা করেন সুইডিশ রসায়নবিদ শেলে, ১৭৮০ সালে।
  148. ১৯৩. 'সরিষার তেলে' কোন উপাদানটি পাওয়া যায়?সিজিএ অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. এসকরবিক এসিড
    • খ. ডেটুরিন
    • গ. ইরোসিক এসিড
    • ঘ. লিনোলিক এসিড
    উত্তর: গ. ইরোসিক এসিড
    সরিষার তেলে ইরোসিক এসিড (Erucic acid) নামে একটি অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড থাকে। সরিষার তেলের ঝাঁজালো গন্ধ ও তীব্র স্বাদের পেছনে আলাদা কিছু যৌগের ভূমিকা আছে। কিন্তু এই তেলের বিশেষ পরিচায়ক উপাদান হলো ইরোসিক এসিড। বেশি পরিমাণে খেলে ইরোসিক এসিড হৃদ্‌পেশির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই উন্নত জাতের সরিষা চাষে এর পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশে সরিষা তেল রান্নায় এবং আচার তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত। সরিষার তেলে ইরোসিক এসিডের পাশাপাশি ওলিক ও লিনোলেনিক এসিডও থাকে।
    মনে রাখুন:
    সয়াবিন তেলে লিনোলিক এসিড বেশি থাকে।
    ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড।
  149. ১৯৪. লেবুতে (কাগজি লেবুতে) কোন এসিড থাকে?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্টেশন অফিসার, ২০২৫ ও BPSC স্টাফ অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. এসিটিক এসিড
    • খ. টারটারিক এসিড
    • গ. সাইট্রিক এসিড
    • ঘ. ল্যাকটিক এসিড
    উত্তর: গ. সাইট্রিক এসিড
    লেবুতে সাইট্রিক এসিড (Citric acid) থাকে। এই এসিডের কারণেই লেবুর রস টক হয়। সাইট্রিক এসিডের নামটাও এসেছে সাইট্রাস (Citrus) জাতীয় ফল থেকে, যেমন লেবু, কমলা ও জাম্বুরা। কাগজি লেবুর রসে এই এসিড প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ থাকে। লেবুতে ভিটামিন সি-ও আছে, তাই লেবু স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। খাদ্যশিল্পে কোমল পানীয়, জ্যাম ও জেলিতে স্বাদ ও সংরক্ষণের জন্য সাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। লেবুর রসের এসিড লোহা ও ক্যালসিয়ামের সঙ্গেও বিক্রিয়া করে। এ কারণে লেবুর রস দিয়ে কেতলির জমে থাকা সাদা ক্যালসিয়াম স্তর পরিষ্কার করা যায়।
    মনে রাখুন:
    সাইট্রাস ফলে সাইট্রিক এসিড ও ভিটামিন সি দুটোই থাকে।
    সাইট্রিক এসিড একটি দুর্বল জৈব এসিড।
  150. ১৯৫. নিচের কোনটি দুর্বল এসিড?ঢাকা সেনানিবাসের জুনিয়র শিক্ষক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড ও ক্ষার
    • ক. সালফিউরিক এসিড
    • খ. অক্সালিক এসিড
    • গ. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
    • ঘ. নাইট্রিক এসিড
    উত্তর: খ. অক্সালিক এসিড
    অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) একটি দুর্বল জৈব এসিড। কোনো এসিড পানিতে কতটা আয়নিত হয়, তার ওপর এর দুর্বলতা বা তীব্রতা নির্ভর করে। দুর্বল এসিড পানিতে সম্পূর্ণ আয়নিত হয় না, কিছু অংশ অক্ষত অণু হিসেবে থেকে যায়। এর বিপরীতে সালফিউরিক, হাইড্রোক্লোরিক ও নাইট্রিক এসিড পানিতে প্রায় পুরোপুরি আয়নিত হয়, তাই এগুলো তীব্র এসিড। এগুলো খনিজ এসিড বলেও পরিচিত। অক্সালিক এসিড সাধারণত জৈব এসিডের মধ্যে তুলনামূলক একটু শক্তিশালী হলেও খনিজ এসিডের কাছে তা দুর্বলই। এর সংকেত (COOH)₂, আর এটি দ্বিক্ষারীয় এসিড।
    মনে রাখুন:
    তীব্র এসিড: H₂SO₄, HCl, HNO₃।
    দুর্বল এসিড: CH₃COOH, H₂CO₃, অক্সালিক ও সাইট্রিক এসিড।
    জৈব এসিড সাধারণত দুর্বল হয়।
  151. ১৯৬. দুর্বল অ্যাসিডের সংকেত হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এসিড ও ক্ষার
    • ক. H₂SO₄
    • খ. CH₃COOH
    • গ. HCl
    • ঘ. HNO₃
    উত্তর: খ. CH₃COOH
    এসিটিক এসিড (CH₃COOH) দুর্বল এসিড, কারণ পানিতে এর অতি সামান্য অংশই H⁺ আয়নে ভেঙে যায়। বেশির ভাগ অণু অক্ষত অবস্থায় থাকে। অন্যদিকে H₂SO₄, HCl ও HNO₃ পানিতে প্রায় সম্পূর্ণ আয়নিত হয়, তাই এগুলো তীব্র এসিড। ভিনেগার হলো এসিটিক এসিডের লঘু দ্রবণ, আর আমরা তা নিশ্চিন্তে রান্না ও আচারে ব্যবহার করি। তীব্র এসিড হলে এভাবে খাওয়া সম্ভব হতো না। ভিনেগার ছাড়া দুর্বল এসিডের আরেকটি উদাহরণ কার্বনিক এসিড (H₂CO₃), যা কোমল পানীয়তে থাকে। এটি অস্থায়ী ও সহজে ভেঙে যায়।
    মনে রাখুন:
    খাঁটি এসিটিক এসিড ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বরফের মতো জমে যায়, তাই একে গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড বলে।
    প্রধান তীব্র এসিড তিনটি: সালফিউরিক, হাইড্রোক্লোরিক ও নাইট্রিক।
  152. ১৯৭. কাপড়ে কালির দাগ লাগলে সহজেই উঠানো যায়প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের জৈব এসিড
    • ক. তৎক্ষণাত দুধে ভেজালে
    • খ. দাগের উপর কাপড় ধোয়ার সাবান ব্যবহার করা
    • গ. দাগের উপর লেবুর রস দিয়ে ঘষা
    • ঘ. সঙ্গে সঙ্গে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা
    উত্তর: গ. দাগের উপর লেবুর রস দিয়ে ঘষা
    কাপড়ে কালির দাগ লাগলে লেবুর রস দিয়ে ঘষলে দাগ উঠে যায়। লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক এসিড (Citric acid) কালির আয়রনঘটিত রঞ্জক যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সেটিকে পানিতে দ্রবণীয় যৌগে পরিণত করে। তখন পানিতে ধুলে দাগটি সহজে চলে যায়। সাবান ক্ষারীয় বলে অনেক সময় কালির দাগ উঠে না, বরং আরও বসে যেতে পারে। তাই এসিডীয় পদার্থ এ কাজে বেশি কার্যকর। কাপড়ের জংয়ের দাগও এভাবে তোলা যায়, কারণ এসিড লোহার অক্সাইডকে দ্রবণীয় লবণে পরিণত করে। এ কারণে লেবু ঘরোয়া পরিষ্কারের কাজে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    জংয়ের দাগ তুলতেও লেবুর রস ও লবণ ব্যবহার করা হয়।
    তামা বা পিতলের জিনিস চকচকে করতেও লেবু কাজে লাগে।
  153. ১৯৮. সাবান কোন উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের লবণ?অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. পটাশিয়াম
    • খ. সোডিয়াম
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. পটাশিয়াম বা সোডিয়াম
    উত্তর: ঘ. পটাশিয়াম বা সোডিয়াম
    সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। চর্বি বা তেলকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) দিয়ে ফোটালে সোডিয়াম লবণ তৈরি হয়, আর এটি কঠিন সাবান। পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করলে পটাশিয়াম লবণ তৈরি হয়, যা নরম সাবান। দাড়ি কামানোর ক্রিমে এবং তরল সাবানে নরম সাবান ব্যবহার করা হয়। এই বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে। সাবান পানির পৃষ্ঠটান কমায়, ফলে পানি তেলচিটে ময়লার মধ্যে ঢুকতে পারে। সাবানের এই কাজকেই ইমালসিফিকেশন বা তেল-পানির মিশ্রণ সৃষ্টি বলে।
    মনে রাখুন: ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ফ্যাটি এসিড লবণ পানিতে অদ্রবণীয়, তাই খর পানিতে সাবান ফেনা দেয় না।
  154. ১৯৯. সাবানের রাসায়নিক নাম কি?প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. সোডিয়াম এসিটেট
    • খ. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
    • গ. ইথাইল স্টিয়ারেট
    • ঘ. গ্লিসারিন স্টিয়ারেট
    উত্তর: খ. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
    সাবানের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C₁₇H₃₅COONa)। স্টিয়ারিক এসিড একটি উচ্চতর ফ্যাটি এসিড, আর তার সোডিয়াম লবণ সাধারণ কঠিন সাবানের মূল উপাদান। সত্যি বলতে, সাধারণ সাবান শুধু একটি যৌগ নয়। তেল বা চর্বিতে নানা ফ্যাটি এসিড থাকে বলে সাবানে সোডিয়াম পামিটেট ও সোডিয়াম অলিয়েটও কমবেশি মেশানো থাকে। তবে পরীক্ষায় সোডিয়াম স্টিয়ারেটকেই সাবানের প্রতিনিধি ধরা হয়। খাঁটি সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাদা ও কঠিন এবং পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ফেনা সৃষ্টি করে। খর পানিতে এটি অদ্রবণীয় স্কাম তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    সোডিয়াম পামিটেট: C₁₅H₃₁COONa।
    সোডিয়াম অলিয়েট: C₁₇H₃₃COONa।
  155. ২০০. কোনটি সাবান শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়?BPSC-র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. ফ্যাট
    • খ. NaOH
    • গ. Ca(OH)₂
    • ঘ. গ্লিসারিন
    উত্তর: গ. Ca(OH)₂
    সাবান তৈরিতে লাগে চর্বি বা তেল, আর ক্ষার হিসেবে NaOH। বিক্রিয়ার উপজাত হিসেবে পাওয়া যায় গ্লিসারিন। তাই এই তিনটি সাবান শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড, Ca(OH)₂, সাবান শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ ক্যালসিয়ামের ফ্যাটি এসিড লবণ পানিতে অদ্রবণীয়, তাই ক্যালসিয়াম ক্ষার দিয়ে ব্যবহারযোগ্য সাবান হয় না। Ca(OH)₂-এর পরিচিত ব্যবহার হলো চুনের পানি তৈরি, সিমেন্ট ও ব্লিচিং পাউডার শিল্প। সাবান কারখানায় সোডিয়াম ক্লোরাইডও (খাবার লবণ) ব্যবহার করা হয়, যা দিয়ে সাবানকে দ্রবণ থেকে আলাদা করা যায়। একে সল্টিং আউট বলে।
    মনে রাখুন: তেল বা চর্বিকে ক্ষার দিয়ে সাবানে পরিণত করার বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে।
  156. ২০১. তেল বা চর্বি হচ্ছে এক ধরনের-প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (শৈলকূপা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. অ্যালকোহল
    • খ. অ্যালডিহাইড
    • গ. ডিটারজেন্ট
    • ঘ. এস্টার
    উত্তর: ঘ. এস্টার
    তেল বা চর্বি আসলে এস্টার (Ester) শ্রেণির যৌগ। এগুলো তৈরি হয় গ্লিসারিন নামের একটি অ্যালকোহলের সঙ্গে তিনটি উচ্চতর ফ্যাটি এসিড যুক্ত হয়ে। এ কারণে তেল বা চর্বিকে ট্রাইগ্লিসারাইড বলা হয়। একে ক্ষারের সঙ্গে ফোটালে গ্লিসারিন ও সাবান পাওয়া যায়। তেল ও চর্বির মূল পার্থক্য হলো ঘরের তাপমাত্রায় এদের অবস্থা। চর্বি বা তেল পানিতে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু বেনজিন বা ইথারের মতো জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে তেলের দাগ কেবল পানি দিয়ে ধুয়ে ওঠে না, সাবান লাগে।
    মনে রাখুন:
    তেল ঘরের তাপমাত্রায় তরল, কারণ এতে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বেশি।
    চর্বি ঘরের তাপমাত্রায় কঠিন, কারণ এতে সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বেশি।
    এস্টারের সাধারণ গন্ধ মিষ্টি, তাই ফল ও ফুলের সুগন্ধে এস্টার থাকে।
  157. ২০২. কোনটি সাবানকে শক্ত করে?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (বুড়িঙ্গা, হেয়াহেয়), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. সোডিয়াম কার্বনেট
    • খ. সোডিয়াম সিলিকেট
    • গ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • ঘ. সোডিয়াম সালফেট
    উত্তর: খ. সোডিয়াম সিলিকেট
    সোডিয়াম সিলিকেট (Na₂SiO₃) সাবানকে শক্ত করে। সাবান তৈরির সময় একে ফিলার বা পূরক হিসেবে মেশানো হয়, ফলে সাবান শক্ত হয় এবং সহজে গলে যায় না। এছাড়া এটি সাবানের পরিষ্কারের ক্ষমতা কিছুটা বাড়ায় এবং উৎপাদন খরচ কমায়। অন্য সোডিয়াম লবণগুলো এ কাজে প্রধান নয়, কারণ সিলিকেটই সাবানের গঠন কঠিন ও টেকসই করে। সোডিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম সালফেট সাবান তৈরিতে সাধারণ ফিলার হিসেবে প্রধান নয়, তাই শক্ত করার প্রসঙ্গে সিলিকেটের নামই মনে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    সোডিয়াম সিলিকেটের পানিতে দ্রবণকে ওয়াটার গ্লাস বলে।
    সাবানে সুগন্ধি ও রঙ আলাদা উপাদান দিয়ে যোগ করা হয়।
  158. ২০৩. সোডিয়াম সিলিকেট সাবানকে-ডাক বিভাগের পোস্টাল অপারেটর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. রঙ্গিন করে
    • খ. সুগন্ধি করে
    • গ. শক্ত করে
    • ঘ. নরম করে
    উত্তর: গ. শক্ত করে
    সোডিয়াম সিলিকেট সাবানকে শক্ত করে। সাবান তৈরির পর এতে সোডিয়াম সিলিকেট মেশালে সাবানের গঠন কঠিন ও টেকসই হয়, ফলে সাবান সহজে নরম হয়ে গলে না। এটি সাবানের ওজনও বাড়ায় এবং ব্যবহারের সময় সাবান ক্ষয় হওয়ার হার কমায়। সাবানকে রঙিন বা সুগন্ধি করতে সোডিয়াম সিলিকেট লাগে না, সেজন্য আলাদা রঞ্জক ও সুগন্ধি মেশাতে হয়। কাপড় কাচার সাবানে এই সিলিকেট পরিষ্কার করার ক্ষমতাও কিছুটা বাড়ায়। সোডিয়াম সিলিকেট জলীয় দ্রবণে ক্ষারীয় আচরণ করে বলে এটি তেলের দাগ ছাড়াতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    সোডিয়াম সিলিকেটকে ওয়াটার গ্লাসও বলে।
    সোডিয়াম সিলিকেটের সংকেত Na₂SiO₃।
  159. ২০৪. সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. গ্লিসারল
    • খ. সিলিকন
    • গ. ইথানল
    • ঘ. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
    উত্তর: ক. গ্লিসারল
    সাবান তৈরির সময় চর্বি বা তেলকে ক্ষার দিয়ে বিক্রিয়া করানো হয়। এতে সাবানের পাশাপাশি গ্লিসারল (Glycerol) উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। গ্লিসারলের আরেক নাম গ্লিসারিন, যা তিন হাইড্রক্সিলযুক্ত অ্যালকোহল। তেল বা চর্বি এস্টার হওয়ায় ক্ষারীয় আর্দ্রবিশ্লেষণে ভেঙে ফ্যাটি এসিডের লবণ আর গ্লিসারল দেয়। গ্লিসারলকে আলাদা করে নেওয়া হয় এবং তা বাড়তি লাভ হিসেবে বিক্রি করা হয়। গ্লিসারলের সংকেত C₃H₅(OH)₃। এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও মিষ্টি স্বাদের ঘন তরল। এটি আর্দ্রতা শোষণ করে বলে ত্বকের ক্রিম ও লোশনে মেশানো হয়।
    মনে রাখুন:
    গ্লিসারল প্রসাধনী ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়।
    গ্লিসারল থেকে বিস্ফোরক নাইট্রোগ্লিসারিন তৈরি হয়, যা ডিনামাইটের উপাদান।
  160. ২০৫. নিচের কোনটি সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসাবে পাওয়া যায়?BEPZA-র উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. সিলিকন
    • খ. গ্লিসারিন
    • গ. ইথানল
    • ঘ. সোডিয়াম
    উত্তর: খ. গ্লিসারিন
    সাবান তৈরির সময় তেল বা চর্বি ক্ষারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারিন (Glycerine) তৈরি করে। তেল বা চর্বি আসলে গ্লিসারিনের সঙ্গে ফ্যাটি এসিডের এস্টার, তাই ক্ষারে ভাঙলে গ্লিসারিন বেরিয়ে আসে। গ্লিসারিন সাবান থেকে আলাদা করে সংগ্রহ করা হয় এবং প্রসাধনী ও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। সিলিকন, ইথানল বা সোডিয়াম এই বিক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায় না। গ্লিসারিন সাবান কারখানার একটি মূল্যবান উপজাত, কারণ এটি আলাদা করে বিক্রি করা যায়। এটি নাইট্রোগ্লিসারিন নামে বিস্ফোরক তৈরিতেও লাগে।
    মনে রাখুন:
    এই বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে।
    গ্লিসারিনের আরেক নাম গ্লিসারল।
  161. ২০৬. টুথপেস্টে ফ্লোরাইড ব্যবহার করা হয় কেন?সহকারী তথ্য অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টুথপেস্ট
    • ক. দাঁতের রক্ত পড়া বন্ধ করার কাজে
    • খ. এটা দাঁতের ক্ষয়রোধ করে
    • গ. এটা দাঁতের গোড়া ফুলা বন্ধ করে
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. এটা দাঁতের ক্ষয়রোধ করে
    টুথপেস্টে ফ্লোরাইড (Fluoride) মেশানো হয় দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে। খাবারের চিনি থেকে মুখে ব্যাকটেরিয়া এসিড তৈরি করে, আর সেই এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। ফ্লোরাইড দাঁতের এনামেলের হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইটকে ফ্লুরোঅ্যাপাটাইটে পরিণত করে। এই যৌগ এসিডে সহজে ক্ষয় হয় না, ফলে দাঁতে গর্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। ফ্লোরাইড খাওয়ার পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে মেশানোর চলও অনেক দেশে আছে। তবে নির্ধারিত মাত্রার বেশি হলে তা ক্ষতিকর, তাই মাত্রা মাপা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    দাঁতের এনামেলের মূল উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেট।
    পানিতে ফ্লোরাইড বেশি হলে দাঁতে ফ্লুরোসিস রোগ হয়।
  162. ২০৭. কোনটি টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ টুথপেস্ট
    • ক. সিডার উড
    • খ. তারপিনল
    • গ. লিনানল
    • ঘ. মেনথল
    উত্তর: ঘ. মেনথল
    টুথপেস্ট তৈরিতে মেনথল (Menthol) ব্যবহার করা হয়। এটি পুদিনা জাতীয় গাছের তেল থেকে পাওয়া যায় এবং মুখে ঠান্ডা ও সতেজ ভাব দেয়। এজন্য টুথপেস্টের স্বাদ ও গন্ধ আনতে একে মেশানো হয়। অন্য বিকল্পগুলো মূলত সুগন্ধি দ্রব্য। সিডার উড তেল, তারপিনল ও লিনানল সাধারণত সাবান বা সুগন্ধি তৈরিতে লাগে। মেনথল পুদিনার ঠান্ডা ভাব দেয় কারণ এটি আমাদের ত্বক ও মুখের ঠান্ডা অনুভব করার স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে। এর সংকেত C₁₀H₂₀O, আর এটি একটি টারপিন-জাতীয় অ্যালকোহল।
    মনে রাখুন:
    মেনথল ব্যথানাশক মলম ও কাশির ওষুধেও ব্যবহৃত হয়।
    টুথপেস্টে ঘর্ষক, ফেনা সৃষ্টিকারী পদার্থ ও ফ্লোরাইডও থাকে।
  163. ২০৮. কোন পদার্থ ত্বকে লাগলে শরীরের ভিতর প্রবেশ করে শরীরের ক্ষতিসাধন করে?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যারোমেটিক যৌগ
    • ক. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • খ. পানি
    • গ. বেনজিন
    • ঘ. নারিকেল তৈল
    উত্তর: গ. বেনজিন
    বেনজিন (Benzene) ত্বকে লাগলে ত্বক ভেদ করে রক্তে প্রবেশ করতে পারে এবং শরীরের ক্ষতি করে। এর বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে গেলেও ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন বেনজিনের সংস্পর্শে থাকলে রক্তের রোগ, এমনকি লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসারও হতে পারে। সোডিয়াম ক্লোরাইড, পানি ও নারিকেল তেল সাধারণভাবে ত্বকের ভেতর ঢুকে এমন ক্ষতি করে না। বেনজিনের মতো আরও কিছু জৈব দ্রাবক, যেমন টলুইন, ত্বক ও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। তাই পরীক্ষাগারে এসব দ্রাবক নিয়ে কাজ করার সময় গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    বেনজিনের সংকেত C₆H₆। এটি সবচেয়ে সরল অ্যারোমেটিক যৌগ।
    বেনজিন বর্ণহীন, দাহ্য ও বিষাক্ত তরল।
    বেনজিন কয়লার আলকাতরা থেকে পাওয়া যায়।
  164. ২০৯. চিনির চাইতে মিষ্টি 'স্যাকারিন' প্রস্তুত করা হয়?জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যারোমেটিক যৌগ
    • ক. বেনজিন হতে
    • খ. কয়লা হতে
    • গ. ফেনল হতে
    • ঘ. টলুইন হতে
    উত্তর: ঘ. টলুইন হতে
    স্যাকারিন (Saccharin) চিনির চেয়ে প্রায় ৩০০ গুণ মিষ্টি। এটি তৈরি হয় টলুইন (Toluene) থেকে। টলুইন বেনজিনের মিথাইল ডেরিভেটিভ, যাকে মিথাইলবেনজিনও বলে। কয়লা থেকে আলকাতরা এবং আলকাতরা থেকে টলুইন পাওয়া যায়। স্যাকারিন ক্যালরিহীন কৃত্রিম মিষ্টি, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। স্যাকারিন প্রথম আবিষ্কার করেন কনস্ট্যান্টিন ফালবার্গ নামের এক রসায়নবিদ। এটি শরীর হজম করে না, ফলে শরীরে কোনো শক্তি যোগ করে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না।
    মনে রাখুন:
    টলুইন থেকে বিস্ফোরক টিএনটি (TNT)-ও তৈরি করা হয়।
    স্যাকারিন আবিষ্কৃত হয় ১৮৭৯ সালে।
  165. ২১০. নিম্নের কোনটি এসিডিক?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যারোমেটিক যৌগ
    • ক. ইথার
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. ইথানল
    • ঘ. ফেনল
    উত্তর: ঘ. ফেনল
    ফেনল (Phenol, C₆H₅OH) মৃদু এসিডীয়। বেনজিন বলয়ের সঙ্গে যুক্ত OH গ্রুপ থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ছাড়ার প্রবণতা থাকায় এটি ক্ষারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফেনক্সাইড লবণ তৈরি করে। এজন্য ফেনলের আরেক নাম কার্বলিক এসিড। ইথার, গ্লুকোজ ও ইথানল প্রায় নিরপেক্ষ। তবে ফেনলের এসিডত্ব খুব দুর্বল, এমনকি কার্বনিক এসিডের চেয়েও কম। ফেনলের জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে হালকা লাল করে। ফেনল সাদা কেলাসের মতো কঠিন পদার্থ, তবে বাতাসে খোলা রাখলে গোলাপি হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    ফেনলকে জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি ত্বকে লাগলে ক্ষতি করে।
    ফেনল থেকে বেকেলাইট প্লাস্টিক তৈরি হয়।
  166. ২১১. নিম্নের কোন জাতীয় বস্তু বহুদিন রোদে বা পানিতে থাকলে নষ্ট, ক্ষয় বা বৃদ্ধি হয় না?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ ও সিলিকা
    • ক. কাচ
    • খ. প্লাস্টিক
    • গ. কাঠ
    • ঘ. লোহা
    উত্তর: ক. কাচ
    কাচ বহুদিন রোদ ও পানিতে থাকলেও সহজে নষ্ট হয় না। কাচ মূলত সিলিকন ডাই-অক্সাইডের (SiO₂) তৈরি এবং রাসায়নিকভাবে খুব নিষ্ক্রিয়। তাই পানি, বাতাস বা সূর্যের আলোর সঙ্গে এর কোনো বিক্রিয়া হয় না। কাঠ পচে যায় বা পোকায় ধরে, লোহায় মরিচা পড়ে এবং প্লাস্টিক রোদে ভঙ্গুর হয়ে ক্ষয় হয়। কাচ এসব সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্ত। কাচের এই স্থায়িত্বের জন্য প্রাচীন সভ্যতায় তৈরি কাচের জিনিস আজও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। কাচ ভঙ্গুর হলেও রাসায়নিকভাবে সহজে বদলায় না।
    মনে রাখুন:
    এ কারণে রাসায়নিক পরীক্ষাগারের বেশির ভাগ পাত্র কাচের তৈরি।
    হাইড্রোফ্লুরিক এসিড কাচকে ক্ষয় করতে পারে।
  167. ২১২. কাচ কি দিয়ে তৈরি?শ্রম পরিদপ্তরের জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ ও সিলিকা
    • ক. MnO₂
    • খ. SiO₂
    • গ. BaO
    • ঘ. Ba₂O₃
    উত্তর: খ. SiO₂
    কাচ তৈরি হয় প্রধানত সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂) বা সিলিকা দিয়ে। বালি ও স্ফটিক পাথরের (কোয়ার্টজ) মূল উপাদানই সিলিকা। এর সঙ্গে সোডিয়াম কার্বনেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট মিশিয়ে গলালে সাধারণ কাচ হয়। শুধু সিলিকা গলাতে অনেক বেশি তাপ লাগে, তাই অন্য উপাদান মেশানো হয়। কাচ কেলাস নয়, তাই এর গলনের নির্দিষ্ট কোনো তাপমাত্রা নেই। এটি গরম করলে ধীরে ধীরে নরম হয় এবং সেই অবস্থায় ফুঁ দিয়ে বা ছাঁচে ফেলে আকার দেওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    রঙিন কাচ বানাতে গলিত কাচে ধাতব অক্সাইড মেশানো হয়, যেমন কোবাল্ট অক্সাইডে নীল রঙ হয়।
    বিশুদ্ধ সিলিকা থেকে তৈরি কাচকে কোয়ার্টজ কাচ বলে।
  168. ২১৩. কোয়ার্টস ঘড়িতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ ও সিলিকা
    • ক. সিলিকা
    • খ. সিলিকন
    • গ. সিলিকেট
    • ঘ. কার্বন
    উত্তর: ক. সিলিকা
    কোয়ার্টজ ঘড়িতে ব্যবহৃত হয় সিলিকা, অর্থাৎ কোয়ার্টজ স্ফটিক (SiO₂)। কোয়ার্টজ স্ফটিকের একটি বিশেষ ধর্ম আছে। এতে তড়িৎ প্রয়োগ করলে এটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে স্থির হারে কাঁপে। এই স্থির কম্পনই ঘড়ির সময় সঠিকভাবে মাপতে সাহায্য করে। সিলিকন একটি মৌল, সিলিকেট সিলিকনের অক্সিজেনযুক্ত লবণ, আর কোয়ার্টজ হলো মৌল নয়, সিলিকার স্ফটিক রূপ। কোয়ার্টজ স্ফটিক ঘড়ির পাশাপাশি রেডিও ও কম্পিউটারের ক্লক সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৩২,৭৬৮ বার।
    মনে রাখুন:
    এই ধর্মকে পিজোইলেকট্রিক ধর্ম বলে।
    কোয়ার্টজ ঘড়ি যান্ত্রিক ঘড়ির চেয়ে বেশি নির্ভুল।
  169. ২১৪. সিমেন্ট তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ঘ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৩-০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. বালু
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. চিনামাটি
    • ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস
    উত্তর: খ. চুনাপাথর
    সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথর (Limestone)। চুনাপাথরের সঙ্গে কাদামাটি মিশিয়ে ঘূর্ণায়মান চুল্লিতে প্রায় ১৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে পোড়ানো হয়। এতে ক্লিংকার তৈরি হয়, আর ক্লিংকারকে গুঁড়ো করলে সিমেন্ট হয়। চুনাপাথর থেকেই সিমেন্টে ক্যালসিয়াম অক্সাইড আসে, যা সিমেন্টের সবচেয়ে বড় উপাদান। বালি, চিনামাটি বা প্রাকৃতিক গ্যাস সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল নয়। ছাতকের ও জৈন্তার মতো এলাকায় চুনাপাথরের মজুদ আছে বলে সিলেট অঞ্চলে অনেক সিমেন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে। আমদানি করা ক্লিংকারও আমাদের দেশে ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে সিমেন্ট কারখানার জন্য কাঁচামাল সিলেটের ছাতক ও জৈন্তা অঞ্চলের চুনাপাথর থেকে আসে।
  170. ২১৫. Limestone এর মূল উপাদান-স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. SiO₂
    • খ. SiCO₃
    • গ. CaCO₃
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: গ. CaCO₃
    চুনাপাথর (Limestone) মূলত ক্যালসিয়াম কার্বনেট, CaCO₃। প্রকৃতিতে এটি শিলা হিসেবে পাওয়া যায়। একে তীব্র তাপে পোড়ালে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন (CaO) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। বিক্রিয়াটি হলো CaCO₃ → CaO + CO₂। এভাবে পোড়ানো চুনে পানি মেশালে ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড তৈরি হয়, যাকে কলিচুন বলে। চুনাপাথর নির্মাণকাজ, সিমেন্ট ও কাচ তৈরি এবং লোহা নিষ্কাশনের কাজে লাগে। লোহা নিষ্কাশনে এটি আকরিকের সিলিকা-জাতীয় ময়লা সরিয়ে স্ল্যাগ তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    মার্বেল ও চকও ক্যালসিয়াম কার্বনেটের রূপ।
    ডিমের খোসা ও ঝিনুকেও CaCO₃ থাকে।
  171. ২১৬. সিমেন্টে চুনের পরিমাণ কত?ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. ৪০-৫০%
    • খ. ৫০-৬০%
    • গ. ৬০-৭০%
    • ঘ. ৭০-৮০%
    উত্তর: গ. ৬০-৭০%
    সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ। এরপর আছে সিলিকা (প্রায় ১৭ থেকে ২৫ শতাংশ), অ্যালুমিনা, আয়রন অক্সাইড ও অল্প পরিমাণে জিপসাম। চুন সিমেন্টকে শক্তি দেয়, আর সিলিকা ও অ্যালুমিনা চুনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জমাট বাঁধার যৌগ তৈরি করে। সিমেন্টে পানি মেশালে জলযোজন বিক্রিয়া ঘটে এবং তাপ নির্গত হয়। এ কারণেই বড় ঢালাইয়ের পর কংক্রিট গরম হয়ে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    চুন বেশি হলে সিমেন্ট ফেটে যেতে পারে, আর কম হলে শক্তি কমে যায়।
    সিমেন্টে ক্যালসিয়াম অক্সাইডের পর বেশি থাকে সিলিকা।
  172. ২১৭. জিপসামের সংকেত কোনটি?ঢাবি (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. CaSO₄ . 5H₂O
    • খ. CaSO₄ . 2H₂O
    • গ. CaSO₄ . 3H₂O
    • ঘ. ZnSO₄ . 7H₂O
    উত্তর: খ. CaSO₄ . 2H₂O
    জিপসামের সংকেত CaSO₄·2H₂O। এর অর্থ প্রতি এক অণু ক্যালসিয়াম সালফেটের সঙ্গে দুই অণু কেলাস পানি যুক্ত আছে। জিপসামকে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে গরম করলে পানির কিছু অংশ বেরিয়ে যায় এবং প্লাস্টার অব প্যারিস (CaSO₄·½H₂O) তৈরি হয়। জিপসাম একটি প্রাকৃতিক খনিজ। এটি সাদা, নরম ও সহজে নখ দিয়ে আঁচড় কাটা যায়। খনিজ হিসেবে জিপসাম সার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ক্ষারীয় মাটি সংশোধনে। কৃষিতে এটি মাটিতে ক্যালসিয়াম ও সালফার সরবরাহ করে।
    মনে রাখুন:
    প্লাস্টার অব প্যারিস ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে ও মূর্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
    জিপসাম সিমেন্টে জমাট বাঁধার সময় নিয়ন্ত্রণ করে।
  173. ২১৮. সিমেন্টে জিপসাম যোগ করা হয় কেন?BPSC-র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য
    • খ. দ্রুত জমাট রোধ করার জন্য
    • গ. ওজন বাড়ানোর জন্য
    • ঘ. দ্রুত জমাট বৃদ্ধি করার জন্য
    উত্তর: খ. দ্রুত জমাট রোধ করার জন্য
    সিমেন্টে জিপসাম যোগ করা হয় দ্রুত জমাট বাঁধা রোধ করার জন্য। জিপসাম না থাকলে সিমেন্টের ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট খুব তাড়াতাড়ি পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে জমে যেত। জিপসাম এই বিক্রিয়াকে ধীর করে। ফলে সিমেন্টের মিশ্রণ ঢালাই ও সমান করার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। জিপসাম সিমেন্টের ঘনত্ব বা ওজন বাড়ানোর জন্য যোগ করা হয় না। এই ধীর করার কাজটিই জিপসামের প্রধান ভূমিকা। কিন্তু জিপসামের পরিমাণ খুব বেশি হয়ে গেলে সিমেন্ট ফুলে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    জমাট বাঁধার এই সময়কে সেটিং টাইম (Setting time) বলে।
    জিপসামের পরিমাণ প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ।
  174. ২১৯. সিমেন্টে জিপসাম যোগ করার উদ্দেশ্য কী?জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. সেটিং টাইম কমানো
    • খ. সেটিং টাইম বৃদ্ধি করা
    • গ. পানির পরিমাণ কমানো
    • ঘ. শক্তি বৃদ্ধি করা
    উত্তর: খ. সেটিং টাইম বৃদ্ধি করা
    সিমেন্টে জিপসাম যোগ করার উদ্দেশ্য সেটিং টাইম (Setting time) বাড়ানো। জিপসাম ক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের দ্রুত বিক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়। ফলে সিমেন্ট-পানির মিশ্রণ তাড়াতাড়ি শক্ত হয় না এবং নির্মাণকর্মীরা ঢালাইয়ের কাজ শেষ করার সময় পান। তবে জিপসাম বেশি দিলে সিমেন্টের শক্তি কমে যেতে পারে, তাই পরিমাণ সীমিত রাখা হয়। অর্থাৎ জিপসাম সিমেন্টকে তাড়াতাড়ি জমতে দেয় না, বরং ধীরে ধীরে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এই জমাট বাঁধার সময় সাধারণত প্রাথমিক ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ মিনিট ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ সিমেন্টে জিপসামের পরিমাণ প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ।
    সিমেন্টের শক্তি বাড়ায় মূলত সিলিকেট যৌগগুলো, জিপসাম নয়।
  175. ২২০. Main raw materials for Portland Cement-ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী ভূ-রসায়নবিদ, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. Dolomite & Limestone
    • খ. Limestone & Glass sand
    • গ. Limestone & Clay
    • ঘ. Limestone & Gypsum
    উত্তর: গ. Limestone & Clay
    Portland cement তৈরির প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথর (Limestone) ও কাদামাটি (Clay)। চুনাপাথর থেকে ক্যালসিয়াম অক্সাইড পাওয়া যায়, আর কাদামাটি থেকে সিলিকা, অ্যালুমিনা ও আয়রন অক্সাইড আসে। এই দুটিকে মিশিয়ে চুল্লিতে পোড়ানো হয়। জিপসাম কাঁচামাল নয়; ক্লিংকার তৈরির পর জমাট বাঁধার সময় নিয়ন্ত্রণের জন্য তা মেশানো হয়। সিমেন্ট শিল্পে এই দুটি কাঁচামাল মেশানোর আগে গুঁড়ো করে নেওয়া হয়, এবং মিশ্রণকে শুষ্ক বা ভেজা পদ্ধতিতে চুল্লিতে পোড়ানো হয়।
    মনে রাখুন:
    পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট আবিষ্কার করেন জোসেফ অ্যাসপডিন, ১৮২৪ সালে।
    এর নাম হয়েছে ইংল্যান্ডের পোর্টল্যান্ড দ্বীপের পাথরের সঙ্গে রঙের মিল থেকে।
  176. ২২১. Portland সিমেন্টে কোন উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. সিলিকা
    • খ. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
    • গ. আয়রন অক্সাইড
    • ঘ. অ্যালুমিনা
    উত্তর: খ. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
    পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে সবচেয়ে বেশি থাকে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), যাকে চুন বলা হয়, প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ। এরপর সিলিকা (SiO₂) প্রায় ১৭ থেকে ২৫ শতাংশ, অ্যালুমিনা (Al₂O₃) প্রায় ৩ থেকে ৮ শতাংশ এবং আয়রন অক্সাইড প্রায় ০.৫ থেকে ৬ শতাংশ। চুনাপাথর প্রধান কাঁচামাল বলেই চুনের পরিমাণ এত বেশি। তাই পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্ন এলে প্রথমে চুনের কথাই ভাবতে হবে, কারণ অন্য তিনটি উপাদানের কোনোটিই চুনের মতো এত বেশি পরিমাণে থাকে না।
    মনে রাখুন:
    সিমেন্টের প্রধান যৌগ চারটি: C₃S, C₂S, C₃A ও C₄AF।
    চুনের পরে সিলিকার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
  177. ২২২. পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের প্রধান দুটি উপাদান কী কী?বাংলাদেশ রেলওয়ে সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. লাইম ও অ্যালুমিনা
    • খ. লাইম ও আয়রন অক্সাইড
    • গ. লাইম ও সিলিকা
    • ঘ. সিলিকা ও অ্যালুমিনা
    উত্তর: গ. লাইম ও সিলিকা
    পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের প্রধান দুটি উপাদান লাইম (চুন) ও সিলিকা। চুন প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ এবং সিলিকা প্রায় ১৭ থেকে ২৫ শতাংশ। এই দুটি পরস্পর বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম সিলিকেট তৈরি করে, যা সিমেন্টকে শক্তি দেয়। অ্যালুমিনা ও আয়রন অক্সাইড কম পরিমাণে থাকে এবং এগুলো সিমেন্টের জমাট বাঁধা ও রঙে ভূমিকা রাখে। এই দুই উপাদানের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি, কারণ অনুপাত বদলালে সিমেন্টের শক্তি, জমাট বাঁধার সময় ও স্থায়িত্ব বদলে যায়।
    মনে রাখুন:
    সিমেন্টের প্রধান যৌগ চারটি: C₃S, C₂S, C₃A ও C₄AF।
    জিপসাম জমাট বাঁধার সময় নিয়ন্ত্রণ করে।
  178. ২২৩. একটি মর্টারের মধ্যে বাঁধাইয়ের উপাদান কোনটি?বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. বালি
    • খ. সুরকি
    • গ. সিমেন্ট
    • ঘ. সব কয়টি
    উত্তর: গ. সিমেন্ট
    মর্টার (Mortar) হলো বালি ও বন্ধনকারী পদার্থের মিশ্রণ, যা দিয়ে ইট জোড়া লাগানো হয়। এখানে বাঁধাইয়ের উপাদান সিমেন্ট। বালি শুধু আয়তন বাড়ায় এবং শুকানোর সময় সংকোচন কমায়, কিন্তু পানির সংস্পর্শে সিমেন্ট শক্ত হয়ে বালির কণাগুলোকে একসঙ্গে বেঁধে ফেলে। সুরকি ইটের গুঁড়ো, যা চুনের সঙ্গে মিশিয়ে আগের দিনে মর্টার করা হতো। দেয়ালের প্লাস্টার ও মেঝের ঢালাইয়েও সাধারণত সিমেন্ট-বালির মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়। বালির অনুপাত বেশি হলে মিশ্রণ ততটা শক্ত হয় না।
    মনে রাখুন:
    মর্টার = সিমেন্ট + বালি + পানি।
    কংক্রিট = সিমেন্ট + বালি + পাথরের কুচি + পানি।
  179. ২২৪. Concrete casting এর পর moist রাখার প্রক্রিয়াকে কী বলে?সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট
    • ক. Compacting
    • খ. Finishing
    • গ. Placing
    • ঘ. Curing
    উত্তর: ঘ. Curing
    কংক্রিট ঢালাইয়ের পর ভেজা বা আর্দ্র রাখার প্রক্রিয়াকে কিউরিং (Curing) বলে। সিমেন্ট পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে শক্ত হয়। তাই ঢালাইয়ের পর পানি শুকিয়ে গেলে বিক্রিয়া থেমে যায় এবং কংক্রিটে ফাটল ধরতে পারে। নিয়মিত পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে কংক্রিট পুরো শক্তি অর্জন করে। সাধারণত কমপক্ষে ৭ দিন কিউরিং করা হয়। কিউরিংয়ের সময় কংক্রিটের ওপর চট ভিজিয়ে রাখা বা পানি জমিয়ে রাখা হয়। আবহাওয়া বেশি গরম হলে বেশি ঘন ঘন পানি দিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    কংক্রিট ঢালাইয়ের ধাপগুলো হলো প্লেসিং, কমপ্যাকটিং, ফিনিশিং ও কিউরিং।
    কমপ্যাকটিং মানে ঝাঁকিয়ে বা চেপে ভেতরের বাতাসের ফাঁক দূর করা।
  180. ২২৫. ভালো মানের ইটে কোন রাসায়নিক যৌগটি সর্বাধিক থাকবে?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইট
    • ক. Lime
    • খ. Alumina
    • গ. Iron oxide
    • ঘ. Silica
    উত্তর: ঘ. Silica
    ভালো মানের ইটে সবচেয়ে বেশি থাকে সিলিকা (Silica)। ইট তৈরি হয় কাদামাটি পুড়িয়ে, আর ভালো মাটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সিলিকা থাকে। সিলিকা ইটকে শক্ত করে এবং পোড়ানোর সময় আকার ধরে রাখে ও ফাটল রোধ করে। এর পরেই আসে অ্যালুমিনা, যা মাটিকে নমনীয়তা দেয়। ইট ভালোভাবে পোড়ানো হলে এর রঙ গাঢ় লাল হয় এবং আঘাত করলে ধাতব শব্দ হয়। কম পোড়া ইট হলদে রঙের ও দুর্বল হয়।
    মনে রাখুন:
    সিলিকা বেশি হলে ইট ভঙ্গুর হয়, অ্যালুমিনা বেশি হলে পোড়ানোর সময় ইট ফেটে যেতে পারে।
    আয়রন অক্সাইড ইটকে লাল রঙ দেয়।
  181. ২২৬. ইটের প্রধান দুটি উপাদান হচ্ছে -সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইট
    • ক. আয়রন ও সিলিকা
    • খ. সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম
    • গ. সিলিকা ও অ্যালুমিনা
    • ঘ. সোডিয়াম ও আয়রন
    উত্তর: গ. সিলিকা ও অ্যালুমিনা
    ইটের প্রধান দুটি উপাদান সিলিকা ও অ্যালুমিনা। ইট তৈরির মাটিতে সিলিকা থাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এবং অ্যালুমিনা প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। সিলিকা ইটকে শক্ত করে, আর অ্যালুমিনা মাটিকে প্লাস্টিকের মতো নমনীয় করে, ফলে ইটের ছাঁচ তৈরি সহজ হয়। ইটের মান যাচাই করতে পানি শোষণ ক্ষমতা মাপা হয়। ভালো ইট নিজের ওজনের ২০ শতাংশের বেশি পানি শোষণ করে না।
    মনে রাখুন:
    চুন, আয়রন অক্সাইড ও ম্যাগনেশিয়াও অল্প পরিমাণে থাকে।
    আয়রন অক্সাইড ইটের লাল রঙের কারণ।
    সাধারণ ইট প্রায় ৯০০ থেকে ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে পোড়ানো হয়।
  182. ২২৭. ইটের উপাদানে সিলিকার পরিমাণ কত?বাংলাদেশ রেলওয়ে সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইট
    • ক. ৪৫% থেকে ৫০%
    • খ. ৩০%
    • গ. ৬০%
    • ঘ. ৫৫%
    উত্তর: ঘ. ৫৫%
    ইটের মাটিতে সিলিকার পরিমাণ সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে ৫৫ শতাংশ এই সীমার মধ্যে পড়ে। সিলিকা ইটকে শক্ত করে এবং পোড়ানোর সময় ফেটে যাওয়া ও সংকুচিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। সিলিকা খুব বেশি হলে ইট ভঙ্গুর হয়ে যায়, আবার কম হলে ইট ততটা শক্ত হয় না। মাটিতে সিলিকা যে কেবল বালি হিসেবে থাকে তা নয়, কিছুটা কাদামাটির সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত অবস্থায়ও থাকে। ইট তৈরির আগে এই মাটিকে ভালোভাবে পিষে ও ছেঁকে নেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যালুমিনা প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ থাকে।
    চুন থাকে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মতো।
  183. ২২৮. Paint এবং Thinner হিসাবে সাধারণত ব্যবহার করা হয়?আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবিধ রাসায়নিক পদার্থ
    • ক. অ্যালকোহল
    • খ. পেট্রোল
    • গ. পানি
    • ঘ. তারপিন
    উত্তর: ঘ. তারপিন
    রঙের সঙ্গে পাতলা করার জন্য সাধারণত তারপিন (Turpentine) ব্যবহার করা হয়। এটি পাইন গাছের রজন থেকে পাওয়া তরল। তারপিন রঙকে পাতলা করে সহজে লাগানোর উপযোগী করে এবং ব্রাশ পরিষ্কার করতেও কাজে লাগে। রঙের তেল পানিতে দ্রবীভূত হয় না, তাই পানি থিনার হিসেবে চলে না। পেট্রোল দাহ্য ও বিপজ্জনক বলে এ কাজে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না। রঙের প্রকারভেদে থিনার বদলে যায়। তেল-রঙে তারপিন বা মিনারেল তারপিন ব্যবহৃত হয়, আর পানি-ভিত্তিক রঙে পানি দিয়েই পাতলা করা যায়।
    মনে রাখুন:
    তারপিনের প্রধান উপাদান পাইনিন (Pinene)।
    তারপিন তেলকে ঔষধ ও বার্নিশেও ব্যবহার করা হয়।
  184. ২২৯. কোনগুলো দিয়ে লিপস্টিক তৈরি হয়?গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল এন্ড পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং), ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবিধ রাসায়নিক পদার্থ
    • ক. গ্রীজ এবং গ্লিসারিন
    • খ. গ্রীজ, রঞ্জক এবং একটি দ্রাবক
    • গ. গ্লিসারিন ও রঞ্জক
    • ঘ. গ্রীজ এবং দ্রাবক
    উত্তর: খ. গ্রীজ, রঞ্জক এবং একটি দ্রাবক
    লিপস্টিক তৈরিতে তিন ধরনের উপাদান লাগে। এতে থাকে তেল ও মোম জাতীয় পদার্থ, যা লিপস্টিককে আকার ও মসৃণতা দেয়, রঞ্জক পদার্থ, যা রঙ দেয়, এবং একটি দ্রাবক, যা রঞ্জককে সমানভাবে ছড়াতে সাহায্য করে। এই তিনটি একসঙ্গে থাকলে লিপস্টিক ঠোঁটে সহজে লাগে এবং রঙও সমান হয়। এর সঙ্গে সুগন্ধি ও সংরক্ষকও কম পরিমাণে মেশানো হয়। লিপস্টিকের রঞ্জক হিসেবে আগের দিনে প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহৃত হতো, আর এখন সাধারণত নিরাপদ কৃত্রিম রঞ্জক ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    লিপস্টিকের মোম আসে মৌমাছির মোম বা কার্নাউবা মোম থেকে।
    শুধু গ্লিসারিন বা শুধু গ্রিজ দিয়ে লিপস্টিক হয় না।
  185. ২৩০. কোনটি বিস্ফোরক পদার্থ?বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিস্ফোরক ও কীটনাশক
    • ক. ডি.ডি.টি
    • খ. টি.এন.টি
    • গ. সি.এফ.সি
    • ঘ. আয়োডেক্স
    উত্তর: খ. টি.এন.টি
    টি.এন.টি (TNT) একটি বিস্ফোরক পদার্থ। এর পূর্ণ নাম ট্রাইনাইট্রোটলুইন (Trinitrotoluene)। টলুইনের বেনজিন বলয়ে তিনটি নাইট্রো (–NO₂) গ্রুপ যুক্ত হলে এটি তৈরি হয়। টি.এন.টি আঘাতে সহজে ফাটে না, তাই নিরাপদে বহন করা যায়। বাকি তিনটির কোনোটিই বিস্ফোরক নয়। ডি.ডি.টি একটি কীটনাশক, সি.এফ.সি রেফ্রিজারেটরের গ্যাস এবং আয়োডেক্স ব্যথার মলম। বিস্ফোরক পদার্থ সাধারণত অল্প সময়ে প্রচুর গ্যাস ও তাপ নির্গত করে বলে বিস্ফোরণ ঘটে। খনি খনন ও সড়ক নির্মাণেও বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    সি.এফ.সি (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) ওজোন স্তর ক্ষয় করে।
    টি.এন.টি আলফ্রেড নোবেলের ডিনামাইটের চেয়ে নিরাপদ।
  186. ২৩১. নিচের কোন রাসায়নিক দ্রব্য বিস্ফোরক পদার্থ?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিস্ফোরক ও কীটনাশক
    • ক. ট্রাই-নাইট্রো-টলুইন
    • খ. পানি
    • গ. সোডিয়াম
    • ঘ. চিনি
    উত্তর: ক. ট্রাই-নাইট্রো-টলুইন
    ট্রাই-নাইট্রো-টলুইন (TNT) একটি বিস্ফোরক পদার্থ। টলুইনকে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিডের মিশ্রণ দিয়ে নাইট্রেশন করে এটি তৈরি করা হয়। এটি আঘাতে সহজে ফাটে না, তাই নিরাপদে বহন করা যায়। এজন্য সামরিক ও খনির কাজে এর ব্যবহার বেশি। পানি, সোডিয়াম ও চিনি বিস্ফোরক নয়, যদিও সোডিয়াম পানির সঙ্গে প্রচণ্ড বিক্রিয়া করে। অন্যান্য পরিচিত বিস্ফোরক হলো নাইট্রোগ্লিসারিন, ডিনামাইট এবং পিক্রিক এসিড। এগুলোর সবগুলোতেই নাইট্রো গ্রুপ বা নাইট্রেট গ্রুপ থাকে।
    মনে রাখুন:
    বিস্ফোরকের শক্তি মাপার একক হিসেবে TNT-এর সমতুল্য ব্যবহার করা হয়।
    TNT একটি অ্যারোমেটিক যৌগ।
  187. ২৩২. ডি.ডি.টি এক ধরনের-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বরিশাল বিভাগ), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিস্ফোরক ও কীটনাশক
    • ক. কীটনাশক ঔষধ
    • খ. বিস্ফোরক
    • গ. রোগ প্রতিষেধক
    • ঘ. পানি বিশোধক
    উত্তর: ক. কীটনাশক ঔষধ
    ডি.ডি.টি (DDT) একটি কীটনাশক। এর পূর্ণ নাম ডাইক্লোরো-ডাইফিনাইল-ট্রাইক্লোরোইথেন। এটি মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় মারতে ব্যবহার করা হতো। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে একসময় এটি বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এটি পরিবেশে দীর্ঘদিন থেকে যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খলে জমা হয়। তাই অনেক দেশে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। ডি.ডি.টি একটি জৈব ক্লোরিনযুক্ত যৌগ। এটি চর্বিতে দ্রবীভূত হয়ে প্রাণীদেহে জমতে থাকে, ফলে পাখির ডিমের খোসা পাতলা হওয়ার মতো ক্ষতিও দেখা যায়।
    মনে রাখুন: ডি.ডি.টির কীটনাশক ধর্ম আবিষ্কার করেন সুইস রসায়নবিদ পল হারমান মুলার, যিনি এজন্য ১৯৪৮ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
  188. ২৩৩. একটি কীটনাশক ঔষধখাদ্য অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর, ১৯৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিস্ফোরক ও কীটনাশক
    • ক. প্যালড্রিন
    • খ. কুইনিন
    • গ. পেনিসিলিন
    • ঘ. গ্যামাক্সিন
    উত্তর: ঘ. গ্যামাক্সিন
    গ্যামাক্সিন (Gammexane) একটি কীটনাশক। এর রাসায়নিক নাম গামা-বেনজিন হেক্সাক্লোরাইড (γ-BHC), যা লিন্ডেন (Lindane) নামেও পরিচিত। ফসলের পোকা ও ঘরের পোকামাকড় মারতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। প্যালড্রিন ও কুইনিন ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং পেনিসিলিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, তাই এগুলো কীটনাশক নয়। গ্যামাক্সিন উৎপাদনে বেনজিন ও ক্লোরিনের বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। কয়েকটি আইসোমারের মধ্যে কেবল গামা-আইসোমারই কীটনাশক হিসেবে কার্যকর। গ্যামাক্সিন গুঁড়ো বা দ্রবণ হিসেবে ফসলের খেতে ছিটানো হতো এবং ঘরবাড়ি ও গুদামে উইপোকা ও অন্যান্য পোকা দমনেও কাজে লাগত। এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে এর ব্যবহার অনেক দেশে সীমিত বা নিষিদ্ধ।
    মনে রাখুন:
    ডি.ডি.টির মতো গ্যামাক্সিনও পরিবেশে সহজে ভাঙে না।
    কীটনাশক ব্যবহারে ফসলে ও পানিতে বিষ জমার ঝুঁকি থাকে।
  189. ২৩৪. গ্যামাক্সিন কি?রাবি (সমাজকর্ম বিভাগ) ভর্তি, ২০০৩-০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিস্ফোরক ও কীটনাশক
    • ক. শক্তিশালী জীবাণুনাশক
    • খ. রঞ্জক পদার্থ
    • গ. ইথিলিনের পলিমার
    • ঘ. বিষাক্ত কাঁদানে গ্যাস
    উত্তর: ক. শক্তিশালী জীবাণুনাশক
    গ্যামাক্সিন (Gammexane) পোকামাকড় ও জীবাণু মারার শক্তিশালী রাসায়নিক। এর রাসায়নিক নাম গামা-বেনজিন হেক্সাক্লোরাইড (γ-BHC), যার আরেক নাম লিন্ডেন। প্রধানত এটি কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি রঞ্জক পদার্থ নয়, ইথিলিনের পলিমারও নয় এবং কাঁদানে গ্যাসও নয়। তাই দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কাছের উত্তর শক্তিশালী জীবাণুনাশক। গ্যামাক্সিনের কার্যকর অংশ গামা-আইসোমার। এটি পোকার স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে তাকে অবশ করে মেরে ফেলে। গ্যামাক্সিনের প্রতিটি অণুতে ছয়টি কার্বন, ছয়টি হাইড্রোজেন ও ছয়টি ক্লোরিন পরমাণু আছে। এ কারণে এর সংকেত C₆H₆Cl₆।
    মনে রাখুন:
    ইথিলিনের পলিমার হলো পলিইথিলিন, যা দিয়ে পলিথিন ব্যাগ তৈরি হয়।
    গ্যামাক্সিন ও ডি.ডি.টি উভয়ই ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক।
  190. ২৩৫. কাঠের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাঠ ও কাগজ
    • ক. সেলুলোজ
    • খ. স্টার্চ
    • গ. হাইড্রোকার্বন
    • ঘ. হাইড্রোজেন
    উত্তর: ক. সেলুলোজ
    কাঠের প্রধান রাসায়নিক উপাদান সেলুলোজ (Cellulose)। গাছের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে তৈরি, আর কাঠ আসলে গাছের শক্ত কোষের সমষ্টি। কাঠের প্রায় অর্ধেকই সেলুলোজ, বাকিটা মূলত লিগনিন ও হেমিসেলুলোজ। লিগনিন কাঠকে শক্ত করে। স্টার্চ উদ্ভিদের সঞ্চিত খাদ্য, কাঠের কাঠামোর উপাদান নয়। কাঠ জ্বালালে মূলত সেলুলোজ ও লিগনিন পোড়ে, ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়। কাঠ শুকনো অবস্থায় উৎকৃষ্ট জ্বালানি। কাঠ থেকে কাগজ, রেয়ন ও আসবাবপত্র তৈরি হয়। গাছ বড় হলে সেলুলোজের পরিমাণ বাড়ে এবং কাঠ আরও শক্ত ও টেকসই হয়, আবার শুকিয়ে গেলে কাঠের ওজন অনেক কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    সেলুলোজ গ্লুকোজের বহু অণু জুড়ে তৈরি একটি পলিস্যাকারাইড।
    সেলুলোজের সংকেত (C₆H₁₀O₅)ₙ।
  191. ২৩৬. কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান -NSI ফিল্ড অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাঠ ও কাগজ
    • ক. লিগনিন
    • খ. কুইনিন
    • গ. রেজিন
    • ঘ. হেমিসেলুলোজ
    উত্তর: ঘ. হেমিসেলুলোজ
    কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান সেলুলোজ (Cellulose)। গাছের তন্তু থেকে মণ্ড তৈরি করে কাগজ বানানো হয়, আর এ তন্তুর মূল উপাদানই সেলুলোজ। লিগনিন ও রেজিন তন্তুকে শক্ত ও হলুদাভ করে, তাই ভালো কাগজ বানাতে মণ্ড থেকে এগুলো বের করে ফেলা হয়। কুইনিন একটি ম্যালেরিয়ার ওষুধ, কাগজের উপাদান নয়। কাগজের সেলুলোজকে পানি টেনে ফোলাতে পারে, এ কারণেই ভিজে কাগজ নরম হয়ে ছিঁড়ে যায়। পুরোনো বইয়ের কাগজ হলুদ হয়ে যায় লিগনিন ক্ষয় হওয়ার কারণে।
    মনে রাখুন:
    সেলুলোজ পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রচুর পাওয়া জৈব যৌগ।
    মানুষ সেলুলোজ হজম করতে পারে না।
  192. ২৩৭. সেলোফেন আজকাল মোড়ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটার প্রধান কাঁচামাল কোথা থেকে পাওয়া যায়?শ্রম অধিদপ্তরের শ্রম কর্মকর্তা ও জনসংখ্যা পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাঠ ও কাগজ
    • ক. বালি
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. কয়লা
    • ঘ. গাছ
    উত্তর: ঘ. গাছ
    সেলোফেন (Cellophane) তৈরির প্রধান কাঁচামাল সেলুলোজ, যা পাওয়া যায় গাছ থেকে। কাঠের মণ্ড ক্ষারে ও কার্বন ডাই-সালফাইডে মিশিয়ে ভিসকোস নামে একটি তরল তৈরি করা হয়। একে পাতলা পর্দার আকারে ঢেলে স্বচ্ছ সেলোফেন তৈরি হয়। সেলোফেন পরিবেশে ভেঙে যায়, তাই এটি পলিথিনের চেয়ে পরিবেশবান্ধব। বালি, চুনাপাথর বা কয়লা এর কাঁচামাল নয়। সেলোফেন আবিষ্কার করেন সুইস রসায়নবিদ জ্যাক ব্র্যান্ডেনবার্গার, ১৯০৮ সালের দিকে। এটি জলরোধী নয়, তবে তেল ও বাতাস আটকায়।
    মনে রাখুন:
    সেলোফেন পুনর্জাত সেলুলোজ, অর্থাৎ রেয়নের মতো একই ধরনের উপাদান।
    সেলোফেন মোড়ক হিসেবে খাবার ও সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহার হয়।
  193. ২৩৮. টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান কোনটি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. Na₂CO₃
    • খ. NaOH
    • গ. NH₄OH
    • ঘ. (NH₄)₂CO₃
    উত্তর: খ. NaOH
    টয়লেট ক্লিনারের কাজ হলো পাকা মেঝে ও পাত্রের জমে থাকা ময়লা, চর্বি ও দাগ ধুয়ে ফেলা। এ কাজে তীব্র ক্ষারীয় পদার্থ খুব কার্যকর। কস্টিক সোডা বা সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) একটি শক্তিশালী ক্ষার, যা চর্বি ও তেলজাতীয় ময়লাকে সাবানের মতো পদার্থে ভেঙে পানিতে ধুয়ে যেতে দেয়। তাই ক্লিনারের প্রধান উপাদান হিসেবে NaOH কে ধরা হয়। এর সঙ্গে সাধারণত ডিটারজেন্ট, রং ও সুগন্ধি মেশানো থাকে। বাকি তিনটি যৌগ NaOH-এর মতো তীব্র ক্ষারীয় নয়। কাপড় কাচার সোডা Na₂CO₃ মৃদু ক্ষার, আর NH₄OH ও (NH₄)₂CO₃ আরও মৃদু।
    মনে রাখুন:
    NaOH এর অপর নাম কস্টিক সোডা, আর KOH কে কস্টিক পটাশ বলে।
    তীব্র ক্ষার চামড়ায় লাগলে পুড়ে যায়, তাই ক্লিনার ব্যবহারে হাতে গ্লাভস পরা উচিত।
  194. ২৩৯. হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হলো—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নোবেল গ্যাস
    • ক. He
    • খ. He²⁺
    • গ. He₂
    • ঘ. He⁺
    উত্তর: ক. He
    যেসব মৌলের পরমাণু একা থেকেই স্থিতিশীল, তাদের অণুও একটিমাত্র পরমাণু দিয়ে গঠিত হয়, একে এক-পরমাণুক অণু (Monoatomic) বলে। হিলিয়াম (He) এ ধরনের মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ২, আর এর সর্বশেষ কক্ষপথ ইলেকট্রনে পূর্ণ থাকায় এটি অন্য কোনো পরমাণুর সঙ্গে সহজে যুক্ত হয় না। হিলিয়াম বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। তাই এর অণুর সংকেত He। He₂ লিখলে দুই পরমাণুর অণু বোঝায়, যা হিলিয়ামের ক্ষেত্রে ঘটে না। আর He⁺ ও He²⁺ আয়নের সংকেত, অণুর নয়।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোজেনের পর হিলিয়াম মহাবিশ্বে দ্বিতীয় প্রচুর মৌল।
    হিলিয়াম বেলুন ও গভীর সমুদ্রে ডুবুরিদের শ্বাস-গ্যাসে ব্যবহৃত হয়।
  195. ২৪০. কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোনটি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ
    • ক. সাদামাটি
    • খ. চুনাপাথর
    • গ. জিপসাম
    • ঘ. বালি
    উত্তর: ঘ. বালি
    কাচ হলো সোডিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো ধাতুর সিলিকেটের তৈরি শক্ত ও স্বচ্ছ পদার্থ। এর প্রধান কাঁচামাল বালি, কারণ বালির মূল উপাদান সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SiO₂) বা সিলিকা। বালির সঙ্গে সোডা অ্যাশ (সোডিয়াম কার্বনেট) ও চুনাপাথর মিশিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় গলালে কাচ পাওয়া যায়। সোডা অ্যাশ গলনাঙ্ক কমায়, আর চুনাপাথর কাচকে শক্ত ও পানিতে অদ্রবণীয় করে। তাই চুনাপাথর সহায়ক উপাদান হলেও প্রধান কাঁচামাল নয়। সাদামাটি তৈরি করে চীনামাটির বাসনপত্র, আর জিপসাম সিমেন্টের কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    কাচ কেলাসিত নয়, অনিয়তাকার (Amorphous) কঠিন পদার্থ।
    রং করার জন্য কাচে বিভিন্ন ধাতব অক্সাইড মেশানো হয়।
  196. ২৪১. হীরক কোন মৌলের বিশেষ রূপ?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন
    • ক. সিলিকন
    • খ. কার্বন
    • গ. স্বর্ণ
    • ঘ. প্ল্যাটিনাম
    উত্তর: খ. কার্বন
    একই মৌল যখন ভিন্ন ভিন্ন গঠনে পাওয়া যায় এবং তাদের ভৌত ধর্ম আলাদা হয়, তখন এই বৈশিষ্ট্যকে রূপভেদ (Allotropy) বলে। হীরক বা হীরা কার্বনের রূপভেদ। হীরকে প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি অন্য কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত থাকে। এই ত্রিমাত্রিক কাঠামোর কারণে এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে কঠিন পদার্থ এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। কার্বনের আরেকটি রূপভেদ গ্রাফাইট, যা নরম এবং বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। সিলিকন, স্বর্ণ ও প্ল্যাটিনাম হীরকের গঠনে কোনো ভূমিকা রাখে না।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের রূপভেদ: হীরক, গ্রাফাইট, ফুলারিন।
    পেনসিলের শিস গ্রাফাইটের তৈরি, সীসার নয়।
  197. ২৪২. Dry ice বলা হয়—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. হিমায়িত অক্সিজেনকে
    • খ. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
    • গ. হিমায়িত কার্বন মনোঅক্সাইডকে
    • ঘ. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
    উত্তর: ঘ. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
    কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাসকে চাপ দিয়ে ঠান্ডা করে নেওয়া হলে সেটি জমাট বেঁধে সাদা কঠিন পদার্থে পরিণত হয়। এই কঠিন CO₂-কে শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস (Dry Ice) বলে। সাধারণ বরফ গলে পানি হয় এবং জিনিসকে ভিজিয়ে দেয়, কিন্তু ড্রাই আইস তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাস হয়ে উড়ে যায়, এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। এর তাপমাত্রা প্রায় −78.5°C, তাই ড্রাই আইস হিমায়ক হিসেবে আইসক্রিম ও খাদ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হয়। মঞ্চে ধোঁয়ার প্রভাব তৈরিতেও এটি কাজে লাগে। অক্সিজেন বা কার্বন মনোক্সাইড জমালে ড্রাই আইস হয় না।
    মনে রাখুন:
    ঊর্ধ্বপাতী পদার্থের উদাহরণ: ড্রাই আইস, নেফথালিন, কর্পূর, আয়োডিন।
    CO₂ আগুন নেভাতে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি দহনে সাহায্য করে না।
  198. ২৪৩. ক্রাফট প্রসেস (Kraft Process) কোন শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাগজ শিল্প
    • ক. সিমেন্ট
    • খ. সাবান
    • গ. কাগজ
    • ঘ. বস্ত্র
    উত্তর: গ. কাগজ
    ক্রাফট প্রক্রিয়া (Kraft Process) কাগজ শিল্পের প্রধান পদ্ধতি। কাগজ তৈরি হয় কাঠ, বাঁশ বা বাগাস থেকে পাওয়া সেলুলোজ তন্তু দিয়ে। কাঠের ভেতরে সেলুলোজের সঙ্গে লিগনিন নামের একটি আঠালো পদার্থ থাকে, যা কাগজ তৈরির জন্য অসুবিধাজনক। এই পদ্ধতিতে কাঠের টুকরোকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের গরম দ্রবণে সেদ্ধ করা হয়, ফলে লিগনিন গলে বেরিয়ে যায় এবং খাঁটি সেলুলোজের মণ্ড পাওয়া যায়। সেই মণ্ড ধুয়ে, ব্লিচ করে কাগজ বানানো হয়। সিমেন্ট, সাবান বা বস্ত্র শিল্পে এই প্রক্রিয়ার ব্যবহার নেই।
    মনে রাখুন:
    ক্রাফট জার্মান শব্দ, যার অর্থ শক্তি, কারণ এই প্রক্রিয়ায় তৈরি কাগজ শক্ত হয়।
    বাংলাদেশের কর্ণফুলী পেপার মিল চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত।
  199. ২৪৪. কোন সাবান শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. ফ্যাট
    • খ. NaOH
    • গ. Ca(OH)₂
    • ঘ. গ্লিসারিন
    উত্তর: গ. Ca(OH)₂
    সাবান তৈরির মূল কাঁচামাল তেল বা চর্বি, অর্থাৎ ফ্যাট। এই চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) বা পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) এর মতো ক্ষারের সঙ্গে গরম করলে সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি হয়। এই বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে। গ্লিসারিন এই বিক্রিয়ার উপজাত, যা আলাদা করে প্রসাধনী ও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে ফ্যাট, NaOH ও গ্লিসারিন, তিনটিই সাবান শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিপরীতে Ca(OH)₂ বা চুনের পানি সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না।
    মনে রাখুন:
    NaOH দিয়ে শক্ত সাবান এবং KOH দিয়ে নরম সাবান হয়।
    পানিতে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম লবণ থাকলে তাকে খর পানি বলে। খর পানিতে সাবান ভালো ফেনা দেয় না।
  200. ২৪৫. কোনটি নোবেল গ্যাস নয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নোবেল গ্যাস
    • ক. আর্গন
    • খ. হিলিয়াম
    • গ. ওজোন
    • ঘ. নিয়ন
    উত্তর: গ. ওজোন
    পর্যায় সারণির শেষ গোষ্ঠীর মৌলগুলোর বাইরের কক্ষপথ ইলেকট্রনে পূর্ণ থাকে, তাই এরা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রায় অংশ নেয় না। এদের নিষ্ক্রিয় বা নোবেল গ্যাস (Noble Gas) বলে। এই গোষ্ঠীর মৌল ছয়টি: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। ওজোন (O₃) হলো অক্সিজেনের একটি রূপভেদ, যা খুবই সক্রিয় গ্যাস। তাই এটি নোবেল গ্যাস নয়। নোবেল গ্যাসকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয় এই কারণে যে, এদের রাসায়নিক বন্ধন গঠনের প্রবণতা প্রায় নেই। এদের পরমাণু একক পরমাণু হিসেবেই থাকে।
    মনে রাখুন:
    হিলিয়াম বেলুন ও গভীর সমুদ্রে ডুবুরির শ্বাসগ্যাসে ব্যবহৃত হয়।
    নিয়ন সাইনবোর্ডের লাল-কমলা আলো দেয়।
    রেডন তেজস্ক্রিয়।
  201. ২৪৬. রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডার গ্যাস (LPG)-এর প্রধান উপাদান হলো–পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এলপিজি
    • ক. মিথেন
    • খ. ইথেন
    • গ. প্রোপেন
    • ঘ. বিউটেন
    উত্তর: ঘ. বিউটেন
    এলপিজি (LPG) এর পূর্ণরূপ Liquefied Petroleum Gas, অর্থাৎ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস। এটি প্রোপেন (C₃H₈) ও বিউটেন (C₄H₁₀) এই দুটি হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। চাপ দিলে এই গ্যাসগুলো সহজেই তরল হয়ে যায়, তাই কম জায়গায় বেশি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরা যায়। রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের গ্যাসে বিউটেনের অংশ বেশি থাকে। মিথেন প্রাকৃতিক গ্যাস, যাকে সিএনজিতে (CNG) সংকুচিত করে ব্যবহার করা হয়, আর ইথেনও অন্য ধরনের গ্যাস।
    মনে রাখুন:
    LPG বায়ুর চেয়ে ভারী, তাই লিক করলে নিচের দিকে জমে।
    লিক ধরা যাওয়ার জন্য এতে গন্ধযুক্ত ইথাইল মার্ক্যাপ্টান মেশানো হয়।
  202. ২৪৭. 'Plaster of Paris' কোথায় ব্যবহৃত হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্লাস্টার অব প্যারিস
    • ক. হৃদরোগের চিকিৎসায়
    • খ. হাঁপানির চিকিৎসায়
    • গ. হাড়ভাঙার চিকিৎসায়
    • ঘ. ডায়রিয়ার চিকিৎসায়
    উত্তর: গ. হাড়ভাঙার চিকিৎসায়
    প্লাস্টার অব প্যারিস (Plaster of Paris) হলো ক্যালসিয়াম সালফেটের অর্ধজলীয় লবণ (CaSO₄·½H₂O), যা সাদা গুঁড়া। জিপসামকে (CaSO₄·2H₂O) প্রায় 120°C-এ গরম করে এটি তৈরি করা হয়। পানি মেশালে এটি কিছুক্ষণের মধ্যে জমে শক্ত হয়ে যায় এবং ফুলে ওঠে, ফলে ছাঁচের প্রতিটি অংশে ঢুকে যায়। এ কারণে ভাঙা হাড় জোড়া দেওয়ার সময় ব্যান্ডেজের উপর প্লাস্টার করে হাড়কে স্থির রাখা হয়। এছাড়া মূর্তি ও খেলনা তৈরি এবং দেয়ালের সাজসজ্জায় এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    জিপসাম = CaSO₄·2H₂O।
    প্লাস্টার অব প্যারিস শুকনো স্থানে রাখতে হয়, নইলে বাতাসের আর্দ্রতায় জমে যায়।
  203. ২৪৮. কাঁদানে গ্যাসের অপর নাম-বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাঁদানে গ্যাস
    • ক. ইথেন
    • খ. মিথেন
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. ক্লোরোপিক্রিন
    উত্তর: ঘ. ক্লোরোপিক্রিন
    কাঁদানে গ্যাস বলতে সাধারণত এমন রাসায়নিক পদার্থ বোঝায়, যা চোখে লাগলে জ্বালা ও অশ্রু ঝরায়। এই ধরনের পদার্থের মধ্যে ক্লোরোপিক্রিন (Chloropicrin) একটি। এটি বর্ণহীন তরল, গন্ধ খুব তীব্র ও ঝাঁঝালো, আর চোখ, ত্বক ও ফুসফুসে প্রদাহ ঘটায়। এর সংকেত CCl₃NO₂ এবং রাসায়নিক নাম ট্রাইক্লোরোনাইট্রোমিথেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন এটি কীটনাশক ও মাটি জীবাণুমুক্ত করার কাজে লাগে। ইথেন ও মিথেন হাইড্রোকার্বন, আর নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির গ্যাস, এগুলোর কোনোটিই কাঁদানে গ্যাস নয়।
    মনে রাখুন:
    ক্লোরোপিক্রিনের সংকেত: CCl₃NO₂।
    এটি একাধারে কীটনাশক ও কাঁদানে পদার্থ।
  204. ২৪৯. কোন ধাতু সবচেয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ক্ষয়
    • ক. তামা
    • খ. লোহা
    • গ. দস্তা
    • ঘ. সোনা
    উত্তর: গ. দস্তা
    ধাতুর ক্ষয় নির্ভর করে তার সক্রিয়তার ওপর। যে ধাতু যত সক্রিয়, বাতাস ও পানির সঙ্গে সে তত সহজে বিক্রিয়া করে। সক্রিয়তা সিরিজে এই চারটি ধাতুর ক্রম হলো দস্তা, লোহা, তামা, সোনা। অর্থাৎ দস্তা (Zinc) সবচেয়ে সক্রিয়, আর সোনা সবচেয়ে নিষ্ক্রিয়। তাই সোনায় সহজে মরিচা বা ক্ষয় ধরে না, বহু বছর মাটিতে পড়ে থাকলেও এটি উজ্জ্বল থাকে। তামা তুলনামূলক কম সক্রিয়, তাই ধীরে ধীরে সবুজ আস্তরণ পড়ে। লোহা মরিচা ধরে ক্ষয় হয়।
    মনে রাখুন:
    লোহাকে মরিচা থেকে বাঁচাতে দস্তার প্রলেপ (গ্যালভানাইজেশন) দেওয়া হয়।
    সোনা, প্লাটিনাম ও রুপা তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় ধাতু।
  205. ২৫০. CNG-এর মূল উপাদান কী?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. মিথেন
    • গ. ইথেন
    • ঘ. অকটেন
    উত্তর: খ. মিথেন
    সিএনজি (CNG) পুরো কথাটি Compressed Natural Gas, অর্থাৎ সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), আর সিএনজির প্রায় পুরোটাই এই মিথেন। উচ্চচাপে সংকুচিত করা হলে গ্যাসের আয়তন স্বাভাবিক আয়তনের ১ শতাংশেরও কম হয়ে যায়, ফলে এটি সিলিন্ডারে ভরে গাড়িতে ব্যবহার করা যায়। পেট্রল-ডিজেলের তুলনায় এটি কম ধোঁয়া ছাড়ে, তাই পরিবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো। ইথেন প্রাকৃতিক গ্যাসে অল্প থাকে, অকটেন পেট্রলের উপাদান, আর অক্সিজেন তো জ্বালানি নয়।
    মনে রাখুন:
    এলপিজি (LPG) প্রধানত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ।
    আমাদের দেশে বেশির ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাসের খনি সিলেট অঞ্চলে।
  206. ২৫১. কোন ধাতু কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. রেডিয়াম
    • খ. জিংক
    • গ. প্রোটোঅ্যাক্টিনিয়াম
    • ঘ. মার্কারি
    উত্তর: ঘ. মার্কারি
    ধাতু সাধারণত কঠিন, কিন্তু পারদ বা মার্কারি (Mercury, প্রতীক Hg) এর ব্যতিক্রম। এটিই একমাত্র ধাতু, যা সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকে। পারদের গলনাঙ্ক প্রায় −৩৯°C, তাই ঘরের তাপমাত্রায় এটি তরল। থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার ও কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রে এর ব্যবহার আছে। তবে পারদের বাষ্প বিষাক্ত। রেডিয়াম তেজস্ক্রিয় কঠিন ধাতু, দস্তা বা জিংকও কঠিন, আর প্রোটোঅ্যাক্টিনিয়াম তেজস্ক্রিয় কঠিন ধাতু। অধাতুর মধ্যে একমাত্র ব্রোমিন কক্ষ তাপমাত্রায় তরল।
    মনে রাখুন:
    তরল ধাতু: পারদ।
    তরল অধাতু: ব্রোমিন।
    গ্যালিয়াম ও সিজিয়াম প্রায় কক্ষ তাপমাত্রায় গলে যায়, তবু কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন।
  207. ২৫২. ২২ ক্যারেট স্বর্ণে কতভাগ স্বর্ণ থাকে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যারেট ও সংকর
    • ক. 100%
    • খ. 95.37%
    • গ. 91.67%
    • ঘ. 75%
    উত্তর: গ. 91.67%
    খাঁটি সোনা বা ২৪ ক্যারেট সোনা খুব নরম, তাই গয়না বানাতে এতে তামা বা রুপার মতো অন্য ধাতু মেশানো হয়। ক্যারেট (Carat) হলো সোনার বিশুদ্ধতার মাপ। ২৪ ক্যারেটকে পুরো, অর্থাৎ ১০০ ভাগ ধরা হয়। ২২ ক্যারেট সোনায় ২৪ ভাগের মধ্যে ২২ ভাগ খাঁটি সোনা থাকে।
    শতকরা হার = (22/24) × 100 = 91.67%
    বাকি প্রায় 8.33% থাকে অন্য ধাতু। বাকি ধাতু মেশানোর ফলে গয়না শক্ত হয়, কিন্তু রং কিছুটা বদলে যায়। বিশুদ্ধতার হিসাব তাই ক্যারেট ধরে করা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮ ক্যারেট: 75%।
    ২১ ক্যারেট: 87.5%।
    ১৪ ক্যারেট: প্রায় 58.3%।
    গয়নায় বেশি ব্যবহৃত হয় ২২ ক্যারেট।
  208. ২৫৩. 'ব্রোঞ্জ' কোন দুটি ধাতুর সংকর?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. অ্যালুমিনিয়াম ও টিন
    • খ. কপার ও টিন
    • গ. কপার ও গোল্ড
    • ঘ. কপার ও সিলভার
    উত্তর: খ. কপার ও টিন
    দুই বা তার বেশি ধাতু মিশিয়ে যে নতুন ধাতব পদার্থ তৈরি করা হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। ব্রোঞ্জ (Bronze) তামা (কপার) ও টিনের সংকর। সাধারণ ব্রোঞ্জে প্রায় ৮৮ শতাংশ তামা আর ১২ শতাংশ টিন থাকে। এটি তামার চেয়ে শক্ত এবং সহজে ক্ষয় হয় না, তাই মূর্তি, ঘণ্টা ও মুদ্রা বানাতে ব্যবহার করা হয়। মানব সভ্যতার একটি যুগের নামই ব্রোঞ্জ যুগ। অ্যালুমিনিয়াম ও টিন, কপার ও সোনা বা কপার ও রুপার মিশ্রণ ব্রোঞ্জ নয়।
    মনে রাখুন:
    পিতল (ব্রাস): তামা ও দস্তা।
    স্টিল: লোহা ও কার্বন।
    ডুরালুমিন: অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।
  209. ২৫৪. সি.এন.জি (CNG) কী?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি
    • ক. সম্প্রসারিত প্রাকৃতিক গ্যাস
    • খ. সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস
    • গ. সংকুচিত বিউটেন গ্যাস
    • ঘ. এক ধরনের ত্রিচক্রযান
    উত্তর: খ. সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস
    সিএনজি (CNG) কথাটি এসেছে Compressed Natural Gas থেকে, যার বাংলা অর্থ সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, একে খুব উচ্চ চাপে সংকুচিত করে সিলিন্ডারে ভরা হয়। কম জায়গায় বেশি গ্যাস রাখা যায় বলে এই ব্যবস্থা। যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে সিএনজি পেট্রল বা ডিজেলের চেয়ে কম ধোঁয়া ও দূষণ ছড়ায়। সম্প্রসারিত গ্যাস বা সংকুচিত বিউটেন সিএনজি নয়। বিউটেন এলপিজির অংশ। আমাদের দেশে সিএনজিচালিত ত্রিচক্রযান চলে বলে শেষ বিকল্পটি এসেছে। কিন্তু সিএনজি নিজে যান নয়, এটি জ্বালানি।
    মনে রাখুন:
    সিএনজির প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)।
    এলপিজি তরল গ্যাস, প্রধানত প্রোপেন ও বিউটেন।
  210. ২৫৫. সাবানকে শক্ত করে—ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. সোডিয়াম কার্বোনেট
    • খ. সোডিয়াম সিলিকেট
    • গ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • ঘ. সোডিয়াম সালফেট
    উত্তর: খ. সোডিয়াম সিলিকেট
    সাবান তৈরির সময় তেল বা চর্বির সঙ্গে ক্ষার মিশিয়ে ফোটানো হয়। এতে যে সাবান তৈরি হয়, তা নরম। একে শক্ত ও টেকসই করতে সোডিয়াম সিলিকেট (Na₂SiO₃) মেশানো হয়। এটি সাবানের পিণ্ডকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং পানিতে সহজে গলে যাওয়া ঠেকায়। এছাড়া এটি সাবানের ক্ষারত্ব কিছুটা বাড়ায় বলে ময়লা কাটানোর ক্ষমতাও ভালো করে। সোডিয়াম ক্লোরাইড অর্থাৎ খাবার লবণ সাবান তৈরির পরে সাবানকে দ্রবণ থেকে আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    সাবানের সাধারণ সংকেত R-COONa, যেখানে R একটি দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল।
    সাবানের এই আলাদা করার পদ্ধতিকে লবণ-বিযুক্তকরণ (Salting out) বলে।
    শক্ত পানিতে সাবান ফেনা তৈরি করে না।
  211. ২৫৬. পটাশিয়ামবাহী সার কোনটি?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সার
    • ক. ইউরিয়া
    • খ. টিএসপি
    • গ. ডিএপি
    • ঘ. মিউরেট অব পটাশ
    উত্তর: ঘ. মিউরেট অব পটাশ
    উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K) অপরিহার্য। যে সার প্রধানত পটাশিয়াম জোগায়, তাকে পটাশিয়ামবাহী সার বলে। মিউরেট অব পটাশ হলো পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl)। এটি মাটিতে পটাশিয়াম আয়ন (K⁺) সরবরাহ করে, যা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফল-ফসলের গুণ ভালো করে। ইউরিয়া নাইট্রোজেনবাহী, আর টিএসপি ও ডিএপি ফসফরাসবাহী (ডিএপিতে নাইট্রোজেনও আছে)। পটাশিয়াম গাছে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, আলু ও ফলের গুণ বাড়ায় এবং শিকড়কে মজবুত করে। মাটিতে এর অভাব হলে পাতার কিনারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    ইউরিয়ায় প্রায় ৪৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
    টিএসপি = ট্রিপল সুপার ফসফেট।
    ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি বাংলাদেশের তিন প্রধান রাসায়নিক সার।
  212. ২৫৭. কপার ও জিঙ্কের সংকর ধাতু কোনটি?বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, উপসহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশল), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. ইস্পাত
    • খ. ব্রাস
    • গ. মোনাল মেটাল
    • ঘ. স্টারলিং সিলভার
    উত্তর: খ. ব্রাস
    দুই বা ততোধিক ধাতু মিশিয়ে যে নতুন ধাতব পদার্থ তৈরি হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। তামা (Cu) ও দস্তা বা জিঙ্ক (Zn) মিশিয়ে ব্রাস বা পিতল তৈরি হয়। এতে সাধারণত ২০-৪০ ভাগ জিঙ্ক থাকে। ইস্পাত লোহা ও কার্বনের সংকর। মোনেল মেটাল নিকেল ও তামার সংকর। আর স্টার্লিং সিলভার রুপা ও সামান্য তামার সংকর।
    মনে রাখুন:
    ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের সংকর।
    বেল মেটাল হলো তামা ও টিনের সংকর, যা ঘণ্টা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
    স্টেইনলেস স্টিল লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেলের সংকর।
  213. ২৫৮. কার্বনিল মূলে কার্বন পরমাণুর সংকরণ কোনটি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. SP
    • খ. SP²
    • গ. SP³
    • ঘ. SP³d
    উত্তর: খ. SP²
    কার্বনিল মূলে (C=O) কার্বন পরমাণু অক্সিজেনের সঙ্গে দ্বিবন্ধন এবং অন্য দুটি পরমাণুর সঙ্গে একক বন্ধনে যুক্ত থাকে। এভাবে কার্বনের তিনটি সিগমা (σ) বন্ধন তৈরি হয় এবং একটি পাই (π) বন্ধন থাকে। তিনটি σ বন্ধনের জন্য তিনটি সংকরিত অরবিটাল লাগে, তাই কার্বন sp² সংকরিত। এই তিনটি বন্ধন একই সমতলে থাকে ও পরস্পরের মধ্যে প্রায় 120° কোণ তৈরি করে, অর্থাৎ আকৃতি সমতলীয় ত্রিকোণ।
    মনে রাখুন:
    sp সংকরণে (যেমন অ্যাসিটিলিন) কোণ 180°, sp³ সংকরণে (যেমন মিথেন) কোণ 109.5°।
    ইথিলিনের কার্বনও sp² সংকরিত।
    অ্যালডিহাইড ও কিটোনে কার্বনিল মূল থাকে।
  214. ২৫৯. ফেনলে কয়টি π ইলেকট্রন আছে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. 4টি
    • খ. 6টি
    • গ. 8টি
    • ঘ. 10টি
    উত্তর: খ. 6টি
    ফেনল (C₆H₅OH) একটি বেনজিন বলয়ে হাইড্রক্সিল (−OH) গ্রুপ যুক্ত যৌগ। বেনজিন বলয়ে তিনটি পাই (π) বন্ধন থাকে, অর্থাৎ ৩টি দ্বিবন্ধনের পাই অংশ। প্রতিটি পাই বন্ধনে ২টি ইলেকট্রন থাকে। তাই মোট π ইলেকট্রন হলো 3 × 2 = 6টি। এই ছয়টি ইলেকট্রন বলয়ের ওপর ও নিচে ছড়িয়ে থাকে (বিস্থানিক হয়), যার ফলে ফেনল স্থিতিশীল হয়। −OH গ্রুপের অক্সিজেনের নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড়া π ইলেকট্রনের সংখ্যায় গণনা করা হয় না।
    মনে রাখুন:
    বেনজিনেও 6টি π ইলেকট্রন আছে (হুকেলের (4n + 2) নিয়মে n = 1)।
    ফেনল সামান্য অম্লীয়, তাই একে কার্বলিক এসিডও বলে।
  215. ২৬০. রেকটিফাইড স্পিরিটে কী পরিমাণ পানি থাকে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যালকোহল
    • ক. 4.4%
    • খ. 8.4%
    • গ. 20%
    • ঘ. 95.6%
    উত্তর: ক. 4.4%
    ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহল পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। তবে পাতন করে একে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করা যায় না। পাতনের ফলে সর্বোচ্চ প্রায় ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির একটি মিশ্রণ পাওয়া যায়, যার স্ফুটনাঙ্ক স্থির থাকে। এই মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (Rectified Spirit) বলে। অর্থাৎ এতে পানির পরিমাণ ৪.৪%, ৯৫.৬% নয়। ৯৫.৬% হলো ইথানলের পরিমাণ, আর এই ভুলটিই পরীক্ষায় বেশি করা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১০০% বিশুদ্ধ ইথানলকে অ্যাবসলিউট অ্যালকোহল (Absolute Alcohol) বলে।
    মিথাইল অ্যালকোহল মেশানো এবং বিষাক্ত রঙিন ইথানলকে বলে মিথিলেটেড স্পিরিট (Methylated Spirit)।
    চিনি বা গুড়ের গাঁজন থেকে ইথানল তৈরি হয়।
  216. ২৬১. ব্রাউন হিমাটাইট কোন ধাতুর আকরিক?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকরিক
    • ক. Fe
    • খ. Ca
    • গ. Mg
    • ঘ. Mn
    উত্তর: ক. Fe
    যে খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে ওই ধাতুর আকরিক (Ore) বলে। ব্রাউন হিমাটাইট বা লিমোনাইট (2Fe₂O₃·3H₂O) আয়রন বা লোহার একটি আকরিক। এতে আর্দ্র আয়রন অক্সাইড থাকে, তাই এর রং বাদামি হয়। লোহার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আকরিক আছে। লোহা নিষ্কাশনের জন্য আকরিক ব্লাস্ট ফার্নেসে কোক ও চুনাপাথরের সঙ্গে গলানো হয়। সেখানে কার্বন মনোক্সাইড আয়রন অক্সাইডকে বিজারিত করে লোহা তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    লোহার আকরিক: হিমাটাইট (Fe₂O₃), ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄), সিডেরাইট (FeCO₃), আয়রন পাইরাইটিস (FeS₂)।
    ম্যাগনেটাইটে লোহার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭২%।
    ক্যালসিয়ামের আকরিক চুনাপাথর, আর ম্যাগনেসিয়ামের আকরিক ম্যাগনেসাইট।
  217. ২৬২. C₅H₁₂-এর মোট সমাণুর সংখ্যা কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমাণু
    • ক. 1
    • খ. 2
    • গ. 3
    • ঘ. 4
    উত্তর: গ. 3
    C₅H₁₂ হলো পেন্টেন, অর্থাৎ অ্যালকেন শ্রেণির পাঁচ কার্বনের যৌগ। এর কার্বন শৃঙ্খলের বিন্যাস তিন রকমের হতে পারে। প্রথমটি সরল শৃঙ্খল, যার নাম n-পেন্টেন। দ্বিতীয়টি একটি শাখা যুক্ত শৃঙ্খল, যার নাম আইসোপেন্টেন (২-মিথাইলবিউটেন)। তৃতীয়টির মাঝের কার্বনে দুটি শাখা থাকে, একে নিওপেন্টেন (২,২-ডাইমিথাইলপ্রোপেন) বলে। এই তিনটি যৌগের আণবিক সংকেত এক হলেও গঠন আলাদা। তাই এরা পরস্পরের সমাণু। নামকরণের জন্য আইইউপিএসি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যেখানে দীর্ঘতম কার্বন শৃঙ্খলের নামের আগে শাখার নাম ও অবস্থান বসে। সমাণুর সংখ্যা এভাবে গুনে বের করা যায়।
    মনে রাখুন:
    বিউটেনের (C₄H₁₀) সমাণু ২টি, হেক্সেনের (C₆H₁₄) সমাণু ৫টি।
    এই সমাণুতাকে শৃঙ্খল সমাণুতা বা গাঠনিক সমাণুতা বলে।
  218. ২৬৩. অ্যালডিহাইড নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা কোনটি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. Na পরীক্ষা
    • খ. 2:4 DNP টেস্ট
    • গ. টলেন বিকারক
    • ঘ. নেসলার দ্রবণ
    উত্তর: গ. টলেন বিকারক
    অ্যালডিহাইড (–CHO) ও কিটোন (>C=O) দুটিতেই কার্বনিল মূলক থাকে। কিন্তু অ্যালডিহাইড সহজেই জারিত হয়, কিটোন হয় না। এই পার্থক্য ধরেই অ্যালডিহাইড নিশ্চিত করা হয়। টলেন বিকারক (অ্যামোনিয়াযুক্ত সিলভার নাইট্রেট দ্রবণ) অ্যালডিহাইডকে জারিত করে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের লবণে পরিণত করে এবং নিজে বিজারিত হয়ে ধাতব সিলভার তৈরি করে। এটি পরীক্ষানলের গায়ে উজ্জ্বল রুপালি আস্তরণ হিসেবে দেখা যায়, একে সিলভার দর্পণ বলে। 2,4-DNP পরীক্ষা অ্যালডিহাইড ও কিটোন দুটিতেই ফল দেয়।
    মনে রাখুন:
    ফেহলিং দ্রবণ অ্যালডিহাইডের সঙ্গে লাল অধঃক্ষেপ দেয়।
    নেসলার দ্রবণ দিয়ে অ্যামোনিয়া শনাক্ত করা হয়।
  219. ২৬৪. কোন মৌলিক পদার্থ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে?শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অধাতু
    • ক. ব্রোমিন
    • খ. ক্লোরিন
    • গ. আয়োডিন
    • ঘ. সালফার
    উত্তর: ক. ব্রোমিন
    সাধারণ তাপমাত্রায় (প্রায় 25°C) মৌলিক পদার্থের মধ্যে মাত্র দুটি তরল থাকে। এদের একটি অধাতু ব্রোমিন (Br), অন্যটি ধাতু পারদ (Hg)। প্রশ্নের চার বিকল্পের মধ্যে একমাত্র ব্রোমিনই তরল। ক্লোরিন গ্যাস, আর আয়োডিন ও সালফার কঠিন। ব্রোমিন গাঢ় লাল-বাদামি রঙের এবং এর গন্ধ ঝাঁঝালো ও বিষাক্ত। ব্রোমিন বাতাসে সহজেই বাষ্পীভূত হয়ে লালচে বাদামি ধোঁয়ার মতো দেখায়, তাই একে সাবধানে সংরক্ষণ করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    পারদের প্রতীক Hg, ল্যাটিন নাম Hydrargyrum।
    সিজিয়াম ও গ্যালিয়ামের গলনাঙ্ক খুব কম, প্রায় ২৮-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
    তাই হাতের তাপেও এরা গলে যেতে পারে।
  220. ২৬৫. ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটসম্যান (সিভিল), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ইউরিয়া সার
    • ক. চুনাপাথর
    • খ. খনিজ তেল
    • গ. অ্যামোনিয়া
    • ঘ. মিথেন গ্যাস
    উত্তর: ঘ. মিথেন গ্যাস
    ইউরিয়া (CO(NH₂)₂) সার কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস, যার প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রথমে মিথেন থেকে হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। হাইড্রোজেন বাতাসের নাইট্রোজেনের সঙ্গে মিশে অ্যামোনিয়া (NH₃) হয়। শেষে অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়ায় ইউরিয়া পাওয়া যায়। অ্যামোনিয়া একটি মধ্যবর্তী পদার্থ, মূল কাঁচামাল নয়।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে বেশিরভাগ ইউরিয়া সার কারখানা প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর।
    ইউরিয়া তৈরির বিক্রিয়া: 2NH₃ + CO₂ → CO(NH₂)₂ + H₂O।
    ইউরিয়াতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় ৪৬%।
    বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের কারখানা ঘোড়াশাল-পলাশ, যমুনা, শাহজালাল ও চট্টগ্রামে আছে।
    অ্যামোনিয়া তৈরির পদ্ধতির নাম হেবার-বশ পদ্ধতি।
  221. ২৬৬. কোন অধাতু বিদ্যুৎ পরিবাহী?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ও গ্রাফাইট
    • ক. ক্লোরিন
    • খ. টাইটেনিয়াম
    • গ. গ্রাফাইট
    • ঘ. গ্যালিয়াম
    উত্তর: গ. গ্রাফাইট
    গ্রাফাইট (Graphite) কার্বনের একটি রূপ, তাই এটি অধাতু। তবু এর গঠনে প্রতিটি কার্বন পরমাণুর একটি করে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, আর সেই ইলেকট্রন স্তরে স্তরে সহজে চলাচল করতে পারে। এ জন্যই গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে। ক্লোরিন অধাতু, কিন্তু এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। টাইটেনিয়াম ও গ্যালিয়াম ধাতু।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের আরেক রূপ হীরা বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
    গ্রাফাইট পেনসিলের শিস ও ব্যাটারির ইলেকট্রোডে ব্যবহার হয়।
    সাধারণত অধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, গ্রাফাইট তার ব্যতিক্রম।
    গ্রাফাইটে কার্বন পরমাণুগুলো ষড়ভুজাকার স্তরে সাজানো থাকে, আর স্তরগুলো সহজে একটির ওপর দিয়ে আরেকটি পিছলে যায়, তাই এটি পিচ্ছিল।
    এ কারণে গ্রাফাইটকে লুব্রিকেন্ট হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
  222. ২৬৭. জলজ শামুক ও ঝিনুকের খোলস কী দিয়ে গঠিত?বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়াম কার্বনেট
    • ক. কার্বনেট
    • খ. ফসফেট
    • গ. নাইট্রেট
    • ঘ. সালফেট
    উত্তর: ক. কার্বনেট
    শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি মলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রাণীর খোলস প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) দিয়ে তৈরি। ঝিনুকের ভেতরে তৈরি মুক্তা (Pearl), প্রবাল (Coral), ডিমের খোসা, চুনাপাথর ও মার্বেলের প্রধান উপাদানও এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট। ঝিনুকের খোলস পুড়িয়ে চুন (Calcium Oxide, CaO) তৈরি করা হয়: CaCO₃ → CaO + CO₂। সালফেট, ফসফেট বা নাইট্রেট খোলসের প্রধান উপাদান নয়।
    মনে রাখুন: CaCO₃ পাওয়া যায় শামুক-ঝিনুকের খোলস, মুক্তা, প্রবাল, ডিমের খোসা, চুনাপাথর, মার্বেল ও চকে।
    শামুকের খোলস দেহের ম্যান্টল স্তর থেকে নিঃসৃত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দিয়ে গঠিত হয়।
    ঝিনুকের ভেতরে বালুকণা ঢুকলে তাকে ঘিরে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের স্তর জমে মুক্তা তৈরি হয়।
  223. ২৬৮. নিচের কোন উপাদান কাচের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কাচ
    • ক. Silica
    • খ. Magnesium
    • গ. Sodium
    • ঘ. Alumina
    উত্তর: ক. Silica
    কাচের প্রধান উপাদান সিলিকা (Silica), অর্থাৎ বালির মূল অংশ সিলিকন ডাই-অক্সাইড। বিশুদ্ধ সিলিকায় ধাতব অপদ্রব্য কম থাকে, তাই এর ভেতর দিয়ে আলো সহজে চলাচল করে এবং কাচ বেশি স্বচ্ছ হয়। সোডিয়াম গলনাঙ্ক কমায়, আর ম্যাগনেসিয়াম বা অ্যালুমিনা কাচকে শক্ত ও টেকসই করে, কিন্তু স্বচ্ছতা বাড়ানোর মূল কাজ সিলিকার। কাচ তৈরিতে বালি, সোডা অ্যাশ ও চুনাপাথর একসঙ্গে প্রায় ১৫০০°C তাপমাত্রায় গলানো হয়।
    মনে রাখুন:
    সাধারণ কাচের উপাদান: বালি, সোডা অ্যাশ, চুনাপাথর।
    কাচ কেলাসিত কঠিন নয়, একে অতিশীতলিত তরল বলা হয়।
    রঙিন কাচ করতে ধাতব অক্সাইড মেশানো হয়, যেমন কোবাল্ট অক্সাইড দিলে নীল রং হয়।
  224. ২৬৯. LPG গ্যাসের মূল উপাদান কী?স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ এলপিজি
    • ক. মিথেন ও বিউটেন
    • খ. মিথেন
    • গ. প্রোপেন ও বিউটেন
    • ঘ. ইথেন
    উত্তর: গ. প্রোপেন ও বিউটেন
    LPG-র পুরো নাম Liquefied Petroleum Gas বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস। এর প্রধান উপাদান প্রোপেন (C3H8) ও বিউটেন (C4H10), অর্থাৎ দুটি হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। সামান্য চাপ দিলেই এগুলো তরল হয়, তাই সিলিন্ডারে ভরা যায়। মিথেন এতে প্রধান উপাদান নয়, কারণ মিথেন সহজে তরল হয় না।
    মনে রাখুন:
    CNG-র প্রধান উপাদান মিথেন।
    LPG বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই লিক করলে নিচে জমে।
    LPG-তে ইথাইল মারক্যাপটান নামের গন্ধযুক্ত পদার্থ মেশানো হয়, যাতে লিক হলে গন্ধে টের পাওয়া যায়।
    প্রোপেনের ফুটনাঙ্ক প্রায় −42°C।
    রান্নার সিলিন্ডারে ভরা LPG আসলে তরল অবস্থায় থাকে, ভাল্ব খুললে গ্যাসে পরিণত হয়ে বেরোয়।
  225. ২৭০. ফরমালিনের রাসায়নিক নাম—স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফরমালিন
    • ক. বেনজিন
    • খ. ইনসুলিন
    • গ. ফরমালডিহাইড
    • ঘ. প্যারাফিন
    উত্তর: গ. ফরমালডিহাইড
    ফরমালডিহাইড (Formaldehyde) একটি গ্যাস, যা পানিতে গুলে ফরমালিন (Formalin) তৈরি হয়। সাধারণত ৪০% ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে, তাই ফরমালিনের রাসায়নিক নাম ফরমালডিহাইড। জৈব নমুনা পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জীবাণুনাশক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। ফরমালিন অবৈধভাবে মাছ, ফল বা দুধ সতেজ দেখাতে মেশানো হয়, আর এর ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।
    মনে রাখুন:
    খাদ্যে ফরমালিন মেশানো মানুষের জন্য বিপজ্জনক, তাই বাংলাদেশে এটি নিয়ন্ত্রিত।
    বেনজিন, ইনসুলিন ও প্যারাফিন সম্পূর্ণ আলাদা পদার্থ।
    ফরমালডিহাইডের সংকেত HCHO।
    এটি অ্যালডিহাইড শ্রেণির সবচেয়ে সরল যৌগ।
    ফরমালিন গ্যাসীয় ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণ, যা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত।
  226. ২৭১. Brass কীসের সংকর?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. Copper & Zinc
    • খ. Copper & tin
    • গ. Copper, tin & zinc
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. Copper & Zinc
    পিতল বা ব্রাস (Brass) একটি সংকর ধাতু, যা তামা (Copper) আর দস্তা বা জিংক (Zinc) মিশিয়ে তৈরি হয়। অন্যদিকে তামা আর টিন মিশিয়ে তৈরি সংকর ধাতুর নাম ব্রোঞ্জ বা কাঁসা। এই দুটি আমরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলি, তাই মূল উপাদান মনে রাখা দরকার। পিতল সোনালি-হলুদ রঙের এবং সহজে মরিচা ধরে না, তাই তালা, বাদ্যযন্ত্র ও সাজসজ্জার জিনিসে ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    স্টিল = লোহা + কার্বন।
    সোল্ডার = টিন + সিসা।
    ব্রোঞ্জ বা কাঁসা মূর্তি, ঘণ্টা ও পদক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
    ব্রাসে সাধারণত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ তামা থাকে।
  227. ২৭২. CNG-এর পূর্ণরূপ কোনটি?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ CNG ও LPG
    • ক. Compressed Nuclear Gas
    • খ. Compressed Natural Gas
    • গ. Centre for National Growth
    • ঘ. All of them
    উত্তর: খ. Compressed Natural Gas
    CNG-এর পূর্ণরূপ Compressed Natural Gas, বাংলায় সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। এর প্রধান উপাদান মিথেন। উচ্চ চাপে গ্যাসকে সিলিন্ডারে ভরে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় এটি কম দূষণ ঘটায়, তাই একে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বলা হয়। বাংলাদেশে বাস, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও টেম্পোতে CNG চলে।
    মনে রাখুন:
    LPG = Liquefied Petroleum Gas, যার প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন।
    বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ মিথেন।
    CNG-এর প্রধান উপাদান মিথেনের সংকেত CH₄, আর এটি বাতাসের চেয়ে হালকা গ্যাস।
    কম্প্রেসড গ্যাস সিলিন্ডারে প্রায় ২০০ বার চাপে ভরা হয়।
  228. ২৭৩. খাবার সোডার সংকেত কোনটি?বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ), ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাবার সোডা
    • ক. Na₂CO₃
    • খ. NaHCO₃
    • গ. HCl
    • ঘ. ZnSO₄
    উত্তর: খ. NaHCO₃
    খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (Sodium bicarbonate), আর এর সংকেত NaHCO₃। কেক বা পাউরুটি ফোলাতে এটি ব্যবহার করা হয়, কারণ গরম করলে এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ছাড়ে এবং সেই গ্যাসের বুদবুদে খাবার ফুলে ওঠে। Na₂CO₃ হলো সোডিয়াম কার্বনেট, যাকে কাপড় কাচার সোডা বা সোডা অ্যাশ বলে। এ দুটির নাম ও সংকেত গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    HCl হাইড্রোক্লোরিক এসিড, আর ZnSO₄ জিংক সালফেট নামের লবণ।
    খাবার লবণের সংকেত NaCl।
    কস্টিক সোডার সংকেত NaOH।
    খাবার সোডার জলীয় দ্রবণ মৃদু ক্ষারীয় হওয়ায় এটি পাকস্থলীর অম্লতা কমাতে ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়।
  229. ২৭৪. কোন মৌলিক ধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে?বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ), ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারদ
    • ক. পারদ
    • খ. লৌহ
    • গ. সোডিয়াম
    • ঘ. তামা
    উত্তর: ক. পারদ
    পারদ (Mercury, সংকেত Hg) একমাত্র ধাতু, যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে। তাই থার্মোমিটার ও ব্যারোমিটারে এটি ব্যবহার করা হয়। লোহা, সোডিয়াম ও তামা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন। অন্য ধাতুর গলনাঙ্ক সাধারণত অনেক বেশি, কিন্তু পারদের গলনাঙ্ক প্রায় −39°C, তাই ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এটি গলিত অবস্থাতেই থাকে।
    মনে রাখুন:
    অধাতু বা অধাতব মৌলের মধ্যে ব্রোমিন সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।
    পারদ বিষাক্ত, তাই এর ব্যবহার সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।
    গ্যালিয়াম ও সিজিয়াম ধাতু ঘরের তাপমাত্রার কাছাকাছি, প্রায় 30°C তাপমাত্রায় গলে যায়।
    পারদের সংকেত Hg এসেছে ল্যাটিন শব্দ হাইড্রারজিরাম থেকে।
  230. ২৭৫. পিতলের উপাদান কোনটি?ডাক অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও টিন
    • খ. তামা ও নিকেল
    • গ. তামা ও সীসা
    • ঘ. তামা ও দস্তা
    উত্তর: ঘ. তামা ও দস্তা
    পিতল একটি সংকর ধাতু (Alloy), অর্থাৎ একাধিক ধাতু মিশিয়ে তৈরি। এতে প্রধান উপাদান তামা এবং তার সঙ্গে দস্তা (Zinc) মেশানো হয়। তামা ও টিনের মিশ্রণকে ব্রোঞ্জ বলে, যা অন্য একটি সংকর ধাতু। সংকর ধাতু তৈরি করার উদ্দেশ্য হলো ধাতুকে আরও শক্ত করা বা মরিচা থেকে রক্ষা করা। পিতল দিয়ে আমরা কলস, বাদ্যযন্ত্র ও দরজার হাতল বানাই, কারণ এটি সহজে মরিচা ধরে না।
    মনে রাখুন:
    ব্রোঞ্জ = তামা + টিন।
    পিতল = তামা + দস্তা।
    ইস্পাত = লোহা + কার্বন।
    ঝালাইয়ের সলডার = টিন + সীসা।
  231. ২৭৬. স্যাকারিন প্রস্তুত করা হয়—বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কৃত্রিম মিষ্টি
    • ক. বেনজিন হতে
    • খ. ফেনল হতে
    • গ. কয়লা হতে
    • ঘ. টলুইন হতে
    উত্তর: ঘ. টলুইন হতে
    স্যাকারিন (Saccharin) একটি কৃত্রিম মিষ্টি পদার্থ, যা আলকাতরার উপাদান টলুইন থেকে তৈরি। এটি চিনির চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি মিষ্টি, কিন্তু এতে কোনো খাদ্যগুণ নেই। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা চিনির বদলে এটি ব্যবহার করে থাকেন। বেনজিন ও ফেনল আলকাতরার অন্য উপাদান হলেও স্যাকারিনের সরাসরি কাঁচামাল টলুইন। কয়লা থেকে কোক তৈরির সময় আলকাতরা উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    স্যাকারিনে কোনো ক্যালরি পাওয়া যায় না।
    আরেকটি কৃত্রিম মিষ্টি পদার্থ অ্যাসপারটেম।
    স্যাকারিন প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৭৯ সালে।
    স্যাকারিন প্রথম আবিষ্কার করেন কনস্ট্যান্টিন ফালবের্গ।
    স্যাকারিনের মিষ্টতা চিনির প্রায় ৩০০ গুণ বেশি।
  232. ২৭৭. তামার সাথে কোন ধাতুর সংকরায়নে ব্রোঞ্জ উৎপন্ন হয়?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. দস্তা
    • খ. টিন
    • গ. আয়রন
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    উত্তর: খ. টিন
    দুটি বা তার বেশি ধাতু মিশিয়ে তৈরি নতুন পদার্থকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। তামা (Cu) ও টিন (Sn) মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি হয়, যা তামার চেয়ে শক্ত। কাঁসাও তামা ও টিনের সংকর, তবে এতে টিন তুলনামূলক বেশি। দস্তা, আয়রন বা অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে তামা মিশিয়ে ব্রোঞ্জ হয় না, তাই সেগুলো সঠিক নয়। ব্রোঞ্জ এত পুরোনো সংকর যে মানুষের ইতিহাসের একটি যুগের নাম হয়েছে ব্রোঞ্জ যুগ।
    মনে রাখুন:
    তামা ও দস্তা (Zn) মিশিয়ে পিতল তৈরি হয়।
    ব্রোঞ্জ দিয়ে মূর্তি, মুদ্রা ও পাত্র তৈরি হয়।
    সংকর ধাতু সাধারণত মূল ধাতুর চেয়ে শক্ত হয়।
  233. ২৭৮. সাবান শিল্পে উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. ডিটারজেন্ট
    • খ. ইথানল
    • গ. চর্বি
    • ঘ. গ্লিসারিন
    উত্তর: ঘ. গ্লিসারিন
    তেল বা চর্বিকে ক্ষার, যেমন কস্টিক সোডার সঙ্গে ফুটিয়ে সাবান তৈরি করা হয়। এই বিক্রিয়াকে সাবানীকরণ (Saponification) বলে। বিক্রিয়ায় সাবানের সঙ্গে গ্লিসারিন নামের তরল পদার্থ উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। গ্লিসারিন প্রসাধনী ও ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। অন্য অপশনগুলো এখানে ঠিক নয়। চর্বি সাবানের কাঁচামাল, উপজাত নয়, আর ডিটারজেন্ট একটি আলাদা কৃত্রিম পরিষ্কারক।
    মনে রাখুন:
    সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ।
    কস্টিক সোডা (NaOH) দিয়ে শক্ত সাবান এবং কস্টিক পটাশ (KOH) দিয়ে নরম সাবান তৈরি হয়।
  234. ২৭৯. একটি মর্টারের মধ্যে বাঁধাইয়ের উপাদান কোনটি?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিমেন্ট ও মর্টার
    • ক. বালি
    • খ. সুরকী
    • গ. সিমেন্ট
    • ঘ. সব কয়টি
    উত্তর: ঘ. সব কয়টি
    মর্টার (Mortar) হলো বালু, সিমেন্ট বা চুন এবং পানি মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণ, যা ইট বা পাথর জোড়া লাগানোর কাজে লাগে। এই মিশ্রণে সিমেন্ট বা চুন বাঁধনের কাজ করে, আর বালি ও সুরকি আয়তন বাড়ায় এবং মিশ্রণকে শক্ত রাখে। প্রশ্নের কাঠামো অনুযায়ী তিনটিই মর্টারের উপাদান। সিমেন্ট পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে জমে শক্ত হয়ে যায়, এ কারণেই গাঁথুনি মজবুত হয়।
    মনে রাখুন:
    সুরকি হলো পোড়া ইটের গুঁড়া।
    কংক্রিটে সিমেন্ট ও বালুর সঙ্গে খোয়া (মোটা দানা) বা পাথরের টুকরা মেশানো হয়। মর্টারে এমন মোটা দানা থাকে না।
    মর্টার ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
  235. ২৮০. কোন গ্যাসটি নিজে জ্বলে, কিন্তু দহনে সহায়তা করে না?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ হাইড্রোজেন
    • ক. নাইট্রোজেন
    • খ. হাইড্রোজেন
    • গ. অক্সিজেন
    • ঘ. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
    উত্তর: খ. হাইড্রোজেন
    দহন বা পোড়ার জন্য জ্বালানি, অক্সিজেন ও তাপ লাগে। এই তিনের মধ্যে অক্সিজেন নিজে জ্বলে না, কিন্তু অন্য বস্তুকে জ্বলতে সাহায্য করে, তাই একে দহনে সহায়ক বলে। হাইড্রোজেন (Hydrogen) গ্যাসের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি উল্টো। এটি নিজে বাতাসে বা অক্সিজেনে জ্বলে এবং পানি তৈরি করে, কিন্তু অন্য কিছুকে জ্বলতে সাহায্য করে না। জ্বলন্ত মোমবাতি হাইড্রোজেন ভরা পাত্রে ঢোকালে মোমবাতি নিভে যায়, আর গ্যাসটি ‘ফট’ শব্দে জ্বলে ওঠে।
    নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড কোনোটিই জ্বলে না এবং দহনেও সাহায্য করে না। কার্বন ডাই-অক্সাইড আগুন নেভাতে ব্যবহার হয়।
    মনে রাখুন:
    হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস।
    হাইড্রোজেন আবিষ্কার করেন হেনরি ক্যাভেন্ডিশ।
    অক্সিজেন আবিষ্কার করেন জোসেফ প্রিস্টলি।
  236. ২৮১. অ্যালুমিনিয়াম সালফেট সাধারণভাবে কী নামে পরিচিত?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. ন্যাপথলিন
    • খ. ফিটকিরি
    • গ. কর্পূর
    • ঘ. গন্ধক
    উত্তর: খ. ফিটকিরি
    ফিটকিরি আমাদের পরিচিত একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা পানি পরিশোধনে এবং কাটা জায়গায় রক্ত বন্ধ করতে ব্যবহার হয়। এর রাসায়নিক নাম পটাশিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, সংক্ষেপে পটাশ অ্যালাম। সংকেত K₂SO₄·Al₂(SO₄)₃·24H₂O। সাধারণ ভাষায় অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের সঙ্গে এর নাম জড়িয়ে আছে, তাই অপশন থেকে ফিটকিরিই সঠিক উত্তর।
    পানি পরিশোধনে ফিটকিরি কাজ করে এভাবে, এটি পানিতে ভাসমান ময়লার কণাকে জমাট বাঁধিয়ে তলায় বসিয়ে দেয়। পরে পরিষ্কার পানি আলাদা করা যায়।
    অন্য অপশনগুলো আলাদা পদার্থ। ন্যাপথলিন ও কর্পূর উদ্বায়ী যৌগ, গন্ধক মৌল সালফার।
    মনে রাখুন:
    ন্যাপথলিন কাপড়ের পোকা তাড়াতে ব্যবহার হয়।
    গন্ধকের রাসায়নিক প্রতীক S।
  237. ২৮২. সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. লিথিয়াম
    • খ. ওসমিয়াম
    • গ. কপার
    • ঘ. তামা
    উত্তর: ক. লিথিয়াম
    লিথিয়াম (Li) সবচেয়ে হালকা ধাতু, যার ঘনত্ব প্রায় 0.53 g/cm³। এত হালকা যে এটি পানিতেও ভাসে। এর পরমাণু সংখ্যা 3 এবং এটি ক্ষার ধাতুর (Alkali metal) দলে পড়ে। ধাতুটি এত নরম যে ছুরি দিয়ে কাটা যায়। বাতাসের সংস্পর্শে এলে এর উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমে যায়, তাই একে তেলের নিচে রাখা হয়। মজার ব্যাপার হলো, মোবাইল ও ল্যাপটপের রিচার্জেবল ব্যাটারি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। অপশনের ওসমিয়াম (Os) বরং সবচেয়ে ভারী ধাতু, আর তামা ও কপার একই ধাতুর দুটি নাম।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে ভারী ধাতু ওসমিয়াম, ঘনত্ব প্রায় 22.6 g/cm³।
    কক্ষ তাপমাত্রায় তরল ধাতু পারদ।
    সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেন।
  238. ২৮৩. কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. ক্যাপসিসিন
    • খ. ভিটামিন
    • গ. ভিটামিন-ই
    • ঘ. ভিটামিন-A
    উত্তর: ক. ক্যাপসিসিন
    মরিচে ক্যাপসিসিন (Capsaicin) নামে একটি রাসায়নিক যৌগ থাকে। এটি আমাদের মুখের ও জিভের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে, ফলে ঝাল ও জ্বালার অনুভূতি হয়। ভিটামিন (এ, ই ইত্যাদি) ঝালের জন্য দায়ী নয়, কারণ এগুলো দেহের বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    ক্যাপসিসিন আসলে ঝাল স্বাদের রাসায়নিক পদার্থ, আর এর পরিমাণ যত বেশি, মরিচ তত ঝাল।
    মরিচে ভিটামিন সি-ও থাকে।
    আদা বা গোলমরিচের ঝাল আসে ভিন্ন যৌগ থেকে, যেমন গোলমরিচে পাইপারিন (Piperine)।
    মরিচের ঝাল মাপার একক স্কোভিল (Scoville) একক।
    ক্যাপসিসিন পানিতে কম দ্রবীভূত হয়, তাই ঝাল লাগলে পানির বদলে দুধ বা ভাত খেলে আরাম হয়।
  239. ২৮৪. সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু কী?আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু
    • ক. প্লাটিনাম
    • খ. ইউরেনিয়াম
    • গ. সোনা
    • ঘ. হীরক
    উত্তর: ক. প্লাটিনাম
    সোনা, রুপা ও প্লাটিনাম মূল্যবান ধাতু। প্লাটিনাম খুব দুর্লভ, সহজে মরিচা পড়ে না এবং শিল্পে অনেক কাজে লাগে, তাই প্রচলিত পাঠ্যধারায় একে সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু বলা হয়। হীরা ধাতু নয়, এটি কার্বনের একটি রূপ। ইউরেনিয়ামও মূল্যবান ধাতু হিসেবে গণ্য নয়, বরং পারমাণবিক শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
    মজার ব্যাপার হলো, বাজারদর সময়ভেদে বদলায় এবং এখন সোনার দাম অনেক সময় প্লাটিনামের চেয়ে বেশি থাকে।
    মনে রাখুন:
    প্লাটিনামের প্রতীক Pt, সোনার প্রতীক Au, রুপার প্রতীক Ag।
    প্লাটিনামকে বিশেষভাবে গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টারে ব্যবহার করা হয়।
  240. ২৮৫. নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রাসায়নিক সার
    • ক. ইউরিয়া
    • খ. টিএসপি
    • গ. পটাশ
    • ঘ. জিংক
    উত্তর: ক. ইউরিয়া
    বাতাসের নাইট্রোজেন গ্যাসের সঙ্গে হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া (NH3) তৈরি হয়। এই পদ্ধতির নাম হ্যাবার-বশ প্রক্রিয়া। অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে ইউরিয়া সার (NH2-CO-NH2) পাওয়া যায়। তাই নাইট্রোজেন থেকে তৈরি সার ইউরিয়া। টিএসপির উপাদান ফসফরাস, পটাশের উপাদান পটাসিয়াম, আর জিংক একটি অণুখাদ্য।
    মনে রাখুন:
    ইউরিয়ায় প্রায় ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।
    সারের তিন প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম (NPK)।
    ইউরিয়া সাদা দানাদার পদার্থ এবং পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয়। ধান, গম ও শাকসবজির পাতা সবুজ ও বাড়ন্ত রাখতে এটি দেওয়া হয়।
    টিএসপির পূর্ণরূপ ট্রিপল সুপার ফসফেট, আর এটি গাছের শিকড় ও ফল গঠনে সাহায্য করে।
  241. ২৮৬. ভূপৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর প্রাপ্তি
    • ক. অ্যালুমিনিয়াম
    • খ. লোহা
    • গ. তামা
    • ঘ. জিংক
    উত্তর: ক. অ্যালুমিনিয়াম
    পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় অ্যালুমিনিয়াম (Al), যা মোট ওজনের প্রায় ৮ শতাংশ। ধাতুর মধ্যে এর পরেই আছে লোহা, যা প্রায় ৫ শতাংশ। তামা ও জিংকের পরিমাণ এর তুলনায় অনেক কম। অ্যালুমিনিয়াম সক্রিয় ধাতু বলে এটি মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না, যৌগ হিসেবে থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভূত্বকে মৌলের ক্রম: অক্সিজেন (প্রায় ৪৬%), সিলিকন (প্রায় ২৮%), অ্যালুমিনিয়াম (প্রায় ৮%), লোহা (প্রায় ৫%)।
    অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক বক্সাইট।
    অ্যালুমিনিয়াম হালকা, মরিচা ধরে না এবং বিদ্যুৎ ও তাপ ভালো সঞ্চালন করে। এ জন্য বিমান, বাসনপত্র ও বৈদ্যুতিক তারে এটি ব্যবহৃত হয়।
  242. ২৮৭. কোন ধাতু সর্বাপেক্ষা হালকা?বাংলাদেশ টেলিভিশন, উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. লিথিয়াম
    • খ. টাইটেনিয়াম
    • গ. দস্তা
    • ঘ. নিকেল
    উত্তর: ক. লিথিয়াম
    ধাতুর হালকা-ভারী বোঝা যায় ঘনত্ব (Density) দিয়ে, অর্থাৎ একক আয়তনে কত ভর আছে তা দেখে। লিথিয়ামের ঘনত্ব প্রায় 0.53 g/cm³, ফলে এটি পানির চেয়েও হালকা এবং পানিতে ভাসে। অন্যদিকে টাইটেনিয়ামের ঘনত্ব প্রায় 4.5, দস্তার প্রায় 7.1 আর নিকেলের প্রায় 8.9 g/cm³। তাই এই চারটির মধ্যে লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা, এবং সব কঠিন ধাতুর মধ্যেও এটিই সবচেয়ে হালকা।
    মনে রাখুন:
    লিথিয়ামের প্রতীক Li এবং এটি ক্ষার ধাতু।
    সবচেয়ে ভারী ধাতুর তালিকায় ওসমিয়াম ও ইরিডিয়াম শীর্ষে।
    লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি মোবাইল ও ল্যাপটপে ব্যবহৃত হয়।
  243. ২৮৮. সাবান উৎপাদনে কারখানায় উপজাত হিসেবে কী উৎপন্ন হয়?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাবান
    • ক. ফ্যাটি এসিড
    • খ. ডিটারজেন্ট
    • গ. গ্লিসারিন
    • ঘ. সোডা
    উত্তর: গ. গ্লিসারিন
    সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। কারখানায় তেল বা চর্বির সঙ্গে ক্ষার (সাধারণত NaOH) মিশিয়ে গরম করলে এ কাজ হয়। একে সাবানীকরণ (Saponification) বলে। বিক্রিয়ায় সাবানের সঙ্গে গ্লিসারিন (Glycerol) নামে একটি তরল পদার্থও তৈরি হয়, সেটিই উপজাত। বিক্রিয়াটিকে সংক্ষেপে লেখা যায়: তেল/চর্বি + NaOH → সাবান + গ্লিসারিন।
    মনে রাখুন:
    গ্লিসারিন প্রসাধনী, ওষুধ ও বিস্ফোরক (নাইট্রোগ্লিসারিন) তৈরিতে কাজে লাগে।
    সাবানের দ্রবণে খাদ্য লবণ দিলে সাবান আলাদা হয়ে ভেসে ওঠে।
    ডিটারজেন্ট সাবান থেকে আলাদা পদার্থ, এটি সাবানীকরণের উপজাত নয়।
  244. ২৮৯. সর্বোচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট ধাতু কোনটি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. টাইটেনিয়াম
    • খ. প্ল্যাটিনাম
    • গ. টাংস্টেন
    • ঘ. জারকোনিয়াম
    উত্তর: গ. টাংস্টেন
    ধাতুদের মধ্যে টাংস্টেনের (Tungsten, W) গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, প্রায় 3422°C। এর তুলনায় প্ল্যাটিনামের গলনাঙ্ক প্রায় 1768°C, জারকোনিয়ামের প্রায় 1855°C আর টাইটেনিয়ামের প্রায় 1668°C, অর্থাৎ সবগুলোই অনেক কম। এই উচ্চ গলনাঙ্কের কারণেই বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি হয়, কেননা এটি অতি উত্তপ্ত অবস্থাতেও গলে না।
    মনে রাখুন:
    গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম ধাতু পারদ (Hg), যার গলনাঙ্ক প্রায় −39°C, তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল।
    টাংস্টেনের স্ফুটনাঙ্কও সব ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ।
    টাংস্টেন অতি কঠিন ও ভারী ধাতু। ফিলামেন্ট ছাড়া কাটার যন্ত্রের শক্ত অংশ বানাতেও এর সংকর ব্যবহার হয়।
    অধাতুর মধ্যে কার্বনের গলনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি।
  245. ২৯০. অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টাফ অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্সিজেন
    • ক. জর্জেস
    • খ. ভ্যানহেলমন্ট
    • গ. যোসেফ প্রিস্টলি
    • ঘ. ক্যাভেন্ডিস
    উত্তর: গ. যোসেফ প্রিস্টলি
    অক্সিজেন আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেওয়া হয় ইংরেজ বিজ্ঞানী জোসেফ প্রিস্টলিকে (Joseph Priestley)। তিনি ১৭৭৪ সালে লাল মার্কিউরিক অক্সাইডকে উত্তপ্ত করে এই গ্যাস পান। পরে ফরাসি বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে এর নাম দেন অক্সিজেন।
    মনে রাখুন:
    হেনরি ক্যাভেন্ডিশ হাইড্রোজেন আবিষ্কার করেন।
    ভ্যান হেলমন্ট কার্বন ডাই-অক্সাইডকে প্রথম গ্যাস হিসেবে শনাক্ত করেন।
    অক্সিজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন গ্যাস, যা দহনে সাহায্য করে কিন্তু নিজে জ্বলে না। এক সময় সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল শিলেও স্বাধীনভাবে এই গ্যাস আবিষ্কার করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
    অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮ এবং প্রতীক O।
    পরে প্রিস্টলির আবিষ্কারের কথা ল্যাভয়সিয়েকে জানালে তিনি পরীক্ষা করে দহনে অক্সিজেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।
  246. ২৯১. পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন খনিজ পদার্থ কোনটি?এনটিআরসিএ, ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন
    • ক. লৌহ
    • খ. ইস্পাত
    • গ. হীরক
    • ঘ. পাথর
    উত্তর: গ. হীরক
    প্রাকৃতিক পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হলো হীরক (Diamond)। হীরক আসলে কার্বনের একটি রূপ, যেখানে প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারপাশের চারটি পরমাণুর সঙ্গে শক্ত বন্ধনে আটকে থাকে। এই মজবুত ত্রিমাত্রিক গঠনের কারণেই হীরক এত কঠিন। খনিজের কাঠিন্য মাপা হয় মোস স্কেলে (Mohs scale), আর সেখানে হীরকের মান সর্বোচ্চ ১০। এ কারণে হীরা দিয়ে কাচ কাটা এবং কঠিন পাথর ছিদ্র করা যায়।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের আরেকটি রূপ গ্রাফাইট খুব নরম, তাই পেনসিলের সিসে এটি ব্যবহার হয়।
    গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে, হীরক করে না।
    ইস্পাত প্রাকৃতিক খনিজ নয়, এটি মানুষের তৈরি সংকর ধাতু।
  247. ২৯২. লাফিং গ্যাসের সংকেত কোনটি?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নাইট্রোজেনের যৌগ
    • ক. N₂O₅
    • খ. N₂O₃
    • গ. N₂O
    • ঘ. Cu₂O
    উত্তর: গ. N₂O
    লাফিং গ্যাসের রাসায়নিক নাম নাইট্রাস অক্সাইড, সংকেত N₂O। এই গ্যাস অল্প পরিমাণে শ্বাসের সঙ্গে নিলে স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়, ফলে মানুষ অকারণে হাসতে থাকে, তাই এর নাম লাফিং গ্যাস (Laughing gas)। দাঁতের চিকিৎসা ও ছোট অস্ত্রোপচারে এটি হালকা চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার হয়। ১৭৯৮ সালে ইংরেজ রসায়নবিদ হামফ্রি ডেভি এই গ্যাসের প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা করেন। নাইট্রাস অক্সাইড বর্ণহীন ও মিষ্টি গন্ধের গ্যাস, আর কিছু দেশে এটি ক্রিম বা ফেনা তৈরির কাজেও ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন: N₂O একটি গ্রিনহাউস গ্যাসও, যা বায়ুমণ্ডলের তাপ ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে।
  248. ২৯৩. প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কোন ধাতু?এনটিআরসিএ, ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতু ও আকরিক
    • ক. লোহা
    • খ. দস্তা
    • গ. পটাশিয়াম
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    উত্তর: ঘ. অ্যালুমিনিয়াম
    ভূত্বকে (Earth's crust) সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন ধাতু অ্যালুমিনিয়াম, ভূত্বকের ভরের প্রায় ৮ ভাগ এই ধাতু। তবে এটি প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় থাকে না, বক্সাইট নামের আকরিক থেকে তড়িৎ বিশ্লেষণ করে নিষ্কাশন করতে হয়। অ্যালুমিনিয়ামের পরেই আসে লোহা, যা ভূত্বকের প্রায় ৫ ভাগ। হালকা ও মরিচারোধী বলে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, বিমানের কাঠামো ও বিদ্যুতের তার বানানো হয়। অ্যালুমিনিয়াম আবিষ্কারে অনেক সময় লেগেছিল, কারণ আকরিক থেকে এই ধাতু আলাদা করা বেশ কঠিন।
    মনে রাখুন:
    ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি মৌল: অক্সিজেন
    দ্বিতীয় সর্বাধিক মৌল: সিলিকন
    সর্বাধিক ধাতু: অ্যালুমিনিয়াম
  249. ২৯৪. কোন গ্যাস অগ্নি নির্বাপক?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. কার্বন মনোঅক্সাইড
    • খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • গ. হাইড্রোজেন
    • ঘ. মিথেন
    উত্তর: খ. কার্বন ডাই-অক্সাইড
    কোনো কিছু জ্বলতে অক্সিজেন লাগে। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নিজে জ্বলে না এবং জ্বলতেও সাহায্য করে না, আবার বাতাসের চেয়ে ভারী বলে এটি আগুনের ওপর একটি আস্তরণ তৈরি করে অক্সিজেনের সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে আগুন নিভে যায়, তাই এটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সোডা ওয়াটারের বুদবুদও এই গ্যাসেরই। যন্ত্রের মুখ খুললে চাপে ভরা গ্যাস বেরিয়ে এসে আগুনকে ঢেকে দেয় এবং তাপমাত্রাও কমিয়ে দেয়।
    মনে রাখুন:
    কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন ও মিথেন দাহ্য গ্যাস, অর্থাৎ এরা নিজেরাই জ্বলে।
    বৈদ্যুতিক আগুন নেভাতে পানি নয়, CO₂ বা শুষ্ক পাউডার ব্যবহার করতে হয়।
  250. ২৯৫. খাওয়ার লবণের সংকেত কোনটি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. কোনোটিই নয়
    • খ. NaCO₃
    • গ. NaCl
    • ঘ. NaOH
    উত্তর: গ. NaCl
    খাওয়ার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড, আর এর সংকেত NaCl। এটি সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (Cl) পরমাণুর আয়নিক বন্ধনে গঠিত একটি যৌগ। আমাদের দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা ও স্নায়ুর কাজে লবণ দরকার। সমুদ্রের পানি থেকে সূর্যের তাপে পানি বাষ্প করে এই লবণ সংগ্রহ করা হয়, আর বাংলাদেশে কক্সবাজার ও মহেশখালী অঞ্চলে এভাবে লবণ চাষ হয়। লবণ পানিতে দ্রবীভূত হলে সোডিয়াম আয়ন ও ক্লোরাইড আয়নে ভেঙে যায়, তাই লবণের জলীয় দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
    মনে রাখুন:
    কস্টিক সোডা: NaOH।
    খাবার সোডা: NaHCO₃।
    কাপড় কাচা সোডা: Na₂CO₃।
  251. ২৯৬. ‘সিএনজি’ পাম্প থেকে গাড়িতে যে গ্যাস পূর্ণ করা হয় তা মূলত—প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জ্বালানি গ্যাস
    • ক. মিথেন
    • খ. প্রোপেন
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. আর্গন
    উত্তর: ক. মিথেন
    সিএনজি (CNG)-এর পূর্ণরূপ Compressed Natural Gas, অর্থাৎ উচ্চচাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), আর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫ শতাংশের বেশি। তাই সিএনজি পাম্প থেকে গাড়িতে যে গ্যাস ভরা হয়, তা মূলত মিথেন। পেট্রল-ডিজেলের তুলনায় এটি সস্তা এবং পোড়ালে কম দূষণ হয়। সিএনজি গাড়ির সিলিন্ডারে প্রায় ২০০ বার চাপে গ্যাস ভরা থাকে।
    মনে রাখুন:
    এলপিজি (LPG) বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন।
    মিথেন গ্যাসকে মার্শ গ্যাস বা জলাভূমির গ্যাসও বলা হয়।
    মিথেন পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।
  252. ২৯৭. কোনটি চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. মিথান্যাল
    • খ. ক্লোরোফর্ম
    • গ. মিথেন
    • ঘ. ক্লোরোপিক্রিন
    উত্তর: খ. ক্লোরোফর্ম
    ক্লোরোফর্মের রাসায়নিক সংকেত CHCl₃, এটি একটি বর্ণহীন, মিষ্টি গন্ধযুক্ত তরল। এর বাষ্প নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিলে মানুষ অচেতন হয়ে পড়ে, তাই একসময় অস্ত্রোপচারের আগে চেতনানাশক (Anaesthetic) হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে মিথান্যাল বা ফরমালডিহাইড সংরক্ষণে আর ক্লোরোপিক্রিন কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্লোরোফর্ম মিথেনের একটি ক্লোরিনযুক্ত জৈব যৌগ, আর এটি আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে বিষাক্ত ফসজিন গ্যাস তৈরি করতে পারে। এ কারণে একে বাদামি রঙের বোতলে রাখা হয়। এখন নিরাপদ বিকল্প থাকায় ক্লোরোফর্ম চেতনানাশক হিসেবে প্রায় ব্যবহার করা হয় না।
    মনে রাখুন: বর্তমানে চেতনানাশক হিসেবে নাইট্রাস অক্সাইড (লাফিং গ্যাস), হ্যালোথেন ও আইসোফ্লুরেন বেশি ব্যবহৃত হয়।
  253. ২৯৮. CNG শব্দ-সংক্ষেপের পূর্ণরূপ কী?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জ্বালানি
    • ক. Compressed Natural Gas
    • খ. Complete Natural Gas
    • গ. Carbonated Nitrogen Gas
    • ঘ. None of the above
    উত্তর: ক. Compressed Natural Gas
    CNG-এর পূর্ণরূপ Compressed Natural Gas, অর্থাৎ সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসকে উচ্চ চাপে সংকুচিত করে সিলিন্ডারে ভরে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি পেট্রল-ডিজেলের চেয়ে কম দূষণ ছড়ায়। CNG মূলত মিথেন (CH₄) গ্যাস, যা পুড়লে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়। বাংলাদেশে গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়েই CNG তৈরি হয়, তাই এটি আমদানি করা জ্বালানির তুলনায় সস্তা। CNG ভরা গাড়ির সিলিন্ডার অত্যন্ত মজবুত ইস্পাতের হয়, কারণ ভেতরে চাপ প্রায় ২০০ বায়ুমণ্ডলের কাছাকাছি।
    মনে রাখুন: LPG-এর পূর্ণরূপ Liquefied Petroleum Gas, যার প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন, আর LNG হলো Liquefied Natural Gas।
  254. ২৯৯. অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে কী থাকে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ১৪৯১), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • খ. তরল অ্যামোনিয়া
    • গ. তরল নাইট্রোজেন
    • ঘ. অক্সিজেন তরল আকারে
    উত্তর: ক. তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড
    অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে উচ্চ চাপে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) রাখা হয়। সিলিন্ডার খুললে এটি গ্যাস হয়ে বেরিয়ে আসে, আর বাতাসের চেয়ে ভারী বলে আগুনের ওপর চাদরের মতো ছড়িয়ে অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অক্সিজেন ছাড়া কিছু পুড়তে পারে না, তাই আগুন নিভে যায়। তরল CO₂ সিলিন্ডারে রাখা সম্ভব হয় কারণ উচ্চ চাপে এটি সহজে তরল হয়। তেল বা বিদ্যুতের আগুনে পানি ব্যবহার করা যায় না, তাই সেখানে CO₂ নির্বাপক কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    আগুন জ্বলতে তিনটি জিনিস লাগে: জ্বালানি, অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় তাপ।
    কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ (Dry ice) বলে।
  255. ৩০০. নিচের কোন ধাতুটি পানির চেয়ে হালকা নয়?দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপসহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ধর্ম
    • ক. ক্যালসিয়াম
    • খ. সোডিয়াম
    • গ. পটাসিয়াম
    • ঘ. হিলিয়াম
    উত্তর: ক. ক্যালসিয়াম
    পানির ঘনত্ব (Density) প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে ১ গ্রাম, তাই যে বস্তুর ঘনত্ব এর চেয়ে কম সেটি পানিতে ভাসে। ক্ষার ধাতু সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ঘনত্ব ১-এর চেয়ে কম, তাই এরা পানিতে ভাসে এবং পানির সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ছাড়ে। কিন্তু ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব প্রায় ১.৫৫ গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার, যা পানির চেয়ে বেশি, তাই এটি পানির চেয়ে হালকা নয়। হিলিয়াম আসলে কোনো ধাতুই নয়, এটি একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।
    সোডিয়াম ও পটাসিয়াম বাতাসে দ্রুত বিক্রিয়া করে বলে এদের কেরোসিনে ডুবিয়ে রাখা হয়।
    সবচেয়ে ঘন ধাতু অসমিয়াম।
  256. ৩০১. বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপসহকারী পরিচালক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. $HClO_3$
    • খ. $NaHCO_3$
    • গ. $H_2SO_4$
    • ঘ. NaHCl
    উত্তর: খ. $NaHCO_3$
    বেকিং পাউডারের মূল উপাদান সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (Sodium Bicarbonate), যার সংকেত $NaHCO_3$। একে খাবার সোডা বা বেকিং সোডাও বলা হয়। বেকিং পাউডারে এর সঙ্গে টারটারিক অ্যাসিডের মতো একটি দুর্বল অম্ল মেশানো থাকে। ময়দার খামিরে পানি ও তাপ পেলে এরা বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ছাড়ে, আর সেই গ্যাসের বুদবুদ আটকে গিয়ে কেক ও পাউরুটি ফুলে ফাঁপা ও নরম হয়। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট মৃদু ক্ষারীয়, তাই পাকস্থলীর বাড়তি অম্ল প্রশমনে অ্যান্টাসিড হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    কাপড় কাচার সোডার সংকেত $Na_2CO_3$।
    খাবার লবণের সংকেত $NaCl$।
  257. ৩০২. Which of the following is used in pencil?বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন
    • ক. Silicon
    • খ. Graphite
    • গ. Charcoal
    • ঘ. Phosphorous
    উত্তর: খ. Graphite
    পেন্সিলের শিস তৈরি হয় গ্রাফাইট (Graphite) আর কাদামাটি মিশিয়ে। গ্রাফাইট কার্বনের একটি রূপভেদ, যার পরমাণুগুলো পাতলা স্তরে সাজানো থাকে। স্তরগুলো একে অপরের সঙ্গে দুর্বলভাবে যুক্ত বলে কাগজে ঘষলেই কিছু স্তর খসে গিয়ে কালো দাগ পড়ে। নামে 'লেড পেন্সিল' হলেও এতে সীসা থাকে না। পেন্সিলের গায়ে লেখা HB বা 2B চিহ্ন বলে দেয় শিস কতটা শক্ত বা নরম, কাদামাটি বেশি থাকলে শিস শক্ত হয়।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের আরেকটি রূপভেদ হীরা, যা প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
    গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে, কিন্তু হীরা করে না।
  258. ৩০৩. অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রে কি গ্যাস ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ রেলওয়ে, খালাসী, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. মিথেন
    • ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
    উত্তর: ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
    আগুন জ্বলতে জ্বালানি, তাপ ও অক্সিজেন তিনটিই লাগে। কার্বন ডাই-অক্সাইড (Carbon Dioxide) নিজে জ্বলে না এবং অন্য কিছুকে জ্বলতেও সাহায্য করে না। তার ওপর এটি বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে বের হয়ে এটি আগুনের ওপর চাদরের মতো বিছিয়ে যায় এবং অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে আগুন নিভে যায়। এই গ্যাস পানির মতো ভেজায় না বলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির আগুন নেভাতে এটি বিশেষ উপযোগী।
    মনে রাখুন:
    কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকে শুষ্ক বরফ (Dry Ice) বলে।
    তেলের আগুন পানি দিয়ে নেভানো উচিত নয়, কারণ তেল পানির ওপর ভেসে আগুন ছড়িয়ে দেয়।
  259. ৩০৪. পিতল কোন ধাতুর সংকর?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. লোহা ও কার্বন
    • খ. কপার ও টিন
    • গ. কপার ও জিংক
    • ঘ. অ্যালুমিনিয়াম ও জিংক
    উত্তর: গ. কপার ও জিংক
    দুই বা তার বেশি ধাতু গলিয়ে মিশিয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। পিতল (Brass) তৈরি হয় তামা বা কপার আর দস্তা বা জিংক মিশিয়ে, সাধারণত প্রায় ৬০-৭০ ভাগ তামা ও বাকিটা দস্তা। পিতল হলুদাভ, চকচকে এবং সহজে মরিচা ধরে না, তাই এ দিয়ে কলসি, বাদ্যযন্ত্র, তালা ও কলের মুখ তৈরি হয়। তামার সঙ্গে দস্তার বদলে টিন মেশালে পাওয়া যায় কাঁসা বা ব্রোঞ্জ।
    মনে রাখুন:
    ব্রোঞ্জ: কপার ও টিন।
    ইস্পাত: লোহা ও কার্বন।
    স্টেইনলেস স্টিল: লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেল।
    ডুরালুমিন: অ্যালুমিনিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।
  260. ৩০৫. ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ কোন উপাদানটি লাভ করে?খাদ্য অধিদপ্তর, সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক/অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সার
    • ক. ফসফরাস
    • খ. পটাশিয়াম
    • গ. নাইট্রোজেন
    • ঘ. কার্বন
    উত্তর: গ. নাইট্রোজেন
    উদ্ভিদের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধি এবং প্রোটিন ও ক্লোরোফিল তৈরিতে নাইট্রোজেন (Nitrogen) অপরিহার্য। ইউরিয়া সারের রাসায়নিক সংকেত CO(NH₂)₂, আর এর ওজনের প্রায় ৪৬ ভাগই নাইট্রোজেন। তাই ইউরিয়া হলো উদ্ভিদের নাইট্রোজেনের সবচেয়ে প্রচলিত উৎস। ইউরিয়া দিলে গাছ দ্রুত সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে। তবে বেশি ইউরিয়া দিলে গাছ নরম হয়ে পোকার আক্রমণ বাড়ে এবং অতিরিক্ত অংশ পানিতে মিশে পানি দূষিত করে।
    মনে রাখুন:
    টিএসপি সার: ফসফরাসের উৎস।
    এমওপি বা পটাশ সার: পটাশিয়ামের উৎস।
    জিপসাম সার: সালফারের উৎস।
    নাইট্রোজেনের অভাবে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
  261. ৩০৬. শুষ্ক বরফ বলা হয়?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কমিউনিটি অর্গানাইজার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. হিমায়িত অক্সিজেন
    • খ. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইড
    • গ. হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড
    • ঘ. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
    উত্তর: গ. হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড
    কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO₂) খুব ঠান্ডা করে ও চাপ দিয়ে কঠিন অবস্থায় আনলে যে সাদা বরফের মতো পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে শুষ্ক বরফ (Dry ice) বলে। সাধারণ চাপে এটি গলে তরল হয় না, বরং সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। এ কারণে শুষ্ক বরফ কোনো কিছু ভেজায় না। এর তাপমাত্রা প্রায় −78.5°C, তাই আইসক্রিম, মাছ, মাংস ও কিছু ওষুধ ঠান্ডা রাখতে এবং মঞ্চে কৃত্রিম কুয়াশা তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    কর্পূর, ন্যাপথালিন ও আয়োডিনও ঊর্ধ্বপাতিত হয়।
    অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
  262. ৩০৭. কোন গ্যাসটি ‘ড্রাই আইস’ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জুনিয়র শিক্ষক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. $O_2$
    • খ. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
    • গ. সালফার ডাই-অক্সাইড
    • ঘ. $CO_2$
    উত্তর: ঘ. $CO_2$
    ড্রাই আইস (Dry ice) তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) গ্যাস থেকে। গ্যাসটিকে উচ্চ চাপে তরল করে হঠাৎ চাপ কমিয়ে দিলে এর একটি অংশ খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে সাদা কঠিন পদার্থে পরিণত হয়, এটিই ড্রাই আইস। সাধারণ বরফ গলে পানি হয়, কিন্তু ড্রাই আইস গলে তরল হয় না, সরাসরি গ্যাস হয়ে উড়ে যায়। একে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। এ জন্যই একে শুষ্ক বা শুকনো বরফ বলা হয়। এর তাপমাত্রা প্রায় −78.5°C, তাই খাবার ও ওষুধ পরিবহনে ঠান্ডা রাখতে এটি খুব কাজের।
    মনে রাখুন:
    বদ্ধ ঘরে বেশি ড্রাই আইস রাখা বিপজ্জনক, কারণ এটি থেকে বের হওয়া $CO_2$ অক্সিজেনের জায়গা দখল করে।
  263. ৩০৮. তামার সাথে নিচের কোনটি মেশালে পিতল হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. নিকেল
    • খ. টিন
    • গ. সীসা
    • ঘ. দস্তা
    উত্তর: ঘ. দস্তা
    দুই বা ততোধিক ধাতুকে গলিয়ে মিশিয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি করা হয়, তাকে সংকর ধাতু (Alloy) বলে। তামার সঙ্গে দস্তা (Zinc) মেশালে পাওয়া যায় পিতল (Brass)। সাধারণত পিতলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ তামা ও বাকিটা দস্তা থাকে। পিতল উজ্জ্বল হলুদ রঙের, সহজে মরিচা ধরে না এবং একে ঢালাই করে নানা আকার দেওয়া যায়। তাই ঘরের কলের মাথা, তালা, বাদ্যযন্ত্র ও নানা সাজসজ্জার জিনিস তৈরিতে পিতল ব্যবহৃত হয়। তামার সঙ্গে দস্তার বদলে টিন মেশালে আবার অন্য সংকর পাওয়া যায়, যার নাম ব্রোঞ্জ বা কাঁসা।
    মনে রাখুন:
    পিতল = তামা + দস্তা
    ব্রোঞ্জ = তামা + টিন
    স্টেইনলেস স্টিল = লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল
  264. ৩০৯. জীব সংরক্ষণ ও পচন নিবারণের জন্য ব্যবহৃত হয় -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রসায়ন
    • ক. গ্লিসারিন
    • খ. ফরমালিন
    • গ. ভিনেগার
    • ঘ. সাবান
    উত্তর: খ. ফরমালিন
    ফরমালডিহাইড নামের গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন (Formalin) বলে। ফরমালিন জীবাণু ও কোষের প্রোটিনকে নষ্ট করে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বাঁচতে পারে না এবং দেহকলা পচে না। এ জন্য জাদুঘর ও গবেষণাগারে মৃত প্রাণী বা দেহের অংশ সংরক্ষণে এবং মৃতদেহ সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মাছ, ফল বা দুধে ফরমালিন মেশানো মারাত্মক ক্ষতিকর, এটি যকৃৎ, কিডনি ও পাকস্থলীর ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। খাদ্যে ফরমালিন মেশানো বাংলাদেশে দণ্ডনীয় অপরাধ।
    মনে রাখুন:
    ফরমালডিহাইডের সংকেত HCHO।
    ভিনেগার হলো ইথানয়িক বা অ্যাসিটিক এসিডের লঘু দ্রবণ।
  265. ৩১০. কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর বৈশিষ্ট্য
    • ক. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বেশি
    • খ. চাকচিক্য (উজ্জ্বলতা) বেশি
    • গ. নমনীয়তা বেশি
    • ঘ. ঘনত্ব কম
    উত্তর: ঘ. ঘনত্ব কম
    ধাতুর (Metal) কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। ধাতু তাপ ও বিদ্যুতের সুপরিবাহী, এর তল চকচকে উজ্জ্বল এবং একে পিটিয়ে পাত বা টেনে তার বানানো যায়, অর্থাৎ ধাতু নমনীয় ও প্রসারণশীল। এ ছাড়া সাধারণভাবে ধাতু ভারী হয়, অর্থাৎ এদের ঘনত্ব বেশি। তাই ঘনত্ব কম হওয়া ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম আছে, যেমন সোডিয়াম ও পটাশিয়াম এত হালকা যে পানিতে ভাসে। আবার পারদ ধাতু হলেও সাধারণ তাপমাত্রায় তরল থাকে।
    মনে রাখুন:
    সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু রুপা।
    সবচেয়ে ঘন ধাতু অসমিয়াম।
    সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।
    অধাতু হয়েও বিদ্যুৎ পরিবহন করে গ্রাফাইট।
  266. ৩১১. ব্রোঞ্জ হলো -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও লোহার সংকর
    • খ. টিন ও দস্তার সংকর
    • গ. তামা ও টিনের সংকর
    • ঘ. লোহা ও দস্তার সংকর
    উত্তর: গ. তামা ও টিনের সংকর
    ব্রোঞ্জ (Bronze) হলো তামা ও টিন মিশিয়ে তৈরি একটি সংকর ধাতু, বাংলায় একে কাঁসা বলা হয়। সাধারণত এতে প্রায় ৮৮ ভাগ তামা ও ১২ ভাগ টিন থাকে। খাঁটি তামার চেয়ে ব্রোঞ্জ বেশি শক্ত ও টেকসই এবং এতে সহজে ক্ষয় ধরে না। তাই মূর্তি, পদক, ঘণ্টা ও থালা-বাসন তৈরিতে ব্রোঞ্জ ব্যবহৃত হয়। মানুষের ইতিহাসে ব্রোঞ্জ এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে একটি পুরো যুগের নামই ব্রোঞ্জ যুগ। তামার সঙ্গে টিনের বদলে দস্তা মেশালে তৈরি হয় পিতল।
    মনে রাখুন:
    ব্রোঞ্জ = তামা + টিন
    পিতল = তামা + দস্তা
    অলিম্পিকে তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়।
  267. ৩১২. লোহার গ্যালভানাইজিং বলতে কী বোঝায়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ধাতুর ক্ষয়রোধ
    • ক. লোহার উপর সীসার প্রলেপ দেয়া
    • খ. লোহার ওপর কপারের প্রলেপ দেয়া
    • গ. লোহাকে ইস্পাতে পরিণত করে তার ওপর কালো রঙের প্রলেপ দেয়া
    • ঘ. লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দেয়া
    উত্তর: ঘ. লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দেয়া
    লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলে তার গায়ে লালচে বাদামি মরিচা পড়ে, এতে লোহা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়। এই ক্ষয় ঠেকাতে লোহার ওপর দস্তার (Zinc) পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়, একে গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলে। দস্তা লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয় ধাতু। তাই প্রলেপে কোথাও আঁচড় লাগলেও আগে দস্তা নিজে ক্ষয় হয় এবং লোহাকে রক্ষা করে। আমাদের দেশে ঘরের চালে যে ঢেউটিন ব্যবহার করা হয়, সেটি আসলে দস্তার প্রলেপ দেওয়া লোহার পাত।
    মনে রাখুন:
    মরিচা হলো আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড, সংকেত $Fe_2O_3 \cdot xH_2O$।
    লোহার ওপর টিনের প্রলেপ দেওয়াকে টিনিং বলে।
    রং ও তেল-গ্রিজ দিয়েও মরিচা ঠেকানো যায়।
  268. ৩১৩. পিতল হলো-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (রাজশাহী বিভাগ), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সংকর ধাতু
    • ক. তামা ও টিনের সংকর
    • খ. তামা ও দস্তার সংকর
    • গ. নিকেল ও টিনের সংকর
    • ঘ. টিন ও সীসার সংকর
    উত্তর: খ. তামা ও দস্তার সংকর
    পিতল (Brass) একটি সংকর ধাতু, যা তামার সঙ্গে দস্তা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। সাধারণত এতে তামা থাকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ আর বাকিটা দস্তা। খাঁটি তামার চেয়ে পিতল শক্ত, দেখতে সোনালি ঝকঝকে এবং সহজে ক্ষয় হয় না। এ কারণে আমাদের দেশে কলসি, থালা-বাটি, ঘণ্টা, শোপিস ও কলের ট্যাপ তৈরিতে পিতল অনেক ব্যবহার হয়। তামার সঙ্গে দস্তার বদলে টিন মেশালে যে সংকর ধাতু পাওয়া যায়, তার নাম ব্রোঞ্জ বা কাঁসা।
    মনে রাখুন:
    পিতল = তামা + দস্তা।
    ব্রোঞ্জ (কাঁসা) = তামা + টিন।
    স্টেইনলেস স্টিল = লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল।
    সোল্ডার বা ঝালাই = টিন + সীসা।
  269. ৩১৪. 'ড্রাই আইস' হলো-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (কপোতাক্ষ), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ও এর যৌগ
    • ক. কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • খ. কঠিন অবস্থায় সালফার ডাই-অক্সাইড
    • গ. শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রার নিচে
    • ঘ. কঠিন অবস্থায় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড
    উত্তর: ক. কঠিন অবস্থায় কার্বন ডাই-অক্সাইড
    কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসকে অনেক চাপ দিয়ে ও খুব ঠান্ডা করে কঠিন অবস্থায় আনা হলে যে সাদা বরফের মতো পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে ড্রাই আইস (Dry ice) বলে। এর তাপমাত্রা শূন্যের নিচে প্রায় ৭৮.৫° সেলসিয়াস। সাধারণ বরফ গলে পানি হয়, কিন্তু ড্রাই আইস গলে তরল হয় না, সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়। কঠিন থেকে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। কিছু ভেজায় না বলেই এর নাম ‘শুষ্ক বরফ’।
    মনে রাখুন:
    মাছ, মাংস, আইসক্রিম ও টিকা ঠান্ডা রেখে পরিবহনে ড্রাই আইস ব্যবহার হয়।
    মঞ্চে কৃত্রিম কুয়াশা তৈরিতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
    কর্পূর ও ন্যাপথলিনও ঊর্ধ্বপাতিত হয়।
  270. ৩১৫. ক্লোরোফর্ম ব্যবহৃত হয় —প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. জীবাণুনাশক হিসেবে
    • খ. ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা
    • গ. চেতনা লোপ করার কাজে
    • ঘ. অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে
    উত্তর: গ. চেতনা লোপ করার কাজে
    ক্লোরোফর্ম (Chloroform) হলো মিথেন থেকে পাওয়া একটি জৈব যৌগ, যার রাসায়নিক নাম ট্রাইক্লোরোমিথেন এবং সংকেত CHCl₃। এর বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে নিলে মানুষ কিছুক্ষণের জন্য অচেতন হয়ে পড়ে এবং ব্যথা অনুভব করে না। তাই ১৮৪৭ সালে স্কটিশ চিকিৎসক জেমস সিম্পসন অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য চেতনানাশক হিসেবে এর ব্যবহার শুরু করেন। পরে দেখা যায় এটি যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করতে পারে, তাই এখন এর জায়গায় আরও নিরাপদ চেতনানাশক ব্যবহার হয়। বর্তমানে ক্লোরোফর্ম মূলত পরীক্ষাগারে দ্রাবক হিসেবে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে ক্লোরোফর্ম বিষাক্ত ফসজিন গ্যাস তৈরি করে, তাই একে গাঢ় রঙের বোতলে রাখা হয়।
    চেতনানাশক হিসেবে ইথারও একসময় ব্যবহৃত হতো।
  271. ৩১৬. টেস্টিং সল্ট -এর রাসায়নিক নাম কি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (রাইন), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৈনন্দিন রাসায়নিক
    • ক. সোডিয়াম বাই-কার্বনেট
    • খ. পটাশিয়াম বাই-কার্বনেট
    • গ. মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট
    • ঘ. পটাশিয়াম গ্লুটামেট
    উত্তর: গ. মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট
    খাবারের স্বাদ বাড়াতে যে সাদা দানাদার পদার্থ মেশানো হয়, তাকে টেস্টিং সল্ট বলে। এর রাসায়নিক নাম মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (Monosodium Glutamate বা MSG)। এটি গ্লুটামিক এসিড নামের একটি অ্যামিনো এসিডের সোডিয়াম লবণ, যা খাবারে মাংসের মতো একটি বিশেষ স্বাদ এনে দেয়। এই স্বাদকে উমামি বলা হয়। চাইনিজ খাবার, চিপস ও প্যাকেটজাত স্যুপে টেস্টিং সল্ট বেশি ব্যবহৃত হয়, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ভালো নয়। বাংলাদেশে অনেক সময় এটি আজিনোমোটো নামেও পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাই-কার্বনেট।
    খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড।
  272. ৩১৭. রেকটিফাইড স্পিরিট হলো -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (ভলগা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব যৌগ
    • ক. ৯০% ইথানল + ১০% পানি
    • খ. ৮০% ইথানল + ২০% পানি
    • গ. ৯৫% ইথানল + ৫% পানি
    • ঘ. ৯৮% ইথানল + ২% পানি
    উত্তর: গ. ৯৫% ইথানল + ৫% পানি
    রেকটিফাইড স্পিরিট (Rectified spirit) হলো প্রায় ৯৫% ইথানল ও ৫% পানির মিশ্রণ। ইথানল ও পানির মিশ্রণকে আংশিক পাতন করলে একটি পর্যায়ে উভয়ে একসঙ্গে একই তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই সাধারণ পাতনে ইথানলকে প্রায় ৯৫.৬% এর বেশি বিশুদ্ধ করা যায় না। এই অবস্থার মিশ্রণকেই রেকটিফাইড স্পিরিট বলা হয়। পুরোপুরি পানিমুক্ত ১০০% ইথানলকে পরম অ্যালকোহল (Absolute alcohol) বলে, যা বিশেষ পদ্ধতিতে পানি সরিয়ে তৈরি করতে হয়। রেকটিফাইড স্পিরিট ওষুধ তৈরিতে, জীবাণুনাশক হিসেবে এবং গবেষণাগারে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    ইথানলের সংকেত C₂H₅OH।
    বিষাক্ত মিথানল মেশানো ইথানলকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে।
  273. ৩১৮. 'Dry Ice' is produced from :বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. Oxygen
    • খ. Sulphur di oxide
    • গ. Carbon di oxide
    • ঘ. Nitrogen
    উত্তর: গ. Carbon di oxide
    কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ বা Dry ice বলে। কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে উচ্চ চাপে তরল করে হঠাৎ চাপ কমিয়ে দিলে তা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে সাদা বরফের মতো কঠিনে পরিণত হয়। এর তাপমাত্রা প্রায় −৭৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুষ্ক বরফ গলে তরল হয় না, বরং সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, একে ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলে। তাই এটি কোনো ভেজা দাগ রাখে না এবং খাদ্য, ওষুধ ও টিকা ঠান্ডা রাখতে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    মঞ্চে কুয়াশার মতো ধোঁয়া তৈরিতে শুষ্ক বরফ ব্যবহৃত হয়।
    কর্পূর, ন্যাপথলিন ও আয়োডিনেরও ঊর্ধ্বপাতন ঘটে।
  274. ৩১৯. শুষ্ক বরফ কাকে বলে?বিসিক, শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বন ডাই-অক্সাইড
    • ক. কার্বন মনোঅক্সাইড
    • খ. সালফার ডাই অক্সাইড
    • গ. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
    • ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
    উত্তর: ঘ. কার্বন ডাই অক্সাইড
    কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে চাপ দিয়ে ঠান্ডা করলে সাদা কঠিন পদার্থে পরিণত হয়, একেই শুষ্ক বরফ (Dry ice) বলে। সাধারণ বরফ গলে পানি হয়, কিন্তু শুষ্ক বরফ গলে তরল হয় না। এটি কঠিন অবস্থা থেকে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। তাই শুষ্ক বরফ কোনো কিছু ভেজায় না, আর এ কারণেই এর নাম শুষ্ক বরফ। এর তাপমাত্রা প্রায় −78.5°C, তাই মাছ, মাংস, আইসক্রিম ও ওষুধ ঠান্ডা রেখে পরিবহনে এটি ব্যবহার করা হয়। মঞ্চে কুয়াশার মতো ধোঁয়া তৈরিতেও শুষ্ক বরফ কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    ঊর্ধ্বপাতিত হয় এমন আরও পদার্থ: কর্পূর, ন্যাপথলিন, আয়োডিন।
  275. ৩২০. For galvanizing iron which of the following metals is used?সম্মিলিত ৮ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (১০ মে), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গ্যালভানাইজিং
    • ক. Lead
    • খ. Zinc
    • গ. Aluminum
    • ঘ. Copper
    উত্তর: খ. Zinc
    লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এসে মরিচা ধরে নষ্ট হয়। এই মরিচা থেকে বাঁচাতে লোহার ওপর দস্তা বা জিংকের (Zinc) পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়, এই পদ্ধতিকে গ্যালভানাইজিং বলে। দস্তা লোহার চেয়ে বেশি সক্রিয় ধাতু, তাই প্রলেপে কোথাও আঁচড় লাগলেও দস্তা নিজে আগে ক্ষয় হয় এবং লোহাকে রক্ষা করে। আমাদের দেশের ঢেউটিন আসলে দস্তার প্রলেপ দেওয়া লোহার পাত, তাই একে গ্যালভানাইজড আয়রন বা জিআই শিট বলে।
    মনে রাখুন:
    মরিচার রাসায়নিক নাম আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড, $Fe_2O_3 \cdot xH_2O$।
    লোহার ওপর টিনের প্রলেপকে টিনপ্লেটিং বলে।
  276. ৩২১. পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. লৌহ
    • খ. ইস্পাত
    • গ. হীরক
    • ঘ. পাথর
    উত্তর: গ. হীরক
    হীরক (Diamond) হলো বিশুদ্ধ কার্বনের একটি রূপ। এর প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারপাশের আরও চারটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্ত সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে। এভাবে পুরো স্ফটিকজুড়ে একটি মজবুত ত্রিমাত্রিক জালের মতো কাঠামো তৈরি হয়, যা ভাঙা খুব কঠিন। এই কারণে প্রাকৃতিক পদার্থের মধ্যে হীরক সবচেয়ে শক্ত। কাঠিন্যের মোস স্কেলে হীরকের মান সর্বোচ্চ ১০। এজন্য কাচ কাটা এবং পাথর ছিদ্র করার যন্ত্রে হীরক ব্যবহার করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, পেনসিলের নরম গ্রাফাইটও কার্বন দিয়েই তৈরি।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের রূপভেদ: হীরক, গ্রাফাইট, ফুলারিন।
    গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে, হীরক করে না।
    মোস স্কেলে সবচেয়ে নরম খনিজ ট্যাল্ক।
  277. ৩২২. কার্বনের একটি বিশেষ রূপ হল -পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাইফার অফিসার, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. হীরক
    • খ. ইস্পাত
    • গ. স্টেইনলেস স্টিল
    • ঘ. গন্ধক
    উত্তর: ক. হীরক
    হীরক বা হীরা (Diamond) হলো কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। একই মৌল যখন ভিন্ন ভিন্ন গঠনে থাকে এবং তাদের ভৌত ধর্ম আলাদা হয়, তখন সেগুলোকে মৌলটির রূপভেদ (Allotrope) বলে। হীরায় প্রতিটি কার্বন পরমাণু আরও চারটি কার্বনের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত থাকে বলে এটি খুব কঠিন, আর গ্রাফাইটে কার্বন স্তরে স্তরে সাজানো থাকে বলে এটি নরম ও পিচ্ছিল। অন্যদিকে ইস্পাত লোহা ও কার্বনের সংকর ধাতু, আর গন্ধক বা সালফার একটি আলাদা মৌল।
    মনে রাখুন:
    কার্বনের রূপভেদ: হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিন ও গ্রাফিন।
    গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবহন করে, হীরা করে না।
    পেনসিলের সিস তৈরি হয় গ্রাফাইট দিয়ে।
  278. ৩২৩. Which gas is used in electric bulbs?প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিষ্ক্রিয় গ্যাস
    • ক. Argon
    • খ. Fluorine
    • গ. Carbon monoxide
    • ঘ. Nitrogen
    উত্তর: ক. Argon
    বৈদ্যুতিক বাল্বে সাধারণত আর্গন (Argon) গ্যাস ভরা হয়। বাল্বের ভেতরের টাংস্টেন ফিলামেন্ট বিদ্যুৎ প্রবাহে প্রায় ২৫০০° সেলসিয়াসের বেশি উত্তপ্ত হয়ে আলো দেয়। বাল্বে অক্সিজেন থাকলে এই গরম ফিলামেন্ট দ্রুত পুড়ে যেত। আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, এটি ফিলামেন্টের সঙ্গে কোনো বিক্রিয়া করে না, বরং ধাতু বাষ্পীভূত হয়ে ক্ষয় হওয়ার হারও কমিয়ে দেয়। তাই বাল্ব অনেকদিন টেকে।
    মনে রাখুন:
    অনেক সময় আর্গনের সঙ্গে সামান্য নাইট্রোজেনও মেশানো হয়।
    টাংস্টেনের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৪২২° সেলসিয়াস, যা সব ধাতুর মধ্যে সর্বোচ্চ।
    বিজ্ঞাপনের লাল আলোর বাতিতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
  279. ৩২৪. Which of the following is the hardest element?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অফিসার (জেনারেল), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বনের রূপভেদ
    • ক. Iron
    • খ. Diamond
    • গ. Copper
    • ঘ. Silicon
    উত্তর: খ. Diamond
    প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হীরা (Diamond), যা আসলে কার্বন মৌলের একটি রূপভেদ। হীরার প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারপাশের আরও চারটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে। এভাবে পুরো স্ফটিক জুড়ে একটি ত্রিমাত্রিক শক্ত জাল তৈরি হয়, যা ভাঙা খুব কঠিন। এ কারণে কাচ কাটা এবং পাথর ছিদ্র করার যন্ত্রে হীরা ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন:
    খনিজের কাঠিন্য মাপার মোহস স্কেলে হীরার মান ১০, যা সর্বোচ্চ।
    একই স্কেলে সবচেয়ে নরম খনিজ ট্যালক, মান ১।
    হীরা বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, কিন্তু তাপ খুব ভালো পরিবহন করে।

অন্যান্য অধ্যায়

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন