লিয়ানা বুকস

খাদ্য ও পুষ্টি: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৭। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ২৮৪টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।

এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →

বিসিএস (২৬)

  1. ১. সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?২৮তম ও ২৯তম ও ৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সুষম খাদ্য
    • ক. ৪টি
    • খ. ৫টি
    • গ. ৬টি
    • ঘ. ৭টি
    উত্তর: গ. ৬টি
    যে খাদ্যে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য (Balanced Diet) বলে। এর উপাদান মোট ছয়টি। এগুলো হলো শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এসব উপাদান দেহের শক্তি জোগায়, বৃদ্ধি ঘটায়, ক্ষয়পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ করে। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহের অনুপাত সাধারণত ৪ : ১ : ১ ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    শর্করা ও স্নেহ প্রধানত শক্তি দেয়।
    আমিষ দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে।
    এক গ্রাম শর্করা ও আমিষ থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি এবং এক গ্রাম স্নেহ থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  2. ২. চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?২৮তম ও ৩৭তম বিসিএস ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন কে
    • খ. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
    • গ. ভিটামিন এ
    • ঘ. ভিটামিন ই
    উত্তর: খ. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
    চা পাতায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের উপাদান থাকে, সঙ্গে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant)। তাই চা-পাতাকে পানীয় হিসেবে ব্যবহার করলে এই পুষ্টিগুণ কিছুটা পাওয়া যায়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স পানিতে দ্রবীভূত হয়, তাই এটি চায়ের পানিতে মিশে আসে। এই দলের ভিটামিন খাদ্য থেকে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখে।
    মনে রাখুন: চায়ের ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক, যা সাময়িকভাবে সতেজ করে।
    চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Camellia sinensis।
    বাংলাদেশে চা উৎপাদনে সিলেট অঞ্চল সবচেয়ে এগিয়ে।
    ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়, যা ভিটামিন বি১-এর অভাবে ঘটে।
    ভিটামিন বি১-এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন।
  3. ৩. হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-২৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. ফসফরাস
    • খ. আয়োডিন
    • গ. আয়রন
    • ঘ. পটাসিয়াম
    উত্তর: ক. ফসফরাস
    আমাদের হাড় ও দাঁত প্রধানত ক্যালসিয়াম ফসফেট দিয়ে গঠিত, তাই ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে এটি এই কাজটি করে। আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন তৈরিতে লাগে, আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরি করে এবং পটাসিয়াম স্নায়ু ও পেশির কাজে সাহায্য করে। হাড় শক্ত রাখতে ক্যালসিয়ামও সমান জরুরি, আর ভিটামিন ডি এই ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ফসফরাস কোষের শক্তি বহনকারী অণু ATP-র একটি উপাদানও।
    মনে রাখুন:
    দুধ, ডিম ও মাছ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভালো উৎস।
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়।
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
  4. ৪. মানুষের দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছের অন্তর্ভুক্তি যে রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করে—৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়োডিন
    • ক. রিকেটস
    • খ. অস্টিওমাইলাইটিস
    • গ. হাইপোথাইরয়েডিজম
    • ঘ. আর্থ্রাইটিস
    উত্তর: গ. হাইপোথাইরয়েডিজম
    সামুদ্রিক মাছে প্রচুর আয়োডিন থাকে। থাইরয়েড গ্রন্থি এই আয়োডিন দিয়ে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। আয়োডিনের অভাব হলে থাইরক্সিন কমে গিয়ে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়, তাই খাদ্যে সামুদ্রিক মাছ থাকলে এ রোগের ঝুঁকি কমে। রিকেটস ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়, অন্য রোগগুলোর সঙ্গে আয়োডিনের সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ডও হয়, তাই আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত।
    গর্ভবতী মায়ের আয়োডিনের অভাব হলে শিশুর ক্রেটিনিজম হতে পারে।
    থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের দিকে থাকে।
    সামুদ্রিক মাছের তেলে ওমেগা-৩ নামের উপকারী চর্বিও থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  5. ৫. কোন ভিটামিন ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত বন্ধে সাহায্য করে?২৬তম বিসিএস ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন 'সি'
    • খ. ভিটামিন 'ডি'
    • গ. ভিটামিন 'কে'
    • ঘ. ভিটামিন 'বি'
    উত্তর: গ. ভিটামিন 'কে'
    ভিটামিন ‘কে’ (Vitamin K) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। শরীর কেটে গেলে এই ভিটামিনের কাজের ফলে রক্ত জমে ক্ষতস্থান বন্ধ হয় ও রক্তপাত থেমে যায়। এই কারণেই একে রক্ত জমাট বাঁধার ভিটামিন বলা হয়। সবুজ শাকসবজিতে এটি পাওয়া যায়, আবার আমাদের অন্ত্রের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়াও এটি তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-র অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
    ভিটামিন ডি-র অভাবে রিকেটস হয়।
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে ভিটামিন কে লাগে।
    নবজাতককে জন্মের পর ভিটামিন কে-এর ইনজেকশন দেওয়া হয়, যাতে রক্তক্ষরণ না হয়।
  6. ৬. Megaloblastic anemia with peripheral neuropathy occur due to deficiency of৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Folic acid
    • খ. Iron
    • গ. Pyridoxine
    • ঘ. Vit B12
    উত্তর: ঘ. Vit B12
    মেগালোব্লাস্টিক রক্তশূন্যতায় (Megaloblastic Anaemia) অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক বড় অপরিণত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়, কারণ ডিএনএ সংশ্লেষ বাধা পায়। এর প্রধান দুটি কারণ ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন) ও ফলিক অ্যাসিডের অভাব। তবে ভিটামিন বি১২ স্নায়ুর মায়েলিন আবরণ তৈরি ও রক্ষায়ও প্রয়োজন। তাই বি১২-এর অভাবে রক্তশূন্যতার সঙ্গে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ও অসাড়তা (Peripheral Neuropathy) দেখা দেয়। ফলিক অ্যাসিডের অভাবে সাধারণত স্নায়ুর এই সমস্যা হয় না। মাংস, ডিম ও দুধ ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস, আর উদ্ভিজ্জ খাবারে এটি প্রায় থাকে না।
    মনে রাখুন:
    বি১২-এর অভাবে মেগালোব্লাস্টিক রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুর ক্ষতি, দুটোই হতে পারে।
    পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়ার কারণ ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টরের অভাব।
  7. ৭. Irreversible sign of vitamin-A deficiency is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Bitot's spot
    • খ. Xerosis Conjunctive
    • গ. Keratomalacia
    • ঘ. Night blindness
    উত্তর: গ. Keratomalacia
    ভিটামিন এ-এর অভাবে চোখের নানা সমস্যা হয়। প্রথমে দেখা দেয় রাতকানা (Night Blindness), এরপর কনজাংটিভা শুষ্ক হয়ে যাওয়া (Xerosis Conjunctiva) এবং কনজাংটিভায় বিটটস স্পট (Bitot's Spot) তৈরি হয়। এ পর্যায়ে ভিটামিন এ দিলে রোগ সেরে যায়। কিন্তু অভাব চলতে থাকলে কর্নিয়া নরম হয়ে গলে যায় ও ছিদ্র হয়ে যায়, একে কেরাটোম্যালেশিয়া (Keratomalacia) বলে। এতে কর্নিয়ায় স্থায়ী দাগ পড়ে এবং রোগী অন্ধ হয়ে যায়। তাই এটি অপরিবর্তনীয় লক্ষণ।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর অভাব: রাতকানা → জেরোসিস → বিটটস স্পট → কেরাটোম্যালেশিয়া (অপরিবর্তনীয়)
  8. ৮. Cause of acute starvation is৪৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপুষ্টি
    • ক. Self refusal
    • খ. Dysphasia
    • গ. Anorexia
    • ঘ. Entrapment in mine
    উত্তর: ঘ. Entrapment in mine
    তীব্র অনাহার (Acute Starvation) হলো হঠাৎ করে খাদ্য ও পানি সম্পূর্ণ না পাওয়ার অবস্থা। এটি বাইরের কারণে ঘটে, যেমন খনিতে আটকে পড়া (Entrapment in Mine), বিধ্বস্ত ভবনে চাপা পড়া, সমুদ্রে ভেসে থাকা বা পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া। এতে মানুষ চাইলেও খেতে পারে না।
    নিজে খেতে অস্বীকার করা (Self Refusal), গিলতে অসুবিধা (Dysphagia) ও ক্ষুধামান্দ্য (Anorexia) সাধারণত ধীরে ধীরে বা দীর্ঘ সময়ে খাবার কমিয়ে অপুষ্টি ঘটায়, তাই এগুলো দীর্ঘস্থায়ী অনাহারের কারণ।
    মনে রাখুন:
    তীব্র অনাহার: আকস্মিক বাহ্যিক কারণে (দুর্ঘটনা)
    দীর্ঘস্থায়ী অনাহার: দারিদ্র্য, রোগ
  9. ৯. কোনটি শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. খনিজ লবণ
    • খ. ভিটামিন
    • গ. স্নেহ
    • ঘ. আমিষ
    উত্তর: ঘ. আমিষ
    আমিষ বা প্রোটিন (Protein) অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি, আর প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডে নাইট্রোজেন থাকে। তাই খাদ্য উপাদানের মধ্যে আমিষই শরীরে নাইট্রোজেন জোগায়। শর্করা ও স্নেহে সাধারণত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকে, নাইট্রোজেন থাকে না। নাইট্রোজেনের অভাব হলে শরীরে প্রোটিন তৈরি হয় না, ফলে শিশুদের বৃদ্ধি থেমে যায়। শিশুদের আমিষের অভাবজনিত রোগের নাম কোয়াশিয়রকর ও ম্যারাসমাস। আমিষের এই কাজ কার্বোহাইড্রেট বা স্নেহ করতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    আমিষ শরীর গঠন ও ক্ষয়পূরণের কাজ করে।
    আমিষের উৎস মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল।
  10. ১০. রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হল-৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin K
    • খ. Vitamin A
    • গ. Vitamin B
    • ঘ. Vitamin C
    উত্তর: ক. Vitamin K
    রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ভিটামিন K (Vitamin K) অত্যাবশ্যক। যকৃতে এর সাহায্যে প্রোথ্রম্বিনসহ কয়েকটি জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি হয়। ভিটামিন K-এর অভাব হলে রক্তে এসব উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে ক্ষত হলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না। সবুজ শাকসবজিতে এই ভিটামিন পাওয়া যায় এবং মানুষের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও কিছু তৈরি করে। সদ্যজাত শিশুদের রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা হতে পারে, তাই জন্মের পর অনেক সময় শিশুকে ভিটামিন K ইনজেকশন দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন: ভিটামিন K-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন, আর এটি স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন।
  11. ১১. সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের অনুপাত?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সুষম খাদ্য
    • ক. ৪ : ১ : ১
    • খ. ৪ : ২ : ২
    • গ. ৪ : ২ : ৩
    • ঘ. ৪ : ৩ : ২
    উত্তর: ক. ৪ : ১ : ১
    সুষম খাদ্যে শক্তির প্রধান উৎস শর্করা, তাই এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রচলিত হিসাবে সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির অনুপাত ৪ : ১ : ১। এর সঙ্গে প্রয়োজনমতো ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি থাকতে হয়। খাদ্যে আঁশজাতীয় পদার্থও থাকা উচিত, কারণ এটি পরিপাকে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
    মনে রাখুন:
    শর্করা শক্তি দেয়, আমিষ দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে, আর চর্বি সঞ্চিত শক্তি জোগায়।
    শর্করা ও আমিষ প্রতি গ্রামে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি এবং চর্বি প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি দেয়।
  12. ১২. ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন বি ১২
    • খ. ভিটামিন বি ৬
    • গ. ভিটামিন বি ১
    • ঘ. ভিটামিন বি ৯
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন বি ৯
    ফলিক অ্যাসিড (Folic acid) হলো ভিটামিন বি-৯-এর আরেক নাম। এটি নতুন কোষ তৈরিতে এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনে কাজে লাগে। গর্ভাবস্থায় এটি খুব জরুরি, কারণ এর অভাবে গর্ভের শিশুর স্নায়ুনালির ত্রুটি, যেমন স্পাইনা বিফিডা, হতে পারে। ফলিক অ্যাসিডের অভাবে রক্তস্বল্পতাও (Anaemia) দেখা দেয়। ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজি, কলিজা ও ডালে। এ কারণে গর্ভধারণের আগে ও প্রথম কয়েক মাসে চিকিৎসকেরা ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেতে পরামর্শ দেন। ফলিক অ্যাসিডের অভাব রক্তকণিকা তৈরির ওপর প্রভাব ফেলে।
    মনে রাখুন: ভিটামিন বি-১২-এর নাম কোবালামিন, বি-৬-এর নাম পিরিডক্সিন এবং বি-১-এর নাম থায়ামিন।
  13. ১৩. প্রােটিন তৈরি হয়-৪১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
    • খ. নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
    • গ. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
    • ঘ. উপরের কোনটিই নয়
    উত্তর: গ. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
    প্রোটিন (Protein) অসংখ্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino acid) পেপটাইড বন্ধনে শিকলের মতো জুড়ে তৈরি একটি বড় অণু। তাই অ্যামিনো অ্যাসিডকে প্রোটিনের গঠন একক বলে। ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে তৈরি হয় চর্বি, আর নিউক্লিক অ্যাসিডের একক নিউক্লিওটাইড। প্রতিটি অ্যামিনো এসিডে একটি অ্যামিনো (-NH₂) মূলক ও একটি কার্বক্সিল (-COOH) মূলক থাকে, আর এ থেকেই এর নাম এসেছে। অনেক অ্যামিনো এসিড জুড়ে লম্বা শিকল তৈরি হলে তাকে পলিপেপটাইড বলে। এই শিকলের ভাঁজ থেকেই প্রোটিনের আকৃতি ও কাজ ঠিক হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রোটিনে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন থাকে।
    প্রকৃতিতে ২০টি প্রামাণ্য অ্যামিনো অ্যাসিড আছে।
  14. ১৪. কার্বোহাইড্রেট C, H এবং O- এর অনুপাত কত?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ১: ১ : ২
    • খ. ১ : ২ : ১
    • গ. ১ : ৩ : ২
    • ঘ. ১ : ৩ : ১
    উত্তর: খ. ১ : ২ : ১
    কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) এমন জৈব যৌগ, যাতে শুধু কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) থাকে। এতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত পানির মতো, অর্থাৎ ২ : ১। এর সাধারণ সংকেত Cn(H₂O)n। উদাহরণ হিসেবে গ্লুকোজের সংকেত C₆H₁₂O₆, তাই C : H : O = 6 : 12 : 6 = 1 : 2 : 1। এই সংকেত থেকেই এদের নাম কার্বোহাইড্রেট, যার অর্থ কার্বনের হাইড্রেট বা পানিযুক্ত কার্বন।
    মনে রাখুন:
    কার্বোহাইড্রেট তিন ধরনের।
    মনোস্যাকারাইড: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ।
    ডাইস্যাকারাইড: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ।
    পলিস্যাকারাইড: স্টার্চ, সেলুলোজ।
  15. ১৫. ডিমে কোন ভিটামিন নেই?৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন -এ
    • খ. ভিটামিন-বি
    • গ. ভিটামিন-সি
    • ঘ. ভিটামিন-ডি
    উত্তর: গ. ভিটামিন-সি
    ডিমে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং বি কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভিটামিন থাকে। কিন্তু ভিটামিন সি ডিমে প্রায় থাকে না। এই ভিটামিন প্রধানত পাওয়া যায় লেবু, আমলকী, পেয়ারা ও তাজা শাকসবজিতে। ভিটামিন সির অভাবে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়, যাতে মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে। ডিমের কুসুমে ভিটামিন এ ও ডি দুটোই থাকে, আর সাদা অংশে থাকে প্রধানত অ্যালবুমিন নামের প্রোটিন। তাই ডিমকে আমিষের ভালো উৎস ধরা হয়। ডিম সিদ্ধ করে খেলে হজম সহজ হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন ডি-র অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়।
  16. ১৬. অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হল-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. গ্লাইকোজেন
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. ফ্রুক্টোজ (Fructose)
    • ঘ. সুক্রোজ
    উত্তর: ক. গ্লাইকোজেন
    আমরা খাবার থেকে যে গ্লুকোজ পাই, তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হলে দেহ সেটি গ্লাইকোজেন (Glycogen) রূপে জমা রাখে। এই সঞ্চয় হয় প্রধানত যকৃতে ও পেশিতে। দেহে শক্তির দরকার হলে গ্লাইকোজেন ভেঙে আবার গ্লুকোজ তৈরি হয়। এ কারণে গ্লাইকোজেনকে প্রাণীদেহের সঞ্চিত শর্করা বা প্রাণীজ শ্বেতসার বলা হয়। যকৃতে গ্লাইকোজেন জমা ও ভাঙার কাজ নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন। ইনসুলিন গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করতে সাহায্য করে, আর গ্লুকাগন উল্টোটি ঘটিয়ে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়।
    মনে রাখুন: উদ্ভিদের সঞ্চিত শর্করা শ্বেতসার বা স্টার্চ।
  17. ১৭. কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ভাত
    • খ. গরুর মাংস
    • গ. মসুর ডাল
    • ঘ. ময়দা
    উত্তর: গ. মসুর ডাল
    প্রোটিন বা আমিষ আমাদের দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। শুকনো মসুর ডালে প্রায় ২৫ ভাগ প্রোটিন থাকে, তাই এটি উদ্ভিজ্জ আমিষের ভালো উৎস। ভাত ও ময়দা প্রধানত শর্করা সরবরাহ করে, তাই এদের আমিষের পরিমাণ কম। গরুর মাংসেও আমিষ আছে, কিন্তু রান্না না করা অবস্থায় তাতে পানি বেশি থাকায় ওজন হিসাবে আমিষের হার ডালের চেয়ে কম। ডালের আমিষে কিছু অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের ঘাটতি থাকে, তাই ডালের সঙ্গে ভাত বা অন্য খাবার মিলিয়ে খেলে আমিষের গুণ বাড়ে।
    মনে রাখুন: ডাল, দুধ, মাছ, মাংস ও ডিম আমিষের ভালো উৎস।
  18. ১৮. হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. আয়োডিন
    • খ. আয়রন
    • গ. ম্যাগনেসিয়াম
    • ঘ. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
    উত্তর: ঘ. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
    হাড় ও দাঁত প্রধানত ক্যালসিয়াম ফসফেট দিয়ে গঠিত, তাই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে শক্ত ও মজবুত করে। দুধ, ডিম ও ছোট মাছে এই উপাদান থাকে। আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড হয়, আর আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়। এগুলো হাড় ও দাঁতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। হাড় ও দাঁতের প্রায় সব ক্যালসিয়াম ক্যালসিয়াম ফসফেট আকারে থাকে। শিশুদের হাড় গড়ে ওঠার সময় এবং বয়স্ক নারীদের হাড় ক্ষয় রোধে ক্যালসিয়াম বিশেষভাবে দরকার।
    মনে রাখুন: ভিটামিন ডি দেহকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, আর এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়।
  19. ১৯. কোলেস্টেরল এক ধরনের ____ ।৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চর্বি
    • ক. অসম্পৃক্ত এলকোহল
    • খ. জৈব এসিড
    • গ. পলিমার
    • ঘ. এমিনো এসিড
    উত্তর: ক. অসম্পৃক্ত এলকোহল
    কোলেস্টেরল (Cholesterol) এক ধরনের অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। এটি একটি স্টেরয়েড, যার অণুতে একটি হাইড্রক্সিল (-OH) মূলক আর একটি দ্বিবন্ধন আছে। প্রাণীদেহে কোষঝিল্লি গঠন এবং কিছু হরমোন ও ভিটামিন ডি তৈরিতে কোলেস্টেরল কাজে লাগে। তবে রক্তে এর পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে ধমনির ভেতরে জমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কোলেস্টেরল যকৃতে তৈরি হয় এবং খাবার থেকেও আসে। রক্তে এটি লাইপোপ্রোটিন নামের বাহকের সঙ্গে চলে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    কোলেস্টেরল শুধু প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়, উদ্ভিজ্জ খাবারে নেই।
    HDL ভালো কোলেস্টেরল, আর LDL ক্ষতিকর কোলেস্টেরল।
  20. ২০. অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কোনটি?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যামাইনো এসিড
    • ক. গ্লাইসিন (Glycine)
    • খ. সেরিন (Serine)
    • গ. সিস্টিন (Cistine)
    • ঘ. ভ্যালিন (Valine)
    উত্তর: ঘ. ভ্যালিন (Valine)
    প্রোটিন বা আমিষ তৈরি হয় অ্যামিনো এসিড (Amino Acid) দিয়ে। এর মধ্যে যে অ্যামিনো এসিড আমাদের শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, সেটি খাদ্য থেকেই নিতে হয়। এগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড (Essential Amino Acid) বলে। ভ্যালিন (Valine) তেমনই একটি অ্যামিনো এসিড। অন্যদিকে গ্লাইসিন, সেরিন ও সিস্টিন শরীর নিজেই বানিয়ে নিতে পারে, তাই এগুলো অনত্যাবশ্যকীয়। অনত্যাবশ্যকীয় বলতে এ কথা বোঝায় না যে সেগুলো শরীরের কাজে লাগে না, বরং শরীর নিজেই সেগুলো সংশ্লেষ করে নিতে পারে।
    মনে রাখুন:
    অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড: ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, লাইসিন, মেথিওনিন, ফিনাইলঅ্যালানিন, থ্রিওনিন, ট্রিপটোফ্যান ও হিস্টিডিন।
    শিশুদের ক্ষেত্রে আর্জিনিনও খাদ্য থেকে নিতে হয়।
  21. ২১. এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান –৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. প্রোটিন
    • খ. ক্যালসিয়াম
    • গ. ভিটামিন
    • ঘ. লবণ
    উত্তর: ক. প্রোটিন
    এনজাইম, অ্যান্টিবডি ও অনেক হরমোনের মৌলিক উপাদান প্রোটিন বা আমিষ। এনজাইম দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়, অ্যান্টিবডি রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে, আর ইনসুলিনের মতো হরমোন প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই এদের সবার মৌলিক উপাদান প্রোটিন। প্রোটিন আমাদের পেশি, চুল ও নখের গঠনেও থাকে। হিমোগ্লোবিন, যা রক্তে অক্সিজেন বহন করে, সেটিও একটি প্রোটিন। শরীরে নতুন কোষ তৈরি ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রতিদিন প্রোটিন দরকার হয়। এভাবে প্রোটিন দেহের প্রায় সব কাজেই অংশ নেয়।
    মনে রাখুন:
    কিছু হরমোন, যেমন কর্টিসল ও টেস্টোস্টেরন, প্রোটিন নয়, বরং স্টেরয়েড জাতীয়।
    প্রোটিনের একক অ্যামিনো এসিড।
  22. ২২. শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয় –৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. বছরে একবার
    • খ. বছরে দুইবার
    • গ. বছরে তিনবার
    • ঘ. এর কোনটিই নয়
    উত্তর: খ. বছরে দুইবার
    বাংলাদেশে প্রতি বছর দুবার জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন হয়। সেখানে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। অর্থাৎ শিশুদের বছরে দুবার এই ক্যাপসুল দিতে হয়। এতে শিশুদের রাতকানা রোগ ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। ভিটামিন এ চোখের রেটিনার জন্য দরকারি, তাই এর অভাবে অল্প আলোয় দেখতে অসুবিধা হয়। ক্যাম্পেইন ছাড়াও মায়ের দুধ শিশুকে ভিটামিন এ জোগায়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর উৎস কলিজা, ডিমের কুসুম, দুধ, গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও লালশাক।
    ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই দেহে জমা থাকতে পারে।
  23. ২৩. প্রােটিন তৈরি হয়-৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ফ্যাটি এসিড দিয়ে
    • খ. সাইট্রিক এসিড দিয়ে
    • গ. অ্যামিনাে এসিড দিয়ে
    • ঘ. অক্সালিক এসিড দিয়ে
    উত্তর: গ. অ্যামিনাে এসিড দিয়ে
    প্রোটিন একটি বৃহৎ জৈব অণু, যার গঠন একক অ্যামাইনো এসিড (Amino acid)। অনেকগুলো অ্যামাইনো এসিড পেপটাইড বন্ধনের (peptide bond) মাধ্যমে পরপর যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড শিকল এবং শেষে প্রোটিন তৈরি করে। প্রতিটি অ্যামাইনো এসিডে একটি অ্যামাইনো গ্রুপ (−NH2) ও একটি কার্বক্সিল গ্রুপ (−COOH) থাকে। ফ্যাটি এসিড চর্বি বা লিপিড গঠনের উপাদান। সাইট্রিক ও অক্সালিক এসিড জৈব এসিড, প্রোটিনের উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    প্রাকৃতিক প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো এসিড মোট ২০টি। এর মধ্যে ৯টি অপরিহার্য, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না।
    কার্বোহাইড্রেটের একক মনোস্যাকারাইড, চর্বির একক ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল।
  24. ২৪. টেস্টিং সল্ট-এর রাসায়নিক নাম কি?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংযোজন
    • ক. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
    • খ. সোডিয়াম গ্লুটামেট
    • গ. পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট
    • ঘ. সোডিয়াম মনোগ্লুটামেট
    উত্তর: ক. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
    টেস্টিং সল্ট নামে বাজারে যা পাওয়া যায়, তার রাসায়নিক নাম মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (Monosodium Glutamate), সংক্ষেপে MSG। এটি গ্লুটামিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ। খাবারে মেশালে এটি খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়িয়ে দেয়। অন্য অপশনের পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট আসলে বেকিং সোডার মতো একটি ভিন্ন যৌগ, যা স্বাদ বাড়ানোর কাজে লাগে না। খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে এটি মেশানো অবশ্য স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
    মনে রাখুন: ১৯০৮ সালে জাপানি বিজ্ঞানী কিকুনাই ইকেদা সামুদ্রিক শৈবাল থেকে গ্লুটামেট আলাদা করেন এবং এর স্বাদের নাম দেন ‘উমামি’।
    চীনা রান্নায় এই লবণের ব্যবহার খুব বেশি।
  25. ২৫. কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?৪৬তম বিসিএস ও বিডা-এর সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন কে
    • ক. ভিটামিন 'বি'
    • খ. ভিটামিন 'সি'
    • গ. ভিটামিন 'ডি'
    • ঘ. ভিটামিন 'কে'
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন 'কে'
    ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। আমাদের যকৃৎ প্রোথ্রোম্বিন নামের একটি প্রোটিন তৈরি করে, আর এটি তৈরির জন্য ভিটামিন কে লাগে। কেটে গেলে এই প্রোথ্রোম্বিন থেকেই রক্ত জমাট বাঁধার ধাপগুলো শুরু হয়। ভিটামিন কে না থাকলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না এবং রক্তপাত থামতে দেরি হয়।
    মনে রাখুন:
    জার্মান শব্দ ‘Koagulation’ (জমাট বাঁধা) থেকে এর নাম কে এসেছে।
    অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও কিছু ভিটামিন কে তৈরি করে।
    সবুজ শাকসবজিতে এটি প্রচুর থাকে।
    ওয়ারফারিন নামের ওষুধ ভিটামিন কে-এর কাজে বাধা দিয়ে রক্ত জমাট বাঁধা কমায়, তাই হৃদরোগীদের অনেককে এটি দেওয়া হয়।
    রক্তে ক্যালসিয়ামও জমাট বাঁধার একটি ধাপে সাহায্য করে।
  26. ২৬. দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়োডিন
    • ক. রাতকানা
    • খ. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)
    • গ. এনিমিয়া
    • ঘ. কোয়াশিয়রকর
    উত্তর: খ. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)
    সামুদ্রিক মাছ ও শৈবালে আয়োডিন প্রচুর থাকে, আর থাইরয়েড গ্রন্থি এই আয়োডিন দিয়েই থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে। আয়োডিন কম পড়লে থাইরক্সিনের উৎপাদন কমে যায়, একে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) বলে। তখন শরীর ভারী লাগে, ক্লান্তি আসে এবং গলগণ্ডও হতে পারে। তাই খাবারে এসব উপাদান থাকলে এই রোগের প্রকোপ কমে।
    মনে রাখুন:
    রাতকানা হয় ভিটামিন এ-এর অভাবে।
    এনিমিয়া হয় লোহার অভাবে।
    কোয়াশিয়রকর হয় প্রোটিনের অভাবে।
    আমাদের দেশের উপকূলীয় মানুষ সামুদ্রিক মাছ বেশি খায় বলে তাদের মধ্যে আয়োডিনের অভাব তুলনামূলক কম।
    সমুদ্র থেকে দূরের পাহাড়ি ও উঁচু অঞ্চলের মাটিতে আয়োডিন কম থাকে বলে সেখানে গলগণ্ড বেশি হয়।
    আয়োডিনযুক্ত লবণ এই অভাব দূর করার সহজ উপায়।

অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (২৫৮)

  1. ২৭. পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনটি?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit-A
    • খ. Vit-D
    • গ. Vit-B
    • ঘ. Vit-K
    উত্তর: গ. Vit-B
    ভিটামিনকে দ্রবণীয়তা অনুযায়ী দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কিছু ভিটামিন চর্বিতে গলে, আবার কিছু গলে পানিতে। ভিটামিন-এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই এগুলো দেহের চর্বিযুক্ত অংশে জমা থাকতে পারে। ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স আর ভিটামিন-সি পানিতে দ্রবণীয়। এ কারণে এগুলো দেহে বেশি জমে না, বাড়তি অংশ প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। সুতরাং প্রতিদিনই এসব ভিটামিন খাবার থেকে নিতে হয়। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে একমাত্র ভিটামিন-বি-ই পানিতে দ্রবণীয়।
    মনে রাখুন:
    পানিতে দ্রবণীয়: ভিটামিন-বি ও সি।
    চর্বিতে দ্রবণীয়: ভিটামিন-এ, ডি, ই ও কে।
    ভিটামিন-বি১-এর অভাবে বেরিবেরি হয়।
  2. ২৮. কোন ভিটামিনের অভাবে রক্ত জমাট বাঁধে না?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit-A
    • খ. Vit-B
    • গ. Vit-C
    • ঘ. Vit-K
    উত্তর: ঘ. Vit-K
    আঘাত লাগলে রক্ত বের হয়, আবার কিছুক্ষণ পরে তা জমাট বেঁধে ক্ষত বন্ধ করে দেয়। এই জমাট বাঁধার জন্য যকৃৎ প্রোথ্রম্বিন নামের একটি প্রোটিন তৈরি করে, আর এই প্রোটিন তৈরিতে ভিটামিন-কে লাগে। ভিটামিন-কে-এর অভাব হলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না, ফলে ক্ষত থেকে রক্ত অনেকক্ষণ ঝরতে থাকে। তাই একে অনেক সময় রক্ত জমাট বাঁধার ভিটামিন বলা হয়। অন্য ভিটামিনের অভাবে অন্য রোগ হয়: ভিটামিন-এ-এর অভাবে রাতকানা, ভিটামিন-বি১-এর অভাবে বেরিবেরি এবং ভিটামিন-সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন-কে সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়, আর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও কিছুটা তৈরি করে।
    ভিটামিন-ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়।
  3. ২৯. Exclusive breast feeding কয়মাস পর্যন্ত করানো হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাতৃদুগ্ধ
    • ক. ৬ মাস
    • খ. ১২ মাস
    • গ. ৪ মাস
    • ঘ. ১৮ মাস
    উত্তর: ক. ৬ মাস
    নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধই সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোকে, অর্থাৎ পানি, মধু বা অন্য কোনো খাবার না দেওয়াকে, এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং (Exclusive Breastfeeding) বলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের পরামর্শ অনুযায়ী জন্মের পর থেকে প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হয়। এই সময়ে শিশুর দেহের বৃদ্ধির জন্য যা যা দরকার, বুকের দুধেই তা থাকে, আর এতে রোগ প্রতিরোধের উপাদানও পাওয়া যায়। ৬ মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের সঙ্গে ঘরে তৈরি নরম খাবার দেওয়া শুরু করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রসবের পর প্রথম যে হলুদ ঘন দুধ হয়, তাকে শালদুধ বলে। এটি শিশুর প্রথম টিকার মতো কাজ করে।
    প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ বিশ্ব বুকের দুধ সপ্তাহ।
  4. ৩০. একজন মানুষের স্বাভাবিক BMI কত থাকতে হবে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিএমআই
    • ক. ১৮–৩০ kg/m²
    • খ. ১৯–২৫ kg/m²
    • গ. ২০–২৯ kg/m²
    • ঘ. ১৮.৫–২৪.৯ kg/m²
    উত্তর: ঘ. ১৮.৫–২৪.৯ kg/m²
    বিএমআই (BMI) বা বডি মাস ইনডেক্স হলো দেহের ওজন ও উচ্চতা থেকে বের করা একটি সংখ্যা, যা দিয়ে বোঝা যায় কারও ওজন ঠিক আছে কি না। হিসাবের সূত্র: BMI = ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতার বর্গ (মিটার²), তাই একক kg/m²। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে স্বাভাবিক বিএমআই ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে। এর নিচে হলে ওজন কম ধরা হয়, ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে ওজন বেশি এবং ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা বলা হয়। অন্য বিকল্পগুলোর পরিসর এই মানের সঙ্গে মেলে না।
    উদাহরণ:
    ওজন ৬০ কেজি, উচ্চতা ১.৫ মিটার হলে BMI = 60 ÷ (1.5 × 1.5) = 26.7, অর্থাৎ ওজন একটু বেশি।
  5. ৩১. রক্তশূন্যতা দেখা দেয় কোনটির অভাবে?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা/সহকারী কনস্যুলার কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ উপাদান
    • ক. ভিটামিন-এ
    • খ. আয়রন
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. আয়োডিন
    উত্তর: খ. আয়রন
    আমাদের রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা ফুসফুস থেকে দেহের সব কোষে অক্সিজেন বহন করে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে অপরিহার্য উপাদান হলো আয়রন বা লৌহ। খাবারে আয়রন কম থাকলে দেহ যথেষ্ট হিমোগ্লোবিন বানাতে পারে না। ফলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। তখন মানুষ দুর্বল বোধ করে, তার মাথা ঘোরে আর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। অন্য বিকল্পগুলোর অভাবজনিত রোগ আলাদা: ভিটামিন-এ-এর অভাবে রাতকানা, ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় দুর্বল এবং আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
    মনে রাখুন:
    আয়রনসমৃদ্ধ খাবার: কলিজা, কচুশাক, ডাল, খেজুর।
    ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২-এর অভাবেও একধরনের রক্তস্বল্পতা হয়।
  6. ৩২. নিচের কোনটি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. ফরমালিন
    • খ. সালফার ডাইঅক্সাইড
    • গ. সোডিয়াম নাইট্রেট
    • ঘ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    উত্তর: ঘ. সোডিয়াম ক্লোরাইড
    খাদ্য সংরক্ষক হলো এমন পদার্থ, যা খাবারে মিশিয়ে বা মাখিয়ে রাখলে জীবাণুর বৃদ্ধি আটকে যায় আর খাবার সহজে নষ্ট হয় না। যেসব সংরক্ষক প্রকৃতি থেকে সরাসরি পাওয়া যায়, তাদের প্রাকৃতিক সংরক্ষক বলে। খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এর উদাহরণ। লবণ খাবারের পানি শুষে নেয়, ফলে জীবাণু বাঁচতে পারে না। এ কারণে আমরা মাছ বা আচার সংরক্ষণে লবণ ব্যবহার করি। সালফার ডাইঅক্সাইড ও সোডিয়াম নাইট্রেট কৃত্রিম বা রাসায়নিক সংরক্ষক। আর ফরমালিন বিষাক্ত রাসায়নিক, খাবারে এর ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।
    মনে রাখুন:
    প্রাকৃতিক সংরক্ষক: লবণ, চিনি, মধু, হলুদ, রসুন, সরিষার তেল।
    বাংলাদেশে ফরমালিনে ভেজাল মাছ-ফল বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  7. ৩৩. নিচের কোনটিতে লিপিড দ্রবীভূত হয় না?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লিপিড
    • ক. পানি
    • খ. ক্লোরোফরম
    • গ. বেনজিন
    • ঘ. অ্যাসিটোন
    উত্তর: ক. পানি
    লিপিড (Lipid) হলো চর্বি, তেল ও মোমজাতীয় পদার্থ, যা জীবদেহে শক্তি সঞ্চয়ের প্রধান উপাদান। লিপিডের অণু অধ্রুবীয় প্রকৃতির, আর পানির অণু ধ্রুবীয়। সাধারণ নিয়ম হলো, ধ্রুবীয় দ্রাবক ধ্রুবীয় পদার্থ গলায়, আর অধ্রুবীয় দ্রাবক অধ্রুবীয় পদার্থ গলায়। তাই লিপিড পানিতে গলে না, পানিতে তেল ফেলে দিলে তা আলাদা হয়ে ভেসে থাকে। এটাই সঠিক উত্তর। ক্লোরোফর্ম, বেনজিন, ইথার, অ্যালকোহল ও অ্যাসিটোন জৈব দ্রাবক, এগুলোতে লিপিড দ্রবীভূত হয়।
    মনে রাখুন:
    লিপিডের উদাহরণ: তেল, ঘি, মাখন, কোলেস্টেরল।
    ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে চর্বি তৈরি হয়।
    ১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  8. ৩৪. কার্বোহাইড্রেট এ C : H : O হলো—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বোহাইড্রেট
    • ক. 1:1:2
    • খ. 1:2:1
    • গ. 2:1:1
    • ঘ. 1:3:1
    উত্তর: খ. 1:2:1
    কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) শব্দটির অর্থ কার্বনের হাইড্রেট, অর্থাৎ পানিযুক্ত কার্বন। এর অণুতে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) এই তিনটি মৌল থাকে। সাধারণ সংকেত Cₙ(H₂O)ₘ, যেখানে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানির মতোই ২ : ১ অনুপাতে থাকে। যেমন গ্লুকোজের সংকেত C₆H₁₂O₆, এতে C : H : O = 6 : 12 : 6 = 1 : 2 : 1। তাই কার্বোহাইড্রেটে C : H : O এর অনুপাত 1 : 2 : 1। কার্বোহাইড্রেট জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    কার্বোহাইড্রেটের উদাহরণ: গ্লুকোজ, সুক্রোজ (চিনি), স্টার্চ, সেলুলোজ।
  9. ৩৫. ডিমে কোন ভিটামিন নেই?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-A
    • খ. ভিটামিন-B
    • গ. ভিটামিন-C
    • ঘ. ভিটামিন-D
    উত্তর: গ. ভিটামিন-C
    ডিম প্রোটিন ও ভিটামিনের ভালো উৎস। ডিমের কুসুমে ভিটামিন-এ, বি কমপ্লেক্স, ডি ও ই পাওয়া যায়। কিন্তু ডিমে ভিটামিন-সি থাকে না। ভিটামিন-সি পাওয়া যায় টাটকা ফল ও সবজিতে, যেমন কমলা, লেবু, আমলকি, পেয়ারা ও টমেটো। ভিটামিন-সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, এতে মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে এবং ক্ষত দেরিতে শুকায়। ডিমে ভিটামিন-সি না থাকলেও তা অন্য পুষ্টি জোগায়, তাই সুষম খাদ্যে ডিমের সঙ্গে ফল ও সবজি রাখা ভালো।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন-সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
    ভিটামিন-ডি-এর অভাবে রিকেটস এবং ভিটামিন-এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
  10. ৩৬. প্রোটিনের উপাদান হলো—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রোটিন
    • ক. ফ্যাটি এসিড
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. অ্যামিনো এসিড
    • ঘ. সাইট্রিক এসিড
    উত্তর: গ. অ্যামিনো এসিড
    প্রোটিন (Protein) জীবদেহের একটি মূল উপাদান, যা দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও এনজাইম তৈরির কাজে লাগে। এটি একটি বৃহদাকার জৈব যৌগ, যা অসংখ্য অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acid) পরস্পর যুক্ত হয়ে তৈরি হয়। এক অ্যামিনো অ্যাসিডের –COOH গ্রুপ আরেকটির –NH₂ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে বন্ধন গঠন করে, তার নাম পেপটাইড বন্ধন। এভাবে লম্বা পলিপেপটাইড শিকল তৈরি হয়। ফ্যাটি অ্যাসিড চর্বির উপাদান, গ্লুকোজ কার্বোহাইড্রেটের, আর সাইট্রিক অ্যাসিড লেবুজাতীয় ফলে থাকে, প্রোটিনের উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    প্রাকৃতিক প্রোটিন গঠনে প্রায় ২০ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড অংশ নেয়।
    প্রোটিন জাতীয় খাবার: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ।
  11. ৩৭. খাদ্যের কোন উপাদানটি মূলত পচনের জন্য দায়ী?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. ভিটামিন
    • খ. পানি
    • গ. লিপিড
    • ঘ. প্রোটিন
    উত্তর: খ. পানি
    খাদ্য পচার মূল কারণ অণুজীবের বৃদ্ধি, আর অণুজীব বাঁচতে ও বাড়তে পানি চায়। খাদ্যে পানি বেশি থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং খাদ্যকে নষ্ট করে দেয়। এজন্যই কাঁচা মাছ, দুধ বা রান্না করা তরকারি দ্রুত পচে যায়, আর শুঁটকি, চাল বা ডাল দীর্ঘদিন ভালো থাকে। খাদ্য সংরক্ষণের বহু পদ্ধতি তাই আসলে খাদ্য থেকে পানি সরানোর কৌশল। পানির পরিমাণ যত কম, জীবাণুর বংশবৃদ্ধি তত ধীর হয়। ফলে শুকনো খাদ্য অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়, এই নীতি কাজে লাগিয়েই গুঁড়ো দুধ ও শুকনো ফল তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    রোদে শুকানো, লবণ বা চিনি মাখানো এবং ডিহাইড্রেশন, এগুলো পানির পরিমাণ কমায়।
    ফ্রিজের ঠান্ডা অণুজীবের বৃদ্ধি ধীর করে।
  12. ৩৮. এক গ্রাম ফ্যাট হতে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়–কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শক্তিদায়ক খাদ্য
    • ক. ৯.০ kcal
    • খ. ৯.৮ kcal
    • গ. ৯.৩ kcal
    • ঘ. ৯.৬ kcal
    উত্তর: ক. ৯.০ kcal
    খাদ্যের তিনটি প্রধান শক্তিদায়ক উপাদানের মধ্যে ফ্যাট (স্নেহ পদার্থ) সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়। এক গ্রাম ফ্যাট দেহে সম্পূর্ণ জারিত হলে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এজন্য শরীর অতিরিক্ত শক্তি ফ্যাট হিসেবে জমিয়ে রাখে। শক্তি মাপার প্রচলিত একক ক্যালরি, আর ১ কিলোক্যালরি (kcal) হলো ১০০০ ক্যালরি।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রায় ৪ kcal শক্তি পাওয়া যায়।
    ১ গ্রাম প্রোটিন থেকেও প্রায় ৪ kcal পাওয়া যায়।
    ভিটামিন ও খনিজ সরাসরি শক্তি জোগায় না।
  13. ৩৯. কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়ক?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit-C
    • খ. Vit-D
    • গ. Vit-B
    • ঘ. Vit-K
    উত্তর: ঘ. Vit-K
    ক্ষত হলে রক্ত জমাট বেঁধে ক্ষতস্থান বন্ধ করে দেয়, একে রক্ত তঞ্চন (Coagulation) বলে। এই প্রক্রিয়ার জন্য যকৃতে প্রোথ্রম্বিন নামের উপাদান তৈরি হয় এবং এর জন্য ভিটামিন K দরকার। ভিটামিন K-এর অভাব হলে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়, ফলে সামান্য কাটলেও বেশি রক্ত ঝরতে পারে। শাকসবজি, বিশেষ করে সবুজ পাতাযুক্ত সবজি এই ভিটামিনের ভালো উৎস। আর অন্ত্রের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়াও এটি তৈরি করে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি এবং ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেটস হয়।
    ভিটামিন K চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
    রক্ত তঞ্চনে ক্যালসিয়াম আয়নও ভূমিকা রাখে।
  14. ৪০. স্টার্চের মূল উপাদান কোনটি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বোহাইড্রেট
    • ক. সেলুলোজ
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. ফ্রুক্টোজ
    • ঘ. ল্যাকটোজ
    উত্তর: খ. গ্লুকোজ
    উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে যে গ্লুকোজ তৈরি করে, তার বাড়তি অংশ স্টার্চ (শ্বেতসার) হিসেবে জমিয়ে রাখে। স্টার্চ একটি পলিস্যাকারাইড, যার অণু হাজার হাজার গ্লুকোজ অণু পরপর জুড়ে গঠিত। তাই গ্লুকোজকে স্টার্চের একক বা মূল উপাদান বলা হয়। ধান, গম, আলু ও ভুট্টা স্টার্চের প্রধান উৎস। সেলুলোজও গ্লুকোজ দিয়েই গঠিত, তবে তা উদ্ভিদকোষের প্রাচীর তৈরি করে, স্টার্চের মতো সঞ্চিত খাদ্য নয়। ফ্রুক্টোজ ও ল্যাকটোজ ভিন্ন শর্করা।
    মনে রাখুন:
    স্টার্চের সঙ্গে আয়োডিন দ্রবণ মেশালে গাঢ় নীল রং দেখা যায়।
    প্রাণীর দেহে অনুরূপ সঞ্চিত শর্করার নাম গ্লাইকোজেন।
  15. ৪১. দুগ্ধ চিনি কোনটি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বোহাইড্রেট
    • ক. গ্লুকোজ
    • খ. সুক্রোজ
    • গ. ল্যাকটোজ
    • ঘ. ম্যালটোজ
    উত্তর: গ. ল্যাকটোজ
    দুধে যে প্রধান শর্করা থাকে, তার নাম ল্যাকটোজ (Lactose)। এটি একটি ডাইস্যাকারাইড, অর্থাৎ দুটি সরল শর্করা, গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ, জুড়ে এর অণু তৈরি। দুধে থাকে বলে একে দুগ্ধ শর্করা বা দুধ চিনিও বলে। মানুষের শরীরে ল্যাকটেজ নামের এনজাইম একে ভাঙে। অনেকের শরীরে সেই এনজাইম কম থাকলে দুধ খেলে পেটের সমস্যা হয়, একে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    সুক্রোজ = গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ (আখ ও বিট থেকে পাওয়া সাধারণ চিনি)।
    ম্যালটোজ = গ্লুকোজ + গ্লুকোজ (মল্ট চিনি)।
    গ্লুকোজ একটি মনোস্যাকারাইড।
  16. ৪২. ভিটামিন 'বি'-এর অভাবে–পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. বেরিবেরি রোগ হয়
    • খ. রিকেটস্ রোগ হয়
    • গ. স্কার্ভি রোগ হয়
    • ঘ. রাতকানা রোগ হয়
    উত্তর: ক. বেরিবেরি রোগ হয়
    ভিটামিন বি আসলে একটি গোষ্ঠী, যাকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়। এর মধ্যে ভিটামিন B₁ (থায়ামিন) স্নায়ুর কাজ ও শর্করার বিপাকে সাহায্য করে। এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়, যার লক্ষণ হলো ক্ষুধামান্দ্য, অবসন্নতা, হাত-পায়ের দুর্বলতা ও স্নায়বিক সমস্যা। ঢেঁকিছাঁটা বা ছাঁটাই না করা চালের তুষে B₁ থাকে, আর অতিরিক্ত পালিশ করা সাদা চালে তা নষ্ট হয়ে যায়। রিকেটস হয় ভিটামিন ডি-র অভাবে, স্কার্ভি ভিটামিন সি-র অভাবে এবং রাতকানা ভিটামিন এ-র অভাবে।
    মনে রাখুন:
    B₂ (রিবোফ্লাভিন) অভাবে ঠোঁট ও জিহ্বা ফেটে যায়।
    B₁₂ অভাবে রক্তস্বল্পতা (পারনিশাস অ্যানিমিয়া) হয়।
  17. ৪৩. কোন ভিটামিনের অভাবে Night blindness হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit. C
    • খ. Vit. A
    • গ. Vit. B complex
    • ঘ. Vit. D
    উত্তর: খ. Vit. A
    আমাদের চোখের রেটিনায় রড কোষ ও কোন কোষ নামে দুই ধরনের আলোগ্রাহী কোষ আছে। কম আলোয় দেখার কাজ করে রড কোষ, আর এর রঞ্জক রোডপসিন তৈরির জন্য ভিটামিন এ দরকার। ভিটামিন এ-র অভাব হলে এই রঞ্জক ঠিকমতো তৈরি হয় না, তাই অন্ধকারে বা কম আলোয় ভালো দেখা যায় না, একেই রাতকানা (Night Blindness) বলে। গাজর, পেঁপে, কলিজা ও হলুদ-কমলা সবজিতে এই ভিটামিন প্রচুর থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-র অভাবে স্কার্ভি, ভিটামিন ডি-র অভাবে রিকেটস, ভিটামিন বি₁-এর অভাবে বেরিবেরি।
    ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবণীয়।
  18. ৪৪. নিচের কোনটি Reducing sugar?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. স্টার্চ
    • খ. সেলুলোজ
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. গ্লাইকোজেন
    উত্তর: গ. গ্লুকোজ
    যে শর্করা তার অণুতে মুক্ত অ্যালডিহাইড (–CHO) বা কিটোন (>C=O) মূলক রাখে এবং ফেলিং দ্রবণ বা টলেন্স বিকারককে বিজারিত করতে পারে, তাকে বিজারক শর্করা (Reducing Sugar) বলে। গ্লুকোজে অ্যালডিহাইড মূলক আছে, তাই এটি বিজারক শর্করা। ফ্রুক্টোজ, গ্যালাকটোজ ও ম্যালটোজও বিজারক। স্টার্চ, সেলুলোজ ও গ্লাইকোজেন হলো পলিস্যাকারাইড, যাদের অণুতে এমন মুক্ত মূলক থাকে না বা থাকলেও নগণ্য, তাই এরা বিজারক শর্করা নয়।
    মনে রাখুন:
    সুক্রোজ বিজারক নয়, কারণ গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মুক্ত মূলক গ্লাইকোসিডিক বন্ধনে আটকে থাকে।
    ফেলিং দ্রবণ বিজারক শর্করার সঙ্গে ইটের মতো লাল অধঃক্ষেপ দেয়।
  19. ৪৫. আয়োডিনের অভাবে কোন রোগ হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ উপাদান
    • ক. টিটেনি
    • খ. গলগণ্ড
    • গ. ক্যান্সার
    • ঘ. রিকেটস
    উত্তর: খ. গলগণ্ড
    থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের দিকে থাকে এবং থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে। থাইরক্সিন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। খাবারে আয়োডিনের ঘাটতি হলে হরমোন কম তৈরি হয়, আর গ্রন্থি তার ঘাটতি পূরণ করতে ফুলে ওঠে। এই ফোলা অবস্থাকেই গলগণ্ড (Goitre) বলে। তাই আমাদের দেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিটেনি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি ও প্যারাথাইরয়েড সমস্যায় হয়, আর রিকেটস ভিটামিন ডি-র অভাবে হয়। আয়োডিনের দৈনিক চাহিদা খুব সামান্য, প্রায় ১৫০ মাইক্রোগ্রামের মতো, কিন্তু এই সামান্য পরিমাণের অভাবেও গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের উৎস: সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক শৈবাল ও আয়োডিনযুক্ত লবণ।
    শিশুদের আয়োডিনের অভাবে বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
  20. ৪৬. কোন ভিটামিনের অভাবে RICKET রোগ হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit C
    • খ. Vit K
    • গ. Vit D
    • ঘ. Vit A
    উত্তর: গ. Vit D
    হাড় শক্ত ও মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দরকার, আর শরীর সেগুলো ঠিকমতো শুষে নিতে পারে ভিটামিন ডি-র সাহায্যে। শিশুদের এই ভিটামিনের অভাব হলে হাড় নরম হয়ে বেঁকে যায়, পা ধনুকের মতো বাঁকা হয়, বুকের খাঁচা বিকৃত হয়। এই রোগের নাম রিকেটস (Rickets)। বড়দের একই কারণে হলে তাকে অস্টিওম্যালেশিয়া বলে। সূর্যের আলোতে আমাদের ত্বকে এই ভিটামিন তৈরি হয়, তাই একে সূর্যালোক ভিটামিনও বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা, সি-র অভাবে স্কার্ভি, কে-র অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি।
    ডিমের কুসুম, মাছের তেল ও দুধে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
  21. ৪৭. Exclusive breast feeding বলতে কত মাসের জন্য বোঝায়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বুকের দুধ
    • ক. ৩ মাস
    • খ. ৬ মাস
    • গ. ৯ মাস
    • ঘ. ২ বছর
    উত্তর: খ. ৬ মাস
    শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোকে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং (Exclusive Breastfeeding) বলে। এই সময় বাইরের পানি, খাবার, এমনকি বোতলের দুধও দেওয়া হয় না। মায়ের দুধে শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধের অ্যান্টিবডি থাকে। এর ফলে শিশুর ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমে। ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের সঙ্গে ঘরে তৈরি নরম পুষ্টিকর খাবার যোগ করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের শালদুধ খাওয়ানো উচিত।
    বুকের দুধ দুই বছর বা তার বেশি সময় খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
    আগস্টের প্রথম সপ্তাহ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ।
  22. ৪৮. নিচের কোন খাবার থেকে সবচেয়ে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালরি
    • ক. শর্করা
    • খ. স্নেহজাতীয় পদার্থ
    • গ. প্রোটিন
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: খ. স্নেহজাতীয় পদার্থ
    আমাদের খাবারের তিনটি প্রধান উপাদান শর্করা, স্নেহ বা চর্বি এবং আমিষ বা প্রোটিন থেকে শক্তি পাওয়া যায়। এক গ্রাম খাদ্য দেহে সম্পূর্ণ জারিত হলে যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা-ই ওই খাদ্যের ক্যালরি মান। স্নেহজাতীয় পদার্থের (Fat) ক্যালরি মান সবচেয়ে বেশি, প্রতি গ্রামে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি। অথচ শর্করা ও প্রোটিন থেকে প্রতি গ্রামে পাওয়া যায় মাত্র প্রায় ৪ কিলোক্যালরি। ভিটামিন দেহের বিভিন্ন কাজ ঠিকমতো চালাতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি থেকে কোনো শক্তি পাওয়া যায় না। সে কারণেই চর্বিকে শক্তির সবচেয়ে ঘন উৎস বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    শর্করা ও প্রোটিন: প্রতি গ্রামে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি।
    স্নেহ: প্রতি গ্রামে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি।
    দেহে সঞ্চিত অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে জমা থাকে।
  23. ৪৯. শিশুদের রিকেট হয়–পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ডি-এর অভাবে
    • খ. ভিটামিন এ-এর অভাবে
    • গ. ভিটামিন সি-এর অভাবে
    • ঘ. ভিটামিন কে-এর অভাবে
    উত্তর: ক. ভিটামিন ডি-এর অভাবে
    আমাদের হাড় শক্ত ও মজবুত থাকার জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দরকার। ভিটামিন ডি এই দুটি খনিজকে খাদ্য থেকে শোষণ করতে এবং হাড়ে জমা করতে সাহায্য করে। তাই শিশুর দেহে ভিটামিন ডি কম পড়লে হাড় নরম থেকে যায় এবং রিকেট (Rickets) রোগ হয়। এতে শিশুর পা বাঁকা হয়ে যায়, বুকের হাড় উঁচু হয়ে ওঠে এবং হাড়ে ব্যথা হয়। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের ত্বক সূর্যের আলোতে নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। বড়দের একই কারণে যে রোগ হয়, তার নাম অস্টিওম্যালেসিয়া।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা, সি-এর অভাবে স্কার্ভি।
    ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  24. ৫০. কোন ভিটামিন তাপে নষ্ট হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন সি
    • গ. ভিটামিন বি
    • ঘ. ভিটামিন ডি
    উত্তর: খ. ভিটামিন সি
    ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। এটি পানিতে সহজে দ্রবীভূত হয় এবং তাপ, আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে খুব সহজে নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে সবজি বা ফল বেশিক্ষণ ধরে সেদ্ধ করলে তার বেশিরভাগ ভিটামিন সি আর থাকে না। এই ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যাতে মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে। ভিটামিন এ ও ডি চর্বিতে দ্রবণীয় এবং রান্নার তাপে তুলনামূলকভাবে কম নষ্ট হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-এর উৎস: আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা।
    পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: বি-কমপ্লেক্স ও সি।
    চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: এ, ডি, ই, কে।
  25. ৫১. পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির শরীরে Amino Acid-এর সংখ্যা–পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যামিনো এসিড
    • ক. ২২টি
    • খ. ২০টি
    • গ. ১০টি
    • ঘ. ৮টি
    উত্তর: খ. ২০টি
    প্রোটিন তৈরি হয় অ্যামাইনো এসিড (Amino acid) নামের ছোট ছোট একককে একটার পর একটা জুড়ে। প্রকৃতিতে এমন অ্যামাইনো এসিড অনেক আছে, কিন্তু আমাদের দেহের প্রোটিন তৈরিতে প্রধানত ২০টি অ্যামাইনো এসিড কাজ করে। এর মধ্যে ৮টি অত্যাবশ্যকীয়। দেহ এগুলো নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকে জোগাড় করতে হয়। শিশুদের জন্য দরকার আরও কয়েকটি। বাকি ১২টি অনত্যাবশ্যকীয়, যেগুলো দেহের ভেতরেই সংশ্লেষিত হয়।
    মনে রাখুন:
    প্রোটিনের মৌলিক উপাদান অ্যামাইনো এসিড।
    অ্যামাইনো এসিডে একটি অ্যামাইনো গ্রুপ (-NH₂) ও একটি কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) থাকে।
    ডিম, মাছ, মাংস ও দুধ ভালো প্রোটিনের উৎস।
  26. ৫২. Exclusive Breast Feeding বলতে শিশু জন্মের কয়মাস বোঝায়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ ও নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বুকের দুধ
    • ক. ছয় মাস
    • খ. তিন মাস
    • গ. বারো মাস
    • ঘ. নয় মাস
    উত্তর: ক. ছয় মাস
    সদ্যোজাত শিশুর জন্য মায়ের দুধ সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরামর্শ দেয়, শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ খাবে। পানি, মধু বা অন্য কোনো খাবার এ সময়ে দেওয়া চলবে না। একে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং (Exclusive Breast Feeding) বলে। ছয় মাসের পর মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার শুরু করতে হয়, আর দুই বছর বা তারও বেশি সময় বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া ভালো।
    মনে রাখুন:
    শিশুর জন্মের পর প্রথম যে হলুদ ঘন দুধ বের হয়, তার নাম শালদুধ (Colostrum)।
    শালদুধে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি থাকে।
    প্রতিবছর ১-৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়।
  27. ৫৩. নিচের কোনটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন?ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Ascorbic acid
    • খ. Tocopherol
    • গ. Thiamine
    • ঘ. Riboflavin
    উত্তর: খ. Tocopherol
    ভিটামিন দুই ধরনের: চর্বিতে দ্রবণীয় ও পানিতে দ্রবণীয়। চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো A, D, E ও K, যেগুলো দেহের চর্বিযুক্ত কলা ও যকৃতে জমা থাকে। টোকোফেরল (Tocopherol) ভিটামিন E-এর অপর নাম, তাই এটি চর্বিতে দ্রবণীয়। অ্যাসকরবিক এসিড হলো ভিটামিন C, থায়ামিন B₁ এবং রিবোফ্লাভিন B₂। এই তিনটিই পানিতে দ্রবণীয়, ফলে প্রতিদিন খাদ্যের মাধ্যমে নিতে হয়। মনে রাখার সহজ উপায় হলো, চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে ADEK বলা। বাকি সব ভিটামিন, অর্থাৎ B-কমপ্লেক্স ও C পানিতে দ্রবণীয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন E-এর অভাবে বন্ধ্যাত্ব ও পেশি দুর্বলতা হতে পারে।
    ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
  28. ৫৪. Vitamin 'A' deficiency causes—ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ঔষধ পরিদর্শক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Xerophthalmia
    • খ. Anaemia
    • গ. Hypoprothrombinemia
    • ঘ. Dyspesia
    উত্তর: ক. Xerophthalmia
    ভিটামিন A চোখের কর্নিয়া ও রেটিনাকে সুস্থ রাখে। এই ভিটামিনের অভাব বেশিদিন চললে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায় এবং ঘোলা হয়ে পড়ে। এই রোগের নাম জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia)। অ্যানিমিয়া হয় আয়রন বা ভিটামিন B₁₂-এর অভাবে, হাইপোপ্রোথ্রোম্বিনেমিয়া হয় ভিটামিন K-এর অভাবে, আর ডিসপেপসিয়া অর্থ বদহজম। এর আগের ধাপে চোখ শুকনো লাগে এবং কনজাংটিভায় ফেনার মতো সাদা দাগ দেখা দেয়, যাকে বিটট স্পট বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মানুষ অন্ধও হয়ে যেতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন A-এর প্রাথমিক অভাবের লক্ষণ হলো রাতকানা।
    গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কলিজা ও ডিমের কুসুমে ভিটামিন A থাকে।
    ভিটামিন A-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল।
  29. ৫৫. রক্ত তঞ্চনে (Blood Coagulation) সাহায্য করে কোন খনিজ মৌল?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, নকশাকার (ড্রাফটসম্যান), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ উপাদান
    • ক. ক্যালসিয়াম
    • খ. ম্যাগনেসিয়াম
    • গ. সালফার
    • ঘ. ফসফরাস
    উত্তর: ক. ক্যালসিয়াম
    রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ক্যালসিয়াম আয়ন অপরিহার্য। শরীর কেটে গেলে রক্তের অণুচক্রিকা ভেঙে প্রোথ্রম্বিনেজ নামের পদার্থ বের হয়। ক্যালসিয়ামের উপস্থিতিতে এটি প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে রূপান্তর করে। এরপর থ্রম্বিন রক্তের দ্রবণীয় ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিনে পরিণত করে, যা সুতোর জালের মতো রক্তকণিকা আটকে জমাট বাঁধায়। ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ও ফসফরাসের এ কাজে মূল ভূমিকা নেই।
    মনে রাখুন:
    ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত গঠনেও দরকার।
    ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে সাহায্য করে।
    সুস্থ মানুষের রক্ত জমাট বাঁধতে সাধারণত কয়েক মিনিট লাগে।
  30. ৫৬. রাতকানা রোগ হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-এ
    • খ. ভিটামিন-সি
    • গ. ভিটামিন-ডি
    • ঘ. ভিটামিন-বি
    উত্তর: ক. ভিটামিন-এ
    আমাদের চোখের রেটিনায় আলো ধরার জন্য রোডপসিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা তৈরি হতে ভিটামিন A লাগে। কম আলোতে দেখার জন্য এই রঞ্জকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ভিটামিন A-এর অভাব হলে রোডপসিন কম তৈরি হয়, ফলে সন্ধ্যার পর বা অন্ধকারে মানুষ ভালো দেখতে পায় না। এই অবস্থাকে রাতকানা (Night blindness) বলে। বাকি ভিটামিনের অভাবে অন্য রোগ হয়: ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি, ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেটস, ভিটামিন B₁-এর অভাবে বেরিবেরি।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন A-এর উৎস: গাজর, কলিজা, ডিম, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক।
    দীর্ঘদিন ভিটামিন A-এর অভাব হলে জেরোফথ্যালমিয়া নামের রোগ হয়।
  31. ৫৭. কোনটি মনোস্যাকারাইড নয়?স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ফার্মাসিস্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কার্বোহাইড্রেট
    • ক. Fructose
    • খ. Galactose
    • গ. Starch
    • ঘ. সবগুলোই মনোস্যাকারাইড
    উত্তর: গ. Starch
    মনোস্যাকারাইড (Monosaccharide) হলো সরলতম শর্করা, যাকে আর ভেঙে ছোট শর্করা বানানো যায় না। ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ এর উদাহরণ। স্টার্চ (Starch) বা শ্বেতসার কিন্তু অনেকগুলো গ্লুকোজ অণু জুড়ে তৈরি বড় শর্করা, তাই এটি পলিস্যাকারাইড (Polysaccharide)। স্টার্চ আসলে অ্যামাইলোজ ও অ্যামাইলোপেকটিন নামের দুটি পলিস্যাকারাইডের মিশ্রণ। উদ্ভিদ নিজের খাদ্য হিসেবে এটি ভাত, আলু ও গমের মতো অংশে জমা রাখে। মনোস্যাকারাইড সাধারণত মিষ্টি স্বাদের হয় এবং পানিতে সহজে গলে যায়। অন্যদিকে স্টার্চ মিষ্টি নয়, আর আয়োডিন দ্রবণে এটি নীল-কালো রঙ দেয়, যা স্টার্চ চেনার পরীক্ষা।
    মনে রাখুন:
    মনোস্যাকারাইড: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ।
    ডাইস্যাকারাইড: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ, মল্টোজ।
    পলিস্যাকারাইড: স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন।
  32. ৫৮. এনজাইম হচ্ছে—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. কার্বোহাইড্রেট
    • খ. লিপিড
    • গ. নিউক্লিক এসিড
    • ঘ. প্রোটিন
    উত্তর: ঘ. প্রোটিন
    এনজাইম (Enzyme) বা উৎসেচক জীবদেহে তৈরি হওয়া জৈব অনুঘটক। একে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করেই দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বহুগুণ বাড়ানো যায়, আর বিক্রিয়া শেষে এনজাইম নিজে অপরিবর্তিত থাকে। প্রায় সব এনজাইমই প্রোটিন দিয়ে গঠিত, তাই ঠিক উত্তর প্রোটিন। প্রতিটি এনজাইম সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার জন্য কাজ করে। এটি বেশি তাপমাত্রায় বা অতি অম্ল ও ক্ষারীয় পরিবেশে নষ্ট হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    পেপসিন প্রোটিন ভাঙে, অ্যামাইলেজ শর্করা ভাঙে, লাইপেজ চর্বি ভাঙে।
    এনজাইম যার ওপর কাজ করে তাকে সাবস্ট্রেট (Substrate) বলে।
    ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু RNA অণু (রাইবোজাইম) অনুঘটকের কাজ করে।
  33. ৫৯. কোন ভিটামিন ক্ষত হতে রক্ত পড়া বন্ধ করে?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-সি
    • খ. ভিটামিন-বি
    • গ. ভিটামিন-ডি
    • ঘ. ভিটামিন-কে
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন-কে
    ভিটামিন-কে (Vitamin K) যকৃতে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দরকারি প্রোথ্রম্বিন ও কিছু অন্য উপাদান তৈরি করতে সাহায্য করে। ক্ষত থেকে রক্ত বের হলে রক্ত জমাট বেঁধে পড়া বন্ধ হয়, আর এ জন্যই এই ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন-কে-এর অভাব হলে সামান্য আঘাতেও রক্তপাত দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এ কারণে একে রক্ত জমাট বাঁধার ভিটামিন বলা হয়। শিশু জন্মের পর ভিটামিন-কে-এর ইনজেকশন দেওয়া হয়, কারণ তখন অন্ত্রে এই ভিটামিন তৈরির ব্যাকটেরিয়া থাকে না। বড়দের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও কিছু ভিটামিন-কে তৈরি করে। অ্যান্টিবায়োটিক অনেক দিন খেলে তাই এর ঘাটতি হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন-সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন-ডি-এর অভাবে রিকেটস হয়।
    ভিটামিন-কে সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়, আর এটি চর্বিতে দ্রবণীয়।
  34. ৬০. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো—নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-A
    • খ. ভিটামিন-E
    • গ. ভিটামিন-B
    • ঘ. ভিটামিন-D
    উত্তর: গ. ভিটামিন-B
    ভিটামিনকে দ্রবণীয়তা অনুযায়ী দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ভাগ পানিতে দ্রবণীয়, অন্য ভাগ চর্বিতে দ্রবণীয়। ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন-সি পানিতে দ্রবণীয়। এগুলো দেহে জমা থাকে না, বাড়তি অংশ মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয়, এগুলো যকৃত ও চর্বিযুক্ত কলায় জমা থাকতে পারে। তাই প্রশ্নের চারটি বিকল্পের মধ্যে একমাত্র ভিটামিন-বি পানিতে গলে। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন প্রতিদিন খাদ্যের মাধ্যমে পেতে হয়। কারণ দেহ এগুলো বেশি জমিয়ে রাখতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন-বি১ অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
    ভিটামিন-এ অভাবে রাতকানা হয়।
    ভিটামিন-সি অভাবে স্কার্ভি হয়।
  35. ৬১. স্কার্ভি রোগ কোন Vitamin-এর অভাবে হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin A
    • খ. Vitamin D
    • গ. Vitamin C
    • ঘ. Vitamin K
    উত্তর: গ. Vitamin C
    দেহে ভিটামিন সি (অ্যাস্কর্বিক অ্যাসিড, Vitamin C)-এর অভাব হলে স্কার্ভি রোগ হয়। এই রোগে মাড়ি ফুলে যায়, মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, ক্ষত দেরিতে সারে এবং দেহে ক্লান্তি আসে। লেবু, কমলা, আমলকী ও পেয়ারায় ভিটামিন সি প্রচুর থাকে, তাই এসব ফল নিয়মিত খেলে রোগটি প্রতিরোধ করা যায়। ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় এবং রান্নার তাপে সহজে নষ্ট হয়ে যায়। স্কার্ভিকে একসময় নাবিকদের রোগ বলা হতো, কারণ সমুদ্রযাত্রায় তাজা ফল না পাওয়ায় তাঁরা প্রায়ই এতে ভুগতেন।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা।
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস।
    ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়।
  36. ৬২. ডিমের সাদা অংশে থাকে–পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডিমের উপাদান
    • ক. ভিটামিন সি
    • খ. অ্যালবুমিন
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. লিনোলিক এসিড
    উত্তর: খ. অ্যালবুমিন
    ডিমের সাদা অংশের প্রধান উপাদান প্রোটিন, যার নাম অ্যালবুমিন (Albumin)। এ কারণে সাদা অংশ গরম করলে সেদ্ধ হয়ে জমাট বাঁধে। ডিমের হলুদ অংশে চর্বি ও ভিটামিন বেশি থাকে। ভিটামিন সি ডিমে প্রায় থাকে না, আর গ্লুকোজ ও লিনোলিক এসিড সাদা অংশের বৈশিষ্ট্য নয়।
    মনে রাখুন: ডিম প্রাণীজ আমিষের ভালো উৎস, তবে ভিটামিন সি-র জন্য আমাদের লেবু, আমলকী বা পেয়ারার মতো ফল খেতে হয়।
    ডিমের সাদা অংশের প্রায় ১০ ভাগ প্রোটিন, বাকিটা মূলত পানি।
    অ্যালবুমিন প্রোটিন আমাদের রক্তরসেও থাকে।
    ডিমের হলুদ অংশ কুসুমে চর্বি, ভিটামিন এ ও ডি এবং আয়রন বেশি থাকে।
  37. ৬৩. হাঙর মাছের তেলে কোন ভিটামিন থাকে?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন E এবং D
    • খ. ভিটামিন C এবং D
    • গ. ভিটামিন A এবং D
    • ঘ. ভিটামিন B এবং D
    উত্তর: গ. ভিটামিন A এবং D
    হাঙরের যকৃৎ (লিভার) থেকে যে তেল পাওয়া যায়, তাতে ভিটামিন A ও ভিটামিন D প্রচুর থাকে। ভিটামিন A চোখের আলো-অন্ধকারে দেখা এবং ত্বকের জন্য দরকারি। ভিটামিন D হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। কডলিভার তেলেও এই দুটি ভিটামিন পাওয়া যায়। ভিটামিন A ও D চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই এগুলো তেল ও চর্বিজাতীয় খাবারে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন A-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন D-র অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়।
    ভিটামিন A-র রাসায়নিক নাম রেটিনল।
    ভিটামিন D সূর্যের আলোয় আমাদের ত্বকেও তৈরি হয়।
    ভিটামিন E ও K-ও চর্বিতে দ্রবণীয়।
  38. ৬৪. শিশুকে জন্মের পর হতে কত সময় পর্যন্ত কেবলমাত্র মায়ের বুকের দুধ পান করানো উচিত?সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশুর পুষ্টি
    • ক. ৬ মাস
    • খ. ৩ মাস
    • গ. ৯ মাস
    • ঘ. ১২ মাস
    উত্তর: ক. ৬ মাস
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের পরামর্শ হলো, শিশু জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাবে, এমনকি পানিও নয়। মায়ের দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি আর রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান আছে। ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য নরম খাবার দেওয়া শুরু হয়।
    মনে রাখুন:
    জন্মের পর প্রথম ঘন হলুদ দুধ (শাল দুধ বা Colostrum) শিশুর জন্য টিকার মতো কাজ করে।
    মায়ের দুধ পান করানো চলে ২ বছর পর্যন্ত।
    বুকের দুধ শিশুকে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো রোগ থেকে রক্ষা করে।
  39. ৬৫. কচুশাকে কোন উপাদান বেশি থাকে?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. আয়োডিন
    • খ. ভিটামিন
    • গ. লোহা
    • ঘ. ক্যালসিয়াম
    উত্তর: গ. লোহা
    কচুশাকে লোহা বা আয়রন তুলনামূলক বেশি থাকে। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) তৈরিতে সাহায্য করে, তাই রক্তস্বল্পতায় কচুশাক খাওয়া উপকারী। অন্য কিছু উপাদান কম পরিমাণে আছে, তবে লোহার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। দেহে লোহার অভাব হলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া (Anaemia) হয়।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড (Goitre) হয়।
    ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে।
    লোহার ভালো উৎস কলিজা, পালংশাক, ডাল ও খেজুর।
    লোহার অভাবে শিশু ও নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়।
    রক্তস্বল্পতায় আয়রন ট্যাবলেটও দেওয়া হয়।
    লোহা হিমোগ্লোবিনের একটি অপরিহার্য উপাদান।
    লোহার অভাবে ক্লান্তি ও ফ্যাকাশে ভাব দেখা দেয়।
    ডিমের কুসুমেও কিছু আয়রন থাকে।
  40. ৬৬. ১ গ্রাম শর্করা কত কিলো ক্যালরি তাপ উৎপন্ন করে?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যশক্তি
    • ক. ৩
    • খ. ৪
    • গ. ৫
    • ঘ. ৬
    উত্তর: খ. ৪
    আমরা যে খাবার খাই, শরীরে তা জারিত হয়ে তাপশক্তি দেয়। এই শক্তিকে ক্যালরি (Calorie) এককে মাপা হয়। ১ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) শরীরে জারিত হলে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি তাপ উৎপন্ন করে। এ কারণে ভাত, রুটি ও আলুর মতো শর্করাজাতীয় খাবারই আমাদের শক্তির প্রধান উৎস।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম আমিষ (প্রোটিন) থেকেও প্রায় ৪ কিলোক্যালরি তাপ পাওয়া যায়।
    ১ গ্রাম স্নেহ বা চর্বি থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি তাপ পাওয়া যায়, তাই খাদ্যের মধ্যে চর্বিই সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়।
  41. ৬৭. দুধের মধ্যে যে শর্করা থাকে তার নাম কী?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, উপ-পরিদর্শক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. সুক্রোজ
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. হাইড্রোজ
    • ঘ. ল্যাকটোজ
    উত্তর: ঘ. ল্যাকটোজ
    দুধে যে শর্করা থাকে তার নাম ল্যাকটোজ (Lactose), একে দুধ-শর্করা বলে। এটি গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ মিলে তৈরি একটি দ্বিশর্করা। দুধ বেশিক্ষণ রাখলে ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিডে ভেঙে ফেলে, তাই দুধ টক হয়। হাইড্রোজ নামে কোনো শর্করা নেই, এটি অপশনে ভুলভাবে যোগ করা শব্দ।
    মনে রাখুন:
    সুক্রোজ আখের চিনি।
    গ্লুকোজ ফলে ও রক্তে থাকে।
    সুক্রোজ গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ মিলে তৈরি।
    ফলের শর্করার নাম ফ্রুক্টোজ।
    মাল্টোজ মাল্ট বা অঙ্কুরিত বীজে পাওয়া যায়।
    ল্যাকটোজ হজম করতে না পারার সমস্যাকে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বলা হয়।
    মায়ের বুকের দুধেও ল্যাকটোজ থাকে, যা শিশুর শক্তির বড় উৎস।
  42. ৬৮. ভিটামিন 'সি'-এর অভাবে কোন ধরনের রোগ হয়?বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. রিকেট
    • খ. বেরিবেরি
    • গ. রাতকানা
    • ঘ. স্কার্ভি
    উত্তর: ঘ. স্কার্ভি
    ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid)। এই ভিটামিন শরীরের কোষ জোড়া দেওয়া ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। এর অভাব হলে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়, ফলে মাড়ি ফুলে যায় ও রক্ত পড়ে, শরীর দুর্বল হয় এবং ক্ষত সারতে দেরি হয়। লেবু, কমলা, আমলকী ও পেয়ারায় এই ভিটামিন প্রচুর থাকে। রান্নায় বেশি তাপ দিলে এই ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়, তাই কাঁচা ফল খাওয়া ভালো।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেট।
    ভিটামিন বি১-এর অভাবে বেরিবেরি।
    ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা।
    ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয়।
    রান্নার সময় ভিটামিন সি সহজে নষ্ট হয়ে যায়, তাই ফল কাঁচা খাওয়াই ভালো।
  43. ৬৯. চা ও কফিতে যে পদার্থটি শরীরকে চাঙ্গা করে তার নাম কী?বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যাফেইন
    • ক. টলুইন
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. ক্যাফেইন
    • ঘ. টেনিন
    উত্তর: গ. ক্যাফেইন
    চা ও কফির মধ্যে ক্যাফেইন (Caffeine) নামে একটি উদ্দীপক পদার্থ থাকে। এটি আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে, ফলে ঘুম ঘুম ভাব কমে এবং শরীর চাঙ্গা লাগে। তবে বেশি পরিমাণে খেলে ঘুমের সমস্যা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো ক্ষতি হতে পারে। তাই দিনে অল্প পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ।
    মনে রাখুন:
    চায়ে ট্যানিন নামের একটি পদার্থও থাকে, যা চায়ের স্বাদ ও রং আনে, কিন্তু চাঙ্গা করার কাজটি ক্যাফেইনের।
    ক্যাফেইন একটি অ্যালকালয়েড (Alkaloid)।
    কোলা পানীয় ও কোকোতেও ক্যাফেইন থাকে।
    ক্যাফেইন সাদা রঙের তেতো স্বাদের স্ফটিকাকার পদার্থ।
    চকলেট ও ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিঙ্কেও এই পদার্থ থাকে।
  44. ৭০. দাঁত ও হাড় গঠনের জন্য নিচের কোন ভিটামিনটি প্রয়োজন?বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. 'সি'
    • খ. 'ডি'
    • গ. 'এ'
    • ঘ. 'বি'
    উত্তর: খ. 'ডি'
    ভিটামিন ডি শরীরকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম আবার হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান, তাই এদের মজবুত রাখতে ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এর অভাবে শিশুদের রিকেট হয়, আর বড়দের হাড় নরম হয়ে যায়। সূর্যের আলোতে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, তাই রোদে কিছুক্ষণ থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
    মনে রাখুন:
    তাই ভিটামিন ডি-কে সানশাইন ভিটামিনও বলে।
    ডিমের কুসুম ও মাছের যকৃতের তেলেও ভিটামিন ডি থাকে।
    ভিটামিন সি-র অভাবে স্কার্ভি, ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা হয়।
    ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয়, আর এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিফেরল।
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে বয়স্কদের হাড় ভঙ্গুর হয়ে অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হতে পারে।
  45. ৭১. Exclusive breast feeding কথাটি কতদিন breast feeding করার কথা বুঝায়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশুর খাদ্য
    • ক. ১ বছর
    • খ. ২ বছর
    • গ. ৬ মাস
    • ঘ. ১০ মাস
    উত্তর: গ. ৬ মাস
    শিশুর জন্মের পর প্রথম ৬ মাস মায়ের বুকের দুধ ছাড়া পানি, অন্য দুধ বা কোনো খাবার না দিয়ে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোকে Exclusive breastfeeding বলে। এই সময়ে বুকের দুধই শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধের সব চাহিদা মেটাতে পারে। ৬ মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার শুরু করতে হয়।
    মনে রাখুন:
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী ২ বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া ভালো।
    শিশু জন্মের পর মায়ের প্রথম যে হলদে ঘন দুধ পায়, তাকে শালদুধ (Colostrum) বলে। এতে রোগ প্রতিরোধী উপাদান বেশি থাকে, তাই জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো উচিত।
    প্রতি বছর ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব বুকের দুধ সপ্তাহ পালিত হয়।
  46. ৭২. শরীরে Vitamin B₁₂ এর ঘাটতি হলে কী হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. উচ্চ রক্তচাপ
    • খ. রিকেট
    • গ. রক্তশূন্যতা
    • ঘ. স্কার্ভি
    উত্তর: গ. রক্তশূন্যতা
    ভিটামিন B₁₂ (সায়ানোকোবালামিন) লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য দরকার। এর ঘাটতি হলে রক্তকণিকা ঠিকভাবে তৈরি হয় না, ফলে রক্তশূন্যতা (Anaemia) দেখা দেয়। রিকেট হয় ভিটামিন D-এর অভাবে এবং স্কার্ভি হয় ভিটামিন C-এর অভাবে। উচ্চ রক্তচাপ কোনো ভিটামিনের অভাবে হয় না। নিরামিষভোজীদের এই ভিটামিনের অভাব বেশি হতে পারে, কারণ এটি প্রধানত প্রাণিজ খাবারে থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন B₁₂ প্রধানত মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে পাওয়া যায়।
    এই ভিটামিনের অণুতে কোবাল্ট থাকে।
    ভিটামিন B₁-এর অভাবে বেরিবেরি এবং ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন B₁₂ এবং ফলিক অ্যাসিড দুটোই লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
  47. ৭৩. BMI কত হলে Obese বলা হয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থূলতা ও BMI
    • ক. > 30
    • খ. > 15
    • গ. > 24
    • ঘ. > 20
    উত্তর: ক. > 30
    Body Mass Index (BMI) হলো ওজন (কেজি) ভাগ উচ্চতার (মিটার) বর্গ। এর মান দিয়ে বোঝা যায় ওজন উচ্চতার তুলনায় স্বাভাবিক কি না। BMI ৩০-এর বেশি হলে মানুষকে স্থূল (Obese) ধরা হয়, তাই অন্য বিকল্পগুলোর মান স্থূলতার সীমার নিচে পড়ে। স্থূলতা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম দিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ভালো।
    মনে রাখুন:
    স্বাভাবিক: ১৮.৫ থেকে ২৪.৯।
    অতিরিক্ত ওজন: ২৫ থেকে ২৯.৯।
    স্থূলতা (Obese): ৩০ বা তার বেশি।
    কম ওজন (Underweight): ১৮.৫-এর কম।
    হিসাব: ওজন ৭২ কেজি ও উচ্চতা ১.৮ মিটার হলে BMI = 72/(1.8)² = 72/3.24 ≈ 22.2।
  48. ৭৪. একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMI কত হওয়া উচিত?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থূলতা ও BMI
    • ক. 15.00–18.40
    • খ. 18.50–24.90
    • গ. 25.00–29.90
    • ঘ. 30.00–35.00
    উত্তর: খ. 18.50–24.90
    বডি মাস ইনডেক্স (BMI) দিয়ে বোঝা যায় একজন মানুষের উচ্চতার তুলনায় ওজন ঠিক আছে কি না। হিসাব করার নিয়ম হলো ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার)²। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক বা সুস্থ মান ধরা হয় ১৮.৫ থেকে ২৪.৯, তাই এই ব্যাপ্তিটিই সঠিক। বাকি ব্যাপ্তিগুলো ওজন কম বা বেশি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
    উদাহরণ:
    ওজন 60 কেজি ও উচ্চতা 1.6 মিটার হলে BMI = 60 ÷ (1.6 × 1.6) = 60 ÷ 2.56 ≈ 23.4, যা স্বাভাবিক।
    মনে রাখুন:
    ১৮.৫-এর কম হলে ওজন কম।
    ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে অতিরিক্ত ওজন।
    ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা।
    এই সূচকের ধারণা দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের গণিতবিদ অ্যাডলফ কুয়েটলেট।
  49. ৭৫. গলগণ্ড রোগ হয় কীসের অভাবে?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়োডিন
    • ক. আয়োডিন
    • খ. ভিটামিন এ
    • গ. ভিটামিন বি₁₂
    • ঘ. ভিটামিন সি
    উত্তর: ক. আয়োডিন
    আমাদের গলার সামনের দিকে থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland) থাকে। এই গ্রন্থি থাইরক্সিন নামের হরমোন তৈরি করে, আর সেজন্য আয়োডিন লাগে। খাবারে আয়োডিন কম পড়লে গ্রন্থিটি ফুলে যায়, যার নাম গলগণ্ড (Goitre)। এ কারণে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার কথা বলা হয়। সাগরের মাছ ও সামুদ্রিক খাবারে আয়োডিন বেশি পাওয়া যায়। গর্ভবতী মায়ের আয়োডিনের অভাব হলে শিশুর মানসিক বিকাশও ব্যাহত হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা।
    ভিটামিন সি-র অভাবে স্কার্ভি।
    ভিটামিন বি১২-এর অভাবে রক্তস্বল্পতা (পারনিশাস অ্যানিমিয়া) হয়।
    ভিটামিন বি১-এর অভাবে বেরিবেরি এবং ভিটামিন ডি-র অভাবে রিকেট হয়।
  50. ৭৬. কচু শাক মূল্যবান যে উপাদানের জন্য-জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন সি
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. লৌহ
    উত্তর: ঘ. লৌহ
    কচুশাক লৌহ বা আয়রনে সমৃদ্ধ খাবার। শরীরে লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লৌহ লাগে, তাই এই শাক রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন এ এবং ক্যালসিয়ামও আছে, কিন্তু প্রশ্নে যে উপাদানের জন্য কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান, সেটি লৌহ। বাংলাদেশের গ্রামে কচুশাক সহজেই পাওয়া যায়, তাই এটি আয়রনের সস্তা উৎস হিসেবে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    কচুশাক ভালো করে সেদ্ধ করে খেতে হয়, নইলে গলা চুলকাতে পারে।
    লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) হয়।
    লৌহসমৃদ্ধ আরও কিছু খাবার: পালংশাক, কলিজা, ডাল।
    আয়রন শোষণে ভিটামিন সি সাহায্য করে, তাই কচুশাকের সঙ্গে লেবু খাওয়া ভালো।
  51. ৭৭. সূর্য কিরণ থেকে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর (টিটিসি), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. D
    • খ. C
    • গ. B
    • ঘ. A
    উত্তর: ক. D
    সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকে পড়লে ত্বকেই ভিটামিন D তৈরি হয়। তাই ভিটামিন D-কে সূর্যালোক ভিটামিনও বলে। এই ভিটামিন খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে এবং এভাবে হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। বাকি ভিটামিনগুলো আমরা মূলত খাবার থেকে পাই, সূর্যের আলো থেকে নয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের রিকেট (Rickets) রোগ হয়। বড়দের ক্ষেত্রে অভাবজনিত রোগ অস্টিওম্যালেসিয়া।
    ভিটামিন A-র উৎস দুধ, ডিম ও গাজর, আর এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন C-র উৎস লেবু, আমলকী ও পেয়ারা, আর এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন B১-এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
  52. ৭৮. জন্মের পর হতে শিশুকে কত সময় পর্যন্ত কেবলমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শিশুর খাদ্য
    • ক. ৩ মাস পর্যন্ত
    • খ. ৬ মাস পর্যন্ত
    • গ. ৯ মাস পর্যন্ত
    • ঘ. ১ বছর পর্যন্ত
    উত্তর: খ. ৬ মাস পর্যন্ত
    শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট, এমনকি পানিও দিতে হয় না। এই দুধে শিশুর দরকারি সব পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধের উপাদান থাকে। ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের সঙ্গে ঘরে তৈরি নরম খাবার দেওয়া শুরু করতে হয়। তিন বা নয় মাস নয়, ছয় মাসই সঠিক সময়, কারণ এর আগে শিশুর হজমতন্ত্র অন্য খাবারের জন্য তৈরি হয় না।
    মনে রাখুন:
    জন্মের পর এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শালদুধ (Colostrum) খাওয়ানো উচিত।
    ছয় মাসের পরও দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  53. ৭৯. দুধে বিদ্যমান শর্করা কোনটি?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উপসহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ল্যাকটোজ
    • খ. গ্যালাকটোজ
    • গ. ফ্রুকটোজ
    • ঘ. এলাকটোজ
    উত্তর: ক. ল্যাকটোজ
    দুধে যে শর্করা (Carbohydrate) থাকে, তার নাম ল্যাকটোজ (Lactose)। একে দুধ-শর্করাও বলে। ল্যাকটোজ ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ তৈরি হয়। গ্যালাকটোজ আর ফ্রুকটোজ দুটোই সরল শর্করা, তবে দুধের শর্করা এই দুটির কোনোটি নয়, বরং দুটি সরল শর্করা মিলে তৈরি ল্যাকটোজ। এলাকটোজ নামে কোনো শর্করা নেই।
    মনে রাখুন:
    ফ্রুকটোজ ফল ও মধুতে থাকে, তাই এটি ফল-শর্করা।
    আখের চিনির নাম সুক্রোজ, যা গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ মিলে তৈরি।
    মল্টোজ বা মাল্ট-শর্করা দুটি গ্লুকোজ মিলে তৈরি।
    মায়ের দুধেও ল্যাকটোজ থাকে, আর গরুর দুধের চেয়ে মায়ের দুধে এর পরিমাণ বেশি।
    যাদের শরীরে ল্যাকটেজ উৎসেচক কম, তাদের দুধ হজম করতে অসুবিধা হয়। একে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বলে।
  54. ৮০. প্রোটিন বেশি থাকে—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ছোলার ডালে
    • খ. অড়হর ডালে
    • গ. মসুর ডালে
    • ঘ. মাষকলাই ডালে
    উত্তর: গ. মসুর ডালে
    ডাল আমাদের প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেওয়া ডালগুলোর মধ্যে মসুর ডালে প্রোটিন সবচেয়ে বেশি, প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৫ গ্রাম। ছোলা ও অড়হর ডালে তা তুলনায় কিছু কম। মাষকলাই ডালেও প্রোটিন বেশি, তবে মসুরের চেয়ে কম।
    মনে রাখুন:
    ডালের প্রোটিনে মিথিওনিনের ঘাটতি থাকে, তাই ভাতের সঙ্গে ডাল খেলে প্রোটিনের গুণ বাড়ে।
    উদ্ভিজ্জ খাবারের মধ্যে সয়াবিনে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে।
    প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ।
    প্রোটিনের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
    মসুর ডালে লৌহ ও ক্যালসিয়ামও পাওয়া যায়।
    শিম ও মটরশুঁটিও উদ্ভিজ্জ আমিষের ভালো উৎস।
    ডাল রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখলে সহজে সেদ্ধ হয়।
  55. ৮১. মানবদেহে প্রতিদিন পানির প্রয়োজন কত?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি
    • ক. ৩ লিটার
    • খ. ৫ লিটার
    • গ. ১ লিটার
    • ঘ. ৬ লিটার
    উত্তর: ক. ৩ লিটার
    আমাদের শরীর প্রতিদিন ঘাম, প্রস্রাব ও নিঃশ্বাসের মাধ্যমে পানি হারায়। সেই ঘাটতি পূরণ করতে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানি দরকার। খাবার ও পানীয় থেকেও কিছু পানি আসে। গরমে বা পরিশ্রমে এর চেয়ে বেশি লাগতে পারে। তাই দেওয়া বিকল্পের মধ্যে ৩ লিটারই সবচেয়ে কাছাকাছি।
    মনে রাখুন:
    শরীরের ওজনের প্রায় ৬০-৭০ ভাগই পানি।
    রক্তরসের প্রায় ৯০ ভাগ পানি।
    পানি শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে এবং বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে।
    পানি খাদ্য হজম, রক্ত চলাচল ও কোষে পুষ্টি পৌঁছানোর কাজেও সাহায্য করে।
    শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে গেলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
  56. ৮২. সবুজ শাকসবজিতে কোনটি বেশি থাকে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin A
    • খ. Vitamin C
    • গ. Vitamin B
    • ঘ. Vitamin K
    উত্তর: ক. Vitamin A
    সবুজ ও হলুদ শাকসবজিতে বিটা-ক্যারোটিন থাকে, শরীর এটিকে ভিটামিন A-তে বদলে নেয়। ভিটামিন A চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে, আর এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। চর্বিতে দ্রবণীয় বলে সবজি একটু তেলে রান্না করলে শরীর একে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে। সবুজ শাকে অল্প ভিটামিন C ও K-ও থাকে, তবে সবুজ শাকের প্রধান ভিটামিন হিসেবে A-কেই ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন A-র আরও উৎস: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কলিজা, ডিমের কুসুম।
    ভিটামিন A, D, E ও K চর্বিতে দ্রবণীয়।
    ভিটামিন C-র ভালো উৎস লেবু, আমলকী ও পেয়ারা।
  57. ৮৩. কোনটি Water Soluble vitamin?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin C
    • খ. Vitamin A
    • গ. Vitamin D
    • ঘ. Vitamin K
    উত্তর: ক. Vitamin C
    ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক এসিড) পানিতে দ্রবণীয়, তাই শরীর তা জমিয়ে রাখতে পারে না এবং প্রতিদিন খাবারে নিতে হয়। ভিটামিন A, D, E ও K চর্বিতে দ্রবণীয় এবং এগুলো শরীরে জমা থাকতে পারে। তাই দেওয়া বিকল্পের মধ্যে কেবল ভিটামিন সি-ই পানিতে দ্রবণীয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-র অভাবে স্কার্ভি হয়। লেবু, কমলা, আমলকী ও পেয়ারা এর ভালো উৎস।
    ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সও পানিতে দ্রবণীয়।
    ভিটামিন B₁-এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
    ভিটামিন D-র অভাবে শিশুদের রিকেটস হয়।
    ভিটামিন সি রান্নার তাপে সহজে নষ্ট হয়, তাই কাঁচা ফল ও সালাদে এটি বেশি পাওয়া যায়।
  58. ৮৪. কোন ডালের সঙ্গে ল্যাথাইরিজমের সম্পর্ক আছে?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যজনিত রোগ
    • ক. মসুর
    • খ. মুগ
    • গ. খেসারি
    • ঘ. মাষকলাই
    উত্তর: গ. খেসারি
    খেসারি ডালে বিটা-অক্সালিল অ্যামিনো অ্যালানিন (BOAA) নামে একটি বিষাক্ত পদার্থ থাকে। দীর্ঘদিন প্রধান খাদ্য হিসেবে খেসারি ডাল খেলে এটি স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে পা অবশ হয়ে যায়, একে ল্যাথাইরিজম (Lathyrism) বলে। মসুর, মুগ বা মাষকলাইয়ের সঙ্গে এই রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    ডালটি অল্প পরিমাণে খেলে বা অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ঝুঁকি কমে।
    খেসারির বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাথাইরাস সাটাইভাস (Lathyrus sativus), তা থেকেই রোগের নাম।
    ডাল শিমজাতীয় গাছ, যার শিকড়ের গুটিতে থাকা রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে জমা করে।
  59. ৮৫. ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস কী?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সিনিয়র স্টাফ নার্স (বাতিলকৃত পরীক্ষা), ২০১৭ ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সাব-রেজিস্ট্রার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. কলা
    • খ. আম
    • গ. দুধ
    • ঘ. মুরগি
    উত্তর: গ. দুধ
    ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় ও দাঁত গড়ে তোলে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, তাই এটি এর প্রধান উৎস। কলা, আম বা মুরগিতে ক্যালসিয়াম থাকে খুব কম। ছোট মাছ ও সবুজ শাকেও ক্যালসিয়াম থাকে।
    মনে রাখুন:
    ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের রিকেটস হতে পারে, তবে এর সঙ্গে ভিটামিন D-ও দরকার।
    প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ভঙ্গুর হয়ে অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
    শরীরের ক্যালসিয়ামের প্রায় ৯৯ ভাগ হাড় ও দাঁতে থাকে।
    ক্যালসিয়াম হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ও পেশির সংকোচনেও ভূমিকা রাখে।
    দুধ থেকে তৈরি দই, ছানা ও পনিরেও ক্যালসিয়াম থাকে।
  60. ৮৬. ভিটামিন-'ই'-এর সবচেয়ে ভালো উৎস কী?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ডাব
    • খ. ভোজ্য তেল
    • গ. দুধ
    • ঘ. শস্যদানা
    উত্তর: খ. ভোজ্য তেল
    ভিটামিন ই (টোকোফেরল) একটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। এটি শরীরের কোষকে ক্ষতিকর মুক্ত মূলক থেকে রক্ষা করে এবং প্রজনন ক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। উদ্ভিজ্জ ভোজ্য তেল, যেমন সূর্যমুখী, সয়াবিন ও গমের ভ্রূণের তেল, এই ভিটামিনের সবচেয়ে ভালো উৎস। এ ছাড়া বাদাম ও সবুজ শাকসবজিতেও কিছু পরিমাণে থাকে। এর অভাব হলে মানুষের বন্ধ্যাত্ব ও স্নায়ুর দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
    অন্য অপশনগুলোতে অন্য পুষ্টি বেশি। ডাবে পটাশিয়াম ও ইলেকট্রোলাইট থাকে, দুধ প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস এবং শস্যদানায় শর্করা, আঁশ ও খনিজ লবণ থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ – রাতকানা রোগ।
    ভিটামিন বি১ – বেরিবেরি।
    ভিটামিন সি – স্কার্ভি।
    ভিটামিন ডি – রিকেটস।
    ভিটামিন কে – রক্ত জমাট বাঁধা।
  61. ৮৭. আমাদের খাদ্য তালিকায় কমপক্ষে কতভাগ প্রাণিজ আমিষ থাকা দরকার?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রোগ্রামার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ২৫ ভাগ
    • খ. ২০ ভাগ
    • গ. ১৫ ভাগ
    • ঘ. ১০ ভাগ
    উত্তর: খ. ২০ ভাগ
    আমিষ আমাদের শরীর গঠন ও ক্ষয় পূরণে সাহায্য করে। আমিষ দুই উৎস থেকে আসে: প্রাণিজ (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) ও উদ্ভিজ্জ (ডাল, বাদাম)। প্রাণিজ আমিষে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তাই এটি উন্নত মানের। আমাদের মোট আমিষের অন্তত ২০ ভাগ প্রাণিজ উৎস থেকে নেওয়া উচিত বলে প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    আমিষের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
    আমিষ তৈরি হয় অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে।
    প্রতি গ্রাম আমিষ থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    উদ্ভিজ্জ আমিষে সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে না, তাই ডাল আর ভাত একসঙ্গে খেলে ঘাটতি অনেকটা পূরণ হয়।
  62. ৮৮. রক্তশূন্যতার জন্য কোন বি ভিটামিন দায়ী?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. বি₁
    • খ. বি₁₂
    • গ. বি₂
    • ঘ. বি₆
    উত্তর: খ. বি₁₂
    লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য ভিটামিন বি₁₂ (কোবালামিন) অপরিহার্য। এর অভাব হলে অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা ঠিকমতো পরিণত হতে পারে না, ফলে এক ধরনের রক্তশূন্যতা হয়, যাকে পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া (Pernicious Anaemia) বলে। বি₁₂ প্রধানত প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়, আর পাকস্থলীর ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর (Intrinsic Factor) নামের একটি উপাদান না থাকলে এটি শরীরে শোষিত হয় না।
    মনে রাখুন:
    বি₁₂-এর অণুর মধ্যে কোবাল্ট থাকে, তাই এর নাম কোবালামিন।
    বি₁ (থায়ামিন)-এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
    বি₂ (রিবোফ্লাভিন)-এর অভাবে ঠোঁট ও জিভে ঘা হয় এবং ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়।
    ফলিক এসিড (বি₉)-এর অভাবেও এক ধরনের রক্তশূন্যতা হয়।
  63. ৮৯. মায়ের দুধে গরুর দুধের চাইতে কোন উপাদান বেশি হবে?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মায়ের দুধ
    • ক. কার্বোহাইড্রেট
    • খ. ফ্যাট
    • গ. প্রোটিন
    • ঘ. মিনারেলস
    উত্তর: ক. কার্বোহাইড্রেট
    মায়ের দুধে ল্যাকটোজ (Lactose) নামের দুধ-শর্করা গরুর দুধের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, প্রায় ৭ শতাংশ, আর গরুর দুধে থাকে প্রায় ৪.৫ শতাংশ। এই শর্করা শিশুকে শক্তি জোগায় এবং মস্তিষ্ক বাড়তে সাহায্য করে।
    অন্যদিকে গরুর দুধে প্রোটিন ও খনিজ পদার্থ (বিশেষত ক্যালসিয়াম) মায়ের দুধের চেয়ে বেশি থাকে। মায়ের দুধে প্রোটিন থাকে প্রায় ১ শতাংশ, আর গরুর দুধে প্রায় ৩ শতাংশের বেশি। শিশুর কিডনি ও হজমতন্ত্র অল্প বয়সে এই বাড়তি চাপ সহজে নিতে পারে না, তাই প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধই সবচেয়ে ভালো।
    মনে রাখুন: শিশুর জন্মের পর প্রথম যে হলুদ ঘন দুধ পাওয়া যায়, তাকে শালদুধ (Colostrum) বলে। এতে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি থাকে।
  64. ৯০. ভিটামিন 'A' এর অভাবে কোন রোগটি হয় না?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. রাতকানা
    • খ. কেরাটোমেলাসিয়া
    • গ. কর্নিয়ার জেরোসিস
    • ঘ. রিকেটস্
    উত্তর: ঘ. রিকেটস্
    ভিটামিন এ (Vitamin A) চোখের দৃষ্টি ঠিক রাখে। এর অভাবে রাতকানা, কর্নিয়ার শুষ্কতা (জেরোসিস) ও কেরাটোমেলাসিয়া হয়। এই সমস্যা বাড়লে চোখ স্থায়ীভাবে অন্ধও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু রিকেটস হয় ভিটামিন ডি-এর অভাবে, কারণ এই ভিটামিন হাড়ে ক্যালসিয়াম জমতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস গাজর, কলিজা, ডিমের কুসুম ও হলুদ-লাল ফল।
    ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল।
    ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবীভূত হয়, আর বি ও সি পানিতে দ্রবীভূত হয়।
    বাংলাদেশে বছরে দুবার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি আছে।
    কেরাটোমেলাসিয়ায় কর্নিয়া নরম হয়ে গলে যেতে পারে।
  65. ৯১. আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার কোনটি নয়?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়োডিন
    • ক. Sea fish
    • খ. Sea salt
    • গ. Cod Liver oil
    • ঘ. Fruits
    উত্তর: ঘ. Fruits
    আয়োডিন (Iodine) থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন তৈরিতে লাগে। সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক লবণ ও কড মাছের তেলে আয়োডিন পাওয়া যায়, কারণ সমুদ্রের পানিতে এ উপাদান থাকে। কিন্তু সাধারণ ফলে আয়োডিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে না, তাই ফল আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় পড়ে না।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড (Goitre) রোগ হয়।
    শিশুকালে আয়োডিনের তীব্র অভাব হলে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
    এ কারণে আমাদের দেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়ার প্রচার চালানো হয়।
    থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম থাইরক্সিন।
    আয়োডিনের দৈনিক চাহিদা খুব সামান্য, প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রায় ১৫০ মাইক্রোগ্রাম।
    সমুদ্রের শৈবালেও প্রচুর আয়োডিন থাকে।
  66. ৯২. শিশুদের রিকেট হয়—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. প্রোটিনের অভাবে
    • খ. ভিটামিন 'E' এর অভাবে
    • গ. ভিটামিন 'D' এর অভাবে
    • ঘ. আয়রনের অভাবে
    উত্তর: গ. ভিটামিন 'D' এর অভাবে
    ভিটামিন ডি (Vitamin D) শরীরকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস নিতে সাহায্য করে, ফলে হাড় শক্ত হয়। এই ভিটামিনের অভাব হলে শিশুর হাড় নরম থাকে এবং পা বেঁকে যায়, এ রোগের নাম রিকেটস (Rickets)।
    মনে রাখুন:
    রোদে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, তাই একে সূর্যালোকের ভিটামিন বলা হয়।
    প্রাপ্তবয়স্কদের একই অভাবে অস্টিওম্যালেসিয়া হয়।
    ভিটামিন ডি-এর উৎস ডিমের কুসুম ও মাছের তেল।
    ভিটামিন ই-এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল, আর আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা হয়।
    ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয়।
    রিকেটস ঠেকাতে শিশুকে সকালের কাঁচা রোদে রাখা এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়ানো উপকারী।
  67. ৯৩. প্রোটিনের মৌলিক ইউনিট—নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. Fatty acid
    • খ. Amino acid
    • গ. Cholesterol
    • ঘ. Glucose
    উত্তর: খ. Amino acid
    প্রোটিন বা আমিষ একটি বড় অণু, যা অনেকগুলো অ্যামিনো এসিড (Amino Acid) জোড়া লেগে তৈরি হয়। তাই অ্যামিনো এসিডকে প্রোটিনের মৌলিক একক বলা হয়। গ্লুকোজ শর্করার একক, আর ফ্যাটি এসিড চর্বির একক।
    মনে রাখুন:
    মানবদেহের প্রোটিন তৈরিতে মূলত ২০ ধরনের অ্যামিনো এসিড লাগে।
    অ্যামিনো এসিডগুলো পেপটাইড বন্ধন দিয়ে যুক্ত হয়।
    প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ৯টি অ্যামিনো এসিড অপরিহার্য, যেগুলো শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না।
    অ্যামিনো এসিডের একপ্রান্তে অ্যামিনো (–NH₂) মূলক এবং অন্য প্রান্তে কার্বক্সিল (–COOH) মূলক থাকে।
    প্রোটিনে নাইট্রোজেন থাকে, এটিই শর্করা ও চর্বি থেকে প্রোটিনকে আলাদা করে।
  68. ৯৪. কোলেস্টেরল এক ধরনের—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চর্বি
    • ক. অ্যামাইনো এসিড
    • খ. পলিমার
    • গ. জৈব এসিড
    • ঘ. অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
    উত্তর: ঘ. অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল
    কোলেস্টেরল (Cholesterol) প্রাণীদেহের কোষে পাওয়া এক ধরনের স্টেরয়েড অ্যালকোহল, যার সংকেত C27H46O। এর অণুতে একটি দ্বিবন্ধন আছে বলে একে অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল বলা হয়। কোলেস্টেরল কোষঝিল্লি গঠনে লাগে এবং দেহে কিছু হরমোন ও পিত্তরস তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে। কাজেই এটি পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়, তবে মাত্রা বেশি হলে সমস্যা হয়।
    মনে রাখুন:
    HDL (High Density Lipoprotein) ভালো কোলেস্টেরল নামে পরিচিত।
    LDL (Low Density Lipoprotein) বেশি হলে ধমনির ভেতরে চর্বি জমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
    কোলেস্টেরল প্রধানত প্রাণিজ খাদ্যে পাওয়া যায়, যেমন ডিমের কুসুম, মাংস ও মাখনে। উদ্ভিজ্জ তেলে এটি থাকে না।
  69. ৯৫. স্কার্ভি রোগের প্রতিষেধক কোন ভিটামিন?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন–E
    • খ. ভিটামিন–K
    • গ. ভিটামিন–B
    • ঘ. ভিটামিন–C
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন–C
    ভিটামিন-সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। এর অভাবে মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে, ক্ষত শুকাতে দেরি হয় এবং দেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়। লেবু, আমলকি, পেয়ারা ও কমলার মতো টক ফলে এটি প্রচুর পাওয়া যায়। তাই ভিটামিন-সি স্কার্ভির প্রতিষেধক।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন-কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়।
    ভিটামিন-ই-এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে।
    ভিটামিন-এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন-ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়।
    পুরোনো দিনে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় নাবিকদের স্কার্ভি হতো, কারণ তাঁরা তাজা ফল পেতেন না।
    ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে লাগে, যা ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।
  70. ৯৬. সিদ্ধ চালে কী পরিমাণ শ্বেতসার থাকে?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ৭১%
    • খ. ৭৩%
    • গ. ৭৪%
    • ঘ. ৭৯%
    উত্তর: ঘ. ৭৯%
    চালের প্রধান উপাদান শর্করা বা শ্বেতসার (Starch), যা আমাদের শক্তির মূল জোগানদার। পাঠ্য ও সাধারণ উৎস অনুযায়ী সিদ্ধ চালে প্রায় ৭৯ শতাংশ শ্বেতসার থাকে। বাকি অংশে আছে অল্প পরিমাণ আমিষ, চর্বি ও পানি। ধান থেকে চাল তৈরির সময় যত বেশি তুষ ও কুঁড়া ফেলা হয়, চালের অন্যান্য পুষ্টিগুণ তত কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    ভাত, রুটি, আলুর মতো খাবার থেকেই আমরা বেশি শ্বেতসার পাই, তাই এগুলোকে শক্তিদায়ক খাদ্য বলা হয়।
    শ্বেতসার পরীক্ষা করা যায় আয়োডিন দিয়ে, তখন নীল-কালো রং হয়।
    এক গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  71. ৯৭. মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠন এবং ফসফোলিপিড তৈরি করে কোন খনিজ লবণ?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. ফসফরাস
    • খ. লৌহ
    • গ. সোডিয়াম
    • ঘ. ম্যাগনেসিয়াম
    উত্তর: ক. ফসফরাস
    হাড় ও দাঁতের শক্ত অংশ মূলত ক্যালসিয়াম ফসফেট দিয়ে তৈরি, তাই ফসফরাস (Phosphorus) এই গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া কোষপর্দার প্রধান উপাদান ফসফোলিপিড তৈরিতেও ফসফরাস লাগে। এজন্য দেওয়া অপশনের মধ্যে ফসফরাসই সঠিক।
    মনে রাখুন:
    লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, আর সোডিয়াম দেহে পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে।
    ম্যাগনেসিয়াম পেশি ও স্নায়ুর কাজে সহায়তা করে।
    ফসফরাসের উৎস দুধ, মাছ ও ডিম।
    ফসফরাস কোষে শক্তির বাহক এটিপি (ATP) অণু তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
    ডিএনএ ও আরএনএ-র গঠনেও ফসফরাস থাকে।
    ফসফরাসের অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
    ফসফরাস দুধ, মাছ ও ডিমে পাওয়া যায়।
  72. ৯৮. কোন ভিটামিন একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন A
    • খ. ভিটামিন B
    • গ. ভিটামিন C
    • ঘ. ভিটামিন D
    উত্তর: গ. ভিটামিন C
    অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এমন পদার্থ, যা শরীরের ক্ষতিকর মুক্ত র‍্যাডিক্যাল (Free radical) নিষ্ক্রিয় করে কোষকে জারণজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক এসিড) একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এটিই এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। ভিটামিন E-ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
    উৎস: লেবু, আমলকী, পেয়ারা, কমলা।
    শরীরে স্বাভাবিক বিপাকের সময়ই কিছু মুক্ত র‍্যাডিক্যাল তৈরি হয়, আর ধূমপান ও দূষণে তা বেড়ে যায়। ভিটামিন C এগুলোকে আটকে কোষের ক্ষতি কমায়। ভিটামিন C পানিতে দ্রবণীয় এবং রান্নার তাপে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, তাই তাজা ফল খাওয়া ভালো।
  73. ৯৯. ভিটামিন B₁₂ এর রাসায়নিক নাম কী?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. রাইবোফ্লাভিন
    • খ. কোবালামিন
    • গ. থিয়ামিন
    • ঘ. নিয়াসিন
    উত্তর: খ. কোবালামিন
    ভিটামিন B12-এর রাসায়নিক নাম কোবালামিন (Cobalamin)। এর গঠনে কোবাল্ট ধাতু থাকে, তাই এই নাম। অন্যদিকে B2 হলো রাইবোফ্লাভিন, B1 থায়ামিন, আর B3 নিয়াসিন। B12 লোহিত কণিকা তৈরিতে ও স্নায়ুর কাজে দরকার হয়।
    মনে রাখুন:
    B12-এর অভাবে পারনিশিয়াস অ্যানিমিয়া হয়।
    B12 প্রধানত মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে পাওয়া যায়।
    ভিটামিন B12 শুধু প্রাণীজ খাদ্যে পাওয়া যায়, তাই নিরামিষভোজীদের এর অভাব হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
    ভিটামিন B কমপ্লেক্সের সবগুলো পানিতে দ্রবণীয়, অন্যদিকে A, D, E ও K চর্বিতে দ্রবণীয়।
    এই ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুর ক্ষতি এবং ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।
  74. ১০০. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে–কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. VIT B-12
    • খ. VIT-D
    • গ. VIT-A
    • ঘ. VIT-K
    উত্তর: ঘ. VIT-K
    রক্ত জমাট বাঁধার সময় প্রোথ্রোমবিন নামের একটি প্রোটিন লাগে, যা যকৃৎ তৈরি করে। এই প্রোথ্রোমবিন তৈরিতে ভিটামিন K দরকার হয়। তাই ভিটামিন K-কে রক্ত জমাট বাঁধার ভিটামিন বলা হয়। এর অভাবে ক্ষত হলে রক্ত সহজে বন্ধ হয় না। ভিটামিন B12 লোহিত কণিকা গঠনে, ভিটামিন D হাড় গঠনে এবং ভিটামিন A দৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন K-এর উৎস সবুজ শাকসবজি এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও এটি তৈরি করে।
    ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেট এবং A-এর অভাবে রাতকানা হয়।
    নবজাতকের অন্ত্রে ভিটামিন K তৈরির ব্যাকটেরিয়া তখনও গড়ে ওঠে না, তাই জন্মের পর অনেক সময় শিশুকে এই ভিটামিনের ইনজেকশন দেওয়া হয়।
  75. ১০১. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ
    • ক. VIT-A
    • খ. VIT-B
    • গ. VIT-C
    • ঘ. VIT-D
    উত্তর: ক. VIT-A
    রাতকানা রোগ হয় ভিটামিন A-এর অভাবে। এই ভিটামিন চোখের রেটিনায় রডোপসিন রঞ্জক তৈরিতে লাগে, যা কম আলোয় দেখতে সাহায্য করে। অভাব হলে অল্প আলোয় দেখা যায় না। ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি, ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেট এবং ভিটামিন B1-এর অভাবে বেরিবেরি হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন A-এর উৎস: গাজর, কলিজা, ডিমের কুসুম, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক।
    দীর্ঘ অভাবে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
    ভিটামিন A চর্বিতে দ্রবণীয়। শরীরে এটি তৈরি হয় বিটা ক্যারোটিন নামে হলুদ-কমলা রঞ্জক থেকে, যা গাজর ও মিষ্টি কুমড়ায় থাকে।
    রাতকানা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তাই অনেক দেশে শিশুদের ভিটামিন A ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
  76. ১০২. গলগণ্ড রোগের কারণ কী?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ ও অভাবজনিত রোগ
    • ক. আয়রনের অভাব
    • খ. ক্যালসিয়ামের অভাব
    • গ. VIT D-এর অভাব
    • ঘ. আয়োডিনের অভাব
    উত্তর: ঘ. আয়োডিনের অভাব
    আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন থাইরক্সিন তৈরির উপাদান। খাদ্যে আয়োডিনের অভাব হলে গ্রন্থিটি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। তখন বেশি হরমোন তৈরির চেষ্টায় গ্রন্থিটি ফুলে গলার সামনে বড় হয়ে ওঠে। এই রোগের নাম গলগণ্ড (Goitre)।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলে গলগণ্ড প্রতিরোধ হয়।
    আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D-এর অভাবে রিকেট বা হাড়ের দুর্বলতা হয়।
    বাংলাদেশে লবণে আয়োডিন মেশানো বাধ্যতামূলক, কারণ পাহাড়ি ও নদীবিধৌত অনেক এলাকার মাটিতে আয়োডিন কম। এতে গলগণ্ডের হার অনেক কমেছে।
    বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতি দিবস ২১ অক্টোবর।
    বেশি আয়োডিন বা ভিন্ন কারণেও থাইরয়েড বড় হতে পারে।
  77. ১০৩. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit-A
    • খ. Vit-E
    • গ. Vit-B
    • ঘ. Vit-D
    উত্তর: গ. Vit-B
    ভিটামিনকে দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: পানিতে দ্রবণীয় ও স্নেহে (চর্বিতে) দ্রবণীয়। ভিটামিন B ও ভিটামিন C পানিতে দ্রবীভূত হয়, তাই এগুলো দেহে মজুদ থাকে না, বাড়তি অংশ মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। সে কারণে প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে এগুলো গ্রহণ করতে হয়। আর ভিটামিন A, D, E ও K স্নেহে দ্রবণীয়। এগুলো দেহের চর্বিতে জমা থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন C-র অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন B₁-এর অভাবে বেরিবেরি হয়।
    ভিটামিন A-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়, ভিটামিন D-র অভাবে শিশুদের রিকেটস হয়।
  78. ১০৪. একজন মানুষের স্বাভাবিক BMI কত?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্থূলতা ও BMI
    • ক. 18-30 Kg/m²
    • খ. 19-25 Kg/m²
    • গ. 20-27 Kg/m²
    • ঘ. 18.5-24.9 Kg/m²
    উত্তর: ঘ. 18.5-24.9 Kg/m²
    BMI (Body Mass Index) বের করা হয় ওজনকে (kg) উচ্চতার (m) বর্গ দিয়ে ভাগ করে: BMI = ওজন / উচ্চতা²। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে স্বাভাবিক BMI 18.5 থেকে 24.9 kg/m²।
    উদাহরণ: ওজন 60 kg, উচ্চতা 1.7 m হলে BMI = 60 / 1.7² = 60 / 2.89 ≈ 20.8, অর্থাৎ স্বাভাবিক।
    মনে রাখুন:
    18.5-এর কম হলে কম ওজন।
    25 থেকে 29.9 অতিরিক্ত ওজন।
    30 বা তার বেশি হলে স্থূলতা।
    BMI বেশি হলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার খুব কম হলে অপুষ্টি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, তাই স্বাভাবিক সীমা ধরে রাখা ভালো।
  79. ১০৫. কোন Vitamin-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধে না?বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vit-B
    • খ. Vit-A
    • গ. Vit-K
    • ঘ. Vit-C
    উত্তর: গ. Vit-K
    ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধার জন্য জরুরি। যকৃতে প্রোথ্রম্বিনসহ রক্ত জমাট বাঁধার কয়েকটি উপাদান তৈরিতে এই ভিটামিন লাগে। এর অভাব হলে সেই উপাদান কম তৈরি হয়, ফলে ক্ষত হলে রক্ত সহজে বন্ধ হয় না। ভিটামিন A দৃষ্টিশক্তির জন্য, ভিটামিন B শক্তি বিপাকের জন্য, আর ভিটামিন C ক্ষত সারাতে ও রোগ প্রতিরোধে কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও কিছুটা ভিটামিন K তৈরি করে।
    ভিটামিন K সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়।
    ভিটামিন K স্নেহে (চর্বিতে) দ্রবণীয়।
    রক্ত জমাট না বাঁধা অবস্থাকে হিমোফিলিয়ার মতো রোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। হিমোফিলিয়া বংশগত রোগ, আর ভিটামিন K-এর অভাব খাদ্যের কারণে হয়।
  80. ১০৬. মানবদেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে কোনটি?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যের উপাদান ও শক্তি
    • ক. ভিটামিন
    • খ. পানি
    • গ. স্নেহ পদার্থ
    • ঘ. খনিজ লবণ
    উত্তর: গ. স্নেহ পদার্থ
    আমাদের দেহে তাপ ও শক্তির প্রধান জোগানদাতা স্নেহ পদার্থ বা চর্বি। ১ গ্রাম স্নেহ পুড়ে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি তাপ দেয়, যেখানে শর্করা ও আমিষ দেয় প্রায় ৪ কিলোক্যালরি। ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহ সচল রাখে, কিন্তু শক্তি দেয় না। পানি দেহের বিভিন্ন কাজে লাগে, কিন্তু সেও শক্তি দেয় না।
    মনে রাখুন:
    স্নেহ পদার্থ কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
    অতিরিক্ত স্নেহ দেহে চর্বি হয়ে জমা থাকে।
    শর্করা শক্তির সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস, আর শরীর প্রথমে শর্করা পুড়িয়েই শক্তি পায়। কিন্তু সমান ওজনের শর্করার চেয়ে চর্বি দ্বিগুণেরও বেশি শক্তি দেয়।
    খাদ্যে শক্তি মাপা হয় ক্যালরি বা কিলোক্যালরি এককে।
  81. ১০৭. কোন ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ‘এ‘
    • খ. ভিটামিন ‘বি‘
    • গ. ভিটামিন ‘সি‘
    • ঘ. ভিটামিন ‘ডি‘
    উত্তর: গ. ভিটামিন ‘সি‘
    ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের (Ascorbic Acid) অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। এই ভিটামিন দেহে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা দাঁতের মাড়ি, ত্বক ও রক্তনালিকে মজবুত রাখে। তাই এর অভাবে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়, মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে এবং ক্ষত সহজে শুকায় না। লেবু, আমলকী, পেয়ারা, কমলা ও টাটকা শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি দেহে জমা থাকে না, তাই প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে এটি নিতে হয়।
    মনে রাখুন: ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় এবং তাপে সহজে নষ্ট হয়, তাই বেশি রান্না করলে খাবারের ভিটামিন সি কমে যায়।
  82. ১০৮. সহজে সর্দি-কাশি হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-ই
    • খ. ভিটামিন-কে
    • গ. ভিটামিন-সি
    • ঘ. ভিটামিন-বি
    উত্তর: গ. ভিটামিন-সি
    ভিটামিন সি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শ্বেত রক্তকণিকাকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। তাই দেহে এর ঘাটতি হলে সহজেই ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হয়, আর ক্ষত শুকাতেও দেরি হয়। দীর্ঘদিন বেশি অভাব থাকলে স্কার্ভি রোগ দেখা দেয়, যাতে দাঁতের মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে। ভিটামিন সি-এর আরেক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid)। ভিটামিন সি দেহে জমা থাকে না, তাই প্রতিদিন টাটকা ফলমূল খাওয়া দরকার।
    মনে রাখুন:
    আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা ও কাঁচা মরিচে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে।
    ভিটামিন ই-এর অভাবে প্রজননক্ষমতা কমে যায়।
    ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়।
  83. ১০৯. সূর্য কিরণ থেকে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?এনটিআরসিএ, ১০তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ‘এ’
    • খ. ভিটামিন ‘বি’
    • গ. ভিটামিন ‘ই’
    • ঘ. ভিটামিন ‘ডি’
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন ‘ডি’
    সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet-B) আমাদের ত্বকে পড়লে ত্বকের নিচে থাকা একটি কোলেস্টেরল-জাতীয় যৌগ ভিটামিন ডি-তে রূপান্তরিত হয়। তাই সূর্যকিরণকে ভিটামিন ডি-এর প্রধান প্রাকৃতিক উৎস বলা হয়। এই ভিটামিন অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, ফলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। সকালের কচি রোদে কিছুক্ষণ থাকলেই আমাদের দেহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি করে নিতে পারে। শীতের দেশে যেখানে রোদ কম, সেখানে মানুষ অনেক সময় বাড়তি ভিটামিন ডি সম্পূরক হিসেবে খায়।
    মনে রাখুন: ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেট আর বড়দের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়। ডিমের কুসুম, কলিজা ও সামুদ্রিক মাছের তেলেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
  84. ১১০. আমিষ বেশি আছে কোনটিতে?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. মুগ ডাল
    • খ. মসুর ডাল
    • গ. খাসির মাংস
    • ঘ. ইলিশ মাছ
    উত্তর: খ. মসুর ডাল
    আমিষ বা প্রোটিন (Protein) দেহের গঠন ও ক্ষয়পূরণের জন্য দরকারি খাদ্য উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রায় ২৫ গ্রাম আমিষ থাকে, যেখানে মুগ ডালে প্রায় ২৪ গ্রাম, ইলিশ মাছে প্রায় ২২ গ্রাম আর খাসির মাংসে প্রায় ১৮ থেকে ২১ গ্রাম। তাই পরিমাণের হিসাবে বিকল্পগুলোর মধ্যে মসুর ডালেই আমিষ সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন: উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে সয়াবিনে আমিষ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রাণিজ আমিষে সব প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড থাকে বলে একে প্রথম শ্রেণির আমিষ বলে।
  85. ১১১. পানিতে কোন কোন ভিটামিন দ্রবণীয়?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. A ও B
    • খ. B ও C
    • গ. A ও C
    • ঘ. B ও D
    উত্তর: খ. B ও C
    ভিটামিনকে দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ভিটামিন B ও C পানিতে দ্রবণীয়, তাই অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায় এবং শরীরে জমা থাকে না। এ কারণে এগুলো নিয়মিত খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। পানিতে দ্রবণীয় এসব ভিটামিন রান্নার পানিতেও মিশে যায়, তাই সবজি অনেকক্ষণ সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে পুষ্টির একটি বড় অংশ নষ্ট হয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সে আটটি ভিটামিন আছে, যার মধ্যে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন ও নিয়াসিন পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন A, D, E ও K চর্বিতে দ্রবণীয়।
    চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যকৃৎ ও চর্বিকলায় জমা থাকতে পারে।
  86. ১১২. কোন খাদ্যে পচন ধরে না?এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. ফল
    • খ. মধু
    • গ. দুধ
    • ঘ. চা
    উত্তর: খ. মধু
    খাবার পচে যায় মূলত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো অণুজীবের কারণে, আর এদের বেঁচে থাকতে পানি লাগে। মধুতে পানির পরিমাণ খুব কম এবং চিনির ঘনত্ব অনেক বেশি, তাই অভিস্রবণের কারণে অণুজীবের কোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায় এবং সেগুলো মরে যায়। তা ছাড়া মধু কিছুটা অম্লীয় এবং এতে অল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন পারক্সাইড তৈরি হয়, তাই ঠিকভাবে রাখলে মধুতে সহজে পচন ধরে না।
    মনে রাখুন: একই কারণে চিনি বা লবণ দিয়ে খাবার সংরক্ষণ করা হয়, যেমন জ্যাম, জেলি ও আচার।
  87. ১১৩. নিচের কোনটিকে আদর্শ খাদ্য বলে?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আদর্শ খাদ্য
    • ক. ভাত
    • খ. মাছ
    • গ. দুধ
    • ঘ. ফল
    উত্তর: গ. দুধ
    যে খাদ্যে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদান থাকে, তাকে আদর্শ খাদ্য বলে। দুধে আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি, এই ছয়টি উপাদানই থাকে, তাই দুধকে আদর্শ খাদ্য বলা হয়। বিশেষ করে শিশুদের হাড় ও দাঁত গঠনে দুধের ক্যালসিয়াম খুব গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধকারী উপাদানও থাকে। ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত।
    মনে রাখুন:
    দুধে ভিটামিন সি ও লৌহ খুব কম থাকে, তাই কেবল দুধ খেলে এ দুটির অভাব পূরণ হয় না।
    দুধের প্রধান আমিষ কেসিন।
    দুধের প্রধান শর্করা ল্যাকটোজ।
  88. ১১৪. জ্যাঙ্ক ফুডে নিচের কোন দ্রব্যের আধিক্য থাকে?এনটিআরসিএ, ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জাঙ্ক ফুড
    • ক. চর্বি
    • খ. ভিটামিন
    • গ. শর্করা
    • ঘ. আমিষ
    উত্তর: ক. চর্বি
    জাঙ্ক ফুড (Junk food) বলতে বার্গার, ভাজা চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা কোমল পানীয়ের মতো খাবার বোঝায়। এসব খাবার তেলে ভাজা হয় বলে এতে চর্বির পরিমাণ খুব বেশি থাকে, সঙ্গে থাকে প্রচুর লবণ ও চিনি। অথচ শরীরের জন্য দরকারি ভিটামিন, খনিজ লবণ ও আঁশ এতে খুব কম থাকে। তাই এসব খাবার পেট ভরালেও দেহের পুষ্টির চাহিদা মেটায় না। তাই খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও শাকসবজি রাখলে ভিটামিন ও আঁশের ঘাটতি পূরণ হয়।
    মনে রাখুন: নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খেলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  89. ১১৫. শর্করা জাতীয় খাদ্য যে কাজে ব্যয় হয় –এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
    • খ. ক্ষয়রোধের জন্য
    • গ. পুষ্টির অভাব পূরণে
    • ঘ. হাড় গঠনে
    উত্তর: ক. দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
    শর্করা (Carbohydrate) খাদ্য পরিপাকের পর গ্লুকোজে পরিণত হয়, আর কোষে গ্লুকোজ জারিত হয়ে শক্তি ও তাপ উৎপন্ন করে। তাই শর্করাকে দেহের প্রধান শক্তির উৎস বলা হয়। ১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। ভাত, রুটি, আলু ও চিনি শর্করার প্রধান উৎস, আর দেহ প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃৎ ও পেশিতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমিয়ে রাখে। শর্করার অভাব হলে দেহ শক্তির জন্য চর্বি ও আমিষ ভাঙতে শুরু করে, এতে দুর্বলতা দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    আমিষ (Protein): দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ
    স্নেহ পদার্থ (Fat): শক্তি সঞ্চয়, ১ গ্রামে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি
    ক্যালসিয়াম: হাড় ও দাঁত গঠন
  90. ১১৬. নিচের কোন ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ৩৬৯৭), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ডি
    • খ. ভিটামিন সি ও বি
    • গ. ভিটামিন ই
    • ঘ. ভিটামিন এ
    উত্তর: খ. ভিটামিন সি ও বি
    ভিটামিনকে দ্রবণীয়তার দিক থেকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ভিটামিন বি ও সি পানিতে দ্রবণীয় (Water-soluble), তাই শরীরে খুব বেশি জমা থাকে না এবং অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এ কারণে এগুলো প্রায় প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। অন্য দিকে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয়, এরা শরীরের চর্বি ও যকৃতে জমা থাকতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
    চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো মনে রাখার সহজ উপায় ‘এডেক’ (A, D, E, K)।
  91. ১১৭. প্রোটিনের অভাবে মানুষের কী রোগ হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৩য় ধাপ, সেট ৩৬৯৭), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপুষ্টির রোগ
    • ক. রিকেটস
    • খ. ডিপথেরিয়া
    • গ. কোয়াশিয়রকর
    • ঘ. বেরিবেরি
    উত্তর: গ. কোয়াশিয়রকর
    শিশুর খাদ্যে দীর্ঘদিন প্রোটিনের তীব্র অভাব থাকলে কোয়াশিয়রকর (Kwashiorkor) রোগ হয়। এ রোগে শরীরে পানি জমে হাত-পা ও মুখ ফুলে যায়, পেট বড় হয়ে যায় আর চুল লালচে ও পাতলা হয়ে পড়ে। অন্য বিকল্পগুলোর কারণ আলাদা। রিকেটস হয় ভিটামিন ডি-এর অভাবে, বেরিবেরি হয় ভিটামিন বি১ (থায়ামিন)-এর অভাবে আর ডিপথেরিয়া একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। ডাল, ডিম, মাছ ও মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস, তাই শিশুর খাবারে এগুলো রাখা জরুরি।
    মনে রাখুন: প্রোটিন ও ক্যালরি দুটিরই অভাব হলে শিশুর মেরাসমাস (Marasmus) রোগ হয়, এতে শরীর একেবারে শুকিয়ে যায়।
  92. ১১৮. ‘রিকেটস’ কোন ভিটামিনের অভাবে দেখা দেয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৮৪৩৩), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ‘এ’
    • খ. ভিটামিন ‘বি’
    • গ. ভিটামিন ‘ই’
    • ঘ. ভিটামিন ‘ডি’
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন ‘ডি’
    ভিটামিন ডি (Vitamin D) শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, আর এই দুটি খনিজ হাড় শক্ত রাখে। তাই ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে শিশুদের হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে বেঁকে যায়, এ রোগকে রিকেটস (Rickets) বলে। বড়দের ক্ষেত্রে একই অভাবে হাড় নরম হওয়ার রোগকে অস্টিওম্যালেশিয়া বলে।
    মনে রাখুন:
    সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে আমাদের দেহ নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে।
    ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা, ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি এবং ভিটামিন বি১-এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
    ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই ডিমের কুসুম ও মাছের তেলে এটি পাওয়া যায়।
  93. ১১৯. ‘BMI’-এর পূর্ণরূপ –প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্বাস্থ্য সূচক
    • ক. Ballistic Missile Initiative
    • খ. Body Mass Index
    • গ. Bill Measurement Index
    • ঘ. Best Medicine Integration
    উত্তর: খ. Body Mass Index
    BMI-এর পূর্ণরূপ Body Mass Index। এটি ওজন ও উচ্চতার সম্পর্ক থেকে একজন মানুষের ওজন স্বাভাবিক কি না, তা বোঝার একটি সহজ সূচক। কেজিতে মাপা ওজনকে মিটারে মাপা উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করে BMI বের করা হয়, অর্থাৎ BMI = ওজন (kg) ÷ উচ্চতা² (m²)। যেমন ৭০ কেজি ওজন ও ১.৭৫ মিটার উচ্চতার একজনের BMI প্রায় 22.9, যা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে।
    মনে রাখুন:
    BMI ১৮.৫-এর কম হলে কম ওজন।
    ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলে স্বাভাবিক ওজন।
    ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে অতিরিক্ত ওজন, আর ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা।
  94. ১২০. ভিটামিন-এ এর অভাবে কী রোগ হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ডায়াবেটিস
    • খ. গলগণ্ড
    • গ. রাতকানা
    • ঘ. টিটেনি
    উত্তর: গ. রাতকানা
    ভিটামিন এ (Vitamin A) চোখের রেটিনায় রডোপসিন নামের একটি রঞ্জক তৈরিতে লাগে, যা কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন এ-এর অভাবে সন্ধ্যার পর বা কম আলোতে চোখে দেখতে সমস্যা হয়, একে রাতকানা রোগ (Night Blindness) বলে। অভাব আরও বেড়ে গেলে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায় এবং শিশু অন্ধও হয়ে যেতে পারে। ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই তেল দিয়ে রান্না করা সবজিতে এটি ভালোভাবে শোষিত হয়।
    মনে রাখুন:
    গলগণ্ড হয় আয়োডিনের অভাবে।
    টিটেনি হয় রক্তে ক্যালসিয়ামের অভাবে।
    গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা আম, কলিজা ও সবুজ শাকে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে।
    বাংলাদেশে শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
  95. ১২১. দুধকে টক করে -বাংলাদেশ টেলিভিশনের অডিয়েন্স রিসার্চ অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব ও খাদ্য
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. ফাংগাস
    • ঘ. প্রোটোজোয়া
    উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়া
    দুধ টক হওয়ার পেছনে কাজ করে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের ব্যাকটেরিয়া। এরা দুধের শর্করা ল্যাকটোজকে গাঁজিয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত করে। এই অ্যাসিডের কারণে দুধের স্বাদ টক হয় এবং এর প্রোটিন জমাট বেঁধে যায়। ভাইরাস বা ফাংগাস দুধ টক করার সাধারণ কারণ নয়। ফাংগাস দুধ নষ্ট করলেও তা মূলত ছাতা পড়ার মতো, টক হওয়ার মতো নয়। এ কারণে টক দুধ আসলে ব্যাকটেরিয়ার কাজের ফল।
    মনে রাখুন:
    দই তৈরিতেও একই ধরনের ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া কাজ করে।
    দুধকে বেশি দিন ভালো রাখতে পাস্তুরাইজ করা হয়, যাতে জীবাণু মারা যায়।
  96. ১২২. পাস্তুরাইজেশনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করা হয় -আবাসন পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. খাবার পানিকে
    • খ. অ্যালকোহলকে
    • গ. স্যালাইনকে
    • ঘ. দুধকে
    উত্তর: ঘ. দুধকে
    ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের নামে পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization) পদ্ধতির নাম। এতে কোনো তরলকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় গরম করে হঠাৎ ঠান্ডা করা হয়, যাতে ক্ষতিকর জীবাণু মরে যায় কিন্তু খাবারের স্বাদ ও পুষ্টি তেমন নষ্ট না হয়। পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় দুধের ক্ষেত্রে, এর ফলে দুধ বেশি দিন ভালো থাকে এবং যক্ষ্মা ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি কমে। এই পদ্ধতিতে দুধ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হয় না, শুধু ক্ষতিকর জীবাণু মরে যায়, তাই পাস্তুরাইজড দুধ ফ্রিজে রাখতে হয়।
    মনে রাখুন:
    পাস্তুর প্রথমে ওয়াইন ও বিয়ারের গাঁজন ঠিক রাখতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন।
    নির্বীজন করতে পানি ফোটানো বা ক্লোরিন দেওয়া হয়।
  97. ১২৩. দুধ পাস্তুরিকরণে কত ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে হয়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. ১৪০
    • খ. ১৫০
    • গ. ১৪৫
    • ঘ. ১৫৫
    উত্তর: গ. ১৪৫
    দুধ পাস্তুরাইজ করার সাধারণ পদ্ধতিতে দুধকে প্রায় ৬৩°C (১৪৫°F) তাপমাত্রায় ৩০ মিনিট গরম করে রাখা হয়। এই তাপে দুধের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারা যায়, অথচ পুষ্টিগুণ প্রায় অটুট থাকে। এরপর দুধকে দ্রুত ঠান্ডা করে নেওয়া হয়। এর বিকল্প হলো উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প সময় গরম করা, যেমন ৭২°C তাপমাত্রায় ১৫ সেকেন্ড। সুতরাং দুধ পাস্তুরিকরণে ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটই সঠিক।
    মনে রাখুন:
    ফারেনহাইট থেকে সেলসিয়াসে রূপান্তর: C = (F − 32) × 5/9, তাই (145 − 32) × 5/9 ≈ 62.8°C।
    UHT পদ্ধতিতে দুধ প্রায় ১৩৫°C তাপমাত্রায় কয়েক সেকেন্ড গরম করা হয়।
  98. ১২৪. শুকানোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় কারণ-সরকারী জজ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. শুকানো প্রক্রিয়ায় তাপে জীবাণু মরে
    • খ. পচনের বিক্রিয়ায় পানি লাগে
    • গ. শুষ্ক খাদ্যে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব কম
    • ঘ. পচনশীল জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
    উত্তর: ঘ. পচনশীল জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
    শুকানোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়, কারণ পচনশীল জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বেড়ে ওঠার জন্য পানি দরকার। খাবার শুকিয়ে ফেললে তাতে জীবাণুর জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকে না, ফলে এরা বাড়তে পারে না এবং খাবার নষ্ট হয় না। শুকানোর তাপে সব জীবাণু মরে যায়, এমন নয়। জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় থাকে, পানি পেলেই আবার বাড়তে শুরু করে। একই কারণে মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করা হয় এবং ফল শুকিয়ে কিশমিশ ও খেজুর সংরক্ষণ করা হয়। তবে শুকনো খাবার আবার আর্দ্র জায়গায় রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
    মনে রাখুন:
    শুঁটকি মাছ, কিশমিশ ও ডাল শুকিয়ে সংরক্ষণের উদাহরণ।
    খাদ্য সংরক্ষণের আরেক উপায় লবণ বা চিনি মিশিয়ে পানি টেনে নেওয়া।
  99. ১২৫. কোনটি খাদ্য সংরক্ষক?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (মানবিক) ভর্তি, ২০০৮-০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. ভিনেগার
    • খ. চিনি
    • গ. লবণ
    • ঘ. উপরের সবগুলো
    উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
    ভিনেগার, চিনি ও লবণ, তিনটিই খাদ্য সংরক্ষক। ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক এসিড জীবাণুর বৃদ্ধি আটকায়, আর আচার তাই ভিনেগারে সংরক্ষণ করা হয়। চিনি ও লবণ খাবারের পানি শুষে নেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার পানি থাকে না। এ কারণে জ্যাম-জেলিতে চিনি এবং মাছ-মাংসে লবণ ব্যবহার করে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে সরিষার তেলও আচার সংরক্ষণে কাজে লাগে। আসলে তেল বাতাসের সংস্পর্শ আটকে রাখে, ফলে জীবাণু বাড়তে পারে না।
    মনে রাখুন:
    চিনি বা লবণের ঘন দ্রবণে অভিস্রবণের কারণে জীবাণুর কোষ থেকে পানি বেরিয়ে যায়।
    সোডিয়াম বেনজয়েট ও সরবেট রাসায়নিক সংরক্ষক।
  100. ১২৬. সফট ড্রিংকে কোনটি ব্যবহৃত হয়?দুদক এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. ডিডিটি
    • খ. সরবেট
    • গ. কার্বাইড
    • ঘ. ফরমালিন
    উত্তর: খ. সরবেট
    সফট ড্রিংকে সংরক্ষক হিসেবে সরবেট বা সরবিক এসিডের লবণ (সরবেট) ব্যবহার করা হয়। এটি ছত্রাক ও ঈস্টের বৃদ্ধি থামায়, ফলে পানীয় অনেকদিন ভালো থাকে। এর পাশাপাশি সফট ড্রিংকে সোডিয়াম বেনজয়েটও ব্যবহৃত হয়। বাকিগুলো খাবারে দেওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। ডিডিটি কীটনাশক, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফল পাকাতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক, আর ফরমালিন লাশ সংরক্ষণের রাসায়নিক। কোমল পানীয়ের সংরক্ষণে এ ধরনের রাসায়নিকের মাত্রা সরকারি নিয়মে নির্ধারিত থাকে। মাত্রা ছাড়ালে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে, তাই বোতলের গায়ে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।
    মনে রাখুন:
    ফরমালিন বা কার্বাইড মেশানো খাবার ক্ষতিকর, তাই এগুলো খাবারে মেশানো আইনত নিষিদ্ধ।
  101. ১২৭. নিম্পিষ্ট মসলায় লবণ মিশিয়ে অনেকদিন রাখা যায় কেন?থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. লবণ মসলাকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখে
    • খ. লবণ পচনকারী জীবাণুর বংশ বিস্তার রোধ করে
    • গ. লবণ সংরক্ষণকারী জীবাণুর বংশ বিস্তারে সাহায্য করে
    • ঘ. লবণ মসলাকে রসালো ও সতেজ রাখে
    উত্তর: খ. লবণ পচনকারী জীবাণুর বংশ বিস্তার রোধ করে
    গুঁড়ো মসলায় লবণ মেশালে অনেকদিন ভালো থাকে, কারণ লবণ পচনকারী জীবাণুর বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়। লবণ মসলার পানি শুষে নেয়, আর পানি না পেলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বাড়তে পারে না। অভিস্রবণের (Osmosis) নিয়মে জীবাণুর কোষ থেকেও পানি বেরিয়ে যায়। ফলে জীবাণু বাড়তে পারে না। লবণ সংরক্ষণকারী জীবাণুর বংশবিস্তারে সাহায্য করে না, বরং ক্ষতিকর জীবাণুকে আটকায়। মসলায় এভাবে লবণ মেশানোর রীতি আমাদের দেশে অনেক দিনের। একই কারণে আচার ও শুঁটকি লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, এবং খাবারে সংরক্ষণের জন্য লবণই সবচেয়ে পুরোনো উপাদানগুলোর একটি।
    মনে রাখুন:
    লবণ দিয়ে মাছ, মাংস ও আচার সংরক্ষণ করা হয়।
  102. ১২৮. Which of the following revolutions is related to egg production?Bangladesh Bank Assistant Director : 23 · বইয়ের অনুচ্ছেদ সবুজ বিপ্লব
    • ক. Round revolution
    • খ. Yellow revolution
    • গ. Red revolution
    • ঘ. Silver revolution
    উত্তর: ঘ. Silver revolution
    Silver Revolution হলো ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচি। এটি ভারতে ডিমের উৎপাদন বাড়াতে শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনের উন্নয়নকে নানা রঙের বিপ্লব নামে ডাকা হয়। খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রের উন্নয়নকে একেকটি রঙের নামে ডাকা হয়, আর ডিম উৎপাদনের জন্য সেই রঙ হলো রুপালি বা সিলভার। যেমন দুধের জন্য সাদা এবং মাছের জন্য নীল।
    মনে রাখুন:
    সবুজ বিপ্লব (Green): খাদ্যশস্য।
    শ্বেত বিপ্লব (White): দুধ।
    নীল বিপ্লব (Blue): মাছ।
    হলুদ বিপ্লব (Yellow): তৈলবীজ।
    লাল বিপ্লব (Red): মাংস ও টমেটো।
    গোল বিপ্লব (Round): আলু।
  103. ১২৯. বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার কত সালে প্রবর্তিত হয়?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক লি. সুপারভাইজার, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সবুজ বিপ্লব
    • ক. ১৯৮৪
    • খ. ১৯৮৬
    • গ. ১৯৮৮
    • ঘ. ১৯৯৬
    উত্তর: খ. ১৯৮৬
    খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণে বিশেষ অবদানের জন্য বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার (World Food Prize) দেওয়া হয়। সবুজ বিপ্লবের জনক নরম্যান বোরলগ এই পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। পুরস্কারটি ১৯৮৬ সালে প্রবর্তিত হয় এবং প্রথম দেওয়া হয় ১৯৮৭ সালে। এটি খাদ্য ও কৃষি ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত। এই পুরস্কারের পেছনে ধারণা ছিল কৃষি ও খাদ্যের মানোন্নয়নে কাজ করা মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়া। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা কমানোর প্রচেষ্টাকে উৎসাহ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
    মনে রাখুন: পুরস্কারটি আমেরিকার আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেস ময়েন শহর থেকে দেওয়া হয়।
  104. ১৩০. পালং শাক সবজি হিসাবে-BREB-এর সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য ও পুষ্টি
    • ক. অম্লধর্মী
    • খ. ক্ষারধর্মী
    • গ. স্নেহধর্মী
    • ঘ. শর্করা
    উত্তর: খ. ক্ষারধর্মী
    পালং শাকের মতো সবুজ শাকসবজি দেহের ভেতর হজম হওয়ার পর ক্ষারীয় প্রভাব ফেলে, তাই এদের ক্ষারধর্মী খাদ্য বলা হয়। অন্যদিকে মাছ, মাংস, ডিম ও দানাদার শস্য অম্লধর্মী খাদ্য। খাদ্য তালিকায় এই দুই ধরনের খাবারের ভারসাম্য থাকলে দেহের অম্ল-ক্ষারের সমতা ভালো থাকে।
    মনে রাখুন:
    পালং শাক আয়রন, ভিটামিন A, ভিটামিন K ও ফলিক অ্যাসিডের ভালো উৎস।
    অতিরিক্ত পালং শাকে অক্সালেট থাকায় কিডনিতে পাথরের প্রবণতা থাকলে এটি পরিমিত খাওয়া ভালো।
    স্নেহজাতীয় খাবার হলো তেল ও ঘি।
    শর্করা পাওয়া যায় চাল ও আলুতে।
    ক্ষারধর্মী ও অম্লধর্মী খাবারের এই ভাগ দেহে হজমের পরের প্রভাব দেখে করা হয়, খাবারের স্বাদ দেখে নয়।
  105. ১৩১. উইনিং পদ্ধতি হলো বাচ্চাদের প্রথম-নার্সিং ও মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবজাতকের যত্ন
    • ক. পানি খাওয়া
    • খ. দুধ খাওয়া
    • গ. অন্য খাবার খাওয়া
    • ঘ. ভাত খাওয়া
    উত্তর: গ. অন্য খাবার খাওয়া
    উইনিং (Weaning) হলো শিশুকে শুধু মায়ের দুধ থেকে ধীরে ধীরে অন্য খাবারে অভ্যস্ত করার প্রক্রিয়া। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি নরম ও পুষ্টিকর অন্য খাবার দেওয়া শুরু করা হয়। কারণ এই বয়সের পর শুধু মায়ের দুধে শিশুর শক্তি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না। খুব তাড়াতাড়ি বা খুব দেরিতে শুরু করলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। তাড়াতাড়ি অন্য খাবার দিলে সংক্রমণ ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আর দেরি করলে অপুষ্টি ও বৃদ্ধি থেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
    মনে রাখুন:
    প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ দিতে হয়, এমনকি পানিও নয়।
    অতিরিক্ত খাবার হিসেবে খিচুড়ি, সুজি ও ডিম ইত্যাদি নরম খাবার দেওয়া হয়।
  106. ১৩২. কোলাজেন কি?ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রোটিন
    • ক. একটি কার্বহাইড্রেট
    • খ. একটি নিউক্লিক এসিড
    • গ. একটি লিপিড
    • ঘ. একটি প্রোটিন
    উত্তর: ঘ. একটি প্রোটিন
    কোলাজেন (Collagen) একটি প্রোটিন, আর মানবদেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা প্রোটিনও এটিই। এটি আঁশের মতো লম্বা সুতার আকারে থাকে এবং কোষগুলোকে একসঙ্গে ধরে রাখে। ত্বকের ভেতরের স্তর, হাড়, তরুণাস্থি, রগ ও রক্তনালির দেয়ালে প্রচুর কোলাজেন আছে। কোলাজেন ত্বককে টানটান ও মজবুত রাখে। বয়স বাড়লে এর পরিমাণ কমে যায়, তাই ত্বকে ভাঁজ পড়ে। প্রাণীর হাড় ও চামড়া সেদ্ধ করলে যে জেলাটিন পাওয়া যায়, তা আসলে ভেঙে যাওয়া কোলাজেন। এ কারণে পায়ার ঝোল ঠান্ডা হলে জমে যায়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, তাই এর অভাবে স্কার্ভি হলে ক্ষত সহজে শুকায় না।
    চুল ও নখের প্রোটিনের নাম কেরাটিন।
  107. ১৩৩. শরীরে শক্তি জোগাতে দরকার-গুপ্ত সংকেত পরিদপ্তরের সাইফার অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য ও শক্তি
    • ক. ভিটামিন
    • খ. সঠিক ওষুধ
    • গ. খাদ্য
    • ঘ. পানি
    উত্তর: গ. খাদ্য
    আমাদের দেহ প্রতিনিয়ত কাজ করে, এমনকি ঘুমের সময়ও। এই কাজের জন্য শক্তি লাগে, আর সেই শক্তি আসে খাদ্য থেকে। খাদ্যে থাকা শর্করা, স্নেহ ও আমিষ দেহের কোষে জারিত হয় এবং তাতে শক্তি মুক্ত হয়। ভিটামিন ও পানি দেহের কাজে সাহায্য করলেও নিজে শক্তি জোগায় না। ওষুধও শক্তির উৎস নয়। খাবার না খেলে দেহ প্রথমে জমানো গ্লাইকোজেন এবং পরে চর্বি পুড়িয়ে শক্তি জোগায়। তাই অনেকক্ষণ না খেলে আমরা দুর্বল বোধ করি।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম শর্করা ও ১ গ্রাম আমিষ থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    ১ গ্রাম স্নেহ থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  108. ১৩৪. নিচের কোনটিকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বলা হয়?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি. এর প্ল্যানিং অ্যাসিস্টেন্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য উপাদান
    • ক. আমিষ
    • খ. ভিটামিন
    • গ. শর্করা
    • ঘ. ক + খ
    উত্তর: খ. ভিটামিন
    আমাদের খাদ্যের উপাদানগুলোকে পরিমাণের দিক থেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেগুলো দেহের দরকার হয় অনেক বেশি পরিমাণে, সেগুলো ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Macronutrient), যেমন শর্করা, আমিষ ও স্নেহ। আর যেগুলো খুব অল্প পরিমাণে লাগে, কিন্তু না পেলে দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, সেগুলো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Micronutrient)। ভিটামিন এই দ্বিতীয় দলে পড়ে। আমিষ ও শর্করা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট, তাই এদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলা যায় না। প্রতিদিন খুব অল্প পরিমাণে লাগে বলে ভিটামিনকে অণুপুষ্টি বলা হয়। কিন্তু এর কাজ অনেক বড়। যেমন ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টির জন্য আর ভিটামিন ডি হাড় শক্ত রাখার জন্য জরুরি।
    মনে রাখুন: ভিটামিনের পাশাপাশি আয়রন, আয়োডিন ও জিংকের মতো খনিজ উপাদানও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।
  109. ১৩৫. খাদ্যের প্রধান উপাদান নয় কোনটি?স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য উপাদান
    • ক. শর্করা
    • খ. চর্বি
    • গ. আমিষ
    • ঘ. আয়রন
    উত্তর: ঘ. আয়রন
    খাদ্যের প্রধান উপাদান ছয়টি, শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এর মধ্যে শর্করা, চর্বি ও আমিষ বেশি পরিমাণে লাগে বলে এদের প্রধান উপাদান বলা হয়। আয়রন (Iron) আলাদা কোনো খাদ্য উপাদান নয়, এটি একটি খনিজ মৌল এবং খনিজ লবণ নামের উপাদানের অংশ। রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন লাগে। দেহে আয়রন থাকে মোট ওজনের খুব সামান্য অংশ, তবু এর অভাব হলে মানুষ দুর্বল ও ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। তাই আয়রন ছোট কিন্তু জরুরি উপাদান, যদিও এটি খাদ্যের প্রধান উপাদান নয়।
    মনে রাখুন:
    আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়।
    কচুশাক, কলিজা ও ডালে আয়রন পাওয়া যায়।
  110. ১৩৬. দৈনিক মোট ক্যালরির শতকরা কত অংশ প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে গ্রহণ করা প্রয়োজন?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য উপাদান
    • ক. ৫৫-৭৫%
    • খ. ২৫-৩৫%
    • গ. ১৫-৩০%
    • ঘ. ১০-১৫%
    উত্তর: ঘ. ১০-১৫%
    একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিনের মোট ক্যালরির সব অংশ একই উৎস থেকে নেওয়া ঠিক নয়। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, ক্যালরির বেশির ভাগ, প্রায় ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশ আসা উচিত শর্করা থেকে। প্রোটিন বা আমিষ থেকে নেওয়া উচিত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। আমিষ প্রধানত দেহ গড়ে ও ক্ষয় পূরণ করে, তাই শক্তির জন্য একে বেশি ব্যবহার করার দরকার হয় না। অতিরিক্ত আমিষ খেলে তা শক্তি হিসেবে পুড়ে যায় অথবা চর্বি হয়ে জমে, আর বাড়তি নাইট্রোজেন বৃক্কের মাধ্যমে ইউরিয়া হয়ে বেরিয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    স্নেহ বা চর্বি থেকে ক্যালরির প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ নেওয়া ভালো।
    ১ গ্রাম আমিষ থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  111. ১৩৭. কোন খাদ্যগুচ্ছে ক্যালরি মূল্য বেশি?চবি (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য উপাদান
    • ক. বার্গার, কলা, কফি
    • খ. আলু, আপেল, আইসক্রিম
    • গ. পাউরুটি, কমলা, চা
    • ঘ. বাটার, ঘি, শরবত
    উত্তর: ঘ. বাটার, ঘি, শরবত
    কোনো খাবারের ক্যালরি মূল্য নির্ভর করে তাতে কতটা স্নেহ, শর্করা ও আমিষ আছে তার ওপর। বাটার ও ঘি প্রায় পুরোটাই স্নেহ জাতীয় পদার্থ, আর ১ গ্রাম স্নেহ থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৯ কিলোক্যালরি। তাই এই দুটি খাবারে ক্যালরির পরিমাণ খুব বেশি। অন্য গুচ্ছগুলোতে পানি আর আঁশ বেশি থাকে, যেমন কলা, আপেল, কমলা বা কফির বড় অংশই পানি। ফলে এদের ক্যালরি তুলনায় কম। বাটারে প্রায় ৮০ শতাংশ স্নেহ থাকে। আইসক্রিমে স্নেহ ও চিনি দুটোই আছে, তবু বাটারের চেয়ে তাতে পানি অনেক বেশি, তাই বাটারই এগিয়ে।
    মনে রাখুন: এক চামচ ঘিতে যে ক্যালরি থাকে, একই ওজনের শাকসবজিতে তার চেয়ে অনেক কম থাকে।
  112. ১৩৮. দেহে আমিষের কাজ কি?আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. এন্টিবডি উৎপাদন হ্রাস করা
    • খ. দেহে কোষগুলোর কার্যক্ষমতা হ্রাস করা
    • গ. দেহে কোষগুলোর বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি করা
    • ঘ. দেহে কোষ গঠনে সহায়তা করা
    উত্তর: ঘ. দেহে কোষ গঠনে সহায়তা করা
    আমিষ বা প্রোটিন (Protein) দেহের কোষ গঠনের প্রধান উপাদান। শিশুরা বড় হওয়ার সময় নতুন কোষ তৈরি হয়, আর বড়দের ক্ষেত্রে ক্ষয়ে যাওয়া কোষের জায়গায় নতুন কোষ আসে। দুই ক্ষেত্রেই আমিষ লাগে। আমিষ দিয়েই দেহের প্রয়োজনীয় এনজাইম ও কিছু হরমোন তৈরি হয় এবং রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডিও আমিষ থেকেই আসে। তাই আমিষ কোষের কাজ বাড়ায় ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে, কমায় না। অ্যান্টিবডি ছাড়াও প্রোটিন দিয়ে তৈরি হিমোগ্লোবিন দেহের সব অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, আর ইনসুলিনের মতো কিছু হরমোনও প্রোটিন।
    মনে রাখুন: আমিষের অভাবে শিশুদের বৃদ্ধি থেমে যায়।
  113. ১৩৯. দেহকোষের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর জন্য প্রয়োজন-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. কার্বোহাইড্রেট
    • খ. প্রোটিন
    • গ. স্নেহদ্রব্য
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. প্রোটিন
    আমাদের দেহের কোষ প্রতিদিন কিছু কিছু ক্ষয় হয়, আর ক্ষয়ে যাওয়া কোষের জায়গায় নতুন কোষ তৈরি করতে হয়। এই কাজের প্রধান উপাদান প্রোটিন বা আমিষ। প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো এসিড (Amino acid) তৈরি হয়, আর দেহ সেই অ্যামিনো এসিড দিয়ে নতুন কোষ ও তন্তু গড়ে তোলে। কোনো ক্ষত শুকানোর সময়ও নতুন কোষ লাগে, তাই তখনও আমিষ জরুরি। শর্করা ও স্নেহ প্রধানত শক্তি জোগায়। অপারেশনের পর সেরে উঠতেও রোগীর বেশি আমিষ দরকার হয়। এ কারণে চিকিৎসকেরা তখন ডিম, মাছ ও ডাল খেতে বলেন।
    মনে রাখুন: পেশি, চুল, নখ ও রক্তের হিমোগ্লোবিন সবই প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
  114. ১৪০. মানবদেহের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান কোনটি?শ্রম পরিদপ্তরের জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. আমিষ
    • খ. স্নেহ পদার্থ
    • গ. ভিটামিন
    • ঘ. শর্করা
    উত্তর: ক. আমিষ
    শিশু থেকে কিশোর বয়সে দেহ বড় হয়, অর্থাৎ নতুন কোষ ও তন্তু তৈরি হতে থাকে। এই বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান আমিষ বা প্রোটিন। আমিষ ভেঙে পাওয়া অ্যামিনো এসিড কোষ গঠনের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে। তাই বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী মা এবং অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা মানুষের বেশি আমিষ দরকার হয়। শর্করা ও স্নেহ মূলত কাজের শক্তি জোগায়, আর ভিটামিন দেহের কাজগুলো ঠিকমতো চলতে সাহায্য করে। কিশোর বয়সে দেহ দ্রুত বাড়ে, তাই তখন ওজনের হিসাবে আমিষের চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন: আমিষের অভাবে শিশুর বৃদ্ধি থেমে যায় এবং কোয়াশিওরকর নামের রোগ হয়।
  115. ১৪১. দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধনের জন্য কোন উপাদানটি দরকার?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. শ্বেতসার
    • খ. আমিষ
    • গ. স্নেহ
    • ঘ. খনিজ লবণ
    উত্তর: খ. আমিষ
    দেহের কাজ করতে করতে কোষের কিছু অংশ ক্ষয়ে যায়, আর সেই ক্ষয় পূরণ করে নতুন কোষ গড়ার জন্য আমিষ বা প্রোটিন লাগে। আমিষ অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি, আর এই অ্যামিনো এসিডই দেহের তন্তু ও কোষের মূল গাঁথুনি। শ্বেতসার বা শর্করা এবং স্নেহ প্রধানত শক্তি দেয়। খনিজ লবণ হাড়, দাঁত ও রক্ত গঠনে কাজে লাগে, কিন্তু ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধির প্রধান উপাদান আমিষই। দেহের প্রতিটি কোষের কেন্দ্রে ও বাইরের আবরণে প্রোটিন থাকে। এ ছাড়া এনজাইম ও হরমোনের মতো দেহের নিয়ন্ত্রণকারী অনেক পদার্থও প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
    মনে রাখুন: আমিষ জাতীয় খাবারকে দেহ গঠনকারী খাদ্য বলা হয়।
  116. ১৪২. রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায় প্রধানত-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন
    • খ. পানি
    • গ. শর্করা
    • ঘ. স্নেহ
    উত্তর: ক. ভিটামিন
    ভিটামিন (Vitamin) আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যেমন ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকার কাজে সাহায্য করে, ভিটামিন এ ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সুস্থ রাখে, ফলে জীবাণু সহজে ঢুকতে পারে না। ভিটামিন দেহে শক্তি জোগায় না, কিন্তু দেহের নানা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঠিকমতো চলতে সাহায্য করে। দেহ নিজে প্রয়োজনীয় ভিটামিন প্রায় তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকে নিতে হয়। কেউ ভিটামিনের অভাবে ভুগলে তার ঘন ঘন সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ হয়, কারণ তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফল ও শাকসবজি নিয়মিত খেতে বলা হয়।
    মনে রাখুন: ভিটামিনের অভাবে নানা অভাবজনিত রোগ হয়, যেমন রাতকানা বা স্কার্ভি।
  117. ১৪৩. ফুড গাইড পিরামিডে সবার উপরে কোন খাবার থাকে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সুষম খাদ্য
    • ক. ভাত
    • খ. দুধ
    • গ. চিনি
    • ঘ. ফল
    উত্তর: গ. চিনি
    কী কী খাবার কতটা খাওয়া উচিত, তা বোঝাতে ফুড গাইড পিরামিড (Food guide pyramid) আঁকা হয়। পিরামিডের সবচেয়ে নিচের বড় ধাপে থাকে ভাত, রুটির মতো শস্যজাতীয় খাবার, যেগুলো আমরা সবচেয়ে বেশি খাব। তার ওপরে থাকে শাকসবজি ও ফল, তারপর মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ। একদম ওপরের ছোট ধাপে থাকে চিনি, মিষ্টি ও তেল-চর্বি। এগুলো খুব অল্প খাওয়া উচিত, কারণ বেশি খেলে ওজন বাড়ে। এই পিরামিড থেকে বোঝা যায়, সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন নানা ধরনের খাবার খেতে হবে, কিন্তু কোনোটির পরিমাণই অতিরিক্ত করা চলবে না।
    মনে রাখুন: পিরামিডের আকার যত ছোট, সেই খাবার তত কম খাওয়ার পরামর্শ।
  118. ১৪৪. মোটামুটিভাবে সম্পূর্ণ বা আদর্শ খাদ্য বলা যায় -বাংলাদেশ রেলওয়ে সহকারী কমান্ডেন্ট, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সুষম খাদ্য
    • ক. ডিমকে
    • খ. দুধকে
    • গ. মাংসকে
    • ঘ. শাক-সবজিকে
    উত্তর: খ. দুধকে
    যে খাদ্যে মানুষের দরকারি প্রায় সব উপাদান থাকে, তাকে আদর্শ খাদ্য বলা হয়। দুধে আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও পানি সবই আছে, তাই একে মোটামুটি সম্পূর্ণ খাদ্য বলা চলে। শিশুরা জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শুধু মায়ের দুধ খেয়েই বাড়ে। তবে দুধে আয়রন ও ভিটামিন সি খুব কম থাকে, তাই একে পুরোপুরি সম্পূর্ণ বলা যায় না। এই কারণে এখানে 'মোটামুটি' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। দুধ সহজে হজম হয় বলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।
    মনে রাখুন: শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধই সবচেয়ে ভালো আদর্শ খাদ্য।
  119. ১৪৫. দুধের শ্বেতসার (শর্করা বা চিনি)- কে বলা হয়-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও BPSC-এর জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. গ্লাইকোজেন
    • খ. স্টার্চ
    • গ. গ্লুকোজ
    • ঘ. ল্যাকটোজ
    উত্তর: ঘ. ল্যাকটোজ
    দুধে যে মিষ্টি স্বাদের শর্করা থাকে, তার নাম ল্যাকটোজ (Lactose), যাকে দুগ্ধশর্করাও বলা হয়। ল্যাকটোজ একটি দ্বি-শর্করা, যা ভেঙে এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু গ্যালাক্টোজ তৈরি হয়। ল্যাকটেজ নামের এনজাইম এই ভাঙনের কাজ করে। কারও দেহে এই এনজাইম কম থাকলে দুধ খেলে পেট ফাঁপে বা ডায়রিয়া হয়, একে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বলা হয়। সুক্রোজের চেয়ে ল্যাকটোজের মিষ্টতা কম। মায়ের দুধে ল্যাকটোজের পরিমাণ গরুর দুধের চেয়ে বেশি, প্রায় ৭ শতাংশ। এই শর্করা থেকে শিশু শক্তি পায়।
    মনে রাখুন:
    গ্লাইকোজেন প্রাণীর সঞ্চিত শর্করা এবং স্টার্চ উদ্ভিদের সঞ্চিত শর্করা।
    আখের শর্করার নাম সুক্রোজ।
  120. ১৪৬. দুধের প্রোটিনের নাম কি?BAEC-এর টেকনিশিয়ান হেলপার, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ক্যাফেইন
    • খ. ক্যারোটিন
    • গ. জেনথিন
    • ঘ. কেসিন
    উত্তর: ঘ. কেসিন
    দুধের প্রধান প্রোটিনের নাম কেসিন (Casein)। দুধে যে আমিষ আছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই কেসিন। দুধে লেবুর রস বা অম্ল মেশালে এই কেসিন জমাট বেঁধে ছানা তৈরি হয়, আর ছানা থেকে পনির বানানো হয়। কেসিন থেকে পাওয়া অ্যামিনো এসিড শিশুর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দুধে অ্যালবুমিন নামে আরেকটি অল্প পরিমাণ প্রোটিনও থাকে, যা ছানা কাটার পর ছানার পানিতে চলে যায়। তবে দুধে মোট আমিষ থাকে মাত্র প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ, বাকির বেশির ভাগই পানি।
    মনে রাখুন: ক্যারোটিন হলো ভিটামিন এ-র পূর্বসূরি রঞ্জক পদার্থ, আর ক্যাফেইন চা-কফির একটি উদ্দীপক।
  121. ১৪৭. ডিমের সাদা অংশে কোন শ্রেণির প্রোটিন থাকে?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. নিম্নশ্রেণির
    • খ. অ্যালবুমিন
    • গ. কেসিন
    • ঘ. বায়োটিন
    উত্তর: খ. অ্যালবুমিন
    ডিমের সাদা অংশে প্রধান প্রোটিনের নাম অ্যালবুমিন (Albumin), যার একটি রকম ডিম থেকেই নামকরণ হয়েছে, ওভালবুমিন। ডিম সেদ্ধ করলে সাদা অংশ যে শক্ত হয়ে যায়, তার কারণ তাপে এই প্রোটিনের গঠন বদলে জমাট বেঁধে যাওয়া। অ্যালবুমিন সম্পূর্ণ প্রোটিন, কারণ এতে দেহের দরকারি সব অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড থাকে। দুধের প্রোটিনের নাম কেসিন, যা ডিমে থাকে না। ডিমের কুসুমের প্রোটিনের নাম ভাইটেলিন। ডিমের সাদা অংশের প্রায় ১০ শতাংশ প্রোটিন আর বাকি প্রায় সবটাই পানি।
    মনে রাখুন: ডিমের কুসুমে ভিটামিন এ, ডি ও স্নেহ বেশি থাকে।
  122. ১৪৮. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এর উপাদান কয়টি?পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি কারিগরি সহকারী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ২টি
    • খ. ৩টি
    • গ. ৪টি
    • ঘ. ৫টি
    উত্তর: খ. ৩টি
    শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) তিনটি মৌল দিয়ে তৈরি, কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O)। এর সাধারণ সংকেত Cₓ(H₂O)ᵧ। এতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত পানির মতোই ২:১ থাকে, আর সেখান থেকেই 'কার্বো' ও 'হাইড্রেট' নামের উৎপত্তি। গ্লুকোজের সংকেত C₆H₁₂O₆, যেখানে ১২টি হাইড্রোজেন আর ৬টি অক্সিজেন আছে। এ কারণে শর্করা পুড়িয়ে শক্তি নিলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি ছাড়া আর কিছু তৈরি হয় না। আমরা শ্বাসের সঙ্গে এই কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে দিই।
    মনে রাখুন:
    আমিষে এই তিনটি মৌলের সঙ্গে নাইট্রোজেনও থাকে।
    স্নেহ পদার্থেও C, H ও O থাকে, কিন্তু অক্সিজেনের পরিমাণ শর্করার চেয়ে অনেক কম।
  123. ১৪৯. চাল কোন জাতীয় খাদ্য বলে বিবেচিত?শ্রম অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. স্নেহ জাতীয়
    • খ. কার্বোহাইড্রেট জাতীয়
    • গ. ধাতব লবণ জাতীয়
    • ঘ. ভিটামিন জাতীয়
    উত্তর: খ. কার্বোহাইড্রেট জাতীয়
    চালের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই শ্বেতসার বা স্টার্চ (Starch), যা এক ধরনের শর্করা। তাই চালকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য ধরা হয়। আমরা ভাত খেলে হজমের সময় স্টার্চ ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয় এবং রক্তের মাধ্যমে কোষে পৌঁছে শক্তি জোগায়। আমাদের দেশে প্রধান খাদ্য ভাত হওয়ায় প্রতিদিনের বেশির ভাগ শক্তিই আসে শর্করা থেকে। চালে আমিষ ও স্নেহ খুব অল্প থাকে। চালের আমিষের পরিমাণ প্রায় ৭ শতাংশ আর স্নেহ খুব কম। তাই কেবল ভাতের ওপর নির্ভর করলে ডাল, মাছ ও সবজি সঙ্গে খেতে হয়।
    মনে রাখুন: গম, আলু ও ভুট্টাও শর্করা জাতীয় খাদ্য।
  124. ১৫০. পাকা ফলে কোন কার্বোহাইড্রেট থাকে?চবি (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. গ্লুকোজ
    • খ. ফ্রুক্টোজ
    • গ. ল্যাকটোজ
    • ঘ. সুক্রোজ
    উত্তর: খ. ফ্রুক্টোজ
    পাকা ফলে প্রধানত ফ্রুক্টোজ (Fructose) থাকে। একে ফলের চিনি বলা হয়, আর মধুতেও ফ্রুক্টোজ প্রচুর থাকে। সব শর্করার মধ্যে ফ্রুক্টোজ সবচেয়ে বেশি মিষ্টি। ফল কাঁচা অবস্থায় টক থাকে, কারণ তখন তাতে স্টার্চ আর অম্ল থাকে। পাকার সময় স্টার্চ ভেঙে শর্করায় রূপ নেয়, তাই পাকা ফল মিষ্টি লাগে। ল্যাকটোজ থাকে দুধে এবং সুক্রোজ থাকে আখে ও বিটে। মধুতেও প্রায় সমান অংশে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে, আর এ কারণেই মধু চিনির চেয়ে বেশি মিষ্টি লাগে।
    মনে রাখুন: ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজের সংকেত একই, C₆H₁₂O₆, কিন্তু অণুর গঠন আলাদা।
  125. ১৫১. গ্লুকোজ অণুতে কার্বনের সংখ্যা হলো-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ৬
    • খ. ৫
    • গ. ৭
    • ঘ. ৪
    উত্তর: ক. ৬
    গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆, অর্থাৎ এক অণু গ্লুকোজে ৬টি কার্বন পরমাণু আছে। ছয়টি কার্বন থাকায় একে হেক্সোজ শর্করাও বলা হয়। গ্লুকোজ সবচেয়ে সরল শর্করাগুলোর একটি এবং এটিই আমাদের দেহের কোষের প্রধান শক্তির উৎস। রক্তে এর পরিমাণ সঠিক রাখা জরুরি। ইনসুলিন এই কাজে সাহায্য করে। গ্লুকোজের এক প্রান্তে অ্যালডিহাইড গ্রুপ আছে, তাই একে অ্যালডোহেক্সোজ বলা হয়। কোষে গ্লুকোজ অক্সিজেন দিয়ে জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও শক্তি তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে কোষীয় শ্বসন বলে।
    মনে রাখুন:
    গ্লুকোজকে ডেক্সট্রোজ বা আঙুরের চিনি বলা হয়।
    সুস্থ মানুষের রক্তে খালি পেটে গ্লুকোজ থাকে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ mg/dL।
  126. ১৫২. নিচের কোনটি ডাইস্যাকারাইড?চবি (ক ইউনিট), ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. গ্লুকোজ
    • খ. ফ্রুক্টোজ
    • গ. ম্যাল্টোজ
    • ঘ. র‍্যাফিনোজ
    উত্তর: গ. ম্যাল্টোজ
    দুটি মনোস্যাকারাইড অণু জুড়ে যে শর্করা তৈরি হয়, তাকে ডাইস্যাকারাইড (Disaccharide) বলে। ম্যাল্টোজ দুই অণু গ্লুকোজ জুড়ে তৈরি হয়, তাই এটি ডাইস্যাকারাইড। গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ সরল শর্করা বা মনোস্যাকারাইড। র‍্যাফিনোজ গঠিত হয় তিনটি মনোস্যাকারাইড দিয়ে, তাই এটি ট্রাইস্যাকারাইড। ডাইস্যাকারাইডের তিনটি পরিচিত উদাহরণ আছে, ম্যাল্টোজ, সুক্রোজ ও ল্যাকটোজ। দুটি সরল শর্করার মাঝখান থেকে একটি পানির অণু বেরিয়ে গেলে তারা জুড়ে যায়, আর এই জোড়াকে গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন বলে। ম্যাল্টোজ তৈরি হয় অঙ্কুরিত যবের বীজ বা মল্ট থেকে, তাই এর নাম মল্ট থেকে এসেছে।
    মনে রাখুন:
    ম্যাল্টোজ = গ্লুকোজ + গ্লুকোজ।
    সুক্রোজ = গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ।
    ল্যাকটোজ = গ্লুকোজ + গ্যালাক্টোজ।
  127. ১৫৩. ল্যাক্টোজ কোন ধরনের শর্করা?DMLC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. এক শর্করা
    • খ. দ্বি শর্করা
    • গ. ত্রি শর্করা
    • ঘ. বহু শর্করা
    উত্তর: খ. দ্বি শর্করা
    ল্যাকটোজ (Lactose) একটি দ্বি-শর্করা বা ডাইস্যাকারাইড। এক অণু গ্লুকোজ আর এক অণু গ্যালাক্টোজ জুড়ে এটি তৈরি হয়, তাই একে ভাঙলে দুটি সরল শর্করা পাওয়া যায়। এটি পাওয়া যায় স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধে, তাই এর নাম দুগ্ধশর্করা। দুধ টকে গেলে ব্যাকটেরিয়া এই ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে, আর তখন দুধের স্বাদ টক হয়ে যায়। ল্যাকটোজ ভাঙার জন্য ক্ষুদ্রান্ত্রে ল্যাকটেজ এনজাইম লাগে, আর শিশুদের দেহে এই এনজাইম বেশি থাকে। বড় হলে কারও কারও দেহে এটি কমে যায়, তাই তখন দুধ হজম করতে সমস্যা হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    একটি মাত্র সরল শর্করা এক-শর্করা, যেমন গ্লুকোজ।
    তিনটি হলে ত্রি-শর্করা এবং অনেকগুলো হলে বহু-শর্করা বা পলিস্যাকারাইড বলে।
  128. ১৫৪. সুক্রোজ গঠিত হয় -পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ১ অণু গ্লুকোজ এবং ১ অণু ফ্রুক্টোজ দ্বারা
    • খ. ১ অণু গ্লুকোজ এবং ১ অণু গ্যালাক্টোজ দ্বারা
    • গ. ২ অণু গ্লুকোজ দ্বারা
    • ঘ. ২ অণু ফ্রুক্টোজ দ্বারা
    উত্তর: ক. ১ অণু গ্লুকোজ এবং ১ অণু ফ্রুক্টোজ দ্বারা
    সুক্রোজ (Sucrose) একটি ডাইস্যাকারাইড, যা এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু ফ্রুক্টোজ জুড়ে তৈরি হয়। আমরা রান্নায় ও চায়ে যে সাদা চিনি ব্যবহার করি, তা মূলত সুক্রোজ। পাকস্থলীতে বা অন্ত্রে সুক্রেজ নামের এনজাইম একে ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে। এ দুটি সরল শর্করা সরাসরি রক্তে শোষিত হয়। সুক্রোজ বিশ্লেষণ করলে গ্যালাক্টোজ পাওয়া যায় না, গ্যালাক্টোজ থাকে ল্যাকটোজে। আমরা চা বা শরবতে যে চিনি মেশাই, তা সবচেয়ে পরিচিত ডাইস্যাকারাইড। সুক্রোজ ভেঙে যে মিশ্রণ তৈরি হয়, তাকে ইনভার্ট সুগার বলে, মধুতেও এমন মিশ্রণ থাকে।
    মনে রাখুন: সুক্রোজ আর ফ্রুক্টোজ এক জিনিস নয়, ফ্রুক্টোজ একটি সরল শর্করা।
  129. ১৫৫. ইক্ষুচিনি বা বিটচিনি বলা হয় কোনটিকে?মাউশির প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ফ্রুক্টোজ
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. সুক্রোজ
    • ঘ. রাইবুলোজ
    উত্তর: গ. সুক্রোজ
    আখ বা ইক্ষু থেকে যে চিনি তৈরি হয়, তার নাম সুক্রোজ (Sucrose)। চিনি বিটের মূলেও সুক্রোজ থাকে, তাই এটিকে বিটচিনিও বলা হয়। এজন্য একই সুক্রোজকে ইক্ষুচিনি ও বিটচিনি দুই নামেই ডাকা হয়। আমাদের দেশে চিনি কলে আখ থেকে রস বের করে তা ফুটিয়ে ও পরিশোধন করে দানাদার চিনি বানানো হয়। আখ আমাদের দেশে জন্মায়, কিন্তু শীতপ্রধান দেশে আখ হয় না বলে সেখানে চিনি তৈরি হয় বিট থেকে।
    মনে রাখুন:
    ফ্রুক্টোজ ফলের চিনি এবং গ্লুকোজ আঙুরের চিনি।
    রাইবুলোজ পাঁচ কার্বনের একটি সরল শর্করা, যা সালোকসংশ্লেষণের ক্যালভিন চক্রে কাজ করে।
  130. ১৫৬. আখের রসে কোন উপাদানটি রয়েছে?বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অফিস সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. গ্লুকোজ
    • খ. ফ্রুক্টোজ
    • গ. সুক্রোজ
    • ঘ. ল্যাকটোজ
    উত্তর: গ. সুক্রোজ
    আখের রসের মিষ্টতার কারণ সুক্রোজ। আখের রসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুক্রোজ থাকে। কলে রস বের করে তাকে ফুটিয়ে ঘন করা হয়, তারপর দানা তৈরি করে চিনি আলাদা করা হয়। যে ঘন বাদামি তরল বাকি থাকে, তাকে মোলাসেস বা চিটাগুড় বলে। রসে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজও অল্প থাকে, তবে প্রধান শর্করা সুক্রোজই। ল্যাকটোজ এখানে একেবারেই থাকে না, কারণ ওটি শুধু দুধে পাওয়া যায়। আখ আমাদের দেশের একটি অর্থকরী ফসল, আর চিনি তৈরির জন্য এর চাষ হয়।
    মনে রাখুন: সুক্রোজ আখ ও বিট ছাড়াও খেজুর রস ও তালের রসে থাকে।
  131. ১৫৭. গুড় কোন জাতীয় খাদ্য?BAC এর অফিস সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. প্রোটিন
    • খ. চর্বি
    • গ. শর্করা
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: গ. শর্করা
    গুড় একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য। আখের রস বা খেজুর ও তালের রস জ্বাল দিয়ে ঘন করে গুড় তৈরি হয়। এতে প্রধান উপাদান সুক্রোজ, ফলে গুড় থেকে দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়। সাদা চিনির তুলনায় গুড়ে সামান্য আয়রন ও অন্যান্য খনিজ লবণ থাকে, তবে তা এত অল্প যে গুড়কে আমিষ বা ভিটামিনের উৎস বলা যায় না। চিনির মতো পরিশোধন করা হয় না বলে গুড়ের রং বাদামি থাকে। রসের ভেতরের রঞ্জক পদার্থ ও জ্বাল দেওয়ার সময় ঘটা রাসায়নিক পরিবর্তনও এই রঙের কারণ।
    মনে রাখুন:
    পাটালি গুড় তৈরি হয় খেজুরের রস থেকে।
    গুড়ও অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ে ও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে।
  132. ১৫৮. গ্লাইকোজেন একটি-আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ডাই-স্যাকারাইড
    • খ. ডাই-পেপ্টাইড
    • গ. পলি-স্যাকারাইড
    • ঘ. পলি-পেপ্টাইড
    উত্তর: গ. পলি-স্যাকারাইড
    গ্লাইকোজেন (Glycogen) একটি পলিস্যাকারাইড বা বহুশর্করা, কারণ এটি অসংখ্য গ্লুকোজ অণু জুড়ে তৈরি। প্রাণীরা খাবার থেকে বাড়তি গ্লুকোজ পেলে তা গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। দেহে এটি প্রধানত যকৃতে ও পেশিতে সঞ্চিত থাকে। রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে যকৃৎ গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ ছেড়ে দেয়, ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা প্রায় স্থির থাকে। এ কারণে একে প্রাণীজ শ্বেতসারও বলা হয়। এ কারণেই অনেক সময় ম্যারাথন দৌড়ের আগে খেলোয়াড়েরা বেশি শর্করা খেয়ে নেন, যাতে পেশিতে গ্লাইকোজেনের ভাণ্ডার ভরে ওঠে।
    মনে রাখুন: পেপ্টাইড তৈরি হয় অ্যামিনো এসিড জুড়ে, গ্লুকোজ জুড়ে নয়।
  133. ১৫৯. উদ্ভিদজাত শর্করার সংরক্ষিত রূপকে বলা হয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. স্টার্চ
    • খ. গ্লাইকোজেন
    • গ. ক এবং খ উভয়ই
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: ক. স্টার্চ
    উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে গ্লুকোজ তৈরি করে। প্রয়োজনের বাড়তি গ্লুকোজ জমিয়ে রাখার জন্য উদ্ভিদ তাকে স্টার্চ বা শ্বেতসারে (Starch) রূপান্তরিত করে। চাল, গম, আলু ও ভুট্টায় এই স্টার্চ সঞ্চিত থাকে। গ্লাইকোজেন কিন্তু প্রাণীর সঞ্চিত শর্করা। তাই উদ্ভিদজাত সঞ্চিত শর্করা বলতে শুধু স্টার্চকেই বোঝায়। আমরা ভাত, রুটি বা আলু খেলে যে স্টার্চ পাই, তা মুখের লালায় থাকা অ্যামাইলেজ এনজাইমের কাজে ভাঙতে শুরু করে। তাই ভাত বেশিক্ষণ চিবালে মুখে হালকা মিষ্টি স্বাদ আসে, কারণ স্টার্চ ভেঙে ম্যাল্টোজ হয়।
    মনে রাখুন:
    স্টার্চ আয়োডিনের সঙ্গে নীল রং দেয়, এই পরীক্ষায় স্টার্চ শনাক্ত করা হয়।
    উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর তৈরি হয় সেলুলোজ দিয়ে।
  134. ১৬০. প্রাকৃতিক পলিমার কোনটি?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. Nylene
    • খ. PVC
    • গ. Starch
    • ঘ. Polythene
    উত্তর: গ. Starch
    পলিমার হলো অনেকগুলো ছোট অণু বারবার জুড়ে তৈরি বড় অণু। প্রকৃতিতে যেসব পলিমার আপনা-আপনি তৈরি হয়, তাদের প্রাকৃতিক পলিমার বলে। স্টার্চ (Starch) এমন একটি পলিমার, কারণ অসংখ্য গ্লুকোজ অণু জুড়ে উদ্ভিদের দেহে এটি তৈরি হয়। নাইলন, পিভিসি (PVC) ও পলিথিন কারখানায় বানানো কৃত্রিম পলিমার। কৃত্রিম পলিমার পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয় এবং সহজে পচে না। এ কারণে প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণের বড় কারণ হয়ে উঠেছে, অথচ স্টার্চ বা সেলুলোজ সহজেই মাটিতে মিশে যায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাকৃতিক পলিমারের উদাহরণ: স্টার্চ, সেলুলোজ, প্রোটিন, রাবার ও রেশম।
    পলিথিন তৈরি হয় ইথিন মনোমার জুড়ে।
  135. ১৬১. 'মিষ্টি আলু' কোন ধরনের খাদ্য?প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. আমিষ
    • খ. শ্বেতসার
    • গ. স্নেহ জাতীয়
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: খ. শ্বেতসার
    মিষ্টি আলুর প্রধান উপাদান শ্বেতসার বা স্টার্চ, তাই একে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য বলা হয়। স্টার্চ এক ধরনের শর্করা, যা হজম হয়ে গ্লুকোজ দেয় এবং আমাদের শক্তি জোগায়। মিষ্টি আলুতে সামান্য শর্করা ও ক্যারোটিন থাকে, যেগুলো এর মিষ্টি স্বাদ ও কমলা রঙের কারণ। দুর্ভিক্ষ বা খাদ্যাভাবের সময় এটি শক্তির সস্তা উৎস হিসেবে কাজ করে। মিষ্টি আলু আর গোল আলু এক জাতের নয়। মিষ্টি আলু হলো ফুলে ওঠা শিকড়, কিন্তু গোল আলু আসলে কাণ্ড, যা মাটির নিচে জন্মায়।
    মনে রাখুন: কমলা রঙের মিষ্টি আলুতে ক্যারোটিন থাকে, যা দেহে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়।
  136. ১৬২. Cellulose which is the indigestible component of-বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালসমূহের সহকারী সার্জন, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আঁশ ও সেলুলোজ
    • ক. Protein
    • খ. Carbohydrate
    • গ. Fat
    • ঘ. Vitamin
    উত্তর: খ. Carbohydrate
    সেলুলোজ (Cellulose) হলো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার একটি রূপ। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান এটি। মানুষের পরিপাকতন্ত্রে সেলুলোজ ভাঙার এনজাইম নেই, তাই আমরা এটি হজম করতে পারি না। তবুও খাদ্যে এর গুরুত্ব আছে। এটি আঁশ বা রাফেজ (Roughage) হিসেবে মলকে নরম রাখে ও অন্ত্রের গতি ঠিক রাখে। পাটের আঁশেও সেলুলোজ বেশি, তাই পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ আঁশ। সেলুলোজ হজম না হলেও এটি কাঠ, তুলা ও কাগজ তৈরির প্রধান কাঁচামাল। তুলা প্রায় বিশুদ্ধ সেলুলোজ।
    মনে রাখুন:
    শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যে প্রচুর আঁশ থাকে।
    আঁশের অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
    গরু-ছাগলের পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া সেলুলোজ হজম করতে পারে।
  137. ১৬৩. 'Constipation' শব্দের বাংলা অর্থ-পূবালী ব্যাংক লি. সিনিয়র অফিসার, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আঁশ ও সেলুলোজ
    • ক. নির্বাচনী এলাকা
    • খ. সংবিধান
    • গ. রুক্ষ
    • ঘ. কোষ্ঠকাঠিন্য
    উত্তর: ঘ. কোষ্ঠকাঠিন্য
    Constipation শব্দের বাংলা অর্থ কোষ্ঠকাঠিন্য। এ অবস্থায় মল শক্ত হয়ে যায় এবং পায়খানা করতে কষ্ট হয় বা কয়েক দিন পর পর হয়। আঁশযুক্ত খাবার কম খেলে, পানি কম পান করলে এবং কম হাঁটাচলা করলে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যের আঁশ মলকে নরম রাখে এবং অন্ত্রের গতি বাড়ায়, তাই প্রতিদিনের খাদ্যে এগুলো রাখা দরকার। সময়মতো পায়খানার বেগ চেপে রাখলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। এ সমস্যা দূর করতে প্রচুর পানি খাওয়া এবং সবজি ও ফল খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
    মনে রাখুন:
    Constituency মানে নির্বাচনী এলাকা।
    Constitution মানে সংবিধান।
  138. ১৬৪. প্রোটিনের মূল উপাদান কী?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. অক্সিজেন
    • খ. নাইট্রোজেন
    • গ. হাইড্রোজেন
    • ঘ. কার্বন
    উত্তর: খ. নাইট্রোজেন
    প্রোটিন তৈরি হয় কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দিয়ে। শর্করা ও স্নেহ পদার্থেও প্রথম তিনটি মৌল আছে, কিন্তু নাইট্রোজেন (Nitrogen) থাকে একমাত্র প্রোটিনে। তাই নাইট্রোজেনকে প্রোটিনের বিশেষ মূল উপাদান বলা হয়। প্রোটিনে নাইট্রোজেনের পরিমাণ গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ। এই কারণে খাদ্যে নাইট্রোজেন মেপে তা থেকে আমিষের পরিমাণ হিসাব করা যায়। প্রোটিনের এই নাইট্রোজেন আসে অ্যামিনো এসিডের অ্যামিনো গ্রুপ (-NH₂) থেকে। উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রেট শুষে নিয়ে আমিষ তৈরি করে, আর প্রাণী সেই উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণী খেয়ে আমিষ পায়। তাই খাদ্যচক্রে নাইট্রোজেন চক্রের ভূমিকা বড়।
    মনে রাখুন: কিছু প্রোটিনে সালফারও থাকে।
  139. ১৬৫. প্রোটিনের এমাইনো এসিডগুলো একে অপরের সাথে কোন বন্ধনে যুক্ত হয়?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট), ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. পেপটাইড
    • খ. গ্লাইকোসাইডিক
    • গ. এস্টার
    • ঘ. হাইড্রোজেন
    উত্তর: ক. পেপটাইড
    একটি অ্যামিনো এসিডের কার্বক্সিল গ্রুপ আর পরের অ্যামিনো এসিডের অ্যামিনো গ্রুপের মধ্যে একটি পানির অণু বেরিয়ে গিয়ে যে বন্ধন তৈরি হয়, তার নাম পেপটাইড বন্ধন (Peptide bond)। এভাবে অ্যামিনো এসিডগুলো একটির পর একটি যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড শিকল গড়ে তোলে, আর শিকলগুলো ভাঁজ হয়ে প্রোটিন হয়। গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন শর্করার অণুকে জোড়ে, আর এস্টার বন্ধন স্নেহ পদার্থে থাকে। এই বন্ধনে কার্বন ও নাইট্রোজেনের মধ্যে যে সংযোগ থাকে, তার সংকেত -CO-NH-। এটি অ্যামাইড বন্ধন হিসেবেও পরিচিত।
    মনে রাখুন: দুটি অ্যামিনো এসিডের বন্ধনে ডাইপেপটাইড এবং অনেকগুলোর বন্ধনে পলিপেপটাইড তৈরি হয়।
  140. ১৬৬. মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় এমিনো এসিড কোনটি?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (ডেল্টা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. মিসটিন
    • খ. টাইরোসিন
    • গ. ফিনাইল এলানিন
    • ঘ. এলানিন
    উত্তর: গ. ফিনাইল এলানিন
    যেসব অ্যামিনো এসিড আমাদের দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না, ফলে খাবার থেকে নিতেই হয়, তাদের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড (Essential amino acid) বলে। ফিনাইল এলানিন (Phenylalanine) তেমনই একটি। বাকি তিনটি দেহ নিজেই তৈরি করতে পারে, যেমন এলানিন। টাইরোসিন দেহে ফিনাইল এলানিন থেকে তৈরি হয়। অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের কোনোটি খাদ্যে কম থাকলে দেহ ঠিকমতো প্রোটিন বানাতে পারে না, ফলে বৃদ্ধি আটকে যায়। যে আমিষে সবগুলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড থাকে, তাকে সম্পূর্ণ আমিষ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের উদাহরণ: লাইসিন, ভ্যালিন, লিউসিন, মিথিওনিন, ট্রিপটোফ্যান ও থ্রিওনিন।
  141. ১৬৭. নিচের কোনটি অত্যাবশকীয় অ্যামাইনো এসিড?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. লাইসিন
    • খ. গ্লাইসিন
    • গ. এসপারটিক এসিড
    • ঘ. গ্লুটামিক এসিড
    উত্তর: ক. লাইসিন
    লাইসিন (Lysine) একটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড, অর্থাৎ আমাদের দেহ একে তৈরি করতে পারে না এবং খাবার থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে লাইসিন পাওয়া যায়। গ্লাইসিন, এসপারটিক এসিড ও গ্লুটামিক এসিড অনাবশ্যকীয়, কারণ দেহ নিজেই এগুলো তৈরি করে নিতে পারে। চাল, গম প্রভৃতি শস্যে লাইসিন কম থাকে। এ কারণে শস্য ও ডাল একসঙ্গে খেলে আমিষের মান ভালো হয়। লাইসিন কোলাজেন তৈরির কাজে লাগে এবং দেহের তন্তু মেরামতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: লাইসিনের অভাবে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
  142. ১৬৮. নিচের একটি ছাড়া বাকি সবাই Essential amino acid?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. Lysine
    • খ. Valine
    • গ. Tryptophan
    • ঘ. Linolenic acid
    উত্তর: ঘ. Linolenic acid
    লাইসিন (Lysine), ভ্যালিন (Valine) ও ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) তিনটিই অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড, যেগুলো দেহ তৈরি করতে পারে না। কিন্তু লিনোলেনিক অ্যাসিড (Linolenic acid) অ্যামিনো এসিড নয়, এটি একটি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি ওমেগা-৩ গোত্রের অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাছের তেল, আখরোট ও তিসি বীজে পাওয়া যায়। অ্যামিনো এসিডে সব সময় নাইট্রোজেন যুক্ত অ্যামিনো গ্রুপ থাকে, ফ্যাটি অ্যাসিডে তা থাকে না। অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড দুই ধরনের, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬। দেহে এগুলো তৈরি হয় না বলে খাদ্য থেকেই নিতে হয়।
    মনে রাখুন: লিনোলেইক অ্যাসিডও একটি অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড।
  143. ১৬৯. নিচের কোনটি অ-প্রোটনীয় অ্যামিনো এসিড?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট), ২০১৭-১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. লিউসিন
    • খ. লাইসিন
    • গ. অরনিথিন
    • ঘ. ভ্যালিন
    উত্তর: গ. অরনিথিন
    প্রোটিনের গঠনে যেসব অ্যামিনো এসিড ব্যবহার হয়, তাদের প্রোটিনীয় অ্যামিনো এসিড বলে। এই ২০টির বাইরে আরও অনেক অ্যামিনো এসিড কোষে থাকে, যারা প্রোটিনের অংশ হয় না। অরনিথিন (Ornithine) তেমনই একটি অ-প্রোটিনীয় অ্যামিনো এসিড। যকৃতে ইউরিয়া তৈরির চক্রে এটি মধ্যবর্তী যৌগ হিসেবে কাজ করে। লিউসিন, লাইসিন ও ভ্যালিন প্রোটিনের ভেতরে থাকে এবং এরা অত্যাবশ্যকীয়ও। অরনিথিন, সিট্রুলিন ও আর্জিনিন ইউরিয়া চক্রের সঙ্গে জড়িত তিনটি অ্যামিনো এসিড। এদের মধ্যে আর্জিনিন প্রোটিনীয়, কিন্তু অরনিথিন ও সিট্রুলিন নয়।
    মনে রাখুন: ইউরিয়া চক্রকে অরনিথিন চক্রও বলা হয়।
  144. ১৭০. কোন জৈব উপাদানে গ্লুটামিক এসিড থাকে?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট), ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. শর্করা
    • খ. আমিষ
    • গ. স্নেহ জাতীয়
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: খ. আমিষ
    গ্লুটামিক এসিড (Glutamic acid) একটি অ্যামিনো এসিড, আর অ্যামিনো এসিড দিয়েই আমিষ বা প্রোটিন গঠিত। তাই গ্লুটামিক এসিড পাওয়া যায় আমিষ জাতীয় উপাদানে। শর্করা, স্নেহ বা ভিটামিনে এটি থাকে না। দেহের মস্তিষ্কে গ্লুটামিক এসিড স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে সাহায্য করে। এটি অনাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড, কারণ দেহ নিজেই তৈরি করতে পারে। গ্লুটামিক এসিড অম্লধর্মী অ্যামিনো এসিড, কারণ এতে দুটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে। এর আরেকটি অম্লধর্মী সঙ্গী হলো এসপারটিক এসিড।
    মনে রাখুন: খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) হলো গ্লুটামিক এসিডের সোডিয়াম লবণ।
  145. ১৭১. কোনটিতে আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন পদ, ২০২৫ ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বুড়িগঙ্গা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. তাজা ছোট মাছ
    • খ. শুটকী মাছ
    • গ. মাংস
    • ঘ. ডিম
    উত্তর: খ. শুটকী মাছ
    কোনো খাবারে আমিষের পরিমাণ নির্ভর করে তাতে কতটা পানি আছে তার ওপর। শুটকি মাছ শুকানো হয় বলে তার প্রায় সব পানি বেরিয়ে যায়, আর আমিষ বেশি ঘন হয়ে থাকে। ফলে একই ওজনের তাজা মাছ, মাংস বা ডিমের তুলনায় শুটকি মাছে আমিষ অনেক বেশি, প্রায় ৬০ শতাংশের মতো। তাজা মাছ ও মাংসে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি আমিষ থাকে, আর ডিমে থাকে প্রায় ১৩ শতাংশ। তাই কম খরচে বেশি আমিষ পেতে শুটকি কাজে লাগে।
    মনে রাখুন: আমাদের দেশে ছোট মাছ ও শুটকি সস্তা আমিষের ভালো উৎস।
  146. ১৭২. খাদ্যে আমিষের প্রধান উৎস কী?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (মানবিক) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. শাকসবজি
    • খ. ভাত
    • গ. মাংস
    • ঘ. ফল
    উত্তর: গ. মাংস
    খাদ্যে আমিষের প্রধান উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের মতো প্রাণীজ খাবার। এগুলোকে প্রথম শ্রেণির আমিষ বলা হয়, কারণ এদের মধ্যে দেহের দরকারি সব অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড থাকে। শাকসবজি, ভাত ও ফলে আমিষ থাকে খুব কম, এগুলোর প্রধান উপাদান শর্করা বা পানি। উদ্ভিদজ আমিষের মধ্যে ডাল ও সয়াবিন তুলনামূলক ভালো উৎস। ছোলা, মটর ও সয়াবিনের মতো উদ্ভিজ্জ উৎসেও আমিষ আছে, তবে প্রাণীজ আমিষের মান সাধারণত ভালো। সবজিতে আমিষ থাকে সাধারণত ২ শতাংশেরও কম, আর রান্না করা ভাতে প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ।
    মনে রাখুন:
    প্রাণীজ আমিষ: মাংস, মাছ, ডিম, দুধ।
    উদ্ভিজ্জ আমিষ: ডাল, শিমের বিচি, বাদাম।
  147. ১৭৩. 'শিমের বিচি' কোন ধরনের খাদ্য?SDF-র ক্লাস্টার আইটি অ্যাসিস্টেন্ট, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. আমিষ
    • খ. শ্বেতসার
    • গ. স্নেহ জাতীয়
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: ক. আমিষ
    শিমের বিচি একটি আমিষ জাতীয় খাদ্য, কারণ এতে আমিষের পরিমাণ অনেক বেশি, প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি। শিম, মটর, বরবটি, সয়াবিন ও ডাল সবই শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদ। এদের মূলে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে স্থির করে। সেই নাইট্রোজেন থেকে উদ্ভিদ বেশি আমিষ তৈরি করতে পারে। এ জন্য গরিব মানুষের কাছে শিম ও ডাল মাংসের সস্তা বিকল্প। শিমের বিচি আমাদের দেশে সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, কিন্তু পুষ্টির দিক থেকে এটি ডালের সমগোত্রীয়। শুকনো বিচি ডালের মতোই আমিষসমৃদ্ধ।
    মনে রাখুন: সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪০ শতাংশ।
  148. ১৭৪. ডালে কোন খাদ্যোপাদান বেশি থাকে -পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. আমিষ
    • খ. শ্বেতসার
    • গ. তেল
    • ঘ. খনিজ লবণ
    উত্তর: ক. আমিষ
    ডালে সবচেয়ে বেশি থাকে আমিষ বা প্রোটিন। মসুর ডালে আমিষ প্রায় ২৫ শতাংশ এবং মুগ ডালেও প্রায় একই রকম। এ কারণে ডালকে আমিষের সস্তা উৎস বলা হয়। ডাল শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের বীজ, আর এদের শিকড়ের গুটিতে বসবাসকারী রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন আটকে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ডালে শ্বেতসারও থাকে, তবে আমিষের পরিমাণই তুলনায় বেশি। ডাল সেদ্ধ করে বা ভেজে খাওয়া যায়, আর ডালের খোসায় থাকে আঁশ, যা হজমে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: ডালের আমিষে মিথিওনিন কম থাকে, তাই ভাতের সঙ্গে ডাল খেলে আমিষের মান উন্নত হয়।
  149. ১৭৫. কোন ফলটি বেশি আমিষ সমৃদ্ধ -LGED-র উপসহকারী, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. কলা
    • খ. লিচু
    • গ. জাম
    • ঘ. কাঁঠাল
    উত্তর: ঘ. কাঁঠাল
    ফলে সাধারণত আমিষ কম থাকে, কারণ ফলের বেশির ভাগই পানি ও শর্করা। তবে চারটির মধ্যে কাঁঠালে আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১.৭ শতাংশ। কলা, লিচু ও জামে আমিষ এর চেয়ে কম থাকে। ফলগুলো মূলত ভিটামিন, খনিজ লবণ ও আঁশের ভালো উৎস। লিচু ও জামে আমিষ ১ শতাংশেরও কম, আর কলায় প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি। কাঁঠালের পাকা কোয়ায় শর্করা ও ভিটামিন এ আছে, আর কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে রান্না হয়।
    মনে রাখুন:
    কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল।
    ফলের মধ্যে ভিটামিন সি পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি আমলকিতে।
  150. ১৭৬. গোল আলুতে প্রোটিনের ভাগ কত?শ্রম অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. ৭.৪
    • খ. ২.২
    • গ. ১.০
    • ঘ. ৬.৩
    উত্তর: খ. ২.২
    গোল আলুর প্রধান উপাদান শ্বেতসার বা স্টার্চ, প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। এতে আমিষ থাকে খুব অল্প, প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২.২ গ্রাম। বাকি অংশের বেশির ভাগই পানি। আলু তাই শক্তির উৎস হিসেবে বেশি কাজে লাগে, আমিষের উৎস হিসেবে নয়। আলুতে কিছু পরিমাণ ভিটামিন সি আর পটাশিয়ামও আছে। আলু সেদ্ধ করে খেলে ভাজা বা চিপসের চেয়ে অনেক কম ক্যালরি পাওয়া যায়, কারণ ভাজার সময় আলু তেল শুষে নেয়।
    মনে রাখুন: কাঁচা বা সবুজ হয়ে যাওয়া আলুতে সোলানিন নামের বিষাক্ত পদার্থ জন্মায়, তাই এমন আলু না খাওয়াই ভালো।
  151. ১৭৭. কোন খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আমিষ নেই?বিটিভির অডিয়েন্স রিসার্চ অফিসার, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. মাছ
    • খ. আনারস
    • গ. দুধ
    • ঘ. ডাল
    উত্তর: খ. আনারস
    মাছ, দুধ ও ডাল তিনটিতেই আমিষ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। কিন্তু আনারস একটি ফল, যার বেশির ভাগই পানি ও শর্করা। এতে ভিটামিন সি আছে, কিন্তু আমিষ খুবই কম। আনারসে ব্রোমেলিন নামে একটি এনজাইম থাকে, যা আমিষ ভাঙতে সাহায্য করে, তাই আনারস খেলে মুখে কখনো কখনো চুলকানি হয়। আনারসে ভিটামিন সি ও ম্যাঙ্গানিজ বেশ পাওয়া যায়। ডিম, মাছ ও দুধের মতো এটি আমিষের উৎস নয়, বরং রসালো ও সুগন্ধি ফল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে আনারস মধুপুর ও সিলেট অঞ্চলে বেশি হয়।
    মনে রাখুন: আমিষের ভালো উৎস মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও ডাল।
  152. ১৭৮. নিচের কোন খাদ্য আমিষের ভাল উৎস নয়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ১৯৮৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. মসুর ডাল
    • খ. ময়দা
    • গ. মুগ ডাল
    • ঘ. শিম
    উত্তর: খ. ময়দা
    ময়দা তৈরি হয় গম গুঁড়া করে। এতে প্রধান উপাদান শ্বেতসার, আমিষ থাকে তুলনায় কম, প্রায় ১০ শতাংশ। তাই ময়দা আমিষের ভালো উৎস নয়, বরং শক্তি দেওয়া শর্করা জাতীয় খাবার। অন্যদিকে মসুর ডাল, মুগ ডাল ও শিমের বিচিতে অনেক বেশি আমিষ আছে, কারণ এরা শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের বীজ। এ কারণে নিরামিষভোজী মানুষের জন্য ডাল ও শিম আমিষের ভালো বিকল্প। ময়দা তৈরির সময় গমের তুষ ও জীবাণু বাদ যায়, ফলে আঁশ ও ভিটামিনও কমে যায়। তাই আটা ময়দার চেয়ে বেশি পুষ্টিকর।
    মনে রাখুন: গমে গ্লুটেন নামের এক রকম আমিষ থাকে, যা ময়দার খামির আঠালো করে।
  153. ১৭৯. কোনটিতে প্রোটিন নেই?বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট, ১৯৮৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. মাখন
    • খ. ঘি
    • গ. দুধ
    • ঘ. পানি
    উত্তর: ঘ. পানি
    পানি হলো হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের যৌগ, এতে নাইট্রোজেন থাকে না। প্রোটিনের জন্য অ্যামিনো এসিড, অর্থাৎ নাইট্রোজেন লাগে, তাই বিশুদ্ধ পানিতে কোনো প্রোটিন নেই। দুধে প্রোটিন থাকে কেসিন ও অ্যালবুমিন। মাখন ও ঘি দুধ থেকে তৈরি স্নেহ পদার্থ, আর ঘি প্রায় বিশুদ্ধ স্নেহ। দুধে আমিষ ছাড়াও ল্যাকটোজ ও স্নেহ থাকে। পানি না হলে কোনো পুষ্টি উপাদানই দেহে পৌঁছাতে পারত না, কারণ পানিই খাবারের উপাদানগুলো দ্রবীভূত করে রক্তে বহন করে।
    মনে রাখুন: পানি দেহের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জুড়ে আছে এবং এটি শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
  154. ১৮০. নিচের কোন খাদ্যগুচ্ছটি দেহ গঠনে সহায়তা করে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. মাছ, মাংস ডিম
    • খ. ফল, শাক-সবজি, ডাল
    • গ. তেল, ঘি, মাখন
    • ঘ. আলু, রুটি, মুড়ি
    উত্তর: ক. মাছ, মাংস ডিম
    দেহ গঠনের প্রধান উপাদান আমিষ বা প্রোটিন, আর এর ভালো উৎস মাছ, মাংস ও ডিম। এই খাবারগুলো দেহের কোষ তৈরি করে এবং ক্ষয় পূরণ করে, তাই এদের দেহ গঠনকারী খাদ্য বলা হয়। ফল, শাকসবজি ও ডাল দেহকে রোগ থেকে রক্ষা করে, তেল-ঘি-মাখন আর আলু-রুটি-মুড়ি মূলত শক্তি জোগায়। মাছ, মাংস ও ডিমের আমিষ উন্নত মানের, কারণ এতে সব অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড থাকে। এ কারণে বাড়ন্ত শিশুদের খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখা হয়।
    মনে রাখুন:
    দেহ গঠনকারী খাদ্য: আমিষ।
    শক্তিদায়ক খাদ্য: শর্করা ও স্নেহ।
    রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: ভিটামিন ও খনিজ লবণ।
  155. ১৮১. মানুষের চুল বা নখে কোন প্রোটিন থাকে?বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অফিস সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. কেরাটিন
    • খ. জ্যান্থফিল
    • গ. ফাইব্রেয়ন
    • ঘ. বোরাক্স
    উত্তর: ক. কেরাটিন
    চুল ও নখ তৈরি হয় কেরাটিন (Keratin) নামের শক্ত আঁশযুক্ত প্রোটিন দিয়ে। এই প্রোটিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না, আর এটি দেহের বাইরের স্তরকে মজবুত ও সুরক্ষিত রাখে। ত্বকের উপরের স্তর এবং পাখির পালক ও খুরও কেরাটিন দিয়ে গঠিত। বোরাক্স আমিষ নয়, এটি একটি অজৈব লবণ। নখ ও চুল মরা কোষের স্তর, তাই কাটলে ব্যথা লাগে না। সিস্টিন নামের অ্যামিনো এসিড থাকায় কেরাটিনে ডাইসালফাইড বন্ধন গড়ে ওঠে, যার জোরে চুল ও নখ মজবুত থাকে।
    মনে রাখুন:
    রেশম সুতার প্রোটিনের নাম ফাইব্রোয়িন।
    রক্তের লাল রঙের প্রোটিন হিমোগ্লোবিন।
  156. ১৮২. নিম্নের কোনটির অভাবে PEM (প্রোটিন শক্তি অপুষ্টি) হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. শুধুমাত্র প্রোটিন
    • খ. শুধুমাত্র শক্তি
    • গ. ক এবং খ উভয়ই
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. ক এবং খ উভয়ই
    PEM-এর পুরো নাম প্রোটিন এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন (Protein Energy Malnutrition), অর্থাৎ আমিষ-শক্তি অপুষ্টি। খাদ্যে আমিষ বা শক্তি, কিংবা দুটোই কম পড়লে এ রোগ হয়। মূলত শিশুদের মধ্যে এর দুটি রূপ দেখা যায়। আমিষের অভাবে হয় কোয়াশিওরকর, যাতে পেট ফোলে ও পায়ে পানি জমে। আর আমিষ ও শক্তি দুটোর অভাবে হয় ম্যারাসমাস, যাতে শিশুর শরীর শুকিয়ে হাড়সর্বস্ব হয়ে যায়। শিশুর ওজন বয়সের তুলনায় কমে গেলে, বৃদ্ধি থেমে গেলে বা পায়ে পানি জমলে এ রোগের সন্দেহ করা হয়। এ রোগ ঠেকাতে আমিষ ও শক্তিসমৃদ্ধ খাবার, যেমন খিচুড়ি ও ডিম দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন: কোয়াশিওরকর শব্দটি আফ্রিকার ঘানা অঞ্চলের এক ভাষা থেকে এসেছে।
  157. ১৮৩. সর্বাধিক স্নেহ জাতীয় খাদ্য -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নেহপদার্থ
    • ক. চিনি
    • খ. আলু
    • গ. দুধ
    • ঘ. ভাত
    উত্তর: গ. দুধ
    দেওয়া চারটি খাবারের মধ্যে স্নেহ বা চর্বি সবচেয়ে বেশি আছে দুধে। চিনি ও আলুর প্রধান উপাদান শর্করা, আর ভাত থেকেও পাওয়া যায় মূলত শর্করা। দুধে স্নেহ থাকে ছোট ছোট ফোঁটার আকারে, আর দুধের সর বা ক্রিম এই স্নেহ দিয়ে তৈরি। সর তুলে মাখন ও ঘি বানানো হয়। ভাতে স্নেহ ১ শতাংশেরও কম আর আলুতে প্রায় নেই। দুধে আমিষ ও শর্করাও আছে, তাই এক খাবারেই তিন প্রধান উপাদানের জোগান মেলে।
    মনে রাখুন:
    গরুর দুধে স্নেহ প্রায় ৪ শতাংশ, মহিষের দুধে প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ।
    দুধের স্নেহ ভিটামিন এ ও ডি-র বাহক।
  158. ১৮৪. কোনটি বেশি চর্বি সমৃদ্ধ ফল?DAE-র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নেহপদার্থ
    • ক. এভোকাডো
    • খ. কলা
    • গ. খেজুর
    • ঘ. কমলা
    উত্তর: ক. এভোকাডো
    অ্যাভোকাডো (Avocado) এমন একটি বিরল ফল, যাতে প্রচুর চর্বি বা স্নেহ আছে। এর প্রায় ১৫ শতাংশই চর্বি, আর এর বেশির ভাগ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কলা, খেজুর ও কমলার মতো ফলে মূলত শর্করা, পানি ও ভিটামিন থাকে, চর্বি থাকে খুব সামান্য। নারকেলও চর্বিসমৃদ্ধ ফল। অ্যাভোকাডোর চর্বির প্রধান উপাদান ওলিক অ্যাসিড, যা অলিভ তেলেও পাওয়া যায়। এই ফলে ভিটামিন ই, পটাশিয়াম ও আঁশও আছে। বেশি চর্বি থাকায় এর ক্যালরি অন্য ফলের চেয়ে অনেক বেশি, তাই ওজন কমাতে চাইলে অল্প খাওয়া ভালো।
    মনে রাখুন: অ্যাভোকাডোর আদি উৎস মধ্য আমেরিকা।
  159. ১৮৫. সামুদ্রিক মাছের চর্বিতে কি থাকে?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নেহপদার্থ
    • ক. ওমেগা-৩
    • খ. ইউরিক এসিড
    • গ. ল্যাকটেট
    • ঘ. বিটা ক্যারোটিন
    উত্তর: ক. ওমেগা-৩
    সামুদ্রিক মাছের তেলে ওমেগা-৩ (Omega-3) ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় এবং মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে সাহায্য করে। দেহ ওমেগা-৩ তৈরি করতে পারে না, তাই খাদ্য থেকে নিতে হয়। স্যামন, টুনা ও ইলিশের মতো তৈলাক্ত মাছে এর পরিমাণ বেশি। ইউরিক এসিড বর্জ্য পদার্থ, ল্যাকটেট পেশির কাজের সময় তৈরি হয় এবং বিটা ক্যারোটিন উদ্ভিদের রঞ্জক পদার্থ। মাছের তেলের ওমেগা-৩ থেকে EPA ও DHA নামের দুটি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও এরা সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: ওমেগা-৩ আখরোট ও তিসি বীজেও পাওয়া যায়।
  160. ১৮৬. স্নেহ পদার্থের কাজ কি?DMLC-র জুনিয়র শিক্ষক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নেহপদার্থ
    • ক. হাড় ও দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে
    • খ. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে
    • গ. ত্বকের মসৃণতা এবং সজীবতা বাজায় রাখে এবং চর্মরোগ প্রতিরোধ করে
    • ঘ. শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনের কাজ করে
    উত্তর: গ. ত্বকের মসৃণতা এবং সজীবতা বাজায় রাখে এবং চর্মরোগ প্রতিরোধ করে
    স্নেহ পদার্থ বা চর্বি দেহের ত্বকের নিচে জমে থাকে এবং ত্বকের মসৃণতা ও সজীবতা বজায় রাখে। এটি ত্বককে শুষ্ক হতে দেয় না, ফলে চর্মরোগ কম হয়। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপ ধরে রাখে এবং শক্তি জমিয়ে রাখে। এ ছাড়া এর সঙ্গে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শোষিত হয়। হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, আর ক্ষত পুনর্গঠন করে আমিষ। ত্বকের নিচের চর্বির স্তর গদির মতো কাজ করে দেহকে আঘাত থেকেও কিছুটা রক্ষা করে।
    মনে রাখুন: চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন চারটি, এ, ডি, ই ও কে।
  161. ১৮৭. সবুজ তরিতরকারীতে সবচেয়ে বেশি থাকে -চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ও খনিজ
    • ক. শর্করা
    • খ. আমিষ
    • গ. খনিজ লবণ ও ভিটামিন
    • ঘ. স্নেহজাতীয় পদার্থ
    উত্তর: গ. খনিজ লবণ ও ভিটামিন
    সবুজ তরিতরকারিতে সবচেয়ে বেশি থাকে খনিজ লবণ ও ভিটামিন। পালংশাক, লালশাক ও কচুশাকে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি প্রচুর আছে। এগুলোর সঙ্গে প্রচুর আঁশও থাকে, যা পরিপাকে সাহায্য করে। শাকসবজিতে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ অনেক কম থাকে। এ কারণে এগুলো রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য হিসেবে পরিচিত। শাকসবজির ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, আয়রন ও ক্যালসিয়াম একসঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রতিদিন কয়েক ধরনের শাকসবজি খাওয়া ভালো।
    মনে রাখুন: গাঢ় সবুজ শাক বেশি রান্না করলে এর ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়।
  162. ১৮৮. শাক রান্না করতে তেল দিয়ে রান্না করতে বলা হয় কারণ -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. শাক যাতে পাতিলে লেগে না যায়
    • খ. শাক রান্না করতে সুবিধা হয়
    • গ. শাকের ভিটামিন তেলে দ্রবীভূত হয়
    • ঘ. শাক দ্রুত সিদ্ধ হয়
    উত্তর: গ. শাকের ভিটামিন তেলে দ্রবীভূত হয়
    শাকে ভিটামিন এ থাকে না, থাকে ক্যারোটিন, যা দেহে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। আর ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বি বা তেলে দ্রবীভূত হয়, পানিতে নয়। তাই তেল দিয়ে শাক রান্না করলে এই ভিটামিনগুলো তেলে গলে যায় এবং আমাদের দেহ সহজে তা শোষণ করতে পারে। তেল ছাড়া সিদ্ধ করলে ভিটামিনের ভালো অংশ দেহে পৌঁছায় না। এ কারণে গাজর বা কুমড়ার মতো ক্যারোটিনযুক্ত সবজিও সামান্য তেলে রান্না করলে ভালো কাজ দেয়। শুধু সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে ভিটামিন বি ও সি অনেকটা চলে যায়।
    মনে রাখুন: ক্যারোটিন ও চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন তেলের সঙ্গে খেলে ভালোভাবে শোষিত হয়।
  163. ১৮৯. 'মিষ্টি কুমড়া' কোন ধরনের খাদ্য?প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. শ্বেতসার
    • খ. আমিষ
    • গ. স্নেহ জাতীয়
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন
    মিষ্টি কুমড়ার হলুদ-কমলা রং আসে ক্যারোটিন থেকে, যা দেহে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। তাই মিষ্টি কুমড়াকে ভিটামিন জাতীয় খাদ্য ধরা হয়। এতে আরও আছে ভিটামিন সি ও আঁশ। ভিটামিন এ চোখের রেটিনায় আলো ধরার রঞ্জক তৈরিতে লাগে। তাই মিষ্টি কুমড়া, গাজর বা পাকা পেঁপে খেলে চোখের দৃষ্টি ভালো থাকে। এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। ক্যারোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কোষকে ক্ষতিকর মুক্ত মূলকের হাত থেকে রক্ষা করে।
    মনে রাখুন:
    গাজর, পাকা পেঁপে ও মিষ্টি আলুও ক্যারোটিনের ভালো উৎস।
    কুমড়ার বিচিতে আমিষ ও স্নেহ পাওয়া যায়।
  164. ১৯০. মানবদেহে কোন ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন উৎপন্ন করে?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ ও বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. *Escherichia Sp*
    • খ. *Agrobacterium Sp*
    • গ. *Rhizobium Sp*
    • ঘ. *Clostridium Sp*
    উত্তর: ক. *Escherichia Sp*
    মানুষের বৃহদন্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli (ই. কোলাই) ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন কে (K) এবং কিছু বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন তৈরি করে। এরা আমাদের ক্ষতি না করে বরং উপকার করে বলে এদের সহাবস্থানকারী বলা যায়। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। অ্যাগ্রোব্যাকটেরিয়াম উদ্ভিদে টিউমার ঘটায়, রাইজোবিয়াম শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে নাইট্রোজেন স্থির করে আর ক্লস্ট্রিডিয়াম বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। বৃহদন্ত্রে এরা কোটি কোটি সংখ্যায় থাকে এবং খাদ্যের যেসব অংশ হজম হয়নি তা ভেঙে ভিটামিন তৈরি করে। এদের মধ্যে কিছু ই. কোলাই রোগ ঘটায়, কিন্তু অধিকাংশই নিরীহ।
    মনে রাখুন: অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায়।
  165. ১৯১. নিচের কোন ভিটামিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না-আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. থায়ামিন
    • গ. নিয়াসিন
    • ঘ. ভিটামিন বি
    উত্তর: ক. ভিটামিন এ
    ভিটামিন দুই ভাগে ভাগ করা হয়, চর্বিতে দ্রবণীয় এবং পানিতে দ্রবণীয়। ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবীভূত হয়, পানিতে হয় না। বাকি সব, অর্থাৎ বি-কমপ্লেক্স (থায়ামিন, নিয়াসিন প্রভৃতি) এবং ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন দেহে জমে না, বেশি হলে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। চর্বিতে দ্রবণীয়গুলো যকৃৎ ও চর্বিস্তরে জমা থাকে। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন সিদ্ধ করার সময় পানিতে মিশে যেতে পারে, তাই সবজি সিদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিলে ভিটামিন নষ্ট হয়। চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন তুলনায় রান্নায় বেশি টিকে থাকে।
    মনে রাখুন: চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন মনে রাখার সংকেত A, D, E, K।
  166. ১৯২. ভিটামিন বি₁ এর রাসায়নিক নাম কী?রাবি (সি ইউনিট), ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. নিকোটিনামাইড
    • খ. এসকরবিক এসিড
    • গ. রিবোফ্লাভিন
    • ঘ. থায়ামিন
    উত্তর: ঘ. থায়ামিন
    ভিটামিন বি₁-এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন (Thiamine)। এটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। থায়ামিন শর্করা থেকে শক্তি তৈরির বিক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখে। ঢেঁকিছাঁটা চাল, ডাল, বাদাম ও মাংসে এটি পাওয়া যায়। কলে ছাঁটা চালের তুষ ফেলে দিলে এর বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। থায়ামিন তাপে এবং ক্ষারীয় পরিবেশে সহজে নষ্ট হয়। ভাত রান্নার পর মাড় গেলে ফেললে দ্রবীভূত থায়ামিনও ঝরে যায়। বি-গোত্রের ভিটামিনের মধ্যে এটিই প্রথম আবিষ্কৃত হয়, তাই একে বি₁ নাম দেওয়া হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    এসকরবিক এসিড ভিটামিন সি।
    রিবোফ্লাভিন ভিটামিন বি₂।
    নিকোটিনামাইড ভিটামিন বি₃-এর রূপ।
  167. ১৯৩. ভিটামিন বি-৩ এর অপর নাম-BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. থায়ামিন
    • খ. রিবোফ্লোবিন
    • গ. পাইরিডক্সিন
    • ঘ. নায়াসিন
    উত্তর: ঘ. নায়াসিন
    ভিটামিন বি₃-এর অপর নাম নায়াসিন বা নিয়াসিন (Niacin)। এটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, যা কোষের শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে এবং ত্বক, পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। এ রোগের তিনটি লক্ষণ মনে রাখার জন্য বলা হয় তিন ডি, ডার্মাটাইটিস (ত্বকের প্রদাহ), ডায়রিয়া ও ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম)। ভুট্টা প্রধান খাদ্য এমন অঞ্চলে এ রোগ বেশি দেখা যেত। দেহে ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো এসিড থেকেও কিছুটা নায়াসিন তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    থায়ামিন বি₁, রিবোফ্লাভিন বি₂ এবং পাইরিডক্সিন বি₆।
    মাছ, মাংস, বাদাম ও গোটা শস্যে নায়াসিন পাওয়া যায়।
  168. ১৯৪. কোন ভিটামিনের অভাবে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন বি₂
    • খ. ভিটামিন বি₉
    • গ. ভিটামিন বি₆
    • ঘ. ভিটামিন সি
    উত্তর: খ. ভিটামিন বি₉
    গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্নায়ুনালি তৈরি হয়। এই সময় ভিটামিন বি₉ বা ফলিক এসিডের অভাব হলে নালিটি ঠিকমতো বন্ধ হয় না, ফলে ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের গঠনে ত্রুটি দেখা দেয়, যাকে নিউরাল টিউব ত্রুটি বলে। স্পাইনা বিফিডা এ ধরনের একটি ত্রুটি। তাই গর্ভধারণের আগে ও পরে ফলিক এসিড খেতে বলা হয়। নিউরাল টিউব ত্রুটি থাকা শিশুর মেরুদণ্ডের নিচের অংশ খোলা থাকতে পারে, আর এতে স্নায়ুর ক্ষতি হয়। নিয়মিত ফলিক এসিড খেলে এই ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
    মনে রাখুন: ফলিক এসিড সবুজ শাক, ডাল ও কলিজায় থাকে।
  169. ১৯৫. গর্ভকালীন প্রসূতি সেবায় প্রথম তিন মাসে (First trimester) মাকে কি দেয়া হয়?DGFP-র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ম্যালিক এসিড
    • খ. এসকরবিক এসিড
    • গ. ল্যাক্টিক এসিড
    • ঘ. ফলিক এসিড
    উত্তর: ঘ. ফলিক এসিড
    গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডসহ অনেক অঙ্গ তৈরি হয়। এ সময় মাকে ফলিক এসিড (Folic acid) দেওয়া হয়। এটি নিউরাল টিউবের ত্রুটি, যেমন স্পাইনা বিফিডা, প্রতিরোধ করে এবং মায়ের রক্তস্বল্পতা ঠেকায়। ফলিক এসিডকে ভিটামিন বি₉ বলা হয়। ম্যালিক ও ল্যাক্টিক এসিড নানা খাবারে থাকে, কিন্তু প্রসূতি সেবায় এদের কোনো ভূমিকা নেই। গর্ভাবস্থায় মায়ের নিজের রক্তও বাড়তে থাকে, আর নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে ফলিক এসিড লাগে। তাই এই সময় এর চাহিদা সাধারণের চেয়ে বেশি থাকে।
    মনে রাখুন: গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেটও দেওয়া হয়।
  170. ১৯৬. ঢেঁকি ছাঁটা চাউলে কি পাওয়া যায়?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন -বি
    • গ. ভিটামিন বি-৬
    • ঘ. ভিটামিন বি-১২
    উত্তর: খ. ভিটামিন -বি
    ঢেঁকিতে ছাঁটা চালে ধানের লালচে বাইরের স্তরটি বেশির ভাগ থেকে যায়। এই স্তরে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, বিশেষ করে থায়ামিন আছে। কলে ছাঁটা সাদা চাল পালিশ হয়ে এই স্তর হারায়, তাই তাতে ভিটামিন বি কম থাকে। একারণে সাদা চাল বেশি খেলে বেরিবেরি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ধানের এই লালচে আবরণকে ব্রান (Bran) বলে। ব্রানে ভিটামিন ছাড়াও আঁশ ও তেল থাকে, আর ঢেঁকিতে ছাঁটলে ব্রানের বেশির ভাগ চালের গায়ে লেগে থাকে।
    মনে রাখুন:
    ঢেঁকিছাঁটা চালে আঁশ ও খনিজ লবণও বেশি থাকে।
    ভিটামিন বি₆ ও বি₁₂ মাংস, মাছ ও দুধে পাওয়া যায়।
  171. ১৯৭. এসকরবিক এসিড কোনটির বৈজ্ঞানিক (Scientific) নাম?সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ম্যানেজার, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন বি
    • গ. ভিটামিন সি
    • ঘ. ভিটামিন ডি
    উত্তর: গ. ভিটামিন সি
    এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid) হলো ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম। এটি পানিতে দ্রবণীয় এবং টক ফলে প্রচুর পাওয়া যায়। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, ক্ষত শুকাতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যাতে মাড়ি ফোলে ও রক্ত পড়ে। রান্নার সময় তাপে ভিটামিন সি সহজে নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ, বানর ও গিনিপিগ ছাড়া বেশির ভাগ প্রাণী নিজের দেহেই ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে। আমরা পারি না বলে প্রতিদিন খাবার থেকে নিতে হয়।
    মনে রাখুন: লেবু, আমলকি, পেয়ারা ও কমলা ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস।
  172. ১৯৮. নিচের কোনটি ভিটামিন 'সি' - এর বিকল্প ডায়াটেরি সাপ্লিমেন্ট?GDA-এর সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Cyanocobalamin
    • খ. Thiamine
    • গ. Folic Acid
    • ঘ. Ascorbic Acid
    উত্তর: ঘ. Ascorbic Acid
    এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid) নিজেই ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম। তাই ভিটামিন সি সরবরাহের জন্য যে ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট বা পথ্য ব্যবহার হয়, তাতে মূল উপাদান এই এসকরবিক এসিড। সায়ানোকোবালামিন হলো ভিটামিন বি₁₂-এর কৃত্রিম রূপ, থায়ামিন বি₁ এবং ফলিক এসিড বি₉। এই ভিটামিনগুলোর কাজ ও অভাবজনিত রোগ আলাদা। সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেটে ভিটামিন সি প্রায়ই ২৫০ বা ৫০০ মিলিগ্রামের আকারে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত খেলে পেটে অস্বস্তি বা ডায়রিয়া হতে পারে, তাই ডাক্তারের পরামর্শে খাওয়া ভালো।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন সি দেহে জমে না, তাই প্রতিদিন খাদ্য থেকে নিতে হয়।
  173. ১৯৯. আমলকি, কমলালেবু, লেবু, পেয়ারা কোন ভিটামিনের উৎস?কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ারের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-C
    • খ. ভিটামিন-D
    • গ. ভিটামিন-E
    • ঘ. ভিটামিন-B
    উত্তর: ক. ভিটামিন-C
    আমলকি, কমলালেবু, লেবু ও পেয়ারা এই চারটি ফলই ভিটামিন সি (Vitamin C) বা এসকরবিক এসিডের চমৎকার উৎস। এরা টক বা অম্লস্বাদের ফল, আর এই টক ভাবের অনেকটাই এই ভিটামিন থেকে আসে। ভিটামিন সি দাঁতের মাড়ি ও রক্তনালি মজবুত রাখে, ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে এবং আয়রন শোষণ বাড়ায়। এ ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। সাইট্রাস ফলের মধ্যে কমলা ও লেবু অন্যতম, আর আমলকি ও পেয়ারা সাইট্রাস না হলেও ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ।
    মনে রাখুন: ভিটামিন সি আবিষ্কারের সঙ্গে জাহাজের নাবিকদের স্কার্ভি রোগ এবং লেবুর রসের ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
  174. ২০০. সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল কোনটি?জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিন্টেন্ডেন্ট, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. কামরাঙ্গা
    • খ. লিচু
    • গ. পেয়ারা
    • ঘ. আমলকি
    উত্তর: ঘ. আমলকি
    ভিটামিন সি-এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি আমলকিতে। প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে ভিটামিন সি আছে কয়েকশো মিলিগ্রাম, যা পেয়ারার প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি। কামরাঙ্গা ও লিচুতে এর পরিমাণ অনেক কম। আমলকি টক, কষা ও সামান্য মিষ্টি স্বাদের ফল, যা আয়ুর্বেদে ব্যবহার হয়। এই ফল শীতকালে বাজারে বেশি মেলে। আমলকি থেকে মোরব্বা, আচার ও চ্যবনপ্রাশের মতো খাবার তৈরি হয়। ভিটামিন সি-এর পরিমাণে এটি কমলালেবুর চেয়ে বহু গুণ এগিয়ে।
    মনে রাখুন:
    পেয়ারাও ভিটামিন সি-তে খুব সমৃদ্ধ, কমলার চেয়ে প্রায় চার গুণ।
    ভিটামিন সি কাঁচা অবস্থায় সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।
  175. ২০১. লেবুতে কোন ভিটামিন বেশি থাকে?পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অফিস সহায়ক, ২০২৪ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন বি
    • গ. ভিটামিন সি
    • ঘ. ভিটামিন -ডি
    উত্তর: গ. ভিটামিন সি
    লেবুতে সবচেয়ে বেশি থাকে ভিটামিন সি। লেবুর টক স্বাদ আসে সাইট্রিক অ্যাসিড থেকে, আর ভিটামিন সি সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে থাকে। এ ভিটামিন আমাদের দাঁতের মাড়ি, রক্তনালি ও ত্বক সুস্থ রাখে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। লেবু, কমলা, মাল্টা ও জাম্বুরার মতো ফলকে সাইট্রাস ফল বলা হয়। লেবুর টক স্বাদের জন্য দায়ী সাইট্রিক অ্যাসিড। একসময় নাবিকেরা জাহাজে লেবু নিয়ে যেতেন, যাতে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় স্কার্ভি না হয়। লেবুর রস খাবারে মেশালে খাবারের আয়রন শোষণও বাড়ে।
    মনে রাখুন: ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
  176. ২০২. নিচের কোনটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাদ্য?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভাত
    • খ. দুধ
    • গ. রুটি
    • ঘ. লেবু
    উত্তর: ঘ. লেবু
    দেওয়া খাবারগুলোর মধ্যে ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ হলো লেবু। ভাত ও রুটি মূলত শর্করা জাতীয় খাবার, আর দুধ আমিষ, স্নেহ ও ক্যালসিয়ামের উৎস। এগুলোতে ভিটামিন সি প্রায় থাকে না। সাইট্রাস ফল, পেয়ারা, আমলকি ও কাঁচা মরিচে ভিটামিন সি বেশি আছে। এ ভিটামিন তাপ ও বাতাসে সহজে নষ্ট হয়, তাই লেবুর রস কাঁচা অবস্থায় খাওয়াই ভালো। লেবু আমাদের দেশের ঘরোয়া ফল, যা প্রায় সারা বছর পাওয়া যায়। ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইনে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে স্বাদ ভালো হয় এবং ভিটামিন সি-ও পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন: ভিটামিন সি-এর আরেক নাম এসকরবিক এসিড।
  177. ২০৩. ডিম ও দুধে কোন ভিটামিন নেই?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী ইনস্ট্রাক্টর, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ডি
    • খ. সি
    • গ. বি
    • ঘ. এ
    উত্তর: খ. সি
    ডিম ও দুধ প্রাণীজ খাবার, আর প্রাণীজ খাবারে ভিটামিন সি প্রায় থাকে না। ডিমে ভিটামিন এ, ডি ও বি-গোত্রের ভিটামিন আছে, দুধেও ভিটামিন এ, ডি ও বি₂ পাওয়া যায়। ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস টক ফল ও কাঁচা সবজি। তাই শুধু প্রাণীজ খাবার খেলে সি-এর অভাবে স্কার্ভি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভিটামিন সি-এর উৎস প্রধানত উদ্ভিদ, কারণ উদ্ভিদ নিজের দেহে তা তৈরি করে। প্রাণীজ খাবারের মধ্যে কেবল কলিজায় সামান্য ভিটামিন সি থাকে।
    মনে রাখুন: দুধ ফুটালে সামান্য যে ভিটামিন সি থাকে তাও নষ্ট হয়ে যায়।
  178. ২০৪. ফুলকপিতে কোন ধরনের ভিটামিন থাকে?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (বি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন-ডি
    • খ. ভিটামিন-এ
    • গ. ভিটামিন-সি
    • ঘ. ভিটামিন-বি
    উত্তর: গ. ভিটামিন-সি
    ফুলকপিতে প্রচুর ভিটামিন সি (Vitamin C) পাওয়া যায়। শীতকালীন এই সবজির ১০০ গ্রামে কয়েক দিনের দরকারি ভিটামিন সি-এর বড় অংশ মেলে। ফুলকপিতে ভিটামিন কে এবং আঁশও আছে। ভিটামিন সি তাপে নষ্ট হয়, তাই অতিরিক্ত সিদ্ধ করলে বা বেশিক্ষণ রান্না করলে এর পরিমাণ কমে যায়। অল্প আঁচে কম সময় রান্না করলে ভিটামিন সি বেশি টিকে থাকে। ফুলকপি আসলে অপুষ্পিত ফুলের কুঁড়ির জমাট পিণ্ড, যা আমরা সবজি হিসেবে খাই। এটি শীতকালে বেশি পাওয়া যায় এবং শীতের সবজির মধ্যে ভিটামিন সি-এর ভালো জোগান দেয়।
    মনে রাখুন: বাঁধাকপি ও ব্রোকলিও ভিটামিন সি-র ভালো উৎস।
  179. ২০৫. স্কার্ভি রোগ কিসের অভাবে হয়ে থাকে?জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ফিল্ড স্টাফ, ২০২৫ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ক্যাশিয়ার, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন সি
    • ক. ভিটামিন-এ
    • খ. ভিটামিন-বি
    • গ. ভিটামিন-সি
    • ঘ. ভিটামিন-ডি
    উত্তর: গ. ভিটামিন-সি
    স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয় ভিটামিন সি-এর অভাবে। এই ভিটামিন কোলাজেন নামের প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, আর কোলাজেনই আমাদের ত্বক, মাড়ি ও রক্তনালির দেয়ালকে মজবুত রাখে। ভিটামিন সি কমে গেলে এই কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন মাড়ি ফুলে ওঠে, মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে, ক্ষত সহজে শুকায় না এবং গিঁটে ব্যথা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি পানিতে দ্রবীভূত হয়, তাই দেহে জমা থাকে না। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে এটি নিতে হয়।
    আমলকী, পেয়ারা, লেবু ও কমলার মতো টক ফল ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস।
    ভিটামিন সি আয়রন শোষণেও সাহায্য করে।
    রান্নার সময় বেশি তাপে ও দীর্ঘক্ষণ সেদ্ধ করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়, তাই ফল কাঁচা খাওয়াই ভালো।
  180. ২০৬. কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি রোগ হয়?প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিএফএ, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন সি
    • ক. ট্যানিক এসিড
    • খ. এসিটিক এসিড
    • গ. এসকরবিক এসিড
    • ঘ. ম্যালিক এসিড
    উত্তর: গ. এসকরবিক এসিড
    ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। নামটির অর্থই হলো স্কার্ভি রোগের প্রতিরোধক, কারণ এই এসিডের অভাবেই মানুষের স্কার্ভি হয়। আগের দিনে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় নাবিকেরা তাজা ফল ও শাকসবজি পেতেন না, তাই তাঁদের মধ্যে এই রোগ খুব দেখা যেত। পরে লেবু জাতীয় ফল খাওয়ালে রোগটি সেরে যায়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
    ট্যানিক এসিড চা-পাতায় থাকে, এসিটিক এসিড ভিনেগারে থাকে এবং ম্যালিক এসিড আপেলে থাকে। এগুলোর কোনোটিই ভিটামিন নয়।
    মানুষ নিজের দেহে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না, আর এই কারণে খাবারের ওপরই তাকে নির্ভর করতে হয়।
    প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন প্রায় ৪০–৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার।
  181. ২০৭. কোন রোগে মাড়ি দিয়ে রক্ত ও পুঁজ পড়ে?জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন সি
    • ক. স্কার্ভি
    • খ. কনজাংকটিভাইটিস
    • গ. রিকেট
    • ঘ. বেরিবেরি
    উত্তর: ক. স্কার্ভি
    মাড়ি থেকে রক্ত ও পুঁজ পড়া স্কার্ভি রোগের একটি প্রধান লক্ষণ। দেহে ভিটামিন সি কম পড়লে মাড়ির কলা দুর্বল হয়ে যায়। তখন মাড়ি ফুলে ওঠে, দাঁত নড়ে এবং সামান্য চাপেই রক্ত বের হয়। সঙ্গে জীবাণুর সংক্রমণ হলে পুঁজও জমে।
    মনে রাখুন:
    রিকেট হলে শিশুর হাড় নরম হয়ে বেঁকে যায়, আর এর কারণ ভিটামিন ডি-এর অভাব।
    বেরিবেরি হয় ভিটামিন বি১-এর অভাবে।
    কনজাংকটিভাইটিস চোখের একটি সংক্রমণজনিত রোগ, এর সঙ্গে ভিটামিনের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
    স্কার্ভিতে ত্বকের নিচে ছোট ছোট রক্তক্ষরণের দাগও পড়ে।
    দাঁতের মাড়ির আরেকটি রোগ পায়োরিয়া, যাতে মাড়ি থেকে পুঁজ পড়ে, তবে স্কার্ভিতে রক্ত পড়া সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
    ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খেলে এই রোগ ভালো হয়।
  182. ২০৮. ভিটামিন 'এ' সবচেয়ে বেশি কোনটিতে?জবি (সি ৮ ইউনিট) ভর্তি, ২০১৩-১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. পেঁপে
    • খ. গাজর
    • গ. কলা
    • ঘ. পাকা আম
    উত্তর: খ. গাজর
    ভিটামিন এ আমরা সরাসরি এবং ক্যারোটিন নামের রঞ্জক থেকেও পাই। ক্যারোটিন দেহে ঢুকে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে গাজরে এই ক্যারোটিনের পরিমাণ পেঁপে, পাকা আম বা কলার চেয়ে অনেক বেশি, তাই গাজরকেই ভিটামিন এ-এর সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবীভূত হয়।
    লাল শাক, মিষ্টিকুমড়া, ডিমের কুসুম, কলিজা ও মাছের তেলেও ভিটামিন এ পাওয়া যায়।
    এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ক্যারোটিনকে বলা হয় প্রো-ভিটামিন এ, অর্থাৎ ভিটামিন এ-এর পূর্বসূরি।
    সবুজ শাকসবজির সবুজ রঙের আড়ালেও ক্যারোটিন লুকিয়ে থাকে, যেমন পালংশাকে।
    ক্যারোটিন তেল বা চর্বির সঙ্গে খেলে ভালো শোষিত হয়, তাই গাজর সামান্য তেলে রান্না করে খাওয়া ভালো।
  183. ২০৯. মলা ও ঢেলা মাছে কোন ভিটামিন প্রচুর থাকে?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্মকর্তা, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. ডি
    • খ. সি
    • গ. বি
    • ঘ. এ
    উত্তর: ঘ. এ
    আমাদের দেশের ছোট মাছ মলা ও ঢেলা ভিটামিন এ-এর খুব ভালো উৎস। এই মাছগুলো আমরা প্রায়ই মাথা, কাঁটা ও নাড়িভুঁড়িসহ পুরোটা খেয়ে ফেলি, ফলে মাছের চোখ ও কলিজায় জমে থাকা ভিটামিন এ-ও আমাদের শরীরে যায়। নিয়মিত খেলে রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং ত্বক ও চোখের আবরণ সুস্থ রাখে।
    বড় মাছের চেয়ে ছোট মাছে ভিটামিন এ সাধারণত বেশি থাকে।
    গাজর, কলিজা ও হলুদ-কমলা রঙের ফলও এর ভালো উৎস।
    ছোট মাছ ও শাকসবজি একসঙ্গে খেলে ভিটামিন এ-এর চাহিদা সহজে পূরণ হয়।
    ভিটামিন এ-এর অভাব হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়, ফলে শিশুরা সহজে সংক্রমণে আক্রান্ত হয়।
    গ্রাম বাংলায় অতি সহজলভ্য এই মাছ তাই পুষ্টির জন্য খুব মূল্যবান।
  184. ২১০. দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখে -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (বিবিধ) ভর্তি, ২০০৮-০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. ভিটামিন ডি
    • খ. ভিটামিন সি
    • গ. ভিটামিন বি
    • ঘ. ভিটামিন এ
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন এ
    চোখের রেটিনায় রোডপসিন নামের একটি রঞ্জক আছে, যা আলো-আঁধারে দেখতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ থেকেই এই রঞ্জকটি তৈরি হয়। তাই ভিটামিন এ কম পড়লে কম আলোয় দেখা কঠিন হয়ে যায়। এজন্য ভিটামিন এ-কে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখার ভিটামিন বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল (Retinol)।
    দীর্ঘদিন এর অভাব হলে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
    এই ভিটামিন চর্বিতে দ্রবীভূত হয়।
    দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে ভিটামিন এ-এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারও দরকার।
    চোখের কর্নিয়াকে আর্দ্র ও সুস্থ রাখতে ভিটামিন এ কাজ করে।
    এই কারণে চিকিৎসকরা চোখের রোগে প্রায়ই ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ খাবার খেতে বলেন।
  185. ২১১. ভিটামিন 'এ' এর অভাবে কোন রোগ হয়?ECS'র অফিস সহায়ক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. বুদ্ধিহীনতা
    • খ. কম ওজন
    • গ. খর্বাকৃতি
    • ঘ. অন্ধত্ব
    উত্তর: ঘ. অন্ধত্ব
    ভিটামিন এ-এর অভাবে প্রথমে রাতকানা হয়, অর্থাৎ অল্প আলোয় ভালো দেখা যায় না। এই অভাব বহুদিন চললে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে ঘোলাটে হয়ে যায়, একে জেরোপথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) বলে। শেষ পর্যন্ত রোগী পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। শিশুদের অন্ধত্বের একটি বড় কারণ এই ভিটামিনের অভাব।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশে শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়, যাতে অন্ধত্ব ঠেকানো যায়।
    প্রোটিনের অভাবে শিশুর ওজন কমে, আর আয়োডিনের অভাবে বুদ্ধি কম বিকশিত হয়।
    ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবীভূত হয় এবং যকৃতে জমা থাকে, তাই একসঙ্গে অনেক বেশি খেলেও ক্ষতি হতে পারে।
    ডিম, দুধ, কলিজা, গাজর ও হলুদ-কমলা রঙের ফল এই ভিটামিনের ভালো উৎস।
    ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল (Retinol)।
  186. ২১২. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা (Night blindness) রোগ হয়?BPSC'র ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ ও IBB PLC এর মেসেঞ্জার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. এ
    • খ. বি
    • গ. সি
    • ঘ. ডি
    উত্তর: ক. এ
    রাতকানা (Night blindness) রোগ হয় ভিটামিন এ-এর অভাবে। আমাদের চোখের রেটিনায় রোডপসিন নামে একটি রঞ্জক থাকে, যা অল্প আলোয় দেখতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ থেকেই এই রঞ্জক তৈরি হয়। তাই ভিটামিন এ কম পড়লে সন্ধ্যার পর বা অন্ধকারে মানুষ স্পষ্ট দেখতে পায় না।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর অভাব বাড়লে কর্নিয়া শুকিয়ে যায় এবং অন্ধত্ব দেখা দেয়।
    গাজর, লাল শাক, কলিজা, ডিম ও দুধ খেলে এই রোগ ঠেকানো যায়।
    রোডপসিনকে ‘ভিজ্যুয়াল পারপল’ও বলা হয়।
    দিনের আলোয় আমরা রেটিনার শঙ্কু কোষ দিয়ে দেখি, আর কম আলোয় শলাকা কোষ দিয়ে দেখি। রোডপসিন থাকে এই শলাকা কোষে।
    এজন্য ভিটামিন এ কম থাকলে শলাকা কোষ সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  187. ২১৩. রাতকানা রোগ বোঝানোর প্রতীক-DMLC-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. X₁ₐ
    • খ. X₁ᵦ
    • গ. Xɴ
    • ঘ. Xz
    উত্তর: গ. Xɴ
    ভিটামিন এ-এর অভাবে চোখের যে রোগগুলো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সেগুলোকে সংকেত দিয়ে শ্রেণিতে ভাগ করেছে। এই সংকেতে রাতকানা রোগের প্রতীক হলো XN। রাতকানায় রোগী অল্প আলোয় বা অন্ধকারে দেখতে পায় না, কারণ রেটিনার রোডপসিন রঞ্জকটি তৈরির জন্য যথেষ্ট ভিটামিন এ থাকে না।
    মনে রাখুন:
    X1A ও X1B হলো কনজাংটিভার শুষ্কতার লক্ষণ। দ্বিতীয়টিতে বিটটস স্পট (Bitot's spot) নামের সাদা ফেনার মতো দাগ দেখা যায়।
    এসব রোগের মূল কারণ ভিটামিন এ-এর অভাব।
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই শ্রেণিবিন্যাসে আরও আছে X2 (কর্নিয়ার শুষ্কতা), X3 (কর্নিয়ার ক্ষত) এবং XS (কর্নিয়ায় দাগ)। নম্বর যত বাড়ে, রোগ তত গুরুতর হয়।
  188. ২১৪. বিটটস স্পট কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন এ
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন বি
    • গ. ভিটামিন সি
    • ঘ. ভিটামিন ডি
    উত্তর: ক. ভিটামিন এ
    বিটটস স্পট (Bitot's spot) হলো চোখের সাদা অংশে ত্রিকোণাকার ফেনার মতো ধূসর দাগ। ভিটামিন এ-এর অভাবে চোখের কনজাংটিভার কোষ শুকিয়ে যায় এবং কেরাটিন জমে এই দাগ তৈরি করে। তাই চোখের এই দাগকে ভিটামিন এ-এর অভাবের একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    এই অভাবের প্রথম লক্ষণ রাতকানা।
    অভাব আরও বাড়লে কর্নিয়া নরম হয়ে যায় এবং অন্ধত্ব হয়।
    ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল। গাজর, কলিজা ও ডিমের কুসুমে এটি প্রচুর থাকে।
    বাংলাদেশে প্রতি ছয় মাস অন্তর ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
    মায়ের প্রথম দুধ শালদুধে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে, তাই নবজাতককে সেটি খাওয়ানো উচিত।
  189. ২১৫. সূর্যকিরণ হতে যে ভিটামিন পাওয়া যায়-বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অদক্ষ শ্রমিক, ২০২৫ ও NESCO'র সাব স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. ডি
    • খ. সি
    • গ. বি
    • ঘ. এ
    উত্তর: ক. ডি
    সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকে পড়লে ত্বকের নিচে থাকা কোলেস্টেরল জাতীয় একটি যৌগ ভিটামিন ডি-তে রূপান্তরিত হয়। এজন্য ভিটামিন ডি-কে সূর্যালোকের ভিটামিন (Sunshine vitamin) বলা হয়। এটি আমাদের দেহের ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে এবং হাড়কে মজবুত রাখে।
    মনে রাখুন:
    সকালের কাঁচা রোদ গায়ে লাগালে দেহে যথেষ্ট ভিটামিন ডি তৈরি হয়।
    এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া হয়।
    অতিবেগুনি রশ্মি কাচ ভেদ করে ঠিকমতো ঢুকতে পারে না, তাই ঘরের ভেতরে জানালার পাশে বসে থাকলে ভিটামিন ডি ভালো তৈরি হয় না।
    শীতের দেশে রোদ কম, তাই সেখানে ভিটামিন ডি-এর অভাব বেশি দেখা যায়।
    ত্বক যত গাঢ় হয়, ভিটামিন ডি তৈরি হতে তত বেশি সময় লাগে।
  190. ২১৬. কোন ভিটামিন কোলেস্টেরল থেকে উৎপন্ন হয়?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. ভিটামিন-ই
    • খ. ভিটামিন-বি
    • গ. বায়োটিন
    • ঘ. ভিটামিন-ডি
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন-ডি
    আমাদের ত্বকের নিচে ৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল নামে কোলেস্টেরলের একটি রূপ থাকে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পড়লে এটি ভিটামিন ডি৩ (কোলক্যালসিফেরল)-এ পরিণত হয়। অর্থাৎ ভিটামিন ডি কোলেস্টেরল থেকেই উৎপন্ন হয়। এজন্য এটি একই সঙ্গে খাবারের ভিটামিন, আবার দেহের নিজের তৈরি করা হরমোনের মতোও কাজ করে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবীভূত হয়।
    বায়োটিন বি-কমপ্লেক্সের ভিটামিন, আর ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
    ভিটামিন ডি-এর আরেকটি রূপ ডি২ (আরগোক্যালসিফেরল), যা উদ্ভিদ ও ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়।
    ডি৩ আসে প্রাণীজ উৎস ও ত্বক থেকে, যেমন ডিমের কুসুম, কডলিভার তেল ও দুধজাত খাবারে থাকে।
    দুটিই দেহে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে।
  191. ২১৭. কোন আলোক রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে?শ্রম পরিদপ্তরের প্রশিক্ষক (শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. α- ray
    • খ. β- ray
    • গ. X- ray
    • ঘ. UV- ray
    উত্তর: ঘ. UV- ray
    সূর্যের আলোর মধ্যে তিন রকম রশ্মি থাকে: দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত ও অতিবেগুনি রশ্মি (UV ray)। এর মধ্যে অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পড়লে ত্বকের কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। অন্যদিকে আলফা, বিটা ও এক্স-রে ক্ষতিকর বিকিরণ, এগুলো ভিটামিন তৈরি করে না।
    মনে রাখুন:
    অতিবেগুনি রশ্মি বেশি লাগলে ত্বকের ক্ষতি হয়, তাই সকালের হালকা রোদই ভালো।
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস হয়।
    ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বেশিরভাগ শুষে নেয়।
    ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি তিন ভাগে বিভক্ত: UV-A, UV-B ও UV-C। এর মধ্যে UV-B ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে।
    আবার ওজোন স্তর UV-C পুরোপুরি এবং UV-B বেশিরভাগ শুষে নেয়, তাই এই স্তর ক্ষয় হলে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
  192. ২১৮. যে আলোক রশ্মি মানব শরীরে ভিটামিন তৈরি করতে সাহায্য করে তার নাম-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. আলফা রশ্মি
    • খ. ইনফ্রারেড রশ্মি
    • গ. অতিবেগুনি রশ্মি
    • ঘ. গামা রশ্মি
    উত্তর: গ. অতিবেগুনি রশ্মি
    আমাদের ত্বকের নিচে থাকা একধরনের স্নেহজাতীয় পদার্থ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পেলে ভিটামিন ডি-তে পরিণত হয়। তাই অতিবেগুনি রশ্মিকেই মানবদেহে ভিটামিন তৈরির সহায়ক রশ্মি বলা হয়। আলফা ও গামা রশ্মি পরমাণুর কেন্দ্র থেকে বের হয় এবং ক্ষতিকর, আর অবলোহিত রশ্মি আমরা তাপ হিসেবে অনুভব করি।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে।
    এর অভাবে শিশুর রিকেটস হয়।
    ডিমের কুসুম ও মাছের তেলেও ভিটামিন ডি থাকে।
    অতিবেগুনি রশ্মি জীবাণুনাশক হিসেবেও কাজ করে। এজন্য হাসপাতালে বা পানি শোধনে এর ব্যবহার আছে।
    অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান বেগুনি আলোর চেয়ে কম, তাই এটি আমাদের চোখে দেখা যায় না।
  193. ২১৯. ভিটামিন ডি-এর পরিশোষণের জন্য অপরিহার্য -পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. ক্যালসিয়াম
    • খ. গ্লুকোজ
    • গ. স্নেহজাতীয় পদার্থ
    • ঘ. প্রোটিন
    উত্তর: গ. স্নেহজাতীয় পদার্থ
    ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবীভূত হয় এমন ভিটামিন। এ ধরনের ভিটামিন পানিতে মেশে না, তাই অন্ত্র থেকে রক্তে শোষিত হতে এদের স্নেহজাতীয় পদার্থ বা চর্বির সাহায্য লাগে। খাবারে চর্বি না থাকলে এই ভিটামিনের শোষণ কমে যায়। পিত্তরস চর্বিকে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে এই শোষণে সহায়তা করে।
    মনে রাখুন:
    চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন চারটি: এ, ডি, ই ও কে।
    পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো বি-কমপ্লেক্স ও সি। এগুলো দেহে জমা থাকে না।
    পিত্ত যকৃতে তৈরি হয় এবং পিত্তথলিতে জমা থাকে। যকৃতে ও অন্ত্রে ঠিকমতো পিত্ত না পৌঁছালে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর অভাব দেখা দিতে পারে।
    ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি একসঙ্গে হাড়ের গঠনে কাজ করে, তবে ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি-এর শোষণের শর্ত নয়।
  194. ২২০. কোন ধরনের ভিটামিন দাঁত ও হাড়ের জন্য প্রয়োজন?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. ভিটামিন এ
    • খ. ভিটামিন বি
    • গ. ভিটামিন সি
    • ঘ. ভিটামিন ডি
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন ডি
    ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। এই দুটি খনিজ দিয়ে আমাদের হাড় ও দাঁত গঠিত হয়। কাজেই ভিটামিন ডি না থাকলে খাবারে ক্যালসিয়াম থাকলেও তা কাজে লাগে না এবং হাড় ও দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া হয়।
    সূর্যের আলো, ডিমের কুসুম, দুধ ও তৈলাক্ত মাছ এর ভালো উৎস।
    শিশুদের দাঁত ঠিকমতো গঠনের জন্যও ভিটামিন ডি দরকার।
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে বড়দের হাড় ভঙ্গুর হয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।
    গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেশি।
  195. ২২১. ভিটামিন ডি এর অভাবে কোন রোগ হয়?জিডিএফআই-এর এসআই, ২০২৫ ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ডি
    • ক. স্কার্ভি
    • খ. রাতকানা
    • গ. বেরিবেরি
    • ঘ. রিকেটস
    উত্তর: ঘ. রিকেটস
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস (Rickets) রোগ হয়। ভিটামিন ডি ছাড়া দেহ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। ফলে শিশুর হাড় শক্ত হয় না, নরম থেকে যায়। তখন পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায় এবং বুক ও মাথার আকারেও বদল আসে।
    মনে রাখুন:
    প্রাপ্তবয়স্কদের একই কারণে যে রোগ হয়, তার নাম অস্টিওম্যালেসিয়া।
    স্কার্ভি হয় ভিটামিন সি-এর অভাবে, রাতকানা ভিটামিন এ-এর অভাবে এবং বেরিবেরি ভিটামিন বি১-এর অভাবে।
    রিকেটস রোগে শিশুর কপাল উঁচু হয়ে যায়, বুকের হাড় সামনে ঠেলে বেরিয়ে আসে এবং দাঁত উঠতে দেরি হয়।
    সূর্যের আলো ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিমের কুসুম, দুধ ও মাছের তেল, এই রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে।
  196. ২২২. ভিটামিন 'ই'-এর কাজ কি?প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (চট্টগ্রাম), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ই
    • ক. দেহবৃদ্ধিতে সহায়তা করা
    • খ. প্রজননে সহায়তা করা
    • গ. দেহের চামড়া মসৃণ করা
    • ঘ. চুল পড়া বন্ধ করা
    উত্তর: খ. প্রজননে সহায়তা করা
    ভিটামিন ই প্রজনন ক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, তাই এর আরেক নাম প্রজনন ভিটামিন। এর রাসায়নিক নাম টকোফেরল (Tocopherol)। গ্রিক ভাষায় ‘টকোস’ মানে সন্তান জন্ম, আর ‘ফেরো’ মানে বহন করা। অর্থাৎ নামের মধ্যেই কাজটি লুকিয়ে আছে। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষের পর্দাকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবীভূত হয়।
    উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম ও গমের জীবাণু এর ভালো উৎস।
    ভিটামিন ই-এর আরেকটি কাজ হলো লোহিত রক্তকণিকাকে ভাঙন থেকে বাঁচানো।
    দীর্ঘদিন এর অভাব হলে স্নায়ু ও পেশির দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।
    উদ্ভিদের সবুজ পাতা, ডিম ও উদ্ভিজ্জ তেলেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
  197. ২২৩. ভিটামিন-ই এর অভাবে কোন রোগ হয়-রবি (সমাজকর্ম) ভর্তি, ২০০৩-০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ই
    • ক. বেরিবেরি
    • খ. স্কার্ভি
    • গ. হৃদরোগ
    • ঘ. বন্ধ্যাত্ব
    উত্তর: ঘ. বন্ধ্যাত্ব
    ভিটামিন ই-এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়, অর্থাৎ বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যায়, আর নারীর ক্ষেত্রে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। এজন্য এই ভিটামিনকে প্রজনন ভিটামিন বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    বেরিবেরি হয় ভিটামিন বি১-এর অভাবে এবং স্কার্ভি হয় ভিটামিন সি-এর অভাবে।
    ভিটামিন ই-এর রাসায়নিক নাম টকোফেরল।
    ভোজ্যতেল, বাদাম ও শস্যদানায় এটি পাওয়া যায়।
    প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই-এর অভাব সাধারণত খুব কম দেখা যায়, কারণ অনেক খাবারেই এটি থাকে।
    তবে অকালজাত শিশুদের ক্ষেত্রে এই অভাবে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
    ভিটামিন ই-কে অ্যান্টি-স্টেরিলিটি ভিটামিনও বলা হয়।
  198. ২২৪. কোন ভিটামিনের অভাবে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়?বিআরডিবি'র সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ই
    • ক. ভিটামিন ই
    • খ. ভিটামিন কে
    • গ. ভিটামিন বি
    • ঘ. ভিটামিন সি
    উত্তর: ক. ভিটামিন ই
    ভিটামিন ই-কে বলা হয় প্রজনন ভিটামিন। এটি জনন কোষের সুস্থতা বজায় রাখে। তাই এর অভাব হলে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। এর রাসায়নিক নাম টকোফেরল (Tocopherol)।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    ভিটামিন বি১২-এর অভাবে রক্তস্বল্পতা (Anemia) হয়, আর ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভোজ্যতেল ও বাদামে এটি প্রচুর থাকে।
    ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবীভূত হয় এবং দেহের চর্বিযুক্ত কলায় জমা থাকে।
    এই ভিটামিন শরীরের কোষকে মুক্ত মূলকের ক্ষতি থেকে বাঁচায়, ফলে বার্ধক্যের গতি কিছুটা ধীর হয় বলে মনে করা হয়।
  199. ২২৫. ভিটামিন 'ই' এর সবচেয়ে উৎস কোনটি?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ই
    • ক. ডাব
    • খ. শস্যদানা
    • গ. ভোজ্যতেল
    • ঘ. দুধ
    উত্তর: গ. ভোজ্যতেল
    ভিটামিন ই-এর সবচেয়ে ভালো উৎস হলো উদ্ভিজ্জ ভোজ্যতেল, যেমন সূর্যমুখী, সরিষা ও সয়াবিন তেল। গাছ এই ভিটামিন বীজে ও তেলে জমা রাখে। ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবীভূত হয় বলে তেলের মধ্যেই এটি সবচেয়ে বেশি থাকে। দুধে এর পরিমাণ খুব কম, আর ডাবের পানিতে প্রায় নেই।
    মনে রাখুন:
    বাদাম ও গমের জীবাণুতেও ভিটামিন ই প্রচুর পাওয়া যায়।
    এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে।
    এটি কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
    ভিটামিন ই খুব গরমে বা বহুবার তেল ভাজার সময় নষ্ট হয়ে যায়, তাই পুরোনো ভাজা তেলে এর পরিমাণ কমে যায়।
    ভিটামিন ই-এর সবচেয়ে সক্রিয় রূপ আলফা-টকোফেরল।
  200. ২২৬. নিচের কোনটিতে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়?GDA -এর ইমারত পরিদর্শক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ই
    • ক. বাদাম
    • খ. সামুদ্রিক মাছ
    • গ. লেবু
    • ঘ. খাসির কলিজা
    উত্তর: ক. বাদাম
    বাদামে ভিটামিন ই প্রচুর থাকে। বাদামের মধ্যে চর্বি বেশি, আর ভিটামিন ই চর্বিতে দ্রবীভূত হয়, তাই এই চর্বির সঙ্গেই ভিটামিনটি জমা থাকে। সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন এ ও ডি পাওয়া যায়, লেবুতে ভিটামিন সি আছে, আর কলিজায় ভিটামিন এ ও লোহা বেশি থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ই-এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে।
    বাদাম ছাড়া সূর্যমুখী তেল ও গমের জীবাণুতেও এটি বেশি থাকে।
    আমন্ড, চিনাবাদাম ও সূর্যমুখীর বীজ ভিটামিন ই-এর সেরা উৎসগুলোর একটি।
    প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম খেলে ভিটামিন ই-এর চাহিদা অনেকটা পূরণ হয়।
    এই ভিটামিন ত্বকের ক্ষতি রোধেও কাজে লাগে, তাই প্রসাধনীতে প্রায়ই এর ব্যবহার দেখা যায়।
  201. ২২৭. মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ কোন ভিটামিনের অভাব?কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন ই
    • ক. ভিটামিন E
    • খ. ভিটামিন D
    • গ. ভিটামিন C
    • ঘ. ভিটামিন B12
    উত্তর: ক. ভিটামিন E
    ভিটামিন ই-কে প্রজনন ভিটামিন বলা হয়। এই ভিটামিনের অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়, ফলে নারী ও পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। এটি কোষের পর্দার সুরক্ষার কাজেও লাগে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি হাড় গঠনে সাহায্য করে।
    ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন বি১২-এর অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়।
    ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
    ভিটামিন ই-এর রাসায়নিক নাম টকোফেরল।
    ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা প্রথম দেখেন, এই ভিটামিনের অভাবে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।
    ভিটামিন ই-এর অভাব ছাড়াও নারীদের বন্ধ্যাত্বের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন হরমোনের গোলমাল।
    তবে পরীক্ষার প্রসঙ্গে প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত ভিটামিন হিসেবে ভিটামিন ই-কেই ধরা হয়।
  202. ২২৮. গর্ভবতী মায়েদের রক্তপাত হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন কে
    • ক. কে
    • খ. বি
    • গ. সি
    • ঘ. ডি
    উত্তর: ক. কে
    রক্ত জমাট বাঁধার জন্য যে প্রোথ্রোম্বিন প্রোটিন লাগে, তা তৈরি করতে ভিটামিন কে দরকার। তাই এই ভিটামিনের অভাব হলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না এবং শরীরের ভেতরে-বাইরে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় এবং নবজাতকের ক্ষেত্রে এই অভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জন্মের পরপরই অনেক শিশুকে ভিটামিন কে দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    পালংশাক, ব্রকলি ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি ভিটামিন কে-এর ভালো উৎস।
    অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও কিছু ভিটামিন কে তৈরি করে।
    ভিটামিন কে চর্বিতে দ্রবীভূত হয়, তাই এটি শোষণের জন্যও পিত্তরস ও চর্বি দরকার।
    এই ভিটামিনের অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়, আর সামান্য আঘাতেও অনেকক্ষণ রক্ত বন্ধ হয় না।
    এজন্য ভিটামিন কে-কে অ্যান্টি-হেমোরেজিক ভিটামিন বলা হয়।
  203. ২২৯. কোনটি ভিটামিন নয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন পরিচিতি
    • ক. থায়ামিন
    • খ. অ্যাসকরবিক এসিড
    • গ. রেটিনল
    • ঘ. আয়রন
    উত্তর: ঘ. আয়রন
    আয়রন (Fe) একটি ধাতব মৌল, ভিটামিন নয়। মানুষের দেহে এটি খনিজ হিসেবে প্রয়োজন হয় এবং লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে এর বড় ভূমিকা আছে। অন্যদিকে থায়ামিন হলো ভিটামিন বি১, অ্যাসকরবিক এসিড হলো ভিটামিন সি এবং রেটিনল হলো ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন জৈব যৌগ, আর আয়রন, ক্যালসিয়াম ও আয়োডিন অজৈব খনিজ।
    আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা (Anemia) হয়।
    থায়ামিন (বি১), রাইবোফ্লাভিন (বি২) ও নিয়াসিন (বি৩) হলো বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনের সদস্য।
    খনিজ উপাদানের মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও দস্তা।
    এগুলো আমরা শাকসবজি, ফল, মাছ ও দুধ থেকে পাই।
  204. ২৩০. মানবদেহে শতকরা কতভাগ খনিজ লবণ থাকে?পিএসসির সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. ১৫%
    • খ. ১০%
    • গ. ২%
    • ঘ. ৪%
    উত্তর: ঘ. ৪%
    মানবদেহের ওজনের প্রায় ৪ শতাংশ হলো খনিজ লবণ। এর বেশিরভাগই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা হাড় ও দাঁত গঠন করে। বাকিটা সোডিয়াম, পটাশিয়াম, লোহা, আয়োডিন ইত্যাদি, যেগুলো পরিমাণে অল্প হলেও রক্ত, স্নায়ু ও পেশির কাজে অপরিহার্য।
    মনে রাখুন:
    দেহে খনিজ লবণ তৈরি হয় না, খাবার থেকে নিতে হয়।
    দেহে পানি প্রায় ৬০–৭০ শতাংশ, প্রোটিন প্রায় ১৬ শতাংশ ও চর্বি প্রায় ১৪ শতাংশ থাকে।
    খনিজ লবণ শক্তি জোগায় না, কিন্তু দেহের গঠন ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
    মানুষের দেহে প্রায় ২০টির মতো খনিজ উপাদান প্রয়োজন হয়, তাই একটু একটু করে এগুলো পেতে হলে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া দরকার।
    বেশি পরিমাণে লাগে যেসব খনিজ, সেগুলোকে মেজর মিনারেল (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস) আর অল্প পরিমাণে লাগে যেগুলো, তাদের মাইনর মিনারেল (লোহা, আয়োডিন, দস্তা) বলে।
  205. ২৩১. মানবদেহে লৌহ সঞ্চিত থাকে-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লৌহ ও আয়রন
    • ক. যকৃতে
    • খ. মস্তিষ্কে
    • গ. অন্ত্রে
    • ঘ. অস্থিতে
    উত্তর: ক. যকৃতে
    আমাদের দেহে লোহা প্রধানত হিমোগ্লোবিনে থাকে, আর বাড়তি লোহা ফেরিটিন নামের প্রোটিনের সঙ্গে যকৃতে জমা থাকে। প্লীহা ও অস্থিমজ্জাতেও কিছু লোহা সঞ্চিত হয়। দরকার পড়লে যকৃৎ সেখান থেকে লোহা ছেড়ে দেয়, ফলে রক্তে নতুন হিমোগ্লোবিন তৈরি করা যায়।
    মনে রাখুন:
    লোহার অভাবে রক্তস্বল্পতা (Anemia) হয়।
    লোহিত রক্তকণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন। পুরোনো কণিকা প্লীহা ও যকৃতে ভেঙে যায় এবং তার লোহা আবার ব্যবহার হয়।
    লোহার ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও ফ্যাকাশে ত্বক দেখা দেয়।
    লোহা বেশি জমে গেলেও যকৃতের ক্ষতি হতে পারে।
    যকৃৎ আমাদের দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি এবং রক্ত, চর্বি ও বিভিন্ন ভিটামিন জমা রাখার ভাণ্ডারও।
  206. ২৩২. অস্থির বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-বাংলাদেশ টেলিভিশন এর বিজ্ঞাপন অফিসার (গ্রেড-২), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়াম
    • ক. ক্যালসিয়াম
    • খ. শর্করা
    • গ. স্নেহজাতীয় পদার্থ
    • ঘ. প্রোটিন
    উত্তর: ক. ক্যালসিয়াম
    অস্থি বা হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি লাগে ক্যালসিয়াম (Ca)। হাড়ের শক্ত অংশটি আসলে ক্যালসিয়াম ফসফেটের লবণ দিয়ে গড়া। এজন্য শিশু ও কিশোর বয়সে খাবারে যথেষ্ট ক্যালসিয়াম না থাকলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস দুধ, ছোট মাছ, ডিম ও সবুজ শাকসবজি।
    ক্যালসিয়াম দাঁত গঠন, রক্ত জমাট বাঁধা ও পেশি সংকোচনেও সাহায্য করে।
    ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়।
    হাড়ের মতো দাঁতও ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসে গঠিত। দাঁতের উপরের এনামেল স্তর দেহের সবচেয়ে শক্ত উপাদান।
    গর্ভাবস্থা ও দুগ্ধদানের সময় মায়েদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়।
    বয়স বাড়লে বিশেষ করে নারীদের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হয়, তাই এই বয়সেও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম লাগে।
  207. ২৩৩. হাড়ের বৃদ্ধি হ্রাস পায় কোন খনিজের অভাবে?DMLC -এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ক্যালসিয়াম
    • ক. Ca
    • খ. I
    • গ. P
    • ঘ. Fe
    উত্তর: ক. Ca
    হাড় বড় হতে ক্যালসিয়াম (Ca) লাগে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস মিলে হাড়ের শক্ত কাঠামো গড়ে তোলে। খাবারে ক্যালসিয়াম কম পড়লে শিশুর হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, আর বড়দের হাড় ক্ষয় হয়ে অস্টিওপোরোসিস রোগ হতে পারে। আয়োডিন (I) থাইরয়েডের কাজে লাগে এবং লোহা (Fe) রক্ত তৈরিতে লাগে।
    মনে রাখুন:
    দেহের প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতে থাকে।
    ক্যালসিয়ামের সংকেত Ca এবং ফসফরাসের সংকেত P।
    প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে।
    শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেটস এবং বড়দের ক্ষেত্রে অস্টিওম্যালেসিয়া ও অস্টিওপোরোসিস হয়।
    ফসফরাস (P) ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে হাড় গঠন করে, তবে হাড়ের বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা ক্যালসিয়ামের।
  208. ২৩৪. ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম সাহায্য করে পেশির-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. প্রসারণে
    • খ. সংকোচনে
    • গ. শক্তিবর্ধনে
    • ঘ. বৃদ্ধিতে
    উত্তর: খ. সংকোচনে
    ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম মিলে আমাদের পেশির সংকোচনে সাহায্য করে। স্নায়ু থেকে সংকেত এলে ক্যালসিয়াম আয়ন পেশিকোষে ছড়িয়ে পড়ে এবং পেশি সংকুচিত হয়। পটাশিয়াম আয়ন কোষের ভেতরের বৈদ্যুতিক ভারসাম্য ঠিক রেখে এই কাজে সহায়তা করে। এভাবেই হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনও নিয়মিত থাকে।
    মনে রাখুন:
    পটাশিয়ামের অভাবে পেশি দুর্বল হয় এবং হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে।
    ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম উভয়ই স্নায়ুর সংকেত পরিবহনেও লাগে।
    ক্যালসিয়ামের মতো সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামও স্নায়ু ও পেশির কাজে অংশ নেয়।
    পেশির সংকোচনের জন্য শক্তি আসে এটিপি (ATP) থেকে।
    দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে পেশিতে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
  209. ২৩৫. সামুদ্রিক মাছে পাওয়া যায় -BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়োডিন
    • ক. আয়োডিন
    • খ. ক্যালসিয়াম
    • গ. ফসফরাস
    • ঘ. লৌহ
    উত্তর: ক. আয়োডিন
    সামুদ্রিক মাছ ও শৈবালে আয়োডিন (Iodine) প্রচুর পরিমাণে থাকে। সমুদ্রের পানি থেকে এসব প্রাণী ও উদ্ভিদ আয়োডিন শোষণ করে জমা রাখে। আমাদের থাইরয়েড গ্রন্থির থাইরক্সিন হরমোন তৈরিতে আয়োডিন অপরিহার্য।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড বা গয়টার (Goitre) রোগ হয়।
    পাহাড়ি এলাকার খাবার ও পানিতে আয়োডিন কম থাকে, তাই সেখানে গলগণ্ডের প্রকোপ বেশি।
    আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলে এই অভাব পূরণ হয়।
    আয়োডিনের সংকেত I এবং এটি একটি হ্যালোজেন মৌল।
    আয়োডিন একটি মাইনর মিনারেল, অর্থাৎ অল্প পরিমাণে লাগে।
    প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন প্রায় ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন দরকার।
    সমুদ্রের মাছ ছাড়াও চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন প্রচুর থাকে।
  210. ২৩৬. খাবার লবণের সাথে বর্তমানে আয়োডিন মিশানো হয় কেন?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়োডিন
    • ক. গলগণ্ড রোগ যাতে না হয়
    • খ. ম্যালেরিয়া রোগ যাতে না হয়
    • গ. বেরিবেরি রোগ যাতে না হয়
    • ঘ. আমাশয় রোগ যাতে না হয়
    উত্তর: ক. গলগণ্ড রোগ যাতে না হয়
    আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড বা গয়টার (Goitre) রোগ হয়। কারণ থাইরক্সিন হরমোন তৈরির প্রধান উপাদান আয়োডিন। আমাদের দেশের অনেক এলাকায় খাবারে আয়োডিন কম থাকে, তাই সরকার খাবার লবণে আয়োডিন মেশানো বাধ্যতামূলক করেছে।
    মনে রাখুন:
    শিশুর বুদ্ধি বিকাশে আয়োডিনের বড় ভূমিকা আছে। গর্ভাবস্থায় অভাব হলে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
    ম্যালেরিয়া হয় প্লাজমোডিয়াম পরজীবী দিয়ে, বেরিবেরি হয় ভিটামিন বি১-এর অভাবে।
    আমাদের দেশে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ ঠেকাতে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়।
    আয়োডিনের অভাবে বড়দের গলগণ্ড হয়, আর গর্ভবতী মায়ের অভাব হলে সন্তানের ক্রেটিনিজম হতে পারে।
  211. ২৩৭. একজন সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের BMI কত হওয়া উচিত?BPSC সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের ভরসূচি (BMI)
    • ক. ১৫.০০ - ১৮.৪০
    • খ. ১৮.৫০ - ২৪.৯০
    • গ. ২৫.০০ - ২৯.৯০
    • ঘ. ৩০.০০ - ৩৫.০০
    উত্তর: খ. ১৮.৫০ - ২৪.৯০
    দেহের ভরসূচি বা বডি মাস ইনডেক্স (BMI) হলো ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের BMI ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে থাকা উচিত। এই সীমা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
    মনে রাখুন:
    ১৮.৫-এর কম হলে ওজন কম।
    ২৫.০ থেকে ২৯.৯ হলে ওজন বেশি বা প্রাক-স্থূল (Overweight)।
    ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা (Obesity)।
    নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে একই সীমা ধরা হলেও বাংলাদেশসহ এশিয়ার মানুষের ক্ষেত্রে ২৩ বা তার বেশি BMI-কে অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।
    BMI হিসাবের এককগুলো হলো কেজি এবং মিটারের বর্গ।
  212. ২৩৮. তাসনিম এবং তাফিফ, উভয়ের উচ্চতা ৫ফুট ৯ ইঞ্চি এবং ওজন যথাক্রমে ৫৯ এবং ৭৩ কিলোগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (২০০০) সূচক অনুসারে তাদের BMI (Body Mass Index) শ্রেণী তুলনা কর-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের ভরসূচি (BMI)
    • ক. তাদের দুজনেরই ওজন স্বাভাবিক
    • খ. তাসনিমের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তাফিফের ওজন স্বাভাবিক
    • গ. তাসনিমের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তাফিফ প্রাক স্থূল
    • ঘ. তাসনিম প্রাক স্থূল, তাফিফের স্থূলতা ক্লাস-১
    উত্তর: ক. তাদের দুজনেরই ওজন স্বাভাবিক
    BMI বের করার সূত্র হলো ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার)। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি মানে প্রায় ১.৭৫ মিটার, অর্থাৎ উচ্চতার বর্গ প্রায় 3.07। তাসনিমের BMI = 59 ÷ 3.07 ≈ 19.2 এবং তাফিফের BMI = 73 ÷ 3.07 ≈ 23.8। দুটি মানই ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে পড়ে, তাই দুজনেরই ওজন স্বাভাবিক।
    মনে রাখুন:
    ১৮.৫-এর কম হলে ওজন কম।
    ২৫.০–২৯.৯ হলে ওজন বেশি বা প্রাক-স্থূল।
    ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা।
    BMI সংখ্যাটি শরীরের চর্বি সরাসরি মাপে না, তাই কোনো খেলোয়াড়ের পেশি বেশি থাকলে BMI বেশি দেখালেও সে স্থূল নাও হতে পারে।
    তবুও BMI একটি সহজ ও সুবিধাজনক সূচক বলে এটি সবখানে ব্যবহার করা হয়।
  213. ২৩৯. BMI কত হলে Obese বলা হয়?DGNM'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের ভরসূচি (BMI)
    • ক. >30
    • খ. >15
    • গ. >24
    • ঘ. >20
    উত্তর: ক. >30
    BMI ৩০-এর বেশি হলে একজন মানুষকে স্থূল বা Obese ধরা হয়। BMI হলো ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবে ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ স্বাভাবিক, ২৫ থেকে ২৯.৯ প্রাক-স্থূল (Overweight), আর ৩০ বা তার বেশি স্থূলতা।
    মনে রাখুন:
    স্থূলতা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
    ৩০ থেকে ৩৪.৯ হলে স্থূলতা শ্রেণি-১, ৩৫ থেকে ৩৯.৯ হলে শ্রেণি-২ এবং ৪০ বা তার বেশি হলে শ্রেণি-৩।
    পেটের চারপাশের মাপ ও কোমর-নিতম্বের অনুপাতও স্থূলতার ঝুঁকি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
    ওজনের চেয়ে খাবারের ধরন ও পরিমাণ এবং শারীরিক পরিশ্রম স্থূলতার বড় কারণ।
  214. ২৪০. স্থূলতার পরিমাপন কোনটি?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দেহের ভরসূচি (BMI)
    • ক. উষ্ণতা
    • খ. ওজন
    • গ. বিএমআর
    • ঘ. বিএমআই
    উত্তর: ঘ. বিএমআই
    মানুষ স্থূল কি না, তা মাপার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো বিএমআই (BMI) বা দেহের ভরসূচি। এতে ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার) হিসাব করে একটি সংখ্যা পাওয়া যায়, আর সেই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় ওজন স্বাভাবিক, কম না বেশি।
    মনে রাখুন:
    বিএমআর (BMR) হলো মৌল বিপাক হার, অর্থাৎ বিশ্রামে থাকা অবস্থায় দেহের শক্তি খরচের হার।
    উষ্ণতা মাপা হয় থার্মোমিটার দিয়ে এবং ওজন মাপা হয় নিক্তি দিয়ে।
    BMI ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা ধরা হয়।
    ওজন কম হওয়া বা পুষ্টিহীনতার সূচক হিসেবেও BMI ব্যবহার হয়: ১৮.৫-এর কম হলে ওজন কম ধরা হয়।
    ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া এবং কম শারীরিক পরিশ্রম স্থূলতা বাড়ায়।
  215. ২৪১. শিশুদের ভিটামিন A ক্যাপসুল কতবার খাওয়াতে হয়?মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অফিস সহায়ক, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ১
    • খ. ২
    • গ. ৩
    • ঘ. ৪
    উত্তর: খ. ২
    বাংলাদেশে শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বছরে ২ বার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়, অর্থাৎ প্রতি ৬ মাস পরপর। জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই ক্যাপসুল দেওয়া হয়। ভিটামিন এ এর অভাবে শিশুর চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যেতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। তাই সরকারি কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের বিনামূল্যে ক্যাপসুল দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হয়।
    ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হয়।
  216. ২৪২. Milk is a poor source of-বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. Vitamins
    • খ. Protein
    • গ. Iron
    • ঘ. Calcium
    উত্তর: গ. Iron
    দুধে আমিষ, ক্যালসিয়াম আর কয়েকটি ভিটামিন প্রচুর থাকে, কিন্তু আয়রন (Iron) থাকে খুব কম। তাই শুধু দুধ খেয়ে বড় হওয়া শিশুর রক্তস্বল্পতা হতে পারে। আয়রনের ভালো উৎস কলিজা, মাংস, কচুশাক আর ডাল। শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধই যথেষ্ট, কারণ জন্মের সময় শিশুর দেহে জমা আয়রন থাকে। এরপর মায়ের দুধের সঙ্গে আয়রনসমৃদ্ধ পরিপূরক খাবার দিতে হয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন অপরিহার্য, আর এর অভাবে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয়।
    মনে রাখুন:
    দুধে ল্যাকটোজ নামের শর্করা থাকে।
    দুধের প্রধান আমিষ কেসিন।
  217. ২৪৩. হাড় ও দাঁত মজবুত করে কোনটি?এনটিআরসিএ, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. ক্যালসিয়াম
    • খ. আয়োডিন
    • গ. আয়রন
    • ঘ. পটাশিয়াম
    উত্তর: ক. ক্যালসিয়াম
    হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেট, তাই ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত গঠন করে এবং মজবুত রাখে। দুধ, দই, ছোট মাছ ও শাকসবজি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং বড়দের অস্টিওপোরোসিস হতে পারে, যাতে হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। রক্ত জমাট বাঁধা ও পেশি সংকোচনেও ক্যালসিয়াম সহায়তা করে। দাঁতের উপরিভাগের শক্ত আস্তরণকে এনামেল (Enamel) বলে, যা দেহের সবচেয়ে শক্ত অংশ। দাঁত ও মাড়ির যত্নে ফ্লোরাইডও সহায়ক।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিনের অভাবে: গলগণ্ড
    আয়রনের অভাবে: রক্তশূন্যতা
  218. ২৪৪. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ৮৪৩৩), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ‘ডি’
    • খ. ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স
    • গ. ভিটামিন ‘সি’
    • ঘ. ভিটামিন ‘এ’
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন ‘এ’
    ভিটামিন এ আমাদের চোখের রেটিনায় রোডপসিন নামে একটি রঞ্জক তৈরিতে সাহায্য করে, যা কম আলোয় দেখতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন এ-এর অভাবে সন্ধ্যার পর বা কম আলোয় চোখে দেখতে সমস্যা হয়, একে রাতকানা রোগ বলে। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, কলিজা ও সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই দেহে যকৃতে জমা থাকে। ত্বক, হাড় ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্যও এটি প্রয়োজনীয়, আর অভাব দীর্ঘ হলে কর্নিয়া শুকিয়ে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেটস।
    ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি।
    ভিটামিন বি১-এর অভাবে বেরিবেরি।
  219. ২৪৫. শুকানোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় কারণ-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৪র্থ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. শুকানো প্রক্রিয়ায় তাপে জীবাণু মরে
    • খ. পচনের ক্রিয়ায় পানি লাগে
    • গ. শুষ্ক খাদ্যে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব কম
    • ঘ. পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
    উত্তর: ঘ. পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
    খাবার পচে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো অণুজীবের কারণে। এই অণুজীবগুলো বেঁচে থাকতে ও বংশ বাড়াতে পানি লাগে। খাদ্য শুকিয়ে ফেললে তার ভেতরের পানি সরে যায়, ফলে জীবাণু জন্মাতে বা বাড়তে পারে না এবং খাবার অনেক দিন ভালো থাকে। এ কারণেই আমরা শুঁটকি মাছ, শুকনো মরিচ বা কিশমিশ দীর্ঘদিন রেখে খেতে পারি। শুকানোর ফলে খাবারের নিজস্ব এনজাইমের কাজও ধীর হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    লবণ বা চিনি দিয়ে আচার-জেলি সংরক্ষণও একই নীতিতে কাজ করে, কারণ এগুলো অভিস্রবণের মাধ্যমে জীবাণুর কোষ থেকে পানি টেনে নেয়।
    ফ্রিজের কম তাপমাত্রায় জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়।
  220. ২৪৬. আমলকী, লেবু, পেয়ারা কোন ভিটামিনের উৎস?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৬ষ্ঠ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন – C
    • খ. ভিটামিন- D
    • গ. ভিটামিন – E
    • ঘ. ভিটামিন- K
    উত্তর: ক. ভিটামিন – C
    আমলকী, লেবু, পেয়ারা, কমলা ও আনারসের মতো টক স্বাদের ফলে প্রচুর ভিটামিন সি (Vitamin C) থাকে, এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। দেশি ফলের মধ্যে আমলকীতে ভিটামিন সি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই ভিটামিন দাঁতের মাড়ি ও ত্বক সুস্থ রাখে, ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, তখন দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় ও রক্ত পড়ে। ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় এবং তাপে সহজে নষ্ট হয়, তাই এসব ফল কাঁচা খাওয়াই ভালো।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি-র অভাবে রিকেটস হয়।
    ভিটামিন ই-কে প্রজনন সহায়ক ভিটামিন বলা হয়।
    ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  221. ২৪৭. Which of the following sweeteners does not provide any energy to the body?বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. Fructose
    • খ. Glucose
    • গ. Maltose
    • ঘ. Saccharin
    উত্তর: ঘ. Saccharin
    ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও মল্টোজ তিনটিই শর্করা (Carbohydrate)। শরীর এগুলোকে ভেঙে শক্তি তৈরি করে, প্রতি গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু স্যাকারিন (Saccharin) একটি কৃত্রিম মিষ্টিকারক, শরীর একে ভাঙতে পারে না এবং এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বেরিয়ে যায়। তাই এটি মিষ্টি স্বাদ দিলেও কোনো শক্তি দেয় না, আর এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা চিনির বদলে এটি ব্যবহার করেন।
    মনে রাখুন:
    স্যাকারিন চিনির চেয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গুণ বেশি মিষ্টি।
    আরেকটি পরিচিত কৃত্রিম মিষ্টিকারক অ্যাসপারটেম।
    প্রাকৃতিক শর্করার মধ্যে ফ্রুক্টোজ সবচেয়ে মিষ্টি।
  222. ২৪৮. Which of the following vitamins helps in blood clotting?বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin A
    • খ. Vitamin C
    • গ. Vitamin D
    • ঘ. Vitamin K
    উত্তর: ঘ. Vitamin K
    রক্ত জমাট বাঁধার (Blood Clotting) জন্য যকৃতে প্রোথ্রোম্বিনসহ কয়েকটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি হয়, আর এগুলো তৈরিতে ভিটামিন কে অপরিহার্য। তাই এর অভাবে শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত সহজে থামে না। সবুজ শাকসবজি ভিটামিন কে-র ভালো উৎস, আর আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও কিছু ভিটামিন কে তৈরি করে। নবজাতকের অন্ত্রে এমন ব্যাকটেরিয়া থাকে না বলে জন্মের পরপরই শিশুকে ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
    ভিটামিন সি-র অভাবে স্কার্ভি হয়।
    ভিটামিন ডি-র অভাবে রিকেটস হয়।
    ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয়।
  223. ২৪৯. A person who wants to increase the level of good cholesterol in his/her body, should -বাংলাদেশ ব্যাংক, অফিসার (জেনারেল), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চর্বি ও কোলেস্টেরল
    • ক. take vitamins
    • খ. eat green leafy vegetables
    • গ. sleep sufficiently
    • ঘ. take omega-3 fatty acids
    উত্তর: ঘ. take omega-3 fatty acids
    কোলেস্টেরল (Cholesterol) রক্তে লাইপোপ্রোটিনের সঙ্গে চলাচল করে। এর মধ্যে এইচডিএল রক্তনালি থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নেয়, তাই একে ভালো কোলেস্টেরল বলে। অন্যদিকে এলডিএল রক্তনালির দেয়ালে জমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেল, তিসি ও আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। তাই শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে চাইলে ওমেগা-৩ গ্রহণ করা উচিত।
    মনে রাখুন:
    নিয়মিত ব্যায়াম করলেও এইচডিএল বাড়ে।
    ধূমপান এইচডিএল কমিয়ে দেয়।
    কোলেস্টেরল শুধু প্রাণিজ খাদ্যে থাকে, উদ্ভিজ্জ তেলে থাকে না।
  224. ২৫০. BMI কী নির্দেশ করে?বাংলাদেশ রেলওয়ে, টিকেট কালেক্টর, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিএমআই
    • ক. মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
    • খ. পেশি ও চর্বির সূচক
    • গ. উচ্চতা ও স্থূলতার সূচক
    • ঘ. শক্তি খরচের সূচক
    উত্তর: ক. মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
    বিএমআই (BMI) এর পূর্ণরূপ Body Mass Index। দেহের ওজনকে (কেজিতে) উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করে এই সংখ্যাটি পাওয়া যায়: BMI = ওজন ÷ (উচ্চতা)²। উচ্চতার তুলনায় ওজন কতটা, সেটি দেখে আমরা বুঝতে পারি দেহের গড়ন স্বাভাবিক নাকি দেহে চর্বি বেশি জমেছে। তাই BMI-কে দেহের গড়ন ও চর্বির একটি সহজ সূচক বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ৬৪ কেজি ওজন আর ১.৬ মিটার উচ্চতার মানুষের BMI = 64 ÷ 2.56 = 25।
    মনে রাখুন:
    BMI ১৮.৫-এর কম হলে ওজন কম ধরা হয়।
    ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলো স্বাভাবিক।
    ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে অতিরিক্ত ওজন, আর ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা।
  225. ২৫১. কোনটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এডমিন এসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. ফসফরাস
    • খ. পটাশিয়াম
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. খনিজলবণ
    উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম
    আমাদের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম (Calcium)। শিশুর দাঁত মাড়ির ভেতরে তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসতে প্রচুর ক্যালসিয়াম লাগে। খাদ্যে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে দাঁত গঠন ধীর হয়ে যায়, তাই দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং হাড়ও নরম ও দুর্বল থাকে। খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে দেহের ভিটামিন ডি দরকার হয়, তাই এই দুইটির অভাব প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। দুধ, ডিম, ছোট মাছ ও সবুজ শাকসবজি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।
    মনে রাখুন:
    ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের রিকেটস ও বয়স্কদের অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
    দেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা খনিজ মৌল ক্যালসিয়াম।
  226. ২৫২. BMI কি নির্দেশ করে?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিএমআই
    • ক. মানবদেহের গঠন ও চর্বির সূচক নির্দেশ করে
    • খ. পেশী ও চর্বির সূচক নির্দেশ করে
    • গ. উচ্চতা ও স্থূলতার সূচক নির্দেশ করে
    • ঘ. শক্তির খরচের সূচক নির্দেশ করে
    উত্তর: ক. মানবদেহের গঠন ও চর্বির সূচক নির্দেশ করে
    বিএমআই (BMI) এর পূর্ণরূপ Body Mass Index। দেহের ওজনকে (কেজিতে) উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করে এই সংখ্যাটি পাওয়া যায়: BMI = ওজন ÷ (উচ্চতা)²। উচ্চতার তুলনায় ওজন কতটা, সেটি দেখে আমরা বুঝতে পারি দেহের গড়ন স্বাভাবিক নাকি দেহে চর্বি বেশি জমেছে। তাই BMI-কে দেহের গড়ন ও চর্বির একটি সহজ সূচক বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ৬৪ কেজি ওজন আর ১.৬ মিটার উচ্চতার মানুষের BMI = 64 ÷ 2.56 = 25।
    মনে রাখুন:
    BMI ১৮.৫-এর কম হলে ওজন কম ধরা হয়।
    ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলো স্বাভাবিক।
    ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে অতিরিক্ত ওজন, আর ৩০ বা তার বেশি হলে স্থূলতা।
  227. ২৫৩. কোন ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin-A
    • খ. Vitamin-D
    • গ. Vitamin-B
    • ঘ. Vitamin-E
    উত্তর: গ. Vitamin-B
    দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে ভিটামিন দুই ধরনের। ভিটামিন বি (Vitamin B) ও সি পানিতে দ্রবণীয়, আর ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে বা স্নেহপদার্থে দ্রবণীয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন দেহে বেশি জমা থাকতে পারে না, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারে এদের নিয়মিত থাকা দরকার। শাকসবজি বেশি ধুয়ে কাটলে বা অনেকক্ষণ সেদ্ধ করলে এই ভিটামিনগুলো পানির সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    পানিতে দ্রবণীয়: B ও C।
    চর্বিতে দ্রবণীয়: A, D, E ও K।
    ভিটামিন বি অনেকগুলো ভিটামিনের সমষ্টি, তাই একে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলে।
  228. ২৫৪. শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনটি?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোলেস্টেরল
    • ক. LDL
    • খ. HDL
    • গ. FDL
    • ঘ. $CO_2$
    উত্তর: ক. LDL
    রক্তে কোলেস্টেরল প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লাইপোপ্রোটিন রূপে চলাচল করে। এদের মধ্যে LDL (Low Density Lipoprotein) যকৃৎ থেকে কোলেস্টেরল দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায় এবং বেশি হলে তা ধমনির ভেতরের দেয়ালে জমিয়ে ফেলে। এতে ধমনি সরু ও শক্ত হয়ে যায়, ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। এজন্য LDL-কে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বলা হয়। অন্যদিকে HDL রক্ত থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল তুলে যকৃতে ফেরত নেয়, তাই এটি ‘ভালো কোলেস্টেরল’।
    মনে রাখুন:
    LDL বাড়ে বেশি চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবারে।
    নিয়মিত ব্যায়ামে HDL বাড়ে।
  229. ২৫৫. চা-পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, হিসাবরক্ষক, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. E
    • খ. K
    • গ. B Complex
    • ঘ. A
    উত্তর: গ. B Complex
    চা-পাতায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের (Vitamin B Complex) কয়েকটি উপাদান থাকে, যেমন রাইবোফ্লাভিন ও নিয়াসিন। এগুলো খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। তবে চায়ে ভিটামিনের চেয়েও বেশি পরিচিত দুটি উপাদান হলো ক্যাফেইন ও ট্যানিন। ক্যাফেইন স্নায়ুকে সতেজ করে বলে চা খেলে ক্লান্তি কমে যায়, আর ট্যানিনের কারণে চায়ের স্বাদ কষা লাগে এবং লিকারের রং গাঢ় হয়। বেশি চা খেলে ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন শোষণ কমিয়ে দিতে পারে।
    মনে রাখুন:
    চায়ের উত্তেজক উপাদান: ক্যাফেইন।
    চায়ের কষা স্বাদের উপাদান: ট্যানিন।
    কফিতেও ক্যাফেইন থাকে।
  230. ২৫৬. দেহ গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন-বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বিভিন্ন পদ, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. শর্করা
    • খ. ভিটামিন
    • গ. পানি
    • ঘ. আমিষ
    উত্তর: ঘ. আমিষ
    আমাদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে তৈরি, আর এই কোষ, পেশি, ত্বক, চুল ও রক্তের মূল গাঠনিক উপাদান আমিষ বা প্রোটিন (Protein)। শিশুর বেড়ে ওঠার সময় নতুন কোষ তৈরিতে এবং বড়দের দেহে প্রতিদিন ক্ষয়ে যাওয়া কোষ পূরণে আমিষ লাগে। তাই আমিষকে দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণের প্রধান খাদ্য উপাদান বলা হয়। শর্করা মূলত শক্তি জোগায় আর ভিটামিন দেহের নানা কাজ নিয়ন্ত্রণ করে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমিষ ভেঙে অ্যামাইনো এসিড তৈরি হয়, যা দিয়ে দেহ নিজের প্রয়োজনীয় প্রোটিন বানায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাণিজ আমিষ: মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ।
    উদ্ভিজ্জ আমিষ: ডাল, শিমের বিচি ও সয়াবিন।
    আমিষের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর ও ম্যারাসমাস রোগ হয়।
  231. ২৫৭. কোন জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে জীব শক্তি পায়?খাদ্য অধিদপ্তর, উপখাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. আমিষ
    • খ. শর্করা
    • গ. লবণ
    • ঘ. ভিটামিন
    উত্তর: খ. শর্করা
    শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। কোষের ভেতরে শ্বসন প্রক্রিয়ায় এই গ্লুকোজ অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ভেঙে যায় এবং দেহের কাজের জন্য শক্তি ও তাপ উৎপন্ন হয়। আমাদের প্রতিদিনের মোট শক্তির বড় অংশ আসে ভাত, রুটি, আলু ও চিনির মতো শর্করা থেকে, তাই শর্করাকে প্রধান শক্তিদায়ক খাদ্য বলা হয়। আমিষ ও চর্বি থেকেও শক্তি পাওয়া যায়, তবে আমিষের মূল কাজ দেহ গঠন।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    ১ গ্রাম চর্বি থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৯ কিলোক্যালরি, যা সবচেয়ে বেশি।
    দেহে বাড়তি গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে যকৃতে জমা থাকে।
  232. ২৫৮. কোন আলোক রশ্মি ত্বকে ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে?খাদ্য অধিদপ্তর, উপখাদ্য পরিদর্শক (৩ ডিসেম্বর), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. বিটা রশ্মি
    • খ. আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
    • গ. আলফা রশ্মি
    • ঘ. এক্সরে রশ্মি
    উত্তর: খ. আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
    সূর্যের আলোয় অতিবেগুনি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি (Ultraviolet Ray) থাকে, যা চোখে দেখা যায় না। এর একটি অংশ, যাকে UV-B বলে, আমাদের ত্বকে পড়লে ত্বকের নিচে থাকা কোলেস্টেরল থেকে তৈরি একটি উপাদান ভিটামিন ডি-তে রূপান্তরিত হয়। এজন্য ভিটামিন ডি-কে ‘সানশাইন ভিটামিন’ বলা হয়। ভিটামিন ডি খাবার থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, তাই হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে এটি জরুরি। আলফা ও বিটা রশ্মি তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বের হয়, এরা ত্বকে ভিটামিন তৈরি করে না।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস ও বড়দের অস্টিওম্যালেশিয়া হয়।
    বেশি অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
    ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বেশির ভাগ আটকে দেয়।
  233. ২৫৯. মানবদেহে কত গ্রাম শর্করা জমা থাকে?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক (১৮ মার্চ), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শর্করা
    • ক. ২৫০ – ৩০০
    • খ. ৩০০ - ৪০০
    • গ. ৩৫৫ – ৪৫০
    • ঘ. ১২০০ - ১৬০০
    উত্তর: খ. ৩০০ - ৪০০
    আমরা যে শর্করা খাই, তা হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। দেহের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের বাড়তি গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন (Glycogen) রূপে যকৃৎ ও পেশিতে জমা থাকে, এ জন্য গ্লাইকোজেনকে প্রাণিজ শ্বেতসার বলা হয়। একজন সুস্থ মানুষের দেহে এভাবে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম শর্করা সঞ্চিত থাকে। উপবাস বা কঠোর পরিশ্রমের সময় যকৃৎ এই গ্লাইকোজেন ভেঙে আবার গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে পাঠায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। শর্করা দেহের প্রধান শক্তির উৎস, ১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    শর্করার অতিরিক্ত অংশ শেষ পর্যন্ত চর্বি হিসেবেও জমা হতে পারে।
    রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন হরমোন।
  234. ২৬০. পনির তৈরিতে ব্যবহৃত এনজাইমের নাম-স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), হিসাব সহকারী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ
    • ক. পেপসিন
    • খ. রেনিন
    • গ. ক্যাটালেজ
    • ঘ. পেকটিন
    উত্তর: খ. রেনিন
    দুধ থেকে পনির তৈরিতে রেনিন (Rennin) নামের এনজাইম ব্যবহার করা হয়। রেনিন দুধের প্রধান প্রোটিন কেজিনকে (Casein) জমাট বাঁধিয়ে দেয়, ফলে দুধ ছানার মতো কঠিন অংশ আর পাতলা পানির মতো অংশে ভাগ হয়ে যায়। জমাট অংশটি চেপে, লবণ মিশিয়ে এবং কিছুদিন রেখে পাকিয়ে পনির তৈরি হয়। রেনিন স্বাভাবিকভাবে বাছুরের পাকস্থলীতে পাওয়া যায়, এখন জীবপ্রযুক্তির সাহায্যে অণুজীব থেকেও এটি তৈরি করা হয়। পেপসিন পাকস্থলীতে আমিষ হজম করে, তবে দুধ জমাট বাঁধানোর কাজে রেনিনই বেশি পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    দই তৈরি হয় ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে।
    রুটি ফোলাতে ব্যবহৃত হয় ইস্ট।
  235. ২৬১. কোন ভিটামিন ক্ষতস্থান হতে রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কমিউনিটি অর্গানাইজার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন বি
    • খ. ভিটামিন সি
    • গ. ভিটামিন কে
    • ঘ. ভিটামিন বি-২
    উত্তর: গ. ভিটামিন কে
    কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপড়া বন্ধ হয়। এই জমাট বাঁধার জন্য প্রোথ্রম্বিনসহ কয়েকটি উপাদান দরকার, যেগুলো যকৃতে তৈরি হতে ভিটামিন কে (Vitamin K) লাগে। তাই ভিটামিন কে-এর অভাব হলে সামান্য কাটাতেই অনেকক্ষণ রক্ত পড়তে থাকে। ভিটামিন কে চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন। সবুজ শাকসবজি, বাঁধাকপি ও ফুলকপিতে এটি পাওয়া যায়, তা ছাড়া আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও কিছু ভিটামিন কে তৈরি করে। নবজাতকের দেহে এর ঘাটতি থাকতে পারে, তাই জন্মের পর অনেক সময় শিশুকে ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়, এতে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে।
  236. ২৬২. সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে কোনটি বেশি পাওয়া যায়?স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), অফিস সহায়ক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. লৌহ
    • খ. ম্যাগনেশিয়াম
    • গ. আয়োডিন
    • ঘ. পটাশিয়াম
    উত্তর: গ. আয়োডিন
    সমুদ্রের পানিতে প্রচুর আয়োডিন (Iodine) দ্রবীভূত থাকে। সামুদ্রিক শৈবাল ও মাছ এই পানি থেকে আয়োডিন শোষণ করে দেহে জমা রাখে, তাই এগুলো আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উৎস। আমাদের গলার থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন দিয়ে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করে, যা দেহের বিপাক ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। খাবারে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে ওঠে, এই রোগকে গলগণ্ড (Goitre) বলে। শিশুদের ক্ষেত্রে আয়োডিনের অভাব মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিও ব্যাহত করতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশে খাবার লবণে আয়োডিন মেশানো বাধ্যতামূলক।
    মনে রাখুন:
    লৌহের অভাবে রক্তশূন্যতা হয়।
    ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ও দাঁত দুর্বল হয়।
  237. ২৬৩. ভিটামিন 'সি' এর রাসায়নিক নাম কী?জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফিল্ড স্টাফ, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. অ্যাসকরবিক এসিড
    • খ. ফলিক এসিড
    • গ. ফ্যাটি এসিড
    • ঘ. অ্যামাইনো এসিড
    উত্তর: ক. অ্যাসকরবিক এসিড
    ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। এটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, তাই দেহে বেশি দিন জমা থাকে না এবং প্রতিদিন খাবার থেকে নিতে হয়। আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা ও টাটকা শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এর অভাবে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়, যাতে দাঁতের মাড়ি ফুলে রক্ত পড়ে এবং ক্ষত সহজে শুকায় না। ভিটামিন সি তাপে সহজে নষ্ট হয়ে যায়, তাই সবজি বেশি সময় ধরে রান্না করলে এর পরিমাণ কমে যায়। ফলিক এসিড হলো ভিটামিন বি৯, আর অ্যামাইনো এসিড দিয়ে আমিষ গঠিত।
    মনে রাখুন:
    আমলকী ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস।
  238. ২৬৪. ভিটামিন ‘সি’- এর অপর নাম -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. অ্যাসকরবিক এসিড
    • খ. সাইট্রিক এসিড
    • গ. ফলিক এসিড
    • ঘ. রিবোফ্লাভিন
    উত্তর: ক. অ্যাসকরবিক এসিড
    ভিটামিন সি-এর অপর নাম বা রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। ‘অ্যাসকরবিক’ শব্দের অর্থ স্কার্ভি-রোধী, কারণ এই ভিটামিনের অভাবেই স্কার্ভি রোগ হয়। স্কার্ভিতে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় ও রক্ত পড়ে, ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয় এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। লেবুতে ভিটামিন সি থাকলেও লেবুর টক স্বাদের প্রধান উৎস সাইট্রিক এসিড, যা কোনো ভিটামিন নয়। আর রিবোফ্লাভিন হলো ভিটামিন বি২, এর অভাবে ঠোঁটের কোণে ঘা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-এর রাসায়নিক নাম রেটিনল।
    ভিটামিন বি১-এর নাম থায়ামিন।
    ভিটামিন ডি-এর নাম ক্যালসিফেরল।
    ভিটামিন ই-এর নাম টোকোফেরল।
  239. ২৬৫. কোন ভিটামিনের অভাবে শিশুদের রিকেটস্ রোগ হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (ধানসিঁড়ি), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ‘এ’
    • খ. ভিটামিন ‘বি’
    • গ. ভিটামিন ‘সি’
    • ঘ. ভিটামিন ‘ডি’
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন ‘ডি’
    ভিটামিন ডি (Vitamin D) অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, আর এই দুটি খনিজ দিয়েই হাড় শক্ত হয়। তাই শিশুর দেহে ভিটামিন ডি কম থাকলে হাড়ে যথেষ্ট খনিজ জমে না, হাড় নরম হয়ে পা বেঁকে যায় এবং বুকের হাড় উঁচু হয়ে ওঠে। এই রোগকে রিকেটস (Rickets) বলে। বড়দের ক্ষেত্রে একই অভাবে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে, একে অস্টিওম্যালেশিয়া বলে। মজার ব্যাপার হলো, সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে আমাদের দেহ নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে, তাই একে ‘সানশাইন ভিটামিন’ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস: সূর্যালোক, কডলিভার তেল, ডিমের কুসুম, দুধ ও তৈলাক্ত মাছ।
    ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা এবং ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয়।
  240. ২৬৬. একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের প্রতিদিন পানি গ্রহণ করা প্রয়োজন প্রায়-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পানি
    • ক. ১.৫ লিটার
    • খ. ২.৫ লিটার
    • গ. ৫ লিটার
    • ঘ. ৪ লিটার
    উত্তর: খ. ২.৫ লিটার
    আমাদের দেহের ওজনের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগই পানি। প্রতিদিন প্রস্রাব, ঘাম ও নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহ থেকে বেশ খানিকটা পানি বেরিয়ে যায়। সেই ঘাটতি পূরণ করতে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লিটার পানি গ্রহণ করা প্রয়োজন, যার একটি অংশ আমরা খাবার থেকেও পাই। গরমের দিনে বা বেশি পরিশ্রম করলে ঘাম বেশি হয়, তখন আরও বেশি পানি পান করতে হয়। পানি খাবার হজম করতে, রক্তের মাধ্যমে পুষ্টি পরিবহন করতে, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: পানির অভাবে দেহে পানিশূন্যতা (Dehydration) দেখা দেয়, আর ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা ঠেকাতে খাবার স্যালাইন খাওয়ানো হয়।
  241. ২৬৭. কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ও জিহ্বায় ঘা হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন 'বি-২'
    • খ. ভিটামিন 'ডি'
    • গ. ভিটামিন 'সি'
    • ঘ. ভিটামিন 'ই'
    উত্তর: ক. ভিটামিন 'বি-২'
    ভিটামিন বি-২ এর আরেক নাম রাইবোফ্লাভিন (Riboflavin)। এটি দেহের কোষে খাদ্য থেকে শক্তি তৈরির কাজে সাহায্য করে এবং ত্বক, ঠোঁট, জিহ্বা ও মুখের ভেতরের নরম আবরণ সুস্থ রাখে। তাই এর অভাব হলে ঠোঁটের দুই কোণে ঘা ও ফাটল দেখা দেয়, যাকে অ্যাঙ্গুলার স্টোমাটাইটিস বলে। একই সঙ্গে জিহ্বা লাল হয়ে ফুলে যায় এবং মুখের ভেতরে ঘা হয়। আমাদের দেশে একে সাধারণভাবে মুখের ঘা রোগ বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    রাইবোফ্লাভিনের ভালো উৎস: দুধ, ডিম, কলিজা, সবুজ শাকসবজি ও ডাল।
    ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন)-এর অভাবে বেরিবেরি হয়।
    ভিটামিন সি-এর অভাবে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, একে স্কার্ভি বলে।
  242. ২৬৮. কোন ভিটামিন ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন- ‘সি’
    • খ. ভিটামিন- ‘এ’
    • গ. ভিটামিন- ‘ই’
    • ঘ. ভিটামিন- ‘কে’
    উত্তর: ঘ. ভিটামিন- ‘কে’
    ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয় রক্ত জমাট বাঁধার মাধ্যমে। রক্তরসে প্রোথ্রোম্বিন ও ফাইব্রিনোজেন নামের প্রোটিন থাকে, যা পরে সুতার মতো ফাইব্রিন জাল তৈরি করে রক্তকণিকাগুলোকে আটকে ফেলে। যকৃৎ এই প্রোটিনগুলো তৈরি করতে ভিটামিন কে (Vitamin K) ব্যবহার করে, তাই এই ভিটামিনকে রক্ত জমাট বাঁধার ভিটামিন বলা হয়। ভিটামিন কে কম থাকলে ছোট কাটাছেঁড়াতেও অনেকক্ষণ রক্ত ঝরতে থাকে। অন্যদিকে ভিটামিন সি ক্ষত শুকাতে এবং ত্বক ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু রক্ত জমাট বাঁধার মূল কাজটি করে না।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয়, আর বি ও সি পানিতে দ্রবণীয়।
    সবুজ শাকসবজি ভিটামিন কে-এর ভালো উৎস।
  243. ২৬৯. __________ এর অভাবে ঠোঁটে ও জিহ্বায় ঘা হয়।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (কর্ণফুলী), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন 'এ'
    • খ. ভিটামিন 'বি'
    • গ. ভিটামিন 'সি'
    • ঘ. ভিটামিন 'ডি'
    উত্তর: খ. ভিটামিন 'বি'
    ঠোঁটের কোণে ফাটল আর জিহ্বায় ঘা হয় ভিটামিন বি গ্রুপের একটি সদস্য, অর্থাৎ ভিটামিন বি-২ বা রাইবোফ্লাভিন (Riboflavin)-এর অভাবে। এই ভিটামিন খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে এবং মুখ ও জিহ্বার নরম আবরণকে সুস্থ রাখে, তাই এর ঘাটতিতে প্রথমে এসব জায়গাতেই সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন বি আসলে একটি নয়, কয়েকটি ভিটামিনের একটি দল, যাকে একসঙ্গে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়। এরা সবাই পানিতে দ্রবণীয়, তাই দেহে বেশিদিন জমা থাকে না এবং নিয়মিত খাবার থেকে নিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    বি-১ (থায়ামিন)-এর অভাবে বেরিবেরি হয়।
    বি-৩ (নিয়াসিন)-এর অভাবে পেলাগ্রা হয়।
    বি-১২-এর অভাবে রক্তশূন্যতা হয়।
  244. ২৭০. তাপে কোন ভিটামিন নষ্ট হয়?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন- 'এ'
    • খ. ভিটামিন- 'বি'
    • গ. ভিটামিন- 'সি'
    • ঘ. ভিটামিন- 'ডি'
    উত্তর: গ. ভিটামিন- 'সি'
    ভিটামিন সি (Vitamin C) বা অ্যাসকরবিক এসিড পানিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, আর এটি তাপে খুব সহজে নষ্ট হয়। শাকসবজি অনেকক্ষণ ধরে রান্না করলে বা কেটে ধুলে এর ভিটামিন সি অনেকটা নষ্ট হয়ে যায় এবং পানির সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তাই সবজি কাটার আগে ধুয়ে নেওয়া এবং অল্প সময়ে রান্না করা ভালো। আমলকী, পেয়ারা, লেবু ও কাঁচা মরিচে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, আর এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয়।
    ভিটামিন বি ও সি পানিতে দ্রবণীয়।
  245. ২৭১. মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় এমিনো এসিড কোনটি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (ডেলটা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. সিসটিন
    • খ. টাইরোসিন
    • গ. ফিনাইল অ্যালানিন
    • ঘ. অ্যালানিন
    উত্তর: গ. ফিনাইল অ্যালানিন
    যেসব অ্যামিনো এসিড (Amino acid) আমাদের দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাবার থেকে নিতে হয়, তাদের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড বলে। ফিনাইল অ্যালানিন এমনই একটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড। মজার ব্যাপার হলো, দেহ এই ফিনাইল অ্যালানিন থেকেই টাইরোসিন তৈরি করে নেয়, তাই টাইরোসিন অত্যাবশ্যকীয় নয়। সিসটিন ও অ্যালানিনও দেহ নিজে তৈরি করতে পারে। মাছ, মাংস, ডিম ও ডালে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    মানুষের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড ৯টি।
    এদের মধ্যে আছে লাইসিন, লিউসিন, ভ্যালিন, ট্রিপটোফ্যান ও মিথিওনিন।
    প্রোটিন মোট ২০টি অ্যামিনো এসিড দিয়ে গঠিত।
  246. ২৭২. নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, উচ্চমান সহকারী, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. আম ও কাঁঠাল
    • খ. টমেটো ও গাজর
    • গ. লালশাক ও কচুশাক
    • ঘ. দুধ ও ডিম
    উত্তর: ঘ. দুধ ও ডিম
    ভিটামিন ডি (Vitamin D) পাওয়া যায় দুধ, ডিমের কুসুম, মাখন ও সামুদ্রিক মাছের তেলে, তাই এই বিকল্পগুলোর মধ্যে দুধ ও ডিমই সঠিক। মজার ব্যাপার হলো, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকে পড়লে দেহ নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে, তাই একে ‘সানশাইন ভিটামিন’ বলা হয়। ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, ফলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়।
    মনে রাখুন:
    শিশুদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
    গাজর ও লালশাকে ক্যারোটিন থাকে, যা থেকে দেহ ভিটামিন এ তৈরি করে।
  247. ২৭৩. দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য কোন মিনারেল অত্যন্ত জরুরী?সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. জিংক
    • খ. আয়োডিন
    • গ. ক্যালসিয়াম
    • ঘ. আয়রন
    উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম
    মায়ের দুধ শিশুর প্রথম খাবার, আর এই দুধের মাধ্যমে শিশুর হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য প্রচুর ক্যালসিয়াম (Calcium) মায়ের দেহ থেকে চলে যায়। খাবারে যথেষ্ট ক্যালসিয়াম না থাকলে মায়ের দেহ নিজের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম নিয়ে দুধে দেয়, ফলে মায়ের হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত জরুরি। দুধ, দই, ছোট মাছ কাঁটাসহ, ডিম ও সবুজ শাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে।
    মনে রাখুন:
    ক্যালসিয়ামের অভাবে বড়দের অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ হয়।
    আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা এবং আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
  248. ২৭৪. অস্থি ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে কোনটি?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, সহকারী পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খনিজ লবণ
    • ক. আয়োডিন
    • খ. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
    • গ. লৌহ ও ফসফরাস
    • ঘ. জিঙ্ক
    উত্তর: খ. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
    আমাদের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেট, তাই এদের গঠনে ক্যালসিয়াম (Calcium) ও ফসফরাস (Phosphorus) দুটোই দরকার। দেহের মোট ক্যালসিয়ামের প্রায় ৯৯ ভাগ আর ফসফরাসের প্রায় ৮৫ ভাগ হাড় ও দাঁতে জমা থাকে। ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে এই দুটি খনিজ শোষণে সাহায্য করে, তাই হাড় মজবুত রাখতে তিনটিরই প্রয়োজন। দুধ, ডিম, ছোট মাছ ও ডালে এগুলো পাওয়া যায়। শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের এই খনিজগুলো বেশি দরকার হয়।
    মনে রাখুন:
    আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে লাগে।
    লৌহ রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লাগে।
    জিংক দেহের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  249. ২৭৫. সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যের অনুপাত হলো-জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সুষম খাদ্য
    • ক. ৫: ২: ১
    • খ. ৪: ৩: ২
    • গ. ২: ১: ৩
    • ঘ. ৪: ১: ১
    উত্তর: ঘ. ৪: ১: ১
    যে খাদ্যে আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় সব উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকে, তাকে সুষম খাদ্য (Balanced diet) বলে। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থের অনুপাত সাধারণত ৪ : ১ : ১ ধরা হয়। এর অর্থ হলো আমাদের দৈনিক খাবারের সবচেয়ে বড় অংশ আসা উচিত ভাত, রুটি, আলুর মতো শর্করা থেকে, কারণ শর্করাই দেহের প্রধান শক্তির উৎস। এর সঙ্গে দেহ গঠনের জন্য আমিষ এবং শক্তি সঞ্চয়ের জন্য স্নেহ পদার্থ দরকার।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম শর্করা ও ১ গ্রাম আমিষ থেকে প্রায় ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
    ১ গ্রাম স্নেহ পদার্থ থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  250. ২৭৬. ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত রোগ কোনটি?বিসিক, শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. রিকেটস
    • খ. রাতকানা
    • গ. রক্তশূন্যতা
    • ঘ. গলগণ্ড
    উত্তর: ক. রিকেটস
    ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, আর এই দুটি খনিজ দিয়েই হাড় শক্ত হয়। তাই ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে শিশুদের হাড় ঠিকমতো শক্ত হয় না, হাড় নরম হয়ে বেঁকে যায়, পা ধনুকের মতো বাঁকা হয়। এই রোগকে রিকেটস (Rickets) বলে। বড়দের ক্ষেত্রে একই অভাবে হাড় নরম হয়ে যাওয়াকে অস্টিওম্যালেশিয়া বলে। মজার ব্যাপার হলো, সূর্যের আলো ত্বকে পড়লে আমাদের দেহ নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে, তাই একে সানশাইন ভিটামিন বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা।
    আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড।
    লৌহের অভাবে রক্তশূন্যতা।
    ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি।
  251. ২৭৭. The energy of food is measured inসম্মিলিত ৫ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার পর্যায় (২৯ মার্চ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্যশক্তি
    • ক. Kelvin
    • খ. Bushel
    • গ. Calories
    • ঘ. None
    উত্তর: গ. Calories
    আমরা যে খাবার খাই, তা দেহে জারিত হয়ে শক্তি দেয়। এই খাদ্যশক্তি মাপা হয় ক্যালরি (Calorie) এককে। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে যে তাপ লাগে, তাকে ১ ক্যালরি বলে। খাবারের প্যাকেটে যে ক্যালরি লেখা থাকে, তা আসলে কিলোক্যালরি, অর্থাৎ ১০০০ ক্যালরি। শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ তিনটিই শক্তি দেয়, তবে সমান ভরে স্নেহ পদার্থ সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়। কেলভিন হলো তাপমাত্রার একক আর বুশেল হলো শস্যের আয়তন মাপার পুরোনো একক।
    মনে রাখুন:
    ১ গ্রাম শর্করা ≈ ৪ কিলোক্যালরি।
    ১ গ্রাম আমিষ ≈ ৪ কিলোক্যালরি।
    ১ গ্রাম স্নেহ ≈ ৯ কিলোক্যালরি।
    1 cal = 4.2 J।
  252. ২৭৮. প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়-সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আমিষ
    • ক. লিপিড
    • খ. সাইট্রিক অ্যাসিড
    • গ. অ্যামাইনো এসিড
    • ঘ. নিউক্লিক এসিড
    উত্তর: গ. অ্যামাইনো এসিড
    প্রোটিন বা আমিষ (Protein) হলো অনেকগুলো ছোট অণু জোড়া লেগে তৈরি একটি বড় অণু। এই ছোট অণুগুলোর নাম অ্যামাইনো এসিড। একটি অ্যামাইনো এসিড আরেকটির সঙ্গে পেপটাইড বন্ধনে যুক্ত হয়, আর এভাবে শত শত অ্যামাইনো এসিড মিলে একটি প্রোটিন তৈরি হয়। তাই অ্যামাইনো এসিডকে প্রোটিনের গঠন একক বলা হয়। আমরা খাবার থেকে যে প্রোটিন পাই, পরিপাকের সময় তা ভেঙে আবার অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। পরে দেহ সেগুলো দিয়ে নিজের দরকারি প্রোটিন তৈরি করে নেয়।
    মনে রাখুন:
    প্রোটিনে প্রায় ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড থাকে।
    যেগুলো দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না, সেগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড বলে।
    নিউক্লিক এসিডের গঠন একক নিউক্লিওটাইড।
  253. ২৭৯. চায়ের পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. ভিটামিন ই
    • খ. ভিটামিন এ
    • গ. ভিটামিন বি
    • ঘ. ভিটামিন ডি
    উত্তর: গ. ভিটামিন বি
    চা-পাতায় ক্যাফেইন, ট্যানিন ও নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এসবের সঙ্গে চা-পাতায় ভিটামিন বি (Vitamin B) কমপ্লেক্সের কয়েকটি উপাদানও পাওয়া যায়, যেমন রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ এবং নিয়াসিন বা ভিটামিন বি৩। এ কারণে পরীক্ষায় চা-পাতার ভিটামিন হিসেবে ভিটামিন বি-কেই ধরা হয়। চায়ের যে উপাদানটি আমাদের সতেজ ও সজাগ রাখে, তা হলো ক্যাফেইন। আর চায়ের কষ স্বাদ ও রঙের জন্য দায়ী ট্যানিন। তবে পরিমাণ খুব কম, তাই চা ভিটামিনের ভালো উৎস নয়।
    মনে রাখুন:
    চায়ের উত্তেজক উপাদান: ক্যাফেইন।
    কফির উত্তেজক উপাদানও ক্যাফেইন।
    বাংলাদেশে চা চাষ সবচেয়ে বেশি হয় মৌলভীবাজার জেলায়।
  254. ২৮০. In which season we need more fat?জনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্নেহ পদার্থ
    • ক. Rainy season
    • খ. Spring
    • গ. Winter
    • ঘ. Summer
    উত্তর: গ. Winter
    শীতকালে চারপাশের তাপমাত্রা কম থাকে, তাই দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে শরীরকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে স্নেহ পদার্থ বা চর্বি (Fat) সবচেয়ে বেশি শক্তি দেয়। ১ গ্রাম চর্বি থেকে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা শর্করা বা আমিষের প্রায় দ্বিগুণ। তাছাড়া ত্বকের নিচে জমা চর্বি তাপের কুপরিবাহী, তাই এটি একটি অন্তরক স্তরের মতো দেহের তাপ বাইরে যেতে বাধা দেয়। এ কারণে শীতকালে আমাদের তুলনামূলক বেশি চর্বিজাতীয় খাবার দরকার হয়।
    মনে রাখুন:
    স্নেহ পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: এ, ডি, ই ও কে।
    মেরু অঞ্চলের প্রাণীর ত্বকের নিচে পুরু চর্বির স্তর থাকে।
  255. ২৮১. থিয়ামিনের অভাবজনিত রোগ হল-প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. গ্লসাইটিস
    • খ. পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া
    • গ. স্টোমাটাইটিস
    • ঘ. বেরিবেরি
    উত্তর: ঘ. বেরিবেরি
    থিয়ামিন (Thiamine) হলো ভিটামিন বি১, আর এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। থিয়ামিন শর্করা ভেঙে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে, তাই এর অভাবে স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে হাত-পা অবশ লাগে, পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং কখনো পায়ে পানি জমে। অনেক বেশি ছাঁটা বা পালিশ করা চাল খেলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে, কারণ চালের ভিটামিন বি১ মূলত এর বাইরের আবরণে থাকে।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন বি১২-এর অভাবে পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া হয়।
    ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন)-এর অভাবে মুখের কোণে ঘা বা স্টোমাটাইটিস ও জিহ্বায় প্রদাহ বা গ্লসাইটিস হয়।
    ঢেঁকিছাঁটা চাল ভিটামিন বি১-এর ভালো উৎস।
  256. ২৮২. Which of the following pair is not correctly matched?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অফিসার (জেনারেল), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভিটামিন
    • ক. Vitamin E - Neurological Problems
    • খ. Vitamin A - Night Blindness
    • গ. Vitamin C - Beri Beri
    • ঘ. Vitamin D - Rickets
    উত্তর: গ. Vitamin C - Beri Beri
    বেরিবেরি রোগ হয় ভিটামিন বি১ বা থিয়ামিনের অভাবে, ভিটামিন সি-র অভাবে নয়। তাই ‘Vitamin C - Beri Beri’ জোড়াটি সঠিকভাবে মেলানো হয়নি। ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক এসিডের অভাবে হয় স্কার্ভি (Scurvy), এতে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় ও রক্ত পড়ে। বাকি জোড়াগুলো ঠিক আছে, কারণ ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানা, ভিটামিন ডি-র অভাবে শিশুদের রিকেটস আর ভিটামিন ই-র অভাবে স্নায়ুর সমস্যা দেখা দেয়।
    মনে রাখুন:
    ভিটামিন কে-র অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়।
    ভিটামিন ডি তৈরি হয় সূর্যের আলোয় আমাদের ত্বকে।
    আমলকী, পেয়ারা ও লেবু ভিটামিন সি-র ভালো উৎস।
  257. ২৮৩. Milk is pasteurized in order to :সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, জুনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ খাদ্য সংরক্ষণ
    • ক. destroy microorganism
    • খ. enhance taste and flavor
    • গ. increase its food value
    • ঘ. detect adulteration
    উত্তর: ক. destroy microorganism
    দুধ পাস্তুরায়ন (Pasteurization) করা হয় এর ভেতরের ক্ষতিকর অণুজীব ধ্বংস করার জন্য। এই পদ্ধতিতে দুধকে প্রায় ৭২° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৫ সেকেন্ড গরম করে সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। এতে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মরে যায়, কিন্তু দুধ ফোটানোর মতো বেশি গরম না হওয়ায় এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ প্রায় অটুট থাকে। ফলে দুধ নিরাপদ হয় এবং বেশি দিন ভালো থাকে।
    মনে রাখুন:
    পাস্তুরায়ন পদ্ধতির উদ্ভাবক ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর।
    লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকাও আবিষ্কার করেন।
    দুধের বিশুদ্ধতা মাপার যন্ত্র ল্যাকটোমিটার।
    পাস্তুরায়িত দুধও ফ্রিজে রাখতে হয়।
  258. ২৮৪. দুধের রঙ সাদা হয় কেন?পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দুধ
    • ক. শর্করার জন্য
    • খ. প্রোটিনের জন্য
    • গ. চর্বির জন্য
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. প্রোটিনের জন্য
    দুধের সাদা রঙের প্রধান কারণ এতে থাকা কেসিন (Casein) নামের প্রোটিন। দুধে কেসিন ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র কণা বা মাইসেল তৈরি করে, যা পানিতে ভাসমান থাকে। এই কণাগুলো দুধের ওপর পড়া সব রঙের আলোকে চারদিকে সমানভাবে বিক্ষিপ্ত করে দেয়, তাই দুধ সাদা দেখায়। দুধের চর্বির ছোট ছোট গোলকও কিছুটা আলো ছড়ায়, তবে মূল ভূমিকা কেসিনের।
    মনে রাখুন:
    দুধের প্রধান শর্করা ল্যাকটোজ।
    দুধ টকে যায় ল্যাকটোজ থেকে ল্যাকটিক এসিড তৈরি হলে।
    দুধে আয়রন ও ভিটামিন সি খুব কম থাকে।
    দুধ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।

অন্যান্য অধ্যায়

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন