আলো: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ২০০টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (২১)
- ১. ইথার সম্বন্ধে কোনটি মিথ্যা?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলো
- ক. এটি একটি রাসায়নিক তরল পদার্থ
- খ. এটি একটি কাল্পনিক মাধ্যম যা মহাবিশ্বে সর্বত্র বিরাজমান ছিল
- গ. এ মাধ্যম ছাড়া তাড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়
- ঘ. এ কাল্পনিক মাধ্যমটির স্থিতিস্থাপক ধর্ম ছিলো
উত্তর: গ. এ মাধ্যম ছাড়া তাড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালন সম্ভব নয়
উনিশ শতকে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, আলো চলার জন্য সর্বত্র ছড়ানো ‘ইথার’ (Luminiferous ether) নামে একটি কাল্পনিক স্থিতিস্থাপক মাধ্যম দরকার। মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষা ও আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব দেখিয়েছে, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ মাধ্যম ছাড়াই শূন্যস্থানে চলতে পারে। তাই ‘মাধ্যম ছাড়া সঞ্চালন সম্ভব নয়’ কথাটি মিথ্যা। রসায়নে ইথার একটি তরল যৌগ, তবে এখানে আলোচ্য ধারণাটি পদার্থবিজ্ঞানের। আলো যে শূন্যস্থানেও চলে, সেই কথা প্রমাণ হওয়ার পর ইথারের ধারণা বাতিল হয়ে যায়। ইথারের ধারণা তাই এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
মনে রাখুন:
শব্দের জন্য মাধ্যম অবশ্যই লাগে, আলোর জন্য লাগে না।
সূর্যের আলো শূন্যস্থান পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। - ২. কোনটি আলোর প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয় না?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর রং
- ক. সবুজ
- খ. নীল
- গ. লাল
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ঘ. হলুদ
আলোর প্রাথমিক বা মৌলিক রং তিনটি: লাল (Red), সবুজ (Green) ও নীল (Blue), সংক্ষেপে RGB। এই তিন রং নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশালে অন্য সব রং পাওয়া যায় এবং তিনটি মেশালে সাদা আলো হয়। দুটি প্রাথমিক রং মিশিয়ে গৌণ রং পাওয়া যায়, যেমন লাল ও সবুজ মিশে হলুদ হয়, তাই হলুদ আলোর প্রাথমিক রং নয়।
মনে রাখুন: গৌণ রং: লাল + সবুজ = হলুদ, সবুজ + নীল = সায়ান, লাল + নীল = ম্যাজেন্টা। রঙের পিগমেন্টের প্রাথমিক রং আলাদা: লাল, হলুদ ও নীল। - ৩. আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ –৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু
- ক. ধুলিকণা
- খ. বায়ুস্তর
- গ. বৃষ্টির কণা
- ঘ. অতিবেগুনি রশ্মি
উত্তর: গ. বৃষ্টির কণা
বৃষ্টির পরে বাতাসে ভাসমান ছোট ছোট পানির কণায় সূর্যের আলো ঢোকে। সেই আলো কণার ভেতরে প্রতিসরিত হয়, ভেতরের পিঠে একবার পূর্ণ প্রতিফলিত হয় এবং আবার বেরিয়ে আসে। এ সময় সাদা আলো সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়, একে বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে। আর তাতেই আকাশে রংধনু দেখা যায়। তাই রংধনুর কারণ বৃষ্টির কণা। রংধনুতে লাল রং সবচেয়ে বাইরের দিকে এবং বেগুনি রং সবচেয়ে ভেতরের দিকে থাকে। কারণ লাল আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে কম হয়, আর বেগুনি আলোর সবচেয়ে বেশি।
মনে রাখুন:
রংধনুর রংগুলো বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
রংধনু দেখতে সূর্য পর্যবেক্ষকের পেছনে এবং বৃষ্টি সামনে থাকতে হয়। - ৪. আয়না থেকে ২ ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে, আয়নাতে আপনার প্রতিবিম্ব কতদূর দেখা যাবে?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিফলন
- ক. ৫ ফুট
- খ. ৪ ফুট
- গ. ৩ ফুট
- ঘ. ২ফুট
উত্তর: ঘ. ২ফুট
সমতল দর্পণে বস্তু আয়নার সামনে যত দূরে থাকে, প্রতিবিম্ব আয়নার পেছনে ঠিক তত দূরে তৈরি হয়। তাই আয়না থেকে ২ ফুট দূরে দাঁড়ালে প্রতিবিম্ব আয়নার পেছনে ২ ফুট দূরে দেখা যায়। অর্থাৎ আয়না থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব ২ ফুট। আমার ও আমার প্রতিবিম্বের মধ্যে মোট দূরত্ব অবশ্য 2 + 2 = 4 ফুট হয়। দর্পণের সামনের অবস্থান ও পেছনের প্রতিবিম্বের অবস্থান এই সমান দূরত্বের নিয়মেই তৈরি হয়। তাই আয়না থেকে পিছিয়ে গেলে প্রতিবিম্বও সমান দূরত্বে পিছিয়ে যায়। সমতল দর্পণের প্রতিবিম্ব কখনো পর্দায় ধরা যায় না, কারণ সেটি অবাস্তব।
মনে রাখুন: সমতল দর্পণের প্রতিবিম্ব সদ্ ও সমান আকারের এবং পার্শ্বীয়ভাবে উল্টো। - ৫. অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fibre) হচ্ছে-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল
- খ. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তার তন্তু নল
- গ. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
- ঘ. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক ঘটিত নল
উত্তর: ক. খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তুর আলোক নল
অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fibre) হলো খুব সরু ও নমনীয় কাচের তন্তু, যার ভেতর দিয়ে আলো যাতায়াত করে। ফাইবারের ভেতরের আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের (Total Internal Reflection) মাধ্যমে বারবার প্রতিফলিত হয়ে তন্তুর বাঁক ঘুরেও এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছায়। এর সাহায্যে ইন্টারনেট ও টেলিফোনের তথ্য খুব দ্রুত পাঠানো যায়। তামার তার বিদ্যুৎ বহন করে, আলো নয়।
মনে রাখুন:
চিকিৎসায় এন্ডোস্কোপে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়।
চার্লস কাও ‘ফাইবার অপটিকসের জনক’ নামে পরিচিত, আর তিনি ২০০৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান। - ৬. কোন আলোক তরঙ্গে (Light spectrum) মানব চোখে দেখতে পাওয়া যায়?৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো
- ক. ১০ থেকে ৪০০ নেমি (nm)
- খ. ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
- গ. ১০০ মাইক্রোমিটার (um) থেকে ১ মি(m)
- ঘ. ১ মি(m) – এর ঊধবে
উত্তর: খ. ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
মানুষের চোখ প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দেখতে পায়, আর এই পরিসরকে দৃশ্যমান বর্ণালি (Visible Spectrum) বলে। এর মধ্যেই বেগুনি থেকে লাল পর্যন্ত সাতটি রং থাকে। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, আর লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। ৪০০ ন্যানোমিটারের চেয়ে ছোট তরঙ্গ অতিবেগুনি, আর ৭০০ ন্যানোমিটারের চেয়ে বড় তরঙ্গ অবলোহিত। এগুলো আমরা দেখতে পাই না। এই সংকীর্ণ পরিসরটুকুই পুরো তড়িৎচৌম্বক বর্ণালির খুব ছোট একটি অংশ। বাকি অংশ, যেমন রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে ও গামা রশ্মি, আমাদের চোখে ধরা পড়ে না, যদিও তারা আমাদের চারপাশেই আছে।
মনে রাখুন: ১ ন্যানোমিটার = ১০⁻⁹ মিটার। - ৭. হীরক উজ্জ্বল দেখার কারণ –৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিফলন
- ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
- খ. প্রতিসরণের জন্য
- গ. প্রতিফলনের জন্য
- ঘ. অপবর্তনের জন্য
উত্তর: ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
হীরকের প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি, প্রায় ২.৪২। তাই এর সংকট কোণ খুব ছোট, প্রায় ২৪°। হীরকের ভেতরে ঢোকা আলো তার তলগুলোতে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয়ে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের (Total Internal Reflection) মধ্য দিয়ে যায়। শেষে কয়েকটি তল দিয়ে আলো বেরিয়ে আসে বলে হীরক ঝকঝকে উজ্জ্বল দেখায়। কারিগররা হীরার তল কেটে এমনভাবে বসান যাতে এই প্রতিফলন সবচেয়ে বেশি হয়।
মনে রাখুন: মরীচিকা ও অপটিক্যাল ফাইবারেও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে। - ৮. চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ চাঁদের বিভ্রম
- ক. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
- খ. আলোর বিচ্ছুরণে
- গ. অপাবর্তনে
- ঘ. দৃষ্টিভ্রমে
উত্তর: ঘ. দৃষ্টিভ্রমে
দিগন্তের কাছে চাঁদ আসলে বড় হয় না। ছবি তুলে বা আঙুলের ফাঁকে মেপে দেখলে চাঁদের আকার আকাশের উঁচুতে থাকার সময়ের সমানই পাওয়া যায়। দিগন্তে গাছপালা, বাড়িঘর ও দূরের জিনিস থাকায় আমাদের মস্তিষ্ক সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করে চাঁদকে বড় ভাবে। এটি একটি দৃষ্টিভ্রম, ইংরেজিতে একে মুন ইলিউশন (Moon illusion) বলে। বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ চাঁদের আলোকে একটু বাঁকিয়ে তাকে চ্যাপ্টা দেখায়, বড় করে না।
মনে রাখুন: সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখানোর কারণ আলোর বিচ্ছুরণ। - ৯. লাল আলোতে নীল রঙের বস্তু কেমন দেখায়?২৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলো ও রং
- ক. বেগুনী
- খ. সবুজ
- গ. হলুদ
- ঘ. কালো
উত্তর: ঘ. কালো
কোনো বস্তুর রং নির্ভর করে সে কোন রঙের আলো প্রতিফলিত করে তার ওপর। নীল বস্তু শুধু নীল আলো প্রতিফলিত করে, আর বাকি রঙের আলো শোষণ করে নেয়। লাল আলোতে নীল আলোর কোনো উপাদান নেই, তাই বস্তুটি কোনো আলোই প্রতিফলিত করতে পারে না এবং কালো দেখায়। এই কারণে লাল আলোয় লাল বস্তু উজ্জ্বল দেখায়, কিন্তু নীল বা সবুজ বস্তু প্রায় কালো দেখায়। তাই কোনো বস্তুর রং আসলে আলোর রঙের ওপর নির্ভর করে, একা বস্তুর ওপর নয়। ফটোগ্রাফির অন্ধকার ঘরে লাল বাতি জ্বালানো হয় এই নিয়মেই।
মনে রাখুন:
সাদা বস্তু সব রঙের আলো প্রতিফলিত করে।
কালো বস্তু সব রঙের আলো শোষণ করে। - ১০. যে মসৃণতলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে কি বলে?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিফলন
- ক. দর্পণ
- খ. লেন্স
- গ. প্রিজম
- ঘ. বিম্ব
উত্তর: ক. দর্পণ
যে মসৃণ তলে আলো নিয়মিতভাবে প্রতিফলিত হয়, তাকে দর্পণ (Mirror) বলে। এমন তলে সমান্তরাল আলোকরশ্মি প্রতিফলনের পরও সমান্তরাল থাকে, আর তাই আমরা স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। অমসৃণ তলে আলো নানা দিকে ছড়িয়ে প্রতিফলিত হয়, তাকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে, সেখানে প্রতিবিম্ব তৈরি হয় না। লেন্স ও প্রিজমে আলো প্রধানত প্রতিসরিত হয়। আয়না, পালিশ করা ধাতব পাত এবং স্থির পানির পৃষ্ঠ নিয়মিত প্রতিফলনের উদাহরণ। এসব তলে আমরা নিজেদের মুখ স্পষ্ট দেখতে পাই।
মনে রাখুন: প্রতিফলনের সূত্র অনুযায়ী আপতন কোণ সবসময় প্রতিফলন কোণের সমান। - ১১. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কতক্ষণ সময় লাগে?১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ৮.৩২ মিনিট
- খ. ৯.১২ মিনিট
- গ. ৭.৯৬ মিনিট
- ঘ. ১০.৫৬ মিনিট
উত্তর: ক. ৮.৩২ মিনিট
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় 1.496 × 10⁸ km এবং আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁵ km/s। তাই সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে সময় নেয় t = দূরত্ব ÷ বেগ = (1.496 × 10⁸) ÷ (3 × 10⁵) ≈ 499 সেকেন্ড। এটি প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড, অর্থাৎ ৮.৩২ মিনিটের কাছাকাছি। আলোর বেগ সীমিত বলেই আমরা সূর্যকে সবসময় প্রায় সাড়ে আট মিনিট আগের অবস্থায় দেখি। তাই সূর্য হঠাৎ নিভে গেলেও আমরা সাড়ে আট মিনিট পর পর্যন্ত তা জানতে পারতাম না।
মনে রাখুন:
চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড লাগে।
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ m/s। - ১২. দৃশ্যমান বর্ণালির ক্ষুদ্রতম তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর?১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলো ও বর্ণালি
- ক. লাল
- খ. সবুজ
- গ. নীল
- ঘ. বেগুনী
উত্তর: ঘ. বেগুনী
দৃশ্যমান আলোর বর্ণালি (Visible spectrum) বেগুনি থেকে লাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার, আর লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার। বেগুনি আলোর চেয়েও ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আছে, তাকে অতিবেগুনি রশ্মি বলে, কিন্তু সেটি দৃশ্যমান বর্ণালির অংশ নয়। লাল আলোর চেয়ে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে বলে অবলোহিত রশ্মি। এই কারণে দৃশ্যমান বর্ণালির দুই প্রান্তে বেগুনি ও লাল রং থাকে।
মনে রাখুন:
বর্ণালির রঙের ক্রম হলো বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (বেনীআসহকলা)।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, কম্পাঙ্ক তত বেশি। - ১৩. সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টারে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?১৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. উত্তল
- খ. অবতল
- গ. জুম
- ঘ. সিলিন্ড্রিক্যাল
উত্তর: ঘ. সিলিন্ড্রিক্যাল
সিনেমাস্কোপ পদ্ধতিতে ছবিকে আনুভূমিক দিকে চেপে ফিল্মে তোলা হয়, যাতে চওড়া দৃশ্য সাধারণ মাপের ফিল্মে ধরা যায়। প্রজেক্টরে সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স সেই ছবিকে আবার আনুভূমিক দিকে প্রসারিত করে চওড়া পর্দায় ফেলে। সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্সের বিশেষত্ব হলো, এটি ছবিকে শুধু এক দিকে বড় করে, অন্য দিকে করে না। সাধারণ উত্তল বা অবতল লেন্স সব দিকে সমানভাবে ছবি বদলায়। এই লেন্সের ফলে সিনেমার পর্দা চওড়া হয় এবং দর্শক বেশি এলাকা জুড়ে দৃশ্য দেখতে পায়। আজকাল ডিজিটাল প্রজেক্টরেও প্রায় একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
মনে রাখুন: এই পদ্ধতিকে অ্যানামরফিক (Anamorphic) পদ্ধতিও বলে। - ১৪. যে তিনটি মুখ্য বর্ণের সমন্বয়ে অন্যান্য বর্ণ সৃষ্টি করা যায় সেগুলো হলো-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলো ও বর্ণ
- ক. লাল, হলুদ, নীল
- খ. লাল, কমলা, বেগুনী
- গ. হলুদ, সবুজ, নীল
- ঘ. লাল, নীল, সবুজ
উত্তর: ঘ. লাল, নীল, সবুজ
আলোর তিনটি মুখ্য বর্ণ (Primary Colours) হলো লাল, সবুজ ও নীল। এই তিন রঙের আলো বিভিন্ন অনুপাতে মেশালে প্রায় সব রং তৈরি করা যায়, আর তিনটিকে সমান মাত্রায় মেশালে সাদা আলো পাওয়া যায়। টিভি ও কম্পিউটারের পর্দায় এই নীতিতেই রঙিন ছবি দেখানো হয়। টেলিভিশনের পর্দায় ছোট ছোট লাল, সবুজ ও নীল বিন্দু বা পিক্সেল থাকে। এই বিন্দুগুলোর উজ্জ্বলতা কমিয়ে বাড়িয়ে হাজার হাজার রং তৈরি করা হয়।
মনে রাখুন:
রঞ্জক বা রঙের পদার্থের ক্ষেত্রে প্রচলিত মুখ্য বর্ণ লাল, হলুদ ও নীল।
আলোর দুটি মুখ্য রং মিশলে গৌণ বর্ণ হয়, যেমন লাল ও সবুজে হলুদ। - ১৫. টেলিভিশনে রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্যে কয়টি মৌলিক রং- এর ছবি ব্যবহার করা হয়?২৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক বর্ণ
- ক. ১ টি
- খ. ২ টি
- গ. ৩ টি
- ঘ. ৪ টি
উত্তর: গ. ৩ টি
রঙিন টেলিভিশনের পর্দায় লাল (Red), সবুজ (Green) ও নীল (Blue), এই তিনটি মৌলিক রঙের আলো ব্যবহার করা হয়। পর্দার প্রতিটি ক্ষুদ্র বিন্দুতে এই তিন রঙের আলো আলাদাভাবে জ্বলে। এদের উজ্জ্বলতা কমিয়ে-বাড়িয়ে মেশালে অন্য সব রং তৈরি হয়। এই পদ্ধতিকে RGB পদ্ধতি বলা হয়। ক্যামেরার সেন্সর ও মোবাইলের পর্দাতেও একই RGB পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
আলোর তিন মৌলিক রং সমান মাত্রায় মেশালে সাদা আলো হয়।
রঙের (পিগমেন্ট) তিন মৌলিক রং লাল, হলুদ ও নীল, যা আলোর মৌলিক রঙের মতো নয়। - ১৬. টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় –৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
- ক. রেডিও ওয়েভ
- খ. অবলোহিত রশ্মি
- গ. আলট্রা ভায়োলেট
- ঘ. দৃশ্যমান রশ্মি
উত্তর: ক. রেডিও ওয়েভ
টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে বেতার তরঙ্গ (Radio Wave) হিসেবে পাঠানো হয়। সম্প্রচারে সাধারণত VHF ও UHF ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়। এই তরঙ্গ অনেক দূরে যেতে পারে এবং অ্যান্টেনায় সহজে ধরা পড়ে। তারপর গ্রাহকের টিভির অ্যান্টেনা তরঙ্গ ধরে তাকে আবার ছবি ও শব্দে রূপান্তর করে। বেতার তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, তাই বাধা পেরিয়েও এটি অনেক দূর পৌঁছায়। ছবি পাঠানোর জন্য তরঙ্গের ওপর আলোর তথ্য বসিয়ে দেওয়া হয়, একে মডুলেশন বলে।
মনে রাখুন:
টিভির রিমোট কন্ট্রোলে অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
রেডিও সম্প্রচারেও বেতার তরঙ্গ কাজে লাগে। - ১৭. রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কি?২০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
- ক. গামা রশ্মি
- খ. মাইক্রোওয়েভ
- গ. অবলোহিত বিকিরণ
- ঘ. আলোক তরঙ্গ
উত্তর: খ. মাইক্রোওয়েভ
রাডার (RADAR) নামটি এসেছে Radio Detection And Ranging থেকে। এতে মাইক্রোওয়েভ নামের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। রাডার এই তরঙ্গ পাঠায়, আর কোনো বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে তরঙ্গ ফিরে এলে তা ধরে বস্তুটির অবস্থান, দিক ও দূরত্ব নির্ণয় করা হয়। মাইক্রোওয়েভ মেঘ ও কুয়াশা ভেদ করে যেতে পারে, তাই আকাশ খারাপ থাকলেও উড়োজাহাজ ও জাহাজ শনাক্ত করা যায়। রাডার প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের বিমান শনাক্ত করতে।
মনে রাখুন:
ঘরের মাইক্রোওয়েভ ওভেনেও একই ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার হয়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও রাডার কাজে লাগে। - ১৮. পৃথিবীর কক্ষপথের বিভিন্ন বিন্দু থেকে দেখলে কোন ঘটনার কারণে একটি নক্ষত্রের অবস্থানের আপাত পরিবর্তন ঘটে?৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্যারালাক্স
- ক. ডপলার ইফেক্ট
- খ. রেডশিফ্ট
- গ. কসমিক
- ঘ. প্যারালেক্স
উত্তর: ঘ. প্যারালেক্স
কাছের নক্ষত্রকে পৃথিবীর কক্ষপথের দুই বিপরীত প্রান্ত থেকে দেখলে দূরের নক্ষত্রগুলোর সাপেক্ষে সেটি একটু সরে গেছে বলে মনে হয়। আমাদের নিজের দৃষ্টিস্থান বদলানোর ফলে কোনো বস্তুর অবস্থান আপাতভাবে বদলে যাওয়ার এই ঘটনার নাম প্যারালাক্স (Parallax)। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর কোণ মেপে নক্ষত্রের দূরত্ব বের করেন। প্যারালাক্সের কোণ যত ছোট, নক্ষত্রটি তত দূরে। সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রগুলোর প্যারালাক্সই কেবল মাপা সম্ভব।
মনে রাখুন:
ডপলার ইফেক্ট হলো উৎস ও পর্যবেক্ষকের আপেক্ষিক গতির কারণে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বদলে যাওয়া।
রেডশিফ্ট (Redshift) হলো দূরে সরে যাওয়া বস্তুর আলো লালের দিকে সরে যাওয়া। - ১৯. Which one of the following has the shortest wave length?/ সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে২৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. আলফা রশ্মি
- খ. বিটা রশ্মি
- গ. রঞ্জন রশ্মি
- ঘ. গামা রশ্মি
উত্তর: ঘ. গামা রশ্মি
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীতে সবচেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য গামা রশ্মির। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 10⁻¹² মিটারের কাছাকাছি বা তার কম। ফলে গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক ও শক্তি সবচেয়ে বেশি এবং ভেদন ক্ষমতাও অনেক বেশি। রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য গামা রশ্মির চেয়ে বড়। আলফা ও বিটা রশ্মি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নয়, এগুলো যথাক্রমে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের স্রোত। তাই তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীর এক প্রান্তে গামা রশ্মি এবং অপর প্রান্তে বেতার তরঙ্গ থাকে। আলফা কণা আসলে হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস, আর বিটা কণা ইলেকট্রন। এরা কণার স্রোত, তাই এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনা এখানে প্রযোজ্য নয়।
মনে রাখুন:
গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয়।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, কম্পাঙ্ক ও শক্তি তত বেশি। - ২০. কোন রঙ বেশি দূর থেকে দেখা যায়?৩৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. White
- খ. Red
- গ. Black
- ঘ. Yellow
উত্তর: খ. Red
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি। বাতাসের ধুলাবালি ও পানির কণায় আলো ছড়িয়ে যায়, যাকে বিক্ষেপণ (Scattering) বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, তার বিক্ষেপণ কম হয়। ফলে লাল আলো অনেক দূর পর্যন্ত প্রায় সোজা পথে যায় এবং দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়। লাল আলো তাই ঘন কুয়াশাতেও তুলনামূলক বেশি দূর পর্যন্ত যায়। এ ছাড়া সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লালচে দেখায়, কারণ তখন সূর্যের আলোকে বেশি বায়ু অতিক্রম করতে হয় এবং নীল আলো ছড়িয়ে হারিয়ে যায়।
মনে রাখুন:
লাল আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম।
এ কারণেই ট্রাফিক সিগন্যাল, ড্রেনের মুখ বা বিমানবন্দরের বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহৃত হয়। - ২১. হীরক উজ্জ্বল দেখায় কারণ -৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. হীরকের নিজস্ব আলো আছে
- খ. হীরক আলোক প্রতিসরণ করে
- গ. আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়
- ঘ. হীরক আলোক বিকিরণ করে
উত্তর: গ. আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়
হীরার প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি, প্রায় ২.৪২। এজন্য হীরায় আলোর সংকট কোণ মাত্র প্রায় ২৪°, অর্থাৎ হীরার ভেতরে আলো এর চেয়ে বেশি কোণে পড়লেই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হয়। হীরাকে বিশেষ কায়দায় কাটা হয়, ফলে ভেতরে ঢোকা আলো বারবার এই প্রতিফলনের মাধ্যমে ভেতরেই ঘুরে শেষে ওপরের দিক দিয়ে বেরোয়। তাই হীরা এত ঝলমল করে। হীরার ভেতরে বারবার এই প্রতিফলনের ফলে আলো সামনের দিকে ফিরে আসে এবং একই সঙ্গে বিচ্ছুরণ ঘটে বলে হীরা রামধনুর মতো নানা রঙের ঝলকও দেয়।
মনে রাখুন:
হীরার নিজস্ব আলো নেই, এটি বাইরের আলোর ওপর নির্ভর করে।
অপটিক্যাল ফাইবারেও এই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন কাজে লাগানো হয়।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (১৭৯)
- ২২. সাবানের বুদবুদ অথবা পানির ওপর তেলের পাতলা স্তরে রঙিন বলয় দৃশ্যমান হওয়ার কারণ কোনটি?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যতিচার
- ক. আলোর অপবর্তন
- খ. আলোর বিচ্ছুরণ
- গ. আলোর ব্যতিচার
- ঘ. আলোর সমবর্তন
উত্তর: গ. আলোর ব্যতিচার
পাতলা স্তরের ওপর আর নিচের তল থেকে ফেরা দুটি আলোকরশ্মি মিলে ব্যতিচার ঘটায়, আর ভিন্ন বর্ণের আলোর জন্য ভিন্ন জায়গায় শক্তিবৃদ্ধি হয় বলে রঙিন বলয় দেখা যায়। প্রিজমে সাদা আলো ভেঙে রং আলাদা হওয়া বিচ্ছুরণ, আর ব্যতিচার দিয়ে আলোর তরঙ্গধর্ম প্রমাণ হয়। - ২৩. দৃশ্যমান আলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন বর্ণের?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. বেগুনি
- খ. নীল
- গ. লাল
- ঘ. সবুজ
উত্তর: গ. লাল
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার (বেগুনি) থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার (লাল)। তাই লালের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি আর কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম। বেগুনি তার ঠিক উল্টো। - ২৪. মানুষের চোখে প্রতিচ্ছবি কোথায় গঠিত হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখ ও দৃষ্টি
- ক. কর্নিয়ায়
- খ. আইরিসে
- গ. রেটিনায়
- ঘ. পিউপিলে
উত্তর: গ. রেটিনায়
কর্নিয়া আর চোখের লেন্স আলো বাঁকিয়ে রেটিনার ওপর বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব ফেলে। রেটিনার শলাকা ও শঙ্কু কোষ তা স্নায়ু সংকেতে বদলে মস্তিষ্কে পাঠায়, আর মস্তিষ্ক ছবিটাকে সোজা করে বোঝে। - ২৫. মোটরযানের বাইরের পার্শ্বদর্পণে বিস্তৃত দৃশ্য দেখার জন্য কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দর্পণ
- ক. অবতল দর্পণ
- খ. অবতল লেন্স
- গ. সমতল দর্পণ
- ঘ. উত্তল দর্পণ
উত্তর: ঘ. উত্তল দর্পণ
উত্তল দর্পণে সবসময় ছোট, সোজা ও অবাস্তব প্রতিবিম্ব হয় আর দৃষ্টিক্ষেত্র অনেক বড় থাকে। তাই গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার দর্পণ আর রাস্তার বাঁকে লাগানো নিরাপত্তা দর্পণ উত্তল। অবতল দর্পণ ব্যবহার হয় দাড়ি কামানো, দাঁতের ডাক্তারের আয়না আর গাড়ির হেডলাইটে। - ২৬. আলোর কণাকে কী বলা হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রকৃতি
- ক. প্রোটন
- খ. ইলেকট্রন
- গ. ফোটন
- ঘ. নিউট্রন
উত্তর: গ. ফোটন
আলোর শক্তির ক্ষুদ্রতম একককে ফোটন (Photon) বলে। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলোকতড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যায় এই ধারণা ব্যবহার করেন, আর এই কাজের জন্যই তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার পান। - ২৭. নিকটদৃষ্টির (Myopia) ত্রুটি সংশোধনে কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের ত্রুটি
- ক. উত্তল লেন্স
- খ. অবতল লেন্স
- গ. দ্বি-উত্তল লেন্স
- ঘ. নলাকার লেন্স
উত্তর: খ. অবতল লেন্স
নিকটদৃষ্টিতে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে তৈরি হয়। অবতল (অপসারী) লেন্স আলোকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিবিম্বকে রেটিনায় পিছিয়ে আনে। দূরদৃষ্টির ত্রুটিতে লাগে উত্তল লেন্স, আর বয়সজনিত প্রেসবায়োপিয়ায় বাইফোকাল লেন্স। - ২৮. আলোকতড়িৎ ক্রিয়া আলোর কোন প্রকৃতিকে সমর্থন করে?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রকৃতি
- ক. শুধু তরঙ্গ প্রকৃতি
- খ. কণা প্রকৃতি
- গ. স্থিতিস্থাপক প্রকৃতি
- ঘ. যান্ত্রিক প্রকৃতি
উত্তর: খ. কণা প্রকৃতি
নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের নিচে আলো যত জোরালোই হোক, ধাতু থেকে ইলেকট্রন বের হয় না। এটা আলোকে ফোটন নামের কণা ধরলেই ব্যাখ্যা হয়। অন্যদিকে ব্যতিচার ও অপবর্তন আলোর তরঙ্গ প্রকৃতির প্রমাণ, তাই আলোর দ্বৈত প্রকৃতি আছে। - ২৯. আলোক-তীব্রতার SI একক কোনটি?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর একক
- ক. লুমেন
- খ. ওয়াট
- গ. লাক্স
- ঘ. ক্যান্ডেলা
উত্তর: ঘ. ক্যান্ডেলা
আলোক-তীব্রতার (Luminous intensity) SI একক ক্যান্ডেলা, যা সাতটি SI মূল এককের একটি। লুমেন আলোক-ফ্লাক্সের আর লাক্স আলোকমাত্রার (আলোকপ্রদীপ্তি) একক। - ৩০. ম্যাক্স প্ল্যাংক কোন ধারণা প্রস্তাব করেন?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আধুনিক ধারণা
- ক. শক্তি অবিচ্ছিন্নভাবে নির্গত ও শোষিত হয়
- খ. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে শক্তি সঞ্চিত থাকে
- গ. আলো কেবল তরঙ্গ হিসেবে সঞ্চালিত হয়
- ঘ. শক্তি নির্দিষ্ট কোয়ান্টা আকারে নির্গত ও শোষিত হয়
উত্তর: ঘ. শক্তি নির্দিষ্ট কোয়ান্টা আকারে নির্গত ও শোষিত হয়
১৯০০ সালে প্ল্যাংক বলেন, শক্তি ছোট ছোট নির্দিষ্ট প্যাকেটে, অর্থাৎ কোয়ান্টা (Quanta) আকারে নির্গত ও শোষিত হয়। এই ধারণা থেকেই কোয়ান্টাম বলবিদ্যার জন্ম। প্ল্যাংক ধ্রুবকের মান প্রায় ৬.৬২৬ × ১০⁻³⁴ জুল-সেকেন্ড। - ৩১. নিচের কোনটির মাধ্যমে পাকস্থলীর ভেতরের দেয়াল বা মিউকোসা সরাসরি দেখা যায়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. রেডিওগ্রাফি
- খ. এন্ডোস্কপি
- গ. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
- ঘ. ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি
উত্তর: খ. এন্ডোস্কপি
এন্ডোস্কপিতে সরু নলের ডগায় ছোট ক্যামেরা আর আলোর উৎস থাকে, আর আলো পাঠানো হয় অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে। এতে ভেতরের দেয়াল সরাসরি দেখা যায়। ECG হৃদ্পিণ্ডের তড়িৎ-সংকেত মাপে। - ৩২. অপটিক্যাল ফাইবারে আলোকরশ্মি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর মূল আলোকীয় নীতি কোনটি?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. আলোর ব্যতিচার
- খ. আলোর অপবর্তন
- গ. আলোর বিচ্ছুরণ
- ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর: ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
আলো কোরের ভেতরে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হয়ে অগ্রসর হয়, তাই ফাইবার বাঁকালেও আলো বাইরে বেরোয় না। এই কারণে ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট লাইন তামার তারের চেয়ে অনেক দ্রুত আর বেশি তথ্য বইতে পারে। - ৩৩. স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের চোখে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব কত?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখ ও দৃষ্টি
- ক. 5 সে.মি.
- খ. 10 সে.মি.
- গ. 25 সে.মি.
- ঘ. 50 সে.মি.
উত্তর: গ. 25 সে.মি.
এর চেয়ে কাছে বই ধরলে চোখের পেশিতে চাপ পড়ে আর লেখা ঝাপসা লাগে। বই পড়ার আদর্শ দূরত্বও তাই প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। স্পষ্ট দৃষ্টির দূরতম বিন্দু অসীম। - ৩৪. সাধারণ ক্যামেরার আলোকীয় ব্যবস্থায় কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. অবতল বা অপসারী লেন্স
- খ. উত্তল বা অভিসারী লেন্স
- গ. দ্ব্যবতল লেন্স
- ঘ. সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স
উত্তর: খ. উত্তল বা অভিসারী লেন্স
ক্যামেরার উত্তল লেন্স ফিল্ম বা সেন্সরের ওপর বস্তুর বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব ফেলে। মানুষের চোখও একইভাবে কাজ করে, তাই চোখকে প্রাকৃতিক ক্যামেরা বলা হয়। - ৩৫. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত কয়টি?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. ১টি
- খ. ২টি
- গ. ৩টি
- ঘ. ৪টি
উত্তর: খ. ২টি
দুটি শর্ত: আলোকে ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে, আর আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হতে হবে। হীরার ক্রান্তি কোণ খুব কম (প্রায় ২৪°), তাই এটি এত ঝলমল করে। - ৩৬. আলোর প্রতিফলনের সূত্র অনুযায়ী কোনটি সঠিক?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিফলন
- ক. আপতন কোণ > প্রতিফলন কোণ
- খ. আপতন কোণ < প্রতিফলন কোণ
- গ. আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ
- ঘ. কোণ দুটির সম্পর্ক নেই
উত্তর: গ. আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ
প্রতিফলনের প্রথম সূত্র: আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান। দ্বিতীয় সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি আর আপতন বিন্দুর অভিলম্ব একই তলে থাকে। কোণ মাপা হয় অভিলম্ব থেকে, তল থেকে নয়। - ৩৭. সমান্তরাল আলোকরশ্মি কোনো লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হলে, লেন্সটিকে কী বলা হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. অপসারী লেন্স
- খ. প্রতিফলক লেন্স
- গ. সমতল লেন্স
- ঘ. অভিসারী লেন্স
উত্তর: ঘ. অভিসারী লেন্স
আলোকে একবিন্দুতে জড়ো করে বলে একে অভিসারী লেন্স বলে, আর উত্তল লেন্স অভিসারী। অবতল লেন্স আলোকে ছড়িয়ে দেয় বলে অপসারী। লেন্সের ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার, ফোকাস দূরত্ব ১ মিটার হলে ক্ষমতা ১ ডায়াপ্টার। - ৩৮. দীর্ঘ দূরত্বের ফাইবার-অপটিক যোগাযোগে সাধারণত কোন ধরনের আলোকরশ্মি ব্যবহার করা হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. অবলোহিত রশ্মি
- খ. অতিবেগুনি রশ্মি
- গ. গামা রশ্মি
- ঘ. দৃশ্যমান আলো
উত্তর: ক. অবলোহিত রশ্মি
ফাইবারে সাধারণত অবলোহিত (নিকট-ইনফ্রারেড) আলো পাঠানো হয়, কারণ কাচের ভেতর এতে শক্তি সবচেয়ে কম নষ্ট হয়। ব্যবহৃত তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫০, ১৩১০ ও ১৫৫০ ন্যানোমিটার। টিভির রিমোটেও অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার হয়। - ৩৯. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য আলোকে যেতে হয়-এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে
- খ. ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে
- গ. শুধু শূন্যস্থান থেকে বায়ুতে
- ঘ. যেকোনো মাধ্যমে যেকোনো কোণে
উত্তর: খ. ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে
ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে গেলে রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে, তাই আপতন কোণ একটি নির্দিষ্ট ক্রান্তি কোণ ছাড়ালে প্রতিসরণ আর হয় না, পুরো আলোই ফিরে আসে। মরীচিকা আর পানির নিচে চকচকে মনে হওয়া একই নীতির ফল। - ৪০. ক্যামেরায় উত্তল লেন্স সাধারণত কেমন প্রতিবিম্ব তৈরি করে?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. বাস্তব ও উল্টো
- খ. অবাস্তব ও উল্টো
- গ. অবাস্তব ও সোজা
- ঘ. বাস্তব ও সোজা
উত্তর: ক. বাস্তব ও উল্টো
বস্তু লেন্সের ফোকাস দূরত্বের বাইরে থাকলে উত্তল লেন্স বাস্তব ও উল্টো প্রতিবিম্ব দেয়, যা পর্দায় ধরা যায়। বস্তু ফোকাসের ভেতরে থাকলে প্রতিবিম্ব হয় অবাস্তব, সোজা ও বড়, ম্যাগনিফাইং গ্লাসে যেমন দেখা যায়। - ৪১. শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায়-এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. 3 × 10⁶ m/s
- খ. 3 × 10⁷ m/s
- গ. 3 × 10⁸ m/s
- ঘ. 3 × 10⁹ m/s
উত্তর: গ. 3 × 10⁸ m/s
শূন্যস্থানে আলোর বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। এই বেগে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড লাগে। কাচ বা পানির মতো ঘন মাধ্যমে আলোর বেগ কমে যায়। - ৪২. ফোটনের শক্তি কোনটির সমান?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রকৃতি
- ক. mc²
- খ. hf
- গ. mv
- ঘ. h/f
উত্তর: খ. hf
ফোটনের শক্তি E = hf, যেখানে h প্ল্যাংক ধ্রুবক আর f কম্পাঙ্ক। তাই বেশি কম্পাঙ্কের বেগুনি আলোর ফোটন লাল আলোর ফোটনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। mc² আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমীকরণ। - ৪৩. আলোর ব্যতিচার (interference) কোন ধর্মকে প্রমাণ করে?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যতিচার
- ক. কেবল কণাধর্ম
- খ. তরঙ্গধর্ম
- গ. স্থির বৈদ্যুতিক ধর্ম
- ঘ. মহাকর্ষীয় ধর্ম
উত্তর: খ. তরঙ্গধর্ম
দুটি তরঙ্গ মিললে কোথাও শক্তিবৃদ্ধি আর কোথাও ক্ষীণ হওয়া শুধু তরঙ্গেরই ধর্ম। ১৮০১ সালে টমাস ইয়াং দ্বি-চিড় পরীক্ষায় এটি দেখিয়ে আলোর তরঙ্গ প্রকৃতি প্রতিষ্ঠিত করেন। - ৪৪. কোনটি মৌলিক রং (আলোর) নয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. লাল
- খ. নীল
- গ. সবুজ
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ঘ. হলুদ
আলোর মৌলিক রং লাল, সবুজ ও নীল, এই তিনটি মিলিয়ে সাদা আলো হয়। লাল ও সবুজ মেশালে হলুদ আলো হয়, তাই হলুদ গৌণ রং। রঙের (রঞ্জক) মিশ্রণে মৌলিক রং আলাদা: লাল, হলুদ, নীল। - ৪৫. প্রিজমে সাদা আলো বিশ্লিষ্ট হলে কোন বর্ণের বিচ্যুতি সর্বাধিক হয়?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিচ্ছুরণ
- ক. লাল
- খ. হলুদ
- গ. বেগুনি
- ঘ. সবুজ
উত্তর: গ. বেগুনি
বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোট আর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই এটি সবচেয়ে বেশি বেঁকে যায়। লাল সবচেয়ে কম বাঁকে। রংগুলোর ক্রম বেনীআসহকলা: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। - ৪৬. অপটিক্যাল ফাইবার সম্পর্কে— (i) এতে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে। (ii) কোরের প্রতিসরাঙ্ক ক্ল্যাডিংয়ের চেয়ে বেশি। (iii) আলোক রশ্মি কোরের ভেতর বারবার প্রতিফলিত হয়ে অগ্রসর হয়। (iv) এতে আলো সঞ্চালনের মূল নীতি হলো ব্যতিচার। নিচের কোনটি সঠিক?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. i ও ii
- খ. i, ii ও iii
- গ. i ও iv
- ঘ. ii, iii ও iv
উত্তর: খ. i, ii ও iii
(i), (ii) ও (iii) সঠিক। কোরের প্রতিসরাঙ্ক বেশি, অর্থাৎ কোর ঘন আর ক্ল্যাডিং হালকা মাধ্যম, তাই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সম্ভব হয়। (iv) ভুল, কারণ মূল নীতি ব্যতিচার নয়, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন। - ৪৭. প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্রে (স্নেলের সূত্র) কোন অনুপাতটি ধ্রুব থাকে?এক্সট্রা এমসিকিউ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিসরণ
- ক. sin r/sin i
- খ. i/r
- গ. sin i/sin r
- ঘ. r/i
উত্তর: গ. sin i/sin r
একই দুটি মাধ্যমের জন্য sin i / sin r একটি ধ্রুবক, একে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রথমটির সাপেক্ষে প্রতিসরাঙ্ক বলে। ঘন মাধ্যমে ঢুকলে রশ্মি অভিলম্বের দিকে বাঁকে, আর বেশি প্রতিসরাঙ্ক মানে আলোর বেগ কম। - ৪৮. In which two places mirages are usually seen?Wage Earner's Welfare Board, DAD, 2024, Arts Faculty · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. deserts & pitch road
- খ. Sea & sky
- গ. Mountain & sky
- ঘ. Mountain & sea
উত্তর: ক. deserts & pitch road
রোদে তপ্ত মরুভূমি বা পিচঢালা রাস্তার ঠিক ওপরের বাতাস খুব গরম হয়, আর গরম বাতাস হালকা মাধ্যমের মতো আচরণ করে। ওপর থেকে আসা আলো তাই ধীরে ধীরে বেঁকে যায়, আর শেষে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection) ঘটে ওপরে ফিরে আসে। ফলে আকাশের প্রতিবিম্ব মাটিতে পানির মতো দেখায়, একেই মরীচিকা (Mirage) বলে। - ৪৯. What is caused by refraction of light?Wage Earner's Welfare Board, DAD, 2024, Arts Faculty · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিচ্ছুরণ
- ক. Rainbow
- খ. Solar Eclipse
- গ. Lunar Eclipse
- ঘ. UV rays
উত্তর: ক. Rainbow
সূর্যের আলো বৃষ্টির ফোঁটায় ঢোকার সময় আর বেরোনোর সময় প্রতিসরিত (Refraction) হয়, আর ফোঁটার ভেতরে একবার প্রতিফলিত হয়। প্রতিসরণের সময় প্রতিটি রঙের আলো আলাদা পরিমাণে বাঁকে, তাই সাদা আলো সাত রঙে ভাগ হয়ে রংধনু (Rainbow) তৈরি করে। এ কারণে রংধনু সবসময় সূর্যের উল্টো দিকের আকাশে দেখা যায়। - ৫০. The primary additive colours of a colour monitor are –BDBL, SO, 2017, Arts Faculty · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. Blue, magenta, green
- খ. Red, blue, yellow
- গ. Red, green, yellow
- ঘ. Red, green, blue
উত্তর: ঘ. Red, green, blue
রঙিন মনিটর বা টিভির প্রতিটি বিন্দুতে (Pixel) থাকে লাল, সবুজ আর নীল আলো, যাদের একসঙ্গে RGB বলে। এই তিন রঙের আলো নানা অনুপাতে মিশে পর্দার সব রং তৈরি করে, আর তিনটি সমান তীব্রতায় মিশলে সাদা দেখায়। ছাপার কালিতে অবশ্য মৌলিক রং আলাদা: সায়ান, ম্যাজেন্টা আর হলুদ। - ৫১. What color does green and red make?8 Banks, Officer (G), 2022, Finance Dept. DU · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. White
- খ. Maroon
- গ. Yellow
- ঘ. Purple
উত্তর: গ. Yellow
আলোর ক্ষেত্রে লাল আর সবুজ আলো মেশালে হলুদ আলো দেখা যায়। হলুদ তাই আলোর মৌলিক রং নয়, এটি যৌগিক রং (Secondary colour)। একইভাবে লাল আর নীল আলো মিশে হয় ম্যাজেন্টা, আর সবুজ আর নীল মিশে হয় সায়ান। - ৫২. Which of the following is not a primary colour?NRBC, PO, 2023, BIBM · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. Blue
- খ. Purple
- গ. Yellow
- ঘ. Red
উত্তর: খ. Purple
রং বা পেইন্টের ক্ষেত্রে প্রচলিত মৌলিক রং (Primary colour) লাল, হলুদ আর নীল। বেগুনি তাই মৌলিক রং নয়, কারণ লাল আর নীল মিশিয়ে বেগুনি বানানো যায়। আলোর ক্ষেত্রে মৌলিক রং আলাদা: লাল, সবুজ আর নীল। - ৫৩. Which instrument is used to see objects at the surface of water from a submarine underwater?8 Banks, Officer (Cash), 2022, Finance Dept. DU · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিফলন
- ক. kaleidoscope
- খ. periscope
- গ. spectroscope
- ঘ. telescope
উত্তর: খ. periscope
পেরিস্কোপ (Periscope) একটি লম্বা নল, যার দুই প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ বা প্রিজম ৪৫° কোণে সমান্তরালভাবে বসানো থাকে। ওপরের দৃশ্যের আলো দুবার প্রতিফলিত হয়ে নিচের চোখে পৌঁছায়। এ কারণে ডুবোজাহাজ থেকে পানির ওপরের জাহাজ দেখা যায়। - ৫৪. কোন আলোর প্রতিসরাঙ্ক বেশি?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিসরাঙ্ক
- ক. লাল
- খ. বেগুনি
- গ. নীল
- ঘ. সবুজ
উত্তর: খ. বেগুনি
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে যায়, তখন তার দিক কিছুটা বেঁকে যায়, একে প্রতিসরণ বলে। বাঁকের পরিমাণ মাপা হয় প্রতিসরাঙ্ক দিয়ে। একই মাধ্যমে বিভিন্ন রঙের আলোর প্রতিসরাঙ্ক আলাদা হয়, আর তা নির্ভর করে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, প্রতিসরাঙ্ক তত বেশি। দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি এবং কাচের প্রিজমে এটি সবচেয়ে বেশি বেঁকে যায়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম। প্রশ্নের বিকল্পের মধ্যে নীল ও সবুজের মান এই দুইয়ের মাঝামাঝি।
মনে রাখুন:
রামধনুর রং: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (বেনীআসহকলা)।
সাদা আলোকে রঙে ভাগ হয়ে যাওয়াকে বিচ্ছুরণ বলে। - ৫৫. মাইক্রোওয়েভ কোথায় ব্যবহৃত হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
- ক. রেডিও
- খ. রাডার
- গ. গোয়েন্দা কাজে
- ঘ. ক্যান্সার নির্ণয়ে
উত্তর: খ. রাডার
মাইক্রোওয়েভ বিদ্যুৎ-চৌম্বক তরঙ্গের একটি অংশ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য মোটামুটি এক মিলিমিটার থেকে এক মিটারের মধ্যে, আর এটি রেডিও তরঙ্গের চেয়ে ছোট। তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হওয়ায় একে নির্দিষ্ট দিকে সরু রশ্মির মতো পাঠানো যায়। এই ধর্ম কাজে লাগিয়ে রাডার (Radar) তৈরি করা হয়, যা মাইক্রোওয়েভ পাঠিয়ে ফিরে আসা তরঙ্গ থেকে বিমান, জাহাজ বা মেঘের অবস্থান নির্ণয় করে। এর বাইরে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, উপগ্রহ যোগাযোগ ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কেও এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণ রেডিও সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয় রেডিও তরঙ্গ, আর ক্যান্সার নির্ণয়ে এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পদ্ধতি।
মনে রাখুন:
Radar এর পূর্ণরূপ Radio Detection and Ranging।
বিদ্যুৎ-চৌম্বক তরঙ্গ শূন্যস্থানে আলোর বেগে (৩ × 10⁸ m/s) চলে। - ৫৬. অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর কোন ঘটনাটি ঘটে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. প্রতিসরণ
- খ. বিচ্ছুরণ
- গ. অপবর্তন
- ঘ. অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর: ঘ. অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fibre) হলো কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত সরু ও নমনীয় তন্তু। এর একপ্রান্তে আলো ঢোকালে তা তন্তুর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে আসে। আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যাওয়ার সময় আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হলে সম্পূর্ণ আলো ভেতরেই ফিরে আসে, বাইরে বের হয় না। এ কারণে তন্তু বাঁকানো থাকলেও আলো বের হয়ে যায় না। সাধারণ প্রতিসরণ বা বিচ্ছুরণ অপটিক্যাল ফাইবারের মূল নীতি নয়।
মনে রাখুন:
অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগে এবং এন্ডোস্কোপি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
চার্লস কাও অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগের জনক, তিনি ২০০৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
মরীচিকা ও হীরার ঝলকানিও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল। - ৫৭. চেহারা দেখার জন্য যে দর্পণটি ব্যবহৃত হয় সেটি হলো একটি—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দর্পণ
- ক. উত্তল দর্পণ
- খ. অবতল দর্পণ
- গ. সমতল দর্পণ
- ঘ. উভোত্তল দর্পণ
উত্তর: গ. সমতল দর্পণ
যে দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে এবং প্রতিবিম্ব বস্তুর সমান আকারের হয়, সেটি সমতল দর্পণ। মুখ দেখার সময় আমরা যেমন আমাদের মতো একই আকারের প্রতিবিম্ব দেখতে চাই, সমতল দর্পণ ঠিক সেটাই দেয়। এতে প্রতিবিম্ব সব সময় অসদ্ হয় এবং দর্পণের পেছনে বস্তু সামনে যতটা দূরে থাকে, ঠিক ততটা দূরে দেখা যায়। উত্তল দর্পণে প্রতিবিম্ব ছোট ও সোজা দেখায়, তাই গাড়ির সাইড মিররে এটি লাগে। অবতল দর্পণ ছোট বস্তু কাছে ধরলে বড় সোজা প্রতিবিম্ব দেয়, তাই দাড়ি কামানো বা ডাক্তারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব পার্শ্বীয়ভাবে উল্টে যায়।
সমতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব অসীম। - ৫৮. লেন্সের ক্ষমতার একক কী?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. ডায়াপটার
- খ. ডেসিবেল
- গ. ওয়াট
- ঘ. মিটার
উত্তর: ক. ডায়াপটার
লেন্সের ক্ষমতা বলতে বোঝায় আলোকরশ্মিকে লেন্স কতটা বাঁকাতে পারে। লেন্সের ফোকাস দূরত্ব যত কম, তার ক্ষমতা তত বেশি। ফোকাস দূরত্বকে মিটারে মেপে তার অনুবন্ধী (উল্টো মান) নিলে ক্ষমতা পাওয়া যায়। এর একক ডায়াপটার (Diopter), সংক্ষেপে D। যেমন 0.5 m ফোকাস দূরত্বের লেন্সের ক্ষমতা P = 1/0.5 = 2 D। ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা, ওয়াট ক্ষমতা বা পাওয়ার এবং মিটার দৈর্ঘ্যের একক। কেউ ফোকাস দূরত্ব সেন্টিমিটারে দিলে আগে তাকে মিটারে রূপান্তর করে নিতে হয়, নইলে উত্তর ভুল আসে। যেমন 25 cm = 0.25 m, তাই ক্ষমতা 1/0.25 = 4 D।
মনে রাখুন:
উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক, অবতল লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক।
চশমার পাওয়ার ডায়াপটারেই লেখা হয়। - ৫৯. কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তরঙ্গদৈর্ঘ্য
- ক. লাল আলো
- খ. নীল আলো
- গ. মাইক্রোওয়েভ
- ঘ. রেডিও ওয়েভ
উত্তর: ঘ. রেডিও ওয়েভ
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির সব তরঙ্গের গতি একই, আলোর গতির সমান। তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ, কম্পাঙ্ক f এবং বেগ c-এর সম্পর্ক c = fλ। এখানে c ধ্রুবক, তাই কম্পাঙ্ক যত কম হয়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য তত বাড়ে। প্রশ্নের চারটি তরঙ্গের মধ্যে কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম রেডিও তরঙ্গের, তাই এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫০ ন্যানোমিটার, লাল আলোর প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার, আর মাইক্রোওয়েভের কয়েক সেন্টিমিটার, রেডিও তরঙ্গের কয়েক মিটার থেকে কিলোমিটারও হতে পারে।
মনে রাখুন:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়ার ক্রম: গামা, এক্স-রে, অতিবেগুনি, দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত, মাইক্রোওয়েভ, রেডিও।
দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। - ৬০. সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয় কোন যন্ত্র তৈরিতে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমতল দর্পণ
- ক. পেরিস্কোপ
- খ. টেলিস্কোপ
- গ. ক্যামেরা
- ঘ. মাইক্রোস্কোপ
উত্তর: ক. পেরিস্কোপ
সমতল দর্পণে আলো প্রতিফলিত হয়ে নিয়ম মেনে ফিরে আসে, আর প্রতিবিম্ব হয় সোজা ও বস্তুর সমান আকারের। পেরিস্কোপ (Periscope) যন্ত্রে ঠিক এই গুণ কাজে লাগানো হয়। একটি লম্বা নলের উপরের ও নিচের প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ পরস্পর সমান্তরালে, নলের সঙ্গে ৪৫° কোণে বসানো থাকে। উপরের আয়না আলোকে নিচের আয়নায় পাঠায়, আর নিচের আয়না তা চোখে ফেলে। ফলে ডুবোজাহাজের ভেতরে বসে পানির ওপরের দৃশ্য দেখা যায়। টেলিস্কোপ ও মাইক্রোস্কোপে মূলত লেন্স ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব সরল, অসদ ও বস্তুর সমান আকারের হয়।
প্রতিফলনের সূত্র: আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
সমতল দর্পণ ডান-বাম উল্টো করে দেখায়, একে পার্শ্ব পরিবর্তন বলে। - ৬১. অপটিক্যাল ফাইবার আলোর কোন নীতিতে কাজ করে?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইন্সট্রাক্টর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. অপবর্তন
- ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর: ঘ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fiber) চুলের মতো সরু, স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তার। এর ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরাঙ্ক বাইরের আবরণের (ক্ল্যাডিং) চেয়ে বেশি। আলো ফাইবারের এক প্রান্তে ঢুকে ভেতরের দেয়ালে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় কোণে পড়লে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection) ঘটে। ফলে আলো বাইরে না বেরিয়ে বারবার প্রতিফলিত হয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছায়। ফাইবার বেঁকে থাকলেও আলো এভাবে চলতে পারে। এ কারণে দ্রুত গতির ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগে এটি ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত: আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবে এবং আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হবে।
হীরার চকচকে ভাবের কারণও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন। - ৬২. পেরিস্কোপ কোথায় ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, উপসহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশল), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেরিস্কোপ
- ক. গাড়ি
- খ. সাবমেরিন
- গ. উড়োজাহাজ
- ঘ. টেলিস্কোপ
উত্তর: খ. সাবমেরিন
পেরিস্কোপ (Periscope) এমন একটি আলোক যন্ত্র, যা দিয়ে আড়াল থেকে বা পানির নিচে থেকে ওপরের দৃশ্য দেখা যায়। একটি লম্বা নলের দুই প্রান্তে দুটি আয়না বা প্রিজম ৪৫° কোণে বসানো থাকে। ওপরের আয়না বাইরের দৃশ্যের আলো নিচের দিকে প্রতিফলিত করে, আর নিচের আয়না সেই আলো চোখে পাঠায়। সাবমেরিন পানির নিচে ডুবে থাকে, তাই নাবিকরা পেরিস্কোপ দিয়ে পানির ওপরের জাহাজ বা এলাকা দেখে নেয়।
মনে রাখুন:
পেরিস্কোপ আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বা সমতল আয়নার প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ট্রেঞ্চ থেকেও পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয়। - ৬৩. আকাশ নীল দেখায় কেন?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে
- খ. নীল সমুদ্রের প্রতিফলনের ফলে
- গ. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
- ঘ. নীল আলোর প্রতিফলন বেশি বলে
উত্তর: গ. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি বলে
সূর্যের আলো সাদা, তবে এতে সব রঙ মিশে থাকে। এই আলো বায়ুমণ্ডলে ঢুকলে বাতাসের অণু ও ক্ষুদ্র কণায় বিক্ষিপ্ত (Scattering) হয়। রেলের বিক্ষেপণ সূত্র অনুযায়ী, বিক্ষেপণের পরিমাণ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক (1/λ⁴)। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল আলোর চেয়ে কম, তাই নীল আলো সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে এবং সবদিক থেকে আমাদের চোখে আসে। ফলে আকাশ নীল দেখায়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি নয়, কম।
মনে রাখুন:
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আলো বেশি বায়ুস্তর পার হয়, তাই নীল আলো আগেই ছড়িয়ে যায় এবং আকাশ লাল দেখায়।
এই বিক্ষেপণ আবিষ্কার করেন লর্ড রেলে। - ৬৪. একটি অপবর্তন ঝাঁঝরিতে প্রতি মিলিমিটারে ৫০০টি দাগ কাটা আছে। এটির স্লিট-এর প্রস্থ কত?জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপবর্তন
- ক. 500 মিলিমিটার
- খ. 5×10⁻⁵ মিলিমিটার
- গ. 2×10⁻⁵ মিলিমিটার
- ঘ. 2×10⁻³ মিলিমিটার
উত্তর: ঘ. 2×10⁻³ মিলিমিটার
অপবর্তন গ্রেটিংয়ে (Diffraction grating) প্রতি একক দৈর্ঘ্যে যত দাগ বা রেখা কাটা থাকে, তাকে N বলে। পাশাপাশি দুটি দাগের মধ্যবর্তী দূরত্বকে গ্রেটিং ধ্রুবক d বলে, যা d = 1/N। এখানে N = 500 টি/মিমি, তাই d = 1/500 মিমি = 0.002 মিমি = 2 × 10⁻³ মিমি। প্রশ্নে এটিকেই স্লিটের প্রস্থ ধরা হয়েছে। এটি 500 মিমি বা 5 × 10⁻⁵ মিমি হতে পারে না, কারণ প্রতি মিলিমিটারে ৫০০টি দাগ মানে প্রতিটির দূরত্ব মিলিমিটারের অনেক ছোট অংশ।
মনে রাখুন:
গ্রেটিং সমীকরণ: d sinθ = nλ।
গ্রেটিং সাদা আলোকে বিভিন্ন রঙে ভাগ করে বর্ণালি তৈরি করে।
1 mm = 10⁻³ m। - ৬৫. পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যাওয়ার কারণ আলোর—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিসরণ
- ক. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. বিচ্ছুরণ
- ঘ. পোলারায়ন
উত্তর: খ. প্রতিসরণ
পানিতে একটি লাঠি বা নৌকার বৈঠা আংশিক ডুবিয়ে রাখলে সেটি পানির নিচে এসে বাঁকা দেখায়। এর কারণ আলোর প্রতিসরণ (Refraction)। বৈঠার ডুবে থাকা অংশ থেকে আসা আলো ঘন মাধ্যম পানি থেকে হালকা মাধ্যম বাতাসে আসার সময় দিক বদলায়। ফলে আমাদের চোখে অংশটি আসল জায়গা থেকে একটু ওপরে উঠে আছে বলে মনে হয়, আর পুরো বৈঠাটিকে বাঁকা লাগে। পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তখনই হয়, যখন আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয়। এখানে সেরকম কিছু ঘটছে না।
মনে রাখুন:
প্রতিসরণের উদাহরণ: পুকুরের তলদেশ কাছে দেখা, পানিতে রাখা মুদ্রা ওপরে উঠে আসা মনে হওয়া।
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ: মরীচিকা, হীরার ঝলকানি, আলোক তন্তু (Optical Fibre)। - ৬৬. তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ বহন করে—জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ
- ক. ধনাত্মক চার্জ
- খ. ঋণাত্মক চার্জ
- গ. কোনো চার্জ বহন করে না
- ঘ. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় চার্জই বহন করে
উত্তর: গ. কোনো চার্জ বহন করে না
তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave) তৈরি হয় পরস্পর লম্বভাবে দোলায়মান তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে। এই তরঙ্গ নিজে আধানবিহীন, অর্থাৎ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক কোনো চার্জ বহন করে না। এ কারণেই বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে একে বাঁকানো যায় না। তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ শুধু শক্তি বহন করে। এর জন্য কোনো জড় মাধ্যমের দরকার হয় না, তাই শূন্যস্থানেও এটি চলতে পারে। মজার ব্যাপার হলো, সূর্যের আলো এভাবেই শূন্যস্থান পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে।
মনে রাখুন:
শূন্যস্থানে সব তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গের বেগ ৩×10⁸ ms⁻¹।
এ তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
উদাহরণ: রেডিও তরঙ্গ, অবলোহিত রশ্মি, দৃশ্যমান আলো, X-ray, গামা রশ্মি। - ৬৭. আলোর বেগ সর্বপ্রথম পরিমাপ করেন কে?তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. স্নেল
- খ. রবার্ট বয়েল
- গ. ডন ওয়েরিক
- ঘ. রোমার
উত্তর: ঘ. রোমার
আলোর বেগ প্রথম পরিমাপ করেন ডেনিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ওলে রোমার (Ole Rømer), ১৬৭৬ সালে। তিনি বৃহস্পতির উপগ্রহ আইওর গ্রহণের সময় লক্ষ করেন, পৃথিবী বৃহস্পতি থেকে দূরে সরে গেলে গ্রহণ দেখতে দেরি হয়। এই দেরির কারণ আলো পথ চলতে সময় নেয়, আর সেই হিসাব থেকেই তিনি আলোর বেগ বের করেন। পরে আরও নিখুঁত মান পাওয়া গেছে।
মনে রাখুন: ভ্যাকুয়ামে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10^8 m/s।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড লাগে।
১৮৪৯ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী ফিজো পরীক্ষাগারে আলোর বেগ মাপেন। - ৬৮. কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৯ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (মুক্তিযোদ্ধা কোটা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রং ও বর্ণালী
- ক. লাল
- খ. হলুদ
- গ. সাদা
- ঘ. কালো
উত্তর: ক. লাল
দৃশ্যমান আলোর বর্ণালীতে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বাতাসের কণায় কম বিক্ষিপ্ত হয়, তাই তা অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ কারণে বিপদসংকেত বা ট্রাফিকের থামার বাতিতে লাল রং ব্যবহার করা হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার, আর বেগুনির প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার।
মনে রাখুন: বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই তা সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়।
রংধনুতে লাল রং সবার ওপরে দেখা যায়।
কুয়াশায় চালকদের সতর্ক করতে হলুদ বা লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
সাদা আলো প্রিজমের ভেতর দিয়ে গেলে লাল রং সবচেয়ে কম বেঁকে যায়। - ৬৯. কোন আলোকরশ্মি ত্বকে ভিটামিন 'ডি' তৈরিতে সাহায্য করে?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অতিবেগুনি রশ্মি
- ক. বিটা রশ্মি
- খ. আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি
- গ. আলফা রশ্মি
- ঘ. এক্স রশ্মি
উত্তর: খ. আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি
আমাদের ত্বক সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet Ray) থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। এর মধ্যে UV-B রশ্মি ত্বকে পড়লে সেখানকার কোলেস্টেরল-জাতীয় একটি যৌগ ভিটামিন ডি-এ রূপান্তরিত হয়। আলফা, বিটা ও এক্স রশ্মি এ কাজ করে না। তাই সঠিক উত্তর অতিবেগুনি রশ্মি।
মনে রাখুন:
ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেট (Rickets) ও বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া হয়।
অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ ওজোন স্তরে শোষিত হয়।
সূর্যের আলোয় UV-A, UV-B ও UV-C নামে তিন ধরনের অতিবেগুনি রশ্মি থাকে, এর মধ্যে UV-C বায়ুমণ্ডলেই শোষিত হয়ে যায়।
ভিটামিন ডি-এর জন্য সকালের মৃদু রোদে কিছুক্ষণ থাকা ভালো। - ৭০. রংধনুতে কয়টি রং?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু
- ক. ৫টি
- খ. ৬টি
- গ. ৮টি
- ঘ. ৭টি
উত্তর: ঘ. ৭টি
সূর্যের সাদা আলো বৃষ্টির ফোঁটার ভেতর দিয়ে গেলে প্রতিসরণ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফলে সাতটি রঙে ভেঙে যায়, তাই রংধনুতে সাতটি রং দেখা যায়। রংগুলো হলো বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। এগুলো মনে রাখার সংক্ষিপ্ত রূপ ‘বেনীআসহকলা’। রংধনু তৈরির মূল প্রক্রিয়া আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion), অর্থাৎ সাদা আলোর বিভিন্ন রঙে ভেঙে যাওয়া।
মনে রাখুন:
রংধনুতে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, বেগুনির সবচেয়ে কম।
রংধনু দেখতে হলে সূর্য পেছনে ও বৃষ্টি সামনে থাকা লাগে।
প্রধান রংধনুতে বাইরের দিকে লাল আর ভেতরের দিকে বেগুনি থাকে।
প্রধান রংধনুটি প্রায় ৪২ ডিগ্রি কোণে দেখা যায়। - ৭১. বরফ সাদা দেখায়, কারণ :কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রং ও বর্ণালী
- ক. সবগুলো রং শোষণ করে
- খ. সবগুলো রং প্রতিফলন করে
- গ. লাল ও হলুদ রং শোষণ করে
- ঘ. বেগুনি রশ্মি শোষণ করে
উত্তর: খ. সবগুলো রং প্রতিফলন করে
সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের মিশ্রণ। কোনো বস্তু যখন সব রঙকে প্রায় সমানভাবে ফিরিয়ে দেয়, তখন আমরা তাকে সাদা দেখি। বরফের ভেতরে আছে অসংখ্য ছোট ছোট স্ফটিক। আলো এদের গায়ে লেগে বারবার সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফিরে আসে। সব রং সমানভাবে ফিরে আসে বলে বরফ সাদা দেখায়। কালো বস্তু উল্টো কাজ করে, সে প্রায় সব রং শুষে নেয়।
মনে রাখুন: যে বস্তু শুধু লাল আলো প্রতিফলিত করে এবং বাকি রং শোষণ করে, তাকে আমরা লাল দেখি। - ৭২. আলো প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার যায়। ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে কত কোটি কিলোমিটার যাবে?বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ), ইনস্ট্রাক্টর (ডিটিআই), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ১২
- খ. ১৩
- গ. ১৪
- ঘ. ১৫
উত্তর: ঘ. ১৫
আলো প্রতি সেকেন্ডে 3,00,000 কিমি যায়। 8 মিনিট 20 সেকেন্ড = 8 × 60 + 20 = 500 সেকেন্ড। তাই দূরত্ব = 500 × 3,00,000 = 15,00,00,000 কিমি, অর্থাৎ ১৫ কোটি কিমি। এখানে সময়কে আগে সেকেন্ডে রূপান্তর করা জরুরি, কারণ আলোর গতি সেকেন্ডের হিসাবে দেওয়া আছে।
মনে রাখুন:
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় এই সময়ই লাগে, তাই পৃথিবী ও সূর্যের গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিমি।
আলোর গতি প্রায় 3 × 10⁸ মিটার প্রতি সেকেন্ড।
দূরত্ব = গতি × সময়। - ৭৩. 'অতিবেগুনি' রশ্মির উৎস কী?বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অতিবেগুনি রশ্মি
- ক. চন্দ্র
- খ. সূর্য
- গ. পৃথিবী
- ঘ. অন্যান্য গ্রহ
উত্তর: খ. সূর্য
অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet) সূর্যের আলোর সঙ্গে পৃথিবীতে আসে। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান বেগুনি আলোর চেয়ে কম। বেশি পরিমাণে গায়ে লাগলে চামড়ার ক্ষতি হয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর এই রশ্মির বড় অংশ শুষে নেয়। চাঁদ, পৃথিবী বা অন্য গ্রহ এর উৎস নয়, কারণ চাঁদ ও গ্রহগুলো নিজে আলো উৎপাদন করে না, শুধু সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে।
মনে রাখুন:
ওজোন স্তর পৃথিবীকে এই ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
ওজোনের সংকেত O₃, আর ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাস এই স্তর ক্ষয় করে।
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমে অতিবেগুনি রশ্মির পরে আসে এক্স-রশ্মি। - ৭৪. রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো—বিআরটিএ, মোটরযান পরিদর্শক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু
- ক. দর্পণের কাজ করে
- খ. প্রতিফলনের কাজ করে
- গ. প্রিজমের কাজ করে
- ঘ. লেন্সের কাজ করে
উত্তর: গ. প্রিজমের কাজ করে
বৃষ্টির পর বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র পানির কণায় সূর্যের সাদা আলো পড়লে আলো প্রতিসরিত হয়ে ভেতরে ঢোকে, কণার ভেতরে একবার প্রতিফলিত হয় এবং আবার প্রতিসরিত হয়ে বেরিয়ে আসে। এই কাজটি প্রিজমের মতো, ফলে সাদা আলো সাত রঙে বিভক্ত হয়ে রংধনু তৈরি করে। এই রঙে ভাগ হওয়াকে আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে।
মনে রাখুন:
রংধনুর রঙ: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
সূর্যকে পেছনে রেখে দাঁড়ালে রংধনু দেখা যায়।
প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলো গেলে বেগুনি রঙ সবচেয়ে বেশি এবং লাল রঙ সবচেয়ে কম বেঁকে যায়। - ৭৫. সকালে রংধনু সৃষ্টির কারণ—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উপসহকারী পরিচালক, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু
- ক. বায়ুস্তর
- খ. ধূলিকণা
- গ. বায়ুমণ্ডল
- ঘ. বৃষ্টির কণা
উত্তর: ঘ. বৃষ্টির কণা
আকাশে ভেসে থাকা বৃষ্টির ছোট ছোট পানিকণার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো গেলে প্রতিসরণ, অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও আবার প্রতিসরণ হয়। এতে সাদা আলো সাতটি রঙে ভেঙে যায়, আর আমরা তা ধনুকের আকারে দেখি। এটিই রংধনু। বায়ুস্তর, ধূলিকণা বা বায়ুমণ্ডল সরাসরি এর কারণ নয়, কারণ পানিকণা ছাড়া আলো এভাবে ভাঙে না।
মনে রাখুন:
রংধনু দেখতে সূর্য আমাদের পেছনে আর বৃষ্টি সামনে থাকতে হয়।
রংধনুর সাত রঙ: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
সাদা আলো ভেঙে সাত রঙ হওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে। - ৭৬. সূর্যাস্তের সময় আমরা সূর্যকে লাল দেখি, কারণ লাল আলোর—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম
- খ. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি
- গ. প্রতিসরণ বেশি
- ঘ. কম্পাঙ্ক বেশি
উত্তর: খ. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি
সূর্যের সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের মিশ্রণ। বায়ুমণ্ডলের গ্যাস ও ধুলিকণায় লেগে এই আলো চারদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, সে তত বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই সে সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয়।
সূর্যাস্তের সময় সূর্য দিগন্তের কাছে থাকে। তখন তার আলোকে আমাদের চোখে আসতে বায়ুমণ্ডলের অনেক বেশি পথ পার হতে হয়। এই দীর্ঘ পথে নীল ও অন্য ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ছড়িয়ে হারিয়ে যায়, আর লাল আলো সোজাসুজি চোখে পৌঁছায়। তাই সূর্যকে লাল দেখায়।
মনে রাখুন:
এই বিক্ষেপণকে রেলে বিক্ষেপণ (Rayleigh scattering) বলে। আকাশ নীল দেখায় একই কারণে, কারণ নীল আলো বেশি বিক্ষিপ্ত হয়।
লাল আলোর কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম, বেশি নয়।
বিপদ-সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি কম বিক্ষিপ্ত হয় বলে অনেক দূর থেকে দেখা যায়। - ৭৭. টেলিভিশনে রঙিন ছবি তৈরিতে কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর রং
- ক. ৪টি
- খ. ৩টি
- গ. ৭টি
- ঘ. ২৫৬টি
উত্তর: খ. ৩টি
টেলিভিশনের পর্দায় যে রঙিন ছবি দেখি, তা তৈরি হয় তিনটি মৌলিক রঙের আলো মিশিয়ে। এগুলো হলো লাল (Red), সবুজ (Green) ও নীল (Blue), সংক্ষেপে RGB। পর্দার প্রতিটি ক্ষুদ্র বিন্দুতে এই তিন রঙের আলোর তীব্রতা কমবেশি করে লক্ষ লক্ষ রং পাওয়া যায়। তিন রঙ সমান মাত্রায় মেশালে সাদা আলো হয়।
মনে রাখুন:
আলোর মৌলিক রং তিনটি: লাল, সবুজ ও নীল।
ছাপাখানায় রঙের কালির জন্য আলাদা নিয়ম চলে। সেখানে সায়ান, ম্যাজেন্টা, হলুদ ও কালো (CMYK) ব্যবহৃত হয়।
রঙিন টিভি, কম্পিউটারের মনিটর ও মোবাইলের পর্দা সবই এই তিন রঙের আলো মেশানোর নীতিতে কাজ করে।
আলোর তিন মৌলিক রঙের যেকোনো দুটি মিশিয়ে গৌণ রং পাওয়া যায়: লাল ও সবুজ মিশিয়ে হলুদ, সবুজ ও নীল মিশিয়ে সায়ান এবং লাল ও নীল মিশিয়ে ম্যাজেন্টা। - ৭৮. এন্ডোসকপি (Endoscopy)-তে প্রয়োগ করা হয়–ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. আলোর প্রতিসরণ
- খ. আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- গ. বৈদ্যুতিক তরঙ্গের নিঃসরণ
- ঘ. আলোর আংশিক প্রতিসরণ
উত্তর: খ. আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
এন্ডোসকপিতে দুটি অপটিক্যাল ফাইবার নল শরীরের ভেতরে ঢোকানো হয়। একটি দিয়ে আলো ভেতরে পাঠানো হয় এবং অন্যটি দিয়ে ভেতরের প্রতিবিম্ব বাইরে আসে। ফাইবারের ভেতর দিয়ে আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে বারবার প্রতিফলিত হয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছায়। প্রতিসরণে আলো সীমানা পেরিয়ে বাইরে চলে যায়, তাই ফাইবারে আলো আটকে রাখতে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনই লাগে।
মনে রাখুন:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত: আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবে এবং আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বেশি হবে।
একই নীতিতে কাজ করে অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট। - ৭৯. একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব কত?ফরেন সার্ভিস একাডেমি (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের দৃষ্টি
- ক. ২৫ সে.মি.
- খ. ৫ সে.মি.
- গ. ১০ সে.মি.
- ঘ. ৫০ সে.মি.
উত্তর: ক. ২৫ সে.মি.
সুস্থ চোখে কোনো বস্তুকে আরাম করে স্পষ্ট দেখার জন্য বস্তুটি চোখ থেকে অন্তত 25 cm দূরে থাকতে হয়। এই দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব বা নিকট বিন্দু বলে। এর চেয়ে কাছে আনলে ছবি ঝাপসা লাগে। স্পষ্ট দৃষ্টির সর্বোচ্চ দূরত্ব অসীম।
মনে রাখুন:
নিকট বিন্দু 25 cm-এর চেয়ে বেশি হলে দূরদৃষ্টি ত্রুটি হয়। এতে উত্তল লেন্সের চশমা লাগে।
দূরবিন্দু কাছে চলে এলে হ্রস্বদৃষ্টি হয়। এতে অবতল লেন্স লাগে।
চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে বদলায়, তাই কাছের ও দূরের বস্তু আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই। এই ক্ষমতাকে সমঞ্জসকরণ ক্ষমতা (Accommodation) বলে। - ৮০. চোখের লেন্সের ধরন কোনটি?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের লেন্স
- ক. উত্তল
- খ. অবতল
- গ. দ্বি-উত্তল
- ঘ. দ্বি-অবতল
উত্তর: গ. দ্বি-উত্তল
চোখের লেন্স দুই পাশ বাইরের দিকে ফোলা, অর্থাৎ দ্বি-উত্তল (Biconvex)। এই লেন্স আলোকরশ্মিকে অভিসারী করে রেটিনার ওপর বস্তুর উল্টো ও ছোট প্রতিবিম্ব তৈরি করে। সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে লেন্সের ফোলা ভাব বদলে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তু ফোকাস করা যায়। উত্তলও ঠিক, তবে সবচেয়ে নির্দিষ্ট ধরন দ্বি-উত্তল।
মনে রাখুন:
চোখের ফোকাস পরিবর্তনের এই ক্ষমতাকে সামঞ্জস্য বিধান বলে।
প্রতিবিম্ব রেটিনায় উল্টো হয়, তবে মস্তিষ্ক তা সোজা করে বুঝে নেয়।
চোখের সামনে অবস্থিত স্বচ্ছ আবরণ কর্নিয়া আলোর প্রথম প্রতিসরণ ঘটায়। লেন্স শুধু সেই আলোর ফোকাস সূক্ষ্মভাবে ঠিক করে দেয়। - ৮১. রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, তার নাম কী?কারা অধিদপ্তর, ডিপ্লোমা নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
- ক. গামা রশ্মি
- খ. মাইক্রোওয়েভ
- গ. অবলোহিত বিকিরণ
- ঘ. আলোক তরঙ্গ
উত্তর: খ. মাইক্রোওয়েভ
রাডার (RADAR) শব্দের অর্থ Radio Detection and Ranging। এই যন্ত্র বস্তুর দিকে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মাইক্রোওয়েভ পালস পাঠায় এবং বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা তরঙ্গ ধরে। ফিরে আসতে কত সময় লাগল তা থেকে বস্তুর দূরত্ব, দিক ও গতি বের করা যায়। আলোকতরঙ্গ বা গামা রশ্মি এ কাজে ব্যবহার হয় না।
মনে রাখুন:
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাডার কাজে লাগে।
মাইক্রোওয়েভ ওভেনেও একই ধরনের তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালিতে মাইক্রোওয়েভের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অবলোহিত রশ্মির চেয়ে বেশি এবং রেডিও তরঙ্গের চেয়ে কম। ফলে এটি মেঘ ও কুয়াশা ভেদ করে সহজে যেতে পারে। - ৮২. লেন্সের ক্ষমতার একক কোনটি?রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সহকারী প্রটোকল অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্সের ক্ষমতা
- ক. ডায়াপটার
- খ. ওয়াট
- গ. অশ্বক্ষমতা
- ঘ. কিলোওয়াট-ঘণ্টা
উত্তর: ক. ডায়াপটার
লেন্সের ক্ষমতা (Power of Lens) বলতে বোঝায় লেন্সটি আলোকরশ্মিকে কতটা জোরালোভাবে বাঁকাতে পারে। যে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব যত কম, তার ক্ষমতা তত বেশি। তাই ক্ষমতা P = 1/f, যেখানে f মিটারে মাপা হয়। সুতরাং এর একক হয় মিটারের উল্টো (m⁻¹), আর এই এককেরই নাম ডায়াপটার (Dioptre, D)। বাকি তিনটি একক লেন্সের সঙ্গে সম্পর্কহীন: ওয়াট ও অশ্বক্ষমতা কাজ করার হারের একক, আর কিলোওয়াট-ঘণ্টা শক্তির একক।
উদাহরণ: ফোকাস দূরত্ব 0.5 m হলে P = 1/0.5 = 2 D।
মনে রাখুন:
উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক এবং অবতল লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক ধরা হয়।
১ অশ্বক্ষমতা (Horse Power) = 746 ওয়াট। - ৮৩. সূর্য হতে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে কত সময় লাগে?এনটিআরসিএ, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ৭ মিনিট
- খ. ৮ মিনিট
- গ. ৯ মিনিট
- ঘ. ১০ মিনিট
উত্তর: খ. ৮ মিনিট
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার, আর আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যায়। দূরত্বকে বেগ দিয়ে ভাগ করলে সময় পাওয়া যায় প্রায় ৫০০ সেকেন্ড, অর্থাৎ ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মতো। তাই আমরা আকাশে সূর্যকে আসলে ৮ মিনিট আগের অবস্থায় দেখি। আলোর গতি এত বেশি যে এক সেকেন্ডে এটি পৃথিবীকে সাতবারের বেশি প্রদক্ষিণ করতে পারে।
সময় = 150000000 km ÷ 300000 km/s = 500 s ≈ 8 min 20 s
মনে রাখুন:
চাঁদ থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড।
শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ m/s। - ৮৪. আকাশ নীল দেখায় কারণ নীল রঙের –এনটিআরসিএ, ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আকাশের রং
- ক. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি
- খ. বিক্ষেপণ বেশি
- গ. প্রতিফলন বেশি
- ঘ. শোষণ বেশি
উত্তর: খ. বিক্ষেপণ বেশি
সূর্যের সাদা আলো আসলে নানা রঙের আলোর মিশ্রণ। বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের অণুগুলো কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত করে, একে র্যালে বিক্ষেপণ (Rayleigh scattering) বলে। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম বলে এটি চারদিকে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তাই আমরা আকাশ নীল দেখি।
মনে রাখুন:
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আলোকে বায়ুমণ্ডলের অনেক পথ পেরোতে হয়, তখন নীল আলো ছড়িয়ে হারিয়ে যায় আর লাল আলো বেশি পৌঁছায়, তাই আকাশ লাল দেখায়।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে তা সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয়, এ কারণে বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়। - ৮৫. ‘আলোর কণা’ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর তত্ত্ব
- ক. আইজ্যাক নিউটন
- খ. অ্যালো হ্যাজেন
- গ. গ্যালিলিও
- ঘ. রামফোর্ড
উত্তর: ক. আইজ্যাক নিউটন
স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৭০৪ সালে তাঁর ‘অপটিক্স’ গ্রন্থে প্রস্তাব করেন, আলো অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র কণার স্রোত, যা উৎস থেকে সোজা পথে ছুটে চলে। একে আলোর কণা তত্ত্ব (Corpuscular theory) বলে। এই তত্ত্ব দিয়ে প্রতিফলন সহজে ব্যাখ্যা করা গেলেও ব্যতিচার বা অপবর্তনের মতো ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়নি। পরে আইনস্টাইন আলোর কণাধর্মকে ফোটন (Photon) ধারণা দিয়ে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন। নিউটনের সময়ে বিজ্ঞানীরা আলোর ব্যতিচার বা অপবর্তন লক্ষ করেননি, তাই কণা তত্ত্ব অনেক দিন টিকে ছিল।
মনে রাখুন:
তরঙ্গ তত্ত্ব: ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস
তড়িৎচৌম্বক তত্ত্ব: জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক - ৮৬. কোন যন্ত্রের সাহায্যে ডুবোজাহাজ পানির নিচ হতে উপরিভাগের দৃশ্য দেখে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিফলন
- ক. স্টেথোস্কোপ
- খ. মাইক্রোস্কোপ
- গ. টেলিস্কোপ
- ঘ. পেরিস্কোপ
উত্তর: ঘ. পেরিস্কোপ
পেরিস্কোপ (Periscope) যন্ত্রে একটি লম্বা নলের দুই প্রান্তে দুটি সমতল আয়না বা প্রিজম ৪৫ ডিগ্রি কোণে পরস্পরের সমান্তরালে বসানো থাকে। ওপরের আয়নায় পড়া আলো প্রতিফলিত হয়ে নিচের আয়নায় আসে এবং আবার প্রতিফলিত হয়ে চোখে পৌঁছায়। ফলে ডুবোজাহাজ পানির নিচে থেকেই ওপরের দৃশ্য দেখতে পারে। যন্ত্রটি আলোর প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে। ডুবোজাহাজ ছাড়াও ট্যাংক, ভিড়ের মধ্যে ছোট শিশু ও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিখা থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
স্টেথোস্কোপ দিয়ে হৃৎস্পন্দন শোনা হয়।
মাইক্রোস্কোপ দিয়ে ক্ষুদ্র বস্তু বড় করে দেখা হয়।
টেলিস্কোপ দিয়ে দূরের গ্রহ-নক্ষত্র দেখা হয়।
পেরিস্কোপে প্রতিবিম্ব দেখা যায় সোজা, কারণ দুটি প্রতিফলনে ছবির দিক ঠিক থাকে। - ৮৭. আলোর গতি ১৮৬০০০ মাইল প্রতি-সহকারী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. সেকেন্ডে
- খ. মিনিটে
- গ. ঘণ্টায়
- ঘ. দিনে
উত্তর: ক. সেকেন্ডে
শূন্যস্থানে বা বায়ুতে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১,৮৬,০০০ মাইল। কিলোমিটারের হিসাবে এটি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। আলো এত দ্রুত চলে যে মাত্র এক সেকেন্ডে পৃথিবীকে প্রায় সাত বার প্রদক্ষিণ করে ফেলতে পারে। তাই আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে মাপা হয়, মিনিট বা ঘণ্টায় নয়। এজন্যই কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আলোর মাধ্যমে তা দেখতে পাই, অথচ শব্দ শুনতে একটু দেরি হয়।
মনে রাখুন:
সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
চাঁদের আলো পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড। - ৮৮. আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় কত?গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কিলোমিটার
- খ. ২ লক্ষ ৫০ হাজার কিলোমিটার
- গ. ৩ লক্ষ কিলোমিটার
- ঘ. ৩ লক্ষ ২৮ হাজার কিলোমিটার
উত্তর: গ. ৩ লক্ষ কিলোমিটার
শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০,০০০ কিলোমিটার, আরও নিখুঁতভাবে বললে ২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটার। দেওয়া সংখ্যাগুলোর মধ্যে ৩ লক্ষ কিলোমিটারই সঠিক। ১ লক্ষ ৮৬ হাজারের সংখ্যাটি আলোর বেগ মাইলের হিসাবে প্রকাশ করার সময় ব্যবহার করা হয়, কিলোমিটারে নয়। এই বেগ এত বেশি যে এক সেকেন্ডে আলো পৃথিবীর চারপাশে প্রায় সাত বার ঘুরে আসতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে আমরা আলোর পথচলার সময় টের পাই না।
মনে রাখুন:
আলোর বেগের সঠিক মান 299,792,458 মিটার/সেকেন্ড।
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর বেগের চেয়ে বেশি বেগে কোনো বস্তু চলতে পারে না। - ৮৯. বায়ুতে বা শূন্যস্থানে প্রতি সেকেন্ড আলোর গতি কত?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ৩ × ১০⁷ মিটার
- খ. ৩ × ১০⁸ মিটার
- গ. ৩ × ১০⁹ মিটার
- ঘ. ৩ × ১০¹⁰ মিটার
উত্তর: খ. ৩ × ১০⁸ মিটার
বায়ুতে বা শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড, অর্থাৎ সেকেন্ডে ৩০ কোটি মিটার। একে সাধারণত c অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এই বেগ প্রকৃতির একটি মৌলিক ধ্রুবক। কাচ বা পানির মতো ঘন মাধ্যমে আলো ধীরে চলে, ফলে সেখানে এর বেগ কমে যায়। এটি মনে রাখতে হলে বলা যায়, প্রতি সেকেন্ডে আলো ৩ লক্ষ কিলোমিটার, আর কিলোমিটারকে মিটারে নিলে হয় 3 × 10⁸ মিটার।
মনে রাখুন:
শূন্যস্থানে আলোর বেগ সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর জন্য সমান।
পানিতে আলোর বেগ প্রায় 2.25 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড। - ৯০. বায়ুতে বা শূন্যস্থানে আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো সহকারী পরিচালক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ৩ × ১০⁸ সেমি
- খ. ৩ × ১০⁹ সেমি
- গ. ৩ × ১০¹⁰ সেমি
- ঘ. ৩ × ১০¹¹ সেমি
উত্তর: গ. ৩ × ১০¹⁰ সেমি
শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড। ১ মিটারে ১০০ সেন্টিমিটার, তাই সেমি এককে এটি 3 × 10⁸ × 100 = 3 × 10¹⁰ সেমি/সেকেন্ড। অর্থাৎ বেগটি সেকেন্ডে প্রায় ৩০০ কোটি সেন্টিমিটার। এককের পরিবর্তন করার সময় সংখ্যা ও ঘাত দুটোই সঠিকভাবে মেলাতে হয়।মিটার থেকে সেন্টিমিটারে গেলে সংখ্যাকে ১০০ দিয়ে গুণ করতে হয়, আর ঘাতে ২ যোগ হয়। মাইল, কিলোমিটার ও মিটারের মধ্যেও একইভাবে রূপান্তর করা যায়।
মনে রাখুন:
CGS পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার, আর MKS বা SI পদ্ধতিতে মিটার।
আলোর বেগ মাইলে প্রায় ১,৮৬,০০০ মাইল/সেকেন্ড। - ৯১. কোনটির গতি বেশি?পেট্রোবাংলার উচ্চমান সহকারী, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. শব্দ
- খ. আলো
- গ. বুলেট
- ঘ. জেট বিমান
উত্তর: খ. আলো
দেওয়া চারটি জিনিসের মধ্যে আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। শূন্যস্থানে আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার যায়। অন্যদিকে বাতাসে শব্দের বেগ মাত্র প্রায় ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড। বুলেট ও জেট বিমান শব্দের বেগের কাছাকাছি বা কিছু বেশি বেগে চলে, কিন্তু আলোর বেগের কাছে তা অতি সামান্য। শব্দের জন্য মাধ্যম লাগে, আর আলোর জন্য লাগে না। তাই মহাশূন্যে শব্দ পৌঁছায় না, অথচ আলো পৌঁছায়। শব্দের সঙ্গে আলোর বেগের তুলনা করলে দেখা যায়, আলো প্রায় দশ লক্ষ গুণ দ্রুত চলে। তাই বজ্রপাত হলে আগে বিদ্যুৎ চমক দেখি, পরে মেঘের গর্জন শুনি।
মনে রাখুন:
শব্দের বেগ বাতাসে প্রায় ৩৩২ থেকে ৩৪৪ মিটার/সেকেন্ড, তাপমাত্রা অনুযায়ী বদলায়।
সুপারসনিক জেট শব্দের চেয়ে বেশি বেগে চলে। - ৯২. আলোর তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের অবতারণা করেন-সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর তত্ত্ব
- ক. আইনস্টাইন
- খ. ম্যাক্সপ্ল্যাঙ্ক
- গ. ম্যাক্সওয়েল
- ঘ. হাইগেন
উত্তর: গ. ম্যাক্সওয়েল
আলো যে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, এই তত্ত্বটি দেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (James Clerk Maxwell)। তিনি ১৮৬০-এর দশকে গাণিতিকভাবে দেখান যে পরিবর্তনশীল তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্র একসঙ্গে শূন্যস্থানে আলোর বেগে ছুটে চলতে পারে। পরে ১৮৮৭ সালে হাইনরিখ হার্জ পরীক্ষার মাধ্যমে এই তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী আলো ছাড়াও রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ ও এক্স-রে একই পরিবারের তরঙ্গ। ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ অনুযায়ী তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের বেগ ঠিক আলোর বেগের সমান আসায় তিনি বুঝতে পারেন যে আলোও এই পরিবারের তরঙ্গ।
মনে রাখুন:
ম্যাক্সওয়েলের চারটি সমীকরণ তড়িৎ ও চুম্বকত্বের মূল সূত্র।
প্ল্যাঙ্ক ও আইনস্টাইন আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের সঙ্গে জড়িত। - ৯৩. আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব কে উদ্ভাবন করেন?ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর তত্ত্ব
- ক. আইনস্টাইন
- খ. ম্যাক্সপ্ল্যাঙ্ক
- গ. ম্যাক্সওয়েল
- ঘ. হাইগেন
উত্তর: ঘ. হাইগেন
আলো তরঙ্গের মতো আচরণ করে, এই ধারণা ১৬৭৮ সালে প্রথম দেন ডাচ বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন (Christiaan Huygens)। তাঁর মতে আলোর উৎস থেকে সব দিকে তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে, আর তরঙ্গমুখের প্রতিটি বিন্দু নতুন তরঙ্গ সৃষ্টির উৎস হিসেবে কাজ করে। এই তত্ত্ব দিয়ে আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়। হাইগেনের এই ধারণার ওপর ভর করেই পরে টমাস ইয়ং ব্যতিচারের পরীক্ষা দিয়ে আলোর তরঙ্গ ধর্ম প্রমাণ করেন। ১৮০১ সালে আলোর ব্যতিচার দেখিয়ে এই ধারণাকে আরও জোরালো করেন টমাস ইয়ং।
মনে রাখুন:
হাইগেনের তত্ত্বকে আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory) বলে।
ম্যাক্সওয়েল পরে বলেন আলো তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। - ৯৪. কোনটির দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?ডাক অধিদপ্তরের ওভারশিয়ার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. আলোক
- খ. বেতার তরঙ্গ
- গ. রঞ্জন রশ্মি
- ঘ. শব্দ তরঙ্গ
উত্তর: গ. রঞ্জন রশ্মি
এখানে দেওয়া চারটির মধ্যে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 0.01 থেকে 10 ন্যানোমিটার। দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার, যা এক্স-রের চেয়ে অনেক বড়। বেতার তরঙ্গ আরও দীর্ঘ, আর শব্দ তরঙ্গ তো তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গই নয়। তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এক্স-রে অনেক বস্তু ভেদ করে যেতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে কাজে লাগে।এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য এত কম বলে এটি মানুষের শরীরের মাংস ভেদ করে হাড়ের ছবি তুলতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে খুব কাজে লাগে।
মনে রাখুন:
এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলহেলম রন্টজেন, ১৮৯৫ সালে।
এক্স-রে দিয়ে হাড়ের ছবি তোলা হয়। - ৯৫. নিচের কোন আলোকরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৭-১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. Gamma ray
- খ. Microwave
- গ. Visible ray
- ঘ. X-ray
উত্তর: খ. Microwave
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীতে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বড় থেকে ছোট এরকম: বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, এক্স-রে, গামা রশ্মি। দেওয়া চারটির মধ্যে মাইক্রোওয়েভের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়, প্রায় এক মিলিমিটার থেকে এক মিটার পর্যন্ত। দৃশ্যমান আলো, এক্স-রে এবং গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য এর চেয়ে ছোট। গামা রশ্মি ও এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য এই বর্ণালীতে সবচেয়ে ছোটদের মধ্যে, আর বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য কয়েক কিলোমিটারও হতে পারে।মাইক্রোওয়েভের তরঙ্গদৈর্ঘ্য মিলিমিটার থেকে মিটার পর্যন্ত হতে পারে, তাই এটি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে হাজার গুণ বা তারও বেশি বড়।
মনে রাখুন:
মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও রাডারে এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
সব তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ শূন্যস্থানে একই বেগে চলে। - ৯৬. কোনটির ফ্রিকোয়েন্সি (কম্পাঙ্ক) বেশি?বি ইউনিট ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. গামা রশ্মি
- খ. অতিবেগুনি রশ্মি
- গ. মাইক্রোওয়েভ
- ঘ. রেডিও ওয়েভ
উত্তর: ক. গামা রশ্মি
তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের বেগ c = λν, আর শূন্যস্থানে সব তরঙ্গের বেগ সমান। তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, কম্পাঙ্ক তত বেশি। দেওয়া তরঙ্গগুলোর মধ্যে গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে ছোট, তাই এর কম্পাঙ্কই সবচেয়ে বেশি। গামা রশ্মির পর যথাক্রমে অতিবেগুনি রশ্মি, মাইক্রোওয়েভ ও রেডিও ওয়েভের কম্পাঙ্ক ক্রমশ কমে। বর্ণালীর অন্য প্রান্তে থাকা রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম। এদের মধ্যে গামা রশ্মি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, আর রেডিও তরঙ্গ সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন:
ফোটনের শক্তি E = hν, তাই কম্পাঙ্ক বেশি হলে শক্তিও বেশি।
গামা রশ্মি জীবকোষের ক্ষতি করতে পারে। - ৯৭. নিচের কোন তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম?চাবি (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৬-১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. গামা
- খ. অবলোহিত
- গ. অতিবেগুনি
- ঘ. এক্সরে
উত্তর: খ. অবলোহিত
কম্পাঙ্ক (Frequency) বলতে প্রতি সেকেন্ডে কতটি তরঙ্গ তৈরি হয় তা বোঝায়। শূন্যস্থানে সব তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের বেগ সমান, তাই যে তরঙ্গের দৈর্ঘ্য বেশি, তার কম্পাঙ্ক কম। দেওয়া চারটির মধ্যে অবলোহিত রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, ফলে কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম। অতিবেগুনি, এক্স-রে আর গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক ক্রমান্বয়ে বেশি। তাই বর্ণালীর কম কম্পাঙ্কের দিকে আছে রেডিও তরঙ্গ ও মাইক্রোওয়েভ, আর বেশি কম্পাঙ্কের দিকে এক্স-রে ও গামা রশ্মি। অবলোহিত রশ্মির কম্পাঙ্ক দৃশ্যমান আলোর চেয়েও কম, তাই এটি আমাদের চোখে দেখা যায় না।
মনে রাখুন:
অবলোহিত রশ্মিকে তাপীয় রশ্মি বলা হয়।
টিভির রিমোট কন্ট্রোলে অবলোহিত রশ্মি ব্যবহৃত হয়। - ৯৮. গামা রশ্মি হলো –MPEMR-এর সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. মেকানিক্যাল রশ্মি
- খ. তাড়িৎ চুম্বকীয় রশ্মি
- গ. তড়িৎ চুম্বকীয় রশ্মি নয়
- ঘ. উপরের কোনোটিই সত্যি নয়
উত্তর: খ. তাড়িৎ চুম্বকীয় রশ্মি
গামা রশ্মি (Gamma Ray) হলো অত্যন্ত ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যা তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয়। যান্ত্রিক তরঙ্গের চলার জন্য মাধ্যম লাগে, কিন্তু গামা রশ্মি শূন্যস্থানেও চলতে পারে। এর কোনো আধান বা স্থির ভর নেই। তাই এটি তড়িৎচুম্বকীয় রশ্মি। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার মধ্যে আলফা, বিটা ও গামা তিন ধরনের বিকিরণ বেরোয়, তার মধ্যে একমাত্র গামাই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এর শক্তি বেশি বলে এটি ঘন ধাতু বা দেয়ালও ভেদ করতে পারে।
মনে রাখুন:
গামা রশ্মি তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্রে বেঁকে যায় না।
আলফা, বিটা ও গামার মধ্যে ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি গামার। - ৯৯. কোনটি তাড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নয়?চাবি (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৭-১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. Radio wave
- খ. Microwave
- গ. X-ray
- ঘ. Ultrasound
উত্তর: ঘ. Ultrasound
রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ আর এক্স-রে সবই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এদের জন্য কোনো মাধ্যম লাগে না, শূন্যস্থানেও এরা চলতে পারে। কিন্তু আলট্রাসাউন্ড (Ultrasound) হলো উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ, যা একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। যান্ত্রিক তরঙ্গ চলতে বাতাস, পানি বা কঠিন পদার্থের মতো মাধ্যম লাগে। তাই আলট্রাসাউন্ড তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নয়। শব্দ তরঙ্গের মধ্যে ইনফ্রাসাউন্ড, শ্রবণযোগ্য শব্দ ও আলট্রাসাউন্ড, তিনটিই যান্ত্রিক তরঙ্গ। এই কারণে উপরের তিনটি তরঙ্গ শূন্যস্থানেও চলতে পারে, কিন্তু আলট্রাসাউন্ড পারে না।
মনে রাখুন:
মানুষের শোনার সীমা প্রায় ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ।
২০,০০০ হার্জের বেশি কম্পাঙ্কের শব্দকে আলট্রাসাউন্ড বলে। - ১০০. আলো কী ধরনের তরঙ্গ?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. যান্ত্রিক
- খ. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয়
- গ. অনুদৈর্ঘ্য
- ঘ. অনুপ্রস্থ
উত্তর: খ. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয়
আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এতে পরস্পর লম্বভাবে কম্পমান তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র একসঙ্গে চলে। তরঙ্গ চলার দিকের সঙ্গে এই ক্ষেত্রগুলোর কম্পন লম্ব থাকে, তাই এটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। কিন্তু প্রশ্নে সবচেয়ে সঠিক পরিচয় হলো, আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। এর চলার জন্য কোনো মাধ্যম লাগে না। এ কারণে সূর্য থেকে আলো মহাশূন্য পেরিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারে। যান্ত্রিক তরঙ্গ হলে মাধ্যমের অভাবে আসতে পারত না। শব্দ আর পানির ঢেউ যান্ত্রিক তরঙ্গ, আলো সেগুলোর থেকে ভিন্ন।
মনে রাখুন:
শব্দ হলো যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
ম্যাক্সওয়েল আলোকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করেন। - ১০১. আলোর গতি ও বেতার তরঙ্গের গতি-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (নাগলিঙ্গম), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. সমান নয়
- খ. বেতার তরঙ্গের গতি বেশি
- গ. আলোর গতি বেশি
- ঘ. সমান
উত্তর: ঘ. সমান
আলো ও বেতার তরঙ্গ দুটিই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, শুধু তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্ক আলাদা। শূন্যস্থানে সব তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের বেগ একই, প্রায় 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড। তাই আলোর বেগ ও বেতার তরঙ্গের বেগ সমান। তাই রেডিওতে যে সংকেত আসে তা আলোর বেগে ছুটেই আসে। এই কারণে গ্রহান্তরের মহাকাশযান থেকে পাঠানো রেডিও সংকেতও আলোর বেগেই পৃথিবীতে পৌঁছায়। মঙ্গল গ্রহ থেকে সংকেত আসতে কয়েক মিনিট লেগে যায়, কারণ সেখানকার দূরত্ব অনেক বেশি। এই সময় নির্ভর করে পৃথিবী ও মঙ্গলের পারস্পরিক অবস্থানের ওপর।
মনে রাখুন:
বেগ = তরঙ্গদৈর্ঘ্য × কম্পাঙ্ক, তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে কম্পাঙ্ক কম হয়।
এক্স-রে ও গামা রশ্মির বেগও শূন্যস্থানে একই। - ১০২. কোন তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়?৯ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. সমুদ্রের পানির তরঙ্গ
- খ. ভূ-পৃষ্ঠের ভূ -কম্পন
- গ. বেহালা হতে নিঃসৃত সুরেলা শব্দ তরঙ্গ
- ঘ. সূর্য হতে আগত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
উত্তর: ঘ. সূর্য হতে আগত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
ভূমিকম্পের তরঙ্গ, সমুদ্রের ঢেউ আর বেহালার সুরের শব্দ সবই যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা চলতে মাধ্যম লাগে। এদের বেগ সেকেন্ডে কয়েক শ মিটার থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। সূর্য থেকে আসা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ শূন্যস্থানে আলোর বেগে চলে, অর্থাৎ প্রায় 3 × 10⁸ মিটার/সেকেন্ড। কোনো মাধ্যমের বাধা না থাকায় এ তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুত চলে। তাই সূর্যের আলো প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে পৃথিবীতে পৌঁছালেও ভূমিকম্পের তরঙ্গ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে অনেক বেশি সময় নেয়।
মনে রাখুন:
বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড।
আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুযায়ী কোনো কিছুই আলোর বেগকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। - ১০৩. নকল (জাল) টাকা শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালী
- ক. X-ray
- খ. γ-ray
- গ. IR-ray
- ঘ. UV
উত্তর: ঘ. UV
নকল টাকা চেনার জন্য অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet) ব্যবহৃত হয়। আসল টাকায় এমন কিছু বিশেষ কালি ও সুতা থাকে, যেগুলোর ওপর অতিবেগুনি রশ্মি পড়লে তারা উজ্জ্বল আলোতে জ্বলে ওঠে। একে প্রতিপ্রভা (Fluorescence) বলে। নকল টাকায় সাধারণত এই বিশেষ কালি থাকে না, তাই ধরা পড়ে যায়। ব্যাংক বা দোকানে এই কারণেই অতিবেগুনি আলোর ছোট যন্ত্র দেখা যায়, যা দিয়ে নোট যাচাই করা হয়।
মনে রাখুন:
অতিবেগুনি রশ্মির কম্পাঙ্ক দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর একে বেশিরভাগ আটকে দেয়। - ১০৪. আলোর বর্ণ নির্ধারণ করে তার-প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (যমুনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. গতিবেগ
- খ. বিস্তার
- গ. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
আলোর রং নির্ভর করে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) বা কম্পাঙ্কের ওপর। দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা। যেমন লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, আর বেগুনির সবচেয়ে কম। কিন্তু শূন্যস্থানে সব রঙের আলোর বেগ সমান, তাই গতিবেগ দিয়ে রং চেনা যায় না। বিস্তার আলোর উজ্জ্বলতা ঠিক করে, রং নয়। একই কারণে রং বদলালে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে ঢোকার সময় প্রতিসরণের কোণও কিছুটা বদলে যায়। এ থেকেই প্রিজমে বর্ণালী তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার।
বিস্তার বাড়লে আলো উজ্জ্বল হয়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য বদলায় না। - ১০৫. দৃশ্যমান বর্ণালীর বৃহত্তম দৈর্ঘ্যের তরঙ্গ-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ই ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. নীল
- খ. সবুজ
- গ. লাল
- ঘ. বেগুনি
উত্তর: গ. লাল
সূর্যের সাদা আলোকে প্রিজমের ভেতর দিয়ে পাঠালে সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়। এই সাত রঙের মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার। তাই দেওয়া চারটির মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়। লালের পর যথাক্রমে কমলা, হলুদ, সবুজ, আসমানি, নীল ও বেগুনির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্রমশ কমে। কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বেগুনি আলো আর বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো দুটির মধ্যবর্তী সব রঙ মিলেই দৃশ্যমান বর্ণালী।
মনে রাখুন:
রামধনুর রঙের ক্রম: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
লাল থেকে বেগুনির দিকে কম্পাঙ্ক বাড়ে। - ১০৬. তরঙ্গদৈর্ঘ্য তুলনামূলক বেশি কোন আলোর?ডিজিএফআই-এর এসআই, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. কমলা
- খ. সবুজ
- গ. নীল
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ক. কমলা
দৃশ্যমান আলোর রঙের ক্রম তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী বেগুনি থেকে লাল পর্যন্ত বাড়তে থাকে: বেগুনি, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। দেওয়া চারটির মধ্যে কমলা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৬২০ ন্যানোমিটার। হলুদ প্রায় ৫৭০, সবুজ প্রায় ৫৩০ আর নীল প্রায় ৪৫০ ন্যানোমিটার। এই ক্রম মনে রাখতে 'বেনীআসহকলা' শব্দটি ব্যবহার করা যায়, যেখানে প্রতিটি অক্ষর একটি রঙের নামের আদ্যাক্ষর। নীল ও বেগুনির চেয়ে কমলার তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, তাই সেটির বিক্ষেপণ কম হয়।
মনে রাখুন:
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনির সবচেয়ে কম।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। - ১০৭. বিপদ সংকেতের জন্য লাল আলো ব্যবহৃত হয় কেন?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. লাল আলোর গতি কম
- খ. লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বাধিক
- গ. লাল আলোর উৎপাদন খরচ কম
- ঘ. লাল আলোর বিক্ষেপণ বেশি
উত্তর: খ. লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বাধিক
বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহারের কারণ হলো এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, বাতাসের কণা তাকে কম ছড়িয়ে দেয়। ফলে কুয়াশা, ধুলা বা ধোঁয়ার মধ্যেও লাল আলো অনেক দূর থেকে দেখা যায়। আলোর গতি সব রঙে সমান, তাই গতি কম হওয়া এর কারণ নয়। কুয়াশা বা ধোঁয়ার মধ্যে ট্রেনের সিগন্যালও এই কারণে লাল হয়। এজন্য রাস্তার বিপদচিহ্ন, বাতিঘর বা ট্রাফিক সিগন্যালের বন্ধ করার সংকেত লাল রঙে দেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
লাল আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম, আর নীল ও বেগুনির বিক্ষেপণ বেশি।
আকাশ নীল দেখায় নীল আলোর বেশি বিক্ষেপণের জন্য। - ১০৮. কোন রঙের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. লাল
- খ. বেগুনি
- গ. নীল
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ক. লাল
সাদা আলো প্রিজমের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় ভেঙে বিভিন্ন রঙে ভাগ হয়ে যায়। প্রতিটি রঙের আলো আলাদা কোণে বেঁকে যায়, একে বিচ্যুতি (Deviation) বলে। যে রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, তার প্রতিসরাঙ্ক কম হয়, ফলে বিচ্যুতিও কম হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। এ কারণে প্রিজমের বর্ণালীতে লাল রং সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকে। লাল আলোর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম, তাই এটি সবচেয়ে কম বাঁকে।
মনে রাখুন:
প্রিজমে লাল আলো সবচেয়ে কম বাঁকে এবং বেগুনি আলো সবচেয়ে বেশি বাঁকে।
বিচ্যুতির কারণেই সাদা আলোর বিশ্লেষণ বা বিচ্ছুরণ ঘটে। - ১০৯. কোন রঙের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃশ্যমান আলো ও বর্ণ
- ক. বেগুনি
- খ. লাল
- গ. সবুজ
- ঘ. কমলা
উত্তর: ক. বেগুনি
প্রিজমে সাদা আলো বিভিন্ন রঙে ভাগ হয়, আর প্রতিটি রং আলাদা পরিমাণে বেঁকে যায়। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই এটি সবচেয়ে বেশি বিচ্যুত হয়। লাল আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। এজন্য প্রিজমের বর্ণালীতে বেগুনি রং সবচেয়ে নিচে, অর্থাৎ ভিত্তির কাছে দেখা যায়। বেগুনি আলোর কম্পাঙ্ক বেশি বলে এটি সবচেয়ে বেশি বেঁকে যায়। এর বিপরীতে লাল আলো সবচেয়ে কম বিচ্যুত হয়, কারণ তার প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন:
কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর প্রতিসরাঙ্ক বেশি।
বিচ্যুতির ক্রম: বেগুনি > নীল > সবুজ > কমলা > লাল। - ১১০. আয়নার পিছনে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (নাগলিঙ্গম), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আয়না
- ক. তামা
- খ. রৌপ্য
- গ. পারদ
- ঘ. জিংক
উত্তর: খ. রৌপ্য
আয়না আলো প্রতিফলন করে বলে আমরা তাতে প্রতিবিম্ব দেখি। এজন্য কাচের একপাশে ধাতুর পাতলা আস্তরণ দিতে হয়। এই আস্তরণ হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে রুপা (Silver) ব্যবহৃত হয়, কারণ রুপা আলোকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলন করে। রুপার ওপর সাধারণত রং বা তামার স্তর দেওয়া হয়, যাতে আস্তরণ নষ্ট না হয়। বহু আগে পারদ ও টিনের মিশ্রণও ব্যবহৃত হতো। আজকাল কিছু সস্তা আয়নায় অ্যালুমিনিয়ামও দেওয়া হয়। আয়নায় ভালো প্রতিবিম্ব পেতে ধাতুর আস্তরণটি সমতল ও মসৃণ হতে হয়।
মনে রাখুন:
রুপা সবচেয়ে ভালো তাপ ও তড়িৎ পরিবাহী ধাতু।
গাড়ির হেডলাইট বা টেলিস্কোপের আয়নায় অনেক সময় অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহৃত হয়। - ১১১. আয়নার পিছনে কোন ধাতুটি ব্যবহৃত হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (নাগলিঙ্গম), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমতল দর্পণ
- ক. অ্যালুমিনিয়াম
- খ. জিঙ্ক
- গ. মার্কারি
- ঘ. কপার
উত্তর: গ. মার্কারি
আয়না তৈরির সময় কাচের এক পিঠে ধাতুর পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়, যাতে কাচের ভেতর দিয়ে আসা আলো প্রলেপে লেগে ফিরে আসে। পুরোনো পদ্ধতিতে এই প্রলেপ তৈরি হতো টিন ও পারদ (Mercury) মিলিয়ে, যাকে পারদ-সংকর বলে। পারদ ঘরের তাপমাত্রায় তরল থাকা একমাত্র ধাতু, তাই কাচের গায়ে সে সহজে ছড়িয়ে একটি মসৃণ আয়নার মতো পৃষ্ঠ তৈরি করে। আয়নায় আমরা যে প্রতিবিম্ব দেখি, সেটি কাচের পেছনের এই প্রলেপ থেকে প্রতিফলিত আলো দিয়েই তৈরি হয়। সামনের কাচ শুধু প্রলেপটিকে ধুলো ও আঁচড় থেকে রক্ষা করে।
মনে রাখুন:
এখনকার আয়নায় সাধারণত রুপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া হয়, তার ওপর রঙের একটি সুরক্ষা স্তর থাকে।
আয়নার চকচকে প্রলেপটি কাচের পেছন দিকে থাকে, সামনে নয়। - ১১২. আয়নায় প্রতিফলিত হলে কোন শব্দটির পরিবর্তন হবে না?খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমতল দর্পণ
- ক. OAT
- খ. NOON
- গ. SOS
- ঘ. OTTO
উত্তর: ঘ. OTTO
সমতল আয়নার সামনে কোনো শব্দ ধরলে তার ডান-বাম উল্টে যায়, একে পার্শ্বীয় উল্টানো (Lateral Inversion) বলে। তাই প্রতিবিম্বে শব্দটি পড়তে হলে প্রতিটি অক্ষর নিজের আয়না-প্রতিবিম্বের সঙ্গে মিলতে হবে, আর অক্ষরের ক্রমও উল্টে যায়। OTTO শব্দের O ও T দুটি অক্ষরই মাঝখানে খাড়া রেখা ধরে দুই পাশে সমান, আবার শব্দটি সামনে থেকে পড়লেও যা, পেছন থেকে পড়লেও তা। এ কারণে আয়নায় দেখালেও OTTO ঠিক একই থাকে।
মনে রাখুন:
NOON শব্দের N এবং SOS শব্দের S আয়নায় বদলে যায়, কারণ এই অক্ষরগুলো খাড়া রেখার দুই পাশে সমান নয়।
OAT আয়নায় TAO-এর মতো দেখায়, কারণ অক্ষরের ক্রম উল্টে যায়। - ১১৩. একজন লোকের উচ্চতা ৬ ফুট। লোকটি আয়নায় নিজের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে আয়নার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে কত হতে হবে?গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী তথ্য অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমতল দর্পণ
- ক. ২ ফুট
- খ. ৩ ফুট
- গ. ৪ ফুট
- ঘ. ৬ ফুট
উত্তর: খ. ৩ ফুট
সমতল আয়নায় প্রতিবিম্ব আয়নার যতটা পেছনে তৈরি হয়, বস্তু আয়নার ঠিক ততটাই সামনে থাকে। জ্যামিতি করে দেখা যায়, মাথার উপরের বিন্দু আর পায়ের গোড়া থেকে আসা আলো চোখে পৌঁছাতে আয়নার দরকার হয় মানুষটির উচ্চতার ঠিক অর্ধেক। তাই ৬ ফুট লম্বা একজন মানুষ নিজের পুরো প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে আয়না ৬/২ = ৩ ফুট লম্বা হলেই চলবে।
মনে রাখুন:
আয়নার দৈর্ঘ্য বস্তু থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভর করে না, আয়নার কাছে বা দূরে দাঁড়ালেও অর্ধেক দৈর্ঘ্যই যথেষ্ট।
আয়নার উচ্চতা ৩ ফুট হলেও সেটি এমন উচ্চতায় বসাতে হবে, যাতে চোখের সমান উচ্চতা থেকে আয়নার ওপর-নিচ মেলে। - ১১৪. পেরিস্কোপ কোন নীতির উপর তৈরি হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমতল দর্পণ
- ক. শুধুমাত্র প্রতিসরণ
- খ. প্রতিফলন ও ব্যতিচার
- গ. প্রতিসরণ ও প্রতিফলন
- ঘ. অপবর্তন
উত্তর: গ. প্রতিসরণ ও প্রতিফলন
পেরিস্কোপ (Periscope) এমন একটি যন্ত্র, যা দিয়ে আড়ালে থাকা বা উঁচুতে থাকা বস্তু দেখা যায়। এর লম্বা নলের দুই মাথায় ৪৫° কোণে দুটি সমতল আয়না বা দুটি প্রিজম বসানো থাকে। বাইরের আলো প্রথম আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে নল বেয়ে নিচে নামে, তারপর দ্বিতীয় আয়নায় আবার প্রতিফলিত হয়ে চোখে পৌঁছায়। প্রিজম ব্যবহার করলে আলো কাচে ঢুকতে প্রতিসরণ হয়, আর ভেতরে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে। পেরিস্কোপের নল যত লম্বা হয়, উঁচুতে থাকা বস্তু ততই সহজে দেখা যায়, আর আলো প্রতিবার সমান কোণে ফিরে আসে বলে প্রতিবিম্ব বিকৃত হয় না।
মনে রাখুন:
পেরিস্কোপ সাবমেরিন ও ট্যাংকে ব্যবহার করা হয়।
এতে প্রতিবিম্ব সোজা ও বস্তুর সমান আকারের হয়। - ১১৫. ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন) হতে পানির উপর কোন বস্তু দেখার জন্য কোন আলোক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?দুদকের সহকারী পরিচালক ও পাঁচ ব্যাংকের যৌথ অফিসার (ক্যাশ), ২০২০ ও ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সমতল দর্পণ
- ক. টেলিস্কোপ
- খ. পেরিস্কোপ
- গ. মাইক্রোস্কোপ
- ঘ. বাইনোকুলার
উত্তর: খ. পেরিস্কোপ
ডুবোজাহাজ পানির নিচে থাকলে সরাসরি পানির উপরের কিছু দেখা যায় না। এ কাজের জন্য আছে পেরিস্কোপ (Periscope), যার লম্বা নলের ওপরের মুখ পানির উপরে তুলে ধরা হয়। ওপরের ও নিচের দুই মাথায় থাকা দুটি আয়না বা প্রিজম উপরের দৃশ্যের আলোকে প্রতিফলনের মাধ্যমে নলের নিচে চোখের কাছে নামিয়ে আনে। তাই নাবিকরা ভেতরে বসেই পানির উপরের জাহাজ বা আকাশ দেখতে পায়। সাবমেরিনের পেরিস্কোপের মাথা পানির উপরে অল্প একটু বের হয়ে থাকে, তাই শত্রুপক্ষের চোখে পড়া কঠিন হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
টেলিস্কোপ দিয়ে দূরের মহাকাশীয় বস্তু আর মাইক্রোস্কোপ দিয়ে অতি ক্ষুদ্র বস্তু দেখা হয়।
বাইনোকুলারে দুই চোখে দূরের বস্তু দেখার ব্যবস্থা থাকে। - ১১৬. মোটর গাড়ির হেডলাইটে কিরূপ দর্পণ ব্যবহার করা হয় ?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গোলীয় দর্পণ
- ক. উত্তল
- খ. অবতল
- গ. সমতল
- ঘ. গোলতল
উত্তর: খ. অবতল
গাড়ির হেডলাইটে ব্যবহার করা হয় অবতল দর্পণ (Concave Mirror), সাধারণত অধিবৃত্তাকার আকৃতির। বাল্বটি দর্পণের ফোকাস বিন্দুতে বসানো থাকে। অবতল দর্পণ ফোকাস থেকে আসা আলোকে প্রতিফলনের পর সমান্তরাল করে দেয়, ফলে আলো ছড়িয়ে না গিয়ে সোজা দূরে যায় এবং রাস্তা অনেক দূর পর্যন্ত আলোকিত হয়। আয়নার আকৃতি এমন করে তৈরি করা হয় যে বাল্বের সব আলো সামনের দিকে একটি শক্ত আলোর বিম হয়ে বেরোয়।
মনে রাখুন:
উত্তল দর্পণ ব্যবহার হয় গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় (Rear-view Mirror), কারণ এতে বড় এলাকার ছোট প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
অবতল দর্পণ ব্যবহার হয় সেভিং আয়না, টর্চলাইট ও সোলার কুকারেও। - ১১৭. নাক, কান ও গলার ভিতরের অংশ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়-পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গোলীয় দর্পণ
- ক. সমতল দর্পণ
- খ. অবতল দর্পণ
- গ. উত্তল দর্পণ
- ঘ. ক ও গ উভয় ধরনের দর্পণ
উত্তর: খ. অবতল দর্পণ
ডাক্তাররা নাক, কান ও গলার ভেতরের অংশ পরীক্ষা করার সময় কপালে একটি ছোট অবতল দর্পণ (Concave Mirror) বেঁধে রাখেন। এই দর্পণ একটি আলোকরশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে, ফলে সেই ছোট জায়গায় তীব্র আলো পড়ে এবং ভেতরের অংশ স্পষ্ট দেখা যায়। এছাড়া বস্তুটি ফোকাসের ভেতরে থাকলে অবতল দর্পণ বড় আকারের সোজা প্রতিবিম্ব দেয়। দর্পণটির মাঝখানে ছোট একটি ছিদ্র থাকে, যার ভেতর দিয়ে ডাক্তার সরাসরি দেখতে পান। এতে একটি বাতির আলোকে দর্পণ রোগীর গলা বা কানের ভেতরে ফেলে।
মনে রাখুন:
দাঁতের ডাক্তারের ছোট আয়নায় দাঁতকে বড় করে দেখতেও অবতল দর্পণ ব্যবহার হয়।
চোখ পরীক্ষার ডাক্তারি যন্ত্র ও সোলার কুকারেও এটি কাজে লাগে। - ১১৮. রাতের আকাশে তারাগুলো মিটমিট করার কারণ আলোর -৭ম বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিসরণ
- ক. প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. বিচ্ছুরণ
- ঘ. পোলারায়ন
উত্তর: খ. প্রতিসরণ
তারার আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর পার হয়। এই স্তরগুলোর ঘনত্ব এক নয়, আর বায়ু সবসময় চলাচলও করে। তাই আলোর প্রতিসরণ (Refraction) প্রতি মুহূর্তে সামান্য বদলাতে থাকে। ফলে আমাদের চোখে আসা আলোর পরিমাণ আর দিক ক্ষণে ক্ষণে বদলায় এবং তারা মিটমিট করছে বলে মনে হয়। প্রতিসরণের এই পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটে বলে তারার ঔজ্জ্বল্য ও অবস্থান সামান্য কাঁপে, আর আমরা সেটিকেই মিটমিট বলে ধরি। মহাকাশ থেকে তারা দেখলে মিটমিট করত না।
মনে রাখুন:
গ্রহ মিটমিট করে না, কারণ গ্রহ তারার চেয়ে অনেক কাছে এবং আমাদের চোখে এটি একটি বিন্দু নয়, ছোট চাকতির মতো আলোর উৎস।
বায়ুমণ্ডলের প্রতিসরণের কারণে সূর্য ও চাঁদ দিগন্তে কিছুটা চ্যাপ্টা দেখায়। - ১১৯. আলোর প্রতিসরণ ব্যবহার করা হয়-এনবিআর অফিস সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিসরণ
- ক. এক্স-রে-তে
- খ. সিটি স্ক্যানে
- গ. এম আর আই-এ
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ঘ. কোনটিই নয়
এক্স-রে (X-ray), সিটি স্ক্যান আর এমআরআই, এই তিনটির কোনোটিতেই আলোর প্রতিসরণ কাজে লাগানো হয় না। এক্স-রে মানুষের শরীরের ভেতর দিয়ে গিয়ে হাড় ও নরম অংশের ভিন্ন শোষণ থেকে ছবি তৈরি করে। সিটি স্ক্যানে এক্স-রে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অনেক ছবি নেওয়া হয় এবং কম্পিউটার সেগুলো জুড়ে ছবি বানায়। এমআরআই-এ ব্যবহার হয় শক্তিশালী চুম্বক ও রেডিও তরঙ্গ। অন্যদিকে প্রতিসরণ কাজে লাগে লেন্স, চশমা, মাইক্রোস্কোপ ও টেলিস্কোপে। প্রতিসরণের সূত্রটি হলো স্নেলের সূত্র: n = sin i / sin r, যেখানে i আপতন কোণ এবং r প্রতিসরণ কোণ। এই সূত্র বুঝিয়ে দেয় আলো ঘন মাধ্যমে গেলে কেন কাছে বেঁকে যায়।
মনে রাখুন: এমআরআই-তে এক্স-রে ব্যবহার হয় না বলে এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। - ১২০. কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করতে হয়?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট) ভর্তি, ২০২২-২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. অবতল
- খ. উত্তল
- গ. বাইফোকাল
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. উত্তল
যাদের কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে অসুবিধা হয়, তাদের চোখের লেন্স আলোকে যথেষ্ট কেন্দ্রীভূত করতে পারে না। এই সমস্যার নাম দূরদৃষ্টি (Hypermetropia)। এ ক্ষেত্রে উত্তল লেন্সের (Convex Lens) চশমা ব্যবহার করতে হয়। উত্তল লেন্স আলোকরশ্মিকে একত্র করে, ফলে কাছের বস্তুর প্রতিবিম্ব ঠিকমতো রেটিনায় গিয়ে পড়ে। কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখার জন্য লেন্সের ক্ষমতা বাড়াতে হয়, আর উত্তল লেন্স ঠিক সেই কাজটি করে।
মনে রাখুন:
অবতল লেন্স আলো ছড়িয়ে দেয়, তাই নিকটদৃষ্টি (Myopia) বা দূরের বস্তু দেখতে সমস্যা হলে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
বয়স বাড়লে কাছের বস্তু দেখতে সমস্যা হলে একে জরাদৃষ্টি (Presbyopia) বলে, এতেও উত্তল লেন্স লাগে। - ১২১. - 4 ডায়াপ্টার ক্ষমতার লেন্সের জন্য নিচে কোনটি সঠিক?বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. উত্তল লেন্স, f = + 25 cm
- খ. অবতল লেন্স, f = + 25 cm
- গ. উত্তল লেন্স, f = - 25 cm
- ঘ. অবতল লেন্স, f = - 25 cm
উত্তর: ঘ. অবতল লেন্স, f = - 25 cm
লেন্সের ক্ষমতা (Power) ডায়াপ্টার এককে মাপা হয় এবং ক্ষমতা P = 1/f সূত্রে নির্ণয় করা যায়, যেখানে f মিটার এককে। ক্ষমতা -4 D হলে f = 1/(-4) = -0.25 m = -25 cm। ফোকাস দূরত্ব ঋণাত্মক হওয়া মানে লেন্সটি আলো ছড়িয়ে দেয়, অর্থাৎ এটি অবতল লেন্স। ক্ষমতা শূন্য বা ধনাত্মক হলে লেন্সটি উত্তল, ঋণাত্মক হলে অবতল, এই নিয়মটি মনে রাখলে ডায়াপ্টারের সব প্রশ্ন সহজে মেলানো যায়। 1 ডায়াপ্টার মানে ফোকাস দূরত্ব ঠিক 1 মিটার।
মনে রাখুন:
উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ও ফোকাস দূরত্ব ধনাত্মক হয়।
অবতল লেন্সের ক্ষমতা ও ফোকাস দূরত্ব ঋণাত্মক হয়।
নিকটদৃষ্টি দূর করতে এমন ঋণাত্মক ক্ষমতার চশমাই দেওয়া হয়। - ১২২. প্রিজমের মধ্যে দিয়ে সূর্যালোক গেলে যে বর্ণালীরূপ দৃষ্ট হয় এর পশ্চাতে যে প্রতিভাস তা হল আলোর-থানা শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. বিচ্ছুরণ
- ঘ. শোষণ
উত্তর: গ. বিচ্ছুরণ
সূর্যের সাদা আলো আসলে বহু রঙের আলোর মিশ্রণ। এই আলো প্রিজমের (Prism) ভেতর দিয়ে গেলে আলো দুবার প্রতিসরিত হয়, আর প্রতিটি রঙ আলাদা কোণে বাঁকে। কাচে লালের বাঁক সবচেয়ে কম, বেগুনির সবচেয়ে বেশি। ফলে সাদা আলো ভেঙে সাত রঙের একটি ফিতা তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ার নাম আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion), আর ফিতাটি বর্ণালী (Spectrum)। বিচ্ছুরণ ঘটে বলেই প্রিজম ভেদ করে আসা আলো পর্দায় পড়লে সাদা রঙের বদলে সাত রঙের পাশাপাশি ফিতা দেখা যায়। বায়ুশূন্য স্থানে সব রঙের আলোর বেগ সমান বলে সেখানে বিচ্ছুরণ হয় না।
মনে রাখুন:
রামধনু প্রকৃতিতে বিচ্ছুরণের একটি উদাহরণ।
কাচে বিভিন্ন রঙের আলোর বেগ আলাদা বলে তাদের প্রতিসরাঙ্কও আলাদা হয়। - ১২৩. সাদা আলো প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয়ে যে কয়টি বর্ণে বিভক্ত হয়, তার সংখ্যা হলো -সাব-রেজিস্ট্রার, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. সাতটি
- খ. তিনটি
- গ. পাঁচটি
- ঘ. অসংখ্য
উত্তর: ক. সাতটি
সাদা আলো প্রিজমের ভেতর দিয়ে গেলে প্রতিটি রঙ ভিন্ন কোণে বেঁকে যায় এবং আলাদা হয়ে যায়। এভাবে যে রঙের ফিতা পাওয়া যায়, তাতে সাধারণভাবে সাতটি রঙ চেনা যায়। এই রঙগুলো হলো বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল, ইংরেজিতে যাদের আদ্যক্ষর মিলিয়ে VIBGYOR বলা হয়। সাদা আলো যে সাত রঙে ভাগ হয় তাদের এই ক্রম বর্ণালীতে সবসময় একই থাকে, লাল সবচেয়ে কম আর বেগুনি সবচেয়ে বেশি বেঁকে যায়। বর্ণালী দেখার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম স্পেকট্রোমিটার।
মনে রাখুন: আসলে এক রঙ থেকে আরেক রঙে ধীরে ধীরে বদলে যায়, তাই রঙের সংখ্যা সাতটি ধরে নেওয়া হয় নিউটনের সুবিধার জন্য। - ১২৪. বর্ণালীর প্রান্তীয় বর্ণ কি কি?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. বেগুনি ও হলুদ
- খ. লাল ও নীল
- গ. বেগুনি ও লাল
- ঘ. নীল ও সবুজ
উত্তর: গ. বেগুনি ও লাল
সাদা আলো প্রিজমে ভেঙে যে বর্ণালী (Spectrum) তৈরি হয়, তার এক প্রান্তে বেগুনি, অন্য প্রান্তে লাল। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, আর লালের সবচেয়ে বেশি। কাচে বেগুনি আলো সবচেয়ে বেশি বাঁকে, ফলে সে বর্ণালীর একদম নিচের প্রান্তে আসে। লাল সবচেয়ে কম বাঁকে, তাই সে উপরের প্রান্তে থাকে। এই দুই প্রান্তের বাইরে যে অদৃশ্য আলো আছে, তাদের নাম অবলোহিত ও অতিবেগুনি রশ্মি।
মনে রাখুন:
বেগুনির পরে অবলোহিত আলো ও লালের আগে অতিবেগুনি রশ্মি থাকে, কিন্তু সেগুলো আমাদের চোখে ধরা পড়ে না।
বর্ণালীর রঙের ক্রম VIBGYOR। - ১২৫. আলো যে সাতটি বর্ণের সমষ্টি, এটি প্রমাণ করেন কোন বিজ্ঞানী?সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. আইনস্টাইন
- খ. হকিন্স
- গ. নিউটন
- ঘ. গ্যালিলিও
উত্তর: গ. নিউটন
১৬৬৬ সালের দিকে আইজ্যাক নিউটন (Isaac Newton) একটি কালো ঘরের জানালার ছোট ফুটো দিয়ে সূর্যের আলো প্রিজমে ফেলে দেখেন, সাদা আলো সাতটি রঙে ভেঙে যায়। এরপর তিনি আরেকটি প্রিজম উল্টো করে বসিয়ে সেই সাত রঙকে আবার একত্র করে সাদা আলো ফিরে পান। এতে প্রমাণ হয়, সাদা আলো আসলে বিভিন্ন রঙের আলোর মিশ্রণ। নিউটনের এই পরীক্ষার আগে মনে করা হতো প্রিজম নিজেই সাদা আলোতে রঙ যোগ করে। নিউটন সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন।
মনে রাখুন: নিউটনের আলোকবিজ্ঞানের বিখ্যাত বইয়ের নাম 'অপটিক্স' (Opticks), যা ১৭০৪ সালে প্রকাশিত হয়। - ১২৬. সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হলে, কালো রঙ কিসে হয়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (খুলনা বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. লাল ও সবুজের সমন্বয়ে
- খ. লাল ও নীল রঙের সমন্বয়ে
- গ. বেগুনি ও নীল রঙের সমন্বয়ে
- ঘ. সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য
উত্তর: ঘ. সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য
সাত রঙের আলো একসঙ্গে মিশলে আমাদের চোখে সাদা আলোর অনুভূতি হয়। কিন্তু কালো কোনো রঙের আলো নয়, বরং আলোর অনুপস্থিতি। যে বস্তু তার ওপর পড়া সব রঙের আলোই শোষণ করে নেয়, কোনো রঙ প্রতিফলিত করে না, আমরা তাকে কালো দেখি। অন্ধকার ঘরে কিছু না দেখাও একই কারণে, কারণ কোনো আলো চোখে পৌঁছায় না। তাই সব রঙ মিলে সাদা, আর কোনো রঙ না থাকলে কালো, এটি রঙের তত্ত্বের সহজ একটি সূত্র।
মনে রাখুন:
সাদা বস্তু সব রঙের আলো প্রতিফলিত করে।
কালো বস্তু সব আলো শোষণ করে বলে সূর্যের আলোয় অনেক বেশি গরম হয়। - ১২৭. রংধনুর সাতটি রঙের মধ্যে মধ্যম রঙ কোনটি?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (ডেল্টা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. নীল
- খ. লাল
- গ. হলুদ
- ঘ. সবুজ
উত্তর: গ. হলুদ
রংধনুর সাতটি রঙ ক্রমানুসারে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। সাতটির মধ্যে চতুর্থ স্থানে আছে হলুদ, অর্থাৎ হলুদের আগে তিনটি আর পরে তিনটি রঙ রয়েছে। তাই হলুদই মাঝের রঙ। এর দুই পাশে থাকে সবুজ ও কমলা। সাদা আলোর বর্ণালী আসলে ধারাবাহিক, ফলে এক রঙ আরেক রঙে মিশে যায়। রঙের ভাগগুলো আমাদের সুবিধার জন্য নামকরণ করা, আর যার চোখে যেমন, সে তেমন সীমারেখা টেনে নেয়। সাত রঙের মধ্যে সবুজ ও হলুদ আমাদের চোখে সবচেয়ে উজ্জ্বল মনে হয়, কারণ চোখ এই অঞ্চলের আলোর প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল। প্রথম নাম বেগুনি আর শেষ নাম লাল।
মনে রাখুন:
রঙের ক্রম মনে রাখার ইংরেজি সূত্র হলো VIBGYOR।
রংধনুর বাইরের কিনারায় থাকে লাল। - ১২৮. রংধনুতে হলুদ রঙের দুই পাশের সংলগ্ন রঙ দুটি কি কি?মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. নীল ও কমলা
- খ. সবুজ ও লাল
- গ. বেগুনি ও লাল
- ঘ. সবুজ ও কমলা
উত্তর: ঘ. সবুজ ও কমলা
রংধনুর সাতটি রঙ সাজানো আছে এভাবে: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। এই ক্রমে হলুদের এক পাশে সবুজ আর অন্য পাশে কমলা। তাই হলুদের দুই পাশের সংলগ্ন রঙ সবুজ ও কমলা। রংধনুতে বেগুনির পরে যে অদৃশ্য অতিবেগুনি রশ্মি আছে, সেটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, আর লালের আগে অবলোহিত রশ্মির ক্ষেত্রেও তা-ই। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেগুনিতে প্রায় ৪০০ nm আর লালে প্রায় ৭০০ nm। হলুদ আর সবুজ এই দুইয়ের মাঝামাঝি অংশে পড়ে।
মনে রাখুন:
লাল ও বেগুনি বর্ণালীর দুই প্রান্ত।
সাত রঙের এই ক্রম প্রতিসরাঙ্ক অনুযায়ী সাজানো, লালের প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম আর বেগুনির সবচেয়ে বেশি। - ১২৯. পূর্বাকাশে রংধনু দেখা যায় না কোন সময়?প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, ১৯৯০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু
- ক. সকাল বেলায়
- খ. বিকাল বেলায়
- গ. শরৎকাল
- ঘ. শীতকালে
উত্তর: ক. সকাল বেলায়
রংধনু সবসময় সূর্যের উল্টো দিকে দেখা যায়, কারণ সূর্যের আলো পেছন থেকে এসে বাতাসের পানির কণায় প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে ফিরে আসে। সকালে সূর্য থাকে পূর্ব আকাশে, তাই তখন রংধনু দেখা যায় পশ্চিম আকাশে। ফলে সকাল বেলায় পূর্ব আকাশে রংধনু দেখা সম্ভব নয়। বিকালে সূর্য পশ্চিমে থাকে বলে তখন রংধনু পূর্ব আকাশে ওঠে। রংধনু সবসময় সূর্যের বিপরীত দিকে তৈরি হয় বলে সূর্য আর রংধনুকে একসঙ্গে একই দিকে কখনো দেখা যায় না।
মনে রাখুন:
রংধনু দেখতে হলে সূর্য আর পানির কণার মাঝখানে পর্যবেক্ষককে থাকতে হয়।
সূর্য আকাশে অনেক উঁচুতে থাকলে রংধনু দেখা যায় না। - ১৩০. পশ্চিম আকাশের রংধনু দেখা যায় কোন সময়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ১৯৮৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু
- ক. বিকেল বেলা
- খ. সকাল বেলা
- গ. শরৎকালে
- ঘ. বর্ষাকালে
উত্তর: খ. সকাল বেলা
রংধনু সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে তৈরি হয়। সকালবেলা সূর্য থাকে পূর্ব আকাশে, তাই তখন বৃষ্টির পানির কণা থাকলে রংধনু পশ্চিম আকাশে দেখা যায়। বিকেলে ঘটে ঠিক উল্টোটা, সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়লে রংধনু পূর্ব আকাশে ফোটে। এই নিয়ম মনে রাখলে যেকোনো সময়ে রংধনু কোন দিকে দেখা যাবে, সহজেই বলে দেওয়া যায়। অর্থাৎ সকাল বেলার রংধনু পশ্চিমে, বিকেল বেলার রংধনু পূর্বে দেখা যায়। তার জন্য সেই দিকে বৃষ্টি বা পানির কণা থাকতে হয়।
মনে রাখুন:
সূর্য, পর্যবেক্ষকের চোখ আর রংধনুর কেন্দ্র একই সরলরেখায় থাকে।
রংধনু সবসময় সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে, তাই দুপুরে এটি দেখা কঠিন। - ১৩১. সমুদ্রকে নীল দেখানোর কারণ হলো আপতিত সূর্য রশ্মির-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. বিক্ষেপণ
- খ. প্রতিফলন
- গ. প্রতিসরণ
- ঘ. শোষণ
উত্তর: ক. বিক্ষেপণ
সূর্যের সাদা আলোর মধ্যে সব রঙ আছে। এই আলো পানিতে পড়লে পানির অণুতে লেগে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো সবচেয়ে বেশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একে আলোর বিক্ষেপণ (Scattering) বলে। সেই ছড়ানো নীল আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়, তাই সমুদ্রকে নীল দেখায়। এর সঙ্গে পানি লাল আলো বেশি শোষণ করে, ফলে নীল আলোই বেশি অবশিষ্ট থাকে। গভীর সমুদ্রে ছড়ানো আলো আরও বেশি করে নীল দেখায়, কিন্তু নদীর বা পুকুরের জল অনেক সময় ঘোলা বা সবুজাভ দেখায় কারণ তাতে মাটি ও শৈবাল মিশে থাকে।
মনে রাখুন:
আকাশের নীল রঙেরও কারণ বিক্ষেপণ।
বিক্ষেপণ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের (λ⁴) ব্যস্তানুপাতিক। - ১৩২. নভোচারীরা আকাশের যে রং দেখতে পায় তা হলো-বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী সচিব, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. নীল
- খ. সবুজ
- গ. হলুদ
- ঘ. কালো
উত্তর: ঘ. কালো
পৃথিবীর আকাশ নীল দেখায়, কারণ বায়ুমণ্ডলের কণা সূর্যের নীল আলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই সেখানে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো কণা থাকে না। ফলে নভোচারীরা আকাশকে কালো দেখেন, এমনকি দিনের বেলাতেও তারা কালো আকাশে উজ্জ্বল সূর্য আর তারা একসঙ্গে দেখতে পান। এজন্য মহাকাশযান থেকে তোলা ছবিতে দিনের বেলাতেও আকাশ কালো আর তারা স্পষ্ট দেখা যায়। একই কারণে চাঁদ থেকে তোলা ছবিতেও আকাশ কালো, আর তারাগুলো মিটমিট না করে স্থির আলো দেয়।
মনে রাখুন:
আকাশ নীল দেখায় বায়ুমণ্ডলের জন্য, মহাশূন্যের নিজের কোনো রঙ নেই।
চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই বলে সেখানেও দিনের আকাশ কালো। - ১৩৩. গোধূলির কারণ কী?বাংলাদেশ রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. প্রতিফলন
- খ. প্রতিসরণ
- গ. বিক্ষেপণ
- ঘ. এর কোনোটিই নয়
উত্তর: গ. বিক্ষেপণ
সূর্য ওঠার আগে ও ডোবার পরে কিছুক্ষণ আকাশে আবছা আলো থাকে, একে গোধূলি (Twilight) বলে। তখন সূর্য দিগন্তের নিচে থাকলেও তার আলো বায়ুমণ্ডলের উঁচু স্তরের ধুলা ও গ্যাসের কণায় বিক্ষিপ্ত (Scattered) হয়ে নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিক্ষিপ্ত আলোতেই আমরা তখন আলো দেখি। বায়ুমণ্ডল না থাকলে সূর্য ডুবলেই সঙ্গে সঙ্গে ঘোর অন্ধকার নেমে আসত। গোধূলির সময় সূর্য দিগন্তের নিচে প্রায় ১৮° পর্যন্ত থাকলে আকাশ কিছুটা আলোকিত থাকে। এই বিক্ষিপ্ত আলো পৃথিবীর অন্ধকার অংশেও কিছুটা আলো পৌঁছে দেয়।
মনে রাখুন:
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়, কারণ তখন আলো অনেক পুরু বায়ুস্তর ভেদ করে আসে এবং নীল আলো ছড়িয়ে যায়। - ১৩৪. তিনটি মৌলিক রঙ (Fundamental Color) কি কি?১০ম বিসিএস ও বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক বর্ণ
- ক. লাল, হলুদ, নীল
- খ. লাল, কমলা, বেগুনি
- গ. হলুদ, সবুজ, নীল
- ঘ. লাল, নীল, সবুজ
উত্তর: ঘ. লাল, নীল, সবুজ
আলোর তিনটি মৌলিক বা প্রাথমিক রঙ (Primary Colour) হলো লাল, সবুজ ও নীল। এই তিন রঙকে অন্য কোনো রঙ মিশিয়ে বানানো যায় না, কিন্তু এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে প্রায় সব রঙ তৈরি করা সম্ভব। তিনটি রঙ সমান মাত্রায় মেশালে সাদা আলো পাওয়া যায়। মৌলিক রঙকে প্রাথমিক রঙও বলা হয়। এই তিনটি রঙের কোনোটিকেই অন্য দুটি রঙ মিশিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
মনে রাখুন:
লাল ও সবুজ মেশালে হলুদ, লাল ও নীল মেশালে ম্যাজেন্টা, নীল ও সবুজ মেশালে সায়ান পাওয়া যায়, এগুলোকে গৌণ রঙ বলে।
রঙের প্যালেটে লাল, হলুদ ও নীলকে মৌলিক ধরা হয়, আলোর ক্ষেত্রে নয়। - ১৩৫. রঙিন টেলিভিশন ক্যামেরায় তিনটি মৌলিক রং কি কি?পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক বর্ণ
- ক. লাল, আসমানী এবং সবুজ
- খ. লাল, আসমানী এবং কমলা
- গ. লাল, আসমানী এবং বেগুনি
- ঘ. লাল, আসমানী এবং হলুদ
উত্তর: ক. লাল, আসমানী এবং সবুজ
রঙিন টিভি ক্যামেরা বাইরের দৃশ্যের আলোকে তিনটি মৌলিক রঙের উপাদানে ভাগ করে নেয়। এই তিনটি রঙ হলো লাল, আসমানী ও সবুজ। এখানে আসমানী বলতে মূল নীল রঙটিকেই ধরা হয়েছে। এই তিন রঙ ঠিক অনুপাতে মেশালে সাদা আলো হয় এবং বিভিন্ন অনুপাতে মেশালে অন্য সব রঙ পাওয়া যায়। পর্দায় ছবি দেখানোর সময়ও এই তিন রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি রঙের জন্য আলাদা সেন্সর থাকে, যারা নিজ নিজ রঙের আলো ধরে বিদ্যুৎ সংকেত বানায়। এই সংকেত পরে প্রসারণ ও প্রদর্শনের কাজে লাগে।
মনে রাখুন: ক্যামেরা ও পর্দা দুটোতেই এই RGB তিনটিই প্রযুক্তির ভিত্তি। - ১৩৬. সাদা আলো কোন তিনটি রঙের মিশ্রণ?সাব-রেজিস্ট্রার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক বর্ণ
- ক. কমলা, হলুদ, আকাশী
- খ. লাল, কমলা, হলুদ
- গ. হলুদ, আকাশী, লাল
- ঘ. লাল, আকাশী, সবুজ
উত্তর: ঘ. লাল, আকাশী, সবুজ
লাল, সবুজ ও নীল এই তিনটি মৌলিক আলো সমান মাত্রায় একসঙ্গে মেশালে সাদা আলো পাওয়া যায়। এখানে আকাশী বলতে নীল রঙকেই বোঝানো হয়েছে। অন্য সেট, যেমন কমলা, হলুদ ও আকাশী কিংবা লাল, কমলা ও হলুদ, সাদা আলো তৈরি করতে পারে না, কারণ তাদের মধ্যে একটি মৌলিক আলো অনুপস্থিত থাকে। আলোর ক্ষেত্রে মিশ্রণকে যোগাত্মক মিশ্রণ (Additive Mixing) বলে, কারণ যত রঙ যোগ হয়, ফল তত উজ্জ্বল ও সাদার কাছে চলে আসে। রঙ বা পিগমেন্টের ক্ষেত্রে মিশ্রণ বিয়োগাত্মক, সেখানে রঙ যত মেশে ফল তত গাঢ় হয়। এই কারণে নিউটনের বর্ণচক্র ঘোরালে সাত রঙ মিশে সাদা মনে হয়।
মনে রাখুন:
লাল ও সবুজ মিলে হলুদ হয়।
লাল ও নীল মিলে ম্যাজেন্টা হয়।
সবুজ ও নীল মিলে সায়ান হয়। - ১৩৭. নিচের কোন দুই রঙের মিশ্রণে বেগুনি রঙ তৈরি হয়?সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সিনিয়র অফিসার ও প্রকিউরমেন্ট অফিসার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক বর্ণ
- ক. লাল ও সবুজ
- খ. লাল ও আকাশী
- গ. সবুজ ও আকাশী
- ঘ. সবুজ ও বেগুনি
উত্তর: খ. লাল ও আকাশী
আলোর মৌলিক রঙ লাল, সবুজ ও নীল। এর মধ্যে লাল ও নীল আলো সমান মাত্রায় মেশালে যে রঙ হয়, তাকে বেগুনি বা ম্যাজেন্টা (Magenta) বলে। এখানে আকাশী বলতে নীলকে বোঝানো হয়েছে। এই তিনটি রঙের জুটিকে পরিপূরক বর্ণ (Complementary Colour) বলে: লাল-সায়ান, সবুজ-ম্যাজেন্টা, নীল-হলুদ। প্রতিটি জুটি মিললে সাদা আলো হয়। দুটি মৌলিক রঙ মেশালে তৃতীয় মৌলিক রঙের পরিপূরক রঙ পাওয়া যায়: লাল ও নীল মিলে ম্যাজেন্টা, যা সবুজের পরিপূরক।
মনে রাখুন:
লাল ও সবুজ মেশালে হলুদ হয়।
সবুজ ও নীল মেশালে সায়ান (আকাশী-সবুজাভ নীল) হয়।
এই তিনটি গৌণ রঙের প্রত্যেকটি একটি মৌলিক রঙের পরিপূরক। - ১৩৮. যে বস্তু আলোর সকল রং প্রতিফলিত করে, তার রং-প্রধান দপ্তরের অফিস সহায়ক, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. কালো
- খ. সাদা
- গ. লাল
- ঘ. বেগুনি
উত্তর: খ. সাদা
কোনো বস্তুর ওপর সাদা আলো পড়লে সে কিছু রঙের আলো শোষণ করে আর বাকিগুলো প্রতিফলিত করে। প্রতিফলিত রঙের আলোই আমাদের চোখে পৌঁছায় এবং বস্তুর রঙ ঠিক করে দেয়। যে বস্তু সব রঙ প্রতিফলিত করে, সব রঙ মিলে চোখে সাদা আলোর অনুভূতি হয়, তাই বস্তুটি সাদা দেখায়। কোনো বস্তু এভাবে দুই ভাগে আলোর সঙ্গে আচরণ করে, কিছুটা শোষণ আর কিছুটা প্রতিফলন। তাই বস্তুর রঙ আসলে বস্তু ও আলো দুয়ের ওপরই নির্ভর করে।
মনে রাখুন:
সাদা কাপড় গরমের দিনে আরামদায়ক, কারণ সে তাপ কম শোষণ করে।
লাল গোলাপ সাদা আলোতে লাল আলো প্রতিফলিত করে বাকিগুলো শোষণ করে। - ১৩৯. কোন বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে -প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (ঢাকা বিভাগ), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. কালো দেখায়
- খ. নীল দেখায়
- গ. লাল দেখায়
- ঘ. সাদা দেখায়
উত্তর: ক. কালো দেখায়
আমরা কোনো বস্তুকে দেখি তখনই, যখন সে থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়। যে বস্তু তার ওপর পড়া সব রঙের আলোই শোষণ করে নেয়, তার থেকে চোখে কোনো আলো আসে না। তাই বস্তুটি কালো দেখায়। কালো বস্তু থেকে যে সামান্য আলো প্রতিফলিত হয়, তাও খুবই কম, তাই সেটি আমাদের চোখে প্রায় ধরা পড়ে না।
মনে রাখুন:
যে বস্তু সব আলো প্রতিফলিত করে, সে সাদা দেখায়।
যে বস্তু শুধু লাল প্রতিফলিত করে আর বাকিগুলো শোষণ করে, সে লাল দেখায়।
কালো রঙ সবচেয়ে বেশি তাপ শোষণ করে। - ১৪০. অন্ধকার ঘরে লাল আলোতে গাছের সবুজ পাতা কেমন দেখায়?প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার, ২০১৩ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. লাল
- খ. সবুজ
- গ. কালো
- ঘ. হলুদ
উত্তর: গ. কালো
সবুজ পাতা সাদা আলোতে সবুজ আলো প্রতিফলিত করে আর বাকি রঙগুলো, বিশেষ করে লাল, শোষণ করে। এখন শুধু লাল আলোতে পাতাটি রাখলে পাতার ওপর কেবল লাল আলোই পড়ে। পাতা লাল আলো শোষণ করে নেয় এবং কোনো রঙ প্রতিফলিত করার মতো থাকে না। ফলে চোখে কোনো আলো আসে না এবং পাতাটি কালো দেখায়। অন্যদিকে লাল আলোতে লাল গোলাপ উজ্জ্বল লাল দেখায়, কারণ ফুলটি সেই আলো প্রতিফলিত করে।
মনে রাখুন: কোনো বস্তুকে তার নিজের রঙে দেখতে হলে সেই রঙের আলো ওই বস্তুর ওপর থাকতে হবে। - ১৪১. অন্ধকার ঘরে লাল আলোতে কোনটি কালো দেখাবে?উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. লাল কাপড়
- খ. জবা ফুল
- গ. বেলী ফুল
- ঘ. সবুজ পাতা
উত্তর: ঘ. সবুজ পাতা
লাল আলো পড়লে লাল কাপড়, জবা ফুল আর সাদা বেলী ফুল সেই লাল আলোই প্রতিফলিত করে, তাই ওগুলো লালচে বা লাল দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলো শোষণ করে নেয় এবং প্রতিফলিত করে না। তাই ঘরে শুধু লাল আলো থাকলে সবুজ পাতা কালো দেখায়। লাল আলোতে লাল কাপড় ও জবা ফুল আরও উজ্জ্বল লাল দেখাবে। আলোর রঙ আর বস্তুর রঙের মিল না থাকলেই বস্তুকে কালো দেখায়।
মনে রাখুন:
সাদা ফুল সব রঙ প্রতিফলিত করে বলে লাল আলোয় লাল দেখায়।
কোনো বস্তু যে রঙের আলো প্রতিফলিত করতে পারে না, সেই রঙের আলোয় সে কালো হয়ে যায়। - ১৪২. একটি লাল ফুলকে সবুজ আলোয় রাখলে কেমন দেখাবে?পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. নীল
- খ. হলুদ
- গ. সাদা
- ঘ. কালো
উত্তর: ঘ. কালো
লাল ফুল সাদা আলোতে শুধু লাল আলো প্রতিফলিত করে, বাকি রঙ শোষণ করে। সবুজ আলোতে রাখলে ফুলের ওপর কেবল সবুজ আলো পড়ে, আর ফুল সেই সবুজ আলো শোষণ করে নেয়। প্রতিফলিত করার মতো কোনো আলো না থাকায় চোখে কিছু পৌঁছায় না, তাই ফুলটি কালো দেখায়। একই কারণে লাল আলোতে সবুজ বস্তু কালো দেখায়। এভাবে যেকোনো রঙিন বস্তু এমন আলোতে কালো মনে হতে পারে, যে আলো সে প্রতিফলিত করতে পারে না।
মনে রাখুন:
কোনো বস্তুর প্রকৃত রঙ দেখতে সাদা আলোর প্রয়োজন হয়।
বহুরঙা আলোয় বস্তুর রঙ আলোর রঙ ও বস্তুর প্রতিফলন ক্ষমতা দুটোর ওপর নির্ভর করে। - ১৪৩. সবুজ আলোতে একটি হলুদ রঙের বস্তুকে কি রঙের দেখাবে?আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরের সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. কালো
- খ. নীল
- গ. সবুজ
- ঘ. কমলা
উত্তর: গ. সবুজ
হলুদ রঙের বস্তু আসলে লাল ও সবুজ আলো প্রতিফলিত করে, কারণ লাল ও সবুজ মিলেই হলুদ হয়। সবুজ আলোতে রাখলে বস্তুর ওপর শুধু সবুজ আলো পড়ে। বস্তু তার প্রতিফলিত সবুজ অংশটি ফিরিয়ে দেয়, আর চোখে সবুজ আলোই পৌঁছায়। তাই হলুদ বস্তুকে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ আলোতে লাল বস্তু কালো দেখাত, কারণ লাল বস্তু সবুজ আলো ফেরত দিতে পারে না। অর্থাৎ বস্তুর প্রতিফলন-ধর্ম আর আলোর রঙ মিলিয়ে ফল নির্ধারিত হয়।
মনে রাখুন:
হলুদ বস্তুকে লাল আলোয় লাল দেখাবে।
হলুদ বস্তুকে নীল আলোয় কালো দেখাবে, কারণ সে নীল আলো প্রতিফলিত করে না। - ১৪৪. সোডিয়াম লাইটের নিচে রাতে লাল কাপড় কেমন দেখায়?থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. লাল
- খ. হলুদ
- গ. সবুজ
- ঘ. কালো
উত্তর: ঘ. কালো
সোডিয়াম বাতি থেকে প্রায় একরঙা হলুদ আলো (তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮৯ nm) বের হয়। লাল কাপড় সাদা আলোতে শুধু লাল আলো প্রতিফলিত করে, কিন্তু হলুদ আলোতে প্রতিফলিত করার মতো যথেষ্ট কিছু পায় না। আলো প্রায় পুরোটাই শোষিত হয়ে যায়, তাই কাপড়টি কালচে বা কালো দেখায়। সোডিয়াম বাতির হলুদ আলোতে সাদা বা হলুদ কাপড় উজ্জ্বল হলুদ দেখায়, কারণ সেগুলো এই আলো প্রতিফলিত করে।
মনে রাখুন:
রাস্তার সোডিয়াম বাতির আলোয় সব বস্তুর আসল রঙ ধরা কঠিন, কারণ বাতিটি একটি মাত্র রঙের আলো দেয়।
সাদা আলোতে সব রঙ থাকে বলে বস্তুর আসল রঙ ফোটে। - ১৪৫. হলুদ ফুলকে নীল কাচের মধ্য দিয়ে দেখলে কিরূপ দেখায়?পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণার্থী, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. কালো
- খ. নীল
- গ. সবুজ
- ঘ. কমলা
উত্তর: ক. কালো
নীল কাচ শুধু নীল আলোকে ভেতর দিয়ে যেতে দেয়, বাকি রঙ শোষণ করে নেয়। হলুদ ফুল সাদা আলোতে লাল ও সবুজ আলো প্রতিফলিত করে, কিন্তু নীল আলো নয়। তাই কাচের ভেতর দিয়ে নীল আলো এসে ফুলের ওপর পড়লে ফুল সেটি শোষণ করে নেয় এবং প্রতিফলিত করার মতো কিছু থাকে না। ফলে ফুলটি কালো দেখায়। নীল কাচের ভেতর দিয়ে নীল ফুল দেখলে অবশ্য নীল দেখা যেত, কারণ নীল ফুল নীল আলো প্রতিফলিত করে। তাই কাচের রঙ ও ফুলের রঙ মিলিয়ে দেখতে হয়।
মনে রাখুন: ফিল্টার একটি রঙের আলো ছেড়ে দেয়, আর বস্তু সেই আলো প্রতিফলিত করতে পারে কি না তা ঠিক করে বস্তুটি কেমন দেখাবে। - ১৪৬. লাল আলোতে গাছের সবুজ পাতা কালো দেখায় কেন?গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক (টেলিভিশন ও বেতার প্রশিক্ষণ), ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. সবুজ পাতা লাল আলো প্রতিফলিত করে
- খ. সবুজ পাতা দ্বারা লাল আলোর বিক্ষেপণ হয়
- গ. লাল আলো সবুজ পাতা দ্বারা শোষিত হয়
- ঘ. লাল আলো সবুজ পাতা দ্বারা প্রতিসরিত হয়
উত্তর: গ. লাল আলো সবুজ পাতা দ্বারা শোষিত হয়
সবুজ পাতায় ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামে রঞ্জক থাকে, যা লাল ও নীল আলো ভালোভাবে শোষণ করে আর সবুজ আলো প্রতিফলিত করে। তাই সাদা আলোতে পাতা সবুজ দেখায়। লাল আলোতে রাখলে পাতা সেই লাল আলো শোষণ করে নেয় এবং কিছুই প্রতিফলিত হয় না। চোখে আলো না পৌঁছানোয় পাতা কালো দেখায়। একই ব্যাপার ঘটে অন্ধকার ঘরে লাল আলো ফেলে সবুজ জামা বা সবুজ ফুল দেখলে, ওগুলোও কালো দেখাবে।
মনে রাখুন:
সালোকসংশ্লেষণে লাল ও নীল আলোই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
গাছ সবুজ আলো কম কাজে লাগায় বলে পাতা সবুজ দেখায়। - ১৪৭. দিনের বেলায় গাছের পাতা সবুজ দেখায় কেন?সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. পাতার ক্লোরোফিল সবুজ বাদে সকল বর্ণকে শোষণ করে
- খ. দিনের বেলায় সবুজ বাদে অন্য বর্ণকে চেনা যায় না
- গ. সূর্যরশ্মির ফলে পাতা সবুজ দেখায়
- ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
উত্তর: ক. পাতার ক্লোরোফিল সবুজ বাদে সকল বর্ণকে শোষণ করে
পাতায় ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামের সবুজ রঞ্জক থাকে। সূর্যের সাদা আলোতে সব রঙ থাকলেও ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে নেয়, আর সবুজ আলো প্রতিফলিত করে। সেই প্রতিফলিত সবুজ আলোই আমাদের চোখে পৌঁছায়, তাই পাতা সবুজ দেখায়। শরৎকালে বা শীতের শুরুতে ক্লোরোফিল ভেঙে গেলে পাতার অন্য রঞ্জক, যেমন ক্যারোটিন, দৃশ্যমান হয় এবং পাতা হলুদ বা কমলা হয়ে যায়। ক্লোরোফিল সবুজ আলো পুরোপুরি শোষণ করে না বলে গাছের পাতা ঝকঝকে সবুজ দেখায়। সব রঙ শোষণ করলে পাতা কালো দেখাত।
মনে রাখুন:
শরতে পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট হলে অন্য রঞ্জক হলুদ বা কমলা রঙ আনে।
ক্লোরোফিলের প্রধান কাজ সালোকসংশ্লেষণে আলো ধরা। - ১৪৮. চোখের সামনের সাদা অংশকে কী বলে?বিপিএসসির সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. পিউপিল
- খ. স্ক্লেরা
- গ. কোরয়েড
- ঘ. কনজাংটিভা
উত্তর: খ. স্ক্লেরা
আমাদের চোখের বাইরের দিকে একটি শক্ত স্তর থাকে, তার নাম স্ক্লেরা (Sclera)। এটি সাদা রঙের এবং চোখের গোলকের প্রায় পুরোটা ঢেকে রাখে, ভেতরের কোমল অংশগুলোকে রক্ষা করে। একে শ্বেতমণ্ডলও বলা হয়। সামনের অংশে স্ক্লেরা স্বচ্ছ কর্নিয়ায় (Cornea) মিশে গেছে, যার মধ্য দিয়ে আলো চোখে ঢোকে। স্ক্লেরা চোখের গোলকের প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগ জায়গা ঢেকে রাখে। এর পেছনে একটি ছিদ্র থাকে, যেখান দিয়ে চোখের স্নায়ু মস্তিষ্কে যায়। স্ক্লেরা আঁশযুক্ত শক্ত কলার তৈরি, যার সঙ্গে চোখ নাড়ানোর পেশিগুলো যুক্ত থাকে। এটি চোখের গোলকের আকার ঠিক রাখে।
মনে রাখুন:
কোরয়েড (Choroid) স্ক্লেরার নিচের রক্তনালিময় কালচে স্তর।
কনজাংটিভা চোখের সামনের পাতলা আবরণ। - ১৪৯. মানুষের চোখের শ্বেত মণ্ডলের সামনের অংশের নাম-বিজেএস (প্রিলিমিনারি), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. রেটিনা
- খ. কর্নিয়া
- গ. আইরিস
- ঘ. তারারন্ধ্র
উত্তর: খ. কর্নিয়া
চোখের সাদা অংশের নাম শ্বেতমণ্ডল বা স্ক্লেরা (Sclera)। এর সামনের দিকের খানিকটা অংশ স্বচ্ছ ও কিছুটা উঁচু হয়ে থাকে, সেটির নাম কর্নিয়া (Cornea)। বাইরের আলো প্রথমে কর্নিয়ার ভেতর দিয়েই চোখে ঢোকে এবং এটি আলোর বেশিরভাগ প্রতিসরণ ঘটায়। কর্নিয়া রক্তনালিহীন, তাই এর মধ্য দিয়ে আলো সহজে ঢুকতে পারে। মৃত মানুষের কর্নিয়া অন্য মানুষের চোখে প্রতিস্থাপন করে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া যায়। তাহলে চোখের সামনের দিকের স্বচ্ছ অংশই কর্নিয়া, আর সাদা অংশ ওর পেছনের দিকের অংশ। কর্নিয়া স্বচ্ছ, তাই এর ভেতর দিয়ে আইরিসের রঙ দেখা যায়।
মনে রাখুন:
কর্নিয়ার ঠিক পেছনে আইরিস (Iris) থাকে, যার মাঝের ছিদ্রের নাম তারারন্ধ্র বা পিউপিল।
চোখের পেছনের আলোসংবেদী পর্দা হলো রেটিনা। - ১৫০. আমাদের দর্শনানুভূতি কোন আলোতে সবচেয়ে বেশি?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. লাল-কমলা
- খ. বেগুনি-আকাশী
- গ. হলুদ-সবুজ
- ঘ. নীল-আসমানী
উত্তর: গ. হলুদ-সবুজ
আমাদের চোখ সব রঙের আলোর প্রতি সমান সংবেদনশীল নয়। দিনের আলোয় সংবেদনশীলতা সবচেয়ে বেশি হয় হলুদ-সবুজ আলোর জন্য, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫০ nm। এই আলোতে রেটিনার কোণ কোষগুলো সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়, তাই এই রঙ সবচেয়ে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট মনে হয়। প্রায় ৫৫০ nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এই আলো সবুজ থেকে হলুদের মাঝামাঝি। রাতে অবশ্য রড কোষ কাজ করে বলে তখন সংবেদনশীলতা নীল-সবুজ অংশে সরে যায়।
মনে রাখুন:
তাই সতর্কতামূলক চিহ্ন বা জরুরি যানবাহনে অনেক সময় হলুদ-সবুজ রঙ ব্যবহার হয়।
অতিবেগুনি ও অবলোহিত আলো আমাদের চোখে দেখা যায় না। - ১৫১. কোন আলোতে আমাদের দর্শন ক্ষমতা প্রায় শূন্য?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী সচিব, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. কমলা
- খ. হলুদ
- গ. লাল
- ঘ. সবুজ
উত্তর: গ. লাল
মানুষের চোখ দৃশ্যমান আলোর মধ্যে মাঝের হলুদ-সবুজ অংশে সবচেয়ে সংবেদনশীল, আর দুই প্রান্তে, অর্থাৎ গভীর লাল ও গভীর বেগুনির দিকে সংবেদনশীলতা অনেক কমে যায়। দেওয়া চারটির মধ্যে লাল আলো এই প্রান্তের সবচেয়ে কাছে, তাই লাল আলোতে আমাদের দর্শনক্ষমতা সবচেয়ে কম। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে এটি কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং দূর থেকেও দেখা যায়, তাই বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়। লাল আলোর প্রান্ত ছাড়িয়ে গেলে আলো অবলোহিত রশ্মিতে পরিণত হয়, যা আমরা আর দেখতে পাই না।
মনে রাখুন:
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ nm।
এই কারণে অন্ধকার ঘরে লাল আলোতে বসে চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত থাকে, এজন্য ডার্করুমে লাল বাতি ব্যবহার করা হয়। - ১৫২. মানুষের দর্শনানুভূতির স্থায়িত্বকালস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা তত্ত্বাবধায়ক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. ১০.০ সেকেন্ড
- খ. ১.৫ সেকেন্ড
- গ. ০.০১ সেকেন্ড
- ঘ. ০.১ সেকেন্ড
উত্তর: ঘ. ০.১ সেকেন্ড
কোনো বস্তুর ওপর থেকে আলো সরিয়ে নিলেও তার ছবি আমাদের রেটিনায় কিছুক্ষণ থেকে যায়। এই সময়কে দর্শনানুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Vision) বলে, যা প্রায় ০.১ সেকেন্ড বা ১/১০ সেকেন্ড। তাই এর চেয়ে কম সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ছবি এলে সেগুলো আলাদা না দেখে আমরা একটানা দৃশ্য বলে মনে করি। এই কারণে টেলিভিশনের পর্দায় প্রতি সেকেন্ডে পঁচিশ বা তার বেশি ছবি দেখানো হয়, তাতে আমরা কোনো ঝিলমিল টের পাই না।
মনে রাখুন:
সিনেমায় প্রতি সেকেন্ডে ২৪টি ছবি দেখানো হয়, এই কারণেই ছবি চলমান মনে হয়।
জ্বলন্ত কাঠি দ্রুত ঘোরালে আগুনের বৃত্ত দেখা যায়, এটিও এই কারণে। - ১৫৩. স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের চোখের স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব কত?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. ২৫ সে.মি
- খ. ৫০ সে.মি
- গ. ১০ সে.মি
- ঘ. ৫ সে.মি
উত্তর: ক. ২৫ সে.মি
একজন স্বাভাবিক চোখের মানুষ কোনো বস্তুকে চোখের খুব কাছে ধরলে আর স্পষ্ট দেখতে পায় না। যে সবচেয়ে কাছের দূরত্বে বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব (Least Distance of Distinct Vision) বলে। এর মান প্রায় ২৫ সে.মি.। এর চেয়ে কাছে এলে চোখের লেন্স আর যথেষ্ট ফোকাস করতে পারে না। বয়স্ক মানুষের চোখের লেন্স শক্ত হয়ে যায়, তাই তাদের এই দূরত্ব ২৫ সে.মি. থেকে বেড়ে যায়। অবশ্য বিজ্ঞানে ছোট শিশুর জন্য কিছুটা কম মানও ধরা হয়।
মনে রাখুন:
স্পষ্ট দৃষ্টির দূরত্ব সবচেয়ে বেশি অসীম পর্যন্ত।
জরাদৃষ্টিতে এই ন্যূনতম দূরত্ব বেড়ে যায়। - ১৫৪. একজন লোক বই পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করে। তাঁর কী ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হবে?ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডমিন অ্যাসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের ত্রুটি
- ক. উত্তল
- খ. অবতল
- গ. সমতাবতল
- ঘ. সমতলোত্তল
উত্তর: ক. উত্তল
বই পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করা দূরদৃষ্টির (Hypermetropia) লক্ষণ। এতে কাছের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার পেছনে পড়ে। স্পষ্ট দেখার জন্য চোখের পেশিকে বাড়তি চেষ্টা করতে হয় এবং তাতে মাথা ব্যথা হয়। উত্তল লেন্সের (Convex Lens) চশমা আলোকে আগেই একটু কেন্দ্রীভূত করে দেয়, ফলে প্রতিবিম্ব রেটিনার ঠিক জায়গায় পড়ে। নিকটদৃষ্টি বা মাইওপিয়ায় প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে পড়ে, আর দূরদৃষ্টিতে ঠিক উল্টো রেটিনার পেছনে পড়ে, এভাবে মনে রাখলে দুই ত্রুটি গুলিয়ে যায় না। এই ত্রুটির উল্টোটি হলো নিকটদৃষ্টি, তাতে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায় আর অবতল লেন্সের চশমা লাগে।
মনে রাখুন:
নিকটদৃষ্টিতে অবতল লেন্স লাগে।
বিষম দৃষ্টিতে বেলনাকার বা টরিক লেন্স লাগে। - ১৫৫. চোখের কোন ত্রুটির কারণে একই দূরত্বে অবস্থিত আনুভূমিক ও উলম্ব রেখাকে সমান স্পষ্টভাবে দেখা যায় না?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের ত্রুটি
- ক. মাইওপিয়া
- খ. চালশে
- গ. ক্ষীণ দৃষ্টি
- ঘ. বিষম দৃষ্টি
উত্তর: ঘ. বিষম দৃষ্টি
চোখের কর্নিয়া বা লেন্স যদি সব দিকে সমানভাবে বাঁকা না হয়, তাহলে আলো রেটিনার ওপর একটি বিন্দুতে মেলে না। ফলে আনুভূমিক রেখা স্পষ্ট দেখা গেলে উলম্ব রেখা ঝাপসা দেখায়, কিংবা উল্টোটা ঘটে। এই ত্রুটির নাম বিষম দৃষ্টি (Astigmatism)। এই ত্রুটি ধরা পড়ে এমন একটি নকশা দেখে, যাতে একাধিক রেখা চারপাশে ছড়ানো থাকে। কিছু রেখা স্পষ্ট ও কিছু ঝাপসা দেখলে বিষম দৃষ্টি বোঝা যায়।
মনে রাখুন:
মাইওপিয়া হলো নিকটদৃষ্টি, যাতে দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায়।
চালশে বা জরাদৃষ্টি বয়সের কারণে কাছের জিনিস দেখতে না পাওয়ার ত্রুটি। - ১৫৬. বিষম দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদের কী ধরনের লেন্স ব্যবহার করতে হয়?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের ত্রুটি
- ক. উত্তল
- খ. অবতল
- গ. টরিক
- ঘ. সমতল
উত্তর: গ. টরিক
বিষম দৃষ্টির (Astigmatism) ক্ষেত্রে চোখের এক দিকে বক্রতা বেশি আর অন্য দিকে কম থাকে। এটি ঠিক করতে এমন লেন্স লাগে, যার এক দিকে বক্রতা বেশি এবং অন্য দিকে কম বা সমতল। এই লেন্সকে টরিক (Toric) বা বেলনাকার (Cylindrical) লেন্স বলে। এটি চোখের ত্রুটির ঠিক উল্টো বক্রতা তৈরি করে ত্রুটি পূরণ করে। বিষম দৃষ্টির লেন্সের এক দিকের অক্ষে আলো বেশি বাঁকে আর অন্য অক্ষে বাঁকে না, তাই একে বেলনাকার বক্রতার লেন্সও বলা হয়।
মনে রাখুন:
সাধারণ উত্তল লেন্স দূরদৃষ্টি ও অবতল লেন্স নিকটদৃষ্টি ঠিক করে। - ১৫৭. ছানি অপারেশনে চোখের কোন অংশ অপসারণ করা হয়?জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (বি৫ ইউনিট) ভর্তি, ২০১৩-১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের ত্রুটি
- ক. lens
- খ. pupil
- গ. cornea
- ঘ. iris
উত্তর: ক. lens
চোখের লেন্স স্বচ্ছ থাকলে আলো সহজে রেটিনায় পৌঁছায়। বয়স বাড়লে বা অন্য কারণে লেন্সের প্রোটিন ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে, এই অবস্থার নাম ছানি (Cataract)। তখন আলো ঠিকমতো ভেতরে ঢুকতে পারে না এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়। অস্ত্রোপচারে ঘোলাটে লেন্স সরিয়ে সেখানে কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়। ছানি অপারেশনে ডাক্তার চোখের জীবাণুমুক্ত করেন এবং ছোট ছিদ্র করে ভেতরের লেন্সটি বের করে আনেন। অস্ত্রোপচারের পরে বসানো কৃত্রিম লেন্সকে ইন্ট্রাঅকুলার লেন্স (Intraocular Lens) বলে। ছানি দৃষ্টিহীনতার একটি বড় কারণ, তবে অপারেশনে এটি সহজে সারানো যায়।
মনে রাখুন:
গ্লুকোমা চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার রোগ।
ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। - ১৫৮. মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে যে জেলী জাতীয় পদার্থ পূর্ণ থাকে তাকে কী বলে?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. অ্যাকুয়াস হিউমার
- খ. করয়েড হিউমার
- গ. ভিট্রিয়াস হিউমার
- ঘ. আইরিস হিউমার
উত্তর: গ. ভিট্রিয়াস হিউমার
চোখের লেন্স ও রেটিনার মাঝখানের বড় গহ্বরটি ভরা থাকে জেলির মতো স্বচ্ছ পদার্থে, যার নাম কাচবৎ রস বা ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous Humour)। এটি চোখের গোলককে গোল আকার দেয় এবং আলো যেতে দেয়। এর আগের অংশে কর্নিয়া ও লেন্সের মাঝখানে থাকে পানির মতো জলীয় রস, যার নাম অ্যাকুয়াস হিউমার। ভিট্রিয়াস হিউমার চোখের ভেতরের চাপ ঠিক রেখে রেটিনাকে নিজের জায়গায় ধরে রাখে। এটি একবার নষ্ট হলে সাধারণত নতুন করে তৈরি হয় না।
মনে রাখুন:
অ্যাকুয়াস হিউমার পাতলা ও জলীয়।
ভিট্রিয়াস হিউমার ঘন ও জেলির মতো। - ১৫৯. কম আলোয় দেখতে সাহায্য করে চোখের যে সেল, তার নাম-জিডিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. রড
- খ. কোন
- গ. বাইপোলার কোষ
- ঘ. অপটিক নার্ভ
উত্তর: ক. রড
চোখের রেটিনায় দুই ধরনের আলোসংবেদী কোষ আছে, রড (Rod) ও কোণ (Cone)। রড কোষ খুব কম আলোতেও সাড়া দেয়, তাই রাতে বা অন্ধকারে আমরা এই কোষের সাহায্যেই দেখি, তবে সেগুলো রঙ চিনতে পারে না। কোণ কোষ উজ্জ্বল আলোতে কাজ করে এবং রঙ চিনতে সাহায্য করে। প্রতিটি চোখের রেটিনায় রডের সংখ্যা কোণের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে অন্ধকারে আমরা বস্তুর আকার কিছুটা বুঝলেও তার রঙ ঠিকমতো বুঝতে পারি না।
মনে রাখুন:
ভিটামিন A-এর অভাবে রডের রঞ্জক রোডপসিন কমে গিয়ে রাতকানা রোগ হয়।
অপটিক নার্ভ সংকেত মস্তিষ্কে নিয়ে যায়। - ১৬০. পেঁচা দিনে দেখতে পায়না কিন্তু রাতে দেখতে পায় কারণ পেঁচার চোখের রেটিনাতে -জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. কোনস এর সংখ্যা বেশি কিন্তু রডস এর সংখ্যা কম
- খ. রডস এর সংখ্যা বেশি কিন্তু কোনস এর সংখ্যা কম
- গ. কোনস এর সংখ্যা বেশি
- ঘ. রডস এর সংখ্যা বেশি
উত্তর: খ. রডস এর সংখ্যা বেশি কিন্তু কোনস এর সংখ্যা কম
পেঁচার রেটিনায় রড (Rod) কোষের সংখ্যা অনেক বেশি আর কোণ (Cone) কোষের সংখ্যা কম। রড কোষ কম আলোতেও সাড়া দেয়, তাই পেঁচা রাতের অন্ধকারে দেখতে পায়। কোণ কোষ উজ্জ্বল আলোতে কাজ করে, আর পেঁচার এই কোষ কম বলে দিনের উজ্জ্বল আলোয় সে ভালো দেখতে পায় না। পেঁচার চোখ আকারে বড় এবং মাথার সামনে বসানো, ফলে অল্প আলোও বেশি জমা হয়। এতে রাতের শিকারে সে বেশ সুবিধা পায়।
মনে রাখুন:
মানুষের রেটিনায় প্রায় ১২ কোটি রড আর প্রায় ৬০ লাখ কোণ কোষ থাকে।
দিনে চরা প্রাণীদের কোণ বেশি থাকে। - ১৬১. রাতের বেলা বিড়াল ও কুকুরের চোখ জ্বলজ্বল করে, কারণ কুকুর ও বিড়ালের চোখে-ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সহকারী অফিসার, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. রডস্ বেশি চোখে
- খ. টেপেটাম নামক রঞ্জক কোষ থাকে
- গ. রেটিনা প্রশস্ত
- ঘ. কোনস্ বেশি থাকে
উত্তর: খ. টেপেটাম নামক রঞ্জক কোষ থাকে
বিড়াল ও কুকুরের চোখের রেটিনার পেছনে টেপেটাম লুসিডাম (Tapetum Lucidum) নামে আয়নার মতো একটি স্তর থাকে। রাতে কোনো আলো চোখে এসে পড়লে এটি আলোকে আবার রেটিনার মধ্য দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। এতে আলো দুবার রেটিনা পার হয় এবং ক্ষীণ আলোতেও দেখা সহজ হয়। এই প্রতিফলিত আলোর কারণেই তাদের চোখ জ্বলজ্বল করে। এই আলোর রঙ প্রাণীভেদে সবুজ, নীল বা হলুদ হতে পারে। রাস্তার ধারে গাড়ির আলো পড়লে বিড়ালের চোখ এজন্যই জ্বলতে দেখা যায়।
মনে রাখুন: মানুষের চোখে টেপেটাম নেই, তাই আলো ফেললে মানুষের চোখ জ্বলে না। - ১৬২. চোখের সাথে মিল আছে কোনটির?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার, ১৯৮৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখের গঠন
- ক. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
- খ. ক্যামেরা
- গ. টেলিভিশন
- ঘ. দূরবীক্ষণ যন্ত্র
উত্তর: খ. ক্যামেরা
চোখ আর ফটো ক্যামেরার কাজের ধরন প্রায় একই। চোখের লেন্স ক্যামেরার লেন্সের মতো আলোকে একত্র করে, আর রেটিনা ক্যামেরার ফিল্ম বা সেন্সরের মতো প্রতিবিম্ব ধরে। তারারন্ধ্র (Pupil) ছোট-বড় হয়ে ক্যামেরার অ্যাপারচারের মতো আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। দুই ক্ষেত্রেই প্রতিবিম্ব উল্টো ও বাস্তব হয়। চোখের পেছনের রেটিনা ক্যামেরার ফিল্মের মতো, আর চোখের পাতা ক্যামেরার লেন্সের ঢাকনার মতো কাজ করে। তবে ক্যামেরার লেন্স আগে-পিছে সরিয়ে ফোকাস ঠিক করা হয়, চোখে পেশির সাহায্যে লেন্সের বক্রতা বদলে সেই কাজ হয়।
মনে রাখুন:
চোখে প্রতিবিম্ব উল্টো তৈরি হলেও মস্তিষ্ক সেটিকে সোজা করে দেখে।
আইরিস ক্যামেরার ডায়াফ্রামের মতো কাজ করে। - ১৬৩. বিবর্ধক কাচ কোন ধরনের বিম্ব গঠন করে?ডিটিই-এর ইন্সট্রাক্টর, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোক যন্ত্র
- ক. সোজা ও খর্বিত
- খ. সোজা ও সমান আকারের
- গ. উল্টো ও বিবর্ধিত
- ঘ. সোজা ও বিবর্ধিত
উত্তর: ঘ. সোজা ও বিবর্ধিত
বিবর্ধক কাচ আসলে একটি উত্তল লেন্স (Convex Lens)। বস্তুকে লেন্স ও তার ফোকাসের মাঝখানে রাখলে লেন্সটি বস্তুর সোজা, অবাস্তব ও বড় আকারের প্রতিবিম্ব তৈরি করে। চোখ লেন্সের ভেতর দিয়ে তাকালে ছোট বস্তুটিকে বড় ও সোজা দেখে, এজন্য ঘড়ির যন্ত্রাংশ বা ছোট লেখা পড়তে এটি কাজে লাগে। বিবর্ধক কাচকে সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রও বলা হয়। শার্লক হোমসের গল্পে গোয়েন্দার হাতে এই কাচ প্রায় সবসময় দেখা যায়।
মনে রাখুন:
এই প্রতিবিম্ব বস্তুর একই পাশে তৈরি হয় বলে পর্দায় ধরা যায় না।
লেন্সের ফোকাস দূরত্ব যত কম, বিবর্ধন তত বেশি। - ১৬৪. জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে গঠিত চূড়ান্ত বিম্ব কি রকম হয়?ডেন্টাল কলেজ ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোক যন্ত্র
- ক. উল্টো ও খর্বিত
- খ. সোজা ও বিবর্ধিত
- গ. উল্টো ও বিবর্ধিত
- ঘ. সোজা ও খর্বিত
উত্তর: গ. উল্টো ও বিবর্ধিত
জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দুটি উত্তল লেন্স থাকে, অভিলক্ষ্য (Objective) ও অভিনেত্র (Eyepiece)। অভিলক্ষ্য লেন্স বস্তুর একটি বাস্তব, উল্টো ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব তৈরি করে। সেই প্রতিবিম্বটি অভিনেত্রের জন্য বস্তুর কাজ করে, আর অভিনেত্র এটিকে আরও বড় করে। প্রথম প্রতিবিম্ব উল্টো ছিল বলে চূড়ান্ত প্রতিবিম্বও বস্তুর তুলনায় উল্টো ও বিবর্ধিত হয়। অভিলক্ষ্য লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ছোট ও অভিনেত্র লেন্সের বড় হয়, আর দুটি লেন্সের মধ্যে নলের দৈর্ঘ্য ঠিক করে দেয় বিবর্ধন কত হবে।
মনে রাখুন:
অণুবীক্ষণ যন্ত্র অতি ক্ষুদ্র বস্তু দেখার যন্ত্র।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রে অভিলক্ষ্যের ফোকাস দূরত্ব ছোট ও অভিনেত্রের ফোকাস দূরত্ব বড় হয়। - ১৬৫. ভারত উপমহাদেশে বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান-বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী পরিচিতি
- ক. এইচ. জি. খোরানা
- খ. সি ভি রমন
- গ. আব্দুস সালাম
- ঘ. চন্দ্র শেখর
উত্তর: খ. সি ভি রমন
ভারতীয় উপমহাদেশে বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান পদার্থবিজ্ঞানী সি. ভি. রমন, ১৯৩০ সালে। আলো কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষিপ্ত হয়ে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য বদলে যায়, এই ঘটনা আবিষ্কারের জন্য তিনি পুরস্কার পান, যা ‘রমন প্রভাব’ (Raman effect) নামে পরিচিত। নোবেল পুরস্কার প্রতিবছর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে দেওয়া হয়, আর অর্থনীতিতে দেওয়া শুরু হয় ১৯৬৯ সালে।
মনে রাখুন:
উপমহাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সাহিত্য, ১৯১৩)।
পাকিস্তানের আবদুস সালাম ১৯৭৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
এইচ. জি. খোরানা চিকিৎসাবিজ্ঞানে (১৯৬৮) এবং সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর পদার্থবিজ্ঞানে (১৯৮৩) নোবেল পান। - ১৬৬. ‘প্রতিসরণ’ এর উদাহরণ -হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিসরণ
- ক. আকাশ নীল দেখা
- খ. আকাশে রংধনু দেখা
- গ. পানিতে নৌকার ছায়া দেখা
- ঘ. পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা
উত্তর: ঘ. পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা
আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় দিক বদলায়, একে প্রতিসরণ (Refraction) বলে। পানির ভেতরের বৈঠা থেকে আসা আলো পানি থেকে বাতাসে বের হওয়ার সময় বেঁকে যায়, তাই আমরা বৈঠাটিকে পানির তলের কাছে ভাঙা বা বাঁকা দেখি। এটি প্রতিসরণের সবচেয়ে সরাসরি উদাহরণ।
আকাশ নীল দেখায় আলোর বিক্ষেপণের (Scattering) জন্য, আর পানিতে নৌকার ছায়া বা প্রতিবিম্ব দেখা যায় প্রতিফলনের জন্য। রংধনুতে প্রতিসরণের সঙ্গে বিচ্ছুরণ ও প্রতিফলনও কাজ করে, তাই সেটি শুধু প্রতিসরণের উদাহরণ নয়।
মনে রাখুন: পানিভর্তি গ্লাসে রাখা পেনসিল বাঁকা দেখানো এবং পুকুরকে আসল গভীরতার চেয়ে অগভীর মনে হওয়াও প্রতিসরণের ফল। - ১৬৭. অতিবেগুনি রশ্মি কোথা থেকে আসে?এনটিআরসিএ, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়), ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অতিবেগুনি রশ্মি
- ক. চন্দ্র
- খ. তারকা
- গ. সূর্য
- ঘ. ব্লাক হোল
উত্তর: গ. সূর্য
অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet Ray) এক ধরনের অদৃশ্য আলো, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেগুনি আলোর চেয়েও ছোট। পৃথিবীতে এর প্রধান প্রাকৃতিক উৎস সূর্য। বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর এর বেশির ভাগ শোষণ করে নেয়, তাই আমরা ক্ষতি থেকে অনেকটা রক্ষা পাই। অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১০ থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার। এ রশ্মি জীবাণুনাশক হিসেবেও কাজ করে, তাই হাসপাতাল ও পানি পরিশোধনে ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
অল্প পরিমাণ অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে।
বেশি পরিমাণে এটি ত্বকের ক্যানসার ও চোখের ছানি সৃষ্টি করতে পারে। - ১৬৮. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সাধারণত কত সময় লাগে?গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বেগ
- ক. ২০০ সে.
- খ. ৩০০ সে.
- গ. ৪০০ সে.
- ঘ. ৫০০ সে.
উত্তর: ঘ. ৫০০ সে.
আলো শূন্য মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 3 × 10⁸ মিটার বা ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যায়। সূর্য পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে, তাই সময় = দূরত্ব ÷ বেগ = 1.5 × 10⁸ km ÷ 3 × 10⁵ km/s = 500 সেকেন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। সূর্য ছাড়া সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টরাইয়ের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৪.২ বছর লাগে, এবং এ কারণেই নক্ষত্রের দূরত্ব আলোকবর্ষে মাপা হয়।
মনে রাখুন:
চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে লাগে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড।
আলো এক বছরে যতটা পথ যায়, তাকে আলোকবর্ষ (Light year) বলে। - ১৬৯. আকাশ নীল দেখায় কেন?গণপূর্ত অধিদপ্তর, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. নীল আলোর প্রতিফলন বেশি বলে
- খ. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি হয়
- গ. নীল সমুদ্রের প্রতিফলনের ফলে
- ঘ. নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে
উত্তর: খ. নীল আলোর বিক্ষেপণ অপেক্ষাকৃত বেশি হয়
সূর্যের সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের মিশ্রণ। এই আলো বায়ুমণ্ডলের অতি ক্ষুদ্র গ্যাস অণুর গায়ে ধাক্কা খেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একে আলোর বিক্ষেপণ (Scattering) বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, তার বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট বলে এটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তাই আকাশ নীল দেখায়। মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই বলে সেখান থেকে আকাশ কালো দেখায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আলো বায়ুমণ্ডলের অনেক পথ পেরোয়, ফলে নীল আলো বেশি ছড়িয়ে যায় এবং লালচে আলো আমাদের চোখে আসে।
মনে রাখুন:
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম।
এ জন্যই বিপদসংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি অনেক দূর থেকে দেখা যায়। - ১৭০. Which is not a colour of a rainbow?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ রংধনু ও বর্ণালি
- ক. Violet
- খ. Magenta
- গ. Indigo
- ঘ. Orange
উত্তর: খ. Magenta
Magenta is not a colour of the rainbow. রংধনুতে সাতটি রং থাকে, যাদের ক্রম হলো বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আসমানি (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red)। এই ক্রমটি সংক্ষেপে মনে রাখা হয় ইংরেজিতে VIBGYOR এবং বাংলায় ‘বেনীআসহকলা’ দিয়ে। ম্যাজেন্টা (Magenta) হলো লাল ও নীল আলোর মিশ্রণে তৈরি একটি রং। এই দুই রং বর্ণালির দুই প্রান্তে থাকে, তাই রংধনুতে এদের মিশ্রণ কোথাও তৈরি হয় না। সূর্যের আলো বৃষ্টির ফোঁটায় প্রতিসরিত ও প্রতিফলিত হয়ে সাত রঙে ভাগ হয়ে যায়, আর এভাবেই রংধনু তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
রংধনু সবসময় সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে দেখা যায়।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনি আলোর সবচেয়ে কম। - ১৭১. সব রং এর মিশ্রণে কোন রং সৃষ্টি হয়?স্টেশন মাস্টার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. সাদা
- খ. লাল
- গ. সবুজ
- ঘ. বেগুনি
উত্তর: ক. সাদা
সূর্যের সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের আলোর মিশ্রণ। প্রিজমের ভেতর দিয়ে সাদা আলো পাঠালে এটি বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাত রঙে ভাগ হয়ে যায়, একে আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে। উল্টোভাবে সব রঙের আলো আবার একসঙ্গে মেশালে সাদা আলো তৈরি হয়। নিউটনের বর্ণচাকতি (Newton's Colour Disc) জোরে ঘোরালে সাদা দেখায়, এটি তারই প্রমাণ। তবে রঙ করার রঞ্জক বা পেইন্ট সব একসঙ্গে মেশালে কালচে রং হয়, কারণ রঞ্জক আলো শোষণ করে।
মনে রাখুন:
আলোর মৌলিক রং তিনটি: লাল, সবুজ ও নীল।
রংধনু তৈরি হয় বৃষ্টির ফোঁটায় সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণে। - ১৭২. দৃশ্যমান বর্ণালীর মাঝামাঝি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১১তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণালী
- ক. লাল
- খ. নীল
- গ. সবুজ
- ঘ. আসমানি
উত্তর: গ. সবুজ
সূর্যের সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়, একে বর্ণালী (Spectrum) বলে। দৃশ্যমান বর্ণালীর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এক প্রান্তে থাকে সবচেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বেগুনি আর অন্য প্রান্তে সবচেয়ে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল। মাঝামাঝি প্রায় ৫৫০ ন্যানোমিটারে থাকে সবুজ আলো, আর সাত রঙের ক্রমেও সবুজের স্থান ঠিক মাঝখানে, চতুর্থ স্থানে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের চোখ এই সবুজ-হলুদ অংশের আলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল।
মনে রাখুন:
বর্ণালীর রঙের ক্রম: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই প্রিজমে এর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। - ১৭৩. আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য এক স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে দিক পরিবর্তন করাকে কি বলে?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৩তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিসরণ
- ক. আলোর প্রতিফলন
- খ. আলোর প্রতিসরণ
- গ. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ঘ. সংকট কোণ
উত্তর: খ. আলোর প্রতিসরণ
আলো বিভিন্ন স্বচ্ছ মাধ্যমে বিভিন্ন বেগে চলে, যেমন বাতাসের চেয়ে পানি বা কাচে এর বেগ কম। তাই আলোকরশ্মি তির্যকভাবে এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে ঢুকলে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে তার দিক বেঁকে যায়, একে আলোর প্রতিসরণ (Refraction) বলে। অন্যদিকে আলো কোনো তলে বাধা পেয়ে আগের মাধ্যমেই ফিরে এলে তাকে প্রতিফলন বলে। প্রতিসরণের কারণেই পানিভর্তি গ্লাসে রাখা চামচকে বাঁকা দেখায় এবং পুকুরের তলা আসলের চেয়ে কম গভীর মনে হয়।
মনে রাখুন:
আলো লম্বভাবে বিভেদতলে পড়লে দিক বদলায় না।
হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে।
রাতের আকাশে তারা মিটমিট করার কারণও প্রতিসরণ। - ১৭৪. দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত ন্যানোমিটার?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (১৬তম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণালী
- ক. ৫০০-৮০০
- খ. ৩০০-৬০০
- গ. ৫০০-১০০০
- ঘ. ৪০০-৭০০
উত্তর: ঘ. ৪০০-৭০০
আলো এক ধরনের তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, কিন্তু এর সব অংশ আমরা চোখে দেখি না। মানুষের চোখ প্রায় ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে সাড়া দেয়, এই অংশকেই দৃশ্যমান আলো (Visible Light) বলে। এক ন্যানোমিটার হলো এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ। এই সীমার ছোট প্রান্তে বেগুনি আর বড় প্রান্তে লাল রং থাকে। বেগুনির চেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিকে অতিবেগুনি আর লালের চেয়ে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিকে অবলোহিত বলে, এ দুটি আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
মনে রাখুন:
অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে।
অবলোহিত রশ্মি তাপ অনুভব করায় এবং টিভির রিমোটে ব্যবহৃত হয়।
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ m/s। - ১৭৫. অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর কোন ঘটনাটি ঘটে?বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৪র্থ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. আলোর প্রতিসরণ
- খ. আলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- গ. আলোর বিচ্ছুরণ
- ঘ. আলোর পোলারায়ন
উত্তর: খ. আলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fibre) কাচ বা প্লাস্টিকের খুব সরু তার, যার ভেতরের অংশের প্রতিসরাঙ্ক বাইরের আবরণের চেয়ে বেশি। আলো ভেতরের অংশ থেকে বাইরের দিকে গিয়ে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আঘাত করে, ফলে বেরিয়ে না গিয়ে পুরোপুরি ভেতরে ফিরে আসে। একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) বলে। এভাবে বারবার প্রতিফলিত হয়ে আলো বাঁকা পথেও খুব কম ক্ষয়ে বহু দূর যেতে পারে। তামার তারের তুলনায় একটি সরু ফাইবার দিয়ে অনেক বেশি তথ্য পাঠানো যায়, আর এতে বৈদ্যুতিক গোলমালের প্রভাবও পড়ে না।
মনে রাখুন:
এই নীতি কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ চলে, আর চিকিৎসায় এন্ডোস্কোপি করা হয়।
হীরা ঝকমক করে এবং মরীচিকা দেখা যায় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণেই। - ১৭৬. রংধনুতে নিচের কোন রংটি অনুপস্থিত ?বাংলাদেশ রেলওয়ে, অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাস্টার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. বেগুনী
- খ. কালো
- গ. হলুদ
- ঘ. লাল
উত্তর: খ. কালো
বৃষ্টির পর আকাশে ভাসমান পানির কণার ভেতরে সূর্যের সাদা আলো প্রতিসরিত ও প্রতিফলিত হয়ে সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়, তখনই আমরা রংধনু (Rainbow) দেখি। এই সাতটি রং হলো বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল, সংক্ষেপে ‘বেনীআসহকলা’। কালো আসলে কোনো আলোর রং নয়। কোনো জায়গা থেকে কোনো আলো চোখে না এলে সেটিকেই আমরা কালো দেখি, তাই রংধনুতে কালো রং থাকে না।
মনে রাখুন:
রংধনু সবসময় সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে দেখা যায়।
রংধনুর বাইরের দিকে থাকে লাল আর ভেতরের দিকে বেগুনি।
সাদা আলো ভেঙে সাত রঙে ভাগ হওয়াকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। - ১৭৭. লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক কী?বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এডমিন এসিস্ট্যান্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেন্স
- ক. মিটার
- খ. রেডিয়াম
- গ. ডায়াপ্টার
- ঘ. লুমেন
উত্তর: গ. ডায়াপ্টার
কোনো লেন্স আলোকরশ্মিকে কতটা বাঁকাতে পারে, তাকে লেন্সের ক্ষমতা (Power of Lens) বলে। লেন্সের ফোকাস দূরত্ব যত কম, সে আলোকে তত বেশি বাঁকায়, তাই ক্ষমতা হলো মিটারে প্রকাশিত ফোকাস দূরত্বের বিপরীত রাশি: P = 1/f। এই ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার (Diopter), যার প্রতীক D। যে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ১ মিটার, তার ক্ষমতা ১ ডায়াপ্টার। চশমার প্রেসক্রিপশনে যে +২ বা -১.৫ লেখা থাকে, তা আসলে লেন্সের ক্ষমতা ডায়াপ্টারে।
মনে রাখুন:
উত্তল লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক, অবতল লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক।
লুমেন আলোক প্রবাহের একক, আর রেডিয়ান কোণের একক। - ১৭৮. প্রিজমে পতিত আলো সাধারণত-মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিসরণ
- ক. প্রতিফলিত হয়
- খ. বিকরিত হয় না
- গ. বিকরিত হয়
- ঘ. প্রতিসরিত হয়
উত্তর: ঘ. প্রতিসরিত হয়
আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে আরেক স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে ঢুকলে তার গতি বদলায় এবং দিক বেঁকে যায়, একে আলোর প্রতিসরণ (Refraction) বলে। প্রিজম কাচের তৈরি, তাই বাতাস থেকে আলো প্রিজমে ঢোকার সময় এবং প্রিজম থেকে আবার বাতাসে বের হওয়ার সময় দুইবার প্রতিসরিত হয়। সাদা আলোর বিভিন্ন রং ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বাঁকে, তাই প্রিজম থেকে বের হওয়া আলো সাত রঙে ভাগ হয়ে যায়। এই রঙে ভাগ হওয়াকে বিচ্ছুরণ বলে, যা আসলে প্রতিসরণেরই ফল।
মনে রাখুন:
প্রিজমে সবচেয়ে বেশি বাঁকে বেগুনি আলো, আর সবচেয়ে কম বাঁকে লাল আলো।
প্রিজম দিয়ে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ প্রথম দেখান আইজ্যাক নিউটন। - ১৭৯. টেলিভিশনে রঙিন ছবি তৈরির জন্য কোন রঙগুলোর প্রয়োজন?সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর, জুনিয়র শিক্ষক (৯ সেপ্টেম্বর), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌলিক রং
- ক. বেগুনী, নীল, সবুজ
- খ. সাদা, লাল, সবুজ
- গ. নীল, লাল, সবুজ
- ঘ. সাদা, নীল, সবুজ
উত্তর: গ. নীল, লাল, সবুজ
লাল, সবুজ ও নীল এই তিনটি রংকে আলোর মৌলিক রং (Primary colours) বলা হয়, কারণ এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়ে প্রায় সব রং তৈরি করা যায়। টেলিভিশন বা মোবাইলের পর্দায় অসংখ্য ক্ষুদ্র বিন্দু থাকে, যেগুলো লাল, সবুজ ও নীল আলো ছড়ায়। এদের উজ্জ্বলতা কমিয়ে-বাড়িয়ে পর্দায় রঙিন ছবি তৈরি হয়, এই পদ্ধতিকে সংক্ষেপে RGB বলে। তিনটি মৌলিক রং সমান পরিমাণে মিশলে সাদা আলো পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
লাল + সবুজ = হলুদ
সবুজ + নীল = ময়ূরকণ্ঠী (Cyan)
লাল + নীল = ম্যাজেন্টা
হলুদ, ম্যাজেন্টা ও ময়ূরকণ্ঠীকে বলা হয় যৌগিক রং। - ১৮০. দূর থেকে আমরা কোন রং আগে দেখতে পাই?পরিবেশ অধিদপ্তর, অফিস সহায়ক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. নীল
- খ. সবুজ
- গ. হলুদ
- ঘ. লাল
উত্তর: ঘ. লাল
বাতাসের ক্ষুদ্র কণায় লেগে আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, একে আলোর বিক্ষেপণ (Scattering) বলে। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, সেটি তত বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এটি সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং কুয়াশা বা ধোঁয়ার মধ্য দিয়েও অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়। এ কারণে দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই, আর এই সুবিধার জন্যই ট্রাফিক সিগন্যাল ও বিপদসংকেতে লাল বাতি ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
নীল আলো বেশি বিক্ষিপ্ত হয় বলে আকাশ নীল দেখায়।
দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। - ১৮১. হীরা অন্ধকারে চকচক করে কেন?জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফিল্ড স্টাফ, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
- ক. হীরায় তেজস্ক্রিয়তা বিদ্যমান তাই আলো বিচ্ছুরিত হয়
- খ. উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটে
- গ. হীরাতে রেডিয়াম থাকে বিধায় আলো বিচ্ছুরিত হয়
- ঘ. হীরার ধর্ম হলো আঁধারে আলো বিচ্ছুরিত করা
উত্তর: খ. উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটে
আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাওয়ার সময় আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হলে আলো আর বাইরে বের হয় না, পুরোটা ভেতরেই ফিরে আসে। একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection) বলে। হীরার প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি, প্রায় 2.42, তাই এর সংকট কোণ মাত্র প্রায় ২৪°। ফলে হীরায় ঢোকা অল্প আলোও বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হয়ে কেবল কয়েকটি তল দিয়ে উজ্জ্বলভাবে বের হয়। তাই সামান্য আলোতেও হীরা ঝকমক করে। হীরার নিজস্ব কোনো আলো বা তেজস্ক্রিয়তা নেই।
মনে রাখুন:
অপটিক্যাল ফাইবার ও মরীচিকা পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ।
হীরা কার্বনের একটি রূপভেদ। - ১৮২. সবুজ আলোতে একটি হলুদ রঙের বস্তুকে কি রঙের দেখাবে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (বরিশাল বিভাগ), ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর রং
- ক. লাল
- খ. কমলা
- গ. কালো
- ঘ. নীল
উত্তর: গ. কালো
আমরা কোনো বস্তুকে সেই রঙেই দেখি, যে রঙের আলো বস্তুটি প্রতিফলিত করে চোখে পাঠায়। একটি হলুদ বস্তু কেবল হলুদ আলো প্রতিফলিত করে এবং অন্য সব রঙের আলো শোষণ করে নেয়। এখন বস্তুটির ওপর শুধু সবুজ আলো ফেললে সেই সবুজ আলো পুরোটাই শোষিত হয়ে যায়, কোনো আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসে না। তাই বস্তুটিকে কালো দেখায়। একই কারণে সাদা বস্তুকে যে রঙের আলোতে রাখা হয়, সেটিকে সেই রঙের দেখায়, কারণ সাদা বস্তু সব রঙের আলো প্রতিফলিত করে।
মনে রাখুন:
কালো বস্তু সব রঙের আলো শোষণ করে।
লাল আলোতে লাল গোলাপকে লালই দেখায়, কিন্তু সবুজ পাতাকে কালো দেখায়। - ১৮৩. একটি নীল কাচকে উত্তপ্ত করলে এর থেকে বের হবে-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. লাল রং
- খ. নীল রং
- গ. সবুজ রং
- ঘ. হলুদ রং
উত্তর: ঘ. হলুদ রং
বিজ্ঞানী কারশফের একটি সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তু সাধারণ তাপমাত্রায় যে বর্ণের আলো শোষণ করে, উত্তপ্ত করলে ঠিক সেই বর্ণের আলোই বিকিরণ করে। নীল কাচ নীল দেখায় কারণ এটি নীল আলো যেতে দেয় আর এর পরিপূরক বর্ণ হলুদ আলো শোষণ করে নেয়। তাই নীল কাচকে উত্তপ্ত করলে এ থেকে হলুদ আলো বের হয়। একইভাবে লাল কাচ সবুজাভ নীল আলো শোষণ করে, তাই উত্তপ্ত লাল কাচ সবুজাভ নীল আলো দেয়। যে দুটি বর্ণের আলো মিশে সাদা আলো তৈরি করে, তাদের পরিপূরক বর্ণ (Complementary colours) বলে।
মনে রাখুন:
নীল ও হলুদ পরিপূরক বর্ণ।
লাল ও সবুজাভ নীল (সায়ান) পরিপূরক বর্ণ।
সবুজ ও ম্যাজেন্টা পরিপূরক বর্ণ। - ১৮৪. কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরণ সবচাইতে বেশি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিসরণ
- ক. বেগুনি
- খ. সবুজ
- গ. লাল
- ঘ. হলুদ
উত্তর: ক. বেগুনি
আলো এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে তির্যকভাবে গেলে দিক বদলায়, একে প্রতিসরণ (Refraction) বলে। কাচ বা পানির মতো মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণের আলোর বেগ আলাদা হয়। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, মাধ্যমে তার বেগ তত কম এবং সেটি তত বেশি বাঁকে। দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই এর প্রতিসরণ সবচেয়ে কম। এ কারণেই প্রিজমের ভেতর দিয়ে সাদা আলো গেলে সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায় এবং বেগুনি থাকে সবচেয়ে নিচে।
মনে রাখুন:
সাদা আলোর সাত রঙ: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (বেনীআসহকলা)।
লাল আলো কুয়াশা ভেদ করে সবচেয়ে দূরে যায়, তাই বিপদসংকেতে লাল আলো ব্যবহার হয়। - ১৮৫. মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত দর্পণ—প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দর্পণ
- ক. অবতল দর্পণ
- খ. সমতল দর্পণ
- গ. উত্তল দর্পণ
- ঘ. সবগুলোই
উত্তর: গ. উত্তল দর্পণ
মোটর গাড়ির পাশে ও পেছনে দেখার জন্য উত্তল দর্পণ (Convex mirror) ব্যবহার করা হয়। উত্তল দর্পণের প্রতিফলক তল বাইরের দিকে ফোলা থাকে, তাই এটি সব সময় বস্তুর সোজা ও ছোট অবাস্তব প্রতিবিম্ব তৈরি করে। প্রতিবিম্ব ছোট হয় বলে অল্প জায়গায় পেছনের অনেক বড় এলাকা ধরা পড়ে, আর চালক একসঙ্গে অনেক যানবাহন দেখতে পান। এজন্য উত্তল দর্পণের দর্শনক্ষেত্র সমতল দর্পণের চেয়ে বড়।
মনে রাখুন:
দাড়ি কামানো ও দাঁতের চিকিৎসায় অবতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
গাড়ির হেডলাইট ও টর্চে প্রতিফলক হিসেবে অবতল দর্পণ থাকে।
রাস্তার বাঁকে বসানো দর্পণও উত্তল। - ১৮৬. কোনটির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (রাইন), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. লাল আলো
- খ. হলুদ আলো
- গ. বেগুনী আলো
- ঘ. নীল আলো
উত্তর: গ. বেগুনী আলো
সূর্যের সাদা আলো সাতটি রঙের মিশ্রণ, আর এদের প্রত্যেকের তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) আলাদা। লাল আলো থেকে বেগুনি আলোর দিকে গেলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্রমশ কমতে থাকে, তাই দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 400 nm আর লাল আলোর প্রায় 700 nm। তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে কম্পাঙ্ক ও শক্তি বেশি হয়, তাই বেগুনি আলোর শক্তিও সবচেয়ে বেশি।
মনে রাখুন:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম থেকে বেশির ক্রম: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে বিপদসংকেতে লাল আলো ব্যবহৃত হয়। - ১৮৭. রংধনুর সাতটি রঙের মধ্যে মধ্যম রঙ কোনটি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (ডেলটা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. হলুদ
- খ. নীল
- গ. লাল
- ঘ. সবুজ
উত্তর: ঘ. সবুজ
সূর্যের সাদা আলো বৃষ্টির ফোঁটায় প্রতিসৃত হয়ে সাতটি রঙে ভাগ হয়ে যায়, একে আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে। রংধনুতে রঙগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকে, যা সহজে মনে রাখা যায় ‘বেনীআসহকলা’ শব্দটি দিয়ে। এর অর্থ বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। সাতটি রঙের মাঝখানের, অর্থাৎ চতুর্থ রঙটি হলো সবুজ। তাই রংধনুর মধ্যম রং সবুজ। সবুজের দুই পাশে তিনটি করে রং থাকে।
মনে রাখুন:
রংধনুর বাইরের দিকে থাকে লাল আর ভেতরের দিকে বেগুনি।
রংধনু সব সময় সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে দেখা যায়। - ১৮৮. বরফ সাদা দেখা কারণ-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (গামা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বস্তুর বর্ণ
- ক. বরফ এমনিতেই সাদা
- খ. আলোর বেগুনি রশ্মি শোষণ করে
- গ. আলোর লাল ও হলুদ রশ্মি শোষণ করে
- ঘ. আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলন করে
উত্তর: ঘ. আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলন করে
কোনো বস্তু যে রঙের আলো প্রতিফলিত করে, আমাদের চোখে বস্তুটিকে সেই রঙের দেখায়। বরফ সূর্যের সাদা আলোর সাতটি রঙের কোনোটিই উল্লেখযোগ্যভাবে শোষণ করে না, বরং সব রঙের আলোই প্রতিফলিত করে। এই সব রঙের আলো একসঙ্গে আমাদের চোখে এলে তা সাদা মনে হয়, তাই বরফকে সাদা দেখায়। আসলে বরফের ভেতরে থাকা অসংখ্য ছোট স্ফটিক আর বাতাসের বুদবুদ আলোকে চারদিকে ছড়িয়ে প্রতিফলিত (Reflection) করে।
মনে রাখুন:
যে বস্তু সব রঙের আলো শোষণ করে, তাকে কালো দেখায়।
লাল গোলাপ শুধু লাল আলো প্রতিফলিত করে, বাকি রং শোষণ করে। - ১৮৯. গোধূলির কারণ কি?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (গামা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিক্ষেপণ
- ক. আলোর প্রতিফলন
- খ. আলোর বিক্ষেপণ
- গ. আলোর প্রতিসরণ
- ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তর: খ. আলোর বিক্ষেপণ
সূর্য দিগন্তের নিচে চলে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ আকাশে আবছা আলো থাকে, একে গোধূলি বলে। এর কারণ আলোর বিক্ষেপণ (Scattering of light)। সূর্য ডুবে গেলেও এর আলো উঁচু বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায়, আর সেখানে থাকা ধূলিকণা ও গ্যাসের অণু সেই আলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। এই ছড়ানো আলোর কিছু অংশ মাটির দিকে নেমে আসে, তাই সূর্য না থাকলেও চারপাশ পুরোপুরি অন্ধকার হয় না। ভোরে সূর্য ওঠার আগে যে আলো দেখা যায়, তার কারণও একই।
মনে রাখুন:
আকাশ নীল দেখায় আলোর বিক্ষেপণের কারণে।
নীল আলোর বিক্ষেপণ লাল আলোর চেয়ে অনেক বেশি হয়। - ১৯০. লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (২য় ধাপ), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ লেজার
- ক. হাইগেন, ১৯৬১
- খ. মাইম্যান, ১৯৬০
- গ. বোর, ১৯৬৩
- ঘ. রাদারফোর্ড, ১৯১৯
উত্তর: খ. মাইম্যান, ১৯৬০
লেজার (LASER) হলো একটি বিশেষ ধরনের তীব্র, একরঙা ও সমান্তরাল আলোকরশ্মি। ১৯৬০ সালে মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী থিওডোর মাইম্যান রুবি স্ফটিক ব্যবহার করে প্রথম কার্যকর লেজার যন্ত্র তৈরি করেন। LASER শব্দের পূর্ণরূপ Light Amplification by Stimulated Emission of Radiation, অর্থাৎ উদ্দীপিত নিঃসরণের মাধ্যমে আলোর বিবর্ধন। লেজার রশ্মি বহুদূর গেলেও প্রায় ছড়িয়ে পড়ে না, তাই এটি চোখের অস্ত্রোপচার, ধাতু কাটা, বারকোড পড়া ও অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়। লেজার রশ্মির সব তরঙ্গ একই দশায় চলে, তাই এর তীব্রতা অনেক বেশি।
মনে রাখুন:
লেজারের তাত্ত্বিক ভিত্তি উদ্দীপিত নিঃসরণের ধারণা দেন আইনস্টাইন।
আলোর তরঙ্গতত্ত্ব দেন হাইগেনস। - ১৯১. চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায়, তার কারণ কী?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ), ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ দৃষ্টিভ্রম
- ক. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ
- খ. আলোর বিচ্ছুরণ
- গ. অপবর্তন
- ঘ. দৃষ্টিবিভ্রম
উত্তর: ঘ. দৃষ্টিবিভ্রম
দিগন্তের কাছে চাঁদকে অনেক বড় দেখায়, কিন্তু ছবি তুলে মাপলে দেখা যায় এর আকার মাথার উপরে থাকা চাঁদের প্রায় সমান। তাই এটি চোখ ও মস্তিষ্কের একটি দৃষ্টিবিভ্রম (Optical illusion), যাকে চাঁদ বিভ্রম (Moon illusion) বলা হয়। দিগন্তের কাছে চাঁদের পাশে গাছপালা, বাড়িঘর ইত্যাদি থাকে, ফলে মস্তিষ্ক চাঁদকে দূরের বড় কিছু বলে ধরে নেয়। বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ বরং দিগন্তের কাছের চাঁদকে উপর-নিচে সামান্য চ্যাপ্টা দেখায়, বড় দেখায় না।
মনে রাখুন:
দিগন্তের কাছে সূর্যও একই কারণে বড় দেখায়।
প্রতিসরণের কারণে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের পরে কিছুক্ষণ সূর্য দেখা যায়। - ১৯২. রংধনুতে কয়টি রং আছে?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ক্যাশিয়ার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বিচ্ছুরণ
- ক. সাতটি
- খ. চারটি
- গ. নয়টি
- ঘ. ছয়টি
উত্তর: ক. সাতটি
বৃষ্টির পরে আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে যে রঙিন ধনুকের মতো বাঁকা পট্টি দেখা যায়, তাকে রংধনু বলে। সূর্যের সাদা আলো বৃষ্টির ফোঁটায় ঢুকে প্রতিসৃত হয়, ভেতরে প্রতিফলিত হয় এবং আবার প্রতিসৃত হয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময় আলোর বিভিন্ন রং বিভিন্ন কোণে বেঁকে যায় বলে সাদা আলো সাতটি রঙে ভাগ হয়, একে বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে। তাই রংধনুতে সাতটি রং থাকে।
মনে রাখুন:
রংধনুর সাতটি রং মনে রাখার শব্দ ‘বেনীআসহকলা’: বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
কাচের প্রিজমেও সাদা আলোর এমন বিচ্ছুরণ দেখা যায়। - ১৯৩. নিচের কোন বর্ণটির শক্তি সবচেয়ে বেশী?বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর বর্ণ
- ক. লাল
- খ. নীল
- গ. সবুজ
- ঘ. বেগুনী
উত্তর: ঘ. বেগুনী
আলোর প্রতিটি কণা বা ফোটনের শক্তি তার কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক, সূত্রটি হলো $E = \frac{hc}{\lambda}$। অর্থাৎ যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) যত কম, তার শক্তি তত বেশি। দৃশ্যমান আলোর সাতটি রঙের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর শক্তিও সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর শক্তি সবচেয়ে কম। এই কারণেই অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু লাল আলো তেমন ক্ষতি করে না।
মনে রাখুন:
বেগুনি আলোর চেয়েও কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অদৃশ্য রশ্মিকে অতিবেগুনি রশ্মি বলে।
লালের চেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অদৃশ্য রশ্মিকে অবলোহিত রশ্মি বলে। - ১৯৪. সুস্থ দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি সর্বনিম্ন যে দূরত্ব পর্যন্ত বিনা শ্রান্তিতে স্পষ্ট দেখতে পায়বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চোখ ও দৃষ্টি
- ক. 10 cm
- খ. 15 cm
- গ. 25 cm
- ঘ. 20 cm
উত্তর: গ. 25 cm
যে সর্বনিম্ন দূরত্বে কোনো বস্তু রাখলে স্বাভাবিক চোখ কোনো চাপ বা ক্লান্তি ছাড়া বস্তুটিকে স্পষ্ট দেখতে পায়, তাকে স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব (Least distance of distinct vision) বলে। সুস্থ মানুষের চোখের জন্য এই দূরত্ব প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। এর চেয়ে কাছে বস্তু আনলে চোখের লেন্সকে খুব বেশি পুরু হতে হয়, ফলে চোখে চাপ পড়ে এবং ঝাপসা দেখায়। এজন্য বই পড়ার সময় চোখ থেকে অন্তত ২৫ সেন্টিমিটার দূরে রাখা ভালো।
মনে রাখুন:
স্বাভাবিক চোখের দূরবিন্দু অসীম দূরত্বে থাকে।
দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটিতে নিকটবিন্দু ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে দূরে সরে যায়। - ১৯৫. অপটিক্যাল ফাইবারে আলোর কোন ঘটনা ঘটে?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অপটিক্যাল ফাইবার
- ক. আলোর অভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে
- খ. আলোর প্রতিসরণ
- গ. আলোর বিচ্ছুরণ
- ঘ. আলোর পোলারায়ন
উত্তর: ক. আলোর অভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটে
অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fibre) হলো চুলের মতো সরু, নমনীয় কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু। এর ভেতরের অংশ বা কোরের প্রতিসরণাঙ্ক চারপাশের আবরণের চেয়ে বেশি। আলো কোরের ভেতর দিয়ে চলার সময় যখন সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আবরণের গায়ে পড়ে, তখন তা বাইরে না গিয়ে পুরোটাই ভেতরে ফিরে আসে। একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। এভাবে বারবার প্রতিফলিত হয়ে আলো বাঁকা পথেও প্রায় কোনো ক্ষতি ছাড়াই অনেক দূরে পৌঁছায়।
মনে রাখুন:
অপটিক্যাল ফাইবার দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসায় দেহের ভেতর দেখার এন্ডোস্কোপেও অপটিক্যাল ফাইবার থাকে।
মরীচিকা ও হীরার ঝলমলে ভাবও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল। - ১৯৬. কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?বিসিক, শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
- ক. গামা তরঙ্গ
- খ. এক্স-রে
- গ. রেডিও তরঙ্গ
- ঘ. মাইক্রোওয়েভ
উত্তর: গ. রেডিও তরঙ্গ
আলো, রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে, গামা রশ্মি সবই তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic wave)। এদের বেগ শূন্যস্থানে একই, কিন্তু তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা। তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী সাজালে যে ধারা পাওয়া যায়, তাকে তড়িৎচৌম্বক বর্ণালি বলে। এই বর্ণালিতে রেডিও তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, কয়েক সেন্টিমিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এরপর ক্রমে আসে মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, এক্স-রে ও গামা রশ্মি। গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এর শক্তি সবচেয়ে বেশি।
মনে রাখুন:
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: রেডিও > মাইক্রোওয়েভ > অবলোহিত > দৃশ্যমান > অতিবেগুনি > এক্স-রে > গামা।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, কম্পাঙ্ক ও শক্তি তত বেশি। - ১৯৭. For seeing objects at the surface of the water from a submarine under water, the instrument used is -সম্মিলিত ৮ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (১০ মে), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রতিফলন
- ক. Periscope
- খ. telescope
- গ. kaleidoscope
- ঘ. spectroscope
উত্তর: ক. Periscope
পেরিস্কোপ (Periscope) একটি লম্বা নলের মতো যন্ত্র, যার দুই প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ বা প্রিজম ৪৫ ডিগ্রি কোণে পরস্পরের সমান্তরালে বসানো থাকে। পানির ওপরের কোনো বস্তুর আলো প্রথমে ওপরের দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে নলের ভেতর দিয়ে নিচে নামে। এরপর নিচের দর্পণে আবার প্রতিফলিত হয়ে আলো পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়। ফলে ডুবোজাহাজ পানির নিচে থেকেও ওপরের জাহাজ বা বস্তু দেখতে পারে। একই কারণে যুদ্ধের পরিখা থেকে নিরাপদে বাইরে দেখতেও পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
টেলিস্কোপ: দূরের বস্তু দেখা।
ক্যালিডোস্কোপ: নানা রঙের নকশা দেখার খেলনা।
স্পেকট্রোস্কোপ: আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ। - ১৯৮. For seeing objects at the surface of water from a submarine under water, the instrument used isপ্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, এক্সিকিউটিভ অফিসার (১ নভেম্বর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোর প্রতিফলন
- ক. kaleidoscope
- খ. spectroscope
- গ. telescope
- ঘ. periscope
উত্তর: ঘ. periscope
ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে পানির ওপরের দৃশ্য দেখতে পেরিস্কোপ (Periscope) ব্যবহার করা হয়। পেরিস্কোপ হলো একটি লম্বা নল, যার দুই প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ বা প্রিজম ৪৫° কোণে পরস্পরের সমান্তরাল করে বসানো থাকে। ওপরের দর্পণে আলো প্রতিফলিত হয়ে নিচে নামে, তারপর নিচের দর্পণে আবার প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে পৌঁছায়। ফলে পানির নিচে থেকেও আমরা ওপরের জাহাজ বা উপকূল দেখতে পারি।
মনে রাখুন:
ক্যালিডোস্কোপে একাধিক দর্পণে বারবার প্রতিফলনে রঙিন নকশা দেখা যায়।
স্পেকট্রোস্কোপ দিয়ে আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করা হয়।
টেলিস্কোপ দিয়ে দূরের বস্তু দেখা হয়। - ১৯৯. The frequency of which of the following is the highest?রূপালী ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তড়িৎচৌম্বক বর্ণালি
- ক. Light waves
- খ. Gamma rays
- গ. Microwaves
- ঘ. Radio waves
উত্তর: খ. Gamma rays
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গগুলোর মধ্যে গামা রশ্মির (Gamma Rays) কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি। সব তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্যস্থানে একই বেগে চলে, তাই যে তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, তার কম্পাঙ্ক তত বেশি। গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চেয়েও ছোট হতে পারে, তাই এর কম্পাঙ্ক ও শক্তি সর্বোচ্চ। উল্টো দিকে রেডিও তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়, ফলে কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম।
মনে রাখুন:
সম্পর্ক: $c = f\lambda$, যেখানে c = 3 × 10^8 m/s।
কম্পাঙ্কের ক্রম (কম থেকে বেশি): রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনি, এক্স-রে, গামা রশ্মি।
ক্যানসার চিকিৎসায় গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়। - ২০০. The study of light and vision is known as-উত্তরা ব্যাংক, প্রবেশনারি অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আলোকবিজ্ঞান
- ক. Astronomy
- খ. Acoustics
- গ. Neurology
- ঘ. Optics
উত্তর: ঘ. Optics
আলোর ধর্ম, আচরণ এবং আমাদের দেখার প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে আলোকবিজ্ঞান (Optics) বলে। এই শাখায় আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, লেন্স ও দর্পণের কাজ এবং চোখের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা হয়। চশমা, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীন ও অপটিক্যাল ফাইবার সবই আলোকবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তৈরি। আলোকবিজ্ঞানের জনক বলা হয় আরব বিজ্ঞানী ইবনে আল-হাইথামকে।
মনে রাখুন:
শব্দ নিয়ে আলোচনা করে Acoustics।
জ্যোতিষ্ক ও মহাকাশ নিয়ে আলোচনা করে Astronomy।
স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করে Neurology।
আলো শূন্যস্থানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 3 × 10^8 মিটার বেগে চলে।
আলোর প্রতিসরণের কারণেই পানিতে রাখা সোজা লাঠি বাঁকা দেখায়।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন