লিয়ানা বুকস

মৌলিক জীববিজ্ঞান: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৪। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ২৩৮টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।

এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →

বিসিএস (২৮)

  1. ১. কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অর্গানেল
    • ক. রাইবোসোম
    • খ. ক্লোরোপ্লাস্ট
    • গ. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • ঘ. পারোক্সিসোম
    উত্তর: ক. রাইবোসোম
    কোষের অঙ্গাণু (Organelle) দুই ধরনের হয়, পর্দাবেষ্টিত ও পর্দাবিহীন। রাইবোসোম (Ribosome) একটি পর্দাবিহীন অঙ্গাণু, যা rRNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত ছোট দানা। এখানেই কোষের প্রোটিন সংশ্লেষ হয়। মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তরের পর্দায় ঘেরা, আর পারক্সিসোম একস্তরী পর্দায় ঘেরা। রাইবোসোম প্রোটিন তৈরির কারখানা বলে কোষে এর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। কিছু রাইবোসোম এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে লেগে থাকে, আর কিছু সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে ভাসে। রাইবোসোম লেগে থাকা রেটিকুলামকে খসখসে বা রাফ ER বলে।
    মনে রাখুন:
    পর্দাবিহীন অঙ্গাণু হলো রাইবোসোম, সেন্ট্রিওল ও মাইক্রোটিউবিউল।
    প্রোক্যারিওট কোষে রাইবোসোমই একমাত্র অঙ্গাণু।
  2. ২. দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-৪৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ দ্বিপদ নামকরণ
    • ক. প্রজাতি
    • খ. বর্গ
    • গ. রাজ্য
    • ঘ. শ্রেণি
    উত্তর: ক. প্রজাতি
    দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নামে দুটি অংশ থাকে। প্রথম অংশ গণের (Genus) নাম, যার প্রথম অক্ষর বড় হাতের। দ্বিতীয় অংশ প্রজাতির (Species) নাম, যার সব অক্ষর ছোট হাতের। সুইডিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস এই পদ্ধতি চালু করেন। একই গণের অন্তর্গত কয়েকটি প্রজাতি থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিটি প্রজাতির নাম আলাদা।
    উদাহরণ: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens, এখানে Homo গণ এবং sapiens প্রজাতি। আম Mangifera indica এবং ধান Oryza sativa।
    মনে রাখুন: ছাপার অক্ষরে বৈজ্ঞানিক নাম ইটালিকে লেখা হয়, আর হাতে লিখলে নিচে দাগ দিতে হয়।
  3. ৩. কোন প্রাণীকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়?৩৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য
    • ক. ঘোড়া
    • খ. বলগা হরিণ
    • গ. উট
    • ঘ. খেচর
    উত্তর: গ. উট
    উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়, কারণ মরুভূমির বালুর সমুদ্রে মানুষ ও মালপত্র বহনে উট সবচেয়ে উপযোগী। উট অনেক দিন পানি না খেয়ে থাকতে পারে, আর এর চওড়া ও নরম পায়ের পাতা বালুতে দেবে যায় না। কুঁজে জমানো চর্বি দীর্ঘ সময়ের খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করে। ঘোড়া, বলগা হরিণ ও পাখি এই কাজে উটের মতো কার্যকর নয়।
    মনে রাখুন:
    এক কুঁজের উটকে ড্রোমেডারি, আর দুই কুঁজের উটকে ব্যাকট্রিয়ান বলে।
    বলগা হরিণ মেরু অঞ্চলে বরফে স্লেজ টানে।
  4. ৪. পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-১৬তম ও ৩৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য
    • ক. পটকা মাছ
    • খ. হাঙ্গর
    • গ. শুশুক
    • ঘ. জেলী ফিস
    উত্তর: গ. শুশুক
    শুশুক বা ডলফিন পানিতে বাস করলেও এটি মাছ নয়, একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর ফুলকা নেই, আছে ফুসফুস। তাই বাতাস থেকে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এটিকে বারবার পানির ওপরে মাথা তুলতে হয়। হাঙর ও পটকা মাছ ফুলকা দিয়ে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন নেয়, আর জেলিফিশ ত্বক দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে। শুশুক সাধারণত নদীর মিঠা পানিতে বাস করে। এরা শব্দ ও প্রতিধ্বনির সাহায্যে পথ চেনে এবং শিকার খুঁজে নেয়।
    মনে রাখুন:
    শুশুক বাংলাদেশের জাতীয় জলজ প্রাণী।
    তিমিও স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়।
  5. ৫. মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ প্রোটিন?২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাইটোকন্ড্রিয়া
    • ক. ৭০%
    • খ. ৭২%
    • গ. ৭৩%
    • ঘ. ৮০%
    উত্তর: গ. ৭৩%
    মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শক্তিঘর, কারণ এখানে কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্য ভেঙে শক্তি তৈরি হয় এবং সেই শক্তি ATP-তে জমা থাকে। এর গঠনে প্রোটিনের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৩ শতাংশ। বাকি অংশে থাকে লিপিড এবং সামান্য RNA ও DNA। মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব DNA আছে বলে এটি নিজে নিজেই বিভাজিত হতে পারে। ATP-কে কোষের শক্তির মুদ্রা বলা হয়, কারণ কোষ যেকোনো কাজে শক্তি দরকার হলে ATP ভেঙে সেই শক্তি ব্যবহার করে।
    মনে রাখুন:
    মাইটোকন্ড্রিয়ায় দুই স্তরের পর্দা থাকে, আর ভেতরের পর্দার ভাঁজকে ক্রিস্টি বলে।
    মাইটোকন্ড্রিয়া নামটি দিয়েছেন কার্ল বেন্ডা, ১৮৯৮ সালে।
  6. ৬. কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়?১৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. হাতি
    • খ. কুমির
    • গ. তিমি
    • ঘ. বাদুর
    উত্তর: খ. কুমির
    কুমির সরীসৃপ (Reptile) শ্রেণীর প্রাণী। এরা ডিম পাড়ে এবং বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায় না, তাই এটি স্তন্যপায়ী নয়। হাতি, তিমি ও বাদুড় স্তন্যপায়ী, কারণ এদের স্তনগ্রন্থি আছে, এরা বাচ্চা প্রসব করে এবং দুধ খাইয়ে বড় করে। তিমি জলে বাস করলেও মাছ নয়, কারণ সে ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীর সাধারণত লোমে ঢাকা থাকে। এরা সমতাপী, অর্থাৎ পরিবেশ বদলালেও দেহের তাপমাত্রা প্রায় একই রাখে।
    মনে রাখুন:
    বাদুড় একমাত্র উড়তে পারা স্তন্যপায়ী প্রাণী।
    প্লাটিপাস ও ইকিডনা ডিম পাড়ে, তবুও এরা স্তন্যপায়ী। এটি একটি বিরল ব্যতিক্রম।
  7. ৭. মুক্তা হলো ঝিনুকের –১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ঝিনুক ও মুক্তা
    • ক. খোলসের টুকরা
    • খ. চোখের মণি
    • গ. প্রদাহের ফল
    • ঘ. জমাট হরমোন
    উত্তর: গ. প্রদাহের ফল
    মুক্তা (Pearl) ঝিনুকের দেহে তৈরি হয়। ঝিনুকের খোলসের ভেতরে বালুকণা বা পরজীবীর মতো কোনো বাইরের জিনিস ঢুকে গেলে সেখানকার কোমল দেহে প্রদাহ বা অস্বস্তি তৈরি হয়। তখন ঝিনুক সেই জিনিসটির চারপাশে স্তরে স্তরে নেকার (Nacre) নামে একটি পদার্থ জমাতে থাকে, যার প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। বছরের পর বছর এভাবে স্তর জমে মুক্তা গড়ে ওঠে। অতএব মুক্তা ঝিনুকের এই প্রদাহের ফল।
    মনে রাখুন:
    ঝিনুক মোলাস্কা পর্বের প্রাণী।
    মুক্তার প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
    কৃত্রিমভাবে ঝিনুকের ভেতরে ছোট বস্তু বসিয়ে চাষ করা মুক্তাকে কালচার্ড পার্ল বলে।
  8. ৮. বাংলাদেশের একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম-১৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবন্ত জীবাশ্ম
    • ক. রাজ কাঁকড়া
    • খ. গণ্ডার
    • গ. পিপীলিকাতুক ম্যানিস
    • ঘ. স্নো লোরিস
    উত্তর: ক. রাজ কাঁকড়া
    যে প্রাণী কোটি কোটি বছর ধরে প্রায় একই রূপে টিকে আছে, তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম (Living Fossil) বলে। রাজ কাঁকড়া বা হর্সশু ক্র্যাব (Horseshoe crab) এমন একটি প্রাণী। এর পূর্বপুরুষেরা প্রায় ৪৫ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে ছিল এবং এখনকার রাজ কাঁকড়ার সঙ্গে তাদের গড়নে মিল আছে। বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষ করে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা অঞ্চলে এটি পাওয়া যায়। রাজ কাঁকড়া আসলে কাঁকড়া নয়, এরা মাকড়সা ও বিচ্ছুর আত্মীয়।
    মনে রাখুন:
    এর রক্ত নীল, কারণ এতে তামাযুক্ত হিমোসায়ানিন থাকে।
    অন্য জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ নটিলাস, কোয়েলাকান্থ মাছ ও জিঙ্কগো গাছ।
  9. ৯. ভাইরাস সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি সঠিক?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. এদের যেকোনো সিনথেটিক নিউট্রিয়েন্ট মিডিয়ামে কালচার করা যায়
    • খ. এদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে ডিএনএ এবং আরএনএ থাকে
    • গ. এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
    • ঘ. ভাইরাস হল অণুবীক্ষণিক জীবন্ত প্রাণী
    উত্তর: গ. এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
    ভাইরাস (Virus) অতি ক্ষুদ্র সংক্রামক কণা, যার নিজস্ব কোষ বা বিপাক (metabolism) ব্যবস্থা নেই। এটি শুধু জীবিত পোষক কোষের ভেতরে ঢুকে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এ কারণে ভাইরাসকে বাধ্যতামূলক অন্তঃকোষীয় পরজীবী (Obligate Intracellular Parasite) বলে। কৃত্রিম মাধ্যমে ভাইরাসকে কালচার করা যায় না। একটি ভাইরাসে DNA বা RNA, যেকোনো একটি জেনেটিক উপাদান থাকে, দুটি একসঙ্গে থাকে না।

    মনে রাখুন:
    ভাইরাসকে জড় ও জীবের মধ্যবর্তী বস্তু বলা হয়।
    ভাইরাস আবিষ্কারক দিমিত্রি ইভানোভস্কি (১৮৯২)।
    ব্যাকটেরিয়া কৃত্রিম মাধ্যমে কালচার করা যায়।
  10. ১০. কোনটির দেহে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. শৈবাল
    • খ. ছত্রাক
    • গ. ভাইরাস
    • ঘ. ব্যাকটেরিয়া
    উত্তর: গ. ভাইরাস
    ভাইরাস কোষীয় জীব নয়। এর দেহ প্রোটিনের আবরণ (ক্যাপসিড) এবং ভেতরের একটি নিউক্লিক অ্যাসিড, অর্থাৎ DNA বা RNA, দিয়ে গঠিত। তাই এতে সাইটোপ্লাজমও নেই, নিউক্লিয়াসও নেই। শৈবাল ও ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম থাকে। ব্যাকটেরিয়ায় সুগঠিত নিউক্লিয়াস না থাকলেও সাইটোপ্লাজম আছে। ভাইরাসের আকার ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও অনেক ছোট। তাই সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এদের দেখা যায় না, ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে।
    মনে রাখুন:
    ব্যাকটেরিয়া প্রোক্যারিওটিক জীব, তাদের নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
    ভাইরাস পোষক কোষের ভেতরে গিয়েই বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
    ছত্রাক ও শৈবাল ইউক্যারিওটিক জীব।
  11. ১১. অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে?৪৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীববিজ্ঞানী
    • ক. রবার্ট কক্
    • খ. লুইস পাস্তুর
    • গ. এডওয়ার্ড জেনার
    • ঘ. এন্টনি ভন লিউয়েনহুক
    উত্তর: ঘ. এন্টনি ভন লিউয়েনহুক
    ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক নিজের হাতে বানানো অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে প্রথম ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য অণুজীব দেখেন এবং তাদের বর্ণনা দেন। এ কারণেই তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক (Father of Microbiology) বলা হয়। লিউয়েনহুক সপ্তদশ শতকে হল্যান্ডে বাস করতেন। তাঁর বানানো লেন্স জিনিসকে কয়েকশ গুণ বড় করে দেখাতে পারত। তিনি পেশায় ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী, কোনো প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানী নন।
    মনে রাখুন:
    লুই পাস্তুরকে বলা হয় আধুনিক অণুজীববিজ্ঞানের জনক। তিনি জীবাণুতত্ত্ব ও টিকা নিয়ে কাজ করেন।
    রবার্ট কক্ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
    এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন।
  12. ১২. ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য তার যে গঠন দায়ী তা হলো -৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. পিল্লি
    • খ. ফ্লাজেলা
    • গ. শীথ
    • ঘ. ক্যাপসুলস
    উত্তর: খ. ফ্লাজেলা
    ফ্ল্যাজেলা (Flagella) চাবুকের মতো লম্বা সুতাকৃতির অঙ্গ। ব্যাকটেরিয়া এটি ঘুরিয়ে তরলের মধ্যে চলাচল করে, তাই ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য দায়ী গঠন ফ্ল্যাজেলা। অন্য বিকল্পগুলোর কাজ আলাদা। পিলাই (Pili) ছোট সুতোর মতো গঠন, যা কোনো কিছুর গায়ে আটকে থাকতে সাহায্য করে। আর ক্যাপসুল ব্যাকটেরিয়ার কোষকে সুরক্ষা দেয়। ব্যাকটেরিয়াকে আকার অনুসারেও ভাগ করা হয়। গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে কক্কাস, দণ্ডাকারকে ব্যাসিলাস এবং কমা আকারেরটিকে ভিব্রিও বলে। কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি।
    মনে রাখুন: ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও অবস্থান অনুসারে ব্যাকটেরিয়া চার রকম, যেমন মনোট্রিকাস, লফোট্রিকাস, অ্যাম্ফিট্রিকাস ও পেরিট্রিকাস।
  13. ১৩. ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত?৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. প্লাসটিড
    • খ. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • গ. নিউক্লিয়াস
    • ঘ. ক্রোমাটিন বস্তু
    উত্তর: ঘ. ক্রোমাটিন বস্তু
    ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী (Prokaryotic) জীব। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া বা প্লাস্টিড থাকে না। তবে কোষের ভেতরে বংশগতির উপাদান DNA ছড়ানো অবস্থায় থাকে, যাকে ক্রোমাটিন বস্তু বা নিউক্লিয়য়েড বলে। তাই দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার কোষে ক্রোমাটিন বস্তুই উপস্থিত। ব্যাকটেরিয়ার কোষে ঝিল্লিঘেরা কোনো অঙ্গাণু থাকে না, শুধু রাইবোসোম থাকে। অনেক ব্যাকটেরিয়ায় প্লাজমিড নামের ছোট বৃত্তাকার DNA-ও থাকে, যা এক ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্য ব্যাকটেরিয়ায় যেতে পারে। জিন প্রযুক্তিতে প্লাজমিড বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর পেপটিডোগ্লাইক্যান দিয়ে তৈরি।
    উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষ সুকেন্দ্রিক (Eukaryotic), এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
  14. ১৪. নিচের কোনটি ভাইরাসের জন্য সত্য নয়?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. ডিএনএ বা আরএনএ থাকে
    • খ. শুধুমাত্র জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে
    • গ. স্ফটিক দানায় রূপান্তরিত
    • ঘ. রাইবোজোম থাকে
    উত্তর: ঘ. রাইবোজোম থাকে
    ভাইরাসের গঠন খুব সরল। এতে শুধু ডিএনএ বা আরএনএ থাকে, আর তাকে ঘিরে থাকে প্রোটিনের আবরণ। ভাইরাসে রাইবোজোম থাকে না, তাই এটি নিজে প্রোটিন বানাতে পারে না। সে কারণেই ভাইরাস শুধু জীবন্ত কোষের ভেতরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। জীবকোষের বাইরে একে স্ফটিকের মতো জড় অবস্থায় রাখা যায়। তাই 'রাইবোজোম থাকে' বক্তব্যটি ভাইরাসের জন্য সত্য নয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম ও কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত রোগ, আর এসবের বিরুদ্ধে টিকা কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    ভাইরাসকে জড় ও জীবের মধ্যবর্তী বস্তু বলা হয়।
    অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর কাজ করে না।
  15. ১৫. মূল নেই কোন উদ্ভিদে?২৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. ফণীমনসা
    • খ. বীরুৎ
    • গ. মিউকর
    • ঘ. সাইকাস
    উত্তর: গ. মিউকর
    মিউকর একটি ছত্রাক, যা পাউরুটি বা পচা খাবারে জন্মায়। ছত্রাকের দেহ সূক্ষ্ম সুতার মতো হাইফি দিয়ে গঠিত, তা মূল, কাণ্ড ও পাতায় ভাগ করা নয়। তাই এতে প্রকৃত মূল নেই। মাটি বা খাদ্যের গায়ে আটকে থাকতে মিউকর মূলের মতো রাইজয়েড ব্যবহার করে। ফণীমনসা, বীরুৎ ও সাইকাস, তিনটিই এমন উদ্ভিদ যাদের প্রকৃত মূল আছে।
    মনে রাখুন:
    ছত্রাকে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
    একইভাবে শৈবাল ও ব্রায়োফাইটাতেও প্রকৃত মূল থাকে না।
  16. ১৬. মাছ অক্সিজেন নেয়-১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর শ্বসন
    • ক. মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
    • খ. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
    • গ. পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
    • ঘ. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
    উত্তর: ঘ. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
    মাছ পানিতে বাস করলেও শ্বাস নেওয়ার জন্য তার অক্সিজেন লাগে। পানিতে বাতাস কিছুটা দ্রবীভূত থাকে, আর মাছ মুখ দিয়ে পানি টেনে ফুলকার (Gills) ওপর দিয়ে বের করে দেয়। এই সময় ফুলকার পাতলা পর্দা ভেদ করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন রক্তে যায়, আর রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড পানিতে চলে আসে। মাছ পানিকে ভেঙে অক্সিজেন বের করতে পারে না, কারণ পানির অণুর বন্ধন ভাঙা এমন প্রাণীর পক্ষে সম্ভব নয়।
    মনে রাখুন: মাছের পটকা (Air Bladder) শ্বাসের কাজ করে না, এটি মাছকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
  17. ১৭. ‘এপিকালচার’ কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে?৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌমাছি পালন
    • ক. গুটিপোকা এবং রেশম
    • খ. মৌমাছি এবং মধু
    • গ. মৎস চাষ
    • ঘ. তামাক চাষ
    উত্তর: খ. মৌমাছি এবং মধু
    মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন বিষয়ক বিদ্যার নাম এপিকালচার (Apiculture)। শব্দটি লাতিন apis, অর্থাৎ মৌমাছি, থেকে এসেছে। এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য শব্দও জানা দরকার। রেশম চাষকে সেরিকালচার (Sericulture) বলে, আর মাছ চাষকে বলে পিসিকালচার (Pisciculture)। তামাক চাষের জন্য এ ধরনের আলাদা বিশেষ নাম প্রচলিত নেই। এই নামগুলো জানা থাকলে এ ধরনের প্রশ্নে বিভ্রান্তি হয় না। এখানে মৌমাছির সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দটিই চাওয়া হয়েছে। মৌমাছির চাক থেকে মধু ও মোম, দুটিই পাওয়া যায়, আর এই দুটিই এপিকালচারের প্রধান উৎপাদ।
    মনে রাখুন:
    উদ্যানবিদ্যাকে হর্টিকালচার বলে।
    ফুল চাষকে ফ্লোরিকালচার বলে।
    গুটিপোকা পালন সেরিকালচারের অংশ।
    মৌমাছি পালনের ঘরকে বলা হয় এপিয়ারি।
  18. ১৮. কোন জোড়াটি বেমানান?৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ আবিষ্কার
    • ক. যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কচ
    • খ. হোমিওপ্যাথি: হ্যানিম্যান
    • গ. ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
    • ঘ. এনাটমি : ভেসলিয়াস
    উত্তর: গ. ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
    বেমানান জোড়াটি হলো ‘ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক’। রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে কর্কের টুকরোয় প্রথম কোষ (Cell) দেখেন এবং এর নাম দেন। ব্যাকটেরিয়া প্রথম দেখেন অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক। বাকি জোড়াগুলো ঠিক আছে। যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন রবার্ট কখ, হোমিওপ্যাথির জনক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান, আর অ্যানাটমির জনক ভেসালিয়াস। অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের ইতিহাসে এই দুই বিজ্ঞানীর নাম প্রায়ই পাশাপাশি আসে বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলে। হুক দেখেছিলেন মৃত কোষের প্রাচীর, আর লিউয়েনহুক দেখেছিলেন জীবন্ত ক্ষুদ্র জীব, যাদের তিনি অণুজীব বলেছিলেন।
    মনে রাখুন:
    লিউয়েনহুক ১৬৭৬ সালে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া দেখেন।
    রবার্ট কখ কলেরার জীবাণুও শনাক্ত করেন।
  19. ১৯. মৌমাছির চাষ হলো-৩২তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌমাছি পালন
    • ক. এপিকালচার
    • খ. সেরিকালচার
    • গ. পিসিকালচার
    • ঘ. হর্টিকালচার
    উত্তর: ক. এপিকালচার
    মৌমাছি পালনকে এপিকালচার (Apiculture) বলে। এতে মধু ও মোম উৎপাদনের জন্য মৌমাছির কলোনি পালন করা হয়। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা। সেরিকালচার (Sericulture) হলো রেশম চাষ, পিসিকালচার (Pisciculture) হলো মাছ চাষ আর হর্টিকালচার (Horticulture) হলো ফল, ফুল ও সবজির বাগান করা। এপিকালচারে মৌমাছিকে বিশেষ বাক্সে রাখা হয়, যেখানে তারা চাক বানায়। একটি চাকে হাজার হাজার শ্রমিক মৌমাছি একসঙ্গে কাজ করে। মধু সংগ্রহের জন্য আজকাল বাক্স বসিয়ে মৌমাছি পালন করা হয়, যা অনেক লাভজনক।
    মনে রাখুন:
    মৌমাছি পরাগায়ণ ঘটিয়ে ফসলের ফলনও বাড়ায়।
    এক চাকে একজন রানি মৌমাছি থাকে।
  20. ২০. এপিকালচার বলতে বুঝায়-৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌমাছি পালন
    • ক. রেশমের চাষ
    • খ. মৎস্য চাষ
    • গ. মৌমাছির চাষ
    • ঘ. পাখিপালন বিদ্যা
    উত্তর: গ. মৌমাছির চাষ
    এপিকালচার (Apiculture) মানে মৌমাছি পালন, যেখানে মধু ও মোম উৎপাদনের জন্য মৌমাছির কলোনি রাখা হয়। বাকি অপশনগুলোর নাম আলাদা। রেশম চাষকে বলে সেরিকালচার (Sericulture), মৎস্য চাষকে বলে পিসিকালচার (Pisciculture), আর পাখিপালনকে বলে অ্যাভিকালচার (Aviculture)। শব্দগুলোর গোড়ার অংশ দেখলেই বোঝা যায় কোনটি কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন apis মানে মৌমাছি আর piscis মানে মাছ। এই কারণে প্রশ্নে এপিকালচার শব্দটি দেখলেই মৌমাছির কথা মনে করতে হবে। যেমন Aviculture শব্দের avis মানে পাখি। আর Sericulture শব্দে sericum মানে রেশম।
    মনে রাখুন:
    ফুল চাষকে বলে ফ্লোরিকালচার।
    ফল ও সবজি চাষকে বলে হর্টিকালচার।
  21. ২১. ‘পিসিকালচার’ বলতে কি বোঝায়?২৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৎস্য চাষ
    • ক. হাঁস-মুরগি পালন
    • খ. মৌমাছি পালন
    • গ. মৎস্য চাষ
    • ঘ. রেশম চাষ
    উত্তর: গ. মৎস্য চাষ
    পিসিকালচার (Pisciculture) মানে মাছ চাষ। লাতিন piscis শব্দের অর্থ মাছ, আর culture মানে চাষ বা পালন। অন্য অপশনগুলোর আলাদা নাম আছে। হাঁস-মুরগি পালনকে পোলট্রি, মৌমাছি পালনকে এপিকালচার (Apiculture) এবং রেশম চাষকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়। বাংলাদেশে পুকুরে মাছ চাষ খুব প্রচলিত, তাই পিসিকালচার আমাদের দেশের খাদ্য ও আয়ের একটি বড় উৎস। মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুরে কার্প জাতীয় মাছ যেমন রুই, কাতলা ও মৃগেল একসঙ্গে চাষ করা হয়। এই ধরনের চাষকে মিশ্র চাষ বলে।
    মনে রাখুন: ফুল চাষের নাম ফ্লোরিকালচার, আর ফল ও সবজি চাষের নাম হর্টিকালচার।
  22. ২২. ‘এভিকালচার’ বলতে কি বুঝায়?১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাখিপালন
    • ক. উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি
    • খ. পাখিপালন বিষয়াদি
    • গ. বাজ পাখিপালন বিষয়াদি
    • ঘ. উড়োজাহাজ ব্যবস্থাপনা
    উত্তর: খ. পাখিপালন বিষয়াদি
    এভিকালচার (Aviculture) শব্দটি লাতিন avis থেকে এসেছে, যার অর্থ পাখি। এর মানে পাখি পালন এবং তাদের যত্ন ও প্রজনন সংক্রান্ত বিদ্যা। উড্ডয়ন বা উড়োজাহাজ সংক্রান্ত বিদ্যার নাম এভিয়েশন (Aviation), তাই দুটিকে গুলিয়ে ফেলা চলবে না। বাজপাখি পোষা বা শিকারি পাখি প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা একটি শব্দ আছে, তাই সেটিও এখানে সঠিক উত্তর নয়। ঘরোয়া ময়না, টিয়া ও কবুতর পোষার বিদ্যাও এর আওতায় পড়ে। এসব পাখিকে খাঁচায় রেখে যত্ন করা এভিকালচারের অংশ।
    মনে রাখুন:
    অ্যাপিকালচার মানে মৌমাছি পালন।
    সেরিকালচার মানে রেশম পোকা পালন।
    পিসিকালচার মানে মাছ চাষ।
    হর্টিকালচার মানে বাগান বা ফলের চাষ।
  23. ২৩. বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনকে বলা হয় - -৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌমাছি পালন
    • ক. পিসিকালচার
    • খ. এপিকালচার
    • গ. মেরিকালচার
    • ঘ. সেরিকালচার
    উত্তর: খ. এপিকালচার
    বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনকে এপিকালচার (Apiculture) বলে। মৌমাছির লাতিন নাম Apis, সেখান থেকেই শব্দটি এসেছে। এতে মধু, মোম ও রয়্যাল জেলি উৎপাদনের জন্য মৌমাছির কলোনি পালন করা হয়। অন্য শব্দগুলোর অর্থ আলাদা। পিসিকালচার মানে মাছ চাষ, মেরিকালচার (Mariculture) মানে সামুদ্রিক প্রাণী চাষ, আর সেরিকালচার মানে রেশম চাষ। মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছির বাক্সে কাঠের ফ্রেম বসিয়ে দেওয়া হয়, আর মৌমাছিরা সেখানে চাক তৈরি করে। এভাবে চাক নষ্ট না করেই মধু সংগ্রহ করা যায়, যা বাণিজ্যিক পালনের মূল সুবিধা। রানি, শ্রমিক ও ড্রোন, এই তিন ধরনের মৌমাছি নিয়ে একটি কলোনি গড়ে ওঠে।
    মনে রাখুন: মৌমাছি পরাগায়ণ ঘটিয়ে ফসলের ফলনও বাড়ায়।
  24. ২৪. 'Anatomy' শব্দের অর্থ-৩০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. সাদৃশ্য
    • খ. স্নায়ুতন্ত্র
    • গ. শারীরবিদ্যা
    • ঘ. অঙ্গসঞ্চালন
    উত্তর: গ. শারীরবিদ্যা
    Anatomy শব্দটি এসেছে গ্রিক ana (ওপর থেকে) ও tome (কাটা) থেকে, অর্থাৎ কেটে বা ব্যবচ্ছেদ করে দেখা। প্রাণীর দেহ কেটে ভেতরের অঙ্গ ও তাদের অবস্থান জানার বিদ্যাই অ্যানাটমি, যাকে আমরা দেহসংস্থান বা শারীরস্থান বলি। পরীক্ষায় এই শব্দের অর্থ হিসেবে প্রচলিত বাংলা শব্দটি হলো শারীরবিদ্যা। তবে শারীরবৃত্ত বা ফিজিওলজি (Physiology) আলাদা বিষয়, কারণ সেখানে অঙ্গ কীভাবে কাজ করে তা আলোচনা করা হয়। প্রাচীন কালে মৃতদেহ কেটে দেখার মাধ্যমেই মানুষ প্রথম দেহের ভেতরের গঠন জানতে পারে। আজও চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্রদের প্রথম বছরে অ্যানাটমি পড়তে হয়, কারণ অঙ্গগুলো কোথায় আছে না জানলে অস্ত্রোপচার বা রোগ নির্ণয় কোনোটাই সম্ভব নয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যানাটমি: দেহের ভেতরের গঠন।
    ফিজিওলজি: অঙ্গের কাজ বা শারীরবৃত্ত।
    প্রথমটি গঠনের কথা বলে, দ্বিতীয়টি কাজের কথা।
  25. ২৫. মৌমাছি পালন বিদ্যা -৩৮তম বিসিএস ও ৩২তম বিসিএস ও ৩১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. এভিকালচার
    • খ. এপিকালচার
    • গ. পিসিকালচার
    • ঘ. সেরিকালচার
    উত্তর: খ. এপিকালচার
    মৌমাছি পালনের বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার (Apiculture)। Apis শব্দের অর্থ মৌমাছি, তাই culture যুক্ত হয়ে এপিকালচার। মৌমাছির বাক্সে কৃত্রিমভাবে চাক তৈরি করিয়ে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়। ফুলে ফুলে ঘুরে মৌমাছি পরাগায়নেও সাহায্য করে, ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। একে বাংলায় মৌমাছি পালন বা মধুচাষও বলা যায়। একটি মৌচাকে সাধারণত একটি রানি, কয়েক হাজার কর্মী ও কিছু পুরুষ মৌমাছি থাকে। বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় মৌয়ালরা প্রতি বছর বন থেকে মধু সংগ্রহ করেন, যা এ দেশের একটি বিখ্যাত প্রাকৃতিক সম্পদ।
    মনে রাখুন:
    সেরিকালচার (Sericulture): রেশম পোকা পালন।
    পিসিকালচার (Pisciculture): মাছ চাষ।
    অ্যাভিকালচার (Aviculture): পাখি পালন।
  26. ২৬. সেরিকালচার বলতে বোঝায়-৪৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. তুলা চাষ
    • খ. নীল চাষ
    • গ. রেশম পোকা চাষ
    • ঘ. তামাক চাষ
    উত্তর: গ. রেশম পোকা চাষ
    সেরিকালচার (Sericulture) মানে রেশম পোকা পালন করে রেশম সুতা উৎপাদন। রেশম পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বড় হয় এবং পরে নিজের চারপাশে লালা দিয়ে গুটি বা কোকুন তৈরি করে। এই গুটি থেকেই সুতা বের করে রেশম কাপড় বোনা হয়। তুঁত চাষ আলাদাভাবে মরিকালচার নামে পরিচিত, কারণ রেশম পোকার প্রধান খাদ্য এই গাছের পাতা। বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে রেশম শিল্প বেশ বিখ্যাত। রেশম পোকার জীবনচক্রের চারটি ধাপ আছে: ডিম, লার্ভা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ মথ। লার্ভা অবস্থায় এটি তুঁত পাতা খায় এবং পিউপা হওয়ার আগে গুটি বানায়। গুটি গরম পানিতে সেদ্ধ করে একটানা সুতা বের করা হয়, যা একটি গুটিতে প্রায় এক হাজার মিটার লম্বা হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    এপিকালচার: মৌমাছি পালন।
    পিসিকালচার: মাছ চাষ।
  27. ২৭. নিচের কোনটি ভাইরাসের (VIRUS) জন্য সত্য নয়?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. ডি.এন.এ বা আর.এন.এ থাকে
    • খ. শুধুমাত্র জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করা
    • গ. স্ফটিক দানায় রূপান্তরিত (Crystalization)
    • ঘ. রাইবোজোম (Ribosome) থাকে
    উত্তর: ঘ. রাইবোজোম (Ribosome) থাকে
    ভাইরাসে রাইবোসোম থাকে না। রাইবোসোম প্রোটিন তৈরির কারখানা, আর ভাইরাসের নিজস্ব প্রোটিন তৈরির যন্ত্র নেই। তাই সে সংক্রমিত কোষের রাইবোসোম ব্যবহার করে প্রোটিন বানায়। এ জন্য ‘ভাইরাসে রাইবোসোম থাকে’ কথাটি সত্য নয়। ভাইরাসের আকারও খুব ছোট, সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও অনেক ছোট। আর ভাইরাসের প্রোটিন আবরণকে ক্যাপসিড বলে। ভাইরাসের বাইরের আবরণের ওপর কখনো আরও একটি পর্দা থাকে, যাকে এনভেলাপ বলে।
    ভাইরাস সম্পর্কে বাকি তিনটি তথ্য সত্য। ভাইরাসে শুধু ডিএনএ অথবা শুধু আরএনএ থাকে, দুটি একসঙ্গে থাকে না। ভাইরাস জীবন্ত কোষের বাইরে স্ফটিক আকার নিতে পারে। আর কোষের ভেতরেই কেবল এর সংখ্যা বাড়ে।
  28. ২৮. এভিকালচার বলতে কি বুঝায়?১৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. পক্ষীশালা ব্যবস্থাপনা
    • খ. পাখিপালন সংক্রান্ত বিষয়াদি
    • গ. উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিষয়াদি
    • ঘ. বিনোদন চর্চা
    উত্তর: খ. পাখিপালন সংক্রান্ত বিষয়াদি
    লাতিন শব্দ 'avis' মানে পাখি, তাই এভিকালচার (Aviculture) বলতে পাখি পালন ও তাদের যত্ন, প্রজনন এবং খাবার দেওয়ার বিষয়াদি বোঝায়। শখের বশে টিয়া, ময়না বা ঘুঘু পালন থেকে শুরু করে খামারে কবুতর ও হাঁস-মুরগি পালন সবই এর মধ্যে পড়ে। হাঁস-মুরগির মতো গৃহপালিত পাখির বাণিজ্যিক পালনের জন্য আলাদা একটি নাম আছে, তাকে পোলট্রি (Poultry) বলে। পাখি পালনের সময় খাঁচার আকার, খাবার, পরিষ্কার পানি ও রোগ প্রতিরোধের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। বাংলাদেশে অনেক বন্যপাখি ধরা ও খাঁচায় পোষা আইনত নিষিদ্ধ, তাই কেবল অনুমোদিত প্রজাতি পালন করা উচিত।
    মনে রাখুন:
    পাখি নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পড়াশোনা হলো অরনিথোলজি (Ornithology)।
    এপিকালচার: মৌমাছি পালন।
    পিসিকালচার: মাছ চাষ।
    সেরিকালচার: রেশম চাষ।

অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (২১০)

  1. ২৯. স্পিরুলিনা কী?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শৈবাল
    • ক. ছত্রাক
    • খ. শৈবাল
    • গ. ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. ভাইরাস
    উত্তর: খ. শৈবাল
    স্পিরুলিনা (Spirulina) এক ধরনের নীলাভ-সবুজ শৈবাল (Blue-green Algae), যা ক্লোরোফিল ছাড়াও ফাইকোসায়ানিন নামের নীল রঞ্জক ধারণ করে। বিজ্ঞানের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে একে সায়ানোব্যাকটেরিয়া বলা হয়। এটি সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। এতে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকে, তাই একে পুষ্টিকর খাদ্য-সম্পূরক হিসেবে খাওয়া হয়। বিশ্বের নানা দেশে এর চাষ হয় এবং এর চাহিদাও প্রচুর। আমাদের দেশে ও বিদেশে স্পিরুলিনার ট্যাবলেট ও গুঁড়া পুষ্টি-সম্পূরক হিসেবে বিক্রি হয়, এবং অপুষ্টি দূর করতে এর ব্যবহার নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে।
    মনে রাখুন:
    স্পিরুলিনার শুকনো ওজনের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রোটিন।
    পানিতে ভাসমান শৈবালকে সাধারণভাবে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বলা হয়, যারা জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপ।
  2. ৩০. জীবকোষে কোন স্থানে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. রাইবোজোম
    • খ. নিউক্লিয়াস
    • গ. মাইট্রোক্রিয়া
    • ঘ. ক্রোমোজোম
    উত্তর: ক. রাইবোজোম
    কোষের ভেতরে প্রোটিন তৈরির কাজ চলে রাইবোজোমে (Ribosome)। নিউক্লিয়াসের ডিএনএ থেকে বার্তা বহনকারী আরএনএ (mRNA) রাইবোজোমে এসে পৌঁছায়। সেখানে সেই বার্তা পড়ে অ্যামাইনো এসিডগুলোকে সঠিক ক্রমে জুড়ে প্রোটিন গড়া হয়। এ কারণে রাইবোজোমকে প্রোটিন তৈরির কারখানা বা প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। অন্যদিকে মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদন করে বলে কোষের শক্তিঘর, নিউক্লিয়াস কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র আর ক্রোমোজোম বংশগতির বাহক। এ কারণে প্রোটিনের চাহিদা বেশি এমন কোষে, যেমন যকৃত ও গ্রন্থিকোষে, রাইবোজোমের সংখ্যাও বেশি থাকে। এরা কোষের সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে ভাসে।
    মনে রাখুন:
    রাইবোজোম আবিষ্কার করেন জর্জ পেলেড।
    রাইবোজোম কিছু অংশে অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে লেগে থাকে।
  3. ৩১. ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব
    • ক. রবার্ট কুক
    • খ. লিউয়েন হুক
    • গ. রবার্ট হুক
    • ঘ. এডওয়ার্ড জেনার
    উত্তর: খ. লিউয়েন হুক
    ব্যাকটেরিয়া এত ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না। ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েনহুক (Antonie van Leeuwenhoek) নিজের হাতে তৈরি সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে ১৬৭০-এর দশকে প্রথম এই জীবাণু দেখেন। এ কারণেই তাঁকে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। ব্যাকটেরিয়া নামটি অনেক পরে, ১৮২৯ সালে, জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ দেন। রবার্ট হুক এই পরিচয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন, তিনি ১৬৬৫ সালে কোষ আবিষ্কার করেছিলেন। আর এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্তের টিকা উদ্ভাবন করেন।
    মনে রাখুন:
    কোষের আবিষ্কারক: রবার্ট হুক (১৬৬৫)।
    টিকার জনক: এডওয়ার্ড জেনার।
    জীবাণুতত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত লুই পাস্তুর ও রবার্ট কখ।
  4. ৩২. 'এভিকালচার' কী?তথ্য অধিদপ্তর, সহকারী তথ্য অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিবিদ্যার শাখা
    • ক. মৎস্য চাষ
    • খ. পাখিপালন বিদ্যা
    • গ. মৌমাছি চাষ
    • ঘ. রেশম চাষ
    উত্তর: খ. পাখিপালন বিদ্যা
    কালচার শব্দের অর্থ চাষ বা পালন। বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ পালনের জন্য আলাদা আলাদা বৈজ্ঞানিক নাম আছে। এভিকালচার (Aviculture) হলো পাখি পালন ও তার প্রজনন-সংক্রান্ত বিদ্যা। এভিস শব্দটি ল্যাটিন, যার অর্থ পাখি। কাজেই মৎস্য চাষ বা মৌমাছি পালনের সঙ্গে এর মিল নেই। মাছ চাষকে বলে পিসিকালচার, মৌমাছি পালনকে বলে এপিকালচার আর রেশম পোকা পালনকে বলে সেরিকালচার। এই শব্দগুলোর গোড়ার অংশ মনে রাখলে প্রশ্ন সহজ হয়, কারণ প্রতিটি ল্যাটিন বা গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে। যেমন পিসিস মানে মাছ, এপিস মানে মৌমাছি এবং সেরিকাম মানে রেশম।
    মনে রাখুন:
    পিসিকালচার: মাছ চাষ।
    এপিকালচার: মৌমাছি পালন।
    সেরিকালচার: রেশম চাষ।
    হর্টিকালচার: বাগান বা ফল-ফুল চাষ।
  5. ৩৩. 'ব্ল্যাক বেঙ্গল' কীসের জাত?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর জাত
    • ক. গরু
    • খ. হাঁস
    • গ. মুরগি
    • ঘ. ছাগল
    উত্তর: ঘ. ছাগল
    ব্ল্যাক বেঙ্গল (Black Bengal) বাংলাদেশের নিজস্ব ছাগলের জাত। এর গায়ের রঙ সাধারণত কালো, দেহ ছোট কিন্তু শক্তপোক্ত। এই ছাগলের মাংস সুস্বাদু এবং চামড়া নরম ও মজবুত, তাই বিশ্বে এর চামড়ার বেশ কদর আছে। এরা অল্প খাবারে বাঁচে, বছরে দুবার বাচ্চা দেয় এবং একসঙ্গে প্রায় দুই-তিনটি বাচ্চা হয়। ফলে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের আয়ের একটি ভালো উৎস এই ছাগল।
    মনে রাখুন:
    ছাগলকে বলা হয় 'গরিবের গাভী'।
    বাংলাদেশের উন্নত গরুর জাত: রেড চিটাগং ক্যাটল, পাবনা ক্যাটল।
    হাঁসের স্থানীয় জাত: দেশি হাঁস, জিন্ডিং, খাকি ক্যাম্পবেল।
  6. ৩৪. জীবের বেঁচে থাকার জন্য কোনটি অত্যাবশ্যক নয়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবের প্রয়োজন
    • ক. পানি
    • খ. খাবার
    • গ. মাটি
    • ঘ. অক্সিজেন
    উত্তর: গ. মাটি
    জীবের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন, খাদ্য ও পানি অপরিহার্য। অক্সিজেন ছাড়া কয়েক মিনিটের বেশি বাঁচা যায় না, খাবার ছাড়া কয়েক সপ্তাহ, আর পানি ছাড়া কয়েক দিন। মাটি পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, ফসল জন্মানোর ভিত্তি, কিন্তু সব জীবের সরাসরি বেঁচে থাকার জন্য এটি অত্যাবশ্যক নয়। জলজ প্রাণী মাটিতে না থেকেও বাঁচে, এমনকি হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদ পানিতে পুষ্টি দিয়ে বিনা মাটিতেও জন্মানো যায়।
    মনে রাখুন:
    জীবের কোষীয় শ্বসনের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন।
    দেহের ওজনের প্রায় ৭০ ভাগ পানি।
    পরিবেশের উপাদান: জৈব (উদ্ভিদ, প্রাণী) ও অজৈব (মাটি, পানি, বায়ু)।
  7. ৩৫. কোনটি কোষের অংশ নয়?নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ
    • ক. সেলমেমব্রেন
    • খ. সাইটোপ্লাজম
    • গ. প্লাজমা
    • ঘ. নিউক্লিয়াস
    উত্তর: গ. প্লাজমা
    কোষের তিনটি প্রধান অংশ আছে। বাইরের আবরণ কোষঝিল্লি (Cell Membrane), তার ভেতরে কোষের তরল অংশ সাইটোপ্লাজম এবং কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নিউক্লিয়াস। এগুলো কোষের অংশ। কিন্তু প্লাজমা কোষের অংশ নয়। প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ, যার প্রায় ৯০% পানি। এতে হরমোন, খাদ্যসার, বর্জ্য ও প্রোটিনের মতো পদার্থ দ্রবীভূত থাকে। রক্তকণিকা এই প্লাজমার মধ্যে ভেসে বেড়ায়। প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন জাতীয় প্রোটিন আলাদা করে নিলে যে তরল পড়ে থাকে, তাকে সিরাম বলে। রক্ত জমাট বাঁধতে এই প্রোটিন কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    রক্তের প্রায় ৫৫% প্লাজমা আর ৪৫% রক্তকণিকা।
    উদ্ভিদকোষে কোষঝিল্লির বাইরে সেলুলোজের কোষপ্রাচীর থাকে।
    প্রাণীকোষে কোষপ্রাচীর নেই।
  8. ৩৬. — is the study of living creatures.স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Physics
    • খ. Biology
    • গ. Zoology
    • ঘ. Botany
    উত্তর: খ. Biology
    জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদ নিয়ে যে বিজ্ঞান, তার নাম Biology বা জীববিজ্ঞান। এটি বড় শাখা, যার অধীনে অনেক ছোট শাখা আছে। Zoology শুধু প্রাণী নিয়ে আর Botany শুধু উদ্ভিদ নিয়ে পড়াশোনা করে। Physics পদার্থের ধর্ম ও শক্তি নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে জীবনের কথা নেই। তাই ‘living creatures’ বললে সবচেয়ে ব্যাপক উত্তর Biology।
    মনে রাখুন: Biology শব্দটি এসেছে গ্রিক bios (জীবন) ও logos (বিজ্ঞান) থেকে। Zoology = প্রাণিবিদ্যা, Botany = উদ্ভিদবিদ্যা।
    অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology) জীবাণু নিয়ে এবং বংশগতিবিদ্যা (Genetics) বংশগতি নিয়ে আলোচনা করে।
    অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
  9. ৩৭. মাশরুম এক ধরনের—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. ফাঙ্গাস
    • খ. অপুষ্পক উদ্ভিদ
    • গ. পরজীবী উদ্ভিদ
    • ঘ. অর্কিড
    উত্তর: ক. ফাঙ্গাস
    মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস (Fungus)। ছত্রাকে ক্লোরোফিল থাকে না, তাই তারা সূর্যের আলো থেকে নিজের খাবার তৈরি করতে পারে না, বরং মৃত বা পচা জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য শোষণ করে। প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদজগতের মতো ছত্রাকের আলাদা একটি রাজ্য আছে। অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা ঠিক নয়, কারণ শ্রেণিবিন্যাসে মাশরুম উদ্ভিদ নয়।
    মনে রাখুন:
    খাদ্য উপযোগী মাশরুমে প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে, তবে কিছু মাশরুম বিষাক্ত।
    ইস্ট ও পেনিসিলিয়ামও ছত্রাক।
    মাশরুমের দেহ হাইফি নামের সূক্ষ্ম সুতার মতো কোষে গঠিত, সবগুলো মিলে মাইসেলিয়াম তৈরি করে।
    ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
  10. ৩৮. নিচের কোন শর্করাটি উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরে পাওয়া যায়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষপ্রাচীর
    • ক. স্টার্চ
    • খ. সেলুলোজ
    • গ. গ্লাইকোজেন
    • ঘ. ক ও খ
    উত্তর: খ. সেলুলোজ
    উদ্ভিদকোষের চারদিকে কোষপ্রাচীর (Cell wall) থাকে, যার প্রধান উপাদান সেলুলোজ (Cellulose)। এটি গ্লুকোজ অণু দিয়ে তৈরি একটি জটিল শর্করা। স্টার্চ উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয়ের শর্করা এবং গ্লাইকোজেন প্রাণীর যকৃত ও পেশিতে জমা থাকে, তাই এ দুটি কোষপ্রাচীরে পাওয়া যায় না। সেলুলোজ মানুষ হজম করতে পারে না, তবু এটি খাদ্যআঁশ হিসেবে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    সেলুলোজ কাগজ ও তুলার প্রধান উপাদান।
    প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
    গরু-ছাগলের পাকস্থলীর জীবাণু সেলুলোজ হজম করতে পারে, তাই এরা ঘাস খেয়ে বাঁচে।
    সেলুলোজ গ্লুকোজ অণুর শিকল দিয়ে তৈরি, তাই এটি পলিস্যাকারাইড শ্রেণির শর্করা।
  11. ৩৯. মাশরুম এক ধরনের —মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, উপ-পরিদর্শক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. অপুষ্পক উদ্ভিদ
    • খ. ফাংগাস
    • গ. অর্কিড
    • ঘ. পরজীবী উদ্ভিদ
    উত্তর: খ. ফাংগাস
    মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতা একটি ছত্রাক (ফাংগাস, Fungus)। এর দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এটি নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। মৃত জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য শোষণ করে বেঁচে থাকে বলে একে মৃতজীবী বলে। ফাংগাস উদ্ভিদ জগতের অংশ নয়, আলাদা জগৎ (Kingdom Fungi) বলে গণ্য হয়। তাই ‘অপুষ্পক উদ্ভিদ’ বলা ঠিক নয়। অর্কিড ফুলগাছ, আর পরজীবী উদ্ভিদ অন্য জীবের ওপর বেঁচে থাকে, মাশরুম সাধারণত তা নয়।
    মনে রাখুন:
    ইস্ট, পেনিসিলিয়াম ও মাশরুম সবই ফাংগাসের উদাহরণ।
    ফাংগাসের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
    পেনিসিলিয়াম থেকে পেনিসিলিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়।
  12. ৪০. মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?ডাক অধিদপ্তর, এস্টিমেটর, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈজ্ঞানিক নাম
    • ক. হোমো ইরেক্টাস
    • খ. হোমো স্যাপিয়েন্স
    • গ. হোমো হ্যাবিলস
    • ঘ. হোমো নেয়ান্ডারথালিস
    উত্তর: খ. হোমো স্যাপিয়েন্স
    আধুনিক মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হোমো স্যাপিয়েন্স (Homo sapiens)। ল্যাটিন ভাষায় ‘হোমো’ মানে মানুষ এবং ‘স্যাপিয়েন্স’ মানে জ্ঞানী। বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশ প্রজাতি (Species)। হোমো ইরেক্টাস, হোমো হ্যাবিলিস ও হোমো নেয়ান্ডারথালেনসিস আদি বা বিলুপ্ত মানব-প্রজাতি। এই নামগুলোর প্রথম শব্দ একই, কারণ সবাই একই গণ হোমোর অন্তর্ভুক্ত, শুধু প্রজাতি আলাদা।
    মনে রাখুন:
    আধুনিক মানুষের পূর্ণ নাম Homo sapiens sapiens।
    হোমো ইরেক্টাস মানে সোজা হয়ে হাঁটা মানুষ, আর হোমো হ্যাবিলিস মানে দক্ষ মানুষ।
    দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি দেন কার্ল লিনিয়াস।
    মানুষ বর্গীকরণে স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এবং প্রাইমেট বর্গের সদস্য।
  13. ৪১. মাছ কোনটির সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছের শ্বাসক্রিয়া
    • ক. ত্বকের সাহায্যে
    • খ. ফুসফুসের সাহায্যে
    • গ. ফুলকার সাহায্যে
    • ঘ. গিলের সাহায্যে
    উত্তর: গ. ফুলকার সাহায্যে
    মাছ ফুলকার (Gill) সাহায্যে শ্বাস নেয়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ফুলকার মধ্য দিয়ে রক্তে যায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বেরিয়ে আসে। বেশির ভাগ মাছ ত্বক বা ফুসফুস দিয়ে নয়, প্রধানত ফুলকা দিয়েই শ্বাস নেয়। ‘গিল’ ফুলকার ইংরেজি নাম, তাই এটি আলাদা কোনো অঙ্গ নয়।
    মনে রাখুন:
    কৈ, শিং, মাগুরের মতো কিছু মাছ ফুলকার সঙ্গে অতিরিক্ত শ্বাস অঙ্গ ব্যবহার করে, আর ফুসফুসমাছ ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নিতে পারে।
    ব্যাঙ ত্বক ও ফুসফুস, দুটি দিয়েই শ্বাস নেয়।
    তিমি ও ডলফিন মাছ নয়, তারা স্তন্যপায়ী এবং ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়।
  14. ৪২. পাখিপালন বিদ্যাকে কী বলে?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণী পালন
    • ক. এপিকালচার
    • খ. এভিকালচার
    • গ. পোলট্রি
    • ঘ. এথনোলজি
    উত্তর: খ. এভিকালচার
    পাখি পালনের বিদ্যা এভিকালচার (Aviculture)। ল্যাটিন avis মানে পাখি, আর culture মানে চাষ বা পালন। মনে রাখার সহজ উপায় হলো এভিয়েশনের সঙ্গে মিল। অন্যান্য পালনবিদ্যার নাম আলাদা: মৌমাছি পালনের নাম এপিকালচার (apis = মৌমাছি), মাছ চাষের নাম পিসিকালচার (piscis = মাছ) এবং রেশম চাষের নাম সেরিকালচার। পোলট্রি বলতে মূলত হাঁস-মুরগি পালনকে বোঝায়, আর এথনোলজি হলো মানবজাতির বিজ্ঞান।
    মনে রাখুন:
    হর্টিকালচার = বাগান চাষ।
    ভারমিকালচার = কেঁচো পালন।
    ফ্লোরিকালচার = ফুল চাষ।
    সিলভিকালচার = বনায়ন ও বনের পরিচর্যা।
    অলেরিকালচার = শাকসবজি চাষ।
    পোলট্রি শব্দটি হাঁস-মুরগি পালনের শিল্পকে বোঝায়।
  15. ৪৩. মানবদেহের মৌলিক ইউনিটের নাম কী?নার্সিং সেবা অধিদপ্তর, মিডওয়াইফ, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ
    • ক. কোষ
    • খ. নিউক্লিয়াস
    • গ. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • ঘ. নিউক্লিওলাস
    উত্তর: ক. কোষ
    জীবদেহের গঠন ও কাজের সবচেয়ে ছোট একক হলো কোষ (Cell)। অ্যামিবার মতো এককোষী প্রাণী একটি কোষ দিয়েই জীবনের সব কাজ চালায়, আর মানুষের মতো বহুকোষী প্রাণীর দেহ কোটি কোটি কোষ দিয়ে তৈরি। নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও নিউক্লিওলাস আলাদা কোনো একক নয়, এগুলো কোষের ভেতরের অংশ।
    মজার ব্যাপার হলো, ভাইরাসের কোনো কোষীয় গঠন নেই, তাই একে অকোষীয় বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে প্রথম কোষ (Cell) নামটি দেন।
    শ্লাইডেন ও শোয়ান কোষতত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
    মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
    কোষ কথাটির ইংরেজি Cell এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘সেলুলা’ থেকে, যার অর্থ ছোট ঘর।
  16. ৪৪. কোন প্রাণী নিজের শরীরের চেয়ে পঞ্চাশ গুণ বেশি ভরের বস্তু বহন করতে পারে?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য
    • ক. ঘোড়া
    • খ. হাতি
    • গ. পিঁপড়া
    • ঘ. গাধা
    উত্তর: গ. পিঁপড়া
    পিঁপড়া তার নিজের দেহের ভরের প্রায় ৫০ গুণ ভার বহন করতে পারে। এর কারণ, পিঁপড়ার দেহ ছোট হওয়ায় তার ওজনের তুলনায় পেশির প্রস্থচ্ছেদ বেশি, তাই পেশির জোরও আপেক্ষিকভাবে বেশি। বড় প্রাণীর দেহ বাড়লে ওজন যত বাড়ে, পেশির শক্তি তত বাড়ে না। ঘোড়া, হাতি বা গাধা তাদের নিজের ওজনের তুলনায় এত বেশি ভার বইতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    কিছু প্রজাতির পিঁপড়া আরও বেশি ভারও তুলতে পারে, তবে সাধারণত ৫০ গুণের কথা বলা হয়।
    পিঁপড়া দলবদ্ধ সামাজিক পতঙ্গ, কাজ ভাগ করে নিয়ে কলোনিতে বাস করে।
    পিঁপড়ার দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত: মাথা, বক্ষ ও উদর।
  17. ৪৫. ঝিনুকের প্রদাহের ফল কোনটি?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টেশন অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মোলাস্কা
    • ক. প্রবাল
    • খ. স্বর্ণ
    • গ. হীরক
    • ঘ. মুক্তা
    উত্তর: ঘ. মুক্তা
    ঝিনুকের খোলের ভেতরে বালুকণা বা পরজীবী ঢুকে গেলে ঝিনুকের নরম দেহ অস্বস্তি বোধ করে। তখন ঝিনুক ওই কণাকে ঘিরে নেকার (Nacre) নামে এক ধরনের চকচকে পদার্থ স্তরে স্তরে জমাতে থাকে। বহু বছরে এই স্তর জমে মুক্তা তৈরি হয়। প্রবাল, হীরক বা স্বর্ণের সঙ্গে ঝিনুকের এমন সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    নেকারের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
    মুক্তা প্রাণীজ উৎস থেকে পাওয়া রত্ন, আর হীরক একটি খনিজ পদার্থ।
    ঝিনুক মোলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রাণী, আর শামুক ও কাটলফিশও এই পর্বে পড়ে।
    মুক্তা চাষে ঝিনুকের শরীরে ইচ্ছা করে ক্ষুদ্র কণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তাই এখন কৃত্রিম উপায়েও মুক্তা পাওয়া যায়।
  18. ৪৬. নিম্নের কোন জলজ প্রাণিটির ফুলকা নেই?প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. স্কুইড
    • খ. তিমি
    • গ. অক্টোপাস
    • ঘ. ক্লাউন মাছ
    উত্তর: খ. তিমি
    তিমি দেখতে মাছের মতো হলেও আসলে স্তন্যপায়ী প্রাণী। তাই এর ফুলকা নেই এবং ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়। শ্বাস নেওয়ার জন্য তিমিকে নিয়মিত পানির ওপরে উঠে আসতে হয়। স্কুইড, অক্টোপাস ও ক্লাউন মাছ ফুলকা দিয়ে পানির অক্সিজেন নিয়ে শ্বাস নেয়।
    মনে রাখুন:
    ডলফিন ও তিমি দুটোই স্তন্যপায়ী এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়।
    স্কুইড ও অক্টোপাস মলাস্ক পর্বের সেফালোপোডা শ্রেণির প্রাণী।
    স্তন্যপায়ী প্রাণীর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো দেহে লোম বা চুল থাকা, উষ্ণ রক্ত এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো। তিমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী, আর নীল তিমি (Blue whale) এদের মধ্যে সর্ববৃহৎ।
  19. ৪৭. 'এপিকালচার' বলতে কী বোঝায়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণী পালন
    • ক. রেশম চাষ
    • খ. মৌমাছি পালন
    • গ. কবুতর পালন
    • ঘ. পোকা পালন
    উত্তর: খ. মৌমাছি পালন
    এপিকালচার (Apiculture) মানে মৌমাছি পালন, যেখানে মধু ও মোমের জন্য মৌমাছির চাষ করা হয়। ল্যাটিন ‘apis’ শব্দের অর্থ মৌমাছি। রেশম চাষের নাম সেরিকালচার, আর কবুতর পালনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    পিসিকালচার (Pisciculture) মাছ চাষ, সেরিকালচার (Sericulture) রেশম পোকা পালন।
    এভিকালচার (Aviculture) পাখি পালন এবং মেরিকালচার (Mariculture) সামুদ্রিক প্রাণী চাষ।
    মৌচাকে রানি মৌমাছি, শ্রমিক মৌমাছি ও পুরুষ মৌমাছি থাকে। শ্রমিক মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে, আর রানি মৌমাছি ডিম পাড়ে।
    মৌমাছির দেহে তিনটি অংশ থাকে: মাথা, বক্ষ ও উদর, কারণ এটি পতঙ্গ।
  20. ৪৮. রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম কী?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম
    • ক. Panthera tigress
    • খ. Panthera tigris
    • গ. Panthera tigris tigris
    • ঘ. Panthera tigris altaica
    উত্তর: গ. Panthera tigris tigris
    বাঘ Panthera গণের একটি প্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris। এর বিভিন্ন উপপ্রজাতি আছে, আর রয়েল বেঙ্গল টাইগার হলো তার মধ্যে বেঙ্গল উপপ্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris tigris। তাই বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে নির্দিষ্ট ও সঠিক। Panthera tigris শুধু প্রজাতির নাম, উপপ্রজাতির নয়। Panthera tigris altaica সাইবেরীয় বাঘের নাম, আর Panthera tigress নামে কোনো প্রচলিত বৈজ্ঞানিক নাম নেই।
    মনে রাখুন:
    রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় পশু।
    সুন্দরবন এই বাঘের প্রধান আবাসস্থল।
    সিংহের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera leo।
    বাঘের বৈজ্ঞানিক নামের গণ ও প্রজাতি ল্যাটিনে লেখা হয় এবং প্রজাতির নাম ছোট হাতের অক্ষরে শুরু হয়।
    হাতির বৈজ্ঞানিক নাম Elephas maximus এবং মানুষের Homo sapiens।
  21. ৪৯. কোনটি পৃথিবীর বিশাল আকৃতির শোধনাগার?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরিবেশ
    • ক. বায়ু
    • খ. মাটি
    • গ. পানি
    • ঘ. গাছপালা
    উত্তর: খ. মাটি
    মাটির ওপর পড়া বৃষ্টির পানি যখন স্তরে স্তরে ভেতরে ঢোকে, তখন মাটির কণা তার ময়লা আটকে রাখে আর মাটির অণুজীব অনেক বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে নিরীহ করে দেয়। এভাবে মাটি প্রকৃতির এক বিশাল ছাঁকনি বা শোধনাগারের কাজ করে। তাই মাটিকে এই নামে ডাকা হয়। বায়ু, পানি ও গাছপালাও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে, কিন্তু এই বিশেষ নাম পায় মাটি।
    মনে রাখুন:
    ভূগর্ভস্থ পানি মাটির স্তরে ছেঁকে নিরাপদ হয় বলে নলকূপের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার।
    গাছপালা বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে অক্সিজেন ছাড়ে।
  22. ৫০. মৌমাছির চাষকে বলা হয়–শারীরিক শিক্ষা কলেজ (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), প্রভাষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণী পালন
    • ক. এপিকালচার
    • খ. সেরিকালচার
    • গ. পিসিকালচার
    • ঘ. হর্টিকালচার
    উত্তর: ক. এপিকালচার
    মৌমাছি পালন করে মধু ও মোম সংগ্রহের বিদ্যাকে এপিকালচার (Apiculture) বলে। সেরিকালচার (Sericulture) হলো রেশমকীট পালন, পিসিকালচার (Pisciculture) মাছ চাষ, আর হর্টিকালচার (Horticulture) ফল-ফুল ও সবজির বাগান করার বিদ্যা।
    মনে রাখুন:
    মৌমাছি ফুলের পরাগায়ণেও সাহায্য করে।
    রেশমকীট থেকে রেশম সুতা পাওয়া যায়।
    Apis শব্দের অর্থ মৌমাছি।
    মৌচাকে একটি রানি, কয়েক হাজার শ্রমিক এবং কিছু পুরুষ মৌমাছি থাকে। শ্রমিক মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে এবং মোম দিয়ে মৌচাক বানায়।
    মধু সংরক্ষণে নষ্ট হয় না, কারণ এতে পানি কম আর শর্করা বেশি থাকে।
    মৌমাছি পালনের বাক্সে চাক বসিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হয়।
  23. ৫১. যে বিজ্ঞান জীবাশ্ম সম্বন্ধে আলোচনা করতে পারে–সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম বিজ্ঞান
    • ক. ফসিওলজি
    • খ. মরফোলজি
    • গ. প্যালিয়েন্টোলজি
    • ঘ. ফাইটোজেনি
    উত্তর: গ. প্যালিয়েন্টোলজি
    জীবাশ্ম মানে অতীতের জীবের পাথর হয়ে যাওয়া দেহাবশেষ বা ছাপ। এসব নিয়ে যে বিজ্ঞানের শাখায় আলোচনা হয়, তার নাম প্যালিয়েন্টোলজি (Paleontology)। মরফোলজি (Morphology) জীবের বাহ্যিক গঠন নিয়ে আলোচনা করে। ফসিওলজি ও ফাইটোজেনি এই অর্থে প্রচলিত বিষয়ের নাম নয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যানাটমি জীবের অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে আলোচনা করে।
    জীবাশ্ম পড়ে পৃথিবীর অতীত জীবজগৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
    প্যালিয়েন্টোলজি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ থেকে, যেখানে ‘প্যালাইওস’ মানে প্রাচীন। এই শাখার বিজ্ঞানীরা জীবাশ্ম দেখে প্রাচীন জীবের আকৃতি, বয়স ও বিবর্তনের ইতিহাস জানতে পারেন।
    ডাইনোসর সম্পর্কে আমাদের ধারণা মূলত জীবাশ্ম থেকেই পাওয়া।
  24. ৫২. কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, স্টাফ অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. ডলফিন
    • খ. হাঙ্গর
    • গ. ব্যাঙ
    • ঘ. ঈগল
    উত্তর: ক. ডলফিন
    স্তন্যপায়ী প্রাণী এমন প্রাণী, যারা সন্তান জন্ম দেয় এবং সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করায়। ডলফিন পানিতে বাস করলেও মাছ নয়, এটি ফুসফুসে শ্বাস নেয়, বাচ্চা প্রসব করে এবং দুধ খাওয়ায়, তাই এটি স্তন্যপায়ী। হাঙ্গর মাছ, ব্যাঙ উভচর আর ঈগল পাখি।
    মনে রাখুন:
    তিমি ও ডলফিন জলজ স্তন্যপায়ী।
    বাদুড় একমাত্র উড়তে পারা স্তন্যপায়ী প্রাণী।
    স্তন্যপায়ীদের দেহে লোম বা চুল থাকে, ফুসফুসে শ্বাস নেয় এবং হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। এদের তাপমাত্রা সব পরিবেশেই প্রায় স্থির থাকে।
    প্লাটিপাস ও একিডনা ডিম পাড়ে, তবু দুধ খাওয়ায় বলে এরাও স্তন্যপায়ী।
    তিমি সমুদ্রে থাকে বলে অনেকে মাছ ভাবে, কিন্তু ডলফিনের মতো সেও দুধ খাওয়ায়।
  25. ৫৩. কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যা হলো –এনটিআরসিএ, ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানের শাখা
    • ক. জিওলোজি
    • খ. অ্যানথ্রপলোজি
    • গ. এনটোমলজি
    • ঘ. নিউরোলজি
    উত্তর: গ. এনটোমলজি
    কীটপতঙ্গ নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা হয়, তাকে কীটতত্ত্ব বা এন্টোমোলজি (Entomology) বলে। শব্দটি এসেছে গ্রিক ‘entomon’ থেকে, যার অর্থ পোকা। ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমন থেকে শুরু করে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নানা কাজে এই বিদ্যা দরকার হয়। এই শাখার বিজ্ঞানীকে এন্টোমোলজিস্ট বলা হয়, আর পোকামাকড়ের দেহে ছয়টি পা থাকে বলে এদের হেক্সাপোডা (Hexapoda) নামেও ডাকা হয়। কীটপতঙ্গের দেহ মাথা, বক্ষ ও উদর, এই তিন ভাগে বিভক্ত, আর তাদের ছয়টি পা থাকে।
    মনে রাখুন:
    জিওলজি (Geology) মানে ভূতত্ত্ব।
    অ্যানথ্রপলজি (Anthropology) মানে নৃবিজ্ঞান।
    নিউরোলজি (Neurology) মানে স্নায়ুবিজ্ঞান।
  26. ৫৪. Bird with the largest wingspan is:বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাখি
    • ক. Ostrich
    • খ. Albatross
    • গ. Eagle
    • ঘ. Falcon
    উত্তর: খ. Albatross
    জীবিত পাখিদের মধ্যে ডানার বিস্তার (Wingspan) সবচেয়ে বেশি ওয়ান্ডারিং অ্যালবাট্রস (Wandering Albatross) নামের সামুদ্রিক পাখির। এর এক ডানার প্রান্ত থেকে অন্য ডানার প্রান্ত পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিশাল ডানার জোরে অ্যালবাট্রস প্রায় ডানা না ঝাপটিয়েই সমুদ্রের ওপর দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার উড়ে যেতে পারে। অ্যালবাট্রসের পাখা এত বড় বলে এরা বাতাসের স্রোত কাজে লাগিয়ে খুব কম শক্তি খরচ করে উড়তে পারে। এরা সাধারণত ডাঙায় আসে কেবল বাচ্চা তুলতে।
    মনে রাখুন:
    উটপাখি (Ostrich) আকারে ও ওজনে সবচেয়ে বড় পাখি, কিন্তু এটি উড়তে পারে না।
    সবচেয়ে ছোট পাখি হামিংবার্ড।
    বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল।
  27. ৫৫. পরিবেশ ও জীবদেহের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যাকে কী বলে?এনটিআরসিএ, ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়-২), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাস্তুবিদ্যা
    • ক. বায়োলজি
    • খ. সোসিওলজি
    • গ. এনভায়রনমেন্ট
    • ঘ. ইকোলজি
    উত্তর: ঘ. ইকোলজি
    জীব এবং তার চারপাশের পরিবেশের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক, তা নিয়ে আলোচনা করে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি (Ecology)। শব্দটি এসেছে গ্রিক oikos (বাসস্থান) এবং logos (জ্ঞান) থেকে, আর ১৮৬৬ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। বায়োলজি হলো সামগ্রিকভাবে জীববিজ্ঞান, আর সোসিওলজি সমাজবিজ্ঞান। এনভায়রনমেন্ট শব্দের অর্থ পরিবেশ, এটি কোনো বিদ্যার নাম নয়। কোনো এলাকার জীবসমূহের সম্পর্ক বোঝার জন্য খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল ইকোলজির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
    মনে রাখুন: কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জীব ও জড় উপাদান মিলে যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলে।
  28. ৫৬. Historia Animalium গ্রন্থের রচয়িতা কে?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. ক্যারোলাস লিনিয়াস
    • খ. এরিস্টটল
    • গ. চার্লস ডারউইন
    • ঘ. হুগো দ্যা ড্রিম
    উত্তর: খ. এরিস্টটল
    'Historia Animalium' বা 'প্রাণীদের ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle)। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে লেখা এই বইয়ে তিনি শত শত প্রাণীর গঠন, স্বভাব ও জীবনচক্র বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রাণীদের রক্তের ধরন, আবাস ও প্রজননের ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা করেন। কার্ল লিনিয়াস পরে নামকরণের দ্বিপদ পদ্ধতি দেন, আর ডারউইন লিখেছেন 'অন দ্য অরিজিন অব স্পিশিজ'। এই বইয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণের অনেক কথা আজও সঠিক বলে প্রমাণিত, যেমন তিমি মাছ নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী।
    মনে রাখুন:
    এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
    তিনি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের শিক্ষক ছিলেন।
  29. ৫৭. প্রাণিবিজ্ঞানের জনক কে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. Andreas Vesalius
    • খ. William Harvey
    • গ. Robert Hooke
    • ঘ. Aristotle
    উত্তর: ঘ. Aristotle
    প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle) প্রাণীদের গঠন, স্বভাব ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে প্রথম সুশৃঙ্খল আলোচনা করেন। তাঁর 'Historia Animalium' বইয়ে শতাধিক প্রাণীর বিবরণ আছে। তিনি প্রাণীদের রক্ত আছে কি না, এর ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক (Father of Zoology) বলা হয়। ভেসালিয়াস শারীরস্থানের, উইলিয়াম হার্ভে রক্ত সঞ্চালনের এবং রবার্ট হুক কোষের আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর শ্রেণিবিন্যাস প্রায় দুই হাজার বছর ধরে চলেছিল। তিনি লিসিয়াম নামে একটি বিদ্যালয়ও চালাতেন।
    মনে রাখুন:
    এনাটমির জনক: ভেসালিয়াস। শারীরবিদ্যার জনক: হার্ভে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক: থিওফ্রাস্টাস।
  30. ৫৮. উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. ডারউইন
    • খ. জোহান মেন্ডেল
    • গ. থিওফ্রাস্টাস
    • ঘ. ক্যারোলাস লিনিয়াস
    উত্তর: গ. থিওফ্রাস্টাস
    থিওফ্রাস্টাস (Theophrastus) ছিলেন এরিস্টটলের ছাত্র ও প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক। তিনি গাছের গঠন, বৃদ্ধি ও প্রজনন নিয়ে প্রথম বিস্তারিত বই লেখেন, যার নাম 'Historia Plantarum'। তিনি প্রায় পাঁচ শ উদ্ভিদের বর্ণনা দেন এবং উদ্ভিদকে বৃক্ষ, গুল্ম ও ওষধি ইত্যাদি শ্রেণিতে ভাগ করেন। এ কারণে তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক (Father of Botany) বলা হয়। থিওফ্রাস্টাস গাছের পরাগায়ন ও বীজ অঙ্কুরোদগমের কথাও লিখেছিলেন। তাঁর বই বহু শতাব্দী উদ্ভিদ নিয়ে পড়াশোনার ভিত্তি ছিল।
    মনে রাখুন:
    লিনিয়াসকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
    গ্রেগর মেন্ডেল বংশগতিবিদ্যার জনক, আর চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদের জন্য বিখ্যাত।
  31. ৫৯. ইবনে সিনা কোন বিষয়ে পণ্ডিত ছিলেন?বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিটিভি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. পদার্থবিজ্ঞান
    • খ. চিকিৎসা বিজ্ঞান
    • গ. জীববিজ্ঞান
    • ঘ. অর্থশাস্ত্রে
    উত্তর: খ. চিকিৎসা বিজ্ঞান
    ইবনে সিনা (Avicenna) দশম-একাদশ শতকের মুসলিম মনীষী। তিনি দর্শন, গণিত ও পদার্থবিদ্যাতেও পারদর্শী ছিলেন, তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদানের জন্য। তাঁর লেখা 'আল-কানুন ফিত-তিব' (The Canon of Medicine) বইটি কয়েক শ বছর ধরে ইউরোপ ও এশিয়ার চিকিৎসা শিক্ষায় প্রধান পাঠ্য ছিল। তাই তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয়। তিনি মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই চিকিৎসক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি কবিতাও লিখতেন। তাই সাধারণভাবে তাঁকে চিকিৎসক-দার্শনিক বলে ডাকা হয়।
    মনে রাখুন:
    ইউরোপে তিনি 'আভিসেনা' নামে পরিচিত।
    তাঁর জন্মস্থান বুখারার কাছে (বর্তমান উজবেকিস্তান)।
  32. ৬০. চিকিৎসা শাস্ত্রের 'আলকানুন' নামক বইটি কে লিখেছেন?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সহকারী সচিব, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. আলবিরুনী
    • খ. থিওফ্রাসটাস
    • গ. ইবনে সিনা
    • ঘ. জর্জ বেনথাম
    উত্তর: গ. ইবনে সিনা
    'আল-কানুন ফিত-তিব' বা 'The Canon of Medicine' বইটির লেখক ইবনে সিনা (Avicenna)। পাঁচ খণ্ডের এই বিশাল গ্রন্থে তিনি রোগের কারণ, লক্ষণ, ওষুধ ও চিকিৎসার বিবরণ দিয়েছেন। বইটি ল্যাটিনে অনুবাদ হয়ে প্রায় ছয় শ বছর ইউরোপের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয়েছে। আল বেরুনি ছিলেন গণিতবিদ ও ভূগোলবিদ, আর থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ নিয়ে লিখেছেন। এই গ্রন্থে তিনি সংক্রামক রোগের ধারণাও দিয়েছিলেন, অর্থাৎ কিছু রোগ একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়।
    মনে রাখুন:
    ইবনে সিনার আরেক বিখ্যাত বই 'কিতাব আল-শিফা', যা দর্শন ও বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ।
    তাঁকে 'শায়খ আল-রইস' বা 'জ্ঞানীদের নেতা' বলা হতো।
  33. ৬১. ইবনে সিনা -এর প্রধান দর্শন গ্রন্থের নাম-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (মানবিক) ভর্তি, ২০০৯-১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানী পরিচিতি
    • ক. কিতাব আল-মানাযির
    • খ. কিতাব আল-শিফা
    • গ. কিতাব আল-হিকমা
    • ঘ. কিতাব আল-তিব্বত
    উত্তর: খ. কিতাব আল-শিফা
    ইবনে সিনার প্রধান দর্শন গ্রন্থের নাম 'কিতাব আল-শিফা' (Kitab al-Shifa), যার অর্থ আরোগ্য বা নিরাময়ের বই। নাম চিকিৎসার মতো শোনালেও এটি আসলে যুক্তিবিদ্যা, প্রকৃতিবিজ্ঞান, গণিত ও অধিবিদ্যার একটি বড় বিশ্বকোষ, যা মানুষের আত্মাকে অজ্ঞতার রোগ থেকে সারিয়ে তোলার কথা বলে। তাঁর চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ হলো 'আল-কানুন ফিত-তিব'। এ গ্রন্থের কিছু অংশ পরে ল্যাটিনে অনুবাদ হয়ে ইউরোপের দার্শনিকদের প্রভাবিত করেছিল। এ গ্রন্থ তাঁর বিখ্যাত দর্শনচর্চার ফসল।
    মনে রাখুন:
    'আল-কানুন ফিত-তিব' চিকিৎসাবিজ্ঞানের গ্রন্থ, আর 'কিতাব আল-শিফা' দর্শনের।
    ইবনে সিনা মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি পান।
  34. ৬২. অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?মেডিকেল ভর্তি, ১৯৮৮-৮৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
    • খ. ভ্যান লিউয়েন হুক
    • গ. এডওয়ার্ড জেনার
    • ঘ. উপরের কেউ নয়
    উত্তর: খ. ভ্যান লিউয়েন হুক
    অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপের সূচনা ষোড়শ-সপ্তদশ শতকে। ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antonie van Leeuwenhoek) নিজের হাতে উন্নত মানের ছোট লেন্স বানিয়ে একক-লেন্সের মাইক্রোস্কোপ তৈরি করেন এবং তা দিয়ে প্রথম জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া দেখেন। তাই তাঁকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবক হিসেবে ধরা হয়। এডওয়ার্ড জেনার টিকা, আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এর আগে ১৫৯০ সালের দিকে জ্যাকারিয়াস ইয়ানসেন যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানিয়েছিলেন বলেও দাবি আছে। কিন্তু পরীক্ষায় লিউয়েনহুকের নামই বেশি আসে।
    মনে রাখুন:
    রবার্ট হুক যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে ১৬৬৫ সালে কোষ আবিষ্কার করেন।
    লিউয়েনহুককে অণুজীববিজ্ঞানের পথিকৃৎ বলা হয়।
  35. ৬৩. 'জীব থেকে জীবের উৎপত্তি হয়' এ সম্পর্কে আলোকপাত করেনশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীবের ইতিহাস
    • ক. লুই পাস্তুর
    • খ. রবার্ট ব্রাউন
    • গ. এরিস্টটল
    • ঘ. কানটানা
    উত্তর: ক. লুই পাস্তুর
    প্রাচীনকালে লোকে ভাবত পচা মাংস বা নোংরা থেকে জীবন নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়, একে স্বতঃজনন বলে। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬২ সালে হাঁসের গলার মতো বাঁকানো ফ্লাস্ক (Swan-neck flask) নিয়ে পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন, জীবাণু বাতাস থেকে ঢোকে বলেই খাবার পচে। তাই জীব থেকেই জীবের উৎপত্তি হয়। এই ধারণার নাম জীবজনন (Biogenesis)। পরীক্ষাটির ফ্লাস্কের লম্বা বাঁকানো গলা ধুলো ও জীবাণুকে আটকে রাখত, তাই ভেতরের ঝোল অনেক দিন পরিষ্কার থাকত।
    মনে রাখুন:
    স্বতঃজনন বাদের বিরুদ্ধে আগে ফ্রান্সেসকো রেডি মাংসের পোকা নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন।
    রবার্ট ব্রাউন কোষে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
  36. ৬৪. Biology শব্দের প্রবর্তক কে?জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৪-০৫ ও ডেন্টাল ভর্তি, ১৯৯৪-৯৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের ইতিহাস
    • ক. অ্যারিস্টটল
    • খ. অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
    • গ. জাঁ ল্যামার্ক
    • ঘ. কার্ল আগস্ট বেয়ার
    উত্তর: গ. জাঁ ল্যামার্ক
    'Biology' শব্দটি এসেছে গ্রিক bios (জীবন) ও logos (আলোচনা) থেকে। ১৮০২ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জাঁ ল্যামার্ক (Jean-Baptiste Lamarck) এবং প্রায় একই সময়ে জার্মান বিজ্ঞানী গটফ্রিড ট্রেভিরানাস শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। ল্যামার্ক বিবর্তন নিয়ে 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' তত্ত্বও দিয়েছিলেন। অ্যারিস্টটল ছিলেন প্রাণিবিজ্ঞানের জনক, আর লিউয়েনহুক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে জীবাণু আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে জীবজগৎ নিয়ে পড়াশোনার বিদ্যাকে বায়োলজি নামে ডাকা হয়। শব্দটি মানুষের জীবন সম্পর্কিত সব ধরনের আলোচনাকে এক ছাতার নিচে এনেছে।
    মনে রাখুন:
    জীববিজ্ঞান জীবের গঠন, কাজ, বৃদ্ধি ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে।
  37. ৬৫. জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি কি কি?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Zoology এবং Mycology
    • খ. Botany এবং Ecology
    • গ. Mycology এবং Ecology
    • ঘ. Botany এবং Zoology
    উত্তর: ঘ. Botany এবং Zoology
    জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি। উদ্ভিদ নিয়ে আলোচনা করে উদ্ভিদবিজ্ঞান বা বোটানি (Botany), আর প্রাণী নিয়ে আলোচনা করে প্রাণিবিজ্ঞান বা জুলজি (Zoology)। অন্য শাখাগুলো এ দুইয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মাইকোলজি (Mycology) ছত্রাক নিয়ে এবং ইকোলজি (Ecology) পরিবেশ ও জীবের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এগুলো প্রধান শাখা নয়, বরং উপশাখা। সুতরাং দুটি প্রধান শাখা মনে রাখতে হলে শুধু জীব দুই ভাগে আছে বলে ভাবলেই হয়, উদ্ভিদ ও প্রাণী। এই দুই শাখার আবার অনেক উপশাখা আছে।
    মনে রাখুন:
    ভাইরোলজি ভাইরাস, ব্যাকটেরিওলজি ব্যাকটেরিয়া, আর প্রোটোজুলজি এককোষী প্রাণী নিয়ে আলোচনা করে।
  38. ৬৬. The study of plants -প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (৩য় পর্যায়), ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Biography
    • খ. Botany
    • গ. Biology
    • ঘ. Plantation
    উত্তর: খ. Botany
    উদ্ভিদ নিয়ে আলোচনা করার বিজ্ঞানের নাম উদ্ভিদবিজ্ঞান বা বোটানি (Botany)। শব্দটি এসেছে গ্রিক botane (ঘাস বা গাছপালা) থেকে। এতে উদ্ভিদের গঠন, শ্রেণিবিন্যাস, বৃদ্ধি ও জীবনচক্র নিয়ে পড়া হয়। Biography মানে জীবনী, Biology মানে জীববিজ্ঞান আর Plantation মানে বাগান বা আবাদ। এ তিনটি শব্দের কোনোটিই কেবল উদ্ভিদ নিয়ে আলোচনা করা বিজ্ঞানের নাম নয়। একইভাবে Zoology শব্দটির অর্থ প্রাণিবিজ্ঞান এবং এটি এসেছে গ্রিক zoon (প্রাণী) থেকে। সুতরাং সঠিক উত্তর Botany। Botany শব্দটি জীববিজ্ঞানের এই বিশেষ শাখার ইংরেজি নাম।
    মনে রাখুন:
    থিওফ্রাস্টাসকে বোটানির জনক বলা হয়।
    প্রাণী নিয়ে আলোচনা করা শাখাকে বলে Zoology।
  39. ৬৭. Flora বলা হয় কোনটিকে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. উদ্ভিদকুলকে
    • খ. প্রাণীকুলকে
    • গ. পক্ষীকুলকে
    • ঘ. মৎস্যকুলকে
    উত্তর: ক. উদ্ভিদকুলকে
    কোনো অঞ্চলে বা কোনো সময়ে বসবাসকারী সব উদ্ভিদকে একসঙ্গে ফ্লোরা (Flora) বা উদ্ভিদকুল বলা হয়। আর সেই অঞ্চলের সব প্রাণীকে বলে ফনা (Fauna) বা প্রাণীকুল। যেমন বাংলাদেশের ফ্লোরা বলতে এ দেশের সব গাছপালা বোঝায়, আর ফনা বলতে সব বন্যপ্রাণী বোঝায়। পাখি বা মাছ ফনার অন্তর্ভুক্ত, ফ্লোরার নয়। ফ্লোরা ও ফনা নিয়ে আলোচনার সময় মনে রাখবেন, ফ্লোরা শুধু উদ্ভিদ, আর ফনা শুধু প্রাণী।
    মনে রাখুন:
    ফ্লোরা এসেছে রোমান পুষ্পদেবী 'ফ্লোরা' থেকে, ফনা এসেছে বনদেবতা 'ফনাস' থেকে।
    এ দুটি শব্দ একত্রে ব্যবহার করে জীববৈচিত্র্য বোঝানো হয়।
  40. ৬৮. পরাগরেণু বিশ্লেষণ বিদ্যাকে বলা হয় -জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০১২-১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. অস্টিওলজি
    • খ. সাইটোলজি
    • গ. প্যালিনলজি
    • ঘ. এ্যাম্ব্রায়োলজি
    উত্তর: গ. প্যালিনলজি
    পরাগরেণু নিয়ে আলোচনাকে প্যালিনোলজি (Palynology) বলে। ফুলের পরাগরেণুর আকার, গঠন ও বাইরের নকশা প্রতিটি উদ্ভিদে আলাদা হয়। তাই এ থেকে উদ্ভিদ চেনা যায়, আবার কত হাজার বছর আগে কোন গাছ ছিল তা-ও জানা যায়। মজার ব্যাপার হলো, অপরাধের তদন্তেও পরাগরেণু কাজে লাগে, কারণ কোনো জায়গায় পাওয়া পরাগ দেখে বোঝা যায় ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল। পরাগরেণুর বাইরের আবরণ এতটাই শক্ত যে লক্ষ লক্ষ বছর পরেও তা পাললিক শিলায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাই প্যালিনোলজি অতীতের জলবায়ু ও গাছপালা সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীদের বড় সহায়তা করে। মধুর বিশুদ্ধতা পরীক্ষাতেও পরাগ দেখা হয়।
    মনে রাখুন:
    অস্টিওলজি (Osteology): হাড় নিয়ে আলোচনা।
    সাইটোলজি (Cytology): কোষ নিয়ে আলোচনা।
    এমব্রায়োলজি (Embryology): ভ্রূণ নিয়ে আলোচনা।
  41. ৬৯. ম্যালকোলজিতে নিচের কোনটি নিয়ে আলোচনা করা হয়?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. কীট-পতঙ্গ
    • খ. শামুক-ঝিনুক
    • গ. উভচর
    • ঘ. সরীসৃপ
    উত্তর: খ. শামুক-ঝিনুক
    ম্যালাকোলজি (Malacology) জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে শামুক, ঝিনুক ও অক্টোপাসের মতো নরমদেহী প্রাণী নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই প্রাণীদের বলা হয় মলাস্ক (Mollusca)। মলাস্কদের শরীর নরম হয় এবং অনেকের দেহ শক্ত খোলসে ঢাকা থাকে। শামুক ও ঝিনুকের খোলস নিয়ে যে আলাদা শাখা আছে তার নাম কঞ্চোলজি (Conchology)। শামুক ও ঝিনুকের খোলস সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO₃) দিয়ে তৈরি হয়। আমাদের দেশে ঝিনুক থেকে চুন ও মুক্তা পাওয়া যায়, আর অনেক শামুক ও ঝিনুক ধান ক্ষেতের ও পুকুরের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুক্তা তৈরি হয় ঝিনুকের ভেতরে বালুকণার মতো বস্তুর চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে।
    মনে রাখুন:
    কীট-পতঙ্গ নিয়ে আলোচনা: এন্টোমোলজি (Entomology)।
    উভচর ও সরীসৃপ নিয়ে আলোচনা: হার্পেটোলজি (Herpetology)।
    মাছ নিয়ে আলোচনা: ইকথিওলজি (Ichthyology)।
  42. ৭০. Ichthyology কী?চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা
    • খ. মাছ সম্পর্কিত বিদ্যা
    • গ. শৈবাল সম্পর্কিত বিদ্যা
    • ঘ. হাড় সম্পর্কিত বিদ্যা
    উত্তর: খ. মাছ সম্পর্কিত বিদ্যা
    Ichthyology হলো মাছ নিয়ে আলোচনার বিজ্ঞান। শব্দটি এসেছে গ্রিক ichthys থেকে, যার অর্থ মাছ। আমাদের দেশে নদী, হাওর ও সমুদ্রে অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যায়, আর এই শাখায় মাছের শ্রেণিবিন্যাস, দেহগঠন, জীবনচক্র ও আচরণ জানা হয়। এ থেকেই মাছ চাষ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার নানা কৌশল বের হয়ে আসে। আমাদের দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ এই শাখারই গবেষণার একটি প্রিয় বিষয়। ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে ডিম পাড়তে আসে, আর এ জীবনচক্র জানা থাকলে প্রজননকালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
    মনে রাখুন:
    মাছ চাষকে বলা হয় পিসিকালচার (Pisciculture)।
    হাড় নিয়ে আলোচনা: অস্টিওলজি (Osteology)।
    শৈবাল নিয়ে আলোচনা: ফাইকোলজি (Phycology)।
  43. ৭১. প্রাণীর আচরণের বিজ্ঞানকে কী বলে?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট) ভর্তি, ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. ইকোলজি
    • খ. ইথোলজি
    • গ. ইথনোজুলজি
    • ঘ. এনিমেল বিহেভিওর
    উত্তর: খ. ইথোলজি
    প্রাণীর আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনার নাম ইথোলজি (Ethology)। এখানে দেখা হয় প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশে কীভাবে খাবার খোঁজে, সঙ্গী বেছে নেয়, বাচ্চা লালন করে এবং বিপদ থেকে বাঁচে। কোনো প্রাণী কেন কোনো আচরণ করে, তা বোঝাই এর উদ্দেশ্য। আর ইকোলজি (Ecology) আলোচনা করে জীব ও তার পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে। ইথোলজি নামটি বিজ্ঞানী কোনরাড লরেনৎস, নিকো টিনবারজেন ও কার্ল ফন ফ্রিশের কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়। তাঁরা তিনজন ১৯৭৩ সালে প্রাণীর আচরণ নিয়ে গবেষণার জন্য একসঙ্গে নোবেল পুরস্কার পান। মৌমাছির নাচ ছিল ফ্রিশের গবেষণার বিষয়।
    মনে রাখুন:
    ইথোলজি: প্রাণীর আচরণ।
    ইকোলজি: জীব ও পরিবেশের সম্পর্ক।
    নৃবিজ্ঞানের একটি শাখা এথনোলজি (Ethnology) থেকে ইথোলজিকে আলাদা করে চিনতে হবে।
  44. ৭২. Identify the correct spelling-চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Palentology
    • খ. Paleontalogy
    • গ. Paleontology
    • ঘ. Paliontology
    উত্তর: গ. Paleontology
    জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনার বিজ্ঞানের সঠিক ইংরেজি বানান Paleontology। এটি এসেছে গ্রিক palaios (প্রাচীন), ontos (জীব) ও logos (আলোচনা) থেকে। কেউ কেউ ব্রিটিশ রীতিতে Palaeontology লেখেন, তবে প্রশ্নে দেওয়া বানানগুলোর মধ্যে একটিই নির্ভুল। যিনি এই বিদ্যা নিয়ে কাজ করেন তাঁকে বলা হয় Paleontologist। ইংরেজি বানানে ভুল এড়াতে শব্দের মূল গ্রিক অংশগুলো মনে রাখা সহজ উপায়। Paleo মানে প্রাচীন, onto মানে জীব এবং logy মানে আলোচনা। তাই শব্দটিতে paleo, onto ও logy এই তিনটি অংশ পরপর বসে, ঠিক এই ক্রমেই।
    মনে রাখুন:
    জীবাশ্মকে ইংরেজিতে বলে Fossil।
    প্রাচীন জীবের ছাপ বা দেহাবশেষ পাথরের স্তরে সংরক্ষিত থাকে।
    পলিস্তরের পাথর বা পাললিক শিলায় জীবাশ্ম বেশি পাওয়া যায়।
  45. ৭৩. 'ফ্লোরিকালচার' কি?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. সবজিচাষ সংক্রান্ত
    • খ. ফুলচাষ সংক্রান্ত
    • গ. ফলচাষ সংক্রান্ত
    • ঘ. শস্যচাষ সংক্রান্ত
    উত্তর: খ. ফুলচাষ সংক্রান্ত
    ফ্লোরিকালচার (Floriculture) হলো ফুলের চাষ। Flora শব্দের অর্থ ফুল, তাই এই শব্দেই কাজের পরিচয় রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা ও জারবেরা চাষ করে আমাদের দেশের অনেক কৃষক ভালো আয় করেন। যশোরের গদখালী এলাকা ফুল চাষের জন্য সুপরিচিত। ফুল চাষ হর্টিকালচারের (Horticulture) অন্তর্গত একটি শাখা। ফুলের জগতে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা, অথচ বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধা। সৌন্দর্য, সুগন্ধ ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় এই ফুলগুলোর চাহিদা সারা বছর থাকে, বিশেষ করে বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমে।
    মনে রাখুন:
    অলেরিকালচার: সবজি চাষ।
    পোমোলজি: ফল নিয়ে আলোচনা।
    আরবোরিকালচার: গাছ বা বৃক্ষ চাষ।
  46. ৭৪. নিম্নের কোন Term-টি দ্বারা শুধুমাত্র ফল বিজ্ঞান বুঝায়?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. Olericulture
    • খ. Pomology
    • গ. Horticulture
    • ঘ. Silviculture
    উত্তর: খ. Pomology
    শুধু ফল নিয়ে আলোচনার বিজ্ঞানকে বলা হয় পোমোলজি (Pomology)। Pomum শব্দের অর্থ ফল। এখানে ফলের জাত, চাষ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়। হর্টিকালচার (Horticulture) এর চেয়ে ব্যাপক, কারণ তাতে ফল, সবজি ও ফুল তিনটিই পড়ে। অন্যদিকে অলেরিকালচারে শুধু সবজি আর সিলভিকালচারে বনের গাছ নিয়ে কাজ করা হয়। আমাদের দেশে আম, কাঁঠাল, লিচু ও কলা প্রধান ফল, আর এগুলোর জাত উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা চলে পোমোলজির অন্তর্গত কাজ হিসেবে। এর ফলে বাজারে ভালো জাতের ফল সহজে পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    অলেরিকালচার: সবজি চাষ।
    সিলভিকালচার: বনায়ন।
    হর্টিকালচার: ফল, ফুল ও সবজি, অর্থাৎ উদ্যানতত্ত্ব।
  47. ৭৫. Entomology কি সম্পর্কিত বিদ্যা?রূপালি ব্যাংক লি. সিনিয়র অফিসার, ২০১৩ ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. Plants (উদ্ভিদ)
    • খ. Chemical (রাসায়নিক বস্তু)
    • গ. Insects (কীট-পতঙ্গ)
    • ঘ. Animals (প্রাণি)
    উত্তর: গ. Insects (কীট-পতঙ্গ)
    এন্টোমোলজি (Entomology) হলো কীট-পতঙ্গ নিয়ে আলোচনার বিজ্ঞান। পৃথিবীর প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রজাতি কীট-পতঙ্গের, তাই এ বিষয়ের পরিধিও বড়। এখানে ক্ষতিকর পতঙ্গ দমন যেমন শেখা হয়, তেমনি উপকারী পতঙ্গ, যেমন মৌমাছি ও রেশম পোকার জীবনচক্রও জানা যায়। কৃষিতে ফসলের পোকা চিনে তা দমনের জন্য এন্টোমোলজির জ্ঞান অপরিহার্য। মৌমাছি, প্রজাপতি ও গুবরে পোকা সবই এন্টোমোলজির আলোচ্য বিষয়। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও কালাজ্বরের মতো রোগ ছড়ায় যেসব পতঙ্গ, তাদের জীবনচক্র জানা এই শাখার অন্যতম কাজ, কারণ বাহক পতঙ্গ দমন করতে পারলেই রোগ ঠেকানো যায়।
    মনে রাখুন:
    অর্নিথোলজি (Ornithology): পাখি নিয়ে আলোচনা।
    ইকথিওলজি: মাছ নিয়ে আলোচনা।
    এটি ইটিমোলজি (Etymology) থেকে আলাদা, যা শব্দের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
  48. ৭৬. কীট-পতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যা কোনটি?১১তম শিক্ষক নিবন্ধন, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. জিওলোজী (Geology)
    • খ. এ্যানথ্রপলোজী (Anthropology)
    • গ. এনটোমলোজী (Entomology)
    • ঘ. নিউরোলজী (Neurology)
    উত্তর: গ. এনটোমলোজী (Entomology)
    কীট-পতঙ্গ নিয়ে আলোচনার বিজ্ঞানের নাম এন্টোমোলজি (Entomology)। গ্রিক entomon শব্দের অর্থ কীট, আর logos মানে আলোচনা। কীট-পতঙ্গের দেহ মাথা, বক্ষ ও উদর এই তিন অংশে ভাগ করা থাকে এবং বক্ষে তিন জোড়া পা থাকে। বাকি বিকল্পগুলো ভিন্ন বিষয়ের নাম: জিওলজি (Geology) পৃথিবীর শিলা ও গঠন নিয়ে, অ্যানথ্রোপোলজি মানুষ নিয়ে, আর নিউরোলজি স্নায়ু নিয়ে আলোচনা করে। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত প্রাণীর নাম জানা গেছে, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পতঙ্গ। এদের দেহ কাইটিনের শক্ত আবরণে ঢাকা, আর অনেকের এক বা দুই জোড়া ডানা থাকে। পতঙ্গের শ্বসন হয় দেহের পাশের ছোট ছিদ্র বা স্পাইরাকলের মাধ্যমে।
    মনে রাখুন:
    পতঙ্গের পা: ৩ জোড়া, অর্থাৎ ৬টি।
    পতঙ্গের দেহ: মাথা, বক্ষ ও উদর।
  49. ৭৭. সর্বপ্রথম যিনি প্রাণী জগতের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ১৯৯৭-৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. জন রে
    • খ. লিনিয়াস
    • গ. অ্যারিস্টটল
    • ঘ. ম্যানসন
    উত্তর: গ. অ্যারিস্টটল
    জীবজগৎকে সাজিয়ে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তা প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle) প্রথম অনুভব করেন। তিনি প্রাণীদের দেহ ও জীবনযাত্রা দেখে রক্তসম্পন্ন ও রক্তহীন এই দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। পরে লিনিয়াস আধুনিক ও নিয়মবদ্ধ শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি গড়েন, তাই তাঁকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল প্রায় ৫০০ প্রজাতির প্রাণী পর্যবেক্ষণ করে লিখে গিয়েছিলেন। তাঁর ছাত্র থিওফ্রাস্টাস একইভাবে উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করেন বলে তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। এর প্রায় দুই হাজার বছর পরে লিনিয়াস শ্রেণিবিন্যাসকে সুসংহত রূপ দেন।
    মনে রাখুন:
    অ্যারিস্টটল: প্রাণিবিজ্ঞানের জনক।
    থিওফ্রাস্টাস: উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক।
    লিনিয়াস: আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক।
  50. ৭৮. জীবের দ্বি-পদ নামক প্রবর্তন করেন-পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. Theophrastus
    • খ. Linnaeus
    • গ. Simpson
    • ঘ. Aristotle
    উত্তর: খ. Linnaeus
    জীবের দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি (Binomial Nomenclature) জনপ্রিয় ও সুসংহত করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের নামে দুটি অংশ থাকে। প্রথম অংশ গণের নাম, যা বড় হাতের অক্ষরে শুরু হয়, আর দ্বিতীয় অংশ প্রজাতির নাম, যা ছোট হাতের অক্ষরে লেখা হয়। যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। লিনিয়াসের আগে জীবের নাম অনেক সময় লম্বা বর্ণনামূলক বাক্যের মতো হতো, যা মনে রাখা কঠিন ছিল। দুই শব্দের নাম ব্যবহার শুরু হওয়ায় নামগুলো ছোট, সুনির্দিষ্ট এবং পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীর কাছে একইভাবে বোধগম্য হয়।
    মনে রাখুন:
    লিনিয়াসের বই: Systema Naturae ও Species Plantarum।
    বৈজ্ঞানিক নাম ছাপার সময় তির্যক (italic) অক্ষরে লেখা হয়।
    লিনিয়াসকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
  51. ৭৯. লিনিয়াস কোন দেশের অধিবাসী?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. গ্রীস
    • খ. ইংল্যান্ড
    • গ. ইতালি
    • ঘ. সুইডেন
    উত্তর: ঘ. সুইডেন
    ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) ছিলেন সুইডেনের মানুষ। ১৭০৭ সালে সুইডেনের রাশুল্ট গ্রামে তাঁর জন্ম হয় এবং পরে তিনি উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি জীবজগতকে একটি নিয়মের মধ্যে সাজিয়ে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের জন্য একই ভাষায় নাম ব্যবহারের পথ দেখান। এজন্যই তাঁকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। লিনিয়াস চিকিৎসাবিদ্যা পড়েছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই গাছপালার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরে তিনি উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা ও উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক হন। তাঁর ছাত্ররা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করে এনে তাঁকে দিতেন।
    মনে রাখুন:
    লিনিয়াসের বিখ্যাত বই: Systema Naturae (১৭৩৫) ও Species Plantarum (১৭৫৩)।
    তাঁর দেওয়া দ্বিপদ নামকরণ আজও সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয়।
  52. ৮০. 'Species plantarum' বইটি কার লেখা?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. ক্যারোলাস লিনিয়াস
    • খ. বেন্থাম এবং হুকার
    • গ. গ্রেগর মেন্ডেল
    • ঘ. থিয়োফ্রাস্টাস
    উত্তর: ক. ক্যারোলাস লিনিয়াস
    Species Plantarum বইটি লিখেছেন ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)। ১৭৫৩ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে তিনি তখনকার জানা হাজার হাজার উদ্ভিদ প্রজাতির বর্ণনা দিয়েছিলেন এবং প্রতিটির জন্য দুই অংশের নাম ব্যবহার করেন। উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের আধুনিক নিয়মের শুরু ধরা হয় এই বই থেকেই। প্রাণীদের জন্য তাঁর অনুরূপ গ্রন্থ হলো Systema Naturae-এর দশম সংস্করণ। লিনিয়াসের এই বইয়ের আগে একই উদ্ভিদের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নাম চালু ছিল। বইটিতে প্রতিটি উদ্ভিদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত দুই শব্দের নাম ঠিক করে দেওয়ায় নামকরণে শৃঙ্খলা আসে। এ কারণে উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের শুরু ১৭৫৩ সাল থেকে ধরা হয়।
    মনে রাখুন:
    Species Plantarum: ১৭৫৩ সাল, উদ্ভিদের জন্য।
    Systema Naturae: প্রথম প্রকাশ ১৭৩৫ সাল।
    মেন্ডেলের কাজ ছিল বংশগতি নিয়ে।
  53. ৮১. শ্রেণিবিন্যাসে 'Species' শব্দটি কে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০২-০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. Carolus Linnaeus
    • খ. John Ray
    • গ. De Candolle
    • ঘ. Earn'st Mayer
    উত্তর: খ. John Ray
    জীববিজ্ঞানের অর্থে প্রজাতি (Species) ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ জন রে (John Ray)। ১৬৮৬ সালে তিনি বলেন যে, একই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন যেসব জীব নিজেদের মধ্যে প্রজনন করে একই রকম সন্তান জন্ম দেয়, তারা একই প্রজাতির। পরবর্তীকালে লিনিয়াস প্রজাতিকে শ্রেণিবিন্যাসের মূল একক হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। জন রে (John Ray) নিজের লেখা বইয়ে প্রায় ১৮ হাজার উদ্ভিদের বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে একই প্রজাতির জীবের বীজ বা সন্তান থেকে একই রকম জীবই জন্মায়। এই ধারণা পরে বিবর্তন নিয়ে আলোচনায় প্রজাতি ধারণার ভিত্তি হয়ে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    প্রজাতি (Species) শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ও মৌলিক একক।
    শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ: জগৎ, ফাইলাম, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি।
  54. ৮২. জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয় কোন ভাষায়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. ফরাসি ভাষায়
    • খ. গ্রিক ভাষায়
    • গ. ল্যাটিন ভাষা
    • ঘ. ইংরেজি ভাষায়
    উত্তর: গ. ল্যাটিন ভাষা
    জীবের বৈজ্ঞানিক নাম লেখা হয় ল্যাটিন ভাষায়। ল্যাটিন এখন কোনো দেশের প্রচলিত কথ্য ভাষা নয়, ফলে এর শব্দের অর্থ বদলায় না। এ কারণে পৃথিবীর সব দেশের বিজ্ঞানীরা একই নাম ব্যবহার করতে পারেন, আর কোনো জীব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় না। অনেক সময় নামে গ্রিক শব্দও থাকে, তবে তা ল্যাটিন রূপে লেখা হয়। কোনো দেশের আঞ্চলিক ভাষায় নাম রাখলে অন্য দেশের মানুষ তা বুঝতে পারত না, তাই সারা বিশ্বের জন্য একটি সাধারণ ভাষা দরকার ছিল। এক সময় ইউরোপে ল্যাটিন ছিল পণ্ডিতদের ভাষা। সেই সুবাদে বৈজ্ঞানিক নামের জন্য ল্যাটিনকেই বেছে নেওয়া হয়।
    মনে রাখুন:
    বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ গণ, দ্বিতীয় অংশ প্রজাতি।
    নাম ছাপার সময় ইটালিক করে লেখা হয়, আর হাতে লিখলে নিচে দাগ দেওয়া হয়।
  55. ৮৩. হোমো স্যাপিয়েন্স অর্থ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইউনিট ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাস
    • ক. বুদ্ধিমান মানুষ
    • খ. সৃজনশীল মানুষ
    • গ. চতুর মানুষ
    • ঘ. উভলিঙ্গ মানুষ
    উত্তর: ক. বুদ্ধিমান মানুষ
    মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens, ল্যাটিন ভাষায় এর অর্থ বুদ্ধিমান মানুষ (Wise man)। Homo হলো গণের নাম, যার অর্থ মানুষ, আর sapiens হলো প্রজাতির নাম, যার অর্থ বুদ্ধিমান। প্রাণিজগতে মানুষকে মেরুদণ্ডী প্রাণী, স্তন্যপায়ী শ্রেণি ও প্রাইমেট বর্গে রাখা হয়েছে। মানুষের বৈজ্ঞানিক নামের মতো অন্য প্রাণীর নামেও গণ ও প্রজাতি থাকে। বিড়াল Felis catus, কুকুর Canis familiaris এবং আম Mangifera indica। প্রতিটি নামেই দুটি অংশ থাকে এবং দ্বিতীয় অংশ ছোট হাতের অক্ষরে শুরু হয়।
    মনে রাখুন:
    বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris।
    মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম লিখতে প্রথম শব্দের প্রথম অক্ষর বড় হাতের এবং দ্বিতীয় শব্দ ছোট হাতের হয়।
  56. ৮৪. আমাদের জাতীয় ফুলের বৈজ্ঞানিক নামের সঠিক বানান হল -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈজ্ঞানিক নাম
    • ক. *Nymphaea nouchali*
    • খ. *Nymphaea nouchalli*
    • গ. *Nymphea nouchalli*
    • ঘ. *Nymphea nouchali*
    উত্তর: ক. *Nymphaea nouchali*
    আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali। এর নির্ভুল বানানে Nymphaea শব্দে ph ও ae আছে, আর nouchali শব্দে l একটিই। Nymphaea গণের নাম আর nouchali প্রজাতির নাম। শাপলা পানিতে জন্মায় এবং এর পাতা ও ফুল পানির ওপর ভাসে। বৈজ্ঞানিক নামের বানানে একটি অক্ষরের ভুলও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাতে অন্য প্রজাতি বোঝাতে পারে। গ্রিক নিম্ফ (Nymph) শব্দের অর্থ জলপরী, আর সেখান থেকেই Nymphaea নামটি এসেছে। শাপলা পানিতে জন্মায় বলে নামটি বেশ মানানসই।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় পাখি দোয়েল: Copsychus saularis।
    জাতীয় মাছ ইলিশ: Tenualosa ilisha।
    জাতীয় ফল কাঁঠাল: Artocarpus heterophyllus।
  57. ৮৫. বাংলাদেশের জাতীয় পাখির বৈজ্ঞানিক নাম কি?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বৈজ্ঞানিক নাম
    • ক. *Taenia saginata*
    • খ. *Copsychus saularis*
    • গ. *Tenualosa ilisha*
    • ঘ. *Panthera tigris*
    উত্তর: খ. *Copsychus saularis*
    আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis। দোয়েল ছোট আকারের পাখি, যার পিঠ ও মাথা কালো এবং পেট সাদা। বাংলাদেশের গ্রামে, বাগানে ও বাড়ির আশপাশে একে সহজেই দেখা যায়। বাকি নামগুলো অন্য প্রাণীর: Taenia saginata হলো গরুর ফিতাকৃমি, Tenualosa ilisha ইলিশ মাছ আর Panthera tigris বাঘ। দোয়েল পাখি পোকামাকড় খেয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকা কমাতে সাহায্য করে। এর ডাক মিষ্টি বলে এটি আমাদের দেশের গান ও কবিতায় বারবার এসেছে।
    মনে রাখুন:
    জাতীয় মাছ ইলিশ: Tenualosa ilisha।
    জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার: Panthera tigris tigris।
    জাতীয় ফুল শাপলা: Nymphaea nouchali।
  58. ৮৬. 'Origin of Species' গ্রন্থের প্রণেতা কে?প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. Albert Einstein
    • খ. Charles Darwin
    • গ. John Dalton
    • ঘ. Robert Boyle
    উত্তর: খ. Charles Darwin
    On the Origin of Species গ্রন্থটি লিখেছেন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইন (Charles Darwin)। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচনের (Natural Selection) মাধ্যমে জীবের বিবর্তনের ব্যাখ্যা দেন। এর আগে তিনি জাহাজে চড়ে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ ঘুরে বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীর পার্থক্য লক্ষ্য করেছিলেন। সেই পর্যবেক্ষণ থেকেই তাঁর তত্ত্ব গড়ে ওঠে। ডারউইন প্রায় পাঁচ বছর ধরে জাহাজে ঘুরে প্রাণী ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। দেশে ফিরে তিনি আরও বহু বছর ধরে তথ্য যাচাই করেন, আর আরেক বিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস একই ধরনের ধারণায় পৌঁছান বলে বইটি প্রকাশে আর দেরি করেননি।
    মনে রাখুন:
    ডারউইনের জাহাজের নাম এইচ এম এস বিগল (HMS Beagle)।
    ডারউইনের তত্ত্বের মূল কথা: যোগ্যতমের উদ্বর্তন।
    আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, ডাল্টন পরমাণু তত্ত্ব ও বয়েল গ্যাসের সূত্রের জন্য পরিচিত।
  59. ৮৭. কোন উদ্ভিদকে জীবন্ত ফসিল বলা হয়?বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ)-এর প্রটোকল অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম
    • ক. মস
    • খ. গর্জন
    • গ. সাইকাস
    • ঘ. গামার
    উত্তর: গ. সাইকাস
    সাইকাস (Cycas) উদ্ভিদকে জীবন্ত ফসিল (Living fossil) বলা হয়। এর কারণ হলো, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে যে ধরনের উদ্ভিদ ছিল, সাইকাস প্রায় সেই আদি বৈশিষ্ট্য নিয়েই আজও টিকে আছে। এটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ, অর্থাৎ এর বীজ ফলের ভেতরে ঢাকা থাকে না। জিঙ্কগো (Ginkgo) গাছকেও এ কারণে জীবন্ত ফসিল বলা হয়। সাইকাসের মতো উদ্ভিদ ডাইনোসরের যুগেও পৃথিবীতে ছিল। বাংলাদেশে সাইকাস শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে বাগানে লাগানো হয়। এর কাণ্ডের ভেতর থেকে এক ধরনের শ্বেতসার পাওয়া যায়, তবে বীজ ও কাণ্ডে বিষাক্ত পদার্থ থাকায় সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস, জিঙ্কগো।
    গর্জন ও গামার সপুষ্পক উদ্ভিদ, আর মস ব্রায়োফাইটা শ্রেণির।
  60. ৮৮. A paleontologist is a person who studies –বাংলাদেশ রেলওয়ের সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম
    • ক. the Stone Age
    • খ. pollen grains in flowers
    • গ. rock formations
    • ঘ. fossils
    উত্তর: ঘ. fossils
    Paleontologist হলেন সেই বিজ্ঞানী, যিনি জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossils) নিয়ে গবেষণা করেন। পাথরের স্তরে আটকে থাকা প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ বা ছাপ পরীক্ষা করে তিনি জানতে পারেন অতীতে কোন জীব ছিল এবং কীভাবে তারা বদলে গেছে। ডাইনোসরের হাড় আবিষ্কার ও তার বিশ্লেষণ এঁদেরই কাজ। প্রাচীন কালের জীবাশ্ম থেকে জানা যায়, একসময় বর্তমানে শুষ্ক বহু স্থান সমুদ্রের নিচে ছিল। তাই পাহাড়ের চূড়ায় সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। জীবাশ্ম দেখে ভূতাত্ত্বিকেরা শিলাস্তরের বয়স এবং খনিজ তেল বা কয়লার সম্ভাব্য স্থান অনুমান করতে পারেন।
    মনে রাখুন:
    পরাগরেণু নিয়ে আলোচনা: প্যালিনোলজি (Palynology)।
    শিলার গঠন নিয়ে আলোচনা: ভূতত্ত্ব (Geology)।
    প্রস্তরযুগ নিয়ে গবেষণা: প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology)।
  61. ৮৯. জৈবিক কোষ আবিষ্কারকের নাম-বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ আবিষ্কার
    • ক. রবার্ট ব্রাউন
    • খ. রবার্ট হুক
    • গ. নিউয়েহুক
    • ঘ. রবার্ট ডারউইন
    উত্তর: খ. রবার্ট হুক
    কোষ (Cell) আবিষ্কার করেন ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক (Robert Hooke)। ১৬৬৫ সালে তিনি নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কর্ক বা ছিপির খুব পাতলা একটি টুকরো দেখেন। তিনি দেখলেন, টুকরোটি অসংখ্য ছোট ছোট খোপ দিয়ে তৈরি, যেন মৌচাকের ঘর। এই খোপগুলোকে তিনি সেল (Cell) নাম দেন। তখন তিনি কেবল মৃত কোষের প্রাচীর দেখেছিলেন। হুক ১৬৬৫ সালে Micrographia বইয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণের ছবি প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি যে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, তার বিবর্ধন ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩০ গুণ। জীবন্ত কোষ প্রথম দেখেন অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক, তবে কোষকে সেল নাম দেন হুক।
    মনে রাখুন:
    জীবিত কোষ প্রথম দেখেন অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক।
    নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন রবার্ট ব্রাউন (১৮৩১)।
    হুকের বই: Micrographia (১৬৬৫)।
  62. ৯০. কোষ নামকরণ করেন -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ আবিষ্কার
    • ক. Robert Hooke
    • খ. Antony von Leeuwenhoek
    • গ. K.R.Porter
    • ঘ. Robert Brown
    উত্তর: ক. Robert Hooke
    কোষের নামকরণ করেন রবার্ট হুক (Robert Hooke)। ১৬৬৫ সালে কর্কের পাতলা কাটা অংশে ছোট ছোট খোপ দেখে তিনি এর নাম দেন সেল (Cell), যার ল্যাটিন অর্থ ছোট কুঠুরি। আরেক বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক (Antony van Leeuwenhoek) পরে নিজের অণুবীক্ষণ যন্ত্রে জীবিত কোষ, যেমন ব্যাকটেরিয়া ও এককোষী জীব, প্রথম দেখেন। নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন রবার্ট ব্রাউন। সেল শব্দের ল্যাটিন মূল cella-র অর্থ ছোট ঘর। হুক দেখেছিলেন কর্ক গাছের মৃত কোষের শূন্য প্রাচীর, তাই তাঁর বর্ণনায় ভেতরে কোনো জীবন্ত পদার্থের কথা ছিল না। পরে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন কোষের আসল গুরুত্ব তার ভেতরের জীবন্ত বস্তুতে।
    মনে রাখুন:
    হুক: কোষ আবিষ্কার ও নামকরণ।
    লিউয়েনহুক: জীবিত কোষ প্রথম পর্যবেক্ষণ।
    ব্রাউন: নিউক্লিয়াস।
  63. ৯১. কোষ মতবাদের প্রবক্তা কে?খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৪-০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ আবিষ্কার
    • ক. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
    • খ. ক্যারোলাস লিনিয়াস
    • গ. লুই পাস্তুর
    • ঘ. সোয়ান
    উত্তর: ঘ. সোয়ান
    কোষ মতবাদ (Cell Theory) প্রতিষ্ঠা করেন জার্মান বিজ্ঞানী থিওডর শোয়ান (Theodor Schwann)। এর আগে ১৮৩৮ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস শ্লাইডেন বলেন যে সব উদ্ভিদ কোষ দিয়ে গঠিত। পরের বছর শোয়ান দেখান যে প্রাণীর দেহও কোষ দিয়ে তৈরি। দুজনের কাজ মিলে কোষ মতবাদ জন্ম নেয়, যার মূল কথা হলো সব জীবের দেহ কোষ ও কোষজাত পদার্থ দিয়ে গঠিত। ১৮৫৫ সালে রুডলফ ভিরশো কোষ মতবাদকে সম্পূর্ণ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি কোষ আরেকটি আগের কোষ থেকেই জন্মায়। পরবর্তীকালে এই ধারণা পাস্তুরের পরীক্ষার মাধ্যমে আরও জোরালো হয়, কারণ তাতে প্রমাণ হয় জীব আপনা-আপনি জন্মায় না।
    মনে রাখুন:
    পরে রুডলফ ভিরশো বলেন, নতুন কোষ আগের কোষ থেকেই সৃষ্টি হয়।
    মেন্ডেল বংশগতির, লিনিয়াস শ্রেণিবিন্যাসের আর পাস্তুর জীবাণুর জন্য বিখ্যাত।
  64. ৯২. পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব কি?থানা শিক্ষা অফিসার, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের শ্রেণিবিভাগ
    • ক. অ্যামিবা
    • খ. তেলাপোকা
    • গ. বাদুর
    • ঘ. বানর
    উত্তর: ক. অ্যামিবা
    দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে অ্যামিবা (Amoeba) সবচেয়ে সরল জীব। এটি একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত, অথচ খাদ্য গ্রহণ, চলাফেরা ও বংশবিস্তারের সব কাজ নিজেই করে। তেলাপোকা, বাদুড় ও বানর অনেক জটিল বহুকোষী প্রাণী, তাই তারা বহু পরে বিবর্তিত হয়েছে। বিবর্তনের ধারা সবসময় সরল থেকে জটিলের দিকে গেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে প্রথম জীব এসেছিল প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে এবং সেগুলো ব্যাকটেরিয়ার মতো অতি সরল এককোষী জীব ছিল। এরপর কোটি কোটি বছরে ধীরে ধীরে জটিল বহুকোষী জীব বিবর্তিত হয়েছে।
    মনে রাখুন:
    পৃথিবীর আদি জীব এককোষী ছিল।
    এককোষী জীবের উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, ইস্ট।
  65. ৯৩. কোনটি এককোষী প্রাণী?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের শ্রেণিবিভাগ
    • ক. মাছ
    • খ. ম্যালেরিয়া
    • গ. অ্যামিবা
    • ঘ. গরু
    উত্তর: গ. অ্যামিবা
    অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী প্রাণী, কারণ এর পুরো দেহ মাত্র একটি কোষ দিয়ে গঠিত। এটি মিঠাপানির পুকুর বা ডোবায় থাকে এবং কোষের অংশ প্রসারিত করে বা মিথ্যা পা (Pseudopodia) বের করে চলাফেরা ও খাদ্য গ্রহণ করে। মাছ ও গরু বহুকোষী প্রাণী, যাদের দেহে লক্ষ লক্ষ কোষ থাকে। ম্যালেরিয়া একটি রোগের নাম, যা প্লাজমোডিয়াম নামের এককোষী পরজীবী ঘটায়। অ্যামিবার কোষে একটি নিউক্লিয়াস থাকে এবং খাদ্য হজমের জন্য আলাদা খাদ্যধানী বা ফুড ভ্যাকুওল তৈরি হয়। বাড়তি পানি বের করার জন্য সংকোচনশীল গহ্বর কাজ করে। এই গহ্বর অ্যামিবাকে ফেটে যাওয়া থেকে বাঁচায়।
    মনে রাখুন:
    প্লাজমোডিয়াম এককোষী প্রোটোজোয়া।
    অ্যামিবা দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে।
  66. ৯৪. একটি ব্যাকটেরিয়া কতটি কোষ দ্বারা গঠিত?শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিকাল অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের শ্রেণিবিভাগ
    • ক. ১টি
    • খ. ২টি
    • গ. ৪টি
    • ঘ. বহুগুলো
    উত্তর: ক. ১টি
    ব্যাকটেরিয়া (Bacteria) একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত এককোষী জীব। এর কোষে নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঝিল্লি থাকে না, তাই একে আদিকোষী (Prokaryote) বলা হয়। একটি কোষেই জীবের সব জীবনকাজ চলে, যেমন খাদ্য গ্রহণ, বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার। অনুকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত দ্বিবিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ায়। সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। দুধ থেকে দই তৈরিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া কাজ করে, আর রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় গাছের মূলে বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে যুক্ত করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
    মনে রাখুন:
    ব্যাকটেরিয়া অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না।
    ব্যাকটেরিয়া ও নীলাভ সবুজ শৈবাল আদিকোষী জীব।
  67. ৯৫. বহুকোষী প্রাণী নয়?থানা শিক্ষা অফিসার, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের শ্রেণিবিভাগ
    • ক. তেলাপোকা
    • খ. শামুক
    • গ. অ্যামিবা
    • ঘ. মাছ
    উত্তর: গ. অ্যামিবা
    অ্যামিবা (Amoeba) বহুকোষী প্রাণী নয়, কারণ এর সম্পূর্ণ দেহ মাত্র একটি কোষ দিয়ে গঠিত। এই একটি কোষই খাদ্য গ্রহণ, শ্বসন, বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির সব কাজ করে। অন্যদিকে তেলাপোকা, শামুক ও মাছের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে তৈরি। এই কোষগুলো ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা কাজ করে, আর তাদের মিলিত কাজে জীবটি বেঁচে থাকে। পানিতে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র জীব, যেমন প্লাঙ্কটন, অনেক সময় এককোষী হয়। কিন্তু মাছ, ব্যাঙ ও পাখির মতো বড় প্রাণী বহুকোষী। কোষের সংখ্যা বাড়লে দেহের আকার বাড়ে, আর বিভিন্ন কোষ আলাদা আলাদা কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়।
    মনে রাখুন:
    এককোষী জীব: অ্যামিবা, ইউগ্লিনা, প্যারামেসিয়াম।
    বহুকোষী জীব: তেলাপোকা, শামুক, মাছ, মানুষ।
  68. ৯৬. কোনটি দেহকোষ নয়?বাংলাদেশ রেলওয়ে সহকারী কমান্ডেন্ট, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের শ্রেণিবিভাগ
    • ক. স্নায়ুকোষ
    • খ. লোহিত রক্তকণিকা
    • গ. তৃককোষ
    • ঘ. শুক্রাণু
    উত্তর: ঘ. শুক্রাণু
    মানুষের দেহের কোষ দুই ভাগে ভাগ করা যায়: দেহকোষ (Somatic cell) ও জননকোষ (Germ cell)। যেসব কোষ জনন বা বংশবিস্তারে সরাসরি অংশ নেয়, যেমন শুক্রাণু ও ডিম্বাণু, সেগুলো জননকোষ। বাকি সব কোষ, যেমন স্নায়ুকোষ, লোহিত রক্তকণিকা ও ত্বকের কোষ দেহকোষ। দেহকোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ৪৬টি, আর জননকোষে তার অর্ধেক, অর্থাৎ ২৩টি। জননকোষ তৈরি হয় ডিম্বাশয় ও শুক্রাশয়ে। এখানে মিয়োসিস বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। ফলে নিষেকের সময় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলে যে জাইগোট তৈরি হয়, তাতে আবার ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
    মনে রাখুন:
    দেহকোষ বিভাজিত হয় মাইটোসিস প্রক্রিয়ায়।
    জননকোষ তৈরি হয় মিয়োসিস প্রক্রিয়ায়।
  69. ৯৭. আদিকোষ কোনটি?মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের শ্রেণিবিভাগ
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. অ্যামিবা
    • ঘ. ভাইরাস ও অ্যামিবা
    উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়া
    যে কোষের নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঝিল্লি থাকে না, তাকে আদিকোষ বা প্রোক্যারিওটিক কোষ (Prokaryotic cell) বলে। ব্যাকটেরিয়ার কোষ এমন, কারণ এর ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে। অ্যামিবা এককোষী হলেও এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে, তাই এটি প্রকৃতকোষী (Eukaryote)। ভাইরাস আদৌ কোনো কোষ নয়, এর দেহে কোষীয় গঠনই থাকে না। আদিকোষের ডিএনএ সাইটোপ্লাজমের একটি অংশে গুটিয়ে থাকে, যাকে নিউক্লিওয়েড বলে। প্রকৃতকোষে এই ডিএনএ নিউক্লিয়াসের ঝিল্লির ভেতরে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার কোষ সাধারণত অতি ক্ষুদ্র, প্রায় ১ থেকে ১০ মাইক্রোমিটার লম্বা।
    মনে রাখুন:
    আদিকোষে মাইটোকন্ড্রিয়া ও গলগি বডি থাকে না।
    প্রকৃতকোষে ঝিল্লিবেষ্টিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
  70. ৯৮. উদ্ভিদ কোষ ও প্রাণী কোষের মধ্যে পার্থক্য কি?বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের গঠন
    • ক. ক্লোরোপ্লাস্ট
    • খ. নিউক্লিয়াস
    • গ. কোষ প্রাচীর
    • ঘ. কোষ আবরণী
    উত্তর: গ. কোষ প্রাচীর
    উদ্ভিদকোষের একটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য হলো কোষপ্রাচীর (Cell wall), যা প্রাণীকোষে থাকে না। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে তৈরি, আর এটি কোষকে নির্দিষ্ট আকার ও দৃঢ়তা দেয়। প্রাণীকোষের বাইরে কেবল কোষঝিল্লি থাকে, তাই প্রাণীকোষ তুলনামূলক নমনীয় হয়। নিউক্লিয়াস ও কোষঝিল্লি দুই ধরনের কোষেই আছে। আরেকটি পার্থক্য হলো, উদ্ভিদকোষে সাধারণত একটি বড় কেন্দ্রীয় গহ্বর থাকে যা কোষের আয়তনের বড় অংশ দখল করে। আর প্রাণীকোষে গহ্বর ছোট ও অনেক। উদ্ভিদকোষের আকৃতি তাই কিছুটা চৌকো, প্রাণীকোষ সাধারণত গোলাকার।
    মনে রাখুন:
    উদ্ভিদকোষে আছে: কোষপ্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট, বড় গহ্বর।
    প্রাণীকোষে আছে: সেন্ট্রোজোম, ছোট গহ্বর।
  71. ৯৯. প্রাণিকোষ বিষয়ে কোনটি সঠিক?মেডিক্যাল ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের গঠন
    • ক. কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে
    • খ. সাইটোপ্লাজমে প্লাস্টিড থাকে
    • গ. সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার
    • ঘ. কোষ কেন্দ্র বড় কোষ গহ্বর থাকে
    উত্তর: ক. কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে
    প্রাণীকোষে সেন্ট্রোজোম (Centrosome) থাকে। কোষ বিভাজনের সময় এর ভেতরের সেন্ট্রিওল দুই মেরুতে সরে গিয়ে স্পিন্ডল তন্তু তৈরিতে সাহায্য করে। প্লাস্টিড থাকে শুধু উদ্ভিদকোষে, প্রাণীকোষে নয়। প্রাণীকোষে সঞ্চিত খাদ্য থাকে গ্লাইকোজেন হিসেবে, আর শ্বেতসার (Starch) জমা হয় উদ্ভিদকোষে। প্রাণীকোষে বড় কোষ গহ্বর থাকে না, কেবল ছোট ছোট গহ্বর থাকে। আবার উদ্ভিদকোষে সেন্ট্রিওল সাধারণত থাকে না, কিন্তু প্রাণীকোষে থাকে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে কোষ বিভাজনের সময় সেন্ট্রিওল ছাড়াই স্পিন্ডল তৈরি হয়। তাই কোষ বিভাজনের ধরন দেখেই প্রাণীকোষ ও উদ্ভিদকোষের পার্থক্য কিছুটা বোঝা যায়।
    মনে রাখুন:
    প্রাণীকোষে সঞ্চিত খাদ্য: গ্লাইকোজেন।
    উদ্ভিদকোষে সঞ্চিত খাদ্য: শ্বেতসার।
  72. ১০০. সাধারণত উদ্ভিদ কোষ প্রাচীরে সবচেয়ে বেশি থাকে-গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষপ্রাচীর
    • ক. পেকটিন
    • খ. সেলুলোজ
    • গ. গ্লাইকোপ্রোটিন
    • ঘ. হেমিসেলুলোজ
    উত্তর: খ. সেলুলোজ
    উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান সেলুলোজ (Cellulose)। এটি গ্লুকোজের লম্বা শিকলের মতো গঠন, যা তন্তুর আকারে সাজানো থাকে এবং প্রাচীরকে দৃঢ়তা দেয়। প্রাচীরে অল্প পরিমাণে পেকটিন ও হেমিসেলুলোজও থাকে, আর কাঠের কোষে যুক্ত হয় লিগনিন। সেলুলোজ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচুর পাওয়া জৈব যৌগ। তুলা প্রায় বিশুদ্ধ সেলুলোজ। কোষপ্রাচীরের কাজ শুধু আকার দেওয়া নয়, কোষকে ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা করাও। পানি শোষণ করে কোষ ফুলে উঠলে প্রাচীর ভেতরের চাপকে সামলে নেয়। এ কারণে গাছ খাড়া থাকতে পারে, আর পানির অভাবে সেই চাপ কমলে গাছ ঝিমিয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    পাট ও তুলার তন্তুর প্রধান উপাদান সেলুলোজ।
    সেলুলোজ মানুষ হজম করতে পারে না।
  73. ১০১. উদ্ভিদকোষে নিম্নের কোনটি অনুপস্থিত?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষপ্রাচীর
    • ক. কাইটিন
    • খ. ফসফোলিপিড
    • গ. ক্লোরোফিল
    • ঘ. সেলুলোজ
    উত্তর: ক. কাইটিন
    কাইটিন (Chitin) উদ্ভিদকোষে থাকে না। এটি ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের উপাদান, আর পতঙ্গ ও কাঁকড়ার মতো প্রাণীর বাইরের খোলসও কাইটিনের তৈরি। অন্যদিকে ফসফোলিপিড সব কোষের ঝিল্লির প্রধান অংশ, তাই উদ্ভিদকোষেও আছে। ক্লোরোফিল থাকে ক্লোরোপ্লাস্টে এবং সেলুলোজ থাকে কোষপ্রাচীরে। কাইটিন প্রাণীর দেহেও পাওয়া যায়, যেমন পতঙ্গের বহিঃকঙ্কালে, তাই একে শুধু ছত্রাকের উপাদান ভাবলে ভুল হবে। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে কাইটিন নয়, সেলুলোজ থাকে। এই পার্থক্য থেকেই উদ্ভিদ ও ছত্রাক আলাদা জগতে পড়ে। আবার পেকটিন ও হেমিসেলুলোজ উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে থাকে বলে এদের নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে।
    মনে রাখুন:
    ছত্রাকের কোষপ্রাচীর: কাইটিন।
    উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর: সেলুলোজ।
    পতঙ্গের বহিঃকঙ্কাল: কাইটিন।
  74. ১০২. লিপিড, প্রোটিন ও পলিমার দিয়ে তৈরি কোষ প্রাচীর কোনটি?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষপ্রাচীর
    • ক. শৈবাল
    • খ. ছত্রাক
    • গ. ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. সপুষ্পক উদ্ভিদ
    উত্তর: গ. ব্যাকটেরিয়া
    ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর পেপটিডোগ্লাইক্যান (Peptidoglycan) নামের জটিল পদার্থ দিয়ে তৈরি, যেখানে শর্করা ও অ্যামিনো অ্যাসিড একসঙ্গে যুক্ত থাকে। এর সঙ্গে লিপিড ও প্রোটিনও থাকে। উদ্ভিদ ও শৈবালের কোষপ্রাচীরের উপাদান সেলুলোজ, আর ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিনের তৈরি। প্রাচীরের গঠনের এই পার্থক্য অনুযায়ী ব্যাকটেরিয়াকে গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ভাগে ভাগ করা হয়। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর মোটা, আর গ্রাম নেগেটিভের প্রাচীর পাতলা তবে বাইরে আরেকটি লিপিডসমৃদ্ধ আবরণ থাকে। ডেনমার্কের বিজ্ঞানী হান্স ক্রিশ্চিয়ান গ্রাম এই রঞ্জন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন এই প্রাচীর তৈরিতে বাধা দিয়েই ব্যাকটেরিয়াকে মারে।
    মনে রাখুন:
    ব্যাকটেরিয়া: পেপটিডোগ্লাইক্যান।
    উদ্ভিদ: সেলুলোজ।
    ছত্রাক: কাইটিন।
  75. ১০৩. ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কি দিয়ে তৈরি?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষপ্রাচীর
    • ক. পেক্টোজ
    • খ. লিগনিন
    • গ. সুবেরন
    • ঘ. কাইটিন
    উত্তর: ঘ. কাইটিন
    ছত্রাকের কোষপ্রাচীর তৈরি হয় কাইটিন (Chitin) দিয়ে। কাইটিন একটি শক্ত নাইট্রোজেনযুক্ত শর্করা, যা কোষকে আকৃতি দেয় ও রক্ষা করে। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর যেখানে সেলুলোজের তৈরি, ছত্রাকের বেলায় সেখানে কাইটিন থাকে। এ কারণেই ছত্রাককে উদ্ভিদ থেকে আলাদা জগতে রাখা হয়। কাইটিন পতঙ্গ ও কাঁকড়ার দেহের শক্ত খোলসেও থাকে। ছত্রাক কোষে খাদ্য সঞ্চিত থাকে গ্লাইকোজেন হিসেবে, ঠিক প্রাণীকোষের মতো। এ জন্য ছত্রাক জীবজগতে উদ্ভিদের চেয়ে প্রাণীর কাছাকাছি বলে বিবেচিত হয়। ছত্রাকের সুতার মতো দেহকে হাইফা (Hypha) এবং হাইফার গুচ্ছকে মাইসেলিয়াম (Mycelium) বলে।
    মনে রাখুন:
    সুবেরিন: কর্ক কোষের প্রাচীরে থাকে।
    লিগনিন: কাঠের কোষের প্রাচীরে থাকে।
  76. ১০৪. অধিক অম্ল মাটিতে বেঁচে থাকতে পারে কোন জীবাণু?কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব
    • ক. ছত্রাক
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. ভাইরাস
    • ঘ. নেমাটোড
    উত্তর: ক. ছত্রাক
    বেশি অম্লীয় মাটিতে ছত্রাক (Fungi) বেঁচে থাকতে পারে। বেশির ভাগ ব্যাকটেরিয়া নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় পরিবেশে ভালো বাড়ে, তাই অম্লীয় মাটিতে তাদের সংখ্যা কমে যায়। অন্যদিকে ছত্রাক কম pH বা অম্লীয় অবস্থাতেও টিকে থাকে। এ কারণে অম্লীয় মাটিতে ছত্রাকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হয়। চুন প্রয়োগ করে মাটির অম্লতা কমানো যায়। ছত্রাক বাতাসে স্পোর ছড়িয়ে বংশবিস্তার করে এবং সহজে মাটিতে টিকে যায়। অন্যদিকে নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া অম্লীয় মাটিতে ভালো কাজ করে না, ফলে ফসলের জন্য মাটির pH ৬ থেকে ৭-এর কাছাকাছি রাখা ভালো।
    মনে রাখুন:
    অম্লীয় মাটির pH ৭-এর কম।
    ছত্রাক নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, মৃত জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য নেয়।
  77. ১০৫. কোষে পানি ও pH এর পরিমাণ বজায় রাখে কোন কোষীয় অঙ্গানুটি?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২২-২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষঝিল্লি
    • ক. কোষ ঝিল্লি
    • খ. সাইটোপ্লাজম
    • গ. নিউক্লিয়াস
    • ঘ. কোষ প্রাচীর
    উত্তর: ক. কোষ ঝিল্লি
    কোষঝিল্লি (Cell membrane) কোষের ভেতরে ঢোকা ও বেরোনো পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি নির্বাচনধর্মী ভেদ্য পর্দা, অর্থাৎ কিছু পদার্থকে যেতে দেয় এবং কিছুকে আটকে রাখে। এভাবে কোষের ভেতরের পানি, লবণ ও pH-এর মাত্রা ঠিক থাকে। কোষঝিল্লি মূলত ফসফোলিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। কোষঝিল্লির গঠনকে তরল মোজাইক মডেল বলে, যেটি সিঙ্গার ও নিকলসন ১৯৭২ সালে প্রস্তাব করেন। এতে ফসফোলিপিডের দ্বিস্তর পর্দায় প্রোটিন ভাসমান অবস্থায় থাকে। এই প্রোটিনগুলো পদার্থ পরিবহনে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    কোষঝিল্লি প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় কোষেই আছে।
    কোষপ্রাচীর শুধু উদ্ভিদ, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় আছে এবং এটি সব পদার্থ চলতে দেয়।
  78. ১০৬. সকল সজীব কোষে থাকে -তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাইটোপ্লাজম
    • ক. গ্লাইকোজেন
    • খ. প্লাস্টিড
    • গ. নিউক্লিয়াস
    • ঘ. সাইটোপ্লাজম
    উত্তর: ঘ. সাইটোপ্লাজম
    সব সজীব কোষে সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm) থাকে। এটি কোষঝিল্লি ও নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী জেলির মতো আধা তরল পদার্থ, যার ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোজোমসহ বিভিন্ন অঙ্গাণু ভাসে। নিউক্লিয়াস সব কোষে থাকে না, যেমন ব্যাকটেরিয়ার কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। গ্লাইকোজেন শুধু প্রাণীকোষে এবং প্লাস্টিড শুধু উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়। সাইটোপ্লাজমের ভেতর সবসময় কিছু প্রবাহ চলে, যাকে সাইক্লোসিস বলে। এটি বিশেষ করে উদ্ভিদকোষে সহজে দেখা যায়। এই প্রবাহ কোষের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি ও অঙ্গাণু পৌঁছাতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    সাইটোপ্লাজমে কোষের বেশির ভাগ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
    সাইটোপ্লাজমের প্রধান উপাদান পানি।
  79. ১০৭. দেহের রাসায়নিক কারখানা কোনটি?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সমাজবিজ্ঞান) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সাইটোপ্লাজম
    • ক. কোষ
    • খ. টিস্যু
    • গ. প্রোটোপ্লাজম
    • ঘ. সাইটোপ্লাজম
    উত্তর: ঘ. সাইটোপ্লাজম
    কোষের ভেতরে সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm) নামের জেলির মতো পদার্থ থাকে। এতে বহু রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যেমন শ্বসনের প্রথম ধাপ ও প্রোটিন সংশ্লেষণ। এ কারণে সাইটোপ্লাজমকে কোষের রাসায়নিক কারখানা বলা হয়। কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণু এখানেই ভেসে থাকে এবং সেখানে নিজ নিজ কাজ করে। সাইটোপ্লাজমের প্রায় ৯০ শতাংশ পানি, বাকি অংশে প্রোটিন, শর্করা, লিপিড ও খনিজ লবণ থাকে। বিজ্ঞানী পারকিনজি ১৮৩৯ সালে প্রোটোপ্লাজম নামটি প্রস্তাব করেন। সাইটোপ্লাজমের অর্ধতরল অবস্থার কারণেই অঙ্গাণুগুলো কোষের ভেতরে প্রয়োজনমতো নড়াচড়া করতে পারে।
    মনে রাখুন:
    প্রোটোপ্লাজম = সাইটোপ্লাজম + নিউক্লিয়াস।
    প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
  80. ১০৮. মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত-বিটিভি এবং বিজ্ঞাপন অধিকারিক (গ্রেড-২), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. ছত্রাকে
    • খ. ব্যাকটেরিয়ায়
    • গ. শৈবালে
    • ঘ. নিউরনে
    উত্তর: খ. ব্যাকটেরিয়ায়
    ব্যাকটেরিয়ার কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) থাকে না। ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, তাই এর কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই। শ্বসনের কাজ ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লিতে হয়। ছত্রাক, শৈবাল ও নিউরন সবই প্রকৃতকোষী, তাই এদের কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মজার ব্যাপার হলো, পরিণত লোহিত রক্তকণিকায়ও মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না। ব্যাকটেরিয়ার কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া না থাকলেও তারা শক্তি তৈরি করতে পারে। একটি জনপ্রিয় তত্ত্ব হলো, মাইটোকন্ড্রিয়া একসময় স্বাধীন ব্যাকটেরিয়া ছিল, যা পরে প্রকৃতকোষের ভেতরে ঢুকে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে। এটিকে এন্ডোসিমবায়োসিস তত্ত্ব বলে।
    মনে রাখুন:
    আদিকোষে ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই।
    আদিকোষে একমাত্র অঙ্গাণু রাইবোজোম।
  81. ১০৯. কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয় কোনটিকে?বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. নিউক্লিয়াস
    • খ. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • গ. লাইসোসোম
    • ঘ. কোষ গহ্বর
    উত্তর: খ. মাইটোকন্ড্রিয়া
    মাইটোকন্ড্রিয়াকে (Mitochondria) কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়। কোষ শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্য ভেঙে এখানেই শক্তি উৎপাদন করে, আর সেই শক্তি জমা থাকে ATP নামের অণুতে। শক্তির এই কারখানা চালু না থাকলে কোষ তার কোনো কাজই করতে পারত না। যে কোষে বেশি শক্তি লাগে, যেমন পেশিকোষ, সেখানে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যাও বেশি থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ার দুটি ঝিল্লি আছে, বাইরেরটি মসৃণ আর ভেতরেরটি ভাঁজ করা। এই ভাঁজের উপরে শক্তি তৈরির এনজাইমগুলো থাকে। কার্ল বেন্ডা ১৮৯৮ সালে এর নাম দেন মাইটোকন্ড্রিয়া।
    মনে রাখুন:
    মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব ডিএনএ আছে।
    মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ভাঁজকে ক্রিস্টি (Cristae) বলে।
  82. ১১০. কোষের প্রাণশক্তি বলা হয় কোনটিকে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বিটি), ২০১৪ ও উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • খ. নিউক্লিয়াস
    • গ. ক্রোমসোম
    • ঘ. লিউকোপ্লাস্ট
    উত্তর: ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
    মাইটোকন্ড্রিয়াকে (Mitochondria) কোষের প্রাণশক্তি বা শক্তিঘর বলা হয়। শ্বসনের মাধ্যমে এখানে খাদ্য জারিত হয়ে ATP নামের শক্তি উৎপন্ন হয়, যা কোষের সব কাজে ব্যবহৃত হয়। কোষে এই শক্তি না থাকলে বৃদ্ধি, চলন বা বিভাজনের কোনোটাই সম্ভব হতো না। নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বলা হয়, আর ক্রোমোসোম বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে। একটি পেশিকোষে শত শত মাইটোকন্ড্রিয়া থাকতে পারে, কারণ পেশি সংকোচনে প্রচুর শক্তি লাগে। কিন্তু লোহিত রক্তকণিকায় থাকে না বলে এরা নিজেদের শক্তির জন্য অক্সিজেন ব্যবহার করে না, বরং তা কেবল পরিবহন করে।
    মনে রাখুন:
    মাইটোকন্ড্রিয়া: শক্তি উৎপাদন।
    লিউকোপ্লাস্ট: সঞ্চিত খাদ্য জমা রাখে।
  83. ১১১. নিচের কোন অঙ্গাণুতে অটোলাইসিস ঘটে?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. গলজি বডি
    • খ. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
    • গ. রাইবোজোম
    • ঘ. লাইসোজোম
    উত্তর: ঘ. লাইসোজোম
    অটোলাইসিস (Autolysis) মানে কোষের নিজেকে ধ্বংস করা। এটি ঘটে লাইসোজোমে (Lysosome), কারণ সেখানে অনেক পাচক এনজাইম থাকে। কোষ ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত হলে লাইসোজোমের ঝিল্লি ফেটে যায় এবং এনজাইমগুলো কোষটিকে হজম করে ফেলে। এ কারণে লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলি (Suicide bag) বলা হয়। স্বাভাবিক সময়ে এই এনজাইম পুরোনো অঙ্গাণু ও বাইরে থেকে আসা জীবাণু হজম করে। যে কোষ পুরোনো বা রোগাক্রান্ত, লাইসোজোম তাকে নষ্ট করে দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ব্যাঙাচি থেকে ব্যাঙ হওয়ার সময় লেজ খসে পড়ে, আর লেজের কোষগুলো এভাবেই লাইসোজোমের এনজাইমে ধ্বংস হয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    লাইসোজোম: কোষের পরিষ্কারক ও আত্মঘাতী থলি।
    লাইসোজোম আবিষ্কার করেন ক্রিশ্চিয়ান ডি ডুভ।
  84. ১১২. প্লাস্টিড কোথায় থাকে -মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. প্রোটোপ্লাজমে
    • খ. একটোপ্লাজমে
    • গ. অ্যাডোপ্লাজমে
    • ঘ. সাইটোপ্লাজমে
    উত্তর: ঘ. সাইটোপ্লাজমে
    প্লাস্টিড (Plastid) থাকে সাইটোপ্লাজমে। প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের একটি অঙ্গাণু, যা সাইটোপ্লাজমের ভেতর ভাসমান অবস্থায় থাকে। রঙের ভিত্তিতে প্লাস্টিড তিন ধরনের: সবুজ ক্লোরোপ্লাস্ট, রঙিন ক্রোমোপ্লাস্ট এবং বর্ণহীন লিউকোপ্লাস্ট। প্রাণীকোষে প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিডের তিনটি প্রকারের মধ্যে লিউকোপ্লাস্ট আবার তিন ধরনের: অ্যামাইলোপ্লাস্ট শ্বেতসার জমায়, ইলায়োপ্লাস্ট তেল জমায় এবং অ্যালিউরোপ্লাস্ট প্রোটিন জমায়। আলুর কন্দে প্রধানত অ্যামাইলোপ্লাস্ট থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি হয়, তাই উদ্ভিদ ও শৈবালের কোষে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    ক্লোরোপ্লাস্ট: সালোকসংশ্লেষণ করে।
    ক্রোমোপ্লাস্ট: ফুল ও ফলের রঙ দেয়।
    লিউকোপ্লাস্ট: শ্বেতসার, তেল ও প্রোটিন জমা রাখে।
  85. ১১৩. কোষের ট্রাফিক পুলিশ কোনটি?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (সি ইউনিট) ভর্তি, ২০২২-২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. গলজি বডি
    • খ. লাইসোজোম
    • গ. রাইবোজোম
    • ঘ. সেন্ট্রোজোম
    উত্তর: ক. গলজি বডি
    গলজি বডি (Golgi body) কোষের ট্রাফিক পুলিশ নামে পরিচিত। কোষে তৈরি হওয়া প্রোটিন ও অন্যান্য পদার্থ এখানে এসে প্যাকেটে ভরা হয় এবং তারপর কোষের যথাযথ জায়গায় অথবা কোষের বাইরে পাঠানো হয়। ট্রাফিক পুলিশ যেমন যানবাহনকে সঠিক পথে পাঠায়, গলজি বডিও তেমনি পদার্থকে সঠিক গন্তব্যে পাঠায়। এই অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন ক্যামিলো গলজি। গলজি বডিকে ডাকঘরের সঙ্গেও তুলনা করা যায়, যা পদার্থে লেবেল লাগিয়ে ঠিকানা অনুযায়ী পাঠায়। উদ্ভিদকোষে গলজি বডি কোষপ্রাচীরের উপাদান তৈরিতেও সাহায্য করে, আর প্রাণীর গ্রন্থিকোষে হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করে।
    মনে রাখুন:
    গলজি বডি: কোষের প্যাকেজিং ও পরিবহন কেন্দ্র।
    এটি লাইসোজোম তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
  86. ১১৪. লাইসোসোমের কাজ কী?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. আমিষ সংশ্লেষণ
    • খ. খাদ্য তৈরি
    • গ. জীবাণু ধ্বংস
    • ঘ. শক্তি উৎপাদন
    উত্তর: গ. জীবাণু ধ্বংস
    লাইসোজোমের (Lysosome) ভেতরে অনেক পাচক এনজাইম থাকে। এগুলো কোষে ঢুকে পড়া ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মতো জীবাণুকে হজম করে ধ্বংস করে। একই সঙ্গে পুরোনো ও অকেজো অঙ্গাণুও ভেঙে ফেলে। এ কারণে লাইসোজোমকে কোষের পরিষ্কারক বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বলা হয়। প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় রাইবোজোমে, খাদ্য তৈরি হয় ক্লোরোপ্লাস্টে আর শক্তি উৎপন্ন হয় মাইটোকন্ড্রিয়ায়। শ্বেত রক্তকণিকার কোষে লাইসোজোমের সংখ্যা বেশি, কারণ এরা জীবাণু খেয়ে নষ্ট করে। এই প্রক্রিয়াকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। লাইসোজোমের এনজাইমে কোনো ত্রুটি থাকলে টে-স্যাক্স রোগের মতো জন্মগত রোগ হতে পারে।
    মনে রাখুন:
    লাইসোজোমের এনজাইম নিজের কোষকেও হজম করতে পারে, তাই একে আত্মঘাতী থলি বলে।
  87. ১১৫. প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয় কোনটিকে?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট) ভর্তি, ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • খ. ক্রোমোসোম
    • গ. লাইসোসোম
    • ঘ. রাইবোসোম
    উত্তর: ঘ. রাইবোসোম
    রাইবোজোমকে (Ribosome) কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়, কারণ কোষের সব প্রোটিন এখানে তৈরি হয়। নিউক্লিয়াস থেকে আসা বার্তা অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো জুড়ে প্রোটিন বানানো হয়। রাইবোজোম কোষঝিল্লিবিহীন একটি অতি ক্ষুদ্র অঙ্গাণু। এটি প্রকৃতকোষী ও আদিকোষী উভয় কোষেই থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদন করে, আর ক্রোমোসোম বংশগতির তথ্য বহন করে। রাইবোজোম কোনো ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা নয়, এটি আরএনএ ও প্রোটিনে গঠিত। কিছু রাইবোজোম সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে, আর কিছু রাফ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে লেগে থাকে, ফলে এই রেটিকুলামের গা অমসৃণ দেখায়।
    মনে রাখুন:
    রাইবোজোম: প্রোটিন সংশ্লেষণ।
    এটি আদিকোষের একমাত্র অঙ্গাণু।
  88. ১১৬. কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়-বিটিভি এবং বিজ্ঞাপন আধিকারিক (গ্রেড-২), ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়াস
    • ক. গলজি বডিকে
    • খ. মাইটোকন্ড্রিয়াকে
    • গ. নিউক্লিয়াসকে
    • ঘ. সাইটোপ্লাজমকে
    উত্তর: গ. নিউক্লিয়াসকে
    নিউক্লিয়াসকে (Nucleus) কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক যেমন সারা শরীরের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, নিউক্লিয়াসও তেমনি কোষের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভেতরে থাকা ক্রোমোজোমে ডিএনএ আছে, যা বংশগতির সব তথ্য বহন করে। নিউক্লিয়াস কোষ বিভাজন ও প্রোটিন সংশ্লেষণেরও নির্দেশ দেয়। নিউক্লিয়াসের ভেতরের ঘন গোলাকার অংশকে নিউক্লিওলাস বলে। এখানে রাইবোজোমের উপাদান তৈরি হয়। নিউক্লিয়াসের আবরণে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যার মধ্য দিয়ে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে পদার্থ চলাচল করে।
    মনে রাখুন:
    নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন রবার্ট ব্রাউন (১৮৩১)।
    নিউক্লিয়াসের আবরণকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বলে।
  89. ১১৭. কোন কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না?মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়াস
    • ক. স্পার্ম
    • খ. লোহিত রক্ত কণিকা
    • গ. ডিম্বাণু
    • ঘ. লিভার কোষ
    উত্তর: খ. লোহিত রক্ত কণিকা
    মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। এটি তৈরির সময় নিউক্লিয়াস বেরিয়ে যায়, ফলে কোষে হিমোগ্লোবিন রাখার জায়গা বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন বেশি বহন করা সম্ভব হয়। শুক্রাণু, ডিম্বাণু ও যকৃতের কোষে নিউক্লিয়াস আছে। নিউক্লিয়াস না থাকায় লোহিত কণিকা বিভাজিত হতে পারে না, তাই অস্থিমজ্জায় নতুন কণিকা তৈরি হয়। কয়েকটি অন্য কোষেও নিউক্লিয়াস নেই। উদ্ভিদের চালনী নালিকার কোষ পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াস হারায়। নিউক্লিয়াস না থাকায় লোহিত কণিকা মেরামতের ক্ষমতাও হারায়, ফলে তার আয়ু সীমিত।
    মনে রাখুন:
    লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় ১২০ দিন।
    শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে।
  90. ১১৮. কোন কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে?বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক (গ্রেড-২), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়াস
    • ক. রক্ত কোষ
    • খ. পেশী কোষ
    • গ. স্নায়ু কোষ
    • ঘ. জনন কোষ
    উত্তর: খ. পেশী কোষ
    পেশিকোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। বিশেষ করে ঐচ্ছিক বা কঙ্কালপেশির একটি তন্তুতে শত শত নিউক্লিয়াস দেখা যায়। ভ্রূণ অবস্থায় অনেকগুলো ছোট কোষ জুড়ে একটি লম্বা পেশিতন্তু তৈরি হয়, তাই এতে একাধিক নিউক্লিয়াস থেকে যায়। রক্তকোষ, স্নায়ুকোষ ও জননকোষে সাধারণত একটি করে নিউক্লিয়াস থাকে। কঙ্কালপেশি তন্তু বহু কোষের মিলনে তৈরি হয় বলে একে সিনসিটিয়াম বলা হয়। অন্যদিকে লিভারের কিছু কোষে দুটি নিউক্লিয়াস থাকে। হৃৎপেশির কোষে সাধারণত একটি, তবে কখনও দুটি নিউক্লিয়াস দেখা যায়। মানুষের জরায়ুর মসৃণ পেশির কোষগুলো গর্ভাবস্থায় আকারে অনেক বড় হয়ে যায়, কিন্তু সেখানে নিউক্লিয়াসের সংখ্যা বাড়ে না।
    মনে রাখুন:
    লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
    বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে সিনসিটিয়াম (Syncytium) বলে।
  91. ১১৯. প্রাণীর বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে বলা হয়-মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রদর্শক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়াস
    • ক. সিনোসাইট
    • খ. পিনোসাইট
    • গ. পেরিসাইট
    • ঘ. সিনসিটিয়াম
    উত্তর: ঘ. সিনসিটিয়াম
    প্রাণীর একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে সিনসিটিয়াম (Syncytium) বলা হয়। কয়েকটি কোষ মিলে একটি বড় কোষ তৈরি হলে বা এক কোষে বারবার নিউক্লিয়াস বিভাজন ঘটলে কিন্তু কোষ বিভাজন না হলে সিনসিটিয়াম হয়। কঙ্কালপেশির তন্তু এর একটি উদাহরণ। উদ্ভিদ বা ছত্রাকে এমন গঠনকে সিনোসাইট (Coenocyte) বলা হয়। মানুষের গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টার বহিঃস্তরও সিনসিটিয়াম, যা মা ও ভ্রূণের মধ্যে পদার্থ বিনিময়ে সাহায্য করে। এ কারণে মানুষের দেহে সিনসিটিয়ামের উদাহরণ পেশি ছাড়াও পাওয়া যায়। এ কারণে এ বিষয়ে প্রশ্ন এলে প্রাণী বলা আছে কি না তা খেয়াল করা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    সিনসিটিয়াম: প্রাণীর বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ।
    সিনোসাইট: উদ্ভিদ ও ছত্রাকের বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত গঠন।
  92. ১২০. প্রাণীকোষের কোন অঙ্গানুটিতে ডি.এন.এ থাকে না?গুচ্ছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নিউক্লিয়াস
    • ক. নিউক্লিয়াস
    • খ. ক্লোরোপ্লাস্ট
    • গ. লাইসোজোম
    • ঘ. মাইটোকনড্রিন
    উত্তর: গ. লাইসোজোম
    প্রাণীকোষের লাইসোজোমে ডিএনএ থাকে না। এখানে শুধু পাচক এনজাইম থাকে, যা জীবাণু ও অকেজো পদার্থ হজম করে। প্রাণীকোষে ডিএনএর প্রধান অবস্থান নিউক্লিয়াস, আর মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে নিজস্ব একটি ছোট ডিএনএ থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে নিজস্ব ডিএনএ থাকলেও সেটি প্রাণীকোষে নেই, শুধু উদ্ভিদকোষে আছে। লাইসোজোমকে মেমব্রেন দিয়ে ঘেরা একটি ছোট থলি বলা যায়, যেখানে অ্যাসিডিক পরিবেশে এনজাইম কাজ করে। উদ্ভিদকোষে লাইসোজোম কম থাকে। আর রাইবোজোমে ডিএনএ নয়, আরএনএ থাকে। ডিএনএ থাকে নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে, আর লাইসোজোমের ভূমিকা কেবল পরিপাকে।
    মনে রাখুন:
    মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের নিজস্ব ডিএনএ আছে।
    লাইসোজোমে ডিএনএ নেই।
  93. ১২১. কোষ বিভাজন কে আবিষ্কার করেন?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ বিভাজন
    • ক. ফ্লেমিং
    • খ. লিয়েন হুক
    • গ. রবার্ট হুক
    • ঘ. ডারউইন
    উত্তর: ক. ফ্লেমিং
    জার্মান বিজ্ঞানী ওয়াল্টার ফ্লেমিং (Walther Flemming) কোষ বিভাজন আবিষ্কার করেন। ১৮৭৯ সালে তিনি স্যালাম্যান্ডারের কোষে বিভাজনের সময় সুতার মতো গঠন দেখতে পান এবং ১৮৮২ সালে এই প্রক্রিয়ার নাম দেন মাইটোসিস (Mitosis)। গ্রিক mitos শব্দের অর্থ সুতা। এই সুতার মতো গঠনই পরে ক্রোমোজোম নামে পরিচিত হয়। ক্রোমোজোম নামটি দিয়েছিলেন ওয়াল্ডেয়ার, ১৮৮৮ সালে। গ্রিক chroma অর্থ রং, soma অর্থ দেহ, কারণ এই গঠন রঞ্জকে সহজে রঙিন হয়। কোষ বিভাজনের সময়ই ক্রোমোজোম সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    মাইটোসিস নামটি ফ্লেমিংয়ের দেওয়া।
    মিয়োসিস নাম দেন ফার্মার ও মুর।
  94. ১২২. জীবদেহে কয় প্রকার কোষ বিভাজন ঘটে?জেলা সরকারী শিক্ষা অফিসার, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ বিভাজন
    • ক. দুই প্রকার
    • খ. তিন প্রকার
    • গ. চার প্রকার
    • ঘ. পাঁচ প্রকার
    উত্তর: খ. তিন প্রকার
    জীবদেহে তিন প্রকার কোষ বিভাজন ঘটে: অ্যামাইটোসিস (Amitosis), মাইটোসিস (Mitosis) ও মিয়োসিস (Meiosis)। অ্যামাইটোসিসে কোষ সরাসরি দুই ভাগ হয়, মাইটোসিসে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সমান ক্রোমোজোমের দুটি কোষ হয়, আর মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে চারটি কোষ হয়। মাইটোসিস দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষত সারানোর কাজ করে, মিয়োসিস হয় জননকোষ তৈরির সময়। দেহকোষে মাইটোসিসের ধাপ চারটি: প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ। এই চার ধাপের পর কোষ দুটি অপত্যকোষে ভাগ হয়, যাকে সাইটোকাইনেসিস বলে। এ ধাপগুলো মনে রাখা সহজ হয় পি-এম-এ-টি এই সংক্ষেপে।
    মনে রাখুন:
    অ্যামাইটোসিস: আদিকোষী জীবে।
    মাইটোসিস: দেহকোষে।
    মিয়োসিস: জননকোষে।
  95. ১২৩. ব্যাকটেরিয়াতে কোন ধরনের কোষ বিভাজন হয়?গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ বিভাজন
    • ক. অ্যামাইটোসিস
    • খ. মাইটোসিস
    • গ. মিয়োসিস
    • ঘ. অস্বাভাবিক
    উত্তর: ক. অ্যামাইটোসিস
    ব্যাকটেরিয়ায় অ্যামাইটোসিস (Amitosis) বা সরাসরি বিভাজন ঘটে। ব্যাকটেরিয়ার কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও স্পিন্ডল তন্তু থাকে না, তাই মাইটোসিসের মতো ধাপে ধাপে বিভাজন সম্ভব নয়। কোষটি লম্বা হয়ে মাঝখানে চিপে গিয়ে সোজা দুই ভাগ হয়ে যায়, একে দ্বিবিভাজনও (Binary fission) বলে। অনুকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া প্রায় ২০ মিনিটে একবার বিভাজিত হতে পারে। ছত্রাকের ইস্টও কুঁড়ি বের করে অযৌন উপায়ে বংশবৃদ্ধি করে, যাকে বাডিং বলে। আর অ্যামিবা ও ব্যাকটেরিয়া সরাসরি দুই ভাগ হয়। এই বিভাজনে অপত্যকোষ দুটি হুবহু মাতৃকোষের মতো হয়।
    মনে রাখুন:
    অ্যামাইটোসিসে ক্রোমোজোম গঠন দেখা যায় না।
    অ্যামিবাও দ্বিবিভাজনে বংশবৃদ্ধি করে।
  96. ১২৪. অপত্যকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয় কোন কোষ-বিভাজনে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ বিভাজন
    • ক. মাইটোসিস
    • খ. মিয়োসিস
    • গ. অ্যামাইটোসিস
    • ঘ. অস্বাভাবিক
    উত্তর: খ. মিয়োসিস
    মিয়োসিস (Meiosis) বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। এতে একটি কোষ থেকে দুবার বিভাজনের ফলে চারটি অপত্যকোষ তৈরি হয়, প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক। মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম ৪৬টি, কিন্তু শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ২৩টি। নিষেকের সময় দুটি জননকোষ মিললে সংখ্যা আবার ৪৬ হয়ে যায়। মিয়োসিসের ফলে প্রতি প্রজন্মে জিনের নতুন বিন্যাস তৈরি হয়, কারণ সূচনায় ক্রোমোজোমের অংশ বিনিময় হয়, যাকে ক্রসিং ওভার বলে। এ কারণে ভাই-বোনেরা একই পিতামাতার সন্তান হলেও একে অপরের থেকে কিছুটা আলাদা হয়।
    মনে রাখুন:
    মাইটোসিসে অপত্যকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান।
    মিয়োসিস ঘটে জননকোষ তৈরির সময়।
  97. ১২৫. একাধিক কোষ বিভিন্ন কাজের জন্য মিলিতভাবে তৈরি করেশ্রম পরিদপ্তরের সহকারী শ্রম পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কলা
    • ক. অঙ্গ
    • খ. কলা
    • গ. জীব
    • ঘ. অণু
    উত্তর: খ. কলা
    একই ধরনের গঠন ও কাজের অনেক কোষ একত্রিত হয়ে যে গঠন তৈরি করে, তাকে কলা বা টিস্যু (Tissue) বলে। যেমন পেশিকলা, স্নায়ুকলা ও রক্তকলা। কয়েক ধরনের কলা মিলে গঠিত হয় অঙ্গ (Organ), আর কয়েকটি অঙ্গ মিলে তন্ত্র (System)। সব তন্ত্র মিলে গড়ে ওঠে জীবের পূর্ণ দেহ। উদ্ভিদে ভাজক কলা ও স্থায়ী কলা, আর প্রাণীতে আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু কলা আছে। রক্তও এক ধরনের যোজক কলা। কলা নিয়ে বিজ্ঞানের শাখার নাম হিস্টোলজি, আর শব্দ 'টিস্যু' এসেছে ফরাসি শব্দ থেকে, যার অর্থ বুনন।
    মনে রাখুন:
    কোষ থেকে জীব পর্যন্ত ক্রম: কোষ, কলা, অঙ্গ, তন্ত্র, জীব।
    উদ্ভিদের কলা দুই ধরনের: ভাজক কলা ও স্থায়ী কলা।
  98. ১২৬. ব্যাকটেরিয়া কী?১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রভাষক কলেজ পর্যায়, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. জড় বস্তু
    • খ. প্রাণী
    • গ. উদ্ভিদ
    • ঘ. অণুজীব
    উত্তর: ঘ. অণুজীব
    ব্যাকটেরিয়া (Bacteria) একটি অণুজীব (Microorganism)। এরা এত ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য লাগে। বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া এককোষী এবং এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর থাকে, কিন্তু এর উপাদান উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের মতো সেলুলোজ নয়।
    ১৬৭৬ সালে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখেন। রোগ সৃষ্টির সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্ক পরে প্রমাণ করেন লুই পাস্তুর ও রবার্ট কখ।
    মজার ব্যাপার হলো, সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। দই তৈরি, মাটির উর্বরতা বাড়ানো এবং আমাদের অন্ত্রের হজমে সাহায্য করা, এসব কাজেও ব্যাকটেরিয়া লাগে।
  99. ১২৭. ভাইরাস একটি -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. এককোষী জীব
    • খ. দ্বিকোষী জীব
    • গ. অকোষী জীব
    • ঘ. বহুকোষী জীব
    উত্তর: গ. অকোষী জীব
    ভাইরাস (Virus) একটি অকোষী জীব, অর্থাৎ এর কোনো কোষীয় গঠন নেই। ভাইরাসের কেন্দ্রে থাকে ডিএনএ অথবা আরএনএ, আর তার চারদিকে প্রোটিনের একটি খোলস থাকে, যাকে ক্যাপসিড (Capsid) বলে। এতে সাইটোপ্লাজম, রাইবোসোম বা অন্য কোনো অঙ্গাণু নেই।
    ভাইরাস নিজে খাবার তৈরি করতে পারে না, নিজে বংশবৃদ্ধিও করতে পারে না। জীবন্ত কোষের ভেতরে ঢুকে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই এটি সংখ্যা বাড়ায়। তাই একে আবশ্যিক অন্তঃকোষীয় পরজীবী বলা হয়।
    ভাইরাস এত ছোট যে একে দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে। ‘ভাইরাস’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ বিষ।
  100. ১২৮. ভাইরাসের দেহে কয়টি কোষ আছে?সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. একটি
    • খ. দুইটি
    • গ. তিনটি
    • ঘ. একটিও নাই
    উত্তর: ঘ. একটিও নাই
    ভাইরাসের দেহে একটিও কোষ নেই। এর গঠন খুব সরল: ভেতরে ডিএনএ বা আরএনএ এবং বাইরে প্রোটিনের আবরণ। কোষ না থাকায় ভাইরাসকে অকোষী জীব বলা হয়। সব ভাইরাসকে আবার একই রকম দেখায় না। কোনোটি গোলাকার, কোনোটি দণ্ডাকার, আবার ব্যাকটেরিওফাজের মতো কোনোটির মাথা ও লেজ আছে।
    ভাইরাস আবিষ্কারের ইতিহাসও মজার। ১৮৯২ সালে রুশ বিজ্ঞানী দিমিত্রি ইভানভস্কি তামাক গাছের এক রোগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেন যে ব্যাকটেরিয়া আটকে দেওয়া ছাঁকনির ভেতর দিয়েও রোগের কারণটি বেরিয়ে আসছে। এখান থেকেই ভাইরাসের অস্তিত্বের প্রথম ধারণা পাওয়া যায়।
    পরে ১৯৩৫ সালে ওয়েন্ডেল স্ট্যানলি তামাকের মোজাইক ভাইরাসকে স্ফটিক আকারে আলাদা করেন।
  101. ১২৯. জীব ও জড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী হলো-মৎস্য হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীন জুনিয়র অডিটর, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. ছত্রাক
    • খ. ভাইরাস
    • গ. প্রোটোজোয়া
    • ঘ. ব্যাকটেরিয়া
    উত্তর: খ. ভাইরাস
    ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী বলা হয়, কারণ এর মধ্যে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যই পাওয়া যায়। জীবন্ত কোষের বাইরে ভাইরাস স্ফটিকের মতো নিষ্ক্রিয় পদার্থ হয়ে থাকে, তাতে খাওয়া, শ্বাস নেওয়া বা বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ থাকে না। কিন্তু জীবন্ত কোষের ভেতরে ঢুকলে এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, নিজের সংখ্যা বাড়ায় এবং বংশগত পরিবর্তনও দেখায়।
    এই দুই রকম আচরণের কারণে ভাইরাসকে ঠিক জীব না জড়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আজও তর্ক আছে।
    মনে রাখুন: ছত্রাক, প্রোটোজোয়া ও ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ জীব, কারণ এদের কোষ আছে এবং তারা নিজে নিজেই জীবনধারণ করতে পারে।
  102. ১৩০. 'Virology' means-BPSC'র সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. a branch of science that deals with virus and viral diseases
    • খ. scientific study of plants
    • গ. scientific study of animals
    • ঘ. scientific study of insets
    উত্তর: ক. a branch of science that deals with virus and viral diseases
    Virology শব্দের অর্থ ভাইরাসবিদ্যা। এটি জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে ভাইরাস এবং ভাইরাস থেকে হওয়া রোগ নিয়ে পড়া হয়। Virus শব্দের সঙ্গে ‘-logy’ (জ্ঞান বা পাঠ) যুক্ত হয়ে এই শব্দ তৈরি হয়েছে। ভাইরাসের কারণে হওয়া রোগের উদাহরণ হলো জলবসন্ত, হাম, পোলিও, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও কোভিড-১৯। এসব রোগ ভাইরাসবিদ্যার আলোচনার বিষয়। ভাইরাসের শ্রেণিবিন্যাস, গঠন ও টিকা তৈরির পদ্ধতিও এই শাখার অন্তর্ভুক্ত। ভাইরাসবিদ্যার জনক হিসেবে মার্টিনাস বেইজেরিঙ্ককে মনে করা হয়।
    মনে রাখুন:
    Bacteriology হলো ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পাঠ।
    Mycology হলো ছত্রাক নিয়ে পাঠ।
    Phycology হলো শৈবাল নিয়ে পাঠ।
    Parasitology হলো পরজীবী নিয়ে পাঠ।
  103. ১৩১. যে সকল ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, তাদেরকে বলা হয় -ঢাকা উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তা, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. উদ্ভিদ ভাইরাস
    • খ. প্রাণী ভাইরাস
    • গ. ব্যাকটেরিওফাজ
    • ঘ. আক্রমণকারী ভাইরাস
    উত্তর: গ. ব্যাকটেরিওফাজ
    যেসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, তাদের ব্যাকটেরিওফাজ (Bacteriophage) বা সংক্ষেপে ফাজ বলে। ‘ফাজ’ শব্দটি গ্রিক, যার অর্থ ভক্ষণকারী, অর্থাৎ এরা ব্যাকটেরিয়াকে খেয়ে ফেলে। ফাজের মাথা ও লেজ আছে। এরা লেজ দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার গায়ে আটকে ভেতরে নিজের জিনগত পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়। ফাজ ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে ঢোকার পর নিজের সংখ্যা বাড়ায়। শেষে ব্যাকটেরিয়ার কোষ ফেটে অসংখ্য নতুন ফাজ বেরিয়ে আসে।
    ১৯১৫ সালে ফ্রেডেরিক টোয়ার্ট ও ১৯১৭ সালে ফেলিক্স দ্যেরেল ব্যাকটেরিওফাজ আবিষ্কার করেন।
    মনে রাখুন: রোগজীবাণু ব্যাকটেরিয়াকে মারতে ফাজ ব্যবহারের গবেষণা এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অনেক ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।
  104. ১৩২. নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান ইউনিট) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. T₂
    • খ. Flavi-Virus
    • গ. Covid-19
    • ঘ. TMV
    উত্তর: ক. T₂
    T₂ একটি ব্যাকটেরিওফাজ এবং এর জিনগত পদার্থ ডিএনএ, তাই এটি ডিএনএ ভাইরাস। বাকি তিনটি ভাইরাসেরই জিনগত পদার্থ আরএনএ। ফ্লাভিভাইরাস (ডেঙ্গু ভাইরাস এই দলের) ও কোভিড-১৯ এবং তামাকের মোজাইক ভাইরাস (TMV) সবই আরএনএ ভাইরাস। জিনগত পদার্থের ধরন দেখে ভাইরাসকে ডিএনএ ভাইরাস ও আরএনএ ভাইরাস, এই দুই দলে ভাগ করা হয়। এই শ্রেণিবিন্যাস প্রশ্নে প্রায়ই আসে। যেমন T₂ ফাজ ডিএনএ ভাইরাস, আর তামাকের মোজাইক ভাইরাস আরএনএ ভাইরাস।
    মনে রাখুন:
    ডিএনএ ভাইরাস: গুটিবসন্ত, হারপিস, হেপাটাইটিস B, HPV এবং T₂ ফাজ।
    আরএনএ ভাইরাস: ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, এইচআইভি, হাম, জলাতঙ্ক, করোনা।
  105. ১৩৩. ব্যাকটেরিয়া একটি-সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. সুকেন্দ্রিক
    • খ. এককোষী বা বহুকোষী জীব
    • গ. প্রাক-কেন্দ্রিক
    • ঘ. অকোষীয় জীব
    উত্তর: গ. প্রাক-কেন্দ্রিক
    ব্যাকটেরিয়া একটি প্রাক-কেন্দ্রিক (Prokaryotic) জীব। এর কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস নেই, অর্থাৎ নিউক্লিয়াসকে ঘিরে কোনো পর্দা থাকে না। ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিয়য়েড নামের একটি অঞ্চলে পড়ে থাকে। এ ছাড়া মাইটোকন্ড্রিয়া বা গলগি বস্তুর মতো পর্দাঘেরা অঙ্গাণুও নেই। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়াকে প্রাক-কেন্দ্রিক জীব বলা হয়। ব্যাকটেরিয়ার কোষে রাইবোসোম থাকে, তবে তা সুকেন্দ্রিক কোষের রাইবোসোমের চেয়ে ছোট। ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর থাকে, যা পেপটিডোগ্লাইকান নামের পদার্থ দিয়ে তৈরি।
    যে জীবের কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস থাকে, তাকে সুকেন্দ্রিক (Eukaryotic) বলে। উদ্ভিদ, প্রাণী ও ছত্রাক সুকেন্দ্রিক জীব।
    মনে রাখুন: ব্যাকটেরিয়া সবসময় এককোষী। নীলাভ-সবুজ শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়াও প্রাক-কেন্দ্রিক।
  106. ১৩৪. ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে-প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. স্থলে
    • খ. জলে
    • গ. বাতাসে
    • ঘ. সর্বত্র
    উত্তর: ঘ. সর্বত্র
    ব্যাকটেরিয়া পৃথিবীর প্রায় সবখানে বাস করে: মাটিতে, পানিতে, বাতাসে এবং জীবদেহের ভেতরে। এমনকি বরফে ঢাকা মেরু অঞ্চল বা ফুটন্ত গরম পানির উৎসের মতো কঠিন পরিবেশেও কিছু ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকে। এদের এই ছড়িয়ে থাকার ক্ষমতা অসাধারণ। এতগুলো জায়গায় বসবাসের এই সক্ষমতার জন্যই ব্যাকটেরিয়াকে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল জীব বলা হয়।
    আমাদের নিজের শরীরের ভেতরেও অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া বাস করে। অন্ত্রে থাকা ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া খাবার হজমে সাহায্য করে এবং ভিটামিন K তৈরি করে।
    মনে রাখুন: ব্যাকটেরিয়া অনুকূল পরিবেশে খুব দ্রুত বাড়ে, কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া প্রতি ২০ মিনিটে দুভাগ হয়ে যেতে পারে।
  107. ১৩৫. কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়া কোনটি?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৫-২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ব্যাকটেরিয়া
    • ক. Spirillum
    • খ. Pseudomonas
    • গ. Vibrio
    • ঘ. Sarcina
    উত্তর: গ. Vibrio
    ব্যাকটেরিয়াকে আকৃতি অনুসারে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। কমার মতো বাঁকানো দণ্ডাকার ব্যাকটেরিয়াকে ভিব্রিও (Vibrio) বলে। কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি এই আকৃতির। ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়ার লেজের মতো একটি ফ্ল্যাজেলা থাকে, যার সাহায্যে এটি পানিতে সাঁতরে বেড়াতে পারে। ১৮৮৩ সালে রবার্ট কখ মিসরে কাজ করার সময় এই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেন। কমার মতো বাঁকা বলে একে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সহজে চেনা যায়। সেই সঙ্গে ভিব্রিও আকৃতির আরেকটি ব্যাকটেরিয়া হলো ভিব্রিও প্যারাহেমোলিটিকাস।
    মনে রাখুন:
    কক্কাস: গোলাকার।
    ব্যাসিলাস: দণ্ডাকার।
    স্পিরিলাম: প্যাঁচানো ঢেউয়ের মতো।
    ভিব্রিও: কমা আকৃতির।
    সারসিনা ঘনক আকারে সাজানো কক্কাস, আর সিউডোমোনাস দণ্ডাকার ব্যাকটেরিয়া।
  108. ১৩৬. কোনটি মিথোজীবীর ক্ষেত্রে সত্য?GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এ ইউনিট) ভর্তি, ২০২০-২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মিথোজীবিতা
    • ক. একজন উপকৃত
    • খ. উভয়েই উপকৃত
    • গ. উভয়েই অপকৃত
    • ঘ. একজন অপকৃত
    উত্তর: খ. উভয়েই উপকৃত
    মিথোজীবিতায় (Symbiosis) দুটি ভিন্ন জীব একসঙ্গে বাস করে এবং উভয়েই উপকৃত হয়। একজন অন্যজনের ক্ষতি করে না, বরং একে অন্যের অভাব পূরণ করে। মিথোজীবিতায় দুই জীব একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও পড়ে, যারা হজমে সাহায্য করে এবং বদলে থাকার জায়গা ও খাবার পায়।
    উদাহরণ:
    শিম গাছ ও রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া। গাছ ব্যাকটেরিয়াকে খাদ্য ও আশ্রয় দেয়, ব্যাকটেরিয়া গাছকে নাইট্রোজেন জোগায়।
    লাইকেন, যেখানে শৈবাল খাদ্য তৈরি করে আর ছত্রাক আশ্রয় ও পানি জোগায়।
    মনে রাখুন: পরজীবিতায় একজন উপকৃত হয়, অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহভোজিতায় একজন উপকৃত হয়, অন্যজনের লাভ-ক্ষতি কিছুই হয় না।
  109. ১৩৭. দুধ থেকে দই তৈরির জন্য কোন অনুজীব ব্যবহার করা হয়?আরডিএ-এর সহকারী পরিচালক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উপকারী অণুজীব
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ছত্রাক
    • গ. অ্যামিবা
    • ঘ. ব্যাকটেরিয়া
    উত্তর: ঘ. ব্যাকটেরিয়া
    দুধ থেকে দই তৈরি করে ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus) নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া দুধের শর্করা অর্থাৎ ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে। এসিড জমতে থাকলে দুধের প্রোটিন জমাট বাঁধে, আর তখনই দুধ ঘন হয়ে দই হয়ে যায়। দইয়ের মিষ্টি-টক স্বাদও আসে এই এসিড থেকে। মজার ব্যাপার হলো, সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়, অনেক ব্যাকটেরিয়া আমাদের নানা কাজে লাগে। দুধকে হালকা গরম অবস্থায় রেখে সামান্য আগের দই মিশিয়ে দিলেই এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি শুরু করে। ঘরের তাপমাত্রা কম হলে দই জমতে বেশি সময় লাগে, কারণ তখন ব্যাকটেরিয়ার কাজের গতি কমে যায়।
    মনে রাখুন:
    দই তৈরিতে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া কাজ করে।
    পাউরুটি ফোলাতে ব্যবহৃত হয় ঈস্ট নামের ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া নয়।
  110. ১৩৮. এক ধরনের প্রচুর ব্যাকটেরিয়া আমরা খাই-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বরিশাল বিভাগ), ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উপকারী অণুজীব
    • ক. ভাতের সাথে
    • খ. দইয়ের সাথে
    • গ. দুধের সাথে
    • ঘ. মাংসের সাথে
    উত্তর: খ. দইয়ের সাথে
    আমরা দইয়ের সঙ্গে প্রচুর জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া খেয়ে থাকি। দই তৈরি হয় ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus) নামের ব্যাকটেরিয়ার কাজে। এরা দুধের ল্যাকটোজ শর্করাকে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে, ফলে দুধ জমাট বেঁধে দই হয়। এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং অন্ত্রের হজমে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুকে বাড়তে দেয় না। এ কারণে দইকে পুষ্টিকর খাবার বলা হয়। দই খাওয়ার ফলে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া পেটে গিয়ে খাবার হজমে সহায়তা করে। দুধে যাঁদের ল্যাকটোজ সহ্য হয় না, তাঁদের অনেকের জন্য দই সহজে হজম হয়, কারণ ল্যাকটোজের বড় একটি অংশ আগেই ভেঙে যায়।
    মনে রাখুন:
    যেসব ব্যাকটেরিয়া শরীরের উপকার করে তাদের প্রোবায়োটিক (Probiotic) বলা হয়।
    দইয়ের টক স্বাদ আসে ল্যাকটিক এসিড থেকে।
  111. ১৩৯. প্রোটোজোয়া পর্বের প্রাণী কোনটি?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রোটোজোয়া
    • ক. অ্যামিবা
    • খ. কুনোব্যাঙ
    • গ. মৌমাছি
    • ঘ. মাছি
    উত্তর: ক. অ্যামিবা
    অ্যামিবা (Amoeba) প্রোটোজোয়া পর্বের প্রাণী। প্রোটোজোয়া মানে আদি প্রাণী, এদের দেহ মাত্র একটি কোষ দিয়ে তৈরি। অ্যামিবা মিথ্যাপদ (Pseudopodia) নামে ক্ষণস্থায়ী পা দিয়ে চলাফেরা করে এবং খাবার ধরে। বাকি তিনটি প্রাণী একটু আলাদা। কুনোব্যাঙ মেরুদণ্ডী প্রাণী, আর মৌমাছি ও মাছি আর্থ্রোপোডা পর্বের কীটপতঙ্গ। প্রোটোজোয়ার কিছু সদস্য রোগ ঘটায়, যেমন প্লাজমোডিয়াম ম্যালেরিয়া এবং লিশম্যানিয়া কালাজ্বর ঘটায়। অনেক প্রোটোজোয়া অবশ্য জলাশয়ে মুক্তজীবী হিসেবে বাস করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই এককোষী প্রাণীর আলোচনায় অ্যামিবার নামই সবার আগে আসে।
    মনে রাখুন:
    প্রোটোজোয়ার উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, প্লাজমোডিয়াম, ইউগ্লিনা।
    এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামের অ্যামিবা আমাশয় ঘটায়।
  112. ১৪০. কোনটি এককোষী জীব?BRTC-এর কন্ডাক্টর-ডি, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রোটোজোয়া
    • ক. ফার্ণ
    • খ. অ্যামিবা
    • গ. মস
    • ঘ. প্ল্যাংটন
    উত্তর: খ. অ্যামিবা
    অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী জীব, অর্থাৎ এর পুরো দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে তৈরি। ফার্ন ও মস বহুকোষী উদ্ভিদ। প্ল্যাংটনের মধ্যে এককোষী জীব থাকলেও অনেক বহুকোষী জীবও থাকে, তাই প্ল্যাংটনকে এককোষী বলা যায় না। এই একটি কোষই অ্যামিবার সব কাজ করে, যেমন খাবার গ্রহণ, শ্বসন, বংশবৃদ্ধি। অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া অ্যামিবাকে দেখা যায় না, কারণ এর আকার মাত্র কয়েক মাইক্রোমিটার। অ্যামিবা নামের অর্থ রূপ পরিবর্তনকারী, কেননা মিথ্যাপদ বাড়িয়ে-কমিয়ে এর দেহের আকার প্রতি মুহূর্তে বদলায়।
    মনে রাখুন:
    অ্যামিবা দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে।
    এককোষী জীবের আরও উদাহরণ: প্যারামেসিয়াম, ইউগ্লিনা, ক্লোরেলা।
  113. ১৪১. ঈস্ট কি?বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনের কার্গো সহকারী, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. একটি ভাইরাস
    • খ. একটি ছত্রাক
    • গ. একটি ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. একটি প্রোটোজোয়া
    উত্তর: খ. একটি ছত্রাক
    ঈস্ট (Yeast) একটি এককোষী ছত্রাক। এর কোষে ক্লোরোফিল নেই, তাই এ নিজে খাবার তৈরি করতে পারে না এবং অন্য উৎস থেকে খাবার গ্রহণ করে। ঈস্টের বৈজ্ঞানিক নাম স্যাকারোমাইসিস সেরিভিসি (Saccharomyces cerevisiae)। এটি শর্করাকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল ও কার্বন ডাইঅক্সাইডে পরিণত করে। কোষ বড় হয়ে একটি ছোট কুঁড়ি তৈরি করে এবং সেটি আলাদা হয়ে নতুন ঈস্ট কোষ হয়। ঈস্ট অক্সিজেন ছাড়াই বাঁচতে পারে, এই ক্ষমতার কারণেই অ্যালকোহল তৈরির কাজ সম্ভব হয়।
    মনে রাখুন:
    পাউরুটি ফোলানো, মদ ও বিয়ার তৈরি এবং এথানল উৎপাদনে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়।
    ঈস্ট কুঁড়ি (Budding) গঠনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
  114. ১৪২. পাউরুটি ফোলানোর জন্য কোন ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়?ডাক অধিদপ্তরের উপজেলা পোস্টমাস্টার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. মস
    • খ. ঈস্ট
    • গ. ব্যাকটেরিওফাজ
    • ঘ. এগারিকাস
    উত্তর: খ. ঈস্ট
    পাউরুটি ফোলানোর জন্য ঈস্ট (Yeast) ব্যবহার করা হয়। ঈস্ট একটি এককোষী ছত্রাক। ময়দার তালে ঈস্ট মেশালে সে শর্করাকে ভেঙে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি করে, আর এই গ্যাস আটকা পড়ে ময়দাকে ফুলিয়ে তোলে। রুটি সেঁকার সময় অ্যালকোহল উবে যায়, তাই রুটিতে এর স্বাদ থাকে না। অন্যদিকে মস একটি অপুষ্পক উদ্ভিদ আর এগারিকাস খাওয়ার উপযোগী ব্যাঙের ছাতা। ঈস্ট জীবন্ত অবস্থায় বাজারে শুকনো গুঁড়া হিসেবে পাওয়া যায়। কুসুম গরম পানিতে মেশালেই এটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঠান্ডা বা অতি গরম পরিবেশে ঈস্ট কাজ করতে পারে না।
    মনে রাখুন:
    এই প্রক্রিয়ার নাম গাঁজন (Fermentation)।
    ব্যাকটেরিওফাজ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণকারী ভাইরাস।
  115. ১৪৩. ঈস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?৩৭ তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. মদ্য শিল্পে (Wine Industry)
    • খ. এক কোষীয় প্রোটিন (Single-cell-protein) তৈরিতে
    • গ. সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
    • ঘ. রুটি শিল্পে (Bakery)
    উত্তর: গ. সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
    সাইট্রিক এসিড তৈরির সঙ্গে ঈস্টের কোনো সম্পর্ক নেই। শিল্পে সাইট্রিক এসিড উৎপাদন করা হয় অ্যাসপারজিলাস নাইজার (Aspergillus niger) নামের অন্য একটি ছত্রাক দিয়ে। ঈস্ট (Saccharomyces) ব্যবহৃত হয় মদ ও বিয়ার তৈরিতে, পাউরুটি ও কেক শিল্পে (Bakery) এবং এককোষী প্রোটিন (Single Cell Protein) উৎপাদনে। ঈস্টের কোষে প্রোটিন ও ভিটামিন বি প্রচুর থাকে বলেই একে খাদ্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অ্যাসপারজিলাস নাইজার কালো ছাঁচ হিসেবে পরিচিত। এই ছত্রাক শর্করা থেকে সাইট্রিক এসিড তৈরি করে, যা লেবু ও কমলার টক স্বাদের কারণ এবং খাবার-পানীয়তে ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    ভিনেগার তৈরি করে অ্যাসিটোব্যাকটার ব্যাকটেরিয়া।
  116. ১৪৪. মিউকর কি?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. একটি শৈবাল
    • খ. একটি ছত্রাক
    • গ. একটি ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. একটি ফার্ন
    উত্তর: খ. একটি ছত্রাক
    মিউকর (Mucor) একটি ছত্রাক। এটি সাধারণত পচা রুটি, ফল ও স্যাঁতসেঁতে খাবারে তুলার মতো সাদা বা ধূসর আস্তরণ হিসেবে দেখা যায়। ছত্রাকের কোষে ক্লোরোফিল নেই, তাই মিউকর মৃত জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য শোষণ করে, অর্থাৎ এটি মৃতজীবী। এর দেহ সরু সুতার মতো হাইফি (Hyphae) দিয়ে গঠিত, আর তাদের জালকে মাইসেলিয়াম (Mycelium) বলে। মিউকরের স্পোর বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে অঙ্কুরিত হয়। ঘরে রুটি বা ফল ভেজা অবস্থায় ফেলে রাখলে এ কারণেই সেখানে ছত্রাক জন্মায়।
    মনে রাখুন:
    রুটি-ছত্রাক নামে পরিচিত রাইজোপাস ও মিউকর একই দলের ছত্রাক।
    ছত্রাক ও শৈবাল ভিন্ন, শৈবালে ক্লোরোফিল থাকে।
  117. ১৪৫. ব্যাঙের ছাতা কোন শ্রেণির উদ্ভিদ?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. ব্যাকটেরিয়া
    • খ. শৈবাল
    • গ. ছত্রাক
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. ছত্রাক
    ব্যাঙের ছাতা ছত্রাক শ্রেণির জীব। বর্ষাকালে ভেজা মাটিতে, পচা কাঠে বা গোবরের স্তূপে এদের ছাতার মতো দেহ গজায়। ছত্রাকে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাবার বানাতে পারে না। এজন্য এরা মৃত জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। এই ব্যাঙের ছাতার একটি পরিচিত প্রজাতি অ্যাগারিকাস (Agaricus), যা খাওয়া যায়, তবে কিছু ব্যাঙের ছাতা বিষাক্ত। মাশরুম নামে পরিচিত অনেক ব্যাঙের ছাতা খাওয়া যায় এবং এতে প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে। তবে বুনো ব্যাঙের ছাতা না চিনে খাওয়া বিপজ্জনক।
    মনে রাখুন:
    ছত্রাক এখন উদ্ভিদ নয়, আলাদা রাজ্য ফানজাই (Fungi)-এর অন্তর্গত।
  118. ১৪৬. ক্লোরোফিলবিহীন উদ্ভিদ হল -প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. ব্যাঙের ছাতা
    • খ. ইউগ্লিনা
    • গ. ক্রাইসিমিবা
    • ঘ. কোনটিই নয়
    উত্তর: ক. ব্যাঙের ছাতা
    ক্লোরোফিল হলো সবুজ রঞ্জক, যা সূর্যের আলো ধরে সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে। ব্যাঙের ছাতা ছত্রাক, তাই এতে ক্লোরোফিল নেই এবং এ পরভোজী ধরনের জীবনযাপন করে। অন্যদিকে ইউগ্লিনা ও ক্রাইসিমিবা ক্লোরোফিলযুক্ত এককোষী জীব, তাদের মধ্যে সালোকসংশ্লেষণের সামর্থ্য আছে। ক্লোরোফিল না থাকায় ছত্রাকের দেহ সবুজ নয়, তারা সাদা, বাদামি বা অন্য রঙের হয়। স্বর্ণলতা সপুষ্পক পরজীবী উদ্ভিদ, এতেও ক্লোরোফিল প্রায় নেই। এটি অন্য গাছকে জড়িয়ে ধরে সেই গাছ থেকে তৈরি খাবার শুষে নেয়। তাই ছত্রাক ও স্বর্ণলতার মতো জীব সবুজ রঙের হয় না, আর এটাই ক্লোরোফিলের ঘাটতির প্রধান চিহ্ন।
    মনে রাখুন:
    স্বর্ণলতাও ক্লোরোফিলবিহীন, এটি পরজীবী উদ্ভিদ।
    ছত্রাক মৃতজীবী ও পরজীবী হয়।
  119. ১৪৭. ক্লোরোফিলবিহীন উদ্ভিদের নাম কি?বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৩-২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. ফার্ন
    • খ. মস
    • গ. শৈবাল
    • ঘ. ছত্রাক
    উত্তর: ঘ. ছত্রাক
    ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন জীব। ফার্ন, মস ও শৈবাল তিনটিতেই ক্লোরোফিল আছে, তাই এরা আলো ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। ছত্রাকে ক্লোরোফিল না থাকায় এদের নিজের খাবার বানানোর সুযোগ নেই। ফলে এরা মৃত জৈব পদার্থ বা অন্য জীবের শরীর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। এভাবে ছত্রাক প্রকৃতির বিয়োজক হিসেবে কাজ করে। লাইকেনে ছত্রাক ও শৈবাল একসঙ্গে বাস করে, শৈবাল খাদ্য তৈরি করে আর ছত্রাক আশ্রয় ও পানি জোগায়। এই সম্পর্ককে মিথোজীবিতা (Symbiosis) বলে।
    মনে রাখুন:
    ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
    ছত্রাকের উদাহরণ: ঈস্ট, মিউকর, মাশরুম, পেনিসিলিয়াম।
  120. ১৪৮. প্লাস্টিডবিহীন উদ্ভিদ কোনটি?তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. Riccia
    • খ. Agaricus
    • গ. Cycus
    • ঘ. Spirogyra
    উত্তর: খ. Agaricus
    প্লাস্টিড (Plastid) হলো উদ্ভিদকোষের এক ধরনের অঙ্গাণু, যার মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ রঙ ও সালোকসংশ্লেষণের কাজ করে। এগারিকাস (Agaricus) এক ধরনের ছত্রাক বা ব্যাঙের ছাতা, এতে প্লাস্টিড নেই। রিকসিয়া একটি ব্রায়োফাইট, সাইকাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং স্পাইরোগাইরা শৈবাল, এদের সবার কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট আছে। কোষে প্লাস্টিড না থাকার কারণে ছত্রাক পরভোজী বা মৃতজীবী। উদ্ভিদকোষের এই অঙ্গাণু প্রাণীকোষে থাকে না, তাই প্রাণী ও ছত্রাক দুই-ই নিজের খাবার তৈরি করতে পারে না। তাই কোষের গঠন দেখেই বোঝা যায় কোনটি নিজে খাবার তৈরি করতে পারে আর কোনটি পারে না। উদ্ভিদকোষের প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণ ও খাদ্য সঞ্চয়ে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ, ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন, লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন।
  121. ১৪৯. কোনটি অটোফাইট নয়?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. জাম
    • খ. কাঁঠাল
    • গ. ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক
    • ঘ. লিচু
    উত্তর: গ. ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক
    অটোফাইট (Autophyte) বা স্বভোজী উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। জাম, কাঁঠাল ও লিচু সবুজ গাছ, তাই এগুলো অটোফাইট। ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, ফলে এরা নিজের খাবার তৈরি করতে পারে না এবং অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করে। তাই ছত্রাক অটোফাইট নয়, এরা হেটারোট্রফ (Heterotroph) বা পরভোজী। উদ্ভিদজগতে কিছু গাছ আবার পরজীবী, যেমন স্বর্ণলতা, আর কিছু কীটভুক, যেমন ঝাঁঝি। এরা সবুজ হলেও অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করে।
    মনে রাখুন:
    পরভোজী উদ্ভিদ দুই ধরনের: পরজীবী ও মৃতজীবী।
    ছত্রাক সাধারণত মৃতজীবী।
  122. ১৫০. কোন উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা নেই কিন্তু ক্লোরোফিল আছে?মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শৈবাল
    • ক. ব্রায়োফাইটা
    • খ. টেরিডোফাইটা
    • গ. শৈবাল
    • ঘ. ছত্রাক
    উত্তর: গ. শৈবাল
    শৈবালের (Algae) মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই, কিন্তু ক্লোরোফিল আছে। এদের দেহ থ্যালয়েড অর্থাৎ থ্যালাস নামে একটি অবিভক্ত দেহ দিয়ে গঠিত। ক্লোরোফিল থাকায় শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাবার তৈরি করে। ছত্রাকেরও মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই, তবে তাতে ক্লোরোফিল থাকে না। ব্রায়োফাইটায় মূলের মতো অংশ আছে এবং টেরিডোফাইটায় প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে। শৈবালের কোষে ক্লোরোফিলের পাশাপাশি অন্য রঞ্জকও থাকে বলে এদের সবুজ, লাল, বাদামি বা নীলাভ-সবুজ নানা রঙে দেখা যায়। পুকুরের সবুজ আস্তরণ সাধারণত শৈবাল।
    মনে রাখুন:
    শৈবালের উদাহরণ: স্পাইরোগাইরা, ক্লোরেলা, ভলভক্স, কেল্প।
    শৈবাল সাধারণত পানিতে জন্মায়।
  123. ১৫১. শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (নাগলিঙ্গম), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শৈবাল
    • ক. স্বভোজী
    • খ. পরভোজী
    • গ. পরাশ্রয়ী
    • ঘ. মৃতজীবী
    উত্তর: ক. স্বভোজী
    শৈবাল স্বভোজী উদ্ভিদ। এর কোষে ক্লোরোফিল থাকে, ফলে এটি আলো ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। স্বভোজী মানে যে নিজের খাবার নিজে বানাতে পারে। পরভোজী, পরাশ্রয়ী ও মৃতজীবী জীব নিজে খাবার তৈরি করে না, অন্যের ওপর নির্ভর করে। শৈবাল পানির বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের শুরুতে থাকে এবং প্রচুর অক্সিজেন ছাড়ে। যে জীব নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে, তাকে পরিবেশের উৎপাদক (Producer) বলে। শৈবাল এই কাজ করে বলে মাছ ও অন্য জলজ প্রাণী খাদ্য পায়।
    মনে রাখুন:
    পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেনের একটি বড় অংশ আসে শৈবাল থেকে।
    শৈবালের কোষে ক্লোরোফিল ও প্লাস্টিড আছে।
  124. ১৫২. শৈবালের বৈশিষ্ট্য কি?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শৈবাল
    • ক. এরা স্ব-ভোজী
    • খ. এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে না
    • গ. এরা এককোষী
    • ঘ. এরা পরজীবী
    উত্তর: ক. এরা স্ব-ভোজী
    শৈবালের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা স্বভোজী। এদের দেহে ক্লোরোফিল আছে, তাই সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে এরা নিজের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে। সেজন্য এরা পরজীবী নয় এবং ক্লোরোফিলবিহীনও নয়। শৈবাল সবই এককোষী নয়। ক্লোরেলার মতো এককোষী শৈবাল যেমন আছে, তেমনই স্পাইরোগাইরার মতো সুতার আকারের আর কেল্পের মতো বিশাল আকারের শৈবালও আছে। শৈবালের উপকারিতাও অনেক। কিছু শৈবাল মানুষ খায়, আর কিছু থেকে আগার ও আয়োডিন পাওয়া যায়। তবে পুকুরে অতিরিক্ত শৈবাল জমলে অক্সিজেন কমে মাছ মারা যেতে পারে।
    মনে রাখুন:
    কেল্প সামুদ্রিক শৈবাল, কয়েক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
    ছত্রাকে ক্লোরোফিল থাকে না।
  125. ১৫৩. ফিতা কৃমি কি ধরনের প্রাণী?মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরজীবী কৃমি
    • ক. মৃতজীবী
    • খ. আংশিক পরজীবী
    • গ. বহিঃপরজীবী
    • ঘ. অন্তঃপরজীবী
    উত্তর: ঘ. অন্তঃপরজীবী
    ফিতা কৃমি (Tapeworm) মানুষ বা অন্য প্রাণীর অন্ত্রের ভেতরে বাস করে, তাই এটি অন্তঃপরজীবী (Endoparasite)। এর নিজের কোনো পরিপাকতন্ত্র নেই। পোষকের হজম করা খাদ্য এটি নিজের দেহের ত্বক দিয়ে সরাসরি শুষে নেয়। মাথার অংশে থাকা চোষক ও অঙ্কুশ দিয়ে এটি অন্ত্রের গায়ে শক্ত করে আটকে থাকে। এর দেহ লম্বা, ফিতার মতো চ্যাপ্টা এবং অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত। মানুষের দেহে ঢোকার পর এই কৃমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে এবং রোগীকে দুর্বল করে দেয়।
    মনে রাখুন:
    ফিতা কৃমি প্ল্যাটিহেলমিন্থিস পর্বের প্রাণী।
    আধা সেদ্ধ শূকর বা গরুর মাংস খেলে এর লার্ভা মানুষের দেহে ঢুকতে পারে।
  126. ১৫৪. কোনটি গোল কৃমির জন্য প্রযোজ্য?BMSRI-এর নিয়োগ পরীক্ষা · বইয়ের অনুচ্ছেদ পরজীবী কৃমি
    • ক. অন্তঃপরজীবী
    • খ. মৃতপরজীবী
    • গ. বহিঃপরজীবী
    • ঘ. মিথোজীবী
    উত্তর: ক. অন্তঃপরজীবী
    গোল কৃমি (Roundworm) যেমন অ্যাসকারিস মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে। পোষকের দেহের ভেতরে থেকে খাদ্য নেয় বলে একে অন্তঃপরজীবী (Endoparasite) বলা হয়। এই কৃমি নিমাটোডা পর্বের প্রাণী, আর এর দেহ লম্বা, নলাকার এবং দুই প্রান্ত সরু। স্ত্রী কৃমি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ডিম পাড়ে। এই ডিম মলের সঙ্গে বাইরে এসে মাটিতে মেশে, তারপর অপরিষ্কার হাত, খাবার বা পানির মাধ্যমে আবার মানুষের দেহে ঢোকে।
    মনে রাখুন:
    পরজীবী না হলে একে মুক্তজীবী বলা হয়, আর যে পরজীবী পোষকের বাইরের গায়ে লেগে থাকে সে বহিঃপরজীবী। উকুন তার উদাহরণ।
  127. ১৫৫. নিচের কোনটি অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীর উদাহরণ?ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের শিল্পনগরী কর্মকর্তা, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অ্যানিলিডা পর্ব
    • ক. প্রজাপতি
    • খ. কেঁচো
    • গ. চিংড়ি
    • ঘ. আরশোলা
    উত্তর: খ. কেঁচো
    অ্যানিলিডা (Annelida) পর্বের প্রাণীর দেহ অনেকগুলো আংটির মতো খণ্ডে ভাগ করা থাকে। কেঁচো এই পর্বের পরিচিত প্রাণী। এর দেহ নরম ও নলাকার এবং দেহগহ্বর সুস্পষ্ট। বাকি তিনটি প্রাণী প্রজাপতি, চিংড়ি আর আরশোলার পা জোড়ায় জোড়ায় বিভক্ত, তাই এগুলো আর্থ্রোপোডা পর্বে পড়ে। অ্যানিলিডা শব্দের অর্থ ছোট আংটি, দেহের এই আংটির মতো খণ্ডগুলোর কারণেই পর্বটির এমন নাম হয়েছে। এই পর্বের প্রাণীদের রক্তসংবহনতন্ত্র বন্ধ প্রকৃতির এবং পরিপাকনালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত।
    মনে রাখুন:
    অ্যানিলিডা পর্বের আরও উদাহরণ জোঁক ও নেরিস।
    কেঁচো মাটির উর্বরতা বাড়ায়, তাই একে কৃষকের বন্ধু বলা হয়।
  128. ১৫৬. ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায় কে?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সিলেট), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কেঁচো
    • ক. মাছ
    • খ. পাখি
    • গ. কেঁচো
    • ঘ. সাপ
    উত্তর: গ. কেঁচো
    কেঁচোর ফুসফুস বা ফুলকা কিছুই নেই, তাই সে ত্বকের সাহায্যে শ্বাস নেয়। এর ত্বক সবসময় ভেজা ও পিচ্ছিল থাকে, কারণ ত্বকের গ্রন্থি থেকে শ্লেষ্মা নিঃসৃত হয়। বাতাসের অক্সিজেন এই ভেজা ত্বকে গলে গিয়ে ত্বকের নিচের রক্তজালিকায় ঢোকে, আবার কার্বন ডাই-অক্সাইডও একই পথে বেরিয়ে যায়। ত্বক শুকিয়ে গেলে কেঁচো শ্বাস নিতে পারে না বলে রোদে এলে মারা যায়। ত্বকের নিচের রক্তজালিকায় অক্সিজেন গিয়ে রক্তে মেশে।
    মনে রাখুন:
    মাছ ফুলকা দিয়ে, পাখি ও সাপ ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়।
    ব্যাঙ ফুসফুসের পাশাপাশি ত্বক দিয়েও শ্বাস নেয়।
  129. ১৫৭. প্রকৃতির লাঙ্গল বা কৃষকের বন্ধু কাকে বলে?BMSRI-এর সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কেঁচো
    • ক. ইঁদুর
    • খ. শজারু
    • গ. কেঁচো
    • ঘ. খরগোশ
    উত্তর: গ. কেঁচো
    কেঁচো মাটি খেয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং মাটির নিচের স্তর ওপরে তুলে আনে। এতে মাটি আলগা হয়, বাতাস ও পানি সহজে গাছের শিকড়ে পৌঁছায়। ঠিক এই কাজটি লাঙল করে বলে কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বা কৃষকের বন্ধু বলা হয়। কেঁচোর মল বা কাস্টিংয়ে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে, যা মাটিকে আরও উর্বর করে। কেঁচোর এই কাজ চাষের জমিতে ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    কেঁচোর কম্পোস্টকে ভার্মিকম্পোস্ট বলা হয়, যা জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন কেঁচোর এই কাজ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।
  130. ১৫৮. কেঁচোর রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে -প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বুড়িগঙ্গা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কেঁচো
    • ক. শ্বেতকণিকায়
    • খ. লোহিত কণিকায়
    • গ. রক্তরসে
    • ঘ. কোনোটাতেই না
    উত্তর: গ. রক্তরসে
    মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে লোহিত কণিকার ভেতরে। কিন্তু কেঁচোর রক্তের হিমোগ্লোবিন কোনো কণিকায় আটকে থাকে না, বরং রক্তরসে (Plasma) গলে মিশে থাকে। কেঁচোর রক্ত লাল হয় এই কারণেই। এই হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে ত্বকের নিচ থেকে দেহের ভেতরে পৌঁছে দেয়। কেঁচোর রক্তসংবহন বন্ধ প্রকৃতির, অর্থাৎ রক্ত সবসময় নালির ভেতর দিয়ে চলে। অন্য অনেক প্রাণীতে হিমোগ্লোবিন লোহিত কণিকার ভেতরে বন্ধ থাকে, তাই কেঁচোর এই বৈশিষ্ট্য আলাদা করে মনে রাখার মতো। কেঁচোর রক্তে লোহিত বা শ্বেত কণিকা নেই বলা চলে, কেবল কিছু শ্বেত কণিকাসদৃশ কোষ থাকে।
    মনে রাখুন:
    কেঁচোর পাঁচ জোড়া হৃৎপিণ্ডের মতো ধমনীকমান থাকে।
    তেলাপোকার রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে না।
  131. ১৫৯. তেলাপোকার রক্তের রঙ কি?সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ তেলাপোকা
    • ক. লাল
    • খ. সাদা
    • গ. সবুজ
    • ঘ. বর্ণহীন
    উত্তর: ঘ. বর্ণহীন
    তেলাপোকার রক্ত বর্ণহীন। এর রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে না, তাই লালচে রং দেখা যায় না। এই পোকা শ্বাস নেয় দেহের পাশের ছিদ্র দিয়ে। ছিদ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত শ্বাসনালি (Trachea) সরাসরি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, ফলে রক্তকে অক্সিজেন বহন করতে হয় না। তাই রক্তের রং দিয়ে এর কোনো কাজ আটকায় না। এর রক্তকে হিমোলিম্ফ (Haemolymph) বলে, যা মূলত খাদ্য ও বর্জ্য বহন করে। তেলাপোকা আর্থ্রোপোডা পর্বের পতঙ্গ। অর্থাৎ তেলাপোকার রক্ত শুধু খাদ্য ও বর্জ্য বহন করে।
    মনে রাখুন:
    তেলাপোকার রক্তসংবহন মুক্ত প্রকৃতির, অর্থাৎ রক্ত নালির বাইরে দেহগহ্বরে ছড়িয়ে থাকে।
  132. ১৬০. হিমোসিল কোন প্রাণীতে দেখা যায়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি, ২০১৫-১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পতঙ্গ
    • ক. ঘাসফড়িং
    • খ. টিকটিকি
    • গ. পাখি
    • ঘ. মানুষ
    উত্তর: ক. ঘাসফড়িং
    হিমোসিল (Haemocoel) হলো পতঙ্গের দেহগহ্বর, যেখানে রক্ত নালির বাইরে ছড়িয়ে থাকে। ঘাসফড়িং একটি পতঙ্গ, আর পতঙ্গের রক্তসংবহন মুক্ত প্রকৃতির। তাই এর দেহগহ্বরই রক্তে ভরা থাকে এবং সেটিকেই হিমোসিল বলা হয়। টিকটিকি, পাখি ও মানুষের রক্ত সবসময় ধমনী ও শিরার ভেতর দিয়ে চলে, যাকে বন্ধ সংবহন বলে। পতঙ্গের হৃৎপিণ্ড দেহের পিঠের দিকে থাকে এবং লম্বা নলের মতো। এই হৃৎপিণ্ড রক্তকে হিমোসিলে ঠেলে দেয়, তারপর রক্ত আবার ধীরে ধীরে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।
    মনে রাখুন:
    পতঙ্গের দেহ তিন ভাগে বিভক্ত: মাথা, বক্ষ ও উদর।
    ঘাসফড়িং, তেলাপোকা, প্রজাপতি ও মাছি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী।
  133. ১৬১. মাকড়সার কয়টি পা?DPE-এর অফিস সহকারী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ আর্থ্রোপোডা
    • ক. ১০টি
    • খ. ৮টি
    • গ. ১২টি
    • ঘ. ৬টি
    উত্তর: খ. ৮টি
    মাকড়সার আটটি পা থাকে। মাকড়সা পতঙ্গ নয়, এটি আরাকনিডা (Arachnida) শ্রেণির প্রাণী। পতঙ্গের দেহ তিন ভাগে ভাগ করা এবং তার ছয়টি পা থাকে। কিন্তু মাকড়সার দেহ মাত্র দুই ভাগে বিভক্ত, একটি মাথা-বক্ষ মিলিত অংশ আর অন্যটি উদর। এছাড়া মাকড়সার ডানা বা শুঙ্গ থাকে না। মাকড়সার চোখও সাধারণত আটটি থাকে। মাকড়সা শিকার ধরে বিষ ঢেলে অবশ করে দেয়। এর মুখের কাছে থাকা বিষগ্রন্থি এই কাজে লাগে।
    মনে রাখুন:
    বিছা ও মাইটও আরাকনিডা শ্রেণির প্রাণী এবং এদেরও আটটি পা থাকে।
    মাকড়সা জাল বোনার জন্য রেশমের মতো সুতা তৈরি করে, যা তার উদরের গ্রন্থি থেকে আসে।
  134. ১৬২. মাছির পা থাকে -প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (শরৎ), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পতঙ্গ
    • ক. ৬টি
    • খ. ৪টি
    • গ. ৮টি
    • ঘ. ১০টি
    উত্তর: ক. ৬টি
    মাছি একটি পতঙ্গ, আর সব পতঙ্গের ছয়টি পা থাকে। এই ছয়টি পা বক্ষের তিনটি খণ্ড থেকে জোড়ায় জোড়ায় বের হয়। মাছির মাত্র এক জোড়া ডানা থাকে, তাই এটি ডিপ্টেরা (Diptera) বর্গের প্রাণী। এর পায়ের তলায় আঠালো লোম থাকে বলে সে দেয়াল বা কাচের ওপর দিয়েও হাঁটতে পারে। মাছির মুখের অংশ রস চুষে খাওয়ার উপযোগী। খাবারের ওপর বসে সে লালা ঢেলে খাদ্য গলিয়ে নেয় এবং চুষে খায়। মাছির পা আছে বক্ষে লাগানো, তাই ওড়া ও হাঁটা দুটোই তার পক্ষে সহজ।
    মনে রাখুন:
    মাছি কলেরা, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার জীবাণু বহন করে।
    মশাও ডিপ্টেরা বর্গের পতঙ্গ।
  135. ১৬৩. কোন পতঙ্গ তার নিজের ওজনের ৫০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পিঁপড়া
    • ক. প্রজাপতি
    • খ. পিঁপড়া
    • গ. মশা
    • ঘ. মাকড়সা
    উত্তর: খ. পিঁপড়া
    পিঁপড়া নিজের ওজনের কয়েক গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে। অনেক সময় এই পরিমাণ ৫০ গুণ পর্যন্ত বলা হয়। এই অসাধারণ শক্তির কারণ হলো এর দেহ ছোট, তাই ওজনের তুলনায় পেশির আকার বড়। প্রজাপতি, মশা বা মাকড়সার ক্ষেত্রে এমন শক্তি দেখা যায় না। পিঁপড়া দল বেঁধে বাস করে এবং খাদ্য সংগ্রহের জন্য সারি বেঁধে চলে। পিঁপড়ার ছোট দেহ আর শক্ত পেশিই এই শক্তির উৎস।
    মনে রাখুন:
    পিঁপড়া সামাজিক পতঙ্গ। এর রানি, শ্রমিক ও পুরুষ নামে তিন ধরনের সদস্য থাকে।
    পিঁপড়ার কামড়ে ফর্মিক অ্যাসিড (HCOOH) থাকে।
  136. ১৬৪. মৌচাকের ক্ষেত্রে কোন উক্তিটি সত্য নয়?কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৌমাছির সমাজ
    • ক. শ্রমিক মৌমাছিরা মধুর সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়
    • খ. পুরুষ মৌমাছিদের কোন কাজ থাকে না
    • গ. শ্রমিক মৌমাছিতে পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়ই থাকে
    • ঘ. রাণী মৌমাছি ডিম পাড়ে
    উত্তর: গ. শ্রমিক মৌমাছিতে পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়ই থাকে
    মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে। রানি ডিম পাড়ে, পুরুষ মৌমাছি রানির সঙ্গে মিলনের কাজ করে, আর শ্রমিক মৌমাছিরা চাক বানানো, মধু সংগ্রহ এবং বাচ্চাদের যত্নের কাজ করে। শ্রমিক মৌমাছি কিন্তু পুরুষ নয়, এরা সবাই বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি। তাই শ্রমিকদের মধ্যে পুরুষ ও স্ত্রী দুই-ই থাকে, এই কথাটি সত্য নয়। মৌচাকের সদস্যদের মধ্যে এই কাজের ভাগ থাকাকে শ্রমবিভাগ বলে। মৌচাকে রানি, শ্রমিক ও ড্রোনের এই ভাগ কাজ ঠিকমতো করা হলে চাক সুস্থ থাকে।
    মনে রাখুন:
    পুরুষ মৌমাছিকে ড্রোন (Drone) বলে। মিলনের পর এদের মৃত্যু হয়।
    একটি চাকে সাধারণত একটিই রানি থাকে।
  137. ১৬৫. প্রাণিজাত তন্তু -রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং) ভর্তি, ২০০১-০২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিজ তন্তু
    • ক. তুলা
    • খ. পাট
    • গ. রেশম
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. রেশম
    রেশম তৈরি হয় রেশমপোকার গুটি বা কোকুন (Cocoon) থেকে, তাই এটি প্রাণিজ তন্তু। রেশমপোকা তুঁত পাতা খেয়ে বড় হয়। পরে নিজের দেহ থেকে নিঃসৃত প্রোটিনজাতীয় সুতা দিয়ে গুটি বানায়। এই সুতা ফাইব্রোইন (Fibroin) নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তুলা ও পাট উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় বলে এগুলো উদ্ভিজ্জ তন্তু। গুটির আঠালো সুতা গরম পানিতে ভিজিয়ে খুলে নিয়ে রেশম তৈরি করা হয়।
    মনে রাখুন:
    পশম বা উলও প্রাণিজ তন্তু, যা ভেড়ার লোম থেকে আসে।
    রেশমপোকা পালনকে সেরিকালচার (Sericulture) বলে। রাজশাহী অঞ্চলে এর চাষ বেশি হয়।
  138. ১৬৬. উপকারী পতঙ্গ কোনটি?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ১৯৯৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উপকারী পতঙ্গ
    • ক. Grasshopper
    • খ. Silkworm
    • গ. Locust
    • ঘ. Caterpillar
    উত্তর: খ. Silkworm
    রেশমপোকা (Silkworm) মানুষের জন্য উপকারী পতঙ্গ, কারণ এর গুটি থেকে রেশমি সুতা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ঘাসফড়িং (Grasshopper), পঙ্গপাল (Locust) ও শুঁয়োপোকা (Caterpillar) ফসলের পাতা ও কচি অংশ খেয়ে ক্ষতি করে। পঙ্গপালের ঝাঁক এক রাতেই বিশাল ফসলের মাঠ নষ্ট করে দিতে পারে। অন্যদিকে ফসলের ক্ষতি করে বলে ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল ও শুঁয়োপোকাকে অপকারী পতঙ্গ বলা হয়। মৌমাছি ও লাক্ষা পোকাও মানুষের জন্য উপকারী পতঙ্গ। রেশমপোকা ছাড়া এদের আরও দুটি উপকার মৌচাক ও গালা।
    মনে রাখুন:
    মৌমাছি মধু ও মোম দেয়, আবার ফুলের পরাগায়নেও সাহায্য করে, তাই এটিও উপকারী।
    লাক্ষা পোকা থেকে গালা তৈরি হয়।
  139. ১৬৭. শামুক ও ঝিনুকের কোষ (খোলস) কী দিয়ে তৈরি?নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মলাস্কা পর্ব
    • ক. পটাশিয়াম সালফেট
    • খ. সালফিউরিক এসিড
    • গ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
    • ঘ. লেড অক্সাইড
    উত্তর: গ. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
    শামুক ও ঝিনুকের শক্ত খোলস তৈরি হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) দিয়ে। এদের দেহের নরম অংশ ম্যান্টল (Mantle) নামের আবরণে ঢাকা থাকে। ম্যান্টল থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসৃত হয়ে ধীরে ধীরে খোলস গড়ে তোলে। শামুক ও ঝিনুক মলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রাণী। ম্যান্টল ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসরণ করে খোলস বাড়িয়ে চলে, তাই প্রাণীটি বড় হলে খোলসও বড় হয়। এই খোলস নরম দেহকে শত্রু ও আঘাত থেকে রক্ষা করে। খোলসের ওপরের গাঢ় রং ও কারুকাজ প্রজাতিভেদে আলাদা হয়।
    মনে রাখুন:
    চুনাপাথর, মার্বেল ও চকের মূল উপাদানও CaCO₃।
    ঝিনুকের ভেতরে বালুকণা ঢুকলে সেই কণাকে ঘিরে মুক্তা তৈরি হয়।
  140. ১৬৮. কোন প্রাণীকে ডেভিল মাছ বলে?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বুড়িগঙ্গা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্টোপাস
    • ক. তিমি
    • খ. অক্টোপাস
    • গ. হাঙ্গর
    • ঘ. ডলফিন
    উত্তর: খ. অক্টোপাস
    অক্টোপাসকে ডেভিল ফিশ (Devil fish) বলা হয়, কারণ এর চেহারা ভয়ংকর। এর আটটি লম্বা বাহু আছে এবং প্রতিটি বাহুতে চোষক থাকে, যা দিয়ে সে শিকার আঁকড়ে ধরে। বিপদে পড়লে এটি কালো কালির মতো তরল ছেড়ে পানি ঘোলা করে পালিয়ে যায়। অক্টোপাস মলাস্কা পর্বের সেফালোপোডা (Cephalopoda) শ্রেণির প্রাণী। অক্টোপাসের মাথায় বড় চোখ আছে এবং এর মস্তিষ্কও অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে বেশ উন্নত। তাই এটি বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবেও পরিচিত।
    মনে রাখুন:
    অক্টোপাসের খোলস নেই, তাই দেহ খুব নমনীয়। অতি ছোট ফাঁক দিয়েও সে গলে যেতে পারে।
    স্কুইড ও কাটলফিশ একই শ্রেণির প্রাণী।
  141. ১৬৯. অক্টোপাসের কয়টি হৃদপিণ্ড আছে?সমবায় অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্টোপাস
    • ক. ১
    • খ. ২
    • গ. ৩
    • ঘ. ৪
    উত্তর: গ. ৩
    অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড থাকে। এর মধ্যে দুটি ফুলকায় রক্ত পাঠায়, আর তৃতীয় বড় হৃৎপিণ্ডটি অক্সিজেনযুক্ত রক্তকে সারা দেহে ছড়িয়ে দেয়। অক্টোপাসের দেহ বেশ বড় আর সক্রিয়, তাই বেশি রক্ত সরবরাহের জন্য এই ব্যবস্থা কাজে লাগে। এই প্রাণী ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়। অক্টোপাসের মস্তিষ্কের বুদ্ধি ও হৃৎপিণ্ডের গঠন দেখায় যে এটি মলাস্কার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত প্রাণীগুলোর একটি। এদের রক্ত বন্ধ নালির ভেতর দিয়ে চলে, যা অন্য অনেক মলাস্কায় দেখা যায় না। অক্টোপাসের ওজন বেশি নয়, তবু এই হৃৎপিণ্ডের ব্যবস্থা তার দ্রুত নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
    মনে রাখুন:
    কাটলফিশেরও তিনটি হৃৎপিণ্ড থাকে।
    মানুষের হৃৎপিণ্ড একটি এবং চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
  142. ১৭০. অক্টোপাসের রক্তের রঙ কী?বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এয়োড্রাম সহকারী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অক্টোপাস
    • ক. লাল
    • খ. নীল
    • গ. সবুজ
    • ঘ. কালো
    উত্তর: খ. নীল
    অক্টোপাসের রক্ত নীল। মানুষের রক্তে অক্সিজেন বহন করে লোহাযুক্ত হিমোগ্লোবিন, তাই রক্ত লাল হয়। কিন্তু অক্টোপাসের রক্তে অক্সিজেন বহন করে হিমোসায়ানিন (Haemocyanin) নামের প্রোটিন, যাতে লোহার বদলে তামা (Cu) থাকে। অক্সিজেনের সঙ্গে মিশলে এই তামা নীল রং দেয়। ঠান্ডা ও কম অক্সিজেনের পানিতে হিমোসায়ানিন ভালোভাবে কাজ করে। অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকলে এই রক্তের রং কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তামার কারণে নীল রং হয় বলে এ ধরনের রক্তকে মাঝে মাঝে নীল রক্ত বলে। মানুষ কিন্তু নীল রক্তের প্রাণী নয়, মানুষের রক্ত সবসময় লাল। অক্টোপাসের মতো স্কুইড ও কাটলফিশের রক্তও নীল।
    মনে রাখুন:
    কাঁকড়া, চিংড়ি ও শামুকের রক্তেও হিমোসায়ানিন থাকে।
  143. ১৭১. কোনটি অমেরুদন্ডী প্রাণী?শ্রম পরিদপ্তরের সহকারী শ্রম পরিচালক, ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী
    • ক. কেঁচো
    • খ. বাঘ
    • গ. বানর
    • ঘ. কুমির
    উত্তর: ক. কেঁচো
    যে প্রাণীর মেরুদণ্ড থাকে না, তাকে অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। কেঁচোর দেহে কোনো মেরুদণ্ড নেই, তাই এটি অমেরুদণ্ডী। বাঘ, বানর ও কুমিরের দেহে মেরুদণ্ড আছে, তাই এরা মেরুদণ্ডী। কেঁচো অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণী, আর বাঘ-বানর-কুমির কর্ডাটা (Chordata) পর্বের। প্রাণীজগতের বেশির ভাগ প্রাণীই কিন্তু অমেরুদণ্ডী। মেরুদণ্ডীরা সংখ্যায় তুলনায় অনেক কম। কেঁচোর নরম দেহ আংটির মতো খণ্ডে ভাগ করা এবং এটি ডাঙার প্রাণী। অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সংখ্যা মেরুদণ্ডী প্রাণীর চেয়ে অনেক বেশি।
    মনে রাখুন:
    অমেরুদণ্ডী প্রাণীর আরও উদাহরণ স্পঞ্জ, জেলিফিশ, শামুক, মাছি ও কাঁকড়া।
    বাঘ ও বানর স্তন্যপায়ী এবং কুমির সরীসৃপ।
  144. ১৭২. কোনটি মেরুদন্ডী প্রাণী?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী
    • ক. অ্যামিবা
    • খ. বেজি
    • গ. স্পঞ্জ
    • ঘ. মাছি
    উত্তর: খ. বেজি
    মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে শিরদাঁড়া থাকে। বেজি (Mongoose) একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, তাই এর মেরুদণ্ড আছে। অ্যামিবা এককোষী প্রাণী, স্পঞ্জ ছিদ্রাল পর্বের এবং মাছি পতঙ্গ, এদের কারোরই মেরুদণ্ড নেই। বেজি সাপ ধরে খায় বলে পরিচিত। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মাথায় খুলি আছে, যা মস্তিষ্ককে রক্ষা করে, আর পিঠের মেরুদণ্ড সুষুম্নাকাণ্ডকে ঘিরে থাকে। এই দুটি বৈশিষ্ট্যই মেরুদণ্ডীদের অমেরুদণ্ডী থেকে আলাদা করে। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড বন্ধ রক্তসংবহনতন্ত্রের অংশ। বেজি স্তন্যপায়ী প্রাণী, তাই উষ্ণ রক্তের এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়।
    মনে রাখুন:
    মেরুদণ্ডী প্রাণীর পাঁচটি শ্রেণি: মৎস্য, উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী।
    এরা সবাই কর্ডাটা পর্বের প্রাণী।
  145. ১৭৩. কোন প্রাণি ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয়?পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহায়ক, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছ
    • ক. হাতি
    • খ. সাপ
    • গ. মাছ
    • ঘ. মানুষ
    উত্তর: গ. মাছ
    মাছ ফুলকার (Gill) সাহায্যে শ্বাস নেয়। মুখ দিয়ে পানি ঢুকে ফুলকার ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই সময় ফুলকার পাতলা রক্তজালিকা পানিতে মিশে থাকা অক্সিজেন শুষে নেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয়। হাতি ও মানুষ ফুসফুস দিয়ে এবং সাপ ফুসফুস দিয়েই শ্বাস নেয়। ফুলকা পাতলা ও পালকের মতো ভাঁজ করা, তাই এর ভেতর দিয়ে বেশি পানি যাওয়ার সুযোগ থাকে। ডাঙায় তুললে ফুলকা শুকিয়ে যায় বলে মাছ তাড়াতাড়ি মারা যায়।
    মনে রাখুন:
    ব্যাঙাচিরও ফুলকা থাকে, বড় হলে ফুসফুস তৈরি হয়।
    কিছু মাছ, যেমন কই ও শিং, বাতাস থেকেও শ্বাস নিতে পারে।
  146. ১৭৪. পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় মাছ কোনটি?বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছ
    • ক. নীল তিমি
    • খ. তিমি হাঙ্গর
    • গ. সামুদ্রিক সানফিস (Ocean sunfish)
    • ঘ. টুনা মাছ (Tuna fish)
    উত্তর: খ. তিমি হাঙ্গর
    পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছ তিমি হাঙ্গর (Whale shark)। এটি লম্বায় প্রায় ১২ মিটার বা তার বেশি হতে পারে। এত বড় হলেও এটি মানুষের জন্য ভয়ংকর নয়, কারণ এটি প্ল্যাঙ্কটন ও ছোট মাছ ছেঁকে খায়। নীল তিমি আকারে আরও বড় হলেও সেটি মাছ নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী। তিমি হাঙ্গর প্রশান্ত, ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ পানিতে ঘুরে বেড়ায়। এদের মুখ চওড়া, আর মুখের ভেতরে অসংখ্য ছোট দাঁত থাকে। কিন্তু সেই দাঁত দিয়ে এরা কামড়ায় না।
    মনে রাখুন:
    হাঙ্গর তরুণাস্থিযুক্ত মাছ, অর্থাৎ এদের কঙ্কাল তরুণাস্থির তৈরি।
    সবচেয়ে ভারী অস্থিযুক্ত মাছ সামুদ্রিক সানফিশ (Ocean sunfish)।
  147. ১৭৫. বিশ্বের দ্রুততম মাছ কোনটি?বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছ
    • ক. পোনামাছ
    • খ. টুনামাছ
    • গ. ইলিশ মাছ
    • ঘ. স্যালমন
    উত্তর: খ. টুনামাছ
    উল্লিখিত মাছগুলোর মধ্যে টুনা সবচেয়ে দ্রুত সাঁতার কাটে। এর দেহ টর্পেডোর মতো মসৃণ ও পেশিবহুল, যা পানির বাধা কমায়। টুনা ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। এছাড়া এর লেজ শক্তিশালী এবং ডানার ভাঁজ এমন যে সাঁতার কাটার সময় পানির টান কম পড়ে। পোনা, ইলিশ ও স্যালমন এত দ্রুত নয়। দ্রুত সাঁতার কাটতে পারার কারণে টুনা লম্বা পথ পাড়ি দেয়।
    মনে রাখুন:
    সব মাছ ধরলে সেইলফিশ (Sailfish) আরও দ্রুত। এটি ঘণ্টায় একশো কিলোমিটারের বেশি বেগে সাঁতার কাটার কথা বলা হয়।
    ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ।
  148. ১৭৬. যে মহাদেশে লাং ফিশ (Lungfish) পাওয়া যায়?বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরেস্ট অফিসার, ২০২২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছ
    • ক. দক্ষিণ আমেরিকা
    • খ. এশিয়া
    • গ. উত্তর আমেরিকা
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. দক্ষিণ আমেরিকা
    লাংফিশ (Lungfish) বা ফুসফুস মাছ দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া যায়। সেখানে লেপিডোসাইরেন নামের লাংফিশ আমাজন অঞ্চলের নদী ও জলাভূমিতে বাস করে। এদের ফুলকার পাশাপাশি ফুসফুসের মতো অঙ্গ থাকে, তাই বাতাস থেকেও শ্বাস নিতে পারে। এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় লাংফিশ নেই। দক্ষিণ আমেরিকার লাংফিশ বছরের কিছু সময় পানি শুকিয়ে গেলেও কাদার ভেতরে গুটিসুটি মেরে অপেক্ষা করে। এ সময় এরা শুধু ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়। বৃষ্টির পানি এলে আবার পানিতে ফিরে আসে।
    মনে রাখুন:
    লাংফিশ আফ্রিকা (প্রোটোপটেরাস) ও অস্ট্রেলিয়াতেও (নিওসেরাটোডাস) পাওয়া যায়।
    শুকনো মৌসুমে কাদার ভেতর লুকিয়ে গিয়ে এরা লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে।
  149. ১৭৭. লাংফিস পাওয়া যায়–রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (এফ-২ ইউনিট) ভর্তি, ২০১০-১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছ
    • ক. অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে
    • খ. ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে
    • গ. উভয় অঞ্চলে
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে
    লাংফিশ অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে পাওয়া যায়। কুইন্সল্যান্ডের নদীতে নিওসেরাটোডাস (Neoceratodus) নামে একটি লাংফিশ বাস করে। প্রাচ্য বা ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে অর্থাৎ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর অস্তিত্ব নেই। এদের ফুসফুসের মতো অঙ্গ আছে বলে পানিতে অক্সিজেন কম হলে বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার এই মাছের একটি ফুসফুস থাকে, আর আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার লাংফিশের থাকে দুটি। এ কারণে প্রজাতিগুলো আলাদা করে চেনা যায়। এই কারণে অস্ট্রেলিয়ার লাংফিশ সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকায় আছে।
    মনে রাখুন:
    লাংফিশ এক ধরনের জীবন্ত জীবাশ্ম। এরা প্রায় ৪০ কোটি বছর ধরে প্রায় একই চেহারায় টিকে আছে।
  150. ১৭৮. পিরানহা কি?ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (বি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মাছ
    • ক. রাক্ষুসে মাছ
    • খ. হিংস্র পাখি
    • গ. গ্রামীণ পোশাক
    • ঘ. বিষাক্ত পতঙ্গ
    উত্তর: ক. রাক্ষুসে মাছ
    পিরানহা (Piranha) একটি রাক্ষুসে মাছ। এটি দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলের মিঠা পানিতে বাস করে। এর দাঁত খুব ধারালো এবং চোয়াল শক্তিশালী, তাই দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে অল্প সময়ে বড় প্রাণীর মাংসও খেয়ে ফেলতে পারে। পিরানহা মাংসাশী মাছ, তবে মানুষকে আক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। মাছগুলো সাধারণত ঝাঁকে ঝাঁকে ঘোরে। রক্তের গন্ধ পেলে এরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় ভাষায় পিরানহা শব্দের অর্থ দাঁতযুক্ত মাছ। কাজেই এই নামেই এর বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। বাংলাদেশের নদীতে এই মাছ পাওয়া যায় না।
    মনে রাখুন:
    হাঙ্গর সামুদ্রিক রাক্ষুসে মাছ।
    পিরানহা পাখি, পতঙ্গ বা পোশাক নয়, এটি মাছের একটি গোত্র।
  151. ১৭৯. যে প্রাণীর তিনটি হৃৎপিণ্ড রয়েছে -প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (বুড়িগঙ্গা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মলাস্কা পর্ব
    • ক. হাঙ্গর
    • খ. কাটল ফিস
    • গ. কস্তুরী মৃগ
    • ঘ. বানর
    উত্তর: খ. কাটল ফিস
    কাটলফিশের (Cuttlefish) তিনটি হৃৎপিণ্ড আছে। দুটি হৃৎপিণ্ড দুই পাশের ফুলকায় রক্ত পাঠায়, আর একটি বড় হৃৎপিণ্ড সারা দেহে রক্ত ছড়িয়ে দেয়। কাটলফিশ মলাস্কা পর্বের সেফালোপোডা শ্রেণির প্রাণী। অন্যদিকে হাঙ্গর, কস্তুরী মৃগ ও বানরের হৃৎপিণ্ড একটি করে। কাটলফিশ সমুদ্রের তলদেশে ঘোরে এবং চিংড়ি ও ছোট মাছ ধরে খায়। কাটলফিশের মস্তিষ্কও বেশ উন্নত, এবং এরা রং বদলে শিকারির চোখ ফাঁকি দেয়।
    মনে রাখুন:
    কাটলফিশের দেহের ভেতরে কাটলবোন (Cuttlebone) নামে একটি হালকা খোলস থাকে, যা ভাসতে সাহায্য করে।
    কাটলফিশও বিপদে কালি ছড়িয়ে পালায়।
  152. ১৮০. ব্যাঙের হৃৎপিণ্ডে কয়টি প্রকোষ্ঠ আছে?প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (করতোয়া), ২০১৩ ও প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক (ঢাকা), ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ উভচর প্রাণী
    • ক. একটি
    • খ. দুটি
    • গ. তিনটি
    • ঘ. চারটি
    উত্তর: গ. তিনটি
    ব্যাঙের হৃৎপিণ্ডে তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকে: দুটি অলিন্দ (Auricle) ও একটি নিলয় (Ventricle)। শরীর থেকে ফেরা অক্সিজেনহীন রক্ত ডান অলিন্দে এবং ফুসফুস থেকে আসা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে জমা হয়। দুটি রক্তই একটি নিলয়ে মিশে যায়, তাই সারা দেহে কিছুটা মিশ্র রক্ত যায়। এজন্য ব্যাঙের রক্তসংবহন মাছের তুলনায় উন্নত, কিন্তু মানুষের তুলনায় অনুন্নত। উভচর প্রাণী পানিতে ও স্থলে দুই জায়গাতেই বাস করতে পারে। ব্যাঙের ত্বক পাতলা ও আর্দ্র, ফলে এটি ত্বক দিয়েও কিছুটা শ্বাস নেয়। ব্যাঙাচি মাছের মতো ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হলে ফুসফুস তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠের।
    পাখি ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠের।
  153. ১৮১. কুমির কোন শ্রেণির প্রাণি?ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সরীসৃপ
    • ক. অ্যাভিস
    • খ. রেপটিলিয়ান
    • গ. এমফিবিয়ান
    • ঘ. ম্যামালিয়ান
    উত্তর: খ. রেপটিলিয়ান
    কুমির সরীসৃপ (Reptilia) শ্রেণির প্রাণী। সরীসৃপের গায়ের চামড়া শুকনো ও আঁশে ঢাকা, এরা ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয় এবং স্থলে ডিম পাড়ে। কুমিরের ডিমের খোলস শক্ত। এছাড়া এর হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে, যা বেশিরভাগ সরীসৃপের চেয়ে ব্যতিক্রম। কুমিরের হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে বলে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনহীন রক্ত পুরোপুরি আলাদা থাকে। এই বৈশিষ্ট্য সরীসৃপের মধ্যে ব্যতিক্রম। কুমিরের ডিম সে মাটি বা বালুর বাসায় পাড়ে এবং মা বাচ্চাকে মুখে করে পানিতে নিয়ে যায়।
    মনে রাখুন:
    সরীসৃপ শীতল রক্তের প্রাণী। এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের সঙ্গে বদলায়।
    সাপ, টিকটিকি, কচ্ছপ ও কুমির সরীসৃপের উদাহরণ।
  154. ১৮২. বিশ্বের দীর্ঘজীবী প্রাণী-বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহকারী, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সরীসৃপ
    • ক. কচ্ছপ
    • খ. ক্যাংগারু
    • গ. নীলতিমি
    • ঘ. হাতি
    উত্তর: ক. কচ্ছপ
    দেওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে কচ্ছপ সবচেয়ে দীর্ঘজীবী। কচ্ছপ বা কূর্ম খুব ধীরে চলে, এর বিপাকের হারও কম, আর শক্ত খোলস শিকারি প্রাণী থেকে তাকে রক্ষা করে। অনেক বড় কচ্ছপ দেড়শো বছরের বেশি বাঁচে। নীল তিমি ও হাতি প্রায় ৭০ থেকে ৯০ বছর বাঁচে, আর ক্যাঙ্গারু আরও অল্প সময় বাঁচে। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের দৈত্যাকার কচ্ছপও খুব দীর্ঘায়ু হয়। কচ্ছপের ডিম পাড়ার জন্য বালুকাময় তীর লাগে, আর এর খোলস দেহের হাড়ের সঙ্গে জোড়া।
    মনে রাখুন:
    কচ্ছপ সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।
    সেশেলসের এক দৈত্যাকার কচ্ছপ প্রায় ১৯০ বছরের বেশি বেঁচে আছে বলে জানা যায়।
  155. ১৮৩. কোন প্রাণী গায়ের রঙ পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা কর[অস্পষ্ট] পারে?পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সরীসৃপ
    • ক. সাপ
    • খ. সজারু
    • গ. গিরগিটি
    • ঘ. গিনিপিগ
    উত্তর: গ. গিরগিটি
    গিরগিটি আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে গায়ের রং বদলাতে পারে। এর ত্বকে বিশেষ রঞ্জক কোষ (Chromatophore) থাকে। কোষগুলোর ভেতরের রঙিন কণা ছড়িয়ে গেলে বা জমা হলে রং বদলে যায়। এভাবে গিরগিটি শত্রুর চোখ ফাঁকি দেয় এবং শিকারও ধরে। সাপ, সজারু ও গিনিপিগ এ কাজ করতে পারে না। গিরগিটির চোখ আলাদাভাবে দুই দিকে ঘুরতে পারে। রং বদল করার এই ক্ষমতা সাপ বা সজারুর নেই। শত্রুর কাছ থেকে বাঁচার এই কৌশলকে ছদ্মবেশ বা ক্যামোফ্লেজ (Camouflage) বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    গিরগিটির রং বদলায় আলো, তাপমাত্রা ও মেজাজের কারণেও।
    গিরগিটি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।
  156. ১৮৪. ডায়নোসোর কোন মহাযুগের অধিবাসী ছিল?জেলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডাইনোসর
    • ক. সিনোজোয়িক
    • খ. মেসোজোয়িক
    • গ. পেলিওজোয়িক
    • ঘ. আকৃওজোয়িক
    উত্তর: খ. মেসোজোয়িক
    ডাইনোসর মেসোজোয়িক (Mesozoic) মহাযুগের প্রাণী ছিল। এই যুগ প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি বছর আগে শুরু হয়ে সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে শেষ হয়েছিল। মেসোজোয়িক যুগকে সরীসৃপের যুগ বলা হয়, কারণ তখন স্থল, জল ও আকাশে সরীসৃপরা রাজত্ব করত। মেসোজোয়িক যুগ ট্রায়াসিক, জুরাসিক ও ক্রিটেশিয়াস এই তিন যুগে ভাগ করা। মেসোজোয়িক যুগ ট্রায়াসিক, জুরাসিক ও ক্রিটেশিয়াস এই তিনটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে ডাইনোসরের সবচেয়ে বেশি বিকাশ ঘটে জুরাসিক ও ক্রিটেশিয়াস যুগে।
    মনে রাখুন:
    সিনোজোয়িক মহাযুগকে স্তন্যপায়ীর যুগ বলা হয়।
    পেলিওজোয়িক যুগে মাছ ও উভচর প্রাণীর বিকাশ ঘটে।
  157. ১৮৫. পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ২০০৪-০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ডাইনোসর
    • ক. এক হাজার বছর পূর্বে
    • খ. এক লক্ষ বছর পূর্বে
    • গ. এক কোটি বছর পূর্বে
    • ঘ. ছয় কোটি বছর পূর্বে
    উত্তর: ঘ. ছয় কোটি বছর পূর্বে
    ডাইনোসর আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে ছয় কোটি বছরই এর সবচেয়ে কাছের। এটি ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ সময়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে একটি বিশাল উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আঘাত করায় আবহাওয়া হঠাৎ বদলে গিয়েছিল। এর ফলে খাদ্যের অভাবে ডাইনোসররা টিকতে পারেনি। এই ঘটনার পর স্তন্যপায়ী প্রাণীরা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়ার সময়কে ক্রিটেশিয়াস ও প্যালিওজিনের সীমা বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    এই উল্কাপিণ্ডের আঘাতের চিহ্ন মেক্সিকোর চিক্সুলুব (Chicxulub) এলাকায় পাওয়া গেছে।
    পাখিদের পূর্বপুরুষ ছিল ডাইনোসরের একটি ছোট শাখা।
  158. ১৮৬. কোন পাখিটি উড়তে পারে?উপজেলা বা থানা নির্বাহী অফিসার · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাখি
    • ক. কিউই
    • খ. সোয়ালো
    • গ. পেঙ্গুইন
    • ঘ. উট পাখি
    উত্তর: খ. সোয়ালো
    সোয়ালো (Swallow) বা আবাবিল পাখি উড়তে পারে। কিউই, পেঙ্গুইন ও উটপাখি উড়তে পারে না। এই পাখিগুলোর ডানা ছোট বা অনুন্নত। তাই এদের বলা হয় ফ্লাইটলেস বার্ড (Flightless bird)। উড়তে না পারলেও উটপাখি খুব দ্রুত দৌড়ায় এবং পেঙ্গুইন চমৎকার সাঁতার কাটে। সোয়ালোর ডানা লম্বা ও সরু, তাই সে দ্রুত উড়ে পোকা ধরে খায়। এই পাখি শীতে উষ্ণ অঞ্চলে পরিযায়ী হয়। উড়তে পারার জন্য পাখির হাড় ফাঁপা ও হালকা থাকে এবং বুকে শক্ত পেশি থাকে। উড়তে না পারা পাখির বুকের হাড় সমতল।
    মনে রাখুন:
    কিউই নিউজিল্যান্ডের জাতীয় পাখি।
    উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি এবং সবচেয়ে দ্রুতগামী দৌড়বিদ পাখি।
  159. ১৮৭. সবচেয়ে ছোট পাখি কোনটি?আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাখি
    • ক. চড়ুই
    • খ. বাবুই
    • গ. রাতচোরা
    • ঘ. হামিং বার্ড
    উত্তর: ঘ. হামিং বার্ড
    সবচেয়ে ছোট পাখি হামিংবার্ড (Hummingbird)। এর মধ্যে কিউবায় পাওয়া মৌমাছি হামিংবার্ড (Bee hummingbird) মাত্র ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার লম্বা আর ওজনে দুই গ্রামের মতো। এই পাখি সেকেন্ডে অনেকবার ডানা ঝাপটাতে পারে, তাই এক জায়গায় ভেসে থাকতে পারে। এছাড়া পেছনের দিকে উড়তে পারে, যা অন্য পাখি পারে না। চড়ুই, বাবুই বা রাতচোরা তার চেয়ে অনেক বড়। এর ঠোঁট লম্বা ও সরু, যা দিয়ে ফুলের ভেতর থেকে মধু শোষণ করে। এর ছোট দেহ ও ক্ষুদ্র ডিমও দেখার মতো, ডিমের আকার একটি মটরদানার মতো।
    মনে রাখুন:
    হামিংবার্ড ফুলের মধু খায়, তাই এরা পরাগায়নেও সাহায্য করে।
  160. ১৮৮. সবচেয়ে দ্রুত উড়তে পারে কোন পাখি?সমবায় অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পাখি
    • ক. উট পাখি
    • খ. হার্মিং বার্ড
    • গ. ঈগল
    • ঘ. ফ্যালকন
    উত্তর: ঘ. ফ্যালকন
    ফ্যালকন (Falcon) বা শাহিন পাখি সবচেয়ে দ্রুত ওড়ে। বিশেষ করে পেরেগ্রিন ফ্যালকন শিকারের জন্য আকাশ থেকে ডুব দিলে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে নামে। এ কারণে এটিই পৃথিবীর দ্রুততম প্রাণী। উটপাখি উড়তেই পারে না, আর ঈগল ও হামিংবার্ড এত দ্রুত নয়। এর ডানা সরু ও তীক্ষ্ণ, আর দেহ মসৃণ বলে বাতাসের বাধা কম পায়। শিকারে নামার সময় ডানা গুটিয়ে দেহকে তীরের মতো সোজা করে নেয়।
    মনে রাখুন:
    সমান্তরালভাবে ওড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত পাখি সুইফট।
    ফ্যালকনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও বাঁকা ঠোঁট শিকার ধরতে সাহায্য করে।
  161. ১৮৯. মানুষ কোন পর্বের অন্তর্ভুক্ত?প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (সূরমা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণী শ্রেণিবিন্যাস
    • ক. মলাস্কা
    • খ. কর্ডাটা
    • গ. পরিফেরা
    • ঘ. অ্যামফিবিয়া
    উত্তর: খ. কর্ডাটা
    মানুষ কর্ডাটা (Chordata) পর্বের প্রাণী। যে প্রাণীর জীবনের কোনো না কোনো সময় নোটোকর্ড, পিঠের দিকে ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলায় ফুলকা-ছিদ্র থাকে, তারা এই পর্বে পড়ে। মানুষের ক্ষেত্রে ভ্রূণ অবস্থায় নোটোকর্ড থাকে, পরে সেটি মেরুদণ্ডে পরিণত হয়। মানুষ এই পর্বের মেরুদণ্ডী উপপর্বের স্তন্যপায়ী শ্রেণির প্রাইমেট বর্গের সদস্য। এই পর্বের প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড দেহের নিচের দিকে থাকে এবং রক্ত বন্ধ নালিতে চলে। মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী সবাই এই পর্বের মেরুদণ্ডী সদস্য। মেরুদণ্ডী উপপর্ব ছাড়াও কর্ডাটা পর্বে আরও কয়েকটি আদিম উপপর্ব আছে, যাদের মেরুদণ্ড নেই।
    মনে রাখুন:
    মলাস্কা পর্বে শামুক ও ঝিনুক পড়ে।
    পরিফেরা পর্বে স্পঞ্জ পড়ে।
  162. ১৯০. কোন জীবটি ম্যামাল নয়?প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইফার অফিসার, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. তিমি
    • খ. হাঙ্গর
    • গ. খরগোস
    • ঘ. ডলফিন
    উত্তর: খ. হাঙ্গর
    হাঙ্গর স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়, এটি মাছ। হাঙ্গর ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয় এবং এর দেহ আঁশে ঢাকা। অন্যদিকে তিমি, ডলফিন ও খরগোশ সবাই স্তন্যপায়ী, কারণ এরা ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়, এদের শরীর উষ্ণ রক্তের এবং এরা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়। তিমি ও ডলফিন সমুদ্রে বাস করলেও মাছ নয়। হাঙ্গর তরুণাস্থিযুক্ত মাছ, আর তার দেহের বাইরের অংশ ছোট ছোট খসখসে আঁশে ঢাকা। হাঙ্গর তরুণাস্থির কঙ্কালযুক্ত মাছ এবং ডিম পাড়ে বা বাচ্চা প্রসব করে। এছাড়া খরগোশের ঘন লোম আছে, তিমি ও ডলফিনের লোম প্রায় নেই। তবে তিমির দেহে সামান্য লোম থাকে।
    মনে রাখুন:
    স্তন্যপায়ী প্রাণীর ত্বকে লোম থাকে। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য স্তনগ্রন্থি থাকে।
  163. ১৯১. কোন স্তন্যপায়ী জীব ডিম দেয়?CAG-এর কার্যালয়ের অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. বাদুড়
    • খ. র‍্যাটল স্নেক
    • গ. প্ল্যাটিপাস
    • ঘ. কোয়ালা
    উত্তর: গ. প্ল্যাটিপাস
    প্ল্যাটিপাস (Platypus) এমন এক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যে ডিম পাড়ে। অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া এই প্রাণীর ঠোঁট হাঁসের মতো, আর লেজ ভোঁদড়ের মতো। এরা মনোট্রিম (Monotreme) নামের বিশেষ দলের সদস্য। এরা ডিম পাড়লেও বাচ্চা ফুটলে দুধ খাওয়ায়। বাদুড় স্তন্যপায়ী হলেও সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। র‍্যাটল স্নেক সরীসৃপ, কোয়ালা মার্সুপিয়াল। স্তন্যপায়ী প্রাণীর বেশিরভাগই সরাসরি সন্তান জন্ম দেয়, তাই প্ল্যাটিপাসের এই বৈশিষ্ট্য তাকে বিরল করে তুলেছে। এর পুরুষের পায়ে বিষাক্ত কাঁটা থাকে। প্ল্যাটিপাস ও ইকিডনা, এ দুটিই ডিমপাড়া স্তন্যপায়ী। এদের বলা হয় মনোট্রিম বা ক্লোয়াকা-যুক্ত প্রাণী, অর্থাৎ মল-মূত্র ও ডিম একই পথে বেরোয়।
    মনে রাখুন:
    ডিম পাড়া আরেকটি স্তন্যপায়ী ইকিডনা (Echidna)।
  164. ১৯২. সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী?-DPE-এর সহকারী ইন্সট্রাক্টর (পিটিআই), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. রাইনোডন
    • খ. হাতি
    • গ. নীল তিমি
    • ঘ. গণ্ডার
    উত্তর: গ. নীল তিমি
    নীল তিমি (Blue whale) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী। এটি লম্বায় প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত হয় এবং ওজন দেড়শো টনের বেশি। শুধু স্তন্যপায়ী নয়, পৃথিবীতে এ পর্যন্ত জানা সব প্রাণীর মধ্যেই এটি সবচেয়ে বড়। এত বিশাল হলেও এটি ক্রিল নামের ছোট চিংড়ি-জাতীয় প্রাণী খেয়ে বাঁচে। হাতি স্থলের সবচেয়ে বড় প্রাণী। নীল তিমির একটি হৃৎপিণ্ডের ওজনই কয়েকশো কেজি হতে পারে। স্তন্যপায়ীর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণী আফ্রিকান হাতি। নীল তিমি মহাসাগরে বাস করে এবং বহু দূরের পথ পাড়ি দেয়। এর ডাক প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায় বলে বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    গণ্ডার স্থলের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একটি।
  165. ১৯৩. নীল তিমি কোন শ্রেণির প্রাণী?খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-খাদ্য পরিদর্শক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ স্তন্যপায়ী প্রাণী
    • ক. স্তন্যপায়ী
    • খ. পক্ষীকূল
    • গ. মৎস্যকূল
    • ঘ. সরীসৃপ
    উত্তর: ক. স্তন্যপায়ী
    নীল তিমি স্তন্যপায়ী শ্রেণির প্রাণী। দেখতে মাছের মতো হলেও এটি মাছ নয়। তিমির ফুসফুস আছে, তাই সে ফুলকা দিয়ে নয়, ফুসফুস দিয়ে বাতাস থেকে শ্বাস নেয়। এজন্য তাকে নিয়মিত পানির ওপরে উঠে আসতে হয় এবং মাথার ওপরের ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নেয়। তিমি উষ্ণ রক্তের প্রাণী, বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়। এছাড়া তিমির দেহে চর্বির পুরু স্তর থাকে, যা ঠান্ডা সমুদ্রে তাপ ধরে রাখে। তিমি মাছ নয় বলেই তিমি শিকারের সময় মানুষ তাকে মাছ বলে ভুল করত। আসলে বিজ্ঞান এখন প্রমাণ করেছে যে তিমির পূর্বপুরুষ স্থলচর স্তন্যপায়ী ছিল।
    মনে রাখুন:
    ডলফিন ও শুশুকও একই কারণে স্তন্যপায়ী।
  166. ১৯৪. কোন প্রাণী জীবনে একবারও পানি পান করে না?উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, ১৯৯৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মরুভূমির প্রাণী
    • ক. ময়াল সাপ
    • খ. ক্যাঙ্গারু র‍্যাট
    • গ. বাদুড়
    • ঘ. কাঠবিড়ালী
    উত্তর: খ. ক্যাঙ্গারু র‍্যাট
    ক্যাঙ্গারু র‍্যাট (Kangaroo rat) সারা জীবনে কখনো পানি পান করে না। উত্তর আমেরিকার মরুভূমিতে এরা বাস করে। শুকনো বীজ খেলে দেহের ভেতরে খাদ্য জারিত হয়ে যে পানি তৈরি হয়, সেটাই এদের পানির প্রয়োজন মেটায়। এদের বৃক্ক এমনভাবে কাজ করে যে প্রস্রাব খুব ঘন হয় এবং খুব অল্প পানি বেরিয়ে যায়। ফলে মরুভূমির তীব্র শুষ্কতাতেও এরা বেঁচে থাকে। এদের মরুভূমির বালুতে গর্ত করে দিনের গরম থেকে বাঁচে।
    মনে রাখুন:
    উট মরুভূমির জাহাজ। এটি অনেক দিন পানি না খেয়েও থাকতে পারে, তবে সুযোগ পেলে প্রচুর পানি পান করে।
  167. ১৯৫. কোনটি সবচেয়ে বেশি দুগ্ধ প্রদানকারী গাভীর জাত?যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ গবাদি পশু
    • ক. হরিয়ানা
    • খ. সিন্ধি
    • গ. ফ্রিসিয়ান
    • ঘ. হিসার
    উত্তর: গ. ফ্রিসিয়ান
    ফ্রিজিয়ান (Friesian) জাতের গাভী সবচেয়ে বেশি দুধ দেয়। এই জাতের উৎপত্তি নেদারল্যান্ডসে। এই জাতের গাভীর গায়ে সাদা-কালো ছোপ থাকে। উন্নত খাদ্য ও যত্ন পেলে একটি ফ্রিজিয়ান গাভী দিনে বিশ লিটারের বেশি দুধ দিতে পারে। হরিয়ানা, সিন্ধি ও হিসার জাতের গাভী মূলত ভারত-পাকিস্তান অঞ্চলের দেশি জাত, যারা তুলনামূলকভাবে কম দুধ দেয়। ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়ের ওজনও বেশ বেশি হয়। গবাদি পশুর উন্নত জাত বেছে নিলে একই খাদ্যে বেশি দুধ আদায় করা যায়।
    মনে রাখুন:
    ফ্রিজিয়ান ও দেশি জাতের সংকরায়ণে বাংলাদেশে দুধের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।
    বাংলাদেশের নিজস্ব জাত লাল চট্টগ্রাম ও পাবনা গরু।
  168. ১৯৬. পৃথিবীতে কোন দেশে বাঘ নাই?সামরিক ভূমি ও কান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বন্যপ্রাণী
    • ক. ভারত
    • খ. শ্রীলঙ্কা
    • গ. মায়ানমার
    • ঘ. থাইল্যান্ড
    উত্তর: খ. শ্রীলঙ্কা
    শ্রীলঙ্কায় বাঘ নেই। বাঘ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনে বাস করে, কিন্তু শ্রীলঙ্কা ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সাগর দিয়ে আলাদা হওয়ায় বাঘ কখনোই সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। সেখানকার বড় বিড়াল প্রজাতি হলো চিতাবাঘ। ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে বাঘ আছে। বাঘ সাঁতার জানে, কিন্তু এত দীর্ঘ জলপথ পাড়ি দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া সেখানে বাঘের প্রয়োজনীয় শিকার ও আবাসও এতদিন ছিল না। তাই লঙ্কার বনে বাঘের ইতিহাস নেই।
    মনে রাখুন:
    বাংলাদেশের সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger) পাওয়া যায়, যা আমাদের জাতীয় পশু।
  169. ১৯৭. কোষের কোন অঙ্গাণুকে ‘কোষের আত্মহত্যা থলি’ বা Suicide Sac বলা হয়?বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষের অঙ্গাণু
    • ক. মাইটোকন্ড্রিয়া
    • খ. গলগিবডি
    • গ. রাইবোজোম
    • ঘ. লাইসোজোম
    উত্তর: ঘ. লাইসোজোম
    লাইসোজোম (Lysosome) কোষের ভেতরের একটি ছোট থলির মতো অঙ্গাণু, যাতে নানা ধরনের হজমকারী এনজাইম থাকে। এরা কোষের পুরোনো অংশ ও বাইরে থেকে ঢোকা জীবাণু হজম করে। কোষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে লাইসোজোমের পর্দা ফেটে এনজাইম বেরিয়ে আসে এবং পুরো কোষটিকেই হজম করে ফেলে। এ কারণে একে আত্মঘাতী থলি (Suicide Sac) বলা হয়। লাইসোজোমের এনজাইম কোষের ভেতরেই তৈরি হয়, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় পর্দার ভেতরে বন্দী থাকে বলে কোষের অন্য অংশের ক্ষতি করে না। ক্ষুধার সময় কোষ নিজের অদরকারি অংশ লাইসোজোম দিয়ে হজম করে শক্তি জোগায়।
    মনে রাখুন:
    কোষের শক্তিঘর মাইটোকন্ড্রিয়া।
    প্রোটিন তৈরির কারখানা রাইবোজোম।
    গলগি বস্তু কোষের পদার্থ প্যাকেট করে পাঠানোর কাজ করে।
  170. ১৯৮. বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের মতো শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করার ক্ষমতা রাখে এমন বিশেষ ব্যাকটেরিয়াকে কী বলা হয়?বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব
    • ক. মেথানোজেন
    • খ. সায়ানোব্যাকটেরিয়া
    • গ. নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. মেথানোট্রফ
    উত্তর: ঘ. মেথানোট্রফ
    মেথানোট্রফ (Methanotroph) এমন ব্যাকটেরিয়া, যারা মিথেন গ্যাসকে খাদ্য ও শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। এরা মিথেন ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে, ফলে বায়ুমণ্ডলে মিথেন কমে। মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস, তাই এই ব্যাকটেরিয়া জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ। এর ঠিক বিপরীত কাজ করে মেথানোজেন (Methanogen), যারা ধানক্ষেত ও জলাভূমিতে মিথেন তৈরি করে। মিথেন তৈরি হয় জলাভূমি, ধানক্ষেত, গবাদিপশুর পরিপাক এবং ময়লার স্তূপ থেকে। এই মিথেন বায়ুমণ্ডলে গেলে তাপ আটকে রাখে, আর মেথানোট্রফ জাতীয় ব্যাকটেরিয়া মাটিতে ও পানিতে থেকে তার একটি অংশ শুষে নিয়ে পরিবেশকে সাহায্য করে।
    মনে রাখুন: সায়ানোব্যাকটেরিয়া সালোকসংশ্লেষণ করে এবং নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
  171. ১৯৯. The driving force of an ecosystem is -দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ), সহকারী ব্যবস্থাপক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বাস্তুতন্ত্র
    • ক. Carbon Monoxide
    • খ. Biogas
    • গ. Solar Energy
    • ঘ. Carbon Dioxide
    উত্তর: গ. Solar Energy
    বাস্তুতন্ত্রের (Ecosystem) সব কাজের মূল শক্তির উৎস সূর্য। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যের আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে খাদ্য তৈরি করে, আর সেই খাদ্য শক্তি খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে তৃণভোজী থেকে মাংসাশী প্রাণীতে পৌঁছায়। তাই সৌরশক্তিকে বাস্তুতন্ত্রের চালিকাশক্তি বলা হয়। সূর্যের আলো না থাকলে সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করতে পারত না, ফলে খাদ্যশৃঙ্খলের কোনো প্রাণীই বাঁচত না। প্রাণীরা সূর্যের শক্তি সরাসরি কাজে লাগাতে পারে না, তারা উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণী খেয়ে সেই শক্তি পায়। অপঘটকরা মৃত দেহ পচিয়ে পুষ্টি উপাদান আবার মাটিতে ফিরিয়ে দেয়, তবে শক্তি চক্রাকারে ঘোরে না, একমুখী প্রবাহে চলে।
    মনে রাখুন: খাদ্যশৃঙ্খলের এক স্তর থেকে পরের স্তরে মাত্র প্রায় ১০% শক্তি যায়।
  172. ২০০. কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী ডিম দেয়?হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অডিটর, ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীজগৎ
    • ক. বাদুড়
    • খ. কোয়ালা
    • গ. প্লাটিপাস
    • ঘ. তিমি
    উত্তর: গ. প্লাটিপাস
    স্তন্যপায়ী প্রাণী সাধারণত সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে, তবে প্লাটিপাস (Platypus) ব্যতিক্রম। অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাণীটি ডিম পাড়ে, কিন্তু ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে মা তাকে দুধ খাওয়ায়, তাই এটি স্তন্যপায়ী। এর হাঁসের মতো ঠোঁট আছে বলে একে হাঁসঠোঁটি প্লাটিপাসও বলা হয়। প্লাটিপাস ও একিডনা দুটিকে মনোট্রিম (Monotreme) বলা হয়, যাদের একটি মাত্র ছিদ্রপথ দিয়ে মলত্যাগ, মূত্রত্যাগ ও ডিম পাড়ার কাজ হয়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনিতে এদের পাওয়া যায়।
    মনে রাখুন:
    ডিম পাড়া আরেকটি স্তন্যপায়ী প্রাণী একিডনা (পিঁপড়াভুক)।
    বাদুড় একমাত্র উড়তে সক্ষম স্তন্যপায়ী, আর তিমি সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী।
  173. ২০১. জগদীশচন্দ্র বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?তথ্য মন্ত্রণালয়ের টেলিভিশন প্রকৌশলী গ্রেড-২, ২০০৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিজ্ঞানীদের পরিচয়
    • ক. বিজ্ঞানের কথা
    • খ. অব্যক্ত
    • গ. বক্তব্য
    • ঘ. বিশ্ব-পরিচয়
    উত্তর: খ. অব্যক্ত
    আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু শুধু বড় বিজ্ঞানীই ছিলেন না, বাংলায় বিজ্ঞান নিয়ে সুন্দর গদ্যও লিখেছেন। তাঁর লেখা প্রবন্ধগুলো একত্র করে ১৯২১ সালে প্রকাশিত হয় 'অব্যক্ত' নামের বইটি। এতে গাছের প্রাণ, ভাগীরথীর উৎস খোঁজা এবং বিজ্ঞানের নানা মজার কথা সহজ ভাষায় লেখা আছে। অন্যদিকে 'বিশ্বপরিচয়' বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা, যা তিনি সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেছিলেন। জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) নামের যন্ত্র দিয়ে দেখান যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং উদ্ভিদ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।
    মনে রাখুন:
    বেতার তরঙ্গ নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয়।
  174. ২০২. নিচের কোন শব্দটির অর্থ পাখিবিদ্যা?খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (বি ইউনিট) ভর্তি, ২০১৯-২০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Entomology
    • খ. Ornithology
    • গ. Protozoology
    • ঘ. Nematology
    উত্তর: খ. Ornithology
    পাখি নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পড়াশোনাকে পাখিবিদ্যা বা অরনিথোলজি (Ornithology) বলে। শব্দটি গ্রিক 'ornis' থেকে এসেছে, যার অর্থ পাখি, আর 'logy' মানে বিদ্যা। এই শাখায় পাখির গঠন, আচরণ, পরিযান ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে গবেষণা হয়। অন্য শব্দগুলোরও আলাদা অর্থ আছে, যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। পাখিরা পরিবেশের স্বাস্থ্যের ভালো নির্দেশক, তাই পাখিবিদদের গবেষণা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় খুব কাজে লাগে। বছরে বছরে শীতের পরিযায়ী পাখি গোনার কাজটিও তাঁরাই করেন।
    মনে রাখুন:
    Entomology: কীটপতঙ্গ বিষয়ক বিদ্যা।
    Protozoology: এককোষী প্রোটোজোয়া বিষয়ক বিদ্যা।
    Nematology: কৃমিজাতীয় নেমাটোড বিষয়ক বিদ্যা।
    Herpetology: সরীসৃপ ও উভচর বিষয়ক বিদ্যা।
    Mammalogy: স্তন্যপায়ী প্রাণী বিষয়ক বিদ্যা।
    বাংলাদেশের পাখি নিয়ে বিস্তারিত কাজের জন্য সালিম আলীর মতো পাখিবিদদের নাম আমরা প্রায়ই শুনি।
  175. ২০৩. যে বিজ্ঞান জীবাশ্ম সম্বন্ধে আলোচনা করে -বিপিএসসির সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. প্যালিওন্টোলজি
    • খ. মরফোলজি
    • গ. ফাইলোজেনি
    • ঘ. ফসিওলজি
    উত্তর: ক. প্যালিওন্টোলজি
    মাটি বা পাথরের ভেতরে হাজার-লক্ষ বছর ধরে সংরক্ষিত প্রাচীন জীবের দেহাবশেষ বা ছাপকে জীবাশ্ম (Fossil) বলে। এই জীবাশ্ম নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পড়াশোনাকে প্যালিওন্টোলজি (Paleontology) বা জীবাশ্মবিদ্যা বলে। জীবাশ্ম দেখে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পৃথিবীতে কোন সময়ে কোন জীব ছিল এবং তারা কীভাবে বদলে বর্তমান রূপে এসেছে, তাই বিবর্তনের বড় প্রমাণ আসে এখান থেকেই। ডাইনোসর সম্পর্কে আমরা যা জানি, তার প্রায় সবটাই জীবাশ্ম থেকে পাওয়া।
    মনে রাখুন:
    মরফোলজি (Morphology): জীবের বাহ্যিক গঠন বিষয়ক বিদ্যা।
    ফাইলোজেনি (Phylogeny): জীবের বিবর্তনীয় বংশধারা বিষয়ক বিদ্যা।
    'ফসিওলজি' নামে কোনো স্বীকৃত শাখা নেই।
  176. ২০৪. Lac culture -রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (নৃবিজ্ঞান) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ফলিত জীববিজ্ঞান
    • ক. লাক্ষা চাষ
    • খ. কোষ ক্লোনিং
    • গ. বাদাম চাষ
    • ঘ. তুঁত চাষ
    উত্তর: ক. লাক্ষা চাষ
    লাক্ষা (Lac) হলো এক ধরনের ক্ষুদ্র পোকার শরীর থেকে বের হওয়া আঠালো রজন। এই পোকা কুল, পলাশ বা শিরীষ গাছের ডালে বসে রস খায় এবং চারপাশে লাক্ষার আবরণ তৈরি করে। পরিকল্পিতভাবে গাছে লাক্ষা পোকা পালন করে লাক্ষা সংগ্রহ করাকেই ল্যাক কালচার বা লাক্ষা চাষ বলে। বাংলাদেশে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে লাক্ষা চাষ বেশি হয়। লাক্ষা থেকে বার্নিশ, শেলাক, গালা, চুড়ি, সিলমোহরের গালা ও বৈদ্যুতিক অন্তরক তৈরি হয়।
    মনে রাখুন:
    তুঁত চাষ রেশম পোকার খাবারের জন্য করা হয়, যা মোরিকালচার (Moriculture) নামে পরিচিত।
  177. ২০৫. রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম কি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্রেণিবিন্যাস
    • ক. Panthera pardus
    • খ. Platanista gangetica
    • গ. Panthera leopard
    • ঘ. Panthera tigris
    উত্তর: ঘ. Panthera tigris
    প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশে লেখা হয়, প্রথমে গণ (Genus) এবং পরে প্রজাতি (Species)। এই পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) বলে, যা চালু করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস। রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘের একটি উপপ্রজাতি, তাই এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris। অন্য নামগুলোর মধ্যে Panthera pardus হলো চিতাবাঘ, আর Platanista gangetica হলো গাঙ্গেয় শুশুক। বৈজ্ঞানিক নাম ছাপার সময় ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়, আর গণের নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হয়। হাতে লিখলে দুটি অংশের নিচে আলাদা করে দাগ দিতে হয়।
    মনে রাখুন:
    সিংহ: Panthera leo।
    মানুষ: Homo sapiens।
    দোয়েল: Copsychus saularis।
    ইলিশ: Tenualosa ilisha।
    বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
  178. ২০৬. কোনটি মিথ্যা?মেডিকেল ভর্তি, ১৯৮৯-৯০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. ডারউইন একজন প্রকৃতিবিদ ছিলেন
    • খ. ডারউইন একজন সুইডেনবাসী ছিলেন
    • গ. তিনি 'অরিজিন অফ স্পেসিস' নামে বই লিখেন
    • ঘ. উপরের সবই মিথ্যা
    উত্তর: খ. ডারউইন একজন সুইডেনবাসী ছিলেন
    চার্লস ডারউইন ছিলেন একজন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ (Naturalist), সুইডেনের মানুষ নন। তাঁর জন্ম ১৮০৯ সালে ইংল্যান্ডের শ্রুসবারিতে। তাই 'ডারউইন সুইডেনবাসী ছিলেন' কথাটিই মিথ্যা, বাকি তথ্যগুলো সঠিক। তিনি এইচএমএস বিগল নামের জাহাজে পাঁচ বছর পৃথিবী ঘুরে নানা দ্বীপের জীব পর্যবেক্ষণ করেন, বিশেষ করে গ্যালাপাগোস দ্বীপের ফিঞ্চ পাখি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ১৮৫৯ সালে তিনি 'On the Origin of Species' বইটি প্রকাশ করেন। ডারউইন প্রথমে চিকিৎসাবিদ্যা ও পরে ধর্মতত্ত্ব পড়তে গেলেও প্রকৃতির প্রতি টানই তাঁকে বিজ্ঞানী বানায়।
    মনে রাখুন:
    সুইডেনের বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী হলেন ক্যারোলাস লিনিয়াস, যিনি দ্বিপদ নামকরণ চালু করেন।
  179. ২০৭. 'অরিজিন অব স্পেসিস বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন' বইটি কত সালে প্রকাশিত হয়?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট) ভর্তি · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. ১৮৬৫
    • খ. ১৮৫৯
    • গ. ১৯৫৯
    • ঘ. ১৮৩৬
    উত্তর: খ. ১৮৫৯
    চার্লস ডারউইনের বিখ্যাত বই 'On the Origin of Species by Means of Natural Selection' প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালের ২৪ নভেম্বর। প্রথম মুদ্রণের সব কপি প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে যায়, এতটাই আলোড়ন তুলেছিল বইটি। এতে তিনি দেখান যে পরিবেশের সঙ্গে যারা ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে, তারাই টিকে থাকে এবং বংশ বিস্তার করে। একে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে। ১৮৩৬ সাল ছিল তাঁর বিগল জাহাজের সমুদ্রযাত্রা শেষ হওয়ার বছর। বইটি প্রকাশের পর ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়, তবু ধীরে ধীরে এটি আধুনিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
    মনে রাখুন:
    মানুষের বিবর্তন নিয়ে ডারউইনের বই 'The Descent of Man' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
  180. ২০৮. বিবর্তনের "প্রাকৃতিক নির্বাচন" মতবাদ ব্যক্ত করেন কোন বিজ্ঞানী?ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (বিজ্ঞান) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. চার্লস ডারউইন
    • খ. ল্যামার্ক
    • গ. অগাস্ট ভাইজম্যান
    • ঘ. দ্য ভ্রিস
    উত্তর: ক. চার্লস ডারউইন
    প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) মতবাদ দেন চার্লস ডারউইন। তাঁর মতে প্রতিটি প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে ছোটখাটো পার্থক্য থাকে, আর খাবার ও জায়গার জন্য তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। যাদের বৈশিষ্ট্য পরিবেশের সঙ্গে বেশি মানানসই, তারাই বেঁচে থাকে এবং সেই বৈশিষ্ট্য সন্তানদের দিয়ে যায়। এভাবে বহু প্রজন্ম ধরে নতুন প্রজাতির জন্ম হয়। ডারউইন এই মতবাদের পক্ষে প্রমাণ পান বিগল জাহাজে বিশ্বভ্রমণের সময়।
    মনে রাখুন:
    ল্যামার্ক: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার বা ব্যবহার-অব্যবহার মতবাদ।
    অগাস্ট ভাইজম্যান: জার্মপ্লাজম তত্ত্ব।
    হুগো দ্য ভ্রিস: মিউটেশন বা পরিব্যক্তি তত্ত্ব।
    'Survival of the fittest' কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার।
  181. ২০৯. দুই জন প্রকৃতিবিদ একই সময়ে অভিব্যক্তি সম্পর্কিত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ উত্থাপন করেন। এদের একজন চার্লস ডারউইন, অপরজন কে?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ১৯৯৫-৯৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. লিনিয়াস
    • খ. ওয়ালেস
    • গ. ক্যুভিয়ে
    • ঘ. লায়েল
    উত্তর: খ. ওয়ালেস
    ডারউইন যখন বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace) নামে আরেক ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ মালয় দ্বীপপুঞ্জে বসে স্বাধীনভাবে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। ওয়ালেস তাঁর লেখাটি ডারউইনের কাছে পাঠালে ১৮৫৮ সালে লন্ডনের লিনিয়ান সোসাইটিতে দুজনের লেখা একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। পরের বছর ডারউইন 'Origin of Species' প্রকাশ করেন। প্রাণীর ভৌগোলিক বিস্তার নিয়েও ওয়ালেসের বড় অবদান আছে। ওয়ালেস নিজেও এই তত্ত্বকে সারাজীবন 'ডারউইনবাদ' নামেই ডেকেছেন।
    মনে রাখুন:
    এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীজগতের সীমারেখাকে তাঁর নামে ওয়ালেস রেখা বলে।
    চার্লস লায়েল ছিলেন ভূতত্ত্ববিদ, যাঁর লেখা ডারউইনকে প্রভাবিত করেছিল।
  182. ২১০. Anatomy is the branch of science which deals with -স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লি. প্রবেশনারি অফিসার, ২০০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Cells and tissue
    • খ. Animal behaviour
    • গ. Functioning of body organ
    • ঘ. Structure of animal and Plants
    উত্তর: ঘ. Structure of animal and Plants
    অ্যানাটমি (Anatomy) বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহের ভেতরের গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়। দেহ কেটে বা ব্যবচ্ছেদ করে কোন অঙ্গ কোথায় আছে এবং দেখতে কেমন, তা অ্যানাটমিতে জানা যায়। অন্যদিকে অঙ্গগুলো কীভাবে কাজ করে, তা জানা যায় শারীরবিদ্যা (Physiology) থেকে। আর কোষ ও টিস্যু আলাদা করে পড়া হয় কোষবিদ্যা (Cytology) ও কলাবিদ্যা (Histology) শাখায়। আমাদের দেশে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষেই অ্যানাটমি পড়েন, কারণ দেহের গঠন না জেনে চিকিৎসা শেখা যায় না।
    মনে রাখুন:
    প্রাণীর আচরণ নিয়ে পড়ার শাখা ইথোলজি (Ethology)।
    দেহের বাইরের গঠন নিয়ে পড়ার শাখা মরফোলজি (Morphology)।
  183. ২১১. Give one word for science of the structure of animal bodies.বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির নার্স, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Biology
    • খ. Psychology
    • গ. Physiology
    • ঘ. Anatomy
    উত্তর: ঘ. Anatomy
    প্রাণীদেহের গঠন নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে, তাকে এক কথায় অ্যানাটমি (Anatomy) বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা বলে। এই শাখায় দেহের হাড়, পেশি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গ কোথায় আছে এবং কীভাবে সাজানো, তা জানা যায়। ফিজিওলজি (Physiology) শব্দটির অর্থ আলাদা, এটি অঙ্গগুলোর কাজ নিয়ে আলোচনা করে। সাইকোলজি (Psychology) হলো মন ও আচরণের বিজ্ঞান, আর বায়োলজি (Biology) হলো পুরো জীবজগৎ নিয়ে বিজ্ঞান। তাই প্রশ্নের এক কথায় প্রকাশটি হলো অ্যানাটমি।
    মনে রাখুন:
    অ্যানাটমির জনক আন্দ্রিয়াস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius)।
    শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে, যিনি রক্ত সংবহন আবিষ্কার করেন।
  184. ২১২. In which sea can you find the Galapagos Islands, known for their unique wildlife and Charles Darwin's research?পূবালী ব্যাংক লি. জুনিয়র অফিসার · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. Caribbean Sea
    • খ. Mediterranean Sea
    • গ. Arabian Sea
    • ঘ. Pacific Ocean
    উত্তর: ঘ. Pacific Ocean
    গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ (Galápagos Islands) প্রশান্ত মহাসাগরে (Pacific Ocean) অবস্থিত। এটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের অংশ এবং দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ১৮৩৫ সালে চার্লস ডারউইন এইচএমএস বিগল (HMS Beagle) জাহাজে চড়ে এখানে আসেন। তিনি দেখেন, ভিন্ন ভিন্ন দ্বীপের ফিঞ্চ পাখির ঠোঁটের গড়ন আলাদা, আর এই পর্যবেক্ষণ তাঁকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের (Natural Selection) ধারণা গড়তে সাহায্য করে। এ কারণে দ্বীপপুঞ্জটিকে অনেক সময় বিবর্তনের জীবন্ত গবেষণাগার বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    গ্যালাপাগোসের বিশাল কচ্ছপ ও সামুদ্রিক ইগুয়ানা বিখ্যাত।
    ‘গ্যালাপাগো’ শব্দটি স্প্যানিশ, এর অর্থ কচ্ছপ।
    দ্বীপপুঞ্জটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
  185. ২১৩. মাশরুম এক ধরণের-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৪র্থ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০০৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ছত্রাক
    • ক. অপুষ্পক উদ্ভিদ
    • খ. ফাঙ্গাস
    • গ. স্ব-ভোজী উদ্ভিদ
    • ঘ. অর্কিড
    উত্তর: খ. ফাঙ্গাস
    মাশরুম আসলে এক ধরনের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস (Fungus)। এর দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এটি সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। মাশরুম পচা জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য শোষণ করে বাঁচে, এ জন্য একে মৃতজীবী (Saprophyte) বলা হয়। এর দেহ সুতার মতো সরু হাইফা দিয়ে গঠিত, আর এটি রেণু বা স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। আমরা মাশরুমের যে ছাতার মতো অংশ খাই, সেটি আসলে এর ফলদেহ। এতে প্রোটিন ও খনিজ লবণ বেশি থাকে বলে এটি পুষ্টিকর খাবার।
    মনে রাখুন:
    পাউরুটি ফোলাতে যে ঈস্ট লাগে, সেটিও একটি ছত্রাক।
    প্রথম আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন পাওয়া যায় পেনিসিলিয়াম নামের ছত্রাক থেকে।
  186. ২১৪. 'ভাইরাস' একটি-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৫ম বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. এককোষী জীব
    • খ. বহুকোষী জীব
    • গ. কোষহীন জীব
    • ঘ. কোনটি নয়
    উত্তর: গ. কোষহীন জীব
    ভাইরাসের (Virus) দেহে কোষপ্রাচীর, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম বা নিউক্লিয়াস কিছুই নেই। এটি কেবল একটি প্রোটিন আবরণের ভেতরে থাকা ডিএনএ অথবা আরএনএ দিয়ে গঠিত, তাই একে কোষহীন বা অকোষীয় জীব বলা হয়। মজার ব্যাপার হলো, জীবকোষের বাইরে ভাইরাস জড় পদার্থের মতো পড়ে থাকে এবং একে কেলাসিত করেও রাখা যায়। কিন্তু উপযুক্ত পোষক কোষে ঢুকলেই এটি বংশবৃদ্ধি শুরু করে। জীব ও জড় দুইয়ের বৈশিষ্ট্য থাকায় ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মাঝামাঝি সত্তা বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণকারী ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফাজ বলে।
    ভাইরাস দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে।
    এইডস, ডেঙ্গু, হাম ও জলাতঙ্ক ভাইরাসজনিত রোগ।
  187. ২১৫. What is the name of the Inventors of Virus?বাংলাদেশ ব্যাংক, সহকারী পরিচালক (এডি), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ ভাইরাস
    • ক. Dmitri Ivanovsky
    • খ. Robert Mentel
    • গ. Louis Pasteur
    • ঘ. Antoni
    উত্তর: ক. Dmitri Ivanovsky
    রুশ বিজ্ঞানী দিমিত্রি ইভানোভস্কি (Dmitri Ivanovsky) ১৮৯২ সালে তামাক গাছের মোজাইক রোগ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তিনি দেখান, রোগাক্রান্ত পাতার রস ব্যাকটেরিয়া আটকানোর ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিলেও তা সুস্থ গাছে রোগ ছড়ায়। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো জীবাণু এ রোগের কারণ, আর এ আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ভাইরাসের আবিষ্কারক বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    ১৮৯৮ সালে ডাচ বিজ্ঞানী বেইজেরিংক এই জীবাণুর নাম দেন ভাইরাস, যার অর্থ বিষ।
    প্রথম আবিষ্কৃত ভাইরাসটি হলো টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV)।
    ১৯৩৫ সালে বিজ্ঞানী স্ট্যানলি এই ভাইরাসকে কেলাস আকারে আলাদা করেন।
  188. ২১৬. পিসিকালচার বলতে কী চাষ বুঝায়?মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জুনিয়র অডিটর, ২০১৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ মৎস্য চাষ
    • ক. রেশম
    • খ. তুলা
    • গ. মৎস্য
    • ঘ. মৌমাছি
    উত্তর: গ. মৎস্য
    পিসিকালচার (Pisciculture) শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘Pisces’ থেকে, যার মানে মাছ। তাই পিসিকালচার বলতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুকুর, দিঘি বা খাঁচায় মাছ চাষ করাকে বোঝায়। বাংলাদেশে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো মাছ ব্যাপকভাবে চাষ হয়, আর এতে আমাদের আমিষের চাহিদার বড় অংশ মেটে। বিভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ চাষের জন্য এমন আলাদা আলাদা নাম আছে, যেগুলো পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। এদের প্রায় সবগুলোই ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে।
    মনে রাখুন:
    সেরিকালচার: রেশম চাষ।
    এপিকালচার: মৌমাছি পালন।
    হর্টিকালচার: ফল, ফুল ও সবজি চাষ।
    ভিটিকালচার: আঙুর চাষ।
    সিলভিকালচার: বনায়ন।
  189. ২১৭. পাউরুটি ফোলানোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, উপজেলা পোস্টমাস্টার, ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব
    • ক. অ্যামিবা
    • খ. ইস্ট
    • গ. টি-২ ফাজ
    • ঘ. H1N5
    উত্তর: খ. ইস্ট
    ইস্ট (Yeast) এক ধরনের এককোষী ছত্রাক। আটা বা ময়দার খামিরে ইস্ট মেশালে এটি সেখানকার শর্করা ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ও সামান্য অ্যালকোহল তৈরি করে, এই প্রক্রিয়াকে গাঁজন বা ফারমেন্টেশন বলে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ছোট ছোট বুদবুদ খামিরের ভেতরে আটকে যায়, ফলে খামির ফুলে ওঠে। পরে সেঁকার সময় এই বুদবুদের জায়গাগুলো ফাঁপা থেকে যায়, তাই পাউরুটি নরম ও হালকা হয়। একই গাঁজন প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে ইস্ট দিয়ে অ্যালকোহল ও ভিনেগারও তৈরি করা হয়।
    মনে রাখুন:
    দই তৈরিতে কাজ করে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া।
    পেনিসিলিন পাওয়া যায় পেনিসিলিয়াম নামের ছত্রাক থেকে।
  190. ২১৮. কোন প্রাণীকে প্রাকৃতিক লাঙল বলা হয়?খাদ্য অধিদপ্তর, সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক/অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিজগৎ
    • ক. ব্যাঙ
    • খ. ষাঁড়
    • গ. মহিষ
    • ঘ. কেঁচো
    উত্তর: ঘ. কেঁচো
    কেঁচো (Earthworm) মাটির ভেতরে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চলাফেরা করে এবং চলার পথে মাটি খেয়ে আবার মলের সঙ্গে বের করে দেয়। এতে শক্ত মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে হয়, নিচের মাটি ওপরে উঠে আসে এবং গর্তের পথে মাটির ভেতরে বাতাস ও পানি সহজে ঢুকতে পারে। লাঙল দিয়ে জমি চাষ করলেও ঠিক এই কাজগুলোই হয়, তাই কেঁচোকে প্রাকৃতিক লাঙল বলা হয়। কেঁচোর মলে প্রচুর পুষ্টি উপাদান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
    মনে রাখুন:
    কেঁচো দিয়ে তৈরি জৈব সারকে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার বলে।
    কেঁচোকে কৃষকের বন্ধুও বলা হয়।
    কেঁচো ত্বকের মাধ্যমে শ্বাস নেয়।
  191. ২১৯. ইস্ট কী?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (২০১৪ সালের স্থগিত পরীক্ষা, ১৫ জেলা), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ অণুজীব
    • ক. একটি ভাইরাস
    • খ. একটি ছত্রাক
    • গ. একটি ব্যাকটেরিয়া
    • ঘ. একটি ফার্ন
    উত্তর: খ. একটি ছত্রাক
    ইস্ট (Yeast) হলো একধরনের এককোষী ছত্রাক। এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে, কিন্তু ক্লোরোফিল থাকে না, তাই এটি নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। ইস্ট সাধারণত মুকুলোদগম (Budding) পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে, অর্থাৎ মাতৃকোষের গায়ে ছোট কুঁড়ি গজিয়ে নতুন কোষ তৈরি হয়। অক্সিজেনের অভাবে ইস্ট চিনিকে ভেঙে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে, এই প্রক্রিয়াকে গাঁজন (Fermentation) বলে। গাঁজনে তৈরি কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস আটার খামিরকে ফুলিয়ে তোলে, তাই রুটি ও কেক তৈরিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
    মনে রাখুন:
    পেনিসিলিন তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম নামের ছত্রাক থেকে।
    মাশরুমও একধরনের ছত্রাক।
  192. ২২০. মাকড়সার পা আছে -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিজগৎ
    • ক. ৪টি
    • খ. ৬টি
    • গ. ৮টি
    • ঘ. ১০টি
    উত্তর: গ. ৮টি
    মাকড়সাকে অনেকে পোকা বা পতঙ্গ মনে করেন, কিন্তু এটি পতঙ্গ নয়। মাকড়সা সন্ধিপদী পর্বের আরাকনিডা (Arachnida) শ্রেণির প্রাণী। এদের দেহ দুই ভাগে বিভক্ত, মাথা ও বুক মিলে একটি অংশ আর পেছনে উদর। মাথা-বুকের অংশ থেকে চার জোড়া অর্থাৎ ৮টি পা বের হয়। মাকড়সার কোনো ডানা বা শুঁড় থাকে না। অন্যদিকে পতঙ্গের দেহ মাথা, বক্ষ ও উদর এই তিন ভাগে বিভক্ত, এদের তিন জোড়া অর্থাৎ ৬টি পা থাকে এবং সাধারণত ডানা ও এক জোড়া শুঁড় থাকে।
    মনে রাখুন:
    বিছা, এঁটেল পোকা ও মাইটও আরাকনিডা শ্রেণির, এদেরও ৮টি পা।
    মাকড়সা উদরের রেশমগ্রন্থি থেকে জাল বোনার সুতা তৈরি করে।
  193. ২২১. প্রাণী কোন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (কর্ণফুলী), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
    • ক. ব্যাপন
    • খ. রেচন
    • গ. শ্বসন
    • ঘ. অভিস্রবণ
    উত্তর: গ. শ্বসন
    শ্বসন (Respiration) হলো জীবকোষে খাদ্য জারিত করে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া। আমরা খাবার থেকে যে গ্লুকোজ পাই, কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় তা অক্সিজেনের সাহায্যে ভেঙে শক্তি তৈরি হয়, আর উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। এই কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে যায় এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। সমীকরণটি এমন:
    C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি
    মজার ব্যাপার হলো, সালোকসংশ্লেষণ ঠিক এর উল্টো, সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
    মনে রাখুন: ব্যাপন ও অভিস্রবণ পদার্থ চলাচলের প্রক্রিয়া, আর রেচন দেহ থেকে বর্জ্য বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া।
  194. ২২২. 'এন্টোমোলজী' হচ্ছে-প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (মেঘনা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. রসায়ন বিদ্যা
    • খ. উদ্ভিদ বিদ্যা
    • গ. প্রাণী বিদ্যা
    • ঘ. কীটপতঙ্গ বিদ্যা
    উত্তর: ঘ. কীটপতঙ্গ বিদ্যা
    এন্টোমোলজি (Entomology) হলো প্রাণিবিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে কীটপতঙ্গের গঠন, জীবনচক্র, আচরণ ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দটি এসেছে গ্রিক ‘এন্টোমন’ অর্থাৎ পতঙ্গ এবং ‘লজি’ অর্থাৎ বিদ্যা থেকে। কৃষিতে এ বিদ্যার গুরুত্ব অনেক, কারণ ফসলের ক্ষতিকর পোকা চেনা ও দমন করা এবং মৌমাছি বা রেশমপোকার মতো উপকারী পতঙ্গ পালন এর ওপর নির্ভর করে। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণেও কীটতত্ত্ববিদরা কাজ করেন।
    মনে রাখুন:
    অর্নিথোলজি পাখি নিয়ে বিদ্যা।
    ইকথিওলজি মাছ নিয়ে বিদ্যা।
    হারপেটোলজি সরীসৃপ ও উভচর নিয়ে বিদ্যা।
    বোটানি উদ্ভিদবিদ্যা আর জুলজি প্রাণিবিদ্যা।
  195. ২২৩. কোন প্রাণীর তিনটি হৃৎপিণ্ড?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (পদ্মা), ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিজগৎ
    • ক. কচ্ছপ
    • খ. সিল মাছ
    • গ. ক্যাটল ফিস
    • ঘ. হাঙ্গর
    উত্তর: গ. ক্যাটল ফিস
    কাটলফিশ (Cuttlefish) নামে মাছ হলেও আসলে মাছ নয়, এটি অক্টোপাস ও স্কুইডের মতো মলাস্কা পর্বের সেফালোপোডা শ্রেণির প্রাণী। এদের দেহে তিনটি হৃৎপিণ্ড থাকে। দুটি ফুলকা হৃৎপিণ্ড রক্তকে দুই পাশের ফুলকায় পাঠায় অক্সিজেন নেওয়ার জন্য, আর তৃতীয় বা প্রধান হৃৎপিণ্ডটি সেই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সারা দেহে পাম্প করে। এদের রক্তে লোহার বদলে তামাযুক্ত হিমোসায়ানিন থাকে, তাই রক্তের রং নীলচে। কাটলফিশ বিপদে পড়লে কালির মতো কালো তরল ছেড়ে শত্রুকে ধোঁকা দেয়।
    মনে রাখুন:
    কচ্ছপের হৃৎপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, কিন্তু হৃৎপিণ্ড একটিই।
    হাঙ্গর ও অন্যান্য মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
    মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
  196. ২২৪. কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারে না?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (মিসিসিপি), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিজগৎ
    • ক. শুশুক
    • খ. তিমি
    • গ. হাঙ্গর
    • ঘ. ডলফিন
    উত্তর: গ. হাঙ্গর
    পানিতে বাস করলেও শুশুক, তিমি ও ডলফিন মাছ নয়, এরা স্তন্যপায়ী (Mammal) প্রাণী। এদের ফুলকা নেই, এরা ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়। তাই কিছুক্ষণ পরপর এদের পানির ওপরে উঠে মাথার ওপরের ছিদ্র দিয়ে বাতাস টেনে নিতে হয়। অন্যদিকে হাঙ্গর প্রকৃত মাছ। এটি ফুলকার সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে, বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে না। শুশুক আসলে এক ধরনের নদীর ডলফিন, যা বাংলাদেশের নদীতে দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    নীল তিমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী।
    হাঙ্গরের কঙ্কাল হাড়ের নয়, তরুণাস্থির তৈরি।
    তিমি ও ডলফিন বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়।
  197. ২২৫. 'শীতনিদ্রা' দেখা যায় -প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (সুরমা), ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণীর অভিযোজন
    • ক. সীল মাছে
    • খ. তিমি মাছে
    • গ. ব্যাঙে
    • ঘ. কুমীরে
    উত্তর: গ. ব্যাঙে
    ব্যাঙ শীতল রক্তের প্রাণী (Cold-blooded animal), অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে এর দেহের তাপমাত্রাও ওঠানামা করে। শীতকালে চারপাশ ঠান্ডা হয়ে গেলে এবং খাবার কমে গেলে ব্যাঙ মাটির নিচে বা গর্তে লুকিয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এ সময় এর হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস খুব ধীর হয়ে যায়, আর দেহে জমানো খাদ্য থেকে সামান্য শক্তি খরচ করে সে বেঁচে থাকে। শীতকালের এই দীর্ঘ ঘুমকে শীতনিদ্রা (Hibernation) বলে। ব্যাঙ তখন চামড়ার মাধ্যমে শ্বাসকাজ চালায়।
    মনে রাখুন:
    গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমে কিছু প্রাণীর এমন নিষ্ক্রিয় থাকাকে গ্রীষ্মনিদ্রা (Aestivation) বলে।
    শীতনিদ্রা দেখা যায় ব্যাঙ, সাপ ও কিছু ভালুকের মধ্যে।
  198. ২২৬. 'এন্টোমোলজি' কোন বিষয়ের বিজ্ঞান-বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. পাখী
    • খ. কীটপতঙ্গ
    • গ. মাছ
    • ঘ. সরীসৃপ
    উত্তর: খ. কীটপতঙ্গ
    কীটপতঙ্গ নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে কীটতত্ত্ব বা এন্টোমোলজি (Entomology) বলে। গ্রিক শব্দ ‘এন্টোমন’ মানে পোকা আর ‘লজি’ মানে বিদ্যা, তাই এর অর্থ দাঁড়ায় পোকা বিষয়ক বিদ্যা। এ শাখায় কীটপতঙ্গের গঠন, জীবনচক্র, আচরণ এবং কৃষি ও স্বাস্থ্যের উপর তাদের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়। ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমন ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এই শাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে আলাদা কীটতত্ত্ব বিভাগ আছে।
    মনে রাখুন:
    পাখি বিষয়ক বিজ্ঞান অরনিথোলজি।
    মাছ বিষয়ক বিজ্ঞান ইকথিয়োলজি।
    সরীসৃপ ও উভচর বিষয়ক বিজ্ঞান হারপেটোলজি।
  199. ২২৭. The branch of science that studies cells is calledসম্মিলিত ২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইটি-সংশ্লিষ্ট অফিসার (৪ জানুয়ারি), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. cytology
    • খ. entomology
    • গ. homoplastic
    • ঘ. hormonology
    উত্তর: ক. cytology
    জীবের গঠন ও কাজের একক হলো কোষ (Cell)। কোষের গঠন, কোষের ভেতরের অঙ্গাণু এবং কোষ বিভাজন নিয়ে জীববিজ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে, তাকে সাইটোলজি (Cytology) বা কোষবিদ্যা বলে। গ্রিক শব্দ kytos মানে ফাঁপা পাত্র বা কোষ। ১৬৬৫ সালে রবার্ট হুক কর্কের পাতলা টুকরো অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখে প্রথম কোষ শব্দটি ব্যবহার করেন। পরে বিজ্ঞানীরা দেখান যে সব জীবই এক বা একাধিক কোষ দিয়ে তৈরি। এরপর ১৮৩৮ থেকে ১৮৩৯ সালে শ্লাইডেন ও শোয়ান কোষতত্ত্ব প্রস্তাব করেন। তাঁরা বলেন, কোষই জীবের গঠনের মূল একক।
    মনে রাখুন:
    এন্টোমোলজি: কীটপতঙ্গবিদ্যা।
    হিস্টোলজি: কলাবিদ্যা।
    হরমোন নিয়ে আলোচনার শাখা এন্ডোক্রিনোলজি।
  200. ২২৮. The word ‘Mycology’ is related to –সম্মিলিত ৭ ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. mitochondria
    • খ. mushroom
    • গ. mutation
    • ঘ. meteorology
    উত্তর: খ. mushroom
    মাইকোলজি (Mycology) হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে ছত্রাক নিয়ে আলোচনা করা হয়। গ্রিক শব্দ mykes মানে ছত্রাক বা মাশরুম। মাশরুম হলো এক ধরনের বড় ও খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক, তাই মাইকোলজির সঙ্গে মাশরুমের সরাসরি সম্পর্ক আছে। ছত্রাকের সবুজ কণা বা ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এরা মৃত ও পচা জৈব পদার্থ থেকে খাবার সংগ্রহ করে। ইস্ট, পেনিসিলিয়াম ও পাউরুটির ছাতাও ছত্রাক। আবার কিছু ছত্রাক মানুষ ও ফসলের রোগও ঘটায়।
    মনে রাখুন:
    মিটিওরোলজি: আবহাওয়াবিজ্ঞান।
    ফাইকোলজি: শৈবালবিদ্যা।
    পেনিসিলিন তৈরি হয় পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে।
  201. ২২৯. Study of life in outer space is known as -সম্মিলিত ৮ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার (১০ মে), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. neurobiology
    • খ. enter biology
    • গ. end biology
    • ঘ. exobiology
    উত্তর: ঘ. exobiology
    পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে, অর্থাৎ অন্য গ্রহ, উপগ্রহ বা নক্ষত্রমণ্ডলে প্রাণ আছে কি না এবং থাকলে তা কেমন হতে পারে, এ নিয়ে গবেষণাকে এক্সোবায়োলজি (Exobiology) বলে। গ্রিক শব্দ exo মানে বাইরে। এখন এই বিষয়টিকে অ্যাস্ট্রোবায়োলজি নামেও ডাকা হয়। বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহ, বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা এবং শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসে পানি ও প্রাণের চিহ্ন খুঁজছেন। কারণ প্রাণের জন্য তরল পানি সবচেয়ে জরুরি উপাদান বলে মনে করা হয়। নাসার মঙ্গলযান কিউরিওসিটি ও পারসিভিয়ারেন্স এই খোঁজের কাজ করছে।
    মনে রাখুন:
    নিউরোবায়োলজি: স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে আলোচনা।
    এন্ডোক্রিনোলজি: হরমোন ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিয়ে আলোচনা।
  202. ২৩০. Entomology is the science that studies:জনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. scientific terms
    • খ. human behavior
    • গ. insects
    • ঘ. rock formation
    উত্তর: গ. insects
    এন্টোমোলজি (Entomology) বা কীটতত্ত্ব হলো প্রাণিবিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে পোকামাকড়ের গঠন, জীবনচক্র, আচরণ ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়। গ্রিক শব্দ entomon মানে কীট বা পতঙ্গ। পোকামাকড়ের দেহ তিন ভাগে বিভক্ত, মাথা, বক্ষ ও উদর, আর এদের তিন জোড়া পা থাকে। কৃষিতে এই বিদ্যা খুব কাজে লাগে, কারণ কোন পোকা ফসলের ক্ষতি করে আর কোন পোকা উপকারী, তা জানা থাকলে কীটনাশক কম ব্যবহার করে ফসল রক্ষা করা যায়। মজার ব্যাপার হলো, প্রাণিজগতে প্রজাতির সংখ্যায় পোকামাকড়ই সবচেয়ে বেশি।
    মনে রাখুন:
    পেট্রোলজি: শিলাবিদ্যা।
    টার্মিনোলজি: পরিভাষা নিয়ে আলোচনা।
    অরনিথোলজি: পাখিবিদ্যা।
  203. ২৩১. The main reserves of phosphorus in the biosphere is in theজনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব-ভূরাসায়নিক চক্র
    • ক. hydrosphere
    • খ. atmosphere
    • গ. lithosphere
    • ঘ. troposphere
    উত্তর: গ. lithosphere
    কার্বন বা নাইট্রোজেনের মতো মৌলের বড় একটি অংশ বায়ুমণ্ডলে গ্যাস হিসেবে থাকে। কিন্তু ফসফরাসের কোনো উল্লেখযোগ্য গ্যাসীয় রূপ নেই, তাই ফসফরাস চক্র (Phosphorus cycle) মূলত শিলা, মাটি ও পানিকেন্দ্রিক। ফসফরাসের প্রধান মজুত রয়েছে ফসফেট শিলা ও পলিতে, অর্থাৎ শিলামণ্ডলে। শিলা ধীরে ধীরে ক্ষয় হলে ফসফেট মাটিতে মেশে। উদ্ভিদ মাটি থেকে তা শোষণ করে, আর খাদ্যশিকলের মাধ্যমে তা প্রাণীর দেহে যায়। প্রাণী মারা গেলে পচনের মাধ্যমে ফসফরাস আবার মাটিতে ফিরে আসে।
    মনে রাখুন:
    নাইট্রোজেনের প্রধান মজুত বায়ুমণ্ডলে, প্রায় ৭৮ ভাগ।
    ফসফরাস DNA, ATP ও হাড়ের গঠনে লাগে।
  204. ২৩২. প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ কোনটি?জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ফিল্ড অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কোষ
    • ক. রক্ত কোষ
    • খ. পেশী কোষ
    • গ. নিউরন
    • ঘ. জনন কোষ
    উত্তর: গ. নিউরন
    প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন (Neuron)। একটি নিউরনের কোষদেহ থেকে অ্যাক্সন নামে একটি লম্বা তন্তু বের হয়, যা মেরুদণ্ড থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত এক মিটারেরও বেশি লম্বা হতে পারে। এই লম্বা অ্যাক্সনের মধ্য দিয়েই স্নায়ু উদ্দীপনা বিদ্যুৎ সংকেতের মতো দ্রুত দেহের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছায়। নিউরন একবার নষ্ট হলে সাধারণত আর নতুন করে তৈরি হয় না।
    মনে রাখুন:
    মানবদেহের বৃহত্তম কোষ নারীর ডিম্বাণু।
    মানবদেহের ক্ষুদ্রতম কোষ শুক্রাণু।
    স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক নিউরন।
    নিউরনের যে অংশ উদ্দীপনা গ্রহণ করে, তাকে ডেনড্রাইট বলে।
  205. ২৩৩. কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যার ইংরেজি পরিভাষা কি?প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সহকারী পরিচালক, ২০১২ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীববিজ্ঞানের শাখা
    • ক. Embryology
    • খ. Mycology
    • গ. Microbiology
    • ঘ. Entomology
    উত্তর: ঘ. Entomology
    কীটপতঙ্গ নিয়ে জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তার ইংরেজি পরিভাষা এন্টোমোলজি (Entomology)। শব্দটি এসেছে গ্রিক ‘entomon’ মানে পতঙ্গ এবং ‘logos’ মানে জ্ঞান থেকে। কৃষিতে ক্ষতিকর পোকা দমন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং মৌমাছি ও রেশম পোকা পালনে এই শাখার জ্ঞান খুব কাজে লাগে। জীববিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলোর নামও প্রায়ই পরীক্ষায় আসে, তাই কয়েকটি একসঙ্গে মনে রাখা ভালো।
    মনে রাখুন:
    Mycology ছত্রাক নিয়ে আলোচনা করে।
    Embryology ভ্রূণের গঠন ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা করে।
    Microbiology অণুজীব নিয়ে আলোচনা করে।
    Ornithology পাখি নিয়ে আলোচনা করে।
  206. ২৩৪. What is the largest living bird?রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণিজগৎ
    • ক. Ostrich
    • খ. Eagle
    • গ. Hawk
    • ঘ. Swan
    উত্তর: ক. Ostrich
    জীবিত পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভারী পাখি উটপাখি (Ostrich)। একটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখি প্রায় ২.৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং এর ওজন ১৫০ কেজিরও বেশি হতে পারে। শরীর এত ভারী বলে উটপাখি উড়তে পারে না, তবে এর লম্বা ও শক্তিশালী পা দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। এটি আফ্রিকার তৃণভূমি ও মরু অঞ্চলে বাস করে।
    মনে রাখুন:
    উটপাখির ডিম জীবিত পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
    সবচেয়ে ছোট পাখি হামিংবার্ড।
    উড়তে না পারা অন্য পাখি: পেঙ্গুইন, ইমু ও কিউই।
    বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল।
  207. ২৩৫. The Law of Natural Selection is associated with -রূপালী ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিবর্তন
    • ক. Dalton
    • খ. Darwin
    • গ. Kepler
    • ঘ. Mendel
    উত্তর: খ. Darwin
    প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত নাম ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে ছোটখাটো পার্থক্য থাকে, আর যাদের বৈশিষ্ট্য পরিবেশের সঙ্গে বেশি মানানসই, তারাই বেশি টিকে থাকে ও বংশবৃদ্ধি করে। এভাবে বহু প্রজন্ম ধরে উপকারী বৈশিষ্ট্যগুলো জমা হয়ে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটে। ডারউইন ১৮৫৯ সালে ‘On the Origin of Species’ গ্রন্থে এই মতবাদ প্রকাশ করেন।
    মনে রাখুন:
    ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার।
    বংশগতির সূত্র দেন গ্রেগর মেন্ডেল।
    পরমাণুবাদ দেন জন ডাল্টন, আর গ্রহের গতির সূত্র দেন কেপলার।
  208. ২৩৬. প্রাণী কোন প্রক্রিয়ায় CO₂ তৈরি করে?পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শ্বসন
    • ক. শ্বসন
    • খ. রেচন
    • গ. ব্যাপন
    • ঘ. অভিস্রবণ
    উত্তর: ক. শ্বসন
    প্রাণী শ্বসন (Respiration) প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে। শ্বসনে দেহকোষের ভেতরে খাদ্যের গ্লুকোজ অক্সিজেনের সাহায্যে ধাপে ধাপে ভেঙে যায়, আর এতে কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। এই ভাঙনের উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি তৈরি হয়। কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায় এবং আমরা নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা বাইরে ছেড়ে দিই।
    মনে রাখুন:
    সমীকরণ: C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি।
    শ্বসনের বেশিরভাগ ধাপ ঘটে মাইটোকন্ড্রিয়ায়, তাই একে কোষের শক্তিঘর বলে।
    শ্বসন সব জীবকোষে দিনরাত সবসময় চলে।
    সালোকসংশ্লেষণ শ্বসনের প্রায় উল্টো প্রক্রিয়া।
  209. ২৩৭. সেরিকালচার বলতে বুঝায়?পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাণী পালন
    • ক. পাখি পালন বিদ্যা
    • খ. মৌমাছি পালন বিজ্ঞান
    • গ. রেশম চাষ
    • ঘ. উদ্যান বিদ্যা
    উত্তর: গ. রেশম চাষ
    রেশম পোকা পালন করে রেশম সুতা উৎপাদনের পদ্ধতিকে সেরিকালচার (Sericulture) বলে। রেশম পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বড় হয়, তারপর নিজের লালাগ্রন্থি থেকে সুতা বের করে চারপাশে গুটি বা কোকুন তৈরি করে। এই গুটি গরম পানিতে সেদ্ধ করে সেখান থেকে রেশমের সুতা খুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশে রাজশাহী রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত, তাই একে রেশম নগরী বলা হয়।
    মনে রাখুন:
    মৌমাছি পালনকে এপিকালচার বলে।
    পাখি পালনকে এভিকালচার বলে।
    উদ্যান বিদ্যাকে হর্টিকালচার বলে।
    মাছ চাষকে পিসিকালচার বলে।
    রেশমের সুতা মূলত ফাইব্রোইন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
    বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তর রাজশাহীতে।
  210. ২৩৮. Which critically endangered species of Asian rhinoceros in known for its two horns.পূবালী ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিপন্ন প্রাণী
    • ক. White rhinoceros
    • খ. Black rhinoceros
    • গ. Sumatran rhinoceros
    • ঘ. Indian rhinoceros
    উত্তর: গ. Sumatran rhinoceros
    এশিয়ার গন্ডারগুলোর মধ্যে শুধু সুমাত্রান গন্ডারের (Sumatran Rhinoceros) দুটি শিং আছে। এটি সব গন্ডারের মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোট এবং গায়ে লালচে লোম থাকে, তাই একে লোমশ গন্ডারও বলে। বন উজাড় ও শিংয়ের জন্য শিকারের কারণে এর সংখ্যা এখন একশোরও কম, তাই এটি মহাবিপন্ন প্রাণী। সাদা ও কালো গন্ডারেরও দুটি শিং থাকে, তবে এরা আফ্রিকার প্রাণী।
    মনে রাখুন:
    ভারতীয় বা বৃহৎ একশিঙা গন্ডারের একটি শিং থাকে।
    জাভান গন্ডারেরও একটি শিং থাকে এবং এটিও মহাবিপন্ন।
    সাদা গন্ডার সবচেয়ে বড় গন্ডার।
    গন্ডারের শিং কেরাটিন দিয়ে তৈরি।

অন্যান্য অধ্যায়

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন