আমাদের সম্পদ: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন
সাধারণ বিজ্ঞান, অধ্যায় ১৩। বিগত বিসিএস আর অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে আসা ৬৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর ব্যাখ্যা একসঙ্গে। আগে নিজে যাচাই করতে চাইলে সময় আর নেগেটিভ মার্কিংসহ পরীক্ষা দিন।
এই অধ্যায়ের পরীক্ষা দিন →বিসিএস (১৩)
- ১. নিচের কোন জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?১০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম জ্বালানি
- ক. ডিজেল
- খ. প্রাকৃতিক গ্যাস
- গ. বায়োগ্যাস
- ঘ. কয়লা
উত্তর: গ. বায়োগ্যাস
কোটি কোটি বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী মাটির নিচে চাপা পড়ে, বাতাসের অভাবে এবং প্রচণ্ড চাপ ও তাপে ধীরে ধীরে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়েছে। এদের জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) বলে। ডিজেল পেট্রোলিয়াম শোধন করে পাওয়া যায়, তাই এটিও জীবাশ্ম জ্বালানি। কিন্তু বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, জৈব বর্জ্য বা উদ্ভিজ্জ আবর্জনা পচিয়ে, এতে কোটি বছর লাগে না। তাই এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। একবার ফুরিয়ে গেলে এগুলো সহজে ফিরে পাওয়া যায় না, তাই এদের অনবায়নযোগ্য সম্পদ বলা হয়।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদানও মিথেন। - ২. বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি?১১তম ও ৪৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. হাইড্রোজেন
- খ. নাইট্রোজেন
- গ. মিথেন
- ঘ. ইথেন
উত্তর: গ. মিথেন
গোবর, কাঁচা শাকসবজির বর্জ্য বা অন্যান্য জৈব পদার্থ বায়ুশূন্য পরিবেশে পচলে বায়োগ্যাস তৈরি হয়। অক্সিজেনহীন অবস্থায় বিশেষ ব্যাকটেরিয়া এই জৈব পদার্থ ভেঙে ফেলে। বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), যা সাধারণত প্রায় ৫০-৭০ ভাগ থাকে। এই মিথেনই জ্বলতে পারে বলে বায়োগ্যাস রান্নায় ও আলো জ্বালাতে কাজে লাগে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে গোবর পানির সঙ্গে মিশিয়ে একটি বদ্ধ চুল্লিতে (ডাইজেস্টার) রাখা হয়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক খামারি এভাবে রান্নার জ্বালানি পাচ্ছেন।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডও থাকে (প্রায় ২৫-৪৫ ভাগ), সঙ্গে সামান্য হাইড্রোজেন সালফাইড, নাইট্রোজেন ও জলীয় বাষ্প।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদানও মিথেন।
বায়োগ্যাস তৈরির পরে যে অবশিষ্ট থাকে, তা উন্নতমানের জৈব সার। - ৩. নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসের একটি উদাহরণ হলো—১০তম বিসিএস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. পারমাণবিক জ্বালানি
- খ. পীট কয়লা
- গ. ফুয়েল সেল
- ঘ. সূর্য
উত্তর: ঘ. সূর্য
যে শক্তির উৎস ব্যবহার করলেও শেষ হয়ে যায় না বা অল্প সময়ে আবার তৈরি হয়, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলে। সূর্য এমন উৎস, কারণ সৌরশক্তি আরও কোটি কোটি বছর ধরে পাওয়া যাবে। পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) ও পিট কয়লা সীমিত ভান্ডার থেকে আসে, ফলে এগুলো অনবায়নযোগ্য। ফুয়েল সেল শক্তির উৎস নয়, এটি শক্তি রূপান্তরের যন্ত্র।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌর, বায়ু, জোয়ার-ভাটা, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস।
অনবায়নযোগ্য শক্তি: কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস।
বাংলাদেশে সৌরশক্তির ব্যবহার বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বেড়েছে। এতে বিদ্যুৎ না থাকা এলাকায় আলো ও পাখা চালানো সম্ভব হয়েছে। - ৪. 'গ্রে-হাইড্রোজেন'-এর তুলনায় 'গ্রীন-হাইড্রোজেনের' সুবিধা হল -৫০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ হাইড্রোজেন জ্বালানি
- ক. এটি উৎপাদন করা সস্তা
- খ. এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
- গ. এটি সংরক্ষণ এবং পরিবহন করা সহজ
- ঘ. প্রতি একক আয়তনে এর শক্তি ঘনত্ব বেশি
উত্তর: খ. এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
হাইড্রোজেন উৎপাদন পদ্ধতি অনুসারে রঙের নাম পায়। গ্রে হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen) প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি হয় এবং এতে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। গ্রিন হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) তৈরি হয় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, যেমন সৌর বা বায়ু, দিয়ে পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ করে, তাই এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য। এটিই গ্রে হাইড্রোজেনের তুলনায় গ্রিন হাইড্রোজেনের প্রধান সুবিধা।
মনে রাখুন:
ব্লু হাইড্রোজেন প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি, তবে কার্বন ধরে রাখা হয়।
গ্রিন হাইড্রোজেনের উৎপাদন খরচ এখনো বেশি।
হাইড্রোজেন পুড়লে শুধু পানি তৈরি হয়। - ৫. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো -৩৮তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. নাইট্রোজেন গ্যাস
- খ. মিথেন গ্যাস
- গ. হাইড্রোজেন গ্যাস
- ঘ. কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর: খ. মিথেন গ্যাস
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)। সাধারণত মোট গ্যাসের ৮০ শতাংশের বেশি মিথেন, আর বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে মিথেনের ভাগ আরও বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশের কাছাকাছি। এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে ইথেন, প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাস থাকে। তাই এটি রান্না, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে সুবিধাজনক জ্বালানি। মিথেন গ্যাস পুড়লে বেশি ধোঁয়া হয় না, ফলে এটি কয়লা বা কাঠের তুলনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। বাংলাদেশের বেশির ভাগ বিদ্যুৎ এই গ্যাস থেকেই তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
CNG হলো সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস, যার প্রধান উপাদান মিথেন।
এলপিজি (LPG) তৈরি হয় প্রোপেন ও বিউটেন দিয়ে। - ৬. প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন কি পরিমাণ থাকে?৩৭তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. ৪০-৫০ ভাগ
- খ. ৬০-৭০ ভাগ
- গ. ৮০-৯০ ভাগ
- ঘ. ৩০-২৫ ভাগ
উত্তর: গ. ৮০-৯০ ভাগ
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), যার পরিমাণ সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। বাকি অংশে থাকে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও অন্যান্য গ্যাস। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসে মিথেনের ভাগ আরও বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশের কাছাকাছি। সিলেট, ভোলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে অনেক গ্যাসক্ষেত্র আছে। প্রাকৃতিক গ্যাস মাটির নিচে তেলের সঙ্গে কিংবা আলাদাভাবে জমা থাকে। যে গ্যাসের সঙ্গে তেলও পাওয়া যায়, তা সাধারণত ভেজা গ্যাস, আর শুধু মিথেনসমৃদ্ধ গ্যাসকে শুকনো গ্যাস বলে। বাংলাদেশের গ্যাস প্রায় শুকনো গ্যাস।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুর, যা ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাস চাপ দিয়ে তরল করলে এলএনজি এবং সংকুচিত করলে সিএনজি হয়। - ৭. CNG এর অর্থ _____।২৫তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি
- ক. কার্বনমুক্ত নতুন পরিবেশ-বান্ধব তেল
- খ. নতুন ধরনের ট্যাক্সি ক্যাব
- গ. সীসামুক্ত পেট্রোল
- ঘ. কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর: ঘ. কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস
CNG-এর পূর্ণরূপ Compressed Natural Gas, অর্থাৎ উচ্চ চাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। এর প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)। পেট্রোল ও ডিজেলের তুলনায় এটি পোড়ালে কম দূষণ হয়, তাই এটিকে তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ধরা হয়। অন্য বিকল্পগুলো CNG-এর সঠিক অর্থ প্রকাশ করে না। ঢাকার মতো শহরে গাড়িতে সিএনজি ব্যবহারের কারণে বায়ুদূষণ কিছুটা কমেছে। সিলিন্ডারে উচ্চ চাপে ভরা থাকে বলে একে সংকুচিত গ্যাস বলা হয়। এ ছাড়া সিএনজি গাড়ির ইঞ্জিনে কম কালো ধোঁয়া তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
LPG-এর পূর্ণরূপ Liquefied Petroleum Gas, যার প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। - ৮. প্রাণীর মলমূত্র থেকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়‒১৯তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. ইথেন
- খ. এমোনিয়া
- গ. মিথেন
- ঘ. বিউটেন
উত্তর: গ. মিথেন
গোবর ও প্রাণীর মলমূত্রের মতো জৈব পদার্থ অক্সিজেনের অভাবে কিছু ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়। তখন যে বায়োগ্যাস তৈরি হয়, তার প্রধান উপাদান মিথেন (Methane, CH4)। এর সঙ্গে কিছু কার্বন ডাই-অক্সাইডও থাকে। এই গ্যাস জ্বালানি হিসেবে রান্না ও আলো জ্বালাতে ব্যবহার করা যায়, আর গ্যাস তৈরির পর যে অবশিষ্ট থাকে তা ভালো জৈব সার হিসেবে কাজে লাগে।
মনে রাখুন: মিথেন একটি গ্রিনহাউস গ্যাসও, তাই বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে একে ধরে রেখে ব্যবহার করলে পরিবেশেরও উপকার হয়। - ৯. পিট কয়লার বৈশিষ্ট্য হলো—১৬তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কয়লা
- ক. মাটির অনেক গভীরে থাকে
- খ. ভিজা ও নরম
- গ. পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়
- ঘ. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
উত্তর: খ. ভিজা ও নরম
কয়লা তৈরি হয় লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ থেকে। পিট (Peat) কয়লা সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ, যখন উদ্ভিদের দেহাবশেষ পুরোপুরি কয়লায় পরিণত হয়নি। তাই এতে পানি বেশি থাকে, ফলে এটি ভেজা ও নরম। কার্বনের পরিমাণ কম বলে এর দহনক্ষমতা বা তাপ উৎপাদনও কম, অর্থাৎ অন্য কয়লার তুলনায় বেশি নয়। এই কারণে পিট কয়লা জ্বালালে ধোঁয়া বেশি হয় এবং তাপ কম পাওয়া যায়। আয়ারল্যান্ড ও রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে এখনও পিট জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলেও জলাভূমির নিচে পিট স্তর পাওয়া গেছে।
মনে রাখুন:
কার্বন বাড়ার ক্রম: পিট, লিগনাইট, বিটুমিনাস, অ্যানথ্রাসাইট।
অ্যানথ্রাসাইট সবচেয়ে উন্নত মানের কয়লা। - ১০. নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎস-৪০তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. তেল
- খ. গ্যাস
- গ. কয়লা
- ঘ. বায়োগ্যাস
উত্তর: ঘ. বায়োগ্যাস
যে শক্তির উৎস ব্যবহারের পরও আবার তৈরি হয়, তাকে নবায়নযোগ্য (Renewable) বলে। বায়োগ্যাস এমন একটি উৎস। গোবর, লতাপাতা বা জৈব বর্জ্য বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচলে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়, আর এই কাঁচামাল বারবার পাওয়া যায়। তেল, গ্যাস ও কয়লা সৃষ্টি হতে লাখ লাখ বছর লাগে, তাই একবার ফুরিয়ে গেলে আর ফেরে না। এগুলোকে অনবায়নযোগ্য উৎস বলা হয়। জৈব বর্জ্য এভাবে কাজে লাগলে পরিবেশও কিছুটা পরিষ্কার থাকে।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট চালানো হয়।
বায়োগ্যাস তৈরির পর যে অবশিষ্ট থাকে, তা জমির জন্য ভালো জৈব সার। - ১১. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?৩৩তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. সূর্যরশ্মি
- খ. পীট কয়লা
- গ. পেট্রোল
- ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর: ক. সূর্যরশ্মি
যে শক্তির উৎস ব্যবহার করলেও শেষ হয় না, বরং প্রকৃতিতে নতুন করে ফিরে আসে, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) বলে। সূর্যরশ্মি এমন একটি উৎস, কারণ সূর্য প্রতিদিন আলো ও তাপ দেয়। পীট কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel)। এগুলো সৃষ্টি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে, তাই একবার ফুরিয়ে গেলে সহজে আর ফিরে আসে না। এ ধরনের শক্তিকে অনবায়নযোগ্য বলা হয়।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয় শক্তি, জৈবগ্যাস।
অনবায়নযোগ্য শক্তি: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস। - ১২. সৌরকোষের বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব যদি এর সঙ্গে থাকে-১১তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ সৌরশক্তি
- ক. ট্রান্সফরমার
- খ. জেনারেটর
- গ. স্টোরেজ ব্যাটারি
- ঘ. ক্যাপাসিটার
উত্তর: গ. স্টোরেজ ব্যাটারি
সৌরকোষ (Solar Cell) সূর্যের আলোকশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে, তাই আলো না থাকলে রাতে এটি বিদ্যুৎ দিতে পারে না। দিনের বেলায় তৈরি বিদ্যুৎ স্টোরেজ ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা করে রাখলে রাতে সেই ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। ট্রান্সফরমার শুধু ভোল্টেজ বদলায়, আর জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, এদের কেউই বিদ্যুৎ জমিয়ে রাখে না।
মনে রাখুন:
আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরির এই ঘটনাকে আলোক-তড়িৎ (ফটোভোল্টাইক) ক্রিয়া বলে।
সৌরকোষ সাধারণত সিলিকন দিয়ে তৈরি হয় এবং সরাসরি DC বিদ্যুৎ দেয়। - ১৩. কোনটি নবায়নযোগ্য সম্পদ?৪৪তম বিসিএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. প্রাকৃতিক গ্যাস
- খ. চুনাপাথর
- গ. বায়ু
- ঘ. কয়লা
উত্তর: গ. বায়ু
যে সম্পদ ব্যবহার করলেও প্রকৃতিতে আবার তৈরি হয় বা কখনো ফুরোয় না, তাকে নবায়নযোগ্য সম্পদ (Renewable resource) বলে। বায়ু এমনই একটি সম্পদ, কারণ সূর্যের তাপে বাতাস সারাক্ষণ গতিশীল থাকে এবং এর শক্তি দিয়ে বায়ুকল ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা লক্ষ লক্ষ বছরে তৈরি হয়, তাই ফুরিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া যায় না। চুনাপাথরও খনিজ, একবার তুলে ফেললে নতুন করে তৈরি হয় না।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য সম্পদ: সূর্যের আলো, বায়ু, পানি, জোয়ার-ভাটা ও বায়োমাস।
অনবায়নযোগ্য সম্পদ: কয়লা, তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থ।
অন্যান্য চাকরির পরীক্ষা (৫০)
- ১৪. কোনটি জেট ফুয়েল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জ্বালানি
- ক. পেট্রোল
- খ. ডিজেল
- গ. কেরোসিন
- ঘ. এলপিজি
উত্তর: গ. কেরোসিন
জেট ইঞ্জিনে বাতাস সংকুচিত হয়ে জ্বালানির সঙ্গে পুড়ে প্রচণ্ড গ্যাস সৃষ্টি করে, আর সেই গ্যাস পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে বিমানকে সামনে ঠেলে দেয়। এ কাজে এমন জ্বালানি দরকার, যা আকাশের অনেক ঠান্ডায় জমে না যায় এবং সহজে ও নিয়মিতভাবে পোড়ে। এই গুণগুলো পাওয়া যায় কেরোসিনজাতীয় পরিশোধিত জ্বালানিতে, যাকে জেট ফুয়েল (Jet Fuel) বলা হয়। অপরিশোধিত খনিজ তেল পরিশোধনের সময় কেরোসিনের অংশ আলাদা করে এটি তৈরি করা হয়। পেট্রোল দ্রুত বাষ্প হয়ে যায় বলে বিমানে নিরাপদ নয়। আর ডিজেল ও এলপিজি ভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনের জ্বালানি।
মনে রাখুন:
পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়, এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas) রান্নায় ও যানবাহনে।
অপরিশোধিত তেলকে আংশিক পাতন পদ্ধতিতে বিভিন্ন জ্বালানিতে ভাগ করা হয়। - ১৫. যে যন্ত্রের সাহায্যে পানির গতি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে বলে-বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মোটরযান পরিদর্শক, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. ওয়াটার গেট
- খ. ফ্রে-টারবাইন
- গ. ওয়াটার টারবাইন
- ঘ. ওয়াটার পাম্প
উত্তর: গ. ওয়াটার টারবাইন
পানির গতিশক্তি বা বিভবশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে যে যন্ত্র, তার নাম ওয়াটার টারবাইন (Water Turbine)। উঁচু বাঁধ থেকে পানি জোরে নিচে পড়লে সেই পানি টারবাইনের ব্লেডে ধাক্কা দিয়ে তাকে ঘোরায়। টারবাইনের সঙ্গে জেনারেটর যুক্ত থাকলে সেই ঘূর্ণন থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এ কারণে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হৃদয় বলা হয় ওয়াটার টারবাইনকে। ওয়াটার পাম্প উল্টো কাজ করে, অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি খরচ করে পানিকে ওপরে তোলে।
মনে রাখুন:
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শক্তির রূপান্তর: বিভবশক্তি, গতিশক্তি, যান্ত্রিক শক্তি, তড়িৎশক্তি।
বাংলাদেশের কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত। - ১৬. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহৃত হবে?কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক শক্তি
- ক. প্লুটোনিয়াম
- খ. ইউরেনিয়াম
- গ. ডিউটোরিয়াম
- ঘ. পলোনিয়াম
উত্তর: খ. ইউরেনিয়াম
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিশন (Fission) বিক্রিয়ায় শক্তি তৈরি হয়। এই বিক্রিয়ার জন্য সাধারণত ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, কারণ এর ভারী নিউক্লিয়াস নিউট্রনের আঘাতে ভেঙে প্রচুর তাপ ছাড়ে। পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত রূপপুর কেন্দ্রেও জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ব্যবহার হবে। প্লুটোনিয়াম মূলত চুল্লির উপজাত হিসেবে তৈরি হয়, আর ডিউটোরিয়াম হাইড্রোজেনের আইসোটোপ, যা ফিউশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরেনিয়াম প্রকৃতিতে আকরিক হিসেবে পাওয়া যায় এবং একে শোধন করে চুল্লির জ্বালানি দণ্ডে ভরা হয়। কেন্দ্রের ব্যবহৃত জ্বালানি পরবর্তীতে নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য সরবরাহকারী দেশে ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
মনে রাখুন:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রোসাটম (Rosatom)।
এখানে VVER-1200 ধরনের দুটি ইউনিট নির্মিত হচ্ছে, প্রতিটির ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। - ১৭. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো—কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পারমাণবিক শক্তি
- ক. Uranium-235
- খ. Uranium-238
- গ. Uranium-233
- ঘ. Plutonium-239
উত্তর: ক. Uranium-235
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের যে আইসোটোপটি সহজে ভেঙে শক্তি দেয়, সেটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235)। প্রকৃতির ইউরেনিয়ামে এর পরিমাণ মাত্র প্রায় ০.৭ শতাংশ, তাই চুল্লির জন্য একে প্রক্রিয়াজাত করে (সমৃদ্ধ করে) বাড়াতে হয়। ধীরগতির নিউট্রন U-235-এর নিউক্লিয়াসে আঘাত করলে সেটি ভেঙে যায় এবং আরও নিউট্রন ও প্রচুর তাপ ছাড়ে, ফলে শৃঙ্খল বিক্রিয়া চলতে থাকে। রূপপুর কেন্দ্রে এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।
মনে রাখুন:
ইউরেনিয়াম-২৩৮ নিজে সহজে ফিশন করে না, চুল্লিতে নিউট্রন শুষে এটি প্লুটোনিয়াম-২৩৯ হতে পারে।
রূপপুর কেন্দ্রটি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এবং রাশিয়ার রোসাটম এটি নির্মাণ করছে। - ১৮. Biogas উৎপাদনের প্রধান উৎস কী?স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, এস্টিমেটর (তড়িৎ), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. human waste
- খ. wet cow dung
- গ. poultry waste
- ঘ. সবকটি
উত্তর: ঘ. সবকটি
বায়োগ্যাস মূলত জৈব বর্জ্য পচে তৈরি হওয়া গ্যাস, যার প্রধান উপাদান মিথেন। ভেজা গোবর, মানুষের মল-মূত্র ও হাঁস-মুরগির বর্জ্য সবই জৈব পদার্থ, তাই এগুলোকে বায়োগ্যাস প্লান্টে ঢুকিয়ে বায়ুহীন অবস্থায় রাখলে অণুজীব সেগুলোকে পচিয়ে গ্যাস তৈরি করে। তিনটি উৎসই ব্যবহার করা যায়। এ কারণে সবগুলোই সঠিক উত্তর। মজার ব্যাপার হলো, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট থেকেও বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসে প্রায় ৬০ ভাগ মিথেন থাকে।
প্লান্ট থেকে পাওয়া অবশিষ্ট স্লাজ উন্নত জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
বায়োগ্যাসে মিথেনের পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও সামান্য হাইড্রোজেন সালফাইড থাকে। - ১৯. কোনটি শক্তির অনবায়ন যোগ্য উৎস?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুপারিনটেনডেন্ট, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জ্বালানির উৎস
- ক. বায়ু
- খ. পানিস্রোত
- গ. সৌরশক্তি
- ঘ. কয়লা
উত্তর: ঘ. কয়লা
যে শক্তির উৎস ব্যবহারে শেষ হয়ে যায় এবং সহজে ফিরে আসে না, তাকে অনবায়নযোগ্য উৎস বলে। কয়লা এমন একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা মাটির নিচে লক্ষ লক্ষ বছরে তৈরি হয়েছে। বায়ু, পানিস্রোত ও সূর্যের আলো প্রকৃতিতে বারবার পাওয়া যায়, তাই এগুলো নবায়নযোগ্য।
মনে রাখুন:
অনবায়নযোগ্য: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস।
নবায়নযোগ্য: সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ, জৈব জ্বালানি।
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি আছে।
জলবিদ্যুৎ পানির স্রোতে টারবাইন ঘুরিয়ে তৈরি হয়, বাংলাদেশে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এর উদাহরণ।
বাংলাদেশের প্রধান অনবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাস, যা সিলেটের হরিপুর থেকে প্রথম পাওয়া যায়। - ২০. Green Building কী?স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সবুজ ভবন
- ক. Building with green garden
- খ. Green colour-এর building
- গ. Environment friendly building
- ঘ. Green tree covered building
উত্তর: গ. Environment friendly building
Green building বা সবুজ ভবন বলতে বোঝায় এমন ভবন, যা নকশা ও নির্মাণে পরিবেশের ক্ষতি কমায়। এতে কম বিদ্যুৎ ও পানি খরচ হয়, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস বেশি আসে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ শুধু সবুজ রঙ বা গাছে ঢাকা ভবন নয়। অর্থাৎ ভবনটি Environment friendly building। সবুজ ভবনে সৌর প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কম বিদ্যুতে চলা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
সবুজ ভবনের রেটিং ব্যবস্থার নাম LEED।
বাংলাদেশে অনেক সবুজ কারখানা LEED সনদ পেয়েছে।
LEED-এর পুরো নাম Leadership in Energy and Environmental Design। - ২১. বায়োগ্যাসে প্রধানত কী থাকে?স্থানীয় সরকার বিভাগ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. মিথেন
- ঘ. ইথিলিন
উত্তর: গ. মিথেন
বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, কাদা ও জৈব বর্জ্য বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচে। অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া এই পচন ঘটায়, আর তাতে প্রধানত মিথেন (CH4) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যেটি জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। এর সঙ্গে কিছু কার্বন ডাই-অক্সাইডও মিশে থাকে। বায়োগ্যাস তৈরির জন্য ডাইজেস্টার নামের একটি বন্ধ চেম্বারে বর্জ্য রাখা হয়।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসে মিথেন প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ।
প্রাকৃতিক গ্যাসেরও প্রধান উপাদান মিথেন।
বাংলাদেশের গ্রামে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রান্নার জ্বালানি জোগাচ্ছে।
বায়োগ্যাস পুড়লে ধোঁয়া কম হয়, তাই কাঠের চুলার চেয়ে এটি ঘর ও পরিবেশের জন্য ভালো।
বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে গোবরের সঙ্গে পানি মিশিয়ে স্লারি বানিয়ে ঢালা হয়। - ২২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?কোস্ট গার্ড, কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ফায়ার সার্ভিস, নার্স ও ফোরম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. প্রাকৃতিক গ্যাস
- খ. তেল
- গ. কয়লা
- ঘ. সৌরশক্তি
উত্তর: ঘ. সৌরশক্তি
যে জ্বালানির উৎস ব্যবহার করলেও শেষ হয়ে যায় না, বরং প্রকৃতিতে বারবার তৈরি হয়, তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলে। সূর্য প্রতিদিনই আলো ও তাপ দেয়, তাই সৌরশক্তি নবায়নযোগ্য। প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ও কয়লা সৃষ্টি হতে লাখ লাখ বছর লাগে, তাই এগুলো অনবায়নযোগ্য।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য উৎস: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জৈবগ্যাস।
অনবায়নযোগ্য উৎস: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম।
জোয়ার-ভাটা ও ভূ-তাপ থেকেও নবায়নযোগ্য শক্তি পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের গ্রামে সোলার হোম সিস্টেম বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।
সৌর প্যানেল সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে, যা আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার উদাহরণ।
বায়ুকল বাতাসের শক্তিতে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। - ২৩. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কোনটি?চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ক্যামেরাম্যান, ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. সূর্য রশ্মি
- খ. পীটকয়লা
- গ. পেট্রোল
- ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর: ক. সূর্য রশ্মি
যে শক্তির উৎস ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায় না, বরং প্রকৃতিতে বারবার ফিরে আসে, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy) বলে। সূর্যের আলো এমনই একটি উৎস। সূর্য থেকে প্রতিদিন আমরা বিপুল পরিমাণ শক্তি পাই, যা সোলার প্যানেলে বিদ্যুতে রূপ নিতে পারে। পিট কয়লা, পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে জমা হওয়া জীবাশ্ম জ্বালানি। একবার পুড়িয়ে ফেললে এগুলো সহজে ফিরে পাওয়া যায় না, তাই এগুলো অনবায়নযোগ্য।
মনে রাখুন: নবায়নযোগ্য উৎসের উদাহরণ হলো সূর্যের আলো, বায়ু, জলপ্রবাহ, জোয়ার-ভাটা ও জৈবগ্যাস। - ২৪. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে—বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপসহকারী প্রকৌশলী (ব্রিজ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. কার্বন মনোক্সাইড
- গ. মিথেন
- ঘ. হাইড্রোজেন
উত্তর: গ. মিথেন
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)। সাধারণত গ্যাসের বড় অংশই মিথেন, সঙ্গে সামান্য ইথেন, প্রোপেন ও বিউটেনও থাকে। আমাদের দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ, তাই এই গ্যাসকে বেশ বিশুদ্ধ বলা হয়। নাইট্রোজেন, কার্বন মনোক্সাইড বা হাইড্রোজেন এতে প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে না।
মনে রাখুন:
মিথেনকে জলাভূমির গ্যাস বা মার্শ গ্যাসও বলে, কারণ পচা জৈব পদার্থ থেকে এটি তৈরি হয়।
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুর, ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৬২ সালে।
সিএনজি (CNG) মূলত সংকুচিত মিথেন, আর এলপিজি (LPG) তৈরি হয় প্রোপেন ও বিউটেন দিয়ে। - ২৫. প্রাকৃতিক গ্যাসে কোন শক্তি সঞ্চিত থাকে?বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (সাধারণ), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শক্তির উৎস
- ক. তাপশক্তি
- খ. আলোকশক্তি
- গ. রাসায়নিক শক্তি
- ঘ. সৌরশক্তি
উত্তর: গ. রাসায়নিক শক্তি
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), যার অণুতে রাসায়নিক বন্ধনের মধ্যে শক্তি জমা থাকে। তাই প্রাকৃতিক গ্যাসে রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত থাকে। গ্যাস পোড়ালে এই শক্তি তাপশক্তি ও আলোকশক্তিতে রূপ নেয়, আর সেই তাপ দিয়ে আমরা রান্না করি বা বিদ্যুৎ তৈরি করি। এই গ্যাস লক্ষ লক্ষ বছর আগের জীবের দেহাবশেষ থেকে মাটির নিচে তৈরি হয়েছে, তাই একে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়।
মনে রাখুন:
সৌরশক্তি সূর্য থেকে আসে এবং নবায়নযোগ্য, কিন্তু গ্যাসে জমা থাকা শক্তি সৌরশক্তি নয়।
কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও খাবারেও রাসায়নিক শক্তি জমা থাকে।
বাংলাদেশে সবার আগে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুর (১৯৫৫)। - ২৬. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান নিচের কোনটি?পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সহকারী সাইফার কর্মকর্তা, ২০১৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. N₂ গ্যাস
- খ. H₂ গ্যাস
- গ. CH₄ গ্যাস
- ঘ. CH₃ গ্যাস
উত্তর: গ. CH₄ গ্যাস
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৯০ ভাগের বেশি অংশই মিথেন (CH₄)। মিথেন সহজে জ্বলে এবং এর তাপ উৎপাদন ক্ষমতা বেশি, তাই এটি রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশেও গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ বেশি।
মনে রাখুন:
CH₃ নামে স্থায়ী কোনো গ্যাস নেই, এটি কেবল একটি মূলক।
এলপিজি (LPG) মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ।
মিথেনকে জলাভূমির গ্যাস বা মার্শ গ্যাসও বলে, কারণ এটি পচা জৈব পদার্থ থেকে তৈরি হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাসকে চাপ দিয়ে তরল করলে তাকে এলএনজি (LNG) বলে, আর সংকুচিত গ্যাসকে সিএনজি (CNG) বলে, যা যানবাহনে ব্যবহার হয়। - ২৭. বায়োগ্যাসের কোন উপাদান জ্বালানির কাজে লাগে?জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ২০১৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. কার্বন ডাই-অক্সাইড
- খ. অক্সিজেন
- গ. মিথেন
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: গ. মিথেন
গোবর বা জৈব বর্জ্য বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচলে জীবাণুর কাজে বায়োগ্যাস (Biogas) তৈরি হয়। এই গ্যাসে সবচেয়ে বেশি থাকে মিথেন (CH₄), প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, আর অল্প পরিমাণে থাকে কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি। মিথেন সহজে পুড়ে তাপ দেয়, তাই এটিই জ্বালানির কাজে লাগে। কার্বন ডাই-অক্সাইড আগুন নিভিয়ে দেয়, অক্সিজেন পোড়াতে সাহায্য করে কিন্তু নিজে জ্বলে না, আর নাইট্রোজেন জ্বলেও না, জ্বলতেও সাহায্য করে না।
মনে রাখুন:
মিথেনকে জলাভূমির গ্যাসও (Marsh gas) বলা হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, আর বাংলাদেশের রান্নার গ্যাস প্রধানত এটিই।
বায়োগ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট ঘন তরল বা স্লারি উত্তম জৈব সার হিসেবে ব্যবহার হয়। - ২৮. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. কার্বন মনোক্সাইড
- ঘ. মিথেন
উত্তর: ঘ. মিথেন
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH4)। বাংলাদেশের গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ অনেক বেশি, প্রায় ৯০ শতাংশের ওপরে। বাকি অংশে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও সামান্য নাইট্রোজেন থাকে। মিথেন সহজে পোড়ে এবং কম ধোঁয়া দেয়, তাই এটি তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি।
মনে রাখুন:
সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসকে CNG বলে।
এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন।
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুরে ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়। এখানকার গ্যাস প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা ও রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাস একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, তাই এটি অনবায়নযোগ্য।
বাংলাদেশের বড় গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাসটিলা উল্লেখযোগ্য। - ২৯. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), হোম ইকোনমিস্ট, ২০২৪ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গবেষণা সহকারী/সহকারী কাস্টোডিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. তেল
- খ. সমুদ্রের ঢেউ
- গ. গ্যাস
- ঘ. কয়লা
উত্তর: খ. সমুদ্রের ঢেউ
যে শক্তির উৎস ব্যবহার করলেও শেষ হয় না এবং প্রকৃতিতে বারবার ফিরে আসে, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) বলে। সমুদ্রের ঢেউ বাতাসের কারণে সারাক্ষণ তৈরি হচ্ছে, তাই এর শক্তি নবায়নযোগ্য। অন্যদিকে তেল, গ্যাস ও কয়লা মাটির নিচে কোটি কোটি বছরে তৈরি হয়েছে, একবার ফুরিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না। এগুলো অনবায়নযোগ্য।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য উৎস: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জোয়ার-ভাটা, ভূতাপীয় শক্তি, বায়োমাস।
অনবায়নযোগ্য উৎস: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম)।
সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ার-ভাটা কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এ সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে। - ৩০. Which country has launched the first commercial bio-fuel rocket?তিতাস গ্যাস, নিয়োগ পরীক্ষা (১০ সেপ্টেম্বর), ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জৈব জ্বালানি
- ক. UK
- খ. China
- গ. France
- ঘ. USA
- ঙ. None
উত্তর: ঘ. USA
২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের ব্লুশিফট অ্যারোস্পেস (bluShift Aerospace) নামের একটি প্রতিষ্ঠান জৈব জ্বালানিচালিত (Bio-fuel) বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ করে। রকেটটির নাম ছিল স্টারডাস্ট ১.০। এতে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে খামারে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জৈব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়, ফলে পরিবেশ দূষণ অনেক কম হয়। জৈব জ্বালানি ফুরিয়ে যায় না, কারণ উদ্ভিদ আবার জন্মানো সম্ভব। বাণিজ্যিক রকেট বলতে বোঝায় যে রকেটটি গবেষণার বদলে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য বানানো হয়েছে।
মনে রাখুন: জৈব জ্বালানি তৈরি হয় উদ্ভিদ বা প্রাণিজ উৎস থেকে, যেমন বায়োডিজেল ও ইথানল। - ৩১. নিচের কোনটি সূর্যের আলোকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে?প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সহকারী শিক্ষক (৪র্থ ধাপ, সেট ২৮১৫), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সৌরশক্তি
- ক. জেনারেটর
- খ. সূর্যের আলো
- গ. সৌর প্যানেল
- ঘ. গ্যাসের চুলা
উত্তর: গ. সৌর প্যানেল
সৌর প্যানেলে (Solar Panel) অনেকগুলো সৌরকোষ বা সোলার সেল (Solar Cell) পাশাপাশি বসানো থাকে। এই কোষগুলো সাধারণত সিলিকন দিয়ে তৈরি, যার ওপর সূর্যের আলো পড়লে ইলেকট্রন চলতে শুরু করে এবং সরাসরি বিদ্যুৎ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে ফটোভোলটাইক (Photovoltaic) প্রক্রিয়া বলে। জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে, সূর্যের আলোকে নয়। সৌর প্যানেলের বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমিয়ে রাখলে রাতেও ব্যবহার করা যায়।
মনে রাখুন:
সৌরকোষ আলোক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
সৌরশক্তি নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব, তাই বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেম জনপ্রিয়।
সৌরকোষ থেকে সরাসরি প্রবাহ বা DC বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। - ৩২. নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ নয় কোনটি?CAAB'র এয়ারপোর্ট ফায়ার লিডার, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. জলবিদ্যুৎ
- খ. বায়োমাস
- গ. জিও থার্মাল
- ঘ. নিউক্লিয়ার
উত্তর: ঘ. নিউক্লিয়ার
যে শক্তির উৎস ব্যবহারের পরেও প্রকৃতি থেকে বারবার পাওয়া যায়, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলে। জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস ও ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal energy) সবই এর উদাহরণ। কিন্তু নিউক্লিয়ার শক্তি ইউরেনিয়ামের মতো সীমিত খনিজ জ্বালানির ওপর নির্ভর করে, যা একবার ফুরিয়ে গেলে আর তৈরি হয় না। তাই এটি নবায়নযোগ্য শক্তি নয়। এই শক্তিগুলো ব্যবহার করলে পরিবেশের দূষণও অনেক কম হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের একমাত্র বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে।
ভূ-তাপীয় শক্তি পাওয়া যায় পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ থেকে।
বায়োমাস হলো জৈব বর্জ্য, কাঠ ও গোবর থেকে পাওয়া জ্বালানি। - ৩৩. কোনটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়?বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অফিস সহকারী, ২০২৫ ও বিআরইবি-এর সহকারী সচিব, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. সৌরশক্তি
- খ. জলবিদ্যুৎ
- গ. বায়ুশক্তি
- ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর: ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রাকৃতিক গ্যাস লক্ষ লক্ষ বছর আগের উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মাটির নিচে চাপা পড়ে তৈরি হয়েছে। একবার ব্যবহার করলে এর ভাণ্ডার আবার সহজে ভরে ওঠে না, তাই এটি নবায়নযোগ্য নয়। সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তি সূর্যের তাপ থেকে বারবার পাওয়া যায়, তাই এগুলো নবায়নযোগ্য। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস সাবধানে ব্যবহার করা দরকার। সৌর ও বায়ু শক্তি পরিবেশের জন্যও তুলনায় ভালো।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের বিদ্যুতের একটি বড় অংশ এখনও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসে।
কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এ তিনটিকে একত্রে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
পেট্রোলিয়ামও একই কারণে অনবায়নযোগ্য। - ৩৪. শক্তির মূল উৎস কী?জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (মানবিক) ভর্তি, ২০২৪-২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শক্তির উৎস
- ক. তাপ
- খ. আলো
- গ. সূর্য
- ঘ. বিদ্যুৎ
উত্তর: গ. সূর্য
পৃথিবীর প্রায় সব শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্যের ভেতরে হাইড্রোজেন মিলে হিলিয়াম হওয়ার সময় যে বিপুল শক্তি বের হয়, তা আলো ও তাপ হয়ে পৃথিবীতে পৌঁছায়। গাছ সেই আলো দিয়ে সালোকসংশ্লেষণ করে খাদ্য বানায়, আর সেই খাদ্য থেকেই আমরা শক্তি পাই। কয়লা, তেল ও গ্যাসও আদিকালের উদ্ভিদ-প্রাণীর মধ্যে জমা থাকা সৌরশক্তিরই রূপ। এমনকি বাতাস ও বৃষ্টির পেছনেও সূর্যের তাপ কাজ করে।
মনে রাখুন:
তাপ, আলো ও বিদ্যুৎ শক্তির রূপ, কিন্তু মূল উৎস নয়।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড লাগে। - ৩৫. বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন শক্তি ব্যবহৃত হয়?পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির নিরাপত্তা প্রহরী, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বিদ্যুৎ উৎপাদন
- ক. সৌর শক্তি
- খ. জীবাশ্ম জ্বালানি শক্তি
- গ. বায়ু শক্তি
- ঘ. সবগুলো
উত্তর: ঘ. সবগুলো
বিদ্যুৎ তৈরির জন্য অনেক ধরনের শক্তি ব্যবহার করা যায়। কয়লা, গ্যাস বা তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘোরানো হয়। সৌরকোষ সরাসরি সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে বদলে দেয়, আর বায়ুকল বাতাসের গতিশক্তি থেকে জেনারেটর চালায়। এভাবে সবগুলো শক্তিই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে। আমাদের দেশে বিদ্যুতের বড় অংশ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকেই আসে, তবে সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে।
মনে রাখুন:
জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাস।
রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। - ৩৬. সৌরকোষে ব্যবহৃত হয়-প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক (গামা), ২০১৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সৌরশক্তি
- ক. ক্যাডমিয়াম
- খ. অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল
- গ. সিলিকন
- ঘ. ফসফরাস
উত্তর: গ. সিলিকন
সৌরকোষ (Solar cell) সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। এই কোষ তৈরি হয় অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) পদার্থ সিলিকন (Si) দিয়ে। আলো পড়লে সিলিকনের ইলেকট্রন চঞ্চল হয়ে ওঠে এবং তড়িৎ প্রবাহ তৈরি করে। একে আলোক-তড়িৎ (Photovoltaic) প্রভাব বলে। সিলিকন বালি থেকে পাওয়া যায়, তাই সৌরকোষ বানানো তুলনামূলক সহজ। সূর্যের আলো যত উজ্জ্বল হয়, সৌরকোষ তত বেশি বিদ্যুৎ দেয়। অনেক সৌরকোষ পাশাপাশি জুড়ে সৌর প্যানেল বানানো হয়।
মনে রাখুন:
সৌরকোষ থেকে সরাসরি ডিসি (DC) বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
কম্পিউটারের চিপও সিলিকন দিয়ে তৈরি।
বাংলাদেশের অনেক গ্রামে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার হয়। - ৩৭. বায়োগ্যাসে প্রধানত কি থাকে?/ What is the main component of Bigoas?বিডা-এর সহকারী পরিচালক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. মিথেন
- খ. ইথেন
- গ. ইথিলিন
- ঘ. সিলিকন
উত্তর: ক. মিথেন
বায়োগ্যাসে প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄)। গোবর বা জৈব বর্জ্য বায়ুশূন্য অবস্থায় পচলে মিথেন-উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া সেখানে কাজ করে এবং এই গ্যাস তৈরি করে। মিথেন সহজে পোড়ে এবং ধোঁয়া কম হয়, তাই রান্নায় ভালো জ্বালানি। এতে কার্বন ডাই-অক্সাইডও কিছু থাকে। ইথেন বা ইথিলিন এতে প্রধানত থাকে না। সিলিকন তো একটি কঠিন অধাতব মৌল। পরিষ্কার ভাষায়, বায়োগ্যাসের জ্বলনশীলতা মূলত মিথেনের কারণেই। সুতরাং বায়োগ্যাস মানে মূলত মিথেনসমৃদ্ধ গ্যাসই।
মনে রাখুন:
মিথেনকে জলাভূমির গ্যাস (Marsh gas) বা গোবর গ্যাসও বলা হয়।
মিথেন একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে বেশি তাপ ধরে রাখে। - ৩৮. বায়োগ্যাসের শতকরা কতভাগ মিথেন থাকে?CAAB-এর নিরাপত্তা অপারেটর, ২০২১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. ৫০-৬০
- খ. ৬০-৭০
- গ. ৭০-৮০
- ঘ. ৮০-৯০
উত্তর: খ. ৬০-৭০
বায়োগ্যাস হলো বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যার সবচেয়ে বড় অংশ মিথেন (CH₄), সাধারণত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। বাকি অংশে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে এবং খুব অল্প পরিমাণে হাইড্রোজেন সালফাইড, নাইট্রোজেন ও জলীয় বাষ্প থাকে। মিথেনের পরিমাণ যত বেশি হয়, গ্যাস তত ভালো জ্বলে। কাঁচামাল বা প্ল্যান্টের পরিবেশ ভেদে এই অনুপাত সামান্য বদলাতে পারে। কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি থাকলে গ্যাসের তাপ কমে যায়, তাই সেটি ছেঁকে সরানো হলে গ্যাসের মান ভালো হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের প্রধান কাঁচামাল গোবর।
বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট স্লারি জৈব সার হিসেবে কাজে লাগে। - ৩৯. কোনটি বায়োগ্যাসের প্রধান কাঁচামাল?DSS'র উপসহকারী পরিচালক, ২০০৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. গোবর ও পানি
- খ. খড়কুটা ও পানি
- গ. কয়লা ও পানি
- ঘ. মাটি ও পানি
উত্তর: ক. গোবর ও পানি
বায়োগ্যাস তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো গোবর ও পানি। গোবর পানির সঙ্গে মিশিয়ে বায়ুশূন্য একটি চেম্বারে রাখলে অক্সিজেনহীন পরিবেশে বেঁচে থাকে এমন ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ ভেঙে মিথেন তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে অবায়বীয় পচন বলে। কয়লা বা মাটির সঙ্গে এই গ্যাস তৈরি হয় না। খড়কুটাও ব্যবহার করা যায়, তবে এর পচন ধীর, তাই প্রধান কাঁচামাল গোবরই। প্ল্যান্টে সাধারণত গোবর ও পানি মিশিয়ে একটি ঘন কাদার মতো মিশ্রণ বানানো হয়, আর সেটি একটি বন্ধ চৌবাচ্চায় কয়েক সপ্তাহ ধরে পচতে থাকে।
মনে রাখুন:
হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, কচুরিপানা ও শহরের জৈব বর্জ্য থেকেও বায়োগ্যাস হয়। - ৪০. বায়োগ্যাস তৈরির পর যে অবশিষ্টাংশ থাকে তা-বাংলাদেশ টেলিভিশন (গ্রেড-২), ২০০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
- খ. হাঁস-মুরগীর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
- গ. জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়
- ঘ. কোনো কাজে লাগে না
উত্তর: ক. সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে গ্যাস তৈরি হয়ে গেলে ভেতরে যে তরল বা কাদাটে অবশিষ্টাংশ (স্লারি) থাকে, তা অত্যন্ত উপকারী জৈব সার। এতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম আগের মতোই থাকে, কিন্তু গন্ধ কমে যায় আর আগাছার বীজও নষ্ট হয়। তাই এই স্লারি জমিতে দিলে ফসল ভালো হয়। এটি হাঁস-মুরগির খাবার নয়, আবার ফেলে দেওয়ার মতোও নয়। কাজেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে একসঙ্গে জ্বালানি ও সার দুটোই পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্ল্যান্টের কোনো অংশই অপচয় হয় না।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাস ব্যবহার করলে বনের কাঠ পোড়ানো কমে, ফলে পরিবেশ রক্ষা পায়।
স্লারি রাসায়নিক সারের একটি ভালো বিকল্প। - ৪১. নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel)?পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি. টেকনিশিয়ান, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম জ্বালানি
- ক. কয়লা
- খ. তেল
- গ. প্রাকৃতিক গ্যাস
- ঘ. উপরের সবগুলি
উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলি
যে জ্বালানি লক্ষ লক্ষ বছর আগে মরে যাওয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ মাটির নিচে চাপা পড়ে তাপ ও চাপে তৈরি হয়েছে, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil fuel) বলে। কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস, তিনটিই এভাবে তৈরি। এদের সবগুলোই কার্বন ও হাইড্রোজেনের যৌগ। এ জন্যই পোড়ালে এরা প্রচুর তাপ দেয় আর কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। এসব জ্বালানি তৈরি হতে সময় লেগেছে কোটি কোটি বছর, অথচ আমরা তা মাত্র কয়েক শ বছরে ফুরিয়ে ফেলছি।
মনে রাখুন:
জীবাশ্ম জ্বালানি অনবায়নযোগ্য, একবার ফুরিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া যায় না।
এদের পোড়ালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। - ৪২. নিচের কোনটি Fossil fuel নয়?পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির কারিগরি সহায়ক, ২০২৪ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম জ্বালানি
- ক. পেট্রোলিয়াম
- খ. কয়লা
- গ. প্রাকৃতিক গ্যাস
- ঘ. ইউরেনিয়াম
উত্তর: ঘ. ইউরেনিয়াম
জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil fuel) তৈরি হয় বহু লক্ষ বছর আগের উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে। পেট্রোলিয়াম, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস, এ তিনটিই সে রকম। কিন্তু ইউরেনিয়াম (U) একটি তেজস্ক্রিয় ধাতু, যা আকরিক থেকে পাওয়া যায়। এর নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটিয়ে পারমাণবিক শক্তি আসে, জৈব পদার্থের পচন থেকে নয়। তাই ইউরেনিয়াম জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, এটি পারমাণবিক জ্বালানি। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি জৈব উৎস থেকে আসে, ইউরেনিয়াম আসে খনিজ আকরিক থেকে।
মনে রাখুন:
ইউরেনিয়াম-২৩৫ পারমাণবিক চুল্লির প্রধান জ্বালানি।
বাংলাদেশের রূপপুর কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহার হবে। - ৪৩. 'আইভরি ব্ল্যাক' কি?রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (লোকপ্রশাসন বিভাগ) ভর্তি, ২০০৫-০৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কয়লা
- ক. রক্ত কয়লা
- খ. সক্রিয় কয়লা
- গ. কালো রঙ
- ঘ. অস্থিজ কয়লা
উত্তর: ঘ. অস্থিজ কয়লা
আইভরি ব্ল্যাক (Ivory black) আসলে হাড় বা দাঁত পুড়িয়ে তৈরি এক ধরনের কালো কয়লা, যাকে অস্থিজ কয়লা বা বোন চার (Bone char) বলা হয়। প্রাণীর হাড়কে বায়ু ছাড়া তাপ দিলে এটি পাওয়া যায়। আগে হাতির দাঁত দিয়ে এটি তৈরি হতো বলে এই নাম। এর প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম ফসফেটের সঙ্গে কার্বন। রঙিন পদার্থ শোষণ করতে পারে বলে চিনি পরিশোধনে একে ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
সক্রিয় কয়লা (Activated carbon) তৈরি হয় নারিকেলের খোসা বা কাঠ থেকে।
এটি গ্যাস মুখোশ ও পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত হয়। - ৪৪. কয়লার মূল উপাদান কোনটি?৬ষ্ঠ বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কয়লা
- ক. অক্সিজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: গ. কার্বন
কয়লা তৈরি হয়েছে মাটির নিচে চাপা পড়া প্রাচীন উদ্ভিদ থেকে। উদ্ভিদের দেহ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তাপ ও চাপে ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কালো পদার্থে পরিণত হয়েছে। তাই কয়লার মূল উপাদান কার্বন (C)। এর সঙ্গে সামান্য হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও সালফারও থাকে। কয়লা পোড়ালে কার্বন অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে এবং প্রচুর তাপ ছাড়ে। কয়লায় কার্বনের পরিমাণ যত বেশি, কয়লা তত ভালো মানের হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের কয়লা খনি আছে বড়পুকুরিয়া, জামালগঞ্জ ও দীঘিপাড়ায়।
দেশের একমাত্র চালু কয়লা খনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায়। - ৪৫. কাঠ ও কয়লা প্রধানত কি?৪র্থ বিজেএস · বইয়ের অনুচ্ছেদ কয়লা
- ক. অক্সিজেন
- খ. হাইড্রোজেন
- গ. কার্বন
- ঘ. ক্লোরিন
উত্তর: গ. কার্বন
কাঠ ও কয়লা দুটিই উদ্ভিদজাত পদার্থ। কাঠ গাছের দেহ, আর কয়লা মাটির নিচে চাপা পড়া প্রাচীন গাছেরই রূপান্তর। উদ্ভিদের দেহ মূলত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। কয়লায় সময়ের সঙ্গে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন কমে যায়, তাই কার্বনের ভাগ বেড়ে যায়। কাঠ ও কয়লা দুটিতেই প্রধানত কার্বন থাকে এবং পোড়ালে এরা কার্বন ডাই-অক্সাইড দেয়। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের সেলুলোজও কার্বনের যৌগ, তাই কাঠ পুড়লেও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
মনে রাখুন:
কাঠকে বাতাস ছাড়া পুড়িয়ে কাঠকয়লা (Charcoal) তৈরি করা হয়।
কাঠকয়লায় কার্বনের ভাগ কাঠের চেয়ে অনেক বেশি। - ৪৬. কার্বন সবচেয়ে বেশি আছে কোন কয়লায়?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (তিতাস), ২০১০ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কয়লা
- ক. লিগনাইট
- খ. বিটুমিনাস
- গ. অ্যানথ্রাসাইট
- ঘ. পিট
উত্তর: গ. অ্যানথ্রাসাইট
কয়লাকে কার্বনের পরিমাণ অনুযায়ী পিট, লিগনাইট, বিটুমিনাস ও অ্যানথ্রাসাইট এই চার ভাগে ভাগ করা হয়। উদ্ভিদ যত বেশি তাপ ও চাপে পুরোনো হয়, কয়লায় কার্বনের ভাগ তত বাড়ে। সবচেয়ে পুরোনো ও কঠিন কয়লা অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite), যাতে কার্বন প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ। তাই এটি সবচেয়ে ভালো মানের কয়লা এবং এর তাপ উৎপাদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। লিগনাইট তুলনায় নরম ও কম তাপ দেয়, আর পিট একেবারে প্রাথমিক স্তরের কয়লা।
মনে রাখুন:
কার্বনের ভাগ: পিট < লিগনাইট < বিটুমিনাস < অ্যানথ্রাসাইট।
বাংলাদেশের কয়লা বিটুমিনাস শ্রেণির। - ৪৭. কোন মৌলটির উপস্থিতি কয়লার মান নষ্ট করে?MoFL-এর মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা, ২০২৬ · বইয়ের অনুচ্ছেদ কয়লা
- ক. নাইট্রোজেন
- খ. ফসফরাস
- গ. সালফার
- ঘ. অক্সিজেন
উত্তর: গ. সালফার
কয়লার ভেতর সালফার (S) থাকলে তা কয়লার মান নষ্ট করে। কারণ কয়লা পোড়ালে সালফার অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাস বাতাসে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়, যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরায় এবং মানুষের শ্বাসকষ্ট বাড়ায়। তাই কয়লায় সালফার যত কম থাকে, কয়লার মান তত ভালো। কয়লা পুড়ে বাতাসের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিডও তৈরি করে, যা ধাতু ও দালানকোঠার ক্ষতি করে।
মনে রাখুন:
অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান কারণ সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড।
কয়লার মানের আরেকটি পরিমাপ হলো এর ছাইয়ের পরিমাণ, ছাই কম হলে কয়লা ভালো। - ৪৮. তিতাস গ্যাসের মুখ্য উপাদান-পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর পরিবারকল্যাণ প্রশিক্ষার্থী, ২০১৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. ইথেন
- খ. মিথেন
- গ. প্রপেন
- ঘ. নাইট্রোজেন
উত্তর: খ. মিথেন
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত। এখান থেকে যে প্রাকৃতিক গ্যাস উঠে আসে, তার মুখ্য উপাদান মিথেন (CH₄)। প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাসেই মিথেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। তিতাস গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ। ইথেন ও প্রোপেন সামান্য থাকে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসকে তাই প্রায় সম্পূর্ণ মিথেননির্ভর ধরা যায়। সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চলের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের গ্যাস পাওয়া যায়।
মনে রাখুন:
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র।
বাংলাদেশের গ্যাসকে 'শুষ্ক গ্যাস' বলে, কারণ এতে তরল হাইড্রোকার্বন কম।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ঢাকা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করে। - ৪৯. আমাদের দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ কত?প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক, ২০০১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. প্রায় ৬৫% - ৬৯%
- খ. প্রায় ৭৫% - ৭৯%
- গ. প্রায় ৮৫% - ৮৯%
- ঘ. প্রায় ৯৫% - ৯৯%
উত্তর: ঘ. প্রায় ৯৫% - ৯৯%
বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ খুব বেশি, প্রায় ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ। এ কারণে আমাদের গ্যাসকে বিশুদ্ধ ও শুষ্ক (Dry) গ্যাস বলা হয়, কারণ এতে ইথেন, প্রোপেন ও বিউটেনের মতো ভারী হাইড্রোকার্বন খুব অল্প থাকে। এই গ্যাস সরাসরি কারখানা ও ঘরে ব্যবহার করা যায়। আরেকটি বিষয় হলো, বাংলাদেশের গ্যাসে সালফারের পরিমাণ নগণ্য, ফলে এটি পরিষ্কারভাবে পোড়ে।
মনে রাখুন:
সিলেটের কৈলাশটিলা ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রে কিছু তরল হাইড্রোকার্বন (কনডেনসেট) পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায়। - ৫০. CNG দ্বারা কি বোঝায়?চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (খ ইউনিট) ভর্তি, ২০০৭-০৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি, এলপিজি ও এলএনজি
- ক. রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস
- খ. অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম
- গ. অতি প্রাকৃতিক গ্যাস
- ঘ. অরূপান্তরিত নাইট্রোজেন গ্যাস
উত্তর: ক. রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস
CNG-র পূর্ণরূপ হলো Compressed Natural Gas, অর্থাৎ সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসকে খুব উচ্চ চাপে সিলিন্ডারে ভরে ছোট জায়গায় রাখা যায়। তাই এর নাম হয়েছে সিএনজি। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে 'রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস'ই এই গ্যাসের কাছাকাছি, কারণ CNG আসলে প্রাকৃতিক গ্যাসেরই চাপ দেওয়া রূপ। অন্য বিকল্পে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম বা নাইট্রোজেনের কথা আছে, যা CNG নয়। মজার ব্যাপার হলো, সংকুচিত করলে গ্যাসের আয়তন অনেক কমে যায়, তাই অল্প জায়গায় বেশি গ্যাস রাখা যায়।
মনে রাখুন:
গাড়ির জ্বালানি হিসেবে সিএনজি পেট্রোল-ডিজেলের চেয়ে পরিবেশবান্ধব।
LPG-র পূর্ণরূপ Liquefied Petroleum Gas, আর LNG-র পূর্ণরূপ Liquefied Natural Gas। - ৫১. CNG'র মূল দাহ্য পদার্থ কোনটি?PWD-এর অফিস সহায়ক, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি, এলপিজি ও এলএনজি
- ক. মিথেন
- খ. ইথেন
- গ. প্রোপেন
- ঘ. বিউটেন
উত্তর: ক. মিথেন
CNG বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস আসলে প্রাকৃতিক গ্যাসই, যাকে চাপ দিয়ে সিলিন্ডারে ভরা হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄), তাই CNG-র মূল দাহ্য পদার্থও মিথেন। প্রোপেন ও বিউটেন মিলে হয় এলপিজি। ইথেনও থাকে, তবে খুব সামান্য পরিমাণে। মিথেন পুড়লে কার্বন মনোক্সাইডও তুলনায় কম তৈরি হয়, তাই এর ধোঁয়া পরিষ্কার। এ কারণে গাড়িতে ব্যবহারের জন্য এটি নিরাপদ ও সুবিধাজনক।
মনে রাখুন:
মিথেন বাতাসের চেয়ে হালকা, তাই লিক হলে ওপরে উঠে যায়। প্রোপেন ও বিউটেন বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই তা নিচে জমে।
সিএনজি গাড়ি পেট্রোল গাড়ির তুলনায় কম দূষণ করে। - ৫২. প্রাকৃতিক গ্যাসকে শূন্য ডিগ্রির নিচে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস নিলে তা তরল আকার ধারন করে?BREB'র সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি, এলপিজি ও এলএনজি
- ক. 150°C
- খ. 156°C
- গ. 161°C
- ঘ. 165°C
উত্তর: গ. 161°C
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, যার স্ফুটনাঙ্ক প্রায় −১৬১°C। শূন্যের নিচে প্রায় ১৬১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা করলে এটি তরল হয়ে যায়। তরল অবস্থায় এর আয়তন গ্যাসের তুলনায় প্রায় ৬০০ ভাগের ১ ভাগ হয়ে যায়, ফলে জাহাজে বহন করা সহজ হয়। এই তরল গ্যাসকে এলএনজি (LNG) বলে। অন্য কোনো মান যেমন ১৫০ বা ১৬৫ ডিগ্রি এই তাপমাত্রার সঙ্গে মেলে না। তাই এলএনজি ট্যাংকারে বিশেষ ঠান্ডা ব্যবস্থা রাখতে হয়।
মনে রাখুন:
LNG মানে Liquefied Natural Gas।
এলএনজি অত্যন্ত ঠান্ডা, তাই বিশেষ বিদ্যুৎ-অন্তরিত ট্যাংকে রাখা হয়।
বাংলাদেশে মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) আছে। - ৫৩. LPG গ্যাসের প্রধান দুটি উপাদান-GDA-এর সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২০২৫ · বইয়ের অনুচ্ছেদ সিএনজি, এলপিজি ও এলএনজি
- ক. বিউটেন ও অক্সিজেন
- খ. প্রোপেন ও নাইট্রোজেন
- গ. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
- ঘ. প্রোপেন ও বিউটেন
উত্তর: ঘ. প্রোপেন ও বিউটেন
এলপিজি (LPG) মানে Liquefied Petroleum Gas। এটি মূলত প্রোপেন (C₃H₈) ও বিউটেন (C₄H₁₀) গ্যাসের মিশ্রণ। এদের হালকা চাপ দিলেই তরল হয়ে যায়, তাই সিলিন্ডারে অল্প জায়গায় বেশি পরিমাণ ভরা যায়। চুলার মুখে এলে চাপ কমে তরল আবার গ্যাস হয়ে জ্বলে। অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন এর উপাদান নয়। ঘরের রান্নায় ব্যবহৃত সিলিন্ডারের গ্যাস এই এলপিজি।
মনে রাখুন:
এলপিজি অপরিশোধিত তেল শোধনের সময় এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পাওয়া যায়।
এলপিজি বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই লিক হলে নিচে জমে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
লিক ধরতে এতে সামান্য গন্ধযুক্ত পদার্থ (ইথাইল মার্কাপটান) মেশানো হয়। - ৫৪. কোনটি পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়?পাসপোর্ট এন্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, ২০০৭ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেট্রোলিয়াম
- ক. ক্লোরিন
- খ. প্যারাফিন
- গ. রেনিয়াম
- ঘ. আয়োডিন
উত্তর: খ. প্যারাফিন
পেট্রোলিয়াম বা অপরিশোধিত খনিজ তেল আসলে নানা হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। একে আংশিক পাতন (Fractional distillation) প্রক্রিয়ায় আলাদা করে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, লুব্রিকেটিং তেল, প্যারাফিন মোম ও বিটুমিন পাওয়া যায়। প্যারাফিন মোমবাতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ক্লোরিন, আয়োডিন ও রেনিয়াম মৌল, এগুলো পেট্রোলিয়াম থেকে আসে না। কেরোসিন, ডিজেল ও পেট্রোলও একই পাতনে পৃথক হয়। এসব পণ্য আলাদা করার সময় প্রতিটির স্ফুটনাঙ্ক ভিন্ন হওয়ার সুবিধা নেওয়া হয়। প্যারাফিন মোম ছাড়াও ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম থেকেই আসে।
মনে রাখুন:
পেট্রোলিয়ামকে 'তরল সোনা' বা কালো সোনাও বলা হয়।
পেট্রোলিয়াম থেকে প্লাস্টিক, সার ও কৃত্রিম আঁশের কাঁচামালও পাওয়া যায়। - ৫৫. রাস্তা বা ছাদের আবরণ হিসাবে ব্যবহৃত পিচ কোনটি থেকে তৈরি হয়?শ্রম অধিদপ্তরে শ্রম কর্মকর্তা, ২০০৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ পেট্রোলিয়াম
- ক. বালি
- খ. অ্যামোনিয়ার কালো লিকার
- গ. পেট্রোলিয়ামের অবশেষ
- ঘ. চুনাপাথর
উত্তর: গ. পেট্রোলিয়ামের অবশেষ
রাস্তা বা ছাদের আবরণে যে কালো আঠালো পিচ ব্যবহার করা হয়, তার আসল নাম বিটুমিন (Bitumen)। অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামকে আংশিক পাতনে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি বের করে নেওয়ার পর যে ভারী আঠালো অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, তাই হলো বিটুমিন। এটি পানি আটকায় আর তাপে নরম হয়, ঠান্ডায় শক্ত হয়ে যায়, তাই রাস্তা ও ছাদের জন্য উপযোগী। তাই রাস্তা তৈরিতে পাথরের টুকরোর সঙ্গে গরম বিটুমিন মিশিয়ে কংক্রিটের মতো স্তর বানানো হয়।
মনে রাখুন:
পেট্রোলিয়াম আংশিক পাতনের শেষ অবশিষ্টাংশে থাকে বিটুমিন ও কোক।
প্রাকৃতিক বিটুমিনও কোথাও কোথাও পাওয়া যায়, একে অ্যাসফল্ট বলে। - ৫৬. প্রাকৃতিক গ্যাস হচ্ছে-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, সহকারী জজ (৬ষ্ঠ বিজেএস প্রিলিমিনারি), ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. ইথেন
- খ. মিথেন
- গ. ইথাইন
- ঘ. প্রোপাইন
উত্তর: খ. মিথেন
মাটির নিচে জমে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) কয়েকটি হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, তবে এর প্রধান উপাদান মিথেন ($CH_4$)। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ, তাই আমাদের গ্যাসকে উন্নত মানের ধরা হয়। বাকি অংশে অল্প পরিমাণে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও নাইট্রোজেন থাকে। মিথেন পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয় এবং প্রচুর তাপ পাওয়া যায়, তাই একে রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় ব্যবহার করা হয়।
মনে রাখুন:
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুরে, আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে।
এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন।
সিএনজি হলো উচ্চচাপে সংকুচিত মিথেন। - ৫৭. নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক-কাম অফিস সহকারী, ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. কয়লা
- খ. গ্যাস
- গ. সূর্যালোক
- ঘ. সবগুলো
উত্তর: গ. সূর্যালোক
যে শক্তির উৎস ব্যবহার করলেও প্রকৃতিতে আবার ফিরে আসে এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) বলে। সূর্যালোক প্রতিদিনই নতুন করে পৃথিবীতে আসে, তাই এটি নবায়নযোগ্য। অন্যদিকে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়েছে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে। একবার পুড়িয়ে ফেললে এগুলো আর সহজে ফিরে আসে না, তাই এরা অনবায়নযোগ্য বা জীবাশ্ম জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নও ঘটে।
মনে রাখুন:
নবায়নযোগ্য: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জৈববস্তু, জোয়ার-ভাটা ও ভূ-তাপীয় শক্তি।
অনবায়নযোগ্য: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ও ইউরেনিয়াম। - ৫৮. কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়?বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), ২০২৩ · বইয়ের অনুচ্ছেদ শক্তির উৎস
- ক. জলস্রোত
- খ. বায়ু প্রবাহ
- গ. প্রাকৃতিক গ্যাস
- ঘ. সূর্যালোক
উত্তর: গ. প্রাকৃতিক গ্যাস
যে শক্তির উৎস প্রকৃতিতে বারবার নিজে থেকেই ফিরে আসে এবং ব্যবহার করলেও শেষ হয় না, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy) বলে। জলস্রোত, বায়ুপ্রবাহ ও সূর্যালোক এমন উৎস। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে জীবদেহের অবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে। একবার পুড়িয়ে ফেললে তা আর সহজে ফিরে আসে না, তাই প্রাকৃতিক গ্যাস নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়। এজন্য ভবিষ্যতের কথা ভেবে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানো দরকার।
মনে রাখুন:
কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। - ৫৯. Of the various non-conventional energy sources that are being tapped, which has the largest potential?সম্মিলিত ৩ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার পর্যায় (৩ আগস্ট), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. Water power
- খ. Wind power
- গ. Solar power
- ঘ. Biomass power
উত্তর: গ. Solar power
অপ্রচলিত শক্তি বলতে বোঝায় কয়লা, তেল বা গ্যাসের বাইরে নতুন ধরনের শক্তির উৎস, যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জৈববস্তুর শক্তি। এদের মধ্যে সৌরশক্তির (Solar power) সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ সূর্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবীতে যত শক্তি আসে, তা সারা পৃথিবীর মানুষের এক বছরের চাহিদার কাছাকাছি। তাছাড়া সূর্যের আলো প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায় এবং এটি কখনো ফুরাবে না। সৌরকোষ বা সোলার প্যানেল সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। বাংলাদেশের গ্রামে সোলার হোম সিস্টেম এর একটি ভালো উদাহরণ।
মনে রাখুন:
সৌরকোষ তৈরিতে মূলত সিলিকন ব্যবহৃত হয়।
বায়ুশক্তি ও পানিশক্তিও শেষ পর্যন্ত সূর্যের শক্তি থেকেই আসে। - ৬০. The chief constituent of gobar (গোবর) gas is -সম্মিলিত ৩ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অফিসার পর্যায় (৩ আগস্ট), ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ বায়োগ্যাস
- ক. ethane
- খ. methane
- গ. hydrogen
- ঘ. carbon dioxide
উত্তর: খ. methane
গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও পচনশীল আবর্জনা বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচালে যে দাহ্য গ্যাস পাওয়া যায়, তাকে বায়োগ্যাস (Biogas) বা গোবর গ্যাস বলে। এই গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, যা মোট গ্যাসের প্রায় ৫৫ থেকে ৭০ ভাগ। বাকি অংশের বেশির ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড, সঙ্গে সামান্য হাইড্রোজেন সালফাইড থাকে। মিথেন পোড়ালে নীল শিখায় জ্বলে এবং তাপ দেয়, তাই গ্রামে রান্না ও বাতি জ্বালাতে বায়োগ্যাস কাজে লাগে। গ্যাস বের হওয়ার পর যে কাদা থাকে, তা ভালো জৈব সার হিসেবে জমিতে দেওয়া যায়।
মনে রাখুন:
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদানও মিথেন।
মিথেনের সংকেত $CH_4$।
পচন ঘটায় মিথেন উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া। - ৬১. Which from the following is NOT a renewable energy resource?জনতা ব্যাংক, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইও), ২০১৯ · বইয়ের অনুচ্ছেদ নবায়নযোগ্য শক্তি
- ক. Geothermal
- খ. Nuclear
- গ. Biomass
- ঘ. Solar
উত্তর: খ. Nuclear
যে শক্তির উৎস ব্যবহারের পরেও প্রকৃতিতে আবার তৈরি হয় বা কখনো ফুরায় না, তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable energy) বলে। সৌরশক্তি প্রতিদিন সূর্য থেকে আসে, ভূতাপীয় শক্তি আসে পৃথিবীর ভেতরের তাপ থেকে, আর জৈববস্তু বা বায়োমাস আসে গাছপালা ও জৈব বর্জ্য থেকে, যা আবার জন্মায়। কিন্তু পারমাণবিক শক্তি পাওয়া যায় ইউরেনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় খনিজ থেকে। খনিতে এর মজুত সীমিত এবং একবার ব্যবহার করলে আর তৈরি হয় না, তাই এটি নবায়নযোগ্য নয়। তবে এটি চলার সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রায় ছাড়ে না।
মনে রাখুন:
অনবায়নযোগ্য: কয়লা, তেল, গ্যাস, পারমাণবিক জ্বালানি।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর, পাবনা। - ৬২. Main component of natural gas is-রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সিনিয়র অফিসার, ২০১১ · বইয়ের অনুচ্ছেদ প্রাকৃতিক গ্যাস
- ক. Nitrogen
- খ. Oxygen
- গ. Methane
- ঘ. Helium
উত্তর: গ. Methane
প্রাকৃতিক গ্যাসের (Natural Gas) প্রধান উপাদান মিথেন, যার সংকেত $CH_4$। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৯৫ শতাংশেরও বেশি, তাই আমাদের গ্যাসকে বেশ বিশুদ্ধ ধরা হয়। এর সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ইথেন, প্রোপেন ও বিউটেনের মতো অন্য হাইড্রোকার্বনও থাকে। মিথেন পোড়ালে কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও প্রচুর তাপ পাওয়া যায়, তাই এটি রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন:
সমীকরণ: $CH_4 + 2O_2 \rightarrow CO_2 + 2H_2O$ + তাপ।
সিলিন্ডারের এলপিজি (LPG) মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ।
গাড়িতে ব্যবহৃত সিএনজি হলো উচ্চচাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। - ৬৩. Which of the following is not a fossil fuel?সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ২০১৮ · বইয়ের অনুচ্ছেদ জীবাশ্ম জ্বালানি
- ক. Petrol
- খ. Coal
- গ. Natural Gas
- ঘ. Biogas
উত্তর: ঘ. Biogas
যে জ্বালানি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তাপ ও চাপে তৈরি হয়, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) বলে। কয়লা, পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া পেট্রোল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এভাবেই তৈরি। অন্যদিকে বায়োগ্যাস তৈরি হয় গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও পচনশীল বর্জ্য বায়ুর অনুপস্থিতিতে কয়েক দিন পচিয়ে। তাই বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, বরং একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
মনে রাখুন:
বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
জীবাশ্ম জ্বালানি অনবায়নযোগ্য, একবার ফুরালে আর তৈরি হয় না।
বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনি আছে।
অন্যান্য অধ্যায়
- ১. আলো
- ২. শব্দ
- ৩. চুম্বক
- ৪. বিদ্যুৎ
- ৫. পরিমাপ, বল ও শক্তি
- ৬. তাপ
- ৭. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান
- ৮. পদার্থের গঠন ও বিক্রিয়া
- ৯. ধাতু, অধাতু ও যৌগ
- ১০. অম্ল, ক্ষারক ও লবণ
- ১১. পানি
- ১২. পলিমার
- ১৩. আমাদের সম্পদ
- ১৪. মৌলিক জীববিজ্ঞান
- ১৫. উদ্ভিদজগৎ
- ১৬. মানবদেহ
- ১৭. খাদ্য ও পুষ্টি
- ১৮. বংশগতি ও জীবপ্রযুক্তি
- ১৯. রোগ ও স্বাস্থ্যসেবা
- ২০. বায়ুমণ্ডল
- ২১. পৃথিবী ও মহাকাশ
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন