লিয়ানা বুকস

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১৪তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ২০২১। ৯৯টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →

আইন

  1. ১. প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ বিষয়ে শিশু আইন, ২০১৩ এর কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
    • ক. ৪
    • খ. ৫
    • গ. ৬
    • ঘ. ৭
    উত্তর: খ. ৫
    শিশু আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারায় প্রবেশন কর্মকর্তা (Probation Officer) নিয়োগের বিধান আছে। এই ধারা অনুযায়ী সরকার প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় এক বা একাধিক প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে। পরের ৬ ধারায় এই কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কাজ বলা আছে, যেমন আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর সঙ্গে দেখা করা, তার পরিবারের খোঁজ নেওয়া এবং আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া।
    মনে রাখুন: এই আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী সবাইকে শিশু ধরা হয় (৪ ধারা)।
  2. ২. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ 'নবজাতক শিশু' অর্থ অনূর্ধ্ব ___ দিন বয়সের কোনো শিশু।
    • ক. ২১
    • খ. ৩০
    • গ. ৪০
    • ঘ. ৬০
    উত্তর: গ. ৪০
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংজ্ঞা ধারায় বলা হয়েছে, অনূর্ধ্ব ৪০ দিন বয়সের শিশুকে ‘নবজাতক শিশু’ (Newborn child) বলা হবে। একই ধারায় ‘শিশু’ বলতে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সের ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
    মনে রাখুন: শিশু আইন, ২০১৩-এ শিশুর বয়সসীমা ১৮ বছর, কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তা ১৬ বছর।
  3. ৩. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী সাধারণ জখমের সর্বোচ্চ শাস্তি কত বৎসর?
    • ক. ১২
    • খ. ৫
    • গ. ৩
    • ঘ. ১
    উত্তর: গ. ৩
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১ ধারায় যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো বা জখম করার শাস্তি বলা আছে। এর ১১(গ) উপধারা অনুযায়ী যৌতুকের জন্য কোনো নারীকে সাধারণ জখম (Simple hurt) করলে অনধিক ৩ বছর কিন্তু অন্যূন ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয় এবং সঙ্গে অর্থদণ্ডও হয়।
    মনে রাখুন: একই ধারায় গুরুতর জখমের (Grievous hurt) শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১২ বছর কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।
  4. ৪. The Special Powers Act, 1974 অনুযায়ী নাশকতা (sabotage) এর সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
    • ক. ১৫ বৎসর কারাদণ্ড
    • খ. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
    • গ. ১৪ বৎসর কারাদণ্ড
    • ঘ. মৃত্যুদণ্ড
    উত্তর: ঘ. মৃত্যুদণ্ড
    বিশেষ ক্ষমতা আইন (The Special Powers Act, 1974)-এর ১৫ ধারায় নাশকতা (Sabotage)-র শাস্তি বলা আছে। এই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে, সঙ্গে অর্থদণ্ডও হতে পারে। তাই নাশকতার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আইনটিতে নাশকতা বলতে বোঝানো হয়েছে যানবাহন, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্য জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো করার উদ্দেশ্যে কাজ করাকে।
    মনে রাখুন: এই আইনের ২৫ক ধারায় মুদ্রা ও সরকারি স্ট্যাম্প জালের শাস্তি এবং ২৫গ ধারায় খাদ্য, পানীয় বা ওষুধে ভেজাল মেশানোর শাস্তি আছে।
  5. ৫. মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে -
    • ক. আপিল ট্রাইব্যুনালে
    • খ. দায়রা জজ আদালতে
    • গ. হাইকোর্ট বিভাগে
    • ঘ. স্পেশাল জজ আদালতে
    উত্তর: গ. হাইকোর্ট বিভাগে
    মাদকদ্রব্য অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালের রায়, আদেশ বা দণ্ডে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন। অর্থাৎ এখানে দায়রা জজ আদালত বা আলাদা কোনো আপিল ট্রাইব্যুনাল নেই।
    মনে রাখুন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল হয় হাইকোর্ট বিভাগে।
  6. ৬. মানিলন্ডারিং অপরাধ করলে অর্থদণ্ড হবে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির _____ মূল্যের সমপরিমাণ।
    • ক. সমান
    • খ. দ্বিগুণ
    • গ. তিন গুণ
    • ঘ. চার গুণ
    উত্তর: খ. দ্বিগুণ
    মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় এই অপরাধের শাস্তি বলা আছে। কোনো ব্যক্তি মানিলন্ডারিং করলে তাঁর অন্যূন ৪ বছর এবং অনধিক ১২ বছর কারাদণ্ড হবে। এর সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের সমপরিমাণ অথবা ১০ লক্ষ টাকা, এই দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থদণ্ডও হবে।
    মনে রাখুন: কোনো প্রতিষ্ঠান এই অপরাধ করলে তার অর্থদণ্ড হয় সম্পত্তির মূল্যের অন্যূন ৪ গুণ অথবা ২০ লক্ষ টাকা, যেটি বেশি।
  7. ৭. দুর্নীতি সম্পর্কিত কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা প্রদানের শাস্তি সর্বোচ্চ কত বৎসর?
    • ক. ৭
    • খ. ৫
    • গ. ৩
    • ঘ. ১
    উত্তর: গ. ৩
    দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারায় অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় কমিশনের বিশেষ ক্ষমতার কথা বলা আছে, যেমন সাক্ষীকে তলব করা ও দলিল চাওয়া। এর ১৯(৩) উপধারা অনুযায়ী কেউ এই ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা দিলে বা কমিশনের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে না মানলে তাঁর অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
    মনে রাখুন: দুর্নীতি দমন কমিশন ৩ জন কমিশনার নিয়ে গঠিত, তাঁদের একজন চেয়ারম্যান।
  8. ৮. মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুসারে অপরাধের তদন্ত করতে পারেন সর্বনিম্ন কোন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা?
    • ক. সহকারী উপ-পরিদর্শক
    • খ. উপ-পরিদর্শক
    • গ. পরিদর্শক (তদন্ত)
    • ঘ. সহকারী পুলিশ সুপার
    উত্তর: খ. উপ-পরিদর্শক
    মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত করবেন উপ-পরিদর্শক (Sub-Inspector) পদমর্যাদার নিচে নন এমন পুলিশ কর্মকর্তা। তাই তদন্তকারী হিসেবে সর্বনিম্ন পর্যায় হলো উপ-পরিদর্শক, সহকারী উপ-পরিদর্শক এই দায়িত্ব পান না।
    মনে রাখুন: এই আইনের অপরাধের বিচার করে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, আর অপরাধগুলো আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপসের অযোগ্য।
  9. ৯. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সাইবার ট্রাইব্যুনাল সময় বৃদ্ধি করলে বিচারকার্য সমাপ্তির কত দিনের মধ্যে রায় প্রদান করবেন?
    • ক. ৭
    • খ. ১০
    • গ. ১৫
    • ঘ. ২১
    উত্তর: খ. ১০
    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারায় মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সাইবার ট্রাইব্যুনাল ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করবে এবং প্রয়োজনে কারণ লিখে আরও ৯০ দিন সময় বাড়াতে পারবে। সময় বাড়ানো হোক বা না হোক, বিচারকার্য শেষ হওয়ার পর ১০ দিনের মধ্যে রায় দিতে হবে।
    মনে রাখুন: আইনটি পরে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ দ্বারা রহিত হয়। এখন এর জায়গায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রযোজ্য।
  10. ১০. The Negotiable Instruments Act, 1881 অনুযায়ী আসামীর প্রতি নোটিশ প্রদানের কোনটি অনুমোদিত পদ্ধতি নয়?
    • ক. সরাসরি
    • খ. ডাকযোগে
    • গ. জাতীয় বাংলা পত্রিকায়
    • ঘ. ই-মেইল ও ফ্যাক্সযোগে
    উত্তর: ঘ. ই-মেইল ও ফ্যাক্সযোগে
    হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (The Negotiable Instruments Act, 1881)-এর ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনারের অপরাধ বলা আছে। মামলা করার আগে চেকদাতাকে টাকা পরিশোধের নোটিশ দিতে হয়, আর ১৩৮(১ক) উপধারা এই নোটিশ পাঠানোর তিনটি পদ্ধতি বলে দিয়েছে: সরাসরি হাতে দিয়ে, প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে, অথবা বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে। ই-মেইল বা ফ্যাক্স এই তালিকায় নেই।
    মনে রাখুন: চেক ডিজঅনারের খবর পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ দিতে হয়, আর নোটিশ পাওয়ার পর চেকদাতা ৩০ দিন সময় পান।
  11. ৩০. The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১১ এর কত নম্বর ব্যাখ্যায় Constructive Res Judicata সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে?
    • ক. ১
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৬
    উত্তর: গ. ৪
    দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতি বলা হয়েছে, আর এর ব্যাখ্যা ৪ (Explanation IV)-এ আছে গঠনমূলক দোবারা দোষ (Constructive Res Judicata)। এই ব্যাখ্যা বলে, আগের মামলায় যে বিষয় দাবি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের ভিত্তি হিসেবে তোলা যেত এবং তোলা উচিত ছিল, তা সেখানে সরাসরি ও মূলত বিচার্য বিষয় ছিল বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে পরে সেই বিষয় নিয়ে নতুন মামলা চলে না।
    মনে রাখুন: ১১ ধারায় মোট ৬টি ব্যাখ্যা আছে, আর ব্যাখ্যা ৬ প্রতিনিধিত্বমূলক মামলার (Representative suit) ক্ষেত্রে দোবারা দোষ প্রয়োগের কথা বলে।
  12. ৩১. একতরফা ডিক্রি সরাসরি রদ (Direct set aside) এর দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করা হলে এর বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
    • ক. আপিল
    • খ. রেফারেন্স
    • গ. রিভিশন
    • ঘ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. আপিল
    একতরফা ডিক্রি (Ex parte decree) সরাসরি রদ করার জন্য বিবাদী দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ১৩ অনুযায়ী দরখাস্ত করেন। আদালত এই দরখাস্ত নামঞ্জুর করলে আদেশ ৪৩ বিধি ১(ঘ) অনুযায়ী সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়, যাকে বিবিধ আপিল (Miscellaneous appeal) বলে। যেখানে আপিলের সুযোগ আছে, সেখানে রিভিশন চলে না, কারণ ১১৫ ধারার রিভিশন কেবল আপিল-অযোগ্য আদেশের জন্য।
    মনে রাখুন: একতরফা ডিক্রি রদের দরখাস্ত করতে হয় ডিক্রির তারিখ থেকে, অথবা সমন যথাযথভাবে জারি না হলে ডিক্রির কথা জানার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে (তামাদি আইনের ১৬৪ অনুচ্ছেদ)।
  13. ৩২. The Code of Civil Procedure, 1908 অনুসারে স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে রায় (Judgment on admissions) এর বিধান কোনটি?
    • ক. Order-XII, rule- 6
    • খ. Order-XXI, rule-3
    • গ. Order-XXII, rule-2
    • ঘ. Order-XXIII, rule-3
    উত্তর: ক. Order-XII, rule- 6
    দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১২ বিধি ৬-এ স্বীকৃতির ভিত্তিতে রায় (Judgment on admissions)-এর বিধান আছে। কোনো পক্ষ আরজি, লিখিত জবাব বা অন্য কোনোভাবে মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো তথ্য স্বীকার করলে আদালত অন্য প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা না করেই সেই স্বীকৃতির ভিত্তিতে রায় দিতে পারেন। এতে মামলার অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা কমে।
    মনে রাখুন: আদেশ ২৩ বিধি ৩-এ আপসের ভিত্তিতে ডিক্রি এবং আদেশ ২২-এ পক্ষের মৃত্যু, বিবাহ ও দেউলিয়াত্বের বিধান আছে।
  14. ৩৩. ইস্যু গঠনের কত দিনের মধ্যে দেওয়ানী মোকদ্দমার চূড়ান্ত শুনানীর তারিখ ধার্য করতে হবে?
    • ক. ২ মাস
    • খ. ৪ মাস
    • গ. ১২০ দিন
    • ঘ. ৬০ দিন
    উত্তর: গ. ১২০ দিন
    দেওয়ানী মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ২০০৩ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে দেওয়ানী কার্যবিধিতে বিভিন্ন ধাপের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী আদালতকে বিচার্য বিষয় বা ইস্যু (Issue) গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত শুনানির (Peremptory hearing) তারিখ ধার্য করতে হয়।
    মনে রাখুন: একই সংশোধনীতে বিচারপূর্ব মধ্যস্থতার (Mediation) জন্য ৮৯ক ধারা যোগ করা হয়।
  15. ৩৪. The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারায় Second Revision এর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে?
    • ক. ১১৫(১)
    • খ. ১১৫(২)
    • গ. ১১৫(৪)
    • ঘ. ১১৫(৫)
    উত্তর: গ. ১১৫(৪)
    দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশন (Revision)-এর বিধান আছে। ১১৫(২) অনুযায়ী অধস্তন আদালতের কিছু আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজের কাছে রিভিশন করা যায়। জেলা জজ সেই রিভিশনে যে আদেশ দেন, তাতে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ১১৫(৪) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে আবার রিভিশন করতে পারেন। একেই দ্বিতীয় রিভিশন (Second Revision) বলে।
    মনে রাখুন: ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ নিজে অধস্তন আদালতের আপিল-অযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন শোনে।
  16. ৩৫. জারি মামলা দায়ের করার জন্য The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৪৮ ধারানুযায়ী সর্বোচ্চ কত বছর সময় পাওয়া যেতে পারে?
    • ক. ৩
    • খ. ৫
    • গ. ৬
    • ঘ. ১২
    উত্তর: ঘ. ১২
    দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রির তারিখ থেকে ১২ বছর পার হয়ে গেলে সেই ডিক্রি জারির জন্য নতুন কোনো দরখাস্ত গ্রহণ করা হয় না। তাই জারি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছর সময় পাওয়া যায়। তবে বিবাদী প্রতারণা বা বলপ্রয়োগ করে জারি ঠেকিয়ে রাখলে আদালত এই সময়সীমার পরেও জারির অনুমতি দিতে পারেন।
    মনে রাখুন: তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণভাবে ডিক্রি জারির দরখাস্ত করতে হয় ৩ বছরের মধ্যে, আর ১২ বছর হলো সর্বোচ্চ বাইরের সীমা।
  17. ৩৬. The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী একই দলিল দ্বারা বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি হলে দলিলের একটি অংশ বাতিলযোগ্য হলে-
    • ক. পুরো দলিল বাতিল হবে
    • খ. দলিলটি বাতিলযোগ্য হবে
    • গ. দলিলটির কেবল বাতিলযোগ্য অংশ নাকচ হবে
    • ঘ. দলিলটির দ্বারা দায় সৃষ্টি হলেও অধিকার সৃষ্টি হবে না
    উত্তর: গ. দলিলটির কেবল বাতিলযোগ্য অংশ নাকচ হবে
    সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা আংশিক বাতিলের (Partial cancellation) কথা বলে। কোনো দলিল যদি ভিন্ন ভিন্ন অধিকার বা দায়ের প্রমাণ হয়, তবে আদালত উপযুক্ত ক্ষেত্রে দলিলের কেবল বাতিলযোগ্য অংশটুকু নাকচ করতে পারেন এবং বাকি অংশ বহাল রাখতে পারেন।
    মনে রাখুন: ৩৯ ধারায় বাতিলযোগ্য বা বাতিল দলিল বাতিলের (Cancellation of instruments) মামলার বিধান আছে।
  18. ৩৭. 'ক' একটি সম্পত্তির দখলকার। 'খ' ঐ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে তা বরাবর দখল হস্তান্তর করতে বললে 'ক' ঐ জমির দখলে থাকার জন্য The Specific Relief Act, 1877 এর - ধারায় মামলা করতে পারেন।
    • ক. ১
    • খ. ৯
    • গ. ১০
    • ঘ. ৪২
    উত্তর: ঘ. ৪২
    সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলা (Declaratory suit)-র বিধান আছে। কোনো ব্যক্তির আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির ওপর অধিকার কেউ অস্বীকার করলে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হলে তিনি নিজের অধিকারের ঘোষণা চেয়ে এই ধারায় মামলা করতে পারেন। এখানে ‘খ’ মালিকানা দাবি করে দখলকার ‘ক’-এর অধিকার অস্বীকার করছে, তাই ‘ক’ ৪২ ধারায় মামলা করবেন।
    মনে রাখুন: ৯ ধারায় বেদখল হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করা যায়।
  19. ৩৮. The Limitation Act, 1908 অনুযায়ী দায়রা আদালত কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলে এর বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা কত?
    • ক. ৩ মাস
    • খ. ২ মাস
    • গ. ১৪ দিন
    • ঘ. ৭ দিন
    উত্তর: ঘ. ৭ দিন
    তামাদি আইন (The Limitation Act, 1908)-এর প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়রা আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে মাত্র ৭ দিন। মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন লাগে, তাই এই সময়টি ছোট রাখা হয়েছে।
    মনে রাখুন: অন্য দণ্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সময় ৬০ দিন এবং দায়রা জজের কাছে আপিলের সময় ৩০ দিন।
  20. ৩৯. অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এ জারির পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?
    • ক. ৩৬
    • খ. ৩৭
    • গ. ৩৮
    • ঘ. ৩৯
    উত্তর: গ. ৩৮
    অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এ বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) সুযোগ দুটি ধাপে রাখা হয়েছে। বিচার শুরুর আগে মধ্যস্থতার বিধান আছে ২২ ধারায়, আর ডিক্রি জারির পর্যায়ে মধ্যস্থতার বিধান আছে ৩৮ ধারায়। মধ্যস্থতায় আপস হলে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা দুই পক্ষই সময় ও খরচ বাঁচায়, তাই আইনটি বিচারের আগে ও পরে দুই জায়গাতেই এই সুযোগ রেখেছে।
  21. ৬০. The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারায় 'Double Jeopardy' মতবাদ আলোচিত হয়েছে?
    • ক. ২০৩
    • খ. ৩০৩
    • গ. ৪০৩
    • ঘ. ৫০৩
    উত্তর: গ. ৪০৩
    একই অপরাধের জন্য কাউকে দুবার বিচার বা দণ্ড দেওয়া যায় না, এই নীতিকে দ্বৈত বিপদ বা ডাবল জিওপার্ডি (Double Jeopardy) বলে। ফৌজদারী কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure, 1898)-র ৪০৩ ধারা বলে, উপযুক্ত আদালতে বিচারের পর কেউ একবার খালাস বা দণ্ডিত হলে সেই রায় বহাল থাকা পর্যন্ত একই অপরাধে তাঁর আবার বিচার করা যাবে না।
    মনে রাখুন: সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদেও এই নীতিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
  22. ৬১. Without any qualifying word, to a Magistrate, shall be construed as a reference to a(n)
    • ক. Executive Magistrate
    • খ. Judicial Magistrate
    • গ. Cognizance Magistrate
    • ঘ. District Magistrate
    উত্তর: খ. Judicial Magistrate
    ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথককরণের সময় ফৌজদারী কার্যবিধিতে ৪ক ধারা যোগ করা হয়। এই ধারা বলে, কোনো আইনে কোনো বিশেষণ ছাড়া শুধু ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ উল্লেখ থাকলে তা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (Judicial Magistrate) বোঝাবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় তা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বোঝায়।
    মনে রাখুন: একই ধারায় বিশেষণ ছাড়া ‘প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট’ বা ‘দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট’ বলা থাকলে তা যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বোঝায়।
  23. ৬২. The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৫৪ ধারার বিধান মতে কয়টি কারণে পুলিশ একজন ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে?
    • ক. ৭
    • খ. ৮
    • গ. ৯
    • ঘ. ১০
    উত্তর: গ. ৯
    ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারার উপধারা (১)-এ ‘প্রথমত’ থেকে ‘নবমত’ পর্যন্ত মোট ৯টি দফায় সেই পরিস্থিতিগুলো বলা আছে, যখন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। যেমন আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার যুক্তিসংগত সন্দেহ, বৈধ কারণ ছাড়া ঘর ভাঙার সরঞ্জাম কাছে রাখা, অথবা পুলিশ হেফাজত থেকে পালানো।
    মনে রাখুন: ২০১৬ সালে আপিল বিভাগ ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় এই ধারার অপব্যবহার ঠেকাতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্দেশনা দেয়।
  24. ৬৩. The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন দুইটি ধারার অধীনে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়?
    • ক. ১৫৪ ও ২০০
    • খ. ১৫৬ ও ২০০
    • গ. ১৫৫ ও ২০৪
    • ঘ. ১৫৪ ও ২০৪
    উত্তর: ক. ১৫৪ ও ২০০
    বাংলাদেশে ফৌজদারী মামলা প্রধানত দুইভাবে শুরু হয়। প্রথমত, আমলযোগ্য অপরাধের খবর থানায় দিলে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহার (FIR) হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন। দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ (Complaint) করলে ২০০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট শপথ নিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করেন।
    মনে রাখুন: অ-আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য থানায় দিলে ১৫৫ ধারায় তা সাধারণ ডায়েরিতে লেখা হয়, আর ২০৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আসামির প্রতি প্রসেস ইস্যু করেন।
  25. ৬৪. The Penal Code 1860 এর কোন ধারায় 'Good Faith' : 'Nothing is said to be done or believed in good faith which is done or believed without due care and attention'. উল্লেখিত হয়েছে?
    • ক. ১১
    • খ. ২২
    • গ. ৪২
    • ঘ. ৫২
    উত্তর: ঘ. ৫২
    দণ্ডবিধি (The Penal Code, 1860)-র ৫২ ধারায় সরল বিশ্বাস (Good faith)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা বলে, যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ছাড়া কোনো কিছু করা বা বিশ্বাস করা হলে তা সরল বিশ্বাসে করা হয়েছে বলে ধরা হবে না। অর্থাৎ শুধু সৎ উদ্দেশ্য থাকলেই চলবে না, সঙ্গে সাবধানতাও থাকতে হবে।
    মনে রাখুন: দণ্ডবিধির ১১ ধারায় ‘ব্যক্তি’ (Person), ২২ ধারায় ‘অস্থাবর সম্পত্তি’ এবং ৪২ ধারায় ‘স্থানীয় আইন’-এর সংজ্ঞা আছে।
  26. ৬৫. 'Y' এর কর্মচারী 'X' জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় একটি আংটি কুড়িয়ে পেয়ে নিয়ে যায়। 'X' এর অপরাধ-
    • ক. চুরি
    • খ. অসাধুভাবে সম্পত্তি অপসারণ
    • গ. চাকর বা কেরানী কর্তৃক চুরি
    • ঘ. অপরাধমূলক তসরূপ
    উত্তর: ঘ. অপরাধমূলক তসরূপ
    চুরি হতে হলে সম্পত্তিটি অন্য কারও দখল থেকে সরাতে হয়। জনসাধারণের রাস্তায় পড়ে থাকা আংটি কারও দখলে নেই, তাই সেটি তুলে নেওয়া চুরি নয়। কিন্তু মালিক খোঁজার চেষ্টা না করে সেটি অসাধুভাবে নিজের কাজে লাগালে দণ্ডবিধির ৪০৩ ধারার অপরাধমূলক তসরূপ (Criminal misappropriation) হয়। ৪০৩ ধারার একটি উদাহরণে রাস্তায় আংটি কুড়িয়ে পাওয়ার ঘটনাটিই দেওয়া আছে। এখানে ‘X’ ‘Y’-এর কর্মচারী হলেও আংটিটি ‘Y’-এর দখলে ছিল না, তাই চাকর কর্তৃক চুরির প্রশ্নও আসে না।
    মনে রাখুন: চুরির সংজ্ঞা ৩৭৮ ধারায় এবং চাকর বা কেরানি কর্তৃক চুরির শাস্তি ৩৮১ ধারায়।
  27. ৬৬. 'X', 'Y' এর চলার পথে গর্ত করে মৃত্যুর ফাঁদ পেতে রাখায় 'Y' ঐ ফাঁদে পড়ে আহত হয়ে মারা যায়। 'X' এর অপরাধ-
    • ক. খুন
    • খ. দণ্ডনীয় নরহত্যা
    • গ. খুনের উদ্যোগ
    • ঘ. দণ্ডনীয় নরহত্যা সংঘটনের উদ্যোগ
    উত্তর: খ. দণ্ডনীয় নরহত্যা
    দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারায় দণ্ডনীয় নরহত্যা (Culpable homicide)-র সংজ্ঞা আছে, আর এর উদাহরণ (ক)-তে প্রায় এই ঘটনাটিই দেওয়া আছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেউ মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি গর্তের ওপর কাঠি ও ঘাস বিছিয়ে রাখল, আর অন্য একজন মাটি শক্ত ভেবে তার ওপর পা দিয়ে পড়ে মারা গেল। এ ক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তি দণ্ডনীয় নরহত্যা করেছে বলে গণ্য হবে।
    মনে রাখুন: সব খুনই দণ্ডনীয় নরহত্যা, কিন্তু সব দণ্ডনীয় নরহত্যা খুন নয়। খুনের (Murder) সংজ্ঞা আছে ৩০০ ধারায়।
  28. ৬৭. আদালতের অনুমতি ব্যতীত কখন ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে না?
    • ক. জেরায়
    • খ. পুনঃ জবানবন্দীকালে
    • গ. পুনঃ জেরাকালে
    • ঘ. পূর্বে প্রমাণিত বিষয়ে জবানবন্দীতে
    উত্তর: খ. পুনঃ জবানবন্দীকালে
    যে প্রশ্নের মধ্যেই প্রশ্নকর্তা কাঙ্ক্ষিত উত্তরের ইঙ্গিত দেন, তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading question) বলে। সাক্ষ্য আইন (The Evidence Act, 1872)-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী প্রতিপক্ষ আপত্তি করলে আদালতের অনুমতি ছাড়া জবানবন্দী (Examination-in-chief) ও পুনঃজবানবন্দী (Re-examination)-তে এমন প্রশ্ন করা যায় না। তবে ভূমিকামূলক, অবিতর্কিত বা আগে প্রমাণিত বিষয়ে আদালত এমন প্রশ্নের অনুমতি দেবেন।
    মনে রাখুন: ১৪৩ ধারা অনুযায়ী জেরা (Cross-examination)-তে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।
  29. ৬৮. কোন ব্যক্তি সাক্ষী হতে পারবেন?
    • ক. ফৌজদারী মামলার আসামীর স্ত্রী
    • খ. বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন, কিন্তু বোবা ব্যক্তি
    • গ. অপরিণত বয়স্ক বুদ্ধিমান বালক
    • ঘ. সকলেই
    উত্তর: ঘ. সকলেই
    সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী যে কেউ সাক্ষী হতে পারেন, যদি আদালতের মনে হয় তিনি প্রশ্ন বুঝতে এবং যুক্তিসংগত উত্তর দিতে পারেন। তাই বুদ্ধিমান শিশুও সাক্ষী হতে পারে। ১১৯ ধারা অনুযায়ী কথা বলতে অক্ষম ব্যক্তি লিখে বা ইশারায় সাক্ষ্য দিতে পারেন, আর ১২০ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় আসামির স্বামী বা স্ত্রীও সাক্ষী হতে পারেন। ফলে এখানে সকলেই সাক্ষী হওয়ার যোগ্য।
    মনে রাখুন: ১৩৪ ধারা অনুযায়ী কোনো তথ্য প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।
  30. ৬৯. 'Dying Declaration' (মৃত্যুকালীন বিবৃতি) করা যায় ____ এর নিকট-
    • ক. শুধু ম্যাজিস্ট্রেট
    • খ. শুধু পুলিশ
    • গ. শুধু ডাক্তার
    • ঘ. যে-কারও
    উত্তর: ঘ. যে-কারও
    কোনো ব্যক্তি নিজের মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে যে বিবৃতি দেন, তাকে মৃত্যুকালীন বিবৃতি (Dying declaration) বলে। সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা অনুযায়ী এমন বিবৃতি প্রাসঙ্গিক, আর এটি কার কাছে দিতে হবে আইনে তা নির্দিষ্ট করা নেই। তাই ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তার, আত্মীয় বা যে কারও কাছে দেওয়া বিবৃতিই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
    মনে রাখুন: বিবৃতিদাতা পরে বেঁচে গেলে তা মৃত্যুকালীন বিবৃতি হিসেবে গণ্য হয় না, তবে ১৫৭ ধারায় তাঁর অন্য সাক্ষ্য সমর্থনে ব্যবহার করা যায়।
  31. ৭০. The Contract Act, 1872 এর কোন ধারা অনুযায়ী নাবালক চুক্তি সম্পাদনের অযোগ্য?
    • ক. ৯
    • খ. ১০
    • গ. ১১
    • ঘ. ১২
    উত্তর: গ. ১১
    চুক্তি আইন (The Contract Act, 1872)-এর ১১ ধারা বলে, যিনি সাবালক, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং কোনো আইনে চুক্তি করার অযোগ্য নন, কেবল তিনিই চুক্তি করতে পারেন। নাবালক সাবালক নয়, তাই সে চুক্তি করার অযোগ্য। প্রিভি কাউন্সিলের মোহরী বিবি বনাম ধর্মোদাস ঘোষ (১৯০৩) মামলায় বলা হয় নাবালকের সঙ্গে করা চুক্তি শুরু থেকেই বাতিল (Void ab initio)।
    মনে রাখুন: ১০ ধারায় বৈধ চুক্তির উপাদান এবং ১২ ধারায় সুস্থ মস্তিষ্কের সংজ্ঞা আছে।
  32. ৭১. কোনো বেসরকারি ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ The Contract Act, 1908 এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী কিরূপ ক্ষতিপূরণ পাবে?
    • ক. চুক্তিতে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণ
    • খ. চুক্তিতে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের ২/৩ ভাগ
    • গ. চুক্তিতে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণসহ ৬.৫% সুদ
    • ঘ. চুক্তিতে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের সীমার মধ্যে যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ
    উত্তর: ঘ. চুক্তিতে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের সীমার মধ্যে যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ
    চুক্তি আইনের ৭৪ ধারা অনুযায়ী চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বলা থাকলেও আদালত পুরো অঙ্ক দিতে বাধ্য নন; ঐ অঙ্কের সীমার মধ্যে যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ দেন। (প্রশ্নে সাল ভুলবশত ১৯০৮ লেখা; চুক্তি আইন ১৮৭২ সালের।)
  33. ৭২. The Registration Act, 1908 এর বিধান অনুযায়ী নিম্নের কোনটি স্থাবর সম্পত্তি নয়?
    • ক. পতিত জমি
    • খ. ঘরবাড়ি
    • গ. জলাশয়ে মৎস্য ধরার অধিকার
    • ঘ. দণ্ডায়মান কোনো বৃক্ষ
    উত্তর: ঘ. দণ্ডায়মান কোনো বৃক্ষ
    রেজিস্ট্রেশন আইনের ২(৬) ধারায় জমি, দালান, মৎস্য ধরার অধিকার ইত্যাদিকে স্থাবর সম্পত্তি বলা হয়েছে, কিন্তু দণ্ডায়মান কাঠ (standing timber), ফসল ও ঘাসকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
  34. ৭৩. The Registration Act, 1908 এর ২৬ ধারার বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে সম্পাদিত দলিল কত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করতে হবে?
    • ক. দলিল সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে
    • খ. দলিল সম্পাদনের ৬ মাসের মধ্যে
    • গ. দলিলটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরবর্তী ৪ মাসের মধ্যে
    • ঘ. দলিলটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে
    উত্তর: গ. দলিলটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরবর্তী ৪ মাসের মধ্যে
    দেশে সম্পাদিত দলিল সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে দাখিল করতে হয়। কিন্তু ২৬ ধারায় বিদেশে সম্পাদিত দলিল বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ৪ মাসের মধ্যে দাখিল করলেও গ্রহণ করা যায়।
  35. ৭৪. The Transfer of Property Act, 1882 এর বিধান অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির বাৎসরিক ইজারা হলে ইজারা দাতা বা ইজারা গ্রহীতা কত দিনের নোটিশে ইজারার পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারে?
    • ক. ১ মাস
    • খ. ৩ মাস
    • গ. ৪ মাস
    • ঘ. ৬ মাস
    উত্তর: ঘ. ৬ মাস
    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী বছরভিত্তিক ইজারা (যেমন কৃষি বা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে) শেষ করতে ছয় মাসের নোটিশ দিতে হয়। মাসভিত্তিক ইজারায় লাগে ১৫ দিনের নোটিশ।
  36. ৭৫. হোল্ডিং ওভার (Holding over) কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
    • ক. বন্ধক
    • খ. ইজারা
    • গ. ট্রাস্ট
    • ঘ. দান
    উত্তর: খ. ইজারা
    ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ইজারাগ্রহীতা দখলে থাকলে এবং ইজারাদাতা খাজনা নিয়ে সম্মতি দিলে ইজারা নবায়িত হয়েছে বলে ধরা হয়। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৬ ধারার এই বিধানকে হোল্ডিং ওভার বলে।
  37. ৭৬. The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪৪ ধারার অধীনে খতিয়ান প্রস্তুত বা সংশোধনের আদেশ দিলে কোন ধারানুযায়ী ঐ আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে কোনো প্রতিকার চাওয়া যাবে না?
    • ক. ১৪৪
    • খ. ১৪৪A
    • গ. ১৪৪B
    • ঘ. ১৪৫
    উত্তর: গ. ১৪৪B
    প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪B ধারায় ১৪৪ ধারার অধীনে খতিয়ান প্রস্তুত বা সংশোধনের আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা করার ওপর বাধা আরোপ করা হয়েছে। এমন আদেশের প্রতিকার আইনে নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছেই চাইতে হয়।
  38. ৭৭. The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ৯৬ ধারার বিধানমতে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের কত সময় পর অগ্রক্রয়ের দরখাস্ত আর গ্রহণযোগ্য হবে না?
    • ক. ২ মাস
    • খ. ১ বৎসর
    • গ. ২ বৎসর
    • ঘ. ৩ বৎসর
    উত্তর: ঘ. ৩ বৎসর
    ৯৬ ধারা অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার বা বিক্রয়ের কথা জানার ২ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয়ের দরখাস্ত করতে হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই দলিল রেজিস্ট্রেশনের ৩ বছর পর দরখাস্ত করা যায় না।
  39. ৭৮. কোন আইন অনুসারে সিলেটে সি এস (CS) খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়?
    • ক. The State Acquisition and Tenancy Act, 1950
    • খ. The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949
    • গ. The Sylhet Tenancy Act, 1936
    • ঘ. The Bengal Tenancy Act, 1885
    উত্তর: গ. The Sylhet Tenancy Act, 1936
    সিলেট অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে আসামের অংশ ছিল বলে সেখানে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন প্রযোজ্য ছিল না। সিলেটের সিএস খতিয়ান তৈরি হয়েছে The Sylhet Tenancy Act, 1936 অনুসারে।
  40. ৭৯. The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ৩ ধারায় অকৃষি প্রজাগণকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৫
    উত্তর: ক. ২
    অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ৩ ধারায় অকৃষি প্রজাদের দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: সরাসরি ভূমি মালিকের অধীন অকৃষি প্রজা এবং অকৃষি উপ-প্রজা।
  41. ৮০. নিম্নের কোন কারণে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে?
    • ক. মানসিক অসামর্থ্যের কারণে
    • খ. গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে
    • গ. শারীরিকভাবে অক্ষম হলে
    • ঘ. সবগুলো
    উত্তর: খ. গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে
    সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে অপসারণ হয় ৫৩ অনুচ্ছেদে, সেটি অভিশংসন নয়।
  42. ৮১. নিম্নের কোনটি অর্থবিলের বিষয় নয়?
    • ক. কোনো কর আরোপ
    • খ. সরকারের হিসাব নিরীক্ষা
    • গ. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ
    • ঘ. সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন
    উত্তর: গ. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ
    সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদে কর আরোপ, সরকারি ঋণ, হিসাব নিরীক্ষা ইত্যাদিকে অর্থবিলের বিষয় বলা হয়েছে। কিন্তু স্পষ্টভাবে বলা আছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থানীয় কর আরোপের বিধান থাকলেই কোনো বিল অর্থবিল হবে না।
  43. ৮২. কোনো আইনের প্রস্তাবনা (Preamble) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি-
    • ক. পুরো আইনের সংক্ষিপ্তসার
    • খ. বিচারকদের কার্যাবলির রূপরেখা প্রদর্শন করে
    • গ. আইনের পরিধি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করে
    • ঘ. আইনের প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেয়
    উত্তর: গ. আইনের পরিধি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করে
    প্রস্তাবনায় আইনটি কেন ও কী উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হলো তা বলা থাকে। তাই কোনো বিধান অস্পষ্ট হলে আদালত প্রস্তাবনা দেখে আইনের পরিধি ও উদ্দেশ্য বুঝে নেন।
  44. ৮৩. যুদ্ধ ঘোষণার জন্য সম্মতি প্রয়োজন ______ এর।
    • ক. জাতীয় সংসদ
    • খ. রাষ্ট্রপতি
    • গ. প্রধানমন্ত্রী
    • ঘ. মন্ত্রী পরিষদ
    উত্তর: ক. জাতীয় সংসদ
    সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের সম্মতি ছাড়া যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না এবং বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না।
  45. ৮৪. সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্য কী ছিলো?
    • ক. ছিটমহল বিনিময়
    • খ. জরুরী অবস্থা সংক্রান্ত বিধান সংযুক্তকরণ
    • গ. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত আইনগত জটিলতা নিরসন
    • ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত আইনগত জটিলতা নিরসন
    ১৯৭৩ সালের প্রথম সংশোধনীতে ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ যোগ করে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পথ সুগম করা হয়। জরুরি অবস্থার বিধান এসেছে দ্বিতীয় সংশোধনীতে, আর ছিটমহল বিনিময় তৃতীয় সংশোধনীতে।
  46. ৮৫. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনটি প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য?
    • ক. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
    • খ. ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
    • গ. দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা
    • ঘ. দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা
    উত্তর: ক. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
    ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
  47. ৮৬. 'Freedom of press' কোন সাংবিধানিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত?
    • ক. Freedom of thought & conscience
    • খ. Freedom of profession
    • গ. Right to democratic culture
    • ঘ. Right to information
    উত্তর: ক. Freedom of thought & conscience
    সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের শিরোনাম 'চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা'। এর ২(খ) দফায় সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
  48. ৮৭. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
    • ক. ১১৪
    • খ. ১১৫
    • গ. ১১৬
    • ঘ. ১১৬ক
    উত্তর: খ. ১১৫
    ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতে বিচারক নিয়োগ রাষ্ট্রপতি প্রণীত বিধি অনুযায়ী হয়। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে এই অনুচ্ছেদের অধীনেই জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা প্রণয়ন করে কমিশন গঠন করা হয়।
  49. ৮৮. একটি আইনের দুইটি ধারা পরস্পর সাংঘর্ষিক হলে আইনটি কিভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে?
    • ক. অবস্থাভেদে একটি ধারা কার্যকর হবে
    • খ. পূর্বের ধারাটি কার্যকর হবে পরের ধারাটি বাতিল হবে
    • গ. পূর্বের ধারাটি বাতিল হবে পরের ধারাটি কার্যকর হবে
    • ঘ. এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়
    উত্তর: ঘ. এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়
    একই আইনের দুটি ধারা আপাতবিরোধী মনে হলে আদালত এমনভাবে ব্যাখ্যা করেন যাতে দুটিই কার্যকর থাকে। একে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যার নীতি (Harmonious Construction) বলে।
  50. ৮৯. Doctrine of 'ejusdem generis' নীতির আলোকে আইনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে-
    • ক. আইনের সাধারণ শব্দ নির্দিষ্ট শব্দকে অনুসরণ করে
    • খ. আইনের নির্দিষ্ট শব্দ সাধারণ শব্দকে অনুসরণ করে
    • গ. আইনের সাদৃশ্য শব্দসমূহ সাধারণ শব্দকে অনুসরণ করে
    • ঘ. আইনের সাদৃশ্য শব্দসমূহ নির্দিষ্ট শব্দকে অনুসরণ করে
    উত্তর: ক. আইনের সাধারণ শব্দ নির্দিষ্ট শব্দকে অনুসরণ করে
    কয়েকটি নির্দিষ্ট শব্দের পরে একটি সাধারণ শব্দ এলে সাধারণ শব্দটিকে আগের নির্দিষ্ট শব্দগুলোর সমজাতীয় অর্থে পড়তে হয়। যেমন 'গরু, ছাগল ও অন্যান্য প্রাণী' বললে 'অন্যান্য প্রাণী' মানে গৃহপালিত পশু।
  51. ৯০. মরজ-উল-মউত এর সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির বরাবর প্রদত্ত দান উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি ব্যতীত-
    • ক. সম্পূর্ণ বাতিল
    • খ. এক তৃতীয়াংশ কার্যকর
    • গ. সম্পূর্ণ কার্যকর
    • ঘ. এক চতুর্থাংশ কার্যকর
    উত্তর: খ. এক তৃতীয়াংশ কার্যকর
    মৃত্যুশয্যায় (মরজ-উল-মউত) করা দান অসিয়তের মতো গণ্য হয়। তাই উত্তরাধিকারীদের সম্মতি না থাকলে অ-উত্তরাধিকারীর পক্ষে এমন দান সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কার্যকর হয়।
  52. ৯১. কোনটি 'Doctrine of Juristic Preference'?
    • ক. ইসতিসলাহ
    • খ. ইজতিহাদ
    • গ. ইসতিহসান
    • ঘ. ইসতিদলাল
    উত্তর: গ. ইসতিহসান
    ইসতিহসান মানে আইনগত অগ্রাধিকার বা ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে কঠোর কিয়াস বাদ দিয়ে উত্তম সমাধান বেছে নেওয়া। ইমাম আবু হানিফা এই নীতি ব্যবহার করতেন, তাই একে Juristic Preference বলা হয়।
  53. ৯২. দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে প্রত্যর্পণযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে _____ বলে।
    • ক. আরিয়ত
    • খ. সাদাকা
    • গ. শর্তযুক্ত হেবা
    • ঘ. শর্তযুক্ত ওয়াকফ
    উত্তর: ক. আরিয়ত
    আরিয়ত হলো বিনা বিনিময়ে কোনো জিনিস অস্থায়ীভাবে ব্যবহার বা ভোগ করার অনুমতি, যা দাতা চাইলে যে কোনো সময় ফেরত নিতে পারেন। হেবায় মালিকানা স্থায়ীভাবে চলে যায়, আরিয়তে যায় না।
  54. ৯৩. "আল-হেদায়া" (Al-Hedayah) গ্রন্থের লেখক কে?
    • ক. ইমাম মালিক
    • খ. ইমাম আবু হানিফা
    • গ. ইবনে রুশদ
    • ঘ. বুরহান আল-দীন
    উত্তর: ঘ. বুরহান আল-দীন
    হানাফি ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ 'আল-হিদায়া' রচনা করেন দ্বাদশ শতকের আইনবিদ বুরহান উদ্দীন আল-মারগিনানি।
  55. ৯৪. ভাড়ার মাধ্যমে ভোগদখলীয় বাড়ি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দান করার পরও স্বামী ভাড়া উত্তোলন করতে থাকলে মুসলিম আইনে দানটি _____ গণ্য হবে।
    • ক. বাতিল
    • খ. অসম্পূর্ণ
    • গ. অকার্যকর
    • ঘ. বৈধ
    উত্তর: ঘ. বৈধ
    স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দানে দখল হস্তান্তরের নিয়ম শিথিল; দাতা স্বামী স্ত্রীর পক্ষে ভাড়া তুললেও দান বৈধ থাকে বলে আদালতের সিদ্ধান্ত আছে। তাই দানটি বৈধ গণ্য হয়।
  56. ৯৫. একজন হানাফি মুসলিম মা, স্বামী ও দুই সহোদর ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। সহোদর ভাইদের প্রাপ্ত অংশ কত?
    • ক. (১/১২)
    • খ. (২/৮)
    • গ. (২/৬)
    • ঘ. (১/৬)
    উত্তর: গ. (২/৬)
    স্বামী পাবেন ১/২, আর দুই ভাই থাকায় মা পাবেন ১/৬। মোট $\frac{1}{2}+\frac{1}{6}=\frac{4}{6}$, অবশিষ্ট $\frac{2}{6}$ অংশ আসাবা হিসেবে দুই সহোদর ভাই পাবেন।
  57. ৯৬. নিম্নের কোন উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' স্বীকৃত?
    • ক. ভ্রাতুষ্পুত্র
    • খ. প্রপৌত্র
    • গ. কন্যার পুত্র
    • ঘ. পিতার ভ্রাতা
    উত্তর: খ. প্রপৌত্র
    দায়ভাগ মতে পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র একসঙ্গে উত্তরাধিকারী হন; পিতা মারা গেলে পৌত্র বা প্রপৌত্র তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে অংশ পান। এটিই প্রতিনিধিত্ব নীতি, যা প্রপৌত্র পর্যন্ত প্রযোজ্য।
  58. ৯৭. হিন্দু আইন অনুযায়ী দত্তক এর ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক?
    • ক. যে-কেউ দত্তক দিতে পারে
    • খ. অবিবাহিত পুরুষ দত্তক নিতে পারে না
    • গ. অবিবাহিত মহিলা দত্তক নিতে পারে
    • ঘ. একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
    উত্তর: ঘ. একজন বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না
    হিন্দু আইনে কেবল পিতা-মাতাই দত্তক দিতে পারেন, আর সুস্থ মস্তিষ্কের সাবালক পুরুষ অবিবাহিত হলেও দত্তক নিতে পারেন; নারী নিজে দত্তক নিতে পারেন না। প্রচলিত মতে দত্তক নেওয়া ছেলে উত্তরাধিকারে অযোগ্য হতে পারবে না, তাই বোবাকে দত্তক নেওয়া যায় না বলা হয়েছে।
  59. ৯৮. The Family Courts Ordinance, 1985 অনুযায়ী লিখিত বর্ণনা দাখিলের কত দিনের মধ্যে Pre-Trial এর জন্য ধার্য করতে হবে?
    • ক. ৭
    • খ. ১৫
    • গ. ৩০
    • ঘ. ৬০
    উত্তর: গ. ৩০
    পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ১০ ধারা অনুযায়ী বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করার পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রাক-বিচারিক শুনানির (Pre-trial) তারিখ ধার্য করতে হয়।
  60. ৯৯. The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 অনুযায়ী স্বামী কত বৎসর উন্মাদ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে?
    • ক. ২
    • খ. ৩
    • গ. ৪
    • ঘ. ৭
    উত্তর: ক. ২
    এই আইনের ২ ধারায় বিবাহ বিচ্ছেদের কারণগুলোর একটি হলো স্বামী দুই বছর ধরে উন্মাদ থাকা। একই ধারায় সাত বছর মেয়াদের কারাদণ্ড ও তিন বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাও কারণ হিসেবে আছে।

বাংলাদেশ

  1. ১১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
    • ক. ২
    • খ. ৪
    • গ. ৫
    • ঘ. ৬
    উত্তর: ক. ২
    মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে। ঢাকায় দুঃসাহসী গেরিলা অভিযান চালানো ক্র্যাক প্লাটুন (Crack Platoon) এই সেক্টর থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করত। ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ টি এম হায়দার। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হামলা ক্র্যাক প্লাটুনের বিখ্যাত অভিযানগুলোর একটি।
    মনে রাখুন: শহীদ রুমী ও শাফী ইমাম আলম ছিলেন ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা।
  2. ১২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন তফসিলে বর্ণিত আছে?
    • ক. সপ্তম
    • খ. ষষ্ঠ
    • গ. পঞ্চম
    • ঘ. চতুর্থ
    উত্তর: খ. ষষ্ঠ
    ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তিনটি নতুন তফসিল যোগ হয়। এর মধ্যে ষষ্ঠ তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা।
    মনে রাখুন:
    পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ।
    ষষ্ঠ তফসিল: ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
    সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
  3. ১৩. 'বাঙ্গালাহ' নামের প্রচলন করেন -
    • ক. শশাঙ্ক
    • খ. ধর্মপাল
    • গ. ইলিয়াস শাহ
    • ঘ. আকবর
    উত্তর: গ. ইলিয়াস শাহ
    চতুর্দশ শতকে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার আলাদা আলাদা অঞ্চল, যেমন লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও, একত্র করে একক শাসনের অধীনে আনেন। তিনিই এই সমগ্র ভূখণ্ডকে ‘বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিত করেন, আর নিজে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি নেন। এ কারণে তাঁকে বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম সুলতানদের একজন হিসেবে মনে রাখা হয়।
    মনে রাখুন: সম্রাট আকবরের সময় এ অঞ্চল ‘সুবাহ বাংলা’ নামে পরিচিত হয়, আর শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম স্বাধীন বাঙালি রাজা, যাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
  4. ১৪. আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে প্রকাশিত তথ্য মতে বাংলাদেশে নিরক্ষরতার শতকরা হার কত?
    • ক. ২৫.৪
    • খ. ২৪.৪
    • গ. ২৩.৪
    • ঘ. ২১.৪
    উত্তর: খ. ২৪.৪
    আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ২০২১ সালে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেশে ৭ বছর ও তার বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার ছিল ৭৫.৬ শতাংশ। তাহলে নিরক্ষরতার হার দাঁড়ায় 100 − 75.6 = 24.4 শতাংশ। এই হার পরীক্ষার সময়ের তথ্য, পরে জনশুমারি ও অন্যান্য জরিপে সাক্ষরতার হার আরও বেড়েছে।
    মনে রাখুন: আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয় ৮ সেপ্টেম্বর।

আন্তর্জাতিক

  1. ১৫. ২০২০ সালের মার্চ মাসের কত তারিখে COVID-19 কে WHO বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে?
    • ক. ৯
    • খ. ১০
    • গ. ১১
    • ঘ. ১২
    উত্তর: গ. ১১
    চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ (COVID-19) রোগটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২০ সালের ১১ মার্চ বৈশ্বিক মহামারী (Pandemic) ঘোষণা করে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি সংস্থাটি একে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
    মনে রাখুন: বাংলাদেশে প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ।
  2. ১৬. 'World day against Trafficking, 2021' এর প্রতিপাদ্য কী ছিল?
    • ক. Save lives
    • খ. Victims' voice lead the way
    • গ. The future we need the UN we need
    • ঘ. Human Trafficking: Call your Government to Action
    উত্তর: খ. Victims' voice lead the way
    জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর ৩০ জুলাই বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস (World Day against Trafficking in Persons) পালিত হয়। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Victims’ Voices Lead the Way’, অর্থাৎ পাচারের শিকার মানুষের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বরকে সামনে রেখে পাচার রোধের পথ খোঁজা।
    মনে রাখুন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৩ সালে এই দিবস ঘোষণা করে এবং ২০১৪ সাল থেকে এটি পালিত হচ্ছে।
  3. ১৭. প্রথম আরব দেশ হিসাবে মঙ্গলাভিযান শুরু করে কোন দেশ?
    • ক. বাহরাইন
    • খ. কাতার
    • গ. সৌদি আরব
    • ঘ. সংযুক্ত আরব আমিরাত
    উত্তর: ঘ. সংযুক্ত আরব আমিরাত
    সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালের জুলাই মাসে জাপান থেকে ‘হোপ’ (আল-আমল) নামের একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে। এটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে আমিরাত প্রথম আরব দেশ হিসেবে মঙ্গল অভিযান চালায়।
    মনে রাখুন: একই সময়ে চীনের ‘তিয়ানওয়েন-১’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘পারসিভারেন্স’ রোভারও মঙ্গলে পৌঁছায়।
  4. ১৮. ক্রিপ্টোকারেন্সির স্বীকৃতি প্রদানকারী পৃথিবীর প্রথম দেশ কোনটি?
    • ক. এল সালভেদর
    • খ. গুয়েতেমালা
    • গ. নিকারাগুয়া
    • ঘ. হন্ডুরাস
    উত্তর: ক. এল সালভেদর
    মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বিটকয়েন (Bitcoin) নামের ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মার্কিন ডলারের পাশাপাশি বৈধ মুদ্রা (Legal tender) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে কোনো দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সিকে এভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। পরে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের শর্ত মেনে দেশটি আইন বদলে বিটকয়েন গ্রহণ ব্যবসায়ীদের জন্য ঐচ্ছিক করে দেয়।
    মনে রাখুন: ২০২২ সালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রা করে।
  5. ১৯. ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোথায় অবস্থিত?
    • ক. তুরস্ক
    • খ. গ্রীস
    • গ. ইতালী
    • ঘ. সাইপ্রাস
    উত্তর: ক. তুরস্ক
    গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’-এ ট্রয় নগরী ও ট্রয়ের যুদ্ধের কাহিনি আছে। অনেকে ভাবেন নগরীটি গ্রিসে, কিন্তু এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমে হিসারলিক নামের জায়গায়। ১৮৭০-এর দশকে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ হাইনরিখ শ্লিম্যান সেখানে খননকাজ চালান।
    মনে রাখুন: ট্রয়ের প্রত্নস্থল ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় আছে।

ইংরেজি

  1. ২০. Which is the best example of Palindrome in the following?
    • ক. Nurses run
    • খ. You go
    • গ. Players play
    • ঘ. ১২২২৫
    উত্তর: ক. Nurses run
    Palindrome হলো এমন শব্দ, বাক্যাংশ বা সংখ্যা, যা সামনে থেকে পড়লে আর পেছন থেকে পড়লে একই থাকে। ‘Nurses run’ থেকে ফাঁকা জায়গা বাদ দিলে হয় nursesrun, আর উল্টো দিক থেকে পড়লেও একই অক্ষরক্রম পাওয়া যায়। ‘You go’ বা ‘Players play’ উল্টো করলে বদলে যায়, আর ১২২২৫ উল্টো করলে ৫২২২১ হয়।
    উদাহরণ: madam, level, radar, 12321
  2. ২১. Choose the word which means 'the killing of one's wife'.
    • ক. uxoricide
    • খ. parricide
    • গ. herbicide
    • ঘ. homicide
    উত্তর: ক. uxoricide
    ল্যাটিন শব্দ uxor মানে স্ত্রী, আর -cide মানে হত্যা। তাই uxoricide মানে স্ত্রী হত্যা। -cide দিয়ে গড়া আরও কিছু শব্দ পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
    মনে রাখুন:
    parricide: পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয় হত্যা
    patricide: পিতৃহত্যা, matricide: মাতৃহত্যা
    fratricide: ভ্রাতৃহত্যা, regicide: রাজহত্যা
    homicide: মানুষ হত্যা, herbicide: আগাছানাশক
  3. ২২. What does the Latin expression 'et alia' mean?
    • ক. you are
    • খ. and others
    • গ. warrant
    • ঘ. yours faithfully
    উত্তর: খ. and others
    ‘et alia’ একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, এর অর্থ ‘and others’ বা ‘এবং অন্যান্য’। লেখার সময় একে সংক্ষেপে et al. লেখা হয়। বইয়ের লেখকের তালিকা লম্বা হলে প্রথম জনের নামের পরে et al. লেখা হয়, আবার মামলার শিরোনামে অনেক পক্ষ থাকলেও এটি ব্যবহার করা হয়।
    মনে রাখুন: etc. (et cetera) মানে and so on, আর i.e. (id est) মানে that is।
  4. ২৩. The word 'nuptial' is related to
    • ক. Mars
    • খ. Earth
    • গ. wedding
    • ঘ. lunatic
    উত্তর: গ. wedding
    Nuptial শব্দের অর্থ বিবাহসংক্রান্ত, তাই শব্দটি wedding বা marriage-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। শব্দটি এসেছে ল্যাটিন nubere থেকে, যার মানে বিয়ে করা।
    উদাহরণ: nuptial ceremony মানে বিয়ের অনুষ্ঠান, prenuptial agreement মানে বিয়ের আগের চুক্তি।
    মনে রাখুন: Matrimony শব্দের অর্থও বিবাহ।
  5. ২৪. The lawmakers had to be escorted to safety by the police. Here the second 'to' is a/an
    • ক. noun
    • খ. preposition
    • গ. adverb
    • ঘ. infinitive marker
    উত্তর: খ. preposition
    বাক্যে দুটি to আছে। প্রথম to বসেছে had-এর পরে be ক্রিয়ার আগে, তাই সেটি infinitive marker। দ্বিতীয় to-এর পরে বসেছে noun ‘safety’, আর এটি পুলিশ আইনপ্রণেতাদের কোথায় নিয়ে গেল সেই গন্তব্য বোঝাচ্ছে। Noun বা pronoun-এর আগে বসে অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক বোঝালে শব্দটি preposition হয়।
    মনে রাখুন: to-এর পরে verb-এর base form থাকলে সাধারণত তা infinitive marker, আর noun থাকলে preposition।
  6. ২৫. 'To have a screw loose' means
    • ক. be slightly eccentric
    • খ. be lightly tied
    • গ. be slightly lose
    • ঘ. be a bit wrong
    উত্তর: ক. be slightly eccentric
    ‘To have a screw loose’ একটি idiom। কোনো যন্ত্রের একটি স্ক্রু ঢিলা থাকলে যেমন সেটি ঠিকমতো চলে না, তেমনি কারও আচরণ একটু অদ্ভুত বা খ্যাপাটে হলে এই idiom ব্যবহার করা হয়। তাই এর অর্থ be slightly eccentric।
    উদাহরণ: He talks to his plants all day; I think he has a screw loose.
  7. ২৬. The movement of the Rohingya people in Bangladesh away from Myanmar is -
    • ক. diatonic
    • খ. ethnic cleansing
    • গ. diaspora
    • ঘ. diatribe
    উত্তর: গ. diaspora
    কোনো জনগোষ্ঠী নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়লে বা বসবাস করলে তাকে diaspora বলে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে, তাই এই স্থানান্তর বোঝাতে diaspora শব্দটি মানানসই। Ethnic cleansing হলো তাদের ওপর চালানো জাতিগত নিধন, যা এই দেশত্যাগের কারণ, দেশত্যাগ নিজে নয়।
    মনে রাখুন: diatribe মানে তীব্র নিন্দাসূচক বক্তৃতা, আর diatonic একটি সংগীতবিষয়ক শব্দ।
  8. ২৭. Who quoted 'It is better that ten guilty persons escape than one innocent suffer'?
    • ক. William Blackstone
    • খ. Cesare Beccaria
    • গ. John Selden
    • ঘ. T. H. White
    উত্তর: ক. William Blackstone
    অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ আইনবিদ William Blackstone তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Commentaries on the Laws of England’-এ লেখেন, দশজন অপরাধী ছাড়া পাওয়া ভালো, তবু একজন নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায়। এই ধারণাটি Blackstone’s ratio নামে পরিচিত। ফৌজদারি বিচারে অভিযুক্তকে নির্দোষ ধরে নেওয়া এবং সন্দেহের সুবিধা (Benefit of doubt) তাকে দেওয়ার নীতি এখান থেকেই জোর পায়।
    মনে রাখুন: Cesare Beccaria লেখেন ‘On Crimes and Punishments’, যা শাস্তি সংস্কারের আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখে।
  9. ২৮. Who is the writer of the play Waiting for Godot?
    • ক. F. Bacon
    • খ. T. Hardy
    • গ. A. Pope
    • ঘ. S. Beckett
    উত্তর: ঘ. S. Beckett
    ‘Waiting for Godot’ আইরিশ নাট্যকার Samuel Beckett-এর লেখা। নাটকে দুই চরিত্র ভ্লাদিমির ও এস্ট্রাগন গোডো নামের একজনের জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু সে কখনো আসে না। এই নাটকটি Theatre of the Absurd ধারার সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ। Beckett নাটকটি প্রথমে ফরাসি ভাষায় লেখেন এবং ১৯৬৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
  10. ২৯. 'To err is human, to forgive, divine' who says -
    • ক. Alexander Pope
    • খ. Shakespeare
    • গ. Wordsworth
    • ঘ. Shelley
    উত্তর: ক. Alexander Pope
    ‘To err is human, to forgive, divine’ পঙ্ক্তিটি Alexander Pope-এর কবিতা ‘An Essay on Criticism’ থেকে নেওয়া। এর অর্থ, ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর ক্ষমা করা ঐশ্বরিক গুণ।
    মনে রাখুন: ‘A little learning is a dangerous thing’ এবং ‘Fools rush in where angels fear to tread’ পঙ্ক্তি দুটিও একই কবিতার।

বিজ্ঞান

  1. ৪০. মানুষের চোখের শ্বেত মণ্ডলের সামনের অংশের নাম -
    • ক. রেটিনা
    • খ. কর্নিয়া
    • গ. আইরিস
    • ঘ. তারারন্ধ্র
    উত্তর: খ. কর্নিয়া
    আমাদের চোখের বাইরের দিকে একটি শক্ত, সাদা ও অস্বচ্ছ আবরণ আছে, যাকে শ্বেতমণ্ডল (Sclera) বলে। এই আবরণের সামনের অংশটি স্বচ্ছ ও একটু উঁচু, একে কর্নিয়া (Cornea) বলে। আলো প্রথমে কর্নিয়ার ভেতর দিয়েই চোখে ঢোকে।
    মনে রাখুন: কর্নিয়ার পেছনে থাকা রঙিন পর্দাটি আইরিস, এর মাঝের ছিদ্রটি তারারন্ধ্র (Pupil), আর চোখের ভেতরের যে আলোকসংবেদী পর্দায় প্রতিবিম্ব পড়ে সেটি রেটিনা।
  2. ৪১. রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে কোন রোগটি হয়?
    • ক. স্ট্রোক
    • খ. এইডস
    • গ. এনিমিয়া
    • ঘ. লিউকেমিয়া
    উত্তর: ঘ. লিউকেমিয়া
    লিউকেমিয়া (Leukemia) এক ধরনের রক্তের ক্যান্সার। এ রোগে অস্থিমজ্জা থেকে অস্বাভাবিক শ্বেতকণিকা অনিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি হতে থাকে, ফলে রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে যায়।
    মনে রাখুন: রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন কমে গেলে হয় রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া (Anaemia), আর এইডস হয় HIV ভাইরাসের কারণে।
  3. ৪২. আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী হলো -
    • ক. ভাইরাস
    • খ. ব্যাকটেরিয়া
    • গ. শৈবাল
    • ঘ. ছত্রাক
    উত্তর: ঘ. ছত্রাক
    আলুর লেট ব্লাইট (Late blight) বা নাবি ধসা রোগ হয় Phytophthora infestans নামের ছত্রাকজাতীয় জীবের আক্রমণে। এ রোগে পাতা ও কাণ্ডে কালচে দাগ পড়ে এবং আর্দ্র, ঠান্ডা আবহাওয়ায় অল্প দিনেই পুরো ক্ষেত পচে যেতে পারে। উনিশ শতকে আয়ারল্যান্ডের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পেছনে এই রোগই দায়ী ছিল।
    মনে রাখুন: ধানের ব্লাস্ট রোগও ছত্রাকের কারণে হয়, আর ধানের টুংরো রোগ হয় ভাইরাসের কারণে।
  4. ৪৩. কোনটিকে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়?
    • ক. মেডুলা
    • খ. সেরিব্রাম
    • গ. পনস
    • ঘ. সেরিবেলাম
    উত্তর: ক. মেডুলা
    মেডুলা অবলংগাটা (Medulla oblongata) মস্তিষ্কের একেবারে নিচের অংশ, যা নিচের দিকে সুষুম্নাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বোঁটার মাধ্যমে যেমন ফল গাছের সঙ্গে লেগে থাকে, তেমনি এই অংশের মাধ্যমে মস্তিষ্ক সুষুম্নাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাই একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। হৃৎস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তচাপের মতো অনৈচ্ছিক কাজ এটি নিয়ন্ত্রণ করে।
    মনে রাখুন: সেরিব্রাম মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ, আর সেরিবেলাম দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  5. ৪৪. প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন হয় যেটিতে -
    • ক. সরিষা
    • খ. ধান
    • গ. পাতা শ্যাওলা
    • ঘ. কদম
    উত্তর: ঘ. কদম
    বাহকের ভিত্তিতে পরাগায়নকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়: বায়ুপরাগী, পানিপরাগী, পতঙ্গপরাগী এবং প্রাণীপরাগী। পাঠ্যবইয়ে পতঙ্গ ছাড়া অন্য প্রাণী, যেমন পাখি, বাদুড় বা শামুকের মাধ্যমে পরাগায়নকে প্রাণীপরাগী (Zoophily) বলা হয়। কদম ফুলে বাদুড়ের মাধ্যমে পরাগায়ন হয়, তাই এটি প্রাণীপরাগী ফুল।
    মনে রাখুন:
    বায়ুপরাগী: ধান, গম, ভুট্টা।
    পানিপরাগী: পাতা শ্যাওলা, হাইড্রিলা।
    পতঙ্গপরাগী: সরিষা, কুমড়া।
    পাখিপরাগী: শিমুল, মাদার; শামুকপরাগী: কচু।

গণিত

  1. ৪৫. একটি বালতির ১/৩ অংশ ভর্তি আছে। যদি ৫ লিটার সরানো হয় তবে ১/৬ অংশ ভর্তি থাকে। বালতিটি কত লিটার ধারণ করতে পারে?
    • ক. ২০
    • খ. ২৫
    • গ. ৩০
    • ঘ. ৩৫
    উত্তর: গ. ৩০
    ধরা যাক বালতির ধারণক্ষমতা x লিটার। শুরুতে পানি আছে x/3 লিটার, ৫ লিটার সরানোর পর থাকে x/6 লিটার।
    $\frac{x}{3} - 5 = \frac{x}{6}$
    $\frac{x}{3} - \frac{x}{6} = 5$
    $\frac{x}{6} = 5$, তাই x = 30
    যাচাই: 30 লিটারের ১/৩ হলো 10 লিটার, এখান থেকে 5 লিটার সরালে থাকে 5 লিটার, যা 30-এর ১/৬। তাই বালতিটি ৩০ লিটার ধারণ করতে পারে।
  2. ৪৬. ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্যের ৫/৮ হলে শতকরা লাভ কত?
    • ক. ২৫%
    • খ. ৩০%
    • গ. ৪০%
    • ঘ. ৬০%
    উত্তর: ঘ. ৬০%
    ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্যের ৫/৮ অংশ, তাই সহজ হিসাবের জন্য বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা ধরলে ক্রয়মূল্য হয় ৫ টাকা।
    লাভ = 8 − 5 = 3 টাকা
    শতকরা লাভ = $\frac{3}{5} \times 100 = 60\%$
    মনে রাখুন: লাভ বা ক্ষতির শতকরা হিসাব সবসময় ক্রয়মূল্যের ওপর করা হয়, বিক্রয়মূল্যের ওপর নয়। বিক্রয়মূল্যের ওপর হিসাব করলে ভুল করে ৩৭.৫% পাওয়া যেত।
  3. ৪৭. $x = \sqrt{3} + \sqrt{5}$ হলে $\frac{x^2 - 2}{x}$ এর মান হবে -
    • ক. $-2\sqrt{3}$
    • খ. $3\sqrt{3}$
    • গ. $2\sqrt{3}$
    • ঘ. $5\sqrt{2}$
    উত্তর: গ. $2\sqrt{3}$
    রাশিটিকে ভেঙে লিখলে হিসাব সহজ হয়: $\frac{x^2 - 2}{x} = x - \frac{2}{x}$।
    এখন $\frac{2}{x} = \frac{2}{\sqrt{5} + \sqrt{3}}$। হর ও লবকে $(\sqrt{5} - \sqrt{3})$ দিয়ে গুণ করে হরকে মূলদ করি:
    $\frac{2(\sqrt{5} - \sqrt{3})}{5 - 3} = \sqrt{5} - \sqrt{3}$
    তাহলে $x - \frac{2}{x} = (\sqrt{3} + \sqrt{5}) - (\sqrt{5} - \sqrt{3}) = 2\sqrt{3}$
    মনে রাখুন: $(a + b)(a - b) = a^2 - b^2$ সূত্রটিই হরকে মূলদ করার মূল কৌশল।
  4. ৪৮. $f(x) = x^2 - 5x + 6$ এবং f(x) = 0 হলে, x = কত?
    • ক. 2, 3
    • খ. - 2, 3
    • গ. 2, - 3
    • ঘ. 6, - 1
    উত্তর: ক. 2, 3
    f(x) = 0 হলে আমাদের দ্বিঘাত সমীকরণ $x^2 - 5x + 6 = 0$ সমাধান করতে হবে। মধ্যপদ বিভক্তি করতে এমন দুটি সংখ্যা খুঁজি, যাদের গুণফল 6 এবং যোগফল −5; সংখ্যা দুটি −2 ও −3।
    $x^2 - 2x - 3x + 6 = 0$
    $(x - 2)(x - 3) = 0$
    তাই x = 2 অথবা x = 3।
    যাচাই: x = 2 বসালে 4 − 10 + 6 = 0, আর x = 3 বসালে 9 − 15 + 6 = 0।
  5. ৪৯. দুইটি বৃত্ত পরস্পরকে বহিঃস্পর্শ করে। এদের একটির ব্যাস ৬ সে.মি. এবং অপরটির ব্যাসার্ধ ৪ সে.মি. হলে, এদের কেন্দ্রদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব কত সে. মি?
    • ক. ৬
    • খ. ৭
    • গ. ১০
    • ঘ. ৩
    উত্তর: খ. ৭
    দুটি বৃত্ত বাইরের দিক থেকে একটি বিন্দুতে স্পর্শ করলে কেন্দ্র দুটি এবং স্পর্শবিন্দু একই সরলরেখায় থাকে। তাই কেন্দ্রদ্বয়ের দূরত্ব ব্যাসার্ধ দুটির যোগফলের সমান।
    প্রথম বৃত্তের ব্যাসার্ধ = 6 ÷ 2 = 3 সে.মি.
    কেন্দ্রদ্বয়ের দূরত্ব = 3 + 4 = 7 সে.মি.
    মনে রাখুন: বৃত্ত দুটি অন্তঃস্পর্শ করলে কেন্দ্রদ্বয়ের দূরত্ব হয় ব্যাসার্ধ দুটির বিয়োগফল, এখানে যা হতো 4 − 3 = 1 সে.মি.।

বাংলা

  1. ৫০. তিনি সৎ তাই সকলেই তাকে শ্রদ্ধা করে। এই বাক্যে 'তাই' কোন প্রকার অব্যয়?
    • ক. অনন্বয়ী
    • খ. ধ্বন্যাত্মক
    • গ. সংকোচক
    • ঘ. সংযোজক
    উত্তর: ঘ. সংযোজক
    ‘তিনি সৎ’ এবং ‘সকলেই তাকে শ্রদ্ধা করে’, এই দুটি বাক্যকে ‘তাই’ শব্দটি জুড়ে দিয়েছে। প্রথম বাক্যটি কারণ, দ্বিতীয়টি তার ফল। যে অব্যয় দুটি পদ, বাক্যাংশ বা বাক্যকে যুক্ত করে, তাকে সংযোজক অব্যয় (Conjunctive indeclinable) বলে। কারণ ও ফল বোঝায় বলে ‘তাই’-কে আরও নির্দিষ্টভাবে কারণবাচক সংযোজক অব্যয় বলা হয়।
    উদাহরণ: সে অসুস্থ, তাই আসেনি। বৃষ্টি হচ্ছে, সুতরাং খেলা হবে না।
  2. ৫১. 'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' কোন ভাষার উপসর্গ?
    • ক. তৎসম
    • খ. হিন্দি
    • গ. ফারসি
    • ঘ. আরবি
    উত্তর: গ. ফারসি
    ‘নিম’ একটি ফারসি উপসর্গ, এর অর্থ আধা বা প্রায়। তাই নিমরাজি মানে আধা রাজি, পুরোপুরি রাজি নয়। বাংলায় ফারসি উপসর্গ মূলত ফারসি থেকে আসা শব্দের সঙ্গেই বেশি বসে।
    উদাহরণ: নিমখুন (আধা খুন), নিমহাকিম (হাতুড়ে চিকিৎসক)।
    মনে রাখুন: কার, দর, না, ফি, বদ, বে, বর, কম ও নিম, এগুলোও ফারসি উপসর্গ। যেমন: বদমেজাজ, বেহিসাব, নাহক, দরপত্তনি।
  3. ৫২. বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায় - এই বাক্যে 'বাঘে - মহিষে' কোন ধরনের কর্তা?
    • ক. মুখ্য কর্তা
    • খ. প্রযোজক কর্তা
    • গ. প্রযোজ্য কর্তা
    • ঘ. ব্যতিহার কর্তা
    উত্তর: ঘ. ব্যতিহার কর্তা
    বাক্যে দুটি কর্তা একই কাজ একসঙ্গে বা পরস্পরের সঙ্গে করলে তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে। এ ধরনের কর্তার সঙ্গে সাধারণত দুই জায়গাতেই ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত হয়। ‘বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়’ বাক্যে বাঘ ও মহিষ দুজনেই একসঙ্গে জল খাওয়ার কাজটি করছে, তাই ‘বাঘে-মহিষে’ ব্যতিহার কর্তা।
    উদাহরণ: রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।
    মনে রাখুন: ‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে মা প্রযোজক কর্তা আর শিশু প্রযোজ্য কর্তা।
  4. ৫৩. 'ছি ছি, তার সঙ্গে আর পারলে না।'- এই বাক্যে কোন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে?
    • ক. লজ্জা
    • খ. ধিক্কার
    • গ. ঘৃণা
    • ঘ. বিরক্তি
    উত্তর: ক. লজ্জা
    মনের আবেগ প্রকাশ করতে যে অব্যয় ব্যবহার করা হয়, তাকে আবেগ শব্দ বা মনোভাবজ্ঞাপক অব্যয় বলে। ‘ছি ছি’ প্রসঙ্গভেদে ঘৃণা, বিরক্তি বা লজ্জা বোঝায়। এখানে কেউ প্রতিযোগিতায় অন্যের কাছে হেরে গেছে, আর বক্তা তাতে লজ্জিত বোধ করছেন। তাই বাক্যটিতে লজ্জা প্রকাশ পেয়েছে।
    মনে রাখুন: ‘ছি ছি, তুমি এত নীচ!’ বাক্যে একই শব্দ ঘৃণা বা বিরক্তি বোঝায়, তাই আবেগ শব্দের অর্থ বুঝতে হয় বাক্যের প্রসঙ্গ দেখে।
  5. ৫৪. 'বাংলাদেশ' শব্দে কয়টি অক্ষর?
    • ক. তিন
    • খ. চার
    • গ. পাঁচ
    • ঘ. ছয়
    উত্তর: ক. তিন
    বাংলা ব্যাকরণে অক্ষর (Syllable) বলতে বোঝায় শব্দের সেই ক্ষুদ্রতম অংশ, যা এক ঝোঁকে বা এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয়। এটি বর্ণের সমান নয়। ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি উচ্চারণ করলে আমরা পাই বাং-লা-দেশ, অর্থাৎ তিনটি অংশ। তাই শব্দটিতে অক্ষর তিনটি।
    মনে রাখুন: যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে তাকে মুক্ত অক্ষর (যেমন লা) এবং যার শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে তাকে বদ্ধ অক্ষর (যেমন বাং, দেশ) বলে।
  6. ৫৫. কোন গ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলাম কাব্যানুবাদ করেছেন?
    • ক. শিউলি মালা
    • খ. চক্রবাক
    • গ. বিষের বাঁশী
    • ঘ. রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম
    উত্তর: ঘ. রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম
    ফারসি কবি ওমর খৈয়ামের চার পঙ্ক্তির কবিতা রুবাই নামে পরিচিত। কাজী নজরুল ইসলাম মূল ফারসি থেকে এগুলোর কাব্যানুবাদ করেন, যা ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ নামে ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। বাকি তিনটি নজরুলের মৌলিক রচনা: ‘চক্রবাক’ ও ‘বিষের বাঁশী’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘শিউলিমালা’ গল্পগ্রন্থ।
    মনে রাখুন: নজরুল হাফিজের কবিতাও অনুবাদ করেন ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ নামে।
  7. ৫৬. 'দু-একটা উইকেট পড়লে কী হবে, কেউ-না-কেউ নিশ্চয় দাঁড়িয়ে যাবে।' - এই বাক্যে 'কেউ-না-কেউ' কোন ধরনের সর্বনাম?
    • ক. সামীপ্যবাচক
    • খ. ব্যতিহারিক
    • গ. অন্যাদিবাচক
    • ঘ. অনির্দেশক
    উত্তর: ঘ. অনির্দেশক
    যে সর্বনাম নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে না বুঝিয়ে অনির্দিষ্ট কাউকে বোঝায়, তাকে অনির্দেশক সর্বনাম (Indefinite pronoun) বলে। বাক্যে ‘কেউ-না-কেউ’ দাঁড়িয়ে যাবে বলতে দলের যে কোনো একজন খেলোয়াড়কে বোঝানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কাউকে নয়। তাই এটি অনির্দেশক সর্বনাম।
    মনে রাখুন:
    অনির্দেশক: কেউ, কোনো, কিছু, একজন।
    ব্যতিহারিক: আপনা-আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর।
    অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর।
    সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা।
  8. ৫৭. 'Invigilator' শব্দের বাংলা পরিভাষা
    • ক. পরীক্ষক
    • খ. পরিরক্ষক
    • গ. পরামর্শক
    • ঘ. তত্ত্বাবধায়ক
    উত্তর: খ. পরিরক্ষক
    পরীক্ষার হলে যিনি পরীক্ষার্থীদের ওপর নজর রাখেন এবং নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করেন, তাঁকে ইংরেজিতে Invigilator বলে। সরকারি প্রশাসনিক পরিভাষায় এর বাংলা ‘পরিরক্ষক’। যিনি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন, তিনি Examiner বা পরীক্ষক, তাই দুটিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
    মনে রাখুন: Supervisor-এর পরিভাষা তত্ত্বাবধায়ক এবং Adviser বা Consultant-এর পরিভাষা পরামর্শক।
  9. ৫৮. বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য কোনটি
    • ক. বীরাঙ্গনা
    • খ. পদ্মিনী
    • গ. সারদা মঙ্গল
    • ঘ. চিত্তনামা
    উত্তর: ক. বীরাঙ্গনা
    মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ (১৮৬২) বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। রোমান কবি ওভিদের ‘Heroides’-এর আদর্শে লেখা এই কাব্যে শকুন্তলা, তারা, কৈকেয়ীসহ পৌরাণিক নারীরা প্রিয়জনের কাছে চিঠির আকারে মনের কথা লিখেছেন। মোট ১১টি পত্র এতে আছে।
    মনে রাখুন: মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য, আর ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ প্রথম সনেট সংকলন।
  10. ৫৯. 'চলে মুসাফির' কবি জসীম উদ্দীনের কোন শ্রেণির সাহিত্য রচনা?
    • ক. কাব্য
    • খ. নাটক
    • গ. গীতি নাট্য
    • ঘ. ভ্রমণ কাহিনি
    উত্তর: ঘ. ভ্রমণ কাহিনি
    ‘চলে মুসাফির’ পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের লেখা একটি ভ্রমণকাহিনি। এতে তিনি ইউরোপ ও আমেরিকা সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
    মনে রাখুন: জসীম উদ্দীনের আরও ভ্রমণকাহিনি হলো ‘হলদে পরির দেশে’, ‘যে দেশে মানুষ বড়’ এবং ‘জার্মানীর শহরে বন্দরে’। তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন: অন্যান্য পরীক্ষা

আরও সরকারি চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন