বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১০ম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ২০১৬। ৯৮টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →আইন
- ১. সংবিধানের ১৪১ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি করা হলে তার সর্বোচ্চ মেয়াদ কত হতে পারে?
- ক. ১৮০ দিন
- খ. ৩৬৫ দিন
- গ. ১২০ দিন
- ঘ. এর কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই
উত্তর: গ. ১২০ দিন
সংবিধানের নবম ক ভাগে জরুরি বিধানাবলি (Emergency Provisions) রাখা হয়েছে। এর ১৪১ক(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জারি করা জরুরি অবস্থার ঘোষণা ১২০ দিন পেরোলে আপনা-আপনি কার্যকারিতা হারায়, যদি না ঐ সময়ের মধ্যে সংসদ প্রস্তাব পাস করে তা অনুমোদন করে। তাই সংসদের অনুমোদন ছাড়া জরুরি অবস্থা সর্বোচ্চ ১২০ দিন টিকে থাকতে পারে।
মনে রাখুন:
যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হলে জরুরি অবস্থা জারি করা যায়।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার বৈধতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আগাম প্রতিস্বাক্ষর লাগে, এ বিধান আসে দ্বাদশ সংশোধনীতে (১৯৯১)।
জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা যায় ১৪১খ ও ১৪১গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। - ২. The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order-XXI rule 92 অনুসারে প্রদত্ত "Setting aside or refusing to set aside a sale" আদেশটি-
- ক. রিভিশনযোগ্য
- খ. আপিলযোগ্য
- গ. ১৫১ ধারার বিধান মতে রদ ও রহিতযোগ্য
- ঘ. উপরের কোনটিই নয়
উত্তর: খ. আপিলযোগ্য
দেওয়ানি কার্যবিধির (Code of Civil Procedure) Order XXI rule 92 অনুযায়ী জারি আদালত নিলাম বিক্রয় নিশ্চিত করে, অথবা আপত্তি গ্রহণ করে বিক্রয় রদ করে। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী, তা বলা আছে Order XLIII rule 1(j)-এ: Order XXI-এর rule 72 বা rule 92 অনুযায়ী নিলাম রদ করা বা রদ করতে অস্বীকার করার আদেশ আপিলযোগ্য (Appealable Order)। তাই এখানে রিভিশন নয়, সরাসরি আপিল চলে।
মনে রাখুন:
আপিলযোগ্য আদেশগুলোর তালিকা আছে CPC-এর ১০৪ ধারা ও Order XLIII rule 1-এ।
নিলাম রদের দরখাস্ত করা যায় অনিয়ম বা প্রতারণার কারণে Order XXI rule 90 অনুযায়ী। - ৩. "Persons for whose examination commission may issue"- বিধানটি The Code of Civil Procedure,1908 এর কোথায় বর্ণিত আছে?
- ক. Order-XXI, rule 1
- খ. Order-XXVI, rule 4
- গ. Order-XXXIX, rule 7
- ঘ. Order-IX, rule 13
উত্তর: খ. Order-XXVI, rule 4
কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হতে না পারলে আদালত কমিশন (Commission) পাঠিয়ে তাঁর জবানবন্দি নিতে পারে। কমিশন সংক্রান্ত সব বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXVI-এ আছে, আর কোন কোন ব্যক্তির জবানবন্দির জন্য কমিশন দেওয়া যায় (Persons for whose examination commission may issue) তা বলা হয়েছে এর rule 4-এ। যেমন আদালতের এখতিয়ারের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তি, অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তি, কিংবা সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ত কর্মকর্তা।
মনে রাখুন:
Order XXI ডিক্রি জারি নিয়ে, Order XXXIX অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আর Order IX rule 13 একতরফা ডিক্রি রদ নিয়ে।
স্থানীয় তদন্তের জন্য কমিশনের বিধান আছে Order XXVI rule 9-এ। - ৪. অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এ দাখিলকৃত জারির বিরুদ্ধে ৩য় পক্ষের আপত্তি দাখিলের ক্ষেত্রে বিক্রিকৃত অর্থের কত ভাগের সমপরিমাণ জামানত দাখিল করতে হয়?
- ক. ৫%
- খ. ১০%
- গ. ২৫%
- ঘ. ৫০%
উত্তর: খ. ১০%
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩২ ধারায় জারি মামলায় আপত্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো তৃতীয় পক্ষ জারির বিরুদ্ধে দাবি বা আপত্তি তুললে তাঁকে ডিক্রিকৃত অর্থের (আংশিক আদায় হলে অনাদায়ী অর্থের) ১০% এর সমপরিমাণ জামানত বা বন্ড দাখিল করতে হয়, না করলে দাবিটি নামঞ্জুর হয়। এই শর্তের উদ্দেশ্য হলো অযথা আপত্তি তুলে ব্যাংকের পাওনা আদায় দেরি করানো ঠেকানো।
মনে রাখুন:
একতরফা ডিক্রি রদের দরখাস্তে ১৯ ধারা অনুযায়ী ডিক্রিকৃত অর্থের ১০% জমা দিতে হয়।
অর্থঋণ মামলায় আপিল করতে ডিক্রিকৃত অর্থের ৫০% জমা দিতে হয়। - ৫. 'Per incuriam' শব্দের অর্থ-
- ক. বিচারক কর্তৃক কৃত অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয় তার গোচরে আসামাত্র ন্যায়বিচারের স্বার্থে শুদ্ধ করা
- খ. আইনের কোন শব্দ বা বাক্যের অর্থ বুঝাতে না পারা
- গ. আইনে ব্যবহৃত কোন শব্দ বা বাক্যের ব্যাখ্যা করা
- ঘ. উপরের কোনটিই নয়
উত্তর: ক. বিচারক কর্তৃক কৃত অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয় তার গোচরে আসামাত্র ন্যায়বিচারের স্বার্থে শুদ্ধ করা
‘Per incuriam’ একটি ল্যাটিন কথা, যার অর্থ অনবধানতাবশত বা অসাবধানতায়। কোনো রায় যদি প্রাসঙ্গিক আইন বা বাধ্যতামূলক নজির নজরে না এনে দেওয়া হয়, তবে সেটিকে per incuriam রায় বলা হয়। এমন অনিচ্ছাকৃত ভুল বিচারকের গোচরে এলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা শুধরে নেওয়া হয়, আর ঐ রায়টি পরবর্তী মামলার জন্য বাধ্যতামূলক নজির (Binding Precedent) হিসেবে গণ্য হয় না।
মনে রাখুন: কোনো বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে তাকে বলে Res judicata, আর এখনো সিদ্ধান্ত না হওয়া বিষয়কে বলে Res integra। - ৬. 'An appellate court shall have power to take additional evidence or require such evidence to be taken'- বিধানটি The Code of Civil Procedure,1908 এর কোথায় বর্ণিত আছে?
- ক. Order XLI rule 27
- খ. Order XLI rule 17
- গ. Section 107
- ঘ. Section 96
উত্তর: গ. Section 107
দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারায় আপিল আদালতের ক্ষমতা (Powers of Appellate Court) বলা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে পারে, মামলা রিমান্ডে পাঠাতে পারে, বিচার্য বিষয় গঠন করে বিচারের জন্য পাঠাতে পারে এবং অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে বা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। প্রশ্নের বাক্যটি এই ১০৭(১)(d) ধারার ভাষা। তবে কোন শর্তে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেওয়া যাবে, তার বিস্তারিত নিয়ম আছে Order XLI rule 27-এ।
মনে রাখুন:
মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রথম আপিলের বিধান ৯৬ ধারায়, দ্বিতীয় আপিলের বিধান ১০০ ধারায়।
আপিল শুনানিতে আপিলকারী অনুপস্থিত থাকলে আপিল খারিজ হয় Order XLI rule 17 অনুযায়ী। - ৭. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত অধ্যাদেশ কত দিনের মধ্যে সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা না হলে বিলুপ্ত হয়ে যাবে? অধ্যাদেশ জারির-
- ক. তারিখ থেকে নব্বই দিন
- খ. তারিখ থেকে ছয় মাস
- গ. পর প্রথম সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিন হতে ত্রিশ দিন
- ঘ. পর প্রথম সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের তারিখ হতে ত্রিশ দিন
উত্তর: গ. পর প্রথম সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিন হতে ত্রিশ দিন
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করতে পারেন। ৯৩(২) অনুচ্ছেদ বলছে, অধ্যাদেশটি জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই উপস্থাপন করতে হবে এবং উপস্থাপনের ৩০ দিন পেরোনোর আগে সংসদ তা অনুমোদন না করলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে। প্রথম বৈঠকেই উপস্থাপন বাধ্যতামূলক বলে ৩০ দিনের হিসাব শুরু হয় অধ্যাদেশ জারির পর প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে।
মনে রাখুন:
সংবিধান সংশোধন বা সংবিধানের পরিপন্থী কোনো বিধান অধ্যাদেশ দিয়ে করা যায় না।
সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় জারি করা অধ্যাদেশ পরের সংসদের প্রথম বৈঠকে তুলতে হয়। - ৮. "প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র _________।"- শব্দগুলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
- ক. ৭
- খ. ১১
- গ. ১০
- ঘ. ৮
উত্তর: খ. ১১
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি রয়েছে। এর ১১ অনুচ্ছেদের শিরোনাম ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’, আর এটি শুরু হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’ কথাটি দিয়ে। এখানে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ থাকবে।
মনে রাখুন:
৭ অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ, সংবিধান সর্বোচ্চ আইন।
৮ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
১০ অনুচ্ছেদ: সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি। - ৯. ১৯৭২ -এর মূল সংবিধানে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ক্ষমতা কোন কর্তৃপক্ষের উপর অর্পণ করা হয়েছিল?
- ক. রাষ্ট্রপতি
- খ. প্রধান বিচারপতি
- গ. জাতীয় সংসদ
- ঘ. সুপ্রীম কোর্ট
উত্তর: ঘ. সুপ্রীম কোর্ট
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, বিচার কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রীম কোর্টের উপর ন্যস্ত থাকবে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা পেত। পরে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে নেওয়া হয়।
মনে রাখুন:
বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির, যা তিনি সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন।
১১৬ক অনুচ্ছেদ বলে, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিচারকার্য পালনে স্বাধীন থাকবেন। - ১০. The Limitation Act, 1908 এর তফসিলে কোনো মামলার তামাদির সময়সীমা আলাদাভাবে উল্লেখ করা না থাকলে তার তামাদির মেয়াদ কত?
- ক. ৩ বছর
- খ. ৬ বছর
- গ. ১২ বছর
- ঘ. ১ বছর
উত্তর: খ. ৬ বছর
তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act)-এর প্রথম তফসিলে মামলাভেদে আলাদা আলাদা মেয়াদ দেওয়া আছে। কিন্তু যে মামলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ নেই, তার জন্য ১২০ অনুচ্ছেদ একটি অবশিষ্ট (Residuary) বিধান রেখেছে। এ অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ ৬ বছর, যা গণনা শুরু হয় মামলা করার অধিকার জন্মানোর দিন থেকে।
মনে রাখুন:
যে দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই, সেটির অবশিষ্ট বিধান ১৮১ অনুচ্ছেদে, মেয়াদ ৩ বছর।
দখল পুনরুদ্ধারের সাধারণ মামলা (স্বত্বের ভিত্তিতে) ১৪২ ও ১৪৪ অনুচ্ছেদে ১২ বছর। - ১১. দায়রা মামলা বিচারের কোন পর্যায় পর্যন্ত চার্জ পরিবর্তন করা যায়?
- ক. রায় প্রচারের পূর্ব তারিখ পর্যন্ত
- খ. আসামীকে ৩৪২ ধারায় পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত
- গ. যুক্তিতর্ক শ্রবণের পূর্ব পর্যন্ত
- ঘ. রায় প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত
উত্তর: ক. রায় প্রচারের পূর্ব তারিখ পর্যন্ত
ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure) ২২৭ ধারা অনুযায়ী যেকোনো আদালত রায় ঘোষণার আগে যেকোনো সময় অভিযোগ বা চার্জ (Charge) পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হোক বা যুক্তিতর্ক শোনা হয়ে যাক, রায় প্রচার না হওয়া পর্যন্ত এ ক্ষমতা থাকে। তবে চার্জ বদলানো হলে তা আসামিকে পড়ে শোনাতে ও ব্যাখ্যা করতে হয়, যাতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান।
মনে রাখুন:
চার্জ পরিবর্তনের পর সাক্ষীকে পুনরায় তলব বা জেরা করার সুযোগ দেওয়ার বিধান ২৩১ ধারায়।
৩৪২ ধারায় আদালত আসামিকে পরীক্ষা (Examination of accused) করে। - ১২. The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৩৮ ধারার মামলার কারণ কখন উদ্ভব হয়? যে দিন-
- ক. চেক ইস্যু করা হয়
- খ. চেকটি অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়
- গ. চেক দাতা নোটিশ গ্রহণ করেন
- ঘ. চেক দাতার নোটিস প্রাপ্তির পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়
উত্তর: ঘ. চেক দাতার নোটিস প্রাপ্তির পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (The Negotiable Instruments Act), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত (Dishonour) হলেই অপরাধ পূর্ণ হয় না। প্রাপককে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত নোটিশ দিতে হয়, আর চেকদাতা নোটিশ পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তবেই মামলার কারণ (Cause of action) উদ্ভব হয়। তাই নোটিশ প্রাপ্তির পর ৩০ দিন পার হওয়ার দিনটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন:
১৪১(খ) ধারা অনুযায়ী মামলার কারণ উদ্ভবের ১ মাসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।
১৩৮ ধারার শাস্তি সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা চেকের অঙ্কের তিন গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। - ১৩. নিম্নের কোন আইনের মাধ্যমে বেনামী হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
- ক. The State Acquisition And Tenancy Act 1950
- খ. The Land Reforms Ordinance, 1984
- গ. The Transfer of Property Act, 1882
- ঘ. The Registration Act, 1908
উত্তর: খ. The Land Reforms Ordinance, 1984
বেনামি হস্তান্তর (Benami Transaction) মানে নিজের টাকায় জমি কিনে অন্যের নামে দলিল করা। ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ (The Land Reforms Ordinance), ১৯৮৪-এর ৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজের সুবিধার জন্য অন্যের নামে স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারবেন না, আর এভাবে কেনা সম্পত্তি প্রকৃত ক্রেতার বলে দাবি করা যাবে না। এই অধ্যাদেশেই কৃষিজমির সর্বোচ্চ সীমা ৬০ বিঘা নির্ধারণ এবং বর্গাদারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।
মনে রাখুন: পরীক্ষার সময় এটি ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশে ছিল; এখন অধ্যাদেশটি রহিত করে ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানেও বেনামি লেনদেন নিষিদ্ধ। - ১৪. ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে শাস্তি -
- ক. অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
- খ. অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
- গ. অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: গ. অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ বায়ুদূষণ ও বন উজাড় ঠেকাতে ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কেউ এ বিধান ভেঙে ইট পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করলে আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ‘উভয় দণ্ড’ শব্দটি থাকায় আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড একসঙ্গেও দিতে পারে।
মনে রাখুন:
এ আইনের অধীনে লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসক।
আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত বন ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। - ১৫. Special Committee on the East Bengal State Acquisition and Tenancy Bill, 1948 এর Chairman কে ছিলেন?
- ক. এ, কে, ফজলুল হক
- খ. তফাজ্জল আলী
- গ. আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
- ঘ. নাদির হোসেন খন্দকার
উত্তর: খ. তফাজ্জল আলী
পূর্ববঙ্গে জমিদারি প্রথা বিলোপের জন্য রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ প্রকাশিত হয় এবং তা আইনসভার একটি বিশেষ কমিটিতে (Special Committee) পাঠানো হয়। সে সময় প্রাদেশিক রাজস্ব মন্ত্রী ছিলেন তফাজ্জল আলী, তিনিই বিলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে বিশেষ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ. কে. ফজলুল হক তখন আইনসভার সদস্য ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রদেশের অ্যাডভোকেট জেনারেল।
মনে রাখুন:
বিলটি ১৯৫১ সালে পাস হয় এবং আইনটি পরিচিত ‘১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন’ নামে।
এর আগে ১৯৩৮ সালের ভূমি রাজস্ব কমিশনের সভাপতি ছিলেন স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউড। - ১৬. দলিল রদের মোকদ্দমায় কোর্ট ফি কত?
- ক. এ্যাড-ভ্যালোরেম
- খ. নির্ধারিত ৩০০ টাকা
- গ. ২০০ টাকা
- ঘ. আদালতের নির্দেশ মতে
উত্তর: ক. এ্যাড-ভ্যালোরেম
দলিল রদ বা বাতিলের মোকদ্দমায় (Suit for cancellation of instrument) বাদী আসলে দলিলে জড়িত সম্পত্তির উপর নিজের অধিকার রক্ষা করতে চান। তাই কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০ অনুযায়ী এমন মামলায় সম্পত্তির মূল্যের অনুপাতে, অর্থাৎ মূল্যানুপাতিক বা অ্যাড-ভ্যালোরেম (Ad valorem) হারে কোর্ট ফি দিতে হয়। মূল্য যত বেশি, ফি তত বেশি।
মনে রাখুন:
শুধু ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় (যেখানে আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাওয়া হয় না) নির্ধারিত হারে কোর্ট ফি দিতে হয়।
সম্পত্তির মূল্যায়নের নিয়ম আছে কোর্ট ফি আইনের ৭ ধারায়। - ১৭. হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী নিম্নের কোন ব্যক্তি সপিণ্ড?
- ক. বোন-এর পুত্র
- খ. ভাই-এর পুত্র
- গ. পুত্র
- ঘ. সকলেই
উত্তর: ঘ. সকলেই
হিন্দু উত্তরাধিকারের দায়ভাগ মতবাদ (Dayabhaga School) বাংলায় প্রচলিত। এ মত অনুযায়ী সপিণ্ড (Sapinda) তারা, যারা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে পিণ্ডদান করতে পারেন বা যাদের পিণ্ডদানে মৃত ব্যক্তি অংশ পান। অর্থাৎ পিণ্ডদানের ধর্মীয় উপকারিতাই এখানে উত্তরাধিকারের ভিত্তি। পুত্র নিজে পিণ্ড দেন, ভাইয়ের পুত্র মৃতের পিতাকে পিণ্ড দেন, আর বোনের পুত্রও মৃতের পিতার উদ্দেশে পিণ্ড দেন। তাই এরা সবাই দায়ভাগ মতে সপিণ্ড।
মনে রাখুন: মিতাক্ষরা মতবাদে সপিণ্ড সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক বা দেহের অংশীদারিত্বের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। - ১৮. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
- ক. প্রধান বিচারপতি
- খ. স্পীকার
- গ. প্রধানমন্ত্রী
- ঘ. আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি
উত্তর: খ. স্পীকার
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তফসিলে শপথ ও ঘোষণার বিধান আছে। এ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার। আবার রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও প্রধান বিচারপতিকে।
মনে রাখুন:
প্রধান বিচারপতি শপথ পাঠ করান আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের, মহা হিসাব-নিরীক্ষককে এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যদের।
স্পিকার শপথ পাঠ করান সংসদ সদস্যদেরও। - ১৯. "Res integra" বলতে কী বোঝায়?
- ক. A matter already judicially decided
- খ. All things done in the Course of a transaction
- গ. A matter not yet decided
- ঘ. A thing that has no owner
উত্তর: গ. A matter not yet decided
‘Res integra’ একটি ল্যাটিন শব্দবন্ধ, যার অর্থ অক্ষত বা নতুন বিষয়। আইনে এর মানে এমন প্রশ্ন বা বিষয়, যা এখনো কোনো আদালত নিষ্পত্তি করেনি এবং যার উপর কোনো নজির (Precedent) নেই। তাই এমন মামলায় বিচারককে মূলনীতি ও যুক্তির উপর ভর করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত দিতে হয়।
মনে রাখুন:
Res judicata: আগেই বিচারিকভাবে নিষ্পন্ন বিষয় (CPC ধারা ১১)।
Res gestae: একই ঘটনার অংশ হিসেবে ঘটে যাওয়া সব কাজ (সাক্ষ্য আইন ধারা ৬)।
Res nullius: যে জিনিসের কোনো মালিক নেই। - ২০. 'Judicis Est Jus Dicere Non Dare' বলতে কী বোঝায়?
- ক. It is for the judge to administer, not to make laws
- খ. To a judge exceeding his office, there is no obedience.
- গ. It is the duty of the judge to finish the work of each day within that day
- ঘ. A right cannot arise out of wrong doing.
উত্তর: ক. It is for the judge to administer, not to make laws
‘Judicis est jus dicere, non dare’ ল্যাটিন নীতিবাক্যের অর্থ: আইন ঘোষণা করা বা প্রয়োগ করা বিচারকের কাজ, আইন তৈরি করা নয়। এখানে ‘dicere’ মানে বলা বা ঘোষণা করা আর ‘dare’ মানে দেওয়া বা সৃষ্টি করা। ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers) নীতির সঙ্গেও এটি মিলে যায়, কারণ আইন প্রণয়নের দায়িত্ব আইনসভার।
মনে রাখুন:
Judex non potest esse testis in propria causa: বিচারক নিজের মামলায় সাক্ষী হতে পারেন না।
Extra territorium jus dicenti impune non paretur: এখতিয়ার পেরিয়ে যাওয়া বিচারকের আদেশ মানতে বাধ্যবাধকতা নেই। - ২১. "Veritas, a Quocunque Dicitur, a Deo Est" -এর দ্বারা কী বোঝায়?
- ক. By too much altercation truth is lost.
- খ. Truth, by whom so ever pronounced, is from God
- গ. The trodden path is the safest
- ঘ. Violence is inimical to the laws
উত্তর: খ. Truth, by whom so ever pronounced, is from God
‘Veritas, a quocunque dicitur, a Deo est’ ল্যাটিন নীতিবাক্যটির অর্থ: সত্য যার মুখ থেকেই উচ্চারিত হোক, তা ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে। এখানে ‘veritas’ মানে সত্য, ‘a quocunque dicitur’ মানে যে-ই বলুক আর ‘a Deo est’ মানে ঈশ্বর থেকে। অর্থাৎ বক্তা কে, তা দেখে নয়, কথাটি সত্য কি না তা দেখেই বিচার করা উচিত।
মনে রাখুন:
Nimium altercando veritas amittitur: অতিরিক্ত বিতণ্ডায় সত্য হারিয়ে যায়।
Via trita est tutissima: চেনা পথই সবচেয়ে নিরাপদ। - ২২. "Ipse Dixit"- শব্দমালা দ্বারা কী বোঝায়?
- ক. By the very fact itself
- খ. A bare assertion resting on one's own authority
- গ. By the law, itself
- ঘ. Among other things
উত্তর: খ. A bare assertion resting on one's own authority
‘Ipse dixit’ ল্যাটিন কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘তিনি নিজেই বলেছেন’। আইনের ভাষায় এর মানে এমন একটি দাবি, যার পেছনে কোনো প্রমাণ নেই, শুধু বক্তার নিজের কর্তৃত্বের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই আদালত কোনো বিশেষজ্ঞের মতামতকেও কেবল ipse dixit হলে গ্রহণ করে না, তার পক্ষে যুক্তি ও তথ্য চায়।
মনে রাখুন:
Ipso facto: ঘটনার কারণেই, আপনা-আপনি।
Ipso jure: আইনের বলেই।
Inter alia: অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে। - ২৩. "Jurisprudence was the first of the social science to be born" - উক্তিটি কার?
- ক. Wurzel
- খ. Holland
- গ. Dias
- ঘ. Gray
উত্তর: ক. Wurzel
আইনবিজ্ঞান (Jurisprudence) প্রাচীনতম সামাজিক বিজ্ঞানগুলোর একটি, কারণ মানুষ সমাজবদ্ধ হওয়ার শুরু থেকেই আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মকানুন দরকার হয়েছে। এই ভাবনা থেকেই আইনবিদ উর্জেল (Wurzel) বলেছেন, ‘Jurisprudence was the first of the social sciences to be born’। অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান আলাদা শাস্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর অনেক আগেই আইন নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল।
মনে রাখুন:
‘Jurisprudence is the eye of law’ উক্তিটি হ্যারল্ড লাস্কির।
‘Jurisprudence is the formal science of positive law’ বলেছেন হল্যান্ড (Holland)।
সলমন্ডের মতে Jurisprudence হলো ‘the science of civil law’। - ২৪. "Culpae Poena Par Esto" শব্দমালা দ্বারা কী বোঝায়?
- ক. The practice of the court is the law of the court.
- খ. Let punishment be in proportion to the crime.
- গ. The law pays no regard to trifling thing.
- ঘ. One may waive a legal right existing in his favour.
উত্তর: খ. Let punishment be in proportion to the crime.
‘Culpae poena par esto’ ল্যাটিন নীতিবাক্যটির অর্থ: শাস্তি হোক অপরাধের সমানুপাতিক। এখানে ‘culpa’ মানে অপরাধ বা দোষ, ‘poena’ মানে শাস্তি আর ‘par’ মানে সমান। আধুনিক দণ্ডনীতিতেও এই আনুপাতিকতার (Proportionality) ধারণা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ছোট অপরাধে কঠোর শাস্তি যেমন অন্যায়, বড় অপরাধে হালকা শাস্তিও তেমনি অন্যায়।
মনে রাখুন:
Cursus curiae est lex curiae: আদালতের রীতিই আদালতের আইন।
De minimis non curat lex: আইন তুচ্ছ বিষয়ে মাথা ঘামায় না।
Quilibet potest renunciare juri pro se introducto: নিজের পক্ষে থাকা অধিকার যে কেউ ছেড়ে দিতে পারেন। - ২৫. "Ante Litem Motam" - এর অর্থ কী?
- ক. Before litigation commenced
- খ. On a suit or action
- গ. From the bond of matrimony
- ঘ. From ancient times
উত্তর: ক. Before litigation commenced
‘Ante litem motam’ ল্যাটিন কথাটির অর্থ মামলা বা বিরোধ শুরু হওয়ার আগে। সাক্ষ্য আইনে এ ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিরোধ দেখা দেওয়ার আগে কেউ কোনো বিষয়ে যে বক্তব্য দেন, তাতে পক্ষপাতের সুযোগ কম থাকে। তাই সাক্ষ্য আইনের ৩২(৫) ও ৩২(৬) ধারায় আত্মীয়তা বা বংশসম্পর্ক নিয়ে মৃত ব্যক্তির বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হয় তখনই, যখন তা বিরোধ উঠার আগে দেওয়া হয়েছিল।
মনে রাখুন:
Pendente lite: মামলা চলাকালে।
A vinculo matrimonii: বিবাহবন্ধন থেকে।
Ab antiquo: প্রাচীনকাল থেকে। - ২৬. "Stare Decisis" - এর অর্থ কী?
- ক. Indefinitely
- খ. An indispensable requisite
- গ. To stand by thing decided
- ঘ. Without issue
উত্তর: গ. To stand by thing decided
‘Stare decisis’ ল্যাটিন কথাটির অর্থ আগে সিদ্ধান্ত হওয়া বিষয়ের উপর অটল থাকা (To stand by things decided)। এই নীতির কারণেই উচ্চ আদালতের নজির নিম্ন আদালত মানতে বাধ্য থাকে, ফলে একই ধরনের মামলায় একই রকম সিদ্ধান্ত আসে এবং আইনের নিশ্চয়তা বজায় থাকে। বাংলাদেশে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে এই নীতি স্বীকৃত: আপিল বিভাগের ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রীম কোর্টের যেকোনো বিভাগের ঘোষিত আইন অধস্তন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
মনে রাখুন: Sine qua non মানে অপরিহার্য শর্ত, Sine die মানে অনির্দিষ্টকালের জন্য। - ২৭. "The specific performance of a contract may be obtained by any party thereto" বিধানটি The Specific Relief Act, 1877 - এর কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
- ক. 25 (a)
- খ. 27 (a)
- গ. 23 (a)
- ঘ. 12 (a)
উত্তর: গ. 23 (a)
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (The Specific Relief Act), ১৮৭৭-এর ২৩ ধারায় বলা হয়েছে, কারা চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (Specific Performance) চাইতে পারেন। এর প্রথম দফা ২৩(a) অনুযায়ী চুক্তির যেকোনো পক্ষ তা চাইতে পারেন। পরের দফাগুলোতে পক্ষের প্রতিনিধি বা স্বার্থের উত্তরাধিকারী, বিবাহ বা পারিবারিক বন্দোবস্তের সুবিধাভোগী ইত্যাদি ব্যক্তিদের কথা আছে।
মনে রাখুন:
কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় তা ১২ ধারায়, আর যা বলবৎ করা যায় না তা ২১ ধারায়।
কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাওয়া যায় তা ২৭ ধারায়। - ২৮. "Corruption wins not more than honesty" - উক্তিটি কার?
- ক. Lord Denning
- খ. William Shakespeare
- গ. Thomas Fuller
- ঘ. Seneca
উত্তর: খ. William Shakespeare
‘Corruption wins not more than honesty’ উক্তিটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ঐতিহাসিক নাটক ‘Henry VIII’ থেকে নেওয়া। ক্ষমতা হারানো কার্ডিনাল উলসি তাঁর অনুগত সহকারী ক্রমওয়েলকে উপদেশ দিতে গিয়ে কথাটি বলেন। এর মর্ম হলো, দুর্নীতি করে সাময়িক লাভ পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত তা সততার চেয়ে বেশি কিছু এনে দিতে পারে না। বিচার বিভাগের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনায় উক্তিটি প্রায়ই উদ্ধৃত হয়।
মনে রাখুন: একই নাটকে উলসির আরেকটি বিখ্যাত পরামর্শ: ‘Be just, and fear not’। - ২৯. "Judges like Caesar's wife should be above suspicion"- উক্তিটি কার?
- ক. Bowen L J
- খ. Sir William Blackstone
- গ. Francis Bacon
- ঘ. Lord Denning
উত্তর: ক. Bowen L J
‘Judges, like Caesar's wife, should be above suspicion’ উক্তিটি ইংল্যান্ডের আপিল আদালতের বিচারক লর্ড জাস্টিস বোয়েনের (Bowen L.J.)। ১৮৮৯ সালের Leeson v. General Council of Medical Education মামলায় তিনি কথাটি বলেন। জুলিয়াস সিজার নাকি বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রীকে সব সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। একই ভাবে বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়েও সামান্যতম সন্দেহ থাকা চলবে না।
মনে রাখুন: এর সঙ্গে যুক্ত নীতি ‘Justice should not only be done, but should manifestly and undoubtedly be seen to be done’, যা লর্ড হিউয়ার্টের উক্তি। - ৩০. "A Judge should be sans peur et sans reproche" উক্তিটি কার?
- ক. Lord Denning
- খ. Charles Dickens
- গ. Lord Diplock
- ঘ. Lord Edmund Davies
উত্তর: ক. Lord Denning
‘Sans peur et sans reproche’ একটি ফরাসি শব্দবন্ধ, যার অর্থ ভয়হীন ও নিন্দার ঊর্ধ্বে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বিচারক লর্ড ডেনিং (Lord Denning) বলেছেন, একজন বিচারককে এমনই হতে হবে, যিনি কাউকে ভয় না করে রায় দেবেন এবং যাঁর আচরণে নিন্দা করার মতো কিছু থাকবে না। মধ্যযুগে ফরাসি বীর যোদ্ধা শেভালিয়ে বায়ার্ডকে এই উপাধিতে ডাকা হতো।
মনে রাখুন: লর্ড ডেনিং দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের Master of the Rolls ছিলেন এবং ‘The Due Process of Law’, ‘The Discipline of Law’ তাঁর লেখা বই। - ৩১. "The upright judge condemns crimes but he does not hate the criminals" - উক্তিটি কার?
- ক. William Shakespeare
- খ. Seneca
- গ. Niccolo Machiavelli
- ঘ. Plato
উত্তর: খ. Seneca
‘The upright judge condemns crimes but he does not hate the criminals’ উক্তিটি রোমান দার্শনিক সেনেকার (Seneca)। তাঁর ‘De Ira’ (ক্রোধ প্রসঙ্গে) গ্রন্থে লাতিন বাক্যটি আছে: ‘Bonus iudex damnat improbanda, non odit’। এর মর্ম হলো, বিচারক অপরাধকে নিন্দা করবেন ও শাস্তি দেবেন, কিন্তু অপরাধীর প্রতি ব্যক্তিগত ঘৃণা বা রাগ নিয়ে রায় দেবেন না। ক্রোধমুক্ত থেকে ন্যায়বিচার করার এই ধারণাটি সেনেকার দর্শনের মূল কথা।
মনে রাখুন: সেনেকা ছিলেন স্টোয়িক দার্শনিক এবং সম্রাট নিরোর শিক্ষক। - ৩২. "It is the judges who are the guardians of justice in this land" -উক্তিটি কার?
- ক. Charles Dickens
- খ. Lord Diplock
- গ. Lord Denning (M.R)
- ঘ. Lord Byron
উত্তর: গ. Lord Denning (M.R)
‘It is the judges who are the guardians of justice in this land’ উক্তিটি লর্ড ডেনিংয়ের (Lord Denning M.R.)। তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের আপিল আদালতে মাস্টার অব দ্য রোলস (Master of the Rolls) ছিলেন। তিনি মনে করতেন, আইনের কঠোরতা যাতে অবিচারে পরিণত না হয়, সেটি দেখাই বিচারকের দায়িত্ব, তাই বিচারকেরাই দেশে ন্যায়বিচারের অভিভাবক।
মনে রাখুন: লর্ড ডেনিংয়ের আরেকটি বিখ্যাত উক্তি ‘Be you never so high, the law is above you’। - ৩৩. মৃতের ওয়ারিশ কায়েম সংক্রান্ত তামাদির বিধান The Limitation Act এর কোন Article- এ বর্ণিত আছে?
- ক. 175
- খ. 176
- গ. 177
- ঘ. 178
উত্তর: খ. 176
দেওয়ানি মামলা চলাকালে কোনো পক্ষ মারা গেলে তাঁর আইনগত প্রতিনিধি বা ওয়ারিশকে পক্ষভুক্ত করতে হয়, একে ওয়ারিশ কায়েম বলে। তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৭৬ অনুচ্ছেদে মৃত বাদী বা আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার মেয়াদ বলা আছে, যা মৃত্যুর তারিখ থেকে ৯০ দিন। সময়মতো দরখাস্ত না করলে Order XXII অনুযায়ী মামলা বাতিল (Abatement) হয়ে যায়।
মনে রাখুন:
মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর ওয়ারিশ কায়েমের বিধান ১৭৭ অনুচ্ছেদে, মেয়াদ একই ৯০ দিন।
বাতিল হওয়া মামলা পুনরুজ্জীবনের দরখাস্তের মেয়াদ ১৭১ অনুচ্ছেদে ৬০ দিন। - ৩৪. The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় Pre trial proceeding সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে?
- ক. ৯
- খ. ১০
- গ. ১৬
- ঘ. ১৭
উত্তর: খ. ১০
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ (The Family Courts Ordinance), ১৯৮৫-এর ১০ ধারায় বিচারপূর্ব কার্যক্রমের (Pre-trial proceeding) বিধান আছে। লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত বিচারপূর্ব শুনানির তারিখ ঠিক করে, বিরোধের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে এবং পক্ষদের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে। আপস না হলে আদালত মূল বিচারের তারিখ ধার্য করে।
মনে রাখুন:
বিচার শেষে আবার আপস-মীমাংসার চেষ্টার বিধান ১৩ ধারায়।
পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার পাঁচটি বিষয়ে: বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং অভিভাবকত্ব ও শিশুর তত্ত্বাবধান।
পরীক্ষার সময় এটি ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশ ছিল; এখন এর জায়গায় পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ কার্যকর। - ৩৫. The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ৯৬ ধারার কত উপ-ধারায় বলা হয়েছে, "Nothing in this section shall be deemed to apply to homestead land"
- ক. 96(13)
- খ. 96(15)
- গ. 96(16)
- ঘ. 96(17)
উত্তর: গ. 96(16)
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (The State Acquisition and Tenancy Act), ১৯৫০-এর ৯৬ ধারায় অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of pre-emption) রাখা হয়েছে। এ ধারার উপ-ধারা (১৬)-তে বলা আছে, ‘Nothing in this section shall be deemed to apply to homestead land’, অর্থাৎ বসতবাড়ির জমির ক্ষেত্রে এ ধারা প্রযোজ্য নয়। অকৃষি জমি বা বসতভিটার অগ্রক্রয় পরিচালিত হয় অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারায়।
মনে রাখুন:
৯৬(১) অনুযায়ী উত্তরাধিকারসূত্রে সহ-শরিক বিক্রয়ের নোটিশ পাওয়ার ২ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে পারেন, তবে বিক্রয়ের ৩ বছরের মধ্যে।
৯৬(৩) অনুযায়ী আবেদনকারীকে বিক্রয়মূল্য, তার উপর ২৫% ক্ষতিপূরণ এবং ৮% সরল সুদ জমা দিতে হয়।
৯৬(১৭) বলে, এ ধারা মুসলিম আইনের শুফা বা অগ্রক্রয় অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে না। - ৩৬. Extinguishment of interest of Raiyats in certain cases- বিধানটি The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর কত ধারায় বর্ণিত আছে?
- ক. 89
- খ. 90
- গ. 92
- ঘ. 95A
উত্তর: গ. 92
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯২ ধারার শিরোনাম ‘Extinguishment of interest of raiyats in certain cases’। এ ধারায় বলা হয়েছে, কোন কোন অবস্থায় রায়ত বা প্রজার জমিতে স্বত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন রায়ত উইল বা উত্তরাধিকারী না রেখে মারা গেলে, জমি পরিত্যাগ করলে, কিংবা জমি নদীগর্ভে বিলীন হলে তার স্বত্ব লোপ পায় এবং জমি সরকারের হাতে চলে যায়।
মনে রাখুন:
রায়তের জমি পরিত্যাগের (Abandonment) বিধান আছে ৯০ ধারায়।
নদী বা সমুদ্রে বিলীন জমি ৩০ বছরের মধ্যে জেগে উঠলে মূল মালিকের অধিকারের বিধান ৮৬ ধারায়। - ৩৭. 'The Court may presume that judicial and official acts have been regularly performed' -বিধানটি The Evidence Act, 1872 এর কোন Section এ বর্ণিত আছে?
- ক. 79
- খ. 80
- গ. 114 (e)
- ঘ. 114 (g)
উত্তর: গ. 114 (e)
সাক্ষ্য আইন (The Evidence Act), ১৮৭২-এর ১১৪ ধারায় আদালতকে কিছু তথ্য অনুমান (Presumption) করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, আর ধারাটির সঙ্গে কয়েকটি দৃষ্টান্ত আছে। এর দৃষ্টান্ত (e) অনুযায়ী আদালত অনুমান করতে পারে যে বিচারিক ও দাপ্তরিক কাজগুলো নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি খণ্ডনযোগ্য অনুমান, অর্থাৎ বিপরীত প্রমাণ দিয়ে তা ভুল প্রমাণ করা যায়।
মনে রাখুন:
১১৪(g): যে সাক্ষ্য হাজির করা হয়নি, তা হাজির করলে তা গোপনকারীর বিপক্ষে যেত।
১১৪(a): চুরির পরপরই চোরাই মাল যার কাছে পাওয়া যায়, সে চোর বা জেনেশুনে তা গ্রহণকারী। - ৩৮. The Special Powers Act, 1974 এর 25A ধারার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা হয়েছে-
- ক. ২০ বছর কারাদণ্ড
- খ. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- গ. মৃত্যুদণ্ড
- ঘ. ১৪ বছর কারাদণ্ড
উত্তর: গ. মৃত্যুদণ্ড
বিশেষ ক্ষমতা আইন (The Special Powers Act), ১৯৭৪-এর ২৫ক ধারা জাল মুদ্রা ও জাল সরকারি স্ট্যাম্প নিয়ে। কেউ মুদ্রা, নোট বা সরকারি স্ট্যাম্প জাল করলে, কিংবা জেনেশুনে জাল মুদ্রা বা স্ট্যাম্প বিক্রি, বহন বা ব্যবহার করলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তাই এ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
মনে রাখুন:
১৫ ধারা: অন্তর্ঘাতমূলক কাজ (Sabotage)।
২৫গ ধারা: খাদ্য, পানীয় বা ওষুধে ভেজাল মেশানো।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩ ধারায় নিবর্তনমূলক আটকের (Preventive Detention) বিধান আছে। - ৩৯. The Arms Act,1878 এর 19A ধারার অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি-
- ক. ৭ বছর
- খ. ১০ বছর
- গ. ১২ বছর
- ঘ. ১৪ বছর
উত্তর: খ. ১০ বছর
অস্ত্র আইন (The Arms Act), ১৮৭৮-এর ১৯ক ধারা অনুযায়ী সরকার ঘোষিত কোনো এলাকায় অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বা গোলাবারুদ রাখা, বহন বা ব্যবহার করা অপরাধ। এর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১৪ বছর ও অন্যূন ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। তাই এ ধারার সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছর। আদালত চাইলে অর্থদণ্ডও দিতে পারে।
মনে রাখুন: লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সাধারণ অপরাধ ১৯(f) ধারায়, আর ১৯ক ধারা হলো নির্দিষ্ট এলাকায় একই অপরাধের কঠোরতর রূপ। - ৪০. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১(ক) ধারায় বর্ণিত যৌতুকের জন্য নারীর মৃত্যু ঘটানোর সর্বনিম্ন শাস্তি-
- ক. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- খ. ৩০ বছর কারাদণ্ড
- গ. ২০ বছর কারাদণ্ড
- ঘ. মৃত্যুদণ্ড
উত্তর: ঘ. মৃত্যুদণ্ড
১১(ক) ধারায় যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি কেবল মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। একটিমাত্র শাস্তি নির্ধারিত বলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ শাস্তি দুটিই মৃত্যুদণ্ড। - ৪১. দায়রা জজ কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল সংক্রান্ত তামাদির বিধান The Limitation Act,1908 এর কত Article এ বর্ণিত আছে?
- ক. 150
- খ. 170
- গ. 173
- ঘ. 181
উত্তর: ক. 150
দায়রা আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদি তামাদি আইনের ১৫০ অনুচ্ছেদে দেওয়া আছে, যার মেয়াদ রায়ের তারিখ থেকে ৭ দিন। - ৪২. একতরফা শুনানিকৃত আপিল পুনঃশুনানির তামাদি সম্পর্কিত বিধান The Limitation Act, 1908- এর কত Article-এ বর্ণিত আছে?
- ক. 169
- খ. 170
- গ. 173
- ঘ. 181
উত্তর: ক. 169
একতরফা শুনানি হওয়া আপিল পুনরায় শুনানির আবেদনের তামাদি ১৬৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে; মেয়াদ ডিক্রির তারিখ বা নোটিশ জারি না হওয়ার কথা জানার তারিখ থেকে ৩০ দিন। - ৪৩. "One Thing a judge must never do. He must never lose his temper. However sorely tried" উক্তিটি কার?
- ক. Lord Diplock
- খ. Lord Denning
- গ. Lord Kenyon
- ঘ. Thomas Fuller
উত্তর: খ. Lord Denning
লর্ড ডেনিং বিচারকের আচরণ প্রসঙ্গে বলেছেন, যত উসকানিই থাকুক, বিচারক কখনো মেজাজ হারাবেন না। ধৈর্য ও সংযম বিচারকের অপরিহার্য গুণ। - ৪৪. "In Re" কথাটির দ্বারা কী বুঝায়?
- ক. In reference to
- খ. In the matter of
- গ. In the whole
- ঘ. It is begun
উত্তর: খ. In the matter of
‘In re’ মানে ‘বিষয়ে’ বা ‘in the matter of’। যেসব মামলায় প্রতিপক্ষ থাকে না, যেমন দেউলিয়া বা অভিভাবকত্বের মামলা, সেগুলোর শিরোনামে এটি ব্যবহৃত হয়। - ৪৫. 'In the preamble contain the basic structure of the constitution and that cannot be amended' ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট কোন মামলায় এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন?
- ক. Kesavananda Bharati vs State of Kerala
- খ. Golaknath vs State of Punjab
- গ. Indira Nehru Gandhi vs Raj Narain
- ঘ. Minerva Mills Case
উত্তর: ক. Kesavananda Bharati vs State of Kerala
১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতী মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘basic structure’ তত্ত্ব দেয় — সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারলেও এর মৌলিক কাঠামো বদলাতে পারে না। বাংলাদেশে অষ্টম সংশোধনী মামলায় এ তত্ত্ব গৃহীত হয়। - ৪৬. Masdar Hossain মামলার Author Judge কে?
- ক. Justice Mahbub Murshed
- খ. Justice Abu Sayeed Chowdhury
- গ. Justice Mostafa Kamal
- ঘ. Justice Shahabuddin Ahmed
উত্তর: গ. Justice Mostafa Kamal
১৯৯৯ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায় লেখেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল। এ রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। - ৪৭. আদালত যে সকল বিষয় 'Judicial Notice' এ নিতে পারেন তা The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বলা হয়েছে?
- ক. ৫৭
- খ. ৫৬
- গ. ৫৮
- ঘ. ৫৯
উত্তর: ক. ৫৭
সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় যেসব বিষয় আদালত বিচারিক দৃষ্টিতে নেবে, অর্থাৎ প্রমাণ ছাড়াই সত্য বলে গ্রহণ করবে, তার তালিকা দেওয়া আছে। ৫৬ ধারা বলে, এমন বিষয় প্রমাণ করার দরকার নেই। - ৪৮. দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পত্তির দখল রাখার কী শাস্তির বিধান করা আছে?
- ক. অনধিক ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড এবং উক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
- খ. অনধিক ৭ বছর এবং সর্বনিম্ন ২ বছর কারাদণ্ড এবং উক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
- গ. সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড এবং উক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
- ঘ. কোনটি সঠিক নয়
উত্তর: ক. অনধিক ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড এবং উক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারায় জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পত্তি দখলে রাখার শাস্তি অনধিক ১০ বছর ও অন্যূন ৩ বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং ঐ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত। - ৪৯. কী কারণে চুক্তি বাতিল হতে পারে?
- ক. Coercion
- খ. Undue Influence
- গ. Fraud
- ঘ. পূর্বের কোনো একটি কারণে
উত্তর: ঘ. পূর্বের কোনো একটি কারণে
চুক্তি আইনের ১৯ ও ১৯ক ধারা অনুযায়ী জবরদস্তি, অবৈধ প্রভাব বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্মতি আদায় করা হলে চুক্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের ইচ্ছায় বাতিলযোগ্য (voidable)। তাই এর যেকোনো একটি কারণেই চুক্তি বাতিল হতে পারে। - ৫০. The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 342 এর কার্যক্রমে অভিযুক্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়-
- ক. চার্জশিটের প্রতি
- খ. গঠিত চার্জের প্রতি
- গ. নির্ধারিত সাজার প্রতি
- ঘ. প্রাপ্ত সাক্ষ্যের প্রতি
উত্তর: ঘ. প্রাপ্ত সাক্ষ্যের প্রতি
৩৪২ ধারায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযুক্তকে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সাক্ষ্যে যেসব পরিস্থিতি এসেছে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেয়। এটি ‘audi alteram partem’ নীতির প্রয়োগ। - ৫১. অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল চলাকালে আসামী মারা গেলে আপীলটি-
- ক. এবেট হবে
- খ. এবেট হবে না
- গ. খারিজ হবে
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. এবেট হবে না
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারা অনুযায়ী আসামির মৃত্যুতে আপিল সাধারণত বাতিল (abate) হয়, কিন্তু অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল হয় না। কারণ অর্থদণ্ড মৃতের সম্পত্তি থেকে আদায়যোগ্য, তাই উত্তরাধিকারীদের স্বার্থ থেকে যায়। - ৫২. The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 476 এর অধীনে Complaint দায়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়ানী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে-
- ক. আপিল করা যায়
- খ. রিভিশন করা যায়
- গ. রিট করা যায়
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. আপিল করা যায়
৪৭৬খ ধারা অনুযায়ী ৪৭৬ ধারায় অভিযোগ দায়ের করতে আদালত অস্বীকার করলে বা অভিযোগ করলে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সেই আদালতের ঊর্ধ্বতন আদালতে আপিল করতে পারেন। - ৫৩. কোনো পক্ষ কর্তৃক Set off দাবি করা যেতে পারে?
- ক. নিষেধাজ্ঞার মামলায়
- খ. স্বত্বের মামলায়
- গ. অর্থের মামলায়
- ঘ. বণ্টনের মামলায়
উত্তর: গ. অর্থের মামলায়
CPC-এর Order VIII rule 6 অনুযায়ী অর্থ আদায়ের মামলায় বিবাদী বাদীর কাছে নিজের পাওনা টাকা কাটাকাটি (set-off) হিসেবে দাবি করতে পারেন। তাই set-off কেবল অর্থের মামলায় চলে। - ৫৪. 'A' makes an attempt to pick the pocket of 'Z' by thrusting his hand into 'Z's pocket. 'A' fails in the attempt in consequence of 'Z's having nothing in his pocket. এটি Penal Code এর কত ধারার অপরাধ?
- ক. ১০৮
- খ. ৫১১
- গ. ৩৭৯
- ঘ. কোন অপরাধ হয় নি
উত্তর: খ. ৫১১
পকেট খালি থাকায় চুরি সম্পন্ন হয়নি, কিন্তু চুরির উদ্দেশ্যে হাত ঢোকানো চুরির চেষ্টা। দণ্ডবিধির ৫১১ ধারায় অপরাধের চেষ্টা শাস্তিযোগ্য, আর এই উদাহরণটি ঐ ধারারই দৃষ্টান্ত। - ৫৫. মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এ সংঘবদ্ধ মানব পাচার গোষ্ঠীর প্রত্যেক অপরাধ সংঘটনকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি-
- ক. মৃত্যুদণ্ড
- খ. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- গ. ৩০ বছর কারাদণ্ড
- ঘ. ২০ বছর কারাদণ্ড
উত্তর: ক. মৃত্যুদণ্ড
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় সংঘবদ্ধ পাচারকারী দলের প্রত্যেক সদস্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা অন্যূন ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। - ৫৬. 'আইন' অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি -- আইনের এ ব্যাখ্যা কোথায় প্রদান করা হয়েছে?
- ক. The General Clauses Act, 1897
- খ. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে
- গ. The Code of Civil Procedure, 1908 এ
- ঘ. The Civil Courts Act, 1887 এ
উত্তর: খ. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে
সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া আছে; সেখানেই ‘আইন’-এর এই ব্যাখ্যা রয়েছে, যাতে প্রথা ও রীতিও অন্তর্ভুক্ত। - ৫৭. The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 249 এর অধীনে বিচার বন্ধ হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি-
- ক. খালাস পাবে
- খ. মুক্তি পাবে
- গ. অব্যাহতি পাবে
- ঘ. উপরের কোনটি নয়
উত্তর: খ. মুক্তি পাবে
২৪৯ ধারায় অভিযোগকারী ছাড়া শুরু হওয়া মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কার্যক্রম স্থগিত করলে অভিযুক্ত ‘মুক্তি’ (release) পায়। এই মুক্তি খালাসের সমান নয়, তাই পরে আবার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। - ৫৮. 'Obiter Dictum' means-
- ক. a thing decided
- খ. a thing said by the way
- গ. a thing to be corrected
- ঘ. a thing to be obeyed
উত্তর: খ. a thing said by the way
‘Obiter dictum’ মানে প্রসঙ্গক্রমে বলা কথা — রায়ে বিচারকের এমন মন্তব্য যা সিদ্ধান্তের জন্য অপরিহার্য নয়। তাই এটি বাধ্যতামূলক নজির নয়, তবে প্রভাবশালী (persuasive) হতে পারে। - ৫৯. রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করতে বাধ্য---
- ক. ১০৯
- খ. ১১০
- গ. ১১১
- ঘ. ১১২
উত্তর: ঘ. ১১২
সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করবে। ১১১ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক কার্যকারিতার কথা আছে। - ৬০. একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে বিবাদীর প্রতিকার কী?
- ক. একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন
- খ. রিভিউ
- গ. আপীল
- ঘ. সবগুলো প্রতিকার বিদ্যমান
উত্তর: ঘ. সবগুলো প্রতিকার বিদ্যমান
একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে বিবাদী Order IX rule 13-এ ডিক্রি রদের আবেদন, ৯৬ ধারায় আপিল এবং Order XLVII-এ রিভিউ — তিনটির যেকোনোটি গ্রহণ করতে পারেন। - ৬১. 'ক' ঘুষি মেরে 'খ' এর দাঁত ফেলে দেয়। 'ক' এর কৃত অপরাধ হলো-
- ক. সাধারণ জখম
- খ. মারাত্মক জখম
- গ. হত্যার প্রচেষ্টা
- ঘ. অনিচ্ছাকৃত জখম
উত্তর: খ. মারাত্মক জখম
দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় দাঁত ভেঙে যাওয়া বা স্থানচ্যুত হওয়াকে গুরুতর আঘাতের (grievous hurt) তালিকায় রাখা হয়েছে। তাই এটি মারাত্মক জখম। - ৬২. একজন হানাফি মুসলিম স্ত্রী, মা ও পিতাকে রেখে মারা যায়। পিতার অংশ কত?
- ক. ১/৬
- খ. ১/৪
- গ. ১/৮
- ঘ. ১/২
উত্তর: ঘ. ১/২
নিঃসন্তান স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী পান ১/৪। স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে পিতা-মাতা থাকলে মা পান অবশিষ্টের ১/৩, অর্থাৎ ৩/৪ × ১/৩ = ১/৪। বাকি ১ − ১/৪ − ১/৪ = ১/২ পান পিতা অবশিষ্টভোগী হিসেবে। - ৬৩. The Registration Act, 1908 এর কোন Section মোতাবেক স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিক্রয় চুক্তির নিবন্ধন ২০০৪ সন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে?
- ক. 16
- খ. 17
- গ. 17A
- ঘ. 18
উত্তর: গ. 17A
২০০৪ সালের সংশোধনীতে রেজিস্ট্রেশন আইনে ১৭ক ধারা যোগ করে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি (বায়না) রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক করা হয়। চুক্তি সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা রেজিস্ট্রি করতে হয়। - ৬৪. De jure শব্দের অর্থ কী?
- ক. In fact
- খ. In law
- গ. indeed
- ঘ. in action
উত্তর: খ. In law
‘De jure’ মানে আইনত বা আইনের দৃষ্টিতে। এর বিপরীত ‘de facto’, অর্থাৎ বাস্তবে বা কার্যত। - ৬৫. অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর বিধান অনুসারে একতরফা ডিক্রি রদের প্রার্থনা দাখিলের পরবর্তী কত দিবসের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের কত পার্সেন্টের সমপরিমাণ টাকা জামানত স্বরূপ জমাদান করার কথা বলা হয়েছে? যথাক্রমে--
- ক. ৩০ দিন ও ২৫%
- খ. ১৫ দিন ও ২৫%
- গ. ১৫ দিন ও ১০%
- ঘ. ৩০ দিন ও ১০%
উত্তর: গ. ১৫ দিন ও ১০%
অর্থঋণ আদালত আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন করার পর ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০% জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। জমা না দিলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় না। - ৬৬. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার কোন আদালতে অনুষ্ঠিত হবে?
- ক. পারিবারিক আদালতে
- খ. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
- গ. জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে
- ঘ. সহকারী জজ আদালতে
উত্তর: গ. জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ অনুযায়ী এর অধীন অপরাধ ও সুরক্ষা আদেশের বিষয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচার করেন। - ৬৭. নিম্নের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত?
- ক. মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন
- খ. বিবাহবিচ্ছেদ
- গ. এতিম সন্তানদের অভিভাবকত্ব নির্ধারণ
- ঘ. হিন্দু বিবাহিত রমণীর খোরপোষের প্রাপ্যতা নির্ধারণ
উত্তর: ক. মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী এই আদালত বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং অভিভাবকত্ব ও শিশুর হেফাজতের মামলা শোনে। সম্পত্তি বণ্টনের মামলা দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার। - ৬৮. রাষ্ট্র নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করবে - এটা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
- ক. ১৬
- খ. ১৯
- গ. ২১
- ঘ. ২২
উত্তর: ঘ. ২২
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। - ৬৯. Penal Code প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত ১৮৩৭ সালের প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সভাপতি ও কমিশনার কে বা কারা ছিলেন?
- ক. সভাপতি হেস্টিংস, কমিশনার লর্ড ম্যাকুলে এবং ম্যাকলয়েড এন্ডারসন
- খ. সভাপতি লর্ড ম্যাকুলে এবং কমিশনার হেস্টিংস এবং ম্যাকলয়েড এন্ডারসন
- গ. সভাপতি এন্ডারসন এবং কমিশনার লর্ড ম্যাকুলে
- ঘ. সভাপতি লর্ড ম্যাকুলে এবং কমিশনার ম্যাকলয়েড এন্ডারসন ও মিলেট
উত্তর: ঘ. সভাপতি লর্ড ম্যাকুলে এবং কমিশনার ম্যাকলয়েড এন্ডারসন ও মিলেট
প্রথম ভারতীয় আইন কমিশনের সভাপতি ছিলেন লর্ড ম্যাকুলে, আর সদস্য ছিলেন ম্যাকলয়েড, অ্যান্ডারসন ও মিলেট। এ কমিশনের খসড়া থেকেই পরে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি তৈরি হয়। - ৭০. The Evidence Act, 1872 এর বিধান অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের পর তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী কতদিনের মধ্যে সন্তান প্রসব করলে তা পূর্বের স্বামীর ঔরসজাত বৈধ সন্তান হিসাবে গণ্য হবে?
- ক. ২৮০ দিন
- খ. ৩১০ দিন
- গ. ৪০০ দিন
- ঘ. উপরের কোনটি নয়
উত্তর: ক. ২৮০ দিন
সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা অনুযায়ী বৈধ বিবাহ চলাকালে বা বিবাহবিচ্ছেদের পর মা অবিবাহিত থাকা অবস্থায় ২৮০ দিনের মধ্যে সন্তান জন্ম নিলে তাকে ঐ স্বামীর বৈধ সন্তান হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা হয়। - ৭১. ত্রিশ বছরের পুরাতন দলিল বিষয়ে অনুমান গ্রহণের বিধান The Evidence Act, 1877 এর কোন ধারায়?
- ক. ৯০ ধারা
- খ. ৮৮ ধারা
- গ. ৮০ ধারা
- ঘ. ৮৬ ধারা
উত্তর: ক. ৯০ ধারা
সাক্ষ্য আইনের (১৮৭২) ৯০ ধারা অনুযায়ী যথাযথ হেফাজত থেকে আসা ৩০ বছরের পুরোনো দলিলের স্বাক্ষর ও সম্পাদন সঠিক বলে আদালত অনুমান করতে পারে। - ৭২. দেওয়ানী মামলায় তামাদির বিষয়টি-
- ক. আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন
- খ. আইনের প্রশ্ন
- গ. ঘটনার প্রশ্ন
- ঘ. অধিকারের প্রশ্ন
উত্তর: ক. আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন
মামলা তামাদিতে বারিত কি না তা ঠিক করতে প্রথমে মামলার কারণ কবে উদ্ভব হয়েছে সেই ঘটনা নির্ণয় করতে হয়, তারপর আইনের মেয়াদ প্রয়োগ করতে হয়। তাই তামাদি সাধারণত আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন। - ৭৩. The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারা মতে অশালীন ও কুৎসাজনক প্রশ্ন করা যায় না?
- ক. ১৫০ ধারা
- খ. ১৫১ ধারা
- গ. ১৫২ ধারা
- ঘ. ১৫৩ ধারা
উত্তর: খ. ১৫১ ধারা
সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারা অনুযায়ী আদালত অশালীন বা কুৎসাপূর্ণ প্রশ্ন নিষেধ করতে পারে। ১৫২ ধারা অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন নিষিদ্ধ করে। - ৭৪. শিশুর দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র বা অবৈধ ও নিষিদ্ধ বস্তু বহন করানো বা পরিবহন করানোর অপরাধের জন্য শিশু আইন, ২০১৩ তে শাস্তির বিধান করা হয়েছে-
- ক. ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড
- খ. ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ১,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড
- গ. ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ১,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুকে দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বা নিষিদ্ধ বস্তু বহন করালে অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান আছে। শিশুকে অপরাধে ব্যবহার রোধ করাই এর উদ্দেশ্য। - ৭৫. High Court Judicature at Calcutta স্থাপিত হয় কত সালে?
- ক. ১৮৬২
- খ. ১৮৬১
- গ. ১৮৭০
- ঘ. ১৮৭২
উত্তর: ক. ১৮৬২
১৮৬১ সালের Indian High Courts Act-এর অধীনে ১৮৬২ সালের ১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি উপমহাদেশের প্রথম হাইকোর্ট। - ৯৮. এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে না [shall not be judicially enforceable]। শব্দগুলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
- ক. ৭
- খ. ১১
- গ. ১০
- ঘ. ৮
উত্তর: ঘ. ৮
সংবিধানের ৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবে না। তবে এগুলো আইন প্রণয়ন ও সংবিধান ব্যাখ্যার নির্দেশক হবে।
আন্তর্জাতিক
- ৭৬. মুহম্মদ ঘোরি ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
- ক. ১১৯০
- খ. ১১৯২
- গ. ১২০৬
- ঘ. ৭১২
উত্তর: খ. ১১৯২
১১৯১ সালে প্রথম তরাইনের যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ জয়ী হলেও ১১৯২ সালের দ্বিতীয় যুদ্ধে মুহম্মদ ঘোরি জয়ী হন। এর মাধ্যমে উত্তর ভারতে মুসলিম শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়। - ৮৪. 'Pakistan between Mosque and Military' বইটির রচয়িতা কে?
- ক. হোসেন হাক্কানী
- খ. মুনতাসীর মামুন
- গ. যশোবন্ত সিংহ
- ঘ. ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান
উত্তর: ক. হোসেন হাক্কানী
‘Pakistan: Between Mosque and Military’ বইটি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হোসেন হাক্কানী। এতে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর আঁতাত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। - ৯৭. মরক্কোর প্রধান সমুদ্র বন্দর হচ্ছে-
- ক. আকাবা
- খ. এডেন
- গ. হাইফা
- ঘ. ক্যাসাব্লাঙ্কা
উত্তর: ঘ. ক্যাসাব্লাঙ্কা
ক্যাসাব্লাঙ্কা মরক্কোর বৃহত্তম শহর ও প্রধান সমুদ্রবন্দর। আকাবা জর্ডানের, এডেন ইয়েমেনের এবং হাইফা ইসরায়েলের বন্দর।
বাংলাদেশ
- ৭৭. আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
- ক. লিওনিদ ব্রেজনেভ
- খ. আলেক্সি কোসিগিন
- গ. আন্দ্রেই গ্রোমিকো
- ঘ. নিকোলাই পোদগর্নি
উত্তর: গ. আন্দ্রেই গ্রোমিকো
১৯৭১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আন্দ্রেই গ্রোমিকো। তখন ব্রেজনেভ ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, কোসিগিন প্রধানমন্ত্রী এবং পোদগর্নি রাষ্ট্রপ্রধান। - ৭৮. আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি কে ছিলেন?
- ক. সরদার শরণ সিং
- খ. সমর সেন
- গ. আর.কে. দীক্ষিত
- ঘ. বিজয় লক্ষ্মী পণ্ডিত
উত্তর: খ. সমর সেন
১৯৭১ সালে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন সমর সেন। আর সরদার শরণ সিং ছিলেন তখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। - ৮৬. 'September on Jessore Road' - কবিতাটির রচয়িতা কে?
- ক. Craig Sanders
- খ. Allen Ginsberg
- গ. Mark Godfrey
- ঘ. Syed Shamsul Haque
উত্তর: খ. Allen Ginsberg
মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালে যশোর রোডের শরণার্থী শিবির দেখে ‘September on Jessore Road’ কবিতাটি লেখেন। এতে মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুর্দশা ফুটে উঠেছে। - ৮৭. ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করেছিলেন-
- ক. প্রফুল্ল চন্দ্র সেন
- খ. অজয় মুখোপাধ্যায়
- গ. সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়
- ঘ. জ্যোতি বসু
উত্তর: খ. অজয় মুখোপাধ্যায়
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়, তিনি শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় মুখ্যমন্ত্রী হন ১৯৭২ সালে। - ৯৫. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্মৃতি ৭১' এর পরিচালক কে?
- ক. জহির রায়হান
- খ. তারেক মাসুদ
- গ. মোরশেদুল ইসলাম
- ঘ. তানভীর মোকাম্মেল
উত্তর: ঘ. তানভীর মোকাম্মেল
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘স্মৃতি ৭১’ পরিচালনা করেছেন তানভীর মোকাম্মেল। জহির রায়হানের বিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’। - ৯৬. মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
- ক. নিতুন কুন্ডু
- খ. হামিদুজ্জামান
- গ. জাহানারা পারভীন
- ঘ. তানভীর করিম
উত্তর: ঘ. তানভীর করিম
মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি তানভীর করিম। এখানেই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার শপথ নিয়েছিল।
বাংলা
- ৭৯. 'নানান দেশের নানান ভাষা, বিনা স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?'- উদ্ধৃতিটি কার?
- ক. মধুসূদন দত্ত
- খ. রামনিধি গুপ্ত
- গ. রাজা রামমোহন রায়
- ঘ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর: খ. রামনিধি গুপ্ত
মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা এই পঙ্ক্তিটি টপ্পা গানের জন্য বিখ্যাত রামনিধি গুপ্তের (নিধুবাবু) লেখা। - ৮৫. ''যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার, বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?''- চরণ দুটি কার লেখা?
- ক. সুকান্ত ভট্টাচার্য
- খ. ফররুখ আহমদ
- গ. কাজী নজরুল ইসলাম
- ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: গ. কাজী নজরুল ইসলাম
চরণ দুটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতা থেকে নেওয়া, যা ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে আছে। - ৯৪. "মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই," - চরণ দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার উল্লেখ আছে?
- ক. সোনার তরী
- খ. নতুন
- গ. প্রাণ
- ঘ. পুরাতন
উত্তর: গ. প্রাণ
চরণ দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থের ‘প্রাণ’ কবিতা থেকে নেওয়া। এতে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
সাধারণ জ্ঞান
- ৮০. "গ্রীন হাউজ" ইফেক্ট কি?
- ক. সবুজ বৃক্ষ ধ্বংস হওয়া
- খ. নিম্ন ভূমি নিমজ্জিত হওয়া
- গ. সমুদ্রজলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া
- ঘ. তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
উত্তর: ঘ. তাপ আটকে পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি
বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি গ্যাস পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ আটকে রাখে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ে। এটিই গ্রিনহাউস প্রভাব; সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এর ফল, মূল প্রক্রিয়া নয়। - ৮১. আফ্রিকা ও ইউরোপকে বিভক্তকারী প্রণালী কোনটি?
- ক. জিব্রাল্টার প্রণালী
- খ. পক প্রণালী
- গ. মালাক্কা প্রণালী
- ঘ. দার্দানেলিস প্রণালী
উত্তর: ক. জিব্রাল্টার প্রণালী
জিব্রাল্টার প্রণালী স্পেন (ইউরোপ) ও মরক্কোকে (আফ্রিকা) আলাদা করেছে এবং ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিকের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পক প্রণালী ভারত-শ্রীলঙ্কা এবং মালাক্কা প্রণালী মালয়েশিয়া-সুমাত্রাকে আলাদা করেছে। - ৮২. শাত-ইল-আরব হলো-
- ক. ইরাবতী ও সালুইন নদীর মিলিত প্রবাহ
- খ. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
- গ. আমুদরিয়া ও সিরদরিয়া নদীর মিলিত প্রবাহ
- ঘ. তারিম নদী ও হেলমন্দ নদীর মিলিত প্রবাহ
উত্তর: খ. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
ইরাকের আল-কুরনায় টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস মিলিত হয়ে শাত-ইল-আরব নাম নিয়ে পারস্য উপসাগরে পড়েছে। এর একাংশ ইরাক-ইরান সীমান্ত তৈরি করেছে।
ইংরেজি
- ৮৩. 'Bachelors’ wives and maids' children are always well taught.' প্রবাদটির অর্থ কি?
- ক. ভিক্ষার চাল কাঁড়া আকাঁড়া
- খ. মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
- গ. বিয়ে করতে কড়ি, ঘর বাঁধতে দড়ি
- ঘ. দূরের জিনিস ভালো মনে হয়
উত্তর: খ. মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
প্রবাদটির মর্ম হলো — যার স্ত্রী বা সন্তান নেই, সে-ই সবচেয়ে বেশি উপদেশ দেয় কীভাবে তাদের মানুষ করতে হয়। যে বিষয় নিজের নেই তা নিয়ে অযথা মাথা ঘামানো বোঝাতে বাংলায় বলা হয় ‘মাথা নেই তার মাথাব্যথা’।
গণিত
- ৮৮. $\sqrt{8}/\sqrt{98}$ এর চার দশমিক স্থান পর্যন্ত আসন্ন মান কোনটি?
- ক. ০.২৮৫৭
- খ. ০.২৮৪৭
- গ. ০.২৮৬৭
- ঘ. ০.২৮৩৭
উত্তর: ক. ০.২৮৫৭
$\frac{\sqrt{8}}{\sqrt{98}} = \sqrt{\frac{8}{98}} = \sqrt{\frac{4}{49}} = \frac{2}{7}$, যার মান ০.২৮৫৭১…। চার দশমিক স্থান পর্যন্ত তা ০.২৮৫৭। - ৮৯. ক্রয়মূল্য : বিক্রয়মূল্য = ৫ : ৬ এতে শতকরা লাভ হয়-
- ক. ১৫%
- খ. ২০%
- গ. ২১%
- ঘ. ২৫%
উত্তর: খ. ২০%
ক্রয়মূল্য ৫ হলে বিক্রয়মূল্য ৬, লাভ ১। শতকরা লাভ = (১/৫) × ১০০ = ২০%। - ৯০. একজন চাকরিজীবীর আয় ও ব্যয়ের অনুপাত ২০ : ১৫ হলে তার মাসিক সঞ্চয় আয়ের শতকরা কত অংশ?
- ক. ৩০%
- খ. ১৫%
- গ. ২০%
- ঘ. ২৫%
উত্তর: ঘ. ২৫%
আয় 20x ও ব্যয় 15x ধরলে সঞ্চয় = 20x − 15x = 5x।
আয়ের কত অংশ সঞ্চয়: (5x/20x) × 100% = 25%।
অনুপাতটি 4 : 3-এর সমান, কারণ 20 : 15 = 4 : 3। তাই আয় 4 ভাগ ধরলে ব্যয় 3 ভাগ আর সঞ্চয় 1 ভাগ, অর্থাৎ আয়ের 1/4 অংশ।
মনে রাখুন: সঞ্চয় = আয় − ব্যয়। - ৯১. পিতা পুত্রের বর্তমান বয়সের যোগফল ১৫ বছর পূর্বের বয়সের যোগফলের দ্বিগুণ। যদি পুত্রের বর্তমান বয়স ১৬ বছর হয়, তবে পিতার বর্তমান বয়স কত?
- ক. ৪৪ বছর
- খ. ৪০ বছর
- গ. ৩৬ বছর
- ঘ. ৩২ বছর
উত্তর: ক. ৪৪ বছর
পিতার বয়স x হলে x + ১৬ = ২[(x − ১৫) + (১৬ − ১৫)] = ২x − ২৮। সুতরাং x = ৪৪ বছর। - ৯২. ΔABC এর BC বাহুকে D পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। ∠A = 40° এবং ∠B = 60° হলে, ∠ACD = কত ডিগ্রি?
- ক. ১৮০°
- খ. ৯০°
- গ. ১০০°
- ঘ. ১২০°
উত্তর: গ. ১০০°
ত্রিভুজের বহিঃস্থ কোণ তার বিপরীত দুই অন্তঃস্থ কোণের সমষ্টির সমান। তাই ∠ACD = ৪০° + ৬০° = ১০০°।
বিজ্ঞান
- ৯৩. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র-
- ক. ক্রোনোমিটার
- খ. ওডোমিটার
- গ. ট্যাকোমিটার
- ঘ. ক্রেসকোগ্রাফ
উত্তর: গ. ট্যাকোমিটার
ট্যাকোমিটার (Tachometer) ঘূর্ণায়মান কোনো অংশ কত বেগে ঘুরছে তা মাপে। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বা প্রপেলারের ঘূর্ণনবেগ জানতে এটি কাজে লাগে। ক্রনোমিটার সূক্ষ্ম সময় মাপে আর ওডোমিটার যানবাহনের অতিক্রান্ত দূরত্ব মাপে। ক্রেসকোগ্রাফ নামের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, যা দিয়ে গাছের বৃদ্ধির হার মাপা হয়।
মনে রাখুন: উড়োজাহাজের গতিবেগ মাপার যন্ত্র সাধারণভাবে এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর নামে পরিচিত।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন: অন্যান্য পরীক্ষা
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বেঞ্চ সহকারী নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১১তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১২তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১৩তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১৪তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১৫তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (১৬তম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৩য় বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০০৮
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৪র্থ বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০০৯
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৫ম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১০
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৬ষ্ঠ বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১১
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৭ম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১২
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৮ম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৩
- বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সহকারী জজ (৯ম বিজেএস প্রিলিমিনারি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৪
আরও সরকারি চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- বিসিআইসি সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বিসিক প্রমোশন অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- পেট্রোবাংলা সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৪
- বাপেক্স সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
- বিসিআইসি সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- বিসিক প্রমোশন অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
- পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৩
- রাজউক সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- সাধারণ বীমা কর্পোরেশন সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৪
- বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি (বিজিএফসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) বিভিন্ন পদ নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- বিসিক সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২০
- গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি (পিজিসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- তিতাস গ্যাস সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৩
- বাপেক্স সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বিসিআইসি সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাখরাবাদ গ্যাস (বিজিডিসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি (বিজিএফসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বিসিক সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, পরিদর্শন কর্মকর্তা ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- পেট্রোবাংলা সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১১
- পেট্রোবাংলা সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
- ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সহকারী পরিচালক ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২০
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন