লিয়ানা বুকস

রূপালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৩: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ২০১৩। ২১টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →
  1. ১. 'টা' 'টি' 'টো' 'টুকন' ইত্যাদি শব্দ বা শব্দাংশকে বলা হয়–
    • ক. অব্যয়
    • খ. নির্দেশক সর্বনাম
    • গ. পদাশ্রিত নির্দেশক
    • ঘ. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
    উত্তর: গ. পদাশ্রিত নির্দেশক
    বাংলায় ‘টা, টি, টো, টুকন’ প্রভৃতি শব্দাংশ কোনো শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে নির্দিষ্ট করে বা সংখ্যা-পরিমাণের ধারণা দেয়। এদের বলে পদাশ্রিত নির্দেশক, কারণ এরা স্বাধীনভাবে বসে না, অন্য পদকে আশ্রয় করে বসে। অব্যয় বা সর্বনামের মতো এরা আলাদা পদ নয়, তাই বাকি অপশনগুলো মেলে না।
    উদাহরণ:
    বইটি, ছেলেটা, দুটো রুটি।
    মনে রাখুন: টা, টি, খানা, খানি, গুলো, গুলি, এই শব্দাংশগুলোও পদাশ্রিত নির্দেশকের উদাহরণ।
  2. ২. অতি + অধিক =
    • ক. অত্যাধিক
    • খ. অত্যোধিক
    • গ. অত্যধিক
    • ঘ. ওত্যোধিক
    উত্তর: গ. অত্যধিক
    অতি + অধিক = অত্যধিক। এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। নিয়মটি হলো, ই-কারের পরে ভিন্ন স্বর এলে ই বদলে য-ফলা হয় এবং পরের স্বরটি তার সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই অত্ + য + অধিক মিলে হয় ‘অত্যধিক’। ‘অত্যাধিক’ বা ‘অত্যোধিক’ লেখা ভুল। পরীক্ষায় এই শব্দটির বানান প্রায়ই ভুল অপশন হিসেবে দেওয়া হয়।
    উদাহরণ:
    প্রতি + এক = প্রত্যেক
    অতি + অন্ত = অত্যন্ত
    ইতি + আদি = ইত্যাদি
  3. ৩. 'অনুসন্ধান' শব্দ কয়টি উপসর্গ সহযোগে গঠিত?
    • ক. একটি
    • খ. দুটি
    • গ. তিনটি
    • ঘ. চারটি
    উত্তর: খ. দুটি
    ‘অনুসন্ধান’ শব্দটি ভাঙলে পাওয়া যায় অনু + সম্ + ধান। এখানে ‘অনু’ ও ‘সম্’ দুটি উপসর্গ আছে, আর ‘ধান’ হলো মূল অংশ। তাই উপসর্গের সংখ্যা দুটি। উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন অর্থের শব্দ তৈরি করে, কিন্তু নিজে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না।
    মনে রাখুন:
    বাংলায় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
    দুটি উপসর্গযুক্ত আরেকটি শব্দ সংবিধান (সম্ + বি + ধান)।
  4. ৪. 'স্বাতন্ত্র্য' বিশেষ্য পদের বিশেষণ রূপ–
    • ক. স্বতন্ত্রতা
    • খ. স্বাতন্ত্র্যতা
    • গ. স্বতন্ত্র
    • ঘ. স্বতন্ত্রী
    উত্তর: গ. স্বতন্ত্র
    ‘স্বাতন্ত্র্য’ একটি বিশেষ্য পদ, যার অর্থ আলাদা সত্তা বা বৈশিষ্ট্য। এর বিশেষণ রূপ ‘স্বতন্ত্র’ (আলাদা)। বিশেষ্য বোঝায় নাম বা ভাব, আর বিশেষণ বোঝায় কোনো কিছুর গুণ বা অবস্থা, তাই ‘একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা’ বললে স্বতন্ত্র বিশেষণ হয়। ‘স্বতন্ত্রতা’ ও ‘স্বাতন্ত্র্যতা’ বিশেষ্য রূপ, তাই এগুলো উত্তর নয়।
    মনে রাখুন: ‘স্বাতন্ত্র্য’ নিজেই ভাববাচক বিশেষ্য, তাই এর সঙ্গে আবার ‘তা’ যোগ করে ‘স্বাতন্ত্র্যতা’ লেখা অশুদ্ধ।
  5. ৫. বাংলা একাডেমি বানান বিধি অনুসারে নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
    • ক. উনসত্তর
    • খ. রচনাবলি
    • গ. মরুঝড়
    • ঘ. বৈশাখি
    উত্তর: ঘ. বৈশাখি
    বৈশাখ মাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষণ ও নামশব্দ ‘বৈশাখী’, যার বানানে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। তাই ‘বৈশাখি’ অশুদ্ধ। বাকি তিনটি শুদ্ধ: উনসত্তর, রচনাবলি ও মরুঝড়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়মে এ ধরনের শব্দের ই-কার ও ঈ-কারের ব্যবহার ঠিকমতো মনে রাখা দরকার।
    মনে রাখুন:
    ‘আবলি’ দিয়ে শেষ হওয়া শব্দে ই-কার হয়, যেমন রচনাবলি, গ্রন্থাবলি।
    ‘উনসত্তর’ বানানে উন শব্দটি ‘ঊন’ নয়, এখানে ‘উন’ লেখা হয়।
  6. ৬. নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
    • ক. বাণী
    • খ. শূণ্য
    • গ. অরণ্য
    • ঘ. লবণ
    উত্তর: খ. শূণ্য
    ‘শূন্য’ শব্দে দন্ত্য ‘ন’ বসে, তাই ‘শূণ্য’ বানান অশুদ্ধ। বাকি তিনটি তৎসম শব্দে মূর্ধন্য ‘ণ’-ই শুদ্ধ: বাণী, অরণ্য ও লবণ। সংস্কৃত থেকে আসা শব্দে ণ বসার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, কিন্তু ‘শূন্য’-তে সেই শর্ত নেই। ফলে অনেকে ভুল করে এখানে ‘ণ’ লিখে ফেলে।
    মনে রাখুন:
    ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত হলে মূর্ধন্য ণ হয়, যেমন ঘণ্টা, কণ্ঠ।
    শূন্য, অন্য, ধন্য, পুণ্য এসব বানানে ‘ন’ ও ‘ণ’ ভিন্নভাবে বসে, তাই বানান মুখস্থ করাই নিরাপদ: শূন্য ও অন্য-তে দন্ত্য ন, পুণ্য-তে মূর্ধন্য ণ।
  7. ৭. নিচের কোনটি নদীর সমার্থক শব্দ নয়?
    • ক. তরঙ্গিনী
    • খ. শৈবালিনী
    • গ. উর্মিলহরী
    • ঘ. স্রোতোবহা
    উত্তর: গ. উর্মিলহরী
    নদীর সমার্থক শব্দ হলো তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতোবহা, তটিনী ও সরিৎ। ‘উর্মিলহরী’-তে উর্মি ও লহরী দুটিই ঢেউ বোঝায়, তাই এটি ঢেউয়ের সমার্থক, নদীর নয়। তবে নদীর স্রোতে ঢেউ থাকে বলে শব্দটিকে নদীর কাছাকাছি মনে হতে পারে, আর সেখানেই ভুল হয়। সমার্থক শব্দের প্রশ্নে সরাসরি অর্থ মিলিয়ে দেখা জরুরি।
    মনে রাখুন:
    নদীর আরও নাম স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী, নিম্নগা।
    ঢেউয়ের সমার্থক শব্দ উর্মি, তরঙ্গ, লহরী, হিল্লোল।
  8. ৮. 'অনন্তর' শব্দের অর্থ–
    • ক. নিরন্তর
    • খ. অন্তর নেই যার
    • গ. অতঃপর
    • ঘ. পৃথিবী
    উত্তর: গ. অতঃপর
    ‘অনন্তর’ শব্দের প্রচলিত অর্থ অতঃপর বা তারপর। শব্দটির গঠন ‘অ-’ + ‘অন্তর’, অর্থাৎ যার মাঝখানে ফাঁক নেই, তাই একটির ঠিক পরেই যা আসে তা বোঝায়। কিন্তু ব্যবহারে অর্থ দাঁড়ায় ‘অতঃপর’। ‘অনন্ত’ শব্দের অর্থ ভিন্ন, শেষ নেই যার। শব্দ দুটি দেখতে কাছাকাছি, তাই অর্থ গুলিয়ে ফেললে ভুল হয়।
    মনে রাখুন:
    নিরন্তর মানে সবসময় বা বিরতিহীন।
    অনন্তর ও অতঃপর, দুটিই ঘটনার ক্রম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
  9. ৯. নিচের কোন জোড়কে যথার্থ সমোচ্চারিত শব্দের দৃষ্টান্ত হিসেবে মেনে নেয়া যায় না?
    • ক. অভি-অভী
    • খ. অসুর-অশূর
    • গ. দ্বীপ-দ্বিপ
    • ঘ. আধি-আঁধি
    উত্তর: ঘ. আধি-আঁধি
    সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ হলো সেই শব্দজোড়, যাদের উচ্চারণ প্রায় এক, কিন্তু বানান ও অর্থ আলাদা। ই-ঈ বা ি-ী-র পার্থক্যে উচ্চারণ বদলায় না, তাই অভি-অভী ও দ্বীপ-দ্বিপ এই ধরনের জোড়। অসুর-অশূর জোড়ায় স-শ ও উ-ঊ-র পার্থক্য আছে, যা উচ্চারণে প্রায় ধরা পড়ে না। কিন্তু ‘আধি’ ও ‘আঁধি’-তে চন্দ্রবিন্দু থাকায় দ্বিতীয় শব্দটি নাকি সুরে উচ্চারিত হয়, ফলে ধ্বনি মেলে না। তাই এটি যথার্থ সমোচ্চারিত জোড় নয়।
    মনে রাখুন: সমোচ্চারিত শব্দের উদাহরণ অন্য-অণ্য, কাজ-কাজি।
  10. ১০. 'দেউড়ি' শব্দের বিপরীত শব্দ–
    • ক. বাতায়ন
    • খ. গবাক্ষ
    • গ. অলিন্দ
    • ঘ. খিড়কি
    উত্তর: ঘ. খিড়কি
    ‘দেউড়ি’ মানে বাড়ির সদর বা সামনের দরজা, যেদিক দিয়ে অতিথি ও বাইরের লোক ঢোকে। এর বিপরীতে বাড়ির পেছনের দরজাকে বলা হয় ‘খিড়কি’। বাতায়ন ও গবাক্ষ মানে জানালা, আর অলিন্দ মানে বারান্দা বা চাতাল, তাই এগুলো বিপরীত শব্দ নয়।
    মনে রাখুন:
    জানালার সমার্থক শব্দ বাতায়ন, গবাক্ষ।
    সদর দরজার আরও নাম সিংহদ্বার, তোরণ।
  11. ১১. 'কুল কাঠের আগুন' বাগধারাটির অর্থ–
    • ক. ঈষদুষ্ণ তাপ
    • খ. তীব্রজ্বালা
    • গ. শীতলতা
    • ঘ. নির্বাপিত দীপ
    উত্তর: খ. তীব্রজ্বালা
    ‘কুল কাঠের আগুন’ বাগধারার অর্থ তীব্র জ্বালা। কুলগাছের কাঠ ধীরে ধীরে পুড়ে অনেকক্ষণ ধরে জ্বলে, তাই এটি এমন কষ্ট বা দহন বোঝাতে ব্যবহার হয়, যা সহজে মেটে না। বাকি বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা: ঈষদুষ্ণ মানে সামান্য গরম, আর নির্বাপিত দীপ মানে নিভে যাওয়া প্রদীপ।
    মনে রাখুন:
    আকাশ কুসুম = অসম্ভব কল্পনা
    কলুর বলদ = একটানা পরিশ্রমকারী
  12. ১২. 'current account'- এর বাংলা পরিভাষা–
    • ক. চলতি আমানত
    • খ. চলিষ্ণু বিনিয়োগ
    • গ. চলতি হিসাব
    • ঘ. মেয়াদি হুন্ডি
    উত্তর: গ. চলতি হিসাব
    ব্যাংকের Current Account হলো এমন হিসাব, যেখানে যেকোনো সময় টাকা জমা দেওয়া ও তোলা যায়। ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের লেনদেনের জন্য এটি বেশি ব্যবহার করেন। এর বাংলা পরিভাষা ‘চলতি হিসাব’। ‘আমানত’ শব্দটি Deposit-এর বাংলা, তাই Account বোঝাতে ‘হিসাব’ শব্দটিই ঠিক।
    মনে রাখুন:
    Savings Account = সঞ্চয়ী হিসাব
    Fixed Deposit = স্থায়ী আমানত
  13. ১৩. নিচের কোনটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের গ্রন্থের অনুবাদ?
    • ক. প্রভাবতী সম্ভাষণ
    • খ. শকুন্তলা
    • গ. ভ্রান্তিবিলাস
    • ঘ. সীতার বনবাস
    উত্তর: গ. ভ্রান্তিবিলাস
    শেক্সপিয়ারের নাটক Comedy of Errors অবলম্বনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৬৯ সালে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ গদ্যে অনুবাদ করেন। দুই জোড়া যমজের ভুল চেনাচিনির হাসির গল্প নিয়ে এই নাটক। বাকি তিনটির উৎস আলাদা: ‘শকুন্তলা’ কালিদাসের সংস্কৃত নাটক থেকে, ‘সীতার বনবাস’ রামায়ণ ও ভবভূতির নাটক থেকে, আর ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ বিদ্যাসাগরের নিজের শোকমূলক রচনা।
    মনে রাখুন:
    শকুন্তলা ১৮৫৪ সালে এবং সীতার বনবাস ১৮৬০ সালে প্রকাশিত।
    বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
  14. ১৪. নিচের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয়?
    • ক. রাজসিংহ
    • খ. সীতারাম
    • গ. বিপ্রদাস
    • ঘ. রজনী
    উত্তর: গ. বিপ্রদাস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের মধ্যে রাজসিংহ, সীতারাম ও রজনী আছে। ‘বিপ্রদাস’ লিখেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। দুজনের পদবি এক হওয়ায় অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। তাই এ ধরনের প্রশ্নে লেখকের পুরো নামটি মনে রাখলে ভুল এড়ানো যায়।
    মনে রাখুন:
    বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম বাংলা উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।
    তাঁর অন্য উপন্যাস কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল ও আনন্দমঠ।
  15. ১৫. নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্প নয়?
    • ক. ল্যাবরেটরি
    • খ. মুসলমানীর গল্প
    • গ. প্রাগৈতিহাসিক
    • ঘ. অপরিচিতা
    উত্তর: গ. প্রাগৈতিহাসিক
    ‘ল্যাবরেটরি’, ‘মুসলমানীর গল্প’ ও ‘অপরিচিতা’ তিনটিই রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প। ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পটি লিখেছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই এটি রবীন্দ্রনাথের লেখা নয়। এই গল্পে ভিখু নামে এক ভবঘুরে, যে নিজের জীবনের সঙ্গে লড়াই করে, তার কথা আছে।
    মনে রাখুন:
    মানিকের এই গল্পের নায়ক ভিখু।
    ‘ল্যাবরেটরি’ রবীন্দ্রনাথের ‘তিনসঙ্গী’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
  16. ১৬. নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথের লেখা উপন্যাস?
    • ক. চতুষ্কোণ
    • খ. চতুরঙ্গ
    • গ. চার ইয়ারী কথা
    • ঘ. পঞ্চগ্রাম
    উত্তর: খ. চতুরঙ্গ
    ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস। এতে জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী ও শ্রীবিলাস নামে চারটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে ধর্ম ও জীবনের টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে। বাকি তিনটি তাঁর নয়: ‘চার ইয়ারী কথা’ প্রমথ চৌধুরীর রচনা, আর ‘পঞ্চগ্রাম’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস। ‘চতুষ্কোণ’ নামে রবীন্দ্রনাথের কোনো উপন্যাস নেই।
    মনে রাখুন: রবীন্দ্রনাথের অন্য উপন্যাস চোখের বালি, গোরা, ঘরে-বাইরে ও চার অধ্যায়।
  17. ১৭. নিচের কোন দুজন শরৎচন্দ্র-সৃষ্ট নারী চরিত্র?
    • ক. আয়েষা, শ্রী
    • খ. দামিনী, কুমুদিনী
    • গ. অভয়া, অন্নদা
    • ঘ. সর্বজয়া, দুর্গা
    উত্তর: গ. অভয়া, অন্নদা
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’-এ অন্নদা দিদি ও অভয়া নামে দুটি নারী চরিত্র আছে। অন্য জোড়ার চরিত্রগুলো অন্য লেখকের সৃষ্টি: আয়েষা বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’র, দামিনী রবীন্দ্রনাথের ‘চতুরঙ্গ’-এর, কুমুদিনী রবীন্দ্রনাথের ‘যোগাযোগ’-এর, আর সর্বজয়া ও দুর্গা বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’র। এভাবে চরিত্র থেকে লেখক চেনা পরীক্ষায় একটি পরিচিত ধরন।
    মনে রাখুন:
    শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’ উপন্যাসের চরিত্র পার্বতী ও চন্দ্রমুখী।
    তাঁর ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র সাবিত্রী ও কিরণময়ী।
  18. ১৮. নিচের কোন গ্রন্থটি উপন্যাস?
    • ক. দিবারাত্রির কাব্য
    • খ. বীরাঙ্গনা-কাব্য
    • গ. ব্রজাঙ্গনা-কাব্য
    • ঘ. হেক্টরবধ কাব্য
    উত্তর: ক. দিবারাত্রির কাব্য
    ‘দিবারাত্রির কাব্য’ নামে ‘কাব্য’ থাকলেও এটি কবিতার বই নয়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস। শুধু নাম দেখে বইয়ের ধরন ঠিক করা যায় না, এখানেই প্রশ্নের কৌশল। বাকি তিনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্য: বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও হেক্টরবধ কাব্য।
    মনে রাখুন:
    ‘হেক্টরবধ কাব্য’ হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে লেখা গদ্যরচনা।
    মানিকের অন্য উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা।
  19. ১৯. 'সাবিত্রী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতার নাম–
    • ক. সেলিনা হোসেন
    • খ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • গ. হাসান আজিজুল হক
    • ঘ. মহাশ্বেতা দেবী
    উত্তর: গ. হাসান আজিজুল হক
    ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’ উপন্যাসের লেখক হাসান আজিজুল হক। তিনি মূলত ছোটগল্পের জন্য পরিচিত, উপন্যাসের মধ্যে ‘আগুনপাখি’ তাঁর আরেকটি বিখ্যাত রচনা। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য’। অন্য অপশনের লেখকেরাও খ্যাতিমান, কিন্তু এই উপন্যাস তাঁদের নয়।
    মনে রাখুন:
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস = চিলেকোঠার সেপাই
    সেলিনা হোসেন = হাঙর নদী গ্রেনেড
    মহাশ্বেতা দেবী = হাজার চুরাশির মা
  20. ২০. 'এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়'- এই স্মরণীয় পঙক্তি রচনা করেছেন-
    • ক. শামসুর রাহমান
    • খ. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
    • গ. আল মাহমুদ
    • ঘ. হেলাল হাফিজ
    উত্তর: ঘ. হেলাল হাফিজ
    ‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ পঙক্তিটি কবি হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতার অংশ। কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’-তে আছে, যা ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাধ্যমেই তিনি খ্যাতি পান। কবিতাটি তরুণদের মুখে মুখে ফিরেছে এবং অনেক আন্দোলনের স্লোগানের মতো ব্যবহৃত হয়েছে।
    মনে রাখুন: ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বইটি হেলাল হাফিজের প্রথম ও সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
  21. ২১. 'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে'-পঙক্তির স্রষ্টা-
    • ক. জীবনানন্দ দাশ
    • খ. বুদ্ধদেব বসু
    • গ. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
    • ঘ. আহসান হাবীব
    উত্তর: গ. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
    ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে’ পঙক্তিটির মানে হলো, চোখ বন্ধ করে রাখলেই বিপদ ঠেকে না। এটি কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পঙক্তি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি এবং ‘পরিচয়’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু ও আহসান হাবীবও কবি, কিন্তু এই পঙক্তি তাঁদের নয়।
    মনে রাখুন: সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ তন্বী, অর্কেস্ট্রা, ক্রন্দসী, উত্তরফাল্গুনী, সংবর্ত, প্রতিধ্বনি ও দশমী।

রূপালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা: সব বছর

রূপালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা: ২ বছরের প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন একসঙ্গে

রূপালী ব্যাংক: অন্যান্য পরীক্ষা

আরও সরকারি ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন