রূপালী ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৩: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ২০১৩। ২৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- ১. 'আরক্তিম' সমাসবদ্ধ পদের ব্যাসবাক্য–
- ক. অতি রক্তিম
- খ. ঈষৎ রক্তিম
- গ. আদ্যন্ত
- ঘ. আদি রক্তিম
উত্তর: খ. ঈষৎ রক্তিম
‘আরক্তিম’ শব্দটি তৈরি হয়েছে ‘আ’ উপসর্গ ও ‘রক্তিম’ শব্দ মিলে। এখানে ‘আ’ উপসর্গ ঈষৎ বা অল্প অর্থে বসেছে, তাই আরক্তিম মানে অল্প লাল। সমাসের ব্যাসবাক্য তাই ‘ঈষৎ রক্তিম’। ‘অতি রক্তিম’ লিখলে অর্থ উল্টে যায়, কারণ অতি মানে অত্যধিক। ‘আদ্যন্ত’ শব্দের অর্থ আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত, যা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
মনে রাখুন:
‘আ’ উপসর্গ ঈষৎ অর্থে বসে আনত (ঈষৎ নত) ও আরক্ত (ঈষৎ রক্ত) শব্দ তৈরি করে।
‘আ’ উপসর্গ সীমা বা ব্যাপ্তি অর্থেও বসে, যেমন আকণ্ঠ (কণ্ঠ পর্যন্ত)। - ২. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
- ক. ধরন
- খ. লবন
- গ. বৃহদার্থ
- ঘ. পরিষ্কার
উত্তর: খ. লবন
শব্দের বানান শুদ্ধ কি না, তা জানতে মূল শব্দের উৎস ও ব্যাকরণের নিয়ম দেখতে হয়। ‘লবণ’ সংস্কৃত শব্দ, আর এতে মূর্ধন্য ণ আছে। তাই ‘লবন’ বানানটি অশুদ্ধ। ‘ধরন’ বানানটি বাংলায় চলে, আবার ‘ধরণ’ও শুদ্ধ। ‘বৃহদার্থ’ ও ‘পরিষ্কার’ শুদ্ধ বানান।
মনে রাখুন:
‘ধরন’ ও ‘ধরণ’ দুটোই চলে, তবে প্রমিত বাংলায় ‘ধরন’ বেশি ব্যবহার হয়।
তৎসম শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান মানা হয়, যেমন কারণ, গুণ, লবণ। - ৩. 'এপিটাফ' শব্দের অর্থ–
- ক. শোক কবিতা
- খ. গীতিকা
- গ. সমাধি-লিপি
- ঘ. মানপত্র
উত্তর: গ. সমাধি-লিপি
‘এপিটাফ’ ইংরেজি Epitaph শব্দের বাংলা রূপ। এর অর্থ সমাধি-লিপি, অর্থাৎ কবরের ফলকে মৃত ব্যক্তির স্মরণে খোদাই করা লেখা। সাধারণত এতে মৃত ব্যক্তির নাম, জন্ম-মৃত্যুর সন বা সংক্ষিপ্ত স্মৃতিবাক্য থাকে। শোক কবিতা এর অর্থ নয়। মৃত ব্যক্তির স্মরণে শোক প্রকাশ করে লেখা কবিতাকে ইংরেজিতে এলিজি (Elegy) বলে।
মনে রাখুন:
গীতিকাকে ইংরেজিতে ব্যালাড (Ballad) বলে। - ৪. 'পোখরাজ' মানে–
- ক. এক ধরনের বিষধর সাপ
- খ. এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র
- গ. মনি বিশেষ
- ঘ. পাখির রাজা গরুড়
উত্তর: গ. মনি বিশেষ
‘পোখরাজ’ একটি মূল্যবান রত্ন বা মণি, সাধারণত হলুদ রঙের হয়। অলংকারে এটি ব্যবহৃত হয়। তাই এর অর্থ মণি বিশেষ। অন্য অপশনগুলো ভুল। পোখরাজ কোনো সাপ বা বাদ্যযন্ত্র নয়, আবার ‘পাখির রাজা গরুড়’ কথাটির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: মণির অন্য নাম রত্ন, মানিক ও পান্না।
নবরত্নের মধ্যে মুক্তা, পদ্মরাগ, পান্না ও নীলা পড়ে। - ৫. নিচের কোনটিতে 'দ্রুততা'র বিশিষ্টার্থক প্রয়োগ ঘটেছে?
- ক. নাকে খত
- খ. নাক গলাতে
- গ. নাকে-মুখে
- ঘ. নাক কেটে
উত্তর: গ. নাকে-মুখে
‘নাকে-মুখে’ বাগধারাটি দ্রুততা বা তাড়াহুড়ো বোঝায়। কোনো কাজ খুব তাড়াতাড়ি সারার ভাব এতে আছে। যেমন নাকে-মুখে গুঁজে খেয়ে দৌড় দেওয়া। বাকি বাগধারাগুলোর অর্থ আলাদা: নাকে খত মানে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, নাক গলানো মানে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা, আর নাক কাটা মানে অপমান হওয়া।
মনে রাখুন:
‘নাক ডাকা’ মানে নাক দিয়ে শব্দ করে ঘুমানো।
‘নাকের জলে চোখের জলে’ মানে নাজেহাল হওয়া। - ৬. নিচের কোন জোড় সমার্থক শব্দের দৃষ্টান্ত?
- ক. হয়, বাজী
- খ. রওশন, আসমান
- গ. সওদা, জবান
- ঘ. লোচন, চিকুর
উত্তর: ক. হয়, বাজী
সমার্থক শব্দ হলো যাদের অর্থ একই। ‘হয়’ শব্দের অর্থ ঘোড়া, আর ‘বাজী’ শব্দেরও একটি অর্থ ঘোড়া। তাই এ দুটি সমার্থক। বাকি জোড়গুলোর শব্দ ভিন্ন অর্থের: রওশন মানে উজ্জ্বল আর আসমান মানে আকাশ, সওদা মানে কেনাকাটা আর জবান মানে ভাষা বা কথা। লোচন মানে চোখ আর চিকুর মানে চুল, তাই এ দুটিও সমার্থক নয়।
মনে রাখুন: ঘোড়ার সমার্থক: অশ্ব, ঘোটক, তুরগ, হয়।
চোখের সমার্থক: নয়ন, লোচন, আঁখি। - ৭. 'উত্তরণ' শব্দের বিপরীত শব্দ–
- ক. পতন
- খ. অবনয়ন
- গ. অবতরণ
- ঘ. অধস্তন
উত্তর: গ. অবতরণ
‘উত্তরণ’ শব্দের অর্থ ওপরে ওঠা বা পার হওয়া। এর বিপরীত ভাব হলো নিচে নামা, যা বোঝায় ‘অবতরণ’। তাই অবতরণই বিপরীত শব্দ। ‘পতন’ মানে পড়ে যাওয়া, যা একটু ভিন্ন ভাব বোঝায়। কারণ উত্তরণের বিপরীতে নিচে নামার সক্রিয় ভাবটি অবতরণে বেশি মেলে। ‘অবনয়ন’ মানে নত করা, আর ‘অধস্তন’ মানে নিচের স্তরের।
মনে রাখুন: উৎকর্ষের বিপরীত অপকর্ষ, উত্থানের বিপরীত পতন।
উন্নতির বিপরীত অবনতি। - ৮. নিচের কোন বিপরীতার্থক শব্দজোড় অশুদ্ধ?
- ক. শুষ্ক-রুক্ষ
- খ. স্বতন্ত্র-পরতন্ত্র
- গ. সুবহ-দুর্বহ
- ঘ. ক্রয়-বিক্রয়
উত্তর: ক. শুষ্ক-রুক্ষ
বিপরীতার্থক শব্দজোড়ে দুটি শব্দের অর্থ পরস্পর উল্টো হতে হয়। ‘শুষ্ক’ মানে শুকনো, আর এর বিপরীত ‘আর্দ্র’ বা ভেজা। ‘রুক্ষ’ মানে কর্কশ, আর এর বিপরীত ‘কোমল’। তাই ‘শুষ্ক-রুক্ষ’ জোড়াটি বিপরীতার্থক নয়, বরং এরা কাছাকাছি অর্থের। বাকি জোড়গুলো শুদ্ধ: স্বতন্ত্র-পরতন্ত্র, সুবহ-দুর্বহ ও ক্রয়-বিক্রয়।
মনে রাখুন: ‘সু’ উপসর্গের বিপরীত সাধারণত ‘দুর্’ বা ‘কু’ হয়, যেমন সুদিন-দুর্দিন।
ক্রয়ের বিপরীত বিক্রয়। - ৯. 'কাঁচা পয়সা' বাগধারাটি যে অর্থ প্রকাশ করে–
- ক. কালো টাকা
- খ. ধাতব মুদ্রা
- গ. নগদ উপার্জন
- ঘ. বিত্তের অহঙ্কার
উত্তর: গ. নগদ উপার্জন
‘কাঁচা পয়সা’ বাগধারার অর্থ নগদ উপার্জন, অর্থাৎ কাজের বিনিময়ে হাতে হাতে পাওয়া টাকা। অন্য অপশনগুলো এই বাগধারার অর্থ নয়। কালো টাকা বলতে অবৈধ বা গোপন আয় বোঝায়, ধাতব মুদ্রা মানে ধাতুর তৈরি পয়সা, আর বিত্তের অহঙ্কার সম্পূর্ণ আলাদা ভাব।
মনে রাখুন: ‘কাঁচা টাকা’ও একই অর্থে চলে। - ১০. 'টো টো কোম্পানির ম্যানেজার' প্রবচনের অর্থ–
- ক. ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের কর্তা
- খ. গোপন ব্যবসায়ের হোতা
- গ. ভবঘুরে
- ঘ. বহুজাতিক সংস্থার ব্যবস্থাপক
উত্তর: গ. ভবঘুরে
‘টো টো কোম্পানির ম্যানেজার’ প্রবাদটির অর্থ ভবঘুরে, অর্থাৎ যে কাজকর্ম ছাড়া এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। ‘টো টো’ করে ঘোরা থেকেই এই কথাটি এসেছে। শুনতে কোম্পানির ম্যানেজারের মতো লাগলেও আসলে এটি কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের কর্তাকে বোঝায় না, বরং ঘোরাঘুরি করা কর্মহীন মানুষকে ব্যঙ্গ করে। তাই ‘বহুজাতিক সংস্থার ব্যবস্থাপক’ বা ‘ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের কর্তা’ অর্থ ঠিক নয়।
মনে রাখুন: ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ বাগধারার অর্থ নিজের খরচে অন্যের কাজ করা। - ১১. 'Payer' শব্দের বাংলা পরিভাষা–
- ক. উপাসক
- খ. প্রাপক
- গ. পরিশোধ
- ঘ. দাতা
উত্তর: ঘ. দাতা
Payer শব্দের অর্থ যে ব্যক্তি টাকা দেয়, অর্থাৎ প্রদানকারী বা দাতা। তাই এর বাংলা পরিভাষা দাতা। এর বিপরীত Payee হলো যে ব্যক্তি টাকা পায়, অর্থাৎ প্রাপক। ‘পরিশোধ’ হলো Payment বা Repayment-এর পরিভাষা, আর ‘উপাসক’ সম্পূর্ণ আলাদা শব্দ।
মনে রাখুন:
ব্যাংকের চেকে Payer ও Payee, অর্থাৎ দাতা ও প্রাপক দুই পক্ষ থাকে।
Drawer মানে চেক বা বিল ইস্যুকারী। - ১২. 'Scroll' শব্দের গ্রহণযোগ্য পরিভাষা–
- ক. লিপি
- খ. নির্ঘন্ট
- গ. সারিবদ্ধ
- ঘ. হিসাব বহি
উত্তর: ক. লিপি
Scroll শব্দের মূল অর্থ গুটিয়ে রাখা পুঁথি বা লিখিত কাগজের গোটানো রূপ। এই অর্থেই এর পরিভাষা লিপি। প্রাচীনকালে লেখা কাগজ বা চামড়া গুটিয়ে রাখা হতো, তাকেই scroll বলত। কম্পিউটারে scroll মানে পর্দায় লেখা ওপর-নিচে সরানো। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে নির্ঘন্ট হলো সূচিপত্র, সারিবদ্ধ হলো সারি করে সাজানো, আর হিসাব বহি হলো হিসাবের খাতা।
মনে রাখুন: Index-এর পরিভাষা সূচক বা নির্ঘণ্ট। - ১৩. 'filing' শব্দের বাংলা পরিভাষা–
- ক. নথি রক্ষা
- খ. নথি খাতা
- গ. নথিভুক্তি
- ঘ. নথি দাখিল
উত্তর: গ. নথিভুক্তি
Filing শব্দের অর্থ কাগজপত্র বা চিঠি ফাইলে গুছিয়ে রাখা। এর বাংলা পরিভাষা নথিভুক্তি, কারণ ফাইল বা কাগজপত্র বোঝাতে ‘নথি’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। অন্য অপশনগুলো ঠিক নয়। ‘নথি দাখিল’ মানে নথি জমা দেওয়া, আর ‘নথি রক্ষা’ ও ‘নথি খাতা’ এই অর্থ প্রকাশ করে না।
মনে রাখুন:
Record-এর পরিভাষা নথি বা লিপি।
Files-এর পরিভাষা নথিপত্র।
উদাহরণ: সরকারি অফিসে আসা চিঠি নথিভুক্ত করা হয়। - ১৪. নিচের কোন জন মধ্যযুগের কবি নন?
- ক. কায়কোবাদ
- খ. আলাওল
- গ. মাগন ঠাকুর
- ঘ. জ্ঞানদাস
উত্তর: ক. কায়কোবাদ
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ধরা হয় ১২০১ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত। আলাওল, মাগন ঠাকুর ও জ্ঞানদাস এই যুগের কবি। আলাওল সপ্তদশ শতকের, জ্ঞানদাস বৈষ্ণব পদকর্তা, আর মাগন ঠাকুর আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে জন্মেছেন এবং আধুনিক যুগের কবি। তাই তিনিই মধ্যযুগের কবি নন।
মনে রাখুন:
কায়কোবাদের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’।
এটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ নিয়ে লেখা। - ১৫. কবি চন্দ্রাবতী কোন অঞ্চলের মানুষ ছিলেন?
- ক. হবিগঞ্জ
- খ. নেত্রকোনা
- গ. সুনামগঞ্জ
- ঘ. কিশোরগঞ্জ
উত্তর: ঘ. কিশোরগঞ্জ
কবি চন্দ্রাবতী কিশোরগঞ্জ জেলার মানুষ ছিলেন। তিনি মধ্যযুগের কবি, আর বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়। তিনি ‘রামায়ণ’ রচনা করেছেন এবং ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারামের পালা’ লিখেছেন। এসব রচনা ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত। হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা বা সুনামগঞ্জের সঙ্গে চন্দ্রাবতীর জন্মস্থানের সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন:
তাঁর পিতা কবি দ্বিজ বংশীদাস।
ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। - ১৬. ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন কোন দুজন কবি?
- ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিতলাল মজুমদার
- খ. কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ
- গ. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে
- ঘ. বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে
উত্তর: খ. কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনানন্দ দাশও একই বছর, অর্থাৎ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাই দুই কবির জন্মসাল এক। অন্য জোড়াগুলোর জন্মসাল আলাদা। যেমন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে, বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে এবং বিষ্ণু দে ১৯০৯ সালে জন্মেছেন।
মনে রাখুন:
নজরুলের জন্ম চুরুলিয়ায়, আর জীবনানন্দের জন্ম বরিশালে।
জীবনানন্দের কাব্য ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ ও ‘রূপসী বাংলা’।
নজরুলের প্রথম কাব্য ‘অগ্নিবীণা’। - ১৭. নিচের কোন কাব্যগ্রন্থটি শামসুর রাহমানের লেখা?
- ক. দু-হাতে দুই আদিম পাথর
- খ. আমার ভেতরে বাঘ
- গ. আপন যৌবন বৈরী
- ঘ. নিজ বাসভূমে
উত্তর: ঘ. নিজ বাসভূমে
‘নিজ বাসভূমে’ শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়। এতে স্বদেশের মাটি ও মানুষ নিয়ে কবির অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। বাকি অপশনের কাব্যগ্রন্থগুলো অন্য কবিদের। ‘দু-হাতে দুই আদিম পাথর’, ‘আমার ভেতরে বাঘ’ ও ‘আপন যৌবন বৈরী’ শামসুর রাহমানের রচনা নয়।
মনে রাখুন:
শামসুর রাহমানের অন্য কাব্য ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ (প্রথম কাব্য), ‘বন্দী শিবির থেকে’ ও ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে শীর্ষস্থানীয় কবি। - ১৮. নিচের কোনটি হাসান আজিজুল হক-এর উপন্যাস?
- ক. গায়ত্রী সন্ধ্যা
- খ. আগুন পাখি
- গ. খোয়াব নামা
- ঘ. ওঙ্কার
উত্তর: খ. আগুন পাখি
‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস, যা প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে। উপন্যাসটি একজন নারীর জীবনের মধ্য দিয়ে দেশভাগের সময়কাল এবং সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরেছে। অন্য অপশনগুলোর লেখক ভিন্ন। ‘খোয়াবনামা’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস। ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ ও ‘ওঙ্কার’ অন্য লেখকদের রচনা।
মনে রাখুন:
হাসান আজিজুল হকের অন্য উপন্যাস ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’।
তাঁর ছোটগল্প সংকলন ‘সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য’ ও ‘জীবন ঘষে আগুন’। - ১৯. নিচের কোন দুজন লেখক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন?
- ক. রণেশ দাশগুপ্ত, হুমায়ুন আজাদ
- খ. হাসান হাফিজুর রহমান, জিয়া হায়দার
- গ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আবু হেনা মোস্তফা কামাল
- ঘ. হুমায়ুন আজাদ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
উত্তর: ক. রণেশ দাশগুপ্ত, হুমায়ুন আজাদ
প্রশ্নে এমন দুজন লেখককে খুঁজতে বলা হয়েছে, যাঁরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন। রণেশ দাশগুপ্ত ১৯৯৭ সালে ভারতের কলকাতায় মারা যান। আর হুমায়ুন আজাদ ২০০৪ সালে জার্মানির মিউনিখে মারা যান। তখন তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে ছিলেন। তাই এই জোড়াটিই সঠিক। অন্য জোড়াগুলোর অন্তত একজন লেখক দেশের ভেতরেই মারা গেছেন।
মনে রাখুন:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯৭১ সালে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।
হুমায়ুন আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ ও কবিতাগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’। - ২০. সত্যজিৎ রায়ের পিতামহের নাম কী?
- ক. সুকুমার রায়
- খ. সুবিনয় রায়
- গ. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
- ঘ. নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী
উত্তর: গ. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
সত্যজিৎ রায়ের পিতার নাম সুকুমার রায় এবং পিতামহ বা দাদার নাম উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী। উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী ও প্রযুক্তিবিদ। তিনি শিশুদের জন্য ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে সুকুমার রায় এবং আরও পরে সত্যজিৎ রায় সম্পাদনা করেন। ‘সুবিনয় রায়’ উপেন্দ্রকিশোরের আরেক পুত্র, অর্থাৎ সত্যজিতের কাকা, তিনি পিতামহ নন।
মনে রাখুন:
সত্যজিতের প্রথম চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫)।
সুকুমার রায়ের বিখ্যাত বই ‘আবোল তাবোল’। - ২১. 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই।' এ বাক্য যে গল্পে রয়েছে তার নাম :
- ক. শাস্তি
- খ. জীবিত ও মৃত
- গ. মেঘ ও রৌদ্র
- ঘ. মধ্যবর্তিনী
উত্তর: খ. জীবিত ও মৃত
‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই’ বাক্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবিত ও মৃত’ গল্পের। গল্পের প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী, যাকে মৃত ভেবে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে মারা যায়নি, জ্ঞান ফিরে এলে সে ফিরে আসে। তখন সমাজ তাকে আর জীবিত বলে গ্রহণ করে না, তাই সে নিজেকে মৃত বলেই ভাবতে থাকে। শেষে মৃত্যুর মধ্য দিয়েই সে প্রমাণ করে যে সে সত্যি জীবিত ছিল।
মনে রাখুন:
‘শাস্তি’, ‘মেঘ ও রৌদ্র’ ও ‘মধ্যবর্তিনী’-ও রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প।
রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ বাংলা ছোটগল্পের এক শ্রেষ্ঠ সংকলন। - ২২. 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' এই পঙক্তি দুটির স্রষ্টার নাম-
- ক. রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন
- খ. কামিনী রায়
- গ. কুসুমকুমারী রায়
- ঘ. মহাশ্বেতা দেবী
উত্তর: গ. কুসুমকুমারী রায়
‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে / কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’ পঙক্তি দুটি ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার। এই কবিতাটি লিখেছেন কুসুমকুমারী রায় (কুসুমকুমারী দাশ নামেও পরিচিত)। তিনি কবি জীবনানন্দ দাশের মা ছিলেন। কবিতাটির মূল কথা হলো মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষ বড় হয়। এই কারণে কবিতাটি শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে অনেক দিন ধরে পড়ানো হয়েছে।
মনে রাখুন:
কামিনী রায় বাংলার আরেকজন বিখ্যাত নারী কবি, যিনি ‘আলো ও ছায়া’ লিখেছেন।
বেগম রোকেয়ার বিখ্যাত রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘অবরোধবাসিনী’। - ২৩. 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত'-এই স্মরণীয় চরণটি লিখেছেন-
- ক. সিকান্দার আবু জাফর
- খ. সুকান্ত ভট্টাচার্য
- গ. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
- ঘ. সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর: গ. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’ চরণটি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার। এটি ‘ফুল ফুটুক’ নামের কাব্যগ্রন্থে আছে। কবি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের জীবনের আনন্দ বা উৎসব ফুল ফোটার ওপর নির্ভর করে না। সুভাষ মুখোপাধ্যায় ১৯১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৩ সালে মারা যান। তিনি প্রগতিশীল ধারার কবি হিসেবে পরিচিত। সুকান্ত ভট্টাচার্য একই ধারার আরেকজন কবি, তবে এই পঙক্তিটি তাঁর নয়।
মনে রাখুন:
সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রথম কাব্য ‘ছাড়পত্র’।
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আরও কাব্য ‘পদাতিক’ ও ‘যত দূরেই যাই’।
রূপালী ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা: সব বছর
রূপালী ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা: ২ বছরের প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন একসঙ্গে
রূপালী ব্যাংক: অন্যান্য পরীক্ষা
- রূপালী ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- রূপালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৩
- রূপালী ব্যাংক অ্যাসিস্ট্যান্ট নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- রূপালী ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট নিয়োগ পরীক্ষা ২০২০
- রূপালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
আরও সরকারি ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (এডি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- সম্মিলিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- জনতা ব্যাংক অফিসার (রেগুলার ক্যাডার) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- সম্মিলিত ৮ ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- সম্মিলিত ৮ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- সম্মিলিত ৪ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (এডি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৯
- বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- অগ্রণী ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL) সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- সম্মিলিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- সম্মিলিত ৮ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- সম্মিলিত ৬ ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬
- সম্মিলিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- সম্মিলিত ৫ ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫
- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৪
- সম্মিলিত ৫ ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- সম্মিলিত ৮ ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- সম্মিলিত ৮ ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- সম্মিলিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২
- বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (এডি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
- সম্মিলিত ৮ ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৮
- অগ্রণী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এক্সিকিউটিভ অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৭
- বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (এডি) নিয়োগ পরীক্ষা ২০০৬
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন