লিয়ানা বুকস

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৫: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ২০১৫। ১৩টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →
  1. ১. নিচের কোন খাঁটি বাংলা শব্দটিতে 'এ' ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ পরিলক্ষিত হয়?
    • ক. গেঁজেল
    • খ. এখন
    • গ. একচোট
    • ঘ. খেমটা
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ঘ. খেমটা
    যে শব্দে ‘এ’ উচ্চারণ হয় অ্যা-এর মতো, সেখানে ‘এ’-এর বিবৃত উচ্চারণ হয়। খেমটা শব্দে এ-এর পরে আ-কার আছে, তাই এটি খ্যামটা-র মতো উচ্চারিত হয়। অন্য দিকে গেঁজেল শব্দে এ-এর পরে এ আছে, ফলে সেখানে সংবৃত উচ্চারণ হয়। বাংলায় ‘এ’ ধ্বনির এই দুই রকম উচ্চারণ আছে, একটি সংবৃত আর অন্যটি বিবৃত।
    মনে রাখুন:
    বিবৃত এ-এর উদাহরণ: এক, দেখা, খেলা, ব্যাপার।
    সংবৃত এ-এর উদাহরণ: দেশ, কেন, বেশি।
  2. ২. 'শিশুটি মা মা বলে কাঁদছে'- এখানে 'মা মা' দ্বিরুক্তিটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
    • ক. স্বল্পকাল স্থায়ী
    • খ. আগ্রহ
    • গ. আধিক্য
    • ঘ. তীব্রতা
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. আগ্রহ
    বাংলায় দ্বিরুক্ত শব্দ নানা অর্থ প্রকাশ করে, যেমন আধিক্য, আগ্রহ, তীব্রতা বা স্বল্পকাল স্থায়িত্ব। ‘শিশুটি মা মা বলে কাঁদছে’ বাক্যে ‘মা মা’ বারবার ডাকার আকুলতা, অর্থাৎ আগ্রহ বা ব্যাকুলতা বোঝায়। এখানে অনেক বেশি পরিমাণ বা অল্প সময় স্থায়ী কিছু বোঝানো হয়নি, তাই আধিক্য ও স্বল্পকাল স্থায়ী ঠিক নয়।
    মনে রাখুন:
    কাঁদো কাঁদো: আসন্নতা বোঝায়।
    ঘরে ঘরে: ব্যাপ্তি বোঝায়।
    বড় বড় বাড়ি: আধিক্য বোঝায়।
  3. ৩. 'অপ' উপসর্গটি 'অপকর্ম' শব্দে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
    • ক. নিকৃষ্ট
    • খ. বিকৃত
    • গ. বিপরীত
    • ঘ. দুর্নাম
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. নিকৃষ্ট
    অপ একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। বাংলা ভাষায় এই উপসর্গ কয়েকটি অর্থে বসে, তার মধ্যে একটি হলো নিকৃষ্ট। অপকর্ম মানে নিকৃষ্ট বা মন্দ কাজ, তাই এখানে ‘অপ’ নিকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বিপরীত অর্থে অপমান, বিকৃত অর্থে অপভাষা এবং দুর্নাম অর্থে অপযশ শব্দে একই উপসর্গ দেখা যায়।
    মনে রাখুন:
    উপসর্গ শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে বা অর্থ বদলে দেয়।
    উপসর্গ তিন রকম: খাঁটি বাংলা, সংস্কৃত ও বিদেশি।
  4. ৪. ধাতু বা শব্দের শেষে প্রত্যয় যুক্ত করার উদ্দেশ্য কী?
    • ক. ভাষা সংক্ষেপণ
    • খ. শব্দের মিলন
    • গ. নতুন শব্দ গঠন
    • ঘ. বাক্যে অলংকার
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. নতুন শব্দ গঠন
    প্রত্যয় (Suffix) হলো ধাতু বা শব্দের শেষে যুক্ত হওয়া অংশ, যা যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন √পড় ধাতুর সঙ্গে ইব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে পড়িবে শব্দ হয়। শব্দ তৈরি করাই প্রত্যয়ের কাজ, ভাষা ছোট করা বা অলংকার যোগ করা এর উদ্দেশ্য নয়।
    মনে রাখুন:
    উপসর্গ শব্দের আগে বসে, আর প্রত্যয় শব্দের শেষে বসে।
    প্রত্যয় দুই ভাগে বিভক্ত: কৃৎ প্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয়।
    ধাতুর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়, শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয়।
  5. ৫. 'গেরাম' কোন জাতীয় শব্দ?
    • ক. অর্ধতৎসম
    • খ. তদ্ভব
    • গ. দেশি
    • ঘ. তৎসম
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. অর্ধতৎসম
    সংস্কৃত শব্দ যখন কোনো পরিবর্তন ছাড়া বাংলায় আসে, তখন তাকে তৎসম বলে। কিন্তু অনেক সময় সংস্কৃত শব্দ লোকমুখে কিছুটা বিকৃত হয়ে যায়, আর এমন শব্দকে অর্ধতৎসম বলে। তৎসম গ্রাম শব্দটি লোকমুখে গেরাম হয়েছে, তাই এটি অর্ধতৎসম। তদ্ভব শব্দ আরও বেশি বদলে যায়, যেমন গ্রাম থেকে গাঁ।
    মনে রাখুন:
    অর্ধতৎসম শব্দ: গিন্নি, জোছনা, বোষ্টম, নেমন্তন্ন, ছেরাদ্ধ।
    তদ্ভব শব্দ: গ্রাম থেকে গাঁ, কৃষ্ণ থেকে কানাই।
  6. ৬. 'বাবা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
    • ক. তুর্কি
    • খ. আরবি
    • গ. ফারসি
    • ঘ. উর্দু
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. তুর্কি
    ‘বাবা’ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। মুসলিম শাসনামলে তুর্কি সেনা ও প্রশাসনের মাধ্যমে এমন অনেক শব্দ আমাদের ভাষায় ঢুকেছে। সব বিদেশি শব্দকে আরবি বা ফারসি ভাবা তাই ঠিক নয়। আমরা প্রতিদিন যে শব্দগুলো ব্যবহার করি, তার কিছু কিছু তুর্কি উৎস থেকেই এসেছে।
    মনে রাখুন:
    তুর্কি শব্দ: বেগম, উজবুক, চকমক, মোগল, কাঁচি।
    আরও কিছু তুর্কি শব্দ: বাবুর্চি, দারোগা, চাকর, বন্দুক।
  7. ৭. 'কৃষ্ণ' এর অর্ধতৎসম শব্দ কোনটি?
    • ক. পুত্র
    • খ. কিষ্ণ
    • গ. কিষাণ
    • ঘ. কেষ্ট
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ঘ. কেষ্ট
    সংস্কৃত কৃষ্ণ শব্দটি লোকমুখে ভেঙে কেষ্ট হয়েছে, আর এটি অর্ধতৎসম রূপ। অর্ধতৎসম শব্দ মূল তৎসম শব্দ থেকে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে আসে। এটি তদ্ভব নয়, কারণ তদ্ভব শব্দ আরও বেশি বদলে যায়। অন্য অপশনগুলোর মধ্যে কিষাণ শব্দটি কৃষক অর্থে ব্যবহৃত হয়, কৃষ্ণের রূপ নয়।
    মনে রাখুন:
    কৃষ্ণ - কেষ্ট (অর্ধতৎসম)।
    কৃষ্ণ - কানাই (তদ্ভব)।
    অন্য অর্ধতৎসম শব্দ: গিন্নি, জোছনা, বোষ্টম।
  8. ৮. নিচের কোন শব্দটির কোনো লিঙ্গান্তর হয় না?
    • ক. ঢাকী
    • খ. সেবিকা
    • গ. মালী
    • ঘ. সুন্দর
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. ঢাকী
    বাংলায় কিছু শব্দ শুধু পুরুষ বা শুধু নারী বোঝায়, তাদের লিঙ্গান্তর হয় না। ঢাকী (ঢাক বাজায় যে) এমন একটি শব্দ। অন্য শব্দগুলোর লিঙ্গান্তর হয়: সেবিকার পুংলিঙ্গ সেবক, মালীর স্ত্রীলিঙ্গ মালিনী এবং সুন্দরের স্ত্রীলিঙ্গ সুন্দরী। এ কারণে প্রশ্নের উত্তর ঢাকী।
    মনে রাখুন:
    কবিরাজ, কৃতদার: শুধু পুরুষবাচক।
    সতীন, সধবা: শুধু স্ত্রীবাচক।
    নিত্য পুংলিঙ্গ ও নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।
  9. ৯. 'পাঞ্জেরি' শব্দের অর্থ কি?
    • ক. সমুদ্র
    • খ. অন্ধকার
    • গ. আলোক বর্তিকা
    • ঘ. পথিক
    • ঙ. ভাগ্য
    উত্তর: গ. আলোক বর্তিকা
    পাঞ্জেরি ফারসি শব্দ, যার অর্থ আলোকবর্তিকা। জাহাজের সামনের দিকে থেকে যে পথ দেখায়, তাকেই পাঞ্জেরি বলা হয়। অন্ধকার সাগরে পথ দেখানোর এই ভূমিকা থেকেই শব্দটির অর্থ এসেছে। কবি ফররুখ আহমদের বিখ্যাত ‘পাঞ্জেরি’ কবিতাতেও জাতিকে পথ দেখানোর আহ্বান আছে।
    মনে রাখুন:
    কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের।
    ফররুখ আহমদের আরেকটি কাব্য ‘সিরাজাম মুনীরা’।
  10. ১০. কোন শাসনামলে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল?
    • ক. পাল আমলে
    • খ. সেন আমলে
    • গ. গুপ্ত আমলে
    • ঘ. পাঠান আমলে
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ক. পাল আমলে
    চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন। ভাষাবিদদের মতে এটি পাল রাজাদের শাসনামলে, আনুমানিক ৬৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত। এগুলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের লেখা গান বা পদ। হাজার বছরের পুরোনো এই পুথি ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন।
    মনে রাখুন:
    চর্যাপদ প্রকাশিত হয় ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে।
    বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ।
  11. ১১. বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুসলমান কবি কে?
    • ক. নাসির মাহমুদ
    • খ. শাহ মুহম্মদ সগীর
    • গ. আলাওল
    • ঘ. সৈয়দ সুলতান
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: গ. আলাওল
    মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধ্যে আলাওলকে শ্রেষ্ঠ ধরা হয়। তিনি আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন। তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য পদ্মাবতী, যা মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি কাব্য ‘পদুমাবৎ’-এর অনুবাদ। অনুবাদ হলেও এতে তাঁর মৌলিক কবিপ্রতিভার পরিচয় আছে।
    মনে রাখুন:
    শাহ মুহম্মদ সগীর: ইউসুফ-জোলেখা।
    আলাওলের আরেকটি কাব্য সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল।
    আরাকান রাজসভার আরেক কবি দৌলত কাজী।
  12. ১২. 'চাঁদ সওদাগর' বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
    • ক. চণ্ডীমঙ্গল
    • খ. মনসামঙ্গল
    • গ. ধর্মমঙ্গল
    • ঘ. অন্নদামঙ্গল
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: খ. মনসামঙ্গল
    চাঁদ সওদাগর মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র। তিনি শিবভক্ত বণিক ছিলেন এবং দেবী মনসার পূজা করতে কিছুতেই রাজি হননি। এতে মনসা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন, আর এই দ্বন্দ্বই কাহিনির মূল বিষয়। মনসামঙ্গলের অন্য প্রধান চরিত্র হলো বেহুলা, লখিন্দর ও মনসা।
    মনে রাখুন:
    মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের সবচেয়ে প্রাচীন ধারা।
    মনসামঙ্গলের কবি: বিজয় গুপ্ত, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।
    চণ্ডীমঙ্গলের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
  13. ১৩. বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
    • ক. বঙ্গদর্শন
    • খ. সমাচার দর্পণ
    • গ. সবুজপত্র
    • ঘ. সংবাদ প্রভাকর
    • ঙ. কোনোটিই নয়
    উত্তর: ঘ. সংবাদ প্রভাকর
    সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩১ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম বের হয়। পরে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন এটি দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হতে শুরু করে। এ কারণে এটিকে বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা বলা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত নিজেও একজন কবি ছিলেন।
    মনে রাখুন:
    সমাচার দর্পণ প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল, এটি শ্রীরামপুর থেকে বের হয় (১৮১৮)।
    বঙ্গদর্শন (১৮৭২) সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
    সবুজপত্র (১৯১৪) সম্পাদনা করেন প্রমথ চৌধুরী।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা: সব বছর

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ পরীক্ষা: ২ বছরের প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন একসঙ্গে

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: অন্যান্য পরীক্ষা

আরও সরকারি ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন