লিয়ানা বুকস

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL) সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ২০১১: প্রশ্ন ও সমাধান

পরীক্ষা হয়েছে ২০১১। ১১টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।

সময় ধরে পরীক্ষা দিন →
  1. ১. ক্রিয়া পদের মূল অংশকে কি বলা হয়?
    • ক. বিভক্তি
    • খ. প্রত্যয়
    • গ. ধাতু
    • ঘ. অব্যয়
    • ঙ. বিসর্গ
    উত্তর: গ. ধাতু
    ক্রিয়াপদের যে অংশটি আর ভাঙা যায় না এবং যার সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়, তাকে ধাতু (Root) বলে। যেমন ‘করছি’ শব্দে ‘কর্’ হলো ধাতু, আর বাকি অংশ তাতে যুক্ত বিভক্তি। ধাতুকে ক্রিয়ামূলও বলা হয়। প্রত্যয় আলাদা জিনিস, কারণ প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের পরে বসে নতুন শব্দ গড়ে, আর বিভক্তি ক্রিয়াকে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী পদে পরিণত করে। উপসর্গ শব্দের আগে বসে।
    মনে রাখুন: ধাতু দুই রকম, মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু এবং সাধিত ধাতু।
    উদাহরণ:
    খা + ইতেছি = খাইতেছি
    পড় + আ = পড়া
  2. ২. "আঁতাত" শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
    • ক. ইংরেজি
    • খ. ফার্সি
    • গ. ফরাসি
    • ঘ. স্প্যানিশ
    • ঙ. হিন্দি
    উত্তর: গ. ফরাসি
    ‘আঁতাত’ শব্দটি ফরাসি (French) ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। ফরাসিতে entente মানে বোঝাপড়া বা মৈত্রী, আর বাংলায় এটি সাধারণত রাজনৈতিক বা গোপন সমঝোতা অর্থে চলে। ইংরেজি, ফারসি বা হিন্দি ভাষার শব্দ নয় বলে অন্য বিকল্পগুলো ঠিক নয়। ইতিহাসেও এই শব্দ পাওয়া যায়, কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার জোটকে ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente) বলা হতো।
    মনে রাখুন: ফরাসি ভাষার আরও কিছু শব্দ: কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ, বুর্জোয়া।
  3. ৩. নিচের কোন শব্দটি নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ?
    • ক. দাতা
    • খ. সতীন
    • গ. প্রিয়া
    • ঘ. ছাত্রী
    • ঙ. বোন
    উত্তর: খ. সতীন
    যেসব শব্দ কেবল মেয়েদের বোঝায় এবং যাদের পুরুষবাচক কোনো রূপ নেই, তাদের নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ বলে। ‘সতীন’ তেমনই একটি শব্দ, কারণ এর কোনো পুরুষ রূপ হয় না। বাকিগুলো নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ নয়, কারণ তাদের জোড়া শব্দ আছে। যেমন দাতা–দাত্রী, প্রিয়–প্রিয়া, ছাত্র–ছাত্রী এবং ভাই–বোন। এসব শব্দ পুরুষ থেকে প্রত্যয় বা নিয়মের মাধ্যমে স্ত্রীলিঙ্গে বদলায়।
    মনে রাখুন:
    নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ: সতীন, সৎমা, এয়ো, সধবা, দাই।
    নিত্য পুংলিঙ্গ শব্দ: কবিরাজ, ঢাকি।
  4. ৪. কোন বানানটি শুদ্ধ?
    • ক. অত্যধিক
    • খ. অত্যাধিক
    • গ. অত্তাধিক
    • ঘ. অত্যাধিক
    • ঙ. অত্তধিক
    উত্তর: ক. অত্যধিক
    সঠিক বানান ‘অত্যধিক’। শব্দটি অতি + অধিক থেকে সন্ধির নিয়মে তৈরি। সন্ধির নিয়ম হলো, ই বা ঈ-এর পরে ভিন্ন স্বর এলে ই বা ঈ বদলে ‘য’-ফলা হয় এবং পরের স্বরটি তার সঙ্গে যুক্ত হয়। এখানে পরের স্বর ‘অ’, তাই নতুন কোনো ‘আ’ আসে না। ফলে ‘অত্যাধিক’ ভুল বানান।
    মনে রাখুন:
    অতি + অন্ত = অত্যন্ত
    অতি + আচার = অত্যাচার
    অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
    প্রতি + এক = প্রত্যেক
    ইতি + আদি = ইত্যাদি
  5. ৫. 'ক্রোশ' শব্দের অর্থ কি?
    • ক. ক্ষোভ
    • খ. রাগ
    • গ. আড়াআড়ি
    • ঘ. দুই মাইল
    • ঙ. তিন কিলোমিটার
    উত্তর: ঘ. দুই মাইল
    ‘ক্রোশ’ দূরত্ব মাপার একটি পুরোনো একক, যার পরিমাণ প্রায় দুই মাইল। আগের দিনে যানবাহন কম ছিল, তাই গ্রামবাংলায় পথের দূরত্ব বোঝাতে এই এককটি খুব চলত। ‘ক্ষোভ’ ও ‘রাগ’ শব্দ দুটি মনের অবস্থা বোঝায়, দূরত্ব বোঝায় না। ‘আড়াআড়ি’ মানে আড়ভাবে বা বাঁকাভাবে। আর ‘তিন কিলোমিটার’ ক্রোশের মাপ নয়, কারণ এটি আধুনিক মেট্রিক একক।
    মনে রাখুন:
    ‘ক্রোশ’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে।
    গ্রামবাংলার জমির পুরোনো মাপ: বিঘা, কাঠা, গণ্ডা।
  6. ৬. 'নীর' শব্দের অর্থ কি?
    • ক. চোখ
    • খ. বাসা
    • গ. পানি
    • ঘ. লজ্জা
    • ঙ. নিঃশব্দ
    উত্তর: গ. পানি
    ‘নীর’ শব্দের অর্থ পানি বা জল। কবিতা ও সাহিত্যে এই শব্দটি বেশি পাওয়া যায়, যেমন ‘নীর ও ক্ষীর’ বললে জল ও দুধ বোঝায়। ‘নীর’ আর ‘নীড়’ শব্দ দুটি শুনতে প্রায় এক মনে হলেও বানান ও অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। ‘নীড়’ মানে বাসা, বিশেষ করে পাখির ঘর। চোখ, লজ্জা বা নিঃশব্দ অর্থে অন্য শব্দ রয়েছে, ‘নীর’ সেসব অর্থ বোঝায় না।
    মনে রাখুন:
    পানির সমার্থক শব্দ: জল, বারি, সলিল, অম্বু, উদক।
    নীড় = বাসা, নীরব = নিঃশব্দ।
  7. ৭. "অহ" শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
    • ক. সূর্য
    • খ. গতি
    • গ. অপর
    • ঘ. রাত্রি
    • ঙ. দিন
    উত্তর: ঘ. রাত্রি
    ‘অহ’ শব্দের অর্থ দিন, তাই এর বিপরীত শব্দ রাত্রি। বিকল্পের মধ্যে ‘দিন’ শব্দটি এই ফাঁদ তৈরি করে, কারণ এটি ‘অহ’-এর সমার্থক শব্দ, বিপরীত নয়। বিপরীত শব্দ খুঁজতে হলে সবসময় আগে শব্দের অর্থ ঠিক করে নিতে হয়, তারপর সেই অর্থের উল্টোটা খুঁজতে হয়। সূর্য, গতি বা অপর শব্দের সঙ্গে ‘অহ’-এর বিপরীত সম্পর্ক নেই।
    মনে রাখুন:
    দিনের সমার্থক: অহ, দিবস, দিবা, বাসর।
    রাতের সমার্থক: রজনী, নিশা, যামিনী, শর্বরী।
    অহর্নিশ মানে দিনরাত, অহঃ + নিশ।
  8. ৮. "কুল কাঠের অঙ্গার" – বাগধারার অর্থ কি?
    • ক. অন্ধের যষ্টি
    • খ. ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ
    • গ. যা তীব্রভাবে জ্বলে
    • ঘ. যা অনবরত পীড়া দেয়
    • ঙ. একমাত্র সাফল্য
    উত্তর: গ. যা তীব্রভাবে জ্বলে
    ‘কুল কাঠের অঙ্গার’ বাগধারাটির অর্থ যা তীব্রভাবে জ্বলে, অর্থাৎ ভীষণ জ্বালা বা দহন। কুলগাছের কাঠের কয়লা অনেকক্ষণ ধরে তীব্র তাপ দেয়, সেখান থেকেই এই ব্যবহার এসেছে। বিকল্পের মধ্যে ‘যা অনবরত পীড়া দেয়’ কাছাকাছি মনে হতে পারে, কিন্তু বাগধারার অর্থ তীব্র জ্বলুনির ওপরই জোর দেয়। ‘ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ’ শুধু কয়লার রঙ থেকে আসা ভুল ধারণা।
    মনে রাখুন:
    অন্ধের যষ্টি = একমাত্র অবলম্বন।
    অরণ্যে রোদন = নিষ্ফল আবেদন।
  9. ৯. "রাবণের চিতা" বাগধারার অর্থ কি?
    • ক. অনিষ্ট
    • খ. অরাজক দেশ
    • গ. ঝগড়া
    • ঘ. চির অশান্তি
    • ঙ. দুষ্টের মৃত্যু
    উত্তর: ঘ. চির অশান্তি
    ‘রাবণের চিতা’ বাগধারার অর্থ চির অশান্তি। রামায়ণে বিশ্বাস আছে, রাবণের চিতা কখনো নেভে না। সেই থেকে যে দুঃখ বা জ্বালা কোনোদিন শেষ হয় না, তাকে এই নামে ডাকা হয়। বিকল্পের মধ্যে ‘দুষ্টের মৃত্যু’ বা ‘অনিষ্ট’ এই বাগধারার অর্থ নয়, কারণ এখানে মৃত্যুর চেয়ে অবিরাম জ্বালার ভাবটিই প্রধান।
    মনে রাখুন:
    ঘোড়ার ডিম = অবাস্তব বা অসম্ভব বস্তু।
    অরণ্যে রোদন = নিষ্ফল আবেদন।
  10. ১০. "কর্মই ধর্ম… … মুক্তি"-বাক্যটির শূন্যস্থানে কোন শব্দটি বসবে?
    • ক. তাতেই
    • খ. ধর্মেই
    • গ. কর্মেই
    • ঘ. এতেই
    • ঙ. চিন্তাতেই
    উত্তর: খ. ধর্মেই
    বাক্যটির পূর্ণরূপ ‘কর্মই ধর্ম, ধর্মেই মুক্তি’। প্রথম অংশে কর্মকে ধর্মের সঙ্গে এক করে দেখানো হয়েছে, আর দ্বিতীয় অংশে সেই ধর্ম থেকেই মুক্তি আসার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বাক্যটি একটি শৃঙ্খলের মতো এগিয়েছে, যেখানে আগের অংশের শেষ কথাটি পরের অংশের শুরুতে ফিরে আসে। তাই ফাঁকা জায়গায় ‘ধর্মেই’ বসে। ‘কর্মেই’ বসালে আগের কথারই পুনরাবৃত্তি হতো এবং ধর্মের সঙ্গে মুক্তির সম্পর্ক ভেঙে যেত।
    মনে রাখুন: এ ধরনের শূন্যস্থান পূরণে বাক্যের গঠন ও পুনরাবৃত্তির ছন্দ লক্ষ করলে সঠিক শব্দ সহজে বোঝা যায়।
  11. ১১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "সোনার তরী" কোথায় রচনা করেন?
    • ক. শাহজাদপুর
    • খ. শিলাইদহ
    • গ. পতিসর
    • ঘ. জোড়াসাঁকো
    • ঙ. শান্তিনিকেতন
    উত্তর: খ. শিলাইদহ
    ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের (১৮৯৪) কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথ লেখেন শিলাইদহে (কুষ্টিয়া) থাকাকালে। জমিদারির কাজে তিনি তখন পদ্মার বুকে বোটে থাকতেন। নদী, গ্রাম আর সাধারণ মানুষের জীবনের সেই সরাসরি অভিজ্ঞতার ছাপ এ সময়ের কবিতায় স্পষ্ট। শিলাইদহের কুঠিবাড়ি আজও রবীন্দ্রস্মৃতির জন্য বিখ্যাত।
    মনে রাখুন:
    ‘সোনার তরী’ কাব্যের কবিতা: সোনার তরী, মানসসুন্দরী, বসুন্ধরা, যেতে নাহি দিব, নিরুদ্দেশ যাত্রা।
    শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) ও পতিসর (নওগাঁ) এলাকাও রবীন্দ্রনাথের জমিদারির অংশ ছিল।
    রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL) সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা: সব বছর

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (BDBL) সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা: ৩ বছরের প্রশ্ন আর বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন একসঙ্গে

আরও সরকারি ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান

বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন