বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি (MCQ) পরীক্ষা ২০১২: প্রশ্ন ও সমাধান
পরীক্ষা হয়েছে ২০১২। ৯৮টি প্রশ্ন, সঠিক উত্তর আর প্রতিটির ব্যাখ্যা। চাইলে আগে নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখুন।
সময় ধরে পরীক্ষা দিন →- ১. তামাদি মেয়াদের পরে দেওয়ানি মামলা দায়ের করার ফল হচ্ছে-
- ক. আরজি নাকচ
- খ. আরজি ফেরত
- গ. মামলা খারিজ
- ঘ. কোর্ট ফি বাতিল
উত্তর: গ. মামলা খারিজ
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ পার হওয়ার পর মামলা দায়ের করলে বিবাদী তামাদির আপত্তি না তুললেও আদালত মামলাটি খারিজ করবে। - ২. কোন মামলার ক্ষেত্রে তামাদি মওকুফ হবে না?
- ক. আপিল
- খ. রিভিশন
- গ. রিভিউ
- ঘ. স্বত্ব ঘোষণা
উত্তর: ঘ. স্বত্ব ঘোষণা
আপিল, রিভিউ ইত্যাদির দেরি তামাদি আইনের ৫ ধারায় যথেষ্ট কারণ দেখিয়ে মওকুফ করা যায়, কিন্তু ৫ ধারা মূল মামলা (যেমন স্বত্ব ঘোষণার মামলা) দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তাই স্বত্ব ঘোষণার মামলায় দেরি মওকুফের সুযোগ নেই। - ৩. মামলা দায়েরের জন্য একজন নাবালক নির্ধারিত তামাদি অতিরিক্ত সময় পায় কত দিন?
- ক. ৩ বছর
- খ. ৬ বছর
- গ. ২১ বছর বয়স পর্যন্ত
- ঘ. সাবালকত্ব অর্জন পর্যন্ত
উত্তর: ক. ৩ বছর
তামাদি আইনের ৬ ধারায় নাবালক সাবালক হওয়ার পর মামলা করার সুযোগ পায়, তবে ৮ ধারা অনুযায়ী এই বাড়তি সময় অক্ষমতা দূর হওয়ার পর ৩ বছরের বেশি হবে না। - ৪. জমির স্বত্ব ঘোষণা ছাড়াই শুধু দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়েরে তামাদি মেয়াদ কত?
- ক. ৬ মাস
- খ. ৩ বছর
- গ. ৬ বছর
- ঘ. ১২ বছর
উত্তর: ক. ৬ মাস
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৯ ধারায় বেদখল হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে স্বত্ব প্রমাণ না করেই শুধু দখল ফিরে পাওয়ার মামলা করা যায়। - ৫. কোন কারণে ব্যয়িত সময়কাল আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদের সাথে যোগ হবে?
- ক. আইনজীবী নিয়োগ
- খ. হাজতবাস
- গ. অসুস্থতা
- ঘ. রায়ের নকল সংগ্রহ
উত্তর: ঘ. রায়ের নকল সংগ্রহ
তামাদি আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী রায় বা ডিক্রির নকল তুলতে যে সময় লাগে তা আপিলের মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যায়, অর্থাৎ মেয়াদের সাথে যোগ হয়। - ৬. কোন প্রতিকারটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতায় পড়ে না?
- ক. চুক্তি বাস্তবায়ন
- খ. নিষেধাজ্ঞা
- গ. স্বত্ব ঘোষণা
- ঘ. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
উত্তর: ঘ. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন চুক্তি বাস্তবায়ন, নিষেধাজ্ঞা, ঘোষণামূলক ডিক্রির মতো নির্দিষ্ট প্রতিকার দেয়; সাধারণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ চুক্তি আইন বা টর্ট আইনের বিষয়। - ৭. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে জমির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোন বিষয়গুলি প্রমাণ করতে হবে?
- ক. স্বত্ব ও দখল
- খ. সীমানা
- গ. দখল ও বেদখল
- ঘ. স্বত্ব
উত্তর: গ. দখল ও বেদখল
৯ ধারার মামলায় স্বত্ব প্রমাণের দরকার নেই; বাদীকে শুধু দেখাতে হয় যে তিনি দখলে ছিলেন এবং ৬ মাসের মধ্যে আইনসংগত পদ্ধতি ছাড়া বেদখল হয়েছেন। - ৮. কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
- ক. ৯ ধারা
- খ. ৫৪ ধারা
- গ. ৩২ ধারা
- ঘ. ৪২ ধারা
উত্তর: ঘ. ৪২ ধারা
কোনো আইনগত পদমর্যাদা বা অধিকার অস্বীকার করা হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক ডিক্রি চাওয়া যায়। - ৯. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কত প্রকার নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ আছে?
- ক. ২ প্রকার
- খ. ৩ প্রকার
- গ. ৪ প্রকার
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. ৩ প্রকার
আইনের ৫৩ ধারায় অস্থায়ী ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং ৫৫ ধারায় বাধ্যতামূলক (Mandatory) নিষেধাজ্ঞা আছে; তাই মোট ৩ প্রকার। - ১০. কোন চুক্তিটি আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য নয়?
- ক. জমি বিক্রয়ের চুক্তি
- খ. রাস্তা নির্মাণের চুক্তি
- গ. সিনেমায় অভিনয়ের চুক্তি
- ঘ. পরিবহন চুক্তি
উত্তর: গ. সিনেমায় অভিনয়ের চুক্তি
অভিনয়ের মতো ব্যক্তিগত দক্ষতা বা গুণের ওপর নির্ভরশীল চুক্তি আদালত জোর করে বাস্তবায়ন করাতে পারে না (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ধারা ২১)। - ১১. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি-
- ক. সাংবিধানিক সংস্থা
- খ. সংবিধিবদ্ধ সংস্থা
- গ. নির্বাচিত সংস্থা
- ঘ. সমবায় সমিতি
উত্তর: খ. সংবিধিবদ্ধ সংস্থা
বার কাউন্সিল সংবিধান দিয়ে নয়, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ নামের আইন দিয়ে গঠিত, তাই এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। - ১২. কোন কাজটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আওতাভুক্ত নয়?
- ক. সনদ প্রদান
- খ. পেশাগত অসদাচরণ
- গ. আইন শিক্ষার উন্নয়ন
- ঘ. আইনগত সহায়তা
উত্তর: ঘ. আইনগত সহায়তা
সনদ দেওয়া, অসদাচরণের বিচার ও আইন শিক্ষার উন্নয়ন বার কাউন্সিল অর্ডারের ১০ অনুচ্ছেদে বার কাউন্সিলের কাজ; দরিদ্রদের আইনগত সহায়তার মূল দায়িত্ব আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীন সংস্থার। তবে বার কাউন্সিলেরও একটি লিগ্যাল এইড কমিটি আছে বলে প্রশ্নটি বিতর্কিত। - ১৩. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা কত?
- ক. ১৫ জন
- খ. ১৪ জন
- গ. ১৬ জন
- ঘ. ১৩ জন
উত্তর: ক. ১৫ জন
অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান এবং অ্যাডভোকেটদের ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন মিলে বার কাউন্সিলের সদস্য ১৫ জন। - ১৪. একজন অ্যাডভোকেটকে আইন পেশা থেকে বহিষ্কার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় কার নিকট?
- ক. আপিল বিভাগ
- খ. অ্যাটর্নি জেনারেল
- গ. হাইকোর্ট বিভাগ
- ঘ. আইনমন্ত্রী
উত্তর: গ. হাইকোর্ট বিভাগ
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের শাস্তিমূলক আদেশের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অর্ডারের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। - ১৫. অ্যাডভোকেট হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য একজন প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স কত হবে?
- ক. ১৮ বছর
- খ. ২১ বছর
- গ. ২৫ বছর
- ঘ. ৩০ বছর
উত্তর: খ. ২১ বছর
বার কাউন্সিল অর্ডারের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হতে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। - ১৬. ন্যূনতম কত বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে একজন অ্যাডভোকেট কোনো সনদপ্রার্থীকে শিক্ষানবিশ (Pupil) হিসাবে গ্রহণ করতে পারেন?
- ক. ৫ বছর
- খ. ৮ বছর
- গ. ১০ বছর
- ঘ. ১২ বছর
উত্তর: গ. ১০ বছর
বার কাউন্সিলের বিধিমালা অনুযায়ী অন্তত ১০ বছর প্র্যাকটিস করা অ্যাডভোকেটই শিক্ষানবিশ গ্রহণ করতে পারেন। - ১৭. পুলিশের নিকট আসামির স্বীকারোক্তি কোন ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে?
- ক. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে
- খ. নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে
- গ. স্বীকারোক্তিমতে আলামত উদ্ধার
- ঘ. স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছামূলক হলে
উত্তর: গ. স্বীকারোক্তিমতে আলামত উদ্ধার
সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারায় পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি অগ্রাহ্য, কিন্তু ২৭ ধারা অনুযায়ী সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো আলামত উদ্ধার হলে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু প্রমাণ করা যায়। - ১৮. কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying declaration) তার কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য?
- ক. মৃত্যুর কারণ
- খ. সম্পত্তি দান
- গ. পরিচয়
- ঘ. বিবাহ
উত্তর: ক. মৃত্যুর কারণ
সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারায় মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্য প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। - ১৯. কোনটি মূল দালিলিক সাক্ষ্য (Primary evidence)?
- ক. ফটোস্ট্যাট কপি
- খ. দৈনিক পত্রিকা
- গ. কোনো বাস্তব ফটোগ্রাফ
- ঘ. সত্যায়িত কপি
উত্তর: খ. দৈনিক পত্রিকা
সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী একই ছাপার প্রক্রিয়ায় তৈরি প্রতিটি কপি (যেমন দৈনিক পত্রিকা) প্রাথমিক সাক্ষ্য; ফটোকপি বা সত্যায়িত কপি হলো মাধ্যমিক সাক্ষ্য (ধারা ৬৩)। - ২০. কোন দলিলটি পাবলিক দলিল (Public document)?
- ক. প্রকাশিত কবিতা
- খ. প্রকাশিত পত্র
- গ. মামলার আরজি
- ঘ. উইল
উত্তর: গ. মামলার আরজি
সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আদালতের নথির অংশকে পাবলিক দলিল বলা হয়; আদালতে দাখিল করা আরজি মামলার নথির অংশ, তাই এটি পাবলিক দলিল। উইল বা চিঠি ব্যক্তিগত দলিল। - ২১. ফৌজদারি মামলায় আত্মরক্ষামূলক পরিস্থিতির দাবি উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
- ক. অভিযোগকারীর
- খ. রাষ্ট্রের
- গ. উক্ত দাবি উত্থাপনকারীর
- ঘ. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির
উত্তর: গ. উক্ত দাবি উত্থাপনকারীর
সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী আসামি যদি আত্মরক্ষার মতো কোনো ব্যতিক্রমের সুবিধা চায়, তা প্রমাণের ভার তার নিজের ওপর। - ২২. মালিকের অনুমতি নিয়ে ‘ক’ একটি বাড়িতে অবস্থানকালে বাড়ির মালিকানা দাবি করে। এক্ষেত্রে আইনগত বাধাকে কী বলে?
- ক. স্বীকৃতি (Admission)
- খ. স্ব-কার্যজনিত বাধা (Estoppel)
- গ. দাবি ত্যাগ (Waiver)
- ঘ. মৌন সম্মতি
উত্তর: খ. স্ব-কার্যজনিত বাধা (Estoppel)
সাক্ষ্য আইনের ১১৬ ধারায় মালিকের অনুমতিতে থাকা ভাড়াটিয়া বা লাইসেন্সি মালিকের স্বত্ব অস্বীকার করতে পারে না; এই বাধাকে এস্টপেল বলে। - ২৩. এক পক্ষের দাবিকৃত ঘটনা প্রমাণের দরকার হবে না, যদি তা হয়-
- ক. অপর পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত
- খ. ঐতিহাসিক সত্য
- গ. প্রাকৃতিক নিয়মসিদ্ধ
- ঘ. সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত
উত্তর: ক. অপর পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত
সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারা অনুযায়ী যে ঘটনা পক্ষগণ স্বীকার করে নিয়েছে, তা আর প্রমাণ করতে হয় না। - ২৪. আদালতে মামলার একটি পক্ষ নিজের সাক্ষীকে কোন বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন (Leading question) করতে পারে?
- ক. যে কোনো বিষয়ে
- খ. স্বীকৃত বিষয়ে
- গ. তর্কিত বিষয়ে
- ঘ. বিশেষজ্ঞ মতামত বিষয়ে
উত্তর: খ. স্বীকৃত বিষয়ে
সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারায় জবানবন্দিতে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন নিষিদ্ধ, তবে ভূমিকামূলক, অবিতর্কিত বা ইতোমধ্যে স্বীকৃত বিষয়ে আদালত তা করতে দেয়। - ২৫. কোনো পক্ষ নিজ সাক্ষীকে একবার পরীক্ষার পর কোন কারণে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করতে পারে?
- ক. পূর্বের বক্তব্যে ভুল শোধরানো
- খ. পূর্বের বক্তব্য স্পষ্টীকরণ
- গ. কোনো কিছু মিথ্যা প্রমাণ
- ঘ. বিশেষজ্ঞ মতামত বিষয়ে
উত্তর: খ. পূর্বের বক্তব্য স্পষ্টীকরণ
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী পুনঃজবানবন্দি করা হয় জেরায় উঠে আসা বিষয়গুলো ব্যাখ্যা বা স্পষ্ট করার জন্য। - ২৬. কোনো সাক্ষীকে জেরা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে-
- ক. তার ব্যক্তিত্বের ধরন পরীক্ষা
- খ. ভিন্ন দাবি প্রতিষ্ঠা করা
- গ. তর্কিত বিষয়ে সত্য উদঘাটন
- ঘ. তার মর্যাদা পরীক্ষা
উত্তর: গ. তর্কিত বিষয়ে সত্য উদঘাটন
জেরার মাধ্যমে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আসল সত্য বের করা হয় (সাক্ষ্য আইন, ধারা ১৪৬)। - ২৭. দোবারা দোষ (Res judicata) বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বিধান আছে?
- ক. ৯ ধারা
- খ. ১০ ধারা
- গ. ১১ ধারা
- ঘ. ১৫১ ধারা
উত্তর: গ. ১১ ধারা
একই পক্ষের মধ্যে একই বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় আবার বিচার করা যায় না; এই নীতি দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায়। ১০ ধারা হলো বিচারাধীন বিষয় (Res sub judice)। - ২৮. এক জেলার আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা অন্য জেলার আদালতে স্থানান্তর করতে পারে কোন কর্তৃপক্ষ?
- ক. সংশ্লিষ্ট জেলা জজ
- খ. সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত
- গ. সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার
- ঘ. হাইকোর্ট বিভাগ
উত্তর: ঘ. হাইকোর্ট বিভাগ
জেলা জজ শুধু নিজ জেলার ভেতরে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন (ধারা ২৪); এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তরের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের (ধারা ২৫)। - ২৯. রিভিশন মামলায় একটি ডিক্রি হাইকোর্ট বিভাগে বহাল হলে তা জারির জন্য কোন আদালতে দরখাস্ত করতে হয়?
- ক. হাইকোর্ট বিভাগ
- খ. আপিল আদালত
- গ. জেলা আদালত
- ঘ. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
উত্তর: ঘ. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি জারি করে সেই আদালত যে ডিক্রি দিয়েছে, বা যে আদালতে তা জারির জন্য পাঠানো হয়েছে। - ৩০. নিম্নোক্ত কোন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলবে না?
- ক. একতরফা ডিক্রি
- খ. দোতরফা ডিক্রি
- গ. পক্ষগণের সম্মতিভিত্তিক ডিক্রি
- ঘ. আরজি নাকচের সিদ্ধান্ত
উত্তর: গ. পক্ষগণের সম্মতিভিত্তিক ডিক্রি
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারায় বলা আছে, পক্ষগণের সম্মতিতে দেওয়া ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না। - ৩১. দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধানে আপিলযোগ্য আদেশগুলির তালিকা আছে?
- ক. ৯৬ ধারা
- খ. আদেশ ৪৩ বিধি ১
- গ. ১০৬ ধারা
- ঘ. আদেশ ৪১ বিধি ১
উত্তর: খ. আদেশ ৪৩ বিধি ১
আদেশ ৪৩ বিধি ১-এ আপিলযোগ্য আদেশগুলোর তালিকা দেওয়া আছে; ৯৬ ধারা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল নিয়ে। - ৩২. একটি দেওয়ানি মামলায় অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে কোন আদালতে?
- ক. জেলা জজ
- খ. আপিল বিভাগ
- গ. হাইকোর্ট বিভাগ
- ঘ. স্পেশাল জজ
উত্তর: গ. হাইকোর্ট বিভাগ
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের। - ৩৩. একটি দেওয়ানি আদালত প্রদত্ত রায়ের বিষয়ে রিভিউ মামলা দায়ের করা যায় কোন আদালতে?
- ক. একই আদালত
- খ. সমপর্যায়ের অন্য আদালত
- গ. হাইকোর্ট বিভাগ
- ঘ. আপিল আদালত
উত্তর: ক. একই আদালত
রিভিউ মানে একই আদালত নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করে; তাই আবেদন করতে হয় রায় প্রদানকারী আদালতেই (ধারা ১১৪, আদেশ ৪৭)। - ৩৪. দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে রিভিশন মামলা দায়েরের প্রধান কারণ কী?
- ক. আইনগত ভুল
- খ. সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল
- গ. ঘটনাগত ভুল
- ঘ. আইনগত ভুল ও ন্যায়বিচারের বিঘ্ন ঘটা
উত্তর: ঘ. আইনগত ভুল ও ন্যায়বিচারের বিঘ্ন ঘটা
১১৫ ধারা অনুযায়ী আইনের ভুলের কারণে ন্যায়বিচারে বিঘ্ন ঘটলে তবেই রিভিশন চলে; শুধু ঘটনাগত ভুল রিভিশনের ভিত্তি নয়। - ৩৫. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে আরজি নাকচের সিদ্ধান্ত হচ্ছে একটি-
- ক. আদেশ
- খ. প্রাথমিক সিদ্ধান্ত
- গ. ডিক্রি
- ঘ. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
উত্তর: গ. ডিক্রি
দেওয়ানি কার্যবিধির ২(২) ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞায় আরজি নাকচকে ডিক্রি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, তাই এর বিরুদ্ধে আপিল চলে। - ৩৬. দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের ক্ষমতাকে বলা হয়-
- ক. বিশেষ ক্ষমতা
- খ. সাধারণ ক্ষমতা
- গ. সহজাত ক্ষমতা
- ঘ. আপিল ক্ষমতা
উত্তর: গ. সহজাত ক্ষমতা
১৫১ ধারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ঠেকাতে আদালতের অন্তর্নিহিত বা সহজাত (Inherent) ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। - ৩৭. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ‘প্লিডিংস’ অর্থ কী?
- ক. এফিডেভিট
- খ. আরজি বা জবাব
- গ. অভিযোগ
- ঘ. যুক্তিতর্ক
উত্তর: খ. আরজি বা জবাব
আদেশ ৬ বিধি ১ অনুযায়ী প্লিডিংস মানে আরজি অথবা লিখিত জবাব। - ৩৮. অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানি মামলার আরজিতে কার দস্তখত প্রয়োজন হবে?
- ক. অ্যাডভোকেট
- খ. বাদীর প্রতিনিধি
- গ. বাদী
- ঘ. অ্যাডভোকেট ও বাদী/তার প্রতিনিধি
উত্তর: ঘ. অ্যাডভোকেট ও বাদী/তার প্রতিনিধি
আদেশ ৬ বিধি ১৪ অনুযায়ী প্লিডিংসে পক্ষ (বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি) এবং তার আইনজীবী দুজনেই সই করবেন। - ৩৯. অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানি মামলার জবাবের সত্যপাঠ (Verification) অংশে কার দস্তখত থাকবে?
- ক. অ্যাডভোকেট
- খ. অ্যাডভোকেটের মোহরার
- গ. যে কোনো ব্যক্তি
- ঘ. জবাব বিষয়ে ওয়াকিফহাল ব্যক্তি
উত্তর: ঘ. জবাব বিষয়ে ওয়াকিফহাল ব্যক্তি
আদেশ ৬ বিধি ১৫ অনুযায়ী সত্যপাঠে সই করবেন পক্ষ নিজে বা মামলার ঘটনা সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তি; আইনজীবী এখানে সই করেন না। - ৪০. আরজি সংশোধন করা যাবে-
- ক. ইস্যু গঠনের আগে
- খ. চূড়ান্ত শুনানির আগে
- গ. যে কোনো পর্যায়ে
- ঘ. যুক্তিতর্কের পূর্বে
উত্তর: গ. যে কোনো পর্যায়ে
আদেশ ৬ বিধি ১৭ অনুযায়ী আদালত মামলার যে কোনো পর্যায়ে প্রকৃত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে। - ৪১. নিম্নবর্ণিত কোন বিষয়টি নির্ধারণের জন্য আরজিতে দেওয়ানি মামলার মূল্যায়ন দেখানো হয়?
- ক. আদালতের এখতিয়ার
- খ. প্রসেস ফি
- গ. সম্পদের সীমা
- ঘ. প্রদেয় আয়কর
উত্তর: ক. আদালতের এখতিয়ার
মামলার মূল্যমান দেখে বোঝা যায় কোন আদালতের আর্থিক এখতিয়ারে মামলাটি পড়ে (আদেশ ৭ বিধি ১(i)); কোর্ট ফি নির্ধারণেও এটি লাগে। - ৪২. আরজিতে মামলার কারণ উল্লেখ না থাকলে কী হবে?
- ক. আরজি ফেরত
- খ. আরজি নাকচ
- গ. মামলার খারিজ
- ঘ. মামলা চলবে
উত্তর: খ. আরজি নাকচ
আদেশ ৭ বিধি ১১(ক) অনুযায়ী আরজিতে মামলার কারণ প্রকাশ না পেলে আদালত আরজি নাকচ (Reject) করবে। - ৪৩. বিরোধীয় জমি দুটি জেলায় অবস্থিত হলে তৎসম্পর্কে কোন জেলার আদালতে মামলা করতে হবে?
- ক. যে জেলায় বাদী বাস করে
- খ. যে জেলায় বিবাদী বাস করে
- গ. তৃতীয় জেলায়
- ঘ. দুটি জেলার যে কোনোটিতে
উত্তর: ঘ. দুটি জেলার যে কোনোটিতে
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি একাধিক আদালতের এলাকায় থাকলে যে কোনো একটির আদালতে মামলা করা যায়। - ৪৪. দেওয়ানি মামলার আরজিতে উত্থাপিত দাবি সমর্থনকারী দলিলাদি বাদীর দখলে না থাকলে সেগুলির বিষয়ে তার করণীয় কী?
- ক. দলিলের নকল দাখিল
- খ. দলিলের তালিকা দাখিল
- গ. দলিলের তালিকাসহ দখলকারের নাম দাখিল
- ঘ. কিছু করণীয় নাই
উত্তর: গ. দলিলের তালিকাসহ দখলকারের নাম দাখিল
আদেশ ৭ বিধি ১৪(২) অনুযায়ী দলিল বাদীর কাছে না থাকলে তা কার দখলে আছে তা জানিয়ে তালিকা দাখিল করতে হয়। - ৪৫. দেওয়ানি মামলার আরজিতে উত্থাপিত বক্তব্য বিবাদীর জবাবে নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করা হলে তার ফল হবে-
- ক. উক্ত বক্তব্য স্বীকৃত বলে গণ্য
- খ. তদবিষয়ে পাল্টা সাক্ষ্য দেয়া যাবে
- গ. তা অস্বীকৃত বলে গণ্য
- ঘ. তা প্রমাণিত বলে গণ্য
উত্তর: ক. উক্ত বক্তব্য স্বীকৃত বলে গণ্য
আদেশ ৮ বিধি ৫ অনুযায়ী আরজির কোনো বক্তব্য জবাবে নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার না করলে তা স্বীকৃত বলে ধরা হয়। - ৪৬. কোনটি রায়ের পূর্বে ক্রোকযোগ্য নয়?
- ক. জমি
- খ. কোম্পানির শেয়ার
- গ. ব্যাংকের টাকা
- ঘ. জমির ফসল
উত্তর: ঘ. জমির ফসল
আদেশ ৩৮ বিধি ১২ অনুযায়ী কৃষকের দখলে থাকা কৃষিজ উৎপাদন (ফসল) রায়ের আগে ক্রোক করা যায় না। - ৪৭. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গের ফল কী হতে পারে?
- ক. ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
- খ. জরিমানা
- গ. দেওয়ানি কারাগারে ৬ মাস আটকাবস্থা
- ঘ. কোনটিই না
উত্তর: গ. দেওয়ানি কারাগারে ৬ মাস আটকাবস্থা
আদেশ ৩৯ বিধি ২(৩) অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে সম্পত্তি ক্রোক এবং সর্বোচ্চ ৬ মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যায়। - ৪৮. ভুল আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের ফল কী?
- ক. মামলা খারিজ
- খ. আরজি ফেরত
- গ. আরজি নাকচ
- ঘ. সঠিক আদালতে মামলা স্থানান্তর
উত্তর: খ. আরজি ফেরত
আদেশ ৭ বিধি ১০ অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল হলে আদালত তা সঠিক আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়। - ৪৯. সহকারী জজ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
- ক. আপিল
- খ. রিভিশন
- গ. রিট মামলা
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. আপিল
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ আদেশ ৪৩ বিধি ১(র)-এর অধীনে আপিলযোগ্য। - ৫০. দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় দেওয়ানি মামলা বিষয়ে দেওয়ানি আদালতগুলিকে সাধারণ এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
- ক. ২ ধারা
- খ. ৯ ধারা
- গ. ১১ ধারা
- ঘ. ১৫১ ধারা
উত্তর: খ. ৯ ধারা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারা অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে নিষিদ্ধ না হলে দেওয়ানি প্রকৃতির সব মামলার বিচার দেওয়ানি আদালত করবে। - ৫১. সাক্ষ্য আইন অনুসারে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তু আদালত সঠিক গণ্য করবে, যদি দলিলটি-
- ক. রেজিস্ট্রিকৃত হয়
- খ. সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে
- গ. গণস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হয়
- ঘ. স্ট্যাম্পযুক্ত হয়
উত্তর: খ. সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে
সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরোনো দলিল যথাযথ হেফাজত (Proper custody) থেকে এলে আদালত তার সম্পাদন সঠিক বলে অনুমান করতে পারে। - ৫২. কোন সাক্ষ্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়?
- ক. দেখার ভিত্তিতে প্রদত্ত সাক্ষ্য
- খ. অন্যের নিকট শোনা ভিত্তিক সাক্ষ্য
- গ. অবস্থাগত সাক্ষ্য
- ঘ. গৌণ সাক্ষ্য
উত্তর: খ. অন্যের নিকট শোনা ভিত্তিক সাক্ষ্য
সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা অনুযায়ী মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে; অন্যের কাছে শোনা কথা (Hearsay) সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। - ৫৩. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রণীত হয় কত সালে?
- ক. ১৮৭১
- খ. ১৮৭৭
- গ. ১৮৭০
- ঘ. ১৮৮৭
উত্তর: খ. ১৮৭৭
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ সালের ১ নম্বর আইন। - ৫৪. দণ্ডবিধি (Penal Code) প্রণীত হয় কত সালে?
- ক. ১৮৯৮
- খ. ১৮৬০
- গ. ১৮৭০
- ঘ. ১৮৮০
উত্তর: খ. ১৮৬০
দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৪৫ নম্বর আইন; ১৮৯৮ সালে প্রণীত হয় ফৌজদারি কার্যবিধি। - ৫৫. দণ্ডবিধি কোন ধরনের আইন?
- ক. Substantive Law
- খ. সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষাকারী আইন
- গ. সংস্কারমূলক আইন
- ঘ. পদ্ধতি বিষয়ক আইন
উত্তর: ক. Substantive Law
দণ্ডবিধি অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণ করে অধিকার-দায় তৈরি করে, তাই এটি মৌলিক বা তত্ত্বগত আইন (Substantive Law); পদ্ধতিগত আইন হলো ফৌজদারি কার্যবিধি। - ৫৬. দণ্ডবিধির কোন ধারায় অভিন্ন ইচ্ছা (Common intention) জনিত দায় সম্পর্কে বিধান আছে?
- ক. ১০৯
- খ. ১৪১
- গ. ১৪৯
- ঘ. ৩৪
উত্তর: ঘ. ৩৪
দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা অনুযায়ী কয়েকজন মিলে অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ করলে প্রত্যেকে এমনভাবে দায়ী, যেন সে একাই কাজটি করেছে। ১৪৯ ধারা হলো সাধারণ উদ্দেশ্য (Common object)। - ৫৭. দণ্ডবিধি অনুসারে কত বছরের কম বয়স্ক শিশুর কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না?
- ক. ৭ বছর
- খ. ৮ বছর
- গ. ৯ বছর
- ঘ. ১২ বছর
উত্তর: গ. ৯ বছর
দণ্ডবিধির ৮২ ধারা (২০০৪ সালের সংশোধনী) অনুযায়ী ৯ বছরের কম বয়সী শিশুর কোনো কাজ অপরাধ নয়। - ৫৮. নিম্নবর্ণিত অভিব্যক্তিগুলির মধ্যে কোনটি দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত আছে এবং তা mens rea কে নির্দেশ করে?
- ক. Guilty mind
- খ. Criminal mind
- গ. Good faith
- ঘ. Dishonestly
উত্তর: ঘ. Dishonestly
‘Guilty mind’ হলো mens rea-র আক্ষরিক অর্থ, কিন্তু শব্দটি দণ্ডবিধিতে নেই। দণ্ডবিধির ২৪ ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘Dishonestly’ (অসাধুভাবে) শব্দটি আইনে উল্লিখিত এবং অপরাধমূলক মনোভাব বা mens rea নির্দেশ করে, তাই এটিই সঠিক। - ৫৯. দণ্ডবিধি অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীর মৃত্যু ঘটানো যায় কোন ক্ষেত্রে?
- ক. মানহানি
- খ. রাতের বেলায় ঘর ভেঙে অনুপ্রবেশ
- গ. আঘাত
- ঘ. রাষ্ট্রদ্রোহিতা
উত্তর: খ. রাতের বেলায় ঘর ভেঙে অনুপ্রবেশ
দণ্ডবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী সম্পত্তি রক্ষার অধিকারে রাতে ঘর ভেঙে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত যাওয়া যায়। - ৬০. দণ্ডবিধি অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) গঠনের জন্য কমপক্ষে কতজন ব্যক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন?
- ক. ৩ জন
- খ. ৪ জন
- গ. ৫ জন
- ঘ. ৬ জন
উত্তর: গ. ৫ জন
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ সাধারণ বেআইনি উদ্দেশ্য থাকলে বেআইনি সমাবেশ হয়। - ৬১. কমপক্ষে কতজন ব্যক্তির অংশগ্রহণে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ডাকাতি সংঘটিত হয়?
- ক. ৩ জন
- খ. ৪ জন
- গ. ৫ জন
- ঘ. ৭ জন
উত্তর: গ. ৫ জন
দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে দস্যুতা করলে তা ডাকাতি। - ৬২. ‘ক’ এর প্ররোচনায় সরকারি কর্মচারী ‘খ’ তার জিম্মায় থাকা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ‘ক’ এর কী শাস্তি হতে পারে?
- ক. কোনো শাস্তি হবে না
- খ. ‘খ’ এর সমান শাস্তি
- গ. ‘খ’ এর অর্ধেক শাস্তি
- ঘ. ‘খ’ এর দ্বিগুণ শাস্তি
উত্তর: খ. ‘খ’ এর সমান শাস্তি
দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুযায়ী প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হলে প্ররোচনাকারী মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিই পাবে। - ৬৩. দণ্ডবিধি অনুসারে কোনটি গুরুতর আঘাত?
- ক. পায়ে রক্তাক্ত জখম
- খ. হাতে জখম
- গ. পিঠে স্থায়ী ক্ষত
- ঘ. দাঁত ভেঙে ফেলা
উত্তর: ঘ. দাঁত ভেঙে ফেলা
দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় হাড় বা দাঁত ভাঙা বা স্থানচ্যুতি গুরুতর আঘাতের একটি ধরন; পিঠের ক্ষত মুখ বা মাথায় না হওয়ায় স্থায়ী বিকৃতির তালিকায় পড়ে না। - ৬৪. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোনো ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা দেয়ার আদেশ দিতে পারেন-
- ক. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
- খ. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
- গ. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
- ঘ. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর: ক. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
২০০৭ সালের সংশোধনীর পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭-১১০ ধারার মুচলেকা নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের, যার প্রধান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। - ৬৫. কোন ক্ষেত্রে চুরির অপরাধ সম্ভব নয়?
- ক. নগদ টাকা
- খ. আসবাবপত্র
- গ. জমি
- ঘ. অলংকার
উত্তর: গ. জমি
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী চুরি হয় শুধু অস্থাবর সম্পত্তির; জমি স্থাবর সম্পত্তি, তাই জমি চুরি করা যায় না। - ৬৬. প্রতারণা (Cheating) এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারায় আছে?
- ক. ৪২০ ধারা
- খ. ৪১৬ ধারা
- গ. ৪১৫ ধারা
- ঘ. ৪০৬ ধারা
উত্তর: গ. ৪১৫ ধারা
দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায় প্রতারণার সংজ্ঞা আছে; ৪১৭ ও ৪২০ ধারায় তার শাস্তি। - ৬৭. দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে না?
- ক. ৩০২ ধারা
- খ. ৩০৩ ধারা
- গ. ৩০৪ ধারা
- ঘ. ৩৯৬ ধারা
উত্তর: গ. ৩০৪ ধারা
৩০৪ ধারা খুন নয় এমন অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তি, যার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড; ৩০২, ৩০৩ ও ৩৯৬ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়। - ৬৮. ‘ক’ থানায় অভিযোগ করে যে, তার ভাই ‘খ’ একটি সাদা কাগজে তাদের পিতার সই নকল করেছে। দণ্ডবিধি অনুসারে এটা কোন অপরাধ?
- ক. জালিয়াতি
- খ. অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ
- গ. প্রতারণা
- ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. জালিয়াতি
প্রতারণা বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে অন্যের সই নকল করে মিথ্যা দলিল তৈরি করা দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতি। - ৬৯. দণ্ডবিধি অনুসারে Kidnapping কত প্রকার?
- ক. ২ প্রকার
- খ. ৩ প্রকার
- গ. ৪ প্রকার
- ঘ. ৫ প্রকার
উত্তর: ক. ২ প্রকার
দণ্ডবিধির ৩৫৯ ধারা অনুযায়ী কিডন্যাপিং দুই প্রকার: বাংলাদেশ থেকে অপহরণ এবং আইনসঙ্গত অভিভাবকত্ব থেকে অপহরণ। - ৭০. ফৌজদারি কার্যবিধিতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পর্কিত বিধান কোন সনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
- ক. ১৮৯৮ সনে
- খ. ১৯৯৯ সনে
- গ. ২০০৭ সনে
- ঘ. ২০০৮ সনে
উত্তর: গ. ২০০৭ সনে
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের জন্য ২০০৭ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধিতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিধান যুক্ত হয়। - ৭১. ফৌজদারি কার্যবিধিতে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে প্রধানত কত প্রকারে ভাগ করা হয়েছে?
- ক. ৪ প্রকার
- খ. ২ প্রকার
- গ. ৩ প্রকার
- ঘ. ৬ প্রকার
উত্তর: খ. ২ প্রকার
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট প্রধানত দুই প্রকার: জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী (এক্সিকিউটিভ) ম্যাজিস্ট্রেট। - ৭২. একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারেন?
- ক. ৫০০০ টাকা
- খ. ৩০০০ টাকা
- গ. ১০,০০০ টাকা
- ঘ. ২০০০ টাকা
উত্তর: গ. ১০,০০০ টাকা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা করতে পারেন (প্রশ্নের সময়ের বিধান; পরে সংশোধনে অঙ্ক বেড়েছে)। - ৭৩. যুগ্ম দায়রা জজ ৭ বছরের কারাদণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে?
- ক. দায়রা জজ
- খ. স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল
- গ. হাইকোর্ট বিভাগ
- ঘ. স্পেশাল জজ
উত্তর: গ. হাইকোর্ট বিভাগ
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার শর্ত অনুযায়ী যুগ্ম দায়রা জজ ৫ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিলে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে; ৫ বছর পর্যন্ত হলে দায়রা জজের কাছে। - ৭৪. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে কোন আদালতে?
- ক. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
- খ. দায়রা জজ
- গ. অতিরিক্ত দায়রা জজ
- ঘ. হাইকোর্ট বিভাগ
উত্তর: খ. দায়রা জজ
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়রা জজের আদালতে করতে হয়। - ৭৫. কোনটি পদ্ধতি বিষয়ক আইন নয়?
- ক. দেওয়ানি কার্যবিধি
- খ. সাক্ষ্য আইন
- গ. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
- ঘ. তামাদি আইন
উত্তর: গ. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন ও তামাদি আইন বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার পদ্ধতিগত আইন; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন মূলত অধিকার ও প্রতিকার নির্ধারণকারী মৌলিক আইন হিসেবে ধরা হয়। - ৭৬. ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারার মামলা নিম্নোক্ত কোন আদালতের আদি এখতিয়ারভুক্ত?
- ক. মুখ্য মহানগর হাকিম
- খ. দায়রা জজ
- গ. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
- ঘ. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর: ঘ. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
শান্তি রক্ষার মুচলেকা সংক্রান্ত ১০৭ ধারার কার্যক্রম ২০০৭ সালের সংশোধনীর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারে, অর্থাৎ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আওতায়। - ৭৭. আপিল বিভাগে মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষিত হয় কোন সনে?
- ক. ১৯৯৯
- খ. ২০০০
- গ. ২০০১
- ঘ. ২০০৭
উত্তর: ক. ১৯৯৯
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ১২ দফা নির্দেশনা দেয়। - ৭৮. নিম্নোক্ত কোন পরিস্থিতি থেকে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে?
- ক. গণ উৎপাত
- খ. শ্রমিক অসন্তোষ
- গ. জমির দখলজনিত বিরোধ
- ঘ. পরীক্ষা কেন্দ্রে অসদুপায়
উত্তর: গ. জমির দখলজনিত বিরোধ
১৪৫ ধারা প্রযোজ্য হয় জমি বা পানির দখল নিয়ে বিরোধে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে; গণউপদ্রবের জন্য আছে ১৩৩ ধারা। - ৭৯. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ কত দিন বলবৎ থাকে?
- ক. ৬ মাস
- খ. ১ বৎসর
- গ. ২ মাস
- ঘ. ৩০ দিন
উত্তর: গ. ২ মাস
১৪৪(৬) ধারা অনুযায়ী এই আদেশ জারির তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২ মাস বলবৎ থাকে। - ৮০. ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধানবলে পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে?
- ক. ১৫৪ ধারা
- খ. ৫৪ ধারা
- গ. ১৬০ ধারা
- ঘ. ১৬৭ ধারা
উত্তর: খ. ৫৪ ধারা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পুলিশ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে। - ৮১. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দের আগে কত ঘণ্টা পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে রাখা যায়?
- ক. ৪৮ ঘণ্টা
- খ. ৭২ ঘণ্টা
- গ. ২৪ ঘণ্টা
- ঘ. ৩০ ঘণ্টা
উত্তর: গ. ২৪ ঘণ্টা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা ও সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যাত্রার সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃতকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। - ৮২. FIR এর পূর্ণাঙ্গ শব্দরূপ কোনটি?
- ক. Final Investigation Report
- খ. Final Inquest Report
- গ. First Inspection Report
- ঘ. First Information Report
উত্তর: ঘ. First Information Report
FIR মানে First Information Report বা এজাহার; আমলযোগ্য অপরাধের প্রথম খবর থানায় ১৫৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। - ৮৩. পুলিশি তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে দাখিলকৃত রিপোর্টের প্রচলিত নাম-
- ক. রিলিজ রিপোর্ট
- খ. চার্জশিট
- গ. ফাইনাল রিপোর্ট
- ঘ. ডিসচার্জ রিপোর্ট
উত্তর: গ. ফাইনাল রিপোর্ট
অভিযোগের সত্যতা না পেলে পুলিশ ১৭৩ ধারায় যে প্রতিবেদন দেয় তাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট বলে; সত্যতা পেলে দেয় চার্জশিট। - ৮৪. নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় রেকর্ড করেন?
- ক. ১৯০ ধারা
- খ. ২০০ ধারা
- গ. ২০১ ধারা
- ঘ. ২০২ ধারা
উত্তর: খ. ২০০ ধারা
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী নালিশ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট শপথ নিয়ে অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করে তার জবানবন্দি লেখেন। - ৮৫. নালিশি মামলায় সমন ইস্যুর পর অভিযোগকারী নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না থাকলে আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
- ক. ওয়ারেন্ট জারি
- খ. মামলা খারিজ
- গ. আসামি খালাস
- ঘ. আসামি ডিসচার্জ
উত্তর: গ. আসামি খালাস
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারা অনুযায়ী সমন মামলায় নির্ধারিত দিনে অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে খালাস দিতে পারেন। - ৮৬. ফৌজদারি মামলায় আসামি কোন পর্যায়ে ডিসচার্জের আবেদন করতে পারে?
- ক. অপরাধ আমলে নেয়ার তারিখে
- খ. চার্জ গঠনের সময়
- গ. চার্জ গঠনের পরে
- ঘ. সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে
উত্তর: খ. চার্জ গঠনের সময়
চার্জ গঠনের শুনানির সময় অভিযোগ ভিত্তিহীন মনে হলে আদালত আসামিকে অব্যাহতি দেয় (ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ২৪১ক ও ২৬৫গ)। - ৮৭. ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের দায়িত্ব কার?
- ক. বাদীর
- খ. সরকারি উকিলের
- গ. কোর্টের
- ঘ. পুলিশের
উত্তর: গ. কোর্টের
অভিযোগপত্র ও কাগজপত্র দেখে চার্জ বা অভিযোগ গঠন করে আদালত নিজেই; পুলিশ দেয় অভিযোগপত্র, চার্জ নয়। - ৮৮. ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের ক্ষেত্রে অপরাধ সংক্রান্ত কোন তথ্যটি উল্লেখের প্রয়োজন নাই?
- ক. সময়
- খ. স্থান
- গ. আইন
- ঘ. শাস্তি
উত্তর: ঘ. শাস্তি
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১-২২২ ধারা অনুযায়ী চার্জে অপরাধের নাম, আইন ও ধারা এবং সময় ও স্থান উল্লেখ করতে হয়; শাস্তির উল্লেখ বাধ্যতামূলক নয়। - ৮৯. জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির জামিন প্রাপ্তির সুযোগটি-
- ক. মৌলিক অধিকার
- খ. সাংবিধানিক অধিকার
- গ. নাগরিক অধিকার
- ঘ. আইনগত অধিকার
উত্তর: ঘ. আইনগত অধিকার
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারা অনুযায়ী জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া আসামির আইনগত অধিকার; আদালত তা দিতে বাধ্য। - ৯০. অজামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারাবলে আসামির কোন অবস্থাটি বিবেচনায় আদালত জামিন দিতে পারে?
- ক. আর্থিক অভাব
- খ. শিক্ষাগত যোগ্যতা
- গ. নিকটাত্মীয়ের অসুস্থতা
- ঘ. শারীরিক অক্ষমতা
উত্তর: ঘ. শারীরিক অক্ষমতা
৪৯৭ ধারার শর্ত অনুযায়ী আসামি শিশু, নারী, অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম হলে গুরুতর অপরাধেও আদালত জামিন দিতে পারে। - ৯১. দায়রা জজ নিম্নোক্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
- ক. ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশ
- খ. ম্যাজিস্ট্রেটের ডিসচার্জ আদেশ
- গ. অতিরিক্ত দায়রা জজের আদেশ
- ঘ. অপর্যাপ্ত দণ্ডের আদেশ
উত্তর: খ. ম্যাজিস্ট্রেটের ডিসচার্জ আদেশ
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫-৪৩৬ ধারায় দায়রা জজ অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেটের ডিসচার্জ আদেশ পরীক্ষা করে পুনরায় তদন্ত বা বিচারের নির্দেশ দিতে পারেন; দণ্ডাদেশের প্রতিকার সাধারণত আপিল। - ৯২. বাংলাদেশের বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠাকারী আইন একটি-
- ক. President's Order
- খ. Ordinance
- গ. Act
- ঘ. Rules
উত্তর: ক. President's Order
বার কাউন্সিল গঠিত হয় The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 (P.O. No. 46 of 1972) দ্বারা, যা একটি রাষ্ট্রপতির আদেশ। - ৯৩. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গঠনের জন্য গ্রুপভিত্তিতে নির্বাচনযোগ্য সদস্য সংখ্যা কত?
- ক. ৭
- খ. ৮
- গ. ৯
- ঘ. ১৫
উত্তর: ক. ৭
নির্বাচিত ১৪ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন সাধারণ আসন থেকে এবং ৭ জন আঞ্চলিক গ্রুপ আসন থেকে নির্বাচিত হন। - ৯৪. একটি জেলায় এক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে অন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন-
- ক. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
- খ. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
- গ. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
- ঘ. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর: ক. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৮ ধারা অনুযায়ী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধীন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার ও স্থানান্তর করতে পারেন। - ৯৫. অ্যাডভোকেট সনদের জন্য আবেদনকারীর Pupilage Diary-তে অন্যূন কয়টি দেওয়ানি মামলার নোট থাকতে হবে-
- ক. ১০টি
- খ. ৫টি
- গ. ৬টি
- ঘ. ১২টি
উত্তর: খ. ৫টি
বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী শিক্ষানবিশকালে প্রার্থীকে অন্তত ৫টি দেওয়ানি ও ৫টি ফৌজদারি মামলার নোট ডায়েরিতে রাখতে হয়। - ৯৬. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোনো ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকা দেয়ার আদেশ দিতে পারেন-
- ক. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
- খ. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
- গ. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
- ঘ. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
উত্তর: ক. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৯-১১০ ধারায় সদাচরণের মুচলেকা নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের; জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। - ৯৭. দায়রা আদালতে কয়টি স্তরের বিচারক থাকতে পারে?
- ক. ২টি
- খ. ৩টি
- গ. ৪টি
- ঘ. ৫টি
উত্তর: খ. ৩টি
দায়রা আদালতে তিন স্তরের বিচারক থাকেন: দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ (ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ৯)। - ৯৮. দায়রা জজ প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার পূর্বে অনুমোদন প্রয়োজন হয়-
- ক. রাষ্ট্রপতির
- খ. হাইকোর্ট বিভাগের
- গ. আপিল বিভাগ
- ঘ. প্রধানমন্ত্রীর
উত্তর: খ. হাইকোর্ট বিভাগের
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালতের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন (Death reference) না করা পর্যন্ত কার্যকর করা যায় না।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি (MCQ) পরীক্ষা: সব বছর
আরও বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
বিসিএস আর চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞান এক বইয়ে, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে লেখা: লিয়ানা বিসিএস বিজ্ঞান বই সম্পর্কে জানুন